খালেদা জিয়ার আগমন ঘিরে উজ্জীবিত তৃণমূল

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া: আগামি ২৩ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ২০ দলীয় জোট নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসনন বেগম খালেদা জিয়া তার আগমন ঘিরে পুরো জেলা জুড়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখে গেছে উৎসবের আমেজ। চারদিকে সাজ সাজ রব। দলীয় প্রধান সড়ক পথে আসবেন তাই চলছে তোরণ আর ফেস্টুন নির্মাণের তোড়জোড়। ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার প্রবেশদ্বার আশুগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোল প্লাজা থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল গোলচত্বর হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সভাস্থল পর্যন্ত মহাসড়ক সাজানো হচ্ছে। মহাসমাবেশ হবে জেলা শহরের নিয়াজ মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। স্থানীয় বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা দাবি করছে এ সমাবেশ হবে জেলা পর্যায়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে স্মরণকালের বৃহৎ সমাবেশ। আগামী মঙ্গলবারের ওই সমাবেশে সমাগম ঘটানো হবে অন্তত দুই লাখ লোকের। এমন ধারনা করছে জেলার নেতাকর্মীরা। আর এ জন্য প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। ২০ দলীয় জোট প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে জেলার ৯টি উপজেলার ৬টি সংসদীয় আসনে চলছে ব্যাপক প্রচার। জেলা বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের শরিক নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা- দলীয় প্রধানের ব্রাহ্মণবাড়ীয়া আগমনে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে এ জেলা থেকে আন্দলোনের ঘোষণা দেয়া হবে। পাশপাশি বর্তমানে বিএনপির চলমান আন্দোলনে জাতীয় সম্প্রচারনীতি, বিচারপতি অভিশংসন আইন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ গ্যাস, পানি, জ্বালনির দাম বৃদ্ধি, পদ্ধা সেতু, পুঁজিবাজার ও ব্যাংক কেলেঙ্কারির মতো ভয়াবহ দুর্নীতির প্রতিবাদ জানানো হবে। এছাড়া নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির নেতারা। অবশ্য তৃণমূল নেতাকর্মীরা এ সমাবেশকে দেখছে উৎসব হিসাবে। তারা মনে করছে দলীয় প্রধানের আগমনে আগামী দিনে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল হবে উজ্জীবিত হবে তৃণমূল। পাশিপাশি শক্তিশালী হবে ২০ দলীয় জোট বন্ধন। এ ব্যাপারে  ইসলামী ঐক্যজোট কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনীর ছেলে মুফতি আবুল হাসনাত আমিনী বাংলামেইলকে বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় ২০ দলীয় জোটের সভায় দলীয় প্রধান আগামী দিনের দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন।’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মো. জহিরুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘দলের এ মহাসমাবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি দুই লাখ লোকের ঐতিহাসিক সমাগম ঘটবে এ মহাসমাবেশে। তাই প্রশাসনকে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।’ ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান  বলেন, ‘মহাসমাবেশে বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামের দিক নির্দেশনা পাব আমরা।’ ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সরকার পতন আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়নি। দলীয় প্রধান ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার জনসভায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের জন্য সরকার পতন আন্দোলনের দিক নির্দেশনা দেবেন এমন প্রত্যাশা জেলা নেতাদের।   বিস্তারিত»

জাতিসংঘের ৬৯তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ

ঢাকা:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৬৯তম অধিবেশনে যোগ দানের লক্ষ্যে ৮ দিনের সরকারি সফরে রাতে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। আমিরাত এয়ার লাইন্সের একটি বিমান আজ রাত সাড়ে ৯টায় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে হযরত শাহজালালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। বিমানটি সোমবার ৮টা ২৫ মিনিটে (নিউইয়র্ক টাইম) জন এফ কেনেডি বিমান বন্দরে অবতরণ করবে। নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা দুবাইতে দুই ঘণ্টা যাত্রাবিরতি করবেন। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আব্দুল মোমেন জন এফ কেনেডি বিমান বন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন। উষ্ণ শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিউইয়র্কের গ্রান্ড হায়াত হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। সফরকালে তিনি এ হোটেলেই অবস্থান করবেন। প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পক্ষে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বুধবার সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, ‘অতীতের বছরগুলোর মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবারও বাংলায় ভাষণ দেবেন।’ ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জলবায়ূ সম্মেলন ২০১৪ এর উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগদান করবেন এবং সম্মেলনের ‘ন্যাশনাল এ্যাকশন এন্ড এম্বিশন এ্যানাউন্সমেন্ট’ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। তিনি একই দিন ওয়ার্ল্ডড্রফ এ্যাস্ট্ররিয়াতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় যোগদান করবেন। শেখ হাসিনা আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৯তম উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন। এছাড়া, তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেবেন। জাতিসংঘ সম্মেলনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলম প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসেবে থাকবেন। বিস্তারিত»

সরকার তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে টাকা দিয়ে জোট ভাঙার ষড়যন্ত্র করছে

ঢাকা: বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে এখন চলছে অস্থিরতা। কয়েকটি ছোট শরিক দলের জোট ছাড়ার গুঞ্জনের পাশাপাশি চলছে জোট ভাঙতে সরকারি ইন্ধনের অভিযোগও। বিক্রি হয়ে যাচ্ছেন জোটের নামসর্বস্ব দলের নেতারা। তবে বিএনপির নেতারা মনে করছেন, নামস্বর্বস্ব ছোট দলগুলো জোট ছেড়ে গেলে তাতে বিশেষ ক্ষতি হবে না। কিন্তু সম্প্রতি জোট থেকে কেউ কেউ বের হয়ে যাওয়ায় এখন এসব নামসর্বস্ব দলই বিএনপির মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটে আরো ১৪টি দলকে অন্তর্ভুক্ত করলে সেটি ১৮ দলীয় জোটে পরিণত হয়েছিল। পরে আরো সম্প্রসারিত হয়ে তা রূপ নেয় ২০ দলে। এর মধ্যে কিছু কিছু দলে প্রবীণ রাজনীতিক থাকলেও কর্মীর সংখ্যা হাতে গোনা। এমনকি অনেক দলের নেই কার্যালয়ও। আবার কয়েকটি দল চালায় জামায়াত। ছোট হলেও শরিক দলগুলোর এভাবে জোট ছাড়ার ঘটনায় জোটপ্রধান বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা পাল্টা কৌশল খোঁজা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। শরিকদের সঙ্গে ‘পার্টি টু পার্টি’ কথা বলে জোটের সমস্যা ও অসংগতি কাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। জোট থেকে কারো কারো চলে যাওয়ার হুমকির পেছনে অবশ্য সরকারকে দায়ী করছেন বিএনপি ও জোটের নেতারা। তারা বলছেন, সরকার তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে টাকা দিয়ে জোট ভাঙার ষড়যন্ত্র করছে। বিএনপির জোটে ভাঙনের শুরু হয় চলতি বছরের ৩১ মার্চ। জোটের শরিক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপের (ভাসানী) চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ারুল হক জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরে অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে নতুন ন্যাপ (ভাসানী) গঠন করে তারা বিএনপি জোটে থেকে যায়।   পরে জোট ছাড়ার তালিকায় যুক্ত হন এনপিপির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু। ২৪ আগস্ট তিনি জোট ছাড়ার ঘোষণা দেন। তবে এর আগে তাকে দল ও জোট থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে দলের মহাসচিব ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের নেতৃত্বের এনপিপিকে জোটে শরিক ঘোষণা করা হয়। সবশেষ শনিবার এনডিপির মহাসচিব আলমগীর মজুমদার এক সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্তজাকে বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করেন এবং জোটনেত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ দফা দাবিতে আলটিমেটাম দেন। অন্যথায় জোট থেকে তারা বের হয়ে যাবেন বলে হুমকি দেন। আলমগীর মজুমদারের সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ রশীদ প্রধান, যিনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছেন বলে সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। অতিথি সারিতে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান দাবিদার সেকান্দর আলী মনিও ছিলেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বিএনপির জোট থেকে বের হওয়া দলগুলো নিয়ে ‘ডেমোক্রেটিক ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট’ নামে একটি জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শেখ শওকত হোসেন নিলু এর নেপথ্যে কাজ করছেন। ২৫ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে এ জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটবে বলে জানা গেছে। ওই ফ্রন্টে আরো কয়েকটি রাজনৈতিক দল যোগ দিতে পারে বলে জানা গেছে। নতুন এ জোট গঠনের নেপথ্যে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে কেউ কেউ দাবি করছেন। জোট থেকে বের হয়ে যাওয়া দলের নেতারা দাবি করছেন, বিএনপিতে যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়াই তাদের জোট ছাড়ার কারণ। এ ছাড়া সঠিক সময়ে কর্মসূচি না দেয়া, নামে জোট হলেও বিএনপি এককভাবে কর্মসূচি দেয়ার কারণে তারা অনেক দিন ধরে ক্ষুব্ধ। মূলত এসবই বিএনপি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে কাজ করেছে। জোটের শরিকদের মধ্যে এই অস্থিরতা নিয়ে বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, সরকার এজেন্টের মাধ্যমে টাকা দিয়ে জোটে ভাঙন সৃষ্টি করছে।  তবে এতে সরকার সফল হবে না বলে দাবি করছেন তারা। বিএনপির নেতারা মনে করছেন, যারা জোট থেকে বের হয়ে গেছেন, তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন। প্রকাশ্যে এসব কথা বললেও ভেতরে ভেতরে বিএনপির নেতাদের বক্তব্য, যারা চলে যাচ্ছে, মূলত জোটে তাদের কোনো অবদান নেই। কারো নেতা আছে তো কর্মী নেই। তাই এরা চলে গেলে সাময়িক অসুবিধা হলেও জোটের কোনো ক্ষতি হবে না। ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে রয়েছে জামায়াত, জাপা (জাফর), এলডিপি, খেলাফত মজলিস,  ইসলামী ঐক্যজোটের বিজেপি, জাগপা, কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাপ, লেবার পার্টি, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম,  মুসলিম লীগ, ন্যাপ (ভাসানী), পিপলস লীগ, এনপিপি, এনডিপি, ইসলামিক পার্টি, ডেমোক্রেটিক লীগ ও  সাম্যবাদী দল। জোটে মূলত জামায়াতের অবস্থানই শক্তিশালী।  অন্য দলগুলোর নাম আছে প্যাড আছে, কর্মী নেই। তাদের বেশিরভাগেরই রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডও নেই।নেই অফিস।আর সারাদেশে সংগঠনের কথা কল্পনাই করা যায় না।জোটে শরিকদের সংখ্যা বাড়াতে গিয়ে বিএনপি এখন বিপাকে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার জোটের এই সব ভুঁইফোড় নেতাদের কিনে নেয়ার টার্গেট করেছে।এই টার্গেট যে সফল হবে তা ইতিমধ্যে টের পাওয়া যাচ্ছে।জোটের এসব নেতা যত না রাজনৈতিক, তার চেয়ে বেশি ‘রাজনৈতিক ব্যবসায়ী’।কাজেই এদের কিনে নেয়াটা খুব কঠিন হবে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই।   খণ্ড-বিখণ্ড জাপার চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমদ শারীরিক অসুস্থতার কারণে এখন সব সময় জোটের বৈঠকে আসতে পারেন না।  মহাসচিব মোস্তাফা জামাল হায়দার ও প্রেসিডিয়াম সদস্য টি আই এম ফজলে রাব্বি শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে হাজির হন। জোটের কর্মসূচিতেও দলটির নেতাকর্মীদের তেমন দেখা যায় না। এলডিপির কার্যাক্রম মোটামুটি থাকলেও বিজেপির অবস্থা করুণ। প্রায় দুই বছর ধরে দলের মহাসচিব পদ খালি। সাংগঠনিক কার্যেক্রম চোখে না পড়লেও দলটির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থকে বিভিন্ন কর্মসূচিতে জোরালো বক্তব্য দিতে দেখা যায়। টেলিভিশন টকশোর একজন সুবক্তা হিসেবেও তার পরিচয় আছে। কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এ মালেক চৌধুরীকে বহিষ্কারের পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে আছেন এম আমিনুর রহমান। জোটের কর্মসূচিতে এই দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি সেভাবে না থাকলেও মহাখালী ডিওএইচএসের কার্যা্লয় মাঝেমধ্যে সরব থাকে। এই দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম মূলত টকশো নেতা। দল হিসেবে জাগপার কার্যমক্রম সরব। নানা ইস্যুতে তাদের সভা-সমাবেশের আয়োজন মাঝেমধ্যে চোখে পড়ে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের চেয়ারম্যান মুফতি ওয়াক্কাসকে জোটের কর্মসূচিতে কমই দেখা যায়। জোটের বৈঠকে মাঝে মাঝে প্রতিনিধি পাঠাতে দেখা যায়। ঢাকায় খুব বেশি তৎপরতা দেখা না গেলেও সিলেটসহ কয়েকটি এলাকায় তাদের সমর্থকদের সরব অবস্থান রয়েছে। ঢাকায় সেভাবে নেতাকর্মী না থাকলেও দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বাংলাদেশ ন্যাপের ভালো সমর্থক রয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে সাধ্যমতো কর্মসূচি পালনের চেষ্টা দেখা গেছে।   ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিস, লেবার পার্টি, মুসলীম লীগ, এনপিপির অবস্থা একই রকম। এদের মাঝেমধ্যে দায়সারা কিছু কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। অন্যদিকে অলি আহাদের মৃত্যুর পর অধ্যাপক মমিনুল হককে ডিএলের চেয়ারম্যান করা হয়। তবে তিনি কর্মসূচিতে আসেন না বলে কার্যেত চেয়ারম্যান ও মহাসচিব- দুই দায়িত্বে মহাসচিব সাইফুদ্দিন মনি। অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম একসময় গাইবান্ধা জেলা কল্যাণ পার্টির সহসভাপতি ছিলেন। ২০০৮ সালে ওই দল থেকে নির্বাচনও করেন। তিনি এখন জোটের শরিক ন্যাপ ভাসানীর নতুন চেয়ারম্যান। তার পল্টন এলাকার চেম্বারই দলের কার্যাযলয়। অন্যদিকে দলের কার্যারলয় হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের নিজের চেম্বারটি ব্যবহার করেন পিপলস লীগের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গরীবে নেওয়াজ। আর জোটে সবশেষ অংশ নেয়া শরিক দল সাম্যবাদী দলের প্রধান সাঈদ আহমেদ ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক।   জোটের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নানা কারণে জোটের শরিকদের হতাশা সরকার কাজে লাগাচ্ছে। এটা অব্যাহত থাকলে আরো দল জোট ছাড়তে পারে। আর আর্থিক সুবিধা পেয়ে জোট ছাড়ার গুঞ্জনের বিষয়ে ইসলামিক পার্টির মহাসচিব এম এ রশিদ প্রধান বলেন, “এসব বাজে কথা। একসময় আন্দোলন চাঙা না হওয়ার জন্য বিএনপির নেতাদের সরকারের সঙ্গে আঁতাতের কথা আমরাও শুনেছিলাম।” বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার  এ বিষয়ে বলেন, “বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের বড় কোনো দল বা নেতা জোট ছাড়েননি। যে বা যারা ছাড়ছেন, জোটে তাদের গুরুত্ব বা ভূমিকা কতখানি ছিল, তা সমালোচকরা খতিয়ে দেখতে পারেন।”   আনোয়ার অভিযোগ করেন, “সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই। তাই জোট ভাঙতে চাইছে। যারা মনে করবেন, ২০ দল ছেড়ে অন্য কোথাও গেলে লাভবান হবেন, তারা যেতে পারেন। তাতে আমাদের আপত্তি নেই।” স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, “জোটে ভাঙন ধরাতে সরকারের ইন্ধন থাকতে পারে। বিএনপি তথা জোটকে দুর্বল করতে এটা করা হতে পারে।” জোট ভাঙার ষড়যন্ত্রে সরকারের প্রতি আঙুলি তুলে জোটের শরিক জাগপা-প্রধান শফিউল আলম প্রধান  বলেন, “আমার চাচাতো বোন (শেখ হাসিনা) এজেন্সিকে দিয়ে লুটের টাকা লুট করছেন। এতে আমরা বিব্রত হলেও জোটের ক্ষতি হবে না।” এদিকে সরকার টাকা দিয়ে ২০ দলীয় জোট ভাঙছে বলে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা ডাহা মিথ্যা বলে দাবি করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “যারা গণতন্ত্রের আশায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে গিয়েছিলেন, তারা হতাশ হয়ে জোট থেকে বেরিয়ে এসেছেন।  কারণ, তারা বুঝতে পেরেছেন, খালেদা জিয়া জঙ্গিবাদের রক্ষক; ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের রাজনীতি করেন। তাই তার বিভ্রান্তির খপ্পর থেকে শরিকরা একে একে বেরিয়ে আসছেন। এ থেকে প্রমাণ হয়, তাদের বিভ্রান্তি কেটে গেছে।” বিস্তারিত»

সোমবারের হরতাল কর্মসূচি বানচালে সরকার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ মির্জা ফখরুলের

ঢাকা: জাতীয় সংসদে বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা পাশের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট আহুত সোমবারের হরতাল কর্মসূচি বানচালে সরকার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আলমগীর বলেন, আগামীকালের শান্তিপূর্ণ হরতাল বানচাল করতে সরকার দেশব্যাপী বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে  গ্রেফতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তল্লাশির নামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানি করছে। তিনি বলেন, বাগেরহাট, খুলনা জেলায় ফুলতলা উপজেলা, নোয়াখালী, ঝালকাঠি , নারায়ণগঞ্জে, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদীসহ সারাদেশে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশির নামে হয়রানি করছে পুলিশ। বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের এবং পাইকারি হারে গ্রেফতারের ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক ও অমানবিক আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি। মির্জা আলমগীর বলেন, ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে জোর করে জনগণের কাঁধে চেপে বসা আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার বিরোধী দলকে দমন করার হীন চক্রান্তের অংশ হিসেবে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় জড়িয়ে হেনস্তা করছে। গ্রেফতার করে রিমান্ডের নামে অবর্ণনীয় নির্যাতন চালাচ্ছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ডাকা সোমবারের শান্তিপূর্ণ হরতালকে বানচাল এবং নেতাকর্মীদের মনে আতংক সৃষ্টির লক্ষ্যেই দেশব্যাপী গ্রেফতারি হিড়িক শুরু করেছে বর্তমান অবৈধ ক্ষমতাসীনরা। তিনি আরও বলেন, জনসমর্থন শুন্যের কোঠায় আঁচ করতে পেরে জোর করে ক্ষমতা গ্রহণের শুরু থেকেই ক্ষমতাসীনরা দলীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কব্জায় এনে দেশব্যাপী তান্ডব সৃষ্টির এক মহাযজ্ঞে লিপ্ত হয়েছে। আর এসব করার উদ্দেশ্যই হচ্ছে-ক্ষমতা হাতছাড়া হয়ে জনরোষের মুখে দেশত্যগের পথও যেন বন্ধ না হয়ে যায়। মির্জা আলমগীর সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আরো বলেন, দমন-পীড়ন চালিয়ে বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে থামানো যাবে না, বরং নির্যাতনের মাত্রা যতই বৃদ্ধি করা হবে ততই বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীরা সুসংগঠিত হয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে চলমান আন্দোলনকে আরো বেগবান, গতিশীল ও শক্তিশালী করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হবে। বিস্তারিত»

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বেশির ভাগ সদস্য নিষ্ক্রিয়

ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির বেশিরভাগ সদস্যই নিষ্ক্রিয়। ১৯ জনের এই কমিটির ছয় জন অসুস্থ, কারাগারে দুই জন, দীর্ঘ দিন বিদেশে তারেক রহমান। বাকিদের অনেকেই নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন। কমিটির সক্রিয় সদস্যদের কেউ কেউ মনে করছেন, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি দ্রুতই ঢেলে সাজানো দরকার। খবর ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের। বিএনপির সর্বশেষ স্থায়ী কমিটির বেশিরভাগ পুরোনো ও বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য। সক্রিয় দেখা যায় এদের হাতেগোনা কয়েক জনকে। ড. আর এ গনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছেন। অসুস্থতার কারণে অনেকটাই আড়ালে চলে গেছেন বেগম সারোয়ারি রহমান, এম. শামসুল ইসলাম এবং ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খানও বেশিরভাগ সময়ই থাকেন অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য প্রায় ছয় বছর লন্ডনে তারেক রহমান। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কারাগারে। দুর্নীতির মামলায় সাত মাস ধরে কারাঅন্তরীণ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। আর ব্যক্তিগত মামলা নিয়ে ব্যস্ত দলের অন্যতম সিনিয়র নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। নতুন কমিটি হতে হলে দলের কাউন্সিল হতে হবে। কিন্তু দুই বছর ধরে কাউন্সিলের তারিখ পেছাচ্ছে। দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে কাউন্সিলের জন্য আরেকদফা সময় চাওয়া হয়েছে।   বিস্তারিত»

ছবি ঘর

  • holo gram baby
  • political picture
সিলেট জেলা ছাত্রদল সভাপতি সাইদ আহমেদ'গ্রেফতারের প্রতিবাদে ফ্রান্স তৃণমুল বি এন পি'র প্রতিবাদ সভা

ডেস্ক রিপোর্টঃ সিলেট জেলা ছাত্রদল সভাপতি সাইদ আহমেদ' র গ্রেফতারের প্রতিবাদে গত ২১ সেপ্টেম্বর রোববার প্যারিসের একটি স্টেলিংগার্ডে ফ্রান্স তৃণমুল বি এন পি'র উদ্যেগে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদল' র সাবেক নেতা আহমেদ মালেক'র পরিচালনায় ও সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা জালাসুজ্জামান এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন -ফ্রান্স মহানগর বিএনপি সভাপতি হেনু মিয়া,ফ্রান্স বিএনপি' র সিনিয়র নেতা জালাল খান,ফ্রান্স বি এন পি নেতা খছরুজ্জামান খছরু,আজিজুর রহমান,আব্দুল কাইয়ুম সরকার,জুনেদ আহমেদ, খালেদ আহমেদ,ফয়জুল হক প্রমুখ। সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন-আলতাফ হোসেন,জাকারিয়া,জাহিদুল ইসলাম সিপার। বক্তারা বলেন- জেল-জুলুম আর নির্যাতন করে কখনই বি এন পি' র আন্দোলনকে বন্ধ করা যাবে না।তারা অবিলম্বে নব গঠিত সিলেট মহানগর ছাত্রদল সভাপতি সাইদ আহমেদ 'এর নি:শর্ত মুক্তি কামনা করেন,অন্যথায় বেগবান আন্দোলনের মাধ্যমে অবৈধ সরকারের পতন ঘটানো হবে বলেও হুসিয়ারি প্রদান করেন ।বক্তারা আরও বলেন- এই বাকশালী সরকারের অবস্থা এমন হবে যে তারা পালানোরও পথ পাবে না।একই সাথে ইলিয়াস আলিকেও ফিরিয়ে দেওয়ার আহবান জানান তারা।

বিস্তারিত»
জুড়ীতে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্টিত

এম. মছব্বির আলী: মৌলভীবাজারের জুড়ীতে জুড়ী মডেল একাডেমীর আয়োজনে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ২১ সেপ্টেম্বর রোববার বেলা ১১ টায় জুড়ী মডেল একাডেমী মিলনায়তনে আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জুড়ী মডেল একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলাম। উক্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জুড়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও দক্ষিন জাঙ্গিরাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধা কুলেশ চন্দ্র চন্দ মন্টু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এমইউ শিক্ষা সেবা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সুমন, জুড়ী মডেল একাডেমীর অভিভাবক সদস্য ফরিদ উদ্দিন ভূইয়া, মাজহারুল ইসলাম, আরমান আলী, মামুনুর রশিদ, মোঃ তুতা মিয়া, দুলাল মিয়া, রইছ আলী, ফরিদ মিয়া, রাজা মিয়া, মহিলা অভিভাবক সদস্য শাহনাজ বেগম, রিনা আক্তার, বিদ্যালয়ের শিক্ষক সফিক আহমেদ, ইমান উদ্দিন, শিল্পী আক্তার, মোছাঃ নাদিয়া বেগম, মোছাঃ পলি আক্তার, মোঃ ফয়েজ আহমেদ,মোস্তাকিম আহমেদ, জতিন্দ্র রুদ্রপাল, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাব্বির আহমেদ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন ৫ম শ্রেনীর ছাত্রী হামিদা আক্তার। সভা পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ আব্দুল জলিল। উক্ত সমাবেশ শেষে ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত সমাপনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর হাতে সনদ পত্র তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।

বিস্তারিত»
জুড়ী টি এন খানম ডিগ্রি কলেজের দুই রোভারের বিদায় সংবর্ধনা

এম. মছব্বির আলী: শারীরিক ও মানসিক  উন্নয়নের মাধ্যমে  দেশের যোগ্য ও সুনাগরিক গড়ে তোলাই রোভারিংয়ের মূখ্য উদ্দেশ্য। আর এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে রোভার প্রোগ্রামের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জুড়ী তৈয়বুন্নেছা খানম একাডেমি ডিগ্রি কলেজের দুই জন রোভারের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কজেল অধ্যক্ষ ও রোভার স্কাউটস গ্র“প সভাপতি অরুন চন্দ্র দাস উপরোক্ত অভিমত ব্যক্ত করেন। কলেজের ১৭তম ব্যাচের স্কাউটস রোভার রাসেল ও রোভার জাহিদ এর উচ্চ শিক্ষার্থে প্রবাস যাত্রা উপলক্ষ্যে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুর ২টায় কলেজ রোভার ডেন-এ গ্র“প রোভারের আয়োজনে এক বিদায় সহবর্ধনীর আয়োজন করা হয়। রোভার শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মাদ এমদাদুল হকের সভাপতিত্বে ও ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক মুজিবুর রহমানের সঞ্চালনে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপাধ্যক্ষ ফরহাদ আহমেদ। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সিনিয়র প্রভাষক আমিনুজ্জামান বখ্স, নবেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী, প্রভাষক সুজন রুদ্র পাল, শাহনূর আলম। রোভারদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিদায়ী রোভার রাসেল, রোভার জাহিদ, গালর্স ইন রোভার অমি, সোমা, রোভার অনিমেষ, রোভার আব্দুল্লাহ, রোভার মিঠু, রোভার আল আমিন, রোভার শাওন, রোভার সোহেল, রোভার শাহিন, রোভার নাঈম প্রমূখ। আলোচনা সভাশেষে সংবর্ধিত দুই জন রোভাকে গগ্র“প স্কাউটস এর মাধ্যমে বিজয় সম্বলিত শো-পিস সহ উপহার সামগ্রী প্রদানের পর আপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘটে।  

বিস্তারিত»
জুড়ীর ভূয়াইবাজারে আওয়ামীলীগের জনসভা অনুষ্ঠিত

এম. মছব্বির আলী: জুড়ী উপজেলার জায়ফর নগর ইউনিয়নের ভূয়াইবাজারের আওয়ামীলীগের বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় জায়ফর নগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, ১ ও ২ নং ওয়াড আওয়ামীলীগ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে ও ইউপি সদস্য মহেষ দাস এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় সভাপতিত্ব করেন আলহাজ শফিক আহমদ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইপ আলহাজ্ব মোঃ শাহাব উদ্দিন এমপি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক আলহাজ আজির উদ্দিন, ভারপাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মনি। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আব্দুল কাদির দারা, এড. আব্দুল খালিক সোনা, জাহাঙ্গির আলম, মাসুক আহমদ, মাহবুবুল ইসলাম কাজল, ১ নং ওয়াড আওয়ামীলীগের তুলা মিয়া, ১ নং ওয়াড আওয়ামীলীগের চুনু মিয়া, শেখরুল রানা প্রমূখ। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেছেন, যারা আল্লাহু আকবার বলে মানুষ খুন করে তারাই ইসলামের বড় শক্র। ৭১ এ যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবির দেশে ইসলামের নাম নিয়ে মানুষ খুন করছে, দেশে নৈরাজ্যমুলক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে দেশের উন্নয়নে বাধাগ্রস্থ করছে। কোন কিছুই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারবেনা। এদেরকে সামাজিক ভাবে প্রতিহিত করার জন্য তিনি জনগনের প্রতি আহবান জানান। তিনি, বাহাদুরপুর মোহাম্মদীয়া হাফিজিয়া আলিয়া মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আব্দুল লতিফ ও যুবলীগ কর্মী কবির আহমদের উপর হামলার এজহার ভূক্ত আসামীদের গ্রেফতার করা জন্য জুড়ী থানার আইন শৃংঙ্খালা বাহিনীকে নির্দেশ প্রদান করেন।  

বিস্তারিত»
লন্ডন রিপোর্টার্স ইউনিটের আত্মপ্রকাশ

ডেস্ক-লন্ডনঃ ব্রিটেন থেকে লন্ডনে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাংবাদিকদের নতুন এক সংগঠন লন্ডন রিপোর্টার্স  ইউনিট গঠিত হয়েছে।সেন্ট্রাল লন্ডন থেকে এই সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সংগঠনটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এক সংগঠন হিসেবে রিপোর্টার্সদের কল্যাণে নতুন এক প্ল্যাটফর্ম এবং প্রাথমিকভাবে এই সংগঠণের প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাপ্তাহিক সুরমার সাবেক সম্পাদক সাংবাদিক, গবেষক বাসন নজরুল ইসলাম, সদস্য সচিব হিসেবে সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ থাকছেন। সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি খুব শীগ্রই লন্ডনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে সংগঠণের প্রেসিডেন্ট বাসন নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।যে কোন তথ্য, সংবাদ সম্মেলন ও সংবাদের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন সদস্য সচিব-মোবাইল ০৭৪০৭১০৯৪৬৫ অথবা ইমেইল salim932@googlemail.com এই ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

বিস্তারিত»
এক কাপ চা ১৮০ ইউরো

এক কাপ চা ১৮ হাজার টাকা। কী, চমকে গেলেন? হ্যাঁ, সত্যিই এক কাপ চা বিক্রি হচ্ছে ১৮০ ইউরোতে। যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১৮ হাজার টাকা। লন্ডনের রয়েল চায়না ক্লাব রেস্ট্যুরেন্ট বিক্রি করছে এই চা। ব্রিটেনের সবচেয়ে ব্যয়বহুল চা এটি। চা বিশেষজ্ঞ জ্যাসন চান বলেন, এটা ডম পেরিগনন স্যামপেইনের বোতলের মতো। আমাদের বহু বিদেশী খরিদদার এই চা কিনে থাকেন। অনেকে আবার বেশি করে কিনে বাড়িতেও নিয়ে যান। চীনের একটি বাগান থেকে সংগ্রহ করা হয় এই চা। স্বাদে একটু তিতা। জ্যাসন আরো জানান, স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে অনেকেই হারবাল চা বাছাই করেন। কিন্তু কালো চা পাকস্থলির জন্য ভালো। সূত্র: মিরর

বিস্তারিত»
সঙ্গিত শিল্পি মনিরা মনির কিডনিতে সফল অস্রপাচার।

গত ২০শে সেপ্টেম্বর রাত আটটায় ঢাকাস্থ শ্যামলী কিডনি হাসপাতালে বাংলাদেশ বেতারের বিশিষ্ট সঙ্গিত শিল্পি মনিরা মনির কিডনিতে সফল অস্রপাচার করা হয়েছে। সুদর্শনা, কর্মচঞ্চল মনিরা মনিকে বাইরের থেকে বোঝা না গেলেও মাত্র আঠাশ  বছর বয়সে তাঁর কিডনিতে পাথর ধরা পরেছে। সকলের দোয়ায় তিনি এখন সুস্থ আছেন এবং পরিবারের সকলের সাথে অল্প হলেও কথা বলতে সক্ষম হয়েছেন।   হাসপাতাল সুত্রে জানাগেছে শিল্পি মনিরা মনির কিডনি থেকে ছোট বড় মোট আঠারোটি পাথর বের করা হয়েছে। বোতলজাত পানীয়দ্রব্য বেশী পান করলে বা ভেজাল খাবার উপাদান থেকে বিষাক্ত ক্যামিকেল গিয়ে কিডনিতে জমাট বেধে পাথরে রুপান্তরিত হয়। পাথর গুলী আকারে ছোট হলে ঔষধ সেবনে বের করা সম্ভভ কিন্তু আকারে বড় হয়ে গেলে অস্রপাচার ছাড়া আর কোন পথ খোলা থাকেনা। শিল্পি মনিরার কিডনিতে পাথর গুলী আকারে বড় হওয়ায় অস্রপাচার করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানাগেছে।     উল্লেখ্য শিল্পি মনিরা মনি ছায়ানট সঙ্গিত বিদ্যায়াতন থেকে নজরুল সঙ্গিত বিভাগে প্রথমস্থান অধিকার করেছিলেন। ইডেন মহিলা কলেজ থেকে এম,কম পাশ করা মনিরা বাংলাদেশের প্রায় সকল টিভি চ্যানেলে নিয়মিত সঙ্গিত পরিবেশন করেন। তিনি সঙ্গিত চর্চার পাশাপাশি মিরপুর পল্লবী এম আই মডেল হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন।

বিস্তারিত»
৬৯তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন থেকে দুনিয়া কী বার্তা পাচ্ছে?

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের ৬৯তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন। কালের হিসেবে জাতিসংঘের অধিবেশন নিয়ে প্রস্তুতি আগে থেকে থাকলেও এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নিউইয়র্ক ১০০১৭ সদর দফতরের আশপাশে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সদস্য দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের অগ্রগতি দল ইতিমধ্যে নিউইয়র্ক এসে কাজ শুরু করেছে। বলতে গেলে সাধারণ অধিবেশনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নিউইয়র্ক। এদিকে সদস্য দেশগুলোর সরকারপ্রধানের অগ্রগতি দল ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমন্ত্রিত কর্তাব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড় বেড়েছে অধিবেশনের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড সংগ্রহের লাইনে। বাংলাদেশ থেকে প্রায় ডজনখানেক গণমাধ্যম কর্মীও সেই বহরে যোগ দিয়েছেন। বন ও পরিবেশনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুসহ আরো কয়েক মন্ত্রীও ইতিমধ্যে নিউইয়র্ক এসে পৌঁছেছেন। এ ছাড়া ঢাকার সময় শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় অ্যামিরাটস এয়ারলাইন্সে চড়ে নিউইয়র্ক এসেছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ ইউনূস। প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক আগমন নিয়ে স্থানীয় সময় শনিবার সার্বিক বিষয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এম এ মোমেন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। এ সময় কর্মকর্তাদের কাজ বণ্টনের বিষয়টিও ছিল। স্থানীয়রা বলছেন, এমন একটি সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠান হয়ে আসছে যখন নিউইয়র্কের আবহাওয়া সম্পূর্ণ অনুকূলে থাকে। তবে পুরো নিউইয়র্কের আকাশে চলছে মেঘের খেলা। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে এখানে শুরু হয়েছে শীতের পদধ্বনি। আর সে শীত সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে আকস্মিক বৃষ্টি। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে বৃষ্টি হয়েছে দুই ঘণ্টা। নিউইয়র্কে তাপমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ফারেনহাইট পরিমাপের  মাধ্যমে। আর সে হিসেবে এখন ৬৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা, যা নিউইয়র্কে বিকেলে মানুষকে হালকা শীতের কাপড় পরতে বাধ্য করছে। স্থানীয়রা বলছেন, অন্য বছরের চেয়ে এবার এক দুই দিন আগেই শীতের পদধ্বনি দেখা গেছে, যা অন্যবারের চেয়ে একটু হলেও ব্যতিক্রম। আর এবারের জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনকে সে রকম ব্যতিক্রম বলেছেন মুজাম্বিক থেকে আসা সরকারের পদস্থ এক কর্মকর্তা। অধিবেশনে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড সংগ্রহকালে ওই কর্মকর্তা বলেন, এবারের মধ্যপ্রাচ্যে ইস্যুসহ নানা বিষয় নিয়ে বিশ্ব নেতারা কথা বলবেন আর সেখান থেকে নির্দেশনা আসতে পারে, ফলে আমার সরকারও ৬৯তম অধিবেশনকে দেখছে ভিন্ন ভাবে।

বিস্তারিত»
১৩ জনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক:সরকার ও বিরোধীদলীয় রাজনীতিক, তাদের সন্তান ও ব্যবসায়ীসহ ১৩ জনের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এসব ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে দেশের সব ব্যাংকে চিঠি পাঠায়। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। যে সব রাজনীতিক ও তাদের সন্তানদের তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে তারা হলেন- জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এইচএম এরশাদের ছেলে রাহগীর আল মাহী এরশাদ (সাদ), বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান কোকো, দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার ছেলে সাজেদুল হক চৌধুরী (দীপু চৌধুরী), আওয়ামী লীগ নেতা ও স্বতন্ত্র এমপি হাজী সেলিম, ঢাকা মহানগর যুবলীগের সভাপতি (দক্ষিণ) ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, ফেনী সদরের এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী, বিএনপি নেতা সাবেক পরিবেশমন্ত্রী শাহজাহান সিরাজ ও তার ছেলে রাজিব সিরাজ, প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের ছেলে এম. নাসের রহমান, সাবেক এমপি এমএএইচ সেলিম, চাঁদপুর জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদউদ্দিন মানিক। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন বিএফআইইউ মুদ্রা পাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং সন্দেহজনক লেনদেন নিয়ে তদন্ত করে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন সংস্থার তদন্তের জন্যও তথ্য নিয়ে থাকে। এছাড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডার সভাপতি হাবিবুল্লাহ ডন, বিলুপ্ত ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহ মো. হারুনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে বিএফআইইউ। ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠানো চিঠিতে এসব ব্যক্তির নামে বা তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কোনো হিসাব অতীতে ও বর্তমানে পরিচালিত হয়ে থাকলে ওই হিসাব সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্যাদি আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে।

বিস্তারিত»
ফকিরাপুলে বহুতল ভবনে আগুন

ঢাকা: রাজধানীর ফকিরাপুল কালভার্ট মোড়ে প্যারামাউন্ট ভবনে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট। রোববার রাত ১২টার দিকে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস কন্টোলরুমের ডিউটি অফিসার আতাউর রহমান  বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করছে।

বিস্তারিত»
ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনে সমস্যা যেন পিছু ছাড়ছে না

ঢাকা: জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনে সমস্যা যেন পিছু ছাড়ছে না। কমিটিতে যোগ্য নেতাদের অন্তর্ভূক্তি নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্বে বিভক্ত হয়ে পড়ছে নেতাকর্মীরা। শিগগিরই কমিটি ঘোষণা দেয়ার কথা থাকলেও বিলম্ব হওয়ায় পদপ্রত্যাশী নেতাদের কর্মীদের বিভক্তি ও বিক্ষোভ এখন প্রকাশ্য রুপ নিয়েছে। কমিটিতে পদ পাওয়ার জন্য কাদা ছোঁড়া-ছুড়ির প্রতিযোগিতা শুরু করেছে বিভিন্ন গ্রুপ। অপরদিকে, নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কমিটি না দিয়ে আন্দোলনের সময় রাজপথে নিষ্ক্রিয়, গ্রুপিং নির্ভর এবং আঞ্চলিক প্রভাবে কাউকে নেতৃত্ব দেয়া হলে সংঘর্ষ ঘটতে পারে, এমন আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে তিনদফা বৈঠক করে তাদের মতামত নেন। এ বৈঠকে দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া স্পষ্টভাবে ছাত্রনেতাদের জানিয়ে দেন- আমি দাদা-চাচা মার্কা কমিটি দিতে চাই না। অতীতে দাদা-চাচা মার্কা বয়স্কদের দিয়ে ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমি আর এমন কথা শুনতে চাই না। আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলোতে বৈধ ছাত্রদের দিয়েই কমিটি গঠন করা হবে। অপেক্ষাকৃত তরুণরাই আসবে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতৃত্বে। কিন্তু তার এ ঘোষণাও এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সংগঠনটির মাঝে আরও ব্যাপকহারে গ্রুপিং-কোন্দলের সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র জানায়, নিষ্ক্রিয়, গ্রুপিং নির্ভর এবং আঞ্চলিক প্রভাবে কাউকে নেতৃত্ব দেয়া হলে সংঘর্ষ ঘটতে পারে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কেন্দ্রীয়ভাবে বিদ্রোহের মুখে পড়বে সে কমিটি। ফলে অতীতের ধারাবাহিকতায় নতুন কমিটির ভাগ্যেও নেমে আসবে ব্যর্থতা। সূত্র জানায়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কমিটি ঘোষণায় কিছুটা সময় নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, স্থায়ী কমিটি ও সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপ করেই চূড়ান্ত করা হতে পারে কমিটি। অপরদিকে এ অবস্থায় চূড়ান্তভাবে কমিটি গঠনের জন্য দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে ছুটে যান দলের যুগ্ম মহাসচিব পর্যায়ের এক নেতা। কিন্তু তারক রহমান নতুন কমিটি গঠনে নিজে কোন প্রভাব বিস্তার না করে এমনকি কোন সিদ্ধান্ত না দিয়ে অপেক্ষাকৃত তরুণদের দিয়ে কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন ওই নেতাকে। তার এ বার্তা নিয়ে দেশে ফিরে আসার পর থেকে নতুনভাবে মেরুকরণ শুর হয়েছে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে। পদ-প্রত্যাশী নেতাদের মাঝে নতুন করে শুরু হয় লবিং তদবিরের প্রতিযোগিতা। এর মধ্যে নতুনভাবে সংযোজিত হন ২০ দলীয় জোটের একটি শরীক দলের চেয়ারম্যান। তার প্রত্যক্ষ তদ্বীরের কারণে সভাপতি পদের জন্য এক ছাত্রনেতা ইতিমধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছে। এ বিষয়ে ছাত্রদলের এক নেতা জানান, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ছাত্রদল কমিটিতে সভাপতি পদের জন্য লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান ও বিএনপি হাইকমান্ড এর সাথে যোগাযোগ করেছেন। এমনকি তার বাসায় এ নিয়ে বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়কে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, এটা একেবারেই ভুয়া কথা। আমি কেন অন্য একটি দলের ইন্টারনাল বিষয়ে ইন্টারেস্টেড হবো। ছাত্রদল জোটের অন্যতম একটি শক্তি। যারাই এ সংগঠনের দায়িত্ব পাবে তারাই জোটের পক্ষে কাজ করবে।’ ছাত্রদল নেতারা জানান, কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর থেকেই সংগঠনটির পদপ্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে দেশে-বিদেশে লবিং-তদবির এবং ভেতরে-বাইরে নানামুখী চাপের কারণে তরুণদের পক্ষে অবস্থান নেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। সংশ্লিষ্টরা তাদের পছন্দের ছাত্রনেতাদের নিয়ে কমিটি গঠনের তৎপরতা শুরু করেন। এর অংশ হিসেবে গত সপ্তাহের শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের বাসভবনে ছাত্রদল নেতা রাজীব আহসান ও মামুনুর রশীদকে ডেকে পাঠানো হয়। খালেদা জিয়ার সাথে আধা ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক শেষে রোববারের মধ্যে কমিটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু রাতে দলের প্রভাবশালী এক যুগ্ম মহাসচিব চেয়ারপার্সনের সাথে সাক্ষাৎ করে কজন ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে নিজের আপত্তি তুলে ধরেন। যার কারনে ওই রোববার আর কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি বলে সূত্র জানায়। এদিকে কমিটি গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের একজনকে চীন সফরে বিএনপি প্রতিনিধি দলের সদস্য করা হয়। তিনি বিদেশ যাওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে কমিটি ঘোষণার উদ্যোগ নেন। সুপার ফাইভ কমিটি তৈরি করে গত মঙ্গলবার সম্ভাব্য তিন ছাত্রনেতাকে খালেদা জিয়ার বাড়িতে ডেকে নেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু তেমন কোনো সমাধান হয়নি এ বৈঠক থেকে। উপরন্ত পদ-প্রত্যাশী বিভিন্ন নেতাদের মাঝে এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা বেড়েছে। তাদের মতে, যে প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে তাতে নতুন ফরমেটে পুরনো কমিটি গঠনের একটি প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছু করা হয়নি। প্রস্তাবিত এ সুপার ফাইফ কমিটিতে প্রথম সারীর দুইজন বাদ দিয়ে বাকিদের বিরুদ্ধে বিবাহিত তকমা রয়েছে। এছাড়া বিগত দিনের আন্দোলনে সম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব না দিয়ে লবিংকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, নতুন কমিটিতে নিয়ে যাদের নাম আলোচিত হচ্ছে তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, বজলুল করীম আবেদ, রাজীব আহসান, মনিরুল ইসলাম সোহাগ, মামুনুর রশীদ মামুন, আকরামুল ইসলাম অন্যতম। এ দিক দিয়ে মনিরুলই সলাম সোহাগ, মামুনুর রশিদ মামুন, মিয়া রাসেল, সাদিউল কবীর নিরব প্রমুখ ছাত্র নেতারা সবদিক থেকে এগিয়ে আছে বলে জানা গেছে। তবে এসব গুরুত্ব না দিয়ে পুনর্গঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে চূড়ান্ত করা হয় বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব আহসানকে। আকরামুল হাসান ও মামুনুর রশীদ মামুনের মধ্যে একজন সাধারণ সম্পাদক এবং অন্যজনকে সিনিয়র সহ-সভাপতি চূড়ান্ত করা হয়। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে রাখা হয় আসাদুজ্জামান আসাদ, মিয়া মোহাম্মদ রাসেল ও আবদুল ওয়াহাবের নাম। ছাত্রনেতারা জানান, যোগ্যতা যাই থাকুক, অতীতেও দায়িত্বপ্রাপ্তদের পছন্দের অনুসারীরাই পেয়েছেন বড় বড় পদ। আবার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সম্মানজনক পদ পাননি অনেকেই। ছাত্রদল কর্মীরা জানান, সাংগঠনিক ও সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে যে তিনজনের নাম প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে তারা তিনজনই বিবাহিত। এর মধ্যে রাসেলের স্ত্রী দুদকে চাকরি করেন। কিন্তু ছাত্রদল পুনর্গঠনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের পছন্দের কারণেই বিবাহিত ও বিতর্কিত হওয়ার পরও প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে তাদের নাম। এ সব বিষয়ে ছাত্রদল নেতা ওবায়দুল হক নাসির বলেন, বিশেষ ব্যক্তির, বিশেষ উদ্যেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা না করে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হলে সংগঠনে কোনো সমস্যা হবে না। নেতাকর্মীরাও এ ধরনের কমিটি প্রত্যাশা করেন। ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনে নানাবিধ এ জটিলতার মধ্যেও নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে- এমন সংবাদে গত মঙ্গলবার থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে ভিড় করে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ, ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক শ’ ছাত্রদল কর্মী চারপাশে অবস্থান নেয়। বুধবার দুপুর ও শনিবার সন্ধ্যায়ও ছাত্রদলের একটি অংশ দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান নেয়। তারা তাদের পছন্দের নেতাদের দায়িত্ব দেয়ার জন্য বিক্ষোভ পর্যন্ত করছেন। তবে অপর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, কেন্দ্র থেকে তালিকাভুক্ত ছাত্রদল কমিটির পাশাপাশি নতুন করে একটি কমিটি গঠনের চেষ্টা চলছে। এ অংশটি তারেক রহমানের নিকট সংগঠনের প্রকৃত অবস্থান তুলে ধরে ছাত্রদল নেতা ওবায়দুল হক নাসির, মনিরুল ইসলাম সোহাগ ও মামুনুর রশীদকে নিয়ে কমিটি গঠনের চেষ্টা করছে। অপরদিকে, নতুন কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা থেকে বের হয়ে আসতে ঈদের পর ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হতে পারে। তবে ছাত্রদলের সিনিয়র নেতারা চাইছেন, সিনিয়র নেতাদের সম্মানজনক বিদায় দিতে স্বল্প সময়ের জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হোক। যার মেয়াদ হবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

বিস্তারিত»
খালেদা জিয়ার আগমন ঘিরে উজ্জীবিত তৃণমূল

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া: আগামি ২৩ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ২০ দলীয় জোট নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসনন বেগম খালেদা জিয়া তার আগমন ঘিরে পুরো জেলা জুড়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখে গেছে উৎসবের আমেজ। চারদিকে সাজ সাজ রব। দলীয় প্রধান সড়ক পথে আসবেন তাই চলছে তোরণ আর ফেস্টুন নির্মাণের তোড়জোড়। ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার প্রবেশদ্বার আশুগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোল প্লাজা থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল গোলচত্বর হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সভাস্থল পর্যন্ত মহাসড়ক সাজানো হচ্ছে। মহাসমাবেশ হবে জেলা শহরের নিয়াজ মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। স্থানীয় বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা দাবি করছে এ সমাবেশ হবে জেলা পর্যায়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে স্মরণকালের বৃহৎ সমাবেশ। আগামী মঙ্গলবারের ওই সমাবেশে সমাগম ঘটানো হবে অন্তত দুই লাখ লোকের। এমন ধারনা করছে জেলার নেতাকর্মীরা। আর এ জন্য প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। ২০ দলীয় জোট প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে জেলার ৯টি উপজেলার ৬টি সংসদীয় আসনে চলছে ব্যাপক প্রচার। জেলা বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের শরিক নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা- দলীয় প্রধানের ব্রাহ্মণবাড়ীয়া আগমনে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে এ জেলা থেকে আন্দলোনের ঘোষণা দেয়া হবে। পাশপাশি বর্তমানে বিএনপির চলমান আন্দোলনে জাতীয় সম্প্রচারনীতি, বিচারপতি অভিশংসন আইন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ গ্যাস, পানি, জ্বালনির দাম বৃদ্ধি, পদ্ধা সেতু, পুঁজিবাজার ও ব্যাংক কেলেঙ্কারির মতো ভয়াবহ দুর্নীতির প্রতিবাদ জানানো হবে। এছাড়া নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির নেতারা। অবশ্য তৃণমূল নেতাকর্মীরা এ সমাবেশকে দেখছে উৎসব হিসাবে। তারা মনে করছে দলীয় প্রধানের আগমনে আগামী দিনে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল হবে উজ্জীবিত হবে তৃণমূল। পাশিপাশি শক্তিশালী হবে ২০ দলীয় জোট বন্ধন। এ ব্যাপারে  ইসলামী ঐক্যজোট কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনীর ছেলে মুফতি আবুল হাসনাত আমিনী বাংলামেইলকে বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় ২০ দলীয় জোটের সভায় দলীয় প্রধান আগামী দিনের দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন।’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মো. জহিরুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘দলের এ মহাসমাবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি দুই লাখ লোকের ঐতিহাসিক সমাগম ঘটবে এ মহাসমাবেশে। তাই প্রশাসনকে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।’ ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান  বলেন, ‘মহাসমাবেশে বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামের দিক নির্দেশনা পাব আমরা।’ ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সরকার পতন আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়নি। দলীয় প্রধান ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার জনসভায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের জন্য সরকার পতন আন্দোলনের দিক নির্দেশনা দেবেন এমন প্রত্যাশা জেলা নেতাদের।  

বিস্তারিত»
অর্থমন্ত্রীর সাথে সিলেট জেলা সড়ক  পরিবহন শ্রমিক লীগে মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিনিধি:অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি’র সাথে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ রেজিঃ নং বি-২০৯১, সিলেট জেলা শাখার নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা গত ২১ সেপ্টেম্বর রোববার রাতে নগরীর ধোপাদিঘিরপারস্থ মন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী, ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌফিক বকস লিপন, সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিকলীগের সভাপতি শেখ সিরাজ মিয়া, কার্যকরী সভাপতি মোঃ শাইয়ুম বখত, সহ-সভাপতি জুয়েল আহমদ, শমসের সিরাজ সোহেল, মোঃ আকবর আলী, রায়হান উদ্দিন, আখতার হোসেন, মাসুক মিয়া, সাধারণ সম্পাদক শামীম কবীর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দুলাল আহমদ, জয়নাল আবেদীন, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার শেখ, আসিক মিয়া, আমিন আহমদ, প্রচার সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, শফিকুর রহমান প্রমুখ। সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিকলীগ নেতাবৃন্দ মন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অর্থমন্ত্রী উপস্থিত শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শ্রমিকদের কষ্টার্জিত অর্থে দেশের চাকা সচল থাকে। তাদের মেহনতের ফলে দেশ আজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। অথচ এই শ্রমিকদের কথা চিন্তা না করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কোন ইস্যু ছাড়া হরতাল ডেকে সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের পেটে লাথ মারছে। তাই এ ধরনের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি থেকে দেশকে রক্ষা করার স্বার্থে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

বিস্তারিত»
বিদ্রোহীদের ভয়ে পাড়ার গলিতে হরতালের সমর্থনের ছাত্রদলের মিছিল

নিজস্ব প্রতিনিধি:পুলিশ বা সরকার দলের নেতাকর্মীদের ভয়ে নয়, নিজ দলের বিদ্রোহী তৃণমুল ছাত্রদল  কর্মীদের  ভয়ে পাড়ার গলিতে মিছিল করল সদ্য গঠিত সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ লোকমান  ও তার অনুসারীরা। ১৮ সেপ্টেম্ব সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি ঘোষনার পর থেকে নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিপাকে পড়ে গেছেন । কেননা  নতুন কমিটিতে ত্যাগী পরীক্ষিত নেতা কর্মীরা স্থান না পাওয়া সিলেট ছাত্রদলের বড় একটি অংশ বিদ্রোহ ঘোষনা করে । তারা ২০ সেপ্টেম্বর শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখান করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সিলেট থেকে অবাঞ্জিত ঘোষনা করে। তার পর থেকে সিলেটের বিদ্রোহী নেতা কর্মীরা দখল করে নেয় সিলেটের রাজপথ। তারা যেখানে খবর পায় নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অবস্থান করছেন সেখানে গিয়ে অবস্থান করে । আজ রবিবার নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হযরত শাহজালাল  ও শাহপরান (রঃ) মাজার জিরাত করতে যোহরের পরে যেতে পারেন, এমন সংবাদ বিদ্রোহী ছাত্রদল নেতাকর্মীদের কাছে এসে পৌছলে।  তারা দুপুর ১২ টা থেকে মাজারে সকল গেইট ও ভিতরে বাহিরে চারদিকে অবস্থান করে।  পরে রাত ৯ টায় বিদ্রোহী কর্মীরা অপেক্ষা করে বাসায় ফিরে আসেন।  বিদ্রোহী এক ছাত্রদল নেতা জানান, নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হরতালের সমর্থনের নয়, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে দেখানোর জন্য পাড়ার গলিতে মিছিল করেছেন । এ ব্যাপারে ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম নাচন বলেন, কেউ যদি পাড়ার গলির ভিতরে মিছিল করে তাহলে আমরা কি করতে পারি।  

বিস্তারিত»
শান্তিপূর্ণ হরতালে উসকানি  দেবেন না, সরকারকে বিএনপি

ঢাকা: উসকানিমূলক আচরণ করে ২০ দলকে বৃহত্তর আন্দোলনের দিকে ঠেলে না দিতে সরকারকে হুঁশিয়ার করেছে বিএনপি।  রোববার সন্ধ্যায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যা্লয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান দাবি বলেছেন,  সোমবারের হরতাল হবে শান্তিপূর্ণ। মো. শাহজাহান বলেন, “খালেদা জিয়া নৈরাজ্যের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। বরং হরতাল প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার মন্তব্যই ফ্যাসিবাদী আচরণের প্রকাশ।” সরকারের উদ্দেশে মো. শাহজাহান বলেন, “২০ দলের ডাকা সোমবারের হরতাল হবে অহিংস ও শান্তিপূর্ণ। এখানে কোনো বাধা দেবেন না। এতে উসকানি দিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে ঠেলে দেবেন না।” হরতাল সামনে রেখে সারা দেশে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৬০-৭০ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে বড় প্রতিনিধিদলের সমালোচনা করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “দেশ যখন নানান সমস্যায় জর্জরিত, তখন তিনি (প্রধানমন্ত্রী) এসব সমাধানে মনোযোগী না হয়ে ১৮০ জনের দল নিয়ে আমেরিকায় যাচ্ছেন।” এদিকে সংবাদ সম্মেলন চলাকালে নয়াপল্টন অফিসের পাশে (স্কাউট ভবনের সামনে) পাঁচ-ছয়টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, সহদপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি।  

বিস্তারিত»
হাটহাজারী পৌর ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সম্মেলন অনুষ্ঠিত

মোহাম্মদ হোসেন,হাটহাজারী:হাটহাজারী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন গতকাল (২০ সেপ্টেম্বর ২০১৪) সন্ধ্যা ৭-০০মি. মোহাম্মদপুর ফোরকানিয়া মাদরাসা মাঠে প্রবীন বিএনপি নেতা আলহাজ্ব দ্বীন মোহাম্মদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় উপ-কোষাধ্যক্ষ ও হাটহাজারী উপজেলার আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা এস.এম ফজলুল হক প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, এ সরকার নির্বাচন ও জনগনের ভোট ছাড়া অবৈধ পন্থায় ক্ষমতা দখল করে একের পর এক দেশ ও জনস্বার্থ বিরোধী আইন পাস করে যাচ্ছে। বিচার বিভাগকে আওয়ামীলীগের স্বার্থে ব্যবহার এবং বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার জন্য অভিসংশন বিল পাস করছে। এ বিল বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মাহাবুবুল আলম চৌধুরী,সম্মেলন উদ্বোধন করেন পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ হোসেন মাস্টার। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপি নেতা মুহাম্মদ মীর কাশেম,এ.কে.এম আজিজ আহম্মেদ, একরাম হোসেন চৌধুরী সেলিম, মোহাম্মদ শফিউজ্জামান, মোঃ গিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যান, মোহাম্মদ অহিদুল আলম। পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মোহাম্মদ খায়রুন্নবীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব মোঃ হারুন ডিলার, মোহাম্মদ ইসহাক, হারুন রশীদ অলি, ওয়ার্ড সভাপতি আলহাজ্ব আবু মোহাম্মদ এয়াহিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে মোহাম্মদ হাসান, মোঃ আব্দুল মান্নান, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক এয়ার মোহাম্মদ বাচা, ছাত্রদলের আহবায়ক রেজাউল করিম বাবু , বিএনপি নেতা হাজী মোহাম্মদ এয়াকুব চৌধুরী, মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, মোঃ ইলিয়াছ তালুকদার পৌর যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক মির্জা সাহেদুল হক, আব্দুল মাবুদ শিমুল, দেলোয়ার হোসেন, জেলা ছাত্রদল নেতা কাজী এরশাদ উদ্দিন, মনিরুল আলম জনি, এ.কে.এম হেলাল উদ্দিন,  খোরশেদ মেহের, রাইহান উদ্দিন,জিয়াউদ্দিন মিজান, ইকবাল মোঃ সাদি, ওয়ার্ড ছাত্রদলের মোহাম্মদ আনিস, মোহাম্মদ তারেক, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রিপন ও প্রমুখ।   সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে সংগ্রামী বিএনপি নেতা নাজমুল হক বাদল সভাপতি এবং তরুণ সংগঠক হাজী মোহাম্মদ এয়াকুব চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক, মোহাম্মদ আলমগীর সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়। পরে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট ৯নং পৌর ওয়ার্ড বিএনপির কমিটি ঘোষনা করা হয়।  

বিস্তারিত»
‘বহর গ্রাম জনমঙ্গল সমিতি যুক্তরাজ্য শাখার কমিটি গঠন’

যুক্তরাজ্য:গত ১৬ সেপ্টেম্বর রোজ মঙ্গলবার বহর গ্রাম জনমঙ্গল সমিতি যুক্তরাজ্য শাখার উদ্দোগে এক সাধারণ সভার আয়োজন করা হয় ।কয়েছ আহমদ রুহেলের পরিচালনায় উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন,জনাব হাজী বুরহান উদ্দীন ।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বহর গ্রাম গ্রামের বিশিষ্ট মুরব্বী জনমঙ্গল সমিতি যুক্তরাজ্য শাখার সাবেক সভাপতি জনাব আব্দুল হাফিজ মনিয়া, জনমঙ্গল সমিতি বাংলাদেশ শাখার সাবেক সভাপতি জনাব আব্দুল মজিদ, বিশিষ্ট মুরব্বী জনাব নজরুল ইসলাম,ছয়ফুল ইসলাম,সাবেক কৃতি ফুটবলার,আব্দুল মালিক জুরু,যুক্তরাজ্য বসবাসরত বহরগ্রামের যুবসমাজ ও সমিতির সকল সদস্য বিন্দ্র, উক্ত সভায় সমিতির আগামীদিনের কার্যক্রম কিভাবে পরিচালিত হবে এবং কিভাবে সমিতির কার্যক্রম কে আরো গতিশীল করা যায় এসব বিষয়ে উপস্থিত সকল সদস্যদের মতামত গ্রহন করা হয় । সভায় উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিক্রমে আগামীদিনের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য জাবরুল ইসলাম লনি কে প্রধান আহবায়ক ও কয়েছ আহমদ রুহেল কে সদস্য সচীব করে ২৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয় ।   যুগ্ম আহবায়ক :(১)রফিক উদ্দীন মাসুক,(২)মিজানুর রহমান সুহেল,(৩)মনসুর আহমদ মজনু,(৪)দেওয়ান আব্দুল বাছিত,(৫)মুফাজ্জল করিম মাছুম,(৬)জাকারিয়া হোসেন জয়নাল ।  কোষাদক্ষ:মামুনুর রশীদ মামুন ।     সদস্য:(১)জামাল খালেদ,(২)মনজুর আহমেদ,(৩)কবির আহমদ বাদশা,(৪)ছাদিকুর রহমান ছাদিক,(৫)ছাদেক আহমদ বাদশা,(৬)ফখরুল ইসলাম,(৭)মান্না মিয়া,(৮)খয়রুল ইসলাম,(৯)শিব্বীর আহমদ,(১০)আলতাফ হোসেন,(১১)শফিউল আলম সুমন,(১২)গোলাম কিবরিয়া,(১৩)শেহেদ আহমদ,(১৪)মো:জাকারিয়া,(১৫)মৌলানা হাছান,(১৬)মৌলানা ফয়েজ,(১৭)জামাল জাহিদ,(১৮)মুইবুর রহমান,(১৯)জামাল ছায়িদ,(২০)সিদ্দিকুর রহমান,(২১)ফজলু হোসেন,(২২)কিবরিয়া ইসলাম,(২৩)রাসেল আহমদ জুহেল ।                                                                          

বিস্তারিত»
জাতিসংঘের ৬৯তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ

ঢাকা:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৬৯তম অধিবেশনে যোগ দানের লক্ষ্যে ৮ দিনের সরকারি সফরে রাতে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। আমিরাত এয়ার লাইন্সের একটি বিমান আজ রাত সাড়ে ৯টায় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে হযরত শাহজালালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। বিমানটি সোমবার ৮টা ২৫ মিনিটে (নিউইয়র্ক টাইম) জন এফ কেনেডি বিমান বন্দরে অবতরণ করবে। নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা দুবাইতে দুই ঘণ্টা যাত্রাবিরতি করবেন। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আব্দুল মোমেন জন এফ কেনেডি বিমান বন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন। উষ্ণ শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিউইয়র্কের গ্রান্ড হায়াত হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। সফরকালে তিনি এ হোটেলেই অবস্থান করবেন। প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পক্ষে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বুধবার সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, ‘অতীতের বছরগুলোর মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবারও বাংলায় ভাষণ দেবেন।’ ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জলবায়ূ সম্মেলন ২০১৪ এর উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগদান করবেন এবং সম্মেলনের ‘ন্যাশনাল এ্যাকশন এন্ড এম্বিশন এ্যানাউন্সমেন্ট’ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। তিনি একই দিন ওয়ার্ল্ডড্রফ এ্যাস্ট্ররিয়াতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় যোগদান করবেন। শেখ হাসিনা আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৯তম উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন। এছাড়া, তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেবেন। জাতিসংঘ সম্মেলনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলম প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসেবে থাকবেন।

বিস্তারিত»
খালেদা জিয়ার দুই মামলার সাক্ষ্য সোমবার

ঢাকা: বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের মামলার সাক্ষ্য নেয়া হবে  সোমবার। গত বুধবার বকশিবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়ের আদালত এই দিন ধার্য করেন। সাক্ষ্য গ্রহণের দিন মামলার সব আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাতে ও সাক্ষ্য গ্রহণের ধার্য্য দিনে খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলে  তার আইনজীবীরা গত বুধবার দুটি আবেদন জানান। শুনানি শেষে বিচারক খালেদার অনুপস্থিতির আবেদন মঞ্জুর করলেও সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানোর আবেদন নাকচ করে দেন। পরে ২২ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আদেশ দেন আদালত। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার অন্য আসামিরা হলেন হারিছ চৌধুরীর সাবেক একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার অন্য আসামিরা হলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান। এদিকে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে দেয়ার প্রতিবাদে সোমবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দল। আদালতে খালেদা জিয়ার উপস্থিত হওয়ার বিষয়ে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে বলেন, “এখনো এ বিষয়ে বলতে পারছি না। ঘণ্টাখানেক পরে বলতে পারব।”

বিস্তারিত»
ছাত্রলীগ পলাশবাড়ী সরকারি কলেজ শাখার পক্ষ থেকে  হরতাল বিরোধী ও সংসদ সদস্যের আগমন উপলক্ষে মিছিল

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী সরকারি কলেজ শাখার ছাত্রলীগের উদ্যোগে হরতাল বিরোধী ও সদস্য সদস্যের আগমন উপলক্ষ্যে এক বিশাল মিছিল সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। সরকারি কলেজ শাখার ছাত্রলীগ সভাপতি ফজলুল কবির প্লাবন ও সাধারণ সম্পাদক সাকলাইন মাহমুদ সজীবের নেতৃত্বে হরতাল বিরোধী মিছিল ও গাইবান্ধা-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ডাঃ ইউনুছ আলী সরকারের আগমন উপলক্ষে আনন্দ মিছিল শহরের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে । মিছিলে উপস্থিত ছিলেন থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও এমপি’র প্রতিনিধি প্রভাষক শামিকুল ইসলাম লিপন, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র আশরাফুল ইসলাম, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সদস্য নজরুল, হেলাল, আরিফ, রতন, লিমন, অনিক, সৈকত, সাব্বির এবং যুবলীগ,স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও শ্রমিকলীগের আরও অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

বিস্তারিত»
গাইবান্ধায় বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে  কৃষকরা এখন গাঞ্জিয়া ধান চাষে ব্যস্ত

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ বন্যায় ফসলের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে গাইবান্ধার চরাঞ্চল এবং নদী তীরবর্তী এলাকার কৃষকরা আমন গাঞ্জিয়া ধান চাষে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। বন্যায় ওইসব এলাকায় লাগানো আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় কৃষকরা নাবিজাতের এ ধান চাষ করছে। এ ধান চাষে খরচ কম এবং তুলনামূলক লাভজনক বলেই কৃষকরা এর প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ গাইবান্ধার উপ-পরিচালক কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার ৩০টি ইউনিয়নে ৩ হাজার ৪শ’ ২৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে ২ হাজার ৬শ’ ৮১ হেক্টর জমির রোপা আমন ক্ষেত। চরাঞ্চল এবং নদী তীরবর্তী এলাকার কৃষকরা প্রচন্ড খরা জনিত কারণে এবারে সেচ দিয়ে আমন চাষ করে। বন্যায় তাদের ক্ষেতের ফসলের ব্যাপক বিপর্যয় ঘটায় তারা হতাশ হয়ে পড়ে। কিন্তু বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে তারা ব্যস্ত হয়ে পড়ে তাদের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য। ইতিমধ্যে উচ্চ ফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের আমন ধান চাষের সময় পেরিয়ে গেছে। তাই তারা স্থানীয় নাবিজাতের লাভজনক গাঞ্জিয়া ধান চাষে ঝুঁকে পড়ে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর জমির কাঁদা মাটিতে এ ধানের বীজ ছিটানো যায় অথবা চারা রোপন করে চাষাবাদ করা সম্ভব। ছিটানো বীজে ১২০ দিন এবং রোপনকৃত চারা থেকে ১০০ দিনের মধ্যে এ ধান ঘরে তোলা সম্ভব। এ ধানের চাল সুগদ্ধযুক্ত আঠালো ও সুস্বাদু। চিকন জাতের এ চাল গাইবান্ধায় খুবই জনপ্রিয় এবং লাভজনক। তাই কৃষকরা অসমযয়ে চাষ সম্ভব এ ধানের ব্যাপারে আগ্রহী থাকে বরাবরই। এক বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে ১০ থেকে ১২ মণ পর্যন্ত ধান পাওয়া যায়। অথচ ব্যয় তেমন নেই। সেচ এবং সার কোনটাই দিতে হয় না। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সত্যেন কুমার জানান, তার উপজেলায় সাম্প্রতিক বন্যায় ১ হাজার ২৪ হেক্টর জমির লাগানো আমন ধান ক্ষেত বিনষ্ট হয়েছে। লেট ভ্যারাইটি (নাবিজাত) এ ধান চাষে এএলাকার কৃষকদের বরাবরই আগ্রহ থাকে। এবারে বন্যায় রোপিত আমনের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় কৃষকরা তাদের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ইতিমধ্যে উপজেলায় ৫শ’ ৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে কৃষকরা গাঞ্জিয়া ধানের চাষ সম্পন্ন করেছে। এ মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত এ ধান চাষ করা যাবে। কাজেই বন্যায় আমনের যে ক্ষতি হয়েছে তা পুরণ করে আরও বেশি জমিতে গাঞ্জিয়া ধানের চাষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মীর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গাইবান্ধার চরাঞ্চলসহ নদী তীরবর্তী এলাকায় কৃষকরা গাঞ্জিয়া ধান চাষে যথেষ্ট আগ্রহী। কারণ এ ধান চাষে ব্যয় কম এবং চাহিদার কারণে তুলনামূলক লাভ বেশি। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে গাইবান্ধা জেলায় ১ লাখ ২১ হাজার ২শ’ ৫৯ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছিল। বন্যার আগ পর্যন্ত সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছিল ১ লাখ ২৭ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে বন্যায় ২ হাজার ৬শ’ ৮১ হেক্টর জমির আমন ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষকরা যেভাবে গাঞ্জিয়া ধান চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তাতে ক্ষতি পুষিয়েও আরও অধিক জমিতে আমন চাষ সম্ভব হবে বলে তিনি আশা পোষন করেন।

বিস্তারিত»
ভালুকায় হরতালের  সমর্থনে বিএনপি’র মিছিল

মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক,বিশেষ প্রতিনিধি,ময়মনসিংহ থেকে ঃ ২০দল আহূত সোমবারের হরতালকে সফল করতে রোববার বিকেলে  ভালুকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন। নতুন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিলটি বের হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিন করে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ে এসে সমাপ্ত হয়।    মিছিলে সোমবারের হরতালকে স্বতস্ফুর্তভাবে সমর্থনের জন্য সকলকে আহ্বান জানানো হয়।মিছিলে অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন রুহুল আমীন রুহুল.জাহাঙ্গীর মোঃ আদেল,মুনসর মোল্লাহ,হারুন অর রশিদ,কায়সার আহম্মেদ কাজল,সোহেল ফেরদৌস শাহিন,আতিকুল ইসলাম,আহসান সেক,মাহবুব মোল্লা,সজিব,শরিফ,রিয়াদ,ইমন,আলম,মাসুদ ঢালী,মিলন,শাকিল প্রমুখ।

বিস্তারিত»
জেলা ও মহানগর শ্রমিকলীগ নেতৃবৃন্দের সাথে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর মতবিনিময়

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী এমপি বলেছেন, শ্রমিকদের কষ্টার্জিত অর্থ উপার্জনের মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ এখোনো আর্থিক ভাবে সচল রয়েছে। এজন্যে শ্রমিকদেরকে যথাযথ মুল্যয়ন করতে হবে। অন্যদিক রাজনৈতিক দলগুলো হরতাল, জালাও পোড়াও, হত্যা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের অর্থ বাণিজ্যের ক্ষতি ও শ্রমিকদের পেটে লাথি দেওয়ার চেষ্টা করছে। মন্ত্রী ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার আহবান জানান। গতকাল ২১ সেপ্টেম্বর রোববার রাতে সিলেট সার্কিট হাউজে সিলেট জেলা ও মহানগর শ্রমিকলীগ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী এমপি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও সিলেট জেলা সভাপতি প্রকৌশলী এজাজুল হক এজাজ এর সভাপতিত্বে ও শামীম রশিদ চৌধুরী পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিরাজুল ইসলাম, আব্দুস সাত্তার, আউয়াল হোসেন, জাহাঙ্গীর খান, শামীম ইকবাল, আজিজুর রহমান, প্রকৗশলী আনোয়ার হোসেন, দুলন রঞ্জন দেব, সাজা মিয়া, নূর এ আলম, রফিক আহমদ মকবুল হোসেন খান, ফয়ছল মাহমুদ, আব্বাস উদ্দিন, আব্দুল গফফার, আদনান খান হেলাল, বিধু রঞ্জন চক্রবর্তী, আতিকুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সোয়েব আলী, আব্দুর রকিব, মোঃ মফিক, আবু সাঈদ, মীর ইয়াকুত আলী দুলাল। বিজ্ঞপ্তি

বিস্তারিত»
সরকার তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে টাকা দিয়ে জোট ভাঙার ষড়যন্ত্র করছে

ঢাকা: বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে এখন চলছে অস্থিরতা। কয়েকটি ছোট শরিক দলের জোট ছাড়ার গুঞ্জনের পাশাপাশি চলছে জোট ভাঙতে সরকারি ইন্ধনের অভিযোগও। বিক্রি হয়ে যাচ্ছেন জোটের নামসর্বস্ব দলের নেতারা। তবে বিএনপির নেতারা মনে করছেন, নামস্বর্বস্ব ছোট দলগুলো জোট ছেড়ে গেলে তাতে বিশেষ ক্ষতি হবে না। কিন্তু সম্প্রতি জোট থেকে কেউ কেউ বের হয়ে যাওয়ায় এখন এসব নামসর্বস্ব দলই বিএনপির মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটে আরো ১৪টি দলকে অন্তর্ভুক্ত করলে সেটি ১৮ দলীয় জোটে পরিণত হয়েছিল। পরে আরো সম্প্রসারিত হয়ে তা রূপ নেয় ২০ দলে। এর মধ্যে কিছু কিছু দলে প্রবীণ রাজনীতিক থাকলেও কর্মীর সংখ্যা হাতে গোনা। এমনকি অনেক দলের নেই কার্যালয়ও। আবার কয়েকটি দল চালায় জামায়াত। ছোট হলেও শরিক দলগুলোর এভাবে জোট ছাড়ার ঘটনায় জোটপ্রধান বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা পাল্টা কৌশল খোঁজা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। শরিকদের সঙ্গে ‘পার্টি টু পার্টি’ কথা বলে জোটের সমস্যা ও অসংগতি কাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। জোট থেকে কারো কারো চলে যাওয়ার হুমকির পেছনে অবশ্য সরকারকে দায়ী করছেন বিএনপি ও জোটের নেতারা। তারা বলছেন, সরকার তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে টাকা দিয়ে জোট ভাঙার ষড়যন্ত্র করছে। বিএনপির জোটে ভাঙনের শুরু হয় চলতি বছরের ৩১ মার্চ। জোটের শরিক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপের (ভাসানী) চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ারুল হক জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরে অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে নতুন ন্যাপ (ভাসানী) গঠন করে তারা বিএনপি জোটে থেকে যায়।   পরে জোট ছাড়ার তালিকায় যুক্ত হন এনপিপির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু। ২৪ আগস্ট তিনি জোট ছাড়ার ঘোষণা দেন। তবে এর আগে তাকে দল ও জোট থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে দলের মহাসচিব ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের নেতৃত্বের এনপিপিকে জোটে শরিক ঘোষণা করা হয়। সবশেষ শনিবার এনডিপির মহাসচিব আলমগীর মজুমদার এক সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্তজাকে বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করেন এবং জোটনেত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ দফা দাবিতে আলটিমেটাম দেন। অন্যথায় জোট থেকে তারা বের হয়ে যাবেন বলে হুমকি দেন। আলমগীর মজুমদারের সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ রশীদ প্রধান, যিনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছেন বলে সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। অতিথি সারিতে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান দাবিদার সেকান্দর আলী মনিও ছিলেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বিএনপির জোট থেকে বের হওয়া দলগুলো নিয়ে ‘ডেমোক্রেটিক ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট’ নামে একটি জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শেখ শওকত হোসেন নিলু এর নেপথ্যে কাজ করছেন। ২৫ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে এ জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটবে বলে জানা গেছে। ওই ফ্রন্টে আরো কয়েকটি রাজনৈতিক দল যোগ দিতে পারে বলে জানা গেছে। নতুন এ জোট গঠনের নেপথ্যে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে কেউ কেউ দাবি করছেন। জোট থেকে বের হয়ে যাওয়া দলের নেতারা দাবি করছেন, বিএনপিতে যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়াই তাদের জোট ছাড়ার কারণ। এ ছাড়া সঠিক সময়ে কর্মসূচি না দেয়া, নামে জোট হলেও বিএনপি এককভাবে কর্মসূচি দেয়ার কারণে তারা অনেক দিন ধরে ক্ষুব্ধ। মূলত এসবই বিএনপি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে কাজ করেছে। জোটের শরিকদের মধ্যে এই অস্থিরতা নিয়ে বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, সরকার এজেন্টের মাধ্যমে টাকা দিয়ে জোটে ভাঙন সৃষ্টি করছে।  তবে এতে সরকার সফল হবে না বলে দাবি করছেন তারা। বিএনপির নেতারা মনে করছেন, যারা জোট থেকে বের হয়ে গেছেন, তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন। প্রকাশ্যে এসব কথা বললেও ভেতরে ভেতরে বিএনপির নেতাদের বক্তব্য, যারা চলে যাচ্ছে, মূলত জোটে তাদের কোনো অবদান নেই। কারো নেতা আছে তো কর্মী নেই। তাই এরা চলে গেলে সাময়িক অসুবিধা হলেও জোটের কোনো ক্ষতি হবে না। ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে রয়েছে জামায়াত, জাপা (জাফর), এলডিপি, খেলাফত মজলিস,  ইসলামী ঐক্যজোটের বিজেপি, জাগপা, কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাপ, লেবার পার্টি, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম,  মুসলিম লীগ, ন্যাপ (ভাসানী), পিপলস লীগ, এনপিপি, এনডিপি, ইসলামিক পার্টি, ডেমোক্রেটিক লীগ ও  সাম্যবাদী দল। জোটে মূলত জামায়াতের অবস্থানই শক্তিশালী।  অন্য দলগুলোর নাম আছে প্যাড আছে, কর্মী নেই। তাদের বেশিরভাগেরই রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডও নেই।নেই অফিস।আর সারাদেশে সংগঠনের কথা কল্পনাই করা যায় না।জোটে শরিকদের সংখ্যা বাড়াতে গিয়ে বিএনপি এখন বিপাকে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার জোটের এই সব ভুঁইফোড় নেতাদের কিনে নেয়ার টার্গেট করেছে।এই টার্গেট যে সফল হবে তা ইতিমধ্যে টের পাওয়া যাচ্ছে।জোটের এসব নেতা যত না রাজনৈতিক, তার চেয়ে বেশি ‘রাজনৈতিক ব্যবসায়ী’।কাজেই এদের কিনে নেয়াটা খুব কঠিন হবে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই।   খণ্ড-বিখণ্ড জাপার চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমদ শারীরিক অসুস্থতার কারণে এখন সব সময় জোটের বৈঠকে আসতে পারেন না।  মহাসচিব মোস্তাফা জামাল হায়দার ও প্রেসিডিয়াম সদস্য টি আই এম ফজলে রাব্বি শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে হাজির হন। জোটের কর্মসূচিতেও দলটির নেতাকর্মীদের তেমন দেখা যায় না। এলডিপির কার্যাক্রম মোটামুটি থাকলেও বিজেপির অবস্থা করুণ। প্রায় দুই বছর ধরে দলের মহাসচিব পদ খালি। সাংগঠনিক কার্যেক্রম চোখে না পড়লেও দলটির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থকে বিভিন্ন কর্মসূচিতে জোরালো বক্তব্য দিতে দেখা যায়। টেলিভিশন টকশোর একজন সুবক্তা হিসেবেও তার পরিচয় আছে। কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এ মালেক চৌধুরীকে বহিষ্কারের পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে আছেন এম আমিনুর রহমান। জোটের কর্মসূচিতে এই দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি সেভাবে না থাকলেও মহাখালী ডিওএইচএসের কার্যা্লয় মাঝেমধ্যে সরব থাকে। এই দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম মূলত টকশো নেতা। দল হিসেবে জাগপার কার্যমক্রম সরব। নানা ইস্যুতে তাদের সভা-সমাবেশের আয়োজন মাঝেমধ্যে চোখে পড়ে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের চেয়ারম্যান মুফতি ওয়াক্কাসকে জোটের কর্মসূচিতে কমই দেখা যায়। জোটের বৈঠকে মাঝে মাঝে প্রতিনিধি পাঠাতে দেখা যায়। ঢাকায় খুব বেশি তৎপরতা দেখা না গেলেও সিলেটসহ কয়েকটি এলাকায় তাদের সমর্থকদের সরব অবস্থান রয়েছে। ঢাকায় সেভাবে নেতাকর্মী না থাকলেও দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বাংলাদেশ ন্যাপের ভালো সমর্থক রয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে সাধ্যমতো কর্মসূচি পালনের চেষ্টা দেখা গেছে।   ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিস, লেবার পার্টি, মুসলীম লীগ, এনপিপির অবস্থা একই রকম। এদের মাঝেমধ্যে দায়সারা কিছু কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। অন্যদিকে অলি আহাদের মৃত্যুর পর অধ্যাপক মমিনুল হককে ডিএলের চেয়ারম্যান করা হয়। তবে তিনি কর্মসূচিতে আসেন না বলে কার্যেত চেয়ারম্যান ও মহাসচিব- দুই দায়িত্বে মহাসচিব সাইফুদ্দিন মনি। অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম একসময় গাইবান্ধা জেলা কল্যাণ পার্টির সহসভাপতি ছিলেন। ২০০৮ সালে ওই দল থেকে নির্বাচনও করেন। তিনি এখন জোটের শরিক ন্যাপ ভাসানীর নতুন চেয়ারম্যান। তার পল্টন এলাকার চেম্বারই দলের কার্যাযলয়। অন্যদিকে দলের কার্যারলয় হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের নিজের চেম্বারটি ব্যবহার করেন পিপলস লীগের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গরীবে নেওয়াজ। আর জোটে সবশেষ অংশ নেয়া শরিক দল সাম্যবাদী দলের প্রধান সাঈদ আহমেদ ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক।   জোটের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নানা কারণে জোটের শরিকদের হতাশা সরকার কাজে লাগাচ্ছে। এটা অব্যাহত থাকলে আরো দল জোট ছাড়তে পারে। আর আর্থিক সুবিধা পেয়ে জোট ছাড়ার গুঞ্জনের বিষয়ে ইসলামিক পার্টির মহাসচিব এম এ রশিদ প্রধান বলেন, “এসব বাজে কথা। একসময় আন্দোলন চাঙা না হওয়ার জন্য বিএনপির নেতাদের সরকারের সঙ্গে আঁতাতের কথা আমরাও শুনেছিলাম।” বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার  এ বিষয়ে বলেন, “বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের বড় কোনো দল বা নেতা জোট ছাড়েননি। যে বা যারা ছাড়ছেন, জোটে তাদের গুরুত্ব বা ভূমিকা কতখানি ছিল, তা সমালোচকরা খতিয়ে দেখতে পারেন।”   আনোয়ার অভিযোগ করেন, “সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই। তাই জোট ভাঙতে চাইছে। যারা মনে করবেন, ২০ দল ছেড়ে অন্য কোথাও গেলে লাভবান হবেন, তারা যেতে পারেন। তাতে আমাদের আপত্তি নেই।” স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, “জোটে ভাঙন ধরাতে সরকারের ইন্ধন থাকতে পারে। বিএনপি তথা জোটকে দুর্বল করতে এটা করা হতে পারে।” জোট ভাঙার ষড়যন্ত্রে সরকারের প্রতি আঙুলি তুলে জোটের শরিক জাগপা-প্রধান শফিউল আলম প্রধান  বলেন, “আমার চাচাতো বোন (শেখ হাসিনা) এজেন্সিকে দিয়ে লুটের টাকা লুট করছেন। এতে আমরা বিব্রত হলেও জোটের ক্ষতি হবে না।” এদিকে সরকার টাকা দিয়ে ২০ দলীয় জোট ভাঙছে বলে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা ডাহা মিথ্যা বলে দাবি করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “যারা গণতন্ত্রের আশায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে গিয়েছিলেন, তারা হতাশ হয়ে জোট থেকে বেরিয়ে এসেছেন।  কারণ, তারা বুঝতে পেরেছেন, খালেদা জিয়া জঙ্গিবাদের রক্ষক; ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের রাজনীতি করেন। তাই তার বিভ্রান্তির খপ্পর থেকে শরিকরা একে একে বেরিয়ে আসছেন। এ থেকে প্রমাণ হয়, তাদের বিভ্রান্তি কেটে গেছে।”

বিস্তারিত»

সাক্ষাৎকার

সংবিধান সংশোধন দেশকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যাবে’

রাষ্ট্রে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ কোনো নিপীড়ন বা বঞ্চনার শিকার হলে তারা আইনের আশ্রয় নেয়। আদালত তখন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কিন্তু আদালত যদি নিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়, বিচারপতিরা যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারেন তাহলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে সেটা কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় চলতে পারে না। রেডিও তেহরানের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করলেন মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমান খান। তিনি বললেন, রেডিও-টেলিভিশন, পত্রপত্রিকা এককথায় বলব মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা করা হয়েছে। সংবিধানের ১৬ তম সংশোধনী হয়ে যাবার পর বাংলাদেশে আদৌ কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বহাল থাকবে কি না সে ব্যাপারে আইনজীবীরা শঙ্কিত বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট এই মানবাধিকারকর্মী। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন গাজী আবদুর রশীদ পুরো সাক্ষাৎকারটি উপস্থাপন করা হলো প্রশ্ন: বাংলাদেশের সর্বস্তরে বর্তমানে দুটি বিষয় বিশেষভাবে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা আর দ্বিতীয়টি হলো বিচারপতিদের অভিশংসন বিল। অনেকে অভিযোগ করছেন, সম্প্রচার নীতিমালার মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বাক্সবন্দি করা হয়েছে। আর অভিশংসন বিলের মাধ্যমে এবার বিচার বিভাগকে বন্দি করার ষড়যন্ত্র চলছে। অনেকে এমন বলছেন যে, গণতন্ত্র হত্যার শেষ ধাপ হিসেবে অভিশংসন বিল পাস করতে যাচ্ছে সরকার। আপনিও কি এমনটি মনে করেন? অ্যাড.আদিলুর রহমান খান: আপনার প্রশ্নের মধ্যে যেমনটি বললেন যে, অনেকে বলছেন গণতন্ত্র হত্যার শেষ ধাপ হিসেবে অভিশংসন বিল পাস করতে যাচ্ছে সরকার। এমনটি যারা মনে করছেন আমি তাদের সঙ্গে একমত। দেখুন কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ নাগরিক রাষ্ট্র কতৃক কোনো নিপীড়নের শিকার হলে বা কোনোভাবে বঞ্চনার শিকার হলে তারা আইনের আশ্রয় নেয়। আদালত তখন সে ব্যাপারে যথাবিহীত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কিন্তু আদালত যদি নিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়, বিচারপতিরা যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারেন তাহলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে সেটা কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় চলতে পারে না। আর আপনি জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার যে বিষয়টির কথা বললেন সে বিষয়ে আমি বলব, দেশের পত্রপত্রিকা, বিভিন্ন রেডিও ও টেলিভিশন অনেক দিন ধরেই নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রয়েছে। সেটাকে আরো বেশি নিয়ন্ত্রণের জন্য এই জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা করা হয়েছে। কারণ আপনারা জানেন যে, বাংলাদেশে মত প্রকাশে স্বাধীনতা অনেকটা নিয়ন্ত্রিত। যে কারণে বহুল প্রচারিত সংবাদপত্র আমার দেশকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে ১৭ মাস ধরে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি ও চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এসব মিডিয়ায় বিরোধী দলের মতামত প্রকাশিত হয় বা ভিন্ন মতের বক্তব্য প্রচারিত হয় সেকারণে এসব মিডিয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে এভাবে মিডিয়া বন্ধ করে দিয়ে কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আসলে চলতে পারে না।ফলে আপনার প্রশ্নের সঙ্গে আমি পুরোপুরি একমত। প্রশ্ন: সংবিধান সংশোধনের বিরুদ্ধে আইনজীবীরা ফুঁসে উঠেছেন। এ নিয়ে ড. কামাল হোসেনকে আহ্বায়ক করে আইনজীবীদের সর্বদলীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আইনজীবীদের এ কমিটি গঠনের গুরুত্ব কি আর সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিপরীতে আইনজীবীরা কি ভূমিকা রাখতে পারবেন? অ্যাড.আদিলুর রহমান খান: আইনজীবীরা বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করছেন। তবে এখনও চূড়ান্ত কমিটি সেভাবে গঠিত হয় নি। তবে প্রস্তাব এসেছে ড. কামাল হোসেনকে সামনে রেখে সিনিয়র আইনজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে একটা প্লাটফর্মে একত্রিত হতে পারেন কি না। তবে বিষয়টি এখনও ফাইনালাইজড হয় নি। সংবিধানের ১৬ তম সংশোধনী হয়ে যাবার পর বাংলাদেশে আদৌ কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বহাল থাকবে কি না সে ব্যাপারে আইনজীবীরা শঙ্কিত বলেই তারা আলাপ আলোচনা করছেন। তাদের সিদ্ধান্ত আগামীতে বার এসোসিয়েশনের মিটিংগুলোর মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে বিষয়টি তুলে ধরা হবে। আইনজীবীরা শঙ্কিত হওয়ার কারণে আইনি প্রক্রিয়ায় এবং জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে আরো সচেতনতামূলক ও প্রতিবাদী কর্মসূচি কিভাবে নেয়া যায় সে ব্যাপারে তারা চিন্তা করছেন। প্রশ্ন: আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, ‘সংবিধান সংশোধন বিলের ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়া হচ্ছে না। বিল পাস হওয়ার পর এ বিষয়ে যে আইন হবে, সেখানে বিশেজ্ঞদের ডাকা হবে। প্রশ্ন হচ্ছে- আইন পাসের পর বিশেষজ্ঞদের মতামত নিলে তাতে কি লাভ হবে? অ্যাড.আদিলুর রহমান খান: দেখুন আইন পাসের পর বিশেষজ্ঞ মতামত নেয়া হবে বলে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত যেকথা বলেছেন সেটি ওনার ব্যক্তিগত মত। যে দলকে উনি রিপ্রেসেজেন্ট করেন সেই দলের বক্তবই উনি তুলে ধরেছেন। এখানে স্বাধীনতা, মতপ্রকাশ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এসব তাদের চিন্তার মধ্যে আসে নি। যদি এসব কথা তার চিন্তার মধ্যে আসত তাহলে এধরণের কথা কখনই উনি বলতে পারতেন না। আইন পাস হওয়ার পর মতামত নেয়ার প্রশ্ন থাকে না; এটা খুবই হাস্যকর একটা ব্যাপার। প্রশ্ন: জাতীয় সম্প্রচারনীতিমালা নিয়ে সরকার বলেছে এক কথা আর ভুক্তভোগীরা বলছেন ভিন্ন কথা। বিচারপতিদের অভিসংশন নিয়েও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আসলে কাদের অবস্থান সঠিক? অ্যাড.আদিলুর রহমান খান: অবশ্যই জনগণের অবস্থান সঠিক। কারণ আজকের বাস্তবতায় জনগণ মনে করে যে, জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগঠনের ইচ্ছা তাদের ছিল, সাম্য ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে যে বাংলাদেশ গড়ার কথা ছিল তা ভীষণভাবে লংঘন করা হয়েছে। সেই জায়গা থেকে আজ সরে যাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণের অব্স্থান এবং বর্তমান সরকারের অবস্থান সম্পূর্ণভাবে আলাদা। সরকার তো বলবে তার অবস্থান সঠিক। পক্ষান্তরে বাংলাদেশের জনগণ বলবে তারা নির্যাতিত, নিপীড়িত ও গণতন্ত্রহীন একটা অবস্থার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। তবে দেশটি হচ্ছে জনগণের। যদি সংবিধান গণতান্ত্রিক হয় তাহলে সেই সংবিধানের আওতায় একটি চুক্তির ভিত্তিতে সরকার ক্ষমতায় থাকে। আর যখন সেই চুক্তির বরখেলাপ ঘটে যায়, যখন একটা বিতর্কিত নির্বাচন হয়, যখন ক্ষমতা নির্বাচনের মাধ্যমে না হয়ে দখল করা হয় তখন সেই সরকার সতিকারার্থে জনগণের সরকার থাকে না। বাংলাদেশের পরিস্থিতিটা সেরকম একটা সংকটময় অবস্থার দিকে গেছে। আর সেকারণে সরকার এবং জনগণের মধ্যে বিরাট একটা ব্যবধান ও পার্থক্য আমরা দেখছি। প্রশ্ন: বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদিন মালিক বলেছেন,মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে সরকার। ব্যারিস্টার মঈনুল ইসলাম বলেছেন, অবৈধ সংসদের এখতিয়ার নেই সংবিধান সংশোধনের। কেউ কেউ বলছেন, কোনো আলোচনা ছাড়া এতদ্রুত সংবিধান সংশোধন অসাংবিধানিক। তো আইনজীবীদের এসব অভিমত সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি? তারা কি যথার্থ বলছেন বলে আপনি মনে করেন? অ্যাড.আদিলুর রহমান খান: দেশের নাগরিক ও একজন আইনজীবী হিসেবে মনে করি তারা যা বলছেন সঠিক বলছেন। বলা চলে বাংলাদেশের জনগণকে সটিক তথ্য থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। জনগণকে আস্থায় না নিয়ে তাদেরকে প্রতিপক্ষ গণ্য করে দেশের সংবিধান সংশোধনের ও বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের যে কাজ চলছে তা এদেশে সংঘাতের রাজনীতিকে আবারও সামনে নিয়ে আসবে। আমি একজন মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে এ ব্যাপারে শঙ্কিত।

বিস্তারিত»

বিশেষ কলাম

একজন রুবেলের মৃত্যু ও বিলেতের বাংলাদেশী কমিউনিটির দায়বদ্ধতা ও নিরবতা !

হেফাজুল করিম রকিব : ব্রিটেনে আলতাব আলী নিহতের ঘটনায় প্রথমবারের মতো সমস্ত বাঙ্গালীদের সেদিন এক জাগয়া নিয়ে এসেছিল। সেদিন থেকেই ব্রিটেনে বাঙ্গালীদের অনেক আন্দোলন সংগ্রাম ও সাফল্যের ইতিহাস রয়েছে। আলতাব আলী মৃত্যে যেভাবে মানুষকে নাড়া দিয়েছিল এখন মনে হয় সে রকম আর নাড়া দেয় না বাঙ্গালীদের হৃদয়। না হলে অমানবিকভাবে রুবেলের মৃতে্যু হওয়ার পরও বিলেতে বাংলাদেশীদের নিরবতা দেখে তাই মনে হয়। হয়তো রুবেলের এই মৃত্যু এই শতাব্দীর কিছু মানুষের হৃদয়কে নাড়া দিতে পারলেও বৃহৎ গোষ্টির মনকে নাড়া দিতে পারে নাই। যেখানে মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় বড় প্রতিষ্ঠান বসে বাংলাদেশের মানবিক অধিকার নিয়ে নানা নাটকে ব্যস্ত সেখানে রুবেলের মৃত্যু কারো কাছে কোন কিছুই নয়। কারণ যেদেশে খুনী, ধর্ষক, চুর, ডাকাত, সব কিছুর জন্য মানবাধিকার উতলে পরে অথচ সেদেশে অনেক স্বপ নিয়ে আসা মা বাবা ভাই বোনের ভালোবাসা বুক নিয়ে নির্মমভাবে মারা গেল ডিটেনশন সেন্টার নোমে জেলের প্রকোষ্ঠে । হয়ত রুবেলের মত অমানাবিকভাবে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে অনেকেই। তাতে কার কি !  তবে রুবেলে মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের জম্ম হয়েছে ইতিমধ্যেই তাতেও কার কি আসে যায় !   সিলেটের বিশ্বনাথের বাংলাদেশি ছাত্র ২৬ বছর বয়সী রুবেল আহমদ যুক্তরাজ্যের লিংকনশায়ারের মর্টন হল ডিটেনশন ৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে তিনি মারা যান। রুবেলের মৃত্যুর খবর প্রথম প্রচারিত হয় লিংকনশায়ার একোতে। এর আগ পর্যন্ত তাঁর আত্মীয়স্বজনের কাছে সে অসুস্থ না মৃত, সে ব্যাপারে কোনো তথ্য ছিল না। লিংকনশায়ার একোর মাধ্যমে সংবাদটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রুবেলের গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের সিলেট জেলার বিশ্বনাথে এখন কান্নার রোল বইছে। একই ডিটেনশন সেন্টারে থাকা রুবেলের এক বন্ধু জানায়, রাতের বেলা আমাদের রুমের দরজা তালা দেয়া থাকে। রুবেল বিকাল থেকে বুকে ব্যথা অনুভব করেন। সাহায্যের জন্য সে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দরজার ঠোকাঠুকি করেন। অনেক উপায়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও কোন সাহায্য পায়নি রুবেল। পরে ডিটেনসেন সেন্টার থেকে ইস্ট মিডল্যান্ড এম্বুলেন্স সার্ভিস এনএইচএস ট্রাষ্ট খবর দিয়ে জানালে তারা রাত সাড়ে ১১টার এসে রুবেলকে ওই স্থানেই মৃত ঘোষণা করেন।   জানা যায়, রুবেল আহমদ পাঁচ-ছয় বছর আগে ওয়ার্ক পারমিট হলিডে মেকার ভিসায় যুক্তরাজ্যে আসেন। তাঁর ভিসার মেয়াদ ছিল দুই বছর। মেয়াদ শেষ হলে তিনি ওভার স্টে হয়ে যান। লুকিয়ে কাজ করার একপর্যায়ে বছর দেড়েক আগে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করলে মুচলেকা ও জামিনের শর্তে ছাড়া পান। স্থানীয় থানায় ১৫ দিন অন্তর হাজিরা সাপেক্ষে তিনি মুক্ত ছিলেন।  পরে পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন। এ অবস্থায় আবার কোন এক কারণে গ্রেপ্তার হয়ে ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন রুবেল। রুবেল ছিল খুবই ভালো ও শান্ত । জানা যায়, রুবেল সেদিন পেটব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন, তখন ভেতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল। ওই সময় একাধিক ডিটেইনিও পেটের বেদনায় কাতরাচ্ছিলেন। রুবলের সলিসিটর সারওয়ার খান বলেন, ‘কয়েক দিন আগে রুবেলের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছি। সে আমাকে জানিয়েছিল, তাঁর সবকিছুই ঠিক আছে। এ অবস্থায় তাঁর মৃত্যু রহস্যজনক। হোম অফিস মিনিস্টার জেমস র্রোকেন শায়ার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘আমরা ডিটেইনিদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কল্যাণ প্রভৃতি বিষয়ে অত্যন্ত ভালোভাবে দেখভাল করে থাকি। তার পরও ডিটেনশন সেন্টারে একজন ডিটেইনির মৃত্যু হয়েছে। আমাদের সব সহমর্মিতা শোকাহত পরিবারের প্রতি এবং আমরা মর্মাহত। ডিটেনশন সেন্টারে একজন ডিটেইনির মৃত্যুর বিষয়ে পূর্ণ তদন্ত শুরু হয়েছে।’ যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ হাইকমিশন সংবাদমাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রুবেল আহমদের বিষয়টি জানার পর থেকে হাইকমিশন যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। এর ধারাবাহিকতায় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসে ৮ সেপ্টেম্বর একটি কূটনৈতিক নোট দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিতকরণ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়। নোট পাওয়ার পর হোম অফিস নিশ্চিত করেছে, ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ১০ মিনিটে ডিটেনশন সেন্টারের টহল পুলিশ রুবেল আহমেদকে দরজার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এরপর পুলিশ তাঁকে জরুরি চিকিত্সাকেন্দ্রে নিয়ে যায়। রাত ১২টা ৯ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হোম অফিস এ ঘটনার পরপরই তদন্তপ্রক্রিয়া শুরু করেছে। এদিকে যুক্তরাজ্যের মতো আধুনিক, উন্নত, মানবাধিকার সমুন্নত ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ডিটেনশন সেন্টারে বাংলাদেশি ছাত্রের এ ধরনের মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকেই। একই সঙ্গে মানবাধিকার সংগঠন ও আইনজীবীদের সঠিক তথ্য উদঘাটনের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এদিকে ডিটেনশন সেন্টারে এক ভোক্তভোগী বলেন ডিটেনশন সেন্টারে আর্ত্মহত্যা করার কোন সুযোগ সেখানে নেই । ডিটেনশন সেন্টারের বিস্তারিত লিখে পাঠান এক ভোক্তভোগী । তার লেখাটা তুলে ধরা হলো এখানে - জুয়েল রাজ এক বন্ধ এক মুঠো সুখের আশায় এক আকাশ স্বপ্ন নিয়ে যাবতীয় আবেগ অনুভূতিকে মাটিচাপা দিয়ে পরবাসী হয় মানুষ। আমি ও সে দলের একজন। হিসাবের খাতায় যোগ বিয়োগের ফলাফল সব সময় ঋণাত্মক। ঋণ পরিশোধে রুবেল নিজের জীবন টাই দিয়ে দিলো লোহার গারদে। মর্টন ডিটেনশন সেন্টারে বাংলাদেশী রুবেল হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও সুষ্ঠু পাবলিক তদন্তের দাবীতে আজ লন্ডনে গ্রেটার সিলেট ডেভেলপম্যান্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল-জিএসসি তাদের পূর্ব লন্ডনের কার্যালয়ে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন যুক্তরাজ্য শাখার আয়োজনে আলতাব আলী পার্কে, বাংলাদেশী তরুন রুবেল আহমেদের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার এক প্রতিবাদী মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্টিত হয়।  তবে অনেকেই বলেন ধীরে ধীরে এই আন্দোলনকে সারা ব্রিটেন ও অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে দিয়ে স্বাক্ষর অভিযান, মানব বন্ধন, স্মারকলিপি পেশ ইত্যাদি সহ বিভিন্ন লবিষ্ট গ্রুপের সাথে সাক্ষাত করে এ ব্যাপারের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের আন্দোলন জোরদার করা দরকার ব্রিটেনের মতো জায়গায় এধরনের পাবলিক ইনকোয়ারির ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রয়োজন পড়ে ১০ হাজার থেকে লক্ষাধিক স্বাক্ষর সম্বলিত পিটিশন, যা যেকোন পরিস্থিতির গতিপথকে পাল্টে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। কেননা এধরনের আন্দোলনের ফলে পার্লামেন্ট সহ সরকারি অন্যান্য সংস্থা এবং তৃতীয় মনিটরিং সহ ওয়াচ ডগ নড়ে চড়ে বসে, যাতে কাঙ্ক্ষিত সফলতা পাওয়ার বহু নজির রয়েছে। তাদের মতে এখন দরকার শুধু আমাদের নিজেদের ঐক্যবদ্ধ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন জোরদার করা। ডিটেনশন সেন্টারে মৃত্যুবরণকারী রুবেল আহমেদ এর জানাজা গত শুক্রবার বাদ জুম্মাহ ইস্ট লন্ডন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ব্রিটেনের বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজন অংশগ্রহন করেছেন। ব্রিটেনে মর্টন ডিটেনশন সেন্টারে নিহত বিশ্বনাথের যুবক রুবেল আহমদের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে ব্রিটেন সরকার। লাশ হস্তান্তরের পরপরই শুক্রবার বাদ জুম্মা ব্রিটেনের ইস্ট লন্ডন মসজিদে রুবেলের প্রথম জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাংলাদেশী শত শত মানুষ জানাযার নামাজে অংশ গ্রহন করেন। রবিবার সকাল ১০টায় রুবেলের লাশ দেশে পৌছে। বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের সাঙ্গীরাই গ্রামে তার লাশ প্রথমে আসবে। রবিবার বাদ আসর সৎপুর কামিল মাদ্রাসা মাঠে ২য় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে পরিবার জানায়। রুবেলে প্রতি বিলেতের এই কমিনিটির কোন দায়িত্ববোধ নেই?  সবাই কি এখন বিলেতের নাগরিক হয়েছে গেছে ? বিলেতে আজকে বাংলাদেশীরা অনেক গুরুত্বপূর্ন জায়গায় থাকার পরও কে কতটুকু এগিয়ে এসেছি নিজের দায়িত্ববোধ থেকে ? তাহলে কি দায়িত্ববোধ বলতে কোন কিছু নেই - সবাই কি সাদা চামড়ার সাথে মনটাকে ও সাদা পৃষ্টা রুপান্তর করি নিছি - তাহলে আমাদের সবকিছু শুধু নিজের জন্য? সমাজ বা কমিউনিটি বলতে নামে কিছু থাকলেও সত্যিকার অর্থ সব কি ধ্বংশ হয়ে যাচ্ছে ? তাহলে নিজেদের জায়গা থেকে সরে যাচ্ছি ? দেশের রাজনীতিকে নিয়ে যেভাবে কমিনিটিতে বিভেদ - সেভাবে কমিউনিটির স্বার্থে এক সাথে একজায়গার আসাটা ভুলে যাচ্ছি ? তাহলে আমরা কোন পথে হাটতেছি ------------ গন্তব্য কোথায় ----- কতদুর যাব এভাবে ?????   হেফাজুল করিম রকিব লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক  

বিস্তারিত»

এক্সক্লুসিভ

মুজিব কেন ভারত না গিয়ে পাকিস্তাান সেনাবাহিনীর হাতে ধরা দিলেন..:এবনে গোলাম সামাদ

১৯৭১ সালে আমি দেশে ছিলাম না। জানি না, পাক সেনাবাহিনী দেশবাসীর ওপর কতটা নৃশংস অত্যাচার করেছে। এ কে খন্দকার তার বইতে বলেছেন, পাক বাহিনী তার দুই ভাইকে ধরে নিয়ে যায়। কিন্তু তারা ওই দুই ভাইয়ের ওপর কোনো অত্যাচার করেনি। তাদের সাথে পাক বাহিনী করেছিল খুবই ভব্য ব্যবহার। বলেছিল, তার ভাই অর্থাৎ এ কে খন্দকার কোথায় আছেন, তা তারা জানেন কি না। জানলে ভাইকে বলতে যে, সে ফিরে এসে তার কাজে অর্থাৎ পাক বিমানবাহিনীতে যোগ দিতে পারে। পাক বাহিনীকে অন্য লেখকেরা যতটা নিষ্ঠুর বলে বর্ণনা করেছেন, এ কে খন্দকারের বই পড়লে তা মনে হয় না।   এ কে খন্দকার সম্পর্কে এখন বলা হচ্ছে, শেখ মুজিব সপরিবারে নিহত হওয়ার পর তিনি এর প্রতিবাদে বিমানবাহিনীর প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। কিন্তু আমার যত দূর মনে পড়ে, মেজর খন্দকার আবদুর রশীদ তাকে ডেকে এনেছিলেন ঢাকা বেতার কেন্দ্রে। ঢাকা বেতার কেন্দ্র থেকে এ কে খন্দকার সমর্থন জানিয়েছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমদকে। জানি না স্মৃতি আমাকে প্রতারণা করছে কি না। বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী এবং পদাতিক বাহিনীর প্রধানরা সবাই একইভাবে সমর্থন জানিয়েছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমদকে। এমনকি রক্ষীবাহিনীর প্রধানও একইভাবে সমর্থন করেছিলেন খন্দকার মোশতাককে। কেউই শেখ মুজিবের হত্যার প্রতিবাদে তাদের নিজ নিজ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন বলে আমার মনে পড়ছে না। অবশ্য আমি যা বলছি, তা বলছি আমার সাধারণ জ্ঞান থেকে। ঘটনাচক্রে সম্পূর্ণ নিজের কাজে ১৪ আগস্ট ঢাকা যাই। শেখ মুজিব নিহত হন খুব ভোরে। ঢাকায় বেতারের ঘোষণা থেকে জেনেছিলাম এসব ঘটনার কথা। অবশ্য ঢাকায় না থেকে রাজশাহী থাকলেও বেতারের ঘোষণা থেকে এসব ঘটনা জানা সম্ভব হতো।   এ কে খন্দকার সশস্ত্র বাহিনীর লোক। আধুনিক যুদ্ধ সম্পর্কে তার জ্ঞান যথেষ্ট। কিন্তু তিনি তার বইয়ের এক জায়গায় (২০৬ পৃ.) লিখেছেন যে, ভারত মহাসাগরে এ সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের ১৬টি যুদ্ধজাহাজ ছিল। যার মধ্যে পাঁচ-ছয়টি ছিল সাবমেরিন। ফলে আমেরিকার জন্য ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা খুব সহজ ছিল না। কিন্তু তার এই কথা মেনে নেয়ার কোনো কারণ আছে বলে মনে হয় না। কেননা ১৩ ডিসেম্বর বঙ্গোপসাগরে এগিয়ে আসছিল মার্কিন নৌবহরের সবচেয়ে বড় পরমাণু শক্তি চালিত বিমানবাহী জাহাজ, ঊহঃবৎঢ়ৎরংব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন ইন্দিরা গান্ধীকে জানিয়েছিলেন অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করতে। না হলে এন্টারপ্রাইজ জাহাজ থেকে মার্কিন মেরিন সেনারা বাংলাদেশে অবতরণ করবে। প্রেসিডেন্ট নিক্সনের চাপ যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি ঘটিয়েছিল। সোভিয়েত ষষ্ঠ নৌবহর যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহরের সাথে কোনোমতেই নৌযুদ্ধে পেরে উঠত বলে মনে হয় না। যুদ্ধ তাড়াতাড়ি সমাপ্ত হওয়ার এটাই ছিল প্রধান কারণ। এ কে খন্দকার সোভিয়েত ইউনিয়নকে যতটা বড় সমরশক্তি হিসেবে চিত্রিত করতে চেয়েছেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন আসলে অত বড় সমরশক্তি ছিল না। বিশেষ করে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ার ইতিহাস থেকে এ কথা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে যে, তেমন একটা যুদ্ধ শুরু হলে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়তেই পারত। সোভিয়েত ইউনিয়ন নিয়ে তাই এখন আর কোনো উচ্ছ্বাস প্রকাশ সঙ্গত বলে অনেকের কাছেই মনে হতে পারে না। কিন্তু এ কে খন্দকার যেন সেটাই করতে চেয়েছেন। এ কে খন্দকার তার বইতে বলেছেন, পাক বাহিনীর ৯৩ হাজার সৈন্য ভারতের কাছে আত্মসমর্পণ করে। এত বিরাটসংখ্যক সৈন্য আত্মসমর্পণ করা খুবই বিস্ময়কর। কিন্তু এ কে খন্দকার নিশ্চয় জানেন, ভারত সব পাকিস্তানি সৈন্যকে বাংলাদেশে না রেখে নিয়ে গিয়েছিল ভারতে। তারপর ১৯৭২ সালের ৩ জুলাই সিমলা চুক্তি করে এদের সবাইকে ছেড়ে দেয়। কাউকেই বিচার করেনি যুদ্ধাপরাধের জন্য। সিমলা সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি বা দর্শক উপস্থিত ছিলেন না। চুক্তিটি সম্পাদিত হয়, ভারত ও বর্তমান পাকিস্তানের মধ্যে। এই চুক্তিতে ১৯৭১-এর যুদ্ধকে মুক্তিযুদ্ধ বলা হয়নি। বলা হয়েছে, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ। এ কে খন্দকার তার বইতে এ বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেননি। বিষয়টি অনেকের কাছেই মনে হতে পারে, রহস্যজনক। এ কে খন্দকার ১৯৭১-এর যুদ্ধকে যেভাবে চিত্রিত করেছেন, সেটা হয়েছে খুবই পক্ষপাতমূলক। তাড়াতাড়ি যুদ্ধ শেষ করতে১৯৭১ সালে ১৭ ডিসেম্বর জগজিৎ শিং অরোরা এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, মেঘনা ও মধুমতি নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে পাকিস্তান তার সৈন্যবাহিনীকে সংহত করে আরো কয়েক মাস অবাধে যুদ্ধ করতে পারত। কিন্তু পাকিস্তান তা না করে চেয়েছিল । এর কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না এ কে খন্দকারের বই থেকে। ১৯৭১-এর যুদ্ধের কোনো ইতিহাস এখনো কেউ লিখেছেন বলে আমার জানা নেই। সমরবিশারদ হিসেবে এ কে খন্দকার যদি ১৯৭১-এর যুদ্ধের ইতিহাস লেখেন, তবে মনে হয় সেটা হবে একটি ভালো কাজ। সাবেক পাকিস্তান আজ আর টিকে নেই। বর্তমান পাকিস্তান বাংলাদেশ থেকে ১৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সে আর কোনোমতেই বাংলাদেশে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশের তিন দিক ঘেরা ভারতের দ্বারা। এই উপমহাদেশের ইতিহাসের ধারা এমন যে, দিল্লি হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ও সার্বভৌমত্বের জন্য বিশেষভাবেই হুমকি। ১৯৭১-এর যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ। কিন্তু বাংলাদেশকে এখন প্রস্তুত থাকতে হবে স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধের জন্য। অনেকে বলছেন, এ কে খন্দকার সেনাবাহিনীর লোক হয়ে ইতিহাস লিখতে যেয়ে ভুল করেছেন। আমি তা মনে করি না। কেননা নানা দেশে সেনাবাহিনীর লোক লিখেছেন যুদ্ধের ইতিহাস। এ কে খন্দকার যদি সমর বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে ১৯৭১-এর যুদ্ধের ইতিহাস রচনা করেন, তবে সেটা বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর কাজে আসবে। কে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের লড়াইয়ে কী ভূমিকা পালন করেছিলেন, সেটা এখন আর আমাদের প্রধান বিবেচ্য হতে পারে না। আমাদের বিবেচ্য হওয়া উচিত দেশের প্রতিরক্ষা। আমাদের মনে রাখতে হবে, বর্তমান বাংলাদেশ সাবেক বাংলা নয়। পাকিস্তানের রাষ্ট্রিক কাঠামোর মধ্যে যে অর্থে ‘জয়বাংলা’ আওয়াজটি গুরুত্ব পেতে পেরেছিল, এখন আর তা পেতে পারে না। এখন আমরা একটা সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিস্থিতির মধ্যে এসে পড়েছি। তবে একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে, তা হলো, দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সাবেক পাকিস্তান। আর বর্তমান বাংলাদেশের মানচিত্র অঙ্কিত হয়েছিল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হওয়ারই ফলে। দ্বিজাতিতত্ত্ব যদি ভিত্তিহীন হয়, তবে বাংলাদেশের বর্তমান মানচিত্রকে অস্বীকার করতে হবে। এটা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মানুষ ১৯৭১ সালে কখনোই চায়নি ভারতের সাথে একীভূত হয়ে যেতে। শেখ মুজিব এ কারণেই ভারতে যাননি। আর তাজউদ্দীনের কথায় সম্মত হননি। এটা আমাদের উপলব্ধিতে থাকতে হবে। আজ মহলবিশেষের পক্ষ থেকে তাজউদ্দীনকে বড় করে শেখ মুজিবকে খাটো করে তুলে ধরার চেষ্টা হচ্ছে। এটা আমাদের জাতীয় স্বার্থের অনুকূল নয়। কেননা আজকের বাংলাদেশ কেবলই বাংলা ভাষার ভিত্তিতে গঠিত হয়নি। এর উদ্ভব হয়েছে একটা পৃথক ইতিহাসের ধারা অনুসরণ করে। সে ইতিহাসের কথা ভুলে গেলে ভুল করা হবে।  

বিস্তারিত»

মতামত

পলিসিঃ ডিভাইড এন্ড রুল এবং বর্তমান সরকার: প্রিন্স আহামেদ ইমরান

বৃটিশ পলিসিঃ ডিভাইড এন্ড রুল! এর মাধ্য্মে তারা বিশ্ব পরিচাল্না করে আসছে। তাদের স্বার্থ অর্জ্নে এমন কোনো কাজ নাই যা তারা করতে পারে না। এর লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন জাতিতে বিরধ তৈরী করে রাখে। ভাইএর বিরূদ্ধে ভাই কে দারকরিয়ে তাদের চাওয়া পাওয়া গুলো হাসিল করে। তা অর্জ্নের উপায় গুলো হলো অর্থ, সন্ত্রাস, ভ্রান্ত প্রচারনা সহ নানা ধরনের ততপরতা। ১৭৫৭ সালের পলাশীর আম্র কাননে যুদ্ধের নামে প্রহসনের মাধ্যমে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজযের পর প্রথমে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা এবং পরবর্তীতে পুরো উপমহাদেশই চলে যায় বৃটিশ রাজত্বে। বৃটিশরা সাত সমুদ্দুর তের নদীর ওপার থেকে এদেশে এসে তাদের শাসন ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য যে নীতি গ্রহণ করেছিল সেটা হলো ‘ডিভাইড এন্ড রুল'। অর্থাৎ নিজেদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করো এবং শাসন করো। সেই নীতি গ্রহণ করে কখনো হিন্দু-মুসলিম বিভাজন তৈরি, কখনো ভিন্ন ভাষা-ভাষীদের মাঝে দ্বনদ্ব তৈরি। কখনো আঞ্চলিকভাবে দ্বনদ্ব সংঘাতে ইন্ধন দিয়েছে। আর তারা নির্বিঘ্নে শাসন ক্ষমতা চালিয়ে গেছে। তবে এই নীতিতেও তারা ২শ' বছরের বেশি টিকতে পারেনি। অনিবার্য কারণেই তারা শেষ পর্যন্ত অস্বাভাবিক একটি ভাগ করে দিয়ে চলে গেছে। পুরাতন এই ঔপনিবেশিক নীতি গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। পার হয়ে গেছে ৪০ টি বছর।এগিয়ে যাচ্ছে দেশ ঠিক সেই সময় বাংলাদেশ কে দুই ভাগে ভাগ করে দেওয়া হল। একটি মুক্তি যুদ্ধের সপক্ষের শক্তি আরেকটি মুক্তি যুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি।১৯৯১ আর পর হাসিনা যখন জামাত এর সাথে আঁতাত করে আন্দোলন করছিলো তখন তাদের আই চেতনা উদয় হয় নাই।২০০৬ সাল থেকে সেই চেতনা জেগে উঠেছে। আজা বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় দল স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়ার দল যারা রঙ্গনে যুদ্ধ করেছে তারা আজ মুক্তি যুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি। আর যারা মুজিবনগর সরকার আর ৯০ কোটি টাকা নিয়ে কলকাতাতে ফুর্তি করেছে তারা আজ যুদ্ধের সপক্ষের শক্তি। যখন একটি দেশে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী হিসাবে সারা বিশ্বে মাথা তুলে দাড়াতে শুরু করেছে তখন বাংলাদেশ কে দুই ভাগে ভাগ করে দেয়াও হল। বিরোধীদল  দমন করার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে সরকারের শেষ সময়ের মন্ত্রী এবং অন্যান্য নেতারা একদিকে গলাবাজি করছেন অন্যদিকে পুলিশকে দিয়ে ব্যাপক ধরপাকড় ও নির্যাতন করছেন। অন্যদিকে আক্রান্ত বিরোধীদল  কর্মীদেরকে ‘পুলিশের ওপর হামলাকারী' হিসেবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের দোসর মিডিয়াগুলো বিরোধীদল কে সন্ত্রাসী, জঙ্গি হিসেবে প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সরকারের এই দমননীতি ও মিডিয়ার অপপ্রচার একসূত্রে গাঁথা। এই দমন-পীড়নের টার্গেট হলো ২০ দলীয় জোটে ভাঙ্গন ধরানো এবং জোটকে দুর্বল  করা।  ‘ডিভাইড এন্ড রুল' বৃটিশ শাসকদের সেই পুরাতন নীতিই গ্রহণ করেছে সরকার। আসন্ন সরকারবিরোধী আন্দোলন দমন করতেই বিরোধীদল  দমন। জামায়াতকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি অভিহিত করে এই দলের প্রতি বিএনপি ও অন্যান্য শরীকদলের বিদ্বেষ সৃষ্টির প্রয়াস তাদের কৌশলের অংশ। মৌলবীবাজারের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত বক্তব্যও প্রমাণ করে যে, ২০ দলীয় জোট ভাঙতে চায় সরকার। শাহাবাগ গণজাগরণ মঞ্চ ৫ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রইব্যুনাল-২ জামায়াত নেতা কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এর বিরূদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি প্রতিবাদী সমাবেশের ইভেন্ট খোলে ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক। এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে ওই দিন বিকেল তিনটায় রাজধানীর শাহবাগে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লাসহ সকল যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে জড়ো হন কিছু তরুণ।সেই দিন অনেকে গেছিলো বিবেক এর তাড়নাই যারা ছিল সাধারন মানুস এর পর সরকারী বাহিনী ছাত্রলীগ ,যুবলীগ দিয়ে সরকার কোটি কোটি টাক খরচ করে পুলিস পাহারাই খাবার এর বাবস্থা করে  শাহাবাগ এর মত বাস্ত রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো মাস এর পর মাস। কিন্তু সাইদীর ফাঁসি কার্যকর করার ক্ষমতা বা সাহস আই সরকার এর নাই ঠিক তখন শাহাবাগ গণজাগরণ মঞ্চ কে ভেঙ্গে দেওয়া হল। যাতে করে তাদের মুল লক্ষ থেকে সরে আসে তাদের নিজের অস্তিত টিকিয়ে রাখতে বাস্ত থাকে।আখন তারা তিন ভাগে বিভক্ত। সবাই নিজ নিজ গ্রুপ এর অস্তিত্ব নিয়ে কথা বলছে কেউ বিচার দাবী করছে না।সরকার আই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে তারা সাইদীর ফাঁসি দিলো না।কারন আই মুহূর্তে সেই সাহস বা সাংগঠনিক ক্ষমতা নাই। যার কারনে যাদের একসময়  কোটি টাক খরচ করে পুলিস পাহারাই খাবার এর বাবস্থা করে  শাহাবাগ এর মত বাস্ত রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো মাস এর পর মাস।তাদের এখন গরম পানি লাঠি চার্জ করে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।আমি তাই মজা করে বলি উথানে যাদের দিয়েছিলে বিরায়ানী পতনে তাদের দিলে গরম পানি। আজ সাইদী সাহেবের রাই কে ঘিরে মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে কি জামাত আর আওমীলীগ এক হয়ে গেল? না এই কথাটা ঠিক না সরকার আটাই চেয়েছিল তারা সফল ও হয়েছে। জনমনে তারা এইরকম একটা আশঙ্কা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল।আজ বিএনপি এবং জামাত এর ভিতরে একটি প্রাচীর তুলতে চেয়েছিল এই সরকার সেটা যদিও বা সম্ভব না। আজ ২০ দলীয় জোট ভাঙার গভীর ষড়যন্ত্র করছে সরকার শুধু তাই নয় আজ বিএনপি কে ভাঙার গভীর ষড়যন্ত্র করছে এই সরকার কিন্তু ভুলে যাবেন না এটা শহীদ জিয়ার গড়া দল।জি হাঁ এটা সেই শহীদ জিয়া যার একটি ঘোষণাতে বাংলার মানুস যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরে ছিল।এখানে আপনার ষড়যন্ত্র কাজ হবে না। জাতীয় পার্টি জাতীয় পার্টি যে দলের নাম শুনলে মানুষ আগে দুই মিনিট ধরে হাসে। কথিত বিরোধী দল। অনেক বলে গৃহ পালিত বিরোধীদল। আজ তাদের ও দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছে এই সরকার।তাদের নেত্রী নালিশ করে এখন শেখ হাসিনার কাছে। এরশাদ ও  নালিশ করে এখন শেখ হাসিনার কাছে এবার দলীয় পদ হারালে তাদের নেতারা ও ছুটে জান শেখ হাসিনার কাছে কি আজব দলরে বাবা। ঠিক এই ভাবে সারা দেশের সব শ্রেণী পেশার মানুষ কে তারা ভাগ করে দিয়েছে। শুধু একটি কথা আমি বলব অংক পরীক্ষাই যারা ঠিক করে থাকে তাদের উত্তর একটি হয় যারা ভুল করে থাকে তাদের উত্তর অনেক।তাই আমাদের ভুল পথ থেকে বের হয়ে আসে খুব দ্রুত সঠিক পথে এক্য বোধ্য ভাবে লড়তে হবে। দেশ কে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। দলের আগে দেশ বড়। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ  

বিস্তারিত»

বিনোদন

লন্ডনে ফুটপাতে কারিনার ধূমপান

শিরোনাম দেখে চোখ কপালে উঠতেই পারে। ভাবছেন কারিনা কাপুর খান লন্ডনে জনসমক্ষে ধূমপান করতে গেলেন কেনো? সাইফ আলি খান তার ৪৪তম জন্মদিন কাটাতে তাকে নিয়ে উড়াল দিয়েছিলেন সেখানে। তারা উঠেছিলেন ক্ল্যারিজ হোটেলে। সেখানে নবাব দম্পতির খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি কারিনার ধূমপানের একটি স্থিরচিত্র ছড়িয়ে পড়েছে ইন্টারনেটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কারিনা নাকি লন্ডনে বেশিরভাগ সময়ই ধূমপান করেছেন। মাঝে মধ্যে সিগারেট হাতে নিয়েই ফোনে কথা বলতে বলতে বাইরে এসে ‌উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন ৩৪ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী।‍ তবে অপর প্রান্তে কে ছিলেন তা জানা যায়নি। ওই সময় এক ভক্ত ছবি তুলতে চাইলেও কারিনা না করে দেন। অবশ্য কিছুক্ষণ পরেই ভক্তের আবদার মিটিয়েছেন বেবো (কারিনার ডাকনাম)।

বিস্তারিত»

স্বাস্থ্য ও রুপচর্চা

ডায়াবেটিস প্রতিরোধের উপায়

ডায়াবেটিস সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা, এটি বয়স্কদের রোগ। এমন ধারণা যদি আপনারও থেকে থাকে তাহলে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। এটা ঠিক যে ডায়াবেটিস বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। কিন্তু কম বয়সীদেরও যে এ রোগ হয় না তা নয়। তাই সবারই উচিত রোগটির বিষয়ে সতর্ক থাকা ডায়াবেটিস সম্পর্কে জানা : ডায়াবেটিস প্রতিরোধের কাজ শুরুর আগে ডায়াবেটিস কী, সে সম্পর্কে জেনে নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। একবার এ সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা এসে গেলে প্রতিরোধের বিষয়টি সহজ হয়ে যাবে। খাবারের পরিমাণের প্রতি খেয়াল রাখা : সাধারণত প্রতিদিন যে পরিমাণ খাবার একজন খেয়ে থাকে, ডায়াবেটিস প্রতিরোধের কাজের শুরুতে তা কমাতে হবে। প্রতিদিন এক কাপ পরিমাণ ফল খাওয়া ব্যক্তিকে অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হবে। অথবা খাবারের শুরুতে এক গ্লাস পানি পান করতে হবে। এ পদ্ধতি অবলম্বন করলে ক্ষুধা কম হবে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। পরিশ্রম করা : যদি ব্যায়াম করার অভ্যাস থাকে তাহলে বিভিন্নভাবে আপনি উপকৃত হচ্ছেন। নিয়মিত ব্যায়াম আপনার ওজন ঠিক রাখতে সহায়তা করে, রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিটের ব্যায়াম রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। সকালের নাশতার গুরুত্ব : ডায়াবেটিস প্রতিরোধে নিয়মিত সকালে নাশতা করাটা গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ডায়াবেটিস ঝুঁকি কমাতে সকালের নাশতার গুরুত্ব অপরিসীম। সকালের খাবার শুধু যে ক্ষুধা নিবারণ করে তা নয়, সারা দিনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালরি গ্রহণে সহায়তা করে। এতে অতিরিক্ত মুটিয়ে যাওয়ার হাত থেকেও রেহাই পাওয়া যায়। বেশি করে সবজি খাওয়া : মাংস স্বাস্থ্যকর খাবার, কিন্তু এটি প্রতিদিন খাওয়া ঠিক নয়। কেননা এটা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সে কারণে খাবারের তালিকায় মাংস কমিয়ে সবজির পরিমাণ বাড়ানো উচিত। এতে একদিকে আপনার শরীরের পুষ্টির অভাব পূরণ হবে, আবার ডায়াবেটিস থেকেও রেহাই পাবেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষা : ডায়াবেটিসের বেশির ভাগ লক্ষণই নীরব ঘাতক। সে কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকার জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় আগেভাগে লক্ষণ ধরা পড়লে তা মারাত্মক আকার ধারণ করার আগেই চিকিৎসা করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।  

বিস্তারিত»

সম্পাদকীয়

ছোটোবড়ো

পড়াশোনা করে যে, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে- সর্বজনবিদিত অতি প্রাচীন বাক্য, প্রায় প্রবাদপ্রতিম৷ ভবিষ্যতে কে কী হবে, অর্থাৎ পেশার নির্বাচন, ওই ছোটো বয়স থেকেই তার একটা দিকনির্দেশ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে এই বাক্যটিতে৷ এখানে বললে মোটেই অত্যুক্তি হবে না, খুব ভেবেচিন্তেই কিছু পেশাকে এক উঁচু স্থান দেওয়া হয়েছে, মানে কয়েকটি বিশেষ পেশায় গেলে, তবেই যেন 'জাতে' ওঠা যায়৷ সে পেশায় বিরাট সম্মান এবং বিপুল অর্থ উপাজরে্নর সম্ভাবনাও বিস্তর৷ অতএব, সবাই ছুটছে তার পেছনে৷ এক বার সে পেশায় ঢুকে পড়া গেলেই যেন জীবনের একেবারে উচ্চমার্গে তার সামাজিক অবস্থান৷ ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং যে এই দলের অন্যতম, আলাদা করে বলতে হয় না৷ ফলে পেশায় ভিড়ও বেশি৷ কিন্ত্ত মুদ্রার তো আর শুধু উজ্জ্বল দিকই থাকে না, থাকে অন্ধকার এক উল্টো পিঠও৷ যেখানে বিরাজমান এমন কিছু পেশা, যাতে 'সম্মান' নেই, নেই তেমন জুৎসই অর্থও৷ এই যে এক রকম বাছবিচার, আয়ের নিরিখে এক রকম বৈষম্য বেশ আয়েশ করেই চলছে, তা না স্বীকার করার উপায় নেই৷ মুখে যতই বুলি ফুটুক, সব পেশাই তো এক, বিভেদ কেন ইত্যাদি ইত্যাদি, বাস্তব কিন্ত্ত সে পথে হাঁটে না৷ সেখানে এক ইঞ্জিনিয়ার যা, এক ইলেকট্রিশিয়ানও কি তা? অবশ্যই না৷ সামাজিক 'সম্মান'-এর দিক দিয়ে তো নয়ই৷ অন্তত এখনও পর্যন্ত৷ কিন্তু উপার্জনের দিক দিয়ে? শুনতে যতই হাস্যকর ঠেকুক, তুমুল বিস্ময়সূচকও বটে, কিন্ত্ত এক সাম্প্রতিক সমীক্ষা জানাচ্ছে, এক 'সামান্য' ইলেকট্রিশিয়ান আজকাল এক ইঞ্জিনিয়ারের প্রায় সমান আয় করছে৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রে অদক্ষ ও শিক্ষাগত মান স্বাভাবিক ভাবেই স্কুলের গণ্ডি না পেরনো এক ইলেকট্রিশিয়ানের পক্ষে কী ভাবে এই 'আশ্চর্য' ঘটনা ঘটানো সম্ভব হচ্ছে, তা এখানে আলোচ্য নয়৷ যা বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য, তা হলো, এ এমন এক কাণ্ড যা পেশাগত বৈষম্যের প্রবণতাকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে৷ এখনই বলা অনুচিত হবে, যে বর্তমান সময়ের ভাবনাসমূহ অনায়াসেই বদলে যাচ্ছে৷ তা নয় অবশ্যই৷ এখনও এক জন ইলেকট্রিশিয়ান, মাত্র এক 'খুচরো' কর্মীই, দক্ষ হতে পারে সে, তবুও তার কাজ সেই 'ছোটো'ই৷ ভদ্রতা দেখানো যেতে পারে, তা বলে তার কাজের জন্যে আলাদা সম্মান, নৈব নৈব চ৷ আশার কথা, এমন সমীক্ষা, ক্রমে বদলাতে পারে চিন্তাধারা৷ সম্পূর্ণ না হোক, আংশিকই কম কী? কোনো কাজই যে আসলে ছোটো নয়, যদি তা মন দিয়ে করা হয়, এ কথা দিস্তা দিস্তা অক্ষরে লেখা থেকেছে, বক্তৃতায় উঠে এসেছে বার বার, কিন্ত্ত হাতে কলমে কাজের বেলায়, কখনোই মনে থাকেনি৷ সেই প্রবণতা, সেই অভ্যাস এবার বদলানোর সময় এসেছে৷ অর্থ উপার্জনের মানদণ্ডে নয়, কাজের বিচার হওয়া উচিত উপকারিতার নিরিখে৷ আপাত দৃষ্টিতে খুবই সহজ শুনতে, বুঝতেও তেমন কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, কিন্ত্ত বাস্তব তো বলছে, অসুবিধা হচ্ছে৷ যত দিন বেশি এই খটকা বজায় থাকে, সর্বাঙ্গীন উন্নতির পথ মসৃণ নয়, অধরাও থেকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা৷

বিস্তারিত»

বিজ্ঞপ্তি

বিজ্ঞাপন দিন ও আমাদের সহযোগী হোন

আমাদের উদ্যোগ ও কাজকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আপনার প্রতিষ্ঠান অথবা ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন দিয়ে আপনিও হতে পারেন আমাদের পথ চলার একান্ত সহযোগী। আমরা বিশ্বাস করি, মুনাফামুখী একটি প্রতিষ্ঠান চালানোর ক্ষেত্রে লাভ আছে। তবে ‘সিলেটের আলাপ’ অনলাইন পত্রিকা গড়ে তোলার পিছনে যে সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য আছে, তা মোটেও লাভের পেছনে ছোটা না।দেশ-বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটিকে যথাসম্ভব সর্বোচ্চ বস্তুনিষ্ঠতার সাথে তথ্য সহায়তা দিয়ে ‘সিলেটের আলাপ’কে সমুন্নত রাখাই আমাদের লক্ষ্য। বর্তমানে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ হাজারেরও বেশী পাঠক অনলাইনে পত্রিকাটি পড়ে থাকেন। আর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী প্রতিমাসে এ সাইটে গড়ে ২ লাখেরও বেশী হিট পড়ছে। এক্ষেত্রে আবার সিংহভাগ পাঠকই প্রবাসী। এই প্রত্যাশার চাপকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি নিজস্ব স্বকীয়তা প্রকাশের জন্য শিগগিরই  ‘সিলেটের আলাপ’ পত্রিকার ইংরেজী সংস্করণ ও ব্লগ চালুসহ পত্রিকাটিকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিয়ে আপনিও আমাদের পথচলার সঙ্গী হবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এক্ষেত্রে চাইলে আপনি আপনার ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপনও দিতে পারেন। যোগাযোগ: +৪৪৭৫৩৬৫৭৪৪৪১ +৪৪৭৫৭৮০৬২০৫৭

বিস্তারিত»

শোক-সংবাদ

বিশ্বনাথে ছত্তার মিয়া  চেয়ারম্যান আর নেই

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদের দুই বারের সাবেক চেয়ারম্যান, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সালীশ ব্যক্তিত্ব হাজী আব্দুস ছত্তার আর নেই। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় তিনি কালিজুরী সর্দারপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে ইন্তিকাল করেছেন। ইন্না---রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। মৃত্যুকালে স্ত্রী, ৫ ছেলে, ৩ মেয়েসহ অসংখ্য, আত্বীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মুত্যতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশ্বনাথে বজ্রপাতে যুবক নিহত বিশ্বনাথ প্রতিনিধি বজ্রপাতে বিশ্বনাথে ২২ বছর বয়সী এক যুবক নিহত হয়েছেন। তার নাম লায়েছ আলী। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লায়েছ মৃতঃ কলমদর আলী পুত্র। বিকেল ৫টায় নিহতের জানাযার নামাজ শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাপন করা হয়। এছাড়া বজ্রপাতে আহত হয়েছেন আরেক যুবক। তার নাম ছমিরউদ্দিন। বয়স ৩০ বছর। তিনি রামপাশা ইউনিয়নের রহমাননগর গ্রামের আরিজ আলী পুত্র। গোয়াহরি গ্রামের ইকবাল হোসেন বলেন, সকালে বোরো জমির বীজতলা প্রস্তুত করতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হয় লায়েছ আলী। পাশের জমিতে কাজ করা অবস্থÍায় আহত হয়েছে ছমিরউদ্দিন।  

বিস্তারিত»

সাম্প্রতিক খবর সর্বাধিক পঠিত

জরিপ

Loading...

Archive