ঢাকা মেডিকেলে প্রসূতির মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন

ঢাকা: রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া আসমা (২৫) নামের এক মহিলার মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্নের। মৃতের শরীরে প্রহারের কালশিটে দাগ, কাটার দাগ ও ফোস্কার চিহ্নের কারণে তার পরিবার ও স্বজনরা বলছেন, ‘‘নির্যাতনের ফলেই মৃত্যু হয়েছে আসমার।’’ আসমার শরীরে পাওয়া এসব আঘাতের বিবরণ দিয়েছেন তার লাশ দাফন করার আগে গোসল দিতে যাওয়া এক মহিলা। তার বর্ণনাই নির্যাতনের বিষয়টি সামনে আরো স্পষ্ট করে তোলে ধরে। আসমার শরীরে কালশিটে আঘাতের বিভিন্ন রকমের চিহ্ন দেখা যায়। বিশেষ করে তার পায়ে মারাত্মক রকমের কয়েকটি জখম দেখা যায়, যেখানে মাংস বের হয়ে যাবার অবস্থা দেখা গেছে। এছাড়া তার মাথার পেছনে গভীর কাটা অংশ দেখা গেছে এবং এর উপরের দিকে জল ফোসকা দেখা যায়। গত ১২ অক্টোবর সদ্য জন্ম নেয়া শিশুকে সঙ্গে নিয়ে আসমা ও তার ছোট বোন সুমি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। এসময় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের আটক করে। এর একদিনে আগেই এ হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন আসমা। আটকের পর আসমাকে হাসপাতালেই থাকতে বলা হয় এবং সুমিকে আটক দেখানো হয় চুরির অভিযোগে। এর পরদিনই মারা যান আসমা। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে আসমার মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশ করে। মৃত্যুর কারণ হিসেবে বলা হয়, কিডনি অচল হওয়া এবং অধিক রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এদিকে মৃত্যুর পর আসমার লাশের কোনো পোস্টমর্টেম করা হয়নি। আসমার পরিবার বলছে, ‘‘আসমা পুরো সুস্থই ছিল। তার শরীরে এ ধরনের কোনো সমস্যা ছিল না।” গত ১৪ অক্টোবর সকালে টঙ্গীতে আলহাজ মহিউদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দাফনের আগে গোসল দেয়া হয়। এসময় তাকে গোসল দেন তার প্রতিবেশী শিউলী খন্দকার (৩০), ফিরোজা আক্তার (৪৫), শিল্পী (৩০) এবং জোছনা আক্তার (৪৫)। ফিরোজা বেগম বলেন, ‘‘সুমির মাথায় কাটার এক অক্ষত দাগ দেখা গেছে। আমি যখনই সে কাটায় হাত দিতে যাই, তখনি তা থেকে রক্তের প্রবাহ ছিটকে বের হতে দেখা যায়।’’ তিনি যখন আসমার শরীরের অবস্থার বর্ণনা দিচ্ছিলেন তখন তাকে ঘৃণায় কাঁপতে দেখা যাচ্ছিলো। এ বিষয়ে রাজধানীর কেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আহমেদ ফারুক বলেন, ‘‘যে মহিলা সিজারের পরদিন হেঁটে পালাতে চেষ্টা করেছিলো, সে তার পরদিনই মারা যেতে পারে না।’’ তিনি বলেন, ‘‘ঘটনাটা আসলেই খুব সন্দেহজনক। এ ঘটনার তাৎক্ষণিক তদন্ত হওয়া উচিত।’’ ফিরোজা জানিয়েছেন মৃত আসমার জিহ্বায় কামড়ের চিহ্ন রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ডা. ফারুক বলেন, ‘‘এ ধরনের আলামত শ্বাসরোধ করে হত্যা কিংবা কষ্টদায়ক মৃত্যুর ক্ষেত্রে দেখা যায়।’’ আরেক ঘটনার বর্ণনাদানকারী শিল্পী বলেন, ‘‘আসমার হাতের কব্জিতে চারদিকে গভীর ক্ষতচিহ্ন দেখা গেছে। এগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে হাত আটকে রাখা দাগের চিহ্ন।’’ উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকা মেডিকেলের এক গাইনি বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘‘এ ধরনের সিজারিয়ান অপারেশনের পর কিডনি অচল হয়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা সাধারণত কম দেখা যায়।’’ নাম না প্রকাশের শর্তে হাসপাতালের অপর এক চিকিৎসক বলেন, ‘‘কোনো ভোঁতা যন্ত্র দিয়ে শরীরে আঘাত করলে তার কারণে হঠাৎ কিডনি অচল হবার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।’’ তিনি বলেন, ‘‘হঠাৎ করে এ ধরনে সুস্থ মহিলার মৃত্যু এবং তার আঘাতের বিবরণ তদন্তের দাবি করে।’’ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে প্রক্রিয়ায় আসমার লাশকে হস্তান্তর করেছে তাও এক প্রশ্নের দাবি রাখে। আসমা মারা যান রাত ৯টায় আর তার লাশ টাঙ্গাইলের বউবাজারে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয় রাত ১২ টায়। আসমার মা তাসলিমা বেগম বলেন, ‘‘লাশ হস্তান্তরের সময় হাসপাতালে আসমার চিকিৎসা ব্যয় অথবা বিল নিয়ে কোনো কথা বলেনি কর্তৃপক্ষ।’’ ঢাকা মেডিকেল সূত্র জানিয়েছে, সাধারণত এ ধরনের প্রক্রিয়ায় হাসপাতাল লাশ হস্তান্তর করে না। আসমার মা তাসলিমা বলেন, ‘‘পুলিশ আমাদের লাশ হস্তান্তরের সময় তা নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করতে নিষেধ করেছে।’’ আইসিইউতে নেবার এক ঘণ্টা আগেও আসমার জ্ঞান ছিল। আসমার মা বলেন, ‘‘আসমা আমার কাছে জানতে চায় তার ছেলে শাহাদাত কোথায়? আসমা তাকে কাছে আনার আকুতি জানায়।” শাহাদাত আসমার প্রথম পরিবারের সন্তান। নাম না প্রকাশ করার শর্তে হাসপাতালের এক সিনিয়র নার্স বলেন, ‘‘কিডনি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবার পরই আসমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।’’ এদিকে শাহবাগ থানায়, মানব পাচার মামলা দায়ের করা ঢাকা মেডিকেল এর কর্মচারী লালা দাস বলেন, ‘‘আমাকে কর্তৃপক্ষ মামলা করতে বাধ্য করেছে। তারা এ নিয়ে কোনো কথা না বলার জন্যও আমাকে হুমকি দিয়েছে।’’ হাসপাতালের প্রথম তালার সুইপারদের সুপারভাইজার লালা দাস বলেন, ‘‘মামলাটি লিখেছে পুলিশ। তারা কী লিখেছে তাও আমার দেখার সুযোগ হয়নি। আমাকে শুধু স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছে।’’ আসমার স্বামী জহিরুল তার শ্যালিকার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘এটাকোন চুরির ঘটনা ছিল না। হাসপাতাল বিল না দেবার জন্য তারা পালিয়ে আসতে চেয়েছিলো।’’ জহিরুল বলেন, ‘‘আল্লাহ ভালো জানেন তারা কেন আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছে। কিন্তু আমি জানি তারা এটা করেছে।’’ মামলায় বলা হয়, আসমার বোন সুমি লেবার ওয়ার্ড থেকে শিশু চুরি করে পালিয়ে যাবার সময় আটক হয়। আসমার মা তাসলিমা বলেন, ‘‘এ অভিযোগ মিথ্যা। কারণ ওরা দুইজনই আমার মেয়ে। আটক হবার সময় তারা একসঙ্গেই ছিল।’’ হাসাপাতালে আসমার চিকিৎসার কোনো বিবরণ জানা যায়নি। তার পরিবারও কেন তা দেখাতে পারেনি। এদিকে ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ বলছে, আসমা ছিল মাদকাসক্ত। কিন্তু এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে আসমার পরিবার ও স্বজনরা। ঘটনাটির বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেতে গেলে তিনি ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং প্রতিবেদকে বের হয়ে যেতে বলেন।– ডেইলি স্টার। বিস্তারিত»

রংপুরে মোটর মালিক ও শ্রমিকদের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ২০

রংপুর: রংপুরের সাতমাথায় মঙ্গলবার রাতে মোটর মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ চার রাউন্ড গুলিসহ ১৫ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এদিকে তৃতীয় দিনের মতো বুধবারও চলছে শ্রমিক ইউনিয়ন আহুত রংপুর থেকে তিনটি রুটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট।   টোল আদায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গেলো কয়েক মাস ধরে এলজিআরইডি প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা নিয়ন্ত্রিত রংপুর মোটর মালিক সমিতি, পিক আপ শ্রমিক ইউনিয়ন, অটোরিকশা মালিক শ্রমিক সমবায় সমিতির সঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় চারনেতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এমএম মজিদ নিয়ন্ত্রিত মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন, পিক আপ মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের দ্বন্দ্ব ও বিরোধ চলছিল। এরই ধাবারাহিকতায় গত ঈদুল ফিতরের আগ থেকে কয়েক দফায় সংঘর্ষ, কয়েক দফায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট হয়। সর্বশেষ রোববার রাঙ্গা সমর্থিতদের দ্বারা মজিদ সমর্থিতদের দুটি অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মজিদ সমর্থিতরা রংপুর থেকে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা রুটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু করে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার রাত সোয়া ১১ টার সময় রাঙ্গা সমর্থিত পিক আপ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাঈদের নেতৃত্বে সাতমাথায় বাসস্ট্যান্ড এলাকা দখলে নিতে চাইলে তাতে বাধা দেয় মজিদ সমর্থিত পিক আপ মালিক সমিতির নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ গুলি ও টিয়ারশেল ছোড়ে। এতে পুলিশ কনস্টেবল শাহিন হোসেন,রফিকুল, সোহেল, সাহেরা, সুফিয়া, সোহাগসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। তাদেরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে সকালে পিকআপ মলিক সমিতির নেতাকর্মীরা সাতমাথায় বিক্ষোভ করেছে। এ সময় সেখানে সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ ঘটনার জন্য প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গার সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে তাদের শাস্তির দাবি জানান। নইলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পুরো উত্তরাঞ্চলে দেয়া হবে বওে হুমকি দেন তিনি। কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল কাদের জিলানী জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেয়। এ সময় পুলিশ চার রাউন্ড গুলি ও ১১ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পিক আপ মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, “প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গার তৈরি করা কথিত পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের সন্ত্রাসী বাহিনী অবৈধভাবে তাদের অফিস দখল ও ভাঙচুর করেছে। সন্ত্রাসীদের কারণে হাজার হাজার মালিক শ্রমিক অসহায় জীবন যাপন করছে। বিষয়টি পুলিশকে বারবার অবহিত করলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছি। জীবনহানির আশংকায় ভুগছি।” অন্যদিতে পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বলেন, “মজিদের ভাগিনা আশরাফুল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমাকে সাতমাথায় পেয়ে আটক করে মারধোর করে। বিষয়টি জেনে শ্রমিকরা এর প্রতিবাদ করে।” তিনি এ ঘটনায় পুলিশের ভুমিকাকে পক্ষপাতদুষ্ট দাবি করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। মোটর মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে মারমুখি অবস্থানের কারণে পুরো নগরী জুড়েই চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুরো নগরীজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিস্তারিত»

শীর্ষ ৮ নেতার মুক্তির দাবিতে রাজপথে কর্মসূচি দিয়েছে জামায়াত

ঢাকা: দীর্ঘদিন একেকজন নেতার রায়কে কেন্দ্র করে রাজপথে কর্মসূচি দিয়েছে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী। এবারে শীর্ষ আট নেতাসহ  দেশের বিভিন্ন স্থানে আটক নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে পর্যায়ক্রমে শক্তিশালী আন্দোলনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে দলটি। কারাগারে আটক জামায়াতের শীর্ষ আট নেতা হলেন দলের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম, নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুস সোবহান, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জনাব মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, এটিএম আজহারুল ইসলাম ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী। ইতিমধ্যে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ আট নেতাসহ দেশের সব নেতাকর্মীর মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। মঙ্গলবার দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। জানা গেছে, জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবিকে সামনে রেখেই রাজপথের আন্দোলন জোরদারের পরিকল্পনা করেছে দলটির নীতি নির্ধারণীর সর্বোচ্চ ফোরাম। সাংগঠনিক দুর্বলতা নিরসনে দেশের জেলা পর্যায়ের নির্বাচন শেষ করেছে। ধারাবাহিকভাবে উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্য পর্যায়ের নির্বাচন শেষ করবে তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের একজন সদস্য বলেন, “দেশের পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হওয়ায় সাংগঠনিক কাজ জোরদার করা হয়েছে। পরিকল্পিত কাজগুলো নভেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। এরপরে আবারো রাজপথের আন্দোলন জোরদার করা হবে।” তিনি বলেন, “আন্দোলন থেকে নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্ন না হয়ে যায় এজন্য মাঝে মধ্যে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের মতো কর্মসূচি দেয়া হবে।” দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সরকার পরিকল্পিতভাবে নাটক সাজিয়ে আবদুল কাদের মোল্লাকে হত্যা করেছে। এখন শীর্ষ আট নেতাকেও হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। এ ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই বাস্তবায়ন হতে দেয়া হবে না।” তিনি বলেন, “সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে ছলেবলে কৌশলে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে একের পর এক মানবতাবিরোধী অপরাধ করে যাচ্ছে। জামায়াত নেতাদের অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রেখে মাসের পর মাস তাদেরকে অবর্ণনীয় কষ্ট দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে।” বিস্তারিত»

বিডিআরের বিস্ফোরক আইনে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ১০ নভেম্বর পর্যন্ত মুলতুবি

ঢাকা: পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) বিদ্রোহের ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ না করে সিনিয়র স্পেশাল ট্রাইব্যুনানের বিচারক মো. জহুরুল হক আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত মুলতুবি করেছেন।   বুধবার মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। মামরার বাদী লালবাগ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলিশের পরিদর্শক নবজ্যোতি খীসা সাক্ষ্য দিতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।  কিন্তু ট্রাইব্যুনানের বিচারক প্রস্তুত না থাকায় আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত মামরার সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতুবি করেছেন। মামলাটিতে এখন পর্যন্ত ২৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হযেছে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি একদল বিপথগাগী বিডিআর সদস্যদের দ্বারা পিলখানায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলিশের পরিদর্শক নবজ্যোতি খীসা প্রথমে লালবাগ থানায় এবং পরে নিউমার্কেট থানায় এ মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি তদন্ত করে ২০১০ সালের ১২ জুলাই হত্যা মামলায় ও ২৭ জুলাই বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ ৫৩৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলা দায়েরের পর দুই হাজার ১৮৭ জনকে গ্রেফতার করে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেয়া হয়। রিমান্ড শেষে ৫২১ আসামি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন। পরবর্তী সময়ে ১২৫ জন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রত্যাহারের আবেদন করেন। একই ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় গত বছরের ৫ নভেম্বর বিডিআরের ডিএডি তৌহিদসহ ১৫২ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। এছাড়া ৪২৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বিস্তারিত»

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর দায় কার

লন্ডন: উত্তরাঞ্চলীয় জেলা নাটোরে সোমবার দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩৩ জনের মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাস দুটির চালকদের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে দুর্ঘটনার পর গঠিত সরকারি তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার তাদের কাজ শুরু করেছে। দুর্ঘটনায় আহত আরো ৪৩ জন রাজশাহী ও নাটোরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে স্থানীয় পুলিশ থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রী অনেকেই এ ঘটনার জন্য বেপরোয়া গাড়ি চালানোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন। দূরপাল্লার চালকরাও বলছেন অনেক দুর্ঘটনার জন্য চালকদের অজ্ঞতা ও অদক্ষতাই দায়ী। কর্তৃপক্ষ বলছেন চালকদের সচেতন ও দক্ষ করতে ব্যাপক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট দুর্ঘটনা হয়েছে দুই হাজার সাতশর বেশি। সড়ক-মহাসড়কের এসব ঘটনায় নিহত হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ। আর প্রায় প্রতিটি দুর্ঘটনার পরই গাড়ি চালকদের অদক্ষতার বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। নাটোরে সোমবার বিকেলে দুর্ঘটনার পর জানা গেছে একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে দুটি বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঢাকা রাজশাহী সড়কে দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াত করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, সাধারণত দিনে চলাচলকারী বাসগুলোর চালকরা একটু বেশি বেপরোয়া হয়ে থাকেন। তবে দূরপাল্লার চেয়ে আঞ্চলিক রুটের চালকদের তিনি দুর্ঘটনার জন্য বেশি দায়ী বলে মনে করেন। তিনি বলেন, “যখন ডে কোচে যাই তখন ভয় লাগে। যে গাড়িগুলো ক্রস করে সেগুলো কোন নিয়ম মানেনা। মনে হয় তাদের লাইসেন্সই নাই। রাজশাহী থেকে ১৬টি রুটে গাড়ি চলে, এ গাড়িগুলোই মূল সমস্যা।” শফিকুল ইসলামের কথার সূত্র ধরে কথা বলেছিলাম ঢাকা-রাজশাহী রুটের বাস চালক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে। তিনি নিজেও বেপরোয়া গাড়ি চালানোকে সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ উল্লেখ করেন। তবে একই সঙ্গে অপ্রশস্ত সড়ক ও প্রয়োজনীয় সাইন না থাকাকেও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করেন। তিনি বলেন, “অনেক চালক আছে যারা সাইনগুলো ঠিক মতো বুঝে না।” আবুল কালাম বলেন, “মোড় আসলে সতর্ক হতে হবে যে ওভারটেক করবো কি-না, এটা অনেক অশিক্ষিত ড্রাইভার বুঝতে পারে না। এক শ্রেণীর ড্রাইভার আবার অনেকে নেশা করে।” আজাদ জানান, অধিক আয়ের আশায় প্রয়োজনীয় বিশ্রাম না নিয়ে গাড়ি চালানোও দুর্ঘটনার বড় একটি কারণ। তিনি বলেন, “রাতে এসে সকালে যাই, আবার রাতে এসে আবারো যাই। ফিটনেস ঠিক নেই, তাও টাকার লোভে চালকদের দিয়ে গাড়ি চালানো হয়।” তবে বাসের মালিকরা বলছেন শারীরিক সক্ষমতা না থাকলে সাধারণত চালকদের গাড়ি চালাতে কোনো চাপ দেয়া হয় না। বাস মালিক এসোসিয়েশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম কাজল অবশ্য বলেন, অল্প বিরতিতে কোনো চালককে গাড়ি নিয়ে আবার পাঠানোর আগে তার সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। তিনি বলেন, “আট ঘণ্টা চালাতে পারবেনা তা নয়। তবে রাস্তা বা ফেরীর কারণে অনেক সময় ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা লেগে যায়। তারপরও চালক প্রস্তুত না থাকলে গাড়ি নিয়ে যাওয়া উচিত নয়। হয়তো মাঝে মধ্যে দুই/তিন ঘণ্টার বিরতিতে পাঠানো হয়। কিন্তু তা করা হয় চালকদের সম্মতিতে।” চালকের ভুল বা মালিকের উদাসীনতা কিংবা সড়কের সমস্যা – দুর্ঘটনার কারণ যাই হোক চালকদের দক্ষ করে তুলতে বা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে জানতে চেয়েছিলাম বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের কাছে। দুর্ঘটনা হলেই এর কারণ খুঁজে বের ব্যবস্থা নেয়া হচেছ জানিয়ে তিনি বলেন, “চালকদের খামখেয়ালিপনার জন্য অনেক সময় দুর্ঘটনা হয়। দুর্ঘটনা পর চালককে দায়ী পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।” নজরুল ইসলাম বলেন, “জরিমানা করা হচ্ছে। লাইসেন্স ভুয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বোর্ডের মাধ্যমে তাকে উত্তীর্ণ হতে হয়। প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা দরকার হলে নিয়ে থাকি।” নজরুল জানান, চালকদের দক্ষতা নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায় থেকে রাজধানী পর্যন্ত ব্যাপক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সড়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ এন সিদ্দিক বলেন, “দুর্ঘটনার পর চালক ও মালিক উভয়ের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।” তিনি বলেন, “যে গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়বে তার মালিক,চালক ও হেলপার এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। যাতে কোনো মালিক অদক্ষ চালকের হাতে গাড়ির চাবি তুলে না দেন।” সিদ্দিক জানান, গাড়ি চালকদের আচরণগত সমস্যা দূর করতে ব্যাপক উদ্বুদ্ধকরণ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি   বিস্তারিত»

ছবি ঘর

  • holo gram baby
  • political picture
ঢাকা মেডিকেলে প্রসূতির মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন

ঢাকা: রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া আসমা (২৫) নামের এক মহিলার মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্নের। মৃতের শরীরে প্রহারের কালশিটে দাগ, কাটার দাগ ও ফোস্কার চিহ্নের কারণে তার পরিবার ও স্বজনরা বলছেন, ‘‘নির্যাতনের ফলেই মৃত্যু হয়েছে আসমার।’’ আসমার শরীরে পাওয়া এসব আঘাতের বিবরণ দিয়েছেন তার লাশ দাফন করার আগে গোসল দিতে যাওয়া এক মহিলা। তার বর্ণনাই নির্যাতনের বিষয়টি সামনে আরো স্পষ্ট করে তোলে ধরে। আসমার শরীরে কালশিটে আঘাতের বিভিন্ন রকমের চিহ্ন দেখা যায়। বিশেষ করে তার পায়ে মারাত্মক রকমের কয়েকটি জখম দেখা যায়, যেখানে মাংস বের হয়ে যাবার অবস্থা দেখা গেছে। এছাড়া তার মাথার পেছনে গভীর কাটা অংশ দেখা গেছে এবং এর উপরের দিকে জল ফোসকা দেখা যায়। গত ১২ অক্টোবর সদ্য জন্ম নেয়া শিশুকে সঙ্গে নিয়ে আসমা ও তার ছোট বোন সুমি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। এসময় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের আটক করে। এর একদিনে আগেই এ হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন আসমা। আটকের পর আসমাকে হাসপাতালেই থাকতে বলা হয় এবং সুমিকে আটক দেখানো হয় চুরির অভিযোগে। এর পরদিনই মারা যান আসমা। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে আসমার মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশ করে। মৃত্যুর কারণ হিসেবে বলা হয়, কিডনি অচল হওয়া এবং অধিক রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এদিকে মৃত্যুর পর আসমার লাশের কোনো পোস্টমর্টেম করা হয়নি। আসমার পরিবার বলছে, ‘‘আসমা পুরো সুস্থই ছিল। তার শরীরে এ ধরনের কোনো সমস্যা ছিল না।” গত ১৪ অক্টোবর সকালে টঙ্গীতে আলহাজ মহিউদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দাফনের আগে গোসল দেয়া হয়। এসময় তাকে গোসল দেন তার প্রতিবেশী শিউলী খন্দকার (৩০), ফিরোজা আক্তার (৪৫), শিল্পী (৩০) এবং জোছনা আক্তার (৪৫)। ফিরোজা বেগম বলেন, ‘‘সুমির মাথায় কাটার এক অক্ষত দাগ দেখা গেছে। আমি যখনই সে কাটায় হাত দিতে যাই, তখনি তা থেকে রক্তের প্রবাহ ছিটকে বের হতে দেখা যায়।’’ তিনি যখন আসমার শরীরের অবস্থার বর্ণনা দিচ্ছিলেন তখন তাকে ঘৃণায় কাঁপতে দেখা যাচ্ছিলো। এ বিষয়ে রাজধানীর কেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আহমেদ ফারুক বলেন, ‘‘যে মহিলা সিজারের পরদিন হেঁটে পালাতে চেষ্টা করেছিলো, সে তার পরদিনই মারা যেতে পারে না।’’ তিনি বলেন, ‘‘ঘটনাটা আসলেই খুব সন্দেহজনক। এ ঘটনার তাৎক্ষণিক তদন্ত হওয়া উচিত।’’ ফিরোজা জানিয়েছেন মৃত আসমার জিহ্বায় কামড়ের চিহ্ন রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ডা. ফারুক বলেন, ‘‘এ ধরনের আলামত শ্বাসরোধ করে হত্যা কিংবা কষ্টদায়ক মৃত্যুর ক্ষেত্রে দেখা যায়।’’ আরেক ঘটনার বর্ণনাদানকারী শিল্পী বলেন, ‘‘আসমার হাতের কব্জিতে চারদিকে গভীর ক্ষতচিহ্ন দেখা গেছে। এগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে হাত আটকে রাখা দাগের চিহ্ন।’’ উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকা মেডিকেলের এক গাইনি বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘‘এ ধরনের সিজারিয়ান অপারেশনের পর কিডনি অচল হয়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা সাধারণত কম দেখা যায়।’’ নাম না প্রকাশের শর্তে হাসপাতালের অপর এক চিকিৎসক বলেন, ‘‘কোনো ভোঁতা যন্ত্র দিয়ে শরীরে আঘাত করলে তার কারণে হঠাৎ কিডনি অচল হবার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।’’ তিনি বলেন, ‘‘হঠাৎ করে এ ধরনে সুস্থ মহিলার মৃত্যু এবং তার আঘাতের বিবরণ তদন্তের দাবি করে।’’ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে প্রক্রিয়ায় আসমার লাশকে হস্তান্তর করেছে তাও এক প্রশ্নের দাবি রাখে। আসমা মারা যান রাত ৯টায় আর তার লাশ টাঙ্গাইলের বউবাজারে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয় রাত ১২ টায়। আসমার মা তাসলিমা বেগম বলেন, ‘‘লাশ হস্তান্তরের সময় হাসপাতালে আসমার চিকিৎসা ব্যয় অথবা বিল নিয়ে কোনো কথা বলেনি কর্তৃপক্ষ।’’ ঢাকা মেডিকেল সূত্র জানিয়েছে, সাধারণত এ ধরনের প্রক্রিয়ায় হাসপাতাল লাশ হস্তান্তর করে না। আসমার মা তাসলিমা বলেন, ‘‘পুলিশ আমাদের লাশ হস্তান্তরের সময় তা নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করতে নিষেধ করেছে।’’ আইসিইউতে নেবার এক ঘণ্টা আগেও আসমার জ্ঞান ছিল। আসমার মা বলেন, ‘‘আসমা আমার কাছে জানতে চায় তার ছেলে শাহাদাত কোথায়? আসমা তাকে কাছে আনার আকুতি জানায়।” শাহাদাত আসমার প্রথম পরিবারের সন্তান। নাম না প্রকাশ করার শর্তে হাসপাতালের এক সিনিয়র নার্স বলেন, ‘‘কিডনি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবার পরই আসমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।’’ এদিকে শাহবাগ থানায়, মানব পাচার মামলা দায়ের করা ঢাকা মেডিকেল এর কর্মচারী লালা দাস বলেন, ‘‘আমাকে কর্তৃপক্ষ মামলা করতে বাধ্য করেছে। তারা এ নিয়ে কোনো কথা না বলার জন্যও আমাকে হুমকি দিয়েছে।’’ হাসপাতালের প্রথম তালার সুইপারদের সুপারভাইজার লালা দাস বলেন, ‘‘মামলাটি লিখেছে পুলিশ। তারা কী লিখেছে তাও আমার দেখার সুযোগ হয়নি। আমাকে শুধু স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছে।’’ আসমার স্বামী জহিরুল তার শ্যালিকার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘এটাকোন চুরির ঘটনা ছিল না। হাসপাতাল বিল না দেবার জন্য তারা পালিয়ে আসতে চেয়েছিলো।’’ জহিরুল বলেন, ‘‘আল্লাহ ভালো জানেন তারা কেন আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছে। কিন্তু আমি জানি তারা এটা করেছে।’’ মামলায় বলা হয়, আসমার বোন সুমি লেবার ওয়ার্ড থেকে শিশু চুরি করে পালিয়ে যাবার সময় আটক হয়। আসমার মা তাসলিমা বলেন, ‘‘এ অভিযোগ মিথ্যা। কারণ ওরা দুইজনই আমার মেয়ে। আটক হবার সময় তারা একসঙ্গেই ছিল।’’ হাসাপাতালে আসমার চিকিৎসার কোনো বিবরণ জানা যায়নি। তার পরিবারও কেন তা দেখাতে পারেনি। এদিকে ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ বলছে, আসমা ছিল মাদকাসক্ত। কিন্তু এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে আসমার পরিবার ও স্বজনরা। ঘটনাটির বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেতে গেলে তিনি ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং প্রতিবেদকে বের হয়ে যেতে বলেন।– ডেইলি স্টার।

বিস্তারিত»
গাজা যুদ্ধের তদন্ত করবে জাতিসংঘ

গাজা: হামাস ও ইসরাইলি বাহিনী মধ্যকার গাজা যুদ্ধ তদন্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেয়া এক বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন তিনি। সম্প্রতি গাজা সফর করে এসেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। বান কি মুন বলেন, ‘‘গাজা যুদ্ধের বড় ঘটনাগুলো তদন্ত করবে স্বাধীন কমিশন। যে সমস্ত ঘটনায় সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছে তা তদন্ত করা হবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘গাজা উপত্যকায় জাতিসংঘ আশ্রয় কেন্দ্রে ইসরাইলের হামলা তদন্ত করা হবে। এছাড়া আশ্রয় কেন্দ্রে হামাসের অস্ত্র মজুদ রাখার বিষয়ও তদন্ত করে দেখা হবে।’’ জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘‘ইসরাইলি সেনাবাহিনীর একটি তদন্ত আমার নজরে এসেছে। এছাড়া জাতিসংঘ স্থাপনায় হামলার ঘটনায় প্রাণহানির বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করতে চাই।’’ ইসরাইল ও হামাসের মধ্যকার চলা যুদ্ধে ২১০০ ফিলিস্তিনি এবং ৭৩ জন ইসরাইলি নিহত হয়। গত ৮ জুলাই গাজার স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরাইল। -বিবিসি।

বিস্তারিত»
রাউলকে ধরার চ্যালেঞ্জ আজ রোনাল্ডোর

গ্যারেথ বেল নেই। তবু বিপদের ঘণ্টা বাজছে না রিয়াল মাদ্রিদে। বুধবার স্প্যানিশ ক্লাবের সামনে যতই লিভারপুলের ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কঠিন চ্যালেঞ্জ থাকুক না কেন, তিনি আছেন যে। চলতি মরসুমে যার ফর্মের আগুনের সামনে যেই পড়েছে ঝলসে গিয়েছে। তা সে লা লিগা হোক, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা জাতীয় দলের প্রতিপক্ষ। ১৩ ম্যাচে এ মরসুমে এখনও পর্যন্ত তার গোল ২০। তিনি- ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। রিয়ালের বিখ্যাত বিবিসি (বেল, বেঞ্জিমা, ক্রিশ্চিয়ানো) জাদু অ্যানফিল্ডে না থাকলেও সিআর সেভেন ক্যারিশমা দেখার আশায় উত্তেজনা তুঙ্গে রিয়াল ভক্তদের। অবশ্য আগ্রহের পাশাপাশি আশঙ্কাও একটা থাকছে। সেটা অ্যানফিল্ডে রোনাল্ডোর জঘন্য রেকর্ড নিয়ে। পর্তুগিজ মহাতারকা যে ছ’মরসুম প্রাক্তন ক্লাব ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডে ছিলেন সেই সময় লিভারপুলের মুখোমুখি হয়েছেন ন’বার। তার মধ্যে গোল করছেন মাত্র দুটি। তবে অ্যানফিল্ডে পাঁচটি ম্যাচে নামলেও খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে সিআর সেভেনকে। যেটা বেশ ভাবাচ্ছে রিয়াল কোচ কার্লো আন্সেলোত্তিকেও। তাই বুধবারের ম্যাচে পর্তুগিজ মহাতারকাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা নিয়ে লিভারপুল সমর্থকদের স্পষ্টই হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখছেন তিনি। বলে রাখছেন, লিভারপুল সমর্থকরা যদি সেটা করেন তা হলে তাদের দলের কিন্তু কোনো লাভ হবে না। কিন্তু ২৯ বছরের মহাতারকার হঠাৎ চাপ সামলানো নিয়ে এতটা সতর্ক কেন ইতালীয় কোচ? এর আগেও তো এরকম প্রচুর ম্যাচই চাপের মুখে অনায়াসে সামলেছেন রোনাল্ডো। তা হলে কি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার দিকে রোনাল্ডোর এগিয়ে যাওয়াটা তাকে চাপে ফেলে দিচ্ছে? পরিসংখ্যান বলছে এই ম্যাচেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা, রিয়ালের কিংবদন্তি রাউলকে (১৪২ ম্যাচে ৭১ গোল) ছোঁয়ার সুযোগ রয়েছে রোনাল্ডোর (১০৫ ম্যাচে ৬৯ গোল)। তার জন্য পর্তুগিজ মহাতারকাকে করতে হবে জোড়া গোল। মঙ্গলবার আয়াখসের বিরুদ্ধে নামার আগে মেসির গোল সেখানে ৬৮ (৮৮ ম্যাচে)। বার্সেলোনার রাজপুত্রের সঙ্গে রেষারেষির চাপটাই যাতে আরও বেশি না হয়ে যায় তাই আগাম লিভারপুল সমর্থকদের সতর্ক করে রাখলেন তিনি? আন্সেলোত্তি যদিও সে প্রসঙ্গ উঠতেই প্রথমে হেসেই ফেলেন। পরে বলেন, “আরে না না, সে রকম কিছু না। রোনাল্ডোকে তাতাতে লিভারপুলের বিরুদ্ধে নামার ব্যাপারটাই যথেষ্ট। তা ছাড়া ও সব সময়ই তেতে থাকে। স্টেডিয়ামের পরিবেশ ওর বিরুদ্ধে থাকলে তো কথাই নেই!’’ এই ম্যাচেই আবার ফিনিক্স পাখির মতো ছাই থেকে নবজন্মের চ্যালেঞ্জ মারিও বালোতেলিরও। বিশ্ব ফুটবলের ‘ব্যাড বয়’ ইমেজ তো আছেই, ব্যক্তিগত জীবনও ভালো যাচ্ছে না। ফর্ম, বান্ধবী সঙ্গে নেই। ন’ম্যাচে মাত্র এক গোল। ইতালীয় স্ট্রাইকার জানেন একটা ম্যাচই লিভারপুলে তার অবস্থান বদলাতে পারে। চাই শুধু গোল। তার জন্য রিয়াল ম্যাচের থেকে ভালো মঞ্চ কী হতে পারে? সত্যিই তিনি তা পারলে, লিভারপুল সমর্থকদের তাকে নিয়ে বাঁধা গানটা বুধবার অ্যানফিল্ডেই হয়তো ফের শোনা যাবে--‘মারিও ফ্যান্টাসটিকো, মারিও ম্যাগনিফিসিও, ওলে, ওলে, ওলে।’   বুধবার মুখোমুখি লিভারপুল : রিয়াল মাদ্রিদ আটলেটিকো : মালমো লেভারকুসেন : জেনিথ মোনাকো : বেনফিকা আন্ডারলেখট : আর্সেনাল অলিম্পিয়াকোস : জুভেন্তাস লুদোগোরেতস : বাসেল গালাতাসারে : ডর্টমুন্ড চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গোল-শিকারিরা রাউল ৭১ (১৪২ ম্যাচ) রোনাল্ডো ৬৯ (১০৫) মেসি ৬৮ (৮৮) নিস্তেলরুই ৫৬ (৭৩)

বিস্তারিত»
হলমার্কের জেসমিনের বিরুদ্ধে আদালতে দুদকের অভিযোগপত্র

ঢাকা : হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্পদের বিবরণী দাখিল না করায় বুধবার দুদকের উপপরিচালক মনজুর মোর্শেদ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে জেসমিন ইসলামকে পলাতক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করে দুদক। অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, জেসমিন ইসলামের সম্পদের বিবরণী চেয়ে গত বছরের ১৩ নভেম্বর নোটিশ দেয় দুদক। ওই নোটিশের পরও সম্পদের বিবরণী দাখিল না করায় তার বিরুদ্ধে দুদক আইনের ২৬-এর ২ ধারায় অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।

বিস্তারিত»
রবিবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

ঢাকা : পবিত্র হজ নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে পূর্বঘোষিত আল্টিমেটাম অনুযায়ী গ্রেফতার না করায় সম্মিলিত ইসলামী দল আগামী রবিবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান এই হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা জাফরুল্লাহ খান বলেন, নাস্তিক মুরতাদ সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর শরিয়ায় মোতাবেক বিচার করতে হবে। লতিফ সিদ্দিকী জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। বার বার আল্টিমেটামের সময় বাড়ানো পরও সরকার কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় আমরা হরতালের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হচ্ছি। তিনি লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপকে আইওয়াশ মন্তব্য করে বলেন, দেশবাসীকে ধোকা দিয়ে বোকা বানানোর এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে। এর আগে ২২ অক্টোবরের মধ্যে লতিফ সিদ্দিকীকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছিল ধর্মভিত্তিক ৮ দল ও সংগঠনের এই জোট। এই সময়ের মধ্যে তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা না হলে ২৬ অক্টোবর হরতালের হুমকি দেয় সম্মিলিত ইসলামী দলগুলো। প্রসঙ্গত, ২৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় বিকালে নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে নিউইয়র্ক টাঙ্গাইল সমিতি আয়োজিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী পবিত্র হজ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ দেশের একাধিক বেসরকারি টেলিভিশনেও তা প্রচার করা হয়।

বিস্তারিত»
রংপুরে মোটর মালিক ও শ্রমিকদের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ২০

রংপুর: রংপুরের সাতমাথায় মঙ্গলবার রাতে মোটর মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ চার রাউন্ড গুলিসহ ১৫ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এদিকে তৃতীয় দিনের মতো বুধবারও চলছে শ্রমিক ইউনিয়ন আহুত রংপুর থেকে তিনটি রুটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট।   টোল আদায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গেলো কয়েক মাস ধরে এলজিআরইডি প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা নিয়ন্ত্রিত রংপুর মোটর মালিক সমিতি, পিক আপ শ্রমিক ইউনিয়ন, অটোরিকশা মালিক শ্রমিক সমবায় সমিতির সঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় চারনেতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এমএম মজিদ নিয়ন্ত্রিত মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন, পিক আপ মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের দ্বন্দ্ব ও বিরোধ চলছিল। এরই ধাবারাহিকতায় গত ঈদুল ফিতরের আগ থেকে কয়েক দফায় সংঘর্ষ, কয়েক দফায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট হয়। সর্বশেষ রোববার রাঙ্গা সমর্থিতদের দ্বারা মজিদ সমর্থিতদের দুটি অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মজিদ সমর্থিতরা রংপুর থেকে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা রুটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু করে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার রাত সোয়া ১১ টার সময় রাঙ্গা সমর্থিত পিক আপ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাঈদের নেতৃত্বে সাতমাথায় বাসস্ট্যান্ড এলাকা দখলে নিতে চাইলে তাতে বাধা দেয় মজিদ সমর্থিত পিক আপ মালিক সমিতির নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ গুলি ও টিয়ারশেল ছোড়ে। এতে পুলিশ কনস্টেবল শাহিন হোসেন,রফিকুল, সোহেল, সাহেরা, সুফিয়া, সোহাগসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। তাদেরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে সকালে পিকআপ মলিক সমিতির নেতাকর্মীরা সাতমাথায় বিক্ষোভ করেছে। এ সময় সেখানে সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ ঘটনার জন্য প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গার সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে তাদের শাস্তির দাবি জানান। নইলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পুরো উত্তরাঞ্চলে দেয়া হবে বওে হুমকি দেন তিনি। কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল কাদের জিলানী জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেয়। এ সময় পুলিশ চার রাউন্ড গুলি ও ১১ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পিক আপ মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, “প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গার তৈরি করা কথিত পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের সন্ত্রাসী বাহিনী অবৈধভাবে তাদের অফিস দখল ও ভাঙচুর করেছে। সন্ত্রাসীদের কারণে হাজার হাজার মালিক শ্রমিক অসহায় জীবন যাপন করছে। বিষয়টি পুলিশকে বারবার অবহিত করলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছি। জীবনহানির আশংকায় ভুগছি।” অন্যদিতে পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বলেন, “মজিদের ভাগিনা আশরাফুল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমাকে সাতমাথায় পেয়ে আটক করে মারধোর করে। বিষয়টি জেনে শ্রমিকরা এর প্রতিবাদ করে।” তিনি এ ঘটনায় পুলিশের ভুমিকাকে পক্ষপাতদুষ্ট দাবি করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। মোটর মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে মারমুখি অবস্থানের কারণে পুরো নগরী জুড়েই চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুরো নগরীজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিস্তারিত»
ঢাবি ভর্তিচ্ছুদের জন্য নেই সুখবর

ঢাকা: দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ দেয়ার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জন্য এখন পর্যন্ত নেই কোনো সুখবর। সিদ্ধান্তে অটল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আন্দোলনকারীদের সময় নষ্ট না করে অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন উপাচার্য। অন্যদিকে, আন্দোলন করেই দাবি আদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। খবর সময় টেলিভিশনের। গত ১৪ অক্টোবর দ্বিতীয় বার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কমিটি। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ সুযোগ বন্ধের ঘোষণায় দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। আর সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা বলেন, “সবাই সুযোগ পাচ্ছে, তাহলে আমরা কেন পাবো না। এবারের পরীক্ষায়ও দ্বিতীয়বারের পরীক্ষার্থীরাই বেশি চান্স পেয়েছে।” তারা বলেন,  “আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে আমাদের দাবি মেনে না নিলে ২৫ অক্টোবর শহীদ মিনারে ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক গণজমায়েত হবে।” বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম বছর ভর্তি হয়ে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিয়ে তুলনামূলক ভালো বিভাগে ভর্তি হওয়ায় ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ৪২১টি এবং ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে ৪১৬টি আসন ফাঁকা হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, এটা ঠেকাতেই দ্বিতীয়বার ভর্তির সুযোগ বন্ধ করতে চান তারা। সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চলা প্রায় সপ্তাহব্যাপী আন্দোলনের অংশ হিসেবে সোমবার উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে, আন্দোলন করে সময় নষ্ট না করে ভর্তিচ্ছুদের অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার পরামর্শ বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের। উপাচার্য বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যে সিদ্ধান্ত আমাদেরকে তার মাঝে থেকেই পরীক্ষা নিতে হবে। আন্দোলন করে এখানে কিছু পরিবর্তন করা যাবে না। তাই সময় নষ্ট না করে ছাত্রদের উচিত অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষার সুযোগ নেয়া।” নতুন এ সিদ্ধান্ত ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর করতে চায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিস্তারিত»
শীর্ষ ৮ নেতার মুক্তির দাবিতে রাজপথে কর্মসূচি দিয়েছে জামায়াত

ঢাকা: দীর্ঘদিন একেকজন নেতার রায়কে কেন্দ্র করে রাজপথে কর্মসূচি দিয়েছে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী। এবারে শীর্ষ আট নেতাসহ  দেশের বিভিন্ন স্থানে আটক নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে পর্যায়ক্রমে শক্তিশালী আন্দোলনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে দলটি। কারাগারে আটক জামায়াতের শীর্ষ আট নেতা হলেন দলের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম, নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুস সোবহান, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জনাব মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, এটিএম আজহারুল ইসলাম ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী। ইতিমধ্যে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ আট নেতাসহ দেশের সব নেতাকর্মীর মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। মঙ্গলবার দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। জানা গেছে, জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবিকে সামনে রেখেই রাজপথের আন্দোলন জোরদারের পরিকল্পনা করেছে দলটির নীতি নির্ধারণীর সর্বোচ্চ ফোরাম। সাংগঠনিক দুর্বলতা নিরসনে দেশের জেলা পর্যায়ের নির্বাচন শেষ করেছে। ধারাবাহিকভাবে উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্য পর্যায়ের নির্বাচন শেষ করবে তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের একজন সদস্য বলেন, “দেশের পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হওয়ায় সাংগঠনিক কাজ জোরদার করা হয়েছে। পরিকল্পিত কাজগুলো নভেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। এরপরে আবারো রাজপথের আন্দোলন জোরদার করা হবে।” তিনি বলেন, “আন্দোলন থেকে নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্ন না হয়ে যায় এজন্য মাঝে মধ্যে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের মতো কর্মসূচি দেয়া হবে।” দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সরকার পরিকল্পিতভাবে নাটক সাজিয়ে আবদুল কাদের মোল্লাকে হত্যা করেছে। এখন শীর্ষ আট নেতাকেও হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। এ ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই বাস্তবায়ন হতে দেয়া হবে না।” তিনি বলেন, “সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে ছলেবলে কৌশলে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে একের পর এক মানবতাবিরোধী অপরাধ করে যাচ্ছে। জামায়াত নেতাদের অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রেখে মাসের পর মাস তাদেরকে অবর্ণনীয় কষ্ট দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে।”

বিস্তারিত»
চুয়াডাঙ্গায় অজ্ঞাত যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় অজ্ঞাত এক যুবকের (৩৪) গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকাল ৭টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার চারুলিয়া থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে দুর্বৃত্তরা অজ্ঞাত ওই যুবককে অন্য কোনো স্থান থেকে ধরে নিয়ে এসে উপজেলার চারুলিয়া কানাইবাবুর আমবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে গুলি করে হত্যার পর লাশ ফেলে রাখে। পরদিন বুধবার সকালে কৃষকরা মাঠে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ লাশটি দেখে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ওই যুবকের পরনে চেক শার্ট, কালো প্যান্ট ও কালো স্যান্ডেল ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

বিস্তারিত»
গোপালগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রের লাশ উদ্ধার

গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জে ডোবা থেকে রিয়াজুল ইসলাম (১৬) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে জেলার সদর উপজেলার চরমানিকদাহ গ্রামের শাহিদুল ইসলামের পুত্র এবং সালেহিয়া কামিল মাদ্রাসার ছাত্র ছিল। জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে জেলা শহরের পথকলি স্কুলের পেছনের ডোবায় রিয়াজুলকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রিয়াজুলকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠায়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। রিয়াজুল ইসলামকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

বিস্তারিত»
বিডিআরের বিস্ফোরক আইনে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ১০ নভেম্বর পর্যন্ত মুলতুবি

ঢাকা: পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) বিদ্রোহের ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ না করে সিনিয়র স্পেশাল ট্রাইব্যুনানের বিচারক মো. জহুরুল হক আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত মুলতুবি করেছেন।   বুধবার মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। মামরার বাদী লালবাগ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলিশের পরিদর্শক নবজ্যোতি খীসা সাক্ষ্য দিতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।  কিন্তু ট্রাইব্যুনানের বিচারক প্রস্তুত না থাকায় আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত মামরার সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতুবি করেছেন। মামলাটিতে এখন পর্যন্ত ২৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হযেছে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি একদল বিপথগাগী বিডিআর সদস্যদের দ্বারা পিলখানায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলিশের পরিদর্শক নবজ্যোতি খীসা প্রথমে লালবাগ থানায় এবং পরে নিউমার্কেট থানায় এ মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি তদন্ত করে ২০১০ সালের ১২ জুলাই হত্যা মামলায় ও ২৭ জুলাই বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ ৫৩৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলা দায়েরের পর দুই হাজার ১৮৭ জনকে গ্রেফতার করে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেয়া হয়। রিমান্ড শেষে ৫২১ আসামি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন। পরবর্তী সময়ে ১২৫ জন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রত্যাহারের আবেদন করেন। একই ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় গত বছরের ৫ নভেম্বর বিডিআরের ডিএডি তৌহিদসহ ১৫২ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। এছাড়া ৪২৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

বিস্তারিত»
গোলাম আযমের আপিল শুনানি ২ ডিসেম্বর

ঢাকা: একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে ট্রাইব্যুনালের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের আপিল  শুনানির জন্য আগামী ২ ডিসেম্বর তারিখ ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ বুধবার এ দিন ধার্য করে আদেশ দেন। প্রধান বিচারপতি ছাড়া অন্য বিচারপতিরা হলেন বিচারপতি এস কে (সুরেন্দ্র কুমার) সিনহা, বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী। আদালতে আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম উপস্থিত ছিলেন। গত বছরের ১০ আগস্ট গোলাম আযমের দণ্ডাদেশ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আসামিপক্ষ আপিল করে। আপিলে সাড়ে নয় হাজার পৃষ্ঠার মূল ডকুমেন্টে ১০৯টি গ্রাউন্ড আনা হয়েছে। আর মূল আপিল আবেদন ৯৫ পৃষ্ঠার। আবেদনে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড হচ্ছেন জয়নুল আবেদিন তুহিন। এ মামলায় এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

বিস্তারিত»
রুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা ফল প্রকাশ

রাজশাহী: রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)এর ২০১৪- ২০১৫ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ভর্তি কমিটির সভাপতি প্রফেসর শামসুল আলম স্বাক্ষরিক এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মঙ্গলবার রুয়েট প্রশাসনিক ভবনের নোটিশ বোর্ডে এবং www.ruet.ac.bd ওয়েবসাইটে প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ফলাফলে ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে প্রকৌশল বিভাগসমূহ ও বিইউআরপি বিভাগে ভর্তির জন্য ০১ থেকে ৩৩০৭ জন প্রার্থীর মেধাক্রম অনুযায়ী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া আর্কিটেকচার বিভাগে ভর্তির জন্য ০১ থেকে ১৪৫ জন প্রার্থীর মেধাক্রম অনুযায়ী তালিকা প্রকাশ করা হয়। আগামী ১০ ডিসেম্বর মেধা তালিকা অনুযায়ী ভর্তির তারিখ রুয়েট প্রশাসনিক ভবনের নোটিশ বোর্ডে এবং www.ruet.ac.bd ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। ভর্তির নিয়মাবলী এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেসের তালিকা রুয়েট প্রশাসনিক ভবনের নোটিশ বোর্ডে এবং www.ruet.ac.bd ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। ভর্তির সময় বিভাগী সমিতির চাঁদা বাবদ ৪০০টা এবং ভর্তি ফি বাবদ ১৫ হাজার টাকা রূপালী ব্যাংক রুয়েট শাখায় জমা দিতে হবে। ভর্তির জন্য নির্ধারিত তারিখ ও অন্যান্য তথ্যাদি প্রার্থীকে নিজ দায়িত্বে জেনে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

বিস্তারিত»
নীলফামারীতে জাল ডলারসহ নারী আটক

নীলফামারী : নীলফামারীতে জাল ডলারসহ প্রতারক চক্রের এক নারী সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয় (র‌্যাব)। আটককৃতের নাম অহিজা খাতুন (৪৫)। মঙ্গলবার রাতে নীলফামারী সদরের সংগলশী ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। অহিজা খাতুন ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের ইনসান আলীর স্ত্রী। জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৯৪টি জাল ডলারসহ প্রতারক চক্রের নারী সদস্য অহিজা খাতুনকে আটক করা হয়। আটককৃত অহিজা খাতুনকে বুধবার সকালে নীলফামারী সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

বিস্তারিত»
মিরপুরে গিয়াস হত্যার পেছনে স্ত্রীর পরকীয়া

ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরে ঝুট ব্যাসায়ী গিয়াস উদ্দিন হত্যার পেছনে তার স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। অনুসন্ধানে পুলিশ জেনেছে, স্ত্রী লাবনী আক্তার লীমার সঙ্গে জনৈক তানভীর আহম্মেদের পরকীয়া প্রেমেরে সম্পর্ক ছিল। ওই প্রেমিক তার বন্ধুদের নিয়ে গিয়াসকে হত্যা করেছে। পরিকল্পনাকারী ছিলেন লীনা। এজন্য তিনি খুনীদের নগদ টাকাও দিয়েছেন। গত ১৯ অক্টোবর রাতে মিরপুর নিজ বাসায় খুন হন গিয়াস উদ্দিন(৩৭)।  মিরপুর -১০ নম্বর সেকশনের ১৫ নম্বর লেনের সি ব্লকের ১১ নম্বরের ছয় তলা বাসার চার তলার ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পর নিহত গিয়াসের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতে তার স্ত্রী লাবনী আক্তার লীমাকে আটক করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার তিনদিন পর মঙ্গলবার  মিরপুর থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর রহস্যের জট খোলে। গ্রেফতারকৃত তিনজন হলেন বিএল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র লীমার প্রেমিক তানভীর আহম্মেদ (১৮), ঢাকা কর্মাস কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র  সাদমান ইসলাম মুক্ত (১৮) ও সরকারি বিজ্ঞান কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র  আকিবুল ইসলাম জিসান (১৮)। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন জানান, গিয়াস উদ্দিন খুনের ঘটনায় তার স্ত্রী লীমা জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুর ১০ নম্বর এলাকা থেকে মঙ্গলবার দুপুরে তানভীর আহম্মেদকে আটক করা হয়। এরপর তানভীরের তথ্য মতে হত্যায় সরাসরি অংশ নেয়া জিসান ও সাদমানকে আটক করা হয়। তানভীর সাংবাদিকদের জানান,  এক বছর আগে গিয়াস উদ্দিনের বাসার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় লীমাকে তার ভাল লাগে। এরপর পরিচয়। মন দেয়া-নেয়া। এক পর্যায়ে দু’জনের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চলতি মাসের ১৫ অক্টোবর গিয়াসকে ডির্ভোস না দিয়েই লিমা তাকে বিয়ে করেন বলে দাবি তানভীরের। তিনি জানান, বিয়ের পর দু’জনের সম্পর্কের কাঁটা হিসেবে তানভীরকে সরানোর পরিকল্পনা করেন লীমা। সে হিসেবে তানভীরের তিন বন্ধু মিলে খুন করা হয় গিয়াসকে। স্বামীকে হত্যার জন্য নগদ ৩০ হাজার টাকা দেন তানভীরদের দেন লীমা। চুক্তি অনুযায়ী এর মধ্যে  ১৫ হাজার দেয়া হয় জিসান ও সাদমানকে।   জিসান জানান, ঘটনার দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে গিয়াসের মিরপুরের বাসায় তাদের দু’জনকে নিয়ে যান তানভীর। রাত ১০টার দিকে গিয়াস বাসায় ঢোকেন। এ সময় পেছন থেকে কাঠের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন তানভীর। মেঝেতে পড়ে যাওয়ার পর জিসান ও সাদমান তার হাত-পা ধরে রাখেন। তানভীর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। রাত ১১টার দিকে লীমার পরামর্শ অনুযায়ী তিনজন বোরকা পড়ে ওই বাসা থেকে বের হয়ে যান।

বিস্তারিত»
কিংবদন্তি সাংবাদিক ব্রেডলি আর নেই

ওয়াশিংটন: আমেরিকার আলোচিত ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারির প্রতিবেদন প্রকাশের সময়কার ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’র এর  সম্পাদক ও কিংবদন্তি সাংবাদিক বেন ব্রেডলি মারা গেছেন। এই প্রতিবেদন প্রকাশের কারণেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন। বিষয়টি পু্রো বিশ্বে আলোড়ন তৈরি করে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে নিজ বাসভবনে মারা যান ব্রেন বডলি । মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউস থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে ওবামা বলেন, ‘‘বেন ব্রেডলির সাংবাদিকতা ছিল তার পেশার চাইতেও অনেক বেশি বিস্তৃত। তিনি ছিলেন আমাদের গণতন্ত্রের শক্তি।’’ ওবামা বলেন, ‘‘বেন ব্রেডলি ছিলেন সত্যিকারের সাংবাদিক। তিনি ওয়াশিংটন পোস্টকে দেশের অন্যতম সংবাদপত্রে পরিণত করেন। তার হাত ধরেই ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারি প্র্রকাশিত হয়। তিনি যা সত্য ঘটনা তাই সবাইকে জানাতেন। তার লেখা আমাদের বিশ্বকে ও নিজেকে জানতে সহায়তা করতো।’’ ব্রেডলি ১৯৬৮ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ওয়াশিংটন পোস্টের নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তার হাত ধরেই পত্রিকাটি দেশের প্রধান সারিতে জায়গা করে নেয়। তার অবদানের জন্য ২০১৩ সালে আমেরিকান সরকার তাকে দেশেরে সর্বোচ্চ ‘‘প্রেসিডেন্ট মেডেল অব ফ্রিডম’ পুরষ্কারে ভূষিত করে।–বিবিসি।

বিস্তারিত»
রাজধানীতে প্রাইভেটকার উল্টে আহত ৩

ঢাকা: রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় প্রাইভেটকার উল্টে ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে প্রাইভোটকারটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। জানা যায়, রাতে প্রাইভেটকারটি মহাখালী থেকে আসার পথে জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার আইল্যান্ডের ওপর উঠে গিয়ে উল্টে যায়। এতে কারটির ভেতরে থাকা ৩ জনই গুরুতর আহত হন। সঙ্গে সঙ্গে আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিস্তারিত»
রাবিতে ছাত্রলীগ নেতা ছুরিকাহত

রাজশাহী: রাতের আধাঁরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) এক ছাত্রলীগ নেতা ছুরিকাহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে ক্যাম্পাসের জুবেরী ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত ছাত্রলীগ নেতার নাম তরিকুল ইসলাম বাবু। তিনি সৈয়দ আমীর আলী হলের সভাপতি প্রার্থী ও ফলিত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। কে বা কারা ছুরকাহত করেছে এ ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি। প্রতক্ষ্যদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাতে ছাত্রলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম বাবু তার কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবীসহ ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের সামনে প্যারিস রোড়ে পৌঁছালে বাবু একটু পিছিয়ে পড়েন। এমন সময় হঠাৎ করে তার পেছন থেকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করে। তার বন্ধুরা সেখানে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা দ্রুত সটকে পড়ে। পরে ছাত্রলীগ নেতারা তাকে উদ্ধার করে রিকশায় যোগে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে পাঠায়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল থেকে রামেকে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রামেকের অপারেশন ফিয়েটারে গুরুতর আহত তরিকুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রপচার চলছে। তার ঘাড়ে, কোমরে এবং বুকের বাম পাশে ছুরির আঘাত রয়েছে। তার সঙ্গে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক উৎপল কুমার বলেন, “আমরা কয়েকজন মিলে ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম। এমন সময় বাবু আমাদের থেকে একটু পেছনে চলে যায়। একপর্যায়ে সে হঠাৎ করে চিৎকার করে উঠে। পরে তার নিকটে আমরা যেতে না যেতেই কয়েকজন দুবৃত্তরা তার বুকের বাম পাশে ছুরকাঘাত করে পালিয়ে যায়।” এদিকে বাবুর ওপর হামলার প্রতিবাদে মিছিল করেছে আমীর আলী হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মিছিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হল শাখার সভাপতি শেখ শামসুজ্জামান ইমন। এসময় তিনি বলেন, বাবুর ওপর হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রধর্মঘটের হুশিয়ারী দেন এই ছাত্রলীগ নেতা। এ ব্যাপারে রাবি প্রক্টর প্রফেসর ড. তরিকুল হসান বলেন, “আমি বিষয়টি শুনেছি। তবে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে সে বিষয়ে আমি অবহিত নই। সেখানে তাৎক্ষনিকভাবে পুলিশের ফোর্স পাঠানো হয়েছে।  এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু হয়েছে।”

বিস্তারিত»
খালেদা জিয়া নীলফামারীর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন বিকালে

ঢাকা: নীলফামারীতে ২০ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় যোগ দিতে আজ বুধবার বিকালে ঢাকা ছাড়বেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার বিকাল চারটার দিকে তিনি গুলশানের বাসা থেকে রওনা দিয়ে রাতে বগুড়া সার্কিট হাউজে রাত্রি যাপন করবেন বেগম খালেদা জিয়া। এরপর বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নীলফামারীর উদ্দেশ্যে পুনরায় যাত্রা করবেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকালে নীলফামারী জেলা স্কুল মাঠে স্থানীয় ২০ দল আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন খালেদা জিয়া। বিএনপির গুলশান অফিস সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রসঙ্গত, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন দাবিতে এবং দেশব্যাপী অব্যাহত গুম-হত্যার প্রতিবাদে, সংবিধান সংশোধন করে বিচারকদের অভিসংশন আইন পরিবর্তনের প্রতিবাদসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জনসচেতনতা তৈরিতে দেশব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এরই আলোকে ইতোমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, জামালপুর সফর করেন বেগম খালেদা জিয়া। এছাড়া ২৩ অক্টোবর  নীলফামারী সফর ছাড়াও আগামী ৩০ অক্টোবর নাটোর, ৬ নভেম্বর কুমিল্লা এবং ১২ নভেম্বর কিশোরগঞ্জ সফর করার কথা রয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার।

বিস্তারিত»
নওগাঁয় কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা

নওগাঁ : প্রেমিকের ওপর অভিমান করে নওগাঁ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অধ্যায়রত আয়শা সিদ্দিকা নামে এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। তিনি জেলার মান্দা উপজেলার গণেশপুর গ্রামের আমজাদ হোসেনের মেয়ে এবং নওগাঁ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে শহরের বাঙ্গাবাড়ীয় এলাকার জেইসি ছাত্রী নিবাসের নিজ কক্ষ থেকে তার লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। নওগাঁ সদর থানার ওসি জাকিরুল ইসলাম জানান, একই গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে তৌফিক হোসেন ও একই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। তাদের মধ্যে ছোট বেলা থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মঙ্গলবার দুপুরে আয়শা নিজ গ্রামের বাড়ি থেকে নওগাঁ শহরের জেইসি ছাত্রীনিবাসে আসেন। এরপর প্রেমিক তৌফিক হোসেনের সঙ্গে কথা বলার জন্য ফোন করে। কিন্তু সেসময় তৌফিক প্রাইভেট পড়ানোয় ব্যস্ত থাকায় পরে কথা বলবে বলে ফোনটি কেটে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় কাউকে কোনো কিছু না বলে নিজ কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন। রাত সাড়ে ৮টার তার সহপাঠীদের ডাকে সারা না দিলে তাদের সন্দেহ হয়। এরপর তারা বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানালে বাড়ির মালিক জাহিদুল ইসলাম রাত ৯টার দিকে থানায় সংবাদ দেন। পুলিশ এসে দরজা ভেঙ্গে আয়শার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। রাতেই লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ওসি।

বিস্তারিত»
কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইবোলার ওষুধ পশ্চিম আফ্রিকায়

ঢাকা: ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের দেহ থেকে রক্ত নিয়ে ইবোলার যে ওষুধটি তৈরি করা হয়েছে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেটি পশ্চিম আফ্রিকায় পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. মেরি পল কেনি বলেছেন, ইবোলার চিকিতসায় যে সিরামটি তৈরি করা হয়েছে সেটি আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই লাইবেরিয়ায় পাওয়া যাবে। ইবোলা থেকে সেরে উঠা রোগীদের রক্তে যে অ্যান্টিবডি বা রোগপ্রতিরোধক আছে সেটি ব্যবহার করেই সিরাম তৈরির কাজ চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এখানে তিনি বলছেন যে, আক্রান্ত রোগীদেরকে সুস্থ করে তুলতে সিরাম তৈরির জন্য পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলায় সবচে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি দেশের সঙ্গে অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই লাইবেরিয়াতে কাজ শুরু হবে এবং রক্ত সংগ্রহ করে সেটি ব্যবহার করার প্রক্রিয়াও শুরু হবে বলে জানান তিনি। এদিকে, ইবোলা আক্রান্ত এক রোগীকে কেন্দ্র করে সিয়েরা লিওনের পূর্বাঞ্চলের একটি শহরে দাঙ্গা বেঁধে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রায় ৯০ বছর বয়স্কা এক নারী ইবোলা আক্রান্ত হয়েছে সন্দেহে তাকে তার বাড়ি থেকে সরাতে গেলে মহিলার ছেলে মেডিকেল কর্মীদের দিকে পাথর ছুঁড়তে থাকে। এরপর কোইদু শহরে দাঙ্গার সৃষ্টি হয়। দাঙ্গা থামাতে শহরে কারফিউ দেয়া হয় এবং পুলিশ গুলি চালায়। এতে করে সেখানে নিহত হয় দুইজন। এদিকে আমেরিকার পশ্চিম আফ্রিকার সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া ও গিনি থেকে যেকোনো ব্যক্তির আমেরিকা যাওয়ার ক্ষেত্রে আরো কড়া নিয়ম আরোপ করেছে। -বিবিসি।

বিস্তারিত»
হংকং আলোচনায় আশার সম্ভাবনা কম

হংকং: হংকংয়ে চলমান সংকট নিরসনে স্থানীয় সরকার প্রশাসন ও বিক্ষোভকারীদের আলোচনায তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। রাজপথে চলা চার সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভ বন্ধে দ্বিতীয় দফা এ আলোচনা শুরু হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেয়া ‘হংকং ফেডারেশন অব স্টুডেন্টস’ সাধারণ সম্পাদক এলেক্স চৌ বলেন, ‘‘২০১৭ সালের মধ্যে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের বিষয়ে চীনা সরকারের প্রস্তাবনা হংকং বাসীর কাছে একটি অর্থহীন বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আলোচনার সমাধান চান দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘আমরা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ধরনের তোষামাদি চাচ্ছি না।’’ এদিকে হংকং প্রশাসন বলছে, চলমান বিক্ষোভে হংকং এর সব লোক অংশ নেয়নি। বিক্ষোভকারীদের দাবি সবার দাবি নয়। জাস্টিস সেক্রেটারি রিমস্কি উয়েন বলেন, ‘‘আমাদের এটা বুঝা দরকার যারা আন্দোলন করছে, তাদের মধ্যে সব মংকক, অ্যাডমিরাটলির বাসিন্দা নয়। অনেক লোক আছে যার বাসায় অবস্থান নিচ্ছে, তারা নাগরিকদের নির্বাচিত করতে চাচ্ছে না।’’ এদিকে হংকং প্রশাসন ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে আলোচনা বড় স্ক্রিনে সরাসরি করে সম্প্রচার করা হচ্ছে। শহরের প্রধান তিনটি এলাকায় জনগণ ভিড় করেছে সে আলোচনা দেখার জন্য। বিক্ষোভকারী ছাত্ররা সংলাপে কথা বলার সময় লোকজনদের উল্লাস করতে দেখা গেছে। এদিকে, আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকট নিরসনের সম্ভাবনা খুবি কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।–আল-জাজিরা।

বিস্তারিত»
বৈধতার বিদেশি সার্টিফিকেট অনুসন্ধান

আমীর খসরু:অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ের স্থিতিশীলতা বিদ্যমান থাকার ভুল হিসাব-নিকাশ করার পাশাপাশি সরকার আসলেই যে আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় নিজেদের বিশেষ করে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে বৈধ এবং জায়েজ করার উপায় হিসাবে যাবতীয় কার্যক্রম চালাচ্ছে তা বোধ করি সবার কাছেই স্পষ্ট। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী ঘন ঘন বিদেশ সফরে যাচ্ছেন এবং উদ্দেশ্য ওই একটিই। সরকার মনে করছে, বিদেশে গিয়ে চেষ্টা-তদবির করেই সব সমস্যার সমাধান হবে এবং আগামী দিনগুলো হবে নির্বিঘ্ন ও অভ্যন্তরীণ - আন্তর্জাতিক সব পর্যায়েই বৈধতা মিলবে। এর কারণ একটিই - যা সবারই জানা - ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদী করার প্রচেষ্টা। গত জুলাই মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অংশ নিয়েছিলেন লন্ডনে অনুষ্ঠিত গার্ল সামিটে। ওই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্য কোনো দেশ থেকে তার সমকক্ষ কোনো নেতাই অংশ নেননি। সফরের আসল উদ্দেশ্য ছিল - বৃটিশ সরকারের সাথে দেনদরবার করে ৫ জানুয়ারির অর্থাৎ বর্তমান সরকারের বৈধতার সার্টিফিকেট গ্রহণ। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সাথে বৈঠকটি ছিল মূলত আসল বিষয়। বৈঠকের পরে ঢাকায় পররাষ্ট্র দফতর এবং সামগ্রিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে এমন প্রচার শুরু করা হলো যে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে বৃটিশ সরকার মেনে নিয়েছে অর্থাৎ ওই দেশটির কাছ থেকে বৈধতার সঙ্কট কেটে গেছে। বৃটিশদের পক্ষ থেকে ওই সময় এই প্রচার-প্রচারণার বিষয়ে সামান্য প্রতিক্রিয়া দেখানো হলেও গত ১৬ অক্টোবর বৃটিশ পররাষ্ট্র দফতরের ওয়েবসাইটে ‘বাংলাদেশ : কান্ট্রি কেইস স্টাডি আপডেড রিপোর্ট-এ ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে চরম হতাশাই ব্যক্ত করা হয়েছে। শুধু নির্বাচনই নয়, ওই রিপোর্টে ডেভিড ক্যামেরন বৈঠককালীন সময়ে শেখ হাসিনাকে এই হতাশার কথা জানিয়েছিলেন সে প্রসঙ্গটিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু নির্বাচনই নয়, ওই রিপোর্টে ৫ জানুয়ারির পরের মাসগুলোতে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, গুম, অপহরণের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং নতুন কালা-কানুন জারি করে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ এবং সুশীল সমাজের কর্মকান্ডে বাধা সৃষ্টিতেও উদ্বেগের কথা জানানো হয়। বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ঝুকি অব্যাহত রয়েছে এবং এটি যে উদ্বেগপূর্ণ সে সম্পর্কেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে - সাধারণভাবেই বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, অপহরণ বৃদ্ধি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে তাদের ধারা সংঘটিত অপরাধের জন্য শাস্তির আওতায় আনা হয় না এবং এটি যে খারাপ নজির সে সম্পর্কেও বলা হয়েছে। ২০১৪ সালের প্রথম ৬ মাসে শতাধিক ব্যক্তিকে বিচার বহির্ভূত পন্থায় হত্যা করা হয়েছে তারও উল্লেখ রয়েছে ওই রিপোর্টে। সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করা, তথ্য প্রযুক্তি আইনে সরকারের সমালোচনাকারীদের আটক করার বিষয়ও উল্লেখ আছে সেখানে। প্রস্তাবিত বৈদেশিক ডোনেশন এ্যক্ট যে এনজিও’র কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী হবে তার কথাও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। সুশীল সমাজের কর্মকান্ডে নানাভাবে বাধা-বিঘ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে সে প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়েছে বৃটিশ পররাষ্ট্র দফতরের ওই রিপোর্টে। রিপোর্টে বিরোধী মত সহ্য না করার ইঙ্গিতও রয়েছে। ওই রিপোর্টে বিশেষ করে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন যে বৈধ হয়নি তার স্বপক্ষে নানা তথ্য এবং বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। ২২ জুলাই অনুষ্ঠিত দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে যে হতাশা ব্যক্ত করেছেন তাও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। সাথে সাথে দুই প্রধানমন্ত্রীই মুক্ত সমাজ গঠন, গণতান্ত্রিকভাবে অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে ঐক্যমত প্রকাশ করেছিলেন বলেও রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা আছে। এই রিপোর্টের পরে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়নি। বৃটিশ পররাষ্ট্র দফতরের তরফে যে কথাগুলো লিখিত আকারে দেখা গেল ঠিক এর বিপরীত কথাগুলোই ওই জুলাই মাসেই আমাদের শোনানো হয়েছিল এবং ওই বক্তব্য এদেশিয় সংবাদ মাধ্যমে প্রচারও করা হয়েছিল। বৃটিশ সরকারের সত্যিকারের মনোভাব কি তা ওই সময় বা এখনো বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে না কেন তাও আমজনতা বুঝতে পারছে এবং বোঝে। এই সেপ্টেম্বরেই প্রধানমন্ত্রী গেলেন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের জন্য। ওই নিউইয়র্ক থেকেই সরকারের শীর্ষ থেকে নিচ পর্যন্ত সবাই বলতে থাকলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সাক্ষাত হয়েছে এবং এই সাক্ষাতে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে বৈধতা দেয়া হয়েছে এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভূয়ষী প্রশংসার কথা। এ নিয়ে তোলপাড়ও হলো। বিএনপিসহ বিরোধী দল ও অন্যান্যদের পক্ষ থেকে বলা হলো, ওই বৈঠকই অনুষ্ঠিত হয়নি। যেখানে বৈঠকই অনুষ্ঠিত হয়নি সেখানে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ভালো কি মন্দ তা জাতিসংঘ মহাসচিব বললেন কিভাবে এই প্রশ্নও উত্থাপিত হলো। অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এর কোনো জবাব দেয়া হয়নি। যাই হোক, এ সম্পর্কে সবাই অবগত রয়েছেন বলে মনে করে এ সব ঘটনা নিয়ে আর আলোচনা না করাকেই শ্রেয় মনে করছি। কারণ অতীতেও এ ধরনের অনেক ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কেন এই চাতুর্য, কেন এই রাখঢাক এবং সত্য আড়াল করা? এর একটিই কারণ - সরকার এবং ক্ষমতাসীনরা নিজেদের বৈধতা প্রদর্শনের চেষ্টা চালিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই আস্থাই সৃষ্টি করতে চায় যে, সব ঠিক হয়ে গেছে। বিদেশেও যে বৈধতার সঙ্কট ছিল তা আর নেই। তাদের ধারণা, এতে জনআস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদী হবে। সরকারের পরামর্শকরা বহু যুগ পেছনেই পরে আছে। হিটলারের প্রপাগান্ডা মন্ত্রী ছিলেন গোয়েবলস। তাকে গণ্য করা হয় প্রপাগান্ডা জগতের সবচেয়ে ধুরন্ধর ব্যক্তি হিসেবে। তার তত্ত্ব ছিল - মিথ্যাকে একশবার সত্য বলে চালিয়ে দিলে ওই মিথ্যাই মানুষ সত্য বলে গ্রহণ করে। আসল বিষয়টি হচ্ছে নিজ জনগণের মধ্যে আস্থা, বিশ্বাস সৃষ্টি করাই হচ্ছে মূল বিষয় এবং এটা করতে গেলে সরকারকে গণতান্ত্রিক হতে হয়, স্বৈরাচারী সরকার কখনই এটা করতে পারে না এবং পারেওনি কোনোদিন। ক্ষমতাসীনরা এটা ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন যে, তাদের প্রতি জনআস্থা ভিত্তিমূলে ব্যাপক ফাটল দেখা দিয়েছে। আর এ কারণেই দাওয়াই হিসেবে বিদেশের সার্টিফিকেট যোগাড়ের তাড়না তারা অনুভব করছেন। সরকারের প্রতি জনআস্থাহীনতা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রথম সৃষ্টি হয়েছে তা নয়। এ ঘটনাটি ছিল অনাস্থার চরম একটি পর্যায়। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, দফায় দফায় তেল-গ্যাসের দাম বাড়ানো, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, গুম, খুন, অপহরণ, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, দুর্নীতি, স্বজন ও দলপ্রীতি, বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণসহ নানা কারণে এর সৃষ্টি। আস্থাহীনতা জন্ম নেয় চরম হতাশা, বঞ্চনা, দুর্দশা, নিপীড়ন-নির্যাতন থেকে। আর এসবেরও কারণ প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা ভঙ্গ করা। তবে আশঙ্কা একটি থেকেই যায় - বিদেশেও যখন সার্টিফিকেট মিলবে না তার ক্ষোভটি গিয়ে পড়বে আবার বিরোধী দল, মত, পক্ষ থেকে শুরু করে তাবৎ সাধারণ মানুষেরই উপরে। বিদ্যমান নির্যাতন-নিপীড়নের মাত্রা এ কারণে অদূর ভবিষ্যতে যে আরও বাড়বে তাই চিন্তার বিষয়।।  

বিস্তারিত»
লন্ডনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাওলানা জুবাইর আহমদ হামিদী নিহত

লন্ডন:সিলেট বিভাগের ঐতিহ্যবাহী বরুণা খান্দানের বিশিষ্ট আলেমেদীন লন্ডন শাহজালাল মেনপার্ক মসজিদের সাবেক ইমাম মাওলানা জুবাইর আহমদ হামিদী আজ  (মঙ্গলবার ) সম্প্রতি ক্রয়কৃত নিজম্ব বাসায়  সন্ত্রাসীদের  গুলিতে নিহত  হয়েছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন ।  নিহত মাওলানা জুবায়ের আহমদের পিতার নাম মরহুম তাজুল ইসলাম । পারিবারিক সুত্রে জানাগেছে, ৩ মেয়ে , ১ ছেলে রেখে যান। মৃত্যকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৫০ বছর। আমাদের লন্ডন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ইংল্যন্ড সময় অনুমানিক ভোর ৫টার সময় আততায়ীরা ঘরে প্রবেশ করে গুলি চালায়। এসময় মাওলানা জুবায়ের সাথে তাঁর এক ভাই ও ছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরির্দশ করেছে।  উল্লেখ্য যে, নিহত জুবায়ের আহমদ  বৃটেনের পরিচিত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব  মাওলানা শেখ  ছালেহ আহমদ হামিদীর   বড় ভাই। তিনি মৌলভী বাজার জেলার  বরুনার মরহুম পীর হযরত মাওলানা শায়খ লুৎফুর রহমান বর্ণভীর (র)এর নাতি  এবং  বরুনা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও বতমান পীর মাওলানা খলিলুর রহমান হামিদীর সম্পকে ভাতিজা হন। লন্ডনে হামিদী পরিবার ইসলাম, বিদ্বেষী অপশক্তির টার্গেটে। হামিদী পরিবারটি ইসলাম প্রচারে ব্যাপক ভুমিকা রাখার জন্যই তাদেরকে টার্েগট করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে যে, আর্ন্তজাতিক ইসলাম বিদ্বষী চক্রই  এ খুনের সাথে সম্পৃক্ত! এদিকে, জমিয়তুল উলামা ইউরোপের সভাপতি মাওলানা মুফতি শাহ সদর উদ্দীন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্মমহাসচিব সাবেক এমপি এডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী, জমিয়তে ইলামা ইউকের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সৈয়দ নাঈম আহমদ, স্বেচ্চাসেবক জমিয়ত ইউকের আহবায়ক মাওলানা সাজ্জাদুর রহমান আনসারী , সিলেট মহানগর জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আব্দুর রহমান সিদ্দিকী, মাদানী কাফেলার সভাপতি মাওলানা রুহুল আমীন নগরী ,সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানান। Sheikh maulana zubair ahmed hamidi Age 50 . Live in Clacton on Sea Essex. London. He died last Night in Grimsby Town in Lincolnshire. When he was in sleep somebody attacked him while he was in sleep. Maybe gun shut. .may be nife attack. His head and leg injury. Police said officially they will handover the body tomorrow after postmortem. Please make dua for him Bangladesh address. Moulovi bazar.. village hamid nogor.Boruna.

বিস্তারিত»

সাক্ষাৎকার

সংঘর্ষ, আ:লীগকে দায়ী করছে বিএনপি

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জের ধওে রোববার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাংচুর এর ঘটনা ঘটেছে। এসময় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়। কিন্তু বিএনপি নেতারা দাবি করে বলছেন, এর পেছনে আওয়ামী লীগ দায়ি। গত মঙ্গলবার রাতে বিএনপির পক্ষ থেকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর থেকেই ২০১ সদস্যের এ কমিটিতে স্থান না পাওয়া নেতা কর্মীরা বিক্ষোভ করে আসছিল। বিএনপির একজন উপদেষ্টা এবং ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শামসুজ্জামান দুদুর কাছে বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল এ ধরনের বিরোধ সামনে চলে আসার কারণ কি ? শামসুজ্জামান বলেন, এ ঘটনা কারও ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত নয়। একটি গণতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠনের জন্যে অবশ্যই খুব বিব্রতকর আর জাতীয় রাজনীতির জন্যও খুব একটা ভাল কোন ঘটনা না। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, এখন ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতাসীন যারা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসেনি। এই মুহুর্তে যেকোন ছাত্র সংগঠন বা রাজনৈতিক দল বিশেষত বিরোধী দলের জন্যে এমন একটি ঘটনা, এটা দুঃখজনক। আপনি সরকারকে দোষারোপ করছেন কিন্তু অতীতেও ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা ঘটেছে, এ প্রসঙ্গে বিএনপির এই উপদেষ্টা বলেন, যেটি গতকাল ঘটেছে, মূল সংগঠনের অফিসে ভাংচুর, নেতা কর্মীদের উপর আক্রমণ, শহীদ জিয়ার ম্যুরাল ভাংচুর এরকম ন্যাক্কারজনক ঘটনা আগে ঘটেছে এটা আমার জানা নাই। ঘটনার যারা প্রত্যক্ষদর্শী তারা দেখেছেন পুলিশ একবারেই নিরবতা পালন করেছে। গত ৭-৮ মাস ধরে আমাদের ওখানে দাঁড়াতেই দেয়নি, কর্মীদের দাঁড়াতে দেয়না। যেখানে এরকম একটা অবস্থা সেখানে এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল পুলিশ একেবারে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে গেল। সম্মেলন ছাড়া কমিটি গঠনটা কি এই আন্দোলন বা বিক্ষোভের পিছনে কোন কারণ হিসাবে থাকতে পারে ? এমন প্রশ্নের জবাবে ছাত্রদলের সাবেক এ সভাপতি বলেন, সম্মেলন, কর্মী সম্মেলন, একেবারে ইউনিয়ন থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সম্মেলন হবে এটাই আমরা আশা করি এবং গঠনতান্ত্রিক বিধি বিধানে এটাই আমাদের সবার প্রত্যাশা। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, দেশে আমাদের একটা স্বাভাবিক সমাবেশও সরকার করতে দেয়না। ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে আমাদের সম্মেলনের আবেদন তারা কয়েকবার প্রত্যাখান করেছে। অর্থাৎ স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী, গঠনতান্ত্রিক বিধি বিধান অনুযায়ী সম্মেলন করতে গেলেই পারব এমন কোন কারণ আছে বলে আমার মনে হয় না। আর একটা বিষয় হচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ ডাকসু ছিল জাতীয়তাবাদি ছাত্রদলের, অথচ তারা কিন্তু সেখানে ঢুকতে পারে না এবং যখন আমাদের ছাত্র সংগঠন যেতে চেয়েছে তখন ভিসিসহ সরকারি ছাত্র সংগঠন প্রকাশ্যে পুলিশের সহায়তায় তাদের উপর আক্রমণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিসহ, অন্যান্য নেতা কর্মীদের রক্তাক্ত করা হয়েছে। বুয়েটে আমাদেরকে দাঁড়াতে দেয়া হয়না। এছাড়াও সাড়া বাংলাদেশের প্রধান প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমাদের ঢুকতে দেয়া হয়না। এমন অবস্থায় গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুযায়ি কমিটি গঠন করা কঠিন ব্যাপার। তবে কনভেনশন অনুযায়ী এটা করতে পারলে ভাল হত। আগামীতে হয়ত কোন এক সময় এটি করা সম্ভব হবে বলে আমাদের ধারণা। সামনে অবস্থা যদি সেরকম হয় আমরা করব। অঙ্গ সংগঠনগুলোর সম্মেলন করব এবং এই সরকারের পতনের মধ্য দিয়েই গণতান্ত্রিক রীতিনীতিতে যে চর্চা সেটা ফিরে আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস। বিবিসি

বিস্তারিত»

বিশেষ কলাম

কেন সবাই ছাত্রদলের নেতা হতে চায়?

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মাঠে নেমেছে। তবে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নয়, নিজেদের বিরুদ্ধে। ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার পরদিন থেকে পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কয়েক শত ছাত্র-তরুণ বিক্ষোভ করেছেন। অনেক দিন পর ছাত্রদলের এত বড় মিছিল ও উপস্থিতি দেখা গেল। বিক্ষোভকারী নেতাকর্মীদের দাবি, নতুন গঠিত কমিটি ভেঙে দিতে হবে। কারণ, যারা কমিটিতে স্থান পেয়েছেন তাদের অনেকে ত্যাগী নেতা নন। কেউ কেউ নাকি সরকারের এজেন্ট। কেউ আবার ছাত্রলীগ থেকে ছাত্রদলে অনুপ্রবেশ করেছেন। ফলে কমিটি ভেঙে দিয়ে দলের প্রতি আনুগত্য আছে এমন নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। বাস্তবতা হলো, যারা আজ আন্দোলন করছেন তাদেরকে যদি কমিটিতে রাখা হতো তাহলে আরো একটি পক্ষ একই ধরনের প্রতিবাদ বিক্ষোভ করত। কারণ ছাত্রনেতা হওয়ার সাথে আর্থিক লাভালাভের যোগ আছে। আর গত পাঁচ বছর ধরে ছাত্রলীগের নেতা ও পাতি নেতারা যেভাবে টাকা-পয়সা, গাড়ি- ফ্ল্যাটের মালিক বনে গেছেন তা দেখে ছাত্রদলের নেতা হওয়ার জন্য যারা লাইনে আছেন, তারাও চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করছেন। এ কারণে কমিটি যাদের দিয়েই হোক না কেন, প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হতোই। বিএনপির কোটারি স্বার্থের সাথে জড়িত অনেক নেতা কোনো-না-কোনো পক্ষকে ইন্ধন দিতেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এ বিষয়গুলো বোঝেন না এমন নয়। এ কমিটি গঠনের আগে বেগম খালেদা জিয়া ছাত্রদলের নেতা হওয়ার প্রতিযোগিতায় আছেন, এমন সবার সাথে মতবিনিময় করেছিলেন। সেখানে তিনি অনেকের বক্তব্য শুনেছেন। কিছু কিছু প্রশ্নও করেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন এদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন ২৯ ডিসেম্বর বিএনপির মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি কর্মসূচির দিনে তারা কোথায় ছিলেন। বেশির ভাগের জবাব ছিল তারা জরুরি কারণে ঢাকায় ছিলেন না। কারো কারো নাকি পেটের পীড়াজনিত রোগ হয়েছিল। কেউ আবার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চাইলে হয়তো এক দিনের মধ্যে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট এনে দিতে পারতেন। কয়েকজন হাতেগোনা ছাত্র বলেছেন তারা জেলে ছিলেন। ২৯ ডিসেম্বর ভোরে কয়েকটি বালুর ট্রাক দিয়ে খালেদা জিয়ার বাড়ি আটকে দেয়া হয়েছিল। তিনি পতাকা হাতে বাসা থেকে বের হলেও গেট পার হতে পারেননি। বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় বক্তব্য রেখেছেন। সেদিন ঢাকা শহর কড়া নিরাপত্তায় ছিল। ঢাকার বাইরে থেকে যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছিল।   এর মধ্যে মালিবাগে ছাত্রশিবির একটি মিছিল বের করেছিল। সেখানে পুলিশের গুলিতে একজন শিবিরকর্মী নিহত হন। ‘দেশ গড়েছেন শহীদ জিয়া,নেত্রী মোদের খালেদা জিয়া’ স্লোগান দেয়ার মতো লোক খুঁজে পাওয়া যায়নি; বরং পুলিশ-বেষ্টনীর মধ্যে বেকুবের মতো ‘নারায়ে তকবির’ স্লোগান দিয়ে একজনের প্রাণহানি হয়েছিল। কিন্তু মালিবাগে আরো অনেকের আশার কথা ছিল, তারা কেউ আসেননি। বাসায় বসে টেলিভিশনে খালেদা জিয়ার বন্দিদশা দেখে তাদের রক্ত টগবগ করেছে; কিন্তু বাসার নিচে নামার সাহস হয়নি। এর আগে খালেদা জিয়াকে বাসা থেকে বিতাড়িত করার পরও ছাত্রদলকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বলা হয়ে থেকে আপসহীন নেত্রীর চোখে পানি এ দেশের মানুষ মাত্র দুইবার দেখেছিল। একবার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর, দ্বিতীয়বার স্বামীর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার পর। নেত্রীর চোখে পানি দেখার পর ছাত্রদলের তরুণেরা আবেগতাড়িত হয়ে প্রতিরোধের শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। সেদিনও ঢাকা শহরে একটি মিছিলও হয়নি। কোনো প্রকার প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ছাড়াই যখন সরকার এ দু’টি কাজ সমাধা করতে পারে, সে সরকারের কাছে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন খুব বড় কোনো সমস্যা ছিল না। হ্যাঁ সমস্যা হয়েছিল, তবে ঢাকার ছাত্রদলের নেতাদের নিয়ে নয়, গ্রামের মানুষকে নিয়ে; যারা প্রকৃতপক্ষে খালেদা জিয়াকে ভালোবাসেন। খালেদা জিয়ার চোখে পানি দেখে তাদের চোখও ভিজে গিয়েছিল। এই গ্রামের মানুষই বারবার সর্বাধিক ভোটে তাকে বিজয়ী করেন, যারা জিয়াউর রহমানকেও এখনো ভুলে যাননি। বেগম খালেদা জিয়ার কথায় তারা ভোট বর্জন করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, ভোট প্রতিরোধ করেছিলেন। দলীয় প্রধানের সর্ব্বোচ্চ বিপদে যে ছাত্রসংগঠনের নেতারা মাঠে নামতে পারেন না, তারা কিভাবে দাবি করতে পারেন খালেদা জিয়ার অনুমোদিত কমিটি দিয়ে আন্দোলন হবে না। তাদের এই দাবি যদি সত্যি বলেও প্রমাণ হয়, তারপরও তারা নৈতিকভাবে এ কথা বলার অধিকার রাখেন না। পল্টনে একজন বিদ্রোহী নেতা বলেছেন, তারা নাকি রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতন ঘটাবেন। এর আগে তারা নিজেদের ঘর  ঠিক করবেন। এরা যে কার ঘর  শক্ত করছেন পুলিশের ভূমিকা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়। পল্টনের অফিসে যেখানে বিএনপির সিনিয়র নেতারা চেয়ার নিয়ে বসতে পারেন না; অফিসের দরজা ভেঙে পঙ্গু রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় সেখানে এক সপ্তাহ ধরে রাস্তা বন্ধ করে মিছিল-স্লোগান হয়, ককটেল ফাটে; কিন্তু পুলিশ নীরব দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। ছাত্রদলের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশ এখন সহযোগী। বাহ্ চমৎকার!   এমন পরিস্থিতির জন্য শুধু বিদ্রোহীরা দায়ী তা নন, পদবঞ্চিত নেতারা ছাত্রদলের সাবেক দুই সভাপতি শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি ও সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন। এই দুই নেতা ছাত্রদলের কমিটি গঠনে কমবেশি ভূমিকা রেখেছেন। এখন তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা এড়িয়ে যাওয়ার নয়। এ দ্ইু নেতার বিরুদ্ধে নানা ধরনের দুর্নীতির গুঞ্জন রয়েছে। ছাত্রবিষয়ক সম্পাদকের কারণে যদি সংগঠনে বিভেদ-বিভাজন বাড়তে থাকে তাহলে সে অভিভাবকত্ব কী কাজে লাগবে? প্রকৃতপক্ষে যাদের ওপর দল গঠনের দায়িত্ব পরে তারা যদি কোটারি স্বার্থে সংগঠনকে ব্যবহার করার চেষ্টা করেন তাহলে তা শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহে রূপ নেয়া স্বাভাবিক। কারণ, বিএনপি ক্যাডারভিত্তিক কোনো সংগঠন নয় কিংবা আওয়ামী লীগের মতো কর্তৃত্ববাদী দলও নয়। ছাত্রদলের সাবেক কয়েকজন সভাপতি যেভাবে ধন-সম্পদের মালিক বনে গেছেন, তাতে ছাত্রদলের কমিটির সদস্য হওয়া অনেকের কাছে ক্যারিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ছাত্রদলের বিদ্রোহীরা অভিযোগ করেছেন নতুন কমিটিতে নাকি ছাত্রলীগ ঢুকে পড়েছে। যদি ছাত্রলীগ ঢুকে পড়ে বিএনপির জন্য তাতেও কোনো সমস্যা আছে বলে মনে হয় না। কারণ, যারা প্রকৃত ছাত্রদলের বলে দাবি করছেন তারাই বা গত সাত বছরে ছাত্রলীগের মোকাবেলায় কী করেছেন? তাহলে ছাত্রলীগ ঢুকল, না অন্য কোনো ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী ঢুকল তাতে কী-ই বা আসে-যায়। এ ছাড়া বিএনপির কোনো কোনো নেতা তো বিএনপির নামে আওয়ামী লীগের রাজনীতি চালু করতে চান। দলের নাম বিএনপি হলেও রাজনীতি হবে আওয়ামী লীগের সেকুলার রাজনীতি। এতে নাকি বিদেশী সমর্থন নিয়ে দ্রুত ক্ষমতায় যাওয়া যেত। এরাই খালেদা জিয়া সিঙ্গাপুরে থাকা অবস্থায় শাহবাগের সমর্থনে বিবৃতি দিয়েছিল। পিয়াস করিমের মৃত্যুর পরের ঘটনা থেকে হয়তো তারা উপলদ্ধি করতে পারছেন, উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদের সাথে আওয়ামী সেকুলারিজম এক ঘোরতর মৌলবাদী বিশ্বাসে রূপ নিয়েছে। এখানে যতই আওয়ামী লীগের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে ততই আওয়ামী লীগ তাদের গুরুত্বহীন করবে, এমনকি সামাজিক মর্যাদাও দেবে না। ছাত্রলীগের কর্মীরা যদি ভোল পাল্টিয়ে ছাত্রদলে যোগ দেন তাহলে এদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার মতো নেতার অভাব হবে না। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে যখন ছাত্রদল গঠন করেন, তখন তার রাজনৈতিক ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য ছাত্রসংগঠন গঠনের প্রয়োজন ছিল না। তখন তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিলেন। ১৯৭২-৭৪ সালের দুঃশাসন ও গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য মানুষ একজন রাষ্ট্রনায়ক খুঁজছিল। ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সেই রাষ্ট্রনায়কের আবির্ভাব ঘটেছিল। রাষ্ট্রের দায়িত্বভার গ্রহণের পর তিনি বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের সাথে খুব সহজভাবে মিশেছেন। গণমানুষকে সাথে নিয়ে তার মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা এই কাজকে আরো সহজ করে দিয়েছিল। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একজন রাষ্ট্রনেতা হিসেবে পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাপারে তিনি সমান মনোযোগী ছিলেন। মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সাথে কথা বলতেন। এ জন্য তাদের জন্য আয়োজন করেছিলেন নৌবিহারের। তিনি উপলদ্ধি করেছিলেন একটি আধুনিকমনস্ক, জাতীয়তাবোধে উজ্জীবিত ছাত্রসংগঠন গড়ে উঠবে। এ কারণে আমরা দেখছি ৮০-এর দশকে মেধাবী ও আধুনিক উদ্যমী অনেক তরুণকে ছাত্রদলে যোগ দিতে। তার এই অনুপ্রেরণায় গড়া ছাত্রসংগঠনের সুফল পাওয়া গেছে গোটা এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের সরব উপস্থিতি। সে সময় অনেক ছাত্রদল নেতাকর্মী ত্যাগ স্বীকার করেছেন। পঙ্গু হয়েছেন, দীর্ঘ সময় জেল খেটেছেন। সেই ছাত্রদল এখন আদর্শহীন রাজনীতির উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছাত্রদলের নামে পল্টনে জিয়াউর রহমানের মুর‌্যালে যখন আঘাত করা হয়, তখন কবর থেকে জিয়াউর রহমান হয়তো আক্ষেপ করেন, এই তরুণদের জন্য কী ছাত্রসংগঠন গড়ে এসেছিলাম? বাস্তবতা হলো, এই ছাত্রদল জিয়াউর রহমানকে ভুলে গেছে। দুর্ভাগ্য, এরাই এখন ছাত্রদলের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছেন। তবে বলতেই হবে, ছাত্রদলের এই পরিস্থিতির জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের দায় নিতে হবে। কেন সবাই ছাত্রদলের নেতা হতে চায়, তা আগে অনুধাবন করা দরকার। আওয়ামী লীগের রাজনীতি যদি বিএনপি নেতারা প্রমোট করতে চান, তাহলে ছাত্রদলের অবস্থা আগামী দিনে ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে।  

বিস্তারিত»

এক্সক্লুসিভ

‘ফোর্সড ডিজঅ্যাপেয়ারেনসেস সার্জ ইন বাংলাদেশ

সিলেটের আলাপ ডেস্ক:গুম বেড়েছে বাংলাদেশে। যারা গুম হচ্ছেন তার বেশির ভাগই বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী। জবাবদিহির ঘাটতি থাকায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর হাতে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের অপহরণের সংখ্যা বেড়েছে। নিজেদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছে র‌্যাব। গতকাল অনলাইন আল জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়। ‘ফোর্সড ডিজঅ্যাপেয়ারেনসেস সার্জ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনটির লেখক ডেভিড বার্গম্যান। এতে বলা হয়েছে, স্থানীয় মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অধিকার-এর মতে গত দু’বছরে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বাংলাদেশে অপহরণ করেছে ৭৫ জনকে। এর মধ্যে ২৮ জন অপহরণের পর ফিরে এসেছে। ১২ জনকে পাওয়া গেছে মৃত অবস্থায়। বাকি ৩৫ জন এখনও নিখোঁজ। প্রত্যক্ষদর্শীরা এসব অপহরণের জন্য দায়ী করেছেন র‌্যাব অথবা পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রায় এক বছর আগে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে কালো পোশাক পরা কিছু লোক জোর করে তুলে নিয়ে যায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থানীয় নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনকে। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি কোথায় আছেন কেউ জানে না। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, আধা সামরিক বাহিনী র‌্যাবের পোশাক পরা কিছু লোক সুমন ও অন্য ৬ জনকে মাথা ঢেকে জোর করে তাদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এর মধ্যে ছিলেন সুমনের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় তানভির। তাদেরকে গাড়িতে তুলে নেয়ার পর পরই গাড়ি ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত চলে যায়। এ জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ গবেষক আব্বাস ফয়েজ বলেন, নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে সুদূরপ্রসারী ও কঠোর অবস্থান নিতে হবে। এসব মামলায় তাদের জবাবদিহির যে অভাব রয়েছে তার ইতি ঘটাতে হবে। অপহৃত সাজেদুল ইসলাম সুমনের ছোট বোন সানজিদা বলেন, ভাইয়াকে তুলে নেয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যে আমার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা উত্তরায় র‌্যাব-১ অফিসে যান। কিন্তু সেখানকার ডিউটি অফিসার এ ঘটনায় র‌্যাব জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। তিনি আরও বলেন, সুমন কোথায় থাকতে পারেন সে বিষয়ে কোন তথ্য নেই তাদের কাছে। ওই ঘটনার পর অপহৃতদের কাউকেই আর দেখা যায় নি। ওদিকে সুমন অপহরণের পর পরিবারের সদস্যরা র‌্যাবের কাছে কোন সদুত্তর না পেয়ে থানায় যান। সেখানেই তারা একই জবাব পান। এমনকি তাদেরকে লিখিত অভিযোগ দিতেও দেয়া হয় না। সানজিদা বলেন, পুলিশ আমাদেরকে বলে যে- আপনারা শুধু এটুকু লিখতে পারেন যে, সুমন বাড়ি থেকে চলে গিয়েছেন। তারপর তিনি ফিরে আসেন নি। তিনি নিখোঁজ। প্রকৃতপক্ষে যা ঘটেছিল তারা তা লিখতে দিচ্ছে না। র‌্যাবের বিরুদ্ধে তারা কিছু লিখতে দিচ্ছিল না। ডেভিড বার্গম্যান আরও লিখেছেন, মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের মতে, আগের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণের চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছরের এপ্রিলে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করা হয় সাতজনের মৃতদেহ। তাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এ ঘটনার চারদিন আগে তাদেরকে অপহরণ করেছিল র‌্যাবের কিছু সদস্য। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় হয়। হাইকোর্টের বিরল হস্তক্ষেপে র‌্যাবের ৯ সদস্য এখন আটক আছে। তদন্ত চলছে পুলিশের। অধিকার-এর সম্পাদক আদিলুর রহমান খান বলেন, এমন গুমের সঙ্গে পুলিশ বা অন্য কোন তদন্তকারী সংস্থার যে কোন রকম সম্পৃক্ততা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। যেসব মানুষকে গুম করা হয়েছে তাদের বেশির ভাগই বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। সাজেদুল ইসলাম সুমন ছিলেন ঢাকার শাহীনবাগ এলাকার বিএনপির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তার বোন সানজিদা বিশ্বাস করেন- রাজনীতি করার কারণেই তার ভাইকে অপহরণ করা হয়েছে। নিজের এলাকায় সুমন ভাল একজন রাজনৈতিক সংগঠক ছিলেন। নিজেদের পরিবারের অবস্থা প্রকাশ করতে এমন গুমের শিকার পরিবারগুলো এখন একজোট হওয়ার চেষ্টা করছে। সুমনের মা এ জন্য নতুন একটি গ্রুপ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘মাদারস কল’ বা মায়ের ডাক। এক্ষেত্রে সুমনের মাকে সহায়তা করছেন সানজিদা। যে সব ব্যক্তিকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন অপহরণ করেছে তাদেরকে নিয়ে এ সংগঠন দাঁড় করানো হচ্ছে। ৬০ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রুহুল আমিন চৌধুরী। তার ছেলে আদনান চৌধুরীকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনা ঘটে ২০১৩ সালের ৫ই ডিসেম্বর। ওই দিন মধ্যরাতের দিকে শাহীনবাগের বাসা থেকে তাকে তুলে নেয়া হয়। তার বাড়িতে বেশ কিছু লোক প্রবেশ করে সে রাতে। এ সময় তাদের অনেকে ছিল সশস্ত্র। কারও কারও পরনে ছিল র‌্যাবের পোশাক। রুহুল আমিন চৌধুরী বলেন- তারা আমার কাছে জানতে চায় আমার ছেলের বেডরুম কোনটি। আমি তাদেরকে দেখিয়ে দিই। তারপর তারা আমাকে আমার রুমে বসতে বলে। তারা আমার টিনশেডের বাসার সবগুলো রুম তল্লাশি করে। তারা বলে যে, আমরা আদনানকে নিয়ে যাচ্ছি। সে পরের দিন সকালে ফিরে আসবে। সুমনের মতো আদনানও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সকালে আদনান ফিরে না এলে তার পিতা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, এ সময় তিনি র‌্যাব কার্যালয় সহ বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অফিসে, গোয়েন্দা অফিসে ও থানায় গিয়েছেন। কিন্তু কেউই তাকে কোন তথ্য দিতে পারে নি। রুহুল আমিন বলেন, কেউ আমার সন্তানের খোঁজ দিতে না পারায় আমি হতাশ হয়ে পড়ি। যখন আমি দেখেছি, এলাকার অন্য মানুষ দেখেছে কিভাবে আদনানকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তখন কিভাবে র‌্যাব ও অন্যরা মিথ্যা বলতে পারে? তারা তো আমার ছেলেকে ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তারা আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। উচ্চ শিক্ষার জন্য মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা ছিল আদনানের। ৫ই ডিসেম্বর শুধু আদনানকেই নিয়ে যাওয়া হয় নি, বিএনপির আরেকজন সমর্থক কাওসার আহমেদকেও তুলে নেয়া হয়। তারপর থেকে তাদের কাউকেই আর দেখা যায় নি। এসব ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে র‌্যাব। র‌্যাবের মিডিয়া ও লিগ্যাল উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, এসব ঘটনায় র‌্যাব মোটেও জড়িত নয়। মানুষ বলতে পারে যে, তারা র‌্যাবের গাড়ি দেখেছে। কিন্তু ঘটনা তা নয়। যখন আমরা কাউকে আটক করি তাদেরকে আমরা আইনি পদক্ষেপ নিতে তুলে দিই পুলিশের কাছে। এ মাসের শুরুর দিকে বাংলাদেশে গুম বৃদ্ধির নিন্দা জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এ সংস্থার বাংলাদেশ গবেষক আব্বাস ফয়েজ বলেন, নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা গুমের জন্য দায়ী থাকলেও তারা তা অস্বীকার করে। এটা একটি বিরক্তিকর প্রবণতা। বাংলাদেশে গুমের ঘটনার তদন্ত বিরল ঘটনা। যথারীতি পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে মামলা তখনই নেয় যদি আদালত তদন্ত করার নির্দেশ দেন। তারপরও পুলিশ খুব সামান্যই তদন্ত করে।  

বিস্তারিত»

মতামত

চোরাচালানের রাহু গ্রাসে দেশ

যে কোন দেশের স্বাধীনতা সাবভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক উন্নতির প্রথত শর্ত সীমান্ত রক্ষা করা। কিন্তু এই জাতির দূর্ভাগ্য বিদেশে বিশেষ করে ভারতীয় শিল্পজাত এবং কৃষি পন্য এদেশে অবাধে প্রবেশ করছে। ফলে ভারতীয় পন্য বাংলাদেশের বাজার নিয়ন্ত্রন করছে। ভারতীয় পন্যের সাথে বাংলাদেশের কৃষি ও শিল্প পন্য প্রতিযোগীতায় টিকতে না পারায় দেশের শিল্প ও কৃষি ব্যাবস্থা প্রায় ধ্বংসের মুখে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। শহর গ্রামে বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি নানা রকম সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। আল্লাহতায়ালা সকল সমাজে ও রাষ্ট্রে একই ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও আবহওয়া সৃষ্টি করেনি। আমাদের প্রতিবেশী ভারত একটি বিশাল দেশ। তাদের দেশে তামা, লৌহ কয়লাসহ নানা রকম রাসায়নিক পদার্থ ও শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাচামাল প্রচুর পাওয়া যায়। অপর দিকে আমাদের দেশে এধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও কাচা মাল বিদেশ থেকে উচ্চ মুল্যে আমদানী করতে হয়। ফলে এই ধরনের শিল্পপন্য ভারত আমাদের চেয়ে কম মুল্যে দিতে পারে। তাই ভারতীয় পন্য যাতে অবাধে আমাদের দেশে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে নজর রেখে বানিজ্য নীতি গ্রহন সহ সীমান্ত কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রন করতে হবে। যাতে করে ভারতীয় পন্য চোরাপথে আমাদের দেশে প্রবেশ করতে না পারে।  আমাদের সদ্য স্বাধীন দেশটিকে অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত করতে হলে আমাদের শিল্প এবং কৃষিতে বিপ্লব আনতে হবে।  তবেই স্বাধীনতার স্বপ্ন পুরন হবে। কিন্তু অর্থনীতি তো দুরের কথা আমরা অর্থনৈতিক কাঠামোই গড়ে তুলতে পারলামনা।  দেশের সিংহভাগ মানুষ খাদ্য বস্ত্র, বাসস্থান শিক্ষা চিকিৎসার অভাবে জীবনের র্অথ না বুঝেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিচ্ছে। প্রখ্যাত অর্থনীতিবীদ রুষ্ট্রো  বলেছেন, অর্থনৈতিক সাম্য ছাড়া রাজনৈতিক সাম্য র্অথহীন।আমাদের দেশে অর্থনৈতিক সংকটের অনেক কারন আছে। তবে আমাদের দেশের অর্থনীতির প্রধান সমস্যা চোরাচালান। আর এই সব স্মাগলাররাই সমাজে বীর দর্পে বিচরন করছে এবং এরাই জাতীয় সম্পদ ও রাষ্ট্রকে বহুলাংশে নিয়ন্ত্রন করছে। আর এই সব স্মাগলাররা বিদেশে বিভন্ন মাফিয়া দলের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে  বীরদর্পে বিদেশী বিশেষ করে ভারতীয় পন্য অবৈধভাবে আমাদের দেশে আমদানী করছে। সরকার এদেরকে প্রতিরোধ না করে বরং সহযোগীতার মনোভাব নিয়ে সীমান্ত খুলে দিয়েছে।  আগে ভারতীয় পন্য আসতো গোপনে এখন আসছে দিবালোকে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর নাকের ডগার উপর দিয়ে। বাংলাদেশের শহরে বন্দরে, গ্রামে গঞ্জে ভারতীয় পন্যের সমারোহ দেখলে মনে হয় বাংলাদেশে ভারতীয় পন্যের মেলা বসেছে। ভারতীয় পন্যে বাংলাদেশের বাজার সয়লাব হয়ে যাওয়ার  ফলে দেশের শিল্পজাত পন্য যেমন কাপড় , সুতা, চিনি লবন, দিয়াশলাই, সাইকেলসহ অন্যান্য শিল্পজাত পন্য বিক্রেতার অভাবে গুদামজাত হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে সরকারে ও বেসরকারী মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। মিল মালিকরা শিল্প কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে।  ফলে হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ছে। অন্যরা দেশে মিল কারখানা গড়ে  তুলতে সাহস পাচ্ছে না। এরই ফলশ্রুতিতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কোন নতুন কর্মসংস্থান গড়ে তোরা সম্ভব হচ্ছে না। দক্ষিন কোরীয়া মালেশিয়া. শিঙ্গাপুর ভিয়েতনাম আমাদের পরে স্বাধীন হয়েছে, অথচ তারা দ্রুত উন্নতির দিকে ধাবিত । এইসব দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির প্রধান কারন তাদের দেশে প্রচুর বৈদেশিক  বিনিয়োগ ও সরকারী ভাবে সঠিক বানিজ্যনীতি ও শিল্প পরিকল্পনা ও তার শুষ্ঠু প্রয়োগ। আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতি করতে হলে আমাদের সমাজে বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। রাজনৈতিক স্থীতিশীলতা, নিরাপত্তার অভাবে বিদেশীরা আমাদের দেশে অর্থ বিনিয়োগ করতে চায় না। সেই  সাথে আমাদের দেশে ভারতীয় পন্যের অভাব বিচরনের ভয়েও অনেক কোম্পানি আমাদের দেশে আসতে চায় না।  বর্তমানে ভারতীয় শিল্প পন্যের পাশাপাশি ভারতীয় কৃষি পন্যে আমাদের বাজার পরিপূর্ন। ভারতী কৃষি পন্যের সাথে এই দেশীয় কৃষকরা প্রতিযোগীতায় টিকতে না পারায় গ্রামের বেকার, কৃষক ও যুবকরা শহরের দিকে ছুটছে কাজ, চাকরি ও ব্যবাসর জন্য। ফলে শহরের উপর চাপ বাড়ছে প্রচন্ড। ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরে নতুন নতুন বস্তি গড়ে উঠছে। কর্মের এবং অর্থের  অভাবে এইসব যুবকরা   হাইজ্যাক, ডাকাতি, চুরি ছিনতাই সহ নানা রকম সন্ত্রাসী কাজে যুক্ত হয়ে পড়ছে। এরই পাশে এইসব যুবকেরা ফেনসিডিল, হেরোইন সহ নানারকম মাদকদ্রব্যে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। সমাজ বিজ্ঞানীরা সমাজ বিরোধী কার্যকলাপ, নারী ও শিশু নির্যাতন বৃদ্ধির জন্য, বেকারত্ব ও বস্তি এলাকা নোংরা পরিবেশকে বহুল অংশে দায়ী করেছেন। বস্তি এলাকার নোংরা পরিবেশ সমাজ বিরোধী কার্যকলাপকে উৎসাহিত করে। এইসব বেকারদের অনেকেই চোরাচালানের গড ফাদারদের সহযোগী হয়ে কাজ করছে। সমাজ বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে দেখলে দেখা যায়-চোরাচালান শুদু আমাদের র্অথনীতিই ধ্বংস করছে না, ধ্বংস করছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও। আগামী দিনের জাতীর সবচেয়ে  বড় সম্পদ যুব সমাজ, যারা দেশকে গড়ে তুলবে। তাদেরকে ধ্বংসের জন্য ভারত থেকে শিল্পজাত পন্যে পাশাপাশি ফেনসিডিল, হোরোইন, প্যাথিড্রিনসহ নানা রকম ক্ষতিকর মাদকদ্রব্য  আমদানী করে যুবকদের হাতে তুলে দিচ্ছে নৈতিক মুল্যবোধ ও ধর্মীয় অনুশাষনকে উপক্ষা করে, শুধু কিছু অর্থের লোভে। ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় পৃথিবীর  যে সব রাষ্ট্র ও সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ যারা রাষ্ট্র ও সমাজকে নিয়ন্ত্রন করে তারা যদি শুধু ক্ষমতার লোভে নৈতিক মুল্যবোধকে উপেক্ষা করে তবে সেই সমাজে সমাজিক মুল্যবোধের অবক্ষয় হয় এবং একসময় সে দেশে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় ধ্বস নামে।  আমাদের দেশে বেশ কিছু রাজনীতিবীদ আছেন যাদের মনোভাব রাজনীতির মহৎ উদ্দেশ্য দেশ ও সেবা  মানব কল্যান বড় কথা নয়; রাজনীতির নামে দূর্নীতির ব্যবসা চালিয়ে  যাওয়া, জনগনের সম্পদ ভোগ করা। এদের মধ্যে  অনেকেই চোরাচালানের গড ফাদারের ভুমিকা পালন করছে। এদের থেকে উৎসাহিত হচ্ছে প্রশাসন। যার ফলে সমাজে দূর্নীতি ও চোরাচালান দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। এদের রুখবে কে? এক শ্রেনীর কিছু শিল্পপতি আছে যারা শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠার নাম করে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋন নেয়। এদের অধিকাংশই ঋন খেলাপী। এরা শিল্পকারখানা  স্থাপন না করে বিদেশ থেকে বিশেষ করে ভারত থেকে চোরাচালীর মাধ্যমে বিভিন্ন মালামাল আমদানী করছে; ফলে দেশ রসাতলে যাচ্ছে। তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। তাদের চাই শুদু র্অথ, বিলাসিতা আর ভোগের মাধ্যমে জীবনকে পরিপূর্ন করা। এদের পাশাপাশি এক শ্রেনীর অসাদু বিডিআর এবং পুলিশ কর্মকর্তা আছেন যাদের উপর ন্যাস্ত রয়েছে সীমান্ত রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব; যাদের কর্তব্য চোরাচালান ও দেশের সম্পদ রক্ষা করা। এরা এসব মহান দায়িত্ব কর্তব্য এড়িয়ে হারাম অর্থের জন্য চোরাকারবারী ও সম্পদ পাচারকারীদের সঙ্গে ব্যাবসায়ীক সর্ম্পক গড়ে তুলছে। ভারতের পন্যের আমদানীর পাশাপাশি আমাদের দেশের মুল্যবান সম্পদ সীমান্তের ওপারে নির্বিচারে পাচার হয়ে যাচ্ছে। কুষ্টিয়া শহরের বড়বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পিতল, তামা, কাসা মুল্যবান শিলাখন্ড সহ বিভিন্ন রকমের ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী ভারতে পাচার হচ্ছে। হুন্ডির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সম্পদ সীমান্তের ওপারে চলে যাচ্ছে দেদারচ্ছে। পুলিশ এসব চক্রের সবাইকে খুবভালো ভাবেই চেনে অথচ এদের বিরুদ্ধে আইন গত কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদের রক্ষক হিসাবে কাজ করছে। নির্ভর যোগ্য সুত্র মতে কুষ্টিয়ার মজমপুর হতে দৌলতপুর রোড, বটতৈল হতে পোড়াদহ রোড মাদক দ্রব্যসহ সকল পন্যের চোরাচালান ও সম্পদ পাচারের জন্য সব থেকে নিরাপদ রুট হিসাবে বিবেচিত। আর্ন্তজাতিক মাফিয়া চক্র এই সব পথ দিয়ে মংলা বন্দর হতে বিভিন্ন সামুদ্রিক জাহাজের মাধ্যমে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে এসব মালামাল ও মাদকদ্রব্য অবাধে পাচার করছে। পুলিশ বাহিনী একটু সৎ ও সঠিক হলে এসব চোরাকারবারীদের সমুলে রোধ করা কোন কষ্টকর ব্যাপার নয়। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে এই রকম মহৎ সদিচ্ছার খুবই অভাব বরং হরহামেশাই এই রকম দেখা যায় যে, পুলিশ বাহিনী পাহারা দিয়ে এই সব জঘন্য চোরাচালানীদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়। সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত অধিকাংশ বিডিআর কর্মকর্তারাই চোরাচালানীদের সাথে আতাঁত করে সঠিক দায়িত্ব পালন করে না। আর এভাবেই আমাদের দেশ আজ ভারতীয় পন্য বাজারে পরিনত হয়েছে। ফলে র্অথনীতি ও শিল্প প্রতিষ্ঠান মুখ থুবড়ে পড়েছে। আস্তে আস্তে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে চোরাচালান ও  সম্পদ পাচারের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা যায়। সর্বাগ্রে এবিষয়ে সরকারের দায়িত্ব মুখ্য, তবে জনগনের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। এ ক্ষেত্রে  সরকার জনগনকে দেশাত্মবোধ ও দেশপ্রেম সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সঠিক প্রচার এবং কার্যকর ব্যবস্থা  গ্রহন করবে।   কিন্তু বর্তমান সময়ে সরকার তার দায়িত্ব সমন্ধে সচেতন নয় বলে মনে হয়। কারন বর্তমানে চোরাচালান বৃদ্ধি পেয়েছে। সীমান্তের দরজা খোলা। ভাবখানা দেখে দনে হচ্ছে সরকার বাহাদুর এখন পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রকে খুশি করতে ব্যস্ত। কিন্তু সরকারকে জানা দরকার এভাবে চলতে থাকলে দেশটা নিশ্চিত ধ্বংসের দ¦ার প্রান্তে গিয়ে ঠেকবে। তখন খাঙা স্তুপ আর শ্মশানের উপর দাড়িয়ে  শাসন করবেন কাদের?  গাছ কেটে গাছের গোড়ায় পানি ঢাললে ফলাফল হবে শুন্য। অতএব অন্যকে খুশি করার বদৌলতে নিজেকে ধ্বংস করার থেকে এবার নজর টাকে বাইরে ঘুরিয়ে নিজের দেশের দিকে তাকান। সীমান্তটাকে কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রনের ব্যাবস্থা নিন, প্রয়োজন হলে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করুন। চোরাকারবারী, পাচার কারীচক্র, রাজনীতিবীদ, বিডিআর, পুলিশ যেই হোক না কেন তাদেরকে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির ব্যাবস্থা নিতে হবে। নিরেপক্ষ ভাবে কঠোর বিচারের ব্যবস্থা নিলে এ সমস্যার সমাধান করতে খুব বেশী সময় লাগবে না বলে মনে হয়।  এ সংকটময় পরিস্থিতিতে সমাজে দায়িত্ব বান লোকদের  আর চুপ করে বসে থাকলে চলবে না। এই সব সমাজ বিরোধী ব্যক্তিদের  সামাজিক ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এদের বোঝাতে হবে সমাজ এদের ঘুৃনা করে, দেশের শত্রু মনে করে। যেহেতু সরকার কর্তৃপক্ষের এই দিকে কোন নজর নেই সেহেতু দেশপ্রেমিক জনগনই এখন একমাত্র ভরসা।এখন শুধু জনগনই পারে এই সব ঘৃন্য সমাজ বিরোধীদের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়তে। আশা করি জাতীয় স্বার্থে দেশবাসী চোরাচালান ও দেশী পন্য পাচারকারীদের গনপ্রতিরোধ গড়ে তুলবে। লেখক, কলামিস্ট ও রাজনীতিবিদ ও সমাজ গবেষক - অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন।    

বিস্তারিত»

বিনোদন

এক ফ্রেমে বিগ-বি, রজনীকান্ত, শচিন

চেন্নাই: এক ফ্রেমে বিগ-বি অমিতাভ বচ্চন, সুপারস্টার রজনীকান্ত, মাস্টার-ব্লাস্টার শচিন টেন্ডুলকার৷ ব্যস, ইন্ডিয়ান সুপার লিগের হাইপ বোঝার জন্য এটুকুই যথেষ্ট৷ মঙ্গলবার চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে আইএসএল-এ চেন্নাইয়িন এফসি এবং কেরল ব্লাস্টার্স-এর মধ্যে খেলায় এমন দৃশ্যই দেখা গেল৷ টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কোথাও যেন প্রচ্ছন্ন ভাবে আইপিএল-কে টেক্কা দেয়ার একটা প্রচেষ্টা৷ মাঠের ভিতর যেমন কিংবদন্তিরা বল নিয়ে লড়াই চালাচ্ছেন, ঠিক তেমনই মাঠের বাইরে দর্শকাসনে বিভিন্ন জগতের রথী-মহারথীরা সেই লড়াই তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছেন৷ একসঙ্গে এত তারকার সমাবেশ ক্রিকেট ছাড়া ভারতে আর কোনো খেলার মাঠে সচরাচর দেখা যায় না৷ পুত্র অভিষেক বচ্চন চেন্নাই দলের অন্যতম মালিক৷ ছেলের দলকে সমর্থন করার জন্য স্বশরীরে গ্যালারিতে হাজির বলিউডের শাহেনশা৷একই ভাবে নিজের শহর চেন্নাই-এর দলকে সমর্থন করতে হাজির রুপালি পর্দার দক্ষিণী কিংবদন্তি রজনীকান্ত৷ প্রথমে দুজনের মধ্যে সৌজন্য বিনিময়৷ তারপর চেন্নাইয়ের জন্য একসঙ্গে গলা ফাটানো৷ এবং দলের জয় উপভোগ৷ শচিন তাদের পাশে থাকলেও নিজের দলের হার দেখতে হলো মাস্টার-ব্লাস্টারকে৷শেষে মাঠে নেমে পেনাল্টি শুট আউটে বাবাকে হারালেন অভিষেক৷ যা দেখে দর্শকদের পয়সা উশুল৷- ওয়েবসাইট।

বিস্তারিত»

স্বাস্থ্য ও রুপচর্চা

নিয়মিত কোমল পানীয় পানে আয়ু কমে!

নিউ ইয়র্ক: নিয়মিত যারা কার্বোনেটেড সোডাযুক্ত কোমলপানীয় গ্রহণ করে, তাদের ডিএনএ পরিবর্তিত হয়ে যায়। শুধু তা-ই নয়, এসব মানুষের স্নায়ুকোষের বয়স বেড়ে যায় চার বছর। অর্থাৎ তারা স্বাভাবিকের তুলনায় চার বছর আগে মৃত্যুবরণ করবে। সম্প্রতি আমেরিকার একটি গবেষণায় এমনটিই জানা গেছে। খবর আরটি নিউজের। নিয়মিত কোমলপানীয় গ্রহণকারী ২০ থেকে ৬৫ বছর বয়সী পাঁচ হাজার ৩০০ জন স্বাস্থ্যবান মার্কিন নাগরিকের ওপর গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। এসব মানুষের ডায়াবেটিস বা হূদযন্ত্রের মতো কোনো রোগ ছিল না। কিন্তু নিয়মিত কোমলপানীয় গ্রহণের ফলে তাদের জৈবিক বয়স বেড়ে গেছে। এতে তাদের আয়ুষ্কাল কমে আসবে। আমেরিকান জার্নাল অব পাবলিক হেলথে প্রকাশিত ওই গবেষণাপত্রে আরো বলা হয়, মাত্রাতিরিক্ত ধূমপানের ফলে যেমন স্নায়ু কোষের বয়স বাড়ে, চিনিযুক্ত কোলা গ্রহণেও এমনটি ঘটে। মানুষের আয়ুষ্কাল নির্ধারণকারী ক্রোমোজমের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান টেলোমেরের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন। গবেষকরা বলেন, প্রত্যেক বোতল সোডা ধীরে ধীরে টেলোমেরের আয়ুষ্কাল কমিয়ে দিতে থাকে। এটি শুধু বয়সই বাড়ায় না, বরং ডায়াবেটিস, হূদরোগ ও ক্ষেত্রবিশেষে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে শুধু চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ই এমনটি ঘটায়। ডায়েট সোডা বা ফলের রস গ্রহণে কোষের বয়স বাড়ে না। নিয়মিত চিনিযুক্ত কোমল পানীয় পান স্থূলতা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যগত জটিলতার জন্যও দায়ী। এসব কারণে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য কোমল পানীয় নিষিদ্ধ করতে গত মাসে উদ্যোগ নেয় রাশিয়ার পাবলিক চেম্বার।

বিস্তারিত»

সম্পাদকীয়

ঈদুল আজহা মোবারক

আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের উৎসব কোরবানির ঈদ এল আবার। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর ঈদুল আজহা মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব। এই দিনে আল্লাহর সমীপে পশু কোরবানির মাধ্যমে তার নিকটবর্তী হয় প্রিয় বান্দারা। তাই কোরবানির আনন্দের পাশাপাশি আত্মোৎসর্গের মনোভাব ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য নিয়ে  পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। ইসলামি শরিয়াহ মতে, ঈদুল আজহায় সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের ওপর কোরবানি ওয়াজিব। তবে অসমর্থ বান্দাদের ওপর কোরবানির বাধ্যবাধকতা নেই। কোরবানির গুরুত্ব সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি সংগতি থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করল না, সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে।” আল্লাহর উদ্দেশে প্রিয় বস্তু উৎসর্গ করাই কোরবানি। যেমনটি করেছিলেন হজরত ইব্রাহিম (আ.)। আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার তাগিদে প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে কোরবানি দিতে গলায় ছুরি চালিয়েছিলেন তিনি। তার এই সীমাহীন ভক্তি ও ত্যাগের সদিচ্ছায় সন্তুষ্ট হয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইসমাইলের স্থলে একটি দুম্বা কোরবানি করিয়ে দেন। এরপর থেকে পশু কোরবানি করা আল্লাহর ‍প্রতি ভালোবাসা ও ত্যাগের প্রতীকী আচার হয়ে দাঁড়ায়। এর মাধ্যমে বান্দা তার সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য লাভের পাশাপাশি নিজের ভেতরের পশুশক্তি, কাম-ক্রোধ, লোভ ইত্যাদি রিপুও বিসর্জন দেয়। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, পশু কোরবানি যেন কোনো লোক দেখানো বা প্রতিযোগিতার বিষয় না হয়। শুদ্ধ নিয়ত ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার তাগিদ থেকেই পশু কোরবানি দিতে হবে। আর আমরা অবশ্যই নিয়ম মেনে কোরবানির গোসত বণ্টন করব। তিন ভাগের এক ভাগ দরিদ্রদের জন্য, এক ভাগ প্রতিবেশী-আত্মীয়স্বজনের জন্য এবং এক ভাগ নিজের জন্য রাখব। আল্লাহ বলেছেন, “আমার কাছে কোরবানির গোসত ও রক্ত কিছুই পৌঁছায় না। বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।” কোরবানির মাধ্যমে অন্তরের পবিত্রতা অর্জন করব কিন্তু পরিবেশের পবিত্রতার দিকটি অবহেলা করব, তা যেন না হয়। পশু কোরবানির পর রক্ত ও আবর্জনা নিজ উদ্যোগে পরিষ্কার করতে হবে। তা সে নগর হোক কিংবা গ্রাম। রক্ত ও আবর্জনা দ্রুত পরিষ্কার না করলে তা পচে দুর্গন্ধ ছড়াবে, যা পরিবেশদূষণ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। আর পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগের বিষয়টি তো আছেই। আমরা প্রতিবছরই কোরবানির পর দেখি, বিশেষ করে পশুর হাটের এলাকা ও স্থানীয় ভাগাড়ে পড়ে থাকা বর্জ্যের কারণে দুর্ভোগে পড়ে নগরবাসী। বর্জ সরাতে নগর কর্তৃপক্ষের চেষ্টা ও আয়োজন যথেষ্ট বলে প্রতীয়মান হয় না। সেটা তারা স্বীকারও করে নেন সীমাবদ্ধতার দোহাই দিয়ে। কিন্তু সব সময় এই দোহাই দেয়া কোনো কাজের কথা নয়। অবশ্যই দ্রুততম সময়ে বর্জ্য সরাতে হবে। আশা করি তারা সেভাবেই নিজেদের প্রস্তুতি সেরে রেখেছে। পবিত্র ঈদুল আজহা সবার জন্য মঙ্গল বয়ে আনুক। সিলেটের আলাপ ডট কমের পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা শুভানুধ্যায়ীদের জানাই ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।  

বিস্তারিত»

বিজ্ঞপ্তি

ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা

আনুগত্যের উজ্জ্বল মহিমায় ভাস্বর ঈদ উল আজহা।ঈদুল আজহার উদ্দেশ্য স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকা।কুরবানীর সঠিক তাৎপর্যকে উপলব্ধি করে যদি ধর্মপ্রাণ মানুষ কুরবানী দেয়, তাহলে ঈদ-উল-আজহার প্রকৃত উদ্দেশ্য সার্থক হবে। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে গাঢ় হয় পরস্পরের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা, ভালবাসা এবং শ্রদ্ধাবোধ। আল্লাহ্‌তায়ালা ধনী-গরীব সবার মাঝেই ঈদের আনন্দ সমান-ভাবে বন্টনের যে শিক্ষা দিয়েছেন তা সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমে এর তাৎপর্যকে তুলে ধরতে হবে। এই পবিত্র দিনে সিলেটের আলাপ ডট কমের সুপ্রিয় পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের  প্রতি আহবান, ত্যাগের মহিমায় উজ্জল ঈদুল আজহার দিনে আনন্দ উৎসবে ভরে উঠুক সকলের মনপ্রাণ। সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে, গরীব দুঃখীদের পাশে দাঁড়াই।। পবিত্র ঈদ-উল-আযহা  সবার জন্য বয়ে আনুক অনাবিল সুখ ও প্রশান্তি।                                                    সিলেটের আলাপ ডটকমের পক্ষে  সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ডাঃ আব্দুল আজিজ  সম্পাদক তোফায়েল আহমদ খান সায়েক  

বিস্তারিত»

শোক-সংবাদ

কুলাউড়ার সাংবাদিক মছব্বির আলীর বড় ভাইয়ের ইন্তেকাল

কুলাউড়া প্রতিনিধি : সাপ্তাহিক কুলাউড়ার ডাক পত্রিকার বার্তা সম্পাদক ও ডেইলি নিউ নেশন প্রতিনিধি এম মছব্বির আলীর বড় ভাই মোঃ মহরম আলী গত ২০ অক্টোবর সোমবার দুপুর ২টায় সিলেট নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ..............রাজিউন)। তিনি দির্ঘদিন থেকে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৫বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১ছেলে ২ মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। গতকাল সোমবার বাদ এশা তার গ্রামের বাড়ী উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের চাতলগাও এর নিকটস্থ মনসুর ঈদগাহ ময়দানে জানাযার নামাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ঈদগাহ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। শোক প্রকাশ ঃ মোঃ মহরম আলী এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও তাঁর শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে শোক বিবৃতি প্রদান করেছেন সাবেক এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ, সাবেক এমপি এম এম শাহীন, বিএনপি নেতা এডভোকেট আবেদ রাজা, কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আ স ম কামরুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান নারীনেত্রী নেহার বেগম, ভাইস চেয়ারম্যান ফজলুল হক খান সাহেদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও ভুকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম রেনু, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, কাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, শাহজালাল আইডিয়াল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ, কুলাউড়া পলি ক্লিনিকের চেয়ারম্যান ও সাপ্তাহিক কুলাউড়ার ডাক পত্রিকার সম্পাদক এ কে এম সফি আহমদ সলমান, জেলা জাপা সহ সভাপতি মোঃ খুরশীদ উল¬্যাহ ও জেলা জাপার সাংগঠনিক সম্পাদক এ এস এম ছিদ্দিক আহমদ লোকমান, কুলাউড়া প্রেসক্লাব সভাপতি এম শাকিল রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক মোঃ খালেদ পারভেজ বখ্শ, কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সভাপতি বদরুজ্জামান সজল, সম্পাদক জাফর আহমদ গিলমান, সাপ্তাহিক হাকালুকি সম্পাদক উপাধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান, কুলাউড়ার সংলাপ সম্পাদক প্রভাষক সিপার উদ্দিন আহমদ, দৈনিক সবুজ সিলেট ও বর্তমান প্রতিনিধি তারেক হাসান, সাপ্তাহিক আমার কুলাউড়ার সম্পাদক জীবন রহমান, রাশীদ আলী ফাউন্ডেশনের উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সভাপতি সাংবাদিক মোক্তাদির হোসেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত আলতবা আল আইন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও রাশীদ আলী ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন আনু, বঙ্গবন্ধু পরিষদের আল আইন জেলা কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক হাবিবুর রহমান ফজলু, গ্রীসস্থ সিলেট বিভাগীয় ফেডারেশনের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এম. আতিকুর রহমান আখই, সাপ্তাহিক হাকালুকির বার্তা সম্পাদক আব্দুল করিম বাচ্চু, সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল, দৈনিক যুগভেরীর কুলাউড়া প্রতিনিধি চয়ন জামান, দৈনিক সকালের খবরের কুলাউড়া প্রতিনিধি সাইদুল হাসান সিপন, দৈনিক উত্তরপূর্বের কুলাউড়া প্রতিনিধি আব্দুল কুদ্দুস, সাপ্তাহিক সীমান্তের ডাকের চীফ রিপোর্টার এস আলম সুমন, সাংবাদিক আব্দুল আহাদ, দৈনিক আমাদের অর্থণীতি প্রতিনিধি সেলিম আহমদ ও সাপ্তাহিক একুশের কন্ঠের কুলাউড়া প্রতিনিধি সোহেল আহমদ প্রমুখ।  

বিস্তারিত»

সাম্প্রতিক খবর সর্বাধিক পঠিত

জরিপ

Loading...

Archive