ভাগ্নেকে অপহরণ করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবী : নবীগঞ্জের পাহাড়ে র‌্যাব পুলিশের ২০ ঘন্টা শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান ভাগ্নে উদ্ধার : মামা গ্রেফতার

কিবরিয়া চৌধুরী:৪ বছরের ভাগ্নেকে অপহরণ করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করতে পারলনা লিটন আহমেদ মজুমদার (৪০)। নবীগঞ্জের পানিউমদার পাহাড়ী এলাকা থেকে অপহৃত শিশুকে উদ্ধার ও অপহরণকারী মামাকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল বিকেল ৩টার দিকে অপহৃতকে উদ্ধার করা হয়। অপহৃত শিশুটি হচ্ছে-শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মুসলিমবাগ আবাসিক এলাকার সৌদি আরব প্রবাসী নুরুল আমীনের শিশু পুত্র নাহিয়ান আল আমীন (৪)। অপহরণকারী মামা লিটন একই এলাকার মৃত ছালেহ আহমদ মজুমদারের পুত্র। গত ২৩ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে ভাগ্নেকে নিজের বাড়ি থেকেই অপহরণ করে মামা লিটন। ঢ়রপ ২যেভাবে অপহরণ ঃ শিশু নাহিয়ান আল আমীনের পিতা সৌদি প্রবাসী। নাহিয়ানের পিতার বাসা এবং মামার বাসা একই এলাকায়। গত ২৩ অক্টোবর নাহিয়ানকে নিয়ে তার মা হালিমা মজুমদার লাকি পিতার বাসায় যান। ১০টার দিকে মামা লিটন প্রলোভন দিয়ে নাহিয়ানকে অপহরণ করে নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের পাহাড়ী এলাকায় পূর্বপাড়া গ্রামের জনৈক ব্যক্তির বাড়িতে নিয়ে আসে। বিকেলের দিকে মোবাইল ফোনে শিশুটির মা হালিমা মজুমদার লাকির কাছে ৫লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে অপহরণকারীরা। অপহরনকারী লিটন তার বোন হালিমা মজুমদার লাকীকে মোবাইল ফোনে বলে, ৫লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলে শিশু নাহিনকে ফিরিয়ে দেবে। অন্যতায় নাহিনকে টুকরো টুকরো করে জঙ্গলের শিয়াল কুকুরকে খাওয়াবে। এ সময় লাকী ভাইকে নানা রকম আকুতি জানালে পাষণ্ড ভাই লিটন মজুমদার বলে “কান্না কাটি করে লাভ নাই, টেকা দেও, পুয়ারে নেও আর না হয় শিয়াল কুকুর খাইব তোর পোয়ার লাশ’’ এ সময় তার অবস্থান কোথায় জানতে চাইলে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর পর একই কায়দায় লিটন মজুমদার নাহিনের চাচা ও বাবাকে ফোন করে মুক্তিপণের ৫লাখ টাকা দাবী করে। এ পর্যায়ে ৪লাখ টাকা দিতে রাজি হলেও সে তার ৫লাখ টাকা আদায়ে অনড় ছিল। নিরূপায় হয়ে নাহিনের আত্মীয় স্বজন বিষয়টি সতর্কতার সহিত শ্রীমঙ্গল র‌্যাব ক্যাম্প ও থানা পুলিশকে অবগত করেন। এর পরপরই পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি পুলিশকে অবহিত করা হয়। যেভাবে উদ্ধার করা হয় ঃ অপহরণের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই র‌্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশ উদ্ধার অভিযানে নামে। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পানিউমদা এলাকায় অপহরণকারীর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে র‌্যাব ৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের স্কোয়ার্ডন লিডার আব্দুল মুছাব্বির, মৌলভীবাজার জেলার সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশসহ একাধিক আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর টিম মাঠে নামে অপহৃত শিশুকে উদ্ধার করতে। রাত ব্যাপী পানিউমদার পাহাড়ে পাহাড়ে অভিযান চালানো হয়। ব্লক করে রাখা হয় প্রতিটি এলাকা। পালিয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ দেয়া হয়নি। এলাকার চেয়ারম্যান ইজাজুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুলসহ সাধারণ মানুষও যোগ দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে। রাতব্যাপী অভিযান চালিয়ে কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। ভোর থেকে আবার শুরু হয় অভিযান, কিন্তু কোন সুফল নেই। বেলা ৩টার দিকে গহীন পাহাড়ের পূর্বপাড়া এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যান ইজাজুর রহমান ও সাবেক চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুল মোটর সাইকেলযোগে বাড়ি বাড়ি ঘুরে খোঁজাখুজি করছিলেন। তারা জনৈক উজ্জল মিয়ার বাড়ীর সামনে দিয়ে যাবার সময় ওই বাড়ীতে একটি ফুটফুটে বাচ্ছা দেখতে পেয়ে মোটর সাইকেল থেকে নেমে যান। তারা ওই শিশুটির নিকট তার বাড়ী কোথায় জানতে চাইলে সে জানায় তার বাড়ী শ্রীমঙ্গলে। তখন ওই বাড়ীতে আর কাউকে পাওয়া যায়নি। এ সময় অপহরণকারী মামা লিটন আহমদকে আশপাশে চুুপিচুুপি করতে দেখে তাকে ধাওয়া করেন। সে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান তার পিছু ধাওয়া করে এক পর্যায়ে ধরে ফেলেন। মুহুর্তের মধ্যেই গ্রামের শত শত লোকজন এগিয়ে আসে। দেয়া হয় উত্তম মধ্যম। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজনও উপস্থিত হয়। পরে তাদের নেয়া হয় পানিউমদা ইউপি কার্যালয়ে। এ সময় শত শত লোক ভীড় জমায় শিশু ও অপহরণকারীকে এক নজর দেখার জন্য। লোকজনকে সামাল দিতে প্রশাসনের সদস্যদেরকে হিমশিম খেতে হয়েছে। প্রায় ১ ঘন্টা পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে প্রশাসনের লোকজন তাদের গাড়ীতে করে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। এ ব্যাপারে র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের স্কোয়ার্ডন লিডার এ এন এ মুছাব্বির জিডিপি এ প্রতিনিধিকে বলেন, মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে আমরা অপহরণকারীর অবস্থান নিশ্চিত হয়েই রাত ব্যাপী পানিউমদা এলাকার পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে অভিযান চালাই এবং পরদিনও অভিযান অব্যাহত থাকে। মৌলভীবাজার জেলার সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম ইসলাম জানান, অপহরণের ঘটনার পর থেকেই পুলিশ অভিযানে নামে। রাতে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অবস্থান নিশ্চিত হয়ে পানিউমদা এলাকায় অবস্থান নেই। এ সময় এলাকার স্থানীয় চেয়ারম্যান ও লোকজন আমাদের অভিযানে সার্বিকভাবে সহযোগীতা করেছেন। এ ঘটনায় অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবীর অভিযোগে মামলা হবে।   বিস্তারিত»

মাওলানা হামিদির হত্যাকারী তার আপন ভাই

লন্ডন:যুক্তরাজ্যে নিহত মাওলানা জুবায়ের আলম হামিদির হত্যাকারী হিসাবে তার আপন ভাই জুনায়েদ হামিদী কে সন্দেহ করছে পুলিশ।যুক্তরাজের পুলিশের বরাত দিয়ে এ তথ্য দেন নিহত মাওলানা জুবায়ের হামিদির ভাই মাওলানা সালেহ আহমদ হামিদী।গত মঙ্গলবার সকালে লন্ডন থেকে ১৭৫ মেইল দুরে উত্তর লিংক শায়ারের গ্রিন্সবি শহরের ফ্রিমেন স্ট্রিটের বাসা থেকে মাওলানা জুবায়ের হ্মিদির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ হত্যাকান্ড কি ভাবে ঘটেছে তা তাত্ক্ষনিক ভাবে জানতে না পারলেও এ সময় নিহতের ছোট ভাই জনেদ হামিদীকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।হত্যাকান্ডের সময় তার দুইজন একই কক্ষে ছিলেন।নিহত মাওলানা জুবায়েরে ছোট ভাই মাওলানা সালেহ হামিদী বলেন প্রাথমিক তদন্ত শেষে জুবায়ের হামিদির হত্যার সাথে বাহিরের কারো সম্পৃক্ততা বা আলামত পায়নি পুলিশ।তিনি বলেন হত্যা কান্ডের ঘটনার রাতে আইক ঘরে ছিলেন নিহত জুবায়ের হামিদী ও ছোট ভাই জুনায়েদ হামিদী। নিহতের পরিবার জানায় ঘরের বাহির থেকে একটি রক্ত মাখা পাঞ্জাবি উদ্ধার করেছে পুলিশ যা সন্দেহভাজন জুনায়েদ হামিদির।ঘটনার স্হলের পাশের সড়কের সব ডাস্টবিন ও নালার আবর্জনা ফরেনসিক পরীক্ষার পর পুলিশ নিহতের পরিবারকে জানায় পার্থ্মিক ভাবে জুনায়েদ হামিদিকে সন্দেহভাজন হত্যাকারী হিসাবে চিহ্নিত করেছেন।মাওলানা জুবায়ের গ্রিন্সবিতে নিজের ক্রয়কৃত একটি ঘরের মেরামত কাজ তদারকি করতে গেছিলেন।সেখানেই হত্যাকান্ডে শিকার হন।পূর্ব লন্ডনের ম্যানরপার্ক মসজিদের সাবেক ইমাম মাওলানা জুবায়ের হামিদী বিভিন্ন ধর্মীয় সভা সমাবেশে একজন নিয়মিত আলোচক ছিলেন।মাওলানা জুবায়েরে বাড়ী মৌলভি বাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার হামিদ নগরের বরুনা গ্রামে।তিনি তিন মেয়ে এক ছেলের জনক।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস যুক্তরাজ্য শাখার একজন নেতা হিসাবেও কমিউনিটিতে বিশেষ ভাবে পরিচিত ছিলেন।   বিস্তারিত»

শহীদ মিনারে নূরুল কবির

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার:কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবির। ভাষা সৈনিক আবদুল মতিনের স্মরণসভায় অংশ নিয়ে তিনি বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। টকশো আলোচক ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক পিয়াস করিমের লাশ শহীদ মিনারে নেয়াকে কেন্দ্র করে ভূঁইফোড় কয়েকটি সংগঠন তিন বিশিষ্ট সাংবাদিকসহ ৯ বিশিষ্ট নাগরিককে শহীদ মিনারে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। এরপর বিভিন্ন মহল থেকে এর তীব্র সমালোচনা হয়। গতকাল সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে তিন সাংবাদিককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করায় তীব্র নিন্দা জানানো হয়। এ ঘটনা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই নূরুল কবির শহীদ মিনারে অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন। স্মরণসভায় বক্তারা আবদুল মতিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তার সামনে অনেক পথ খোলা ছিল। তিনি আইনজীবী হতে পারতেন, জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে যোগ দিয়ে মন্ত্রী হতে পারতেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়ে আমলা হতে পারতেন। এ সবকিছু বাদ দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের স্বার্থে সারাজীবন ত্যাগ করে গেছেন। যদি এদেশের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস ও যথার্থ ইতিহাস লিখতে হয়, তাহলে সেখানে ভাষা সৈনিক আবদুল মতিন থাকবেন। তিনি ইতিহাসের মধ্যে ছিলেন এবং ইতিহাসকে বদল করতে চেয়েছিলেন। সভার শুরুতে ভাষা মতিনের বিদেহী আত্মার শান্তি ও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। স্মরণসভার আহ্বায়ক ভাষা সৈনিক আহমদ রফিকের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন কমিটির সদস্য সচিব কামাল লোহানী, আবদুল মতিনের সহধর্মিণী গুল বদুন্নেছা মনিকা, ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আনু মোহাম্মদ, অধ্যাপক আকমল হোসেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ডা. শহিদুল্লাহ চৌধুরী, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবির, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর, ইউসিএলবির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন নান্নু, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমুখ। সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশে এখন অল্প কিছু মানুষ আছে যাদেরকে যোদ্ধা বলতে পারি। বেশির ভাগ মানুষই এখন ভিক্ষুকে পরিণত হয়েছে। ধনীরা, প্রতিষ্ঠিতরা এবং সাধারণ মানুষরা ভিক্ষুক। যারা এই ব্যবস্থাকে মেনে নেয় এবং তা থেকে সুযোগ নিতে চায়, তারা ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক ভিক্ষুকে পরিণত হয়েছে। আমাদের রাষ্ট্র একটি ভিখারি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রের যারা কর্তা তারা বিদেশের দিকে তাকিয়ে থাকে। তাদের সাহায্য চায়, অনুগ্রহ চায়, সার্টিফিকেট চায়। এখানে আবদুল মতিন ছিলেন সমাজ পরিবর্তনের যোদ্ধা এবং সে তার পরিচিত এই সমাজ এবং রাষ্ট্র ওইভাবে উজ্জ্বল করে তুলে ধরেননি। তিনি বলেন, রাষ্ট্র আবদুল মতিনকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়নি। এটা আমরা বলি, এটা খুব স্বাভাবিক। রাষ্ট্র আবদুল মতিনকে হয় উপেক্ষা করবে, নয়তো তাকে নিপীড়ন করবে। অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, ভাষা সৈনিক আদুল মতিন যে বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলন করেছিলেন সেই বাংলা ভাষা এখন প্রান্তিক ভাষায় পরিণত হয়েছে। বাংলা ভাষাকে যথার্থ মর্যাদা আমরা দিতে পারিনি। গুল বদুন্নেছা মনিকা বলেন, নতুন প্রজন্ম যেন আবদুল মতিনের জীবনে থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের জন্য কাজ করে সেটিই আমার বড় চাওয়া। সাধারণ মানুষ তার প্রতি যে শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন তাতে আমি মুগ্ধ।   বিস্তারিত»

‘জামায়াত-আ’লীগ সম্পর্ক ঐতিহাসিক:খালেদা জিয়া

ডেস্ক নিউজ:মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য `উগ্র ধর্মীয় সংগঠনের' সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। ভারতীয় সংবাদপত্র টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, “জামায়াতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধু একটি নির্বাচনী সমঝোতা। এখানে আদর্শের কোনো ব্যাপার নেই।” ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে জামায়াতের সঙ্গে জোটগত সম্পর্ক কোনো বাধা কিনা- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। খালেদা বলেন, বিএনপি সব সময়ই ‘নিজস্ব নীতিতেই’ চলবে। “দেশের জনগণের কল্যাণে প্রতিবেশী দেশসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলে প্রয়োজনীয় সবকিছুই করব। বিজেপির সঙ্গেও আমাদের সম্পর্ক জোরদার হবে।” জামায়াত ও অন্যান্য ধর্মভিত্তিক উগ্র দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক থাকার অভিযোগ করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি খালেদা। ১৯৯৪ সালে নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক সংকট দেখা দিলে এইচ এম এরশাদ নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির সঙ্গে মিলে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন শুরু করে। ওই সময় ক্ষমায় ছিল খালেদা জিয়ার বিএনপি। পরে ২০০১ সালে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে বিএনপি নির্বাচনে যায় এবং সরকার গঠন করে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর শুরু করে যুদ্ধাপরাধের বিচার, যাতে একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়।      সাক্ষাতকারে বিএনপি চেয়ারপার্সন ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকারের নীতির বিষয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের মেয়াদে ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তি ও স্থল সীমান্ত চুক্তির পথ খোলার কোনো সম্ভাবনাও খালেদা জিয়া দেখছেন না। তিনি বলেন, “বর্তমানে ক্ষমতাসীনদের কোনো বৈধতা নেই। দেশের মানুষের পক্ষে কথা বলার অবস্থানও তাদের নেই। কারো কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা নেই। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সব আলোচনায় তাদের একাই অংশ নিতে হচ্ছে।”   বিস্তারিত»

আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার লতিফ সিদ্দিকী

ঢাকা: ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দলের সভাপতিমণ্ডলীর পর এবার দলের সাধারণ সদস্যপদ থেকেও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে বহিষ্কার করেছে আওয়ামী লীগ। এর আগে  মন্ত্রিপরিষদ থেকে অপসারিত হন তিনি। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত দলের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এর আগে দুপুরে ১৪ দলের এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম লতিফের ব্যাপারে আজকের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে টাঙ্গাইল সমিতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী হজ, মহানবী (সা.) ও তাবলিগ জামাত নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে মন্ত্রিসভা থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ১২ অক্টোবর রাতে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় তাকে দলের সভাপতিমণ্ডলীর পদ থেকেও অব্যাহতি দেয়া হয়। ওই বৈঠকেই লতিফ সিদ্দিকীকে দলের সাধারণ সদস্যপদ থেকেও কেন অব্যাহতি দেয়া হবে না- এ ব্যাপারে কারণ দর্শাতে সাত দিনের সময় দিয়ে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। নোটিশটি মঙ্গলবার টাঙ্গাইলে তার বাড়ির ঠিকানায় পাঠানো হয়। সে অনুযায়ী বুধবার সময়সীমা শেষ হয়। লতিফ সিদ্দিকী বর্তমানে কোথায় আছেন তা নিশ্চিত করে জানা না গেলেও ভারতে অবস্থান করছেন শোনা যাচ্ছে।   বিস্তারিত»

ছবি ঘর

  • holo gram baby
  • political picture
অত্যাধুনিক চিকিৎসা সেবা দিতে বিরামপুরে চালু হচ্ছে আমেরিকা অস্টেলিয়া বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল

জাহিনুর ইসলাম বিরামপুর (দিনাজপুর):দিনাজপুরের বিরামপুরে আগামী মাসে চালু হচ্ছে অত্যাধুনিক মানের আমেরিকা অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ ফেন্ডশিপ হাসপাতাল। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ইতিমধ্যে বিশ্বের নামী-দামী কোম্পানীর চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে।     হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর সেলিম জানান, দেশের উত্তর জনপদের সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। উচ্চবিত্ত শ্রেণীর রোগিরা রাজধানীর নামকরা হাসপাতালে ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিলেও মধ্যবিত্ত ও সাধারণ শ্রেণীর রোগিরা ঢাকায় চিকিৎসা করানোর সুযোগ পাননা। তাই এলাকার সব শ্রেণীর মানুষের সময় ও অর্থ অপচয়ের হাত থেকে বাঁচাতে বিরামপুরে যৌথ বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে আমেরিকা অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ ফেন্ডশিপ হাসপাতাল। হাসপাতালে মিডিয়া পরিচালক মোরশেদ মানিক জানান, এখানে বিশ্বমানের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন মেশিনপত্র দিয়ে কালার আল্টাসনোগ্রাম, এমআরআই, সিটিস্কেন, লেজার রশ্মির সাহায্যে সকল প্রকার রোগ নিরূপনের ব্যবস্থা রয়েছে। হাসপাতালে থাকছে ৪টি অপারেশন থিয়েটার, এসি ক্যাবিন, আইসিইউ, বেবী ইনকুবেটর ও বার্ণ ইউনিট। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ এখানে কিডনী, মেডিসিন, বক্ষব্যাধি, ইএনটি, গাইনী, মা-শিশু, চর্ম-যৌন, দন্ত, চক্ষু, ডায়াবেটিস, অর্থপেডিক সহ অন্যান্য রোগের চিকিৎসা দিবেন। অপারেশন ছাড়া রোগ নিরাময়ের জন্য রয়েছে লেজার ও থেরাপী চিকিৎসা।  

বিস্তারিত»
৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শরীয়তপুর জেলা আওয়ামীলীগের  কাউন্সিল

শরীয়তপুর প্রতিনিধি:শরীয়তপুর জেলায় বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভা আওয়ামীলীগের কাউন্সিল আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এবং জেলা আওয়মীলীগের কাউন্সিল ১৭ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যে কোন দিবসে সম্পন্ন করতে হব। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে জেলা আওয়ামীলীগের এক বর্ধিত সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।  জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুর রব মুন্সির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায়  উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর-২ আসনের  সংসদ সদস্য সাবেক ডেপুটি স্পীকার কর্নেল অবঃ শওকত আলী, জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি নুরমোহাম্মদ কোতোয়াল,এবিএম গিয়াস উদ্দিন পাহাড়, সাধারন সম্পাদক অনল কুমার দে, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপ কমিটির সহ সম্পাদক ইকবাল হোসেন অপু,জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন তালুকদার,যুগ্ন সম্পাদক মোশারফ হোসেন তোতা মাঝি,এডভোকেট মীর্জা হজরত আলী ,দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট আলমগীর হোসেন মুন্সি,জেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষও নড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যান  একেএম ইসমাইল হক ,সদর উপজেলা  চেয়ারম্যান আবুল হাসেম তপাদার,সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল ফজল মাষ্টার, ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আঃ মান্নান রাড়ি,সাধারন সম্পাদক আঃ মান্নান বেপারী, ডামুড্যা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মাষ্টার কামাল আহম্মেদ ,জাজিরা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক আঃ হক কবিরাজ, সখিপুর থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মানিক সরকার,নড়িয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাসান রাঢ়ি,সাধারন সম্পাদক মাষ্টার হাসানুজ্জামান খোকন , গোসাইরহাট উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ শাহজাহান কবির,শরীয়তপুর সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মাহবুব রাজ্জাক,পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মজলিস খান, সাধারন সম্পাদক মাষ্টার সেলিম আকন প্রমূখ। তবে শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক ও সংরক্ষিত মহিলা  আসনের সংসদ সদস্য  এডভোকেট নাভানা আকতার ,  অনুপস্থিত ছিলেন। শরীয়তপুর জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক এডভোকেট মির্জা হজরত আলী এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

বিস্তারিত»
হযরত মোহাম্মদ (সঃ) হজ্ব ও তাবলীগ জামাত সম্পর্কে কটুউক্তিকারী লতিফ সিদ্দিকির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি

এম এ কাইয়ুম হেড অফ নিউজ:মহানবী হযরত মোহাম্মদ সঃ হজ্ব ও তাবলীগ জামাত সম্পর্কে দৃষ্টতাপূর্ন কটুউক্তিকারী লতিফ সিদ্দিকির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে ব্লাসফেমি আইন প্রনয়নের দাবী করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মসলিস লন্ডন মহানগর শাখা। ২৩অক্টোবর পূর্বলন্ডনের আলহুদা একাডেমীতে আয়োজিত এ প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের লন্ডন মহানগরী শাখার সভাপতি মাওলানা তাঈদুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক মাওলানা আব্দুল আহাদের পরিচালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শায়খুল হাদিস, আল্লামা তফাজ্জল হক হবিগঞ্জী। প্রধান বক্তার বক্তব্যে খেলাফল মসলিসের কেন্দ্রীর যুগ্ম মহাসচিব ও ইউকে শাখার সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল কাদির সালেহ আল্লাহ ও তার রাসুলকে ভালবাসা ও সম্মান করা ঈমানী দায়িত্ব। লতিফ সিদ্দিকি রাসুল সঃ ও ইসলামের স্তম্ব হজ্ব নিয়ে কটাক্ষ করেছে যা ঘৃনা ও প্রতিরোধ করা ইমানী দায়িত্ব। তিনি বলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। কিন্তু এই তাগতী সমাজ বহাল থাকলে শুধু প্রতিবাদে কাজ হবেনা। আমাদেরকে সমাজ পরিবর্তন করে খিলাফা কায়েমের সর্বত্বক আন্দোলন করতে হবে। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মুফতি শাহ সতরুদ্দিন, মাওলানা শাহ মোহাম্মদ আনাছ, শায়েখ হাসান নুরী, কলামিষ্ট আবু সুফিয়ান চৌধুরী, মাওলানা আব্দুল করিম, মাওলানা শওকত আলী, হাফিজ সাদিকুর রহমান, হাফিজ আশরাফ চৌধুরী, মাওলানা কাউসার আহমদ, মাওলানা সালেহ আহমদ, মাওলনা হুমায়ুন রশিদ নুরী, মাওলানা জাবির আহমদ, মাওলানা হুমায়ন রশিদ রাজী, মাওলানা আনিছুর রহমান, মিনহাজ্ব উদ্দিন মিলাদ, হাফিজ খলিলুর রহমান, মাওলানা রশিদ আহমদ, মাওলানা আমিরুল ইসলাম, মাওলানা আলিম উদ্দিন, হাফিজ নোমান আহমদ, মাওলানা আশরাফ চৌধুরী, মাওলানা ফজলুর রহমান, রুহুল আমিন ও মাওলানা আব্দুল করিম প্রমুখ। সভা শেষে দেশ ও জাতির শান্তি কামনা করে দোয়া  ও মোনাযাত করেন মাওলনা তফাজ্জল হক হবীগঞ্জি।

বিস্তারিত»
ভাগ্নেকে অপহরণ করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবী : নবীগঞ্জের পাহাড়ে র‌্যাব পুলিশের ২০ ঘন্টা শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান ভাগ্নে উদ্ধার : মামা গ্রেফতার

কিবরিয়া চৌধুরী:৪ বছরের ভাগ্নেকে অপহরণ করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করতে পারলনা লিটন আহমেদ মজুমদার (৪০)। নবীগঞ্জের পানিউমদার পাহাড়ী এলাকা থেকে অপহৃত শিশুকে উদ্ধার ও অপহরণকারী মামাকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল বিকেল ৩টার দিকে অপহৃতকে উদ্ধার করা হয়। অপহৃত শিশুটি হচ্ছে-শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মুসলিমবাগ আবাসিক এলাকার সৌদি আরব প্রবাসী নুরুল আমীনের শিশু পুত্র নাহিয়ান আল আমীন (৪)। অপহরণকারী মামা লিটন একই এলাকার মৃত ছালেহ আহমদ মজুমদারের পুত্র। গত ২৩ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে ভাগ্নেকে নিজের বাড়ি থেকেই অপহরণ করে মামা লিটন। ঢ়রপ ২যেভাবে অপহরণ ঃ শিশু নাহিয়ান আল আমীনের পিতা সৌদি প্রবাসী। নাহিয়ানের পিতার বাসা এবং মামার বাসা একই এলাকায়। গত ২৩ অক্টোবর নাহিয়ানকে নিয়ে তার মা হালিমা মজুমদার লাকি পিতার বাসায় যান। ১০টার দিকে মামা লিটন প্রলোভন দিয়ে নাহিয়ানকে অপহরণ করে নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের পাহাড়ী এলাকায় পূর্বপাড়া গ্রামের জনৈক ব্যক্তির বাড়িতে নিয়ে আসে। বিকেলের দিকে মোবাইল ফোনে শিশুটির মা হালিমা মজুমদার লাকির কাছে ৫লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে অপহরণকারীরা। অপহরনকারী লিটন তার বোন হালিমা মজুমদার লাকীকে মোবাইল ফোনে বলে, ৫লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলে শিশু নাহিনকে ফিরিয়ে দেবে। অন্যতায় নাহিনকে টুকরো টুকরো করে জঙ্গলের শিয়াল কুকুরকে খাওয়াবে। এ সময় লাকী ভাইকে নানা রকম আকুতি জানালে পাষণ্ড ভাই লিটন মজুমদার বলে “কান্না কাটি করে লাভ নাই, টেকা দেও, পুয়ারে নেও আর না হয় শিয়াল কুকুর খাইব তোর পোয়ার লাশ’’ এ সময় তার অবস্থান কোথায় জানতে চাইলে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর পর একই কায়দায় লিটন মজুমদার নাহিনের চাচা ও বাবাকে ফোন করে মুক্তিপণের ৫লাখ টাকা দাবী করে। এ পর্যায়ে ৪লাখ টাকা দিতে রাজি হলেও সে তার ৫লাখ টাকা আদায়ে অনড় ছিল। নিরূপায় হয়ে নাহিনের আত্মীয় স্বজন বিষয়টি সতর্কতার সহিত শ্রীমঙ্গল র‌্যাব ক্যাম্প ও থানা পুলিশকে অবগত করেন। এর পরপরই পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি পুলিশকে অবহিত করা হয়। যেভাবে উদ্ধার করা হয় ঃ অপহরণের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই র‌্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশ উদ্ধার অভিযানে নামে। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পানিউমদা এলাকায় অপহরণকারীর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে র‌্যাব ৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের স্কোয়ার্ডন লিডার আব্দুল মুছাব্বির, মৌলভীবাজার জেলার সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশসহ একাধিক আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর টিম মাঠে নামে অপহৃত শিশুকে উদ্ধার করতে। রাত ব্যাপী পানিউমদার পাহাড়ে পাহাড়ে অভিযান চালানো হয়। ব্লক করে রাখা হয় প্রতিটি এলাকা। পালিয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ দেয়া হয়নি। এলাকার চেয়ারম্যান ইজাজুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুলসহ সাধারণ মানুষও যোগ দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে। রাতব্যাপী অভিযান চালিয়ে কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। ভোর থেকে আবার শুরু হয় অভিযান, কিন্তু কোন সুফল নেই। বেলা ৩টার দিকে গহীন পাহাড়ের পূর্বপাড়া এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যান ইজাজুর রহমান ও সাবেক চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুল মোটর সাইকেলযোগে বাড়ি বাড়ি ঘুরে খোঁজাখুজি করছিলেন। তারা জনৈক উজ্জল মিয়ার বাড়ীর সামনে দিয়ে যাবার সময় ওই বাড়ীতে একটি ফুটফুটে বাচ্ছা দেখতে পেয়ে মোটর সাইকেল থেকে নেমে যান। তারা ওই শিশুটির নিকট তার বাড়ী কোথায় জানতে চাইলে সে জানায় তার বাড়ী শ্রীমঙ্গলে। তখন ওই বাড়ীতে আর কাউকে পাওয়া যায়নি। এ সময় অপহরণকারী মামা লিটন আহমদকে আশপাশে চুুপিচুুপি করতে দেখে তাকে ধাওয়া করেন। সে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান তার পিছু ধাওয়া করে এক পর্যায়ে ধরে ফেলেন। মুহুর্তের মধ্যেই গ্রামের শত শত লোকজন এগিয়ে আসে। দেয়া হয় উত্তম মধ্যম। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজনও উপস্থিত হয়। পরে তাদের নেয়া হয় পানিউমদা ইউপি কার্যালয়ে। এ সময় শত শত লোক ভীড় জমায় শিশু ও অপহরণকারীকে এক নজর দেখার জন্য। লোকজনকে সামাল দিতে প্রশাসনের সদস্যদেরকে হিমশিম খেতে হয়েছে। প্রায় ১ ঘন্টা পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে প্রশাসনের লোকজন তাদের গাড়ীতে করে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। এ ব্যাপারে র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের স্কোয়ার্ডন লিডার এ এন এ মুছাব্বির জিডিপি এ প্রতিনিধিকে বলেন, মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে আমরা অপহরণকারীর অবস্থান নিশ্চিত হয়েই রাত ব্যাপী পানিউমদা এলাকার পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে অভিযান চালাই এবং পরদিনও অভিযান অব্যাহত থাকে। মৌলভীবাজার জেলার সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম ইসলাম জানান, অপহরণের ঘটনার পর থেকেই পুলিশ অভিযানে নামে। রাতে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অবস্থান নিশ্চিত হয়ে পানিউমদা এলাকায় অবস্থান নেই। এ সময় এলাকার স্থানীয় চেয়ারম্যান ও লোকজন আমাদের অভিযানে সার্বিকভাবে সহযোগীতা করেছেন। এ ঘটনায় অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবীর অভিযোগে মামলা হবে।  

বিস্তারিত»
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের বিধিনিষেধ সংক্রান্ত নতুন আইন পাস

নিউ ইয়র্ক:যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অবৈধ অভিবাসীদের বিধিনিষেধ সংক্রান্ত নতুন আইন পাস হয়েছে। এখন থেকে অবৈধ অভিবাসীকে যে কোনো অপরাধে পুলিশ আটক বা গ্রেফতার করলে ইমিগ্রেশন এজেন্সিকে জবাবদিহী করতে হবে না। আগে এ ব্যাপারে কিছুটা  বাধ্যবাধকতা ছিল।     স্থানীয় সময় গত বুধবার সিটি কাউন্সিলে এ বিষয়ের পক্ষে ৪১ এবং বিপক্ষে  ৬ ভোটে একটি বিল পাস হয়। ফলে এখন থেকে কোনো অবৈধ অভিবাসীর বিষয়ে তথ্য দিতে পারবে না নিউ ইয়র্ক পুলিশ। সিটি কাউন্সিলের স্পিকার মেলিসা মার্ক ভিভেরিটো বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটিতে এখনও নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাজিও স্বাক্ষর করেননি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তার সমর্থনেই বিলটি উত্থাপন করা হয়েছিল। তাই মেয়রের স্বাক্ষর এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এদিকে বিপুল ভোটে বিলটি পাস হলেও এ নিয়ে সমালোচনাও আছে। বিলের বিপক্ষে মতপ্রকাশ করে রিপাবলিকান দলের নেতা ভিনসেন্ট ইগনিজিও বলেছেন, এটা নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। অপরাধীরা পার পেয়ে যেতে পারে। তার সাথে সুর মিলিয়েছেন ডেমোক্রেট দলীয় একাধিক নেতাও। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ডেমোক্রেট দলীয় নেতা পল ভেলন সাংবাদিকদের বলেন, কোনো অবৈধ অভিবাসী অপরাধ করলেও তার বিষয়ে ইমিগ্রেশন এজেন্সিকে কোনও তথ্য দেয়া যাবে না, এটা সঠিক আইন না। অপরাধ করলেও সে এ সুবিধা পাবে। এটা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো হলো না। তিনি মনে করেন, এ বিল পাস হওয়ার অর্থই হচ্ছে 'একটা ভুল সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নেয়া'। মেয়র বিল ডি ব্লাজিও বিলটিতে স্বাক্ষর করলেই এটা আইনে পরিণত হবে। তখন আর শুধুমাত্র অবৈধ হবার কারণে কোনো অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করে ডিপোর্ট করার সুযোগ থাকবে না। যদি না ওই অভিবাসী বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে না জাড়িয়ে থাকে এবং কোন অপরাধের কারণে সাজা ভোগ না করে থাকে। এ আইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ফেডারেল কোর্টের নির্দেশ ছাড়া নিউ ইয়র্ক সিটির কারাগারগুলো অবৈধ অভিবাসীদের ডিটেনশনে নেয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করবে। তবে ইমিগ্রেশন এজেন্সি কোনো অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার, আটক বা ডিপোর্ট করার ক্ষেত্রে এ বিল অন্তরায় হবে না। সিটি কাউন্সিলের ইমিগ্রেশন কমিটির চেয়ারপারসন কাউন্সিলম্যান ডেনিয়েল ডুমের মতে, অভিবাসীদের নিয়ে ফেডারেল প্রশাসনের অমানবিক কৌশলের বিপক্ষে এ বিল পাস হওয়া একটি যুগান্তকারী উদাহরণ। বিপুল ভোটে বিলটি পাস হবার পরে বিলটির স্পন্সর সিটি কাউন্সিল স্পিকার মেলিসা মার্ক গণমাধ্যমকে জানান, এ দেশে বসবাস করা সকল নাগরিকের অধিকার রয়েছে ন্যায্য বিচার পাবার। মানুষের অধিকার পাবার বিষয়টিকে আমরা সম্মান করি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টের এটর্নি এ্যাট ল' মঈন চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিউইয়র্ক পুলিশ অতীতেও কখনো অবৈধ অভিবাসীদের শুধুমাত্র অবৈধ হবার কারণে আটক বা গ্রেপ্তার করত না, এখনো করে না। তবে অপরাধ করলে আটক বা গ্রেপ্তার করে আগে এটা ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টকে তারা জানাতো। তবে এটা জানানোর কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। তারপরও পুলিশ আটকদের অপরাধ বিবেচনা করে বিষয়টি জানালে ইমিগ্রেশন এজেন্সি তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতো। কিন্তু এ আইন পাস হলে নিউ ইয়র্ক পুলিশ আর আটকদের বিষয়ে কোনো তথ্য ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টকে জানাতে পারবে না। এর ফলে অবৈধরা বাড়তি কোনো সুযোগ যেমন গ্রীন কার্ড, ওয়ার্ক পারমিট বা সোস্যাল সিকিউরিটি কার্ড পাবার যোগ্যতা অর্জন করবে না।

বিস্তারিত»
মাওলানা হামিদির হত্যাকারী তার আপন ভাই

লন্ডন:যুক্তরাজ্যে নিহত মাওলানা জুবায়ের আলম হামিদির হত্যাকারী হিসাবে তার আপন ভাই জুনায়েদ হামিদী কে সন্দেহ করছে পুলিশ।যুক্তরাজের পুলিশের বরাত দিয়ে এ তথ্য দেন নিহত মাওলানা জুবায়ের হামিদির ভাই মাওলানা সালেহ আহমদ হামিদী।গত মঙ্গলবার সকালে লন্ডন থেকে ১৭৫ মেইল দুরে উত্তর লিংক শায়ারের গ্রিন্সবি শহরের ফ্রিমেন স্ট্রিটের বাসা থেকে মাওলানা জুবায়ের হ্মিদির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ হত্যাকান্ড কি ভাবে ঘটেছে তা তাত্ক্ষনিক ভাবে জানতে না পারলেও এ সময় নিহতের ছোট ভাই জনেদ হামিদীকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।হত্যাকান্ডের সময় তার দুইজন একই কক্ষে ছিলেন।নিহত মাওলানা জুবায়েরে ছোট ভাই মাওলানা সালেহ হামিদী বলেন প্রাথমিক তদন্ত শেষে জুবায়ের হামিদির হত্যার সাথে বাহিরের কারো সম্পৃক্ততা বা আলামত পায়নি পুলিশ।তিনি বলেন হত্যা কান্ডের ঘটনার রাতে আইক ঘরে ছিলেন নিহত জুবায়ের হামিদী ও ছোট ভাই জুনায়েদ হামিদী। নিহতের পরিবার জানায় ঘরের বাহির থেকে একটি রক্ত মাখা পাঞ্জাবি উদ্ধার করেছে পুলিশ যা সন্দেহভাজন জুনায়েদ হামিদির।ঘটনার স্হলের পাশের সড়কের সব ডাস্টবিন ও নালার আবর্জনা ফরেনসিক পরীক্ষার পর পুলিশ নিহতের পরিবারকে জানায় পার্থ্মিক ভাবে জুনায়েদ হামিদিকে সন্দেহভাজন হত্যাকারী হিসাবে চিহ্নিত করেছেন।মাওলানা জুবায়ের গ্রিন্সবিতে নিজের ক্রয়কৃত একটি ঘরের মেরামত কাজ তদারকি করতে গেছিলেন।সেখানেই হত্যাকান্ডে শিকার হন।পূর্ব লন্ডনের ম্যানরপার্ক মসজিদের সাবেক ইমাম মাওলানা জুবায়ের হামিদী বিভিন্ন ধর্মীয় সভা সমাবেশে একজন নিয়মিত আলোচক ছিলেন।মাওলানা জুবায়েরে বাড়ী মৌলভি বাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার হামিদ নগরের বরুনা গ্রামে।তিনি তিন মেয়ে এক ছেলের জনক।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস যুক্তরাজ্য শাখার একজন নেতা হিসাবেও কমিউনিটিতে বিশেষ ভাবে পরিচিত ছিলেন।  

বিস্তারিত»
পৃথিবীতে নিজের অবস্থান কোথায় হবে এটা কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়

সিলেট:ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেছেন, পৃথিবীর প্রত্যেক দেশে শত শত রোটারি ক্লাব রয়েছে। সবার মধ্যেই একই ধরনের আদর্শ ও মূল্যবোধ কাজ করে। এ সম্ভাবনাময় পৃথিবীতে রোটারিয়ানরাই নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্য। আমরা একবিংশ শতাব্দিতে বাস করছি। এ শতাব্দিতে অনেক কিছু করার অমিত সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদেরকে নতুন কিছু করে উন্নয়নের দ্বার প্রান্তে যেতে হবে। এজন্য আমাদেরকে সৃজনশীল হতে হবে। সৃজনশীলতা ও দক্ষতা দিয়ে সম্ভাবনার দ্বারকে খুলতে হবে। রোটারি ক্লাব অব জালালাবাদ-এর ৩০তম অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শুক্রবার সিলেট স্টেশন ক্লাবে এ অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়। মাহফুজ আনাম বলেন, পৃথিবীতে নিজের অবস্থান কোথায় হবে এটা কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজে দক্ষ কিনা। আগামীতে পৃথিবীর মাঝে দুই ধরনের লোকেরা বসবাস করবে। এক শ্রেণী দক্ষ ও অপর শ্রেণী অদক্ষ। দক্ষরা একদিকে যাবে ও অদক্ষরা অন্যদিকে যাবে। এ দক্ষ লোকেরাই একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত হবে। টেকনোলজি জীবনকে নিয়ন্ত্রণ না করলেও আমাদের জীবন চলার পথকে সহজ করে দিয়েছে। একমাত্র টেকনোলজিই আমাদেরকে এক সারিতে নিয়ে আসছে। এ দক্ষ জনপদে টিকে থাকতে হলে নিজেকে একজন দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। নিজেদের স্বার্থেই আমাদেরকে প্রস্তুত হতে হবে। নিজেকে প্রস্তুত না রাখলে পৃথিবী কিন্তু থেমে থাকবে না। সময় খুব দ্রুত যায়। আমাদের প্রত্যেককে সময়ের মূল্য দিতে হবে। রোটারিয়ান পি.পি. মোস্তফা কামালের পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া সভায় রোটারি ইনভোকেশন পাঠ করেন রোটারিয়ান আলী আশরাফ চৌধুরী খালেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অভিষেক কমিটির চেয়ারম্যান রোটারিয়ান শফিক আহমেদ বখত। রোটারিয়ান এম এস রোমেল পীর এর সম্পাদনায় প্রকাশিত ম্যাগাজিনের মোড়ক উম্মোচন করেন অতিথিবৃন্দ। সেক্রেটারি রিপোর্ট পেশ করেন রোটারিয়ান মঞ্জুর আলী বাসেত, আউট গোয়িং প্রেসিডেন্ট এর বক্তব্য রাখেন রোটারিয়ান প্রফেসর ড. তোফায়েল আহমেদ পিএইচএফ, আগত অতিথিদের পরিচয় করিয়ে দেন রোটারিয়ান জামিল আহমেদ চৌধুরী। নতুন মেম্বারদের পরিচয় তুলে ধরেন রোটারিয়ান লে. কর্নেল এম আতাউর রহমান পীর, এ্যসিসটেন্ট গভর্নরের বক্তব্য রাখেন রোটারিয়ান ইঞ্জিনিয়ার মোন্তাজির আলী। নবনির্বাচিত সভাপতি রোটারিয়ান সৈয়দ জিয়াউস সামস পিএইচএফএমসি সকলকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন এবং সারা বছরব্যাপী জালালাবাদ রোটারিক্লাবের সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকান্ডের সহযোগিতা করার জন্য আহবান জানান।

বিস্তারিত»
দেশে দেশে গোলাম আযমের গায়েবানা নামাজে জানাজা

ডেস্ক নিউজ:বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির এবং বিশ্ববরেণ্য ইসলামি চিন্তাবিদ ও রাজনীতিবিদ অধ্যাপক গোলাম আযমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে গতকাল বাদজুমা কাতারের জাতীয় মসজিদে গায়েবানা নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজে জানাজা শেষে আন্তর্জাতিক স্কলারস ফোরামের চেয়ারম্যান ড. ইউসুফ আল কারজাবি বলেন, তার মৃত্যুতে মুসলিম উম্মাহ একজন বরেণ্য ইসলামি চিন্তাবিদকে হারিয়েছে। তিনি আরো বলেন, অধ্যাপক গোলাম আযম রাজনৈতিক নির্যাতনের স্বীকার। কাতার ছাড়াও মিসরের প্রাচীন আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কুয়েত, মালয়েশিয়া, বাহরাইন, সৌদি আরবসহ অর্ধশতাধিক দেশে মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনায় গায়েবানা নামাজে জানাজা আদায়সহ দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন লাখো মুসলমান। অধ্যাপক গোলাম আযমের মৃত্যুর সংবাদ মুহূর্তেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়লে প্রবাসে থেকেও তার নামাজে জানাজায় অংশ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ কাতারের রাজধানী দোহার মসজিদে আয়েশায় ছুটে আসেন। জুমার আজান দেয়ার আগেই মুসলিমদের উপচেপড়া ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মসজিদ। জুমার নামাজ শেষে মরহুমের জন্য দোয়া করার সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মিসরের ঐতিহাসিক আল আজহার মসজিদে বাদজুমা গায়েবানা নামাজে জানাজা আদায় করেন হাজারো মুরসিসমর্থক। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিসরীয় ছাত্রসহ বিভিন্ন দেশের ছাত্ররাও অংশগ্রহণ করেন। এ দিকে জাপানের বিভিন্ন শহরে গায়েবানা নামাজে জানাজা আদায় করেছেন হাজারো মুসলিম। জাপানের টোকিওর ওৎসকা, আসাকুসা, সাইতামা সিটির কসিগায়া, ওইয়ামা সিটি, চিবা সিটি, তাতেবায়েসী সিটি, ইবারাকি সিটি, ফুকুশিমা প্রিফ্রেকচারের ইয়োয়াকি সিটিসহ অন্তত ২০টি শহরে গায়েবানা নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে জানাজায় জাপান প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাশাপাশি স্থানীয় জাপানিজ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, আফ্রিকা, মালয়েশিয়া, মিসর, তুরস্ক, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা অংশ নেন। তা ছাড়া গায়েবানা নামাজে জানাজা পড়েছেন মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রবাসী ছাত্র ও শিকেরা। এতে স্থানীয় ছাত্র ও বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক ইসলামিক স্কলারস ফোরামের চেয়ারম্যান আল্লামা ইউসুফ আল কারজাবি ছাড়াও ভাষাসৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন তিউনিশিয়া বিপ্লবের নায়ক ড. রশিদ আল ঘানুশি, ব্রাদারহুডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মাহমুদ ইজ্জাত ও মালয়েশিয়া বিরোধী দলের প্রধান আনোয়ার ইব্রাহিমসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি। অধ্যাপক গোলাম আযমের মৃত্যু সংবাদ আরব নিউজ ও আল আহরামসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রধান প্রধান দৈনিকে ফলাও করে প্রকাশ করা হয়।

বিস্তারিত»
শহীদ মিনারে নূরুল কবির

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার:কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবির। ভাষা সৈনিক আবদুল মতিনের স্মরণসভায় অংশ নিয়ে তিনি বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। টকশো আলোচক ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক পিয়াস করিমের লাশ শহীদ মিনারে নেয়াকে কেন্দ্র করে ভূঁইফোড় কয়েকটি সংগঠন তিন বিশিষ্ট সাংবাদিকসহ ৯ বিশিষ্ট নাগরিককে শহীদ মিনারে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। এরপর বিভিন্ন মহল থেকে এর তীব্র সমালোচনা হয়। গতকাল সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে তিন সাংবাদিককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করায় তীব্র নিন্দা জানানো হয়। এ ঘটনা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই নূরুল কবির শহীদ মিনারে অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন। স্মরণসভায় বক্তারা আবদুল মতিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তার সামনে অনেক পথ খোলা ছিল। তিনি আইনজীবী হতে পারতেন, জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে যোগ দিয়ে মন্ত্রী হতে পারতেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়ে আমলা হতে পারতেন। এ সবকিছু বাদ দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের স্বার্থে সারাজীবন ত্যাগ করে গেছেন। যদি এদেশের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস ও যথার্থ ইতিহাস লিখতে হয়, তাহলে সেখানে ভাষা সৈনিক আবদুল মতিন থাকবেন। তিনি ইতিহাসের মধ্যে ছিলেন এবং ইতিহাসকে বদল করতে চেয়েছিলেন। সভার শুরুতে ভাষা মতিনের বিদেহী আত্মার শান্তি ও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। স্মরণসভার আহ্বায়ক ভাষা সৈনিক আহমদ রফিকের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন কমিটির সদস্য সচিব কামাল লোহানী, আবদুল মতিনের সহধর্মিণী গুল বদুন্নেছা মনিকা, ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আনু মোহাম্মদ, অধ্যাপক আকমল হোসেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ডা. শহিদুল্লাহ চৌধুরী, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবির, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর, ইউসিএলবির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন নান্নু, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমুখ। সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশে এখন অল্প কিছু মানুষ আছে যাদেরকে যোদ্ধা বলতে পারি। বেশির ভাগ মানুষই এখন ভিক্ষুকে পরিণত হয়েছে। ধনীরা, প্রতিষ্ঠিতরা এবং সাধারণ মানুষরা ভিক্ষুক। যারা এই ব্যবস্থাকে মেনে নেয় এবং তা থেকে সুযোগ নিতে চায়, তারা ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক ভিক্ষুকে পরিণত হয়েছে। আমাদের রাষ্ট্র একটি ভিখারি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রের যারা কর্তা তারা বিদেশের দিকে তাকিয়ে থাকে। তাদের সাহায্য চায়, অনুগ্রহ চায়, সার্টিফিকেট চায়। এখানে আবদুল মতিন ছিলেন সমাজ পরিবর্তনের যোদ্ধা এবং সে তার পরিচিত এই সমাজ এবং রাষ্ট্র ওইভাবে উজ্জ্বল করে তুলে ধরেননি। তিনি বলেন, রাষ্ট্র আবদুল মতিনকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়নি। এটা আমরা বলি, এটা খুব স্বাভাবিক। রাষ্ট্র আবদুল মতিনকে হয় উপেক্ষা করবে, নয়তো তাকে নিপীড়ন করবে। অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, ভাষা সৈনিক আদুল মতিন যে বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলন করেছিলেন সেই বাংলা ভাষা এখন প্রান্তিক ভাষায় পরিণত হয়েছে। বাংলা ভাষাকে যথার্থ মর্যাদা আমরা দিতে পারিনি। গুল বদুন্নেছা মনিকা বলেন, নতুন প্রজন্ম যেন আবদুল মতিনের জীবনে থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের জন্য কাজ করে সেটিই আমার বড় চাওয়া। সাধারণ মানুষ তার প্রতি যে শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন তাতে আমি মুগ্ধ।  

বিস্তারিত»
গোলাম আজমের ছেলেদের ভিসা দিচ্ছেনা বাংলাদেশ হাই কমিশন

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ:যুক্তরাজ্যের মানচেস্টারে বসবাসরত সূয়াটার প্রস্তুতকারক, ব্যবসায়ী, বড় ছেলে আমীন আজমী সহ গোলাম আযমের চার ছেলে তাদের বাবার জানাজায় শরিক হওয়ার জন্য মানচেস্টারস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনে ভিসার আবেদন করেছিলেন। বিশ্বস্থ সূত্র জানা গেছে, আমীন আজমী সহ তাদের কাউকেই বাংলাদেশ হাইকমিশন মানচেস্টার ভিসা ইস্যু করেনি। ছেলেদের ইচ্ছা ছিলো তাদের বাবার জানাজায় শরিক হবেন, শোক সন্তপ্ত মাকে শান্তনা দিবেন। বিশেষ করে বড় ছেলে তার বাবার জানাজা পড়াতে চেয়েছিলেন। ভিসা জটিলতার কারণে তাদের কারো পক্ষেই দেশে যাওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। তবে তারা শেষ খবর পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যমে ভিসা জটিলতার সমাধানের চেস্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে। এ রিপোর্ট যখন লেখছি, তখন ঘড়ির কাটায় বিকাল ৫.০০ টা বেজে ১৬ সেকেন্ড। কিন্তু অফিস আওয়ার আজ শুক্রবার বিকাল ৫টায় শেষ হয়ে যাবে। কাল শনিবার ও রবিবার ব্রিটেনে সকল অফিস আদালত বন্ধ থাকে। সেই হিসেবে আর ভিসা ইস্যু হওয়ার সময় নেই।   নোমান আল আজমী, মামুন আল আজমী, আমীন আল আজমী সকলেই এর আগে অসুস্থ্যতার খবর শুনে পিতাকে দেখার জন্য আবেদন করলে হাই কমিশন তাদের জানিয়েছিলেন, উপরের নির্দেশে ভিসা দেয়া যাবেনা।    ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪-লন্ডন

বিস্তারিত»
গোলাম আযমের বাসায় এলেন যারা

ঢাকা : শুক্রবার সকালে অধ্যাপক গোলাম আযমের লাশ মগবাজার কাজী অফিস লেনের নিজ বাসায় আনার পর রাত ৮টা পর্যন্ত তার লাশ দেখার জন্য পুরো কাজী অফিস লেনে ভক্তদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। এর মধ্যে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দও এসেছিলেন। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ছিলেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সেলিম উদ্দিন ও মোবারক হোসাইন, জামায়াত নেতা ডা. রেদওয়ানুল্লাহ শাহেদী, ড. রেজাউল করিম, শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল আতিকুর রহমান, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল, লেবার পার্টির চেয়ার‌্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনডিপির চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তজা, জাগপার সেক্রেটারি খন্দকার লুৎফর রহমান, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট আব্দুল মোবিন, খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ইসহাক, নেজামে ইসলাম পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট আব্দুর রকিব, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিম ও ঢাকা মহানগর সভাপতি এটি এম হেমায়াত উদ্দিন প্রমুখ।

বিস্তারিত»
‘জামায়াত-আ’লীগ সম্পর্ক ঐতিহাসিক:খালেদা জিয়া

ডেস্ক নিউজ:মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য `উগ্র ধর্মীয় সংগঠনের' সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। ভারতীয় সংবাদপত্র টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, “জামায়াতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধু একটি নির্বাচনী সমঝোতা। এখানে আদর্শের কোনো ব্যাপার নেই।” ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে জামায়াতের সঙ্গে জোটগত সম্পর্ক কোনো বাধা কিনা- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। খালেদা বলেন, বিএনপি সব সময়ই ‘নিজস্ব নীতিতেই’ চলবে। “দেশের জনগণের কল্যাণে প্রতিবেশী দেশসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলে প্রয়োজনীয় সবকিছুই করব। বিজেপির সঙ্গেও আমাদের সম্পর্ক জোরদার হবে।” জামায়াত ও অন্যান্য ধর্মভিত্তিক উগ্র দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক থাকার অভিযোগ করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি খালেদা। ১৯৯৪ সালে নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক সংকট দেখা দিলে এইচ এম এরশাদ নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির সঙ্গে মিলে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন শুরু করে। ওই সময় ক্ষমায় ছিল খালেদা জিয়ার বিএনপি। পরে ২০০১ সালে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে বিএনপি নির্বাচনে যায় এবং সরকার গঠন করে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর শুরু করে যুদ্ধাপরাধের বিচার, যাতে একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়।      সাক্ষাতকারে বিএনপি চেয়ারপার্সন ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকারের নীতির বিষয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের মেয়াদে ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তি ও স্থল সীমান্ত চুক্তির পথ খোলার কোনো সম্ভাবনাও খালেদা জিয়া দেখছেন না। তিনি বলেন, “বর্তমানে ক্ষমতাসীনদের কোনো বৈধতা নেই। দেশের মানুষের পক্ষে কথা বলার অবস্থানও তাদের নেই। কারো কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা নেই। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সব আলোচনায় তাদের একাই অংশ নিতে হচ্ছে।”  

বিস্তারিত»
আসেনা বসন্ত:কাকলি দাস

তোমার দুঃখ আপন করে অক্ষি ধুয়েছি জলে তোমার সুখে ভেসেছি ভেলায় অজানা সাগর জলে আর এই তুমিই দেখতে নারাজ দুঃখ ভরা ময়দান ভাসতে পারনা সুখের গন্ধে নির্বিকার চিত্ত আধান পৃথিবীর কাছে তুমি নাকি আজ কল্পবৃক্ষদ্রুম আমার চৌকাঠ পেরিয়ে এসেও ফিরে গেছো বারবার এ আমার কেমন তুমি আমার ভালোবাসা বসন্ত না এনে ঝরিয়ে দিলে বাগান ভরা ফুল।।

বিস্তারিত»
পলাশবাড়তে অপরাধ দমন বিষয়ক সভা

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ কমিউনিটি পুলিশ পলাশবাড়ী থানা সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে শুক্রবার বিকেলে হাসপাতালের সামনে অপরাধ দমন বিষয়ক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। পলাশবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেন সরকার, সাধারন সম্পাদক আবু বক্কর প্রধান, উপজেলা জাসদ সভাপতি ও বিশিষ্ট সাংবাদিক নুরুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। অন্যান্যদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম, আজাহার আলী মেম্বার, শাহ জালাল, ফুল মিয়া, আব্দুস সোবহান, আবুল কালাম আজাদ মেম্বার, এনামুল হক, সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য  রাখেন। সভায় অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমান বলেন, অপরাধ দমনে সকল শ্রেণীর পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে পুলিশকে  সহযোগীতার আহবান জানান। তিনি কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের উপর গুরুত্তারোপ করেন।

বিস্তারিত»
গাইবান্ধায় গোলাম আযমের গায়েবানা জানাজা

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা গোলাম আযমের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে পলাশবাড়ী উপজেলার গৃধারীপুর দাখিল মাদ্রাসা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নিজপাড়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পলাশবাড়ীতে জানাজা পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারী ও পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদ অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম লেবু, পৌর জামায়াতের আমীর ও উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান আবু তালেব মাস্টার, উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল মজিদ আকন্দ, সেক্রেটারী আবু বক্কর সিদ্দিক, পৌর বিএনপির আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা শিবির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, সেক্রেটারী হাফেজ আরিফুর ইসলাম প্রমুখ। পলাশবাড়ী জানাজায় ইমামতি করেন, উপজেলা পরিষদ অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম লেবু। সুন্দরগঞ্জের জানাজায় ইমামতি করেন, নিজপাড়া দাখিল মাদ্রাসা শিক্ষক মাওঃ আবু বক্কর সিদ্দিক।

বিস্তারিত»
কেউ বোঝেনি:ফুল্লরা মুখোপাধ্যায়

ভাঙ্গা বাড়ীটার দেয়ালে যে একটা ঠিকরানো ফাটল আর সেই ফাটলের দুপাশে শ্যাওলা জং ধরা দরজা নাড়লেই সে তোলে আর্তনাদ খসে পড়ে মুঠো মুঠো বালি কেউ বোঝেনি ওদের ধমনীর স্বাদ সিঁড়ির বুকে যেখানে মাকড়শার  জাল যাদের ফাঁকে দিয়ে মনে পড়ে অতীত দিনে দিনে তিল তিল করে গড়ে ওঠা ভয় হাওয়ার চাপে মড়মড়ে পাতার চিত্কার কেউ বোঝেনি ওদের ঘিলুর রং কেউ বোঝেনি।।

বিস্তারিত»
এত বেশি অজ্ঞতা নিয়ে খালেদা জিয়া কী করে দুবার প্রধানমন্ত্রী হলেন:আশরাফ

ঢাকা: বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নীলফামারীতে দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, “এত বেশি অজ্ঞতা নিয়ে খালেদা জিয়া কী করে দুবার প্রধানমন্ত্রী হলেন?” শুক্রবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। আশরাফুল ইসলাম বলেন, “খালেদা জিয়া বলছেন এ সরকারকে কোনো রাষ্ট্রই স্বীকৃতি দেয়নি। তিনি রাষ্ট্র ও সরকারকে গুলিয়ে ফেলেছেন। একটা রাষ্ট্র আরেকটা রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। সরকার ও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি এক না।” খালেদা জিয়াকে ‘অজ্ঞ’ হিসেবে অভিহিত করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “তিনি না জেনে অজ্ঞতার কারণে ভুল কথা বলে যাচ্ছেন। ওনার উপদেষ্টারা ওনাকে ঠিকমতো পৌরনীতি পড়াননি।” বিএনপিকে অপশক্তি আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “তথ্য পাওয়ার জন্য এফবিআই এজেন্টকে ঘুষ দিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছে। এ অপশক্তি যেখানেই থাকুক, সেখানেই অপকর্ম, সেখানেই দুর্নীতি, সেখানেই জালিয়াতি করে। বাংলাদেশেও জালিয়াতি করে, বিদেশে গিয়েও জালিয়াতি করে।”   বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, “বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এমন একজনকে তার মানবাধিকারবিষয়ক উপদেষ্টা নিয়োগ করেছেন, পুলিশ যাকে গ্রেফতার করেছে, যিনি ফৌজদারি মামলা ফেস করছেন। তিনি কী ধরনের উপদেষ্টা নিয়োগ করলেন? একজন ক্রিমিনাল কী করে উপদেষ্টা হয়?”  

বিস্তারিত»
গোলাম আযমের গায়েবানা জানাজা

চট্টগ্রাম: একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ৯০ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের গায়েবানা জানাজার নামাজ পড়েছে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার জুমার নামাজের পর নগরীর প্যারেড ময়দানে এ গায়েবানা জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা মুমিনুল হক। নামাজের আগে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক আহসান উল্লাহ বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির ও ভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রোদা, ডাকসুর সাবেক নির্বাচিত জিএস, বিশ্বনন্দিত ইসলামী চিন্তাবিদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রুপকার অধ্যাপক গোলাম আযম একটি ইতিহাসের নাম। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে তিনি ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের প্রাণপুরুষ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে অবৈধ সরকার বয়োবৃদ্ধ এই নেতাকে নির্মমভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। শহীদদের পথ ধরে এদেশে একদিন ইসলামী শাসনতন্ত্র কায়েম হবে ইনশা আল্লাহ।’ যুদ্ধাপরাধীদের গুরু গোলাম আযমের গায়েবেনা জানাজায় অংশ নিয়ে জামায়াতের এ নেতা আরো বলেন, ‘সরকার জামায়াত নেতাদের হত্যা করে এদেশ থেকে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনকে মুছে দিতে পারবে না। জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আজমের রেখে যাওয়া কাজকে আঞ্জাম দেয়ার সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের এগিয়ে আসতে হবে।’ জানাজা পূর্ব সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরী, আলহাজ্ব আফসার উদ্দীন চৌধুরী, উত্তর জেলা আমীর অধ্যক্ষ আমিরুজাজামান, সাবেক এমপি আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী প্রমুখ।

বিস্তারিত»
ছাত্রদলকে ধ্বংস করার জন্য ফরম বিতরণ শুরু করেছেন -বিদ্রোহী নেতারা

নিজস্ব প্রতিনিধি:সিলেট জেলা ও মহানগর  ছাত্রদলের নয়া পকেট কমিটি প্রত্যাখানকারী বিদ্রোহী নেতারা বলেন, নয়া পকেট কমিটির নেতারা যে প্রক্রিয়া কমিটিতে এসেছেন তারা সেই প্রক্রিয়া কাজ করছেন। আমরা শুনেছি তারা বিপুল পরিমান টাকার বিনিময়ে কমিটিতে এসেছেন। তাই তারা এই টাকা উওলনের জন্য  কর্মীদের মধ্যে ফরম বিতরণ শুরু করেছেন যা  সিলেটের ছাত্রদলকে ধ্বংস করার পায়তারা করছেন । তারা বলেন, ফরম পূরণ করে ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্য হওয়ার কথা গঠনতন্ত্রে রয়েছে । কিন্তু পদ পাওয়ার জন্য ফরম ফূরণ করতে হয় তা সিলেট ছাত্রদলের ইতিহাসে এই প্রথম। তাই তাদের এই ফাঁেদ পা না দেওয়ার জন্য তৃণমুল ছাত্রদলকে সর্তক থাকার জন্য অনুরোধ করেন।  শুক্রবার রাতে নগরীর এক রেষ্ট্রিরেন্টে ছাত্রদলের বিদ্রোহী নেতাদের এক জরুরী বৈঠক অনুষ্টিত হয়। বৈঠকে নেতারা আরো বলেন, কখনো লামাবাজার,কখনো মিরাবাজার,আবার কখনো তেলিহাত্তর  ছাত্রদলের অস্থায়ী যে কার্যালয়ের কথা বলা হচ্ছে আসলে সিলেটে ছাত্রদলের কোন অস্থায়ী কার্যলয় নেই । আমরা জেনেছি তেলিহাত্তর এক ব্যবসায়ী শিল্পপতির বাসা রয়েছে। আর বাসার ড্রয়িংরুমে বসে ছাত্রদলের কোন কার্যক্রম আগামীতে পরলক্ষিত হলে আমরা তৃনমুল ছাত্রদল নিয়ে তা প্রতিহিত করব। তাছাড়া নয়া পকেট কমিটির সকল কার্যক্রম প্রতিহিত করার জন্য অতিতের মত আমরা এখনো ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। এসময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাক সৈয়দ সাফেক মাহবুব,জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাক মাহবুবুল হক চৌধুরী,মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক আহমদ চৌধুরী ফয়েজ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল করিম জেহিন,জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল মুর্শেদ,মহানগর ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম নাচন,দক্ষিণ সুরমা ছাত্রদলের সভাপতি কুহিনূর আহমদ, লোাকমান তালুকদার, লোকমান আহমদ, এখলাছুর রহমান মুন্না,নাজিম উদ্দিন পান্না প্রমুখ।  

বিস্তারিত»
ধর্মপাশার সেলবরষ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

সাজেদুল হক রনি,ধর্মপাশা থেকে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি বার্ষিক সম্মেলন আজ শুক্রবার বিকেল তিন ঘটিকায় উপজেলার বৌলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে সভাপতি পদে মো.আলা উদ্দিন শাহ ও সাধারণ সম্পাদক পদে বেনোয়ার হোসেন খান পাঠান নির্বাচিত হয়েছেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেলবরষ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহবায়ক দেনিয়ার হোসেন খান। বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনীন্দ্র চন্দ্র তালুকদার, সাধারণ সম্পাাদক আব্দুল হাই তালুকদার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শামীম আহমেদ বিলকিস, ধর্মপাশা উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ন আহবায়ক শামীম আহমেদ মোরাদ,সেলবরষ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো.দুলা মিয়া প্রমুখ ।

বিস্তারিত»
এই পার্লামেন্টকে  নির্বাচিত বলা শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ কৌতুকএমন কথা শুনে লজ্জা ও লজ্জা পায় -মুফতী ফয়জুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিনিধি:ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেছেন, দেশের ভাগ্যাকাশে প্রলয় ঘটে যাচ্ছে। ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা সব কিছু তছনছ করে দিচ্ছে সে প্রলয়। বাতাসে কান পাতলেই শোনা যায় মানুষের হাহাকার ধ্বনি। এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য গড়ে তুলতে হবে, আন্দোলনের কালবৈশাখী। এই আন্দোলনের জন্য জনগণকে জাগতে ও জাগাতে হবে। মুফতী ফয়জুল্লাহ আরো বলেন, বিনা ভোটে, গায়ের জোরে, তামশার নির্বাচনী নাটক সাজিয়ে, অনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দিয়ে গঠিত , বিরোধীদল হীন, জনগণের প্রতিনিধিত্ব হীন পার্লামেন্টকে  নির্বাচিত বলা শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ কৌতুক ছাড়া আর কি হতে পারে? এ’কথা শুনে লজ্জা ও লজ্জায় মুখ ঢাকে।   তিনি আরো বলেন, মহান আল্লাহ যে উদ্দেশে রাসূলদের প্রেরণ করেছিলেন, যে লক্ষ্য নিয়ে আমাদের মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন, যে, আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর আইন মেনে চলবে, সারা পৃথিবীতে দ্বীন কায়েম হয়ে যাবে, আমাদের সেই কাজ করতে হবে। যারা যার অবস্থান থেকে। এগিয়ে যেতে হবে দৃঢ়তার  সাথে। আজ বাদ জুমা মাওলানা যুবায়ের আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কাকরাইল দারুল উলুম, রমনা, পল্টন এবং শাহবাগ জোন নেতৃবৃন্দের  সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে মুফতী ফয়জুল্লাহ এ’কথা বলেন। সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা যুবায়ের আহমদ বলেন, মুফতী আমিনীর রহ রেখে যাওয়া আমানত ইসলামী ঐক্যজোটের প্রতিটি নেতাকর্মীকে তাগুতের মোকাবেলায়  দৃঢ়প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।  মুফতী আমিনীর রহ, লাখো রুহানী সন্তান এখনো এই জমিনে বেঁচে আছে। নাস্তিক মুরতাদরা সাবধান।  সভায় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী, যুগ্ম মহাসচিব মুফতী তৈয়্যব হোসাইন,মাওলানা আবু কাশেম,মাওলানা রিয়াজতুল্লাহ,মাওলানা কাজী আজিজুল হক, মাওলানা আব্দুল আজিজ, মাওলানা হাতেম আলী, হাফেজ  মুহাম্মদ আলী,মাওলানা আব্দুর রহমান,মাওলানা ইফতেখার, মাওলানা ফজলু সরকার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।           

বিস্তারিত»
২৩ নভেম্বর গোলাপগঞ্জ হেল্পিং হ্যান্ডস এর নির্বাচন

লন্ডন:আগামী ২৩ নভেম্বর গোলাপগঞ্জ হেল্পিং হ্যান্ডস এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সুষ্ট ভাবে পরিচালনা করার জন্য সালেহ আহমদ খান এমবিইকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মোহাম্মদ সামছুল হক ও কাউন্সিলার আ ম অহিদ আহমদকে কমিশনার এবং সিরাজুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান ও ফারুক আহমদ, দেলওয়ার হোসেন লেবুকে সহকারি কমিশনার করে ২০১৪ সালের নির্বাচনের জন্য গোলাপগঞ্জ হেল্পিং হ্যান্ডস-এর নির্বাচন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। সংগঠনের সংবিধান অনুযায়ী বাঘা ইউনিয়ন হতে সভাপতি ও ইসি মেম্বার, গোলাপগঞ্জ ইউনিয়ন হতে সাধারণ সম্পাদক ও ইসি মেম্বার, ফুলবাড়ী ইউনিয়ন হতে সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইসি মেম্বার, লক্ষীপাশা ইউনিয়ন হতে প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক ও ইসি মেম্বার, বুধবারীবাজার ইউনিয়ন হতে সহ-সভাপতি ও সহ-সদস্য বিষয়েক সম্পাদক, ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন হতে সহ-সভাপতি ও সহ-কোষাধ্যক্ষ,  লক্ষনবন্দ  ইউনিয়ন হতে সদস্য বিষয়েক সম্পাদক ও ইসি মেম্বার, ভাদেশ্বর ইউনিয়ন হতে কোষাধ্যক্ষ ও ইসি মেম্বার, আমুড়া ইউনিয়ন হতে সহ-সভাপতি ও  সহ-সাধারণ সম্পাদক, বাদেপাশা ইউনিয়ন হতে সহ-সভাপতি ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, শরীফগঞ্জ ইউনিয়ন হতে শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও ইসি মেম্বার, গোলাপগঞ্জ পৌরসভা হতে ক্রীড়া সম্পাদক ও ইসি মেম্বার নির্বাচিত হবেন নির্বাচন কমিশন আগামী ২৩ নভেম্বর, রবিবার নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, ১ নভেম্বর নমিনেশনপত্র দাখিলের শেষ দিন এবং ৮ নভেম্বর নমিনেশনপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয়। এছাড়া, যারা নমিনেশপত্র দাখিলের দিন পর্যন্ত সদস্যপদ গ্রহণ করবেন শুধুমাত্র তারাই ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকারী হবেন। নমিনেশপত্র ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগের মাধ্যমে অথবা সংগঠনের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। নির্বাচন বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য মোহাম্মদ সামছুল হক (০৭৯৮৪৩২০৫১৭) ও কাউন্সিলর ওহিদ আহমদের (০৭৯৮৪৪২৪৯১৩) সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

বিস্তারিত»
বর্ধমান বিস্ফোরণে জে এম বি-র সংশ্লিষ্টতা

ভারতের বর্ধমানে বোমা বিস্ফোরণে জামায়েতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছে সন্ত্রাসী ঘটনার তদন্ত এজেন্সি ন্যাশনাল ইনভেস্টেগেশন এজেন্সি বা এন আই এ। আজ সংস্থার মহানির্দেশক শরদ কুমার বিস্ফোরণস্থল আর তদন্তে উঠে আসা বেশ কয়েকটি জায়গা ঘুরে দেখেন। বর্ধমানে তৈরী হওয়া বোমাগুলি বাংলাদেশে পাঠানোর জন্যই তৈরী করা হচ্ছিল বলেও এন আই এ জানিয়েছে। জাতীয় তদন্ত সংস্থা বা এন আই এ আজ জানিয়েছে যে তারা বর্ধমানের খাগড়াগড়ে দোসরা অক্টোবরের বিস্ফোরণের প্রাথমিক তদন্ত শেষ করেছে – দুই মহিলা সহ তিনজনকে তারা গ্রেপ্তার করতে পেরেছে আর চতুর্থ ব্যক্তি বিস্ফোরণে আহত হয়ে এখনও হাসপাতালে। শাকিল আহমেদ এবং শোবহান মন্ডল নামে যে দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছিলেন – তাঁরাও বাংলাদেশের নাগরিক বলেই একরকম নিশ্চিত এন আই এ। আরও ব্যক্তি এখনও পলাতক। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ও বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ সহ বিভিণ্ন জেলায় তল্লাশী চালিয়ে উদ্ধার হওয়া নথিপত্র, ফোন রেকর্ড প্রভৃতি ঘেঁটে এন আই এ নিশ্চিত যে জামায়েতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের সদস্য এই ধৃত ব্যক্তিরা। বাংলাদেশে পাঠানোর জন্যই নিষিদ্ধ ওই সংগঠনটির সদস্যরা অত্যাধুনিক বোমাগুলি তৈরী করছিলেন। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে একটি রিপোর্ট দিতে হবে এন আই কে – তাই প্রাথমিক তদন্ত শেষ হওয়ার পরে এন আই এ-য়ের ডি জি শরদ কুমার নিজে একবার সব জায়গাগুলি ঘুরে দেখে গেলেন শুক্রবার। বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ – দুই জেলাতেই গিয়েছিলেন তিনি। পরে সংস্থার তদন্তকারীদের সঙ্গে বিস্তারিত বৈঠক করেছেন তিনি। এছাড়াও তদন্তের পরবর্তী ধাপ আর স্ট্যাটেজি নির্ধারণও তাঁর আজকের এজেন্ডায় ছিল। গোয়েন্দা সূত্রগুলি জানিয়েছে, এই বিস্ফোরণের মাধ্যমে যে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের হদিশ পাওয়া যাচ্ছে – যেটা বাংলাদেশ, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খন্ড বা তেলেঙ্গানা পর্যন্ত বিস্তৃত – তা এতটাই নতুন আর অজানা ছিল সন্ত্রাসমোকাবিলা বাহিনীগুলির কাছে – তাতেই শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে এই ঘটনা। এই তদন্তে সন্ত্রাস মোকাবিলা বাহিনী এন এস জি-র বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা এসেছিলেন – যে ধরণের বিস্ফোরক এখানে ব্যবহার করা হচ্ছিল, সেটাতেও যথেষ্ট অবাক হয়েছেন তদন্তকারীরা। হাসপাতালে ভর্তি থাকা আব্দুল হাকিমকে নিজেদের হেপাজতে নিয়ে জেরা করাটাই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ এন আই এ-র কাছে। তিনি বিস্ফোরণ স্থলেই ছিলেন, তাই তাঁকে জেরা করে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া যেসব অভিযুক্ত পালিয়ে রয়েছেন তাদের খুঁজে বার করাও এন আই এ-র কাজ। জামায়েতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের এই নেটওয়ার্ক যেমন খুঁজে বার করতে চাইছে এন আই এ, তেমনই জে এম বি-র এই নেটওয়ার্কের ফান্ডিং কীভাবে হত – অর্থাৎ কারা টাকা পয়সা যোগাত এই সন্ত্রাসীদের – সেটাও খুঁজের বার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে এন আই এ। আর তথ্য পাওয়ার জন্য আর্থিক পুরস্কারও ঘোষণা করা হবে। দূর্গাপুজোর মধ্যেই বর্ধমান শহরের খাগড়াগড়ের একটি বাড়ীতে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রথমে পুলিশ সেটিকে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ বলার চেষ্টা করেছিল। পরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা স্বীকার করা হয় আর পরের দিনই উদ্ধার হওয়া বিপুল সংখ্যক বোমা নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয় – ফরেন্সিক বিশ্লেষনের জন্য নমুনা না রেখেই। ঘটনার গুরুত্ব বাড়তে থাকায় রাজ্য পুলিশের সি আই ডি-কে তদন্তভার দেওয়া হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ঘটনার গুরুত্ব যাচাই করে তদন্তের আদেশ দেয় সন্ত্রাসী ঘটনার তদন্ত সংস্থা এন আই কে।বিবিসি

বিস্তারিত»
সিলেটে ও শিবগঞ্জে যুবলীগ কর্মী খুন

সিলেট: সিলেটের সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবলীগ কর্মী ও চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এক যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যার পর এ ঘটনা দু’টি ঘটে। আমাদের ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন।   সিলেট ব্যুরো জানায়, সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত আবদুল আলী উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ গ্রামের আবদুল মনাফের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আবদুল আলী নৌকাযোগে কাটাগাঙ এলাকায় আসার পথে ওৎপেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি ও কুপিয়ে আহত করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন জানান, সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি ও কুপিয়ে খুন করেছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। আমাদের চাপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানায়, জেলার শিবগঞ্জে পৌর শহরের স্টেডিয়ামের সামনে মনিরুল ইসলাম (৩০) নামের এক যুবলীগ কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত মনিরুল সিএন্ডএফ এজেন্ট ছিল। শুক্রবার সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।  

বিস্তারিত»

সাক্ষাৎকার

সংঘর্ষ, আ:লীগকে দায়ী করছে বিএনপি

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জের ধওে রোববার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাংচুর এর ঘটনা ঘটেছে। এসময় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়। কিন্তু বিএনপি নেতারা দাবি করে বলছেন, এর পেছনে আওয়ামী লীগ দায়ি। গত মঙ্গলবার রাতে বিএনপির পক্ষ থেকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর থেকেই ২০১ সদস্যের এ কমিটিতে স্থান না পাওয়া নেতা কর্মীরা বিক্ষোভ করে আসছিল। বিএনপির একজন উপদেষ্টা এবং ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শামসুজ্জামান দুদুর কাছে বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল এ ধরনের বিরোধ সামনে চলে আসার কারণ কি ? শামসুজ্জামান বলেন, এ ঘটনা কারও ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত নয়। একটি গণতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠনের জন্যে অবশ্যই খুব বিব্রতকর আর জাতীয় রাজনীতির জন্যও খুব একটা ভাল কোন ঘটনা না। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, এখন ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতাসীন যারা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসেনি। এই মুহুর্তে যেকোন ছাত্র সংগঠন বা রাজনৈতিক দল বিশেষত বিরোধী দলের জন্যে এমন একটি ঘটনা, এটা দুঃখজনক। আপনি সরকারকে দোষারোপ করছেন কিন্তু অতীতেও ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা ঘটেছে, এ প্রসঙ্গে বিএনপির এই উপদেষ্টা বলেন, যেটি গতকাল ঘটেছে, মূল সংগঠনের অফিসে ভাংচুর, নেতা কর্মীদের উপর আক্রমণ, শহীদ জিয়ার ম্যুরাল ভাংচুর এরকম ন্যাক্কারজনক ঘটনা আগে ঘটেছে এটা আমার জানা নাই। ঘটনার যারা প্রত্যক্ষদর্শী তারা দেখেছেন পুলিশ একবারেই নিরবতা পালন করেছে। গত ৭-৮ মাস ধরে আমাদের ওখানে দাঁড়াতেই দেয়নি, কর্মীদের দাঁড়াতে দেয়না। যেখানে এরকম একটা অবস্থা সেখানে এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল পুলিশ একেবারে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে গেল। সম্মেলন ছাড়া কমিটি গঠনটা কি এই আন্দোলন বা বিক্ষোভের পিছনে কোন কারণ হিসাবে থাকতে পারে ? এমন প্রশ্নের জবাবে ছাত্রদলের সাবেক এ সভাপতি বলেন, সম্মেলন, কর্মী সম্মেলন, একেবারে ইউনিয়ন থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সম্মেলন হবে এটাই আমরা আশা করি এবং গঠনতান্ত্রিক বিধি বিধানে এটাই আমাদের সবার প্রত্যাশা। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, দেশে আমাদের একটা স্বাভাবিক সমাবেশও সরকার করতে দেয়না। ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে আমাদের সম্মেলনের আবেদন তারা কয়েকবার প্রত্যাখান করেছে। অর্থাৎ স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী, গঠনতান্ত্রিক বিধি বিধান অনুযায়ী সম্মেলন করতে গেলেই পারব এমন কোন কারণ আছে বলে আমার মনে হয় না। আর একটা বিষয় হচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ ডাকসু ছিল জাতীয়তাবাদি ছাত্রদলের, অথচ তারা কিন্তু সেখানে ঢুকতে পারে না এবং যখন আমাদের ছাত্র সংগঠন যেতে চেয়েছে তখন ভিসিসহ সরকারি ছাত্র সংগঠন প্রকাশ্যে পুলিশের সহায়তায় তাদের উপর আক্রমণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিসহ, অন্যান্য নেতা কর্মীদের রক্তাক্ত করা হয়েছে। বুয়েটে আমাদেরকে দাঁড়াতে দেয়া হয়না। এছাড়াও সাড়া বাংলাদেশের প্রধান প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমাদের ঢুকতে দেয়া হয়না। এমন অবস্থায় গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুযায়ি কমিটি গঠন করা কঠিন ব্যাপার। তবে কনভেনশন অনুযায়ী এটা করতে পারলে ভাল হত। আগামীতে হয়ত কোন এক সময় এটি করা সম্ভব হবে বলে আমাদের ধারণা। সামনে অবস্থা যদি সেরকম হয় আমরা করব। অঙ্গ সংগঠনগুলোর সম্মেলন করব এবং এই সরকারের পতনের মধ্য দিয়েই গণতান্ত্রিক রীতিনীতিতে যে চর্চা সেটা ফিরে আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস। বিবিসি

বিস্তারিত»

বিশেষ কলাম

কেন সবাই ছাত্রদলের নেতা হতে চায়?

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মাঠে নেমেছে। তবে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নয়, নিজেদের বিরুদ্ধে। ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার পরদিন থেকে পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কয়েক শত ছাত্র-তরুণ বিক্ষোভ করেছেন। অনেক দিন পর ছাত্রদলের এত বড় মিছিল ও উপস্থিতি দেখা গেল। বিক্ষোভকারী নেতাকর্মীদের দাবি, নতুন গঠিত কমিটি ভেঙে দিতে হবে। কারণ, যারা কমিটিতে স্থান পেয়েছেন তাদের অনেকে ত্যাগী নেতা নন। কেউ কেউ নাকি সরকারের এজেন্ট। কেউ আবার ছাত্রলীগ থেকে ছাত্রদলে অনুপ্রবেশ করেছেন। ফলে কমিটি ভেঙে দিয়ে দলের প্রতি আনুগত্য আছে এমন নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। বাস্তবতা হলো, যারা আজ আন্দোলন করছেন তাদেরকে যদি কমিটিতে রাখা হতো তাহলে আরো একটি পক্ষ একই ধরনের প্রতিবাদ বিক্ষোভ করত। কারণ ছাত্রনেতা হওয়ার সাথে আর্থিক লাভালাভের যোগ আছে। আর গত পাঁচ বছর ধরে ছাত্রলীগের নেতা ও পাতি নেতারা যেভাবে টাকা-পয়সা, গাড়ি- ফ্ল্যাটের মালিক বনে গেছেন তা দেখে ছাত্রদলের নেতা হওয়ার জন্য যারা লাইনে আছেন, তারাও চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করছেন। এ কারণে কমিটি যাদের দিয়েই হোক না কেন, প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হতোই। বিএনপির কোটারি স্বার্থের সাথে জড়িত অনেক নেতা কোনো-না-কোনো পক্ষকে ইন্ধন দিতেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এ বিষয়গুলো বোঝেন না এমন নয়। এ কমিটি গঠনের আগে বেগম খালেদা জিয়া ছাত্রদলের নেতা হওয়ার প্রতিযোগিতায় আছেন, এমন সবার সাথে মতবিনিময় করেছিলেন। সেখানে তিনি অনেকের বক্তব্য শুনেছেন। কিছু কিছু প্রশ্নও করেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন এদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন ২৯ ডিসেম্বর বিএনপির মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি কর্মসূচির দিনে তারা কোথায় ছিলেন। বেশির ভাগের জবাব ছিল তারা জরুরি কারণে ঢাকায় ছিলেন না। কারো কারো নাকি পেটের পীড়াজনিত রোগ হয়েছিল। কেউ আবার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চাইলে হয়তো এক দিনের মধ্যে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট এনে দিতে পারতেন। কয়েকজন হাতেগোনা ছাত্র বলেছেন তারা জেলে ছিলেন। ২৯ ডিসেম্বর ভোরে কয়েকটি বালুর ট্রাক দিয়ে খালেদা জিয়ার বাড়ি আটকে দেয়া হয়েছিল। তিনি পতাকা হাতে বাসা থেকে বের হলেও গেট পার হতে পারেননি। বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় বক্তব্য রেখেছেন। সেদিন ঢাকা শহর কড়া নিরাপত্তায় ছিল। ঢাকার বাইরে থেকে যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছিল।   এর মধ্যে মালিবাগে ছাত্রশিবির একটি মিছিল বের করেছিল। সেখানে পুলিশের গুলিতে একজন শিবিরকর্মী নিহত হন। ‘দেশ গড়েছেন শহীদ জিয়া,নেত্রী মোদের খালেদা জিয়া’ স্লোগান দেয়ার মতো লোক খুঁজে পাওয়া যায়নি; বরং পুলিশ-বেষ্টনীর মধ্যে বেকুবের মতো ‘নারায়ে তকবির’ স্লোগান দিয়ে একজনের প্রাণহানি হয়েছিল। কিন্তু মালিবাগে আরো অনেকের আশার কথা ছিল, তারা কেউ আসেননি। বাসায় বসে টেলিভিশনে খালেদা জিয়ার বন্দিদশা দেখে তাদের রক্ত টগবগ করেছে; কিন্তু বাসার নিচে নামার সাহস হয়নি। এর আগে খালেদা জিয়াকে বাসা থেকে বিতাড়িত করার পরও ছাত্রদলকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বলা হয়ে থেকে আপসহীন নেত্রীর চোখে পানি এ দেশের মানুষ মাত্র দুইবার দেখেছিল। একবার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর, দ্বিতীয়বার স্বামীর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার পর। নেত্রীর চোখে পানি দেখার পর ছাত্রদলের তরুণেরা আবেগতাড়িত হয়ে প্রতিরোধের শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। সেদিনও ঢাকা শহরে একটি মিছিলও হয়নি। কোনো প্রকার প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ছাড়াই যখন সরকার এ দু’টি কাজ সমাধা করতে পারে, সে সরকারের কাছে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন খুব বড় কোনো সমস্যা ছিল না। হ্যাঁ সমস্যা হয়েছিল, তবে ঢাকার ছাত্রদলের নেতাদের নিয়ে নয়, গ্রামের মানুষকে নিয়ে; যারা প্রকৃতপক্ষে খালেদা জিয়াকে ভালোবাসেন। খালেদা জিয়ার চোখে পানি দেখে তাদের চোখও ভিজে গিয়েছিল। এই গ্রামের মানুষই বারবার সর্বাধিক ভোটে তাকে বিজয়ী করেন, যারা জিয়াউর রহমানকেও এখনো ভুলে যাননি। বেগম খালেদা জিয়ার কথায় তারা ভোট বর্জন করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, ভোট প্রতিরোধ করেছিলেন। দলীয় প্রধানের সর্ব্বোচ্চ বিপদে যে ছাত্রসংগঠনের নেতারা মাঠে নামতে পারেন না, তারা কিভাবে দাবি করতে পারেন খালেদা জিয়ার অনুমোদিত কমিটি দিয়ে আন্দোলন হবে না। তাদের এই দাবি যদি সত্যি বলেও প্রমাণ হয়, তারপরও তারা নৈতিকভাবে এ কথা বলার অধিকার রাখেন না। পল্টনে একজন বিদ্রোহী নেতা বলেছেন, তারা নাকি রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতন ঘটাবেন। এর আগে তারা নিজেদের ঘর  ঠিক করবেন। এরা যে কার ঘর  শক্ত করছেন পুলিশের ভূমিকা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়। পল্টনের অফিসে যেখানে বিএনপির সিনিয়র নেতারা চেয়ার নিয়ে বসতে পারেন না; অফিসের দরজা ভেঙে পঙ্গু রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় সেখানে এক সপ্তাহ ধরে রাস্তা বন্ধ করে মিছিল-স্লোগান হয়, ককটেল ফাটে; কিন্তু পুলিশ নীরব দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। ছাত্রদলের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশ এখন সহযোগী। বাহ্ চমৎকার!   এমন পরিস্থিতির জন্য শুধু বিদ্রোহীরা দায়ী তা নন, পদবঞ্চিত নেতারা ছাত্রদলের সাবেক দুই সভাপতি শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি ও সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন। এই দুই নেতা ছাত্রদলের কমিটি গঠনে কমবেশি ভূমিকা রেখেছেন। এখন তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা এড়িয়ে যাওয়ার নয়। এ দ্ইু নেতার বিরুদ্ধে নানা ধরনের দুর্নীতির গুঞ্জন রয়েছে। ছাত্রবিষয়ক সম্পাদকের কারণে যদি সংগঠনে বিভেদ-বিভাজন বাড়তে থাকে তাহলে সে অভিভাবকত্ব কী কাজে লাগবে? প্রকৃতপক্ষে যাদের ওপর দল গঠনের দায়িত্ব পরে তারা যদি কোটারি স্বার্থে সংগঠনকে ব্যবহার করার চেষ্টা করেন তাহলে তা শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহে রূপ নেয়া স্বাভাবিক। কারণ, বিএনপি ক্যাডারভিত্তিক কোনো সংগঠন নয় কিংবা আওয়ামী লীগের মতো কর্তৃত্ববাদী দলও নয়। ছাত্রদলের সাবেক কয়েকজন সভাপতি যেভাবে ধন-সম্পদের মালিক বনে গেছেন, তাতে ছাত্রদলের কমিটির সদস্য হওয়া অনেকের কাছে ক্যারিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ছাত্রদলের বিদ্রোহীরা অভিযোগ করেছেন নতুন কমিটিতে নাকি ছাত্রলীগ ঢুকে পড়েছে। যদি ছাত্রলীগ ঢুকে পড়ে বিএনপির জন্য তাতেও কোনো সমস্যা আছে বলে মনে হয় না। কারণ, যারা প্রকৃত ছাত্রদলের বলে দাবি করছেন তারাই বা গত সাত বছরে ছাত্রলীগের মোকাবেলায় কী করেছেন? তাহলে ছাত্রলীগ ঢুকল, না অন্য কোনো ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী ঢুকল তাতে কী-ই বা আসে-যায়। এ ছাড়া বিএনপির কোনো কোনো নেতা তো বিএনপির নামে আওয়ামী লীগের রাজনীতি চালু করতে চান। দলের নাম বিএনপি হলেও রাজনীতি হবে আওয়ামী লীগের সেকুলার রাজনীতি। এতে নাকি বিদেশী সমর্থন নিয়ে দ্রুত ক্ষমতায় যাওয়া যেত। এরাই খালেদা জিয়া সিঙ্গাপুরে থাকা অবস্থায় শাহবাগের সমর্থনে বিবৃতি দিয়েছিল। পিয়াস করিমের মৃত্যুর পরের ঘটনা থেকে হয়তো তারা উপলদ্ধি করতে পারছেন, উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদের সাথে আওয়ামী সেকুলারিজম এক ঘোরতর মৌলবাদী বিশ্বাসে রূপ নিয়েছে। এখানে যতই আওয়ামী লীগের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে ততই আওয়ামী লীগ তাদের গুরুত্বহীন করবে, এমনকি সামাজিক মর্যাদাও দেবে না। ছাত্রলীগের কর্মীরা যদি ভোল পাল্টিয়ে ছাত্রদলে যোগ দেন তাহলে এদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার মতো নেতার অভাব হবে না। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে যখন ছাত্রদল গঠন করেন, তখন তার রাজনৈতিক ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য ছাত্রসংগঠন গঠনের প্রয়োজন ছিল না। তখন তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিলেন। ১৯৭২-৭৪ সালের দুঃশাসন ও গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য মানুষ একজন রাষ্ট্রনায়ক খুঁজছিল। ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সেই রাষ্ট্রনায়কের আবির্ভাব ঘটেছিল। রাষ্ট্রের দায়িত্বভার গ্রহণের পর তিনি বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের সাথে খুব সহজভাবে মিশেছেন। গণমানুষকে সাথে নিয়ে তার মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা এই কাজকে আরো সহজ করে দিয়েছিল। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একজন রাষ্ট্রনেতা হিসেবে পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাপারে তিনি সমান মনোযোগী ছিলেন। মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সাথে কথা বলতেন। এ জন্য তাদের জন্য আয়োজন করেছিলেন নৌবিহারের। তিনি উপলদ্ধি করেছিলেন একটি আধুনিকমনস্ক, জাতীয়তাবোধে উজ্জীবিত ছাত্রসংগঠন গড়ে উঠবে। এ কারণে আমরা দেখছি ৮০-এর দশকে মেধাবী ও আধুনিক উদ্যমী অনেক তরুণকে ছাত্রদলে যোগ দিতে। তার এই অনুপ্রেরণায় গড়া ছাত্রসংগঠনের সুফল পাওয়া গেছে গোটা এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের সরব উপস্থিতি। সে সময় অনেক ছাত্রদল নেতাকর্মী ত্যাগ স্বীকার করেছেন। পঙ্গু হয়েছেন, দীর্ঘ সময় জেল খেটেছেন। সেই ছাত্রদল এখন আদর্শহীন রাজনীতির উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছাত্রদলের নামে পল্টনে জিয়াউর রহমানের মুর‌্যালে যখন আঘাত করা হয়, তখন কবর থেকে জিয়াউর রহমান হয়তো আক্ষেপ করেন, এই তরুণদের জন্য কী ছাত্রসংগঠন গড়ে এসেছিলাম? বাস্তবতা হলো, এই ছাত্রদল জিয়াউর রহমানকে ভুলে গেছে। দুর্ভাগ্য, এরাই এখন ছাত্রদলের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছেন। তবে বলতেই হবে, ছাত্রদলের এই পরিস্থিতির জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের দায় নিতে হবে। কেন সবাই ছাত্রদলের নেতা হতে চায়, তা আগে অনুধাবন করা দরকার। আওয়ামী লীগের রাজনীতি যদি বিএনপি নেতারা প্রমোট করতে চান, তাহলে ছাত্রদলের অবস্থা আগামী দিনে ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে।  

বিস্তারিত»

এক্সক্লুসিভ

‘ফোর্সড ডিজঅ্যাপেয়ারেনসেস সার্জ ইন বাংলাদেশ

সিলেটের আলাপ ডেস্ক:গুম বেড়েছে বাংলাদেশে। যারা গুম হচ্ছেন তার বেশির ভাগই বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী। জবাবদিহির ঘাটতি থাকায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর হাতে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের অপহরণের সংখ্যা বেড়েছে। নিজেদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছে র‌্যাব। গতকাল অনলাইন আল জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়। ‘ফোর্সড ডিজঅ্যাপেয়ারেনসেস সার্জ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনটির লেখক ডেভিড বার্গম্যান। এতে বলা হয়েছে, স্থানীয় মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অধিকার-এর মতে গত দু’বছরে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বাংলাদেশে অপহরণ করেছে ৭৫ জনকে। এর মধ্যে ২৮ জন অপহরণের পর ফিরে এসেছে। ১২ জনকে পাওয়া গেছে মৃত অবস্থায়। বাকি ৩৫ জন এখনও নিখোঁজ। প্রত্যক্ষদর্শীরা এসব অপহরণের জন্য দায়ী করেছেন র‌্যাব অথবা পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রায় এক বছর আগে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে কালো পোশাক পরা কিছু লোক জোর করে তুলে নিয়ে যায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থানীয় নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনকে। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি কোথায় আছেন কেউ জানে না। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, আধা সামরিক বাহিনী র‌্যাবের পোশাক পরা কিছু লোক সুমন ও অন্য ৬ জনকে মাথা ঢেকে জোর করে তাদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এর মধ্যে ছিলেন সুমনের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় তানভির। তাদেরকে গাড়িতে তুলে নেয়ার পর পরই গাড়ি ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত চলে যায়। এ জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ গবেষক আব্বাস ফয়েজ বলেন, নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে সুদূরপ্রসারী ও কঠোর অবস্থান নিতে হবে। এসব মামলায় তাদের জবাবদিহির যে অভাব রয়েছে তার ইতি ঘটাতে হবে। অপহৃত সাজেদুল ইসলাম সুমনের ছোট বোন সানজিদা বলেন, ভাইয়াকে তুলে নেয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যে আমার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা উত্তরায় র‌্যাব-১ অফিসে যান। কিন্তু সেখানকার ডিউটি অফিসার এ ঘটনায় র‌্যাব জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। তিনি আরও বলেন, সুমন কোথায় থাকতে পারেন সে বিষয়ে কোন তথ্য নেই তাদের কাছে। ওই ঘটনার পর অপহৃতদের কাউকেই আর দেখা যায় নি। ওদিকে সুমন অপহরণের পর পরিবারের সদস্যরা র‌্যাবের কাছে কোন সদুত্তর না পেয়ে থানায় যান। সেখানেই তারা একই জবাব পান। এমনকি তাদেরকে লিখিত অভিযোগ দিতেও দেয়া হয় না। সানজিদা বলেন, পুলিশ আমাদেরকে বলে যে- আপনারা শুধু এটুকু লিখতে পারেন যে, সুমন বাড়ি থেকে চলে গিয়েছেন। তারপর তিনি ফিরে আসেন নি। তিনি নিখোঁজ। প্রকৃতপক্ষে যা ঘটেছিল তারা তা লিখতে দিচ্ছে না। র‌্যাবের বিরুদ্ধে তারা কিছু লিখতে দিচ্ছিল না। ডেভিড বার্গম্যান আরও লিখেছেন, মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের মতে, আগের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণের চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছরের এপ্রিলে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করা হয় সাতজনের মৃতদেহ। তাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এ ঘটনার চারদিন আগে তাদেরকে অপহরণ করেছিল র‌্যাবের কিছু সদস্য। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় হয়। হাইকোর্টের বিরল হস্তক্ষেপে র‌্যাবের ৯ সদস্য এখন আটক আছে। তদন্ত চলছে পুলিশের। অধিকার-এর সম্পাদক আদিলুর রহমান খান বলেন, এমন গুমের সঙ্গে পুলিশ বা অন্য কোন তদন্তকারী সংস্থার যে কোন রকম সম্পৃক্ততা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। যেসব মানুষকে গুম করা হয়েছে তাদের বেশির ভাগই বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। সাজেদুল ইসলাম সুমন ছিলেন ঢাকার শাহীনবাগ এলাকার বিএনপির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তার বোন সানজিদা বিশ্বাস করেন- রাজনীতি করার কারণেই তার ভাইকে অপহরণ করা হয়েছে। নিজের এলাকায় সুমন ভাল একজন রাজনৈতিক সংগঠক ছিলেন। নিজেদের পরিবারের অবস্থা প্রকাশ করতে এমন গুমের শিকার পরিবারগুলো এখন একজোট হওয়ার চেষ্টা করছে। সুমনের মা এ জন্য নতুন একটি গ্রুপ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘মাদারস কল’ বা মায়ের ডাক। এক্ষেত্রে সুমনের মাকে সহায়তা করছেন সানজিদা। যে সব ব্যক্তিকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন অপহরণ করেছে তাদেরকে নিয়ে এ সংগঠন দাঁড় করানো হচ্ছে। ৬০ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রুহুল আমিন চৌধুরী। তার ছেলে আদনান চৌধুরীকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনা ঘটে ২০১৩ সালের ৫ই ডিসেম্বর। ওই দিন মধ্যরাতের দিকে শাহীনবাগের বাসা থেকে তাকে তুলে নেয়া হয়। তার বাড়িতে বেশ কিছু লোক প্রবেশ করে সে রাতে। এ সময় তাদের অনেকে ছিল সশস্ত্র। কারও কারও পরনে ছিল র‌্যাবের পোশাক। রুহুল আমিন চৌধুরী বলেন- তারা আমার কাছে জানতে চায় আমার ছেলের বেডরুম কোনটি। আমি তাদেরকে দেখিয়ে দিই। তারপর তারা আমাকে আমার রুমে বসতে বলে। তারা আমার টিনশেডের বাসার সবগুলো রুম তল্লাশি করে। তারা বলে যে, আমরা আদনানকে নিয়ে যাচ্ছি। সে পরের দিন সকালে ফিরে আসবে। সুমনের মতো আদনানও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সকালে আদনান ফিরে না এলে তার পিতা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, এ সময় তিনি র‌্যাব কার্যালয় সহ বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অফিসে, গোয়েন্দা অফিসে ও থানায় গিয়েছেন। কিন্তু কেউই তাকে কোন তথ্য দিতে পারে নি। রুহুল আমিন বলেন, কেউ আমার সন্তানের খোঁজ দিতে না পারায় আমি হতাশ হয়ে পড়ি। যখন আমি দেখেছি, এলাকার অন্য মানুষ দেখেছে কিভাবে আদনানকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তখন কিভাবে র‌্যাব ও অন্যরা মিথ্যা বলতে পারে? তারা তো আমার ছেলেকে ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তারা আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। উচ্চ শিক্ষার জন্য মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা ছিল আদনানের। ৫ই ডিসেম্বর শুধু আদনানকেই নিয়ে যাওয়া হয় নি, বিএনপির আরেকজন সমর্থক কাওসার আহমেদকেও তুলে নেয়া হয়। তারপর থেকে তাদের কাউকেই আর দেখা যায় নি। এসব ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে র‌্যাব। র‌্যাবের মিডিয়া ও লিগ্যাল উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, এসব ঘটনায় র‌্যাব মোটেও জড়িত নয়। মানুষ বলতে পারে যে, তারা র‌্যাবের গাড়ি দেখেছে। কিন্তু ঘটনা তা নয়। যখন আমরা কাউকে আটক করি তাদেরকে আমরা আইনি পদক্ষেপ নিতে তুলে দিই পুলিশের কাছে। এ মাসের শুরুর দিকে বাংলাদেশে গুম বৃদ্ধির নিন্দা জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এ সংস্থার বাংলাদেশ গবেষক আব্বাস ফয়েজ বলেন, নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা গুমের জন্য দায়ী থাকলেও তারা তা অস্বীকার করে। এটা একটি বিরক্তিকর প্রবণতা। বাংলাদেশে গুমের ঘটনার তদন্ত বিরল ঘটনা। যথারীতি পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে মামলা তখনই নেয় যদি আদালত তদন্ত করার নির্দেশ দেন। তারপরও পুলিশ খুব সামান্যই তদন্ত করে।  

বিস্তারিত»

মতামত

মধ্যবর্তী নির্বাচনই সংকট সমাধানের পথ

মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন:দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সংকটে পড়ে বাংলাদেশ এক যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। যেকোনো সময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভয়াবহ পরিণতির দিকে মোড় নিতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি ও বিনিয়োগ; বিপর্যস্ত হতে পারে মানুষের জীবন-যাত্রা।  এ থেকে পরিত্রাণের উপায় হলো, সবদলের অংশগ্রহণে দেশে একটি দ্রুত মধ্যবর্তী নির্বাচন, যা অনুষ্ঠিত করা বর্তমান নৈতিকভিত্তিহীন ও প্রশ্নবিদ্ধ সরকারের একান্ত কর্তব্য। কিন্তু সরকার আছে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার তালে। ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচনের পর, প্রধানমন্ত্রী গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সে কথারও কোনো বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। অন্য দিকে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বারবার সরকারকে সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতা করার আহ্বান জানাচ্ছেন। কিন্তু সরকার খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন না। এখন আন্দোলন ছাড়া বিএনপির সামনে বিকল্প কোনো পথ খোলা আছে বলে মনে হয় না। এক কথায় বললে ক্ষমতাসীন দল বিএনপিকে কঠোর আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা চূড়ান্তভাবে তাদের জন্য বুমেরাং হতে বাধ্য। আরেক দিকদিয়ে দিয়ে সরকারের শরিক জাতীয় পার্টির প্রধান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ বলছেন, তার দল মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত; তার দৃষ্টিতে আগামী মার্চে নাকি দেশে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। দৃশ্যত দেশে একটি নির্বাচনের আওয়াজ উঠেছে, মানুষের মুখে মুখে উৎসারিত হচ্ছে নির্বাচন; মানুষ ভোট দিতে উদগ্রীব। মানুষের সাথে সাথে প্রকৃতিও যেন নির্বাচনমুখী হয়ে গেছে। এই নির্বাচনী ¯্রােতের বিপরীতে অবস্থান নেয়ার কোনো সুযোগ আছে মনে হয় না। কারণ মানুষ যা চায়, ঠিক তা-ই হয়। মানুষের ইচ্ছার বিপরীতে কোনো রাজনৈতিক দল অবস্থান নিলে, সে দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন। কাজেই নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলছেন এর বিপরীতে কথা। নিউইয়র্কে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে- প্রধানমন্ত্রী মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন। উপরন্তু তিনি সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন? কার জন্য? বিএনপি-জামায়াত জোটকে ক্ষমতায় আনার জন্য?’ আর সংলাপের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিএনপি সাংবিধানিকভাবে দেশের বিরোধী দল নয়, সুতরাং কার সঙ্গে সংলাপে বসব ইত্যাদি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত প্রশ্ন দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচন হলে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় যাবে এটা তিনি নিশ্চিত হলেন কীভাবে? ক্ষমতায় তো আওয়ামী লীগও যেতে পারে। তাহলে কী প্রধানমন্ত্রীর জনগণের প্রতি আস্থা নেই। আমরা জানি, আওয়ামী লীগ জননির্ভর একটি রাজনৈতিক দল। জনগণের অভিব্যক্তি উপলদ্ধি করার ক্ষমতা আওয়ামী নেতৃত্বের রয়েছে। তারপরও বলি, দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের অত্যন্ত ভালো ফলাফল করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। আওয়ামী নেতৃত্বকে অনুধাবন করতে হবে, তারা আর ৫ জানুয়ারির আগের অবস্থানে নেই। তাদের হারানো জনপ্রিয়তা অনেকটা রিকভার হয়েছে। মানুষের স্মৃতি থেকে সরকারের মন্দ কাজগুলো দূর হয়ে গেছে। এখন একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের পথে হাঁটাই আওয়ামী নেতৃত্বে জন্য সমীচীন। কিন্তু ক্ষমতার মোহে আওয়ামী নেতৃত্ব এটি বুঝতে যদি অক্ষম হয়, তাহলে তারা ভুল করবে, তারা একটা জনরোষের মুখোমুখি এসে দাঁড়াবে; তখন তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়বে। দেশও একটি ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। বর্তমানে যেভাবে দেশ পরিচালিত হচ্ছে তা কোনোভাবেই দীর্ঘায়িত করার অবকাশ নেই। কেননা, এটা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য-বিনিয়োগ ও অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে সহায়ক নয়। আতঙ্ক-অস্থিরতার মধ্যে কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য হয় না। দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকগুলো দেউলিয়ার পথে। খোদ অর্থমন্ত্রী পাঁচটি ব্যাংকের দুরবস্থার কথা স্বীকার করেছেন। এসব তো রাজনৈতিক কারণেই হচ্ছে। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে এমনটি হওয়ার তো কথা নয়। প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে অর্থনীতি মূল ¯্রােত থেকে একবার ছিটকে পড়লে উঠে দাঁড়ানো কঠিন। কেননা আমাদের পাশের দেশগুলো এখন আমাদের প্রতিযোগী। বাংলাদেশের প্রতি তাদের নজর অত্যন্ত তীক্ষè। বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য সহায়ক। আমাদের পাশের দেশ ভারত। জন্মলগ্ন থেকেই ভারতে গণতান্ত্রিক শাসন বিদ্যমান। ভারতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটেই সরকার গঠিত হয়। গণতান্ত্রিক শাসনের হাত ধরেই ভারত রাষ্ট্র সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। তারা ধীরে ধীরে একটা শিল্পোন্নত দেশের পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে। তারা তাদের জিডিপি অকল্পনীয়ভাবে ধরে রেখেছে দীর্ঘ এক দশক ধরে। সম্প্রতি ষোড়শ লোকসভা নির্বাচনের মাধ্যমে ভারতে ক্ষমতার পটপরিবর্তন ঘটেছে। বিস্ময়কর জয় নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী সরকার। এ সরকারের কাছ থেকে অমীমাংসিত বিষয়ের সমাধান পেতে হলে, বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত ও শক্তিশালী সরকারের বিকল্প নেই। অধিক জনসংখ্যা নিয়ে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে ১৯৯১ সাল থেকে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আরম্ভ হয়। এর পর থেকে ঘুরে-ফিরে আওয়ামী লীগ-বিএনপিই বাংলাদেশ পরিচালনা করে আসছে, যদিও জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীসহ আরও বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল এখানে রয়েছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার হাত ধরে বাংলাদেশ অকল্পনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্প পৃথিবীর বর্তমানে বাংলাদেশের বৃহত্তম শিল্প। প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিক এ শিল্পে কাজ করছে। কৃষি উৎপাদনেও বাংলাদেশ ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। নারী শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশুমৃত্যু, মাতৃগর্ভকালীন মৃত্যু, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন ও জন্মনিয়ন্ত্রণে উপমহাদেশে বাংলাদেশ একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। চলমান ধারা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশে প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, যেটা ব্যাহত হয়েছে গত ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনে। এটা কাটিয়ে উঠতে পারলে, বাংলাদেশের উন্নতির ধারাও অব্যাহত থাকবে; বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে তার নিজস্ব স্বকীয়তা নিয়ে- এতে কোনো সন্দেহ নেই। স্ট্যাটেজিক কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের তিন দিক জুড়ে একটি বৃহৎ রাষ্ট্রের অবস্থান। তা-ছাড়া দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ায় প্রায় ৩০০ কোটি মানুষের বসবাস। বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনীতি, অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ রয়েছে। তাই ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর দৃষ্টি এখন বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ; এখানে একটি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের নিরন্তর প্রতিযোগিতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এ অবস্থায় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও হানাহানি কাম্য নয়, কাম্য নয় রাজনীতিকদের মধ্যে বিভেদ ও অনৈক্য। কাম্য নয় আইনের শাসনের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ ও গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা। আওয়ামী লীগ চিরদিন ক্ষমতায় থাকবে না, কিন্তু এসব বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির ক্ষেত্রে মারাত্মক অন্তরায় হয়ে থাকবে। এর দায় চিরদিন আওয়ামী লীগকে বহন করতে হবে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় আইনের শাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যমের গঠনমূলক ভূমিকায় রাজনীতি ও অর্থনীতিতে দেশ এগিয়ে যায়।  কিন্তু বাংলাদেশের গণমাধ্যমের কাজের ক্ষেত্রে তৈরি করা হচ্ছে বাধা। নতুন সম্প্রচার নীতিমালার নামে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার একটা অভিসন্ধি কাজ করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। এমনটি হলে এর স্থান দখল করে নিবে বিদেশি মিডিয়া, তাতে পিছিয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি। কিন্তু বিদেশি মিডিয়াকে কোনো আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করার সাধ্য সরকারের নেই। চীন ও ভারত বাংলাদেশের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা আদায় করে নিতে অত্যন্ত তৎপর। এ দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের পাহাড়সম বাণিজ্যিক বৈষম্য রয়েছে। তারা শত শত কোটি ডলারের বাণিজ্য করছে বাংলাদেশে। ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশের ভূখ- ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে বাংলাদেশ কী পেয়েছে? ভারত গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশকে আজও দেয়নি। ভারতের কাছ থেকে এসব আদায় করতে একটি শক্তিশালী সরকারের উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য। তা-ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি প্রসারিত করতে এবং বাংলাদেশকে উন্নয়নের সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যেতে চট্টগ্রাম-কুনমিং রেল ও সড়ক যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই যোগাযোগ ব্যবস্থার সূত্রধরে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে অনেক দূর। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি হবে অবারিত সুযোগ। দৃশ্যত প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য দরকার একটি শক্তিশালী সরকারের। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বর্তমানে সেটি নেই। বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের জনসমর্থন প্রশ্নবিদ্ধ। জনসমর্থনহীন ও নৈতিকভিত্তিহীন একটি দুর্বল সরকার বাংলাদেশের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। এটি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য বড় ধরনের দুর্বলতা। এই দুর্বলতা অন্যান্য দেশের স্বার্থের জন্য অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করে দেবে-এমনটিই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কাজেই প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে বাংলাদেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে দরকার একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকারের আর সেটি হতে পারে সবদলের অংশগ্রহণে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে। এ নিয়ে চাপও আছে দেশি-বিদেশি মাধ্যম থেকে। সবাই চায় বাংলাদেশে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। কেটে যাক বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। আসলে অনিশ্চয়তার মধ্যে কোনো কিছুই সঠিকভাবে চলতে পারে না, বিশেষ করে অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য; এর জন্য অপরিহার্য দরকার শান্তি ও স্থিতি। নয়তো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে-ছিটকে পড়বে বাংলাদেশ রাজনীতি ও অর্থনীতি মূল¯্রােত থেকে। লেখক : কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক belayet_1@yahoo.com  

বিস্তারিত»

বিনোদন

বিয়ে নিয়ে আসছেন নাবিলা!

বিনোদন ডেস্ক : শীত আসছে। আমাদের দেশে এ সময়টায় বিয়ের ধুম পড়ে যায়। এ সময় বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়াতে বাড়তি কিছু সুযোগ সুবিধাও রয়েছে। তাই এ উপলক্ষে আরটিভিতে শুরু হচ্ছে বিয়ে বিষয়ক অনুষ্ঠান ভাটিকা ‘এক্সট্রা অর্ডিনারী ব্রাইডাল সিজন’। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করবেন জনপ্রিয় উপস্থাপিকা ও মডেল নাবিলা। ভাটিকা এক্সট্রা অর্ডিনারী ব্রাইডাল সিজন অনুষ্ঠানে থাকছে বিয়ে নিয়ে নানা সেগমেন্ট। সোহেল রানা বিদ্যুতের প্রযোজনায় অনুষ্ঠানটি প্রচার হবে আরটিভিতে প্রতি শনিবার রাত ৭ টা ৪০ মিনিটে।

বিস্তারিত»

স্বাস্থ্য ও রুপচর্চা

ব্ল্যাক হেডস নিয়ে ভাবছেন?

ঢাকা:কাজের খাতিরে দিনের বেশির ভাগ সময়ই আপনাকে থাকতে হয় বাইরে।তাই ঋতু বদলের ঝক্কিটাও পোহাতে হয় দারুনভাবে।শীতের আগমনীতে রুক্ষ-শুষ্ক ত্বক আর ধুলাবালির বিড়ম্বনা তো আছেই। বিশেষ করে যারা বাইক চালান তাদের উপর এই ঝক্কিটা থাকে আরও বেশি।এসব কারণে ত্বকে দেখা যায় বেশ কিছু সমস্যা। তার মধ্যে ব্ল্যাক হেডস অন্যতম। অনেক ছেলেই আছেন যারা নিজের চেহারার প্রতি একটু কমই গুরুত্ব দেন। যা মোটেই ঠিক নয়। ব্ল্যাক হেডস হলে নাকের ত্বকে কালো ছোপ পড়ে। ত্বকের উজ্জ্বলতা অনেকখানি নষ্ট হয়।বাস্তবের তুলনায় বেশি বয়স দেখায়। একসময় নিজের চোখেই নিজেকে বেশ বেমানান লাগে। তাই প্রথম থেকে ব্ল্যাক হেডস দূর করার ব্যাপারে সচেতন হওয়া জরুরী। তা না হলে নাকের ওপরের অংশ থেকে এটি সারা ত্বকে ছড়িয়ে যেতে পারে। রূপ বিশেষজ্ঞ সুমাইয়া শারমিন মনে করেন, যেকোনো বয়সে ব্ল্যাক হেডস হতে পারে। কৈশোর ও প্রৌঢ় বয়সে ব্ল্যাক হেডসের সমস্যা বেশি দেখা যায়। মূলত মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে ত্বকে ময়লা জমে। এতে ত্বকের মৃতকোষ রোমকূপ বন্ধ করে এই সমস্যা সৃষ্টি করে।যেসব পুরুষ কাজের ফাঁকে একদমই সময় পান না, কিন্তু ভুগছেন এধরণের সমস্যায়।তাদের জন্য রইলো সময় বাঁচানো সহজ কিছু টিপস… - পরিমাণমতো লেবুর রস, মধু, কর্ন ফ্লাওয়ার, ভিনেগার ও চিনি একসঙ্গে মিশিয়ে একটা প্যাক তৈরি করুন।সপ্তাহে কমপক্ষে তিন দিন নাকের চারপাশের অংশে ভালোকরে ম্যাসাজ করুন। - দুই চা-চামচ ডিমের সাদা অংশ, চন্দনের গুঁড়া, কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে এই পদ্ধতিতে ম্যাসাজ করা যেতে পারে। প্রতিদিন দুবার এই প্যাক ব্যবহার করলে ব্ল্যাক হেডস অনেকাংশে কমে যায়। চাইলে প্যাক তৈরি করে ফ্রিজে রেখে ব্যবহার করা যায়। প্যাক ব্যবহার শেষে মুখ ভালো করে ধুয়ে নাকের পাশে বরফ দিয়ে ঘষে নিলে ভালো হয়। যাদের ব্ল্যাক হেডসের প্রকোপ বেশি, চাইলে পার্লারে গিয়ে ১০ মিনিট ফেসিয়াল কিংবা রেগুলার ফেসিয়াল করাতে পারে। এই ফেসিয়াল মাসে তিনবার পর্যন্ত করা যায়। এতে ত্বকের কোনো ক্ষতি হয় না। একই সঙ্গে নিয়মিত ভালোভাবে মুখ ধোয়ার অভ্যাস রাখতে হবে। এতে ব্ল্যাক হেডস কমে যাবে, ত্বক হবে সুন্দর আর আকর্ষণীয়।

বিস্তারিত»

সম্পাদকীয়

আইন-শৃঙ্খলার অবনতি গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া জনগণের জানমাল নিরাপদ নয়

প্রতিদিন দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। অপরাধের মধ্যে খুন, গুম, অপহরণ, ডাকাতি, ছিনতাই, ব্যাংক ডাকাতি, চুরি, প্রতারণা, ধর্ষণ, শিশু ও নারী নির্যাতনসহ সবধরনের অপরাধের মাত্রাই বেড়েছে। গত মাসে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় সভার কার্যপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের জুলাই মাসের চেয়ে আগস্ট মাসে অপরাধ বেড়েছে ৪৫৩টি। ঢাকা বিভাগে জুলাই মাসে অপরাধের সংখ্যা ছিল ৬৪৬টি। আগস্ট মাসে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪০টি। চট্টগ্রাম বিভাগে জুলাই মাসে অপরাধের সংখ্যা ছিল ৪৬৮টি, আগস্ট মাসে তা বেড়েছে ৫৪৩টি। রাজশাহী বিভাগে জুলাই মাসে অপরাধের সংখ্যা ছিল ২৬৪টি, আগস্ট মাসে তা বেড়েছে ৩৬৪টি। খুলনা বিভাগে জুলাই মাসে অপরাধের সংখ্যা ছিল ২৭৪টি, আগস্ট মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৯টিতে। বরিশাল বিভাগে জুলাই মাসে অপরাধের সংখ্যা ছিল ১৩৪টি, তা আগস্ট মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৯টিতে। সিলেট বিভাগে জুলাই মাসে অপরাধের সংখ্যা ছিল ১০৭টি, তা আগস্ট মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৮টিতে। রংপুর বিভাগে জুলাই মাসে অপরাধের সংখ্যা ছিল ২৭৩টি, তা আগস্ট মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২০টিতে। সকল মেট্রোপলিটন এলাকায় জুলাই মাসে অপরাধের সংখ্যা ছিল ৩৫৫টি, আগস্ট মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭১টিতে। সে হিসেবে জুলাই মাসে মোট অপরাধের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫২১ টি। আগস্ট মাসে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৭৪টি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে রাজনৈতিক কারণে খুনোখুনির ঘটনা কমেছে। তবে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গুম হওয়া ও বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা বেড়েছে। জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ পর্যন্ত-এই পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার ৬৮০ জন খুন হয়েছেন। শুধু চলতি বছরেই আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে ৩ হাজার ৬১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে রাজধানীতে ১৭২ জন খুন হয়েছেন। এদের মধ্যে মাত্র ১০ জন খুন হয়েছেন রাজনৈতিক কারণে। বাকি ১৬২টি খুনের বেশিরভাগই ঘটেছে সামাজিক ও পারিবারিক কারণে। সাধারণত পারিবারিক কলহ, অর্থ লেনদেন, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব বা এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হাতে এরা খুন হয়েছেন। পুলিশ সদর দফতরের হিসাব অনুযায়ী, সারাদেশে প্রতিদিন গড়ে ১৪/১৫ জন খুন হচ্ছেন। সরকারি এই হিসাবের বাইরেও ঘটছে অসংখ্য ঘটনা, যার খবর পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত না হওয়ায় জনগণ ও সরকারের নজরের বাইরেই থেকে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, সামাজিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সঙ্কট, বেকারত্ব এবং রাজনৈতিক অনিশ্চিয়তার কারণে খুনের ঘটনা বাড়ছে। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের চেয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যদের সরকার বেশি ব্যস্ত রাখছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করার কাজে। জনগণের রায় ছাড়া ক্ষমতা দখলকারী সরকার সব সময় জনগণকে প্রতিপক্ষ মনে করে, তারা রাষ্ট্রীয় অর্থ ও সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে চায়, তাদের পক্ষে আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়া এবং সমৃদ্ধ দেশ গড়া সম্ভব নয়। তাই দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করে সরকারের উচিত সকল দলের অংশ গ্রহণে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে কেয়ারটেকার সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। দেশে গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান সম্ভব নয়।  

বিস্তারিত»

বিজ্ঞপ্তি

ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা

আনুগত্যের উজ্জ্বল মহিমায় ভাস্বর ঈদ উল আজহা।ঈদুল আজহার উদ্দেশ্য স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকা।কুরবানীর সঠিক তাৎপর্যকে উপলব্ধি করে যদি ধর্মপ্রাণ মানুষ কুরবানী দেয়, তাহলে ঈদ-উল-আজহার প্রকৃত উদ্দেশ্য সার্থক হবে। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে গাঢ় হয় পরস্পরের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা, ভালবাসা এবং শ্রদ্ধাবোধ। আল্লাহ্‌তায়ালা ধনী-গরীব সবার মাঝেই ঈদের আনন্দ সমান-ভাবে বন্টনের যে শিক্ষা দিয়েছেন তা সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমে এর তাৎপর্যকে তুলে ধরতে হবে। এই পবিত্র দিনে সিলেটের আলাপ ডট কমের সুপ্রিয় পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের  প্রতি আহবান, ত্যাগের মহিমায় উজ্জল ঈদুল আজহার দিনে আনন্দ উৎসবে ভরে উঠুক সকলের মনপ্রাণ। সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে, গরীব দুঃখীদের পাশে দাঁড়াই।। পবিত্র ঈদ-উল-আযহা  সবার জন্য বয়ে আনুক অনাবিল সুখ ও প্রশান্তি।                                                    সিলেটের আলাপ ডটকমের পক্ষে  সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ডাঃ আব্দুল আজিজ  সম্পাদক তোফায়েল আহমদ খান সায়েক  

বিস্তারিত»

শোক-সংবাদ

কুলাউড়ার সাংবাদিক মছব্বির আলীর বড় ভাইয়ের ইন্তেকাল

কুলাউড়া প্রতিনিধি : সাপ্তাহিক কুলাউড়ার ডাক পত্রিকার বার্তা সম্পাদক ও ডেইলি নিউ নেশন প্রতিনিধি এম মছব্বির আলীর বড় ভাই মোঃ মহরম আলী গত ২০ অক্টোবর সোমবার দুপুর ২টায় সিলেট নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ..............রাজিউন)। তিনি দির্ঘদিন থেকে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৫বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১ছেলে ২ মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। গতকাল সোমবার বাদ এশা তার গ্রামের বাড়ী উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের চাতলগাও এর নিকটস্থ মনসুর ঈদগাহ ময়দানে জানাযার নামাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ঈদগাহ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। শোক প্রকাশ ঃ মোঃ মহরম আলী এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও তাঁর শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে শোক বিবৃতি প্রদান করেছেন সাবেক এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ, সাবেক এমপি এম এম শাহীন, বিএনপি নেতা এডভোকেট আবেদ রাজা, কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আ স ম কামরুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান নারীনেত্রী নেহার বেগম, ভাইস চেয়ারম্যান ফজলুল হক খান সাহেদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও ভুকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম রেনু, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, কাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, শাহজালাল আইডিয়াল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ, কুলাউড়া পলি ক্লিনিকের চেয়ারম্যান ও সাপ্তাহিক কুলাউড়ার ডাক পত্রিকার সম্পাদক এ কে এম সফি আহমদ সলমান, জেলা জাপা সহ সভাপতি মোঃ খুরশীদ উল¬্যাহ ও জেলা জাপার সাংগঠনিক সম্পাদক এ এস এম ছিদ্দিক আহমদ লোকমান, কুলাউড়া প্রেসক্লাব সভাপতি এম শাকিল রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক মোঃ খালেদ পারভেজ বখ্শ, কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সভাপতি বদরুজ্জামান সজল, সম্পাদক জাফর আহমদ গিলমান, সাপ্তাহিক হাকালুকি সম্পাদক উপাধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান, কুলাউড়ার সংলাপ সম্পাদক প্রভাষক সিপার উদ্দিন আহমদ, দৈনিক সবুজ সিলেট ও বর্তমান প্রতিনিধি তারেক হাসান, সাপ্তাহিক আমার কুলাউড়ার সম্পাদক জীবন রহমান, রাশীদ আলী ফাউন্ডেশনের উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সভাপতি সাংবাদিক মোক্তাদির হোসেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত আলতবা আল আইন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও রাশীদ আলী ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন আনু, বঙ্গবন্ধু পরিষদের আল আইন জেলা কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক হাবিবুর রহমান ফজলু, গ্রীসস্থ সিলেট বিভাগীয় ফেডারেশনের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এম. আতিকুর রহমান আখই, সাপ্তাহিক হাকালুকির বার্তা সম্পাদক আব্দুল করিম বাচ্চু, সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল, দৈনিক যুগভেরীর কুলাউড়া প্রতিনিধি চয়ন জামান, দৈনিক সকালের খবরের কুলাউড়া প্রতিনিধি সাইদুল হাসান সিপন, দৈনিক উত্তরপূর্বের কুলাউড়া প্রতিনিধি আব্দুল কুদ্দুস, সাপ্তাহিক সীমান্তের ডাকের চীফ রিপোর্টার এস আলম সুমন, সাংবাদিক আব্দুল আহাদ, দৈনিক আমাদের অর্থণীতি প্রতিনিধি সেলিম আহমদ ও সাপ্তাহিক একুশের কন্ঠের কুলাউড়া প্রতিনিধি সোহেল আহমদ প্রমুখ।  

বিস্তারিত»

সাম্প্রতিক খবর সর্বাধিক পঠিত

জরিপ

Loading...

Archive