এইচটি ইমাম বিএনপির লোক

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বিএনপির লোক দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান সোহেল বলেছেন, ‘এইচটি ইমাম আমাদের লোক। তার গায়ে হাত দেবেন না। তার গায়ে হাত দিলে পরিনতি ভালো হবে না।’ তিনি বলেন, ‘সব জায়গাতে আমাদের লোক আছে। কখন, কোথায় সত্য প্রকাশ হয়ে যাবে বলতে পারবেন না। সত্য প্রকাশের জন্য আরো এইচটি ইমাম রয়েছে। তারাও একে একে সত্য ফাঁস করে দেবে।’ শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত বিএনপির সিনিয়ার ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে মারুফ কামাল খান বলেন, ‘বিএনপিকে ভাঙার ষড়যন্ত্র করছেন। বিএনপি থেকে দু-চার জন নেতাকে ভাগিয়ে নেয়ার চেষ্টাও করছেন। কিন্তু কোনো লাভ হবে না।’ তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী কিংবা ক্ষমতার জন্য আন্দোলন করছেন না। দেশের মানুষের মুক্তি ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আন্দোলন করছেন। কারণ দেশে কোনো শান্তি নেই। দেশের মানুষের নিরাপত্তা নেই।’ সোহেল বলেন, ‘তারেক রহমান সুস্থ হয়ে দেশে ফিরবেন। তিনি এ সরকারের ষড়যন্ত্রকে ভয় পান না। এর চেয়েও কঠিন সময়ে তিনি দেশে ছিলেন। তিনি দেশে ফিরে দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করবেন।’ সকলকে পদ-পদবীর মোহ ত্যাগ করে তিনি বলেন, ‘পদ-পদবীর প্রতিযোগিতা দলে থাকবে। শুধু জেল খাটলেই ত্যাগ হবে না। দেশের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে, সংগঠনের স্বার্থে পদ-পদবীর মোহ ত্যাগ করতে হবে।’ এইচটি ইমামকে উপদেষ্টা করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সন্দেহ পোষণ করে আলোচনা সভায় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ‘এইচটি ইমাম কী করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হলেন? যিনি খন্দকার মোশতাক সরকারের শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছিলেন। তাকে উপদেষ্টা করা রহস্যজনক।’ তিনি বলেন, ‘আসলেই আমাদের সন্দেহ হয় প্রধানমন্ত্রী তার পিতার হত্যার বিচার চান কি-না!’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘তারেক রহমান ষড়যন্ত্রের শিকার। রাজপথে নেমে এই সরকারকে ক্ষমতাচ্যূত করতে হবে। এই সরকারের বিরুদ্ধে একমাত্র পথ হলো রাজপথে জনগণের আন্দোলন গড়ে তোলা।’ তারেক রহমানের সঙ্গে রফিকুল ইসলাম মিয়ার কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সুস্থ হলেই তিনি দেশে ফিরে আসবেন, আপনাদের সাথে যোগ দেবেন। তারেক রহমান বিদেশে থাকলেও তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গবেষণা করছেন।’ আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রেজাউর রহমান রিপন, ইয়াসিন আলী, এমএ মান্নান, ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান প্রমুখ। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু।   বিস্তারিত»

রাতে জোট নেতাদের সঙ্গে বসছেন খালেদা জিয়া

ঢাকা: শনিবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। রাত সাড়ে আটটায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার  বৈঠকের কথা নিশ্চিত করেছেন। সূত্র জানায়, জানুয়ারিকে টার্গেট করে আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হতে পারে এই বৈঠকে। এছাড়া জোটকে আরো কার্যকর করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এছাড়া আগামী রোববার বেগম খালেদা জিয়া সঙ্গে নির্বাচনের আগে আন্দোলনে নিহত গফরগাঁও পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইবনে আযাদ কমলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ সময় তিনি কমলের পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেবেন বলে জানা গেছে। ওইদিন রাত সাড়ে আটটায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ হবে। বিস্তারিত»

সোনা চোরাচালান: বিমানের অস্বাভাবিক নীরবতা, নজরদারিতে ২৫০

ঢাকা: সোনা পাচারে বাংলাদেশ বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আড়াই শতাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন গোয়েন্দারা। সন্দেহভাজনদের ধরতে গোয়েন্দাদের চোখ এখন হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সবকটি বিমানবন্দরে। আর এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই গা-ঢাকা দিয়েছেন বিমানের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী। রাসেল নামে এক কেবিন ক্রুর জিজ্ঞাসাবাদে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিন কর্মকর্তাসহ পাঁচ প্রভাবশালীকে গ্রেপ্তারের পর অর্ধশত সোনা চোরাকারবারির নাম জেনেছে গোয়ন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার পর্যন্ত গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশের পর সন্দেহভাজন অনেকেই স্থান পরিবর্তন করেছেন। তাদের কেউ কেউ হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে রুটিন ডিউটি না করেই সকটে পড়েছেন। গ্রেপ্তার এড়াতে অনেকেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিমানবন্দর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত বিমানের ক্ষমতাধর কর্মকর্তা গ্রেপ্তার এবং অনেকের জড়িত থাকার অভিযোগের ব্যাপারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইস কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করেছে। তোলপাড় সৃষ্টিকারী এ ঘটনায় বিমান নিজস্ব তদন্ত কমিটিও গঠন করেনি। তবে বিমান কর্তৃপক্ষ বলেছে, এ ব্যাপারে কয়েক দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের অবহিত করা হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘তালিকাভুক্ত চোরাকারবারিদের ধরার অভিযান চলছে। রিমান্ডে থাকা বিমান কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নানা রকমের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।’ গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশ বিমানের ডিজিএম এমদাদুল হকসহ অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন সূত্র থেকে সন্দেহভাজনদের ব্যাপারে তথ্য নেয়া হচ্ছে। কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট পাইলট, কো পাইলট, কেবিন ক্রু, পার্সার, সিভিল এভিয়েশন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী, কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকতা কর্মচারীর নাম উঠে এসেছে। তাছাড়া বিমাসের ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশসন, অপারেশন শাখা, প্রশাসন বিভাগ ও নিরাপত্তা বিভাগের লোকজন চোরকারকারিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছে। সব মিলে সন্দেহভাজন হিসেবে নাম আছে আড়াই শতাধিক ব্যক্তির। এদিকে কেবিন ক্রু রাসেল ও গ্রেপ্তারকৃতদের জবানবন্দীতে পাওয়া গেছে ৫০ জনের নাম। দুই তালিকা মিলিয়ে গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে রাঘব বোয়ালদের খুঁজে ফিরছে ডিবি পুলিশ। গোয়েন্দারের সন্দেহভাজনদের তালিকায় থাকার ব্যক্তিদের মধ্যে- পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন মাহতাব, কাপ্টেন জাকির, পার্সার নেওয়াজ হোসেন, চিফ পার্সার তালুকদার, পাইলট নাদিম, পাইলট ফারহানা এ্যানী, পার্সার ইলোরা, পার্সার তাসফিয়া ফয়সল, পার্সার সুমন, নিরাপত্তা অফিসার কামরুল আহসান, হাসান পারভেজ হাবিব, শরিফুল ইসলাম, আসিফ আহম্মেদ, জামিল উদ্দিন, শফিউল আলম পিন্টু, আব্বাস উদ্দিন পিন্টু, শাহীন, আবদুর রাজ্জাক, বিমানের সিকিউরিটি জহির আহম্মেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল জলিল, জিয়াউর রহমান, ক্যাপ্টেন আলী হোসেন, ইমরান হোসেন, ইশতিয়াক, রফিক ও হাসান ইমাম, ফাস্ট অফিসার আহমেদ ইমরান, রাশেদুল, গফুর, আমিন, কেবিন ক্রু মাসুদ, আখলাক, আযম, সাদি, শওকত, শারমিন, জাহিদ, ওয়াসিক, রাফসান, আবির, মুকিত, হাসিব, মুগনি, রাজ, আরাফাত, আমিন, ইকরাম, আরিয়ান, জুয়েল, শওগাত, আলম, আদনান, শফিক, আশিক, বিমানবালা রিনি, নিশি, নিপা, হাসনা, জয়া, জেনি, মুক্তা, হোসনে আরা, বিথী, আদিবা, আসফিয়া, দিয়া, কসমিক, শ্যামা ও শোভা অন্যতম। ডিবির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর অনেকে গা-ঢাকা দিয়ে চলছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আমরা তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখছি। কোনো ঘটনা বা মামলার সঙ্গে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাকেই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’ বিস্তারিত»

কী মিশন নিয়ে ফের আসছেন নিশা?

ঢাকা: নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠেয় সার্ক সম্মেলন শেষ ঢাকা আসছেন আমেরিকার সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল। শুক্রবার আমেরিকার পররাষ্ট্র দফতরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সূত্র জানায়, নিশা দেশাই তার ওই সফরে বিগত ৫ জানুয়ারি নির্বাচন নিয়ে আমেরিকার বর্তমান অবস্থান জানাবেন এবং নিরপেক্ষ নতুন নির্বাচনের জন্য তাগিদ দেবেন। সফরকালে নিশা দেশাই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। আমেরিকার পররাষ্ট্র দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২৩ নভেম্বর সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফরের মধ্যে দিয়ে এই অঞ্চলে তার সফর শুরু করবেন। সেখান থেকে ১৮তম সার্ক সম্মেলনে যোগ দিতে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে যাবেন তিনি। কাঠমান্ডুর ব্যস্ততা শেষে বিসওয়াল বাংলাদেশে আসবেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। তবে কবে তিনি বাংলাদেশে আসবেন এবং কতদিন অবস্থান করবেন সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি বিবৃতিতে। আগামী ২৭ নভেম্বর সার্ক শীর্ষ সম্মেলন শেষ হবে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি এর পরপরই আসবেন। পররাষ্ট্র দফতর জানায়, ঢাকা থেকে উজবেকিস্তানের তাসখন্দে যাবেন বিসওয়াল। এ বছর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে গত বছরের ১৬ নভেম্বর প্রথমবারের মতো ঢাকায় এসে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হরতাল, অবরোধ ও রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের চেষ্টা করেছিলেন বিসওয়াল। তবে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপির বয়কটের মধ্যেই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অর্ধেকের বেশি আসনের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ায় ওই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য মনে করছে না আমেরিকা। এর মধ্যেই সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আবারো নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। বিস্তারিত»

জাতিসংঘের ভিশনারি অ্যাওয়ার্ড পেলেন প্রধানমন্ত্রী

নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠেয় ‘গ্লোবাল সাউথ সাউথ ডেভেলপমেন্ট এক্সপো (জিএসএসডি এক্সপো) এর সমাপনী উৎসবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘জাতিসংঘের সাউথ-সাউথ কো-অপারেশন ভিশনারি অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে শেখ হাসিনার পক্ষে এ পুরষ্কার গ্রহণ করেন তার ছেলে প্রধানমন্ত্রীর অবৈতনিক তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। ডিজিটাল ব্যবস্থায় বাংলাদেশকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে নেয়া এবং শিক্ষার প্রসারে বৈপ্লবিক ধ্যান-ধারণার সমন্বয়ের জন্য শেখ হাসিনাকে এ অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত করা হয়। এবার মানবতার কল্যাণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্যে আরো ছয় ব্যক্তি ও রাষ্ট্রকে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, কাতার, অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটস, গ্রুপ চীপ এক্সিকিউটিভ এডেক ইননোভেশন, ল্যাটিন আমেরিকান সাউথ সাউথ কান্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন। অনুষ্ঠানে জয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী পড়ে শোনান এবং বক্তব্য দেন। এর পর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় সজীব ওয়াজেদ জয় উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ‘সীমীত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে শেখ হাসিনা প্রশাসনের নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে এই অ্যাওয়ার্ড তারই স্বীকৃতি।’ সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও প্রেসিডেন্ট, হাই লেভেল কমিটি অন সাউথ-সাউথ কো-অপারেশন ড. এ.কে আব্দুল মোমেন। পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠানে গ্লোবাল সাউথ-সাউথ ডেভেলপমেন্ট এক্সপো ২০১৪-এ অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের সরকারি, বেসরকারি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের উপ-প্রধান মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত।উল্লেখ্য, মেধা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে বিশ্বকে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয়ে শতাধিক দেশের মন্ত্রী, কূটনীতিক, নীতি-নির্ধারক, শীর্ষস্থানীয় এনজিও ব্যক্তিত্ব, সমাজ সংগঠক, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ, জাতিসংঘের সকল সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাসহ পাঁচশতাধিক প্রতিনিধির অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ১৭ নভেম্বর সোমবার ‘গ্লোবাল সাউথ সাউথ ডেভেলপমেন্ট এক্সপো’ শুরু হয়ে ২১ নভেম্বর শেষ হয়েছে। জাতিসংঘের ‘গ্লোবাল সাউথ সাউথ ডেভেলপমেন্ট এক্সপো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসনের সময় বাংলাদেশে তৃণমূলে তথ্য প্রযুক্তি প্রসার, সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থার প্রবর্তন, সর্ব সাধারণের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির মাধ্যমে সমাজে অবহেলিত মানুষের জীবনধারার মানোন্নয়ন ও দারিদ্র বিমোচনে অগ্রগতি এবং সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বিশ্ব দরবারে রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপনের জন্য এই ‘ভিশনারী অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন শেখ হাসিনা। দারিদ্র বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং জনসংখ্যার সুব্যবস্থাপনা, শিক্ষার প্রসার, লিঙ্গ সমতা এবং নারী ক্ষমতায়ন, জ্বালানি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে স্ব স্ব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাসম্পন্নরা বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা করেছেন এ এক্সপোতে। ‘২০১৫ পরবর্তী বিশ্বকে কীভাবে দেখতে চাই’ এই আলোকে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সেক্টরের কর্মকর্তারাও মতামত ব্যক্ত করেছেন। ‘অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটস’ (ওএএস) এবং জাতিসংঘের ‘সাউথ সাউথ কো-অপারেশন’ অফিস যৌথভাবে বার্ষিক এ এক্সপোর আয়োজন করেছে। ২০০৮ সাল থেকে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বার্ষিক এ সমাবেশ হয়ে আসছে। এবারের আয়োজনটি ছিল সপ্তম। উল্লেখ্য, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পরিবেশ এবং প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষিণের দেশগুলোর সামগ্রিক উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা দিগন্ত বিস্তৃত করার অভিপ্রায়ে ২০০৮ সালে জাতিসংঘে সাউথ সাউথ কো-অপারেশন অফিস স্থাপন করা হয়। প্রতিবছরের সমাবেশে উন্নত বিশ্বের উন্নয়ন পরিক্রমার অভিজ্ঞতা অবহিত হয়ে উন্নয়নশীল বিশ্বে সেই ধারা প্রবাহিত করার ক্ষেত্রে এই সম্মেলনের গুরুত্ব অপরিসীম। বিস্তারিত»

ছবি ঘর

  • holo gram baby
  • political picture
আবেদন করুন, ফেসবুকের পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু

ডেস্ক নিউজ:সোশাল মিডিয়া এবং এ-সংক্রান্ত গবেষকদের জন্য খুলে দেওয়া হলো ফেসবুকের ফেলোশিপ পাওয়ার দুয়ার। আমেরিকাসহ আন্তর্জাতিকভাবে অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীরা ফেসবুক-সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ের ওপর ফুল-টাইম পিএইচডি-অ্যাক্রিডিটেড ডক্টোরাল প্রোগাম সম্পন্ন করতে পারবেন এখান থেকে। ফেসবুক ফেলোশিপ প্রোগ্রামের অধীনে প্রত্যেক শিক্ষার্থী টিউশন ফিসহ একাডেমিক ইয়ারগুলোতে অন্যান্য ফিসের ক্ষেত্রে নানা সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি বছরে ৩৭ হাজার ডলারের অনুদানও পাবেন প্রতিষ্ঠান থেকে। আরো থাকছে গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে ফেসবুকের হেডকোয়ার্টার্সে পেইড ভিজিট এবং এই জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ। ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারির মধ্যে আগ্রহীদের আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন বলে ধার্য করে দেওয়া হয়েছে। ফেসবুক-সংশ্লিষ্ট ডেটাবেইস, হিউম্যান-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন, ইকোনমি এবং কম্পুটেশন, নেটওয়ার্কিং এবং অপারেটিং সিস্টেম, প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজেস, সিকিউরিটি, প্রাইভেসি এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো খাতে বিশেষ গবেষণার জন্য ফেলোশিপদের পুরস্কৃত করা হবে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা যেকোনো শিক্ষার্থীর জন্য এই প্রোগ্রাম খোলা। যারা আবেদন করতে ইচ্ছুক তাদেরকে আবেদনপত্রের সঙ্গে ফেসবুক-সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে গবেষণার খাত উল্লেখ করতে হবে। সেই সঙ্গে আপনার হয়ে সুপারিশ করতে পারেন এমন দুজন ব্যক্তির ইমেইল ঠিকানাও সংযুক্ত করতে হবে। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

বিস্তারিত»
বিটিভি’র সুবর্ন জয়ন্তী প্রতিযোগীতায় ছাতকের ৩বিভাগের প্রতিযোগী  জাতীয় পর্যায়ে উত্তীর্ণ

ছাতক প্রতিনিধি:বাংলাদেশ টেলিভিশনের সুবর্ণ জয়ন্তী পুরস্কার প্রতিযোগীতায় ছাতকের প্রতিযোগীরা ৩টি বিষয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে জাতীয় পর্যায়ে অংশ গ্রহন করার যোগ্যতা অর্জন করেছে। শুক্রবার দুপুরে সিলেট শিল্পকলা একাডেমীতে অনুষ্ঠিত গ্রতিযোগীতায় ছাতকের দলীয় অভিনয়ে(বড়দের) ‘থিয়েটার ছাতক’,দলীয় অভিনয়(ছোটদের)রনি ও তার দল ও শিশুদের আধুনিক গানে অন্তরা সরকার প্রথম স্থান অধিকার করেছে। আগামী ১০-১৫ ডিসেম্বর ঢাকায় বিটিভি’র শহীদ মনিরুল আলম মিলনায়তনে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহন করবে তারা।  

বিস্তারিত»
হাটহাজারীর জনগণের সেবা করতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাই

মোহাম্মদ হোসেন,হাটহাজারী:উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম এর কন্যা ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বলেছেন, রাজনীতি হচ্ছে জনগণের সেবার জন্য। তাই আগামীতে হাটহাজারী জনগণের সেবা করতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান তিনি। আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে সমাজের রন্ধে রন্ধে ঢুকে পড়া অপরাজনীতির ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্বোচ্ছার হয় । শনিবার (২২ নভেম্বর)হাটহাজারী পৌর এলাকার একটি ক্লাবে হাটহাজারী প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভায় উল্লেখিত কথা বলেন। কিছু তরুণ রাজনীতিবিদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।   তিনি আরো বলেন,রাজনীতিবিদরা যদি জনগণের সেবা না করে নিজ স্বার্থে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তবে রাজনীতির কোন দাম নেই। আর রাজনৈতিক জীবনে রাজনীতিবিদদের সাথে সাংবাদিকদের সম্পর্ক গভীর। আর রাজনীতিবিদরা সাংবাদিকদের লেখনী থেকে নিজ ও দলকে সংশোধন করে। জনগণের সেবা করতে হলে সাংবাদিকদের সহযোগীতা প্রয়োজন। রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকরা যদি নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে দেশ ও জাতি দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়ে চলে। তিনি শনিবার দুপুরে হাটহাজারী প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি কেশব কুমার বড়–য়া,সিনিয়র সহ সভাপতি শিমুল মহাজন, সহ সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন,সাধারণ সম্পাদক মনসুর আলী,সাংগঠনিক সম্পাদক আছলাম পারভেজ,নির্বাহী সদস্য খোরশেদ আলম শিমুল এবং সাংবাদিক বিপ্লব পার্থ ও উজ্জ্বল নাথ প্রমুখ। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা সৈয়দ মহসিন,উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাহেদুল আজম সাহেদ,ছাত্রদল নেতা আরিফুর রহমান,আবদুল মান্নান দৌলত,মো.সোহেল রানা,মো.ইউচুফ আলী,মো.সেলিম, ধলই যুবদল নেতা আলী আজম বেলাল,আজম উদ্দিন,কামাল উদ্দিন,মো.লিটন প্রমুখ।

বিস্তারিত»
আনোয়ার হোসেন উজ্জলকে নির্যাতন ও গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম

ঢাকা: বিরোধী নেতাকর্মীদের বর্তমান সরকারের অত্যাচার নির্যাতনের হিসাব কড়ায় গণ্ডায় পরিশোধ করতে হবে বলে হুশিয়ারি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। র‌্যাব কর্তৃক বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জলকে নির্যাতন ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে এ বিবৃতি দেন তিনি। মির্জা আলমগীর বলেন, সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণের পরিণতি দেশে-বিদেশে কোনদিনই শুভ ফল বয়ে আনেনি। দেশব্যাপী আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর যেধরণের নৃশংস ও অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে তার হিসাব বর্তমান কলঙ্কিত সরকারকে কড়ায় গন্ডায় পরিশোধ করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান ভোটারবিহীন আওয়ামী লীগ সরকার তাদের চিরাচরিত প্রতিহিংসার রাজনীতির অংশ হিসেবে গত ২০ নভেম্বর ২০১৪ সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকা থেকে সাদা পোশাকধারী র‌্যাব সদস্যরা চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা আনোযার হোসেন উজ্জলকে ধরে নিয়ে গিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতনের পর শুক্রবার রাত সাড়ে আটটায় শাহজাহানপুর থানায় সোপর্দ করে। সরকারের আজ্ঞাবহ পুলিশ ও র‌্যাবের এই ধরণের ধারাবাহিক আচরণ অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। এরমাধ্যমে অবৈধ সরকারের তাদের বাকশালী চরিত্রের অব্যাহত নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। তিনি বলেন, গায়ের জোরে বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার তাদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার যে দূরভিসন্ধি এঁটেছে তা কোনদিনই বাংলাদেশের মানুষ সফল হতে দিবে না। সরকার তার ফ্যাসিবাদী আচরণ থেকে সরকার সরে না এলে জনগণকে সাথে নিয়ে দেশব্যাপী দূর্বার গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন নিশ্চিত করা হবে।

বিস্তারিত»
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের আলোচনা সভায় জয়-তারেকের পার্থক্য দেখালেন আব্বাস

ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস বলেছেন, তারেক রহমান দৃঢ়চেতা, দেশের মানুষের ভালোবাসায় ফিরে আসবেন। তীব্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানকে দেশে ফিরে আনা হবে। কোনো শক্তি তারেক রহমানকে এয়ারপোর্টে আটকে রাখতে পারবে না। শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘আগামীর বাংলাদেশ ও কৃষি উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমানের ৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মির্জা আব্বাস বলেন, ষড়যন্ত্র ষড়যন্ত্রই থাকবে। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। মির্জা আব্বাস বলেন, তারেক রহমানের সাথে জয়ের তুলনা করলে আওয়ামী লীগ নিজেদের ক্ষতি করবে। কারণ তারেক রহমান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়াউর রহমান ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান। আর তারেক রহমান বাংলাদেশে থেকে দেশপ্রেম শিখেছেন, অপরদিকে জয় বিদেশে থেকে দেশপ্রেমের কথা বলেছেন। তারেক রহমানকে হত্যার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে চক্রান্ত চলছে অভিযোগ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, একটি চক্র বাংলাদেশ নেতৃত্ব শূন্য করার জন্য কাজ করছে। তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিএনপি ও তারেক রহমান। এই চক্রটির মাধ্যমেই জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়। বিএনপি ও জিয়া পরিবারের অস্তিত্বকে আওয়ামী লীগ ভয় পায় বলেই ক্ষমতাসীনরা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র এক সাথে চলতে পারে না মন্তব্য করে মির্জা আব্বাস বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই গণতন্ত্রের টুটি চেপে ধরেছে। ৭২ থেকে ৭৫ সালে বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল। বর্তমানে দেশের জনগণ বায়াত্তর থেকে পঁচাত্তরের চেয়েও বেশি অত্যাচারিত হচ্ছে। এতেই প্রমাণ হয়- আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র এক সাথে চলতে পারে না। ওয়ান ইলেভেনের সময় তারেক রহমানের সাথে নিজের কারাস্মৃতি উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ১/১১ সরকারের সময়ে তারেক রহমান কারাগারে বসে ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ কিভাবে করা যায়- সেটা নিয়েই ভাবতেন। তিনি বলেন, তারেক রহমান বিদেশে বসে শুধু চিকিৎসাই নিচ্ছেন না- পড়াশোনাও করছেন। দেশের কথা চিন্তা করছেন। আর মাঝে মাঝে কিছু মেসেজ পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এগুলো তার নিজের কথা নয়, তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ইতিহাস তুলে ধরছেন। এগুলো শুনলে তাদের (আ’লীগের) মাথা খারাপ হয়ে যায়। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম-মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মাজহারুল ইসলাম দোলন, সহ-দফতর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ।  

বিস্তারিত»
ভোটের সিদ্ধান্ত জনগণের: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “জনগণের সেবা করাই আমাদের কাজ। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবেন, তারা কাকে ভোট দেবেন।” শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি বহির্বিভাগ উদ্বোধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলটন হলে দেয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়া হয়।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কারণে আজ মোবাইল ফোন প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দ্বোরগোড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি।” শেখ হাসিনা বলেন, “ঢাকা শহরের মানুষ শুধু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু আমরা মহানগরী উত্তর-দক্ষিণের আনুপাতিক হারে জনগণের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করেছি।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর থেকে রেলওয়েকে গলা টিপে হত্যা করেছে। সেই মৃতপ্রায় রেলওয়েকে আমরা কার্যকর ও যুগপোযোগী করেছি। এমনটি রেলওয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য শাহজাহানপুরে অবস্থিত রেলওয়ে হাসপাতালের আধুনিকায়নের কাজ করেছি।”  

বিস্তারিত»
৯ মাসে বানানো খাটটি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে চান কাশেম

বান্দরবান: দীর্ঘ নয় মাসের পরিশ্রম আর দেড় লাখ টাকা খরচ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য সেগুন গাছের খাট বানিয়েছেন বান্দরবানের কাঠমিন্ত্রী আবুল কাশেম। প্রধানমন্ত্রীকে নিজের হাতে খাটটি উপহার দিতে চান কাশেম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি অকুণ্ঠ ভালোবাসা আর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার জন্য কিছু করার ইচ্ছা থেকেই কঠোর পরিশ্রম করে খাটটি বানিয়েছেন বলে কাশেম জানান। সুন্দর এই খাটটি দেখতে শহরের বালাঘাটার মুসলিমপাড়ার কাশেমের দোকানে প্রতিদিনই লোকজন ভিড় করছে। মুসলিমপাড়ার আবুল কাশেমের দোকানে দোকানে গিয়ে দেখা গেছে দামি সেগুন কাঠ দিয়ে তৈরি সাত ফুট দৈর্ঘ্য আর ছয় ফুট প্রস্তের খাটটিতে খোদাই করে নানা রঙের নকশা আঁকা হয়েছে। রয়েছে লাল সবুজের পতাকা আর বঙ্গবন্ধুর নাম। আবুল কাশেম বলেন, “দলের প্রতি ভালোবাসা এখন আগের মতো দেখা যায় না। অনেকে মুখে বলে ‘জয় বাংলা’ কিন্তু অন্তরে নেই। জাতির জনক না থাকলে এই দেশের সৃষ্টি হতো না, ইতিহাস রচনা হতো না। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির জনকের কন্যা। মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে অনেক কিছুই উপহার দেয়। আমি সামান্য কাঠ মিন্ত্রী। আমার নিজ হাতে ভাল কাঠ দিয়ে বানানো একটি সামান্য খাট বঙ্গবন্ধু কন্যার জন্য উপহার দিতে চাই।” কামেম বলেন, “আমার এই ইচ্ছা পূরণ হবে কিনা জানি না, কিন্তু জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর জন্য ভালোবাসা আর তার কন্যার জন্য কিছু করতে পেরে আমি খুশি।” আবুল কাশেম আরো জানান, “বালাঘাটা উজানীপাড়াসহ বিভিন্ন জায়গা হতে বনের উৎকৃষ্ট সেগুন কাঠ বাছাই করে দীর্ঘ নয় মাসে খাটটি তৈরি করেছি। এতে অন্য কারো হাত লাগতে দেয়নি। কারো কাছ থেকে কোনো টাকাও নেইনি।” খাটটি তৈরির আগে নকশাটি তিনি প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরসহ জেলার কয়েকজন নেতাকে দেখিয়েছেন বলে তিনি জানান। বালাঘাটার আর দশজন মিন্ত্রীর মতোই আবুল কাশের দোকানে দামি যন্ত্রপাতি নেই, নেই দামি ফর্নিচারও। তাতে কী, আবুল কাশের একাগ্রতা পরিশ্রম আর তার ইচ্ছাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এলাকার মানুষ।  

বিস্তারিত»
সন্ত্রাসবাদী বা অশান্তি সৃষ্টিকারী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কোনো আলাপ হবে না: ইনু

কুষ্টিয়া: সন্ত্রাসবাদী বা অশান্তি সৃষ্টিকারী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কোনো আলাপ হবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিআইএ পদ্ধতির মাধ্যমে জরায়ু মুখের ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে চার দিনব্যাপী ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নেতৃবৃন্দ, জামায়াত ও জঙ্গিবাদীরা আন্দোলনের নামে অর্ন্তঘাত ও সংঘাত সৃষ্টি করেছে। তারা সশস্ত্র আক্রমণের মধ্য দিয়ে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে নির্বাচনের আগে অস্বাভাবিক সরকার গঠনের চক্রান্ত করেছিল।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের গৃহিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে লোকালয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হয়েছে। মানুষ এখন নিজেদের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে অনেক সচেতন। আজকের এই ক্যাম্প সচেতন মানুষকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমি মনে করি।’ হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘আগে বিভিন্ন সেক্টরে নারীরা অবহেলিত ছিল। পুরুষ শাসিত সমাজে অনেকে নারীদের অবহেলা করতো। সেদিন আর নেই। তারা (নারীরা) অন্ধকার অমানিশা ভেদ করে এগিয়ে চলেছে আলোর, সত্যের ও সুন্দরের পথে।’ এ সময় মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুন্নাহার বলেন, ‘একমাত্র জরায়ুমুখ নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যাটি প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্নিত করা সম্ভব। জরায়ুমুখ ক্যান্সার মুক্ত রাখতে হলে প্রতি তিন বছর অন্তর স্বাস্থ্যকর্মীকে দিয়ে জরায়ুমুখ অবশ্যই পরীক্ষা করাতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘৩০ বছরের বেশী বয়স হলেই জরায়ুমুখ অবশ্যই পরীক্ষা করতে হবে। ১৮ বছরের পূর্বে বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে ২৫ বছর বয়স হলেই জরায়ুমুখ পরীক্ষা করাতে হবে। বয়স্ক নারীদের জন্য ভায়া টেস্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর্মী বা ডাক্তারকে দিয়ে জরায়ুমুখ পরীক্ষা করালে অন্যান্য স্ত্রী-রোগের চিকিৎসারও সুযোগ থাকে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম স্বপন, বারুইপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান প্রমুখ।

বিস্তারিত»
মুক্তিযুদ্ধের এই দিনে সর্বপ্রথম বিজয় পতাকা উড়েছিল ঝালকাঠির রাজাপুরে

আসিফ মানিক, ঝালকাঠি:আজ ২৩ নভেম্বর। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে ৯নং সেক্টর বরিশাল ডিভিশনের মধ্যে সর্বপ্রথম বিজয় পতাকা উড়েছিল ঝালকাঠি মহাকুমার রাজাপুর থানায়। রাজাপুরের অকুতভয়ে মুক্তিযোদ্ধা দল একটানা দুইদিন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ২৩ নভেম্বর পাক হানাদার বাহীনী হটিয়ে রাজাপুর সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত করে দখল করে রাজাপুর থানা। এই দিনে বাংলাদেশের প্রথম বিজয় পতাকা উড়িয়ে বিজয় উল্লাসে মিছিল করে রাজাপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা। ঝালকাঠি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রয়াত কমান্ডার সৈয়দ শামসুল আলম জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য অস্থায়ী সরকারের নির্দেশে যুদ্ধে সর্বাধিনায়ক দেশের ৫৫ হাজার ৫৯৮ বর্গমাইল এলাকাকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করেন। দক্ষিণাঞ্চল ছিল ৯ নং সেক্টর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জলিল। সাব সেক্টর কমান্ডার ছিলেন ক্যাপ্টেন শাহজাহান ওমর। তার বাড়ি রাজাপুর থানার সাঙ্গর গ্রামে। তাকে বরিশাল অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের সংঘটিত করার দায়িত্ব দেন সেক্টর কমান্ডার। তিনি বরিশাল ডিভিশনের সকল থানার মুক্তিযোদ্ধাদের থানা কমান্ডক্যাম্প গঠন করে যোদ্ধাদের তালিকা করে প্রশিক্ষণ দেন। সমগ্র অঞ্চলের ক্যাম্পের খবর নেয়া ও যুদ্ধের নির্দেশ প্রদানের জন্য কন্ট্রোল রুম করা হয় বরিশালে নুরুল ইসলাম মঞ্জুর বাসায়। রাজাপুর থানার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের দায়িত্ব দেয়া হয় (হাবি:) কেরামত আবুল কালামকে। এ থানায় মুক্তিবাহিনী দল যুদ্ধ প্রশিক্ষন নিয়ে শক্তিশালী মুক্তি ফৌজ গঠন করে। ২৫ মার্চ থেকে হানাদার বাহিনীর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ, দেশীয় রাজাকার, আলবদর বাহিনীদের লুট-পাট ও অমানুষিক নির্যাতনের প্রতিরোধ প্রাচীর গড়ে তোলে রাজাপুরের মুক্তিযোদ্ধারা। যুদ্ধকালে রাজাপুর থানার প্রথম শহীদ হন মোহাম্মদ আলী সিকদার। তার বাড়ী জীবন দাসকাঠী গ্রামে। গালুয়া গ্রামের দু:সাহসী যুবক আবুল কালাম বাবলু তার বাহিনী নিয়ে আঙ্গারিয়া গ্রামে পাক হানাদারদের ঘাটির উপর আক্রমন চালায়। সে কারনে পাকবাহিনীরা বাবলুকে ধরে নিয়ে নির্মম অত্যাচার করে জ্যান্ত মাটিতে পুতে হত্যা করে।পাক হানাদার দের নৃসংশহত্যার খবর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে মুক্তিযোদ্ধারা জ্বলসে ওঠে পাল্টা প্রতিশোধ নিতে। ওদিকে রাজাকারদের নীল নকশায় পাক বাহিনীরা প্রতিনিয়ত গ্রামের নিরীহ মানুষ, যুবকদের ধরে নদীর তীরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। মরা মানুষের লাশে রাজাপুরের খাল গুলো ছিল পূর্ণ। এ সময় সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন শাহজাহান ওমর দক্ষিণ অঞ্চলের স্বরূপকাঠি থানার মুক্তিযোদ্ধা দের নিয়ে সম্মুখ যুদ্ধ করছিলেন। রাজাপুর পাক হানাদার দের বর্বরোচিত অত্যাচারের তান্ডবের খবর পেয়ে তিনি বিচলিত হন। নিজ দেশের টানে তিনি ঝালকাঠি জেলার শত্রুমুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয়ে সমর অস্ত্র নিয়ে বাড়ি এসে ক্যাম্প কমান্ডারদের সাথে বৈঠক করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে তিনি শহীদদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোজ খবর নেন। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্বজনদের প্রতিশোধ নিতে রনকৌশল শিখান। রাজাপুর থানার প্রতি ঘরের যুবকদের মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত করে বৃহৎ দল গঠন করেন। রাজাপুর থানার জীবনদাসকাঠী গ্রামের শহীদ মোহাম্মদ আলী সিকদারের বাড়ীর সম্মুখে একটি বোর্ড স্কুলে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাটি করেন। স্কুল মাঠে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষন দেন। জীবনদাসকাঠী বোর্ড স্কুলকে তিনি সাব সেক্টর কমান্ড দপ্তর করেন। এখান থেকে ঝালকাঠি মহাকুমার যুদ্ধ পরিচালনার নির্দেশ দেয়া হত। জীবনদাসকাঠীর এই ক্যাম্পটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের শক্তিশালী ঘাটি। রাজাপুর এলাকায় অবস্থানরত হানাদার বাহিনীরর ক্যাম্পে প্রতি রাতে কমান্ডো হামলা চালিয়ে ক্যাম্প দখল করে নেয় মুক্তিযোদ্ধারা। পাক বাহিনী রাজাকার বাহিনী ধরে এনে মুক্তিবাহিনীর সাব সেক্টর ক্যাম্পে আটক রাখে। জীবনদাসকাঠী বোর্ড স্কুলের একটি কক্ষ ছিল ওদের জন্য কারাগার। একের পর এক সফল কমান্ডো হামলায় পাক দোসররা ভয়ে গ্রাম অঞ্চল থেকে পালিয়ে রাজাপুর থানায় অবস্থান নেয়। ১৪ই নভেম্বর থেকে মুক্তিযোদ্ধারা তেজদীপ্ত হয়ে ওঠে। থানা শহর ছাড়া সমগ্র এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে থাকে। চারদিক থেকে পাক বাহিনীদের ঘিরে ফেলে মুক্তিযোদ্ধারা। বিজয়ের চরম পর্বে মুক্তিযোদ্ধারা থানা আক্রমনের পরিকল্পনা নেয়। প্রথমবার থানা দখল অপারেশন ব্যার্থ হয় মুক্তিযোদ্ধাদের। একটানা কয়েকদিনের সংঘর্ষে আব্দুর রাজ্জাক, হারুন-অর-রশিদ, আ: রহমান, নির্মল, হোসেন আলী যুদ্ধে শহীদ হন। ক্যাপ্টেন শাহজাহান ওমর যুদ্ধাহত হন। তার পায়ে গুলি লাগে। এতে দমে যায়নি মুক্তিযোদ্ধারা। সহকর্মী, ভাই, স্বজনদের রক্ত ঝড়ানোর দেশ স্বাধীন করার সংকল্পে অনড় থাকে। ২২ নভেম্বর পূনরায় মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমন চালায় রাজাপুর থানা দখল করতে। সম্মুখ যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর টনক নড়ে। এ যুদ্ধে অনেক পাক সেনা-পুলিশ নিহত হয়। যুদ্ধ চলে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত। ২ দিনের মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্নিরুপ দেখে দিশেহারা হয়ে পাকবাহিনীর অধিনায়ক সহ সকল রাজাকার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পন করে। শাহজাহান ওমরের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা থানার প্রধান ক্যাম্প দখল করে পাক বাহিনীদের কারাবন্দি করে। অস্ত্র নিয়ে বিজয় মিছিল করে। প্রতিটি ঘরে উড়েছে বাংলাদেশের পতাকা। রাজাপুর হয় শত্রুমুক্ত। অসাধারণ এই কৃতিত্ত্বের জন্য ক্যাপ্টেন শাহজাহান ওমর বীর উত্তম পদক পান।  

বিস্তারিত»
আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখল ও নিয়োগ-বাণিজ্যে

ডেস্ক নিউজ:ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বারবার রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখল ও নিয়োগ-বাণিজ্যে সুযোগ নিতেই বিভিন্ন সময়ে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। সংঘর্ষে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ক্যাম্পাসে আনা হচ্ছে বহিরাগত ক্যাডারদের। আর এই শক্তি দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের দুই গ্র“পের সংঘর্ষে প্রাণ হারায় সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সুমন চন্দ্র দাস। শাবিতে এখন ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষ ছাত্রলীগ। আর এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে হামলায় আহত হয়ে পঙ্গু জীবনযাপন করছেন কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা। প্রতিটি গ্রুপ নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে এবং বিভিন্ন সংঘর্ষের আগে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের নিয়ে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতে জেলার আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতারা অনুসারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বহিরাগত ক্যাডার ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে থাকেন। এক সময় সাবেক কাউন্সিলর জগদীশ চন্দ্র দাশ, মহানগর আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক বিধান কুমার সাহা ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক পীযূষকান্তি দে’র মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতেন। পরে নিজেদের মধ্যে কোন্দল দেখা দিলে টেন্ডার-বাণিজ্যে জগদীশের নিয়ন্ত্রণ কমে আসে। এখন টেন্ডার ও নিয়োগ-বাণিজ্যেও সুযোগ নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ, বিধান কুমার সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক রঞ্জিত সরকার ও পীযূষকান্তি দে’র অনুসারীরা। শাবিতে তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্র“পকে কাজে লাগিয়ে তারা টেন্ডার-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবন নির্মাণের সময় শাবি ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্র“পকে কাজে লাগিয়ে সিলেটের আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে সমঝোতা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি সেন্টার নির্মাণের সময় টেন্ডারবাজির অভিযোগে তখনকার ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ঠিকাদার হাবিব মালিথা। বিশ্ববিদ্যালয়ে অডিটোরিয়ামের কাজ নিয়েও টেন্ডারবাজির অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি আইসিটি ভবনের আসবাবপত্র ও কম্পিউটার সরবরাহের কাজ পেতে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগ নেতা বিধান কুমার সাহার বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে হলে ফাও থাকা-খাওয়া সুবিধা চালু রেখেছে। গত বছরের ৮ মে শাবি ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের পর কমিটিতে স্থান পাওয়া ও পদবঞ্চিতরা ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারে বেপরোয়া হয়ে উঠে। ফলে ক্যাম্পাসের অবস্থা দিন দিন অস্থিতিশীল হয়ে উঠে। কমিটির গঠনের পর শাবি ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক শামসুজ্জামান চৌধুরী সুমন ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন। ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দুর্বৃত্তের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ছাত্রলীগ নেতা উত্তম এখনও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উত্তম গ্রুপের কর্মীরা এ হামলার জন্য ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নাঈম হাসান ও সহ-সম্পাদক শামসুজ্জামান চৌধুরী সুমনকে দায়ী করেছেন। একইভাবে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্র“পের সংঘর্ষের সময় গুলিতে নিহত হন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সুমন চন্দ্র দাস। ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, শাবিতে সংঘর্ষের আগে বুধবার রাতে নগরীর তেলিহাওর গ্রুপের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পার্থ-ইমরান গ্র“পের কর্মীদের গোপন বৈঠক হয়।

বিস্তারিত»
“অনলাইন  প্রেসক্লাব বাংলাদেশ”এর কমিটি গঠন

একে কুদরত পাশা, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: ডিজিটাল বাংলাদেশ গডার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশে প্রথম “অনলাইন প্রেসক্লাব বাংলাদেশ” এর কমিটি গঠন । শনিবার ২২ নভেম্বর ২০১৪ ইং, বাড়ি ৩০(২য় তলা), রোড ০৫ সেক্টর ০৫, উত্তরা মডলে টাউন, ঢাকা-১২৩০ সংগঠনের নিজ কার্যালয়ে দেশের অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সমন্বয়ে এক জরুরী সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। সভায় সকলের সিদ্ধান্তক্রমে ২১ সদস্য বিশিষ্ঠ কেন্দ্রিয় কমিটি গঠিত হয়। বাংলানিউজের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট এ কে এম রিপন আনসারীকে সভাপতি ও এটিভিনিউজ২৪ডটকম এর সম্পাদক এস এম জামানকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ঠ নতুন কমিটি তিন বছরের জন্য গঠিত হয়। এই কমিটি অবিলম্বে সারাদেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, মহানগর ও থানা পর্যায়ে অনলাইন প্রেসক্লাবের শাখা কমিটি গঠন করবে। শাখা প্রেসক্লাব গঠনের বিষয়ে ০১৭৪৫২২৪৪৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে। সভাপতি -এ.কে.এম রিপন আনসারী (বাংলানিউজ২৪ ডটকম), এবং এস এম জামান (এটিভিনিউজ২৪ ডটকম) কে সাধারন সম্পাদক করা হয়। কমিটির অন্যান্যরা হলেন, সি. সভাপতি -সোহেল রেজা (গ্রামবাংলানিউজ২৪ ডটকম), সি. সভাপতি -কাজী রফিক (বাংলার আলো ডটনেট),সহ: সভাপতি -জাহিদুর রহমান (এটিভিনিউজ২৪ ডটকম),সহ: সভাপতি -শেখ নাঈমা জামান (চ্যানেলএশিয়া২৪ ডটকম),সহ: সভাপতি -এম.এ রহিম (সময়ের বার্তা ডটকম), সহ-সা: সম্পাদক -সাদিয়া আফরিন (নিউজ অব বাংলা২৪ ডটকম), সহ-সা: সম্পাদক -এ.টি.এম রাশেদুল আহ্সান (অপরাধ বার্তা ডটনেট),সহ-সা: সম্পাদক -খন্দকার শাহিন (সবুজবাংলাটিভি ডটকম,)সাংগঠনিক সম্পাদক -পলাশ প্রধান (বাংলার আলো ডটনেট),সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক -আনোয়ার হোসাইন সোহেল (উত্তরা নিউজ ডটকম),গনমাধ্যম সম্পাদক -হিমেল মিয়া (এটিভিনিউজ২৪ ডটকম), সদ্স্য - নাবিল খান (চ্যানেলএশিয়া২৪ ডটকম),সদ্স্য -জাকির আহমেদ (গ্রামবাংলানিউজ২৪ ডটকম),সদ্স্য -এস. এ সুজন (বর্তমানকন্ঠ ডটকম),সদ্স্য - ইফতেখার হোসেন রায়হান (সকালের খবর ডটকম),সদ্স্য -ইব্রাহিম খলিল (অন্যদিগন্ত ডটকম),সদ্স্য -শাহাজাদা সম্রাট (গ্রামবাংলা টিভি ডটকম)।  

বিস্তারিত»
মুক্তিযোদ্ধা হরিধন দাসের আহাজারি স্তব্ধ করে দেয় সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ের মানুষগুলোকে

দিরাই:ছাত্রলীগ ক্যাডারদের বন্দুকযুদ্ধে নিহত সুমন এখন শুধুই স্মৃতি। বৃহস্পতিবার রাতে তার লাশ গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পর লাশের ওপর আছড়ে পড়েন তার বাবা-মা। পুত্রের লাশের সামনে বাবা মুক্তিযোদ্ধা হরিধন দাসের আহাজারি স্তব্ধ করে দেয় সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ের মানুষগুলোকে। তার গগণবিদারী কান্নাজুড়ে প্রশ্ন, শেষ বয়সে এসে আমাকে এ কোন পরাজয় দেখালে প্রভু?। উচ্চ শিক্ষার্থে সিলেটে পাঠানো একমাত্র পুত্র লাশ হয়ে বাড়ি ফেরায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে হরিধনের মাথায়। লাশ দেখে তিন বোনও পাগলপ্রায়। রাত ১২টায় সুমনের শেষকৃত্যের পর এখন পরিবারের সদস্যরা প্রলাপ বকছেন একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে। প্রলাপের পাশাপাশি চলছে স্মৃতি রোমন্থন। মৃত্যুর আগে সুমন শেষ ফোনটি করে তার মামাতো বোনকে। বলেছিল, আমার ফটোটা বড় করিয়ে টাঙিয়ে রাখিস, আমি আসছি। বোন চম্পাকে সুমন ফোন দিয়ে বলেছিল, তোর প্রাইমারি স্কুলে চাকরি হয়েছে। আমি খুব খুশি হয়েছি। আমি বাড়িতে এসে তোকে জয়েন করাব। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে সুমনের বাড়ি ফেরা হয়নি। ফিরেছে নিথর লাশ হয়ে। শেষকৃত্যের পর শ্মশানের চারপাশ ঘুরে ঘুরে এসব স্মৃতি রোমন্থন করে অঝোর ধারায় কাঁদছিলেন আপন তিনবোন ছাড়াও চাচাতো, মামাতো ও খালাতো বোনরা। মাতমের এক ফাঁকে সুমনের বাবা হরিধন দাস বলেন, একটি বুলেট আমার সবকিছু শেষ করে দিল। আমার শেষ স্বপ্নই শেষ হয়ে গেছে। কষ্টের সঙ্গে যুদ্ধ করে তিল তিল করে জমানো অর্থ দিয়ে হরিধন দাস লেখাপড়ার জোগান দিয়ে আসছিলেন ছেলেমেয়েদের। সন্তানরা খুবই মেধাবী হওয়ায় শত কষ্ট হলেও পড়াশোনার পিছু ছাড়েননি বাবা। বড় মেয়ে কাকলী দাসের চাকরি হলে একটু নিঃশ্বাস ফেলেন তিনি। শেষ ইচ্ছা একমাত্র ছেলে সুমনকে উচ্চশিক্ষিত করার। ভর্তি করেন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। বড় বোন কাকলীও একমাত্র ভাইকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার প্রত্যয় নিয়ে বাবার পাশে দাঁড়ান। একমাত্র ভাইকে পড়াশোনার জোগান দিতে গিয়ে বিয়ে করতে চাননি কাকলী। বাবা-মাকে জানিয়ে দেন, ভাইটি ভার্সিটির পড়া শেষ করে চাকরি পেলে তবেই বিয়ে করবেন। কিন্তু বোন কাকলীর স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল। সুমনের স্বজনরা বলেন, হাওরাঞ্চলে দরিদ্র মানুষের বসবাস। এখানের কজনইবা ভার্সিটিতে লেখাপড়া করতে পারছে। ভার্সিটিতে পড়াশোনার জন্য অর্থের প্রয়োজন। হরিধন দাস এলাকায় কৃষি কাজের পাশাপাশি ভূমি জরিপের কাজ করতেন। মানুষের জমিজামা মাপজোখ করে কিছু অর্থ রোজগার করতেন, তার সবটুকুই খরচ করতেন সন্তানদের লেখাপড়ায়। কিন্তু হরিধনের সব কিছু থমকে গেছে একটি বুলেটের কারণে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাসে গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন সুমন। ওই দিন রাত সাড়ে ১০টায় সুমনের লাশ গ্রামের বাড়ি উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের শ্যামারচর গ্রামে পৌঁছে। সুমনকে একটি বারের মতো দেখার জন্য ছুটে আসেন এলাকার শত শত মানুষ। লাশ দেখতে ছুটে আসেন দিরাই পৌর মেয়র আজিজুর রহমান বুলবুল, ভাইস চেয়ারম্যান গোলাপ মিয়া, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রঞ্জন রায়, রতন তালুকদারসহ অনেকে। পরে রাত ১২টায় সুমনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সুমন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএর তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল।

বিস্তারিত»
কেনিয়ায় জঙ্গী হামলায় ২৮ জন বাসযাত্রী নিহত

কেনিয়ার পুলিশ জানিয়েছে সন্দেহভাজন আল শাবাব জঙ্গীরা সোমালিয়া সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় অন্তত ২৮ জন বাস যাত্রীকে হত্যা করেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি যাওয়ার পথে মানডেরা এলাকায় এই বাসটি অপহরণ করে আল শাবাব জঙ্গীরা। এরপর বাসযাত্রীদের মধ্য থেকে অমুসলিমদের আলাদা করে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে কোন কোন খবরে বলা হচ্ছে, যারা কোরানের আয়াত বলতে ব্যর্থ হয় তাদের হত্যা করা হয়। কেনিয়া ২০১১ সালে সোমালিয়ায় সৈন্য পাঠানোর পর থেকেই সেখানে একের পর এক জঙ্গী হামলা শুরু হয়। এসব হামলার জন্য আল শাবাব জঙ্গীদের দায়ী করা হয়।বিবিসি

বিস্তারিত»
সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে বিনা ভোটে বিজয়ের পথে মিলন

সিরাজগঞ্জ: জাতীয় সংসদের সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা আংশিক) আসনের উপ-নির্বাচনে একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী আক্তারুল ইসলাম মুন্নুর মনোনয়নপত্র অসম্পূর্ণ থাকায় তা বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রইলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ম ম আমজাদ হোসেন মিলন। তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করতে পারে নির্বাচন কমিশন। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা সার্ভার স্টেশনে যাছাই বাছাইয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়।   সিরাজগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, জাতীয় সংসদের সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা আংশিক) আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ম ম আমজাদ হোসেন মিলন ও স্বতন্ত্র প্রাথী আক্তারুল ইসলাম মুন্নু মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। পরে যাছাই বাছাইয়ে মম আমজাদ হোসেন মিলনের মনোনয়ন পত্র ত্রুটিমুক্ত পাওয়া যায়। অপরদিকে, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারের এক শতাংশের সমর্থনসহ মনোনয়নপত্র জমা দিতে হয়। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী আক্তারুল ইসলাম মুন্নুর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারের এক শতাংশের সমর্থন ছিল না। ফলে তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়। প্রসঙ্গত, গত ৬ অক্টোবর ঈদুল আজহার দিন সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ ও সলংগা আংশিক) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ গাজী ইছাহাক আলী মারা যান। এর ফলে ২৮ অক্টোবর সংসদ সচিবালয় এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিলে ১১ নভেম্বর এই আসনের উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।  ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২০ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিল, ২২ নভেম্বর মনোনয়নপত্র যাছাই-বাছাই, আপিল ২৩ থেকে ২৫ নভেম্বর, ২৯ নভেম্বর প্রার্থী তালিকা প্রকাশ, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৩০ নভেম্বর ও ১ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ শেষে ২৩ ডিসেম্বর এই আসনটিতে নির্বাচনের কথা রয়েছে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলে আর ভোটের প্রয়োজন পড়বে না।  

বিস্তারিত»
নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর ৭ খুনের  প্রধান আসামি নূর হোসেন  এখনো আওয়ামী লীগ নেতা !

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর ৭ খুনের প্রধান আসামি নূর হোসেনের বিরুদ্ধে ৭ মাসেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির পদে থাকা এই অভিযুক্ত বর্তমানে ভারতের কলকাতার জেলে বন্দী আছেন। গঠনতন্ত্রের নিয়মানুযায়ী তিন মাসের মধ্যে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নূর হোসেন এখনো আওয়ামী লীগ নেতা। তবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ বলছে, নূর হোসেনকে বহিষ্কারের সুপারিশ সংক্রান্ত চিঠি কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে নূর হোসেনকে বহিষ্কারের সুপারি শসংক্রান্ত কোনো চিঠি তারা এখনো পাননি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ‘প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা’ শীর্ষক অংশের ৪৬-এর (ট) উপধারা অনুযায়ী ‘যে কোনো বহিষ্কারের বিষয়ে জেলা কমিটির সুপারিশের পর কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হইলেই কেবল চূড়ান্তভাবে বহিষ্কৃত হইবে এবং অপরাধ প্রমাণিত না হলে তার শাস্তি মওকুফ হবে। কার্যনির্বাহী সংসদ ৩ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, নতুবা শাস্তি মওকুফ বলিয়া গণ্য হবে।’ আওয়ামী লীগ থেকে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ না দেওয়াকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবেই দেখছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান এমপির (শামীম ওসমান) শেল্টার নিয়ে যিনি চলেন, তার মতো নেতাকে বহিষ্কার করা এত সহজ নয়। যত বড় ঘটনাই ঘটুক না কেন, কেন্দ্রেও নূর হোসেনের এমন শুভাকাক্ষী আছেন।’ চাঞ্চল্যকর ৭ খুনের ঘটনার প্রধান আসামি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নূর হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৭ মাসেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের একজন সাবেক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম গত সরকারের আমলে নূর হোসেনকে সিদ্ধিরগঞ্জের পৌর প্রশাসক করার সুপারিশ করেছিলেন। দফতরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় এক নেতার আশীর্বাদ আছে নূর হোসেনের ওপর। তাই তাকে খুব সহজে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করার ক্ষমতা কারো নেই। ৭ খুনের ঘটনার পর গত ২৪ মে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছিলেন, নূর হোসেনকে বহিষ্কারের চিঠি কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ৭ মাস পর গত ১৩ নভেম্বরও এই নেতারা একই রকম কথা বলেন। এদিন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন বলেন, থানা কমিটির সুপারিশ আমরা কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কোনো নির্দেশ এখনো পাইনি। একই দিন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ বলেন, ‘নূর হোসেনের বহিষ্কারসংক্রান্ত কোনো চিঠি এখনো পাইনি। চিঠি পেলে আমরা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি দেখব। এতদিনেও চিঠি কেন্দ্রে না পৌঁছানোর বিষয়টি খোকন সাহাকে জানালে তিনি বলেন, ‘আমরা ডাকযোগে চিঠি পাঠিয়েছি। তারা কেন পাননি, তা (আমার) জানা নেই। তবে কেন্দ্র চিঠি না পেলেও নূর হোসেন বহিষ্কার হয়েছেন বলেই দাবি করেছেন দলটির শীর্ষ দুই নেতা। প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন  বলেন, মহানগর কমিটি যখন সুপারিশ করে কেন্দ্র বরাবর চিঠি পাঠায়, তখনই নূর হোসেন বহিষ্কার হয়েছেন। উনি (নূর হোসেন) যে লেভেলের নেতা, তাতে এর চেয়ে বেশি কিছুর দরকার নেই। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও দলটির ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আহমদ হোসেন  বলেন, নূর হোসেনকে স্থানীয়ভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সে এমন কোনো নেতা না যে, তাকে নিয়ে কেন্দ্রের মাথা ঘামাতে হবে। ‘আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত ছাড়া তো কাউকে বহিষ্কার করা যায় না। এমন প্রসঙ্গের বিপরীতে আহমদ হোসেন বলেন, ‘লিখে দেন, হি ইজ এক্সপেলড।’ বহিষ্কারের কাগজ কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওর মতো নেতার জন্য এতকিছু লাগে? লিখে দেন এক্সপেলড।’ ৭ মাসেও পৌঁছেনি চিঠি ৭ খুনের ঘটনার পর নূর হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার ১০ দিনের মাথায় (৭ মে) সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটি বৈঠক ডেকে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত পাঠায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের কাছে। এরপর নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি কেন্দ্র বরাবর চিঠি পাঠানোর কথা বললেও গত ৭ মাসে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অফিসে ওই চিঠি না পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিমরাইল এলাকায় দু’টি গাড়ি থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ৩০ এপ্রিল ৬ জন ও ১ মে একজনের লাশ পাওয়া যায় শীতলক্ষ্যা নদীতে। ২৭ এপ্রিল নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি নূর হোসেনকে প্রধান আসামিসহ ১২ জনের নামোল্লেখ করে এবং বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয়ের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় একটি মামলা করেন। এখনো মামলার চার্জশিট দেয়নি পুলিশ।

বিস্তারিত»
৮ দেশকে বরণ করতে প্রস্তুত নেপাল

কাঠমান্ডু থেকে: ‘শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য গভীর সংযোগ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নেপালের কাঠমান্ডুতে শুরু হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সাউথ এশিয়ান এসোশিয়েশন ফর রিজিওনাল কো-অপারেশন (সার্ক) এর ১৮তম সম্মেলন। সম্মেলনের সকল রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দেশটি। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে নিয়মিত যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সার্ক মোটরযান চুক্তি, জ্বালানি (বিদ্যুৎ) এবং নিরাপত্তা ইস্যু এবারের সম্মেলনে বেশি গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে। যোগাযোগ চুক্তির অনুসমর্থনে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভায় জাতীয় পরিবহন নীতিমালা অনুমোদন করে রেখেছে। ১৮তম সম্মেলনে ১৭তম সার্ক সম্মেলনের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি, দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি, গ্রামীণ ও সামাজিক উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, জনস্বাস্থ্য, গুনগত শিক্ষা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে সার্ক সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে। বহুমাত্রিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে আঞ্চলিক রেলওয়ে চুক্তি এবং সার্ক দেশ সমূহের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগের বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পাবে বলে জানিয়েছে সার্ক সচিবালয়ের একাধিক র্কমকর্তা। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহেন্দ্র বাহাদুর পান্ডে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন এবারের সার্ক সম্মেলনের রাষ্ট্রীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শনিবারও হিমালয় কন্যা নেপালকে সাজানোর কাজ শেষ হয়নি। অভিজাত ও নগরের প্রাণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত লাজিমপাট এলাকার প্রস্তুতি শেষ হলেও অন্যান্য এলাকার কাজ শেষ হয়নি। এখনও চলছে পাথর বসানো, রাস্তা পরিস্কার ও মেরামতের কাজ। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত যানবাহনের চাপ কমাতে দুই সিরিয়ালের মধ্যে এক সিরিয়াল বন্ধ থাকছে প্রতিদিন। তবে ট্যুরিস্টদের জন্য ক্যাব চলছে প্রতিদিনই।

বিস্তারিত»
রাজনীতি এখন ডিএমপি'র হাতে : মান্না

ঢাকা : রাজনীতি এখন ডিএমপি’র হাতে চলে গেছে। সভা-সমাবেশ করতে হলে তাদের অনুমতি নিতে হয়। এমনকি শহীদ মিনারে বসতে গেলেও তাদের অনুমতি লাগে বলে মন্তব্য করছেন নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, আমাদেরকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বসতে দেওয়া হবে কিনা জানিনা । তবে সেখানে বসার জন্য সাধারণ মানুষের অনুমতি লাগে না , তাই আমরাও বসতে পারবো বলে আশা করছি। ২৮ নভেম্বরের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান কর্মসূচি  সামনে রেখে শনিবার তোপখানা রোডের শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মান্না বলেন, দেশে এখন যেভাবে দুর্নীতি চলছে তাতে দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন আলাদা একটা বৈশিষ্ট পাবে। এখনই সময় ব্যভিচার, জুলুম-নির্যাতন এবং দুর্নীতিকে রুখে দাঁড়ানোর। এর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান তৈরি করা। তা না করতে পারলে মহামারি আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, রাজনীতি এবং দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন আলাদা কিছু নয়। রাজনীতির মধ্যে থেকেই দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। মান্না আরো বলেন, দেশে এখন এক ধরনের ব্যভিচার চলছে। দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে বলেই রাজনৈতিক, আমলা, ব্যবসায়ীসহ সকলের মধ্যে এটা অবাধ হয়ে উঠেছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব তৈরির বিকল্প নেই।   মতবিনিময় সভায় নাগরিক ঐক্যের নেতৃবৃন্দ এবং উপস্থিত বিশিষ্ট জনেরা দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের বিষয়ে নিজেদের মতামত এবং পরামর্শ তুলে ধরেন।

বিস্তারিত»
মানুষের বর্জ্যচালিত প্রথম বাস

অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ ও কার্বন নিঃসরণ থেকে রেহাই পেতে মানুষের বর্জ্য দিয়ে বাস চলাচল শুরু হয়েছে যুক্তরাজ্যে। মনুষ্যবর্জ্য ছাড়াও উচ্ছিষ্ট খাদ্য থেকে শক্তি আহরণ করে চলছে এই ‘পু বাস’ বা ‘বায়োবাস’। পরিবেশবান্ধব এ ধরনের বাস ইতিহাসে এটাই প্রথম। ৪৬ আসনবিশিষ্ট বাসটি বৃহস্পতিবার প্রথম পথে নামানো হয়েছে। বিবিসি, টেলিগ্রাফ। প্রথম ধাপে ব্রিস্টল থেকে বাথ পর্যন্ত এই বাস চলাচল করছে। পরে অন্যান্য রুটেও চলাচল করবে। পরিবেশবান্ধব এই বাসটি এক ট্যাংক বায়োগ্যাস (মানুষের বর্জ্য থেকে তৈরি) দিয়ে ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারবে। পাঁচজন মানুষের বার্ষিক বর্জ্য থেকে এরকম এক ট্যাংক গ্যাস পাওয়া সম্ভব। একজন মানুষের বার্ষিক উচ্ছিষ্ট খাদ্য ও বর্জ্য থেকে বাসটির ৬০ কিমি. দূরত্ব অতিক্রমের বায়োগ্যাস পাওয়া যাবে। ডিজেলচালিত সাধারণ বাসের মতোই এর ইঞ্জিন। তবে বায়োগ্যাসের ট্যাংকগুলো গাড়ির ডিজাইনের কথা ভেবে বাসের ছাদের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। বাসটির আরও একটি বৈশিষ্ট্য হল ডিজেলচালিত বাসগুলোর চেয়ে এটি ৩০ শতাংশ কম কার্বন নিঃসরণ করবে। বাথ বাস কোম্পানি এই বাসের নিয়ন্ত্রণ করছে। আর মানুষের বর্জ্য থেকে গ্যাস তৈরি করে জেইনকো কোম্পানি। জেনইকোর জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের শহরগুলোর নির্মল বাতাসের জন্য গ্যাসচালিত গাড়ির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। তবে বায়োবাস এর চেয়েও বেশি কিছু উপহার দিচ্ছে। স্থানীয় জনতার বর্জ্য দিয়েই চলছে এ বাস। উপরন্তু বাসে বসেও কাজাটা সারা যাবে। বাথ বাস কোম্পানির কলিন ফিল্ড বলেন, উপযুক্ত সময়ে বায়োবাসটি যাত্রা শুরু করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরের মধ্যেই ইউরোপের সবুজ রাজধানী হবে ব্রিস্টল।

বিস্তারিত»
ছাত্রলীগের আগাছা পরিষ্কার করা হবে: সেতুমন্ত্রী

গোপালগঞ্জ: ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের সম্মেলন না হওয়ার কারণে কিছু আগাছা জন্ম নিয়েছে, এগুলো পরিষ্কার করা হবে। শনিবার সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মধুমতি নদীতে নির্মিত পাটগাতী সেতু পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, “ছাত্রলীগের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চলছে। এ সব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।” ছাত্রলীগের সাবেক এই সভাপতি বলেন, “বিশ্বজিৎ হত্যায় জড়িতরা পার পায়নি। অতীতেও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এখনো নেয়া হবে। কোনো অপকর্মকারীকেই ছাড় দেয়া হবে না।” বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিতর্কিত মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে আক্রমণ করে রাজনীতিতে বিএনপির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।” এর আগে সকালে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মন্ত্রী। এ সময়  সড়ক বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম ভূইয়া, জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ইকবাল, নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরন রায়, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা মাহাবুব আলী খান, আবুল বশার খায়ের, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস, পৌর মেয়র মো. ইলিয়াস হোসেনসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

বিস্তারিত»
‘দুষ্কৃতিকারীরা যেন রাজধানীতে প্রবেশ করতে না পারে’

সাভার: সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি  দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, “কোনো জঙ্গি ও দুষ্কৃতিকারীরা যেন রাজধানীতে প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।” শনিবার দুপুরে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত আমিন কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সাভার পৌর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি একথা বলেন। এসময় তিনি আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “উত্তরবঙ্গ আর ঢাকার সংযোগমুখ হচ্ছে সাভার। তাই সাভারের নেতাকর্মীদের বিএনপির জঙ্গি নাশকতা সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে।” ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহম্মেদ উপস্থিত থেকে সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন করেন। সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেন। সাভার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ দফতর বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস এমপি, এনামুল হক শামীম, ডা. এনামুর রহমান এমপি, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ। আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসক  মিসেস হাসিনা দৌলা, মঞ্জুরুল আলম রাজিব, সেলিম মন্ডলসহ সাভার পৌর আওয়ামী লীগের কয়েক হাজার নেতাকর্মী। প্রসঙ্গত, এই ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের মধ্য দিয়েই গঠিত হবে সাভার পৌর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি।

বিস্তারিত»
ভারতীয় খাসিয়ার গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

সিলেট: সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়ার গুলিতে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার পর বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ভারতীয় খাসিয়ার গুলিতে নিহত বাংলাদেশী দিনমজুর কুদরত আলী (৩০) নিহত হয়। এ ঘটনার পরপরই বিএসএফকে চিঠি দেয় বিজিবি। শনিবার সকালে পতাকা বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিজিবির জৈন্তাপুর ফাঁড়ির কমান্ডার নায়েক সুবেদার আব্দুস সালাম জানান, বিএসএফ কুদরত আলীর মৃত্যুর বিষয়ে কিছুই জানেনা বলে জানিয়েছে। বৈঠকে বিজিবি’র পক্ষ থেকে কুদরতের লাশ চাওয়া হলে বিএসএফ লাশ খুঁজে বের করে ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে। তবে, দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিএসএফের কাছ থেকে ইতিবাচক কোন জবাব মেলেনি বলে জানিয়েছেন নায়েক সুবেদার সালাম জানান। জানা যায়, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সীমান্তের ১২৯২ মেইন পিলারের কাছে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন কোম্পানী কমান্ডার আবদুর রশীদ। ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিএসএফ ১৯ ব্যাটা লিয়নের এসপি টিলার ক্যাম্প কমান্ডার এম আলী। গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে সীমানে-র ১২৯৩ মেইন পিলারের ৭ নং সাব পিলারের কাছে কাঠ সংগ্রহে যান কুদরত আলী। এসময় ভারতের হেওয়াই বস্তির খাসিয়ারা তাকে ধরে নিয়ে গুলি করে খুন করে লাশ নিয়ে যায়। নতুন বার্তা/এমবি/জবা

বিস্তারিত»
ওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার না করলে জেল-জরিমানা

ঢাকা: রাজধানীতে রাস্তা পারাপারে ওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার করা না হলে বা গাড়ি থামিয়ে রাস্তা পার হলে জরিমানা গুনতে হবে। এমনকি জেলও হতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বেনজীর আহমদ। যেখানে সেখানে রাস্তা পারাপার বন্ধে ২৫ নভেম্বর থেকে রাজধানীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি। শনিবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বেনজীর আহমদ এসব কথা জানান। ডিএমপি কমিশনার বলেন, নগরীতে রাস্তা পারাপারে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। অনেকে হাত তুলে গাড়ি থামিয়ে রাস্তা পার হয়। এতে সড়কে যানজট দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে ফুট ওভারব্রিজ থাকলেও নাগরিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, রাস্তা পার হওয়ার বিষয়ে আমরা নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করি, এতে নগরবাসীর ভালো আচরণ দেখতে পারবো। আমরা নগরবাসীর সমর্থন প্রত্যাশা করছি। ডিএমপির নতুন এই কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, আজ শনিবার থেকে আগামী দুইদিন রোববার ও সোমবার সচেনতা কর্মসূচি চলবে। ২৫ নভেম্বর হোটেল রূপসী বাংলা থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট বসবে। এক সপ্তাহ এ মোবাইল কোর্ট চলবে। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ফুট ওভারব্রিজ কিংবা আন্ডারপাস ব্যবহার না করলে মোবাইল কোর্ট শাস্তি দেবে। এক্ষেত্রে ২০০ টাকা জরিমানা অথবা ছয় মাসের জেল হতে পারে। তবে জেল-জরিমানা করা এই কর্মসূচি উদ্দেশ্য নয়; আমাদের লক্ষ্য নগরীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।

বিস্তারিত»
শাবির ঘটনায় আরো চার ছাত্রলীগ কর্মী গ্রেফতার

সিলেট: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় আরো চার ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এ ঘটনায় ৩১ জনকে গ্রেফতার করা হলো। গ্রেফতারকৃতরা হলো-গণেন্দ্র চন্দ্র দাস, বিদ্যুত দাস, নারায়ণ চন্দ্র দাস ও সুমন মিয়া। তারা সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র বলে জানিয়েছেন জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেন। ওসি জানান, শাবিতে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় শনিবার দুপুর ১২টার দিকে নগরীর বাগবাড়ি এলাকা থেকে চার ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করা হয়। তাদেরকে শনিবার কোর্টে চালান দেয়া হবে বলে জানান তিনি। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের উত্তম-অঞ্জন গ্রুপের সঙ্গে সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। এতে সুমন দাস (২২) নামে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্র নিহত হয়।  এছাড়া পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ আরো ২০ জন আহত হন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ঘটনা তদন্তে শাবি’র সাবেক কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাসকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত কোতয়ালী ও জালালাবাদ থানা পুলিশ ২৭ জন ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেফতার করে।

বিস্তারিত»
এইচটি ইমাম বিএনপির লোক

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বিএনপির লোক দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান সোহেল বলেছেন, ‘এইচটি ইমাম আমাদের লোক। তার গায়ে হাত দেবেন না। তার গায়ে হাত দিলে পরিনতি ভালো হবে না।’ তিনি বলেন, ‘সব জায়গাতে আমাদের লোক আছে। কখন, কোথায় সত্য প্রকাশ হয়ে যাবে বলতে পারবেন না। সত্য প্রকাশের জন্য আরো এইচটি ইমাম রয়েছে। তারাও একে একে সত্য ফাঁস করে দেবে।’ শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত বিএনপির সিনিয়ার ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে মারুফ কামাল খান বলেন, ‘বিএনপিকে ভাঙার ষড়যন্ত্র করছেন। বিএনপি থেকে দু-চার জন নেতাকে ভাগিয়ে নেয়ার চেষ্টাও করছেন। কিন্তু কোনো লাভ হবে না।’ তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী কিংবা ক্ষমতার জন্য আন্দোলন করছেন না। দেশের মানুষের মুক্তি ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আন্দোলন করছেন। কারণ দেশে কোনো শান্তি নেই। দেশের মানুষের নিরাপত্তা নেই।’ সোহেল বলেন, ‘তারেক রহমান সুস্থ হয়ে দেশে ফিরবেন। তিনি এ সরকারের ষড়যন্ত্রকে ভয় পান না। এর চেয়েও কঠিন সময়ে তিনি দেশে ছিলেন। তিনি দেশে ফিরে দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করবেন।’ সকলকে পদ-পদবীর মোহ ত্যাগ করে তিনি বলেন, ‘পদ-পদবীর প্রতিযোগিতা দলে থাকবে। শুধু জেল খাটলেই ত্যাগ হবে না। দেশের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে, সংগঠনের স্বার্থে পদ-পদবীর মোহ ত্যাগ করতে হবে।’ এইচটি ইমামকে উপদেষ্টা করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সন্দেহ পোষণ করে আলোচনা সভায় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ‘এইচটি ইমাম কী করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হলেন? যিনি খন্দকার মোশতাক সরকারের শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছিলেন। তাকে উপদেষ্টা করা রহস্যজনক।’ তিনি বলেন, ‘আসলেই আমাদের সন্দেহ হয় প্রধানমন্ত্রী তার পিতার হত্যার বিচার চান কি-না!’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘তারেক রহমান ষড়যন্ত্রের শিকার। রাজপথে নেমে এই সরকারকে ক্ষমতাচ্যূত করতে হবে। এই সরকারের বিরুদ্ধে একমাত্র পথ হলো রাজপথে জনগণের আন্দোলন গড়ে তোলা।’ তারেক রহমানের সঙ্গে রফিকুল ইসলাম মিয়ার কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সুস্থ হলেই তিনি দেশে ফিরে আসবেন, আপনাদের সাথে যোগ দেবেন। তারেক রহমান বিদেশে থাকলেও তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গবেষণা করছেন।’ আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রেজাউর রহমান রিপন, ইয়াসিন আলী, এমএ মান্নান, ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান প্রমুখ। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু।  

বিস্তারিত»

সাক্ষাৎকার

 কঠোর গোপনীয়তায় নগর বিএনপির পুনর্গঠন সম্পন্ন করতে চান

ঢাকা: যেনতেনভাবে নয়, অসন্তোষ কমিয়ে নেতাকর্মীদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করে সংগঠনকে আরো বেশি শক্তিশালী এবং গতিশীল করতে অতিরিক্ত সময় নিয়ে চলছে ঢাকা মহানগর বিএনপির পুনর্গঠন। এ কার্যক্রম সন্তোষজনক পর্যায়ে থাকলেও সরকারের বাধা আর দলীয় সীমাবদ্ধতার কারণে এ নিয়ে এখনই কিছু না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নেতারা। কঠোর গোপনীয়তায় নগর বিএনপির পুনর্গঠন সম্পন্ন করতে চান তারা। ঢাকা মহানগর বিএনপি চাঙ্গা করতে গত জুনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে আহ্বায়ক এবং তরুণ নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেলকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। কমিটি গঠনের এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। কিন্তু সময়সীমা পার হলেও কমিটি গঠন করা যায়নি। কমিটির কার্যক্রম নিয়ে বাংলামেইলের সঙ্গে কথা বলেছেন নগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। কী ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে কমিটি পুনর্গঠন কার্যক্রম চলছে? হাবিব উন নবী খান সোহেল: প্রথমত সংগঠন গোছানো, দ্বিতীয়ত নেতাকর্মীদের আন্দোলনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করা। এই দুটোরই প্রস্তুতি চলছে। এই কার্যক্রম শেষ হতে কত সময় লাগবে? সোহেল: আমরা চেষ্টা করছি যতোদ্রুত সময়ের মধ্যে সারা যায়। এর মধ্যে আন্দোলন চলে এলে সেক্ষেত্রে আন্দোলনের পাশাপাশি আমরা সংগঠন গোছানোর কাজ চালিয়ে যাবো। মহানগরের বর্তমান অবস্থা কী? সোহেল: কমিটি ঘোষণার পর মূলত: দুটো কাজ আমাদের হাতে দিয়ে দেয়া হয়েছিল। প্রথমটি হলো তৃণমূল থেকে ওপর পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীতে সাংগঠনিক দুর্বলতার যে বিষয়গুলো রয়েছে সেগুলো দূর করা। যেখানে কমিটি দরকার সেখানে কমিটি করে দেয়া। দ্বিতীয়ত: সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলা, যেটা ঢাকা মহানগরীর কাছে মানুষ প্রত্যাশা করে। দু’টা কাজ আমরা পাশাপাশি চালাচ্ছি। এতো বড় একটা মহানগরী, এখানে এতো অল্প সময়ের মধ্যে কাজ করা যায় না। যেনতেন করে কাজ শেষ করলেও হবে না। আমাদের একটু সময় লাগছে। প্রথমে ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নগুলো নিয়ে কাজ করছি। পরে আমরা থানাগুলোতে হাত দেবো। আমাদের কাজ মোটামুটি এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি জায়গায়, প্রতিটি ইউনিটে সরকারি হস্তক্ষেপ রয়েছে। পুলিশ কাজ করতে দেয় না। এ কারণে অনেক জায়গায় কাজ করা যাচ্ছে না। আবার দেখা যাচ্ছে মাঝখানে কর্মসূচি চলে আসছে। কর্মসূচি এলে তার আয়োজন করতে হয়। সেজন্য আমাদের কাজ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব মিলিয়ে কিছু প্রতিবন্ধকতার মধ্যদিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে। পাশাপাশি আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। আন্দোলন করতে হলে নেতাকর্মীদের মানসিকভাবে তৈরি করতে হয়। এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি আমরা। এ পর্যন্ত মহানগরীর কতগুলো শাখা ও ইউনিটে কমিটি সম্পন্ন হয়েছে? সোহেল: এই মুহূর্তে আমরা এগুলো প্রকাশ করছি না। সময় মতো প্রকাশ করবো। কার্যক্রম মোটামুটি সন্তোষজনক পর্যায় রয়েছে। পুনর্গঠন কার্যক্রমে বড় বাধা কী? সোহেল: বললাম না, সরকার। একটি ইউনিট করতে গেলে তো সেখানে গিয়ে বসতে হয়। সেখানে তো পুলিশ বসতে দিচ্ছে না। যার কারণে আমাদের কর্মিসভা শিফট করতে হচ্ছে। এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় বাধা। এরপর কর্মসূচি আসছে, ম্যাডাম ঢাকার বাইরে গেলে আমাদেরও ঢাকার বাইরে যেতে হচ্ছে। কার্যক্রম কি ধীর গতিতে চলছে? সোহেল: আমরা চেষ্টা করছি যতোদ্রুত কাজ শেষ করা যায়। মহানগর বিএনপি ঢাকায় বড় ধরনের কর্মসূচি পালন করতে পারছে না কেন? সোহেল: প্রোগ্রাম তো করতে দিচ্ছে না সরকার। সরকার আমাদের ৮ তারিখে (৮ নভেম্বর) সমাবেশ করতে দিল না। এর আগে যেগুলো করেছি সেগুলো ভালোই হয়েছে। দিন দিন আমাদের কর্মসূচিতে লোক সমাগম বাড়ছে। কর্মী-সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ততা বাড়ছে। কিন্তু মিটিংতো করতে দেয় না। এখন আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা যদি অনুমতি না পাই তবে তো অনুমতির জন্য অপেক্ষা করা যাবে না। সেক্ষেত্রে আমাদের কর্মসূচি শুরু করতে হবে। দলের সীমাবদ্ধতা কমিটি গঠনে বড় কোনো বাধা হচ্ছে কী? সোহেল: না, এরকম কিছু নেই। সামনের আন্দোলন কর্মসূচি কী? সোহেল: নির্দলীয় সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলমান রয়েছে। ছোট-খাটো ইস্যুতে কথা বলছি। কিন্তু কোনো সমস্যারই সমাধান হবে না যতোদিন দেশে জনগণের সরকার না আসে। বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছে তারা তো জনগণের সরকার না। কার্যত তারা অবৈধ সরকার। যখন অন্যায় করা হচ্ছে দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে তার প্রতিবাদ করছি আমরা। ঢাকা মহানগরী ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তার জন্য কী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে? সোহেল: বিএনপি বড় রাজনৈতিক দল, বিএনপি একটি পপুলার পলিটিক্যাল পার্টি। এখানে অনেকেই সংগঠন করতে চায়। সবাইকে তো আর প্রোভাইড করা যায় না। সেক্ষেত্রে কিছু অসন্তোষ থাকতে পারে। আমরা চেষ্টা করছি সবাইকে নিয়ে সম্মানের সঙ্গে কাজ করার। সবাই যাতে হ্যাপি থাকে। এর মধ্যে একটু অসন্তোষ থাকতেই পারে। গত কমিটির ব্যর্থতা কি নতুন কমিটি ঢাকতে পারবে? সোহেল: গত কমিটি ব্যর্থ না সফল সে বিষয়ে আমি মন্তব্য করবো না। তবে আমরা সফল হওয়া

বিস্তারিত»

বিশেষ কলাম

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দিবস-মেজর(অবঃ) সিদ্দিক,পি এস সি

২১ নভেম্বর বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দিবস। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি গৌরব উজ্জ্বল দিন। ১৯৭১ এর এই দিনে বাংলাদেশ সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনী দখলদার পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমন পরিচালনা করে। মুক্তি যুদ্ধের প্রাথমিক দিকে খণ্ড খণ্ড গেরিলা যুদ্ধ পরিচালিতি হচ্ছিল। যুদ্ধের প্রায় ৮ মাস পর বাংলাদেশের স্থল,জল এবং আকাশ পথে শত্রু বাহিনীকে সমন্বিত আক্রমনের এই দিন ছিল প্রথম দিন । বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর নেত্রিত্তে মূলত সকল মুক্তিযুদ্ধারা এরি ধারাবাহিকতায় ১৬ ডিসেম্বরে বিজয় ছিনিয়ে আনে। যুদ্ধকালীন বাংলাদেশে যুদ্ধের পূর্বে পাক বাহিনীতে কর্মরত সেনারা স্বাধীনতার ডাকে বিদ্রোহী হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে ।বাংলাদেশের তিন বাহিনীর জন্মের ইতিহাস নিম্নে তুলে ধরা হল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীঃ ইতিমধ্যে সেনা বাহিনীতে তিনটি নিয়মিত ব্রিগেড গঠন করা হয়ঃ জেড ফোরস-ব্রিগেড -১,৩ এবং ৮ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর সমন্বয়ে প্রথম নিয়মিত ব্রিগেড । কমান্ডারঃ লেঃ কর্নেল জিয়াউর রহমান। স্থানঃ তোরা পাহাড়ের পাদদেশ-ময়মন্সিনহের উত্তরে। সময়ঃ ৭ জুলাই ১৯৭১। কে ফোরস-ব্রিগেড- ৪,৯ এবং ১০ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।কমান্ডারঃ লেঃ কর্নেল খালেদ মুশারফ।স্থানঃ আগরতলা । সময়ঃ সেপ্টেম্বর ১৯৭১। এস ফোরস-ব্রিগেড-২ এবং ১১ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট । কমান্ডারঃ মেজর কে এম শফিউল্লাহ ।স্থানঃ হিযামারা । সময়ঃ অক্টোবর ১৯৭১। তিনটি ব্রিগেড এর নেত্রিত্তে বাংলাদেশের সকল সীমান্ত বিশেষ করে কামাল পুর, হিলি,বেলুনিয়া আরও অনেক এলাকায় অবিরাম আক্রমণের মাধ্যমে জুলাই থেকে নভেম্বর পাক বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা এনং অনেক জনবল ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।এই ধারাবাহিক আক্রমন চূড়ান্ত আক্রমণকে সহজতর করে তুলে। ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের সূর্য উদিত হয়। স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ নেভিঃ পদ্মা এবং পলাশ এই দুটি যুদ্ধ জাহাজ নিয়ে মাত্র ৪৫ জন নৌ সেনা এনং অফিসারের সমন্নয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। মংলা এবং চট্টগ্রাম পোর্ট এ বাংলাদেশ নৌ সেনারা মারাত্মক আঘাতের মাধ্যমে দখলদারপাক নৌ চলাচলে এবং সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় । বাংলাদেশ বিমান বাহিনীঃ ভারতের দিমাপুর পরিত্যক্ত ঘাটিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠন করা হয় ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭১। তাঁদের দায়িত্ব ছিল সেক্টর ৬ এবং ১১ তে আক্রমন পরিচালনা করা । পরবর্তী ইতিহাস আমাদের প্রায় সবারই জানা । ঢাকা সেনা নিবাসে শিখা অনির্বাণে পুস্প মাল্য অর্পণের মাধ্যমে দিনটির উদযাপন শুরু হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন---তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। বীর সেনানী ও শহীদ পরিবারের প্রতি সন্মান জানানো হয়। সকল সেনানিবাস, নৌ ঘাঁটি এবং বিমান ঘাঁটিতে সমরাস্ত্রের উন্মুক্ত প্রদর্শনী করা হয়। ঢাকা সেনানিবাসে সেনা কুঞ্জে তিন বাহিনী প্রধান সরকার,বিরোধী দলের নেত্রীবৃন্দ এবং সামরিক ও বেসামরিক উচ্চ পদস্থ কর্ম কর্তাদেরকে নৈশ ভোজে আমন্ত্রন জানানো হয়। নানা কর্ম সূচির মাধ্যমে দেশে বিদেশে ভাব গাম্বিরজের মাধ্যমে পালিত হয় এ দিবস । বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী স্বাধীনতার ৪৩ বছরে অনেক দূর এগিয়েছে। বিশ্ব শান্তিতে জাতি সঙ্ঘ বাহিনীতে ভুমিকা রাখছে অসাধারন। দেশের ক্রান্তি কালে এই সশস্ত্র বাহিনীর কাছে মানুষের অনেক বেশী প্রত্যাশা!!! স্বাধীনতা -সার্বভৌমত্ব-গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার প্রশ্নে বাংলাদেশ এখন প্রশ্ন বিদ্ধ !!! তাই -----সশস্ত্র বাহিনী অনেক চরাই উৎরাইয়ের মাধ্যমে পারি দিচ্ছে বর্তমান কঠিন এবং জটিল পথ !!! যুদ্ধে সকল শহীদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে--- স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের জন্য সকল শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে---- এযাবৎ কালে এই বাহিনীকে গঠনে সকলের ত্যাগ ও সহযোগিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে -- স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত আমাদের জাতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ৪৪ তম দিবসে এর উত্তর উত্তর সফলতা এবং সম্ব্রিদ্ধি কামনা করছি।

বিস্তারিত»

এক্সক্লুসিভ

সামনে কী? বঙ্গোপসাগর! ফরহাদ মজহার

সামনে কী? এটাই এখনকার প্রশ্ন। অনেকে খোলাসা করে বলেন না, বলতে চান না বা বলতে ভয় পান। কিন্তু নীরব থাকলেও যে নীরব উৎকণ্ঠা এখন সর্বব্যাপী সেটা হল, এভাবেই কি দেশ চলবে? উত্তর : হ্যাঁ, চলবে। আপনাআপনি কোনো কিছুই বদলায় না। তাছাড়া দেশ খারাপ চলছে কোথায়? দুর্নীতি, দুর্বৃত্তপনা, খুন, গুম-খুন, আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বিরোধী মত ও চিন্তাকে কঠোরভাবে দমন, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনকে দলীয় হাতিয়ারে পরিণত করা, বিরোধী দলকে আস্তে আস্তে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া- সবই খারাপ কাজ। আলবৎ। এতে কোনোই সন্দেহ নেই। কিন্তু সেটা তো সরকারবিরোধীদের সমস্যা। সরকারেরও না, দেশেরও না। যদি না দেশ বলতে সুনির্দিষ্টভাবে নাগরিকদের বুঝি। দেশের সমস্যা কী আসলে? দেশ তো বিমূর্ত কিছু নয়। যদি বর্তমান সমস্যা সমাধানের পথ থাকা সত্ত্বেও নাগরিকরা ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা থেকে সরাতে না পারে, কেবল তখনই দেশের সমস্যা কথাটা অর্থপূর্ণ হয়। যদি যাহা বাহান্ন তাহাই তেপ্পান্ন হয়তো ক্ষমতার হাতবদলে দেশের সমস্যার কী সমাধান হবে? যদি বিরোধী রাজনীতির মধ্যে এসবের অবসান ঘটার অঙ্গীকার পাওয়া যেত, তাহলে বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের রাজনীতি আপনাতেই দানা বাঁধত। তখন অঙ্গীকারকে বাস্তবে রূপ দেয়ার নীতি ও কৌশল নিয়ে কথা উঠত। রাজনীতির ইতিবাচক মেরুকরণ ঘটত। এ কথাগুলো বারবার বলা হয়েছে। কিন্তু বিরোধী রাজনীতি সেসব কথা কানে তোলেনি। ফলে ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। অচিরে এর অবসান ঘটবে তার কোনো কারণ দেখি না। বিরোধী রাজনীতি বর্তমান অবস্থা থাকে উত্তরণের কথা ভাবছে বা এ বিষয় নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে চায়, তাদের কাছ থেকে এ বিষয়ে ন্যূনতম কোনো প্রতিশ্র“তি পাওয়া গেলে অন্তত চিন্তাভাবনার দিক থেকে পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা শুরু হতো। বিরোধী দল বা জোট কীভাবে তাদের অঙ্গীকার বা প্রতিশ্র“তি বাস্তবায়ন করবে তার নীতি ও কৌশল নিয়ে সমাজে কথাবার্তা শুরু হয়ে যেত, জনগণ কোনো দল বা পক্ষ হিসেবে নয়, একটা রাজনীতির পক্ষে এসে দাঁড়াতে শুরু করত, নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে যেত। একেই রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বলা হয়। যদি আমরা নিশ্চিত হতে পারতাম যে, ক্ষমতাসীনদের বিদায় দিয়ে যাদের আমরা ক্ষমতায় আনতে চাই তারা এমনভাবে দেশ চালাবেন যাতে ওপরে যা কিছু মন্দ ব্যাপারের কথা বলা হল সেসব আর ঘটবে না, তখন পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নিত। না, সেটা বিরোধী রাজনীতির সদিচ্ছার ওপর আমরা ছেড়ে দিতে পারি না। কী ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা তারা নেবেন যাতে দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তপনা এখনকার মতো দুষ্ট ক্ষতের রূপ নেবে না, সেটা তাদের কংক্রিট ভাষায় বলার জন্যই আমরা বলতে থাকব। যেমন, একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন একটি প্রস্তাব হতে পারে। খুন, গুমখুন, আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ইত্যাদি বন্ধ করা যাবে কীভাবে? দল, মত, ধর্ম, বিশ্বাস, সম্প্রদায় নির্বিশেষে নাগরিকদের মানবিক অধিকার সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত ও প্রশাসনিকভাবে বলবৎ করার মধ্য দিয়ে; সেটা করতে হলে সংবিধান সংস্কারের দরকার হবে। প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে দলীয়করণ থেকে মুক্ত করতে হবে। এগুলো তো অতি প্রাথমিক প্রত্যাশা। এরপর অর্থনৈতিক উন্নতি, কাজ সৃষ্টি ও কর্মোদ্যোগের প্রেরণা তৈরি- ইত্যাদি তো আছেই। সর্বোপরি দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্ন। বাংলাদেশ কি নিজের হিম্মত নিয়ে দাঁড়াতে পারবে? বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কি নতজানু নয়? কিন্তু সেটা তো এখন হয়নি। আজকালের ব্যাপার কি? একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে উপমহাদেশে যে রাষ্ট্রটির জন্ম হয়েছে, প্রথম থেকেই দিল্লি তার ওপর প্রভুত্ব করতে চেয়েছে। এখন হা-হুতাশের কী আছে? ভাগ্য ভালো যে আমি কে তুমি কে বাঙালি বাঙালি বলতে বলতে আমরা পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে এখনও যুক্ত হয়ে যাওয়ার দাবি তুলিনি। আমরা তো একই জাতি। একই আমাদের ভাষা, একই আমাদের সংস্কৃতি। ফলে একত্রিত হয়ে যাওয়াই তো এই জাতির নিয়তির বিধান ছিল। কেন হল না, সেটাই বরং ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রহস্য। ধর্ম? না সেটা অবশ্য এক নয়। অতএব ধর্মই এই একত্রীকরণ প্রক্রিয়া বা ঐক্যের পথে প্রধান বাধা। সব দোষের মূল হিন্দুত্ববাদ! না না, থুক্কু, ইসলাম। ইসলামই বাঙালিদের একত্রিত হওয়ার পথে প্রধান বাধা। এই চিন্তাই তো আমাদের গ্রাস করে থাকে। ফলে আমরা বাঙালি হওয়ার জন্য ইসলামবিদ্বেষী হয়ে যাই, ইসলামোফোবিয়া বা ইসলাম-আতংকে ভুগি। একদল মনে করে, টুপি পরা পাঞ্জাবি পরা মাদ্রাসার ছেলেদের জঙ্গি বলে ধরিয়ে দিয়েই বঙ্গভূমিকে ইসলামমুক্ত রাখা যাবে। বিদেশে ইংরেজের দেশে বড় হওয়া ছেলেমেয়ে- যারা আরবি বা নিজের মাতৃভাষার মধ্য দিয়ে ইসলামের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পর্যন্ত পায়নি- দেখি যে তারা কড়া ইসলামপন্থায় বিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। বিশ্ব পরিস্থিতির মধ্যে কী এমন বদল ঘটছে, যার ফলে বড় একটি জেনারেশনের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার অভিমুখ এত তাড়াতাড়ি বদলে গেল! না, আমাদের সেটা বোঝার সময় নাই। চতুর্দিকে আমরা শুধু ইসলামী জঙ্গির ভূত দেখি। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আমরা আবার অতিরিক্ত মুসলমান বনে যাই, বাংলা সংস্কৃতি মানেই যে হিন্দুর সংস্কৃতি এ কথা বলতে আমাদের মুখে বাধে না। বাঙালির সংস্কৃতির কথা শুনলেই মনে করি এ দেশ হিন্দুদের দেশ হয়ে গিয়েছে। আমাদের ভাব হয়, আমরা বুঝি এইমাত্র মদিনা থেকে খেজুর খেতে খেতে ঢাকায় এসে নেমেছি। এ দেশের ভূগোল, তার প্রাণ ও প্রকৃতি, তার খাদ্য ব্যবস্থা, সংস্কৃতি- সবকিছুর মধ্যেই হিন্দুয়ানা আবিষ্কার করা দ্বীনি কর্তব্য হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের মধ্যে আমরা মরুভূমি খুঁজতে থাকি। খুঁজে না পেয়ে অস্থির হয়ে যাই। ভুলে যাই, সিন্ধু থেকে হিন্দু- আর সিন্ধু নদীর এপাশে যারা বাস করে তারা সবাই হিন্দু। এটা হিন্দুদেরই দেশ। ধর্ম, বর্ণ, জাত, লিঙ্গ নির্বিশেষে সবাই হিন্দু। হিন্দু একসময় কোনো ধর্মের নাম ছিল না। সেই ইতিহাস আমরা ভুলে গিয়েছি। মুসলমানরাই এই উপমহাদেশের নাম রেখেছে হিন্দুস্তান। তাই না? সিন্ধু নদের এপাশের অধিবাসীদের হিন্দু বলতে বলতে অবশেষে ধর্ম হিসেবে এর রূপান্তর ঐতিহাসিক বাস্তবতা। এটা এখন আর শুধু ধর্ম মাত্র নয়। পরিচয়েরও সূত্র। আমি যদি মুসলমান হই তো সে হিন্দু হবে না কেন? মুসলমান তার আরব-ইরানি বা মুসলমানি পরিচয়কেই একমাত্র পরিচয়ে রূপান্তর করলে, সিন্ধু নদের অধিবাসীদের ইতিহাস বিস্মৃত হলে এবং তার ভূগোল ও প্রকৃতিকে অস্বীকার করলে হিন্দুও হিন্দুই হবে। আর কী হতে পারত! রাজনীতি একদিকে খুবই সহজ-সরল বোধ ও উপলব্ধির ওপর দাঁড়ায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা দর্শনের গালভরা ইংরেজি নামও আছে। ইথোস, পলিটি ইত্যাদি। অন্যদিকে যখন সেই বোধের ওপর জং ধরে এবং আমরা আমাদের বুদ্ধি, বিবেক, হুঁশজ্ঞান বিস্মৃত হই, তখন রাজনীতি খুবই কঠিন একটা ব্যাপার হয়ে পড়ে। বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে কঠিন কাজ সহজ ও সরলভাবে ভাবতে শেখা। সমাজকে সমাজ হিসেবেই তার বৈচিত্র্য, বিভিন্নতা ও দ্বন্দ্ব-সংঘাতসহ বোঝার চেষ্টা করা। নিজের মনগড়া ধ্যান-ধারণা ও কেচ্ছাকাহিনী বয়ে বেড়ালে রাজনীতিতে তার প্রভাব পড়বেই। বাঁকা চিন্তা নিয়ে বাঁকা পথে হাঁটতে হাঁটতে আমরা বঙ্কিম হয়ে গিয়েছি। কুকুরের লেজের মতো। সোজা করে ধরলে সেটা আবার গোল হয়ে পেঁচিয়ে যায়। তারপর আবার নড়ে, নাড়ায়! আশ্চর্য! অকুল সাগরে খাবি খাচ্ছি আমরা। সামনে কী? বঙ্গোপসাগর। দুই হতাশা দিয়ে কোনো লেখা শেষ করা আমার ধাতে নাই। আমি মনে করি, এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব। ভাবগম্ভীর কথা না বলে কাজের কথায় আসি। শেখ হাসিনার সরকার নৈতিক ও সাংবিধানিক দুই দিক থেকেই অবৈধ। সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে অনেকে তর্ক করেন। তারা বলেন, ঠিক আছে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন আদর্শ নির্বাচন নয়, কিন্তু এটা সাংবিধানিকভাবে বৈধ। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ছিল, নির্বাচন হয়েছে। যারা আসেনি, সেটা তাদের সমস্যা। এই তর্ক ধোপে টেকে না। কারণ সংবিধান বদলিয়েছেন শেখ হাসিনা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না করে তাকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচন করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, জনগণকে ভোট দেয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিশালসংখ্যক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এটাকে নির্বাচন বলে না। নির্বাচনের জন্য সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মানে নির্বাচনের নামে তামাশা করা নয়। ক্ষমতাসীনরা অতএব অনৈতিক ও অসাংবিধানিক। নির্বাচনের পর আন্তর্জাতিক মহলে দুটি ধারা আমরা লক্ষ করি। একদিকে দিল্লির অবস্থান। তার সার কথা কী? সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ছিল, নির্বাচন হয়ে গিয়েছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে হলে শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন থাকা জরুরি। বিশেষত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে। এখন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড- বিশেষত ব্যবসা ও বিনিয়োগই বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে। দ্বিতীয় ধারা দিল্লিবিরোধী। বিশেষত মার্কিন ও ইউরোপীয় দেশগুলো যে ধারার সমর্থক। তারা নির্বাচনকে গ্রহণ করেনি। তাদের যুক্তি হচ্ছে, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার একটাই পথ। সেটা হচ্ছে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথে সব পক্ষকে ধরে রাখা। শুরুতে দ্বিতীয় ধারার পক্ষেই আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ভারী ছিল। বিরোধী দল যদি এই সময়টা কাজে লাগাত, তাহলে আরেকটি নির্বাচন ক্ষমতাসীনরা দিতে বাধ্য হতো। কিন্তু বিরোধী রাজনীতি আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ায়। কেন তারা সরে দাঁড়ালেন তার কারণ বোঝা মুশকিল। ইতিমধ্যে বেশ বড় একটা সময় কেটে গিয়েছে। এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যেই সবকিছু আন্দোলিত হচ্ছে। ক্ষমতাসীনরা প্রশাসনিক, বিচার ও বল প্রয়োগের সব হাতিয়ার নিয়ে অনেক বেশি সংগঠিত। গণমাধ্যম স্বেচ্ছায় বা বাধ্য হয়ে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সবার পক্ষে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না, এই থিসিস মূলত বিরোধী দলের অদূরদর্শিতার কারণে ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। অস্থিতিশীলতা কোথায়? শেখ হাসিনা পিটিয়ে সব ঠাণ্ডা করে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহল নৈতিকতা ও বৈধতা নিয়ে কথা বলে বটে; কিন্তু তারা বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে এই মুহূর্তে দরকার শেখ হাসিনার সরকার। আন্তর্জাতিক মহলে এই ভাবনা শুরু হয়েছে যে, ক্ষমতাসীনরা উন্নয়নে মনোযোগ দিলে এবং তাদের জন্য উপযুক্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা দেয়া হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। দিল্লির থিসিস সত্য প্রমাণিত হতে চলেছে। কিন্তু এসবই তো ফের হতাশার কথাই হল। ঠিক। আশার কথা হচ্ছে, যদি সেটা সত্য হয়, তাহলে বিরোধী রাজনীতির মধ্যে এই হুঁশ ফিরে আসতে দেরি হওয়ার কথা নয় যে, আন্দোলন ছাড়া তাদের আর কোনো গতি নাই। দ্বিতীয়ত, এই আন্দোলনে তাদের জনগণের ওপরই নির্ভর করতে হবে, কোনো বিদেশী শক্তির ওপর নয়। এর অর্থ কী? সামাজিকভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির বিদেশ-নির্ভরতা কমতে পারে। বাধ্য হয়ে। বিএনপিকে তার ঘর গোছাতে হবে। সংগঠনের সংস্কার নির্বাচনী দল হিসেবে গোছালে হবে না। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়ার সাংগঠনিক শক্তি বিকাশের দরকারে গোছাতে হবে। বিএনপিকে এ ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এর আগে হতে হয়নি। নির্বাচনী দল থেকে বিএনপি আন্দোলনের দল হতে পারবে কি? কে জানে! তবুও দেখা যাক। ঠেকায় পড়ে অনেক কিছুই ঘটানো যায়। দ্বিতীয়ত, এর ফলে দলে যারা আন্দোলন চায় না, নির্বাচন চায়; আর যারা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সাংগঠনিক বিকাশ চায় তাদের মধ্যে বিরোধ প্রকট হবে। এটা বিএনপির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। বিএনপি দুর্বৃত্ত ও দুর্নীতিবাজদের খপ্পর থেকে বেরিয়ে এসে গণতান্ত্রিক রাজনীতির কাতারে শামিল হতে বাধ্য হবে কি-না জানি না, কিন্তু একটা শর্ত তৈরি হবে যা বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ খানিকটা ঠিক করে দেবে। তার মানে বিএনপিতে জেল-জুলুম খাটা কর্মীদের অবস্থান শক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে হলফ করে বলতে পারি না, কিন্তু এছাড়া বিএনপির আর বিকল্প কী? সংগঠন হিসেবে ক্ষয়ে যাওয়া, ক্ষয় ত্বরান্বিত হওয়া। বিএনপি নিশ্চয়ই সেটা চাইবে না। তৃতীয়ত, বিএনপি তার জোটের শরিকদের সঙ্গে মতাদর্শিক আলোচনা করতে বাধ্য হবে। এটা আশা করা অতি আশা বলে মনে হয় না। নির্বাচনী মোর্চা এক জিনিস, আর আন্দোলন-সংগ্রামের মৈত্রী ভিন্ন ব্যাপার। আমার যেমন বেণী তেমনি রবে চুল ভেজাব না ধরনের সুবিধাবাদী রাজনীতি বিএনপি পরিহার করতে বাধ্য হবে। ইসলামপন্থীদের নিয়ে যদি গণতান্ত্রিক কিংবা লিবারেল রাজনীতি বিএনপি করতে চায়, তাহলে ইসলাম প্রশ্নে তার রাজনীতি সুস্পষ্ট করতে হবে। ইসলামপন্থীরা রাস্তায় প্রাণ দেবে আর বিএনপির দুর্বৃত্ত ও দুর্নীতিবাজরা এমপি-মন্ত্রী হয়ে আবার লুটতরাজ করবে সেটা ইসলামপন্থীরা এখন চাইবে কিনা সন্দেহ। ধরা যাক বিএনপি কিছুই করল না। তাহলে? সেক্ষেত্রে? ক্ষমতাসীনরা বিএনপির মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়ার জন্য সব কিছুই করবে। তারপর জামায়াতে ইসলামীকেও। নিষিদ্ধ করবে কিনা সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। কিন্তু ইসলামপন্থীদের ওপর আওয়ামী দমনপীড়ন কমবে না। বাড়বে। সেটাও খারাপ হবে না। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের দ্রুত সংগঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে ক্যাটালিস্টের ভূমিকা পালন করবেন। বর্তমান অবস্থা ও ব্যবস্থা থেকে জনগণ মুক্তি চাইছে। প্রধান বিরোধী দল যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে কিছুই বসে থাকবে না। বিরোধী রাজনীতি ভিন্নভাবে সংগঠিত হবে। ইসলামপন্থাই একমাত্র বিকল্প হিসেবে হাজির হবে। বামপন্থার কথা বলা যেত, কিন্তু এই যুগেও তাদের ইসলাম বিদ্বেষ ও ইসলাম আতংক এত প্রবল যে, জাতীয় রাজনীতির হিসাব-নিকাশে পৌঁছাতে হলে তাদের বহু কাঠখড় পাড়ি দিয়ে আসতে হবে। ইনু-মেননের মন্ত্রিত্বের কথা বাদ দিলেও মানসিক ও মতাদর্শিকভাবে তারা তো শেখ হাসিনার সঙ্গেই আছেন। আর বর্তমানে শেখ হাসিনার চেয়ে বাংলাদেশে ইসলাম দরদি আর কে আছে! আমি তো দেখি না। তিনিই, ইনশাল্লাহ, এ দেশে ইসলামকে প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে হাজির হওয়ার সব শর্ত পূরণ করে যাবেন। খারাপ কী? ভালোই তো।

বিস্তারিত»

মতামত

সাংবাদিকতা ও দলবাজি

হেফাজুল করিম রকিব : সাংবাদিকতা কে সমাজের দর্পন বলা হয় । যে আয়নাতে সর্বস্তরের মানুষ যার যার নিজের চেহারাটা দেখার সুযোগ পায় তখনই মানুষ নিজেকে সুধরে নিতে পারে। সেই সাংবাদিকতা কেউ মফস্বল থেকে হয়তো বা কেউ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অথবা কেউ অফিস রুমে। অনেকে বেতন নিয়ে বা অনেকে বেতন না নিয়েও। এক সময় সাংবাদিকতা করা হতো শুধু মানুষের জন্য, সমাজকে ময়লা মুক্ত ও রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালনা করার জন্য। সরকারি দল যখন ক্ষমতায় থাকে তখন বিরোধীদল নানা বিষয়ে সরকারি দলের ভূলগুলো তুলে ধরবে সেটাই তাদের দায়িত্ব। আর যদি বিরোধীদল সেই ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয় তখন সাংবাদিকরা সেই দায়িত্ব পালন করে। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কতজনকে হাত-পা সহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ হারাতে হয়েছে, কত স্ত্রীকে স্বামী হারাতে হয়েছে, কত শিশুকে বাবা হারাতে হয়েছে, কত বাবা মাকে ছেলে হারাতে হয়েছে তার সঠিক হিসাব আজও গণনা করা লিষ্টে জায়গা হয়েছে কিনা তা অজানা। তবে ২০১৩ সালে ১২০ সাংবাদিক নিহত হয় বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে এবং এক হাজারের উপরে সাংবাদিক আহত হয়। একজন সাংবাদিকের চাওয়া পাওয়াটা এক সময় ছিল অন্যরকম। খুব কম বেতনে সাংবাদিকতা চালিয়ে যেতেন কোন রকমে । অনেক সময় পরিবারের জন্য কোন কিছুই করার সুযোগ হতো না টাকার অভাবে। সে সময় মানুষ মজা করে বা অনেকে সত্যি করে বলতো সাংবাদিককে মেয়ে দেয়া যাবে না বিয়ের জন্য। সাংবাদিকরা তাদের এই পেশায় কোন কিছু পায় বা না পায় তাদের নিজেদের পরিবার বলে প্রেস ক্লাব নামে যে সংগঠন থাকে সেই  পরিবারের সদস্য হতে সব সময় আগ্রহের সহিত অপেক্ষা করে । সাংবাদিকরা কখনো রাজনীনিতে নিজেকে জড়ানো কথা নয়!  কারণ তারা তো জাতির দর্পন ।    কিন্তু আজকের দুনিয়ায় সাংবাদিকরা রাজনীতির লেজুড়বিত্তিতে ব্যস্ত। কোন দলকে সমর্থন ছাড়া মনে হয় সাংবাদিকতা করা যায় না। পাশাপাশি সাংবাদিকরা ও যার যার মালিকদের যেন কেনা গোলাম। সাংবাদিকতা এখন পরাধীনতার কারাগারে বন্দি। দূনীর্তিবাজ, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, রাজনীতির দুর্বিত্তায়ন এর জাতাকলের নিচে পরে কোন মতে নিশ্বাস নিচ্ছে ।  যে কোন সময় হয়তো সেই নিশ্বাস ও বন্ধ হয়ে যেতে পারে । তা আবার নিজের পরিবারে দলবাজির রোষানলে পড়ে ছিন্ন বিছিন হবার উপক্রম এ পেশা ।   সাংবাদিকরা এখন অনেক গ্রুপে বিভক্ত। কেউবা ডানের সমর্থক আর কেউবা বামের সমর্থক  আবার কেউ ধর্ম বিক্রেতাদের সমর্থক। একজন মানুষ হিসেবে কোন রাজনীতিক দলকে সমর্থন করতে পারে কিন্তু সাংবাদিক হিসেবে সমর্থন সেটা হয়তো এখন সাধারণ মানুষ ভেবে দেখতেছে কতটুকু মহামূল্যবান পেশাকে ধ্বংস করা।  সাংবাদিক সমাজ এখন সেই দুর্বিত্তায়নের কাছে হেরে যাচ্ছে লোভে বা নিজেকে দ্রুতগতিতে বড় জায়গা নিয়ে যাওয়ার ভুল স্বপ্নে বা পরিবারের অজুহাত বা বাচাঁর অজুহাত দিয়ে ।   আজকে মফস্বল থেকে শুরু করে শহরের অফিস পযর্ন্ত সাংবাদিকরা রাজনীতির লেজুড়বিত্তির কারণে বিভক্ত। বাংলাদেশের প্রতিটি জায়গায়  নিজেদের স্বপ্নের পরিবার  প্রেস ক্লাব সহ সব ধরনের সংগঠন ভেঙ্গে একাকার । আর সেই বিভক্তিতে সবচেয়ে বেশি কষ্টের মুখোমুখি সত্যিকারের সাংবাদিকরা । অবাক লাগে সাংবাদিক সংগঠনের পদে থেকে আবার বিভিন্ন দলীয় নেতাদের উপদেষ্টার স্বাধ নিতেও অনেকে ভুলে নাই। গত দুই এক দিন আগে বাংলাদেশের জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ দেয়া হয়েছে অনেক ভাগ্যবান ব্যক্তিকে। সেই লিস্টে আমার প্রিয় অনেক মানুষ স্থান পেয়েছে । কিন্তু অবাক লাগে এখন উনাদের অবসর নেয়ার সময় এসেছে তখন উনারা পেয়েছে সদস্যপদ । অনেকের রাজনীতির লেজুড়ভিত্তির সমর্থন না থাকায় সদস্যপদ পাওয়ার যোগ্যতা থাকলেও তা অভিশাপ হয়ে দাড়ায় ।   আর এখন আপনি যদি কোন ক্লাবের সদস্য হতে চান আপনাকে অবশ্যই আত্নীয় হতে হবে অথবা রাজনীতিক কোন দলের সমর্থনের সীল আপনার গায়ে লাগাতে হবে আর তা না হলে বছরের পর বছর সদস্যপদ থেকে বঞ্চিত হতে হবে । আমি মনে করিছিলাম সেটা শুধু বাংলাদেশে কিন্তু বিধি বাম  বাঙ্গালী যেখানে যায় তাদের সেই লেজুড়ভিত্তির ঐতিহ্য কি ভুলে যেতে পারে? তা কি করে সম্ভব ! ২০১২ সালে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ নিয়েও সেই রকম সমস্যায় ভুগতে হলো আমার চেনা অনেক সিনিয়র সাংবাদিকদের । একজন ২০০০ সাল থেকে সাংবাদিকতা করে ও সদস্যপদ পেল না অথচ প্রেস ক্লাবের নিবার্চনে জেতার জন্য নিজের প্রতিষ্ঠানের পিয়নকে পর্যন্ত সাংবাদিক বানিয়ে সদস্যপদ দেয়া হলো । এটাই হলো বাস্তবতা। সেভাবেই চলছে বাংলাদেশের প্রতিটি জায়গায় । সেরকম দৃশ্য যখন বাংলাদেশের জাতীয় প্রেসক্লাবে ঘটে এতে তো অবাক হবার ই কথা। যে ভাবে দলবাজদের সাংবাদিক বানিয়ে অপর্কম সারানো হচ্ছে তাতে দেশ জাতি, সাধারণ মানুষ কোয়ায় গিয়ে দাড়াবে সেটা ভাবতে গা শিউরে উঠে।  সাংবাদিক সমাজ যতক্ষন পর্যন্ত দলবাজ থাকবে ততক্ষন পর্যন্ত এভাবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মতো জায়গায় দলবাজদের স্থান হবে, প্রকৃত সাংবাদিকদের নয় । যে সরকার আসে এখন সেটা সে সরকারের নিজস্ব প্রতিষ্টান হয়ে যায় অথবা অনেক সময় বিরোধী দলের দলবাজরা প্রেস ক্লাবের ক্ষমতায় থাকলে সাংবাদিদের সাথে সাথে খোদ তো সরকারকে বেকায়দায় পড়তে হয়। কেউ যদি ঘুমায় তাকে জাগ্রত করা যায় কিন্তু দলবাজরা নিজেদের স্বার্থের জন্য চোখ খোলা রেখে ঘুমানোর অভিনয় করে যাচ্ছে। তাদেরকে কিভাবে জাগ্রত করা যায় সেটাই ভয়ের বিষয়। তাহলে কি এভাবে এই পেশাটা ধ্বংস হয়ে যাবে ? মানুষ কি আয়নাতে নিজের দোষষগুলো আর দেখতে পাবে না ? হেফাজুল করিম রকিব সাংবাদিক, লন্ডন।

বিস্তারিত»

বিনোদন

কাঁদলেন এবং কাঁদালেন অর্পিতা

বিনোদন: গত ১৮ নভেম্বর ছিল সালমান খানের পালক বোন অর্পিতার বিয়ে। এই বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন বলিউডের অনেক তারকারা। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিয়ের মঞ্চে দাড়িয়েই অর্পিতা ছোট একটি বক্তব্য দেন। সে সময় তিনি নিজে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তার কান্না দেখে উপস্থিত সকলের চোখই অশ্রুতে ভিজে যায়।খান পরিবারের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই অর্পিতার কৃতজ্ঞতার কোনো শেষ নেই। সেটা অস্বীকারও করেননি তিনি। সেই কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই বিয়ের পর উপস্থিত আমন্ত্রিতদের সামনে ছোট একটি বক্তব্য দেন। হৃদয়স্পর্শী এ বক্তব্যে অর্পিতা প্রথমেই তার বড় তিন ভাই আরবাজ, সালমান এবং সোহেল খানকে ধন্যবাদ জানান। কিন্তু তারপর আর বেশি কিছু বলতে পারেননি তিনি। কেননা তিনি সে সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এতে অনুষ্ঠানে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।তারপর অর্পিতার হয়ে তার বাকি কথাগুলো কাগজ থেকে পড়েন বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। অর্পিতার হয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘আমার অনেক সৌভাগ্য যে আমি এমন একটি পরিবারে বড় হয়েছি। এটি ছিল আমার নিজের পরিবারের মতোই। সোহেল ভাই ছিলেন আমার বন্ধুর মতো। আরবাজ ভাই ছিল আমার অভিভাবক। তিনি আমাকে সবসময় কোনটি ভালো এবং কোনটি মন্দ সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে এসেছেন। সালমান ভাইয়ের হৃদয় অনেক বড়। তার জন্য আমি কখনও খারাপ কোনো কাজ করিনি। তিনি সব কাজে আমাকে সাহায্য করে এসেছেন।’অর্পিতা তার বাবা সেলিম খান এবং মা হেলেনকেও ধন্যবাদ জানান, তাকে লালন-পালনের জন্য। পাশাপাশি তার এবং খান পরিবারের কিছু উল্লেখযোগ্য স্মৃতিও তুলে ধরেন অর্পিতা।

বিস্তারিত»

স্বাস্থ্য ও রুপচর্চা

ত্বকের উজ্জ্বলতায় ঘরোয়া টোনার

কোমল ও মসৃণ ত্বক সবারই কাম্য। এমন ত্বকের উজ্জ্বলতা আপনার সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দিতে পারে বহুগুণে। তবে এই শুষ্ক মৌসুমে সারাদিনের ব্যস্ততায় সেই লাবণ্য ক্রমশ মলিন হয়ে যায়। তাই ত্বকের উজ্জ্বলতায় ঘরোয়া পদ্ধতিতে নিজেই টোনার তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনার ত্বক হবে অনেক বেশি আকর্ষণীয়। * সমপরিমাণ ভিনেগার ও গোলাপ জলের মিশ্রণ তৈরি করেও আপনি টোনার হিসেবে লাগাতে পারেন। টোনার হিসেবে এই মিশ্রণ খুবই উপকারী। * একটি শশা কুচি করে কেটে তার সাথে আধা কাপ টক দই মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিন। মুখে লাগিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি ফ্রিজে রেখে আপনি ৩ দিন পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন। * এক লিটার গরম পানিতে পুদিনা পাতা ছেড়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। তারপর পানি ছেঁকে নিয়ে তা ঠাণ্ডা হতে দিন। তুলার সাহায্যে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এটি ত্বক পরিস্কার করে ও টোনার হিসেবেও কাজ করে। * গোলাপ জল খুবই উত্তম টোনার হিসেবে কাজ করে। আধা লিটার পানিতে ৫চা চামচ ডিস্টিল ওয়াটার ও ৮টি গোলাপের পাপড়ি মিশিয়ে অল্প আঁচে জ্বাল দিন। যখন পানিটি প্রায় বেগুনি রঙ ধারণ করবে তখন চুলা থেকে নামিয়ে নিন। ঠাণ্ডা করে পানিটি ছেঁকে নিতে হবে। এভাবে গোলাপ জল তৈরি করে আপনি এক মাস ফ্রিজে রেখে সংরক্ষণ করতে পারবেন। প্রতিদিন ২ থেকে ৩ বার আপনি এটি ব্যবহার করতে পারেন।

বিস্তারিত»

সম্পাদকীয়

১ নভেম্বর শনিবার দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নজির স্থাপন করে গেল

১ নভেম্বর শনিবার দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নজির স্থাপন করে গেল। সর্বব্যাপী বিপরর্যবয় ঘটেছিল দেশের বিদ্যুৎ-ব্যবস্থায়। লোডশেডিংয়ের ‘কল্যাণে’ দেশে জেনারেটরের মাধ্যমে যে বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তাও একসময় ‘ফেল’ হতে শুরু করে কিংবা ‘ফেল’ করে। ফলে দুর্যোগকালীন অনিশ্চয়তা ভর করে দেশজুড়ে। এদিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর অনিশ্চয়তা-দুর্ভোগ ‘কত প্রকার, কী কী’ তা প্রত্যক্ষ করেছে দেশের প্রায় সব নাগরিক। কিছুক্ষণের জন্য হলেও ‘দুর্যোগ’ থেকে বাদ যায়নি বঙ্গভবন, গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিদেশি মিশনসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনাও। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা যে বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনযাত্রার ‘রক্তসঞ্চালনী’, তা শনিবার আমাদের আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেছে। পানির কষ্ট, হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা, খাদ্যের মতো অতি জরুরি মানবিক বিষয় তো আছেই; এমনকি পুলিশের আন্ত-যোগাযোগব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়েছিল্, যা নাগরিকের নিরাপত্তার জন্য আশঙ্কার কারণ হতো। মোবাইল ফোন, এটিএমে টাকা ওঠানো, জ্বালানি সরবরাহ থেকে নাগরিক জীবনের সবকিছুই থেমে গিয়েছিল প্রায়। লোডশেডিংয়ে অভ্যস্থ বাংলাদেশের মানুষের কাছে যদিও বিদ্যুৎ বিপর্যয় নতুন কিছু নয়, তবে শনিবারের সর্বব্যাপী বিপর্যয়ের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের সম্পর্কের বিষয়টি ছিল বলে এটি নতুন মাত্রা পায়। ফলে মানুষের জীবনযাত্রার পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক দিক দিয়েও প্রভাব ফেলেছিল তা। সবচেয়ে বড় কথা, এ অভিজ্ঞতা আমাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতার দিকটি দেখিয়ে গেল। কী কী কারণে জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় ঘটতে পারে, সেগুলো আমাদের প্রকৌশলীরা জানেন না, তা নিশ্চয় নয়। কিন্তু তারা এ বিষয়ে আধুনিক কোনো ব্যবস্থা নেননি বলেই মনে হচ্ছে। এমনকি অন্য দেশ থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ সংযোগ করার আগে জাতীয় গ্রিডের সুরক্ষার জন্য যে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া দরকার, সেটিও তারা করেননি বলে আমরা শনিবার দেখলাম। আমরা মনে করি, এই বিপর্যয় আমাদের সচেতন করার সুযোগ করে দিয়ে গেছে। জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বিদ্যুতের সরবরাহ লাইন ও কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তার ব্যাপারে আর কোনো ধরনের ঔদাসীন্য কাম্য নয়। সর্বব্যাপী বিপররয়্য  এড়াতে এখনই জাতীয় গ্রিড ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সুরক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে। এমন ব্যবস্থা হতে পারে, জাতীয় গ্রিডের কোনো আঞ্চলিক অংশে ত্রুটি দেখা দিলে বা তা বন্ধ হয়ে গেলেও সম্পূর্ণ গ্রিড বন্ধ হবে না।  আবার জাতীয় গ্রিডে কোনো ত্রুটি ঘটলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিযুক্ত হয়ে যাবে আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোর সরবরাহ; কিন্তু কেন্দ্র চালু থাকবে। একই সঙ্গে আমরা বলব, অঞ্চলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সঞ্চালনের আলাদা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক, যার মাধ্যমে শুধু সংশ্লিষ্ট অঞ্চলেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। তার জন্য থাকবে আলাদা ব্যবস্থাপনা। আরেকটি বিষয়, শনিবারের বিপর্যয়ে ভারতের সরবরাহ লাইনকে সন্দেহের বাইরে রাখতে অর্থমন্ত্রী ও বিদ্যুৎসচিবের বক্তব্য আমাদের অবাক করেছে। গ্রিড লাইনে যেহেতু ভারতের বিদ্যুৎ আছে, তাই তদন্তের আগেই এর সম্ভাব্য ভূমিকাকে ‘না না না’ বলে উড়িযে দেয়া বা সন্দেহের বাইরে রাখা অনুচিত। তা ছাড়া, দুই দেশের বিদ্যুৎসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রকাশিত ভাষ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বাংলাদেশ-ভারতের সরবরাহ লাইনে ত্রুটি থেকেই বিপর্যরয়ের সূত্রপাতের কথা অনুমান করা হচ্ছে। বাকিটা তদন্ত কমিটির ওপর ছেড়ে দেয়া হোক।  

বিস্তারিত»

বিজ্ঞপ্তি

ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা

আনুগত্যের উজ্জ্বল মহিমায় ভাস্বর ঈদ উল আজহা।ঈদুল আজহার উদ্দেশ্য স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকা।কুরবানীর সঠিক তাৎপর্যকে উপলব্ধি করে যদি ধর্মপ্রাণ মানুষ কুরবানী দেয়, তাহলে ঈদ-উল-আজহার প্রকৃত উদ্দেশ্য সার্থক হবে। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে গাঢ় হয় পরস্পরের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা, ভালবাসা এবং শ্রদ্ধাবোধ। আল্লাহ্‌তায়ালা ধনী-গরীব সবার মাঝেই ঈদের আনন্দ সমান-ভাবে বন্টনের যে শিক্ষা দিয়েছেন তা সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমে এর তাৎপর্যকে তুলে ধরতে হবে। এই পবিত্র দিনে সিলেটের আলাপ ডট কমের সুপ্রিয় পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের  প্রতি আহবান, ত্যাগের মহিমায় উজ্জল ঈদুল আজহার দিনে আনন্দ উৎসবে ভরে উঠুক সকলের মনপ্রাণ। সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে, গরীব দুঃখীদের পাশে দাঁড়াই।। পবিত্র ঈদ-উল-আযহা  সবার জন্য বয়ে আনুক অনাবিল সুখ ও প্রশান্তি।                                                    সিলেটের আলাপ ডটকমের পক্ষে  সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ডাঃ আব্দুল আজিজ  সম্পাদক তোফায়েল আহমদ খান সায়েক  

বিস্তারিত»

শোক-সংবাদ

বাকৃবি জনসংযোগ ও প্রকাশনা দফতরের  উপপরিচালক নওশের আহমেদের ইন্তেকাল

মোঃরফিকুল ইসলাম রফিক,বিশেষ প্রতিনিধি,ময়মনসিংহ থেকে ঃ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা দফতরের উপ-পরিচালক নওশের আহামেদ গত ১৯ নভেম্বর ২০১৪ (বুধবার) রাত ১০:৪৫মি. ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। (ইন্নাল্লিাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) মত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর। মরহুমের প্রথম নামাজের যানাজা সকাল ১০টায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবন সংলগ্ন করিডোরে, দ্বিতীয় যানাজা বাদ জোহর ঢাবাস্থ গ্রীন রোডে এবং তৃতীয় যানাজা মানিকগঞ্জের পারিল গ্রামে নিজ বাড়ীতে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। মত্যুাকালে তিনি বিধবা স্ত্রী, দুই কন্যা আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কমচারিসহ অন্যান্য সমিতি-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মরহুম নওশের আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।  

বিস্তারিত»

সাম্প্রতিক খবর সর্বাধিক পঠিত

জরিপ

Loading...

Archive