গণতন্ত্র স্বীকৃত কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে ২০ দলীয় জোট : রিজভী

কুড়িগ্রাম: গণতন্ত্র স্বীকৃত এবং আইন সঙ্গত কর্মসূচি নিয়ে ২০ দলীয় জোট মাঠে নামবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। শুক্রবার সকালে কুড়িগ্রামের সরদারপাড়া এলাকার নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা জানান। এ সময় কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রিজভী আহমেদ বলেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে। এই কর্মসূচিগুলো হবে গণতন্ত্র স্বীকৃত এবং আইন সঙ্গত। এই আন্দোলনের পরবর্তী রূপ কী রকম হবে এবং কতোটুকু তীব্র হবে তা সরকারের আচরণের ওপর নির্ভর করবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, সমাবেশের অধিকার, স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। কিন্তু এই সরকার ক্রমাগতভাবে মানুষের কণ্ঠরোধ করে চলেছে। গণতন্ত্রে বিরোধী দলের যে অধিকার সেটিকে সরকার ভয়াবহভাবে দমন করেছে। প্রসঙ্গত, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ঈদের দিন মঙ্গলবার মধ্য রাতে ঢাকা থেকে স্বপরিবারে নিজ জেলা কুড়িগ্রামে যান। তিনি আজ শুক্রবার ঢাকায় ফিরবেন। বিস্তারিত»

নাটোরে ট্রেনের টিকেট কাটা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ৩

নাটোর: নাটোরের লালপুর উপজেলায় ট্রেনের টিকেট নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- উপজেলার ডহরশোলা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে জীবন হোসেন (২৮), একই গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে রানা হোসেন (২৫) এবং রানার মামা জুলমত হোসেন (২৬)। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লালপুর উপজেলার ঈশ্বরদী বাইপাস রেলস্টেশনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জানা যায়, সকালে স্টেশনের টিকেট কাউন্টারের সামনে ট্রেনের আগাম টিকেট কাটা নিয়ে স্থানীয় ডহরশোলা গ্রামের চা বিক্রেতা মোতালেব হোসেনের সঙ্গে ঈশ্বরদী লোকোশেড এলাকার আব্দুর রাজ্জাক ও হাফিজুল ইসলামদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে হয়। এ সময় আব্দুর রাজ্জাক আহত হন। পরে এ খবর পেয়ে রাজ্জাকের সমর্থকরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে স্টেশন এলাকায় এসে স্থানীয় লোজনদের ওপর হামলা চালায়। এতে ১৩ জন আহত হন। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে ও লালপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ এবং বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করে। এর মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে জীবন হোসেন, হাসপাতালে ভর্তির পর রানা হোসেন এবং জুলমত হোসেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের সময় মারা যান। বিস্তারিত»

ঝিনাইদহে ট্রেনের ধাক্কায় বরযাত্রীবাহী বাসের ১০ যাত্রী নিহত

ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় বরযাত্রীবাহী একটি বাসের ১০ জন নিহত এবং অর্ধশত আহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার রেলক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার পর থেকে খুলনার সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। জানা যায়, বরযাত্রীবাহী বাসটি বারোবাজার রেলক্রসিংয়ের ওপর ওঠামাত্র খুলনাগামী সৈয়দপুর থেকে ছেড়ে আসা সীমান্ত এঙপ্রেসের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ সময় বাসটি চুর্ণবিচুর্ণ হয়ে ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনের অংশে ঢুকে পড়ে। এতে বাসযাত্রীরা রাস্তার দুপাশে ছিটকে পড়েন এবং অনেকেই ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন। ট্রেনটি বাসটিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে নিয়ে যায়। এরপর ট্রেনের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় জনতা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার কাজ শুরু করে। তারা ঘটনাস্থল থেকে শিশু-নারীসহ ৯ জনের লাশ উদ্ধার করে। আহতদের মধ্যে ৩০ জনকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং বাকিদের ঝিনাইদহ ও কালীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কালীগঞ্জে আরেকজন মারা যান। হতাহতরা শৈলকূপা উপজেলার ফুলহরি গ্রামের বাসিন্দা। সাকো মোছনপুর গ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানের পর বাসটিতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাসটিতে ৭০ যাত্রী ছিলেন। একটি সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার আগেই বর ও কনে প্রাইভেটকারে করে রেলক্রসিং পার হয়েছিলেন। বিস্তারিত»

লুতফুর রহমান- টক অব দ্য টাউন

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ-লন্ডন থেকে:লুতফুর রহমান আবারো ব্রিটেনের গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়ে আলোড়ন তুলেছেন। এবার ভোটের ক্ষেত্রে নয়। একজন মুসলমান মেয়র হয়ে টাওয়ার হ্যামলেটস নগর ভবনে প্যালেস্টাইনের ফ্ল্যাগ উড়িয়ে প্যালেস্টাইনের মুসলমানদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে সমগ্র ব্রিটেন ও ইউরোপে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন।ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান বর্বরতা ও বোমাবাজির প্রতিবাদে সারা বিশ্বের মুসলিম অমুসলিম মানবতাবাদী সকল নাগরিক আজ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সোচ্চার। বিশ্ব বিবেক এই প্রথমবারের মতো এক কাতারে এসে একই আওয়াজ তুলছে- এখনি ইসরায়েলকে সিজ ফায়ার করতে হবে। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামাও ইসরায়েলের এই বর্বর হামলা এখনি বন্ধের দাবী জানিয়েছেন।লন্ডনে গত সপ্তাহে হাজার হাজার নারী পুরুষ ইসরায়েল এম্বাসী ঘেরাও করে গাজার জনগণের সাথে সংহতি প্রকাশের সাথে এখনি সিজ ফায়ারের দাবীতে রাজপথ কাপিয়ে তুলেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত কাল লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী বাঙালি মুসলিম মেয়র লুতফুর রহমান নগর ভবনে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে ফিলিস্তিনের মুসলমান ভাইবোনদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। আর লুতফুর রহমানের এমন অভিনব সংহতি প্রকাশে ব্রিটেনের মূলধারার মিডিয়া সহ রাজনীতি ও অন্দর মহলে ব্যাপক হৈ চৈ পড়ে যায়। গতকালের প্রধান প্রধান দৈনিকগুলোর অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় লুতফুর রহমানকে একজন মুসলিম মেয়র হিসেবে ফিলিস্তিনের পতাকা নগর ভবনে উড়ানোকে কেন্দ্র করে পক্ষে বিপক্ষের মতামত নিয়ে লিড সংবাদ প্রকাশ করতে দেখা গেছে, যার রেশ এখনো চলছে।   শ্বেতাঙ্গ এবং কিছু কিছু মানবতাবাদী গ্রুপ সহ লেবার ও কনজারভেটিভ অনেকেই লুতফুর রহমানের ফিলিস্তিনী পতাকা নগর ভবনে উড়ানোকে সহজভাবে নেয়নি। কেউ কেউ লুতফুর রহমানের পতাকা উড়ানোর কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে টুইট করেছেন। আবার অনেকেই বলছেন নগর ভবনের কাজের সাথে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে সংহতি প্রকাশের কোন ব্যাপার আছে কিনা- এমনও প্রশ্ন তুলেছেন।   লুতফুর রহমানের বিরোধী শক্তিশালী লেবার দলের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিন আগে যেখানে হাইকোর্ট লুতফুর রহমানের নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির পিটিশন গ্রহণ করেছেন- তা থেকে দৃষ্টি অন্যত্র ফিরিয়ে নিয়ে সমগ্র আইনি বিষয়টিকে মুসলমান ইস্যুতে জায়োনিষ্ট বিরোধী প্রচারণা কাজে লাগিয়ে হাইকোর্টের অবস্থান প্রকারান্তরে প্রশ্নবিদ্ধ করে অতি রাজনৈতিক কৌশলী এক চাল হিসেবে তারা দেখছেন। তাদের মতে, হাইকোর্টে লুতফুর রহমান হেরে গেলে কিংবা অভিযুক্ত হয়ে গেলে মেয়র পোষ্ট হারাবেন। সেক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি লেবারের কেন্ডিটেড মেয়র হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তারা সেইসব বিবেচনায় লুতফুর রহমানের প্যালেষ্টাইনী পতাকা উড়ানোকে দেখছেন।   আবার লুতফুর রহমানের সমর্থকরা এটাকে লুতফুর রহমানের মুসলমানদের প্রতি মহানুভবতা ও ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সহানুভূতি আর সেই সাথে মুসলিম উম্মাহর এক নয়া নেতার মতো দায়িত্ব পালন হিসেবেই দেখছেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পার্লামেন্ট মেম্বাররাও এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। জানতে চেয়েছেন প্রকৃত উদ্দেশ্য কি ?   সব মিলিয়ে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মেয়র লুতফুর রহমান লন্ডনে ও ইউরোপে এখন বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। আলোচনা সমালোচনা আর সামনে হাইকোর্টে তার নির্বাচনী ভোট জালিয়াতির পিটিশনের কমিশন গঠন ও শুনানি শেষ পর্যন্ত তাকে কোথায় নিয়ে যায় সেটাই এখন টক অব দ্য টাউন। Salim932@googlemail.com. বিস্তারিত»

সারাদেশে নৌকাডুবিতে ২৫ জনের মৃত্যু

ঢাকা: সারাদেশে পৃথক পাঁচটি নৌকা ডুবিতে এখন পর্যন্ত ২৫ জন মারা গেছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বৈরাগীরচর এলাকায় পদ্মা নদীতে নৌকা ডুবির ঘটনায় ১২ জন, সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে যমুনা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় সাতজন, পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ে নৌকা ডুবে তিনজন, মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার মারিয়ালয় বেলুয়া গ্রামে নৌকা ডুবে দুইজন এবং চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীতে ডুবে একজন প্রাণ হারিয়েছেন। পদ্মায় ১২ জনের প্রাণহানী কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বৈরাগীরচর এলাকায় পদ্মা নদীতে নৌকা ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ১২ জনের মধ্যে এ পর্যন্ত ১২ জনেরই লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে ভেড়ামারা উপজেলার রায়টা পাথরঘাটা এলাকার পদ্মা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় কালু শেখ (১৮), শিখা (১৮) ও শাহাজুলের (২৮) লাশ পুলিশ উদ্ধার করে। অপরদিকে দৌলতপুর উপজেলার কোলদিয়ার এলাকার পদ্মা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় শিপন (২৮) ও বৈরাগীর চর এলাকা থেকে ইমরান (২৫) নামে আরো দুইজনের লাশ উদ্ধার হয়। সকাল ৮টার দিকে মিরপুর উপজেলার রানাখড়িয়া এলাকার পদ্মা নদী থেকে বিথী (১৪) ও বিভার (২০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার হরিপুর পদ্মা-গড়াই মহানগর ট্যাক থেকে স্বপন (২৫) এবং খোকসা উপজেলার কালীতলা এলাকায় গড়াই নদী থেকে কেয়া মনি (৫) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিকে বুধবার রাতে কুমারখালী উপজেলার গড়াই নদী থেকে মালা আক্তার পলি নামে এক মহিলার লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে নিখোঁজের সংখ্যা আগে ১৫ হলেও জেলা প্রশাসক দপ্তর থেকে আজ সর্বশেষ ১২ বলা হয়েছে। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, এ পর্যন্ত ১২ জনের লাশই উদ্ধার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ঈদের দিন বিকাল ৩টার দিকে নৌকা ভ্রমণের উদ্দেশে ১৯ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা দৌলতপুর উপজেলার বৈরাগীরচর এলাকা থেকে পদ্মা নদীর মধ্যবর্তী একটি জেগে ওঠা চরে যাওয়ার সময় প্রবল স্রোতের মুখে পড়ে ডুবে যায়। আজ ভোর থেকে লাশ উদ্ধারের খবরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের বৈরাগীর চর, ভেড়ামারা রায়টা ঘাট, কুষ্টিয়া হাটশ হরিপুর গড়াই নদীর ঘাট, খোকসা গড়াই নদী কালিতলা ঘাট এলাকায় শোকাহত মানুষের ভিড় জমে যায়। দলে দলে নারী-পুরুষ এসব লাশ দেখতে ভিড় জমায়। আবার নিহতের স্বজনদের আহাজারি ছিল গগণবিদারী। যমুনায় সাতজনের প্রাণহানী সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে যমুনা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় এ পর্যন্ত সাতজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরো অন্তত ২০ থেকে ৩০ জন নিখোঁজ রয়েছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চলছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার মিটুয়ানী বাজার ঘাট থেকে ৬০-৭০ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা চরসলিমাবাদ ঘাটে যাওয়ার জন্য রওনা দেয়। নৌকাটি নদীর মধ্যে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত সেতুর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পানিতে ডুবে যায়। এ সময় অনেকে সাঁতার কেটে তীরে উঠলেও অধিকাংশই নদীর স্রোতে ভেসে যায়। কিছুক্ষণ পর স্থানীয়রা চারজনের লাশ উদ্ধার করে। এরপর দুপুর ১টার দিকে নদী থেকে আরো দুজন এবং দুপুর সোয়া ২টার দিকে আরো একটি লাশ উদ্ধার করে এলাকাবাসী। এ নিয়ে উদ্ধারকৃত মরদেহের সংখ্যা সাত-এ দাঁড়িয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে মৃত তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন : চৌহালী উপজেলার খাস কাউলিয়া গ্রামের আমজাদ হোসেনের মেয়ে আঙ্গুরি খাতুন (১৮), একই গ্রামের আকতার হোসেন (৪২) এবং তার স্ত্রী দিলু আকতার (৩৪)। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে ঢাকা থেকে ডুবুরিদের একটি দল রওনা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জে দুইজনের প্রাণহানী মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার মারিয়ালয় বেলুয়া গ্রামের কাছে বিটি কলেজের পেছনে নৌকা ডুবে বৃহস্পতিবার দুপুরে দুইজন নিহত ও দুইজন আহত হয়েছে। নিহতরা হলো-নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জের লতিফ মিয়ার কন্যা তানিয়া আক্তার (১৮) এবং দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে আফছানা আক্তার (১৪)। আহত টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বরাইল গ্রামের যুবায়ের (৭) ও  মারিয়ালয় সামি আক্তারকে (১৪) টঙ্গীবাড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদ্বয় আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এই ঘটনায় পরিবারটিতে ঈদ আনন্দের পরিবর্তে এখন চলছে শোকের মাতম। স্থানীয় সূত্র ও টঙ্গীবাড়ি থানার ডিউটি অফিসার এএসআই মোশারফ হোসেন জানান, দুপুরে একটি কোসা নৌকায় করে একই পরিবারের ছয়জন ঘুরতে বের হয়। ঘটনাস্থলে বর্ষার পানিতে বিলে নৌকাটি তলিয়ে যায়। দুজন তাৎক্ষণিক তীরে উঠলেও সাঁতার না জানা বাকি চারজন ডুবে যায়। আশপাশের লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে চারজনকে হাসপাতালে পাঠায়। মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তানিয়া ও আফছানাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতরা গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে এসেছিল। জাফলংয়ে তিনজনের প্রাণহানী পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ে নৌকা ডুবে মারা গেছে পাশের জেলা মৌলভীবাজারের তিনজন, যার মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ের পিয়াইন নদীতে পর্যটকবাহী নৌকাটি উল্টে গেলে তিনজন ডুবে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে। তারা হলেন- শ্রীমঙ্গল উপজেলার মিঠামলি গ্রামের খুরশেদ মিয়ার ছেলে শাহাদাত হোসেন শাকিল (১০), বিলবন নগর গ্রামের নাসির মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া (২২) এবং গোলবাইড় গ্রামের আব্দুল বারীর ছেলে সাদেক হোসেন (২০)। সিলেট থেকে ফায়ার-সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান শুরুর পর রাত সোয়া ৯টার দিকে শাকিলের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আধা ঘণ্টা পর মামুন ও সাদেকের লাশও উদ্ধার হয় বলে গোয়াইনঘাট থানার ওসি আব্দুল হাই সাংবাদিকদেরকে চট্টগ্রামে একজনের প্রাণহানী চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে কর্ণফুলী নদীতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন এক সফটওয়্যার প্রকৌশলী। ঈদের পরদিন বুধবার সকালে তিনি নিখোঁজ হলেও বৃহস্পতিবার কর্ণফুলী নদীতে তার লাশ পাওয়া যায়। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার রাহিদ হাসান রবিন (২৭) বাংলাদেশে মজিলা ফায়ারফঙের প্রতিনিধি ছিলেন। নিহতের আত্মীয় রাঙ্গুনিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, ঈদের ছুটিতে রবিন রাঙ্গুনিয়ার মরিয়মনগরে বেড়াতে যান। বুধবার সকালে ওই এলাকার কর্ণফুলী নদীর মরিয়মনগর ফরাশপাড়া ঘাটে গোসল করতে নামলে পা পিছলে পানিতে তলিয়ে যান। বৃহস্পতিবার একই এলাকায় তার লাশ ভেসে ওঠে। প্রকৌশলী রাহিদ হাসান রবিন কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার কমলপুর গ্রামের মৃত মেহেদি হাসানের ছেলে। বিস্তারিত»

ছবি ঘর

  • holo gram baby
  • political picture
কানাইঘাটে ৯ লক্ষ টাকা মূল্যের ভারতীয় নাসির বিড়ি উদ্ধার আটক ২

কানাইঘাট প্রতিনিধি ঃ কানাইঘাট থানা পুলিশ গত বুধবার এক অভিযান চালিয়ে বড়চতুল ইউপির মালিগ্রাম থেকে ৪২ কার্টুন ভারতীয় নাসির বিড়ি উদ্ধার করেছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৮ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মালিগ্রামস্থ কাজী বাড়ির আব্দুল করিমের  বসত ঘর থেকে বুধবার ভোর ৫টার সময় এসআই আতিকুল আলম, এসআই মিন্টু মিয়া ও এসআই শিপলু মজুমদারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৪২ কার্টুন ভারতীয় নাসির বিড়ি উদ্ধার করে এবং  দুইজনকে আটক করে। আটককৃতরা হলো জৈন্তাপুর উপজেলার নয়াখেল গ্রামের মৃত আব্দুর রউফের পুত্র আজিজুর রহমান ও কানাইঘাট উপজেলার বড়বন্দ ১ম খন্ড গ্রামের মৃত আব্দুস সুবহানের পুত্র আব্দুল মালিক। এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে চোরা চালান দমন নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।  

বিস্তারিত»
“আনসার আলীকে ছাড়াই পাঁচটি  ঈদ পালন করল চাঁদনি”

মোহাম্মদ আলী শিপন,বিশ্বনাথ:চাকরী করতেন ঢাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক,সাবেক সাংসদ ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর গাড়ির ড্রাইভার হিসেবে। সুযোগ পেলেই ছুটে আসতেন গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথে গমরাগুল গ্রামে। একমাত্র সন্তান চাঁদনীকে (৫) দেখার জন্য। বাবা এখন আর আসেন না। অপহরণ,নিখোঁজ বা গুম-হত্যার অর্থ চাঁদনী বুঝতে না পারলেও ছোট চাঁদনী ঠিকই বুঝতে পারে তার বাবা আসছেন না। তবুও চাঁদনী তার আব্বু ফিরে আসবেন ভেবে প্রতিদিন পথ চেয়ে থাকে। পাঁচটি ঈদ কেটে চাঁদনি পিতা আনসার আলীকে ছাড়াই। এবারেও ঈদের আনন্দ ছিলনা নিখোঁজ ইলিয়াস আলী পরিবারের মতোই তাঁর গাড়ি চালক আনসার আলীর পরিবারে। পরিবারের একমাত্র উর্পাজনকারি স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী মুক্তা বেগম এখন নির্বাক হয়ে পড়েছেন। পরিবারের সদস্যরা আছেন কবে ফিরে আসবেন আনসার সেই অপেক্ষায়। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী থেকে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হন। ইলিয়াস আলীর গাড়ির ড্রাইভার ছিলেন আনসার আলী। গাড়িটি বনানী থেকে উদ্ধার হলেও ঘটনার পর থেকে আনসার আলীও নিখোঁজ। নিখোঁজের দীর্ঘ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো  তাদের কোন সন্ধান মিলেনি। সূত্র জানায়, গত ২০ বছর ধরে আনসার আলী ইলিয়াস আলীর বাসায় কাজ করে আসছিলেন। কয়েক বছর থেকে তিনি ইলিয়াস আলীর গাড়ি চালাতেন। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে আনছার দ্বিতীয়। বাবা মরহুম ইছব আলী। স্থায়ী ঠিকানা বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের গমরাগুল গ্রামে। ঢাকায় ইলিয়াস আলীর বাসাতেই আনসার বসবাস করতেন। ইলিয়াস আলীর সাথে তাদের আত্মীয়তার সর্ম্পক ছিল। তিনি ছিলেন ইলিয়াসের খুব বিশ্বস্ত। আনসারের উপার্জিত অর্থ দিয়েই চলত সংসার। আনসার আলীর যে রাতে নিখোঁজ হয়েছেন ওই রাত ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যদের সাথে আনসার আলীর সর্বশেষ কথা হয়। রাতেই তারা জানতে পেরেছেন ইলিয়াস আলীর সাথে আনসার আলীও নিখোঁজ হয়েছেন। এরপর থেকে আনসারের পরিবারের ভর করে অন্ধকার। কি করবেন দিশেহারা হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। আনসার আলী বাড়িতে আসলেই ছোট্র চাঁদনীকে নিয়েই কাটত তার সময়। ‘আব্বু’ ডাকটি শুনতে আনসার ছিলেন ব্যাকুল। মোবাইল করেও এ ডাকটি শোনার জন্য তিনি দীর্ঘক্ষণ ফোন কানে ধরে রাখতেন। পাঁচ বছরের চাঁদনীর মুখে ফুঁটেছে কথা। এখন বাবার কথা জিজ্ঞেস করলেই চাঁদনী বলে ‘আব্বু আমার লাগি মজা লইয়া আইবা’। তবে নিখোঁজের পর থেকে ইলিয়াস আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে আনসারের পরিবারকে সাত হাজার টাকা দেওয়া হয়। সম্প্রতি একটি কিন্ডার গার্ডেনে শিক্ষকতার চাকুরী নিয়েছেন আনসার আলী স্ত্রী মুক্তা বেগম। বাড়ি থেকে প্রায় ৫কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঐ স্কুলে প্রতিদিন পড়াতে যান মুক্তা বেগম। কখনো কখনো শিশু চাঁদনীকেও সাথে নিয়ে যান। ঐ স্কুলে শিক্ষকতার বিনিময়ে কিছু সম্মানি পান তিনি। কিন্ত সবমিলিয়ে এইসব টাকা দিয়েই কোনো রকম চলছে নিখোঁজ আনসারের সংসার। দিন রাত বিলাপ করছেন আনসারের মা নুরজাহান বেগম। সেই ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত তার কান্না এক মুহুর্তেও জন্যও থামেনি। ঘুমের ঘোরে চিৎকার করে ওঠেন আনসারের নাম ধরে। নুরজাহান জানান, আনছার হারিয়ে যাওয়ার পর থেকে তার চিসিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে। ওষুধ কেনার টাকা নেই। প্রতি সপ্তাহে তার ডাক্তার দেখানোর কথা। তা এখন বন্ধ। টাকা নেই, কী দিয়ে ডাক্তার দেখাবেন। এক দিকে সন্তানের শোক অন্য দিকে ওষুধ-পথ্যের অভাবে তিনি এখন শয্যাশায়ী। তিনি জানান, ইলিয়াস আলী সে (আনসার) মনে প্রাণে ভালবাসতো, আর ইলিয়াস আলীও আনসারকে তার পরিবারের সদস্যের মতো দেখতেন, ¯েœহ করতেন। আমার ছেলে (আনসার) কে তার বন্ধুরা লন্ডন নিতে চেয়েছিল কিন্ত ইলিয়াস আলীকে ছেড়ে যেতে সে (আনসার) রাজি হয়নি। সেই স্পনসরের কাগজপত্র আজো ঘরে পড়ে আছে। নুরজাহান বেগম বলেন, ‘আর কত অপেক্ষা ! মন তো মানছে না।’ এখনো তিনি অপেক্ষা করে আছেন হয়তো তার ছেলে আনসার ফিরে আসবে। আবারো মা বলে ডাকবে। আনছার আলীর স্ত্রী মুক্তা বেগমেরও দৃঢ় বিশ্বাস তার স্বামী একদিন ফিরে আসবেন। আনসারের স্ত্রী মুক্তা বেগম বলেন, আমাদের আবার কিসের ঈদ। ছোট মেয়ে চাঁদনি প্রতিদিন তার পিতাকে এনে দেওয়ার কথা বলে। শিশু কন্যা চাঁদনীকে কিছুতেই সান্তনা দিতে পারছেন না। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ইলিয়া আলী ও আনসার আলী আবারও ফিরে আসবেন। তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীর পরিবারের সাথে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে দলীয় নেতাকর্মীরা আগের মতো আমাদের সাথে তেমন কোন যোগাযোগ নেই। মাঝে মাঝে কিছু নেতাকর্মী ফোন করে আমাদের খোঁজ খবর নেন।  

বিস্তারিত»
মগবাজারে ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত

ঢাকা: রাজধানীর মগবাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক নিহত হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রেলওয়ে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শ (এএসআর) মো. জাহিদ প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমকে জানান, বিকালে ওই যুবক রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন। এ সময় একটি ট্রেন তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ওই যুবকের মুখ ও মাথা থেঁতলে যায়। ঘটনাস্থলেই যুবকের মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে লাশ পাঠানো হয়েছে।

বিস্তারিত»
বিএনপির ডাকে সাড়া দেবেন না: নাসিম

ঢাকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, আন্দোলনের নামে যুদ্ধাপরাধী জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি জ্বালাও, পোড়াও, নরহত্যাসহ যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল তা দেশবাসী ভুলে যাননি। জনবিচ্ছিন্ন বিএনপির ডাকে কেউ সাড়া দেবেন না। শুক্রবার বিকালে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সুশাসনের ফলে দেশবাসী শান্তি ও স্বস্তিতে বাস করছেন। সরকারের সুব্যবস্থাপনার কারণেই পবিত্র ঈদুল ফিতরে দেশের মানুষ সহজে গ্রামে যেতে পেরেছেন। ঈদে রাজধানীসহ সারা দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও সন্তোষজনক ছিল। তিনি বলেন, বিএনপি আন্দোলন করে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার হুমকি দিচ্ছে। তাদের আন্দালনের হুমকিতে সরকার চিন্তিত নয়। যারা জনবিচ্ছিন্ন তাদের ডাকে কেউ সাড়া দেবেন না।

বিস্তারিত»
কুষ্টিয়ায় নৌকাডুবি নিখোঁজ দুই শিশুর ১ জন উদ্ধার

কুষ্টিয়া: জেলার দৌলতপুরের বৈরাগীর চরে পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত নিখোঁজ থাকা দুই শিশুর মধ্যে এক শিশুর লাশ পাওয়া গেছে। তার নাম নুসরাত জাহান ওরফে তিন্নি (৭)। এখনো নিখোঁজ রয়েছে তাবাসসুম কাজল ওরফে কেয়ামণি (৭)। কেয়ার মা মালা আক্তারও এ নৌকাডুবিতে মারা গেছেন। তিন্নির চাচা আবুনাস গণমাধ্যমকে জানান, বিকাল তিনটার দিকে পদ্মা নদীর বৈরাগী চরের আশপাশের কোলদিয়ার এলাকা থেকে তিন্নির লাশ পাওয়া যায়। ঈদের দিন মঙ্গলবার বিকালে পদ্মা নদীতে নৌকা নিয়ে অনেকে ঘুরতে বের হয়। বিকাল ৩টার দিকে ইঞ্জিনচালিত একটি ছোট নৌকায় ওঠেন ১৮ জন। নদীর মাঝখানে যাওয়ার পর নৌকাটি ডুবে যায়। ঘাটে থাকা অন্য নৌকার মাঝিরা চেষ্টা করে ডুবে যাওয়া নৌকার মাঝিসহ সাতজনকে উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার ২৭ ঘণ্টা পর বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত পদ্মা ও গড়াই নদীর বিভিন্ন জায়গা থেকে ১০টি লাশ উদ্ধার করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয় লোকজন এসব লাশ উদ্ধার করেন। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক জানান, অবহেলার কারণে মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগে মাঝি আশরাফুলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বিস্তারিত»
সিলেটে মোমবাতি প্রজ্জলনের মাধ্যমে যুবলীগের শহীদদের স্মরণ

গতকাল শূক্রবার, ১ অগাস্ট ২০১৪ শুরু হলো শোকের মাস আগস্ট। সিলেট কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে মোমবাতি প্রজ্জলন করে শহীদদের স্মরণ করলো নবগঠিত মহানগর যুবলীগ। মোমবাতি প্রজ্জলন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট মহানগর যুবলীগের আহবায়ক আলম খান মুক্তি তিনি বলেন, ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছুতেই নিকষ কালো সিলেট কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে জ্বলে উঠে শহীদদের স্মরণে প্রজ্জলিত মোমবাতি। সাথে সাথে শুরু হয় শোকের মাস। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে প্রতিটি বছরই আগস্ট এলেই শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে গোটা বাঙালি জাতি। আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠনগুলো বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে ঘাতকদের হাতে নিহত হওয়ার পর থেকেই আগস্টকে শোকের মাস হিসেবে পালন করে আসছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে নিহত হন একদল বিপথগামী সেনার হাতে। প্রতি বছর আওয়ামী লীগ বিশেষ মর্যদায় দিবসটি পালন করে থাকে। সরকারিভাবেও পালিত হবে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকারই দিবসটিকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, যুগ্ম আহবায়ক মুশফিক জায়গিরদার, সেলিম আহমদ সেলিম, সদস্য মাসুম বিল্লাহ, ডা. মো. হোসেন রবিন, হুমায়ুন রশীদ লাভলু, সুবেদুর রহমান মুন্না, জাকিরুল আলম জাকির, মিয়া মোঃ লিটন, রাহেল আহমদ চৌধুরী, কবির আহমদ শাহজাহান, সাজু ইবনে হান্নান খান, সুলতান আলী মনসুর, আফজাল কবির, জুনেদ আহমদ, আনিসুর রহমান তিতাস, শ্যামল সিংহ, রিমাদ আহমদ রুবেল, ডা. কলিন্স সিংহ, লাহিন আহমদ, হোসেন আহমদ বাবু, ইমামুর রহমান লিটন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার আলী, শামস উদ্দিন শাসছ, সঞ্জু কুমার পাল, জাকারিয়া হোসেন সাকির, এমদাদ হোসেন, রিমু খান প্রমুখ।  

বিস্তারিত»
কাতারে চট্রগ্রাম সমিতির ঈদ পুনর্মিলন উৎসব

আনোয়ার হোসেন মামুন,কাতার থেকে:চট্রগ্রাম সমিতি ঢাকা কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমদিত, চট্রগ্রাম সমিতি কাতার শাখার ঈদ পুনর্মিলন উৎসব ২০১৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে । কাতারে (দোহা প্যালেস হোটেলে) বৃহস্পতিবার রাতে এ পুনর্মিলনী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা তাজুল ইসলাম ।                                                                       সংগঠনের সভাপতি সফিকুল ইসলাম তালুকদার বাবু এর সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আশরাফ হোছাইন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মাসুদ মাহমুদ খন্দকার, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম শ্রম সচিব সফিউল আজিম । অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, চট্রগ্রাম সমিতি কাতার শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউসুফ, চট্রগ্রাম সমিতি কাতার শাখার সহ সভাপতি ও আহবায়ক ঈদ পুনর্মিলন উৎসব মোহাম্মাদ নাছির উদ্দিন, অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপদেষ্টা এস এম ফরিদুল হক, উপদেষ্টা ওমর ফারুক চৌধুরী, উপদেষ্টা নুরুল মোস্তফা খোকন, উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম হেলাল, উপদেষ্টা সামসুল আলম, উপদেষ্টা আনোয়ার শাহ্‌, উপদেষ্টা নুরুল আলম, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোসলেম উদ্দিন, সহ-সভাপতি কাজী হাসান বিল্লা, সহ-সভাপতি মোঃ আলী,সহ-সভাপতি আতিকুল মাওলা মিটু,সহ-সভাপতি আব্দুল আল মঞ্জুর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম রেজা, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জয়লাল, প্রচার সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মামুন, দপ্তর সম্পাদক মেহরাজ আহমেদ, অথ সম্পাদক কামাল পাশা,সাংস্কৃতিক সম্পাদক মহিউদ্দিন চৌধুরী, মোকারম হোসেন জিকু, জয়নাল শক্তি, সহ আরো উপস্থিত ছিলেন কাতারের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন,বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।                          অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন কাতারে বাংলাদেশী ব্যন্ড দল ‌‍শ্রাবণ চট্রগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা গান গেয়ে দর্শকদেরকে মুগ্ধ করে রাখেন।

বিস্তারিত»
জাফলংয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রচারণা ও মাইকিং

মোঃ করিম মাহমুদ লিমন,গোয়াইনঘাটঃ সিলেটের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র  জাফলংয়ে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় ও তাদের সতর্ক করার জন্য গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের নিয়ে শুক্রবার বেলা ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সচেনতা মূলক প্রচারণা ও মাইকিং করা হয়েছে। প্রচার অভিযানে জাফলংয়ে আগত পর্যটকদের মধ্যে যদি কেউ সাঁতার না জানে তাহলে তাকে নদীতে নামতে নিষেধ করা হয়েছে। ছোট বারকী নৌকা দিয়ে নদী পারাপারের উপর নিষেধজ্ঞা ও সীমান্ত পিলার অতিক্রম না করার জন্য অনুরুধসহ বিভিন্ন বিষয়ে অবগত করা হয়। এসময় গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যন হামিদুল হক ভূইয়া বাবুল উপস্থিত ছিলেন। উলেখ্য ঈদ পরবর্তী দু দিনে পিয়াইন নদীর জিরো পয়েন্ট সাঁতার কাটতে নেমে  ও বল্লাঘাটে নদীতে ডুবে ৫ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। ছবি ক্যাপশন ঃ সিলেটের জাফলংয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তায় ও সতর্কীকরণে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রচারণা।

বিস্তারিত»
ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে এসে প্রকৃতি কন্যা জাফলংয়ে একদিনের ব্যাবধানে ৫ পর্যটকের মৃত্যু

মোঃ করিম মাহমুদ লিমন, গোয়াইনঘাট:সিলেটের পর্যটন কেন্দ্র প্রকৃতি কন্যা জাফলং যেন মৃত্যু কূপ। ঈদ পরবর্তী একদিনের ব্যবধানে ৫ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানাযায়, ঈদের আনন্দ উপভোগ করেতে এসে ঈদের পর দিন বুধবার দুপুরে পিয়াইন নদীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় সাঁতার কাটতে গিয়ে সিলেটের শাহী ঈদগাহ এলাকার খোরশেদ আলমের পুত্র কামরুল নিখোঁজ হন। রাতভর চেষ্টা করে বৃহস্পতিবার সকালে সিলেটের ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার লাশ উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার সকালে অজ্ঞাত অপর আরেক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন। এদিন সন্ধ্যায় পর্যটন এলাকার বল্লাঘাটে নৌকা ডুবে তিন স্কুল ছাত্র নিখোজ হলে রাত ১০ টায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যসহ স্থানীয়রা প্রায় ৪ ঘন্টা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলার শিলমনি গ্রামের খুরশেদ আলমের পুত্র শাহাদত হোসেন শাকিল (১৭), দুলুমারা গ্রামের আব্দুর রহিমের পুত্র সাদেক মিয়া (১৭) এবং বিল বড়নগর গ্রামের বাছিদ মিয়ার পুত্র মামুন আহমেদসহ তিন কিশোরের লাশ উদ্ধার করে। নিহত তিন কিশোর শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিসামণি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র বলে জানায় তাদের সহপাঠি আরিফ হোসেন। আরিফ আরও বলে আমরা ৩৫জন বন্ধু মিলে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে জাফলংয়ে এসে ছিলাম কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। ৩৫জন একসাথে আসলেও তিন জনকে আজীবনের জন্য হারাতে হয়েছে। এব্যাপারে গোয়াইনঘাট থানার ওসি মোঃ আব্দুল হাই একদিনের ব্যবধানে পাঁচ পর্যটকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন সচেতনতার অভাবেই এমন অনাকাঙ্খিত দূর্ঘটনা ঘটছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্থানীয় বিজিবি ও পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করার পরও অনেক সময় পর্যটকরা কোন কর্ণপাত করেন না। যার দরুণ স্বজন হারিয়ে অনেকের ভ্রমণ আনন্দ বিষাদে পরিণিত হয়।  

বিস্তারিত»
ছাতকে জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

ছাতক প্রতিনিধিঃছাতক উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে বুধবার গোবিন্দগঞ্জে ঈদ পুনর্মিলনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা জামায়াতের আমীর প্রিন্সিপাল মাওলানা মখছুছুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী মাওলানা আকবর আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী, ২০দলীয়জোটের সদস্য সচিব মোমতাজুল হাসান আবেদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ জেলা উলামা মাশায়েখ পরিষদের আহবায়ক মাওলানা জালাল উদ্দিন, ছাতক পৌর জামায়াতের আমীর রেজাউল করিম তালুকদার, দোয়ারা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ডাঃ আব্দুল কদ্দুছ, জেলা শিবিরের সেক্রেটারী হাফিজ জাকির হোসেন, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা মিছবাহ উদ্দিন, প্রবাসী জামায়াত নেতা আ.ফ.ম ইয়াহইয়া, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক রফিকুল হক। বক্তব্য রাখেন, জামায়াত নেতা মাওলানা ফরিদ উদ্দিন, হোসাইনুজ্জামান লিটন, উবায়দুল হক শাহীন, মিজানুর রহমান, আব্দুল আউয়াল, মাওলানা মহি উদ্দিন, মাওলানা সালাহ উদ্দিন, আবু মুছা রাসেল, মুহিবুর রহমান, মকসুদুল হাসান লাহিন, মাওলানা আফতাব উদ্দিন, ছাত্র শিবির নেতা আমিন উদ্দিন, আব্দুল তাহিদ, ইসলাম উদ্দিন, হাফিজ বুরহান উদ্দিন, সেলিম উদ্দিন, আনছার আলী, আল-আমীন, মামুনুর রশিদ প্রমুখ।

বিস্তারিত»
অবশেষে পিছ হটলেন সুরঞ্জিত, সাংবাদিক সম্মেলনের আধাঘন্টা পরেই কমিটি রদবদল

একে কুদরত পাশা, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন পরিষদের কমিটি বাতিলের দাবীতে ওই বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র শিক্ষকদের সাংবাদিক সম্মেলন করার আধাঘন্টার মধ্যেই নিজের গঠিত কমিটি রদবদল করলেন দিরাই শাল্লার সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ৩০ জুলাই দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন এর প্রস্তুতি সভায় দিরাই-শাল্লার সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত কারো সাথে কোন পরামর্শ না করে নিজের ক্ষমতাবলে এক লন্ডন প্রবাসী দিরাই পৌর মেয়র ও দিরাই পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান বুলবুল কে আহ্বায়ক করায় ৩১ জুলাই দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র শিক্ষকরা সাংবাদিক সম্মেলন করে এ কমিটি বাতিলের দাবী জানান। সাংবাদিক সম্মেলন শেষ করার সাথে সাথে তাদেরকে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নিজ বাসায় ডেকে নিয়ে নতুন কমিটি করে দেন। কমিটিতে ওই বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও শিক্ষক আলহাজ আব্দুল কুদ্দুছ, আলতাব উদ্দিন ও হাফিজুর রহমান তালুকদার, দিরাই পৌর সভার সাবেক মেয়র হাজী আহমদ মিয়া ও আজিজুর রহমান বুলবুলকে আহ্বায়ক করেন । এ ব্যাপারে দিরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, স্থানীয় সাংসদ তাঁর নিজ বাসায় আমাদের ডেকে নিয়ে কমিটিতে রদবদল করেন। বর্তমান কমিটিতে পাঁচজনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। তার মধ্যে প্রথম আমি (আব্দুল কুদ্দুছ), এরপর আলতাব উদ্দিন, হাফিজুর রহমান তালুকদার, হাজী আহমদ মিয়া ও আজিজুর রহমান। দিরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদার বলেন, আমাদের সাংবাদিক সম্মেলনের পর সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত কমিটি রদবদল করে দিয়েছেন। এখন থেকে শতবর্ষ উদযাপন পরিষদের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হবে আলহাজ আব্দুল কুদ্দুছ, আলতাব উদ্দিন ও আমার (হাফিজুর রহমান) এর নামে। এ তিন জনের স্বাক্ষওে ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হবে। আমাদের সাথে সহযোগি হিসেবে থাকবেন দিরোই পৌর সভার সাবেক ও বর্তমান মেয়র।    

বিস্তারিত»
জুলুম-নির্যাতন আর মানবাধিকার লঙ্ঘনে আওয়ামী লীগ শীর্ষে

ঢাকা : শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, জুলুম-নির্যাতন আর মানবাধিকার লঙ্ঘনে আওয়ামী লীগ শীর্ষে। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে মুসলমানদের ওপর যেভাবে জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগও একই কায়দায় হত্যা-জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলায় ছাত্রশিবিরের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রেজাউল বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে অসংখ্য ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন তেমনি মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও ডিগ্রি অঘোষিতভাবে তিনি অর্জন করেছেন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের হাতে কেউ নিরাপদ নয়। তারা এদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সকল নজির স্থাপন করেছে। গুম-খুন-নির্যাতন তাদের নিত্য অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। রেজাউল বলেন, মানবতাবিরোধী কথা বলে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে জেল-জুলম আর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাচ্ছে এই সরকার। বিনা অপরাধে এদেশের হাজার হাজার ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মী, রাজনীতিক, সাধারণ মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা, গুম করা কি মানবতাবিরোধী নয়? এদেশের মাটিতে এসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার দ্বীন কায়েমের মাধ্যমে হবে। তিনি অবিলম্বে জামায়াতের আমিরসহ সকল রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। উপজেলা শিবির সভাপতি নাছির উদ্দিন জামশেদের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, লক্ষ্মীপুর জেলা শিবিরের সভাপতি রেজাউল ইসলাম খান সুমন, কমলনগর উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান মাওলানা হুমায়ুন কবির, জেলা শিবির সেক্রেটারি ফয়েজ আহমেদ, রামগতি জামায়াতের সেক্রেটারি মিজানুর রহমান প্রমুখ।  

বিস্তারিত»
ফ্রি ইন্টারনেট সেবা চালু করল ফেসবুক

এবার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে বসেই আপনি জানতে পারবেন স্থানীয় হাসপাতাল, চাকরির খবর, রেস্তোরাঁ, শিক্ষা-সংক্রান্ত সব তথ্য। এমনই এক নয়া ‘অ্যাপস’ লঞ্চ করল সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং জায়েন্ট ফেসবুক। নয়া অ্যাপসটির নাম ইন্টারনেট ডট ওআরজি(internet.org)। অ্যাপসটি ডাউনলোড করলেই আপনি কোনও ডেটা রিচার্জ ছাড়াই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। জুকারবার্গ জানিয়েছেন, ইন্টারনেট ডট ওআরজি-র লক্ষ্য হল গোটা পৃথিবীর মানুষকে বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া। তিনি আরও বলেন, আমাদের সংস্থা মনে করে, বিশ্বের প্রতিটি মানুষ বিনামূল্যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, চাকরি, পড়াশোনা ও প্রাথমিক তথ্যটুকু পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আমরা এর পর আরও নয়া পরিষেবা নিয়ে আসব ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য, তাও একেবারে বিনামূল্যে। সেবাটি প্রাথমিকভাবে জাম্বিয়ায় চালু হলেও পর্যায়ক্রমে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোও এ সেবার আওতায় আসবে।  

বিস্তারিত»
আসছে সৌরঝড়!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:সূর্যের অভ্যন্তরে সৃষ্ট ঝড়ের কারণে দীর্ঘস্থায়ী ভয়াবহ ক্ষতির হুমকিতে পড়েছে পৃথিবী ও এখানকার জীবন। বিজ্ঞানীরা এই হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, প্রবল এই ঝড় শুরু হচ্ছে সূর্যের উপরিভাগে বিপুল পরিমান অগ্নি উদগীরনের কারণে। আর তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সূর্যের বলয় থেকে ব্যাপক হারে বেরিয়ে আসা আগুনের বিচ্ছুরণ। বিজ্ঞানের ভাষায় যা সিএমই নামেই পরিচিত। সিএমই সৌরজগতের সবচেয়ে ভয়াবহ একটি ঘটনা। এর ফলে সূর্যের উপরিতলে সৃষ্টি হয় আগুনের বুদবুদ আর তখন সুর্য থেকে ফুটন্ত আগুনের দলা ছুটে ছুটে বের হয়ে আসতে থাকে মহাকাশে। আগুনের এই ফুলকির সঙ্গে সঙ্গে সূর্য থেকে ব্যাপক হারে বের হতে থাকে গামা রশ্মি, রঞ্জন রশ্মি, প্রোটন ও ইলেক্ট্রন। আর সিএমই’র সঙ্গে যখন এসব রশ্নির বিচ্ছুরণ ঘটতে থাকে তখনই সূর্যে ওঠে ভয়াবহ ঝড়। যার অপরিহার্য প্রভাব দেখা দেয় পৃথিবীর ওপর। পৃথিবীর মাটিতে এবং মাথার ওপর বিদ্যুত সঞ্চালন লাইনে বাড়তি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। ফলে ব্যাপকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে এবং বৈদ্যুতিক সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইন্টারন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স সোলারম্যাক্সের সদস্য অ্যাশলে ডেল এই সৌরঝড়েরর সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে বার বার সতর্ক করে দিচ্ছেন। ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটির এই গবেষক বলেছেন, বিশেষভাবে ভয়ঙ্কর ধরনের এই সৌরঝড়ের প্রভাব পৃথিবীর ওপর পড়া এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। তিনি বলেন, এই ঝড়ের প্রভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ভেঙ্গে পড়বে। বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে পরিবহন, পয়ঃনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।   বিদ্যুৎহীন অবস্থায় প্রেট্রোল স্টেশনগুলোতে গাড়ির জ্বালানির জন্য তাদের যুদ্ধ শুরু হবে। পানি ও পয়ঃপ্রণালী ক্ষতিগ্রস্ত হবে, ফলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে মহামারি দেখা দিতে পারে। যেসব রোগ শত শত বছর পেছনে ফেলে আমরা এগিয়েছি, সেগুলোই আবার ফিরে আসতে পারে, বলেন অ্যাশলে ডেল। এর আগে সবচেয়ে বড় সৌরঝড় হয়েছিলো ১৮৫৯ সালে, যা ইংলিশ জ্যোতির্বিদ রিচার্ড ক্যারিংটনের নামানুসারে ক্যারিংটন ইভেন্ট নামেই পরিচিত পায়। সেবার প্রায় এক ট্রিলিয়ন কিলোগ্রাম উত্তপ্ত সূর্যকণিকা পৃথিবীর বুকে ছিটকে পড়েছিলো সেকেন্ডে তিনহাজার কিলোমিটার গতিতে। সেসময় এর বড় ধরনের প্রভাব মানুষের ওপর পড়েনি কারণ তখন বৈদ্যুতির উপরিকাঠামো বর্তমান সময়ের মতো এতটা বিস্তৃত ছিলো না। সেসময় মাথার ওপরে ১ লাখ ২৪ হাজার মাইল টেলিগ্রাফ লাইন ছাড়া আর তেমন কিছুই ছিলো না। ‘এটি আর এখন কেবল হুমকি নয়, এটি অনিবার্য একটি বিষয়,’ অ্যাশলে ডেল পদার্থ জগতের এই সবশেষ বিষয়টিকে এভাবেই বলছেন। নাসার বিজ্ঞানীরা ধারনা করছেন, পৃথিবী প্রতি দেড়শ’ বছরে একবার কেরিংটন লেভেল অতিক্রম করে। সেই হিসেবে এরই মধ্যে আমরা সম্ভাব্য সৌরঝড়ের সময়ের চেয়েও পাঁচ বছর অতিক্রম করেছি। এবং এখন আগামী এক দশকে সৌরঝড় ঘটার সম্ভাব্যতা ১২ শতাংশ। গত বছর বিশ্বের ৪০টি শক্তিশালী বিজ্ঞানীদল ফ্রান্সের ইন্টারন্যাশনাল স্পেস ইউনিভার্সিটিতে সমবেত হন সোলার সুপার-স্টর্ম এর সম্ভাব্য ক্ষতি কতটা কমিয়ে আনা যায় সে নিয়ে আলোচনা করতে। বিজ্ঞানীদের একটি সাব-গ্রুপ সেবার এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন, মহাকাশ-আবহাওয়ার একটি অগ্রীম সতর্কতা ব্যবস্থা সবচেয়ে ভালো সমাধান হতে পারে। আর তা সম্ভব করতে তারা সুর্যের আশেপাশে একটি কিউব স্যাটেলাইট পাঠানোর কথা বলেন। এই স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক কোথায় কখন কতটুকু মাত্রায় সৌর ঝড় উঠতে পারে সে সম্পর্কে অন্তত এক সপ্তাহ আগে বার্তা দিতে পারবে। এতে বৈদ্যুতিক যেসব লাইন ও ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সেগুলো বন্ধ করে রাখা সম্ভব হবে। এছাড়াও স্যাটেলাইটগুলো সংরক্ষণ, বিমান উড্ডয়ন বন্ধ রাখা যাবে। প্রতিষেধক কর্মসূচিও হাতে নেওয়া যাবে। অ্যাশলে ডেলের ভাষায়, এবার সৌর ঝড় এলে পৃথিবীর মানুষ যতটা বিপদগ্রস্ত হতে যাচ্ছে ততটা এর আগে মানব প্রজাতি আর কোনো কিছুতে কোনো কালেই হয়নি। তবে এটাও সত্য এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিজেকে কিভাবে রক্ষা করতে হয় সেটিও এখন মানুষ শিখে গেছে।       

বিস্তারিত»
কুমিল্লায় পিকনিক বাস খাদে পড়ে চালক নিহত

কুমিল্লা: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় একটি পিকনিক বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে চালক চাঁন মিয়া মোল্লা (৪৫) নিহত এবং ৩৫ যাত্রী আহত হয়েছেন। নিহত চাঁন মিয়া মানিকগঞ্জের নগরকান্দার পাঁচকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদ মোল্লার ছেলে। শুক্রবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। জানা যায়, মানিকগঞ্জ থেকে পিকনিকের যাত্রী নিয়ে বাসটি কঙবাজার যাওয়ার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসটির চালক চাঁন মিয়া মোল্লা মারা যান এবং বাসের ৩৫ যাত্রী আহত হন। আহতদের স্থানীয় চিওড়া, চৌদ্দগ্রাম ও ফেনীর বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

বিস্তারিত»
তোবা গ্রুপের শ্রমিকদের অনশন অব্যাহত

ঢাকা : বেতন-বোনাসের দাবিতে পঞ্চম দিনের মতো শুক্রবারও আমরণ অনশন অব্যাহত রেখেছেন তোবা গ্রুপের ৫টি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন তারা। ৩ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে অনশন কর্মসূচি পালনকালে একের এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লেও অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর তারা। এদিকে বৃহস্পতিবার এক সপ্তাহের মধ্যে বিজিএমইএর সমস্য সমাধানের আশ্বাস প্রত্যাখ্যান করে ৫ দফা দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শ্রমিক নেতারা। শনিবার বেলা ১১টায় রাজাধানীর বাড্ডায় তোবা গ্রুপের কারখানার সামনে বিক্ষোভ-সমাবেশ করবেন তারা। পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পক্ষ থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যা সমাধানের যে আশ্বাস দেয়া হয়েছে তা আন্দোলনরত শ্রমিকরা প্রত্যাখ্যান করেন। ক্ষতিপূরণসহ ৫ দফা দাবির ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। এদিকে তোবার পোশাক শ্রমিকদের প্রতি সংহতি জানিয়ে দাবি আদায়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

বিস্তারিত»
গণতন্ত্র স্বীকৃত কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে ২০ দলীয় জোট : রিজভী

কুড়িগ্রাম: গণতন্ত্র স্বীকৃত এবং আইন সঙ্গত কর্মসূচি নিয়ে ২০ দলীয় জোট মাঠে নামবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। শুক্রবার সকালে কুড়িগ্রামের সরদারপাড়া এলাকার নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা জানান। এ সময় কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রিজভী আহমেদ বলেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে। এই কর্মসূচিগুলো হবে গণতন্ত্র স্বীকৃত এবং আইন সঙ্গত। এই আন্দোলনের পরবর্তী রূপ কী রকম হবে এবং কতোটুকু তীব্র হবে তা সরকারের আচরণের ওপর নির্ভর করবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, সমাবেশের অধিকার, স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। কিন্তু এই সরকার ক্রমাগতভাবে মানুষের কণ্ঠরোধ করে চলেছে। গণতন্ত্রে বিরোধী দলের যে অধিকার সেটিকে সরকার ভয়াবহভাবে দমন করেছে। প্রসঙ্গত, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ঈদের দিন মঙ্গলবার মধ্য রাতে ঢাকা থেকে স্বপরিবারে নিজ জেলা কুড়িগ্রামে যান। তিনি আজ শুক্রবার ঢাকায় ফিরবেন।

বিস্তারিত»
নাটোরে ট্রেনের টিকেট কাটা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ৩

নাটোর: নাটোরের লালপুর উপজেলায় ট্রেনের টিকেট নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- উপজেলার ডহরশোলা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে জীবন হোসেন (২৮), একই গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে রানা হোসেন (২৫) এবং রানার মামা জুলমত হোসেন (২৬)। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লালপুর উপজেলার ঈশ্বরদী বাইপাস রেলস্টেশনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জানা যায়, সকালে স্টেশনের টিকেট কাউন্টারের সামনে ট্রেনের আগাম টিকেট কাটা নিয়ে স্থানীয় ডহরশোলা গ্রামের চা বিক্রেতা মোতালেব হোসেনের সঙ্গে ঈশ্বরদী লোকোশেড এলাকার আব্দুর রাজ্জাক ও হাফিজুল ইসলামদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে হয়। এ সময় আব্দুর রাজ্জাক আহত হন। পরে এ খবর পেয়ে রাজ্জাকের সমর্থকরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে স্টেশন এলাকায় এসে স্থানীয় লোজনদের ওপর হামলা চালায়। এতে ১৩ জন আহত হন। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে ও লালপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ এবং বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করে। এর মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে জীবন হোসেন, হাসপাতালে ভর্তির পর রানা হোসেন এবং জুলমত হোসেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের সময় মারা যান।

বিস্তারিত»
‘আগামী সপ্তাহে আসছে বিএনপির নতুন কর্মসূচি’

ঢাকা: আগামী সপ্তাহে স্থায়ী কমিটি ও বিশ দলীয় জোটের বৈঠকের পর আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে বিএনপি।  আপাতত সভা,সমাবেশ ও গণসংযোগেই সীমাবদ্ধ থাকার আভাস দিলেও আন্দোলনের পথে সরকারই বড় বাধা বলে মনে করেন দলটির নেতারা। পুরো রমজান জুড়ে বিভিন্ন ইফতার মাহফিল ও  বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ঈদের পর কঠোর আন্দোলনের কথা বলেছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও দলটির সিনিয়র নেতারা। রোজা  ও ঈদ পেরিয়ে এবার সে কর্মসূচি দেয়ার পালা। বার বার কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দিলেও নেতাদের অনেকে এখন বলছেন ধীরে চলো নীতির কথা। কর্মসূচির আকৃতি বা ধরন যাই হোক আগামী সপ্তাহে তা ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তারা। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, “সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ হবে। সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় করে কর্মসূচি প্রদান করা হবে।” আন্দোলনকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিতে চায় বিএনপি। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রিত বাহিনীকেই বড় বাধা বলে মনে করেন তারা। আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রীকে ওয়েলকাম জানাই। তিনি মাঠে আসছেন। খেলতে চান। তবে কথা হচ্ছে প্রশাসনকে বাইরে রেখে আসেন। আগামী সপ্তাহ থেকেই ধারাবাহিক কর্মসূচি শুরু হবে।” তারা এও বলছেন,আন্দোলন ইস্যুতে কৌশল যাই হোক না কেন, সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচন ইস্যুতে মতপার্থক্য কমিয়ে আনাকে গুরুত্ব দেবে বিএনপি।

বিস্তারিত»
মির্জা আলমগীর সিঙ্গাপুরে গেছেন

ঢাকা: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শারীরিক চেকআপের জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ছাড়েন। মির্জা আলমগীর চিকিৎসা শেষে শিগগিরই দেশে ফিরবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিস্তারিত»
ঝিনাইদহে ট্রেনের ধাক্কায় বরযাত্রীবাহী বাসের ১০ যাত্রী নিহত

ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় বরযাত্রীবাহী একটি বাসের ১০ জন নিহত এবং অর্ধশত আহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার রেলক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার পর থেকে খুলনার সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। জানা যায়, বরযাত্রীবাহী বাসটি বারোবাজার রেলক্রসিংয়ের ওপর ওঠামাত্র খুলনাগামী সৈয়দপুর থেকে ছেড়ে আসা সীমান্ত এঙপ্রেসের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ সময় বাসটি চুর্ণবিচুর্ণ হয়ে ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনের অংশে ঢুকে পড়ে। এতে বাসযাত্রীরা রাস্তার দুপাশে ছিটকে পড়েন এবং অনেকেই ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন। ট্রেনটি বাসটিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে নিয়ে যায়। এরপর ট্রেনের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় জনতা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার কাজ শুরু করে। তারা ঘটনাস্থল থেকে শিশু-নারীসহ ৯ জনের লাশ উদ্ধার করে। আহতদের মধ্যে ৩০ জনকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং বাকিদের ঝিনাইদহ ও কালীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কালীগঞ্জে আরেকজন মারা যান। হতাহতরা শৈলকূপা উপজেলার ফুলহরি গ্রামের বাসিন্দা। সাকো মোছনপুর গ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানের পর বাসটিতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাসটিতে ৭০ যাত্রী ছিলেন। একটি সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার আগেই বর ও কনে প্রাইভেটকারে করে রেলক্রসিং পার হয়েছিলেন।

বিস্তারিত»
সিরাজগঞ্জে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলো- বেল্লাল হোসেনের মেয়ে মিম (৮) এবং নজরুল ইসলামের মেয়ে সাদিয়া (১০)। জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে কামারখন্দ উপজেলার বড়ধুল গ্রামে মিম ও সাদিয়া নিখোঁজ ছিল। রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। শুক্রবার সকালে বাড়ির সামনে একটি পুকুরে তাদের লাশ ভেসে উঠলে এলাকাবাসী উদ্ধার করে। পরিবারের ধারণা, পুকুর পাড়ে খেলা করার একপর্যায়ে পুকুরে নামলে তারা ডুবে যায়।

বিস্তারিত»
লুতফুর রহমান- টক অব দ্য  টাউন

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ-লন্ডন থেকে:লুতফুর রহমান আবারো ব্রিটেনের গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়ে আলোড়ন তুলেছেন। এবার ভোটের ক্ষেত্রে নয়। একজন মুসলমান মেয়র হয়ে টাওয়ার হ্যামলেটস নগর ভবনে প্যালেস্টাইনের ফ্ল্যাগ উড়িয়ে প্যালেস্টাইনের মুসলমানদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে সমগ্র ব্রিটেন ও ইউরোপে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন।ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান বর্বরতা ও বোমাবাজির প্রতিবাদে সারা বিশ্বের মুসলিম অমুসলিম মানবতাবাদী সকল নাগরিক আজ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সোচ্চার। বিশ্ব বিবেক এই প্রথমবারের মতো এক কাতারে এসে একই আওয়াজ তুলছে- এখনি ইসরায়েলকে সিজ ফায়ার করতে হবে। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামাও ইসরায়েলের এই বর্বর হামলা এখনি বন্ধের দাবী জানিয়েছেন।লন্ডনে গত সপ্তাহে হাজার হাজার নারী পুরুষ ইসরায়েল এম্বাসী ঘেরাও করে গাজার জনগণের সাথে সংহতি প্রকাশের সাথে এখনি সিজ ফায়ারের দাবীতে রাজপথ কাপিয়ে তুলেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত কাল লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী বাঙালি মুসলিম মেয়র লুতফুর রহমান নগর ভবনে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে ফিলিস্তিনের মুসলমান ভাইবোনদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। আর লুতফুর রহমানের এমন অভিনব সংহতি প্রকাশে ব্রিটেনের মূলধারার মিডিয়া সহ রাজনীতি ও অন্দর মহলে ব্যাপক হৈ চৈ পড়ে যায়। গতকালের প্রধান প্রধান দৈনিকগুলোর অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় লুতফুর রহমানকে একজন মুসলিম মেয়র হিসেবে ফিলিস্তিনের পতাকা নগর ভবনে উড়ানোকে কেন্দ্র করে পক্ষে বিপক্ষের মতামত নিয়ে লিড সংবাদ প্রকাশ করতে দেখা গেছে, যার রেশ এখনো চলছে।   শ্বেতাঙ্গ এবং কিছু কিছু মানবতাবাদী গ্রুপ সহ লেবার ও কনজারভেটিভ অনেকেই লুতফুর রহমানের ফিলিস্তিনী পতাকা নগর ভবনে উড়ানোকে সহজভাবে নেয়নি। কেউ কেউ লুতফুর রহমানের পতাকা উড়ানোর কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে টুইট করেছেন। আবার অনেকেই বলছেন নগর ভবনের কাজের সাথে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে সংহতি প্রকাশের কোন ব্যাপার আছে কিনা- এমনও প্রশ্ন তুলেছেন।   লুতফুর রহমানের বিরোধী শক্তিশালী লেবার দলের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিন আগে যেখানে হাইকোর্ট লুতফুর রহমানের নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির পিটিশন গ্রহণ করেছেন- তা থেকে দৃষ্টি অন্যত্র ফিরিয়ে নিয়ে সমগ্র আইনি বিষয়টিকে মুসলমান ইস্যুতে জায়োনিষ্ট বিরোধী প্রচারণা কাজে লাগিয়ে হাইকোর্টের অবস্থান প্রকারান্তরে প্রশ্নবিদ্ধ করে অতি রাজনৈতিক কৌশলী এক চাল হিসেবে তারা দেখছেন। তাদের মতে, হাইকোর্টে লুতফুর রহমান হেরে গেলে কিংবা অভিযুক্ত হয়ে গেলে মেয়র পোষ্ট হারাবেন। সেক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি লেবারের কেন্ডিটেড মেয়র হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তারা সেইসব বিবেচনায় লুতফুর রহমানের প্যালেষ্টাইনী পতাকা উড়ানোকে দেখছেন।   আবার লুতফুর রহমানের সমর্থকরা এটাকে লুতফুর রহমানের মুসলমানদের প্রতি মহানুভবতা ও ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সহানুভূতি আর সেই সাথে মুসলিম উম্মাহর এক নয়া নেতার মতো দায়িত্ব পালন হিসেবেই দেখছেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পার্লামেন্ট মেম্বাররাও এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। জানতে চেয়েছেন প্রকৃত উদ্দেশ্য কি ?   সব মিলিয়ে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মেয়র লুতফুর রহমান লন্ডনে ও ইউরোপে এখন বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। আলোচনা সমালোচনা আর সামনে হাইকোর্টে তার নির্বাচনী ভোট জালিয়াতির পিটিশনের কমিশন গঠন ও শুনানি শেষ পর্যন্ত তাকে কোথায় নিয়ে যায় সেটাই এখন টক অব দ্য টাউন। Salim932@googlemail.com.

বিস্তারিত»
গাজায় মুসলিম নির্যাতন বন্ধের দাবিতে ব্রাডফোর্ড টাউন সেন্টারে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত

এম.এস.এইচ. সুজন: “ফ্রি পেলেষ্টাইন প্রটেষ্ট” সংগঠনের ব্যানারে ব্রাডফোর্ড টাউন সেন্টারে প্রতিনিয়ত গাজায় নিরপরাধ শিশু-মহিলা সহ অসংখ্য মানুষ হত্যার প্রতিবাদে এক বিশাল প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমিউনিটি লিডার ইয়াজ কুরেশির সভাপতিত্বে, লরেন্স বুথের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ব্রাডফোর্ড এম.পি. জর্জ গেলওয়ে, কাউন্সিলার শফিক, কাউন্সিলার মাজ রহমান, ব্যরিষ্টার রেদওয়ান, বিলাল শাহ, মোঃ আশরাফ, মঞ্জুর আহমদ, আনছার হাবিব সহ প্রমুখ। বক্তারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ঈসরাইল আজ নগ্ন ও বর্বরভাবে মুসলিম হত্যায় পাগলপরা হয়ে পড়েছে। বিগত পনের দিন ধরে ঈসরাইলী সেনারা রকেট হামলা চালিয়ে শত শত মানুষ হত্যা করছে। ধ্বংস করে দিচ্ছে জনপদ, গুড়িয়ে দিচ্ছে হাসপাতাল, মসজিদ, স্কুলসমূহ। সারা বিশ্বের মানুষ আজ ফুসে উঠেছে। কিন্তু মার্কিন প্রশাসন, মানবাধিকার সংগঠন সহ শক্তিশালী রাষ্ট্রসমূহ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। যা বিশ্বের মুসলমানদেরকে অবাক ও হতাশ করে তুলছে। আজ সময় এসেছে আরব বিশ্ব সহ সকল মুসলিম নেতা ও জনসাধারণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলে ফিলিস্তিনকে মুক্ত করা।  বিশ্বের সকল মুসলিম জনসাধারণকে ঈসরাইলী পণ্য বর্জন করে এই হামলার প্রতিবাদ করার আহবান জানানো হয়। এই পবিত্র রমজান মাসে সেহরী ও ইফতারের সময় বুলেট ও বিমান হামলায় নির্মমভাবে নির্যাতিত হয়ে ফিলিস্তিনি অনেক মুসলিমকে এই দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। আজ তাদের খাবার নেই, পানি নেই, ঘরে বসবাস করার জায়গা নেই। ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সকল মানুষকে এই দুর্গত অসহায় ও মজলুম ফিলিস্তিনিদের পাশে এসে সহযোগিতার হস্ত প্রসারিত করার আহবান জানানো হয়।  

বিস্তারিত»

সাক্ষাৎকার

তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও সমর্থন করেন : তারেক রহমান

তারেক মোরতাজা:বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই ‘অবৈধ’ সরকারের পতন হবে বলে মনে করেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের যে তথাকথিত নির্বাচন হয়েছে, সেখানে আওয়ামী লীগ নিজেরাই নিজেদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। লন্ডনে নয়া দিগন্তকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জিয়া পরিবারের এ জ্যেষ্ঠ উত্তরসূরি বলেন, দেশে যে সরকার আছে; সেটাকে বৈধ বলা যাবে না। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে পলিটিক্যালি বায়াস এবং করাপ্ট নির্বাচন কমিশনের ঘাড়ে ভর করে তারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছে। সঙ্কট সমাধানে দেশের সত্যিকারের বিরোধী দল বিএনপির সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে নেয়ার কথা বলেন তারেক রহমান। তার মতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুকে আওয়ামী লীগের সমর্থকেরাও সমর্থন করেন। নইলে দেশের ৪৪টি কেন্দ্রে একটি ভোটও পড়বে না কেন? সেখানে আওয়ামী লীগের লোক ছিল কি না? পাল্টা প্রশ্ন করেন তারেক রহমান। যদি থেকে থাকে, তাহলে এ দাবির সাথে তৃণমূলপর্যায়ের আওয়ামী লীগ কর্মীদেরও সমর্থন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। খোলামেলা এ আলাপচারিতার শুরুতেই ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গের অবতারণা করলে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের পরের যেসব সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো যদি আমরা এক জায়গায় রাখি, তাহলে নিঃসন্দেহে এ কথা বলা যায়, দেশের মানুষ নির্বাচন বর্জন করেছেন। অর্ধেকেরও বেশি আসনে (১৫৩) যেখানে নির্বাচন হয়নি। যেখানে নির্বাচন হয়েছে, সেখানে ভোটার উপস্থিতি দেখেন, তাহলে সহজেই বুঝতে পারার কথা এ নির্বাচন করে যারা ক্ষমতায় এসেছেন তারা বৈধ কি না? তিনি বলেন, নিশ্চিতভাবেই সবাই এটা জানেন, একটি অস্বচ্ছ, জবরস্তিমূলক, একপেশে ও চাপিয়ে দেয়া নির্বাচনের পরেও আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ও দেশের বাইরের মানুষের কাছে নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য করতে পারেনি। এ রকম একটি নির্বাচন দেশে ও দেশের বাইরে আওয়ামী লীগের আসল চেহারা উন্মোচন করেছে। নিজেই জানতে চান দেশের অবস্থা এখন কেমন? সাংবাদিক হিসেবে আপনারা কেমন দেখছেন? নিজেই উত্তর দেন আবার। বলেন, আমি থাকলে নাকি দেশে দুর্নীতি হয়, টাকা পাচার হয়, সন্ত্রাস হয়। গত ছয় বছর তো আমি দেশে নেই, এত খুন, এত দুর্নীতি, এত অনিয়ম কিভাবে হলো। স্মিত হেসে প্রশ্ন করেন, এর কি কোনো জবাব আপনারা পেয়েছেন? দুর্নীতি, হত্যা, গুম ও খুনের কারণে দেশের যে ভয়াবহ অবস্থা এ থেকে উত্তরণ চায় সবাই। কিন্তু কাউকে না কাউকে জনআকাক্সার আন্দোলন শুরু করতে হবে। বিএনপি অতীতের মতো এবারো মানুষের আকাক্সার বাস্তবায়নে তার শরিকদের সাথে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। নিজের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের উত্থাপিত অভিযোগেরও সরাসরি জবাব দেন তারেক রহমান। বলেন, মিথ্যা তো মিথ্যাই। এটাকে আপনি সত্যে পরিণত করতে চান না কেন? দু’দিন আগে আর পরে সত্য প্রকাশিত হবেই। নিজের বিরুদ্ধে সরকারের আনা অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এটা রাজনৈতিক স্বার্থ ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়! আলোচনায় ফিরে আসে আন্দোলনে কতটা সফল ছিল বিএনপি। তারেক রহমান বলেন, আন্দোলনে বিএনপি সফল হয়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় রাজধানী ঢাকা সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। এখানে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, আওয়ামী লীগের নেত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে তাদের অনাস্থা জানিয়েছেন। সরকার অনেক সাবোটাজ করার চেষ্টা করেছে; কিন্তু সফল হয়নি। দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারেক রহমান বলেন, আমাদের আশা হারানোর কোনো কারণ নেই। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই জনআকাক্সা পূরণে সফল হবে বিএনপি ও তার নেতৃত্বে থাকা শরিকেরা। নব্বুইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের উদহারণ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার মিছিলে এরশাদ সরকার গুলি চালিয়েছিল। এর প্রতিবাদে ঢাকায় যে কর্মসূচিতে সব দলের অংশ নেয়ার কথা ছিল, সেখানে শেখ হাসিনা তার নিরাপত্তার অজুহাত তুলে আসেননি, বেগম জিয়া তার জীবনকে জনস্বার্থের জন্য তুচ্ছ করে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। তিনি সফলতার সাথে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার যাত্রা শুরু করে দিয়েছেন। এবারো বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ জনগুরুত্বপূর্ণ সব ইস্যুতে সফলতা আসবে; এতে কোনো সন্দেহ নেই বলে মনে করেন তারেক রহমান। লন্ডনে বসে দেশের আন্দোলন পরিকল্পনার বিষয়টি নাকচ করে তারেক রহমান বলেন, দেশে যেসব কর্মসূচি, আন্দোলন-সংগ্রাম হচ্ছে তার সিদ্ধান্ত বিএনপি ও তার জোটের সব শরিক মিলে নিচ্ছেন। সেখানে আমার একক পকিল্পনার যে অভিযোগ, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংগঠিনকভাবে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের শক্তি বৃদ্ধির যে উদ্যোগ তারেক রহমান নিয়েছিলেন, তার হাল কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। সাংগঠনিক ভিত শক্ত করার জন্য আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা যাতে দেশের স্বার্থে এগিয়ে আসতে পারেন, ঐক্যবদ্ধ থাকেন সে জন্য দলের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ১/১১-এর মইন-ফখরুদ্দীন সরকারের সময় গ্রেফতার হওয়া বিএনপি নেতা তারেক রহমানের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তাকে নির্যাতনের ক্ষত বয়ে বেড়াতে হবে সারা জীবন। চিকিৎসকদের উদ্ধৃত করে তারেক রহমান বলেন, ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ক্ষতি সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। লন্ডনের চিকিৎসকেরা তাকে বলেছেন, ফ্র্যাকচার হওয়ার সাথে সাথেই অপারেশন করা গেলে পূর্ণ সেরে ওঠার সম্ভাবনা ছিল। যেহেতু বছরখানেক পরে তিনি চিকিৎসা পেতে শুরু করেছেন তাই তিনি পূর্ণ সেরে উঠছেন না। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে তারেক রহমান পরিবারের সদস্যদের নিয়েই দিন যাপন করছেন। তার স্ত্রী ডা: জোবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমান তার সাথেই আছেন। দেশে কবে ফিরছেন? জানতে চাইলে বলেন, সময় মতো ফিরব। এখনই দিনক্ষণ ঠিক করে বলা যাচ্ছে না। চিকিৎসার জন্যই এখানে আসা, সেটি শেষ হলেই দেশের মানুষের সেবায় ফিরে যাবো। এখানে তো আমি সারাজীবন থাকব না। দেশের মানুষের কাছে আমার অনেক ঋণ, সেই ঋণ শোধ করতে আমাকে দেশেই ফিরে যেতেই হবে। তারেক রহমান বলেন, দেশটা সবার। আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। তাই দেশের মানুষের কল্যাণে আমাদের সবাইকে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে একসাথে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক দর্শন, মতানৈক্য, বিভেদ থাকতেই পারে কিন্তু দেশের স্বার্থে আমাদের এক সাথে কাজ করতে হবে।

বিস্তারিত»

বিশেষ কলাম

ঈদের পর কতটা জমবে আন্দোলন :অলিউল্লাহ নোমান

গত শুক্রবার ইফতারে পূর্ব লন্ডনে একটি দাওয়াতে গিয়েছিলাম। ঘরোয়া পরিবেশের এই ইফতার আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন রাজনীতিক। এর মধ্যে দুজন ছিলেন বাংলাদেশ থেকে লন্ডনে সফরকারী। বাকি ১০-১২ জনের মধ্যে সবাই রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কেউ কেউ বাংলাদেশে অবস্থানকালে ছাত্ররাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন। বর্তমানে লন্ডন-ইউরোপে বাংলাদেশ ভিত্তিক বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বাংলাদেশ থেকে লন্ডন সফরে আসা দুজনের মধ্যে একজন ছিলেন একটি ছাত্রসংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে। আরেকজন ছিলেন প্রবীণ অধ্যাপক। মোটকথা সবাই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং রাজনীতি নিয়ে বিশ্লেষণের যোগ্যতা রাখেন। তাদের বিশ্লেষণে জমে উঠেছিল রাজনৈতিক আলাপ। ইফতার-পূর্ব আলাপচারিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল ঈদের পর কী হতে পারে দেশে! এসব পোড় খাওয়া রাজনীতিকদের আলোচনায় ছিল খোলামেলা বিশ্লেষণ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন ২০ দলীয় জোট নেতা বেগম খালেদা জিয়া আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন। পাল্টা ঘোষণায় শেখ হাসিনা বলেছেন দেখা হবে ময়দানে। শেখ হাসিনার সামনে রয়েছে বাড়তি আত্মবিশ্বাস। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে গড়ে ওঠা আন্দোলন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছেন তিনি। পার করেছেন ভোটারবিহীন একটি নির্বাচন। নির্বাচনের পর সবাই নীরব। নির্বিঘ্নে সরকার পরিচালনা করছেন শেখ হাসিনা। বিপরীতে বিএনপির দলীয় বিশৃঙ্খলা এখনো রয়ে গেছে। জোটের ভেতরে আছে অবিশ্বাসের বীজ। এ অবস্থায় কতটা সফল হবে আন্দোলন? আদৌ আন্দোলন করতে পারবে কি বিএনপি? এসব প্রশ্নের উত্তর কিছুটা হলেও পাওয়া যাবে ইফতারের আগে রাজনৈতিক বোদ্ধাদের আলাপচারিতায়। এই আলাপচারিতায় সবাই একমত হলেন, বিএনপির একার আন্দোলনের ক্ষমতা নেই। বিএনপি একা আন্দোলন করে আওয়ামী লীগের মতো দলকে তত্ত্বাবধায়ক সসরকারব্যবস্থা মেনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করতে পারবে না। কেউ বললেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশে সবাইকে নিয়ে আন্দোলনের কথা বলছেন। তিনি শরিক দলগুলোর ইফতারে এবার নিজে গেছেন। এমনকি জামায়াতে ইসলামী থেকে শুরু করে ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর ইফতারেও উপস্থিত হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু আগামী দিনে বিএনপির কাণ্ডারি হিসেবে যাকে ভাবা হচ্ছে, তিনি কি সবাইকে নিয়ে আন্দোলনের পক্ষে! এমন প্রশ্ন করেন আরেকজন। এই প্রশ্নকারী সঙ্গে যুক্তিও উপস্থাপন করেছেন। একজন বললেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী দিনের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন। অসুস্থতার কারণে এতদিন প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশে উপস্থিত হতেন না। তবে বিএনপি জোটবদ্ধভাবে লন্ডনে কর্মসূচি পালন করতো। বর্তমানে তিনি সভা-সমাবেশে উপস্থিত হচ্ছেন। বক্তব্য রাখছেন। কিন্তু লন্ডনে কোনো জোটবদ্ধ কর্মসূচি নেই। বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে যারা অতীতে লন্ডনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন, তাদের সঙ্গে তারেক রহমানের যোগাযোগ তো অনেক দূরের বিষয়। বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব পর্যন্ত শরিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ রাখতে চায় না। জোটের শরিক দলগুলোর রাজনীতিকদের নিয়ে তারেক রহমান লন্ডনে আলোচনায় বসার প্রশ্ন অনেক পরের ব্যাপার। তার সমাবেশে শরিক দলগুলোর কেউ দাওয়াত পর্যন্ত পান না। এতে লন্ডন থেকে কী সিগন্যাল যাচ্ছে! ওই রাজনীতিকের মতে, লন্ডনের সিগন্যাল হলো তারেক রহমান শরিক দলগুলোকে পছন্দ করছেন না। পছন্দ করলে তাদের সঙ্গে অন্তত চা খেতে বসতেন। তার রাজনৈতিক সমাবেশগুলোতে বক্তৃতা শোনার জন্য হলেও দাওয়াত দিতেন। যেখানে বক্তৃতা শোনার দাওয়াতই দেয়া হয় না, সেখানে একসঙ্গে বসে চা খাওয়া বা আন্দোলনের গতি নিয়ে পরামর্শ করা তো সুদূর পরাহত বিষয়। আরেকজন তখন এই যুক্তির পক্ষে সমর্থন জানালেন। বললেন, যুক্তরাজ্য বিএনপির বর্তমান কমিটি তারেক রহমান নিজের হাতে গড়েছেন। এই কমিটি গঠনের পর লন্ডনে আর জোটবদ্ধ কোনো কর্মসূচি হয়নি। এর আগে লাগাতার জোটবদ্ধ কর্মসূচি হয়েছে। একসঙ্গে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। তারেক রহমান নিজে যুক্তরাজ্য বিএনপির কমিটি গঠন করে দেয়ার পর লন্ডনে আর জোট নেই। বর্তমান নেতৃত্বে যারা রয়েছেন, তারা সরাসরি বলেন— ভাইয়া পছন্দ করেন না। এর মানেই হলো, জোট নেতারা তারেক রহমানের অপছন্দ। তখন একজন বললেন, শেখ হাসিনা লন্ডন সফর করে গেছেন। তার এই সফরে জোরালো কোনো প্রতিবাদ হলো না। এখানেই লন্ডনে নেতৃত্বের শূন্যতা প্রকাশ পায়। জোরালো নেতৃত্ব থাকলে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি দিয়ে লন্ডনে শেখ হাসিনার সফর কেন্দ্র করে বড় সমাবেশ ঘটানো সম্ভব ছিল। সিটিজেন মুভমেন্টের আবদুল মালেক এবং বিএনপির বর্তমান কমিটির সভাপতি-সেক্রেটারির নেতৃত্বে মোট ১২ জন সেদিন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে উপস্থিত ছিলেন প্রতিবাদ জানাতে। ডাউনিং স্ট্রিটে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন বললেন, হাতে গোনা ১২ জন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এর মধ্যে আবদুল মালেক নিজে জুতা নিক্ষেপ করেন। তার দুই অনুসারী আমিরুল ও খসরু নিক্ষেপ করেন ডিম। এই হলো প্রতিবাদ, যা এখন ইউটিউবে ভাসছে। কারো সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ নেই। জোটের শরিক বা সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নেই সমন্বয়। এ অবস্থায় ১০-১২ জনের বেশি উপস্থিতি আশা করাও ঠিক নয়। তখন জোটের শরিক দলের এক নেতা বলেন, আগেও শেখ হাসিনার লন্ডন আগমনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছে। তখন অন্তত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে বিজয়ী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এসেছেন। তখনো হাজার খানেক লোক শর্ট নোটিশে উপস্থিত হয়েছেন। জোরালো প্রতিবাদ হয়েছে। পেছনের গেট দিয়ে হোটেলে প্রবেশ করতে হয়েছে তখন। হাজার খানেক লোক শর্ট নোটিশে উপস্থিত হওয়া যে কোনো সময় সম্ভব। এবার এসেছেন শেখ হাসিনা প্রশ্নবোধক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। দুনিয়ার অধিকাংশ দেশ যে নির্বাচনকে অগ্রহণযোগ্য বলেছে, সেই নির্বাচনে বিজয়ী প্রধানমন্ত্রী তিনি। এবার প্রতিবাদ আরো বেশি জোরালো হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু এবার কারো সঙ্গে কারো যোগাযোগ নেই। অন্য দলের যারা রয়েছেন, তারা মনে করেন যা-ই হোক ফসল যাবে বিএনপির ঘরে। তারপরও বিএনপির কেউ যখন পাত্তা দেয় না তখন আর রিস্ক নিয়ে লাভ কি! এছাড়া কেউ যোগাযোগ বা উদ্যোগী হয়ে সমন্বয়ের চেষ্টাও করেনি। যে কারণে ১০-১২ জনের বেশি উপস্থিত হয়নি ডাউনিং স্ট্রিটে। এ দিয়ে কি আন্দোলন হবে! তখন বাংলাদেশ থেকে আসা একজন সাবেক ছাত্রনেতা বললেন, বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদ এবং জুতা-ডিম নিক্ষেপে কোনো কিছু যায় আসে না। যদি কয়েক হাজার লোক ডাউনিং স্ট্রিটের রাস্তায় শুয়ে যেতে পারতো, অথবা শেখ হাসিনার গাড়ি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যেতো, তখন বিষয়টি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় আসতো। জোরালো প্রতিবাদ হিসেবে কাউন্ট হতো, পাশাপাশি একটা মেসেজ যেতো সব জায়গায়। বিচ্ছিন্ন জুতা-ডিম নিক্ষেপ কোথায়ও কাউন্ট হয় না। দেশে-বিদেশে সম্মিলিত প্রতিরোধ ছাড়া আন্দোলন সফলতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বিচ্ছিন্ন এই ঘটনায় বরং লন্ডনে বিরোধী দলের দীনতাই প্রকাশ পেয়েছে। ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক আন্দোলনে লন্ডন প্রবাসীদের বড় ভূমিকা ছিল। আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে লন্ডন প্রবাসীরা। ১৯৪৭ এবং ১৯৭১ সালের চেয়ে বর্তমানে অনেক বেশি বাংলাদেশী লন্ডনে বাস করছেন। এখন আরো বেশি জোরালো অবদান রাখার কথা। একজন তখন গত ডিসেম্বরের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশে এমন তুমুল আন্দোলন স্বাধীনতার পর আর হয়নি। গ্রামেগঞ্জেও এবার জোরালো প্রতিবাদ এবং আন্দোলন হয়েছে। তারপরও সুফল ঘরে তোলা সম্ভব হয়নি। সুতরাং আওয়ামী লীগের মতো দল এবং শেখ হাসিনার মতো দৃঢ়চেতা নেতার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হলে সম্মিলিত শক্তি নিয়ে মাঠে নামার বিকল্প নেই। নতুবা আবারো ২৯ ডিসেম্বরের ফলাফল নিয়ে ফিরতে হবে ঘরে। বেগম খালেদা জিয়া সেদিনও চেষ্টা করেছেন। নিজে বাড়ি থেকে বের হওয়ার জোর চেষ্টা চালিয়েছিলেন। বাড়ির গেটে দাঁড়িয়ে মিডিয়ার সামনে অসাধারণ দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। তারপরও কোনো কাজ হয়নি। সুতরাং সম্মিলিত শক্তি দেশে এবং বিদেশে একযোগে কাজ না করলে আন্দোলন আবারো ব্যর্থ হতে বাধ্য। এক নেতা বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি বিজয়ী হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এই নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায়ের জন্য আন্দোলন দরকার। গণআন্দোলন ছাড়া শেখ হাসিনাকে নিরপেক্ষ নির্বাচনে বাধ্য করা যাবে না। আন্দোলন সফল হলে তো এর সুফল বিএনপির ঘরেই যাবে! আওয়ামীবিরোধী অন্য কোনো দলের তো আর ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ নেই। বর্তমান সরকারবিরোধী যে বা যারাই যা কিছু করুক, এর আলটিমেট সুফল যোগ হবে বিএনপির ঝুড়িতে। নব্বই শতাংশ মানুষ এখন আওয়ামী লীগকে পছন্দ করছে না। শেখ হাসিনার গদি অনেকটাই নড়বড়ে অবস্থায়। সম্মিলিত শক্তি ঝাঁকুনি দিতে পারলে দাবি মানতে বাধ্য হবে। সেটা না পারলে দেশের ক্ষতি হবে, বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়া পিছিয়ে যাবে। তারপরও বিএনপির শরিক দলগুলোর সঙ্গে লন্ডনে এমন আচরণ কেন! এতে দেশে রং মেসেজ যাচ্ছে। শরিক দলগুলোর ভেতরে সন্দেহ অবিশ্বাস দানা বাঁধছে। সন্দেহ অবিশ্বাসের জোট দিয়ে আর যা-ই হোক, সাকসেসফুল আন্দোলন হবে না। এ পর্যায়ে একজন বললেন, ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে নানা সন্দেহ রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী সরকারের সঙ্গে আঁতাত বা যোগাযোগ রক্ষা করছে—এমন সন্দেহ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষ এবং বিএনপির ভেতরে। উপস্থিত এক জামায়াত নেতা তখন বলেন, আমাদের সব শীর্ষ নেতা কারাগারে। তাদের প্রায় সবারই ফাঁসির আদেশ হয়ে আছে। কারো ফাঁসির আদেশ আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায়। এছাড়া দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতারা কারাগারে। ক্রসফায়ারে মাঠপর্যায়ের অনেক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। গুম করা হয়েছে মাঠপর্যায়ের অনেকে নেতাকে। ইতোমধ্যে একজনের ফাঁসি কার্যকর হয়ে গেছে। এ অবস্থায় আর কী দিয়ে পরীক্ষা দেবে জামায়াত? এই বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে সরকারি কৌশল। সরকারবিরোধী শক্তিকে যত দুর্বল করতে পারবে ততই তাদের লাভ। সুতরাং সরকারি কৌশলে পা রাখলে, বিভ্রান্ত হলে আন্দোলনেরই ক্ষতি হবে। এটা সবাইকে বুঝতে হবে। এ কথার রেশ ধরে আরেকজন বললেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে চাইতে পারে। এই ফাঁদে পা দিলে ১৯৯৬ সালের মতো আওয়ামী লীগ লাভবান হবে, দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হবে জামায়াতে ইসলামীর। এ পর্যায়ে ইফতারের সময় ঘনিয়ে আসায় মোনাজাত শুরু হয়। লেখক : দৈনিক আমার দেশ-এর বিশেষ প্রতিনিধি, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত

বিস্তারিত»

এক্সক্লুসিভ

গাজায় গণহত্যা এবং বৃহত্তর ইসরাইল নির্মানের গ্রান্ড স্ট্রাটেজী:ফিরোজ মাহবুব কামাল

ফিরোজ মাহবুব কামাল:গাজায় গণহত্যা ও পাশ্চাত্যের সমর্থন:ইসরাইলের জন্মই শুধু নয়, অবৈধ এ দেশটির বেঁচে থাকাটিই পুরাপুরি পাশ্চাত্যনির্ভর। পাশ্চাত্যের সমর্থন নিয়েই গাজায় চলমান গণহত্যা আবার প্রমাণ করলো, মানবতা-শূণ্যতা শুধু ইসরাইলীদের একার নয়, সে রোগটি তাদেরও যারা নেতৃত্ব দিচ্ছে বিশ্বকে। সে মানবতা-শূণ্যতাটির প্রকট অবস্থা আজ পাশ্চাত্য বিশ্বে। বিশাল একপাল হিংস্র ও ক্ষুদার্ত নেকড়ের কবলে পড়েছে গাজার নিরস্ত্র জনগণ। চলমান এ গণহত্যা থামানোর তেমন কোন আন্তরিক আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেই। গণহত্যার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দাও নেই। বরং পাশ্চাত্য দেশগুলি থেকে ইসরাইল পাচ্ছে লাগাতর সমর্থণ। তাদের কথা, হামাস ও অন্যান্য প্রতিরোধ সংগঠনগুলির নির্মূলে সর্বপ্রকার হামলার অধিকার রয়েছে ইসরাইলের। সে লক্ষ্য নিয়েই ৮ই জুলাই থেকে ইসরাইলীদের নতুন হামলা শুরু হয়। হামলা হচ্ছে ইসরাইলের স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে। ২৬ শে জুলাই অবধি এক হাজারের বেশী ফিলিস্তিনীকে তারা হত্যা করেছে। আহত করেছে বহু হাজার। লক্ষাধিক মানুষকে তারা ঘরছাড়া করেছে। আহত ও নিহতদের অধিকাংশই হলো শিশু ও নারী। হামলার শিকার হচ্ছে শুধু ফিলিস্তিনীদের শুধু ঘরবাড়ি ও দোকানপাটই নয়, মিজাইল নিক্ষেপ করা হচ্ছে মসজিদ, হাসপাতাল, স্কুল, আশ্রয় শিবির, জাতিসংঘের ত্রাণদফতরেরও উপরও।     অথচ এ নৃশংসক ইসরাইলী হামলার বিরুদ্ধে প্যারিস নগরীতে মিছিল করা বেআইনী ঘোষণা করেছে ফ্রান্স সরকার। হামাসের মিজাইল ইসলরাইলে গিয়ে পড়ায় তার বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়ে ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রীকে বানি পাঠিয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিট ক্যামেরন। কিন্তু ফিলিস্তিনীদের উপর ইসরাইলী হামলার নিন্দায় একটি বাক্যও উচ্চারণ করেননি। কোন উচ্চ বাক্য নাই চীনাদের মুখেও। তেমন নিন্দা বা উচ্চ বাক্য নাই ভারতীয় নেতাদের মুখেও। কারণ চীন ও ভারত এ উভয় দেশেই রয়েছে তাদের নিজ নিজ ফিলিস্তিন। রয়েছে সে অধিকৃত ভূমিতে প্রতিরোধ জিহাদও। ভারতের সে নিজস্ব ফিলিস্তিন হলো কাশ্মির। চীনে সেটি হলো উইগুর মুসলমানদের অধিকৃত ভূমি জিংজিয়াং প্রদেশ। নেকড়ে কি আরেক নেকড়ের নৃশংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে? মানবতা ও ন্যূনতম একই রূপে নৈতীকতা মারা পড়েছে ইসরাইলে মূল পৃষ্ঠপোষক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও। বীভৎস গণহত্যার নিন্দা জানানোর মত নৈতীক সামর্থ পেতে মহামানব হওয়া লাগে না। সে সামর্থটুকু বহু স্কুল ছাত্রেরও থাকে। বহু নিরক্ষর মানুষেরও থাকে। অথচ সে সামর্থ দেখাতে পারেননি নবেল প্রাইজ বিজয়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি ও তাঁর সরকার ইসরাইলের চলমান গণহত্যাকে জায়েজ বলছে এ কারণ দেখিয়ে যে,এটি তাদের নিরপত্তা রক্ষার বৈধ অধিকার। নিরাপত্তা রক্ষার দোহাই দিয়ে ইসরাইলী গণহত্যাকে জায়েজ বলা হলেও তারা ফিলিস্তিনীদের নিজ ঘরে স্বাধীন ভাবে বাঁচার অধিকার দিতে তারা রাজি নয়। ওবামার সাথে সুর মিলিয়ে ইসরাইলী আগ্রাসনের প্রতি নিরংকুশ সমর্থন জানিয়েছে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিন্টন।তাদের ভাবনা স্রেফ ইসরাইলের নিরাপত্তা ও সে দেশের মানুষের আনন্দ-উল্লাসকে সুনিশ্চিত করা নিয়ে। লক্ষ্য,স্রেফ নেকড়দের নিরাপত্তাকে সুনিশ্চিত করা। ফিলিস্তিনীদের বাঁচা-মরা নিয়ে তাদের সামান্যতম ভাবনাও নাই।       লক্ষ্যঃ গাজা থেকে ফিলিস্তিনী নির্মূল   ইসরাইল এখন আর স্বাধীন ফিলিস্তিনের প্রতিষ্ঠা নিয়ে ভাবে না। পাশাপাশি ইহুদী ও ফিলিস্তিনীদের দু’টি ভিন্ন স্বাধীন রাষ্ট্রের কথা অন্যরা বললেও ইসরাইলের পলিসি নির্ধারকেরা সে কথা মুখে আনে না। কেউ কেউ বললেও বলে স্রেফ বিশ্ববাসীকে ধোকা দেয়ার জন্য। গাজা আজ অবরুদ্ধ। গাজার তীর ঘেঁষে ভূমধ্যসাগর হলেও সেখানে কোন সমুদ্র বন্দর গড়তে দেয়া হয়নি। নাই কোন বিমান বন্দর। নাই কোন বিদ্যুৎ কেন্দ্র। অধিকৃত পশ্চিম তীরের অর্ধেক ভুমি জুড়ে ইহুদী বসতি। এমন অবরুদ্ধ ও অধিকৃত ভূমি নিয়ে কি রাষ্ট্র গড়া যায়? এটি তো অবাস্তব কল্পনা। অথচ সে কল্পনা দিয়ে ফিলিস্তিনীদের ভূলিয়ে রাখা হয়েছে বিগত ৬০ বছর।এখন তাদের স্ট্রাটেজী, গাজা থেকে শুধু হামাসের নির্মূল নয়, সকল ফিলিস্তিনীদের নির্মূল। লক্ষ্যঃ বৃহত্তর ইসরাইল গড়া। তারা ফিলিস্তিনীদের নির্মূল চায় জর্দান নদীর পশ্চিম তীর থেকেও। পশ্চিম তীরে লক্ষ লক্ষ ইহুদীদের বসতি গড়েছে কি সেগুলি ভবিষ্যতের কোন ফিলিস্তিন সরকারের হাতে তুলে দেয়ার স্বার্থে? ফিলিস্তিনীদের ধীরে ধীরে নির্মূলের সনাতন পথ ধরেই আজকের ইসরাইলের শতভাগ গড়া। ফিলিস্তিন ভূমি শেষ হলে তারা জর্দান, সিরিয়া ও লেবাননেও যে হাত দিবে তাতে কি সন্দেহ আছে?  আন্তর্জাতিক ইহুদীবাদের বিশাল ইহুদী সাম্রাজ্য গড়ার এটিই তো গ্রান্ড ভিশন। তাতে তারা যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সকল পাশ্চাত্যদেশের সর্বাত্মক সামরিক ও আর্থিক সহয়তা পাবে তাতেও কি কোন অবিশ্বাস আছে? যারা অধিকৃত ফিলিস্তিনের উপর ইসরাইলের অবৈধ প্রতিষ্ঠাকে স্বীকৃতি দিতে পারে,তারা যে অন্যভূমির উপর পরবর্তি দধলদারিকেও সমর্থন দিবে না -সেটি কি করে ভাবা যায়? গোলান উপত্যাকা এক সময় সিরিয়ার ভূমি ছিল, কোন সময়ই সে ভূমি ফিলিস্তিনের অংশ ছিল না। কিন্তু এখনসেটি ইসরাইলের অংশ।     আজও  ইসরাইল ভূমি দখলের সে সনাতন কৌশল নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। সমগ্র বিশ্বে ইসরাইলই একমাত্র দেশ যার সুনির্দিষ্ট কোন সীমানা নেই।সেটি নির্দিষ্ট করেনি লাগাতর ভূগোল বাড়ানোর স্বার্থে। কারণ, সীমান্ত নির্ধারণ করলে তো যুদ্ধ শেষে সে সীমান্তের ভীতরে ফিরে যেতে হয়। প্রতি যুদ্ধেই তারা পাশ্ববর্তী কিছু ভূমি জবর দখল করে নেয়। আর সে অধিকৃত ভূমিতে ইহুদীদের জন্য নতুন বসতি গড়তে থাকে। সে নতুন ইহুদী বসতি গড়াই বিশাল অংকের তহবিল আসে ইউরোপ আমেরিকায় বসবাসরত ইহুদীদের থেকে। লক্ষ্য স্রেফ লাগাতর ইসরাইলের ভূগোল বাড়ানো। ইসরাইল প্রতিষ্ঠার শুরুতেই অধিকৃত ফিলিস্তিন থেকে বহু লক্ষ ফিলিস্তিনীদের ঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। সেটি ছিল যু্দ্ধাপরাধ। আন্তর্জাতিক আইনে তা নিষিদ্ধ। জাতিসংঘ প্রস্তাব অনুযায়ী ইসরাইল সে ফিলিস্তিনী উদ্বাস্তুদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য। কিন্তু কে বাধ্য করবে কে জাতিসংঘ প্রস্তাব মেনে নিতে? বাধ্য করা দূরে থাক, ইসরাইল সেটি করুক সে ইচ্ছাও তো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ কোন পাশ্চাত্য দেশের নেতাদের নাই।ফলে ১৯৪৮ সালের যুদ্ধে যারা ঘর ছেড়েছিল তাদের আর ঘরে ফেরা হয়নি। ঘরে ফিরতে পারিনি তারাও যারা ১৯৬৭ সাল ও ১৯৭৩ সালের যুদ্ধে ঘর ছেড়েছিল। তাদের পরিত্যাক্ত পৈতীক ভিটায় ঘর বেঁধেছে ইউরোপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া থেকে আসা ইহুদীগণ। অপর দিকে যুগ যুগ উদ্বাস্তু শিবিরে বাস করাই ফিলিস্তিনীদের নিয়তিতে পরিণত হয়েছে। অথচ তা নিয়ে কারা কোন মাথা ব্যাথা নেই।            শান্তির মূল দূষমন পাশ্চাত্যশক্তি   নেকড়ে যেমন আরেক নেকড়ের গায়ে হাত দেয় না, মার্কিনীরাও তেমনি ইসরাইলের বিরুদ্ধে কিছু করতে রাজি নয়। তারা বরং কোয়ালিশন গড়েছে ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে। মার্কিন ভেটোর কারণে ইসরাইলের যে কোনরূপ বীভৎস বর্বরতার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাবের সামর্থ নাই জাতিসংঘের। বিপদ তাই শুধু ফিলিস্তিনীদের নয়, সমগ্র বিশ্ববাসীরও। কারণ,বিশ্ব আজ এরূপ বিবেকশূণ্যদের হাতে জিম্মি। তারা যে মূল্যবোধের ধারক সেটি পুরাপুরি মানবতাশূণ্য। এমন মূল্যবোধে কি মানুষের কোনরূপ কল্যান থাকে? আজ যে নৃশংসতা ঘটছে ফিলিস্তানের সাথে আগামীতে সেটি ঘটতে পারে অন্যদের সাথেও। নিকট অতীতে সেটি ঘটে গেল ইরাকী ও আফগানদের সাথে। এমন মূল্যবোধের কারণেই বিগত দুটি বিশ্বযুদ্ধে সাড়ে সাত কোটি মানুষকে হত্যা করতে এ মোড়ল শক্তিবর্গ কোনরূপ দ্বিধাদ্বন্দে ভোগেনি। তারা আনবিক বোমা ফেলতেও ইতস্ততঃ করেনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো এমন ব্যক্তি ও দলের হাতে আজ অধিকৃত যারা শুধু ইসরাইলী বর্বরতার সমর্থকই নয়, সে বর্বরতার পুরাপুরি অংশীদারও। ইসরাইল আজ আরব ভূমিতে যা কিছু করছে তা গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর যাবত বিশ্বের নানা দুর্বল দেশে বহু বছর যাবত করে আসছে। ফিস্তিনীদের মাথার উপর ইসরাইল আজ  বোমা ফিলছে।অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার চেয়ে বহুহাজার গুণ বেশী বোমা ফেলেছে তৃতীয় বিশ্বের অন্যদের মাথায়। আনবিক বোমা ফেলেছে নাগাসাকি ও হিরোশীমাতে। হাজার হাজার টন বোমা ফেলেছে ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান ও  ইরাকে। আর আজ শত শত ড্রোন ফেলছে পাকিস্তান, সোমালিয়া, ইয়েমেনসহ বিশ্বের নানা কোনে। ইসরাইলের চেয়েও বড় নেকড়ে হলো তো এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ববাসীর বড় বিপদ হলো,সে হিংস্র নেকড়ের কাছে তাদের আজ শান্তি ভিক্ষা করতে হচ্ছে। বিশ্বশান্তি আজ যে কতটা বিপন্ন এবং বিশ্ববাসী যে কতটা অসহায় -এরপরও কি সেটি বুঝতে বাঁকি থাকে?        ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদের লিগ্যাসী   ইসরাইল নামে কোন দেশ ১৯৪৮ সালের আগে ছিল না। এ অবৈধ দেশটি সৃষ্টি করেছে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ এবং সেটি ১৯১৭ সালে দখলকৃত আরব ভূমিতে। চোর-ডাকাত-খুনিরা যে ঘরে ঢুকে সে ঘরে ধ্বংস ও সর্বনাশা বিপদ ডেকে আনাই তাদের নীতি। তেমন এক অভিন্ন নীতি হলো ঔপনিবেশীক সাম্যাজ্যবাদী দস্যুদেরও। ফলে  যে মুসলিম ভূমিতেই তারা প্রবেশ করেছে সে দেশটিতেই তারা ধ্বংস, মৃত্যু ও বিপদের জন্ম দিয়েছে। আরব ভূমিতে ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদের লিগ্যাসী হলো এই ইসরাইল।অধিকৃত আরব ভূমিতে অবৈধ ইসরাইলকে জন্ম দেয়া হয়েছে একটি সুদুর প্রসারি সাম্রাজ্যবাদি লক্ষ্যকে সামনে রেখে। সাম্রাজ্যবাদি শক্তির এটি এক গ্যারিসন স্টেট। সাম্রাজ্যবাদিদের এ প্রকল্পটি তাই শুরু থেকেই পূর্ণ সমর্থণ পেয়ে আসছে সমগ্র পাশ্চাত্য বিশ্ব থেকে। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের পতন ঘটেছে।বিলুপ্ত হয়েছে তাদের বিশ্বজুড়া সাম্রাজ্য। কিন্তু তাদের এরূপ কুকর্মগুলো এখনও দেশে দেশে রক্ত ঝরাচ্ছে। সেটি যেমন কাশ্মিরে, তেমনি ফিলিস্তিনে। আরব ভূমিতে এ অবৈধ ফসলটি এখনও বেঁচে আছে জন্মদাতা ব্রিটেন ও তার মিত্র মার্কিন সাম্রাজ্যবাদসহ অন্যান্য আগ্রাসী পাশ্চাত্যশক্তির মদদ নিয়ে। আরব দেহে এটি এক বেদনাদায়ক বিষফোঁড়া। আর দেহে যতদিন বিষফোঁড়া থাকে ততদিন ব্যাথা-বেদনা দেয়াই তার কাজ। আলাপ-আলোচনায় কি বিষফোঁড়ার ব্যথা দূর হয়? যুদ্ধবিরতিতেও কি যাতনা দূর হয়?     ইসরাইলীদের বিশাল স্থল বাহিনী,বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী আছে। অথচ ফিলিস্তিনীদের কিছুই নাই। ফলে ইসরাইলীরা পাচ্ছে ফিলিস্তিনীদের মাথার উপর যত্রতত্র হামলার সাহস। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে পাশ্চাত্য মহলে যদি সামান্যতম আগ্রহ থাকতো তবে ফিলিস্তিনীদের হাতেও তারা অস্ত্র পৌছে দিত। কারণ নেকড়ের হামলা থেকে নিরস্ত্র মানুষের প্রতিরক্ষা দিতে হলে তাদেরও অস্ত্র দিতে হয়। নইলে তারা প্রাণ বাঁচে না। নেকড়ে কখনোই সবলের উপর হামলা করে না, তখন বরং পলায়নের পথ ধরে। ব্যালেন্স অব পাওয়ারই শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ। কারণ তাতে ব্যালেন্স অব টেররও পয়দা হয়। অথচ ফিলিস্তিনীদের অস্ত্রহীন তথা প্রতিরক্ষাহীন রাখাই মার্কিনীদের নীতি। ফলে বাড়ছে ফিলিস্তিনীদের অসহায় অবস্থা। সে সুযোগ নিয়ে গত ৭ বছরে ইসরাইল গাজার উপর তিনবার হামলা চালিয়েছে। প্রতিবারই চালিয়েছে নৃশংসতম গনহত্যা। প্রতিটি হামলায় ইসরাইলের পক্ষে বিপুল অস্ত্র ও অর্থের সাথে নিরংকুশ সমর্থন এসেছে পাশ্চাত্য দেশেগুলি থেকে। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির যে কতবড় দূষমন সেটি বুঝতে কি কোন প্রমাণ লাগে?         স্বাধীনতা যুদ্ধ কি সন্ত্রাস?   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেটব্রিটেন বা ফ্রান্সের উপর যদি বিদেশী শক্তির হামলা হতো এবং প্রতিষ্ঠিত হত তাদের অধিকৃতি,তবে কি সে বিদেশী দখলদারিকে তারা মেনে নিত? সে বিদেশী অধিকৃতির বিরুদ্ধে সাথে সাথে কি যুদ্ধ শুরু করতো না? একজন ব্রিটিশ এমপি সম্প্রতি বলেছেন,“আমি গাজাবাসি হলে হয়তো আমিও মিজাইল ছুড়তাম।”  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিতে টুইনটাউটারের উপর হামলা ও সে হামলায় প্রায় ৩ হাজার মার্কিনীকে হত্যার বদলা নিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দখল করে নিয়েছিল আফগানিস্তান ও ইরাকের ন্যায় দুটি দেশ। সে দেশটিতে তারা ধ্বংস করেছে অসংখ্য নগর-বন্দর, ঘরবাড়ি ও ব্যবসা-বাণিজ্য। এবং হত্যা করেছে বহু লক্ষ মানুষ। অথচ ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে শত্রু শক্তির এরূপ হামলা হচ্ছে তো নিয়মিত। সমগ্র ফিলিস্তিন আজ ইসরাইলীদের হাতে অধিকৃত। নিজ ঘরবাড়ি থেকে বলপূর্বক বের করে তাদেরকে উদ্বাস্তু বানানো হয়েছে।ফলে বিগত ৬০-৭০ বছর তারা নানা দেশের পথে পথে ঘুরছে। আজ  গুড়িয়ে দিচ্ছে তাদের উদ্বাস্তু শিবিরগুলোও। গণহত্যা চলছে সে উদ্বাস্তু শিবিরেও। কথা হলো, লাগাতর অধিকৃতি ও হামলার মুখে ফিলিস্তিনীরা কি আঙ্গুল চুষবে?          ফিলিস্তিনীদেরকে স্বাধীনতা দেয়া দূরের কথা, ইসরাইল তাদের অধিকৃত ভূমিতে হাজার হাজার গৃহ নির্মান করছে বিশ্বের নানা দেশ থেকে আগত ইহুদীদের জন্য। অথচ কোন আন্তর্জাতিক আইনই অধিকৃত ভূমিতে আবাসিক পল্লি নির্মাণের অধিকার ইসরাইলকে দেয় না। অপরদিকে সে অবৈধ ইহুদী বস্তিগুলোকে নিরাপত্তা দিতে ফিলিস্তিনীদের ভূমির উপর দিয়ে বিশাল উচ্চতার প্রাচীর নির্মান করা হয়েছে। অবিচার আর কাকে বলে? কিন্তু সে ইসরাইলী অধিকৃতি ও ইসরাইলী বর্বরতার বিরুদ্ধে মুক্তির লড়াইকে বৈধতা দিতে রাজি নয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। সে অধিকৃতি থেকে মুক্তির লড়াইকে বলছে সন্ত্রাস। ইসরাইলী দখলদারির বিরুদ্ধে যুদ্ধ লড়ার কারণে হামাস চিত্রিত হচ্ছে সন্ত্রাসী সংগঠন রূপে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মানবতা ও মানবসুলভ বিবেক যে কতটা দারুন ভাবে মারা পড়েছে এ হলো তার নমুনা। যুদ্ধবিরতির নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে যা কিছু হচ্ছে তা হলো ফিলিস্তিনের উপর ইসরাইলের দখলদারি ও অবরোধকে চিরস্থায়ী করা। শান্তি আলোচনার নামে প্রতি বৈঠকে যা অবিরাম বলা হয় তা হলো ইসরাইলের অধিকৃতির পক্ষে তাদের লাগাতর মিথ্যাচার। আলোচনার নামে এরূপ মিথ্যাচার বিগত ৬০ বছর যেমন চালিয়ে এসেছে। আরো বহুশত বছর চালিয়ে যাওয়ার জন্যও তারা প্রস্তুত।  বিগত ৬০ বছরে এমন আলোচনা কোন শান্তি প্রসব করতে পারিনি। বরং বাড়িয়েছে ইসরাইলীদের দখলদারি ও বর্বরতা। বাড়ছে ইহুদী বস্তি। ফলে হামাসের পক্ষে অসম্ভব হচ্ছে শান্তি আলোচনার নামে এমন ষড়যন্ত্রমূলক অধিকৃতি মেনে নেয়া।       আত্মসমর্পিত আরব নেতৃত্ব   আরব নেতৃত্ব যে কতটা বিভক্ত ও আত্মসমর্পিত সেটি প্রতিবারের ন্যায় আবারও নতুন ভাবে প্রমাণিত হল। গত ৮ই জুলাই থেকে গাজার নিরস্ত্র মানুষের উপর চলছে ইসরাইলের বিরামহীন হামলা। হামলা হচ্ছে স্থল, বিমান ও সমুদ্রপথে। বিগত ৩ সপ্তাহ ধরে চলা এ বর্বর গণহত্যা থামাতে ২২টি আরব রাষ্ট্র কিছু করা দূরে থাক, একবারও কোন বৈঠকে মিলিত হতে পারলো না। গাজার মানুষের প্রতিরক্ষায় এক বস্তা আটা বা এক কৌটা দুধও তারা পৌঁছাতে পারেনি। মিশর, জর্দান ও সৌদি শাসকদের ইসরাইলের খুনি নেতাদের সাথে প্রকাশ্যে বা গোপনে বসতে আপত্তি নেই, কিন্তু নানা আপত্তি হামাসের নেতাদের সাথে বসতে। পথের মানুষ অপরিচিত মানুষের ঘরে আগুণ দেখলেও ছুটে যায়। এটিই সাধারণ মানবতা। তাই একটি রক্তাক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগী হতে বেশী মানবতা লাগে না। সে মানবতাটুকুতেও তাদের যে প্রচন্ড ঘাটতি সে বিষয়টিও তাদের আচরণে প্রকাশ পেল। এ ঘটনাটি সমগ্র বিশ্বের সামনে এসব নেতাদের উলঙ্গ করে ছেড়েছে। কিন্তু যাদের লজ্জা-শরম ও আত্মমর্যাদাবোধ বহু আগেই মৃত্যু-বরণ করেছে তাদের এরূপ উলঙ্গ হওয়াতেই বা কি ক্ষতি?     গাজার পনের লাখ মানুষ আত্মসমর্পন না করলে কি হবে, ২০ কোটি আরবদের ক্ষমতাসীন নেতারা বহু পূর্বেই আত্মসমর্পন করেছে। প্রশ্ন হলো এমন সামর্থহীন,যোগ্যতাহীন ও আত্মসমর্পিত ব্যক্তিদের কি দেশপরিচালনার অধিকার থাকে? যে আরব ভূমির তারা রাজা-বাদশাহ, শেখ, আমির বা রাষ্ট্রপ্রধান,তার একটি ধুলিকনাও কি তাদের সৃষ্টি। আল্লাহর এ ভূমিতে এ অপদার্থরা কি শাসক হওয়ার অধিকার রাখে? শুধু কি আরব ভূমিতে জন্ম নেয়ার কারণে। আরব ভূমিতে তো বহু গরু-ভেড়া, উঠা-গাধা, খচ্চরও জন্ম নেয়। সে কারণে কি এসব গবাদি পশুদের কে শাসক বানানো যায়? শাসক হওয়ার দায়বব্ধতা হলো সর্ব সামর্থ দিয়ে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের প্রতিরোধ। এটি মহান আল্লাহর নির্দেশিত ঈমানী দায়বদ্ধতা। কোন শাসকের মধ্যে সে দায়বদ্ধতা না থাকলে তাকে শাসক পদে রাখাই তো অপরাধ। জামায়াতের নামাযে ইমামের মূল দায়ি হলো বিশুদ্ধ নামায পরিচালনা। সে সামর্থটি না থাকলে কাউকে কি ইমাম পদে রাখা যায়? তেমনি মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব হলো নিপরাধ মুসলিম নাগরিকদের প্রাণে বাঁচানো। অতীতে মুসলিম শাসকগণ অমুসলিম রাষ্ট্রের জনগণকে প্রাণে বাঁচাতে সে দেশের জালেম সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। মুহম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু দেশে আগমনের মূল কারণ তো ছিল সেটি। অথচ আজ মুসলিম দেশে মুসলমানদের বিরুদ্ধে চলছে লাগাতর গণহত্যা। কিন্তু তা নিয়ে ৫৭ টি মুসলিম দেশে কোন মজলুম মুসলমানদের বাঁচানোর আয়োজন নেই। গবাদি পশুর ব্যস্ততা যেমন পানাহার নিয়ে বাঁচার, তেমনি এসব আরব শাসকদের ব্যস্ততা হলো নিজেদের আরাম-আয়াশ নিয়ে বাঁচার। তারা প্রতিযোগিতায় নেমেছে আকাশচুম্বি টাওয়ার নির্মানে। কাতারের ন্যায় একটি ক্ষুদ্র দেশ নেমেছে বহু হাজার কোটি ডলার ব্যয়ে ওয়ার্ল্ডকাপ স্টেডিয়াম নির্মানে। দুবাইসহ আরব আমিরাতের নেতারা নেমেছে সমুদ্রের মাঝে কৃত্রিম দ্বীপ ও সে দ্বীপে প্রাসাদ নির্মানে। সৌদি আরব নেমেছে হাজার হাজার কোটি ডলার ব্যয়ে জেনারাল সিসির ন্যায় স্বৈরাচারি শাসকদের শাসনকে দীর্ঘায়ীত করতে। দায়িত্বহীন ও বিবেকহীন এমন শাসকদের নিয়ে কি মুসলিম দেশের কি প্রতিরক্ষা বাড়ে? বাড়ে কি ইজ্জত?       হামাসের বিস্ময়কর কৃতিত্ব   গাজার প্রতিটি গৃহ,প্রতিটি ইমারত ও প্রতিটি সড়ক আজ ইসরাইলীদের টার্গেট। যুদ্ধাক্রান্ত প্রতি দেশে কিছু চিহ্নিত নিরাপদ স্থান থাকে। তেমন স্থানের নিশ্চয়তা দেয় জাতিসংঘ ও হেলালে আহমার বা রেডক্রস। তেমন স্থান গাজায় নেই। নারী ও শিশুরা প্রাণে বাঁচছে না এমনকি জাতিসংঘের আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়েও। আহত মানুষ বোমার আঘাতে পুনরায় আহত হচ্ছে হাসপাতালে গিয়ে। তোপের মুখে মানুষ প্রতিবেশী দেশে গিয়ে আশ্রয় নিবে সে সুযোগও নেই। গাজার পাশে একমাত্র মুসলিম দেশটি হলো মিশর। অথচ সে দেশটি হামলাকারি ইসরাইলেরই বন্ধু। ইসরাইলী বোমাবর্ষনে আহত কোন গাজাবাসী প্রাণ বাঁচতে যদি মিশর সীমান্তে হাজির হয় তবে তার জন্য মিশর তার সীমান্ত খুলতে রাজি নয়। সীমান্ত দিয়ে এমনকি অতি প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র ও খাদ্যসামগ্রীও গাজায় ঢুকতে দিচ্ছে না। জেনারেল সিসির সরকার প্রতিনিধিত্ব করছে যেন ইসরাইলী সরকারের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর মিশরকে হাজার মিলিয়নের বেশী সাহায্য দেয়। এ অর্থ দিয়ে মার্কিনীগণ বিবেক কিনে নিয়েছে মিশরের ক্ষমতাসীন সামরিক এ বেসামরিক নেতাদের। দাস যেমন প্রভুর সাথে সুর মিলিয়ে কথা বলে,তেমনি অবস্থা মিশরের ক্ষমতাসীন নেতাদেরও।গাজার মানুষের প্রতিরক্ষার কিছু সামর্থ পায় পাতাল সুড়ঙ্গ যা দিয়ে। সে সুড়ঙ্গ পথে মিশর সরকারের অগোচরে তারা অস্ত্র নেয়। কিছু খাদ্যসামগ্রীও নেয়। ইসরাইলের ন্যায় মিশর সরকারও ব্যস্ত সে পাতাল সুড়ঙ্গগুলো বন্ধ করা নিয়ে। ইসরাইল ও মিশর -এ উভয় শত্রুদেশ কর্তৃক অবরুদ্ধ হলো গাজার ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠি। অবরুদ্ধ গাজায় যুদ্ধ করা দূরে থাক, যুদ্ধের স্বপ্ন দেখাই বিস্ময়কর। ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অর্থ, নিরস্ত্র হাতে হিংস্র বাঘের সামনে দাঁড়ানোর মত ব্যাপার। এমন অবস্থায় হামাস যে অসীম বীরত্বের প্রমাণ দিল সেটি বিস্ময়কর।   পাশ্চাত্যের কাছে হামাসের মূল অপরাধ, গাজার জেলখানায় স্রেফ খাদ্যপানীয় নিয়ে তারা খুশি নয়। তারা চায় পূর্ণ স্বাধীনতা। সেজন্য তারা লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছে। আর হামাসের সে প্রতিরোধের লড়াইকে বলা হচ্ছে সন্ত্রাস। হামাসের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হলেও এ যুদ্ধে হামাসের বিনাশ হচ্ছে না। এতেই হামাসের বিজয়। বরং এ হামলার ফলে প্রচন্ড ভাবে বাড়বে তাদের শক্তি। কারণ রক্তের বিণিয়োগ কখনোই ব্যর্থ হয় না। ঈমানদারের সে বিণিয়োগ নামিয়ে আনে আল্লাহর রহমত। অতীতে শহীদের রক্ত কোথাও হারিয়ে গেছে এমন নজির নেই। ব্লাড-ট্রান্সফিউশনের ন্যায় শহীদের রক্ত ঈমানের ট্রান্সফিউশন ঘটায় মুসলিম উম্মাহর জীবনে। তাই যে দেশে শহিদের সংখ্যা যত বেশী সেদেশে ঈমানাদারের সংখ্যাও বেশী। তাই তো মাওলানা মহম্মদ আলী জাওহার বলেছিলেন, “ইসলাম জিন্দা হোতা হায় হর কারবালা কি বাদ।” অর্থঃ “প্রতি কারবালার পরই ইসলাম জিন্দা হয়”। তাই যেখানে কারবালা নেই সেখানে বিজয়ী ইসলামও নেই। প্রকৃত ঈমানদার গড়ে উঠার উর্বর ক্ষেত্রও নাই।     জিহাদের বল ও বিজয়ের পথ   ইসলামের বড় ইবাদতটি হলো জিহাদ। এ ইবাদত মু’মিনের জীবন থেকে সব চেয় বড় বিনিয়োগ চায়। ফলে ফজিলতও বিশাল। মু’মিনের জীবনে তাকওয়া গভীরতা পায় তো ইবাদতে তার বিনিয়োগের ভিত্তিতে।সে তাকওয়া থেকে বিপ্লব আসে চরিত্রে। অতীতে মুসলমানগণ নৈতীক বিপ্লব, সামরিক বল এবং সে সাথে বিজয় পেয়েছে জিহাদের বদৌলতেই। তাই যেখানে জিহাদ নেই, সেখানে যেমন বিজয় নেই, তেমনি নৈতীক বিপ্লব এবং গৌরবও নেই। ইসলামের প্রাথমিক যুগে যত রক্তক্ষয়ী জিহাদ হয়েছে তত জিহাদ আর কোন সময়ই হয়নি। তাই সে সময় ঈমান সৃষ্টিতে প্রচন্ড উর্বরতা পেয়েছিল আরব ভূমি। শতকরা ৭০ ভাগের বেশী সাহাবী সেদিন শহিদ হয়েছিলেন। তাদের রক্তদানে সেদিন প্রচন্ড ভাবে বেড়েছিল মুসলমানের ঈমান ও তাদের সামরিক শক্তি। তাই লাগাতর জিহাদে মুসলিম উম্মাহ শক্তিহীন হয় না, বরং শক্তিশালী হয়। তাতে বাড়ে ঈমানদারের মানুষের সংখ্যা। বাড়ে ন্যায়নীতি ও সভ্যতা। অথচ জাতিয়তাবাদী, বর্ণবাদি বা রাজাবাদশাহর যুদ্ধে বিপুল প্রাণহানী হলেও সেখানে ঈমান বাড়ে না। ন্যায়নীতি এবং সভ্যতাও বাড়ে না। এমন যুদ্ধে মানুষ বরং বেশী সন্ত্রাসী ও পশুচরিত্রের অধিকারি হয়। ফলে একাত্তরে বাঙ্গালীদের জাতিয়তাবাদি যুদ্ধে বিপুল প্রাণহানী হলেও তাতে সুনীতি বাড়েনি। নৈতীক বিপ্লবও  আসেনি।  বরং বেড়েছে দূর্নীতি ও সন্ত্রাস। বেড়েছে পশুচরিত্র। ফলে দেশটি দূর্নীতে লাগাতর বিশ্ব-শিরোপাও পেয়েছে।     অতীতের তুলনায় আজকের মুসলিম ভূমিতে জিহাদ যেমন দুর্লভ,তেমনি দুর্লভ হয়েছে ঈমানদার মুসলমানের সংখ্যা। দেশে দেশে মুসলিম উম্মাহর জীবনে আজ এক প্রচন্ড ঈমান ও তাকওয়া শূণ্যতা। এরূপ ঈমানশূণ্যতা ও তাকওয়া শূণ্যতার কারণেই বাংলাদেশের ন্যায় প্রায় প্রতিটি মুসলিম দেশে ইসলামের শত্রুশক্তি আজ ক্ষমতাসীন। সেসব দেশে আজ পরাজিত হলো আল্লাহর বিধান -“শরিয়ত”। আফগানিস্তানের মুসলমানেরা বিপুল রক্তের বিণিয়োগ করেছে আফগানিস্তানে। ফলে বেড়েছে ঈমানের প্রচন্ডতা, সে প্রচন্ডতায় পরাজিত হয়েছে এককালের বিশ্বশক্তি সোভিয়েত রাশিয়া। আর আজ সেখানে পরাজিত হতে যাচ্ছে আরেক বিশ্বশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। ইসলামের প্রাথমিক যুগে যেভাবে মুসলিম শক্তির আবির্ভাব ঘটেছিল সে পথই ধরেছে হামাস। আর সে পথেই বিস্ফোরণ ঘটেছে ইসলামি শক্তির। হামাস ইতিমধ্যেই সে শক্তির প্রমাণ রেখেছে। অতীতের যুদ্ধে মিশর, জর্দান ও সিরিয়ার সম্মিলিত বাহিনী ইসরাইলের বিরুদ্ধে ৭ দিনও টিকতে পারেনি। আর হামাসের কয়েক হাজার মোজাহিদ লড়ে যাচ্ছে দীর্ঘ ২০দিন ধরে। হামাসের ভয়ে ইসরাইলের টাংকগুলো এখনও গাজার অভ্যন্তরে ঢুকতে পারেনি। ঢুকতে গিয়ে তিরিশ জন সৈন্যকে তারা হারিয়েছে। হামাসের রকেট নিক্ষেপ বন্ধ করতে ইসরাইল যুদ্ধ শুরু করেছিল। কিন্তু সেটিও বন্ধ করতে পারিনি। এটি সত্য, ফিলিস্তিনীদের বহু ক্ষয়ক্ষতি ও রক্তক্ষয় হয়েছে। এ অবধি মৃত্যু হয়েছে এক হাজারের বেশী ফিলিস্তিনীর। এর মধ্যে অধিকাংশই শিশু। বিধস্ত হয়েছে বিপুল সংখ্যক বাড়ীঘর, অফিস-আদালত, এমনকি হাসপাতাল। কিন্তু তাতে ইসরাইলের বিজয় জুটেনি। রক্ত আজ বিজয়ী হতে যাচ্ছে ইসরাইলের ট্যাংক-কামান, এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ও শত শত টন বোমার উপর। বিশ্বের ১২০ কোটি মুসলমান যেখানে দেশে দেশে আত্মসমর্পনের ইতিহাস গড়ছে, গাজার ১৫ লাখ মানুষ সেখানে সৃষ্টি করলো সংগ্রামী সাহসিকতা ও বিজয়ের এক গৌরবজনক ইতিহাস। আজকের মুসলমানদের সামনে গর্ব করার বিষয় সামান্যই। হামাসের কৃতিত্ব, মুসলমানদের উপার্যপরি পরাজয় ও অপমানের মাঝে তারা বিস্ময়কর বীরত্ব দেখাচ্ছে। আগামী দিনের মুসলমানেরা এ নিয়ে বহুকাল গর্ব করতে পারবে। সে সাথে শিক্ষণীয় উৎসাহও পাবে। হামাসের অমর কীর্তি এখানেই। ২৭/০৭/১৪  

বিস্তারিত»

মতামত

নিজেদের দিকেও তাকানো দরকার

হাসান মামুন:ফেসবুকে অনেক দেরিতে যোগ দিয়েছি আমি। লোকজন, বিশেষত তরুণরা শুধু বলে- ফেসবুকে না এসে অনেক কিছু ‘মিস’ করছেন। তাদের ভাষায় মিস করতে করতে যখন ফ্রি-ল্যান্স লেখালেখি শুরু করলাম, দেখি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত আমার কোনো কোনো নিবন্ধে বেশ ‘লাইক’ও ‘শেয়ার’পড়ছে। সত্যি বলতে, এসবের মানে ঠিক বুঝতাম না তখন। একবার এক জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা থেকে বলল, ‘আপনি ফেসবুকে নেই? অথচ ওখানে আপনার লেখা নিয়ে কত আলোচনা হচ্ছে। ফেসবুকে থাকলে ওগুলো দেখতে পারতেন’। এদিকে দেখতে পেলাম, অনেককে মেইল করলেও তা পড়েন না। কারণ তারা শুধু ফেসবুকে যান! ফেসবুকে গেলে নাকি হারিয়ে যাওয়া লোকজনের সঙ্গেও যোগাযোগ তৈরি হবে। এ অবস্থায় ওটায় জয়েন করে আমিও এখন কিছু ‘স্ট্যাটাস’দিচ্ছি, তবে সতর্কভাবে। মন্তব্য করছি মেপে। বাংলাদেশে ফেসবুকের অভিজ্ঞতা তো ভালো নয়। নানা অপরাধমূলক ঘটনাও ঘটেছে ফেসবুকিং ঘিরে। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটানো হয়েছে একাধিক স্থানে। মুশকিল হল, ফেসবুকে অনেকেই মাত্রা ছাড়ানো কথাবার্তা লেখে। বেহুদা ও তিক্ত বাদানুবাদে জড়ায়। ভয়ঙ্কয় হলো, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বদনাম রটানো। এসবের পাশাপাশি কত ভালো জিনিস যে হচ্ছে ফেসবুকে! অনেকেই সুন্দর সুন্দর স্ট্যাটাস, উদ্ধৃতি, দারুণ ছবি আপ করে। দেখে মনটা ভরে যায়। অনেক কিছু শেখাও হয়ে যায়। কোথায় কী হচ্ছে, জানা যায়। যদিও ভুল তথ্য দেয় অনেকে। ইচ্ছা করেও দেয়, বিভ্রান্তি ছড়াতে। ফেসবুক নিয়ে আরও অনেক কথাই বলা যাবে। যারা এর পুরনো সদস্য, তাদের অবশ্য মনে হবে-এ আর নতুন কী? হ্যাঁ, নতুন হিসেবেই বলছি। আর বলছি তাদের উদ্দেশে, যারা এখনো ফেসবুকে আসেনি। তাদের উদ্দেশে আরও বলি, এটায় আসুন। এসেই বরং ভালো কিছু দিয়ে, ইতিবাচক চর্চা দিয়ে একে সমৃদ্ধ করুন। এত জনপ্রিয় জিনিস এড়ানোর সুযোগ তো নেই। যাহোক, প্যালেস্টাইনি ভূখণ্ড গাজায় সম্প্রতি ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর ফেসবুকারদের বড় এক অংশকে দেখছি এটা নিয়ে খুব আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া জানাতে। অস্থির হয়ে অনেকে আবার এমন প্রতিক্রিয়াও জানাচ্ছেন, যাতে রয়েছে নির্জলা বিদ্বেষ। যেমন, ইহুদিদের প্রতি হিটলার নাকি সঠিক আচরণ করেছিলেন! এ নিবন্ধ যখন লিখছি, তখন বহু ফেসবুকার দু’হাত তুলে গাজার প্রতি সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদেরও আহ্বান জানাচ্ছেন এমনটি করতে। এতে কী ফায়দা হবে কে জানে, তবে আবেগটা মূল্যবান। আবেগের বশে অনেকে অবশ্য এমন ছবিও আপ করছেন, যেগুলোর দিকে তাকানো যায় না। বেশিরভাগ হলো ইসরায়েলি হামলায় হতাহত শিশুদের রক্তাক্ত ছবি। মূলধারার মিডিয়ায় এ জাতীয় ছবি ছাপানো বা আপ করা হয় না সাধারণত। আমাদের দেশেও এ উন্নতিটা হয়েছে। মূলধারার পত্রিকায় কাজ করা এক বন্ধু এসব দেখে বললেন, ‘আমাদের সবারই খেয়াল রাখা উচিত-ফেসবুকও একটা মিডিয়া। হোক সোশ্যাল মিডিয়া, কিন্তু মিডিয়া।’ ফেসবুকে উস্কানিমূলক মন্তব্য নিয়েও তার বেজায় আপত্তি। এ আপত্তি আমারও। কোনো বিষয়েই উস্কানিমূলক মন্তব্য করা, বিশেষত লেখা ঠিক নয়। দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা অবশ্য মুখে উস্কানিমূলক কিছু বললেও তা নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। কথাটি কোথায় বলছি, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকতার ছাত্ররা বলে, ‘মিডিয়া ইজ দ্য মেসেজ’! সেটা তো ঠিকই। ফেসবুকে এমন কিছু বিষয়ে আমিও স্ট্যাটাস দিয়েছি, যেটা মূলধারার মিডিয়ায় লিখব না বা লিখলেও অন্যভাবে লিখব। তাছাড়া মূলধারার মিডিয়ায় তো প্রকাশ করা বা না করার কর্তৃপক্ষ আছে। কিন্তু ফেসবুকে আমরা নিজেরাই ‘এডিটর’। সেখানে ব্যক্তির দায়িত্ববোধ তাই বেশি করে প্রয়োজন। ব্যক্তিগত মনোভাবের প্রকাশটাও সরাসরি ঘটে সেখানে। অনেক ফেসবুকারের মনোভাবের অসঙ্গতিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেটা দেখে একটু ব্যথিতও হয়েছি এর মধ্যে। ভেঙে বলি তাহলে। গাজায় ইসরায়েলিদের অন্যায় বা অপকর্ম নিয়ে আমরা তো বলবই। প্রতিবাদে আকাশ বিদীর্ণ করব। কিন্তু খুব কম লোককেই ফেসবুকে উদ্বিগ্ন হতে দেখেছি যখন নাইজেরিয়ায় দলে দলে স্কুলছাত্রীকে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল বোকো হারাম নামের একটি স্থানীয় জঙ্গি সংগঠন। নিরীহ এসব মেয়েকে নিয়ে ওইসব বর্বর কী করছিল, সে খবর কিন্তু আসছিল মূলধারার মিডিয়ায়। তার মধ্যে একটি খবর হল, সিরিয়ান জঙ্গিদের কাছে এদের একাংশকে বেচে দেয়া। তাদের তো স্ত্রী দরকার! বোকো হারামের লোকজনও এসব অল্পবয়সী মেয়েকে বিয়ে করছিল ‘গনিমতের মাল’ হিসেবে। তাদের অপরাধ, পশ্চিমা শিক্ষা গ্রহণ করতে যাওয়া। নাইজেরিয়ার মিশনারি স্কুলগুলোকে টার্গেট করছিল জঙ্গিরা। এসব শুনে কি স্থির থাকা যায়? কিন্তু আমাদের বহু লোকের বিবেক জাগে না, যেহেতু এসব করনেওয়ালারা মুসলমান। এর কাছাকাছি সময়ে শবে বরাত পালন ঘিরে আমাদের রাজধানী শহরের একটি বিহারি ক্যাম্পে দশজনকে পুড়িয়ে মারা হয়। কাজটি করে সংখ্যাগুরুদের ভেতর থেকে একটি বাঙালি গোষ্ঠী। তারা নাকি ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডার। মিডিয়ায় প্রকাশিত খবর-স্থানীয় পুলিশ এদের সহায়তা জুগিয়েছে। গাজায় হতাহত শিশুদের নিয়ে ফেসবুকে আমরা যখন (সঠিকভাবেই) মাতম করছি, তার কাছাকাছি সময়ে আমাদের নাকের ডগায় যাদের পুড়িয়ে মারা হল- তাদেরও বেশিরভাগ কিন্তু শিশু। হতে পারে তারা বিহারি, কিন্তু মানুষ তো! তাছাড়া ক্যাম্পের বাসিন্দা হলেও এদের সবার জন্ম হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশে। এর মধ্যে এক মাস পেরিয়ে গেছে ওই ঘটনার। একটি বহুল প্রচারিত দৈনিক তার পেছনের পৃষ্ঠায় এ নিয়ে প্রতিবেদন ছেপে বলেছে, বিহারি ক্যাম্পে হামলাকারীদের কেউ গত এক মাসে ধরা পড়েনি। আমার খুব ইচ্ছে হয়েছিল গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতার মধ্যে ওই প্রতিবেদনের লিঙ্কটা ফেসবুকে তুলে দেয়ার। তার সঙ্গে এটুকু বলতে চেয়েছিলাম, ঘরের মধ্যে আমরাও কিন্তু ইসরায়েলিদের মতো আচরণ করছি। লিঙ্কটি দিইনি কেন, সেটাও বলি। রাগে-দুঃখে দিইনি। রবীন্দ্রনাথই বোধহয় বলেছিলেন, ‘তোমার’ পরে নয় জগতের ভার’। আমি চেয়েছিলাম, অন্য কেউ দিক এ খবরটা। জানামতে, ওটা নিয়ে কেউ মাথা ঘামায়নি অন্তত ফেসবুকে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারি এ অধিকারে যে, বিহারিদের ওপর ওই বর্বর হামলার বিষয়ে প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকায় এক মাসে তিনটি নিবন্ধ লিখেছি আমি। উদারপন্থী বলে পরিচিত বুদ্ধিজীবীরা যে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এ নিয়ে রা করলেন না, সেটাও লিখেছি এক জায়গায়। আমার আর কিছু বলার নেই। প্রভাবশালী ব্যক্তিও নই। বেশি বললে যে কোনো প্রভাব তৈরি হবে, তা তো নয়। স্মরণ করি, বাংলাদেশে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী একজন রয়েছেন। তিনিও কিছু বললেন না। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে গাজার ওপর হামলার নিন্দা করেও কিছু না বলার। গাজা নিয়ে আমরা যখন ফেসবুকে তোলপাড় করছি, তখন কিন্তু সিরিয়ায় এর চেয়েও বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে গৃহযুদ্ধে। সে ভয়াবহ রক্তপাত আবার ছড়িয়ে পড়েছে ইরাকের বড় অংশে। সিরিয়া ও ইরাকের সুন্নি বিদ্রোহীরা একত্র হয়ে ওখানে নাকি একটা ‘খেলাফত’প্রতিষ্ঠা করবে আর তাই শিয়াদের কচুকাটা করা হচ্ছে। মুসলমান মুসলমানকে বর্বরভাবে খুন করছে সেখানে। সর্বশেষ খবরে দেখা গেল, ইউনূস নবীর সমাধি বলে পরিচিত একটি স্থাপনা তারা উড়িয়ে দিয়েছে ইরাকের মসুলে। ওখানকার খ্রিস্টানদের বলছে ধর্মান্তরিত হতে, নয়তো ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে। এমনি ধারার ঘটনা ঘটছে লিবিয়ার একাংশে। ঘটছে মালিতে। অসমর্থিত সূত্রে প্রকাশ, সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরুর পর দেশটির দশ শতাংশ মানুষ নাকি খুন হয়ে গেছে। অথচ ফেসবুকে এ নিয়ে কোনো তোলপাড় দেখলাম না। ফেসবুকাররা নিশ্চয়ই পত্রপত্রিকা পড়ে। বিবিসি-সিএনএন-আল জাজিরা দেখে। ইন্টারনেটের দুনিয়ায় কোনো খবর কি অজানা রয়েছে তাদের? ইরাক-সিরিয়া ও লিবিয়া অঞ্চলে কিন্তু আমাদের কিছু ভাই-ব্রাদার আছে। অনেক টাকাপয়সার বিনিময়ে তারা সেখানে গেছে রোজগার করে ভাগ্য ফেরাতে। এদের একাংশ শিয়া-সুন্নির ‘বীরত্বপূর্ণ’ লড়াইয়ে রীতিমতো আটকা পড়েছিল। গরিব বলে এদের জন্যও কি আমাদের কোনো উৎকণ্ঠা নেই? আমার ফেসবুক বন্ধুদের মধ্যে সেটা দেখলাম না বললেই চলে। আরও মজার জিনিস দেখতে পেলাম। গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা কেন কিছু করছে না, বরং তাকেই সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছে-সবার মাঝে এ নিয়ে বিরাট উত্তেজনা। অথচ অপর প্যালেস্টাইনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীর নিয়ন্ত্রণকারী মাহমুদ আব্বাস সরকার যে টুঁ শব্দটিও করছে না, সেদিকে ফিরে তাকাচ্ছি না আমরা। ওখানকার প্যালেস্টাইনিরাও কিন্তু বিশেষ কিছু করছে না গাজার বিপন্ন ভাইবোনের পক্ষে। দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে প্যালেস্টাইনিদের একটি বড় অংশের ভেতর ক্লান্তি এসে ভর করেছে কিনা, সেটাও খতিয়ে দেখছি না আমরা। ইসরায়েল ঘিরে থাকা মুসলিম রাষ্ট্রগুলো, যারা একদা যুদ্ধে জড়িয়েছিল প্যালেস্টাইনের জন্য- তারাও কেন নিষ্পৃহ এখন? এসব খতিয়ে দেখার বা বুঝতে চাওয়ার মনোভাব নেই আমাদের সিংহভাগের মধ্যে। সৌদি আরব, মিসর, সিরিয়া, ইরান, ইরাক, লিবিয়া, তুরস্ক প্রভৃতি দেশের সরকারগুলোয় সম্পর্কের বিন্যাস পাল্টাচ্ছে; পরাশক্তিগুলোও যে সময়ে সময়ে অবস্থান বদলাচ্ছে, এসব দিকে কেন আমরা দৃষ্টি রাখব না? এদিকে দৃষ্টি না দিয়ে গতানুগতিক বা বিচ্ছিন্নভাবে গাজা সমস্যাও কি বুঝতে পারা যাবে? আমরা চাই বা না চাই, মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র কিন্তু পাল্টে যাবে এসবের ভেতর দিয়ে। এর মধ্যে কি পড়ে যাবে গাজাও? এটা কি ইসরায়েল স্থায়ীভাবে দখল করে নেবে? আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে এটি সে ছিনিয়ে নিয়েছিল মিসরের কাছ থেকে। মিসর তো আর এটা দাবি করছে না, করবেও না। ইসরায়েলের সঙ্গে বরং বন্ধুত্ব রেখে চলেছে সে। গাজার সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে রেখেছে মিসর অনেকদিন ধরে। পশ্চিম তীরের আব্বাস সরকারও স্পষ্টত বৈরিতা করছে না ইসরায়েলের সঙ্গে। তাহলে পরিস্থিতি মোড় নিচ্ছে কোন দিকে? ফেসবুকে খুব অল্প কিছু মানুষকে দেখি এসব প্রশ্ন তুলতে, এদিকে একটু গভীর দৃষ্টি ফেলতে। কিন্তু তারা খুব পাত্তা পায় না। এদের কী ‘আঁতেল’বলে পাশে সরিয়ে দেয়া হয়? দেশে নাম-না-জানা বহু ফেসবুকার রয়েছে। আমি অবশ্য পর্যবেক্ষণ করছি তাদের, যারা আমার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে সম্পর্কিত। এটা খণ্ডচিত্র বৈকি। তবে খণ্ডচিত্র কি পূর্ণ থেকে ভিন্ন? ভিন্ন হলেই খুশি হব; কিন্তু না হলে? একজন পুরনো ফেসবুকার বলেছেন,‘সিরিয়াস কিছু করার ইচ্ছা থেকে ফেসবুকে এলে ভুল করবেন। কোনো কিছুর গভীরে যেতে না চেয়ে এটি আসলে সময় কাটানোর একটা জায়গা’! এজন্যই হয়তো বাংলাদেশ সরকারের এক তরুণ মন্ত্রী কিছুদিন আগে বলেছেন, ফেসবুকে লিখে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা যাবে না। এটাও সত্য, মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে নতুন ধরনের ও বড় রাজনৈতিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়া। তারা নিশ্চয়ই একে রাজনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে ব্যবহার করেছিল? যে দেশের মানুষ এত সমস্যায় জর্জরিত হয়ে রয়েছে, ঘর থেকে বেরোলেই সমস্যা যাদের পায়ে পায়ে, ঘরের মধ্যেও সমস্যা ঢুকে পড়ছে, পরিবর্তন আর উন্নততর জীবনের জন্য যারা হয়ে আছে উন্মুখ, (দেরিতে হলেও) তারা নিশ্চয়ই ফেসবুককে একটা কার্যকর হাতিয়ার হিসেবেই নেবে। বাঙালি হিসেবে আবেগাপ্লুত হওয়ার সময় তাকে খেয়াল রাখতে হবে, এদেশে বসবাসকারী পাহাড়ি ও সমতলের আদিবাসী আর উর্দুভাষী অবাঙালির প্রতি কোনো অবহেলা বা অবিচার হচ্ছে কিনা। গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতায় ধিক্কার জানানোর সময় খেয়াল রাখতে হবে, রাঙ্গামাটিতে আদিবাসী কোনো নারীর মাথা ফাটিয়ে দিচ্ছে কিনা আমাদেরই কেউ। অনেকটা ইসরায়েলি স্টাইলে আমরাও কিন্তু বসতি স্থাপনের জন্য বেপরোয়া লোকদের নিয়ে গিয়েছিলাম পার্বত্য চট্টগ্রামে। আর সেটা রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে। প্যালেস্টাইনে বিরোধটা মূলত জমি নিয়ে। আমরাও কিন্তু বংশানুক্রমে এখানে বসবাসকারী হিন্দুর জায়গাজমি দখল করে তাদের ঠেলে দিয়েছি সীমান্তের ওপারে। ধর্মনিরপেক্ষ দেশ গড়ার নামে স্বাধীনতার্জনের পরও কি বিরত হয়েছি এসব অপকর্ম থেকে? ছোট করে হলেও আমাদের মধ্যেও রয়েছে ইসরায়েল। কষাঘাত হেনে তাই বক্তব্য রাখা দরকার নিজেদেরও উদ্দেশ্যে। লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট। hmamun67@gmail.com      

বিস্তারিত»

বিনোদন

অর্ধনগ্ন পোস্টার’ প্রসঙ্গে মুখ খুললেন ববি

এবারের ঈদে নায়িকা ইয়ামিন হক ববির দুটি ছবি মুক্তি পাচ্ছে। হিরো দ্য সুপার স্টার ও আই ডোন্ট কেয়ার। তবে এতে মোটেও খুশি নন হালের এই হার্টথ্রব নায়িকা। কারণ আই ডোন্ট কেয়ার ছবিটির একটি পোস্টারে তাকে অশ্লীলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ববি এ বিষয়ে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এই ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন পোস্টারে ব্যবহৃত অর্ধনগ্ন ছবিটি তার নয়। এটি আদতে ফটোশপের কারসাজি। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, পোস্টার দেখার পরে তিনি খুব কষ্ট পেয়েছেন এবং এ বিষয়ে এ ছবির পরিচালক মোহাম্মদ হোসেনের সঙ্গেও কথা বলেছেন । তিনি পরিচালকে ফোন করে বলেন, ‘এটি একটি অশালীন পোস্টার। এটা অসম্ভব।’ সে সময় পরিচালক তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘পোস্টারটি সরিয়ে নেওয়া হবে।’   তবে ববিকে দেওয়া কথা রাখেননি পরিচালক। এরই মধ্যে সারা দেশে পোস্টারটি ছড়িয়ে পড়েছে। এবং তা এখন বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে। ববি এই পরিচালকের বিরুদ্ধে কৌশলে তার অশ্লিল দৃশ্য ধারণেরও অভিযোগ এনেছেন। তিনি একই ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘ছবিটির শুটিং চলাকালে আমরা ব্যাংকক যাই। সেখানে যাওয়ার পরে তারা আমাকে একটি বিচে নামতে বলেন। আমি সাঁতার না জানায় তাতে আপত্তি জানাই। তারা আমাকে বলে কোনো ভয় নেই।’ তিনি সেই দৃশ্যটি সম্পর্কে বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছিল এটি একটি কমেডি দৃশ্যের জন্য ধারণ করা হচ্ছে। এবং গল্পের জন্য দৃশ্যটি খুবই জরুরী। সেখানে দুজন আমাকে ধরে পানি নামান। তখন আমার পক্ষে ব্যালেন্স রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। তারা আমাকে বলেছিলেন, শটটি নেওয়া হবে দূর থেকে। কিন্তু পরে সিনেমাটির ট্রেইলরে আমি দেখেছি, তারা আমার খুব কাছ থেকে এবং আমার মাথার উপর থেকে শটটি নিয়েছেন। এবং শটটি নেওয়ার পরে তা ফটোশপে নিয়ে কাট ছাট করে জোড়া লাগানো হয়েছে। দৃশ্যটি এতটাই অশ্লীল যা কোনোভাবেই একজন সুস্থ মানসিকতার মানুষের কাজ হতে পারে না।’ তিনি দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যতক্ষন বিষয়টির একটি সুস্থ সমাধান না হয় ততক্ষণ বিষয়টি বিবেচনার মধ্যে রাখবেন। উল্লেখ্য এর আগে এই পোস্টার নিয়ে রাইজিংবিডিতে ২৭ জুলাই ‘চিত্রনায়িকা ববির অর্ধনগ্ন পোস্টারে তোলপাড়’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের অভিমত, পরিবর্তনের নামে সিনেমায় কোনোভাবেই অশ্লীলতাকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। তারা শিগগিরি এ ধরণের অশ্লীলতার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। - See more at: http://www.risingbd.com/new/detailsnews.php?nssl=7cf64721b76a6355fe9ee5a3ba6b72d6#sthash.mmTsXdnF.dpuf

বিস্তারিত»

স্বাস্থ্য ও রুপচর্চা

লেটুসপাতার পাঁচ গুণ

সাধারণত খাবার ড্রেসিং করার জন্য লেটুস পাতাকে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ফাস্টফুড খাবারেও এর ব্যবহার হয়ে থাকে। কিন্তু আপনার ভালো লাগে না বলে, ওটি ফেলে দিয়ে খাবারটি খান। কিন্তু জানেন কি লেটুসপাতার অনেক ধরণের খাদ্যগুন রযেছে এবং তার সঙ্গে ক্যালোরির পরিমান অনেক কম, তাই সহজে মোটা হওয়ার ভয় নেই।  জেনে নিন এই পাতার খাদ্যগুণ৷ ১) লেটুস আঁশযুক্ত সবজি বলে এটা খাবার দেহের জন্য উপকারী। এটি হজমও হয় দ্রুত।  লেটুসে অতি অল্প পরিমাণে কোলেস্টরেল রয়েছে এবং হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। ২) লেটুস পাতায হল আয়রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। নারীদের ঋতু চলাকালীণ সময়ে তাদের দেহে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আয়রনের প্রয়োজন হয়। গর্ভবতী অবস্থাতেও আয়রনের প্রয়োজন পড়ে। তাই খাবারের সঙ্গে লেটুসপাতা খাওয়াও অভ্যেস করুন। ৩) প্রোটিন দেহের পেশী গঠনে মূল ভূমিকা রাখে। খুব অল্প পরিমাণ প্রোটিন থাকলেও প্রতিদিন প্রোটিণ পেতে লেটুসপাতা একটি উপায় হতে পারে। স্যালাডে শিমের বীজের সঙ্গে লেটুস ব্যবহার করলে প্রচুর প্রোটিন পাবেন। ৪) লেটুস পাতায় কম পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে। তবুও নিয়মিত ক্যালসিয়াম পেতে পারেন লেটুসপাতা থেকে। হাড় এবং দাঁতের গঠনে ক্যালসিয়ামের বিকল্প নেই। অন্যান্য ক্যালসিয়ামপূর্ণ খাবারের সঙ্গে লেটুস মেশাতে পারেন। ৫) পটাসিয়াম রক্তের জন্য উপকারী। রক্তে পটাসিয়ামের পরিমাণ অতিমাত্রায় কমে গেলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা থাকে। লেটুস পাতা থেকে যথেষ্ট পরিমাণ পটাসিয়াম পাওয়া যায়।- ওয়েবসাইট।  

বিস্তারিত»

সম্পাদকীয়

মিডিয়ার কণ্ঠ রোধে সরকারি কৌশল : আইন সংশোধন হচ্ছে গোপনে

সরকার যখন পুরোপুরি স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠে তখন মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার হরণের পাশাপাশি গণমাধ্যম বা মিডিয়ার কণ্ঠরোধ করাও জরুরি হয়ে ওঠে। ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনে গঠিত বর্তমান সরকার এখন ঠিক সেই অবস্থায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্যই সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধের জন্য আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকেই। অথচ, এ খবরটি পত্রিকায় প্রকাশের পর তথ্যমন্ত্রী পরিষ্কার ভাষায় বলেছিলেন, এমন কোনো উদ্যোগ নেয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তার মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কিছু জানে না। ইদানীং মন্ত্রী কথার পারদর্শিতা দেখিয়ে বেশ আলোচনায় এসেছেন। নিজ মন্ত্রণালয় সম্পর্কে এমন কথার পর এখন জানা যাচ্ছে ভিন্ন কথা। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরের মাসেই তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে আট সদস্যের কমিটি গঠন করা হয় দ্য প্রিন্টিং প্রেসেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস (ডিক্লারেশন অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন) অ্যাক্ট, ২০১৪ শিরোনামে সংশোধিত আইনের খসড়া তৈরির জন্য। কমিটির প্রথম সভা হয় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি। আর ১ জুলাই এ খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হলে তথ্যমন্ত্রী অস্বীকার করেন। অন্যদিকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার নতুন আইন করছে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা নিয়ে মিডিয়া অনেক বাড়াবাড়ি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এমন আইন করা হচ্ছে যে, তাদের কোনো স্বাধীনতা থাকবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি সাত খুনের ঘটনাকে তেমন কোনো ঘটনাই নয় বলে এ নিয়ে এত মাতামাতি করার সমালোচনা করেছেন। এর আগে অর্থমন্ত্রীও সোনালী ব্যাংকের ৪ হাজার কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় এমনই মন্তব্য করেছিলেন। দেশকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেটা মন্ত্রীদের এ ধরনের কথাবার্তা থেকেই বোঝা যায়। এ জন্যই মিডিয়ার কণ্ঠরোধ করা জরুরি হয়ে উঠেছে সরকারের জন্য। তাই তো সরকার গঠনের পরপরই মিডিয়ার স্বাধীনতা হরণের জন্য আটঘাট বেঁধে পরিকল্পনা করা হয়েছে। গোপনে তথ্য মন্ত্রণালয় আইন সংশোধনের পথ ধরেছে। আর সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডিসিদের জেলা সম্মেলনে পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিলের দাবি তোলানো হয়েছে ঢাকার ডিসিকে দিয়ে। এমন কুবুদ্ধি যাদের মাথায় কিলবিল করে আর যাই হোক তাদের বিশ্বাস করা যায় না।  

বিস্তারিত»

বিজ্ঞপ্তি

ঈদ শুভেচ্ছা

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সকল পাঠক,সংবাদ কর্মী, শুভানুধ্যায়ী, বিপণন কর্মী, বিজ্ঞাপনদাতাসহ সিলেটের আলাপ পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদ মোবারক ও  আন্তরিক শুভেচ্ছা।   শুভেচ্ছান্তে সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ও সম্পাদক

বিস্তারিত»

শোক-সংবাদ

সিলেট বিভাগ সিএনজি ফিলিং স্টেশন ওনাস এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা হাজী জমির উদ্দিন আর নেই

বিরতী পেট্রোল পাম্পের মালিক, সিলেট বিভাগ সিএনজি ফিলিং স্টেশন ওনাস এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ও সিলেট পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সদস্য হাজী মো. জমির উদ্দিন ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নাল্লিহি...রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি গতকাল বুধবার সকাল পৌনে ৮টায় নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি ২ ছেলে ও ৪ মেয়েসহ অসংখ্যা আত্মীয়-স্বজন রেখে যান। তিনি নগরীর পূর্ব মিরাবাজার এলাকায় সেবক ১৪ নং বাসার বাসিন্দা। হাজী মো. জমির উদ্দিনের মৃত্যুতে সিলেট বিভাগ সিএনজি ফিলিং স্টেশন ওনাস এসোসিয়েশনের সকল সদস্যদের মাজে সুখের ছায়া নেমেছে। এছাড়া সিলেট বিভাগ সিএনজি ফিলিং স্টেশন ওনাস এসোসিয়েশন ও সিলেট পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।  

বিস্তারিত»

সাম্প্রতিক খবর সর্বাধিক পঠিত

জরিপ

Loading...

Archive