মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা : দারিদ্র্য দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নসহ দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সকালে সচিবালয়ে সাতক্ষীরা ও বগুড়াসহ কয়েকটি জেলার উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষিকে আরো অধুনিক ও যান্ত্রিকীকরণ করার করার কাজ আমরা হাতে নিয়েছি। উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা আমরা করছি। তিনি বলেন, পাশাপাশি এসএমই ফাউন্ডেশন করা হয়েছে। যেখান থেকে ঋণ নেয়া যায়। বিশেষ করে সেখানে মহিলাদের জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ান ডে ও টি-টুয়েন্টি সিরিজ জয়ের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রশংসা করেন। এর আগে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে অনির্ধিারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্প বিধ্বস্ত নেপালে বিদেশি কোনো ত্রাণবাহী কোনো উড়োজাহাজ বা হেলিকপ্টার ল্যান্ড করতে না পারলে বাংলাদেশের বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবে। বিশষে করে সৈয়দপুর বিমানবন্দর, ঢাকার পুরান এয়ারপোর্ট এবং লালমনিরহাটের হেলিপ্যাড ব্যবহার করতে পারবে তারা। তিনি বলেন, বিদেশিদের ত্রাণবাহী বিমান নেপালে নামতে না পারলে বাংলাদেশকে তারা ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে। এদিকে বাংলাদেশে ভূমিকম্প হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রীকে প্রস্তুত থাকতে বলেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশেও ভূমিকম্প হতে পারে। তাই ভূমিকম্প মোকাবিলায় আমাদের যা কিছু সামর্থ আছে তা নিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে। বিস্তারিত»

লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভায় তারেক রহমান

০ ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্র চলছে, ভোর থেকেই প্রতিটি কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে যান  ০সেনাবাহিনী সঠিক কাজটিই করবে এজন্যই সেনা মাতায়েন করা হয়নি ০নির্বাচন কমিশন বেহায়া মেরুদন্ডহীন ০দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া, চ্যালেঞ্জ করতে চাইলে র‌্যাব পুলিশ ছেড়ে আসুন   ওএনবি (লন্ডন) ২৬ এপ্রিল : বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনে কারচুপির ষড়যন্ত্র চলছে। আওয়ামী লীগ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভোট সকাল ৮টার আগেই কাস্ট করে রাখার পরিকল্পনা করছে। তারা জানে, ভোট চুরি কিংবা ভোট ডাকাতি ছাড়া তারা কখনো জয়ী হতে পারবে না। ভোট চুরি করতে না পারলে দেশে আওয়ামী লীগের অস্তিত্বই টিকিয়ে রাখাই কষ্টকর হয়ে পড়বে। ভোটারদের প্রতি আহবান আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান সবাই ভোর ৬টা থেকেই ভোট কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। ভোটের ফলাফল নিয়ে বাসায় ফিরবেন। রোববার ইস্ট লন্ডনে অট্রিয়াম অডিটোরিয়ামে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস। পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ। নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, মোবাইল ফোনে ছবি তুলুন, ভিডিও রেকর্ড করুন। তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের ভেতরে বাইরে অনিয়ম-অপকর্ম ও ভোটচুরির তথ্যচিত্র, দলিল-প্রমাণ ধারণ করে গণমাধ্যম ও সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিন।   তারেক রহমান বলেন, জনগণের দাবি ছিল সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সেনা মোতায়েন করা। কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশন নির্লজ্জ বেহায়া ও মেরুদন্ডহীন। তারা নিরপেক্ষ নয়। তারা প্রথমে সেনা মোতায়েনে রাজি হলেও পরে আবার সেনা বাহিনীকে ক্যান্টনমেন্টেই স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে রেখে দিয়েছে। রিটার্নিং অফিসার প্রয়োজন মনে করলে নাকি সেনা বাহিনীকে ডাকবেন। শেখ হাসিনাকে সন্ত্রাসী উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বাস্তবতা হলো, শেখ হাসিনা না চাইলে কোনো রিটার্নিং অফিসার সেনা বাহিনীকে ডাকার সাহস করবেনা। এটি জনগণের সঙ্গে ভাওতাবাজি। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভালো করেই জানে, সেনা বাহিনীকে মাঠে রাখা হলে তারা সঠিক কাজটিই করবে। আর সঠিক কাজটি করলে জনগণের রায় আওয়ামী লীগের পক্ষে যাবেনা। তখন রায় আসবে জনগণের পক্ষে। যে নেত্রী রাস্তায় নামলে জনগণের ঢল নামে জনতার রায় আসবে তাদের পক্ষে। তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, বিডিআর পিলখানায় হত্যাকান্ডের সময়ও শেখ হাসিনা বলেছিলো, সেনা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিলো। এই সেনা বাহিনীকে প্রস্তুত রেখেই ৫৭ জন সেনা অফিসারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল পিলখানায়। এর বিচার একদিন বাংলার মাটিতে হবেই।   যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব কমরউদ্দিনের চতুর্থ মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় তারেক তিনি আরো বলেন, বিএনপির পক্ষে জনসমর্থনের জোয়ার নেমেছে। এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। কেউ যদি চ্যালেঞ্জ করতে চান, তাহলে র‌্যাব-পুলিশ রেখে জনগণের সামনে আসুন। জনগণ প্রমাণ দেবে। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপর হামলা হয়েছে। কারা কিভাবে হামলা করেছে,  তাদের প্রত্যেকের নাম ঠিকানা ও পরিচয় গনমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু চিহ্নিত এইসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কারণ এই হামলায় সরাসরি শেখ হাসিনার ইঙ্গিত ছিল। তারেক রহমান বলেন, দেশের উচ্চ আদালত শেখ হাসিনাকে ‘রং হেডেড’ বলে রায় দিয়েছিলেন। চলমান বাস্তবতায় প্রমাণিত হয়েছে, বিচারক সঠিক রায়টিই  দিয়েছিলেন।   তারেক রহমান আরো বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বিশ্বে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। দুর্নীতি পরায়ণ, খুন-গুমের রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। এই দলের নেতারা দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে দেশকে লুটেরা রাষ্ট্রের পরিচয় এনে দিয়েছে। তথাকথিত বিরোধী দলের এমপিদের মন্ত্রীসভায় রেখে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক বিশ্বের সামনে হাস্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। থারেক রহমান আরো বলেন, দেশের প্রতি আওয়ামী লীগের কোনো দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নেই। তারা বিদেশে গাড়ী বাড়ী করেছে। যে কোনো সময় তারা বিদেশে পালাবে। কিন্তু দেশের কোটি কোটি জনগনকে দেশেই থাকতে হবে। এই অবস্থায় সিটি নির্বাচনকে চলমান অবৈধ সরকার বিরোধী আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই খুনীদের বিরুদ্ধে শুধু বিএনপি কিংবা বিরোধী দলীয় জোটই নয়, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী প্রতিটি দল-মতের মানুষকে অংশ নেয়া এখন সময়ের দাবি।    তারেক রহমান বলেন, সম্প্রতি উৎসবে নারীদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে একজন ব্লগারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এসব কিছুই হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে। সাভারে ব্যাংক ডাকাতি হয়েছে। এই ব্যাংক ডাকাতির সঙ্গে জড়িত হিসেবে গোপালগঞ্জের এক আওয়ামী লীগ নেতার ভাতিজার নাম এসেছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ব্যাংক ডাকাতি আওয়ামী লীগের রক্তে প্রবাহিত, এটা তাদের মজ্জাগত অভ্যাস।   তারেক রহমান আরো বলেন, আওয়ামী লীগ নামটি এখন জনগনের কাছে গালিতে পরিণত হয়েছে। তাদের নেতা শেখ মুজিব আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলেছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় এসে তিনি গণতন্ত্র হত্যা করেছেন। বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছেন। এমনকি নিজ দল আওয়ামী লীগকেও নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলেন। মাত্র চারটি সংবাদপত্র ছাড়া দেশের সকল সংবাদপত্রের প্রকাশনা বন্ধ করে দিয়েছিেেলন। তারা ক্ষমতার জন্য যা ইচ্ছা তাই বলে, যা ইচ্ছা তাই করে। শেখ হাসিনাও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতির জন্য আন্দোলন করেছিল। কিন্তু ক্ষমতা যাওয়ার সুযোগ পেয়ে আওয়ামী লীগ কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি বাতিল করে স্বৈরাচারের পথ বেছে নিয়েছে। তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, দেশে এখন আইনের শাসন নেই। র‌্যাবকে পরিণত করা হয়েছে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনে। তারা এখন মানুষ খুন ও গুমের সঙ্গে জড়িত। শুধু তাই নয়, র‌্যাব এখন ভাড়াটিয়া বাহিনী হিসেবেও মানুষ খুন করে। এক অবৈধ মন্ত্রীর মেয়ের জামাতা নারায়ণগঞ্জে নিজ দলের নেতাদেরকেও টাকার বিনিময়ে হত্যা করেছে। তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ জানে, জনগণের নির্বাচিত সরকার থাকলে সাগর-রুনিসহ দেশের সকল হত্যাকান্ডের বিচার হবে। কুইক রেন্টালের নামে অবৈধভাবে কুইক মানি আয়ের বিচার হবে। বিচার হবে শেয়ারবাজার কেলেংকারি ও পদ্মা সেতু দুর্নীতির। বিচার হবে খুন, গুম, অপহরণ এবং আওয়ামী লীগের সকল অপকর্ম ও অনিয়মের। এসব কারণেই নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে তাদের এতো ভয়।     তারেক রহমান বলেন, এই স্বৈরাচারকে হটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপি ও জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীরা জীবন দিয়েছেন, গুম হয়েছেন, খুন হয়েছেন, কষ্ট স্বীকার করছেন। তিনি বলেন, এই নিকৃষ্টতম স্বৈরাচারকে হটিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায়, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায়, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায়, সবার জন্য একটি নিরাপদ সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গনতন্ত্রকামী জনগণকে আরো কষ্ট স্বীকার করতে হবে। তবে ইতিহাস স্বাক্ষী, কোনো স্বৈরাচারই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। হতে পারে না। শেষ পর্যন্ত বিজয় হয় জনগণের। বিজয়  হবে গণতন্ত্রের।   সভায় আরো বক্তৃতা করেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এমএ মালেক, সাবেক ভারপ্রাপ্ত মিয়া মোহাম্মদ মনিরুল আলম সহ অনেকে। সভায় তারেক রহমান ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এবং কাউন্সিলর প্রার্থীদের ভোট দেয়ার আহবান জানান।   বিস্তারিত»

পর্যবেক্ষক নিয়োগেও নির্বাচন কমিশনের দুর্নীতি

ঢাকা : এবার নির্বাচনী পর্যবেক্ষক নিয়োগেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সুজন ও অধিকার এর মত সংস্থাকে বাদ দিয়ে ভূইফোঁড় মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ‘মওসুস’ নামের অচেনা, অজানা একটি প্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক লোককে নির্বাচন পর্যবেক্ষকের অনুমতি দেয়ার বিষয়টি রহস্যজনক বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। এটাকে একটা নীল নকশা হিসেবেও অভিহিত করেছে দলটি। রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ অভিযোগ করেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিটি নির্বাচনের সমন্বয়কারী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তিনি বলেন, ১৬ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন থেকে একটা চিঠি এসেছে। চিঠি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, নির্বাচনে ১৫টি সংস্থার আড়াই হাজারেরও বেশি লোককে পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণে ১৪৪৫ ও উত্তরে ১৩৩০ জন পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তার মধ্যে ওই সংগঠনটির (মওসুস) ৫০০ করে ১০০০ জনকে দুই সিটিতে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে যা রহস্যজনক। তিনি জানান, এ তালিকা থেকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ও মানবাধিকার সংস্থা অধিকারকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কোন্ গাইড লাইন ফলো করে এটা করা হয়েছে তা আমরা জানতে চাই। এই তালিকা করার আগে কারা পর্যবেক্ষক থাকবে তা নিয়ে মেয়র প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। সিটি নির্বাচনে বিএনপি’র এ সমন্বয়কারী আরো বলেন, সরকার র‌্যাব-পুলিশের মাধ্যমে তাদের নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচন কেন্দ্রে এজেন্টদের প্রবেশ করতে দেবেনা এবং তাদের বের করেও দিতে পারে।   বিস্তারিত»

সাত খুনের বেদনাবিধূর এক বছর, কান্না থামেনি স্বজনদের

নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের বেদনাবিধূর এক বছর পূর্ণ হলো আজ। গত বছরের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার, নজরুল ইসলামের বন্ধু সিরাজুল ইসলাম লিটন, নজরুলের সহযোগী মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, স্বপনের প্রাইভেটকার চালক জাহাঙ্গীর ও চন্দর সরকারের প্রাইভেটাকার চালক ইব্রাহিমকে অপহরণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকা-ের দীর্ঘ ১১ মাস পর গত ৮ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা ডিবির ওসি মামুনুর রশিদ মন্ডল র‌্যাব-১১ এর শীর্ষ তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এদিকে অভিযোগপত্রে নজরুলের স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত ৫ আসামির নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত না করায় শিঘ্রই নারাজি দেয়ার প্রস্তুতি  নিচ্ছেন তিনি। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিয়ে ঢাকার বাসায় ফেরার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্করোডের ফতুল্লার লামাপাড়ায় প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন প্যানেল মেয়র ও ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিরলর নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু সিরাজুল ইসলাম লিটন, সহযোগী মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, স্বপনের প্রাইভেটকার চালক জাহাঙ্গীরকে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনা দেখে ফেলায় নারায়ণগঞ্জ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার প্রাইভেটকার চালক ইব্রাহিমকেও অপহরণ করা হয়। এরপর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীর বন্দর থানা কলাগাছিয়া থেকে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকার, মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর ও ইব্র্রাহিমের লাশ উদ্ধার  হয়। পরদিন ১ মে নজরুলের বন্ধু সিরাজুল ইসলাম লিটনের লাশ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর পরই নজরুল ইসরামের শ্বশুর শহিদুল ইসলাম দাবি করে আসছিলেন, নাসিকের ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন র‌্যাবকে ৬ কোটি টাকা দিয়ে নজরুলকে হত্যা করিয়েছে। এ ঘটনায় আরও নিরীহ ৬ জনকে হত্যা করা হয়। এ হত্যার প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ফতুল্লা থানায় আরেক কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নূর হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া, ঠিকাদার আসমত আলী হাসু, আমিনুল ইসলাম রাজু, আনোয়ার হোসেন আশিক ও ইকবাল হোসেনকে আসামি করে  মামলা দায়ের করেন। একই থানায় আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা অজ্ঞাত আসামি করে ফতুল্লা থানায় আরেকটি মামলা করেন। এ দুই মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন ওসি (তদন্ত) আব্দুল আউয়ালকে। নিহত নজরুলের শ্বশুর শহিদুল ইসলাম ওই সময় অভিযোগ করেন, ওই তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল আউয়ালের সঙ্গে নূর হোসেনের দহরম মহরম রয়েছে। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা ও ডিবির পুরাতন কর্মকর্তাদের বদলীর আবেদন জানান। ফলে সরকারের নির্দেশে সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা থানা, র‌্যাব-১১, ডিবির সকল কর্মকর্তাদের একযোগে বদল করা হয়। যোগ দেন নতুন ডিবির ওসি মামুনুর রশিদ মন্ডল। এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পরে ওসি মামুনুর রশিদ মন্ডলের ওপর। শুরু করেন তদন্ত। তদন্তে কেঁচো খুড়তে বেড়িয়ে পড়ে সাপ। তৎকালীন র‌্যাব-১১এর সিও লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর (অব.) আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার (অব্যাহতি প্রাপ্ত) মাসুদ রানার সাত খুনের ঘটনায় সম্পৃক্তরা বের হেয় আসে। আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল : দীর্ঘ ১১ মাস তদন্ত শেষে গত ৮ এপ্রিল ডিবির ওসি মামুনুর রশিদ মন্ডল র‌্যাবের ওই তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের নামে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে কাউন্সিলর নূর হোসেনকে এক নম্বরে রাখা হয়। র‌্যাব-১১ এর প্রাক্তন সিও লে কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর (অব.) আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার (অব্যাহতি প্রাপ্ত) মাসুদ রানারসহ র‌্যাবের ২৫ জন ও নূর হোসেনের আরও ১০ সহযোগীর নাম রয়েছে। চার্জশিটভুক্ত র‌্যাবের প্রাক্তন তিন কর্মকর্তাসহ ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৩ জন এখনও পলাতক রয়েছে। এরমধ্যে নূর হোসেন ভারতের কলকাতায় জেলে আটক রয়েছে। চার্জশিটের বিরুদ্ধে  নারাজি দেওয়ার প্রস্তুতি :  নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী ও নাসিকের ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সেলিনা ইসলাম বিউটি চার্জশিট দেওয়ার পর দিন ৯ এপ্রিল এক সাংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ মামলাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত হয়নি। তিনি বলেন, তার দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া, ঠিকাদার আসমত আলী হাসু, আমিনুল ইসলাম রাজু, আনোয়ার হোসেন আশিক ও ইকবাল হোসেনকে চার্জশিট অন্তভুক্ত  করা হয়নি। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি ওই সময়ে উল্লেখ করেন চার্জশিটে অন্যান্য সব কিছুই সঠিক আছে। তবে এজাহারভূক্ত ৫ আসামিকে কি কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে তার কাছে বোধগম্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত পাঁচ আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করে একদিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদও করেনি। নিহত নজরুলের সঙ্গে ইয়াছিনের রাজনৈতিক বিরোধ ছিল। আসামি ইকবালের সঙ্গে কাউন্সিলর নির্বাচন নিয়ে নজরুলের বিরোধ ছিল। আমিনুল ইসলাম রাজু তার বন্ধু সাইফুল হত্যার মামলার আসামি। সিটি করপোরেশনের একটি রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে যে দিন নজরুলের ওপর হামলা চালায় সে দিন রাজু অস্ত্র হাতে নিয়ে নজরুলকে হত্যার জন্য ঘুরেছে।     সেলিনা ইসলাম বিউটি এ প্রতিনিধিকে জানান, এজাহারভুক্ত ৫ আসামিকে চার্জশিট থকে বাদ দেওয়ায় শিঘ্রই তিনি নারাজি দেবেন। যে ভাবে হত্যা করা হয় সাতজনকে : গ্রেফতারকৃত আসামিরা স্বীকারোক্তিতে জানান, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল  ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার, নজরুল  ইসলামের বন্ধু সিরাজুল ইসলাম লিটন, সহযোগী  মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, স্বপনের প্রাইভেটকার চালক জাহাঙ্গীর ও চন্দর সরকারের প্রাইভেটাকার চালক ইব্রাহিমকে অপহরণ করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের শরীরে ইনজেকশন পুশ করে অচেতন করে ফেলা হয়। এরপর মাইক্রোবাসেই তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। তাদের মুখমন্ডলে পলিথিন পেঁচিয়ে ওইদিন গভীর রাতে কাঁচপুর ব্রিজ এলাকায় এনে ট্রলার যোগে শীতলক্ষ্যা নদীর মোহনায় প্রতিজনের শরীরে ইট বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। যাতে লাশগুলো কোন দিন ভাসতে না পেরে। এমনকি লাশের পেট ফুটো করে দেওয়া হয়। কিন্তু ৩০ এপ্রিল একে একে ভাসতে শুরু করে লাশ। বন্দর থানার কলাগাছিয়া এলাকায় ভেসে ওঠে কাউন্সিলর নজরুল  ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার, নজরুলের সহযোগী মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, স্বপনের প্রাইভেটকার চালক জাহাঙ্গীর ও চন্দর সরকারের প্রাইভেটাকার  চালক ইব্রাহিমের লাশ। পরদিন ১ মে ভেসে ওঠে নজরুল ইসলামের বন্ধু সিরাজুল ইসলাম লিটনের লাশ। এ ঘটনায় সমগ্র দেশে শুরু হয় তোলপাড়। দেশব্যাপী তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সরকারও পড়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। ফলে সরকার চাঞ্চল্যকর সাত খুনের সুষ্ঠু তদন্ত করে খুনিদের শাস্তি দেওয়ার আশ্বাস দেয়। নিহতদের স্বজনদের কান্না এখনও থামেনি : চাঞ্চল্যকর সাত হত্যাকা-ে নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম রেখে গেছেন স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি, ২ ছেলে নাঈম, ফাহিম ও মেয়ে তানহা। নিহত নজরুলের ছেলে-মেয়ে বাবার জন্য এখনও গুমড়ে গুমড়ে কাঁদছে। থামেনি তাদের বাবা হারানোর কান্না। তানহা এবার ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ঢাকার ভিকারুন্নেছায় লেখাপড়া করছে। বড় ছেলে নাঈম রাজউক মডেল স্কুল ও কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক ও ছোট ছেলে ফাহিম একই প্রতিষ্ঠানে ৯ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। ছোট ছেলে ফাহিম বাবার শোকে এখনও অসুস্থ। মাঝে মধ্যেই তার বাবার জন্য সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তিন দিন ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে আইসিওতে চিকিৎসা দিতে হয়েছে নজরুলের ছোট ছেলে ফাহিমকে। নজরুলের রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও স্ত্রীর আয় দিয়েই এখন চলছে পরিবার। এদিকে নিহত সিরাজুল ইসলাম লিটন ও নিহত তাজুল ইসলাম ছিলেন অবিবাহিত। তাজুলের বাবা আবুল হোসেন, মা তাসলিমা বেগম ও ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম রাজু ও আরেক ছোট বিল্লাল হোসেন এখনও তাজুলের জন্য কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কিছুতেই ভুলতে পারছেন না তাজুলকে। মা মাঝে মাঝেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন ছেলের শোকে। নিহত তাজুলের মা তাসলিমা বেগম, তার ছেলেসহ সাতজন হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করেন। আরেক নিহত যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান স্বপনের কন্যা মাহি ও স্বর্ণালী এখনও বাবার জন্য কাঁদছে। মাহি ও স্বর্ণালী এখন চাচাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। কারণ তাদের উপার্জনক্ষম বাবাকে হত্যার পর তারা এখন এতিম। স্বপনের বাবা হায়দার আলী একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি জানান, এ দেশ অনেক রক্ত দিয়ে ও কষ্ট স্বীকার করে স্বাধীন করেছি। আর স্বাধীন দেশেই আমার নিরাপরাধ ছেলে স্বপনকে হত্যা করা হয়েছে। এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। হায়দার আলী জীবদ্দশায় তার ছেলে স্বজনসহ সাত খুনের হত্যার সুষ্ঠু বিচার দেখে যেতে চান। স্বপনের প্রাইভেকার চালক জাহাঙ্গীরও সাত খুনে নিহত হন। জাহাঙ্গীর নিহত হওয়ার সময় তার স্ত্রী নুপুর ৮ মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা ছিল। ২০১৪ সালের ৪ জুলাই জাহাঙ্গীরের কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এখন জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নুপুর একটি গার্মেন্টসে কাজ করে সংসার চালাচ্ছে। জাহাঙ্গীরের মা মেহেরুন নেছা ছেলের খুনিদের ফাঁসি চান। নিহত নজরুল স্মরণে রোববার রাতে মিজমিজি পশ্চিমপাড়ায় ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়াও সোমবার কোরআন খানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন হয়েছে। এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে। বিস্তারিত»

লাশ গুনে যাচ্ছে ধ্বংস উপত্যকা নেপাল

কাঠমান্ডু: ফুটপাথের উপর সাদা কাপড়ে ঢাকা লাশের সারি। কেউ কি বেঁচে নেই এদের মধ্যে? মানতে চায় না মন। তাই থেকে থেকেই তাবুর বাইরে বেরিয়ে আসছেন দু’-এক জন। কেউ নাড়ি টিপে ধরছেন প্রাণপণে। কেউ-বা শোয়ানো মানুষটার বুকে মাথা ঠেকাচ্ছেন, যদি কেঁপে ওঠে দৈবাৎ! কেঁপেছে তো! মৃতদেহে প্রাণস্পন্দন ফেরেনি। নেপালে গত শনিবারের ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিন হাজার ২১৮ জনে পৌঁছেছে। আজ সোমবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান রামেশ্বর দাঙ্গাল এ তথ্য জানান। আহত ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছে ছয় হাজার ৫০০ জনের বেশি।   ভারত ও চীনে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৯০ জনে পৌঁছেছে। ভূমিকম্পের প্রভাবে তুষারধসে হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে গতকাল পর্যন্ত ১৭ জন নিহত হয় বলে খবর পাওয়া গেছে। কাঠমান্ডুর রাজপথ এখন ফাটলে ফাটলে চৌচির। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে বেশির ভাগ বহুতল। ধ্বংস হয়েছে ঐতিহ্যশালী কাষ্ঠমণ্ডপ, বসন্তপুর দরবার, দশাবতার এবং কৃষ্ণ মন্দির। মুম্বাইয়ে সাংবাদিকতা করেন নেপালের লেংদুপ ভুটিয়া। মুম্বাইয়ের একটি সংবাদপত্রে তিনি লিখেছেন তার ছোটবেলার স্মৃতি। দাদু বলতেন, পৃথিবী যদি কোনো দিন ধ্বংস হয়ে যায়, বোধনাথ স্তূপ তোমাকে রক্ষা করবে। মধ্য তিরিশের লেংদুপ ভারতে বসে খবর পাচ্ছেন, সেই বোধনাথ স্তূপের গায়েই চিড় ধরেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পশুপতিনাথ মন্দিরও। রোববার ধরহরা মিনারের ধ্বংসস্তূপ থেকে ২০০টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাতাসে ধুলোর গন্ধ, মাটিতে রক্তের দাগ। আর স্বজনহারা কান্নায় ভারী চারপাশ। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, দ্বিতীয় কম্পনের পর আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ দিকে ওষুধপত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পোখরায় চিকিৎসা চলছে হাসপাতালের বাইরেই। হাসপাতাল ভবনের মধ্যে ঢুকতে ভয় পাচ্ছেন চিকিৎসক-কর্মীরা। বেশির ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ নেই শনিবার থেকে। ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হয়েছে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু। এ পরিস্থিতিকে দুর্যোগপূর্ণ উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছে নেপাল। গতকাল রোববার নেপালে আবার নতুন করে ভূমিকম্প হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ওই ভূকম্পন অনুভূত হয়। তবে এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। নেপালের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী মীনেন্দ্র রিজাল ভারতীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমাদের দেশ একটি দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের অনেক সহায়তা ও ত্রাণ প্রয়োজন।’ ভূমিকম্পে গৃহহীন কাঠমান্ডুর মানুষ গতকালও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা গৃহহীনদের জন্য তাবুর ব্যবস্থা করছে। যাদের ঘর বিধ্বস্ত হয়নি, তারাও খোলা আকাশের নিচে থাকছেন। গতকাল আবার ভূমিকম্প হওয়ায় তারা ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। শনিবারের ভূমিকম্পে কাঠমান্ডুর অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি। ভূমিকম্পের পর উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। ইট, সিমেন্ট, কাঠের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহত ব্যক্তিদের বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা। রাতভর উদ্ধার অভিযান চলে। তবে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযানে সময় লাগছে। কাঠমান্ডুর অধিকাংশ এলাকা শনিবার দিবাগত রাত ছিল বিদ্যুৎহীন। মুঠোফোন নেটওয়ার্কও বিপর্যস্ত। সড়কে ধ্বংসাবশেষ থাকায় ও গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় কিছু এলাকায় পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের। ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও নিয়ে যেতে পারছেন না তারা। হাসপাতালগুলোতে হতাহত মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলছে। সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। অক্সফাম অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী হেলেন এসজোকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ নেই, যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত, হাসপাতালে রোগী বা লাশ রাখার জায়গা হচ্ছে না।’ আন্তর্জাতিক সহায়তা: যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশেষ দল পাঠাচ্ছে। প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে ১০ লাখ ডলার ছাড় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউএসএইড। প্রতিবেশী ভারত বেশ কিছু হেলিকপ্টার, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল এবং ৪০টি শক্তিশালী উদ্ধারকর্মী দল ও ডগ স্কোয়াড পাঠিয়েছে। চীন ডগ স্কোয়াডসহ উদ্ধারকর্মীদের ৬২টি দল পাঠিয়েছে। পাকিস্তান চারটি এয়ারক্রাফট, ৩০টি হাসপাতাল শয্যা, সেনাবাহিনীর চিকিৎসক দল, খাবার, তাবু ও কম্বল পাঠাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে নেপালের জনগণকে সহায়তার জন্য ছয়টি চিকিৎসা দলসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি কার্গো বিমানে করে মোট ৩৪ জনের একটি দল কাঠমান্ডু পৌঁছায়।– সংবাদসংস্থা। বিস্তারিত»

ছবি ঘর

নারায়ণগঞ্জ ৩’শ শয্যা  হাসপাতালে এমপির  সিলিং ফ্যান অনুদান

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : ুতাপদাহ গরমে রোগীদের একটু শান্তির পরশ দিতে নারায়ণগঞ্জ ৩শ শয্যা হাসপাতালে সিলিং ফ্যান দান করলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব একেএম সেলিম ওসমান। সোমবার দুপুর ১২ টায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ নিতীশ কান্তি দেবনাথের নিকট ৭০টি ফ্যান হস্তান্তর করেন। এ সময় তিনি বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করার অধিকার স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীরও নেই। তাই নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের ডেন্টাল বিভাগের চিকিৎসার মেশিন বাইরে নিয়ে ব্যবহার করে যে কর্তব্যরত ডাক্তার ও দারোয়ান ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন তাদের হাসপাতাল থেকে বহিস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ দুলাল চন্দ্র চৌধুরী, জেলা স্বাস্থ্য সেবা অধিদপ্তরের সচিব ইকবাল হোসেন , বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি (অর্থ) জি এম ফারুক, বিএমএ জেলা সভাপতি ডাঃ শাহ নেওয়াজ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে মতবিনিময় কালে সেলিম ওসমান বলেন, ৩শ’ শয্যা হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজে রুপান্তরিত করার লক্ষ্যে যেখানে যা করণীয় সরকারকে জানাবো।  তাতেও যদি সম্ভব না হয় তাহলে বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতায় তা বাস্তবায়ন করা হবে। যে কোন মূল্যে ৩শ শয্যা হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজ করা হবে। এ সময় তিনি হাসপাতালের তত্বাবধাযক ডাঃ নিতীশ কান্তী দেবনাথ এর উদ্দ্যেশে বলেন, বর্তমানে হাসপাতালটি মিডিয়া সেন্টার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ডাক্তাররা রোগীদের সঠিকভাবে সেবা না দিয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিকে পাঠিয়ে দিচ্ছে।  সব ধরনের দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ দুলাল চন্দ্র চৌধুরী বলেন, আমরা চাই স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন। তাই নারায়ণগঞ্জে স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়নের জন্য সর্বাত্মক কাজ করা হবে। স্বাস্থ্য সেবা আরো উন্নয়নের জন্য জনসাধারনদের আরো সচেতনতা বাড়াতে হবে। প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন যাবত ৩’শ শয্যা হাসপাতালের অনেক সিলিং ফ্যান নষ্ট ছিল। ফলে হাসপাতালে আসা রোগীদের গরম যন্ত্রনা সহ্য করেই সেবা নিতে হতো।  

বিস্তারিত»
আলোচিত সাত খুনের বর্ষ  পূর্ণ আজ না’গঞ্জবাসীর  ইতিহাসে শোকময় ও  র‌্যাবের জন্য কলঙ্কময় দিন

স্টাফ রিপোর্টার নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য শোকময় হৃদয়বিদারক ও র‌্যাবের ইতিহাসে এক কলঙ্কময় দিন ২৭ এপ্রিল। গত ২০১৪ সালের এদিন সিদ্ধিরগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী আওয়ামীলীগ নেতা নূর হোসেনের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামকে অপহরন করে খুন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে নিহত পরিবার গুলোর অভিযোগ। র‌্যাব-১১’র কিছু কতিপয় কর্মকর্তা। সেদিন আদালত থেকে একটি মামলার হাজিরা শেষে বের হওয়ার পর নাসিকের প্যানের মেয়র নজরুল ইসলাম ও তার সাথে থাকা ৫জনকে প্রথমে অপহরন করার চেষ্টা করে র‌্যাব। তখন নজরুলসহ ৫জনকে জোরপূর্বক গাড়ীতে উঠানোর সময় অপরপাশ থেকে তা দেখে ফেলে আইনজীবি চন্দন সরকার। তখন র‌্যাব সদস্যরা নজরুল ও তার ৫সহযোগির সাথে চন্দন সরকার ও তাদের গাড়ী সহ ৭ জনকে অপহরন করে সেদিনই হত্যা করে লাশ কেটে শীতলক্ষ্যা নদীতে ইট দিয়ে ডুবিয়ে রাখে। কিন্তু নজরুল ,আইনজীবি চন্দন সহ ৭জন কে ২৭ এপ্রিলই হত্যা করা হলেও নানা দিকে দৌঁড়ঝাপ করেও তাদের খোঁজ পায়নি তাদের পরিবার। চলতে থাকে নারায়ণগঞ্জে সড়ক অবরোধ ব্যাপক আন্দোলন। রাজনীতিবিদ থেকে র‌্যাব একে অপরকে দোষারোপ করতে থাকে। পরিশেষে ৩০ ও ১ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে পর্যায়ক্রমে গুম হওয়া ৭ জনের লাশ ভেসে উঠে। এদিন সেই বহুল আলোচিত সাত খুনের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে সোমবার। বছর পেরিয়ে গেলেও থামেনি স্বজনদের হাহাকার, দুর্ষহ যন্ত্রনায় সময় অতিবাহিত করছেন নিহতের স্বজনরা। হত্যাকান্ডের শিকার পরিবারগুলো এখনও স্বজনদের ভুলতে পারে নাই। নিহতের স্মৃতিগুলো এখনও তাদেরকে কাঁদায়। পরিবারগুলো এখনও শোক কাটিয়ে স্বাভাবিক হতে পারেনি। চোখের নোনা জলে বুক বাসিয়ে ১টি বছর পার হলেও নিহতদের পরিবাররা আজও তাদের কথা মনে করে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন না। ঘাতকরা তাদের সব স্বপ্ন ভেঙ্গে তছনছ করে দিয়েছে। নিহতদের ন্বজনদের অভিযোগ, হত্যাকান্ডের পর কিছুদিন সকলে খোঁজ খবর নিলেও এখন আর কেউ তাদের খোঁজ নিচ্ছেনা। সকলে আশার বাণী দিয়ে চলে গেছেন। প্রায় সময়ই অনাহারে, অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। সর্বোপরী নিহতদের আক্ষেপ, হাহাকার, কান্না, মানবেতর জীবন যাপন আর  প্রশাসনের সফলতা এই নিয়ে গত হল সাত খুনের এিিকট বছর। পুলিশ অল্প সময়ের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের মধ্যে দিয়ে তাদের আন্তরিকতা ও সফলতা প্রকাশ করেছেন।   এদিকে কাদঁতে কাঁদতে হত্যকান্ডের শিকার তাজুলের মা-বাবার চোখের জল শুকিয়ে গেছে। এখন ছেলের কথা শুনলে ধুকেঁ ধুকেঁ কেদেঁ উঠে। তাদের বর্তমানে চাওয়া পাওয়া একটাই কখন ঘাতকদের বিচার হবে তা দেখে মৃত্যু বরণ করা। ওদিকে নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী কাউন্সিলর বিউটি আক্তার জানান, সাত হত্যাকান্ডের চার্জশীট দাখিল হলেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় এজাহারভুক্ত ৫ আসামীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিচারের প্রহসন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিরপেক্ষতা, আন্তরিকতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের কারনে কম সময়ের মধ্যে মুল আসামীদের সনাাক্ত করে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, এক্ষেত্রে কোন প্রকার ছলছাতুর করা হয়নি। মামলার প্রতিবেদনে জানা যায়, ৩৫জনকে মুল আসামি করে হত্যকান্ডের সাথে জড়িত ২২ জন আসামি ও ১৭ জন স্বাক্ষী আদালতে স্বীকৃতি জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া ১২৭ জন স্বাক্ষী ও ১৬২টি আলামত ধারা এজাহার প্রতিবেদন দেওয়া হয়। ততকালীন র‌্যাব-১১’র সিইও লে:কর্ণেল সাঈদ তারেক এর নির্দেশে র‌্যাব’র এসএম রানা, কোম্পানী কমান্ডার আরিফ সহ বাকী সদস্যরা অপহরন থেকে হত্যাকান্ডে অংশ নেয়। বর্তমানে তারা কারাগারে আটক রয়েছে। আলোচিত ৭ হত্যকান্ডের মামলার পিপি ফজলুর রহমান জানায়, সরকারের আন্তরিকতা, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সততার কারনে এত বড় মামলাটি দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা গেছে। বাদীর অভিযোগ প্রসংগে তিনি জানান, তদন্ত কর্মকর্তার যদি আন্তরিক না হলে তা হলে তিনি মাত্র ৬জনকে আসামী করেছে, কিন্তু চার্জশিটে আসামী করা হয় ৩৫জন কে তা হলে প্রশ্ন উঠা যুক্ত মনে হয় না। তিনি ভুল করছেন। সাত খুনের ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার ডঃ খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, হত্যাকান্ডের এক বছরের মাথায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। মামলার তদন্ত তথ্য উপাথ্য যাচাই বাছাই করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে, এখানে কাউকে অযথায় জড়ানো হয় নাই অথবা কাউকে ছাড়ও দেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, গত বছর ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকার, গাড়ী চালক তাজুল ,ইব্রাহীম, জাহাঙ্গীর, সিরাজুল ইসলাম লিটন, মনিরুজ্জামান স্বপন এই সাতজনকে অপহরণ করা হয়। এরপর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের এবং পরদিন আরও একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ পৃথক দুটি মামলা হয়। পরবর্তীতে আলোচিত এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় এই বছর ৮এপ্রিল পুলিশ ৩৫জন কে আসামী করে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন।     

বিস্তারিত»
চার্জশীটের পক্ষে বিপক্ষে  আইনজীবিরা নারায়ণগঞ্জে ৭  খুনের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ সভা

স্টাফ রিপোর্টার নারায়ণগঞ্জ : নারায়নগঞ্জের সিনিয়র আইনজীবি প্রয়াত চন্দন কুমার সরকার সহ আলোচিত ৭ হত্যার ১ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক স্মরন সভার আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে এ স্মরন সভার আয়োজন করা হয়। জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে অনুষ্ঠিত এ স্মরন সভায় সমিতির সভাপতি এ্যাড: সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদক এ্যাড: হাসান ফেরদৌস জুয়েল, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এ্যাড: আক্তার হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক, এ্যাড: ওমর ফারুক নয়ন, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাড: শাকের,  অন্যতম সদস্য এ্যাড: ওয়াহেদ আলী, সিনিয়র সদস্য এ্যাড: মো: খলিলুর রহমান, এ্যাড: তপন কুমার পাল, এ্যাড: নবী হোসেন, এ্যাড: আকবর হোসেন, সদস্য এ্যাড: নাসিমা হাসানাত সহ  অন্যান্য আইনজীবীরা। এসময় বক্তারা বলেন, ২৭ এপ্রিল জেলা আইনজীবীদের জন্যে একটি কালো দিন। আমরা জেলার আইনজীবীরা দলমত নির্বিশেষে হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলাম। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের সৎ ইচ্ছা ও সহযোগীতায় এই রাঘব বোয়ালদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। হত্যাকান্ডের কিছুদিন পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন যে এই মামলার ব্যাপারে নো পলিটিক্স নো পলিটিশন। তাই দীর্ঘ ১ বছর পর হলেও এই মামলাটির পুর্নাঙ্গ রূপে চার্জশীট প্রদান করা সম্ভব হয়েছে। তবে অধিকাংশ আইনজীবীরা এর দ্বিমত পোষন করে বলেন, আবেগ তারিত হয়ে কারো উপর সব দোষ চেপে দিলে চলবে না। একেক জনের জবানবন্দী একেক রকম ছিলো। পুলিশ যখন তখন খাম খেয়ালি তদন্ত করে তথ্য দিয়েছে। নুর হোসেনকে পুরোপুরি তদন্ত না করেই ১নম্বর আসামী বানানো হয়েছে। অথচ, নুর হোসেনকে যারা পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে, তাদের ব্যাপারে কোন ব্যাবস্থা নেয়া হয়নি । জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদক এ্যাড: হাসান ফেরদৌস জুয়েল বলেন, হত্যাকারীরা মনে করে ছিলো, আইন যা ইচ্ছে তাই। তবে আইন যে কি বা কেমন, হত্যাকারীরা তা এখন হারে হাড্ডিতে টের পাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমরা আমাদের মৃত ভাইয়ের রক্ত মাংস খেয়ে সন্ত্রাসীদের পক্ষে যেতে চাইনা। মামলার চার্জশীটটি সুষ্ঠ হয়েছে বলে আমি মনে করি। তবে সুষ্ঠ বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো। তিনি সভার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বলেন, যারা এই মামলার আসামী তাদের বিচার যেন নারায়ণগঞ্জেই সম্পন্ন করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সাত খুন হত্যা মামলায় একটি সুষ্ঠ বিচারের জন্যে আমরা জেলা আইনজীবী সমিতি সারা বাংলাদেশে আন্দোলনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলাম। ন্যায় বিচারের জন্যে আমরা আজকেও কথা বলছি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও আন্দোলন করে যাবো। আমাদের দাবি একেবারে সামান্য। সেটি হলো আমাদের মৌলিক অধিকার। তাই হত্যাকান্ডে জড়িত সকলকে যেন দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দেয়া হয়। র‌্যাবের যারা ভাড়াটিয়া গুন্ডা হিসেবে কাজ করেছে, তাদের কে বা কারা ভাড়া করলো, কিংবা শুধু নুর হোসেনকেই কেন সবকিছুর মূল ভাবা হলো, অন্য কাউকে কেন চিহ্নিত করা হলো না? অভিযুক্ত আসামীদেরও অব্যাহতি দেয়া হলো। তবে যাদের বাদ দেয়া হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগ দাখিল করার ব্যাপারে আলোচনা চলছে। নুর হোসনকে অতি শীঘ্রই দেশে ফিরিয়ে আনার জন্যে তিনি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

বিস্তারিত»
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষপাতমূলক আচরণ বরদাশত করা হবে না র‌্যাব পুলিশ ব্যর্থ হলেই সেনা মোতায়েন : সিইসি

ঢাকা : সিটি নির্বাচনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব পুলিশ ব্যর্থ হলেই সেনা মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ। সোমবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান সিইসি। তিনি বলেন, প্রার্থীদের ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু করার স্বার্থেই যা যা করণীয় নির্বাচন কমিশন সব কিছুই করছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে। তিনি আরো বলেন, র‌্যাব পুলিশ ব্যর্থ হলেই রিটার্নিং কর্মকর্তার ডাকে সঙ্গে সঙ্গেই সেনা মোতায়েন করা হবে। সিইসি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পক্ষপাতমূলক আচরণ করলে বরদাশত করা হবে না।

বিস্তারিত»
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাচনী 'মনিটরিং সেল

ঢাকা : নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা (উত্তর-দক্ষিণ) ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরশেন নির্বাচন সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে নির্বাচনী মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। যার কার্যক্রম সোমবার সকাল ৮টা থেকে নিবার্চনী ফলাফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান থাকবে। বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড.আসাদুজ্জামান রিপন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, আগামীকালকের সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি একাধিক নির্বাচনী মনিটরিং সেল গঠন করলেও প্রধান হিসেবে থাকছে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মনিটরিং সেল। এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে থেকে আর্দশ ঢাকা আন্দোলন মনোনীত এবং বিএনপির সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনী মনিটরিং সেল হচ্ছে ১৯১/ এ তেজগাঁও লিংক রোড়ে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে থেকে আর্দশ ঢাকা আন্দোলন মনোনীত এবং বিএনপির সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তার শাহজাহানপুরের বাসভবনে নির্বাচনী মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আরেকটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।  

বিস্তারিত»
সরকার নীল নকশার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছে : বিএনপি

ঢাকা : সরকার নীল নকশার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, সরকারের নীল নকশা বাস্তবায়নে সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার পথে বাধা আসলে এর পরিণতি ভালো হবে না। জনগণ সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে। তিনি আরো বলেন, আশা ছিল সরকার সিটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে এবং সব পক্ষকেই সমান সুযোগ দেবে। কিন্তু সেটা হয়নি। বরং নির্বাচন নিয়ন্ত্রণে নিতে ইসিকে ব্যবহার করছে। যার প্রমাণ নাম ঠিকানা বিহীন প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বিএনপি’র এ নেতা বলেন, বিএনপিকে বিরাট প্রতিবন্ধকতা এবং প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে এই নির্বাচনে অংশ নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরশেন থেকে নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মির্জা আব্বাস এখনও ভোটারের কাছে যেতে পারেননি। এমনকি ৩৬ জন কাউন্সিলরও নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারেননি। তারা আত্মগোপনে আছেন। মওদুদের অভিযোগ, পুলিশের হয়রানির কারণে আমাদের শত শত নেতাকর্মী এ নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার ওপর চার বার হামলা হয়েছে। তার প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়েছে। দেশবাসী সেটা দেখেছে। কিন্তু সেখানে সরকার এবং নির্বাচন কমিশন যে আচরণ করেছে সেটাতে মর্মাহত হওয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই আমাদের। এসময় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন- র‌্যাব, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন যদি আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে জেতানোর চেষ্টা করে তাহলে চলমান আন্দোলন আরো জোরদার করা হবে।  

বিস্তারিত»
ভোটররা শান্তির পক্ষে রায় দেবেন: নাসিম

সিরাজগঞ্জ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, “আগামীকাল ঢাকা ও চট্রগ্রাম সিটি নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ঢাকা ও চট্রগ্রামবাসী পেট্রলবোমাবাজ, সন্ত্রাসী ও মানুষ হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক রায় দেবে। ভোটাররা জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন, শান্তি ও দেশকে যে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, সেদিকেই তারা ভোট দেবে।” তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে সত্যের পক্ষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।   সোমবার বিকালে সিরাজগঞ্জ সার্কিট হাউসে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় জেলা প্রশাসক বিল্লাল হোসেন, পুলিশ সুপার এস,এম এমরান হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া ও সিভিল সার্জন ডা. শামসুদ্দিনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরো বলেন, “বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হতে যাচ্ছে। ৮ মে কবির ১৫৪ তম জন্মবার্ষিকীতে এটির ভিত্তি ফলক উন্মোচন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্রুত অর্থায়নের মাধ্যমে এটির বাস্তবায়ন হবে। এর মধ্যে দিয়ে সারা বাংলাদেশ তথা সিরাজগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবি পূরণ হবে।” প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বরণীয় করে রাখতে ইতোমধ্যেই শাহাজাদপুরের কাচারীবাড়িকে ঘিরে নানা প্রস্ততি শুরু হয়েছে। এজন্য সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়, জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি দলীয়ভাবেও নানা প্রস্ততিমূলক কার্যক্রম চলছে।  

বিস্তারিত»
বাগেরহাটে যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

বাগেরহাট: বাগেরহাটের কৃষ্ণনগর গ্রামের রাজা শেখ (৩৭) নামের এক যুবলীগ কর্মীকে হত্যা করেছে দুবৃত্তরা। নিহত রাজা কৃষ্ণনগর গ্রামের ইসমাইল শেখের ছেলে। সোমবার বিকালে রাজা মারা যান।   এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও একটি মৎস্য ঘের নিয়ে বিরোধের জের হিসেবে দলীয় প্রতিপক্ষরা তাকে হত্যা করেছে বলে এলাকাবাসী জানায়। বাগেরহাট মড়েল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোজাম্মেল হক জানান, এলাকায় আধিপত্য ও একটি মৎস্য ঘের নিয়ে বিরোধের জের হিসেবে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের বিরোধের জের হিসেবে সোমবার সকালে প্রতিপক্ষের লোকজন রাজা শেখকে কুপিয়ে আহত করে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বিকালে রাজা মারা যান। এ ঘটনায় পুলিশ কৃষ্ণনগর গ্রামের আব্দুল হামিদ শেখের ছেলে  শহিদ শেখ নামের একজনকে আটক করেছে।   এদিকে রাজার মৃত্যুর খবরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিক্ষুদ্ধরা প্রতিপক্ষের দুটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে বলে ওসি জানায়।

বিস্তারিত»
তৃতীয় দিনের মতো কাঁপল বাংলাদেশ

ঢাকা: তৃতীয় দিনের মতো রাজধানী ঢকাসহ সারাদেশে মৃদু ভূমিকম্প হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আজকের ভূমিকম্পের উৎপত্তি স্থল নেপালের হিতুরাই। রিকটার স্কেলের মাত্রা ছিল ৪.২। এর আগে ২৫ ঘণ্টার ব্যবধানে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আবার ভূমিকম্প হয়। রোববার বেলা একটা ১২ মিনিটের দিকে থেমে থেমে বেশ কবার এই মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়। এর স্থায়িত্ব ছিল প্রায় দেড় মিনিট।   আমেরিকার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল তীব্বত-সংলগ্ন নেপালের সীমান্তবর্তী কোদারি এলাকার ৩১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। উৎপত্তিস্থলে এর মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬.৭।   সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছিলছে, ভারতের নয়াদিল্লি, কলকাতা, জয়পুর ও ভূবনেশ্বরেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।   ঠিক ২৫ ঘণ্টা আগে শনিবার দুপুর ১২টা ১ত মিনেটে বাংলাদেশ, ভারত, নেপালে আঘাত করেছিল শক্তিশালী ভূমিকম্প। সেটারও উৎপত্তিস্থল ছিল নেপাল। নেপালের পোখারার লামজুংয়ে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলে এর মাত্রা ছিল ৭.৯। সেই ভূমিকম্পে নেপালে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেখানে দুই হাজারের মতো মানুষ মারা গেছে। আহত হয়েছে ৫ হাজারের মতো। আরো বহু প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বহু স্থাপনা গুঁড়িয়ে গেছে।   শনিবারের ভূমিকম্পে ভারতে মারা গেছে অর্ধশত মানুষ। বাংলাদেশে প্রাণ হারায় চারজন। এ ছাড়া এই দুই দেশে অনেক স্থাপনা হেলে পড়েছে এবং কোথাও কোথাও ফাটল দেখা দেয়।

বিস্তারিত»
চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী-পুলিশ-র‌্যাব একীভূত: আমীর খসরু

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরী বহিরাগত সন্ত্রাসীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী মনজুর আলমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট বিএনপির ওই নেতা বলেছেন, সন্ত্রাসী-পুলিশ-র‌্যাব এখন একীভূত হয়ে গেছে। কেন্দ্র দখলে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা মাঠে নেমে গেছে দাবি করে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এই মুহুর্তে সেনাটহল জরুরি হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান। সোমবার বেলা ১২টায় নগরীর মেহেদীবাগের নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।   আমীর খসরু বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে ২৫ এপ্রিল রাত ১২টার পর থেকে বহিরাগতদের সংশ্লিষ্ট এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হলেও সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে বিপুল সংখ্যক বহিরাগত সন্ত্রাসী এখনো চট্টগ্রামে অবস্থা করছে।” খোদ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ চট্টগ্রামে অবস্থান করার কথা তিনি জানান। খসরু বলেন, “এতদিন বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করলেও আজ সোমবার থেকে তারা মাঠে নেমেছে। বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মনজুর আলমের নির্বাচনী কাজে দায়িত্বরত ব্যক্তিদেরকে তারা হুমকি দিচ্ছে।” আমীর খসরু অভিযোগ করেন, “চট্টগ্রামের পাশ্ববর্তী জেলাগুলোর বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় ক্যাডারদের চট্টগ্রাম শহরে আনা হয়েছে। ফেনীর নামকরা একজন সন্ত্রাসীর তত্ত্বাবধানে কয়েক হাজার দলীয় ক্যাডার ইতিমধ্যে চট্টগ্রামে এসে অবস্থান করছে। সল্টগোলাতে বিজিএমইএর রেস্ট হাউজে এসব সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে বলে তিনি দাবি করেন।”   তিনি বলেন, “নগরীর ওয়েল পার্ক হোটেল, পেনিনসুলা, চিটাগাং ক্লাব গেস্ট হাউজ, চিটাগাং ইনস্টিটিউট, সিটি করপোরেশনের গেস্ট হাউজ, হোটেল সন্দ্বীপ, থ্রি স্টার হোটেল, রক্সি বোডিং, কর্ণফুলী বোর্ডিংসহ বিভিন্ন রেস্ট হাউজ ও আবাসিক হোটেলে এসব বহিরাগতরা অবস্থান করছে। এসব তথ্য পুলিশ ও ইসিকে আমরা লিখিতভাবে বার বার জানিয়েছি। তারা অবগত থাকার পরও কিছু করছে না। এসব বিষয় ইসি ও পুলিশকে জানিয়েও কিছু হচ্ছে না। এ অবস্থায় সাধারণ ভোটাররা কিভাবে ভোট দিতে যাবে? ” তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম নগরী সন্ত্রাসীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। আমার জীবনে আমি কোনদিন এত সন্ত্রাসী এক জায়গায় জড়ো হতে দেখিনি।” আইনশৃংখলা বাহিনীর ভূমিকা তুলে ধরে খসরু বলেন, “তারা সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। সাদা পোশাকে নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে এলাকা ছাড়ার জন্য। হয়রানি ও গ্রেফতার করা হচ্ছে। বাড়িতে গিয়ে দরজা পর্যন্ত ভাঙছে তারা।”   সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, “নির্বাচনের নামে তামাশা হচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মনজুর আলম ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ ভোট পাবেন। কিন্তু বহিরাগতদের এনে সকাল থেকে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের এজেন্টরা যাতে নির্বাচনে উপস্থিত না থাকে তার জন্য বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয়া হচ্ছে। পুলিশও সিভিল ড্রেসে গিয়ে নেতাকর্মীদের হুমকি দিচ্ছে ভোটের দিন এলাকায় না থাকতে।” তিনি আরো বলেন, “মেডিক্যাল কলেজ এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী ক্যাম্প ভেঙে দিচ্ছে। পুলিশের সহায়তায় তারা মনজুর বিরুদ্ধে রঙিন পোস্টার লাগিয়েছে। তারা র্যাব পুলিশ বিজিবি নিয়ে মাঠে নেমেছে। আমরা নিরস্ত্ররা কিভাবে তাদের প্রতিরোধ করবো। গতকাল রোববার রাতে ফেনী থেকে এসেছে ৩শ জন সন্ত্রাসী। রেল ক্রসিং এলাকায় তারা পেপার বিছিয়ে রাত যাপন করেছে। পলিটেকনিক এলাকায় ৫জন সন্ত্রাসী অস্ত্র নিয়ে পুলিশের সামনে চলাফেরা করছে। জোর করে আমাদের এজেন্টদের কাছ থেকে ফরম ছিনিয়ে নিচ্ছে।” এসব পুলিশকে জানানোর পরও কিছু হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।

বিস্তারিত»
‘ভোট কেড়ে নিতে মাস্তান নামানো হয়েছে’

ঢাকা: সিটি নির্বাচনে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে মাস্তান বাহিনী নামানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। তারা অভিযোগ করেছে, ঘড়ি প্রতীকের ব্যাজ পরে সন্ত্রাসীরা মেয়রপ্রার্থী আবদুল্লাহ আল ক্বাফীর প্রচারণায় হামলা চালিয়েছে। সোমবার সকালে পুরানা পল্টনে মুক্তি ভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।     রোববার কল্যাণপুরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী আবদুল্লাহ আল ক্বাফী প্রচারণায় এবং পরে তেজগাঁওয়ে তার প্রধান নির্বাচনী অফিসে হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনটি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে দুই বাম রাজনৈতিক দলের নেতারা বলেন, নির্বাচনের আগেই নিজের পক্ষে ফল নিশ্চিত করতে সরকার জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। আর নির্বাচন কমিশন সরকারের সহযোগী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সিটি নির্বাচনে আচরণবিধির বেপরোয়া লঙ্ঘন হচ্ছে। নির্বাচনকে টাকার খেলায় পরিণত করা হয়েছে। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে মাস্তান বাহিনী নামানো হয়েছে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মেয়র পদপ্রার্থী আবদুল্লাহ আল ক্বাফী প্রচারণা ও কার্যা।লয়ে হামলার ঘটনা সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম দাবি করেন, কল্যাণপুরে যুবলীগের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক কালামের নেতৃত্বে ‘ঘড়ি প্রতীকের ব্যাজ পরা’ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এবং তেজগাঁওয়ে ‘ঘড়ি প্রতীকের ব্যাজ পরা’ সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। হামলার ঘটনার ভিডিও চিত্র ও হামলাকারীদের ছবি সংগৃহীত আছে বলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়। এর আগেও সরকারি দল-সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকরা লালবাগে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদপ্রার্থী বজলুর রশীদ ফিরোজের কর্মীদের হুমকি দেয় এবং মহাখালী সাততলা বস্তিতে আবদুল্লাহ আল ক্বাফীর কর্মীদের ওপর হামলা করে বলে অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। সেলিম হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বলেন, সরকার এসব হামলার দায় কিছুতেই এড়াতে পারে না। সিটি নির্বাচনে টাকার খেলা, পেশিশক্তি প্রদর্শন, ধর্মীয় অনুভূতি ও প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। যতটুকু ক্ষমতা আছে, তা মোটেও নির্বাচন কমিশন প্রয়োগ করছে না। জনগণকে ভোটাধিকার প্রয়োগে নিষ্ঠাবান থাকার আহ্বান জানিয়ে বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান  বলেন, বোমা মেরে যেমন মানুষ হত্যা করা হয়, টাকা দিয়েও তেমনি মনুষ্যত্ব হত্যা করা হয়। সিপিবির সাধারণ সম্পাদক জাফর বলেন, ভয় পেয়ে সরকার সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। নির্বাচনের আগেই ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিশ্চিত করতে সরকার জনগণের মধ্যে নানা আতঙ্ক ও আশঙ্কা সৃষ্টি করছে। আর নির্বাচন কমিশন সরকারের সহযোগী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খান, প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার আকবর খান রনো, লক্ষ্মী চক্রবর্তী, শাসছুজ্জামান সেলিম, সাজ্জাদ জহির চন্দন, কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা জাহেদুল হক মিলু, রাজেকুজ্জামান রতন, সিপিবির নেতা অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, ডা. সাজেদুল হক রুবেল, জলি তালুকদার, আসলাম খান প্রমুখ।

বিস্তারিত»
মোবাইলে লেনদেন বন্ধ, রিচার্জ এক হাজার টাকার বেশি নয়

ঢাকা: তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের দিন মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে  লেনদেনের সব ধরনের সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সময় পর্যন্ত  মোবাইল ফোনে এক হাজার টাকার বেশি রিচার্জও করা যাবে না। সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সার্কুলার জারি করে মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডার, ব্যাংক ও তাদের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানকে এই নির্দেশনা জানিয়ে দিয়েছে।   এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সচিবালয়ের মহাব্যবস্থাপক এ এফএম আসাদুজ্জামান।

বিস্তারিত»
সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে নগরবাসীর প্রতি খোলা চিঠি

কবীর চৌধুরী তন্ময়ছছছ প্রিয় নগরবাসী, বাংলা নববর্ষ’র শুভেচ্ছা নিবেন। আমরা ‘এ প্রজন্মের আহবান, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পেট্রোল বোমা সন্ত্রাসীদের করুন প্রত্যাখান’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মের পক্ষে আমরা হাজির হয়েছি আপনাদের সামনে।    চার’শ বছরের পুরনো ঢাকা নগরী আজ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রাম, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে প্রদত্ত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ইতিহাসখ্যাত ভাষণ, ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ১৬ ডিসেম্বরে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ে সকল গৌরবময় ইতিহাসের এই ঢাকা।   এই ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিকসহ বিশ্বের পরিমন্ডলে বাংলাদেশের রাজনীতির সমীকরণ এই ঢাকা থেকেই পরিচালিত হয়। আর এই ঢাকা আজ নানাবিধ সমস্যায় জর্জড়িত। একদিকে নগরজীবনে যেমন বিরাজমান অস্থিরতা অন্যদিকে রাজনীতিসৃষ্ট নাশকতা এবং সাম্প্রদায়িক মৌলবাদ-জঙ্গিবাদের উন্মত্ততায় আতকিংত নতুন প্রজন্ম।   সিটি করপোরেশন নির্বাচন-২০১৫ ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম নগরবাসীর জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা মনেকরছি।   আর তাই সৃষ্ট পরিস্থিতি গুরুত্বাকারে অনুধাবন করে আমরা যারা বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম নগরে বসবাস করছি আজ অগ্রজ চিন্তা-চেতনার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সামনে সিটি করপোরেশন নির্বাচন মর্যাদার, স্বস্থিদায়ক এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার সময়।   প্রিয় নগরবাসী, আপনারা অতীতের সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে যেভাবে সোচ্চার ছিলেন, যেভাবে ছিলেন অগ্নীসংযোগকারী, নাশকতাকারী, দূর্ণীতিবাজ, পেট্রোল বোমা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে; ঠিক এমনিভাবে নতুন প্রজন্মের নিরাপত্তা, সুস্থ-সুন্দর পরিবেশ এবং আধুনিক একটি নগর প্রতিষ্ঠার লক্ষে ২৮ এপ্রিল, ২০১৫ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন এর মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন কে ইলিশ মাছ, উত্তরে আনিসুল হক কে টেবিল ঘড়ি এবং চট্টগ্রামে আ জ ম নাছির উদ্দিন কে হাতি প্রতীকে ভোট প্রদান করার জন্য এ প্রজন্মের পক্ষ থেকে আহবান করছি।    আপনাদের সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।

বিস্তারিত»
শাহজালাল বিমানবন্দরে সবজির কার্টনে সাড়ে ৩ লাখ রিয়াল

ঢাকা: ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সবজির কার্টনের ভেতর থেকে ৩ লাখ ৫৫ হাজার সৌদি রিয়াল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭০ লাখ। রবিবার রাতে বিমানবন্দরের ফ্রেইট ইফনিট থেকে এগুলো উদ্ধার করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। জানা যায়, রাফি ফ্রেইট সিস্টেম নামের এক প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ায় সবজি পাঠানোর জন্য কিছু কার্টন ফ্রেইটে আনে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের একটি দল সেখানে তল্লাশি চালায়। এ সময় সবজি ভর্তি কার্টনের ভেতর থেকে রিয়ালগুলো উদ্ধার করা হয়। এগুলো মালয়েশিয়ায় পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিলো বলে জানা গেছে।

বিস্তারিত»
বগুড়ায় ১২টি হাতবোমাসহ আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার

বগুড়া : বগুড়ায় ১২টি তাজা হাতবোমাসহ খোরশেদ আলম ওরফে খোরশেদ মেম্বার (৪২) নামের এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। র‌্যাব-১২ বগুড়া বিশেষ ক্যাম্পের সদস্যরা রোববার রাতে গাবতলী উপজেলার হোসেনপুর গ্রামে তার বাড়ি থেকে খোরশেদ আলমকে গ্রেফতার করে। খোরশেদ আলম রামেশ্বরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং একই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। সোমবার দুপুরে র‌্যাব সদস্যরা তাকে গাবতলী মডেল থানায় হস্তান্তর করেছে। খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে র‌্যাব-১২ বগুড়া বিশেষ ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেছেন। র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব সদস্যরা রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে হোসেনপুর খোরশেদ আলমের বাড়িতে অভিযান চালায়। তল্লাশিকালে টিনেসেড ঘরের ভেতর থেকে ১২টি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়। গাবতলী মডেল থানার ওসি রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, র‌্যাব সদস্যরা খোরশেদ মেম্বারকে ১২টি হাতবোমাসহ থানায় হস্তান্তর করেছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।  

বিস্তারিত»
৩ সিটির নেতাকর্মীদের প্রতি বিএনপির নির্দেশনা

ঢাকা : ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ভোট কেন্দ্রের পাশে দল সমর্থিত মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরদের নির্বাচনী প্রতীক একই রশিতে ঝুলানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শুধু প্রতীক ঝুলানোই নয়, সিটি নির্বাচনের দিন যারা ভোট কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টের দায়িত্বে থাকবে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের কোনো অনিয়ম ,দুর্নীতি লক্ষ্য করা গেলে সঙ্গে সঙ্গে প্রধান মনিটরিং সেলের দায়িত্বে নিয়োজিত নেতৃবৃন্দকে জানাতে হবে। ভোট কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে ফলাফল প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা ঘোষণা করতে এবং মনিটরিং সেলকে অবহিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত গণমাধ্যমসহ নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের কাছেও এ তথ্য প্রকাশ করার কথা  বলা হয়েছে। বিএনপির আরেকটি সূত্র জানায়, নির্বাচনের দিন ভোট দেয়া শেষ হলেও ফলাফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত আর্দশ ঢাকা আন্দোলন, বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোটের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীরা কেন্দ্রের পাশে অবস্থান করবে। এদিকে গতকাল রোববার দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরবাসীকে সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ব্যালটের মাধ্যমে নীরব বিপ্লব ঘটানোর আহবান জানান। পাশাপাশি ফলাফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত দল সমর্থিত নেতাকর্মীদের কেন্দ্রে অবস্থান করার নির্দেশও দেন।

বিস্তারিত»
শিক্ষার্থী-অভিভাবক আতঙ্কিত সিলেটে বহুতল স্কুল ভবনে ফাটল

সিলেট: সিলেটে স্কলারস হোম স্কুলের পাঠানটুলা ক্যাম্পাস ভবনের ১১ তলায় ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সোমবার সকাল ৮টার দিকে স্কুল শুরুর পরপরই ভবনে ফাটলের খবর ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবক স্কুল ছুটির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর পরপরই শিক্ষার্থীদের দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, ভবনে কোনো ফাটল ধরেনি। তবে অভিযোগ ওঠার কারণে ইঞ্জিনিয়ার এনে ভবন পরীক্ষা করানো হবে বলে জানিয়েছেন তারা। এদিকে স্কুল ভবনটিকে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ক্যাম্পাস স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছে অভিভাবকরা। জানা যায়, সকালে শিক্ষার্থীরা স্কুলে এসে স্কালার্স হোম ১১ তলা ভবনের চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলার ক্লাসরুমের দেয়ালে ফাটল দেখতে পায়। আতঙ্কিত হয়ে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি তাদের অভিবাবকদের জানায়। এর আগে শিশুশ্রেণীর ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অভিভাবকরা ভবনে ফাটলের বিষয়টি জানতে পেরে স্কুল ছুটির দাবিতে ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক স্কুল ছুটি দিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার একদিনের স্কুল ছুটি ঘোষণা করে।

বিস্তারিত»
চসিক নির্বাচন: মরিয়া আওয়ামী লীগ, ছাড় দেবেনা বিএনপি

চট্টগ্রাম : চসিক নির্বাচন স্থানীয় নির্বাচন হলেও এর জয়-পরাজয় বড় ভূমিকা রাখবে জাতীয় রাজনীতিতে। তাই জয় পেতে যেমন মরিয়া আওয়ামী লীগ তেমনি  কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে নগর পিতার আসন ধরে রাখতে চায় বিএনপি। চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের শক্ত রাজনৈতিক অবস্থা থাকলেও বিএনপির রয়েছে বড় ধরনের ভোট ব্যাংক। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রচার প্রচারণায় আ জ ম নাছির এগিয়ে থাকলেও নীরব ব্যালট বিপ্লব ঘটাতে পারে বিএনপি। সরকার দলের লোকজনের হামলা, পুলিশের হয়রানি ও মামলার কারণে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা এতোদিন মাঠে না নামলেও ভোটের দিন পূর্ণ শক্তি নিয়ে তারা মাঠে থাকবেন বলে জামায়াত-বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা যায়। এতো দিন তারা আওয়ামী লীগকে ছাড় দিলেও ভোটের দিন ছাড় দিতে নারাজ। যেকোনো ধরনের বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে ভোট কেন্দ্র পাহারা দেয়া এবং ভোট গ্রহণের শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে রেজাল্ট নিয়ে তাদের ঘরে ফেরার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কেউ ভোট কেন্দ্র দখল করতে চাইলে প্রতিরোধ করারও প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। এ বিষয়ে নগর বিএনপির সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান শীর্ষ নিউজকে জানান, আগামীকাল পূর্ণশক্তি নিয়ে আমাদের কর্মীরা ভোট কেন্দ্রে থাকবে। কেউ ভোট ডাকাতি করতে আসলে জনগণকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বিএনপি। গত সরকার বিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রাম বিএনপির নেতাকর্মীরা সক্রিয় ভূমিকা রাখতে না পারায় মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে তাই সিটি নির্বাচনে বিজয়ের মধ্যে দিয়ে কিছুটা তা লাঘব করতে চায় বিএনপি। এদিকে, টানা তিনবার নগর পিতার আসনে থাকা ৩ বারের মেয়র নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম মনজুল আলমের কাছে গত ২০১০ সালের সিটি নির্বাচনে প্রায় লক্ষাধিক ভোটে পরাজিত হয়। পরাজয়ের পর নগর আওয়ামী লীগে মধ্যে জন্ম নেয় বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের দ্বন্দ্ব। কারণ সেই নির্বাচনে মহিউদ্দিনের পরাজয়ের পেছনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল অভ্যন্তরীণ কোন্দল। সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে এবারও  প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন মহিউদ্দিন। কিন্তু অভ্যন্তরীণ কোন্দল পরিত্রাণ পেতে মনোনয়ন দেয়া হয় নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনকে। যা চট্টগ্রামবাসীর মতো আওয়ামী নেতাকর্মীকেও হতাশ করেছে। সব কিছুকে পেছনে ফেলে আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গ-সংগঠন নাছিরকে বিজয়ী করতে মাঠে সক্রিয় হলেও এখনো অনেক নেতাকর্মী রয়েছেন নিস্ক্রিয়। এমতবস্থায় নাছিরকে বিজয়ী করতে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড থেকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়। নাছিরকে বিজয়ী করতে কিছু দিন যাবত চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হাসান মাহমুদসহ একধিক কেন্দ্রীয় নেতা। আওয়ামী লীগ চায় চট্টগ্রামে নাছিরকে বিজয়ী করার মাধ্যমে বিএনপির জ্বালাও পোড়াও রাজনীতির সমুচিত জবাব দিতে।  

বিস্তারিত»
জেনে নিন আপনি কোথায় ভোট দিবেন

ঢাকা: রাত পেরোলেই ঢাকা ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন। প্রচার প্রচারণা শেষে ভোটের অপেক্ষায় প্রার্থী ও ভোটাররা। রোববার রাত ১২টা পর্যান্ত ভোট চেয়ে ভোটার স্লিপ নিয়ে অনেক ভোটারে কাছেই ছুটে গেছেন প্রার্থীরা। এরপরও বাসা বদল, সাক্ষাত না হওয়া কিংবা অন্য কোনো কারণে অনেক ভোটারেরই এখনো জানা হয়নি কোন কেন্দ্রে ভোট দেবেন তিনি। কেন্দ্রে গিয়ে বুথ খুঁজে নেয়ার কাজকেও অনেকের কাছে ঝক্কি মনে হতে পারে।   তাদের এখন আর ভাবনার কিছু নেই। কেন্দ্রে গিয়ে ভোটার তথ্যের জন্য কারও কাছে ধর্ণাও দিতে হবে না। তাই বলে কি ভোট দেয়া হবে না? না, ভোট দেয়া তো আমাদের নাগরিক অধিকার। তাহলে আপনি এখন কি করবেন? অনলাইন থেকেই নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে ভোটার নম্বর ও কেন্দ্র সম্পর্কে জানা যাবে। এই লিংকে (https://services.nidw.gov.bd/votercenter/pollCen) ক্লিক করেই আপনি ভোটার তথ্য সংশ্লিষ্ট বিষয় জানতে পারবেন। এবার যে উইন্ডোটি আসবে সেখানে ফরম অথবা এনআইডি যে নম্বরটি আপনার কাছে আছে তা নির্ধারণ করুন। এরপর জন্ম তারিখ লিখতে ক্যালেন্ডারে প্রথমে বছর ও পরে মাস নির্বাচন করুণ। তারপর তারিখের ঘর সিলেক্ট করুন। এর নিচে থাকা খালি বাক্সে পাশের এলোমেলো অক্ষরগুলো (ক্যাপচা) সতর্কতার সঙ্গে লিখুন। ক্যাপচা বুঝতে না পারলে রিফ্রেশ ক্যাপচায় ক্লিক করে বদলে নিন। অতঃপর ভোটার তথ্য দেখুন ট্যাবে ক্লিক করে কিছুক্ষল অপেক্ষা করুন। এবার এর নিচেই প্রদর্শিত হবে আপনার ভোট কেন্দ্রের নাম, ঠিকানা এবং বুথ নম্বর।

বিস্তারিত»
টস জিতলেই ব্যাটিং!

খুলনা: সকালে শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে এসেই উইকেটের ওপর হামলে পড়েছিলেন বাংলাদেশের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। উইকেটটা তখন মনঃপূত হয়নি তার। সেটা স্পষ্ট ছিল। হোম সিরিজ বলে কোচ, অধিনায়কের চাওয়ার কিছুটা গুরুত্ব থাকেই উইকেট তৈরিতে। উইকেট দর্শনটা আবারও করেছিলেন হাথুরুসিংহে। সেটা দুপুর গড়ানোর পর, আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন শেষে। তখন আর অসন্তুষ্টি থাকার কথা নয় টাইগার কোচের। কারণ ততক্ষণে উইকেট ফিরে পেয়েছে কাঙ্খিত রুপটা। শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের কিউরেটরের দেওয়া তথ্য মতে, উইকেটে থাকা ঘাস ছেঁটে ফেলা হয়েছে। টেস্টের দিন যত গড়াবে, উইকেট বেজায় রকম ভাঙবে তার আশঙ্কা কম। বড় বড় ফাটলের সম্ভাবনাও নেই। বাড়তি সুবিধা না পেলেও স্পিনাররা সহজাত সুইং দিয়ে নিজেদের কাজটা করতে পারবেন।   বড় স্কোর হওয়া নির্ভর করছে ব্যাটিংয়ের ওপর। টিকে থাকলে রান পাবেন ব্যাটসম্যানরা। তবে সেজন্য উইকেটে অনেক সময় দিতে হবে। কিউরেটর জাহিদ রেজা বাবুর চোখে, যে দলই টস জিতবে আগে ব্যাটিং করতে চাইবে। এই উইকেটে একদিনে তিনশো রান হতে পারে অনায়সেই। পেস বোলাররা সে তুলনায় কিছুটা সুবিধা বঞ্চিত হবেন। তবে টেস্টের প্রথম দিনের সকালটা রাঙাতে পারবেন পেসাররাই। ময়শ্চার ও ভেতরে লুকিয়ে থাকা ঘাসের কারণে ম্যাচের প্রথম এক ঘণ্টায় পেসাররা ব্যাটসম্যানদের কঠিন সময় উপহার দিতে পারবেন। তবে সার্বিকভাবে পেসারদের উইকেট এটা নয়, তা পাকিস্তানের অধিনায়ক মিসবাহ উল হকই সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন। তিন পেসার নিয়ে খেলবেন কিনা জানতে চাইলে, সাংবাদিককে উল্টো মিসবাহই প্রশ্ন করেন, “তুমি মনে করো, এটা তিন পেসার খেলানোর উইকেট।” লড়াইটা তাই দুই দেশের ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে স্পিনারদেরই জমবে বেশি। পেসাররাও ম্যাচের পালাবদলে হয়তো ভয়ঙ্কর হতে পারবেন। সেখানে পেস বোলারদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ড্যান কেক সিরিজের বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম টেস্ট শুরু হবে মঙ্গলবার। খুলনায় দুদলের এটিই প্রথম টেস্ট। যদিও দুদলের আগের আট ম্যাচের লড়াইয়ে প্রতিটি ম্যাচই হেরেছে বাংলাদেশ। যার মধ্যে বাংলাদেশ চারটি খেলেছে দেশের মাটিতে, বাকি চারটি পাকিস্তানের মাটিতে।

বিস্তারিত»
ধর্ষণ ও চাঁদাবাজি মামলায় বাবুর ৭ দিনের রিমান্ড

ফরিদপুর: জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক একটি ধর্ষণ ও পাঁচটি চাঁদাবাজি মামলার আসামি মোকাররম মিয়া বাবুর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এস এম সরোয়ার হোসেন সন্টুর করা ১৫ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মামলায় পুলিশের করা সাত দিনের রিমান্ডের আাবেদনের শুনানি শেষে সোমবার দুপুরে ১ নম্বর আমলী আদালতের বিচারক মো. হামিদুর রহমান সাত দিনেরই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।   এর আগে মোকাররম মিয়া বাবুকে সোয়া ১১টার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগার থেকে সরাসরি আদালতে নিয়ে আসা হয়। আদালতে প্রথমে সিআর মামলাগুলোর শুনানি শেষে জিআর মামলার শুনানি শুরু হয়। বাবুর রিমান্ডের শুনানি বেশ দীর্ঘ সময়ই চলে। বাবুর রিমান্ডের বিরোধিতা করে তার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন অ্যাডভোকেট বদিউজ্জামান বাবুল। তাকে সহযোগিতা করেন, বাবুর ঘনিষ্ট আত্মীয় অ্যাডভোকেট ছরোয়ার, অ্যাডভোকেট খন্দকার লুৎফর রহমান পিলু, অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব, অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম ষ্ট্যালিন, অ্যাডভোকেট শফিক মুন্সি, অ্যাডভোকেট সায়েম সহ আরো বেশ কয়েকজন আইনজীবী। অপরদিকে মোকাররম মিয়া বাবুর বিরুদ্ধে এবং রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট  খসরুজ্জামান দুলু। তাকে সহযোগিতা করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী বাবু মৃধা, অ্যাডভোকেট স্বপন পাল, অ্যাডভোকেট বাবু মোল্লা, অ্যাডভোকেট জাহিদ ব্যাপারী, অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দীন, অ্যাডভোকেট শাজাহান মোল্লা, অ্যাডভোকেট অনিমেষ রায়, অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমান, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম উজ্জল, অ্যাডভোকেট প্রবীর দাস লক্ষণ, অ্যাডভোকেট সুচিত্রা সিকদার, অ্যাডভোকেট অলোকেশ রায়। তারা আদালতে বাবুকে একজন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করে তাকে সাত দিনের রিমান্ডের দাবি জানান। অপরদিকে বাবুর পক্ষে থাকা আইনজীবীরা তাকে একজন ভালো মানুষ এবং রাজনৈতিক নেতা হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পুলিশের করা রিমান্ডের তীব্র বিরোধিতা করে তার জামিনের জন্য আবেদন জানান। দুই পক্ষের যুক্তি তর্ক উপস্থাপন শেষে বিজ্ঞ আদালতের বিচারক মো. হামিদুর রহমান সাত দিনেরই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিকে আদালতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। একমাত্র মামলার বাদী এবং অ্যাডভোকেট ও সাংবাদিক ছাড়া কাউকেই আদালতের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। তবে আদালতের বাইরে  উৎসু্ক জনতার ভিড় ছিল। মামলার বাদী সন্টু জানান, গত ৪ এপ্রিল সন্ধা ৭টার দিকে বাবু এবং তার সহযোগী জেলা ছাত্ররীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ মুখার্জী তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং অস্ত্র প্রদর্শন করে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। নিজের জীবন রক্ষার্থে সন্টু পরের দিন রাত ৮ টার দিকে ধুলদী রেল গেটের কাছে মল্লিক ট্রেডার্সে বসে বাবুকে নগদ ১৫ লাখ টাকা চাঁদা প্রদান করেন। চাঁদার টাকা নেওয়ার পর বাবু সন্টুকে এই বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়ে যান। পরে সন্টু বাদী হয়ে বাবু এবং সত্যজিৎতের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় চাঁদাবাজির এই মামলাটি দায়ের করেন।

বিস্তারিত»
মেরুদণ্ড সোজা করুন, ইসিকে বিএনপি

ঢাকা: বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ করে বলেছেন, “আপনারা মেরুদণ্ড সোজা করুন। ঠিক মতো দায়িত্ব পালন করুন। নইলে এখনই পদ থেকে সরে দাঁড়ান।” সোমবার দুপুর পৌনে ১টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিটি নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।   রিপন বলেন, “যৌথবাহিনীর নামে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে সাথে নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে হয়রানি করছে।” তিনি বলেন, “বিরোধী দলের কাউন্সিলর প্রার্থীদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে, মেয়র প্রার্থীকে সস্ত্রীক আহত করা হয়েছে। এসব কারণে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল হয়েছিল সেনাবাহিনী মোতায়েন করার। কিন্তু এই নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ। তাই তাদের সিদ্ধান্তের বাইরে একচুলও নড়াচড়া করতে পারে না।” সিটি নির্বাচন নিয়ে 'মওসুসে'র মতো ভূইফোঁড় কোনো সংস্থার রিপোর্ট বা সার্টিফিকেট বিএনপি মেনে নেবে না বলে জানিয়ে সংস্থাটির সব কার্যক্রম প্রত্যাখ্যানের ঘোষণাও দিয়েছে দলটি।

বিস্তারিত»
সুজন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে না, ভবিষ্যতেও না

ঢাকা: ‘সিটি নির্বাচনে পর্যবেক্ষক তালিকায় সুজন নেই’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জানিয়েছে, সংস্থাটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে না।   সোমবার দুপুরে সুজনের সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান ও সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থাটির অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।   সুজনের পক্ষ থেকে তারা বলেন, “সুজন অতীতে কখনোই নির্বাচনের দিনে পর্যবেক্ষণের কাজ করেনি এবং ভবিষ্যতেও এ কাজ করার কোনো পরিকল্পনা নেই।” এ লক্ষ্যে তারা কখনোই নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদনও করেননি বলে জানান তারা।   বিবৃতিতে বলা হয়, “সুজন নির্বাচনী প্রক্রিয়া তথা গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের লক্ষ্যে নির্বাচনী ও রাজনৈতিক দলের সংস্কার ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করেছে। নির্বাচনী সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে: নির্বাচনসংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামোর সংস্কার, ভোটার তালিকার যথার্থতা ও যথাযথভাবে সীমানা পুনর্বিন্যাস করা ইত্যাদি।”   তবে ভোটাররা যাতে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারেন, সে লক্ষ্যে নাগরিক সংগঠন হিসেবে এ নির্বাচনে সুজন বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বলে জানানো হয় বিবৃতিতে।   নির্বাচনে সুজনের কার্যক্রম তুলে ধরে এম হাফিজউদ্দিন ও বদিউল আলম বলেন, হলফনামায় প্রার্থী কর্তৃক দাখিলকৃত তথ্য সন্নিবেশ করে তুলনামূলক চিত্র তৈরি ও ভোটারদের মাঝে বিতরণ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের একই মঞ্চে এনে জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা, সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রার্থী কর্তৃক দাখিলকৃত তথ্যের বিশ্লেষণ উপস্থাপন, ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির জন্য বিভিন্ন প্রচারণা তাদের কার্য্ক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।   আসন্ন সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে নানা মহলে নানা সংশয় বিরাজ করলেও সুজন প্রত্যাশা করে, নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সবার সহযোগিতায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষম হবে।”

বিস্তারিত»
আচরণবিধি ভঙ্গ করলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত

ঢাকা : তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া ভোট চাওয়ার সময় শেষ হয়েছে রোববার মধ্যরাতে। কিন্তু আজ সোমবার এক অনুষ্ঠানে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইলেন দলের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। আজ রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের পক্ষে ইলিশ ও টেবিল ঘড়ি মার্কায় ভোট চান তিনি। নৌকা সমর্থকগোষ্ঠী নামের একটি সংগঠন ওই সভার আয়োজন করে। সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সুরঞ্জিত বলেন, ‘কালকেই তো নির্বাচন, আমরা ভোট দিতে যাব। কি আপনারা ভোট দিতে যাবেন তো, উত্তরে বা দক্ষিণে? কিসে ভোট দেবেন? এ সময় সবাই বলে ‘ইলিশ’। কেউ কেউ টেবিল ঘড়ি বলে সাড়া দেন। তখন তিনি বলেন, এখানে দেখি ঘড়ির ভোটার বেশি না ইলিশ। ইলিশ মাছের চেয়ে তো কোনো ভাল মাছ নেই।’ সভায় খালেদা জিয়া প্রচারণা চালানোয় বিএনপি প্রার্থীর ভোট কমেছে দাবি করে সুরঞ্জিত বলেন, ‘সিটি নির্বাচন প্রচারণা শান্তিপূর্ণভাবেই হচ্ছিল, কিন্তু তিনি (খালেদা জিয়া) গিয়েই তা অশান্ত করেছেন। দুই দিন গিয়েই তিন দিনে যে কা- ঘটালেন, এখন তার প্রার্থীই বলে ভিক্ষার দরকার নাই কুত্তা সামলান। যে কারণে তাকে এবার চট্টগ্রামেও ডাকেনি। তিনি জিগাইছেন কি চাই, তো চট্টগ্রামের প্রার্থী বলেছেন ‘আমরা মাফ চাই।’ দয়া করে আপনি আইসেন না।’ রাজনীতিতে খালেদা জিয়াকে মিথ্যাচারের প্রবর্তক বলে তার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) বলেছেন, হরতাল আছে কিন্তু তা সক্রিয় নয়। তিনি যে অবরোধ ডেকে বাস মার্কার ক্যানভাসে গেলেন এটা বালখিল্য রাজনীতি, যা বাংলাদেশে তিনিই করেছেন। খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, তিনি স্থানীয় নির্বাচন করবেন কিন্তু জাতীয় নির্বাচন করবেন না। সাবেক এই রেলমন্ত্রী বলেন, অতীতে ৫ সিটি নির্বাচনে পাঁচটাই বিএনপি জিতেছে। তখন আপনি জ্বালাও-পোড়াও শুরু করেননি। এবারের নির্বাচনে আপনার নাশকতার রাজনীতির জবাব গণতান্ত্রিক মানুষ দেবে। সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রসঙ্গে বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার আর্মির ছিল, এরশাদ দিয়েছিল। আমরা যখন আন্দোলন করে এরশাদকে ক্ষমতা থেকে নামাই, তখন খালেদা জিয়াও ছিলেন। তখন এ আইনটি বাতিল হয়ে যায়। তাই এটা দিবে কই থেকে। থাকলে তো দিবে।’ এ সময় ড. খন্দকার এমদাদুল হকের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফয়েজউদ্দিন মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কানু।  

বিস্তারিত»

সাক্ষাৎকার

নির্বাচন সুষ্ঠু করার তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না:ড.বদিউল আলম মজুমদার

সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার সাংবিধানিক দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু করার ব্যাপারে তাদের কোনো তৎপরতা আমাদের কারো চোখে পড়ছে না। আর কালো টাকা, পেশি শক্তর ব্যবহার, তথ্য গোপন এসবের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে সিইসি যে কথা বলেছেন তার কোনো বাস্তবতা নেই।একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক, গবেষক, উন্নয়নকর্মী ও সুশাসনের জন্য নাগরিক(সুজন)'র সম্পাদক ড.বদিউল আলম মজুমদার।   তিনি বলেন, সিটি নির্বাচন নির্দলীয় হলেও সেই নির্দলীয় নির্বাচনের চরিত্রটা সেটা ধ্বংস করছে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো।আর নির্বাচনী নানা ধরণের অপরাধের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন নীরব ভূমিকা পালন করছে।   তিনি আরো বলেন, দুঃখের বিষয় হচ্ছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন দলতন্ত্রের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এটা অবশ্যই কাঙ্খিত নয়। আর এটার মাশুল আমাদের প্রতিমুর্হূর্তে দিতে হচ্ছে।   পুরো বক্তব্য উপস্থাপন করা হলো।সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন গাজী আবদুর রশীদ।   প্রশ্ন : প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, কালো টাকা ও পেশি শক্তির ব্যবহার বন্ধে নির্বাচন কমিশন শক্ত অবস্থান রয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনের প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। সিইসি বলেন, হলফনামায় কেউ মিথ্যা তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রশ্ন হচ্ছে- আসলেই কি নির্বাচন কমিশন আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ করতে পারবে বা পারছে বলে আপনার মনে হয়?   বদিউল আলম মজুমদার: আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কালো টাকা ও পেশি শক্তির ব্যবহার বন্ধে নির্বাচন কমিশন শক্ত অবস্থানে আছে বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ যে বক্তব্য দিয়েছেন তার কোনো বাস্তবতা তো আমরা দেখছি না। এসব ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের কোনো সক্রিয়তা আমরা দেখতে পারছি না। কালো টাকার বিরুদ্ধে তাদের শক্ত অবস্থানের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ আমাদের চোখে পড়ছে না। নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার সাংবিধানিক দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু করার ব্যাপারে তাদের কোনো তৎপরতা আমাদের কারো চোখে পড়ছে না।   প্রশ্ন :  সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী না থাকার বিধান থাকলেও তা কেউ মানছেন না। প্রত্যেক প্রার্থীই কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করছেন এবং তা প্রকাশ্যে বলেও বেড়াচ্ছেন। এ বিষয়টি আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে কিনা?   বদিউল আলম মজুমদার: দেখুন নির্বাচনে প্রার্থীরা দলীয় হতেই পারে। এতে কোনো সমস্যা আছে বলে আমি মনে করি না। এটা হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে আমাদের বিধি-বিধান হলো এটি নির্দলীয় নির্বাচন। আর নির্দলীয় নির্বাচনের যে চরিত্র সেটা ধ্বংস করছে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো। যেমন রাজনৈতিক দলগুলো- দলীয়ভাবে মনোনয়ন দিচ্ছে, দলীয়ভাবে প্রার্থীদেরকে সমর্থন দিচ্ছে। একইসাথে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছে যেগুলো নির্বাচনী অপরাধ। আর নির্বাচন কমিশন এসব ব্যাপারে সম্পূর্ণ নীরব। বলা চলে নির্বাচনী বিধি ও নিয়ম কানুন ভঙ্গ করছে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো।   প্রশ্ন : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, তিনটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ জিতবে। খবরটি সবগুলো দৈনিকের অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে- কিসের ভিত্তিতে তিনি এ পূর্বাভাস দিলেন? আর নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী যেখানে এটি দলীয় নির্বাচন নয় সেখানে একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী হিসেবে তিনি কেন আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ করলেন বলে আপনার মনে হয়?   বদিউল আলম মজুমদার: দেখুন এলজিআরডিমন্ত্রী সৈয়দ  আশরাফুল ইসলাম কেন এমন কথা বললেন সেটি উনিই বলতে পারবেন। তবে ওনার ওই বক্তব্য কাঙ্খিত নয়। এটা নির্দলীয় নির্বাচন। আমাদের এইসব বুদ্ধিমান ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিরা নির্বাচনের অনেক বিধি-বিধানকে তোয়াক্কা করছেন না। তবে একটা বিষয় আমাদের স্বীকার করতে হবে সেটি হচ্ছে রাজনীতিবিদরা তো আর বলবেন না যে তারা পরাজিত হবে। সব রাজনৈতিক দলই বলবে যে তারা বিজয়ী হবে। যদিও এটা দলীয় নির্বাচন নয়। ফলে আমি বলবো সৈয়দ আশরাফের দলের কথা বল উচিত হয়নি। তবে  দল হিসেবে তিনি দাবি করতেই পারেন।   প্রশ্ন : বিএনপি’র মেয়র ও কমিশনার প্রার্থীদেরকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন খবরেও দেখা যাচ্ছে, বিএনপি’র একজন মেয়র প্রার্থী নির্বাচনের প্রচারে অংশ নিতে পারছেন না তার বিরুদ্ধে মামলা থাকায় এবং আদালতে হাজিরা দেয়ার কারণে। কেন এমনটি হচ্ছে? এটি কি বিচার বিভাগের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে?   বদিউল আলম মজুমদার: দেখুন দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দেশের সব জায়গায় দলীয়করণ হয়েছে। শুধুমাত্র বিচারবিভাগ নয়; নির্বাচন কমিশন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এভাবে প্রায় সবগুলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এখন দলতন্ত্রের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এটা অবশ্যই কাঙ্খিত নয়। আর এটার মাশুল আমাদের প্রতিমুহূর্তে দিতে হচ্ছে।   প্রশ্ন : সিটি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে এবং অভিযোগ উঠেছে। আপনারা সেনা মোতায়েনের কথা বলেছেন। তো এ বিষয়ে আপনি কি বলবেন?   বদিউল আলম মজুমদার: দেখুন আমরা সিটি নির্বাচনে ঠিক সেনা মোতায়েনের দাবি করিনি। আমরা বলেছি যে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। শান্তিপূর্ণভাবে যাতে নির্বাচন হয় তা নিশ্চিত করা। এখন নির্বাচন কমিশন যদি অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে মনে করে তাদের হাতে যেসব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে তারা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করবে না বা করতে পারবে না সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাদের দায়িত্ব শান্তিপূণভাবে নির্বাচন নিশ্চিত করা। সেজন্য যদি সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হয় তাহলে তারা তা করবে।   প্রশ্ন : ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে বিভক্ত করার পর এই প্রথম সেখানে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, দু’টি সিটি কর্পোরেশন পরিচালনার জন্য যেরকম আলাদা আলাদা অবকাঠামো প্রয়োজন তা কি তৈরি হয়েছে, নাকি নির্বাচিত মেয়রদের অবস্থা উপজেলা চেয়ারম্যানদের মতো হবে? আপনার কি মনে হয়?   বদিউল আলম মজুমদার: অবকাঠামো অবশ্যই তৈরি হয়নি। দক্ষিণের জন্য একটা অবকাঠামো আছে যদিও তা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খুব ভালো অবস্থায়  নেই। আর উত্তরের জন্য  কোনো অবকাঠামো নেই। আর এ সম্পর্কে আমি আগে বলেছি এবং লিখেছি যে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে ভেঙে দুইভাগে ভাগ করা যৌক্তিক সিদ্ধান্ত ছিল না। এটা কোনোভাবেই চিন্তাশীল সিদ্ধান্ত ছিল না। ঢাকাকে দুইভাগে ভাগ করা পুরোপুরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং এর কোনো যৌক্তিকতা আমরা দেখতে পাই না। ঢাকা মহানগরীকে যদি বাসযোগ্য করতে হয় এবং একে যদি আধুনিক পরিকল্পিত শহরে পরিণত করতে হয় তাহলে আবারও ভাগ হয়ে যাওয়া দুটো সিটিকে জোড়া লাগিয়ে এক করতে হবে। কারণ আমাদেরকে নগর সরকারের ধারণায় অবশ্যই যেতে হবে। অর্থাৎ ওয়াশা, ডেশা, রাজউকসহ এধরণের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে সিটি করপোরেশনের আওতায় আনতে হবে। দুটো ওয়াশা, দুটো পুলিশবাহিনী, দুটো রাজউক কোনোভাবেই কাংখিত হবে  না। ফলে দুটো সিটিকে আবার একত্রে করা উচিত বলে আমি মনে করি।   প্রশ্ন : সিটি নির্বাচনে মেয়রপ্রার্থীরা যেসব মেনুফেস্টো দিয়েছে সেখানে কি তাদের ক্ষমতার এখতিয়ার বহির্ভূত কিছু থাকছে কি না, মেনুফেস্টো সম্পর্কে আপনি কি বলবেন?   বদিউল আলম মজুমদার: প্রার্থীদের মেনুফেস্টো বিধির বাইরে যাচ্ছে না। তারা তাদের এসব বক্তব্য দিতেই পারে। এক্ষেত্রে ভোটারদের  উচিত হবে বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে তবে ভোট দেবেন। আমরা মুখোমুখি একটা অনুষ্ঠান করেছি যেখানে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদপ্রার্থীদের প্রায় সবাই এসেছিলেন। তারা তাদের বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরেছেন এবং নানারকম প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। আমরা সুজনের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের হলফনামায় দেয়া তথ্যগুলো প্রকাশ করেছি। এখন আমি বলবো সিটি নির্বাচনে ভোটাররা তাদের বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করবেন।   আরেকটা কথা আপনি প্রশ্নের মধ্যে করেছেন যে হলফনামায় কোনো প্রার্থী মিথ্যা তথ্য দিলে বা কোনো তথ্য গোপন করলে নির্বাচন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের হলফনামা ঠিকমতো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখছে না। তবে আমি মনে করি এগুলো গভীরভাবে অনুসন্ধান করা দরকার। এগুলো অনুসন্ধান করে যারা মিথ্য তথ্য বা অসত্য তথ্য দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে যদি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তাহলে আমাদের নির্বাচনের অঙ্গন অনেকটা কলুষমুক্ত হতে পারবে।   প্রশ্ন : সবশেষে জানতে চাইবো সামগ্রিক বিবেচনায় সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে আপনি মনে করেন?   বদিউল আলম মজুমদার: দেখুন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কিনা সে বিষয়ে মন্তব্য করা সত্যিই দুরূহ। তবে আমরাতো আশাকরি সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হবে। আর এটা হওয়া উচিত। আর এটা যদি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ না হয় তাহলে জটিলতা আরো বাড়তে পারে। আবার অস্থিরতা এবং সহিংসতা বাড়তে পারে। তবে সেটা কারও জন্য কাম্য নয়। আমি আশাকরি সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে এ ব্যাপারে শুভ বৃদ্ধির উদয় হবে এবং তারা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করবেন।

বিস্তারিত»

বিশেষ কলাম

ব্যালেট ব্যাক্স ও একটি দেশ  - রাকেশ রহমান

নির্বাচন হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের এমন একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে জনগণ প্রশাসনিক কাজের জন্য একজন প্রতিনিধিকে বেছে নেয়। সপ্তদশ শতক থেকে আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে নির্বাচন একটি আবশ্যিক প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে আইনসভার পদগুলি পূরণ করা হতে পারে, কখনও আবার কার্যনির্বাহী ও বিচারব্যবস্থা ছাড়াও আঞ্চলিক এবং স্থানীয় সরকারে প্রতিনিধি বাছাইও নির্বাচনের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। এই নির্বাচন প্রক্রিয়া আবার প্রয়োগ হয় বহু বেসরকারী সংস্থা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানেও। ক্লাব বা সমিতি থেকে আরম্ভ করে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও কর্পোরেশন বা নিগমেও এই প্রক্রিয়ার ব্যবহার করা হয়। আধুনিক গণতন্ত্রে প্রতিনিধি বাছাইয়ের উপায় হিসেবে নির্বাচনের সার্বজনীন ব্যবহার করা হচ্ছে। গণতন্ত্রের আদি চেহারা এথেন্সে নির্বাচনকে যেভাবে ব্যবহার হতো তার তুলনায় এটি অনেকটাই বিপরীত। নির্বাচনকে শাসকগোষ্ঠীর একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার বেশিরভাগ দপ্তরই পূরণ করা হতো বাছাইয়ের মাধ্যমে। এই নির্বাচন দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া বা অ্যালটমেন্ট নামেও পরিচিত ছিল, এর মাধ্যমেই পদাধিকারীদেরও বেছে নেওয়া হতো। যেখানে নির্বাচনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই সেখানে সুষ্ঠু ব্যবস্থা চালু করা অথবা বর্তমান ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতাকে আরো বাড়ানোর প্রক্রিয়াকেই নির্বাচনী সংস্কার বলে বর্ণনা করা হয়। নির্বাচনের ফলাফল ও এ সংক্রান্ত অন্যান্য পরিসংখ্যান নিয়ে গবেষণাকে (বিশেষ করে আগাম ফলাফল আন্দাজ করার বিষয়টি) সেফোলজি বলে। নির্বাচিত করা-র মানে হলো "বাছাই করা অথবা একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া" এবং কোনো কোনো সময় অন্য ধরনের ব্যালট ব্যবহার হলেও যেমন গণভোটে হয়ে থাকে, তাকেও নির্বাচন হিসেবেই উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই গণভোট ব্যবস্থা রয়েছে। ‘দ্য স্পিরিট অব লজ’ বইয়ের দ্বিতীয় খন্ডের দ্বিতীয় অধ্যায়ে মন্টেসকিউই বলেছেন যে প্রজাতন্ত্র অথবা গণতন্ত্র যে কোনো ক্ষেত্রের ভোটেই হয় দেশের প্রশাসক হও অথবা প্রশাসনের অধীনে থাকো —এই দুটি অবস্থার মধ্যেই পর্যায়ক্রমে ভোটারদের থাকতে হয়। নিজেদের দেশে কোন সরকার আসবে তা বাছাই করার ‘মালিক’বা ‘মাস্টার’ হিসেবে কাজ করে ভোটাররাই, ভোট দিয়ে একটি সার্বভৌম (অথবা শাসক) ব্যবস্থাকে চালু রাখে জনসাধারণই। সভ্যতার ইতিহাসের প্রাচীন কাল থেকেই প্রাচীন গ্রীস ও প্রাচীন রোমে নির্বাচনের ব্যবহার হয়ে আসছে এবং গোটা মধ্যযুগে পবিত্র রোমান সম্রাট ও পোপের মত শাসক বাছাই করতেও নির্বাচনের ব্যবহার হতো। প্রাচীন ভারতে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রজারা বাছাই করতেন রাজাদের। প্রাচীন ভারতের খালিফ, উঠমান এবং আলি, মধ্যযুগের গোড়ার দিকে রশিদুন খলিফৎ এবং বাংলার মধ্যযুগের গোড়ার দিকে পাল রাজাদের মধ্যে গোপালকে বাছাই করতে এই নির্বাচন করা হয়েছিল। তবে আধুনিক ‘নির্বাচন’ হলো জনগণের ভোটে সরকার নির্বাচন। সপ্তদশ শতাব্দীর একেবারে শুরুর দিকে উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপে যখন প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠনের ধারণা এলো তার আগে পর্যন্ত অবশ্য জনসাধারণকে দিয়ে সরকারী পদাধিকারী বাছাইয়ের এই আধুনিক ‘নির্বাচন’ বিষয়টির আবির্ভাবই হয়নি। নির্বাচনের ইতিহাসের অনেকটা জুড়েই রয়েছে ভোটাধিকারের প্রশ্নগুলি, বিশেষ করে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলির ভোটাধিকার। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের সংস্কৃতিতে প্রভাবশালী গোষ্ঠী ছিল পুরুষরাই, নির্বাচকমণ্ডলীতেও তাই এদেরই প্রাধান্য থাকতো, অন্যান্য বহু দেশেও এই একই ধারা চলে আসছিল গ্রেট ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলিতে শুরুর দিকের নির্বাচনগুলিতে জমিদার অথবা শাসক শ্রেণীর পুরুষদের প্রাধান্য ছিল। ১৯২০ সাল পর্যন্ত অবশ্য পশ্চিম ইউরোপের সমস্ত দেশ এবং উত্তর আমেরিকার গণতন্ত্রে সর্বজনীনভাবেই পুরুষ ভোটাধিকার চালু ছিল এবং তার পর থেকেই বহু দেশ মহিলাদের ভোটাধিকার দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছিল। পুরুষদের সর্বজনীন ভোটাধিকারের কথা আইনগতভাবে সিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও অনেক সময়েই অবাধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাধা অন্তরায় সৃষ্টি করতো বর্তমানে এখন পুরুষ এবং মহিলাদের সমান ভোটের অধিকার রয়েছে। নির্বাচনের ধরনসমূহ বেশিরভাগ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন জন-প্রশাসনিক স্তর অথবা ভৌগোলিক ব্যাপ্তির ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরণের নির্বাচন হয়। সাধারণ ধরনের কিছু নির্বাচন হলো: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সাধারণ নির্বাচন প্রাথমিক নির্বাচন উপনির্বাচন স্থানীয় নির্বাচন কো-অপশান বাছাই করে গ্রহণ করা গণভোট বা রেফারেণ্ডাম (বহুবচন হলো রেফারেণ্ডামস অথবা রেফারেণ্ডা) নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত একটি গণতান্ত্রিক হাতিয়ার যাতে একটা সাধারণ নীতি অথবা নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থী বা দলের বদলে নির্বাচক মণ্ডলী কোনো নির্দিষ্ট প্রস্তাব, আইন অথবা নীতির পক্ষে বা বিপক্ষে তাদের মতামত জানায়। গণভোট একটা নির্বাচনী ব্যালটের সঙ্গেও জুড়ে দেওয়া হতে পারে অথবা পৃথকভাবেও নেওয়া হতে পারে এবং সচরাচর সংবিধানের ওপর নির্ভরশীল থেকেই এই গণভোট নির্দেশমূলক বা পরামর্শমূলক দুরকমই হতে পারে। সরকার সচরাচর আইনসভার মাধ্যমেই গণভোটের ডাক দেয়, যদিও বহু গণতন্ত্রেই নাগরিকের সরাসরি গণভোটের ডাক দেওয়ার অধিকার রয়েছে, যাকে ইনিশিয়েটিভস বলা হয়ে থাকে। সুইজারল্যাণ্ডের মতো প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে গণভোটগুলি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ। মূল সুইস ব্যবস্থা যদিও এখনও প্রতিনিধিমূলক ব্যবস্থা হিসেবেই কাজ করে। বেশিরভাগ প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে যে কেউই যে কোনো কিছুকেই ভোট দিতে পারে। এটা ঘনিষ্ঠভাবেই গণভোটের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এবং সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আকার নিতে পারে। প্রাচীন গ্রীক ব্যবস্থার স্মারকস্বরূপ, যেকোন ব্যক্তিই ঐক্যমত্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারে। সর্বসম্মতির প্রয়োজনীয়তার অর্থ হল দীর্ঘসময় ধরে আলোচনা চালানো। আর ফলাফল হবে যারা প্রকৃতভাবেই উৎসাহী তারাই আলোচনায় অংশগ্রহণ করবে এবং তার জন্যই নির্বাচন। কারা ভোট দিতে পারবে সেই প্রশ্নটাই হলো নির্বাচনের মূল বিষয়। সাধারণত সমগ্র জনসমষ্টিই নির্বাচকমণ্ডলী হয় না। উদাহরণস্বরূপ, বহু দেশই মানসিকভাবে অসমর্থদের ভোটদান থেকে বিরত রাখে, এবং সব দেশের আইনেই ভোট দেওয়ার একটা ন্যূনতম বয়স প্রয়োজন। নির্বাচনী ব্যবস্থা হলো একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ সাংবিধানিক বন্দোবস্ত এবং ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা। যা ভোটকে বদলে দেয় একটা নির্ধারণকারী ব্যবস্থায় যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসার জন্য নির্বাচিত হয়। স্বচ্ছ্বতা ও দায়বদ্ধতাকে গনতন্ত্রের একটা স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আবার ভোটদান প্রক্রিয়া এবং ভোটারের ব্যালটের বিষয়বস্তুও সচরাচর একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম। গোপন ব্যালট ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে একটা আধুনিক পর্যায় তবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একে এখনো খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ ভীতিপ্রদর্শনের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এই গোপন ব্যালট ব্যবস্থা। গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য হলো নির্বাচিত প্রতিনিধিরা মানুষের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে এবং তারাই আদৌ ক্ষমতায় থাকবে কি না তা নিয়ে ভোটারদের রায় জানতে নির্ধারিত সময়ে তারা আবার ভোটারদের মুখোমুখি হবে। এই কারণেই বেশিরভাগ গণতান্ত্রিক সংবিধানে নির্দিষ্ট সময় অন্তর নিয়মিতভাবে নির্বাচন হওয়ার কথা বলা রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ প্রদেশে প্রতি তিন ও ছয় বছর অন্তর ভোট হয়। ব্যতিক্রমস্বরূপ, মার্কিন প্রতিনিধি সভা (ইউ এস হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস), সেখানে আবার প্রতি দু’বছর অন্তর ভোট হয়। অনেক ধরনের সময়সূচী আছে, উদাহরণস্বরূপ রাষ্ট্রপতি: আয়ারল্যাণ্ডের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন প্রতি সাত বছর অন্তর, ফিনল্যাণ্ডের রাষ্ট্রপতি প্রতি ছ’বছরে, ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি প্রতি পাঁচ বছরে, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন প্রতি চার বছর অন্তর। পূর্ব-নির্ধারিত অথবা নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিন থাকলে তার স্বচ্ছ্বতা ও ভবিষ্যদ্বাণীর সুবিধা হয়। যদিও এর ফলে অত্যন্ত দীর্ঘ প্রচারের ঝোঁক তৈরি হয়। আবার হয়তো সেই পূর্ব-নির্ধারিত ভোটের দিনটি এমন সময় পড়লো যখন আইনসভা (সংসদীয় ব্যবস্থা) ভেঙে দেওয়া খুবই অনিশ্চিত বা সমস্যাসঙ্কুল। যেমন যদি যুদ্ধ লাগে তখন মোটেই ভেঙে দেওয়া সমীচীন নয়। অন্যান্য রাষ্ট্রে (যেমন গ্রেট ব্রিটেন) আবার সরকার তার সর্বোচ্চ মেয়াদকাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারে এবং সেক্ষেত্রে কার্যনির্বাহীরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে সেই মেয়াদকালের মধ্যে ঠিক কোন সময়ে ভোট হবে। এতে ব্যবহারিকভাবে দাঁড়াচ্ছে এই যে, সরকার তার পূর্ণ মেয়াদ ক্ষমতায় টিঁকে থাকবে এবং তার হিসেবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বা অনুকূল সময়ে তারা ভোট করবে (যদি না অনাস্থা প্রস্তাবের মতো বিশেষ কিছু ঘটে)। ভোটের দিনক্ষণের এই হিসেব নিকেষটা নির্ভর করে জনমত সমীক্ষায় তাদের সম্ভাবনা কেমন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাপের মতো নানা পরিবর্তনশীল বিষয়ের ওপর। যখন নির্বাচন হয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা ও তাদের সমর্থকরা ভোটারদের কাছে সরাসরি আবেদনের মাধ্যমে তাদের নীতি তুলে ধরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে, একেই বলা হয় নির্বাচনী প্রচার। প্রচারের জন্য সমর্থকরা হয় আনুষ্ঠানিকভাবেই সংগঠিত হয় অথবা স্বেচ্ছায় জুড়ে যায় এবং নিয়মিতভাবেই প্রচার বিজ্ঞাপনের ব্যবহার করে। রাজনৈতিক পূর্বাভাস-এর মাধ্যমে ভোটের ভবিষ্যদ্বাণী করা রাজনৈতিক বিজ্ঞানীদের কাছে খুবই সাধারণ ব্যাপার। এছাড়াও নির্বাচন প্রক্রিয়া যদি কোন সরকার কর্তৃক পরিচালিত হয় যেমন বর্তমানে বাংলাদেশে তিনটি সিটি মেয়র নির্বাচনে নিম্নের ইতিহাস পর্যালোচনার সত্যতা উঠে আসেঃ এমন বহু দেশই আছে যেখানে আইনের শাসন দুর্বল, আর সেই প্রশাসনিক দুর্বলাতাই হলো সেই দেশগুলিতে আন্তর্জাতিক মানের ‘সুষ্ঠু ও অবাধ’ ভোট না হতে পারার সাধারণ কারণ, কেননা সেসব দেশে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় থাকা সরকার অনাধিকার হস্তক্ষেপ করে থাকে। যতই জনগণের মতামত তাদের অপসারণের পক্ষে থাকুক স্বৈরাচারী শাসকরা ক্ষমতায় টিকে থাকতে প্রশাসনিক (পুলিশ , সামরিক আইন, সেন্সরশিপ, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় পেশীশক্তির ব্যবহার প্রভৃতি) ক্ষমতার অপব্যবহার করে। নির্বাচনের মাধ্যমে বিরোধী গোষ্ঠী যাতে তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে না পারে তার জন্য আইনসভায় কোনো একটি গোষ্ঠী গরিষ্ঠতা অথবা চরম গরিষ্ঠতার ক্ষমতাকে কাজে লাগায়। যেমন, ফৌজদারি আইন পাস করা, নির্বাচনী প্রক্রিয়া, প্রতিদ্বন্দ্বিতার যোগ্যতা ও ভোগোলিক সীমার ক্ষেত্রেও হেরফের ঘটানো ইত্যাদি। পেশী শক্তির ব্যবহার, মৌখিকভাবে ভীতি প্রদর্শন অথবা ভোটদান বা ভোটগণনায় জালিয়াতি ইত্যাদি দ্বারা বেসরকারী ও স্বতন্ত্র সত্তাগুলিও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারে। যেসব দেশে সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটের ঐতিহ্য রয়েছে সেখানেও নির্বাচনী জালিয়াতির মাত্রা ন্যূনতম করে আনা ও নজরদারি বা পর্যবেক্ষণ হলো একটি চলমান প্রক্রিয়া। কোনো একটি নির্বাচনকে ‘সুষ্ঠু ও অবাধ’ করার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী সমস্যাগুলি বিভিন্ন স্তরে দেখা দিতে পারে: খোলাখুলি রাজনৈতিক বিতর্কের অথবা একটি ওয়াকিবহাল নির্বাচক মণ্ডলীর অভাব_ সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার অভাব, রাষ্ট্র ও কর্পোরেট দুনিয়ার নিয়ন্ত্রণের কারণে সংবাদ মাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠতার অভাব অথবা সঠিক খবর পাওয়া ও রাজনৈতিক মাধ্যম যথাযথ হাতে না পৌঁছানোর ফলে বিভিন্ন ইস্যু অথবা প্রার্থী সম্পর্কে হয়তো নির্বাচকমণ্ডলীর কম জানা, বোঝা থাকতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করতে গিয়ে অথবা রাষ্ট্রের মতবাদের পক্ষে প্রচার করতে গিয়ে কখনও কখনও রাষ্ট্রের মাধ্যমে বাক-স্বাধীনতাও খর্ব হতে পারে। অন্যায় নিয়ম_ গেরিম্যান্ডারিং (নির্বাচনে কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীকে অন্যায় সুবিধাদানের জন্য অসদুপায় অবলম্বন করা), নির্বাচিত হবার যোগ্যতা থেকে বিরোধী প্রার্থীদের বাদ দেওয়া, নির্বাচনী সাফল্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে ভোটদান প্রক্রিয়াকে নিজের পক্ষে সুবিধাজনক করা। এগুলি সেই উপায়গুলির মধ্যে পড়ে যার মাধ্যমে একটা নির্বাচনকে কোনো নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠী বা প্রার্থীর পক্ষে বদলে দেওয়া যায়। প্রচারে অনাহুত হস্তক্ষেপ_ নির্বাচন প্রার্থীকে গ্রেপ্তার অথবা তাঁকে খুন করে, প্রচার কাজ দমন করে (বক্তৃতা, পোস্টার, সম্প্রচার, বিজ্ঞাপন), প্রচার সদর দপ্তর জোর করে বন্ধ করে, অপরাধমূলক প্রচার চালিয়ে যাওয়া , প্রচার কর্মীদের হেনস্থা ও মারধর করা , ভোটারদের হুমকি দিয়ে ভয় দেখিয়ে বা বাস্তবেই হিংসা চালিয়ে যাওয়া। নির্বাচন ব্যবস্থায় গরমিল_ কীভাবে ভোট দিতে হবে সে সম্পর্কে ভোটারদের বিভ্রান্ত করে বা ভুল বুঝিয়ে, গোপন ব্যালট ব্যবস্থার ব্যাঘাত ঘটিয়ে, ছাপা ভোট দিয়ে, ভোট যন্ত্রে গরমিল করে, বৈধ ভোটকে নষ্ট করে, ভোটারদের মারধর করে, ফলাফল সারণিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে জালিয়াতি করে এবং ভোটকেন্দ্রে পেশীশক্তির ব্যবহার অথবা মৌখিক হুমকি দিয়ে নির্বাচন ব্যবস্থায় গরমিল করা। এই সকল ক্ষেত্রেই কোন সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনে নিরপেক্ষতার কোন সম্ভাবনা নেয়। বাংলাদেশের তিন সিটি নির্বাচনে নির্বাচনী প্রচারণায় যেভাবে বিরোধী দলের প্রার্থীদের উপর হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হচ্ছে এতে নির্বাচনের পরিবেশ তো তৈরিই হয়নি আর নিরপেক্ষতার প্রশ্নই আসে না। যেমন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে এখনও আত্ম গোপন থাকতে হচ্ছে সরকার প্রশাসনিক হয়রানির ভয়ে এছাড়াও অনেক কাউন্সিলার প্রার্থীরা জেলে থেকে নির্বাচন করছেন। তাদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা কেউ করতেই পারেনি বরং তাদের পোলিং এজেন্ট হতেও তাদের জীবনের হুমকি আসছে যা পরীক্ষিত যেমন পুরাণ ঢাকা ৪৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার প্রার্থী ফরিদ উদ্দিন ফরিদ জেল থেকেই নির্বাচন করছেন। তারপরও ভোটারদের নৈতিক দায়িত্ব " আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দিবো তবে কাউকে আমার ভোটার আইডি কার্ড দিবো না " এই শ্লোগানেই মুখরিত হয়ে উঠুক পরিবেশ নির্বাচনের দিনে। আর গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যহত রাখতে একটি সুরক্ষিত ব্যালেট ব্যাক্সই এনে দিতে পারে একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক দেশ। - রাকেশ রহমান ( লেখক, প্রেসিডিয়াম সদস্য ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি )  

বিস্তারিত»

এক্সক্লুসিভ

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জনগনকে হাজার বছরের জন্য ভারতীয় গোলামীতে পরিনত করার চক্রান্ত করছে

আবদুস সালাম খান:আশির দশকে অর্থ্যাৎ ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত আমি ঢাকাস্থ লিবীয় দূতাবাসে তথ্য, জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগে দায়ীত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলাম। ঐ সময় বিভিন্ন কারনে লিবিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করত। তার মধ্যে দুটো বিষয় ছিল সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপুর্ন। প্রথমতঃ  লিবিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপের সাথে চরম বিরোধের বিষয়। দ্বিতীয়তঃ  ১৫ই আগষ্ট সামরিক অভ্যুল্থানের মাধ্যমে স্বপরিবারে শেখ মুজবুর রহমানকে হত্যা করে  লিবিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করে বাংলাদেশে ফ্রিডম পার্টি প্রতিষ্ঠা করে  ভারতীয় আগ্রাসনের মোকাবিলা করে বাংলাদেশে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই অব্যাহত রাখার বিষয়। এসব কারনে এরশাদ আমলে লিবীয় দূতাবাস সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা সমূহের বিশেষ নজরদারিতে ছিল। ঢাকাস্থ লিবীয় দুতাবাস বা লিবীয় পিপলস ব্যুরোর তথ্য, জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের দায়ীত্বে থাকায় স্বাভাবিক কারনে বাংলাদেশের সরকারী গোয়েন্দ সংস্থা বিশেষ করে এনএসআই ও ডিজিএফআই বিভিন্ন বিষয় আমার নিকট থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করত। ঐ সময় এনএসআই এর ডিজি মেজবা সাহেব কয়েকবার গোয়েন্দা সংস্থার গাড়ী পাঠিয়ে আমাকে তার অফিসে নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ন বিষয় জানতে চাইতেন এবং আলোচনা করতেন। অনেক সময় তার অফিসে ডিজিএফআই এর কর্মকর্তাও উপস্থিত থাকতেন। এসব প্রসংগে বিভিন্ন তথ্য পরবর্তি লেখায় তুলে ধরার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।   এবারে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো তা হোল, আহমেদ বদরী নামে লিবীয় দূতাবাসের জনৈক কুটনীতিক কর্নেল সৈয়দ ফারুকুর রহমান ও কর্নেল খন্দকার আবদুর রশিদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ফ্রিডম পার্টির কর্মকান্ড সম্পর্কে লিবিয়ায় নিয়মিত রিপোর্ট পাঠাত। আহমেদ বদরীর অনুরোধে এ প্রসংগে কিছু কিছু তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ফ্রিডম পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল সৈয়দ ফারুকুর রহমানের সাথে আমার বিশেষ সখ্যতা গড়ে উঠে। তার সাথে আমার এ ব্যাক্তিগত সম্পর্কের কারনে আমি কয়েকবার তার ক্যান্টনমেন্টের বাসায় গিয়ে  বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করার সুযোগ পেয়েছিলাম।  প্রথম বার গিয়েছিলাম একটি বিষয়ে কর্নেল ফারুককে সরাসরি একটি প্রশ্ন করতে। বিষয়টি ছিল এরশাদ আমলে একবার কিছু পত্রপত্রিকায় খবর বেড়িয়েছিল যে, কর্নেল ফারুক শেখ হাসেনাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করছেন। তিনি শেখ হাসিনাকে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ন্যায় তাকেও কি তিনি সত্যিই হত্যার পরিকল্পনা করছেন কিন্া আমি কর্নেল ফারুকের কাছে সরাসরি জানতে চাই ? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, শেখ হাসিনাকে আমার হত্যা করার কোন পরিকল্পনা নেই। এটা সম্পুর্ন একটি গুঁজব ও ঢাহা মিথ্যা প্রচারনা। তিনি আরো বলেন, আমি চাই শেখ হাসিনা বেঁচে থাকুক এবং রাজনীতি করে বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসুক। তাহলে এদেশের মানুষ বুঁঝতে পারবে আমরা কেন শেখ মুজিব, শেখ মনি ও আবদুর রব সেরনিয়াবাদকে হত্যা করেছিলাম। তিনি বলেন, দেশবাসী হয়তো ভুলে গেছে  যে বাকশাল প্রতিষ্ঠার আগে ও পরে রক্ষী বাহিনী দিয়ে শেখ মুজিব, তার ভাগ্নে শেখ মনি ও তার বোন জামাই আবদুর রব সেরনিয়াবাদ কত মানুষ হত্যা, অপহরন ও গুম করেছে। কি পরিমান জুলুম ও অত্যাচার তারা দেশবাসীর উপর করেছে তা দেশবাসীর জানা আছে। স্বৈরাচার শেখ মুজিবের রক্ত শেখ হাসিনার দেহে প্রবাহিত। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে শেখ মুজিবের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পুনরায় দেশে একদলীয় দুঃশাসন প্রতিষ্ঠা করে দেশের মানুষকে আবার ৭২-৭৫ এর মৃত্যুপুরীতে পরিনত করবে। আওয়ামী লীগ কখনই গনতন্ত্রে বিশ্বাস করে না এবং বাংলাদেশে অন্য কোন দলের অস্তিত্বকে স্বীকার করে না। বাংলাদেশে ও বিশ্বের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ একটি ফ্যাসিষ্ট দল হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকবে, যদি বাংলাদেশে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত থাকে। কিন্তু শেখ হাসিনা চাইবে দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে। ফলে দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। দেশকে লুটপাটের সর্গরাজ্যে পরিনত করবে। হত্যা, অপহরন, গুমসহ নির্বিচারে প্রতিপক্ষের নেতাকর্মিদের নিধন করে শেখ হাসিনা তার ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে চাইবে। সীমাহীন দুর্ভোগে দেশের মানুষ পুনরায় দুঃশাসন থেকে মুক্তির আশায় অতিষ্ট হয়ে উঠবে। তখন দেশের মানুষ শেখ মুজিবের ন্যায় শেখ হাসিনার মৃত্যু ও পতন কমনা করবে এবং দেশের মানুষ তখনই আমকে স্মরন করবে। তার কারন স্বাধীনচেতা বাংলাদেশের মানুষ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময় অর্জিত স্বাধীনতাকে বিদেশের কাছে বিকিয়ে দিবে না। কর্নেল ফারুকের সাথে আমার এ আলোচনার সময় একটি টেলিফোন কল আসে এবং টিলিফোন কলটি রিসিভ করার জন্য তিনি ভিতরে প্রবেশ করেন। টেলিফোন সংলাপ শেষ করে তিনি আবার ড্রইং রুমে এসে আমাকে বলেন, এইমাত্র টেলিফোনে এরশাদ সরকারের পক্ষ থেকে একটি জমির প্লট বরাদ্ধের অফার আসলো। ( আমর যতদুর মনে পড়ে সম্ভবতঃ ১০ কাঠা বা এক বিঘার প্লট ) কিন্তু আমি তা গ্রহন করতে অস্বীকার করলাম এবং সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলাম। অবৈধভাবে আমি কোন রাষ্ট্রীয় সুযোগ নিতে চাই না। কত বড় মনের মানুষ, একজন সৎ ও নিঃস্বার্থবাদি দেশপ্রেমিক মানুষ হলে কেবল এ ধরনের একটি অফার প্রত্যাখ্যান করতে পারেন!  উল্লেখ্য কর্নেল ফারুক ছিলেন একজন জাতীয় বীর। জাতির এক চরম সংকট মূহুর্তে তিনি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিলেন। একদলীয় দুঃশাসন থেকে দেশের মানুষকে মুক্তি দিয়েছিলেন। এই জাতীয় বীরের ঐতিহাসিক ভুমিকার কারনে দেশে বাকশালী দুঃশাসনের অবসান ঘটেছিল। তার ভুমিকার কারনেই দেশে গনতস্ত্র প্রতিষ্ঠার সুবর্ন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। জিয়াউর রহমান ও তার দল বিএনপি, জামাযাত, ন্যাপ ও অন্যান্য দল বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছিল। গনমাধ্যম স্বাধীনভাবে পুনরায় মত প্রকাশের সুযোগ লাভ করেছিল। ১৫ই আগষ্টের অভ্যুল্থান না ঘটলে দেশে বহুদলীয় গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃর্ষ্টি হোত না। অথচ দুই হাজার সালে বিএনপি-জমায়াত জোট ক্ষমতায় এসে জাতীয় বীর ও মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল সৈয়দ ফারুকুর রহমানের মত  ত্যাগী ও দেশপ্রেমিক একজন মহান নেতাকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছিল। এ কারনেই বিএনপি জামায়াত জোটকে খেশারত দিতে হচ্ছে এবং আরো খেশারত দিতে হবে। যে জাতি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারী জাতীয় বীরকে রক্ষা করতে পারে না তারা কি করে ভারতীয় আগ্রাসনের মোকাবিলা করবে ? কর্নেল ফারুক, কর্নেল শাহরিয়ার রশিদ খান, মেজর বজলুল হুদা ও মহিউদ্দিনকে ফাঁসী কাষ্টে ঝুলিয়ে আওয়ামী লীগ বাম-নাস্তিকদের নিয়ে একের পর এক ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ’র’ এর নীলনকশা বাস্তবায়ন করে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় হাসিনা সরকার বিডিআর হত্যাকান্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনীকে দলীয় সেনাবাহিনীতে পরিনত করেছে, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সংবিধানকে দলীয় সংবিধানে পরিনত করেছে। রাষ্ট্রীয় বিচার বিভাগকে দলীয় বিচার বিভাগে পরিনত করেছে, রাষ্ট্রীয় আইন শৃঙ্খলা  বাহিনীকে দলীয় বাহিনীতে পরিনত করেছে, রাষ্ট্রীয় প্রশাসনকে দলীয় প্রশাসনে পরিনত করেছে, রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি দমন কমিশনকে দলীয় কমিশনে পরিনত করেছে, রাষ্ট্রীয় নির্বাচন কমিশনকে দলীয় নির্বাচন কমিশনে পরিনত করে একের পর এক বাকশালী নীলনকশা বাস্তবায়ন সম্পন্ন করেছে। এছাড়া জাতিকে অন্ধকারে রেখে ২০১০ সালে ভারতের সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী ১০ দফা গোপন চুক্তি করেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে এ পর্যন্ত শেয়ার বাজার থেকে, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে, ডেসটিনি থেকে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা লুট করেছে। গন মাধ্যমের স্বাধীনতা হরন করেছে। অর্থ্যাৎ শেখ হাসিনা সম্পর্কে কর্নেল ফারুকের সকল ভবিশ্যৎবানী অক্ষরে অক্ষরে প্রমানিত হয়েছে। কর্নেল ফারুক ছিলেন জাতীয় বীর আর তার বিপরীতে শেখ মুজিব ছিলেন জাতীয় বেইমান। দেশবাসী তা ভাল করেই জানে। জানে বলেই দেশবাসী আজ বেইমানদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রত্যাখ্যাত বেইমানরা তাই আজ অবৈধ ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য জনগনের অর্থে প্রতিষ্ঠিত র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবিকে নির্লজ্বভাবে জনগনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে, যার নজির বিশ্ব ইতিহাসে নেই। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিকদের হত্যা করে বিরোধী দলের গনতান্ত্রিক অধিকার হরন করে নির্লজ্বভাবে ক্ষমতায় থাকতে হবে- এরকম স্বৈরাচার বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের কোথাও নেই। তার পরেও আমি বলবো, ১৫ই আগষ্টের ঐতিহাসিক বিজয়কে অবলম্বন করেই আমদের এগিয়ে জেতে হবে। আজ গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে লড়াই চলছে তা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। স্মরন রাখতে হবে, দেশে ৭১ এর ন্যায় আর একটি মুক্তিযুদ্ধ চলছে। একমাত্র ঢাকা ছাড়া গোটা দেশ মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে রয়েছে। শুধু ঢাকা শহর দখলদার বাহিনীর অধীনে আছে। বাম, নাস্তিক ও ভারতীয় দালালদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ভারতীয় সাবেক কংগ্রেস সরকারের সরাসরি সমর্থন ও চক্রান্তের মাধ্যমে মাত্র ৫ ভাগ মানুষের সমর্থন নিয়ে ৫ই জানুয়ারি জনসমর্থনহীন একটি প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসে আছে। গনবিপ্লবের মাধ্যমে এই অবৈধ একদলীয় স্বৈরাচারী দখলদার বাহিনীকে হটিয়ে দেশে গনতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নির্বিচারে মানুষ হত্যা, অপহরন, গুম, নির্যাতন, জুলুম, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও লুটপাটের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশে হত্যার রাজনীতি শুরু করেন স্বৈরাচার ও ডিক্টেটর শেখ মুজিব। শেখ মুজিব রক্ষীবাহিনী দিয়ে জাসদসহ বিভিন্ন বিরোধী শিবিরের ৩০ হাজার নেতাকর্মিকে হত্যা করেছিল। তার কন্যা শেখ হাসিনা তার মরহুম পিতার অনুকরনে আজ হত্যার রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। তার এই হত্যার রাজনীতির সাথে বাম-নাস্তিকরা ছাড়াও পতিত স্বৈরাচার ও জাতীয় ভন্ড এরশাদ-রওশন ক্ষমতার ভাগাভাগি করে অবৈধ সংসদে বর্তমান বিশ্বে এক নজিরবিহীন বিরোধী দলে অবস্থান নিয়েছে। বর্তমান সংসদের তথাকথিত বিরোধী দলীয় নেত্রী  রওশন বিগত এরশাদ আমলে লক্ষ হাজার কেটি টাকা লুট করে বিশ্বে এক লুটেরা নারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। আজ এই দুই লুটেরা ও স্বৈরাচার অপশক্তি বাংলাদেশকে ধ্বংশের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। ১৭৫৭ সালে মীর জাফরের চক্রান্তের ফলে বাংলার মানুষ ২০০ বছর বৃটিশের গোলামী করেছিল। বিশ্বাসঘাতক শেখ মুজিব এর কন্যা শেখ হাসিনা মীর জাফরের ন্যায় বাংলাদেশের জনগনকে হাজার বছরের জন্য ভারতীয় গোলামীতে পরিনত করার চক্রান্ত করছে। এ চক্রান্তের মুকাবিলা করা দেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের কর্তব্য। এছাড়া এ চক্রান্ত প্রতিরোধ করার জন্য প্রবাসী নাগরিকদেরও মুখ্য ভুমিকা পালন করতে হবে। সে লক্ষ্যেই বাংলাদেশী প্রবাসী ঐক্যজোট গঠন করা হয়েছে। প্রবাসীদের পক্ষ থেকে আমরা শেখ পরিবারের হত্যা ও লুটপাটের রাজনীতির সাথে সহযোগিতা না করার জন্য পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি নেতৃত্বকে হুশিয়ার করে দিতে চাই। বাংলাদেশে দলীয় রাজনীতির নামে মানুষ হত্যা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশে আজ এই সর্বনাশা পরিস্থিতির জন্য শেখ মুজিব, শেখ হাসিনা ও তাদের পরিবারই দায়ী। ভারত ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশকে চিরস্থায়ীভাবে গোলাম বানিয়ে রাখার জন্য শেখ পরিবারকেই ব্যবহার করছে। তাই এরা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী বিরোধী জোটকে নিশ্চিহ্ন করার পায়তারা চালাচ্ছে।  ২০ দলীয় জোটকে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপুর্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করার সুযোগ না দেয়ায় তারা বাধ্য হয়ে হরতাল আবরোধের মত কঠোর কর্মসূচী দিয়েছে। জনসমর্থন শুন্যের কোঠায় নেমে আসলেও শেখ হাসিনা ও তার বাম-নাস্তিক চামচারা ক্ষমতা ছাড়তে রাজি নয়। তাই এই অবৈধ ক্ষমতা দখলদারদের সাথে সহযোগিতা করে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি বাহিনীকে কলঙ্কিত না করার জন্য এসব বাহিনীর নেতৃত্বকে আবারও হুশিয়ার করে দিচ্ছি। স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, একদিন এইসব অপকর্মের হিসাব সকলকেই দিতে হবে। লেখক প্রবাসী সাংবাদিক ও কলামিষ্ট। এখানে প্রকাশিত সব মতামত লেখকের ব্যক্তিগত, সিলেটের আলাপ ডটকম’র সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নয়।

বিস্তারিত»

মতামত

রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী বর্বরতার বিরুদ্ধে দরকার সম্মিলিত প্রতিরোধ

ড. এম মুজিবুর রহমান:এক: রাজনীতিতে কৌশলের খেলা দেখেছি, মেঠো বক্তৃতায় শব্দ ও কথার মার প্যাচ দেখেছি। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকারের সময়েও নির্বাচনী গণসংযোগকালে  অন্তত এরকম অসভ্যতা ও বর্বরতা আগে কেউ লক্ষ্য করে নি। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত লাল সবুজের পতাকার দেশে এর শেষ পরিনতি কি ? শাসক শ্রেনীর বন্দুকের নলের সামনে ও সুবিদাবাজ এস্টাবলিশমেনটের বিপরীতে প্রবাসে থেকে কলমের যুদ্ধ মনে হয় বড়ই বেমানান। তবে একপেশে সুবিধাবাদী কিছু মিডিয়ার বিপরীতে সত্যকে জানতে না দিলে এ যুগের গোয়েবেলসরা সাধারণ জনগনকে বিভ্রান্ত করতে আরো বেশি করে হিম্মত নিয়ে মাঠে কাজ করবে বিধায় সত্য ঘটনা জানতে ও জানাতে বিবেকের তাড়না থেকে লিখতে হয়।    ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থীদের পক্ষে গণসংযোগকালে গত চার দিনে ঢাকার কয়েকটি স্থানে  বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোটের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনার ছবি ছড়িয়ে পরার সাথে সাথে দেশ বিদেশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে লক্ষ্য কুটি মানুষ তাদের তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা প্রকাশ করছেন। দুই কান কেটে যারা রাস্তার মাঝ খান দিয়ে হাঁটছে, দেশকে নিয়ে যাচ্ছে তারা অজানা গন্তব্যে।  তাদের দমাতে শুধু নিন্দা আর ঘৃনা প্রকাশের মাধ্যমে দ্বায়িত্ব কি এড়ানো সম্ভব ? এটা আজ এক বিরাট প্রশ্ন।     গণ আন্দোলন ও সর্বাত্বক প্রতিরোধ ব্যতিরেকে এ অবস্থা থেকে মুক্তির আশা করা অরন্যে রোধন বৈ কিছু নয়। কারণ দুনিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় সকল ফ্যাসিবাদের পরিবর্তন হয়েছে সশস্ত্র বিপ্লব বা রক্তপাতের মাধ্যমে। দেশপ্রেমিক সাধারণ জনতা সিপাহীদের সাথে  মিলে গণঅভ্যুত্থান করেছে তার নজির খুব বেশি না হলেও বাংলাদেশে রয়েছে।  আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধেও তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বহীন জাতির ত্রাথা হিসেবে এগিয়ে এসেছিল স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রীতিক দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী। তাই দিন যত যাচ্ছে ততই ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী বিডিআর বিদ্রোহে সেনাবাহিনীর নারকীয় হত্যাকান্ড ফ্যাসিবাদ ও সম্প্রসারণবাদের যে মিলিত প্রয়াস তা পরিস্কার হচ্ছে।   দেশের স্বার্থবিরোধী কিন্তু সম্প্রসারনবাদের স্বার্থ রক্ষাকারী ভোটারবিহীন নির্বাচনে ক্ষমতায় অধিষ্টিত জনসমর্থনহীন সরকারের হটকারী কর্মকান্ডে প্রতিনিয়ত গণ অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।  ক্ষমতাসীনরা বেগম জিয়ার প্রচারনায় জনমানুষের স্বতস্ফুর্ত জমায়েতকেও  অবৈধভাবে ক্ষমতায় ঠিকে থাকার জন্য হুমকি হিসেবে মনে করছে। বেগম জিয়াকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। কিন্তু তাঁর গাড়ি বুলেটপ্রুফ হওয়ায় তিনি বেঁচে যান। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রচারণাযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। তা সবাইকে উদ্বুদ্ধ করছে। আর তাইতো বেগম খালেদা জিয়াকে এত ভয় কেনো বিবিসির এমন প্রশ্নের সঠিক কোনো উত্তর দিতে পারেন নি সাবেক গণবাহিনী প্রধান ও শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার ক্ষেত্র প্রস্তুতকারী  হাসানুল হক ইনু।        দুই: ভোটারবিহীন নির্বাচনের বছর পূর্তিতে এ বছর ৫ জানুয়ারী বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন উপলক্ষে সভা করতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর রাজনৈতিক অফিসে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের সময়ে   বিগত মাসগুলোতে বিভিন্ন লেখায় কয়েকটি বিষয়ে বিশ্লেষণ ও মন্তব্য বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে । প্রথমত বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের আন্দোলন সফল হচ্ছে যে কারণে, কংগ্রেসীয় অনুদানের আওয়ামী ট্রেনের ব্রেক ফেল !, লাস্ট কিক্ অফ এ ডাইয়িং হর্স, আওয়ামী অপ-রাজনীতির ইতিহাস ও বাংলাদেশের ভবিষ্যত, বেগম খালেদা জিয়ার কৌশলের কাছে আওয়ামী লীগের হার, বাঘের পিঠে শেখ হাসিনা, অন্ধ ঘোড়ার পিঠে সরকার: কে নিরাপদ ?, বিপজ্জনক বিভাজনের কবলে রাষ্ট্র ও সমাজ, সংলাপ নয় সংঘাতের পথে আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের জঙ্গি কানেকশন ও প্রতিহিংসার রাজনীতির ইতিহাস সর্বোপরি আওয়ামী লীগের নিশ্চিহ্নের রাজনীতি, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দ্বিচারিতা ও আওয়ামী লীগ কি আবারো বিলুপ্ত হওয়ার পথে ! গত কয়েক দিনের ঘটনায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব আর বেগম জিয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত দেখে  উপরোল্লখিত প্রতিটি বক্তব্যকে আরো জোড়ালোভাবে সমর্থন করছে।  তবে আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, এ বর্বরোচিত গঠনার পর দল ও সরকারের  সর্বোচ্চ নির্বাহী থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের নেতা নেত্রীদের পরস্পর বিপরীতধর্মী বক্তব্য জাতিকে চরমভাবে হতাশ করেছে। ঢাকার কারওয়ান বাজারে গাড়ি বহরে হামলার ঘটনাকে বেগম জিয়ারই ‘নাটক’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। আর তাঁর সন্তান ও আইটি উপদেষ্ঠা সজিব ওয়াজেদ জয় বেগম জিয়ার উপর হামলা করে জনগণ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে বলে তার ঐতিহাসিক আরেকটি তথ্য! (তার কাছে আরেক তথ্য ছিল আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে!)  ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন। তিনি আরো জানিয়েছেন 'আমরা আওয়ামী লীগ যেকোন সহিংসতা এবং এই ধরণের হামলা সমর্থন করি না, কিন্তু এটাও ঠিক যে আমরা জনগণের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।' প্রশ্ন হলো দেশের জনগণ কি শুধু আওয়ামী লীগ সমর্থন করে!  বিএনপি ও ২০ দলের  জনগনকে দেশ থেকে কি বিতাড়িত করে দেয়া হবে ? আর তা কি সম্ভব ? যুদ্ধে জয় করা দেশতো কারো পৈত্রিক সম্পত্তি হবার কথা নয়।  তাহলে তারাও যদি তার ভাষায় এ রকম 'রাগ দেখানো' শুরু করে তখন পরিনতি কি হবে ? আমাদের সমস্যা হলো মূদ্রার এক পিঠ দেখলেও অন্য পিঠে কি আছে তা অনুভব করতে চাই না। তাই শাসক শ্রেনীর প্রতিহিংসার খেসারত দিতে হয় দেশের সাধারণ জনগনকে।  শেখ হাসিনা কারওয়ান বাজারের ঘটনাকে ‘নাটক’ আর তাঁর আইটি উপদেষ্ঠা ও তনয় সজীব ওয়াজেদ জয় ‘ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ’ আখ্যা দিয়েছেন। কে সত্য ? যে সত্য বলেন নি তিনি কি দ্বায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিবেন ? দেখা যাক কি করা হয় এখন!    তিন: দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন সকল মানুষের ঐক্যের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যার ষড়যন্ত্র ও বিদেশে চিকিৎসাধীন জাতীয়তাবাদের এ সময়ের অগ্রপথিক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও সাজানো মামলা দিয়ে তাঁকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র যারা বাস্তবায়ন করতে চায় তারা দেশের মানুষের প্রতি তাদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার পাশাপাশি সম্প্রসারণবাদের কাছে জাতিকে জিম্মি করে আমাদের ধর্ম ও সংস্কৃতি থেকে দূরে ঠেলে দেয়ার মাধ্যমে দেশকে পরিনত করতে চায় একটি করদরাজ্যে। ভৌগলিক দিক থেকে বিশ্ব রাজনৈতিক স্ট্রাটেজিক স্থানে অবস্থান ও দক্ষিণ এশিয়ার আগামী দিনের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশেকে কারা দমিয়ে রাখতে চাইবে তা বুঝার জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই।  কারা সারা দুনিয়ার মতের তোয়াক্কা না করে ভোটারবিহীন নির্বাচনের সরকারকে ক্ষমতায় ঠিকিয়ে রাখতে চায় তাও সকলের জানা।  পর্যবেক্ষকরা মনে করেন গুম খুন ও তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমতার পালাবদলের পরের কথা চিন্তা করে দেশের মানুষের সমর্থন ছাড়া আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকতে ও তাদের রক্ষকের স্বার্থে; ধর্মীয় অনুশাসনে সহানুভূতিশীল ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জাতির কপালে এটে দিতে চায় জঙ্গিবাদের তকমা। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। জঙ্গিবাদী কারা এবং কারা জঙ্গিবাদকে উস্কে দেয় তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। রাজধানীর মত জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্য দিনের আলোতে বিরোধী জোটনেত্রী ও তাঁর গাড়িবহরে হামলার ঘটনা কি ইঙ্গিত করে ? রাষ্ট্রীয় পৃষ্ট পোষকতা দিয়ে কারা জঙ্গিবাদকে মদদ দিচ্ছে তা জাতির সামনে আজ দিবালোকের মত পরিস্কার। গোয়েন্দা রিপোর্টে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনে যাবার পর পর বেগম জিয়ার উপর হামলা প্রমান করে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকারে বিশ্বাস করে না। বিশ্বকে একটি মেকি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র দেখাতে চাইলেও বিশ্লেষকরা মনে করেন জঙ্গিবাদের যেসব বৈশিষ্ঠ থাকে আওয়ামী লীগ নামক দলে তার সবই বিদ্যমান।   বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুনের ওয়েবসাইটে জঙ্গিবাদীদের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ঠ উল্লেখ করা হয়েছে। ১. নিজেদের চিন্তা চেতনার বাইরে অন্য কিছু চিন্তা না করা  ২. গণতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোর  প্রতি বিশ্বাস না রাখা  ও ৩. সন্ত্রাসী তৎপরতার মাধ্যমে ক্ষমতা নেয়া। এই তিনটি বৈশিষ্ট কোন দলের মধ্যে রয়েছে তা নিরূপণের  ভার পাঠকের উপর রইলো । আর রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও জঙ্গিবাদী বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয় সর্বাত্মক প্রতিরোধ এখন সময়ের দাবি।       লেখক: গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। লন্ডন ২৪ এপ্রিল ২০১৫ 

বিস্তারিত»

বিনোদন

চোখের সামনে মৃত্যুকে দেখে এসেছি: রুনা খান

বিনোদন ডেস্কঃ ২০ এপ্রিল ‘হলিডে’ শিরোনামে একটি নাটকের শুটিং করতে নেপালে পাড়ি দেয় বাংলাদেশি শিল্পীদের একটি দল। এই দলে ছিলেন অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়, রুনা খান, কল্যাণ, নোমিরাসহ ১১ জন। কিন্তু ২৫ এপ্রিল নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্পে সেখানে প্রায় আড়াই হাজার লোকের মৃত্যু ঘটে। সৌভাগ্যক্রমে রোববার রাতে শিল্পী ও কলাকুশলীদের এই দলটি অনেকটা সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরেছেন। এই দলের একজন অভিনেত্রী রুনা খান। তিনি  কথা বলেছেন ভয়ংকর অভিজ্ঞতা নিয়ে… কেমন আছেন? রুনা খান: ভালো আছি (ভাঙা গলায়)। তবে সকালে আমার ফোনটা অন করার পর থেকে কথা বলতে বলতে হাঁপিয়ে উঠেছি। আত্মীয় স্বজনের পাশাপাশি মিডিয়ার অনেকেই ফোন করে খবর নিচ্ছেন। এদের মধ্যে শমী কায়সার, সুইটি আপাসহ অনেকেই রয়েছেন। নেপাল থেকে ঢাকায় পৌঁছালেন কিভাবে? রুনা খান: গতকাল রাত দেড়টায় নেপাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। রাত ৪টার দিকে বাসায় এসে পৌঁছাই। বিমানে আমাদের সঙ্গে আরও অনেক বাংলাদেশিও ছিলেন। ভূমিকম্পের সময় আপনি কোথায় ছিলেন? রুনা খান: ভূমিকম্পের  আগ মুহূর্তে পাহাড়ের উপর নাগরকোট ক্লাব হিমালয় রিসোর্টের সামনে আমাদের শুটিং চলছিল। যদিও আমি তখন ফ্রেশ হতে গিয়েছিলাম। ভূমিকম্প শুরু হলে ফ্রেশ রুম থেকে দ্রুত বেড়িয়ে রিসোর্টের সামনের খোলা মাঠে আশ্রয় নেই। এসময় পাহাড়ের উপর থেকে পাথর গড়িয়ে পড়ছিল। যার ফলে পাহাড়ি রাস্তা, রিসোর্ট, বাড়িঘর সব কিছু ধুলায় মিশে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে ইউনিটের সবাই পাহাড় থেকে নিচে নামার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু উচু নিচু পাহাড় বেয়ে নামতে গিয়ে আমি পড়ে যাই। ফলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে ছিঁলে যায়।  আর পা মচকে যায়। তখন কল্যাণ আর জয় ভাই আমাকে কোন ভাবে নিচে নামিয়ে আনে। নাগরকোট থেকে কাঠমুণ্ডুতে পৌঁছালেন কিভাবে? রুনা খান: ভূমিকম্প থেমে যাওয়ার আধা ঘণ্টা পর আমরা কাঠমুণ্ডুর উদ্দেশ্যে রওনা দেই। কিন্তু ভাঙা রাস্তা আর বিধ্বস্থ বাড়িঘরের কারণে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে রাত ১২টায় কাঠমুণ্ডুতে এসে পৌঁছাই। যদিও এটা মাত্র দেড় ঘণ্টার রাস্তা ছিলো। এখানে পৌঁছেই আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকার কারণে আমার পায়ে এক্সরে করা সম্ভব হচ্ছিলো না। তাই কোন চিকিৎসা না নিয়ে হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। কিন্তু আমরা যে হোটেলে উঠেছিলাম অর্থ্যাৎ কাঠমুন্ডুর  র্যা ডিসন হোটেলেও ফাটল ধরেছে। ফলে আমরা অনেকটা আশ্রয়হীন হয়ে পড়ি।                                                                                                              কাঠমুণ্ডুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেখানকার পরিস্থিতি কেমন ছিলো? রুনা খান: নেপালের বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি গাড়ি হোটল থেকে আমাদের সেখানে নিয়ে যায়। ২৫ এপ্রিল সারা রাতই দূতাবাসের কম্পাউন্ডে ছিলাম। প্রচণ্ড ঠাণ্ডার মধ্যে আমাদের মতো অনেক বাংলাদেশিও সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। খুব একটা সমস্যা না হলেও, মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলাম। টানা দুই দিন আপনার পরিবারের সকলেই উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিলো, এখন কি অবস্থা? রুনা খান: ভূমিকম্পের পর আমরা কেউই দেশে যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। কারণ মোবাইলের নেটওয়ার্ক কাজ করছিলো না। তবে যখন যোগাযোগ সম্ভব হয়, তখন আঘাত পাওয়ার বিষয়টি ইচ্ছে করেই চেপে যাওয়া হয়। কারণ আমার মেয়ে রাজেস্বরী অস্থির হয়ে পড়েছিলো। আর ঢাকায় ফেরার পর সকালে আমার মুখ ধরে বারবার আদর করছিলো। আর আমার মা তো বলেই দিয়েছে, অভিনয়ের জন্যে আর কখনও দেশের বাইরে যেতে দেবে না।                                                                                    ভূমিকম্পের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দূর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে দেশে ফিরেছেন, এখন কেমন লাগছে? রুনা খান: চোখের সামনে মৃত্যুকে দেখে এসেছি। শুধু বারবার দেশের কথাই মনে পড়ছিলো। তাছাড়া প্রিয় মানুষগুলো আমার জন্যে যে ভাবে দোয়া করেছে, সেজন্যেই আল্লাহ আমাকে ভালোভাবে ফিরিয়ে এনেছে।

বিস্তারিত»

স্বাস্থ্য ও রুপচর্চা

চুলকে লম্বা করবে পাকা কলা

চুল যেন বাড়তেই চাইছে না- আজকাল অনেক মহিলাদেরই এই অভিযোগ। দূষিত পরিবেশ, স্ট্রেসে ভরা জীবন, পুষ্টির অভাব সব মিলিয়ে চুলের সৌন্দর্যহানি আজকাল বেশিরভাগ নারীর সমস্যা। চুল দ্রুত লম্বা করতে চান খুব দ্রুত? তাহলে বেছে নিন ফলের গুণাগুণ।   আপনাদের জন্য রইল কলা দিয়ে খুব সহজ হেয়ার প্যাক তৈরির কৌশল, নিয়মিত ব্যবহারে যা আপনার চুলকে করে তুলবে লম্বা ও কালো। এক কথায় যাকে বলে সুকেশী। কলা কেবল চুলকে লম্বাই করবে না, একই সঙ্গে করে তুলবে নরম ও মোলায়েম। সপ্তাহে অন্তত দুইদিন কলার হেয়ার প্যাক ব্যবহার করুন।   যা লাগবে: ২টি পাকা কলা (চটকে নেওয়া) ১টি ডিমের কুসুম ১চা চামচ লেবুর রস   যেভাবে লাগাবেন: প্রথমে ভালো করে তিনটি উপাদান মিশিয়ে একটা প্যাক তৈরি করে নিন। এই প্যাক ভালো করে মাথার ত্বকে ও চুলে মাখুন। তারপর একটি প্লাস্টিক দিয়ে মাথা মুড়ে ফেলুন। তার ওপরে একটি তোয়ালে পেঁচিয়ে দিন। এভাবে ঘণ্টাখানেক রাখুন। এরপর ভালো করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

বিস্তারিত»

সম্পাদকীয়

সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা হোক

দেশে স্থানীয় সরকার আছে, শুধু আছে বললেই হবে না, বেশ কয়েক স্তরে স্থানীয় সরকার রয়েছে। তবে আমাদের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা খুব শক্তিশালী নয়। আবার কোনো কোনো স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা কোনোভাবেই কার্যকর নয়। তবে সকল স্তরের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরো  কার্যকর করতে বিভিন্ন পর্যায় থেকে বলা হলেও তা হচ্ছে না। দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সরকার রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে সাধারণ জনগণের ভোটে পরিষদ গঠিত হলেও জেলা পর্যায়ে কোনো ভোটই হয় না। আর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা তেমন কার্যকর নয়। অবশ্য শহর ও নগরগুলোর জন্য সিটি করপোরেশন ব্যবস্থা রয়েছে। তন্মধ্যে সবচেয়ে বড় স্থানীয় সরকার হচ্ছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। এ দুই মহানগরীতে বর্তমানে তিনটি সিটি করপোরেশনে ভাগ করা হয়েছে। নগরের বাসিন্দাদের সেবা তথা সার্বিক বিষয়ে দেখভাল করার জন্য সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়েছে। যদিও বিগত কয়েক বছর ধরে ঢাকা সিটি করপোরেশনের কোনো মেয়র বা নগরের পরিষদ ছিলো না। অবশ্য সরকার তথা নির্বাচন কমিশন ইচ্ছা করেছে সিটি করপোরেশন নির্বাচন  অনুষ্ঠানের। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ। ইতোমধ্যে তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলছে। প্রার্থিতা ঘোষণা ও চূড়ান্তকরণসহ সব প্রক্রিয়া শেষ। আগামী ২৮ এপ্রিল ভোট গ্রহণ হবে। সিটি করপোরেশনসহ সব স্থানীয় সরকার নির্দলীয় হলেও প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দল তার নেতা কর্মীদের প্রার্থী করে থাকে। এবারের তিন সিটি করপোরেশনেও সরকারি ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে মেয়রসহ প্রতিটি ওয়ার্ডেই তাদের সমর্থিত প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। শুধু তাই নয় সরকারি ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তাদের সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার প্রপাগান্ডা থেকে শুরু করে সার্বিক কাজ করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘোষিতভাবে নির্দলীয় হলেও বাস্তবে আর নির্দলীয় নেই। এ তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরিণত হয়েছে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের ক্ষমতার লড়াইয়ে। আর তাই সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে চলছে দুই পক্ষের মধ্যে বাকযুদ্ধ থেকে শুরু করে ভোট যুদ্ধ । কিন্তু নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে বিরোধী দলের সমর্থিত প্রার্থী ও তাদের সমর্থিত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। শুধু নেতাকর্মী নয় খোদ প্রধান বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের জন্য প্রচারণা চালাতে গিয়ে বেশ কয়েকদিন হামলার শিকার হয়েছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে বেগম খালেদা জিয়ার উপর সরকারি দলের লোকেরা করেছে। পত্রপত্রিকার রিপোর্টেও দেখা গেছে সরকারি দলের লোকেরা বেগম খালেদা জিয়ার প্রচার বহরের উপর হামলা করেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে আরো হামলার খবর পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয় অপর বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও তাদের সমর্থক কর্মী এবং প্রধান নির্বাচন পরিচালকদের আটক ও গ্রেফতার করা হচ্ছে। দেশের বিরোধী দল ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে নির্বাচনে সকল প্রার্থীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করা হোক। কিন্ত সরকারের আচরণে দেখা যাচ্ছে বিরোধী দলের সমর্থিত প্রার্থীদের উপর হামলা মামলা ও হয়রানি করে তাদের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় বিঘœ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে আমাদের পরামর্শ স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনটা অবাধ, স্ষ্ঠুু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠান করা হোক। সাধারণ ভোটারদের অবাধে ভোট প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করা হোক। ভোট  কেন্দ্রে ভোট  প্রদানকালে ভোটারদের নিরাপত্তা বিধান করা হোক। প্রয়োজনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সেনা বাহিনী নিয়োজিত করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা হোক। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সরকার ও নির্বাচন কমিশন তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্ষ্ঠুু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠান করে একটি ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।  

বিস্তারিত»

লাইফস্টাইল

চোখের পানি: অবাক করা ৯ তথ্য

'চোখের জলের হয় না কোনও রঙ, তবু কত রঙের ছবি আছে আঁকা'। একদম ঠিক কথা। কখনও ভেবে দেখেছেন, সিনেমা হলে একটা চূড়ান্ত রোম্যান্টিক ছবি দেখতে দেখতেও চোখের কোণ ভিজে উঠেছে? অথবা পথে চলতে চলতে চোখে একটা কিছু পড়ল, সঙ্গে সঙ্গে পানি চলে এলো। দেখতে একই রকম হলেও দু'টি দু'রকমের কান্না এবং এর কাজও দুই রকমের। আসুন দেখে নেওয়া যাক কান্নার ৯ কাহন, যা আপনারা অনেকেই জানেন না। ১. পরিবেশের পার্থক্যে শিশুদের কান্নার ধরনও পাল্টে যায়! ২. এক জন ডাচ গবেষক সমীক্ষা করে দেখেছেন, পাশ্চাত্য দেশগুলি, যেখানে মহিলারা সমাজের উঁচু তলায় বাস করেন এবং যাদের মানবাধিকার তৃতীয় বিশ্বের দেশে বসবাসকারী মহিলাদের তুলনায় অনেক বেশি, তারা কাঁদেনও বেশি। ৩. কান্না তিন রকমের হয়: বেসাল টিয়ার: যেটা আপনার চোখকে পরিষ্কার রাখে এবং চোখের লুব্রিকেশনের মাত্রা ঠিক রাখে। রিফ্লেক্স টিয়ার: পেঁয়াজ কাটার সময় বা চোখে কিছু একটা হঠাৎ ঢুকলে এই কান্না বের হয়। ইমোশনাল টিয়ার: ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন। ৪. গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কিছু মানুষ স্বাভাবিক কারণেই অন্যদের তুলনায় বেশি কাঁদেন। ৫. অনেক সময় স্নায়বিক কারণে কান্না বা হাসি থামতে চায় না। যদি এমনটা হয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এটা স্ট্রোক, অ্যালঝাইমার্স, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস-এর লক্ষণ হতে পারে। ৬. বিষন্ন মহিলাদের চোখের পানিতে এমন এক রকমের রাসায়নিক পদার্থ থাকে যা পুরুষদের যৌন উত্তেজনায় বাধার সৃষ্টি করে। গবেষণাটি 'সায়েন্স' জার্নালে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। ৭. কান্নার তিনটি লেয়ার বা স্তর থাকে: লিপিড লেয়ার, অ্যাকিউয়াস লেয়ার এবং মিউকাস লেয়ার। ৮. মুখের লালা যে কম্পোজিশনে তৈরি হয়, সেই একই কম্পোজিশনে চোখের পানিও তৈরি হয়। অর্থাৎ এই দুয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ৯. কাঁদলে স্ট্রেস হরমোন শরীর থেকে বেরিয়ে যায় এবং এন্ডরফিন বা যেটাকে 'ফিল গুড' হরমোন বলা হয় তা শরীরে নির্গত হয়। এ জন্যই বোধ হয় বলে, কাঁদলে মন হাল্কা হয়।– ওয়েবসাইট।  

বিস্তারিত»

শোক-সংবাদ

তাহিরপুরে ১৩০বছর বর্ষীয়ান বৃদ্ধ  সাংবাদিকের দাদা পরলোক গমন

জাহাঙ্গীর আলম ভূইঁয়া,তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ)থেকে সুনামগঞ্জের বিশ্বাম্ভরপুর  উপজেলার সাংবাদিক সোহেল আহমেদ সাজুর দাদা ও ডাঃ হাফিজ উদ্দিনের বাবা আহমদ আলী (১৩০বছর) আজ ২৩.০৪.১৫ইং বৃহস্পতিবার সকাল ৬ঃ৪৫ মিনিটে বার্ধ্যক জনিত কারনে তার নিজ বাড়িতে শেষ নিঃস্বাশ ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মরহুম আহমদ আলী (১৩০) ৩ছেলে,৩মেয়ে ও অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। বাদ আসর সিরাজপুর বাগগাঁও ঈদগাহ মাঠে জানাযা শেষে বাঘাপুরা কবর স্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। বিশ্বাম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুনর রশিদ সহ বাদাঘাট ইউনিয়ন বাসী শোক প্রকাশ করেছেন।  

বিস্তারিত»

সাম্প্রতিক খবর সর্বাধিক পঠিত

জরিপ

Loading...

Archive