শিকাগো শহরে স্থাপিত ‘অনারারি জিয়াউর রহমান ওয়ে’র ভিডিও চিত্র ও পোস্টার উন্মোচন

ঢাকা:স্বাধীনতার ঘোষক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে স্থাপিত ‘অনারারি জিয়াউর রহমান ওয়ে’র উপর নির্মিত একটি ভিডিও চিত্র ও পোস্টার উন্মোচন করা হয়েছে। সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠান হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন। সাংবাদিক শফিক রেহমানের পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী, সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা এডভোকেট আসাদুজ্জমান প্রমুখ। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য বিএনপির আয়োজনে পূর্ব লন্ডনের ইয়র্ক হলে ‘বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও বিশ্বনেতা জিয়াউর রহমান:প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে স্থাপিত ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’র ফলক হস্তান্তর অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কায়সর এম আহমেদের পরিচালনায় ওই আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় সেক্রেটারি অব স্টেট জেসি হোয়াইট’র কাউন্সিল মেম্বার শাহ মোজাম্মেল, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট জয়নাল আবেদিন, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী, তারেক রহমানের বিশেষ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, মাহদি আমিন, বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মহিদুর রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিয়া মনিরুল আলম ও সাবেক আহ্বায়ক এম এ মালেক  প্রমুখ। উল্লেখ্য, ১৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’র উদ্বোধন করেন ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ার এমিরেটাস এ্যালডারম্যান জো মুর। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী, সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশেষ উপদেষ্টা ও লন্ডনের সাবেক মেয়র ক্যান লিভিং স্টোনের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির প্রমুখ। বিস্তারিত»

লতিফকে গ্রেফতার না করায় সংসদে ক্ষোভ

ঢাকা: দেশে ফেরার পরও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার না করায় সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারি দল, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা। সোমবার পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সংসদে তুমুল ঝড় তুললেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, জিয়া উদ্দিন বাবলু, হাজি সেলিম, রুস্তম আলী ফরাজী, আবুল কালাম আজাদ এবং এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন। সংসদ সদস্যরা লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ বাতিলে স্পিকারের রুলিং এবং তার গ্রেফতারের দাবি জানান। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব সংসদ সদস্য জিয়া উদ্দিন  বাবলু বলেন, “লতিফ সিদ্দিকী মৌলবাদিদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করেছেন। তিনি মৌলবাদিদের পক্ষে কাজ করেছেন। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।” বাবলু বলেন, “লতিফ সিদ্দিকী ধর্মী অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন। এমন একজন ব্যক্তি কি করে বিনা বাধায় বিমান বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করলেন। তার প্রশ্ন, এতো বাহিনীর লোকজন থাকার পরও কিভাবে লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার এড়িয়ে চলে গেলেন।” হাজি সেলিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিপুল সংখ্যক গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন বিমান বন্দরে কি কাজ করেন ?” উদাহরণ টেনে সেলিম বলেন, “তিনি যখন বিরোধী দলে ছিলেন তখন বিদেশে চিকিৎসা সেবার জন্য বিমান বন্দরে গেলে তাকে গোয়েন্দা সংস্থার বহু সদস্য ঘিরে ধরেন। তার মনে হচ্ছিল, গোয়েন্দা সংস্থার এই বিপুল সংখ্যক সদস্য সিংহ আর তিনি শিকারে পরিণত হওয়া একটি হরিণ।” হাজি সেলিম যোগ করেন, “ভারত থেকে যে বিমানে লতিফ সিদ্দিকী ঢাকায় ফিরেছেন সেই বিমানের প্যাসেঞ্জার তালিকা আগেই বিমান বন্দরে আসে। তাহলে কেন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন আগে থেকে লতিফ সিদ্দিকীর দেশে ফেরা সম্পর্কে জানতে পারল না।” তারা বিমান বন্দরে  আসলে কী করেন এমন প্রশ্ন তোলেন সেলিম। তার জানা মতে লতিফ সিদ্দিকীকে দেশে ফিরতে প্রধানমন্ত্রী গ্রিন সিগন্যাল দেয়নি। স্পিকার তার সংসদ সদস্য থেকে বহিষ্কার করবেন কিনা তা দেশবাসিকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি। এদিকে রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, “কোন সাহসে লতিফ সিদ্দিকী দেশে ফিরলেন সেই প্রশ্ন দেশবাসীর। সে হজ ও ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করে প্রধানমন্ত্রীকে বিপদে ফেলেছেন, সরকারকে সমালোচনার মুখে দাঁড় করিয়েছেন। ধর্ম অবমাননার জন্য তার বিচার হওয়া জরুরি।” লতিফ সিদ্দিকীকে আইনের আওতায় আনতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সেলিম। তার সদস্য পদ থাকবে কিনা তার জন্য স্পিকারের রুলিং দাবি করেন তিনি। এদিকে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, “লতিফ সিদ্দিকীর দেশে ফেরায় সরকারের কিছু করার নেই। কারণ তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়নি। সংবিধানের কার্যপ্রণালীর ১৭৪ বিধিতে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র সংসদ এলাকায় তাকে গ্রেফতার করতে হলে স্পিকারের অনুমতি লাগবে।”   সুরঞ্জিত বলেন, “এখন লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারের দায়িত্ব আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর। তার বিরুদ্ধে অনেকগুলো আদালত থেকে যে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তা পুলিশের কাছে পৌঁছানোর পর পুলিশই এ ব্যাপারে  ব্যবস্থা নেবে। এখন যা কিছু করার  তা আদালত করবে। আমরা আদালতের দিকে তাকিয়ে আছি। আদালত যে নির্দেশ দেবে তা সরকার বাস্তবায়ন করবে।” সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, “লতিফ সিদ্দিকী ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও ব্যথিত। কারণ আওয়ামী লীগ প্রতিটি মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।” লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেফতারকে ঘিরে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে সেই ঘোলা পানিতে যদি কেউ মাছ শিকারের চেষ্টা করে এবং রাজনীতি ও অর্থনীতি অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করে তা খুব বেশি লাভ হবে না বলেও জানান তিনি।   প্রধানমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আইনগত যে সব ব্যবস্থা নেয়া যায় তা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে সংসদকে জানান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা সংসদে উপস্থিত ছিলেন না। তবে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ উপস্থিত ছিলেন।   বিস্তারিত»

‘স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যেটা বলেছেন তা ভুল’

ঢাকা:লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারে স্পিকারের অনুমতি প্রয়োজন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে ভুল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সোমবার সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে তার কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী শুধুমাত্র সংসদ লবি, গ্যালারি ও চেম্বার  থেকে কোন সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করার ক্ষেত্রে স্পিকারের অনুমতির প্রয়োজন হয়। এছাড়া কোন অনুমতি লাগে না। স্পিকার আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যেটা বলেছেন তা ভুল। এটা স্পিকারের কোন বিষয় না। তবে প্রচলিত আইনে সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার ১৪ দিন আগে ও সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ার ১৪ দিন পর্যন্ত কোন সিটিং এমপিকে গ্রেপ্তার করা যাবে না বলা আছে। এটিও ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান আমলের আইনে বলা আছে। সেই আইনের কারণেই তাকে গ্রেপ্তারে বিভ্রান্তি হচ্ছে। তিনি বলেন, তবে কোন সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হলে তাকে (স্পিকারকে) অবহিত করার বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে স্পিকার সংসদে থাকলে সংসদে জানাতে হবে, না থাকলে চিঠি দিতে হবে। বিস্তারিত»

‘লতিফকে নিয়ে সরকারের নাটক’

ঢাকা: ‘লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে নাটক তৈরি করে জনবিচ্ছিন্ন সরকার জনগণের মধ্যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করতে চায়’ দাবি করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোক্টে রুহুল কবির রিজভী। লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যে নিউইয়র্কের বক্তব্যে আওয়ামী লীগের জীবন দর্শন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সোমবার বিকেল তিনটায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে বিমানবন্দরে আলোচিত স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে বিমানের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন জড়িত এমন দাবি করেন রিজভী আহমেদ বলেন, “এই জামাল উদ্দিন বিমানবাহিনীর মিগ-২৯ ক্রয়ে দুর্নীতির অন্যতম হোতা। এর পুরস্কারস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বিমানের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেন। তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সোচ্চার হলেও প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ায় তিনি রয়েছেন বহালতবিয়তে। উল্টো তিন মন্ত্রী পরিবর্তন হয়েছেন। কিন্তু জামাল উদ্দিনের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কি স্বার্থ আছে তা জাতি জানতে চায়।” রিজভী বলেন, “আমাদের দেশের ভোটারবিহীন অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর মুখে সবসময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে বড় বড় গালভরা কথা শোনা যায়, আর দুর্নীতির বরপুত্ররা সবাই তার ঘনিষ্ট। প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা শুনে একটা প্রবাদ মনে পড়ে গেল-সব চুরিই পাপ, তবে সুযোগ পেলে ছাড়তে নেই।” সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, “লতিফ সিদ্দিকীর নিউইয়র্কে দেয়া বক্তব্যে যে জীবন দর্শন ফুটে উঠেছে সেটা আওয়ামী লীগেরই জীবন দর্শন। ফলে তার গ্রেফতারে সরকারের আন্তরিকতা নেই। যা হচ্ছে এটা নাটক, প্রহসন।” তিনি বলেন, “সরকার যে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে তা থেকে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা গণমাধ্যমে খবর দেখলাম তিনি (লতিফ) বিমানবন্দরে এসে গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কথা বলে সযন্তে বের হয়ে গেছেন।” আর এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, “সরকার নানাভাবে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে। তবে আমাদের আন্দোলন কর্মসূচির যে গতি ও প্রকৃতি তা অব্যাহত থাকবে। আরো নতুন কমর্সূচি নিয়ে আমরা নামব। কারণ মানুষ বিএনপির কর্মসূচির দিকে তাকিয়ে আছে।” খালেদা জিয়া লিভ টু আপিল আবেদন খারিজ হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, “আমার জানা নেই। তবে সবকিছুর নেপথ্যে কাজ করছে সরকার। তাদের টার্গেট হচ্ছে জিয়া পরিবার।” সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্ব-নির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শিক্ষা সম্পাদক খায়রুল কবীর খোকন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, অর্থনৈতিক সম্পাদক আব্দুস সালাম, সহ-তথ্য সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি ও আসাদুল কবীর শাহীন, যুবদল সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।   বিস্তারিত»

শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস কারো দিকে না তাকিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা: কারো মুখের দিকে না তাকিয়ে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসে জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘যথাযথ ব্যবস্থা’ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ভিডিও কনফারেন্সে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কিছুদিন আগে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বোধহয় এক সমস্যা দেখা দিয়েছে, এ সম্পর্কে পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে জানতে চাই। এখানে একটা নির্দেশ আমি দিতে চাই, যারাই এ ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করবে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস করবে, যে দলের হোক, কে কোন দলের সেটা দেখার কথা না, যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড করবে সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে হবে।” প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে বলেন, “আমি জানি যে যারাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণ্ডগোল করুক, একটা পর্যায়ে দেখা গেছে সেখানে ছাত্রের চেয়ে অছাত্র বেশি, কিছু বহিরাগত, তারাও এর সঙ্গে জড়িত থাকে।” প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়। এতে প্রতিপক্ষের গুলিতে সুমন চন্দ্র দাস (২২) নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হন। ওই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়; দায়ের করা হয় চারটি মামলা।  পরদিন ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান দাবি করেন, সেদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগতরা সংঘর্ষে জড়িয়েছে, তাতে ছাত্রলীগ জড়িত নয়। বিস্তারিত»

ছবি ঘর

  • holo gram baby
  • political picture
গোপশহরে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, ৭ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট

সিলেট: সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার মোল­ারগাঁও ইউনিয়নের গোপশহরে আমেরিকা প্রবাসী তয়মুছ আলীর বাসায় দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। সোমবার রাত (রবিবার দিবাগত রাত) ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ডাকাতরা বাড়ির ছয়টি কক্ষ তছনছ করে নগদ টাকাসহ ৭ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। তয়মুছ আলী জানান- সোমবার গভীর রাতে আনুমানিক ২০-২৫ জনের একটি ডাকাত দল বাসার গ্রিল এবং দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এসময় তার ছেলে আব্দুর রকিব বাধা দিলে ডাকাতরা তাকে মারধর করে। পরে তয়মুছ আলী, রকিব, তয়মুছ আলীর মেয়ে রাহেনা বেগম ও মেয়ে জামাই মিসবাহকে বেধে ফেলে ডাকাতরা। তারা বাসার ৬টি কক্ষ তছনছ করে নগদ আড়াই লাখ টাকা, ৪শ ডলার, ৫ ভরি স্বর্ণ, ৮টি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ ও একটি হাতঘড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। আব্দুর রকিব জানান- ডাকাতদের বয়স ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে হবে। ডাকাতির খবর পেয়ে দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি মো. মুরসালিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি  জানিয়েছেন।   এদিকে সা¤প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় ডাকাতির ঘটনা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান মোল­ারগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ মখন মিয়া। জানান- গত চার দিনে চারটি ডাকাতির ঘটনা ঘটলো। ২১ নভেম্বর একই ইউনিয়নের মোল­ারগাঁও গ্রামের আব্দুর রহিমের বাড়িতে দুর্র্ধর্ষ ডাকাতি হয়। পরে গোয়ালগাঁও জামে মসজিদ ও খিদিরপুর জামে মসজিদের দরজা ভেঙে মসজিদের মাইক, এসি, ফ্যানসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ডাকাতি করে নিয়ে যায় ডাকাতরা। তিনি ডাকাতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বিস্তারিত»
শিগগিরই প্রকাশ হচ্ছে কাদের মোল্লার রিভিউর পূর্ণাঙ্গ রায়

ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চুড়ান্ত রায়ের পর সে রায়ের পুনঃবিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করা যাবে কি, যাবে না সে বিতর্কের অবসান ঘটছে শিগগিরই। এ বিতর্কের অবসান ঘটবে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার মামলার রিভিউ আবেদনের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মধ্য দিয়ে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার রিভিউ আবেদন খারিজ করে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের দেয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ হচ্ছে শিগগিরই। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছেন, কাদের মোল্লার রিভিউ খারিজের বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় লেখা শেষ হয়েছে। যে কোন সময়ই রায়টি প্রকাশ করা হবে। ওই রায়ে রিভিউ আবেদন করা যাবে কি যাবে না, আবেদন করা গেলেও কত দিনের মধ্যে করা যাবে তারও নির্দেশনা থাকতে পারে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের রিভিউ আবেদন নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল, এ পূর্ণাঙ্গ রায়ের মাধ্যমেই তার নিষ্পত্তি হচ্ছে। এই বিতর্ক শুরু হয় কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়ার পর থেকেই। মাওলানা সাঈদী হয়ে তা গড়িয়েছে জামায়াত নেতা কামারুজ্জামান পর্য ন্ত। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির মতামতের ভিত্তিতে কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। প্রায় আড়াই মাসেরও বেশি সময় পর ৫ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। রায়ের কপি প্রকাশের পর ৮ ডিসেম্বর সেটি ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এরপর ট্রাইব্যুনাল ওইদিনই কাদের মোল্লার মৃত্যুপরোয়ানা জারি করে আদেশটি ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠায়। রায়ের কপি হাতে পেয়েই তার ফাঁসি কার্যকর করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।  কিন্তু রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করতে আসামিপক্ষের উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে ১০ ডিসেম্বর রাতে সুপ্রিমকোর্টের চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নিজ বাস ভবনে কোর্ট বসিয়ে ফাঁসির আদেশ স্থগিত করেছিলেন। পর দিন কাদের মোল্লার পক্ষে রিভিউ সংক্রান্ত দুটি আবেদন দায়ের করা হয়েছিল আপিল বিভাগে। পরে আপিল বিভাগ একদিন শুনানি করে আবেদন ডিসমিসড করে দেন। রিভিউ আবেদন খারিজের দিন রাতেই কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। কিন্তু রিভিউ আবেদন কী কারণে খারিজ হয়েছে তা স্পষ্ট করেননি আপিল বিভাগ। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে জানা যাবে রিভিউ আবেদনের বিষয়ে আপিল বিভাগের পর্য বেক্ষণ। তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বরাবর বলে আসছেন সংবিধানের ৪৭(ক) (২) অনুচ্ছেদে মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির রিভিউ আবেদন করার অধিকারকে খর্ব করা হয়েছে। এর ফলে তারা রিভিউ আবেদন করতে পারবে না। অন্যদিকে আসামিপক্ষ সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ দেখিয়ে দাবি করছেন রিভিউ আবেদন করার অধিকার আসামির রয়েছে। সুপ্রিমকোর্ট কাদের মোল্লা রিভিউ আবেদনের বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আদেশ দেয়ার পর বিষয়টি অনিষ্পত্তি অবস্থায় থেকে যায়। এ বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের আরেক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, “আইনে সব কিছু স্পষ্ট সাদা বা কালো বলে দেয়া থাকে না। সব কিছু বলে দেয়া সম্ভবও নয়। তিনি বলেন, যখন সব কিছু স্পষ্ট বলে দেয়া থাকে না, তখন ওই আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটা যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকতে হয়। ” তিনি বলেন, “আমি মনে করি সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিতরা রিভিউর সুযোগ পাবেন না। কারণ সংবিধানের মাধ্যমেই সেই সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। তবে আপিল বিভাগ যদি মনে করেন, এই রিভিউর সুযোগ দিলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। তাহলে সুপ্রিমকোর্ট তাদের নিজস্ব ক্ষমতাবলে এই সুযোগ দিতে পারেন।”

বিস্তারিত»
লিওনেল মেসি সর্বকালের সেরা ফুটবলার

লিওনেল মেসিকে ফুটবল ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে অভিহিত করেছেন বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট ইয়োসেপ মারিয়া বার্তোম্যু। সেভিয়ার সাথে একটি ম্যাচে হ্যাট্রিক করবার পর ২৭ বছর বয়েসী এই আর্জেন্টাইন সর্বমোট ২৫৩টি গোল নিয়ে স্প্যানিশ লা লিগার সর্বকালের সর্বোচ্চ সংখ্যক গোলের মালিক মালিক বনে গেছেন। শনিবারের ওই ম্যাচে ৫-১ গোলের জয় পায় বার্সেলোনা। চার বারের বিশ্বসেরা খেলোয়াড় মেসি এখন পর্যন্ত বার্সেলোনার হয়ে ৩৬৮টি গোল করেছেন। আর আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেছেন ৪৫টি। বার্তোম্যু বলেন, 'মেসি আমাদের সঙ্গে আরও বহু বছর ধরে থাকবে। সে যা অর্জন করেছে তাতে আমরা আনন্দিত'। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, লিওনেল মেসি তার দীর্ঘদিনের ক্লাব বার্সেলোনা ছেড়ে দেবার কথা বলেছেন বলে কদিন ধরে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হচ্ছিল।

বিস্তারিত»
যত চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র হোক না কেন জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলা যাবে না

ঢাকা : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যত চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র হোক না কেন জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলা যাবে না। তিনি কালজয়ী রাষ্ট্র নায়ক। সোমবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জি নাইন নামক একটি গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে শিকাগোর জিয়া সড়কের ঘোষণাপত্র ও একটি র‌্যাপলিকা খালেদা জিয়ার হাতে তুলে দেয়ার প্রাক্কালে এসব কথা বলেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমানের নাম মানুষের হৃদয়ের মাঝে আছে। মাত্র আড়াই বছর ক্ষমতায় থেকে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে সুপ্রতিষ্ঠত করেছেন। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, যতদিন সূর্র্য উঠবে এবং সূর্য ডুববে ততদিন জিয়াউর রহমানের নাম থাকবে।

বিস্তারিত»
মানুষ মানুষের জন্য ও বন্ধু একটু সহানুভূতি চাই

এম.এস.এইচ. সুজনঃ সষ্ট্রার এই বিচিত্র সৃষ্টিতে সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। দিনের শেষে রাত, দুঃখের পর সুখ এটাই নিয়তির বিধান। কেউ ঘুম থেকে উঠে পান্তা ভাত খেয়ে অথবা খালি পেটে স্কুলে যায়। কেউ আবার ঘুম থেকে উঠে দুধ-কলা সহ রকমারি আইটেমে টেবিল ভর্তি সকালের নাস্তা খেয়ে স্কুলে যাচ্ছে। এ জন্য কি বিধাতাই দায়ী নাকি আমাদেরও কিছু করার আছে। অবশ্যই আমাদের কিছু দায়িত্ব কর্তব্য রয়েছে। সমাজের বিত্তশালীদের ধন সম্পদে রয়েছে দুঃখী মানুষের অধিকার। এ অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করলে রয়েছে পরকালে ভয়ানক শাস্তি। ভোগ নয় ত্যাগেই শান্তি। গোলাপগঞ্জ থানার এক অসহায় গরীব পরিবারে জন্ম এ্যানি বেগমের। চার ভাইবোনদের মধ্যে এ্যানি সবার ছোট। তার বাবা সিলেট শহরের একটি মেডিকেল হসপিটালের ক্লিনার। শহরের বস্তিতে কোনমতে তাদের সংসার চলে। নুন আনতে পান্তা ফুরায় অসহায় গরিব এই পরিবারটির। এরই মধ্যে এ্যানির হার্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার খবর গরিব বাবার মাথায় বজ্রপাতের আঘাত হানার মত। দিশেহারা হয়ে গেছে এ্যানির পরিবার। মেয়েকে বাঁচাতে পাগলপরা হয়ে উঠছে খেটে খাওয়া এই পরিবারটি। সাহায্যের জন্য হাত পেতেছে সমাজের বিত্তবানদের কাছে। গত ১৬ই নভেম্বর সিলেট ব্লুবার্ড স্কুলের কিছু শিক্ষার্থী মিলে সিলেট ইগনেয়াস ওয়ারিয়ারস এর ব্যানারে এ্যানিকে বাঁচাতে আয়োজন করেছিল এক কনসার্ট প্রোগ্রামের। এই মুহুর্তে তার চিকিৎসার জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। কে দিবে এই টাকা? কিভাবে চিকিৎসা করবে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়া এই মেয়েটির? এই নিয়ে রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে এ্যানির মা-বাবার। তাই বাধ্য হয়ে প্রবাসী  ভাই বোনদের কাছে এ্যানির অসহায় মা-বাবার আকুল আবেদন - আমার মেয়েটাকে সুস্থ করে তুলতে আপনারা দয়া করে এগিয়ে আসুন। আপনার অল্প সাহায্যে আমার মেয়েটি হয়ত পৃথিবীর খোলা আকাশের নিচে আরও কিছুদিন নিঃশ্বাস নিয়ে বাঁচতে পারবে। এজন্য অবশ্যই ¯্রষ্টা আপনাদের পুরস্কৃত করবেন  দুনিয়া ও আখিরাতে। এ্যানিকে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা- জুনেদ আহমদ, সোনালী ব্যাংক, কাজলহাওর শাখা, সিলেট, একাউন্ট নাম্বার- ৩৪১২১৭৫৬। বিকাশ নাম্বার- ০১৭১২১৯০৭৮৪। বিস্তারিত তথ্যের জন্য - বাংলাদেশ- ০১৭১৬৯৬৯৮৯৬; ইউকে- ০৭৪৫৬৮৫৫৯৫৯, ইমেইল- muktobangla24@gmail.com  

বিস্তারিত»
লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে দেশে নতুন করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির আশঙ্কা

ঢাকা : আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে দেশে নতুন করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অধিকাংশ দলই আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেফতার দাবি করেছে। তাকে গ্রেফতারে হেফাজতে ইসলামের হরতাল কর্মসূচিসহ ২০ দলীয় জোটের বাইরে থাকা ইসলামী দলগুলোও বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। জাতীয় সংসদের ভেতরে-বাইরে তার গ্রেফতারের দাবি উঠেছে। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও (এরশাদ) লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন আদালতে তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। এসবের পর দেশে ফিরলেও গ্রেফতার না হওয়ায় দেশবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। একইসঙ্গে লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ খারিজের দাবি জানান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজি মোহাম্মদ সেলিম। তাকে গ্রেফতার না করায় ক্ষোভও প্রকাশ করেন তিনি। সোমবার জাতীয় সংসদে বক্তৃতাকালে তারা এ দাবি জানান। এসময় হাজি সেলিম বলেন, বিমানবন্দরে সাত-আটটি ডিপার্টমেন্ট কাজ করে। তারা কী করল? কেন তাকে গ্রেফতার করা হলো না? আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী দেশকে বিপদে ফেলতে চান বলে মন্তব্য করেছেন আরেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী। তিনি বলেন, লতিফ সিদ্দিকী দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চান। এসময় তার বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের রুলিং চান স্বতন্ত্র এ সংসদ সদস্য। এদিকে লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেফতারের দাবিতে হরতালের ডাক দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনটি বুধবারের মধ্যে তাকে গ্রেফতারের সময়সীমা বেঁধে দেয়। অন্যথায় বৃহস্পতিবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি পালন করবে বলে জানানো হয়। একই দাবিতে মঙ্গলবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে সংগঠনটি। লতিফ সিদ্দিকী সুপ্রিম কোর্টে আগাম জামিন নিতে এসেছেন এমন সংবাদের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। সোমবার দুপুরে তারা সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করে। এসময় মিছিল থেকে লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেফতারের দাবিতে স্লোগান দেয়া হয়। অপরদিকে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে সম্মিলিত ইসলামি দলসমূহ। সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইসলামি দলসমূহের সদস্য সচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান হরতালসহ দু’দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এছাড়াও তারা বুধবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে। অন্যদিকে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে ইসলামী ঐক্যজোট। সোমবার দুপুরে এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে তারা এ হরতালের ঘোষণা দেয়। আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে আগামী ৫ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সোমবার দুপুরে পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে দলের রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এদিকে সোমবার দিবাগত রাত ১২ টার মধ্যে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করা না হলে মঙ্গলবার দেশব্যাপী হরতাল পালন করবে শেখ শওকত হোসেন নিলুর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। অন্যদিকে সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করতে স্পিকারের অনুমতি লাগবে। ওই সময় তিনি বলেন, স্পিকারের অনুমতি ছাড়া তাকে গ্রেফতার করতে পারছে না আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের কিছুক্ষণ পরই লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করতে অনুমতির প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সোমবার সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্পিকার। তিনি বলেন, কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী শুধুমাত্র সংসদ লবি, গ্যালারি ও চেম্বার থেকে কোন সংসদ সদস্যকে গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে স্পিকারের অনুমতির প্রয়োজন হয়। এছাড়া কোনো অনুমতি লাগে না। সোমবার রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, লতিফ সিদ্দিকী আইনের অধিকার পাবেন। তার দেশে আসার অধিকার রয়েছে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। এ ইস্যুতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার না করতে আহ্বান জানান তিনি।

বিস্তারিত»
লতিফ বাংলাদেশে আসে নাই, নিশা দেশাইর সফর বাতিলের জন্য সরকারের নাটক

ডেস্ক নিউজ:লতিফ সিদ্দিকী বাংলাদেশে আসে নাই, নিশা দেশাইর সফরকে বাতিল করতেই সরকার লতিফ নাটক সাজিয়েছে এরকম তথ্য পেয়েছে নিউজবিডিসেভেন ডটকম। লতিফ সিদ্দিকীকে কলকাতার পাঁচ তারকা হোটেল তাজবেঙ্গলে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন ঐ হোটেলের এক কর্মচারী। নিউজবিডিসেভেন ডটকমের কলকাতা প্রতিবেদককে ঐ হোটেলের জীবন কৃষ্ণ নামের এক বয় এ তথ্য জানান। রবিবার রাত থেকে গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ পেয়েছে যে, লতিফ সিদ্দিকী বাংলাদেশে অবস্থান করছে। কিন্তু কোন গণমাধ্যমই তার অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি। আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়েছে বলে খবর প্রকাশ হলেও কোন ফুটেজ দেখাতে পারেনি মিডিয়াগুলো। গণমাধ্যমগুলো তাকে নিখোঁজ হিসেবে খবর প্রচার করছে। এদিকে লতিফের ভাই কাদের সিদ্দিকী দাবি করেছেন, লতিফকে সাদা পোশাকের কারা ধরে নিয়ে গেছে। কিন্তু কোন তথ্য দিতে পারেননি। অনুসন্ধান করে জানা গেছে, লতিফ সিদ্দিকীর সরকারি বাড়ি এখন আর তার জন্য বরাদ্দ নাই। ধানমন্ডির বাসাতেও তিনি নাই। বাংলাদেশে থাকলে নিশ্চয় এতোগুলো গণমাধ্যমের কাছ থেকে তাকে সরিয়ে রাখা সম্ভব হতো না। সর্বত্র গুঞ্জন চলছে, সরকারই বা নিজ দায়িত্বে কেন লতিফকে খুঁজে বের করছেন না? যাকে নিয়ে সংসদ ও সংসদের বাইরে সারাদেশে এতো তোলপাড় তার অবস্থান কেন সরকার পরিষ্কার করছেন না? এটাতো সরকারেরই দায়িত্ব। অনুসন্ধানে জানা গেছে, লতিফ সিদ্দিকী এখনও কলকাতায় অবস্থান করছেন। তাজবেঙ্গল হোটেলে তাকে দেখা গেছে। বাংলাদেশে তার মতো একজন বিতর্কিত ও ক্ষমতাবান মানুষ আসার পরও কেউ তার খোঁজ পায়নি সেটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। এদিকে, মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল ২৩ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারত নেপাল, বাংলাদেশ, উজবেকিস্তান ও সুইজারল্যান্ড সফর করবেন। বাংলাদেশে ২৭ তারিখ বৃহস্পতিবার সফর করবেন বলে জানা গেছে। আওয়ামীলীগের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২৭ তারিখ বাংলাদেশে নিশা দেশাই সফর বাতিলের জন্য লতিফ ইস্যুটাকে কাজে লাগানো হচ্ছে। ইসলামি দলগুলোর হরতালের কারণ দেখিয়ে এই সফর বাতিলের চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকার এজেন্ট দিয়ে দেশকে অস্থির ও আইন শৃঙ্খলা নষ্টের চেষ্টা করছে। আর এ অজুহাতে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর বাতিল করা হবে। কারণ হিসেবে জানা গেছে, নিশা দেশাইর সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো শেখ হাসিনাকে ফেব্রুয়ারি- মার্চের মধ্যে নির্বাচন দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা। সরকার ৫ জানুয়ারি অবৈধ, অগ্রহণযোগ্য ও একক নির্বাচন করায় আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাছে প্রচন্ড চাপে রয়েছেন। সম্প্রতি ইতালি ও যুক্তরাজ্য সফর অসুস্থতার অজুহাতে বাতিল করা হয়েছে বলে জানালেও মূলত ইতালি ও যুক্তরাজ্য সরকার শেখ হাসিনাকে অবৈধ সরকার মনে করায় সময় দিতে রাজি হয়নি। আর সে কারণেই শেখ হাসিনার সফর বাতিল হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। শেখ হাসিনা ৫ জানুয়ারি অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসার পর বহির্বিশ্বের সমর্থনের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পর ইতালি ও যুক্তরাজ্য এবং জাতিসংঘ শেখ হাসিনাকে সমর্থন ও গুরুত্ব দেয়নি। বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক বন্ধুরাষ্ট্রগুলো শেখ হাসিনাকে এ বছরের শুরুতেই দ্রুত নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের জন্য চাপ দিচ্ছে। সে তালিকায় ভারতও রয়েছে। কার্যত আওয়ামীলীগ বন্ধুহীন হয়ে পরেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রগুলো শেখ হাসিনাকে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য তাগিদ দিলেও তিনি একগুয়েমি করে বসে আছেন। ওদিকে, বিরোধীজোটের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের নিশ্চয়তার বিষয়ে বন্ধুরাষ্ট্রগুলো যে সময় চেয়েছিলেন তারও মেয়াদ প্রায় শেষ। তারমানে নিশা দেশাই সর্বশেষ নির্বাচনের তাগিদ ও চাপ দিতেই বাংলাদেশে আসছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, নিশা দেশাই এবার সরাসরি ও কড়া ভাষায় অবাধ, নিরপেক্ষ ও সবার অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য শেষ কথা বলে যাবেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলোও একই কথা জানিয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকার নিশা দেশাইর এই সফরকে বাতিল করতেই লতিফ নাটক সাজিয়েছে। আওয়ামীলীগের সাবেক বনমন্ত্রী হাসান মাহমুদের সাথে হেফাজতের একটি সরকারপক্ষীয় গ্রুপ সমঝোতা করে হরতাল ডেকেছে বলে জানা গেছে। যে কারণে মঙ্গল বা বুধবার হরতাল না ডেকে যেদিন নিশা দেশাই র বাংলাদেশে সফর সেদিন বৃহস্পতিবার হরতাল ডাকা হয়েছে। হেফাজতের সরকারপক্ষীয়দের উপর এককভাবে নির্ভর করতে না পেরে একই দিনে আওয়ামী ঘেঁষা একটি দল ইসলামি ঐক্যজোটের নামেও হরতাল ডাকা হয়েছে। অর্থাৎ হেফাজতের মূল অংশ যদি হরতাল প্রত্যাখ্যান করে তাহলে ঐক্যজোটের হরতালটা বহাল থাকবে। এছাড়াও, সরকারের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় চলা দল আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওসহ বিভিন্ন কঠোর কর্মসূচি দিচ্ছে। বিশ্লষকরা বলছেন, শাহবাগের নাস্তিক ব্লগারদের পক্ষ নেয়া হুযুর ও দলগুলো যারা সেসময় হেফাজতের বিপক্ষে আন্দোলন করেছে সেই দল ও হুযুরগুলো লতিফের বিষয়ে সর্বোচ্চ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। এটাও নাটক। সরকারের নেপথ্যে থেকে এজেন্টধারী ইসলামি দল ও হুযুরগুলোকে দিয়ে সরকার এই আন্দোলন করাচ্ছে। হেফাজতের একাধিক নেতা নিউজবিডিসেভেন ডটকমের বাংলাদেশ প্রতিনিধিকে বলেন, সরকার অর্থ ও ভয় দেখিয়ে অনেককে আন্দোলনে নামিয়েছে। তবে এরমধ্যে অনেকেই সরকারের চাল না বুঝে আন্দোলনে নেমেছেন। আশা করি তারাও বিষয়টা বুঝে গেছেন। তারা আর সরকারের ট্র্যাপে পা দিবেন না। তবে হেফাজত কোন নির্দিষ্ট দল না হওয়ায় সরকার তাদের পছন্দের লোকদের হেফাজতে ঢুকিয়ে হেফাজতের ব্যানারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে কাজ করছে। হেফাজতের ঢাকা মহানগরীর শীর্ষ একজন নেতা বলেন, হেফাজত বা ইসলামি দলগুলো যখনই নাস্তিকদের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছে তখনই অত্যাচারের স্টিম রোলার চালিয়েছে। মিছিল পর্যন্ত করতে দেয়নি। শাপলা চত্বরের ঘটনাতো দেশবাসী জানে। কিন্তু এবার সরকার মিছিল মিটিং এ কোন বাঁধা দিচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, উল্টো সরকার আন্দোলনের জন্য প্রচুর টাকা ঢালছে। হেফাজতের নামপ্রকাশে অনিচ্ছুকএক নেতা জানান, এই হরতালের কর্মসূচির বিষয়টি তারা জানতেন না। তারাও গণমাধ্যমে শুনেছেন। তিনি বলেন, সরকার তাদের পছন্দের লোকদের হেফাজতের নামে মাঠে নামিয়ে দিয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, সরকারই ছাত্রলীগের কর্মীদের পায়জামা, পাঞ্জাবি পরিয়ে হরতাল পালন করাবে। তাতে সরকারের দুটি লাভ একটি হলো নিশা দেশাইর সফর বাতিল করা। দ্বিতীয়টি হলো বাংলাদেশে জঙ্গি আছে সেটা প্রমাণ করা। ইসলামের বিষয়ে এলার্জি আছে এরকম বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর কাছে ম্যাসেজ দেয়া যে, বাংলাদেশে জঙ্গির উত্থান হয়েছে। জঙ্গি দমনের জন্য শেখ হাসিনাকে যেন আরও সময় ক্ষমতায় থাকতে দেয়া হয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বামঘেঁষা যে দল ও গণমাধ্যমগুলো ইসলামের বিষয়ে চরম এলার্জি পোষণ করতো তারা্ এ ইস্যুতে ডানপন্থীদের চেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। এবং সেটা সরকারের পরিকল্পনাতেই দেখাচ্ছে। লতিফের বাংলাদেশে প্রবেশ নিয়ে বিএনপি, জামায়াতসহ জোটভুক্ত ইসলামি দলগুলোও আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে বা প্রতিবাদ জানিয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতারা জানান, তারা প্রথমে সরকারের নীলনক্সাটা বুঝতে পারেননি। লতিফকে যখন সারাদিন কোথাও দেখা যায়নি তখন সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এখন সরকারের নাটক স্পষ্ট হয়ে গেছে। বিরোধীজোটভুক্ত দলগুলো সরকারের পরিকল্পনা বুঝে গেছে বলে নিউজবিডিসেভেন ডটকমকে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সে কারণে তারা বুঝে শুনে পা ফেলার পরিকল্পনা নিয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সরকার প্রয়োজনে লতিফকে বাংলাদেশে নিয়ে আসবে ইসলামি দলগুলোকে মাঠে নামানোর জন্য। একঢিলে দুই পাখি মারার নীতি নিয়েছে আওয়ামীলীগ। একদিকে নির্বাচন নিয়ে যাতে চাপ দিতে না পারে সে কারণে নিশা দেশাইর সফর বাতিল করা অন্যদিকে, পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে ম্যাসেজ দেয়া যে বাংলাদেশেও জঙ্গির উত্থান হয়েছে। জঙ্গি দমনে শেখ হাসিনাকে অবৈধভাবে হলেও ক্ষমতায় রাখা দরকার। লতিফের অবস্থান নিয়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে, লতিফ কলকাতায় রয়েছে। সরকার বাংলাদেশে অবস্থানের গুজব ছড়িয়ে প্রতিক্রিয়া বোঝার চেষ্টা করছে। প্রয়োজনে লতিফকে বাংলাদেশে আনা হতে পারে। তবে এখনও তিনি বাংলাদেশে আসেননি। এদিকে, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বিএনপি আন্দোলনে যাচ্ছে এরকম খবর প্রকাশের পরপরই লতিফ সিদ্দিকীর বাংলাদেশে আসা নিয়ে নাটক কেন?, সেটাই এখন সবচেয়ে আলোচ্য। তাকে নিয়ে ইসলামী দলগুলোর বাইরে শেখ শওকত হোসেন নিলুর হরতালের ডাক আর সরকারের লুকোচুরি- সবকিছু মিলিয়ে অন্য হিসেবে কষছেন বিশ্লেষকরা। লতিফ দেশে ফিরেছেন এ খবর পাওয়ার পর পরই ঢাকা ঘেরাও এবং লাগাতার হরতালের হুমকি দেয় হেফাজতে ইসলাম। হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচির হুমকি দেয় সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহের জোটও। তবে ইসলামী দলগুলোর চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণার আগে লতিফকে গ্রেপ্তার এবং তার শাস্তির দাবিতে নিলুর ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-এনডিএফ মঙ্গলবার হরতাল ডেকে বসে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট ছেড়ে এসে সরকারি আনুকূল্যে গঠিত এনডিএফ জোটের কর্মসূচি অনেককে ভাবনায় ফেলে দিয়েছে। অবশ্য লতিফকে বুধবারের মধ্যে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা না হলে বৃহস্পতিবার হরতাল পালনের ঘোষণা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম ও ইসলামী ঐক্যজোট। লতিফ ইস্যুতে এর আগে সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহ হরতাল পালন করলেও বিক্ষোভ-বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ ছিল হেফাজত। সরকারের আনুকুল্যে চলা দলগুলোর কর্মসূচিই সন্দেহকে আরও গাঢ় করছে। লতিফকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে স্পিকার এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী একে অপরকে দায় চাপাচ্ছেন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সংসদ সদস্য হওয়ায় লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করতে হলে স্পিকারের অনুমতি লাগবে। তবে প্রতিক্রিয়ায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন বলেছেন, লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারে অনুমতির প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে, লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারে সরকারের লুকোচুরির ঘটনায় ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত খুঁজছে বিএনপি। দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার তাকে নিয়ে ‘নাটক’ সাজিয়েছে। লতিফকে নিয়ে ‘নতুন খেলা’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লতিফকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হলে ধরে নিতে হবে সরকারের পরিকল্পনাতেই গুজব প্রচার করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে লতিফকে দিয়ে রাজনীতির ‘নতুন নাটক মঞ্চস্থ’ করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সবার প্রশ্ন- বিএনপির যখন ‘চূড়ান্ত’ আন্দোলনে প্রস্তুতি সারছেন তখন কেন লতিফ ফেরার নাটক? লতিফকে ঘিরে আন্দোলনে সমর্থন দিলে বিদেশিদের এটা দেখানো সম্ভব হবে- বিএনপি আদৌ ধর্মনিরপেক্ষ নয়, একান্তই জঙ্গি সম্পৃক্ত একটা দল। অন্যদিকে, নিশা দেশাইর সফরও বাতিল করা যাবে। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্তঅন হয়েছে সেটাও প্রমাণ করা যাবে। লতিফ ইস্যুতে বিএনপি আন্দোলনে গেলে আওয়ামী লীগের লাভ। তখন আমেরিকাসহ পশ্চিমা বিশ্ব দেখবে- বিএনপি আসলে ইসলাম নিয়েই আছে। এদের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে বিশ্বাস করা যাবে না। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখাই হবে পশ্চিমাদের জন্য ‘নিরাপদ’। আবার লতিফ ইস্যুতে বিএনপি উদাসীনতা প্রদর্শন করলে ইসলামী দলগুলো বিএনপি থেকে সরে দাঁড়াবে। ইসলামপন্থীরা দেখবে- লতিফের মতো ইস্যুতে বিএনপি নিশ্চুপ। তাহলে বিএনপি আর আওয়ামী লীগে পার্থক্য কী? এতেও বিএনপির স্বস্তিতে থাকার উপায় নেই। এনডিএফ জোট ও আওয়ামীপন্থী ইসলামী দলগুলো কিংবা হেফাজতসহ স্বতন্ত্র ইসলামপন্থী দলগুলো লতিফ ইস্যুতে আন্দোলনের মাঠ গরম করলে বিএনপির অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দাবির আন্দোলন চাপা পড়ে যাবে। অবস্থাদৃষ্টে সেটির দিকেই পরিস্থিতি এগোচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিশা দেশাইর সফর বাতিল হলে আর সেটার কারণ ফাঁস হলে বা পশ্চিমা বিশ্বের কাছে পরিকল্পিত ম্যাসেজ দেয়ার যে চেষ্টা শেখ হাসিনার সরকার করছে সেটা বুমেরাং হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সূত্র:বিডি নিউজ৭

বিস্তারিত»
খুব শিগগিরই সরকারবিরোধী জোরদার আন্দোলনে ফিরতে চায় বিএনপি

ঢাকা:খুব শিগগিরই সরকারবিরোধী জোরদার আন্দোলনে ফিরতে চায় বিএনপি। এ লক্ষ্যে দ্রুত সরকারবিরোধী কার্যকর আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি দেয়ার পরিকল্পনা করছে দলটি। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ২০ দলীয় জোটের শরীকদলগুলোর শীর্ষ নেতাদের আন্দোলনের জন্য জোর প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। গত শনিবার গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। জানা গেছে, আসছে ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেয়ার দাবিতে এক দফার আন্দোলনের কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হতে পারে। জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের আগে যে কোনো দিন রাজধানীতে বড় ধরনের সমাবেশ করার বিষয়টিও ২০ দলীয় জোটের বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ সময়ের পূর্বে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সারাদেশে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়ার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কর্মসূচি নির্ধারণের দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ২০ দলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়াকে দেয়া হয়। নতুন নির্বাচন আদায়ের চলমান আন্দোলনের কর্ম-কৌশল নির্ধারণসহ দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতেই জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডাকেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। বিএনপি চেয়ারপার্সনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছাড়াও বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আমদ, ইসলামি ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামী, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মুজিবর রহমান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মুর্তূজা, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা করেছেন খালেদা জিয়া। এ সময় উপস্থিত জোটের শীর্ষ নেতারা বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আন্দোলনের বিষয়ে নিজ নিজ দলের অবস্থান ও মতামত তুলে ধরেন। একটি সূত্র জানায়, বৈঠকে খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক বলেন, আমার বয়স হয়েছে। যে কোনো সময় মৃত্যু হতে পারে। তাই জীবন নিয়ে আমি ভাবি না। স্বৈরাচারী সরকার হটানোর আন্দোলনে আমি জীবন দিতেও প্রস্তুত আছি। কারা আন্দোলনে এলো আর কারা এলো না, এটা বিষয় না। কারণ স্রোতের  বিপরীতে কেউ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল। তারা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এ সময় তার কথা শেষ হতে না হতেই খালেদা জিয়া বলেন, কিন্তু জামায়াতের সর্বশেষ দুটি হরতালে নেতাকর্মীদের মাঠে দেখা যায়নি। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেন, ২০ দলের বাইরেও অনেক দল আছে। তারা জোটে আসুক না আসুক, কমপক্ষে তারা যাতে আমাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে আসে সে ব্যাপারে চিন্তা করা উচিত আর ডিসেম্বর হলো আমাদের বিজয়ের মাস। এ মাসটিকে আওয়ামী লীগ তাদের একক হকদার হিসেবে দাবি করে। আমাদের উচিত বিজয়ের মাসে সঠিকভাবে গুরুত্বসহকারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা। আওয়ামী লীগকে বুঝিয়ে দিতে হবে, মুক্তিযুদ্ধ শুধু তাদের একক সম্পদ নয়। শহীদ জিয়াসহ আমরাও জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছি। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ প্রসঙ্গে বলেন, রেন্টাল-কুইক রেন্টালের নামে সরকারঘনিষ্ঠ ৭-৮ ব্যবসায়ী গোটা জাতিকে লুট করছে। এ বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত। প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কেও কথা বলেন পার্থ। তিনি বলেন, জয়কে প্রধানমন্ত্রীর অবৈতনিক তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা করে দুই দিন আগে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর অনেক আগে থেকেই তো তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তাহলে এতদিন তিনি কিসের ভিত্তিতে উপদেষ্টা ছিলেন? সজীব ওয়াজেদ জয়ের মাসিক সম্মানী ২ লাখ ডলার-সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, সাংবিধানিক পদের কোনো ব্যক্তি ডলারে বেতন নিতে পারেন না। এটি সংবিধান পরিপন্থী। বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে ধরতে পরামর্শ দেন তিনি। ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মুর্তূজা বলেন, জোটের বৈঠকে দ্রুত সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করার বিষয়ে সবাই একমত পোষণ করেছেন। আন্দোলনের ধরন ও কৌশল সম্পর্কেও নেতারা তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে খুব শিগগিরই কর্মসূচি নির্ধারণ করে আন্দোলন শুরু হবে। সরকারের মারমুখী আচরণের কথা উল্লেখ করে কেউ কেউ আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে কৌশলী হওয়ার পরার্মশও দিয়েছেন বলে জানান এনডিপির চেয়ারম্যান। ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, মার্চ ফর ডেমোক্রেসির আদলে রাজধানীতে আবার কর্মসূচি দিলে সরকার আগের মতো আচরণ করতে পারে। সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি দেয়ার কথা আমরা ভাবছি। তিনি বলেন, লাগাতার অবরোধের মতো কর্মসূচি দেয়া হতে পারে। কয়েকদিন অবরোধ চললে সরকার অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়বে। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ডা. রেদোয়ান উল্লাহ শাহেদী বলেন, লংটার্ম আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া কঠিন। লংটার্মে সরকার পতনের আন্দোলন হয় না। শর্টটার্মে সরকার পতনের আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে অবরোধের মতো কর্মসূচি দিলেই ভালো। ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী খালেদা জিয়াকে বলেন, আপনি যদি অবরোধের মতো কর্মসূচি দেন, তাহলে সরকার নিজেই সারাদেশে অবরোধ পালন করবে। আমাদের এই অবরোধ কন্টিনিউ (ধারাবাহিকভাবে) করতে হবে। তাহলে সরকারের পতন অনিবার্য। এদিকে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জোটের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য শোনার পর বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর চলমান আন্দোলন বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না বলে মত দেন। তিনি জোটের শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশ করে বলেন, ওই আন্দোলনকে কন্টিনিউ করার জন্য আমার দলের নেতারা যেমন আমাকে পরামর্শ দেননি, তেমনি জোটের শীর্ষ নেতারাও পরামর্শ দেননি। এবার আমি নিজে আন্দোলনের মাঠে নামব আর আপনারা সবাই আমার সঙ্গে থাকবেন। এ সময় সবাই তার পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।

বিস্তারিত»
‘আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে চাই শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন’

বান্দরবান: যুগের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেছেন, “শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন ছাড়া আধুনিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। নতুন প্রজন্মকে আধুনিক চিন্তা ধারায় গড়ে তুলতে পারলে এ দেশকে আরো এগিয়ে নেয়া সম্ভব।” সোমবার সন্ধ্যায় বান্দরবান জেলা পরিষদ মিলনায়তনে শিক্ষা ব্যবস্থার উপর এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক কে এম তারিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার দেবদাশ ভট্রাচার্য, জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী মমিনুর রশিদ আমিন, সেনাবাহিনীর সদর জোনের অধিনায়ক লে: কর্নেল নাজমুল হক। এছাড়া সভায় জেলা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন মধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য বিভাগগুলোর কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী বিকেলে বান্দরবান এসে পৌঁছান, পরে তিনি পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শনের পর জেলা পরিষদের মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। বলেন, “শুধু সরকারের উন্নয়নের দিকে চেয়ে না থেকে আমাদের চিন্তা চেতনায়ও পরিবর্তন আনতে হবে। সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি শিক্ষা খাতে বেসরকারী পর্যায়ে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। কেউ এগিয়ে আসলে তাকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে।”

বিস্তারিত»
লতিফ সিদ্দিকীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে শাস্তি দিতে হবে-    জমিয়তে উলামা ইউকে

সৈয়দ নাঈম আহমদ:কুলাংগার লতিফ সিদ্দিকীকে সরকারের রক্ষার চেষ্টার পরিনাম হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। সরকার যদি অনতিবিলম্বে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় নিয়ে না আসে তবে দেশে আন্দোলনের যে দাবানল জ্বলে উঠবে জনবিচ্ছিন্ন সরকারের পক্ষে তা কোনভাবেই শামাল দেয়া সম্ভব হবে না। এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কর্মসূচীর মাধ্যমে ইসলাম অবমাননাকারী নাস্তিক-মুরতাদ ও তাদের মদদ দাতাদের বিরুদ্ধে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে। পবিত্র হজ্ব ও মহানবী সা. কে নিয়ে কটুক্তিকারী লতিফ সিদ্দিকীকে বিমানবন্দরে গ্রেফতার না করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জমিয়তে উলামার উপদেষ্টা মাওলানা শায়খ আসগর হোসেন, মাওলানা তহুর উদ্দিন, মাওলানা শায়খ ওয়ারিছদ্দীন, মাওলানা জমশেদ আলী, আলহাজ্ব শামছুজ্জামান চৌধুরী, জমিয়তে উলামা ইউকের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা শুয়াইব আহমদ, জমিয়তে উলামা ইউকের সহ সভাপতি মুফতি সাইফুল ইসলাম, মুফতি আব্দুল মুনতাকিম, মাওলানা শাহ আমিনুল ইসলাম, জেনারেল সেক্রেটারী মাওলানা সৈয়দ তামিম আহমদ, সহ সেক্রেটারী মাওলানা আব্দুছ সালাম, মাওলানা সৈয়দ জুনাইদ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সৈয়দ নাঈম আহমদ, ট্রেজারার হাফিজ হুসাইন আহমদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মাসুদুল হাসান, প্রচার সম্পাদক মাওলানা আশফাক আহমদ, সহ প্রচার সম্পাদক মাওলানা মুখতার হুসাইন, মাওলানা মুখলিছুর রহমান চৌধুরী, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মুফতি সৈয়দ রিয়াজ আহমদ, অফিস সম্পাদক মাওলানা ফখরুদ্দিন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় কুখ্যাত মুরতাদ লতিফ সিদ্দিকী দেশে ফিরে ১৬ কোটি মানুষের হৃদয়ে আঘাত হেনেছে। সরকার যদি অবিলম্বে কুখ্যাত এই নাস্তিককে গ্রেফতার করে ফাঁসির কাষ্ঠে না ঝুলায় তাহলে সরকার পতন আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে। জমিয়ত নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় দু’ডজন মামলা এবং গ্রেফতারী পরোয়ানা থাকা সত্বেও ধর্মদ্রোহী লতিফ সিদ্দিকী গত রাতে দেশে প্রত্যাবর্তন করে হযরত শাহজালাল বিমান বন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে ২ ঘন্টা অবস্থান করে স্বদর্পে নিজ বাসায় নিরাপদে ফিরে যায়। এতে প্রমাণীত হয় সরকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই নাস্তিককে লালন করছে। জমিয়ত নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, তৌহিদী জনতার আন্দোলন গর্জে উঠলে সরকারের পক্ষে সামাল দেয়া সম্ভব হবে না। তাই দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আগেই কুখ্যাত এই মুরতাদকে ফাঁসি দিতে হবে।

বিস্তারিত»
গোলাপগঞ্জে ডাকাতি আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি: গোলাপগঞ্জে গভীর রাতে ঘরের কলাপসিবল গেটের তালা কেটে বাড়ির সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ অর্থ মোবাইল ফোন ও স্বর্ণলঙ্কার সহ প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে ডাকাতরা। পুলিশের ঘটনাস্থল পরিদর্শন থানায় জিডি। প্রাপ্ত সংবাদে জানা যায়, গতকাল রাত আনুমানিক আড়াইটায় গোলাপগঞ্জ উপজেলার বুধবারীবাজার ইউনিয়নের বাগিরঘাট গ্রামের হারিছ উদ্দিন (৫২)র বাড়িতে ১০/১২ জনের একটি ডাকাত দল হানা দিয়ে হারিছ উদ্দিন ও তার পরিবারের সকলকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন নগদ অর্থ দামি মোবাইল ফোন ও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। গৃহকর্তা জানান রাত সাড়ে ১০টায় প্রতিদিনের মত ঘুমিয়ে পড়েন ডাকাতরা কিভাবে তালা কেটে ঘরে প্রবেশ করেছে তিনি কখনো ঠের পাননি। তিনি পাশের একটি রুমে ঘুমিয়েছিলেন হঠাৎ করে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে তার বুকে চাকু ধরে জাগানোর পর তার হাত বেঁধে অন্য একটি রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্য রুম থেকে স্ত্রী ও মেয়েদের নিয়ে একই রুমে আটক করে। স্ত্রীর কাছ থেকে চাবি নিয়ে আলমারী খুলে নগদ ২২ হাজার টাকা দামি ৫টি মোবাইল ফোন ও ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেয়। যাবার সময় ডাকাতরা তাদের সাবধান করে যায় যদি চিল্লা চিৎকার করা হয় তবে প্রাণে শেষ করে দেবে। ভয়ে তারা কোন কথা বলেননি। ডাকাতরা যাবার পর পাশের বাড়ির লোকজনদের বিষয়টি জানালে একে একে গ্রামের সবাই জানতে পারেন। সকাল সাড়ে ৮টায় খবর পেয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার সেকন্ড অফিসার নুনু মিয়া একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। হারিছ উদ্দিন জানান তিনি থানায় জিডিও করেছেন। স্থানীয়রা জানান প্রতি বছর শীত কালে বুধবারীবাজার উত্তির বাদেপাশা এবং শরীফগঞ্জ ইউনিয়নে ডাকাতির ঘটনা ঘটতো। পরবর্তীতে রাতের বেলা টহল পুলিশ থাকায় ডাকাতি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, বর্তমানে কোন প্রকার টহল পুলিশ না থাকায় আবারো ডাকাতির ঘটনা ঘটলো। এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম ফজলুল হক শিবলী জানান পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এর ব্যবস্থা নিচ্ছে।    

বিস্তারিত»
খোঁজ মিলল পৃথিবীর 'প্রাচীনতম' পানির

কানাডার খনিতে মিলল বিশ্বের প্রাচীনতম পানিভাণ্ডার। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই পানির বয়স ১৫০ কোটি বছর। গবেষকদের মতে, আদিম পানির ধারা পরীক্ষা করে সন্ধান পাওয়া যেতে পারে পৃথিবী ও মঙ্গলগ্রহের অজানা নানা তথ্য। কানাডার অন্ট্যারিও অঞ্চলের টিমিন্স খনি। এর অন্দরে ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২.৪১৪০ কিলোমিটার গভীরে স্ফটিকে পরিণত হওয়া পাথরের ভিতরে মিলেছে প্রাগৈতিহাসিক পানির সন্ধান। ল্যাঙ্কাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ল্যাঙ্কাস্টার পরিবেশ কেন্দ্রের প্রধান গ্রেগ হল্যান্ড এবং ম্যাঞ্চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় ও কানাডার দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের একটি দল সম্প্রতি মাটির গভীরে পানির কয়েকটি পৃথক উৎস আবিষ্কার করেছেন যা এযাবত বহির্বিশ্বের থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেছে। কী করে বোঝা গেল পানির বয়স? গবেষক দল জানিয়েছে, এক ধরনের ডেটিং প্রক্রিয়ার সাহায্যে পানির ভিতরের ঘুমন্ত জেনন গ্যাসের নমুনা পরীক্ষা করেই বয়স জানা যায়। এই প্রক্রিয়ায় জেনন আইসোটোপ ব্যবহার করে বোঝা যায়, কোনও তরল শেষ কবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সংস্পর্শে এসেছিল। পরীক্ষায় জানা গিয়েছে, গুহার মাটি খুঁড়ে পাওয়া পানি অন্তত ১৫০ কোটি বছরের প্রাচীন। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে দুনিয়ার প্রাচীনতম পানির হদিশ মিলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার এক সোনার খনির ভিতরে। আবিষ্কার করেছিলেন একই দলের বিজ্ঞানীরা। তাদের দাবি, সেই পানির চেয়ে কয়েকশো লক্ষ বছরের বেশি পুরনো কানাডার পানি। দক্ষিণ আফ্রিকায় পাওয়া পানির মধ্যে মিলেছিল আনুবীক্ষণিক প্রাণীর অস্তিত্ব। গবেষকদের মতে, সূর্যের আলোর অনুপস্থিতিতে পানি দ্রবীভূত হাইড্রোজেন ও মিথেনের সাহায্যে শক্তি সঞ্চয় করে বেঁচে গিয়েছিল ওই জীবগুলি। এবার কানাডার খনিতে পাওয়া পানি পরীক্ষা করেও সেই ধরনের প্রাণীর অস্তিত্বের সন্ধান করা হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। অধ্যাপক গ্রেগ হল্যান্ডের কথায়, 'আপাতত কানাডার সহকর্মীরা পানির মধ্যে প্রাণের উৎস খুঁজতে ব্যস্ত। তবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে যে চরম আবহাওয়ার মাঝেও কোটি কোটি বছর ধরে যেকোনো গ্রহে আনুবীক্ষণিক প্রাণ বেঁচে থাকতে সমর্থ। এই তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে মঙ্গলগ্রহের মাটির নীচে জীবনের খোঁজ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ল।'- ওয়েবসাইট।

বিস্তারিত»
লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে সরকারি চিন্তাভাবনা

হজ ও ইসলামের নবীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বাংলাদেশ মন্ত্রীত্ব হারানো আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারের জন্য সরকারে প্রতি আলটিমেটাম দিয়েছে হেফাজতে ইসলামীসহ কয়েকটি সংগঠন। বুধবারের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা না হলে বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে হরতালের হুমকি দিয়েছে তারা। বিতর্কের মাস দুয়েক পর হঠাৎ করে মি. সিদ্দিকী রোববার রাতে কলকাতা থেকে ঢাকায় এসে নামেন। জাফরউল্লাহ খান, হেফাজতে ইসলাম প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন উপদেষ্টা বলছেন, লতিফ সিদ্দিকীর ব্যপারে সরকারের মধ্যে কোনো সহানুভতি নেই, এবং তাকে গ্রেপ্তারের আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। হজ নিয়ে মন্তব্য করায় আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৩০টির বেশি মামলা হয়েছিল। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে বিভিন্ন ব্যক্তির দায়ের করা এসব মামলার মধ্যে ডজন খানেক মামলায় তার গ্রেফতারী পরোয়ানা হয়ে রয়েছে। এর মধ্যেই তিনি দেশে ফেরার পরদিন সোমবারই ইসলামপন্থী কয়েকটি দল বিক্ষোভ করেছে। তার বিরুদ্ধে এখনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় ইসলামপন্থী বিভিন্ন দল ও সংগঠন প্রশ্ন তুলছে। এই দলগুলো এমন অভিযোগও তুলছে যে, সরকারের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে লতিফ সিদ্দিকী দেশে ফিরেছেন। কিন্তু আওয়ামীলীগের একজন সিনিয়র মন্ত্রী অনানুষ্ঠানিকভাবে বলেছেন, লতিফ সিদ্দিকীই অনেকটা আকস্মিকভাবে দেশে ফেরায় তাকে গ্রেফতারের ব্যপারে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে বিমানবন্দরে অনেকটা সময় বসিয়ে রাখা হয়েছিল। লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ঢাকায় বিক্ষোভ প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলছিলেন, ''লতিফ সিদ্দিকী যেহেতু এখনও সংসদ সদস্য রয়েছেন, সেকারণে তিনি হয়তো লাল পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশে এসেছেন। এখন তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এটা সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্কার বলা হয়েছে।'' স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বিষয়টিতে সুনির্দিষ্ট কোন সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি। তিনি বিবিসিকে বলেছেন, লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানার আদেশের কপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশের কাছে এখনো পৌঁছায়নি। ফলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তারা আদালতের আদেশের কপির অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে গত ২৮শে সেপ্টেম্বর লতিফ সিদ্দিকী নিউইয়র্কে হজ নিয়ে প্রতিবাদ করার পর হেফাজতে ইসলাম এবং সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহসহ ইসলামপন্থী বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়েছিল। হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা জাফরউল্লাহ খান বলেন, লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারের জন্য বুধবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করা না হলে বৃহস্পতিবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল রাখা হয়েছে। তিনি জানান, ''সরকার আগে দেশে ফেরা মাত্র লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারের কথা বললেও এখনও তা করেনি। ফলে আমরা মনে করি, এই বিষয়ে সরকার আইওয়াশ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সে কারণে আমরা কর্মসূচি নিয়েছি।'' ইসলামপন্থী দলগুলোর বাইরে অন্যতম একটি প্রধান দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকার পরও তাকে গ্রেফতার না করে সরকার তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী মনে করেন, ইস্যূ তৈরির জন্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হরতাল কর্মসূচি নেয়াসহ বিভিন্ন বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ''লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রীসভা থেকে অপসারণ করা হয়েছে। দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। সেই ব্যক্তির ব্যাপারে সরকার বা দলের কোন পর্যায়েই অহেতুক সহানুভূতি দেখানোর বিষয় নেই। আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।'' লতিফ সিদ্দিকী ঢাকাতেই অবস্থান করছেন বলে পুলিশে সূত্রগুলো বলছে। তার পারিবারিক একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা এখন হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করার চেষ্টা করছেন।বিবিসি

বিস্তারিত»
ব্রহ্মপুত্রে চীনা বাঁধ, দুশ্চিন্তায় ভারত

নয়া দিল্লি: চীনা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প চিন্তা বাড়াল ভারতের। কারণ ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপর তৈরি ওই বাঁধ ভারত এবং বাংলাদেশে বন্যা ও ধসের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। চীন জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপর বাঁধ তৈরির কাজ শেষ হয়েছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজও আংশিকভাবে শুরু হয়ে গেছে। যে ইয়ারলুং জাঙ্গুম প্রকল্প ভারত এবং বাংলাদেশের চিন্তা বাড়িয়েছে, তা তিব্বতি এলাকায় অবস্থিত। এই প্রকল্পের জেরে ভারত এবং বাংলাদেশে বন্যা এবং ধসের আশঙ্কা বেড়েছে। বাঁধের জেরে ভারত এবং বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র নদীর জলপ্রবাহও থমকে যেতে পারে। আবার ভারত এ-ও আশঙ্কা করছে যে, দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে চীন অধিক মাত্রায় পানি ছাড়তে পারবে, যার ফলে দেশে বন্যার আশঙ্কা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। তিব্বতে সমুদ্রতল থেকে ৩,৩০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত জাঙ্গুম জলবিদ্যুৎ স্টেশনে রোববার বিদ্যুৎ উত্‍‌পাদন শুরু হয়। চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, চীনা নদী প্রকল্প নিয়ে ভারত আশঙ্কার যে প্রহর গুণছে, তা দূর করতে ইচ্ছুক চীন। সেই সঙ্গে এ-ও জানানো হয়েছে যে, পানিপ্রবাহ আটকানো তাদের উদ্দেশ্য নয়। এই প্রকল্পের ফলে চিন্তার মেঘ দেখা গেছে তিব্বতেও। কারণ, এর ফলে হিমালয়ের সংবেদনশীল পরিবেশ প্রভাবিত হতে পারে।-ওয়েবসাইট।  

বিস্তারিত»
শিকাগো শহরে স্থাপিত ‘অনারারি জিয়াউর রহমান ওয়ে’র ভিডিও চিত্র ও পোস্টার উন্মোচন

ঢাকা:স্বাধীনতার ঘোষক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে স্থাপিত ‘অনারারি জিয়াউর রহমান ওয়ে’র উপর নির্মিত একটি ভিডিও চিত্র ও পোস্টার উন্মোচন করা হয়েছে। সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠান হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন। সাংবাদিক শফিক রেহমানের পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী, সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা এডভোকেট আসাদুজ্জমান প্রমুখ। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য বিএনপির আয়োজনে পূর্ব লন্ডনের ইয়র্ক হলে ‘বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও বিশ্বনেতা জিয়াউর রহমান:প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে স্থাপিত ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’র ফলক হস্তান্তর অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কায়সর এম আহমেদের পরিচালনায় ওই আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় সেক্রেটারি অব স্টেট জেসি হোয়াইট’র কাউন্সিল মেম্বার শাহ মোজাম্মেল, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট জয়নাল আবেদিন, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী, তারেক রহমানের বিশেষ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, মাহদি আমিন, বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মহিদুর রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিয়া মনিরুল আলম ও সাবেক আহ্বায়ক এম এ মালেক  প্রমুখ। উল্লেখ্য, ১৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’র উদ্বোধন করেন ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ার এমিরেটাস এ্যালডারম্যান জো মুর। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী, সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশেষ উপদেষ্টা ও লন্ডনের সাবেক মেয়র ক্যান লিভিং স্টোনের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

বিস্তারিত»
‘ওবামা এ্যাকশন’ যারা আবেদন করতে পারবেন না

নিউইয়র্ক: অভিবাসন নিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামার ঘোষণা বাস্তবায়ন হলে নির্দিষ্ট শ্রেনীভূক্ত অভিবাসীরা ওয়ার্ক পারমিট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও সোস্যাল সিকিউরিটি কার্ড পাবেন। একই সঙ্গে তারা বিনা বাধায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটে স্বাধীনভাবে ভ্রমন করারও সুযোগ পাবে। যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নী এ্যাট ল মঈন চৌধুরী স্থানীয় সময় রবিবার জ্যাকসন হাইটস এ অভিবাসন নীতি নিয়ে ওবামা যে ভাষণ দিয়েছেন তার নানাদিক নিয়ে কথা বলেন। যারা ঘোষিত নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করতে পারবেন তাদেরকে অবশ্যই কমপক্ষে ২০১০ সালের জানুয়ারির ১ তারিখের আগেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে বলে প্রমান করতে হবে। দ্বিতীয়ত যুক্তরাষ্ট্রের রেসিডেন্ট বা নাগরিক ১৮ বছরের নিচে সন্তান থাকতে হবে। ওই সন্তানের স্কুলের বা অন্য কোনভাবে যেটা প্রযোজ্য এমন ডকুমেন্ট দেখিয়ে প্রমান করতে হবে যে ওই তারা বিরামহীনভাবে বিগত বছরগুলোতে  যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবেই বসবাস করেছে। মঈন চৌধুরী আরও বলেন, যারা এককভাবে বসবাস করছেন এবং ১৮ বছরের নিচে কোনও সন্তানও নেই তারা এই সুবিধা নিতে পারবেন না কিংবা আবেদন করতে পারবেন না। একইসাথে যাদের কোনও মামলা ইউএসসিআইএস অফিসে পেন্ডিং আছে অথবা ইমিগ্রেশন বা উচ্চ আদালতে কোনও মামলা সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে তারাও আবেদন করতে পারবেন না। এছাড়াও অতীতে যাদের ফাইনাল ডিপোর্টেশন অর্ডার হয়ে আছে, সাজা হয়েছে কিংবা ক্রিমিনাল কেইস আছে তারাও এই সুবিধা পাবেন না। তবে অবৈধভাবে বসবাসের কারণে কেউ যদি ডিটেনশন ক্যাম্পে থেকে থাকেন আর তার যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক কোনও সন্তান  থাকে তাহলে তিনি আবেদন করলে তা কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করতে পারে বলে মঈন চৌধুরী জানিয়েছেন।

বিস্তারিত»
ভয়াল বন্যাতেও ডোবে না এই স্কুল!

স্কুল। শব্দটা শুনলেই বহু বাচ্চার মুখ ম্লান হয়ে যায়। সেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্লাসরুমে কাটানো। একের পর এক পরীক্ষা। পাশ-ফেল। শিক্ষকের চোখ রাঙানি। হোমওয়ার্কের বোঝা। বাড়ি ফিরেও স্বস্তি নেই। মা-বাবার ইচ্ছেপূরণে নিজেদের অজান্তেই ইঁদুর দৌড়ে সামিল। শৈশবেই একরাশ অনীহা। এটা যেমন একটা সমস্যা, পাশাপাশি অর্থ ও পরিকাঠামোর অভাবে বহু শিশু স্কুল শিক্ষা থেকেও বঞ্চিত হয়। বহু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দরিদ্র পরিবারের শিশুদের স্কুলমুখী করার চেষ্টা করলেও নিট ফল, বিশ্বের ৫ কোটি ৭০ লক্ষেরও বেশি শিশু স্কুলশিক্ষা পাচ্ছে না। তাহলে উপায়? উপায় বাতলে দিল বাংলাদেশের এই ভাসমান বিদ্যালয়। প্রকৃতিই যে শিশুদের বড় প্রিয় তা ফের প্রমাণ করল বাংলাদেশের ভাসমান স্কুল। বাংলাদেশর এই ভাসমান স্কুল এখন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় আলোচিত বিষয়। বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার উদ্যোগে রমরমিয়ে চলছে নদীতে ভাসমান এই স্কুল। এমনকি কী ভাবে সৃষ্টিশীল সমাধানের মাধ্যমে শিশুদের স্কুলমুখী করতে হয়, জাতিসংঘেও সেই পথ দেখাচ্ছে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। চারিদিকে পাখির ডাক। কোনও কোলাহল নেই। যান্ত্রিক দূষণ নৈব নৈব চ। নদীতে ভাসছে একটি বড় নৌকা। দরমার ছাউনি দিয়ে চারিদিক ঢাকা। যখন স্কুল চালু হয়, তখন নৌকাটি খানিকটা চালানো হয়। একেবারে মাঝ নদীতে নিয়ে যাওয়া হয় না। বৈদ্যুতিন পাখা, আলো, বেঞ্চ-সবই রয়েছে। প্রকৃতির কোলের এই স্কুলের বিদ্যুতের উত্স সৌরশক্তি। বাংলাদেশের একাধিক গ্রামে ভাসমান স্কুল চালাচ্ছে শিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা। সকাল হলেই একরাশ কচিকাঁচা শ্লেট, পেনশিল, খাতা, পেন নিয়ে হৈ-হৈ করে স্কুলে পৌঁছে যায়। কেন ভাসমান স্কুল? আসলে বাংলাদেশে নদীমাতৃক। প্রতিবছরই নিয়ম করে বন্যা হয় দেশের একটা বড় অংশে। বিশেষ করে জুলাই মাসের পর থেকেই বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি নদীর পানিপ্রবাহ ১২ ফুট উঁচুতে বইতে থাকে। এহেন পরিস্থিতিতে প্রতিবারই প্লাবনে ডুবে যায় বহু স্কুল। শিশুরা বছরের অনেকটা সময় স্কুল শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকে। তাই মহম্মদ রেজওযানের মাথায় আসে ভাসমান স্কুলের অভিনব বুদ্ধিটা। গত ১৯৯৮ সালে রেজওযান ভালো রেজাল্টের জন্য ৫০০ ডলার স্কলারশিপ পেয়েছিলেন। সেই টাকাকে হাতিয়ার করেই কর্মযজ্ঞে নেমে পড়েন রেজওয়ান। প্রথমে তিনি হাসপাতাল, স্কুল তৈরির চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু দেখেন, বর্ষায় এগুলি সবই ডুবে যায়। আর্কিটেকচারে স্নাতক রেজওয়ান এরপর বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন থেকে অর্থ সাহায্যনিয়ে কিনে ফেলেন ৫৪টি ভেসেল। এই ভেসেলগুলিতেই তৈরি হয়েছে ভাসমান স্কুল। শুধু স্কুলই নয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, গ্রান্থাগার, ভাসমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র- সবই তৈরি করেছেন রেজওয়ান। ইতিমধ্যেই ভাসমান স্কুলে নিয়োগ করা হয়েছে ২০০ অশিক্ষক, ৬১ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ৪৮ জন ভেসেল ড্রাইভার। ভাসমান হওয়াতে বর্ষাকালেও এই স্কুল বন্ধ করার প্রয়োজন পড়ে না। কয়েকশো শিশু ভর্তি হয়েছে এই স্কুলে। আগামী ৫ বছরে আরও ১০০টি আরও ভেসেল কিনে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছেন রেজওয়ান।-ওয়েবসাইট।  

বিস্তারিত»
মোগলগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত

সিলেট সদর উপজেলার ৭নং মোগলগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে গতকাল ২৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় সোমবার স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক গোলাম কিবরিয়ার এর সভাপতিত্বে এবং মহানগর ছাত্রদলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মুরাদ হোসেন এর পরিচালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আহমেদুর রহমান চৌধুরী মিলু। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য এ.কে.এম তারেক কালাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য আজির উদ্দিন, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা এ.কে.এম আব্দুল্লা, বশির মিয়া, কিরন মেম্বার, হাজী গোলাম মস্তফা, মক্তার আলী মেম্বার, দুদু মিয়া, সদর উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি আবুল হাসনাত, বিএনপি নেতা আব্দুল কাইয়ূম, আব্দুল মালিক, আব্দুল আলী, আজাদ মাষ্টার, মোস্তাব আলী, রহমত আলী, আব্দুল মোমিন, জি.এম কিবরিয়া, সাহার আহমদ, যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন, জেলা ছাত্রদল নেতা আমজাদ হোসান, এহসানুল হক জাকির, নুরু উদ্দিন, যুবদল নেতা আঙ্গুর আলম, এটিএম ফয়েজ, জাকির হোসেন, ছাত্রদল নেতা হাফিজ আহমদ সুহেল, এম.এ দিলোয়ার, দিলোয়ার হোসেন, বাবুল আহমদ, নোমান আহমদ, সুন্দর আলী, জইন ইউ আহমদ জনি, লিটন আহমদ মোমিন, খালেদ, হাফিজ, অপু, কামাল, আলম, রুহুল, কামরান, মাহেন, রুহেল, আব্দুল কাদির, নাসির উদ্দিন আজিজুল, মিলাদ, শরীফ প্রমুখ।   বক্তারা বলেন, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের লক্ষ্যে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। বিএনপি’র চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখনই আন্দোলনের ডাক দিবেন, তখনই সকল নেতাকর্মীকে রাজপথে ঝাপিয়ে পড়তে হবে। নিজের স্বার্থে কথা চিন্তা না করে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রাখায় আমাদেরকে কাজ করতে হবে। দ্বিতীয় অধিবেশনে উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে বশির উদ্দিনকে সভাপতি, কিরন মিয়া মেম্বারকে সাধারণ সম্পাদক ও মঈন উদ্দিনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট মোগলগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এসময় মোগলগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি

বিস্তারিত»
শ্রমিকরাই দুর্নীতিমুক্ত সমাজ  বিনির্মানের নিরন্তর হাতিয়ার

জাতীয় শ্রমিকলীগ সিলেট মহানগর শাখার ১৭নং ওয়ার্ডের বার্ষিক সম্মেলন গতকাল সন্ধ্যায় নগরীর কাজীটুলায় অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি কাজল মিয়ার সভাপতিত্বে ও মহানগর শ্রমিকলীগের দপ্তর সম্পাদক খন্দকার ফায়েক উজ্জামান মাস্টারের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর ফয়জুল আলোয়ার আলাওর, প্রধান বক্তার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় শ্রমিকলীগ সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি জাফর উদ্দিন চৌধুরী ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ও সহ সভাপতি নুরুল ইসলাম। বক্তারা বলেন, শ্রমিকরাই দুর্নীতিমুক্ত সমাজ বির্নিমানের নিরন্তর হাতিয়ার, আর এই শ্রমিকরাই যখন প্রতিনিয়ত শীরের ঘাম ঝড়িয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে একটি সুখী সমৃদ্ধশালী উন্নত দেশ উপহার দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে, ঠিক তখনই সাধারণ মানুষের মধ্যে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে ২০ দলীয় জোট। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে চলছে। সকল ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে হবে। এ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার জন্য শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর অটোরিক্সা সিএনজি শ্রমিকলীগের সভাপতি আবু তাহের নানা ভাই, সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমদ, মহানগর নির্মাণ শ্রমিকলীগের সভাপতি শাহ আলম ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, মহানগর রিক্সা-ভ্যান শ্রমিকলীগের সভাপতি বুরহান উদ্দিন ভান্ডার, মহানগর দোকান কর্মচারী শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন আহমদ সাবু, দর্জি শ্রমিকলীগের মনিরুজ্জামান, হোটেল-রেস্তোরা শ্রমিকলীগের সেলিম আহমদ, তরুণলীগের জিল্লুর রহমান জিলু, আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ কিবরিয়া, প্রফেসর আতাউর রহমান, মিজানুর রহমান মিন্টু, মোঃ ওলি, মোঃ বেলাল, মোঃ আব্দুল মিয়া, মোঃ সোহরাব, ছাত্রলীগ নেতা রাসেল আহমদ, শ্রমিক নেতা মিজান গাজী, শহীদ হাওলাদার। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ১৭নংওয়ার্ড শ্রমিকলীগের সভাপতি কাজল মিয়া ও সহ সভাপতি মোতালেব মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মিজান গাজী, ও আব্দুল করিমকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করেন মহানগর শ্রমিকলীগের সভাপতি জাফর উদ্দিন চৌধুরী। বিজ্ঞপ্তি  

বিস্তারিত»
ড. শফিউল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে পুলিশ’

রাজশাহী : ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শফিউল ইসলাম লিলন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। এখন শুধুমাত্র এর মূলহোতাকে গ্রেফতার করতে পারলেই এ হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত মূল হোতাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে। তার অবস্থানও নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখন তাকে গ্রেফতার করা সময়ের ব্যাপার মাত্র।’     সোমবার বিকেলে আরএমপি কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের হত্যাকাণ্ডের সাম্প্রতিক অগ্রগতি সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় নতুন কমিশনার মো. শামসুদ্দিন এ দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে স্থানীয় জামায়াত-শিবির এবং যুবদল ও ছাত্রদলের নেতারা সম্পৃক্ত। এ ব্যাপারে পুলিশের কাছে নিশ্চিত তথ্য রয়েছে এবং তদন্ত সেভাবেই এগিয়ে চলেছে।’     তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে যে ১১ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং দুই দফায় রিমান্ডে নিয়েছে তাদের মধ্যে ৩ জন স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এরা হলো, রাজশাহী বিশ্বিবিদ্যালয় সংলগ্ন মেহেরচণ্ডি এবং বুধপাড়া এলাকার সাগর, আরিফ ও জিন্না। এদের বিরুদ্ধে যানবাহনে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে চার থেকে ছয়টি করে মামলা রয়েছে। এরা এসব মামলার পলাতক আসামি ছিল।   পুলিশ কমিশনার বলেন, সাগর, আরিফ ও জিন্নাকে জিঙ্গাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া র‌্যাবের অভিযানে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদেরকে রাজশাহী পাঠানো হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে আটক ৯ জনকে মুখোমুখি জিঙ্গাসাবাদ করা হবে। এর ফলে এ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত হওয়া যাবে।   এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী কে? গণমাধ্যমকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, র‌্যাবের অভিযানে আটক পিন্টু ও মানিক একসময় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এরা বর্তমানে যুবদলের রাজনীতি করেন। এদের দুজনের রাজনৈতিক নেতা জেলা যুবদলের একজন শীর্ষ নেতা। মূলত তার নির্দেশ এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে মানিক ও পিন্টু লোকবল সংগ্রহ করেছে। এরপর সময় ও সুযোগ বুঝে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।   পুলিশ কমিশনার বলেন, সাগর, আরিফ ও জিন্নাকে জিঙ্গাসাবাদে পাওয়া গেছে ওই মূল হোতার নাম এবং পরিচয়। তাদের কাছে বর্ণনা শোনার পর তার বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় শরীরে পরিধেয় বস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। এর ফলে পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।   প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় পুলিশ কমিশনার মো. শামসুদ্দিন ছাড়াও অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার তমিজ উদ্দিন, উপ পুলিশ কমিশনার (সদর) তানভীর হায়দার চৌধুরী, উপ পুলিশ কমিশনার (পূর্ব) নাহিদুল ইসলাম, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

বিস্তারিত»
দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন

সভাপতি শাহাবুদ্দিন, সাধারন সম্পাদক শামীম ও সাংগঠনিক বজলুর নির্বাচিত নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট নুরুল হক বলেছেন, অবৈধ আওয়ামী সরকারের দুঃশাসনে চরম অতিষ্ঠ হয়ে জাতি মুক্তির পথ খুঁজছে। তারা জনগনের ভোটে নির্বাচিত নয় বিধায় জনগনের প্রতি তাদের কোন দরদ নেই। অবৈধ পথে ক্ষমতার মসনদ আকড়ে থাকতেই আওয়ামীলীগ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করে তুলেছে। বাকশালীদের কালো থাবায় গনতন্ত্র আজ নির্বাসনে। দেশ ও জাতির এই চরম ক্রান্তিকালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ বাচাও, মানুষ বাচাও স্লোগানকে সামনে রেখে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার মহৎ ও সাহসী উদ্যোগ গ্রহন করেছেন। এই অবস্থায় সিলেট জেলা বিএনপির সকল আন্দোলন সংগ্রামের সুতিকাগার দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন একটি মাইলফলক। হাজার হাজার নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে এই সম্মেলন এই অঞ্চলকে বিএনপির দুর্জয় ঘাটিতে পরিনত করবে ইনশাআল্লাহ। নেতৃত্বের প্রতিযোগীতা থাকতে পারে, কিন্তু প্রতিহিংসা কখনোই কাম্য হতে পারেনা। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর থেকে সম্পুর্ন গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে সিলেট জেলার ৮টি উপজেলা ও পৌরসভার কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ সুরমা বিএনপির কাউন্সিল ও নবগঠিত কমিটির নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপি আগামীতে রাজপথে সকল আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রনী ভুমিকা পালন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তিনি গতকাল সোমবার সিলেট জেলার দক্ষিন সুরমা উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শফি আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে উপজেলার খালোমুখস্থ হাজী মছকন্দর আলী কমিইউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সমাবেশে রুপ লাভ করে। বিকেল সাড়ে ৩টায় সম্মেলন শুরু হওয়ার প্রাক্কালে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ সম্মিলিত কন্ঠে জাতীয় সংগীত গেয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সাবেক ছাত্রদল নেতা মাসুম আহমদ ও জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মকসুদ আহমদের যৌথ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনের শুরুতে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফিজ নাজমুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু জাহিদ। ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারন সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থীগন। এছাড়াও সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের প্রয়াত নেতাকর্মীদের স্মরনে শোক প্রস্থাব করা হয়। সম্মেলন শেষে তৃনমুল নেতাকর্মীদের গোপন ব্যালটের মাধ্যমে উপজেলার ১০ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাধারন সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের ভোটে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পেয়ে সভাপতি পদে হাজী শাহাবুদ্দিন, সাধারন সম্পাদক পদে শামীম আহমদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বজলুর রহমান ফয়েজ নির্বাচিত হন। ফলাফল ঘোষনা করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট নুরুল হক। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষন করেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল এর পর্যবেক্ষক টীম। দুইটি অধিবেশনে সম্পন্ন হওয়া সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিম, যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট আব্দুল গাফ্ফার, যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহমদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান, যুগ্ম আহ্বায়ক এমরান আহমদ চৌধুরী প্রমুখ। অন্যন্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মকন মিয়া চেয়ারম্যান, সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ফালাকুজ্জামান জগলু, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী পাপিয়া চৌধুরী, জেলা বিএনপি নেতা সাবেক চেয়ারম্যান মিছবাহুল কাদির ফাহিম, বরইকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান হাবীব হোসেন, কুচাই ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম, বিএনপি নেতা এডভোকেট ফখরুল হক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল আহাদ খান জামাল, মহানগর ছাত্রদল সভাপতি নুরুল আলম সিদ্দিকী খালেদ, সাবেক সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন প্রমুখ। কাউন্সিলে বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দিতাকারীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, সভাপতি পদপ্রার্থী হাজী মো: শাহাবুদ্দিন, আব্দুল মালিক চেয়ারম্যান, তাজরুল ইসলাম তাজুল, ইকবাল বাহার চৌধুরী, সাধারন সম্পাদক পদপ্রার্থী কামাল হাসান জুয়েল ও শামীম আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী বজলুর রহমান ফয়েজ, শাহেদ আহমদ সুমন, কোহিনুর আহমদ প্রমুখ। সভাপতির বক্তব্যে সাবেক এমপি আলহাজ্ব শফী আহমদ চৌধুরী বলেন, হাজার হাজার জিয়ার সৈনিকের উপস্থিতিতে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির এই প্রানবন্ত কাউন্সিল প্রমান করে দক্ষিণ সুরমা বিএনপির অন্যতম দুর্জয় ঘাটি। আজকে নির্বাচিত কমিটির নেতৃত্বে আগামীতে সকল আন্দোলন সংগ্রাম সফলের মাধ্যমে দক্ষিণ সুরমার বিএনপির ইতিহাসের গৌরবোজ্জল অতীতের আবহমান ধারাকে অব্যাহত রাখার দীপ্ত শপথ নিতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা ইতোমধ্যে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন কমিটি গঠন করতে সক্ষম হয়েছি। সকল জায়গায় প্রতিযোগীতা ও প্রতিদ্বন্দিতা ছিল। তৃনমুলের ভোটে নেতা নির্বাচনের ফলে কোথাও বিদ্রোহ কিংবা সংঘাত সংঘর্ষ হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ উপজেলার শান্তিপুর্ন কাউন্সিল সারাদেশের বিএনপির নেতা নির্বাচনের জন্য একটি উজ্জল দৃষ্ঠান্ত হয়ে থাকবে। সকল ভেদাভেদ ও প্রতিহিংসা ভুলে আওয়ামী অবৈধ সরকারের পতন আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে প্রমান করতে হবে। শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিকরাই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী।  

বিস্তারিত»
ড. শফিউল হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি ছাত্রদলের

রাজশাহী : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শফিউল ইসলাম লিলন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেছে ছাত্রদল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী মহানগর শাখা। সোমবার দুপুরে রাজশাহী মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ছাত্রদল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও রাজশাহী মহানগর সভাপতি মাহফুজুর রহমান রিটন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ড. শফিউল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য সাংঘর্ষিক। এ ব্যাপারে সরকারের এলিট ফোর্স র‌্যাব এবং পুলিশের বক্তব্য বিপরীতধর্মী। এ দুই বাহিনীর সদস্যরা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে দুই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ড. শফিউল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের আগে রাজশাহী বিশ্বদ্যালয়ের আরো দুইজন শিক্ষক খুন হয়েছেন। সেসব হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। আমরা চাই, ড. শফিউল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের বিচার হোক। প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পাক। যেন আগামীতে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটানোর কেউ সাহস না পায়। সংবাদ সম্মেলনে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া ছাত্রলীগ সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস ও টেন্ডারবাজি করছে বলে দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলা হয়, ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রলীগের ভরাডুবি হবে বলেই সরকার নির্বাচন দিচ্ছে না। এ ছাড়া ছাত্রলীগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সকল ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। এ কারণে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংগঠনগুলোর সহাবস্থান দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতারকৃতরা প্রাক্তন ছাত্রদল এবং বর্তমানে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তারা জড়িত বলেও স্বীকার করেছেন। এদের শাস্তির ব্যাপারে আপনাদের মন্তব্য কী? গণমাধ্যম কর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে ছাত্রদল নেতা রিটন বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাক, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে ছাত্রদল রাবি শাখার প্রাক্তন আহ্বায়ক এবং বর্তমানে রাজশাহী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের নাম গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন। তার ব্যাপারে আপনারা কী বলবেন? এ ব্যাপারে রিটন বলেন, আমরা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। যারা জড়িত তাদের শাস্তি চাই। এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আগামী ২৮ নভেম্বর সকাল ১১টায় মহানগরীর ভুবনমোহন পার্ক থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

বিস্তারিত»
ভর্তি পরীক্ষায় মোবাইলে জালিয়াতি, আটক ৭, বহিষ্কার ৩৫

ইবি: মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ায় কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। মোবাইল ফোন বহন করায় বহিষ্কার করা হয়েছে ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে। এ ছাড়া হাবিবুর রহমান নামের এক ভুয়া শিক্ষার্থীকেও আটক করা হয়। সোমবার ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে তাদের আটক ও বহিষ্কার করা হয়। আটক শিক্ষার্থীরা হলেন শহিদুল ইসলাম, আতিকুর রহমান, পলি খাতুন, আসমা খাতুন, স্বর্ণা সাহা ও এম সাম্মান জীম। তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা দেখে এবং হেডফোনে ব্লুটুথ সংযোগের মাধ্যমে শুনে উত্তরপত্র পূরণ করার অভিযোগ আনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আজ মোট চার শিফটে ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা চলাকালে আটক শিক্ষার্থীদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ত ম লোকমান হাকিম বলেন, “যেসব পরীক্ষার্থী পরীক্ষার হলে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিল তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।” বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য মো. শাহিনুর রহমান বলেন, “ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে ৩৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহন না করার জন্য আগেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর পরও যাদের কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।”  

বিস্তারিত»
ফলোআপ:বিশ্বনাথে আ’লীগ নেতার দুই  ছেলের বিরুদ্ধে ছিনতাই মামলা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেশবপুর গ্রামের রইছ আলী দুই ছেলের বিরুদ্ধে অটোরিকশা ছিনতাই মামলা দায়ের হয়েছে। সোমবার রাতে অটোরিকশা গাড়ি মালিক রতন কুমার মজুমদার বাদি হয়েছে দুই জনের নাম উল্লেখ্য করে আরোও একজন অজ্ঞাতনামা রেখে বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করেন। যার নং ১৫ (তাং ২৪.১১.১৪ইং)। মামলার আসামিরা হলেন-উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের রইছ আলীর ছেলে ফয়জুল ইসলাম ও তার ভাই ফখরুল ইসলাম। এদিকে, সিলেটের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাদের গ্রেফতারের নিদের্শ দিলেও পুলিশ সোমবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ফলে এনিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে তাদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রসঙ্গত, গত রবিবার রাতে উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সভাপতি রইছ আলী বাড়ি থেকে চোরাই অটোরিকশা উদ্ধার করে থানা পুলিশ।   থানার অফিসার ইন-চার্জ রফিকুল হোসেন মামলার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আসামী যত বড় অপরাধী হউক তাকে পুলিশের হাতে ধরা পরতেই হবে। পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।    

বিস্তারিত»

সাক্ষাৎকার

 কঠোর গোপনীয়তায় নগর বিএনপির পুনর্গঠন সম্পন্ন করতে চান

ঢাকা: যেনতেনভাবে নয়, অসন্তোষ কমিয়ে নেতাকর্মীদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করে সংগঠনকে আরো বেশি শক্তিশালী এবং গতিশীল করতে অতিরিক্ত সময় নিয়ে চলছে ঢাকা মহানগর বিএনপির পুনর্গঠন। এ কার্যক্রম সন্তোষজনক পর্যায়ে থাকলেও সরকারের বাধা আর দলীয় সীমাবদ্ধতার কারণে এ নিয়ে এখনই কিছু না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নেতারা। কঠোর গোপনীয়তায় নগর বিএনপির পুনর্গঠন সম্পন্ন করতে চান তারা। ঢাকা মহানগর বিএনপি চাঙ্গা করতে গত জুনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে আহ্বায়ক এবং তরুণ নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেলকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। কমিটি গঠনের এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। কিন্তু সময়সীমা পার হলেও কমিটি গঠন করা যায়নি। কমিটির কার্যক্রম নিয়ে বাংলামেইলের সঙ্গে কথা বলেছেন নগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। কী ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে কমিটি পুনর্গঠন কার্যক্রম চলছে? হাবিব উন নবী খান সোহেল: প্রথমত সংগঠন গোছানো, দ্বিতীয়ত নেতাকর্মীদের আন্দোলনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করা। এই দুটোরই প্রস্তুতি চলছে। এই কার্যক্রম শেষ হতে কত সময় লাগবে? সোহেল: আমরা চেষ্টা করছি যতোদ্রুত সময়ের মধ্যে সারা যায়। এর মধ্যে আন্দোলন চলে এলে সেক্ষেত্রে আন্দোলনের পাশাপাশি আমরা সংগঠন গোছানোর কাজ চালিয়ে যাবো। মহানগরের বর্তমান অবস্থা কী? সোহেল: কমিটি ঘোষণার পর মূলত: দুটো কাজ আমাদের হাতে দিয়ে দেয়া হয়েছিল। প্রথমটি হলো তৃণমূল থেকে ওপর পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীতে সাংগঠনিক দুর্বলতার যে বিষয়গুলো রয়েছে সেগুলো দূর করা। যেখানে কমিটি দরকার সেখানে কমিটি করে দেয়া। দ্বিতীয়ত: সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলা, যেটা ঢাকা মহানগরীর কাছে মানুষ প্রত্যাশা করে। দু’টা কাজ আমরা পাশাপাশি চালাচ্ছি। এতো বড় একটা মহানগরী, এখানে এতো অল্প সময়ের মধ্যে কাজ করা যায় না। যেনতেন করে কাজ শেষ করলেও হবে না। আমাদের একটু সময় লাগছে। প্রথমে ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নগুলো নিয়ে কাজ করছি। পরে আমরা থানাগুলোতে হাত দেবো। আমাদের কাজ মোটামুটি এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি জায়গায়, প্রতিটি ইউনিটে সরকারি হস্তক্ষেপ রয়েছে। পুলিশ কাজ করতে দেয় না। এ কারণে অনেক জায়গায় কাজ করা যাচ্ছে না। আবার দেখা যাচ্ছে মাঝখানে কর্মসূচি চলে আসছে। কর্মসূচি এলে তার আয়োজন করতে হয়। সেজন্য আমাদের কাজ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব মিলিয়ে কিছু প্রতিবন্ধকতার মধ্যদিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে। পাশাপাশি আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। আন্দোলন করতে হলে নেতাকর্মীদের মানসিকভাবে তৈরি করতে হয়। এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি আমরা। এ পর্যন্ত মহানগরীর কতগুলো শাখা ও ইউনিটে কমিটি সম্পন্ন হয়েছে? সোহেল: এই মুহূর্তে আমরা এগুলো প্রকাশ করছি না। সময় মতো প্রকাশ করবো। কার্যক্রম মোটামুটি সন্তোষজনক পর্যায় রয়েছে। পুনর্গঠন কার্যক্রমে বড় বাধা কী? সোহেল: বললাম না, সরকার। একটি ইউনিট করতে গেলে তো সেখানে গিয়ে বসতে হয়। সেখানে তো পুলিশ বসতে দিচ্ছে না। যার কারণে আমাদের কর্মিসভা শিফট করতে হচ্ছে। এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় বাধা। এরপর কর্মসূচি আসছে, ম্যাডাম ঢাকার বাইরে গেলে আমাদেরও ঢাকার বাইরে যেতে হচ্ছে। কার্যক্রম কি ধীর গতিতে চলছে? সোহেল: আমরা চেষ্টা করছি যতোদ্রুত কাজ শেষ করা যায়। মহানগর বিএনপি ঢাকায় বড় ধরনের কর্মসূচি পালন করতে পারছে না কেন? সোহেল: প্রোগ্রাম তো করতে দিচ্ছে না সরকার। সরকার আমাদের ৮ তারিখে (৮ নভেম্বর) সমাবেশ করতে দিল না। এর আগে যেগুলো করেছি সেগুলো ভালোই হয়েছে। দিন দিন আমাদের কর্মসূচিতে লোক সমাগম বাড়ছে। কর্মী-সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ততা বাড়ছে। কিন্তু মিটিংতো করতে দেয় না। এখন আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা যদি অনুমতি না পাই তবে তো অনুমতির জন্য অপেক্ষা করা যাবে না। সেক্ষেত্রে আমাদের কর্মসূচি শুরু করতে হবে। দলের সীমাবদ্ধতা কমিটি গঠনে বড় কোনো বাধা হচ্ছে কী? সোহেল: না, এরকম কিছু নেই। সামনের আন্দোলন কর্মসূচি কী? সোহেল: নির্দলীয় সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলমান রয়েছে। ছোট-খাটো ইস্যুতে কথা বলছি। কিন্তু কোনো সমস্যারই সমাধান হবে না যতোদিন দেশে জনগণের সরকার না আসে। বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছে তারা তো জনগণের সরকার না। কার্যত তারা অবৈধ সরকার। যখন অন্যায় করা হচ্ছে দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে তার প্রতিবাদ করছি আমরা। ঢাকা মহানগরী ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তার জন্য কী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে? সোহেল: বিএনপি বড় রাজনৈতিক দল, বিএনপি একটি পপুলার পলিটিক্যাল পার্টি। এখানে অনেকেই সংগঠন করতে চায়। সবাইকে তো আর প্রোভাইড করা যায় না। সেক্ষেত্রে কিছু অসন্তোষ থাকতে পারে। আমরা চেষ্টা করছি সবাইকে নিয়ে সম্মানের সঙ্গে কাজ করার। সবাই যাতে হ্যাপি থাকে। এর মধ্যে একটু অসন্তোষ থাকতেই পারে। গত কমিটির ব্যর্থতা কি নতুন কমিটি ঢাকতে পারবে? সোহেল: গত কমিটি ব্যর্থ না সফল সে বিষয়ে আমি মন্তব্য করবো না। তবে আমরা সফল হওয়া

বিস্তারিত»

বিশেষ কলাম

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দিবস-মেজর(অবঃ) সিদ্দিক,পি এস সি

২১ নভেম্বর বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দিবস। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি গৌরব উজ্জ্বল দিন। ১৯৭১ এর এই দিনে বাংলাদেশ সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনী দখলদার পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমন পরিচালনা করে। মুক্তি যুদ্ধের প্রাথমিক দিকে খণ্ড খণ্ড গেরিলা যুদ্ধ পরিচালিতি হচ্ছিল। যুদ্ধের প্রায় ৮ মাস পর বাংলাদেশের স্থল,জল এবং আকাশ পথে শত্রু বাহিনীকে সমন্বিত আক্রমনের এই দিন ছিল প্রথম দিন । বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর নেত্রিত্তে মূলত সকল মুক্তিযুদ্ধারা এরি ধারাবাহিকতায় ১৬ ডিসেম্বরে বিজয় ছিনিয়ে আনে। যুদ্ধকালীন বাংলাদেশে যুদ্ধের পূর্বে পাক বাহিনীতে কর্মরত সেনারা স্বাধীনতার ডাকে বিদ্রোহী হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে ।বাংলাদেশের তিন বাহিনীর জন্মের ইতিহাস নিম্নে তুলে ধরা হল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীঃ ইতিমধ্যে সেনা বাহিনীতে তিনটি নিয়মিত ব্রিগেড গঠন করা হয়ঃ জেড ফোরস-ব্রিগেড -১,৩ এবং ৮ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর সমন্বয়ে প্রথম নিয়মিত ব্রিগেড । কমান্ডারঃ লেঃ কর্নেল জিয়াউর রহমান। স্থানঃ তোরা পাহাড়ের পাদদেশ-ময়মন্সিনহের উত্তরে। সময়ঃ ৭ জুলাই ১৯৭১। কে ফোরস-ব্রিগেড- ৪,৯ এবং ১০ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।কমান্ডারঃ লেঃ কর্নেল খালেদ মুশারফ।স্থানঃ আগরতলা । সময়ঃ সেপ্টেম্বর ১৯৭১। এস ফোরস-ব্রিগেড-২ এবং ১১ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট । কমান্ডারঃ মেজর কে এম শফিউল্লাহ ।স্থানঃ হিযামারা । সময়ঃ অক্টোবর ১৯৭১। তিনটি ব্রিগেড এর নেত্রিত্তে বাংলাদেশের সকল সীমান্ত বিশেষ করে কামাল পুর, হিলি,বেলুনিয়া আরও অনেক এলাকায় অবিরাম আক্রমণের মাধ্যমে জুলাই থেকে নভেম্বর পাক বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা এনং অনেক জনবল ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।এই ধারাবাহিক আক্রমন চূড়ান্ত আক্রমণকে সহজতর করে তুলে। ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের সূর্য উদিত হয়। স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ নেভিঃ পদ্মা এবং পলাশ এই দুটি যুদ্ধ জাহাজ নিয়ে মাত্র ৪৫ জন নৌ সেনা এনং অফিসারের সমন্নয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। মংলা এবং চট্টগ্রাম পোর্ট এ বাংলাদেশ নৌ সেনারা মারাত্মক আঘাতের মাধ্যমে দখলদারপাক নৌ চলাচলে এবং সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় । বাংলাদেশ বিমান বাহিনীঃ ভারতের দিমাপুর পরিত্যক্ত ঘাটিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠন করা হয় ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭১। তাঁদের দায়িত্ব ছিল সেক্টর ৬ এবং ১১ তে আক্রমন পরিচালনা করা । পরবর্তী ইতিহাস আমাদের প্রায় সবারই জানা । ঢাকা সেনা নিবাসে শিখা অনির্বাণে পুস্প মাল্য অর্পণের মাধ্যমে দিনটির উদযাপন শুরু হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন---তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। বীর সেনানী ও শহীদ পরিবারের প্রতি সন্মান জানানো হয়। সকল সেনানিবাস, নৌ ঘাঁটি এবং বিমান ঘাঁটিতে সমরাস্ত্রের উন্মুক্ত প্রদর্শনী করা হয়। ঢাকা সেনানিবাসে সেনা কুঞ্জে তিন বাহিনী প্রধান সরকার,বিরোধী দলের নেত্রীবৃন্দ এবং সামরিক ও বেসামরিক উচ্চ পদস্থ কর্ম কর্তাদেরকে নৈশ ভোজে আমন্ত্রন জানানো হয়। নানা কর্ম সূচির মাধ্যমে দেশে বিদেশে ভাব গাম্বিরজের মাধ্যমে পালিত হয় এ দিবস । বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী স্বাধীনতার ৪৩ বছরে অনেক দূর এগিয়েছে। বিশ্ব শান্তিতে জাতি সঙ্ঘ বাহিনীতে ভুমিকা রাখছে অসাধারন। দেশের ক্রান্তি কালে এই সশস্ত্র বাহিনীর কাছে মানুষের অনেক বেশী প্রত্যাশা!!! স্বাধীনতা -সার্বভৌমত্ব-গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার প্রশ্নে বাংলাদেশ এখন প্রশ্ন বিদ্ধ !!! তাই -----সশস্ত্র বাহিনী অনেক চরাই উৎরাইয়ের মাধ্যমে পারি দিচ্ছে বর্তমান কঠিন এবং জটিল পথ !!! যুদ্ধে সকল শহীদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে--- স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের জন্য সকল শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে---- এযাবৎ কালে এই বাহিনীকে গঠনে সকলের ত্যাগ ও সহযোগিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে -- স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত আমাদের জাতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ৪৪ তম দিবসে এর উত্তর উত্তর সফলতা এবং সম্ব্রিদ্ধি কামনা করছি।

বিস্তারিত»

এক্সক্লুসিভ

সামনে কী? বঙ্গোপসাগর! ফরহাদ মজহার

সামনে কী? এটাই এখনকার প্রশ্ন। অনেকে খোলাসা করে বলেন না, বলতে চান না বা বলতে ভয় পান। কিন্তু নীরব থাকলেও যে নীরব উৎকণ্ঠা এখন সর্বব্যাপী সেটা হল, এভাবেই কি দেশ চলবে? উত্তর : হ্যাঁ, চলবে। আপনাআপনি কোনো কিছুই বদলায় না। তাছাড়া দেশ খারাপ চলছে কোথায়? দুর্নীতি, দুর্বৃত্তপনা, খুন, গুম-খুন, আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বিরোধী মত ও চিন্তাকে কঠোরভাবে দমন, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনকে দলীয় হাতিয়ারে পরিণত করা, বিরোধী দলকে আস্তে আস্তে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া- সবই খারাপ কাজ। আলবৎ। এতে কোনোই সন্দেহ নেই। কিন্তু সেটা তো সরকারবিরোধীদের সমস্যা। সরকারেরও না, দেশেরও না। যদি না দেশ বলতে সুনির্দিষ্টভাবে নাগরিকদের বুঝি। দেশের সমস্যা কী আসলে? দেশ তো বিমূর্ত কিছু নয়। যদি বর্তমান সমস্যা সমাধানের পথ থাকা সত্ত্বেও নাগরিকরা ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা থেকে সরাতে না পারে, কেবল তখনই দেশের সমস্যা কথাটা অর্থপূর্ণ হয়। যদি যাহা বাহান্ন তাহাই তেপ্পান্ন হয়তো ক্ষমতার হাতবদলে দেশের সমস্যার কী সমাধান হবে? যদি বিরোধী রাজনীতির মধ্যে এসবের অবসান ঘটার অঙ্গীকার পাওয়া যেত, তাহলে বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের রাজনীতি আপনাতেই দানা বাঁধত। তখন অঙ্গীকারকে বাস্তবে রূপ দেয়ার নীতি ও কৌশল নিয়ে কথা উঠত। রাজনীতির ইতিবাচক মেরুকরণ ঘটত। এ কথাগুলো বারবার বলা হয়েছে। কিন্তু বিরোধী রাজনীতি সেসব কথা কানে তোলেনি। ফলে ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। অচিরে এর অবসান ঘটবে তার কোনো কারণ দেখি না। বিরোধী রাজনীতি বর্তমান অবস্থা থাকে উত্তরণের কথা ভাবছে বা এ বিষয় নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে চায়, তাদের কাছ থেকে এ বিষয়ে ন্যূনতম কোনো প্রতিশ্র“তি পাওয়া গেলে অন্তত চিন্তাভাবনার দিক থেকে পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা শুরু হতো। বিরোধী দল বা জোট কীভাবে তাদের অঙ্গীকার বা প্রতিশ্র“তি বাস্তবায়ন করবে তার নীতি ও কৌশল নিয়ে সমাজে কথাবার্তা শুরু হয়ে যেত, জনগণ কোনো দল বা পক্ষ হিসেবে নয়, একটা রাজনীতির পক্ষে এসে দাঁড়াতে শুরু করত, নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে যেত। একেই রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বলা হয়। যদি আমরা নিশ্চিত হতে পারতাম যে, ক্ষমতাসীনদের বিদায় দিয়ে যাদের আমরা ক্ষমতায় আনতে চাই তারা এমনভাবে দেশ চালাবেন যাতে ওপরে যা কিছু মন্দ ব্যাপারের কথা বলা হল সেসব আর ঘটবে না, তখন পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নিত। না, সেটা বিরোধী রাজনীতির সদিচ্ছার ওপর আমরা ছেড়ে দিতে পারি না। কী ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা তারা নেবেন যাতে দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তপনা এখনকার মতো দুষ্ট ক্ষতের রূপ নেবে না, সেটা তাদের কংক্রিট ভাষায় বলার জন্যই আমরা বলতে থাকব। যেমন, একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন একটি প্রস্তাব হতে পারে। খুন, গুমখুন, আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ইত্যাদি বন্ধ করা যাবে কীভাবে? দল, মত, ধর্ম, বিশ্বাস, সম্প্রদায় নির্বিশেষে নাগরিকদের মানবিক অধিকার সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত ও প্রশাসনিকভাবে বলবৎ করার মধ্য দিয়ে; সেটা করতে হলে সংবিধান সংস্কারের দরকার হবে। প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে দলীয়করণ থেকে মুক্ত করতে হবে। এগুলো তো অতি প্রাথমিক প্রত্যাশা। এরপর অর্থনৈতিক উন্নতি, কাজ সৃষ্টি ও কর্মোদ্যোগের প্রেরণা তৈরি- ইত্যাদি তো আছেই। সর্বোপরি দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্ন। বাংলাদেশ কি নিজের হিম্মত নিয়ে দাঁড়াতে পারবে? বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কি নতজানু নয়? কিন্তু সেটা তো এখন হয়নি। আজকালের ব্যাপার কি? একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে উপমহাদেশে যে রাষ্ট্রটির জন্ম হয়েছে, প্রথম থেকেই দিল্লি তার ওপর প্রভুত্ব করতে চেয়েছে। এখন হা-হুতাশের কী আছে? ভাগ্য ভালো যে আমি কে তুমি কে বাঙালি বাঙালি বলতে বলতে আমরা পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে এখনও যুক্ত হয়ে যাওয়ার দাবি তুলিনি। আমরা তো একই জাতি। একই আমাদের ভাষা, একই আমাদের সংস্কৃতি। ফলে একত্রিত হয়ে যাওয়াই তো এই জাতির নিয়তির বিধান ছিল। কেন হল না, সেটাই বরং ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রহস্য। ধর্ম? না সেটা অবশ্য এক নয়। অতএব ধর্মই এই একত্রীকরণ প্রক্রিয়া বা ঐক্যের পথে প্রধান বাধা। সব দোষের মূল হিন্দুত্ববাদ! না না, থুক্কু, ইসলাম। ইসলামই বাঙালিদের একত্রিত হওয়ার পথে প্রধান বাধা। এই চিন্তাই তো আমাদের গ্রাস করে থাকে। ফলে আমরা বাঙালি হওয়ার জন্য ইসলামবিদ্বেষী হয়ে যাই, ইসলামোফোবিয়া বা ইসলাম-আতংকে ভুগি। একদল মনে করে, টুপি পরা পাঞ্জাবি পরা মাদ্রাসার ছেলেদের জঙ্গি বলে ধরিয়ে দিয়েই বঙ্গভূমিকে ইসলামমুক্ত রাখা যাবে। বিদেশে ইংরেজের দেশে বড় হওয়া ছেলেমেয়ে- যারা আরবি বা নিজের মাতৃভাষার মধ্য দিয়ে ইসলামের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পর্যন্ত পায়নি- দেখি যে তারা কড়া ইসলামপন্থায় বিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। বিশ্ব পরিস্থিতির মধ্যে কী এমন বদল ঘটছে, যার ফলে বড় একটি জেনারেশনের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার অভিমুখ এত তাড়াতাড়ি বদলে গেল! না, আমাদের সেটা বোঝার সময় নাই। চতুর্দিকে আমরা শুধু ইসলামী জঙ্গির ভূত দেখি। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আমরা আবার অতিরিক্ত মুসলমান বনে যাই, বাংলা সংস্কৃতি মানেই যে হিন্দুর সংস্কৃতি এ কথা বলতে আমাদের মুখে বাধে না। বাঙালির সংস্কৃতির কথা শুনলেই মনে করি এ দেশ হিন্দুদের দেশ হয়ে গিয়েছে। আমাদের ভাব হয়, আমরা বুঝি এইমাত্র মদিনা থেকে খেজুর খেতে খেতে ঢাকায় এসে নেমেছি। এ দেশের ভূগোল, তার প্রাণ ও প্রকৃতি, তার খাদ্য ব্যবস্থা, সংস্কৃতি- সবকিছুর মধ্যেই হিন্দুয়ানা আবিষ্কার করা দ্বীনি কর্তব্য হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের মধ্যে আমরা মরুভূমি খুঁজতে থাকি। খুঁজে না পেয়ে অস্থির হয়ে যাই। ভুলে যাই, সিন্ধু থেকে হিন্দু- আর সিন্ধু নদীর এপাশে যারা বাস করে তারা সবাই হিন্দু। এটা হিন্দুদেরই দেশ। ধর্ম, বর্ণ, জাত, লিঙ্গ নির্বিশেষে সবাই হিন্দু। হিন্দু একসময় কোনো ধর্মের নাম ছিল না। সেই ইতিহাস আমরা ভুলে গিয়েছি। মুসলমানরাই এই উপমহাদেশের নাম রেখেছে হিন্দুস্তান। তাই না? সিন্ধু নদের এপাশের অধিবাসীদের হিন্দু বলতে বলতে অবশেষে ধর্ম হিসেবে এর রূপান্তর ঐতিহাসিক বাস্তবতা। এটা এখন আর শুধু ধর্ম মাত্র নয়। পরিচয়েরও সূত্র। আমি যদি মুসলমান হই তো সে হিন্দু হবে না কেন? মুসলমান তার আরব-ইরানি বা মুসলমানি পরিচয়কেই একমাত্র পরিচয়ে রূপান্তর করলে, সিন্ধু নদের অধিবাসীদের ইতিহাস বিস্মৃত হলে এবং তার ভূগোল ও প্রকৃতিকে অস্বীকার করলে হিন্দুও হিন্দুই হবে। আর কী হতে পারত! রাজনীতি একদিকে খুবই সহজ-সরল বোধ ও উপলব্ধির ওপর দাঁড়ায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা দর্শনের গালভরা ইংরেজি নামও আছে। ইথোস, পলিটি ইত্যাদি। অন্যদিকে যখন সেই বোধের ওপর জং ধরে এবং আমরা আমাদের বুদ্ধি, বিবেক, হুঁশজ্ঞান বিস্মৃত হই, তখন রাজনীতি খুবই কঠিন একটা ব্যাপার হয়ে পড়ে। বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে কঠিন কাজ সহজ ও সরলভাবে ভাবতে শেখা। সমাজকে সমাজ হিসেবেই তার বৈচিত্র্য, বিভিন্নতা ও দ্বন্দ্ব-সংঘাতসহ বোঝার চেষ্টা করা। নিজের মনগড়া ধ্যান-ধারণা ও কেচ্ছাকাহিনী বয়ে বেড়ালে রাজনীতিতে তার প্রভাব পড়বেই। বাঁকা চিন্তা নিয়ে বাঁকা পথে হাঁটতে হাঁটতে আমরা বঙ্কিম হয়ে গিয়েছি। কুকুরের লেজের মতো। সোজা করে ধরলে সেটা আবার গোল হয়ে পেঁচিয়ে যায়। তারপর আবার নড়ে, নাড়ায়! আশ্চর্য! অকুল সাগরে খাবি খাচ্ছি আমরা। সামনে কী? বঙ্গোপসাগর। দুই হতাশা দিয়ে কোনো লেখা শেষ করা আমার ধাতে নাই। আমি মনে করি, এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব। ভাবগম্ভীর কথা না বলে কাজের কথায় আসি। শেখ হাসিনার সরকার নৈতিক ও সাংবিধানিক দুই দিক থেকেই অবৈধ। সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে অনেকে তর্ক করেন। তারা বলেন, ঠিক আছে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন আদর্শ নির্বাচন নয়, কিন্তু এটা সাংবিধানিকভাবে বৈধ। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ছিল, নির্বাচন হয়েছে। যারা আসেনি, সেটা তাদের সমস্যা। এই তর্ক ধোপে টেকে না। কারণ সংবিধান বদলিয়েছেন শেখ হাসিনা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না করে তাকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচন করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, জনগণকে ভোট দেয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিশালসংখ্যক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এটাকে নির্বাচন বলে না। নির্বাচনের জন্য সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মানে নির্বাচনের নামে তামাশা করা নয়। ক্ষমতাসীনরা অতএব অনৈতিক ও অসাংবিধানিক। নির্বাচনের পর আন্তর্জাতিক মহলে দুটি ধারা আমরা লক্ষ করি। একদিকে দিল্লির অবস্থান। তার সার কথা কী? সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ছিল, নির্বাচন হয়ে গিয়েছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে হলে শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন থাকা জরুরি। বিশেষত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে। এখন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড- বিশেষত ব্যবসা ও বিনিয়োগই বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে। দ্বিতীয় ধারা দিল্লিবিরোধী। বিশেষত মার্কিন ও ইউরোপীয় দেশগুলো যে ধারার সমর্থক। তারা নির্বাচনকে গ্রহণ করেনি। তাদের যুক্তি হচ্ছে, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার একটাই পথ। সেটা হচ্ছে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথে সব পক্ষকে ধরে রাখা। শুরুতে দ্বিতীয় ধারার পক্ষেই আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ভারী ছিল। বিরোধী দল যদি এই সময়টা কাজে লাগাত, তাহলে আরেকটি নির্বাচন ক্ষমতাসীনরা দিতে বাধ্য হতো। কিন্তু বিরোধী রাজনীতি আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ায়। কেন তারা সরে দাঁড়ালেন তার কারণ বোঝা মুশকিল। ইতিমধ্যে বেশ বড় একটা সময় কেটে গিয়েছে। এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যেই সবকিছু আন্দোলিত হচ্ছে। ক্ষমতাসীনরা প্রশাসনিক, বিচার ও বল প্রয়োগের সব হাতিয়ার নিয়ে অনেক বেশি সংগঠিত। গণমাধ্যম স্বেচ্ছায় বা বাধ্য হয়ে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সবার পক্ষে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না, এই থিসিস মূলত বিরোধী দলের অদূরদর্শিতার কারণে ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। অস্থিতিশীলতা কোথায়? শেখ হাসিনা পিটিয়ে সব ঠাণ্ডা করে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহল নৈতিকতা ও বৈধতা নিয়ে কথা বলে বটে; কিন্তু তারা বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে এই মুহূর্তে দরকার শেখ হাসিনার সরকার। আন্তর্জাতিক মহলে এই ভাবনা শুরু হয়েছে যে, ক্ষমতাসীনরা উন্নয়নে মনোযোগ দিলে এবং তাদের জন্য উপযুক্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা দেয়া হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। দিল্লির থিসিস সত্য প্রমাণিত হতে চলেছে। কিন্তু এসবই তো ফের হতাশার কথাই হল। ঠিক। আশার কথা হচ্ছে, যদি সেটা সত্য হয়, তাহলে বিরোধী রাজনীতির মধ্যে এই হুঁশ ফিরে আসতে দেরি হওয়ার কথা নয় যে, আন্দোলন ছাড়া তাদের আর কোনো গতি নাই। দ্বিতীয়ত, এই আন্দোলনে তাদের জনগণের ওপরই নির্ভর করতে হবে, কোনো বিদেশী শক্তির ওপর নয়। এর অর্থ কী? সামাজিকভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির বিদেশ-নির্ভরতা কমতে পারে। বাধ্য হয়ে। বিএনপিকে তার ঘর গোছাতে হবে। সংগঠনের সংস্কার নির্বাচনী দল হিসেবে গোছালে হবে না। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়ার সাংগঠনিক শক্তি বিকাশের দরকারে গোছাতে হবে। বিএনপিকে এ ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এর আগে হতে হয়নি। নির্বাচনী দল থেকে বিএনপি আন্দোলনের দল হতে পারবে কি? কে জানে! তবুও দেখা যাক। ঠেকায় পড়ে অনেক কিছুই ঘটানো যায়। দ্বিতীয়ত, এর ফলে দলে যারা আন্দোলন চায় না, নির্বাচন চায়; আর যারা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সাংগঠনিক বিকাশ চায় তাদের মধ্যে বিরোধ প্রকট হবে। এটা বিএনপির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। বিএনপি দুর্বৃত্ত ও দুর্নীতিবাজদের খপ্পর থেকে বেরিয়ে এসে গণতান্ত্রিক রাজনীতির কাতারে শামিল হতে বাধ্য হবে কি-না জানি না, কিন্তু একটা শর্ত তৈরি হবে যা বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ খানিকটা ঠিক করে দেবে। তার মানে বিএনপিতে জেল-জুলুম খাটা কর্মীদের অবস্থান শক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে হলফ করে বলতে পারি না, কিন্তু এছাড়া বিএনপির আর বিকল্প কী? সংগঠন হিসেবে ক্ষয়ে যাওয়া, ক্ষয় ত্বরান্বিত হওয়া। বিএনপি নিশ্চয়ই সেটা চাইবে না। তৃতীয়ত, বিএনপি তার জোটের শরিকদের সঙ্গে মতাদর্শিক আলোচনা করতে বাধ্য হবে। এটা আশা করা অতি আশা বলে মনে হয় না। নির্বাচনী মোর্চা এক জিনিস, আর আন্দোলন-সংগ্রামের মৈত্রী ভিন্ন ব্যাপার। আমার যেমন বেণী তেমনি রবে চুল ভেজাব না ধরনের সুবিধাবাদী রাজনীতি বিএনপি পরিহার করতে বাধ্য হবে। ইসলামপন্থীদের নিয়ে যদি গণতান্ত্রিক কিংবা লিবারেল রাজনীতি বিএনপি করতে চায়, তাহলে ইসলাম প্রশ্নে তার রাজনীতি সুস্পষ্ট করতে হবে। ইসলামপন্থীরা রাস্তায় প্রাণ দেবে আর বিএনপির দুর্বৃত্ত ও দুর্নীতিবাজরা এমপি-মন্ত্রী হয়ে আবার লুটতরাজ করবে সেটা ইসলামপন্থীরা এখন চাইবে কিনা সন্দেহ। ধরা যাক বিএনপি কিছুই করল না। তাহলে? সেক্ষেত্রে? ক্ষমতাসীনরা বিএনপির মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়ার জন্য সব কিছুই করবে। তারপর জামায়াতে ইসলামীকেও। নিষিদ্ধ করবে কিনা সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। কিন্তু ইসলামপন্থীদের ওপর আওয়ামী দমনপীড়ন কমবে না। বাড়বে। সেটাও খারাপ হবে না। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের দ্রুত সংগঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে ক্যাটালিস্টের ভূমিকা পালন করবেন। বর্তমান অবস্থা ও ব্যবস্থা থেকে জনগণ মুক্তি চাইছে। প্রধান বিরোধী দল যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে কিছুই বসে থাকবে না। বিরোধী রাজনীতি ভিন্নভাবে সংগঠিত হবে। ইসলামপন্থাই একমাত্র বিকল্প হিসেবে হাজির হবে। বামপন্থার কথা বলা যেত, কিন্তু এই যুগেও তাদের ইসলাম বিদ্বেষ ও ইসলাম আতংক এত প্রবল যে, জাতীয় রাজনীতির হিসাব-নিকাশে পৌঁছাতে হলে তাদের বহু কাঠখড় পাড়ি দিয়ে আসতে হবে। ইনু-মেননের মন্ত্রিত্বের কথা বাদ দিলেও মানসিক ও মতাদর্শিকভাবে তারা তো শেখ হাসিনার সঙ্গেই আছেন। আর বর্তমানে শেখ হাসিনার চেয়ে বাংলাদেশে ইসলাম দরদি আর কে আছে! আমি তো দেখি না। তিনিই, ইনশাল্লাহ, এ দেশে ইসলামকে প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে হাজির হওয়ার সব শর্ত পূরণ করে যাবেন। খারাপ কী? ভালোই তো।

বিস্তারিত»

মতামত

সাংবাদিকতা ও দলবাজি

হেফাজুল করিম রকিব : সাংবাদিকতা কে সমাজের দর্পন বলা হয় । যে আয়নাতে সর্বস্তরের মানুষ যার যার নিজের চেহারাটা দেখার সুযোগ পায় তখনই মানুষ নিজেকে সুধরে নিতে পারে। সেই সাংবাদিকতা কেউ মফস্বল থেকে হয়তো বা কেউ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অথবা কেউ অফিস রুমে। অনেকে বেতন নিয়ে বা অনেকে বেতন না নিয়েও। এক সময় সাংবাদিকতা করা হতো শুধু মানুষের জন্য, সমাজকে ময়লা মুক্ত ও রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালনা করার জন্য। সরকারি দল যখন ক্ষমতায় থাকে তখন বিরোধীদল নানা বিষয়ে সরকারি দলের ভূলগুলো তুলে ধরবে সেটাই তাদের দায়িত্ব। আর যদি বিরোধীদল সেই ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয় তখন সাংবাদিকরা সেই দায়িত্ব পালন করে। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কতজনকে হাত-পা সহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ হারাতে হয়েছে, কত স্ত্রীকে স্বামী হারাতে হয়েছে, কত শিশুকে বাবা হারাতে হয়েছে, কত বাবা মাকে ছেলে হারাতে হয়েছে তার সঠিক হিসাব আজও গণনা করা লিষ্টে জায়গা হয়েছে কিনা তা অজানা। তবে ২০১৩ সালে ১২০ সাংবাদিক নিহত হয় বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে এবং এক হাজারের উপরে সাংবাদিক আহত হয়। একজন সাংবাদিকের চাওয়া পাওয়াটা এক সময় ছিল অন্যরকম। খুব কম বেতনে সাংবাদিকতা চালিয়ে যেতেন কোন রকমে । অনেক সময় পরিবারের জন্য কোন কিছুই করার সুযোগ হতো না টাকার অভাবে। সে সময় মানুষ মজা করে বা অনেকে সত্যি করে বলতো সাংবাদিককে মেয়ে দেয়া যাবে না বিয়ের জন্য। সাংবাদিকরা তাদের এই পেশায় কোন কিছু পায় বা না পায় তাদের নিজেদের পরিবার বলে প্রেস ক্লাব নামে যে সংগঠন থাকে সেই  পরিবারের সদস্য হতে সব সময় আগ্রহের সহিত অপেক্ষা করে । সাংবাদিকরা কখনো রাজনীনিতে নিজেকে জড়ানো কথা নয়!  কারণ তারা তো জাতির দর্পন ।    কিন্তু আজকের দুনিয়ায় সাংবাদিকরা রাজনীতির লেজুড়বিত্তিতে ব্যস্ত। কোন দলকে সমর্থন ছাড়া মনে হয় সাংবাদিকতা করা যায় না। পাশাপাশি সাংবাদিকরা ও যার যার মালিকদের যেন কেনা গোলাম। সাংবাদিকতা এখন পরাধীনতার কারাগারে বন্দি। দূনীর্তিবাজ, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, রাজনীতির দুর্বিত্তায়ন এর জাতাকলের নিচে পরে কোন মতে নিশ্বাস নিচ্ছে ।  যে কোন সময় হয়তো সেই নিশ্বাস ও বন্ধ হয়ে যেতে পারে । তা আবার নিজের পরিবারে দলবাজির রোষানলে পড়ে ছিন্ন বিছিন হবার উপক্রম এ পেশা ।   সাংবাদিকরা এখন অনেক গ্রুপে বিভক্ত। কেউবা ডানের সমর্থক আর কেউবা বামের সমর্থক  আবার কেউ ধর্ম বিক্রেতাদের সমর্থক। একজন মানুষ হিসেবে কোন রাজনীতিক দলকে সমর্থন করতে পারে কিন্তু সাংবাদিক হিসেবে সমর্থন সেটা হয়তো এখন সাধারণ মানুষ ভেবে দেখতেছে কতটুকু মহামূল্যবান পেশাকে ধ্বংস করা।  সাংবাদিক সমাজ এখন সেই দুর্বিত্তায়নের কাছে হেরে যাচ্ছে লোভে বা নিজেকে দ্রুতগতিতে বড় জায়গা নিয়ে যাওয়ার ভুল স্বপ্নে বা পরিবারের অজুহাত বা বাচাঁর অজুহাত দিয়ে ।   আজকে মফস্বল থেকে শুরু করে শহরের অফিস পযর্ন্ত সাংবাদিকরা রাজনীতির লেজুড়বিত্তির কারণে বিভক্ত। বাংলাদেশের প্রতিটি জায়গায়  নিজেদের স্বপ্নের পরিবার  প্রেস ক্লাব সহ সব ধরনের সংগঠন ভেঙ্গে একাকার । আর সেই বিভক্তিতে সবচেয়ে বেশি কষ্টের মুখোমুখি সত্যিকারের সাংবাদিকরা । অবাক লাগে সাংবাদিক সংগঠনের পদে থেকে আবার বিভিন্ন দলীয় নেতাদের উপদেষ্টার স্বাধ নিতেও অনেকে ভুলে নাই। গত দুই এক দিন আগে বাংলাদেশের জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ দেয়া হয়েছে অনেক ভাগ্যবান ব্যক্তিকে। সেই লিস্টে আমার প্রিয় অনেক মানুষ স্থান পেয়েছে । কিন্তু অবাক লাগে এখন উনাদের অবসর নেয়ার সময় এসেছে তখন উনারা পেয়েছে সদস্যপদ । অনেকের রাজনীতির লেজুড়ভিত্তির সমর্থন না থাকায় সদস্যপদ পাওয়ার যোগ্যতা থাকলেও তা অভিশাপ হয়ে দাড়ায় ।   আর এখন আপনি যদি কোন ক্লাবের সদস্য হতে চান আপনাকে অবশ্যই আত্নীয় হতে হবে অথবা রাজনীতিক কোন দলের সমর্থনের সীল আপনার গায়ে লাগাতে হবে আর তা না হলে বছরের পর বছর সদস্যপদ থেকে বঞ্চিত হতে হবে । আমি মনে করিছিলাম সেটা শুধু বাংলাদেশে কিন্তু বিধি বাম  বাঙ্গালী যেখানে যায় তাদের সেই লেজুড়ভিত্তির ঐতিহ্য কি ভুলে যেতে পারে? তা কি করে সম্ভব ! ২০১২ সালে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ নিয়েও সেই রকম সমস্যায় ভুগতে হলো আমার চেনা অনেক সিনিয়র সাংবাদিকদের । একজন ২০০০ সাল থেকে সাংবাদিকতা করে ও সদস্যপদ পেল না অথচ প্রেস ক্লাবের নিবার্চনে জেতার জন্য নিজের প্রতিষ্ঠানের পিয়নকে পর্যন্ত সাংবাদিক বানিয়ে সদস্যপদ দেয়া হলো । এটাই হলো বাস্তবতা। সেভাবেই চলছে বাংলাদেশের প্রতিটি জায়গায় । সেরকম দৃশ্য যখন বাংলাদেশের জাতীয় প্রেসক্লাবে ঘটে এতে তো অবাক হবার ই কথা। যে ভাবে দলবাজদের সাংবাদিক বানিয়ে অপর্কম সারানো হচ্ছে তাতে দেশ জাতি, সাধারণ মানুষ কোয়ায় গিয়ে দাড়াবে সেটা ভাবতে গা শিউরে উঠে।  সাংবাদিক সমাজ যতক্ষন পর্যন্ত দলবাজ থাকবে ততক্ষন পর্যন্ত এভাবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মতো জায়গায় দলবাজদের স্থান হবে, প্রকৃত সাংবাদিকদের নয় । যে সরকার আসে এখন সেটা সে সরকারের নিজস্ব প্রতিষ্টান হয়ে যায় অথবা অনেক সময় বিরোধী দলের দলবাজরা প্রেস ক্লাবের ক্ষমতায় থাকলে সাংবাদিদের সাথে সাথে খোদ তো সরকারকে বেকায়দায় পড়তে হয়। কেউ যদি ঘুমায় তাকে জাগ্রত করা যায় কিন্তু দলবাজরা নিজেদের স্বার্থের জন্য চোখ খোলা রেখে ঘুমানোর অভিনয় করে যাচ্ছে। তাদেরকে কিভাবে জাগ্রত করা যায় সেটাই ভয়ের বিষয়। তাহলে কি এভাবে এই পেশাটা ধ্বংস হয়ে যাবে ? মানুষ কি আয়নাতে নিজের দোষষগুলো আর দেখতে পাবে না ? হেফাজুল করিম রকিব সাংবাদিক, লন্ডন।

বিস্তারিত»

বিনোদন

আবারো জুটিবদ্ধ হলেন মোশাররফ-জুঁই

আবারো নাটকে জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় তারকা দম্পতি মোশাররফ করিম ও জুঁই করিম। আলমগীর রুমানের রচনা ও পরিচালনায় ‘ক্ষুধা’ নাটকে তারা দু’জন জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেছেন। এরইমধ্যে রাজধানী উত্তরার বিভিন্ন লোকেশনে নাটকটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। নাটকের মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে বলতে গিয়ে মোশাররফ করিম বলেন, ‘বছরজুড়ে অনেক নাটকেই অভিনয় করি আমি। তবে কিছু কিছু নাটকের গল্প মনের ভেতর গেঁথে যায় স্ক্রিপ্ট পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই। ক্ষুধা ঠিক তেমনি একটি নাটক। খুব ভালোলেগেছে আমার অভিনয় করতে। সঙ্গে সহশিল্পী হিসেবে আমার সহধর্মিনী জুঁই করিমও ছিলেন। সবমিলিয়ে নতুন পরিচালক হিসেবে আলমগীর রুমান বেশ ভালো একটি নাটক নির্মাণ করেছেন।’ আবারো স্বামী মোশাররফ করিমের সঙ্গে কাজ করা প্রসঙ্গে জুঁই করিম বলেন, ‘অভিনয়ের বিষয়ে ও সবসময় আমাকে উৎসাহ দেন। যা সবসময়ই আমার খুব ভালো লাগে। তার সহযোগিতাতেই তো আজ অভিনয় করতে পারছি, প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চরিত্রের মুখোমুখি হয়ে নিজেকে অভিজ্ঞ করে তোলার চেষ্টা করছি।’ পরিচালক আলমগীর রুমান জানান, খুব শিগগরিই নাটকটি একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচার হবে। সর্বশেষ মোশাররফ করিম ও জুঁই করিম ‘প্রপস’ নামের একখ-ের নাটকে কাজ করেছিলেন। রফিকুল ইসলামের রচনা ও বিইউ শুভর পরিচালনায় এই নাটকের শুটিং হয়েছিল নেপালে। তারা দু’জন প্রথম একসঙ্গে অভিনয় করেন নাসির আল মনিরের পরিচালনায় ‘সিমিলার টু’ নাটকে। রাজীব রসূলের ‘গেট’ নাটকেও কাজ করেছেন তারা দু’জন।

বিস্তারিত»

স্বাস্থ্য ও রুপচর্চা

কফি পানে ৬টি উপকারিতা

শীতের আলসামিতে মাখা সকালে গরম গরম কফির কাপে এক চুমুক সকালটাই বদলে দেয়। শীত মানের কফি ছাড়া আমরা আর কিছুই ভাবতে পারি না। কনকনে ঠান্ডায় সকাল-সন্ধ্যা কফির গরম মগে নিজের হাত সেঁকে নেওয়া। শীত কালে শরীর গরম রাখতে কফির জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু জানেন কি এক কাপ গরম কফি আপনাকে দিতে পারে অনেকগুলি রোগের হাত থেকে নিস্তার। আসুন দেখে নেয়া যাক: ডায়াবেটিক কন্ট্রোল: বিভিন্ন হার্ট ডিজিজ আর ডায়বেটিস অনেকটা কমে যায় যদি নিয়মিত অল্প পরিমাণে কফি পান করেন। তবে মাথায় রাখবে কফিটি হতে হবে চিনি ছাড়া। স্কিন ক্যানসারের হাত থেকে বাঁচায়: নিয়মিত কফি পান স্কিন ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কমিয়ে দেয়। সেইসঙ্গে দেহের অন্য অংশেও ক্যান্সারের আশঙ্কা কমায় । পার্কিনসন্স ডিসিজের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়: দিনে কয়েক কাপ কপি খেলে পার্কিনসন্স ডিসিজ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়। অ্যালঝাইমারস হতে দেয় না: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই রোগটি দেখা দেয়। একটি সমীক্ষা বলছে এইসময় যদি কফি খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেন তা হলে অ্যালঝাইমারস হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। স্ট্রেস কমায়: যারা কাজের স্ট্রেসের কারণে রাতে ভাল করে ঘুমোতে পারেন না তারা শোয়ার আগে কিছুক্ষণ অন্তত কফির গন্ধ শুঁকুন। কফির অ্যারোমা কিন্তু নিমেষে আপনার স্ট্রেস কমিয়ে দেবে। কোলোন সার্জারি তাড়াতাড়ি সারিয়ে তোলে: কোলোন সার্জারি হলে পেট পরিষ্কার রাখা খুব জরুরি। রোজ কফি খেলে আপনার পেট পরিষ্কার থাকবে আর তাড়াতাড়ি সেরে উঠবেন।- ওয়েবসাইট।

বিস্তারিত»

সম্পাদকীয়

ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের সম্পদ না বোঝা?

আর কতকাল সংবাদ শিরোনামে ছাত্রলীগের জায়গা নির্দিষ্ট করা থাকবে? শিরোনাম যদি ইতিবাচক হতো, আমরা খুশি হতাম। কিন্তু ছাত্রলীগ ইতিবাচক শিরোনামে থেকেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এমন উদাহরণ নেই বললেই চলে। তাদের খবর মানে মন খারাপ করা খবর, দুঃস্বপ্নের খবর। সর্বশেষ অপকাণ্ডটি (কে জানে এই লেখা ছাপা হওয়ার আগেই হয়তো আরেকটি অপকর্ম ঘটিয়েছে তারা) তারা ঘটিয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) ক্যাম্পাসে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ গুলি ও ককটেল বিনিময় করেছে। এতে নিহত হয়েছেন এক ছাত্র; প্রক্টর ও পুলিশসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। পদধারী ও পদবঞ্চিতদের এ লড়াই ছাত্রদলের ক্ষেত্রেও দেখেছি আমরা। তবে এ ধরনের সংঘর্ষে ছাত্রদলের কেউ নিহত হয়নি, ছাত্রলীগে নিহত হওয়ার ঘটনাও দেখলাম আমরা। সঙ্গত কারণেই শাবি কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে ছাত্রছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। ছাত্রলীগ একটি সংগঠন বটে! ইচ্ছা হল গুলি করতে, করে দিল; ইচ্ছা হল ককটেল ফাটাতে, মুহূর্তকাল দেরি হল না। এদের মধ্যে যে এখন আদর্শের ছিটেফোঁটাও নেই, তা বোঝা যায় সতীর্থদের ওপর আক্রমণ থেকে। একই আদর্শে (!) বিশ্বাসী অথচ আধিপত্য রক্ষার স্বার্থে প্রতিদ্বন্দ্বীর বুকে গুলি করতে কোনো দ্বিধা নেই। ছাত্রদলের সঙ্গে মারামারি করলেও না হয় একটা কিছু বোঝা যেত। এটা খুবই স্পষ্ট যে, ছাত্রলীগের কর্মীরা মুখে যতই জয় বাংলা বা জয় বঙ্গবন্ধু বলুক, তারা বাস্তবে কোনো আদর্শ ধারণ করে না। এ ধরনের একটি অঙ্গসংগঠন টিকিয়ে রাখবেন কি-না, প্রধানমন্ত্রীর তা ভাবার সময় এসে গেছে। ছাত্রলীগে শৃংখলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা কম হয়নি। কোনো লাভ হয়নি। এই চেষ্টাটা যে আন্তরিকতার সঙ্গে হয়েছে, সেটাও বা বলা যাবে কীভাবে? বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ কর্মীদের দেখা যাচ্ছে দলীয় অনুষ্ঠানে। কীভাবে তা সম্ভব? কার পকেটে কত টাকা আছে তা টের পায় পুলিশ অথচ জ্বলজ্যান্ত মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে, তা দেখতে পায় না! একটা বিষয় আমরা প্রত্যক্ষ করে আসছি, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার হয় না। কেন? এটি কি আলাদা কোনো সার্বভৌম এলাকা? এই এলাকা কি দেশের সংবিধান, আইন-কানুনের আওতাভুক্ত নয়? উন্মত্ত সংঘবদ্ধ গ্র“পের মধ্য থেকে কে বা কারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা চিহ্নিত করা কঠিন মনে হতে পারে; কিন্তু তদন্ত প্রক্রিয়াটি যদি পেশাগত দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে করা হয়, তাহলে কাজটা মোটেও কঠিন নয়। আমরা চাইব, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে। বৃহস্পতিবার শাবিতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডেরও। ছাত্রলীগের হওয়ার কথা ছিল আওয়ামী লীগের সম্পদ। তা না হয়ে সংগঠনটি হয়ে পড়েছে বোঝা। এই বোঝা আর কতকাল টানবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব, কে জানে। বোঝাটা যখন অসহনীয় হয়ে পড়েছে, তখন অন্তত এটাকে হালকা করতে হবে। এজন্য সংগঠনটিকে দুষ্টমুক্ত করতে হবে। সেই যে কথা, দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়ালও ভালো। অবশ্য আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দুষ্টদের ছাত্রলীগই চায় কি-না, সেটাও একটা কথা।

বিস্তারিত»

বিজ্ঞপ্তি

ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা

আনুগত্যের উজ্জ্বল মহিমায় ভাস্বর ঈদ উল আজহা।ঈদুল আজহার উদ্দেশ্য স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকা।কুরবানীর সঠিক তাৎপর্যকে উপলব্ধি করে যদি ধর্মপ্রাণ মানুষ কুরবানী দেয়, তাহলে ঈদ-উল-আজহার প্রকৃত উদ্দেশ্য সার্থক হবে। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে গাঢ় হয় পরস্পরের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা, ভালবাসা এবং শ্রদ্ধাবোধ। আল্লাহ্‌তায়ালা ধনী-গরীব সবার মাঝেই ঈদের আনন্দ সমান-ভাবে বন্টনের যে শিক্ষা দিয়েছেন তা সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমে এর তাৎপর্যকে তুলে ধরতে হবে। এই পবিত্র দিনে সিলেটের আলাপ ডট কমের সুপ্রিয় পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের  প্রতি আহবান, ত্যাগের মহিমায় উজ্জল ঈদুল আজহার দিনে আনন্দ উৎসবে ভরে উঠুক সকলের মনপ্রাণ। সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে, গরীব দুঃখীদের পাশে দাঁড়াই।। পবিত্র ঈদ-উল-আযহা  সবার জন্য বয়ে আনুক অনাবিল সুখ ও প্রশান্তি।                                                    সিলেটের আলাপ ডটকমের পক্ষে  সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ডাঃ আব্দুল আজিজ  সম্পাদক তোফায়েল আহমদ খান সায়েক  

বিস্তারিত»

শোক-সংবাদ

জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান মুমিত আসুক আর নেই

এ.জে লাভলু, বড়লেখা প্রতিনিধি:জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানএম এ মুমিত আসুক আর নেই। আজ শনিবার(২২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ন’টায় উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের চাক্কাটিলাস্থ নিজ বাংলো বাড়ীতে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।আগামীকাল দুপুর আড়াইটায় উপজেলার তৈয়বুন্নেসা খানম ডিগ্রি কলেজ মাঠে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

বিস্তারিত»

সাম্প্রতিক খবর সর্বাধিক পঠিত

জরিপ

Loading...

Archive