সর্বশ্রেষ্ঠ বেয়াদব’ টক অব দ্য আওয়ামী লীগ

বিশেষ সংবাদদাতা : সাবেক প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান ও জোহরা তাজউদ্দিনের মৃত্যুর পর বয়সের কারণেই আওয়ামী লীগের অভিভাবক তুল্য নেত্রী হচ্ছেন বেগম সাজেদা চৌধুরী। দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব দেয়া এবং বয়সের কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাকে শ্রদ্ধা করেন। প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে যেতে বিমানে ওঠার সময় সবার সালাম গ্রহণ করলেও প্রবীণ নেত্রী সাজেদা চৌধুরীর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে যান, কুশল বিনিময় করেন। দলের সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই প্রবীণ নেত্রীর একটি বক্তব্য গতকাল ছিল টক অব দ্য আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অন্যান্য দল, সুশীল সমাজ, বিশিষ্টজন এবং সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ছিল একই কথা। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদকে স্মরণকালের ‘সর্বশ্রেষ্ঠ বেয়াদব’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমি এই  বেয়াদবি আর সহ্য করবো না। সাজেদা চৌধুরীর এই বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের ‘ব্রেকলেস’ নেতাদের  বোধোদয় হবে এমন প্রত্যাশা করছে মানুষ। কারণ প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে গত কয়েকমাসে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার শালীনতা বিবর্জিত বক্তব্য গোটা রাজনৈতিক পরিবেশকে দূষিত করছে। তারা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এমন সব অশ্লীল অশোভন কথাবার্তা নিত্যদিন বলছেন যেন সভ্যতা ভব্যতা হারিয়েছেন। তারা যেন মুখের ব্রেক ফেল করে লাগামছাড়া হয়েছেন। বিশেষ করে হাছান মাহমুদ, মাহবুবুল আলম হানিফসহ কয়েকজন নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমান এবং অন্যান্য নেতাদের নামে এমন খিস্তিখেউর করেন যা কোনো রুচিশীল শিক্ষিত ভদ্র পরিবারের সন্তানের ভাষা হতে পারে না। দলের নেত্রীকে খুশি করতে তারা লাগামছাড়া কথাবার্তা বলে থাকেন। আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ফুঁইফোড় কিছু সংগঠনের সভা-সমাবেশে প্রতিদিন তারা এমন কিছু অশ্রাব্য শব্দের ব্যবহার করেন তা পত্রিকায় মুদ্রণের অযোগ্য। হঠাৎ করে দলের সামনের সারিতে আসা এসব নেতার কথাবার্তায় আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত নেতাকর্মীরাও বিক্ষুব্ধ। এ জন্য তারা বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন। অবশ্য দলে এদের হাইব্রিড নেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিত্যদিন আওয়ামী লীগের এসব নেতা বকাউল্লার মতো বিএনপির নেতা ও প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতাদের নামে খিস্তিখেউর করেই যাচ্ছেন। তাদের মুখ থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য নয় যেন ‘বিষ’ ছড়ানো হচ্ছে। দেশে স্যাটেলাইট চ্যানেলর সংখ্যা বেড়ে  যাওয়ায় তাদের এসব কথাবার্তা টিভির সচিত্র প্রতিবেদনে প্রচার হচ্ছে। তাদের মুখের  নোংরা ভাষার ব্যবহারের কারণে অনেক পরিবারের কর্তারা খবরের সময় টিভি বন্ধ রাখেন ছেলেমেয়েরা যাতে অশ্লীল শব্দ শুনতে না  হয়। রাজনীতিকদের কাছে মানুষ শিখতে চায়। তাদের কথাবার্তা আচরণ অনুসরণ করতে চায়। কিন্তু ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার খিস্তিখেউর, অশোভন কথাবার্তা রাজনীতির বাতাস দূষিত করছে। আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেত্রী সাজেদা চৌধুরী বিষয়টি বুঝতে  পেরেই ক্ষুব্ধ হয়ে হাসান মাহমুদকে বেয়াদব হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এ ধরনের বেয়াদবি সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন। প্রবীণ নেত্রী সাজেদা চৌধুরীর এ ধমকে অনেকেই খুশি হয়েছেন। বিশেষ করে যারা রাজনীতিতে অশ্লীল শব্দের ব্যবহার, খিস্তিখেউর, একে অন্যের বিরুদ্ধে কুৎসা, অশোভন আচরণ পছন্দ করেন না তারা আশাবাদী হয়েছেন। তাদের বিশ্বাস হয়তো সাজেদা চৌধুরীর ধমক খেয়ে হাছান মাহমুদ খিস্তিখেউর থেকে বিরত থাকবেন এবং আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ অন্যান্য দলে আরো যারা এ ধরনের অশ্লীল শব্দ ব্যবহারে অভ্যস্ত তারা সতর্ক হবেন। দলের শীর্ষ নেতানেত্রীদের বাহবা পেতে সম্মানিত নেতানেত্রীদের নামে খিস্তিখেউর করার সংস্কৃতি বন্ধ হয়ে যাবে। প্রশ্ন হলো সাজেদা চৌধুরীর এ হুঁশিয়ারির পর কী দেশের মানুষ নেতানেত্রীদের মুখ থেকে অশ্লীল ভাষার বদলে গঠনমূলক আলোচনা শ্রুতিমধুর শব্দের ব্যবহার শুনতে পাবে? বিস্তারিত»

‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’র ফলক হস্তান্তর অনুষ্ঠান পূর্ব লন্ডনের ইয়র্ক হলে শুরু

লন্ডন: বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে স্থাপিত ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’র ফলক হস্তান্তর অনুষ্ঠান পূর্ব লন্ডনের ইয়র্ক হলে শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্য বিএনপির আয়োজনে ‘বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ব নেতা জিয়াউর রহমান : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ফলক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় সেক্রেটারি অব স্টেট জেসি হোয়াইট’র কাউন্সিল মেম্বার শাহ মোজাম্মেল, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট জয়নাল আবেদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ। প্রসঙ্গত, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে ‘অনারারি জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামে সড়কটির ফলক উন্মোচন করেন শিকাগো সিটি কাউন্সিলর অ্যালডারম্যান ও ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ার এমিরেটস জো মুর। এর আগে গত ২৬ মে সিটি কাউন্সিলের ৫০ জন সদস্যের মধ্যে ৪৮ জনের উপস্থিতিতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে সড়কের নামকরণের প্রস্তাব পাস হয়।   বিস্তারিত»

হাসিনা রক্ত দেখলে আনন্দ পান: খালেদা জিয়া

ঢাকা: সরকারের কড়া সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, হাসিনাই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে করে। হাসিনা গান পাউডার দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারেনি?  লগি বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করেনি। রক্ত দেখলে হাসিনা আনন্দ পায়, খুশি হয়। তার শুধু রক্ত চাই রক্ত চাই। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মানুষ হত্যা করে আনন্দ পায়। তাই মানুষ আজ আওয়ামী লীগের হাত থেকে বাঁচতে চায়। সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ‘রামু ট্র্যাজেডির স্মরণে’ বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফান্ড, চট্টগ্রাম জেলা শাখা আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। দেশে কোন সরকার নেই উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, তারা গণতন্ত্র নয় একদলীয় বাকশালের পথে হাটছে। নিজেদের সুবিধার জন্য ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে বিভিন্ন আইন করছে। সম্প্রচার নীতিমালার মাধ্যমে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। টকশোতেও কথা বলা যাবেনা। তারা নিজেদের সমালোচনা পছন্দ করেনা। অথচ নিজেরা সব সময় অন্যদেও গালিগালাজ করে। পরীক্ষার ফলাফলের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না। আজ মেধাবী ছেলেমেয়েরাও সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছে না। পাসের হার বাড়িয়ে দিয়ে সরকার দেশকে ধ্বংস করছে। তিনি বলেন, এখন পাসের হার বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করছে না। খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের মূল টার্গেট শিক্ষা। দেশের প্রতিটি ছেলেমেয়েকে শিক্ষিত করতে হবে- এটাই ছিল বিএনপি সরকারের মূল টার্গেট। শিক্ষার জন্য আমরা খাদ্য চালু করেছি। তখন দেখেছি সবাই স্কুলে যাচ্ছে। দেশে নিরাপত্তা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইয়ং ছেলেমেয়েরা এ সরকারের টার্গেট। ইয়ং ছেলেমেয়েদের সরকার গুম করে নিয়ে যাচ্ছে। দেশের কোথাও মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। মানুষ ঘরে থাকলেও গুম-খুন হচ্ছে। বাইরে গেলেও গুম-খুন হচ্ছে। কোথাও মানুষের নিরাপত্তা নেই। খালেদা জিয়া বলেন, ক্ষমতায় এসেই পিলখানায় সেনা অফিসারদের হত্যা করা হলো। কেন সেদিন সেনা পাঠানো হলোনা। কেন আর্মি গেলনা। কেন বিদ্রোহীদের সাথে মিটিং করলো।  কার নির্দেশ কার আদেশে করা হয়েছে তা তারা জানে। সেজন্য সুষ্ঠু কোন তদন্ত হয়নি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কোনো ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান নেই। তারা মুসলমানদের দেশে মুসলমানদের ওপরও অত্যাচার করেছে। শাপলা চত্বর এর অকাট্য প্রমাণ। বাতি নিভিয়ে রাতের অন্ধকারে তারা সেখানে মুসলমানদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। বহু লাশ তারা সেখান থেকে গুম করেছে। এই হচ্ছে আওয়ামী লীগ। খালেদা জিয়া বলেন, এ সরকারের আমলে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ছেই। মানুষের ২ বেলা খাবার মুশকিল হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন,  আজ সরকারি সব ব্যাংক শেষ হয়ে গেছে। সেখানে চাকররির নামে দলীয় লোকদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। তারা অযোগ্য অথর্ব। বানরের হাতে কলম দিলে যা হয় তাই হয়েছে। রামুর ঘটনায় আ’লীগের লোকজন জড়িত ছিল অভিযোগ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে কোন ধর্মের লোকই নিরাপদ নয়। তারা মুখে ধর্মনিরপেক্ষ দাবি করলেও বাস্তবে কোন ধর্মের প্রতিই তাদের শ্রদ্ধা নেই। খালেদা জিয়া বলেন, রামুর বৌদ্ধ পল্লীতে হামলার সময় তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রাম ছিলেন। কিন্তু সেদিন তিনি কোন পদক্ষেপ নেননি। এতেই প্রমাণিত হয় এ ঘটনায় সাথে আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত। তাছাড়া আওয়ামীলীগের লোকজন জড়িত থাকার কারণেই আজও রামুর ঘটনায় অপরাধীদের এখনো বিচার হয়নি। তিনি বলেন, তারা এমন অপকর্ম করে। সে অপকর্ম ঢাকার জন্য নতুন নতুন র সমস্যা তৈরী করে জনগনের দৃষ্টি ভিন্নখাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। বিএনপি নয় আওয়মাী লীগের সাথেই জঙ্গিদের সম্পর্ক  দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগের সাথেই জঙ্গিদের সম্পর্ক ও আত্মীয়তা। তাই তারা কথায় কথায় বিদেশীদেও কাছে জঙ্গিবাদের কথা বলে। তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত ফ্রি স্টাইলের দুর্নীতি চলছে। আ’লীগের লোকজন অপরাধ করলেও তাদের ধরা হয়না। ধরা হয় সাধারণ মানুষদের। খালেদা জিয়া বলেন, ক্ষমতার জন্য নয়। আল্লাহ আমাকে অনেক ক্ষমতা দিয়েছেন। আমাদের লড়াই এদেশে মানুষকে রক্ষা করার জন্য। জালেম অত্যাচারীদের হাত থেকে এই দেশকে রক্ষার জন্য আন্দোলন করা জন্য। তিনি বলেন, কুরবানীর ঈদে পথে পথে চাদাবাজীতে মানুষ অতিষ্ঠ। ছাত্রলীগ,যুবলীগসহ আ’লীগের লোকজন চাদাবাজী করছে। চট্টগ্রাম জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের  আহ্বায়ক  সুশীল বড়ুয়ার সভাপতিত্বে  সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ,  সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক দীপেন দেওয়ান, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সুকোমল বড়ুয়া, সহ শতাধিক বৌদ্ধ ভিক্ষু উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও রামুর ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শীলানন্দ মহাসেবো, আনন্দ বোধী ভিক্ষু, সুমঙ্গল ভিক্ষু, সুমন রক্ষিত ভিক্ষু, সুনন্দ প্রিয় ভিক্ষু, উদয় কুসুম বড়ুয়া,  কর্নেল (অব.) মনীষ দেওয়ান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।   বিস্তারিত»

দুর্গাপূজা উপলক্ষে খালেদা জিয়ার বাণী ধর্মীয় উৎসব মানুষে মানুষে নিবিড় বন্ধন রচনা করে

ঢাকা: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, যে কোন ধর্মীয় উৎসবই মানুষে মানুষে নিবিড় বন্ধন রচনা করে ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগরিত করে। সব ধর্মের মর্মবাণী শান্তি ও মানব কল্যাণ। হিংসা-বিদ্বেষ, রক্তারক্তি পরিহার করে সমাজে শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হওয়া মানুষ হিসেবে আমাদের সবার কর্তব্য। শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়া বলেন, যুগ যুগ ধরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপমহাদেশ এবং বাংলাদেশসহ অন্যান্য বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর হিন্দু সমপ্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। সুদীর্ঘকাল ধরে এই ধর্মীয় উৎসবটি সাড়ম্বরে পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশেও দুর্গাপূজা সবসময় উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়।  তিনি বলেন, দুর্গাপূজার অন্তর্নিহিত বাণীই হচ্ছে- হিংসা, লোভ ও ক্রোধরুপী ওসুরকে বিনাশ করে সমাজে স্বর্গীয় শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যেখানে ন্যায় ও সুবিচার নিশ্চিত হবে। সেই বাণীকে আত্মস্থ করেই দুর্গাপূজার উৎসবের আনন্দকে সকলে মিলে ভাগ করে নিতে হবে। আমরা সংখ্যাগুরু সংখ্যালঘু তত্ত্বে বিশ্বাস করি না মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশ ধর্মীয় সমপ্রীতির দেশ। যেকোন ধরণের অশুভ তৎপরতা সম্পর্কে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এ দেশের প্রতিটি মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সংখ্যাগুরু সংখ্যালঘু তত্ত্বে বিশ্বাস করি না। আমরা সবাই বাংলাদেশি- এটাই হোক আমাদের বড় পরিচয়। আমি হিন্দু ধর্মাবলম্বী সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। তাদের সুখ শান্তি ও কল্যাণ কামনা করি। বিস্তারিত»

লতিফ সিদ্দিকীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কারের দাবি

হাটহাজারী: নিউইয়র্কে প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে হেফাজতে ইসলাম  আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কারের দাবি করেছে। তা না হলে তাকে দেশের মাটিতে পা রাখতে  দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার করেছে তারা।   একই সঙ্গে তাকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানিয়েছে দলটি। সোমবার বিকালে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। নিউইয়র্কে লতিফ সিদ্দিকী এক মতবিনিময় সভায় বলেন, “আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনো কাম নাই। এদের কোনো প্রডাকশন নাই। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে।” হজ প্রচলনের ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আব্দুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ চিন্তা করল এ জাজিরাতুল আরবের লোকেরা কীভাবে চলবে। তারা তো ছিল ডাকাত। তখন একটা ব্যবস্থা করল যে আমার অনুসারীরা প্রতিবছর একবার একসঙ্গে মিলিত হবে। এর মধ্য দিয়ে একটা আয়-ইনকামের ব্যবস্থা হবে।” বিবৃতিতে বলা হয়, “পবিত্র হজ ও হাজিদের কটাক্ষ ও মহানবী (সা.)-কে বিদ্রূপাত্মক ভাষায় তাচ্ছিল্য করার স্পর্ধা দেখিয়ে মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী নিউ ইয়র্কে যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন, তা কেবল একজন উগ্র নাস্তিকের পক্ষেই সম্ভব। আমরা অবিলম্বে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”   বিবৃতিতে হেফাজতের নেতারা হুমকি দিয়ে বলেন, “যদি সরকার তার (লতিফ) বিরুদ্ধে  ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তবে দেশের লক্ষ-কোটি নবীপ্রেমিক জনতা আবারও ২০১৩ সালের মতো সারা দেশে নাস্তিক-বিরোধী আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।” লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আওয়ামী লীগ নাস্তিক-মুরতাদদের দল হিসেবে প্রমাণিত হবে বলে বিবৃতিতে মন্তব্য করা হয়। হেফাজতের নেতারা বলেন, “আমরা ক্ষুব্ধ, বিস্মিত, স্তম্ভিত এবং লজ্জিত যে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশে গিয়ে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী মহানবীর ব্যাপারে জঘন্য কটূক্তি, পবিত্র হজ ও হাজিদের ব্যাপারে চরম আপত্তিকর মন্তব্য এবং তাবলিগ জামাআতের ব্যাপারে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে সাহস পেলেন।” সরকার যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর জন্য সালমান রুশদি ও তাসলিমা নাসরিনের পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ার করে  হেফাজতের নেতারা বলেন, “বাংলাদেশের মাটিতে তাকে (লতিফ) পা রাখতে দেয়া হবে না।” লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে সারা দেশে তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে আহ্বান জানান তারা। বিবৃতিদাতারা হলেন হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, নায়েবে আমির মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, মাওলানা শামসুল আলম, মাওলানা শাহ্ আহমদুল্লাহ আশরাফ, মাওলানা আবদুল মালেক হালিম, মাওলানা তাফাজ্জল হোসাইন হবিগঞ্জ, মুফতি মোজাফফর আহমদ, মাওলানা আবদুল হামিদ পীর সাহেব মধুরপুর, মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরী। বিস্তারিত»

ছবি ঘর

  • holo gram baby
  • political picture
বিএনপির আন্দোলনের হুমকিতে মোটেও চিন্তিত নয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ

ঈদের পরের রাজনীতি নিয়ে আলোচনা সব মহলে। বিএনপি অনেক দিন থেকেই বলছে ঈদের পর তারা মনোযোগী হবে আন্দোলন ও নির্বাচনের জন্য সরকারকে বাধ্য করতে কূটনৈতিক কৌশলে। অন্যদিকে বিএনপির তৎপরতা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তারা মনে করছে, বিএনপি বর্তমান বাস্তবতায় কোনো কিছুই করতে পারবে না। তারপরও বিভিন্ন মহলে রয়েছে উৎকণ্ঠা। কী হবে ঈদের পরে। বিএনপির আন্দোলন নিয়ে চিন্তিত নয় আওয়ামী লীগ বিএনপির আন্দোলনের হুমকিতে মোটেও চিন্তিত নয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ঈদের পর বিএনপির আন্দোলনের ঘোষণাকেও আমলে নিচ্ছে না টানা দুবার ক্ষমতায় আসা দলটি। আন্দোলনের হুমকিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দূরে থাক বরং আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতারাও শঙ্কিত নন। তবে বিএনপির আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। দলের নীতিনির্ধারকরা ঈদের পর বিএনপির আন্দোলন প্রশ্নে রসিকতা করে বলছেন, ‘ওদের ঈদও শেষ হবে না, আন্দোলনও জমবে না’। আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন, বিএনপির আন্দোলনের ডাকে জনগণ সাড়া দেয় না, ভবিষ্যতেও দেবে না। আর এসব কারণেই বিএনপির আন্দোলন নয় বরং সাংগঠনিকভাবে স্থবির আওয়ামী লীগকেই ঢেলে সাজাতে নেওয়া হচ্ছে নানা পরিকল্পনা। ডিসেম্বরের মধ্যেই জেলায় জেলায় সম্মেলন শেষ করতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংগঠনকে ঢেলে সাজাতেই এসব কর্মসূচি। সূত্রমতে, আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতৃত্বে স্থবিরতা কাটাতে নতুন নেতৃত্ব আনা হচ্ছে সম্মেলনের মাধ্যমে। জেলায় জেলায় ভেঙে দেওয়া হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই তৃণমূল পর্যায়ে আনা হচ্ছে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে গতিশীল নেতৃত্ব। জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক রওনা হওয়ার আগে দলের উপদেষ্টা ও ওয়ার্কিং কমিটির যৌথসভায় শেখ হাসিনা এ নির্দেশ দেন। আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির যে কোনো আন্দোলন ও রাজপথের কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার প্রস্তুতি রাখতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনা ৩ অক্টোবর দেশে ফেরার পর বসবেন দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে। ঈদের পরই ডাকা হচ্ছে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির বিশেষ বৈঠক। এ বৈঠকেই বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচির জবাবে আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত কৌশল নির্ধারণ হবে। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামের একজন সদস্য এমনই আভাস দিয়েছেন। সূত্রমতে, বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও আন্দোলনের ঘোষণাকে গুরুত্ব না দিলেও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আওয়ামী লীগকে সব দিক থেকে প্রস্তুত রাখতে চান শেখ হাসিনা। সূত্রমতে, শেখ হাসিনা দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় দলের সাংগঠনিক দুর্বলতার বিষয়টি নিজেই পর্যালোচনা করেছেন। মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সিনিয়র নেতাদের পরামর্শও চেয়েছেন তিনি। দলের সব সাংগঠনিক সম্পাদককে সাংগঠনিক সফর বাড়ানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদের পর সাংগঠনিক সফরে যুক্ত করা হচ্ছে সিনিয়র নেতাদের। বেশ কয়েকজন প্রবীণ নেতা ও প্রভাবশালী মন্ত্রী ঈদের পর সারা দেশে সাংগঠনিক সফরে বের হবেন। এ সময় বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক তা-ব ও সন্ত্রাস তুলে ধরে গণতান্ত্রিকভাবে সব অপশক্তি মোকাবিলায় দলের তৃণমূল নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হবেও বলেও জানিয়েছে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় একটি সূত্র। সাংগঠনিক সফরকালে দলের অভিজ্ঞ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাঠপর্যায়ে দলীয় কোন্দল নিরসনের। যেসব এলাকায় মন্ত্রী-এমপি ও স্থানীয় নেতাদের দ্বন্দ্ব চরমে তার সঠিক চিত্র তুলে ধরা হবে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার কাছে। দলীয় কোন্দল মেটাতে কেন্দ্রের নির্দেশ উপেক্ষিত হলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে একটি সূত্র। ডিসেম্বরের মধ্যে দলীয় সম্মেলনে ব্যর্থ হলে পুরনো কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠনেরও পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। সূত্রমতে, নতুন বছরে তৃণমূলের নতুন নেতৃত্ব দিয়েই পথচলার পরিকল্পনা রয়েছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের। আওয়ামী লীগের সহযোগী দলগুলোতেও আসছে নতুন নেতৃত্ব। যেসব সংগঠনের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে ইতিমধ্যে, সেখানেও আসছে কাউন্সিলের চূড়ান্ত তারিখ। যুবলীগ, ছাত্রলীগ, যুব মহিলা লীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগে আগামী জানুয়ারি থেকেই পর্যায়ক্রমে কাউন্সিল ও সম্মেলনের কথা ভাবা হচ্ছে কেন্দ্র থেকে। ঈদের পর ঢাকা মহানগরী আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। দেশের ৩০০ সংসদীয় এলাকায় আওয়ামী লীগের নির্বাচিত এমপি ও দলীয় নেতাদের হাতে ইতিমধ্যে তুলে দেওয়া হয়েছে বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচন-পূর্ববর্তী সহিংসতার প্রামাণ্যচিত্র। এ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে বিএনপি-জামায়াতের বিপক্ষে জনমত গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। শীতের মৌসুমে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। উদ্দেশ্য, সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে ব্যস্ত রাখা। নানামুখী কৌশল আর সাংগঠনিক কর্মসূচির ভিতর দিয়েই আওয়ামী লীগ এগোতে চাচ্ছে আগামীর দিনগুলোয়। ঈদের পর বিএনপির আন্দোলনের ঘোষণাকে কীভাবে দেখছেন- জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী  বলেন, বিএনপির তো ঈদ শেষ হচ্ছে না। বিএনপির আন্দোলনের ডাকে আসলে জনগণের কোনো সাড়া নেই। ভবিষ্যতেও তারা জনগণের সাড়া পাবে না। কারণ আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস-তা-ব আর নৈরাজ্য কোনো দিনও জনগণ সমর্থন করে না। তিনি বলেন, ‘সরকারকে অস্থিতিশীল করতে বিএনপি কোনো কর্মসূচি দিলে আমরা গণতান্ত্রিকভাবেই তা মোকাবিলা করব।’ বিএনপির আন্দোলন সম্পর্কে দলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘আমার মনে হয় প্রচ- হতাশা থেকে কর্মীদের চাঙ্গা রাখতেই বিএনপি এ ধরনের আন্দোলনের কর্মসূচি দিচ্ছে।’ তিনি বলেন, বিএনপির দল ভেঙে যাচ্ছে, জোটও ভেঙে যাচ্ছে। আর বিএনপির ঈদও শেষ হবে না, আন্দোলনও জমবে না। বিএনপির যে কোনো ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে বলে জানান তিনি। আন্দোলন ও নির্বাচনের জন্য তৎপর হবে বিএনপি নতুন নির্বাচনের দাবিতে সংলাপ-সমঝোতার পথ খোলা রেখেই ঈদের পর ধাপে ধাপে রাজপথের চূড়ান্ত কর্মসূচির দিকে যাবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। তবে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত জনসম্পৃক্ত সভা-সমাবেশ কর্মসূচি দেওয়া হবে। এর মধ্যে সরকারের মনোভাব পরিবর্তন না হলে মধ্য নভেম্বর থেকেই চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করবে বিএনপি জোট। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথেই থাকার চিন্তা তাদের। পাশাপাশি প্রস্তুতি নেবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। এ জন্য তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নিজেই যোগাযোগ শুরু করেছেন। অনেককে ডেকে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতেও নির্দেশ দিচ্ছেন। বিএনপি আশা করছে, ঈদের পরপরই দেশি-বিদেশি চাপে সরকার সংলাপ-সমঝোতার মাধ্যমে সব দলকে নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেবে। নইলে বিএনপির আন্দোলন ছাড়া বিকল্প কোনো পথ থাকবে না বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করতে ইতিমধ্যেই বেগম খালেদা জিয়া জেলা পর্যায়ে সফর শুরু করেছেন। ঈদের পর কয়েকটি জেলা ও মহানগরে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। সর্বশেষ ঢাকায় বড় ধরনের শোডাউন করার চিন্তা বিএনপি জোটের। নতুন নির্বাচনের দাবিতে সেই জনসভা থেকেই হরতাল-অবরোধসহ চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তবে সভা-সমাবেশে বাধা এলে এর আগেও কঠোর কর্মসূচি আসতে পারে বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘ঈদের পরও বিএনপি ধৈর্যের সঙ্গে অহিংস কর্মসূচি পালন করে যাবে। কিন্তু সরকার যদি আমাদের কর্মসূচি পালন করতে না দেয় তাহলে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে যা হওয়ার তা-ই হবে। পথ বন্ধ হয়ে গেলে তো আর বসে থাকব না। চেয়ারপারসন সারা দেশে সফর শুরু করেছেন। ঈদের পরও করবেন। তৃণমূলকে চাঙ্গা করে জনগণকে নিয়েই সরকারবিরোধী আন্দোলনে যাব। তবে সরকার যদি সংলাপ-সমঝোতার মাধ্যমে একটি নতুন নির্বাচনের দিকে যায় তাহলে আন্দোলনে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।’ সূত্র জানায়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি আদায়ে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতসহ প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি দাবি আদায়ে দেশের সুশীল সমাজ, সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। বিএনপি আশা করছে, দেশি-বিদেশি চাপে সরকার নতুন নির্বাচন দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ-সমঝোতায় আসবে। যদি ক্ষমতাসীনদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না হয় তাহলে আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করবে বিএনপি জোট। সেই প্রস্তুতিও নিচ্ছে তারা। বিএনপি সূত্র জানায়, এবার আন্দোলনে ঢাকাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য দলের হেভিওয়েট নেতাদের নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়েছে। তারা কমিটি গঠনের কাজ শুরু করেছেন। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আশা করছে, আন্দোলনে যেতে ঈদের পরপরই ঢাকা মহানগরে বিএনপি সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ করবে। এদিকে ঢাকা মহানগরের পাশাপাশি ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলও দ্রুত পুনর্গঠন করা হবে। আগে সম্ভব না হলেও ঈদের পরপরই ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হবে। মধ্যমসারির নেতাদের নেতৃত্বে কমিটি ঘোষণার সিদ্ধান্তও ছিল বিএনপির। কিন্তু বিএনপি ও ছাত্রনেতাদের একটি অংশের বাধার কারণে কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি হাইকমান্ড। তবে ঈদের পরপরই যে কোনো পরিস্থিতিতেই কমিটি ঘোষণা করা হবে। এতে বেগম জিয়ার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মধ্যম সারির ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বেই কমিটি আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। তৃণমূলের তথ্য সংগ্রহ করছেন খালেদা জিয়া : তৃণমূলের সাংগঠনিক কর্মকা- গতিশীল করার পাশাপাশি আন্দোলনকে জোরদার করতে মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করছেন বেগম খালেদা জিয়া। জেলা-উপজেলা, পৌর, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির নেতাদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহে কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় দফতর শাখা কাজ শুরু করেছে। ১৫ দিনের মধ্যে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয়, নেতাদের নাম, ছবি, ঠিকানা, মোবাইল ও ই-মেইল কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গুলশানে বসেই তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে চান বেগম জিয়া। একইভাবে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও ওইসব ডাটাবেজ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। ঈদের পর রাজপথের আন্দোলনে বিএনপির শীর্ষ এই দুই নেতাই নেতা-কর্মীদের নানা দিকনির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে। স্বল্প পরিসরে কাউন্সিলের চিন্তাভাবনা : আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে ঈদের পর স্বল্প পরিসরে কাউন্সিলের চিন্তাভাবনা করছে বিএনপি। সাংগঠনিক কর্মকান্ডে গতি আনতেই বেগম জিয়া এ উদ্যোগ নিচ্ছেন। এ ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্টদের দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন। বিএনপির নির্বাহী কমিটিতে কিছু পরিবর্তনও আসবে। নিষ্ক্রিয় নেতাদের বাদ দিয়ে দলের বাইরে থাকা বিএনপির কিছু ত্যাগী নেতাকে নতুন নেতৃত্বে নিয়ে আসা হবে। এ জন্য কাউন্সিলের আগে মাসিক চাঁদা পরিশোধের জন্যও বেগম জিয়া কাউন্সিলরদের নির্দেশনা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে চাঁদা বকেয়া থাকা নেতাদের তালিকাও বিএনপিপ্রধানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঈদের আগেই সংশ্লিষ্টদের সব বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, এম কে আনোয়ার, এম শামসুল ইসলাম, মির্জা আব্বাস, সাবেক এমপি হারুনুর রশীদসহ অনেকেই চাঁদা পরিশোধ করেছেন। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চাঁদা দেওয়ার হিড়িকও পড়েছে বলে জানা গেছে। যুগ্ম-মহাসচিব মো. শাহজাহান বলেন, ‘আমরা একটি সময় পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়ে যাব। মিছিল-মিটিং, সভা-সমাবেশ ছাড়াও দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আরও কয়েকটি জেলা ও মহানগরে জনসভা করবেন। কিন্তু এটা দীর্ঘ সময়ের জন্য হবে না। সরকার যদি সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে শীঘ্রই নতুন নির্বাচনের ব্যবস্থা না করে তাহলে চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া বিকল্প কোনো পথ থাকবে না। কে ছোট কে বড় সেটা বড় কথা নয়, সব মত-পথের মানুষকে নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

বিস্তারিত»
‘আকাশে শান্তির নীড়’ স্লোগান নিয়ে চলা সংস্থাটি ডানাভাঙা বলাকায় পরিণত হয়েছে

ডেস্ক নিউজ:অব্যাহত লোকসানে ‘আকাশে শান্তির নীড়’ স্লোগান নিয়ে চলা রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বাংলাদেশ বিমান এখন ডানাভাঙা বলাকায় পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠার ৪২ বছরে প্রতিষ্ঠানটি লোকসান দিয়েছে ৩৫ বছরই। মাত্র ৭ বার লাভের মুখ দেখলেও সংশ্লিষ্টদের দুর্নীতি ও অনিয়মে এই সফলতাটুকুও ম্লান হয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচাতে কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে অভ্যন্তরীণ সব রুট। আন্তর্জাতিক ২৬টি রুটের মধ্যে কমতে কমতে এখন মাত্র ১৪টি রুটে চলছে বিমান। তাও আবার অনিয়মিত ও ফ্লাইট সিডিউল বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ ৮ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে ঢাকা-নিউইয়র্ক-ঢাকা রুট। কিছুদিন আগে হজ ফ্লাইটের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে আরো কয়েকটি রুটে বিমান চলাচল। প্রতিষ্ঠানটিকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি করে এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিমান পরিচালনায় অভিজ্ঞদের সম্পৃক্ত করেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। তাই আবারো রুট কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশেই এমনটি করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে দেয়া বিমানের তথ্য থেকে জানা যায়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের বিগত ৫ বছরের শাসনামলে বিমান লোকসান দিয়েছে এক হাজার ৮৫ কোটি টাকা। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাটিকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি করার পরও অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। কমিটিতে দেয়া বিমানের তথ্যে দেখা যায়, গত ২০১১ সাল থেকে চলতি বছরের মার্চের মধ্যে বিমান বহরে যুক্ত হয়েছে নতুন ৪টি বিমান। এ নিয়ে বলাকার বহরে মোট বিমানের সংখ্যা মোট ১০টি। এরপরও বিমানের সব সূচক পড়তির দিকে। একদিকে বাড়ছে ব্যয়, অন্যদিকে কমছে যাত্রী সংখ্যা ও আয়। আর মাত্র এ ১০টি বিমান পরিচালনার জন্য সংস্থাটির রয়েছে প্রায় এক হাজার ৪০০ লোকবল। প্রাপ্ত তথ্য থেকে আরো জানা যায়, বিমানের যাত্রী পরিবহন এবং আয় দুটোই গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক কমে গেছে। ২০১২-১৩ অর্থ বছরের জুলাই থেকে ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত সময়ের তুলনায় চলতি অর্থ বছরের একই সময়ে যাত্রী পরিবহন ১৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে এই খাতের আয় কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। বিষয়টি স্বীকার করে কমিটির সভাপতি ও সাবেক বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, মূলত ৩টি কারণে বিমান নিয়মিত লোকসান দিচ্ছে। এগুলো হলো লোকসানি রুট, লোকসানি স্থাপনা ও অফিস এবং বিমানের ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনের দুর্নীতি। আমরা বিমানকে বলেছি এগুলো কমাতে না পারলে বিমানকে কোনোভাবেই লাভজন করা সম্ভব হবে না। ওই বৈঠকে উপস্থিত বিমানের এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে হংকং, দিল্লি ও রোমের ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া হতে পারে। একই সঙ্গে গত মার্চে চালু হওয়া ফ্রাংকফুট রুটটিও স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হতে পারে। বর্তমানে হজ ফ্লাইটের কারণে এ রুটটি বন্ধ রয়েছে। তিনি আরো জানান, লোকসান কমাতে লন্ডন, আবুধাবি, কুয়ালালামপুরের ফ্লাইট সংখ্যাও কমানো হতে পারে। এসব রুটে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজের বদলে বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর মডেলের উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হতে পারে। তবে রুট বাতিল করে সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে করছেন সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, সীমাহীন দুর্নীতি ও রাজনীতিকীকরণ, পরিকল্পনাহীন যাত্রা ও অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে ‘আকাশে শান্তির নীড়’ স্লোগান নিয়ে চলা সংস্থাটি ডানাভাঙা বলাকায় পরিণত হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের এক কর্মকর্তা বলেন, বিদেশি এয়ারলাইন্সের লাভজনক রুটগুলোতেও নিয়মিত লোকসান দিচ্ছে সংস্থাটি। অনিয়ম আর স্বেচ্ছাচারিতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নিয়ে চলছে যা খুশি তা-ই। যদিও কমিটির সভাপতি ও সাবেক বিমানমন্ত্রী আশার কথা শুনিয়ে বলেছেন, এ বছরের মধ্যে লাভের ধারায় ফিরবে বিমান। কারণ দেখিয়ে তিনি বলেন, এককভাবে হজযাত্রী পরিবহন করে বিমানের বড় একটা লাভ থাকবে। এরপর লোকসানি রুটগুলো বন্ধ করে দেয়া হলে ক্ষতির পরিমাণ আরো কমবে। একইসঙ্গে বিমানের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি বিমানকে লাভজনক করে পুঁজি বাজারে এর শেয়ার ছাড়তে। তখন প্রতিষ্ঠানটি প্রতিযোগিতার জন্য আরো সক্ষমতা অর্জন করতে বাধ্য হবে। বিমানের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৯৭২ সালে যাত্রা শুরুর পর টানা ১৮ বছর লোকসান দেয় বিমান। ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো মুনাফায় আসে বিমান। সে সময় টানা পাঁচ বছর মুনাফা করতে সমর্থ হয় সংস্থাটি। পরে আবারো লোকসানে পড়ে। অব্যাহত লোকসান থেকে বেরিয়ে আসতে ২৩ জুলাই ২০০৭ সালে বিমানকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ বিমান কর্পোরেশনের নাম হয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেড। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হওয়ার আগ পর্যন্ত বিমানের লোকসানের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৮২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এরপর টানা দু’বছর লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি। গত ৪২ বছরের মধ্যে মাত্র ৭ বছর মুনাফার মুখ দেখে সংস্থাটি। তবে ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে আবারো লোকসান শুরু হয়। ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৮০ কোটি, ২০১০-১১তে ২১৪ কোটি, ২০১১-১২তে ৬০০ কোটি এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৯১ কোটি টাকা লোকসান দেয় বিমান। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের আর্থিক হিসাব এখনো পাওয়া না গেলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ অর্থবছরে লোকসান হবে ১২০ থেকে ১৫০ কোটি টাকার মতো। প্রাপ্ত তথ্য থেকে আরো জানা যায়, বিমানের যাত্রী পরিবহন এবং আয় দুটোই গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক কমে গেছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে যাত্রী পরিবহন ১৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে আয়ও, ১৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ২০১১-১২ অর্থবছরে বিমান আন্তর্জাতিক রুটে ১৭ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে। গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে যা নেমে আসে ১৫ লাখে। চলতি অর্থবছরে ১২ লাখের ওপর যাত্রী না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষের। এ হিসাবে প্রতিষ্ঠানটি তিন বছরে যাত্রী হারিয়েছে ৬ লাখ। বিমানের হিসাব থেকে দেখা যায়, ২০১৩ সালের জুলাই মাসে বিমান ১ লাখ ১ হাজার যাত্রী পরিবহন করে। অথচ আগের বছরের একই মাসে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার। ২০১৩ সালের ওই মাসেই বিমানের আয় ছিল ১৬২ কোটি ৩ লাখ টাকা। অথচ এক বছর আগের এই অঙ্ক ছিল ২৪৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। রুট বন্ধ করে লোকসান বন্ধ হবে কী না জানতে চাইলে বিমান পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য ও এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহেদুল আলম বলেন, এটা কোনোভাবেই সঠিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না। একটি প্রতিষ্ঠানে বিন্দুমাত্র পেশাদারিত্ব না থাকলেই কেবল তারা এ ধরনের একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারে। নিয়মিত ফ্লাইট বন্ধ করে স্পেশাল হজ ফ্লাইট চালানোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি রুটে ফ্লাইট চালু করতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়, অনেক বিনিয়োগও করতে হয়। সেখানে হুট করে একটি রুট বন্ধ করে দিলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বিমান ভাবমূর্তি সংকটেও পড়বে। বিমানের প্রতি যাত্রীদের আস্থাহীনতা আরো বাড়বে। তবে সংসদীয় কমিটির সভাপতি ফারুক খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যেসব রুট লোকসানে রয়েছে সে সব রুট চালু রাখার কোনো অর্থই হয় না। তিনি বলেন, বিমানের লোকসান অনেক কমে এসেছে। দীর্ঘদিনের পুরাতন বিমান ব্যবহার করায় আগে অনেক বেশি জ্বালানি খরচ লাগত। এখন নতুন বিমান বিমান বহরে যোগ হওয়ায় জ্বালানি খরচ অনেক কমেছে। বিমানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ২ মাসের মধ্যে বিমানের ই-টিকিট ব্যবস্থা সম্পূর্ণ চালু হবে। এতে করে দুর্নীতি কমে আসবে।

বিস্তারিত»
জয়কে নিয়ে লতিফ সিদ্দিকীর বিরূপ মন্তব্যে তোলপাড়

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে নিউ ইয়র্ক সফররত ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী রবিবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসে টাঙ্গাইল প্রবাসীদের এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, সজিব ওয়াজেদ জয় কে? মন্ত্রী বলেন, জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নয়। তিনি কোন সিদ্ধান্ত নেয়ারও কেউ নন। জয় শুধু উপদেশ দিতে পারেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক সরকার। মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা বিদেশে এসেছেন কামলা দিতে এবং সবসময় কামলাই দিবেন। প্রবাস থেকে প্রকাশিত পত্র পত্রিকা গুলোকে লতিফ সিদ্দিকী টয়লেট পেপার বলে আখ্যায়িত করেন। টিভির টক শোতে যারা অংশ গ্রহন করেন তাদেরকে ‘টক মারানি’ বলে অভিহিত করে মন্ত্রী বলেন, এদের সাথে ‘চুতমারানিদের’ কোন পার্থক্য নেই। মন্ত্রী বলেন, আমি যাদের কাছে ৪ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে ১ লাখ পেয়েছি তাদের কোন তদবির আমি এখন রক্ষা করিনা। একই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে লতিফ সিদ্দিকী ধর্ম নিয়েও অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমি হজ্ব এবং তাবলীগের ঘোর বিরোধী। আমি জামাতকে যেমন ঘৃণা করি, ঠিক তেমনি ভাবে হজ্ব এবং তাবলীগকেও ঘৃণা করি। ১ লাখ লোক হজ্বে গেলে দেশের ৫শ’ কোটি টাকার অপচয় হয়। মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর এই সব অস্বাভাবিক কথাবার্তায় সভাস্থল এর ভেতরে এবং বাইরে প্রচ- ক্ষোভের সঞ্চার হলে এক পর্যায়ে তাকে অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যেতে হয়। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র এবং বাংলাদেশের হবু রাষ্ট্রনায়ক কে নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের একজন মন্ত্রী এমন অশোভন মন্তব্য করতে পারেন বলে কেউ কল্পনাও করেননি। লতিফ সিদ্দিকীর এই কীর্তির কথা এখন ‘টক অব দ্যা টাউন’ এ পরিনত হয়েছে।  

বিস্তারিত»
আল্লামা জুবায়ের আহমদ আনসারীর রূগমুক্তি কামনায় লন্ডনে দোয়া মাহফিল

সকল মুসলিম ভাইদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে,আন্তর্জাতিক মুফফাসিরে কোরআন আল্লামা জুবায়ের আহমদ আনসারী অসুস্থ অবস্থয় ব্যাংককে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।তাঁর রূগমুক্তি কামনায় লন্ডনস্থ সর্বদলীয় আলেম ওলামার পক্ষ থেকে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। স্থানঃ মুজাহিরুল উলুম লন্ডন মাইল্যান্ড। সময়ঃ পহেলা অক্টোবর বুধবার বাদ এশা । এতে সবার উপস্তিতি একান্ত কাম্য।আহবানে সর্বদলীয় আলেম ওলামা লন্ডন।

বিস্তারিত»
জুড়ীতে দূর্গাপূজার প্রস্তুতির শেষ মূহুর্তে মন্ডপ পরিদর্শন করলেন-সমাজকল্যান মন্ত্রী

এম. মছব্বির আলী: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় শারদীয় দূর্গোৎসব উপলক্ষ্যে পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন ও জায়ফরনগর ইউনিয়নের ৩টি মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন সমাজকল্যান মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী। গতকাল ২৯ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকেল ৫ টায় জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের উত্তর ভবানীপুর কালীকাল ভৈরববাড়ী দূর্গাপূজার মন্ডপ ও ষ্টেশন রোডের যুব সংঘ আয়োজিত দূর্গাপূজার মন্ডপ পরিদর্শন শেষে জায়ফর নগর ইউনিয়নের জাঙ্গিরাই কালীবাড়ী দূর্গাপূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি আগত দর্শনাথী পূজারী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সাথে কুশল বিনিময়কালে বলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ব বৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান দূর্গোৎসব উপলক্ষ্যে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের লোকজনের যে মিলন মেলা রচিত হয়। সেই ঐতিহ্য আমাদের ধরে রাখতে হবে। অন্যথায় আমাদের সামাজিক-সাম্প্রদায়িক সহাবস্থান অবক্ষয়ের দিকে যেতে পারে। সাম্প্রাদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন জুড়ী উপজেলার গৌলব সমুন্নত রাখতে সবাইকে একসাথে থাকতে হবে। যাতে করে আমাদের এই সম্প্রীতি কেউ বিনষ্ট করার সুযোগ না পায়। পরিদর্শনকালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক আলহাজ্ব আজির উদ্দিন, যগ্ম-আহবায়ক শফিক উদ্দিন, ভারপাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মনি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ মৌলভীবাজার শাখার সভাপতি মিহির কান্তি দেব মিন্টু, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ জুড়ী উপজেলার সভাপতি শ্রী করুনাময় দেব, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জুড়ী উপজেলা শাখার ভারপাপ্ত সভাপতি কুলেশ চন্দ্র চন্দ মন্টু প্রমূখ। এ সময় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মী ও বিভিন্ন পূজা মন্ডপের নেতৃবৃন্দ।  

বিস্তারিত»
রাজনগরে পিস্তল ও গুলিসহ আটক-১

এম. মছব্বির আলী: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার মধুর বাজার থেকে পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলিসহ হারুনুর রশিদ নোমান (৩৪) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল ২৯ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে আটক করা হয়। হারুনুর রশিদ রাজনগর উপজেলার পাঁচগাও ইউনিয়নের দুলিছড়া গ্রামের মৃত বশির মিয়ার ছেলে। পুলিশ জানায়, গোপন সংবারে ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল সন্ধ্যায় ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিস্তল ও গুলিসহ হারুনুর রশিদকে আটক করে। মৌলভীবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ এসএম সিরাজুল হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিস্তারিত»
আজ দুর্গাপূজা শুরু-মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী বরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন

এম. মছব্বির আলী: শরৎ যে প্রকৃতিতে বিদ্যমান তা কুলাউড়া শহর ও তার আশপাশের এলাকার শুভ্র কাশফুলের শোভায় বোঝা যায়। আর শরতের আগমনের মধ্য দিয়েই শুরু হয় সনাতন হিন্দুধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি। দেবীর আগমন উপলক্ষে কুলাউড়া উপজেলার পূজামণ্ডপগুলো এখন মহাব্যস্ত। প্রতিমাশিল্পীরা দিন-রাত পরিশ্রম করে গড়ে তুলছেন মা দুর্গার গড়ন। মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোকে ঘিরে সব ধরনের সাজসজ্জার প্রস্তুতি শেষ। কুলাউড়া শহরের বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি, মাগুরা, কালীবাড়ি, দক্ষিণবাজার চৈতালী সংঘ, শিশু-কিশোর সংঘ জয়পাশা, রেলওয়ে কালীবাড়ি, মহাপ্রভুর দেবালয় মণ্ডপসহ পুরো উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে প্রতিমা নির্মাণের কাজ শেষ। সর্বশেষ কারিগররা মাটির প্রতিমায় রংতুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলবেন নাক-চোখ-মুখসহ দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। শেষ মুহূর্তে এসে দেবীকে পরাবেন পোশাক-পরিচ্ছদ ও গহনা। করবেন আল্পনা ও আলোকসজ্জাসহ অন্যান্য কাজ। পঞ্জিকা অনুযায়ী ২৩ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল দেবীপক্ষ (পূজার আনুষ্ঠানিকতা)। এর পরই খুলবে মণ্ডপ। ৩০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে পূজা। এদিন হবে মায়ের বোধন। এবার পূজা পাঁচ দিনের পরিবর্তে চার দিনে অনুষ্ঠিত হবে। কারণ, এবার নবমী ও দশমী একই দিনে পড়েছে (৩ অক্টোবর)। তবে রামকৃষ্ণ, মঠ মিশন ও বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী পূজা পাঁচ দিনই পালন করবে। সেক্ষেত্রে ৪ অক্টোবর বিজয়ী দশমী অনুষ্ঠিত হবে। কুলাউড়া উপজেলা সার্বজনীন পূজা উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক অরবিন্দু ঘোষ বিন্দু জানান, এবার কুলাউড়া উপজেলায় ১৭৮টির মতো মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে কুলাউড়া শহরে ৭টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সরেজমিন ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতির মাগুরা পূজামণ্ডপসহ শহরের বেশ কয়েকটি পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমা নির্মাণ শেষ। দেবীকে বরণ করার জন্য অপেক্ষায় আছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এদিকে কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার, রবিরবাজার, জুড়ী সদরের কামিনীগঞ্জ ও ভবানীগঞ্জ বাজার এবং কমলগঞ্জের শমশেরনগর বাজারের বিপণিবিতানগুলোতে পূজার জন্য নারীরা শাখা ও বালা কিনতে এখন ভিড় জমাচ্ছেন। বিভিন্ন বিপণিতে প্রিয়জনকে উপহার দেওয়ার জন্য ক্রেতাদের দেব-দেবীর মূর্তি, ঘর সাজানোর সামগ্রী ও পূজায় ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে দেখা যাচ্ছে। পূজায় প্রশাসনের প্রস্তুতিঃ কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ অমল কুমার ধর জানান, শারদীয় দুর্গোৎসবে প্রতিটি মণ্ডপ নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে। মণ্ডপে মণ্ডপে পুলিশ ও আনসার বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া টহল পুলিশ কাজে জোরদার রাখা হয়েছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতও রয়েছে।

বিস্তারিত»
কুলাউড়া এসে স্বামীর জন্য দোয়া চাইলেন ইলিয়াছ পত্নী  লুনা

এম. মছব্বির আলী: বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নিখোঁজ এম ইলিয়াছ আলীর সন্ধানের আশায় কুলাউড়ার রবিরবাজার জামে মসজিদে এসে শিরনি দিয়ে দোয়া চাইলেন ইলিয়াছ আলীর স্ত্রী তাহমিনা রুশদী লুনা। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে (এশার নামাজের পর) একটি কালো রঙের হাইএক্স গাড়িযোগে রবিরবাজার মসজিদে উপস্থিত হন তিনি। ওই সময় দায়িত্বে থাকা মোয়াজ্জিনের মাধ্যমে নিখোঁজ স্বামীর ফেরার কামনায় শিরনি বিতরণ ও দোয়া চান তাহমিনা রুশদী লুনা। এ সময় গাড়িতে ইলিয়াছ আলীর স্ত্রী ছাড়াও পরিবারের অন্য সদস্যরা ছিলেন। গাড়িটি মসজিদের পার্কিংয়ে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থানের পর চলে যায়। উল্লেখ্য, ইলিয়াছ আলীর স্ত্রী এর আগেও একবার স্বামীকে ফেরত পাওয়ার আশায় রবিরবাজার মসজিদে ৫ হাজার টাকা দান করেন। এ ব্যাপারে মসজিদের মোয়াজ্জিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন।  

বিস্তারিত»
আমার কাছে যা জানতে চেয়েছে আমি সবকিছুই বলেছি

ডেস্ক নিউজ:নারায়ণগঞ্জে সেভেন মার্ডারের ঘটনায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) মোখলেছুর রহমানকে আড়াই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোখলেছুর রহমান বলেন, যা সত্য তাই বলেছি। গতকাল বেলা আড়াইটায় সচিবালয়ে কমিটির চেয়ারম্যান ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব  মো. শাহজাহান আলী মোল্লার কক্ষে বেলা আড়াইটায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। বেলা সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত কমিটি। মোখলেছুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। যেহেতু আমি র‌্যাবের ডিজি, ওই কারণে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা বাঞ্ছনীয়। আমার কাছে যা জানতে চেয়েছে আমি সবকিছুই বলেছি। যেটা সত্য সেসব কিছুই আমি বলেছি। গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় সম্পর্কে কমিটিকে বলেছেন কিনা জানতে চাইলে র‌্যাবের ডিজি বলেন, যেহেতু কমিটি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সেহেতু সব বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। সব বিষয়েই বলেছি। র‌্যাবের ভাবমূর্তি জড়িত তাই আপনি কি সুপারিশ দিয়েছেন জানতে চাইলে মোখলেছুর রহমান বলেন, র‌্যাবের স্বচ্ছতা আছে, র‌্যাব যেটা সত্য সেটাই করে। র‌্যাব আইন, ন্যায় ও সত্যের পথে সব সময় থাকে। এটা আমি বলেছি। আমার কাছে যা জানতে চেয়েছে আমি তাই বলেছি। র‌্যাবের ডিজিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান আলী মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সেই পরামর্শ দিয়েছি। র‌্যাবের কিছু সদস্যের নাম এসেছে। তারা মামলার আসামি এবং গ্রেপ্তার রয়েছেন। র‌্যাবের ডিজি বিভাগীয় প্রধান হিসেবে তার প্রতিষ্ঠানে এই ঘটনা কতটুকু আছে সেগুলো জানার জন্য কথা বলেছি। ভবিষ্যতে যাতে এরকম ঘটনা না ঘটে আমরা সেই পরামর্শ দিয়েছি। যা সত্য তাই উনি বলেছেন। কি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে কমিটি প্রধান বলেন, যেসব বিষয় মিডিয়াতে এসেছে, সেসব বিষয় অন্যান্য সাক্ষীর মাধ্যমে এসেছে এবং যেসব তথ্য প্রমাণ হাতে এসেছে, তা সম্পর্কিত বিষয়ে তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেতে আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে, রিপোর্ট দেবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই রিপোর্ট দ্রুত দেয়া হবে।

বিস্তারিত»
সর্বশ্রেষ্ঠ বেয়াদব’ টক অব দ্য আওয়ামী লীগ

বিশেষ সংবাদদাতা : সাবেক প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান ও জোহরা তাজউদ্দিনের মৃত্যুর পর বয়সের কারণেই আওয়ামী লীগের অভিভাবক তুল্য নেত্রী হচ্ছেন বেগম সাজেদা চৌধুরী। দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব দেয়া এবং বয়সের কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাকে শ্রদ্ধা করেন। প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে যেতে বিমানে ওঠার সময় সবার সালাম গ্রহণ করলেও প্রবীণ নেত্রী সাজেদা চৌধুরীর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে যান, কুশল বিনিময় করেন। দলের সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই প্রবীণ নেত্রীর একটি বক্তব্য গতকাল ছিল টক অব দ্য আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অন্যান্য দল, সুশীল সমাজ, বিশিষ্টজন এবং সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ছিল একই কথা। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদকে স্মরণকালের ‘সর্বশ্রেষ্ঠ বেয়াদব’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমি এই  বেয়াদবি আর সহ্য করবো না। সাজেদা চৌধুরীর এই বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের ‘ব্রেকলেস’ নেতাদের  বোধোদয় হবে এমন প্রত্যাশা করছে মানুষ। কারণ প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে গত কয়েকমাসে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার শালীনতা বিবর্জিত বক্তব্য গোটা রাজনৈতিক পরিবেশকে দূষিত করছে। তারা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এমন সব অশ্লীল অশোভন কথাবার্তা নিত্যদিন বলছেন যেন সভ্যতা ভব্যতা হারিয়েছেন। তারা যেন মুখের ব্রেক ফেল করে লাগামছাড়া হয়েছেন। বিশেষ করে হাছান মাহমুদ, মাহবুবুল আলম হানিফসহ কয়েকজন নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমান এবং অন্যান্য নেতাদের নামে এমন খিস্তিখেউর করেন যা কোনো রুচিশীল শিক্ষিত ভদ্র পরিবারের সন্তানের ভাষা হতে পারে না। দলের নেত্রীকে খুশি করতে তারা লাগামছাড়া কথাবার্তা বলে থাকেন। আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ফুঁইফোড় কিছু সংগঠনের সভা-সমাবেশে প্রতিদিন তারা এমন কিছু অশ্রাব্য শব্দের ব্যবহার করেন তা পত্রিকায় মুদ্রণের অযোগ্য। হঠাৎ করে দলের সামনের সারিতে আসা এসব নেতার কথাবার্তায় আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত নেতাকর্মীরাও বিক্ষুব্ধ। এ জন্য তারা বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন। অবশ্য দলে এদের হাইব্রিড নেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিত্যদিন আওয়ামী লীগের এসব নেতা বকাউল্লার মতো বিএনপির নেতা ও প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতাদের নামে খিস্তিখেউর করেই যাচ্ছেন। তাদের মুখ থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য নয় যেন ‘বিষ’ ছড়ানো হচ্ছে। দেশে স্যাটেলাইট চ্যানেলর সংখ্যা বেড়ে  যাওয়ায় তাদের এসব কথাবার্তা টিভির সচিত্র প্রতিবেদনে প্রচার হচ্ছে। তাদের মুখের  নোংরা ভাষার ব্যবহারের কারণে অনেক পরিবারের কর্তারা খবরের সময় টিভি বন্ধ রাখেন ছেলেমেয়েরা যাতে অশ্লীল শব্দ শুনতে না  হয়। রাজনীতিকদের কাছে মানুষ শিখতে চায়। তাদের কথাবার্তা আচরণ অনুসরণ করতে চায়। কিন্তু ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার খিস্তিখেউর, অশোভন কথাবার্তা রাজনীতির বাতাস দূষিত করছে। আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেত্রী সাজেদা চৌধুরী বিষয়টি বুঝতে  পেরেই ক্ষুব্ধ হয়ে হাসান মাহমুদকে বেয়াদব হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এ ধরনের বেয়াদবি সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন। প্রবীণ নেত্রী সাজেদা চৌধুরীর এ ধমকে অনেকেই খুশি হয়েছেন। বিশেষ করে যারা রাজনীতিতে অশ্লীল শব্দের ব্যবহার, খিস্তিখেউর, একে অন্যের বিরুদ্ধে কুৎসা, অশোভন আচরণ পছন্দ করেন না তারা আশাবাদী হয়েছেন। তাদের বিশ্বাস হয়তো সাজেদা চৌধুরীর ধমক খেয়ে হাছান মাহমুদ খিস্তিখেউর থেকে বিরত থাকবেন এবং আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ অন্যান্য দলে আরো যারা এ ধরনের অশ্লীল শব্দ ব্যবহারে অভ্যস্ত তারা সতর্ক হবেন। দলের শীর্ষ নেতানেত্রীদের বাহবা পেতে সম্মানিত নেতানেত্রীদের নামে খিস্তিখেউর করার সংস্কৃতি বন্ধ হয়ে যাবে। প্রশ্ন হলো সাজেদা চৌধুরীর এ হুঁশিয়ারির পর কী দেশের মানুষ নেতানেত্রীদের মুখ থেকে অশ্লীল ভাষার বদলে গঠনমূলক আলোচনা শ্রুতিমধুর শব্দের ব্যবহার শুনতে পাবে?

বিস্তারিত»
মিশরে অপহরণের পর বাংলাদেশী যুবককে হত্যা

চুয়াডাঙ্গা: মিশরের কায়রো শহরে আতিকুর রহমান (২৩) নামের এক বাংলাদেশি শ্রমিককে অপহরণের পর শরীরে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে লাল মিয়া ও কাওসার নামে দুই বাংলাদেশিকে আটক করেছে কায়রো পুলিশ। সোমবার সকালে নিহতের পরিবার এসব তথ্য জানান। নিহত আতিকুর চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার তিয়রবিলা গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে। আতিকুর হত্যার সংবাদ পেয়ে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতের বোন আম্বিয়া খাতুন জানান, গত মঙ্গলবার মিশরে কর্মরত বাংলাদেশি কয়েকজন শ্রমিকের সহযোগিতায় মিশরের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ আতিকুরকে অপহরণ করে। অপহরণের পর ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে বাংলাদেশে বাবা-মা, বোন ও ভগ্নিপতির কাছে কয়েক দফা ফোন করে অপহরণকারীরা। আম্বিয়া খাতুন আরো জানান, মুক্তিপণের টাকা না দিলে আতিকুরকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকিও দেয় অপহরণকারীরা। একপর্যায়ে ৫০ হাজার টাকায় রফা হয়। সন্ত্রাসীরা টাকা দিতে ঢাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকের হিসাব নম্বর ও একটি বিকাশ নম্বর দেয়। এদিকে, রোববার (২৮ সেপ্টম্বর) রাতে আতিকুরকে খুন করে অপহরণকারীরা। সোমবার সকালে খুনের খবরটি জানতে পারেন তার পরিবারের লোকজন। আম্বিয়ার স্বামী বাবুল আকতার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি খুনিদের গ্রেফতার ও তাদের এদেশীয় সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া এবং লাশ ফেরত আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সরকারের কাছে দাবি জানান।  

বিস্তারিত»
‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’র ফলক হস্তান্তর অনুষ্ঠান পূর্ব লন্ডনের ইয়র্ক হলে শুরু

লন্ডন: বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে স্থাপিত ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’র ফলক হস্তান্তর অনুষ্ঠান পূর্ব লন্ডনের ইয়র্ক হলে শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্য বিএনপির আয়োজনে ‘বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ব নেতা জিয়াউর রহমান : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ফলক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় সেক্রেটারি অব স্টেট জেসি হোয়াইট’র কাউন্সিল মেম্বার শাহ মোজাম্মেল, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট জয়নাল আবেদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ। প্রসঙ্গত, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে ‘অনারারি জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামে সড়কটির ফলক উন্মোচন করেন শিকাগো সিটি কাউন্সিলর অ্যালডারম্যান ও ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ার এমিরেটস জো মুর। এর আগে গত ২৬ মে সিটি কাউন্সিলের ৫০ জন সদস্যের মধ্যে ৪৮ জনের উপস্থিতিতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে সড়কের নামকরণের প্রস্তাব পাস হয়।  

বিস্তারিত»
মানবতার কবি ফখরুল ইসলাম ওমর

ফখরুল ইসলাম ওমর। একাধারে কবি,ছড়াকার,গীতিকার,সাহিত্যিক ও সাংবাদিক। তার লেখনিতে ফুটে উঠেছে মানবতা ও সাম্যের জয়গান। প্রতিবাদী আর বিদ্রোহের ছোঁয়া রয়েছে তার লেখায়। তার সমকালীন প্রতিবাদী ছড়ার বই “স্বদেশের বুক ছিড়ে খায় এক ঝাঁক শকুন”ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।   ফখরুল ইসলাম ওমর ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মধুগ্রামে ১৯৮৪ সালের ১১মার্চ ব্যাংক ম্যানেজার আবদুল মালেক মজুমদার ও আকতার জাহান দম্পত্তির  ঘরে জন্ম নেন। ৫ভাই ৩ বোনের মধ্যে তিনি ৭ম। ছোটকাল থেকেই লেখালেখিতে ঝুকে পড়েন তিনি।   প্রায় এক হাজারের বেশি গল্প কবিতা ছড়া কলাম দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক,সাপ্তাহিক মাসিক পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে প্রকাশ  হয়েছে। ২০০২ সালে তার সম্পাদনায় ও প্রকাশনায় পরশুরাম থেকে ‘ঝরাপাতা’ নামে একটি পত্রিকা বের হয়।এটি পরশুরামের প্রথম পত্রিকা। তখন পত্রিকাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করলেও ২০০৬ সালে রাজনৈতিক রোষানলের কারনে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।তার রচিত এক মুঠো বিদ্রোহ ছড়া কবিতার বই প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০২ সালে ।   বর্তমানে তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩৩টি।পরবতীর্তে প্রকাশ হয় জীবন নদীর উল্টো শ্রোত, তোমার জন্য ভালবাসা , ভালোবাসা কাঁচের বালিশ,ভূত তাড়াতে আয়,ভালোবাসা ডটকম।এছাড়া লাশের মিছিল(প্রতিবাদী ছড়া),জীবনটা বালির পাহাড়(গল্প),টুকরা টুকরা কাঁচ(বিভিন্ন কলাম) এবং বিদায় বেলার মুচকি হাসি(উপন্যাস) প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।তার রচয়িত গানের সংখ্যা প্রায় শতাধিক।ঝড়াপাতা শিরোনামে গানটি স্থান পেয়েছে আধুনিক গানের এ্যালবাম উদাসীতে।   ঝড়াপাতা নামে তার একক এ্যালবামের মিউজিক ভিডিও বাজারে এসেছে গত মাসে।এ এ্যালবামে ‘একটাই দেশ আমার’জনপ্রিয় দেশের গানটিসহ ১২টি গান রয়েছে।‘দেশের গান’ শিরোনামে একটি মিক্রড  এ্যালবাম বের হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজের  অসহায় সুবিধাবঞ্ছিত মানুষের জন্য কাজ করছেন।এলাকার বহু সামাজিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত তিনি।কবি ও লেখকদের সংগঠন বাংলাদেশ উদিয়মান লেখক ও কবি কল্যান সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও স্বদেশ মৃত্তিকা মানব উন্নয়ন উন্নয়ন সংস্থার এশিয়া প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।তার ধ্যানজ্ঞান চিন্তা চেতনায় ও অস্তিত¦ জুড়ে রয়েছে সাহিত্য সভ্যতা ও সমাজের উন্নয়ন।  

বিস্তারিত»
হাসিনা রক্ত দেখলে আনন্দ  পান: খালেদা জিয়া

ঢাকা: সরকারের কড়া সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, হাসিনাই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে করে। হাসিনা গান পাউডার দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারেনি?  লগি বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করেনি। রক্ত দেখলে হাসিনা আনন্দ পায়, খুশি হয়। তার শুধু রক্ত চাই রক্ত চাই। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মানুষ হত্যা করে আনন্দ পায়। তাই মানুষ আজ আওয়ামী লীগের হাত থেকে বাঁচতে চায়। সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ‘রামু ট্র্যাজেডির স্মরণে’ বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফান্ড, চট্টগ্রাম জেলা শাখা আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। দেশে কোন সরকার নেই উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, তারা গণতন্ত্র নয় একদলীয় বাকশালের পথে হাটছে। নিজেদের সুবিধার জন্য ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে বিভিন্ন আইন করছে। সম্প্রচার নীতিমালার মাধ্যমে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। টকশোতেও কথা বলা যাবেনা। তারা নিজেদের সমালোচনা পছন্দ করেনা। অথচ নিজেরা সব সময় অন্যদেও গালিগালাজ করে। পরীক্ষার ফলাফলের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না। আজ মেধাবী ছেলেমেয়েরাও সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছে না। পাসের হার বাড়িয়ে দিয়ে সরকার দেশকে ধ্বংস করছে। তিনি বলেন, এখন পাসের হার বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করছে না। খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের মূল টার্গেট শিক্ষা। দেশের প্রতিটি ছেলেমেয়েকে শিক্ষিত করতে হবে- এটাই ছিল বিএনপি সরকারের মূল টার্গেট। শিক্ষার জন্য আমরা খাদ্য চালু করেছি। তখন দেখেছি সবাই স্কুলে যাচ্ছে। দেশে নিরাপত্তা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইয়ং ছেলেমেয়েরা এ সরকারের টার্গেট। ইয়ং ছেলেমেয়েদের সরকার গুম করে নিয়ে যাচ্ছে। দেশের কোথাও মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। মানুষ ঘরে থাকলেও গুম-খুন হচ্ছে। বাইরে গেলেও গুম-খুন হচ্ছে। কোথাও মানুষের নিরাপত্তা নেই। খালেদা জিয়া বলেন, ক্ষমতায় এসেই পিলখানায় সেনা অফিসারদের হত্যা করা হলো। কেন সেদিন সেনা পাঠানো হলোনা। কেন আর্মি গেলনা। কেন বিদ্রোহীদের সাথে মিটিং করলো।  কার নির্দেশ কার আদেশে করা হয়েছে তা তারা জানে। সেজন্য সুষ্ঠু কোন তদন্ত হয়নি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কোনো ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান নেই। তারা মুসলমানদের দেশে মুসলমানদের ওপরও অত্যাচার করেছে। শাপলা চত্বর এর অকাট্য প্রমাণ। বাতি নিভিয়ে রাতের অন্ধকারে তারা সেখানে মুসলমানদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। বহু লাশ তারা সেখান থেকে গুম করেছে। এই হচ্ছে আওয়ামী লীগ। খালেদা জিয়া বলেন, এ সরকারের আমলে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ছেই। মানুষের ২ বেলা খাবার মুশকিল হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন,  আজ সরকারি সব ব্যাংক শেষ হয়ে গেছে। সেখানে চাকররির নামে দলীয় লোকদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। তারা অযোগ্য অথর্ব। বানরের হাতে কলম দিলে যা হয় তাই হয়েছে। রামুর ঘটনায় আ’লীগের লোকজন জড়িত ছিল অভিযোগ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে কোন ধর্মের লোকই নিরাপদ নয়। তারা মুখে ধর্মনিরপেক্ষ দাবি করলেও বাস্তবে কোন ধর্মের প্রতিই তাদের শ্রদ্ধা নেই। খালেদা জিয়া বলেন, রামুর বৌদ্ধ পল্লীতে হামলার সময় তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রাম ছিলেন। কিন্তু সেদিন তিনি কোন পদক্ষেপ নেননি। এতেই প্রমাণিত হয় এ ঘটনায় সাথে আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত। তাছাড়া আওয়ামীলীগের লোকজন জড়িত থাকার কারণেই আজও রামুর ঘটনায় অপরাধীদের এখনো বিচার হয়নি। তিনি বলেন, তারা এমন অপকর্ম করে। সে অপকর্ম ঢাকার জন্য নতুন নতুন র সমস্যা তৈরী করে জনগনের দৃষ্টি ভিন্নখাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। বিএনপি নয় আওয়মাী লীগের সাথেই জঙ্গিদের সম্পর্ক  দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগের সাথেই জঙ্গিদের সম্পর্ক ও আত্মীয়তা। তাই তারা কথায় কথায় বিদেশীদেও কাছে জঙ্গিবাদের কথা বলে। তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত ফ্রি স্টাইলের দুর্নীতি চলছে। আ’লীগের লোকজন অপরাধ করলেও তাদের ধরা হয়না। ধরা হয় সাধারণ মানুষদের। খালেদা জিয়া বলেন, ক্ষমতার জন্য নয়। আল্লাহ আমাকে অনেক ক্ষমতা দিয়েছেন। আমাদের লড়াই এদেশে মানুষকে রক্ষা করার জন্য। জালেম অত্যাচারীদের হাত থেকে এই দেশকে রক্ষার জন্য আন্দোলন করা জন্য। তিনি বলেন, কুরবানীর ঈদে পথে পথে চাদাবাজীতে মানুষ অতিষ্ঠ। ছাত্রলীগ,যুবলীগসহ আ’লীগের লোকজন চাদাবাজী করছে। চট্টগ্রাম জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের  আহ্বায়ক  সুশীল বড়ুয়ার সভাপতিত্বে  সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ,  সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক দীপেন দেওয়ান, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সুকোমল বড়ুয়া, সহ শতাধিক বৌদ্ধ ভিক্ষু উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও রামুর ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শীলানন্দ মহাসেবো, আনন্দ বোধী ভিক্ষু, সুমঙ্গল ভিক্ষু, সুমন রক্ষিত ভিক্ষু, সুনন্দ প্রিয় ভিক্ষু, উদয় কুসুম বড়ুয়া,  কর্নেল (অব.) মনীষ দেওয়ান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।  

বিস্তারিত»
হামলার দুবছর, উত্তম বড়ুয়া এখনো নিখোঁজ

বাংলাদেশে কক্সবাজার জেলার রামুতে যে ব্যক্তির ফেসবুক একাউন্টকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বৌদ্ধদের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়েছিলো, সেই উত্তম বড়ুয়া ঘটনার পর থেকে গত দুই বছর ধরে নিখোঁজ। উত্তম বড়ুয়া কোথায় আছে সে সম্পর্কে পরিবার এবং পুলিশের কাছে পরিষ্কার কোন তথ্য নেই । উত্তম বড়ুয়ার স্ত্রী রিতা বড়ুয়া সন্দেহ করেছেন তার স্বামীকে হয়ত মেরে ফেলা হয়েছে। গত দুই বছরে কোনো চিঠি বা টেলিফোন তিনি পাননি। “আমার ধারনা ওনাকে কেউ মেরে ফেলেছে । না হয় উনি তো ফোন করতেন আমাদের।” আমার ধারনা ওনাকে কেউ মেরে ফেলেছে । না হয় উনি তো ফোন করতেন আমাদের রিতা বড়ুয়া, নিখোঁজ উত্তম বড়ুয়ার স্ত্রী অন্যদিকে পুলিশের ধারনা উত্তম বড়ুয়া আত্মগোপনে রয়েছেন। তাকে খোঁজা হচ্ছে এবং তদন্তকারীরা আশা করছেন তাকে পাওয়া যাবে। উত্তম বড়ুয়ার তার ফেসবুক একাউন্টে কোরআন শরিফ অবমাননা করেছেন -- এই কথা ছড়িয়ে ২০১২ সালের এ দিনে রামুর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অনেক বাড়িঘর মন্দিরে হামলা চালানো হয়। উত্তম বড়ুয়ার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার মামলা হয়েছিল । সেই মামলায় তাকে প্রধান আসামী করে চার্জশীটও দেয়া হয়েছে । যে ফেসবুক একাউন্টের বিরুদ্ধে কোরআন অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছিল সেটি নিখোঁজ উত্তম বড়ুয়ার ফেসবুক একাউন্ট হিসেবে নিশ্চিত হয়েছে তদন্তকারীরা। তবে অবমাননার ছবি তিনি নিজে আপলোড করেছেন, নাকি অন্য কেউ তাকে ট্যাগ বা যুক্ত করেছে সে বিষয়ে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হতে পারেননি। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন অনেক চেষ্টা করেও তারা সেই একাউন্টের বিস্তারিত জানতে পারেননি । উত্তম বড়ুয়ার বিষয়ে পুলিশ আত্মগোপনের কথা বললেও তাকে খুঁজে বের করার বিষয়ে পুলিশের চেষ্টা নেই বলে অনেকে মনে করেন । রামুর স্থানীয় বাসিন্দা প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, তাকে খুঁজে পাওয়াটা জরুরী। "চেষ্টা করা হলে তাকে আবিষ্কার করা যাবে না আমি তা মনে করিনা ।”বিবিসি

বিস্তারিত»
লতিফ সিদ্দিকী কাফের: চরমোনাই পীর

সিরাজগঞ্জ: হজ ও তাবলিগ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে কাফের হয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম। সোমবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ শহরের স্বাধীনতা স্কয়ার চত্বরে এক জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্প্রচার নীতিমালা বাতিলের দাবিতে এবং বিচারপতিদের অভিশংসন সংসদে ফিরিয়ে নেয়ার প্রতিবাদে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর বিরূপ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে চরমোনাইর পীর বলেন, “এই বক্তব্য দেয়ার ফলে মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে কাফের হয়ে গেছেন। কেননা হজ ইসলামের মূল পাঁচ ভিত্তির অন্যতম। এখন থেকে সে (লতিফ) নিজেকে মুসলমান হিসেবে পরিচয় দিতে পারবে না।” তিনি অবিলম্বে লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিপরিষদ থেকে বহিষ্কার ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, “একটি মহল ইসলামকে সহ্য করতে না পেরে একে জঙ্গিবাদের সঙ্গে তুলনা করে। কিন্তু জঙ্গিবাদের অজুহাতে ইসলামের ওপর আঘাত করলে কাউকে ছেড়ে দেয়া হবে না।” তিনি বলেন, “যে রাজনীতিতে মানুষের অকল্যাণ বয়ে আনে, সে রাজনীতি কারো কাম্য হতে পারে না।” তিনি সবাইকে ইসলামের রুজ্জু শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার আহ্বান জানান। বিভিন্ন অজুহাতে মিডিয়া বন্ধ করে দেয়া কিংবা মিডিয়ার কণ্ঠরোধের চেষ্টা কোনো ভালো লক্ষণ নয় মন্তব্য করে চরমোনাইর পীর বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে অনেক মিডিয়া থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সরকার হয়তো মিডিয়া বন্ধ করতে পারবে, কিন্তু ১৬ কোটি মানুষের কণ্ঠ কী সরকার বন্ধ করতে পারবে?” বিচারপতিদের অভিশংসন সংসদে ফিরিয়ে নেয়ার আইন পাসের সমালোচনা করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, সরকার বিচারপতিদের হাত-পা বাঁধার অপরিণামদর্শি চিন্তা করেছে।  সরকার যদি মনে করে, তারা চিরদিনের জন্য ক্ষমতায় এসেছে, তা হবে চরম ভুল। এই আইনই তাদের ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনবে।” দলের জেলা সভাপতি মুফতি মুহিব্বুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, সেক্রেটারি মুফতী আল-আমিন সিরাজী, মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা আব্দুস সামাদ, ছাত্রনেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।  

বিস্তারিত»
 মুরতাদ লতিফ সিদ্দিকীকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হলে লাগাতার হরতাল:ইসলামী ঐক্যজোট

নিজস্ব প্রতিনিধি:টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী আমেরিকায় বসে ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ পবিত্র হজ্জ ও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জঘন্য ধৃষ্টতাপূর্ণ কটূক্তি এবং তাবলীগ জামাত সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে আজ বিকাল ৫.৩০ তাৎক্ষনিক ভাবে ইসলামী ঐক্যজোট ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ হয়েছে।মিছিল শেষে  কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে জনতা।    সমাবেশ বক্তারা বলেন, পবিত্র হজ্জ ও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জঘন্য ধৃষ্টতাপূর্ণ কটূক্তি এবং তাবলীগ জামাত সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করে লতিফ সিদ্দিকী  মুরতাদ হয়ে গিয়েছে। সে সারা দুনিয়ার মুসলমানদের অন্তরে আঘাত করেছে। তার কথায় ১২৫ কোটি মুসলমানের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যদি সে বক্তব্য প্রত্যহার করে তাওবা না করে তবে সারা দেশব্যপী ব্যপক গণ আন্দোলন শুরু হবে। বিদেশের মাটিতে বসে ইসলাম ও মহানবীর বিরুদ্ধে কটূক্তি করার দুঃসাহস দেখিয়ে সে যে জঘন্য অপরাধ করেছে এর জন্য প্রয়োজনে তার ফাঁসির দাবীতে লাগাতার হরতালের কর্মসূচী দেয়া হবে। তাঁকে যারা আশ্রয় প্রশ্রয় দিবে , রক্ষা করার অপচেষ্টা করবে এ দেশের ইসলাম প্রিয় নবী প্রেমিক জনতা তাদেরকে ও রেহায় দেবে না। তারা ও মুরতাদের কাতারে শামিল হয়ে যাবে। তাদেরকে তসলিমা নাসরীন ও দাউদ হায়দারদের ভাগ্য বরণ করতে হবে। সরকার যদি এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে এবং মন্ত্রী পরিষদ থেকে তাকে অপসারণ না করে তবে জনতার এই ঈমানী আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রুপ নিতে পারে। ইসলামী ঐক্যজোট ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য্য রাখেন, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ, ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী, মাওলানা যুবায়ের আহমদ, মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াসেল, মুফতী সাইফুল ইসলাম, মাওলানা রিয়াজতুল্লাহ প্রমুখ।    

বিস্তারিত»
নবীগঞ্জের ব্রিটিশ নাগরিক সামিউন  জঙ্গি সংগ্রহে বাংলাদেশ এসেছিলো

কিবরিয়া চৌধুরী, নবীগঞ্জ থেকে:নবীগঞ্জের ব্রিটিশ নাগরিক জঙ্গি সংগ্রহ করার জন্য বাংলাদেশে এসেছিল সামিউন। সোমবার দুপুরে সামিউনকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানান শাহবাগ থানা পুলিশ। শুনানি শেষে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূরের আদালত। ডিবি পুলিশ জানায়, সিরিয়া ফ্রন্টে সশস্ত্র জিহাদি কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে আইএস ও সিরিয়ার নুসরা বিগ্রেডের জন্য মুজাহিদ সংগ্রহ করতে বাংলাদেশে এসেছিলেন সামিউন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর গোয়েন্দা পুলিশ আইএস ও নুসরা ব্রিগেডের সদস্য আসিফ আদনান ওরফে জুলকারনাইন ও ফজলে এলাহি তানজিলকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা একিউআইএস বা আল কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্টের কার্যক্রম সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ব্রিটিশ নাগরিক সামিউন রহমান ওরফে ইবনে হামদান সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেন। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় সামিউনকে। ডিবি আরও জানায়, আইএস জঙ্গিরা তাদের জনবল বাড়ানোর জন্য বিশেষ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস ও কমেন্টসকে প্রাধান্য দেয়। শুধু ফেসবুকই নয় অনলাইনে অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তারা তৎপরতা চালিয়ে থাকে। ব্রিটেনে জন্ম গ্রহণের পর সেখানেই উচ্চশিক্ষা নেন তিনি। তাদের উদ্দেশ্য হলো, সম্প্রতি আল কায়দার নেতা আইমান আল জাওয়াহিরির ঘোষিত একিউআইএসের জন্য বাংলাদেশ ও মায়ানমার এ জঙ্গি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করা। ডিবি পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত সামিউন আরো জানান, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে একই বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সিরিয়ায় নুসরা ব্রিগেডের সদস্য হয়ে জিহাদি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। এ কার্যক্রমে অংশ নিতে এক বন্ধুসহ ব্রিটেন থেকে তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় যান তিনি। জিহাদি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য সক্ষম যুবক সংগ্রহে ইতিপূর্বে মৌরতানিয়া ও মরক্কোতেও ভ্রমণ করেন তিনি। পিস টিভির উপস্থাপক অ্যান্থনি এর ফেসবুক পেজের সূত্র ধরে সিরিয়ায় জিহাদে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক বাংলাদেশি নাগরিক আসিফ আদনান ওরফে জুলকারনাইনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে বাংলাদেশ থেকে সিরিয়ায় মুজাহিদ প্রেরণের লক্ষ্যে গত ফেব্র“য়ারি মাসের শেষ দিকে তিনি পুনরায় বাংলাদেশে আসেন। ডিবি আরও জানায়, ইতোপূর্বে গ্রেফতারকৃত আসিফ আদনান, ফজলে এলাহি তানজিল, সেকান্দর আলী নকি ও তাসনিম ওরফে নাহিদের মাধ্যমে বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিরিয়ায় একটি জিহাদি টিম পাঠানোর পরিকল্পনা করেন সামিউন। এ বিষয়ে তার উদ্দেশ্য ছিল সিরিয়ায় জিহাদী কার্যক্রম শেষে বাংলাদেশ ও মায়ানমারে আল কায়েদার আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক স্থাপন করা। গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তাদের যোগাযোগ সম্পর্কিত বেশ কিছু ক্ষুদে বার্তা মামলার আলামত হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত সামিউন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানান, আসিফ আদনান ওরফে জুলকারনাইন, জাবের, আবু নায়না, আব্দুল করিম ও আব্দুল্লাহ তার সহযোগী ছিলেন। ডিবি জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত সকলেই একে অপরের সহায়তায় নিষিদ্ধ সংগঠন আল-কায়দার নেতা জাওয়াহিরির বক্তব্যে প্ররোচিত হয়ে বাংলাদেশে আল-কায়দার জঙ্গি নেটওয়ার্ক তৈরি করে নানা রকম নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন।  

বিস্তারিত»
ছাপাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে হিউম্যান ফর হিউম্যান বাংলাদেশের স্মারক লিপি প্রদান

রোটারিয়া মোহাম্মদ আলী: নিউ এমদাদিয়া প্রকাশনী, ঢাকা এবং মীনা বুক হাউস, ঢাকা কর্তৃক প্রকাশিত ভুল ছাপার কোরআন শরীফের সকল কপি বাজেয়াপ্ত করা এবং ছাপার সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে গতকাল ২৯ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে হিউম্যান ফর হিউম্যান বাংলাদেশের পক্ষে স্মারক লিপি প্রদান করা হয়েছে। হিউম্যান ফর হিউম্যান বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রদত্ত স্মারক লিপিটি গ্রহণ করেছেন, সিলেট রেঞ্জের জিআইজি মোঃ মিজানুর রহমান পিপিএম ও সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ.জেড নূরুল হক। স্মারক লিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন হিউম্যান ফর হিউম্যান বাংলাদেশের সভাপতি রোটারিয়ান মাওলানা মোহাম্মদ আলী, সহ-সভাপতি মাওলানা ফয়ছল আহমদ, মাওলানা শিহাব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আরশাদ নোমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নাজিম উদ্দীন, অর্থ সম্পাদক মাওলানা আতিকুর রহমান মাহফুজ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা রশিদ আহমদ, সিলেট জেলা যুব জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুখতার আহমদ প্রমুখ। স্মারক লিপিতে উল্লেখ করা হয় যে, পবিত্র কোরআন আল্লাহর কালাম। এই কালামে কোন প্রকার ভুল নেই। পবিত্র কোরআনের অবমাননা এবং ভুল ছাপা কোন মুসলমান সহ্য করতে পারেননা। আমরা ধর্মীয় অনুভুতি থেকেই এসব প্রকাশনির ভুলছাপাকৃত কোরআন শরীফে সকল কপি বাজেয়াপ্তসহ ছাপাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। অবিলম্বে এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমান বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠবে। বিজ্ঞপ্তি  

বিস্তারিত»
আম্মার চেম্বারে বসতে নারাজ নয়া মুখ্যমন্ত্রী

চেন্নাই: আম্মার নির্দেশে রাজ্যের দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি৷ কিন্তু আম্মার চেম্বারে বসতে নারাজ তামিলনাড়ুর নয়া মুখ্যমন্ত্রী ও পনিরসেলভাম৷ পুরনো ঘরে বসেই কাজ চালাতে চান তিনি৷ আম্মার সঁপা দায়িত্ব নিজের ঘরে বসেই পালন করবেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী৷ আয় বহির্ভূত সম্পত্তি মামলায় জয়ললিতা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরই তামিল রাজনীতিতে দেখা দেয় সঙ্কটের  ছায়া৷ শুরু হয় উত্তরসুরির সন্ধান৷ যদিও এই কাজে বিশেষ বেগ পেতে হয়নি এআইএডিএমকে নেতাদের৷ কারণ জেলে বসেই নিজের উত্তরসুরি বেছে নেন জয়া৷দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী ও পনিরসেলভামকে মুখ্যমন্ত্রিত্ব সঁপেন তিনি৷ আম্মার প্রতি তার আনুগত্য সর্বজনবিদিত৷ এর আগে তানসি জমি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের ধাক্কায় যখন মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে পারেননি জয়া, তখনও নিরসেলভামকেই মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসিয়েছিলেন তিনি। কিছু দিন পরে জয়া  আদালত থেকে রেহাই পাওয়ার পর পনিরসেলভাম মুখ্যমন্ত্রীর গদি থেকে সরে দাঁড়িয়ে আম্মাকে ওই পদে স্বাগত জানান। এদিন চোখের জলে শপথ নেওয়ার পরই বেঙ্গালুরুর উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি৷বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল জেলে বন্দি আম্মার সঙ্গে দেখা করবেন তিনি৷- ওয়েবসাইট।

বিস্তারিত»
শাস্তি কমলো আশরাফুলের

 ঢাকা : বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ফিক্সিংয়ের দায়ে ক্রিকেটার আশরাফুলের সাজা ৩ বছর কমিয়ে ৫ বছর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটি। আশরাফুলের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে বিপিএল’র দ্বিতীয় আসরে ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স’র হয়ে চট্টগ্রাম ও মিরপুরের উইকেটে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত ‍থাকার অভিযোগে তারকা ব্যাটসম্যান আশরাফুলকে ৮ বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছিলো এ সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল । গত ১৯ জানুয়ারি থেকে চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি তার সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করে ট্রাইব্যুনাল। এরপর গত ৮ জুন বিস্তারিত রায় হয়। ওই রায়ের ফলে গত বছরের ১৩ মে থেকে নিষিদ্ধ হয়ে আছেন আশরাফুল। আপিল করার সুযোগ থাকায় গত জুলাইয়ে আশরাফুল বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটির প্রধানের বরাবর আবেদন করেন। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আশরাফুলকে ৮ বছর এবং ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শিহাব চৌধুরীকে ১০ বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করে ট্রাইব্যুনাল। সংক্ষিপ্ত রায়ের পর এক যৌথ বিবৃতিতে হতাশা ও বিস্ময় প্রকাশ করেছিল আইসিসি ও বিসিবি। আপিলের সুযোগ নিয়ে আবেদন করায় আট বছর থেকে তার নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে পাঁচ বছর করা হলো।

বিস্তারিত»
চেলসির বিপক্ষে প্রতিশোধ নিবে আর্সেনাল: চেম্বারলেইন

লন্ডন: আর্সেনাল তারকা অ্যালেক্স অক্সলেড চেম্বারলেইন জানিয়েছেন, প্রিমিয়ার লিগে আগামী সপ্তাহে (রোববার) চেলসির বিপক্ষের ম্যাচে তার দল নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করবে এবং গত মৌসুমে ব্লুজদের বিপক্ষে গানারদের ৬-০ গোলের ‘লজ্জাজনক’ পরাজয়ের প্রতিশোধ নিবে তার দল। চলতি বছরের মার্চে চেলসির বিপক্ষে ৬-০ গোলের ‘লজ্জাজনক’ পরাজয়ের ফলে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ধূলিসাৎ হয়ে যায় গানারদের। গোল ডটকমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের এই তারকা বলেন, “গত বছর যেটা হয়েছে (৬-০ গোলের পরাজয়) সেটা আমাদের এখনো মনে আছে। তবে আমরা সামনের দিকে তাকিয়ে রয়েছি। আশা করি আগামী সপ্তাহে আমরা তাদের বিপক্ষে নিজেদের প্রমান করতে পারবো, গত বছরের হারের বদলা নিতে পারবো।” জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে চেম্বারলেইন বলেন, “দল হিসেবে তারা শক্তিশালী। তবে আমরাও সেরা ফর্মে রয়েছি। তাদের বিপক্ষে পাওয়া সব সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে আমরা জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারবো বলে আশা করি।” রোববার প্রিমিয়ার লিগে চেলসির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বুধবার এমিরেটস স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে গ্যালাতেসারাই এর মুখোমুখি হবে গানাররা।  -ওয়েবসাইট

বিস্তারিত»
আ.লীগকে চরম মূল্য দিতে হবে'

ঢাকা : ৭৩-৭৪'র জঙ্গি ও বিপদগামী বামদের নসিহতে করা ৫ জানুয়ারির কুত্তামার্কা নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ২০ দলীয় জোট নেতা ও জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান। তিনি বলেন, ভোটারবিহীন নির্বাচনের আয়োজন করে এ দলটি রাজনৈতিক ভুল করেছে। গদির গরমে অনেক কিছুই বোঝা যায় না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মতো অসাধারণ নেতাকে আজীবন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখিয়েছিলো তারা। কিন্তু বাকশালের পতনের পর তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রধান বলেন, মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কোনো অবস্থাতেই ভেঙে দেওয়া যাবে না। কারণ ৭২-৭৫ এ যারা সিরাজ সিকদারসহ ৩০ হাজার দেশপ্রেমিককে হত্যা করেছে, আওয়ামী লুটপাটে হাজার হাজার মানুষকে জিন্দা লাশ বানিয়েছে, বর্তমান আওয়ামী জাহিলিয়াতে শাপলা চত্বরে অগণিত আলেম-হাফেজ-এতিমদের হত্যা করেছে, পিলখানায় দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারকে খুন করেছে, বিডিআরকে জনমের তরে শেষ করেছে, অসংখ্য বিরোধী নেতা-কর্মীদের গুম করেছে এবং লাখো শহীদের বাংলাদেশকে দিল্লির কাছে বন্ধক রেখেছে তাদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ট্রাইব্যুনাল বহাল রাখতে হবে। তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ২০ দল ক্ষমতার লোভে রাজনীতি করে না। আমরা ক্ষমতা চাই না ভোট-ভাত ও স্বাধীনতার গ্যারান্টি চাই। বড় বড় কথা না বলাই ভালো। স্বাধীনতা যুদ্ধে রণাঙ্গণে আওয়ামী নেতারা কে কোথায় ছিল আমি তা বলতে চাই না। এ ব্যাপারে স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান নেতা তাজউদ্দিন আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধের উপ-অধিনায়ক এ কে খন্দকারের কাছে জেনে নিন। মনে রাখবেন ইতিহাস কারো অঙ্গুলি হেলনে চলে না। সোমবার বেলা ১১টায় পার্টি কার্যালয়ে জামালপুর জেলা জাগপা সমন্বয়ক বাকি বিল্লাহ’র নেতৃত্বে জামালপুর ও টাঙ্গাইল থেকে আগত জাগপা, যুব জাগপা ও জাগপা ছাত্রলীগের প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎ করতে আসলে তিনি তাদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।  

বিস্তারিত»
নিউইয়র্কে গ্রামীণ আমেরিকার নতুন শাখা

ঢাকা : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গ্রামীণ আমেরিকার নতুন শাখা উদ্বোধন করেছেন নোবেলজয়ী প্রথম বাংলাদেশি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ইউনূস সেন্টার সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের হারলেমে গ্রামীণ আমেরিকার নতুন শাখা উদ্বোধন করেন ড. ইউনূস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউনূসের সঙ্গে ছিলেন গ্রামীণ আমেরিকা ইনকের (জিএআই) সিইও আন্দ্রে জাং এবং জিএআই-এর জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপকরা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিউইয়র্কে এটি জিএআই-এর সপ্তম শাখা। যুক্তরাষ্ট্রের আটটি শহরে জিএআই-এর মোট ১৯টি শাখা আছে। আমেরিকার অল্প আয়ের নারীদের শিক্ষা ও উন্নয়নে এসব শাখা কাজ করছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এক সপ্তাহ আগে নিউইয়র্কে বার্ষিক ক্লিনটন বিশ্বসভায় অধ্যাপক ইউনূস, আন্দ্রে জাং এবং হিলারি ক্লিনটন ঘোষণা করেন- ২০২০ সাল পর্যন্ত সাত হাজার নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে পাঁচ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে গ্রামীণ আমেরিকা।

বিস্তারিত»

সাক্ষাৎকার

পরীক্ষা নেওয়ারই প্রয়োজন নেই

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষার বিরোধিতা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এজন্য ভিন্ন পদ্ধতি বের করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তির পরামর্শও দিয়েছেন মন্ত্রী। আর এই পদ্ধতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেই বের করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের কষ্ট লাঘব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে মাত্র দু’জন শিক্ষার্থীর ভর্তির যোগ্যতা অর্জন, শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রোববার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলানিউজজের সঙ্গে কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী। বিগত মহাজোট সরকার এবং বর্তমান সরকারেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া মন্ত্রী শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন পরামর্শমূলক বক্তব্য রেখেছেন সাক্ষাৎকারে। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র পাঠকদের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎকারটি তুলে দেওয়া হলো। মাত্র দুজন ইংরেজিতে ভর্তির যোগ্য? মন্ত্রী: এসএসসিতে ৪০ ঘণ্টা এবং এইচএসসিতে ৪০ ঘণ্টা করে মোট ৮০ ঘণ্টার বেশি লিখিত পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীরা পাস করে। পরীক্ষায় ভাষাগত দক্ষতা, ইংরেজি জ্ঞান থাকে। আর অল্প সময়ে এমসিকিউ পরীক্ষা দিয়ে তাদের মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা যাচাই করা কোনো সঠিক পদ্ধতি নয়। আমি মনে করি, এমসিকিউ দিয়ে শিক্ষার্থীদের মান নির্ণয় করা সম্ভব না। উদাহরণ হিসেবে বলব, আল্লাহ’র নামে কেউ টিক চিহ্ন দিলেও হয়তো ৪০ নম্বর পাবে। এবার ইলেকটিভ ইংলিশ যুক্ত করা হয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে কঠিন প্রশ্ন করা হয়েছে। আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ারই কোনো প্রয়োজন নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই বাছাই প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিও সেটা বলেছেন। তিনি বলেছেন, এটা বাছাইয়ের জন্য করা হয়। এমসিকিউ দিয়ে কীভাবে মান যাচাই করবেন? শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী? মন্ত্রী: প্রতি বছরই পাসের সংখ্যা বাড়ছে। পাসের সংখ্যাই মানের মৌলিক ভিত্তি। পাসের সংখ্যা বেড়ে মান কমেনি। বরং প্রতি বছর শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক পদ্ধতিতে শিক্ষাদান করছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কী পরামর্শ? মন্ত্রী: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পরীক্ষা নিয়েছে তাদের নৈতিকতা থাকলে ইংরেজিতে ওই দু’জনকেই পড়াবেন। এর ব্যতয় হলে মনে করতে হবে শিক্ষার্থীদের হতাশাগ্রস্ত করার জন্য পরীক্ষা নিচ্ছেন। এ দেশের জনগণের টাকায় শিক্ষকরা ছাত্র থাকাকালে পড়ালেখা করেছেন, এখনও বেতন নিচ্ছেন। ছাত্রদের ভবিষত নষ্ট করবেন? তা হবে না। কঠিন প্রশ্ন দিয়ে ইংরেজিতে ভর্তির যোগ্যতা না থাকা নিয়ে ভবিষতে আমাদের শিক্ষার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। বিদেশে চাকরি, স্কলারশিপের জন্য আবেদন করলে বলবে তোমাদের তো যোগ্যতা নেই, তোমাদেরই বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে। মান বাড়ানোর কোন পরামর্শৃ মন্ত্রী: সাফল্যের পাশাপাশি আমাদের ভুলত্রুটি আছে। ছয় বছর ধরে আবেদন করেও কেউ কোনো ভুল ধরিয়ে দেয়নি। শুধু ফলাফলের পর সমালোচনা করে, বলে পাসের সংখ্যা বাড়লেও মান বাড়েনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতি বিষয়ে আপনার বক্তব্য? মন্ত্রী: যারা জালিয়াতি করে তারা জানে। কেউ কেউ বলে টাকা দিয়ে সাহায্য করবে, তারা যুক্ত আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কী বলবে? মন্ত্রী: তাদের বাছাই সিস্টেমটাই ত্রুটিপূর্ণ। একথা তাদেরই প্রমাণ করতে হবে। দায় তারাই নেবেন। ১১ লাখ পরীক্ষার্থীর মাত্র দুজন যোগ্য! এটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আপনাদের ওখানে (ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্র“প লি. এর অনুষ্ঠান) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর’র একজন শিক্ষক বলেছেন, যে প্রশ্ন করা হয়েছে তাতে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকরাই পাস করতে পারবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পরীক্ষা হচ্ছে না কেন? মন্ত্রী: অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় আমার সঙ্গে বসে একসঙ্গে গুচ্ছ পরীক্ষা নিতে চাইলেও কিছু কিছু শিক্ষক অতি লোভে পড়েৃ কোন কোন শিক্ষক পরিবর্তন চাননি। ড. জাফর ইকবালও বলেছেন, এটা অর্থ রোজগারের পরীক্ষা। এসএসসি-এইচএসসির দুটি সার্টিফিকেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়? কেন বিশ্ববিদ্যালয় তা গ্রহণ করবে না? আমরাও চাই পদ্ধতির পরিবর্তন হোক। কষ্ট কমুক। আজ চিটাগাং, কাল দিনাজপুর, পরশু অন্যত্র- এভাবে কষ্ট করলে কী পরীক্ষা দেবে। চারটি বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনভাবে চলে, নিজস্ব আইনে। প্রয়োজন হলে অভিভাবক-শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে আইন পরিবর্তন হবে, তবে এখনই আইন পরিবর্তন করতে চাই না। কোচিং বাণিজ্য বন্ধ হচ্ছে না কেন? মন্ত্রী: আমার দু’জন বন্ধু বলেছেন, প্রতি বছর ৩২ হাজার কোটি টাকার কোচিং বাণিজ্য হয়। এতে করে গ্রামের দরিদ্র শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ে। ছাত্ররা জানে কোথায় পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যাবে। সেটার জন্য তারা কোচিংয়ের পথ বেছে নেয়। মান আরও বাড়বে কীভাবে? মন্ত্রী: আমরা ১০ লাখ শিক্ষককে সৃজনশীল এবং বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। কলেজ অধ্যক্ষ, মাদ্রাসা সুপারকে ২৩ ধরনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। শিক্ষকের মান বৃদ্ধির জন্য শিক্ষক বাতায়ন নামে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি হয়েছে, নিজের মান সম্পর্কে জানতে পেরেছে। বিটিভিতে সপ্তাহে তিন দিন ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। ২০১২ সালে ১৭ বছরের পুরনো সিলেবাস পরিবর্তন করে ১১১টি নতুন বই সংযোজন করা হয়েছে, জ্ঞান উচ্চমানের শিখরে পৌঁছাবো। শিক্ষার মান আরো বাড়বে, বিশ্বমানের পৌঁছানো যাবে। ১৭টি ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটার ল্যাব দিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। যুগের সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে শিক্ষার মান বাড়িয়েছি। পরীক্ষার পর বলা অভ্যাস হয়ে গেছে, যে মান কমে গেছে। আগে ৯ জন স্কুলে যেত না, ৪৮ শতাংশ ঝরে যেত, এটা এখন নেই। পাস-ফেল নিয়ে কিছু বলুন? মন্ত্রী: পাস করার জন্যই তো শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসে, শিক্ষকরা পাস করার জন্য পড়ায়, অভিভাবকেরা স্কুলে পাঠায়। কেউ চায় না ফেল করুক। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কী বলবেন? মন্ত্রী: মেধাবী ছেলে-মেয়েদের নিরুৎসাহিত করা, হতাশ করা কোনোভাবেই ঠিক হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরাই বলবে, তারা পড়ালেখা করেছে কি না। আশা করব, তারা সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেৃ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কী বলবেন? মন্ত্রী: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্বশাসিত। কিন্তু এই স্বাধীনতা দেওয়ার মানে স্বাধীনতা দায়িত্বের সঙ্গে পালন করা, আশা করি তারা সেটা করবেন। দায়িত্বশীল হবেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। আশা করব, শিক্ষার্থীদের সর্বনাশের বিষয়ে তারা (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) বিবেচনা করবে। সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ্যে আপনার বক্তব্য কী? মন্ত্রী: যারা সমালোচনা করে তাদের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের হতাশাগ্রস্ত করা, ভবিষত প্রজন্মকে সর্বনাশের পথে ঠেলে দেওয়া। আমি মনে করি, সমালোচনা না করে আমাদের ভুল ধরিয়ে দিন। শিক্ষার্থীদের হতাশ করবেন না।

বিস্তারিত»

বিশেষ কলাম

এখন যে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে, সে সরকার কোনো বিবেচনায়ই জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার নয়

রেজোয়ান সিদ্দিকী : বাংলাদেশে এখন যে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে, সে সরকার কোনো বিবেচনায়ই জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার নয়। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে যে গণতান্ত্রিক সমাজে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হয়, সে ধারণা মুছে দেয়ার আয়োজন বর্তমান ক্ষমতাসীনেরা ২০১১-২০১২ সাল থেকেই শুরু করেছে। এখন মনে করছে এরা সেটি নিষ্পন্নের কাছাকাছি চলে এসেছে। সমীকরণটি খুব সহজ। পৃথিবীর সব স্বৈরতান্ত্রিক সরকার এ ধরনের সরল সমীকরণ করে থাকে। শেখ হাসিনার সরকারও এর ব্যতিক্রম নয়। যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের তিন বছরের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পর এ দেশে নতুন করে গণতন্ত্রের চর্চা ফিরিয়ে এনেছিল, তা পছন্দ হয়নি শেখ হাসিনার। তিনিই জামায়াতে ইসলামীর সাথে মিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের মস্তিষ্কপ্রসূত ছিল না। এ ধারণাটি এনেছিলেন জামায়াত নেতারা। শেখ হাসিনা তা লুফে নিয়েছিলেন। আর জামায়াতের সাথে জোট বেঁধে ১৯৯৫-৯৬ সালে এমন এক আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন যে, সে সময় ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার ১৯৯৬ সালের ফেব্র“য়ারিতে তাদের দাবি অনুযায়ী সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংযোজন করেছিল। সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি প্রবর্তনের সময় মেয়াদ শেষে ১৯৯৬ সালের ফেব্র“য়ারিতে বিএনপি সরকার নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়। সে সময় বেগম খালেদা জিয়া জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বলেছিলেন, সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে সবাই নির্বাচনে অংশ নিন। নির্বাচন করে সংসদে বসুন। এরপর আসুন আমরা সবাই মিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রণয়ন করি। আওয়ামী লীগ সে নির্বাচন বর্জন করেছিল। এখন অনেকেই ১৯৯৬ সালের ফেব্র“য়ারির নির্বাচনকে নিন্দামন্দ করেন। কিন্তু ওই নির্বাচন ঘোষণার প্রাক্কালে বেগম খালেদা জিয়া সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছিলেন যে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদের একমাত্র দায়িত্ব হবে সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা। সংবিধানের সে সংশোধনী পাস করার পর এই সংসদ বিলুপ্ত করে দেয়া হবে। তারপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন করা হবে। ফেব্র“য়ারির নির্বাচনে গঠিত সংসদ বিলুপ্ত হবে। তিনি যথারীতি তাই করেছিলেন। কিন্তু সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে অস্বীকার করে। বিষয়টি অদ্ভুত। এরাই দাবি করলেন, সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে। অথচ সংবিধান সংশোধনের সে প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়া থেকে শেখ হাসিনা দূরে রইলেন। তাদের এই সিদ্ধান্ত থেকেও স্পষ্ট হয় যে, প্রকৃতই এরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চেয়েছিলেন, নাকি চেয়েছিলেন সামরিক হস্তক্ষেপ? বরাবরই দেখা যায়, বিএনপি ক্ষমতাসীন থাকলে সামরিক হস্তক্ষেপ শেখ হাসিনার কাছে অতি প্রিয়। বেগম খালেদা জিয়া কথা রেখেছিলেন। ১৯৯৬ সালের ফেব্র“য়ারির নির্বাচনের পর সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন সম্পন্ন করে তিনি পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়েছিলেন। ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন, সংবিধান অনুযায়ী নবগঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে। এখন যারা ১৯৯৬ সালের ফেব্র“য়ারির সমালোচক, তারা জ্ঞানপাপী। এরা এ কথা বলতে কুণ্ঠাবোধ করেন, বিএনপি ওই নির্বাচন করেছিল শুধু আওয়ামী লীগ জামায়াতের দাবি অনুযায়ী নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনার জন্য। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেয়নি। সেটিকেও ষড়যন্ত্রমূলক বলে অভিহিত করা যায়। কিন্তু শুধু বিএনপির সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে গঠিত ফেব্র“য়ারির সংসদে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রণীত হয়, তাতে অংশগ্রহণ করে ১৯৯৬ সালেই আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়। জামায়াত তখন তাদের অতি প্রিয় সংগঠন ছিল। যুদ্ধাপরাধ, রাজাকারÑ এসব শব্দ আওয়ামী অভিধান থেকে মুছে গিয়েছিল। আওয়ামী নেতারা গিয়ে গোলাম আযমকে সালাম করেছেন। মতিউর রহমান নিজামীকে পাশে বসিয়ে নানা আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন। তখন সেটা পাপ ছিল না। পাপ হলো তখনই, যখন জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের সঙ্গ ছেড়ে বিএনপির সাথে জোট বাঁধল। কিন্তু শেখ হাসিনা সঠিকভাবে উপলব্ধি করেছিলেন, এ দেশে যদি কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের পক্ষে চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় আসীন থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে। সেই নিরপেক্ষ নির্বাচনের চাবিকাঠি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ফলে এই ব্যবস্থা কিভাবে ধ্বংস করা যায়, তার সামগ্রিক আয়োজন তিনি করতে শুরু করেন। এ দেশে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর যে আঁতাতের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেটা সবাই অবগত আছেন। সে সময়কার মইন উ আহমেদের সামরিক সরকার আওয়ামী লীগ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আঁতাত করে নিজেদের চামড়া বাঁচানোর জন্য আওয়ামী লীগকেই ক্ষমতায় রেখে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। মইন উ আহমেদ ছিলেন উচ্চাভিলাষী। কিন্তু তার বিদ্যা-বুদ্ধি ও সাধারণ জ্ঞানের অভাব ছিল। তার কথাবার্তা শুনে সে সময় তাকে অনেকেই প্রতিবন্ধী বলে অভিহিত করত। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী হয়েছেন। আর ২০০৭-২০০৮ সালে ক্ষমতায় থেকে এমন সব ইতর কর্মকা- করেছেন ও করিয়েছেন যে, শেখ হাসিনাও তাকে নিজের লোক বলে স্বীকার করছেন না। তার প্রসঙ্গ এলেই তিনি অভিযোগ করছেন যে, বেগম খালেদা জিয়া ছয়-সাত জনকে ডিঙিয়ে তাকে সেনাবাহিনী প্রধান করেছিলেন। তার দায়িত্ব আমরা নেবো কেন? অথচ রক্ষীবাহিনী থেকে সেনাবাহিনীতে আত্তীকরণ করা মেজর জেনারেল মাসুদউদ্দিনকে শেখ হাসিনা কী যে ভালোবাসেন, তার প্রমাণ চলছেই। মাসুদউদ্দিনকে তিনি অবিরাম অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত হিসেবে চাকরির মেয়াদ বাড়িয়েই যাচ্ছেন। বলিহারি। এসব কিছুই অতীত। কিন্তু বর্তমানে আমরা নাগরিকেরা বড় বেশি বিপন্ন হয়ে পড়েছি। কারণ শেখ হাসিনা সংবিধান সংশোধন করে ইতোমধ্যেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছেন। কারণ, তিনি জানতেন বা জানেন যে, আওয়ামী লীগ তার শাসনামলে যে পরিমাণ অপকর্ম করেছে, তাতে ভবিষ্যতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসা তাদের পক্ষে আর সম্ভব হবে না। আর নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তাদের বিজয়ের সম্ভাবনা শূন্য। তাই শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে দিলেন। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে জনগণ আওয়ামী লীগের অপশাসন, দুঃশাসন, লুণ্ঠন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সুযোগ পেত। সংবিধানে যতই বলা থাক না কেন জনগণই রাষ্ট্রের মালিক, আওয়ামী লীগার হিসেবে রাষ্ট্রের মালিক-মোক্তার তারাই। সংবিধান সেটাই, যা শেখ হাসিনা বলবেন। এর মধ্যে নতুন যুক্ত হয়েছে, শেখ মুজিবকে হত্যার আন্দোলনকারীদের অন্যতম একাধিক ব্যক্তি যারা শেখ হাসিনার চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার এবং মনে হচ্ছে, শেখ হাসিনার কাছে তাদের ডিকটেশনের মূল্য অনেক বেশি। আওয়ামী লীগের বনেদি নেতা তোফায়েল, আমু, সুরঞ্জিত এখন নিজেদের ট্র্যাকে রাখতে খুব ব্যস্ত। কারণ শেখ হাসিনা ফরগেট করেছেন, ফরগিভ করেননি। টাকার বস্তা ও কালো বিড়াল খ্যাত সুরঞ্জিতকে নিয়ে ভাবি না, আমির হোসেন আমুও ব্যাপার নন, সবচেয়ে কষ্ট হয় তোফায়েল আহমেদের জন্য। শেখ হাসিনা যখন দৃষ্টিসীমার অনেক দূরে ছিলেন, তখন তোফায়েল আহমেদই ছিলেন তারুণ্যের অন্যতম কণ্ঠস্বর। হাহ, কী নগ্ন আত্মসমর্পণ! ভাবতে লজ্জা লাগে। তবুও আওয়ামী লীগ মানেই আওয়ামী লীগ। সত্য তাদের কাছে বিরক্তিকর। তোফায়েল আহমেদ মুক্তিযোদ্ধা সাজার কাহিনীও এখন অনেক স্পষ্ট হয়ে গেছে। তাতেও শেখ হাসিনার ভালোবাসা পাওয়া যায়নি। হাছান মাহমুদ, সুরঞ্জিত বা হানিফের মতো অমন জায়গায় দাঁড়িয়ে গেছেন তোফায়েল আহমেদ। ব্যক্তিগতভাবে আমার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। কিন্তু কোথায় আটকে গেলাম? আটকে গেছি এইভাবে যে, সরকার একের পর এক এমন সব আইন প্রণয়ন করছে যে, সত্য প্রকাশ অসম্ভব হয়ে গেছে। সরকার একের পর এক আইন জারি করছে। জারি করেছে বিচারপতিদের অভিশংসন আইন, জারি করেছে সাইবার অপরাধ আইন, জারি করেছে সম্প্রচার নীতিমালা, সংশোধন করছে প্রেস কাউন্সিল আইন। তার ওপর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বামী-স্ত্রীর রাজনীতি করার অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ। এসবই এ দেশের মানুষকে শিকলবন্দী করার পরিকল্পনা। ৫ জানুয়ারির অনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে যেসব আইন পাস করা হচ্ছে, তার বৈধতার দায়দায়িত্ব কার? শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে যে হাসানুল হক ইনু গণবাহিনী গঠন করে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করেছিলেন, তিনি এখন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যমন্ত্রী। তার কথায়ই শেখ হাসিনা সংসদে টুঁ শব্দ ছাড়াই পাস করে নিলেন সম্প্রচার নীতিমালা। পুলিশ অন্যায় করলে প্রকাশ করা যাবে না। র‌্যাব খুন করলে প্রকাশ করা যাবে না। কারণ এতে তাদের ভাবর্মর্যাদা নষ্ট হবে। এসব বাহিনীর ভাবমর্যাদা নষ্ট করা কোনো ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জন্য সঙ্গত হবে না। তাদের জন্য শাস্তি। আচ্ছা, শাস্তি দিলে বিচার বিভাগ যদি মনে করে এই শাস্তি যথোপযুক্ত নয়, সেটাও তো মেনে নেয়া যায় না। অতএব যে বিচারক এ রকম মনে করবেন, তাকে অভিশংসন করবে একটি অনির্বাচিত সংসদ। ইতোমধ্যে আর এক আইন পাস হয়ে গেছে। তার নাম সাইবার অপরাধ। কী আশ্চর্য, এক তরুণ শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে গান লিখে এখন সাত বছরের কারাদ- ভোগ করছে। সাইবার অপরাধে তার এই দ- হয়েছে। কটূক্তি করা যাবে না। সমালোচনা করা যাবে না। সরকার যা চায়, তার বাইরে কিছু বলা যাবে না। কটূক্তি কাকে বলে, আমরা জানি না। ওই গানে শেখ মুজিব বা শেখ হাসিনা সম্পর্কে সাইবার তরুণ কী লিখেছিলেন, তাও আমার দেখতে ইচ্ছে করেনি। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কটূক্তি করা যাবে না। এতে যদি সাত বছরের জেল হয়, তাহলে বেগম খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমান, কাদের সিদ্দিকী, এ কে খন্দকার, তাদের বিরুদ্ধে যেসব কটূক্তি করা হচ্ছে এদের বিরুদ্ধে কি ৭০০ বছর জেল হওয়া দরকার? সরকারকে সেটাও ভেবে দেখতে হবে। সর্বশেষ, এত দিন পর্যন্ত এর সবই ছিল ইলেকট্রনিক মিডিয়াসংক্রান্ত। অনলাইন সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণের অধীনে চলে আসবে। বেসরকারিভাবেও যদি টিকে থাকতে হয়, তাহলে সরকারি কীর্তন করতেই হবে। সরকারের তল্পিবাহক মিডিয়াগুলোও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট সংশোধনের মাধ্যমে সরকার যখন প্রিন্ট মিডিয়ার ওপর হামলার উদ্যোগ নিয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে আমাদের জানা নেই যে, প্রেস কাউন্সিল, যে প্রতিষ্ঠান সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত, সেই প্রতিষ্ঠানটিকেই সংবাদপত্রের ডিকারেশন বাতিল, জরিমানা করা, শুল্কমুক্ত কাগজ আমদানির সুবিধা রদ করা ইত্যাদি ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে। সেই সাথে এমন ব্যবস্থা করা হচ্ছে যে, কেউ যদি সাংবাদিক হতে চায়, তবে তাকে পরীক্ষা দিয়ে প্রেস কাউন্সিল থেকে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে। কে কল্পনা করেছিল যে, বাংলাদেশে এমন মগের মুল্লুক চালু হবে! কথা এখানেই শেষ নয়। আরো একটি আইন করছে সরকার। যেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের স্বামী কিংবা স্ত্রী কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারবেন না। তার অর্থ দাঁড়াল এই যে, কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক কেউ সরকারি চাকরিতে যোগ দিতে পারবেন না। আমার স্ত্রী বা স্বামী যদি রাজনীতি করেন, তবে তাকে হাজারবার বিবেচনা করতে হবে তিনি কোন দল করবেন। অর্থাৎ স্ত্রী সরকারি চাকরি করেন, স্বামী রাজনীতি করেন এটি সম্ভব হবে না। নিশ্চিতভাবে ধরে নেয়া যায় যে, সেই স্বামী যদি সরকারি দল সমর্থক হন, তাহলে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু তিনি যদি বিরোধী দল সমর্থক হন, তাহলে তার চাকরি থাকবে না। এটি সংবিধানের মৌলিক অধিকার লক্সঘন। ব্যক্তিস্বাধীনতার পরিপন্থী। সরকার তেমন উদ্ভট আইনই প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। তাহলে নাগরিকদের কী উপায়? তারা কি জিঞ্জিরাবদ্ধ হয়েই থাকবেন? এসব অত্যাচার উৎপীড়নের বিরুদ্ধে তারা কি কোনো প্রতিবাদই করবেন না? সাধারণ নাগরিকেরা জীবন-জীবিকা নিয়ে দৈনন্দিন ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু যখন তারা প্রতিবাদ করেন, সে প্রতিবাদ মহাসমুদ্রের বিশাল জলোচ্ছ্বাসের মতো গোটা দেশ ভাসিয়ে নিয়ে চলে যায়। শেখ হাসিনা সরকার এখন সেই দুর্দিনের অপেক্ষায়।

বিস্তারিত»

এক্সক্লুসিভ

মৃত্যুদণ্ড দেশে বিদেশে যুগে যুগে (১৭): বিশ্ব পরিস্থিতি ও মুসলিম দেশসমূহ শফিক রেহমান

বাংলাদেশে আলোচিত কার্যকর ও অকার্যকর মৃত্যুদণ্ড (১৬) গত পর্বের পর ১৬ মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে ৯ মে ২০১৩-তে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইবুনাল (আইসিটি) মৃত্যুদণ্ড দেয়। ট্রাইবুনাল তার রায়ে বলে, রাষ্ট্রপক্ষের আনা সাতটি অভিযোগের মধ্যে পাচটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু কামারুজ্জামানের পক্ষে আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির বলেন, ওই পাচটি অভিযোগে (চার্জে) শাস্তির বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। তিনি ট্রাইবুনালের ফাইন্ডিংস পর্যবেক্ষণ এবং নীতিভ্রষ্ট বলে মন্তব্য করেন। ট্রাইবুনালের রায়ে আরো বলা হয়, উর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় বেসামরিক নেতাদের ওপরও বর্তায়। কারণ, অধস্তন বা প্রকৃত অপরাধীর ওপর তাদের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ থাকে। এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, অপরাধগুলো সংঘটিত হয়েছে দুটি আল বদর ক্যাম্পে অথবা আল বদর সদস্যদের মাধ্যমে অথবা আহম্মেদনগর সেনা ক্যাম্প থেকে। আল বদর ক্যাম্পগুলোতে অথবা আল বদর সদস্যদের ওপর কামারুজ্জামানের দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ ছিল। আইসিটির এই রায়ের বিপরীতে আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির বলেন, আদালতে কোনো সাক্ষীই বলেনি যে, কামারুজাম্মান কাউকে নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ রাষ্ট্রপক্ষ বলেছেন, কামারুজ্জামান নির্দেশ দিয়েছেন। আইসিটির রায়ের বিরুদ্ধে ৬ জুন ২০১৩-তে আপিল করা হয়। ১৮ মে ২০১৪ থেকে আপিল শুনানি শুরু হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪-তে দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে সুপৃম কোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ, মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে। ১৭ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইবুনাল ১ অক্টোবর ২০১৩-তে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেয়। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর-এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল তাদের রায়ে বলে, রাষ্ট্রপক্ষের আনা ২৩টি অভিযোগের মধ্যে ৯টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এই অভিযোগের মধ্যে চারটিতে মৃত্যুদণ্ড, তিনটিতে বিশ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুটিতে পাচ বছর করে কারাদণ্ড দেয় আইসিটি। মোট ছয়বার এমপি নির্বাচিত হওয়া সুবক্তা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীই প্রথম কোনো বিএনপি নেতা যার বিরুদ্ধে আইসিটি মৃত্যুদণ্ড দেয়। বিচারপতি যখন রায় পড়া শুরু করেন সেই সময় কাঠগড়ায় বসে থাকা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, এসব তো আগেই বিভিন্ন অনলাইনে ফাস হয়ে গেছে। এগুলো পড়ে কি করবেন? রায়ের পরে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী ফখরুল ইসলামও একই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আজ যে রায় ঘোষণা করা হয়েছে তার হুবহু কপি কয়েকদিন আগেই ইন্টারনেটে ফাস হয়ে গেছে। প্রশ্নপত্র ফাস হলে কি তার উপর পরীক্ষা হয়? কাজেই রিট্রায়াল হওয়া উচিত। তা না হলে আমরা মনে করবো আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। তবে অনলাইনে রায় ফাস হয়ে যাবার বিষয়টিকে নাকচ করে দেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ ‘অনুমান নির্ভর’। আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, রায় ফাস হয়ে যাবার যে অভিযোগ করা হচ্ছে সেটি বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি ষড়যন্ত্র। কিন্তু অনলাইনে খবর ও অন্যান্য প্রসঙ্গ পড়তে অভ্যস্ত পাঠকরা বলেন, এটর্নি জেনারেল এবং আইন প্রতিমন্ত্রী সম্ভবত অনলাইন বিষয়ে অজ্ঞ অথবা অনভ্যস্ত। তাই তারা বিশ্বের আধুনিকতম মিডিয়া সম্পর্কে অবলীলায় এমন মন্তব্য করেছেন। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে যখন আদালতে আনা হয় তখন তিনি হাসি মুখে ছিলেন। রায় পড়ার সময় কিংবা তার পরেও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং তার পরিবারের সদস্যদের একেবারেই বিচলিত কিংবা উদ্বিগ্ন মনে হয়নি। রায় পড়ার সময় তারা মাঝে মাঝে নিজেদের মধ্যে কথা বলেন এবং হাসিমুখেই ছিলেন। বিচারপতিরা যখন রায় পড়েন তখন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী প্রায়ই কিছু মন্তব্য করেন। রায় ঘোষণার পরপরই তিনি বলেন, আইন মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সম্পর্কে ট্রাইবুনাল রায়ে কিছু পর্যবেক্ষণ দেয়। ট্রাইবুনাল বলে তিনি ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন কিন্তু তার আচরণ ছিল আদালতের প্রতি অসম্মানজনক এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ। তবে রায়ের ক্ষেত্রে সে আচরণের কোনো প্রভাব পড়েনি বলেও ট্রাইবুনাল উল্লেখ করে। এ সময়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, ‘নেভার’ (ঘবাবত্, কখনোই না) । অর্থাত্, তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো আচরণ তিনি কখনোই করেননি। মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রবণতা বাংলাদেশে বাড়ছেই বাংলাদেশে সেপ্টেম্বর ২০১৪-তে অন্তত ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জয়পুরহাটে যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রী রুলিয়া বেগমকে ১৯৯৯-এ শ্বাসরোধ করে হত্যার অপরাধে স্বামী মোকাররম হোসেনকে (৩৯) জয়পুরহাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মিজানুর রহমান সেপ্টেম্বর ২০১৪-তে এই রায় দেন। সুনামগঞ্জে একটি বাকবিতণ্ডার পরে বাবা হাশমত আলীকে ২০০৪-এ কুপিয়ে হত্যা করে তার ছেলে মোসলেম উদ্দিন। এই অপরাধে সেপ্টেম্বর ২০১৪-তে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান মৃত্যুদণ্ড দেন মোসলেম উদ্দিনকে। লক্ষীপুরে ১৮ জুলাই ২০১২-তে স্কুল ছাত্রী স্মৃতি রানী সীমাকে (১৩) ধর্ষনের পর হত্যার দায়ে আদালত সেপ্টেম্বর ২০১৪-তে ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড দেন। লক্ষীপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মঞ্জুরুল বাছিদ এই রায় দেন। মামলায় অপর ১৪ জন আসামিকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। লক্ষীপুরে একটি মামলায় ১০ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ ছিল এই প্রথম। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে পাচজন পলাতক। ঢাকার ধামরাই উপজেলার চৌহাট ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরচৌহাট গ্রামের নাজমুল হুদা পান্নাকে ৬ মার্চ ২০১২-তে কুপিয়ে হত্যার দায়ে দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক এবিএম সাজেদুর রহমান ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪-তে আবদুর রশিদকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আবদুর রশিদ এখন পলাতক। একই মামলায় ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় যার মধ্যে দুইজন পলাতক। অন্য আট অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। জাতিসংঘের তথ্য জাতিসংঘের একটি সূত্রের মতে জাতিসংঘের ১৯৫টি স্বাধীন সদস্য দেশগুলোর মধ্যে : · ১০০টি দেশ (৫১%) মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ করেছে। · ৭টি দেশ (৪%) মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে শুধু খুবই অসাধারণ পরিস্থিতিতে সংঘটিত অপরাধের জন্য, যেমন যুদ্ধের সময়ে। · ৪৮টি দেশ (২৫%) সাধারণ অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেও অন্তত ১০ বছর তারা সেটা কার্যকর করেনি। · ৪০টি দেশ (২০%) আইনত এবং কার্যত মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে। চায়নাতে সবচেয়ে বেশি চায়নাতে প্রতি বছরে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে জনসংখ্যার অনুপাতে ইরান ও সিংগাপুরে প্রতি বছরে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। চায়না পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার যে সংখ্যা চায়নিজ সরকার প্রকাশ করে, তার চাইতে প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি। দুই হুয়া ফাউন্ডেশন (উঁর ঐঁধ ঋড়ঁহফধঃরড়হ)-এর হিসাব মতে ২০০৯-এ চায়নাতে ৫,০০০ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। অর্থাত্, বিশ্বের অন্যান্য সব দেশে সম্মিলিতভাবে যতজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে তার চাইতে অনেক বেশি। তবে চায়নিজ সরকার পরিচালিত বিভিন্ন জনমত জরিপে জানা যায় অধিকাংশ চায়নিজ নাগরিক মৃত্যুদ–ের পক্ষপাতী। কমিউনিস্ট চায়নার প্রয়াত দুই নেতা, মাও সে তুং এবং দেং জিয়াও পিং, উভয়েই মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে ছিলেন। কমিউনিস্ট রাশিয়ারও প্রয়াত দুই নেতা, ভদ্মাদিমির লেনিন ও জোসেফ স্টালিন, উভয়েই মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু কমিউনিস্ট আদর্শ ও নীতির উদগাতা কার্ল মার্কস ও ফ্রেডারিখ এংগেলস, উভয়েই মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী ছিলেন। তারা মনে করতেন মৃত্যুদণ্ড হচ্ছে পুজিবাদী পীড়ন (ঈধঢ়রঃধষরংঃ ড়ঢ়ঢ়ত্বংংরড়হ)-এর প্রতীক। আমেরিকায় সীমিত ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকা বা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৩২টিতে মৃত্যুদণ্ড বহাল আছে। তবে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীতে মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ সীমিত রাখা হয়েছে। এর ফলে মানসিকভাবে সুস্থ ব্যক্তি কোনো নৃশংস খুন করলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে। ২০১০-এ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে ১৯ জন দণ্ডিত ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ওই বছরে ডেথ রো-তে ছিলেন ৩,১০৮ দক্ষিত ব্যক্তি। ২০১৪-তে আমেরিকায় দু’টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময়ে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় এই বিষয়টি নিয়ে আবার জোরালো বিতর্ক চলছে সেই দেশে। আগামী পর্বে আমেরিকায় সর্বশেষ কয়েকটি ঘটনা নিয়ে লেখা থাকবে। শ্রী লংকায় সমস্যা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে গিয়ে ২০১৪-তে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে শ্রী লংকা। ১১ মার্চ ২০১৪-তে শ্রী লংকার কমিশনার জেনারেল অফ পৃজনস চন্দ্ররত্ন পালেগামা বলেন, ভবিষ্যতে কোনো জল্লাদকে ট্রেইনিং দেয়ার আগে তাকে ফাসির মঞ্চ দেখান হবে। তিনি জানান, সর্বশেষ যে জল্লাদকে নিয়োগ করা হয়েছিল, সে তার জীবনে সর্বপ্রথম ফাসির মঞ্চ দেখার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং চাকরি ছেড়ে দেয়। এই ব্যক্তিকে ১৭৬ জন আবেদনকারীর মধ্য থেকে নির্বাচিত করা হয়েছিল। এর আগে দু’জনকে নিয়োগপত্র দিলেও জয়েনিং তারিখে তারা উপস্থিত হয়নি। কমিশনার জেনারেল অফব পৃজনস বলেন, এই লোকটিকে আমরা এক সপ্তাহ ট্রেইনিং দিয়েছিলাম। তারপর ফাসির মঞ্চ দেখে সে বলে, এই কাজ করতে সে ইচ্ছুক নয়। সে বলে, সে খুব আপসেট হয়ে পড়েছে... এরপর আমরা যাকেই নিয়োগ করি না কেন, তাকে আগে ফাসির মঞ্চ দেখিয়ে তারপর বেসিক ট্রেইনিং দেই। শ্রী লংকার ৬৯% মানুষ বৌদ্ধ ধর্ম অবলম্বী। ১৯৭৬-এর পরে শ্রী লংকায় কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি, যদিও ডেথ রো-তে দ–িত ৪০৫ জন অপরাধী আছে। মুসলিম দেশগুলোর অবস্থান এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্টে জানা যায়, বিশ্বের মোট ৫৩টি মুসলিমপ্রধান দেশের (আফৃকা ২৪, এশিয়া ২৪ ও ইওরোপ ৫) মধ্যে ১২টি দেশ মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ করেছে। এই ১২টি দেশ হচ্ছে : · ইওরোপে (৫) এলবানিয়া, আজারবাইজান, বসনিয়া-হার্জগভিনা ও টার্কি। · আফৃকাতে (৪) আইভরি কোস্ট, জিবুতি, গিনি বিসাউ ও সেনেগাল। · এশিয়াতে (৩) কিরগিস্তান, টার্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তান। নিচে মৃত্যুদণ্ড বিষয়ে মুসলিম দেশগুলোর অবস্থান লিস্ট দেওয়া হলো। উল্লেখ্য যে, ১. ব্রুনেই ও মালদ্বীপে শেষ যে বছরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় তখন দেশ দুটি বৃটিশ কলোনি ছিল। ২. কসোভোর মুসলিম জনসংখ্যা কত এবং কোন সালে সেখানে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ হয় সেই তথ্য পাওয়া যায়নি। ৩. ব্র্যাকেটে বিভিন্ন দেশের মুসলিম জনসংখ্যা দেওয়া হয়েছে ২০১২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী। দেশের নাম শেষ যে বছরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর যে বছরে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ আফগানিস্তান (৯৯%) ২০১৩ এলবানিয়া (৬৫%) ১৯৯৫ ২০০৭ এলজেরিয়া (৯৯%) ১৯৯৩ আজারবাইজান (৯৬%) ১৯৯৩ ১৯৯৬ বাহরেইন (৯৯%) ২০১০ বাংলাদেশ (৮৮%) ২০১৩ বসনিয়া-হার্জগভিনা (৪০%) ১৯৯২ ১৯৯৮ ব্রুনেই (৬৭%) ১৯৫৭ বুরকিনা ফাসো (৬০%) ১৯৮৮ শাদ (৫৪%) ২০০৩ কমোরোস (৯৯%) ১৯৯৭ আইভরি কোস্ট (৩৫%) ১৯৬০ ২০০০ জিবুতি (৯৯%) ১৯৭৭ ১৯৯৫ ইজিপ্ট (৯১%) ২০১৪ ইরিটৃয়া (৫০%) ১৯৯৩ ইথিওপিয়া (৪৫%) ২০০৭ গামবিয়া (৯০%) ২০১২ গিনি (৮৫%) ২০০১ গিনি বিসাউ (৩৮%) ১৯৮৬ ১৯৯৩ ইন্দোনেশিয়া (৮৮%) ২০১৩ ইরান (৯৮%) ২০১৪ ইরাক (৯৭%) ২০১৪ জর্ডান (৯২%) ২০০৬ কাজাখস্তান (৪৭%) ২০০৩ কসোভো (?) ২০০৮(?) ২০০৮(?) কুয়েত (৭০%) ২০১৩ কিরগিস্তান (৮০%) ১৯৯১ ২০০৭ লেবানন (৬২%) ২০০৪ লিবিয়া (৯৭%) ২০১০ মালয়শিয়া (৬০%) ২০১৩ মালদ্বীপ (?) ১৯৬৫ মালি (৯০%) ১৯৮০ মরিটানিয়া (৯৯%) ১৯৯৫ মরক্কো (৯৯%) ১৯৯৩ নাইজার (৯০%) ১৯৭৬ নাইজেরিয়া (৫০%) ২০১৩ ওমান (৭৫%) ২০০৭ পাকিস্তান (৯৬%) ২০১২ কাতার (৭৫%) ২০০৩ সৌদি আরব (১০০%) ২০১৪ সেনেগাল (৯৪%) ১৯৬৭ ২০০৪ সিয়েরা লিওন (৬০%) ১৯৯৮ সোমালিয়া (?) ২০১৪ সুদান (৭০%) ২০১৩ সিরিয়া (৯০%) ২০১৩ তাজিকিস্তান (৯৭%) ২০০৪ টানজানিয়া (৩৫%) ১৯৯৪ টিউনিসিয়া (৯৯%) ১৯৯১ টার্কি (৯৯%) ১৯৮৪ ২০০৪ টার্কমেনিস্তান (৮৯%) ১৯৯৭ ১৯৯৯ ইউএই (৭৬%) ২০১৪ উজবেকিস্তান (৯১%) ২০০৫ ২০০৮ ইয়েমেন (?) ২০১৩ ইরানি কবি হাশেম শাবানির ফাসি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে জনসংখ্যার অনুপাতে ইরানে প্রতি বছরে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। জানুয়ারি ২০১৪-তে কবি হাশেম শাবানি-র (৩২) ফাসি বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় তোলে। ইরানের সংখ্যালঘু আহওয়াজি আরব সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন কবি শাবানি। আহওয়াজি আরবদের একটি নিষিদ্ধ সংস্কৃতিক সংগঠনের অন্যতম নেতা ছিলেন শাবানি। ২০১১-তে তিনি এবং অন্তত আরো চার ইরানি আরব সহযোগী গ্রেফতার হয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক মানব অধিকার সংস্থাগুলো বলে শাবানি ও তার সহযোগীদের অন্যায় বিচার ও মৃত্যুদণ্ড হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার এক মাস আগে শাবানিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে হাজির করানো হয়। সেখানে তিনি আত্মসমালোচনা করেন এবং অপরাধ স্বীকার করেন। কিন্তু ইরানে সক্রিয় কর্মীরা বলেন, ওই স্বীকৃতি দিতে শাবানিকে বাধ্য করা হয়েছিল। শাবানির জন্ম হয়েছিল ইরানের দক্ষিণ—পশ্চিমে খুজেস্তান প্রদেশে রামশির-এ। ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধের (মোহারেবে) অভিযোগে তাকে ফাসি দেওয়া হয়। বলা হয়েছিল, ইরানে বিচ্ছিন্নতাবাদী একটি সন্ত্রাসী সংস্থার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। সংবাদে জানানো হয়, শাবানির সঙ্গে তার এক সহযোগী সাংস্কৃতিক কর্মী হাদি রাশেদি-রও ফাসি হয়। ইরানি হিউম্যান রাইটস গ্রুপ (আইএইচআর, ওঐজ) -এর মতে, জেল কর্তৃপক্ষ ওই দুইজনের পরিবারকে জানিয়েছিল জানুয়ারি ২০১৪-তে তাদের ফাসি হয়ে গিয়েছে কিন্তু ফাসির কোনো তারিখ, সময় এবং স্থানের নাম জানানো হয় নি। তাদের সঙ্গে ধৃত আরো তিন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে সেটা জানা যায় নি। ইরানের মানব অধিকার কর্মীরা বলেন, ওই দুইজন আল-হাইওয়ার (অষ- ঐরধিত্ বা সংলাপ) নামে আরবি সাহিত্য ও শিন্কলায় নিবেদিত সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটের সদস্য ছিলেন। ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি-র সংস্কারমুখি কর্মসুচির অনুসরণে এই ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু ২০০৫-এ তেল সমৃদ্ধ খুজেস্তান প্রদেশের ইরানি আরব সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রাদেশিক রাজধানী আইওয়াজে ব্যাপক বিক্ষোভের অজুহাতে তাদের ইন্সসিটিটিউট নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরব সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ইরান সরকার দমন নীতি চালিয়ে গণগ্রেফতার করেছে এবং গোপন আদালতে আরবদের গণবিচার করে কড়া শাস্তি দেওয়া হয়। ইরানের আরেকটি মানব অধিকার সংস্থা, জাস্টিস ফর ইরান, গবেষণা করছে ইরানি আরবদের সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রতিষ্ঠায় তাদের সংগ্রামের বিষয়টি। জাস্টিস ফর ইরান জানিয়েছে, শাবানি বিবাহিত ছিলেন এবং তার একটি তিন বছরের কন্যাসন্তান আছে। গ্রেফতার হবার আগে আহওয়াজ ইউনিভার্সিটিতে শাবানি পলিটিক্সে মাস্টার্স ডিগৃর জন্য পড়াশোনা করছিলেন। ইউনিভার্সিটিতে তিনি আখলাম—ওলতালাকে (ছাত্রদের কলম) নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন। এই পত্রিকায় আরবি কবিতা প্রকাশিত হতো। উল্লেখ্য, ইরানের প্রধান ভাষা ফার্সি। ২০০২-এ ইউটিউবে পোস্ট করা একটি ছবিতে শাবানিকে তার লেখা কবিতা পড়তে দেখা যায়। এমনেস্টি ইন্টারন্যশনালের ইরান বিশেষজ্ঞ ড্রুয়ারি ডাইক (উত্ববিত্ু উুশব) লন্ডনের দি গার্ডিয়ান পত্রিকাকে বলেন, হাশেম শাবানি ছিলেন একজন শিক্ষক, কবি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় স্বাধীনচেতা ব্যক্তি। ইরানের আহওয়াজি আরব সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিচারিকভাবে হত্যা (জুডিশিয়াল কিলিং) করা হচ্ছে এবং তারই ধারাবাহিকতায় শাবানিকে গোপনে ফাসি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এর কিছুদিন আগে আহওয়াজি আরব এলাকায় সফরের সময়ে সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের নিন্দা করেছিলেন। আমেরিকা ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মুখপাত্র ফরাজ মানেই বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়ে বলেছেন, শাবানা ও রাশেদির ফাসি ছিল ঘোর অন্যায়। আত্মসমর্থনের সুযোগ দেওয়ার আগে তাদের দীর্ঘকাল আটক রেখে দৈহিক ও মানসিক টর্চার করা হয়েছিল। এখন কর্তৃপক্ষ তাদের কবর দেওয়ার জন্য মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে রাজি হচ্ছে না। ... ইরানের বিচার বিভাগ সংখ্যালঘু মানব অধিকার কর্মীদের খুব দ্রুতগতিতে ফাসিতে যে ঝুলিয়ে দিচ্ছে এই ঘটনা তার আরেকটি দৃষ্টান্ত। ইরানে দীর্ঘকাল জুড়ে আহওয়াজি আরব সম্প্রদায় শিক্ষা, রাজনীতি, কর্ম সংস্থান এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বৈষম্যের প্রতিবাদ করে আসছে। এরা সবাই ইরান থেকে বিচ্ছিন্ন হবার পক্ষপাতী নয়। কিন্তু বিচ্ছিন্নতাবাদি হবার অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড হচ্ছে। ইরানে কিশোরি আতেফার মৃত্যুদণ্ড সাম্প্রতিক কালে ইরান স্বদেশে ও বিদেশে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয় ১৬ বছরের কিশোরী আতেফা রাজাবি সালেহ-কে ফাসি দেওয়ায়। আতেফার বয়স যখন পাচ তখন তার মা একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন। এর কয়েক দিন পরে তার ছোট ভাই নদীর পানিতে ডুবে মারা যায়। শোকে দুঃখে আতেফার পিতা ড্রাগস আসক্ত হয়ে পড়ে। আশি উর্ধ দাদা-দাদিকে দেখাশোনার দায়িত্ব কিশোরী আতেফাকে নিতে হয়। কিন্তু এই পরিচর্যার বিনিময়ে কোনো দিনই কোনো মায়া-মমতা ওই বৃদ্ধ জুটি দেখাননি আতেফার প্রতি। আতেফা বেড়ে ওঠে ইরানের নেকা শহরে যেখানে সে পরিচিত হয় বু্রিমতি ও প্রাণোচ্ছল মেয়ে হিসেবে। বাড়িতে তার কোনো বন্ধন ছিল না। তাই সে প্রায়ই পথে ঘুরে বেড়াত। আতেফার এই আচরণের সুযোগ নিয়ে ৫১ বছর বয়সী এক পুরুষ তাকে ধর্ষণ করে। আলি দারাবি নামে এই পুরুষটি এক সময়ে বিপ্লবী সেনাবাহিনীতে কাজ করত। পরে ট্যাক্সি ড্রাইভার হয়েছিল। সে বিবাহিত ছিল এবং তার ছেলেমেয়ে ছিল। আতেফাকে একবার ধর্ষণ করে আলি দারাবি থেমে যায়নি। সে বুঝেছিল গভীর লজ্জায় বিষয়টি আতেফা কাউকে খুলে বলতে পারবে না। এমনকি তার দাদা-দাদিকেও নয়। (বাংলাদেশেও বহু ধর্ষিতা নারী কলংকিনী রূপে সমাজে অপমানিত হবার আশংকায়, ধর্ষণ এবং ধারাবাহিক ধর্ষণের ঘটনা আজীবন গোপন রাখেন।) এরপর আলি দারাবি টানা তিন বছর আতেফাকে ধর্ষন এবং বিভিন্ন ধরনের যৌন টর্চার করে যায়। বিষয়টি পুলিশ জানার পরে আতেফাকে গ্রেফতার করে। তখন জেলে থাকা অবস্থায় আতেফা তার দাদিকে ঘটনাটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বলে। আতেফা বলে তাকে আলি দারাবি এত যৌন অত্যাচার করতো যে এক সময়ে সে ব্যথায় হাটাচলা করতে পারত না। হামাগুড়ি দিয়ে চলতে হতো। আদালতে বিচারক ছিলেন হাজি রেজাই। আতেফা যখন বুঝতে পারে যে বিচারক তার কথা বিশ্বাস করছেন না এবং ফলে তার শাস্তি হবেই, তখন সে তার হিজাব খুলে বলে, শাস্তি হওয়া উচিত আলি দারাবির —তার নয়। ইরানে হিজাব খোলাটাকে চরম আদালত অবমাননা রূপে গণ্য করা হয়। রাগে দুঃখে আতেফা আদালতকে আরো অপমান করে। একপর্যায়ে সে তার জুতা খুলে বিচারককে ছুড়ে মারে। এরপর বিচারক তাকে ব্যভিচার ও ‘কুমারিত্বের বিরুদ্ধে অপরাধের’ দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়টি আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র সমালোচিত হয়। কারণ ‘নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি’-তে (ওহঃবত্হধঃরড়হধষ ঈড়াবহধহঃ ড়হ ঈরারষ ধহফ চড়ষরঃরপধষ জরমযঃং) ইরান অন্যতম স্বাক্ষরদাতা দেশ যেখানে ১৮ অনূর্ধ্ব কাউকে মৃত্যুদণ্ড না দিতে ইরান অঙ্গীকার আবদ্ধ। আতেফার আত্মীয়-স্বজন যখন মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সুপৃম কোর্টে আপিল করেন তখন কর্তৃপক্ষ একটি নতুন কৌশল করে। বিবিসি জানায়, সুপৃম কোর্টে যেসব নথিপত্র পুলিশ জমা দেয় তাতে দেখানো হয় আতেফার বয়স ২২। কিন্তু আতেফার বার্থ (জন্ম) সার্টিফিকেটে এবং ডেথ (মৃত্যু, ১৫ আগস্ট ২০০৪) সার্টিফিকেটে তার বয়স ছিল ১৬। চূড়ান্ত রায়ের সাত দিন পরেই নেকা শহরে নির্মীয়মান একটি ভবনের পাশে উচু ক্রেইন থেকে ফাসিতে ঝুলিয়ে প্রকাশ্যে আতেফার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। অভিযোগ ওঠে, বিচারক হাজি রেজাই সেখানে এসে নিজের হাতে আতেফার গলায় ফাসির রশি পরিয়ে দিয়েছিলেন। এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সহ বিশ্বজুড়ে অন্যান্য মানব অধিকার সংস্থাগুলো বলে হত্যাকাণ্ডটি হয়েছে মানবতার বিরুদ্ধে এবং এটি বিশ্বের শিশুদের প্রতি অপরাধ। এই ঘটনাটির গুরুত্ব ও তাত্পর্য বুঝে বিবিসি একটি গোপন মুভি মেকিং টিম পাঠিয়ে দেয় ইরানে। সেখানে মুভি ডিরেক্টর মিজ মনিকা গার্নসি এবং সহ প্রযোজক আরাশ সাহামি গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে একটি ডকুমুভি বানান। এছাড়া ডিসকভারি টিভি-ও “একজিকিউশন ইন ইরান” (ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া) নামে এক ঘণ্টার ডকুমুভি বানায়। আন্তর্জাতিকভাবে ইরান খুব বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যাওয়ার ফলে কর্তৃপক্ষ নতুন তদন্ত করে। ইরানি মিডিয়া জানায় বিচারপতি রেজাই এবং ক্যাপ্টেন জাবিহি ও ক্যাপ্টেন মোলাইসহ কয়েকজন আধাসামরিক ব্যক্তিকে গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় গ্রেফতার করে। এরপর ইরানের সুপৃম কোর্ট রায় দেন বিচারক রেজাই যথাযথভাবে মামলাটি পরিচালনা করেননি এবং আদেশ দেন আতেফাকে মুক্ত করে দিতে। কিন্তু মরণোত্তর মুক্তির আদেশ বিশ্বে এটাই ছিল প্রথম। ইরানি আদালত কোনোদিনই বলেননি মরণোত্তর মুক্তির অর্থাত্ পুনর্জ্জীবিত করার আদেশ কিভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব। সোমালিয়াতে পাথর ছুড়ে হত্যা ইসলামি দেশগুলোতে বিভিন্ন পন্থায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। যেমন, ফাসি, শিরশ্ছেদ, পাথর ছুড়ে হত্যা। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪-তে সোমালিয়ার উপকূলবর্তী জেলা বারাউই-তে এক সোমালি নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় পাথর ছুড়ে। এএফপি-র খবরে জানানো হয় ওই নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছিল সে গোপনে একাধিক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছিল। একটি ইসলামি আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলে, এরপর ওই নারীকে গলা পর্যন্ত মাটিতে পুতে ফেলা হয়। তারপর প্রকাশ্যে কয়েক ব্যক্তি পাথর ছুড়ে তাকে হত্যা করে। ইজিপ্টে ৫২৯ জনকে পাইকারি মৃত্যুদণ্ড ২০১৪-তে ইজিপ্টে ক্ষমতাচ্যুত, ইসলামি আদর্শে বিশ্বাসী ও জনগণের ভোটে নির্বাচিত, প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসির ৫২৯ জন সমর্থককে ফাসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন একটি আদালত। তাদের বিরুদ্ধে সামরিক সরকার পক্ষের অভিযোগ বলা হয়, তারা ছিলেন হত্যা মামলার আসামি। বর্তমানে ইজিপ্টে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের অন্তত ১,২০০ সমর্থক আদালতে বিচারাধীন আছেন। এই মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ব্যক্তিরাও ওই বিচারাধীন আসামিদের মধ্যে আছেন। মৃত্যুদণ্ড বিরোধী টার্কি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মৃত্যুদণ্ডবিরোধী অবস্থান নিয়েছে টার্কি। এর পেছনে দুটি বড় কারণ আছে। এক. টার্কি হতে চেয়েছিল ইওরোপিয়ান ইউনিয়নের বা ইইউ-য়ের সদস্য। এই সদস্য পদ লাভের অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে সদস্য দেশে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ করতে হবে। দুই. টার্কির জনপ্রিয় ও নির্বাচিত নেতা আদনান মেন্দারেস, যিনি দশ বছর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তাকে পদচ্যুত করে অন্যায়ভাবে সামরিক আদালতের বিচারে ফাসি দেওয়া হয়েছিল। সেই পাপ স্খলনের জন্য টার্কিতে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন ছিল। মেন্দারেসের সংক্ষিপ্ত জীবনী নিচে দেওয়া হলো। এয়ার ক্র্যাশে জীবিত ফাসিতে মৃত আদনান মেন্দারেসের জন্ম হয়েছিল ১৮৯৯-এ টার্কির একটি ধনী জমিদার পরিবারে। তিনি ইজমির-এ আমেরিকান কলেজে পড়াশোনা করেন। টার্কির স্বাধীনতাযুদ্ধে তিনি হানাদার গৃক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং বীরত্বের জন্য সম্মাননা পদক পান। আংকারা ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে গ্র্যাজুয়েট হওয়ার পর মেন্দারেস সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন। লিবারাল ডেমক্রেটিক পার্টি নামে একটি বিরোধী দলের শাখা সংগঠন করেন। মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক সব বিরোধী দল নিষিদ্ধ করলে এই দলটিও নিষিদ্ধ হয়ে যায়। তবে মেন্দারেসের মেধা ও সাংগঠনিক শক্তি দেখে আতাতুর্ক তাকে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পিপলস পার্টিতে যোগ দিতে বলেন। মেন্দারেস তাই করেন। আধুনিক টার্কির প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা কামালের জন্ম (১৮৮১) হয়েছিল গৃসে, সালোনিকাতে। পরে তার নামের শেষে আতাতুর্ক শব্দটি যোগ হয়, যার মানে হচ্ছে টার্কিশ জাতির পিতা। ১৯৩৮-এ কামাল আতাতুর্কের মৃত্যুর পরে দলের ক্ষমতা চলে যায় ইসমেত ইনোনুর হাতে। স্বঘোষিত ‘জাতীয় প্রধান’ ইনোনুর রাষ্ট্রায়ত্তকরণ নীতির বিরোধিতা করলে মেন্দারেস ও তার দুই সহযোগী দল থেকে বহিষ্কৃত হন। সেই থেকে টার্কিশ পলিটিক্সে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হন ইনোনু ও মেন্দারেস। ১৯৪৬-এ সাবেক প্রধানমন্ত্রী সেলাল বায়ার এবং মেন্দারেস প্রতিষ্ঠা করেন ডেমক্রেটিক পার্টি (ডিপি) যেটা ছিল টার্কির চতুর্থ বৈধ বিরোধী দল। ১৪ মে ১৯৫০-এ টার্কির ইতিহাসে প্রথম অবাধ নির্বাচনে ৫২% ভোট পায় ডিপি। মেন্দারেস হন প্রধানমন্ত্রী। এর পরে আরো দুটি অবাধ নির্বাচনে ১৯৫৪ এবং ১৯৫৭-তে ডিপি বিজয়ী হয়। ১৯৫৫-তে প্রধানমন্ত্রী মেন্দারেস পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও নেন। মেন্দারেসের প্রধানমন্ত্রিত্বের দশ বছরে টার্কির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈদেশিক নীতির বিশাল পরিবর্তন হয়। আতাতুর্ক যে শিল্পায়ন ও নগরায়ন শুরু করেছিলেন সেটা দ্রুতগতিতে আরো সামনে নিয়ে যান মেন্দারেস। টার্কির অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার হয় ৯% যেটা পরবর্তী কোনো সরকার পুনরাবৃত্তি করতে পারেনি। টার্কিকে নেটো-র সদস্য পদ দেওয়া হয় এবং মার্শাল প্ল্যানের অধীনে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বড় অর্থনৈতিক সাপোর্ট পায়। কৃষিকাজে আসে যন্ত্র। বিদ্যুত্ ও যানবাহন চলাচল ব্যবস্থা হয় উন্নত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যাংকিং খাত হয় আধুনিক। ইংল্যান্ডে এয়ারক্র্যাশ ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৯-এ টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি স্পেশাল ফ্লাইটে ইস্তাম্বুল থেকে মেন্দারেস ও তার সরকারি কর্মকর্তারা লন্ডনের গ্যাটউইক এয়ারপোর্টে যাচ্ছিলেন। তারা যাচ্ছিলেন সাইপ্রাসের রাজনৈতিক সংকট সমাধানের লক্ষ্যে ‘লন্ডন এগৃমেন্ট’-এ সই করতে। সেদিন এয়ারপোর্ট ছিল ঘন কুয়াশায় ঢাকা। রানওয়ের কয়েক মাইল আগে ইংল্যান্ডে সাসেক্সের একটি গ্রামে ভুলক্রমে প্লেনটি নেমে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে তাতে আগুন ধরে যায়। এই দুর্ঘটনায় ক্রুসহ মোট চব্বিশ যাত্রীর মধ্যে ১৪ জন মারা যায়। মেন্দারেস পেছনের সিটে ছিলেন এবং অলৌকিকভাবে প্রায় অক্ষত অবস্থায় বেচে যান। কিন্তু বছরখানেক পরেই মানুষের হাতে মৃত্যু মেন্দারেসের জন্য অপেক্ষা করছিল তারই দেশে। টার্কিতে ফাসি টার্কিতে হঠাত্ একদিন গুজব ছড়িয়ে পড়ে গৃসে, সালোনিকাতে মোস্তফা কামালের বাড়ি আক্রান্ত হয়েছে। এর প্রতিশোধে ইস্তাম্বুলের একাংশে বসবাসকারী সংখ্যালঘু সমপ্রদায় গৃকদের দোকানপাট, বাড়িঘর, চার্চ এমনকি কবরস্থানও আক্রান্ত হয় দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় বহু ব্যক্তি হতাহত হয়। ইস্তাম্বুল গণহত্যা নামে এই ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রী মেন্দারেসকে দায়দায়িত্ব নিতে হয়। এই সুযোগে ২৭ মে ১৯৬০-এ মেন্দারেস বিরোধী ৩৭ জন তরুণ আর্মি অফিসার একটি ক্যু করে। মেন্দারেস ও তার পার্টির সব নেতা গ্রেফতার হন। সংবিধান লংঘন, গণহত্যায় ৫৭ গৃক নিহত হবার অপরাধ ও দুর্নীতির দায়ে তারা অভিযুক্ত হন। ইয়াসি ইয়াদা দ্বীপে তাদের বিচার হয়। মেন্দারেস মৃত্যুদ–ে দণ্ডিত হন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কেনেডি, ইংল্যান্ডের রানী এলিজাবেথসহ বহু বিশ্বনেতা, টার্কির রাষ্ট্রপতি সেমাল গুরসেল ও বিরোধী নেতা ইসমেত ইনোনু তাকে ক্ষমা করার অনুরোধ জানান আর্মিকে। কিন্তু আর্মি তাদের স্রািন্তে অটল থাকে। ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৬১-তে ইমরালি ষ্টীপে ফাসিতে মেন্দারেসের দণ্ড কার্যকর করা হয়। মরণোত্তর ক্ষমা ও সম্মান দুই মাস পরে সামরিক তত্ত্বাবধানে ইসমেত ইনোনু একটি কোয়ালিশন সরকার গঠন করেন। সেটা স্থায়ী হয় না, বরং স্থায়ী হয় মেন্দারেসের প্রতি জনসমর্থন। মেন্দারেসের মতাদর্শে গঠিত নতুন পার্টি সুলেমান ডেমিরেলের নেতৃত্বে পরবর্তী নির্বাচনে বিজয়ী হয়। মেন্দারেস জাতীয় নেতা রূপে স্বীকৃত হন। মেন্দারেস জনপ্রিয় হয়েছিলেন বহু কারণে। তিনি উত্তরাধিকার সুত্রে পাওয়া বিশাল ধনসম্পত্তির অধিকাংশ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। প্রচলিত ধর্মবিশ্বাসকে তিনি সম্মান করতেন এবং আতাতুর্কের তুলনায় ইসলামের বিভিন্ন রীতি বিষয়ে বেশি সহিষ্ণু ছিলেন। ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং ছোট ব্যবসায়ীদের অনুকূলে ছিলেন মেন্দারেস। কিন্তু মেন্দারেস সমালোচনা সহ্য করতে পারতেন না। পত্রপত্রিকার ওপর সেন্সরশিপ চালু করেছিলেন। সাংবাদিকদের গ্রেফতার করেছিলেন। শিক্ষায়তন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেয়েছিলেন। বিরোধী দল দমন করেছিলেন। আর্মি এবং ভোটারদের একাংশ তখন দৃঢ়বিশ্বাস করেছিল আতাতুর্কের নীতিমালা থেকে দুরে সরে যাচ্ছেন মেন্দারেস। এসবের ফলে বু্রিজীবী মহলে এবং তরুণ আর্মি অফিসার মহলে তিনি জনপ্রিয়তা হারিয়েছিলেন। ঐতিহাসিকরা বলেন, মেন্দারেসের পতনের সবচেয়ে বড় কারণ ছিল দুর্নীতি দমনে তিনি যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন সেটাতে সদস্য ছিল শুধু তারই দল ডেমক্রেটিক পার্টির এমপি-রা এবং তাদের সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, যেটা ছিল সংবিধানের ক্ষমতা বিভক্তিকরণ নীতির পরিপন্থী। মেন্দারেসের মৃত্যুর ২৯তম বার্ষিকীতে, ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৯০-এ টার্কিশ পার্লামেন্ট তার প্রতি মরণোত্তর ক্ষমা ঘোষণা করে। তার দেহাবশেষ ইস্তাম্বুলে এনে নতুন সমাধিস্থল বানানো হয়। ইজমির এয়ারপোর্টের নাম হয় আদনান মেন্দারেস এয়ারপোর্ট। এছাড়া তার নামে ইউনিভার্সিটি, কলেজ ও স্কুল এবং বহু পথ ও পার্ক হয়েছে। টার্কিতে মাত্র তিন নেতার স্মরণে সমাধিস্থল হয়েছে এবং এরা হলেন কামাল আতার্তুক, টারগাট ওজাল ও আদনান মেন্দারেস। প্লেন দুর্ঘটনা থেকে মেন্দারেসের বেচে যাওয়া এবং তারপর ফাসিতে তার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে একটি টিভি সিরিজ হয়েছে। মেন্দারেসের পূর্ণ জীবনী নির্ভর বহু টিভি সিরিজ হয়েছে। মেন্দারেসের এমন মরণোত্তর সম্মান প্রমাণ করে যে সত্যিকারের জনপ্রিয় কোনো নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও তিনি জনতার ূদয়ে বেচে থাকেন এবং প্রাপ্য আসনে ফিরে আসেন। মৃত্যুদণ্ড দানকারী ক্ষমতাসীনদের লাভ হয় সাময়িক। (চলবে) ঋধপবনড়ড়শ.পড়স/ঝযধভরশ জবযসধহ চত্বংবহঃং ছবি ও ক্যাপশন মোহাম্মদ মুরসি : ৫২৯ সমর্থক দণ্ডিত (অবশ্য) আদনান মেন্দারেস : মরণোত্তর ক্ষমা (অবশ্য এবং বড়) মাও সে তুং : মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে দেং জিয়াও পিং : মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে কার্ল মার্কস : মৃত্যুদণ্ডের বিপক্ষে ফ্রেডারিক এংগেলস : মৃত্যুদ–ের বিপক্ষে জোসেফ স্থালিন : মৃত্যুদ–ের পক্ষে ভদ্মাদিমির লেনিন : মৃত্যুদ–ের পক্ষে হাশেম শাবানি : দণ্ডিত (অবশ্য) আতেফা রাজাবি : দণ্ডিত (অবশ্য)

বিস্তারিত»

মতামত

বুদ্ধিবৃত্তিক সমালোচনা করুন:মিনা ফারাহ

’৭০-এর নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ মুজিব এবং এ কে খন্দকারের বিতর্কিত ‘ভেতরে বাইরে’ বই নিয়ে ক’টি সত্য কথা। ১৯৭০-এর ১৯ ডিসেম্বর এক বিবৃতিতে শেখ মুজিব ঘোষণা করেন যে, ছয় দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র বা সংবিধান রচিত হবে। ভুট্টো এক বিবৃতিতে বলেন, যেহেতু তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা, সেহেতু তার হাতে মতা হস্তান্তর করতে হবে। উত্তরে আওয়ামী লীগ সমালোচনা করে বলেছিল, কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনা ও সংবিধান রচনার মতা একমাত্র আওয়ামী লীগকে প্রদান করেছে দেশের মানুষ। ২০ ডিসেম্বর ভুট্টো পুনরায় ঘোষণা দেন, তার দল ছাড়া অন্য কোনো দল কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনা বা সংবিধান পরিচালনা করতে পারবে না। জবাবে ২১ ডিসেম্বর তাজউদ্দীন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। সুতরাং আওয়ামী লীগই কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনা ও সংবিধান রচনা করবে। মতা হস্তান্তরের ল্েয ভুট্টো ও শেখ মুজিবের মতপার্থক্য দূরীকরণে প্রেসিডেন্ট হাউজে ১৯৭১-এর ১২ ও ১৩ জানুয়ারি ইয়াহিয়ার সাথে গোপন বৈঠকে হয় শেখ মুজিবের। ওই বৈঠকে, রেসকোর্সের ময়দানে শপথ অনুষ্ঠানের উল্লেখ করে ইয়াহিয়া খান জিজ্ঞেস করলেনÑ শেখ সাহেব, আপনি এ কী করলেন? শেখ মুজিব বললেন, এটা হলো আমার দাবি আদায়ের কৌশল। আমি পাকিস্তানের জন্য সংগ্রাম করেছি, আমি বিচ্ছিন্ন হতে চাই না। ইয়াহিয়া : আপনি এমন একটি দলের নেতা হয়েছেন যে, পশ্চিম পাকিস্তানে সে দলের একটি আসনও নেই। মুজিব : না, এ হলো গণতন্ত্র। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে আমি সরকার গঠন করব। ইয়াহিয়া : কিন্তু আপনাকে সমগ্র পাকিস্তানের কথা ভাবতে হবে। মুজিব : আপনি ছয় দফা সম্পর্কে জানেন, আপনি দেখবেন, আমি একমাত্র সংখ্যাগুরু দলের নেতা নই, দুই-তৃতীয়াংশেরও নেতা। পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল অ্যাডমিরাল আহসান : সংখ্যাগরিষ্ঠতাই যথেষ্ট নয়, পশ্চিম পাকিস্তানের অংশগ্রহণ ছাড়া শাসনতন্ত্র প্রণয়ন সম্ভব নয়। মুজিব : আমি পশ্চিম পাকিস্তানেরও মেজরিটি নেতা। পশ্চিম পাকিস্তানের স্বার্থকে অবজ্ঞা করতে পারি না। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের বক্তৃতা ৃ ‘আমি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সাথে দেখা করেছি, আমি শুধু বাংলার নয়, পাকিস্তান মেজরিটি পার্টির নেতা হিসেবে তাকে অনুরোধ করলাম, ১৫ ফেব্র“য়ারি তারিখে আপনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দেন। ২৮ তারিখে কর্মচারীরা গিয়ে বেতন নিয়ে আসবেনৃ। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রামৃ।’ (তথ্যসূত্র : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, লেখক : সিরাজউদ্দিন আহমেদ)। পাকিস্তানের নির্বাচনে জিতে কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব নেয়ার সংগ্রামে ‘জয় পাকিস্তান’ বললে যে মহাভারত অশুদ্ধ হবে না; বরং বলাই স্বাভাবিক, সামান্য কথাটুকু বোঝার মতো উর্বর মস্তিষ্ক আওয়ামী লীগের জন্ম থেকেই একজনেরও না থাকায় ‘ভেতরে বাইরে’ বইটি নিয়ে পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দণি থেকে একই চিৎকার। সর্বোচ্চ শিতিদের মধ্যেও শিার মাত্রা এত কম হওয়ায় এই ভেবে আমরা শঙ্কিত যে, কোন উদ্ভট উটের পিঠে যাত্রা করল বাংলাদেশ! সর্বনি¤œমানের রাষ্ট্র পরিচালনার দৃষ্টান্ত থেকে মুক্তি আদৌ পাবে কি! মুজিব যদি জয় পাকিস্তান বলেও থাকেন, সমস্যা কোথায়! বরং না বললেই ওই মঞ্চ থেকে নিজেকে পাকিস্তানের মেজরিটি নেতা বলে দাবি করাটা অযৌক্তিক হতো। বাস্তবতা হলো, ৭ মার্চ মঞ্চ থেকে তিনি যে স্বাধীনতার ডাক দিলেন, সেটা মুক্তিযুদ্ধের মতো না-ও মনে করা যায়। কারণ তিনি বলেননি, এই মুহূর্তে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ো। মঞ্চ থেকে চলে যাওয়ার পর, আত্মগোপনে গিয়ে গেরিলাযুদ্ধেরও নেতৃত্ব দেননি। বলেছিলেন, যার যা আছে তাই নিয়ে তৈরি থাকো। বলেননি এটাই হুকুম, এখন যুদ্ধের ডাক দিলাম। বরং বলেছেন, আমি যদি হুকুম দিবার না-ও পারি। অর্থাৎ সেটা যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ডাক নয়। ২৩ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ভুট্টো ইয়াহিয়ার সাথে কনফেডারেশন কিংবা কেন্দ্রীয় মতার দাবিতে মুসাবিদায় ব্যস্ত সময় কেটেছে। অপারেশন সার্চ লাইটের মাত্র দুই ঘণ্টা আগেও স্বাধীনতার ঘোষণায় স্বার দিতে রাজি ছিলেন না বলে দাবি এসেছে একাধিক বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে। পাকিস্তানিদের কাছে স্বেচ্ছায় বন্দী হওয়ার পর ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে যে ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, সেটাই যুদ্ধের শুরু। রণাঙ্গনে কাউকে, স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে হবে। সেই ঘোষণা যদি মুজিব দিয়ে থাকেন, তাহলে কালুরঘাট থেকে নতুন করে ঘোষণা লেখার প্রয়োজন হতো না। আওয়ামী লীগের দাবি অনুযায়ী, ২৬ মার্চ রাতেই দেশে ও বিদেশে স্বাধীনতার ঘোষণা ছড়িয়ে গেছে। তাহলে জিয়াউর রহমানের আগে আর কোনো ব্যক্তি যদি ঘোষণা দিয়ে থাকেন, মেনে নিতে হবে; কারণ আমরা তো পাইকারি হারে বেঈমান হতে পারি না। তবে স্বাধীনতার ঘোষণাকে অতিমানুষ বা মহামানুষের দৃষ্টিতে নয়, বরং সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে দেখতে হবে। সাধারণ মানুষ, যাদের চাওয়া-পাওয়া অতি অল্প। ‘৭০-এর নির্বাচনে এত বড় বিজয়ের পর ৭ মার্চের মঞ্চ থেকে তিনি তো জয় পাকিস্তান বলবেনই। কারণ নির্বাচনটা তো ভারত কিংবা আমেরিকার নয় যে, ‘জয় হিন্দ’ বা ‘গড ব্লেস আমেরিকা’ বলবেন। এবার অন্তত ইনু সাহেব কি দয়া করে খালেদাকে রেহাই দিয়ে বরং আওয়ামী লীগের চোখের ছানি কাটবেন! ডজনখানেক বিজ্ঞজন বহু আগেই ‘জয় পাকিস্তান’ বলা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন। এতগুলো গুণী লোক একসাথে মিথ্যা বলতে পারেন না। আওয়ামী চোখে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানরা পর্যন্ত কুলাঙ্গার। আমার মতে, তিনি সঠিক, কারণ মুজিব সঠিক। তাই ৭ মার্চের মঞ্চে তিনি যদি জয় পাকিস্তান না বলে থাকেন, তাহলে একই মঞ্চ থেকে উচ্চারিত ‘আমি শুধু বাংলার নয়, পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টিরও নেতা’ কর্তন করে, শুধু তার পরেই ৭ মার্চের বক্তৃতা প্রচার করতে হবে। অন্যথায় দুটোই স্বীকার করতে হবে। কর্তন কিংবা সংযোজন, এখানে আওয়ামী পছন্দ-অপছন্দ চলবে না। ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ এবং ঢাল-তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধ ঘোষণার মধ্যে বিরাট পার্থক্য। স্বাধীনতার সংগ্রাম, অর্থাৎ একজন বন্দীর জন্য যা বিদ্রোহ, একজন নির্যাতিতার জন্য মুক্তির চিৎকার, একজন বিপ্লবীর জন্য স্বাধিকারের দাবি। যুদ্ধের ডাক হলো অস্ত্র নিয়ে সম্মুখসমরের ঘোষণা। এরপর শত্র“র সাথে আর কোনো আলোচনাই চলে না। অর্থাৎ ৭ মার্চের মঞ্চ থেকে যুদ্ধের ডাক তিনি দেননি; ২৬ মার্চেও দিয়েছেন কি? বরং মুজিব-ভুট্টোর মধ্যে হোটেল ইন্টারকনে যা ঘটল, সারা দুনিয়া তা জানে। আজীবন তিনি স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে কঠোর সংগ্রামী, তার পরেও মাও অথবা হো চি মিনের মতো ছিলেন না। সারা জীবন মিছিল-মিটিং করেছেন, কোনো দিনই অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেননি কিংবা ভাবেননি কোনো গেরিলাযুদ্ধে নেতৃত্বের কথা। অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ২৭ তারিখে হরতাল এবং ২৮ তারিখে বেতন তোলার ঘোষণা। আমার অভিজ্ঞতায় দেশ ও জাতির স্বার্থে, বহু প্লাবনে প্লাবিত সুনামির মতো এই যুদ্ধের খোলনলচে বের করে একে পরিচ্ছন্ন করা অতি জরুরি। ৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে কী পরিণতি হতো মুজিবের, কেউ কি জানে? স্বাধীনতার ঘোষণা মানেই একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশকে খ-িত ও বিচ্ছিন্ন করে ফেলা। যুগে যুগে দেশদ্রোহিতার শাস্তি মৃত্যুদ-। সেই ঝুঁকি না নিয়ে বরং ২৫ মার্চ রাতে বিষয়টি তাজউদ্দীন আহমদকে খোলামেলাই বলেছিলেন মুজিব। এই বিতর্ক যখন উঠেছে, বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। গণ-অভ্যুত্থান থেকে ২৫ মার্চ, কোনোটাই স্বাধীনতার কথা বলে না; বরং ছয় দফার প্রধান শর্ত সর্বাধিক স্বায়ত্তশাসন এবং স্বাধীন মুদ্রা। যুদ্ধ একবার শুরু হলে একমাত্র যুদ্ধবিরতি ছাড়া প্রতিপরে সাথে কোনো আলোচনাই চলে না। সেেে ত্র হোটেল ইন্টারকনে যেকোনো আলোচনাই অবাস্তব হতো। তবে বাস্তবতা এইÑ ‘৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়ের পর এই অংশের হাতে মতা হস্তান্তরই ছিল সক্সঘাত এড়ানোর একমাত্র উপায়। কিন্তু তারা তা করেনি। অনুর্বর মস্তিষ্কে উর্বরতা বাড়ানোর ল্েয কিছু ঐতিহাসিক তথ্য। বাংলাদেশের এক বন্ধু, প্রখ্যাত সাংবাদিক হামিদ মীর ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বরে লিখেছেন, ‘‘মুজিব ওয়ান্টেড সেটেলমেন্ট নট সেপারেশন। লিখেছেন, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান সেনা সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা চেয়েছিলেন। সেই ল্েয মার্কিন রাষ্ট্রদূত ‘জোসেফ ফার্ল্যান্ডের’ সাথে ঢাকায় ২৮ ফেব্র“য়ারি দেখা করে বিচ্ছিন্ন পূর্ব পাকিস্তানের বদলে পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন সরকারের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।” ১৯৯৮ সনের ১১ নভেম্বরে ভারতের ফিল্ড মার্শাল স্যাম মানেক শ ডিফেন্স সার্ভিস কলেজের এক বক্তৃতায় বলেছেন ‘৭১-এর এপ্রিলে অত্যন্ত ুব্ধ একজন প্রধানমন্ত্রীর কথা। শরণার্থী আসতে শুরু করলে জরুরি সভায় মানেক শ’কে ইন্দিরা গান্ধীর প্রশ্নÑ ‘তুমি কী করছ?’ মানেক শ বলছেন, ‘‘কিছুই না। যখন তুমি বিএসএফ, সিআরপি এবং র-কে উসকানি দিয়ে পাকিস্তানকে যুদ্ধে জড়িয়েছ তখন তুমি আমাকে কিছুই জিজ্ঞেস করোনি। এখন তুমি বিপদে পড়েছ। আমার নাক লম্বা, আমি জানি কী হচ্ছে। বলো, কী করতে হবে?” গান্ধী বললেন, ‘আমি চাই, তুমি পূর্ব পাকিস্তানে প্রবেশ করো।’ “ৃআমি বললাম, তার মানে যুদ্ধ! তিনি বললেন, যুদ্ধ হলেও আমার কিছু করার নেই। বললাম, তুমি কি বাইবেল পড়েছ? পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরদার শরণ সিং বললেন, বাইবেলের প্রসঙ্গ কেন? আমি বললাম, বাইবেলের প্রথম কথা, আলো আসতে দাও।’ আর তোমরা বলছ যুদ্ধ! তোমরা কি তৈরি? আমি তৈরি নই! হিমালয় থেকে ঢল নামলে ওই পাড়ে কিছুই দেখা যাবে না। সবাই যখন চলে যাচ্ছিল, প্রধানমন্ত্রী ডেকে বললেন, স্যাম, তুমি একটু দাঁড়াও। আমি বললাম, আমি কি স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে পারি?” তিনি মৃদু হেসে বললেন, ‘স্যাম, তুমি জানো আমি কী চাই।’ আমি বললাম, ‘সত্য বলা আমার কর্তব্য, যুদ্ধ করা আমার দায়িত্ব এবং যুদ্ধ করে সফল করাও আমার কাজ।’ (ফিল্ড মার্শাল কে এম কারিয়াপ্পা মেমোরিয়াল লেকচার ১৯৯৫-২০০০, ল্যান্সার পাবলিশার্স অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউট, দিল্লি ২০০১, দ্র: ইন্ডিয়ান ইকোনমি ব্লক, অক্টোবর ১২, ২০০৭)। ইন্দিরা তাকে এপ্রিলেই যুদ্ধে যেতে বললেও মানেক শ’র সিদ্ধান্তেই ডিসেম্বরে যুদ্ধ চালানো হয়। ৭ কিংবা ২৬ মার্চ, মুজিব কেন যুদ্ধে যাওয়ার ঘোষণা দেননি, কিংবা ইন্দিরা কেন এপ্রিলেই যুদ্ধ চেয়েছিলেন, বোঝার জন্য চার্চিল হওয়ার প্রয়োজন নেই। স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে বরং সেই রাতে পাকিস্তানিদের ওপর আমাদেরই অপারেশন সার্চ লাইট চালানোর কথা; স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে আত্মসমর্পণ নয়, সেই রাতে আত্মগোপনই বাস্তবতা। কিন্তু মুজিব সেটা করেননি। এ রকম উদাহরণ বহু। উপরিউক্ত সত্য, আওয়ামী লীগকে মানতে হবে, অন্যথায় আজীবন তাদেরকে বাঁশনির্ভর রাজনীতিই করতে হবে। ওয়েবসাইটের বক্তব্যগুলো অনুধাবনযোগ্য। মুক্তিযুদ্ধকে ‘চতুর্থ ইন্দো-পাক’ যুদ্ধ নামে ডাকে হিন্দু, আনন্দবাজার, টাইমস কিংবা ভারতীয় সংস্থাগুলো। ওদের দাবি, আগে তিনটি ইন্দো-পাক যুদ্ধের পর এটি ‘চতুর্থ ইন্দো-পাক’। দৃশ্যত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধটা মূলত ওরাই করেছিল, যার বহু প্রমাণ দলিল-দস্তখতে। এখানে এসেই ‘ভেতরে বাইরে’ বইগুলোর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে এবং শুধু সে কারণেই দুই নেত্রীর চোখে দেশটা কখনো র, কখনো আইএসআইয়ের মতো মনে হওয়াই স্বাভাবিক। পরস্পরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দুই নেত্রী বারবারই কেন করে আসছেন, যার শক্ত ভিত্তি আছে। প্রথম সিমলা চুক্তিতে বাংলাদেশের জায়গা হলো না; বরং নিজেদের ইচ্ছায় প্রায় ৯০ হাজার যুদ্ধবন্দী ফেরত। ৪৩ বছরেও মুক্তিযুদ্ধের চরিত্র নির্ধারণ না হওয়ার কুফল এসব। গবেষণা করুন, মুজিব চেয়েছিলেন স্বাধিকার, ইন্দিরা গান্ধী চেয়েছিলেন স্বাধীন পূর্ব বাংলা। আত্মসমর্পণের টেবিলে ওসমানীর বদলে অরোরা কেন, জানার জন্য সক্রেটিস হওয়ার প্রয়োজন আছে কি? এ কে খন্দকারের বইটিকে ছেঁটে নয় বরং সামগ্রিক অর্থে বিচার করা প্রয়োজন। বইটি শুধু বরফের মাথা, পুরো শরীরটা পানির তলে। মূল বক্তব্য বাদ দিয়ে ‘জয় পাকিস্তান’ নিয়ে হইচই মস্তিষ্কহীনদের কর্ম। বরং মুক্তিযুদ্ধের চরিত্র নির্মাণে এই ধরনের আরো বইয়ের প্রয়োজন। শারমিনের পর খন্দকারের বই নিয়ে নিজেদের লেজে নিজেরাই আগুন দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। কেউ বলছে কুলাঙ্গার, কেউ বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। আমি বলব, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছাড়া ভারতের নেতৃত্বে কেউ যুদ্ধ করবে না। খন্দকার জানেন, যা আমরা জানি না। তিনি দেখেছেন খুব কাছ থেকে। দেরিতে হলেও প্রবাসী সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির অভিজ্ঞতা ফেলে দিতে পারি না। আজ যারা সমালোচনায় ফেটে পড়ছেন, বেশির ভাগই হাইব্রিড, কেউ কেউ সুবিধাবাদী, কোনো কোনো সমালোচকের গোঁফ পর্যন্ত ওঠেনি তখন। মুক্তিযুদ্ধের বাবা-মা দাবিদারদের অনেকেরই এই যুদ্ধে কোনো রকম অংশগ্রহণ ছিল না বলে ঐতিহাসিক প্রমাণ আছে। অথচ তারাই খন্দকারের ভীষণ সমালোচক। ইনু, কাজী ফিরোজ কিংবা তোফায়েলরা তো পারলে তাকে জ্যান্ত কবর দেন। প্রবাসী সরকারের ভূমিকা আসলেই কী, আজো স্পষ্ট নয়। শারমিন আর খন্দকার লিখিত দুটো বইয়েরই বক্তব্য প্রায় এক হওয়ায় গালাগাল বাদ দিয়ে গবেষণাই কাম্য। বরং দেশজুড়ে অ্যাকাডেমিক সেমিনার কিংবা টাউনহল মিটিং করে মানুষকে জাগ্রত ও শিতি করা উচিত। কেন নয়? সময় আসবে যখন এভাবে চলতে দিলে অর্বাচীনেরাই একদিন সংখ্যাগুরু হবে। এ কে খন্দকার ভদ্রলোক, তাই উল্টো গালি দেননি। পে না গেলেই গোসসা। ‘জাতীয় চরিত্র’ ঠিক না হলে ইতিহাসের চরিত্রও ঠিক হবে না। ফলে প্রথম থেকে ১০ম সংসদের চেহারা কখনো র, কখনো আইএসআইয়ের মতো হবেই। বাস্তবতা এইÑ ইন্দিরা গান্ধীর চাওয়া মুজিব থেকে ভিন্ন। দেশ বিভাগের পর থেকেই ভারত চেয়েছিল, পূর্ব থেকে পশ্চিমকে বিচ্ছিন্ন করে নব্য প্রভাব বলয়ের সূত্রপাত। এই ল্েয তিনটি যুদ্ধের পর ‘৭১-এই শেষ যুদ্ধ। জওয়াহের লাল থেকে ইন্দিরা, বরাবরই পূর্ব বাংলাকে কলোনি রূপে দেখতে চেয়েছিলেন। ইতিহাসের শিাই তাই, দানবীয় কায়দায় ছোট রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ। সেই ল্েয যেসব অগ্রিম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল দিল্লি, ৪৩ বছর পরেও তা নিয়ে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কোর্স না থাকাটা দুঃখজনক। কেমন ছিলেন ব্যক্তি গান্ধী? যুদ্ধ জয়ের জন্য ‘৭২-এ বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর, হাইকোর্ট থেকে ভোট কারচুপির অভিযোগ এলে ২১ মাস ধরে জরুরি অবস্থা কায়েম করে গণতন্ত্রের বারোটা বাজালেন। শেষ পর্যন্ত জেল। মতার লোভে একসময় দানবী হয়ে উঠলেন। অবশেষে ‘৮৪-এ দেহরীর হাতে খুন। স্বাধীন খালিস্তান আন্দোলনের বিরুদ্ধে গুপ্তহত্যা, জুলুম, ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হওয়ার পরিণামে কাম্য না হলেও তার এই পরিণতি। তার গোপন ভূমিকা নিয়ে বহু আগেই ট্রুথ কমিশনের প্রয়োজন ছিল। দায়িত্ব নিয়েই বলছিÑ প-িতদের অনেকেই সত্য লুকিয়ে রেখে দেশটাকে এমন নিরাপত্তার হুমকিতে ফেলে দিয়েছেন, যে জন্য আজ ভাইয়ে ভাইয়ে শত্র“; যা পাকিস্তান আমলে ছিল না বললে ভুল হবে না। এখন জাতীয় স্বার্থে উচিত, সত্যের পথে আসা। কারণ, গোড়ায় গলদ বলেই ৪৩ বছর ধরে ভারতীয় আগ্রাসনের কবলে দেশ। ওরাই আমাদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা জিইয়ে রেখে ঘরে ফসল তুলছে। ওদের কর্মকা-ে আমার চোখে, দেশটাকে যত না আইএসআই তারচেয়ে বেশি মনে হয়েছে র-এর কবলে কবলিত। হাসিনার অভিযোগ সত্য হলে দশম সংসদের চেহারা হতে পারত আইএসআইয়ের মতো, কিন্তু তা হয়নি। বরং র-এর মতো হওয়ার অভিযোগটা তার সরকারের ওপরেই বর্তায়। আজ পর্যন্ত বিডিআর হত্যাকা-ে বিশেষ দেশের সম্পৃক্ততার জট খুলল না। খন্দকারের বই নিয়ে হইচই বাদ দিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা করুন। একমাত্র রাজনৈতিক নাবালকেরাই জয় পাকিস্তান নিয়ে দেউলিয়াপনা করছে। করুক। কিন্তু যতই করবে ততই প্রমাণ হবে, তিনি বলেছিলেন। বাবা -মায়ের মুখে মহামানবদের গল্প শুনেছি। তাদের সংস্পর্শে এলে নাকি লোহাও খাঁটি সোনা হয়। বাংলাদেশেও এমনকি মহামানবেরা উদয় হলেন, যাদের সংস্পর্শে আসা মাত্র ভোল পাল্টে যায়, এমনকি গায়ের চামড়া ছিলে যারা ডুগডুগি বাজাতে চেয়েছিলেন, তারাও। খন্দকারের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ হলো সংসদে। তবে ডিজিটাল মিডিয়া থেকে যেসব তথ্য ভুরভুর করে বের হচ্ছে, আওয়ামী লীগের জন্য শুভ নয়। দেরিতে হলেও তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরা হচ্ছে আওয়ামী লীগ যুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়নি। তবে ঘটনা যা-ই হোক, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব। একে যারা বিকৃত, অমর্যাদা ও অবমূল্যায়িত করেছে, জাতির জন্য তারা মস্তিষ্কভুক ব্যাকটেরিয়ার মতো বিপজ্জনক। এদেরকে নির্মূল করার ল্েয বুদ্ধিবৃত্তিক জাতি গঠনের বিকল্প নেই। স্বায়ত্তশাসনের দাবি উঠেছিল দেশ বিভাগের প্রথম রাতেই। পরবর্তীকালে এই দাবিতে ঐতিহাসিক কাগমারি সম্মেলনের সাফল্যের বিরুদ্ধে ক্যু করে হুজুর ভাসানীকে ‘কুলাঙ্গার’ বানানো যাবে না। কিন্তু দুর্ভাগ্য, পছন্দ না হলে সবাই রাজাকার, সবাই কুলাঙ্গার। তখন টকশো বা টিভির ব্যবস্থা ছিল না। তবে এক-এগারো পরবর্তী পরিস্থিতিতে আবার যখন আরেকটি কাগমারির প্রয়োজন হয়েছিল, তখন টকশোগুলোতে কাজী ফিরোজের মতো যাদেরকেই ছোটখাটো ভাসানীর ভূমিকায় দেখেছিলাম, দশম সংসদে ভাগাভাগিতে অংশ নিতে আলোর গতিতে পাল্টে গেলেন। এদের বদলে যাওয়ার পেছনে মহামানব না কুমানবÑ সেই বিতর্ক পাঠকের। তবে তিনটি শ্রেণীÑ একটি যারা কাজী ফিরোজের মতো দেখতে; অন্যটি যারা ‘৭৪-এ কালো তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী দল হিসেবে কুখ্যাত; তৃতীয়টি যারা মুক্তিযুদ্ধ না করেও সার্টিফিকেট দখল করে চেতনার নির্যাতন করছে ৪৩ বছর। হালুয়া-রুটির ভাগাভাগিতে পালাক্রমে তিনটি শ্রেণীর এরাই দখলে রেখেছে বেশির ভাগ সংসদ সদস্যপদ। ফলে সংসদের চেহারা হয়েছে স্বৈরতন্ত্রের দানবসন্তানদের মতো। বাংলাদেশের ছোটখাটো আইয়ুব খান যিনি, ‘৫৮-কে অনুসরণ করে মতায় এলেন, দশম সংসদে তিনিই গণতন্ত্রের মানসপুত্র। আমরা পড়েছি হাইব্রিড মানসকন্যা ও মানসপুত্রদের খপ্পরে। মুক্তিযুদ্ধের চরিত্র নির্ধারণে ব্যর্থতাই এদের উপদ্রবের কারণ। ২ মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানে লুকিয়ে থাকা এরশাদ যে দিন সিএমএইচে ধোলাই হয়ে আওয়ামী ঘোড়ায় চড়ে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হয়ে সংসদে এলেন, ‘৭১-এর মৃত্যু হয়েছে সে দিনই। শুধু ‘৭২-এ দেশে ফেরত নয়, বড় খান সাহেবের মতো বিচারপতি আবদুস সাত্তারের বুকে পিস্তল ঠেকিয়েই নয়, ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লেখা নূর হোসেনের বুক গুলিবিদ্ধ করে গণতন্ত্র হত্যা করেছিল এই স্বৈরাচার। আমাদের দেশে কত না গুণীজন! আওয়ামী সরকার থাকলে একজন বাদে কারো নাম উচ্চারণ হয় না। সোহরাওয়ার্দী, ভাসানী, এ কে ফজলুল হকের কথা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। একজন নোবেল লরিয়েট থাকলেও তার নামটি পর্যন্ত উচ্চারণ হয় না, বরং তিনিও ‘কুলাঙ্গার’! অথচ মহাস্বৈরাচার নিয়ে শত শত ঘণ্টা ব্যয় আর সংসদে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ। কেন? বর্তমানে জাতীয় পার্টিতে গ-গোলের নামে যে নাটক, অর্থ এই রকম। সম্ভবত খালেদাকে জেলে পাঠিয়ে মানুষের চোখে অপদার্থ রওশনের বদলে এরশাদকে বিরোধীদলীয় নেতা বানিয়ে ২০১৫ সালে আরেকটি নির্বাচনের মাধ্যমে মতা চিরস্থায়ী করার চেষ্টা চলবে। রওশনের গ্রহণযোগ্যতা না থাকায় মানসকন্যা ও মানসপুত্রের মধ্যে যে নাটক শুরু, তা নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ার কার্টুনগুলো বেশ উপভোগ্য। জাতীয় পার্টির ভেতরে সৃষ্ট গ-গোলটি ভুয়া। দশম সংসদের এই চেহারার অন্যতম কারণ, এ বিষয়গুলো নিয়ে যেকোনো আলোচনাই ধামাচাপা দিয়েছে মস্তিষ্কহীন আওয়ামী লীগ। আওয়ামী চোখে গণতন্ত্রের মানসপুত্র এরশাদ, যিনি ‘৭২-এর পর দেশে ফিরেই সেনাবাহিনীর ভেতরে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলেন। ‘৭৫-এর পর ‘৮১-এর আরেকটি ১৫ আগস্ট ঘটানোর আর্কিটেক্ট। ইস্কান্দার মির্জার বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে আইয়ুব খান, আর বিচারপতি সাত্তারকে ভয় দেখিয়ে মতা নিয়েছেন এরশাদ। আওয়ামী লীগ দাবি করে, স্বৈরাচার হটাতেই ‘৭১ ও ‘৯০। কিন্তু দুর্ভাগ্য, ‘৮৬ ও দশম সংসদে স্বৈরাচারী এরশাদই গণতন্ত্রের মানসপুত্র এবং সাথে পেলেন মানসকন্যাকে। এই অঙ্ক মেলানো কঠিন। মিনি খান উৎখাতে খালেদা-হাসিনা সে দিন যে মাপের গণতান্ত্রিক আন্দোলন দেখিয়েছিলেন তা যদি সত্যিকারের গণতন্ত্রের জন্য হতো, তাহলে ২৪ বছর পর সংসদের চেহারা হওয়া উচিত হাউজ অব লর্ডসদের মতো। গণতন্ত্রের মানসপুত্রের চেয়ারে বসে নর্দমার মতো ভুরভুর করে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছেন। ‘৬৯-এর অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলে কি আইয়ুব খানের বেসিক ডেমোক্র্যাসি মেনে নিয়ে কনফেডারেশন সরকার করতেন মুজিব! তা যদি না হয়, তাহলে মুজিবকন্যার কাছে আমার বিনীত প্রশ্নের জবাব চাই, আইয়ুব চরিত্রের ব্যক্তি কী করে গণতন্ত্রের মানুসপুত্র হলো! আর এসব জানার জন্যই ‘ভেতরে বাইরে’ বইটি জরুরি। এরশাদের চরিত্র নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। এ জন্য কাকে গণধোলাই দিলে কলঙ্কমুক্ত হবে দেশ? বলছি, খন্দকারের বইটির মতো এ রকম শত শত বইয়ের প্রয়োজনের পেছনের কথা। ব্যাংক দেউলিয়া হলে পুঁজি নিয়ে টানাটানি। মেধা দেউলিয়া হলে বুদ্ধি নিয়ে টানাটানি। সংসদ দেউলিয়া হলে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে টানাটানি। তাই রক্তচোষা, কুলাঙ্গার, রাজাকার শব্দগুলো এখন প্রায় সংসদীয় গণতন্ত্রের ভাষা। সংশোধনীর মাধ্যমে নষ্ট ভাষার আইন হলেও অবাক হবো না। এদের চোখে বঙ্গবীর, কর্নেল অলিৃ সব রাজাকার! হায়রে মুক্তিযুদ্ধ! প্রশ্ন, সেক্টর কমান্ডাররাও পাইকারি হারে রাজাকার হলে মুক্তিযুদ্ধ করলটা কে? মুজিব তো দুই হাজার মাইল দূরে, সেই ৯ মাসকে ঘিরেও কত বিতর্ক। তাহলে কি ভারতীয় প্রতিরা বিশেষজ্ঞদের কথাই ঠিক? ‘যুদ্ধ করেছি আমরা, মুক্তিবাহিনী যুদ্ধ করেনি শুধু পথ দেখিয়েছে।’ তবে ফিল্ড মার্শাল মানেক শ’র চেয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধের বাইবেল’ বেশি কে জানেন! চেতনাবাদীরা এতকাল একতরফা চাপিয়েছে, এবার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ফেরত দিলে ভারসাম্য আসবে। এ জন্য এগিয়ে আসতে হবে ড. কামালদেরকেও, ৪৩ বছর যারা সাপের ঝুড়ি নিয়ে যন্ত্রণাদগ্ধ, না ঘরকা না ঘাটকা, ভুগছেন এবং ভোগাচ্ছেন। ‘নব্য রাজাকার’ খেতাবপ্রাপ্ত বঙ্গবীরকেও বিদেশী জামাইবাবুর গুহা থেকে এবার বেরিয়ে এসে গোপন দলিল প্রকাশ করতে হবে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট পর্যন্ত ২২ বছর পরপর গোপন তথ্য প্রকাশ করে আসছে। কিন্তু ড. কামাল হোসেনদের মতো আমাদের ‘সিআইএ’রা ৪৩ বছর পরেও মুখ খুলছেন না কেন? চাইলে তারাই এক মিনিটে ৪৩ বছরের কালো মেঘ সাদা করতে পারেন, এতে রা পেত জাতি, পেত মুক্তিযুদ্ধও। শেখ মুজিবের সাথে তিনিও ৯ মাস পাকিস্তানে, ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির মতো একমাত্র তার পেটেই বস্তাভরা গোপন তথ্য। এ জন্য সুশীলসমাজের উচিত গণদাবির উদ্যোগ নেয়া। সত্য লুকানোর দায়ে জ্ঞানপাপীদের জায়গা হবে আস্তাকুঁড়ে। তবে ডিজিটাল পৃথিবীতে চাইলেও তথ্য লুকানো যাচ্ছে না। সত্য যে, মুজিব চেয়েছিলেন একটা, গান্ধী চেয়েছিলেন অন্য কিছু। এই দুয়ের মধ্যে যোগসূত্রের গবেষণা সময়ের দাবি। ৩ কবি লিখেছেন, ‘এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার শ্রেষ্ঠ সময় তার।’ না, যুদ্ধে যাইনি, তবে স্বাদ উপভোগ করেছি ‘৭১-এ। এর আগে কলা বিভাগে মাত্র তিনটি বিষয় নিয়ে মাধ্যমিকে প্রথম বিভাগ পাওয়ায় ছোট শহরে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছি। আমার দু’চোখে তখন অদম্য স্বপ্ন। বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলাম হোমসে, তখনই শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ, কী করি! আমার দেখা মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতার সাথে এ কে খন্দকারের বইটির অনেক মিল। তিনি যা লিখেছেন, অনেকেরই মনের কথা, হালুয়া-রুটির কারণে লিখতে অসুবিধা। খন্দকার সাহেবের হালুয়া-রুটি খাওয়া শেষ; তাই লিখেছেন। থিয়েটার রোডে যাইনি, তবে ৯ মাস খুব কাছেই ছিলাম। কলকাতায় আমার হাতে সংসার দিয়ে বাবা গেলেন কুচবিহারে। যা বলতে চাইছি, ৪৩ বছর পর মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে কথা উঠেছে, বিষয়টি মোটেও ফেলনা নয়; বরং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে ব্যবসা শুরু হয়েছে, প্রথম সংসদ থেকে আজ পর্যন্ত তারই ধারাবাহিকতা। তখন যারা কলকাতায়, অনেকেই মুক্তিযুদ্ধ দূরে থাক, গাছে একটি ঢিল পর্যন্ত ছোড়েনি, দেশে ফিরে ‘বিরাট মুক্তিযোদ্ধা’। এমনকি যারা প্রাইমারি স্কুলে পড়ত তারাও বীর মুক্তিযোদ্ধা। এমনও দেখা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় মায়ের বয়স সাত কিংবা বাপের বয়স ১২। এসব কারণেই ৪৩ বছর পর ‘মুক্তিযোদ্ধা’র সংখ্যা বেড়ে দুই লাখ এগারো হাজার ৫০৯ জন। আমন ধানের মতো মুক্তিযোদ্ধাও ভাতে বাড়ে, আওয়ামী লীগের বেলায় তার প্রমাণ। অবাক হই না যখন দেখি, প্রায় ৭০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়দাতাই ভুয়া। আওয়ামী উৎসাহে হাইব্রিড মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা আরো বাড়ছে। আমার শহরের শহীদের সংখ্যা করে বহু প্রশংসা কুড়িয়েছি। কোনো সরকারেরই সাহস নেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করার। ২০১৫ সালের ২৬ মার্চে যে নতুন তালিকা বের হবে, সেটাও হবে হাইব্রিড সংস্কারের বর্ধিত সংস্করণ। মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা বাড়াতে পারলে স্বার্থ হাসিল হয়। মতায় থাকার প্রধান অস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। একে বিক্রি করে আজীবন মতায় থাকা সম্ভব। মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশ নেয়নি কিংবা পাকিস্তানিদের সহায়তায় রাজধানীতে থেকে ইয়াহিয়ার ভাতা খেয়েছে, এদের অনেকেই এখন মুক্তিযুদ্ধের বাবা-মায়ের পদে অবতীর্ণ। মার্কিন কংগ্রেসেও তখন বিশেষ একটি ভাতাখোর পরিবার নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। খন্দকারের বইটি এ জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, এমন অনেক অসমাপ্ত প্রশ্নের উত্তর তিনি দিয়েছেন। হইচই না করে বরং শারমিন আহমেদের পরপরই খন্দকারের বইটি আওয়ামী লীগের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর একটি সুযোগ। তারা জানেন, কত অন্যায় করেছেন। এতে করে তারাও অতীতের পাপমুক্ত হতে পারতেন। মানুষ চিরদিন বোকা থাকে না। অন্যথায় এই দেশে অনেক অপ্রিয় ঘটনা ঘটত না। ‘৭১-এ মুজিব বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তিনি যে প্রশ্ন তুলেছেন, এই প্রশ্ন বহু আগেই তুলেছেন গুণীজনেরা। এরই ধারাবাহিকতায় ১৫ আগস্ট। শুধু মুজিববাহিনীর রহস্য উদঘাটনেই একটি ট্রুথ কমিশন প্রয়োজন। আরো গবেষণা এবং বইয়ের প্রয়োজন। তাই সত্য প্রকাশের ভয়ে একটার পর একটা জটিলতা সৃষ্টি করছে সরকার। চতুর্থ, ১৫তম ও ১৬তম সংশোধনীতে মৌলিক অধিকার হরণে রেকর্ড সৃষ্টি করল আওয়ামী লীগ। ১৫তম সংশোধনীর ােভ না কাটতেই চাপিয়ে দিলো ১৬তম সংশোধনী। ১৫তম ও ১৬তম সংশোধনীর আগেও হাইব্রিড গণতন্ত্রবাদীদের মুখে হঠাৎ হঠাৎ সাইরেনের শব্দ শুনেছি। আওয়ামী সাইরেন এবং সংসদ দুটোই রীতিমতো ভীতির কারণ। একমাত্র গৃহদাহের পরেই জেগে উঠি। ভস্মে হাত দিয়ে বলি, কী হলো! আসছে আজীবন মতার আইন। ১৭তম সংশোধনী সেটা সম্ভব করবে। হাজার হাজার ঘণ্টা টকশো আর শত শত কোটি টাকার নিউজপ্রিন্ট ধ্বংস করে আমরা শুধু বলেই যাবো। আর সরকার করেই যাবে যা খুশি। আমাদের টনক কখনোই নড়বে না। বুদ্ধিহীন জাতি হিসেবে তুলনাহীন আমরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চপর্যায়ে শিতিদের মধ্যে এমন অশিার জোয়ার অতীতে কখনোই দেখিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানিতে যে ঘটনা ঘটেছিল একবার, আমরা ভোগ করছি দ্বিতীয়বার। তার পরেও মানুষ প্রতিবাদের বদলে খুশি। অতিমানবের সংস্পর্শে গেলে সবারই ভোল পাল্টায়। এমনকি যারা চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজাতে চেয়েছিল তারাও। ওদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ শুধুই মতার হালুয়া-রুটি বলে কথা। তাহলে মুক্তিযুদ্ধের চরিত্র কী? মুক্তিযুদ্ধ দেখতে কেমন? এটা কি সত্যিই আইএসআইয়ের মতো, নাকি র-এর মতো! ৪৩ বছর পরেও সংসদের চেহারা এমন হলো কেন! দেরিতে হলেও বিগত স্পিকার শওকত আলীর বইতে মিথ্যা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা সত্য বলে প্রমাণ করা হলো। এ কে খন্দকারের বইতে মুজিবনগর, মুজিববাহিনী, মুক্তিযুদ্ধের রহস্যের অনেকটা উদঘাটন হয়েছে। মানেক শ’র বক্তব্য সূর্যের আলোর মতো স্পষ্ট। ওয়েবসাইটগুলোতে রয়েছে বহু গবেষণা এবং তথ্য। এ রকম বই শত শত লেখা হয়েছে, কিন্তু পড়া হয়নি। এখন এক-এগারোর মতো মুক্তিযুদ্ধের বিষয়েও একটি ট্রুথ কমিশন প্রয়োজন। বিতর্কের বদলে অ্যাকাডেমিক আলোচনার সংস্কৃতি চালু না করলে বুদ্ধিবিলুপ্ত জাতি প্রতিষ্ঠা পাবে। এমন সময় আসবে যখন কুঠারের আঘাতেরও প্রতিবাদ করবে না মানুষ। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে হানাহানি, দশম সংসদে গণতন্ত্রের নব্য মানসপুত্রের ক্যারিকেচারে আমরা হতাশ। এসবই ‘৭১-এর অসমাপ্ত যুদ্ধের উপসর্গ, যা ‘ভেতরে বাইরে’ বইটিতে অনেকখানিই বেরিয়ে এসেছে। এই জন্য তাকে পুরস্কার দেয়া উচিত। ৪৩ বছর পরেও দুশ্চরিত্র ব্যক্তিকে যে জাতি ঘৃণা করতে শিখল না, যারা তাকে সংসদে আনলো তাদেরকে বর্জন করতে পারল না, সেই জাতির বৌদ্ধিক মৃত্যু হয়েছে। নবম ও দশম সংসদে যা হলো, সাইরেন বাজিয়ে একাদশতম সংসদের পদধ্বনি, বিরোধী কণ্ঠ স্তব্ধ করা প্রায় শেষৃ এরপর ‘৭১-এর চেতনা যেন গলিত লাশ। ৪ একের পর এক মৌলিক অধিকার হরণের পর আমাদের নতুন আশার জায়গাটির নাম ‘টকশো’। বিটিভি মার্কা বাদে কিছু টিভি আছে, যেখানে ফোনে সরাসরি দর্শকদের মতামত নেয়া হয়। শাসকগোষ্ঠী অন্ধ হলেও আমরা ল করছি, দর্শকদের কাছ থেকে যেসব প্রশ্ন আসে, এর প্রায় ৯৯.৯৯ ভাগই সরকারবিরোধী। মানুষের ভেতরে সরকারবিরোধী তীব্র যন্ত্রণা টকশোগুলোকে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। দেশ-বিদেশ থেকে যখন টেলিফোনে প্রশ্ন করেন, কণ্ঠে ‘৬৯-এর দাহ। সাধারণ মানুষদের প্রশ্ন শুনলে মনে হয়, যেন রাজনীতিতে একেকটা পিএইচডি। মানুষের ভেতরে সরকারবিরোধী যন্ত্রণা এখন সর্বোচ্চপর্যায়ে। গণজরিপে প্রকাশ পেলেই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে সরকার। মতপ্রকাশের বিরুদ্ধে সর্বত্রই যে অভিযান একমাত্র রাষ্ট্রযন্ত্র বাদে জার্মানির বাকি সব মিডিয়া বন্ধ ছিল। খালেদার জেল হলে ভিন্ন মতের যবনিকা। পার্লামেন্টে মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়ায় টকশোগুলো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে। বিষয়টি এমন, পারলে টেলিফোনের ভেতর দিয়েই সরকারকে টেনে নামায়। গণভোট খতম করলে কী হবে! টেলিভিশনগুলো আজ মৌলিক অধিকার হারানো মানুষদের বিকল্প পার্লামেন্ট। প্রতিদিন রাত একটায় চ্যানেল আই-তে যে টকশোটি প্রচার হয়, সেখানে জনমত যাচাইয়ের লাল-সবুজ প্রভিশন আছে। দেখা গেছে, যেসব অতিথি সরকারের সমালোচক, তাদের পে ভোট ৯০-৯৫ ভাগ। অন্য টকশোগুলোতে প্রভিশন না থাকলেও দর্শকদের প্রতিক্রিয়া একই রকম। প্রকৃত পার্লামেন্ট অকার্যকর হওয়ায় মধ্যরাতে টকশোগুলোই যেন আমাদের ‘তিয়েনানমেন স্কয়ার’। এই সমীাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় মনে করা যেতে পারে, এই ভয়েই সরকার সম্প্রচার নীতিমালা করতে এত বেশি মরিয়া হয়ে উঠেছে। জনরোষে নৌকা প্রায় ডুবুডুবু। ৯০-৯৫ ভাগ মানুষ স্বৈরাচারী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে এবং অতি দ্রুত নির্বাচনের দাবি করে আসছেন। তাই প্লাটফরমটি বাঁচিয়ে রাখতে সব রকমের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আওয়ামী লীগের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুঃশাসন। সরকারের বদনামে বিশ্বজুড়ে কলঙ্কিত হচ্ছে দেশ। বন্দুকের নলে মানবাধিকার কোনো রাষ্ট্্েরর জন্য ভালো ফল বয়ে আনেনি। এমনকি মহামতি আলেক্সান্ডার পর্যন্ত মৃত্যুশয্যায় তার মতার লোভের জন্য কেন বহু আফসোস করেছেন, এ নিয়ে পরে লিখব।নয়া দিগন্ত  বুদ্ধিবৃত্তিক সমালোচনা করুন আমাদের সময়.কম : ২৭/০৯/২০১৪ রসধমব-১২থ৩৪৯৭মিনা ফারাহ : ’৭০-এর নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ মুজিব এবং এ কে খন্দকারের বিতর্কিত ‘ভেতরে বাইরে’ বই নিয়ে ক’টি সত্য কথা। ১৯৭০-এর ১৯ ডিসেম্বর এক বিবৃতিতে শেখ মুজিব ঘোষণা করেন যে, ছয় দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র বা সংবিধান রচিত হবে। ভুট্টো এক বিবৃতিতে বলেন, যেহেতু তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা, সেহেতু তার হাতে মতা হস্তান্তর করতে হবে। উত্তরে আওয়ামী লীগ সমালোচনা করে বলেছিল, কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনা ও সংবিধান রচনার মতা একমাত্র আওয়ামী লীগকে প্রদান করেছে দেশের মানুষ। ২০ ডিসেম্বর ভুট্টো পুনরায় ঘোষণা দেন, তার দল ছাড়া অন্য কোনো দল কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনা বা সংবিধান পরিচালনা করতে পারবে না। জবাবে ২১ ডিসেম্বর তাজউদ্দীন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। সুতরাং আওয়ামী লীগই কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনা ও সংবিধান রচনা করবে। মতা হস্তান্তরের ল্েয ভুট্টো ও শেখ মুজিবের মতপার্থক্য দূরীকরণে প্রেসিডেন্ট হাউজে ১৯৭১-এর ১২ ও ১৩ জানুয়ারি ইয়াহিয়ার সাথে গোপন বৈঠকে হয় শেখ মুজিবের। ওই বৈঠকে, রেসকোর্সের ময়দানে শপথ অনুষ্ঠানের উল্লেখ করে ইয়াহিয়া খান জিজ্ঞেস করলেনÑ শেখ সাহেব, আপনি এ কী করলেন? শেখ মুজিব বললেন, এটা হলো আমার দাবি আদায়ের কৌশল। আমি পাকিস্তানের জন্য সংগ্রাম করেছি, আমি বিচ্ছিন্ন হতে চাই না। ইয়াহিয়া : আপনি এমন একটি দলের নেতা হয়েছেন যে, পশ্চিম পাকিস্তানে সে দলের একটি আসনও নেই। মুজিব : না, এ হলো গণতন্ত্র। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে আমি সরকার গঠন করব। ইয়াহিয়া : কিন্তু আপনাকে সমগ্র পাকিস্তানের কথা ভাবতে হবে। মুজিব : আপনি ছয় দফা সম্পর্কে জানেন, আপনি দেখবেন, আমি একমাত্র সংখ্যাগুরু দলের নেতা নই, দুই-তৃতীয়াংশেরও নেতা। পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল অ্যাডমিরাল আহসান : সংখ্যাগরিষ্ঠতাই যথেষ্ট নয়, পশ্চিম পাকিস্তানের অংশগ্রহণ ছাড়া শাসনতন্ত্র প্রণয়ন সম্ভব নয়। মুজিব : আমি পশ্চিম পাকিস্তানেরও মেজরিটি নেতা। পশ্চিম পাকিস্তানের স্বার্থকে অবজ্ঞা করতে পারি না। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের বক্তৃতা ৃ ‘আমি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সাথে দেখা করেছি, আমি শুধু বাংলার নয়, পাকিস্তান মেজরিটি পার্টির নেতা হিসেবে তাকে অনুরোধ করলাম, ১৫ ফেব্র“য়ারি তারিখে আপনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দেন। ২৮ তারিখে কর্মচারীরা গিয়ে বেতন নিয়ে আসবেনৃ। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রামৃ।’ (তথ্যসূত্র : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, লেখক : সিরাজউদ্দিন আহমেদ)। পাকিস্তানের নির্বাচনে জিতে কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব নেয়ার সংগ্রামে ‘জয় পাকিস্তান’ বললে যে মহাভারত অশুদ্ধ হবে না; বরং বলাই স্বাভাবিক, সামান্য কথাটুকু বোঝার মতো উর্বর মস্তিষ্ক আওয়ামী লীগের জন্ম থেকেই একজনেরও না থাকায় ‘ভেতরে বাইরে’ বইটি নিয়ে পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দণি থেকে একই চিৎকার। সর্বোচ্চ শিতিদের মধ্যেও শিার মাত্রা এত কম হওয়ায় এই ভেবে আমরা শঙ্কিত যে, কোন উদ্ভট উটের পিঠে যাত্রা করল বাংলাদেশ! সর্বনি¤œমানের রাষ্ট্র পরিচালনার দৃষ্টান্ত থেকে মুক্তি আদৌ পাবে কি! মুজিব যদি জয় পাকিস্তান বলেও থাকেন, সমস্যা কোথায়! বরং না বললেই ওই মঞ্চ থেকে নিজেকে পাকিস্তানের মেজরিটি নেতা বলে দাবি করাটা অযৌক্তিক হতো। বাস্তবতা হলো, ৭ মার্চ মঞ্চ থেকে তিনি যে স্বাধীনতার ডাক দিলেন, সেটা মুক্তিযুদ্ধের মতো না-ও মনে করা যায়। কারণ তিনি বলেননি, এই মুহূর্তে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ো। মঞ্চ থেকে চলে যাওয়ার পর, আত্মগোপনে গিয়ে গেরিলাযুদ্ধেরও নেতৃত্ব দেননি। বলেছিলেন, যার যা আছে তাই নিয়ে তৈরি থাকো। বলেননি এটাই হুকুম, এখন যুদ্ধের ডাক দিলাম। বরং বলেছেন, আমি যদি হুকুম দিবার না-ও পারি। অর্থাৎ সেটা যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ডাক নয়। ২৩ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ভুট্টো ইয়াহিয়ার সাথে কনফেডারেশন কিংবা কেন্দ্রীয় মতার দাবিতে মুসাবিদায় ব্যস্ত সময় কেটেছে। অপারেশন সার্চ লাইটের মাত্র দুই ঘণ্টা আগেও স্বাধীনতার ঘোষণায় স্বার দিতে রাজি ছিলেন না বলে দাবি এসেছে একাধিক বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে। পাকিস্তানিদের কাছে স্বেচ্ছায় বন্দী হওয়ার পর ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে যে ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, সেটাই যুদ্ধের শুরু। রণাঙ্গনে কাউকে, স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে হবে। সেই ঘোষণা যদি মুজিব দিয়ে থাকেন, তাহলে কালুরঘাট থেকে নতুন করে ঘোষণা লেখার প্রয়োজন হতো না। আওয়ামী লীগের দাবি অনুযায়ী, ২৬ মার্চ রাতেই দেশে ও বিদেশে স্বাধীনতার ঘোষণা ছড়িয়ে গেছে। তাহলে জিয়াউর রহমানের আগে আর কোনো ব্যক্তি যদি ঘোষণা দিয়ে থাকেন, মেনে নিতে হবে; কারণ আমরা তো পাইকারি হারে বেঈমান হতে পারি না। তবে স্বাধীনতার ঘোষণাকে অতিমানুষ বা মহামানুষের দৃষ্টিতে নয়, বরং সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে দেখতে হবে। সাধারণ মানুষ, যাদের চাওয়া-পাওয়া অতি অল্প। ‘৭০-এর নির্বাচনে এত বড় বিজয়ের পর ৭ মার্চের মঞ্চ থেকে তিনি তো জয় পাকিস্তান বলবেনই। কারণ নির্বাচনটা তো ভারত কিংবা আমেরিকার নয় যে, ‘জয় হিন্দ’ বা ‘গড ব্লেস আমেরিকা’ বলবেন। এবার অন্তত ইনু সাহেব কি দয়া করে খালেদাকে রেহাই দিয়ে বরং আওয়ামী লীগের চোখের ছানি কাটবেন! ডজনখানেক বিজ্ঞজন বহু আগেই ‘জয় পাকিস্তান’ বলা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন। এতগুলো গুণী লোক একসাথে মিথ্যা বলতে পারেন না। আওয়ামী চোখে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানরা পর্যন্ত কুলাঙ্গার। আমার মতে, তিনি সঠিক, কারণ মুজিব সঠিক। তাই ৭ মার্চের মঞ্চে তিনি যদি জয় পাকিস্তান না বলে থাকেন, তাহলে একই মঞ্চ থেকে উচ্চারিত ‘আমি শুধু বাংলার নয়, পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টিরও নেতা’ কর্তন করে, শুধু তার পরেই ৭ মার্চের বক্তৃতা প্রচার করতে হবে। অন্যথায় দুটোই স্বীকার করতে হবে। কর্তন কিংবা সংযোজন, এখানে আওয়ামী পছন্দ-অপছন্দ চলবে না। ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ এবং ঢাল-তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধ ঘোষণার মধ্যে বিরাট পার্থক্য। স্বাধীনতার সংগ্রাম, অর্থাৎ একজন বন্দীর জন্য যা বিদ্রোহ, একজন নির্যাতিতার জন্য মুক্তির চিৎকার, একজন বিপ্লবীর জন্য স্বাধিকারের দাবি। যুদ্ধের ডাক হলো অস্ত্র নিয়ে সম্মুখসমরের ঘোষণা। এরপর শত্র“র সাথে আর কোনো আলোচনাই চলে না। অর্থাৎ ৭ মার্চের মঞ্চ থেকে যুদ্ধের ডাক তিনি দেননি; ২৬ মার্চেও দিয়েছেন কি? বরং মুজিব-ভুট্টোর মধ্যে হোটেল ইন্টারকনে যা ঘটল, সারা দুনিয়া তা জানে। আজীবন তিনি স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে কঠোর সংগ্রামী, তার পরেও মাও অথবা হো চি মিনের মতো ছিলেন না। সারা জীবন মিছিল-মিটিং করেছেন, কোনো দিনই অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেননি কিংবা ভাবেননি কোনো গেরিলাযুদ্ধে নেতৃত্বের কথা। অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ২৭ তারিখে হরতাল এবং ২৮ তারিখে বেতন তোলার ঘোষণা। আমার অভিজ্ঞতায় দেশ ও জাতির স্বার্থে, বহু প্লাবনে প্লাবিত সুনামির মতো এই যুদ্ধের খোলনলচে বের করে একে পরিচ্ছন্ন করা অতি জরুরি। ৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে কী পরিণতি হতো মুজিবের, কেউ কি জানে? স্বাধীনতার ঘোষণা মানেই একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশকে খ-িত ও বিচ্ছিন্ন করে ফেলা। যুগে যুগে দেশদ্রোহিতার শাস্তি মৃত্যুদ-। সেই ঝুঁকি না নিয়ে বরং ২৫ মার্চ রাতে বিষয়টি তাজউদ্দীন আহমদকে খোলামেলাই বলেছিলেন মুজিব। এই বিতর্ক যখন উঠেছে, বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। গণ-অভ্যুত্থান থেকে ২৫ মার্চ, কোনোটাই স্বাধীনতার কথা বলে না; বরং ছয় দফার প্রধান শর্ত সর্বাধিক স্বায়ত্তশাসন এবং স্বাধীন মুদ্রা। যুদ্ধ একবার শুরু হলে একমাত্র যুদ্ধবিরতি ছাড়া প্রতিপরে সাথে কোনো আলোচনাই চলে না। সেেে ত্র হোটেল ইন্টারকনে যেকোনো আলোচনাই অবাস্তব হতো। তবে বাস্তবতা এইÑ ‘৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়ের পর এই অংশের হাতে মতা হস্তান্তরই ছিল সক্সঘাত এড়ানোর একমাত্র উপায়। কিন্তু তারা তা করেনি। অনুর্বর মস্তিষ্কে উর্বরতা বাড়ানোর ল্েয কিছু ঐতিহাসিক তথ্য। বাংলাদেশের এক বন্ধু, প্রখ্যাত সাংবাদিক হামিদ মীর ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বরে লিখেছেন, ‘‘মুজিব ওয়ান্টেড সেটেলমেন্ট নট সেপারেশন। লিখেছেন, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান সেনা সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা চেয়েছিলেন। সেই ল্েয মার্কিন রাষ্ট্রদূত ‘জোসেফ ফার্ল্যান্ডের’ সাথে ঢাকায় ২৮ ফেব্র“য়ারি দেখা করে বিচ্ছিন্ন পূর্ব পাকিস্তানের বদলে পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন সরকারের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।” ১৯৯৮ সনের ১১ নভেম্বরে ভারতের ফিল্ড মার্শাল স্যাম মানেক শ ডিফেন্স সার্ভিস কলেজের এক বক্তৃতায় বলেছেন ‘৭১-এর এপ্রিলে অত্যন্ত ুব্ধ একজন প্রধানমন্ত্রীর কথা। শরণার্থী আসতে শুরু করলে জরুরি সভায় মানেক শ’কে ইন্দিরা গান্ধীর প্রশ্নÑ ‘তুমি কী করছ?’ মানেক শ বলছেন, ‘‘কিছুই না। যখন তুমি বিএসএফ, সিআরপি এবং র-কে উসকানি দিয়ে পাকিস্তানকে যুদ্ধে জড়িয়েছ তখন তুমি আমাকে কিছুই জিজ্ঞেস করোনি। এখন তুমি বিপদে পড়েছ। আমার নাক লম্বা, আমি জানি কী হচ্ছে। বলো, কী করতে হবে?” গান্ধী বললেন, ‘আমি চাই, তুমি পূর্ব পাকিস্তানে প্রবেশ করো।’ “ৃআমি বললাম, তার মানে যুদ্ধ! তিনি বললেন, যুদ্ধ হলেও আমার কিছু করার নেই। বললাম, তুমি কি বাইবেল পড়েছ? পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরদার শরণ সিং বললেন, বাইবেলের প্রসঙ্গ কেন? আমি বললাম, বাইবেলের প্রথম কথা, আলো আসতে দাও।’ আর তোমরা বলছ যুদ্ধ! তোমরা কি তৈরি? আমি তৈরি নই! হিমালয় থেকে ঢল নামলে ওই পাড়ে কিছুই দেখা যাবে না। সবাই যখন চলে যাচ্ছিল, প্রধানমন্ত্রী ডেকে বললেন, স্যাম, তুমি একটু দাঁড়াও। আমি বললাম, আমি কি স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে পারি?” তিনি মৃদু হেসে বললেন, ‘স্যাম, তুমি জানো আমি কী চাই।’ আমি বললাম, ‘সত্য বলা আমার কর্তব্য, যুদ্ধ করা আমার দায়িত্ব এবং যুদ্ধ করে সফল করাও আমার কাজ।’ (ফিল্ড মার্শাল কে এম কারিয়াপ্পা মেমোরিয়াল লেকচার ১৯৯৫-২০০০, ল্যান্সার পাবলিশার্স অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউট, দিল্লি ২০০১, দ্র: ইন্ডিয়ান ইকোনমি ব্লক, অক্টোবর ১২, ২০০৭)। ইন্দিরা তাকে এপ্রিলেই যুদ্ধে যেতে বললেও মানেক শ’র সিদ্ধান্তেই ডিসেম্বরে যুদ্ধ চালানো হয়। ৭ কিংবা ২৬ মার্চ, মুজিব কেন যুদ্ধে যাওয়ার ঘোষণা দেননি, কিংবা ইন্দিরা কেন এপ্রিলেই যুদ্ধ চেয়েছিলেন, বোঝার জন্য চার্চিল হওয়ার প্রয়োজন নেই। স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে বরং সেই রাতে পাকিস্তানিদের ওপর আমাদেরই অপারেশন সার্চ লাইট চালানোর কথা; স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে আত্মসমর্পণ নয়, সেই রাতে আত্মগোপনই বাস্তবতা। কিন্তু মুজিব সেটা করেননি। এ রকম উদাহরণ বহু। উপরিউক্ত সত্য, আওয়ামী লীগকে মানতে হবে, অন্যথায় আজীবন তাদেরকে বাঁশনির্ভর রাজনীতিই করতে হবে। ওয়েবসাইটের বক্তব্যগুলো অনুধাবনযোগ্য। মুক্তিযুদ্ধকে ‘চতুর্থ ইন্দো-পাক’ যুদ্ধ নামে ডাকে হিন্দু, আনন্দবাজার, টাইমস কিংবা ভারতীয় সংস্থাগুলো। ওদের দাবি, আগে তিনটি ইন্দো-পাক যুদ্ধের পর এটি ‘চতুর্থ ইন্দো-পাক’। দৃশ্যত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধটা মূলত ওরাই করেছিল, যার বহু প্রমাণ দলিল-দস্তখতে। এখানে এসেই ‘ভেতরে বাইরে’ বইগুলোর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে এবং শুধু সে কারণেই দুই নেত্রীর চোখে দেশটা কখনো র, কখনো আইএসআইয়ের মতো মনে হওয়াই স্বাভাবিক। পরস্পরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দুই নেত্রী বারবারই কেন করে আসছেন, যার শক্ত ভিত্তি আছে। প্রথম সিমলা চুক্তিতে বাংলাদেশের জায়গা হলো না; বরং নিজেদের ইচ্ছায় প্রায় ৯০ হাজার যুদ্ধবন্দী ফেরত। ৪৩ বছরেও মুক্তিযুদ্ধের চরিত্র নির্ধারণ না হওয়ার কুফল এসব। গবেষণা করুন, মুজিব চেয়েছিলেন স্বাধিকার, ইন্দিরা গান্ধী চেয়েছিলেন স্বাধীন পূর্ব বাংলা। আত্মসমর্পণের টেবিলে ওসমানীর বদলে অরোরা কেন, জানার জন্য সক্রেটিস হওয়ার প্রয়োজন আছে কি? এ কে খন্দকারের বইটিকে ছেঁটে নয় বরং সামগ্রিক অর্থে বিচার করা প্রয়োজন। বইটি শুধু বরফের মাথা, পুরো শরীরটা পানির তলে। মূল বক্তব্য বাদ দিয়ে ‘জয় পাকিস্তান’ নিয়ে হইচই মস্তিষ্কহীনদের কর্ম। বরং মুক্তিযুদ্ধের চরিত্র নির্মাণে এই ধরনের আরো বইয়ের প্রয়োজন। শারমিনের পর খন্দকারের বই নিয়ে নিজেদের লেজে নিজেরাই আগুন দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। কেউ বলছে কুলাঙ্গার, কেউ বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। আমি বলব, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছাড়া ভারতের নেতৃত্বে কেউ যুদ্ধ করবে না। খন্দকার জানেন, যা আমরা জানি না। তিনি দেখেছেন খুব কাছ থেকে। দেরিতে হলেও প্রবাসী সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির অভিজ্ঞতা ফেলে দিতে পারি না। আজ যারা সমালোচনায় ফেটে পড়ছেন, বেশির ভাগই হাইব্রিড, কেউ কেউ সুবিধাবাদী, কোনো কোনো সমালোচকের গোঁফ পর্যন্ত ওঠেনি তখন। মুক্তিযুদ্ধের বাবা-মা দাবিদারদের অনেকেরই এই যুদ্ধে কোনো রকম অংশগ্রহণ ছিল না বলে ঐতিহাসিক প্রমাণ আছে। অথচ তারাই খন্দকারের ভীষণ সমালোচক। ইনু, কাজী ফিরোজ কিংবা তোফায়েলরা তো পারলে তাকে জ্যান্ত কবর দেন। প্রবাসী সরকারের ভূমিকা আসলেই কী, আজো স্পষ্ট নয়। শারমিন আর খন্দকার লিখিত দুটো বইয়েরই বক্তব্য প্রায় এক হওয়ায় গালাগাল বাদ দিয়ে গবেষণাই কাম্য। বরং দেশজুড়ে অ্যাকাডেমিক সেমিনার কিংবা টাউনহল মিটিং করে মানুষকে জাগ্রত ও শিতি করা উচিত। কেন নয়? সময় আসবে যখন এভাবে চলতে দিলে অর্বাচীনেরাই একদিন সংখ্যাগুরু হবে। এ কে খন্দকার ভদ্রলোক, তাই উল্টো গালি দেননি। পে না গেলেই গোসসা। ‘জাতীয় চরিত্র’ ঠিক না হলে ইতিহাসের চরিত্রও ঠিক হবে না। ফলে প্রথম থেকে ১০ম সংসদের চেহারা কখনো র, কখনো আইএসআইয়ের মতো হবেই। বাস্তবতা এইÑ ইন্দিরা গান্ধীর চাওয়া মুজিব থেকে ভিন্ন। দেশ বিভাগের পর থেকেই ভারত চেয়েছিল, পূর্ব থেকে পশ্চিমকে বিচ্ছিন্ন করে নব্য প্রভাব বলয়ের সূত্রপাত। এই ল্েয তিনটি যুদ্ধের পর ‘৭১-এই শেষ যুদ্ধ। জওয়াহের লাল থেকে ইন্দিরা, বরাবরই পূর্ব বাংলাকে কলোনি রূপে দেখতে চেয়েছিলেন। ইতিহাসের শিাই তাই, দানবীয় কায়দায় ছোট রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ। সেই ল্েয যেসব অগ্রিম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল দিল্লি, ৪৩ বছর পরেও তা নিয়ে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কোর্স না থাকাটা দুঃখজনক। কেমন ছিলেন ব্যক্তি গান্ধী? যুদ্ধ জয়ের জন্য ‘৭২-এ বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর, হাইকোর্ট থেকে ভোট কারচুপির অভিযোগ এলে ২১ মাস ধরে জরুরি অবস্থা কায়েম করে গণতন্ত্রের বারোটা বাজালেন। শেষ পর্যন্ত জেল। মতার লোভে একসময় দানবী হয়ে উঠলেন। অবশেষে ‘৮৪-এ দেহরীর হাতে খুন। স্বাধীন খালিস্তান আন্দোলনের বিরুদ্ধে গুপ্তহত্যা, জুলুম, ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হওয়ার পরিণামে কাম্য না হলেও তার এই পরিণতি। তার গোপন ভূমিকা নিয়ে বহু আগেই ট্রুথ কমিশনের প্রয়োজন ছিল। দায়িত্ব নিয়েই বলছিÑ প-িতদের অনেকেই সত্য লুকিয়ে রেখে দেশটাকে এমন নিরাপত্তার হুমকিতে ফেলে দিয়েছেন, যে জন্য আজ ভাইয়ে ভাইয়ে শত্র“; যা পাকিস্তান আমলে ছিল না বললে ভুল হবে না। এখন জাতীয় স্বার্থে উচিত, সত্যের পথে আসা। কারণ, গোড়ায় গলদ বলেই ৪৩ বছর ধরে ভারতীয় আগ্রাসনের কবলে দেশ। ওরাই আমাদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা জিইয়ে রেখে ঘরে ফসল তুলছে। ওদের কর্মকা-ে আমার চোখে, দেশটাকে যত না আইএসআই তারচেয়ে বেশি মনে হয়েছে র-এর কবলে কবলিত। হাসিনার অভিযোগ সত্য হলে দশম সংসদের চেহারা হতে পারত আইএসআইয়ের মতো, কিন্তু তা হয়নি। বরং র-এর মতো হওয়ার অভিযোগটা তার সরকারের ওপরেই বর্তায়। আজ পর্যন্ত বিডিআর হত্যাকা-ে বিশেষ দেশের সম্পৃক্ততার জট খুলল না। খন্দকারের বই নিয়ে হইচই বাদ দিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা করুন। একমাত্র রাজনৈতিক নাবালকেরাই জয় পাকিস্তান নিয়ে দেউলিয়াপনা করছে। করুক। কিন্তু যতই করবে ততই প্রমাণ হবে, তিনি বলেছিলেন। বাবা -মায়ের মুখে মহামানবদের গল্প শুনেছি। তাদের সংস্পর্শে এলে নাকি লোহাও খাঁটি সোনা হয়। বাংলাদেশেও এমনকি মহামানবেরা উদয় হলেন, যাদের সংস্পর্শে আসা মাত্র ভোল পাল্টে যায়, এমনকি গায়ের চামড়া ছিলে যারা ডুগডুগি বাজাতে চেয়েছিলেন, তারাও। খন্দকারের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ হলো সংসদে। তবে ডিজিটাল মিডিয়া থেকে যেসব তথ্য ভুরভুর করে বের হচ্ছে, আওয়ামী লীগের জন্য শুভ নয়। দেরিতে হলেও তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরা হচ্ছে আওয়ামী লীগ যুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়নি। তবে ঘটনা যা-ই হোক, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব। একে যারা বিকৃত, অমর্যাদা ও অবমূল্যায়িত করেছে, জাতির জন্য তারা মস্তিষ্কভুক ব্যাকটেরিয়ার মতো বিপজ্জনক। এদেরকে নির্মূল করার ল্েয বুদ্ধিবৃত্তিক জাতি গঠনের বিকল্প নেই। স্বায়ত্তশাসনের দাবি উঠেছিল দেশ বিভাগের প্রথম রাতেই। পরবর্তীকালে এই দাবিতে ঐতিহাসিক কাগমারি সম্মেলনের সাফল্যের বিরুদ্ধে ক্যু করে হুজুর ভাসানীকে ‘কুলাঙ্গার’ বানানো যাবে না। কিন্তু দুর্ভাগ্য, পছন্দ না হলে সবাই রাজাকার, সবাই কুলাঙ্গার। তখন টকশো বা টিভির ব্যবস্থা ছিল না। তবে এক-এগারো পরবর্তী পরিস্থিতিতে আবার যখন আরেকটি কাগমারির প্রয়োজন হয়েছিল, তখন টকশোগুলোতে কাজী ফিরোজের মতো যাদেরকেই ছোটখাটো ভাসানীর ভূমিকায় দেখেছিলাম, দশম সংসদে ভাগাভাগিতে অংশ নিতে আলোর গতিতে পাল্টে গেলেন। এদের বদলে যাওয়ার পেছনে মহামানব না কুমানবÑ সেই বিতর্ক পাঠকের। তবে তিনটি শ্রেণীÑ একটি যারা কাজী ফিরোজের মতো দেখতে; অন্যটি যারা ‘৭৪-এ কালো তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী দল হিসেবে কুখ্যাত; তৃতীয়টি যারা মুক্তিযুদ্ধ না করেও সার্টিফিকেট দখল করে চেতনার নির্যাতন করছে ৪৩ বছর। হালুয়া-রুটির ভাগাভাগিতে পালাক্রমে তিনটি শ্রেণীর এরাই দখলে রেখেছে বেশির ভাগ সংসদ সদস্যপদ। ফলে সংসদের চেহারা হয়েছে স্বৈরতন্ত্রের দানবসন্তানদের মতো। বাংলাদেশের ছোটখাটো আইয়ুব খান যিনি, ‘৫৮-কে অনুসরণ করে মতায় এলেন, দশম সংসদে তিনিই গণতন্ত্রের মানসপুত্র। আমরা পড়েছি হাইব্রিড মানসকন্যা ও মানসপুত্রদের খপ্পরে। মুক্তিযুদ্ধের চরিত্র নির্ধারণে ব্যর্থতাই এদের উপদ্রবের কারণ। ২ মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানে লুকিয়ে থাকা এরশাদ যে দিন সিএমএইচে ধোলাই হয়ে আওয়ামী ঘোড়ায় চড়ে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হয়ে সংসদে এলেন, ‘৭১-এর মৃত্যু হয়েছে সে দিনই। শুধু ‘৭২-এ দেশে ফেরত নয়, বড় খান সাহেবের মতো বিচারপতি আবদুস সাত্তারের বুকে পিস্তল ঠেকিয়েই নয়, ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লেখা নূর হোসেনের বুক গুলিবিদ্ধ করে গণতন্ত্র হত্যা করেছিল এই স্বৈরাচার। আমাদের দেশে কত না গুণীজন! আওয়ামী সরকার থাকলে একজন বাদে কারো নাম উচ্চারণ হয় না। সোহরাওয়ার্দী, ভাসানী, এ কে ফজলুল হকের কথা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। একজন নোবেল লরিয়েট থাকলেও তার নামটি পর্যন্ত উচ্চারণ হয় না, বরং তিনিও ‘কুলাঙ্গার’! অথচ মহাস্বৈরাচার নিয়ে শত শত ঘণ্টা ব্যয় আর সংসদে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ। কেন? বর্তমানে জাতীয় পার্টিতে গ-গোলের নামে যে নাটক, অর্থ এই রকম। সম্ভবত খালেদাকে জেলে পাঠিয়ে মানুষের চোখে অপদার্থ রওশনের বদলে এরশাদকে বিরোধীদলীয় নেতা বানিয়ে ২০১৫ সালে আরেকটি নির্বাচনের মাধ্যমে মতা চিরস্থায়ী করার চেষ্টা চলবে। রওশনের গ্রহণযোগ্যতা না থাকায় মানসকন্যা ও মানসপুত্রের মধ্যে যে নাটক শুরু, তা নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ার কার্টুনগুলো বেশ উপভোগ্য। জাতীয় পার্টির ভেতরে সৃষ্ট গ-গোলটি ভুয়া। দশম সংসদের এই চেহারার অন্যতম কারণ, এ বিষয়গুলো নিয়ে যেকোনো আলোচনাই ধামাচাপা দিয়েছে মস্তিষ্কহীন আওয়ামী লীগ। আওয়ামী চোখে গণতন্ত্রের মানসপুত্র এরশাদ, যিনি ‘৭২-এর পর দেশে ফিরেই সেনাবাহিনীর ভেতরে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলেন। ‘৭৫-এর পর ‘৮১-এর আরেকটি ১৫ আগস্ট ঘটানোর আর্কিটেক্ট। ইস্কান্দার মির্জার বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে আইয়ুব খান, আর বিচারপতি সাত্তারকে ভয় দেখিয়ে মতা নিয়েছেন এরশাদ। আওয়ামী লীগ দাবি করে, স্বৈরাচার হটাতেই ‘৭১ ও ‘৯০। কিন্তু দুর্ভাগ্য, ‘৮৬ ও দশম সংসদে স্বৈরাচারী এরশাদই গণতন্ত্রের মানসপুত্র এবং সাথে পেলেন মানসকন্যাকে। এই অঙ্ক মেলানো কঠিন। মিনি খান উৎখাতে খালেদা-হাসিনা সে দিন যে মাপের গণতান্ত্রিক আন্দোলন দেখিয়েছিলেন তা যদি সত্যিকারের গণতন্ত্রের জন্য হতো, তাহলে ২৪ বছর পর সংসদের চেহারা হওয়া উচিত হাউজ অব লর্ডসদের মতো। গণতন্ত্রের মানসপুত্রের চেয়ারে বসে নর্দমার মতো ভুরভুর করে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছেন। ‘৬৯-এর অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলে কি আইয়ুব খানের বেসিক ডেমোক্র্যাসি মেনে নিয়ে কনফেডারেশন সরকার করতেন মুজিব! তা যদি না হয়, তাহলে মুজিবকন্যার কাছে আমার বিনীত প্রশ্নের জবাব চাই, আইয়ুব চরিত্রের ব্যক্তি কী করে গণতন্ত্রের মানুসপুত্র হলো! আর এসব জানার জন্যই ‘ভেতরে বাইরে’ বইটি জরুরি। এরশাদের চরিত্র নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। এ জন্য কাকে গণধোলাই দিলে কলঙ্কমুক্ত হবে দেশ? বলছি, খন্দকারের বইটির মতো এ রকম শত শত বইয়ের প্রয়োজনের পেছনের কথা। ব্যাংক দেউলিয়া হলে পুঁজি নিয়ে টানাটানি। মেধা দেউলিয়া হলে বুদ্ধি নিয়ে টানাটানি। সংসদ দেউলিয়া হলে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে টানাটানি। তাই রক্তচোষা, কুলাঙ্গার, রাজাকার শব্দগুলো এখন প্রায় সংসদীয় গণতন্ত্রের ভাষা। সংশোধনীর মাধ্যমে নষ্ট ভাষার আইন হলেও অবাক হবো না। এদের চোখে বঙ্গবীর, কর্নেল অলিৃ সব রাজাকার! হায়রে মুক্তিযুদ্ধ! প্রশ্ন, সেক্টর কমান্ডাররাও পাইকারি হারে রাজাকার হলে মুক্তিযুদ্ধ করলটা কে? মুজিব তো দুই হাজার মাইল দূরে, সেই ৯ মাসকে ঘিরেও কত বিতর্ক। তাহলে কি ভারতীয় প্রতিরা বিশেষজ্ঞদের কথাই ঠিক? ‘যুদ্ধ করেছি আমরা, মুক্তিবাহিনী যুদ্ধ করেনি শুধু পথ দেখিয়েছে।’ তবে ফিল্ড মার্শাল মানেক শ’র চেয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধের বাইবেল’ বেশি কে জানেন! চেতনাবাদীরা এতকাল একতরফা চাপিয়েছে, এবার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ফেরত দিলে ভারসাম্য আসবে। এ জন্য এগিয়ে আসতে হবে ড. কামালদেরকেও, ৪৩ বছর যারা সাপের ঝুড়ি নিয়ে যন্ত্রণাদগ্ধ, না ঘরকা না ঘাটকা, ভুগছেন এবং ভোগাচ্ছেন। ‘নব্য রাজাকার’ খেতাবপ্রাপ্ত বঙ্গবীরকেও বিদেশী জামাইবাবুর গুহা থেকে এবার বেরিয়ে এসে গোপন দলিল প্রকাশ করতে হবে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট পর্যন্ত ২২ বছর পরপর গোপন তথ্য প্রকাশ করে আসছে। কিন্তু ড. কামাল হোসেনদের মতো আমাদের ‘সিআইএ’রা ৪৩ বছর পরেও মুখ খুলছেন না কেন? চাইলে তারাই এক মিনিটে ৪৩ বছরের কালো মেঘ সাদা করতে পারেন, এতে রা পেত জাতি, পেত মুক্তিযুদ্ধও। শেখ মুজিবের সাথে তিনিও ৯ মাস পাকিস্তানে, ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির মতো একমাত্র তার পেটেই বস্তাভরা গোপন তথ্য। এ জন্য সুশীলসমাজের উচিত গণদাবির উদ্যোগ নেয়া। সত্য লুকানোর দায়ে জ্ঞানপাপীদের জায়গা হবে আস্তাকুঁড়ে। তবে ডিজিটাল পৃথিবীতে চাইলেও তথ্য লুকানো যাচ্ছে না। সত্য যে, মুজিব চেয়েছিলেন একটা, গান্ধী চেয়েছিলেন অন্য কিছু। এই দুয়ের মধ্যে যোগসূত্রের গবেষণা সময়ের দাবি। ৩ কবি লিখেছেন, ‘এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার শ্রেষ্ঠ সময় তার।’ না, যুদ্ধে যাইনি, তবে স্বাদ উপভোগ করেছি ‘৭১-এ। এর আগে কলা বিভাগে মাত্র তিনটি বিষয় নিয়ে মাধ্যমিকে প্রথম বিভাগ পাওয়ায় ছোট শহরে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছি। আমার দু’চোখে তখন অদম্য স্বপ্ন। বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলাম হোমসে, তখনই শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ, কী করি! আমার দেখা মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতার সাথে এ কে খন্দকারের বইটির অনেক মিল। তিনি যা লিখেছেন, অনেকেরই মনের কথা, হালুয়া-রুটির কারণে লিখতে অসুবিধা। খন্দকার সাহেবের হালুয়া-রুটি খাওয়া শেষ; তাই লিখেছেন। থিয়েটার রোডে যাইনি, তবে ৯ মাস খুব কাছেই ছিলাম। কলকাতায় আমার হাতে সংসার দিয়ে বাবা গেলেন কুচবিহারে। যা বলতে চাইছি, ৪৩ বছর পর মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে কথা উঠেছে, বিষয়টি মোটেও ফেলনা নয়; বরং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে ব্যবসা শুরু হয়েছে, প্রথম সংসদ থেকে আজ পর্যন্ত তারই ধারাবাহিকতা। তখন যারা কলকাতায়, অনেকেই মুক্তিযুদ্ধ দূরে থাক, গাছে একটি ঢিল পর্যন্ত ছোড়েনি, দেশে ফিরে ‘বিরাট মুক্তিযোদ্ধা’। এমনকি যারা প্রাইমারি স্কুলে পড়ত তারাও বীর মুক্তিযোদ্ধা। এমনও দেখা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় মায়ের বয়স সাত কিংবা বাপের বয়স ১২। এসব কারণেই ৪৩ বছর পর ‘মুক্তিযোদ্ধা’র সংখ্যা বেড়ে দুই লাখ এগারো হাজার ৫০৯ জন। আমন ধানের মতো মুক্তিযোদ্ধাও ভাতে বাড়ে, আওয়ামী লীগের বেলায় তার প্রমাণ। অবাক হই না যখন দেখি, প্রায় ৭০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়দাতাই ভুয়া। আওয়ামী উৎসাহে হাইব্রিড মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা আরো বাড়ছে। আমার শহরের শহীদের সংখ্যা করে বহু প্রশংসা কুড়িয়েছি। কোনো সরকারেরই সাহস নেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করার। ২০১৫ সালের ২৬ মার্চে যে নতুন তালিকা বের হবে, সেটাও হবে হাইব্রিড সংস্কারের বর্ধিত সংস্করণ। মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা বাড়াতে পারলে স্বার্থ হাসিল হয়। মতায় থাকার প্রধান অস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। একে বিক্রি করে আজীবন মতায় থাকা সম্ভব। মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশ নেয়নি কিংবা পাকিস্তানিদের সহায়তায় রাজধানীতে থেকে ইয়াহিয়ার ভাতা খেয়েছে, এদের অনেকেই এখন মুক্তিযুদ্ধের বাবা-মায়ের পদে অবতীর্ণ। মার্কিন কংগ্রেসেও তখন বিশেষ একটি ভাতাখোর পরিবার নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। খন্দকারের বইটি এ জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, এমন অনেক অসমাপ্ত প্রশ্নের উত্তর তিনি দিয়েছেন। হইচই না করে বরং শারমিন আহমেদের পরপরই খন্দকারের বইটি আওয়ামী লীগের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর একটি সুযোগ। তারা জানেন, কত অন্যায় করেছেন। এতে করে তারাও অতীতের পাপমুক্ত হতে পারতেন। মানুষ চিরদিন বোকা থাকে না। অন্যথায় এই দেশে অনেক অপ্রিয় ঘটনা ঘটত না। ‘৭১-এ মুজিব বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তিনি যে প্রশ্ন তুলেছেন, এই প্রশ্ন বহু আগেই তুলেছেন গুণীজনেরা। এরই ধারাবাহিকতায় ১৫ আগস্ট। শুধু মুজিববাহিনীর রহস্য উদঘাটনেই একটি ট্রুথ কমিশন প্রয়োজন। আরো গবেষণা এবং বইয়ের প্রয়োজন। তাই সত্য প্রকাশের ভয়ে একটার পর একটা জটিলতা সৃষ্টি করছে সরকার। চতুর্থ, ১৫তম ও ১৬তম সংশোধনীতে মৌলিক অধিকার হরণে রেকর্ড সৃষ্টি করল আওয়ামী লীগ। ১৫তম সংশোধনীর ােভ না কাটতেই চাপিয়ে দিলো ১৬তম সংশোধনী। ১৫তম ও ১৬তম সংশোধনীর আগেও হাইব্রিড গণতন্ত্রবাদীদের মুখে হঠাৎ হঠাৎ সাইরেনের শব্দ শুনেছি। আওয়ামী সাইরেন এবং সংসদ দুটোই রীতিমতো ভীতির কারণ। একমাত্র গৃহদাহের পরেই জেগে উঠি। ভস্মে হাত দিয়ে বলি, কী হলো! আসছে আজীবন মতার আইন। ১৭তম সংশোধনী সেটা সম্ভব করবে। হাজার হাজার ঘণ্টা টকশো আর শত শত কোটি টাকার নিউজপ্রিন্ট ধ্বংস করে আমরা শুধু বলেই যাবো। আর সরকার করেই যাবে যা খুশি। আমাদের টনক কখনোই নড়বে না। বুদ্ধিহীন জাতি হিসেবে তুলনাহীন আমরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চপর্যায়ে শিতিদের মধ্যে এমন অশিার জোয়ার অতীতে কখনোই দেখিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানিতে যে ঘটনা ঘটেছিল একবার, আমরা ভোগ করছি দ্বিতীয়বার। তার পরেও মানুষ প্রতিবাদের বদলে খুশি। অতিমানবের সংস্পর্শে গেলে সবারই ভোল পাল্টায়। এমনকি যারা চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজাতে চেয়েছিল তারাও। ওদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ শুধুই মতার হালুয়া-রুটি বলে কথা। তাহলে মুক্তিযুদ্ধের চরিত্র কী? মুক্তিযুদ্ধ দেখতে কেমন? এটা কি সত্যিই আইএসআইয়ের মতো, নাকি র-এর মতো! ৪৩ বছর পরেও সংসদের চেহারা এমন হলো কেন! দেরিতে হলেও বিগত স্পিকার শওকত আলীর বইতে মিথ্যা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা সত্য বলে প্রমাণ করা হলো। এ কে খন্দকারের বইতে মুজিবনগর, মুজিববাহিনী, মুক্তিযুদ্ধের রহস্যের অনেকটা উদঘাটন হয়েছে। মানেক শ’র বক্তব্য সূর্যের আলোর মতো স্পষ্ট। ওয়েবসাইটগুলোতে রয়েছে বহু গবেষণা এবং তথ্য। এ রকম বই শত শত লেখা হয়েছে, কিন্তু পড়া হয়নি। এখন এক-এগারোর মতো মুক্তিযুদ্ধের বিষয়েও একটি ট্রুথ কমিশন প্রয়োজন। বিতর্কের বদলে অ্যাকাডেমিক আলোচনার সংস্কৃতি চালু না করলে বুদ্ধিবিলুপ্ত জাতি প্রতিষ্ঠা পাবে। এমন সময় আসবে যখন কুঠারের আঘাতেরও প্রতিবাদ করবে না মানুষ। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে হানাহানি, দশম সংসদে গণতন্ত্রের নব্য মানসপুত্রের ক্যারিকেচারে আমরা হতাশ। এসবই ‘৭১-এর অসমাপ্ত যুদ্ধের উপসর্গ, যা ‘ভেতরে বাইরে’ বইটিতে অনেকখানিই বেরিয়ে এসেছে। এই জন্য তাকে পুরস্কার দেয়া উচিত। ৪৩ বছর পরেও দুশ্চরিত্র ব্যক্তিকে যে জাতি ঘৃণা করতে শিখল না, যারা তাকে সংসদে আনলো তাদেরকে বর্জন করতে পারল না, সেই জাতির বৌদ্ধিক মৃত্যু হয়েছে। নবম ও দশম সংসদে যা হলো, সাইরেন বাজিয়ে একাদশতম সংসদের পদধ্বনি, বিরোধী কণ্ঠ স্তব্ধ করা প্রায় শেষৃ এরপর ‘৭১-এর চেতনা যেন গলিত লাশ। ৪ একের পর এক মৌলিক অধিকার হরণের পর আমাদের নতুন আশার জায়গাটির নাম ‘টকশো’। বিটিভি মার্কা বাদে কিছু টিভি আছে, যেখানে ফোনে সরাসরি দর্শকদের মতামত নেয়া হয়। শাসকগোষ্ঠী অন্ধ হলেও আমরা ল করছি, দর্শকদের কাছ থেকে যেসব প্রশ্ন আসে, এর প্রায় ৯৯.৯৯ ভাগই সরকারবিরোধী। মানুষের ভেতরে সরকারবিরোধী তীব্র যন্ত্রণা টকশোগুলোকে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। দেশ-বিদেশ থেকে যখন টেলিফোনে প্রশ্ন করেন, কণ্ঠে ‘৬৯-এর দাহ। সাধারণ মানুষদের প্রশ্ন শুনলে মনে হয়, যেন রাজনীতিতে একেকটা পিএইচডি। মানুষের ভেতরে সরকারবিরোধী যন্ত্রণা এখন সর্বোচ্চপর্যায়ে। গণজরিপে প্রকাশ পেলেই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে সরকার। মতপ্রকাশের বিরুদ্ধে সর্বত্রই যে অভিযান একমাত্র রাষ্ট্রযন্ত্র বাদে জার্মানির বাকি সব মিডিয়া বন্ধ ছিল। খালেদার জেল হলে ভিন্ন মতের যবনিকা। পার্লামেন্টে মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়ায় টকশোগুলো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে। বিষয়টি এমন, পারলে টেলিফোনের ভেতর দিয়েই সরকারকে টেনে নামায়। গণভোট খতম করলে কী হবে! টেলিভিশনগুলো আজ মৌলিক অধিকার হারানো মানুষদের বিকল্প পার্লামেন্ট। প্রতিদিন রাত একটায় চ্যানেল আই-তে যে টকশোটি প্রচার হয়, সেখানে জনমত যাচাইয়ের লাল-সবুজ প্রভিশন আছে। দেখা গেছে, যেসব অতিথি সরকারের সমালোচক, তাদের পে ভোট ৯০-৯৫ ভাগ। অন্য টকশোগুলোতে প্রভিশন না থাকলেও দর্শকদের প্রতিক্রিয়া একই রকম। প্রকৃত পার্লামেন্ট অকার্যকর হওয়ায় মধ্যরাতে টকশোগুলোই যেন আমাদের ‘তিয়েনানমেন স্কয়ার’। এই সমীাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় মনে করা যেতে পারে, এই ভয়েই সরকার সম্প্রচার নীতিমালা করতে এত বেশি মরিয়া হয়ে উঠেছে। জনরোষে নৌকা প্রায় ডুবুডুবু। ৯০-৯৫ ভাগ মানুষ স্বৈরাচারী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে এবং অতি দ্রুত নির্বাচনের দাবি করে আসছেন। তাই প্লাটফরমটি বাঁচিয়ে রাখতে সব রকমের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আওয়ামী লীগের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুঃশাসন। সরকারের বদনামে বিশ্বজুড়ে কলঙ্কিত হচ্ছে দেশ। বন্দুকের নলে মানবাধিকার কোনো রাষ্ট্্েরর জন্য ভালো ফল বয়ে আনেনি। এমনকি মহামতি আলেক্সান্ডার পর্যন্ত মৃত্যুশয্যায় তার মতার লোভের জন্য কেন বহু আফসোস করেছেন, এ নিয়ে পরে লিখব।

বিস্তারিত»

বিনোদন

সোনমকে সঙ্গে পেতে চান হিলফিগারের!

মুম্বাই: আমেরিকার ফ্যাশন ডিজাইনার টমি হিলফিগার তার ব্রান্ডের দশম অ্যানিভারসরি পালন করতে এলেন ভারতে৷ আর এখানে এসে তার পছন্দ হল বি-টাউনের এক ভারতীয় সুন্দরীকে৷ তিনি আর কেও নন, ‘খুবসুরত’ নায়িকা সোনম কাপুর৷৬৩ বছর বয়সী এই ডিজাইনার সোনমের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন৷ তার মতে, তিনি সোনমের মধ্যে দেখছেন সেই পারফেক্ট কম্বিনেশন, যা টমির কাজের পরিপূরক৷ এক সাক্ষাৎকারে ডিজাইনার হিলফিগার বলেন, সোনম কাপুর একাধারে সুন্দরী ও এত নাম যশ থাকা সত্ত্বেও তার মধ্যে কোনো উদ্ধত্ত নেই৷তার ব্রান্ড ও সোনমের মধ্যে একটা জায়গায় মিল রয়েছে৷ সেটি হলো ব্রান্ড আর সোনম দুটোতেই পারিারিক ছন্দটা বজায় রয়েছে৷তার ব্রান্ডের জন্য সোনমই প্রথম পছন্দ৷ হিলফিগার আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে তিনি একাত্মাভাবে জড়িয়ে আছেন৷ এদেশের ডিজাইন তাকে অনুপ্রানিত করে৷ ভারতীয় অনেক ডিজাইনকেই নিজের কাজে ব্যবহারও করেন৷ ‘ইন্ডিয়ান সিল্ক’, ‘ফেব্রিক’, ‘এমব্রডারি’ তার বিশেষ পছন্দ৷ তার সঙ্গে আরও একটি জিনিস পছন্দ৷ সেটি হল কালার কম্বিনেশন৷ প্রথমার ভারতে আসার পর থেকেই নিজের কাজের মধ্যে এগুলিকে তুলে ধরার চেষ্টা করেন৷ এদেশে তার জিনিস ‘টিএইচ’ লোগো দিয়ে বিক্রি করা হয়৷ পুরুষদের জন্যও ট্রাডিশনাল পোশাকের ডিজাইনও তৈরি করেন তিনি৷এদেশের মহিলা ট্রাডিশনাল পোষাক তাকে সচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে৷ তার কাছে ভারতীয় ফ্যশনের বিশেষত্ব হলো, একটা বিশেষ কোনো উৎসব একটা মেয়ের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে৷ সঙ্গে তার পরিবারের কাছেও৷ সব মিলিয়ে তৈরি হয় একটা ফেস্টিভ মুড৷ ভারতীয় ফ্যশনের এই দিকটাই ডিজাইনার হিলফিগারের সবচেয়ে বেশি পছন্দ৷- ওয়েবসাইট।

বিস্তারিত»

স্বাস্থ্য ও রুপচর্চা

মাথাব্যথাকে বিদায় জানাতে ১০ দাওয়াই

কম ঘুম, শরীরে পুষ্টির অভাব, অতিরিক্ত কাজের চাপ ও টেনশনের কারণে সাধারণত মাথাব্যথা হয়। অনেক সময় মাথাব্যথা বিরক্তিকর পর্যায়ে চলে যায়। তা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই ছটফট করতে থাকেন- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই প্যারাসিটামল কিংবা ব্যথানাশক ওষুধ খেতে থাকেন। এসব উপায় সাময়িক মুক্তি দেয় বটে, কিন্তু কিছু অভ্যাস রপ্ত করে নিলে আপনি মাথাব্যথা থেকে একেবারে মুক্তি পেতে পারেন। ১. প্রতিদিন একই সময় ঘুমাতে যান। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান। ২. হালকা ব্যায়াম করুন। ব্যায়াম করলে শরীরের রক্ত চলাচল ভাল হবে, ফলে মাথাব্যথা দূর হবে। ৩. চিন্তা মুক্ত থাকুন। ৪. প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। ৫. কফি কিংবা চা পান করতে পারেন। চা ও কফিতে বিদ্যমান ক্যাফেইন মাথাব্যথার অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। ৬. লবঙ্গ গুঁড়ো করে পাতলা পরিষ্কার কাপড়ে নিয়ে ঘ্রাণ নিন। এতে মাথাব্যথা কমে যাবে। ৭. হালকা গরম পানিতে হাত-পা ভিজিয়ে রাখুন। এতে শরীরের রক্ত সঞ্চালন ভালো হবে। ফলে মাথাব্যথা কমে যাবে। ৮. একটানা কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপে কাজ করবেন না। মাঝে মাঝে চোখকে বিশ্রাম দিন। ৯. মাথা, কপাল ও ঘাড় ভালোমতো ম্যাসাজ করুন। এতেও মাথাব্যথা দূর হবে। ১০. কাঙ্ক্ষিত অনাকাঙ্ক্ষিত সব পরিস্থিতি থেকে আনন্দ খুঁজে নিন, প্রাণ খুলে হাসুন।

বিস্তারিত»

সম্পাদকীয়

দেশে শক্তিশালী গণতন্ত্র না থাকায় সরকার স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছে!

দশম জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা)। দলটি আবার সরকারের অংশও। অন্যদিকে মাঠের বিরোধী দল বিএনপিও নেই রাজপথে। সর্বশেষ সোমবার ২০ দলীয় জোটের হরতালেও নেতাকর্মীদের মাঠে দেখা যায়নি। নিরুত্তাপ হরতালে বরং রাজপথ দখলে রাখে আওয়ামী লীগ। অনেকটাই সেমিনার-গোলটেবিলকেন্দ্রিক কর্মসূচিতে আটকে আছে বিএনপি। আর এমন দুর্বল বিরোধী দল গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করছেন রাজনীতিক ও রাজনীতি বিশ্লেষকরা। বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনের পর সংসদীয় ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল বিরোধী দলের জায়গায় রয়েছে জাতীয় পার্টি। দলটিও এখন চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দলে এরশাদের নেতৃত্বের বিকল্প নেতৃত্ব সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে। এতে যেকোনো সময় জাতীয় পার্টিতে আবারও ভাঙনের আশঙ্কা করছেন দলটির নেতারাই। এ ছাড়া ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয়নি ৪ বার রাষ্ট্রপরিচালনাকারী দল বিএনপি। ওই নির্বাচনকে বিএনপি অবৈধ আখ্যায়িত করলেও কার্যত ‘অবৈধ’সরকারবিরোধী কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি দলটি। এমনকি ঢাকায় সরকারবিরোধী বড় ধরনের সমাবেশ করতেও ব্যর্থ হয়েছে দলটি। এ ছাড়া বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থাও অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভঙ্গুর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, সংসদের বিরোধী দল জাপা আর আওয়ামী লীগের নেতাদের ভাষায় রাজপথে ‘মাজা ভাঙ্গা’ বিরোধী দল বিএনপি বর্তমান মহাজোট সরকারের জন্যই কাল হতে পারে। অতীতের রাজনৈতিক ইতিহাস এমনটাই সাক্ষ্য দেয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যখনই দুর্বল বিরোধী দল ছিল তখনই গণতন্ত্রের পথ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। স্বৈরতন্ত্রের আবির্ভাব ঘটেছে। বিশেষ করে ১৯৭৩ সালে নির্বাচনে বিরোধী দল জাসদ ছিল দুর্বল। পরে ১৯৭৫ সালে গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে, ১৯৮১ সালেও দুর্বল বিরোধী দল থাকায় বাধাগ্রস্ত হয়েছে গণতন্ত্র। “দুর্বল বিরোধী দল অবশ্যই গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। দুর্বল বিরোধী দলের কারণে রাজনৈতিক শক্তির শূন্যতা সৃষ্টি হচ্ছে। গণতন্ত্রে বিরোধী দল সরকারের ‘সেফগার্ড’। কিন্তু জাপা সে রকম ভূমিকা নিতে পারছে না। জাপাকে জনগণ গৃহপালিত বিরোধী দল মনে করে। যা গণতন্ত্রের জন্য দুঃসংবাদ।” ‘দেশে শক্তিশালী গণতন্ত্র না থাকলে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে উঠে। স্বৈরাচারী আচরণ রাষ্ট্রীয় উপাদানে পরিণত হয়। এই শূন্যতা ও স্বৈরাচারী আচরণ রাজনৈতিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সরকারের উচিৎ বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করা। আর বিএনপিরও উচিত জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি দিয়ে জনগণকে তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। ‘ আওয়ামী লীগের বলছে , ‘দেশে গণতন্ত্র স্বাভাবিক গতিতেই আছে। কোনো দল নির্বাচনে না এলে সেটা তাদের ব্যাপার। সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টিতে যে দলীয় সঙ্কট আশা করি দলটি সে সঙ্কট থেকে দ্রুতই বেরিয়ে আসতে পারবে। সংসদে ৩৫০ জন এমপি রয়েছেন। এমপিরা সংসদে সরব রয়েছেন। গণতন্ত্রও দেশে প্রতিষ্ঠা হয়েছে।’ ‘বিএনপি একটি প্রশান্ত মহাসাগর আর এরশাদের জাতীয় পার্টি একটি পুকুর। এ জন্য বিশ্ব নেতারা বাংলাদেশ সফরে এসে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু এটি সত্যি দেশে এখন কোনো গণতন্ত্র নেই। কারণ, সরকারের সমালোচনা করার কেউ নেই।’ ‘জাতীয় পার্টি সরকারের অংশ। ৫ জানুয়ারির পাতানো নির্বাচনে তারা সরকারে থেকেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তাই তারা বিরোধী দল নয়। এ দেশের প্রকৃত বিরোধী দল বিএনপি। কিন্তু সরকার বিরোধী দলকে রাজপথেই নামতে দেয় না। গুলি করে নেতাদের হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু এটা উচিত না। এখন তো এমনিতেই গণতন্ত্র নেই। তার উপর এমন স্বৈরতন্ত্র চললেও গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেকও লাগতে পারে। তাই সরকারের উচিৎ দ্রুত একটি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে সরকার বলেছিল এটা নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। কিন্তু সরকার নির্বাচন দিতে চাচ্ছে না। উপরন্তু বিরোধী দলগুলোর উপর নির্যাতন চালাচ্ছে। দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, বাকস্বাধীনতা নেই। এখন দেশে চরম স্বৈরতন্ত্র চলছে। যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।’  দেশে এখন একদলীয় কর্তৃত্ববাদী সরকারের শাসন চলছে। এভাবে চললে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে না। এ দেশে যখনই কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে তখনই গণতন্ত্র হারাতে হয়েছে।’ দেশে এখন এমনিতেই গণতন্ত্র নেই। তারপরও নামে যে গণতন্ত্রটুকু আছে এভাবে চললে সেটুকুও থাকবে কি না তা নিয়েও আশঙ্কা থেকে যায়। তবে এ দেশে চলমান কাগুজে গণতন্ত্রও যদি হারাতে হয় সে জন্য দায়ী থাকবে বর্তমান সরকার। কেননা, গণতন্ত্রে বিরোধী দল ছায়া সরকার। কিন্তু এখন এ দেশে বিরোধী দলও নেই। চলছে একক শাসন ।’ লিখক:রাজনীতিবিদ ও কলামিস্ট।  

বিস্তারিত»

বিজ্ঞপ্তি

বিজ্ঞাপন দিন ও আমাদের সহযোগী হোন

আমাদের উদ্যোগ ও কাজকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আপনার প্রতিষ্ঠান অথবা ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন দিয়ে আপনিও হতে পারেন আমাদের পথ চলার একান্ত সহযোগী। আমরা বিশ্বাস করি, মুনাফামুখী একটি প্রতিষ্ঠান চালানোর ক্ষেত্রে লাভ আছে। তবে ‘সিলেটের আলাপ’ অনলাইন পত্রিকা গড়ে তোলার পিছনে যে সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য আছে, তা মোটেও লাভের পেছনে ছোটা না।দেশ-বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটিকে যথাসম্ভব সর্বোচ্চ বস্তুনিষ্ঠতার সাথে তথ্য সহায়তা দিয়ে ‘সিলেটের আলাপ’কে সমুন্নত রাখাই আমাদের লক্ষ্য। বর্তমানে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ হাজারেরও বেশী পাঠক অনলাইনে পত্রিকাটি পড়ে থাকেন। আর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী প্রতিমাসে এ সাইটে গড়ে ২ লাখেরও বেশী হিট পড়ছে। এক্ষেত্রে আবার সিংহভাগ পাঠকই প্রবাসী। এই প্রত্যাশার চাপকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি নিজস্ব স্বকীয়তা প্রকাশের জন্য শিগগিরই  ‘সিলেটের আলাপ’ পত্রিকার ইংরেজী সংস্করণ ও ব্লগ চালুসহ পত্রিকাটিকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিয়ে আপনিও আমাদের পথচলার সঙ্গী হবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এক্ষেত্রে চাইলে আপনি আপনার ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপনও দিতে পারেন। যোগাযোগ: +৪৪৭৫৩৬৫৭৪৪৪১ +৪৪৭৫৭৮০৬২০৫৭

বিস্তারিত»

শোক-সংবাদ

হুমায়ূন আহমেদের মা আর নেই

ঢাকা: বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের মা রত্নগর্ভা আয়েশা ফয়েজ আর নেই। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন। মরহুমার পরিবার তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি কিডনিসহ বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। ১২ সেপ্টেম্বর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে আয়েশা ফয়েজকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাদ জোহর পল্লবীতে আহসান হাবীবের বাসার পাশের মসজিদে নামাজে জানাজা হবে। পরে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে তার পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। আয়েশা ফয়েজের জন্ম ১৯৩০ সালের ২৩ মার্চ। ১৯৪৪ সালে ফয়জুর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন তার স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা ফয়জুর রহমান। শিক্ষাবিদ ও লেখক জাফর ইকবাল এবং কার্টুনিস্ট আহসান হাবীবের মা। তার নিজের লেখা একটি বইও রয়েছে।

বিস্তারিত»

সাম্প্রতিক খবর সর্বাধিক পঠিত

জরিপ

Loading...

Archive