প্রধানমন্ত্রীকে রিজভী পুলিশ দিয়ে ক্ষমতার ময়ূরের মুকুট রক্ষা হবে না

ঢাকা: পুলিশ দিয়ে ক্ষমতার ময়ূরের মুকুট রক্ষা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি আরো বলেন,  ক্ষমতাসীনরা চিৎকার করছে। তারা টিকে থাকার জন্য গুম-খুন ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। এসময় সরকার পতনের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে বলে জানান তিনি। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাসাস আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে করে তিনি কথা বলেন।  জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৩৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাসাস ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ)। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আপনি জাতির পিতার কন্যা দাবি করেন। ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য গুম-খুন, মিথ্যা মামলা দেবেন- তাহলে কিসের জাতির পিতার কন্যা? আপনার আচরণ দেখলেই বোঝা যায় আপনি কার কন্যা। তিনি আরো বলেন, যে মাটিতে কাজী নজরুল ইসলাম, ভাসানী, জিয়াউর রহমানের জন্ম সে মাটিতে মানুষ মেরে মাথায় মুকুট পরে থাকবেন, সে আশা মিছে। তা কোনোদিন হতে পারে না। ৫ শতাংশ ভোট নিয়ে তাকে প্রধানমন্ত্রী মানার জন্যএ দেশের জন্ম হয়নি। বিস্তারিত»

খালেদা জিয়া মিথ্যাচার অতীতেও করেছেন, এখনো করছেন: ইনু

কুষ্টিয়া: তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, “বেগম জিয়া ও তার স্বামী জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে খুনিদের আড়াল করা ও তাদের নিয়ে রাজনীতি করার ইতিহাস আছে। বেগম খালেদা জিয়া না জেনে বুঝে ফারুকী হত্যার দায় সরকারের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। এই ধরনের মিথ্যাচার উনি অতীতেও করেছেন, এখনো করছেন। এটা ঠিক নয়।” শুক্রবার সকাল ৯টায় কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরে মন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। এসময় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন, পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিমসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ও জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বর্তমান সরকার অবৈধ, অনৈতিক, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে ইনু বলেন, গত ৫ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকার সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিকভাবে একটি বৈধ সরকার। আর যারা সাংবিধানিকভাবে নির্বাচনের পথ পরিহার করে নির্বাচনের আগেই অবৈধভাবে সরকার গঠনের চক্রান্ত করেছিল তারা রাজনীতি ও গণতন্ত্রের জন্য অনুপযুক্ত। তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে সারাদেশে আন্দোলনের কমিটি বানাতে পারেন, মিছিল মিটিং করতে পারেন, তবে হাতে বোমা এবং কোমরে যদি চাকু থাকে তাহলে সেই মিছিল, মিটিং সভা সমাবেশ করার ব্যাপারে সরকার প্রশাসনিক কঠোর পদক্ষেপ নেবে। বিস্তারিত»

‘হাসিনার কথায় আমাদের ভোট বাড়ে, তিনি বিএনপির অ্যাসেট’

ঢাকা: বিএনপির ঢাকা মহানগরীর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেছেন, “শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদেরই নৈতিক দায়িত্ব। কারণ শেখ হাসিনার একটি কথাতেই আমাদের অনেক ভোট বৃদ্ধি পায়। শেখ হাসিনা নিজেই বিএনপি’র ভোট ব্যাংক। তিনি বিএনপি’র জন্য অ্যাসেট। প্রয়োজনে আমরা শেখ হাসিনার নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত। আমাদের স্বার্থেই তাকে বাঁচিয়ে রাখা দরকার।” বিএনপি কখনো শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেনি দাবি করে সাপ্তাহিকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে সোহেল এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে সোহেল বলেন, “২১ আগস্টের ঘটনা এ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি ঘৃণ্য অধ্যায়। আমি  কোনোভাবেই এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিতর্কে যেতে পারি না। কারণ শেখ হাসিনাকে হত্যা করে বিএনপি কোনোই রাজনৈতিক সুবিধা নিতে পারে না। এটি দলের তৃণমূল থেকে শীর্ষ নেতারাও মনে করেন। আমরা চাই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং জড়িতদের সঠিক বিচার হোক।” ঢাকা মহানগর বিএনপি’র দায়িত্ব বিষয়ে অনুভূতি জানাতে গিয়ে সোহেল বলেন, “দায়িত্বই মানুষকে দায়িত্ববান করে তোলে। আমি এর আগে ঢাকা মহানগর বিএনপির কোনো পদে ছিলাম না। এ কারণে নগরকেন্দ্রিক রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা সেইভাবে গড়ে ওঠার কথা নয়। ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতি থেকে আজকের দায়িত্বে আসা। যদিও গত নির্বাচনে আমি ঢাকার একটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। সেই সুবাদে হয়তো নেতাদের সঙ্গে একটি সাংগঠনিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু একটি ইউনিটকেন্দ্রিক রাজনীতিতে নেতায় নেতায় যে সম্পর্ক বা নেতা-কর্মীদের মধ্যে যে সম্পর্ক, তা হয়তো পরিপূর্ণভাবে আমার ছিল না। দায়িত্ব নেয়ার পর গত এক মাসে আমি সেই সম্পর্কের দিকেই অধিক গুরুত্ব দিয়েছি। আমি ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করছি। আমি লক্ষ করছি, কর্মীরা আমাকে তাদের মাঝে পেয়ে বেশ উজ্জীবিত এবং সংগঠিত। কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে মনে হচ্ছে, তারা মন থেকে চেয়েছিল যে, আমি যেন এই দায়িত্বে আসি। ” কমিটির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাসের সঙ্গে দ্বন্দ্বের বিষয়ে তিনি বলেন, “দেখুন, মির্জা আব্বাস দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা। তার রাজনৈতিক জীবনটাই আন্দোলন-সংগ্রামের। দলের জন্য তার অবদানের কথা আমার বলার অপেক্ষা রাখে না। আপনারা সবই জানেন হামলা, মামলা, জেল, জুলুম সহ্য করেই তার পথ চলা। অন্যদিকে আমার ক্ষুদ্র এই রাজনৈতিক জীবনটাও আন্দোলন-সংগ্রামের প্রাচীরে ঘেরা। দলের মঙ্গলই জাতির মঙ্গল, আমাদের মঙ্গল। এই কমিটমেন্ট থেকেই আমরা রাজনীতি করি। নতুন এই আহ্বায়ক কমিটি করার পর দ্বন্দ্বের বিষয়টি মিডিয়া ফলাও প্রকাশ করলেও আমি মনে করি আমাদের মধ্যে কোনো প্রকার দ্বন্দ্ব বা দূরত্ব নেই। মনে হয়েছে, কতিপয় গণমাধ্যম একটু অতিরিক্তই লিখেছে, যার কোনো ভিত্তি আছে বলে আমি মনে করি না। বিএনপি’র মতো একটি বড় দলে কমিটি দিয়ে সবার মন জয় করা যায় না। কেউ মনোক্ষুণœ হতেই পারেন। কিন্তু দেখতে হবে সময়, বাস্তব পরিস্থিতি। সামান্য দ্বন্দ্বে দল বা জাতির বৃহৎ স্বার্থ বিসর্জন দেয়ার সুযোগ নেই। আমরা মনেপ্রাণে এটিই বিশ্বাস করি। এই কমিটি হওয়ার পর যে সমালোচনা হয়েছে বা হচ্ছে, তা যেকোনো সময়ের চেয়ে ন্যূনতম বলে আমার মনে হয়েছে। আশা করি, কোনো প্রকার ভুল বোঝাবুঝি থাকলে তা নিজ দায়িত্ব বলেই দূর করতে পারব।” নতুন কমিটির কর্মপরিকল্পনা সম্পর্ক সোহেল বলেন, “আওয়ামী লীগ পুরো রাজনীতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলেছে। গণতন্ত্র হচ্ছে একটি প্রবহমান নদীর মতো। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার নাম করে এই গণতন্ত্র নামের নদীতে বাঁধ দিয়েছে। কিন্তু প্রবহমান নদীতে কোনো বাঁধই যে টিকতে পারে না, আওয়ামী লীগ তা ভুলে গেছে। এই বাঁধ ভাঙা কঠিন হতেই পারে। কিন্তু কোনো এক সময় ভাঙবেই। আমি মনে করি, জনগণ আওয়ামী লীগের দেয়া বাঁধ ভাঙার জন্য অপেক্ষমাণ। আমরা যদি চলমান আন্দোলনের সঙ্গে জনগণের সেই আবেগ-অনুভূতিকে সম্পৃক্ত করতে পারি, তাহলে বাঁধ ভাঙা সময়ের ব্যাপার মাত্র। তখন আর বিশেষ কোনো পরিকল্পনারও প্রয়োজন পড়বে না। জনগণের শক্তিই মূল পরিকল্পনা। এটি উপলব্ধি করার সময় এসেছে।” তিনি বলেন, “অন্যায়ভাবে টিকে থাকা যায় না। আওয়ামী লীগ হয়তো ক্ষমতার স্বাদ নিতে গিয়ে অতীত অভিজ্ঞতার ভুলে ঘুমিয়ে আছে। জনগণই সেই ঘুম ভাঙাবে। কোনো স্বৈরশাসকই স্থায়ীভাবে টিকে থাকতে পারেনি। আওয়ামী লীগও টিকতে পারবে না। ভোটারবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রায় আট মাস হলো ক্ষমতায় আছে। কী তাদের অর্জন। দেশ-বিদেশ থেকে ধিক্কার আর ঘৃণা ছাড়া নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কিছুই পায়নি। আওয়ামী লীগের ভাষায়, বিএনপি নির্বাচনে না গিয়ে অনেক বড় ভুল করেছে বুঝলাম। কিন্তু আওয়ামী লীগ কী লাভ করল। আমি তো মনে করি, ভোটারভীতি এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিজেই নিজের সর্বনাশ করেছে। আওয়ামী লীগের হিসাব জনগণই মিটিয়ে দেবে। ” ঢাকাকেন্দ্রিক আন্দোলনের ব্যর্থতা সম্পর্কে সাবেক তুখোড় এই ছাত্র নেতা বলেন, “এটি অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু আপনাকে বাস্তব পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে হবে। ঢাকার আন্দোলনকে ঠেকানোর জন্য সরকার এমন ন্যক্কারজনক শক্তি প্রয়োগ করেছিল, সা একটি ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচারী রাষ্ট্রেও হয় না। আন্দোলনে পুলিশ হিংস্র হয়ে গুলি চালিয়েছে। এতে করে সরকার আন্দোলন দমিয়ে সাময়িকভাবে টিকে থাকতে পারছে বটে, কিন্তু এ টিকে থাকা শুভবুদ্ধির পরিচয় নয়। আবারও আন্দোলন হবে এবং আওয়ামী লীগকেই তার খেসারত দিতে হবে। গত আন্দোলনে ঢাকায় আমাদের দুর্বলতা ছিল এবং সরকার অতিমাত্রায় নিপীড়ন চালিয়েছে বলে দৃশ্যত সফল হওয়া যায়নি।” ঈদের আগে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিলেন। বিক্ষোভ মিছিল করলেন গাজা ইস্যু নিয়ে। কেন এই দৈন্য? –এমন প্রশ্নের জবাবে সোহেল বলেন, “নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলমান। আমরা আন্দোলনের মধ্যেই আছি। চলমান আন্দোলনে যদি আরও প্রসঙ্গ এসে যায়, যেকোনো গণতান্ত্রিক দলের উচিত সে ব্যাপারে কথা বলা। ইসরায়েলি বর্বরতায় ফিলিস্তিনের শত শত মানুষ নিহত হচ্ছে। ইসরায়েলের এই বর্বরতার বিরুদ্ধে একটি মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান পরিষ্কার নয়। আমরা তীব্র ঘৃণার সঙ্গে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানাচ্ছি। এ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল খুবই যুক্তিসঙ্গত। একইভাবে সরকারের সম্প্রচার নীতিমালার প্রতিবাদ করছি। দেখুন, আজকের গণমাধ্যমের যে বিকাশ তা একদিনে হয়নি। গণমাধ্যমকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে এই অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। কিন্তু একটি অবৈধ সরকার জোর করে ক্ষমতায় থাকার জন্য গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে, আর আমরা চুপ করে বসে থাকব, তা হতে পারে না। ’৭২-এর পর আওয়ামী লীগ বাকশাল গঠনের নামে যেমন একদলীয়, স্বৈরশাসন জারি করেছিল, এখনও তা-ই করা হচ্ছে। বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, আর সরকার বাংলাদেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এটি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।”   আন্দোলন সম্পর্কে তিনি বলেন, “আন্দোলন টাইম লাইন (সময়সীমা) ধরে হয় না। সময়ই সব বলে দেবে। সময় ধরে কথা বললেও সমস্যা, আবার না বললেও সমস্যা। আমরা চাই সরকারের শুভবুদ্ধির উদায় হোক। তা না হলে একটি গণমানুষের সরকার প্রতিষ্ঠায় যা করবার তার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।”   সামনের আন্দোলন আবারো সহিংসতার দিকে যাবে কি না?-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা জনগণের প্রাণের দাবি নিয়ে আন্দোলন করছি। আমরা জ্বালাও-পোড়ানোর আন্দোলনে বিশ্বাস করি না। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে জনগণকে আমরা বিচ্ছিন্ন করতে পেরেছি, এটিই সফলতা। সকল অশান্তির পেছনে কাজ করেছে সরকার। জনগণই অশান্তি দূর করতে বদ্ধপরিকর।”   বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা সম্পর্কে এই নেতা বলেন, “ সংগঠনের মধ্যে কিছু কিছু সমস্যা আছে, আমি তা অস্বীকার করছি না। একটি বড় দলে এমন টানাপড়েন থাকবে, এটিই স্বাভাবিক। সাংগঠনিক দুবর্লতা থাকার পরও সারা দেশে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল এর জন্য গোটা দেশবাসীকে সাধুবাদ জানাই। মানুষ ছোটখাটো সমস্যা ভুলে গিয়ে আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিল। একটি স্বৈরাচারী সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য বন্দুকের ওপর নির্ভর করলে তখন কিইবা করার থাকে। সরকারের নির্মমতা আমাদের হতবাক করেছে। একটি সভ্য সমাজের মানুষ কোনোভাবেই এমন আচরণ প্রত্যাশা করতে পারে না। ক্ষমতায় থাকার জন্য যদি সরকার সকল বিধিব্যবস্থাই গ্রহণ করে তাহলে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য আমাদেরও সে পথে হাঁটতে হবে। সরকার পতনের আন্দোলনে এবার সর্বোচ্চ শক্তি ব্যয় করা হবে। ” সরকারের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাতের যে গুঞ্জন রয়েছে এ সম্পর্কে সোহেল বলেন, “সরকারের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাতের বিষয়টি পত্রপত্রিকায় প্রকাশ পাচ্ছে। আমরা জামায়াতের রাজনীতি করি না এবং জামায়াতও আমাদের রাজনীতি করে না। রাজনীতির মাঠে উভয়েরই একটি কৌশলগত জোট রয়েছে। জামায়াতের কৌশল জামায়াতই ঠিক করে থাকে। তবে আমি মনে করি না যে, জামায়াত সরকারের পাতানো ফাঁদে পা দেবে। কারণ আওয়ামী লীগ কারোরই বন্ধু হতে পারে না। আমরা একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে যে নৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলছি, জামায়াতও তার অংশীদার। জামায়াত সেখান থেকে বিচ্ছিন্ন হবে, এটি মনে করার কোনো কারণ নেই।”   আগামীর পথচলায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে সোহেল বলেন, “আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের কথা বলে নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণ করছে। দেশ ক্রমশই পিছনের দিকে যাচ্ছে। সম্প্রচার নীতিমালা, বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ সাম্প্রতিক অশুভ ইঙ্গিত। যারা সত্যে বিশ্বাসী, যারা সত্য বলে আসছেন তাদের হাত-পা বেঁধে ফেলেছে সরকার। আওয়ামী লীগ হচ্ছে, ‘গণতান্ত্রিক মাঠে মেষ বেশে নেকড়ের মতো (A wolf in sheep’s clothing)।’ গণতন্ত্রের মুখোশ পরে আওয়াম লীগ স্বৈরতন্ত্রের সবই প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, এটি মনে করা আর ‘বিষধর সাপের সঙ্গে অন্ধকারে রাত কাটানো সমান।’ আওয়ামী লীগের ছোবল থেকে গণতন্ত্রকে, দেশকে রক্ষা করতে না পারলে জাতিকে চরম মূল্য দিতে হবে। এই বিপর্যয়ের কথা নেতা-কর্মীরা ইতোমধ্যেই উপলব্ধি করতে পেরেছেন বলে বিশ্বাস করি। আর এই উপলব্ধি থেকেই তারা আন্দোলনের ডাকে জাগবেন, সাড়া দেবেন।” বিস্তারিত»

খালেদা যে বিজেপির মোদিকে আশ্বস্ত করতে চান, তা স্পষ্ট: আনন্দবাজার

কলকাতা: বৃহস্পতিবার কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকাটির সম্পাদকীয়তে বলা হয়, খালেদা জিয়া যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আশ্বস্ত করতে চান, তা স্পষ্ট। আনন্দবাজার পত্রিকাটির সম্পাদকীয় এখানে হুবহু তুলে ধরা হলো। আনন্দবাজার এখনো সম্পাদকীয় সাধু ভাষায় লিখে থাকে। “বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির (বিএনপি) নেতা এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিজেপি নেতৃত্বকে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধিদল পাঠাইবার আমন্ত্রণ জানাইয়াছেন। আসন্ন দুর্গোৎসবের সময়কেই এই আমন্ত্রিত সফরের জন্য বাছিয়া লওয়া হইয়াছে। আপাতদৃষ্টিতে খালেদার এই আমন্ত্রণ আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত মনে হইতে পারে। কিন্তু ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ তাঁহার বাংলাদেশ সফরকালে বিরোধী নেত্রী খালেদার সহিত সাক্ষাৎ করেন। সম্ভবত তাহারই প্রতিদানস্বরূপ এই আমন্ত্রণ। দুর্গাপূজার লগ্নটিকে সফরের জন্য বাছিয়া দিবার কারণ, ইহা বাংলাদেশের হিন্দুদের বৃহত্তম উত্সব। বেগম জিয়া সম্ভবত বিজেপি নেতৃত্বকে দেখাইতে চাহেন, তাঁহাকে যতটা ভারত-বিরোধী বলিয়া গণ্য ও প্রচার করা হয়, তিনি তাহা নহেন। ভারতের সহিত সুসম্পর্কের মূলে দুই দেশের রাজনৈতিক দল ও জনসাধারণের মধ্যে পারস্পরিক বিনিময়ও ফলপ্রসূ হইতে পারে বলিয়া তাঁহার ধারণা। বেগম জিয়ার এই আমন্ত্রণ কূটনৈতিক ভাবে কুশলী চাল হইলেও দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্কের বনিয়াদ সুদৃঢ় করিতে ইহা সহায়ক হইতে পারে। সাধারণত দেখা যায়, ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী ও সচিবরা বাংলাদেশ সফরে গেলে সেখানকার শাসক দলের সঙ্গেই যাবতীয় আলাপ-আলোচনা চালান। বাংলাদেশের রাজনীতি কিন্তু কার্যত দ্বিদলীয়। শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগ এবং খালেদা জিয়ার বিএনপি-র মধ্যেই ক্ষমতার মেরু ঘোরাফেরা করিয়া থাকে। তাই বিরোধী দল ক্ষমতাসীন নয় বলিয়া তাহার নেতৃত্বকে উপেক্ষা করা ভ্রান্ত কূটনীতি। বেগম জিয়ার শাসনকালও অবশ্য এ জন্য কতকাংশে দায়ী। ভারতের সহিত সুসম্পর্ক রচনায় অতীতে যে তাঁহার প্রচেষ্টার অভাব থাকিয়াছে, তাহাতে সংশয় নাই। রাজধানী ঢাকাকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত করিয়া এবং ওই জঙ্গিদের ‘স্বাধীনতা-সংগ্রামী’ আখ্যা দিয়া প্রধানমন্ত্রী খালেদার সরকার স্বভাবতই নয়াদিল্লির বিরাগভাজন হয়। তুলনায় শেখ হাসিনা ওয়াজেদের আওয়ামি লিগ সরকার অনেক বেশি ভারতবন্ধুর ভূমিকা পালন করিয়াছে। কিন্তু ভারত জানে, যেমন জানেন বেগম জিয়াও যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে পুনরায় বিএনপি ক্ষমতাসীন হইতে পারে এবং সেই দল ও তাহার সর্বময় কর্ত্রীর সহিত সুসম্পর্ক বজায় রাখা আবশ্যক। একই কারণে খালেদাও বিজেপির সহিত সুসম্পর্ক গড়িতে চাহেন। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তাঁহার নির্বাচনী প্রচারের সময় দুইটি বিষয় উল্লেখ করিয়াছিলেন। এক বাংলাদেশ হইতে অনুপ্রবেশকারীদের ভারতে স্থান নাই, যদিও শরণার্থীরা স্বাগত। দুই, শরণার্থী তাহারাই, যাহারা দুর্গা-মাইয়ের পূজা করে, অর্থাত্ বাংলাদেশ হইতে বিতাড়িত হিন্দুরা। বাংলাদেশি হিন্দুদের সেই সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গা-মাইয়ের পূজার সময়েই খালেদা বিজেপির প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানাইয়াছেন। সেই সঙ্গে জানাইতে ভুলেন নাই যে, তাঁহার প্রধানমন্ত্রিত্বের কালে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতনের ঘটনা অনেক হ্রাস পায় এবং ফলত ভারতে তাহাদের শরণার্থী হওয়ার ঘটনাও কমিয়া আসে। বেগম জিয়া যে বিজেপির নরেন্দ্র মোদীকে আশ্বস্ত করিতে চাহেন, তাহা স্পষ্ট। তিনি ভবিষ্যতের নিরিখে বৃহত্তম প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সহিত মৈত্রীর সেতুবন্ধনে আগ্রহী। সুলক্ষণ।” বিস্তারিত»

হামলা-মামলায় সরকারের শেষ রক্ষা হবে না: ফখরুল

ঢাকা: সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির ২৪ নেতাকর্মীর জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলামসহ ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির ২৪ জন নেতা-কর্মী মিথ্যা মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠায়। শুক্রবার এক বিবৃতিতে ফখরুল বলেন, “বর্তমান সরকারের নির্মম এবং স্বেচ্ছাচারিতামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশবাসী যখন সোচ্চার তখন সরকার আরো বেপরোয়া ও দিশেহারা হয়ে উঠেছে। আর এ কারণেই বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের, গ্রেফতার, রিমান্ডে নিয়ে বর্বরোচিত নির্যাতন, হত্যা, গুম, অপহরণ, এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির ২৪ জন নেতা-কর্মীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় কারাগারে প্রেরণের ঘটনা বর্তমান অবৈধ ও গণবিচ্ছিন্ন সরকারের ধারাবাহিক অপকর্মেরই অংশ। এসব করার একমাত্র লক্ষ্যই হচ্ছে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা যাতে বর্তমান অবৈধ সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা ও গণবিরোধী কার্যকলাপসহ স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারে। কিন্তু তাতে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না।” মির্জা আলমগীর দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, “সংবিধান বর্ণিত জনগণের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ এবং বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন করে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে সরকারের স্বেচ্ছাচারি কর্মকাণ্ড দেশের সচেতন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রুখে দেয়া হবে ইনশাল্লাহ।” বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অবিলম্বে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির ২৪ জন নেতা-কর্মীর মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ‘বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’  মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান। বিস্তারিত»

ছবি ঘর

  • holo gram baby
  • political picture
মাওলানা ফারুকী হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে  কালীগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা

মোঃ আল-আমিন দেওয়ান, গাজীপুর প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালীগঞ্জে বাংলাদেশ আহলে ছুন্নাত ওয়াল জামাত, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হিজবুর রাসুল(সাঃ) ও ইসলামী ছাত্র সেনা কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে চ্যানেল আই’র ‘কাফেলা’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদের খতিব আল্লামা কাজী নুরুল ইসলাম ফারুকী’র হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকালে এক বর্ণাঢ্য বিক্ষোভ মিছিল উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কালীগঞ্জ উপজেলা চত্বরে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। বাংলাদেশ আহলে ছুন্নাত ওয়াল জামাত উপজেলা সভাপতি আলহাজ্ব মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে গাজীপুর জেলা আহলে ছুন্নাত ওয়াল জামাতের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো. আল-আমিন দেওয়ান আল-আবিদীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আহলে ছুন্নাত ওয়াল জামাত সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মো. আবদুছ ছাত্তার মোজাদ্দেদী, উপদেষ্টা সদস্য দেওয়ান শফিউদ্দিন আহম্মেদ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ উপজেলা সভাপতি মো. আবু তাহের খান আলমগীর, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রিয়াজ আহম্মেদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রশিদ ভূইয়া, ইসলামী ছাত্র সেনা জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন প্রমূখ। এ সময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা এ,এইচ,এম কাউছার আলম, মাওলানা মো. মফিজুর রহমান ছাদেক, মাওলানা মো. সিরাজুম মুনির, মাওলানা মো. আবদুল্লাহ, মো. মেজবাহ উদ্দিন, মো. আবু ইউসুফ, মো. তাজুল ইসলাম, মো. খাইরুল ইসলামসহ শত শত ধর্মপ্রাণ মুসুল্লি সাধারণ। প্রতিবাদ সভা থেকে বক্তাগণ চ্যানেল আই’র ‘কাফেলা’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদের খতিব আল্লামা কাজী নুরুল ইসলাম ফারুকী’র হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবী জানান।

বিস্তারিত»
সিলেটে দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আটক ১০

সিলেট: সিলেট সদর উপজেলার সাহেবের বাজারে দুপক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং অর্ধশত আহত হয়েছেন। নিহতের নাম মাসুকুর রহমান (২৫)। তিনি স্থানীয় ইয়াংস্টার সমাজকল্যাণ সংস্থার সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও দেওয়াইরবহর গ্রামের মৃত আবদুল বারীর ছেলে । শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। পরে এ ঘটনায় পুলিশ ১০ জনকে আটক করেছে। জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে কৃষক সংগ্রাম পরিষদ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে আসছিল। এ নিয়ে কয়েকদিন আগে এলাকার লোকজনের সঙ্গে কৃষক সংগ্রাম পরিষদ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। ওইদিন পরিষদের নেতাকর্মীরা স্থানীয় সাহেবের বাজারে হামলা ও ভাংচুর চালানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। শুক্রবার ওই হামলার জের ধরেই দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় মাসুকুর রহমান ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং অর্ধশত ব্যক্তি আহত হন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ দুপক্ষের ১০ জনকে আটক এবং সংঘর্ষে ব্যবহৃত কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।

বিস্তারিত»
বকেয়া পরিশোধে ৪ দিনের আল্টিমেটাম তোবা সংগ্রাম কমিটির

ঢাকা:  বকেয়া উৎসব ভাতা ও ওভারটাইম পরিশোধের জন্য সরকার ও মালিকপক্ষকে চার দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে  তোবা গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম কমিটি। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি এবং ৭ সেপ্টেম্বর শ্রম মন্ত্রণালয় ঘেরাও করার ঘোষণা দিয়েছেন তোবা গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ও গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ আল্টিমেটাম দিয়েছে সংগঠনটি। অবস্থান ধর্মঘটে ১৫টি শ্রমিক সংগঠনের নেতা ও শ্রমিকরা অংশ নেন। সকাল ১১টা শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ অবস্থান ধর্মঘট চলে। মোশরেফা মিশু বলেন, সরকার ও বিজিএমএ শ্রমিকের জাত নয়, এরা উভয়ই মালিকদের দালাল। সারা বাংলাদেশের শ্রমিকদের নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে এদের প্রতিহত করে শ্রমিক শ্রেণির সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। মোশরেফা মিশু আরো বলেন, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা ও ওভারটাইম আদায়ের জন্য আমাদের অনশনের মতো কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে। এতে আমাদের প্রাথমিক বিজয় হলেও শ্রমিকরা ভাতা ও ওভারটাইম পায়নি। তিনি বলেন, কারখানা চালুর জন্য মালিককে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সরকারের উচিত দ্রুত কারখানাটি অধিগ্রহণ করে খুলে দেওয়া। সিপিবির সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খান বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে বেতন বাড়ানোর জন্য আন্দোলন করা হয় কিন্তু বকেয়া বেতন আদায়ে কোনো দেশে আন্দোলন হয় না। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী মাসের ৭ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। অথচ গত তিন মাস ধরে তোবা শ্রমিকরা বেতনের দাবিতে আন্দোলন করতে গেলে পুলিশ উল্টো তাদের নির্যাতন করছে। অবস্থান কর্মসূচিতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পাটির্র সভাপতি সাইফুল হক, বাসদের (খালেকুজ্জামান) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজিকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহ আতিউল ইসলাম ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক তাসলিমা আক্তার বক্তব্য রাখেন।

বিস্তারিত»
জাতীয় ঈদগাহে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত পঞ্চগড়ের পথে মাওলানা ফারুকীর মৃতদেহ

ঢাকা: চ্যানেল আইয়ের উপস্থাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীর নামাজে জানাজা জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে।   শুক্রবার বাদ জুমা বাইতুল মোকাররমের খতিব আল্লামা প্রফেসর মাওলানা মো. সালাহউদ্দিন জানাজার নামাজ পড়ান । জানাজা নামাজ শেষে তার লাশবাহী গাড়ি পঞ্চগড়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। সেখানে তার মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হবে। জানাজায় প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, বাইতুল মোকাররমের চেয়ারম্যান, হজ এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর চেয়ারম্যান ইব্রাহীম বাহার, ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতি মুজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ফারুকীর বড় ছেলে আহম্মেদ রেজা ফারুকী, মেজ ছেলে ফয়সাল ফারুকীসহ অন্য স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, বুধবার রাতে ১৭৪ নম্বর পূর্ব রাজাবাজারের নিজ বাসায় চমাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে ছুরিকাঘাত ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বিস্তারিত»
নারায়ণগঞ্জে ১হাজার পিস  ইয়াবাসহ গ্রেফতার-৩

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় আষাঢ়ীয়ারচর এলাকায় এক হাজার পিস ইয়াবাসহ ৩ জনকে আটক করেছে সোনারগাঁও থানা পুলিশ। শুক্রবার সকালে একটি প্রাইভেটকার থেকে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ ৩ জনকে আটক করা হয়। সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রিজাউল হক জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁও উপজেলার আষাঢ়ীয়ার চর এলাকায় সোনারগাঁও থানা পুলিশ বিভিন্ন যাত্রীবাহী যানবাহনে তল্লাশি চালায়। এর এক পর্যায়ে কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে (ঢাকা মেট্রো-গ- ১৫-১৪৯৩) তল্লাশি চালিয়ে ১হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় সোহেল (২৩), আমিনুল ইসলাম (৩০) ও সাথী বেগম ওরফে রোজিনাকে (২০) আটক করা হয়। আটককৃতদের মাদক আইনে মামলা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।  

বিস্তারিত»
গাজায় ইসরাইলী গণহত্যার প্রতিবাদে ঢাকায় খেলাফত মজলিসের বিক্ষোভ মিছিল

ঢাকা:খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, গাজায় কুক্ষাত সন্ত্রাসী ইসরাইল আক্রমন চালিয়ে  প্রায় ্আড়াই হাজার ফিলিস্তিনী নাগরিককে, মুসলমানকে হত্যা করেছে। দুর্ভাগ্যবশত আরবলীগ, আবরবিশ্ব এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়নি। এমনকি সৌদি আবরও কথা বলে নাই। গনতন্ত্রের ধ্বজ্জাধারী আমেরিকা, বৃটেন ইউরেপীয় ইউনিয়নও এ হামলার প্রতিবাদ করে নাই। এর বিরুদ্ধে মুসলমানদের সোচ্চার হতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গাজায় গণহত্যার জন্যে, মুসলমানদের ছিন্নভিন্ন করার জন্যে  কুক্ষাত ইসরাইল যেমন দায়ী, তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আমেরিকাও কম দায়ী নয়। আজকে সা¤্রাজ্যবাদের পদলেহনকারী শাসকদের বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হতে হবে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গাজায় ইসরাইলী গণহত্যার প্রতিবাদে ও ফিলিস্তিনের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবীতে খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আজ বাদ জুম্মা হাউজ বিল্ডিংয়ের সামনে ঢাকা মহানগরী সভাপতি মাওলানা নোমান মাযহারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের যুগ্মমহাসচিব শেখ গোলাম আসগর, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অফিস ও প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল জলিল, মহানগর সেক্রেটারী এডভোকেট মো: মিজানুর রহমান, মাওলানা আজিজুল হক, সহসভাপতি ডা: রিফাত মালিক, জহিরুল ইসলাম খন্দকার সাহাব উদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক সাইফুদ্দির আহমদ, ছাত্র মজলিস সেক্রেটারী জেনারেল সোহাইল আহমদ, ইলিয়াস হোসেন, শ্রমিক মজলিস সভাপতি নূর হোসেন, আবুল কালাম, আমীর আলী হাওলাদার প্রমুখ। সমাবেশের আগে গাজায় ইসরাইলী গণহত্যার প্রতিবাদে ও ফিলিস্তিনের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবীতে এক বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে, পল্টন মোড় হয়ে হাউজ বিল্ডিংয়ের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

বিস্তারিত»
ফিনল্যান্ডে বিএনপির ৩৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি

জামান সরকার, হেলসিংকিঃ ১সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৩৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এ উপলক্ষে ফিনল্যান্ড বিএনপি নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে । সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ১৯৭৮সালের ১লা সেপ্টেমর এ দলটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচিতে রয়েছে ১সেপ্টেম্বর এসপোস্থ দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও নৈশভোজ।   আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন দলের সভাপতি মোঃ শরীফুল ইসলাম বিশ্বাস। এছাড়া ওই দিন বিকেল ৯টায় এসপোতে থাকছে দলীয় মাসিক সভা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ৩৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান ও ফিনল্যান্ড বিএনপির সহ সভাপতি মোকলেসুর রহমান চপল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিস্তারিত»
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের মহানগর শাখার সপ্তম কাউন্সিল সম্পন্ন ছাত্র রাজনীতির আদর্শবাদী বিল্পবী ধারাকে শক্তিশালী করুন

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সিলেট মহানগর শাখার সপ্তম কাউন্সিল অদ্য ২৯-০৮-২০১৪ইং তারিখ সকাল ১০টায় আম্বরখানাস্থ দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্টিত হয়। কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক প্রনব জ্যোতি পালের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব পাপ্পু চন্দের পরিচালনায় কাউন্সিলে বক্তব্য রাখেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রাহাত আহমদ এবং সিলেট জেলা বাসদ এর সমন্বয়ক আবু জাফর। ছাত্রফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রাহাত আহমদ বলেন, বুর্জোয়া ছাত্র সংগঠন গুলোর হল দখল, ক্যাম্পাস দখল, টেন্ডারবাজির কারনে শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে সরকার সহ প্রশাসনের নানান অগনতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত, ভর্তি ফি বৃদ্ধি, সেমিষ্টার ফি বৃদ্ধি করে ছাত্রদেরকে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। শিক্ষাকে বানিজ্যিক উপকরনে পরিনত করছে। ছাত্রনেতা রাহাদ আহমদ, অধঃপতিত লুটেরা ছাত্র রাজনীতি পরিহার করে আদর্শবাদী বিল্পবী ধারাকে শক্তিশালী করার জন্য ছাত্র সমাজের প্রতি আহবান জানান। বক্তারা আগামী ৬ই সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সিলেট মহানগর শাখার কমিটি পরিচিতি সভায় ছাত্রফ্রন্টের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকার আহবান জানান।

বিস্তারিত»
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন এখন সিলেটে

নিজস্ব প্রতিনিধি:সিলেট বিএনপির গ্র“পিং কুন্দলে জর্জর। সিলেট বিএনপিকে সরকার বিরোধী আন্দোলনে ঐক্যের লক্ষ্যে এবং সাংগঠনিক আন্দোলনে সিলেটে বিএনপিকে শক্তিশালী ও সক্রিয় করে তুলতে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমদ এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী (বীরবিক্রম) এখন সিলেটে।  শুক্রবার দুপুর ২টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এসে পৌছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মহানগর বিএনপির সভাপতি এম. এ. হক, সাবেক এমপি ও সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দিলদার হুসেন সেলিম, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাহের শামীম, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, মহানগর বিএনপি নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা মাহবুব চৌধুরী, মহানগর বিএনপি নেতা মিফতাহ্ সিদ্দিকী, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা আফজল খান, বিএনপি নেতা ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের সিলেট মহানগর শাখার আহ্বায়ক ইসতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, সদস্য সচিব ও বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস চৌধুরী হামজা, মহানগর ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম নাচন, সাঈদ আহমদ সাঈদ, সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, দেওয়ান জাকির হুসেন, হানুর ইসলাম ইমন, এখলাছুর রহমান মুন্না, মোস্তাফিজুর রহমান রুমন, আবু বকর ছিদ্দিকী বাবু, সুচিত্র চৌধুরী বাবলু, আব্দুল মালেক, আলী আহমদ আলম, সাবের আহমদ চৌধুরী। এ সময় মহানগর ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম নাচনের নেতৃত্বে ২ শতাধিক মটর সাইকেল বিমানবন্দর থেকে শো-ডাউন দিয়ে দরগাহ হোটেল “স্টার পেসিফিক”-এ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের নিয়ে আসেন। আগামীকাল শনিবার দুপুর ২টায় নগরীর মালঞ্চ কমিউনিটি সেন্টারে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন।  

বিস্তারিত»
ফারুকী হত্যা নিয়ে খালেদা জিয়া মিথ্যাচার করছেন : ইনু

কুষ্টিয়া: মাওলানা নূরুল ইসলাম ফারুকী হত্যা নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যাচার করছেন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। ‘মাওলানা নূরুল ইসলাম ফারুকীকে হত্যার মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে দেশে খুনের রাজত্ব কায়েম হয়েছে’- বিএনপ চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া না জেনে, না বুঝে ফারুকী হত্যার দায় সরকারের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। এটি মিথ্যাচার। উনি অতীতেও করেছেন, এখনো করছেন। ‘বর্তমান সরকার অবৈধ, অনৈতিক’ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে ইনু বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকার সাংবিধানিকভাবে ও গণতান্ত্রিকভাবে বৈধ সরকার। আর যারা সাংবিধানিকভাবে নির্বাচনের পথ পরিহার করে নির্বাচনের আগেই অবৈধভাবে সরকার গঠনের চক্রান্ত করেছিল তারা রাজনীতি ও গণতন্ত্রের জন্য অনুপযুক্ত। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নিয়মতান্ত্রিকভাবে সারাদেশে আন্দোলনের কমিটি বানাতে পারে, মিছিল মিটিং করতে পারে। তবে হাতে বোমা এবং কোমরে যদি চাকু থাকে তাহলে সেই মিছিল, মিটিং ও সভা-সমাবেশ করার ব্যাপারে সরকার কঠোর প্রদক্ষেপ নেবে। এ সময় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন, পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিম, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসীনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা আশ্রয়ন সড়ক উদ্বোধন করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অগণতান্ত্রিক, পশ্চাদপদ মৌলবাদী শক্তিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ায় খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে মাইনাস। এ সরকার উন্নয়নের সরকার। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলেছে। জাসদ নেতা প্রভাষক হামিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, জাসদ কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, অধ্যক্ষ রেজাউল হক, সবেদ আলী খান, জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক অসিত কুমার সিংহ রায়, কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল রেজা, মিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিরাজাম মুনিরা, উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আহম্মদ আলী, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুল হক জোয়ার্দ্দার, জেলা তথ্য অফিসার তৌহিদুজ্জামান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা, আওয়ামী লীগ নেতা ছিদ্দিক আলী, ডা. চাঁদ আলী, মারফত আলী মাস্টার, গিয়াস উদ্দিন, আসকর আলী, লুৎফর রহমান, আব্দুর রশিদ ফোরকান, হাফিজুল হক প্রমুখ।

বিস্তারিত»
আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কি করে প্রশ্ন সুরঞ্জিতের

ঢাকা: গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভ্থমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য  সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত । প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ঘরের মধ্যে এসে মানুষ খুন করে যাবে, এ অরাজকতা চলতে পারে না। গোয়েন্দা ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কি করছে। পুলিশ বাহিনী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণায়লকে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়ে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে। শুকবার এক আলোচনা সভায় রাজধানীতে সামপ্রতিক কয়েকটি হত্যাকা-ের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইনঞ্জিনিয়ার্সে দেশের চলমান রাজনীতি নিয়ে বঙ্গবন্ধু একাডেমি আলোচনা সভার আয়োজন করে। সুরঞ্জিত বলেন, যারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটায় তারা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। সরকারকে এ দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। রাজধানীতে পরপর দুটি খুন হওয়ায় মানুষ ভীত হয়ে পড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সজাগ ও সচেতন হতে হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ সেলিম।

বিস্তারিত»
প্রধানমন্ত্রীকে রিজভী পুলিশ দিয়ে ক্ষমতার ময়ূরের মুকুট রক্ষা হবে না

ঢাকা: পুলিশ দিয়ে ক্ষমতার ময়ূরের মুকুট রক্ষা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি আরো বলেন,  ক্ষমতাসীনরা চিৎকার করছে। তারা টিকে থাকার জন্য গুম-খুন ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। এসময় সরকার পতনের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে বলে জানান তিনি। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাসাস আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে করে তিনি কথা বলেন।  জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৩৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাসাস ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ)। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আপনি জাতির পিতার কন্যা দাবি করেন। ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য গুম-খুন, মিথ্যা মামলা দেবেন- তাহলে কিসের জাতির পিতার কন্যা? আপনার আচরণ দেখলেই বোঝা যায় আপনি কার কন্যা। তিনি আরো বলেন, যে মাটিতে কাজী নজরুল ইসলাম, ভাসানী, জিয়াউর রহমানের জন্ম সে মাটিতে মানুষ মেরে মাথায় মুকুট পরে থাকবেন, সে আশা মিছে। তা কোনোদিন হতে পারে না। ৫ শতাংশ ভোট নিয়ে তাকে প্রধানমন্ত্রী মানার জন্যএ দেশের জন্ম হয়নি।

বিস্তারিত»
বাফুফের রেফারীজ কমিটির কো-চেয়ারম্যানকে ফুটবল রেফারীজ এসোসিয়েশনের সংবর্ধনা

ফাহমিন মুর্শেদ চৌধুরী: বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন রেফারীজ কমিটির কো-চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলামকে সিলেট জেলা ফুটবল রেফারীজ এসোসিয়েশনের সংবর্ধনা। শুক্রবার সকালে নগরীর স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক ফিফা রেফারী ও প্রশিক্ষক ফয়জুল ইসলাম আরিজ ও রেফারী এমরানুর রহমান ইমরানের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন রেফারী ফাহমিন মুর্শেদ চৌধুরী বাবু, রেফারী আনোয়ার হোসেন সাজু, রেফারী মিল্লাত চৌধুরী, রেফারী আব্দুল বাসেত। এসময় রেফারীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফিফা রেফারী জসিম উদ্দিন, ভোবন মোহন তরফদার, মনির ডালি, নুরুজ্জামান, শহিদুল ইসলাম লিমন, রেফারী আব্দুর রশিদ, কাওসার আহমদ, হোসেন আহমদ, আব্দুর রউফ সুজন, সিরাজুল ইসলাম, মঈনুল ইসলাম,   শহিদুল ইসলাম, জুয়েল, আব্দুল হামিদ, আহাদ আলী, ফয়েজ আহমদ, রিপন আহমদ, মনফর আলী, জাবেদ হোসেন, রাহিন, সিহাব উদ্দিন, হাবিব হাসান প্রমুখ।  

বিস্তারিত»
ব্রাডফোর্ডে বিসিএ-এর উদ্যেগে সামার ট্রিপ অনুষ্ঠিত

এম.এস.এইচ. সুজন: বাংলাদেশী কমিউনিটি এসোসিয়েশন ব্রাডফোর্ড এর উদ্যেগে সর্বস্থরের সববয়সী বাংলাদেশীদের নিয়ে প্রতিবারের ন্যায় এবারও এক সামার ট্রিপ এর আয়োজন করা হয়।২৬/৮/২০১৪ ইংরেজী মঙ্গলবার সকাল ৯ ঘটিকার সময় ব্রাডফোর্ড বিসিএ অফিসের সামন থেকে বাস ছেড়ে চলে যায় ব্লাকপোল সমুন্দ্র তীরে। সারা দিনব্যাপী স্বপরিবারে বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কর্মব্যস্ত এই মানুষগুলো কিছু সময়ের জন্য হলেও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে সমুদ্র তীরে। বিশাল এই সমুদ্র তীরে ঘরে উঠেছে রঙ বেরঙের রাইড, রকমারী শপিং সেন্টার, ব্লাকপোল টাওয়ার সহ অনেক বিনোদনের স্থান, যা দর্শনার্থীদের মনোমুগ্ধ ও আকর্ষিত করে তুলে। স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েরা সারাদিনের আনন্দ উল্লাস শেষে প্রকৃতির সাজানো এই সমুদ্র তীরে বার বার ফিরে আসা এবং আরও বেশী সময় ব্যয় করার প্রত্যয় তাদের অভিবাবকদের কাছে ব্যক্ত করে। সারা দিনের আনন্দ উল্লাস শেষে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে কিছু পাওয়া আর কিছু না পাওয়ার ব্যথা নিয়ে ঘরমুখী মানুষগুলো ঘরের উদ্দেশ্যে ফিরে আসে।

বিস্তারিত»
ইউক্রেনে সংঘর্ষের জন্যে রাশিয়া দায়ী : ওবামা

ওয়াশিংটন: পূর্ব ইউক্রেনের রাশিয়ার সেনা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে এমন অভিযোগ ওঠার পর সেখানে চলমান সংঘর্ষের জন্যে রাশিয়াকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেছেন, বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সরাসরি রাশিয়ার সেনাদের কাছে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। রাশিয়ার দেয়া অস্ত্র ও অর্থেই তারা এই যুদ্ধ চালাচ্ছে। এর আগে ন্যাটো বলেছে, ইউক্রেনের অভ্যন্তরে বিদ্রোহীদের পক্ষে লড়াই করছে প্রায় হাজার খানেক রুশ সেনা যারা ভারী অস্ত্রে সজ্জিত। সে সম্পর্কিত একটি স্যাটেলাইট ইমেজও প্রকাশ করেছে ন্যাটো। অন্যদিকে একজন রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাও বলেছেন, ইউক্রেনের সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ে সরাসরি অংশ নিচ্ছে রুশ সৈন্যরা। তবে জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত এই অভিযোগ নাকচ করে দিলেও কিছু রুশ সেনা ছুটি কাটাতে ইউক্রেনে রয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। রুশ সেনাদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে এক জরুরি সভায় মিলিত হয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এদিকে রাশিয়ার সেনাদের গোপনে পরিবারকে না জানিয়ে ইউক্রেনে পাঠিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাশিয়ার কস্ত্রোমা সামরিক ঘাঁটির বাইরে রুশ সেনাদের পরিবার জড়ো হচ্ছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। তারা রুশ সেনারা কোথায় রয়েছেন সেটি প্রকাশ করার দাবি জানান। ইউক্রেন প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ ইতোমধ্যেই রাশিয়ার ওপর অবরোধ আরোপ করেছে।

বিস্তারিত»
এক মাসের জন্য মাঠের বাইরে পিরলো

রোম: নিতম্বে আঘাতের কারণে সিরিজের প্রথম এক মাস মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে জুভেন্টাস প্লেমেকার আন্দ্রেয়া পিরলোকে। ইতালি চ্যাম্পিয়ন দলটির পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার এ কথা জানানো হয়েছে। কাবের দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পিরলোর এক মাস সময় লাগবে।’ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, লিগ প্রতিদ্বন্দ্বী এসি মিলানের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে ডান নিতম্বে আঘাত পান পিরলো। একনাগারে তিনবার সিরিএ শিরোপা জয়ের পর অ্যান্টোনিও কন্তের পরিবর্তে মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রিকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় জুভেন্টাস। আর কন্টে ইতালি জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গতবারের রানার্সআপ রোমার বিপক্ষে বহুল প্রত্যাশিত ম্যাচে আগামী ৫ অক্টোবর মাঠে ফিরতে পারেন ৩৫ বছর বয়সী পিরলো। শিরোপা অক্ষুন্ন রাখার প্রত্যয় নিয়ে আগামীকাল ভেরোনাতে চিয়েভোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মৌসুম শুরু করবে জুভেন্টাস। সূত্র: ওয়েবসাইট

বিস্তারিত»
সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার দেবহাটায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পথচারী নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরো একজন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় দেবহাটার পারুলিয়াস্থ লাইট হাউজ সিনেমা হলের সামনে ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন, দেবহাটারা চন্ডিপুর গ্রামের রঞ্জনের ছেলে মহাদেব (৪০) ও একই গ্রামের হরিপদ এর ছেলে কেনারাম (৪৫)। আহত ব্যক্তি হলেন একই গ্রামের মোহর আলী শেখের ছেলে জাকির আলী শেখ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার মহাদেব ,কেনারাম ও জাকির আলী সাতক্ষীরার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় কালিগঞ্জ থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাদের পিছন থেকে চাপা দিলে মহাদেব ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় কেনারাম ও জাকির কে হাসপাতালে নেয়ার পথে কেনারাম মারা যান। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন এই ঘটনায় ট্রাক চালক পালিয়ে গেছে। তবে ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হয়েছে।

বিস্তারিত»
এখনই জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব চান না মুলার

মিউনিখ: ফিলিপ লামের উত্তরসূরি হিসেবে ভেসে উঠছে তার নাম৷ কিন্তু জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব নিয়ে মোটেই আগ্রহী নন টমাস মুলার৷ তিনি নিজেই নেতৃত্বের দৌড় থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন৷ তার সাফ কথা, ‘আমার আর্মব্যান্ড দরকার নেই৷’ মুলারের মতে, এই পদের যোগ্য দাবিদার বাস্তিন সোয়াইনস্টেগার বা ম্যানুয়েল ন্যুয়ের৷ তিনি বলেছেন, ‘আর্মব্যান্ড হাতে না থাকলেও নেতা হওয়া যায়৷ ঘোষিত অধিনায়ক না হয়েও আমি দলকে নেতৃত্ব দিতে পারি৷ ভালো পারফর্ম করতে, নিজেকে উজাড় করে দিতে, দলকে ইতিবাচক উৎসাহ জোগাতে, আমাকে অধিনায়ক হতেই হবেক্ট তার কোনো মানে নেই৷ আর সত্যি কথা বলতে, জার্মানির অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে অনেকেই আমার থেকে এগিয়ে রয়েছে৷ সোয়াইনস্টেগার অনেক দিন যাবৎ জার্মানির সহঅধিনায়ক৷ পাশাপাশি ন্যুয়ের আছে৷ গত কয়েক বছর ধরে ও বিশ্বের সেরা গোলকিপার৷’ এদিকে বায়ার্ন মিউনিখের অনুশীলনে কয়েকশো সমর্থকের সামনে কোচ পেপ গুয়ারদিওলার কাছে অপমানিত হতে হলো মুলারকে৷ কোচের কাছে কার্যত গলা ধাক্কা খেয়েছেন ২৪ বছরের জার্মান স্ট্রাইকার৷ এদিন প্রিয় দলের প্র্যাকটিস দেখার অনুমতি পেয়েছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের সমর্থকেরা৷ অনুশীলনে বেশ কড়া মেজাজে ছিলেন গুয়ারদিওলা৷ মুলার কিছু ভুল করায় প্রচণ্ড রেগে যান তিনি৷ সটান গিয়ে মুলারের বুকে ধাক্কা মারেন৷ এর পর মুলারের গলায় হাত দিতেও দেখা গেছে তাঁকে৷ মুলারের আগে ক্লদিও পিজারোর সঙ্গেও ঝামেলা হয় বায়ার্ন কোচের৷ -ওয়েবসাইট।

বিস্তারিত»
যুদ্ধে বিজয়ী হতে পারেনি ইসরাইল: জরিপ

তেলআবিব: ইহুদিবাদী ইসরাইলের বেশিরভাগ মানুষ মনে করে গাজায় আগ্রাসন চালিয়ে বিজয়ী হতে পারেনি তেল আবিব। সাম্প্রতিক এক জরিপ থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে।   ইসরাইলের প্রভাবশালী দৈনিক পত্রিকা হারেৎজ পরিচালিত এ জরিপে দেখা গেছে- শতকরা ৫৪ ভাগ মানুষ মনে করছে যে, ইসরাইল পরিষ্কার বিজয় অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে।   গত মঙ্গলবার মিশরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়েছে এবং গাজায় ৫০ দিনব্যাপী যুদ্ধের অবসান হয়েছে। এরপর ইসরাইলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দাবি করছেন, এ যুদ্ধের মাধ্যমে গাজাভিত্তিক হামাসের ওপর তেল আবিব বড় সফলতা পেয়েছে। কিন্তু হারেৎজ পত্রিকার এ জরিপ নেতানিয়াহুর সেই দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দিচ্ছে।   যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়ার পরপরই নেতানিয়াহুর সরকার ইসরাইলের ভেতরে মারাত্মক রকমের চাপের মুখে পড়েছে। ইসরাইলের জোট সরকারের শরিকরা ও গণমাধ্যম চরম হতাশা প্রকাশ করেছে ইসরাইলের ওই চুক্তি মানার কারণে। সূত্র: আইআরআইবি  

বিস্তারিত»
খুনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি বলা যাবে না: স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা: ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে মসজিদের খতিব ও এক নারীসহ চারজন খুন হলেও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, “এসব ঘটনায় মোটেও বলা যাবে না রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।” এ নিয়ে সাংবাদিকদের ‘অপপ্রচার’ না চালাতেও অনুরোধ করেছেন প্রতিমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মগবাজারে তিন খুনের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবদুল জলিল, শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসান, উপকমিশনার কৃষ্ণপদ রায়ও সেখানে যান।   গত বুধবার রাত নয়টার দিকে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে ইসলামী ফ্রন্ট নেতা ও সুপ্রিম কোর্ট মসজিদের খতিব নুরুল ইসলাম ফারুকীকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা শেষ না হতেই বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে মগবাজারের সোনালীবাগে তিনজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তারা হলেন- বৃষ্টি ওরফে রানু (৩০), তার বাড়ির ভাড়াটে মুন্না (২২) ও বেলাল (২০)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বৃষ্টির ভাই হৃদয় (১৮)। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।   ঢাকা মেডিকেল কলেজ ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক মোজাম্মেক হক বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে চারজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলে রানু, মুন্না ও বেলালকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। স্বজনদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, রাত আটটার দিকে ১০/১২ জন সন্ত্রাসী সোনালীবাগের চান বেকারির গলির ওই বাসায় ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ে। এলাকাবাসী ও রমনা থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রেলের জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার তিনজনকে গুলি করে খুন করেছে স্থানীয় ‘কাইল্যা বাবু’ গ্রুপের সন্ত্রাসীরা। তবে নিহতের স্বজনরা দাবি করছেন, দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় তাদের খুন করা হয়েছে। দু’টি ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দাবি করে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, “পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা দোষীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। যে বা যারাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক না কেন এবং যে ইস্যুতেই এ খুনের ঘটনা ঘটুক না কেন দ্রুত খুনিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।”     আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই তদন্তের কাজ শুরু করেছি। খুব দ্রুতই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হবে।”

বিস্তারিত»
ময়মনসিংহে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় যাত্রীবাহী একটি বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে শামীম (৩২) নামে যুবক নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। শামীম কৃষি ব্যাংকের স্থানীয় মাইজবাগ শাখার নৈশ প্রহরী ছিলেন। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরশিহারীতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। জানা যায়, কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা একটি বাসকে ঢাকাগামী অপর একটি বাস অতিক্রম করার সময় ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই শামীম মারা যান এবং ২০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে ১০ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ৫ জনকে ঈশ্বরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

বিস্তারিত»
সিরাজগঞ্জে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ধস

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায় বন্যানিয়ন্ত্রণ রিং বাঁধের ৩০ মিটার এলাকা পানির চাপে ধসে গেছে। এতে উপজেলার মেঘাই, মেঘাই পশ্চিমপাড়া, বড়ইতলী ও কুনকুনিয়াসহ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ধসে পড়া অংশ দিয়ে প্রবল বেগে পানি ঢুকছে। এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জ-কাজীপুর-সোনামুখী সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। জানা যায়, যমুনা নদীর প্রবল পানির চাপের কারণেই বাঁধের ৩০ মিটার এলাকা ধসে যায়। অন্য দিনের চেয়ে শুক্রবার যমুনায় পানির চাপ অনেক বেশি। ধসে যাওয়া অংশে বালুর বস্তা দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা চলছে।

বিস্তারিত»
পাঁচ হাজার মণ লবণ নিয়ে মেঘনায় কার্গোডুবি, নিহত ১

চাঁদপুর: চাঁদপুরের হাইমচরে মেঘনা নদীতে লবণবাহী একটি কার্গো জাহাজ ডুবে একজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার তেলিরমোড় এলাকায় মেঘনা নদী অতিক্রমকালে ডুবোচরের সঙ্গে ধাক্কা লাগে ডুবে যায় লবণবাহী ‘এমভি ওসমান’ নামের কার্গো জাহাজটি। এ সময় কার্গোটির শ্রমিক মো. আরশাদ (৫৫) মারা যান। তার বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকায়। হাইমচর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থেকে ছেড়ে আসা লবণবাহী কার্গো জাহাজটি নারায়ণগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। এটি ডুবোচরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়। এসময় কার্গোতে থাকা আট শ্রমিক সাঁতরে নদীতীরে উঠমে সক্ষম হলেও আহত হন আরশাদ। উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওসি জানান, কার্গোবাহী জাহাজটিতে পাঁচ হাজার মণ লবণ ছিল। জাহাজটি তেলিরমোড় এলাকায় মেঘনা নদীতে নিমজ্জিত  রয়েছে। এটি উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে।

বিস্তারিত»
খালেদা জিয়া মিথ্যাচার অতীতেও করেছেন, এখনো করছেন: ইনু

কুষ্টিয়া: তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, “বেগম জিয়া ও তার স্বামী জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে খুনিদের আড়াল করা ও তাদের নিয়ে রাজনীতি করার ইতিহাস আছে। বেগম খালেদা জিয়া না জেনে বুঝে ফারুকী হত্যার দায় সরকারের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। এই ধরনের মিথ্যাচার উনি অতীতেও করেছেন, এখনো করছেন। এটা ঠিক নয়।” শুক্রবার সকাল ৯টায় কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরে মন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। এসময় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন, পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিমসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ও জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বর্তমান সরকার অবৈধ, অনৈতিক, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে ইনু বলেন, গত ৫ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকার সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিকভাবে একটি বৈধ সরকার। আর যারা সাংবিধানিকভাবে নির্বাচনের পথ পরিহার করে নির্বাচনের আগেই অবৈধভাবে সরকার গঠনের চক্রান্ত করেছিল তারা রাজনীতি ও গণতন্ত্রের জন্য অনুপযুক্ত। তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে সারাদেশে আন্দোলনের কমিটি বানাতে পারেন, মিছিল মিটিং করতে পারেন, তবে হাতে বোমা এবং কোমরে যদি চাকু থাকে তাহলে সেই মিছিল, মিটিং সভা সমাবেশ করার ব্যাপারে সরকার প্রশাসনিক কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

বিস্তারিত»

সাক্ষাৎকার

আন্তরিকতার সঙ্গে যেকোনো কাজ করতে পারলেই সফলতা আসবে

হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। সদস্যসচিব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), ঢাকা মহানগর। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি। স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বিএনপি। সাবেক সভাপতি, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটি। ঢাকা মহানগরের দায়িত্ব পাওয়া, আন্দোলন, সাংগঠনিক অবস্থানসহ নানা বিষয় নিয়ে সম্প্রতি মুখোমুখি হন সাপ্তাহিক-এর। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের পরিবর্তে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা জারি করেছে উল্লেখ করে বলেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে দেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ের কবলে পড়বে। আন্দোলনের মধ্য দিয়েই সরকারের পতন ঘটনো হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি সিলেটের আলাপ ডটকমের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো- প্রশ্ন  : ঢাকা মহানগর বিএনপি’র দায়িত্ব পেলেন। এ বিষয়ে অনুভূতি জানতে চাই? হাবিব-উন-নবী খান সোহেল : দায়িত্বই মানুষকে দায়িত্ববান করে তোলে। আমি এর আগে ঢাকা মহানগর বিএনপির কোনো পদে ছিলাম না। এ কারণে নগরকেন্দ্রিক রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা সেইভাবে গড়ে ওঠার কথা নয়। ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতি থেকে আজকের দায়িত্বে আসা। যদিও গত নির্বাচনে আমি ঢাকার একটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। সেই সুবাদে হয়তো নেতাদের সঙ্গে একটি সাংগঠনিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু একটি ইউনিটকেন্দ্রিক রাজনীতিতে নেতায় নেতায় যে সম্পর্ক বা নেতা-কর্মীদের মধ্যে যে সম্পর্ক, তা হয়তো পরিপূর্ণভাবে আমার ছিল না। দায়িত্ব নেয়ার পর গত এক মাসে আমি সেই সম্পর্কের দিকেই অধিক গুরুত্ব দিয়েছি। আমি ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করছি। আমি লক্ষ করছি, কর্মীরা আমাকে তাদের মাঝে পেয়ে বেশ উজ্জীবিত এবং সংগঠিত। কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে মনে হচ্ছে, তারা মন থেকে চেয়েছিল যে, আমি যেন এই দায়িত্বে আসি। প্রশ্ন : কমিটির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাসের সঙ্গে আপনার দ্বন্দ্বের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। দ্বন্দ্ব নিয়ে কী বলবেন? সোহেল : দেখুন, মির্জা আব্বাস দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা। তার রাজনৈতিক জীবনটাই আন্দোলন-সংগ্রামের। দলের জন্য তার অবদানের কথা আমার বলার অপেক্ষা রাখে না। আপনারা সবই জানেন হামলা, মামলা, জেল, জুলুম সহ্য করেই তার পথ চলা। অন্যদিকে আমার ক্ষুদ্র এই রাজনৈতিক জীবনটাও আন্দোলন-সংগ্রামের প্রাচীরে ঘেরা। দলের মঙ্গলই জাতির মঙ্গল, আমাদের মঙ্গল। এই কমিটমেন্ট থেকেই আমরা রাজনীতি করি। নতুন এই আহ্বায়ক কমিটি করার পর দ্বন্দ্বের বিষয়টি মিডিয়া ফলাও প্রকাশ করলেও আমি মনে করি আমাদের মধ্যে কোনো প্রকার দ্বন্দ্ব বা দূরত্ব নেই। মনে হয়েছে, কতিপয় গণমাধ্যম একটু অতিরিক্তই লিখেছে, যার কোনো ভিত্তি আছে বলে আমি মনে করি না। বিএনপি’র মতো একটি বড় দলে কমিটি দিয়ে সবার মন জয় করা যায় না। কেউ মনোক্ষুণ হতেই পারেন। কিন্তু দেখতে হবে সময়, বাস্তব পরিস্থিতি। সামান্য দ্বন্দ্বে দল বা জাতির বৃহৎ স্বার্থ বিসর্জন দেয়ার সুযোগ নেই। আমরা মনেপ্রাণে এটিই বিশ্বাস করি। এই কমিটি হওয়ার পর যে সমালোচনা হয়েছে বা হচ্ছে, তা যেকোনো সময়ের চেয়ে ন্যূনতম বলে আমার মনে হয়েছে। আশা করি, কোনো প্রকার ভুল বোঝাবুঝি থাকলে তা নিজ দায়িত্ব বলেই দূর করতে পারব। প্রশ্ন  : পরিস্থিতির কথা বলছিলেন। বিশেষ পরিস্থিতিকে উপলক্ষ করে এবং পরিবর্তনের আঙ্গিকেই এই কমিটি? সেই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কতটুকু প্রস্তুত? সোহেল : সামনের পুরো পরিস্থিতিই আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এনজয় করি। সারাদেশের নেতা-কর্মীরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, ঢাকায় একটি বড় ধরনের আন্দোলন হতে পারত। কেন সেই আন্দোলন হবে না, সেটাই আমার চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় হামলা, মামলার শিকার হব, এটাই স্বাভাবিক। রাজনীতির বন্ধুর পথ মাড়াতে খারাপ লাগে না, ভালোই লাগে। প্রশ্ন : চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি না? সোহেল : আওয়ামী লীগ পুরো রাজনীতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলেছে। গণতন্ত্র হচ্ছে একটি প্রবহমান নদীর মতো। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার নাম করে এই গণতন্ত্র নামের নদীতে বাঁধ দিয়েছে। কিন্তু প্রবহমান নদীতে কোনো বাঁধই যে টিকতে পারে না, আওয়ামী লীগ তা ভুলে গেছে। এই বাঁধ ভাঙা কঠিন হতেই পারে। কিন্তুু কোনো এক সময় ভাঙবেই। আমি মনে করি, জনগণ আওয়ামী লীগের দেয়া বাঁধ ভাঙার জন্য অপেক্ষমাণ। আমরা যদি চলমান আন্দোলনের সঙ্গে জনগণের সেই আবেগ-অনুভূতিকে সম্পৃক্ত করতে পারি, তাহলে বাঁধ ভাঙা সময়ের ব্যাপার মাত্র। তখন আর বিশেষ কোনো পরিকল্পনারও প্রয়োজন পড়বে না। জনগণের শক্তিই মূল পরিকল্পনা। এটি উপলব্ধি করার সময় এসেছে। অন্যায়ভাবে টিকে থাকা যায় না। আওয়ামী লীগ হয়তো ক্ষমতার স্বাদ নিতে গিয়ে অতীত অভিজ্ঞতার ভুলে ঘুমিয়ে আছে। জনগণই সেই ঘুম ভাঙাবে। কোনো স্বৈরশাসকই স্থায়ীভাবে টিকে থাকতে পারেনি। আওয়ামী লীগও টিকতে পারবে না। ভোটারবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রায় আট মাস হলো ক্ষমতায় আছে। কী তাদের অর্জন। দেশ-বিদেশ থেকে ধিক্কার আর ঘৃণা ছাড়া নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কিছুই পায়নি। আওয়ামী লীগের ভাষায়, বিএনপি নির্বাচনে না গিয়ে অনেক বড় ভুল করেছে বুঝলাম। কিন্তু আওয়ামী লীগ কী লাভ করল। আমি তো মনে করি, ভোটারভীতি এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিজেই নিজের সর্বনাশ করেছে। আওয়ামী লীগের হিসাব জনগণই মিটিয়ে দেবে। প্রশ্ন  : জনগণের আবেগের কথা বলছেন। সেই আবেগ আপনারা ধারণ করতে প্রস্তুত কি না বা জনগণই আপনাদের আন্দোলনে আস্থা রাখতে পারবে কি না? সোহেল : আমি দায়িত্ব নেয়ার এই অল্প সময়ে ঢাকার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে যতটুকু অনুধাবন করতে পারছি, তাতে জনগণ আমাদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে মনে করি। ঢাকা মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে। এই দুর্বলতা দীর্ঘদিনের। প্রতিটি ওয়ার্ডে নেতা-কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ছিল। নতুন কমিটির প্রধান কাজই হচ্ছে এই সমন্বয়হীনতা দূর করা। প্রশ্ন  : সাংগঠনিক সমন্বয়হীনতাই বিএনপি’র বিপর্যয়ের প্রধান কারণ বলে মনে করা হয়। এই সমন্বয়হীনতা দীর্ঘদিনের আপনি নিজেও বলছিলেন। কীভাবে মোকাবেলা করছেন? সোহেল : আন্তরিকতার সঙ্গে যেকোনো কাজ করতে পারলেই সফলতা আসবে। আমি যদি নেতা-কর্মীদের কাছে পরিষ্কার করতে পারি যে, বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যে নয়, আমি দলের জন্য, দেশের জন্য কাজ করছি, তাহলে তারা আমার প্রতি আস্থা রাখবেই। কর্মীদের আস্থা অর্জন করতে পারলেই আন্দোলনে সফলতা আসে। আমি সে দিকেই গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। প্রশ্ন : গত নির্বাচনের আগে-পরে সেই জন-আস্থা তৈরি করতে পারেননি। আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তন হয়ত জনপ্রত্যাশাই ছিল। তখন হয়নি, এখন পারবেন কীভাবে? সোহেল : জন-আস্থা তৈরি করতে পারিনি, আমি তা বলব না। আমরা গত নির্বাচনে ভোটারদের দূরে রাখতে পেরেছিলাম, এটিই আমাদের সফলতা। মানুষ আমাদের প্রতি বিশ্বাস রাখতে পেরেছে বলেই ভোট কেন্দ্রে যায়নি। শতকরা পাঁচ ভাগ ভোট নিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক দলের জন্য এর চেয়ে আর কী খারাপ পরিণতি থাকতে পারে। প্রশ্ন : এরপরেও তো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে, আছে। শুধু ভোট দেয়া থেকে ভোটারদের দূরে সরিয়ে রাখার মধ্যেই সফলতা? সোহেল : ৫ জানুয়ারির আগে ঢাকার বাইরে আমরা যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলাম, মুক্তিযুদ্ধের পর এমন আন্দোলন আর কখনও হয়নি। এটি সর্বজনস্বীকৃত। প্রশ্ন : কিন্তু ঢাকাকেন্দ্রিক আন্দোলনের ব্যর্থতা তো সব মøান করে দিয়েছে? সোহেল : এটি অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু আপনাকে বাস্তব পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে হবে। ঢাকার আন্দোলনকে ঠেকানোর জন্য সরকার এমন ন্যক্কারজনক শক্তি প্রয়োগ করেছিল, সা একটি ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচারী রাষ্ট্রেও হয় না। আন্দোলনে পুলিশ হিংস্্র হয়ে গুলি চালিয়েছে। এতে করে সরকার আন্দোলন দমিয়ে সাময়িকভাবে টিকে থাকতে পারছে বটে, কিন্তু এ টিকে থাকা শুভবুদ্ধির পরিচয় নয়। আবারও আন্দোলন হবে এবং আওয়ামী লীগকেই তার খেসারত দিতে হবে। গত আন্দোলনে ঢাকায় আমাদের দুর্বলতা ছিল এবং সরকার অতিমাত্রায় নিপীড়ন চালিয়েছে বলে দৃশ্যত সফল হওয়া যায়নি। প্রশ্ন : সরকারের এই অবস্থান বুঝতে পারার মধ্যে আপনাদের কোনো ঘাটতি ছিল কি না? সোহেল : ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আওয়ামী লীগ এত নিচে নামতে পারবে, তা আমাদের ধারণার মধ্যে ছিল না। জনগণের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে যেকোনো মূল্যে ভুয়া একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এমন একটি পুরানো গণতান্ত্রিক দল ক্ষমতায় যাবে, তা বিশ্বাস করতে পারিনি। প্রশ্ন  : আপনি আওয়ামী সরকারের স্বৈরাচারী অবস্থানের কথা বলছেন। আজ ২১ আগস্ট আপনার সঙ্গে কথা বলছি। এই দিনে শেখ হাসিনার সমাবেশে হামলা, আপনাদের সরকারের স্বৈরাচারী নীতির প্রতিফলন হয় কি না? সোহেল : দেখুন, ২১ আগস্টের ঘটনা এ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি ঘৃণ্য অধ্যায়। আমি কোনোভাবেই এই হত্যাকা- নিয়ে বিতর্কে যেতে পারি না। কারণ শেখ হাসিনাকে হত্যা করে বিএনপি কোনোই রাজনৈতিক সুবিধা নিতে পারে না। এটি দলের তৃণমূল থেকে শীর্ষ নেতারাও মনে করেন। আমরা চাই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং জড়িতদের সঠিক বিচার হোক। প্রশ্ন : ২১ আগস্ট অনেকগুলো ঘটনার ধারাবাহিকতার চূড়ান্ত স্টেইজ। আওয়ামী লীগ নেতা মমতাজ, আহসান উল্লাহ মাস্টার, কিবরিয়া হত্যাকা-ের কোনোটিরই তদন্ত-বিচার করেনি বিএনপিৃ সোহেল : ২১ আগস্টের ঘটনা জাতির জন্য কোনোভাইে কাম্য নয়। আমরা ঘটনা জানতে পেরে হতবাক হয়ে যাই। ওই ঘটনার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। তাকে সময় দেয়া হয়নি। শেখ হাসিনা তদন্তকাজে সহযোগিতা করেননি। এটিও আমাদের জন্য দুঃখজনক। তদন্ত-বিচারে আমাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না বরং আওয়ামী লীগই নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল। শুধু ২১ আগস্ট নয়, আমরা যেকোনো হত্যাকা-েরই নিন্দা জানাই। কিন্তু এমন হত্যাকা-ের ধারাবাহিকতা আমরা আগে থেকেই লক্ষ করে আসছি। উদীচীর সমাবেশে হামলা, রমনার বটমূলে হামলা তো আওয়ামী লীগের সময়েই হয়েছে। সুতরাং হত্যাকা- শুধু বিএনপি’র সময়েই হয়, এটি বলার মধ্যে কোনো স্বচ্ছতা থাকে না। প্রশ্ন  : ২১ আগস্টের হত্যাকা-ের বিচার চলছে। এখন কী বলবেন? সোহেল : এখন সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মধ্য থেকে বিচারকার্য চলছে। একে কোনোভাবেই বিচার বলা যায় না। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই তদন্ত করা হচ্ছে, আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই সুরেই কথা বলছেন। বিচারের আগেই প্রধানমন্ত্রী অমুক অমুক খুনি বলে অস্থির। তার এমন বক্তব্য নিঃসন্দেহে বিচারকার্যে প্রভাব ফেলবে। তারেক রহমানের মতো নেতাকে এই মামলায় জড়ানো হচ্ছে। এটি পুরো জাতির জন্য হতাশাজনক। তারেক রহমান শেখ হাসিনাকে হত্যা করে রাজনীতিতে সুবিধা পাবেন, এটি পাগলও বিশ্বাস করে না। আমরা মনে করি, শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদেরই নৈতিক দায়িত্ব। কারণ শেখ হাসিনার একটি কথাতেই আমাদের অনেক ভোট বৃদ্ধি পায়। শেখ হাসিনা নিজেই বিএনপি’র ভোট ব্যাংক। তিনি বিএনপি’র জন্য অ্যাসেট। প্রয়োজনে আমরা শেখ হাসিনার নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত। আমাদের স্বার্থেই তাকে বাঁচিয়ে রাখা দরকার। প্রশ্ন  : ঈদের আগে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিলেন। বিক্ষোভ মিছিল করলেন গাজা ইস্যু নিয়ে। কেন এই দৈন্য? সোহেল : নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলমান। আমরা আন্দোলনের মধ্যেই আছি। চলমান আন্দোলনে যদি আরও প্রসঙ্গ এসে যায়, যেকোনো গণতান্ত্রিক দলের উচিত সে ব্যাপারে কথা বলা। ইসরায়েলি বর্বরতায় ফিলিস্তিনের শত শত মানুষ নিহত হচ্ছে। ইসরায়েলের এই বর্বরতার বিরুদ্ধে একটি মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান পরিষ্কার নয়। আমরা তীব্র ঘৃণার সঙ্গে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানাচ্ছি। এ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল খুবই যুক্তিসঙ্গত। একইভাবে সরকারের সম্প্রচার নীতিমালার প্রতিবাদ করছি। দেখুন, আজকের গণমাধ্যমের যে বিকাশ তা একদিনে হয়নি। গণমাধ্যমকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে এই অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। কিন্তু একটি অবৈধ সরকার জোর করে ক্ষমতায় থাকার জন্য গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে, আর আমরা চুপ করে বসে থাকব, তা হতে পারে না। ‘৭২-এর পর আওয়ামী লীগ বাকশাল গঠনের নামে যেমন একদলীয়, স্বৈরশাসন জারি করেছিল, এখনও তা-ই করা হচ্ছে। বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, আর সরকার বাংলাদেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এটি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। প্রশ্ন : আপনারা শুরু থেকেই এই সরকারকে অবৈধ সরকার বলছেন। সরকার পতনের আন্দোলনে না গিয়ে গাজা ইস্যু, সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে কথা বলে হালে পানি পাবেন? সোহেল : আমরা তো আন্দোলন করেই যাচ্ছি। এর মধ্যে এই দুটি ইস্যু সামনে এসেছে বলে মাঠে নামতে হয়েছে। আমি মনে করি না, এই ইস্যু মূল আন্দোলনের সঙ্গে দ্বান্দ্বিক অবস্থা সৃষ্টি করে। বরং আন্দোলনকে আরও ত্বরান্বিত করে। প্রশ্ন : এমন অবস্থান বিশেষ কৌশল কি না? সোহেল : না। রাজনৈতিক দল যা করবে, তার সবই কৌশল নয়। এগুলো নিয়মিত আন্দোলনের অংশ বলে মনে করি। সময় হলেই সরকার পতনের আন্দোলন চাঙ্গা হবে। প্রশ্ন  : সেই আন্দোলনের কথা সময় ধরে বলা যায়? সোহেল : আন্দোলন টাইম লাইন (সময়সীমা) ধরে হয় না। সময়ই সব বলে দেবে। সময় ধরে কথা বললেও সমস্যা, আবার না বললেও সমস্যা। আমরা চাই সরকারের শুভবুদ্ধির উদায় হোক। তা না হলে একটি গণমানুষের সরকার প্রতিষ্ঠায় যা করবার তার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি। প্রশ্ন : নির্বাচনের আগে আন্দোলনে সহিংসতা প্রাধান্য পায়। সামনের আন্দোলন আবারও সে দিকে যাবে কি না? সোহেল : আমরা জনগণের প্রাণের দাবি নিয়ে আন্দোলন করছি। আমরা জ্বালাও-পোড়ানোর আন্দোলনে বিশ্বাস করি না। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে জনগণকে আমরা বিচ্ছিন্ন করতে পেরেছি, এটিই সফলতা। সকল অশান্তির পেছনে কাজ করেছে সরকার। জনগণই অশান্তি দূর করতে বদ্ধপরিকর। প্রশ্ন : জনগণকে কাছে পেতে সাংগঠনিক ভিত্তির প্রয়োজন। কিন্তু সারা দেশেই তো আপনাদের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে পড়ার অবস্থা? সোহেল : সংগঠনের মধ্যে কিছু কিছু সমস্যা আছে, আমি তা অস্বীকার করছি না। একটি বড় দলে এমন টানাপড়েন থাকবে, এটিই স্বাভাবিক। সাংগঠনিক দুবর্লতা থাকার পরও সারা দেশে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল এর জন্য গোটা দেশবাসীকে সাধুবাদ জানাই। মানুষ ছোটখাটো সমস্যা ভুলে গিয়ে আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিল। একটি স্বৈরাচারী সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য বন্দুকের ওপর নির্ভর করলে তখন কিইবা করার থাকে। সরকারের নির্মমতা আমাদের হতবাক করেছে। একটি সভ্য সমাজের মানুষ কোনোভাবেই এমন আচরণ প্রত্যাশা করতে পারে না। ক্ষমতায় থাকার জন্য যদি সরকার সকল বিধিব্যবস্থাই গ্রহণ করে তাহলে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য আমাদেরও সে পথে হাঁটতে হবে। সরকার পতনের আন্দোলনে এবার সর্বোচ্চ শক্তি ব্যয় করা হবে। প্রশ্ন  : ছাত্রদল-সেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্বে ছিলেন, আছেন। আন্দোলনের জন্য এ সংগঠনগুলোর ওপরেই অধিক নির্ভর করতে হয়। কিন্তু ব্যর্থতা এখানেও। এ ব্যাপারে কী বলবেন? সোহেল : ষাটের দশকে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন এবং আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলো একটি কমন টার্গেট সামনে রেখে। ‘৯০-এর পর সেই কমন টার্গেট ছিল না। মূল সংগঠনের হয়ে কাজ করতেই ছাত্র সংগঠনগুলো অভ্যস্ত। এ কারণে প্রত্যাশা থাকলেও ছাত্ররা একই প্লাটফর্মে এসে দাঁড়াতে পারেনি। আমি মনে করি, এখন সময় এসেছে একটি কমন পয়েন্টকে কেন্দ্র পথ চলার। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সবাইকে এক কাতারে আসার এখনই মোক্ষম সময়। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সেই জায়গা থেকে নেতৃত্ব দেবে বলে আশা করছি। সকল প্রকার দ্বিধা দূর করে দেশের বৃহৎ স্বার্থে ছাত্রঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। প্রশ্ন : সরকারের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাত হচ্ছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এ ব্যাপারে আপনার কোনো পর্যবেক্ষণ আছে কি না? সোহেল : সরকারের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাতের বিষয়টি পত্রপত্রিকায় প্রকাশ পাচ্ছে। আমরা জামায়াতের রাজনীতি করি না এবং জামায়াতও আমাদের রাজনীতি করে না। রাজনীতির মাঠে উভয়েরই একটি কৌশলগত জোট রয়েছে। জামায়াতের কৌশল জামায়াতই ঠিক করে থাকে। তবে আমি মনে করি না যে, জামায়াত সরকারের পাতানো ফাঁদে পা দেবে। কারণ আওয়ামী লীগ কারোরই বন্ধু হতে পারে না। আমরা একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে যে নৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলছি, জামায়াতও তার অংশীদার। জামায়াত সেখান থেকে বিচ্ছিন্ন হবে, এটি মনে করার কোনো কারণ নেই। প্রশ্ন : মামলার পাশাপাশি বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার হলেন। মামলা-গ্রেপ্তার নিয়ে কী বলবেন? সোহেল : মামলা, জেল, জুলুম এনজয় (উপভোগ) করি। আওয়ামী লীগের বিগত সময়েও এমন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে, এখনও তা-ই করছে। রাজনীতির পথ বন্ধুর। সরল রৈখিক পথে রাজনীতি হয় না। এটি জেনেই তো এ পথে এসেছি। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আনন্দটাই আলাদা। প্রশ্ন : আগামীর পথচলায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে কী বলবেন? সোহেল : আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের কথা বলে নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণ করছে। দেশ ক্রমশই পিছনের দিকে যাচ্ছে। সম্প্রচার নীতিমালা, বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ সাম্প্রতিক অশুভ ইঙ্গিত। যারা সত্যে বিশ্বাসী, যারা সত্য বলে আসছেন তাদের হাত-পা বেঁধে ফেলেছে সরকার। আওয়ামী লীগ হচ্ছে, ‘গণতান্ত্রিক মাঠে মেষ বেশে নেকড়ের মতো (A wolf in sheep’s clothing)।’ গণতন্ত্রের মুখোশ পরে আওয়াম লীগ স্বৈরতন্ত্রের সবই প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, এটি মনে করা আর ‘বিষধর সাপের সঙ্গে অন্ধকারে রাত কাটানো সমান।’ আওয়ামী লীগের ছোবল থেকে গণতন্ত্রকে, দেশকে রক্ষা করতে না পারলে জাতিকে চরম মূল্য দিতে হবে। এই বিপর্যয়ের কথা নেতা-কর্মীরা ইতোমধ্যেই উপলব্ধি করতে পেরেছেন বলে বিশ্বাস করি। আর এই উপলব্ধি থেকেই তারা আন্দোলনের ডাকে জাগবেন, সাড়া দেবেন।

বিস্তারিত»

বিশেষ কলাম

বিচারপতিদের অভিশংসন: এক সংকুল পথে এগুচ্ছে সরকার:দেলোয়ার জাহিদ

দেশে সংঘাতমূলক ও সাংঘর্ষিক রাজনীতির সাথে নতুন কিছু মাত্রা যুক্ত হয়েছে, সম্প্রচার আইন এবং বিচারপতিদের অভিশংসন এর মতো সংবেদনশীল দুটো বিষয়ও এতে রয়েছে। এ মৌলিক বিষয়গুলোতে সরকার অনেকটা পরিকল্পিত রাজনৈতিক বিবেচনায় হাত দিয়েছে বলে অনেকেরই ধারনা । বোদ্ধামহলের মতে নীতি নির্ধারণী কতগুলো বিষয়ে ক্ষমতাশীন সররকার সংকুল পথে এগুচ্ছে। বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে যাবে কি যাবে না তা নিয়ে বিশ্ব প্রেক্ষাপটে অবশ্যই আলোচনা হতে পারে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ক্ষমতায় গেলে সম্প্রচার আইন কিংবা বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদে ফিরিয়ে আনার বিধান বাতিল করার ইঙ্গিত দেন ...“আমরা স্পষ্টভাষায় বলে দিতে চাই, এই অবৈধ সরকারের আইন করার বৈধতা নেই। তাদের কোনো আইনই টিকবে না,” তিনি তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত উপলব্দি করেছেন গণমাধ্যম গণতন্ত্রের ‘হৃৎপিণ্ড’ এবং এটি একটি ‘মৌলিক’ বিষয়। এতো আশঙ্কা ও আতঙ্কের মাঝে তিনি বিষয়গগুলোর কিছু কৌশলী ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার মতে বিচারপতিদের অভিশংসনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত যা এসেছে তা একটি আইনগত প্রস্তাব (লেজিসলেটিভ প্রপোজাল) এ নিয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়।...’এটি কোন খসড়া বিলও না, খসড়া আইনও না। এটা প্রস্তাব আকারে আসবে, বিল হবে, কেবিনেটে ওঠবে, জাতীয় সংসদে আসবে, এরপর আসবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে। তারপর আসছে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি। সবাইকে মনে রাখতে হবে এটা কোন সাধারণ আইন নয়। কোন অর্ডিন্যান্সও নয়। এটা হচ্ছে সংবিধান সংশোধনমূলক আইন। এ প্রস্তাব সংসদের সাধারণ মেজরিটিতে পাস হবে না। টু থার্ড মেজরিটির (দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন) অনুমোদন লাগবে। এ বিষয়ে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে সব কিছু স্পষ্ট বলা আছে। সংবিধানে এ-ও বলা আছে, কোন আইন সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির অনুমোদ ছাড়া পাস হবে না। সংসদীয় কমিটি একটি মিনি পার্লামেন্ট। এ কমিটির সভাপতি হিসেবে আমি বলতে পারি, এ বিষয়ে আইনের অথরিটি ইনস্টিটিউশন অর্থাৎ প্রতিনিধিত্বমলূক বা কর্তৃত্ববাদী আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাবেক বিচারপতি, আইনজীবী, অ্যাটর্নি জেনারেলসহ সবাইকে ডাকবো। ওনাদের বক্তব্য প্রসিডিংয়ের পার্ট। কে কোন দলের সেটা বড় কথা নয়। তবে তারা যদি না আসে সেটি তাদের বিষয়। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট ও সংসদের মধ্যে জবাবদিহি নিশ্চিত করার যেমন প্রয়োজন আছে, তেমনি দু্ইটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়েরও ব্যাপার আছে। তবে যতক্ষণ আমি সভাপতি আছি ততক্ষণ পর্যন্ত আমি এ বিষয়ে ধীর পদক্ষেপে এগোনোর পক্ষে। তবে মন্ত্রণালয় ও সরকারকে বলবো এ বিষয়ে একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংসদ সদস্যদের দ্বারা বিচারপতিদের অভিশংসনের বিষয়টি কোন নতুন সংশোধনী নয়। বিষয়টি বাহাত্তরের সংবিধানে ছিল। পরে সংবিধান সংশোধন করে এটাকে কাটাছেঁড়া করা হয়েছে। এটুকু বলতে পারি, এর দ্বারা গণতন্ত্র যাতে আরও সুদৃঢ় হয়, সুপ্রিম কোর্ট, আইন বিভাগ ও নির্বাহীর বিভাগের মধ্যে যাতে সমন্বয় সাধন করা যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে (দৈনিক মানবজমিন, ২৭ আগস্ট ২০১৪)। এ প্রবীন রাজনৈতিক সুষ্পষ্ট ভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সরকার একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। গণতন্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করায় সরকারের অভিপ্রায়ের কথাও তিনি জানান। রাষ্ট্রের আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ এ তিনটি অঙ্গ কে নিরপেক্ষ রাখতে সরকার কাজ করছে। এ সব প্রতিষ্ঠানের রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলন ঘটাতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। অভিশংসন, বেআইনী বা কোন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের জন্য সরকারী লোকদের অভিযুক্ত করার একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। দেশের আইনী ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে, অপরাধী বা কোন নাগরিককে শাস্তি দিতে পারে, সরকারী কাজ বা পদ থেকে অপসারণের অন্তর্ভুক্ত করতে পারে. "অভিশংসন" শব্দটির শিকড় ল্যাটিন থেকে, আধুনিক ফরাসি ক্রিয়া empêcher (প্রতিরোধ) থেকে উদ্ভুত, এ প্রক্রিয়াটি সাধারণত ভোটারদের দ্বারা সূচিত  হয়। তবে কোন অব্যবস্থাপনার জন্য "রাজনৈতিক চার্জ" গঠনের নজির বা বিতর্ক ও রয়েছে। অভিশংসন (সাধারণত বিধানিক) এবং একটি সাংবিধানিক শরীর দ্বারা সূচিত করা হয়। অভিশংসন, প্রথম ব্রিটিশ রাজনৈতিক সিস্টেমে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে, এ প্রক্রিয়া সর্বপ্রথম ১৪তম শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যারন ল্যাটিমারের বিরুদ্ধে ইংরেজি "গুড সংসদ" দ্বারা তা ব্যবহৃত হয়. ব্রিটিশের উদাহরণ অনুসরণ করে, ভার্জিনিয়া (১৭৭৬), ম্যাসাচুসেটস (১৭৮০) এবং পরে অন্যান্য রাজ্যের সংবিধানে অভিশংসন প্রক্রিয়াটি গৃহীত হয়; তবে, অভিযুক্তদেরকে অফিস বা সরকারী দায়িত্ব থেকে অপসারণের শাস্তির মধ্যে তা ছিলো সীমাবদ্ধ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান অভিশংসন প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের হাউস, এবং সেনেট বিচারক হিসাবে কাজ করে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জরিমানা, অফিস থেকে অপসারণ এবং অযোগ্যতার জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু কানাডিয়ান জুডিশিয়াল কাউন্সিল ভিন্নতর বিচারক আইনের অধীনে নির্মিত একটি ফেডারেল শরীর (আরএস, ১৯৮৫, গ. জে-১), "দক্ষতা, সমতা, ও জবাবদিহিতা উন্নীত করা, এবং উচ্চতর আদালতে বিচার বিভাগীয় সেবার মান উন্নত করার হুকুম দিয়ে কানাডা ". কাউন্সিল একটি উচ্চতর আদালতে বিচারক এর বিরুদ্ধে "কোনো অভিযোগ, বা অভিযোগ" পর্যালোচনাকে বাধ্যতামূলক করে কানাডিয়ান যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার দ্বারা কাউন্সিল নিযুক্ত করা হয়. সব প্রদেশে, প্রদেশবাসী নিযুক্ত বিচারকদের বিষয়ে বাধ্যতামূলক একটি প্রাদেশিক জুডিশিয়াল কাউন্সিল আছে. যুক্তরাষ্ট্রীয় কাউন্সিল কানাডার প্রধান বিচারপতি, বর্তমানে রাইট মাননীয়: বেভারলে ম্যাকলেখলিন (Beverley McLachlin) এর সভাপতিত্বে গঠন হয়. সেখানে প্রধান বিচারপতি এবং কানাডা এর উচ্চতর আদালতের সহযোগী প্রধান বিচারপতি, ৩৮ জন আঞ্চলিক আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারক যারা কাউন্সিল সদস্য, এবং কানাডার কোর্ট মার্শাল এর প্রধান বিচারপতি এর অন্তর্ভুক্ত। কানাডিয়ান জুডিশিয়াল কাউন্সিল পাবলিক বা কেন্দ্রে নিযুক্ত বিচারকদের আচার  সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেলকে সদস্যদের দ্বারা গঠিত অভিযোগ তদন্ত বিচারক কর্তৃক আইনের অধীনে ক্ষমতা দেওয়া হয়. তার পর্যালোচনা এবং একটি অভিযোগ তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করার পর, কাউন্সিল একজন বিচারককে অফিস থেকে অপসারণ করতে বিচার মন্ত্রী মাধ্যমে সংসদ সহ, সংশ্লিষ্টদের সুপারিশ করতে পারেন. কানাডায় এমন একটি অভিযোগ অন্য কোন বিচারক হিসাবে একই ভাবে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ও করা যেতে পারে। অভিশংসন এর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে এর মাত্রা ১৫ শতকের পর থেকে ১৭ শতক পর্যন্ত তা কমে আসে. বাকিংহাম ১ম ডিউক (১৬২৬), ষ্ট্রাফফোর্ড আর্ল (১৬৪০), সর্বোচ্চ মার্গের দেবদূত উইলিয়াম লাউড(১৬৪২) তাদের মধ্যে ১৬২১ থেকে ১৬৭৯ পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি মুকুট প্রধান কর্মকর্তার অনেক নিচে আনা হয় বা শক্তিশালী সংসদীয় অস্ত্র দ্বারা তা পরিচালিত হয়, যেমনঃ ড্যানবাই এর ক্ল্যারেন্ডন আর্ল (১৬৬৭), এবং টমাস ওসবর্ণে, আর্ল (১৬৭৮). রাজার ক্ষমা তার মন্ত্রী বিরুদ্ধে অভিশংসন থামাতে পারে না এ মর্মে ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়. শ্রীলংকার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সিরানী বন্দরনায়েককে ২০১৩ সালে অভিশংসন করার জন্য শ্রীলঙ্কা সংসদ দ্বারা গৃহীত মোশানের তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়। শ্রীলঙ্কা সহ সারা বিশ্বের আইনি সম্প্রদায়ের সদস্যদের কাছ থেকে শক্তিশালী সমালোচনা সত্ত্বেও, শ্রীলংকার সংসদ অভিশংসনের বহন আপিল কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের উভয় এর বিধান উপেক্ষা করে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া চালায় । কলকাতা হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক সৌমিত্র সেন যিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম বিচারক যাকে তহবিল তছরূপ জন্য ভারতের রাজ্যসভা ২০১১ সালে অভিশংসিত করে। বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে সুপ্রিম কোর্ট, আইন বিভাগ ও নির্বাহীর বিভাগের মধ্যে যেন কোন সংঘাতমুখর অবস্থার সৃষ্টি না হয় এর জন্য ক্ষমতাসীন দল, বিরোধীদল (পার্লাম্যান্টের ভেতরে ও বাইরে), আইনি সম্প্রদায় এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহন করা উচিত। মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে গড়ে উঠা বাংলাদেশের রাজনৈতিক  পরিস্থিতি বর্তমানে অনেকটা ঘোমট ও থমথমে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক এবং নৈতিক সঙ্কট দিনদিন প্রকট থেকে প্রকটতর হচ্ছে। রাজনীতির আদর্শ এবং নীতি বিবর্জিত চর্চায় মানুষ দিশেহারা । বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মুখ আরো উজ্জল করতে দেশে সংঘাতমুখর রাজনীতিকে এড়ানো উচিত। অব্যাহত সঙ্কট থেকে মুক্তি পেতে অর্থবহ সংলাপ শুরু হওয়া উচিত । সরকারের এ সংকুল চলার পথে জাতীয় ঐক্য ও সমযোতার পথে এগুনোর কোন বিকল্প নেই। লেখকঃ দেলোয়ার জাহিদ, সভাপতি, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব  আলবার্টা ও সম্পাদক, সমাজকন্ঠ, কানাডা।  

বিস্তারিত»

এক্সক্লুসিভ

ইতালীর অনামকিা কে হাজতে পাঠালো Lloyds Bank

শেখ মহিতুর রহমান বাবলুঃ প্রকৃত আইন মানুষকে করে সুশৃংখল। অসামাজিক আচরণকে করে নিয়ন্ত্রণ। একটি সমাজ বা রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সুশাসন ও সঠিক আইন প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কিন্তু দেশে দেশে আইনের ভিন্নতার কোন শেষ নেই। শেষ নেই জানানোর।   ১৯৮৭ সালে ইউরোপে আসার পর থেকে বিভিন্ন দেশ ঘুরেছি, থেকেছি একাধিক দেশে। এক সময় ইতালীর সমুদ্র কন্যা ভ্যানিসের ‘‘রেডিও বাজে” থেকে প্রচারিত অভিবাসীদের জন্য আইন ভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘‘লেজ্জে ইসত্রেনিয়েরো” শিরনামের অনুষ্ঠানে শ্রোতাদের প্রশ্নের জবাব  দিয়েছি।    প্রত্যেকটা দেশের আইনের ভিন্নতা নিয়ে ভাবতে আমার ভাল লাগে। যদিও আমি আইনের ছাত্র নই। ২০০৯ সালে প্রথম বেড়াতে আসি বৃটেনে। আইনের উর্ধে কেউ নন এই কল্পমুর্তি এদেশের সর্বত্রই বিরাজ করতে দেখেছি তখনই। মুগ্ধ হয়েছি কোন নির্দৃষ্ট সংবিধান ছাড়া চালিত এই দেশটির আইন ও তার প্রয়োগ দেখে। কিন্তু সম্প্রতি রহস্যবৃত্তে ঢাকা একটি ঘটনা আমাকে সীমাহীন কৌতুহলী করে তুলেছে। প্রযুক্তির এই স্বর্ণযুগে প্রমানে ব্যর্থ হয়ে একজন মহিলাকে আটক ও জেল হাজতে প্রেরণ করা বৃটিশ পুলিশের পক্ষে যে সম্ভব, এ কথা ভাবিয়ে তুলেছে অমাকে ।   অনামকিা হাসান(ছদ্দনাম)। বাবা বাংলাদেশে জন্ম সূত্রে ইতালীয়ান নাগরিক। অনামকিার বয়স ১৮(+) হওয়াতে সে তাৎক্ষনিক ভাবে বাবার সাথে ইতালীয়ান নাগরিকত্ব পাননি। তবে তাঁর রয়েছে ইতালী থাকার আনলিমিটেড অনুমতি। ইতালীয়ান নাগরিকত্ব পেতেও তার কোন আইনী জটিলতা নেই, প্রয়োজন শুধু সময়ের। গত নভেম্বর মাসে বৃটেনে আসেন অনামকিা। বিয়ে করেন স্টুডেন্ট  মহেদী হাসান(ছদ্দনাম) কে। ইতিমধ্যে ইউরোপীয়ান নাগরিক ফ্যামিলি ভিসা ক্যাটাগরিতে বৃটেনে ৫ বছর থাকার অনুমতি অর্থাৎ ভিসা পেয়েছেন অনামকিা। পড়ালেখার পাশাপাশি পার্টটাইম কাজও করছেন তিনি। স্বামী মহেদীর স্টুডেন্ট ভিসা ইউরোপীয়ন ক্যাটাগরিতে বাড়ানোর জন্য নিজ পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজ হোম অফিসে পাঠানো হয়েছে। এখন প্রয়োজন একটা ব্যাংক এ্যাকাউন্টের।আর সেই এ্যাকাউন্ট খুলতে গিয়েই যত বিড়ম্বনা। মাত্রাতিরিক্ত এই বিড়ম্বনা শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে জেল হাজত পর্যন্ত। ব্যাচারা মহেদী প্রচন্ড ধার্মিক ও নিরীহ গোছের মানুষ। চোখের সামনে তার নব বধুর উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই আচমকা পুলিশি অভিযান মহেদীর জীবনের সহজাত নীরবতা যেন আরো নীরব হয়ে গেছে। বাক রুদ্ধ হয়ে পড়েছে সে। কি পরিস্থিতির অবতারনা হয়েছিল সেদিন পুলিশের অভিযান চলাকালে? পাঠক আসুন সেই হৃদয়ত্র“টি কাহিনী শোনা যাক অনামকিার মুখ থেকে।   ১৪ জুলাই। ব্যস্ততম লন্ডনের বাংলাদেশী পাড়া। Lloyds Bank এর হোইট চ্যাপল ব্রান্স। ব্যাংকের ভেতর অনেক মানুষ। যে যার কাজ নিয়ে ব্যস্ত। যথারিতি লাইনে দাড়িয়ে গেলাম। নতুন একটি এ্যাকাউন্ট খুলতে এসেছি আমরা। আগেই ওয়ান লাইন থেকে এ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম কানুন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে জেনে এবং সাথে নিয়ে এসেছি। দুপুর ১টা ১০ কি ১২ মিনিট। লাইন ঠেলে আমরা কর্তব্যরত অফিসারের সামনে পৌছালাম। মহেদীর ইউরোপীয়ন ক্যাটাগরির ভিসার জন্য আমার পাসপোর্ট হোম অফিসে ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে। তবে ব্যাংকের কথা বিবেচনায় রেখে পাসপোর্ট ও আমার ভিসার কপি আগেই সলিসিটর দিয়ে সত্যায়িত করে রেখেছিলাম। কর্তব্যরত অফিসার সম্ভাবত ইন্ডিয়ান বংশউর্দ্ধত। নাম মিঃ ভিজয় মাহাজন, তার কাছে সব কাগজপত্র দিয়ে দাড়িয়ে আছি। অফিসার ভালকরে সব ডকুমেন্ট দেখলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন সাথে কোন ফটো আইডি আছে কি? ব্যাগে অনেক কাগজের ভাজে ইতালীয়ান আইডি কার্ডটি পেয়ে অফিসারকে দিলাম। চমকে উঠলেন তিনি। বললেন Interesting color চোখে মুখে অফিসারের সন্দেহের ঘনঘটা। ধুম ধাম পায়ের আওয়াজ করে ছুটে গেলেন ম্যানেজারের রুমে। সেখানে অনেক সময় কাটিয়ে ফিরে এলেন ডেক্সে। মহেদী  বিনয়ের সাথে জিজ্ঞাসা করলো, কোন সমস্যা? অফিসার সমস্যার কথা না বলে পারলে  তাৎক্ষনিক পুলিশ কল করেন। ভাবখানা দেখে মনে হলো আমরা ফেরারী আসামী পুলিশের হাতে তুলে দিতেই ভদ্রলোককে ব্যাংকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। উপায় না দেখে আমাকে মুখ খুলতে হলো। জিজ্ঞাসা করলাম আপনি এত উদ্বিগ্ন কেন? তিনি জানতে চাইলেই আইডি কার্ডটি সঠিক কি না। কারণ এর রং ও ফন্ট    ইতালীর আইডি কার্ড থেকে অনেকটা ভিন্ন। মহেদী হেসে উঠলো। আমিও চুপ থাকতে পারলাম না। বললাম লিসেন অফিসার, এই আইডি কার্ডটি ইস্যু হয়েছে ইতালীর উত্তর প্রদেশ বোলছানো থেকে। আমি জানি বোলছানো সম্পর্কে কোন ধারনা থাকলে  এমন  প্রশ্ন করতে না। বোলজানো ইতালীর সায়ত্বশাষিত প্রদেশ। এদের রয়েছে নিজস্ব অনেক আইন কানুন। দ্বিতীয় বিশ্ব যুগের আগ পর্যন্ত বোলছানো ছিল অষ্ট্রিযার অংশ। এখন এটি ইতালীর নয়নাভিরাম একটি প্রদেশ। আদি বোলছানো বাসীর মাতৃভাষা জার্মান। সেখানে এখন অফিসিয়াল ভাষা ইতালীয়ান এবং জার্মান। ইতালীর অনেক কিছুর মত আইডি কার্ডেও বোলছানোর সাথে তাদের রয়েছে রং ও ফন্ট এ পার্থক্য। এ কথার সত্যতা যাচাই করতে এক্ষুনি নেটের সাহায্য নেয়া যেতে পারে। ইতালীয়ান দৃতাবাসে টেলিফোন ও মেইল করেও এ রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব।   কথাগুলো শুনে অফিসার আবারও ছুটে গেলেন ম্যানেজারের রুমে। কিন্তু না আমাদের কোন কথাই তাদের সন্দেহের বরফ গলাতে পারল না। অবশেষে আগামী দিন অর্থাৎ ১৫ জুলাই বিকাল ৪:৩০ মিনিটে আমাদেরকে আসতে বলা হলো। মহেদী জিজ্ঞাসা করলো আইডির সত্যতা যাচাই করতে আমাদের কোন সহযোগিতা লাগবে কি না? তাছাড়া ব্যাংক এ্যাকাউন্ট খুলতে আর কোন ডকুমেন্ট প্রভাইড করতে হবে কি না ইত্যাদি। অফিসার বিরক্তের সাথে বললেন কিছু লাগলে টেলিফোনে জানানো হবে।একটি অস্থিরমতি অবস্থার মধ্য দিয়ে বাসায় ফিরে এলাম।   ১৫ জুলাই। নির্ধারিত সময়ের ঘন্টা খানেক আগেই আমরা ব্যাংকে গিয়ে পৌছালাম।  মিঃ ভিজয় মাহাজন আমাদেরকে যথাসময়ে আসতে বললেন। তিনি আরো বললেন  তোমাদের কাজ আজই শেষ করা হবে।   নির্ধারিত সময়ে আমরা ব্যাংকে ঢুকতেই অফিসার দ্রুত ম্যানেজারের রুমে গিয়ে আমাদের উপস্থিতির কথা জানিয়ে দিলেন। দেখলাম কিছু বুঝে উঠার আগেই আমাদেরকে পুলিশ ঘিরে ফেলেছ। বুঝতে বাকি রইল না আমরা আসার আগেই পুলিশ ডাকার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। আমাদের সামনে পুলিশের হাতে আমার আইডি তুলে দিয়ে বলা হলো এটি একটি ফলস ও ফেক আইডি। শুরু হয়ে গেল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ। আমার নাম জন্মতারিখ জন্মস্থান একধিকবার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো। তাদের প্রশ্নের জবাব প্রতিবাদী কন্ঠে দেয়াতে এক পর্যায়ে পুলিশ বলে বসল, এটা যে ফলস ও ফেক আইডি নয় তা তোমাকেই প্রমাণ করতে হবে। পুলিশের কথা শুনে আমি হতবাক।   এদিকে মহেদী কখনো বলছিলো কখনো শুনছিলো। পুলিশ লন্ডনস্থ ইতালীয়ান দৃতাবাসের সাথে যোগযোগের জন্য টেলিফোন নং দিলো (০২০৭৩১২২২০০)। মহেদী ফোন করল ইতালীয়ান দৃতাবাসে। লাউড স্পিকারে দৃতাবাসের কথা সকলকে শুনালেন। ইতালীয়ান দৃতাবাস থেকে একটা ইমেল এ্যাডড্রেস (Passport.londra@esteri.it)দিয়ে বলা হলো এখানে আইডির কপি মেইল করলে বিতর্কিত আইডি সম্পর্কে   বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করা হবে।   দৃতাবাসের কোন কথায় কর্ণপাত করল না পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য তারা বিভিন্ন সোর্স থেকে ইতিমধ্যে খবর নিয়ে জেনেছে এই আইডি কার্ড ফরস্ ও ফেক। Lloyds Bank এর ম্যানেজারের রয়েছে ১৬ বছরের অভিজ্ঞতা। তিনিও এটাকে ফলস ও ফেক বলে সনাক্ত করেছেন। মহেদী  পুলিশের সোর্স সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশ এ ব্যাপারে কোন তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে।   কোন কথা নয়, আমাকে আটক করবে পুলিশ, বুঝতে বাকি রইল না।  মহেদীর ভেতরের সব চাঞ্চল্য ধিরে ধিরে স্থির হয়ে যাচ্ছে। মুখমন্ডলে তার অন্য রকম কালো ছায়া। এই ছায়া সে সরাতে গিয়ে প্রানান্তর চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু না। ঘটতে যাওয়া অঘটনের আভাস কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না সে। পাখির মতো দুচোখ জ্বলে ছল ছল করছে  মহেদীর। অসহায়ের মতো একবার তাকাচ্ছে আমার দিকে আবার পুলিশের দিকে।   ব্যাংকের সামনে অপেক্ষা করছে পুলিশের ভ্যান। মহিলা পুলিশের সতর্ক প্রহরায় আমাকে ভ্যানের ভেতরে আসামীদের জন্য তৈরী ছোট একটি লোহার খাচায় পুরে দরজা বন্ধ করে দেয়া হলো। চোখের পলকে ছুটে চললো আমাকে বহনকারী পুলিশের ভ্যান। আমি বার বার জানতে চেয়েছি আমাকে কোথায় এবং কেন নেয়া হচ্ছে। কিন্তু কোন উত্তর মেলেনি। আটক হবার পূর্ব মুহুর্তে   কোন কথাই হয়নি মহেদীর সাথে। আমি জানি দুঃখ ও কষ্টের মালা গলায় পরে সে বাসার উদ্দেশ্যে হাটছে আর ভাবছে।   বেথনালগ্রিণ থানায় নিয়ে যাওয়া হলো আমাকে। মেটাল  সহ সব কিছুই আমার কাছ থেকে নিয়ে নেয়া হলো। হাজতে  প্রবেবেশর আগে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ। পুরাতন প্রশ্নের সাথে এবার যোগ হলো নতুন কিছু প্রশ্ন। (১) আমার কোন আইনজীবি আছে কিনা (২) সরকারী আইনজীবি লাগবে কি না (৩) আমি রোজা আছি কি না? ইত্যাদি। পৃথিবীর কোন হাজত খানা ইতিপূর্বে খালি চোখে দেখিনি। তাই আপলক দৃষ্টিতে দেখছি আর ভাবছি। উচু উচু দেয়াল। রুমের ভেতর কোন জানালা নেই। দেয়ালের সাথে সিমেন্ট দিয়ে তৈরী করা বেড। তার উপর পাথরের মতো শক্ত, হালকা পাতলা ম্যাট্রেস এবং একই কায়দায় তৈরী বালিশ। রুমের ছাদে ড্রাগস সেবনকারীদের উদ্দেশে লেখা আছে নানান ধরনের জ্ঞানের কথা। এ ছাড়া আরো লেখা আছে এই রুমটি সম্ভাবত সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। রুমের ভেতর খাবার বা ব্যবহারের পানির কোন ব্যবস্থা নেই। রুমের এক পাশে একটি উন্মুক্ত টয়লেট। সেখানে টিসু পেপার, পানি বা সাবান কিছুই ইে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে রুমটি যদি সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তবে সেখানে উন্মুক্ত টয়লেট ব্যবহারের উপায় কি?   আমি রোজাদার। সন্ধা ৯.৩০ এর দিকে আমাকে খাবার দেয়া হবে। এর আগে পরে কোন কিছুর প্রয়োজন হলে কলিং বেল টিপে কর্তব্যরতদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বলা হয়েছে।ইফতারির ঘন্টা খানেক আগে আফ্রিকান বংশউদ্দুত এক ভদ্রলোক এসে আমার সাথে ইতালীয়ান ভাষায় কথা বললেন। জানা গেল তিনি ইতালীতে পড়া লেখা করেছেন। আমার ছবি তুললেন। ডি.এন.এ পরিক্ষার নমুনা আমার শরীর থেকে সংগ্রহ করে চলে গেলেন।   হাজতে আসার পর থেকে যখন যাকে পেয়েছি জানতে চেয়েছি, আমি এখানে কেন? আমার অপরাধ কি? আর কতক্ষণ থাকতে হবে এই বন্ধি কারাগারে। আমি কি আমার মহেদীর সাথে একটু কথা বলতে পারব? ইত্যাদি। আমার প্রশ্নের কোন সঠিক জবাব কেউ দিল না। সবাই কেবল এড়িয়ে যেতে পারলেই বাচে। এমন কি হাজতের ভেতরে থাকাবস্থায় পানি, টিসু পেপার বা অন্য কিছুর জন্য কলিং বেল টিপে কর্মরতদের দেখা মিলতে সময় পার হয়েছে ঘন্টার পর ঘন্টা। তার পরেও সব সময় প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটেনি।   সন্ধা ৯টা ২০ কি ৩০ মিঃ।  আমার ইফতার/ খাবার দিয়ে গেল। একটা পেটে শও ভাত ও কিছু চিলি কারী। পাস্টিকের গাসের আধা গাস পানি। ১৮/১৯ ঘন্টার রোজা এবং সারা দিনের ক্লান্তি এর কোনটাই আমাকে হাজত খানার ঐ খাবারের প্রতি আশক্ত করতে পারল না।   নামাজের জন্য ওজুর পানি ও একটা টাওয়াল প্রয়োজন। হাজত কর্তৃপক্ষ এগুলো সরবরাহ করবে বলেছিল কিন্তু না। অবশ্য ওদের মধ্যে একজন বলেছিল কোরান আছে, নেবে?   ইফতারির কিছুক্ষণ পর হাজতে কর্তব্যরত একজন এসে জানালো আমার ইন্টারভিউ নেয়া হবে ১০/১৫ মিনিটের মধ্যে । মানুষিক প্রস্তুতি নিতে বলা হলো। দোভাষি অথবা সরকারী আইনজীবি লাগবে কিনা তাও জানতে চাইল সে। আমি অপেক্ষা করছি। ১০/১৫ মিনিট আর শেষ হয় না। মনে হচ্ছিল ইন্টারভিউ নিয়ে আমাকে ছেড়ে দেয়া হবে। ঘন্টা খানেক পর একই ব্যাক্তি এসে জানালো রাত তিনটা বাজে ইন্টারভিউ হবে। রমজান মাস তাই এর আগে আর সম্ভব হচ্ছে না।   আজ ১৭ তম পবিত্র মাহে রমজান। বাইরে আকাশ ভরা জোৎসনা। গোটা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ যখন নামাজ, ইফতারি, সেহরি ও সিয়াম সাধনায় ব্যাস্ত, আমি তখন বন্দি কারাগারে। রাতের আধারে বিশ্ব শ্রষ্ঠাকে আমি যে একটা সেজদা দেব সে সুযোগও আমার নেই।  মহেদী এখন  কোথায়?  আমার বন্ধিশালার কথা কি সে ইতালীতে আমার বাবা মা কে জানিয়েছে? আমি পরিবারের একমাত্র সন্তান। বিয়ের আগে আমার জনম দুঃখী মা আমাকে ছাড়া থাকার কথা ভাবতেও পারতেন না। লন্ডনে আমার এই দুরাবস্থার কথা শুনলে কি হবে তার অবস্থা ? তিনি কি হাউমাউ করে কাঁদবেন ? না নির্বাক হয়ে পড়বেন?   মন বলছে  কাল সকালে কি আমাকে বেল দেয়া হবে। কারণ আমি তো কোন অপরাধ করিনি। পুলিশ ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ভুলের খেসারত গুনতে হচ্ছে আমাকে। আমি মুক্ত হলে ওদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেবো। অবশ্যই নেবো। একথা ভেবে নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করছি।    হাজতের বিছানায় শুয়ে আছি। চোখের পানিতে ছিনথেটিকের বালিশ ভিজে একাকার। মাঝে মাঝে শব্দ করে কান্না বেরিয়ে যাচ্ছে। জোরে জোরে চিৎকার করতে ইচ্ছা করছে। নিজেকে সামলে নেবার প্রাণপন চেষ্টা চালাচ্ছি। কারণ হাজতের বিছানায় যদি আমি মরে যাই? কি হবে আমার মা বাবা ও মহেদীর ?   থানা পুলিশ জেল হাজত ইত্যাদি আমাদের পরিবারে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়। সুতরাং আমার হাজতে থাকার ঘটনা পারিবারিক ও সামাজিকভাবে আমাকে দারুনভাবে অপমানিত করেছে। জীবনের বাকি দিনগুলি আমি কি পারব এ অপবাদের বোঝা বহন করতে ? আমাদের সমাজ সংস্কৃতি ও পরিবার যদি আমাকে কোনদিনও ক্ষমা না করে?     ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। সকাল ৮টা কি ৯টা। ঘুম ভেংগে গেল। সারারাত গভীর ঘুমে নিমগ্ন থাকলেও আমার অবস্থা তখনও জুবু থুবু। কর্তব্যরত একজনকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলাম। রাত ৩টা বাজে আমার ইন্টারভিউ নেবার কি হলো। তিনি বললেন অপেক্ষা করুন।    সকাল দশটার দিকে শুরু হলো দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ। এরই মধ্যে সরকারি সলিসিটর Kiran Chahal আমার সাথে কথা বলে গেছেন। বেলা ১১ টার দিকে সব রিপোর্ট সহ আমাকে হাজির করা হলো Case Worker ক্রিসটিনার কাছে। তিনি মনোযোগ সহকারে সব কিছু পড়লেন। মিস মিস করে হাসলেন। বললেন আপনাকে বেল দেয়া হলো। ১২ সেপ্টেম্বর হাজিরা দিতে আসবেন। ঐ দিন এই কেস ডিসমিস করা হবে অথবা পাঠানো হবে কোর্টে।   আমার সব জিনিসপত্র ফিরিয়ে দেয়া হলো।  বাইরে বেরিয়ে এলাম।  মহেদীকে দেখে মুহুর্তের মধ্যে আমার মন থেকে মুছে গেল সব ধরনের অবসাদ। পৃথিবীটা যে আসলেই ভালবাসার পৃথিবী তা আবার প্রমাণিত হলো। আমরা বেরিয়ে পড়লাম । পিছনে পড়ে রইল স্মৃতিবিজড়িত বেথনাল গ্রিণ পুলিশ ষ্টেশন ও হাজত খানা। হাজত খানার প্রতিটা মুহুর্ত স্মৃতির বীণার বাজতে থাকল টমেস  নদীর পানির ঢেউয়ের এক একটা ঝাপনার মতো।        

বিস্তারিত»

মতামত

 মৃত্যুদণ্ড দেশে বিদেশে যুগে যুগে (১৪) শাহবাগে গণউন্মত্ততায় নিহত মোমবাতির শ্বাশ্বত প্রতীক ও আহত সভ্যতা

শফিক রেহমান:ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক কারণে গণদাবিতে মৃত্যুদণ্ডের প্রচলন অতীতে অনেক বেশি ছিল। এই ধরনের গণদাবি ওঠানোর জন্য ক্ষমতাসীনরা অথবা ক্ষমতালোভীরা ম্যাস হিস্টেরিয়া (Mass hysteria) বা গণউন্মত্ততা সৃষ্টি করত। গত শতাব্দিতে ম্যাস হিস্টেরিয়া বা গণউন্মত্ততার সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত ছিল ত্রিশের দশকে জার্মানিতে নাৎসি পার্টির উত্থান ও এডলফ হিটলারের ক্ষমতা লাভ। হিটলার ইহুদিদের বিরুদ্ধে গণউন্মত্ততা সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন। নাৎসি পার্টি ও তিনি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে জার্মানিতে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন। পরিণতিতে জার্মান জাতিকে একটি কলংকিত যুগে তারা ঠেলে দিতে পেরেছিলেন। জার্মানিতে হয়েছিল গণহত্যা এবং বিশ্বে হয়েছিল ছয় বছর ব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। বিশ্বের মানুষ অবাক হয়ে মনে করেছিল সভ্য, শিক্ষিত, বিজ্ঞান মনস্ক ও কালচার্ড জাতির দেশ জার্মানিতে জন্ম হয়েছিল কার্ল মাক্স  ও ফ্রেডরিখ এংগেলসের মতো মানবতাবাদী দার্শনিক, লুডউইগ বিথোভেন-এর মতো সুরকার, এলবার্ট আইনস্টাইনের মতো বৈজ্ঞানিক, ইয়োহান গ্যেটে-র মতো কবি ও নাট্যকার, টমাস মান-এর মতো ঔপন্যাসিক, এরিখ মারিয়া রেমার্ক-এর মতো লেখক এবং বহু নোবেল প্রাইজ বিজয়ী ও আবিষ্কারক। কিন্তু কিভাবে সেই দেশের মানুষকে ভেড়ার পালের মতো নিয়ন্ত্রণে এনেছিলেন হিটলার ও নাৎসি পার্টি? গোটা জার্মান জাতি কিভাবে হারিয়েছিল মানবতাবোধ, বিবেক ও বুদ্ধি? সেই অন্ধকার যুগের খেসারত এখনো দিতে হচ্ছে জার্মান জাতিকে। থাকতে হচ্ছে বিশ্ব নিন্দার পাথর চাপা হয়ে। তাই জার্মান জাতি এখন আবার চেষ্টা করছে বিশ্ব প্রশংসা অর্জনের লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য দেখাতে। ২০১৪-তে ব্রাজিলে ওয়ার্ল্ড কাপ ফুটবল ফাইনালে জার্মানির চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা ছিল এই লক্ষ্যে জার্মান জাতির আরেকটি ধাপ উত্তরণ। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কালে আওয়ামী লীগও গণতান্ত্রিক এবং অগণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে এক দলীয় শাসন এবং একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে গিয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তারাও ম্যাস হিস্টেরিয়া বা গণউন্মত্ততা সৃষ্টি করেছে। তবে আওয়ামী লীগ কখনোই বাংলাদেশকে ওয়ার্ল্ড কাপ ফুটবল ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন করতে পারবে না। শুধু রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের সামগ্রিক লক্ষ্য অর্জনের জন্যই নয় - সীমিত লক্ষ্য অর্জনের জন্যও ম্যাস হিস্টেরিয়া বা গণউন্মত্ততা সৃষ্টি করা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে। যেমন, গত শতাব্দিতে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে কমিউনিজমের উত্থান বন্ধ করার লক্ষ্যে সৃষ্টি করা হয়েছিল ম্যাকার্থিজম (McCarthyism)। এই শতাব্দিতে বাংলাদেশে যুদ্ধ অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ডের এবং জামায়াতে ইসলামি পার্টি নিষিদ্ধ করার দাবিতে সৃষ্টি করা হয়েছিল শাহবাগ গণজাগরন মঞ্চ। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মানুষও চিন্তা করবে কেন তাদেরই একটি বড় অংশ হারিয়ে ছিল মানবতাবোধ, বিবেক ও বুদ্ধি? অষ্টাদশ শতাব্দির শেষ দিকে গণদাবিতে মানুষের মৃত্যু সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে ফ্রেঞ্চ রিভলিউশনের সময়ে। তারপর থেকে বিভিন্ন দেশে মানুষ চেষ্টা করেছে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে দণ্ড দিতে। মানুষ সভ্যতার দিকে এগিয়ে গিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সেদিকে যেতে পারেনি। এই একবিংশ শতাব্দিতেও বাংলাদেশে গণদাবিতে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছে। তবে একটি এবসার্ড ঘটনায় বাংলাদেশে গত শতাব্দির শেষ প্রান্তে মৃত্যুদণ্ড রহিত করার গণদাবিও উঠেছিল। তাহলে বাংলাদেশের মানুষ কোন দিকে? তারা কি মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে? নাকি তারা মৃত্যুদণ্ডের বিপক্ষে? নিহত মোমবাতির শ্বাশ্বত চরিত্র ২০১৩ সালে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ঢাকার অতি ব্যস্ত পয়েন্ট, শাহবাগ চত্বরে বহু মানুষের সমাবেশ ঘটে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার আবরণে এই সমাবেশ থেকে যুদ্ধ অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করা হয়। এর পরিণতিতে প্রচলিত আইন তড়িঘড়ি করে সংশোধনের পরে রাষ্ট্রপক্ষের কৌশুলির আবেদন ক্রমে জামায়াতে ইসলামি নেতা আবদুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পরিবর্তে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এর ফলে গণজাগরণ মঞ্চ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতীক নয় - মৃত্যুদণ্ডের প্রতীক হয়ে ওঠে। পাচ বছরের শিশুদের মাথায় কাগজের ব্যাক্সে ফাসি চাই লেখা নিয়ে সমবেত হন তাদের পিতামাতা। টিভি ক্যামেরার সামনে ওই শিশুদের স্লোগান দেওয়ান তাদের পিতামাতা। শিশুদের আধোবুলি দর্শকরা শোনেন, “ফাতি তাই।” ওই শিশু কি বোঝে, ফাসি কি? মৃত্যু কি? মৃত্যুদণ্ডকামীরা ভুলে যান মোম ব্যবহৃত হয় মঙ্গল কামনায় (জন্মদিনে), আনন্দে (বিয়ে বার্ষিকীসহ বিভিন্ন এনিভারসারি ও খুশির ঘটনায়) উৎসবে (কৃসমাস, পূজায়), প্রেমে (স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক-প্রেমিকার ক্যানডল লাইট ডিনারে বা মোমের আলোতে পানাহারে), শান্তির দাবিতে (যুদ্ধ বিরোধী আন্দোলনে) শোক প্রকাশে (দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরনার্থে) ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপনে (কবরস্থানে) । বিশ্বের সভ্য দেশগুলোর সম্পূর্ণ বিপরীত পথে গিয়ে শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চে মঙ্গল, আনন্দ, উৎসব, প্রেম, শান্তি, শোক ও শ্রদ্ধার প্রতীকের বদলে মোমবাতি হয়ে ওঠে হিংসা ও বিদ্বেষের, প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার প্রতীক। শাহবাগে মিছিল হয় মোমবাতি হাতে - ফাসির দাবিতে। নিহত হয় মোমবাতির শ্বাশ্বত নম্র চরিত্র। আর সেই ছবি প্রকাশিত হয় দেশের বিভিন্ন মিডিয়াতে। অনেকের তখন মনে পড়ে যায় ফ্রেঞ্চ রিভলিউশনে দি রেইন অফ টেরর (The Reign of Terror, ৫ সেপ্টেম্বর ১৭৯৩ থেকে ২৮ জুলাই ১৯৭৪)-এর কথা। সেই সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী বিপ্লবী দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক লড়াইয়ে সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করেন রাজনৈতিক নেতারা। সমবেত মানুষের মুখে মৃত্যুদণ্ডের দাবি তোলানোর ব্যবস্থা করতেন কুচক্রী ও ক্ষমতালোভী নেতারা। বিপ্লবের আবরণে আয়োজিত গণদাবিতে তখন ফ্রান্সে গিলোটিনে মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল ১৬,৫৯৪ জনের। এর মধ্যে শুধু প্যারিসেই মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল ২,৬৩৯ জনের। এ ছাড়া সারা ফ্রান্স জুড়ে আরো প্রায় ২৫,০০০ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। এসব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল গিলোটিনে। অবশ্য সেখানে গিলোটিনের পাশে কেউ মোমবাতি অথবা মঙ্গল প্রদীপ হাতে দাড়িয়ে ছিল না। সেখানে থাকত একটি ঠেলাগাড়ি যেখানে বোঝাই করা হতো রক্তাক্ত কাটা মুন্ডু। ফ্রান্সে অষ্টাদশ শতাব্দির শেষ প্রান্তে সেই এগার মাসে সব দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা সর্বক্ষণ ভীত ছিলেন, বিপ্লবের চেতনা সমুন্নত রাখার আবরণে যদি কোথাও প্রতিপক্ষ আয়োজিত জনসমাবেশ তাদের গিলোটিনে মৃত্যুদণ্ডের দাবি তোলে তাহলে তাদের কি পরিণতি হবে? তাই সেই এগার মাসের শাসনকালের নাম হয়, দি রেইন অফ টেরর বা ভয়ের শাসনকাল । তবে ফ্রেঞ্চ রিভলিউশনের ২২০ বছর পরে ২০১৩ সালে বাংলাদেশে শাহবাগের গণউম্মত্ততায় অনেক সচেতন নাগরিক যোগ দেন নি। শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চে অংশগ্রহণকারীদের সৌভাগ্য যে দেশের দুটি বড় হসপিটাল, বারডেম ও পিজি, দুই মাস যাবৎ রোগিদের দুর্গম স্থান হওয়ার ফলে যাদের অকাল মৃত্যু হয়েছে তাদের কোনো স্বজন বলেননি, কেন একজনের মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে বহুজনের মৃত্যু তরান্বিত করা হলো? শাহবাগিদের সৌভাগ্য যে ভুক্তভোগীরা শাহবাগিদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি তোলেননি। মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে বাংলাদেশের মিডিয়া আওয়ামী লীগ সরকার এবং আওয়ামী সমর্থক মিডিয়ার অনুগৃহীত ও পৃষ্ঠপোষিত গণজাগরণ মঞ্চে ফাসির দাবিতে অনুপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য বিএনপি নেতারা, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস, টিভি উপস্থাপক হানিফ সংকেত এবং গায়িকা সাবিনা ইয়াসমিন (যিনি মুক্তিযুদ্ধের দুটি সবচেয়ে আবেগী গান, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে এবং সব ক’টা জানালা, গেয়েছেন), । তবে সাবিনা ইয়াসমিনের ইনডিয়ান গায়ক-গীতিকার স্বামী কবির সুমন সেই সময়ে পাচটি কবিতা লিখেছিলেন। এর মধ্যে চারটি ছিল শাহবাগে উত্থাপিত মৃত্যুদণ্ডের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে এবং একটি ছিল ইনডিয়াতে আফজাল গুরুর মৃত্যুদণ্ডকে নিন্দা জানিয়ে। প্রথমত, দ্বিতীয়ত, তৃতীয়ত এবং চতুর্থত বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ড চাইলেও কেন পঞ্চমত তিনি ইনডিয়াতে মৃত্যুদণ্ড চাননি, এই প্রকট স্ববিরোধিতার কোনো উত্তর কবির সুমন এখনো দিতে পারেননি। প্রগতিশীলতার দাবিদারদের কাছে তিন মিনিটের মধ্যে প্রিয় হবার জন্যই কি “তিন মিনিট” শীর্ষক গানটি লিখেছিলেন একদা জনপ্রিয় কিন্তু বর্তমানে পপুলারিটি হাংগার-এ (Popularity Hunger) বা জনপ্রিয়তার ক্ষিধেয় অতিশয় কাতর এই গায়ক? বিশ্বের সভ্য দেশগুলোর মিডিয়া মৃত্যুদণ্ডের বিপক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার ফলে বিভিন্ন দেশে এই অসভ্য প্রথা এখন নিষিদ্ধ হয়েছে। তবে বাংলাদেশের মিডিয়ার অধিকাংশ এখনো মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে। এদের যুক্তি হলো, এক. একাত্তরে যুদ্ধের সময়ে থাকা মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ড করেছিল তাদের এবং / অথবা দুই. আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার চক্রান্তে যারা লিপ্ত ছিল, তাদের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। দৈনিক প্রথম আলো এবং দি ডেইলি স্টারের মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে থাকার অতিরিক্ত আরেকটি কারণ থাকতে পারে। এই দুটি পত্রিকার কর্ণধার ট্রান্সকম গ্রুপের মালিক লতিফুর রহমানের কিশোরী কন্যা শাজনীন (১৫)কে নৃশংসভাবে খুনের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছে পাচ জন। প্রথম আলো এবং স্টারের সংশ্লিষ্ট কোনো সাংবাদিক-কর্মীরা ব্যক্তিগতভাবে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী হতে চাইলেও, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালনে তাদের মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে থাকতে হতে পারে। মৃত্যুদণ্ডের প্রতি বাংলাদেশি মিডিয়ার প্রচণ্ড আসক্তি মাঝে মধ্যে অতিরিক্ত অশালীন রূপ ধারণ করেছে। দণ্ডিত মৃত ব্যক্তিদের পিতা-মাতা, বোন-ভাই, স্ত্রী-পুত্র-কন্যা এবং অন্যান্য নিকট আত্মীয় স্বজনের অনুভূতির প্রতি কোনো নমনীয়তা প্রকাশ করা তো দূরের কথা বরং মিডিয়ার উদগ্র উল্লাস চরম মানবতা বিরোধী রূপ ধারণ করেছে। যেমন, জেল হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত পাচ জনের ফাসির আগে দৈনিক সমকালের প্রথম পৃষ্ঠায় একটি কালার কার্টুন প্রকাশিত হয়েছিল, যাতে দেখান হয়েছিল ফাসির মঞ্চের চারপাশে সমবেত হয়েছে উল্লসিত আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা। সেখানে হাসিমুখে একটি শিশু উকি দিয়ে দেখছে ফাসিকাঠ। চ্যানেল আই গ্রুপের সাপ্তাহিক পত্রিকা সাপ্তাহিক -এর ৩ ডিসেম্বর ২০০৯-এর প্রচ্ছদে হেডলাইন ছিল যে ফাসি হাসি ফোটায়। গোলাম মোর্তোজা সম্পাদিত এই সংখ্যাটির ওই কভার স্টোরির একটি লাইন ছিল, এই ফাসি প্রতিটি বাঙালির মুখেই হাসি ফোটাবে (পৃ: ১৪)। প্রতিটি বাঙালির মুখেই? প্রশ্ন হচ্ছে, যে পাচ ব্যক্তির ফাসি হয়েছিল, তাদের পিতা-মাতা, বোন-ভাই, স্ত্রী-পুত্র ও কন্যাদের মুখেও কি হাসি ফুটেছিল? ধারাবাহিক নাটক ও এবসার্ড ঘটনা বাংলাদেশের মানুষ মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে, নাকি বিপক্ষে, এই প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর হচ্ছে, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড তারা চায় না এবং সেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে সেটা রহিত করার জন্য তারা দেশব্যাপী আন্দোলন করতে পারে। এই সত্যটা প্রতিষ্ঠিত হয় গত শতাব্দিতে নব্বইয়ের দশকে। মজার কথা এই যে একটি কাল্পনিক ব্যক্তির ফাসির দণ্ড রোধ করতে বাংলাদেশে এই আন্দোলন হয়েছিল। ১৯৯২-এ বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্পরেশন (বিটিভি)-তে সম্প্রচারিত হচ্ছিল হুমায়ূন আহমেদের লেখা ধারাবাহিক নাটক কোথাও কেউ নেই। এই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম ছিল বাকেরভাই। সে ছিল মাস্তান টাইপের এবং তার দুই সঙ্গী ছিল বদি ও মজনু। তারা তিনজন মোটর সাইকেলে ঘুরতো। অধিকাংশ সময়ে মোটর সাইকেল চালাতো মজনু। বদি বসতো মাঝখানে। বাকেরভাই পিছনে। বাকেরভাইয়ের একটা মুদ্রাদোষ ছিল। সে একটা চেইন হাতের তর্জনিতে অবিরাম ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পেচাতো। আবার তারপর উল্টো দিকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে প্যাচ খুলে আবার পেচাতো। যখন বাকেরভাইয়ের কোনো সংলাপ থাকতো না, তখন তাকে এটা করতে দেখা যেত। বাকেরভাইকে ভালোবাসতো গরিব পরিবারের একটি মেয়ে মুনা। সে চাকরি করতো এবং তার মামাতো ভাইবোনদের দেখাশোনা করতো। এলাকায় সন্ত্রাসী রূপে বাকেরভাইয়ের দুর্নাম থাকলেও বেশির ভাগ মানুষ তাকে ভালোবাসতো। কারণ, বাকেরভাই সত্যের পক্ষে দাড়াতো। নির্যাতিত মানুষের পক্ষে দাড়াতো। সমাজের অন্যায়কে সহ্য করতো না। নিজের মাস্তানদের নিয়ে কঠোর হাতে দমন করতো অন্যায় অবিচারকে। ঘটনাচক্রে বাকেরভাই এলাকার প্রভাবশালী এক নারীর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। ওই নারী তার বাড়িতে অবৈধ কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন। বাকেরভাই সেটা জানতে পেরে প্রতিবাদ করে। ওই নারী তার বাড়িতে কুকুর পালতেন। তাই তিনি পরিচিত হয়েছিলেন কুত্তাওয়ালি নামে। হঠাৎ এক রাতে কুত্তাওয়ালির বাড়িতে একজন খুন হয়। কুত্তাওয়ালির দারোয়ান মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় যে বাকেরভাই ছিল খুনি। আদালতে বাকেরভাইয়ের উকিল বারবার প্রমান করে দেন ওই দারোয়ান মিথ্যা বলছে। কিন্তু মামলার মোড় ঘুরে যায়, যখন কুত্তাওয়ালি লোভ দেখিয়ে বাকেরভাইয়ের শিষ্য বদিকে হাত করে নেন। আদালতে কোরআন ছুয়ে বাকেরভাইয়ের বিরুদ্ধে বদি মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়। ফলে আদালত ওই খুনের দায়ে মিথ্যা সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বাকেরভাইকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। অথচ বাকেরভাই ছিল নির্দোষ। বাকেরভাইয়ের উকিল তাকে বাচানোর জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। আদালতের এই রায়ে মুনা ভেঙ্গে পড়ে। তার স্বজনরা তাকে ছেড়ে চলে যায়। বাকেরভাইয়ের ফাসি হয়ে যায়। জেল কর্তৃপক্ষ ভোরে বাকেরভাইর লাশ হস্তান্তর করেন মুনাকে। সেই লাশ নেওয়ার জন্য একমাত্র মুনাই ছিল। বাকেরভাইকে কবর দেওয়ার পরে মুনা একা হয়ে যায়। নাটকের শেষ দৃশ্যে ভোরের আলো-আধারিতে ছায়া হয়ে মুনা একা প্রান্তরে দাড়িয়ে থাকে। কোথাও কেউ ছিল না। কোথাও কেউ নেই ধারাবাহিক নাটকের প্রতিটি পর্বের জন্য প্রবল আগ্রহ নিয়ে দর্শকরা অপেক্ষা করতো। নাটকের অগ্রগতির সাথে সাথে দর্শকরা অ্যান্টি হিরো বাকেরভাইকে ভালোবেসে ফেলে। বাকেরভাইয়ের পক্ষে দেশব্যাপী জনমত গড়ে ওঠে। নাটকের শেষ দিকে যখন দর্শকরা আচ করে নির্দোষ সত্ত্বেও বাকেরভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড হতে পারে তখন জনমত রূপান্তরিত হয় আন্দোলনে। প্রতিবাদি দর্শকরা দেশ জুড়ে মিছিল করতে থাকে। স্লোগান দিতে থাকে ঃ বাকেরভাইয়ের ফাসি কেন? কুত্তাওয়ালি জবাব চাই। বাকেরভাইয়ের কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে। দেয়াল লিখনে ভরে যায় বাংলাদেশের শহরগুলো। পত্রিপত্রিকায় প্রতিদিন এসব খবর প্রকাশিত হতে থাকে। এক পর্যায়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ে নাট্যকার হুমায়ুন আহমেদ গণদাবি মেনে নেবেন। ফলে নাটকের শেষ দৃশ্যে বাকেরভাইকে নির্দোষ ঘোষণা করা হবে এবং সে ফাসিকাঠে ঝুলবে না। কিন্তু সম্প্রচারিত নাটকের শেষ দৃশ্যে বাকেরভাইয়ের মৃত্যুদণ্ডই হয়। তবে তারপরেও এই বিষয়ে গুজব ছড়াতে থাকে। এসব গুজবে বলা হয় হুমায়ূন আহমেদ তার নাটকের দুটি সমাপ্তি দিয়েছিলেন। একটিতে বাকেরভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড হবে। এবং অন্যটিতে বাকেরভাই ছাড়া পেয়ে যাবে। এই দুটি বিকল্প সমাপ্তির মধ্যে যে কোনো একটিকে বেছে নেওয়ার সুযোগ তিনি দিয়েছিলেন নাটকের প্রযোজক মি. বরকতউল্লাহকে। এ বিষয়ে আমাকে প্রযোজক বরকতউল্লাহ বলেন, না। হুমায়ূন আহমেদ দুটি সমাপ্তি দেন নি। বকরতউল্লাহ আরো জানান, বাকেরভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড বিরোধী আন্দোলন সহিংস রূপ নিতে পারে এবং সেটা বাকেরভাইয়ের স্রষ্টার বিরুদ্ধেই ধাবিত হতে পারে সেটা বুঝে তিনি (বরকতউল্লাহ) রমনা থানায় একটি জিডি করেন। পুলিশের উপদেশে হুমায়ূন আহমেদ তার এক বন্ধুর বাড়িতে আত্মগোপনে চলে যান। বরকতউল্লাহ নিজেও তার বাসা সাময়িকভাবে বদল করেন। দুই প্লাটুন পুলিশ নিয়োজিত হয় পাহারায়। পরবর্তীকালে একটি ইন্টারভিউতে হুমায়ূন আহমেদ বলেন, তিনি তার পূর্বকল্পিত সমাপ্তি বজায় রেখেছিলেন জনসাধারণকে বোঝাতে যে সম্পূর্ণ নির্দোষ এক ব্যক্তি ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে পড়ে আদালতে মৃত্যুদণ্ড পেতে পারে। আরেকটি সূত্র বলেছে, নেত্রকোনায় কেন্দুয়াতে এই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল এবং হয়তো হুমায়ূন আহমেদ সেটা ভিত্তি করে নাটকটি লিখেছিলেন। অ্যাবসার্ড (Absurd) নাটক লিখেছেন স্যামুয়েল বেকেট (ওয়েটিং ফর গদো), লুইজি পিরানদেল্লো (সিক্স ক্যারেকটার্স ইন সার্চ অফ অ্যান অথর), হ্যারল্ড পিনটার (দি কেয়ারটেকার), ইউজিন আয়োনেস্কো (রাইনোসেরস), প্রমুখ। কিন্তু নাটক নিয়ে এমন অ্যাবসার্ড ঘটনা বোধহয় শুধু বাংলাদেশেই ঘটেছে। সেটা যাই হোক না কেন, এই অবিশ্বাস্য উদ্ভট ঘটনা প্রমাণ করে দেয় নির্দোষ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড বিরোধী বাংলাদেশের মানুষ। একটি কল্পিত চরিত্রের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে যদি মানুষ এভাবে দাড়ায়, তাহলে বাস্তবে যদি কখনো প্রমাণিত হয়ে যায় যে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ও মৃত মানুষটি নির্দোষ ছিল, তাহলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কি রূপ ধারণ করবে সেটা অকল্পনীয়। বাকেরভাই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন আসাদুজ্জামান নূর, এখন আওয়ামী লীগের এমপি। মুনা চরিত্রে ছিলেন সুবর্ণা মোস্তাফা, উকিল চরিত্রে হুমায়ুন ফরিদী (এখন প্রয়াত), ও বদি চরিত্রে আবদুল কাদের। নাট্য জীবনে আসাদুজ্জামান নূর বুঝেছিলেন একটি কল্পিত নির্দোষ ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড পেতে পারে। বাস্তব জীবনেও যে এমনটা ঘটতে পারে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির দোষ সম্পর্কে বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকলে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী যে হওয়া উচিত সেটা তিনি বোঝেন নি। শাহবাগে মৃত্যুদণ্ডের গণদাবি প্রশমনের কোনো চেষ্টা তিনি করেননি। দলীয় স্বার্থের উর্ধে তিনি উঠতে পারেননি। বাকেরভাই যদি বাস্তব ও জীবিত হতেন তাহলে মানবিক কারণে আসাদুজ্জামান নূর কি করতেন? গণদাবিতে মৃত্যুদণ্ডের প্রতিক্রিয়া কোথাও কেউ নেই নাটকের পরিণতি দর্শকরা বিক্ষোভ সত্ত্বেও মেনে নিয়েছিল বলে তাদের সহিংসতাও কল্পিত থেকে গিয়েছে। কিন্তু ফ্রেঞ্চ রিভলিউশনে গণদাবিতে গণমৃত্যুর কি পরিণতি হয়েছিল? গণদাবির উস্কানিদাতা ও আয়োজকদের জন্য সেই তথ্যটি ভয়ংকর। ফ্রেঞ্চ আইনজীবী ও পলিটিশিয়ান ম্যাক্সমিলিয়েন ফ্রাসোয়া মারি ইসিডোর ডি রোবেসপিয়ের (সংক্ষেপে রোবেসপিয়ের, Robespierre, ৬ মে ১৭৫৮ - ২৮ জুলাই ১৭৯৪) ছিলেন ফ্রেঞ্চ রিভলিউশনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি সুবক্তা, বামপন্থী ও সকল দুর্নীতির উর্ধে রূপে পরিচিত হয়েছিলেন। কিন্তু রিভলিউশন বা বিপ্লবের এক পর্যায়ে তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দিতে এবং রাজনীতি বিশুদ্ধ করতে মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে চলে যান। তিনি চিহ্নিত হন রেইন অফ টেরর বা ভয়ের শাসনকালের প্রাণপুরুষ রূপে। প্যারিস এবং ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে বিপ্লব বিরোধীদের মৃত্যুদণ্ডের গণদাবিতে বহু ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে থাকে। এক পর্যায়ে বিপ্লবীরাই পরস্পরকে মৃত্যুদণ্ড দিতে থাকে এবং দণ্ড দেওয়ার চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে দণ্ডিত ব্যক্তিদের শিরশ্ছেদ করা হতে থাকে। এসব ক্ষেত্রে কোনো আইন মানা হতো না। খুব সংক্ষিপ্ত বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো এবং গিলোটিনে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এই নৈরাজ্য চরমে উঠে গেলে ফ্রেঞ্চ রিভলিউশনের সবচেয়ে আকর্ষনীয় পুরুষ জর্জ জ্যাক দান্তো (১৭৫৯-১৭৯৪) গণদাবিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া বন্ধ করতে চান। মানবিক কারণে দান্তো মৃত্যুদণ্ড বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। এর ফলে রোবেসপিয়ের তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দান্তোকে সরিয়ে ফেলার সুযোগ পেয়ে যান। তিনি অভিযোগ করেন, দান্তো বিপ্লবী চেতনা থেকে দূরে সরে গিয়েছেন। দান্তোর মৃত্যুদণ্ডের দাবি ওঠানো হয় এবং গিলোটিনে তার শিরশ্ছেদ করা হয়। কিন্তু এর পর থেকে ঘটনার মোড় ঘুরে যেতে থাকে। মৃত্যুদণ্ড পিপাসুরা বুঝতে পারেন, এভাবে চললে, দান্তোর মতো তাদেরও একদিন গিলোটিনে মরতে হতে পারে। পাইকারি হারে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে তখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে জনমত সংগঠিত হয়। বিপ্লবী সংগঠন দি কনভেনশন-এর নির্দেশে এক দল সৈন্য যায় রোবেসপিয়ের, তার ভাই অগাস্টি, সহযোগী কুথো, সেইন্ট জাস্ট, ফ্রাসোয়া হ্যানরিও এবং লা বাস-কে গ্রেফতার করতে। বিপদ দেখে অগাস্টি দোতলা থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়েন। তার দুই পা ভেঙ্গে যায়। রোবেসপিয়ের পিস্তলের গুলিতে আত্মহত্যা করতে যান। কিন্তু তিনি মারা যান না। তার চোয়ালের নিচের অংশ গুরুতর জখম হয়। সেই রাতে আহত রোবেসপিয়েরকে একটি ঘরে টেবিলের উপর শুইয়ে রাখা হয়। অবিরাম রক্তক্ষরণ বন্ধ করার জন্য একজন ডাক্তার ডেকে আনা হয়। তিনি মোটা ব্যানডেজ বেধে রক্তক্ষরণ বন্ধ করেন। যে ঘরে রোবেসপিয়েরকে রাখা হয়েছিল সেই ঘরেই রাজা ষোড়শ লুইয়ের স্ত্রী মারি আন্তোনে-কে তার শিরশ্ছেদের আগে রাখা হয়েছিল। পরদিন ২৮ জুলাই ১৭৯৪-এ কোনো বিচার ছাড়াই প্যারিসে প্লাস ডি লা রিভলিউশনে রোবেসপিয়ের (৩৬) ও তার ভাই অগাস্টিসহ বারোজনের শিরশ্ছেদ করা হয়। গিলোটিনের নিচে রোবেসপিয়ের যখন মাথা পেতে ছিলেন তখন, তার কাছে গিয়ে জল্লাদ, সুষ্ঠুভাবে যেন শিরশ্ছেদ হতে পারে, সেই লক্ষ্যে ভাঙ্গা চোয়ালে বাধা ব্যানডেজ খুলে ফেলেন। তীব্র যন্ত্রণায় চিৎকার করে ওঠেন রোবেসপিয়ের। গিলোটিনের ব্লেড তার ঘাড়ে না পড়া পর্যন্ত তিনি চিৎকার করছিলেন। এমনই ভয়াবহভাবে মৃত্যু হয়েছিল গণদাবিতে মৃত্যুদণ্ড দানকারী বিপ্লবী কিন্তু কুচক্রী রোবেসপিয়েরের। (চলবে)

বিস্তারিত»

বিনোদন

স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে টিভি চ্যানেলে ন্যান্সি

বিনোদন প্রতিবেদক : আমার আমি’তে অতিথি হয়ে আসছেন কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সি ও তার স্বামী নাজিমুজ জামান জায়েদ। বর্তমান সময়ে ন্যান্সিকে নিয়ে আলোচিত ঘটনা সম্পর্কে তারা কথা বলেছেন ও সরাসরি উত্তর দিয়েছেন এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। এছাড়াও তারা ব্যাক্তিজীবনের গল্পসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, জানা অজানা তথ্যসহ ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে  কথা বলেছেন এ দম্পতি।    রূমানা মালিক মুনমুনের উপস্থাপনায় ‘আমার আমি’ এই পর্বটি বাংলাভিশনে প্রচারিত হবে ৩০ আগস্ট, শনিবার রাত ৯টা ৫ মিনিটে। অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেছেন সাজ্জাদ হুসাইন। গত ১৭ আগস্ট শনিবার দুপুরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হোন এ কণ্ঠশিল্পী। প্রথমে তাকে নেত্রকোনার একটি ক্লিনিকে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে ন্যান্সির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। । রোববার ভোরবেলায় ন্যান্সিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেও ন্যান্সির অবস্থার অবনতি হলে তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তারপর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে বাসায় ফিরেন তিনি।    

বিস্তারিত»

স্বাস্থ্য ও রুপচর্চা

শরীরে বিরামহীন বেদনা?

সাইনাস পরীক্ষা করুন : শরীরে অথবা মাথায় আপনার বিরামহীন ব্যথা-বেদনা থাকতে পারে। বিশেষ করে এ ব্যথা থাকতে পারে আপনার সাইনাসে বা সপুম নালীতে কিংবা কোনো ঘায়ে। এমনকি আপনার সাইনাসের ইনফেকশনের কারণে আপনার সন্ধিবাত কিংবা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক অবসাদ সৃষ্টি হতে পারে। এ অভিমত জর্জ টাউন ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টারের অধ্যাপক আলেক্সান্ডার চেস্টারের। তার অনুমান দীর্ঘমেয়াদি সাইনাইটিস রোগীদের অর্ধেকেরই রয়েছে বিরামহীন বেদনা ও মানসিক অবসাদ। সাইনাইটিসের ফলে সারা শরীরেই এ ধরনের বেদনা দেখা দিতে পারে। তবে কাঁধে, ঘাড়ে ও নিতম্বে ব্যথা হওয়ার আশঙ্কাই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি। ঠাণ্ডার বিরুদ্ধে যুদ্ধ   ভিটামিন সি : গবেষকদের পরামর্শ হচ্ছে, ভিটামিন সি ঠাণ্ডা ঠেকাতে তেমন কোনো ভূমিকা রাখে না। কিন্তু ঠাণ্ডায় ভোগান্তির সময় কমিয়ে আনতে ভিটামিন সি ভূমিকা রাখে। এটি কাজ করে একটি অ্যান্টিহিস্টামিন ও অ্যান্টিইনফেমেটরি। এটি নাকে তরল অর্থাৎ পানি ঝরা বন্ধ করে নাককে শুষ্ক করে তোলে এবং রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। জিঙ্ক : যদি ঠাণ্ডায় রোগীরা আক্রান্ত হওয়ার পরপর প্রথম দুই দিন কেউ জিঙ্ক লজেন্স দুই ঘণ্টা পরপর চুষে খান তবে ঠাণ্ডা কম সময় চলবে। বেশ কয়েকটি সমীক্ষা থেকে এ ফলাফল পাওয়া গেছে। ভিটামিন-ই : ভিটামিন-ই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে ভিটামিন-ই খেলে ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে। বছরব্যাপী পরিচালিত এক মার্কিনি সমীক্ষায় তা জানা গেছে। অ্যানড্রোগ্রাফিস : এটি একটি ভারতীয় ওষুধি গাছ। ভেষজ চিকিৎসাবিদদের মধ্যে তা ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। কারণ গবেষণায় দেখা গেছে, ঠাণ্ডা রোগ চিকিৎসায় তা খুবই উপকারী বলে প্রমাণিত হয়েছে। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কারণ তা শরীরে অ্যান্ডিবডির জন্ম দেয়। রসুন : একটি ব্রিটিশ সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা শীতের সময়ের দুই সপ্তাহ বেশি করে রসুন খায় তার অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। আর যদি অসুস্থ হয়েই যায়, তবে দ্রুত সেরে ওঠে। জামবুরা : ফু সারানোর জন্য জামবুরা খুবই উপকারি। ফুর লক্ষণ দেখা যাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামবুরা খেলে ফু রোগ তাড়াতাড়ি সেরে যায়। নানা মসলা : কাঁচা মরিচ, গুঁড়া মরিচ, ঝাল স্বাদযুক্ত কন্দ ও ওয়াসাবি আপনার বন্ধ নাক খুলে দিতে সহায়তা করবে। অ্যালার্জি এড়াতে হলে যদি অ্যালার্জি এড়াতে চান, তবে মদপান ধীরে ধীরে কমিয়ে আনুন। ডেনমার্কে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, পাঁচ হাজার ৮৭০ জন মহিলার দেহে অসময়ে অ্যালার্জি দেখা দেয়ার ঝুঁকি ৩ শতাংশ বেড়ে যায় প্রতি সপ্তাহে একবার মদপান বাড়িয়ে দেয়ার কারণে। সমীক্ষায় দেখা যায়, যে মহিলা ১৪টি অ্যালকোহলিক বেভারেজ পান করেন, তার অ্যালার্জি ৭৮ শতাংশ বেড়ে যায়। তবে এটি স্পষ্ট নয় পুুরুষদের বেলায় একই ধরনের এই প্রভাব কাজ করে কি না। স্প্রে করে কাশি তাড়ান অ্যালার্জির সাথে নাকের সর্দি ঝরা থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদি কাশিতে রূপ নেয়। এমনটি ঘটলে তখন কী করবেন? এখানে এক সোজা উপায় বাতলে দিচ্ছি : বাজারে অনেক ধরনের ন্যাসাল স্প্রে বা নাকের স্প্রে পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে একটি নাকের স্প্রে ব্যবহার করুন। নাক ঝরার পর যেসব রোগীর নাকের সর্দি ঝরার পর গড়ে ৭ বছর কাশি থাকে তাদের জন্য একটি অ্যান্টিহিস্টাসিন স্প্রে ও একটি স্টেরয়েড স্প্রে ৭৬ শতাংশ নিরাময় এনে দিতে পারে। ‘নাকে সর্দি আটকে গেলে ডাক্তাররা ন্যাসাল স্প্রে ব্যবহারের পরামর্শ দেন। কিন্তু কাশি দূর করার জন্য কোনো স্প্রে ব্যবহারের পরামর্শ দেন না। কিন্তু কাশির ক্ষেত্রে ন্যাসাল স্প্রে থেরাপি এ ক্ষেত্রে নাটকীয়ভাবে উপশম এনে দিতে পারে এ অভিমত ক্যালিফোর্নিয়ার কফ সেন্টারের ড. ব্রায়ান লেডিনের।   অ্যালার্জি শুটের বদলে একটি বড়ি বড়ি খেয়ে কিংবা স্প্রে করে অ্যালার্জির লক্ষণগুলো দূর করা যায়। তবে শুধু ইমিউনো থেরাপি যে অ্যালার্জি শুট ব্যবহার করে স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায় এবং তা অ্যালার্জি থেকে হাঁপানি সৃষ্টি হওয়া রোধ করতে পারে। তবে খুব কম লোকই এ থেকে উপকার পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। তাদের জন্য আছে একটি সুখবর। সাম্প্রতিক এক জার্মান সমীক্ষায় জানা যায়, প্রতিদিন জিহ্বার নিচে একটি grass qollen lablet বা কাচের পাত্রে সঞ্চিত পরাগ রেখে দিলে ২৪ শতাংশ শিশুর hay-fever (ধুলা বা ফুলের রেণু থেকে সৃষ্ট নাক ও গলার রোগ)। এবং হাঁপানির উপসর্গ ৬৪ শতাংশ কমে যায়। জিহ্বার নিচে বড়ি বা ড্রপ ইউরোপে কয়েক দশক ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে। নতুন এই গবেষণার সূত্রেই নিকট ভবিষ্যতে আমরা বাজারে পেতে যাচ্ছি ‘মারলিঙ্গুয়াল ইমিউনো থেরাপি’।   মাঝবয়সীদের সঞ্জীবনী ব্যায়ামের মাধ্যমে স্বাস্থ্যোন্নয়নে বয়স কখনোই ফুরিয়ে যায় না। ‘এখন আর আমার ব্যায়ামের বয়স নেই এ কথা কখনোই মুখে আনবেন না। সব বয়সের মানুষ ব্যায়াম থেকে স্বাস্থ্যগত উপকার পেতে পারেন। একটি সুইডিশ গবেষণা সমীক্ষা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ইগঔ জার্নালে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ৫০ বছর বয়সে ব্যায়াম শুরু করেও দেখা গেছে মৃত্যুঝুঁকি ৩২ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব। তা ছাড়া কর্মঠ লোকদের কম বয়সে মারা যাওয়ার ঝুঁকি কম। এ ছাড়া দীর্ঘজীবন লাভের বিষয়টি ধূমপান ছেড়ে দেয়ার সাথেও সম্পর্কিত। বয়সী মানুষ সপ্তাহে অন্তত তিন ঘণ্টা খেলাধুলা কিংবা বাগানে কাজ করেও সেই স্বাস্থ্যগত উপকারটুকু পাওয়া সম্ভব।   তাপপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই একুশ শতকে স্বাস্থ্যের প্রতি সবচেয়ে বড় হুমকি কোনটি? দ্য ল্যানচেট পত্রিকা ও ‘ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন’-এর মতে, এ হুমকির নাম কাইমেট চেঞ্জ বা জলবায়ুর পরিবর্তন। ইউরোপে হিটওয়েভ বা তাপতরঙ্গের প্রভাবে মারা গেছে কয়েক হাজার মানুষ। আর এশিয়ার ভারত ও পাকিস্তানে তাপপীড়িত গ্রীষ্মে মারা যায় শত শত মানুষ। গবেষকরা বলেছেন, গ্রিন হাউজ গ্যাস উদগীরণ বারবার ঘটছে। গবেষকরা আরো জানিয়েছেন, উত্তর আমেরিকাজুড়ে রাতের তাপমাত্রা গত কয়েক বছর অস্বাভাবিক মাত্রায় বেশি ছিল। কিন্তু আমাদের শরীরের তাপপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করার সরল একটি উপায় আছে। বিশেষ করে যখন রাতের উত্তাপ থেকে বাঁচার উপায় থাকে না, তখন বেশি করে পানি পান করুন। স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় পানি পান করতে হবে। যদি শরীরে ঘাম ঝরে তবে সাথে সাথে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে শরীরটা ভিজিয়ে মুছে নিন। এভাবে সহজেই লড়তে পারেন তাপদাহের পীড়নের বিরুদ্ধে। যকৃতের চর্বি স্বাভাবিক রাখা ফ্যাট বা চর্বি কিন্তু আমরা দেখতে পাই না। তবে এই চর্বিই হতে পারে আপনার মৃত্যুর কারণ। আপনার শরীরের ওজন যদি বেড়ে যায়, আর যদি হন ডায়াবেটিসের রোগী, তখন ডাক্তার বলবে আপনার যকৃতে সম্ভবত চর্বি জমেছে। এর ফলে আপনার অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা বেড়ে গেছে। আর এই চর্বি জমা শরীরের অন্যান্য স্থানেও বিস্তৃত হতে পারে। হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা এর একটি উদাহরণ। জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখেছেন, পরিমিত সাইকেল চালনা, হাঁটা ও দৌড়ানোর কাজটি যদি সপ্তাহে তিনবার করা যায়, আর সেই সাথে যদি রোগ-প্রতিরোধী ব্যায়ামও চলে তবে মানুষের যকৃতের চর্বি ৪০ শতাংশ কমে যায়। ব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্রে এটি আরো একটি কারণ যোগ করল বলে মনে করে এই গবেষক দলের প্রধান কেবি স্টুয়ার্ট। মেন্টাল হেলথ ও হার্ট যাদের হার্ট বাইপাস সার্জারি অপারেশন হয়েছে, তাদের প্রতি পাঁচজনে কমপক্ষে একজন ডিপ্রেশন বা মনমরা রোগে ভোগেন। এর ফলে তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়। কিন্তু এক ধরনের থেরাপি আছে, যার নাম সিবিটি তথা ‘কগনিটিভ রিহেভিয়াবেল থেরাপি’, এ থেকে এ ধরনের ডিপ্রেশনের রোগী উপকৃত হতে পারেন। আর্কাইভ অব জেনারেল সাইকিয়াট্রি নামের এক জার্নালে প্রকাশিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাইপাস সার্জারির ৭১ শতাংশ রোগীই এই সিবিটি নামের থেরাপি নিয়ে তিন মাস চিকিৎসার পর ডিপ্রেশনমুক্ত হয়েছে।  

বিস্তারিত»

সম্পাদকীয়

সেতুবন্ধন

বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির (বিএনপি) নেতা এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিজেপি নেতৃত্বকে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধিদল পাঠাইবার আমন্ত্রণ জানাইয়াছেন। আসন্ন দুর্গোত্‌সবের সময়কেই এই আমন্ত্রিত সফরের জন্য বাছিয়া লওয়া হইয়াছে। আপাতদৃষ্টিতে খালেদার এই আমন্ত্রণ আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত মনে হইতে পারে। কিন্তু ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ তাঁহার বাংলাদেশ সফরকালে বিরোধী নেত্রী খালেদার সহিত সাক্ষাত্‌ করেন। সম্ভবত তাহারই প্রতিদানস্বরূপ এই আমন্ত্রণ। দুর্গাপূজার লগ্নটিকে সফরের জন্য বাছিয়া দিবার কারণ, ইহা বাংলাদেশের হিন্দুদের বৃহত্তম উত্‌সব। বেগম জিয়া সম্ভবত বিজেপি নেতৃত্বকে দেখাইতে চাহেন, তাঁহাকে যতটা ভারত-বিরোধী বলিয়া গণ্য ও প্রচার করা হয়, তিনি তাহা নহেন। ভারতের সহিত সুসম্পর্কের মূলে দুই দেশের রাজনৈতিক দল ও জনসাধারণের মধ্যে পারস্পরিক বিনিময়ও ফলপ্রসূ হইতে পারে বলিয়া তাঁহার ধারণা। বেগম জিয়ার এই আমন্ত্রণ কূটনৈতিক ভাবে কুশলী চাল হইলেও দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্কের বনিয়াদ সুদৃঢ় করিতে ইহা সহায়ক হইতে পারে। সাধারণত দেখা যায়, ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী ও সচিবরা বাংলাদেশ সফরে গেলে সেখানকার শাসক দলের সঙ্গেই যাবতীয় আলাপ-আলোচনা চালান। বাংলাদেশের রাজনীতি কিন্তু কার্যত দ্বিদলীয়। শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগ এবং খালেদা জিয়ার বিএনপি-র মধ্যেই ক্ষমতার মেরু ঘোরাফেরা করিয়া থাকে। তাই বিরোধী দল ক্ষমতাসীন নয় বলিয়া তাহার নেতৃত্বকে উপেক্ষা করা ভ্রান্ত কূটনীতি। বেগম জিয়ার শাসনকালও অবশ্য এ জন্য কতকাংশে দায়ী। ভারতের সহিত সুসম্পর্ক রচনায় অতীতে যে তাঁহার প্রচেষ্টার অভাব থাকিয়াছে, তাহাতে সংশয় নাই। রাজধানী ঢাকাকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত করিয়া এবং ওই জঙ্গিদের ‘স্বাধীনতা-সংগ্রামী’ আখ্যা দিয়া প্রধানমন্ত্রী খালেদার সরকার স্বভাবতই নয়াদিল্লির বিরাগভাজন হয়। তুলনায় শেখ হাসিনা ওয়াজেদের আওয়ামি লিগ সরকার অনেক বেশি ভারতবন্ধুর ভূমিকা পালন করিয়াছে। কিন্তু ভারত জানে, যেমন জানেন বেগম জিয়াও যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে পুনরায় বিএনপি ক্ষমতাসীন হইতে পারে এবং সেই দল ও তাহার সর্বময় কর্ত্রীর সহিত সুসম্পর্ক বজায় রাখা আবশ্যক। একই কারণে খালেদাও বিজেপির সহিত সুসম্পর্ক গড়িতে চাহেন। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তাঁহার নির্বাচনী প্রচারের সময় দুইটি বিষয় উল্লেখ করিয়াছিলেন। এক বাংলাদেশ হইতে অনুপ্রবেশকারীদের ভারতে স্থান নাই, যদিও শরণার্থীরা স্বাগত। দুই, শরণার্থী তাহারাই, যাহারা দুর্গা-মাইয়ের পূজা করে, অর্থাত্‌ বাংলাদেশ হইতে বিতাড়িত হিন্দুরা। বাংলাদেশি হিন্দুদের সেই সবচেয়ে বড় উত্‌সব দুর্গা-মাইয়ের পূজার সময়েই খালেদা বিজেপির প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানাইয়াছেন। সেই সঙ্গে জানাইতে ভুলেন নাই যে, তাঁহার প্রধানমন্ত্রিত্বের কালে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতনের ঘটনা অনেক হ্রাস পায় এবং ফলত ভারতে তাহাদের শরণার্থী হওয়ার ঘটনাও কমিয়া আসে। বেগম জিয়া যে বিজেপির নরেন্দ্র মোদীকে আশ্বস্ত করিতে চাহেন, তাহা স্পষ্ট। তিনি ভবিষ্যতের নিরিখে বৃহত্তম প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সহিত মৈত্রীর সেতুবন্ধনে আগ্রহী। সুলক্ষণ।  

বিস্তারিত»

বিজ্ঞপ্তি

বিজ্ঞাপন দিন ও আমাদের সহযোগী হোন

আমাদের উদ্যোগ ও কাজকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আপনার প্রতিষ্ঠান অথবা ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন দিয়ে আপনিও হতে পারেন আমাদের পথ চলার একান্ত সহযোগী। আমরা বিশ্বাস করি, মুনাফামুখী একটি প্রতিষ্ঠান চালানোর ক্ষেত্রে লাভ আছে। তবে ‘সিলেটের আলাপ’ অনলাইন পত্রিকা গড়ে তোলার পিছনে যে সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য আছে, তা মোটেও লাভের পেছনে ছোটা না।দেশ-বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটিকে যথাসম্ভব সর্বোচ্চ বস্তুনিষ্ঠতার সাথে তথ্য সহায়তা দিয়ে ‘সিলেটের আলাপ’কে সমুন্নত রাখাই আমাদের লক্ষ্য। বর্তমানে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ হাজারেরও বেশী পাঠক অনলাইনে পত্রিকাটি পড়ে থাকেন। আর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী প্রতিমাসে এ সাইটে গড়ে ২ লাখেরও বেশী হিট পড়ছে। এক্ষেত্রে আবার সিংহভাগ পাঠকই প্রবাসী। এই প্রত্যাশার চাপকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি নিজস্ব স্বকীয়তা প্রকাশের জন্য শিগগিরই  ‘সিলেটের আলাপ’ পত্রিকার ইংরেজী সংস্করণ ও ব্লগ চালুসহ পত্রিকাটিকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিয়ে আপনিও আমাদের পথচলার সঙ্গী হবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এক্ষেত্রে চাইলে আপনি আপনার ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপনও দিতে পারেন। যোগাযোগ: +৪৪৭৫৩৬৫৭৪৪৪১ +৪৪৭৫৭৮০৬২০৫৭

বিস্তারিত»

শোক-সংবাদ

শোক সংবাদ ব্যারিস্টার আজহার উদ্দিন আর নেই

ফরিদপুর জেলার সাবেক ছাত্র নেতা যিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবর রহমানের আস্থাভাজন একজন নেতা ছিলেন। এই নেতা সময়ের পরিবর্তনে যুগোপযোগী ভিন্ন ধারার রাজনীতি পছন্দ করে রাখাল রাজা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে সুষ্ঠ সুন্দর সরল পথে যাত্রা শুরু করেন। সেই যাত্রায় অসংখ্য মানুষের উপকারের মাধ্যমে মন জয় করে প্রবাস জীবনে পাড়ি জমান। লন্ডন সহ গোটা ব্রিটেনের বাংলাদেশী প্রবাসীদের কাছে ভালোবাসার ভালো লাগার একজন ব্যাক্তি হয়েছিলেন। রাজনীতির বাহিরেও সকল প্রকার মানুষের সাথে খুব সাধারণ আচারনী ছিলেন। এই অমায়িক ব্যাক্তি আমাদের মাঝে আর নেই। " ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন " আজ ২৬ শে আগস্ট ২০১৪ বাদ যোহর ইষ্ট লন্ডন মসজিদে তাঁর জানাযা অনুষ্ঠিত হবে সকলের অংশ গ্রহণ ও তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। সিটিজেন মুভমেন্ট (CM,UK) এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এম এ মালিক সহ সিটিজেন মুভমেন্ট পরিবারের পক্ষ থেকে, বাংলাদেশ সত্যের শক্তির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক রাকেশ রহমান এবং ২০ দলীয় ঐক্য জোটের ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) এর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাবিহা রহমান সহ রাজনৈতিক অরাজনৈতিক সর্ব স্তরের মানুষের পক্ষ থেকে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।    

বিস্তারিত»

সাম্প্রতিক খবর সর্বাধিক পঠিত

জরিপ

Loading...

Archive