বাংলাদেশের নতুন নির্বাচন বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকার অবস্থান বদলায়নি : জুলি বিশপ

অস্ট্রেলিয়া : বাংলাদেশে নতুন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকার আগের অবস্থান বদলায়নি বলে এক চিঠিতে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশফ এমপি। গত ২ মার্চ বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন হাওলাদার আরিফ একটি চিঠি দেন অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির ডেপুটি লিডার জুলি বিশফ এমপিকে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে বর্তমানে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার বিষয়সহ নতুন জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেয়ার বিষয়ে আস্ট্রেলিয়া সরকারের অবস্থান কী তা জানতে চাওয়া হয় চিঠিতে। চিঠির উত্তরে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। গত ২৩ মার্চ পররাষ্ট্রমন্ত্রী চিঠিটির উত্তর দেন। তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকেই অস্ট্রেলিয়া সরকার বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আসছে। বাংলাদেশে নতুন করে একটি সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে অস্ট্রেলিয়া সরকার তখনই বলেছে। জুলি বিশপ বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনের পরেই আমি আ’লীগ সরকার ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে বলেছি নুতন করে একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে। এটাই অস্ট্রেলিয়া সরকারের অবস্থান। যা এখনও পরিবর্তন হয়নি। তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্রের জন্য ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের একটি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্টদূতও ক্ষমতাসীন সরকার ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি, পরস্পরিক দুরত্ব কমানো ও স্থিতিশীল মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। বিস্তারিত»

ওয়াশিকুরকে হত্যা করেছে আনসারুল্লাহর সদস্যরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ব্লগার ওয়াশিকুরকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের স্লিপার সেলের সদস্যরা হত্যা করেছে। প্রশিক্ষণ নেওয়ার মাত্র ১৫দিনের মাথায় তাকে হত্যা করে স্লিপার সেলের সদস্যরা।   বুধবার বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের একথা বলেন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম।   তিনি বলেন, ওয়াশিকুর হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া আরিফ ও জিকরুল্লাহ রিমান্ডে এ তথ্য দিয়েছে।  আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের কয়েকটি স্লিপার সেল রয়েছে। এর মধ্যে ২-৩টি স্লিপার সেল সচল রয়েছে।   যে টিম ওয়াশিকুর হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে, তাদের ১৫ দিন আগে যাত্রাবাড়ীর একটি বাড়িতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।  আর হত্যাকাণ্ডের পাঁচদিন আগে তারা অস্ত্র চালাতে পারবে কি-না তা পরীক্ষা করার জন্য মহড়া দেয়। এরপর ২৭মার্চ সকালে তারা  ওয়াশিকুরকে হত্যা করে। এই টিমের নেতৃত্ব দেয় মাসুম নামে এক বড় ভাই।   মনিরুল বলেন, এরা সবাই হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্র। আরিফ দুই বছর আগে দাওরা পাস করে ঢাকায় চলে আসে। আর জিকরুল্লাহ এখনো ওই মাদ্রাসার ছাত্র। ঘটনার দিন মাসুম ঘটনাস্থলে ছিল না। তবে সে কোঅর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করেছে।   তিনি বলেন, একটি স্লিপার সেলের সদস্য অন্য আরেকটি স্লিপার সেলের সদস্যদের চেনে না। এরা মানসিক দিক দিয়ে এমনই শক্তভাবে তৈরি যে একজন ধরা পড়লেও কিছু আসে যায় না। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের আদলেই এই স্লিপার সেলের সদস্যরা কাজ করে থাকে। একজন আরেক জনের ব্যাপারে গায়ে পড়ে উৎসাহ দেখায় না।   মনিরুল আরও বলেন, রিমান্ডের প্রথম দিনে মনে হয়েছে, এরা উগ্র জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করে। উগ্র মতাদর্শ ধারণ ও লালন করে। আরিফ ২০১১ সালের দিকে এক মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বয়ান শুনে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য হন। এরপর ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে নরসিংদীর রায়পুরা থানায় গ্রেফতার হয়। পরে সে জামিনে মুক্ত হয়।   এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, এই সেলের সদস্যদের নিয়ে মায়ানমারের আরাকান রাজ্যে গিয়ে উচ্চতর জঙ্গি প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা ছিল। এজন্য কিছুদিন আগে তারা পিকনিকের নাম করে কক্সবাজারের টেকনাফে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে নাফ নদী পার হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিজিবি শক্ত অবস্থান নেওয়ায় তারা সেকাজ করতে পারেনি।   প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তেজগাঁও হাতিরঝিল বেগুনবাড়ী এলাকায় বাসা থেকে বের হলে ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে তিন যুবক। পরে বাবুকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় জনতা হাতে-নাতে দুজনকে আটক করে। বিস্তারিত»

আইসিসি থেকে পদত্যাগ করলেন কামাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। বুধবার দেশে ফিরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি পদত্যাগের এ ঘোষণা দেন। ২০১৫ সালে করা নিয়ম অনুযায়ী, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাগুলোয় ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতির ট্রফি দেওয়ার কথা। অর্থাৎ সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপের ট্রফি দেওয়ার কথা ছিল আইসিসির সভাপতি মুস্তফা কামালের। কিন্তু নিয়ম ভেঙে গত রোববার অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের হাতে ট্রফি তুলে দেন আইসিসির চেয়ারম্যান এন শ্রীনিবাসন। অস্ট্রেলিয়ায় থাকতেই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুস্তফা কামাল। বুধবার দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন তিনি। মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আইসিসির ৩.৩ ধারা অনুযায়ী, বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের শিরোপা তুলে দেওয়ার দায়িত্ব সভাপতির। সে হিসেবে ২৯ তারিখ ফাইনালে ট্রফি দেওয়ার কথা ছিল আমার। কিন্তু ফাইনাল খেলার আগের দিন চার-পাঁচজন ডিরেক্টর আমাকে বললেন, আপনি আম্পায়ারদের নিয়ে যে সমস্ত বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু আমি তাদের বললাম, আমি তা করব না। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষকে বাদ দিয়ে আমি তা প্রত্যাহার করতে পারব না। তখন তারা বলল, আগামীকাল (২৯ মার্চ) আপনি পুরস্কার দেবেন না। বললাম, আমি থাকতে তো অন্য কেউ পুরস্কার দেওয়ার অধিকার রাখে না। আপনারা এটা করতে পারেন না। আপনারা ক্রিকেটকে কবর দেবেন না। আমাকে কৈফিয়ত দিতে বললে আমি জবাব দিতে বাধ্য। এর বাইরে কিছু হবে না।’ তিনি প্রশ্ন রেখে আরো বলেন, ‘যে মানুষটি (এন শ্রীনিবাসন) তার দেশের মানুষের কাছেও এত বিতর্কিত, তিনি যদি আইসিসির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকেন, তাহলে ক্রিকেট এগিয়ে যাবে কীভাবে?’ এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘এখন আপনারাই বলুন আমি পদত্যাগ করব কি না?’ সাংবাদিকরা ‘হ্যাঁ’ বলার পর তিনি বলেন, ‘তাহলে আমি পদত্যাগ করলাম। আমার পদত্যাগপত্র এখন আইসিসিতে যাবে। এখন থেকে আমি প্রাক্তন সভাপতি।’ বিস্তারিত»

কার্যালয় খুলে দেয়া ও নির্বাচনে সেনা দাবি বিএনপির

ঢাকা:  সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে দাবি জানিয়েছে বিএনপি।  একই সঙ্গে দলীয় কার্যালয় খুলে দেয়া ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের পুলিশি হয়রানি না করারও আহ্বান জানিয়েছে দলটি। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের কিছু বক্তব্য নিয়ে সিইসির সঙ্গে দেখা করে এই আহ্বান জানিয়েছে তারা।   সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে  বিকাল  পৌনে পাঁচটায় বেরিয়ে বি্এনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। আ স ম হান্নান শাহ বলেন, “পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় খুলে দেয়া, বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের পুলিশি হয়রানি না করা, সিটি নির্বাচনে সেনা মোতায়েনসহ বেশ কটি দাবি জানিয়েছি আমরা।  সিইসি আমাদের দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।” বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, সবচেযে বড় কথা নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে। সিটি নির্বাচন গণতন্ত্রেরই অংশ।   এর আগে বেলা সাড়ে তিনটায় আ স ম হান্নান শাহর নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধিদলটি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যা লয়ে যায়। প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ এস এম আব্দুল হালিম, সুজাউদ্দিন আহমেদ, এ বি এম আব্দুস সাত্তার, সাবেক সচিব আব্দুর রশিদ ও মশিউর রহমান প্রমুখ। বিস্তারিত»

রাজশাহীতে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত, নারী পাইলট নিহত

মো: মেহেদী হাসান, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর শাহ মাখদুম বিমানবন্দরে একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে তার প্রশিক্ষণার্থী বৈমানিক তামান্না ফেরদৌস নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন প্রশিক্ষক পাইলট সাঈদ কামাল। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে হেলিকপ্টারে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। রামেক বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সাঈদ কামালের শরীরের ৬০ শতাংশ আগুনে পুড়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। বুধবার বেলা দুইটার দিকে বাংলাদেশ ফ্লাইং ক্লাবের প্রশিক্ষণ (সেসনা-১৫২) বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। শাহ মাখদুম থানার ওসি মিজানুর রহমান খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বেলা দুইটার দিকে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে। পরে উদ্ধার তৎপরতার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমির সভাপতি ক্যাপ্টেন শাহাব বলন, রানওয়ে থেকে টেক-অফ করার সময় বিমানটির ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। পরে গ্রাউন্ডে সিগন্যাল পাঠিয়ে রাজশাহীর শাহ মাখদুম বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা চালান এর প্রশিক্ষণার্থী পাইলট। তিনি বলেন, কিন্তু রানওয়েতে টাচ করার পর ফ্লাইটটি ছিটকে পড়ে। আর তাতে নিহত হন প্রশিক্ষণার্থী তামান্না ফেরদৌস। গুরুতর আহত হন প্রশিক্ষক সাঈদ কামাল। বিস্তারিত»

ছবি ঘর

পদত্যাগপত্রে কাউকে দায়ী করেননি মোস্তফা কামাল

সভাপতির পদ থেকে আ ন হ মোস্তফা কামালের পদত্যাগের কথা নিশ্চিত করেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। এক বিবৃতিতে আইসিসির মুখপাত্র সামি উল হাসান বলেছেন, শূণ্যপদ পূরণ নিয়ে ১৫-১৬ এপ্রিল দুবাইতে আইসিসির সভায় আলোচনা হবে। আজ (বুধবার) সকালে মেলবোর্ন থেকে ঢাকায় পৌঁছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান তিনি। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দিতে না দেওয়ার মি শ্রীনিভাসনের প্রতি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন মি কামাল। তার অভিযোগ, এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করে আইসিসি গঠনতন্ত্র ভঙ্গ করেছে। তিনি বলেন, আইসিসির ভেতরে অনিয়মের প্রতি বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তিনি পদত্যাগ করছেন। কিন্তু আইসিসির পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসনের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে মি কামাল ব্যত্তিগত কারণ দর্শিয়েছেন। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, তার পদত্যাগের জন্য মি কামাল আইসিসির সাথে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। মি কামাল বলেছেন, কারো বিরুদ্ধে তার কোনোরকম অভিযোগ নেই। উল্লেখ্য যে, ভারত-বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে অ্যাম্পায়ারিং এবং আইসিসি নিয়ে জনসমক্ষে মি কামালের সমালোচনায় চেয়ারম্যান মি শ্রীনিবাসন সহ সংস্থার অনেকেই নাখোশ হন। সেই বিরোধের জের ধরেই ঘটনা মি কামালের পদত্যাগ পর্যন্ত গড়ালো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইসিসির একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে স্বয়ং একজন প্রেসিডেন্টের এমন ক্ষোভ এবং পদত্যাগের ঘটনা আইসিসিতে এই প্রথম। আইসিসির চেয়ারম্যান এন শ্রীনিবাসন। মি কামলের অভিযোগের তীর তার দিকেই। বিমানবন্দরেই পদত্যাগের ঘোষণা বুধবার সকালে ঢাকায় পৌঁছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একরকম আকস্মিকভাবেই আইসিসি থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মোস্তফা কামাল। লিখিত এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “১৬ কোটি মানুষকে ছোট করে সভাপতির পদ আমার দরকার নেই”। মিস্টার কামাল বলেন, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের সাথে যে আচরণ করা হয়েছে সে কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ‘ক্রিকেটকে কলুষিত করা হয়েছে’ বলেও তিনি মন্তব্য করেন। মিস্টার কামাল জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের ম্যাচকে ঘিরে অনিয়ম হয়েছে এবং সেই বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন তিনি। কিন্তু এর পরিপ্রেক্ষিতে ফাইনালে বিজয়ী দলের হাতে শিরোপা তুলে দেয়ার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয় তাকে। তবে এই পদত্যাগের কোনও প্রভাব বাংলাদেশের ক্রিকেটের ওপর পড়বে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। এর আগে সোমবার মেলবোর্ন থেকে বিবিসির সাথে সাক্ষাতকারে মিস্টার কামাল জানান, দেশে ফিরেই আইসিসির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার লক্ষ্যে তিনি তার আইনজীবীদের সাথে কথা বলবেন। কিন্তু তার পদত্যাগপত্রের ভাষা দেখে মনে হচ্ছে, সেই চিন্তা তেকে হয়তো তিনি সরে এসেছেন।বিবিসি

বিস্তারিত»
বাংলাদেশের নতুন নির্বাচন বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকার অবস্থান বদলায়নি : জুলি বিশপ

অস্ট্রেলিয়া : বাংলাদেশে নতুন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকার আগের অবস্থান বদলায়নি বলে এক চিঠিতে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশফ এমপি। গত ২ মার্চ বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন হাওলাদার আরিফ একটি চিঠি দেন অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির ডেপুটি লিডার জুলি বিশফ এমপিকে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে বর্তমানে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার বিষয়সহ নতুন জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেয়ার বিষয়ে আস্ট্রেলিয়া সরকারের অবস্থান কী তা জানতে চাওয়া হয় চিঠিতে। চিঠির উত্তরে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। গত ২৩ মার্চ পররাষ্ট্রমন্ত্রী চিঠিটির উত্তর দেন। তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকেই অস্ট্রেলিয়া সরকার বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আসছে। বাংলাদেশে নতুন করে একটি সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে অস্ট্রেলিয়া সরকার তখনই বলেছে। জুলি বিশপ বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনের পরেই আমি আ’লীগ সরকার ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে বলেছি নুতন করে একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে। এটাই অস্ট্রেলিয়া সরকারের অবস্থান। যা এখনও পরিবর্তন হয়নি। তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্রের জন্য ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের একটি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্টদূতও ক্ষমতাসীন সরকার ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি, পরস্পরিক দুরত্ব কমানো ও স্থিতিশীল মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।

বিস্তারিত»
গণ অভিযোগেও বন্ধ হয়নি পদ্মায় মাটিকাটা ও বালি উত্তোলণ

নাটোর: এলাকাবাসীর গণ অভিযোগের পরও বন্ধ হয়নি নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে মাটিকাটা ও বালি উত্তোলন। সরকার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে লীজ না নিয়েই নদী থেকে অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকার বালি, ভরাট ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে গণ অভিযোগ করার পরেও তা বন্ধ হয়নি বলে জানা গেছে। লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়ায় এলাকাবাসীরা জানান, শুকনো মৌসুমে প্রায় প্রতি বছরই স্থানীয় বালি ব্যবসায়ীরা পদ্মা নদী থেকে ট্রাক বোঝাই করে বালি-ভরাট মাটি উত্তোলন করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে থাকেন।   অন্যান্য বার পদ্মা নদীর বালি উত্তোলনের ওইসব নির্ধারিত বালু মহলগুলো সরকারের কাছ থেকে নিয়ম মাফিক লীজ নিয়ে বালি ও ভরাট মাটি উত্তোলন করা হতো।  কিন্তু এবারে এখনও লীজ দেয়া না হলেও কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বালি ও ভরাট মাটি উত্তোলন করেছ। স্থানীয়রা আরো জানান, মৌসুমের শুরু থেকে বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও লালপুর থানা যুবলীগের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান মিন্টুর সহযোগিতায় রিতা এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. শরিফুল ইসলাম ঠিকাদার অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার নিয়োজিত মোট সাতটি ট্রাক পদ্মা নদীর ভিতরে চাষাবাদ করা জমির মধ্যদিয়ে চলাচল করে বালি মহল থেকে বালি ও ভরাট মাটি আনা-নেয়া করছে। এতে করে আবাদী জমির ফসল ও আবাসস্থলসহ পদ্মা নদী রক্ষাবাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয় ৫৩ ব্যক্তি বিলমাড়িয়ার দিয়ারশঙ্করপুর ও নওশেরা সুলতানপুর মৌজা থেকে অবৈধভাবে সরকারদলের ছত্রছায়ায় বালি ও ভরাট মাটি উত্তোলন করার বিরুদ্ধে ২৪ মার্চ লালপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর গণঅভিযোগ করে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পানি সম্পদমন্ত্রী ও নাটোরের জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন জায়গায় এর অনুলিপি পাঠান। এরপরেও বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়নি। বরং বালু উত্তোলনের প্রতিবাদকারীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। বালি ব্যবসায়ী মোঃ শরিফুল ইসলাম বালি উত্তোলনের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, ওই বালি মহলে বালি না থাকায় এবারে আর লীজ দেয়া হয়নি। তাহলে সারাদিন সাতটি ট্রাকে সেখান থেকে কি উত্তোলন করা হচ্ছে তার ব্যাপারে কোন সঠিক জবাব দিতে পারেননি। অপর অভিযুক্ত বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও লালপুর থানা যুবলীগের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান মিন্টুর সঙ্গে কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বালি বা ভরাট মাটি উত্তোলনের সঙ্গে তিনি কোনভাবেই জড়িত নন। তার এবং সরকারী দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব অবৈধ কাজ করা হচ্ছে।   লালপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম স্থানীয় লোকজনের গণঅভিযোগটি পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি এখনও তদন্ত করে দেখা হয়নি, তবে হবে।

বিস্তারিত»
শাবি-প্রবি প্রাক্তন ছাত্র ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সমাবেশ অনুষ্টিত

শাহজালাল  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় সমুহের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ে ১ম স্থান অর্জন করায় ও বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে স্থান পাওয়ায় শাবি-প্রবি প্রাক্তন ছাত্র ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চৌহাট্টাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের প্রধান ফটকের সামনে গতকাল বিকেল ৫টায় সমাবেশ অনুষ্টিত হয়। সংগঠনের আহবায়ক সাষ্টিয়ান প্রভাষক মাহবুবুর রউফ নয়নের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব সাষ্টিয়ান গোলাম রাব্বি চৌ: পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, শাবি-প্রবি’র সাবেক প্রক্টর বর্তমান ইংরেজি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. হিমাদ্রি শেখর রায়, সাবেক প্রক্টর ও গনিত বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক ড. গোলাম আলী হায়দার চৌধুরী, ইংরেজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ও সিনিয়র অধ্যাপক ড. আতিউল্লাহ, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাহেদ আহমেদ প্রমূখ। সংগঠনের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বশির আহমদ, যুগ্ম আহবায়ক মনজুরুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক জুনায়েদ আহমদ, যুগ্ম আহবায়ক শিশির সরকার, যুগ্ম আহবায়ক এহসানুল হক দিদার, যুগ্ম আহবায়ক মিঠু তালুকদার। সমাবেশ শুরু করার পূর্বে শাবি-প্রবি’র সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. সালেহ উদ্দিন ও শাবি-প্রবি’র সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম সংগঠনের এই মহতি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ঐক্যমত পোষন করেন এবং শাবি-প্রবি উত্তরোত্তর আরও সাফল্য কামনা করেন। সমাবেশে বৃষ্টি উপেক্ষা করেও উপস্থিত ছিলেন, সাষ্টিয়ান সামসুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, শামীমুর রহমান, ইব্রাহিম হোসেন, হাবিবুর রহমান, দিদারুল ইসলাম ইমন, ফুয়াদ আহমদ, মনিয়া চৌধুরী, ফাতেমা গোলশানা, জয়ন্তিকা দাস, সারা জান্নাতসহ শতাধিক শিক্ষার্থীবৃন্দ। উল্লেখ্য যে, প্রতিকুল আবহাওয়ার কারণে পূর্ব ঘোষিত আনন্দ শোভাযাত্রা স্থগিত করা হয়।  

বিস্তারিত»
ওয়াশিকুরকে হত্যা করেছে আনসারুল্লাহর সদস্যরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ব্লগার ওয়াশিকুরকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের স্লিপার সেলের সদস্যরা হত্যা করেছে। প্রশিক্ষণ নেওয়ার মাত্র ১৫দিনের মাথায় তাকে হত্যা করে স্লিপার সেলের সদস্যরা।   বুধবার বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের একথা বলেন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম।   তিনি বলেন, ওয়াশিকুর হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া আরিফ ও জিকরুল্লাহ রিমান্ডে এ তথ্য দিয়েছে।  আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের কয়েকটি স্লিপার সেল রয়েছে। এর মধ্যে ২-৩টি স্লিপার সেল সচল রয়েছে।   যে টিম ওয়াশিকুর হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে, তাদের ১৫ দিন আগে যাত্রাবাড়ীর একটি বাড়িতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।  আর হত্যাকাণ্ডের পাঁচদিন আগে তারা অস্ত্র চালাতে পারবে কি-না তা পরীক্ষা করার জন্য মহড়া দেয়। এরপর ২৭মার্চ সকালে তারা  ওয়াশিকুরকে হত্যা করে। এই টিমের নেতৃত্ব দেয় মাসুম নামে এক বড় ভাই।   মনিরুল বলেন, এরা সবাই হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্র। আরিফ দুই বছর আগে দাওরা পাস করে ঢাকায় চলে আসে। আর জিকরুল্লাহ এখনো ওই মাদ্রাসার ছাত্র। ঘটনার দিন মাসুম ঘটনাস্থলে ছিল না। তবে সে কোঅর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করেছে।   তিনি বলেন, একটি স্লিপার সেলের সদস্য অন্য আরেকটি স্লিপার সেলের সদস্যদের চেনে না। এরা মানসিক দিক দিয়ে এমনই শক্তভাবে তৈরি যে একজন ধরা পড়লেও কিছু আসে যায় না। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের আদলেই এই স্লিপার সেলের সদস্যরা কাজ করে থাকে। একজন আরেক জনের ব্যাপারে গায়ে পড়ে উৎসাহ দেখায় না।   মনিরুল আরও বলেন, রিমান্ডের প্রথম দিনে মনে হয়েছে, এরা উগ্র জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করে। উগ্র মতাদর্শ ধারণ ও লালন করে। আরিফ ২০১১ সালের দিকে এক মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বয়ান শুনে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য হন। এরপর ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে নরসিংদীর রায়পুরা থানায় গ্রেফতার হয়। পরে সে জামিনে মুক্ত হয়।   এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, এই সেলের সদস্যদের নিয়ে মায়ানমারের আরাকান রাজ্যে গিয়ে উচ্চতর জঙ্গি প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা ছিল। এজন্য কিছুদিন আগে তারা পিকনিকের নাম করে কক্সবাজারের টেকনাফে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে নাফ নদী পার হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিজিবি শক্ত অবস্থান নেওয়ায় তারা সেকাজ করতে পারেনি।   প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তেজগাঁও হাতিরঝিল বেগুনবাড়ী এলাকায় বাসা থেকে বের হলে ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে তিন যুবক। পরে বাবুকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় জনতা হাতে-নাতে দুজনকে আটক করে।

বিস্তারিত»
আইসিসি থেকে পদত্যাগ করলেন কামাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। বুধবার দেশে ফিরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি পদত্যাগের এ ঘোষণা দেন। ২০১৫ সালে করা নিয়ম অনুযায়ী, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাগুলোয় ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতির ট্রফি দেওয়ার কথা। অর্থাৎ সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপের ট্রফি দেওয়ার কথা ছিল আইসিসির সভাপতি মুস্তফা কামালের। কিন্তু নিয়ম ভেঙে গত রোববার অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের হাতে ট্রফি তুলে দেন আইসিসির চেয়ারম্যান এন শ্রীনিবাসন। অস্ট্রেলিয়ায় থাকতেই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুস্তফা কামাল। বুধবার দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন তিনি। মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আইসিসির ৩.৩ ধারা অনুযায়ী, বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের শিরোপা তুলে দেওয়ার দায়িত্ব সভাপতির। সে হিসেবে ২৯ তারিখ ফাইনালে ট্রফি দেওয়ার কথা ছিল আমার। কিন্তু ফাইনাল খেলার আগের দিন চার-পাঁচজন ডিরেক্টর আমাকে বললেন, আপনি আম্পায়ারদের নিয়ে যে সমস্ত বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু আমি তাদের বললাম, আমি তা করব না। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষকে বাদ দিয়ে আমি তা প্রত্যাহার করতে পারব না। তখন তারা বলল, আগামীকাল (২৯ মার্চ) আপনি পুরস্কার দেবেন না। বললাম, আমি থাকতে তো অন্য কেউ পুরস্কার দেওয়ার অধিকার রাখে না। আপনারা এটা করতে পারেন না। আপনারা ক্রিকেটকে কবর দেবেন না। আমাকে কৈফিয়ত দিতে বললে আমি জবাব দিতে বাধ্য। এর বাইরে কিছু হবে না।’ তিনি প্রশ্ন রেখে আরো বলেন, ‘যে মানুষটি (এন শ্রীনিবাসন) তার দেশের মানুষের কাছেও এত বিতর্কিত, তিনি যদি আইসিসির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকেন, তাহলে ক্রিকেট এগিয়ে যাবে কীভাবে?’ এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘এখন আপনারাই বলুন আমি পদত্যাগ করব কি না?’ সাংবাদিকরা ‘হ্যাঁ’ বলার পর তিনি বলেন, ‘তাহলে আমি পদত্যাগ করলাম। আমার পদত্যাগপত্র এখন আইসিসিতে যাবে। এখন থেকে আমি প্রাক্তন সভাপতি।’

বিস্তারিত»
‘রাঘব-বোয়ালদের আইনের আওতায় আনতে হবে’

ঢাকা: দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। আর এ চুনোপুঁটিদের না ধরে রাঘব-বোয়ালদের আইনের আওতায় আনতে হবে। বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ উপলক্ষে ‘রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও প্রশাসনিক সংস্কার, দুয়ে মিলে হতে পারে দুর্নীতির প্রতিকার’ শীর্ষক এক সেমিনারে বিশিষ্টজনরা এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে দুদক।   অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ টি এম শামসুল হুদা বলেন, দুদকের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। সে প্রত্যাশার মূল্য দিতে হলে দুদককে বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো থেকে মুক্ত হতে হবে। শামসুল হুদা বলেন, দুদককে স্বাধীন হতে হলে অধিদপ্তর স্ট্যাটাস থেকে মুক্ত করার দায়িত্ব দুদককেই নিতে হবে। জনগণের শ্রদ্ধা ও আস্থা কেউই দেবে না, কাজের মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি করেই আস্থা অর্জন করতে হবে। সেমিনারে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সঠিক বিচার ও প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি বাড়ানো হলে দুর্নীতি রোধ সম্ভব। এর পাশাপাশি জাতীয় সংসদকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, যে দেশে সংসদ কাজ করে না, যে দেশে সংসদীয় কমিটি কাজ করে না, সে দেশে দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হবে না। সভাপতির বক্তব্যে দুদকের চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান বলেন, “বিভিন্ন সময় কাজ করতে গিয়ে আমরা মাঝেমধ্যে হোঁচট খাই। অন্যান্য দফতর থেকে প্রত্যাশামতো সহায়তা না পাওয়ার কারণে এটা হয়।” অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দুদকের কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার মোহাম্মদ জমির, আইনজীবী এম আমীর-উল ইসলাম, সাবেক সচিব ইনাম আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আব্দুল মান্নান, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, তথ্য কমিশনার নেপাল চন্দ্র সরকার, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, অধ্যাপক মাহফুজা খানম, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর, সাংবাদিক রাহাত খান, কাজী সিরাজ ও সোহরাব হাসান, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর প্রমুখ।

বিস্তারিত»
কালীগঞ্জে কমিউনিটি পুলিশের মতবিনিময় ও আলোচনা সভা

মোঃ আল-আমিন দেওয়ান, গাজীপুর প্রতিনিধিঃ “পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে কালীগঞ্জে কমিউনিটি পুলিশের মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকালে কালীগঞ্জ থানা চত্বরে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহানাজ আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, পিপিএম (বার)। বিশেষ অতিথি জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া সার্কেলের এএসপি মোহাম্মদ শফিউর রহমান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন পলাশ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান প্রমূখ। উপজেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি এবিএম তারিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান, ওসি (তদন্ত) নিতাই চন্দ্র সরকার, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন স্বপন, পৌর মেয়র মো. লুৎফর রহমান, মোক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শরিফুল ইসলাম তোরন, তুমলিয়া ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি জুয়েনা আহম্মেদ প্রমূখ। প্রধান অতিথি বলেন, পুলিশ জনতা কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করলে এলাকার যাবতীয় অন্যায়, অনিয়ম দূর করা সম্ভব। তাই পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতা নিয়ে এলাকার অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের নির্মূল করতে অনুরোধ জানান। এ সময় সাংবাদিক, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা, শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কমিউনিটি পুলিশের অন্যান্য সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

বিস্তারিত»
দিরাই বিএনপির ৩ নেতার জামিন লাভ

একে কুদরত পাশা; সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি দিরাই উপচেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ চৌধুরী, গ্রাম উন্নয়ণ সম্পাদক হাবিল মিয়া ও পৌর তরুণ দলের সভাপতি জুয়েল মিয়া জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার আদালতে তাদের জামিন প্রার্থনা করলে আদালত জামিন দেন। এ্যাড. আব্দুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।       জগদল ইউনিয়নের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনার অবহিত করন সভা অনুষ্ঠিত একে কুদরত পাশা; সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেরার জগদলর ইউনিয়নের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনার অবহিত করন সভা গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জগদল ইউনিয়ন চেয়ারম্যার আব্দুল সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন সেন্টু মারাক, শংকর সরকার, মোশারফ হোসেন, জগদল ইউনিয়ন পরিষদ সচিব জগদীশ চৌধুরী।

বিস্তারিত»
সাগর-রুনি হত্যা মামলায় পলাশের জামিন বাতিল, পরোয়ানা

ঢাকা: মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সারোয়ার ওরফে সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন নাহার রুনা ওরফে মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় বাড়ির দারোয়ান পলাশ রুদ্র পালের জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন জামিনে থাকা আসামি তানভীর আদালতে হাজির থাকলেও আসামি পলাশ রুদ্র পাল আদালতে অনুপস্থিত থাকেন।   পলাশ রুদ্র পাল আদালতে অনুপস্থিত থাকায় এবং তার পক্ষে কোনো আইনজীবী সময়ের আবেদন না করায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার মাহমুদ আদনান জামিন বাতিল করে পলাশের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এ ছাড়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যা ব সদর দফতরের ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড ফরেনসিক শাখার সহকারী পরিচালক মো. ওয়ারেছ আলী মিয়া আদালতে কোনো প্রতিবেদন দাখিল না করায় ম্যাজিস্ট্রেট আগামী ৭ জুন তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য দিন ধার্য করেন। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় খুন হন সাগর-রুনি দম্পতি। ঘটনার ৮ মাস পর ২০১২ সালের ১০ অক্টোবর বনানী থানায় একটি হত্যা ও ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার থাকা ৫ আসামি মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু, বকুল মিয়া, কামরুল হাসান অরুণ, রফিকুল ইসলাম ও আবু সাঈদকে গ্রেফতার দেখিয়ে এ মামলায় রিমান্ড চাওয়া হয়। ওই দিনই আরো দুই আসামি রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমান ও বাড়ির দারোয়ান পলাশ রুদ্র পালকে গ্রেফতার এবং পরবর্তী সময়ে অপর দারোয়ান আসামি এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবিরকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া গত ৩৮ মাসে মামলার তদন্তে দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি নাই। মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যা ব। এরপর সাগর-রুনির মরদেহ কবর থেকে তোলার আবেদন করে র্যা ব। ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুজ্জামানের উপস্থিতিতে সাগর-রুনির লাশ তোলা হয়। তাতে পরীক্ষা করে দেখা যায়, নিহত সাগর-রুনিকে হত্যার আগে কোনো নেশাজাতীয় খাবার পানীয় দেওয়া হয়নি এবং কোনো বিষও পাওয়া যায়নি। এরপর ২০১২ সালের ৭ জুন থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত জব্দকৃত আলামতের সঙ্গে ম্যাচিং করার জন্য ৮ আসামি ও সন্দেহভাজন ২১ আত্মীয়ের নমুনা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। মূলত এরপরই মামলার তদন্তে স্থবিরতা নেমে আসে।

বিস্তারিত»
আবারো স্বামীকে ফিরে পাওয়ার আকুতি সালাহ উদ্দিনের স্ত্রীর

ঢাকা : ‘আমার স্বামীকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। আমি আর কিছুই চাইনা’ এই বলে হু হু করে কাঁদলেন নিখোঁজ হওয়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে ‘গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বন্ধ করা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেয়ার সময় কাঁদতে কাঁদতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এমনই আকুতি জানান তিনি। জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। হাসিনা আহমেদ বলেন, ‘আমরা শতভাগ নিশ্চিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে গেছে’। তিনি বলেন, ‘আমি জানতে চাই আমার স্বামীর কি অপরাধ কি? তাকে কি কারণে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে’? তার যদি কোন অপরাধ থাকে আদালতে হাজির করে প্রচলিত আইনে বিচার করা হোক’। তিনি আরও বলেন, ‘আমার নিষ্পাপ সন্তানরা আমার কাছে জানতে চায় তাদের বাবা কোথায়? কি জবাব দেব আমি আমার সন্তানদের’? এসময় তার স্বামীকে ফিরে পেতে আবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জে.  সৈয়দ মুহমদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ্ মুহাম্মদ আবু জাফর, রাশেদা বেগম হিরা, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি আবেদুর রহমান, সানোয়ার আহমেদ প্রমুখ।

বিস্তারিত»
পরিস্থিতি বুঝে সেনাবাহিনী মোতায়েন : সিইসি

ঢাকা : পরিস্থিতি বুঝে সিটি নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ। বুধবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি। এর আগে বিএনপির সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সিটি নির্বাচনের ১৫ দিন আগে ঢাকা ও চট্টগ্রামে সেনা মোতায়েনের জন্য সিইসির কাছে দাবি জানান। সে প্রসঙ্গেই সিইসি একথা বলেন। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু করতে যা যা করণীয় কমিশনের পক্ষ থেকে তাই করা হবে। আটক ও গ্রেফতারকৃত বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা নির্বাচন কমিশনের বিষয় না। এটা আদালতের বিষয়। আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন জামিন পেয়ে নেতাকর্মীরা গোপনে থাকবেন না প্রকাশ্যে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেবেন।  

বিস্তারিত»
সোনারগাওঁয়ে সিএনজির  ধাক্কায় ১০টি গ্যাস  রাইজারে অগ্নিকান্ড

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মোগরাপাড়া ইউনিয়নের গোহাট্রা এলাকায় বুধবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় একটি যাত্রীবাহী সিএনজি ধাক্কায় রাস্তার পাশে থাকা গ্যাসের ১০টি রাইজারে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে আশপাশে কোন বাড়ি ঘর না থাকায় রাইজার ছাড়া অন্য কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, গোহাট্রা গ্রামের গ্রামীন রাস্তা দিয়ে একটি যাত্রীবাহী সিএনজি রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি গ্যাস রাইজারে ধাক্কা লেগে আগুনের সূত্রপাত হয়। এ সময় পাশে থাকা আরো ১০টি রাইজারে আগুন লেগে তার লেলিহান শিখা আকাশের দিকে ওঠে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত ৭টা ফায়ার সার্ভিসের ডেমরা ইউনিটের একটি দল এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে সোনারগাঁও থানার এসআই খন্দকার মো: আমিনুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অবস্থান করছেন।

বিস্তারিত»
নারায়ণগঞ্জে মেরিন  টেকনোলজীতে ছাত্রদের  অনির্দিষ্টকাল ক্লাস বর্জন

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের বন্দও উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজীতে আই ডি পরীক্ষা দাবিতে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর অধ্যক্ষের অফিস ঘেরাও ও অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল ক্লাস বর্জন করেছে। বুধবার সকাল ১১ টায় ছাত্ররা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে অধ্যক্ষের অফিস ঘেরাও করে। ছাত্রদের দাবি ট্রেড কোর্স শেষে ট্রেড ইন ডিপ্লোমা (আই ডি) কোর্সে ভর্তি করছেনা কর্তৃপক্ষ। তারা ২টি সেমিস্টার শেষ করে এখন আর আইডি কোর্সে ভর্তি হতে পারছেনা। এতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার দিকে চলে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করলে প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ আকরাম আলী শিক্ষার্থীদের সমঝোতায় বসলে কোন সুরাহ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পুনরায় বিক্ষোভ করে বেরিয়ে আসে এবং অনির্দিষ্ট কালের জন্য সকল ক্লাস বর্জন করে ছাত্রবাসে চলে যায়। এতে করে পুরো মেরিন ক্যম্পাস উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এ ব্যাপারে মেরিন টেকনোলজীর অধ্যক্ষ আকরাম আলী বলেন, ট্রেড কোর্স পাশ শেষে ৩য় সেমিস্টারে ইন ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তিন বিধান রয়েছে। গত ১৩/১৪ শিক্ষা বর্ষে কোন শিক্ষার্থী না থাকায় এ বিধানটি মন্ত্রণালয় থেকে রহিত করা হয়। এ বছর অনেক ভর্তি ইচ্ছুক রয়েছে তাদের ভর্তির বিষয়টি মন্ত্রণারয়ে জানানো হয়েছে, সেখান থেকে অনুমোদন এলে আমরা ভর্তি করতে পারব। বিক্ষোভের বিষয়টি তিনি এরিয়ে গিয়ে বলেন, ছাত্রদের সাথে তাদের কথা কাটাকাটি হয়েছে। সমঝোতা বৈঠকে ছিলেন প্রশিক্ষক জিয়া উদ্দিন হক, ফরিদ আহাম্মেদ, জাহাঙ্গীর আলম, হারুন অর রশিদ, ফারহানা পারভীন, আঃ গাফ্ফার, উত্তম কুমার রায়, শহীদ চৌধুরী, মাইদুল ইসলাম প্রমুখ।

বিস্তারিত»
লন্ডনবিডিনিউজ২৪ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সংবাদের গুনগতমান বজায় রাখার আহবান

লন্ডন: মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য ভিত্তিক বাংলা অন লাইন র্পোটাল লন্ডনবিডিনিউজ২৪ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বিকাল ৫টায় পূর্ব লন্ডনের মন্টিফিউরি সেন্টারে বিলেতের কর্মরত সিনিয়র সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে লন্ডনবিডিনিউজ২৪ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নবাব উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী। লন্ডনবিডিনিউজ২৪ডটকমের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাদশার সভাপতিত্বে ও প্রধান সম্পাদক কামাল মেহেদির পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সম্পাদক জাকির হোসেন কয়েছে। আলোচনায় সভায় বক্তারা ব্রিটেন তথা বাংলাদেশী বিভিন্ন পত্রিকার নানান ত্রুটি-বিচ্ছুতি তুলে ধরে বলেন, শুধু কাট এন্ড পেষ্ট নয়, নিউজের ক্ষেত্রে নিজেস্ব স্বকিয়তা তুলে ধরতে হবে। তারা বলেন, বর্তমানে অনলাইন পত্রিকার অভাব নেই। তাই পাঠক ধরে রাখতে নিজেস্ব উপাদান রাখার আহবান জানান তারা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, চ্যানেল এস এর এমডি তাজ চৌধুুরী, চ্যানেল আই ্ইউকের এমডি রেজা আহমদ ফয়ছল চৌধুরী শুয়েব, প্রবীন সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাসন, সাপ্তাহিক বাংলাদেশের সম্পাদক শেখ মোজাম্মেল হোসেন কামাল, লন্ডনবাংলা প্রেসক্লাবের ট্রেজারার মোহাম্মদ জুবায়ের, সাপ্তাহিক বাংলাপোষ্ট সম্পাদক ব্যারিষ্টার তারেক চৌধুরী, সাপ্তাহিক জনমত পত্রিকার বার্তা সম্পাদক মুসলেহ উদ্দিন আহমদ, সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইছির  মাহমুদ, সাপ্তাহিক সুরমার সাবেক সম্পাদক সৈয়দ মনছুর উদ্দিন, সাপ্তাহিক ইউরো বাংলা পত্রিকার সাবেক সম্পাদক মোহাম্মদ জাহেদী ক্যারল, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ বেলাল আহমদ, বাংলা মিরর সম্পাদক আব্দুল করিম গনি, মাসিক দর্পন সম্পাদক রহমত আলী, উইকলি মুসলিম পত্রিকার ম্যানেজিং এডিটর মোহাম্মদ সুবহান, সাপ্তাহিক বাংলা টাইমস পত্রিকার বার্তা সম্পাদক সায়েম চৌধুরী, বাংলা সংলাপ সম্পাদক মোশাহিদ আলী, লন্ডনবাংলা প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ছড়াকার দিলু নাসের, এনএনবির লন্ডন প্রতিনিধি মতিয়ার চৌধুরী, সাংবাদিক ইসহাক কাজল, মোস্তাক বাবুল, শাহ ইউসুফ, সৈয়দ জহুরুল হক, আহাদ চৌধুরী বাবু, আ স ম মাসুম, হাসান হাফিজুর রহমান পলক, সেলিম রহমান, খিজির হায়াত চৌধুরী, হেফাজুল করিম রাকিব, শাহ শামীম আহমদ, সারোয়ার কবির, জুয়েল রাজ, রেজাউল করিম মৃধা, আব্দুর রশিদ, চয়ন সামি, ফারুক সুমন, ইমরান হোসেন প্রমুখ। সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রতিটি অন লাইন পত্রিকার উচিত নিজেস্ব সংবাদের উপর গুরুত্ব দেয়া, গুনগত মান বজায় রাখা। অনেকেই বলেন, ইতিমধ্যে অনেকগুলি অন লাইন পত্রিকা ব্রিটেন থেকে প্রচারিত হলেও বেশদিন টিকে থাকেনি। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন লন্ডনবিডিনিউজ২৪ যুগের পর যুগ বাংলাদেশী কমিউনিটির সংবাদ পরিবেশন করে যাবে। এজন্য তারা বিজ্ঞাপন দাতাদের সহযোগীতা কামনা করেন। বিশিষ্ট সাংবাদিকের উপস্থিতিতে আলোচনা সভা শেষ পর্যন্ত আত্ম সমালোচনায় রূপনেয়। অনেকে ব্রিটেনে বাংলা মিডিয়ার ধৈন্যদশা তুলে ধরে বলেন, সময়ের সাথে সাথে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক পত্রিকা ব্রিটেন থেকে প্রকাশিত হলেও প্রথম দিকে যে কয়টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল, পূর্বে যে গুনগতমান বজায় রেখে যাওয়ার যে প্রবনতা ছিল বর্তমানে তা ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছেনা। বিশেষ করে বানান ভুলের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বক্তারা তুরে ধরেন। আলোচনা সভায় উপস্থিত সাংবাদিকগন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, লন্ডনবিডিনিউজ২৪ এর সংবাদ, চমক প্রদকের পাশা-পাশি তত্ত্ব নির্ভর হবে। এটি কমিউনিটির মুখপাত্র হয়ে কাজ করে যাবে। তারা আশাবাদ করেন এই অনলাইন কোন দল মত কিংবা গোষ্ঠির নয় সংবাদ পরিবেশন করবে সততার সাথে। সব সময় তত্ত্ব নির্ভর সংবাদ পরিবেশন করবে। অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে বলা হয় এই অনলাইন পোর্টালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আজ হলেও জানুয়ারী মাসের প্রথম সাপ্তাহ থেকে নিয়মিত কমিউনিটিসহ দেশী, বিদেশী গুরুত্বপূর্ণ খবর প্রচার করে আসছে। কোন দল বা গোষ্ঠির প্রভাবিত না হয়ে সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সাথে খবর প্রচার করায় ইতিমধ্যে সুধিজনের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে বলে মনে করেন এর সাথে জড়িত সংবাদ কর্মীগন। তারা জানিয়েছেন অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই বছরের সূচনাতে আত্মপ্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়। ধীরে ধীরে, হাটি হাটি পা করে লন্ডনবিডিনিউজ২৪ আজ ফেইসবুক পেইজে ৫ হাজারের অধিক লাইক অর্জন করেছে এবং ফেইসবুক একাউন্টে সাড়ে ৩ হাজারের অধিন ফেন্ড্রস করতে সমর্থ হয়েছে। তবে তা জেনুইন লাইক। আর ইতোমধ্যে প্রতি সাপ্তাহে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি পাঠক লন্ডনবিডিনিউজ২৪.কম এর নিউজ শুধুমাত্র ফেইসবুকে ভিজিট করে থাকেন। এই সংখ্যা আরো বাড়বে বলে কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে লন্ডনবিডিনিউজ২৪.কম এর মিডিয়া টিমকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন এক্সিকিউটিব বার্তা সম্পাদক এম এ কাইয়ুম, বিশেষ প্রতিনিধি সৈয়দ শাহ সেলিম আহমদ, রিপোর্টার আবুল হাসনাত, কমিউনিটি রিপোর্টার এম জি ফয়ছল আহমদ, ফটোগ্রাফার আবুল কালাম, কন্ট্রিভিউটর আব্দুর রহিম রঞ্জু, বখতিয়ার খান।  

বিস্তারিত»
কার্যালয় খুলে দেয়া ও নির্বাচনে সেনা দাবি বিএনপির

ঢাকা:  সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে দাবি জানিয়েছে বিএনপি।  একই সঙ্গে দলীয় কার্যালয় খুলে দেয়া ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের পুলিশি হয়রানি না করারও আহ্বান জানিয়েছে দলটি। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের কিছু বক্তব্য নিয়ে সিইসির সঙ্গে দেখা করে এই আহ্বান জানিয়েছে তারা।   সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে  বিকাল  পৌনে পাঁচটায় বেরিয়ে বি্এনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। আ স ম হান্নান শাহ বলেন, “পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় খুলে দেয়া, বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের পুলিশি হয়রানি না করা, সিটি নির্বাচনে সেনা মোতায়েনসহ বেশ কটি দাবি জানিয়েছি আমরা।  সিইসি আমাদের দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।” বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, সবচেযে বড় কথা নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে। সিটি নির্বাচন গণতন্ত্রেরই অংশ।   এর আগে বেলা সাড়ে তিনটায় আ স ম হান্নান শাহর নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধিদলটি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যা লয়ে যায়। প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ এস এম আব্দুল হালিম, সুজাউদ্দিন আহমেদ, এ বি এম আব্দুস সাত্তার, সাবেক সচিব আব্দুর রশিদ ও মশিউর রহমান প্রমুখ।

বিস্তারিত»
রাজশাহীতে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত, নারী পাইলট নিহত

মো: মেহেদী হাসান, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর শাহ মাখদুম বিমানবন্দরে একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে তার প্রশিক্ষণার্থী বৈমানিক তামান্না ফেরদৌস নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন প্রশিক্ষক পাইলট সাঈদ কামাল। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে হেলিকপ্টারে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। রামেক বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সাঈদ কামালের শরীরের ৬০ শতাংশ আগুনে পুড়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। বুধবার বেলা দুইটার দিকে বাংলাদেশ ফ্লাইং ক্লাবের প্রশিক্ষণ (সেসনা-১৫২) বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। শাহ মাখদুম থানার ওসি মিজানুর রহমান খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বেলা দুইটার দিকে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে। পরে উদ্ধার তৎপরতার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমির সভাপতি ক্যাপ্টেন শাহাব বলন, রানওয়ে থেকে টেক-অফ করার সময় বিমানটির ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। পরে গ্রাউন্ডে সিগন্যাল পাঠিয়ে রাজশাহীর শাহ মাখদুম বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা চালান এর প্রশিক্ষণার্থী পাইলট। তিনি বলেন, কিন্তু রানওয়েতে টাচ করার পর ফ্লাইটটি ছিটকে পড়ে। আর তাতে নিহত হন প্রশিক্ষণার্থী তামান্না ফেরদৌস। গুরুতর আহত হন প্রশিক্ষক সাঈদ কামাল।

বিস্তারিত»
সুনামগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ

একে কুদরত পাশা; সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ কর্মসূডঢ় পালিত হয়েছে। বুধবার সুনামগঞ্জ কোর্ট পয়েন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করলে মিছিলটি পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশের বাঁধার মূখে পড়ে সেখানেই তারা সমাবেশ করেন। এসময় বক্তব্য রাখেন, রাকাব উদ্দিন, এ্যাড. সালেহ আহমদ, রফিকুল ইসলাম, মোস্তাক আহমদ, সৈয়দ আমিনুল ইসলাম হেলাল, দেওয়ান রাবিন আনোয়ার, হোসেন আমীর,  মোনাজ্জির, নূরুল আলম, সুয়েব চৌধুরী, মঈনুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, জাকিরুল ইসলাম তপু, ফারুক মিয়া, আবুল  হায়াত, নূরে আলম, অজিত দাস, সমিরন দে, রিন্টু দাস, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ শফিকুল ইসলাম শফিক, ইকবাল হোসেন, আবুল কালাম, ছাত্রদল নেতা ফরহাদ শাহ, রুহুল রূপক, আজাদুর রহমান আজাদ, ছুটিল. শরিফ, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, সুজন পাল প্রমুখ।

বিস্তারিত»
মায়ানমারে মুক্তা খনিতে ভূমিধসে ৯ জনের মৃত্যু

ইয়াংগুন: মায়ানমারের প্রত্যন্ত উত্তরাঞ্চলে একটি মুক্তার খনিতে ভূমিধসের ঘটনায় কমপক্ষে নয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ ঘটনায় সেখানে ২০ জনের বেশী লোক চাপা পড়ে। উদ্ধারকর্মীরা তাদের সন্ধানে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। বুধবার সরকারি সংবাদ মাধ্যম একথা জানায়।   খনি শ্রমিকরা সোমবার মায়ানমারের কাচিন রাজ্যের পাকান্ত শহরে মূলবান এ মুক্তার খনির পাশে মাটি খোঁড়ার কাজ করার সময় দেশের সর্বশেষ এ ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে খনিটির আংশিক ধসে পড়ে। মায়ানমা অ্যালিন সংবাদপত্রের খবরে বলা হয়, সেখানে আহত দু’জনকে একটি স্থানীয় হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার ব্যাপারে সতর্ক করেছিল। খবরে বলা হয়, এ ভূমিধসের ঘটনায় সেখানে ৩০ জন মাটির নীচে চাপা পড়েছে। সংবাদপত্রের খবরে সোমবার সকালে পাঁচজনের এবং পরের দিন মঙ্গলবার আরো চারজনের লাশ উদ্ধারের কথা বলা হয়। সংবাদপত্রের খবরে বিস্তারিত উল্লেখ না করে সেখানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়। মায়ানমারের বিভিন্ন খনিতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ও ভূমিধস ঘটে থাকে। গত জানুয়ারি মাসে প্রবল বর্ষণের পর ওই এলাকার একটি মুক্তার খনিতে ভূমিধসে চারজনের মৃত্যু হয়।

বিস্তারিত»
সিলেট কল্যাণ সংস্থা’র উদ্যোগে মশারী টাঙ্গিয়ে প্রতিকী অবস্থান কর্মসূচী অনুষ্ঠিত

মোঃ জহিরুল ইসলাম : বৃহত্তর সিলেটের অরাজনৈতিক কল্যাণমূলক স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন সিলেট কল্যাণ সংস্থা’র আয়োজনে  ১লা এপিল ২০১৫ বুধবার বেলা ১১টায়  সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সামনে ‘‘সিলেট নগরীর নাগরিকদের মশার ক্রমবর্ধমান উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে মশা নিধনে মাঠ পর্যায়ে ওষুধ ব্যবহারে বাস্তবভিত্তিক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবীতে মশারী টাঙ্গিয়ে প্রতিকী অবস্থান কর্মসূচী’’- তে বক্তারা বলেন, শীতকাল চলে গেলও মশার উপদ্রব কমাতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মশা নিধনে কোন প্রকার সুব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যা নগরবাসীর জন্য অত্যান্ত দুঃখজনক। মশার উপদ্রবে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্করা অত্যাধিক জ্বালাতনে অতিষ্ঠ। যা সহ্য করা যায় না এবং ভালো ভাবে এ ব্যাপারে কাউকে কিছু বলাও যায় না। কিন্ত প্রতি মাসে গুনতে হয় বাড়তি টাকা, শুধু মাত্র মশা ওষুধ ব্যবহারের জন্য। আমরা নগরবাসী বড় আশা নিয়ে নির্বাচিত করি জনপ্রতিনিধি, তাদের দিকে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে থাকি। তারাঁ আমাদের সব ধরনের সমস্যা লাগব করে শান্তিতে নগরে বসবাস করার ব্যবস্থা করে দিবেন। আমরা নগরবাসী ঘুম থেকে উঠে ঘুমানোর  পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূলতা ও সমস্যার সম্মুখীন হই, যা উপস্থাপন করে শেষ করার মত নয়। এত সমস্যার মধ্যে থেকেও আমরা নাগরিকরা সব কিছু থেকে সয়ে চলার চেষ্টা করছি। কিন্তু যে সমস্যা আমাদেরকে অত্যাধিক ভাবে জ্বালায়, সেই সমস্যাকে দাবীর মাধ্যমে উপস্থাপন করা ছাড়া উপায় নেই। আমরা নগরবাসী মশার জ্বালায় অস্থির। বক্তারা আরো বলেন, মশার উপদ্রব কমাতে ওষুধ ব্যবহারে আইওয়াশ নয়, মাঠ পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ চাই। আগামী  ১৫ দিনের মধ্যে মশা নিধনে বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচী গ্রহন না করলে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সামনে সচেতন সিলেটবাসীকে নিয়ে শোয়া কর্মসূচী পালন করা হবে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে জাতীয় যুব দিবস ২০১০ এ জাতীয় যুব পুরস্কার ’’শ্রেষ্ঠ যুবসংগঠক পদকপ্রাপ্ত’’ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ এহছানুল হক তাহেরের সভাপতিত্বে অন্যতম সদস্য যুবনেতা এ.কে.কামাল হোসেনের পরিচালনায় মশারী টাঙ্গিয়ে প্রতিকী অবস্থান কর্মসূচীর শুরুতে পবিত্র কোরআন শরীফ থেকে তেলাওয়াত করেন ক্বারী মোঃ জহিরুল ইসলাম জাহিদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্থার অন্যতম সদস্য যুবনেতা সাদিকুর রহমান সাদিক। মশারী টাঙ্গিয়ে প্রতিকী অবস্থান কর্মসূচীতে একাত্বতা পোষণ করে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সচেতন নাগরিকবৃন্দদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন, যুক্তরাজ্য কমিউনিটি নেতা সমাজসেবী হাজী মোঃ রজব আলী দেওয়ান, মোঃ ফজলুল করিম চৌধুরী মিনহাজ, মোঃ এমদাদুল হক চৌধুরী মামুন,       মোঃ রাশেদুজ্জামান রাশেদ, হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, বিপ্র দাস বিশু বিক্রম বিজন, এম সাইফুল ইসলাম জয়, কন্ঠশিল্পী এস এম শাহজাহান, গাজী আলমগীর হোসাইন, মোঃ আবু তায়্যিব রুবেল, মোঃ আলিম উদ্দিন, মোঃ জহিরুল ইসলাম, রবিন আহমদ, দিলিপ মিয়া, মোঃ আইয়ুব আলী রেনি, মোঃ আলী হোসেন, আশিষ চন্দ্র দাস, মোঃ জালাল উদ্দিন, ব্যবসায়ী নেতা কামরুল ইসলাম, মোঃ রাহাত হোসেন চৌধুরী শিমুল, মোঃ সোহেল আহমদ, স্বপন চন্দ্র ও মোঃ সাগর আহমদ। বেলা ১১টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ৯০মিনিট স্থায়ী মশারী টাঙ্গিয়ে অবস্থান কর্মসূচীতে সিলেট নগরীর বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রায় শতাধিক সিলেট প্রেমী সচেতন সিলেট স্বজনরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

বিস্তারিত»
রাজশাহীতে গৃহবধূ মৃত্যু, পরিবারের দাবি নির্যাতনের কারণেই মৃত্যু

রাজশাহী প্রতিনিধি: নির্যাতনের কারণেই রাজশাহী নগরীর আইনজীবী মোহাম্মদ আলী রমজানের ছেলের বউ ওয়াহিদা সিফাতের (২৭) মৃত্যু হয়েছে বলে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার রাতেই একটি অভিযোগ করা হবে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে। এদিকে ময়নাতদন্ত রিপোর্টেও সিফাতের মাথায় জখমের প্রমাণ মিলেছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের রিপোর্টে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সিফাত আত্মহত্যার জন্য দায়ী স্বামী মোহাম্মদ আশিফ ওরফে পিসলিকে আটক করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর মহিষ বাথান এলাকায় অবস্থিত আইনজীবী রমজানের বাড়ি থেকে তার ছেলে ও ঘাতক স্বামী পিসলিকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় নিহত সিফাতের পরিবারের পক্ষ থেকে আটক পিসলির বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে জানান সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান। মঙ্গলবার রাতেই নগরীর রাজপাড়া থানায় এ ঘটনায় অভিযোগ করবেন বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি। তিনি বলেন, নির্যাতনের কারণেই সিফাত আত্মহত্যা করতে পারে, অথবা নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করা হতে পারে। তবে তার মৃত্যুর পরে আমরা সবাই ভেঙে পড়ায় এ নিয়ে কোনো অভিযোগ করিনি। কিন্তু তাকে নির্যাতন করা হতো, এটা সঠিক। এর আগেও তাকে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন করতো পিসলি। নির্যাতনের কারণেই সিফাতকে আজ আমরা অকালে হারালাম। চাচা মিজানুর রহমান আরও বলেন, এ রকম প্রতারণা করেই সিফাতকে বিয়ে করেন বেকার পিসলি। সে নিজেকে কখনো অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী, কখনো বড় ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বছর চারেক আগে সিফাতকে তাঁর পরিবারের অমতেই বিয়ে করে। এদিকে গৃহবধূ সিফাতের মৃত্যুর কারণ সর্ম্পকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান চিকিৎসক জোবাইদুর রহমান বলেন, গৃহবধূ ওয়াহিদা সিফাত গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এটা নিশ্চিত। তবে তাঁর মাথায় একটি জখমের চি‎হ্ণ রয়েছে। যদিও জখমের কারণে সিফতের মৃত্য হয়নি। আত্মহত্যায় তাঁর মৃত্যুর কারণ। এখন পুলিশ সেই জখমটিকে কিভাবে নিবে, সেটি তাদের বিষয়। এ ব্যাপারে নগরীর রাজপাড়া থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আমরা হাতে পেয়েছি। তাতে চিকিৎসক মাথায় জখমের কথা বলেছেন। কিন্তু কি কারণে মাথায় জখম হলো, সেটি এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ওসি আরও বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে গৃহবধূর স্বামী পিসলিকে আটক করা হয়েছে। সিফাতের পরিবার থেকে অভিযোগ পেলে তাকে সেই অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। আর অভিযোগ না পেলে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। প্রসঙ্গত, গত রবিবার রাত ১০টার দিকে ওয়াহিদা সিফাতের স্বামীর বাসা থেকে গলায় ওড়না পোঁচানো অবস্থায় তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সিফাতকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সিফাত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে পাশ করা।

বিস্তারিত»
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থী মোহাম্মদ বুহারী বিজয়ী হওয়ায় এনডিপি’র অভিনন্দন

১লা এপ্রিল ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এনডিপি’র চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা এক অভিনন্দন বার্তায় নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থী মোহাম্মদ বুহারী সরকারী প্রার্থীর বিরুদ্ধে ২০ লাখ ভোট বেশী পেয়ে বিজয়ী হওয়ায় আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নাইজেরিয়ার জনগণ দীর্ঘদিন দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করে গণতন্ত্রের পক্ষে বুহারীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছেন গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। নেতৃবৃন্দ বলেন, গণতন্ত্রের এই বিজয়ে ভবিষ্যতে নাইজেরিয়ার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো উন্নত হবে, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে বলে নেতৃবৃন্দ অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, নাইজেরিয়ার জনগণ যেভাবে জেগে উঠেছে ঠিক একই ভাবে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে নীরব ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটাবে। আসন্ন ৩ সিটি নির্বাচনেও নাইজেরিয়ার জনগণের মত বাংলাদেশের জনগণ তাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে গণতন্ত্র রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

বিস্তারিত»
মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি আশীর্বাদ রাজশাহীর আম চাষিদের

মো: মেহেদী হাসান, রাজশাহী: চৈত্র মাসে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি। বোরো ধানসহ আমের জন্য খুব ভালো হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যার পর নেমে আসা এক পশলা বৃষ্টি রাজশাহীর চাষিদের জন্য আশির্বাদ হয়েছে। বিশেষ করে আম ও বোরো চাষিদের জন্য বেশী। রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায় রাজশ্হাীতে ৩৮ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে দীর্ঘ দিন অপেক্ষায় থাকা আমচাষীদের কাছে এই বৃষ্টি শুধু স্বস্তিই নয়, যেন তাদের কাছে জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। রাজশাহী মহানগরীর শুড়িপাড়া এলাকার আমচাষি হযরত জানান, দীর্ঘদিন ধরে খরার কারণে আমের গুটি ঝড়ে পড়ছিল। এই গুটি ঝরা বন্ধে সেচ পাম্পের মাধ্যমে গাছের গোড়ায় প্রতিদিন সেচ দিলেও তেমন লাভ হচ্ছিলনা। আবার খরচও বেড়ে যাচ্ছিল। আর কদিন পরেই আম বাগান হাত বদল শুরু হবে। আর এই আমের গুটি ঝরে যাওয়া মানে, আর্থিকভাবে ক্ষতি হবে। রাজশাহীর পবার আম ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘আমের গুটি হওয়ার পর যে মুকুলগুলো শুকিয়ে গিয়েছিল, সেগুলো বৃষ্টির ফলে ঝরে যাবে এবং আমের গুটিগুলো এখন দ্রুত বড় হবে। একই সঙ্গে বোটাও শক্ত হবে। ফলে গুটি ঝরে পড়া বন্ধ হবে।’ চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব আম গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দিন বলেন, ‘সোমবারের বৃষ্টির শুরুতে কিছুক্ষণ যে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায় তাতে কিছু আমের গুটি ঝড়ে গেছে। তবে এ বৃষ্টির ফলে অন্তত বাকি যে গুটিগুলো থাকবে সেগুলোর বোটা অনেক শক্ত হবে। ফলে ভবিষ্যতে এই আমের গুটি ঝড়ে পড়ার আশঙ্কা অনেকাংশে দূর হবে।’ রাজশাহী কৃষি সম্পসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক হযরত আলী বলেন, ‘বৃষ্টিপাতের ফলে আম ছাড়াও মৌসুমী ফল ও সবজিচাষীরা উপকৃত হবে। রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এ বছর রাজশাহীর ১৬ হাজার ৫১৯ হেক্টর জমিতে আমগাছ রয়েছে। এ সব গাছ থেকে ২ লাখ ৫৭ হাজার টন আম উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিস্তারিত»
রাজশাহীতে শান্তিপূর্ণভাবে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু

মো: মেহেদী হাসান: রাজশাহীতে বুধবার শান্তিপূর্ণভাবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এবার ৬৯৮টি কলেজের এক লাখ ৭ হাজার ৯০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র রয়েছে ৫৮ হাজার ৬৫ জন এবং ছাত্রী ৪৯ হাজার ২৫ জন। ১৮৫টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী রয়েছে নয় জন। আর হাজতি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯ জন। এদিকে, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী ও রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবুল হায়াত নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতায় এসএসসি পরীক্ষার মতো শিক্ষার্থীদের এবার আর বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না। রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর শামসুল কালাম আজাদ জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী কমেছে ৪ হাজার ৫৯০ জন। গত বছর (২০১৪) রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ১১ হাজার ৬৮০ জন। তবে এবার পরীক্ষার্থী কমলেও কেন্দ্র বেড়েছে ২টি। গত বছর পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল ১৮৩টি, এবার ১৮৫টি। গতবছর পাসের হার ছিল ৭৮.৫৫ শতাংশ।

বিস্তারিত»

সাক্ষাৎকার

জীবনের মূল্য যে রাষ্ট্র দিতে পারে না তাকে সিভিলাইজ স্টেট বলা যায় না

ড.মাহবুব উল্লাহ:রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে তার নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা বিধান করা। আর রাষ্ট্র যদি সে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় তাহলে সেটা হবে সবচেয়ে বড় রকমের ব্যর্থতা। এমন মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ভাষ্যকার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ।   তিনি বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের গুম হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে বলেন, এখন দেশবাসী চাইছে এই ব্যক্তিটি কোথায় কিভাবে আছে তার হদিস জনসমক্ষে দেয়া। সরকারের বহু গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে, নিরাপত্তাবাহিনী রয়েছে ফলে এসব সংস্থা তৎপর হলে সালাহউদ্দিন আহমেদকে খুঁজে বের করা খুব কঠিন কিছু নয়।   ড.মাহবুব উল্লাহ বলেন, ধরে নেয়া যাক তার বিরুদ্ধে সরকার বা রাষ্ট্রের তরফ থেকে কোনো অভিযোগ আছে বা থাকতে পারে। তো সেজন্য তো তাকে গ্রেফতার করা হবে এবং আদালতে সোপর্দ করা হবে। কিন্তু তার মতো একজন মানুষ  যিনি একটি দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাবেক মন্ত্রী এবং এমপি তিনি একেবারে লাপাত্তা হবে যাবেন এটা মেনে নেয়া খুব কঠিন। এঘটনার পর বাংলাদেশের অনেকেই এমন ভাবছেন যে তারা নিজেরাও নিরাপদ নন।   বিশিষ্ট এই অধ্যাপক বলেন, জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কিছু নয়। আর সেই জীবনের মূল্য যে রাষ্ট্র বা যে সমাজ দিতে পারে না বা সেই মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে না সেই রাষ্ট্র বা সমাজকে সিভিলাইজ স্টেট বা সমাজ বলা যায় না।  আমি যেখানে শংকিত সেটা হচ্ছে আমাদের রাজনীতিতে বা রাষ্ট্র পরিচালনায় এমন কিছু কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে তাতে ভবিষ্যতে যদি কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন হয় তখন যারা ক্ষমতায় যাবে তাদের অনুসারীরাও হয়তো একইভাবে প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠবে।   আসন্ন সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন কিন্তু আমরা আশা করতে পারি না। তারপরও আমি বলব এই নির্বাচনটা যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয় ও সবার অংশগ্রহণমূলক হয় তার জন্য একটা সুস্থ পরিবেশ তৈরি করবে নির্বাচন কমিশন এবং সরকার। রেডিও তেহরানের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।   পুরো সাক্ষাৎকারটি উপস্থাপন করা হলো। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন গাজী আবদুর রশীদ।     প্রশ্ন:বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ নিখোঁজ হওয়ার পর ২০ দিন হয়ে গেলেও কোনো খোঁজ পাওয়া যায় নি। তার স্ত্রী আবেদন জানিয়েছেন যেন তাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়। কিন্তু সরকার কোনো দায় নিতে চাইছে না। কিভাবে দেখবেন এ ঘটনাকে?   ড. মাহবুব উল্লাহ : দেখুন রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে তার নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা বিধান করা। আর রাষ্ট্র যদি সে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় তাহলে সেটা হবে সবচেয়ে বড় রকমের ব্যর্থতা। তো জনাব সালাহউদ্দিন আহমেদ গত ১০ মার্চ থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। অবশ্য এর আগে তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে আত্মগোপন করেছিলেন।   বর্তমানে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সেই পরিস্থিতিতে কারোপক্ষে বিশেষ করে যারা বিরোধী দলীয় রাজনীতি করে তাদের পক্ষে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। আর সে কারণে রাজনৈতিক গতিপ্রবাহকে অব্যাহত রাখার জন্য সালাহউদ্দিন আহমেদ যে পন্থায় কাজ করছিলেন অর্থাৎ নিজেকে গ্রেফতার থেকে বাঁচিয়ে ঝুঁকি নিয়েও দলের বিবৃতি প্রচার করছিলেন। আমরা মিডিয়ার সংবাদে দেখেছি তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছিল। এরইমধ্যে তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেলেন।   তার স্ত্রীর অভিযোগ কিম্বা সংবাদপত্রেরও কিছু রিপোর্টে লেখা দেখলাম যে তাকে তুলে নেয়ার পেছনে কিছু সশস্ত্র ব্যক্তি ভূমিকা পালন করেছে। এখন দেশবাসী চাইছে এই ব্যক্তিটি কোথায় কিভাবে আছে তার হদিস জনসমক্ষে দেয়া। সরকারের বহু গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে, নিরাপত্তাবাহিনী রয়েছে ফলে এসব সংস্থা তৎপর হলে সালাহউদ্দিন আহমেদকে খুঁজে বের করা খুব কঠিন কিছু নয়।   ধরে নেয়া যাক তার বিরুদ্ধে সরকার বা রাষ্ট্রের তরফ থেকে কোনো অভিযোগ আছে বা থাকতে পারে। তো সেজন্য তো তাকে গ্রেফতার করা হবে এবং আদালতে সোপর্দ করা হবে। কিন্তু তার মতো একজন মানুষ  যিনি একটি দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাবেক মন্ত্রী এবং এমপি তিনি একেবারে লাপাত্তা হবে যাবেন এটা মেনে নেয়া খুব কঠিন। এঘটনার পর বাংলাদেশের অনেকেই এমন ভাবছেন যে তারা নিজেরাও নিরাপদ নন।   প্রশ্ন: সালাহউদ্দিন আহমেদের নিখোঁজ হওয়া এবং ইলিয়াস আলীর গুম হওয়ার ঘটনাকে অনেকেই একইসূত্রে গাঁথা বলে মন্তব্য করেছেন। যদি তাই হয় তাহলে রাজনীতির অঙ্গনে এ ঘটনার সুদূর প্রসারি প্রভাব কি পড়বে বলে মনে হয়?   ড.মাহবুবু উল্লাহ: এরআগে একটু কথা বলে নিতে চাই। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি মানুষের জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কিছু নয়। আর সেই জীবনের মূল্য যে রাষ্ট্র বা যে সমাজ দিতে পারে না বা সেই মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে না সেই রাষ্ট্র বা সমাজকে সিভিলাইজ স্টেট বা সমাজ বলা যায় না।  আমি যেখানে শংকিত সেটা হচ্ছে আমাদের রাজনীতিতে বা রাষ্ট্র পরিচালনায় এমন কিছু কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে তাতে ভবিষ্যতে যদি কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন হয় তখন যারা ক্ষমতায় যাবে তাদের অনুসারীরাও হয়তো একইভাবে প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠবে। আর এই প্রতিশোধ পরায়ণতা যদি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলতে থাকে তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ, সমাজের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি  নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।   এতে দেখা যাবে সমাজের মধ্যে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়বে। আমরা চাই না দেশ সেভাবে অস্থিরতার কবলে পড়ুক। এবারও আমরা লক্ষ্য করেছি সালাহউদ্দিন আহমেদ তো একটা পরিচিত নাম। এছাড়াও খুব বেশি পরিচিত নয় এরকম অনেকের ক্ষেত্রে বন্দুক যুদ্ধের নামে নিহত হওয়া বা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। আর এর পরিসংখ্যান দৈনিক  কাগজে বের হচ্ছে। একদিকে যেমন পেট্রোল বোমায় অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনা আমরা লক্ষ্য করছি পাশাপাশি এ ধরণের অন্তর্ঘাতের ঘটনাও আমরা লক্ষ্য করছি। আর এসবকিছুই কিন্তু খুবই বিপজ্জনক এবং উদ্বেগজনক।   প্রশ্ন:২৮ এপ্রিল ঢাকা মহানগরের দুটি এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যখন বিএনপি ও ২০ দলের আন্দোলন চলছে তখন সরকার এ নির্বাচন করতে যাচ্ছে। আপনার পর্যবেক্ষণ কি?   ড.মাহবুব উল্লাহ:  আপনারা সবাই জানেন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আরো বহুদিন আগে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা হয় নি। কেন হয় নি সে সম্পর্কে ব্যাখ্যা জনগণের কাছেও যেমন স্পষ্ট ঠিক তেমনি যারা রাজনীতি করেন তাদের কাছে ও স্পষ্ট। এখন এমন সময়ে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দেয়া হচ্ছে যখন বিরোধী শিবির অত্যন্ত অপ্রস্তুত অবস্থায় আছে এবং তারা তাদের আত্মরক্ষার জন্য ছুটে বেড়াচ্ছে; তাদের হাজার হাজার কর্মী কারারুদ্ধ অবস্থায় আছে। এরকম অবস্থা চলতে থাকলে দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন কিন্তু আমরা আশা করতে পারি না। তারপরও আমি বলব এই নির্বাচনটা যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয় ও সবার অংশগ্রহণমূলক হয় তার জন্য একটা সুস্থ পরিবেশ তৈরি করবে নির্বাচন কমিশন এবং সরকার।     প্রশ্ন:  ঢাকা সিটিতে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না। কিন্তু নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরুর আগেই তাকে ভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। মান্নার আটকের ঘটনাকে আপনি কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?   ড.মাহবুব উল্লাহ: দেখুন মাহমুদুর রহমান মান্নার বিরুদ্ধে তো একটা অভিযোগ এসেছে। সেটার ব্যাপারে তদন্ত চলছে। এখনও জিজ্ঞাসাবাদের পর্যায়ে রয়েছে। ফলে তদন্তাধীন একটা বিষয়ে মন্তব্য করা অত্যন্ত দূরুহ। দেখা যাক তদন্তের মধ্যে কি বেরিয়ে আসে। তবে রাষ্ট্রের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমরা চাইবো কারো প্রতি যেন অবিচার করা না হয়। সে যেন সুবিচার পায়  এটা নিশ্চিত হোক।      প্রশ্ন: মাহমুদুর রহমান মান্নাকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী মেহের নিগার। প্রশ্ন হচ্ছে- সুস্থ মানুষকে রিমান্ডে নেয়া হয় আর বের হন অসুস্থ হয়ে। রিমান্ডে এই নির্যাতনের সুযোগ কি আইন দিয়েছে? অনেক সময় এমনও দেখা যায়- আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। এ অবস্থার অবসানে কি করণীয় আছে?   ড.মাহবুব উল্লাহ:  দেখুন এ ব্যাপারে করণীয় হচ্ছে- আমরা জানি বহু দেশেই মামলার স্বার্থে বা তদন্তের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের একটা ব্যবস্থা আছে। কিন্তু সেই জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যে যেন অমানবিক বা অশোভন  কিছু না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে রিমান্ডে তার জীবন যাতে বিপন্ন না হয় এবং তিনি যাতে সুস্থভাবে থাকেন সেটা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে আমাদের দেশীয় আইনেও। তবে আশ্চর্য্যের বিষয় অনেকগুলো ঘটনাতে আমরা লক্ষ্য করছি রিমান্ডে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অনেকে হাসপাতালে আসতে বাধ্য হয়েছেন। মাহমুদুর রহমান মান্নাও সেভাবে অসুস্থ হয়েছেন। জানিনা এসব ঘটনার অবসান আসলে কিভাবে ঘটবে। তবে নাগরিক হিসেবে আমাদের আকাংখা আমরা যেন সবাই সভ্য আচরণ করার চেষ্টা করি। রাষ্ট্রযন্ত্রের নিপীড়ন যেন অহেতুক কারো জীবনকে বিপন্ন বা ক্ষতিগ্রস্ত না করে সেটাই আমাদের আকাংখা। মানুষ সেটাই চাইবে।  

বিস্তারিত»

বিশেষ কলাম

কামাল নাসের চৌধুরী: জনপ্রশাসন সচিব, নাকি স্বজনপ্রীতি সচিব?

শামসুল আলম :জনপ্রশাসন সচিব ডঃ কামাল নাসের চৌধুরী সরকারের অত্যন্ত আস্থাভাজন ক্ষমতাধর সচিবদের একজন। জনপ্রশাসন সচিবের চেয়ারে বসে সরকারের কাজ করার চেয়ে পারিবারিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহনের পর সরকারের আস্থাভাজন সচিব হিসেবে প্রথমে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে নিয়োগ পান। অত্যন্ত আস্থার সাথে তথ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো বৃহৎ একটি মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে নিয়োজিত হন তিনি। সর্বশেষ বছর খানেক পূর্বে সরকারের চরম আস্থাভাজন হিসাবে নিয়োগ পান প্রশাসনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে। আওয়ামীলীগের প্রতি তার প্রশ্নাতীত আনুগত্য, ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে তার সম্পৃক্ততা, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্র লীগের কাদের- রবিউল প্যানেলে সাহিত্য সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করা, সর্বোপরি দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে আস্থা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন ইত্যাদি তার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে নিয়োগের পেছনে কাজ করে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, তিনি তাঁর উপর সরকারের শীর্ষ মহলের অন্ধ নির্ভরতার সুযোগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এসেই তিনি একের পর এক ব্যক্তিগত ও পারিবারিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেন। পারিবারিক এজেন্ডা-১ জনপ্রশাসন সচিব হিসেবে বসার এক মাসের মধ্যেই তিনি প্রথমে তার ছোট ভাই আব্দুল্লাহ আল মোহসিন চৌধুরীকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক পদ হতে প্রাইজ পোস্টিং হিসেবে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হিসেবে বদলী করে নিয়ে আসেন। অথচ এই সময় তার সিনিয়র অনেক যুগ্ম সচিব পদের অভাবে নিম্নতর অর্থাৎ উপসচিব পর্যায়ের পদে নিয়োজিত ছিলেন। মোহসিন চৌধুরী পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সবচাইতে আকর্ষণীয় পদ যুগ্ম সচিব উন্নয়ন হিসেবে দাপটের সাথে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এই মোহসিন চৌধুরী ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগের ধারে কাছেও কোন দিন ঘেসেন নাই। পারিবারিক এজেন্ডা-২ কামাল চৌধুরী জনপ্রশাসন সচিবের পদে বসার পর থেকেই সিনিয়র সচিব হওয়ার ফিকির শুরু করে দেন। কিন্তু সচিবদের তালিকায় তার অবস্থান নীচের দিকে হওয়ায় সুবিধা করতে পারছিলেন না। ধীরে ধীরে তিনি সচিবদের তালিকায় তার সিনিয়রদের বিরুদ্ধে সরকারের শীর্ষ মহলের কানভারী করেন। আওয়ামীলীগ সরকারের আমলেই নানা প্রক্রিয়ায় যাচাই বাছাই করার পর যাদেরকে সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে তাদের কাউকে কাউকে ভিন্নমতের হিসেবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হন। কামাল চৌধুরী ১৯৮২ ব্যাচের অফিসার। তার সিনিয়র ১৯৮১ ব্যাচের সচিব আব্দুল মান্নান হাওলাদার, শাহাব উল্লাহ এবং মোশাররফ হোসেন ভূইয়া, ১৯৮২ ব্যাচের মেধা তালিকায় কামাল চৌধুরীর উপরের সচিব মাহবুবুর রহমান, তৎকালীন অর্থ সচিব ফজলে কবীরকে কৌশলে বাদ দিয়ে তিনি সিনিয়র সচিব পদে পদোন্নতির তালিকায় নিজের নামটি ঢুকাতে সক্ষম হন। ২০১৪ সালে জারীকৃত ৮ জনের সিনিয়র সচিব পদে পদোন্নতির আদেশের সর্বশেষ নামটি ছিল কামাল চৌধুরীর। অর্থাৎ আট জনের তালিকায় উপরে বর্ণিত সিনিয়রদের মধ্যে একজনও যদি সিনিয়র সচিব পদে পদোন্নতি পেতেন, সে ক্ষেত্রে তালিকার সর্বশেষ হিসেবে কামাল চৌধুরীর নাম বাদ পড়ে যেতো। তিনি এভাবে চাতুরি করে সরকারের শীর্ষ মহলকে বিভ্রান্ত করে অন্যায়ভাবে সিনিয়র সচিব পদে নিজের পদোন্নতি বাগিয়ে নিতে সক্ষম হন। অবশ্য এই পদোন্নতির কিছুদিন পরেই অর্থ সচিব হিসেবে অবসর গ্রহনের প্রাক্কালে ফজলে কবীরকে সিনিয়র সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে কিছুটা প্রায়শ্চিত্ত করেন তিনি। মান্নান হাওলাদার ও সাহাবউল্লাহ কে বিদেশে রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে সান্তনা পুরষ্কার দেন। মোশাররফ হোসেন ভূইয়াকে প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের ডাম্পিং পোষ্টিং থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পূণর্বাসন করেন। পারিবারিক এজেন্ডা-৩ সরকারের প্রভাবশালী সচিব থাকার সুবাধে তিনি তদ্বির করে দুই ভাইকে বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের লোভনীয় পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করেন। তাঁর ছোট ভাই আব্দুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসে ইকনমিক কাউন্সিলর হিসেবে নিয়োগ পান। অপর এক ভাই আব্দুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী নিয়োগ পান মায়ানমারে কমার্শিয়াল কাউন্সিলর হিসেবে। অথচ এই হাসান ছাত্র জীবনে শিবিরের একজন ক্যাডার হিসেবে সুপরিচিত ছিল। শীর্ষকাগজে ২০০৯ সালে প্রকাশিত কর্মকর্তাদের তালিকায় তার নামের শেষে জে-প্লাস হিসেবে চিহ্নিত ছিল। তার এই দুই ভাইকে তিনি শুধু বিদেশ পাঠিয়েই ক্ষান্ত হননি, বিদেশে লিয়েন/ফরেন পোষ্টিংয়ে কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জিও পরে জারী করার বিধানটিকে কামাল নাসের পরিবর্তন করে ফেলেন, শুধুমাত্র ভাইদের পদোন্নতির জিও পরে জারী করার জন্য। এটা প্রশাসনে দীর্ঘ ৪০ বছরের অনুসৃত রীতি। কামাল চৌধুরী কোন ঝুঁকি নিতে চান নি। যদি কোনভাবে সরকার পরিবর্তন হয়, তাহলে তাঁর ভাইদের পদোন্নতির জিও জারিতে কোন সমস্যা হতে পারে, এ আশংকায় তিনি ভাইদের বাঁচাতে সরকারের বিধান পরিবর্তন করে ফেলেন। বিদেশে থাকাবস্থায় তার ভাই আব্দুল্লাহ আল হাসান চৌধুরীর যুগ্ম সচিব পদে এবং আব্দুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরীর উপ সচিব পদে পদোন্নতির জিও জারি করেন। পারিবারিক এজেন্ডা-৪ কামাল চৌধুরীর ছোট ভাই আব্দুল্লাহ আল মোহসিন চৌধুরী ও আব্দুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী ১৯৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা। ব্যাচের মেধা তালিকায় তাদের অবস্থান নিচের দিকে। কিন্তু তারা যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পান ২০১২ সালে। এই পদোন্নতির সময় ১৯৮৫ ব্যাচের মেধা তালিকার উপরের দিকের প্রায় ৮০% কর্মকর্তা সব যোগ্যতা থাকা সত্বেও অজ্ঞাত কারনে পদোন্নতি থেকে বাদ পড়েন। মেধাবী কর্মকর্তাদের ব্যাপক হারে বাদ পড়ায় বিতর্কের ঝড় উঠলে প্রধানমন্ত্রী বাদ পড়াদের পদোন্নতির বিষয়টি রিভিউ করার নির্দেশ দেন। ফলে ২০১৩ সালের জুলাই ও সেপ্টেম্বরে দুই দফায় বাদ পড়া মেধাবী কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতি হতে বাদ পড়া কর্মকর্তাদের ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা দেয়া হয়ে থাকে। ২০১৩ সালে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা প্রদানের ফাইল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে তৈরী করা হয়। কিন্তু এসব মেধাবী কর্মকর্তাদের দূর্ভাগ্য, এই সময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুস সোবহান সিকদার বদলি হয়ে চলে যান, আসেন ডঃ কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী। কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী এসেই তিনি ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা ফাইলটি গুম করে ফেলেন। এ নিয়ে পত্র পত্রিকায় প্রচুর লেখালেখি ও সংল্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অসংখ্য দেন দরবারও কামাল চেীধুরীকে টালাতে পারেনি। তিনি তার ছোট ভাই মহসিন চৌধুরী ও হাসান চৌধুরীর পদোন্নতিতে যেন সমস্যা না হয় সেই জন্য ধারনাগত জ্যেষ্ঠতার ফাইলটি আটকিয়ে রেখেছেন। অথচ কামাল চৌধুরী নিজেও ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা নিয়েছেন। ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা না পেলে তিনি ২০০৯ সালে সচিব হতে পারতেন না। ২০১২ সালে পদোন্নতির সময় অতিরিক্ত সচিব ও উপ সচিব পদে পদোন্নতি বঞ্চিতদের পরবর্তিতে ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা দেয়া হয়েছে। শুধু যুগ্মসচিবদের ফাইলটি আটকিয়ে রেখেছেন তিনি। এ সরকারের আমলেই ২০০৯ ও ২০১১ সালের যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতিতে বাদ পড়াদের পরবর্তীতে দফায় দফায় ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা প্রদান করা হয়েছে। শুধূমাত্র ২০১২ সালে বাদ পড়া যুগ্মসচিবদের ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা দেওয়া হয়নি। কামাল চৌধুরীর ভাইয়েরা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে, এ আশংকায় ধারণাগত জ্যেষ্ঠতার ফাইলটি তিনি আটকিয়ে রেখেছেন। পারিবারিক এজেন্ডা-৫ জনপ্রশাসন সচিব ডঃ কামাল চৌধুরীর স্ত্রী বিসিএস দশম ব্যাচের কর্মকর্তা, বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব। ১৯৮৩, ১৯৮৪, ১৯৮৫, ১৯৮৬ ও নবম ব্যাচের বিপুল সংখ্যক যোগ্য কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে জনপ্রশাসন সচিব কামাল চৌধূরী তার স্ত্রীকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতির ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন। তার স্ত্রীর পদোন্নতির ফাইলটি এখন প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে। জনপ্রশাসন সচিব ডঃ কামাল চৌধুরী একজন কবি। সুশীল হিসাবেও তার পরিচিতি আাছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারের শীর্ষ মহলে অগাধ আস্থার সুযোগে তিনি আর কত পারিবারিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন? তার এ সমস্ত অনিয়ম ও অপকর্মের কি কোন জবাবদিহিতা নেই ?

বিস্তারিত»

এক্সক্লুসিভ

বিডিআর বিদ্রোহ,বাংলাদেশের ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকান্ড এবং বিবেকের দংশন

ক্যাপ্টেন(অবঃ)মারুফ রাজুঃ ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনাটি বাংলাদেশের নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ হিসাবে অত্যন্ত দু:খজনক একটি ঘটনা। এই অনাকাংখিত ঘটনায় আমার প্রানপ্রিয় কয়েকজন কোর্সমেট ছাড়াও আমরা আমাদের সমসাময়িক বেশকিছু মেধাবী সেনা কর্মকর্তাকে হারিয়েছি চিরদিনের মতো।তাই যতোদিন বেচে থাকবো এ ঘটনা যেমন আমাদের তিলে তিলে কষ্ট দেবে,তেমনি এঘটনার মুলনায়কদের উপযুক্ত শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত কিছুতেই স্বস্তি পাবো না আমরা।   এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা সময়োচিত ও সঠিক ভাবে মোকাবেলা করতে না পারলে এর পার্শপ্রতিক্রিয়া বহুদিন পর্যন্ত টানতে হয়। ফেব্রুয়ারী ২০০৯ সালের পিলখানার ঘটনা এমনই। এর কারণ তিনটি। প্রথমটি, একটি বিদ্রোহ ঘটতে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় কারণ, এই বিদ্রোহকে স্বিকৃতি দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় কারণ, বিদ্রোহের ফলে ৫৭জন সেনাকর্মকর্তা এবং প্রায় দু’ডজন বেসামরিক কর্মকর্তা শহীদ হয়েছেন এবং তাদের পরিবার পরিজন হয়েছেন নিগৃহিত,যা সেনাবাহিনীর অফিসার মহলে স্থায়ী বিরুপ মনস্তাত্বিক ছাপ ফেলেছে। এছাড়াও চতুর্থ কারণ হচ্ছে, এই ঘটনাটি বহুল আলোচিত এবং প্রবল ভাবে সমালোচিত। সমালোচিত হওয়ার কারণ হচ্ছে ঘটনাটি ব্যবস্থাপনা করার সময়, উচ্চতর সামরিক কমান্ডে প্রচন্ড দুর্বলতা দেখা গিয়েছে। ২০০৯ সালে তথ্যপ্রযুক্তির যুগের উৎকর্সতার সময় খবর যথাযথ জায়গায় পৌছাতে দেরি হওয়ার কথা না। ব্যক্তিগত উদ্যোগে বহু জায়গায় সংবাদ পৌছেছে। কিন্তু জেনারেল মঈন ইউ আহমেদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর উচ্চতর কমাণ্ড, তারও উপরে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কমান্ড দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে অপারগ ছিলেন ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়।”   বিদ্রোহের শুরুতে মহাপরিচালক মেঃ জেনারেল শাকিল তার মোবাইল ফোন মারফৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ কে ফোন করে দ্রুত সাহায্য পাঠানোর জন্য অনুনয় বিনয় করেন।তিনি বলেন,বিদ্রোহীরা এখন পর্যন্ত সংঘবদ্ধ না এবং অতিদ্রুত সাহায্য পাঠালে তাদের পরাভূত করা কঠিন হবে না।এমন কি তিনি পিলখানার কোন কোন দিক থেকে সাহায্য আসলে ঢুকতে সহজ হবে সেই ধারনাও দেন।   অপর দিকে কর্নেল গুলজার ফোন করেন র‍্যাব এর মহাপরিচালক হাসান মাহমুদ খন্দকারকে (বর্তমানে আইজি,পুলিশ)এবং তাকে অতি দ্রুত সাহায্য পাঠাতে অনুরোধ করেন।কিন্তু বিধি বাম। বাংলাদেশের ইতিহাসের নৃশংসতম গনহত্যা ঠেকানোর কোন ব্যবস্থা না করে মূল্যবান প্রতিটি মূহূর্ত নষ্ট করা হলো।যতো সময় ক্ষেপন হচ্ছিলো পরিস্থিতি আস্তে আস্তে আমাদের হাতের বাইরে চলে যাচ্ছিল।এধরনের পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী এবং সরকারের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে যা যা করনীয় তা কি করা হয়েছিলো? বিদ্রোহের খবর পাওয়ার সাথে সাথে বিডিআর এর নিজস্ব বেতার যোগাযোগ(দেশের সিমান্ত বর্তী চৌকি গুলোর সাথে) জ্যাম করে দিয়ে সকল যোগাযোগ নিজস্ব কমান্ড পোষ্টে আনয়ন করা যেতো।তাতে করে পিলখানার বিদ্রোহীরা নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার পর দুপুর ১২টা পর ঢাকার বাইরের সমস্ত বিডিআর দফতর গুলোর জওয়ানদের বিদ্রোহে সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হতো না কার্যকর ভাবে।   ঐ একই সময় পিলখানার সকল টিএন্ডটির ল্যান্ড লাইন ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ছিলো একান্ত জরুরী।বাকি থাকলো বিদ্রোহীদের মোবাইলফোন সংযোগ,আমার ঠিক জানা নেই একটি নির্দিষ্ট এলাকার সকল মোবাইল নেটওয়ারক সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেয়া সম্ভব কিনা তবে বিষয়টি সম্পূর্ন ভাবে বা আংশিক ভাবে করতে পারলেও এ বিদ্রোহ ঠেকানোতে বড় ধরনের সাফল্য আসতো বলে আমি মনে করি।   বাইরের সাথে প্রায় সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে ,নেতৃত্বহীন ও স্বল্পশিক্ষিত এই বিদ্রোহীদের উপর প্রবল মনস্তাত্বিকচাপ সৃষ্টি হতো,উদয় হতো অনিশ্চয়তার দোলাচল,যা কিনা তাদের মাঝে মানবিক দূর্বলতা এবং অনৈক্য সৃষ্টি করতে বাধ্য।এই অবস্থায় অবিলম্বে আত্বসমর্পন না করলে চতুর্দিক থেকে আক্রমন করে তাদের পরাভূত করা হবে,এই মর্মে রেডিও,টিভি,এলাকায় আকাশ থেকে লিফলেট এবং প্রকট ভাবে বহুসংখ্যক মাইক বাজিয়ে ক্রমাগত ঘোষনা দেয়ার পরও কোন ফলাফল না আসলে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা না করার সিদ্ধান্তে আসা যেতো।   কিন্ত এর কোন কিছুই না করে ,বিদ্রোহীদের সব কথা বিশ্বাস করে তাদের সাথে দিনভর সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর টেলিকথোপকথন এবং পরবর্তিতে বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে বিদ্রোহীদের নেতা ডিএডি তৌহিদের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের দলের সাথে চলে আলাপ আলোচনা এবং শেরাটনের সুস্বাদু খানাদানা। সাধারন জ্ঞানের হিসাবে বলে এধরনের জিম্মি মুক্তির আলোচনায় আটককৃতদের অবস্থা সক্রিয় বিবেচনায় নেয়া হয় এবং জিম্মিদের সাথে কথা বলে তাদের নিরাপদ সুস্থতা যাচাইয়ের উপর বিদ্রোহীদের দাবীদাওয়া মেনে নেয়া নির্ভর করে। বিডিআর দরবার হলে উপস্থিত কিন্তু ভাগ্য ক্রমে বেচে যাওয়া গুটি কয়েক সেনা অফিসারের ভাষ্য অনুযায়ী বিদ্রোহের প্রথম কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ডিজি,বিডিআর সহ প্রায় সকল অফিসারকে হত্যা করা হয়।তাহলে কাদের বাচানোর জন্য সরকার দিনভর বিদ্রোহীদের সাথে আলোচনা করেছিলো??   তাদের দাবীদাওয়া নিয়ে আলোচনা শুরুর পূর্বশর্ত হওয়া উচিৎ ছিলো ডিজি সহ কয়েক জন সিনিয়ার অফিসারের সাথে ফোনে কথা বলে তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া।তা কি আদৌ করা হয়েছিলো??আমি মনে করি বাংলাদেশ সরকারে এবং সেনাবাহিনীতে এই অতি সাধারন জ্ঞানটি রাখেন, এধরনের ব্যক্তির কোনো অভাব নেই তবে সেরকম কোনো চেষ্টা হলো না কেনো??   কেনো ২৫শে ফেব্রুয়ারী ২০০৯ রাতে সাহারা খাতুনের কাছে কিছু অস্ত্র সমর্পন এবং কয়েকটি সেনাপরিবার পরিজন কে উদ্ধারের নাটক গনমাধ্যমে দেখানো হলো??কেনো পরদিন রাতে পিলখানা এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এই বিপুল সংখ্যক বিদ্রোহীকে পালিয়ে যেতে দেয়া হলো? এদুদিনের রাজনৈতিক সমাধানে সরকার কি অর্জন করেছিলো??৫৭জন পদস্থ সেনাঅফিসার কে তো ২৫শে ফেব্রুয়ারী দূপুরের আগেই হত্যা করা হয় তবে কাদের রক্ষার জন্য সেনা অভিযান চালানো হয়নি??সেনা পরিবারদের বাচানোর জন্য?আমার মনে হয় না।এই বিদ্রোহের ফলশ্রুতিতে আমরা হারালাম আমাদের প্রানপ্রিয় অমূল্য ৫৭ জন অফিসারকে,বহুকালের গৌরবময় স্মৃতি বিজরিত সিমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআর এর হলো অপমৃত্যু আর জাতীর বিবেক আজীবনের জন্য হলো প্রশ্মবিদ্ধ।অফিসারদের উপর ক্ষুব্ধ হয়েই যদি এই বিদ্রোহ করা হয়ে থাকে তবে অফিসারদের অতি দ্রুত হত্যা করা হলো কেনো??   দাবী আদায়ের স্বার্থে মৃত অফিসারদের চেয়ে জিবিত অফিসাররাই বেশী কার্যকর হতো বলে আমি মনে করি। বিদ্রোহীদের সব দাবীদাওয়া মেনে নেয়া পরও (ডিএডি তৌহিদ কে বিডিআর মহাপরিচালক ঘোষনা সহ)তারা রাতের ধরে পালিয়ে গেলো কেনো??   কেনো যেনো আমার মনে হয় কোথাও একটি বিশাল কিন্তু রয়েছে,এ ধরনের অনেক প্রশ্ন রয়েছে যার উত্তর জানার অধিকার জাতির রয়েছে,জানতে চায়। যে দ্রুততা এবং ক্ষিপ্রতার সাথে ৫/৬ইমে'২০১৩ এ মতিঝিল শাপলাত্বরের অভিযান পরিচালনা করে ঢাকাকে তথাকথিত শত্রুমুক্ত করা হয়েছিলো ,সে ধরনের এ্যাকশন ২৫/২৬শে ফেব্রুয়ারী'২০০৯ এ পিলখানায় অবরুদ্ধ আমার প্রানপ্রিয় সেনাঅফিসার ও তাদের পরিবার পরিজন দের রক্ষায় কেনো নেয়া হয়নি,এর জবাব আওয়ামী লীগ এবং তাদের স্থাবক তৎকালীন সেনাপ্রধান জেঃ মঈন ইউ আহমেদকে একদিন অতি অবশ্যই দিতে হবে।   নাটের গুরুদের আড়ালে রেখে শুধু মাত্র লোক দেখানো বিচার জাতি কখনই মেনে নেবে না। আমি শোকাবহ ২৫ শে ফেব্রুয়ারী কে অবিলম্বে জাতীয় শোক দিবস ঘোষনার জোর দাবী জানাচ্ছি।   এই দুঃখজনক ঘটনার পর আমরা এই ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর ব্যর্থতার দায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকারের উপর চাপালেও, তারাই যে এঘটনা ঘটিয়েছে বা এ ঘটনায় ইন্ধন জুগিয়েছে তা কিন্তু প্রথমে বলিনি,বিশ্বাস করতে চাইনি এদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দান কারী দলটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অসীম অবদান রাখা বাহিনী ইপিআর, পরবর্তি কালের বিডিআর ধংশের মতো কোনো কাজ করতে পারে। কিন্তু আওয়ামী সরকারের গত ৫ বছরের বিভিন্ন কর্মকান্ড আমাদের ভাবনার যথেষ্ট খোরাক যুগিয়েছে।বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যকান্ডের বিচারের দির্ঘ সূত্রিতা,সেনাবাহিনীর তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করা,প্রধানমন্ত্রীর সভায় (দরবার)এ নৃশংস হত্যাকান্ডের প্রতিবাদকারী এবং দোষীদের বিচার দাবী কারী সেনা অফিসারদের চাকুরী থেকে অব্যহতি দান করা,সর্বমহলের দাবী ২৫শে ফেব্রুয়ারীকে জাতীয় সেনা কিংবা জাতীয় শোক দিবস ঘোষনায় অনিচ্ছা ও অনিহা প্রকাশ করা,সর্বপরি এই শোকাবহ কান্নার দিনটিতে গেলো বছরের  এশিয়া কাপের আনন্দঘন উদ্বোধনী উৎসব আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনমনে তখন  বহু প্রশ্ন দেখা দিয়েছিলো। আওয়ামী লীগ কি ১৫ আগষ্ট এর শোকাবহ দিনে এধরনের কোনো উৎসব আয়োজন করতে পারতো??তথাপি আমাদের  বারংবার অনুরোধ করা সত্বেও ঐদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের নাচগানবাদ্য ,আমাদের নিহত ভাইদের সন্মানার্থে পরিহার করা হয়নি। এসকল পরিস্থিতিতে কুইক ডিসিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মাননীয় শেখ হাসিনা এবং মঈন ইউ আহমদ সিদ্ধান্ত নিতে ঘন্টার পর ঘন্টা পার করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে যে ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে। এর দায় দায়িত্ব শেখ হাসিনা এবং মঈন ইউ আহমদকেই ব্যক্তিগতভাবে বহন করতে হবে। এখানে অন্য কারো দায়িত্ব নেওয়ার জায়গা নাই। একজন প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন। অনেকেই এর সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। সেই মতের প্রতি সম্মান রেখেই আমার এ বক্তব্য।   ক্যাপ্টেন(অবঃ)মারুফ রাজু , সাবেক সেনা কর্মকর্তা,রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক। সম্পাদকঃ দৈনিক প্রথম বাংলাদেশ ডট নেট। এখানে প্রকাশিত সব মতামত লেখকের ব্যক্তিগত,সিলেটের আলাপ ডটকম’র সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নয়।

বিস্তারিত»

মতামত

ব্লগার হত্যা মিশন ও আমাদের বিচারহীনতার সংস্কৃতি

ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান কথার জবাব কথায় নয়, লেখার জবাব লেখায় নয়। আজকাল প্রতিপক্ষকে দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে ধারালো অস্ত্র, একের পর এক নৃশংসভাবে খুন করা হচ্ছে লেখক-বুদ্ধিজীবীদের। আর এসব খুনের ঘটনা আড়াল করতে খুনীরা কথিত উগ্র জঙ্গী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে থাকছে ধরা-ছুঁয়ার বাইরে।আর খুনীদের এই ফাঁদে পড়েছি আমরা ও আমাদের রাষ্ট্রপ্রশাসন। অবশ্য এই সংস্কৃতি আমাদের সমাজে বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই শুরু হয়েছে। সম্প্রতি পরপর বেশ কয়েকটি একই ধরনের খুনের ঘটনা আমাদের সমাজকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আজ মুক্ত চিন্তার লেখক-বুদ্ধির ধারাবাহিক হত্যা আমাদের রাষ্ট্রের চরিত্র নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। এটা আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক বিরাট অশনিসংকেত। এসব হত্যাকাণ্ডই প্রমাণ করে যে আমাদের রাষ্ট্র কাঠামো আজ কতটা দুর্বল ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। আমরা ক্রমেই কতটা অসভ্য হয়ে উঠছি! রাজনীতিতে ক্ষমতায় যাওয়া আর টিকে থাকার দ্বন্দ্ব, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে মূল্যবোধের অবক্ষয়, অগণতান্ত্রিক চর্চা, সমাজে আইনের সঠিকভাবে প্রয়োগ না হওয়া, ইন্টারনেটের অপব্যবহার, ভিন্ন কায়দায় প্রতিপক্ষ তথা ভিন্নমতের লোকদের অবদমিত করার প্রয়াস যখন আমরা প্রায়ই দেখছি, ঠিক তখনই একের পর এক খুনের মহোৎসব চলছে খুনীদের। সর্বশেষ গত সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বেগুনবাড়িতে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে ব্লগার ওয়াসিকুর রহমান বাবুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আর সমাজের আমরা সবাই যখন ভীতসন্তস্ত তখন ঘটনাস্থল থেকে দুই খুনীকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে হিজরা সম্প্রদায়ের লোকজন। পুলিশ তাদের ৮দিনের রিমাণ্ডেও নিয়েছে। ওই দুই খুনি কথিত ধর্মীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের স্লিপার টিমে সদস্য বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। তারা সংগঠনের অন্য সদস্যদের চেনে না। তাদের ভাষায় ‘ব্লগ কী বুঝি না, আর তার লেখাও আমরা দেখিনি। হুজুরের পরামর্শ, সে ইসলামবিরোধী। এজন্য তাকে হত্যা করা ছিল ইমানি দায়িত্ব। আর তা পালন করতে বাবুকে হত্যা করেছি।’ আজের এই হত্যাকাণ্ড দেশব্যাপী নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্নটিকে আরও বেশি করে আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? এটা কী কোনোভাবেই থামবে না? আমরা কী সবাই নীরবেই সহ্য করে যাবো এসব হত্যাকাণ্ড? না, এই একবিংশ শতাব্দীতে সভ্য সমাজে এভাবে তা চলতে পারে না, যে কোনো মূল্যে তা আমাদেরকে থামাতেই হবে- অন্যথায় নিরাপত্তাহীনতার জালে আচ্ছাদিত হবে দেশের মানুষ, আইন-শৃঙ্খলার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধার জায়গাটি ক্রমেই শিথিল হয়ে পড়বে, সমাজে এই নৈরাজ্যের থাবা আরও বিস্তার লাভ করবে। আর এতে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙ্গে পড়তে পারে।    আর এটা সহজেই বলা যায় যে- এই খুনের মহোৎসব মূলত: বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই আমাদের সমাজে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনগণের নিরাপত্তা দিতে উদাসীন। গত কয়েক বছরে ওয়াসিকুরসহ ৮ ব্লগার নৃশংস হত্যার শিকার হয়েছেন। ইতোপূর্বে ৭ ব্লগার হত্যার কোনো ক্লু বের করতে পারেনি পুলিশ। কাউকে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এরপরও কী পুলিশের এই ব্যর্থতার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্র কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে? ফলে শুধু ৮ ব্লগারই নয়, হত্যাকারীরা প্রশ্রয় পেয়ে আরো বেশি শক্তি অর্জন করছে। ২০০৪ সাল থেকে প্রকাশ্যে সাংস্কৃতিক, উদারমনা ও মুক্তচিন্তার ব্যক্তি এমন কি ইসলামী ব্যক্তিত্বদের হত্যার অভিযানে নামে খুনীরা। ওই সালে মুক্তমনা লেখক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. হুমায়ুন আজাদ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুসকেকে নৃসংশভাবে হত্যার মাধ্যমে খুনের অভিযান শুরু হয়। সর্বশেষ খুনের শিকার হন সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ব্লগার ওয়াসিকুর রহমান। এ নিয়ে গেল ১১ বছরে ৮ ব্লগারসহ আলোচিত ২২ জন খুন হয়েছেন। চিকিৎসক, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুসারে, একই কায়দায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে অথবা গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে এদের। এছাড়া হামলার শিকার হয়ে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেছেন আরো ৬ ব্লগার। ব্লগারসহ আলোচিত খুন হওয়া বাকি ২২ জনের মধ্যে বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়,  যাকে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি টিএসসির সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাও হামলার শিকার হন। গেল বছরের ১৫ নভেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও মুক্তচিন্তার শফিউল ইসলাম লিলনকে বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ২০১৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনে আমবাগান গ্রামের ফ্ল্যাটে কুপিয়ে এবং গলা কেটে হত্যা করা হয় ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও মুক্তচিন্তার সমর্থক আশরাফুল ইসলামকে।২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের ১৭৪ নম্বরে নিজ বাড়িতে গলা কেটে হত্যা করা হয় ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে। ২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর আর কে মিশন রোডের বাড়িতে কথিত ‘আধ্যাত্মিক পীর’ ইমাম মাহদীর সেনাপতি দাবিদার লুৎফর রহমান ফারুক ও তার বড় ছেলে সরোয়ার ইসলাম ফারুক, খাদেম মঞ্জুর আলম মঞ্জু, মুরিদ শাহিন, রাসেল ও মুজিবুল সরকারসহ ৬ জনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ২০১৩ সালের ৮ আগস্ট খুলনার খালিশপুরে মুসলিম উম্মাহ সংগঠনের প্রধান ও ধর্মীয় নেতা তৈয়েবুর রহমান ও তার কিশোর ছেলে নাজমুম মনিরকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কবি নজরুল ইসলাম হলে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্লগার আরিফ রায়হান দ্বীপকে। ২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মী ও ব্লগার জাফর মুন্সিকে হত্যা করা হয়।২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্লগার মামুন হোসেন,  ২ মার্চ ব্লগার জগৎ জ্যোতি তালুকদার ও ব্লগার জিয়াউদ্দিন জাকারিয়া বাবুকে হত্যা করা হয়।২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পল্লবীর কালশীর পলাশনগরে গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোক্তা ব্লগার রাজীব হায়দার শোভন খুন হন। ২০১০ সালে ঢাকার উত্তরায় মসজিদের ইমাম, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জেএমবির দলছুট সদস্য রাশিদুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আর ২০০৬ সালে খুন হন বিশ্ববিদালয়ের ভূতত্ত্ব খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এস তাহের, ২০০৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশে বিনোদপুরে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অধ্যাপক ইউনুসকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরমাণু শক্তি কমিশনের সামনে হামলার শিকার হন সাংস্কৃতিক, উদারমনা ও মুক্তচিন্তাধারী ড. হুমায়ুন আজাদ। চাপাতি ও কুড়ালের কোপে মারাত্মক আহত ড. হুমায়ুন আজাদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ আগস্ট জার্মানির মিউনিখে মারা যান। এছাড়া হামলায় গুরুতর জখম হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন ৬ ব্লগার। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি টিএসসির সামনে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয় বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়ের স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে। ২০১৩ সালে ১৩ জানুয়ারি রাজধানীর উত্তরায় ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনকে কোপানো হয়। ওই বছরের ৭ মার্চ রাতে মিরপুরের পূরবী সিনেমা হলের কাছে কুপিয়ে জখম করা হয় ব্লগার সানিউর রহমানকে। ২০১৩ সালের জুনে এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় কোপানো হয় গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও ব্লগার রাকিব আল মামুনকে। ২০১৩ সালের ১১ আগস্ট বুয়েটের আরেক ছাত্র তন্ময় আহমেদকে কুপিয়ে জখম করা হয়। গত ১১ বছরে ২২জন বুদ্ধিজীবী লেখক ভিন্ন সময়ে ভিন্ন স্থানে খুনের শিকার হলেও সব ঘটনার মোটিভ একই দাবি করে এসব ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ প্রতিটি ঘটনাতেই ধর্মান্ধ উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর জড়িত থাকার গন্ধ খোজেঁ পেয়েছে। কিন্তু কোনো একটি ঘটনার আসল খুনীদের চিহ্নিত কিংবা বিচারের আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ । ফলে মুক্তচিন্তার ব্যক্তিদের হত্যার ধারাবাহিক মিশনের অংশ হিসেবে শিক্ষক, লেখক ও ব্লগারদের একে একে হত্যা করা হচ্ছে।  আসলে নিহত ব্লগার ওয়াসিকুর রহমান কী লিখতেন? যতদূর জানা যায় তাতে- বিভিন্ন নামে একাধিক ব্লগ সাইটে এবং তার ফেসবুক প্রোফাইলে সমকালীন নানা বিষয়ে তার মতামত লিখতেন। ফেসবুক ও অন্যান্য কিছু বাংলা ব্লগ সাইটে দেখা গেছে, ওয়াসিকুর রহমানের লেখালিখির অন্যতম একটি বিষয় ছিল ইসলামসহ নানা ধর্মের সমালোচনামূলক প্রসঙ্গ, এবং তার বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অন্য আরো অনেকের মধ্যে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হতো।   ফেসবুকে ওয়াসিকুর রহমানের প্রোফাইলে নাম ছিল ‘ওয়াসিকুর বাবু’ । এ ছাড়া কয়েকটি ব্লগ সাইটে তিনি ‘কুচ্ছিত হাঁসের ছানা’, ‘গন্ডমুর্খ’, ‘বোকা মানব’ ইত্যাদি একাধিক নামে লিখতেন। মুক্তচিন্তা, সাম্প্রদায়িকতা, বিজ্ঞান, ধর্মীয় কুসংস্কার বা গোঁড়ামি- ইত্যাদি নানা বিষয়ে প্রায়ই লেখালিখি এবং তীক্ষ্ন মন্তব্য করতেন ওয়াসিকুর রহমান। এর আগে যে দু’জন ব্লগার ধর্মীয় বিষয় নিয়ে লেখালিখির কারণে ধারালো অস্ত্রধারীদের আক্রমণে নিহত হন-সেই রাজীব হায়দার বা ‘থাবা বাবা’ এবং গতমাসে নিহত ব্লগার-লেখক অভিজিৎ রায়-এই দু’জনের মৃত্যুর পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে একাধিকবার মন্তব্য করেন ওয়াসিকুর। তার সেই মন্তব্যগুলোর জবাবে আবার ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়াও আসে ফেসবুকে অন্য কিছু ব্যবহারকারীর দিক থেকে। ফেসবুকে ওয়াসিকুরের সর্বশেষ প্রোফাইল ছবিটিই ছিল ‘আই এ্যাম অভিজিৎ’ লেখা একটি পোস্টার। তাতে ইংরেজিতে আরো লেখা আছে ‘শব্দের মৃত্যু নেই’। তিনি ‘এথিস্ট (নাস্তিক) বাংলাদেশ’ এবং ‘বাংলার শার্লি’ (ফরাসী ম্যাগাজিন শার্লি এবদু) সহ বেশ কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপের সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া ‘লজিক্যাল ফোরাম’ নামের একটি অনলাইন ডিসকাশন ফোরামেরও সদস্য ছিলেন ওয়াশিকুর। (তথ্য সূত্র- বিবিসি বাংলা, ৩০ মার্চ,২০১৫)   আমাদের সবচেয়ে বেশী উদ্বেগের কারণ যে, অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডটি ছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বইমেলার অদূরে টিএসসির কাছেই ফুটপাতে চা স্টলে জনারণ্যের মুখে। কয়েক গজ দূরের ছিল নিরাপত্তাদানে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা। স্বামীর রক্তভেজা গায়ে দাঁড়িয়ে সাহায্যের জন্য আকুতি জানিয়েছিল বন্যা। কিন্তু তার ডাকে খুনীদের রুখতে না মানুষ না পুলিশ কেউ এগিয়ে যায়নি। এইবার বেগুনবাড়িতে ব্লগার বাবুকে কুপিয়ে হত্যা করার সময় শুধু এক মহিলা চিৎকার করে উঠেছিলেন। হত্যাকারীরা তখন পালাচ্ছিল। সেখানকার দোকানপাট ও রাস্তার শত শত কোনো প্রতিবাদ করেনি, এগিয়ে যায়নি বাবুকে বাঁচাতে, বরং ভয়ে তারা নিজেদের রক্ষায় সেখান থেকে দৌড়ে পালাচ্ছিল। কিন্তু পথচারী তিন হিজড়া দুই ঘাতককে জাপটে ধরে। পরে জনতা তাদের পুলিশে সোপর্দ করে।এই আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা!   অন্যদেক নিরীহ মানুষকে হয়রানি, সরকারবিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের অমানবিক নির্যাতনে পুলিশ সর্বদা দক্ষতার পরিচয় দিলেও জনগণের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়ে আজ তাদের ভূমিকা খুবই প্রশ্নবিদ্ধ।   তাই খুনীদের খুনি আর জঙ্গিদের জঙ্গী হিসেবেই চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এই অশুভ শক্তির কর্মকাণ্ডকে সমাজের মূল স্রোতধারার সাথে মিশিয়ে তালগোল পাকানো যাবে না। কেননা, ইসলামে কখনো উগ্ন ও জঙ্গীবাদের স্থান নেই। আমাদের ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতি এক। তাই জঙ্গীদের খুন ও অন্যান্য অপকর্মকে ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের উপর চাপিয়ে সাম্প্রদায়িক ও অসাম্প্রদায়িক শক্তি বলে সমাজে বিভেদ সৃষ্টি না করে বরং জাতিকে এসব অশুভ কর্মকান্ড ও শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সেই সাথে আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতাকে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকার’ অপচেষ্টাকেও নতুন করে ভাবতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় নেতৃবৃন্দকে হানাহানি বন্ধ করে ঐক্যের মোহনায় দাঁড়িয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সংবিধান ও আইনের বিধি বিধান বলে রাষ্ট্র পরিচালনার পথে হাঁটতে হবে। ব্লগার রাজিব-অভিজিতের পথ ধরে ওয়াসিকুর চলে গেছেন। আমরা তাদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। ততাই সমাজের প্রতিটি সদস্যকেই রুখে দাঁড়াতে হবে সন্ত্রাস, অগণতান্ত্রিক চর্চা ও দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে।প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তবেই আশা করা যায় একদিন আমাদের সমাজ এই হত্যার সংস্কৃতি থেকে বের আসবে। সবশেষে, রাজিব-অভিজিত ও ওয়াসিকুরের মতো আর যাতে কাউকে এভাবে খুনীদের হাতে অকালে জীবন দিতে না হয় সেজন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি এবং নিহত ওয়াসিকু্রের শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। লেখক: শিক্ষা ও সমাজ বিষয়ক গবেষক।ই-মেইল: sarderanis@gmail.com

বিস্তারিত»

বিনোদন

পরীক্ষার কারণে পেছাল পড়শীর শুটিং

বিনোদন:বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী পড়শী। এ পর্যন্ত উপহার দিয়েছেন অনেক জনপ্রিয় গান। তবে গানের পাশাপাশি ‘মেন্টাল’ নামে একটি ছবিতে অভিনয় করতে যাচ্ছেন তিনি।  তবে ছবির শুটিং শুরু হলেও এখনও পড়শী তার অংশের শুটিংয়ে অংশ নেননি। চলতি মাসের শেষের দিকে তার শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার এইচএসসি প্রথম বর্ষের পরীক্ষার জন্য আবারও পিছিয়েছে শুটিংয়ের তারিখ। এ কারণে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে শুটিংয়ে অংশ নেবেন বলে বাংলামেইলকে জানান পড়শী। তিনি বলেন, আসলে আমার পরীক্ষার জন্য আবার শুটিং পেছাতে হল। আরও একটি ব্যাপার হল ছবিটি রোজার ঈদে প্রকাশিত হবে। তাই তাড়াহুড়ো করছি না তেমন। যেহেতু এটা আমার প্রথম কাজ তাই একটু ভালোভাবে নিজেকে গুছিয়ে নিয়েই শুটিংয়ে নামবো। আর এপ্রিলের মাঝামাঝিতে আমার পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলে শুটিংয়ে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারবো।’ উল্লেখ্য, এই ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি গানও করেছেন পড়শী। আর এই ছবির একটি গানের মাধ্যমেই বলিউডের জনপ্রিয় গায়ক শানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো দ্বৈত গান করেছেন তিনি।

বিস্তারিত»

স্বাস্থ্য ও রুপচর্চা

গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে যা যা খাবেন

 চৈত্রের গরমে অস্থিরতা শুরু হয়ে গিয়েছে। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপে মানুষের শক্তির অপচয় হয় অনেক। এ সময় প্রচুর ঘামের কারণে একটু ক্লান্তি, একটু অলসতা মানুষকে কাবু করে দেয়। এ সময় শরীর ঠান্ডা রাখতে নিচের খাবারগুলো খান প্রতিনিয়ত।   * পানি ও পানীয় : প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই লিটার পানি পান করুন। পানি শরীরের অভ্যন্তরকে পরিশোধিত করে। এ ছাড়া পিপাসা নিবারণ করে দেহ-মন স্নিগ্ধ, সতেজ ও পুষ্ট রাখে। কাগজি লেবু, আম, তেঁতুল, দুধ, বেল, ইসবগুল প্রভৃতি দিয়ে শরবত করে খাওয়া যেতে পারে। ইসবগুলের ভুসির শরবত খুবই শীতল। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য, অন্ত্র ও পাকস্থলীর প্রদাহ, রক্ত আমাশয় ইত্যাদিতে কার্যকর।   * সালাদ : গরমের সময় সালাদ একটি উপাদেয় খাবার। দই, শসা, টমেটো, গাজর, কাঁচা পেঁপে, কাঁচা মরিচ, ধনেপাতা, পুদিনাপাতা, পেঁয়াজ ইত্যাদি দিয়ে সালাদ করা যায়। অনেক সময় এর সঙ্গে পাকা পেয়ারা ও আপেল দিয়েও সালাদ করা যায়। সালাদ তৈরি করে ফ্রিজে কিছুক্ষণ রেখে পরে খাওয়া যেতে পারে। এর সঙ্গে টকদই বা কাগজি লেবুও দেওয়া যেতে পারে। লেবুতে থাকে প্রচুর ভিটামিন সি ও পটাশিয়াম, যা দেহকে ঠান্ডা রাখে এবং ত্বক মৃসণ রাখে।   * সবজি : গ্রীষ্মকালের সবজি মোটামুটি সবগুলোই ভালো। যেমন: পেঁপে, কচু, বরবটি, চালকুমড়া, শসা ইত্যাদি। নিরামিষ রান্নায় যাতে চার-পাঁচটি সবজি থাকে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। এ ছাড়া হালকা মসলা ও স্বল্প তেল সহযোগে শুক্তো রান্না অত্যধিক গরমে বেশ উপাদেয়, তেমনি পেটের গোলযোগের আশঙ্কাও এতে থাকে না।   * ফল : গ্রীষ্মকালে আমাদের দেশে প্রচুর ফল পাওয়া যায়। যেমন: আম, কাঁঠাল, জাম, পেয়ারা, লিচু, তরমুজ, ফুটি, বাঙি ইত্যাদি। প্রতিদিনই কিছু না কিছু ফল খেলে ভিটামিন ও লৌহের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। পেয়ারা, কলা, পাকা পেঁপে ও আনারস ত্বককে সুন্দর ও মসৃণ রাখে। এ ছাড়া রক্তে ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে আনারসে উপকার পাওয়া যায়। তরমুজ ও ফুটি বেশ ঠান্ডা। রক্তশূন্যতায় উপকারী। এ সময় পাকা বেলের শরবত বেশ উপকারী। এতে যেমন পেটের সমস্যা দূর হয়, তেমনি শরীর ঠান্ডা রাখে এবং পটাশিয়ামের ঘাটতি মেটায়।   গরমে যা খাওয়া উচিত নয়: * এনার্জি ড্রিংকস আর্টিফিসিয়ালি তৈরি করা হয় যা শরীরের জন্য দীর্ঘ মেয়াদী সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। অন্য পানীয় পানে বিশেষ কোনো উপকার নেই। বিশেষ করে অ্যালকোহলযুক্ত বেভারেজ পান করলে শরীরে আরো বেশি পানি স্বল্পতার সৃষ্টি হয়। * গরমের দিনে চর্বিযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো। চর্বি জাতীয় খাবার শরীর আরো উত্তাপ লাভ করবে, ঘাম ও অস্বস্তি দুই-ই বাড়বে। চর্বির সঙ্গে অতিমাত্রায় চিনিযুক্ত খাবারও এড়িয়ে চলা স্বস্তিদায়ক।

বিস্তারিত»

সম্পাদকীয়

তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন : অনিশ্চয়তার দোলাচলে বিএনপি

মোবায়েদুর রহমান সম্মানিত পাঠক-পাঠিকা ভাইবোনরাই আমাদের বিশেষ করে লেখক-কলামিস্ট ভাইবোনদের বাঁচিয়ে রেখেছেন। তারা আমাদের লেখা পড়েন বলেই আমরা লেখার অনুপ্রেরণা পাই। তাই তারা আমাদের লেখা সম্পর্কে যখন মন্তব্য করেন তখন অন্যদের কথা জানি না, তবে আমি সে সব মন্তব্যকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেই এবং আমার লেখার স্ট্রং এবং উইক পয়েন্টগুলো নতুন করে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। পাঠক ভাইদের মন্তব্য আমি নানাভাবে পাই। লেখার নিচে তো কমেন্ট থাকেই। এছাড়াও অনেকে ই-মেইল এবং টেলিফোনেও মন্তব্য করেন। এমনি কয়েকজন পাঠক গত ২৭ মার্চ শুক্রবার থেকে আমাকে প্রশ্ন করছেন, বিএনপির ফাইনাল ডিসিশন কি? বিএনপি কি সিটি করপোরেশনসমূহের নির্বাচনে যাবে? গেলে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কিছু বলছে না কেন? শনিবার ২৮ মার্চ, অনেকে বললেন, আগামীকাল অর্থাৎ ২৯ মার্চ রোববার, নমিনেশন পেপার সাবমিট করার শেষ দিন। এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানা গেল না। লেখাটি শুরু করেছি ২৯ মার্চ সকাল ১০টায়। এ মুহূর্তেও কোনো খবর নেই। তবুও আমি বিকাল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করব। তখন বোঝা যাবে বিএনপির ফাইনাল ডিসিশন কি। এদিকে রোববার ‘প্রথম আলোর’ প্রধান সংবাদ অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। শিরোনাম ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচন/ক্ষমতা থাকলেও কিছুই করছে না কমিশন।’ খবরটির শুরুই হয়েছে এভাবে, ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) সব প্রার্থীর জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে না। সরকার সমর্থিত প্রার্থীরা যেভাবে এ সুযোগ পাবেন, বিরোধী জোটের প্রার্থীরা সেভাবে পাচ্ছেন না। নির্বাচন কমিশনের কর্মকা-ে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ এ মন্তব্য করেছেন। পত্রিকাটির রিপোর্টে আরও বলা হয়Ñ ‘একজন সাবেক নির্বাচন কমিশনার এবং একজন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ বলেন, আইন নির্বাচন কমিশনকে অনেক ক্ষমতা দিয়েছে। কিন্তু তফসিল ঘোষণার ১২ দিনেও সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরিতে কমিশনকে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এমনকি বিরোধী পক্ষকে এ ব্যাপারে মৌখিকভাবেও আস্বস্ত করা হয়নি। আন্দোলনরত জোটের অসংখ্য নেতা-কর্মী মামলা ও গ্রেফতার আতঙ্কের কারণে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। অনেকে কারাবন্দি। তারা নির্বাচনে প্রার্থী হলে কিংবা প্রার্থীদের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে চাইলে কমিশন তাদের জন্য সেই সুযোগ তৈরি করে দেবে কিনা, সে ব্যাপারে কিছুই বলছে না।’ পত্রিকাটির রিপোর্টে আরো বলা হয়, ‘ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন, প্রার্থীদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে মামলা থাকলে তিনি প্রকাশ্যে আসা মাত্র তাকে গ্রেফতার করা হবে। তবে কেউ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলে গ্রেফতার করা হবে না। এ বক্তব্যে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ চাইছেন। কিন্তু কমিশন তাদের হতাশ করেছে। জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য যা যা করণীয় তার সবই করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছে সংবিধান। সেই দিক থেকে বিরোধী জোটের নেতাদের যাতে হয়রানি করা না হয় সে বিষয়ে ইসি ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু তারা সেই ভূমিকা রাখছে না। একই সঙ্গে নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য সরকারকেও আন্তরিক হতে হবে।’ রিপোর্টে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০ দলীয় জোটের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা বরং কমিশনকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে। কমিশন ধরেই নিয়েছিল যে, বিরোধী জোট নির্বাচনে আসবে না। কমিশন কর্মকর্তাদের কারো কারো মতে, সরকার পক্ষের মামলা-হামলায় বর্তমানে বিএনপি-জামায়াত জোট বিধ্বস্ত অবস্থায় আছে। এই কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, স্বল্পসময়ের মধ্যে বিরোধী পক্ষ মাঠ গোছানোর সুযোগ পাবে না, তাই তারা নির্বাচনেও আসবে না। তফসিল অনুযায়ী, ২৯ মার্চ মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। নমিনেশন পেপার প্রত্যাহারের শেষ দিন আগামী ৯ এপ্রিল। ভোট গ্রহণ আগামী ২৮ এপ্রিল। ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়রপদে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। মিন্টুর নামে মামলা থাকায় তিনি প্রকাশ্যে আসছেন না। ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী মীর্জা আব্বাস, অর্থ সম্পাদক আব্দুস সালাম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন ও মহানগর নেতা আবুল বাসার। মামলা থাকায় তারাও আত্মগোপনে। আরো আছেন নাসির উদ্দিন আহমদ পিন্টু এবং শিক্ষক নেতা সেলিম ভূঁইয়া। তারা এখন কারাবন্দি। মেয়র ও কাউন্সিলর পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই জেলে আটক রয়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে মামলা ও হামলা নেই তারাও মামলা ও হামলার ভয়ে গা ঢাকা দিয়ে আছেন। এসব নেতাকর্মী যাতে হয়রানির শিকার না হন সে জন্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিনের নেতৃত্বে বিএনপিপন্থী শত নাগরিক কমিটির একটি প্রতিনিধি দল গত বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দীন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেন। রিপোর্টে প্রকাশ, বৈঠকের পূর্বে কমিশন ধরেই নিয়েছিল যে তারা অর্থাৎ প্রতিনিধি দলটি কমিশনের কাছে শুধু ভোট গ্রহণের তারিখ পিছিয়ে দেয়ার দাবি জানাবে। সেই দাবি তারা নাকচ করবে। কিন্তু কমিশন অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করে যে, এমাজউদ্দিনের প্রতিনিধি দল ভোটগ্রহণের তারিখের বদলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার তারিখ ২/৩ দিন পিছিয়ে দেয়ার দাবি জানায়। এছাড়া তারা বিএনপি নেতাদের মধ্যে নির্বাচনে কেউ অংশ নিতে চাইলে তাকে জামিনে মুক্তি দেয়া, যারা আত্মগোপনে আছেন তারা যাতে প্রকাশ্যে এসে নির্বাচনী কর্মকা-ে অংশ নিতে পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইসির কাছে দাবি জানায়। কিন্তু সিইসি ঐ প্রতিনিধি দলকে চরমভাবে হতাশ করেছে। ইসির অন্য কোনো সদস্যের সাথে পরামর্শ না করে ওই দিনই সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার দিন বাড়ানো যাবে না। যারা পালিয়ে আছেন তাদের ব্যাপারে কমিশন কি ব্যবস্থা নেবে জানতে চাইলে কাজী রকিব উদ্দীন বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারি না। কেউ পালিয়ে থাকলে কমিশন কিভাবে তাকে খুঁজে বের করবে? কমিশনার আব্দুল মোবারক বলেন, কারও বিরুদ্ধে মামলা থাকলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করবে। কারাগারের কেউ প্রার্থী হলে তাকে জামিন দেয়ার এখতিয়ার আদালতের। এসব ক্ষেত্রে কমিশনের কিছুই করার নেই। রাজনৈতিক  কর্মীদের হয়রানি, প্রভৃতি বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। সংবিধানই তাকে এ ক্ষমতা দিয়েছে। রিপোর্টে এ ব্যাপারে হাইকোর্টের একটি রায়ের উল্লেখ আছে। মামলা নং ডিএলআর-৪৫, ১৯৯৩। ঐ রায়ে মহামান্য হাইকোর্ট বলেন, নির্বাচন কমিশনের অগাধ ক্ষমতা রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে বিধি-বিধানের সঙ্গে নতুন বিধিও সংযোজন করতে পারেন। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেন, মনোনয়নপত্র জমাদানের তারিখ পেছানোর দাবিটি কমিশন মেনে নিতে পারত। পুলিশ যেসব বক্তব্য দিচ্ছে সে সব বক্তব্য নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। এ ব্যাপারে কমিশন বিশেষ ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারত। সিইসি বিএনপি প্রতিনিধি দলের সাথে একা বসেছিলেন কেন? অন্যান্য সদস্য নিয়ে বসলে কি অসুবিধা হতো? দুই কারাবন্দি নাগরিক ঐক্যের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না, মনে হয়, ঢাকা সিটি উত্তরের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। এ ব্যাপারে রোববার ২৯ মার্চ দুপুর ১টায় ‘আমাদের সময় ডট কম’ এবং বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনলাইন ভার্সনের দুটি সংবাদ দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আমাদের সময় ডট কমের খবরে বলা হয়, “নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাগরিক ঐক্যের একাধিক নেতা’ আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, মান্নার স্বাক্ষর সংগ্রহের জন্য কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে জানতে সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি। নাগরিক ঐক্যের একাধিক সূত্র জানায়, নির্বাচনে অংশ নিতে মান্না খুবই আগ্রহী। সূত্রের অভিযোগ, মান্নার জয় নিশ্চিত জেনেই সরকার পরিকল্পিতভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে দিচ্ছে না। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনলাইন ভার্সনের খবর অত্যন্ত স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন। ওই খবরে বলা হয়, ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার অভিযোগে দলীয়ভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কমিটির এক সদস্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নাগরিক ঐক্যের ব্যানারে ডিসিসি উত্তরে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র তোলা হয়। তবে মান্নার শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় এবং নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকায় মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হচ্ছে না। দলীয়ভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিন রোববার ২৯ মার্চ। এখন দুপুর ২টা। একমাত্র চট্টগ্রামে বিএনপি সমর্থিত হয়ে মঞ্জুর হোসেন নমিনেশন পেপার দাখিল করেছেন। ঢাকার কোনো খবর অনলাইনে দেখিনি। কিন্তু ঘণ্টাদুয়েকের মধ্যে আমার এ লেখা জমা দিতে হবে। তাই শেষ খবর নিয়ে কিছু লিখতে পারছি না। তবে আমার মনে হচ্ছে যে, বিএনপি মনোনয়নপত্র ঠিকই জমা দেবে। তারপর তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। নমিনেশন পেপার প্রত্যাহার করার শেষ দিন পর্যন্ত তারা দেখবে যে, সরকার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য কি কি পদক্ষেপ নেয়। পরিবেশ সৃষ্টি  বলতে যে সব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে, সেগুলো হলো: (১) বেগম জিয়ার গুলশান অফিস অবরোধ মুক্ত করে নেতাকর্মীদের সেখানে যাতায়াতের স্বাভাবিক অবস্থা সৃষ্টি করা। (২) বিরোধী দলের কারাবন্দি সবপর্যায়ের নেতাকর্মীকে মুক্তি দেয়া এবং প্রার্থী কিংবা অন্য কেউ অর্থাৎ বিরোধী দলের যারাই অভিযুক্ত, আদালতে গেলে তাদের জামিনে বাধা সৃষ্টি না করা। (৩) কোনো অভিযানের নামে বিরোধী দলের নেতাদের বাড়িতে তল্লাশি ও গ্রেফতার বন্ধ করা। (৪) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মহানগর অফিসসহ বিরোধী দলের সব রাজনৈতিক অফিস খুলে দেয়া। (৫) মেয়র ও কাউন্সিলরসহ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জড়িত নেতাকর্মী সমর্থক ও নির্বাচনী এজেন্টদের নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার আগে গ্রেফতার না করা। (৬) শান্তি ও স্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টি করতে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একটি জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা এবং (৭) গ্রেফতারকৃত জনপ্রতিনিধিদের মুক্তি দেয়া এবং বরখাস্তকৃতদের পুনর্বহাল করে জনরায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। আমার মনে হয়, বিএনপি এই মুহূর্ত পর্যন্ত নির্বাচন করতে চায়। তবে পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে নয়। তারা মনোনয়নপত্র দাখিল করবে। সেই সাথে একটি  ‘এক্সিট রুট’ও রাখতে চায়।

বিস্তারিত»

বিজ্ঞপ্তি

ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা

আনুগত্যের উজ্জ্বল মহিমায় ভাস্বর ঈদ উল আজহা।ঈদুল আজহার উদ্দেশ্য স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকা।কুরবানীর সঠিক তাৎপর্যকে উপলব্ধি করে যদি ধর্মপ্রাণ মানুষ কুরবানী দেয়, তাহলে ঈদ-উল-আজহার প্রকৃত উদ্দেশ্য সার্থক হবে। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে গাঢ় হয় পরস্পরের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা, ভালবাসা এবং শ্রদ্ধাবোধ। আল্লাহ্‌তায়ালা ধনী-গরীব সবার মাঝেই ঈদের আনন্দ সমান-ভাবে বন্টনের যে শিক্ষা দিয়েছেন তা সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমে এর তাৎপর্যকে তুলে ধরতে হবে। এই পবিত্র দিনে সিলেটের আলাপ ডট কমের সুপ্রিয় পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের  প্রতি আহবান, ত্যাগের মহিমায় উজ্জল ঈদুল আজহার দিনে আনন্দ উৎসবে ভরে উঠুক সকলের মনপ্রাণ। সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে, গরীব দুঃখীদের পাশে দাঁড়াই।। পবিত্র ঈদ-উল-আযহা  সবার জন্য বয়ে আনুক অনাবিল সুখ ও প্রশান্তি।                                                    সিলেটের আলাপ ডটকমের পক্ষে  সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ডাঃ আব্দুল আজিজ  সম্পাদক তোফায়েল আহমদ খান সায়েক  

বিস্তারিত»

শোক-সংবাদ

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সিরাজুল ইসলাম আর নেই দাফন সম্পন্ন বিভিন্ন মহলের শোক

সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক, মরহুম মুহিউদ্দীন মোহাম্মদ মাসুম, মরহুমা জুবায়দা খাতুন ও মরহুম আব্দুল আজিজ কল্যাণ ট্রাস্ট এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, নগরীর মির্জাজাঙ্গালন নিবাসী আলহাজ্ব ডাঃ সিরাজুল ইসলাম গতকাল ৩১ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ৮টায় নগরীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ...... রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার জানাজার নামাজ বাদ আছর হযরত শাহজালাল (রহ:) দরগাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। পরে দরগাহ গোরস্থানে মরহুমের দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজার নামাজে সর্বস্তরের চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, আলেম-উলামা সহ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।   সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আলহাজ্ব ডাঃ সিরাজুল ইসলাম মৃত্যুতে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শফি আহমদ চৌধুরী, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোঃ ইমাদ উদ্দিন নাসিরী, বরায়া বাটুলগঞ্জ আরাবিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মোঃ লুৎফুর রহমান ও বোর্ডিং সুপার হাফিজ মাওলানা শরীফ আহমদ শাহান, দক্ষিণ সুরমা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শফিক আহমদ শফি, বরায়া বাটুলগঞ্জ মাদরাসার আল ফালাহ ছাত্র সংসদের সভাপতি হাফিজ মাওলানা ইরশাদ আলী, সাধারণ সম্পাদক হাফিজ মিসবাহ উদ্দিন গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শোক বার্তায় নেতৃবৃন্দ মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। বিজ্ঞপ্তি  

বিস্তারিত»

সাম্প্রতিক খবর সর্বাধিক পঠিত

জরিপ

Loading...

Archive