আজ পবিত্র শবেকদর

আজ ২৬ রমজান। মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) মহিমান্বিত রজনী বা লাইলাতুল কদর তালাশ করার জন্য সম্ভাব্য যে পাঁচটি বেজোড় রাতের উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে আজকের দিবাগত সাতাশের রাতটি অন্যতম। আজ সব মসজিদে মুসল্লিরা রাত জেগে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত থাকবেন। রোজা পালনকারী ঈমানদারগণ চোখের পানি ফেলে কায়মনোবাক্যে মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন ও তার স্মরণে গভীর সেজদায় লুটিয়ে পড়বেন। সারারাত নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, তওবাহ-তাহলীল, জিকির-আসগার ও দ্বীনি আলোচনায় মশগুল থাকবেন সব মসজিদে। তাছাড়া যারা মসজিদে আসতে পারবেন না তারা বাড়িতে পার্থিব সব ব্যস্ততা ঝেড়ে ফেলে পরওয়ারদেগারের কাছে পানাহ চাইবেন এবং আবদ্ধ থাকবেন প্রভুর ধ্যানে। নারীরাও আজ রাতে ইবাদতে শামিল হবেন। আমরা জানি রাসুল (সা.)-এর জামানায় নারীরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা ও ঈদের নামাজে হাজির হতেন। এমনকি রমজানের শেষ ১০ দিন মসজিদে তাঁবু স্থাপন করে ইতিকাফের মাধ্যমে লাইলাতুল কদর তালাশও করতেন। রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমাদের নারীরা যদি মসজিদে (নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগির জন্য) যেতে চায় তাহলে তোমরা নিষেধ করো না। তবে তাদের জন্য ঘরই উত্তম। কেননা ঘরই তাদের জন্য বেশি পর্দা রক্ষাকারী। এখানে তাদের একাগ্রতা ও নিবিষ্টতা আসবে বেশি। তাছাড়া আজকের রাতে আমাদের আহাল-পরিবার-পরিজন সবারই উচিত আল্লাহর ইবাদতে শামিল হওয়া। কেননা লাইলাতুল কদর এমন একটি রজনী যা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম এবং প্রত্যেক কদরপ্রাপ্ত ব্যক্তি সদ্যপ্রসূত শিশুর মতো নিষ্পাপরূপে পরিগণিত হন। এ প্রসঙ্গে কোরআনে আল্লাহতায়ালা ‘কদর’ নামে একটি সুরা অবতীর্ণ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে ‘নিশ্চয় আমি এটি (আল কোরআন) নাজিল করেছি এক মর্যাদাপূর্ণ রাতে। তুমি কি জানো সেই মর্যাদাপূর্ণ রাতটি কি? এই মহিমান্বিত রজনীটি হাজার মাস হতেও উত্তম। এই রাতে ফেরেশতারা ও রূহ অর্থাত্ জিব্রাইল (আ.) তাদের মালিকের সব ধরনের আদেশ নিয়ে (জমিনে) অবতরণ করেন। আর (তারা) শান্তি, (বর্ষণ করতে থাকে) যা ফজর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। সুতরাং প্রতীয়মান হলো, কদরের রাত এতটাই মর্যাদাপূর্ণ যে, এ রাতে আল কোরআন নাজিল হয়েছে। যয়নাব বিনতে উম্মে সালমা (রা.) বলেন, রমজানের যখন ১০ দিন বাকি থাকত তখন নবী করিম (সা.)-এর পরিবারের যে কেউ সালাতে দাঁড়াতে সক্ষম হলে তাঁকে তিনি সালাতে না দাঁড় করিয়ে ছাড়তেন না (তিরমিযি, ফতহুল বারী)। মহানবী (সা.) রমজানের শেষ দশকে সারা বছরের তুলনায় অনেক বেশি ইবাদত করতেন এবং প্রায় রাতভর নিজে ইবাদতের মধ্যে কাটাতেন ও পরিবারবর্গকেও নামাজে দাঁড় করাতেন। বায়হাকির বর্ণনা দ্বারা জানা যায় যে, দাঁড়িয়ে ও বসে জিকিররত মুমিন বান্দাকে এ রাতে জিব্রাইল (আ.) সালাম দেন এবং ফেরেশতারা মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আয়েশা (রা.) বলেন, একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সা.) আমি যদি জানতে পারি যে, কোন রাতটা কদরের; তাহলে ওই রাতে আমি কী বলব? তিনি বললেন, এ দু’আ বলবে, আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা আফূওউন তুহিব্বুল ‘আফওয়া ফাআফূ আন্নী। ‘হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাময়। তুমি ক্ষমা কর, ভালোবাস। অতএব, আমাকে ক্ষমা করো’ (আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিযি, মিশকাত, নাসায়ী, বাইহাকি)। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারমসহ দেশের সব মসজিদে রাতব্যাপি বিশেষ ইবাদত বন্দেগী, ওয়াজ মাহফিল, ধর্মীয় বয়ান ও আখেরী মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। পবিত্রতম রজনী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মহিমান্বিত রজনী পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘হাজার মাসের চেয়েও উত্তম’ পবিত্র লাইলাতুল কদর সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত বরকতময় ও পুণ্যময় রজনি। মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ আল-কোরান লাইলাতুল কদরে নাজিল হয়। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পবিত্র কোরআনের শিক্ষা আমাদের পার্থিব সুখ-শান্তির পাশাপাশি আখিরাতের মুক্তির পথ দেখায়। তিনি বলেন, সিয়াম সাধনার মাস রমজানের মহিমান্বিত রাত লাইলাতুল কদর। এই রাতে মানব জাতির পথ নির্দেশক পবিত্র আল-কোরআন পৃথিবীতে নাজিল হয়। শেখ হাসিনা বলেন, পবিত্র এই রাতে ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। অর্জন করতে পারি তাঁর অসীম রহমত, বরকত ও মাগফেরাত। তিনি এই পবিত্র রজনীতে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম জাহানের উত্তরোত্তর উন্নতি, অব্যাহত শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও এ উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন।     বিস্তারিত»

লাইলাতুল কদরে রাতভর ইবাদতে কাটালেন খালেদা জিয়া, তারেক রহমান

পবিত্র শবেকদরে বায়তুল্লাহ শরিফে রাতভর ইবাদত বন্দেগিতে কাটিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, কিয়ামুল লাইলসহ সব ধরনের নফল ইবাদত করেন তিনি। তার সাথে ইবাদত বন্দেগিতে সঙ্গ দিয়েছেন বড় ছেলে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী-সন্তানেরা। রমজানের শেষ ১০ দিনের মহাপবিত্র এই সময়ের ইবাদতের কারণে মদিনার মতো মক্কায় নেতাকর্মীদের বিশেষ কোনো সময় দিচ্ছেন না এই দুই নেতা। মদিনায় নেতাকর্মীদের সাথে ইফতার ও মতবিনিময়সহ বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজ করেছিলেন তারেক রহমান। মদিনার মতো মক্কাতেও প্রিয় নেতার সাথ সাক্ষাৎ পাওয়া যাবে, এমন আশায় অনেক প্রদেশ থেকে নেতাকর্মীরা মক্কায় ছুটে এসেছেন। কিন্তু কোনো নেতাকর্মীদের সাথে দেখা করছেন না তারেক রহমান। শুধু ইবাদত নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। এ ছাড়া রয়েল প্যালেসের অতিরিক্ত নিরাপত্তা বেষ্টনীর কারণে সিনিয়র কোনো নেতাও তাদের সাথে দেখা করতে পারছেন না। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান জানান, পবিত্র মক্কায় আসার পর থেকে ইবাদত বন্দেগিতেই সময় কাটাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। একইভাবে শবেকদর পালন করেন তিনি। ইবাদত বন্দেগি ছাড়া অন্য কোনো কর্মসূচি নেই তার। খালেদা জিয়া গত ২০ জুলাই পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব আসেন। সফরের শুরুতে মদিনায় তিনি মহানবী (সা:) রওজা মোবারক জিয়ারতের পাশাপাশি তিন দিন ইবাদত বন্দেগিতে কাটান। ২২ জুলাই মক্কায় এসে পবিত্র ওমরা পালন করেন। আগামীকাল শনিবার তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। একই দিনে তারেক রহমান চলে যাবেন লন্ডনে। খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়াও রয়েছেন তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান, মেয়ে জায়মা রহমান, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত এনামুল হক চৌধুরী, আলোকচিত্রী নুরুদ্দিন আহমেদ, বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শাহ শরীফ কামাল তাজ। এ ছাড়া বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান, আহমেদ আলী মুকিব, জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু খালেদা জিয়ার সফর সঙ্গীদের দেখভাল করছেন। নদি বিস্তারিত»

আন্তর্জাতিক চাপে সরকার, পাশে নেই বিজেপিও

ঢাকা: প্রতিনিধিত্বমূলক ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সরকার প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে পড়েছে সরকার। অপরদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের সহায়ক ভরসার স্থল ভারত সরকারের বদলও এ চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। কংগ্রেসের মত দলটির পাশে থাকছে না বিজেপি। ‘মার্কিন বার্তায় চাপে সরকার’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তরের বিশ্লেষণধর্মী এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, আরও প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার প্রতিষ্ঠায় নয়া মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বার্তায় চাপের মুখে পড়েছে সরকার। এর আগে এ ধরনের চাপে ভারতের কংগ্রেস সরকার পাশে দাঁড়ালেও এবার নতুন বিজেপি সরকার পাশে থাকছে না। ভারত তাদের জাতীয় বাজেটে বাংলাদেশের জন্য ৪০ শতাংশ বরাদ্দ কমিয়ে পাশে না থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে। এ অবস্থায় কূটনৈতিক মহল থেকে ফের সংলাপের চাপ আসতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাট সিনেটে শুনানিতে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ত্রুটিপূর্ণ বলে আরও প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠনে সংলাপ অনুষ্ঠানের আহ্বান জানিয়েছেন। ড্যান মজিনাসহ উন্নয়ন সহযোগীরাও এ ধরনের কথা বলেছেন। কিন্তু সরকার গুরুত্ব দেয়নি। কারণ কংগ্রেস আমলে ভারতের কাছ থেকে নির্বাচনের পক্ষে সমর্থন পেয়েছিল আওয়ামী লীগ। ভারতে ক্ষমতার পালাবদলের পর সমর্থনের হাওয়া পরিবর্তন হয়েছে। ভারতের বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ৪০ শতাংশ কমিয়ে দেয়া যে তারই বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন অনেকেই। বাংলাদেশ সরকারের ওপর থেকে ভারতের সমর্থন কমলে বা প্রত্যাহার হলে মার্কিনসহ অন্যদের চাপ সামাল দেয়া সরকারের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন কূটনীতিক, রাজনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। এ প্রসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রদূত আশফাকুর রহমান এ পত্রিকাকে বলেন, মার্কিন সিনেটে শুনানিতে বাংলাদেশের জন্য মনোনীত রাষ্ট্রদূত যা বলেছেন তা বাংলাদেশের জন্য কঠিন বার্তা। মার্কিন সিনেটের শুনানিতে ওয়াশিংটনের অবস্থান জানার জন্য মনোনীত রাষ্ট্রদূতকে এ ধরনের প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। রাষ্ট্রদূতের উত্তরে মার্কিন সরকারের অবস্থানের প্রতিফলন ঘটে থাকে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ৫ জানুয়ারি যে একতরফা নির্বাচন হয়েছে এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিলে অন্যান্য দেশেও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন মেনে নেয়া সম্ভব হবে না। আশফাকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের কাছে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা এবং পরবর্তী সরকারের পক্ষে তাদের সমর্থন আদায়ের জন্যই সম্মেলনে অংশ নিতে যুক্তরাজ্য সফরে গেছেন। এই সম্মেলনে স্বাগতিক দেশ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্য কোনো দেশের সরকারপ্রধান যাননি। এতে বোঝা যায় যে, শেখ হাসিনা তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতেই এই সম্মেলনে গেছেন। তিনি কতটা সফল হয়েছেন জানি না। তবে সবাই একটা আলাপ-আলোচনা শুরু করতে চাইবে বলে মনে হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মহসীন বলেন, নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত যা বলেছেন তা ওয়াশিংটনের অবস্থানের ধারাবাহিকতা মাত্র। এতদিন ড্যান মজিনা যা বলেছেন নতুন রাষ্ট্রদূতও সে কথাই বলেছেন। বাংলাদেশের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, আমি শুনেছি মনমোহন সরকার বাংলাদেশের জন্য যে মঞ্জুরি সহায়তার প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল বর্তমান মোদি সরকার তা বাজেটে সমন্বয় করেছে। বিজেপি সরকার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে নাক গলাবে না। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশ সফরে এসে সে কথাই বলে গেছেন। সংসদে বিরোধী দলের নেত্রী না হওয়া সত্ত্বে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। এটা মোদি সরকারের ভারসাম্যপূর্ণ নীতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের কংগ্রেস সরকারের সমর্থন থাকায় মার্কিন বিরোধিতার মুখেও বাংলাদেশ সরকার ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন করতে পেরেছে। ওই সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পরোক্ষভাবে নির্বাচনের বিরোধিতা করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোসহ উন্নয়ন সহযোগীরাও বিএনপিবিহীন নির্বাচনে বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু সরকারকে দমাতে পারেনি কেউ। তবে সমপ্রতি ভারতে কংগ্রেস সরকারের পরিবর্তন হয়েছে। খুব ধীরে হলেও বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ওপর থেকে মোদি সরকারের সমর্থন কমতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের জন্য ৪০ শতাংশ বরাদ্দ কমিয়ে তার প্রমাণ দিয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্রটি। অন্যদিকে বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতও পরিবর্তন হচ্ছে। তবে নতুন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে আসার আগেই ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ত্র“টিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। এক্ষেত্রে নতুন রাষ্ট্রদূত তার পূর্বসূরির পথ অনুসরণ করবেন এটা স্পষ্ট। শক্তিশালী দুটি রাষ্ট্র কাছাকাছি সময় বাংলাদেশকে আলাদাভাবে যে বার্তা দিয়েছে তা নিয়ে সরকার যে চাপে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য সরকারও নানা ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সরকারের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান সংহত করতে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে সরকার। তার অংশ হিসেবে লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে তার দেশের নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলেছেন। এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। নয়া মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাটের গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ত্রুটিপূর্ণ বলার পর নতুন করে চাপের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। নির্বাচনের পর পর একই ধরনের চাপ পশ্চিমারা সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু ভারতের বিদায়ী কংগ্রেস সরকার নির্বাচনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয়ায় ওই সময়ে সাময়িকভাবে চাপমুক্ত হয় শেখ হাসিনার সরকার। ভারতে কংগ্রেস বিদায় নেয়ার পর বর্তমান বিজেপি সরকার খানিকটা নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে পারে। বিজেপি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার ও বিএনপি উভয়েই সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বার্নিকাটের এই বক্তব্যে সরকারের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশের মানুষের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অথচ নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে না এসেই আমেরিকায় বসে বাংলাদেশের নির্বাচনকে ত্রুটিপূর্ণ বলেছেন। উনি কি নির্বাচন স্বপ্নে দেখেছেন? কূটনীতিকদের মনে রাখা উচিত এটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। এদেশের ভবিষ্যৎ এদেশের মানুষই নির্ধারণ করবে। শেরপুরে নিজের নির্বাচনী এলাকায় মঙ্গলবার তিনি এসব কথা বলেন। ভারতের বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ৪০ শতাংশ কমিয়ে দেয়ার বিষয়ে দেশটির পক্ষ থেকে দেয়া এক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, মনমোহন সরকার ২০১০ সালে শেখ হাসিনার দিল্লি সফরকালে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ দেবে। তারপর ২০১২ সালে সেই ঋণের ২০ কোটি ডলার মঞ্জুরি ঘোষণা করে। ফলে অবশিষ্ট ৮০ কোটি ডলার ঋণ হিসাবে থেকে যায়। ভারতের ব্যাখ্যায় বলা হয়, মঞ্জুরি সহায়তার ১৫ কোটি ডলার ইতিমধ্যেই ছাড় করা হয়েছে। প্রতিশ্রুত সহায়তা নির্ধারিত সময়ে দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় বরাদ্দ বাজেটে সমন্বয় করা হয়েছে। এদিকে পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশ গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছে। তবুও তারা বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করছে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে কানাডার হাইকমিশনার হিদার ক্রুডেন যুগান্তরকে বলেন, যদিও আমরা নির্বাচনকে পুরোপুরি অংশগ্রহণমূলক বলে মনে করি না, তবুও আমরা সরকার, বিরোধী দলসমূহ, সুশীল সমাজ এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখব। কানাডার এই কূটনীতিক রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সংলাপে বসার এখনই সময়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হানা বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে বসতে কূটনীতিকদের তরফ থেকে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর কিছুটা বিরতি দিয়ে কূটনীতিকরা সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে ফের তৎপর হয়ে উঠছেন। বিদেশী কূটনীতিকদের সামপ্রতিক কথাবার্তায় এমন আভাসই পেয়ে তা মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের কৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ঈদের পর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে সৌদি আরব সফরে গেছেন। সেখানে পুত্র তারেক রহমানের সঙ্গে রাজনৈতিক আন্দোলন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। আন্দোলনের লক্ষ্যে বিএনপি দল এবং বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন পুনর্গঠন শুরু করেছে। সরকারবিরোধী এই আন্দোলনে কূটনীতিকদের সহমর্মিতা পেতে কৌশল খুঁজছে বিএনপি। বিস্তারিত»

শেখ হাসিনাকে ক্যামেরন আমি সিলেটে যেতে চাই

ঢাকা: সিলেট সফরে আসার ইচ্ছে ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাথে যুক্তরাজ্যে সাক্ষাৎকালে ক্যামেরন বলেন, আমি কিন্তু সিলেটেও যেতে চাই। এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, আমরা অবশ্যই আপনাকে আমন্ত্রণ জানাব এবং আপনি সিলেটেও যাবেন। আমরা সব ব্যবস্থা করব। যুক্তরাজ্যে গার্ল সামিটে যোগদান ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেখ হাসিনার সাক্ষাতের বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। একতরফা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন এখন অতীত। ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে। ওই নির্বাচনের পর হতাশা ব্যক্ত করে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ ভোটে অংশ নেয়ার সুযোগবঞ্চিত হওয়ায় এবং অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় ভোটার উপস্থিতি ‘কম’ থাকায় নির্বাচন নিয়ে তারা হতাশ। গত সাত মাসে নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান ‘নরম’ হয়েছে কি না- জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রসিকতা করে বলেন, “মাত্র নরম? শুধু নরম?” বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান ‘স্পষ্ট’ হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অবশ্যই, দিনের আলোর মত পরিষ্কার। তিনি (ক্যামেরন) বলেছেন, ইলেকশন ইজ ওভার। ইট ইজ পাস্ট। নাউ উই লুক টু দ্যা ফিউচার। নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাটের বক্তেব্য প্রসঙ্গে মাহমুদ আলী বলেন, ওটা আমেরিকার বক্তব্য নয়। ওটা মনোনীত রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য। তাদের সরকারের মন্তব্য না। পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিক, বাংলাদেশে তাদের আত্মীয়-স্বজন এবং বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের অসুবিধায় ফেলে এমন কোনো কনস্যুলার বা ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত না নিতে বৃটিশ সরকারকে সুপারিশ করবেন বলে প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বাস দিয়েছেন সে দেশের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক পার্লামেন্টারি কমিটির সভাপতি কিথ ভাজ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন। বিস্তারিত»

ক্যামেরন-হাসিনা বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাজ্যের হতাশা পুর্নব্যক্ত: বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র

লন্ডন: ৫ জানুয়ারি একতরফা সংসদ নির্বাচন নিয়ে ফের হতাশা ব্যক্ত করেছে যুক্তরাজ্য। একি সাথে অর্ধেকেরও বেশী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে ১০ নম্বর ডাউনিংস্ট্রীট। যুক্তরাজ্য সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামরনের বৈঠককালে দেশটির পক্ষে এ হতাশার কথা পুর্নব্যক্ত করা হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর একজন মুখপাত্র। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, ‘‘শেখ হাসিনা-ক্যামেরন বৈঠকে ২০১৪ সালের নির্বাচনে অর্ধেকেরও বেশী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবার ঘটনায় যুক্তরাজ্যের হতাশার কথা পুর্নব্যক্ত করেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী। তারা বাংলাদেশে মুক্ত চিন্তার স্বাধীনতা, সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক চর্চা এবং সংবাদ মাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতার গুরুত্বের উপর একমত পোষন করেন।’’ বাল্য বিবাহ রোধে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিতে স্বাগত জানান বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মহিলাদের ক্ষমতায়নে তার গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন বলে জানান ঐ মুখপাত্র। এ সময় ২০১৫ সালের সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে উভয় নেতা আলোচনা করেন। পরিশেষে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের উভয় দেশের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। এদিকে, যুক্তরাজ্যে গার্ল সামিটে যোগদান ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেখ হাসিনার সাক্ষাতের বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন এখন অতীত। ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে। গত সাত মাসে নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান ‘নরম’ হয়েছে কি না- ঐ সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রসিকতা করে বলেন, “মাত্র নরম? শুধু নরম?” বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান ‘স্পষ্ট’ হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অবশ্যই, দিনের আলোর মত পরিষ্কার। তিনি (ক্যামেরন) বলেছেন, ইলেকশন ইজ ওভার। ইট ইজ পাস্ট। নাউ উই লুক টু দ্যা ফিউচার। বৈঠকে ডেভিড ক্যামেরন মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সাফল্যের অকুণ্ঠ প্রশংসা করেন বলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান।   প্রথমবারের মতো আয়োজিত গার্ল সামিট প্রসঙ্গে মাহমুদ আলী বলেন, “অন্য কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী এখানে যান নাই। তারা (যুক্তরাজ্য) দাওয়াতই করেন নাই। শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে কন্যাশিশু ও নারী অধিকার সুরক্ষায় যে সাফল্য, সে হিসাবেই তাকে দাওয়াত করেছেন।” নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাটের বক্তেব্য প্রসঙ্গে মাহমুদ আলী বলেন, ওটা আমেরিকার বক্তব্য নয়। ওটা মনোনীত রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য। তাদের সরকারের মন্তব্য না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন। বিস্তারিত»

ছবি ঘর

চেনা গুগলের কিছু অচেনা ফিচার

সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে গুগলের খ্যাতি জগতজোড়া৷ বলা যায়, সার্চ সেবায় একক আধিপত্য এই প্রতিষ্ঠানটির৷ কিন্তু আমরা গুগল সার্চ কতটা ব্যবহার করি? এখানে পাবেন এমন কিছু ফিচারের কথা যা অনেকেই জানেন না৷ টাইমারের কথাই ধরুন৷ ঘড়ি কিংবা মোবাইল ব্যবহারের দরকার কী? গুগল ডটকমের সার্চ বক্সে ইংরেজিতে লিখুন ‘‘সেট টাইমার ৩০ মিনিটস৷'' ত্রিশ এর জায়গায় অন্য কোনো সংখ্যাও দিতে পারেন৷ এরপর গুগলই আপনার টাইমার হিসেবে কাজ করবে৷ আচ্ছা, আপনি কি রেস্তোরাঁয় খেতে গেলে বখশিশ দেন? জার্মানিতে কিন্তু বখশিশের ব্যাপারটা বেশ প্রচলিত৷ সাধারণত খাবারের যে বিল হয় তার ১০ শতাংশ হিসেব করে বখশিশ দেয়া হয়৷ এখন আবার অঙ্ক কষতে বসার দরকার নেই৷ তার চেয়ে গুগলের কাছে যান এবং সার্চ বক্সে ইংরেজিতে লিখুন ‘‘টিপ ক্যালকুলেটর৷'' ব্যস্ততার মাঝে ছুটির দিনের হিসাব রাখা কি সহজ কাজ বলুন৷ অনেকে একেবারেই খেয়াল রাখতে পারে না৷ অবশ্য এজন্য আফসোসও নেই৷ কেননা গুগল আছে৷ শুধু উপলক্ষ্যটা লিখে দিন সার্চ বক্সে৷ তারিখসহ বিস্তারিত সব গুগল নিজেই খুঁজে দেবে৷ এটা শুধু ছুটির দিনই নয় নতুন সিনেমা বা গেমের মুক্তির দিন জানার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য৷ আপনার কি মনে হচ্ছে, দিন দিন মুটিয়ে যাচ্ছেন? ওজনটা মেপে দেখতে পারেন৷ তবে খাবারদাবার সব আবার ছেড়ে দেবেন না যেন৷ তার চেয়ে গুগলের সাহায্য নিন৷ কোন খাবারে কী পরিমাণ ক্যালোরি বা প্রোটিন আছে তা সহজেই জানতে পারবেন৷ উদাহরণ হিসেবে সার্চ বক্সে ইংরেজিতে লিখতে পারেন, ‘‘পিৎসা ভার্সেস কাপকেক৷'' এবার বিস্তারিত নিজেই দেখে নিনি৷ কম্পিউটারে গান শুনতে অনেকেই ভালোবাসেন৷ কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, গানের সুর মনে আছে কিন্তু কথা খেয়াল নেই৷ নো চিন্তা৷ গুগল আছে না৷ সার্চ বক্সে লিখুন ‘‘সং অফ ম্যাডোনা'' বা অন্য কারো নাম৷ গানের বিস্তারিত তালিকা পেয়ে যাবেন৷ ছেলে বিদেশে যাচ্ছে তো বাবা-মা অস্থির৷ ঠিকমতো বিমান ছাড়লো কিনা এখন কোথায় আছে কিংবা কতক্ষণে গন্তব্য পৌঁছাবে – কত চিন্তা? বাবা-মাকে এত চিন্তা বাদ দিয়ে গুগল নিয়ে বসে পড়তে বলুন৷ সার্চ বক্সে লিখতে বলুন ফ্লাইট নম্বর এবং এয়ারলাইন্সের নাম (যেমন: ফ্লাইট ৮১৫ ইউএস এয়ারওয়েজ)৷ এরপর তারা নিশ্চিন্তে তাকিয়ে থাকতে পারেন পর্দার দিকে৷ বিমান কোথায় আছে, কতদূর গেছে আর কতক্ষণে গন্তব্যে পৌঁছাবে সবই দেখতে পাবেন তারা৷ এখন আবার রোজার মাস৷ তাই সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের সময় জানা বেশ জরুরি৷ চিন্তার কিছু নেই৷ গুগলে লিখুন, সঙ্গে সঙ্গে জেনে যাবেন প্রয়োজনীয় সময়ের কথা৷ শেষ করার আগে একটু মজা করা যাক৷ গুগলের সার্চ বক্সে ইংরেজিতে লিখুন ‘‘ডু এ ব্যারেল রোল''৷ এখন মাথা ঘুরে গেলে কিন্তু আমি দায়ী নই৷ প্রতিবেদনটি তৈরিতে এপ্লাস ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সহায়তা নেয়া হয়েছে৷  

বিস্তারিত»
ডিসিদের সংবাদপত্র বন্ধের ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে না : ইনু

বিশেষ প্রতিনিধি:তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন বাতিলের ক্ষমতা জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) হাতে দেয়া হচ্ছে না। সরকার এ বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না। গতকাল তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রিন্টিং প্রেসেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস (ডিক্লারেশন অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন) অ্যাক্ট সংশোধন করে সংবাদপত্রের প্রকাশনা বন্ধের ক্ষমতা ডিসিদের হাতে দেয়া হচ্ছে বলে যে কথা উঠেছে তা সঠিক নয়। ডিসিদের হাতে পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিলের ক্ষমতা দেয়া নয় বরং ১৯৭৩ সালের এ সংক্রান্ত অ্যাক্টকে যুগোপযোগী করার বিষয়ে আমরা কাজ করছি। বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ নয়, অবাধ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। উল্লেখ্য, গত ৯ই জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, এই মুহূর্তে আমরা প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস অ্যাক্ট নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না, কোন আলোচনা করছি না। সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা কোন কিছু গোপন করি না, গোপন কিছু করবোও না। বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধে নয়, অবাধ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। প্রেসেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস অ্যাক্টের আলোকে ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬০০’র বেশি পত্রিকার ডিক্লারেশন দিয়েছে সরকার। কোন নতুন আইন বা আইন সংশোধনের আগে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনের খসড়া তৈরি করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে এরপর খসড়া চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিলের ক্ষমতা ডিসিদের হাতে দেয়ার বিষয়ে মতামত দিলেও মন্ত্রণালয় তা আমলে নেয়নি। ডিএফপি যে সুপারিশ পাঠিয়েছিল তা বিভ্রান্তমূলক। সেটি কোন গৃহীত বা অনুমোদিত প্রস্তাবও নয়। তাই বিদ্যমান আইনটি ইংরেজিতে যুগোপযোগী করে পুনরায় পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ডিএফপির খসড়ায় সংবাদপত্রে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বা রাষ্ট্রদ্রোহ কোন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হলে পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিলের ক্ষমতা ডিসিদের হাতে দিতে বলা হলেও একই সঙ্গে তা কার্যকরের বিষয়টি আদালত বা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছিল। প্রস্তাবগুলো সুসামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, প্রস্তাবে দ্বৈততা রয়েছে। এ ধরনের আইনের খসড়া তৈরির জন্য ডিএফপি স্বীকৃত কমিটি নয় জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি আছে। তারা এ সংক্রান্ত আইনের খসড়া চূড়ান্ত করবে। যেহেতু অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বের কমিটি এ বিষয়ে কিছু করেনি তাই আমিও বিষয়টি অবগত ছিলাম না। পত্রিকায় এ নিয়ে লেখালেখি হওয়ার পরে আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়েছি। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় সোচ্চার থাকার জন্য সংবাদ মাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সবাইকে সোচ্চার ও সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, আইন, অধ্যাদেশ, বিধি, প্রবিধি, নীতিমালা যুগোপযোগী তথা হালনাগাদ করার জন্য রুটিন কাজ করছে মন্ত্রণালয়। তথ্য মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত বিভিন্ন কমিটি রয়েছে। বিভিন্ন অধ্যাদেশ আইন নীতিমালা যুগোপযোগী করার জন্য কাজ করছে কমিটি। হাসানুল হক ইনু বলেন, নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবেই তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ  টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র আইন, ২০১৪’ এবং ‘বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৪’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বর্তমান সরকার মত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতায় শ্রদ্ধাশীল উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দ্য প্রিন্টিং প্রেসেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস (ডিক্লারেশন অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন) আইন ১৯৭৩ সালে প্রণয়ন করা হয়। ১৯৯০ সালের পর এটি একবার সংশোধন করা হয়। প্রায় ৪১ বছর আগে যখন আইনটি প্রণীত হয় তখন দেশে গণমাধ্যমের এতো ব্যাপকতা ছিল না। সময়ের পরিক্রমায় এবং প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে সংবাদপত্র জগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। ৪১ বছর আগে প্রণীত আইনটির কিছু দিক যুগোপযোগী করার বিষয়টি ভেবে দেখা হচ্ছে। বিদ্যমান আইনের ১৪ ধারায় ৪ টাকা ফি প্রদান সাপেক্ষে ঘোষণাপত্রের কপি সরবরাহ ও ২ টাকায় পরিদর্শনের অনুমতি প্রদানের কথা বলা আছে। একইভাবে ১৮ ধারায় যথাক্রমে ১ এবং ২ টাকা ফি প্রদান সাপেক্ষে ঘোষণাপত্রের কপিগুলো পরিদর্শন ও সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। ৪০ বছর পর কি একই ধরনের ফি থাকবে? তথ্যমন্ত্রী বলেন, পত্রিকার প্রকাশক মারা গেলে অনেক সময় তার পরিবারের কোন সদস্য প্রকাশকের দায়িত্ব পালন করেন। প্রকাশকের অবর্তমানে বা প্রকাশক মারা গেলে তার পরিবারের কেউ প্রকাশক হতে চাইলে যদি এ বিষয়ে তার কোন অভিজ্ঞতা না থাকে এসব ক্ষেত্রে কি হবে তা বিদ্যমান আইনে স্পষ্ট নয়। পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের বিষয়টি বিদ্যমান আইনে  নেই। তথ্যমন্ত্রী জানান, ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার জন্য খসড়া সমপ্রচার নীতিমালা আগামী মন্ত্রিসভায় উঠছে।

বিস্তারিত»
বাংলাদেশীদের ব্রিটিশ ভিসার সিদ্ধান্ত আসবে দিল্লি থেকে, অক্টোবরে কার্যকর: ব্রিটিশ হাইকমিশন

পহেলা অক্টোবর থেকে যুক্তরাজ্য যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের ভিসা প্রসেসিং ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে স্থানান্তর হচ্ছে। তবে এতে ভিসা দেওয়ার সময়সীমা ও সেবার মানের কোনো পরিবর্তন হবে না বলে জানিয়েছে ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন। বৃহস্পতিবার হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়। বেশ কিছুদিন ধরে ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভিসা-সেবা ঢাকা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তর নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে নানা ধরনের সংবাদ আসতে থাকে। ভিসাপ্রার্থী অনেকের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। ভিসা প্রসেসিং প্রক্রিয়া দিল্লিতে স্থানান্তরের ব্যাখ্যা দিয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈশ্বিক কৌশলের অংশ হিসেবে ব্রিটিশ ভিসা অ্যান্ড ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ভিসা প্রসেসিং সেন্টারের সংখ্যা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্রিটিশ করদাতাদের অর্থ সাশ্রয়ের বিষয়টি অন্যতম প্রধান কারণ বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। বিশ্বব্যাপী সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভিসা প্রসেসিং কার্যক্রম নয়াদিল্লিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এর ফলে ১ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে আবেদন করা সব ভিসা আবেদন নয়াদিল্লির ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভিসা শাখা পর্যালোচনা করবে।ভিসাপ্রার্থীদের আশ্বস্ত করে বলা হয়, ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি স্থানান্তর হলেও ভিসার আবেদন আগের মতোই ঢাকা ও সিলেটের ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে গ্রহণ করা হবে। ভিসা ফিসহ আনুষঙ্গিক সব খরচও বর্তমান অঙ্কের মধ্যেই থাকবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভিসা পাওয়ার সময়সীমাও পরিবর্তন হবে না। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সেটেলমেন্ট আবেদন ১৫ দিন এবং নন সেটেলমেন্ট আবেদন ৬০ দিনের মধ্যে নিষমত্তি করা হবে। এ ছাড়াও ভিসার জন্য কোনো আবেদনকারীকেই দিল্লি যেতে হবে না। আবেদনকারীদের পাসপোর্টও বাংলাদেশে থাকবে। শুধু সিদ্ধান্ত আসবে দিল্লিতে অবস্থিত ব্রিটিশ হাইকমিশন থেকে।

বিস্তারিত»
আজ পবিত্র শবেকদর

আজ ২৬ রমজান। মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) মহিমান্বিত রজনী বা লাইলাতুল কদর তালাশ করার জন্য সম্ভাব্য যে পাঁচটি বেজোড় রাতের উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে আজকের দিবাগত সাতাশের রাতটি অন্যতম। আজ সব মসজিদে মুসল্লিরা রাত জেগে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত থাকবেন। রোজা পালনকারী ঈমানদারগণ চোখের পানি ফেলে কায়মনোবাক্যে মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন ও তার স্মরণে গভীর সেজদায় লুটিয়ে পড়বেন। সারারাত নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, তওবাহ-তাহলীল, জিকির-আসগার ও দ্বীনি আলোচনায় মশগুল থাকবেন সব মসজিদে। তাছাড়া যারা মসজিদে আসতে পারবেন না তারা বাড়িতে পার্থিব সব ব্যস্ততা ঝেড়ে ফেলে পরওয়ারদেগারের কাছে পানাহ চাইবেন এবং আবদ্ধ থাকবেন প্রভুর ধ্যানে। নারীরাও আজ রাতে ইবাদতে শামিল হবেন। আমরা জানি রাসুল (সা.)-এর জামানায় নারীরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা ও ঈদের নামাজে হাজির হতেন। এমনকি রমজানের শেষ ১০ দিন মসজিদে তাঁবু স্থাপন করে ইতিকাফের মাধ্যমে লাইলাতুল কদর তালাশও করতেন। রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমাদের নারীরা যদি মসজিদে (নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগির জন্য) যেতে চায় তাহলে তোমরা নিষেধ করো না। তবে তাদের জন্য ঘরই উত্তম। কেননা ঘরই তাদের জন্য বেশি পর্দা রক্ষাকারী। এখানে তাদের একাগ্রতা ও নিবিষ্টতা আসবে বেশি। তাছাড়া আজকের রাতে আমাদের আহাল-পরিবার-পরিজন সবারই উচিত আল্লাহর ইবাদতে শামিল হওয়া। কেননা লাইলাতুল কদর এমন একটি রজনী যা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম এবং প্রত্যেক কদরপ্রাপ্ত ব্যক্তি সদ্যপ্রসূত শিশুর মতো নিষ্পাপরূপে পরিগণিত হন। এ প্রসঙ্গে কোরআনে আল্লাহতায়ালা ‘কদর’ নামে একটি সুরা অবতীর্ণ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে ‘নিশ্চয় আমি এটি (আল কোরআন) নাজিল করেছি এক মর্যাদাপূর্ণ রাতে। তুমি কি জানো সেই মর্যাদাপূর্ণ রাতটি কি? এই মহিমান্বিত রজনীটি হাজার মাস হতেও উত্তম। এই রাতে ফেরেশতারা ও রূহ অর্থাত্ জিব্রাইল (আ.) তাদের মালিকের সব ধরনের আদেশ নিয়ে (জমিনে) অবতরণ করেন। আর (তারা) শান্তি, (বর্ষণ করতে থাকে) যা ফজর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। সুতরাং প্রতীয়মান হলো, কদরের রাত এতটাই মর্যাদাপূর্ণ যে, এ রাতে আল কোরআন নাজিল হয়েছে। যয়নাব বিনতে উম্মে সালমা (রা.) বলেন, রমজানের যখন ১০ দিন বাকি থাকত তখন নবী করিম (সা.)-এর পরিবারের যে কেউ সালাতে দাঁড়াতে সক্ষম হলে তাঁকে তিনি সালাতে না দাঁড় করিয়ে ছাড়তেন না (তিরমিযি, ফতহুল বারী)। মহানবী (সা.) রমজানের শেষ দশকে সারা বছরের তুলনায় অনেক বেশি ইবাদত করতেন এবং প্রায় রাতভর নিজে ইবাদতের মধ্যে কাটাতেন ও পরিবারবর্গকেও নামাজে দাঁড় করাতেন। বায়হাকির বর্ণনা দ্বারা জানা যায় যে, দাঁড়িয়ে ও বসে জিকিররত মুমিন বান্দাকে এ রাতে জিব্রাইল (আ.) সালাম দেন এবং ফেরেশতারা মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আয়েশা (রা.) বলেন, একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সা.) আমি যদি জানতে পারি যে, কোন রাতটা কদরের; তাহলে ওই রাতে আমি কী বলব? তিনি বললেন, এ দু’আ বলবে, আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা আফূওউন তুহিব্বুল ‘আফওয়া ফাআফূ আন্নী। ‘হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাময়। তুমি ক্ষমা কর, ভালোবাস। অতএব, আমাকে ক্ষমা করো’ (আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিযি, মিশকাত, নাসায়ী, বাইহাকি)। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারমসহ দেশের সব মসজিদে রাতব্যাপি বিশেষ ইবাদত বন্দেগী, ওয়াজ মাহফিল, ধর্মীয় বয়ান ও আখেরী মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। পবিত্রতম রজনী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মহিমান্বিত রজনী পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘হাজার মাসের চেয়েও উত্তম’ পবিত্র লাইলাতুল কদর সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত বরকতময় ও পুণ্যময় রজনি। মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ আল-কোরান লাইলাতুল কদরে নাজিল হয়। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পবিত্র কোরআনের শিক্ষা আমাদের পার্থিব সুখ-শান্তির পাশাপাশি আখিরাতের মুক্তির পথ দেখায়। তিনি বলেন, সিয়াম সাধনার মাস রমজানের মহিমান্বিত রাত লাইলাতুল কদর। এই রাতে মানব জাতির পথ নির্দেশক পবিত্র আল-কোরআন পৃথিবীতে নাজিল হয়। শেখ হাসিনা বলেন, পবিত্র এই রাতে ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। অর্জন করতে পারি তাঁর অসীম রহমত, বরকত ও মাগফেরাত। তিনি এই পবিত্র রজনীতে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম জাহানের উত্তরোত্তর উন্নতি, অব্যাহত শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও এ উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন।    

বিস্তারিত»
জিয়ার মাজার বগুড়ায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে সরিয়ে বগুড়ায় নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। তবে কীভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে। জিয়াউর রহমান ’৮১ সালের ৩০ মে ভোর রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে নিহত হন কতিপয় বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তাদের হাতে। তার লাশ গোপনে কবর দেয়া হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কাছে প্রত্যন্ত এক পাহাড়ি এলাকায়। সেনাবাহিনী লাশের সন্ধান পায়। এরপর লাশ নিয়ে যাওয়া হয় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। পরীক্ষা করে লাশ শনাক্ত করা হয়। এর পর বিমানযোগে ঢাকায় এনে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয় বর্তমান চন্দ্রিমা উদ্যানে। আওয়ামী লীগ অবশ্য বরাবরই বলে আসছে জিয়ার লাশ পাওয়া যায়নি। কেউ দেখেওনি। ’৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ শেরেবাংলা নগরের বোটানিক্যাল গার্ডেন ‘জিয়া উদ্যান’কে ফিরিয়ে নেয় আগের ‘চন্দ্রিমা উদ্যান’ নামে। সংসদ ভবনের উত্তর পাশের রাস্তার পরেই ক্রিসেন্ট লেক। চন্দ্রিমা উদ্যানে যেতে এই লেকের ওপর ছিল একটি বেইলি ব্রিজ। এক রাতে এই ব্রিজটি ক্রিসেন্ট লেক থেকে হাওয়া হয়ে গেল। পরে জানা গেল, হবিগঞ্জের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এবার মাজারটি সরানোর পরিকল্পনা নীতিনির্ধারক মহলের। গত ১৭ জুন অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠক শেষে এক অনির্ধারিত আলোচনায় এ বিষয়টি উঠে আসে। এর পর থেকেই সংশ্লিষ্ট মহলে এই পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু কীভাবে অগ্রসর হবে তা এখনও স্থির হয়নি। রাতারাতি গুঁড়িয়ে দিয়ে ভেতরের কিছু মাটি নিয়ে বগুড়ার বাগবাড়িতে কবর দেয়া হবে কিনা তা নিয়েও জল্পনা চলছে। সূত্র : মানবজমিন

বিস্তারিত»
শ্রীমঙ্গলে গুপ্তচর সাংবাদিকের যতসব অপকর্ম

এম. মছব্বির আলী: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “র” এর গুপ্তচর হিসেবে পরিচিত কথিত এক সাংবাদিকের দৌরাত্মে অতিষ্ট সাধারণ মানুষ। সে নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল ও মিনি জিপ গাড়ি ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি, রেস্ট হাউসসহ ভাড়া নিয়ে মেয়ে ব্যবসা, বন বিভাগের জমি দখলসহ সরকারী খাস জায়গা দখল করে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সামান্য লেখাপড়া জানা এ যুবক সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে গত ক’বছরে অনেক বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছে। যেন রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। এ নিয়ে লোকজনের মধ্যে কানাঘোষার শেষ নেই। কথিত এ সাংবাদিকের দাপটে প্রকৃত সাংবাদিকরা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। অভিযোগে জানা যায়, কথিত ওই সাংবাদিকের বাবা শ্রীমঙ্গলের একজন বাবুর্চি। এ জন্য তাকে ‘বাবুর্চির পোলা’ নামেই সবাই চেনে। মাত্র অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত লেখাপড়া করলেও সে নিজেকে “এম কম ” পাশ দাবী করে ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকা ও একটি টেলিভিশনে সিভি জমা দিয়ে চাকরী নিয়েছে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করলে সত্য ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে সচেতন মহল মনে করেন। অপকর্মে পটু ‘র’ এর গুপ্তচরের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। সে সাংবাদিকতার মতো মহান পেশাকে পুঁজি করে দাপট দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্টানকে হয়রানি, চাঁদাবাজি ও অসামাজিক ব্যবসা চালিয়ে মহান এ পেশাকে কলুষিত করছে। তার বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও পাশ্ববর্তী দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে হুমকীর অভিযোগও কম নয়। তার আচরণে কথাবার্তায় ও চালচলনে প্রকৃত সাংবাদিকরা বিব্রতবোধ করেন। সে সাংবাদিকতায় এসে একেক সময় নিজেকে আওয়ামীলীগ আবার কখনো নিজেকে বিএনপির ঘরানার পরিচয় দিয়ে ফায়দা হাসিল করে। তার বিরুদ্ধে ৩/৪বছর আগে তার বিরুদ্ধে একটি চা বাগানে মহিলা শ্রমিকদের পাহাড়ী ছড়ায় গোসলের সময় গোপন দূশ্য ধারন করা নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটে। পরে ক্ষমা চেয়ে রেহাই পায়। হবিগঞ্জ রোডে সবুজবাগ সড়কে একটি গেষ্ট হাউস ভাড়া নিয়ে মেয়েদের রেখে অনৈতিক ব্যবসা পরিচালনা করার বিষয়টি কারো অজানা নয়। ঢাকা থেকে প্রকাশিত নামসর্বস্ব পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদ সংস্থার কার্ড বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। লন্ডন প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে অনেক লন্ডনীদের ফাঁদে ফেলে ও হয়রানী করে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। চ্যানেল আইয়ের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির কারণে তার চাকুরী চলে যায়। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্টানে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করলেও কৌশলী ভূমিকা নিয়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতাদের ‘ম্যানেজ’ করে সে রক্ষা পেয়ে যায়। তার দাপুটে অপরাধমূলক কর্মকান্ডে অতিষ্ট হয়ে শ্রীমঙ্গলের সাংবাদিক সমাজ প্রেসক্লাবে সভা করে স্থানীয় ‘চায়ের দেশ’ পত্রিকায় তার নানা অপকর্ম নিয়ে “বাবুচির ছেলে ... ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। মুক্তিযোদ্ধের দলিল সংগ্রহের নামে দেশে ও প্রবাসে চাঁদাবাজি করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সাথে কথিত এ সাংবাদিকের যোগাযোগ থাকায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ হেড কোয়ার্টার ও র‌্যাব হেড কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ পাঠিয়েছেন শ্রীমঙ্গলে সচেতন মহল। এছাড়াও সে  বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী এনজিও ব্যবসা প্রতিষ্টানে বাসা-বাড়িতে প্্েরসক্লাবের নাম ভাঙ্গিয়ে অর্থ আদায়সহ নানা অনৈতিক কর্মকান্ডে তার সংশ্লিষ্ঠতা রয়েছে। মানুষের সরলতাকে কাজে লাগিয়ে বন বিভাগের জমি দখলসহ সরকারী খাস জায়গা দখল নিয়ে ভোগ করে আসছে কথিত এ সাংবাদিক ও তার সহযোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, লাইসেন্সবিহীন সবধরনের যানবাহন চালনা আইনত: দন্ডনীয় অপরাধ হলেও কথিত ওই সাংবাদিক লাইসেন্স বিহীন মোটর সাইকেল ও জীপ গাড়ীতে প্রেস ষ্টিকার লাগিয়ে জেলার সর্বত্র চলাফেরা করে ও যত্রতত্র গাড়ী পার্কিং করে যানজট সৃষ্টি করে থাকে। তার সিন্ডিকেট চক্র দিয়ে তার নিজস্ব একটি পরিবহনে ফেনসিডিল পাচারে ব্যস্ত থাকে বলে অভিযোগ। একাধিকবার ফেন্সিডিলের চালান পাচারের সময় ওই পরিবহনের কাউন্টারে পুলিশ আটক করলে সাংবাদিকতার দাপট কাজে লাগিয়ে পার পেয়ে যায়। থানা পুলিশের সাথে রয়েছে তার বিশেষ সখ্যতা। থানায় কোন বিপদগ্রস্থ মানুষ মামলা নিয়ে গেলে সে উভয় পক্ষের দূর্বলতা জেনে তাদের কাছ থেকে পুলিশের কথা বলে আদায় করে নেয় নগদ অর্থকড়ি। অনেক সময় পুলিশের টাকায়ও ভাগ বসায়। পুলিশের পাশাপাশি চোরাকারবারীদের সাথে রয়েছে তার সখ্যতা। চোরাকারবারী ও ভেজাল মসল্লা মিল, মাদক ব্যবসায়ী, জুয়ার আসর, পতিতা বৃত্তিসহ বিভিন্ন খাত থেকে মাসোয়ারা আদায় করে থাকে। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে তার মুখোশ উন্মোচনের জন্য সচেতন মহল প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।

বিস্তারিত»
কুলাউড়ায় নৃ-তাত্বিক জনগোষ্টীর ১০৯ জন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে শিক্ষাবৃত্তির ৩ লাখ টাকা বিতরন

এম. মছব্বির আলী: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে গতকাল ২৪ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা খাতের আওতায় (পার্বত্য চট্রগ্রাম ব্যাতিত) শীর্ষক কর্মসূচীর আওতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা বৃত্তি বিতরন কুলাউড়া উপজেলার  জয়চন্ডি, কর্মধা, ব্রাম্মনবাজার, বরমচাল ও কুলাউড়া সদরসহ ৫টি ইউনিয়নের নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠীর ১০৯ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে নগদ প্রায় ৩ লাখ টাকা উপবৃত্তি বিতরন করা হয়েছে। কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামছুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা ও বিতরনী অনুষ্টানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামরুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ কামরুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নেহার বেগম ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফজলুল হক খান সাহেদ,কুলাউড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সুশীল সেনগুপ্ত, উপজেলা প্রকৌশলী আবুল হোসেন, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আছির উদ্দিন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার, মৎস্য কর্মকর্তা ওমর ফারুক, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ, অধ্যাপক মোঃ শাহাজাহান, মোঃ রফিক আহমদ ও ইছহাক চৌধুরী ইমরান, নবীনচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমীর হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সেলিনা ইয়াছমিন, কুলাউড়া প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক মোঃ খালেদ পারভেজ বখ্শ, মানব জমিনের স্টাফ রিপোটার মু ইমাদ উদ্দিন, সাংবাদিক সাইদুল হাসান শিপন, কুলাউড়া আদিবাসী নারী উন্নয়ন ফেডারেশন নেত্রী মনিকা খংলা প্রমুখ। কুলাউড়া উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মতলিব ও আন্তপুঞ্জি সংগঠন কুবরাজের সাধারন সম্পাদক আদীবাসী নেত্রী ফ্লোরা বাবলী তালাং এর যৌথ পরিচালনায় প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা খাতের আওতায় এই বৃত্তিমূলক নৃতাত্বিক জনগোষ্টী তথা আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মাঝে কিছুটা হলে শিক্ষার কার্যক্রমে উৎসাহিত করবে। তিনি বলেন বাংলাদেশ একটি বহু জাতির বহু ভাষার, বহু সংস্কৃতির বৈচিত্র্যপূর্ন একটি দেশ। এ দেশের বৃহত্তর বাঙ্গালী জনগোষ্টী ছাড়াও আদিবাসী মানুষ স্মরণাতীতকাল থেকে বসবাস করে আসছে। তাই শেখ হাসিনা সরকারের নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সকল ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে সু শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আগামীতে দেশ পরিচালনায় অগ্রনী ভুমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করছেন। পরে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোঃ কামরুল হাসান শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তির টাকা বিতরন করেন। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রির কার্যালয়ের২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা খাতের আওতায় (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যাতিত) শীর্ষক কর্মসূচীর আওতায় কুলাউড়া উপজেলায় খাসিয়া, গারো, মুনিপুরি, মুন্ডা ওরাও নৃতান্ত্রিক জনগোষ্ঠি  ৪৬ জন ছাত্র ও ৬৩ জন ছাত্রী মিলে মোট শিক্ষার্থী ১০৯ জনের মধ্যে প্রাইমারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে জন প্রতি ২৪০০ টাকা, মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৫০০ টাকা করে, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ৩২০০ টাকা  এবং ডিগ্রী ও অনার্স শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৫০০ টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা।  

বিস্তারিত»
পাড়া-মহল্লায় পাহারা বসাবে আ’লীগ

ঢাকা:ঈদের পর বিএনপির ঘোষিত সরকার পতনের আন্দোলন ঠেকাতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র সতর্ক পাহারা বসাবে ১৪ দলের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলটির একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। সুত্রটি জানায়, বিএনপির চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়া সম্প্রতি দলীয় ও জোটের একাধিক ইফতার পাটিতে অংশ নিয়ে বলেছেন, “ঈদের পর সরকার পতনের লক্ষ্যে দেশের সকল পেশাশ্রেণির মানুষকে আন্দোলনে নামতে হবে এবং তাদের পতন ঘটাতে হবে।” অপরদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “শুধু শহরকেন্দ্রিক আন্দোলন নয়, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ঈদের পর সরকার বিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে। বিএনপির আন্দোলন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করার জন্য এই আন্দোলন। এবারের আন্দোলনের উত্তাল তরঙ্গে সরকার ভেসে যাবে।” বিরোধী জোটের এ হুঁশিয়ারির পর পরই নড়েচড়ে বসে নিস্ক্রিয় থাকা সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো। বিএনপির নেতাদের বক্তব্যের জবাবে সরকারি দলের নেতারা বলেছেন, আন্দোলন প্রতিরোধ করতে ১৫০ থেকে ২০০ টাকার ফ্লেক্সিলোডই যথেষ্ট। এছাড়াও দলীয় নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত হতে নির্দেশনা দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। সংসদের ভেতরে-বাইরে কোথাও না থাকা সাবেক বিরোধী দল বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলন কতটা চাঙ্গা করতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও একেবারে প্রস্তুতিশূন্য থাকতে চায় না আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, “বিএনপি যাতে আন্দোলনের নামে জনগণের জানমালের কোনো ক্ষয়-ক্ষতি করতে না পারে সেজন্য ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ পাড়া-মহল্লায় পাহারা বসানোর প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে। বিএনপির আন্দোলনের বার্তা তৃণমূলে না পৌঁছলেও ইতোমধ্যে কেন্দ্র থেকে সেই আন্দোলন প্রতিহতে আওয়ামী লীগ থেকে সতর্ক নির্দেশনা পৌঁছে গেছে।” বিএনপি আন্দোলনের ডাক নিয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, “ঈদের পরে বিএনপির আন্দোলন দেখার জন্য বসে আছি। আমাদের নেতারা সবাই পরীক্ষিত। কে ঢাকার কোন এলাকায় নেতৃত্ব দেবে, তা আগেই ঠিক করে রাখা হচ্ছে। বিএনপির আন্দোলন মোকাবিলায় আমরা সব সময় প্রস্তুত।” ক্ষমতাসীন দলটির সূত্র জানিয়েছে, কয়েক দিন আগে মহানগর আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও থানা নেতাদের নিয়ে এক রুদ্ধদ্বার বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহানগরের সাধারণ সম্পাদক নৈরাজ্য প্রতিরোধে স্থানীয় নেতাদের বিশেষ কমিটি গঠনের তাগিদ দেন। তা ছাড়া ঈদ-পরবর্তী বিএনপির আন্দোলনের সময় ঢাকার পাড়া-মহল্লায় পাহারা বসানোরও নির্দেশনাও দেওয়া হয় ওই বৈঠকে। মহল্লার মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিএনপির মিছিল-মিটিং প্রতিহতের কথাও বলা হয়েছে সেদিন। ইতোমধ্যে কেন্দ্র থেকে সারা দেশের জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে দলের স্থানীয় নেতাকর্মী, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম নেতারা সম্পৃক্ত থাকবে। তা ছাড়া বিভিন্ন সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমেও বিরোধী জোটের সম্ভাব্য আন্দোলন-সহিংসতার কৌশল জানার চেষ্টা করছে দলটি। সেই অনুযায়ী প্রশাসন ও রাজনৈতিকভাবে আন্দোলনের মোকাবিলার ছক করছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। এদিকে বিএনপির ৫ জানুয়ারির আগে ঘোষিত হার্ডলাইনের আন্দোলনের নেতিয়ে পড়া অবস্থা দেখে আওয়ামী লীগের অনেকেই এই হুমকিকে আমলেই নিচ্ছেন না। তাদের মতে, আন্দোলনে যাওয়ার মতো সাংগঠনিক অবস্থায় নেই বিএনপি। তা ছাড়া দলটির অধিকাংশ নেতা হামলা-মামলার আতঙ্কেও আছেন। সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগের পরিস্থিতিতে দেশ ফিরে যাক, আওয়ামী লীগ তা কোনোভাবেই চায় না। তাই আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপি ও তার মিত্রদের সহিংস হয়ে উঠতে দেওয়া হবে না। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অনুমতি নিয়ে নির্বাচন-পূর্ব হেফাজত, বিএনপি ও জামায়াতের তাণ্ডবের কথাটি মাথায় রেখেই বিরোধী জোটের আন্দোলন মোকাবিলার কৌশল প্রণয়ন করা হচ্ছে। আন্দোলনের মাঠে তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসনের পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে থেকেই তা মোকাবিলা করবেন।  

বিস্তারিত»
দীর্ঘ ৪৩ বছর পর কমলগঞ্জের ফাজিলপুর গ্রামে শুভ বিদ্যুতায়ন

এম. মছব্বির আলী: বাতির নিচ অন্ধকার ছিল। খোদ মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের পাশেই অবস্থিত ফাজিলপুর গ্রাম। অবশেষে দীর্ঘ ৪৩ বছর অপেক্ষার পর গতকাল ২৪ জুলাই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ফাজিলপুর গ্রাম পল্লী বিদ্যুতায়নের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন। ৯ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ০.৬৬৬ কিঃমিঃ বিদ্যুতায়িত লাইনের ষ্টেকিংভূক্ত ৪৮ জন গ্রাহকের মধ্যে ২৩ জন গ্রাহক বৃহষ্পতিবার বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছেন।  অবশিষ্ট ২৫ জন গ্রাহক শীঘ্রই সংযোগ পাবেন। কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোঃ রফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে¡ ও মৌপবিস কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম এস, এম হাসনাত হাসানের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী জুলফিকার হায়দার, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এম, মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ সিদ্দেক আলী, কমলগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ মোঃ আনোয়ার হোসেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এলাকা পরিচালক মোঃ কামাল উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মোঃ সানোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহেদুল আলম প্রমুখ। বাতির নিচে দীঘ ৪৩ বছর অন্ধকার থাকার পর অবশেষে বৃহষ্পতিবার বিকাল ৫টায় আলোকতি করা হয় ফাজিলপুর গ্রামটি। ঈদের আগে বিদ্যুৎ পেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা সদরস্থ পল্লী বিদ্যুত অফিসের পাশ্ববর্তী ফাজিলপুর গ্রামের লোকদের মধ্যে এখন আনন্দের বন্যা বইছে। এলাকার সকল দল মতের মানুষ খুশী। কারণ ঈদ সবাই আলোর মধ্যে করবনে।

বিস্তারিত»
খুঁড়িয়ে চলছে ১৪ দল

ডেস্ক নিউজ:ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। জোটের সাথে এখন নতুন যোগ হয়েছে নামসর্বস্ব কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল। ক্ষমতার সাথে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রমও চলছে জোড়াতালি দিয়ে। ক্ষমতাসীন জোটে কার্যত শরিক দল কয়টি এটিও এখন অনেকের মনে প্রশ্ন? তবে অনেকের হিসাবে জোটের অঙ্ক মিললেও ভোটের অঙ্ক একেবারেই মিলে না। ১৪ দলের বেশ কয়েকটি দল শুধুই সাইনবোর্ড-সর্বস্ব। কোনো কোনো দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ও খুঁজে পাওয়া দায়। দু-একটি দলে কেন্দ্রীয় নেতা আছে, কিন্তু তৃণমূলে সংগঠন নেই। ১৪ দলের সভা ডাকা হলে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন ও সাম্যবাদী দলের একাংশের দিলীপ বড়–য়ার উপস্থিতিই চোখে পড়ে। বাকিদের অস্তিস্ত নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে জোটের ১৪ দলের আটটি দলেরই অস্তিত্ব নেই। জোটে তো দূরের কথা, রাজনৈতিক মাঠেও নেই তাদের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম। আওয়ামী লীগ জোটের ব্যানারে নাম থাকলেও জোটের কার্যক্রমে তারা গুরুত্বহীন, তবে ভাগাভাগিতে একজোট। জোটের কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতেও এসব দল অনেকটা নিষ্ক্রিয়। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ছাড়া অন্যান্য দলগুলো জোটের শোভা বাড়ালেও কেবল নাম ভূমিকায় রয়েছে এসব দলের অংশগ্রহণ। বিগত সরকারের আমলে শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছিলেন জোটের কয়েক নেতা। এবার সরকারের মন্ত্রিসভায় জোটভুক্ত তিনটি দলের শীর্ষনেতার ঠাঁই হয়েছে মন্ত্রিসভায়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, ন্যাপ, সাম্যবাদী দল, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, জাকের পার্টি, বাসদ (রেজাউর রশিদ) নিয়ে ১৪ দলীয় জোট। নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে জাতীয় পার্টি (জেপি), তরিকত ফেডারেশন। এই দুই দল জোটে আসার আগে যে ১৪ দলীয় জোট, এখনো সেই নামেই জোটের পরিচয়। ২০০৭ সালে আওয়ামী লীগ, বামপন্থীদের ইস্যুভিত্তিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জোট ১১ দল, জাসদ ও ন্যাপ নিয়ে ১৪ দল গঠিত হয়। কিন্তু এখন ১৪ দলে ১১ দলীয় জোটের অনেক দলই নেই। তাদের জায়গা দখল করে নিয়েছে ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দল। যেগুলো ১৪ দলের প্রতিষ্ঠাকালে ছিল না। বিষয়টি স্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দও। তবে তারা আশা করছেন ঈদের পর বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন প্রতিহত করতে দেশের সমস্ত প্রগতিশীল দল ও শক্তিসমূহকে ১৪ দলের পতাকাতলে সমবেত করতে সক্ষম হবে। দলগুলোর সূত্র জানায় বর্তমানে ১৪ দলের অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি দল সরাসরি ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তবে এ বিষয়টি বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেই আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ দাবি করেন। তারা বলছেন, ১৪ দলে থাকা ধর্মভিত্তিক দলগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম সাংবাদিকদের জানান আমাদের সঙ্গে কোনো মৌলবাদী দল নেই। বরং যারা প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তারাই আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। ক্ষমতাসীন জোটের নেতাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে বর্তমানে ১৪ দলীয় জোটের শরিক রয়েছেন আটরশির পীরের সন্তান পীরজাদা আলহাজ মোস্তফা আমীর ফয়সল মুজাদ্দেদীর নেতৃত্বাধীন জাকের পার্টি, মাইজভা-ারীর পীর নজিবুল বশর মাইজভা-ারীর নেতৃত্বাধীন তরিকত ফেডারেশন, আলহাজ মিসবাহুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট, সৈয়দ রেজাউর রশিদ খানের নেতৃত্বাধীন বাসদের একাংশ ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জেপি), পঙ্কজ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন গণঐক্য ও ইসলামিক ফ্রন্টের একাংশ। জানা গেছে এদের মধ্যে জাকের পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট ও তরিকত ফেডারেশন ও ইসলামিক ফ্রন্ট সুফিবাদী ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এদিকে ১৪ দলের কর্মসূচিতে ১৪টি দল না থাকায় সমালোচনার মুখে পড়ে আওয়ামী লীগ। পরে বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক ও নামসর্বস্ব দল নিয়ে ১৪ দল পূরণ করা হয়েছে। জোট সূত্রগুলো জানায় ১৯৯৬ সালের প্রথমদিকে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার আমলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় প্রগতিশীল ও বামদলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত হয় ‘এগারো দলীয় জোট।’ প্রাথমিক পর্যায়ে ওই জোটে অন্তর্ভুক্ত ছিল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণফোরাম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (খালেকুজ্জামান), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মাহবুব), গণতন্ত্রী পার্টি, দিলীপ বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণ-আজাদী লীগ ও গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি। এরআগে ২০০৫ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জোট গঠনের আহ্বান এলে তাতে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে ১১ দলে মতবিরোধ দেখা দেয়। সে সময় ১১ দলের ৭ দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে শরিক হওয়ার পক্ষে মত দিলে জোটে ভাঙন স্পষ্ট হয়। জোটের শরিক রাশেদ খান মেননের বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, দিলীপ বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন সাম্যবাদী দল, প্রয়াত নুরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন গণতন্ত্রী পার্টি, গণ-আজাদী লীগ, অজয় রায়ের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট কেন্দ্র, ডা. জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম-এ ৭টি দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জোট গঠনের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট গঠন করে। তবে এক বছর না যেতেই ২০০৬ সালে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে গণফোরাম ও নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির একটি অংশ আবার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বেরিয়ে যায়। ফলে ১১ দলে থাকে ৬ দল ও গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির একাংশ। জোটে থাকা না থাকা নিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা বলেন,  নানা কারণে ১৪ দল থেকে কিছু দল অনেক আগেই চলে গেছে। তবে আমরা ঈদের পর বাম-প্রগতিশীল দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করব। যাতে তারাও জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্য প্রতিরোধে আমাদের সঙ্গে আবার সম্পৃক্ত হয়। সূত্রমতে, জোটের অন্যান্য শরিক দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাছেও গুরুত্বহীন। এ নিয়ে বঞ্চিত শরিক দলের মধ্যে ক্ষোভের বেদনাও কম নয়। যদিও আওয়ামী লীগ এসব বিষয় আমলে আনছে না। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন, চাওয়া-পাওয়া ও কর্মসূচি নিয়ে জোটের বৈঠকে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশও ঘটেছে। চলতি বছরের গত ৩ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানম-ির রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বৈঠকে সারা দেশে সাংগঠনিক কার্যক্রম কর্মসূচি নির্ধারণে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। শরিক দলের নেতা ন্যাপের এনামুল হক ক্ষোভের সঙ্গে বলেন কীভাবে কর্মসূচি পালন করবেন আগে কমিটি ঠিক করুন। কর্মসূচি ঘোষণা করলেই পালন করা যায় না। আগে তৃণমূলে ১৪ দলকে সংগঠিত করতে হবে। ওই বৈঠকে এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এনামুলের উদ্দেশে বলেন, আপনারা আগে নিজ নিজ দলের কর্মসূচি দিন। শুধু আওয়ামী লীগই কর্মসূচি করবে বা ১৪ দলগতভাবে করতে হবে তা তো ঠিক নয়। জানা গেছে গেল উপজেলা নির্বাচনের পাঁচটি ধাপ শেষ হলেও হাতেগোনা কয়েক জায়গায় দু’একটি দল প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করলেও বেশির ভাগ দলই কোনো প্রার্থী দেওয়া তো দূরের কথা নির্বাচনের ধারে-কাছেও ছিল না। ১৪ দলের অন্যতম শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টি। দেশের ৫১টি জেলায় সাংগঠনিক কার্যক্রম রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে উপজেলা নির্বাচনে মাত্র ২৮টি উপজেলায় প্রার্থী দিতে সক্ষম হয় দলটি। এর মধ্যে নড়াইল সদর, বরিশাল সদর, রাজশাহীর পবা ও দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় একজন পুরুষ ও তিনজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জয়লাভ করেন। তবে জাতীয় সংসদে তাদের ৬ জন প্রতিনিধি এবং মন্ত্রিসভায়ও ঠাঁই পেয়েছেন পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। জোটের আরেক শক্তিশালী দল জাসদ। এ দলের সারা দেশে ৫৮টি জেলায় সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে বলে দলীয় সূত্র দাবি করেছে। ক্ষমতাসীন জোটে এ দলের ৬ জন এমপি রয়েছেন। দলের সভাপতি সরকারের তথ্যমন্ত্রী। উপজেলা নির্বাচনে দলটি একশ প্রার্থী দিলেও চেয়ারম্যান পায়নি দেশের কোথাও। কুলাউড়ায় একজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, কুষ্টিয়ার মিরপুরে ভাইস চেয়ারম্যান ও রাজশাহীর বাঘায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করেন তারা। রাজধানীতে কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোটের কর্মসূচিতে দেখা মেলে জোটের শরিক গণতন্ত্রী পার্টির। অন্য সময় হাতেগোনা দু-একটি কর্মসূচি ছাড়া কোনো কর্মসূচি নেই। বেশ কয়েকটি জেলায় সাংগঠনিক কর্মসূচি থাকলেও একমাত্র কিশোরগঞ্জ ও গাজীপুর জেলা ছাড়া সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী কোনো কার্যক্রম নেই। শরিক দল সাম্যবাদী দলের বেশ কয়েকটি জেলায় কার্যক্রম থাকলেও সাংগঠনিক অবস্থা ভংগুর। তবে এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া বিগত মেয়াদে সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়ে নিজের ভাগ্য গড়ে নিয়েছেন। অন্য দলগুলোর কার্যক্রম দেখা গেলেও এখন আর দিলীপ বড়ুয়া একটি ব্যানার হাতে নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়ান না। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। দেশের প্রাচীন দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির ৩৪টি জেলায় পূর্ণাঙ্গ ও ২৬টি জেলায় আহ্বায়ক কমিটি থাকলেও উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার মতো নেতাকর্মী খুঁজে পায়নি তারা। একইভাবে বেহাল অবস্থায় রয়েছে কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, জাকের পার্টির। দেশব্যাপী এসব দলের সাংগঠনিক ভিত্তি এখনো গড়ে উঠেনি। জোটেও তারা ফ্রাক্টর হতে পারেনি। এবার নতুনভাবে আওয়ামী লীগের জোটে যুক্ত হয়েছে বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জেপি।

বিস্তারিত»
কুলাউড়া বিএনপি’র ইফতার মাহফিল অনুষ্টিত

এম. মছব্বির আলী: কারানির্যাতিত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এড. এএনএম আবেদ রাজা গাজায় গণহত্যা ও দেশে পুলিশের গুলি, হত্যা ও গুমের মাধ্যমে রক্ত ঝরিয়ে গণআন্দোলন বন্ধের অপচেষ্টার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, মুসলমানদের অনৈক্যের জন্য দেশে বিদেশে মার খাচ্ছি। গাজায় ইসরাইলী বাহিনী গণহত্যা চালাচ্ছে। ঈদ পরবর্তী সরকার বিরোধী চুড়ান্ত সংগ্রামের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। তিনি কুলাউড়ার উন্নয়নে এবং দলকে সুসংগঠিত করার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। গতকাল ২৪ জুলাই বৃহস্পতিবার কুলাউড়া বিএনপি ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় ফাইভ স্টার মার্কেটের ২য় তলায় বিশাল দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত আহবান জানান। উপজেলা বিএনপির সভাপতি পৌর মেয়র কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদ এর সভাপতিত্বে ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল আলম সোহেলের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ সভাপতি ও কুলাউড়া উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল হান্নান, যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সংগঠক ও সাবেক কুলাউড়া উপজেলা ছাত্রদল নেতা মোঃ আব্দুল আহাদ। সভায় বিশেষ অবদানের জন্য প্রবাসী নেতা আব্দুল আহাদকে ক্রেস্ট দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এডিএম আতাউর রহমান, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সিরাজ উদ্দিন বলু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক জুবের আহমদ খান, পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক ফয়জুর রহমান গোলাপ, পৌর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আব্দুস সহিদ জুবের, ছাত্রদল নেতা কাওসার আমির বাবুল। সভায় কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি ভূকশিমইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ রওশন খান ও অন্যান্যের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করে রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়। আয়োজনটি কুলাউড়ার সর্বস্তরের মিলন মেলায় পরিণত হয়। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল বারী মাস্টার, উপজেলা জাতীয় পার্টির কাজী জাফর গ্র“পের আহবায়ক জদিদ হায়দর চৌধুরী, সিলেট জেলা ঐক্যজোটের সহ সভাপতি এড. নাসির উদ্দিন, কুলাউড়া উপজেলা ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক মাওঃ হাফেজ মাজহারুল ইসলাম সাদিক, উপজেলা বিএনপির সহ সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন ভূইয়া, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল খান, প্রচার সম্পাদক শেখ মোঃ শহীদুল ইসলাম, সহ দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপি নেতা জমসেদ খান ও উপজেলার সকল ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি/সম্পাদক ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে দোয়া পরিচালনা করেন ইসলামী ঐক্যজোট সিলেট জেলা শাখার সভাপতি মাওঃ আছলাম রহমানী।

বিস্তারিত»
লাইলাতুল কদরে রাতভর ইবাদতে কাটালেন খালেদা জিয়া, তারেক রহমান

পবিত্র শবেকদরে বায়তুল্লাহ শরিফে রাতভর ইবাদত বন্দেগিতে কাটিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, কিয়ামুল লাইলসহ সব ধরনের নফল ইবাদত করেন তিনি। তার সাথে ইবাদত বন্দেগিতে সঙ্গ দিয়েছেন বড় ছেলে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী-সন্তানেরা। রমজানের শেষ ১০ দিনের মহাপবিত্র এই সময়ের ইবাদতের কারণে মদিনার মতো মক্কায় নেতাকর্মীদের বিশেষ কোনো সময় দিচ্ছেন না এই দুই নেতা। মদিনায় নেতাকর্মীদের সাথে ইফতার ও মতবিনিময়সহ বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজ করেছিলেন তারেক রহমান। মদিনার মতো মক্কাতেও প্রিয় নেতার সাথ সাক্ষাৎ পাওয়া যাবে, এমন আশায় অনেক প্রদেশ থেকে নেতাকর্মীরা মক্কায় ছুটে এসেছেন। কিন্তু কোনো নেতাকর্মীদের সাথে দেখা করছেন না তারেক রহমান। শুধু ইবাদত নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। এ ছাড়া রয়েল প্যালেসের অতিরিক্ত নিরাপত্তা বেষ্টনীর কারণে সিনিয়র কোনো নেতাও তাদের সাথে দেখা করতে পারছেন না। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান জানান, পবিত্র মক্কায় আসার পর থেকে ইবাদত বন্দেগিতেই সময় কাটাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। একইভাবে শবেকদর পালন করেন তিনি। ইবাদত বন্দেগি ছাড়া অন্য কোনো কর্মসূচি নেই তার। খালেদা জিয়া গত ২০ জুলাই পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব আসেন। সফরের শুরুতে মদিনায় তিনি মহানবী (সা:) রওজা মোবারক জিয়ারতের পাশাপাশি তিন দিন ইবাদত বন্দেগিতে কাটান। ২২ জুলাই মক্কায় এসে পবিত্র ওমরা পালন করেন। আগামীকাল শনিবার তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। একই দিনে তারেক রহমান চলে যাবেন লন্ডনে। খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়াও রয়েছেন তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান, মেয়ে জায়মা রহমান, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত এনামুল হক চৌধুরী, আলোকচিত্রী নুরুদ্দিন আহমেদ, বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শাহ শরীফ কামাল তাজ। এ ছাড়া বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান, আহমেদ আলী মুকিব, জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু খালেদা জিয়ার সফর সঙ্গীদের দেখভাল করছেন। নদি

বিস্তারিত»
কুলাউড়ায় সফি আহমদ সলমানের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

এম. মছব্বির আলী: কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক, কাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, শাহ্জালাল আইডিয়াল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও সাপ্তাহিক কুলাউড়ার ডাক পত্রিকার সম্পাদক এ কে এম সফি আহমদ সলমানের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও দোয়া গতকাল ২৪ জুলাই বৃহস্পতিবার কুলাউড়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের বাদে মনসুরস্থ  বাসভবনে ‘আপন নিবাস’ অনুষ্ঠিত হয়। ইফতার মাহফিল ও দোয়ায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লুৎফুর রহমান চৌধুরী হেলাল, কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম, কুলাউড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নেহার বেগম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি অরবিন্দু ঘোষ বিন্দু, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনসুর আহমদ চৌধুরী ও ফজলুল হক ফজলু, কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ অমল কুমার ধর, পৌর কাউন্সিলর ইকবাল আহমদ শামীম, সাবেক কাউন্সিলর মোঃ ইনুছ মিয়া, উপজেলা আওয়ামীগের সদস্য আব্দুল বারী, জেলা জাপা প্রচার সম্পাদক এএসএম ছিদ্দিক আহমদ লোকমান, জাপা নেতা মুহিবুল কাদির চৌধুরী পিন্টু ও খুরশেদ উল্যাহ মাষ্টার, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি বদরুল ইসলাম বদর, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সহিদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ আহবায়ক অজয় দাস, যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম ও হোসেন মনসুর, কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সভাপতি বদরুজ্জামান সজল ও সম্পাদক জাফর আহমদ গিলমান, মহতোছিন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফয়জুর রহমান ছুরুক, নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন, কাদিপুর ইউপি সদস্য সফিক মিয়া, ছাত্রলীগ নেতা আহবাব হোসেন রাসেল। সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া প্রেসক্লাব সভাপতি এম শাকিল রশীদ চৌধুরী, সাপ্তাহিক কুলাউড়ার ডাক পত্রিকার বার্তা সম্পাদক এম. মছব্বির আলী, মানব ঠিকানার বার্তা সম্পাদক চৌধুরী আবু সাঈদ ফুয়াদ, চীফ রিপোর্টার আলাউদ্দিন কবির, দিনকাল প্রতিনিধি মোক্তাদির হোসেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের কুলাউড়া প্রতিনিধি নাজমুল ইসলাম, সবুজ সিলেট প্রতিনিধি তারেক হাসান, বাংলামেইলের মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি শরীফ আহমদ, সকালের খবরের কুলাউড়া প্রতিনিধি সাইদুল হাসান সিপন ও সাপ্তাহিক কুলাউড়ার ডাক পত্রিকার জুড়ী ব্যুরো অফিসের সহকারী ব্যুরো প্রধান রাহেলা সিদ্দিকা প্রমুখ। এছাড়াও আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, শ্রমিকলীগ, ছাত্রলীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  

বিস্তারিত»
প্রেস ব্রিফিং শেখ হাসিনার অবৈধ সরকারের প্রপাগান্ডা ক্যাম্পেইন  যুক্তরাজ্য সরকারের সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ

লন্ডন:অবৈধ সরকারের বৈধতা অর্জনে মরিয়া শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্য সরকারের সমর্থন আদায়ে প্রপাগান্ডা ক্যাম্পেইন সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গত ২৪ জুলাই বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান লন্ডনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ দাবি করেন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ওয়েবসাইটে যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে তাতে পরিস্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে আওয়ামীলীগ প্রধান শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ উন্নয়নে মতপ্রকাশে স্বাধীনতা, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকরূপ দানে সকলের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে তার ব্যর্থতা স্বীকার করে তা উত্তরোণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার করেছেন। প্রেস ব্রিফিং মূলত শেখ হাসিনার মিথ্যা প্রপাগান্ডা ক্যাম্পেইন, ভোগবাদীতা, বিলাসীতা, স্বেচ্ছাচারিতা এবং জনগণের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের টাকা যথেচ্ছভাবে খরচের প্রতিবাদ স্বরূপ। আপনারা দেখেছেন বাংলাদেশের, ভোটার বিহীন প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফর সঙ্গীর এক বিশাল বহর নিয়ে লন্ডনে এসেছেন, গার্ল সামিট ২০১৪ এ যোগ দেয়ার জন্য। ব্রিটিশ সরকার ও ইউনিসেফের উদ্যোগে  প্রথমবারের মতো এই সামিটে অংশ নেয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বিভিন্ন দেশ থেকে সরকারের প্রতিনিধি ও এনজিওর প্রতিনিধিরা সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু কোন দেশ থেকে সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান সমপর্যায়ের কেউ উ্পস্থিত হননি। শেখ হাসিনা সমস্ত লাজ লজ্জা প্রটোকল ভেঙ্গে কেন এসেছিলেন তার প্রেক্ষাপট ভিন্ন, শেখ হাসিনার কাছে উপলক্ষ ছিল, গার্ল সামিট লক্ষ্য ছিল ক্যামেরুন আর ক্যামেরা, কারণটাও আপনারা সবাই অবগত আছেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শাইস্তা চৌধুরী কুদ্দুস, সাবেক আহবায়ক এম এ মালেক, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালাম, য্ক্তুরাজ্য বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আবদুল হামিদ চৌধুরী, সহ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ম সম্পাদক ব্যারিস্টার আবু সায়েম, শহিদুল ইসলাম মামুন, দপ্তর সম্পাদক ড. মুজিবুর রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা মিসবাউজ্জামান সোহেল, এস এম লিটন, মাওলানা মোহাম্মদ শামীম, সেলিম আহমদ, আমিনুল ইসলাম আমিন, রফিকুল ইসলাম সজীব প্রমুখ।  শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীর পদ দখল করে রাখার জন্য ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের নামে যে তামাশা হয় সেই তামাশার নির্বাচন সারা বিশ্বের কোন উন্নত ও গণতান্ত্রিক দেশ স্বীকৃতি দেয় নি। বরং যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্স, ইউরোপীয় ইউনিয়ন পার্লামেন্ট ও মার্কিন সিনেট একাধিকবার এ বিষয়ে শুনানিতে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে এবং ৫ জানুয়ারী নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে যতদ্রুত সম্ভব সকল দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করার তাগিদ দেয়া হয়েছে।  শেখ হাসিনা বিশ্ব সম্প্রদায়ের কথা উপেক্ষা করে জনগণের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের টাকা খরচ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে দেশের মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। সে জন্য গার্ল সামিটের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়ে দেরী করেননি। প্রথমে তিনি চেষ্টা করেছিলেন ব্রিটিশ প্রধান মন্ত্রীর সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে রূপান্তরের জন্য কিন্তু শত চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। তবুও শেখ হাসিনা তার বিশাল সফর বহর নিয়ে লন্ডন সফর করেছেন। ব্রিটিশ সরকার এই সামিটের হোস্ট হওয়ার কারণে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুনের সাথে একটি সৌজন্য সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন। এই সৌজন্য সাক্ষাৎকারেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন ৫ই জানুয়ারী প্রহসনের নির্বাচন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা, সর্বোপরী রাজনৈতিক পরিবেশ উন্নয়নে সকল দলের অংশগ্রহন সহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করে শেখ হাসিনাকে এসব সমস্যা উত্তরনে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য গুরুত্বারোপ করেছেন। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন সম্প্রতি জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মোমেন এক ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনকে মেনে নিয়েছে। এই বক্তব্যের পরদিনই আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে বিবৃতি দিয়ে এ বক্তব্যের সাথে দ্বিমত প্রকাশ করে ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত বলেন জানান। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রতি এডভোকেট আবদুল হামিদ জাতিসংঘ সেক্রেটারী জেনারেল বান কি মুনের সাথে সাক্ষাত করার পর প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, জাতিসংঘ ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন মেনে নিয়েছে, কিন্তু পরের দিন জাতিসংঘ থেকে এ বক্তব্যের সাথে দ্বিমত প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়া হয়। শেখ হাসিনার গার্ল সামিটে যোগ দিতে যুক্তরাজ্যে আগমন এবং মিথ্যা প্রপাগান্ডা চালিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে বৈধ হওয়ার  অপচেষ্টা করছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশের মহিলাদের ক্ষমতায়নে প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং ১৯৯১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্র পরিচালনায় আসারপর স্কুলে ছাত্রীবৃত্তি চালুর মাধ্যমে তাকে আরো ত্বরাণি¦ত করেন। তার পাশাপাশি ২০০১সালে ছাত্রীদের বৃত্তি ডিগ্রী লেভেল উন্নীত করে নারীর ক্ষমতায়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এখানে আওয়ামী সরকারের কৃতিত্ব দাবি করার কিছুই নেই। আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন বাংলাদেশে প্রায় ৪০ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ঈদ বোনাস পায়নি বলে ঈদ করতে পারবে না। অথচ জনগণের অর্থে শেখ হাসিনা বিশাল লটবহর নিয়ে বিলাশবহুল বিদেশ ভ্রমন করলেন। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে তত্তাবধায়ক সকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই অবৈধ সরকারের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। পরিশেষে সবাইকে পবিত্র রমজানে আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য আবারও ধন্যবাদ এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগাম ঈদ শুভেচ্ছা।  

বিস্তারিত»
বিবিসি বাংলায় সাক্ষাৎকার কেন আলোচনার কথা বলা হচ্ছে বোধগম্য নয় : হাসিনা

ঢাকা: অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সাথে আলোচনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি বুঝতে পারছি না আলোচনা নিয়ে সবাই এত ব্যস্ত কেন? নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। জানুয়ারি মাসে নির্বাচনে অংশ না নিয়ে তারা (বিএনপি) ভুল করেছে। তিনি বলেন, বিএনপিকে টেলিফোন করেছিলাম। কিন্তু টেলিফোন করার পর কি হয়েছিল সবাই তা জানে। জামায়াত নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না বলেই বিএনপি নির্বাচনে আসেনি।   লন্ডনে বিবিসি বাংলার সাথে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিবিসি বাংলার সম্পাদক সাবির মুস্তাফা। শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনের পর যে সংসদ হয়েছে তাতে বিরোধী দল আছে এবং সেই বিরোধী দল সংসদে উপস্থিত থেকে সরকারের বিরোধিতা করে যাচ্ছে।'   যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামের নেতাদের রক্ষা করার জন্য বিএনপি নাশকতার পথ বেছে নিয়েছে। একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারের সাহস আছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার।   শেখ হাসিনা বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি পদক্ষেপ নিতে ভুল করে, তার দায়িত্ব কার। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে।

বিস্তারিত»
জাবি ছাত্রদল ফোরামের ইফতারে মির্জা আলমগীর জিয়ার মাজার সরালে দেশের মানুষ বুকের রক্ত দিয়ে তা রুখবে

ঢাকা: বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার স্থানান্তর প্রসঙ্গে সরকারকে হুঁশিয়ার করে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জিয়ার মাজার স্থানান্তরের চিন্তা করলে দেশের মানুষ বুকের রক্ত দিয়ে তা রুখে দবে। দয়া করে এই হটকারী কাজ করবেন না। তাহলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ফোরাম আয়োজিত ‘গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। সরকার জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ধ্বংস করতে চায় মন্তব্য করে মির্জা আলমগীর বলেন, সরকার জিয়াউর রহমানের মাজার বগুড়ায় স্থানান্তরের চিন্তা করছে। এর অংশ হিসেবে জিয়াউর রহমানের স্মৃতি মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তার দুই ছেলেকে নির্বাসিত করা হয়েছে। এখন জিয়ার মাজার স্থানান্তরের মতো ভয়ঙ্কর চিন্তা করছে। আন্দোলন প্রসঙ্গে মির্জা আলমগীর বলেন, যারা বলছেন আন্দোলন হচ্ছে না, তাদের বলবো, আন্দোলনের গতি সব সময় এক থাকে না। কখনো আন্দোলনের গতি বাড়ে, কখনো কমে এবং কখনো তীব্র হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক খন্দকার মোস্তাহিদুর রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, সাবেক এমপি ডা. দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিন  প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিস্তারিত»
ঈদ বিশ্বের অসহায়দের সাথে সংহতি প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময় : রুশনারা

ঢাকা: বিশ্বের মুসলমানদের পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত বৃটিশ ছায়া শিক্ষামন্ত্রী এবং বেথনাল গ্রীণ ও বো আসনের এমপি রুশনারা আলী। ঈদ উপলক্ষে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান। রুশনারা বলেন, ঈদ উৎসবের একটি ক্ষণ। আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ এই উৎসবে আমরা পরিবার এবং বন্ধু বান্ধবের সাথে মিলিত হই, পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী এই উৎসবে অংশগ্রহণকারী সবার সাথে যোগ যেই। গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের সমালোচনা করে রুশনারা বলেন, পবিত্র মাহে রমজান হচ্ছে ইউকে তথা বিশ্বজুড়ে অসহায় এবং দরিদ্রদের সাথে সংহতি প্রকাশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এবারের ঈদে গাজার দুর্দশাগ্রস্থ বাসিন্দাদের কথা বিশেষভাবে মনে পড়ছে। গাজার পরিস্থিতি এক কথায় ভয়ংকর। এই পরিস্থিতির অবসানের জন্য বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী এবং তার সরকারকে যথাযথ সাহস ও লিডারশীপ প্রধানের আহবান জানিয়েছি। তিনি বলেন, সামপ্রতিক মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও গঠনমূলক আলোচনার উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিস্তারিত»
আন্তর্জাতিক চাপে সরকার, পাশে নেই বিজেপিও

ঢাকা: প্রতিনিধিত্বমূলক ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সরকার প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে পড়েছে সরকার। অপরদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের সহায়ক ভরসার স্থল ভারত সরকারের বদলও এ চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। কংগ্রেসের মত দলটির পাশে থাকছে না বিজেপি। ‘মার্কিন বার্তায় চাপে সরকার’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তরের বিশ্লেষণধর্মী এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, আরও প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার প্রতিষ্ঠায় নয়া মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বার্তায় চাপের মুখে পড়েছে সরকার। এর আগে এ ধরনের চাপে ভারতের কংগ্রেস সরকার পাশে দাঁড়ালেও এবার নতুন বিজেপি সরকার পাশে থাকছে না। ভারত তাদের জাতীয় বাজেটে বাংলাদেশের জন্য ৪০ শতাংশ বরাদ্দ কমিয়ে পাশে না থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে। এ অবস্থায় কূটনৈতিক মহল থেকে ফের সংলাপের চাপ আসতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাট সিনেটে শুনানিতে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ত্রুটিপূর্ণ বলে আরও প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠনে সংলাপ অনুষ্ঠানের আহ্বান জানিয়েছেন। ড্যান মজিনাসহ উন্নয়ন সহযোগীরাও এ ধরনের কথা বলেছেন। কিন্তু সরকার গুরুত্ব দেয়নি। কারণ কংগ্রেস আমলে ভারতের কাছ থেকে নির্বাচনের পক্ষে সমর্থন পেয়েছিল আওয়ামী লীগ। ভারতে ক্ষমতার পালাবদলের পর সমর্থনের হাওয়া পরিবর্তন হয়েছে। ভারতের বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ৪০ শতাংশ কমিয়ে দেয়া যে তারই বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন অনেকেই। বাংলাদেশ সরকারের ওপর থেকে ভারতের সমর্থন কমলে বা প্রত্যাহার হলে মার্কিনসহ অন্যদের চাপ সামাল দেয়া সরকারের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন কূটনীতিক, রাজনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। এ প্রসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রদূত আশফাকুর রহমান এ পত্রিকাকে বলেন, মার্কিন সিনেটে শুনানিতে বাংলাদেশের জন্য মনোনীত রাষ্ট্রদূত যা বলেছেন তা বাংলাদেশের জন্য কঠিন বার্তা। মার্কিন সিনেটের শুনানিতে ওয়াশিংটনের অবস্থান জানার জন্য মনোনীত রাষ্ট্রদূতকে এ ধরনের প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। রাষ্ট্রদূতের উত্তরে মার্কিন সরকারের অবস্থানের প্রতিফলন ঘটে থাকে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ৫ জানুয়ারি যে একতরফা নির্বাচন হয়েছে এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিলে অন্যান্য দেশেও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন মেনে নেয়া সম্ভব হবে না। আশফাকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের কাছে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা এবং পরবর্তী সরকারের পক্ষে তাদের সমর্থন আদায়ের জন্যই সম্মেলনে অংশ নিতে যুক্তরাজ্য সফরে গেছেন। এই সম্মেলনে স্বাগতিক দেশ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্য কোনো দেশের সরকারপ্রধান যাননি। এতে বোঝা যায় যে, শেখ হাসিনা তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতেই এই সম্মেলনে গেছেন। তিনি কতটা সফল হয়েছেন জানি না। তবে সবাই একটা আলাপ-আলোচনা শুরু করতে চাইবে বলে মনে হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মহসীন বলেন, নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত যা বলেছেন তা ওয়াশিংটনের অবস্থানের ধারাবাহিকতা মাত্র। এতদিন ড্যান মজিনা যা বলেছেন নতুন রাষ্ট্রদূতও সে কথাই বলেছেন। বাংলাদেশের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, আমি শুনেছি মনমোহন সরকার বাংলাদেশের জন্য যে মঞ্জুরি সহায়তার প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল বর্তমান মোদি সরকার তা বাজেটে সমন্বয় করেছে। বিজেপি সরকার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে নাক গলাবে না। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশ সফরে এসে সে কথাই বলে গেছেন। সংসদে বিরোধী দলের নেত্রী না হওয়া সত্ত্বে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। এটা মোদি সরকারের ভারসাম্যপূর্ণ নীতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের কংগ্রেস সরকারের সমর্থন থাকায় মার্কিন বিরোধিতার মুখেও বাংলাদেশ সরকার ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন করতে পেরেছে। ওই সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পরোক্ষভাবে নির্বাচনের বিরোধিতা করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোসহ উন্নয়ন সহযোগীরাও বিএনপিবিহীন নির্বাচনে বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু সরকারকে দমাতে পারেনি কেউ। তবে সমপ্রতি ভারতে কংগ্রেস সরকারের পরিবর্তন হয়েছে। খুব ধীরে হলেও বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ওপর থেকে মোদি সরকারের সমর্থন কমতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের জন্য ৪০ শতাংশ বরাদ্দ কমিয়ে তার প্রমাণ দিয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্রটি। অন্যদিকে বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতও পরিবর্তন হচ্ছে। তবে নতুন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে আসার আগেই ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ত্র“টিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। এক্ষেত্রে নতুন রাষ্ট্রদূত তার পূর্বসূরির পথ অনুসরণ করবেন এটা স্পষ্ট। শক্তিশালী দুটি রাষ্ট্র কাছাকাছি সময় বাংলাদেশকে আলাদাভাবে যে বার্তা দিয়েছে তা নিয়ে সরকার যে চাপে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য সরকারও নানা ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সরকারের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান সংহত করতে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে সরকার। তার অংশ হিসেবে লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে তার দেশের নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলেছেন। এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। নয়া মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাটের গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ত্রুটিপূর্ণ বলার পর নতুন করে চাপের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। নির্বাচনের পর পর একই ধরনের চাপ পশ্চিমারা সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু ভারতের বিদায়ী কংগ্রেস সরকার নির্বাচনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয়ায় ওই সময়ে সাময়িকভাবে চাপমুক্ত হয় শেখ হাসিনার সরকার। ভারতে কংগ্রেস বিদায় নেয়ার পর বর্তমান বিজেপি সরকার খানিকটা নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে পারে। বিজেপি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার ও বিএনপি উভয়েই সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বার্নিকাটের এই বক্তব্যে সরকারের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশের মানুষের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অথচ নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে না এসেই আমেরিকায় বসে বাংলাদেশের নির্বাচনকে ত্রুটিপূর্ণ বলেছেন। উনি কি নির্বাচন স্বপ্নে দেখেছেন? কূটনীতিকদের মনে রাখা উচিত এটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। এদেশের ভবিষ্যৎ এদেশের মানুষই নির্ধারণ করবে। শেরপুরে নিজের নির্বাচনী এলাকায় মঙ্গলবার তিনি এসব কথা বলেন। ভারতের বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ৪০ শতাংশ কমিয়ে দেয়ার বিষয়ে দেশটির পক্ষ থেকে দেয়া এক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, মনমোহন সরকার ২০১০ সালে শেখ হাসিনার দিল্লি সফরকালে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ দেবে। তারপর ২০১২ সালে সেই ঋণের ২০ কোটি ডলার মঞ্জুরি ঘোষণা করে। ফলে অবশিষ্ট ৮০ কোটি ডলার ঋণ হিসাবে থেকে যায়। ভারতের ব্যাখ্যায় বলা হয়, মঞ্জুরি সহায়তার ১৫ কোটি ডলার ইতিমধ্যেই ছাড় করা হয়েছে। প্রতিশ্রুত সহায়তা নির্ধারিত সময়ে দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় বরাদ্দ বাজেটে সমন্বয় করা হয়েছে। এদিকে পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশ গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছে। তবুও তারা বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করছে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে কানাডার হাইকমিশনার হিদার ক্রুডেন যুগান্তরকে বলেন, যদিও আমরা নির্বাচনকে পুরোপুরি অংশগ্রহণমূলক বলে মনে করি না, তবুও আমরা সরকার, বিরোধী দলসমূহ, সুশীল সমাজ এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখব। কানাডার এই কূটনীতিক রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সংলাপে বসার এখনই সময়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হানা বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে বসতে কূটনীতিকদের তরফ থেকে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর কিছুটা বিরতি দিয়ে কূটনীতিকরা সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে ফের তৎপর হয়ে উঠছেন। বিদেশী কূটনীতিকদের সামপ্রতিক কথাবার্তায় এমন আভাসই পেয়ে তা মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের কৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ঈদের পর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে সৌদি আরব সফরে গেছেন। সেখানে পুত্র তারেক রহমানের সঙ্গে রাজনৈতিক আন্দোলন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। আন্দোলনের লক্ষ্যে বিএনপি দল এবং বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন পুনর্গঠন শুরু করেছে। সরকারবিরোধী এই আন্দোলনে কূটনীতিকদের সহমর্মিতা পেতে কৌশল খুঁজছে বিএনপি।

বিস্তারিত»
শেখ হাসিনাকে ক্যামেরন আমি সিলেটে যেতে চাই

ঢাকা: সিলেট সফরে আসার ইচ্ছে ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাথে যুক্তরাজ্যে সাক্ষাৎকালে ক্যামেরন বলেন, আমি কিন্তু সিলেটেও যেতে চাই। এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, আমরা অবশ্যই আপনাকে আমন্ত্রণ জানাব এবং আপনি সিলেটেও যাবেন। আমরা সব ব্যবস্থা করব। যুক্তরাজ্যে গার্ল সামিটে যোগদান ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেখ হাসিনার সাক্ষাতের বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। একতরফা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন এখন অতীত। ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে। ওই নির্বাচনের পর হতাশা ব্যক্ত করে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ ভোটে অংশ নেয়ার সুযোগবঞ্চিত হওয়ায় এবং অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় ভোটার উপস্থিতি ‘কম’ থাকায় নির্বাচন নিয়ে তারা হতাশ। গত সাত মাসে নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান ‘নরম’ হয়েছে কি না- জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রসিকতা করে বলেন, “মাত্র নরম? শুধু নরম?” বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান ‘স্পষ্ট’ হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অবশ্যই, দিনের আলোর মত পরিষ্কার। তিনি (ক্যামেরন) বলেছেন, ইলেকশন ইজ ওভার। ইট ইজ পাস্ট। নাউ উই লুক টু দ্যা ফিউচার। নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাটের বক্তেব্য প্রসঙ্গে মাহমুদ আলী বলেন, ওটা আমেরিকার বক্তব্য নয়। ওটা মনোনীত রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য। তাদের সরকারের মন্তব্য না। পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিক, বাংলাদেশে তাদের আত্মীয়-স্বজন এবং বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের অসুবিধায় ফেলে এমন কোনো কনস্যুলার বা ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত না নিতে বৃটিশ সরকারকে সুপারিশ করবেন বলে প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বাস দিয়েছেন সে দেশের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক পার্লামেন্টারি কমিটির সভাপতি কিথ ভাজ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

বিস্তারিত»
 ক্যামেরন-হাসিনা বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাজ্যের হতাশা পুর্নব্যক্ত: বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র

লন্ডন: ৫ জানুয়ারি একতরফা সংসদ নির্বাচন নিয়ে ফের হতাশা ব্যক্ত করেছে যুক্তরাজ্য। একি সাথে অর্ধেকেরও বেশী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে ১০ নম্বর ডাউনিংস্ট্রীট। যুক্তরাজ্য সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামরনের বৈঠককালে দেশটির পক্ষে এ হতাশার কথা পুর্নব্যক্ত করা হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর একজন মুখপাত্র। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, ‘‘শেখ হাসিনা-ক্যামেরন বৈঠকে ২০১৪ সালের নির্বাচনে অর্ধেকেরও বেশী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবার ঘটনায় যুক্তরাজ্যের হতাশার কথা পুর্নব্যক্ত করেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী। তারা বাংলাদেশে মুক্ত চিন্তার স্বাধীনতা, সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক চর্চা এবং সংবাদ মাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতার গুরুত্বের উপর একমত পোষন করেন।’’ বাল্য বিবাহ রোধে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিতে স্বাগত জানান বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মহিলাদের ক্ষমতায়নে তার গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন বলে জানান ঐ মুখপাত্র। এ সময় ২০১৫ সালের সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে উভয় নেতা আলোচনা করেন। পরিশেষে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের উভয় দেশের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। এদিকে, যুক্তরাজ্যে গার্ল সামিটে যোগদান ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেখ হাসিনার সাক্ষাতের বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন এখন অতীত। ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে। গত সাত মাসে নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান ‘নরম’ হয়েছে কি না- ঐ সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রসিকতা করে বলেন, “মাত্র নরম? শুধু নরম?” বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান ‘স্পষ্ট’ হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অবশ্যই, দিনের আলোর মত পরিষ্কার। তিনি (ক্যামেরন) বলেছেন, ইলেকশন ইজ ওভার। ইট ইজ পাস্ট। নাউ উই লুক টু দ্যা ফিউচার। বৈঠকে ডেভিড ক্যামেরন মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সাফল্যের অকুণ্ঠ প্রশংসা করেন বলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান।   প্রথমবারের মতো আয়োজিত গার্ল সামিট প্রসঙ্গে মাহমুদ আলী বলেন, “অন্য কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী এখানে যান নাই। তারা (যুক্তরাজ্য) দাওয়াতই করেন নাই। শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে কন্যাশিশু ও নারী অধিকার সুরক্ষায় যে সাফল্য, সে হিসাবেই তাকে দাওয়াত করেছেন।” নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাটের বক্তেব্য প্রসঙ্গে মাহমুদ আলী বলেন, ওটা আমেরিকার বক্তব্য নয়। ওটা মনোনীত রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য। তাদের সরকারের মন্তব্য না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

বিস্তারিত»
পেটব্যথার জন্য ডাক্তারের কাছে গিয়ে জানলেন তিনি নারী!

একজন পুরুষ যদি পেটব্যথার জন্য ডাক্তারের কাছে গিয়ে জানতে পারেন তিনি একজন নারী এবং তার মাসিকের ব্যথা হচ্ছে, তাহলে ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য বলেই মনে হয়। কিন্তু এমনই এক ঘটনা ঘটেছে চীনে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে হাফিংটন পোস্ট। মি. চেন নামে চীনা সেই ব্যক্তি ডাক্তারের কাছে যান তার পেটব্যথা ও প্রসাবের সঙ্গে রক্ত পড়ার সমস্যায়। ডাক্তাররা সে ব্যক্তিকে সিটি স্ক্যান করেন এবং জানতে পারেন পুরুষের মতো দেহ হলেও তিনি বাস্তবে একজন নারী। আর তার এ ব্যথা মাসিকেরই ব্যথা। ৪৪ বছর বয়সি এ ব্যক্তি বিবাহিত। তার স্ত্রী রয়েছে এবং তার সঙ্গে তিনি যৌনমিলনও করেন বলে জানান। কিন্তু পরীক্ষায় ধরা পড়েছে তিনি একজন নারীর এক্সএক্স ক্রমোজম বহন করছেন। ফলে তার বিষয়টিকে বেশ আশ্চর্যজনক বলেই মনে করছেন ডাক্তাররা। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি ধরা পড়ার পর তাকে আবার পরীক্ষার জন্য ডাকেন ডাক্তাররা। এতেও প্রমাণিত হয় তিনি শারীরিকভাবে একজন নারী। ইয়ংকাং-এর ফার্স্ট পিপলস হসপিটালের প্রধান বলেন, ‘তিনি পুরুষের পোশাক পরেছিলেন। এ ছাড়াও তার চুল ছোট করে ছাটা ছিল। ফলে আমরা ভাবতেও পারিনি তিনি একজন নারী।’ তবে মি. চেন ডাক্তারদের জানিয়েছেন তিনি নিজেকে একজন পুরুষ বলেই মনে করেন এবং স্ত্রীর সঙ্গে তিনি যৌনমিলনও করেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত অবশ্য তিনি জানাননি। আর চীনা এ ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।  

বিস্তারিত»
গোলাপগঞ্জে ইফতার  মাহফিল ও দোয়া

গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১১নং শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের মেহেরপুর গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক এম.এম নাছির উদ্দিনের পিতা মরহুম হাজী কমর উদ্দিন এর রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল গত ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়। সমাজসেবী রেজাউল করিম মুক্তার এর সভাপতিত্বে ও এম.এম নাছির উদ্দিন এর পরিচালনায় ইফতার পূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ নাজমুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ঐক্যজোট সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা আছলাম রহমানী, ১০নং উত্তর ভাদেপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেহান উদ্দিন রায়হান, ১১নং শরীফগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাষ্টার রেহান উদ্দিন, সমাজসেবী মাষ্টার নুরুল হক, ছুরাব আলী মেম্বার, এনামুল হক এনাম, মাওলানা আব্দুর কাহির, জাহেদুর রহমান, মাষ্টার জসিম উদ্দিন, মাওলানা আব্দুল হক, শামীম আহমদ, সাবেক মেম্বার সাইম উদ্দিন, নাসির উদ্দিন জবলু প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফিজ বিলাল আহমদ। মোনাজাত পরিচালনা করেন মেহেরপুর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল হান্নান। বিজ্ঞপ্তি  

বিস্তারিত»
ভয়ংকর সুন্দর

ডেস্ক নিউজ:সাপ কথাটা শুনলেই বুকের ভিতরে যেন কেমন করে ওঠে, তাই না? মুহূর্তেই মনে হয় কিলবিলে একটা বিষধর প্রাণীর কথা। মনে হয় এই বুঝি সামনে ফণা তুলে দাঁড়িয়ে গেল কোনো বিষধর সাপ। তবে যাই বল, সাপ যতই হিংস্র আর বিষাক্ত হোক না কেন; বেশ কিছু সুন্দর সুন্দর সাপও কিন্তু রয়েছে। দাঁড়াও দাঁড়াও কথা শুনে ক্ষেপে গেলে তো হবে না। আমি তো বলি নি যে সাপগুলো ভালো। বলেছি, দেখতে সুন্দরের কথা। মানে ভয়ঙ্কর সুন্দর আর কি। আজকে চলো আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে রঙিন আর সুন্দর সাপগুলোর সঙ্গে পরিচিত হয়ে আসি।     ব্রাজিলের রঙধনু বোয়া (Brazilian Rainbow Boa)   নিশ্চয়ই ভাবছ, এ আবার কেমন নাম। বোয়া হলো অজগরের একটা জাত। এদের বিষ নেই ঠিকই তবে শিকারকে জড়িয়ে ধরে দুমড়িয়ে মুচড়িয়ে খেয়ে ফেলে। তবে সে আবার কেন রঙধনুর মতো, তাই তো? দেখলে অবশ্য এ কথা বলতে না। কারণ সাপটি দেখতে সত্যিই রঙধনুর মতো। হরেক রকম রঙে রঙিন এই সাপটিকে তাই সবার প্রথমে রাখতেই হচ্ছে। এখন নিশ্চয়ই জানতে চাইছ এদেরকে কোথায় পাওয়া যায়! এদেরকে দেখা যায় দক্ষিণ আমেরিকার রেইন ফরেস্টে।     সবুজ গেছো অজগর (Emerald Tree Boa)   এটি  একটি বিষহীন সাপ। এদেরকেও দক্ষিণ আমেরিকার রেইন ফরেস্টে দেখতে পাওয়া যায়। গায়ের রঙ পুরো সবুজ, আর থাকেও গাছে গাছে। এজন্যই এর নাম হয়েছে সবুজ গেছো অজগর।  প্রাপ্তবয়স্ক হলে এরা প্রায় ৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এদের সামনে যে দাঁত দুটো আছে সেগুলো অন্য যে কোনো বিষহীন সাপের চেয়ে বড়।       বার্মার অ্যালবিনো অজগর (Albino Burmese Python)   যখন কারও শরীরের রঙ অর্থাৎ চামড়া, চুল এবং চোখে স্বাভাবিক রঙ থাকে না, তখন তাকে অ্যালবিনো বলা হয়। সেরকমই একটি অজগর হলো এই সাপটি। অর্থাৎ এই সাপটিও স্বাভাবিক অজগরের মতো নয়। অন্তত রঙের দিক থেকে তো নয়ই। অদ্ভূত সুন্দর এর গায়ের রঙ। ভারতীয় উপমহাদেশে যতগুলো অজগর দেখা যায় তার মধ্যে এরাই সবচেয়ে বড় হয়ে থাকে। আর যদি সারা বিশ্বের কথা চিন্তা করা যায় তবে এটি দৈর্ঘ্যরে দিক থেকে ৬ষ্ঠ স্থানটি দখল করে আছে। এদেরকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার রেইন ফরেস্টেও দেখা যায়।     নেলসনের দুধসাপ (Nelson's Milksnake)   নামের মতো এই সাপটিও দেখতে আসাধারণ। লাল আর সাদার অপূর্ব মিশ্রণে সাপটির চেহারা সত্যিই আকর্ষণীয়। এদেরকে পাওয়া যায় মেক্সিকোর সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায়। গড়ে এরা ৪২ ইঞ্চি দীর্ঘ হয়ে থাকে। তবে ব্যাপার হলো গিয়ে এদেরও কিন্তু বিষ নেই।         ইঁদুরখেকো লাল সাপ (Red Rat Snake)   এই ইঁদুরখেকো সাপটিকে সাধারনত উত্তর আমেরিকাতে দেখা যায়। এদেরকে অবশ্য ভুট্টা ক্ষেতের সাপও বলা হয়। কারণ এরা ভুট্টার জমিতে থাকে আর সেখানে যত ইঁদুর আছে সেগুলো ধরে ধরে খায়। তবে তাদের শরীরের বাহারি রঙ বেশ আকর্ষণীয়। সেদিক থেকে চিন্তা করলে এই সাপগুলোও সুন্দর সাপের তালিকাতেই পড়ে। প্রাপ্তবয়স্ক ইঁদুরখেকোগুলো ১.২ থেকে ১.৮ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।       কার্পেট অজগর (Morelia spilota)   বাহারি বুটিদার চেহারার জন্যই এই প্রজাতির অজগর সাপকে কার্পেট অজগর বলা হয়ে থাকে। তবে কোনো কোনো সময় এদেরকে ডায়মন্ড অজগরও বলা হয়। এই সাপের শরীরে চমৎকার কিছু নকশা দেখা যায়। সৌন্দর্যের দিক থেকে এরাও কোনো অংশে কম যায় না। কার্পেট অজগর পাওয়া যায় অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং নিউ গিনিতে। এদের গড় দৈর্ঘ্য ২ থেকে ৪ মিটার এবং একেকটার ওজন ১৫ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।       শিংওলা সাপ (Bitis nasicornis)   সাপেরও শিং থাকে। বিশ্বাস হচ্ছে না! শিংওলা এই সাপটি দেখা যায় আফ্রিকার জঙ্গলে। শুধু শিং না, এদের সারা শরীরে আছে বাহারি রঙের নকশা। এই কারণেও এরা বিখ্যাত। এই সাপটি কিন্তু বিষাক্ত। কাজেই যদি সামনাসামনি হয়েই যাও এই সাপের তবে এদের সৌন্দর্যে সবকিছু ভুলে গিয়ে আবার ধরতে চলে যেও না। তাহলেই কিন্তু কম্ম কাবার। এদের গড় দৈর্ঘ্য ৭২ সেমি থেকে ১০৭ সেমি পর্যন্ত হয়।       রাবার সাপ (Coast Garter Snake)   মোজার মধ্যে তো বটেই অন্যান্য জায়গায়ও হরেক রঙের রাবার ব্যবহার করা হয়। এ তো তোমাদের অজানা নয়। যদি এরকম একটি রাবার বেশ নড়েচড়ে বেড়ায় তবে কেমন লাগবে! হ্যা, রাবার ঠিক নড়েচড়ে না কিন্তু এক ধরণের সাপ আছে যেগুলো দেখতে রাবারের মতো, অনেক রঙ তাদের গায়ে। আর এগুলো তো নড়েচড়ে বেড়াবেই। এদেরকে দেখা যায় আমেরিকাতে। তবে এদের তেমন বিষ নেই। কাজেই তেমন বিপজ্জনক হিসেবে এগুলোকে ধরা হয় না।        স্বর্গীয় গেছো সাপ (Paradise Tree Snake)   ভাবছো নিশ্চয়ই এ আবার কেমন কথা! স্বর্গ থেকে তো আর সাপ নেমে আসতে পারে না। আসলে ব্যাপারটা তা নয়। এদের শরীরের উজ্জ্বল রঙের কারণে এদের দেখতে লাগে অসাধারণ সুন্দর। এ কারণেই এদেরকে বলা হয় স্বর্গীয় সাপ। এদের আরো একটা নাম রয়েছে। কোনো কোনো জায়গায় উড়ন্ত সাপ নামেও ডাকা হয় এদেরকে। কেন! এরা গাছের উপর থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত লাফ দিতে পারে। এজন্যই এই নামকরণ। এই স্বর্গীয় গেছো সাপগুলোকে পাওয়া যায় এশিয়াতেই।       নীল উপকূলীয় সাপ (Blue Coral Snake)   বেগুনী অথবা গাঢ় নীল রঙের এই সাপটিকে পাওয়া যায় ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং থাইল্যান্ডে। মজার ব্যাপার হচ্ছে সাপটির পুরো গায়ের রঙ নীল হলেও মাথা এবং লেজ এর গাঢ় লাল রঙের। এ কারণেই একে দেখতে অসাধারণ সুন্দর লাগে। তবে এও কিন্তু ভয়ংকর সুন্দর। মানে হলো এটিও বিষধর সাপ।

বিস্তারিত»
সিলেট কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে প্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুকদের সাথে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

সরকারী ভাবে প্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুকদের পরিকল্পিত প্রশিক্ষন ও অবস্থান পর্যালোচনা করে পূর্ণবাসন প্রয়োজন বৃহত্তর সিলেটের অরাজনৈতিক কল্যাণ মূলক স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন সিলেট কল্যাণ সংস্থা’র উদ্যোগে সিলেট কল্যাণ সংস্থার যুক্তরাজ্য শাখা বাংলাদেশী কমিউনিটি নেতৃবৃন্দদের সহযোগীতায় ২৪ জুলাই ২০১৪ বৃহস্পতিবার সময় সন্ধ্যা ৬টা ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্টস্থ কালেক্টর জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে প্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুকদের সাথে ইফতার মাহফিল পূর্ব আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুকরা সমাজের বোঝা নয়। তাদের সবাইকে পরিকল্পিত ভাবে সাধারন নাগরিকদের অবস্থায় নিয়ে আসার জন্য প্রশিক্ষন ও পুর্নবাসন প্রয়োজন। বক্তারা প্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুকদের শারীরিক অবস্থান যাদের চলার উপযোগী, তাদেরকে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে কর্মসস্থানের দিকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। বক্তারা আরো বলেন, প্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুকদেরকে তাদের অবস্থান পরিবর্তনের জন্য সত্যিকার ভাবে তৃণমূল অবস্থান থেকে যাচাই করে, অতিরিক্ত অসহায়দেরকে বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে নির্দিষ্ট হারে ভাতা প্রদান এবং শারীরিক অবস্থানে সক্ষম ব্যক্তিদের প্রশিক্ষন ও নির্দিষ্ট মেয়াদি ভাতা প্রদানের মাধ্যমে কর্মের প্রতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এতদ বিষয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নকারী মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে সঠিক ভাবে উদ্যোগ গ্রহন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তিদেরকে সঠিক ভাবে সরকারী কোষাগারে ভ্যাট, ইনকাম-ট্যাক্স ও সম্পদের সঠিক অবস্থান পর্যবেক্ষন করে যাকাত প্রদানের জন্য আহবান জানান। সিলেট কল্যাণ সংস্থার উপদেষ্টা যুক্তরাজ্য কমিউনিটি নেতা হাজী মোঃ রজব আলী দেওয়ান এর সভাপতিত্বে সংস্থার অন্যতম সদস্য এ কে কামাল হোসেনের পরিচালনায় শুরুতে পবিত্র কোরআন শরীফ থেকে তেলাওয়াত করেন সংস্থার অন্যতম সদস্য মোঃ জহিরুল ইসলাম জহির। ইফতার মাহফিল পূর্ব আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সংস্থার অন্যতম সদস্য এম সাদিকুর রহমান সাদিক। আয়োজনে স্বার্থকতা ও সিলেট কল্যাণ সংস্থা যুক্তরাজ্য শাখা বাংলাদেশী কমিউনিটি নেতৃবৃন্দদের প্রতি কৃতজ্ঞতা পোষন করে বিশেষ বক্তব্য রাখেন, সিলেট কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও কার্যকরি কমিটির সভাপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে জাতীয় যুব দিবস ২০১০ এ জাতীয় যুব পুরস্কার শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক পদক প্রাপ্ত মোঃ এহছানুল হক তাহের। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, সংস্থার অন্যতম সদস্য মোঃ আজিজুর রহমান আজিজ। আয়োজনে উপস্থিত প্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা উপস্থাপন করে বক্তব্য রাখেন, সংস্থার প্রতিষ্টাতা সাধারন সম্পাদক ও কার্যকরী কমিটির সাধারন সম্পাদক মোঃ জিয়াউর রহমান জিয়া। সাংগঠনিক ধারাবাহিক অবস্থান উপস্থাপন করে বক্তব্য রাখেন, সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও কার্যকরী কমিটির সদস্য মোঃ আব্দুর রাজ্জাক। আয়োজনের সাথে একাত্ততা ও অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, যুক্তরাজ্য কমিউনিটি নেতা সমাজসেবী মোঃ আখলু মিয়া, বিপ্রদাস বিশু বিক্রম, পারভেজ রহমান, হাফিজ মোঃ জাকারিয়া আহমদ, গাজী আলমগীর হোসাইন, স্বপন দাস, আহসান হাবিব খান, মনিরুল ইসলাম মনির, মোঃ আনোয়ার হোসেন, মোঃ রাশেদুজ্জামান রাশেদ, মোঃ মেহরাজ আহমদ মিল্লাদ, জামিল আহমদ, শ্রী সবুজ রায়, মাওলানা আব্দুর রহমান সাজু, মোঃ ফজলুল করিম মিনহাজ, বেলাল হোসেন, মোঃ আল-আমিন। ইফতারের পূর্ব মূহুর্তে উপস্থিত প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক ও সংস্থার সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে দোয়া পরিচালনা করেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোঃ আব্দুর রাজ্জাক। ইফতার মাহফিলে প্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুকদের মধ্য থেকে প্রায় ৩শতাধিক ব্যক্তিবর্গ স্বত:ফূর্ত ভাবে অংশ গ্রহন করেন।  

বিস্তারিত»

সাক্ষাৎকার

সাক্ষাত্কারে অধ্যাপক পিয়াস করিম: আন্দোলনে ব্যর্থ হলে বিএনপি আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক পিয়াস করিম বলেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে খুন-গুম, অর্থনৈতিক জালিয়াতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দেশব্যাপী জনগণের ক্ষোভ রয়েছে। আন্দোলনের মাঠ তৈরিই আছে। এখন বিএনপির কাজ হলো জনগণের এ ক্ষোভকে ভাষা দিয়ে আন্দোলনে নামা। আর ঈদের পর আন্দোলনে নামার যে হুমকি দিচ্ছে, এটা তাদের জন্য শেষ সুযোগ। এক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে দেশের জনগণের কাছে অপ্রাসঙ্গিক ও ব্যর্থ দল হিসেবে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে বিএনপি। গত সপ্তাহে আরটিএনএনএর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাত্কারে ড. পিয়াস করিম এসব কথা বলেন। সাক্ষাত্কারে দেশের রাজনৈতিক সংকট ও উত্তরণের উপায় নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন তিনি। পিয়াস করিম বলেন, দেশ পরিচালনায় আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা এবং সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিএনপির ব্যর্থতায় রাজনীতিতে প্রধান শক্তি হিসেবে ভবিষ্যতে জামায়াতের উত্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও আমি তা চাই না। তবে চোখ বন্ধ রাখলেই তো মহাপ্রলয় ঠেকানো যাবে না, প্রলয় হবেই। তবে জামায়াত না হলে আরেকটি শক্তি (সেনাবাহিনী) দেশের ক্ষমতায় চলে আসবে। ঈদের পর খালেদা জিয়ার সরকার পতনের আন্দোলন প্রসঙ্গে পিয়াস করিম বলেন, দল গুছানো এবং আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে তৃণমূলকে কোনো নির্দেশনা ছাড়া খালেদার আন্দোলনের ডাক অনেকেই হেসে উড়িয়ে দিলেও কেন তিনি বার বার হুমকি দিচ্ছেন তা ভেবে দেখতে হবে। তিনি অবশ্যই সাধারণ কেউ নন, তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। না জেনে-বুঝে তো তিনি এমন কথা বলবেন না। নিশ্চয়ই সে রকম প্রস্তুতি তার রয়েছে। আর এখনই তা বলে সরকারকে সজাগ করে দেয়ার মত ভুলও তিনি করবেন না। দেশের চলমান সংকট উত্তরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিতে পারেনি, ফলে জনগণের পছন্দের সরকার ক্ষমতায় আসেনি। তাই সকল দলের অংশগ্রহণে অবিলম্বে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে তিনি বলেন, এমন অক্ষম, অপদার্থ ও একচোখা নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা কখনই সম্ভব নয়। তার পুরো সাক্ষাত্কারটি নিম্নে তুলে ধরা হল- প্রশ্ন : কেমন আছেন স্যার? পিয়াস করিম: কথাটির উত্তর দু’ভাবে দেয়া যায়। ভাল থাকার যে অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার সবগুলোতে ভাল নেই। সাধারণভাবে বললে ভাল আছি। এছাড়া সবাইকে নিয়ে ভাল থাকার কথা বললে উত্তর হল- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় একদিকে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, শত শত মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠিত হয়েছে, অন্যদিকে মানুষ বিয়ে-শাদীও করেছে এবং সন্তান জন্ম দিয়েছে। তখনও মানুষ ভাল ছিল তবে কেমন ভাল ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সাধারণত হাজারো সমস্যার মাঝে সবাই যেমন ভাল থাকার চেষ্টা করে আমিও তেমন ভাল আছি। প্রশ্ন : গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম। সেই বাংলাদেশ এখন কেমন আছে? ড. পিয়াস করিম: ’৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় পেলেও তাদের ক্ষমতায় যেতে দেয়া হয়নি। এরপরই ’৭১ সালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়। এ সময় ডা. মিলন, নূর হোসেনসহ অনেকেই জীবন দিয়েছেন। কিন্তু এই মুহূর্তে দেশে প্রতিনিধিত্বমূলক সেই গণতন্ত্র নেই। এখন লোকের মৃত্যু অন্য মানুষের কাছে কোনো ব্যাপারই না, সবাই এটা সাধারণভাবে নেয়। প্রশ্ন : সরকারি দলের লোকজন বলছেন দেশে এখন গণতন্ত্রের স্বর্ণযুগ চলছে। বিরোধীরা বলছেন, দেশে গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই। আপনার কী মনে হয়? পিয়াস করিম: বাংলাদেশের চলমান গণতন্ত্রের প্রতি সাধারণ মানুষসহ কারো আস্থা নেই। মানুষের প্রতিবাদী কথা বলার কোনো অধিকার নেই। তারপরও কিভাবে যে দেশে গণতন্ত্রের স্বর্ণযুগ চলছে তা আমার বোধগম্য নয়। তবে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রধান দুই দলকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনীতিবিদরা যদি এ ব্যাপারে ভূমিকা পালন না করে এবং গণতন্ত্র নিয়ে এমন কথা বলতে থাকেন তবে মানুষ তাদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলবে। অদূর ভবিষ্যতে কেউ এমন গণতন্ত্র আশা করবেন না। প্রশ্ন  : দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে কীভাবে দেখছেন? পিয়াস করিম: জনগণের সামনে তাদের আশা পূরণ করার মত এ দুই দল ছাড়া কোনো দল নেই। আমরা আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপিকে ভোট দেই না। যখন একদল ক্ষমতায় এসে দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে মানুষের ওপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালায় তখনই অতিষ্ঠ হয়ে তাদের হাত থেকে বাঁচতে অন্যদলকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করি। পর্যায়ক্রমে আবারও তাদের নির্যাতনের শিকারে পরিণত হই। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঘুরে ফিরে এদেরকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করি। প্রশ্ন : দেশের বর্তমানের রাজনীতি ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে কতটা আশাব্যাঞ্জক? পিয়াস করিম : দেখুন ইতিহাস বার বার পাল্টায়। ’৪৮-এ কেউ জানতো না ’৫২-তে কি হবে। ’৬৯-এ জানতো না ’৭১-এ কি হবে এমনকি ’৭৪-এ ও কেউ জানতো না ’৭৫-এ কি হবে। আমাদের পূর্ববর্তীরাও আমাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কিছু রেখে যায়নি। ঘটনার পরিক্রমায় আমরা এসব পাচ্ছি। এখন তরুণদের মধ্যে রাজনৈতিক নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে এক ধরনের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা এখন রাজনৈতিক সহিংসতা চায় না। মারামারির রাজনীতিতেও বিশ্বাস করে না। প্রশ্ন : ঈদের পর খালেদা জিয়া সরকার পতন আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। সত্যিই কি বিএনপি আন্দোলন করতে পারবেন? নাকি আগের মতই ব্যর্থ হবে বলে মনে করেন? পিয়াস করিম: খালেদা জিয়া ঈদের পর যে কঠোর আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন অনেকেই এটাকে হেসে উড়িয়ে দিচ্ছেন। দল গুছানো এবং আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে তৃণমূলকে কোনো নির্দেশনা ছাড়া তিনি কেন বার বার সরকারকে আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছেন তা ভেবে দেখার বিষয়। কারণ তিন বার নির্বাচিত একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয় না জেনে বুঝে কিছু বলবেন না। হয়তো হুমকি দেয়ার মত সে রকম প্রস্তুতি তার রয়েছে। আর এখনই তা বলে সরকারকে সজাগ করে দেয়ার মতো ভুলও তিনি করবেন না। সরকারের বিরুদ্ধে খুন-গুম, অর্থনৈতিক জালিয়াতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দেশব্যাপী জনগণের ক্ষোভ রয়েছে। মাঠ তো তৈরিই আছে। এখন বিএনপির কাজ হলো জনগণের এ ক্ষোভকে ভাষা দিয়ে আন্দোলনে নামা। তা করতে না পারলে দেশের জনগণের কাছে অপ্রাসঙ্গিক ও ব্যর্থ দল হিসেবে বিএনপি ইতিহাসের আঁঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। প্রশ্ন : আওয়ামী লীগের বর্তমান শাসন ব্যবস্থা ও তার বিপরীতে বিএনপির অক্ষমতা বজায় থাকলে কেউ কেউ মনে করছেন প্রধান শক্তি হিসেবে জামায়াতের উত্থান হতে পারে। আপনি কি মনে করেন? পিয়াস করিম: সরকার পরিচালনায় আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা আর সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিএনপির অক্ষমতায় রাজনীতিতে প্রধান শক্তি হিসেবে ভবিষ্যতে জামায়াতের উত্থানের সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। যদিও আমি চাই না জামায়াত আসুক। কারণ আমি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। তবে চোখ বন্ধ করে রাখলেই মহাপ্রলয় ঠেকানো যাবে না, প্রলয় হবেই। তেমনি এই দুই দলের ব্যর্থতায় দুটি বিষয় হতে পারে। এক হল প্রধান শক্তি হিসেবে জামায়াতের উত্থান। অপরটি সামরিক শক্তি চলে আসতে পারে-যা আওয়ামী লীগ, বিএনপি এমনকি সাধারণ জনগণ কারো কাছেই কাম্য নয়। পরশ : জামায়াত নিষিদ্ধে গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে একাত্ম হননি কেন? পিয়াস করিম: মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও জামায়াত নিষিদ্ধের দাবিতে যখন শাহবাগ উত্তাল ছিল তখন জামায়াত কেন নিষিদ্ধ করা যাবে না সে সম্পর্কে যুক্তি তুলে ধরায় আমার ওপর অন্যায় আক্রমণ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আমি জামায়াতের হয়ে কাজ করছি। আসলে আমি শুধু বাস্তবতাটুকু তুলে ধরেছিলাম মাত্র। গণজাগরণ মঞ্চ আমার বক্তব্য বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ দেখুন আজ আইনমন্ত্রী জামায়াত নিষিদ্ধের ব্যাপারে একই কথা বলছেন। আর সে কথাতে প্রধানমন্ত্রীও সায় দিচ্ছেন। প্রশ্ন : শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনে কারা লাভবান হয়েছে? পিয়াস করিম: সকল ধরনের সামাজিক মুভমেন্টগুলো হয়ে থাকে বিরোধী শক্তির পক্ষে এবং সরকারের বিরুদ্ধে। অথচ শাহবাগের আন্দোলনটি হয়েছে সরকারের পক্ষে। প্রথম থেকেই সরকার এ আন্দোলনকে পৃষ্ঠপোষকতা করায় লাভের পুরোটা অংশ সরকার পেয়েছে। অন্যদিকে গণজাগরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের পুরোটা ফল ভোগ করেছে বিরোধী শক্তি। গণজাগরণ মঞ্চের দাবিগুলো যেমন ভেবে দেখার মতো তেমনি হেফাজতে ইসলামের দাবিগুলোও ভাবার মতো। এগুলোকে পাশ কাটানো যাবে না। প্রশ্ন : পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনকে কিভাবে মূল্যায়ন করেন? প্রথমে আওয়ামী লীগ মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা বললেও এখন সে অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে, এর কারণ কী? পিয়াস করিম: ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে সর্বমোট ৫ থেকে ৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। ৪১টি দলের মধ্যে ১০/১১ দলের অংশগ্রহণ ছিল। সেটা আবার একপক্ষীয়। এটাকে কখনোই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বলতে পারি না। রাজনীতিবিদরা যখন দায়সারা নির্বাচন করে তখন দেশের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। নির্বাচন পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এবং বিদেশি চাপের ফলে সেই সময় আওয়ামী লীগ বলেছিল এটা একটি নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। খুব শিগগিরই আরেকটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন দেয়া হবে। কিন্তু পরবর্তীতে শক্তিশালী বিরোধীদল না থাকায় এবং বিরোধী শক্তির আন্দোলন তীব্রতর না হওয়ায় তারা দ্রুত নির্বাচনের ব্যাপারে ড্যামকেয়ার ভাব দেখায়। তাছাড়া বিরোধী শক্তিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ এবং বিরোধিতাকারী দেশগুলোকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ওয়াদা থেকে ফিরে আসে। পুরো সময়টা ক্ষমতায় থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রশ্ন : চলমান সংকট উত্তরণের উপায় কি? পিয়াস করিম : ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিতে না পারায় জনগণের পছন্দের সরকার ক্ষমতায় আসেনি। ফলে এই মুহূর্তে দেশের চলমান সংকট উত্তরণের একমাত্র উপায় হলো সকল দলের অংশগ্রহণে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া। সে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা দলকেই দেশের এসব সংকট নিরসনে কাজ করতে হবে। প্রশ্ন : অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কি এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে সম্ভব? পিয়াস করিম : কখনোই না। এমন অক্ষম, অপদার্থ ও একচোখা নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা কখনই সম্ভব নয়। যদি এ কমিশনের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেটাও ৫ জানুয়ারির মত আরেকটি নির্বাচন হবে। আর এমন নির্বাচন হওয়ার চেয়ে না হওয়াই ভাল। প্রশ্ন  : দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হানাহানি, সহিসংসতায় একের পর এক ছাত্র খুন, প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানা সকল অস্থিরতা বিরাজমান। একজন শিক্ষক হিসেবে এটাকে কীভাবে দেখছেন? পিয়াস করিম : আসলে আমরা জাতি হিসেবে লজ্জার চরম সীমায় পৌঁছে গেছি। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায়। প্রমাণ থাকা সত্বেও জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা অস্বীকার করে জাতিকে অবাক করে দিয়েছেন। এটা অপরাধীদের উত্সাহিত করে। তাছাড়া শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার্থীরা আসে পড়াশুনা করতে, খুনাখুনি করতে নয়। এমন ঘটনা দুঃখজনক। প্রশ্ন: দীর্ঘদিন গবেষণা এবং শিক্ষকতা পেশা নিয়ে আপনি অনকেটা নীরবে চললেও এখন আপনাকে দেশের চলমান বিভিন্ন বিষয়ে সরব দেখা যায়। এটা কি শুধুই সামাজিক দায়বদ্ধতা, না অন্য কিছু? পিয়াস করিম : দেখুন, ছাত্রজীবনে আমি বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। তখন তাদের সঙ্গে দেশ এবং দশের কল্যাণে কাজ করতাম। কিন্তু এই সময়ে বাম শক্তিগুলো যে আন্দোলন করছে, তার ওপর আস্থা রাখতে পারছি না। দলগুলো এখন তাদের আদশের্র মূল জায়গা থেকে সরে সুযোগ সুবিধার রাজনীতিতে নেমে পড়েছে। তাদের মধ্যে রুটি ভাগাভাগির দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। দেশের কল্যাণের কথা তো বলতেই হবে। এই দায়বদ্ধতা থেকেই আমি কথা বলে যাচ্ছি। আবার অনেকে বলেন আমি বিএনপির লোক। সেটা আমি স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটাই করছি না। তবে বিএনপির প্ল্যাটফর্মে থেকেই দেশের পক্ষে কথা বলার সুযোগ বেশি। তাই তাদের পক্ষেও বলতে পারেন। প্রশ্ন: আমাদেরকে সময় দেয়ায় আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। পিয়াস করিম: আপনাদের ও সকল পাঠককে ধন্যবাদ।  

বিস্তারিত»

বিশেষ কলাম

লন্ডনের বার্তা ডাউনিং স্ট্রিটে জুতা, আক্ষেপ বেনজির, আজিজ আর জিয়া নেই

অলিউল্লাহ নোমান ভোটার বিহিন তামাশার নির্বাচনে গঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লন্ডনে জুতা নিক্ষেপ করে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশীরা। সঙ্গে ছিল পচা ডিম ও ঢিল। চরম ক্ষুব্ধ সংক্ষুব্ধ মানুষ জুতা, ডিম ও ঢিল নিক্ষেপের খবরে খুশি। অনেকে উপস্থিত না থাকতে পারার বেদনায় ব্যাথিত। অনেকের বিলম্বে উপস্থিতি তুষের আগুনের মত নিজেকে পুড়ছে। উপস্থিতির বিলম্বের দায় ঘুচাতে নানামুখি প্রচেস্টাও চালাচ্ছেন অনেকে। চিন্তা একটাই ক্রেডিট বুঝি অন্য দিকে চলে যাচ্ছে। তবে সব কথার শেষ কথা হলো যারাই মারুক, শেখ হাসিনার গাড়িতে জুতা মারা হয়েছে। ছুড়া হয়েছে ডিম ও পাথরের ঢিল। যদিও এমনটা কারো কাম্য হওয়া উচিত নয়। এমনিতেই বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশীদের বদনামের শেষ নেই। তারপর প্রধানমন্ত্রীকে জুতা মারার ঘটনা কারো জন্য সুখবর নয়। জাতি হিসাবে আমাদের দন্যতাই প্রকাশ পায়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় ১০ডাউনিং স্টেটের সামনে জুতার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার খবর প্রকাশের পরই আলোচনার ঝড় উঠে লন্ডনে। সবার মুখে কথা একটাই, শেখ হাসিনাকে জুতা মারা হয়েছে। শেখ হাসিনা তখন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিট ক্যামেরনের সঙ্গে বৈঠক করে বের হচ্ছিলেন। মনে অনেক আনন্দ। নির্বাচনকে স্বীকৃতি না দিলেও ডেভিট ক্যামরন দেখা করেছেন। বৈঠকে রাজি হয়ে সময় দিয়েছেন। মেয়েদের খতনা প্রতিরোধ সম্মেলনে আসাটা সফল হয়েছে। এ কথা গুলো  যখন ভাবনায় তখনো কি কল্পনায় আর ভিন্ন কিছু থাকতে পারে! তার জন্য অপেক্ষা করছে জুতা আর পচা ডিম! নিশ্চয়ই এটা তিনি খকনো কল্পনা করেননি। কল্পনায় এটা থাকলে দেশ থেকে নিয়ে আসা হতো বেনজিরের মত রাজপথে মানুষ খুনে দক্ষ পুলিশ অফিসার এবং কর্ণেল জিয়ার মত র‌্যাব অফিসারদের। সঙ্গে থাকতেন মেজর জেনারেল আজিজের মত সেনা অফিসার। নিরাপত্তার দায়িত্বে তখন বৃটিশ পুলিশ নয়, থাকতো বাংলাদেশের দক্ষ পুলিশ এবং র‌্যাব সদস্যরা। মূহুর্তেই গুলি ছুড়তেন বিক্ষুব্ধ জনতার উপর। কত লাশ পড়ত তখন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে আল্লাহ-ই মালুম। দু:খটাঁ হচ্ছে এখানেই। লন্ডনে বেনজির, জিয়া আর আজিজ নেই। জনতার বদলে ক্ষমতার এই ৩ পিলারের অনুপস্থিতি শেখ হাসিনাকে একটু হলেও ভাবিয়ে তুলবে। লন্ডনতো বেনজির, জিয়া আর আজিজের মত দক্ষ অফিসারদের দেশও নয়। এই দেশটি হচ্ছে জনতার দেশ। বন্দুকের ক্ষমতার দেশ নয়। জনতার দেশে বেনজির, জিয়া, আর আজিজের প্রয়োজনীয়তা কতটা দরকার সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন শেখ হাসিনা। নতুবা শেখ হাসিনা এটাও করতে পারতেন। লন্ডন সফরের আগে বৃটিশ সরকারের কাছে একটি অনুরোধ পাঠাতে পারতেন। বৃটিশ পুলিশের গুটি কয়েক সদস্যকে বাংলাদেশে পাঠানোর অনুরোধ জানাতে পারতেন তিনি। তাঁর সফরকালে দায়িত্বপালনের জন্য বেনজির, আজিজ এবং জিয়া তাদের প্রশিক্ষণ দিতে পারতো। তবে  ভাবনার বিষয় অন্য জায়গায়। তখন যদি বৃটিশ সরকার বলেন আমরাতো নিজের দেশে কোন রকমের সিকিউরিটি ছাড়াই চলাচল করি। রাস্তায় বের হতে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও পুলিশ থাকে না। মন্ত্রিদেরতো আর কথাই নেই। তোমার এত সিকিউরিটি লাগবে কেন! তখন জবাবটা কি হতো এটাও চিন্তার বিষয়। অন্য দিকে রাস্তার পাশে অপেক্ষমান গুটি কয়েক সংক্ষুব্ধ মানুষ। তাদের কর্মসূচি ছিল ভিন্ন। অপেক্ষমানরা গভীর রাতে নিশ্চিত হন সকাল ৮টায় ডেভিট ক্যামেরনের দফতরে দেখা করতে যাবেন শেখ হাসিনা। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি পরিবর্তন করা হয় তাৎক্ষণিক। সকালে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে যাবেন এই সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত হয়। ১০ ডাউনিং স্ট্রিট হচ্ছে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সকালে উপস্থিতির সংখ্যা ছিল একেবারেই নগণ্য। হাতে গুনা কয়েকজন। একজন আচমকা বললেন এই যে শেখ হাসিনার গাড়ি বের হচ্ছে। আর কথা নেই। শুরু হয় জুতা, ডিম আর ঢিল ছুড়া। বৃটিশ পুলিশ কোন কিছু বোঝে উঠার আগেই কাজ শেষ। তবে বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে পড়তে হয় শেখ হাসিনার সফর সঙ্গী এক এসএসএফ সদস্যকে। এক এসএসএফ সদস্য রাস্তায় দাড়িয়ে বিক্ষোভ এবং জুতা নিক্ষেপের ছবি তুলছিলেন। হঠাৎ করেই নজরে আসে এক বিক্ষোভকারীর। কালো সানগ্লাসওয়ালা ওই এসএসএফ সদস্যকে পাকড়াও করা হয়। তোপের মুখে মোবাইলে তোলা সব ছবি ও ভিডিও চিত্র ডিলিট করতে বাধ্য হন তিনি। এতেই ক্ষান্ত নন তারা। একজন বিক্ষোভকারী এসএসএফ সদস্যের মোবালই  কেড়ে নেন। আরেকজন কেড়ে নেন সানগ্লাস। একজন তাঁকে তখন বলেন, তোমরাতো বাংলাদেশে আমাদের ভাইদের কিডনাপ কর। এখন তোমাকে আমরা কিডনাপ করলে কেমন লাগবে তোমার পরিবারের। একটু ভেবে দেখ। এতে অনেকটাই শঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই এসএসএফ সদস্য। তিনি তখন নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা তো ভাই চাকরি করি মাত্র, আমরাও আপনাদেরই কারো না কারো ভাই।’ এই কথা গুলো হয়ত তাঁর আত্মরক্ষার কৌশল। এই কৌশল অবলম্বনে উত্তম মাধ্যম থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি। এই ক্ষোভ, বিক্ষোভ প্রমান করে বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর লোকরা কোথায়ও নিরাপদ নন। শাসক গোষ্ঠীর প্রধানের যখন এই অবস্থা, বাকীদেরতো কথাই নেই। এই সতর্ক সঙ্কেত এবারই প্রথম নয়। এর আগে হাসানুল হক ইনুকে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ওয়েটিং রুমে ঢুকে কিল, ঘুষি, লাথি মেরেছে সংক্ষুব্ধ মানুষ। তখনো পচা ডিম ছুড়া হয়েছে ইনুর গায়ে। লন্ডনে নিজের বাড়ির সামনে বিচারপতি মানিককে জুতাপেটা করেছিলেন একদল সংক্ষুব্ধ মানুষ। বাংলাদেশে শাসক গোষ্ঠীর লোকরা পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, পিজিআর, এসএসএফ-এর পাহারায় নিজেদের নিরাপদ মনে করতে পারেন। খুন, গুম, অপহরণের মাধ্যমে ক্ষমতা আকড়ে থাকার চেস্টা করতে পারেন। তবে জনতাকে চিরদিন দাবিয়ে রাখা যায় না। সুযোগ পেলেই বাংলাদেশের রাজপথও ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে রুপ নিতে বেশি সময় লাগবে না। কোন কারনে সশস্ত্র পাহারা একটু উঠে গেলেই নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষ রাজপথে নেমে আসবে। বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর কেউ প্রকাশ্যে ঘর থেকে বের হওয়াই তখন মুশকিল হয়ে পড়বে। তাদের সঙ্গে রাখতে হবে মুশকিলে আহসান দাওয়াই। জুতা নিক্ষেপ হঠাৎ করেই শেখ হাসিনার আনন্দটাকে ম্লান করে দেয়। মেয়েদের খতœা বিষয়ক সম্মেলনে আর কোন দেশের প্রধানমন্ত্রী না আসলেও তিনি এসেছেন।  উদ্দেশ্য ছিল একটাই বাংলাদেশের মানুষকে বার্তা দেয়া। যুক্তরাজ্য তাঁকে প্রাধানমন্ত্রী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে মানুষকে এটা বোঝানো। এজন্যই জোর তদবীরে আয়োজন করা হয়েছিল ডেভিট ক্যামেরুনের সঙ্গে বৈঠক। মেয়েদের খত্মা আর ডেভিট ক্যামেরনের সঙ্গে বৈঠক দেশের মানুষকে যেই বার্তাই দেয়া হোক না কেন, শেখ হাসিনা কি বার্তা নিয়ে দেশে ফিরলেন। লন্ডনে প্রবাসী সংক্ষুব্ধ বাংলাদেশীরা তাঁকে কি বার্তা দিল! এটা কি বুঝতে পেরেছেন তিনি! তবে আর যাই হোক শেষ কথা হচ্ছে বিদেশের মাটিতে দেশের কোন সম্মানিত ব্যক্তিকে আর এধরনের অপমান দেখতে চায় না বাংলাদেশের মানুষ। লেখক: দৈনিক আমার দেশ-এর বিশেষ প্রতিনিধি, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত।  

বিস্তারিত»

এক্সক্লুসিভ

নিরস্ত্র বিএনপি, রণসাজে সরকার : মাহমুদা ডলি

আওয়ামী লীগের রাজনীতি শেষ। এখন অবৈধ অস্ত্র আর অবৈধ ক্ষমতা দুটিই আওয়ামী লীগের ভরসা। আর এই ভরসাতেই অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর অবৈধ মন্ত্রী মায়া চৌধুরী, হাসানুল হক ইনু, হাছান মাহমুদ খন্দকার কিংবা মাহবুব-উল আলম হানিফের মতো নেতারা আস্ফাালনের সঙ্গে কথার ফুলঝুড়ি আর হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপির আন্দোলন দমানোর ব্যাপারে আওয়ামী লীগের বক্তব্যের মধ্যে শুধু আস্ফাালন প্রকাশ পায় তা নয়, তারা কাজে-কর্মেও করে দেখান। বিএনপির আন্দোলন দমাতে র‌্যাব-পুলিশ, বিজিবি যে নৃশংসতা চালায় তার দায়ভার আবার সেই বিরোধী দলের ওপরই চাপিয়ে দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে সরকার। আর সরকারের খরপোষে পালিত অধিকাংশ গণমাধ্যমও সরকারের হ্যাঁ-তে হ্যাঁ, না-তে বলছে। এসব প্রহসন নিয়ে বিএনপি কথা বলতে পারে না। কারণ তার বিপরীতে রয়েছে বিএনপির ব্যঞ্জনা। বিএনপি আবারও কর্মসূচি দেয়ার কথা বলছে। আর এ কর্মসূচির কথা শুনে আওয়ামী লীগ কঠোরহস্তে দমন করার ঘোষণাও দিয়েছে। আবার রাজধানীর মাঠ দখলে রাখার ঘোষণাও দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই মাঠ দখল, দমন তাহলে আওয়ামী লীগ কীভাবে করবে? পথ তো ওই একটাই সরকারের গোপালগঞ্জের লাঠিয়াল বাহিনী, র‌্যাব-বিজিবি আর সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের হাতে জেলা প্রশাসকের পুলিশের দেয়া অস্ত্র ও জার্সি পরিয়ে মাঠে নামানো। চট্টগ্রাম সাতকানিয়া গিয়েছিলাম, সেখান থেকে একটা ভিডিও চিত্র নিয়ে এলাম। আর সঙ্গে নিয়ে এলাম সাধারণ মানুষের আহাজারির চিত্র। ভিডিও চিত্রটি দেখা গেছে গোপালগঞ্জের পুলিশ কীভাবে যুবকদের ধরে নিয়ে গুলিবিদ্ধ রেখে চলে যাচ্ছে। ওই ভিডিও চিত্র আন্দোলন দমানোর নামে সরকারের হিংসা, সরকারের রক্তপিপাসা, সরকারের নৃশংসতা কতটা ভয়াবহ তা বলে দেয়। ওই চিত্র বলে দেয় দেয় সহিংসতা কে চালায়—সরকার নাকি বিরোধী দল? তবুও সরকারের রুপার শৃক্সখলে আবদ্ধ মিডিয়া একতরফাভাবে নির্লজ্জের মতো বিরোধীদলের সহিংসতা বলে চালিয়ে দিয়েছে। গত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগেই ঢাকা মহানগরের আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের হাতে অস্ত্র দিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসক। রাজধানীর প্রতিটি থানা ওয়ার্ডে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে বৈধ-অবৈধ অস্ত্র তুলে দেয়ার মতো তথ্য রয়েছে প্রমাণসহ। অপরদিকে যুবলীগের, শ্রমিক লীগের হাতে অস্ত্র, জার্সি দিয়ে মাঠে নামিয়েছিল ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ। রাজনৈতিক নীতিহীনতা, অর্থ, পেশিশক্তি নির্ভরতা, দাগি-খুনি অপরাধীদের দিয়ে নৃশংসতা চালিয়ে বিএনপির একের পর এক আন্দোলন বানচাল করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। অবৈধ সরকারের সময়ে সন্ত্রাসের আলাদা করে কোনো সজ্ঞা নেই। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে র‌্যাব-বিজিবি, পুলিশ যেভাবে গুলি, হামলা, মামলা আর তা-ব চালায় তা ইতিহাসের যে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকা-কে হার মানায়। উল্টো দেখা যায়, এসব ঘটনার দায় বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর চাপিয়ে মামলা দিয়ে কারাগারে ছুড়ে ফেলে রাখছে মাসের পর মাস বছরের পর বছর। একদিকে আওয়ামী লীগ মসনদ দখল করে বসেছে। সেখানে গণতন্ত্র, জনগণ সবকিছুই তুচ্ছ। গত ৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের অপশাসনে এ দেশের মানুষ ভুলতে বসেছে নিজেদের অস্তিত্ব। সমগ্র দেশ জুড়ে চলছে এক নৈরাজ্য, অপসংস্কৃতি আর অরাজকতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমলের সেই দম্ভ, সেই ঔদ্ধত্য, সেই নৈরাজ্য, সেই অরাজকতা এবং সেই নেতার মদতপুষ্ট দুষ্কৃতির অত্যাচার আবার স্বমহিমায় প্রকাশিত। অন্যদিকে রয়েছে বিএনপির ব্যঞ্জনা । দলের অভ্যন্তরেই এত মত-বৈপরীত্য, এত দ্বিমত। ইদানীং তো প্রথম সারি থেকে শুরু করে মধ্যম সারির নেতাদের বিরুদ্ধেও শোনা যায় যে, তাদের মধ্যে ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনী ‘র’ এজেন্ট রয়েছে। এটা শুধু কি মুখে মুখে? তা কিন্তু নয়, বেশ জোরালোভাবেই শোনা যাচ্ছে। ইদানীং ভার্চুয়াল জগতেও বেশ ছড়িয়ে পড়ছে। শুধু ওই প্রসঙ্গই নয়; দলীয় ঐক্যমত নিয়েও তারা নিজেরাই সংশয়ে ভোগেন। আর এ জন্যই যে কোনো ইস্যুতেই তাদের মধ্যে একই রকম অন্তর্বিরোধ লক্ষ্য করা যায়। আর বিএনপি নেতাদের এ ধরনের দুর্বলতার জন্যই আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপ, যে কোনো আন্দোলনের গতি রুদ্ধ হয়ে গেছে। অথচ বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি আকর্ষণ-বিকর্ষণ, প্রীতি-বিদ্বেষ যাই থাকুক না কেন, তার কর্মসূচিতে দামাল নদীস্রোত পেরিয়ে যায়, লাখো মানুষের জমায়েত হয়। আর এর ফলে যে কোনো বিল্পব, যে কোনো অভ্যুত্থান ঘটানো যায়। এ জন্যই সরকার খালেদা জিয়ার কর্মসূচিতে বাধা দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। খালেদা ভীতিতেই সরকার জিঘাংসা হয়ে ওঠে। খুন-গুম, হামলা-মামলা দিয়ে কর্মসূচিকে দুর্বল করে দেয়ার মতো সব প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এতকিছুর দেখার পরেও সরকার একতরফা নির্বাচন দিল। জনগণ যখন ভোট কেন্দ্রে না গিয়ে নীরব প্রতিবাদ জানালো। নির্বাচনে কোটি কোটি মানুষ ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য যে আওয়ামী লীগই দায়ী। সেটাকে স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছে দলটি। এটা যে একটা রাজনৈতিক দলকে জনগণ ত্যাগ করলো, ধিক্কার জানালো তা নিয়ে এতটুকু লজ্জাবোধ রইল না অবৈধ সরকারের। জনগণ-বিচ্ছিন আওয়ামী লীগ যদি গণতন্ত্রেই বিশ্বাসী হয়; তাহলে কি করে জনগণের রায় ছাড়া বন্দুকের নলের সাহায্যে একতরফাভাবে ক্ষতা আঁকড়ে ধরে রাখে! দেশে তো প্রকৃত পার্টিসিপেটরি পার্লামেন্টটির ডেমোক্রেসি নেই। দেশ পরিচালনা হচ্ছে স্বৈরাচারী কায়দায়। সম্ভবত প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি লন্ডনে গিয়ে টের পেয়েছেন দেশের মানুষের কাছে তিনি কতটা নিন্দনীয়। গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল কয়েকজন জানালেন, দেশের মানুষের ভেতরে যে ক্ষোভ, যে যন্ত্রণা, মানুষ কি চায় তা গোয়েন্দা বিভাগ শেখ হাসিনার কাছে কখনো উপস্থাপন করতে সাহস পান না। এসব উপস্থাপন করলেও নাকি সিনেমার ভিলেনদের মতো উল্টো ওইসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করেন। এ রকম কোনো সরকারের নজির পৃথিবীর কোথাও আছে কিনা সন্দেহ। বিএনপি যে কর্মসূচি দিচ্ছে তার দিকে তাকিয়ে গোটা বাংলাদেশ। কারণ, এ দেশের ঘরে ঘরে মানুষের কান্না। ঘরে ঘরে প্রশাসন, আওয়াশী লীগ দ্বারা নির্যাতিত-নিপীড়িত। সেসব মানুষ কঠোর কর্মসূচি চায়। সরকার বিজিবি, পুলিশ বা র‌্যাবের মতো লাঠিয়ালবাহিনী নিয়ে যতই রণসাজে সজ্জিত থাকুক। হাজার পাঁচেক লাঠি আর প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মায়া চৌধুরীর মতো দু’চার জন রাজপথে থাকতেই পারেন। কিন্তু বিএনপির সব ক্ষমতার উৎস হচ্ছে দেশের জনগণ, জনগণের ইচ্ছাই হবে দেশের সার্বভৌম, বিএনপির চালিকাশক্তি। বিএনপি ফর দ্য পিপল। বিএনপি কর্মসূচি ডেকে ঘরে বসে না থাকলে একজন নেতার পেছনে একলাখ মানুষ বেরিয়ে আসতে পারে।  

বিস্তারিত»

মতামত

নতুন রাষ্ট্রদূতের হককথা : আশরাফ আলী খান

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাটকে ঢাকায় এসেই কালো পতাকা দেখতে হবে। আওয়ামী লীগ তাকে কালো পতাকা দিয়ে বরণ করে নেয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে। মার্শিয়া স্টিফেনসে এর অপরাধ তিনি বাংলাদেশের গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিঃসন্দেহে ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে সংলাপে বসা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন। ১৮ জুলাই শুক্রবার মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির শুনানিতে এসব বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। মার্কিন সিনেটের কাছে বাংলাদেশের বিগত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে নতুন এ রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যগুলো মিডিয়ায় আসার পরপরই বাংলাদেশের সাংবিধানিক সরকারের মাথা ব্যাথা উঠেছে। যে সময় আওয়ামী লীগ ও তার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমেরিকা, ইউরোপের গোষ্ঠীর সমর্থন আদায়ের জন্য উন্মূখ হয়ে আছেন, ছুটোছুটি করছেন এদিক সেদিক, সে সময়ই আমেরিকার নতুন এ রাষ্ট্রদূত কথায় ব্যাপক হতাশায় নিমজ্জিত হল আওয়ামী লীগ সরকার। কেননা ইউরোপ আমেরিকার একজন রাষ্ট্রদূতকে তাদের কর্মস্থলে আসার আগেই ঐ দেশের খুটিনাটি ব্যাপারে তার দেশের দৃষ্টিভঙ্গির বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন নতুন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ক্ষোভ দেখিয়ে বলেছেন, আপনাদের (আমেরিকার) কোন সহযোগীতার দরকার নেই। তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশের চলমান গণতন্ত্র ও সংবিধান আমরাই রক্ষা করব'। ভোটার বিহীন নির্বাচনের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, 'নির্বাচনে কেউ না আসলে সেই নির্বাচন ত্রুটিপূর্ণ হয় এ কথা আমরা মানিনা।' তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে যারা মাথা ঘামাচ্ছেন তাদের বলবো, কিছুদিন আগে যে নাশকতা অন্তর্ঘাতের তান্ডব চলছিল, সেই সময় এই সব কূটনীতিকরা কোথায় ছিলেন। দেশে তান্ডব সৃষ্টিকারী জামায়াত-হেফাজত ও তাদের পৃষ্ঠপোষক খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের বন্ধু নয়। তাই নির্বাচনের পরামর্শ দেয়ার আগে বেগম খালেদা জিয়াকে জামায়াত-হেফাজত আর নাশকতা অন্তর্ঘাত ত্যাগ করার পরামর্শ দিন। সেটায় হবে গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গলজনক।' ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য মার্শিয়ার এ মন্তব্যকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কারবার বলে মনে করেন। আবুল কালাম আজাদ নামের এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘বাংলাদেশে আসার আগেই এই রাষ্ট্রদূত দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কথা বলেছেন।তাই এ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ঢাকায় এলে তাকে কালো পতাকা দেখানো হবে'। ইনু আর আজাদ সাহেবরা যাকে গণতন্ত্র বলেছেন তা এখনো বিশ্ব সামজে গৃহীত হয়নি, হবে বলেও তারা মনে করেন না। তারপরও প্রচেষ্টা চালানোর সময়ে নতুন রাষ্ট্রদূতের একটি হক কথায় দুলে উঠেছে সরকার। আওয়ামী লীগের ক্ষোভ, দুখ: ও শংকা সবকিছু এখানেই। তা সে যেই হোক সরকারের ক্ষমতা দুলে উঠে এমন কথা বলা হারাম। বিনিময়ে তাকে ঘায়েল করা বা পঁচানোর চেষ্টা করা আওয়ামী লীগারদের উপর তখন ফরয হয়ে উঠে। একটু পেছনের কথায় আসি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউরোপের শক্তিশালী রাষ্ট্রপ্রধানদের বাংলাদেশ সফরে রাজি করাতে গত কয়েকমাস থেকে নিজস্বভাবে তদারকি করে আসছিলেন। আর আমেরিকায় সচেষ্ট আছেন তারই ছেলে জয়। তাদের বাংলাদেশ সফরে রাজী করানো না গেলে সেসব দেশে গিয়েই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেখা করবেন বলে কথা আছে। এসব লবিংয়ের কিছুটা সুফল হল ২২ জুলাই তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সাথে একটি বৈঠকে বসছেন। তবে বৈঠকের এজেন্ডায় কি আছে তা কোনপক্ষ থেকেই প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাজ্যের একজন সিনিয়র সাংবাদিক জানিয়েছেন, ১/১১ পরবর্তী ফখরউদ্দীন-মঈনের সময়ে যুক্তরাজ্যে প্রভাবশালী একটি বিশেষ লবি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের সাথে শেখ হাসিনাকে সাক্ষাত করিয়ে দিয়েছিল। সেই বিশেষ লবির আয়োজনে এবারও ২২ জুলাই তারিখে লন্ডনে 'মেয়েদের খৎনা' বিষয়ক আন্তর্জাতিক সামিট শেষে শেখ হাসিনা-ক্যামেরন বৈঠক হবে। এভাবে ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনহীন সরকারের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে কিংবা আন্তর্জাতিক সমর্থন দেখানোর জন্য আওয়ামী লীগ সব কিছুই করে আসছে। তবে ভারতে কংগ্রেসহীন সরকার থাকায় তারা প্রতিবেশীর বন্ধনহীন হয়ে পড়েছে। এতদিন ইউরোপ আমেরিকার সমর্থনের তোয়াক্কা না করা আওয়ামী লীগ এখন ইউরোপ আমেরিকায় ছুটছে। কিন্তু নিজদের বৈধতার সমর্থন আদায়ের মুখভর্তি কথাবার্তা এবং ঢোল পেটানোর আয়োজনে ভাটা ফেলে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট। এখন বাজানোর আগেই তাদের সেই প্রস্তুত ঢোলটা ছিড়ে গেছে। তাই নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যে যারপরনাই নাখোশ হয়েছে আওয়ামী লীগ ও তাদের গোষ্ঠীগুলো। ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের পর থেকে আমেরিকা, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় দেশগুলো এ অর্নিবাচিত সরকারের প্রতি যেভাবে অনাস্থা জানিয়ে আসছে। তাদের এ অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত আছে বলেই চলমান সরকারের এতসব শংকা। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আরেকটি শংকা যোগ হয়েছে সেটা এতকালের শক্তিশালী প্রতিবেশী সমর্থক ভারতকে নিয়ে। ভারতের নতুন সরকার যদি বাংলাদেশ নিয়ে আমেরিকা ইউরোপের মিছিলে শামিল হয়, তখন হয়তো আওয়ামী লীগকে শুধু এয়াপোর্ট বা ঢাকা কেন? ক্ষোভ মেটাতে ভারতের সীমান্ত এলাকায় এলাকায় কালো পতাকা টানাতে হবে। -লেখক ও সাংবাদিক

বিস্তারিত»

বিনোদন

বলিউড অভিনেতা, অভিনেত্রীদের মজার কিছু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোপন তথ্য

বিনোদন ডেস্ক:বলিউডের তারকাদের অনেক বড় বড় গোপন তথ্য তো আর গোপন নেই। আসুন জেনে নেয়া যাক বলিউড অভিনেতা, অভিনেত্রীদের মজার কিছু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোপন তথ্য। আমির খান বলিউডের সুপারস্টার তিনি, অভিনয় করেছেন অনেক সাহসী ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে। এমন তারকাকে একজন পালোয়ানের চরিত্রে কেমন লাগবে ভেবে দেখুন তো। নিজের আগামী ছবি ‘পিকে’র কাজ শেষে পরবর্তী ছবিতে প্রথমবারের মতো একজন পালোয়ানের চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। সালমান খান কিছুদিন আগে সালমান খান ‘কিক’ ছবির আজে পোলান্ডে ছিলেন। সেখানে একটি জনপ্রিয় কফি হাউসে গিয়েছিলেন তিনি। কফির পেয়ালাতে চুমুকও দিয়েছিলেন। কিন্তু অদ্ভূত ব্যাপার হলো সেখানে কেউ তাকে চিনতেই পারলো না। এ বিষয়টি বেশ ভালোই উপভোগ করেছিলেন সালমান। রণবীর কাপুর ও রণবীর সিং চোখে না দেখলেও শোনা যায় আর-কে এবং আর-এস যখন সামনাসামনি আসেন তখন নাকি দু’জনই বিষ্ফোরিত হতে থাকেন। প্রকাশ না করলেও তাদের আচরণ ও চাহনিতেই তা প্রকাশ পায়। এর কারণ দীপিকা পাড়–কোন ও ক্যাটরিনা কাইফ। দীপিকা পাড়–কোন দীপিকার বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ নিয়ে পরিচালক হোমি আদাজানিয়া রসিকতা করে বলেছিলেন, দীপিকা তো সবসময় উড়তেই থাকে। বেচারি কি করবে, ‘ফাইন্ডিং ফ্যানি’ ছবির কাজ শেষে সবেমাত্র ইউরোপ থেকে ভারতে ফিরেছেন, এর কিছুদিন পরেই উড়াল দিলেন কোরসিকায় নতুন ছবির জন্য। অন্যদিকে উড়োজাহাজে উড়ে উড়ে রণবীর সিংয়ের সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর ঘটনা তো আছেই। শ্রীদেবী ও বনি কাপুর বনি কাপুর ঝাল খেতে পছন্দ করেন, তা-ও আবার কাঁচা মরিচের। তিনি বিয়ে করেছেন বলিউড অভিনেত্রী শ্রীদেবীকে। ঝালের অভ্যাসটা তার এমনই যে কোথাও ঘুরতে গেলেও কাঁচা মরিচ সঙ্গে বেঁধে নিয়ে যান। এমনকি ইতালিয়ান অথবা চাইনিজ খাবারেও তার কাঁচা লঙ্কার টাটকা স্বাদ চাই। ইমরান খান সদ্য বাবা হয়েছেন ইমরান খান। সন্তানের কোনো কিছু দেখা থেকেই বঞ্চিত হতে চান না তিনি। তাই মেয়ে ইমারার ঘরে একটি ছোট্ট ক্লোজ-সার্কিট ক্যামেরা রেখেছেন তিনি। তার সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছেন নিজের মুঠোফোন। যেন পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকেও তার ছোট্ট পরীর কার্যকলাপ দেখতে পারেন। - See more at: http://www.banglanews24.com/beta/fullnews/bn/309695.html#sthash.3eUMc7BU.dpuf

বিস্তারিত»

স্বাস্থ্য ও রুপচর্চা

হাড় মজবুত রাখতে ৫ সুপারফুড

শরীরকে মজবুত রাখতে হলে সবার আগে নদর দিতে হবে হাড়ের পুষ্টির উপর৷ ৩০ বছরের পর থেকেই হাড় ক্ষয় হতে শুরু করে৷ তবে সঠিক ডায়েট মেনে চললে এই সমস্যা রোধ করা সম্ভব৷ তাই আপনাদের জন্য পাঁচটি সুপারফুড যা আপনার হাড়কে মজবুত রাখতে সাহায্য করবে৷ দুধ: শরীর বৃদ্ধির জন্য যে পরিমাণ ক্যালসিয়াম দরকার তার প্রায় সবটাই থাকে দুধের মধ্যে৷ বিশেষজ্ঞরা বলেন প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে অনন্ত ৭০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন৷ যারা অস্টিপোরেসিসের শিকার তাদের ক্ষেত্রে দিনে ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন৷ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেল্থ অ্যান্ড হিউম্যান ডেভলপমেন্টের গবেষকেরা জানিয়েছেন লোট ফ্যাট দুধ বা ফ্যাট বিহীন দুধে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে৷ এবং এর ফলে দুধে থাকা ক্যালসিয়ান শরীর খুব সহজেই শুষে নিতে পারে৷ ক্যালসিয়াম ছাড়াও দুধে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, রিবোফ্ল্যাভিন, ফসফরাস, ভিটামিন ডি-এ-বি ১২ বর্তমান যা হাড়ের জন্য খুবই উপকারি৷ যারা দুধ খেতে পছন্দ করেন না তারা ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ বিভিন্ন খাবার যেমন দই, চীজ ইত্যাদি খেতে পারেন৷ ছোট মাছ: ছোট মাছের কাঁটায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি থাকে হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে৷ এছাড়াও এতে অস্থিমজ্জা মজবুত হয়৷ তৈলাক্ত মাছ: তৈলাক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা হাড় শক্ত করতে সাহায্য করে৷ এছাড়াও এতে ভিটামিট ডি রয়েছে যা ক্যালসিয়াম শুষে নিতে সাহায্য করে৷ গবেষণায় দেখা গেছে মাছের তেল মহিলাদের হাড় ক্ষয়ের সমস্যা কম করতে পারে৷ এছাড়াও এটি অস্টিওপোরিসের সমস্যাও দূর করে৷ সবুজ-সবজি: পালং শাক বা ব্রকোলির মতো সবুজ সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি থাকে৷ এছাড়াও লেটুস পাতা বা শালগমের পাতাতেও প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম বর্তমান৷ বাদাম: আখরোট, পেস্তা বাদামে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি এমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও বর্তমান৷ এছাড়াও এতে প্রচুর পরিমাণে খনিজ দ্রব্য রয়েছে যা হাড়কে শক্ত রাখতে সাহায্য করে৷ এছাড়াও চীনে বাদাম ও আমন্ডে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে যা ক্যালসিয়ামের ক্ষয় প্রতিরোধ করে৷– ওয়েবসাইট।  

বিস্তারিত»

সম্পাদকীয়

মিডিয়ার কণ্ঠ রোধে সরকারি কৌশল : আইন সংশোধন হচ্ছে গোপনে

সরকার যখন পুরোপুরি স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠে তখন মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার হরণের পাশাপাশি গণমাধ্যম বা মিডিয়ার কণ্ঠরোধ করাও জরুরি হয়ে ওঠে। ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনে গঠিত বর্তমান সরকার এখন ঠিক সেই অবস্থায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্যই সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধের জন্য আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকেই। অথচ, এ খবরটি পত্রিকায় প্রকাশের পর তথ্যমন্ত্রী পরিষ্কার ভাষায় বলেছিলেন, এমন কোনো উদ্যোগ নেয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তার মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কিছু জানে না। ইদানীং মন্ত্রী কথার পারদর্শিতা দেখিয়ে বেশ আলোচনায় এসেছেন। নিজ মন্ত্রণালয় সম্পর্কে এমন কথার পর এখন জানা যাচ্ছে ভিন্ন কথা। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরের মাসেই তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে আট সদস্যের কমিটি গঠন করা হয় দ্য প্রিন্টিং প্রেসেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস (ডিক্লারেশন অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন) অ্যাক্ট, ২০১৪ শিরোনামে সংশোধিত আইনের খসড়া তৈরির জন্য। কমিটির প্রথম সভা হয় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি। আর ১ জুলাই এ খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হলে তথ্যমন্ত্রী অস্বীকার করেন। অন্যদিকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার নতুন আইন করছে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা নিয়ে মিডিয়া অনেক বাড়াবাড়ি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এমন আইন করা হচ্ছে যে, তাদের কোনো স্বাধীনতা থাকবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি সাত খুনের ঘটনাকে তেমন কোনো ঘটনাই নয় বলে এ নিয়ে এত মাতামাতি করার সমালোচনা করেছেন। এর আগে অর্থমন্ত্রীও সোনালী ব্যাংকের ৪ হাজার কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় এমনই মন্তব্য করেছিলেন। দেশকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেটা মন্ত্রীদের এ ধরনের কথাবার্তা থেকেই বোঝা যায়। এ জন্যই মিডিয়ার কণ্ঠরোধ করা জরুরি হয়ে উঠেছে সরকারের জন্য। তাই তো সরকার গঠনের পরপরই মিডিয়ার স্বাধীনতা হরণের জন্য আটঘাট বেঁধে পরিকল্পনা করা হয়েছে। গোপনে তথ্য মন্ত্রণালয় আইন সংশোধনের পথ ধরেছে। আর সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডিসিদের জেলা সম্মেলনে পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিলের দাবি তোলানো হয়েছে ঢাকার ডিসিকে দিয়ে। এমন কুবুদ্ধি যাদের মাথায় কিলবিল করে আর যাই হোক তাদের বিশ্বাস করা যায় না।  

বিস্তারিত»

বিজ্ঞপ্তি

সিলেটের আলাপ ডট কম পাঠকদের জন্য, নতুন সংযোজন শীঘ্রই আসছে ইংলিশ ভার্সন

সিলেটের আলাপ ডট কম পাঠকদের জন্য, নতুন সংযোজন শীঘ্রই আসছে ইংলিশ ভার্সন

বিস্তারিত»

শোক-সংবাদ

তেতলী ইউনিয়নের সাবেক  ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব  মন্তাজ আলীর ইন্তেকাল

সিলেটের সদর দক্ষিণ উপজেলার তেতলি ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সিলেট জেলা ব্যবসায়ি ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সাবেক উপদেষ্টা, আম্বরখানা বাজার ব্যবসায়ি সমিতির কয়েকবারের নির্বাচিত সভাপতি, আম্বরখানাস্থ সামছ্ সুপার মার্কেট ব্যবসায়ি কমিটির সাবেক সভাপতি, সিলেটের বিশিষ্ট সালিশ ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব মোঃ মন্তাজ আলী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি-----রাজেউন)। র্দীঘদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে রোগভোগের পর গত (২০ জুলাই) রোববার রাত সাড়ে ৮ টায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি ২ স্ত্রী, ৫ ছেলে, ৫ মেয়ে, অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্খী রেখে গেছেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামাজিক সংগঠন আনোয়ার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে’র বাংলাদেশ কান্ট্রি কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলী মিরাজ মোস্তাকের পিতা আলহাজ্ব মোঃ মন্তাজ আলীর পৈতৃক নিবাস তেতলি ইউনিয়নের খিদিরপুর গ্রামে। দীর্ঘকাল থেকে তিনি নগরির আম্বরখানায় সপরিবারে বসবাস করতেন। ওইদিন বাদ ফজর হযরত শাহজালাল (রহঃ) দরগাহ মসজিদে আলহাজ্ব মোঃ মন্তাজ আলীর নামাজে জানাজা শেষে দরগাহ সংলগ্ন কবরস্তানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়। জানাজায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ আরিফুল হক চৌধুরী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আশফাক আহমদ, বিশ্বনাথের অলংকারী ইউপি চেয়ারম্যান সমছু মিয়া চৌধুরী, বৃহত্তর দরগাহ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কবির আহমদ চৌধুরীসহ অসংখ্য ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। এদিকে, আলহাজ্ব মোঃ মন্তাজ আলীর মৃত্যুতে বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে শোক জ্ঞাপন করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামাজিক সংগঠন আনোয়ার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে’র কেন্দ্রীয় বোর্ড অব ডিরেক্টরস্’র চেয়ারপার্সন আলহাজ্ব শাহ মোঃ আনোয়ার হোসেন চিশতি ও জেনারেল সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির হোসেন, ট্রাস্টের বাংলাদেশ কান্ট্রি কমিটির সভাপতি মুজিবুর রহমান খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জুমান তারেক এক শোক বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। আলহাজ্ব মোঃ মন্তাজ আলীর মৃত্যুতে অনুরূপ এক বিবৃতিতে সদর দক্ষিণ নাগরিক কমিটি সিলেট’র পক্ষ থেকেও গভীর শোক জ্ঞাপন করা হয়েছে। সংগঠনের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ তুরণ মিয়া, যুগ্ম আহবায়ক মোল্লারগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ মোঃ মকন মিয়া, তেতলি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ মঈনুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ সাইফুল আলম ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোঃ আজম খান এবং সদস্য সচিব দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি চঞ্চল মাহমুদ ফুলর এক যুক্তবিবৃতিতে এ শোক জ্ঞাপন করেন। বিবৃতিতে তারা মরহুমের বর্ণাঢ্য ও কর্মময় জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। তারা মরহুমের শোকার্ত পরিবারবর্গের প্রতিও গভীর সমবেদনা জানান।-বিজ্ঞপ্তি

বিস্তারিত»

সাম্প্রতিক খবর সর্বাধিক পঠিত

জরিপ

Loading...

Archive