নাটোরে দ্বন্দ্বে জেরবার ‘দুলুর বিএনপি’

নাটোর: দেশব্যাপী দলীয় সফরের অংশ হিসেবে শনিবার নাটোরে আসছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। স্থানীয় নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে ২০ দলীয় জোটের জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।এখান থেকে সরকার পতন আন্দোলনের কর্মসূচিরও ঘোষণা আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে দলীয় নেতাকর্মীদের অবস্থান সম্পর্কে দিকনির্দেশনাও থাকতে পারে এতে। অথচ এই সময়ে নাটোর বিএনপি দলীয় দ্বন্দ্ব-কোন্দলে জেরবার। ত্রিমুখী দ্বন্দ্বে আছেন ত্যাগী, বঞ্চিত, বহিষ্কৃত, সুবিধাভোগীসহ নানা অভিধার নেতাকর্মী। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় নাটোর জেলা-উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত ও বঞ্চিত নেতারা শনিবারের সমাবেশে যোগ দেবেন। তাদের দাবি, শুধু সভা-সমাবেশ নয়, দল গোছানোর কাজও করতে হবে নেত্রীকে। কেননা, নাটোর বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি হলেও শুধু দলে ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন ও তারা মাঠে না থাকায় বিগত সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে দল। জেলায় নীরব দ্বন্দ্ব ও উপজেলাগুলোতে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের কারণে বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলন শুধু মিডিয়া ট্রায়ালেই সীমাবদ্ধ ছিল। এ ছাড়া জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতের সঙ্গেও ছিল জেলা বিএনপির  ঠান্ডা লড়াই। তবে অন্যান্য উপজেলায় স্থানীয় নেতারা জোট বজায় রেখেই কাজ করার চেষ্টা করেন। এত কিছুর পরও সরকারবিরোধী আন্দোলনে বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। কিন্তু  সঠিক সহযোদ্ধার অভাবে তা কূল পায়নি।বারবার হোঁচট খেতে হয়েছে তাকে। বর্তমান সরকারের সময়ে ইতিমধ্যে দু-দুবার কারাবরণ করতে হয়েছে তাকে।  তার অনুপস্থিতে কোনো সময়ই প্রকৃত অর্থে মাঠে নামতে পারেনি বিএনপি। সরকারবিরোধী আন্দোলনে জেলায় কয়েকজন নেতাকর্মী খুন হলেও দেশব্যাপী আন্দোলনে উঠে আসে নাটোরের দুটি নাম। বনপাড়ায় প্রকাশ্যে পিটিয়ে খুন করা হয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সানাউল্লাহ নূর বাবুকে এবং শহরের কানাইখালী এলাকায় গুলিতে নিহত হন ছাত্রদলের নেতা সাইফুজ্জামান সুজন। বঞ্চিতরা মনে করেন, দুলুর অনুপস্থিতির চেয়ে দলের প্রধান সংকট দলে আত্মীয়করণ ও ব্যক্তি পছন্দের নেতা নির্বাচন। এ জন্য শুধু আন্দোলনেই ব্যর্থতা নয়, দলকে সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে বিভিন্ন নির্বাচনে খেসারতও দিতে হয়েছে। তবে এ সমস্যাকে তেমন কোনো সমস্যাই মনে করেন না জেলা বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জেলা চেম্বারের সভাপতি আমিনুল হক।   চারটি সংসদীয় আসন, সাতটি উপজেলা, আটটি পৌরসভা ও ৫২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নাটোর জেলা বিএনপির দুর্গ হিসেবে খ্যাত। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে চারটি সংসদীয় আসনের চারটিতেই জয়লাভ করে মহাজোট। আর গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে একটিতে ভোটে আর বাকি তিনটি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়  জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ।   ২০০৯ সালে ১৬ নভেম্বর বিএনপির কাউন্সিল হলে দলের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে বিএনপি। সাবেক কিছু নেতা উপেক্ষিত হন। জেলা কাউন্সিলসহ বিভিন্ন উপজেলার কাউন্সিলে সভাপতির পছন্দমতো পকেট কমিটি গঠন করা হয় এমন অভিযোগও ওঠে। জেলা কাউন্সিলে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে সভাপতি ও ব্যবসায়ী আমিনুল হককে করা হয় সাধারণ সম্পাদক। কমিটি থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়েন সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাচ্চু। তাকে সান্ত্বনার প্রতীক হিসেবে করা হয় জেলার সহসভাপতি। পরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তবে দুলুর কারাবরণের সময় বিশিষ্ট শিল্পপতি হামজা গ্রুপের মালিক আবুল কাশেমকে নিয়ে বিএনপির বি-টিম দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন তারা। বিএনপিকে দুলুর পরিবারের গ্রাসমুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামলেও দুলুর মুক্তির পর আবুল কাশেমকে আর মাঠে দেখা যায়নি। জরুরি কাজে দেশের বাইরে যাবেন তাই নেত্রীর আগমনেও নাটোরে থাকতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকায় অবস্থানরত শিল্পপতি আবুল কাশেম। তিনি অভিযোগ করেন, নেত্রীর প্রোগ্রামে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাওয়াত করা হয়নি। তবে সমাবেশে তার প্রায় ২৫-৩০ হাজার নেতাকর্মী অংশ নেবেন বলে জানান। আবুল কাশেম বলেন, “বড় দুই দলে নেতাদের আসন লিজ নেয়ার প্রবণতা ভাঙতেই আমি রাজনীতি করার চেষ্টা করছি। দলের কর্ণধার তারেক রহমানও বিষয়টি জানেন। তাই জনগণের দোয়া নিয়ে আগামীতে মাঠে থাকব। দলকে সব ধরনের আত্মীয়করণ থেকে মুক্ত করা হবে।” বহিষ্কৃত নেতা শহিদুল ইসলাম বাচ্চু অনেকটা ক্ষোভ নিয়েই বলেন, “নেতানেত্রীরা সফর করে জনসভা করে ঢাকায় ফিরে যান। মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক অবস্থার খবর নেন না। দলের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা নিয়ে দলকে সুসংগঠিত না করে জনসভায় লাভ হবে না। তাই দলীয় বিভেদ দূর করা দরকার।নেত্রীর সমাবেশে তার অনুসারী সব নেতাকর্মী অংশ নেবে।”        পৌর বিএনপির কমিটি গঠনেও ত্যাগী অনেককেই উপেক্ষার শিকার হতে হয়েছে। ছিটকে পড়েন আব্দুল মান্নাফ। সভাপতি করা হয় দুলুর বড় ভাই সাবেক পিপি রুহুল আমিন তালুকদার টগরকে আর সাধারণ সম্পাদক হন দুলুর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ব্যবসায়ী এমদাদুল হক আল মামুন। জেলা বিএনপিতে  অনেকটাই একক ক্ষমতাই দখল করে আছেন তারেক রহমানের কাছের ব্যক্তি খ্যাত রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। কিন্তু জেলার অন্যান্য উপজেলায় নিজের পছন্দের লোকদের কাছে টানতে গিয়ে দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জন্ম হয়েছে। গত ২০০৮ সালের নির্বাচনে আইনি জটিলতায় জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি দুলু। নতুন প্রার্থী হিসেবে তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন পরাজিত হলেও প্রচুর ভোট পেয়ে আলোচনায় উঠে আসেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতা নাটোরের বাসিন্দা ফজলুর রহমান পটলের সঙ্গে দুলুর সম্পর্কের টানাপোড়েন কখনোই যেন কাটছে না। এসব কারণেই জেলার দলীয় কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সব সময় অনুপস্থিত দেখা যায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী পটলকে।   বর্তমান সরকার গঠনের পর নানা কারণেই ঘরমুখো দলে পরিণত হয় বিএনপি। দুলুর বাসাকে কেন্দ্র করেই চলে দলের কর্মকাণ্ড। কারাবরণ শেষে জেলায় এসে দল গঠন করতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হয় তাকে। জেলা কাউন্সিল সামাল দিলেও অন্যান্য উপজেলায় দলের নানা দ্বন্দ্বের অবসান এখনো করতে পারেনি দলটি। শহর কমিটিতে উপেক্ষিত নেতারা দলের কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল মান্নাফ শহর কমিটির সভাপতি থেকে ছিটকে পড়ে এখন বেশি সময় ঢাকায় থাকেন। একসময় তাকে বহিষ্কারের পর তা প্রত্যাহারও করা হয়েছে। তবে নেত্রীর অনুষ্ঠানে তাকে দাওয়াত দেয়া হয়নি বলে এই প্রতিবেদককে জানান তিনি। সদর বিএনপিরও অনেক নেতা এখন নিষ্ক্রিয়। গুরুদাসপুর, লালপুর, বাগতিপাড়ায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের খেসারত দিতে হচ্ছে দলকে। এদিকে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জোটের শরিক জামায়াতের সঙ্গে সুসম্পর্ক না থাকায় নিজের ভাতিজি জামাই রহিম নেওয়াজ ও জামায়াতের জেলা আমির ইউনুস আলী প্রার্থী হন। ফলে এখানে সামান্য ভোটে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেলা যুবলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম রমজান। আর দলের বাইরে এসে নির্বাচন করায় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সিরাজুল ইসলামকে বহিষ্কার করে জেলা বিএনপি। তবে বাকি উপজেলাগুলো জোটের প্রার্থী দিয়ে জয় নিজেদের ঝুলিতে নেয় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতারা। এমনকি দুলুর জন্মভূমি নলডাঙ্গাতেও স্থানীয়ভাবে জোটের প্রার্থী দিয়ে বিজয়ী হন স্থানীয় নেতারা। দলীয় বিভেদের কারণে গত পৌর নির্বাচনে ছয়টির মধ্যে হারাতে হয়েছে তিনটি আসন। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে বড়াইগ্রাম, লালপুরের গোপালপুর , বনপাড়া ও গুরুদাসপুরে একক প্রার্থী দিতে পারেননি দুলু। এ কারণেই বাবু হত্যার পর সবচেয়ে জনপ্রিয়তা থাকার পরও জয়ী হতে পারেননি বাবুর স্ত্রী মহুয়া নূর কচি। বিএনপির তৎকালীন উপজেলা সভাপতি একরামুল আলম (নির্বাচনের কারণে বহিষ্কৃত) নির্বাচন করায় জয়ী হন বাবু হত্যার প্রধান আসামি কে এম জাকির হোসেন। বিগত উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান হওয়ায় বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয়া হয়েছে একরামুল আলমের। হারতে হয়েছে গুরুদাসপুরে। গোপালপুরে বিজয়ী হয়েছেন বহিষ্কৃত নেতা বিদ্রোহী প্রাথী মঞ্জুরুল ইসলাম বিমল। বিগত ইউপি নির্বাচনে সদরে ভালা ফল করলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে জেলার অন্যান্য স্থানে ভালো করতে পারেনি বিএনপি। জেলার সবগুলো ইউনিয়নে নিজে মনোনয়ন দিয়েছেন দুলু। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে একাধিক প্রার্থী থাকায় সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অনেকে পরাজিত হয়েছেন। সিংড়া উপজেলার ১২টির একটিতেও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জিততে পারেননি। লালপুরে বিএনপির কোন্দল অনেকটাই বেশি। এর জের ধরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও মামলা হয়েছে। এখানে এসে বিপক্ষের সমর্থকদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন ফজলুর রহমান পটল। সমাবেশ করে তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে বিমল সমর্থকরা। পটলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে লালপুর বাগাতিপাড়ায় ১০১ সদস্যবিশিষ্ট বিএনপি রক্ষা কমিটি করে বিমল অনুসারীরা। তবে নেত্রীর জনসভায় তারাও যোগ দেবেন নেত্রীর ডাকে।   বাগাতিপাড়ায় বিএনপির কোন্দল এখন চরমে। জেলা সভাপতি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু মনোনীত উপজেলা বিএনপি সভাপতি মোশারফ হোসেন, আর বহিষ্কৃত সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা নয়ন এখন দুই মেরুর দুই সেনানী। দলীয় কর্মকাণ্ড না থাকলেও এক কমিটি আরেক কমিটির বিরুদ্ধে মিছিল-সমাবেশ করছে হরহামেশাই। নেত্রীর আগমনকে ঘিরে দুই সেনানীই নিচ্ছেন রণপ্রস্তুতি। কে বেশি নেতাকর্মী উপস্থিত করবেন, সে চ্যালেঞ্জ নিয়ে চলছে প্রচারণা, আর ব্যানার-ফেস্টুন তৈরির কাজ। গোলাম মোস্তফা নয়ন বলেন, “আমরা খালেদা জিয়ার বিএনপি করি। জেলার দ্বন্দ্বে বিভক্ত হয়ে আমরা বসে থাকতে পারি না। নেত্রীর সমাবেশে সবাইকে সাথে নিয়ে যোগ দেব। প্রত্যাশা করব, নেত্রী দলের অবস্থানের খোঁজ নিয়ে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবেন।”      বড়াইগ্রামে বিএনপির অবস্থান দুই মেরুতে। উপজেলা নির্বাচনে জয় লাভের পর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় বনপাড়ায় এক গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন একরামুল আলম, আর অন্য গ্রুপে বাবুর স্ত্রী মহুয়া নূর কচি। আর বড়াইগ্রামে রয়েছে পৌর মেয়র ইসাহাক আলী ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শরিফুল হক মুক্তার দ্বন্দ্ব। তবে যার যার অবস্থান থেকেই সমাবেশে যোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।   আর গুরুদাসপুরে দলীয় দ্বন্দ্বে অনেকটাই জনবিচ্ছিন্ন এক গ্রুপের নেতা সাবেক সাংসদ মোজাম্মেল হক।অন্য গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সারা জেলায় সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলনেই ভূমিকা রাখতে পারছে না বিএনপি। দুলুকেন্দ্রিক বিএনপিতে তার অনুপস্থিতে নামমাত্র কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ তারা। বাবু ও সুজন হত্যাকাণ্ড ছাড়া নাটোর শহরের প্রাণকেন্দ্রে কোনো মিছিল-সমাবেশ সেভাবে করতে পারেনি তারা। জোটের শরিক জামায়াতের সঙ্গে তেমন কোনো সম্পর্কও পরিলক্ষিত হয় না। ফলে পৌর ও ইউপি নির্বাচনে একক প্রার্থী দেয় জামায়াতে ইসলামী। নানা সময়ে সরকার পতন আন্দোলন বা রাজনৈতিক কোনো ইস্যুতেও জোটের তেমন কোনো বৈঠক হয় না। ফলে দূরত্ব বাড়ছে সরকারবিরোধী শিবিরে। যুবদল বা ছাত্র দলেও নেতাদের মূল্যায়নের চেয়ে দুলুপ্রীতির মূল্যায়ন করা হয়েছে, এমন অভিযোগ রয়েছে। বিএনপিতে নানা বিভেদে এতদিন মাঠে ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে তারা্- বঞ্চিতদের এমন দাবির মুখেও এগুলো কোনো সমস্যা মনে করেন না বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক।তিনি বলেন, “দলে ছোটখাটো সমস্যা থাকবেই। তা দূর করে আমরা নেত্রীর আগমনে উজ্জীবিত। আগামীতে আমরা আরো শক্তিশালী অবস্থান করে নিতে পারব। আর বহিষ্কৃতদের আমন্ত্রণের ব্যাপারে তার সাফ জওয়াব, তারা ইচ্ছা করলে সমাবেশে আসবেন। তবে মঞ্চে তাদের কোনো অবস্থান থাকবে না।”   এদিকে নেত্রীর আগমনকে ঘিরে সমাবেশে যোগ দেয়ার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বঞ্চিতরা। তারা মনে করেন, সরকার পতন আন্দোলনে দলকে সুসংগঠিত করতে হলে, আগে যা-ই হয়ে থাকুক, এখন ত্যাগীদের দলে স্থান দিতে হবে। বিস্তারিত»

খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে বর্ণিল সাজে সেজেছে নাটোর

নাটোর: বেগম খালেদা জিয়াকে নাটোরে ২০ দলীয় জোটের সমাবেশে স্বাগত জানাতে বর্ণিল সাজে সেজেছে পুরো জেলা। বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের টোলপ্লাজা থেকে শুরু করে রাজশাহীর সীমানা ও বগুড়ার নন্দীগ্রাম ও পাবনা দাশুড়িয়া পর্যন্ত দীর্ঘ মহাসড়ক এবং জেলার অভ্যন্তরীণ সকল সড়কে নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় তিন শতাধিক তোরণ। রাস্তার পাশে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর ছবি সংবলিত শত শত ডিজিটাল বোর্ডে ঢেকে ফেলা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সকল বাজারঘাট ও মোড়ে মোড়ে তোরণ নির্মাণের পাশাপাশি লাগানো হয়েছে ডিজিটাল বোর্ড। করা হয়েছে আলোকসজ্জা। বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোটের সকল শীর্ষ নেতাদেরকে স্বাগত জানাতে জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় আলাইপুর থেকে জনসমাবেশস্থল সিরাজ উদদৌলা সরকারি কলেজ মাঠ পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে রঙিন বাতি, রঙিন কাপড়, জাতীয় ও দলীয় পতাকা ছাড়াও লাল সবুজসহ নানা রংয়ের পতাকায় এবং ডিজিটাল ব্যানার, ছবি আর তোরণে সাজানো হয়েছে। সন্ধ্যা হলেই জ্বলে উঠছে নানা রংয়ের মনোমুগ্ধকর আলোকসজ্জা। ব্যস্ত শহরের নানা বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশুরা রাতে এসব নানা রংয়ের মনোমুগ্ধকর আলোকসজ্জা দেখতে ভিড় করছে। শহর ছাড়াও বড় হরিশপুর বাইপাস মোড়ে একই ধরনের আলোকসজ্জা দেখতে ভিড় করছে মানুষ। শহরের সব মানুষ যেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী ও ২০ দলীয় জোট নেতাদের বক্তব্য শুনতে পারেন- এ জন্য ইতিমধ্যে ঢাকার একটি অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান থেকে দুই শতাধিক মাইক এনে শহরজুড়ে লাগানো হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে ৬০ ফুট প্রস্থ ও ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের সুবিশাল মঞ্চ। মঞ্চে এক সঙ্গে তিনশ’ নেতা-কর্মী বসার ব্যবস্থা রয়েছে। নাটোর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, শনিবার দুপুরে সমাবেশ আহ্বান করা হলেও সকাল ১০টার মধ্যে নাটোর সিরাজ উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠ ও আশপাশের রাস্তাঘাট মানুষে ভরে যাবে। দুপুরের আগ পর্যন্ত কণ্ঠশিল্পী মুনির খান, কনকচাঁপা এবং রিজিয়া পারভীন সংগীত পরিবেশন করবেন। জোহরের নামাজের সঙ্গে সঙ্গেই সমাবেশ শুরু হবে। বিকাল ৩টার মধ্যেই বিএনপি চেয়ারপারসন জনসভা মঞ্চে আসবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কোনো বিদেশি মেহমানকে যেভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান প্রদান করা হয় তেমনি স্মরণকালের সবচাইতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে নাটোর শহরকে সাজানো হয়েছে। এর আগে কোনো শীর্ষ নেতা বা প্রধানমন্ত্রীকে এতটা জাঁকজমকপূর্ণভাবে স্বাগত জানানোর নজির নাটোরে নেই। ২০ দলীয় জোট সূত্রে জানা গেছে, প্রধান অতিথি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের আগে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতের নায়েবে আমির সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, বিজিপির ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জাগপা চেয়ারম্যান শফিউল আলম প্রধান, কল্যাণ পাটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ইব্রাহিম বীরপ্রতীক, এলডিপির কর্নেল অলি আহম্মেদ, ইসলামী ঐক্যজোটের আব্দুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মো. ইসহাক, জাতীয় পাটি (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, এনডিপির খন্দকার গোলাম মতুর্জা, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপের জেবেল রহমান গণি এবং সাম্যবাদী দলের সাইদ আহমেদসহ ২০ দলের জাতীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেবেন।   বিস্তারিত»

বিএসইসি ভবনে আগুন ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি গঠন

ঢাকা: রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি) ভবনে অগ্নিকা-ের ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি করা হয়েছে। এর মধ্যে অগ্নিকান্ডের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করেছে বিএসইসি কর্তৃপক্ষ। পৃথক আরেকটি পাঁচ সদস্যের গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে।   বিএসইসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসেন চৌধুরী জানান, সংস্থার পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ মোজাম্মেল হককে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিবে।   ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন) মেজর মাহবুবুর রহমান জানান, বিএসইসি ভবনে অগ্নিকা-ের ঘটনা তদন্তে দমকল গঠিত কমিটির প্রধান করা হয়েছে শেখ মিজানুর রহমানকে। এ কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।   শুক্রবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিএসইসি ভবনের ১১ তলায় অবস্থিত দৈনিক আমার দেশ কার্যালয়ে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরে দমকল বাহিনীর ২০টি ইউনিট দুপুর ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।   এ ঘটনায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি ও তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও জানাতে পারেননি দমকল কর্মকর্তারা। বিস্তারিত»

নারায়ণগঞ্জে আলোচিত ৭ খুন হত্যাকারীদের বিচার এ বছরই দেখতে চায় নিহতের স্বজনেরা

এম আর কামাল, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জে বহুল আলোচিত কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও সিনিয়র আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ ৭জনকে অপহরণের পর হত্যাকারীদের বিচার এ বছরই দেখতে চায় নিহতের স্বজনেরা। সরকারের কাছে এ দাবী করেছে নিহতের পরিবাররা। এদিকে বাবার হত্যাকারীদের বিচার এই বছরই দেখতে চাই। আমার মতো যেন আর কাউকে বাবা হারাতে না হয়। বাবা না থাকার কষ্ট যে কেমন লাগে তা আমরা ৫ ভাই-বোন ছাড়া আর কেউ বুঝবে না। মায়ের মুখের দিকে তাকানো যায় না। সারাক্ষণ কি যেন চিন্তা করে। হয়তো আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মা চিন্তিত। আমি সবার বড়। অনেক ইচ্ছা ছিল লেখাপড়া করে একদিন অনেক বড় হব। সংসারের জন্য চাকরি করে আয় করব। কিন্তু বাবাকে মেরে ফেলার মধ্য দিয়ে আমাদের স্বপ্নকেও তারা মেরে ফেলেছে। জানি না আর কতদিন লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারব। এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে খানিকটা চুপ করে থাকে  ইসমাইল হাসান রনি। সে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সেভেন মার্ডারের ঘটনায় নিহত সিনিয়র আইনজীবীর গাড়ি চালক ইব্রাহিমের ছেলে। সোনারগাঁওয়ের বারদী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণীতে পড়ছে। বৃহস্পতিবার বিকালে (৩০ অক্টোবর) রনির সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। এ সময় রনি স্থানীয় মাঠে বল খেলছিল। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে খেলা ছেড়ে কথা বলে সে। রনি জানায়, বাবাকে ছাড়া দু’টি ঈদ আমাদের কাছে কোন ঈদই মনে হয়নি। গতবার কোরবানি দিয়েছিলাম। বাবার সঙ্গে হাটে গিয়ে গুরু কিনেছি। এবার কোরবানি দেইনি। রজানের ঈদের জামা-কাপড় দিয়েই এবার ঈদ করেছি। ওই জামা-কাপড় গত ঈদে মামারা দিয়েছিল। কিন্তু বাবা যার (নিহত চন্দন সরকার) চাকরি করতো সেখান থেকে কেউ খোঁজ নিতে আসেনি। বাবা মারা যাওয়ার পর মন্ত্রী (কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী) এসেছিলেন। আমাদের সান্ত¡না দিয়ে বলেছিলেন আমাদের পাশে থাকবেন। বাবার হত্যার বিচার করবেন। কিন্তু এখনও তো বিচার শুরু হয় নাই?। রনি বলেন, আমাদের একটা ভটভটি ছিল। বাবার মৃত্যুর পর সেটা বিক্রি করে দিয়েছি আর্থিক সংকটের কারণে। ৫ ভাই বোনের মধ্যে আমি আর আমার এক ছোট বোন লেখাপড়া করি। বাকিরা ছোট। আমি ৭ম শ্রেণী আর সীমা দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ছে। হয়তো একদিন লেখাপড়া বন্ধ করে আমাকে উপার্জনের জন্য নামতে হবে। জীবিত থাকা অবস্থায় ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে চান আবুল খায়ের। সেভেন মার্ডারের ঘটনায় নিহত তাজুল ইসলামের বাবা তিনি। সেভেন মার্ডারের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি রীতিমতো শঙ্কিত। অনেকটা আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ৬ মাস হয়ে গেল অথচ নূর হোসেনকে এখনও ফিরিয়ে আনা হয়নি। তাছাড়া পুলিশ, র‌্যাব ও নূর হোসেন ইস্যুতেই সময় পার করছে। কিন্তু এজাহারভুক্ত বাকি আসামিদের গ্রেফতার করছে না। আসামিদের স্বজনরা এলাকায় এসে কোরবানি দিয়ে চলে গেছে। আর আমরা চোখের পানি ফেলছি। আমার সন্তানসহ ৭ জনকে যারা হত্যা করেছে তাদের উপযুক্ত বিচার হলেই সন্ত্রাস কমে যাবে। অপরাধীরা ভয় পাবে। এক প্রশ্নের জবাবে আবুল খায়ের কষ্টের হাসি দিয়ে বলেন, সন্তান হারিয়ে আমি মানসিক ও আর্থিক সব দিক দিয়ে বিপর্যস্ত। গত ৬ মাসে কেউ সহায়তার আশ্বাস দেয়নি। হয়তো দিবেও না। কিন্তু তাতে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। অন্তত ছেলে হত্যার বিচারটা দ্রুত শুরু হলেই স্বস্তি পাবো। নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা মামলার বাদী বিজয় কুমার পাল বলেন, যেভাবে মামলা ও তদন্ত চলছে তাতে আমরা হতাশ। মামলার বাদী হিসেবে নয় দেশের মানুষও এতে হতাশ। সবার প্রত্যাশা দ্রুত তদন্ত শেষ করে যেন বিচার করা হয়। নিহত সিরাজুল ইসলাম লিটনের বড় ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, গত ৬ মাসে আমরা শুধু সান্ত¡না পেয়েছি। কৃষিমন্ত্রী ও বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এসেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ডেকে নিয়ে সান্ত¡না দেয়া হয়েছে। এটাই আমাদের পুঁজি। তিনি অনেকটা কষ্ট নিয়ে বলেন, হত্যাকান্ডের শিকার সাতজনের মধ্যে দু’জন গাড়িচালকের পরিবারের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। দয়া করে তাদের নিয়ে কিছু লিখেন। আমাদের ভাগ্য আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছি। এক পর্যায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রফিকুল বলেন, আমি শতভাগ হতাশ এই বিচার নিয়ে। আদৌ ভাই হত্যার বিচার দেখে যেতে পারব কি না জানি না। কারণ, নুর হোসেনকে ধরার জন্য ইন্টারপোলে রেড এলাট জারি করা হলো। তাকে ধরাও হলো। অথচ দেশে ফিরিয়ে আনতে পারছে না সরকার। তাহলে কি নূর হোসেন সরকারের চেয়ে বড়?। তাছাড়া র‌্যাব তো শিকার করেছে তারা কিভাবে সাতজনকে অপহরণ ও হত্যার পর লাশ গুম করেছে। তাহলে নূর হোসেনের জন্য এত অপেক্ষা কেন?। নূর হোসেনের কথায় যদি সাতজনকে মারা হয় তাহলে নূর হোসেন হুকমের আসামি হবে। কিন্তু সামান্য একজন সন্ত্রাসী নূর হোসেনের কথায় সরকারের পদস্থ র‌্যাব কর্মকর্তারা টাকার জন্য সাতজন মানুষকে মেরে ফেললো?। তাদের এত টাকার প্রয়োজন?। তারা টাকার জন্য একের পর এক অপকর্ম করে আসছিল। কিন্তু তাদের পাপ সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার পর ৭ খুনের ঘটনায় ধরা খেয়েছে। এখন হতাশার মাঝেও আশাবাদী বিচারটা শেষ পর্যন্ত পাবো তো?। সাত খুনের বিচারের ব্যাপারে নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী কাউন্সিলর সেলিনা ইসলাম বিউটি কিছুটা হতাশার সুরে জানান, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আগে তদন্ত কর্মকর্তারা বলতেন, শিগগিরই নিয়ে আসা হবে। এখন বলছেন, আনার চেষ্টা হচ্ছে। তাকে ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত বিচার হবে না বলে মনে করছি। অন্যান্য পরিবার সম্পর্কে সেলিনা ইসলাম বলেন, সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে গাড়িচালক জাহাঙ্গীরের পরিবার। জাহাঙ্গীর মারা যাওয়ার পর ভূমিষ্ঠ হওয়া সন্তান নিয়ে তার স্ত্রী নিরুপায়। শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়ি চলে গেছেন। একইভাবে বিপদাপন্ন মনিরুল ইসলাম স্বপনের পরিবারও। এখন পর্যন্ত সরকার বা কোন সংগঠন তাদের কোন সহায়তা করেনি। এদিকে চন্দন সরকারের পরিবারের বিষয়টি নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীরা নিজেদের বিষয় হিসেবে নিয়েছেন। ওদিকে নিহত প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের ছোট ভাই আব্দুস সালাম কিছুটা ক্ষোভ নিয়ে বলেন, নূর হোসেনকেই এখনও দেশে ফিরিয়ে আনা হলো না। গ্রেপ্তার করা হয়নি এজারহারভুক্ত আসামিদের। তাহলে কিভাবে বুঝবো দ্রুত বিচার শুরু হবে। অথচ ডিসি-এসপি বলেছিলেন দ্রুত নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। কিন্তু ৬ মাস পেরিয়ে গেছে। আমরা এজাহারভুক্ত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানচ্ছি সংশ্লিষ্টদের কাছে। এদিকে চন্দন সরকারের পরিবারের বিষয়টি নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীরা নিজেদের বিষয় হিসেবে নিয়েছেন। এদিকে সাত খুনের ঘটনার ৬ মাস অতিবাহিত হয়েছে সোমবার। এ পর্যন্ত ১১ জন র‌্যাব সদস্যসহ ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১১ জন র‌্যাব সদস্যসহ ১২ জন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। র‌্যাবের ল্যান্স কর্পোরল রুহুল আমিন ঈদুল আজহা কে ঈদুল আজহার পরদিন পটুয়াখালী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই ঘটনার সময় নৌকায় উপস্থিত ছিলেন। আর অপহরণ ও খুনের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ১১ জন র‌্যাব সদস্যসহ মোট ১৪ জন।   উল্লেখ্য, গত ২৭শে এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোডের খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম এবং সিনিয়র আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজন অপহৃত হন। পরে ৩০শে এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জনের ও ১লা মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।     বিস্তারিত»

বাংলাদেশ-আমেরিকা সম্পর্কের বরফ গলা শুরু?

ঢাকা: স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ ও আমেরিকার সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে।  দশ মাস আগে ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন বলে দাবি করেছিলো ওয়াশিংটন। কিন্তু গত ২৮ থেকে ২৯ অক্টোবর ওয়াশিংটনে শেষ হওয়া বাংলাদেশ ও আমেরিকার তৃতীয় অংশীদারিত্ব সংলাপে নির্বাচন নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি আমেরিকা। কূটনীতিক সূত্র জানায়, সংলাপে দুই দেশ নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো বৃদ্ধির বিষয়ে জোর দেয়। এছাড়া বৈঠকে আমেরিকার বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব ও উঞ্চতার বিষয়টি চোখে পড়ার মতো। অংশীদারিত্ব সংলাপে অংশ নেয়া এক কূটনীতিক বলেন, ‘‘সাধারণত আমেরিকা সব সময় চায় আমাদের চাপে রাখতে। কিন্তু এবারের বিষয়টা ছিল অন্যরকম। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সমর্থনমূলক ও সহযোগীর মতো।’’ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সফরের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। আর এটাকে নিভে যাওয়া কূটনীতিক সম্পর্কের বড় সফলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংলাপে অংশ নেয়া ওই কূটনীতিক বলেন, ‘‘আমি খুবই আশাবাদী যে, আগামী বছরই বাংলাদেশ সফরের আসবেন আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।’’ তিনি বলেন, ‘‘দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে দেখা করতে যাবেন।’’ ২০০৯ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর থেকে এখনো আমেরিকার পক্ষ থেকে সে দেশ সফরে যাবার কোনো আমন্ত্রণ পাননি শেখ হাসিনা। এর আগে ২০১৩ সালের ১৭ মে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির বৈঠকই ছিল দুই দেশের মধ্যকার শেষ সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। বিগত তিন বছর ধরে আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনীতিক সম্পর্ক ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছিল। ড. মোহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক ইস্যুতে সরকারের অবস্থানকে ভালো চোখে নিতে পারেনি আমেরিকা। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করে। আর এ নির্বাচনের পরই ওয়াশিংটন বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানায়, খুব দ্রুতই নির্বাচন নিয়ে সংলাপে বসতে এবং নতুন আরেকটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচনের আয়োজন করতে, যাতে বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে। বাংলাদেশি ওই কূটনীতিক জানান, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে এবার কোনো কথাই বলেনি আমেরিকা। এমনকি তারা নতুন নির্বাচন, সংলাপ এসব নিয়েও কথা উঠায়নি। তিনি বলেন, ‘‘আমি মনে করি আমেরিকা তার পূর্বের মূল অবস্থান থেকে অনেক সরে গেছে। বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের সূত্রের সঙ্গে আমেরিকার বৈঠক হয়েছে। দেশটি এখন সংলাপ আয়োজনের বিষয়টিতে তাদের সম্মতির বিষয়টি জানিয়েছে।’’ তিনি আরো বলেন, ‘‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে আমেরিকা।’’ তৃতীয় অংশীদারিত্ব সংলাপে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক ও আমেরিকার রাজনৈতিক বিষয়ক সচিব ওয়েন্ডি শেরম্যান প্রতিনিধিত্ব করেন। সংলাপের পাশাপাশি আমেরিকার দক্ষিণ এমিয়া বিষয়ক সহকারি সেক্রেটারি নিশা দেশাই বিসওয়াল, আমেরিকার সহকারী ট্রেড রিপ্রেজেনটিটিভ মাইকেল জে ডিলানির সঙ্গেও বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব। বৈঠকে ওয়েন্ডি শেরম্যান বলেন, ‘‘এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।’’ আমেরিকার সহকারী ট্রেড রিপ্রেজেনটিটিভ মাইকেল জে ডিলানি বলেন, ‘‘ভয়াবহ রানা প্লাজার ভবন ধসের পর পোশাক কারখানার উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি হয়েছে।’’ কূটনীতিক সূত্র জানায়, অংশীদারিত্ব সংলাপে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় স্থিতিশীল উন্নয়ন, জলবায়ু প্রভাব, অভিবাসন, তথ্য-প্রযুক্তি সহায়তা, সাইবার নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা বিষয়েও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে অংশ নেয়া কূটনীতিক জানান, ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের মোকাবেলায় আমেরিকান কোয়ালিশনে বাংলাদেশের যোগ দেয়া প্রসঙ্গেও কোনো কথা উঠায়নি আমেরিকা। সম্প্রতি কোয়ালিশনে যোগ দেবার আমেরিকান প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিলো বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের চিন্তায় তৃতীয় অংশীদারিত্ব সংলাপ একটা বড় ধরনের সফলতা। সংলাপে আমেরিকার কাছ থেকে আমরা অনেক কিছু অর্জন করেছি।’’-ডেইলি স্টার। বিস্তারিত»

ছবি ঘর

  • holo gram baby
  • political picture
আরো আত্মবিশ্বাসী হচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড

ডেস্ক নিউজ:আরো আত্মবিশ্বাসী হচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড। দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত জনসভামুখি জনস্রোত তাদের আত্মবিশ্বাসের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনসহ একগুচ্ছ দাবি নিয়ে গণসংযোগের জন্য আহুত প্রতিটি জনসভা পরিণত হচ্ছে জনসমুদ্রে। একটি জনসভার চেয়ে অন্য জনসভায় লোক সমাগম আরো বেশি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষুব্ধ সাধারণ জনতা আর নির্যাতিত নেতাকর্মীর মিছিল একাকার হয়েছে। সরকারের হুমকি-ধমকি এমনকি গণগ্রেফতার কোন বাধাই এই জনস্রোত ঠেকাতে পাচ্ছে না। যানবাহন বন্ধের কৌশলও ভেস্তে যাচ্ছে। নতুন নতুন মামলা আর নেতা গ্রেফতার করা হলেও হাইকমান্ডের আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই বরং বাড়ছেই। শুধু বিএনপির চেয়ারপারসনের জনসভাই নয় কেন্দ্রীয় নেতাদের ডাকেও প্রত্যাশিত সাধারণ মানুষের সাড়া পাচ্ছে দলটির নেতারা। কেন্দ্র থেকে কোন নেতা নির্বাচনী এলাকায় গেলে চায়ের টেবিলে যোগ হচ্ছে অরাজনৈতিক ব্যক্তিরাও। এদিকে জনসংযোগের জন্য অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পর জামালপুরের সভায় জনতার উপস্থিতি দেখে নীলফামারীর জনসমুদ্রে বিএনপি চেয়ারপারসন তার আত্মবিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। ওই সভাতেই দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ২৯ ডিসেম্বরে আপনাদের ঢাকায় আসার ডাক দিয়েছিলাম আপনারা সাড়া দিয়েছেন, এর আগেও আন্দোলন করেছেন অবশ্য ঢাকা নামতে পারেনি, এবার তারাও নামবে। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নেতাদের বলেছেন, ‘সোজা কথায় না হলে আঙ্গুল বাঁকা করতে হবে’। এর জন্য জানি আপনারা প্রস্তুত একটু সময় নিয়ে আমরাও প্রস্তুত হচ্ছি।   ৫ জানুয়ারির পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে জনসংযোগে নেমেছেন ২০ দলীয় জোট নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, জামালপুর, নীলফামারী, নাটোর, কুমিল্লাহ ও কিশোরগঞ্জে জনসভার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভা করে বিএনপি। সাথে ছিলো ২০ দলীয় জোট। বিকেল ৩টায় জনসভা শুরু হলেও বেলা ১টার আগেই বিশাল মাঠ কানায় কানায় ভরে যায় মানুষে। সেই সভাতেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, আমি কখনোই গ্রেফতারে ভয় পাই না। আমাকে বন্দি করার আগে নিজের রাস্তা পরিষ্কার রাখুন। নিজেদের পাসপোর্টে ভিসা লাগিয়ে রাখুন। এর ৪ দিন পর জনসভা আহ্বান করা হয় জামালপুরে। স্থানীয় জিলা স্কুল মাঠের এই জনসভায় উপস্থিতি দেখে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাও স্বীকার করেছেন যে, দলীয় এতো অর্ন্তদ্বন্দ্বের মধ্যেও অন্য কয়টি জনসভার চেয়ে এবার বিএনপির জনসভায় উপস্থিতি অবশ্যই উল্লেখ করার মতো। গত ২৩ অক্টোবর ছিলো নীলফামারীরর জনসভা। গণমাধ্যমের মতে, নীলফামারী বড়মাঠটি দক্ষিণ এশিয়ার বসচেয়ে বড় মাঠ। এই মাঠের লোক ধারণ ক্ষমতা পাঁচ লাখের উপরে। বিকালের জনসভাস্থ জনতার উপস্থিতি শুরু হয় সকাল থেকেই। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের ১০ মাস পর এই মাঠেই ২৯ ডিসেম্বরে ঢাকার নেতাদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেন। জনসমুদ্রের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সময় হলেই ডাক দেবো। আপনাদের সাথে ওই সময় ঢাকাও রাজপথে নামবে। এবার ব্যর্থ হবো না ইনশাল্লাহ। ৬ বছর পরে এই মাঠে বিএনপির জনসভায় জনতার উপস্থিতি দেখে জোটের শরিক দল এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, দেশের অনেক স্থানে অনেক সভা করেছি কিন্তু এই নীলফামারীরর মতো এতো লোকসমাগমের জনসভা আমার জীবনে দেখিনি। আরেক শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ উপস্থিতিতে আবেগাপ্লুত হয়ে জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘সেল্যুট নীলফামারীর জনতা’। আলাপকালে এই তিনজেলার নেতারা জানান, জনসভার তারিখ ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের নেতাদের বাসা-বাড়ীতে তল্লাশি করেছে পুলিশ। নেতাকর্মীকে গণগ্রেফতার করেছে। জনসভায় যেন নেতাকর্মীরা আসতে না পারে এজন্য পরিবহন মালিকদের সঙ্গে সরকার দলীয় নেতারা বৈঠক করেছেন। ওইদিন তাদের যানবাহন বন্ধ রেখেছেন। নীলফামারী বিএনপির সভাপতি আনিসুল আরেফিন চৌধুরী বলেন, বাধা সব ধরনেরই দেয়া হয়েছে কিন্তু উত্তরবঙ্গের মানুষকে বাধা দেয়ার মতো কোন ক্ষমতাই সরকারের ছিল না, নেই হবেও না। জনসভার দুইদিন আগে আশপাশে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলো কিন্তু তাতের পরিণতি কি হবে সেটার হিসাবও কষেছেন। তাই বাহ্যিক বাধা দেয়নি। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জামালপুর-১ নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ূম বলেন, জনসভায় প্রশাসনিক কোন বাধা-বিপত্তির মুখোমুখি হতে হয়নি তবে যানবাহনের সঙ্কট দেখা দিয়েছিলো। তিনি জানান, সরকার দলীয় নেতাদের পরিবহন সংখ্যা বেশি, সেদিক তারা যানবাহন ভাড়া দিতে অনিহা প্রকাশ করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলা বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার খালেদ মাহমুদ শ্যামল  বলেন, আমাদের জনসভার দুইদিন আগেই তোরণ ভেঙ্গে দেয়া হয়। স্থানীয় পর্যায়ে জনতার স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায় কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, খুলনা বিভাগে অনেক সভাতেই আমি অংশ নিয়েছি দেখেছি যে সভা আজ হয়েছে পরের সভাতে লোকজন স্বতঃস্ফূর্ত অংশ নিয়েছে। এখানে পুলিশ গুলি চালিয়েও আন্দোলন, সভা-সমাবেশ ঠেকাতে পারেনি, পারবে না। কুমিল্লা বিএনপির নেতাকর্মীরাও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান, স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার। তিনি জানান, দলের চেয়ারপারসনের জনসভাকে কেন্দ্র করে তারা যে প্রস্তুতি সভাগুলো করছেন তাতে সকল স্তরের নেতাদের সম্পৃক্ততা পাচ্ছেন। যারা কয়েক মাস আগেও সরকারের নির্যাতনে বাইরে বের হতেন না তারা এখন ঝুঁকি নিয়ে বেরিয়েছেন। সিলেট বিএনপি নেতা খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দেশজুড়ে একটা হতাশা-বিমুঢ় অবস্থা বিরাজ করছিলো। দীর্ঘ ১০ মাস হয়ে গেছে সরকার তার নিয়মরক্ষার নির্বাচনের কথা থেকে সরে আসেনি। বরং জুলুম-হতাশাগ্রস্ত করে তোলেছে। এখন মানুষ এই সরকারের হাত থেকে পরিত্রাণ চায়। ফলে শুধু বিএনপির প্রধান নেতৃত্ব নয়, স্থানীয় নেতারাও যেকানে যাচ্ছে সেখানেই মানুষ ছুটে আসছে। এই দৃশ্য প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক দিলারা চৌধুরী  বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবার পেছনে রয়েছে সরকারের জুলুম, নির্যাতন, অপশাসন। ক্ষোভ  জানাতেই জনসভাস্থলে অংশ নেন তারা। ফলে কে নেতা আর কে সাধারণ জনতা এখন আর সে চিত্র নেই এককাতারে জমায়েত হয়েছেন।

বিস্তারিত»
জেএমবি সংগঠনকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করা হচ্ছে, বলছে র‍্যাব

বাংলাদেশে পুলিশের বিশেষ বাহিনী র‍্যাব-এর একজন মুখপাত্র বলেছেন, জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ-এর যে পাঁচজন সদস্যকে শুক্রবার আটক করা হয়েছে, তারা সংগঠনকে পুনর্জীবিত করার কাজে নিয়োজিত ছিল। র‍্যাব মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ হাসান বিবিসিকে বলেন, গোয়েন্দা সূত্রের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন জেএমবির সমন্বয়ক আব্দুন নূর কয়েকজন সহযোগীকে সাথে নিয়ে চাপাই নবাবগঞ্জ থেকে জয়দেবপুর যাচ্ছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই র‍্যাব-১২ সিরাজগঞ্জ রেল স্টেশন থেকে তাদের আটক করে, তিনি বলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল নতুন কর্মী সংগ্রহসহ তাদের সংগঠনকে পুনর্জীবিত করা, এবং নাশকতা সৃষ্টি করে তাদের অস্তিত্ব সবার সামনে তুলে ধরা, মি: হাসান বলেন। তাদের নাশকতামূলক কাজের পরিকল্পনার আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করা, তিন বলেন। আটককৃতদের কাছ থেকে প্রচুর বিস্ফোরক, বিস্ফোরক তৈরির উপাদান এবং জিহাদি বই পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। তবে এই জেএমবি দলের সাথে সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আটক জেএমবি গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা আছে বলে যে কথা ধারনা করা হয়েছে, সেটা মি: হাসান নাকচ করে দেন। জিজ্ঞাসাবাদ করে আপাতত যতটুকু তথ্য আমরা পেয়েছি, তাতে সেরকম কোন সংশ্লিষ্টতা আমরা পাই নি, মি: হাসান বলেন। সম্প্রতি ভারতে জেএমবি সদস্য সন্দেহে কয়েকজন বাংলাদেশীকে আটক করা হয়। ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন, জেএমবি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে হত্যাসহ ব্যাপক সহিংসতার পরিকল্পনা করছে।বিবিসি

বিস্তারিত»
রাজনীতি ও বাংলাদেশের অতীত

ডেস্ক নিউজ:দু’বার মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হওয়া বিরল। ২৯শে অক্টোবর বাংলাদেশের নিজস্ব ধরনের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামায়াতে ইসলামীর নেতা মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে। ট্রাইব্যুনাল ১৯৭১-এর স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় পাকিস্তানপন্থি মিলিশিয়া নেতা হিসেবে ৭১ বছরের নিজামিকে হত্যা, ধর্ষণ ও লুটের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। জানুয়ায়িতে একটি অপরাধ আদালত বড় একটি অস্ত্র চোরাচালান মামলায় পৃথক একটি রায়ে নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। ২০০৪ সালে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের ওই চালান ভারতের উত্তরপূর্বে চরমপন্থিদের জন্য ছিল। সে সময় সরকারে ছিলেন নিজামী। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ২০০৯   সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। এ বছর জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর এটাই প্রথম যুদ্ধাপরাধ মামলার রায়। আটক অবস্থায় ৯১ বছরের গোলাম আযমের মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর এলো এ রায়। ট্রাইবুন্যালে যুদ্ধাপরাধ মামলায় আরেক হাই-প্রোফাইল অভিযুক্ত ছিলেন তিনি। নিজামীর আগে জামায়াতের প্রধান নেতা ছিলেন তিনি। দলটি ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশে সৌদি আরবীয় ধারার ইসলাম প্রচার করে। ১৯৭১ সালেও তিনি জামায়াতকে চালিয়েছিলেন। রাজধানী ঢাকায় ২৫শে অক্টোবর অনুষ্ঠিত গোলাম আযমের জানাজায় তার হাজারো সমর্থক উপস্থিত ছিল। তার শেষ ইচ্ছা ছিল জানাজা পড়াবেন  নিজামী বা যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত অপর আসামি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। সে ইচ্ছা পূরণ হয়নি। স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি জনগণের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখতে আওয়ামী লীগ চেষ্টা করে চলেছে। স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশী ও অন্যদের ওপর বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নির্মম রক্তক্ষয়ী অভিযান চালানোর পেছনে মূলত দায়ী ছিল পাকিস্তানি সেনারা। পাকিস্তানি হোতারা বরাবরই আদালতের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। কাজেই মি. আযম, মি. নিজামীসহ তাদের বাংলাদেশী সহযোগীদের বিচার হচ্ছে তাদের পরিবর্তে। তারা দুজনই স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহায়তা করেছিল। জামায়াতের ছাত্র শাখা সেনাপন্থি  মিলিশিয়া দলে সদস্য সরবরাহ করেছিল যারা নৃশংসতা, অপহরণ ও বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকদের হত্যাজজ্ঞ পরিচালনা করেছে। যুদ্ধাপরাধ আদালত নাৎসি বাহিনীর গুপ্তঘাতকদের মতো হামলা চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে নিজামীকে। তার আইনজীবীরা বলছেন, এ রায় তথ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করে ছিল না। তারা আপিলের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যে প্রক্রিয়া দু’বছর পর্যন্ত লাগতে পারে। এ বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হবার আগে তারা নজিরবিহীন নিরাপত্তা উপভোগ করেছে। পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডে নিরাপদে থাকার পর আজমকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শাসন করা দুই স্বৈরশাসক নিরাপত্তা দিয়েছে। তারা গোলাম আজমের ধর্মীয় রাজনীতিকে স্বাগত জানিয়েছে। গণতন্ত্র ফিরে আসার পরও ওই দুই স্বৈরশাসকের একজন জিয়াউর রহমানের বিধবা পত্নী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের উত্তরসূরি খালেদা জিয়া জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোট গড়েন। বিএনপি সরকারের সময় নিজামি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। খালেদা জিয়ার বৈরী প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ হাসিনা সুবিধাটা উপভোগ করেছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তাদের ভূমিধস বিজয়ের আগে যুদ্ধাপরাধের বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এ বছরের নির্বাচনের আগ দিয়ে শীর্ষ অনেক যুদ্ধাপরাধী কারান্তরীণ হয়। ট্রাইব্যুনাল পরিচালনা প্রক্রিয়ায় গভীর ত্রুটি বিচ্যুতি থাকা সত্ত্বেও বিশেষ করে ট্রাইব্যুনালের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ থাকলে অনেকের রায় হয়। এর মধ্যে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সেসব রায়ের অনেকই এখন সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনায় রয়েছে। কিন্তু এখন আওয়ামী লীগের কাছে এ বিচারপ্রক্রিয়ার রাজনৈতিক কার্যকারিতা ফুরিয়ে আসছে। এমনকি তারা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ বিচারপ্রক্রিয়া সংক্রান্ত সংঘাতে এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষ মারা গেছে। শেখ হাসিনা হয়তো এখন বিজ্ঞ, বৈধ এবং উদারমনা নেতা হিসেবে তার বিশ্বাসযোগ্যতা স্থাপন করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। ত্রুটিপূর্ণ একটি ট্রাইব্যুনালকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে দেয়ার মাধ্যমে তিনি এটা করতে পারেন। যেহেতু তিনি চান বাংলাদেশ তার আন্তর্জাতিক মর্যাদা সমুন্নত করুক। এ মাসে বাংলাদেশ জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে একটি আসন জিতেছে। খালেদা জিয়া যখন সর্বশেষ নির্বাচন বর্জন করেছিলেন তখন মিথ্যা গণতন্ত্রের যে অভিযোগ সরব ছিল এখন তা ফিকে হয়ে গেছে। বাস্তবতা হলো, লম্বা আপিল প্রক্রিয়া বিবেচনায় বয়োবৃদ্ধ বন্দিদের অনেকেই হয়তো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া পর্যন্ত বাঁচবেন না। কারান্তরীণ অবস্থায় ইতিমধ্যে তিনজন মারা গেছে। সাঈদী, যার রায় সেপ্টেম্বর মাসে লঘু করা হয়েছে, তিনি হয়তো কোনদিনই কারাগারের বাইরে আসতে পারবেন না। এ ছাড়া রায়ের সময় ও রায় কার্যকর করাটা এখনও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। শাস্তি লঘু করার বিষয়গুলো হয়তো এখন বিবেচনা করা যেতে পারে। এ সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে ছিলেন শেখ হাসিনা। উপসাগরীয় দেশগুলোতে যুদ্ধাপরাধ বিচার কিভাবে দেখা হচ্ছে সেটাও তার বিবেচনায় রয়েছে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো সৌদি আরব। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ প্রবাসী শ্রমিকের সবথেকে বড় গন্তব্য হবার পাশাপাশি ভর্তুকিপ্রাপ্ত তেলে উৎস। সৌদি শাসকরা চাননা নিজামি বা অভিযুক্ত অন্যদের প্রতি নিষ্ঠুরতা দেখানো হোক। এ কারণে শেখ হাসিনা যে দৃষ্টিভঙ্গি বারবার তুলে ধরেছেন সেটা তার জন্য মানানসই, তা হলো- আইনি প্রক্রিয়া রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বাইরে। আপাতত হয়তো অপেক্ষাকৃত কম সক্রিয় যুদ্ধাপরাধ প্রক্রিয়া অবলম্বন করাটা সুবিধাজনক হতে পারে।

বিস্তারিত»
আমার দেশ কর্তৃপক্ষ বলছে, 'আগুন রহস্যজনক'

শুক্রবার সকালে ঢাকার কারওয়ান বাজারে বিএসইসি ভবনের এগারো তলায় অবস্থিত ‘আমার দেশ’ পত্রিকা অফিসে আগুন লাগার পর প্রত্রিকার কর্তৃপক্ষ সেটাকে ‘রহস্যজনক’ বলে বর্ননা করেছে। “আমাদের কাছে এটা রহস্যজনক। সরকারের কাছে আমরা তদন্তের দাবী জানিয়েছি,” আমার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক আবদাল আহমেদ বিবিসিকে বলেন। মি: আবদাল জানান, শুক্রবারই তাদের অফিস স্থানান্তর করার কথা ছিল এবং মাত্র কয়েকজন কর্মী উপস্থিত থাকার কথা। আগুন লাগার পর প্রায় দু’ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। ঘটনায় হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। ঢাকার কারওয়ানবাজারে আমার দেশ অফিসে আগুন নেভানোর পর দমকল বাহিনীর সদস্যরা আলামত খুঁজছেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আগুন লাগার কারণ বা ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর ফরহাদ বিবিসিকে জানিয়েছেন তারা আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। বিএসইসি ভবনে এনটিভি, আরটিভি, আমার দেশ সহ বেশ কয়টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে। আগুন লেগেছে খবর পাবার পরপরই দুটো টেলিভিশন চ্যানেলের কর্মীরা নীচে নেমে আসেন বলে জানান এনটিভির সিনিয়র ক্যামেরামান শেখ নজরুল ইসলাম। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত দৈনিক আমার দেশ অফিসে পত্রিকার সম্পাদকের ছবি। আগুন লাগার পর থেকে এনটিভি ও আরটিভির সম্প্রচার সাময়িক বন্ধ থাকে। সন্ধ্যা সাতটার দিকে এনটিভির সম্প্রচার শুরু হলেও আরটিভির সম্প্রচার এখনো বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার ছুটির দিন বলে ওই ভবনের বেশিরভাগঅফিস বন্ধ থাকলেও গণমাধ্যমের অফিসগুলোতে সবসময় কর্মীরা থাকেন। আজও ছিলেন। ‘আমার দেশ’ পত্রিকাটির প্রকাশনা প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ আছে, শুধুমাত্র অনলাইনে তারা খবর ছাপছিল। পত্রিকাটির কর্মকর্তারা আগুন লাগার ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। “আজই স্থানান্তরের কাজ শুরু হলো আর এমন আগুন লাগলো,” মি: আবদাল বলেন। “আমাদের কেমন ক্ষতি হয়েছে তাও আমরা জানিনা। ওখানে আমাদের কম্পিউটার, কাগজপাতি সব ছিল”, তিনি বলেন। কারওয়ানবাজারের বিএসইসি ভবনে এ নিয়ে তিনবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটলো।বিবিসি

বিস্তারিত»
বহরগ্রাম জনমঙ্গল সমিতির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত

সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত বহর গ্রাম জনমঙ্গল সমিতি যুক্তরাজ্য শাখার উদ্দুগে সমিতির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে গত মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনের ব্লুমুন সেন্টারে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় ।সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির নব নির্বাচিত আহ্বায়ক কমিটির সম্মানিত আহ্বায়ক জনাব জব্রুল ইসলাম লনি,সভা পরিচালনা করেন,কমিটির সদস্য সচিব কয়েস আহমেদ রুহেল । অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিতি ছিলেন যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সহসাধারণ সম্পাদক জনাব আনয়ারুজ্জামান চৌধুরী ।বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর রাজীব আহমেদ, বাংলাদেশ সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, এছাড়াও বহর গ্রামের সকল মুরব্বিয়ান, যুব সমাজ ও সমিতির সকল সদস্য বৃন্দ ও যুক্তরাজ্য বাঙালি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি বর্গ । অনুষ্ঠানের শুরুতে কুরআন তিলাওত করেন মাওলানা মাহমুদুল হাসান । অনুষ্ঠানে অতিথি বৃন্দ সমিতির সকল কার্যক্রমের প্রশংসা করেন,এবং জনমঙ্গল সমিতি যে দীর্ঘ সময় ধরে কমিউনিটির জন্য কাজকরে যাচ্ছে অতিথিবৃন্দ তা ব্যক্ত করেন । বক্তাগণ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সুন্দর আয়োজনের জন্য সমিতির নতুন কমিটির সকল সদস্য বৃন্দকে ধন্যবাদ জানান ও সমিতির আগামী দিনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্য সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান  । অনুষ্ঠানটি  যুক্ত রাজ্য বসবাসরত  বহরগ্রাম বাসীর এক মিলন মেলায় পরিণত হয় । অনুষ্ঠানে  আরও উপস্থিত ছিলেন,গোলাপগন্জ এডুকেশন ট্রাস্টের সহসভাপতি ইসবাহ উদ্দিন,গোলাপগঞ্জ এডুকেশন ট্রাস্টের সাবেক সভাপতি সিপত আলী আহাদ,গোলাপগঞ্জ হেল্পিন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক তাজুল আহমেদ, বাংলাদেশ সেন্টারের সহসভাপতি নিজাম উদ্দিন ,গোলাপগঞ্জ এডুকেশন ট্রাস্টের সাবেক নির্বাচন কমিশনার আব্দুল হাই,গোলাপগঞ্জ এডুকেশন ট্রাস্টের সাবেক সাদারণ সম্পাদক মাসুক আহমেদ,গোলাপগঞ্জ এডুকেশন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান,আওয়ামীলীগ নেতা আ স ম মিসবা, যুক্ত রাজ্য যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমদ খান,বিয়ানী বাজার প্রগতি এডুকেশন ট্রাস্টের সভাপতি হাবিবুর রহমান মনিয়া,জনমঙ্গল সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুল হাফিজ মনিয়া,জনমঙ্গল সমিতি বাংলাদেশ.শাখার সাবেক সভাপতি আব্দুল মজিদ,জনমঙ্গল সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সাইফুল ইসলাম বুদু, বাংলাদেশ থেকে আগত বহর গ্রামের বিশিষ্ট মুরব্বি হাজী মাওলানা নুরুল ইসলাম নুনু, জনমঙ্গল সমিতির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য রফিক উদ্দিন মাশুক,সিলেটের যুব সংগঠক এম এ মান্নান,কমিনিটি নেতা ফোকর উদ্দিন,জনমঙ্গল সমিতির আজীবন সদস্য তারেক আহমেদ,জনমঙ্গল সমিতির আজীবন সদস্য বাহার উদ্দিন,ফজলু মিয়া,কওসর আহমেদ,নজরুল ইসলাম শুকুর,নিজাম উদ্দিন,ইসলাম উদ্দিন,মনসুর আহমেদ মজনু,মিজানুর রহমান সুহেল,জাকারিয়া হুসেন জয়নাল,দেওয়ান আব্দুল বাছিত,মাছূম আহমেদ,ছাদিক আহমেদ,কিবরিয়া আহমেদ,সেবুল আহমেদ,জাকির মুন্সী,ছোয়ালিহীন করিম চৌধুরী, সুরমান খান,দিলাল আহমেদ,ফয়সল হুসেন সুমন,নানু মিয়া,ফকরুল আহমেদ,মানা আহমেদ,গোলাম কিবরিয়া,জামাল খালেদ,রাসেল আহমেদ জুয়েল,কিবরিয়া ইসলাম,কায়রুল আহমেদ,আবিদুর রহমান,শিমুল চৌধুরী,দুলাল আহমেদ,জামাল আহমেদ,হালিম আহমেদ, শাহেদ আহমেদ,জাকারিয়া,ছাহিদ আহমেদ,আলতাই হুসাইন,জামাল জাহিদ,জুবের আহমেদ,সিদি্দকুর রহমান,আব্দুল কাদির,জাকির হুসেন,বদরুল,রুহেল মিয়া,নাজিম উদ্দিন,শিব্বির আহমেদ,কাজী মিজান,ফুল মিয়া,মঞ্জুর আহমেদ,জয়নুল হুসেন,কাওসার হাসান প্রমূখ ।

বিস্তারিত»
গণগ্রেফতার ও নির্যাতন করে নাটোরের সমাবেশ ঠেকানো যাবে না খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা

এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মোহাম্মদ আব্দুল মোকাদ্দিম এবং যুগ্ম মহাসচিব মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা ৩১ অক্টোবর শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান সরকার গণগ্রেফতার করে নাটোরের সমাবেশ বানচাল করার যে নিলনক্সা করছে তা নাটোরবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হয়ে ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, কদিন আগে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এড. মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ ৬৪জনকে তার বাসভবন থেকে গ্রেফতার করেছে বিনা কারণে। এর জের কাটতে না কাটতে ৩১ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে এড. মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের মুক্তির দাবীতে যুবদলের নেতাকর্মীরা জড় হলে সেখান থেকে ৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও নাটোরের বিরোধীদলের নেতাকর্মীদেরকে গণগ্রেফতার করছে। গণগ্রেফতার, মিথ্যা মামলা ও ষড়যন্ত্র করে সরকার তার শেষ রক্ষা করতে পারবে না। নেতৃবৃন্দ হুশিয়ারীউচ্চারণ করে বলেন অবিলম্বে এড. মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ গ্রেফতারকৃত সকল নেতৃবৃন্দকে নিঃশর্তভাবে মুক্তি দিতে হবে। এবং নাটোরের সমাবেশ সফল করার জন্য নাটোর জেলাসহ পার্শ্ববর্তী সকল জেলার ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদেরকে এনডিপি’র পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়।

বিস্তারিত»
চট্টগ্রাম মহানগর কর্মজীবী দলের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মজীবীদল চট্টগ্রাম মহানগর শাখার কর্মী সমাবেশ সভা আজ বিকেল ৪ টায় অনুষ্টিত হয়। চট্টগ্রাম মহানগর কর্মজীবী দলের আহবায়ক হাজী আব্দুর রহিম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মজীবীদল কেন্দ্রীয় কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি লায়ন আনোয়ার হোসাইন উজ্জ্বল। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ হোসাইন বাপ্পি, খোরশেদ আলম, এস এম তাহের,জাহাঙ্গীর আলম, শাহাদাৎ হোসাইন সাজু, আব্দুল মান্নান, মোহাম্মদ শওকত, আব্দুল জলিল, মোহাম্মদ এমরান, তমিসুর রহমান সহ চট্টগ্রাম মহানগর, থানা, ওয়ার্ড এর নেতৃত্ববৃন্দ। অনুষ্টানটি উপস্থাপনায় করেন চট্টগ্রাম মহানগর কর্মজীবীদলের সদস্য সচিব আসাদুর রহমান টিপু।সমাবেশ শেষে প্রধান অতিথি লায়ন আনোয়ার হোসাইন উজ্জ্বল আগামী ১ মাসের মধ্যে চট্টগাম মহানগরের ১১ টি থানা কমিটি করতে নির্দেশ দেন। পরিশেষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর আত্নার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনাে করেন হাজী আব্দুর রহিম, সেই সাথে সকল রাজবন্দী নেতাকর্মীদের জন্য এবং কর্মজীবী দলের উত্তোরাত্তর সাফল্য কামনা করে দোয়া করা হয়।

বিস্তারিত»
‘নাটোরেই সরকার পতনের ডাক দেবেন খালেদা জিয়া

নাটোর: শনিবার নাটোরে ২০ দলীয় জোটের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার সমাবেশ হবে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে নাটোরের স্মরণকালের সর্ববৃহৎ মহাসমাবেশ। এর আগে কোনো সরকারি বা বিরোধীদল এতো বড় সমাবেশ করতে পারেনি, এটা শুধু জনসভা নয় জনসমুদ্রে পরিণত হবে। শুক্রবার নাটোর জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন বিএনপি নেতারা। বেগম খালেদা জিয়া নাটোরের এই জনসমুদ্র থেকে সরকার পতন আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলেও আশা ব্যক্ত করেন নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক। বক্তারা সমাবেশকে সফল করতে বর্তমান সরকারি দল, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, সাংবাদিকসহ সবার কাছে সহযোগিতা কামনা করেন। পরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ও জেলা বিএনপির সভাপতি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু জেলার অন্য নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জনসমাবেশস্থল নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারী কলেজ মাঠ ও মঞ্চ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে জনসমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু।

বিস্তারিত»
অসহায়-দুস্থদের মধ্যে প্রবাসী শফিক উদ্দিনের চাউল বিতরণ

বিশ্বনাথের হরিকলস গ্রামের লন্ডন প্রবাসী শফিক উদ্দিনের নিজ উদ্যোগে অসহায়-দুস্থদের মাঝে চাউল বিতরণ করা হয়। শুক্রবার বিকেলে নিজ বাড়িতে প্রত্যেককে একটি করে প্রায় ৯০ বস্তা চাউল নব্বইটি পরিবারে বিতরন করা হয়। এ সময় লন্ডন প্রবাসী শফিক উদ্দিন দেশের এসব অসহায়-দুস্থদের পাশে দাড়াতে সকল প্রবাসীদের আহ্বান জানান। এবং আগামীতে ও সব সসময় তিনি এসব হতদরীদ্রদের পাশে থাকার কথা ব্যক্ত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মশাহিদ আলী, ফয়জুর রহমান, আব্দুল কদ্দুছ, ইনুছ আলী, আব্দুল মজিদ,নুর ইসলাম, সাঈদুর রহমান প্রমুখ।

বিস্তারিত»
নাটোরে দ্বন্দ্বে জেরবার ‘দুলুর বিএনপি’

নাটোর: দেশব্যাপী দলীয় সফরের অংশ হিসেবে শনিবার নাটোরে আসছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। স্থানীয় নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে ২০ দলীয় জোটের জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।এখান থেকে সরকার পতন আন্দোলনের কর্মসূচিরও ঘোষণা আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে দলীয় নেতাকর্মীদের অবস্থান সম্পর্কে দিকনির্দেশনাও থাকতে পারে এতে। অথচ এই সময়ে নাটোর বিএনপি দলীয় দ্বন্দ্ব-কোন্দলে জেরবার। ত্রিমুখী দ্বন্দ্বে আছেন ত্যাগী, বঞ্চিত, বহিষ্কৃত, সুবিধাভোগীসহ নানা অভিধার নেতাকর্মী। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় নাটোর জেলা-উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত ও বঞ্চিত নেতারা শনিবারের সমাবেশে যোগ দেবেন। তাদের দাবি, শুধু সভা-সমাবেশ নয়, দল গোছানোর কাজও করতে হবে নেত্রীকে। কেননা, নাটোর বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি হলেও শুধু দলে ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন ও তারা মাঠে না থাকায় বিগত সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে দল। জেলায় নীরব দ্বন্দ্ব ও উপজেলাগুলোতে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের কারণে বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলন শুধু মিডিয়া ট্রায়ালেই সীমাবদ্ধ ছিল। এ ছাড়া জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতের সঙ্গেও ছিল জেলা বিএনপির  ঠান্ডা লড়াই। তবে অন্যান্য উপজেলায় স্থানীয় নেতারা জোট বজায় রেখেই কাজ করার চেষ্টা করেন। এত কিছুর পরও সরকারবিরোধী আন্দোলনে বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। কিন্তু  সঠিক সহযোদ্ধার অভাবে তা কূল পায়নি।বারবার হোঁচট খেতে হয়েছে তাকে। বর্তমান সরকারের সময়ে ইতিমধ্যে দু-দুবার কারাবরণ করতে হয়েছে তাকে।  তার অনুপস্থিতে কোনো সময়ই প্রকৃত অর্থে মাঠে নামতে পারেনি বিএনপি। সরকারবিরোধী আন্দোলনে জেলায় কয়েকজন নেতাকর্মী খুন হলেও দেশব্যাপী আন্দোলনে উঠে আসে নাটোরের দুটি নাম। বনপাড়ায় প্রকাশ্যে পিটিয়ে খুন করা হয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সানাউল্লাহ নূর বাবুকে এবং শহরের কানাইখালী এলাকায় গুলিতে নিহত হন ছাত্রদলের নেতা সাইফুজ্জামান সুজন। বঞ্চিতরা মনে করেন, দুলুর অনুপস্থিতির চেয়ে দলের প্রধান সংকট দলে আত্মীয়করণ ও ব্যক্তি পছন্দের নেতা নির্বাচন। এ জন্য শুধু আন্দোলনেই ব্যর্থতা নয়, দলকে সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে বিভিন্ন নির্বাচনে খেসারতও দিতে হয়েছে। তবে এ সমস্যাকে তেমন কোনো সমস্যাই মনে করেন না জেলা বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জেলা চেম্বারের সভাপতি আমিনুল হক।   চারটি সংসদীয় আসন, সাতটি উপজেলা, আটটি পৌরসভা ও ৫২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নাটোর জেলা বিএনপির দুর্গ হিসেবে খ্যাত। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে চারটি সংসদীয় আসনের চারটিতেই জয়লাভ করে মহাজোট। আর গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে একটিতে ভোটে আর বাকি তিনটি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়  জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ।   ২০০৯ সালে ১৬ নভেম্বর বিএনপির কাউন্সিল হলে দলের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে বিএনপি। সাবেক কিছু নেতা উপেক্ষিত হন। জেলা কাউন্সিলসহ বিভিন্ন উপজেলার কাউন্সিলে সভাপতির পছন্দমতো পকেট কমিটি গঠন করা হয় এমন অভিযোগও ওঠে। জেলা কাউন্সিলে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে সভাপতি ও ব্যবসায়ী আমিনুল হককে করা হয় সাধারণ সম্পাদক। কমিটি থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়েন সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাচ্চু। তাকে সান্ত্বনার প্রতীক হিসেবে করা হয় জেলার সহসভাপতি। পরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তবে দুলুর কারাবরণের সময় বিশিষ্ট শিল্পপতি হামজা গ্রুপের মালিক আবুল কাশেমকে নিয়ে বিএনপির বি-টিম দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন তারা। বিএনপিকে দুলুর পরিবারের গ্রাসমুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামলেও দুলুর মুক্তির পর আবুল কাশেমকে আর মাঠে দেখা যায়নি। জরুরি কাজে দেশের বাইরে যাবেন তাই নেত্রীর আগমনেও নাটোরে থাকতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকায় অবস্থানরত শিল্পপতি আবুল কাশেম। তিনি অভিযোগ করেন, নেত্রীর প্রোগ্রামে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাওয়াত করা হয়নি। তবে সমাবেশে তার প্রায় ২৫-৩০ হাজার নেতাকর্মী অংশ নেবেন বলে জানান। আবুল কাশেম বলেন, “বড় দুই দলে নেতাদের আসন লিজ নেয়ার প্রবণতা ভাঙতেই আমি রাজনীতি করার চেষ্টা করছি। দলের কর্ণধার তারেক রহমানও বিষয়টি জানেন। তাই জনগণের দোয়া নিয়ে আগামীতে মাঠে থাকব। দলকে সব ধরনের আত্মীয়করণ থেকে মুক্ত করা হবে।” বহিষ্কৃত নেতা শহিদুল ইসলাম বাচ্চু অনেকটা ক্ষোভ নিয়েই বলেন, “নেতানেত্রীরা সফর করে জনসভা করে ঢাকায় ফিরে যান। মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক অবস্থার খবর নেন না। দলের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা নিয়ে দলকে সুসংগঠিত না করে জনসভায় লাভ হবে না। তাই দলীয় বিভেদ দূর করা দরকার।নেত্রীর সমাবেশে তার অনুসারী সব নেতাকর্মী অংশ নেবে।”        পৌর বিএনপির কমিটি গঠনেও ত্যাগী অনেককেই উপেক্ষার শিকার হতে হয়েছে। ছিটকে পড়েন আব্দুল মান্নাফ। সভাপতি করা হয় দুলুর বড় ভাই সাবেক পিপি রুহুল আমিন তালুকদার টগরকে আর সাধারণ সম্পাদক হন দুলুর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ব্যবসায়ী এমদাদুল হক আল মামুন। জেলা বিএনপিতে  অনেকটাই একক ক্ষমতাই দখল করে আছেন তারেক রহমানের কাছের ব্যক্তি খ্যাত রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। কিন্তু জেলার অন্যান্য উপজেলায় নিজের পছন্দের লোকদের কাছে টানতে গিয়ে দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জন্ম হয়েছে। গত ২০০৮ সালের নির্বাচনে আইনি জটিলতায় জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি দুলু। নতুন প্রার্থী হিসেবে তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন পরাজিত হলেও প্রচুর ভোট পেয়ে আলোচনায় উঠে আসেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতা নাটোরের বাসিন্দা ফজলুর রহমান পটলের সঙ্গে দুলুর সম্পর্কের টানাপোড়েন কখনোই যেন কাটছে না। এসব কারণেই জেলার দলীয় কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সব সময় অনুপস্থিত দেখা যায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী পটলকে।   বর্তমান সরকার গঠনের পর নানা কারণেই ঘরমুখো দলে পরিণত হয় বিএনপি। দুলুর বাসাকে কেন্দ্র করেই চলে দলের কর্মকাণ্ড। কারাবরণ শেষে জেলায় এসে দল গঠন করতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হয় তাকে। জেলা কাউন্সিল সামাল দিলেও অন্যান্য উপজেলায় দলের নানা দ্বন্দ্বের অবসান এখনো করতে পারেনি দলটি। শহর কমিটিতে উপেক্ষিত নেতারা দলের কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল মান্নাফ শহর কমিটির সভাপতি থেকে ছিটকে পড়ে এখন বেশি সময় ঢাকায় থাকেন। একসময় তাকে বহিষ্কারের পর তা প্রত্যাহারও করা হয়েছে। তবে নেত্রীর অনুষ্ঠানে তাকে দাওয়াত দেয়া হয়নি বলে এই প্রতিবেদককে জানান তিনি। সদর বিএনপিরও অনেক নেতা এখন নিষ্ক্রিয়। গুরুদাসপুর, লালপুর, বাগতিপাড়ায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের খেসারত দিতে হচ্ছে দলকে। এদিকে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জোটের শরিক জামায়াতের সঙ্গে সুসম্পর্ক না থাকায় নিজের ভাতিজি জামাই রহিম নেওয়াজ ও জামায়াতের জেলা আমির ইউনুস আলী প্রার্থী হন। ফলে এখানে সামান্য ভোটে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেলা যুবলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম রমজান। আর দলের বাইরে এসে নির্বাচন করায় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সিরাজুল ইসলামকে বহিষ্কার করে জেলা বিএনপি। তবে বাকি উপজেলাগুলো জোটের প্রার্থী দিয়ে জয় নিজেদের ঝুলিতে নেয় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতারা। এমনকি দুলুর জন্মভূমি নলডাঙ্গাতেও স্থানীয়ভাবে জোটের প্রার্থী দিয়ে বিজয়ী হন স্থানীয় নেতারা। দলীয় বিভেদের কারণে গত পৌর নির্বাচনে ছয়টির মধ্যে হারাতে হয়েছে তিনটি আসন। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে বড়াইগ্রাম, লালপুরের গোপালপুর , বনপাড়া ও গুরুদাসপুরে একক প্রার্থী দিতে পারেননি দুলু। এ কারণেই বাবু হত্যার পর সবচেয়ে জনপ্রিয়তা থাকার পরও জয়ী হতে পারেননি বাবুর স্ত্রী মহুয়া নূর কচি। বিএনপির তৎকালীন উপজেলা সভাপতি একরামুল আলম (নির্বাচনের কারণে বহিষ্কৃত) নির্বাচন করায় জয়ী হন বাবু হত্যার প্রধান আসামি কে এম জাকির হোসেন। বিগত উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান হওয়ায় বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয়া হয়েছে একরামুল আলমের। হারতে হয়েছে গুরুদাসপুরে। গোপালপুরে বিজয়ী হয়েছেন বহিষ্কৃত নেতা বিদ্রোহী প্রাথী মঞ্জুরুল ইসলাম বিমল। বিগত ইউপি নির্বাচনে সদরে ভালা ফল করলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে জেলার অন্যান্য স্থানে ভালো করতে পারেনি বিএনপি। জেলার সবগুলো ইউনিয়নে নিজে মনোনয়ন দিয়েছেন দুলু। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে একাধিক প্রার্থী থাকায় সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অনেকে পরাজিত হয়েছেন। সিংড়া উপজেলার ১২টির একটিতেও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জিততে পারেননি। লালপুরে বিএনপির কোন্দল অনেকটাই বেশি। এর জের ধরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও মামলা হয়েছে। এখানে এসে বিপক্ষের সমর্থকদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন ফজলুর রহমান পটল। সমাবেশ করে তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে বিমল সমর্থকরা। পটলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে লালপুর বাগাতিপাড়ায় ১০১ সদস্যবিশিষ্ট বিএনপি রক্ষা কমিটি করে বিমল অনুসারীরা। তবে নেত্রীর জনসভায় তারাও যোগ দেবেন নেত্রীর ডাকে।   বাগাতিপাড়ায় বিএনপির কোন্দল এখন চরমে। জেলা সভাপতি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু মনোনীত উপজেলা বিএনপি সভাপতি মোশারফ হোসেন, আর বহিষ্কৃত সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা নয়ন এখন দুই মেরুর দুই সেনানী। দলীয় কর্মকাণ্ড না থাকলেও এক কমিটি আরেক কমিটির বিরুদ্ধে মিছিল-সমাবেশ করছে হরহামেশাই। নেত্রীর আগমনকে ঘিরে দুই সেনানীই নিচ্ছেন রণপ্রস্তুতি। কে বেশি নেতাকর্মী উপস্থিত করবেন, সে চ্যালেঞ্জ নিয়ে চলছে প্রচারণা, আর ব্যানার-ফেস্টুন তৈরির কাজ। গোলাম মোস্তফা নয়ন বলেন, “আমরা খালেদা জিয়ার বিএনপি করি। জেলার দ্বন্দ্বে বিভক্ত হয়ে আমরা বসে থাকতে পারি না। নেত্রীর সমাবেশে সবাইকে সাথে নিয়ে যোগ দেব। প্রত্যাশা করব, নেত্রী দলের অবস্থানের খোঁজ নিয়ে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবেন।”      বড়াইগ্রামে বিএনপির অবস্থান দুই মেরুতে। উপজেলা নির্বাচনে জয় লাভের পর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় বনপাড়ায় এক গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন একরামুল আলম, আর অন্য গ্রুপে বাবুর স্ত্রী মহুয়া নূর কচি। আর বড়াইগ্রামে রয়েছে পৌর মেয়র ইসাহাক আলী ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শরিফুল হক মুক্তার দ্বন্দ্ব। তবে যার যার অবস্থান থেকেই সমাবেশে যোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।   আর গুরুদাসপুরে দলীয় দ্বন্দ্বে অনেকটাই জনবিচ্ছিন্ন এক গ্রুপের নেতা সাবেক সাংসদ মোজাম্মেল হক।অন্য গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সারা জেলায় সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলনেই ভূমিকা রাখতে পারছে না বিএনপি। দুলুকেন্দ্রিক বিএনপিতে তার অনুপস্থিতে নামমাত্র কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ তারা। বাবু ও সুজন হত্যাকাণ্ড ছাড়া নাটোর শহরের প্রাণকেন্দ্রে কোনো মিছিল-সমাবেশ সেভাবে করতে পারেনি তারা। জোটের শরিক জামায়াতের সঙ্গে তেমন কোনো সম্পর্কও পরিলক্ষিত হয় না। ফলে পৌর ও ইউপি নির্বাচনে একক প্রার্থী দেয় জামায়াতে ইসলামী। নানা সময়ে সরকার পতন আন্দোলন বা রাজনৈতিক কোনো ইস্যুতেও জোটের তেমন কোনো বৈঠক হয় না। ফলে দূরত্ব বাড়ছে সরকারবিরোধী শিবিরে। যুবদল বা ছাত্র দলেও নেতাদের মূল্যায়নের চেয়ে দুলুপ্রীতির মূল্যায়ন করা হয়েছে, এমন অভিযোগ রয়েছে। বিএনপিতে নানা বিভেদে এতদিন মাঠে ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে তারা্- বঞ্চিতদের এমন দাবির মুখেও এগুলো কোনো সমস্যা মনে করেন না বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক।তিনি বলেন, “দলে ছোটখাটো সমস্যা থাকবেই। তা দূর করে আমরা নেত্রীর আগমনে উজ্জীবিত। আগামীতে আমরা আরো শক্তিশালী অবস্থান করে নিতে পারব। আর বহিষ্কৃতদের আমন্ত্রণের ব্যাপারে তার সাফ জওয়াব, তারা ইচ্ছা করলে সমাবেশে আসবেন। তবে মঞ্চে তাদের কোনো অবস্থান থাকবে না।”   এদিকে নেত্রীর আগমনকে ঘিরে সমাবেশে যোগ দেয়ার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বঞ্চিতরা। তারা মনে করেন, সরকার পতন আন্দোলনে দলকে সুসংগঠিত করতে হলে, আগে যা-ই হয়ে থাকুক, এখন ত্যাগীদের দলে স্থান দিতে হবে।

বিস্তারিত»
দক্ষিণ সুরমায় ৪টি গ্রাম বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের উদ্বোধন

সিলেট-৩ আসনের এমপি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিদ্যুতের আলো থেকে বঞ্চিত গ্রামগুলোকে চিহ্নিত করে বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা হচ্ছে। সিলেট-৩ নির্বাচনী এলাকায় যেসব গ্রাম বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত আমার প্রচেষ্টায় গ্রামগুলো বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিদিন কোন না কোন গ্রাম বিদ্যুৎ সংযোগের আওয়াত আসছে। ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, ক্ষুদ্র শিল্প কারখানা গড়ে উঠার পাশাপাশি কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা সহজলভ্য হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সিলেট-১ এর মাধ্যমে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ একাংশে যে সকল গ্রাম বিদ্যুতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে সে গ্রামগুলোতে পর্যায়ক্রমে এই সরকারের আমলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হচ্ছে। এর সরকার তার নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ করছে। এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী গত ৩১ অক্টোবর শুক্রবার দক্ষিণ সুরমা উপজেলা জালালপুর ইউনিয়নের হাসামপুর, শমসপুর, তেতলী ইউনিয়নের ধোপাঘাট ও দাউদপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রাম বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী পৃথক পৃথক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। অনুষ্ঠানগুলোতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সিলেট-১ এর সভাপতি সৈয়দ মকবুল হোসেন মাখন, জেনারেল ম্যানেজার মাহবুবুল আলম, উপজেলা আওয়ামীলীগের বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সাইফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী রইছ আলী, যুগ্ম সম্পাদক রাজ্জাক হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান ময়নুল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা কফিল আহমদ চৌধুরী, দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি মোঃ মুরসালিন, মোগলাবাজার থানার ওসি মোঃ শফিকুল ইসলাম, দাউদপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম আলম, জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা সুলাইমান হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুস সালাম মর্তু, আতিকুর রহমান, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সালেহ আহমদ, আওয়ামীলীগ নেতা মশাহিদ আলী, আহমদ হোসেন খোকন, খিজির খান, পংকী মিয়া, বাবুল মিয়া, নেছার আলী, মখন মিয়া, আব্দুস সালাম রানা, গোপেশ দাস, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ইকরাম হোসেন বখত, যুগ্ম সম্পাদক আশিক আলী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহজাহান আলম, শাহজাহান মেম্বার, সুজন খান, সজ্জাদ মিয়া, মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আলী আশরাফ সুহেল, মনছুর আহমদ, সুমন আহমদ, ছদরুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা বেলায়েত হোসেন, হেলাল আহমদ প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি  

বিস্তারিত»
নগরীর সোবহানীঘাট থেকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী নিখোঁজ

সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকা থেকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী নিখোঁজ হয়েছেন। যুক্তরাজ্য প্রবাসী নিখোঁজ মোহাম্মদ জাকারিয়া (৩৮) গোলাপগঞ্জ থানার দক্ষিণ কানিশাইল গ্রামের মৃত আব্দুল খালিক ছেলে। জানা যায়, যুক্তরাজ্য প্রবাসী জাকারিয়ার মা দেশে আসার পর অসুস্থ হলে নগরীর সোবাহানীঘাটস্থ ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন। জাকারিয়া তার অসুস্থ মা কুশিয়ার বেগমকে দেখার জন্য গত ২৮ অক্টোবর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আসেন। আসার পর থেকে মাকে দেখাশোনার জন্য ইবনে সিনা হাসপাতালের ৬০৩নং কেবিনে অবস্থান করছেন। গতকাল ৩১ অক্টেবার শুক্রবার সকাল ১০টার সময় জাকারিয়া হাসপাতাল থেকে বাইর হয়। এরপর থেকে তাকে আর কোথাও খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি তার ব্যবহৃত ০১৭৯৯ ২৭০২২১ নম্বর মোবাইটিও বন্ধ রয়েছে। কোথাও তার সন্ধান না পেয়ে জাকারিয়ার মামাত ভাই মোঃ ফজলুল কাদির সিদ্দিকি বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি জিডি এন্ট্রি করেন। জিডি নং ১৬৬৪, তারিখ ৩১/১০/১৪ইং। নিখোঁজ হওয়ার সময় জাকারিয়ার পরনে ছিল কালো প্যান্ট ও সাদা চেক শার্ট। তার গায়ের রং ফর্সা, উচ্চা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি। কোন সুহৃদ ব্যক্তি তার সন্ধান পেলে ০১৭১৬ ৮০৫৬২২ ও ০১৭১০ ১৮৬৫৭১ নাম্বার জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। এদিকে রাত ১০টায় নিখোঁজ প্রবাসী জাকারিয়ার মাতা কুশিয়ারা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তোকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি  রাজিউন)। আজ শনিবার সকাল ১০টায় কানিশাইল গ্রামে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বিজ্ঞপ্তি  

বিস্তারিত»
‘ঢাকা যার ক্ষমতা তার’

ঢাকা: বিএনপিকে ‘মাজাভাঙা’ দল হিসেবে আখ্যায়িত করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, “ঢাকা যার ক্ষমতা তার। এটা কিন্তু বুঝতে হবে। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে তারা (বিএনপি) কিন্তু ঢাকা দখল করতে পারে নাই।” শুক্রবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবসের জনসভা সফল করার লক্ষ্যে এ যৌথ সভার আয়োজন করা হয়। বিএনপিকে ইঙ্গিত করে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মায়া বলেন, “তারা (বিএনপি) তো এখন মাজাভাঙা দল হয়েছে। মাজায় জোর নাই। জামায়াতও নির্জীব হয়ে যাচ্ছে। একটা একটা করে ফাঁসি হবে আর তারা আরো নির্জীব হবে। তবে এদের কিন্তু দুই একটা সন্ত্রাসী আছে। এদের চিরতরে ধ্বংস করতে হবে।” স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাওছারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, সংগঠনের সহসভাপতি নীহার রঞ্জন গুহ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কাজী মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ। জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে আগামী ৩ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে  জনসভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।  

বিস্তারিত»
আমার দেশে আগুন সরকারি  নাশকতা: ফখরুল

ঢাকা: আমার দেশ পত্রিকা অফিসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে সরকারি নাশকতা বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিরোধী মনে করলে সরকার সেটি ধ্বংস করতে তৎপর থাকে। শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দৈনিক আমার দেশ অফিসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। আগুনে সরকারি প্রতিষ্ঠান বিএসইসি ভবনে অবস্থিত আমার দেশ পত্রিকার অফিস পুড়ে যায়। ওই ভবনে অবস্থিত এনটিভি, আরটিভিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়। বিএসইসি ভবনের এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডকে সুপরিকল্পিত নাশকতা বলে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। মির্জা ফখরুল বলেন, “দৈনিক আমার দেশ পত্রিকাকে কোনোভাবেই সহ্য করতে পারত না। তাই সম্পাদককে কারারুদ্ধ করে পত্রিকাটি বন্ধ করেও সরকার ক্রুদ্ধ প্রতিহিংসা প্রশমিত করতে পারছে না। তাই মাহমুদুর রহমানকে মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করার জন্যই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।” ‘সরকার কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিরোধী মনে করলেই সেটিকে ধ্বংস করার জন্য তৎপর থাকে’- এমন অভিযোগ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “এই কারণেই আমার দেশ পত্রিকা এবং এনটিভি ও আরটিভি নিশ্চিতভাবেই সরকারি নাশকতার শিকার। এই গণমাধ্যমগুলো নাগরিক স্বাধীনতার কথা বলে, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা বলে।” বিবৃতিতে বলা হয়, “সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক যে মুহূর্তে উক্ত ভবন থেকে আমার দেশ পত্রিকা অফিসের সমস্ত মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ে কার্যালয়টি অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হওয়া এক পরিকল্পিত নীল নকশার অংশ।” বিএসইসি ভবনে শুক্রবারের অগ্নিকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান মির্জা ফখরুল।    

বিস্তারিত»
গোলাম আযমের ছেলের দুঃখ প্রকাশ

ডেস্ক নিউজ:ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক গোলাম আযমের ছেলে সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী। তার পিতার মৃত্যুর পর বিএনপির ভূমিকায় বিস্ময় প্রকাশ করে করে দেওয়া স্ট্যাটাসকে একান্ত ব্যক্তিগত অভিমত হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেছেন, আমি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। আমি যা বলেছি তা একান্তই আমার ব্যক্তিগত মতামত। তারপরও আমার মন্তব্যের কারণে যদি কেউ মানসিকভাবে আহত হয়ে থাকেন তাহলে আমি খুবই দুঃখিত। অধ্যাপক গোলাম আযম যে যুদ্ধাপরাধী ছিলেন না ইতিহাস একদিন তা প্রমাণ করবে বলেও দাবি করেন তিনি। গতরাতে বেসরকারি টিভি চ্যানেল একাত্তরের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। আযমীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার দুঃখ প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওদিকে, আব্দুল্লাহিল আমান আযমীর বক্তব্যের ব্যাপারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সেটি গোলাম আযম পুত্রের ব্যক্তিগত মতামত। তাই আমরা বিষয়টি আমলে নেবো না। তিনি বলেন, অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেবের ছেলে জামায়াতে ইসলামীর কর্মকর্তা কিংবা সদস্য কিনা আমার জানা নেই। জামায়াতের সঙ্গে আমাদের যে জোট রয়েছে, তা একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে দ্রুত নির্বাচন ও দেশে যে দুঃশাসন চলছে তা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের জন্য। এরআগে এক ফেসবুকে স্ট্যাটাসে আযমী লিখেছিলেন ‘অধ্যাপক গোলাম আযমের মৃত্যুর পর পুরো বিশ্ব শোক প্রকাশ করলেও বিএনপির নীরবতায় পুরো জাতি হতাশ। আমি জানি না কেন! ‘আমার এটা বলতে কোনো দ্বিধা নেই যে, জামায়াতের সমর্থন ছাড়া বিএনপি কখনোই সরকার গঠন করতে পারতো না। দুঃখের বিষয়, এই দলের প্রতিষ্ঠাতা আমীর এবং আমৃত্যু আধ্যাত্মিক গুরুর মৃত্যুতে তাদের নীরবতা ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত ও অগ্রহণযোগ্য!’ বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি লিখেন, ‘জামায়াতের সমর্থন ছাড়া তারা কখনো ক্ষমতায় যেতে পারবে না-এটা মাথায় রাখলে বিএনপি ভালো করবে। এটা আমার প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ। ‘তারা কতো অকৃতজ্ঞ হতে পারে!'  

বিস্তারিত»
বাংলাদেশে জেএমবি-র 'প্রধান সমন্বয়কসহ' পাঁচজনকে আটক করেছে র‍্যাব

বাংলাদেশে পুলিশের বিশেষ বাহিনী র‍্যাব বলছে, তারা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা জেএমবি-র পাঁচজন সদস্যকে আটক করেছে। আটককৃত পাঁচজনের একজন, জনৈক আব্দুন নূরকে র‍্যাব জেএমবি-র প্রধান সমন্বয়ক বলে চিহ্নিত করেছে। র‍্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ হাসান বিবিসি জানিয়েছেন, শুক্রবার ভোর রাতে সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে জেএমবি’র ওই সদস্যদের আটক করা হয়। আটককৃতদের কাছ থেকে প্রচুর বিস্ফোরক, বিস্ফোরক তৈরির উপাদান এবং জিহাদি বই পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। সম্প্রতি ভারতে জেএমবি সদস্য সন্দেহে কয়েকজন বাংলাদেশীকে আটক করা হয়। ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন, জেএমবি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে হত্যাসহ ব্যাপক সহিংসতার পরিকল্পনা করছে।

বিস্তারিত»
নরসিংদীতে ছাত্রদলের আলোচনা সভা

মোবারক হোসেন,নরসিংদী: নরসিংদী সদর থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আলতাফ মাহমুদের ৬ষ্ঠ মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল করেছে নরসিংদী সদর থানা ছাত্রদল।শুক্রবার বিকেলে মাধবদী পৌরসভা মিলনায়তনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন। সদর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কাজী ওয়াসিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর থানা বিএনপির সভাপতি সমীর ভূঞা,সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম,মাধবদী পৌর বিএনপির সভাপতি আমানউল্লা আমান,সাধারণ সম্পাদক ডাঃ জাকারিয়া,সদর থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম,জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নজরুল ইসলাম ভূঞা। মাধবদী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আলামীনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় মাধবদী পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন আনু,আরিফ হোসেনসহ ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

বিস্তারিত»
আড়াই ঘন্টায় রোশনারা আলীর জন্য বারো হাজার পাউন্ড নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ,লন্ডন থেকেঃ আজ সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে পূর্ব লন্ডনের দ্য আট্রিয়ামে শুরু হয় লেবার পার্টির বর্তমান এমপি ও আগামী মে মাসের ২০১৫ সালের ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে বেথনাল গ্রিন ও বো আসনের এমপি পদপ্রার্থী রোশনারা আলীর নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে লেবার দলের ফান্ড রেইজিং গালা ডিনার।বিশাল আট্রিয়াম হল ভর্তি নারী পুরুষের উপস্থিতিতে শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য ও নির্বাচনী তহবিল, আগামী নির্বাচনের সম্ভাব্যতা, লেবার দলীয় সরকার গঠন, পলিসি ইত্যাদি নিয়ে বেশ মজাদার ও রসাত্মক ভঙ্গিতে উপস্থাপন করেন লেবার দলীয় এমপি, শ্যাডো হোম অফিস টিম শাবানা মাহমুদ এমপি ও কো-আপারেটিভ পার্টি জেনারেল সেক্রেটারি কারিন ক্রিস্টিয়ানসেন।এর পর শাবানা মাহমুদ এমপি ও কারিন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান সাবেক কেবিনেট মিনিস্টার ও লেবার দলীয় এমপি ফ্রাঙ্ক ডবসন এমপি ও কাউন্সিলর রাচেল স্যান্ডার্স।ফ্রাঙ্ক ডবসন তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে সকলকে অনুষ্ঠানে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই ফান্ড রেইজিং গালা ডিনার শুধু ব্রিটিশ লেবার পার্টির নয়, বরং এটা বাংলাদেশেরও তথা ব্রিটিশ বাংলাদেশীদের। ফ্রাঙ্ক ডবসন তার দশ মিনিটের বক্তৃতায় রোশনারা আলীর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, রোশনারা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একজন ক্যারিশম্যাটিক এবং জনপ্রিয় লিডার। তিনি সকলকে রোশনারা আলীকে আবারো জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। একই আহ্বান জানান কাউন্সিলর রাচেল স্যান্ডার্সও।ফ্রাঙ্ক ডবসন এমপির বক্তব্যের পর পরই গালা ডিনারের ফার্স্ট কোর্স স্টার্টার সার্ভ করা হয় প্রত্যেক টেবিলে টেবিলে। এ সময় রোশনারা আলী এমপি, শাবানা মাহমুদ এমপি, জিম ফিটজপ্যাট্রিক এমপি, অ্যালান জনসন এমপি, লেবার দলের মিডিয়া অফিসার সৈয়দ মনসুর উদ্দিন, কাউন্সিলর মতিন, সাবেক কাউন্সিলর আব্দাল আলী তাদেরকে নিয়ে হল রুমের প্রত্যেক টেবিলে টেবিলে গিয়ে অভ্যাগত ও অতিথি এবং আমন্ত্রিতদের সাথে কুশল বিনিময় করেন, সাংবাদিকদের সাথেও কুশলাদি জিজ্ঞেস করেন এবং ছবিও তুলেন।ফার্স্ট কোর্স সার্ভের পর অনুষ্ঠানে কি নোট উপস্থাপন করেন সাবেক ওয়ার্কস এন্ড পেনশন সেক্রেটারি ও বর্তমান লেবার দলীয় এমপি অ্যালান জনসন এমপি। তিনি একজন পোস্টম্যান হিসেবে কর্ম জীবন শুরু করে কেমন করে অধ্যবসায় আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ব্রিটিশ রাজনীতির লাইম লাইটে আসেন, সুন্দর উপমা আর কৌতুকের মাধ্যমে বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও রাজনীতিতে একজন রোশনারার নানা সাফল্য ও অপরিহার্যতার কথা উল্লেখ করে তাকে পূণঃনির্বাচনের আবেদন জানান।এ সময় তিনি আগামীতে লেবার দল ক্ষমতায় এলে এনএইচএস সহ শিক্ষা খাত ও বেনিফিট পলিসিতে কেমন করে সাধারণ জনগণের কল্যাণের জন্য লেবার দল কাজ করবে, তারও ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। অ্যালান জনসন এমপি বলেন, বিগত ৫০ বছরের মধ্যে ৩৫ বছর টোরি পার্টি দেশ শাসন করেছে, তার মধ্যে মাত্র ১৫ বছর লেবার দল শাসিত হয়েছে, যাতে জনগণের কল্যাণে অনেক কর্মসূচীর ফল জনগণ পেয়েছিলেন বলে দাবী করেন।অ্যালান জনসন এমপির বক্তব্যের পর ডিনার সার্ভ করা হয়। কাচ্চি বিরিয়ানি, সাদা রাইস, সব্জি, ডাল, চিকেন, কিং পুড়ন ডিনারের মেন্যুতে সবই ছিলো। সুস্বাদু খাবারের প্রশংসা সকলেই করেছেন। ডিনারের পর পরই অনুষ্ঠিত হয় অকশন। লোকাল চিত্র শিল্পীদের আকা চিত্র, হাউস অব কমন্সের মনোগ্রাম সম্বলিত ঐতিহাসিক টি সেট, গ্লাস সেট, টি পার্টি উইথ শাবানা মাহমুদ এমপি, টি পার্টি উইথ রোশনারা আলী এমপি, অ্যালান জনসন এমপি, দুর্লভ এক পেইন্টিং, হাউস অব কমন্স সিল্ক টাই, ইসলামিক পেইন্টিং, মালয়েশিয়া থেকে আগত ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি পেইন্ট, হাউস অব কমন্স কফলিঙ্ক ইত্যাদি অকশনে ডাকা হয়। আর অকশন ডাকেন লেবার দলীয় মি. পিটার।অকশন ডাকার পূর্বে তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আমি একজন ব্ল্যাক প্রেসিডেন্টের কথা বলছি, আমেরিকার জনগণ একজন ব্ল্যাক প্রেসিডেন্ট পেয়েছেন, আমি বারাক ওবামাকে দেখেছি। কিন্তু ব্রিটেনের জনগণ ব্ল্যাক প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা ও সুযোগ নেই। তবে ব্রিটিশ জনগণ একজন ব্ল্যাক প্রধানমন্ত্রী ডাউনিং ষ্ট্রীটে পাবেন অদূর ভবিষ্যতে, যার সম্ভাবনা এখনি দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে আর তিনি হলেন রোশনারা আলী।গালা ডিনারের টিকেট ও অকশন থেকে এ সময় ১২,০০০ হাজার পাউন্ড সংগৃহীত হয় বলে অনুষ্ঠানে কারিন ক্রিস্টিয়ানসেন জানান।সন্ধ্যা ৭.৩০টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০.০০ টার মধ্যে এই বারো হাজার পাউন্ড সংগ্রহের রেকর্ড গড়লেন রোশনারা আলীর সম্মানে এই গালা ডিনারের পার্টির আয়োজকেরা।ডিনারের পর পরই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধান আকর্ষণ রোশনারা আলী। তিনি হাসি মুখে মঞ্চে আরোহণ করে সবাইকে সম্বোধন করেন আসসালামু-আলাইকুম বলে এবং উপস্থিত সকলকে গুড ইভনিং বলার পর পরই জিজ্ঞেস করেন আপনারা সকলে ভালা আছেননি ?রোশনারা আলী স্মিত হেসে তার বক্তব্যে বলেন, আমি আপনাদেরকে একটা জিনিস ক্লিয়ার করতে চাই, আমি শ্যাডো মন্ত্রীর পদ থেকে ইরাক ইস্যুতে পদত্যাগ করেছি, তবে আমি এমপি আছি, এই পদ ছাড়িনি। আপনাদের প্রতিনিধির পদ ছাড়িনি। আবারো আপনাদের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। কারণ আমি আপনাদের কাজ ও সেবা করতে ভালোবাসি।রোশনারা বলেন, আপনারা সকলেই মিলে মিশে আমাকে সাপোর্ট করবেন এবং বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম আর টেলিফোনে ক্যাম্পেইন করবেন। কারণ টেলিফোন ক্যাম্পেইন একটা শক্তিশালী মাধ্যম। আত্মীয়, বন্ধু, কলিগ সকলের সাথে আলাপ আলোচনা করবেন। এ সময় টেবিলে টেবিলে ডিজার্ট সার্ভ করা হয়।রোশনারা আলী সব শেষে সকলের সাপোর্ট আর সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। একই সাথে সিলেটী বাংলা ভাষায় তিনি স্কটিশ ল্যাঙ্গুয়েজের সাথে একটা তুলনামূলক চিত্র কাব্যিক আকারে তুলে ধরে বলেন, আপনারা সকলে মিলে আনার জন্য কাজ করবেন, যাতে আমরা আগামীতে পাশ করতে পারি এবং আগামীর সরকার লেবার দলের সরকার হয়।অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন সাবেক মন্ত্রী, হুইপ জিম ফিজটস প্যাট্রিক এমপি।গালা ডিনারে লন্ডনের স্থানীয় বাংলা সাপ্তাহিকগুলোর বেশ কয়েকজন সম্পাদক, সাংবাদিক, লন্ডন রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলা চ্যানেলগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধিবৃন্দ, জিবিনিউজ, বেতার বাংলা, লন্ডন ক্যাটারার্স ইউনিয়ন, সেলেব্রিটি বাংলা শেফ রইস আলী, আওয়ামীলীগ সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সাংসদ শফিকুর রহমান, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ সাজিদুর রহমান, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, স্থানীয় কাউন্সিলর সহ লন্ডনের মেইন মূলধারার লেবার দলীয় রাজনীতিবিদ, সাংসদ, নেতা কর্মী সহ বিভিন্ন বাংলাদেশী সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  

বিস্তারিত»
আমরা আমলাতন্ত্র চাই না, গণতন্ত্র চাই:এরশাদ

ঢাকা: বর্তমান পদ্ধতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর বনানী মাঠে মহানগর উত্তর জাতীয় পার্টির ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এরশাদ বলেন, নির্বাচন পদ্ধতি পরিবর্তন করে প্রার্থীর পরিবর্তে দলকে ভোট দেয়ার বিধান করতে হবে। তাহলে ভোটে কারচুপি হবে না। ফর্মুলা দিয়ে এরশাদ বলেন, ভোটের আনুপাতিক হারে দল থেকে এমপি নির্বাচিত করতে হবে। তাহলে ভোটে পেশিশক্তি ও কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ হবে। আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে এরশাদ বলেন, ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে গেছে দলটি। জনগণের কথা চিন্তা করছে না। তিনি বলেন, গণতন্ত্র শুধু ভোটের দিন। সব ক্ষমতা এখন আমলাদের হাতে। আমরা আমলাতন্ত্র চাই না, গণতন্ত্র চাই। এরশাদ বলেন, আমরা নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলি। অথচ নারীরা সবচেয়ে অসহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। জাতীয় পার্টি নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে বলেও মন্তব্য করেন এরশাদ। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিএম কাদের বলেন, রাজনীতিতে কেউ কাউকে ছাড় দেয় না। আমরা ক্ষমতায় থাকলেও বিরোধী দলকে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য সহায়তা করতাম না। সুতরাং কেউ আমাদের সুযোগ তৈরি করে দিবে, তা মনে করার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির জনসমর্থন রয়েছে। কিন্তু জনগণের কাছে উপস্থাপনে কিছুটা এলোমেলো রয়েছে। এটি গুছিয়ে নেয়ার জন্য কাজ করতে হবে। মহানগর উত্তর জাতীয় পার্টির সভাপতি এসএম ফয়সল চিশতীর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, প্রেসিডিয়াম সদস্য পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি প্রমুখ।

বিস্তারিত»
খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে বর্ণিল সাজে সেজেছে নাটোর

নাটোর: বেগম খালেদা জিয়াকে নাটোরে ২০ দলীয় জোটের সমাবেশে স্বাগত জানাতে বর্ণিল সাজে সেজেছে পুরো জেলা। বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের টোলপ্লাজা থেকে শুরু করে রাজশাহীর সীমানা ও বগুড়ার নন্দীগ্রাম ও পাবনা দাশুড়িয়া পর্যন্ত দীর্ঘ মহাসড়ক এবং জেলার অভ্যন্তরীণ সকল সড়কে নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় তিন শতাধিক তোরণ। রাস্তার পাশে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর ছবি সংবলিত শত শত ডিজিটাল বোর্ডে ঢেকে ফেলা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সকল বাজারঘাট ও মোড়ে মোড়ে তোরণ নির্মাণের পাশাপাশি লাগানো হয়েছে ডিজিটাল বোর্ড। করা হয়েছে আলোকসজ্জা। বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোটের সকল শীর্ষ নেতাদেরকে স্বাগত জানাতে জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় আলাইপুর থেকে জনসমাবেশস্থল সিরাজ উদদৌলা সরকারি কলেজ মাঠ পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে রঙিন বাতি, রঙিন কাপড়, জাতীয় ও দলীয় পতাকা ছাড়াও লাল সবুজসহ নানা রংয়ের পতাকায় এবং ডিজিটাল ব্যানার, ছবি আর তোরণে সাজানো হয়েছে। সন্ধ্যা হলেই জ্বলে উঠছে নানা রংয়ের মনোমুগ্ধকর আলোকসজ্জা। ব্যস্ত শহরের নানা বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশুরা রাতে এসব নানা রংয়ের মনোমুগ্ধকর আলোকসজ্জা দেখতে ভিড় করছে। শহর ছাড়াও বড় হরিশপুর বাইপাস মোড়ে একই ধরনের আলোকসজ্জা দেখতে ভিড় করছে মানুষ। শহরের সব মানুষ যেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী ও ২০ দলীয় জোট নেতাদের বক্তব্য শুনতে পারেন- এ জন্য ইতিমধ্যে ঢাকার একটি অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান থেকে দুই শতাধিক মাইক এনে শহরজুড়ে লাগানো হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে ৬০ ফুট প্রস্থ ও ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের সুবিশাল মঞ্চ। মঞ্চে এক সঙ্গে তিনশ’ নেতা-কর্মী বসার ব্যবস্থা রয়েছে। নাটোর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, শনিবার দুপুরে সমাবেশ আহ্বান করা হলেও সকাল ১০টার মধ্যে নাটোর সিরাজ উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠ ও আশপাশের রাস্তাঘাট মানুষে ভরে যাবে। দুপুরের আগ পর্যন্ত কণ্ঠশিল্পী মুনির খান, কনকচাঁপা এবং রিজিয়া পারভীন সংগীত পরিবেশন করবেন। জোহরের নামাজের সঙ্গে সঙ্গেই সমাবেশ শুরু হবে। বিকাল ৩টার মধ্যেই বিএনপি চেয়ারপারসন জনসভা মঞ্চে আসবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কোনো বিদেশি মেহমানকে যেভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান প্রদান করা হয় তেমনি স্মরণকালের সবচাইতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে নাটোর শহরকে সাজানো হয়েছে। এর আগে কোনো শীর্ষ নেতা বা প্রধানমন্ত্রীকে এতটা জাঁকজমকপূর্ণভাবে স্বাগত জানানোর নজির নাটোরে নেই। ২০ দলীয় জোট সূত্রে জানা গেছে, প্রধান অতিথি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের আগে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতের নায়েবে আমির সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, বিজিপির ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জাগপা চেয়ারম্যান শফিউল আলম প্রধান, কল্যাণ পাটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ইব্রাহিম বীরপ্রতীক, এলডিপির কর্নেল অলি আহম্মেদ, ইসলামী ঐক্যজোটের আব্দুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মো. ইসহাক, জাতীয় পাটি (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, এনডিপির খন্দকার গোলাম মতুর্জা, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপের জেবেল রহমান গণি এবং সাম্যবাদী দলের সাইদ আহমেদসহ ২০ দলের জাতীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেবেন।  

বিস্তারিত»
নতুন বউ নিয়ে ঢাকার পথে রেলমন্ত্রী

অবশেষে সাতষট্টি বছর বয়সে জীবনসঙ্গী হিসেবে হনুফা আক্তার রিক্তাকে কবুল করলেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায়  কুমিল্লার চান্দিনার মীরাখলা গ্রামে রিক্তার বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারা হয়। কাজী সিদ্দিকুর রহমান মন্ত্রীর বিয়ে পড়ান। মন্ত্রীর ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত হাসেম চৌধুরী উকিল বাবার দায়িত্ব পালন করেন। মুজিব-রিক্তার বিয়ের সাক্ষী ছিলেন- কিবরিয়া মজুমদার, খোকন রেজা ও ফজলুল করিম। এদের মধ্যে কিবরিয়া বর এবং অন্য দুজন কনে পক্ষের। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরে খাওয়া-দাওয়া করেন মন্ত্রী। এরপর যান কনের কক্ষে। সেখানে মালাবদলের পর শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন নতুন জামাই। পরে বিকাল পৌনে ৬টার দিকে নতুন বউকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন মন্ত্রী মুজিবুল হক। নতুন বউকে তুলে দেওয়ার সময় আশপাশে অন্যদের সঙ্গে তার বোনদের দেখা যায়।  পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন মন্ত্রীর সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে যাওয়া নববধূ রিক্তা। এক পর্যায়ে মূর্ছা গেলে দুই ভাই ধরে তাকে গাড়িতে বরের পাশে বসান। নতুন বউকে নিয়ে রেলমন্ত্রী রাজধানীর মিন্টো রোডে মিনিস্টারস অ্যাপার্টমেন্টে উঠবেন বলে হনুফা আক্তার রিক্তার বড়ভাই আলাউদ্দিন মুন্সী জানিয়েছেন। এর আগে বিকাল ৩টার দিকে প্রায় সাতশ বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়িতে পৌঁছান বর। তাকে অভ্যর্থনা জানাতে আগেই প্রস্তুত ছিল সব। জামাইয়ের কয়েকজন শ্যালিকাকেও দেখা যায় গেইটে বরকে স্বাগত জানানোর আয়োজনে। বিপুল সমারোহে চলে অতিথি আপ্যায়ন। শুধু বরযাত্রীদের আপ্যায়নে ছিলেন ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবক, যারা সবাই কন্যার নিকট আত্মীয়। দুপুরের খাবারের তালিকায় ছিল খাসির কাচ্চি, মুরগীর রোস্ট, কোমল পানীয়, মিস্টান্ন, জর্দা এবং বোরহানী। আর জামাই মুজিবুল হকের জন্য করা হয় বিশেষ খাবার। অন্য আয়োজনের পাশাপাশি করা হয় ১৬ কেজি ওজনের আস্ত খাসির রোস্ট। বিশাল আকারের ডিসে জামাইয়ের খাবার পরিবেশন করা হয় বেশ আয়োজন করে। চারপাশে ১০টি ইলিশ মাছ, ১০টি আস্ত মুরগীর রোস্ট এবং মাঝে ১৬ কেজি ওজনের খাসির রোস্ট। নানান পদের খাবার ও মিষ্টিও ছিল সেখানে।  

বিস্তারিত»
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আগুনে সরকারের দেখার কিছু নেই: স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা:  বেসরকারি হওয়ায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে সরকারের কিছু দেখার নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। শুক্রবার বিকালে বিএসইসি ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এদিকে  বিএসইসি ভবনে আগুনের ঘটনা ‘নাশকতা’ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আমার দেশ পত্রিকা কর্তৃপক্ষ।   সরকার বিষয়টি কীভাবে দেখছে, এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী  বলেন, “সরকারের দেখার কিছু নেই। এখানে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। আগুন নির্বাপনের প্রাথমিক ব্যবস্থা তারা নিজেরা রাখে।” শুক্রবার বিকাল চারটা ৫০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের স্থল বিএসইসি ভবন পরিদর্শনে যান প্রতিমন্ত্রী। তখন ভবনের ভেতরে-বাইরে ওপর থেকে পানি পড়ছিল। এতে তিনি ওপরে উঠতে না পেরে নিচতলা থেকে ফিরে আসেন। ভবনের সামনে এসে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, “আমি শুনলাম এখানে অনেক কাগজ ছিল। আর কাগজের আগুন নেভাতে সময় লাগে।”   স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ফায়ার সার্ভিসের সরঞ্জামের স্বল্পতার কারণে আগে নয় তলার ওপরে গিয়ে আগুন নেভানো সম্ভব হতো না। এখন সরঞ্জাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে আজকের ঘটনা ১১  তলায় হলেও কম সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।'’ কারো গাফিলতির কারনে আগুন লেগেছে কি না সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

বিস্তারিত»
ভালুকা সঙ্গীত বিদ্যালয় পরিচালকের  মাতৃবিয়োগে ভালুকা সুরবীণা’র শোক

মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক,বিশেষ প্রতিনিধি,ময়মনসিংহ থেকে ঃ ভালুকা সঙ্গীত বিদ্যালয়ের পরিচালক কন্ঠশিল্পী আলী আহসান কবিরের মাতৃবিয়োগে ভালুকা সুরবীণা সাংস্কৃতিক সংস্থার শিল্পীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছে। শুক্রবার সকালে মৃত্যু সংবাদ শোনার পর সুরবীণা সাংস্কৃতিক সংস্থার সঙ্গীত ক্লাশ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে মরহুমার আতœার মাগফেরাত কামনায় করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।এ সময় সুরবীণা’র নির্বাহী পরিচালক সাংবাদিক ও বাংলাদেশ বেতারের নিয়মিত কন্ঠশিল্পী মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক সুরবীণা’র শিল্পী ও কলাকুশলীদের কাছে মৃত্যু সংবাদ পৌঁছে দেন এবং সকলের কাছে মরহুমার জন্য দোয়া কামনা করেন। এ সময় সুরবীণার শিল্পী ও কলাকুশলীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মনির হোসেন,মাহফুজুর রহমান কাইয়ুম,সুজাত মিয়া,শরিফ হোসেন,আনসারুল ইসলাম,মোস্তফা কামাল,তানভির সিদ্দিকী,আরিফ খান,কল্পনা আক্তার,ফাউজিয়া তাবাসসুম ঐশি,হাফসা ফাতিন তাহা,আনিকা রহমান আদ্রি,কথা,মনা,লিথি,সীমান্ত,সুমন,রাকিব,মিরাজ,সাজিত আহম্মেদ এমরান প্রমুখ।এ ছাড়াও শিল্পীদের অভিভাবকগন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য,উপজেলার কাঠালী গ্রামের বাসিন্দা ভালুকা সঙ্গীত বিদ্যালয়ের পরিচালক কন্ঠশিল্পী আলী আহসান কবিরের মাতা আছিয়া খাতুন(৭০)শুক্রবার সকালে আকস্মিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ময়মনসিংহের চুরখাই হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি ইন্তেকাল করেন(ইন্নালিল্লাহে ... রাজেউন)। তিনি হার্টে স্ট্রোক করেছিলেন বলে পারিবারিক সুত্র জানায়।মৃত্যুকালে তিনি ৫ছেলে রেখে গেছেন।তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে ভালুকা সুরভি সাংস্কৃতিক সংস্থা,সুরবীণা সাংস্কৃতিক সংস্থা,সুরলহরী সঙ্গীত একাডেমী,সুরধ্বনী শিল্পী কল্যান গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সামাজিক,সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পী ও কলাকুশলীরা তাঁর বাড়ীতে ছুটে যান।তারা সমবেদনা প্রকাশ করে বিদেহী আতœার মাগফেরাত কামনা করেন।  শুক্রবার বাদ মাগরেব নামাজে জানাজা শেষে কাঁঠালীস্থ পারিবারিক গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।নামাজে জানাজায় এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ অংশ নেন।  

বিস্তারিত»
মন্ত্রীকে শ্যালিকাদের দিতে হলো ১ লাখ ১ টাকা

কুমিল্লা:রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক ও কনে হনুফা আক্তার রিক্তার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বিয়ের দেনমোহর ছিল ৫ লাখ ১ টাকা। বিয়ের আসরেই দেনমোহর পরিশোধ করে দেন মন্ত্রী। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় কুমিল্লার চান্দিনার কংগাই গ্রামে রিক্তার বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। মুজিব-রিক্তার বিয়ের সাক্ষী ছিলেন : কিবরিয়া মজুমদার, খোকন রেজা ও ফজলুল করিম। এদের মধ্যে কিবরিয়া বর এবং অন্য দুজন কনেপক্ষের। কাজী সিদ্দিকুর রহমান মন্ত্রীর বিয়ে পড়ান। মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত হাসেম চৌধুরী উকিল বাবার দায়িত্ব পালন করেন। বিকাল ৩টার দিকে প্রায় সাত শ বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়িতে পৌঁছান বর। বরপক্ষের ৭০০ এবং কনেপক্ষের প্রায় ১৫ শ অতিথিকে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও সে সংখ্যা পাঁচ হাজারের কম হবে না। এর আগে দুপুরে মন্ত্রী আসার পরপরই শুরু হয় হইহুল্লোড়, ধাক্কাধাক্কি। এর মধ্য দিয়েই মন্ত্রী গিয়ে পড়েন শ্যালিকাদের সামনে। গেটের অপর প্রান্তে পৌঁছতে শ্যালিকার দলকে দিতে হয়েছে ১ লাখ ১ টাকা। রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের জন্য কনেপক্ষ রান্না করে বিশেষ খাবার। ১৬ কেজি ওজনের আস্ত খাসির রোস্ট ছিল খাবারের তালিকায়। বিশাল আকারের ডিসে জামাইয়ের খাবার পরিবেশন করা হবে। চারপাশে থাকবে ১০টি ইলিশ মাছ, ১০টি আস্ত মুরগির রোস্ট এবং মাঝে থাকবে ১৬ কেজি ওজনের খাসির রোস্ট। অনুষ্ঠানে অতিথিদের জন্য দুপুরের খাবারের মেন্যুতে ছিল খাসির কাচ্চি, মুরগির রোস্ট, কোমল পানীয়, মিষ্টান্ন জর্দা এবং বোরহানি। রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবরা ওই বিশেষ খাবারে অংশ নেন। এলাকার নামকরা বাবুর্চি কুমিল্লা ক্লাবের মিল্টন রোজারিও তৈরি করেন জামাইয়ের খাবার।

বিস্তারিত»

সাক্ষাৎকার

পূনম প্রিয়ামের সঙ্গে কিছুটা সময়- শায়লা সিমি

পূনম প্রিয়ামের সঙ্গে কিছুটা সময়-  শায়লা সিমি আমার রেডিও  প্রোগ্রামে তার দাওয়াত ছিলো। সময়ের একটু আগে এসে উপস্থিত হলেন । যারা মিডিয়ার একটু পুরানো  মানুষ  তারা  সময়ের  জ্ঞানটা  এখনো  ধারণ  করেন  নিজের মধ্যে ! কারণ একটা নিয়মের  মধ্যে,  মানদন্ডে  তাদের জীবন ও শিক্ষা জীবন পরিচালিত হতো । আমি  দেখেছি  তাকে  ছেলেবেলায়  যখন তিনি  ফটোজেনিক  হন।  বেশ কিছু বছর পরে আবার পেলাম ।  বেশ আবেগী হয়ে উঠি তাকে দেখে । কিন্তু , সামলে নিয়ে  কনফারেন্স  হলে  বসলাম।  একটু  আলাপের  জন্য। কথা যেভাবে শুরু করি: আপু তোমার  জন্ম তারিখ ও সাল টা পেলাম না ওয়েব এ !!   জন্ম -১৮ অগাস্ট ১৯৬৯ আর এখন কাজ করছি , সিনিয়র প্রোগ্রাম প্রোডিউসার ও সঞ্চারক - চ্যানেল আই, বাংলাদেশ নিজেকে সহজ করার জন্য আরো কিছু ভালোলাগা  নিয়ে কথাবলি, জানতে চাই তথ্য : "আমার প্রিয় মানুষ বাবা  , মরহুম আমীর আলী ভুইয়া এক  বোন , দুই  ভাই ইডেন কলেজ থেকে - ইংরেজি তে  মাস্টার্স দেশের বাড়ি ঢাকা - রূপগঞ্জ আর দাদা বাড়িতে  সফেদা গাছ ছিল - আমার প্রিয় ফল এতো ব্যাপ্তি  জীবনের  ?  এতো অঙ্গনে  পদচারণা ?  উৎসাহ  কার দিক থেকে বেশি ছিল ? পূনম-  আমার জীবনের  অনুপ্রেরণা আমার মা   মাছুমা বেগম , ছোট বেলা থেকে তারই অনুপ্রেরনায় বেড়ে উঠেছি। সেই নতুন কুড়ি থেকে শুরু করে  আজ পর্যন্ত,  তার হাত ধরে  এই জায়গায় এসেছি। রুপারন্তর আমার  নিজের উপস্থাপনায় , পরিকল্পনায় করা আমার আয়োজন চ্যানেল ই তে প্রচারিত হয়,  প্রায় ৫৫০ পর্ব প্রচারিত হয়েছে  ! আমি যখন রুপারন্তর দেখি , অবাক  হয়ে আমার নিজের রুপরান্তর ভাবি।   এই আসলে  আমি না , আমার মায়ের প্রতিচ্ছবি। এক কথায় আমার আদর্শ ছিল আমার মা -   প্রশ্ন - সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিত টা-মডেলিং  বা অভিনয়ের জন্য কতখানি অনুকূলে ছিল ? তুমি   তো ৮৯ আনন্দ বিচিত্র  তে ফটো  সুন্ধরী ছিলে ? ওই সময়ে মডেলিং কে উপর্যুপরি কাজ হিসাবে নেওয়া যেত ?   পূনম- সময়টা অনুকূলে ছিল না।  তবে পরিবার সবসময়ই মেয়েদের কে অনেক সাহায্য করতে পারে।  আমার মা ছিলেন খুব আধুনিক চিন্তাধারার মানুষ। নিজে কোনো সাজ - স্বজ্জা তেমন করতেন না ,তবে, লাইফ স্কিল ডেভেলপ করা ও নিজ সংস্কৃতি নিয়ে চর্চা কে প্রাধান্য দিতেন। আর হ্যা , অনেকেই  বলতো, মডেলিং করছে , নাটকে  অভিনয় করছে ! বিয়ে হবে না মেয়ের !! হাহাহা। খুবই কড়া  ছিল  সময়।   প্রশ্ন - এখন প্রতিযোগিতা গুলোতে মেয়ে  দের পরিবার অনেক সাহায্য করে এবং আগ্রহ করে নিয়ে আসে , সমাজ ও এটা খুব স্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে গ্রহণ করছে। .শুধু যে স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করছে তাই নয় বরং এ ধরনের আয়োজন কে  দর্শক অনুপ্রানিত করছে ! এই  বিষয়টা কিভাবে  দেখো ?   পূনম-এখন সময় টা আলাদা।  বিগত কয়েক বছরেই , বাঙালির জীবনবোধ পরিবর্তন হয়েছে।  তখন সময় এনালগ টাইপ ছিল আর এখন ডিজিটাল টাইপ..হাহাহা। ..কোথাও কোনো প্রোগ্রামে পারফর্ম করতে গেলে বা অভিনয়,  মডেলিং এর স্বার্থে গেলে , অনেকেরই বাবা-মা ও সঙ্গে যায়...ছোট থেকেই এখন অনেক শিশুরও  এইম  ইন লাইফ থাকে মডেল হওয়া, বাচ্চাদের জিজ্ঞাস করলে জানা যায় বিভিন্ন মজার ইচ্ছার কথা  ওদের।  কিন্তু আমাদের সময় বলত সব ডাক্তার হব , পাইলট হব এই সব।   প্রশ্ন - এখন অনেক চ্যানেল ! গণ মাধ্যমের কাজ গুলো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ সম্ভব ? কয়েক বছর আগে কিন্তু এই চিত্র ছিল না ! আর এখনো অনেকেই কিন্তু , বলে প্রোগ্রাম জমা দেওয়ার পর ও  টাকা আটকে থাকে ?   পূনম-বাংলাদেশে এখন চ্যানেল , আর প্রবীনদের  সঙ্গে, নবীনশিল্পী , কলা- কুশলীরা অনেক কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন।  এবং কাজের মোটামুটি অভাব নাই ! এখন শিল্পীরা অনেক  শো করেন , কনসার্ট করেন , আমার মনে হয় এখন মিডিয়া ত়ে কাজ করে ভরণ পোষণ টা  মোটামুটি সম্ভব।  আর দেশের বাইরেও অনেক শো হয় এখন।   প্রশ্ন - মিডিয়া তে কাজ করছো বা করেছ- সেফ মনে  কর ?   পূনম- হ্যা , আমি মনে করি  নিজে বুঝে চললে আর ঠিক ভাবে চললে, অনেক ভালো ভাবে কাজ করে একটা  জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।    প্রশ্ন -মনে কর , বাড়িতে মারধোর খেয়ে বড় হোচ্ছ ! ফটো  সুন্দরী হবার পর , একটা সাধারণ  জীবন  থেকে তারকা  জীবনে  চলে গেলে ? কেমন ছিল সেই  যাত্রা  ?   পূনম-..হাহাহাহা। .. নিজে কখনো তারকা মনে করি না, নিজেকে। কারণ আমরা  তো নুতন কুড়ি থেকে এসছি , আমার মনে হয় নি,কি ফটো সুন্ধরী হবার পর ও যে ততক্ষন কিছু ঘটে  গেছে, জীবনে।  কারণ আমার শিশু  আর্টিস্ট  হিসাবে  অনেক  কাজ  ছোট  থেকেই  করে  আসছি।   প্রশ্ন - তোমার সৌন্দর্যের রহস্য বল শুনি ! তুমি ও অন্যদের মত বলবে , কিছু তেমন করি না এমনিতে সুন্দর ?   পূণম-হাহাহাহা  সত্য কি আমি নিজেকে সুন্দর ভাবি না! আমাকে কিন্তু খুব একটা কেউ বলত না তুমি সুন্দর ! বরং এই কথাটা এখনো শুনি। হাহাহাহা ! মনের সৌন্দর্য সবাইকে টানে আমার তো তাই ধারণা !! কি বল     প্রশ্ন - তুমি কি কোনো ভবিষত পরিকল্পনা করেছ ! হতে পারে ফিল্ম ডাইরেকশন নিয়ে , বা ফিল্ম প্রোডাকশন নিয়ে। কারণ  তুমিতো তো ডাইরেকশন এ কাজ করো ?   পূনম-না , এখনো কিচ্ছু প্লান নাই।  এখনকার মিডিয়া প্রফেশনালদের মত , গাদা গাদা প্লান নিয়ে চলি না।  যা করছি ভালো লাগে !      প্রশ্ন -জীবনের একটি আফসোস এর কথা বল ?   পূনম- হ্যা আছে একটা। আমি রংপুর মেডিকেল এ অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েও পড়তে পারিনি।  কারণ ওই সময় আর বাবার ক্যান্সার ধরা পরে , এই জানি যে পূনম প্রিয়াম কে যত মানুষ চিনে , জানে  এটা হতো না কিন্তু  , সেবা মুলুক একটা কাজের ইচ্ছা আমার  অপূর্ণ রয়ে গেল।    প্রশ্ন - মিডিয়াতে কাজ করতে এসে অনেকেই  নাম  পরিবর্তন করে ! তুমি  কি কিছু কাট করেছ ? না পুরো তাই বদলে দিয়েছো ?   পূনম- মিডিয়ার কথা ভেবে করিনি , বা মনোমুগ্ধকর একটা  নাম দিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করব তা ভাবিনি ! আমার নাম ছিল সুর্জাহান পূনম কিন্তু , সুর্জাহান আমার পছন্দ ছিলো না।  মা রেখেছিল , কারণ মা আমাকে গায়িকা হিসাবে গড়ে তুলতে চাইতেন ! এর অর্থ ছিল , সুরের ভুবনে চাঁদের আলোর সমাহার ! আনন্দ বিচিত্রা ফটো সুন্ধরী হবার পর সাহদাত ভাই আমার নে তা পূনম প্রিয়াম করে দিলেন , এই ও খুশি হয়ে গেলাম।হাহাহাহাহ আর সেই সময়ের আরো কিছু কথা এখন অনে পড়ছে, শামীম আপার বাসায় আমাদের ফটোশুট হলো , আমি কখনো ভাবি নি যা কিছু ঘটেছে।    প্রশ্ন - শৈশবের বা জীবনের সব চাইতে মজার  সময় কোনটা ছিল ?   পূনম- কিছু মজার  তথ্য দি।  আমি যখন বিবাহ যোগ্য , আমরা বান্ধবীরা আলাপ করতাম কে কি রকম বিয়ে করব ! আর আমাকে অনেক জায়গা থেকে ছেলের পরিবার দেখতে আসত , তখন টাকা দিত, মেয়ে দেখে ... আমি মজা করে বান্ধবীদের নিয়ে বাইরে খেতে যেতাম ওই টাকা দিয়ে ।  আর, আমরা ঢাকার মেয়ে না!! ছেলে কে বলতাম ফোন করে , বলবেন যে আপনার মেয়ে পছন্দ হয়নি। ..হাহাহাহাহ। .সে এক দারুন সময়।   আর একটা কথা না বললেই নয় যে , অনেক দিন কাজ করিনি , মাঝখানে কিছু করতাম না , চ্যানেল আই পরিবার ও  শিশু সাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগর ভাইয়ের কাছে আমি কৃতজ্ঞ , এবং ভাবি কনা রেজা , তাদের সাহায্যে আবার নতুন করে কাজ শুরু করি , আর হয়তো দীর্ঘ পনের বছর এই অঙ্গনে কাজ করাও হতো না যদি না সাগর ভাই এত টা সাহায্য করতেন !! এবং পপ তারকা ফেরদৌস ওয়াহিদ , যিনি আমাকে অপার সহযোগিতা করেছেন !    প্রশ্ন - আর জীবনের প্রাপ্তি সমূহের ধারণা দিতে গিয়ে কি বলবা? পূনম- জীবনের প্রাপ্তি অবশ্যই আমার  সন্তান,  আমার বড় প্রাপ্তি। আমার  লেখা ১৪ টি নারী বিষয়ক  বই , আর আনুশের ভালবাসা।       শৈশব/ পূনম- আমার শৈশব ছিল অনেক স্বাভাবিক।  তবে অনেক রুটিন মাফিক চলতে হোত...আমার গানে তেমন ইন্টারেস্ট পেতাম না।  মা রান্না করত যখন আমি ফাঁকি দিয়ে গানের একটা অন্তরা পার হয়ে দ্বিতীয় অন্তরা করে চলে যেতাম, চাইতাম তাড়াতাড়ি শেষ করব। কিন্তু , মা ঠিক লক্ষ্য করতো আর ধরিয়ে দিত যে , ঐ অন্থরা টা করলি না ?   প্রশ্ন - ইডেন এর ছাত্রী ! তুমি ইডেনের একরোখা দের দলের মানুষ না তো !   পূনম- হাহাহা ! না এই খুব সফট।  খুব নরম মানুষ ভাই ! তবে আমার মাকে আমার খুব রাগ লাগতো ! নিয়ম  মাফিক সব করতে হত!একদম ছকে বাঁধা জীবন ছিল আমার ! তবে এখন বুঝি , নিজে যখন মা হোলাম।আমার মেয়ে টা এ আই ইউ বি তে পরছে ইংলিশ এ। সীমন ইশিতিয়াক।  নারী  হিসাবে হিসাবে কোনো কিছু অবদান নাও যদি রাখি জীবনে , তবুও। .মাতৃত্ব অনন্য করেছে আমাকে  . আমার সন্তানের অস্তিত্বে বেঁচে থাকব।   লন্ডন - পুনম- লন্ডন বেড়াতে  আসলে  থাকি ভাইয়ের কাছে উঠি।  আমার ভাই  - ফটো-সাংবাদিক, প্রথম বাঙালি ফটোগ্রাফার যে , রানীর ছবি তুলার সুযোগ পাই।  এইটা অনেক বছর আগের কথা বলছি। অর নাম-ফেরদৌস শামিম। আর  কবি শামিম আজাদ এর কথা বলব।, আমার কাজের স্পৃহা, উনার  সঙ্গে কিছু দিন থাকলে হয়ত কারো কারো জীবন পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।  উনি এখন উল্টি টাস্কার মানুষ।  যার থেকে অনেক শেখার আছে। অত্যন্ত প্রানবন্ত একজন মানুষ ! আজাদ ভাই , শামিম  আপার জামাই। এই ছোলা- বুট খেতে পছন্দ করি এই এসব জানলে কিনে রাকবে।  অনেক বার টেস্ট করে দেকেছি , সে ভুলে না ! এইযে একটা মায়া ! আমি খুব আপ্লুত হয়। আর এইখানে বাংলাদেশ এর সাহায্যে অনেক কিছু করা সম্ভব।  শুধু দরকার একটা যোগাযোগ আর সেতু বন্ধন।   প্রশ্ন - বাংলদেশ নিজেদের জন্য এখানে  উন্মুক্ত জানালা খুলেছে কিছু  , কিছু টিভি চ্যানেল এর বর্ধিত অংশ এখান থেকে কমুনিটি একটিভিটিস নিয়ে প্রোগ্রাম করে।  নিজ সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলতে পারে , একটা রেডিও রয়েছে -বেতার বাংলা।  কিন্তু , যদি মূলধারায় সম্প্রচারের কথা আসে তাহলে সে ক্ষেত্রে আমরা কিভাবে আগাতে পারি বা প্রতিবন্ধকতা কি হতে পারে ?   পূনম-বাংলাদেশে এখন চ্যানেল , আর প্রবীনদের  সঙ্গে, নবীনশিল্পী , কলা- কুশলীরা অনেক কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন।  এবং কাজের মোটামুটি অভাব নাই ! এখন শিল্পীরা অনেক  শো করেন , কনসার্ট করেন , আমার মনে হয় এখন মিডিয়া ত়ে কাজ করে ভরণ পোষণ টা অতামুতি সম্ভব।  আর দেশের বাইরেও অনেক শো হয় এখন।   লন্ডনে আসতে খুব  ভালো লাগে , প্রত্যেক বার বি এস কের বই লিট্ প্রোগ্রাম এ  আশি।  আরো আশি বাঙালিদের ভালবাসার ডাকে।  খুব ভালো লাগে লন্ডনের বাঙালিদের।  যাবার সময় রীতিমত মন খারাপ হয়ে যায়. হাহাহা হাহাহা আবার আসবো ডিসেম্বরে, পিছু ছাড়ছি না ! হাহাহা !................................................ শায়লা সিমি-লন্ডন থেকে।  

বিস্তারিত»

বিশেষ কলাম

বিএনপির নিজ স্বার্থেই আরো জোরালো অবস্থান গ্রহণ করা দরকার

খোমেনী ইহসান:ইদানীং ফেসবুক-টুইটার-ব্লগে ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখা যায়, জামাত-শিবিরের লোকেরা বিএনপিকে ‘বেঈমান’ বলে গালমন্দ করছে। গোলাম আযমের ছেলে আবদুল্লাহিল আমান আজমীও ফেসবুকে বিএনপির সমালোচনা করতে ছাড়েননি। যুদ্ধাপরাধের বিচার ইস্যুতে জামায়াত-শিবিরের মতো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার-সমর্থক তুর্কিরাও বিএনপিকে গালিগালাজ করছেন। সরকারি জোটের নেতারাও বিএনপির কঠোর সমালোচনা করেন। উভয় তরফে বিএনপিকে গালি দেয়ার কারণ হলো, মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের কোনো নেতার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা বা কার্যকর হলে দেশের অন্যতম বৃহত্তম দল বিএনপি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায় না। বরং দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা নীরবতা পালন করেন। এই নীরবতাকে কেন্দ্র করে বিএনপিবিরোধী গালিগালাজ ও রাজনৈতিক প্রচারণার কারণে এ প্রশ্নটি সামনে চলে এসেছে যে, বিএনপি কি একটি স্বাধীন রাজনৈতিক দল হিসেবে যুদ্ধাপরাধের বিচার ইস্যুতে দলীয় নীতিগত অবস্থান বজায় রাখবে, নাকি সরকারি জোট বা জামায়াতের পক্ষাবলম্বন করবে? ২. বিএনপির কাছে সরকারি জোটের চাওয়াটা অসাধু। কারণ, তাদের চাওয়ার মধ্যে রয়েছে এই আবদার, বিএনপি যেন একটি স্বাধীন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজের নীতি ও কর্তব্য ঠিক না করে সরকারি জোটের নীতি মেনে চলে। কিন্তু বিচার প্রশ্নে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে কোনো মতামত বা পরামর্শ না নিয়ে দিনের পর দিন দলটিকে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও পাকিস্তানপন্থী আখ্যা দিয়ে দলটির প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের চর অপবাদ দিলে তারা কেন সরকারি জোটের আবদারে সাড়া দেবে? দেবে না, এটাই স্বাভাবিক। বরং বিএনপি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের ভূমিকা পালন করে সরকারি জোটের সঙ্গে তফাত বজায় রেখেই জাতীয় আকাঙ্ক্ষার প্রতি সাড়া দেবে। বিগত দিনগুলোতে বিএনপি এর প্রমাণও রেখেছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রশ্নে নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে বিএনপি বলেছে, তারা যুদ্ধাপরাধের বিচার সমর্থন করে। তবে তারা চায় বিচার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে হোক। এই অবস্থান থেকে বিএনপি বিচারের প্রক্রিয়া নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছে। সরকারের সমালোচনাও করেছে। কিন্তু বিএনপি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কোনো রায়ের বিরোধিতা করেছে বা দণ্ডিত কারো পক্ষ নিয়ে কথা বলেছে, এমনটা শোনা যায়নি।কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়াও জানায়নি তারা। হ্যাঁ, ব্যতিক্রম হয়েছে একবার। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় নিয়ে বিএনপি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। সেটি করা হয়েছিল রায় ঘোষণার আগেই, রায়ের কপি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব একে ‘চক্রান্ত’ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভের ডাক দেন। এতটুকুই। গত ডিসেম্বরে যখন নির্দলীয় সরকার ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রশ্নে চূড়ান্ত অচলাবস্থা বিরাজ করছিল, তখন আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিল সরকার, যার মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া গৃহবন্দী হলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন হলো। কিন্তু কাদের মোল্লার ফাঁসির পরও বিএনপি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বৈরী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আন্দোলন ও ক্ষমতায় ফেরার প্রশ্নে জোটের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের নির্বাচনী জোট বহাল আছে। এ সময় যখন যুদ্ধাপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতির খোলনলচে বদলে গিয়ে ভারসাম্যহীনতা তীব্রতর হচ্ছে, তখন বিএনপির অবস্থানকে সাহসী না বলে উপায় থাকে না।  কিন্তু  সরকারি জোটের সমালোচনা থামছে না।  এতে এক ধরনের মতলবির গন্ধ পাওয়া যায়। ৩. সরকারি জোটের পক্ষ থেকে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রশ্নে যে সমালোচনা করা হয়, তা নীতিগত অবস্থান ও রায় ঘোষণা বা রায় কার্যকরের পর নীরবতার মধ্য দিয়ে সহজেই নিষ্পত্তি হয়ে যায়। কিন্তু বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের দ্বিতীয় শরিক জামায়াতের পক্ষ থেকে যে সমালোচনা করা হচ্ছে, তা বিএনপির নীরবতার মধ্য দিয়েই নিষ্পত্তি হয় না। বিশেষ করে অনলাইনে জামায়াত-শিবির বিএনপিকে যেভাবে নিন্দামন্দ করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে, তার ব্যাপারে বিএনপিকে মুখ খুলতে হবে। গোলাম আযমের মৃত্যুর পর প্রতিক্রিয়া না জানানো এবং তার জানাজায় হাজির না থাকার সমালোচনা করে আমান আজমী বিএনপিকে যে হুমকি দিয়েছেন, তা তুলে ধরলেই বিএনপি এটা বুঝতে পারবে। একটি অনলাইন পত্রিকার ‘তারেকের নির্দেশে আযমের জানাজা বর্জন করল বিএনপি’ শিরোনামের  প্রতিবেদন শেয়ার করে আজমী লিখেছেন, “I have NO hesitation in saying that BNP could never form govt without Jamaat's support. Sadly enough, their silence on the death of the founder Ameer of the party, and spiritual Guru till his death, is utterly unexpected and unacceptable!” জামায়াতের সমর্থন ছাড়া বিএনপি ক্ষমতায় যেতে পারত না জানিয়ে গোলাম আযমের মৃত্যুতে বিএনপির নীরবতাকে ‘অপ্রত্যাশিত’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলার পরই আযমী ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’ ছুড়ে দিলেন, “BNP will do better if they remember that they can NEVER go to power again without Jamaat's support.” ‘বিএনপি এটা মনে রাখলে ভালো করবে যে জামায়াতের সমর্থন ছাড়া তারা কখনোই ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না’ বলার পর তিনি বিএনপিবিরোধী ক্রোধ জানিয়ে কথা শেষ করলেন, “How ungrateful they can be!!!” এই যে আজমীর পক্ষ থেকে বিএনপিকে ‘অকৃতজ্ঞ’ বলা, এটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আছে যে, জামায়াতের আসন্ন পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় আজমী শীর্ষস্থানীয় কোনো পদ পেতে যাচ্ছেন। সম্ভবত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক আমির ও আজমী সেক্রেটারি জেনারেল হবেন। কাজেই আজমীর চ্যালেঞ্জের মধ্যে বিএনপিকে আসন্ন আন্দোলন ও নির্বাচনে সমর্থন করার প্রশ্নটি হুমকি হিসেবেই সামনে চলে এসেছে। সর্বশেষ ২৯ অক্টোবর জামায়াতের আমির নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষণার পর নীরবতাকে কেন্দ্র করে বিএনপিকে গালিগালাজ করার সময় জামায়াত-শিবিরের অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা আন্দোলন প্রশ্নে বিএনপিকে আরো পষ্ট করে হুমকি দিয়েছে। এখন পাশে না দাঁড়ালে তারা বিএনপির ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে! খেয়াল করার বিষয়, জামায়াতের দিক থেকে এটাই বোঝানো হচ্ছে, তারা বিএনপির কাছে প্রতিক্রিয়া দাবি করে, সহানুভূতি ভিক্ষা করছে না। বরং জামায়াত এতই ‘শক্তিশালী ও জনপ্রিয়’ হয়েছে যে, পাশে থাকার ব্যাপারটি বিবেচনা করে বিএনপিকে করুণা করবে কি করবে না তার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। মজার ব্যাপার হলো, বিএনপি জানে জামায়াতের দম্ভের মূলে মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নেই। তাই জামায়াত যখন গোলাম আযমের জানাজাকে সবচেয়ে বড় জানাযা ও অতীতে বিএনপিকে ক্ষমতায় নেয়ার আত্মম্ভরিতা প্রকাশ করে, তখন বিএনপি তাদের মোটেই পাত্তা দেয় না।   মুশকিল হলো, বিএনপি যে ঠিক ইতিহাস জেনে জামায়াতের দম্ভকে পাত্তা দিচ্ছে না, এটা জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বুঝছে না। বরং বিএনপির নীরবতাকে সুবিধাবাদী দুর্বলতা মনে করে গালাগাল করে যাচ্ছে। একসময় অনলাইনে জামায়াত-শিবিরের লোকেরা নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে কার্যক্রম চালাত। সাধারণ মানুষ তাদের পরিচয় জানলে পাত্তা দেয় না বলে তারা এমনটা করত। কিন্তু এবার বিএনপিকে গালাগাল করতে গিয়ে তারা পরিচয় ফাঁস করতেও পরোয়া করছে না। এই মারমুখী অবস্থা দেখে বিএনপি-সমর্থক তরুণ প্রজন্ম বিভ্রান্তি ও আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগছে। আমাদের দাবি, জামায়াতের গালাগাল ও প্রচারণার জবাবে ইতিহাসের সত্য তুলে ধরুক বিএনপি। গোলাম আযমের জানাজায় অংশ না নেয়ার পেছনে তার স্বাধীনতাবিরোধিতার পাশাপাশি জিয়া হত্যায় জামায়াতের সায় থাকার ব্যাপারটিও বিএনপির তুলে ধরা উচিত। ১৯৮১ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রেসিডেন্ট জিয়া স্বাধীনতা সংগ্রামী সেক্টর কমান্ডারদেরসহ মুক্তিযোদ্ধা নেতাদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি এক মাসের মধ্যে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করবেন। এর ১৫ দিনের মাথায় তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে নির্মমভাবে নিহত হন। প্রথমে গোপনে তাকে রাঙুনিয়ায় কবর দেয়া হয়েছিল। পরে তাকে ঢাকায় এনে জানাজার নামাজের পর চন্দ্রিমা উদ্যানে কবর দেয়া হয়। জাতীয় সংসদের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউতে জিয়ার যে জানাজা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জানাজা। এই জানাজায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়নি। জিয়া হত্যাকাণ্ডের আগে জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়টি জানা যায় মরহুম সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল কাজী নূর-উজ্জামানের ‘নির্বাচিত রচনা’ গ্রন্থ থেকে। এতে তিনি লেখেন, ‘‘১৯৮০-৮১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের কেন্দ্রীয় কমাণ্ড কাউন্সিলের মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে ওঠে। রাজাকারদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মাঠে নেমে তাদের বিপদগ্রস্ত করে ফেলে এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এককভাবে জামায়াতে ইসলামী পার্টিকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা করে বসে।’’ পরের প্যারায় তিনি লেখেন, “মুক্তিযোদ্ধারা জিয়াকে আশ্বস্ত করে যে, তাদের সাহায্যে জিয়া তার গদি বজায় রাখতে পারবেন। এসময় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা-উপজেলাভিত্তিক হরতাল শেষ করে সারা বাংলাদেশে হরতালের আহ্বান জানায়। এ হরতাল যে প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সমর্থকদের সাহায্যে সফল হবে তা অনুমান করতে পেরে জিয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কাছে ভিক্ষা চান যে, এই হরতাল অন্তত যেন এক মাসের জন্য স্থগিত রাখা হয়। হরতাল স্থগিত করে তাঁর সম্মান রক্ষা করা হয়েছিল এই শর্তে যে জিয়া রাষ্ট্রীয়ভাবে জামায়াতে ইসলামী পার্টিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করবেন। তাঁর মৃত্যুর দুসপ্তাহ আগে আলোচনার জন্য তিনি আমাকে ডেকে পাঠান তাঁর সরকারি বাসভবনে। আলোচনা হয় রাত ১১টা থেকে ৩ পর্যন্ত। আলোচনায় কেবল আরেক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তিনি হলেন জেনারেল এরশাদ। এরশাদ জিয়ার পেছনে বসে ছিলেন নীরব শ্রোতা হিসেবে। আলোচনা শেষে জিয়ার শুভবুদ্ধির উদয় হয়। সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের হাত ধরে ক্ষমতায় থাকার আশ্বাস পেয়ে অঙ্গীকার করেন যে, জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হবে।” পরের প্যারায়  তিনি লেখেন, “তার কথা ছিল যে, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে নিলেই ভালো হবে। তিনি আমার কাছ থেকে এক মাসের সময় চান।” পরের লাইনে কাজী নূর-উজ্জামান লিখেছেন, “তিনি তাঁর এই নতুন নীতি প্রবর্তনের সময় পাননি। ভারত কোনোদিন চায়নি যে রাষ্ট্রক্ষমতা মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে যাক। এই কারণে তারা যুদ্ধকালীন সময়ে পলিটিক্যাল কমাণ্ডো গঠন করেছিল। এরা এ দেশে বিএলএফ বা মুজিববাহিনী বলে পরিচিত। জামায়াতে ইসলামী যারা মধ্যপ্রাচ্যের স্বার্থরক্ষা করছিল তারা এই নীতি গ্রহণ করতে পারে না। পাকিস্তানের তো কোনো কথাই নেই।” এরপরের প্যারার তৃতীয় লাইনে তিনি লেখেন, “এই পরিস্থিতিতে জিয়াকে উপরোক্ত বৈঠকের ১৫ দিনের মধ্যেই ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনার মাধ্যমে মৃত্যুবরণ করতে হয়…।” এখানে বলা দরকার, জিয়াকে হত্যার পর থেকেই অভিযোগ ওঠে যে, জেনারেল এরশাদ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। পরবর্তীকালে এরশাদ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। তার সেনাশাসনের প্রথম কয়েক বছর জামায়াত তাকে সমর্থন করার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে থাকে। এই সময় দেশের পাবলিক ইউনিভার্সিটিগুলোতে শিবিরের উত্থান ঘটে। আর এরশাদকে বৈধতা দিতে বিএনপির সঙ্গে প্রতারণা করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সঙ্গে জামায়াতও ১৯৮৬-এর বিতর্কিত সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়। এরশাদের সেনাশাসনের সমর্থনে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার তথ্যপ্রমাণ ওই সময়ের দৈনিক সংগ্রামের পাতায় পাতায় বর্ণিত আছে। যা হোক, বুর্জোয়া রাজনীতিতে ক্ষমতার প্রশ্নটিই সব নীতিগত অবস্থান নির্ধারণ করে থাকে। এ কারণেই হয়তো বিএনপি যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জামায়াত ইস্যুতে নীরবতার নীতি অবলম্বন করছে। কিন্তু জাতীয় ঐকমত্য ও স্পস্ট । নাগরিক সমাজ ও তরুণ প্রজন্ম বিএনপিকে আরো সমর্থন ও সাহস জোগালে হয়তো তাদের অবস্থান আরো পষ্ট হবে। খোমেনী ইহসান: সাংবাদিক

বিস্তারিত»

এক্সক্লুসিভ

গোলাম আযমের জানাযায় বিএনপি’র অনুপস্থিতি, আওয়ামী রাজনীতি ও ৭১ টিভির শেষকৃত্য অলিউল্লাহ নোমান

আজ হয়ত রাস্তায় বের হলে কেউ প্রশ্ন করবে না জামায়াত-আওয়ামী লীগের সাথে আতাত করেছে কি না। এই লেখাটি শেষ করার আগেই মতিউর রহমান নিজামী ফাঁসির আদেশ নিয়ে ট্রাইব্যুনাল থেকে ফিরে প্রমান করলেন আপাতত আতাত হয়নি। গত ১৫ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের ইন্তেকালের পরবর্তি ঘটনা গুলো নিয়েও একদল মানুষ আতাত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করত। জানাযার সুযোগ দেয়া, জানাযায় এত বিপুল সংখ্যাক মানুষের ঢল তাতেও আতাতের গন্ধ খুজেছেন অনেকে। আজ রাস্তায় বের হলে এই প্রশ্নটা অন্তত কেউ করবে বলে মনে হচ্ছে না। ‘কাদুম্বিনি মরিয়া যেমন প্রমান করিতে হয়েছিল সে মরে নাই। তেমনি জামায়াত নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়া প্রমান করিতে হয় আতাত হয়নি।’ আধ্যাপক গোলাম আযমের জানাযায় অংশ না নিয়ে এবং দলের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ না করে বিএনপি লাভ করল? নাকি ক্ষতি করল? ১৫ অক্টোবর থেকে এই প্রশ্নটি ছিল কমন। এর আগেও জামায়াতে ইসলামী নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের পর বিএনপি ছিল নীরব। সারা দুনিয়া থেকে প্রতিবাদ করা হয়েছে। বিচার সঠিক হয়নি এমন দাবী করা হয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠন থেকে। কিন্তু নীরব ছিল বিএনপি। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) অধ্যাপক গোলাম আযমের জানাযার পর থেকে এই আলোচনায় আবদুল কাদের মোল্লার প্রসঙ্গটিও উঠে আসছে। অলোচনা অব্যাহত আছে জানাযায় উপস্থিতি নিয়ে। যার সাথেই দেখা হয় প্রশ্ন ছিল একটাই। বিএনপি এটা কি করল! সারা দুনিয়ার যার জানাযা অনুষ্ঠিত হল বিএনপি সেখানে নীরব কেন। বর্ষিয়ান রাজনীতিক ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আযম। তাঁর রায় এখনো চুড়ান্ত হয়নি। আপিল বিভাগে বিচারাধীন আছে। মৃত্যুর পর কোন ব্যক্তির লাশের সাথে তো আর রেশারেশি থাকার কথা নয়। বিএনপি কেন গেল না, অনুপস্থিত থেকে লাভ করল, নাকি ক্ষতি করল এটা বলার যোগ্যতা আমার নাই। একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে সব শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে আমার সম্পর্ক রয়েছে। লন্ডনের বাংলাদেশী অধ্যষিত এলাকায় রাস্তায় হাটি। হাটার পথে দেখা হয় বিভিন্ন রকমের মানুষের সাথে। কথা হয় নানা প্রসঙ্গে। বিএনপি’র নেতৃত্বে গঠিত জোটে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তাদের সাথে ২০০০ সাল থেকে বেগম খালেদা জিয়া বৈঠকে বসছেন। গোলাম আযম গ্রেফতার হওয়ার আগে তাঁর সাথেও এক মঞ্চে বসেছেন বহুবার। এমন কি হল যে একজন মানুষের জানাযায়ও দলের পক্ষ থেকে উপস্থিতি নেই! এই যুক্তি গুলো হচ্ছে সাধারণ প্রশ্নকারীদের। আমার নয়। তাদের এই যুক্তির উত্তরে আমি শুধু বলি সময়ই বলে দেবে এতে কারা লাভবান হয়েছে। আমি এটার জবাব দেয়ার এখতিয়ার রাখি না। এই যোগ্যতাও আমার নেই। অধ্যাপক গোলাম আযম ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষায় রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছিল। পাকিস্তানের সংবিধান এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষে ছিল জামায়াতে ইসলামী, এটা দ্রুব সত্য। ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান বাহিনীর গণহত্যা সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে দলটির বিরুদ্ধে। তবে এটাও সত্য স্বাধীনতার পর জামায়াতে ইসলামীর সাথে সবাই রাজনীতি করছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল গঠনের অনুমতি দেন। এই সুযোগে জামায়াতে ইসলামী স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি হয়। ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামী ১০ আসন পেয়েছিল। এই সংসদে শেখ হাসিনা ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা। এর পর থেকে প্রতিটি জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিত্ব ছিল। নিজ নিজ আসনে জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তারা সংসদে বসেছেন। শুধু তাই নয়, সর্বশেষ জরুরী আইনের সরকারের আমলে জামায়াতে ইসলামীকে বাংলাদেশের বৈধ রাজনৈতিক দল হিসাবে রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয়েছে। যদিও রেজিষ্ট্রেশনের বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। শুধু রেজিস্ট্রেশনই নয়, ১৯৯৫ সালে আওয়ামী লীগ যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে আন্দোলন করে জামায়াতে ইসলামী তখন তাদের প্রধান মিত্র। লিয়াজো কমিটি গঠন করা হয়েছিল আন্দোলনরত দল গুলোর সমন্বয়ে। এই লিয়াজো কমিটির বৈঠকে শেখ হাসিনা, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এক টেবিলে বসেছেন। এক টেবিলে বসে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শেখ হাসিনা এবং মতিউর রহমান নিজামী। তখন অধ্যাপক গোলাম আযম জামায়াতে ইসলামীর আমীর ছিলেন। সুতরাং শুধু বেগম খালেদা জিয়াই যে বসছেন তা নয়, শেখ হাসিনাও বসেছেন জামায়াত নেতাদের সাথে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হওয়ায় এখন তারা যোদ্ধাপরাধী! তবে একটা কথা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যা বিশ্লেষণের দাবী রাখে। অধ্যাপক গোলাম আযম দীর্ঘ দিন কারাগারে ছিলেন। কারাবিধি অনুযায়ী তাঁকে চিকিৎসার সব রকম সুযোগ দিয়েছে শেখ হাসিনার সরকার। কারাবিধি লঙ্ঘন করে তাঁর সাথে অসৌজন্য মূলক রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হয়নি। তাঁর ইন্তেকালের পর শান্তিপূর্ন জানাযা আয়োজন থেকে শুরু করে দাফন পর্যন্ত সরকারের সহযোগিতা ছিল। নতুবা সরকার চাইলে গোলমাল বাঁধাতে পারতেন। খুচরা কিছু সংগঠন মৃদু হৈ চৈ করার চেস্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার চাইলে পাল্টা কোন সংগঠনের মাধ্যমে বায়তুল মোকাররমে সমাবেশের ঘোষনা দেয়াতে পারত। এই ঘোষনার মাধ্যমে চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী জানাযা ভন্ডুল করতে পারত সরকার। অনেক ক্ষেত্রেই এমনটা হতে দেখা যায়। সেটা কিন্তু করা হয়নি। সরকার রবং সহযোগিতা করেছে। ব্যাক্তি গোলাম আযমের প্রতি শ্রদ্ধার কারনেই হোক অথবা অদৃশ্য কোন করনে হোক সরকার গোলাম আযমের প্রতি অসৌজন্য কোন আচরণ করতে দেখা যায়নি। লাখো মানুষের উপস্থিতি দেখে হোক, আর অধ্যাপক গোলাম আযমের লাশের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে হোক সরকার পজেটিভ রাজনীতি করেছে। এই রাজনীতিতে পরাজিত হয়েছে বিএনপি, এটা নির্দিধায় বলা যায়। এতে একটি মহল সরকারের সাথে জামায়াতে ইসলামীর আতাতের আওয়াজ ছড়ানোর চেস্টা করেছে। আতাতের আওয়াজ ছড়ানোর জন্যও সরকার রাজনীতি করতে পারে। সরকার চাইছে না বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর জোট টিকে থাকুক। সরকার চাইছে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর জোটে ফাঁটল ধরুক। এই ফাটল তো আর এমনিতেই ধরবে না। ফাঁটল ধরানোর চেস্টা করবে সরকার। পরতে পরতে এই চেস্টা চালানো হচ্ছে। প্রকাশ্যে শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে মন্ত্রিরা বিএনপিকে বলছেন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ছাড়ার জন্য। এখানেই তো রাজনীতির খেলা। সর্বশেষ রাজনীতির খেলা দেখিয়েছে সরকার অধ্যাপক গোলাম আযমের জানাযা ও দাফনে। বিএনপি নীরব থাকবে এই খবর পেয়েই সরকার নিজের রাজনীতি করেছে। এই রাজনীতির খেলায় জামায়াতে ইসলামীর চেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে আওয়ামী লীগ। এমনিতেই ২০ দলীয় জোটে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে আস্থার সঙ্কট রয়েছে। অধ্যাপক গোলাম আযমের ইন্তেকালের পরবর্তি ঘটনায় এই আস্থার সঙ্কট বাড়বে বৈ কমবে না। কারো পিতা-মাতার ইন্তেকালে আপনজন কেউ সহমর্মিতা না জানালে, সুযোগ থাকার পরও জানাযায় অনুপস্থিত থাকলে মানুষ সেটা মনে রাখে। বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী এক সাথে এক জোটে রাজনীতি করছে দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় দলের সাবেক আমীরের ইন্তেকালে সহমর্মিতা না পেলে অবশ্য সেটা তাদের পীড়া দেবে। যে কোন ইস্যুতে সামনে আসবে এই মনো বেদনা। বাহ্যিক দিক থেকে দৃশ্যমান হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী এই সরকারের আমলে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। এরকম অস্থিত্বের সঙ্কটে জামায়াতে ইসলামী অতীতে কখনো পড়তে শোনা যায়নি। তারপরও যদি আতাত করে থাকে এটার খেসারত তারা দিবে। এতে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাই কেবল দীর্ঘায়িত হওয়ায় সহযোগিতা করবে। যেমন ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় যাওয়ায় সহযোগিতা করার খেসারত এখন দিতে হচ্ছে। দলটির হাজারো নেতা-কর্মী কারাগারে বন্দি। সিনিয়র নেতাদের মাথার উপর ফাঁসির রশি ঝুলছে। বহু নেতা কর্মী পুঙ্গু হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতনে। গুম হয়েছেন অনেক নেতাকর্মী। ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক দুই জন সভাপতিকে রিমান্ডের নামে নির্যাতনে পুঙ্গু করা হয়েছে। হুইল চেয়ার এখন তাদের চলাচলের একমাত্র ভরসা। তছনছ হয়েছে বহু পরিবার। এসব মোকাবেলা করেই টিকে থাকার লড়াইয়ে লিপ্ত দলটি। এই অবস্থায় জামায়াতে ইসলামীর চেস্টা থাকবে নিজের রাজনীতি করে অস্থিত্ব টিকিয়ে রাখতে। এদিকে অধ্যাপক গোলাম আযমের জানাযায় উপস্থিতি দেখে অনেকেই হতবাক হয়েছেন। সরকার সমর্থক কলামিষ্টরা বিভিন্ন পত্রিকায় জানাযায় উপস্থিতি নিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে কলাম লিখছেন। টকশো গুলোতে নানা বিশ্লেষণ দিচ্ছেন আলোচকরা। ৭১ টিভিতে প্রচারিত টকশোর উপস্থাপিকা মিথিলা ফারজানা এবং আলোচক শ্যমলদত্ত বার বার শেষ কৃত্য বলে উল্লেখ করছিলেন। তাদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল এত মানুষ সমবেত হওয়ার সুযোগ দিল কেন সরকার। লাশ দুই দিন পর দাফনের সুযোগ দেয়ায় এত মানুষ জড়ো হতে পেরেছে। এত মানুষ দেখে সরকারের প্রতি তাদের যত ক্ষোভ। কোন মুসলমানের বেলায় শেষ কৃত্য শব্দটি ব্যবহার হতে কখনো শুনিনি। প্রথমবারের মত শুনলাম ৭১টিভিতে। অধ্যাপক গোলাম আযমের মত একজন ইসলামি চিন্তাবিদের ক্ষেত্রেও এখন বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেল গুলো শেষ কৃত্য বলে প্রচারণা চালায়! টেলিভিশনে প্রচারিত সংবাদ গুলোতে স্পস্ট দেখানো হয়েছে জানাযায় উপস্থিতির দৃশ্য। বায়তুল মোকাররমে অতীতে কারো জানাযায় এমন উপস্থিতি হয়নি। আশে পাশের সকল রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে সরকার। জানাযামুখি মানুষের শ্রোত দেখে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশে গায়েবানা জানাযা হয়েছে। চট্রগ্রামের জানাযায়ও ছিল লাখো জনতার উপস্থিতি। সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা মাঠেও বিশাল জানাযা হয়েছে। এই জানাযা গুলোর সকল উপস্থিতি একজায়গায় করলে কত লোকের সমাবেশ হত এটা সহজে অনুমেয় নয়। এত বিশাল উপস্থিতির মধ্যে বিএনপি’র আনুষ্ঠানিক অনুপস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে। একই প্রশ্ন আমার মনেও। আমি নিজে এর কোন উত্তর খুজে পাইনি। সবশেষে আমি শুধু বলতে চাই ট্রাইব্যুনালের বিচারের স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে হাজারো প্রশ্ন রয়েছে। বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম এবং ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি নেতা ড. আহমদ জিয়াউদ্দিনের মধ্যে স্কাইপ সংলাপ প্রকাশের পর বিচারের অস্বচ্ছতা নিয়ে আর কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়। শুধু তাই নয়, স্কাইপ সংলাপের পাশাপাশি নিজামুল হক নাসিম এবং ড. আহমদ জিয়াউদ্দিন পরস্পরের ই-মেইল আদান প্রদানের কিছু তথ্য আমাদের কাছে ছিল। যে গুলো আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারনে আর প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। এই ই-মেইল গুলোতে স্পস্ট করেই দেখা গেছে অধ্যাপক গোলাম আযমের চার্জ গঠনের বিস্তারিত বিবরণ লিখে দিয়েছিলেন ড. আহমদ জিয়াউদ্দিন। ই-মেইলে পাঠানো চার্জ গঠনের বিবরণি এবং আদালতে পাঠ করা বিবরণির মধ্যে একটি শব্দের কোন পার্থক্য ছিল না। বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেও অন্তত অধ্যাপক গোলাম আযমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করলে সাধারণ জনগন হয়ত প্রশ্ন গুলো করার সুযোগ থাকত না। একই রকম প্রশ্ন রয়েছে আবদুল কাদের মোল্লার বেলায়ও। যেই মোমেনার সাক্ষীর উপর ভিত্তি করে আপীল বিভাগ তাঁকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে সেই মোমেনাকে আজো কেউ দেখেনি। যারা মৃত্যুদন্ড নিয়ে এত লাফালাফি করছে সেই মিডিয়া গুলোতে মোমেনার কোন প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেনি। মোমেনার সাক্ষীতে ফাঁসি হওয়ার পর তাঁরই সবচেয়ে বেশি খুশি হওয়ার কথা। তাঁরই প্রতিক্রিয়া দেখানোর কথা সবার আগে। কই, মোমেনার তো কোন পাত্তা নেই! এত আওয়ামী টেলিভিশন চ্যানেল, এত আওয়ামী পত্রিকা কোথায়ও মোমেনার উপস্থিতি নেই। এছাড়া যেই মোমেনার কথা বলা হয়েছে সেই সাক্ষীও ৩ জায়গায় ৩ রকমের বক্তব্য। অথচ বিভ্রান্তিকর এই ৩ বক্তব্যের মধ্যে একটিকে গ্রহন করে আবদুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দিয়েছে আপিল বিভাগ। বিচার প্রক্রিয়ায় এই প্রশ্ন গুলো কিন্তু থেকে যাচ্ছে। অধ্যাপক গোলাম আযমনের চার্জ গঠনের বিবরণি আমি নিজেই পাঠ করেছি উদ্ধার হওয়া ই-মেইল বার্তায়। যেই ই-মেইল বার্তাটি ড. আহমদ জিয়াউদ্দিন পাঠিয়েছিলেন তৎকালীন ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান নিজামুল হক নাসিমকে। এবং এই চার্জেই বিচার হয়েছে গোলাম আযমের। সুতরাং গোলাম আযমের প্রতি ন্যায় বিচার করা হয়েছে এটা অন্তত আমি বলতে পারব না। শেষ করতে চাই পবিত্র কোরআনে সূরা বাক্বারার একটি আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে। সেখানে স্পস্ট করেই বলা হয়েছে-‘আল্লাহর রাস্তায় যারা ইন্তেকাল করেন তাদের তোমরা মৃত বল না। বরং তারা জীবিত। তোমরা সেটা অনুধাবন করতে পার না।’ ইসলামী আন্দোলনের একজন প্রাণপুরুষ হিসাবে অধ্যাপক গোলাম আযম ইন্তেকাল করেছেন। অথচ তাঁর ইন্তেকালের পর বিভিন্ন টকশো অনুষ্ঠানে শেষকৃত্য বলে প্রচারণা চালানো হয়। আমার বিশ্বাস গোলাম আযম শেষ হয়ে যাননি। তাঁর শেষ কৃত্য হতে পারে না। তিনি বেঁঁচে থাকবেন ইসালামী আন্দোলনে। মুসলমানদের বেলায় মারা যাওয়া শব্দটিও ব্যবহার করা হয় না সহজে। ইন্তেকাল শব্দ ব্যবহার করা হয়। ইন্তেকাল শব্দের অর্থ হচ্ছে ইহ জগত ত্যাগ করে পরজগতে গমন করা। অধ্যাপক গোলাম আযম নি:সন্দেহে জুলুমের শিকার হয়েছেন। তিনি কোন অপরাধ করেছেন কিনা সেটা ভিন্ন বিষয়। তবে তার প্রতি ট্রাইব্যুনাল ন্যায় বিচার করেনি। এটার বড় প্রমান হচ্ছে ড. আহমদ জিয়াউদ্দিনের ই-মেইল বার্তায় চার্জ গঠনের বিবরণি লিখে দেয়া। লেখক: দৈনিক আমার দেশ-এর বিশেষ প্রতিনিধি, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত।

বিস্তারিত»

মতামত

 মৃত্যুদণ্ড দেশে বিদেশে যুগে যুগে (২০) ট্র্যাজিক প্রেম, দুটি গান এবং নির্দোষ কুদ্দুসের ফাসি : শফিক রেহমান

পঞ্চাশের দশকে গ্র্যাজুয়েশন অথবা মাস্টার্সের শেষে যখন আমার সহপাঠী ও সমসাময়িকরা সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার জন্য মনোনিবেশ করেছিলেন আমি তখন লন্ডনে যাওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলাম। এর প্রধান দুটি লক্ষ্য ছিল : এক. লেখা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য চার্টার্ড একাউন্টেন্ট হওয়া এবং দুই. হাওয়াইয়ান স্টাইলে হাওইয়ান গিটার বাজানো শেখা। ৮ নভেম্বর ১৯৫৭-তে ঢাকা ছেড়ে করাচি পৌছাই পিআইএ-র সুপার কনস্টেলেশন প্লেনে। সেই সময়ে ঢাকা ছিল ডমেস্টিক এয়ারপোর্ট। করাচি ছিল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং সেখানেই হতো কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন চেকিং। ১০ নভেম্বর করাচি ছেড়ে বৃটিশ ওভারসিজ এয়ারওয়েজ (বিওএসি নামে পরিচিত)-এর বৃস্টল ব্রাবাজন টারবো প্রপ প্লেনে জুরিখ হয়ে ১১ নভেম্বর সন্ধ্যায় পৌছাই প্যারিসে। ওরলি এয়ারপোর্টে। আমার দুই প্রিয় বন্ধু, ফারুক চৌধুরী ও আবদুল বারি আমাকে এয়ারপোর্টে রিসিভ করেছিলেন। তারা তখন পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং প্যারিসে ফ্রেঞ্চ ভাষা শিখছিলেন। সেখানে চার দিন থেকে ১৫ নভেম্বর ১৯৫৭-র সন্ধ্যায় পৌছাই লন্ডনে হিথরো এয়ারপোর্টে। তখন আমার পিতা সাইদুর রহমান একটি স্কলারশিপে ছিলেন লন্ডন ইউনিভার্সিটিতে। তারপর একটানা দশ বছরেরও বেশি ছিলাম লন্ডনে এবং দুটি লক্ষ্যই অর্জনে সফল হয়েছিলাম। প্রথম লক্ষ্যটি অর্জনের সুফলে আমি লেখালেখি ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড স্বাধীনভাবে আমার মত প্রকাশ করতে পেরেছি এবং মৃত্যুদণ্ডে অতি উৎসাহী আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও এই চরম অসভ্যতার বিরুদ্ধে লিখতে পারছি। আর দ্বিতীয় লক্ষ্যটি অর্জনের সুফলে ওয়েস্টার্ন মিউজিকের সঙ্গে আমার পরিচয়ের সুবাদে মৃত্যুদণ্ড বিষয়ে গান শুনতে এবং গিটারে সেই সুর তুলতে পেরেছিলাম। মৃত্যুদণ্ড বিষয়ে গান? এ রকম কঠিন বিষয়ে গান? হ্যা। মৃত্যুদণ্ড বিষয়ে দুটি গান এক সময়ে পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল। ১৯৫৮-তে ইংল্যান্ডে হিট হয় টম ডুলি (ঞড়স উড়ড়ষবু) গানটি। প্রথমে আটলান্টিকের অপর পারে আমেরিকান গায়কত্রয় দি কিংসটন টৃও (ঞযব করহমংঃড়হ ঞৎরড়) এই গানটি জনপ্রিয় করেন। তারপর ইংল্যান্ডে লনি ডোনেগান গানটি জনপ্রিয় করেন। এই গানটির আট বছর পরে ১৯৬৬-তে লন্ডনে টম জোনস (ঞড়স ঔড়হবং) জনপ্রিয় করেন গৃন, গৃন গ্রাস অফ হোম (এৎববহ, এৎববহ এৎধংং ড়ভ ঐড়সব) গানটি। এই দুটি গানের জনপ্রিয়তা বৃটেনে মৃত্যুদণ্ড রহিত করতে জনমত গঠনে খুব সহায়ক হয়েছিল। বিশেষত টম ডুলি গানটি। কারণ, ধারণা করা হয় টম ডুলি ছিলেন নিরপরাধ এবং ত্রুটিপূর্ণ বিচারে তার ফাসি হয়েছিল। ঘটনাটি জেনে নিন। টম ডুলির ট্র্যাজিক ত্রিভুজ প্রেম টম ডুলি-র জন্মগত নাম ছিল টমাস সি ডুলা (ঞযড়সধং ঈ উঁষধ)। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাপালেচিয়ান পাহাড়ি এলাকায় উইলঙবরোতে একটি গরিব পরিবারে টম ডুলির জন্ম হয়েছিল ২২ জুন ১৮৪৬-এ। স্থানীয় উচ্চারণে ডুলাকে বলা হতো ডুলি। তাই তিনি পরিচিত হন টম ডুলি নামে। তিন ভাইয়ের মধ্যে টম ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। তার ছোট ছিলেন এলিজা নামে এক বোন। শৈশবে স্কুলে টমের পরিচয় হয়েছিল এলিজার বান্ধবী অ্যান এবং অ্যানের দুই কাজিন সিস্টার লরা ও পলিনের সঙ্গে। শৈশব পেরিয়ে যৌবনে ঢোকার মুহূর্তে টম আর অ্যানের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। অ্যানের বয়স যখন মাত্র চৌদ্দ তখন তার মা একদিন অ্যানকে আবিষ্কার করেন টমের সঙ্গে একই বিছানায়। টম ঘটনাটা কোনো রকমে সামলে নেন। মায়ের কাছে ধরা পড়ার পর অ্যান বাধ্য হয়েছিলেন টমকে এড়িয়ে চলতে। তাদের দুজনের প্রতিবেশী ছিলেন একজন বয়স্ক কিন্তু ধনী কৃষক ও মুচি জেমস মেলটন। অ্যানের মা চেয়েছিলেন জেমসের সঙ্গে অ্যানের বিয়ে হোক। তাই হয়েছিল। আমেরিকায় তখন গৃহযুদ্ধ (১৮৬১ - ১৮৬৫) শুরু হতে যাচ্ছিল। অ্যান আর জেমসের বিয়ে হয়ে যায়। তারপর কনফেডারেট আর্মির পক্ষে যোগ দিয়ে জেমস চলে যান যুদ্ধে। কনফেডারেট আর্মি দাসত্ব প্রথার বিরুদ্ধে লড়ছিল। গৃহযুদ্ধে তারা বিজয়ী হয়েছিল এবং আমেরিকাতে দাসত্ব প্রথা নিষিদ্ধ হয়েছিল। টমও আমেরিকান গৃহযুদ্ধে যোগ দিতে চান। কিন্তু বয়স কম থাকায় তার আবেদনপত্র নাকচ হয়ে যায়। তারপরও তিনি চেষ্টা চালিয়ে যান। ১৫ মার্চ ১৮৬২-তে তিনি তখন কনফেডারেট আর্মিতে যোগ দেওয়ার অনুমতি পান তখন তার বয়স আঠার হতে তিন মাস বাকি ছিল। জেমস ও টম উভয়ে ব্যাটল অফ গেটিসবার্গ-এ অংশ নেন। তারা দুজনই বন্দি হয়েছিলেন। অল্প বয়স থেকেই টম কয়েকটি বিষয়ে ছিলেন ব্যতিক্রমী। খুব গরিব পরিবারে জন্ম এবং একটি অখ্যাত স্কুলে পড়াশোনা করলেও তার সাক্ষরতা ছিল অসাধারণ। সেই বয়সেই তিনি ১৫ পৃষ্ঠাব্যাপী আত্মজীবনী লিখে ফেলেছিলেন। তিনি বাশি ও ড্রাম বাজাতে পারতেন। এসব গুণের জন্য টম অল্প বয়স থেকেই হয়েছিলেন লেডিজম্যান - নারীদের প্রিয়পাত্র। নারীরা তাকে কাছে পেতে চাইত। গৃহযুদ্ধের সময়ে সেনাবাহিনীতে তিনি তার ঊর্ধ্বতন অফিসার কর্নেল ভান্স-এর মন জয় করেছিলেন এবং সহযোদ্ধাদের প্রিয়পাত্র হয়েছিলেন। কারণ টমের ছিল সাহস। যুদ্ধের সময় একাধিকবার তিনি আহত হয়েছিলেন। তার ভাইয়েরা যুদ্ধে মারা গিয়েছিলেন। যুদ্ধ শেষে টম ও জেমস দুজনই বাড়ি ফিরে আসেন। যদিও তখন অ্যান ছিলেন জেমসের স্ত্রী তবু আত্মবিশ্বাসে ভরপুর টম তার সঙ্গে পূর্ব সম্পর্কের নবায়ন করলেন। অর্থাৎ পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হলেন। কিন্তু সেখানেই তিনি থেমে থাকলেন না। অ্যানের কাজিন সিস্টার লরা ফস্টারের সঙ্গেও অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে তুললেন। কয়েক মাস পরে লরা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। টম ও লরা ঠিক করেন তারা পালিয়ে যাবেন। পালানোর দিনক্ষণ ধার্য হয় ২৫ মে ১৮৬৬-তে সকাল বেলা। লরা থাকতেন তার পিতামাতার সঙ্গে। পিতা মি. ফস্টার ঘোড়া পালতেন। সেদিন ভোরে উঠে বেলে নামে একটি ঘোড়ার পিঠে চেপে সবার অজ্ঞাতসারে লরা চলে যান। এরপর তাকে জীবিত অবস্থায় আর পাওয়া যায়নি। সেদিন যে কি ঘটেছিল তার সত্য ও পূর্ণ বিবরণ পাওয়া যায়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গুজব ও কল্পকাহিনীর প্রতি মানুষ ঝুকে পড়ে। কেউ কেউ মনে করেন অ্যানই খুন করেছিলেন লরাকে। কারণ অ্যান তখনো ভালোবাসতেন টমকে এবং লরা বিয়ে করবেন টমকে - এটা জানার পর থেকে অ্যান প্রচণ্ড ঈর্ষাপরায়ণ হয়েছিলেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন টম জানতেন অথবা সন্দেহ করেছিলেন অ্যানই ছিলেন লরার খুনি। কিন্তু যেহেতু টমও তখনো ভালোবাসতেন অ্যানকে সেহেতু তিনি (টম) গ্রেফতার হওয়ার পরে অ্যানকে বাচানোর জন্য খুনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ওই সময়ে অ্যানের দেওয়া তথ্য থেকে লরার মৃতদেহ পুলিশ খুজে পায়। এর ফলে অনেকেই মনে করেন, টম নয় - প্রকৃত খুনি ছিলেন অ্যান। এই সন্দেহ আরো বিশ্বাসযোগ্যতা পায় যখন অ্যানের আরেক কাজিন সিস্টার পলিন (লরার বোন) সাক্ষ্য দেন যে, এক রাতে তাকে (পলিন) নিয়ে অ্যান গিয়েছিলেন লরার কবর চেক করতে। অ্যান নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন কবরটা কেউ খুজে পায়নি। এদিকে আদালতে কয়েকজন সাক্ষী জানায় যে টমের যৌন রোগ (সিফিলিস) হয়েছিল এবং সেজন্য টম প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিলেন। তিনি তাদের (সাক্ষীদের) বলেছিলেন, যে নারী তাকে এই রোগ দিয়েছে তাকে তিনি খতম করবেন। সাক্ষীরা আরো বলেন, টমের বদ্ধমূল বিশ্বাস হয়েছিল রোগটা এসেছিল লরার কাছ থেকে এবং টম পরবর্তী সময়ে রোগটা সংক্রামিত করেছিলেন অ্যানের দেহে। স্থানীয় ডাক্তার সাক্ষ্য দেন যে, তিনি টম এবং অ্যানের সিফিলিসের চিকিৎসা করেছিলেন। তবে তিনি আরো বলেন, পলিনেরও এই রোগ হয়েছিল এবং প্রথম চিকিৎসাটি করিয়েছিলেন পলিন। তাই অনেকের ধারণা হয় পলিনের কাছ থেকে রোগটি পেয়েছিলেন টম, যিনি ভুল করে ভেবেছিলেন লরার কাছ থেকে রোগটি পেয়েছিলেন। এরা ধারণা করেন, নিজের দোষ ঢাকার জন্য এবং টমের হুমকির হাত থেকে বাচার জন্য পলিনই হয়তো তার আপন বোন লরাকে খুন করেছিলেন। টম, অ্যান আর পলিন - এই তিনজনের মধ্যে কে তাহলে ছিলেন প্রকৃত খুনি? লরার গলিত দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল একটি অগভীর ছোট কবরে। কবরটি ছোট ছিল বলে লরার হাটু ভাজ করে সেখানে তাকে শায়িত করা হয়েছিল। তার বুকে শুধু একটি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। শান্ত একটি শহরে এ ধরনের একটি খুন যেখানে তিনজন ছিলেন খুনিরূপে সন্দেহভাজন এবং যেখানে খুনের মোটিভ হতে পারত তিনটি : প্রেম (অ্যানের প্রতি টমের) অথবা ঈর্ষা (লরার প্রতি অ্যানের) অথবা অপরাধ গোপন (পলিনের)। ঘটনাটি সারা দেশে বিশাল পাবলিসিটি পায়। দি নিউ ইয়র্ক টাইমস এই মামলার বিস্তারিত বিবরণ ছাপতে থাকে। জীবিত অবস্থাতেই টম ডুলি লেজেন্ড (খবমবহফ, উচ্চারণ লিজেন্ড নয়) বা কিংবদন্তিতে পরিণত হন। আদালতে টমের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এগিয়ে আসেন নর্থ ক্যারোলাইনার গভর্নর জেবুলন ভান্স যিনি গৃহযুদ্ধের সময় ছিলেন টমের ঊর্ধ্বতন অফিসার। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন টম নিরপরাধ এবং রাজনৈতিক কারণেও তিনি চাননি যে একজন বীর যোদ্ধা অন্যায়ভাবে দণ্ডিত হোক। কিন্তু টমের স্থানীয় এলাকা উইলঙবরোতে তার বিরুদ্ধে জনমত প্রবল হয়ে উঠছিল। গভর্নর ভান্স সিদ্ধান্তে আসেন স্থানীয় এলাকায় বিচারকরা প্রভাবিত হতে পারেন স্থানীয় জনমতের দ্বারা। টম ন্যায়বিচার পাবেন না। তাই তিনি টমের বিচার স্টেটসভিল-এ স্থানান্তরিত করেন। স্টেটসভিলে টমের সঙ্গে অভিযুক্ত হন তার বন্ধু জ্যাক কিটন। বলা হয় খুনের সহযোগী ছিলেন জ্যাক। কিন্তু আদালতে টম বলেন, তিনি একাই খুন করেছিলেন লরাকে। টমের কথায় জ্যাক মুক্তি পান। টমের মৃত্যুদণ্ড হয়। টম আপিল করেন। কিন্তু তার আপিল নাকচ হয়ে যায়। ফাসিতে টমের (২২) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ১ মে ১৮৬৮-তে - লরা খুন হওয়ার প্রায় দুই বছর পরে। টমের ছোট বোন ও তার স্বামী মৃতদেহ নিয়ে কবর দেন। কথিত আছে, ফাসির পূর্ব মুহূর্তে টম বলেছিলেন, জেন্টলমেন, আপনারা এই হাতটি দেখছেন? আমি ওই মেয়েটির মাথার একটি চুলেরও ক্ষতি করিনি (এবহঃষবসবহ, ফড় ুড়ঁ ংবব ঃযরং যধহফ? ও ফরফহ'ঃ যধৎস ধ যধরৎ ড়হ ঃযব মরৎষ'ং যবধফ)। এভাবে মৃত্যুর আগে টম জানিয়ে যান আদালতে আত্মস্বীকৃত খুনি হলেও আসলে তিনি খুনি ছিলেন না। এরপর ক্রমেই টম ডুলির পক্ষে জনমত গড়ে উঠতে থাকে। তাকে নিয়ে কবিতা, গান ও কাহিনী ছড়িয়ে পড়তে থাকে। টমাস ল্যান্ড নামে একজন স্থানীয় কবি একটি গান লেখেন। সেই গান ১৯৫৮-তে আমেরিকান গায়কত্রয় দি কিংসটন টৃও-র গাওয়া, হ্যাং ডাউন ইয়োর হেড টম ডুলি (ঐধহম ফড়হি ুড়ঁৎ যবধফ ঞড়স উড়ড়ষবু, ১৯৫৮) ওয়ার্ল্ড হিট হয়। ইউটিউবে ১ আগস্ট ২০১৪-তে এই গানের হিট সংখ্যা ছিল ৮৮০,৪৩৭। এই গানের ৬০ লাখের বেশি রেকর্ড বিক্রি হয়। গানটির জার্মান, ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ, ইটালিয়ান ভার্সন বিভিন্ন গায়ক রেকর্ড করেন। ইউটিউবে গেলে এই গানটির বিভিন্ন সংস্করণ পাওয়া যাবে। সর্বাধুনিক একটি সংস্করণ বেনজামিন মাসের-এর গাওয়া ইন্টারনেট হিট হয়েছে। ইউটিউবে ১ আগস্ট ২০১৪-এ এই সংস্করণের হিট সংখ্যা ছিল ৬৩৫,৬২৫। ক্লিক করুন। নিচে গানটির বাংলা ভাষান্তর প্রকাশিত হলো। তবে গানটির পূর্ণ আবেদন বুঝতে হলে দি কিংসটন টৃও (ঞযব করহমংঃড়হ ঞৎরড়) এবং বেনজামিন মাসের গান, দুটিই ইউটিউবে শুনে নিন। ১৩৩ বছর পর নির্দোষ ঘোষিত টম ডুলি কাহিনীর চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি নাটকীয়ভাবে ঘটে তার মৃত্যুর ১৩৩ বছর পরে ২০০১-এ। উইলঙবরোর অধিবাসীরা স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান শুরু করেন। তারা বলেন, টম ডুলি নির্দোষ ছিলেন এবং সেই সত্যটা প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত। উইলঙবরো অধিবাসীদের এই ক্যামপেইন ছিল বেসরকারি এবং এর কোনো আইনগত ভিত্তি ছিল না। কিন্তু উইলঙবরোর অধিবাসীদের স্বাক্ষরিত এই আবেদনপত্রটি নৈতিক বৈধতা পেয়েছে। ১৩৩ বছর জুড়ে টম ডুলি সম্পর্কে অনেক কাহিনী ছড়িয়ে পড়েছিল। টম ডুলি ভালো বাশি এবং হয়তো ব্যানজো বাজাতে পারতেন। তাই হ্যাং ডাউন ইয়োর টম ডুলি গানে ব্যানজো বাজানো হয়েছে। আরেকটি কাহিনী হলো, অ্যান তার মৃত্যুশয্যায় স্বীকার করে যান, প্রচণ্ড- ঈর্ষায় উন্মত্ত হয়ে তিনি লরাকে খুন করেছিলেন। তারপর তিনি টমের কাছে সাহায্য চান এবং টম তাকে সাহায্য করেছিলেন লরার মৃতদেহ লুকিয়ে রাখতে। এসব কারণে লরার খুনে টমের সম্পৃক্ততা সঠিকভাবে নিরূপণ সম্ভব হয়নি। টমকে সন্দেহভাজন ঘোষণার পর তিনি উইল্কসবরো থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন টেনেসি-র ট্রেড শহরে। লরার মৃতদেহ পাওয়া যায় টমের পালানোর পরে। টেনেসিতে টম ডুলি নিজের নাম বদলে টম হল রাখেন। কর্নেল জেমস গ্রেইসন নামে এক রিটায়ার্ড আর্মি অফিসারের ব্যবসায়ে কাজ করতে থাকেন টম। গ্রেইসন জানতেন না উইলঙবরোতে কি ঘটেছিল। গ্রেইসন চিনতেন না লরাকে। কিন্তু বিভিন্ন কাহিনীতে টমের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেমিকরূপে গ্রেইসনকে বর্ণনা করা হয়। এটা সত্যি ছিল না। হ্যাং ডাউন ইয়োর হেড টম ডুলি গানে গ্রেইসনের কথা আছে। গানে বলা হয়েছে, গ্রেইসনই পুলিশের কাছে টমকে ধরিয়ে দিয়েছিলেন। এটা সত্যি ছিল। উইলঙবরোর পুলিশ যখন জানতে পারে টম পরিচয় গোপন করে টেনেসিতে আছে তখন তারা যোগাযোগ করে গ্রেইসনের সঙ্গে। গ্রেইসন তখন টমকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। টম ডুলিকে নিয়ে গান, লেখালেখি ও মুভি এখনো চলছে। ১৯৫৯-তে দি লেজেন্ড অফ টম ডুলি মুভিটি রিলিজ হয়। ২০১১-তে শ্যারিন ম্যাক ক্রামবি-র উপন্যাস দি ব্যালাড অফ টম ডুলি প্রকাশিত হয়। নিচে গানটির ভাষান্তর প্রকাশিত হলো : ঐধহম ফড়হি ুড়ঁৎ যবধফ, ঞড়স উড়ড়ষবু ঐধহম ফড়হি ুড়ঁৎ যবধফ ধহফ পৎু ঐধহম ফড়হি ুড়ঁৎ যবধফ, ঞড়স উড়ড়ষবু চড়ড়ৎ নড়ু, ুড়ঁ'ৎব নড়ঁহফ ঃড় ফরব... (কোরাস) তোমার মাথা নিচু করো টম ডুলি মাথা নিচু করে কাদো টম ডুলি বেচারা টম, তুমি মরতে যাচ্ছ। (সলো) তার সঙ্গে দেখা করেছিলাম পাহাড়ে সেখানে তাকে খুন করেছিলাম ছুরি দিয়ে মেরেছিলাম। আগামীকাল এই সময়ে ভেবে দেখ আমি কোথায় থাকব? গ্রেইসন ধরিয়ে না দিলে আমি টেনেসিতে থাকতাম। আগামীকাল এই সময়ে ভেবে দেখ আমি কোথায় থাকব? কোনো এক নির্জন উপত্যকায় একটা শাদা ওক গাছ থেকে ঝুলে থাকব। হ্যাং ডাউন ইয়োর হেড টম ডুলি গানটির রেশ মিলিয়ে যাওয়ার পরপরই ১৯৬৬-তে রিলিজড হয় টম জোন্স-এর (ঞড়স ঔড়হবং) গৃন, গৃন গ্রাস অফ হোম (এৎববহ, এৎববহ এৎধংং ড়ভ ঐড়সব)। ক্লড কার্লি পাটম্যান জুনিয়রের লেখা এ গানটি টম ডুলির চাইতেও অনেক বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং টম ডুলির মতো অনেক গায়ক এ গানটি গেয়েছেন। ইউটিউবে ক্লিক করলে দেখবেন এই গানের জনপ্রিয়তা। এলভিস প্রেসলি (ঊষারং চৎবংষবু, যাকে টম জোন্স শ্রদ্ধা করতেন ও যার বন্ধু হয়েছিলেন) তার গাওয়া এই গানে ১ আগস্ট ২০১৪ পর্যন্ত হিট হয়েছে ১,২৬৩,১১৬ বার। আর জোন বেইজ (ঔড়ধহ ইধবু)-এর গাওয়া এই গানে ১ আগস্ট পর্যন্ত হিট হয়েছে ৩,১৬৫,২৩১ বার। টম জোন্সের অরিজিনাল ভার্সনে কত হিট হয়েছে সেটা জানা সম্ভব হয়নি। টম জোন্স ইংল্যান্ডে রানির কাছ থেকে স্যার উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন এবং এখনো গানটি নিয়মিতভাবে গাইছেন লাস ভেগাস-এ তার লাইভ শো-তে। এই গানটির দুটি পার্ট আছে। প্রথম পার্টে বোঝা যায় এক ব্যক্তি তার শৈশবকালের গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসেছে। যৌবনে এই গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার পরে সম্ভবত এই প্রথম সে ফিরেছে। ট্রেন থেকে নামার পরে সে দেখতে পায় তার পিতামাতা এবং আদরের ছোট বোন মেরিকে। তারা সবাই তাকে দেখতে আসছে। মেরি ছুটে আসছে। ওই ব্যক্তি তার পুরনো বাড়িঘর, ওক গাছ আর সবুজ ঘাস দেখতে পায়। সে ছুতে চায় সবুজ ঘাসকে। প্রথম পার্টে এটি শুনলে মনে হবে ব্যক্তিটি স্মৃতিচারণা করছে। কিন্তু হঠাৎ দৃশ্যপট বদলে যায়। দ্বিতীয় পার্টে বোঝা যায় ওই ব্যক্তিকে তার গ্রামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তার মৃত্যুদ- কার্যকর করতে। ব্যক্তিটি বুঝতে পারে তার শেষ সময়ের জন্য উপস্থিত আছেন এক বৃদ্ধ পাদরি। সে বুঝতে পারে তার মৃত্যুদ- কার্যকরের পর তার মৃতদেহ কবর দেওয়া হবে সেই পুরনো ওক গাছের ছায়ায় সবুজ ঘাসের নিচে। মানবতাবাদী গায়িকা জোন বেইজ, যিনি ১৯৭১-এ বাংলাদেশের নির্যাতিত জনগণের পক্ষে ভূমিকা নিয়েছিলেন, তিনি তার গাওয়া গানের শেষে আরো যোগ করেছেন, হ্যা, আমরা সবাই পুরনো ওক গাছের ছায়ায়, যখন আমরা সবাই মিলিত হব বাড়ির সবুজ, সবুজ ঘাসের নিচে। পুরো গানটির ভাষান্তর : ট্রেন থেকে নেমে আমি দেখছি সেই পুরনো বাড়ি ঘর ঠিক সেই রকমই আছে। আর আমাকে দেখতে সেখানে এসেছেন আমার মা, বাবা। পথে দৌড়ে আসছে আমার ছোট বোন মেরি তার চুল সোনালি, ঠোট দুটো চেরি ফলের মতো। বাড়ির সবুজ, সবুজ ঘাস ছুতে লাগে ভালো। হ্যা, তারা সবাই আসবে আমার সঙ্গে দেখা করতে। দুই হাত বাড়িয়ে মিষ্টি হাসি মুখে। বাড়ির সবুজ, সবুজ ঘাস ভালো লাগে ছুতে। সেই পুরনো বাড়িটা এখনো দাড়িয়ে আছে যদিও বাড়ির রং ফেটে গেছে, ময়লা হয়ে গিয়েছে। আর ওই যে সেই ওক গাছটা আছে যার নিচে আমি খেলতাম। আমি পথে হাটছি। সোনালি চুল আর চেরি ঠোটে আমার মিষ্টি বোন মেরি ছুটে আসছে। হ্যা, তারা সবাই আসবে আমার সঙ্গে দেখা করতে। হঠাৎ আমার স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল। আমি চারদিকে তাকিয়ে দেখি আমি তো চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি। আমি বুঝতে পারি আমি স্বপ্ন দেখছিলাম। ওই তো আমাকে একটা গার্ড পাহারা দিচ্ছে। তার পাশে আছেন বিষণ্ন মুখে এক বুড়ো পাদরি। কাল ভোরে সূর্য উঠলে ওরা আমাকে ধরে নিয়ে যাবে। আমি আবার বাড়ির সবুজ, সবুজ ঘাস ছোবো। হ্যা, তারা সবাই আসবে সেই পুরনো ওক গাছের ছায়ায় আমাকে দেখতে। আমাকে যখন তারা সবুজ, সবুজ ঘাসের নিচে শুইয়ে দেবে। বাংলাদেশে মৃত্যুদ-ে দ-িত বহু ব্যক্তির মৃতদেহ শায়িত করা হয়েছে তাদের গ্রামের বাড়িতে সবুজ ঘাসের নিচে। কোনো বাংলাদেশি গায়ক একদিন নিশ্চয়ই গাইবেন বাংলাদেশে টম ডুলির মতো মৃত্যুদ-ে দ-িত কিন্তু নিরপরাধ ব্যক্তির কাহিনী। অথবা কোনো বাংলাদেশি গায়ক একদিন নিশ্চয়ই গাইবেন বাংলাদেশে মৃত্যুদ-ে দ-িত যেকোনো ব্যক্তির তার গ্রামের বাড়িতে সবুজ ঘাসের নিচে চিরঘুমের কাহিনী। সেটি হতে পারে কুদ্দুসের জীবনী নির্ভর। কুদ্দুস কে ছিলেন সেটা লিখেছিলেন রিটায়ার্ড ডেপুটি জেইলার মোহাম্মদ আমিনুর রহমান পত্রিকায় প্রকাশিত তার একটি স্মৃতিচারণায় যার শিরোনাম ছিল : ‘ফাসি হওয়া কুদ্দুস এখনো আমার সামনে এসে দাড়ায়’। ডেপুটি জেইলার হিসেবে যোগদানের এগার মাস পরই ১৯৬৪ সালে একটি ফাসি কার্যকরের দায়িত্ব পড়ে আমার ওপর। এর আগে ফাসি দেওয়ার অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। আমি তখন বরিশাল জেলা কারাগারে চাকরি করি। ফাসি কার্যকরের মতো একটি দায়িত্ব পাওয়ার পর আমার খারাপ লাগছিল। এরপরও চাকরি করি, তাই এই দায়িত্ব আমাকে পালন করতেই হবে। জেনেশুনেই এই চাকরিতে যোগ দিয়েছি। এরপরও তো আমি একজন মানুষ। আমার সামনে ফাসির রশিতে ঝুলে একজন তরতাজা মানুষ জীবন হারাবে - ভাবতেই কেমন জানি লাগছিল। স্মৃতিতে যত দূর মনে পড়ে, যার ফাসি কার্যকর করেছিলাম তার নাম কুদ্দুস। বাড়ি বরিশালের উজিরপুর এলাকায়। পেশায় কৃষিজীবী হলেও সে ছিল সুদর্শন যুবক। বাবাকে জবাই করার দায়ে তার ফাসির রায় হয়েছিল। তারিখ মনে নেই। তবে ঘটনাটা মনে আছে। সিনিয়র অফিসারের নির্দেশে আমি ফাসি কার্যকরের দিন বিকেলে কুদ্দুসের সেলে যাই। গিয়ে দেখি কুদ্দুস মনমরা হয়ে বসে আছে। তখনো সে জানে না আজ রাতেই তার ফাসি হবে। আমি গিয়ে জানালাম। ভেবেছিলাম শুনেই সে আতকে উঠবে। কিন্তু দেখলাম তার মাঝে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া হলো না। মনে হলো সে প্রস্তুতি নিয়েই রেখেছে। শুধু বড় একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, স্যার, ফাসি-টাসি কেয়ার করি না। তবে কি, পিতাকে হত্যা না করেও হত্যার অভিযোগ নিয়ে দুনিয়া ছেড়ে যেতে হচ্ছে, এটাই দুঃখ। তার কথা শুনে চমকে উঠলাম এই কারণে যে, তার কথা অনুযায়ী অপরাধ না করেও তাকে ফাসিতে ঝুলতে হচ্ছে! আগ্রহ জন্মাল ঘটনাটি জানার। কুদ্দুস আমাকে জানাল, তার বাবা দুই বিয়ে করেছে। প্রথম স্ত্রীর ছেলে সে। মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে। ওই ঘরে দুই মেয়ের জন্ম হয়। প্রত্যেকেই বড় হয়, বিয়ে-শাদি করে। কুদ্দুসেরও এক ছেলে হয়। তার বাবার বিষয়-সম্পত্তি দখলের জন্য সৎ বোনের জামাই হন্যে হয়ে ওঠে। তার বোন, বোনজামাই ও সৎ মা মিলে পরিকল্পনা করে তার বাবাকে হত্যার। সেই হত্যার দায় চাপানোর জন্য তাকে আসামি করার পরিকল্পনাও করে। এক রাতে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে কুদ্দুস তার বাবার বিছানায় শুয়ে থাকে। বাবা চলে গিয়েছিল অন্য ঘরে। ওই রাতে তার বোনজামাাই বাবাকে হত্যার জন্য যায়। গিয়ে কাথা সরিয়ে দেখতে পায় কুদ্দুসকে। তাকে দেখে দ্রুত চলে যায়। সেদিন কুদ্দুস বুঝতে পেরেছিল তার বাবাকে হত্যার জন্যই চেষ্টা করছে তারা। এর ক’দিন পর এক রাতে তার বোন ও বোনজামাই তার বাবাকে জবাই করে। বিষয়টি কুদ্দুস আচ করতে পেরেও কিছুই করতে পারেনি। বরং তার মা বাদী হয়ে কুদ্দুসকেই প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করে। মা, বোন ও বোনজামাই প্রত্যেকেই কুদ্দুস হত্যা করেছে বলে আদালতে সাক্ষ্য দেয়। মায়ের সাক্ষ্যকে আদালত গ্রহণ করে। সেই সাক্ষ্যের ভিত্তিতে কুদ্দুসের ফাসির রায় হয় বলে সে আমাকে জানায়। এসব কথা বলার সময় কুদ্দুস অঝোর ধারায় কাদতে থাকে। সেই কান্না দেখাও ছিল বেশ কষ্টকর। কুদ্দুসের ইচ্ছা কি জানতে চাওয়া হলে সে একটি চিঠি লেখার আগ্রহ প্রকাশ করে। তাকে চিঠি লেখার জন্য কাগজ-কলম দিয়ে সেল থেকে বিদায় হই। কুদ্দুসকে ফাসি দেওয়ার সব আয়োজন সম্পন্ন করা হলো। রাত দশটার দিকে কুদ্দুসের সেলে যাই আমি। কুদ্দুস তার লেখা চিঠিটি দেয় আমার হাতে। অনুরোধ করে বলল, স্যার আমি আপনার পায়ে ধরি। চিঠিটি আমার মায়ের কাছে পৌছে দেবেন। আমি তাকে কথা দিলাম তার চিঠি অবশ্যই আমি পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা করব। চিঠিটি নিয়ে পড়ার আগ্রহ বোধ করলাম। দেখলাম সে লিখেছে, ‘মা, তুমি তোমার জামাই মিলে বাবারে হত্যা করলা আর আমারে দিলা ফাসি। কোর্টে সাক্ষী দিলা যে আমিই মারছি। ঠিক আছে আমি তো চলে যাচ্ছি, তোমার সঙ্গে দেখা হবে ওপারে। রোজ হাশরের মাঠে। তোমার সঙ্গে ওইখানে মোকাবেলা হবে। আর একটা কথা, আমার বউ যদি অন্য কোথাও বিয়ে করতে চায় তুমি বাধা দিও না। তুমি যত দিন বাইচা থাকবা তত দিন আমার ছেলেকে দেখবা। তুমি আমার ছেলেকে পড়াবা। আমি যখন একা কবরে যাচ্ছি, তোমাকেও একা কবরে যেতে হবে। সে সময় তোমার মেয়ের জামাই ও মেয়ে কিন্তু সঙ্গে যাবে না। দুনিয়ায় তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে এত বড় অপরাধ করলা। কিন্তু তাদের কাউকে তুমি পাবা না। তোমার সঙ্গে চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশ হবে হাশরের ময়দানে।’ এই কথাগুলো কুদ্দুস কয়েকবার লিখেছিল। চিঠির কাগজটি ভেজা ছিল। বোঝাই যাচ্ছিল লেখার সময় তার চোখ বেয়ে পানি ঝরছিল খুব। যে কারণে চোখের পানিতে কালি লেপটে যায়। চিঠিটি নিয়ে সিনিয়র অফিসারকে দিলাম। তার কাছে জানতে চাইলাম চিঠিটি কিভাবে পাঠাব। তিনি পরামর্শ দিলেন রেজিস্টৃ ডাকে পাঠানোর জন্য। নিজের টাকা খরচ করে সেই চিঠিটি আমি পাঠিয়েছিলাম। রাত আড়াইটার দিকে ফাসি দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হলো। নিয়ম অনুযায়ী এক ঘণ্টা আগে গিয়ে কুদ্দুসকে গোসল করানো হলো। এরপর সে নামাজ আদায় করল। মসজিদের ইমাম গিয়ে তাকে তওবা পড়ান। ফাসির কিছুক্ষণ আগে কুদ্দুসের কাছে জানতে চাইলাম, সে শেষবারের মতো কিছু খেতে চায় কি না। সে বলল, একটু দুধ খাবে। আমরা দ্রুত দুধের ব্যবস্থা করলাম। দুধটুকু খাওয়ার পর কুদ্দুসই বলল, স্যার চলেন। নিয়ম অনুযায়ী তার দুই হাতে হ্যান্ড কাফ পরিয়ে দিলাম। সেল থেকে পঞ্চাশ গজের মতো দূরে ফাসির মঞ্চে আমরা তাকে নিয়ে গেলাম। কারণ ফাসির আসামি যদি মঞ্চে না গিয়ে দৌড় দেয় বা অন্য কিছু করে বসে সে কারণে হ্যান্ড কাফ পরিয়ে নিতে হয়। সেখানে গিয়ে কুদ্দুস কোনো ঝামেলা না করেই ফাসির রশি গলায় ঝোলাল। এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট ডি জি সেনগুপ্ত, সিভিল সার্জন আবদুল লতিফ, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কারাগারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সকালে লাশ নেওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যদের ডাকা হয়। লাশ গ্রহণ করতে তার মা আসেনি। এসেছিল তার বড় বোন ও তার স্বামী। কয়েক ঘণ্টা আগেই আমি কুদ্দুসের মুখ থেকে শুনেছিলাম তার সৎ বোন ও স্বামী তার বাবাকে জবাই করেছে। এ কারণে নিজের আগ্রহ থেকে তাদের দুজনকে জানালাম যে, কুদ্দুস মৃত্যুর আগে বলে গেছে আপনারা হত্যা করে সেই দায় কুদ্দুসের ওপর চাপিয়েছেন। এ সময় তারা দুজনই থতমত খেয়ে গেলেও পুরো ঘটনাটি অস্বীকার করে। দীর্ঘদিন কারাগারে চাকরি করেছি। অনেক মানুষের ফাসি কার্যকরের সময় উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু কুদ্দুসের ফাসিটি এখনো আমার মনে পড়ে। কুদ্দুস স্বপ্নে এখনো আমার সামনে এসে দাড়ায়। নতুন করে বলে, তার মৃত্যুর কাহিনী। facebook.com/ShafikRehmanPresents (চলবে)

বিস্তারিত»

বিনোদন

ফেসবুকে বিব্রত আঁখি আলমগীর

টেলিভিশনের সরাসরি অনুষ্ঠান কিংবা কনসার্টে অংশ নিয়ে বিভিন্ন সময় বিব্রতকর অবস্থার সম্মুখীন হয়েছেন সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর। কিন্তু এবারই প্রথম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে আঁখি আলমগীর তার নিজস্ব অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘ফেসবুকে কিছু অপদার্থ আছেন, যারা বুঝে না বুঝে আলতু ফালতু কমেন্টস করে থাকেন। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, দয়া করে আজে বাজে কমেন্টস করে, কমেন্টস বক্সটা পূর্ণ করবেন না। ফেসবুক কিছু ভালো মানুষও ব্যবহার করে। সবাই আপনাদের মতো না। দয়া করে কেউ বাজে কমেন্টস করবেন না। সবাইকে ধন্যবাদ।’ সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীরের নামে ফেসবুকে বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট আছে। যদিও তিনি নিজে একটি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করেন। আর সেখানেই বিভিন্ন সময় বাজে কমেন্টস কিংবা অশোভন মন্তব্যের শিকার হচ্ছেন তিনি। এতদিন চুপ করে সব সহ্য করলেও এবারই প্রথম বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন এই শিল্পী।

বিস্তারিত»

স্বাস্থ্য ও রুপচর্চা

দুধ পানে নারীমৃত্যুর ঝুঁকি

ঢাকা: শরীর ও ব্রেণকে সুস্থ্য রাখতে দরকার আদর্শ খাবার দুধের। বেশি দুধ খেলে হাড় শক্ত হয়, কমে হৃদ রোগের সম্ভাবনা। এমনটিই জানা সবার। কিন্তু গবেষকরা দাবি করেছেন এই ধারণার পিছনে এখনও পর্যন্ত কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।  সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে তিন গ্লাস বা তার বেশি দুধ পান করা মহিলাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। যারা দিনে একগ্লাস বা তার কম দুধ পান করেন তাদের তুলনায় এদের মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায় দ্বিগুনেরও বেশি। সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রমাণ করেছেন এই চাঞ্চল্যকর তত্ত্বটি। ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এক প্রবন্ধ অনুযায়ী, বেশি দুধ পান করলে মহিলাদের হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। এ উপসালার গবেষক কার্ল মিচেলসন জানিয়েছেন ‘দুধের মধ্যে উপস্থিত শর্করা গ্যালাকটোজ মহিলাদের শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বৃদ্ধি করে। যার ফলে শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এই প্রদাহের ফলে অল্প আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। যা মৃত্যুর সম্ভাবনাকেও বাড়িয়ে দেয়। গবেষণার স্বার্থে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা চালান ৩৯ থেকে ৭৪ বছর বয়সী ৬১,৪৩৩ জন মহিলার উপর। অন্যদিকে ৪৫ থেকে ৭৯ জন পুরুষের উপরও একই ভাবে পরীক্ষা চালানো হয়েছে। ২০ বছরের টানা পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে ১৫,৫৪১ জন মহিলা মারা গেছেন। ১৭,২৫২ জনের হাড় ভেঙেছে। যাদের মধ্যে ৪,২৫৯ জনের কোমর ভেঙে গেছে। গবেষকরা দেখেছেন, দিনে এক গ্লাস  বা তার কম দুধ পানকরীদের চেয়ে দিনে তিন গ্লাসের বেশি দুধ পানকারী মহিলাদের মৃত্যুর হার ১.৯৩% বেশি। এ গবেষণায় পুরুষদের মৃত্যুর হারের সঙ্গে দুধ পানের কোনও সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তবে দুধের তৈরি চিজ বা অন্য খাবার যেসব মহিলা বেশি খান তাদের ক্ষেত্রে ফলাফল ঠিক তার উল্টো। তাদের মৃত্যুর হার তুলনামূলক কম দেখা গেছে।  তাই অতিরিক্ত দুধ পান না করে শরীরের গঠন ও হাড় মজবুত রাখতে দিনে এক গ্লাস গরম দুধ খাওয়া যেতে পারে। যা নারীর স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ভূমিকা রাখবে।

বিস্তারিত»

সম্পাদকীয়

আইন-শৃঙ্খলার অবনতি গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া জনগণের জানমাল নিরাপদ নয়

প্রতিদিন দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। অপরাধের মধ্যে খুন, গুম, অপহরণ, ডাকাতি, ছিনতাই, ব্যাংক ডাকাতি, চুরি, প্রতারণা, ধর্ষণ, শিশু ও নারী নির্যাতনসহ সবধরনের অপরাধের মাত্রাই বেড়েছে। গত মাসে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় সভার কার্যপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের জুলাই মাসের চেয়ে আগস্ট মাসে অপরাধ বেড়েছে ৪৫৩টি। ঢাকা বিভাগে জুলাই মাসে অপরাধের সংখ্যা ছিল ৬৪৬টি। আগস্ট মাসে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪০টি। চট্টগ্রাম বিভাগে জুলাই মাসে অপরাধের সংখ্যা ছিল ৪৬৮টি, আগস্ট মাসে তা বেড়েছে ৫৪৩টি। রাজশাহী বিভাগে জুলাই মাসে অপরাধের সংখ্যা ছিল ২৬৪টি, আগস্ট মাসে তা বেড়েছে ৩৬৪টি। খুলনা বিভাগে জুলাই মাসে অপরাধের সংখ্যা ছিল ২৭৪টি, আগস্ট মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৯টিতে। বরিশাল বিভাগে জুলাই মাসে অপরাধের সংখ্যা ছিল ১৩৪টি, তা আগস্ট মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৯টিতে। সিলেট বিভাগে জুলাই মাসে অপরাধের সংখ্যা ছিল ১০৭টি, তা আগস্ট মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৮টিতে। রংপুর বিভাগে জুলাই মাসে অপরাধের সংখ্যা ছিল ২৭৩টি, তা আগস্ট মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২০টিতে। সকল মেট্রোপলিটন এলাকায় জুলাই মাসে অপরাধের সংখ্যা ছিল ৩৫৫টি, আগস্ট মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭১টিতে। সে হিসেবে জুলাই মাসে মোট অপরাধের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫২১ টি। আগস্ট মাসে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৭৪টি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে রাজনৈতিক কারণে খুনোখুনির ঘটনা কমেছে। তবে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গুম হওয়া ও বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা বেড়েছে। জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ পর্যন্ত-এই পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার ৬৮০ জন খুন হয়েছেন। শুধু চলতি বছরেই আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে ৩ হাজার ৬১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে রাজধানীতে ১৭২ জন খুন হয়েছেন। এদের মধ্যে মাত্র ১০ জন খুন হয়েছেন রাজনৈতিক কারণে। বাকি ১৬২টি খুনের বেশিরভাগই ঘটেছে সামাজিক ও পারিবারিক কারণে। সাধারণত পারিবারিক কলহ, অর্থ লেনদেন, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব বা এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হাতে এরা খুন হয়েছেন। পুলিশ সদর দফতরের হিসাব অনুযায়ী, সারাদেশে প্রতিদিন গড়ে ১৪/১৫ জন খুন হচ্ছেন। সরকারি এই হিসাবের বাইরেও ঘটছে অসংখ্য ঘটনা, যার খবর পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত না হওয়ায় জনগণ ও সরকারের নজরের বাইরেই থেকে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, সামাজিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সঙ্কট, বেকারত্ব এবং রাজনৈতিক অনিশ্চিয়তার কারণে খুনের ঘটনা বাড়ছে। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের চেয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যদের সরকার বেশি ব্যস্ত রাখছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করার কাজে। জনগণের রায় ছাড়া ক্ষমতা দখলকারী সরকার সব সময় জনগণকে প্রতিপক্ষ মনে করে, তারা রাষ্ট্রীয় অর্থ ও সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে চায়, তাদের পক্ষে আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়া এবং সমৃদ্ধ দেশ গড়া সম্ভব নয়। তাই দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করে সরকারের উচিত সকল দলের অংশ গ্রহণে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে কেয়ারটেকার সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। দেশে গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান সম্ভব নয়।  

বিস্তারিত»

বিজ্ঞপ্তি

ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা

আনুগত্যের উজ্জ্বল মহিমায় ভাস্বর ঈদ উল আজহা।ঈদুল আজহার উদ্দেশ্য স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকা।কুরবানীর সঠিক তাৎপর্যকে উপলব্ধি করে যদি ধর্মপ্রাণ মানুষ কুরবানী দেয়, তাহলে ঈদ-উল-আজহার প্রকৃত উদ্দেশ্য সার্থক হবে। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে গাঢ় হয় পরস্পরের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা, ভালবাসা এবং শ্রদ্ধাবোধ। আল্লাহ্‌তায়ালা ধনী-গরীব সবার মাঝেই ঈদের আনন্দ সমান-ভাবে বন্টনের যে শিক্ষা দিয়েছেন তা সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমে এর তাৎপর্যকে তুলে ধরতে হবে। এই পবিত্র দিনে সিলেটের আলাপ ডট কমের সুপ্রিয় পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের  প্রতি আহবান, ত্যাগের মহিমায় উজ্জল ঈদুল আজহার দিনে আনন্দ উৎসবে ভরে উঠুক সকলের মনপ্রাণ। সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে, গরীব দুঃখীদের পাশে দাঁড়াই।। পবিত্র ঈদ-উল-আযহা  সবার জন্য বয়ে আনুক অনাবিল সুখ ও প্রশান্তি।                                                    সিলেটের আলাপ ডটকমের পক্ষে  সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ডাঃ আব্দুল আজিজ  সম্পাদক তোফায়েল আহমদ খান সায়েক  

বিস্তারিত»

শোক-সংবাদ

খেলাফত মজলিস সেক্রেটারী মাওলানা মোফাজ্জেল হোসেনের ইন্তিকাল

অধ্যাপক মোঃ আবদুল জলিল: খেলাফত মজলিস ফেনী জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোফাজ্জেল হোসেন গতরাত ৯টায় চিকিৎসাধীন অবন্থায় ফেনী সদর হাসপাতালে ইন্তিকাল করেছেন( ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ছাত্র জীবন থেকে ইসলামী আন্দোলনে নিবেদিতপ্রাণ মাওলানা মোফাজ্জেল হোসেনের মৃত্যুকালে  বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। তিনি কিছু দিন যাবৎ হার্টের সমস্যা ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে, ২ মেয়ে রেখে যান। কর্ম জীবনে তিনি পাঠন নগর আমিনিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। আজ সকাল সাড়ে ৬টায় ফেনীর মিজান ময়দানে জানাজা শেষে তাঁর গ্রামের বাড়ী নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চাপরাশির হাটে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। খেলাফত মজলিস ফেনী জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোফাজ্জেল হোসেনের ইন্তিকালে খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ইসলামী আন্দোলনে নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক মাওলানা মোফাজ্জেল হোসেন  মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে গেছেন। সংগঠনের সদস্য মাওলানা মোফাজ্জেল হোসেন ১৯৮৯ সালে খেলাফত মজলিস প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় দীর্ঘ দুই যুগ যাবৎ ফেনী জেলার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।  আজ প্রদত্ত এক যৌথ শোকবাণীতে নেতৃদ্বয় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

বিস্তারিত»

সাম্প্রতিক খবর সর্বাধিক পঠিত

জরিপ

Loading...

Archive