৭২’র সংবিধান কুরআন-হাদিস নয় : ড. কামাল

ঢাকা: সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সংবিধান সংশোধন অবশ্যই করা যায়। ১৯৭২ এর সংবিধান কুরআন-হাদিস নয়, কিন্তু এটি হালকাভাবে কলম চালানোর জিনিসও নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বুধবার আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশের সংবিধান দিবস উপলক্ষে বাঙলার পাঠশালা এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। ড. কামাল হোসেন বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সকলের মতামত অপরিহার্য। যেনতেন করে, এমনকি তিনশ’ ভোট থাকলেও ভোটের বলে সংবিধান সংশোধন করা যায় না। ১৬ কোটি মানুষের দায়িত্ব পালন করা সহজ ব্যাপার নয়। তিনি বলেন, জনগণ ভোট দেয় সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য, সংবিধান সংশোধনের জন্য নয়। জাতির স্বার্থে ও সময়ের দাবিতে সংবিধান সংশোধন করতে হলে ভোটের আগে বলতে হবে, আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই। এর ফলে জনমত জানা সহজ হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফল। অনেক সংগ্রাম ও শহীদদের রক্তের বিনিময়ে এ সংবিধান এসেছে। যারা বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন সকলেই এদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলনে সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। বারবার সংবিধান সংশোধন করার কারণে সংবিধানে গোঁজামিল সৃষ্টি হযেছে উল্লেখ করে সংবিধান প্রণেতা বলেন, এসব সংশোধন করার জন্য জনমত যাচাই করা প্রয়োজন ছিল। কাজেই গোঁজামিল বাদ দিয়ে জনগণের মতামত নিয়ে ঐকমত্যের সংবিধান তৈরি করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে ঢাবির এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, দেশের সংবিধান অনেকবারই সংশোধন করা হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে বৈধতা ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগের জন্যও সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। জাতীয় প্রয়োজনে কয়েকবার হয়েছে এ নিয়ে ভাবার বিষয় আছে। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন করা যেতে পারে তবে কেন করছি এটি স্পষ্ট করতে হবে। ‘বাঙলার পাঠশালা বাংলদেশের সংবিধান দ্বিতীয় স্মারক বক্তৃতা ২০১৪’ শীর্ষক লিখিত বক্তব্য দেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল। প্রগতিশীল রাজনীতির চর্চা অব্যাহত রাখতে পারলে এবং রাজনীতি, সমাজ-অর্থনীতি আর সংস্কৃতি থেকে মানবতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী মুক্তিযুদ্ধের বৈরী শক্তি, উগ্র-জঙ্গী ধর্মান্ধ মৌলবাদকে বিতাড়িত করতে পারলে এই সংবিধান আবার সব মানুষের সংবিধান হয়ে উঠবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংবিধানের গোঁজামিল থেকে বের হওয়ার কয়েকটি উপায় উল্লেখ করে ঢাবির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেন, এই গোঁজামিল থেকে বের হওয়ার জন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জামায়াত-শিবিরকে আগে নিষিদ্ধ করে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ, জনমত গঠনের জন্য সাংস্কৃতিক বিপ্লব, নারীর অগ্রযাত্রাকে অক্ষুন্ন ও দেশের মাদ্রাসা শিক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গণতন্ত্র রক্ষায় ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয়টি সমাধান করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আলোচন সভায় অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা আইন কমিশনের সদস্য ড. শাহ আলম ও ড. কাজী জাহিদ ইকবাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।   বিস্তারিত»

একটি জানাজা এবং...

সাজেদুল হক:জানাজার কোন রাজনীতি নেই। তবে বাংলাদেশের ইতিহাস আলাদা। এ ভূমে কখনও কখনও কোন কোন জানাজাও রাজনীতির ইতিহাস বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের অভিষেক হয়েছিল অনেকটাই আকস্মিক। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তার উচ্চারণও পূর্বপরিকল্পিত নয়। ১৯৮১ সালের ৩০শে মে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে প্রাণ হারান তিনি। শাসক হিসেবে জিয়াউর রহমানের সমালোচনা থাকলেও ঢাকায় তার জানাজায় সে সময়কার বৃহত্তম জমায়েত বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়া পরিবারের ভূমিকা নিশ্চিত করে ফেলেছিল। মূলত জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করেই তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে এগিয়ে গেছেন। কখনও তিনি প্রধানমন্ত্রী, কখনওবা বিরোধী দলীয় নেতার আসনে বসেছেন। যদিও এখন তার জীবনে ঘোর অমানিষা। ৩৩ বছর পর ঢাকায় আরেকটি জানাজা নিয়েও বিপুল আলোচনা চলছে। অবাক হলেও সত্য, জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর জানাজা নিয়েই এ আলোচনা। বিপুল জনগোষ্ঠী এ জমায়েতে হাজির হয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রায় সবাই বলছেন, লক্ষাধিক মানুষ এ জানাজায় অংশ নেন । রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ সত্য অস্বীকার করার জো নেই বাংলাদেশ এখন এক সঙ্কটকাল অতিক্রম করছে। তবে এই মহাসঙ্কটের সময় জনগণের আসলে তেমন কোন ভূমিকা নেই। তারা নিষ্পেষিত, নির্যাতিত। তারা মারা যাচ্ছেন। কখনও পেট্রলবোমায়, কখনও ‘বন্দুকযুদ্ধে’। জ্বলছে বাংলাদেশ, আগুনে পুড়ছে মানুষ। জনগণ রাজপথে নামলে শিকার হচ্ছেন নির্বিচার গুলির। আবার নিশ্চিত করেই পেট্রলবোমা আর ককটেলের সঙ্গেও সাধারণ জনগণের সম্পৃক্ততার সুযোগ নেই। এ দুঃসহ সময়ে আরাফাত রহমান কোকোর জানাজা সুযোগ হয়ে আসে তাদের সামনে। বিরোধী গোষ্ঠীর নিষ্পেষিত, অসহায় মানুষরা সুযোগ পান রাজপথে উপস্থিতির। যে সুযোগ তারা কাজে লাগান পুরোদমেই। এ যেন এক নীরব প্রতিবাদও। জিয়া পরিবারের প্রতি তাদের ভালবাসার প্রকাশও ঘটে এতে। যদিও আরাফাত রহমান কোকোর কোন রাজনীতি ছিল না। এ জানাজা কি বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোন ভূমিকা রাখবে? পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রত্যক্ষ কোন ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা কম। তবে এ জানাজায় বিপুল উপস্থিতি ক্ষমতাসীনসহ সব মহলেই বিপুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এত কিছুর পরও বিএনপি জোটের প্রতি জনগণের সমর্থনের বহিঃপ্রকাশও ঘটেছে এর মাধ্যমে। রাজনৈতিক ভাষ্যকার ফরহাদ মজহার মনে করেন, এ জানাজায় জনগণের উপস্থিতি এক ধরনের নিঃশব্দ প্রতিবাদ। তিনি বলেন, কোকোর জানাজায় জনগণ তাদের সংবাদটা পৌঁছে দিয়েছে, তারা মূলত চায় বর্তমান ফ্যাসিস্ট যে রাষ্ট্রব্যবস্থা, এখন যে অগণতান্ত্রিক সরকার, যেভাবেই হোক না কেন তাকে চলে যেতে হবে। জনগণের এ শক্তিকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য বিএনপি নেতৃত্বেরও সমালোচনা করেন তিনি। গতকাল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে এক আলোচনায় তিনি বলেন, ‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ রাজনীতিকে গঠিত করার যে প্রয়োজনটা ছিল, সে কথাগুলো আমরা বুদ্ধিজীবীরা বিএনপি নেতাদের পরিষ্কার করে বোঝাতে পারিনি। তবে জনগণ কিন্তু আমাদের সঙ্গে আছে।’ বিস্তারিত»

আমি নিরুপায় হয়ে গুলশান থেকে চলে আসি: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা: সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে আর কোনো মায়ের কোল খালি না করতে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বুধবার সংসদে তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য তাজুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ আহ্বান জানান।   শেখ হাসিনা বলেন, “২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পুত্রের মৃত্যুতে শোকাহত হয়েছেন, যার কারণে তাকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখতে হয়েছে। পুত্রশোকে একজন মা কাতর হবেন এটাই স্বাভাবিক। ওনার ছেলের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে তারপরও তিনি এর শোক সহ্য করতে পারছেন না। আর যাদের সন্তান, স্বামী, স্ত্রী, বাবা বা ভাই পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়ে হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। আবার অনেকের স্বজন যন্ত্রণায় ছটফট করে চোখের সামনে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন, তারা কিভাবে এ শোক সহ্য করছেন।” প্রধানমন্ত্রী ২০ দলীয় জোটের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ বিষয়টি উপলব্ধি করে আর কোনো মায়ের সন্তানকে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে পুড়িয়ে না মারার আহ্বান জানান। গত বছরের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বিএনপি নেত্রীর সাথে আলোচনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তার ছেলে মারা যাওয়ার পর গুলশান কার্যালয়ে তাকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। কার্যালয়ের গেটে ভেতর থেকে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি আমি যখন গাড়ি থেকে নেমে পকেট গেট দিয়ে ভিতরে যেতে চাই, জানতে পারলাম ওই গেটটিও বন্ধ। তখন নিরুপায় হয়ে সেখান থেকে চলে আসতে হয়েছে।” তিনি বলেন, “২০ দল মানুষকে পুড়িয়ে মারা, গাড়ি ভাঙচুর করাসহ জঘণ্য ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। দোষ করে খালেদা আর দুঃখজনক হলো কিছু মানুষ আমাদেরকেও দোষ দেয়। আমাদের দোষটা কি? ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করছিল। দেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ কথা নেই, বার্তা নেই অবরোধ আর হরতালের নামে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো শুরু হলো।” তাদের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য এখন তারা সরকারের নেই, বিরোধীদলেও নেই উল্লেখ করে সংসদ সদস্যসহ অন্যান্যদের সতর্ক করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপিকে এখন আর বিরোধীদল বলার কোনো সুযোগ নেই। সংসদীয় গণতন্ত্রের বিধান হচ্ছে যারা সংসদে বিরোধীদলের আসনে বসেন তারাই বিরোধীদল। সেই হিসেবে জাতীয় পার্টি এখন বিরোধীদল। আর বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল- যে দল একটি সন্ত্রাসী দল, জঙ্গির দল, খুনির দল। যারা মানুষ খুন করে” তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের জনগণকে সাথে নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সন্ত্রাসী ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর আহ্বান জানান। সরকারি দলের ইসরাফিল আলমের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সারাদেশে ইউনিয়ন থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি প্রশাসনিক স্তরে ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টারে ইন্টারনেট সার্ভিস দেয়া হয়। যেখানে বিদ্যুৎ নেই সেখানে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ডিজিটাল সেন্টারগুলো চালু রাখা হয়েছে।” শেখ হাসিনা বলেন, “ইন্টারনেট স্পিড বাড়ানোর জন্য আরো একটি সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনসহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নামে একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে ইন্টারনেট স্পীড আরো অনেক বেড়ে যাবে। পর্যায়ক্রমে আমরা ৩-জি থেকে ৪-জি-তে চলে যাবো। ইন্টারনেট স্পীড এমনভাবে বাড়ানো হবে যাতে সকলে অবাধে ব্যবহার করতে পারে।” সরকারি দলের মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উচ্চশিক্ষার প্রসারে দেশের প্রতিটি জেলায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে একটি করে সাধারণ-বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।” বিস্তারিত»

আল্লাহর কাছে বিচার চাই: খালেদা

ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, “অসুস্থ হয়ে প্রবাসে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থাতেও সে চরম প্রতিহিংসামূলক বৈরিতা থেকে নিষ্কৃতি পায়নি। ভাগ্যের এমনই নিষ্ঠুর পরিহাস যে, মা হিসাবে আমি প্রায় আট বছর ধরে এই অসুস্থ সন্তানটির মুখ দেখার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত ছিলাম। অবশেষে আমাকে সন্তানের লাশ গ্রহণ করতে হলো। সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের কাছে আমি এর বিচারের ভার অর্পণ করলাম।” গণমাধ্যমে বুধবার রাতে একটি লিখিত বিবৃতিতে এসব কথা বলেন খালেদা জিয়া।   বুধবার রাত আটটা ১৫ মিনিটে খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান স্বাক্ষরিত বিবৃতিটি গণমাধ্যমে এসে পৌঁছায়। বিবৃতিটি হুবহু তুলে ধরা হলো- “মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বীরমুক্তিযোদ্ধা, সেনাবাহিনীর প্রধান এবং রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের পুত্র হিসাবে আমাদের এই সন্তানটি একটি রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা সত্বেত্ত কখনো রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়নি। কেবল মাত্র সে ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছিল। দুর্ভাগ্যের বিষয়,  শুধুমাত্র শহীদ জিয়া পরিবারের একজন সদস্য হবার কারণেই তাকে নানামুখী জুলুম-নির্যাতন, হেনস্তা-অপপ্রচারের শিকার হতে হয়েছে। “অসুস্থ হয়ে প্রবাসে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থাতেও সে চরম প্রতিহিংসামূলক বৈরিতা থেকে নিষ্কৃতি পায়নি। ভাগ্যের এমনই নিষ্ঠুর পরিহাস যে, মা হিসাবে আমি প্রায় আট বছর ধরে এই অসুস্থ সন্তানটির মুখ দেখার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত ছিলাম। অবশেষে আমাকে সন্তানের লাশ গ্রহণ করতে হলো। সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের কাছে আমি এর বিচারের ভার অর্পণ করলাম। “এই গভীর বেদনা ও শোকের মুহূর্তে সকলের কাছ থেকে যে বিপুল সহানুভূতি, সহমর্মিতা ও সমবেদনা পেয়েছি তা আমার হৃদয় স্পর্শ করেছে। “কুয়ালালামপুরে কোকোর প্রথম নামাজে জানাজায় অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে যে বিপুল সংখ্যক মানুষের ঢল নেমেছে আমি তার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। “অন্যান্য দেশেও প্রবাসীদের বিপুল অংশগ্রহনে গায়েবানা জানাজার আয়োজনের জন্য আমি তাদেরকেও অভিনন্দন জানাচ্ছি। “দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিএনপি, আমাদের অঙ্গ ও সহযোগী-সংগঠন, ২০দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সমাজিক সংগঠন এবং ব্যক্তি উদ্যোগে কোকোর বিদেহী রুহের মাগফিরাতের জন্য গায়েবানা জানাজা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন যারা করেছেন আমি তাদেরকেও আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছি। “জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর জানাজার নামাজে দলমত, শ্রেণীপেশা নির্বিশেষে সর্বস্তরের লাখ লাখ মানুষ শরিক হয়ে যে অবিস্মরণীয় ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তাতে আমি গভীরভাবে অভিভূত। ধন্যবাদ প্রিয় দেশবাসীকে। জিয়া পরিবারের প্রতি গণমানুষের এই অপরিমেয় ভালবাসার বহি:প্রকাশ আমাকে আরো একবার নতুন করে কৃতজ্ঞতার ঋণে আবদ্ধ  করলো। বিপুল সংখ্যক মানুষের এই উপস্থিতিতে আমি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হলাম। শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি সঞ্চয়ে সর্বস্তরের দেশবাসীর এই অংশগ্রহণ আমাকে অনেক সাহায্য করবে। “বিভিন্ন ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের নেতৃবৃন্দের প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার এই দুঃখের সময়ে তারা শোকবার্তা পাঠিয়ে সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেছেন। আমি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিদের প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তাঁরা শোকবার্তা পাঠিয়ে এবং সশরীরে আমার কার্যালয়ে এসে সহানুভূতি জানিয়েছেন। “বিএনপি ও ২০ দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল-জোটের নেতা-কর্মী, পেশাজীবী, নাগরিক সমাজের সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিত্ববর্গসহ নরনারী, শ্রেণী-পেশা ও বয়স নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে আমি ধন্যবাদ দিচ্ছি ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তারা আমার কার্যালয়ে এসে শোক প্রকাশ ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেছেন। “তাঁরা এ সময়ে আমার সঙ্গে দেখা করতে না পারায় আমি গভীরভাবে দুঃখিত। আমি আশা করি পরিস্থিতির বিবেচনায় সকলেই বিষয়টিকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। “আমি কোকোর জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই। দেশবাসীকে বলবো, আমি আপনাদের মাঝে আছি এবং যতদিন বেঁচে আছি আপনাদের সঙ্গেই থাকবো ইনশাআল্লাহ।” বিস্তারিত»

‘যেকোনো উপায়ে দমন করুন, দায়িত্ব আমার’ -প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা: হরতাল-অবরোধের নামে চলমান নাশকতা যেকোনো উপায়ে দমনের জন্য পুলিশ বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, “এখানে কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নাই, কোনো চিন্তা নাই। যা কিছু হোক সে দায়িত্ব আমি নেবো।” বুধবার সকালে নিজ কার্যালয়ে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মত বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মানুষের জানমালের নিরাপত্তা আপনাদের দিতেই হবে। আর সেটা দেয়ার জন্য যত কঠিন কাজ হোক সেটা আপনারা নির্দ্বিধায় করে যাবেন; অন্তত এইটুকু লিবার্টি আমি আপনাদের দিচ্ছি।”      তিনি বলেন, “আন্দোলনের নামে যা চলছে এটা সম্পূর্ণভাবে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড। এই সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড দমনের জন্য যখন যেখানে যা করা প্রয়োজন আপনারা তাই করবেন। কারণ মানুষ সেটা আশা করে।” শেখ হাসিনা বলেন, “দেশের মানুষ এখন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। তারা আশা করে ‘কঠোর হস্তে’ এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা হবে।” এর আগে নিজেদের সমস্যার কথা জানান পুলিশ কর্মকর্তারা। পাশাপাশি নিজেদের পদমর্যাদা ও বেতন-ভাতা বাড়ানোর দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। ঢাকা মহানগরের আরো কমপক্ষে তিনটি পুলিশ লাইন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা এবং মাঠপর্যায়ের অপরাধ মোকাবেলায় পুলিশে জনবল বাড়ানো কথাও বলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিস্তারিত»

ছবি ঘর

মুজিবুর রহমান মুজিব বাংলাদেশে দীর্ঘদিন গুম থাকার পর অবশেষে যুক্তরাজ্য ফিরে আসছেন

যুক্তরাজ্য:বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি যুক্তরাজ্য শাখার অন্যতম উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান মুজিব বাংলাদেশে দীর্ঘদিন গুম থাকার পর অবশেষে আইনী জটিলটা শেষে যুক্তরাজ্য ফিরে আসছেন। আগামী  ১ ফেব্রুয়ারী রবিরার বিকাল চারটায় হিথরো বিমান বন্দরের চার নাম্বার টার্মিনালে অবতরন করবেন বলে জানিয়েছেন তার পারিবারিক সূত্র। তাকে বিমান বন্দরে অভ্যার্থনা জানানোর জন্য যুক্তরাজ্য বিএনপি ও এর অংগ সংগঠনের নেতাকর্মী ও তার এলাকা ছাতক প্রবাসিদেরকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানান তার পরিবারের সদস্যরা।  

বিস্তারিত»
আজ আদালতে যাচ্ছেন না খালেদা জিয়া

ঢাকা : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় হাজিরা দিতে বৃহস্পতিবার বিশেষ আদালতে যাচ্ছেন না বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া জানান, ছেলের (আরাফাত রহমান কোকো) মৃত্যুতে খালেদা জিয়া শোকে মু‏হ্যমান। বর্তমানে তিনি ভীষণ অসুস্থ এবং চিকিৎসকের পরামর্শে রয়েছেন। শোক কাটিয়ে উঠতে তার অনেক সময়ের প্রয়োজন। তিনি আরো জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা ও নিরাপত্তাসহ অন্যান্য কারণ দেখিয়ে এক মাসের সময় চেয়ে আবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আদালতে আবেদনটি উপস্থাপন করা হবে। আশা করি আদালত মানবিক বিষয়টি বিবেচনা করে আমাদের সময় দেবেন। গত ১৫ জানুয়ারি ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ মো. আবু আহমেদ জমাদার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২৯ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।

বিস্তারিত»
৭২’র সংবিধান কুরআন-হাদিস নয় : ড. কামাল

ঢাকা: সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সংবিধান সংশোধন অবশ্যই করা যায়। ১৯৭২ এর সংবিধান কুরআন-হাদিস নয়, কিন্তু এটি হালকাভাবে কলম চালানোর জিনিসও নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বুধবার আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশের সংবিধান দিবস উপলক্ষে বাঙলার পাঠশালা এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। ড. কামাল হোসেন বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সকলের মতামত অপরিহার্য। যেনতেন করে, এমনকি তিনশ’ ভোট থাকলেও ভোটের বলে সংবিধান সংশোধন করা যায় না। ১৬ কোটি মানুষের দায়িত্ব পালন করা সহজ ব্যাপার নয়। তিনি বলেন, জনগণ ভোট দেয় সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য, সংবিধান সংশোধনের জন্য নয়। জাতির স্বার্থে ও সময়ের দাবিতে সংবিধান সংশোধন করতে হলে ভোটের আগে বলতে হবে, আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই। এর ফলে জনমত জানা সহজ হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফল। অনেক সংগ্রাম ও শহীদদের রক্তের বিনিময়ে এ সংবিধান এসেছে। যারা বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন সকলেই এদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলনে সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। বারবার সংবিধান সংশোধন করার কারণে সংবিধানে গোঁজামিল সৃষ্টি হযেছে উল্লেখ করে সংবিধান প্রণেতা বলেন, এসব সংশোধন করার জন্য জনমত যাচাই করা প্রয়োজন ছিল। কাজেই গোঁজামিল বাদ দিয়ে জনগণের মতামত নিয়ে ঐকমত্যের সংবিধান তৈরি করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে ঢাবির এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, দেশের সংবিধান অনেকবারই সংশোধন করা হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে বৈধতা ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগের জন্যও সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। জাতীয় প্রয়োজনে কয়েকবার হয়েছে এ নিয়ে ভাবার বিষয় আছে। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন করা যেতে পারে তবে কেন করছি এটি স্পষ্ট করতে হবে। ‘বাঙলার পাঠশালা বাংলদেশের সংবিধান দ্বিতীয় স্মারক বক্তৃতা ২০১৪’ শীর্ষক লিখিত বক্তব্য দেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল। প্রগতিশীল রাজনীতির চর্চা অব্যাহত রাখতে পারলে এবং রাজনীতি, সমাজ-অর্থনীতি আর সংস্কৃতি থেকে মানবতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী মুক্তিযুদ্ধের বৈরী শক্তি, উগ্র-জঙ্গী ধর্মান্ধ মৌলবাদকে বিতাড়িত করতে পারলে এই সংবিধান আবার সব মানুষের সংবিধান হয়ে উঠবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংবিধানের গোঁজামিল থেকে বের হওয়ার কয়েকটি উপায় উল্লেখ করে ঢাবির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেন, এই গোঁজামিল থেকে বের হওয়ার জন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জামায়াত-শিবিরকে আগে নিষিদ্ধ করে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ, জনমত গঠনের জন্য সাংস্কৃতিক বিপ্লব, নারীর অগ্রযাত্রাকে অক্ষুন্ন ও দেশের মাদ্রাসা শিক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গণতন্ত্র রক্ষায় ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয়টি সমাধান করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আলোচন সভায় অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা আইন কমিশনের সদস্য ড. শাহ আলম ও ড. কাজী জাহিদ ইকবাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।  

বিস্তারিত»
কুলাউড়ায় কনস্টেবলকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠালেন ওসি

এম. মছব্বির আলী: কুলাউড়ায় কর্তব্যরত শরাফত আলী (৪৫) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন কুলাউড়া রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম। আহত কনস্টেবলকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল ২৮ জানুয়ারী বুধবার বিকেলে কুলাউড়া রেলওয়ে প্লাটফরমে কাউন্টারের সামনে দায়িত্বরত অবস্থায় তাকে পিটিয়ে আহত করেন ওসি। সেই সঙ্গে আহত কনস্টেবলকে ‘অসুস্থ’ বলে চালিয়ে দিয়ে অভিযোগ ঢাকার চেষ্টাও করেন তিনি। স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে রেলওয়ে প্লাটফরমে দায়িত্বরত অবস্থায় রেলওয়ে পুলিশ কনস্টেবল শরাফত আলী ও ওসি জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শরাফত আলীর অস্ত্র কেড়ে নিয়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে থানায় নিয়ে যান ওসি। সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থানের পর অসুস্থ বলে দুই কনস্টেবলকে দিয়ে শরাফতকে কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তার অবস্থার অবনতি হলে কুলাউড়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) নুরুল হক শরাফতকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। তবে ওসি জাহাঙ্গীর আলম শরাফত আলীকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তার সঙ্গে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। তিনি থানায় বেঞ্চে বসা অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছি।’ কুলাউড়া রেলওয়ে থানার কর্মরত একাধিক পুলিশ সদস্যের দাবি, জাহাঙ্গীর যোগদানের পর থেকেই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে থাকেন। তাই তাকে ওই থানা থেকে প্রত্যাহারের দাবি তাদের। ওসি জাহাঙ্গীর আলম হাসপাতালে এলে তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চায় সাংবাদিকরা। তখন তিনি বলেন, ‘ভাই আমাকে একটু সাহায্য করেন।’ এ কথা বলে তার মারধরে কনস্টেবল আহত হওয়ার বিয়য়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধও জানান তিনি। এদিকে রেল পুলিশের (আখাউড়া সার্কেল) ইন্সপেক্টর নাছিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘রেলওয়ে ওসির হাতে কনস্টেবল আহত হওয়ার খবর আমি শুনেছি। বিস্তারিত জেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

বিস্তারিত»
সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যার বিচারকার্য দ্রুত শেষ করার দাবী

এম এ কাইয়ুম হেড অফ নিউজ:সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যার  বিচারকার্য দ্রুত শেষ করার দাবী জানিয়েছে গ্রেটার লন্ডন নবীগঞ্জ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ইউকে । মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারী তাঁর দশম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তারা এ দাবী জানান। বক্তারা বলেন শাহ এ এম এস কিবরিয়া, আহসান উল্লাহ মাষ্টার,  ২১ আগষ্ট এর গ্রেনেড হামলা ও সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর হামলা সবই একই সূত্রে গাঁথা। বক্তারা বলেন স্বাধীনতা বিরুধী গোষ্টী মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে চিরতরে মুছে ফেলতে এসব হত্যার পথ বেছে নিয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইষ্ট লন্ডনের ১০২-১০৫ হোয়াইটচ্যাপল হাইষ্ট্রীটের কলেজ অব এডভান্স ষ্টাডি মিলনায়তনে সংগঠনের সভাপতি আলহাজ্ব নেহার মিয়া চৌধুরী সভাপতিত্বে ও ফরহাদুল ইসলাম চৌধুরী এবং এনায়েত খানের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত  আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারন তোফাজ্জ চৌধুরী তুহিন। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইজলিংটনের সাবেক মেয়র কাউন্সিলার জিলানী চৌধুরী, কেমডেনের সাবেক মেয়র ফারুক আনসারী, একাউনটেন্ট মাহমুদ এ রউফ, লন্ডনবাংলা প্রেসক্লাবের যুগ্মসম্পাদক সাংবাদিক মতিয়ার চৌধুরী, ব্যারিষ্টার আতাউর রহমান, কিবরিয়ার পরিবারের সদস্য বিশিষ্ট লেখক শাহ ঈমাম মেহদি, যুক্তরাজ্য হবিগঞ্জ সমিতির প্রেসিডেণ্ট এম এ আজিজ ইব্রাহীম খান। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ব্যারিষ্টার মাহমুদুল হক। কিবরিয়া পরিবারের সদস্য শাহ গোলাম মোর্শেদ, সাংবাদিক রোমান বখত চৌধুরী, আব্দুল হালিম চৌধুরী আবু,ঞ্চ  অধ্যাপক জহিরুল হক শাকিল, যুক্তরাজ্য যুবলীগের সহসভাপতি ফয়েজুর রহমান চৌধুরী মোশতাক, যুক্তরাজ্য আওয়ামী আইনজীবি পরিষদের এডভোকেট মোমিন আলী, কামরুল হাসান চৌধুরী, মহিবুর রহমান হারুন, মির্জা তছনু বেগ, আতিকুর রহমান লিটন, আবুতালেব চৌধুরী নিজাম, গালিবুর রহমান শরীফ, যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ ফয়েজ, তরুন চৌধুরী, তজমামুল সর্দার জোবায়ের চৌধুরী প্রমুখ। সভার শুরুতে শাহ এ এম এস কিবরিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয় মোনাজাত পরিচালনা করেন মৌলানা জাহাঙ্গির হোসেন।  

বিস্তারিত»
এনফিল্ড বিএনপির দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত

এম এ কাইয়ুম হেড অফ নিউজ:সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারর্পাসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে সদ্য প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করেছে এন্ডফিল্ড এন্ড হার্ডফোর্ড ইষ্ট বিএনপি। বুধবার ২৮ জানুয়ারী এন্ড ফিন্ড জালালিয়া মসজিদে মিলাদ ও দোয়া পরিচালনা করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা জামিল আহমদ এবং মাওলানা সেলিম আহমদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি হেলাল উদ্দিন, সিনিয়র সহ সভাপতি শাহেদ আহমদ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন, সহ সভাপতি খালেদ আহমদ খলিল, শওকত আহমদ, আব্দুল হক টুনু, জহিরুল হক, রুহুল আমিন, মতিনুর রহমান গৌছ, মাহতাব আহমদ, আহাদ মিয়া, হামিদুল হক, রফিক উল্লাহ, খলিলুর রহমান জয়নাল ও জয়নাল চৌধুরীসহ আরো অনেকে। দোয়া পূর্ব আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ শোকাহত জিয়া পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং অসুস্থ্য বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থ্যতা কামনা করেন। তারা বলেন জুলুমের স্বীকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শোকে সমগ্র দেশবাসী শোকাহত। বর্তমান সরকারের গুমনীতির কারনে দেশের রাজনীতি আজ কুলসিত। সরকারের ষড়যন্ত্রের কারনেই সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্রদের বিদেশের মাটিতে বছরের পর পর থাকতে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এক সন্তানকে অনাদরে অবহেলায় প্রাণ দিতে হয়েছে। জাতি এই শোকাহত জননীর পাশে আছে থাকবে।

বিস্তারিত»
ক্যাটালিষ্ট অব কমার্স এন্ড ইন্ডাসট্রি ও লন্ডন বাংলা স্টুডেন্ট সোসাইটি ইউকের উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্টিত

এম এ কাইয়ুম হেড অফ নিউজ:ইউকে বাংলাদেশ ক্যাটালিষ্ট অব কমার্স এন্ড ইন্ডাসট্রি ও লন্ডন বাংলা স্টুডেন্ট সোসাইটি ইউকের উদ্যোগে সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। এতে বৃটিশ বাংলাদেশী নতুন প্রজন্মকে দেশের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা সম্পর্কে অবিহিত করা হয়। পাশাপাশি দেশের সাথে তাদের যোগাযোগ স্থাপনেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সেমিনারের আয়োজকরা। সোমবার ২৬জানুয়ারী ইউস্টনের একটি সেমিনার হলে আয়োজিত সেমিনারের সঞ্চালনা করেন লন্ডন বাংলা স্টুডেন্ট সোসাইটির মার্কেটিং ডাইরেক্টর রেজাউল নুরু। এতে মুল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউকে বিসিসিআই‘র চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিল্পপতি ইকবাল আহমদ ওবিই। বিশেষ অতিথি হিবেবে অতিথি ছিলেন সংগঠনের ফাইনান্স ডাইরেক্টর এন আই নুরু, লন্ডন রিজিউনের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন মকদ্দুস, পরিচালক অলি খান, রহিমা মিয়া। সোসাইটির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট আনিলা পমি, ভাইস প্রেসিডেন্ট মেহজাবুন আহমদ, স্পন্সরশীপ ডাইরেক্টর আয়েশা বেগম ও ইভেন্টস ডাইরেক্টর তাহমিদ হক প্রমুখ। মূল বক্তব্যে ইকবাল আহমদ ওবিই ব্যবসায়ী সমাজ ছাড়াও বৃটিশ বাংলাদেশীর নতুন প্রজন্মকে তাদের সংগঠনের সদস্য হওয়ার আহবান জানান। এবং তাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে নতুন প্রজন্ম দেশের উন্নয়নে কাজ করবে।  

বিস্তারিত»
 ছাতক দোয়ারা সুরমা যুব পরিষদ ইউকের নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্টিত

এম এ কাইয়ুম হেড অফ নিউজ:জাকজমক পূর্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে ছাতক দোয়ারা সুরমা যুব পরিষদ ইউকের নব নির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সোমবার ২৭ জানুয়ারী পূর্বলন্ডনের আমানা সেন্টারে দুই অনুষ্ঠিত সভায় প্রথম পর্বের সভাপতিত্ব করেন বিদায়ী সভাপতি লিলু মিয়া তালুকদার। ২য় পর্বে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের নব নির্বাচিত সভাপতি ফজরুল হক এনাম। বিদায়ী ও নব নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক হোসাইন আহমদ ও আহমদ আবুল লেইসের পরিচালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বেথনাল গ্রীন ও বো আসনে এমপি রুশনারা আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কনজারভেটিভ পার্টির এমপি প্রার্থী মিনা রহমান, বাংলাদেশ হাই কমিশনের ফ্রার্ষ্ট সেক্রেটারী সায়েম আহমদ, কমিউনিটি নেতা জামাল উদ্দিন মকুদ্দুস, আলতাফুর রহমান মোজাহিদ, ফজল উদ্দিন, ব্যারিষ্টার ফজলুল হক, সাবেক কাউন্সিলার আইয়ুব করম আলী ও মোশাহিদ আলী মাষ্টার, বশির মিয়া কাদির, সাবেক কাউন্সিলার শহিদ আলী, সানাওর আলী কয়েছ, সামছুল ইসলাম শামীম, কাউন্সিলার মাহবুব আলম মামুন, আব্দুল মালেক শামীম, সাংবাদিক এম এ কাইয়ুম, গোলাম আজম তালুকদার, আহবাব মিয়া, মাসুদ রানা, মোক্তার আহমদ, বাদশা মিয়া, আব্দুস শুকুর, আজমল আলী, শরিফুল্লাহ, মাহমদ আলী, চুনু মিয়া, হুমায়ুন কবির, মুজিবুর রহমান, আব্দুল ওদুদ তুহিন। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গয়াছুর রহমান গয়াছ, সাংবাদিক রায়হান তালুকদার, আব্দুস সালাম, এস এম তাজুল, জয়নাল আবেদিন, হুসেনইন আহমদ, এজে লিমন, শামীম আহমদ, আবু হেলাল, তাজ উদ্দিন, জয়নাল মিয়া, আবুল কালাম, মো: সামী, আতিকুর রহমান, মোহাম্মদ আলী প্রমুখ। নব নির্বাচিত কমিটির সদস্যরা হচ্ছেন সভাপতি ফজরুল হক এনাম, সিনিয়র সহসভাপতি হেলাল মিয়া, সহ সভাপতি মিসবাউজ্জামান মাছুম, আবু শহিদ, কামরুজ্জামান সাকলাইন, হাবিব সুফিয়ান, আছলম হোসাইন, আব্দুল তোয়াহিদ, সাধারণ সম্পাদক আহমদ আবুল লেইছ, যুগ্ম সম্পাদক আবু তাহের মো: পাবেল, আব্দুল বাছিত লিমন, আলিম উদ্দিন, পীর নাহিয়ান ফয়ছল, কোষাধ্যক্ষ শাহজাহান তালুকদার, সহ কোষাধ্যক্ষ শাহ জামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম আহমদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আফছর উদ্দিন, সহ প্রচার সম্পাদক মুহিবুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, সহ দপ্তর সম্পাদক কামাল হোসেন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাজমুল হক সুমন, সহ সাহিত্য সম্পাদক করিম উদ্দিন, যুব ক্রিড়া সম্পাদক আবুল লেইছ, ধর্ম সম্পাদক মুহিবুর রহমান সিপন, শিক্ষা ও সমাজকল্যান সম্পাদক স্বপন মিয়া, আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদেক হোসেন রাজু, আইন সম্পাদক জুয়েল খান, আপ্যায়ন সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, দুযোর্গ ও ত্রান সম্পাদক ওমর ফারুক। সদস্যগন হচ্ছে লিলু মিয়া তালুকদার, কয়ছুজ্জামান আনা, হুসেন আহমদ, কাওছার মিয়া, আব্দুল কাহার, মতছির আলী শুভন, জংঙ্গে নূর রাজা, ইলিয়াস মিয়া, মতিন মিয়া, সানোয়ার মিয়া, সানু মিয়া, বাদশা মিয়া, কবির শায়েক, তাজুল ইসলাম, মঞ্জু চৌধুরী, শামীম আহমদ, আব্দুর রউফ, জহিরুল ইসলাম, আঙ্গুর মিয়া, এমদাদুল হক, আমিনুর রহমান, আবু নছর জাহাঙ্গীর, সামি আহমদ, তুহিন মিয়া, জুয়েল আহমদ, আফরুজ মিয়া, আব্দুস সালাম, মিনহাজ তাপস, আজমল হোসেন, ফজলুল কাদের, জসিম উদ্দিন, আবু সাঈদ কানন, আব্দুল হামিদ, শফিকুল ইসলাম সিপন, রাজু আহমদ, রুহিন আহমদ, নূরুল আমিন, হোসেন আহমদ, জয়নাল আবেদিন, আবুল কালাম আজাদ, সায়াদ মিয়া, লাল মিয়া। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলায়াত করেন ধর্ম সম্পাদক ক্বারী মুহিবুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ সভাপতি হেলাল মিয়া। অনুষ্ঠানে নব নির্বাচিত কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করান মিনা রহমান। এতে সংগঠনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে নব নির্বাচিত কমিটি সকলের সহযোগীতা কামনা করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুশনারা আলী সংগঠনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে ভবিষ্যতে কমিউনিটি এবং এলাকার উন্নয়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান।  

বিস্তারিত»
তাহিরপুরে ২৮ বছরেও তৈরি হয় নি  বাদাঘাট-দীঘিরপার সেতু,চলাচলে জনদূর্ভোগ

জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া,তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)থেকে সুনামগঞ্জ জেলার অবহেলিত উপজেলার নাম তাহিরপুর। এ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে বিচিছন্ন। বিচ্ছিন্ন উপজেলা ইউনিয়ন গুলোর মধ্যে ব্যবসার-বানিজ্যের প্রান কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত বাদাঘাট ইউনিয়নের বাদাঘাট বাজার। এই ইউনিয়নের বাজারের সাথে সড়ক যোগাযোগের মধ্যে গুরুত্বপূর্ন সড়ক হল বাদাঘাট-দীঘিরপার-সুনামগঞ্জ সড়ক। এই সড়ক দিয়েই সারা বছর এলাকাবাসী জেলা সদরে যোগাযোগ করে থাকে। এই সড়কের উপর একটি মাত্র ব্রীজ না থাকায় বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। এই সড়কের সাথে জরিয়ে আছে বাদাঘাট ও পার্শ্ববর্তী বিশ্বাম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিন বাদাঘাট ইউনিয়নের ২৭টি গ্রামের ৪০হাজার জনসাধরন,বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের ছাত্র-ছাত্রী,ব্যবসায়ী,কৃষক ও নানান পেশার মানুষ। ব্যবসা বানিজ্য ও হাট বাজার করার জন্য বাদাঘাট বাজার প্রসিদ্ধ হওয়ায় এই রাস্তাটি ব্যবহার করেছেন সর্বস্তরের জনসাধারন। বাদাঘাট ইউনিয়নে রয়েছে ১টি পরিবার কল্যান কেন্দ্র,৭-৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মাধ্যমিক উচচ বিদ্যালয় ১টি,মাদ্রাসা ১টি,১টি কলেজ রয়েছে এসব শিক্ষা প্রতিষ্টানে ৮-৯শত শিক্ষার্থীর বেশি লেখাপড়া করে। এসব স্কুল,কলেজের শিক্ষার্থী,বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্টানের চাকুরীজীবি ও ব্যবসায়ীরা বাজারে যাতায়াত করছে এই ভাঙ্গা ব্রীজের উপর দিয়ে। এলাকার অধিকাংশ কৃষক,সবজি চাষীরা তাদের উৎপাদিত পন্য সামগ্রী বেচা কেনার জন্য একমাত্র বাদাঘাট বাজার নিয়ে যায়। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারনে যাতায়াত খরচের পরিমান বেড়ে যাওয়ার ফলে ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কষ্টার্জিত ফসল বিক্রি করে লাভবান হতে পারছেন না। এই সুযোগে উপজেলা পরিষদ থেকে লীজ নিয়ে ভাঙ্গা ব্রীজের উপর বাঁশের সামান্য চাঁটাই বিছিয়ে সংযোগ সৃষ্টি করে ১টাকার স্থলে ২টাকা জন প্রতি,মটর সাইকেল থেকে ৫টাকা,ঠেলাগাড়ি / ভেনগাড়ি থেকে ১০টাকা এর চেয়ে বেশি হারে টাকা আদায় করছে। বাদাঘাট বাজারের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য রাস্তাটির (দীর্ঘিরপাড় খাল) উপর সর্বস্তরের জনসাধারনের একটি ব্রীজ নির্মানের র্দীঘ দিন ধরে দাবী জানিয়ে আসলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচেছ না বলে এলাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। যার ফলে এলাকাবাসীর মাঝে র্দীঘ দিনের ক্ষোভ বিরাজ করছে। যানাযায়-১৯৮৮ সালের প্রলংকারী বন্যায় একটি ছোট কালর্ভাড ও রাস্তা ভেঙ্গে ছোট খালে পরিনত হয়ে যায়। ভাঙ্গার পরে সংস্কার করার পর আবার ও ভেঙ্গে যায়। এরপর থেকে এ পর্যন্ত ২৮বছর ধরে ভাঙ্গ ব্রীজের কারনে দূর্ভোগ পোহাতে হচেছ এলাকাবাসীকে। এই সেতুর উপর নির্ভর করছেন দীঘিরপাড়,ঘাগড়া, ছড়া,নোওয়াগাঁও,কালকিয়াপুর,লামাশ্রম,বিন্নাকুলি,রাজাই,বিশ্বাম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা,মিয়ারচড় সহ ২৭টি গ্রামের মানুষ।শিক্ষক,শিক্ষার্থী,চিকিৎসক,ব্যবসায়ী,কৃষক,সরকারী-বেসরকারী চাকুরীজিবি ও চিকিৎসা সেবা নিতে আসা মানুষ যোগাযোগের জন্য প্রায় ২৫-৩০ফুট র্দীঘ বাঁশের ছাটাইয়ের উপর দিয়ে বাইসাইকেল,মটরসাইকেল,ঠেলাগাড়ি,ভেনগাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে ঝুঁকি নিয়ে। বাদাঘাট বাজার বনিক সমিতির সভাপতি সেলিম হায়দার ও স্থানীয় এলাকাবাসী,ব্যবসায়ী,শিক্ষক,ছাত্রছাত্রী ও কৃষক জানান-এই রাস্তার উপর একটি ব্রীজ নির্মান ও রাস্তার সংস্কার করা হলে এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারনের ব্যবসা-বানিজ্য ও চলাচলের পথ সুগম হবে। বাদাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন জানান- দিঘীরপাড় খালের উপর ব্রীজ নির্মানের টেন্ডার হয়েছে খুব তাড়াতাড়ি কাজ শুরু হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান-যোগাযোগের রক্ষা করার জন্য রাস্তা ও রাস্তার মাঝে খাল,নদীর উপর ব্রীজ স্থাপন করা প্রয়োজন। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান-দীর্ঘিরপাড় সড়কের একটি ব্রীজ ও মিয়ারচড় নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মান করা হলে জেলা সদর ও বিশ্বাম্ভরপুর উপজেলার সাথে যোগাযোগ,জনসাধারনের চলাচলের সুবিধা ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হবে।  

বিস্তারিত»
বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে হাউজ অব কমন্সে আলোচনা  সংকট নিরসনে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনই একমাত্র বিকল্প

ওএনবি লন্ডন:বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বৃটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে আবোরো আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা সভায় প্রায় সকল বক্তা ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনকে ত্র“টিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তারা সংকট নিরসনে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি জাতীয় নির্বাচনই বিকল্প বলে মত প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার লন্ডন সময় বিকেলে হাউস অব কমন্সের একটি রুমে বিকেল ৩ টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত প্রায় দেড়ঘন্টার এই আলোচনা সভায় বৃটিশ লর্ড সভার সদস্য, ব্যারোনাস, এমইপি ও এমপিসহ মোট ১১ জন অংষ নেন। তারা বাংলাদেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বৃটিশ এমপি লর্লি বাট। সভায় মতামত রাখেন বৃটিশ লর্ড সভার সদস্য লর্ড কোরবান হোসেন, ব্যারোনাস পলা মঞ্জিলা উদ্দিন, স্টিফেন ডরোথি এমপি, জন হেমিং এমপি, সাইমন ডানসাক এমপি, জিম কুনিংহাম এমপি, খালেদ মাহমুদ এমপি, রবিন ওয়াকার এমপি, সাবেক এমইপি ফিল বেনিয়ন, এ্যান্ড্রুস স্টানেল এমপি। সভায় সায়মন ডানসাক এমপি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,  ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কবর দেয়া হয়েছে। এই নির্বাচনে জনগনের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেনি। সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হওয়ায় বৃটেনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর কাছে তা গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। তাই  সংকট নিরসনে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিকল্প নেই। জন হেমিং এমপি বলেন, উন্নয়নসহযোগী দেশ হিসেবে বৃটেন বাংলাদেশে রাজনৈতিক  স্থিতিশীলতা দেখতে চায়। তিনি জানান, র‌্যাব, পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনী সাধারণ জনগণের উপর অন্যায়ভাবে নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জড়িত হওয়ায় বৃটেন তাদেরকে আর্থিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণ বন্ধ করে দিয়েছে। বৃটেন এমন কোন বাহিনীকে প্রশিক্ষণ বা আর্থিক সহায়তা দিবে না, যারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে জড়িত। বৃটেনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে জানিয়ে সভায় বক্তারা বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে সকল পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য ন্যূনতম যে ইস্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে আসা যায়- সেটা হলো তত্ত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন।   সভায় বক্তারা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রাখা, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং রাজনৈতিক নেতাদের জেল, নির্যাতন,  হত্যা,গুমসহ সরকারের বিভিন্ন অগণতান্ত্রিক আচরণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এসব কর্মকান্ড রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে অন্তরায়। বক্তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র  ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে সংলাপে বসার আহ্বান জানান। সংলাপের জন্য প্রয়োজনে বৃটিশ পার্লামেন্ট থেকে একটি ডেলিগেশন পাঠানোর প্রস্তাবও করেন বক্তারা।

বিস্তারিত»
‘জাতীয় ঐকমত্যই পারে সমাধান দিতে’

ইমাদ উদ দীন, মৌলভীবাজার থেকে:দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ আর  ক্ষতিগ্রস্ত  দেশের  ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাত। এমন পরিস্থিতিতে চা ও রাবার শিল্পের রাজধানী হিসেবে খ্যাত মৌলভীবাজারের রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সাংবাদিক, কৃষিজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে সব দলের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. আজিজুর রহমান বলেন, দেশ ও জাতি আজ কঠিন সঙ্কটের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। মানুষের বিবেক আর মূল্যবোধ ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। শুধু কি দলের স্বার্থে, ক্ষমতায় যাওয়ার স্বার্থে রাজনীতি। রাজনীতি মানুষের কল্যাণে না হয়ে যদি ক্ষমতা পাওয়ার জন্য হয় আর সে জন্য যদি রাজপথে অরাজকতা আর হিংস আচরণ করতে হয় তা হলে এটা কি ধরনের  রাজনীতি? দেশের এ অবস্থায় আমরা মুক্তিযোদ্ধারা মর্মাহত। এমন পরিস্থিতি দেখার জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি। জাতীয় ঐকমত্যই পারে এসব সমস্যার সমাধান দিতে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনায় বসা প্রয়োজন তবে সে ক্ষেত্রে সে পরিবেশ সৃষ্টির প্রয়োজন।  মৌলভীবাজার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান ও জেলা বিএনপির  সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক  মিজানুর  রহমান মিজান বলেন, যেহেতু বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটের  চলমান আন্দোলন অবৈধ্য এই নির্বাচনের বিপক্ষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে। আর  নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলের এমন দাবি বা পদ্ধতি মানছেন না বর্তমান সরকারি দল আওয়ামী লীগ। মূলত এ কারণেই চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা। তার মতে, এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হলো সংলাপ। বিএনপি, ২০ দলীয় জোট ও দেশের সব দলকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমেই নির্বাচন পদ্ধতির স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করা ছাড়া সমাধানের অন্য কোন বিকল্প নেই। মৌলভীবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান ফয়জুল করিম ময়ুন বলেন, বিনা ভোটে ১৫৩ জন এমপি নির্বাচিত হয়ে সংসদ চালাচ্ছেন এটা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোট এ দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করছে। নির্বাচন নিয়ে সরকার চাইলে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধান করতে পারে। সরকার যত দ্রুত সংলাপে বসবে তত দ্রুত দেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট দূর হবে।  চেম্বার্স অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের  সভাপতি  মো. কামাল হোসেন  বলেন, রাজনৈতিক এ অস্থিরতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। উৎপাদিত পণ্য যেমন রপ্তানি করতে পারছেন না তেমনি প্রয়োজনীয় মালামাল আমদানিও করতে পারছেন না। এমনি কি খুচরা বিক্রেতা পর্যায়েও এর প্রভাব পড়েছে। চলমান এ অস্থিরতায় দৈনন্দিন এমন ক্ষতির প্রভাব থেকে মুক্ত নয় এ জেলার ব্যাবসায়ীরা। এমন অবস্থা চলমান থাকলে ব্যবসায়ীদের মূলধনও থাকবে না। তার মতে, এ পরিস্থিতি থেকে একমাত্র সংলাপই পারে উত্তরণ ঘটাতে। সবার কল্যাণে দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করে ব্যবসায়ীসহ দেশবাসীকে শান্তির পথ দেখাতে পারেন রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মইনুদ্দিন বলেন,  রাজনৈতিক এই সঙ্কট নিরসনে সব রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে বসে আলোচনার মাধ্যমেই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। নইলে ঘুরে-ফিরে নির্বাচন ইস্যু নিয়ে আবার একই সঙ্কট সৃষ্টি হবে। জেলা জাতীয় পার্টির (এরশাদ) সভাপতি সৈয়দ সাহাবুদ্দিন আহমদ বলেন, এ দেশের মানুষ শান্তি চায় তাই রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান রাজনৈতিকভাবে হতে হবে। রাজনীতিবিদরা দেশের মানুষকে নিরাপদ ও শান্তিতে রাখতে সংলাপের মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজতে পারেন । জেলা যুবলীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য মো. ফজলুর রহমান ফজলু বলেন, যে কোন সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই হয় । মৌলভীবাজার পৌর জামায়াতের আমীর ইয়ামীর আলী বলেন, দেশের মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলন করছে। এ অবস্থায়  সরকার নমনীয় হয়ে দেশ ও জনগণের স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বসে আলোচনার মাধ্যমেই এই রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে পারে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দই এক টেবিলে বসে সংলাপের মাধ্যমেই এই চলমান সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ বের করতে পারেন। বাংলাদেশ ট্রি স্টাফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকারিয়া বলেন,  শুধু মৌলভীবাজার জেলাতেই প্রতিদিনই ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে; এ কারণে এ শিল্পের বিপর্যয় নেমে এসেছে। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে এ অবস্থা আরও সঙ্কটাপন্ন হবে। তার মতে, এ সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ হলো  রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে সংলাপের মাধ্যমে তাদের  করণীয় ঠিক করা। বাংলাদেশ রাবার মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা রাবার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক একেএম শাহজালাল বলেন, জেলার অন্যতম এ শিল্পটি উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বেহাল দশায়। প্রতিদিনই প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। মালিকরা তাদের নিয়মিত শ্রমিকদের চালিয়ে যেতে রয়েছেন আর্থিক সঙ্কটে। কিছু দিন পরপর এমন রাজনৈতিক অস্থিরতায় এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকজনসহ দেশের সব শ্রেণী-পেশার মানুষের অপূরণীয় ক্ষতি হয়। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য পথ খুঁজতে শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর  নেতৃবৃন্দ বসে আলোচনার প্রয়োজন। হাওর বাচাঁও কৃষক বাচাঁও কৃষি বাচাঁও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি, বাংলাদেশ কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও গণতন্ত্রী পার্টি মৌলভীবাজার জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজ উদ্দিন আহমদ বাদশা বলেন, শীতকালীন সবজি ও বোরো চাষের মওসুমে দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা কৃষক ও কৃষি ব্যবস্থাকে চূড়ান্ত হুমকির মুখে ফেলেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে কৃষকসমাজ তথা দেশবাসীকে মুক্তি দিতে হলে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে সমঝোতার প্রয়োজন আর এটি হতে পারে সব দলের নেতৃবৃন্দের সংলাপের মাধ্যমে।  

বিস্তারিত»
কিশোরগঞ্জের বিশিষ্টজনদের প্রতিক্রিয়া সংলাপেই সমাধান

কিশোরগঞ্জ থেকে:অবরোধে ধস নেমেছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। মুখ থুবড়ে পড়ছে শিল্প, পর্যটন। পেট্রলবোমার আগুনে পুড়ছে মানুষ। বাড়ছে গুলিবিদ্ধ লাশের সারি। ক্ষমতার রাজনীতি বিষিয়ে তুলছে মানুষের জীবন। দুঃসহ এ অবস্থা থেকে উত্তরণ চান কিশোরগঞ্জের রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। অবিলম্বে এ জন্য অর্থবহ সংলাপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোটের অবরোধকে কেন্দ্র করে চলমান সহিংসতা বন্ধের দাবি জানানোর পাশাপাশি দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারকে এগিয়ে আসার তাগিদ দিয়েছেন তারা। বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কট সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে কিশোরগঞ্জের নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ তাদের বক্তব্যে এমন আকাঙক্ষাই তুলে ধরেন। জেলা গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন বলেন, যেকোন সঙ্কট নিরসনে সংলাপ সর্বোত্তম পন্থা। কিন্তু বর্তমান যে রাজনৈতিক সঙ্কট চলছে, তা থেকে উত্তরণে বার বার সুযোগ সৃষ্টি হলেও রাজনৈতিক আলোচনার সুযোগ কেউ নিচ্ছে না। এরপরও আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমেই সঙ্কট নিরসন হোক। জেলা ন্যাপ সভাপতি অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক খান রতন বলেন, এক কথায় সংলাপই হচ্ছে সমাধানের একমাত্র পথ। শুধু একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংলাপের মূল বিষয় হতে পারে না। কিভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর একটি দেশ গড়ে তোলা যায়, সেটিই হতে হবে সংলাপের একমাত্র উদ্দেশ্য।  কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. বাদল রহমান বলেন, রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমেই এ অবস্থা থেকে দেশ মুক্তি পেতে পারে। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে কার্যকর সংলাপের মাধ্যমে এ অচলাবস্থার নিরসন জরুরি। জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, একটি অর্থবহ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে এই মুহূর্তে কার্যকর সংলাপের উদ্যোগ নিতে হবে। সংলাপের পরিবেশ তৈরি করতে বিচারবহির্ভূত হত্যা, উৎপীড়ন, পরিকল্পিত নাশকতা আর ধরপাকড়ের পথ থেকেও সরকারকে সরে আসতে হবে। কিশোরগঞ্জ জেলা ক্যাব সভাপতি আলম সারোয়ার টিটু বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলে সহিংস পরিস্থিতির অবসান হবে। পাশাপাশি সরকারের উচিত ২০দলীয় জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসা। মনে রাখতে হবে, আওয়ামী লীগ-বিএনপি দু’দলই ’৯০-এ স্বৈরশাসকের পতন ঘটিয়েছিল। পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. ইদ্রিস আলী ভূঁইয়া বলেন, জনগণ এ অবস্থার অবসান চায়। তাই সরকার ও বিএনপি জোটের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে হবে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মো. এরশাদের আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা বদরুল আমিন বাচ্চু বলেন, আজকের যে রাজনৈতিক সঙ্কট চলছে তা সরকার ও ২০দলীয় জোটের মধ্যে আলোচনা ছাড়া নিরসন সম্ভব নয়। আলোচনার ক্ষেত্র তৈরিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মো. এরশাদ, সাবেক প্রেসিডেন্ট বি. চৌধুরী, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনসহ বিশিষ্টজনেরা ভূমিকা রাখতে পারেন। পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মোতায়েম হোসেন স্বপন বলেন, সাধারণ মানুষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলেই স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে। এ নিয়ে কথিত বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার কোন প্রয়োজনই নেই। কথিত বিরোধী দলের কর্মসূচিতে জনগণের কোন সমর্থনও নেই। ছড়াকার আহমদ আমিন বলেন, বর্তমান সঙ্কট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হতে পারে সংলাপ। দুই জোটের সংলাপ-সমঝোতার মাধ্যমেই এ সঙ্কট থেকে দেশ মুক্তি পেতে পারে- এমনটাই আশা করি। তবে অতীতের মতো ‘সঙ-আলাপ’র মতো জনগণকে ধোঁকা দেয়ার ও সময়ক্ষেপণের সংলাপ দেশবাসী চায় না। ‘সুনির্দিষ্ট’ বিষয় নিয়ে সংলাপে বসতে হবে।

বিস্তারিত»
একটি জানাজা এবং...

সাজেদুল হক:জানাজার কোন রাজনীতি নেই। তবে বাংলাদেশের ইতিহাস আলাদা। এ ভূমে কখনও কখনও কোন কোন জানাজাও রাজনীতির ইতিহাস বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের অভিষেক হয়েছিল অনেকটাই আকস্মিক। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তার উচ্চারণও পূর্বপরিকল্পিত নয়। ১৯৮১ সালের ৩০শে মে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে প্রাণ হারান তিনি। শাসক হিসেবে জিয়াউর রহমানের সমালোচনা থাকলেও ঢাকায় তার জানাজায় সে সময়কার বৃহত্তম জমায়েত বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়া পরিবারের ভূমিকা নিশ্চিত করে ফেলেছিল। মূলত জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করেই তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে এগিয়ে গেছেন। কখনও তিনি প্রধানমন্ত্রী, কখনওবা বিরোধী দলীয় নেতার আসনে বসেছেন। যদিও এখন তার জীবনে ঘোর অমানিষা। ৩৩ বছর পর ঢাকায় আরেকটি জানাজা নিয়েও বিপুল আলোচনা চলছে। অবাক হলেও সত্য, জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর জানাজা নিয়েই এ আলোচনা। বিপুল জনগোষ্ঠী এ জমায়েতে হাজির হয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রায় সবাই বলছেন, লক্ষাধিক মানুষ এ জানাজায় অংশ নেন । রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ সত্য অস্বীকার করার জো নেই বাংলাদেশ এখন এক সঙ্কটকাল অতিক্রম করছে। তবে এই মহাসঙ্কটের সময় জনগণের আসলে তেমন কোন ভূমিকা নেই। তারা নিষ্পেষিত, নির্যাতিত। তারা মারা যাচ্ছেন। কখনও পেট্রলবোমায়, কখনও ‘বন্দুকযুদ্ধে’। জ্বলছে বাংলাদেশ, আগুনে পুড়ছে মানুষ। জনগণ রাজপথে নামলে শিকার হচ্ছেন নির্বিচার গুলির। আবার নিশ্চিত করেই পেট্রলবোমা আর ককটেলের সঙ্গেও সাধারণ জনগণের সম্পৃক্ততার সুযোগ নেই। এ দুঃসহ সময়ে আরাফাত রহমান কোকোর জানাজা সুযোগ হয়ে আসে তাদের সামনে। বিরোধী গোষ্ঠীর নিষ্পেষিত, অসহায় মানুষরা সুযোগ পান রাজপথে উপস্থিতির। যে সুযোগ তারা কাজে লাগান পুরোদমেই। এ যেন এক নীরব প্রতিবাদও। জিয়া পরিবারের প্রতি তাদের ভালবাসার প্রকাশও ঘটে এতে। যদিও আরাফাত রহমান কোকোর কোন রাজনীতি ছিল না। এ জানাজা কি বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোন ভূমিকা রাখবে? পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রত্যক্ষ কোন ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা কম। তবে এ জানাজায় বিপুল উপস্থিতি ক্ষমতাসীনসহ সব মহলেই বিপুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এত কিছুর পরও বিএনপি জোটের প্রতি জনগণের সমর্থনের বহিঃপ্রকাশও ঘটেছে এর মাধ্যমে। রাজনৈতিক ভাষ্যকার ফরহাদ মজহার মনে করেন, এ জানাজায় জনগণের উপস্থিতি এক ধরনের নিঃশব্দ প্রতিবাদ। তিনি বলেন, কোকোর জানাজায় জনগণ তাদের সংবাদটা পৌঁছে দিয়েছে, তারা মূলত চায় বর্তমান ফ্যাসিস্ট যে রাষ্ট্রব্যবস্থা, এখন যে অগণতান্ত্রিক সরকার, যেভাবেই হোক না কেন তাকে চলে যেতে হবে। জনগণের এ শক্তিকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য বিএনপি নেতৃত্বেরও সমালোচনা করেন তিনি। গতকাল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে এক আলোচনায় তিনি বলেন, ‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ রাজনীতিকে গঠিত করার যে প্রয়োজনটা ছিল, সে কথাগুলো আমরা বুদ্ধিজীবীরা বিএনপি নেতাদের পরিষ্কার করে বোঝাতে পারিনি। তবে জনগণ কিন্তু আমাদের সঙ্গে আছে।’

বিস্তারিত»
সুশিক্ষিত জাতি গঠনে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই’

মোহাম্মদ হোসেন,হাটহাজারী ‘সুুুশিক্ষিত জাতি গঠনে কারিগরি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইঞ্জিনিয়ার মোদাচ্ছের হোসেন সিরাজি প্রধান পরীক্ষক বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সভাপতি বাংলাদেশ টেকনিক্যাল ট্রেনিং এন্ড রিসার্স এসোসিয়েশন। এই শিক্ষাই পারে একটি সুশিক্ষিত জাতি নির্মাণ করতে। বৃহস্পতিবার বুধবার(২৮ জানুয়ারী) চট্টগ্রাম কলেজ অব টেকনোলজি হাটহাজারী উদ্যোগে এস.এস.সি(ভোক) পরীক্ষার্থীর বিদায়,এবং নবম শ্রেণীর নবীন বরণ কলেজ ক্যাম্পাস অনুষ্টিত অনুষ্টানে এ কথা বলেছেন। এতে সভাপত্বি করেন চট্টগ্রাম কলেজ অব টেকনোলজি হাটহাজারী অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার এম.এ কাসেম তিনি আরো বলেন, বর্তমানে দেশে অধিকাংশ শিক্ষা ক্যাম্পাস গুলোতে শিক্ষার প্রকৃত পরিবেশ নেই। ছাত্র নামধারী কিছু সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েন মিধাবী শিক্ষার্থীরা। এরা ক্যাম্পাস থেকে প্রকৃত মেধাবীদের উচ্ছেদ করে জাতিকে মেধা শূণ্য করতে চায়। তাই আমাদেরকে সব সময় সতর্ক থেকে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে হবে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মোরশেদুল আলম শিক্ষক ও  সহকারী প্রক্টর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়,অধ্যপক সৈয়দ আরিফুল রহমান সদস্য হাটহাজারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ম্যানেজিং কমিটি,বিশিষ্ট সাংবাদিক ও হাটহাজারী প্রেস ক্লাব এর সাবেক সভাপতি এস এম জামাল উদ্দীন,সাংবাদিক মোহাম্মদ হোসেন,মোঃ শহিদুল্লাহ প্রধান শিক্ষক সন্ধীপ পাড়া জুনিয়র স্কুল প্রমুখ।  

বিস্তারিত»
আমি নিরুপায় হয়ে গুলশান থেকে চলে আসি: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা: সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে আর কোনো মায়ের কোল খালি না করতে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বুধবার সংসদে তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য তাজুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ আহ্বান জানান।   শেখ হাসিনা বলেন, “২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পুত্রের মৃত্যুতে শোকাহত হয়েছেন, যার কারণে তাকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখতে হয়েছে। পুত্রশোকে একজন মা কাতর হবেন এটাই স্বাভাবিক। ওনার ছেলের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে তারপরও তিনি এর শোক সহ্য করতে পারছেন না। আর যাদের সন্তান, স্বামী, স্ত্রী, বাবা বা ভাই পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়ে হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। আবার অনেকের স্বজন যন্ত্রণায় ছটফট করে চোখের সামনে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন, তারা কিভাবে এ শোক সহ্য করছেন।” প্রধানমন্ত্রী ২০ দলীয় জোটের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ বিষয়টি উপলব্ধি করে আর কোনো মায়ের সন্তানকে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে পুড়িয়ে না মারার আহ্বান জানান। গত বছরের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বিএনপি নেত্রীর সাথে আলোচনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তার ছেলে মারা যাওয়ার পর গুলশান কার্যালয়ে তাকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। কার্যালয়ের গেটে ভেতর থেকে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি আমি যখন গাড়ি থেকে নেমে পকেট গেট দিয়ে ভিতরে যেতে চাই, জানতে পারলাম ওই গেটটিও বন্ধ। তখন নিরুপায় হয়ে সেখান থেকে চলে আসতে হয়েছে।” তিনি বলেন, “২০ দল মানুষকে পুড়িয়ে মারা, গাড়ি ভাঙচুর করাসহ জঘণ্য ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। দোষ করে খালেদা আর দুঃখজনক হলো কিছু মানুষ আমাদেরকেও দোষ দেয়। আমাদের দোষটা কি? ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করছিল। দেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ কথা নেই, বার্তা নেই অবরোধ আর হরতালের নামে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো শুরু হলো।” তাদের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য এখন তারা সরকারের নেই, বিরোধীদলেও নেই উল্লেখ করে সংসদ সদস্যসহ অন্যান্যদের সতর্ক করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপিকে এখন আর বিরোধীদল বলার কোনো সুযোগ নেই। সংসদীয় গণতন্ত্রের বিধান হচ্ছে যারা সংসদে বিরোধীদলের আসনে বসেন তারাই বিরোধীদল। সেই হিসেবে জাতীয় পার্টি এখন বিরোধীদল। আর বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল- যে দল একটি সন্ত্রাসী দল, জঙ্গির দল, খুনির দল। যারা মানুষ খুন করে” তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের জনগণকে সাথে নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সন্ত্রাসী ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর আহ্বান জানান। সরকারি দলের ইসরাফিল আলমের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সারাদেশে ইউনিয়ন থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি প্রশাসনিক স্তরে ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টারে ইন্টারনেট সার্ভিস দেয়া হয়। যেখানে বিদ্যুৎ নেই সেখানে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ডিজিটাল সেন্টারগুলো চালু রাখা হয়েছে।” শেখ হাসিনা বলেন, “ইন্টারনেট স্পিড বাড়ানোর জন্য আরো একটি সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনসহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নামে একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে ইন্টারনেট স্পীড আরো অনেক বেড়ে যাবে। পর্যায়ক্রমে আমরা ৩-জি থেকে ৪-জি-তে চলে যাবো। ইন্টারনেট স্পীড এমনভাবে বাড়ানো হবে যাতে সকলে অবাধে ব্যবহার করতে পারে।” সরকারি দলের মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উচ্চশিক্ষার প্রসারে দেশের প্রতিটি জেলায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে একটি করে সাধারণ-বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।”

বিস্তারিত»
ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ নয়: শিবসেনা

নয়া দিল্লি: কট্টর হিন্দুবাদী শিবসেনার দাবি, ভারতীয় সংবিধানে সংশোধনী এনে স্থায়ী ভাবে মুছে দেওয়া হোক 'ধর্মনিরপেক্ষ' ও 'সমাজতান্ত্রিক' শব্দ দু'টি। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের সরকারি বিজ্ঞাপনে ধর্ননিরপেক্ষ ও সমাজতান্ত্রিক শব্দ দু'টি বাদ দেওয়ায় চরম বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী। এই দুই শব্দ ইচ্ছাকৃত ভাবে নাকি ভুলবশত বাদ পড়ে গিয়েছিল, তা নিয়ে তর্ক চলছে। এহেন বিতর্কের আবহেই এবার শিবসেনার 'সংবিধান বিরোধী' দাবি, ৪২তম সংশোধনীতে সংবিধানের ভূমিকায় 'ধর্মনিরপেক্ষ' ও 'সমাজতান্ত্রিক' শব্দ দু'টি চিরকালের জন্য মুছে দেওয়া হোক। এনডিএ শরিক শিবসেনার সাংসদ সঞ্জয় রাউতের বক্তব্য, 'প্রজাতন্ত্র দিবসের বিজ্ঞাপনে ধর্মনিরপেক্ষ ও সমাজতান্ত্রিক শব্দ দুটি বাদ দেওয়াকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। যদি এই শব্দ দুটি এবারে ভুল করে বাদ চলে যায়, তাহলে আমরা চাইব সংবিধানের ভূমিকা থেকে শব্দ দুটি চিরকালের জন্য মুছে দেওয়া হোক। '   শিবসেনা সাংসদের দাবি, সংখ্যালঘুদের শুধুমাত্র রাজনৈতিক মুনাফার জন্য ব্যবহার করা হয়। যেখানে হিন্দুরা ক্রমাগত বঞ্চিত হচ্ছে।– সংবাদ সংস্থা

বিস্তারিত»
গৌরীপুরে এমপি বরাবরে পৌর কর্মচারী সংসদের স্বারক লিপি

মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক,বিশেষ প্রতিনিধি,ময়মনসিংহ থেকে:রাজস্ব খাতে বেতন ভাতা ও পেনশন সুবিধা অন্তভুক্তির জন্য ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর কর্মচারী সংসদ (২৮জানুয়ারী) বুধবার স্থানীয় এমপি বরাবরে স্বারকলিপি প্রদান করেছে।  গৌরীপুর পৌর কর্মচারী সংসদের সভাপতি শ্যামল চন্দ্র সরকার ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানের নেতৃত্বে পৌর কর্মচারী সংসদের নেতৃবৃন্দ এ স্বারকলিপি প্রদান করেন। স্বারক লিপিতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুর রহমান ১৯৯৬ সনে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী থাকাকালীন বাংলাদেশ সিটি ও পৌর কর্মচারী ফেডারেশনের সমাবেশে পৌরসভা সমুহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ অবসরকালীন সুবিধা সরকারী রাজস্ব খাত থেকে প্রদানের অঙ্গীকার করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু অদ্যাবদি এর বাস্তবায়ন হয়নি। তাই বিষয়টি পুনরায় সংসদে উত্থাপনের জন্য পৌর কর্মচারী সংসদ নেতৃবৃন্দ স্বারক লিপিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যর একান্ত সহযোগিতা কামনা করেছেন।  

বিস্তারিত»
গৌরীপুর শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক,বিশেষ প্রতিনিধি,ময়মনসিংহ থেকে: ময়মনসিংহের গৌরীপুর পাইলচ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৪ এস, এস,সি‘তে জি পি এ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান (২৮ জানুয়ারী ) বুধবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনাসুল হক সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ ক্যাপ্টিন (অবঃ) মজিবুর রহমান ফকির এমপি। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুর-রে-শাহওয়াজ, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন,  পরিচালনা পরিষদের সদস্য  শফিকুল ইসলাম মিন্টু, নুর মোহাম্মদ ফকির, মোঃ হামিদুল ইসলাম ও দাতা সদস্য পরিচালনা পরিষদ আব্দুছ সাত্তার প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক মনোঞ্জ সাংস্কৃতিক অনুষ্টান করেন।  

বিস্তারিত»
গুলিস্তানে যাত্রীবাহী বাসে আগুন

ঢাকা: রাজধানীর গুলিস্তানে গোলাপ শাহ মাজারের সামনে যাত্রীবাহী একটি বাসে আগুন দিয়েছে অজ্ঞাতরা। বুধবার রাত ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। ফায়ার সার্ভিস এ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের ডিউটি অফিসার ইন্সপেক্টর নিলুফার ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে জানান, এভারেস্ট পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয়া হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিভিয়েছে।

বিস্তারিত»
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিবৃতি

ঢাকা : বুধবার রাতে গণমাধ্যমে একটি লিখিত বিবৃতি প্রদান করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান স্বাক্ষরিত বিবৃতিটি গণমাধ্যমে এসে পৌঁছায়। বিবৃতিটি হুবহু তুলে ধরা হল : “আমার এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর আকস্মিক অকাল মৃত্যুতে স্বাভাবিক ভাবেই মা হিসাবে আমি গভীরভাবে শোকাহত এবং মানসিক ভাবে বিপর্যন্ত। “মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বীরমুক্তিযোদ্ধা, সেনাবাহিনীর প্রধান এবং রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের পুত্র হিসেবে আমাদের এই সন্তানটি একটি রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা সত্ত্বেও কখনো রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়নি। কেবল মাত্র সে ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে নিজেকে মুক্ত রেখেছিল। দুর্ভাগ্যের বিষয়,  শুধুমাত্র শহীদ জিয়া পরিবারের একজন সদস্য হবার কারণেই তাকে নানমুখী জুলুম-নির্যাতন, হেনস্তা-অপপ্রচারের শিকার হতে হয়েছে। “অসুস্থ হয়ে প্রবাসে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থাতেও সে চরম প্রতিহিংসামূলক বৈরিতা থেকে নিষ্কৃতি পায়নি। ভাগ্যের এমনই নিষ্ঠুর পরিহাস যে, মা হিসাবে আমি প্রায় আট বছর ধরে এই অসুস্থ সন্তানটির মুখ দেখার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত ছিলাম। অবশেষে আমাকে সন্তানের লাশ গ্রহণ করতে হলো। সর্বশক্তিমান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে আমি এর বিচারের ভার অর্পণ করলাম। “এই গভীর বেদনা ও শোকের মুহূর্তে সকলের কাছ থেকে যে বিপুল সহানুভূতি, সহমর্মিতা ও সমবেদনা পেয়েছি তা আমার হৃদয় স্পর্শ করেছে। “কুয়ালালামপুরে কোকোর প্রথম নামাজে জানাজায় অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে যে বিপুল সংখ্যক মানুষের ঢল নেমেছে আমি তার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। “অন্যান্য দেশেও প্রবাসীদের বিপুল অংশগ্রহণে গায়েবানা জানাজার আয়োজনের জন্য আমি তাদেরকেও অভিনন্দন জানাচ্ছি। “দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিএনপি, আমাদের অঙ্গ ও সহযোগী-সংগঠন, ২০ দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সমাজিক সংগঠন এবং ব্যক্তি উদ্যোগে কোকোর বিদেহী রুহের মাগফিরাতের জন্য গায়েবানা জানাজা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন যারা করেছেন আমি তাদেরকেও আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছি। “জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর জানাজার নামাজে দলমত, শ্রেণীপেশা নির্বিশেষে সর্বস্তরের লাখ লাখ মানুষ শরিক হয়ে যে অবিস্মরণীয় ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তাতে আমি অভিভূত। ধন্যবাদ প্রিয় দেশবাসীকে। জিয়া পরিবারের প্রতি গণমানুষের এই অপরিমেয় ভালবাসার বহি:প্রকাশ আমাকে আরো একবার নতুন করে কৃতজ্ঞতার ঋণে আবদ্ধ করলো। বিপুল সংখ্যক মানুষের এই উপস্থিতিতে আমি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হলাম। শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি সঞ্চয়ে সর্বস্তরের দেশবাসীর এই অংশগ্রহণ আমাকে অনেক সাহায্য করবে। “বিভিন্ন ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের নেতৃবৃন্দের প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার এই দুঃখের সময়ে তারা শোকবার্তা পাঠিয়ে সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেছেন। আমি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিদের প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তারা শোকবার্তা পাঠিয়ে এবং সশরীরে আমার কার্যালয়ে এসে সহানুভূতি জানিয়েছেন। “বিএনপি ও ২০ দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল-জোটের নেতা-কর্মী, পেশাজীবী, নাগরিক সমাজের সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক, সাংস্কৃকিত অঙ্গণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিত্ববর্গসহ নর-নারী, শ্রেণী-পেশা ও বয়স নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে আমি ধন্যবাদ দিচ্ছি ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তারা আমার কার্যালয়ে এসে শোক প্রকাশ ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেছেন। “তারা এ সময়ে আমার সঙ্গে দেখা করতে না পারায় আমি গভীরভাবে দুঃখিত। আমি আশা করি পরিস্থিতির বিবেচনায় সকলেই বিষয়টিকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। “আমি কোকোর জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই। দেশবাসীকে বলবো, আমি আপনাদের মাঝে আছি এবং যতদিন বেঁচে আছি আপনাদের সঙ্গেই থাকবো ইনশাআল্লাহ।”

বিস্তারিত»
উচ্চ আদালতের রায়ের তীব্র সমালোচনায় শেখ হাসিনা

ঢাকা: জেলা জজদের সচিবের মর্যাদা প্রদানসহ বিচার বিভাগে কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা নির্ধারণ করে উচ্চ আদালতের রায়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এভাবে নিজেকে বেনিফিশিয়ারি করে রায় দেয়া, নিজেকে প্রমোট করে রায় দেয়া ‘এথিঙে’র বাইরে। এভাবে জেলা জজদের সচিব করা হলে বিচার বিভাগের আরো অনেক উচ্চ কর্মকর্তারা রয়েছেন, তারা তো একে একে রাষ্ট্রপতির উপরে উঠে যাবেন। প্রধানমন্ত্রী বুধবার জাতীয় সংসদে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সেলিম উদ্দিন জানতে চান, সম্প্রতি জেলা জজদের সচিব পর্যাদা দিয়ে উচ্চ আদালত থেকে একটি রায় দেয়া হয়েছে। এই রায় বাস্তবায়ন করা হলে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে কিনা? জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, নিজের পক্ষে নিজের রায় দেয়া সঠিক নয়। এভাবে নিজের পক্ষে নিজেরা রায় দিলে সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে নিজের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেবে বা নিজেকে প্রমোট করবে। এতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের এই রায়ের ফলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। এমনিতেই তারা আগে নিজেদের বেতন-ভাতার জন্য পৃথক কমিশন করে বেতন-ভাতা নিয়েছেন। এখন পদমর্যাদার প্রশ্নে রায় দিয়েছেন। এভাবে জেলা জজরা সচিব হলে, তাদের উচ্চ পদস্থ আরো বিচার-বিভাগীয় কর্মকর্তারা রয়েছেন। এভাবে যেতে যেতে তারা রাষ্ট্রপতির উপরে চলে যাবেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই যার যার দায়িত্ব তার পালন করা উচিত। একে অন্যের সঙ্গে সমঝোতা ও সমন্বয় করতে হবে। কিন্তু রাষ্ট্রের বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে এমন রায় আসে তাহলে তা দুঃখজনক। শেখ হাসিনা বলেন, এটি নিয়ে আলোচনা চলছে। আইনমন্ত্রীসহ অন্যরা এ বিষয়ে কাজ করছেন। আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, প্রশাসনে আর নতুন কোন ক্যাডার পদ সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। এমনিতেই ক্যাডার ক্যাডার করতে করতে অনেক ক্যাডার হয়ে গেছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) সমস্যা দূর করতে নতুন আরেকটি ক্যাডার পদ সৃষ্টি করার যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখতে হবে। তিনি বলেন, সারাদেশে ডিজিটাল ম্যাপিংয়ের কাজ চলছে। এটি পূর্ণাঙ্গভাবে করা সম্ভব হলে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা কমে আসবে।

বিস্তারিত»
আল্লাহর কাছে বিচার চাই: খালেদা

ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, “অসুস্থ হয়ে প্রবাসে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থাতেও সে চরম প্রতিহিংসামূলক বৈরিতা থেকে নিষ্কৃতি পায়নি। ভাগ্যের এমনই নিষ্ঠুর পরিহাস যে, মা হিসাবে আমি প্রায় আট বছর ধরে এই অসুস্থ সন্তানটির মুখ দেখার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত ছিলাম। অবশেষে আমাকে সন্তানের লাশ গ্রহণ করতে হলো। সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের কাছে আমি এর বিচারের ভার অর্পণ করলাম।” গণমাধ্যমে বুধবার রাতে একটি লিখিত বিবৃতিতে এসব কথা বলেন খালেদা জিয়া।   বুধবার রাত আটটা ১৫ মিনিটে খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান স্বাক্ষরিত বিবৃতিটি গণমাধ্যমে এসে পৌঁছায়। বিবৃতিটি হুবহু তুলে ধরা হলো- “মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বীরমুক্তিযোদ্ধা, সেনাবাহিনীর প্রধান এবং রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের পুত্র হিসাবে আমাদের এই সন্তানটি একটি রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা সত্বেত্ত কখনো রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়নি। কেবল মাত্র সে ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছিল। দুর্ভাগ্যের বিষয়,  শুধুমাত্র শহীদ জিয়া পরিবারের একজন সদস্য হবার কারণেই তাকে নানামুখী জুলুম-নির্যাতন, হেনস্তা-অপপ্রচারের শিকার হতে হয়েছে। “অসুস্থ হয়ে প্রবাসে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থাতেও সে চরম প্রতিহিংসামূলক বৈরিতা থেকে নিষ্কৃতি পায়নি। ভাগ্যের এমনই নিষ্ঠুর পরিহাস যে, মা হিসাবে আমি প্রায় আট বছর ধরে এই অসুস্থ সন্তানটির মুখ দেখার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত ছিলাম। অবশেষে আমাকে সন্তানের লাশ গ্রহণ করতে হলো। সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের কাছে আমি এর বিচারের ভার অর্পণ করলাম। “এই গভীর বেদনা ও শোকের মুহূর্তে সকলের কাছ থেকে যে বিপুল সহানুভূতি, সহমর্মিতা ও সমবেদনা পেয়েছি তা আমার হৃদয় স্পর্শ করেছে। “কুয়ালালামপুরে কোকোর প্রথম নামাজে জানাজায় অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে যে বিপুল সংখ্যক মানুষের ঢল নেমেছে আমি তার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। “অন্যান্য দেশেও প্রবাসীদের বিপুল অংশগ্রহনে গায়েবানা জানাজার আয়োজনের জন্য আমি তাদেরকেও অভিনন্দন জানাচ্ছি। “দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিএনপি, আমাদের অঙ্গ ও সহযোগী-সংগঠন, ২০দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সমাজিক সংগঠন এবং ব্যক্তি উদ্যোগে কোকোর বিদেহী রুহের মাগফিরাতের জন্য গায়েবানা জানাজা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন যারা করেছেন আমি তাদেরকেও আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছি। “জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর জানাজার নামাজে দলমত, শ্রেণীপেশা নির্বিশেষে সর্বস্তরের লাখ লাখ মানুষ শরিক হয়ে যে অবিস্মরণীয় ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তাতে আমি গভীরভাবে অভিভূত। ধন্যবাদ প্রিয় দেশবাসীকে। জিয়া পরিবারের প্রতি গণমানুষের এই অপরিমেয় ভালবাসার বহি:প্রকাশ আমাকে আরো একবার নতুন করে কৃতজ্ঞতার ঋণে আবদ্ধ  করলো। বিপুল সংখ্যক মানুষের এই উপস্থিতিতে আমি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হলাম। শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি সঞ্চয়ে সর্বস্তরের দেশবাসীর এই অংশগ্রহণ আমাকে অনেক সাহায্য করবে। “বিভিন্ন ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের নেতৃবৃন্দের প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার এই দুঃখের সময়ে তারা শোকবার্তা পাঠিয়ে সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেছেন। আমি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিদের প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তাঁরা শোকবার্তা পাঠিয়ে এবং সশরীরে আমার কার্যালয়ে এসে সহানুভূতি জানিয়েছেন। “বিএনপি ও ২০ দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল-জোটের নেতা-কর্মী, পেশাজীবী, নাগরিক সমাজের সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিত্ববর্গসহ নরনারী, শ্রেণী-পেশা ও বয়স নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে আমি ধন্যবাদ দিচ্ছি ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তারা আমার কার্যালয়ে এসে শোক প্রকাশ ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেছেন। “তাঁরা এ সময়ে আমার সঙ্গে দেখা করতে না পারায় আমি গভীরভাবে দুঃখিত। আমি আশা করি পরিস্থিতির বিবেচনায় সকলেই বিষয়টিকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। “আমি কোকোর জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই। দেশবাসীকে বলবো, আমি আপনাদের মাঝে আছি এবং যতদিন বেঁচে আছি আপনাদের সঙ্গেই থাকবো ইনশাআল্লাহ।”

বিস্তারিত»
তাহিরপুর সীমান্তের বাগলী-সুনামগঞ্জ সড়কে ভাড়া ৪০০ টাকা ৬টি খেয়া পাড়া পাড়ে দিতে হয় ৭০ টাকা

জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া,তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)থেকে- সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তে মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান বিরেন্দ্র নগড়-সুনামগঞ্জ সড়কের অবস্থান। বাগলী-চারাগাঁও,বড়ছড়া,বিরেন্দ্র নগড় সম্পদ,সৌন্দর্যে ভরপুর রয়েছে এই এলাকা। এই গুরুত্বপূর্ন সড়কটি স্বাধীনতার ৪৪ বছর পার হলেও রাস্তা পূর্ণাঙ্গ রুপ নিতে পারে নি শুধু অবহেলার কারনে। শুধু অবহেলা আর প্রতিশ্রুতির মধ্যেই থেমে আছে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও ভাঙ্গাচুরা রাস্তা থাকার কারনে উপজেলার সীমান্ত ঘেঁসা ১২টি গ্রামের লোক জন সত কষ্টের মাঝে উপজেলা ও জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ রক্ষার জন্য বর্ষার ছয় মাস নৌকা,বাকি ছয় মাস মটর সাইকেল ও পায়ে হেঁঠে চলা চল করতে হয়। আর এই রাস্তা দিয়ে সারা বছরেই দেশের বিভিন্ন স্থানের কয়লা,চুনাপাথর ব্যবসায়ীরা ও স্থানীয় জনসাধারন চলা চল করে। শুষ্ক মৌসুমে বিরেন্দ্র নগড়,বাগলী সড়ক পথে চলা চল করতে পাড়ি দিতে হয় খালের উপর ব্রীজ না থাকার কারনে খাল ও ছড়ার মাঝে নির্মিত বাঁশের চাটাই এবং যাদুকাটা নদীর পাড়ি দিতে হয় নৌকা। উপজেলার সীমান্ত গ্রাম বিরেন্দ্র নগড়,বাগলী থেকে সুনামগঞ্জ সদর ৫৮ কিলোমিটার হলেও ভাড়া দিতে হচ্ছে মটর সাইকেলে ৩৫০-৪০০ টাকা ও খেয়া এবং বাঁশের চাটই পাড়ি দিতে টাকা দিতে হয় ৭০ টাকা (প্রতি খেয়া পাড়ে ১০-২০টাকা)। যার ফলে বিরেন্দ্র থেকে সুনামগঞ্জ ৫৮ কিলোমিটার সড়ক পথ স্থানীয় এলাকাবাসীর গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে। এই সড়ক দিয়ে তিনটি শুল্কষ্টেশন দিয়ে কয়লা,চুনাপাথর এলসির মাধ্যমে আমদানী ও এই এলাকা থেকে বোল্ডার পাথর,নুড়ি পাথর,উৎপাদিত ধান জেলা সদর সহ বিভিন্ন এলাকায় পাঠিয়ে ব্যবসায়ীরা যোগাযোগ রক্ষা করে থাকে। উপজেলার টাংঙ্গুয়ার হাওর,মাটিয়ান হাওর,কালির হাওর সহ প্রতিটি হাওরেই বোরো ফসলের উৎপাদনের অন্যতম এলাকা। শুধু মাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকার কারনে এখান কার উৎপাদিত পন্য স্থানীয়দের প্রয়োজন মিটিয়ে থাকে। অন্য কোথাও পাঠাতে গেলে খরচের পরিমান বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতির শিকার হতে হয়। যার ফলে উৎপাদিত পন্যের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষক। এই রাস্তাটি ভাঙ্গা চুড়া থাকায় ও শুকনো মৌশুমে সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদাঁ যুক্ত হয়ে যোগাযোগে অযোগ্য হয়ে পরে তার পরও এই রাস্তাটি দিয়ে পার্শ্ববর্তী বিশ্বাম্ভরপুর উপজেলা হয়ে সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ করা হয়। কয়লা,চুনাপাথর আমদানীর স্বার্থে ব্যবসার প্রয়োজনে প্রতিদিনেই দেশের বিভিন্ন প্রাস্ত থেকে বড়ছড়া.চারাগাঁও,বাগলী,বিরেন্দ্রনগড় আসে। তাহিরপুর সীমান্তের বড়ছড়া.চারাগাঁও,বাগলী শুল্ক স্টেশন সিলেটের শুল্ক স্টেশন তামাবিল,শুতারকান্দির চেয়ে ও কম নয়। এই শুল্ক স্টেশন থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার টন কয়লা পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আর সরকার এ থেকে রাজ্যস্ব আয় করেন কোটি কোটি টাকা। বর্তমানে কয়লা আমদানী আইনী জঠিলতার কারনে বন্ধ রয়েছে। উপজেলার বড়ছড়া.চারাগাঁও,বাগলী শুলÍ স্টেশনের সঙ্গে সীমান্ত সড়ক যোগাযোগ না থাকার কারনে কয়লা,চুনাপাথর ব্যবসায়ী সহ এলাকাবাসী সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাচ্ছে। তাহিরপুর উপজেলার জনসাধারন শুষ্ক মৌসুমে চলাচলের প্রধান মাধ্যম মটর সাইকেল। এ উপজেলায় রয়েছে বাদাঘাট সমবায় সমিতি,তাহিরপুর সমবায় সমিতি,উত্তরা বহুমুখী সমিতি সহ কয়েকটি মটর সাইকেল সমিতি। এসব সমিতিতে রয়েছে প্রায় ২০ হাজার মটর সাইকেল। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রতিদিন শত শত মটর সাইকেল চালক এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। রাস্তা সংস্কার না হওয়ার কারনে উপজেলার কোথাও না কোথাও গঠছে দূর্ঘটনা। সম্প্রতি তাহিরপুর উপজেলার তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কের সূর্যেরগাঁও গ্রামের কালি বাড়ি নামক স্থানে সুজিত দাস ও তাহিরপুর-বিশ্বাম্ভরপুর সড়কে সীমান্তবর্তী লাকমা গ্রামের বাবুল মিয়ার স্ত্রী নাসিমা আক্তার মটর সাইকেল দূর্ঘটনায় মারা যায়। পাটলাই নদীতে ব্রীজ না থাকায় নৌকা ডুবিতে বিজিবির সদস্য সুনামগঞ্জ ৮ ব্যাটালিয়ানের বির্দশন বড়–য়া নামে এক জোয়ান মারা যায়। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান-বাগলী থেকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত রাস্তা ও রাস্তার মাঝে ছোট ছোট ব্রিজের কাজ কি অবস্থায় রয়েছে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান কারুজ্জামান কামরুল জানান-তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তের রাস্তা,ছোট ছোট ব্রিজের কাজ জনসাধারনের সুবিধার্থে দ্্রুত শেষ করা প্রয়োজন।

বিস্তারিত»
সিংচাপইড় ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন, ইউকে এর বাৎসরিক সভা সম্পন্ন

এম.এস.এইচ.সুজনঃ গত ২৭/০১/২০১৪ ইংরেজী সিংচাপইড় ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন, ইউকের সভাপতি আজাদ আলী এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এম.এস.এইচ. সুজনের পরিচালনায় কার্যনির্বাহী কমিটির বাৎসরিক বাজেট ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্ঠা জনাব নুরুল ইসলাম এমবিই, আমির উদ্দিন আহমদ, ট্রেজারার আলী আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ছানাওর আলী, ছুরত আলী, সেলু মিয়া, বাবুল আহমেদ, বাচ্চু মিয়া সহ প্রমুখ। সভায় আগামী বৎসরে সিংচাপইড় গ্রামের উন্নয়ন কল্পে বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়। সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সিংচাপইড় গ্রামের সকল প্রবাসীদের সদস্য করে তাদের কাছ থেকে ফান্ড সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখনও পর্যন্ত যারা এসোসিয়েশন এর মেম্বার হননি তাদেরকে শীগ্রই গ্রামের গরিব দুঃখী অসহায়দের সাহায্যার্থে এসোসিয়েশনের সদস্য হয়ে এগিয়ে আসার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ জানানো হয়। সিংচাপইড় গ্রামকে একটি সমৃদ্ধশালী ও আদর্শ গ্রাম হিসেবে গড়ে তুলার লক্ষ্যে গ্রামের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান কল্পে, স্কুল, মাদ্রাসা, রাস্তাঘাটের উন্নয়নে সিংচাপইড় ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন, ইউকে ভবিষ্যত পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে সকল সদস্যদের প্রতি আকুল আবেদন জানানো হয়।  

বিস্তারিত»

সাক্ষাৎকার

দেশ জটিল অবস্থায়, এ অবস্থা চলতে থাকলে রাষ্ট্র অস্তিত্ব সংকটে পড়বে

দেশে কি হতে যাচ্ছে তা সরাসরি বলা খুব মুশকিল। কারণ দেশের পরিস্থিতি খুবই জটিল। দেশের ক্ষমতাসীন এবং আন্দোলরত উভয় পক্ষই অনড় অবস্থানে। আর অনড় অবস্থানে থেকে রাজনীতি করা যায় না বলে মন্তব্য করলেন নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক এবং বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহমুদুর রহমান মান্না।   তিনি বলেন, বর্তমান সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য জাতীয়ভাবে সংলাপে বসা উচিত তবে সেরকম কোনো লক্ষণ এই মুহূর্তেও দেখা যাচ্ছে না। আর জাতীয় সংলাপ না হলে এবং এ অবস্থা চলতে থাকলে রাষ্ট্র অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।   রেডিও তেহরানের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে মান্না বলেন, বর্তমানে সন্ত্রাস নিয়ে নানা কথা হচ্ছে। সরকার সন্ত্রাস দমন নিয়ে খুব বেশি কথা বলছে। তবে একপক্ষ সন্ত্রাস করে আর কেউ করে না বিষয়টি এরকম না। তবে সন্ত্রাস মোকাবেলা করাটা আমাদের জাতীয় ইস্যু।   বেগম খালেদা জিয়াকে সহসা গ্রেফতার করা হবে এমনটি আমি ভাবছি না। আর যদি সেটা করা হয় তাহলে তা হবে ধ্বংসাত্মক একটা পদক্ষেপ। তবে এমনটি হবে বলে আমি মনে করছি না।   সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন গাজী আবদুর রশীদ।সিলেটের আলাপ ডট কমের পাঠকদের জন্য পুরো সাক্ষাৎকারটি উপস্থাপন করা হলো।   প্রশ্ন : বাংলাদেশের চলমান আন্দোলন সফল করতে ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া খুবই আত্মপ্রত্যয়ী বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে, সরকার আন্দোলন দমনে প্রয়োজনে আরো কঠোর হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কি হতে যাচ্ছে দেশে? আপনি কি মনে করেন দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসবে?   মাহমুদুর রহমান মান্না:  দেখুন আসলে দেশে কি হতে যাচ্ছে এর জবাব সরাসরি দেয়াটা বেশ মুশকিল। কারণ দেশের পরিস্থিতি সত্যিই খুব জটিল। আপনি প্রশ্নের মধ্যে যেভাবে বললেন এবং বাস্তবতা যা তাতে দেখা যাচ্ছে উভয় পক্ষ্যই নিজ নিজ অবস্থানে অনড়-অটল।  তবে অনড় অবস্থানে থেকে রাজনীতি করা যায় না। কাউকে কিছু না কিছু ছাড় দিতে হয়, সমন্বয় করতে হয়। তবে সেই ছাড় দেয়ার ব্যাপারে বা সমন্বয়ের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যাচ্ছে না। বেগম খালেদা জিয়া ৭ দফা দেয়ার পর বলেছেন তিনি আলোচনায় বসতে চান। তবে আমি মনে করি আলোচনায় বসার ব্যাপারটি শুধু আওয়ামী লীগ বিএনপির ব্যাপার নয়, ডায়ালগটা হওয়া উচিত সবার মধ্যে। কারণ এ ধরনের সংকট কেবলমাত্র এই মুহুর্তে সৃষ্টি হয়েছে এমন নয়, প্রতি পাঁচ বছর পর পর এমন সংকট তৈরি হচ্ছে। অতএব এ সংকটের একটা স্থায়ী সমাধানের জন্য জাতীয়ভাবে সংলাপে বসা উচিত। তবে এখন পর্যন্ত এরকম কিছু দেখা যাচ্ছে না।   তারপরও আমি বলতে চাই, সাধারণত আমাদের দেশে এমনটি হয়ে থাকে কোনো একটি সংকটের নিষ্পত্তির আগে সবাই খুব জেদ দেখায়; গো ধরে বলে যে মানি না- শুনব না ইত্যাদি। তবে পরে সবাই সমঝোতার দিকে আসতে থাকেন। আামাদের সেভাবেই এগুতে হবে। এরকম আশা করা ছাড়া আমাদের কাছে বিকল্প আর কোনো কিছু নেই।   আর যদি সমঝোতা বা সংলাপ না হয় তাহলে পরিস্থিতিটা চরম দুঃখজনক, বিয়োগান্তক, মর্মান্তিক,সংবিধান বিরোধী এবং রাজনীতি বিরোধী একটি ঘটনা ঘটতে পারে। এ ছাড়া নিষ্পত্তির আর কোনো উপায় নেই। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের অর্থনীতির আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্র যন্ত্রটা বড় রকমের অসুস্থতার মধ্যে পড়ে যাবে। তখন রাষ্ট্র অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। আর সেকারণে আমি মনে করি শেষ পর্যন্ত সবার মধ্যে শুভ বুদ্ধির  উদয় হবে এবং একটা সমাধান হবে।   প্রশ্ন :  আন্দোলনে সহিংসতা চলছে এবং তা নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য রয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানের ওপর গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। রাজনীতিতে রিয়াজ রহমান নিতান্তই ভদ্রজন বলে পরিচিত। কিভাবে দেখছেন এ ঘটনাটিকে?   মাহমুদুর রহমান মান্না: দেখুন রিয়াজ রহমানের ওপর হামলার ব্যাপারটি আমার কাছে বিস্ময়কর। উনি একজন সৎজন। খুব সক্রিয় রাজনীতিবিদও নন তিনি। তারপরও তার ওপর হামলার বিষয়টি আমি মেনে নিতে পারি না। আর এটা বিএনপি করেছে বা তাদের ভেতরের কেউ করেছে এই বক্তব্যও আমি কোনোভাবে মানতে পারিনা। আবার সামগ্রিক ঘটনায় সরকার অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে বলে আমি মনে করি। সেক্ষেত্রে এই হামলার কাজটি সরকারপক্ষ করেছে সেটাও কি করে মেনে নেয়া যায়। কারণ এতখানি মূর্খতা এবং নির্বুদ্ধিতার পরিচয় কেন দেবে সরকার?   রিয়াজ রহমানের ওপর হামলার বিষয়টি যদি আপনি ভালো করে পর্যবেক্ষণ করেন তাহলে দেখবেন তাকে মেরে ফেলার জন্য এটেম্পট করা হয়নি। মেরে ফেলতে চাইলে তারা সেটা করতে পারত। সেক্ষেত্রে এরকম একটা ঘটনা কি কোনো ম্যাসেজ বা বার্তা কিনা সেটা বোঝা বেশ মুশকিল। তবে আমি ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।   দেখুন বর্তমানে সন্ত্রাস নিয়ে নানা কথা হচ্ছে। সরকার সন্ত্রাস দমন নিয়ে খুব বেশি কথা বলছে। তবে একপক্ষ সন্ত্রাস করে আর কেউ করে না বিষয়টি এরকম না। সন্ত্রাস মোকাবেলা করাটা আমাদের জাতীয় ইস্যু।   বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের মধ্যে যে পিপার স্প্রে করা হলো। অথচ আদালত পিপার স্প্রের করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তারপর পুলিশ সেই কাজটি কিভাবে করে! স্বাভাবিকভাবে যে পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশে এটি করা হয়েছে এবং যেসব পুলিশ এটি করেছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি হওয়ার কথা ছিল। অথচ তাদের কারো বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি হয়নি। আর সেকারণে আমার মত হচ্ছে- এসব করে কারো কোনো লাভ হবে না। সহিংসতা- সহিংসতার জন্ম দেবে। আর আইন বন্ধ করে দিলে এরকম ঘটনাই ঘটতে থাকবে। এই অবস্থা থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। আর সেজন্য আমি মনে করি সংলাপের দরকার। আর সেটা জাতির সব মানুষকে যুক্ত করে করতে হবে। তানাহলে হবে না। আর আমি যে আশার কথা বললাম সেটাকে ইংরেজিতে এবাবে বলা যাবে hope against hope. দেখা যাচ্ছে না, তারপরও দেখতে হবে আমাদেরকে। বিকল্প কিছু নেই।   প্রশ্ন : সরকারের বিভিন্ন ইঙ্গিত থেকে অনেকে আশংকা করছেন যে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হতে পারে। আপনার কি মনে হয়?   মাহমুদুর রহমান মান্না: মন্ত্রীরা কতরকম কথা বলে, তাদেরকে আমি কোনোভাবে গুরুত্ব দিতে চাই না।বেশ কিছুদিন আগে আমি একটা সভায় বলেছিলাম এরকম একটা পরিস্থিতি হতে পারে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরকার যদি বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের মতো পদক্ষেপ নেন তাহলে ধরে নিতে হবে সেটি তাদের চূড়ান্ত অবস্থান। এরকমও হতে পারে। বিশ্বের কোনো কোনো দেশে একদল ক্ষমতায় গিয়ে আরেক দলকে নিশ্চিহ্ন করে দেবার চেষ্টা করেছে। তবে এমনটি করতে গিয়ে কোনো কোনো দেশে কিছুটা সফল হয়েছে আবার অনেক জায়গায় ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে ওই ধরণের একটি লড়াই ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। যে কারণে বেগম খালেদা জিয়াকে সহসা গ্রেফতার করা হবে এমনটি আমি ভাবছি না। আর যদি সেটা করা হয় তাহলে তা ধ্বংসাত্মক একটা পদক্ষেপ। তবে এমনটি হবে বলে আমি মনে করছি না।   প্রশ্ন :  বিএনপিকে নির্মূল করতে না পারলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। কেন এই বক্তব্য? এর কি অর্থ থাকতে পারে?   মাহমুদুর রহমান মান্না: খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বক্তব্যের কোনো অর্থ নেই। এসব বক্তব্য স্পষ্ট মূর্খতা। আওয়ামী লীগের ফাদার ফিগার, বাংলাদেশের জাতির জনক এভাবে আমরা বলে থাকি সেই বঙ্গবন্ধুকে তার পরিবারসহ হত্যা করা হয়েছে। তাই বলে কি আওয়ামী লীগ নির্মূল হয়ে গেছে। তখন এরকম বলা হয়েছিল আওয়ামী লীগ আর দাঁড়াতে পারবে না। কিন্তু তাই কি হয়েছে। এভাবে কথা বললে হবে না। যারা ইতিহাস পড়েন না বা জানেন না তারাই এধরণের কথা বলেন। তারা পেছনে ফিরে দেখার চেষ্টা করেন না। আর মন্ত্রীর এ ধরনের কথা আলোচনার যোগ্য বলে আমি মনে করি না। একটা দল রাজনৈতিক বিভ্রান্তি বা ভুলের  কারণে নিঃশেষ হতে পারে কিন্তু মেরে কোনো দলকে নিঃশেষ করা যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।   প্রশ্ন :  আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান আন্দোলনের কি প্রভাব পড়েছে বা পড়তে পারে বলে মনে হয় আপনার?   মাহমুদুর রহমান মান্না: দেখুন অন্যান্য প্রভাবের কথা আমি বলতে পারবো না কিন্তু মিডিয়ার খবরে যেটা দেখলাম যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট, ইউরোপিয় ইউনিয়ন বিবৃতি দিয়েছেন। তারা চাচ্ছে যে সবাইকে স্বাধীনভাবে নিজেদের মতো করে চলতে দেয়া হোক, কথা বলতে দেয়া হোক। একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশে সবকিছু হোক।   তারমানে বোঝা যাচ্ছে রিয়াজ রহমানের ওপর হামলার ঘটনা বিশ্বের বেশ কিছু দেশকে প্রভাবিত করেছে। ফলশ্রুতিতে তারা এরকম বিবৃতি দিয়েছে। এছাড়া সাধারণভাবে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীমহল বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। বর্তমান আন্দোলন বাবসা বাণিজ্যে নেতিবাচক ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।এরমধ্যে বিজিএমইএ যারা মূলত রপ্তানী নির্ভর তারা খুবই উদ্বিগ্ন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।   আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব পড়ছে এই অর্থে যে তারা একটা অর্ডার নিয়ে তা সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে বলা চলে অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য রাজনৈতিক অস্থিরতা খুবই ক্ষতির কারণ।   এছাড়া সামগ্রিক প্রভাব বলতে স্পষ্টভাবে কেউ তেমন কিছু বলছে না। তারা মুখে যেরকম বলছে কার্যত সেরকম হচ্ছে না। সবাই চাইবে বাংলাদেশে একটা শান্তি ও সুষ্ঠু পরিস্থিতি থাকুক। তারা তাদের নিজেদের স্বার্থে এমনটি চাইবে। প্রতিবেশিরাও এমনটি চাইবে। বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিকসহ নানাবিধ যে সম্পর্ক রয়েছে তাদের সবাই এমনটি  চাইবে। ফলে বিষয়টি অবশ্যই প্রভাব ফেলবে।

বিস্তারিত»

বিশেষ কলাম

মরার উপর খাঁড়ার গা শোকে পাথর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা!!

আদরের ছোট ছেলেকে হারানোর দিনেই বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে আসামি করে একাধিক মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রোলবোমা ছুড়ে আগুন দেয়ার ঘটনায় শনিবার পুলিশের দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বিএনপির অধিকাংশ সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা হলেও চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে এধরনের মামলা এটাই প্রথম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবরোধের মধ্যে নাশকতার জন্য খালেদা জিয়াকে দায়ী করে তাকে ‘হুকুমের আসামি’ করার পক্ষে সংসদে বক্তব্য দেয়ার দু’দিন পরই এ মামলা হলো।বেগম জিয়া যখন পুত্র শোকে পাথর  তখন  যাত্রাবাড়ি  বসে আগুন দিল দূরবৃত্তরা আর মামলা হলো বিএনপি চেয়ার পারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামে প্রতিনিয়ত দূরবৃত্তরা বাসে পেট্রল বোমা মারছে আগুন দিচ্ছে  আর মামলা হচ্ছে বিএনপি নেতাদের নামে কিন্তু বোমা হামলাকারী ধরা ছোয়ার বাহিরে,চলমান নষ্ট রাজনৈতিক সংস্কৃতির যদি সঠিক চিকিৎসা না হয়, তাহলে অব্যবহিত পূর্ববর্তী প্রজন্মের মতো আগামী বহু প্রজন্ম রক্তার্জিত স্বাধীনতা থেকে কিছুই পাবে না।গত ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের নিক্ষিপ্ত পেট্রোল বোমায় অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন ৩১ যাত্রী।অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা যদি গাড়িতে পেট্রল বোমা ও আগুন দেয় তা হলে কেন বিএনপি সিনিয়র নেতাদের নামে মামলা?? এ ঘটনার পরদিন গত শনিবার  যাত্রাবাড়ী থানার কেএম নুরুজ্জামান পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ৫৮ এবং ৫৯। দুটি মামলার বিষয়বস্তু এক হলেও ৫৮ নং মামলাটি হয়েছে দন্ডবিধির ১৪৩, ৩২৬, ৩০৭, ১১৪, ৩৪ পেনাল কোডসহ বিস্ফোরক উপাদানবলী আইনের ৪/৫ ধারায়। আর ৫৯ নম্বর মামলাটি রুজু হয়েছে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫/২৫(ঘ) ধারায়। এজাহারে বলা হয়েছে, গত ৫ জানুয়ারি বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধের ডাক দেন এবং নেতাকর্মীদের অবরোধের মাধ্যমে সরকারপতন না হওয়া পর্যন্ত দেশে অচলাবস্থা নিশ্চিত করার জন্য বিএনপি ও জোটের নেতৃবৃন্দকে নির্দেশ প্রদান করেন। তারই নির্দেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, খন্দকার মাহবুব হোসেন, শিমুল বিশ্বাস, এমকে আনোয়ার, শওকত মাহমুদ সাংবাদিক, সেলিমা রহমান, রিজভী আহমেদ, বরকতউল্লা বুলু, আমানউল্লা আমান, শিরিন সুলতানা, মারুফ কামাল খান, শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদার, হাবিবুন্নবী খান সোহেল, শরফুদ্দিন সফু, আজিজুল বারী হেলাল, ঢাকার সাবেক কমিশনার কাইয়ুম ও লতিফ কমিশনারসহ জামায়াত-শিবির ও অন্যান্য শরিক দলের নেতৃবৃন্দ প্রকাশ্যে বিভিন্নভাবে সহযোগী সংগঠন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহিত পরিকল্পনা এবং এলাকাভিত্তিক নাশকতা করার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন। তাদের নির্দেশ ও পরিকল্পনায় যাত্রাবাড়ী এলাকার ৫০ বিএনপি নেতাকর্মী ঘটনার দিন বাসে নাশকতা ও পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে। স্থানীয় নেতাদের যাদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ আনা হয়েছে সেই ৫০ জনের নামের প্রথমেই রয়েছেন, ঢাকা মহানগর বিএনপির সমবায়বিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদের নাম। এই আসামিরা ছাড়াও অজ্ঞাত কিছু ব্যক্তি এবং জামায়াত-বিএনপি জোটের নেতাকর্মীরা নাশকতায় জড়িত বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, যাত্রাবাড়ীতে বাসে নাশকতার ঘটনায় ৩১ জন দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি গাড়িটি পুড়ে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।প্রধামন্ত্রী শোকে কাতর দেশনেত্রী বেগমকে সহানুভুতি জানাতে গেলেন ফিরে এসে পরদিন মামলা এটা কি ধরনের সহানুভুতি? কিন্তু বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় এটা সুস্পষ্ট যে, কোকোর মৃত্যু সংবাদে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহানুভূতি জানাতে আসাটা ছিল নিছকই ছলনা। একটি প্রহসনের মহড়ামাত্র।  কোকোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর সমবেদনা জানানোটা যেন কুমিরের কান্না। প্রধানমন্ত্রী তার রাজনৈতিক বিরোধীদের গভীর শোকের সময়ও তাদের বিরুদ্ধে নিজের অন্তরের বিদ্বেষ-বিষ দূরীভূত করতে পারেননি। খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করার নীলনকশা তারা অনেক দিন ধরেই এঁটে আসছে। তাকে দায়ী করে আটক করার জন্যই একের পর এক পেট্রলবোমা মেরে নাশকতার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, সরকারি এজেন্টরাই বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে এই নাশকতাগুলো করছে। খালেদা জিয়াকে নিজ বাড়ি থেকে উচ্ছেদ, তাকে এবং তার ছেলেদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের, ছেলেদের মায়ের কাছ থেকে দূরে রাখতে বাধ্য করাসহ এমন কোন উৎপীড়নের পন্থা নেই যা এ অবৈধ সরকার অবলম্বন করেনি। কিন্তু তারপরেও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। এ অবৈধ অপশক্তির কোন অশুভ পরিকল্পনাই ফলপ্রসূ হবে না। বর্তমান জবরদখলকারী ভোটারবিহীন সরকার হিংস্র অমানবিকতার যে আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পুত্রশোকে কাতর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। কতখানি নিষ্ঠুর ও বিবেকশূন্য হলে একটি সরকার এ জঘন্য অপকর্মটি করতে পারে তা দুনিয়াতে মনে হয় নজিরবিহীন। লিখক:রাজনীতিবিদ/কলামিস্ট  

বিস্তারিত»

এক্সক্লুসিভ

রাজনীতির গ্যারাকলে দেশ ও জনগণ, দায় কার?

জসিম মেহেদী: রাজনীতিতে কি হচ্ছে? কি হবে? কোন পথে এগুচ্ছে দেশ? দেশের উন্নয়নের ধারা  কোন দিকে? কোনদিকে রাজনীতির ভবিষ্যৎ? নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কি? বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত হবে কি? এই প্রশ্ন এখন সবার। দেশের জনগণের ভাগ্যের আকাশে  কালোমেঘের ঘনঘটা। যে কোন সময় বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা। এই অবস্থা থেকে মুক্তি চায় জনগণ। কিন্তু সেটা কীভাবে সম্ভব? যে সময় ক্ষমতাসীনরা বলছেন  দেশে  যেসব নাশকতার ঘটনা ঘটছে, সেগুলো বিচ্ছিন্ন ও স্বাভাবিক ঘটনা। অন্য দিকে বিএনপি বলছে এ দায় সরকারের।  ঠিক সেই সময় দেশের মানুষ অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বেড় হচ্ছে না। প্রয়োজনের জন্য যারা বেড় হচ্ছেন তাদের মধ্যে অনেকে গাড়িতে পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হচ্ছেন। অনেকে পুড়ে কয়লা হচ্ছেন । অনেকে হাসপাতালে যন্ত্রনায় কাতরিয়ে কাতরিয়ে মারা যাচ্ছেন। অপরদিকে নাশকতাকারীদের সর্ম্পকে তথ্য ও গ্রেফতারে সহায়তা করলে পুরস্কার ঘোষণা। এছাড়া নির্বিচারে মানুষ হত্যা, নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন অতিষ্ঠ। দেশের এই যদি হয় স্বাভাবিক অবস্থা।  তা হলে অস্বাভাবিক কাকে বলে? আমাদের শিশুরা বা নতুন প্রজন্মরা এই প্রশ্নটা যদি করে তাহলে আমরা কি উত্তর দিব? এরকম প্রশ্ন করা যদি অন্যায় হয়। অস্বাভাবিক কে স্বাভাবিক বলা যদি অপরাধ না হয়। তাহলে স্পট করে বলতে চাই, আপনাদের এই স্বাভাবিক জীবন আমরা চাই না। দেশে ও জনগণের কথা চিন্তা করা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। এ অধিকার থেকে কখনো বঞ্চিত করে কেই কখনো ক্ষমতায় চিরস্থায়ী হতে পারেনি।কখনো হওয়া সম্ভবও নয়। এ কারনেই জাতীয় সার্থে আলাপ আলোচনা করা বুদ্ধিমানের পরিচয়। এই আলাপ আলোচনার দরজা যখন বন্দ হয়ে যায় তখনই বৃদ্ধি পায় সহিংসতাসহ নানা ঘটনা। এই ঘটনার দায়-দায়িত্ব অবশ্যই ক্ষমতাসীনদের ওপর বর্তায় সিংহভাগ। কেউ শিকার করুক আর নাই করুক। তবে সহিংসতা বৃদ্ধি’র উস্কানিদাতারা হচ্ছেন জনগণ ও গণতন্ত্রের শত্রু। বর্তমান সমস্যা ও রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারনের জন্য আলোচনা ছাড়া কোন বিকল্প নেই, রাজনীতি বিশ্লেষকরা তাই মনে করেন। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা আলোচনা করতে নারাজ। তারা আলোচনা ছাড়া দেশের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি অচিরেই স্বাভাবিক করবেন বলে মুখে ফেনা তুলছেন। তাদের এ আচারণ  শিশুর মতো বলেই মনে হয়। যারা বর্তমান পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক বলে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার আদায়ের সপ্ন  দেখিয়ে নিজেদের সপ্ন বাস্তবায়নের লালসা মনে ধারণ করেছেন, জনগণ যদি এসব ভেবে রাজপথে  নেমে আসে তখন কি করবেন? ভেবে দেখেছেন? জনগণের এরকম ভাবাটা স্বাভাবিক। আমি বলতে চাই, নতুন প্রজন্মকে সাদাকে সাদা-কালোকে কালো বলার সুযোগ দিন। যারা পূর্বে এই সুযোগ থেকে জনগণকে বঞ্চিত করেছেন তারা ইতিহাসের কালো অধ্যায় রচিত হয়েছেন। এসব থেকেও যদি শিক্ষা নিতে না পারেন। তা হলে আপনাদের ঠিকানা কোথায় হবে জনগণই সময় মতো বলে দিবে। জনগণের রাজনীতি করবেন, আর সেখানে জনগণের ইচ্ছা প্রতিফলিত হবে না। খামখেয়ালি করে একতরফা  জনগণের ওপর এক-একটা সমস্যা চাঁপিয়ে দিয়ে নদীর জল ঘোলা করে মুখে ফেনা তুলবেন আমরা জনগণের রাজনীতি করি। এরকম রাজনীতি যদি করতে চান তাহলে অচিরেই বিলুপ্ত হবেন অপনারা। এর কোন সন্দেহ নেই। ইতিহাস তাই বলে। জনগণের জানমালের রক্ষা করেত না পারলে সরে দাড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ।তানাহলে আপনাদের অবস্থা বুড়িগঙ্গা নদীর পানির মতোই হবে। বর্তমানের রাজনীতির ভবিষ্যৎ কোন দিকে এ নিয়ে যখন সবাই চিন্তিত। ঠিক তখনই যদি দায়িত্বশিলদের আচার- আচারণ প্রশ্নবিধ্য হয়। তখন জনগণের দায়িত্ব জনগণ নিয়ে নেয়াটাই স্বাভাবিক।  তখন জনগণের দায়িত্ব কারো ওপর বর্তায় না।তখন জনগণ গণতান্ত্রিক অধিকার আধায়ে ভোটের অধিকারের জন্য আন্দোলনসহ যেকোন কর্মসূচি দিতেই পাড়ে। এই আন্দোলন যদি কেউ অজুহাত দিয়ে ভুলবোঝাতে সাহায্য করে। সেটা হয়তো সাময়িক রক্ষা, কিন্তু পরের ধাক্কাটা সামলানো অসাধ্যকর। তখনই জনগণের বিজয় অনিবার্জ। তাই বলতে চাই গণতন্ত্র রক্ষায় ভোটের অধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত না করে সংঘাত বন্ধ করতে সংলাপ প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে সংঘাত সৃষ্টিকারী ও সংঘাতকারী  জনগণের বন্ধু নয়। এরা ক্ষমতালোভী।  এই লোভীরা গণমুখী ঐতিহ্য বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতামুখী দৃষ্টিভঙ্গী ও পেশীশক্তি এবং অর্থের তান্ডবে জনগণের অধিকার ভুলে যায় এবং ক্ষমতার  লোভে মাতাল থাকে। তাদের জনগণ একদিন ছুড়ে ফেলে দিবে। ইতিহাস তাই বলে। আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেই না এটাই আমাদের বড় অপরাধ। এই অপরাধীদের হাতে দেশ কখনও নিরাপদ নয়। সচেতনদের উচিত  এদেরকে চিহ্নিত করা। চিহ্নিত করতে না পাড়লে বর্তমান পরিস্থিতির মতো দুর্যোগ কালবৈশাখি আসবে প্রতিনিয়ত। আর মানুষের  প্রাণ ঝড়ে যাবে। কষ্ট আমাদের বইতে হবে। আমরা কেন এখনো বুঝি না । যে যায়  সেতো চলেই যায়, আর যারা রয়ে যায় তারাই বয়ে বেড়ায় সব যন্ত্রনা। এ যন্ত্রনা গুলোর দায়িত্ব কে নিবে? এর বোঝা কাকে বহন করতে হবে? এ গুলোর পরিস্কার করার সময় এসেছে। জনগণকে ক্ষমতায়ন করে  স্বাধীনতার অস্ত্রটি দিতে হবে জনগণকে। এ প্রতিজ্ঞা করার সময় এখন। ইতোমধ্যে অনেক রাজনীতিবীদ বলেই  ফেলেছেন  রাজনীতিবীদরা অসুস্থ্য, চিকিৎসা প্রয়োজন। এই যদি হয় বর্তমান পরিস্থিতি তাহলে কিভাবে বলবো সবকিছু চলছে স্বাভাবিক।মিথ্যা কথা বলে দায়িত্বশীলদের  সান্তনার বাণী শুনতে চাইনা আর কোনদিন। সময় এসেছে প্রতিজ্ঞা করি, কারা হবে জনপ্রতিনিধি। এই যদি হয় জনগণের মূল দাবি। মিথ্যাচার, সৈরাচার পালানোর মাত্র সময়ের বাকি। [লেখক : কবি ও সাংবাদিক] ই-মেইলঃmehedi222@gmail.com ০১৬৭৬২০১০৩০  

বিস্তারিত»

মতামত

শিষ্টাচারের নসিহত: বাচ্চালোগ তালিয়া বাজাও

ফরহাদ মজহার:বাংলাদেশ বিস্ময়কর দেশ। এই এক দেশ যেখানে পশ্চিমা মিডিয়ার বর্ণবাদী ও পুরুষতান্ত্রিক চিন্তার প্রাবল্যের জন্য পড়াশোনা জানা শিতি ভদ্রলোকরা বিশ্বাস করে বাংলাদেশের সকল নষ্টের গোড়া দুই বেগম। তাদের ভাষায় ‘ব্যাটলিং বেগামস’। সমাজে যারা শিতি, অভিজাত ও বুদ্ধিমান বলে পরিচিত তাদের এই বিশ্বাস কী করে এত বদ্ধমূল হোল সেটা সমাজতাত্ত্বিক গবেষণার বিষয়। অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, ইতিহাস এই সংকটের জন্য কতটা দায়ী, কতটা বাহাত্তরে রাষ্ট্র গঠনের ত্রুটি- সেই দিকে তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নাই, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের একমাত্র কারণ দুইজন মহিলা। ফলে কখন কিভাবে রাষ্ট্র যারপরনাই সন্ত্রাসী হয়ে নাগরিকদের সকল অধিকার হরণ করতে শুরু করে, তার কোনো হদিস নাই। সমাজে ফ্যাসিবাদী চিন্তাচেতনার প্রাবল্য বেড়েছে, কিন্তু খবর নাই। দিনে দিনে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভাজন প্রতিহিংসা ও পরস্পরকে নির্মূলের বাসনায় হিংস্র হয়ে উঠেছে সেই দিকে হুঁশ নাই। অথচ যখনই এই বিভাজন ও বিভক্তির কারণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট সহিংস রূপ পরিগ্রহণ করে তখনই ঢাকার মধ্যবিত্ত শ্রেণীর এই অভিজাত, সুবিধাভোগী ও বিবেকবুদ্ধিবর্জিত এলিটকুল যাত্রার বিবেকের মতো মঞ্চে বিবেক বিবেক বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। চিৎকার করতে শুরু করে সহিংসতা থামাও, মানুষ মরছে। এই পরিস্থিতিতে যে ব্যাটলিং বেগমদের জন্য তাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছে বলে তার নিত্যদিন কাঁদুনি গায়, তাদেরই হাতে-পায়ে ধরতে শুরু করে। অনুনয় বিনয় কাকুতি মিনতি করে বলতে শুরু করে যেন একবার, আহা একবারটি যেন তারা দুইজন কথা বলে, একটা ডায়লগ যেন হয়। ডায়লগ, সংলাপ। ডায়লগ হলেই বাংলাদেশের বর্তমান সহিংসতা ও রাজনৈতিক সংকটের বুঝি অবসান হবে। বড়ই বিস্ময়ের দেশ এই বাংলাদেশ।   আরাফাত রহমান কোকোর অকালমৃত্যুর পর এখন দেখছি এই শহুরে শিক্ষিত এলিটরা হঠাৎ দুই ব্যাটলিং বেগমকে মা জননী ডাকতে শুরু করেছে। এই এক বিচিত্র নাটক। এক সন্তানের জননী নাকি শোকে কাতর আরেক মা জননীকে দেখতে ছুটে গিয়েছিলেন, কিন্তু সন্তানহারা শোকার্ত জননী গেটের দরজা খোলেননি, ফলে এলিটদের মহা অভিমান হয়েছে। ক্ষমতাবান মা কত মহানুভব সেই কাঁদুনি শুনতে শুনতে ইতোমধ্যে কান ঝালাপালা হয়ে যাবার জোগাড়। আর মন্দ মা হলেন তিনি যিনি সবে সন্তান হারিয়েছেন। শুধু তাঁর নিজের সন্তান নয়, হারিয়েছেন আরো সন্তান। হামলা মামলা তো আছেই, যৌথ অভিযানে তার জোটের নেতাকর্মীদের গুম করা হচ্ছে, যাদের অনেকের লাশই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গুলি তো চলছেই, তার পরও যাদের দেখা মাত্রই গুলি করবে বলে ইতোমধ্যে বিজিবি প্রধান ঘোষণা করেছেন। সমাজকল্যাণমন্ত্রী ঘোষণা দিচ্ছেন, সংসদ সদস্যরা চিৎকার করে সরকার কঠোর হবার দাবি করছেন। আঙুল নাচিয়ে বলা হচ্ছে তাকে টেনে-হিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে গ্রেফতার করা হবে। তার পরও ডায়লগ চাই। ডায়লগ।   না, যারা রাষ্ট্রের সন্ত্রাসী অভিযানে প্রাণ হারিয়েছে তারা কেউই আরাফাত রহমান কোকোর মতো হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায় নি। দুর্ভাগ্য আরাফাতের, নিজ দেশে সে মায়ের মুখ দেখে তার চোখ শেষবারের মতো বন্ধ করতে পারল না। কিন্তু অন্যরা শহীদ হয়েছে বুকে গুলি নিয়ে, কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতনে; গুম হয়ে গিয়েছে যারা তারা কোথায় কিভাবে আছে আমরা জানি না। তারা কীটপতঙ্গের আহার হয়েছে হয়তো। তাদের লাশ পেলেও আমরা জানব না কিভাবে কী পরিমাণ নির্যাতন করে তাদের অমানুষিক ভাবে হত্যা করা হয়েছে। এর পরও একজন নারী হয়ে আরেকজন নারীর কাছে যিনি জননীর কাতরতা নিয়ে ছুটে গিয়েছেন তাঁর মহানুভবতায় আমাদের মুগ্ধ হবার জন্য নসিহত করা হচ্ছে। পরে দেখেছি যে মহানুভব জননী তাঁকে শোক জানাবার জন্য ছুটে গিয়েছিলেন তাঁরই অধীনস্থ প্রশাসন সন্তানহারা জননীকে মানুষ পুড়িয়ে মারার জন্য হুকুমের আসামি করেছে। চমৎকার। আমরা মুগ্ধ!।   রাজনৈতিক সহিংসতায় মানুষ পুড়ছে, পেট্রলবোমায় মানুষ দগ্ধ হচ্ছে। তাদের অবশ্য কোন মা-বাবা নাই। মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে ঝলসে যাওয়া মানুষের আহাজারি বাতাস ভারী করে তুলছে, কে কোথায় কিভাবে গুম ও লাশ হয়ে যাচ্ছে আমরা জানি না। এই লেখা যখন লিখছি তখন কয়জনের বুকে গুলি এসে হৃদপিণ্ড ভেদ করে চলে গিয়েছে কে তার হিসাব করবে! তারা খবর হবে কি? অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম তো তাদের নাগরিক বলেই স্বীকার করে না। তারা ‘সন্ত্রাসী’। ‘জঙ্গি’। আইনের আশ্রয় পাবার অধিকার তাদের নাই। তারা কেন কিভাবে মরলো সেটা জানবার ও জানাবারও কোন দরকার নাই। তারা আইনের বাইরে। তারা দুষমন। এনিমি কম্ব্যাটেন্ট। এদের বেলায় আইন খাটবে না।   এর জন্য কে দায়ী? খালেদা জিয়া? শেখ হাসিনা? না, এই দুইজনের কেউই নয়। তারা ব্যক্তি মাত্র নন। তারা এই শহুরে অভিজাত শ্রেণিরই প্রতিনিধি। অতএব দায়ী এই শহুরে অভিজাতরাই। যারা মনে করে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে নাগরিক ও মানবিক অধিকার কায়েম ও তা কঠোর ভাবে বাস্তবায়নের কোনো দরকার নাই। দরকার শুধু দুই জননীর ডায়ালগ। যখন একজন আরেকজনের পুত্রশোকে সান্ত্বনা দিতে ছুটে গিয়েছিলেন দরকার ছিল শিমুল বিশ্বাসের বদ্ধ দুয়ার খুলে দেওয়া। এই মুহূর্তের দরকার দুইজন মা জননীর ফটোসেশন। তারপর দরকার ছিল পত্রিকায় হেড লাইন খবর, ‘বরফ গলতে শুরু করেছে’। ‘দুইজনে মুখোমুখি হয়েছেন’। সব সমস্যা এবার সমাধান হয়ে যাবে। বাচ্চালোগ তালিয়া বাজাও।   এই সকল শহুরে অভিজাতদের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, সংকট চিহ্নিতকরণ ও তার সমাধানের দৌড় এতটুকুই। এত দিন একজন অন্যজনকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। কোনো অভিযোগ নাই, আইন নাই বলা হয়েছে তিনি বেরোতে চাইলে শুধু নিজের বাড়িতে যেতে পারবেন। কিন্তু এখন তিনি স্বয়ং দ্বারে উপস্থিত। শিমুল বিশ্বাসের উচিত ছিল দরজা খুলে দেওয়া। যদিও চাবি তার কাছে ছিল কি না সন্দেহ। শোকাতুরা জননীর পুরা ভবন ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকবার কথা। কিন্তু তাদের কোনো নির্দেশ বা প্রটোকল ছাড়াই গাড়ি থেকে নেমে পড়লেন আরেক মা, যিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আর শিমুল বিশ্বাস আমাদের গল্প শোনালেন (১) শোকাতুরা জননীকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে, আর (২) তিনি শোকবই হাতে দৌড়ে এসে দ্বারে আসবার আগেই অন্যজন প্রত্যাখ্যাত বোধ করে ফিরে গিয়েছেন। খুবই অন্যায় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি যথাযোগ্য শিষ্টাচার প্রদর্শন করা হয় নি। খুব খারাপ। খুবই খারাপ কাজ!   সবকিছুরই সীমা থাকে, কিন্তু বাংলাদেশ এক বিস্ময়ের দেশ। আমার মিনতি, এই লেখাটি রূপকথা হিসাবে পড়বেন পাঠক, প্লিজ।   দুই দুই বেগমই বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের গোড়া এই চিন্তা এতই বদ্ধমূল যে এক-এগারোর সময় দুই মহিলাকে রাজনীতি থেকে চিরতরে অপসারণ এবং প্রয়োজনে নির্মূল করবার প্রয়াসও হয়েছে। যারা এই কাজে ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দিনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল তারা এই সমাজে এখনো বহাল তবিয়তে সম্মানের সঙ্গে হাজির। যারা রাজনীতিকে দুই বেগমের ঝগড়া হিসাবে বোঝে এবং তাদের অপসারণ, নির্বাসন ও নির্মূলের জন্য এক-এগারোতে সেনাসমর্থিত সরকার ও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে এবং দুই বেগমকে কারাগারে নেয়া ও হেনস্তা করতে ছাড়ে নি, তারা হামেশা টেলিভিশনে ও গণমাধ্যমে সুশীলদের বিবেকের কণ্ঠস্বর হিসাবে হাজির হয়। আমি তাদের চেহারা দেখি, চোখের পলক কিভাবে নড়ে নিরীক্ষণ করি। কোনো অনুতাপ ছাড়া সদাই তারা হাজির হন। এই যখন সমাজ বাংলাদেশের সংকট পর্যালোচনা ও সমাধানের পথ এই শ্রেণির পক্ষে বের করা কঠিন।   প্রধানমন্ত্রী আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুসংবাদ পেয়ে ছুটে গিয়েছেন, তার সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রয়োজন নাই। কিন্তু খালেদা জিয়া তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তৈরি কি না সেটা না জেনে যাঁরা তাকে নিয়ে গিয়েছিল তাদের ইচ্ছাকে আমি সন্দেহ করি। কারণ সেটা নিশ্চিত না করে যাওয়াটা ছিল স্রেফ দুর্বলের ওপর সবলের সুযোগ নেবার একটা নিম্নস্তরের কৌশল। যাকে প্রতিদিন গ্রেফতার করা হচ্ছে, কিংবা কারাগারে নেয়া হচ্ছে বলে হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে, যার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দেয়া হচ্ছে তার সন্তানের মৃত্যুর পর শোক জানাবার ইচ্ছা থাকলে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়েই সেটা ঘটত। এভাবে প্রধানমন্ত্রীকে ফিরে আসতে হতো না। প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত আন্তরিক ভাবেই ছুটে গিয়েছিলেন, যারা প্রধানমন্ত্রীকে তাদের স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী তাদের লেখা নাটকে অভিনয় করতে বাধ্য করেছে তারাই তাকে হেয় করেছে। কারণ তারা দুই নেত্রীর মধ্যে সংলাপ দূরে থাকুক এ ধরনের পরিস্থিতিতে কাছে আসার সুযোগটিকেও নস্যাৎ করতে চায়।   কেন তাদের ইচ্ছা নিয়ে আমি প্রশ্ন তুলছি? শোকার্ত পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার কার্যালয় সুশৃঙ্খল না থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। প্রধানমন্ত্রীকে গেইট থেকে কেন ফিরে আসতে হলো তার একটা ব্যাখ্যা বিএনপি দিয়েছে। তারা সত্য বলেছে, নাকি পরিস্থিতির নাজুক অবস্থা বুঝতে পেরে নিজেদের পে একটা যুক্তি খাড়া করছে সেই তর্ক অমূলক। কিন্তু বিএনপি বোঝাতে চাইছে প্রধানমন্ত্রীর ফিরে যাওয়া তাদের ইচ্ছা ছিল না। এই ব্যাখ্যার পরও ক্রমাগত প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতা প্রচার, আর শিষ্টাচার শেখার নসিহত চরম বিরক্তিকর বটে। প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতায় আমাদের খুশি হবার কথা। কিন্তু প্রশংসা করতে পারছি না কারণ নসিহতের মতলব প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতা প্রচার নয়, বরং বিপরীতে খালেদা জিয়া কত খারাপ ও শিষ্টাচারবর্জিত এই সত্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত করা। রাজনৈতিক ফায়দা আদায় করা। বড়ই আফসোস মুখে খিস্তি আর কুৎসিত বাক্য ছাড়া যারা কথা বলতে অম এখন তাদের কাছে আমাদের ‘শিষ্টাচার’ শিখতে হচ্ছে।   যারা তাদের সুবিধা মতোন দুই রাজনৈতিক প্রতিপরে রক্তক্ষয়ী বিরোধকে দুই জননীর আকুলতা ও শোকের কেচ্ছায় পরিণত করতে চাইছেন, তাঁদের সঙ্গে একমত হবার কোনো কারণ নাই। প্রধানমন্ত্রীর গুলশানে ছুটে যাওয়াটা রাজনীতি থেকে বাইরের কিছু না। তিনি রাজনৈতিক কারণেই গিয়েছেন। মা বা নারী বলে গিয়েছেন দাবি করা স্রেফ পুরুষালি বা পুরুষতান্ত্রিক ব্যাখ্যা। তিনি পুরুষ হলে এই কেচ্ছা আমাদের শুনতে হতো না। দল নির্বিশেষে যিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পারিবারিক শোকের সময় যাবেন, এখানে মহানুভবতার কী আছে? এটা তার কর্তব্যও বটে।   যেখানে তাঁর যৌথবাহিনী ২০ দলীয় জোটের কর্মী ও নেতাদের হত্যা, গুম-খুন ও গ্রেফতার করছে সেই পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার দরজা বন্ধ রাখা অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। কিন্তু বিএনপি বলছে যা ঘটেছে সেটা তাদের ঐচ্ছিক ছিল না। রাজনীতি বাদ দিয়ে কেউ যদি মহানুভবতা কিংবা শিষ্টাচার আবিষ্কার করতে চায়, তো সেটা তাদের এই ব্যা্খ্যার মধ্যে। ২৬ জানুয়ারি ২০১৫। ১৩ মাঘ, ১৪২১, শ্যামলী ফরহাদ মজহার: কবি: কলামিস্ট ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক                         ই-মেইল : farhadmazhar@hotmail.com

বিস্তারিত»

বিনোদন

রানআউট ফেসবুক ফ্যানদের সাথে ক্যান্ডেল লাইট ডিনার বিজয়ী ভক্তদের সাথে নায়লা নাঈমের সেলফি

বর্তমান সময়ে দেশের সবচেয়ে আলোচিত মডেল নায়লা নাঈমের সাথে তার ভক্তদের পাঁচতারকা হোটেলে পুলসাইড ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের সুযোগ করে দেয় আসন্ন চলচ্চিত্র রানআউটের ফেসবুক ফ্যান পেইজ। আর সে লক্ষ্যে গত ১১ জানুয়ারি রানআউট এর অফিসিয়াল ফেসবুক ফ্যান পেইজে বলা হয় নায়লা নাঈমের উদ্দেশ্যে তার আসন্ন চলচ্চিত্র-রানআউটে আইটেম গানের জন্য শুভ কামনা লিখে পাঠাতে, আর তাতেই নায়লা নাঈমের অসংখ্য ভক্তরা হাজার হাজার শুভ কামনা পাঠাতে শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে নির্বাচিত দুইহাজার শুভকামনা থেকে গত ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নায়লা নাঈম নিজে লটারির মাধ্যমে দুইজন ভাগ্যবান বিজয়ী নির্বাচিত করেন। ভক্তদের এরূপ শুভ কামনা এবং ভালবাসায় সিক্ত নায়লা নাঈম ২৪ জানুয়ারি হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁয়ে ভাগ্যবান দুই বিজয়ী অনীক এবং রাজু রহমান সহ রানআউট চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ডিনারের পাশাপাশি বিজয়ীরা নায়লা নাঈমের সাথে সেলফি তোলার সুযোগ পান। উল্লেখ্য, তন্ময় তানসেন পরিচালিত নিউজেন এন্টারটেইনমেন্ট প্রযোজিত রানআউট চলচ্চিত্র এখন সেন্সরে জমার অপেক্ষায়। সজল নূর, মৌসুমী নাগ, ওমর সানী, তারিক আনাম খান, রোমানা স্বর্ণা অভিনীত চলচ্চিত্রটি শুভ শিগগিরই মুক্তি দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রযোজক সাদাত মাহমুদ তানভীর। উক্ত চলচ্চিত্রে আইটেম গানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বড় পর্দার অভিষেক ঘটচ্ছে নায়লা নাঈমের।

বিস্তারিত»

স্বাস্থ্য ও রুপচর্চা

ডায়বেটিসেও যাপন করুন সুস্থ জীবন!

শরীরের অভ্যন্তরিন ক্রিয়াকলাপে অজানা ত্রুটির কারণে প্যানক্রিয়াসের বেটা সেল ধ্বংস হতে থাকে। এক সময় ইনসুলিন তৈরিতে প্যানক্রিয়াস সম্পূর্ণ অথবা আংশিক অক্ষম হয়ে পড়ে। ইনসুলিনের অভাবে রক্তের গ্লুকোজ আমাদের শরীরের বিপাক ক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে না। ফল হিসেবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে ব্যক্তি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস আমাদের হার্ট, কিডনি, চোখ, দাঁত, নার্ভ সিষ্টেমসহ গরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করে দিতে পারে। অপরদিকে নিয়ন্ত্রিত ডায়বেটিসে স্বাভাবিক জীবন যাপন করা সম্ভব। এবিষয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন গ্রিন লাইফ হসপিটালের কনসালটেন্ট ডায়াবেটিক এন্ড এন্ডক্রিনোলজিস্ট ডাঃ তানজিনা হোসাইন। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা ডায়াবেটিসকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করেছেন যথা টাইপ-১, টাইপ-২, এবং গর্ভকালীন ডায়াবেটিস। টাইপ-১ ডায়াবেটিস সাধারণত শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। কখনো শরীরের বিশেষ কোনো অঙ্গের ক্ষতি সাধন করে। এসময় রোগীর শরীরে খুব অল্প পরিমান ইনসুলিন উৎপাদিত হয়। রোগীকে ইনসুলিন নিয়ে বাঁচতে হয়। কেন এমনটি ঘটে স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা তা এখনও আবিষ্কার করতে পারেনি। তাদের ধারণা, শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা কোন বিশেষ পরিবেশগত কারণে বা কোন ভাইরাসের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। সনাক্তকৃত মোট ডায়াবেটিস রোগীর ৫% থেকে ১০% টাইপ-১ ভুক্ত। সাধারণত ৩০ বছরের কম লোকের টাইপ-১ ডায়াবেটিস বেশি হয়, তবে যে কোন বয়সের লোকের এ ডায়াবেটিস রোগ হতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের প্রায় ৯০% টাইপ-২ ডায়াবেটিসভুক্ত। বার্ধ্যক্য, স্থুলতা, কর্মহীনতা, বাবা-মায়ের ডায়াবেটিস থাকলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হতে পারে। টাইপ-২ ভুক্ত ডায়াবেটিসের ৮০% ভাগ রোগীর ওজন কাম্য ওজনের চেয়ে বেশি। আজকাল ত্রিশ বছরের নীচে এ ধরনের ডায়াবেটিস দেখা যাচ্ছে এবং দিন দিন বেড়ে চলেছে। অনেক ক্ষেত্রে টাইপ-২ ভুক্ত ডায়াবেটিক রোগীরা শারিরীক কোন অসুবিধা অনুভব করেন না। বিনা চিকিৎসায় বছরের পর বছর পার করে এবং নানা জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়। গর্ভধারণের শেষ দিকে কিছু নারী টাইপ-৩ ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। বাচ্চার জন্মের পর পরই এ ডায়াবেটিস সেরে যায়। যেসব গর্ভবতী নারীদের এ ডায়াবেটিস হয় তাদের ২০% থেকে ৫০% সাধারণত ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যেই টাইপ-২ ধরণের ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত হয়। এক তথ্য বিবরণীতে দেখা গেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের ৩% থেকে ৫% গর্ভবতী নারী গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের রোগী। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস প্রসুতি ভ্রুণ এবং সদ্য প্রসূত শিশু সবার জন্যই বিপদজনক হতে পারে। এজন্য ইনসুলিন নিয়ে এ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ডায়াবেটিস রোগী আক্রান্ত রোগী নানা সমস্যায় ভুগতে পারেন। যেমন- * খুবই ঘনঘন প্রস্রাব করা এবং প্রস্রাবে গ্লুকোজের মাত্রা খুবই বেড়ে যাওয়া। * খুব বেশী পিপাসা লাগা এবং খুবই ক্ষুধা লাগা। * বমি বমি ভাব, দূবর্লতা বোধ, শ্বাস কষ্ট হওয়া, নিস্তেজ বোধ করা এবং চোখে কম দেখা। * খুবই অসুস্থ বোধ করা। * বেশী ঘাম হওয়া। * শরীরের কোথাও কেটে গেলে শুকাতে অনেক দেরি হওয়া, এমন কি সেখানে পচন ধরা। * অচেতন হয়ে যাওয়া। * শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা ইত্যাদি। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ শরীরের অস্বাভাবিক নেতিবাচক পরিবর্তন বা উপরের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ডায়াবেটিস রোগের কোন ভাইরাস বা কোন এজেন্ট আছে কিনা তা এখনও আবিষ্কার হয়নি। তাই ডাক্তারের দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণ করেই রোগীদের ভালো থাকতে হবে। এজন্য পরিপূর্ণ শৃংখলাবদ্ধ জীবন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে অবশ্য পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সহযোগিতা প্রয়োজন। হঠাৎ রক্তে চিনির স্বল্পতার কারণে আসুস্থ হয়ে পড়লে রোগীকে অনতিবিলম্বে ১ গ্লাস পানিতে চার চামচ চিনি গুলিয়ে খাইয়ে দিতে হবে। রোগী অচেতন হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। বাড়ীতে ব্যবস্থা থাকলে গ্লুকোজ ইনজেকশন দিতে হবে। খ্যাদ্যাভাস * ডায়াবেটিক রোগীদের খাদ্যাভাস এমনভাবে গড়ে তোলা দরকার যাতে শরীরের ওজন কাম্য সীমার মধ্যে থাকে। * খাদ্য তালিকায় ভাত, রুটি ইত্যাদির পরিমান কমিয়ে পরিবর্তে আঁশযুক্ত শাক-সবজী বাড়িয়ে দিতে হবে। * মিষ্টি জাতীয় খাবার কেক, পেস্তি, জ্যাম, জেলি, মিষ্টি, ঘনীভূত দুধ, মিষ্টি বিস্কুট, সফট ড্রিংক, চায়ে চিনি ইত্যাদি খাওয়া যাবেনা। * নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খেতে হবে। ঘি, মাখন, চর্বি, মাংস ইত্যাদি কম খেতে হবে। * যথা সময়ে ঘুমাতে হবে এবং সকল ধরণের দুশ্চিন্তা হতে মুক্ত থাকতে হবে। * ধূমপান, মদ পান এবং হোটেলের খাবার পরিপূর্ণভাবে পরিহার করতে হবে। ব্যায়াম শরীর সুস্থ রাখতে হলে ব্যায়ামের কোন বিকল্প নেই। শরীরের জড়তা দূর, ধমনী-শিরায় রক্ত চলাচল বৃদ্ধি ও ইনসুলিন উৎপাদন ও ব্যবহারের বৃদ্ধি ঘটাতে ব্যায়াম অতি জরুরি। দৈনিক ৪৫ মিনিট হাঁটলে এবং খাদ্যাভাস সঠিক থাকলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বিস্তারিত»

সম্পাদকীয়

রাজনৈতিক দমন নিপীড়ন বন্ধ করুন

বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। গণতন্ত্র মানে বহু দল, মত ও পথের জনমতকে মেনে নেয়া। বহু মত ও পথের রাজনৈতিক দল ও সংগঠন থাকবে গণতান্ত্রিক দেশে। বাংলাদেশও বহুদলীয় রাজনৈতিক দলের অবস্থান রয়েছে। বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল রয়েছে, তেমনি রয়েছে সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারার রাজনৈতিক দল, মুক্তবাজার অর্থনৈতিক চিন্তার সমর্থক রাজনৈতিক দল, মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দল, রয়েছে ইসলামী আদর্শের ধারক বাহক রাজনৈতিক দল। আর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বহু দল ও বিভিন্ন আদর্শের রাজনৈতিক দল থাকবে এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ তার উদাহরণ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একে অপরকে বিপরীত আদর্শের রাজনৈতিক দলকে মেনে নিতে হবে। এটাই গণতন্ত্রের আদর্শ ও সৌন্দর্য। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলকে বিরোধী ও ক্ষমতার বাইরে যেসব রাজনৈতিক দল আছে সেগুলোকে মেনে নিতে হবে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ময়দানে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ও সরকারকে তার বিরোধী ও প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল এবং তার নেতাকর্মীদের প্রতি সহনশীল আচরণ করতে দেখা যাচ্ছে না। বরং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিরোধী এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি মারমুখী আচরণ করছে। দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে জানুয়ারি মাসের প্রথম ১৫ দিনে সরকারের পক্ষ থেকে সারাদেশে  দায়ের করা হয়েছে অন্তত ৩০০ মামলা। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ৬০ হাজারের বেশি নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষকে। গ্রেফতার করা হয়েছে অন্তত ৭০০০ নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ। দৈনিক পত্রিকাটি তার  প্রতিনিধি ও জেলা বিএনপি নেতাদের দেয়া তথ্যে বিশ্লেষণ করে এ পরিসংখ্যান জানিয়েছে। তবে পত্রিকাটি জানিয়েছে বিরোধী জোটের দাবি- ৪০০’র বেশি মামলায় অন্তত লক্ষাধিক আসামি ও নেতাকর্মীসহ ১০ হাজার সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতিটি মামলায় কিছু নাম উল্লেখ করা হলেও বেশির ভাগ রাখা হয় অজ্ঞাতনামা। ফলে প্রতিনিয়ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।  পত্রিকাটি তার ঐ প্রতিবেদনে বিভিন্ন জেলার একটি পরিসংখ্যান দিয়েছে এবং কোনো কোনো এলাকায় কাদের গ্রেফতার করা হয়েছে সেই নেতাদের নামসহ প্রকাশ করেছে। তবে  ঐ পত্রিকাটি আরো জানিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জসহ বিশেষ কিছু জেলায় প্রতিদিনই চালানো হয়েছে যৌথবাহিনীর অভিযান। এভাবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর চালানো অত্যাচার নির্যাতনের চিত্র প্রকাশিত হচ্ছে। বিশেষ করে গত ১৮ জানুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি ছবি প্রকাশ করেছে শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা প্রথম আলো। ঐ ছবিতে দেখা যাচ্ছে যৌথবাহিনীর অভিযানে অত্যাচার-নির্যাতন থেকে রেহাই পেতে গ্রামের নারী শিশুরা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। এ রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি নিয়োজিত থাকার কথা জনগণের জানমাল রক্ষার জন্য। অথচ বাংলাদেশের মানুষ আজ তাদের অত্যাচার নির্যাতনের ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালাচ্ছে। সরকার আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জনগণের নিরাপত্তার পরিবর্তে অত্যাচার নির্যাতনের কাজে ব্যবহার করছে। আপনাদের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা। আমরা আশা করব দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশের সাধারণ জনগণের জানমাল রক্ষায় নিয়োজিত থাকবে। সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান রাজনৈতিক দমন পীড়ন বন্ধ করে দেশে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনুন। এটাই এদেশের সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা।

বিস্তারিত»

বিজ্ঞপ্তি

ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা

আনুগত্যের উজ্জ্বল মহিমায় ভাস্বর ঈদ উল আজহা।ঈদুল আজহার উদ্দেশ্য স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকা।কুরবানীর সঠিক তাৎপর্যকে উপলব্ধি করে যদি ধর্মপ্রাণ মানুষ কুরবানী দেয়, তাহলে ঈদ-উল-আজহার প্রকৃত উদ্দেশ্য সার্থক হবে। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে গাঢ় হয় পরস্পরের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা, ভালবাসা এবং শ্রদ্ধাবোধ। আল্লাহ্‌তায়ালা ধনী-গরীব সবার মাঝেই ঈদের আনন্দ সমান-ভাবে বন্টনের যে শিক্ষা দিয়েছেন তা সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমে এর তাৎপর্যকে তুলে ধরতে হবে। এই পবিত্র দিনে সিলেটের আলাপ ডট কমের সুপ্রিয় পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের  প্রতি আহবান, ত্যাগের মহিমায় উজ্জল ঈদুল আজহার দিনে আনন্দ উৎসবে ভরে উঠুক সকলের মনপ্রাণ। সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে, গরীব দুঃখীদের পাশে দাঁড়াই।। পবিত্র ঈদ-উল-আযহা  সবার জন্য বয়ে আনুক অনাবিল সুখ ও প্রশান্তি।                                                    সিলেটের আলাপ ডটকমের পক্ষে  সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ডাঃ আব্দুল আজিজ  সম্পাদক তোফায়েল আহমদ খান সায়েক  

বিস্তারিত»

শোক-সংবাদ

চলে‬ গেলেন শতশত আলেম-উলামার উস্তাদ

মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বড়দেশী হুজুর, কাল জানাযা ‪‎অসংখ্য‬ শাগরেদ আর ভক্ত-অনুরাগীদের শোক সাগরে ভাসিয়ে চলে গেলেন সবার প্রিয় বড়দেশী হুজুর (রাহ.)। সিলেটের প্রবীণ আলেম, বিদগ্ধ মুহাদ্দিস, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বড়দশেী শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটায় মাওলায়ে হাকিকীর ডাকে সাড়া দিয়ে, অসংখ্য শাগরেদ আর ভক্ত-অনুরাগীদের শোক সাগরে ভাসিয়ে ক্ষণস্থায়ী এ দুনিয়া ত্যাগ করেন। (ইন্নালিল্লা...রাজিউন) মৃত্যুকালে হযরতের বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৮৫ বছর। তিনি ৪ ছেলে, ৪ মেয়ে ও অসংখ্য আÍীয়-স্বজন, ভক্ত অনুরাগী রেখে গেছেন। তাঁর নামাজে জানাযা আজ বাদ জোহর হযরত শাহজালাল রাহ. দরগাহ মসজিদ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হবে। হযরতের ৩য় ছেলে মাওলানা আবদুল্লাহ নামাজে ইমামতি করবেন বলে সূত্রে জানা যায়। ‪‎সংক্ষিপ্ত‬ পরিচিতি: মাওলানা সিরাজুল ইসলাম কানাইঘাট উপজেলার বড়দেশ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৩০ খিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মাওলানা মনছব আলী। ‪শিক্ষাজীবন‬: তিনি প্রথমে নিজ পিতার কাছে কায়দা-সিপারা সহ ইসলামের প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করেন। পরে সিলেটের প্রাচীন মাদরাসা দারুল উলুম কানাইঘাটে ভর্তি হয়ে সরফ-নাহু, জামাত অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে পড়ালেখা করেন এবং আল্লামা মুশাহিদ বায়ুমপুরী রাহ.’র সাহচর্য লাভেও ধন্য হন তিনি। পরে উচ্চ শিক্ষালভের জন্য কাফিয়া জামাতে গিয়ে দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি হয়ে সেখানে একাধারে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। এবং টাইটেল শেষ করে ইলমে হাদিসের উপর দক্ষতা অর্জনের জন্য আরো ৩ বছর তাখাসসুস ফিল হাদিস করেন। ‪‎কর্মজীবন‬: দেওবন্দ থেকে আসার পর প্রথমে তিনি ওমরগঞ্জ মাদরাসায় ১ বছর শিক্ষকতা করেন। পরে ঢাকাদক্ষিণ, আছিরখাল ও গোপশহর মাদরাসায়ও তিনি দ্বীনের খেদমত করেন। গোপশহরে শিক্ষক থাকাকালীন সময়ে দরগাহ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা আরিফ বিল্লাহ আল্লামা আকবর আলী রাহ. তাকে তাঁর জামিয়া কাসিমুল উলুম দরগাহ মাদরাসায় নিয়ে আসেন। সেখানে তিনি ইন্তেকাল পূর্ব পর্যন্ত প্রায় ৪৫বছর অত্যন্ত নিষ্টার সাথে দ্বীনের খেদমত আঞ্জাম দেন। প্রবীণ এই আলেমের ইন্তেকালে গভীরভাবে শোক প্রকাশ করেছেন জামিয়া দরগাহ মাদরাসার মুহতামিম মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া, শায়খুল হাদিস মাওলানা মুহিব্বুল হক গাছবাড়ী, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট ল” কলেজের ভিপি মাহবুবুল হক চৌধুরী, জামিয়া দরাগাহ'র সাবেক মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুল বাসিত বরকতপুরি। পৃথক পৃথক বিবৃতিতে তাঁর ইন্তেকালে গভীর শোক ও শোক সপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন । বিবৃতিতে তারা আরো বলেন দ্বীনী শিক্ষার খেদমতে মাওলানা সিরাজুল ইসলাম (রাহ.)'র যে অবদান রেখেছেন তা প্রশংসার দাবীদার। তাঁর এ স্থান কোনো সময়ই পূরণ হবার নয়।  

বিস্তারিত»

সাম্প্রতিক খবর সর্বাধিক পঠিত

জরিপ

Loading...

Archive