ভারতে সাত সদস্যের পরিবারের আত্মহত্যার চেষ্টা

ভারতের পন্ডিচেরিতে বিখ্যাত অরবিন্দ আশ্রম থেকে উৎখাত হওয়া একটি পরিবারের সদস্যরা সবাই মিলে আজ সমুদ্রে ঝাঁপ দিলে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। পাঁচ বোন ও বাবা-মার ওই পরিবারটির চারজন সদস্যকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, তারা এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এই পরিবারটি বেশ কিছুদিন ধরেই হুমকি দিয়ে আসছিল, আশ্রম থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হলে তারা সবাই মিলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেবেন। পন্ডিচেরির অরবিন্দ আশ্রমকে ভারতে আধ্যাত্মিক চর্চার একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়, এবং ওই আশ্রমের আবাসিক এলাকায় বহু ভক্তই স্থায়ীভাবে ও সপরিবারে বসবাস করেন। আজ যে পরিবারটি পন্ডিচেরির সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল, তারাও আসলে বিহারের লোক – কিন্তু বহু বছর ধরে তারা থাকতেন আশ্রমের ভেতরেই। তবে ওই পরিবারের পাঁচটি মেয়ের আচার-আচরণ নিয়ে আশ্রম কর্তৃপক্ষ নানা আপত্তি তোলেন, আর তাদের আশ্রমের ভেতরে থাকবার এক্তিয়ার আছে কি না সেই প্রশ্নে গত দশ-পনেরো বছর ধরেই অরবিন্দ আশ্রম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের আইনি লড়াই চলছিল। অবশেষে এ মাসের ৯ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, সাতদিনের মধ্যে ওই পরিবারটিকে আশ্রম ছেড়ে চলে যেতে হবে। ওই পাঁচ বোন অবশ্য ক্ষতিপূরণের দাবি থেকে সরতে রাজি ছিলেন না। গত সপ্তাহেই সবচেয়ে ছোট বোন সংবাদমাধ্যমকে ডেকে বলেছিলেন, তাদের সবার খাদ্য-আশ্রয়-চিকিৎসা-বাসস্থানের দায়িত্ব নিয়ে আশ্রমের ট্রাস্টিদের লিখিত হলফনামা দিতে হবে। এই ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিয়ে এখনও মামলা চলছে, তার নিষ্পত্তি হওয়ার আগে তারা কিছুতেই নিজেদের প্রাপ্য অধিকার ছেড়ে দেবেন না বলেও জানানো হয়। তাদের জোর করে উৎখাত করা হলে সবাই মিলে আত্মহত্যা করবেন বলেও ওই বোনেরা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। অরবিন্দ আশ্রম কর্তৃপক্ষ অবশ্য তাতে আমল দেননি, গতকাল মহিলা পুলিশ বাহিনীকে ডেকে তারা তাদের আশ্রম থেকে বের করে দেন। এর পরই আজ সকালে ওই পাঁচ বোন ও তাদের বাবা-মা সবাই মিলে একসঙ্গে সমুদ্রে ঝাঁপ দেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই বোন ও মায়ের দেহ সৈকতে এসে আছড়ে পড়ে, তবে বাকি তিন বোন ও বাবা-কে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা উদ্ধার করতে পেরেছেন। এই চারজন এখন হাসপাতালে ভর্তি, বাকিদের দেহ পাঠানো হয়েছে ময়না তদন্তের জন্য।বিবিসি বিস্তারিত»

ছাত্রনেতাদের সমাবেশে খালেদা এবার ঢাকার রাজপথ খালি থাকবে না

ঢাকা:  এবারের সরকারবিরোধী আন্দোলনে ঢাকার রাজপথ খালি থাকবে না বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গুলি, বন্দুক, কাঁদানে গ্যাস উপেক্ষা করে সবাইকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে পুলিশকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে গুলি না চালাতে সতর্ক করে খালেদা জিয়া বলেছেন, “গুলি করলে জবাব দেয়া হবে। হাসিনা আজীবন আগলে রাখবেন না।” বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘নব্বইয়ের ডাকসু এবং সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের’ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত কনভেনশনে তিনি এসব কথা বলেন। পৌনে এক ঘণ্টার বক্তব্যে খালেদা জিয়া সরকারের নানা সমালোচনা করার পাশাপাশি যেকোনো সময় সরকারবিরোধী আন্দোলনের ডাক দেয়ার কথা জানান। সেজন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত হতে বলেছেন তিনি। বিএনপির চেয়ারপারসন আবারও সরকারের উদ্দেশে জনপ্রিয়তা যাচাই করতে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ার আহ্বান জানান। ‘হাসিনা বাংলাদেশকে গিলে ফেলছে’ সরকারের বিরুদ্ধে লুটপাট, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া বলেন, “হাসিনা বাংলাদেশকে গিলে ফেলছে। দেশ ধ্বংস করছে। শিক্ষিত ছেলেরা বেকার হয়ে পড়ছে। ছাত্রলীগ ছাড়া কারো চাকরি হয় না। হাসিনা থাকলে বাংলাদেশ থাকবে না।” তিনি বলেন, “ভোট ছাড়া ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। ২০০৮ সালেও ভোট ছাড়া ক্ষমতায় এসেছিল। আমরা তখন গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সে নির্বাচন মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু এবার কোনো মানুষ ভোট দেয়নি। যে কারণে দেশের ও বাইরের মানুষ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করে নির্বাচনের কথা বলছে। কিন্তু তা আওয়ামী লীগের জন্য সমস্যা।” তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের আন্দোলন প্রসঙ্গে খালেদা বলেন, “আমরা দেশের স্বার্থে সে সময় দাবি মেনে নিয়েছিলাম। তখন জামায়াত ছিল তাদের সবচেয়ে বড় সাথী। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে আজীবন ক্ষমতায় থাকতে সংবিধান পরিবর্তন করে। এরা অবৈধ, তাই তারা যত আইন করবে তা হবে অবৈধ।”   ‘সরকারের গুম-খুনের ভাগ নেয়া হবে না’- জাতীয় পার্টির নেতাদের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ক্ষমতার ভাগ নিবেন আর গুম-খুন-দুর্নীতির ভাগ নিবেন না, এটা হবে না। সবকিছুর ভাগ নিতে হবে।” ভরা মৌসুমে কৃষক ধান-চালের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, “একদিকে সরকার ধান-চাল আমদানি করছে, অন্যদিকে রফতানি করছে।” ‘সুন্দরবনের ঘটনা পরিকল্পিত’ রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য পরিকল্পিতভাবে সুন্দরবনকে ধ্বংস করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, “যেই জাহাজে তেল ছিল এটা তেলের ট্যাংকার না। আর যেটায় ধাক্কা লেগেছে বলা হচ্ছে, সেটা নাকি খালি ছিল। তাহলে তেলের জাহাজ ডুবে যাওয়ার কথা না।” এখনো দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, “দেখা যাবে এসব আওয়ামী ঘরানার মানুষ।” ‘গুন্ডলীগ ও ছাত্রলীগকে সামলান’ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ, দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে খালেদা বলেন, “ছাত্রলীগ ও গুন্ডালীগকে সামলাম। আর নিজের জিহ্বাটা সামলান। মুখটা সামাল দেন, ঠিক রাখুন। স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রী হলেও আপনার মুখে এসব কথা মানায় না। আমাদের ছেলেদের এসব শিখাই না। তারা জিয়াউর রহমানের আদর্শ নিয়ে চলে। তারপরও যদি কোনো সমস্যা হয়, তাহলে সেখানে আমরা কঠিন হই।” ‘নিজের মুখ সংযত করে অন্যকে উপদেশ দেন’ তারেক রহমানকে জিহ্বা সামলে কথা বলতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, “আপনার মুখ সংযত করুন। ভাষা সুন্দর করেন। রাজনীতি করেন। আগে নিজের ভাষা সংযত করে অন্যকে উপদেশ দিন। আমরা যা বলি সত্য বলি। তথ্য দিয়ে বলি।” ‘সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়নি’ প্রশাসনে আতঙ্ক বিরাজ করছে দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, “কখন কার চাকরি যাবে এই আতঙ্ক চলছে। বিএনপির সমর্থক বলে কাউকে কাউকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। বিএনপিকে সমর্থন করেন এমন কথা বলে ওএসডি করা হচ্ছে। সচিবালয়ে অরাজক অবস্থা চলছে। সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, “কয় দিন আগে একটা ধোঁয়াশা সৃষ্টি করা হলো যে, আমার সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। একজনকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। আমাদের দলে আছেন এমন অনেক সাবেক সচিবের সঙ্গে তো আমার বৈঠক হয়। কিন্তু কারা বৈঠক করেছে এটা বের করতে হবে।” সরকারের সময় ফুরিয়ে আসছে দাবি করে বিএনপির নেত্রী বলেন, “সময় ফুরিয়ে আসলে গোয়েন্দারা উল্টো তথ্য দেয়। কিন্তু কোনো বৈঠক হয়নি।” এ সময় তিনি বিডিআর বিদ্রোহের সময় সংস্থাটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “আপনার সঙ্গে যে কেউ দেখা করতে পারে, তাতে দোষ নেই। আমিও তো সাবেক প্রধানমন্ত্রী। আর আমার সঙ্গে কেউ দেখা করলে তাতে তো আইনি কোনো সমস্যা নেই।” প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে খালেদা বলেন, “সন্ত্রাসী, জঙ্গিদের সঙ্গে আপনি দেখা করবেন, আর আমার সঙ্গে কেউ দেখা করলে তার চাকরি যাবে, এটা হতে পারে না। আর বৈঠকই তো হয়নি।” ‘হাসিনার মামলা পুনরুজ্জীবিত করতে হবে’   নিজের বিরুদ্ধে দুদকের মামলাকে মিথ্যা দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, “মইন-ফখরুদ্দীন এসব মামলা করেছিল। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও তো মামলা হয়েছিল। তার মধ্যে মিগ-২৯ ও ফিগ্রেট মামলা ছিল। মিগ-২৯ মামলাটি সিরিয়াস ছিল। এতে সাজা হতো। সে জন্য তড়িঘড়ি করে মইন-ফখরুদ্দীনের সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতায় এসে মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া হলো। অথচ আমাদের মামলা রেখে দেয়া হলো। আমাদের মামলা চললে হাসিনার মামলা কেন বাতিল করা হবে। সেই মামলাও পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। কেন আমাদের হয়রানি করা হবে।” ‘অন্যায় বিচার করলে দশ গুণ সাজা হবে’ দেশে কোনো বিচার বিভাগ নেই, দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, “বিচার বিভাগ আওয়ামী লীগের পকেটে চলে গেছে। চেহারা দেখে বিচারকরা রায় দেন। কোনো অপরাধ করলে সে যে-ই হোক, সাজা হবে, কোনো আপত্তি নেই।” বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা চোখ বুঝে বিচার করবেন। মামলার মেরিট বিবেচনা করে বিচার করবেন। হাসিনা বা আওয়ামী লীগের কথায় চাকরি রক্ষার জন্য রায় দিবেন না। সত্য ও গণতন্ত্রের পক্ষে থাকবেন। ভুলে যাবেন না আপনাদেরও একদিন দুনিয়া ছেড়ে যেতে হবে। অন্যায় বিচার করলে সেদিন তিন গুণ নয়, দশ গুণ সাজা ভোগ করতে হবে। অন্যায় রায় দিলে ফাঁসির চেয়েও কঠিন শাস্তি হবে।” আওয়ামী লীগ-বিএনপি, ছাত্রলীগ-ছাত্রদল দেখে নয়, নিরপেক্ষভাবে বিচার করার জন্য বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পুলিশকে গুলি না করতে হুঁশিয়ারি পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, “আপনারা দেশের মানুষকে কী করে গুলি করেন! আপনারা তো কারো পিতা। আপনাদেরও তো সন্তান আছে। সারা জীবন তো হাসিনা ক্ষমতায় থাকবে না। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে গুলি করবেন না। আমি বলতে চাই, একটাও গুলি করবেন না। তাহলে পাল্টা গুলির কথা বলব না, তবে জবাব দেয়া হবে।” নেতাকর্মীদের সে জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেন খালেদা জিয়া। পুলিশের বেশির ভাগ সদস্য ভালো দাবি করে খালেদা বলেন, “বিশেষ একটি জেলা ও ছাত্রলীগের কিছু আছে, যারা গুলি করে। তাদের বলব, এসব বন্ধ করুন।” ‘আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হও’ কনভেনশনে আসা ছাত্রনেতাদের উদ্দেশে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, “শুধু স্লোগান নয়, ভেদাভেদ ভুলে সবাই প্রস্তুতি নাও। যেকোনো সময় ডাক দেয়া হবে। এবার শুধু ঢাকাকে দোষ দিলে হবে না, সবাইকে মাঠে নামতে হবে।” খালেদা জিয়া সবাইকে জনগণের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “সবাই মানুষের কাছে যাও। তাদের দেশের পরিস্থিতি বুঝাতে হবে। এবং আন্দোলনে নামাতে হবে। এবার সবাইকে নিয়ে আমরা মাঠে থাকব।” এরশাদের বিরুদ্ধে যেভাবে শপথ নেয়া হয়েছিল সেভাবে শপথ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ওই সময় তোমরা ছিলে আমার শক্তি ও সাহস। কিন্তু এখন আমারও বয়স হয়েছে, তোমাদেরও বয়স হয়েছে। তবে আমার সাহস আছে। সাহস থাকলে কাজ হয়ে যায়। দেশের মানুষ ও গণতন্ত্রের জন্য প্রাণ দিতেও প্রস্তুত আছি।” নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেশের সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে আন্দোলনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে বলেন, “গুম, খুন ও অত্যাচার বন্ধ করুন। জনগণের জন্য কাজ করলে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে জনপ্রিয়তা যাচাই করুন।” ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এতে সাবেক ডাকসু ও ছাত্র ঐক্যের নেতারা বক্তব্য দেন। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানটি শুরু হয় সকাল দশটায়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় দুই হাজার ছাত্রনেতা এতে অংশ নেন। বিস্তারিত»

হাসিনা বাংলাদেশকে গিলে ফেলেছে: খালেদা জিয়া

ঢাকা: বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, “হাসিনা বাংলাদেশকে গিলে ফেলেছে। হাসিনা যে গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে তা ফিরিয়ে আনতে হবে। নিজেদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।” সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের কনভেনশনে বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা বলেন, “৫ জানুয়ারি কোনো নির্বাচন হয় নাই। আর যদি ২০০৮ সালের কথা ধরি সেটাও ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনের দয়ায় হয়েছে। জনগণ ভোট দেয়নি।” বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “জনগণ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তাই আমরা অর্থাৎ ২০ দলীয় জোট ও অন্যান্য দলগুলো নির্বাচনে না যাবার সিদ্ধান্ত নেই।” তিনি বলেন, “জনগণ ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করেছে। ভোট কেন্দ্রে কুকুরের উপস্থিতি দেখা গেছে। প্রধানের ভাষায় এটা কুত্তা মার্কা নির্বাচন হয়েছে।”   এ সরকার সম্পূর্ণভাবে অবৈধে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, “এটা একটা অবৈধ পার্লামেন্ট। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এরা সেখানে বসেছে।”   ডাকসুর সাবেক ছাত্র নেতৃবৃন্দ, সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য পরিষদ, তৎকালীন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ৬৪টি জেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ এতে উপস্থিত আছেন। বিস্তারিত»

ছাত্রঐক্যের কনভেনশনে খালেদা জিয়া

ঢাকা: সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের কনভেনশনে যোগ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।দুপুর তিনটার দিকে তিনি যোগ দেন। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি শেষ হলেও অনুমতির বিষয়টি নিয়ে অনেকটা ধোঁয়াশা  সৃষ্টি হয়েছিল। পরে অনুমতি মিললে সকাল ১০টায় এই অনুষ্ঠান শুরু হয়। বেশ কিছুদিন আগে কনভেনশনের জন্য অনুমতি চেয়ে ডিএমপির কাছে চিঠি দেয়া আয়োজকরা। কিন্তু বুধবার রাত পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছিল। ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকবেন। সকাল দশটায় আনুষ্ঠানিকভাবে কনভেনশন শুরু হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান  জানান, বেগম খালেদা জিয়া  বিকেল আড়াইটার দিকে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। ডাকসুর সাবেক ছাত্র নেতৃবৃন্দ, সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য পরিষদ, তৎকালীন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ৬৪টি জেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ এতে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ছাত্র কনভেনশনে আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রাম নিয়ে  দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। বিস্তারিত»

সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা: সশস্ত্র বাহিনীকে পেশাদার ও প্রশিক্ষিত বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, জনগণের আশা-আকাঙক্ষা পূরণে অতীতে সশস্ত্র বাহিনী যেভাবে জনগণের পাশে থেকেছে ভবিষ্যতেও এই ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। তিনি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ৪৮ জন প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তা ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০১৪ তে অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া আর্মড ফোর্সের ওয়ার কোর্সে সশস্ত্র বাহিনীর ২৬ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। বিস্তারিত»

ছবি ঘর

  • holo gram baby
  • political picture
মিডিয়ায় অস্থিরতা

ঢাকা: দুঃসময়ে সংবাদকর্মীরা। হঠাৎ করে বেড়ে গেছে অস্থিরতা। বন্ধ হয়ে গেছে দু’টি সংবাদপত্র। বেকার হয়ে পড়েছেন কয়েক শ’ সংবাদকর্মী। আরও কয়েকটি মিডিয়া হাউজেও চলছে অস্থিরতা। এ সব সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরাও আতঙ্কে রয়েছেন। পুরো সংবাদ মাধ্যম জগতেই চলছে এক ধরনের হতাশা। বেশ কয়েকটি নতুন টেলিভিশন চ্যানেল অনুমোদন দেয়া হলেও এগুলো আলোর মুখ দেখছে না। উল্টো বর্তমানে প্রচারে থাকা কয়েকটি টিভি চ্যানেলের মালিক সার্বিক পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাদের অনেকেই মালিকানা ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। অর্থনৈতিক দিক ছাড়াও সংবাদ মাধ্যমকে আরও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। গত কয়েক বছরে টকশো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেও এসব আলোচনা অনুষ্ঠান এখন এক ধরনের অতিথি সঙ্কটে ভুগছে। জনপ্রিয় বেশ কয়েকজন টিভি আলোচকের ওপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞার তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। এরই মধ্যে দুই জন টকশো আলোচক দেশ ত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে, কাদের আলোচনায় আনতে হবে সে তালিকাও রয়েছে। সংবাদপত্রগুলোও এক ধরনের চাপে রয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় দৈনিক বর্তমান ও অর্থনীতি প্রতিদিন। ২০১৩ সালের ২ জুলাই বিরাট অঙ্কের বেতন-ভাতায় সাংবাদিক নিয়োগ দিয়ে বাজারে আসে দৈনিক বর্তমান। এর মালিক কল্যাণপুর মিজান টাওয়ারের মিজানুর রহমান। শুরুতে পত্রিকাটির সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন বিশিষ্ট  লেখক, সাংবাদিক রাহাত খান। পরে তিনি পদত্যাগ করেন। পত্রিকাটির প্রকাশক মিজানুর রহমান দুর্নীতি ও  হেফাজতে ইসলামের শাপলা চত্বরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় কারাগারে আছেন। মালিক কারাগারে থাকায় আর্থিক সঙ্কটে পত্রিকাটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। যদিও বন্ধ করে দেয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোন আলোচনা করা হয়নি। তবে সাংবাদিকদের এক মাসের বকেয়া পাওনা এরই মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি পাওনা পরিশোধ করতে মালিক পক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পত্রিকাটির একজন সাংবাদিক। অন্যদিকে, ‘বর্তমানে’র আগে অর্থনীতি প্রতিদিন বন্ধ ঘোষণা করে মালিকপক্ষ। গত ২৬শে নভেম্বর পরিচালনা পর্ষদের সভায় পত্রিকাটি বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। এ পত্রিকাটি বন্ধের পেছনেও অর্থনৈতিক কারণকেই উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রিন রোড থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকাতেও অস্থিরতা চলছে। কয়েকজন সংবাদকর্মীকে ছাঁটাই করা নিয়ে এ অস্থিরতা তৈরি হয়।  আওয়ামী লীগের বিগত আমলে সরকার আমার দেশ, দিগন্ত টিভি এবং ইসলামিক টিভি বন্ধ করে দেয়। দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভি চালু করতে কয়েক দফায় আশ্বাস দেয়া হলেও তার বাস্তবায়ন আর হয়নি। এ তিনটি সংবাদ মাধ্যমের বিপুল সংখ্যক কর্মী এখনও বেকারত্বের জীবন যাপন করছেন। ওদিকে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান এবং যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আগামী ৫ জানুয়ারি তাদের আপিল বিভাগে হাজির হওয়ার দিন ধার্য রয়েছে।– মানবজমিন  

বিস্তারিত»
‘দেশ চালানো আর স্ত্রীর পোশাক কেনা এক নয়’

ওয়াশিংটন: সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রনেতার কপালে ভাঁজ!। সবচেয়ে উন্নত আর্থিক অবস্থা সম্পন্ন এক দেশের শীর্ষে থেকেও কপালে ভাঁজ কীকরে? অবাক হচ্ছেন তো। স্ত্রী মিশেলের জন্য জামা কাপড় কিনতে গিয়ে এমনটাই হাল মার্কিন প্রসিডেন্ট বারাক হুসেন ওবামার। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হয় যখন তিনি কীনা তার স্ত্রীর জন্য বড়দিনের পোশাক কিনতে যান! বড়দিনের উৎসবের আগে এমনটাই স্বীকারোক্তি ওবামার। সম্প্রতি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি জনপ্রিয় রেডিও শো, ‘অন এয়ার উইদ রায়ান সিক্রেস্ট’-তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের মুখে স্বীকার করেছেন, স্ত্রীর জন্য পোশাক কিনতে তাকে সমস্যায় পড়তে হয়। ওবামার আক্ষেপ, ‘ক্রিসমাসের দিন আমার দেওয়া পোশাক দেখে মিশেল আমাকে বলবে, “হানি এটা ভীষণ মিষ্টি…”, অথচ কখনোই তাকে সেই পোশাক পরতে দেখিনি।’ কিন্তু কেন? মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বীকারোক্তি, ‘মিশেলের জন্য কেনাকাটা করা অত্যন্ত কঠিন। দেশ চালানো আর স্ত্রীর পোশাক কেনা এক নয়।’ তবে, তার দুই মেয়ের জন্য এতটা খারাপ অবস্থা হয় না বলেই জানাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানাচ্ছেন, বড় মেয়ে ১৬-বছর-বয়সী মালিয়ার জন্য গিফট কেনাটা খুবই সহজ। ওবামার বক্তব্য, ‘মালিয়া পুরোপুরি সিনেমা-পাগল। এক বছর আমি ওকে একশোটা সেরা সিনেমার একটা অনবদ্য কালেকশন গিফট করেছিলাম। সেটা পেয়ে ও খুব খুশি হয়েছিল। বলা যেতে পারে, সেটাই ছিল ওকে আমার দেওয়া সেরা ক্রিসমাস গিফট।’ ওবামা আরও জানিয়েছেন, গতমাসের শেষের দিকে, তিনি ওয়াশিংটনের ‘পলিটিক্স অ্যান্ড প্রোজ ইনডেপেন্ডেন্ট বুকস্টোর’-এ গিয়ে পরিবারের জন্য কয়েকটি ভালো বই কিনেছেন। সাধারণত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর ‘ফার্স্ট ফ্যামিলি’ প্রতি বছর নিয়মমাফিক হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে গিয়ে ক্রিসমাসের ছুটি কাটায়। কারণ, হাওয়াই মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিজের প্রদেশ। এবছরও তার নড়চড় হবে না বলেই জানিয়েছেন তিনি। বড়দিনের ছুটি কাটাতে শুক্রবারই তিনি রওনা দেবেন হাওয়াইয়ের উদ্দেশে, মাথায় স্ত্রীর পোশাক কেনার চিন্তা নিয়েই!- ওয়েবসাইট।

বিস্তারিত»
রাষ্ট্রদ্রোহীতার জন্য একটা বুলেটি যথেষ্ট : সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম

ঢাকা:রাষ্ট্রদ্রোহীতার জন্য একটি বুলেটি যথেষ্ট বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, বীরপ্রতীক। তিনি আরো বলেন, আমরা রাষ্ট্রদ্রোহীতার প্রস্তুতি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি। আমাদের জন্য সরকার রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলা করে সময় নষ্ট করবে না। কোনো দেশে সরকার রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলা করে সময় নষ্ট করে না।   বৃহস্পতিবার রাতে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণে’র উপস্থাপনায় আরটিভি’র ‘আওয়ার ডেমোক্রেসি’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আলোচনার বিষয় ছিল ‘মুক্ত চোখে মুক্তিযুদ্ধ’। আলোচক হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বিসিএস মুক্তিযোদ্ধা ও মুজিবনগর কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ মুসা।   সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, বীরপ্রতীক বলেন, ’৭১ সালে রনাঙ্গনে অস্ত্র হাতে নিয়ে যারা নয় মাস যুদ্ধ করেছেন তাদেরকে প্রান্তিকরণ করা হয়েছে। স্বাধীনতার পরে প্রথম ধাক্কা খেয়েছি। সেসময় বলা হয়েছেÑ অস্ত্র জমা দিয়ে প্রত্যেকেই প্রত্যেকের কাজে চলে যাও। ঠিক সেই মুহূর্তে আর্মি আর্মির জায়গায়, কৃষক কৃষকের জায়গায় চলে যায়। এর পরে রাজনৈতিক মুক্তিযোদ্ধা ও যারা মুক্তিযুদ্ধ করেনি তারা-ই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসেন।   রনাঙ্গনের যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুকে সম্মান করবো কিন্তু যিনি বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন তাকে অসম্মান করবোÑ তা হতে পারে না। তিনি (বঙ্গবন্ধু) জাতিকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করেছেন কিন্তু রনাঙ্গনে যুদ্ধ করেননি। রনাঙ্গনে যুদ্ধ করা তার কাজ ছিল নয়। রনাঙ্গনে যুদ্ধ করা আমাদের কাজ ছিল, তা করেছি। সেজন্যেই বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ আমরা কলিজার মধ্যে ধারণ করি। কিন্তু সবাই যদি কলকাতা থেকে জাতীয় নেতা হতে চায় তাহলে সেটা ধারণ করতে পারব না।   সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোরওয়ার্দী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মেজর জলিল, কর্নেল আবু ওসমান সকলকে বিতর্কের ঊর্দ্ধে রাখতে হবে। তারা আমাদের জাতির জন্য গর্ব। তাদেরকে যখন মাটিতে নিয়ে আসা খারাপ। বাংলাদেশে একে অপরকে গালি দেয়ার আওয়াজ কে চালু করেছে তা মানুষের বিবেচ্য বিষয়।   রাজাকারদের কথা উত্থাপন করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক রাজাকারদের ধরা হচ্ছে কিন্তু আমলা, ব্যবসায়ী ও বৈজ্ঞানিক রাজাকারদের ধরা হচ্ছে না। সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, বীরপ্রতীক আরো বলেন, রক্ষীবাহিনী সৃষ্টি করা, তাজউদ্দীন আহমদকে ক্যাবিনেট থেকে বিদায় দেয়া, বাকশাল কায়েম করা এসব মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী ছিল। বাংলাদেশে ৪৩ বছরে যারাই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে, গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে তারাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ক্ষতি করেছে।

বিস্তারিত»
 আল্লাহ  কর্তৃক নির্ধারিত বিষয়, এর বাস্তবতা অবশ্যম্ভাবী: মুফতী ফয়জুল্লাহ

ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেছেন, জালিম শাসক ও শোষক শ্রেনী তাদের দুঃশাসনের কাছে নতি স্বীকারে বাধ্য করতে গোলা বারুদ নিয়ে দমন  নিপীড়নে নেমেছে। জনগণের অন্তরে তাদের প্রতি ঘৃণা রয়েছে, তাদেরকে ধিক্কার ও অভিশাপ দিচ্ছে এবং তাদের জুলুম থেকে মুক্তি পেতে মহান আল্লাহর দরবারে প্রতিনিয়ত দু’আ করছে। এরা লাগামহীনভাবে সীমালঙ্ঘন করে অসহনীয় জন দুর্ভোগের জন্ম দিচ্ছে, ওদের দুষ্কর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে রোধ করতে কথায় কথায় গুলি চালানো হচ্ছে।   মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, এখন ইসলাম  কায়েম একটি অনিবার্য বিষয়,আল্লাহ কর্তৃক  নির্ধারিত বিষয়, এর বাস্তবতা অবশ্যম্ভাবী ।প্রশ্ন হচ্ছে, কার মাধ্যমে মহান আল্লাহ ইসলামী হুকুমত কায়েম করবেন। এবং এই মহান কাজের মাধ্যমে তাদের সম্মানিত করবেন। এখন কারা আছেন যারা এই সম্মানে ভূষিত হতে চান; আলোকিত ইসলামের মাধ্যমে বর্তমান অন্ধকার শাসন ব্যবস্থার জুলুম থেকে জনগণের মুক্তির জন্য লড়াই করতে চান। আজ বাদ যোহর ইসলামী ঐক্যজোটের নিয়মিত বৈঠকে মুফতী ফয়জুল্লাহ একথা বলেন। সভায় বক্তব্য রাখেন, ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী, যুগ্ম মহাসচিব মুফতী তৈয়্যেব হোসাইন,মাওলানা আবদুল করীম, মাওলানা ফজলুর রহমান,মাওলানা আবু কাশেম, মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াছেল,মাওলানা মুঈন উদ্দীন রূহী, মাওলানা যুবায়ের আহমদ, মাওলানা জসিম উদ্দীন,মাওলানা ফারুক আহমদ, মাওলানা জুনায়েদ গুলজার,মাওলানা রিয়াজতুল্লাহ,মাওলানা আলতাফ হোসাইন, মাওলানা আবদুল আজিজ, আনসারুল হক ইমরান প্রমুখ।  ১৪১ জন লোক নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে                         এবং তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ঐক্যজোট পাকিস্তানের পেশোয়ারে সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে গত ১৬ ডিসে¤॥^র সন্ত্রাসী  হামলায় ১৩২ জন শিশু শিক্ষার্থীসহ ১৪১ জন লোক নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে এবং তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী,মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ। নেতৃদ্বয়  বলেন,আমরা  গভীর শোক প্রকাশ করছি, যারা তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, সে সমস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি এবং এ নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। নেতৃদ্বয়  বলেন, এ ধরনের হিংসাত্মক ও অমানবিক ঘটনা ইসলাম কখনও সমর্থন করে না। নিষ্পাপ শিশুদের’ হত্যা ইসলামের  নীতি -আদর্শের বিরুদ্ধ।

বিস্তারিত»
তারেক রহমান শুধু শূন্য স্থান পূরণ করেছেন

মিনার রশীদ: সাংবাদিক গোলাম মোর্তজা তার ফেইসবুক পেইজে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জিয়া বনাম তারেক রহমান  সম্পর্কে একটা তুলনা টেনেছেন। এত কষ্ট না করে তিনি যদি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে ‘২০০৪ এর তারেক জিয়া’ বনাম ‘২০১৪ এর তারেক জিয়া’ সম্পর্কে একটু গবেষণা করতেন তবে তার মনে উত্থিত এই প্রশ্নের জবাবটি সহজেই পেয়ে যেতেন। গোলাম মোর্তজা অনেক কষ্ট করে জিয়ার পুরো বক্তব্যটি তুলে ধরেছেন। কিন্তু তারেক জিয়ার বক্তব্যের শিরোনামটিই শুধু তুলে ধরেছেন। কিন্তু যে সাপোর্টিং ডকুমেন্ট ও রেফারেন্স উল্লেখ করেছেন তার একটিও তুলে ধরেন নি। ২০০৪ এ যে তারেক জিয়া বঙ্গবন্ধুর মাজার জেয়ারত করেছেন সেই একই তারেক জিয়া ২০১৪ তে আরো পরিণত বয়সে এসে কেন সেই শেখ মুজিবকে রাজাকার, খুনী ও পাকবন্ধু ডাকছেন? বিষয়টি নিয়ে আমাদের সামান্য চিন্তাভাবনা করা দরকার। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ১১জন সেক্টর কমান্ডারদের মধ্যে ৬ জন ইতোমধ্যে এই চেতনাধারীদের কাছ থেকে রাজাকার উপাধি পেয়ে গেছেন। এরা নাকি পাকিস্তানের দোসর হিসাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন! তারপরেও মাত্র নয় মাসের মাথায় আমরা পাকবাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছি। আমাদের নিজেদের বীরদেরকে এভাবে কালিমা লিপ্ত করে অন্য একটি দেশ ও সেদেশের মানুষের কৃতিত্বকে বড় করে তুলে ধরা হচ্ছে। এই গোলাম মোর্তজারা যদি আরেকটু কষ্ট করে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়ার আগের মন্তব্য ও ভাবনাগুলির বিপরীতে এ যাবত জিয়াকে নিয়ে তাদের প্রতিপক্ষের মন্তব্য, ভাবনা ও পরিকল্পনা নিয়ে সময় মত একটা তুলনা টানতে পারতেন তবে এই অভাগা জাতির খুবই উপকার হতো। এমন কোন খারাপ ভাষা নেই যা জিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয় নি। এমন কোন ভয়ংকর পরিকল্পনা নেই যা জিয়ার বিরুদ্ধে করা হয় নি। সর্বশেষ তাঁর কবরটিও ঢাকা থেকে সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সম্ভবত এর ধর্মীয় প্রতিক্রিয়া সামাল দিতে পারবে না ভেবে এটি বাস্তবায়ন করার সাহস দেখাচ্ছে না। আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক জগত এই বিষয়টি নিয়ে কখনও মাথা ঘামায় নি। এই অশুভ প্রবণতাকে চেক দিতে আমরা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যর্থতায় এখন Tit for tat পলিসি ছাড়া বিএনপির সামনে বোধ হয় অন্য কোন উপায় নেই। আওয়ামী লীগ নিজে যে রাজাকারের সংজ্ঞা তৈরি করেছে তারেক রহমান শুধু সেটাই বঙ্গবন্ধুর বেলায় প্রয়োগ করেছেন। যে সংজ্ঞা দিয়ে জিয়া, জলিল, কাদের সিদ্দিকী ও একে খন্দকারসহ আরো অনেককে রাজাকার বানানো হয়েছে সেই একই সংজ্ঞার মাধ্যমে অনেক আগেই বঙ্গবন্ধু রাজাকার হয়ে পড়েন। তারেক রহমান শুধু fill up the blanksএর কাজটি করেছেন। ফেইসবুক থেকে  

বিস্তারিত»
ডরসেট আওয়ামীলীগের উদ্যোগে বিজয় দিবস উদযাপন

এম এ কাইয়ুম হেড অফ নিউজ:মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে ডরসেট আওয়ামীলীগ। ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বনমাউথের তাজমহল রেস্টুরেন্টে আয়োজিত হয় এ সভা। বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা ও মুক্তিযোদ্ধের সকল শহীদদের স্মরণে দাড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। স্থানীয় আওয়ামীলীগের সদস্য ইয়াহইয়া মিনার সভাপতিত্বে, যুগ্ম আহবায়ক এম এ আফজলের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আব্দুস শহীদ, মাহমুদ মিয়া, মেহরাজ আহমদ চৌধুরী, শওকত আলী চৌধুরী, ফারুক মিয়া, ফজিলত খান, আব্দুর রহিম খান প্রমুখ। এতে বক্তারা বলেন, শেখ হাসিনা সরকার দেশের উন্নয়নে সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে দেশ বিদেশের সকল নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান। এছাড়া বিজয়ের ৪৩বছর পরও একটি চক্র দেশের উন্নয়নে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে দাবী করে বক্তারা এসব ষড়যন্ত্রকারীদের কঠোর হাতে মোকাবেলার আহবান জানান। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন,  ফারুক তালুকদার, জামাল উদ্দিন, আছাব মিয়া, আব্দুল হান্নান, শফিক মিয়া কাজী শফিক, আইন উদ্দিন, শায়েখ মিয়া, সৈয়দ আহমদ শোয়েব, বদরুল আলম সজল, মুহিতুর রহমান মুহিত, মামুনুর রশিদ মামুন, মান্না রায়, রেহান আহমদ, লতিফ আলী, শরিফ সুমন, নিহাদুল কবির খান, জামাল হাসান, নাসির উদ্দিন, তাজ উদ্দিন, কামরুল হাসান, আবুল আলী, আওয়াল মিয়া, বাচ্চু মিয়া, বদরুল আলম, আব্দুস শহিদ শাহ, মশারফ আলী, নজরুল ইসলাম, মারুফ মোহাম্মদ হাই, সাহিল, শামীম, আজিজ, ইকবাল, শাহ আজিজ, লিটন খান, হাবিব, লুৎফুর রহমান, শরফ উদ্দিন, আশুক মিয়া, ফখরুল ইসলাম, ফয়েজ আলী, হিফজুর রহমান, চিকন মিয়া, এমদাদ আলী প্রমুখ।  

বিস্তারিত»
কোন বাহিনী প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা দিতে পারবে না : ড. মিজানুর রহমান

ঢাকা:পার্বত্য এলাকায় সেনাবাহিনীর অবস্থানের সমালোচনা করে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনগণই আপনার শক্তি। তারাই আপনাকে নিরাপত্তা দেবে। কোনো বাহিনী আপনার নিরাপত্তা দিতে পারবে না। তাই জনগণকে আপনি দূরে সরিয়ে দেবেন না।’ তিনি অভিযোগ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীদের প্রতি সরকার বর্বর ইসরাইলের মতো আচরণ করছে। তারা যে প্রক্রিয়ায় গাজাকে নিয়ন্ত্রণ করে, পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের নিয়ন্ত্রণে সরকার একই প্রক্রিয়া ব্যবহার করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জাতিসংঘ ইউনিভার্সাল পিরিউডিক রিভিউর (ইউপিআর) সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নে অগ্রগতির বর্তমান অবস্থা : আদিবাসী প্রেক্ষিত’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মিজানুর রহমান একথা বলেন। অ্যাকশন এইড এবং কাপেং ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজক। অধ্যাপক মিজান বলেন, বাংলাদেশের মতো একটি রাষ্ট্রের আচরণ কখনো তার আদিবাসীদের প্রতি এমন হতে পারে না। এখন সময় এসেছে জাতীয় সংসদে আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করা। আদিবাসীদের ভোটেই তারা নির্বাচিত হবেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ভুল পথে চলতে পারে। তবে আমাদের কাজ হবে সঠিক পথে ফেরাতে চিৎকার করা। রাষ্ট্র আমাদের চিৎকার না শুনলে আরো জোরে চিৎকার করতে হবে। তাহলেই সরকার আমাদের চিৎকার শুনতে পারবে। অধ্যাপক মিজান বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন চাই। অন্য কোনো কিছুই দরকার নেই, ভূমি অধিকার বাস্তবায়ন চাই। তাইলেই পরিস্থিতির আমূল ও মৌলিক পরিবর্তন আসবে। এই শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন না করলে এক সময় এদেশ থেকে পাহাড়িরা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির বলেন, সরকার ভোটের আগে পাহাড়িদের আদিবাসীর স্বীকৃতি দিবে বলে অঙ্গীকার করেছিল। নির্বাচনে জিতে তা ভুলে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, একাত্তরে যেভাবে বাঙালি নারীদের পাকিস্তানি ও তাদের এদেশীয় দোসররা ধর্ষণ-নির্যাতন করেছিল, ঠিক একইভাবে আদিবাসী নারীদের এখন ধর্ষণ করা হচ্ছে। সাবেক তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কাপেং ফাউন্ডেশনের বিনোতা ময় ধামাই। সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, কাপেং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের পরিচালক আসগর আলী সাবরী প্রমুখ।

বিস্তারিত»
মিশিগান বিএনপির সদস্য ফর্ম জমা  ও নমিনেশন সংগ্রহ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

মিশিগান,যুক্তরাষ্ট্র:– গত ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪ইং রোজ রবিবার,স্থানীয় কাবাব হাউসে বিকাল ৫ঘটিকা থেকে সন্ধ্যা ৮ঘটিকা পর্যন্ত মিশিগান বিএনপির সদস্য ফর্ম জমা নেয়া হয় এবং ইচ্ছুক প্রার্থীরা নির্ধারিত ফি প্রদান করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির কাছ থেকে  নমিনেশন পেপার সংগ্রহ করেন।   ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪ইং রোজ রবিবার,সন্ধ্যা ৮ঘটিকার মধ্যে মোট ৪২১ টি সদস্য ফর্ম জমা হয়,যারা ২৫শে ডিসেম্বর,২০১৪ইং,রোজ বৃহস্পতিবার সম্মেলনে ভোটে অংশ গ্রহণ করিতে পারিবেন।   বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে সদস্য ফর্ম জমা দেন ও ইচ্ছুক প্রার্থীরা নির্ধারিত ফি প্রদান করে নমিনেশন পেপার সংগ্রহ করেন এবং ঐক্যবদ্ধ ভাবে আগামী ২৫শে ডিসেম্বর,২০১৪ইং,রোজ বৃহস্পতিবার মিশিগান বিএনপির সম্মেলনকে সুন্দর ও সফল করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।   সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির কাছ থেকে নমিনেশন পেপার সংগ্রহ করছেন-দেওয়ান আকমল  চৌধুরী,সেলিম আহমদ ,সাহাদৎ হোসেন (মিন্টু),মজ্ঞুরুল করিম (তুহিন),মোঃ নুরুল হক,মোঃ আব্দুল মুমিন,শাহাজান সিরাজ রহমান,দেওয়ান আবুহুরায়রা,মোঃ সাদিক আহমদ (জয়নাল),কাওসার দেওয়ান,আশাজুল ইসলাম (নাইম),এবং সদস্য ফর্ম জমা দিচ্ছেন-মুজিব আহমদ  মনির।   ১৯শে ডিসেম্বর ২০১৪ইং শুক্রবার,সন্ধ্যা ৮টার মধ্যে কমিটির কাছে নমিনেশন ফর্ম জমা দিতে হইবে এবং ২১শে ডিসেম্বর ২০১৪ইং রবিবার,সন্ধ্যা ৮টার মধ্যে,লিখিত আবেদনের মাধ্যমে নমিনেশন প্রত্যাহার করা যাবে।    

বিস্তারিত»
সরকার পেশাদার ও সুপ্রশিক্ষিত সশস্ত্রবাহিনী গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে :প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের কষ্টার্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার সরকার পেশাদার ও সুপ্রশিক্ষিত সশস্ত্রবাহিনী গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সরকার ব্যবস্থায় এই মূলনীতি নিশ্চিত করতে আমাদের সাহসী বীর সন্তানরা জীবন উৎসর্গ করেছে। তিনি বলেন, এ জন্য আমরা জাতীয় বাজেটে সশস্ত্রবাহিনীর জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং সশস্ত্রবাহিনী গোল ২০৩০ প্রণয়ন করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল গণতন্ত্র এবং প্রতারণামুক্ত একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। গতকাল ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) এবং আমর্ড ফোর্স ওয়ার (এএফডব্লিউ) কোর্স-২০১৪ এর গ্রাজুয়েশন সেরিমনিতে তিনি এ কথা বলেন। এতে এনডিসির কমান্ডান্ট লে. জেনারেল মোল্লা ফজলে আকবরও বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রিবর্গ, সংসদ সদস্যগণ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ, কূটনৈতিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সশস্ত্রবাহিনী তার প্রচেষ্টা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মান অব্যাহত বজায় রাখবে বলে আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সৃষ্ট সশস্ত্রবাহিনী নিয়ে গর্ববোধ করে। তিনি বলেন, আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবসময়ে তাদের পাশে রয়েছে উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও তারা জনগণের পাশে থাকবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, সশস্ত্রবাহিনীর লক্ষ্য অর্জনে চতুর্থ প্রজন্মের ট্যাঙ্ক এমবিটি-২০০০, সেলফপ্রোপেলড গান, রাডার, সেনাবাহিনীর জন্য এপিসি এবং হেলিকপ্টারসহ আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৌবাহিনীর জন্য সাবমেরিন ক্রয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ২০১৬ সালের মধ্যে এই সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হেলিকপ্টার, মেরিন পেট্টোল এয়ারক্র্যাপ্ট, মর্ডান ফ্রিগেট ও জাহাজ কেনা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার সশস্ত্রবাহিনীর এ জন্য সর্বশেষ প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার নিশ্চিত করেছে। সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা অখ-তা ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে সবসময় কাজ করে যাচ্ছে এবং যে কোন ধরনের প্রাকৃতিক ও অন্যান্যে দুর্যোগের সময়ে জনগণের পাশে দাঁড়াচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, তারা কৌশলগত অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এবং দেশে ও দেশের বাইরে খুবই মানসম্পন্ন কাজ করছে। তারা দেশে ও বিদেশে ভালো কাজ করে সুনাম বয়ে আনছে। তিনি জনগণ ও সশস্ত্রবাহিনীর মধ্যেকার এই অংশীদারিত্ব আগামীতে দেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি বহুমুখীকরণ ও জোরদারে এ সকল দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধিরও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা অধিক সম্ভাবনাময় ও কানেকটেক্ট ওয়ার্ল্ডে বসবাস করছি। এ জন্য আমরা অধিক ঝুঁকিতে রয়েছি। উন্নয়নশীল দেশগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রণীত নীতির মধ্যে চলছে। ফলে উন্নত দেশগুলো এ সকল দেশ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি বলেন, এ অবস্থায় আমাদের অবশ্যই অর্থনীতি বহুমুখীকরণ ও শক্তিশালীকরণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অনেক নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করেছে। আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন করাই ছিল এর লক্ষ্য। শেখ হাসিনা এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, গত ৫ বছর ১১ মাসে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ইস্যু, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং বহুমুখী সহযোগিতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী এনডিসি এবং এএফডব্লিউ কোর্স সম্পন্নকারী গ্রাজুয়েটদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, গ্রাজুয়েটরা সামাজিক, রাজনৈতিক, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং জাতীয় নিরাপত্তাসহ একটি রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রত্যাশা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছে, জানতে পেরে তিনি খুশি হয়েছেন। তিনি গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের শাসনের সমস্যা এবং এই সমস্যার বিভিন্ন সমাধান সম্পর্কে পড়াশুনা করতে হবে। মানুষ এখন একটি বৈশ্বিক বহুমুখী বিশ্বে বসবাস করছে। সকল মানুষের মধ্যে যোগযোগের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত প্রযুক্তির বিকাশ ঘটেছে। এতে কখনো কখনো কিছু সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।তিনি বলেন এ জন্য আমরা জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে কিছু আইন প্রণয়নও করেছি। তবে প্রযুক্তির কার্যকর সফল ব্যবহারকেও আমরা উৎসাহিত করছি। শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ১৯৯৬ সালের আগে সশস্ত্রবাহিনীর সিনিয়র ও জুনিয়র কর্মকর্তাদের উচ্চ প্রশিক্ষণের জন্য এ ধরনের কোন প্রতিষ্ঠান ছিল না। তিনি বলেন, আমরা ১৯৯৬-২০০১ সালে দায়িত্ব পালনকালে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি। এই প্রতিষ্ঠানটি একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউশনে রূপ নেয়। এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ দেশি ও বিদেশি অপারেশনাল ও স্ট্রাটেজিক এবং সামরিক থেকে বেসামরিক পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে জানতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তারা শান্তির সংস্কৃতি, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার উন্নয়নে অবদান রাখছে। শেখ হাসিনা কলেজের শিক্ষার মান বজায় রেখে আরো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, এই কলেজ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী কর্মকর্তারা তাদের জ্ঞানের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও জনগণের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায় সূচনায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এ বছর এনডিসি কোর্সে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ জন অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে ২৮ জন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বাংলাদেশ নৌবাহিনী থেকে ৪ জন কমোডর, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী থেকে তিনজন গ্রুপ ক্যাপ্টেন, প্রশাসন ও সিভিল সার্ভিসের অন্যান্য ক্যাডার থেকে ১১ জন যুগ্মসচিব, ফরেন সার্ভিস থেকে একজন মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ থেকে একজন উপ-মহাপরিদর্শক কোর্সে অংশ নেন। পাশাপাশি ১১টি বন্ধুপ্রতিম দেশ থেকে ২৮ জন বিদেশি এই কোর্সে অংশ নেন। এ বছরের এএফডব্লিউ কোর্সে মোট ৩৫ জন অংশ নেন। এদের মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে ৬ লে. কর্নেল, বাংলাদেশ নৌবাহিনী থেকে ২ জন ক্যাপ্টেন ও ৩ জন কমান্ডার এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনী থেকে একজন গ্রুপ ক্যাপ্টেন ও তিনজন উইং কমান্ডার অংশ নেন।

বিস্তারিত»
জলচর পাখি নদীচিল

গাংচিল(Gull)নদীর উপর উড়ে বেড়ায় এমন চিলবিশেষ। গাঙচিল (Seagull) আকৃতিতে মাঝারী থেকে বড় হয়ে থাকে। রঙ হয় ধূসর বা সাদা মাঝে মাঝে, মাথা ও পাখায় কালো ছোপ দেখা যায়। গাঙচিলের ডাক বেশ কর্কশ। এদের পাগুলো বেশ লম্বা হয়ে থাকে। ডানা লম্বা ও শক্তিশালী। হাঁসের মতো পায়ের পাতা জোড়া। এই কারণে জলে সহজেই সাঁতার কাটতে পারে। এরা অনায়াসে আকাশে দীর্ঘক্ষণ উড়তে পারে। হাওয়া থাকলে খুব কমই ডানা সঞ্চালন করে। দু’ চারবার ডানা নেড়ে এরা স্বচ্ছন্দে আকাশে ঘুরে বেড়াতে পারে। মাছ এদের প্রধান খাদ্য। উপকূলের আবর্জনা ঘেঁটে ছোট ছোট পোকামাকড় খায়।  এদের বহু প্রজাতি রয়েছে। তাদের অধিকাংশই পরিযায়ী পাখি। এরা বাসা বাঁধে পাথরের খাঁজে। শুকনো শেওলা দিয়ে বাসা তৈরি করে তাতে দুটি ও তিনটি ডিম পাড়ে। গাল পাখির ডিম খাদ্য হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই সমাদৃত। ইউরোপ ও আমেরিকায় হেরিং গাল, কালো মাথা গাল, কমন গাল সুপরিচিত। গ্রেট ব্ল্যাক হেডেড গাল হলো সবচেয়ে বড় আকারে সোনালি ঈগলের মতো। গৃহপালিত পায়রা থেকে গাল পাখি ছোট।  আমাদের দেশে এদের দেখা খুবই কম মিলে।    এদের প্রধান খাদ্য মাছ, পোকা মাকর, ডিম, বিভিন্ন লতা। এরা অঙ্গুরিঠুঁটো(Ring-billed Gull) নামেও পরিচিত। 

বিস্তারিত»
রাজপথে গড়াচ্ছে রাজনীতি ডেটলাইন ৫ই জানুয়ারি ওয়ার্মআপে দুই শিবির

ডেস্ক নিউজ:রাজপথে গড়াচ্ছে রাজনীতি। উভয় শিবিরেই চলছে ওয়ার্মআপ। নেয়া হচ্ছে প্রস্তুতি। ৫ই জানুয়ারি, ২০১৫ সংঘাতের রাজনীতির দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হচ্ছে। একপক্ষের ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ আরেক পক্ষের ‘কালো দিবস’। এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, বাংলাদেশের ইতিহাসের ৫ই জানুয়ারির স্থান আলাদা। এ এক নয়া কিসিমের গণতন্ত্র। গ্রামের চায়ের দোকান থেকে উড্রো উইলসন সেন্টারে এ নিয়ে গবেষণা হয়েছে বিস্তর। কোন কূলকিনারা হয়নি। ভবিষ্যতের দিনগুলো কোন দিকে এগোবে তা কেউই   নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তবে বিরোধী শক্তি লড়াইয়ে মরিয়া প্রস্তুতি নিচ্ছে। টার্গেট জানুয়ারি-মার্চ। এ সময়ের মধ্যেই সরকারবিরোধী আন্দোলনে একটি ফল দেখতে চাইছেন তারা। মুখে বিরোধীদের আন্দোলনের ঘোষণাকে উড়িয়ে দিলেও ভেতরে ভেতরে প্রস্তুত হচ্ছে সরকারি মহলও। বরাবরের মতো আরও কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছেন তারা। একটি মামলায় বিচারক বদলের সরকারি আদেশ তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের আবেদনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সিগন্যাল পেলেই এ আবেদন করা হবে। খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের একটি গুঞ্জন কিছুদিন থেকেই শোনা যাচ্ছে। তবে কোন সূত্রই এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি। সরকারবিরোধী আন্দোলন মোকাবিলার জন্য সাংগঠনিকভাবেও প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বিজয় দিবসের দিন ঢাকায় ব্যাপক শোডাউন করেছে সরকার সমর্থকরা। ৫ই জানুয়ারি সামনে রেখেই মূলত শক্তি প্রদর্শন করলো আওয়ামী লীগ। ওই দিনটিকে এরই মধ্যে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ হিসেবে উদযাপানের ঘোষণা দিয়েছে দলটি। গত শুক্রবার সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগের এক যৌথসভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই দিন দেশের সব জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় শহরে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সমাবেশ ও র‌্যালি করবে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, যদি ৫ই জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচন না হতো তাহলে দেশের সাংবিধানিক ধারা ও গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত থাকতো না। একটি সূত্রে জানা গেছে, বিরোধীদের যে কোন ধরনের তৎপরতা মাঠে থেকে মোকাবিলা করার জন্যও আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সাংগঠনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকেও সক্রিয় করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্তি আরও বাড়ানো হচ্ছে সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করা হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য। বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের প্রায় সব নেতার বিরুদ্ধেই কোন না কোন মামলায় চার্জ গঠন করা হয়েছে। সুবিধামতো সময়ে এ সব নেতাকে আবার গ্রেপ্তার করা হতে পারে। ২০ দলীয় জোট এবং বিএনপির অবহেলিত একাধিক নেতার সঙ্গে সরকারের সংস্থা যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। বিশেষ করে খালেদা জিয়া যদি গ্রেপ্তার বা বাসায় অন্তরীণ হন তখন এ সব নেতাকে দল ও জোট ভাঙার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে যে সব আন্তর্জাতিক শক্তি সরকারকে সমর্থন দিয়েছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। কংগ্রেসের মতো বিজেপি সরকারের সঙ্গেও সমান সম্পর্ক রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করছে সরকার। সম্পর্ক বৃদ্ধির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই ভারত সফরে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ। ওদিকে, ৫ই জানুয়ারি থেকেই পুরোদমে আন্দোলনে নামতে পারে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। ওই দিনটি ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালনের জন্য বিএনপির নীতিনির্ধারকরা এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে আন্দোলন কর্মসূচি কেমন হবে খালেদা জিয়া এখনও তা নেতাদের খোলাসা করে বলেননি। আন্দোলন প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এরই মধ্যে দলের নেতা, বুদ্ধিজীবীসহ সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়েছেন তিনি। বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কিছু কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। তবে দল পুনর্গঠনের কাজ আপাতত স্থগিত রেখেছে বিএনপি। সর্বশেষ দলীয় নেতাদের খালেদা জিয়া বলেছেন, এখন নতুন কোন কমিটি দিলে শত্রুরা সুযোগ নিতে পারে। তারা দলের মধ্যে কোন্দল তৈরি করতে পারে। এ কারণে কমিটি দেয়া হবে আন্দোলনের পর। বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে মনে হয়েছে, সরকারবিরোধী আন্দোলনে সফলতার ব্যাপারে তারা আত্মবিশ্বাসী। তবে ঠিক কি উপায়ে সরকারের পরিবর্তন হতে পারে সে ব্যাপারে তাদের কাছে স্পষ্ট কোন ধারণা নেই। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান পদে কারা আসছেন সেদিকেও দৃষ্টি রাখছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। তবে তারা মনে করেন, সরকারকে এরই মধ্যে যথেষ্ট সময় দেয়া হয়েছে। জানুয়ারি থেকেই আন্দোলন শুরুর আর কোন বিকল্প তাদের সামনে নেই। বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম বলেন, জানুয়ারি মাসটি বাংলাদেশের ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি গণতন্ত্রকে হত্যা করে বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল। আর ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি আবার গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। সারা দেশের মানুষ এর বিরুদ্ধে সোচ্চার। এর বিরুদ্ধে বিএনপির সোচ্চার না হয়ে উপায় নেই। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষমতাসীনদের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ঢাকায় আন্দোলন কর্মসূচি সফলে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ আন্দোলন কর্মসূচিতে খালেদা জিয়া নিজেই মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর সমন্বিত আন্দোলনের জন্য সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠনের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে। শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার হলেও যেন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় সে ব্যাপারেও বিরোধী নেতারা সতর্ক রয়েছেন। এজন্য একই ভূমিকায় একাধিক বিকল্প নেতাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের মাঠে রাখা নিশ্চিত করারও চেষ্টা চলছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী শিবিরে যখন এক ধরনের চাপা টেনশন বিরাজ করছে, তখন গতকালও খালেদা জিয়া বলেছেন, যে কোন সময় ডাক আসবে।

বিস্তারিত»
প্রধানমন্ত্রীর গায়ে ভারতীয় পতাকার মডেল  দেশের স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে

গত ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে যুক্তরাজ্য খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ক্যাবল স্ট্রিটস্থ সংগঠনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্মসমাহসচিব ও যুক্তরাজ্য সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আবদুল কাদির সালেহ বলেন, ২৫শে মার্চের কালো রাত্রিতে হানাদারদের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধকে বাংলার অকুতোভয় দামাল ছেলেরা দুর্জয় সাহস আর মাতৃভূমির মাটিকে আগ্রাসন মুক্ত করে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের স্বপ্নে যে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করেছিল ১৬ ডিসেম্বর হল সেই যুদ্ধের বিজয়ের দিন। শপথ ও সাহসে অবিচল থাকলে কোন শক্তি মানের বুলে বেয়নেট বুটের আঘাতই মুক্তিকামী যোদ্ধাদের পরাজিত করতে পারে না। তিনি বলেন, বাঙালির বিজয়ের গৌরব ভারতীয়রা ছিনিয়ে নিয়েছিল হানাদারদের আত্ম সমর্পণ অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ককে অনুপস্থিত রেখে। আর আজ বর্তমান তল্পীবাহক আওয়ামী সরকার প্রধান শেখ হাসিনা বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে ভারতীয় পতাকার ডিজাইনে শাড়ি পড়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ও স্বাধীনতাকেই অস্বীকার করেছে। যুক্তরাজ্য খেলাফত মজলিসের সহ সভাপতি মাওলানা হাসান নূরী চৌধুরী সভাপতিত্বে উক্ত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন লন্ডন মহানগরী সভাপতি মাওলানা তায়ীদুল ইসলাম, সহ সভাপতি মাওলানা মাওলানা হুমায়ূন রশীদ নূরী, সাধারণ সম্পাদক আবদুল আহাদ, তারবিয়াহ সম্পাদক মাওলানা আনিসুর রহমান, অফিস সম্পাদক মাওলানা ফুজায়েল আহমদ নাজমুল, প্রচার সম্পাদক মাওলানা হুমায়ুন রশীদ রাজী প্রমুখ। সভায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দান করেছে তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অক্ষুন্ন রাখতে শপথ গ্রহণের জন্য সকলের আহবান জানানো হয়। পরিশেষে দেশ ও জনগণের সার্বিক কল্যাণ শান্তি নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করা হয়।  

বিস্তারিত»
জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপি`র আহবায়ক কমিটি গঠন প্রবাসী জগন্নাথপুর বিএনপির অভিনন্দন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার নব গঠিত বিএনপি’র আহবায়ক হিসেবে কর্ণেল (অব) আলী আহমদ ও কবির আহমদ ১ম  সদস্য  এবৎ এম এ মতিন জগন্নাথপুর পৌর কমিটির আহবায়ক ও আহমদ মিয়া ১ম সদস্য  মনোনীত হওয়ায় সুনামগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী দলের প্রবাসে বসবাসরত জগন্নাথপুর জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি`র আহবায়ক সাবেক এমপি নাসির আহমদ চৌধুরী ও ১ম সদস্য সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন মিলনকে  প্রানঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন । নেতৃবৃন্দরা আশাপ্রকাশ করেন আগামী দিনের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে নব গঠিত কমিটির নেতৃত্বে সুনামগঞ্জ তথা জগন্নাথপুর উপজেলায় সরকার বিরোধী আন্দোলনে অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে । বিবৃতি দাতারা হলেন, যুক্তরাজ্য বিএনপি‘র সহ সভাপতি আনা মিয়া, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সুজাতুর রেজা, যুক্তরাজ্য সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবুল হোসেন, যুক্তরাজ্য বিএনপি‘র আহবায়ক কমিটির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল কাদির, যুক্তরাজ্য সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মিছবাউজ্জামান সুহেল,যুক্তরাজ্য বিএনপি‘র সহ প্রচার সম্পাদক রাজু আহমেদ, যুক্তরাজ্য বিএনপি‘র সহ যুব বিষয়ক সম্পাদক জালাল উদ্দিন আহমদ, যুক্তরাজ্য বিএনপি‘র সহ সেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মির্া নিক্সন, যুক্তরাজ্য বিএনপি‘র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও বর্মান কমিটির সদস্য মল্লিক হাসনু,  লীডস বিএনপি‘র সভাপতি জায়েদ আলী, নর্থ-ইষ্ট বিএনপি সভাপতি সৈয়দ মোসাদ্দিক আহমেদ, ডার্লিংটন বিএনপি‘র সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল হক ও সাধারন সম্পাদক সৈয়দ মারজানুল হক, যুক্তরাজ্য বিএনপি‘র সহ সমবায় বিষয়ক সম্পাদক হেভেন খান, যুক্তরাজ্য বিএনপি‘র ক্রিড়া বিষয়ক সম্পাদক জামাল উদ্দিন, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা শিশু মিয়া, তরুন দলের সদস্য সচিব সেলিম আহমদ, লীডস বিএনপি নেতা সৈয়দ জহুরুল ইসলাম, মল্লিক ওয়াহিদ, সৈয়দ জাবের, নর্থ-ইষ্ট বিএনপি নেতা মির্জা রায়হান, সৈয়দ মাহরান, সৈয়দ হুমায়ূন, সান্ডারল্যান্ডস বিএনপি সভাপতি, সৈয়দ আতাউর রহামান, সান্ডারল্যান্ড বিএনপি নেতা সৈয়দ হুমায়ূন, সৈয়দ মারহান, সৈয়দুন নূর কোরেশী, ওয়েষ্ট মিডল্যান্ডস বিএনপি‘র আহবায়ক কমিটির সদস্য  মজনু মিয়া,  আমিনুর রশিদ চৌধুরী, কবির আহমদ, যুক্তরাজ্য যুবদলের সাবেক সহ সাধারন সম্পাদক জয়নাল কোরেশী,   যুক্তরাজ্য যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি মল্লিক শহিদ, যুক্তরাজ্য যুবদল নেতা দিলদার হোসেন খান, যুক্তরাজ্য যুবদলের আহবায়ক কমিটি‘র সদস্য গোলাম মওলা চৌধুরী নিক্সন,  লীডস যুবদলনেতা সৈয়দ সুয়েব আহমদ, ওয়েষ্ট মিডল্যান্ডস সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আওলাদ হোসেন, সিনিয়র সহ সভাপতি সৈয়দ রুপন আলী,  বার্মিংহাম সিটি সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক রফিকুর রহমান রফু,  নর্থ-ইষ্ট সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সৈয়দ মাহফুজ আহমদ, ওয়েষ্ট মিডল্যান্ডস সাবেক যুগ্ম সম্পাদক চুনু মিয়া, জগন্নাথপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক হোসেন আহমদ, জগন্নাথপুর পৌর যুবদলের সাবেক আহবায়ক শিব্বির আহমদ খোকন, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক জুয়েল চৌধুরী, সাবেক জগন্নাথপুর থানা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আতর আলী, যুক্তরাজ্য যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মসুদ আহমদ, সাবেক ছাত্রনেতা মুজাহিদ খান, সাবেক ছাত্রনেতা মারুফ কাবেরী, সাবেক ছাত্রনেতা জাহির আহমদ, সাবেক ছাত্রনেতা খালেদ আহমদ প্রমুখ ।

বিস্তারিত»
প্রিয় নেত্রী ! যে কথা আপনায় বলিবেনা কেউ !

গোলাম মাওলা রনি : সালামও শুভেচ্ছা ! প্রিয় নেত্রী, কিছু কথা অকপটে বলার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার বিশ্বাস আমার মতো বেহিসেবী নির্বোধ লোক আপনার দলে দ্বিতীয়টি নেই। তাই হয়তো অবোধের মতো বলেই যাচ্ছি গত ৬/৭ বছর ধরে। মাঝে মধ্যে নিজেকে যে প্রশ্ন করিনি তা নয়। বহুবার ভেবেছি কেনো আমি এত্তোসব বলতে যাই বা কি কারণে এত্তোসব লেখালেখি। পরে সান্তনা পাই এই ভেবে যে- আমার আপত্তি বা সমালোচনা কিংবা আবেদন সমূহ তো সবই বাস্তবায়িত হয়েছে। কাজেই আমি আমার কর্ম করেই যাবো। ইংরেজীতে একটি প্রবাদ রয়েছে যার বাংলা অর্থ হলো- যেখানে শয়তান কিংবা ফেরেশতারা যেতে ভয় পায় – বোকারা সেখানে চলে যায় নির্দিধায়। আমি হয়তো ওমন প্রকৃতির বোকা নই। আমি যা করি বা বলি তা আপন বিশ্বাস ও ভালোবাসার বোধ ও বুদ্ধি থেকেই বলি। অতীতে আমি আপনাকে অনেক কথা বলেছি এবং আগামীতেও বলবো। আমার এই অধিকার আমি নিজেই সৃষ্টি করেছি বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রগাঢ় শ্রদ্ধা, অনুরাগ এবং তাঁর আওলাদগণের প্রতি প্রবর মমত্ব এবং ভালোবাসার স্বোপার্জিত বন্ধনের কারণে। আমি আপনাকে সব কথা বলতে পারি কারণ আমি যে আপনায় ভালোবাসি। আপনি আমার হৃদয় থেকে প্রার্থনায় চলে আসেন এবং অশ্র“জলে বিধাতার নিকট আপনাকে সমর্পনের সময় কেবলই আপনার মঙ্গল কামনা করি। আমি আপনার নিকট পদ পদবী, অর্থকড়ি, সহায় সম্বল, স্বার্থ-কিছুই চাইনা এবং চাইবোও না। কোনদিন আপনার আঙ্গিনার সদর দরজা অতিক্রম করবো না- তবে দরজার সামনে ময়লা আবর্জনা দেখলে চোখ মুখ বুজে থাকতে পারবো না। প্রিয় নেত্রী! আপনি কি আপনার বয়সের দিকে একবারও নজর দিয়েছেন! প্রকৃতির নিয়মে আপনি আর কতোদিন কর্মোক্ষম থাকতে পারবেন তা কেবল আল্লাহ পাকই জানেন । আমরা চাই শতবর্ষের কর্মোক্ষম আয়ু। তারপরও আমাদের দরকার আপনার একজন উত্তরাধিকারী। আমরা জানিনা কে হবেন আগামী দিনে আপনার প্রতিনিধি। আপনি দয়া করে ঘোষণা দিন। এতে করে দল শক্তিশালী হবে এবং আপনার উত্তরাধিকারী তার সকল সাধ এবং সাধ্য নিয়ে দেশ ও জনগণের জন্য চেষ্টা করতে পারবেন । আপনি যদি ইন্দিরা গান্ধীকে অনুসরন করতে চান তবে তা হয়তো সবদিক থেকেই হবে মঙ্গল জনক। ইন্দিরাজী কিন্তু সঞ্জয় এবং রাজীব উভয়ের জন্যই নির্ধারন করে দিয়েছিলেন কারা হবেন তাদের রাজনৈতিক সহচর, বিনোদন বন্ধু, পরামর্শ দাতা এবং সাহায্যকারী। ইন্দিরাজী তাঁর জানামতে সুশিক্ষিত, সম্ভ্রান্ত, মেধাবী, চরিত্রবান, প্রজ্ঞাবান এবং ইতিবাচক পাবলিক ইমেজ রয়েছে এমন সব যুবকদেরকে ডেকে কথা বলেছেন। তাদের কেউ হয়তো ব্যবসায়ী অঙ্গনের সফল তারকা, কেউ বা সাংবাদিক, অনেকে চলচিত্রের মহাতারকা, কেউ কেউ নামকরা অধ্যাপক, কিংবা সাহিত্যিক এসকল যুবকগণের মধ্যে যাদের সহজাত রাজনৈতিক নেতৃত্ব গুন রয়েছে, রয়েছে রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং আগ্রহ এবং যারা জীবনের বোধবুদ্ধি অর্জনের পর থেকে কংগ্রেসের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেছেন তাদেরকে ডেকে আলাদা আলাদাভাবে কথা বলেছেন। তারপর নিজের ছেলের চরিত্র, অভ্যাস, মনোভাব এবং মেধার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেছেন। যদি মোটামুটি সামঞ্জস্য দেখতে পেতেন তবেই দ্বিতীয় স্তরে যেতেন। দ্বিতীয় পর্বে তিনি তাঁর ছেলেদের পরিবারের সঙ্গে ঐ সকল যুবকদের পরিবারের পরিচয় করিয়ে দিতেন এবং দুরতম নিভৃত পল্লীতে কয়েকদিন ভ্রমন করিয়ে আনতেন । গোয়েন্দা বাহিনীর লোকজন নিবিড় পর্যবেক্ষন করতে গিয়ে যেসব বিষয় লক্ষ্য রাখতেন তা হলো যুবকগণের পরিবারের সঙ্গে সঞ্জয় কিংবা রাজীবের পরিবারের সদস্যদের কিরূপ মিল মহব্বত হচ্ছে ? যুবকগণ কিংবা তার পরিবারের সদস্যগণ কি অতিরিক্ত ভক্তি শ্রদ্ধা দেখাতে গিয়ে বন্ধু হবার পরিবর্তে ভৃত্য হবার চেষ্টা করছেন কিনা? অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর পুত্রগণ কি লোকজনকে বন্ধু বানাতে চাচ্ছেন নাকি অনুগত মোসাহেব বা ভৃত্য বানানোর চেষ্টা করছেন ? ভ্রমনকালীন সময়ে কাফেলার লোকজনের খাওয়া দাওয়া, বিশ্রাম, স্বার্থপরতা কিংবা স্বার্থহীনতা, দায়িত্ববোধ, কর্তব্যপরায়নতা, পোশাক পরিচ্ছদ, নেতৃত্বগুন, কাজ করার মানষিকতা পর্যবেক্ষন করা হতো। আরো পর্যবেক্ষন করা হতো- তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু। তারা কি দেশ নিয়ে কিছু ভাবছে নাকি কেবল নিজের স্বার্থ, আনন্দ ফ’র্তি ইত্যাদি নিয়েই ব্যাস্ত ? দ্বিতীয় পর্বের গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে ইন্দিরাজী তৃতীয় পর্বে প্রবেশ করতেন। যাদেরকে মনোনীত করা হতো তাদেরকে এমন গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব দেয়া হতো যাতে করে যুবকগণ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এবং তার পরিবারের সদস্যগণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার সুযোগ পেতেন। তারা দিনরাতের যেকোন সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা বাসভবনে ঢুকতে পারতেন কোন রকম পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে। আপনি শুনে অবাক হবেন যে, ইন্দিরাজীর মনোনীত সেই সব পরিবারই আজ কংগ্রেসের মূল শক্তি। তারাই আজ ভারতের চলচিত্র, ভারতের ব্যবসা এবং সংবাদপত্র শিল্পের চালিকা শক্তি । একজন লোকও গত ৩৫ বছরে কংগ্রেস ছেড়ে যায়নি । তাদের কারুর জন্য কংগ্রেস বা নেহেরু পরিবারকে বদনামীর শিকার হতে হয়নি। বরং তারা আপন কর্ম মহিমায় পুরো ভারতবর্ষকেই পৃথিবীর বুকে তুলে ধরছেন। কংগ্রেসতো বটেই- ভারতবর্ষও তাদেরকে নিয়ে গর্ব করে। মাননীয় নেত্রী ! আপনি কি ইন্দিরাজীর মতোন করে কিছু একটা শুরু করেছেন নাকি করবেন? ইন্দিরাজীর দ্বিতীয় পদক্ষেপ ছিলো সাংবাদিক মনোনয়ন। তিনি তথাকথিত চাপাবাজ, চরিত্রহীন, বদনামীর দূর্গন্ধযুক্ত দলীয় সাংবাদিকদেরকে সব কিছু থেকে দুরে রাখতেন। যারা ইউনিয়ন করতো তাদের বেশিরভাগই ভালো কোনো পত্রিকার সাংবাদিক হতো না । এসব লোকেরা দু’কলম লিখতেও জানতো না। তারা যদি কংগ্রেসের পক্ষে কোন কিছু বলতো বা লিখতো তবে জনমত বিরুদ্ধে চলে যেতো। এরা যেখানে উপস্থিত হতো সেখানে ২/৪ টা গন্ডগোল না বাঁধিয়ে ঘরে ফিরতো না । এরা দম্ভ করতো, বড় বড় কথা বলতো এবং ভাব দেখাতো তারা দুনিয়ার সকল কিছু জানে। কিন্তু বোমা মারলেও পেট থেকে দু’কলম বিদ্যে কিংবা মাথা থেকে একটুখানি সুবুদ্ধি বা চরিত্র থেকে সামান্যতম সুগন্ধি বের হতো না। এদের খপ্পরে পড়ে ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত সময়ে তিনি একটার পর একটা ভুল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। পুরো দুই বছর দেশে জরুরী অবস্থা জারী করেও রক্ষা পাননি। ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে ভরাডুবির পর তিনি বুঝলেন কি মহা সর্বনাশ তিনি করেছিলেন । নিজের সকল অভিমান, অহংকার এবং অশিক্ষা ও কুশিক্ষার মোহময় দেয়াল তিনি নিজের হাতে ভেঙ্গে ফেলেন। তার পিতার মহান আদর্শ, শিক্ষা এবং বিবেক বিবেচনাকে কাজে লাগিয়ে তিনি ঘুরে দাঁড়ালেন। ইন্দিরা গান্ধী যখন পতনের একদম তলানীতে ছিলেন তখনতো আপনি দিল্লীতে। নিশ্চয়ই আপনার মনে আছে অনেক কিছু। তিনি নিজে কয়েকজন নামকরা এবং প্রতিথযশা সাংবাদিকের বাড়ীতে গিয়ে দেখা করলেন। রামনাথ গোয়েঙ্কা, খুশবন্ত সিং, অমলেশ ত্রিপাঠী প্রমুখের সহযোগীতা চাইলেন । তারা সকলেই কিছু কিছু শর্ত দিলেন এবং তিনি তা বিনা বাক্য ব্যায়ে মেনে নিলেন। এর পরের ইতিহাসও আপনার জানা। মাত্র তিন বছরের মাথায় ১৯৮০ সালে তিনি পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে এলেন। আপনার চারপাশের পরিচিতজনদের দিকে তাকিয়ে একটু জিজ্ঞাসা করুন যে, তারা কোন পত্রিকায় লিখে এবং তাদের লেখা কোন কালে কতজন পাঠ করেছেন। কিংবা আপনি তাদের কোন লেখাটি পড়ে অতি আশ্চর্য হয়ে ভেবেছিলেন- আহা! এমন লেখা লেখক লিখলো কি করে ! তাদের আচার আচরন, পোশাক আশাক, কথাবার্তা এবং শিক্ষাদীক্ষা যদি আপনার নিজের পছন্দ না হয় তবে আপনি কি করে আশা করতে পারেন যে, জনগণ তা পছন্দ করবে ! অন্যদিকে জনগণের পছন্দের বিষয়টি যদি আপনি না বুঝেন কিংবা না মর্যাদা দেন অথবা জনগণ যা দেখলে বিরক্ত হন সেই সব জিনিস যদি বার বার তাদের চোখের সামনে দোলাতে থাকেন তবে মানুষের মন বিষাক্ত হতে হতে একসময় বিক্ষুব্দ হয়ে উঠবে। ইন্দিরা গান্ধী সব সময় প্রকৃতির আইনকে ভয় পেতেন এবং শ্রদ্ধা করতেন সমাজ, সংশার এবং রাষ্ট্রের মধ্যে ঘটে যাওয়া প্রকৃতির চিরায়ত নিয়ম কানুনকে। তিনি বিশ্বাস করতেন যে- আল্লাহ যা চান তা তিনি মানুষের মুখ দিয়ে বহুদিন ধরে প্রচার করাতে থাকেন । দরিদ্র এবং খেটে খাওয়া মানুষ যাদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত লেনাদেনা নেই বললেই চলে তারা তার সম্পর্কে কি ভাবেন এবং কি বলেন তা নিয়ে তিনি চিন্তিত থাকতেন সর্বদা । কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন-খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষ যারা রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধার কিছুই পান না বা চান না তারাই মূলত প্রকৃতির অমোঘ হাতিয়ার। এই লোকগুলো যদি আড়ালে আবডালে গালাগালি করেন তবে ধরে নিতে হবে তিনি নিশ্চিত ভুল পথে আছেন। ১৯৭৩-৭৪ সাল থেকেই ইন্দিরা গান্ধী দেখলেন জনমত ধীরে ধীরে তার বিপক্ষে চলে যাচ্ছে । পথে প্রান্তরে, দিল্লীর বস্তিতে কিংবা মানালীর পাহাড়ের চুড়ায়- সর্বত্রই সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ তাকে ভীষন গালাগালি করছে । তিনি কৌশলে সেইসব অকথ্য এবং অশ্রাব্য গালাগালি নিজের কানে শুনলেন। ছদ্মবেশে গালাগালকারীদের সঙ্গে কথা বলার পর তার মন আরো খারাপ হয়ে গেলো। কারণ লোকজনের কেউ সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারলো না কেনো তারা গালাগাল দিচ্ছে। তাদের একটিই জবাব- ঐ কুত্তী বেশ্যাকে দেখলে গা জ্বালা করে। ঠিক এই সময়ে সঞ্জয় গান্ধী হঠাৎ করেই মানেকা গান্ধীকে বিয়ে করে বসেন। বিয়ের দিন অর্থাৎ ২৩ শে সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সাল থেকে তাঁর জীবনে শুরু হলো নতুন আরেক বেদনা। বউ-শ্বাশুড়ীর চীরায়ত মতানৈক্যের যন্ত্রনায় তিনি অতিষ্ঠ হয়ে পড়লেন। সারাদিন কাজ এবং সারারাত ধরে ঝগড়া। জীবনটা বিষাদময় হয়ে উঠলো। এতো কিছুর পরও তিনি ধৈর্য্য হারালেন না। প্রকৃতির আইনের নিকট আত্ম সমর্পন করলেন । নিজেকে সুধরানোর পূর্বে মনকে প্রবোধ দিলেন- নিশ্চয়ই তিনি ভুল করেছেন এবং ভুল পথে আছেন নচেৎ খেটে খাওয়া মানুষ কেনো তাকে গালাগাল করবে আর বিধাতাই বা কেনো তার ঘরের মধ্যে পুত্রবধু নামের একটি আজাবের বাক্স ঢুকিয়ে দিবে। ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে ক্ষমতা হারিয়ে তিনি চলে গেলেন দিল্লীর শাহী জামে মসজিদে। দেখা করলেন ইমাম সৈয়দ আব্দুল্লাহ বুখারীর সঙ্গে। এরপর গেলেন হিন্দুদের পূন্যভূমি মথুরা। সেখানকার পূন্যার্থীরা সদলবলে তার ওপর আক্রমন চালালো। তাঁর সঙ্গী ছিলেন বিখ্যাত সাংবাদিক এবং লেখক পাঝা নিদুমারান। সর্বশক্তি দিয়ে তিনি সেদিন ইন্দিরাজীকে বাঁচালেন। এভাবে রাজ সিংহাসন ছেড়ে তিনি দিনের পর দিন পথে প্রান্তরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ঢুকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হতে হতে পুনরায় সিংহাসনে ফিরে এলেন তাদের হৃদয়ের রাণী হয়ে। আমার প্রাণপ্রিয় নেত্রী ! আপনি কি সত্যিই জানেন ঢাকা শহরের রিক্সাওয়ালারা আপনাকে নিয়ে কিসব কথা বলে? আপনি কি খোঁজ নিয়েছেন দেশের মাছ বিক্রেতা, তরকারীর ফেরীওয়ালা, কলা বিক্রেতা এবং পথের দ্বীনহীন ভিক্ষুকেরা আপনাকে নিয়ে কিসব বলাবলি করে ? আপনি ওসব মানুষের মুখের কথাকে অবহেলা করবেন না কিংবা তাচ্ছিল্য ভাবে বলবেন না- ওরা কি জানে বা ওরা কি বোঝে ? বিশ্বাস করুন- প্রকৃতি তার আপন ইচ্ছা শক্তির সবটুকুই কিন্তু ওসব মানুষের মুখ দিয়ে বের করে আনছেন। এখন মানা বা না মানা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আপনার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল, সুস্বাস্থ্য এবং উজ্জল ভবিষ্যৎ কামনা করছি। ইতি -গোলাম মাওলা রনি।

বিস্তারিত»
হাতছাড়া হচ্ছে বেতারের ঐতিহ্যবাহী শাহ্‌বাগ ভবন

বাংলাদেশ বেতার যখন তার প্রতিষ্ঠার ৭৫তম বার্ষিকী পালন করছে, তখন সেই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে জড়িত ভবনটি তাদের হাতছাড়া হতে যাচ্ছে। বিবিসি জানতে পেরেছে, ঢাকার শাহ্‌বাগ এলাকায় রাষ্ট্রীয় এই গণমাধ্যমের সদর দপ্তরের ভবনটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়া হচ্ছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ ব্যাপারে ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। বেতারের সাথে জড়িত ছিলেন এমন অনেকেই বলেছেন, অনেক ঘটনার সাক্ষী এই ভবনটিকে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে দেয়ায় ইতিহাস এবং ঐতিহ্য নষ্ট হওয়ার একটা আশংকা তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, ভবনটিকে ঘিরে ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষা করেই খালি জায়গায় অটিস্টিকদের জন্য চিকিৎসা কেন্দ্র করার চিন্তা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছরের মধ্যে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বেতারের সদর দপ্তর রয়েছে ঢাকার শাহ্‌বাগে। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর শাহ্‌বাগের ভবনেই বাংলাদেশ বেতার নামে প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে যাত্রা শুরু করেছিল। সেই ভবনটিই থাকছে না বেতারের হাতে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক থেকে ভবনটিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে বেতারের নতুন যাত্রায় অন্যতম একজন সংগঠক ছিলেন কামাল লোহানী। তিনি মনে করেন, সরকারের এমন সিদ্ধান্তের কারণে বাঙ্গালীর সংগ্রামের ইতিহাস নষ্ট হওয়ার আশংকা থাকছে। এটি তিনি মেনে নিতে পারছেন না। তিনি বলছিলেন, ''মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ এই ভবন থেকেই সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকের নিষেধাজ্ঞায় সেদিন সেই ভাষণ সম্প্রচার করতে না পেরে বেতারের কর্মকর্তা কর্মচারিরা সব অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরে পাকিস্তানি শাসক অনুমতি দিলে পরদিন সকালে ভাষণ প্রচার করা হয়েছিল।'' ''মুক্তিযুদ্ধের পর এই ভবনেই বঙ্গবন্ধু এসেছিলেন এবং প্রথম সরাসরি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এই ভবন দখল করেই সামরিক শাসকরা তাদের প্রচারণা চালিয়েছিলেন।'' শাহ্‌বাগে বেতার যাত্রা শুরু করেছিলো দু’টি স্টুডিওকে সম্বল করে। ঐতিহাসিক অনেক ঘটনার সাক্ষী সেই স্টুডিওতে গিয়ে দেখা যায়, বেতার সেখান থেকেই এখনও অনেক অনুষ্ঠান করছে। সেখানে কথা হচ্ছিল বেতারের সাবেক উপ মহাপরিচালক আশফাকুর রহমান খানের সাথে। ষাটের দশকের শুরু থেকে চার দশকেরও বেশি সময় তিনি বেতারের সাথে কাটিয়েছেন। তিনি বলছিলেন, ''৭ই মার্চের ভাষণ প্রচার করতে না পেরে বেতারের কর্মকর্তা কর্মচারিরাই প্রথম আসহযোগ আন্দোলনে সাড়া দিয়েছিলেন। ১৯৭৫ এর ১৫ই অগাষ্ট থেকে অনেক পট পরিবর্তন হলেও সামরিক শাসকরা দীর্ঘ সময় এই বেতার ভবন দখলে রেখেছিল।'' ৭৫ বছর আগে ১৯৩৯ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বেতার যাত্রা শুরু করেছিল ঢাকা ধ্বনি বিস্তার কেন্দ্র নামে। নাজিমউদ্দিন রোডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার নাজিরউদ্দিনের বাড়িতে সেই যাত্রা শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই বেতারের নামকরণ করা হয়েছিল অল ইন্ডিয়া রেডিও। ১৯৪৭এ ভারত-পাকিস্তান ভাগ হলে বেতার প্রথমে নাম পেয়েছিল পাকিস্তান ব্রডকাস্টিং সার্ভিস ঢাকা। পরে হয়েছিল রেডিও পাকিস্তান। নাজিমউদ্দিন রোডের সেই বাড়িটি এখন শেখ বোরহানউদ্দিন কলেজ। পাকিস্তান আমলেই ১৯৬০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শাহ্‌বাগে তিন একর জমির উপর ভবন নির্মাণ করে সেখানে নেয়া হয়েছিল বেতারের পুরো কার্যক্রম। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ বেতারের কিছু কার্যক্রম শেরে বাংলা নগরে নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হলেও সদর দপ্তর এবং মুল কার্যক্রম শাহ্‌বাগের ভবনেই রয়ে যায়। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বেতারের পুরো কার্যক্রম শেরেবাংলা নগরে এক জায়গায় নেয়া হচ্ছে। শাহ্‌বাগে বেতার ভবনের দেয়াল ঘেষেই রয়েছে বারডেম হাসপাতাল। আর উল্টোদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল। এই বড় দু’টি হাসপাতালেরই নজর অনেক আগে থেকে বেতারের ভবনের দিকে ছিল বলে জানা গেছে। মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ বেতার নামে যাত্রা শুরুর পর পরই বারডেম হাসপাতাল ভবনসহ ঐ জমি চেয়েছিল বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে। তবে সেসময় বিষয়টি সামনে এগোয়নি। কিন্তু এখন আবার বড় দু’টি হাসপাতাল বেতারের জায়গা চেয়েছিল। শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আগে আবেদন করায় তারা জায়গাটি পেয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ইতিহাস ঐতিহ্যে অংশ এমন ভবন বা জায়গা একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বা হাসপাতাল নিয়ে কি করবে? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রাণ গোপাল দত্ত দাবি করছেন, তারা ইতিহাস রক্ষা করেই তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন। তারা সেখানে অটিস্টিক শিশুদের জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুও কিন্তু কোন আশংকা বা অভিযোগকে পাত্তা দিতে রাজি নন। তিনি ভবনের চেয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে পুরোনো যন্ত্রপাতিকে সংরক্ষণের বিষয়কে গুরুত্ব দিতে চান। এবং সেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে একমত নন কামাল লোহানী। তিনি মনে করেন, শাহ্‌বাগে বেতারের ভবনের তিন একর জমির পুরোটার সাথেই জড়িয়ে আছে ইতিহাস-ঐতিহ্য। পুরো জায়গাটিই যেখানে সাক্ষী হয়ে আছে, সেখানে অংশবিশেষ রক্ষা করার কথা বলে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে তার ধারণা। তিনি বলেছেন, ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী হিসেবে ভবনসহ পুরো জায়গাটিই সংরক্ষণ করা উচিত। তবে, বেতারের শাহ্‌বাগের ভবনসহ জায়গাটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়ার প্রক্রিয়া একেবারে শেষ পর্যায়ে এসেছে। সরকারের সিদ্ধান্তের পর জমির দলিল হয়েছে। এখন শুধু হস্তান্তরের পালা।বিবিসি

বিস্তারিত»
বড়লেখায় নিখোঁজের পাঁচ দিন পর কৃষকের মস্তক বিহীন লাশ উদ্ধার: গ্রেফতার ৩ : আসামীদের ৩ দিনের রিমান্ডে

এ.জে লাভলু, বড়লেখা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় নিখোঁজের পাঁচ দিন পর আমির আলী (৫৫) নামের এক কৃষকের মস্তক ও এক  হাত বিহীন লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ । গতকাল বৃহ¯পতিবার সন্ধ্যায় হাকালুকি হাওর এলাকার মরা সুনাই নদীতে লাশটি ভেসে উঠে দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। আটকৃতরা হলেন- উপজেলার মুর্শিদাবাদকুরা গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে সুনাম উদ্দিন (৪৫), চুকারপুঞ্জি গ্রামের মৃত আতির আলীর ছেলে আবুল হোসেন (৫৫) ও কুঠাউরা গ্রামের মৃত সইব উদ্দিনের ছেলে মইজ উদ্দিনকে (২৪)। থানা পুলিশ, এলাকাবাসী ও সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের কাজিরবন্দ গ্রামের মৃত হাসমত আলীর ছেলে আমির আলী গত ১৩ ডিসেম্বর রাতে মাছ শিকারের জন্য হাকালুকি হাওরে গিয়ে আর ফেরেননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে পরের দিন আমির আলীর ছোট ভাই মুমিন আলী বড়লেখা থানায় জিডি করেন। নিখোঁজের তিন দিন পর এলাকাবাসী ও স্বজনরা মালাম বিলের পারে আমির আলীর একটি জ্যাকেট পেয়ে বিলের ৩ পাহারাদারকে সন্দেহ হয়। পরে এলাকাবাসী বিলের ৩ পাহারাদারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়ে মামলার তদনন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফিরোজ আহমদ গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ১৮ ডিসেম্বর আদালতে রিমান্ডের আবেদন করেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ বড়লেখা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গাজী মো. দেলোয়ার হোসেন আসামীদের বিরুদ্ধে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বড়লেখা থানার ওসি আবুল হাসেম লাশ উদ্ধারের সত্যতা স্বীকার করে জানান, (শুক্রবার) ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করা হবে।  

বিস্তারিত»
গোলাপগঞ্জে পুলিশি অভিযানে  আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৫ ডাকাত আটক

মুহাম্মদ চেরাগ আলী, গোলাপগঞ্জ (সিলেট) থেকে ঃ  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ  একটি সিএনজি অটো রিক্সা তল্লাশী করে ২টি পাইপগান সহ ৫ ডাকাতকে আটক করেছে। এসময় তাদের দু’সহযোগী পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানায়। গত ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গোলাপগঞ্জ থানার পুলিশ গোপন সুত্রে জানতে পারে আন্তজেলা ডাকাত দলের সদস্যরা গোলাপগঞ্জে ডাকাতি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকাদক্ষিণ এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে পুলিশ অবস্থান নিতে থাকে। রাত অনুমান ৯টায় গোলাপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম ফজলুল হক শিবলীর নেতেৃত্বে পুলিশ টিম ঢাকাদক্ষিন মোগলা বাজার সড়কের উত্তর কানিশাইল নামক স্থানে পাহাড় লাইনে একটি সিএনজি অটো রিক্সাকে থামায়। এসময় সিএনজি থেকে দু’জন পালিয়ে গেলেও চালক সহ ৫জনকে তখন আটক করা হয়। সিএনজি তল্লাশী করলে তাদের সঙ্গে থাকা একটি চটের ব্যাগ থেকে দুটি দেশীয় তৈরি পাইপগান, ৬ রাউন্ড বন্দুকের কার্তুজ, ২টি দরজা ভাঙার যন্ত্র, ২টি রামদা উদ্ধার করা হয়। এসময় ধরা পড়ে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার পালপুর গ্রামে গেতাব আলীর পুত্র আবুল আহমদ ছালাম উরফে কালা(২৫), কোম্পানীগঞ্জ থানার বটেরতল গ্রামের মৃত রইছ আলীর পুত্র হাবিবুর রহমান গেদা উরফে রাজা(৩২), গোলাপগগেঞ্জর গ্রামের মুশারফ আলীর পুত্র নানু মিয়া(২৮), সুনামপুর গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের পুত্র দেলওয়ার হোসেন(২৫), একই গ্রামের মৃত আছকর আলীর পুত্র মন্টু মিয়া(৩২)। এছাড়া তাদের সহযোগী সুনামগঞ্জ ছাতক থানার ছাইদুর (৩৫) ও গোলাপগঞ্জের বসন্তুপুর গ্রামের আব্দুল জব্বারের পুত্র আব্দুল হক(৩৫) পালিয়ে গেলেও তাদেরকে মামলার এজার ভুক্ত আসামী করা হয়। এব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে ইতিপূর্বে বুধবারীবাাজর ইউনিয়নের বাগিরঘাট ও বহরগ্রামের ডাকাতির সাথে এদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। পুলিশ এদেরকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এসকল ডাকাতির ঘটনা উদ্ধার হতে পারে বলে অনেকের ধারণা।  

বিস্তারিত»
মনে রাখবেন- ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়:মির্জা আলমগীর

ঢাকা: বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারেক রহমান নয়, আপনার সংযত হওয়া উচিত। আপনি যে ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন সে ভাষা উচ্চারণ করা যায় না। তিনি বলেন, আপনারা (আওয়ামী লীগ নেতা) যখন মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের উপ-সেনাপতি একে খন্দকারকে রাজাকার বলেন তখন হুঁশ থাকে না। মনে রাখবেন- ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়। তারেক রহমান ইতিহাসভিত্তিক বক্তব্য দিয়েছেন- তাতে আপনাদের গায়ে জ্বালা ধরেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে নব্বইয়ের ডাকসু ও ছাত্র ঐক্য আয়োজিত জাতীয় কনভেনশনে এসব কথা বলেন মির্জা আলমগীর। ৯০এর চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বর্তমান স্বৈরাচারী সরকাররের পতন ঘটাতে হবে বলে জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা আলমগীর বলেন, আবারো দেশের জনগনকে ঐক্যবদ্ধ করে গণতন্ত্র রক্ষায় স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে। দেশের মানুষকে জাগিয়ে তুলতে হবে। মির্জা আলমগীর বলেন, জাতি আজ গণতন্ত্র হারিয়েছে। গণতন্ত্র চাওয়ার অপরাধে সারাদেশকে তারা (আওয়ামী লীগ) কারাগারে পরিণত করেছে। বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ অনেকে গুম-খুন হয়েছে। এভাবেই সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তারা আসলে খাঁটি ফ্যাসিস্ট। ’৭১ সালে তারা বাকশাল কায়েম করেছিল এখন আবার গণতন্ত্রের লেবাস পরে বাকশাল কায়েম করেছে। মানুষের আশা আকাঙক্ষাকে হত্যা করে গণতান্ত্রিক সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া কনভেনশনে সভাপতিত্ব করছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান। সম্মেলন পরিচালনা করছেন বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন। মঞ্চে উপস্থিত আছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, সহ-তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির সহ-স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, সাবেক ছাত্রনেতা কামরুজ্জামান রতন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আজিজুল বারী হেলাল, সাইফুদ্দিন মনি, আসাদুর রহমান আসাদ প্রমুখ। এ ছাড়া দর্শক সারীতে উপস্থিত আছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরাম হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু প্রমুখ।  

বিস্তারিত»
প্রেস ক্লাবে পাখির মেলা

ঢাকা: কী বিচিত্র এক প্রদর্শনী! পাখিদের কলকাকলীতে  মুখরিত প্রেস ক্লাব মিলনায়তন। গ্রামবাংলার মতো আবহমান প্রকৃতির মধুর সুর ধ্বনিতে ভিড় করছে দর্শনার্থীরা। খাঁচায় পোষা পাখির ডাকাডাকি, ওড়াওড়ি চার দেয়ালের একটি কক্ষকে প্রাণবন্ত করে তুলছে এই বিদেশী প্রজাতির পাখিগুলো। এমন একটি প্রদর্শনী উপভোগ করতে কার না মন চায়। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এভিক্যাচারাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ উদ্যোগে চলছে দুই দিনব্যাপী বিদেশী পোষা পাখী প্রদর্শনী। এখানে প্রদর্শিত হচ্ছে ৮০টি প্রজাতির বিদেশী পাখি। এ প্রদর্শনী সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত। প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে ঢুকতে শোনা যায় পাখির কিচির-মিচির। বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির পোষা পাখির কল-কাকলীতে মিলনায়তন ছিল ব্যঞ্জনাময়। বিন্যাসবদ্ধ খাঁচায় ভিনদেশী নানা রঙের পাখির মেলা। পাখিগুলো দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। প্রদর্শনীতে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার প্যারাকিট (বাজারিগার), কাকাতুয়া, রোজেলা অপালাইন র্যা ম্প, গোল্ডেলিয়ান ফিনচ, ডায়মন্ড ডোভ, স্পেনডিড প্যারাকিট,লরি আফ্রিকার লাভ বার্ড, লাফিং ডোভ, ক্যানারী, নিউজিল্যান্ডের ঝকারিকি, ইন্দোনেশিয়ার ইংলিশ বাজরিগার, জাভা চড়ুই, গোল্ডেন ম্যান্টেল্ড রোজেলা ইত্যাদি পাখী। সংগঠনের সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ বকুল নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, প্রদর্শনীর সব পাখিই খাঁচায় পোষা, বন্য নয়। বিদেশে খাঁচায় পাখি পোষা একটি ভালো শিল্প। তবে আমাদের দেশে এটি কেউ গুরুত্ব দেয় না। পাখি পোষার শখ মানুষের আছে, তাদের আকৃষ্ট করতে এই আয়োজন করা হয়েছে। এ প্রর্দশনীর মাধ্যমে মানুষের বন্য পাখি পোষার প্রবণতা কমে যাবে। আমাদের এই প্রদর্শনীর কারণে যেসব স্থানে পাখি বিক্রি করা হয়, সেগুলোতে বিদেশী পাখি বিক্রি করা শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। সংগঠনের সদস্যরা পোষা পাখির বাচ্চা উৎপাদন করছে জানিয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. আমজাদ চৌধুরী নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, আবহমান কাল থেকে মানুষ জঙ্গল থেকে বন্য পাখি ধরে নিয়ে খাঁচায় পোষে। এখন আমাদের সদস্যরা নিজেরাই বাচ্চা উৎপাদন করছে। প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া এক দর্শক মাইদুল ইসলাম বলেন, “তিনি ছোটবেলায় পাখি খাঁচায় পোষার শখ ছিল কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। তবে এখানে এসে বিভিন্ন রঙের বিদেশী পাখি দেখে সেই শখ আবার জেগেছে। প্রদর্শনী দেখে আমি খুবই মুগ্ধ।”

বিস্তারিত»
পরিস্থিতি  মোকাবেলায় সরকার যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেনি

ঢাকা: সুন্দরবনে তেলের ট্যাংকার-ডুবির ঘটনার পর পরিস্থিতি  মোকাবেলায় সরকার যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেনি বলে অভিযোগ করেছেন পরিবেশবাদীরা। তারা বলেছেন, দুর্ঘটনার পরপরই দ্রুত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনে বিদেশী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া উচিত ছিল। সরকার এর কোনোটিই করেনি। বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির হলরুমে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত “শ্যালা নদীতে তেল ট্যাংকার দূর্ঘটনাঃ বিপর্যস্ত সুন্দরবনের পরিবেশ, বর্তমান অবস্থা ও করণীয়” শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। ট্যাংকার-ডুবির পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় সঙবাদ সম্মেলনে।   সুন্দরবনের বর্তমান সার্বিক অবস্থার সরেজমিন পরিদর্শন প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবন পরিদর্শন প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বাপার যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল। বক্তব্য দেন বিশিষ্ট লেখক-গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাপার সাধারণ সম্পাদক ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব ডা. মো. আব্দুল মতিন ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির অন্যতম সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স। উপস্থিত ছিলেন বাপার যুগ্ম সম্পাদক জাকির হোসেন ও মিহির বিশ্বাস, বেন অস্ট্রেলিয়ার সমন্বয়ক কামরুল আহসান খান ও পরিদর্শক টিমের সদস্য ও বাপা সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম। সম্প্রতি সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকার-ডুবির পরিপ্রেক্ষিতে সুন্দরবনের পরিবেশ ও সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য বাপার এক প্রতিনিধিদল সরেজমিন পরিদর্শন করেন। বক্তারা বলেন, সুন্দরবন প্রকৃতির সৃষ্টি। লাখো বছর ধরে এটা গড়ে উঠেছে। সুন্দরবন বিধ্বংসী কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে একে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে না দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা। শরীফ জামিল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা ও সার্বিক তথ্য তুলে ধরে বলেন, তেলবাহী ট্যাংকার ডুবে যাওয়ার ঘটনা ও  সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তেল ছড়াতে থাকলেও সরকারের তেমন কোনো পদক্ষেপ ছিল না। ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যারয়ে উদ্বেগ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। বক্তারা বলেন, তারা দেশের উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ চান, তবে সুন্দরবনের বিনিময়ে নয়। দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে সুন্দরবন রক্ষা করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে সুন্দরবন ও ট্যাংকার-ডুবির আশপাশের এলাকাকে জরুরি দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ঘোষণা, স্বাস্থ্য-ঝুঁকিপূর্ণ তেল অপসারণকাজে সাধারণ মানুষের বদলে সংগঠিত রাষ্ট্রীয় বাহিনী ব্যবহার, বন ও পরিবেশবান্ধব দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবাদী সংগঠন ও স্থানীয় জনগণের পরামর্শ নিয়ে সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে তেল ছড়ানো বন্ধ ও তা অপসারণের পদক্ষেপ নেয়াসহ বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে। দাবিগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে,  শ্যালা নদীর নৌপথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা ঘসিয়াখালী নৌপথ পুনঃ খনন ও চালু করা।

বিস্তারিত»
হাজারীবাগে সাত্তার হত্যা ১৮ বছর পর খুনের বদলা খুন, পরিকল্পনা কারাগারে

ঢাকা: রাজধানীর হাজারীবাগের আফজাল হোসেন সাত্তার  ওরফে গালকাটা সাত্তার হত্যার পেছনে রয়েছে ১৮ বছর আগের এক খুনের ঘটনা।  দীর্ঘদিনের পু্ঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে সাত্তার হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।  এ হত্যাকাণ্ডের ছক আঁকেন কারাগারে বন্দী আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী। এমনটাই দাবি করেছে র‌্যাব-২।     ১৪ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর ঝিগাতলার তিন মাজার মসজিদ এলাকায় সাত্তারকে জনসম্মুখে এলোপাতাড়ি গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।  তিনি বিএনপির নেতা নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বডিগার্ড ও ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। হাজারীবাগের টেনারি ব্যবসায়ী সাত্তারের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হত্যার অভিযোগে ১০টি।  হাজারীবাগ থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের মধ্যে তার নাম দুই নম্বরে।     ঘটনার পর সাত্তারের মা ফিরোজা বেগম কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে হাজারীবাগ থানায় মামলা করেন। ওই মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচ নম্বর আসামি  মো. মাসুদ হাসানকে (৩৩) বৃহস্পতিবার ভোরে শেওড়াপাড়ায় তার শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেফতার করে র্যা ব-২।   বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে র্যা ব-২-এর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান ব্যাটালিয়নটির অধিনায়ক (সিও) এস এম মাসুদ রানা। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ জানিয়েছেন, ১৯৯৬ সালে তার বড় ভাইকে নবাবগঞ্জ সেকশন ঢালে কুপিয়ে হত্যা করেন সাত্তারের তিন ভাই। এই ক্ষোভ থেকে মূলত সাত্তারকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়।   র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক বলেন, “বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী ধানমন্ডির ইমন জেলে বসে এই হত্যার পরিকল্পনা করে। মাঠপর্যায়ে  তার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হয় ১৪ ডিসেম্বর দুপুরে। ” সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কারাগার থেকে চার মাস ধরে নিজের ঘনিষ্ঠ হাজারীবাগের ইব্রাহীম খলিল ওরফে বুলু ও মাসুদের সঙ্গে সাত্তার হত্যার পরিকল্পনা করেন ইমন। ঘটনার দুই দিন পর বুলুকেও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় হাজারীবাগ থানার পুলিশ। গত মঙ্গলবার থেকে তিন দিনের রিমান্ডে তিনি থানায় আছেন। র‌্যাব কর্মকর্তা এস এম মাসুদ রানা বলেন, “বিভিন্ন সময় কারাগারে বসে মোবাইল ফোনে পরিকল্পনা মোতাবেক হত্যার দিকনির্দেশনা দেন ইমন। এরই ধারাবাহিকতায় সাত্তারের ওপর নজরদারি করেন বুলু, লিংকন ও মাসুদ।” মাসুদ রানা  বলেন, “একাধিক মাঠকর্মী নিয়োগ করে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করে তারা ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে তারা মরিয়া হয়ে ওঠে। পরে ইমনের নির্দেশে গনি নামক একজন শুটারকে এই কাজে নেয়া হয়।”    মাসুদের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, গনির তিনটি অবৈধ অস্ত্র আছে। তিনিই হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব পান। সম্পূর্ণ অপারেশন দলটি নিরাপদে অবস্থান নেয়া এবং তাদের নিরাপদে এলাকা ত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল মাসুদের। র‌্যাবের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ জানিয়েছেন, গনি প্রথম সাত্তারকে গুলি করেন। এ ছাড়া তিন মাজার মসজিদ এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে মাসুদ, মনির, রজত, রানা, তাপস ও লিংকন অবস্থান নেন।  ঘটনার আগে তারা সাত্তারের গতিবিধি লক্ষ করেন। ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর সবাই যার যার মতো করে পালিয়ে যান। ইমনের পরিকল্পনা নিয়ে অপারেশনে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন বুলু।

বিস্তারিত»
যুক্তরাষ্ট্রে জামায়াত ছাড়া কোন দলেরই সদস্য তালিকা নেই

নিউইয়র্ক : যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ, বাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, এনডিপি, ন্যাপ, গণফোরাম, জাকের পার্টিসহ নামধারী শতাধিক রাজনৈতিক দল থাকলেও শুধুমাত্র জামায়াতে ইসলামী ছাড়া অন্য কোন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধিত কোন সদস্য তালিকা নেই। কোন দলই হলফ করে বলতে পারবে না যে তাদের সদস্য সংখ্যা কত। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক কালচারে এই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিবন্ধিত হওয়ার সংস্কৃতি রয়েছে। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিবন্ধন বা তালিকার বিষয়ে তাদের মধ্যে কোন প্রকার জবাবদিহিতাও নেই বলে জানা গেছে। এদিকে পুরোদমে দেশীয় স্টাইলে পরিচালিত রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ে মূলধারার রাজনীতিকসহ কমিউনিটির সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সকল দলেরই সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সাংগঠনিক সম্পাদক, দফতর সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ প্রভৃতি পদ-পদবী রয়েছে। এখন কমিউনিটিতে প্রশ্ন উঠেছে এসব গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবীধারী ‘রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাজ কী? তাদের দায়িত্ব কি? অনুসন্ধানে জানা গেছে, দলগুলোর মধ্যে সাংগঠনিক নিয়ম-নীতি আর জবাবদিহিতা না থাকায় দলগুলোতে যা ইচ্ছে তা হচ্ছে। বিশেষ করে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনায় যারা অর্থ দিয়ে সাহায্য করেন তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তির কাছে অনেকেই জিম্মি হয়ে পড়েন। দলের জন্য যথেষ্ট ত্যাগ থাকলেও আর্থিক সমস্যার কারণে তিনি ‘লাইম লাইট’ এর বাইরে থাকেন। আর যিনি আর্থিক অনুদান দিয়ে সহযোগিতা করেন তিনিই মঞ্চে আসন পান, বক্তৃতার সুযোগ পান। জানা গেছে, দলগুলোর সভা-সমাবেশের ব্যয় নির্বাহের জন্য উপস্থিত নেতাকর্মীদের অনুদান উত্তোলন নিয়েও নানা সময়ে ঘটে অঘটন। কে কত অনুদান দিচ্ছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ। এ নিয়ে প্রকাশ্যে হৈ চৈ-এর ঘটনাও ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র আ লীগ, বিএনপি, জাপা প্রভৃতি রাজনৈতিক দলের মাঠ পর্যায়ের একাধিক নেতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, দলগুলোর নেতারা দলের নাম ও দলের পদ-পদবী ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত। আমরা দলগুলোর আদর্শে উজ্জীবিত বলেই মনের তাগিদে রাজনীতি করি। দলের সভা-সমাবেশে যোগ দেই। প্রতিবাদ সমাবেশ করি। কিন্তু আমাদের লাভের লাভ কি? কমিটি থাকলেও দলগুলো পরিচালনায় কোন সাংগঠনিক নিয়ম-নীতি মানা হচ্ছে না। নেই দলগুলোর মধ্যে আর্থিক স্বচ্ছতা। ফলে দলগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়ছে দলীয় কোন্দল, বিভক্তি, ক্ষোভ। সেই সঙ্গে নেই কারো কোন দায়বদ্ধতা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগ-বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আমাদেরকে দল করতে হয়। তাই সাংগঠনিক নিয়ম-কানুন মেনে চলা সম্ভব হয়ে উঠে না। জানা যায়, আ.লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেয়ার দিন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ জাতিসংঘ ভবনের সামনে আনন্দ সমাবেশ আর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। কয়েক হাতের ব্যবধানে আ.লীগ-বিএনপির এ সমাবেশ চলে। ওই দিন আ.লীগের সমাবেশে দৃশ্যত: নেতাকর্মীর উপস্থিতি কম হয় এবং এজন্য প্রধানমন্ত্রীর পুত্র ও তার উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ক্ষোভও প্রকাশ করেন। ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীরাও। অপরদিকে বিএনপির সমাবেশে শত শত নেতাকর্মীর উপস্থিতি ছিলো লক্ষণীয়। এ ব্যাপারে দলের এক নেতা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগের নেতৃত্বে দৈন্যতা আর সাংগঠনিক নিয়ম-কানুন না থাকায় দলীয় নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে অনেকেই জাতিসংঘের সম্মুখের সমাবেশে যোগ দেননি। যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগ-বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের দাবি দলগুলোর মধ্যে সাংগঠনিক নিয়ম-নীতি বজায় রাখার মধ্য দিয়ে আর্থিক স্বচ্ছতা আর সদস্য নিবন্ধিকরণ করার উদ্যোগ নেয়া হোক।

বিস্তারিত»
সাসেক্স বিএনপি‘র ৪৪তম বিজয় দিবস উদযাপন

সাসেক্স:দেশের গনতন্ত্র আজ হুমকীর মুখে দাবী করে বর্তমান অবৈধ সরকার পতনের আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করতে দলীয় নেতাকর্মীদের এক হয়ে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন সাসেক্স বিএনপি‘র নেতৃবৃন্দ। ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ব্রাইটনের স্থানীয় অশোকা রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশের ৪৪তম মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে বক্তারা দাবী করেন দেশে শিক্ষা, প্রশাসন ও নানা ক্ষেত্রে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে জোড় পূর্বক আওয়ামীলীগের ক্ষমতা দখলের  বহিঃপ্রকাশ। তাই অনতি বিলম্বে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের মতামত প্রকাশের দাবী করেন বক্তারা। এছাড়া বক্তারা আরো বলেন, বিজয়ের ৪৪ বছর পেরিয়ে গেলেও স্বাধীনতার যথার্ত স্বাধ এখনো অর্জিত হয়নি। দেশ বাচানোর আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে বলেও জানান তারা। দলের নব নির্বাচিত শাখা সাধারন সম্পাদক গোলাম রাব্বানী আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নব নির্বাচিত সভাপতি আলহাজ্ব রফিক মিয়া। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সহ সভাপতি তফাজ্জল হোসেন, সহ সভাপতি আব্দুল মানিক, আব্দুল আহাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বখতিয়ার খান, ট্রেজারার, বদিউল আলম, সাবেক ছাত্রনেতা শফিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক আতর আলী, তহির উদ্দিন আজিজ। অনুষ্ঠানে নব নির্বাচিত ৫১ বিশিষ্ট কমিটিকে পরিচয় করিয়ে দেন সভাপতি আলহাজ্ব রফিক মিয়া। তিনি সকল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাসেক্স বিএনপিকে এগিয়ে নিতে সকলের সহযোগীতা কামনা করেন। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত করেন মির্জা শাহীন বেগ। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন, আব্দুল মুহিত কয়েস, সৈয়দ শামীম আহমদ, আব্দুল ওয়াহিদ, মোহাম্মদ শাহাজ উদ্দিন, মোহাম্মদ নাসির মিয়া, আব্দুল হান্নান, আলা উদ্দিন খান, সৈয়দ তাজুদ মিয়া, আশিক, ফজলুর রহমান, মোঃ আনিসুর রহমান, মনির মিয়া, কিররিয়া রহমান, মোঃ নুর উল্লাহ, কয়ছর মিয়া, বাশির মিয়া, আব্দুল মন্নান বাশির, মিল্লিক চৌধুরী, কুটি মিয়া প্রমুখ।

বিস্তারিত»
নিষেধাজ্ঞা উঠানোর পর কিউবা-আমেরিকার অর্থনীতিতে কে লাভবান হবে ?

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ- লন্ডন থেকে:৫০ বছরের নিষেধাজ্ঞা থাকা পর সম্প্রতি কিউবা এবং আমেরিকার মধ্যেকার ট্রেড এম্বার্গো উঠানো হয়েছে। নিঃসন্দেহে দুটি দেশের সাধারণ জনগনের জন্য সু-সংবাদ। কিন্তু আদতে এই নিষেধাজ্ঞা উঠানর পরে কিউবা কিংবা আমেরিকার অর্থনীতিতে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কেমন প্রতিক্রিয়া বা কে বেশী লাভবান হবে-সেটা নিয়ে রয়েছে বিস্তর আলোচনা ও বিতর্ক। কেননা এমন এক সময়ে এই নিষেধাজ্ঞা উঠানো হয়েছে, যখন কম্যুনিস্ট নিয়ন্ত্রিত দেশের সাথে রাশিয়ার অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক বিশাল লেন-দেন থাকা অবস্থায় যখন বিশ্বের সুপার পাওয়ার ও ন্যাটো ভুক্ত ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেন প্রশ্নে রাশিয়ার উপর নানা অবরোধ আরোপ অব্যাহত রেখেছে এবং (০২) যখন বিশ্বের তেলের দাম কমিয়ে আনা হয়েছে- ঠিক এই সময়ে কিউবা-আমেরিকার বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা  তুলে নেয়ার প্রেক্ষিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে খুব একটা আকর্ষণীয়  নয়- এমন কথাই উভয় দেশের অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন।   উভয় দেশের অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, স্বল্প মেয়াদে কিউবা কিংবা আমেরিকা কোনভাবেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ফলে খুব একটা লাভবান হবেনা, তবে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষেত্রে কিউবার কিছু কিছু ইন্ডাস্ট্রি লাভবান হতে পারে, যেহেতু এখনো কিছু ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে।   তারা বলছেন, এখনো কিউবার বেশীর ভাগ ব্যবসা, শিল্প, অর্থনীতি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন- যেহেতু দেশটি কম্যুনিস্ট শাসিত সরকার। আর সাধারণ জনগনের হাতে খরচ করার জন্য অতিরিক্ত কোন অর্থও নেই। তারপরেও  ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে ( যদিও অর্থনীতির সূচকে এই ভাগ্য সুপ্রসন্ন বলে কিছু নেই) ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আমদানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হয়তো লাভবান হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আমেরিকাস সোসাইটি এবং কাউন্সিল অব দ্য আমেরিকাস এর পলিসি ডাইরেক্টর ক্রিস্টোফার সাবাতিনি বলেন, আমরা কিউবায় খুব বড় ধরনের কার্যকারিতা কিংবা অর্থনৈতিক পরিবর্তন আশা করিনা। অবশ্য ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমসকে সাবাতিনি বলেছেন,  এই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার ফলে আমেরিকার অর্থনীতিতে খুব কমই প্রতিফলন দেখা যাবে।   সাবাতিনি জানালেন, কিউবা কোনভাবেই বিনিয়োগের জন্য কোন স্বর্গ নয়। কেননা আগামী বছর নাগাদ কিউবার অর্থনীতি ৩% বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   তবে সবচাইতে যে বিষয়ে পরিবর্তন আশা করা হচ্ছে, আর তাহলো রেমিট্যান্স প্রেরণের ক্ষেত্রে।  এখন থেকে কিউবান আমেরিকান ৫০০ ডলার এর পরিবর্তে ২০০০ ডলার পর্যন্ত ব্যক্তিগতভাবে নিজ দেশে পাঠাতে পারবেন, এর ফলে জনগনের স্পেন্ডিং পাওয়ারের ক্ষেত্রে অবশ্যই পরিবর্তন হবে।   আরেকটা ক্ষেত্রে পরিবর্তন হতে পারে ব্যাপকভাবে আর তা হচ্ছে কিউবার ট্যুরিষ্ট ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রে। কেননা এই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার ফলে কিউবার ট্র্যাভেলস ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বৃদ্ধি পাবে।  এতে উভয় দেশের ট্যুরিষ্ট ইন্ডাস্ট্রি লাভবান হবে। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার ফলে একজন আমেরিকান কিউবা থেকে ৪০০ ডলার পর্যন্ত জিনিষ কিউবা থেকে নিয়ে যেতে পারবেন, যার মধ্যে অবশ্য ১০০ ডলারের অ্যালকোহল সামগ্রী থাকবে।  অবশ্য এই ১০০ ডলারের ভিতরে কিউবার বিখ্যাত রম এবং সিগারও থাকছে- কিউবার সিগারের চাহিদা আমেরিকায় প্রচুর রয়েছে, ফলে চোরাই পথে যাওয়া কিছুটা কমবে । অর্থনীতিবিদেরা বলছেন এই লিমিটেড ব্যবসা ও ট্যুরিষ্টদের জন্য সীমিত ব্যয় দেশে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে এই শিল্পে ব্যাপক পরিবর্তন না আনলেও অন্ততঃ কিছু একটার সূচনা যে হয়েছে সেটাই বা কম কিসে।   এই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার ফলে  আমেরিকার  টেলিকমস ইন্ডাস্ট্রি সবচাইতে বেশী লাভবান হবে। কেননা বারাক ওবামার প্রশাসন জানে কিউবাতে এখনো টেকনোলজির ক্ষেত্রে তেমন অগ্রগতি সাধিত হয়নি। আমেরিকা সেই সুযোগে কিউবাতে টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি থেকে বিপুল পরিমাণে রেভিন্যু উঠিয়ে নিবে, পাশাপাশি কিউবা এর ফলে টেকনোলজির ক্ষেত্রে আধুনিকায়ন ও এই সেক্টর উন্নয়নের সুযোগ পেয়ে যাবে।   Salim932@googlemail.com 18th December 2014,London

বিস্তারিত»

সাক্ষাৎকার

জানেন কতজন মুক্তিযোদ্ধা রিকশা চালায়?

ঢাকা: আপনি জানেন আজ কতজন মুক্তিযোদ্ধা রিকশা চালায়? স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরে এসে এ প্রশ্ন রেখেছেন ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা বিএনপি নেতা জয়নুল আবদীন ফারুক। তার মতে, মুক্তিযোদ্ধাদের বিভক্তি আর রাজনৈতিক মতভেদে স্বাধীনতার কাঙ্ক্ষিত অর্জন হয়নি। সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর ভালো সম্পর্কের নিয়ম চালু থাকলে উন্নতি আরো বেশি হতো। আওয়ামী লীগের ছাত্র রাজনীতি থেকে যুদ্ধে অংশ নেন জয়নুল আবদীন ফারুক। তৈরি পোশাক শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে তার। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক। সম্প্রতি মহান বিজয় দিবসের ৪৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলামেইলকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই মুক্তিযোদ্ধার নানা অভিজ্ঞতা ও আক্ষেপের কথা উঠে এসেছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলামেইলের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট খালিদ হোসেন। তারেই চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো- কোন প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেন ? প্রেক্ষাপট তো একটাই। ছাত্রলীগ করতাম, বাংলাদেশের তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সদস্য ছিলাম। ৬ দফার আন্দোলন দেখেছি। পশ্চিম-পূর্ব পাকিস্তানের বৈষম্য দেখেছি এবং পূর্ব পাকিস্তানে চাকরির ক্ষেত্রে যে বৈষম্য তা দেখেছি। নেতৃত্বের মুখে বা নেতাদের মুখে যা শুনেছি সেজন্য আমাকে উদ্ধুদ্ধ করেছে যে পূর্ব পাকিস্তান রাখা যাবে না, বাংলাদেশ স্বাধীন করতে হবে। তখনকার নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে সুস্পষ্ট যে আর এ দুই পাকিস্তান এক থাকবে না। বিশেষ করে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, যেদিন পাকিস্তানকে আসসালামু আলাইকুম বলেছেন, সেদিন থেকে আমার মনে মধ্যে উজ্জীবিত হচ্ছিল। আমি মাওলানা ভাসানীর দল করতাম না। আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগ করতাম। সেজন্য আমি উজ্জীবিত হয়েছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করার। যে স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে গেছেন তার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে? আসলে এটা, বয়স তো কম হয়নি। স্বাধীনতার হলো ৪৩ বছর, বয়সও ৬৫। ছাত্র রাজনীতি দেখেছি, আন্দোলনও দেখেছি, অনেক নেতৃবৃন্দের বক্তব্যও দেখেছি। শেরে বাংলার জীবনী পড়েছি, সোহরাওয়ার্দীর জীবনী পড়েছি। শ্রদ্ধেয় জনাব শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তব্যও শুনেছি। সবার একটি কথাই ছিল যে দেশ স্বাধীন করলে সকল কিছুর মধ্যে গণতন্ত্রই সবার মাথার ওপর থাকবে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দেশ পরিচালিত হবে। কোনো বৈষম্য থাকবে না। সকল ক্ষেত্রে আমরা উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখবো। গ্রাম-গঞ্জের মানুষকে শিক্ষিত করে তুলবো। কিন্তু সেই দিকে ৪৩ বছরে কতটুকু করতে পেরেছি, আপনার চোখে কেমন লাগবে জানি না। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে ৪৩ বছরে সকল আশা কিন্তু আমাদের পূরণ হয়নি। কিছু যে আশা পূরণ হয়নি তা নয়, হয়েছে অনেক। কিন্তু দ্যাখেন, আমি একটা উদাহরণ দিতে পারি আপনাকে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, আমার বিএনপি ওদের আওয়ামী লীগ, আমার নোয়াখালী ট্রেনে যেতে এখন লাগে ৭ ঘণ্টা। আমাকে যেতে হয় আশুগঞ্জ, ভারতের গা ঘেঁষে। ৪৩ বছরের মধ্যে কি কোনো সরকার একটিবার চিন্তা করে নাই ৮০ কিলোমিটার রাস্তা সোজা করার! বলে অর্থের যোগান নাই। তাহলে হাজার কোটি টাকা চুরি হলেও যদি অর্থমন্ত্রী বলতে পারেন এটি সামান্য টাকা! তাহলে আমার মনে হয়, সে অর্থ চুরি হয়েছে, লুট হয়েছে ইদানীং, সে অর্থ দ্বারাও এই সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীনও এই ৮০ কিলোমিটার রাস্তা সোজা করতে পারতো। এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত। আমি কাউকে দোষারোপ করছি না একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে। আমি শুধু এইটুকু বলতে চাই। আমি স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগ্রহ করার জন্য আমি সবচেয়ে বেশি কাজ আমি করেছি আমার জেলায়, নোয়াখালীতে। আমার শ্রদ্ধেয় নুরুল হক মিয়া, শ্রদ্ধেয় আব্দুল মালেক হক উকিল। খাজু মিয়া, আমার নেতা মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার রুহুল আমিন ভূইয়া। এদের অধীনে রাজনীতি করেছি। তাদের পা ধরে সালাম করেছি। আমি মনে করি ওনারা অন্য ভিন্ন দলের নেতা হলেও আমি তাদের শ্রদ্ধা করি। রাজনৈতিক মতভেদের কারণে স্বাধীনতার পর প্রাপ্তি কম। একদল ক্ষমতায় গেলে অন্য দল বলে কারচুপি করে গিয়েছে, আরেকটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসলে বলা হয়, বলা হয় সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। প্রতিবেশী দেশ ভারত উদাহরণ নির্বাচনে হেরে গেলেও বলে আমরা তাদের সহযোগিতা করবো। কিন্তু আমার দেশে এই নিয়মটা যদি চলে আসতো তাহলে আমার উন্নতি প্রাপ্তি আরো বেশি আসতো। স্বাধীনতা অর্জনের পর যে কম প্রাপ্তির কথা বলেছেন। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আপনার কোনো ব্যর্থতা মনে হয় কী ? আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক জনাব শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে অস্ত্র জমা দিয়েছি। এখন দেশ গড়ার কাজে আছি, তখন যদি জাতির পিতা আওয়ামী লীগের বা সরকারিভাবে জাতির পিতা যাকে বলা হয়েছে তার প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা আছে। কারণ আমরা নেতা-নেত্রীকে শ্রদ্ধা করতে জানি। সেদিন যদি উনি একটা লাঠি হাতে করে যেভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেছেন, উনি পাকিস্তানে বন্দী ছিলেন। শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে যুদ্ধ হয়েছে। শহীদ জিয়া তার পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। এইটুকু পর্যন্ত ওই দল স্বীকার করতে জানে না। সে কারণে আমি বলি, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বলি, মুক্তিযোদ্ধাদেরকেও তারা বিভক্ত করে রেখেছে। আজ কত মুক্তিযোদ্ধ রিকশা চালায় আপনি জানেন? আমি অনেক পেয়েছি, টাকা পাইনি। আমার আত্মতৃপ্তি আমি দেশ স্বাধীন করেছি। দেশে গণতন্ত্র আছে কি নেই, সেটির জন্য লড়াই করবো। কিন্তু আজকে যে সকল দল মিলে মিশে, যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন তাকে সহযোগিতা করতো তাহলে প্রাপ্তি আরো বেশি হতো। স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং আপনার দল বিএনপি যে রাজনীতি করেছে তা স্বাধীনতার চেতনার পরিপন্থি কি না? ফারুক : হায়রে কপাল মন্দ, চোখ থাকিতে অন্ধ। যে প্রশ্নটা করেছেন আমি ওই জোটের সদস্য। বর্তমান জোটের জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে আপনি এ কথা বলেছেন বলে আমার বিশ্বাস। মুক্তিযুদ্ধের পর দালাল আইন রহিত করেছে কারা? সত্যিকার ক্ষমা প্রদর্শন কারা করেছে? কোন সরকারের আমলে হয়েছে? এ বিষয়ে আমি বিশদ আলোচনা করতে চাইন না। কিন্তু আমি মনে করি ক্ষমাই মহত্তের লক্ষণ। আজকে আমরা বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করেছি। সত্যিকার অর্থে বুদ্ধিজীবীহীন, বুদ্ধিজীবীশূন্য একটা দেশ পরিণত করার জন্য পাকিস্তান এ চেষ্টা করেছে। নয় সেদিন ১২ ডিসেম্বর আমরা স্বাধীনতা পেতাম, সেটা আমরা পেয়েছি ১৬ ডিসেম্বর। এটার পেছনেও হয়তো কোনো রহস্য ছিল। সেজন্য আমি মনে করি প্রকৃত অর্থে যারা মানবতা বিরোধী অপরাধী তাদের বিচার হওয়া উচিৎ। আমি বলেছি, স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে একসময় আওয়ামী লীগ রাজনীতি করেছেন এখন বিএনপি করছে এটা কি স্বাধীনতার চেতনার পরিপন্থি নয়? পরিপন্থি যদি, আগে আমার কথায় ফিরে আসেন। সব দল মিলেই যদি সহযোগিতা করতাম দেশের প্রাপ্তি আরো অনেক থাকতো। এখন বলেন আমি যাদি জামায়াতে ইসলামীকে বলি আসসালামু আলাইকুম, কালকে দেখবেন আওয়ামী লীগ তাদেরকে লুফে নিয়েছে। এ গ্যারান্টিটা কে দেবে, আপনি বলেন, আপনার এ কথা লিখতে হবে। আমি মনে করি আপনি একজন তরুণ সাংবাদিক। আমার চেয়ে বয়সে অনেক ছোট। আমার আরেক বোন আছে এখানে তার সামনে সাক্ষী রেখে বলতে চাই একথা লিখতে হবে। যে আজকে আওয়ামী লীগ বার বার বলেছে, কাদের মোল্লার ফাঁসি দেয়ার পর থেকে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের বিরোধী বিএনপি নয়। আমরা আন্তর্জাতিক মানের বিচার চেয়েছি। আজকে আপনি দেখেন তারা বলে এই যে বিচার শুরু হয়েছে, শেষ হবে, সবাইকে সাজা দেয়া হবে। জামায়াতে ইসলামীকেও নিষিদ্ধ করা হবে। আজ পর্যন্ত সংসদে ১৫৩ জন, ২’শ আমি ওদিকে যেতে চাই না। সংসদে টু থার্ড মেজোরিটি। ফুল ৩৪৫ জন তারা ইনক্লুডিং জাতীয় পার্টি। তারা আজ পর্যন্ত জামায়াত ইসলামকে নিষিদ্ধ করতে পারছে? করবে না। আজকে জোট থেকে সালাম দিয়ে দিই, এটা আমাদের নির্বাচনী জোট তাদের সাথে আমাদের দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সাংগঠনিক কর্মসূচি বা দলের আদর্শের অনেক মিল নেই। মিল একটাই একটা নির্বাচনী জোট। আমরা জাতীয়তাবাদী ইসলামি মূল্যবোধের শক্তিকে নিয়ে যে সরকার জিয়াউর রহমান পরিচালনা করতে চেয়েছেন তার পত্নী বেগম খালেদা জিয়াও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এজন্য আমি চাই হু উইল গিভ দ্য গ্যারান্টি? এটি আমার প্রশ্ন। স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিষয়টি কীভাবে দেখছেন? আমি ১৯৯১ সালে ঘরোয়া একটা পরিবেশে বলেছিলাম সকলে মিলে যখন গণতান্ত্রিক পদ্ধতি চর্চা শুরু করেছিল। দুই নেত্রীর সেই দুর্লভ ছবি আপনাদের কাছে আছে। দুই নেত্রী লবিতে বসে সংসদীয় গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলেছিল। তখন আমার মনে পড়ে একটা কথা বলেছিলাম, দেশ স্বাধীন করেছি, সকল দলে মিলে মিশে কাজ করবো, সকলকে প্রাপ্তি দেবো। দেশের মানুষকে প্রাপ্তি দেবো। সেদিকে না গিয়ে অন্যদিকে আমরা কলহের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এই কথাটি যারা স্বীকার করতে পারে না তাহলে আমরা কী করে বলতে পারি যিনি যুদ্ধের সাথে কোনো সম্পর্ক ছিল না, উনি ওই ভিন্ন একটা দেশে আটক ছিলেন, বিদেশে অন্য একটা দেশে বন্দী ছিলেন যুদ্ধের সাথে উনার সম্পর্ক ছিল! আমরা তো একথা বলতে চাই না। আমরা তো চাই আমার নেতা শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার কথা স্বীকার করা হোক। তখন আর এ সমালোচনায় যাবো না। আপনি দ্যাখেন এ সংসদে কত কটূক্তি তারা করেছে। কিন্তু আমার নেত্রীর সামনে আমরা শ্রদ্ধেয় শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবকে নিয়ে আমরা কোনো কটূক্তি করিনি। আমি তখন বলেছিলাম, আসুন আমরা শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ মুজিবুর রহমানের জায়গায় থাকুক। মাওলানা ভাসানী, মাওলানা ভাসানীর জায়গায় থাকুক। জিয়াউর রহমান, জিয়াউর রহমানের স্থানে থাকুক। কারো কোনো সমালোচনার দরকার নেই। যার স্থান ইতিহাস বিচার করবে। কে কোনখানের লোক। রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করতে বিএনপি ব্যর্থ হয়েছে কি না? না, না কী আশ্চর্য্য কথা! আমি তো একটা কথা বলি, যে যার স্থানে আছে মর্যাদা সবার আমার দেয়া উচিৎ। স্বীকার করা অস্বীকার করার ব্যাপার না। তারা স্বাধীনতার ঘোষণা স্বীকার করেন না। কিন্তু আমরা বলেছি যে জিয়াউর রহমান, জিয়াউর রহমানের স্থানে থাকুক। শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব, শেখ মুজিবুর রহমানের স্থানে থাকুক। মাওলানা ভাসানী মাওলানা ভাসানীর স্থানে থাকুক। গ্রহণ করা আর না করা নয়, তিন জনের কোনো সমালোচনা হবে না। তখন মানুষ সবাই বুঝে ফেলবে। সবাই সবাইকে গ্রহণ করে নিয়েছে, আমি মনে করি। বঙ্গবন্ধু এবং জিয়াউর রহমানকে নিয়ে রাজনীতিতে যে সমালোচনা হচ্ছে এ নিয়ে আপনার মন্তব্য কী? শোনেন, আমি একজন বিজ্ঞ রাজনীতিবীদ নই, কর্মী। আমার অভিজ্ঞতার আলোকে আমি এই দুইজন নেতাকে নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। কিন্তু কথা বলি তখনি, যখন আমার নেতা সম্পর্কে কটূক্তি করা হয়। যখন আমার নেতাকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে স্বীকার করে না, যখন আমার নেতাকে পাকিস্তানের চর বলা হয়। যেমন বলা শুরু করেছে একে খন্দকারকে, যেমন বলা শুরু করেছে কাদের সিদ্দিকীকে। আবার ইদানীং যেমন সমালোচনা শুরু হয়েছে শ্রদ্ধেয় নেতা মরহুম তাজউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে। এসব বিষয়ে কোন দিন তারা কী বলে ফেলে তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন। অতএব এ বিষয়ে কমেন্ট করতে রাজি না।

বিস্তারিত»

বিশেষ কলাম

চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ ও তারেক রহমানকে জিহ্বা সামলানোর নসিহত : অলিউল্লাহ নোমান

বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য নিয়ে আবারো আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে দলটির শীর্ষ নেতারা তারেক রহমানকে ব্যক্তিগত আক্রমন করে বক্তব্য রাখছেন। তারেক রহমানকে জিহ্বা সামলে কথা বলার জন্য নসিহত করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। দলটির সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমদ আবারো তারেক রহমানকে অর্বাচিন বলে আখ্যায়িত করেছেন। বসে নেই আওয়ামী শ্রেনীভুক্ত বুদ্ধিজীবীরা। লন্ডন প্রবাসী বুদ্ধিজীবী আবদুল গাফফার চৌধুরী এখন বাংলাদেশে। বুধবার ঢাকায় এক আলোচনা সভায় তিনি তারেক রহমানকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তব্য রেখেছেন। আওয়ামী লীগ নেতারা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমন করতেই পারেন। এটা তাদের রাজনৈতিক চরিত্র। কিন্তু নিজেকে যিনি বুদ্ধিজীবী দাবী করেন, তাঁর কাছে ব্যক্তিগত আক্রমন কারো কাম্য নয়। আমরা যারা তরুন, মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, আশা করেছিলাম আবদুল গাফফার চৌধুরী তথ্য নির্ভর বক্তব্যের মাধ্যমে তারেক রহমানের উপস্থাপিত তথ্যের জবাব দেবেন। খন্ডন করে প্রমান করবেন তারেক রহমানের যুক্তি এবং উপস্থাপিত তথ্য সঠিক নয়। তারেক রহমানের উপস্থাপিত তথ্যের বিপরীতে যথাযথ সঠিক তথ্যের মাধ্যমে আসল ইতিহাস উপস্থাপন করবেন আবদুল গাফফার চৌধুরী, এটাই ছিল তরুনদের প্রত্যাশা। বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ১৫ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্য বিএনপির এক আলোচনা সভায় তারেক রহমান ইতিহাসের ঘটনা প্রবাহ বর্ণনা করেছেন বিভিন্ন বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে। একজন পর্যবেক্ষক হিসাবে ওই আলোচনা সভায় উপস্থিত থাকার সুযোগ হয়েছিল আমার। তারেক রহমানের দীর্ঘ একঘন্টা ৫০ মিনিটের বক্তব্যের পুরোটাকেই বলা যায় একডেমিক আলোচনা। তথ্য উপাত্ত উপস্থাপনের পর তিনি কুইজের মত প্রশ্ন রেখেছেন উপস্থিত অডিয়েন্সের কাছে। তারেক রহমানের উপস্থাপিত তথ্যের মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম তাজউদ্দিন আহমদের জবানীতে তাঁরই কণ্যা শারমিন আহমদের লেখ বই, শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার সাবেক সদস্য মুক্তিযুদ্ধের উপ-অধিনায়ক একে খন্দকারের লেখা বই, জাসদ নেতা মহিউদ্দিন আহমদের সদ্য প্রকাশিত বই এবং সর্বোপরি শেখ মুজিবুর রহমানের ডাইরি অবলম্বনে প্রকাশিত অসমাপ্ত আত্মজীবনী। এসব বইয়ের তথ্য উপস্থাপন করে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন জবাব দেয়ার জন্য। আশা করেছিলাম তারেক রহমান ভূল উদ্ধৃতি করে থাকলে বিপরীতে আসল সত্যতা এবার জানা যাবে। আওয়ামী লীগ নেতারা আসল সত্য গুলো জাতির সামনে উপস্থাপন করবেন। আমরা যারা বয়সে তরুন মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, শুধু চেতনার কথা শুনি সবাই উপকৃত হব। সত্য যাছাই করতে পারব। উপস্থাপিত তথ্য যাছাই করে বলতে পারব তারেক রহমান আসলেই অর্বাচিন, তাঁকে জিহ্বা সামলে কথা বলা দরকার। কিন্তু সেটা আপতত হয়নি। এখ পর্যন্ত এরকম কোন তথ্য আওয়ামী লীগ নেতারা হাজির করতে দেখা যায়নি বা শোনা যায়নি। শুধু কুৎসিত গালাগালি এবং ব্যক্তিগত আক্রমনেই তারা সীমাবদ্ধ রইলেন। আওয়ামী লীগ নেতারা তথ্যের জবাব না দিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমনে কুৎসিত রাজনীতি করছেন। এমনকি বুদ্ধিজীবী আবদুল গাফফার চৌধুরী পর্যন্ত চ্যালেঞ্জ গ্রহন না করে ব্যক্তিগত আক্রমনেই সীমাবদ্ধ থাকলেন। আসলে কি আওয়ামী লীগের কাছে এসব তথ্যের কোন জবাব আছে! থাকলে উপস্থাপন করতে পারেন, কুৎসিত ব্যক্তিগত আক্রমনের রাজনীতি থেকে বের হয়ে তথ্যের জবাব তথ্য দিয়ে দেবেন। এটাই তরুনদের প্রত্যাশা। থেমে নেই আওয়ামী লীগের খুচরা নেতারাও। তারা নেমেছেন মামলা মোকদ্দমায়। আওয়ামী লীগের চরিত্রই হচ্ছে তাদের অনুগত আদালতে মামলা দায়ের করা। কোন কিছু হলেই অনুগত আদালতে মামলার মাধ্যমে প্রতিপক্ষ গায়েলের চেস্টা করা। আওয়ামী লীগের এক খুচরা নেতার মামলায় ইতোমধ্যে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই পত্রিকায় প্রধান শিরোনাম চোখে পড়ল গ্রেফতারি পরোয়ানা। তাদের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জারি হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। তারেক রহমানের বক্তব্যে তাদের নেতার সম্মানহানি হয়েছে। এজন্য দন্ডবিধির ৫০০-৫০১ ধারায় মামলা আমলে নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা। এই মামলায় যদি প্রমানিত হয় তারেক রহমানের বক্তব্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি বাকশালের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানহানি হয়েছে তাহলে সর্বোচ্চ ২ বছরের দন্ড হবে। তবে একটি বিষয় খুবই অবাক লাগল। দন্ডবিধির এই ধারায় দায়ের করা মামলা কখনো সরাসরি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয় না। বিচারক অতি উৎসাহি হলেই কেবল দন্ডবিধির ৫০০-৫০১ ধারায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে দেখা যায়, নতুবা নয়। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে একটি সংবাদ প্রকাশের কারনে দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ২৫টি জেলা মামলা দায়ের হয়েছিল। সব গুলো মামলাই দায়ের করেছিলেন আওয়ামী লীগের খুচরা নেতারা। এর মধ্যে ২৩টি মামলায় সমন জারি হয়েছিল। মাগুড়া জেলার একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন অতি উৎসাহি এক বিচারক। কক্সবাজার জেলায় দায়ের করা এক মামলা খারিজ করে দেয়া হয় সরাসরি। খারিজ আদেশে বলা হয়েছিল ডাইরেক্ট অ্যাফেক্টেড ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো দায়ের করা মানহানি মামলা গ্রহনযোগ্য নয়। অর্থাৎ বক্তব্য বা সংবাদের কারনে যিনি সরাসরি অ্যাফেক্টেড কেবল তিনি মানহানি মামলা দায়ের করতে পারেন। অন্য কেউ দায়ের করলে সেটা গ্রহনযোগ্য নয়। একটি ঘটনায় ২৫টি মামলায় ৩ রকমের আদেশ। ২৩টিতে সমন, একটিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং আরেকটি গ্রহন না করে সরাসরি খারিজ। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ৫টি মামলা দায়ের হয়েছে এমন খবর দেখা গেছে অনলাইন পত্রিকা গুলোতে। এর মধ্যে একটিতে আপাতত গ্রেফতারি পরোয়না জারির বিষয়ে আগেই উল্লেখ করেছি। শেষ পর্যন্ত মামলা পর্ব কোথায় গিয়ে দাড়ায় সেটা দেখার অপেক্ষায় থাকতে হবে আপাতত। একটা কথা সত্য, আমরা যারা তরুণ, মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি বা দেখার সুযোগ হয়নি, আমরা কিভাবে জানব ঘটনা প্রবাহ। কার ভুমিকা তখন কেমন ছিল সেটা জানতে হলে ইতিহাসের ঘটনা প্রবাহ জানতে হবে। যারা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তাদের লেখা বইয়ের উপরই বেশি নির্ভর করতে হবে। এর মধ্যে সম্প্রতি বের হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের উপ-অধিনায়ক আওয়ামী লীগ নেতা ও শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক মন্ত্রী একে খন্দকারের লেখা ‘১৯৭১ ভেতরে বাইরে’ একটি বই, জাসদ নেতা ও মুকিযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহমদের লেখা বই-‘জাসদের উত্থান পতন ও অস্থির সময়ের রাজনীতি’। এছাড়া চলতি বছরের গোড়ার দিকে বের হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের জবানীতে তাঁরই কণ্যার লেখা শারমিন আহমদের বই ‘তাজউদ্দিন নেতা ও পিতা’। শেখ মুজিবুর রহমানের ডাইরি অবলম্বনে প্রকাশিত ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী বের হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। তারেক রহমান বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় এসব বইকেই ইতিহাসের সত্য বলে ধরে নিয়েছেন। এটাই একজন পর্যবেক্ষক হিসাবে আমার কাছে মনে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের রাজনীতির মূল শ্লোগান। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে ধরা দিয়েছিলেন এটা কি ইতিহাসের অসত্য কোন ঘটনা! ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষিত ঐতিহাসিক ৬ দফার কোথাও কি বলা হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের কথা! সেখানে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শায়ত্ব শাসনের বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছিল। ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ইশতেহারে কি বলা হয়েছিল? ইশতেহারের কোথায়ও কি বলা হয়েছিল নির্বাচনের পর সামরিক শাসক ইয়াহিয়া ক্ষমতা হস্তান্তর না কলে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হবে? পাকিস্তানের গঠনতন্ত্র রচনা এবং সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতি জোর দেয়া হয়েছিল ১৯৭০ সালের নির্বাচনে। এই নির্বাচনটি হয়েছিল পাকিস্তানের লিগ্যাল ফ্রেইমওয়ার্কের আওতায়। পাকিস্তানের গঠনতন্ত্র রচনার লক্ষ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বরের নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চাইবেন এটাই স্বাভাবিক। তখন তিনি খন্ডিত পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য ইয়াহিয়া এবং ভট্রোর সাথে আলোচনায় বসেননি। আলোচনায় বসেছিলেন বৃহৎ রাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্যই। ভোটে বিজয়ী নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়নি। বিপরীতে বরং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের উপর মারনাস্ত্র নিয়ে ঝাপিয় পড়ে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী। ভোটের মর্যাদা না দেয়ায় এবং ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় ফুসে উঠেছিল মানুষ। যাদের চেতনায় ছিল তখন গণতন্ত্র। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্যোল এজেন্ট তাদের কাছে প্রশ্ন হচ্ছে তখন ১৯৭১ সালের ১০এপ্রিলে গঠিত মুজিবনগর সরকারে ঘোষিত প্রকলেশেন অব ইন্ডিপেন্ডেন্টস-এ কি বলা হয়েছিল? স্পস্ট করেই বলা আছে ৩টি নীতির কথা। এই ৩ নীতিতে বলা আছে-সাম্য, মানবিক মর্যদা এবং সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠাই হবে মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য। কোথায়ও বলা নেই যুদ্ধে বিজয়ের পর স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি হবে সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষ এবং বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ। বরং মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর মূল ৩ নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহন করে আওয়ামী লীগ। পাকিস্তান গঠনতন্ত্র রচমনার নিমিত্তে নির্বাচিত সদস্যরা স্বাধীন বাংলাদেশের গঠনতন্ত্র রচনা করলেন। তারা মূলনীতি থেকে সরে এসে মানুষের উপর চাপিয়ে দিলেন ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ এবং সামজতন্ত্র। যা পরবর্তিতে শেখ মুজিবুর রহমানের আসল রুপে আবির্ভুত হন ১৯৭৫ সালের জানুয়ারীতে। যেই গণতন্ত্র এবং ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ লড়াই করেছে, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে প্রাণ দিয়েছে সেই ভোটের অধিকার কেড়ে নিলেন। সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে প্রতিষ্ঠা করেন একদলীয় বাকশাল সরকার। গত ১৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের বক্তব্যের শেষ পর্বে বলা হয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূল উৎস। আজ সেই গণতন্ত্র নেই দেশে। মানুষের ভোটের অধিকার আবারো কেড়ে নেয়া হয়েছে। গত বছরের ৫ জানুয়ারী ইলেকশনের নামে যা হয়েছে তারেক রহমান সেটারই বর্ণনা দিয়েছেন বক্তব্যের এক পর্যায়ে। এর কি জবাব দেবে আওয়ামী লীগ। যারা মুক্তিযুদ্ধের পরপরই মূল চেতনার সাথে বেইমানি করে তাদের কাছে সঠিক ইতিহাস নয়, কুৎসিত আচরণই কাম্য। লেখক: দৈনিক আমার দেশ-এর বিশেষ প্রতিনিধি, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত।

বিস্তারিত»

এক্সক্লুসিভ

আমার দল বিএনপি এবং তারেক রহমান কি ভেবে দেখবেন?

তোফায়েল আহমেদ খান সায়েক -সম্পাদক- সিলেটের আলাপ:বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার আর ৯০র দশকে এরশাদের সরকারের সব চাইতে বড় টার্গেট বিএনপিকে যে কোনভাবেই ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে দেয়া। সেজন্যে এরশাদ যেমন নানা ফন্দি ফিকির করেছিলো, তেমনি আওয়ামীলীগও নানা ছল চাতুরীর আশ্রয় নিয়ে বিএনপিকে শেষ করে দেয়ার সকল আয়োজন একের পর এক করেই চলেছে। আওয়ামীলীগের সেজন্যে সব চাইতে বড় ভয় জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের ইমেজ এবং জিয়ার উত্তরসূরী হিসেবে তারেক জিয়াকে। তাই আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জিয়া এবং তারেক জিয়ার ইমেজ ধবংস করার জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে একের পর এক মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। এতো কিছু করেও জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান- এই তিনজনের ইমেজ সংকট সৃস্টি করতে না পেরে আওয়ামীলীগ সরকার এখন খালেদা জিয়াকে জেলে এবং তারেক রহমানকে নিঃশেষ করে দেয়ার সকল ষড়যন্ত্র পাকাপোক্ত করে মাঠে নেমেছে।   বিএনপিকে এখন সাবধানে যেমন পা ফেলতে হবে, তেমনি আন্দোলন থেকে পিছু হটারও কোন বিকল্প নেই। একইভাবে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে আগামীর বাংলাদেশের স্বার্থে আওয়ামীলীগের ষড়যন্ত্রের ও ধবংস করার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।   ৫ তারিখ অবশ্যই গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য এক তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।আমাদেরকে এখন এই তামাশার নির্বাচনের দ্বারা সৃষ্ট এই অবৈধ সংসদ ও সরকারকে হঠাতে হলে গড়ে তুলতে হবে অহিংস এক গণতান্ত্রিক আন্দোলন- যে আন্দোলনের কেন্দ্রে থাকবেন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে একজন মুক্তিযুদ্ধের বাঙালির গৌরব আর অহংকারের প্রতীক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। আমি এ কারণেই বলছি, কারণ ইতোপূর্বে বিএনপির ভিতরের ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকা সরকারি এজেন্ট সব সময় বিএনপির ক্ষতি করেছে। শামসুল হুদা থেকে শুরু করে ডাঃ মতিন, নাজমুল হুদা, ব্যারিস্টার মওদুদ, ব্যারিস্টার হাসনাত, আর অনেকেই বিএনপির ব্যাপক ক্ষতি করেছে। আর কেউ যাতে বিএনপির এমন ক্ষতি করতে না পারে, আমাদের অনৈক্যের সুযোগে আওয়ামীলীগের ঘরে ফায়দা না তুলে- সেজন্য আমাদের থাকতে হবে সচেষ্ট।   শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পর বিএনপিকে ৯১তে ক্ষমতায় নিয়ে এসেছিলো দেশের তরুণ ও ছাত্র সমাজ। তারেক রহমানের পেছনে এখনো সেই ছাত্র ও তরুণ সমাজ আছেন। দরকার শুধু সঠিক দিক নির্দেশনা। শ্যাডো কেবিনেট রাজনীতিতে অবশ্যই একটা ভালো উদ্যোগ এবং নতুন। সঠিকভাবে প্রণীত হলে এর দ্বারা দল এবং দেশ উপকৃত হবে সন্দেহ নাই। এমনকি এভাবে সারা বাংলাদেশে কমিটিগুলোকেও একটি নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসা যাবে, উপদল সৃষ্টি বন্ধও করা যাবে। তবে  তারেক রহমান এই শ্যাডো কেবিনেটকে একটি সেক্রেটারিয়েটের অধীনে নিয়ে আসতে পারেন, যাতে পুরো কেবিনেট তার নিয়ন্ত্রণে থাকে যেখান থেকে সারা বাংলাদেশে একটি চেইন অব কমান্ড স্থাপিত হবে এবং একটি চেইন অব কমান্ডের অধীনে সকল কর্মসূচী, সিদ্ধান্ত, প্রেস, রাজনৈতিক বক্তব্য, প্রকাশনী ইত্যাদি প্রচারিত হবে। তা নাহলে এই মিনি কেবিনেট তারেক রহমানের নামে সারা বাংলাদেশের দলীয় লোকজনের কাছে মনে হবে এরাই শুধু তারেক রহমানের কাছের লোক এবং এই কাছের লোকগুলোই তারেক রহমানের নামে আতংক তৈরি করবে- এমনটা আশংকা, কারণ আমরা বাঙালি, আমাদের স্বভাব তাই, মননে মগজে এমন যে ভালো কিছু নিজেদের দুষে মন্দ হয়ে যায়। সার্বিক পরিস্থিতি তাই করে তুলবে।  সেজন্যেই জোর দিয়ে বলছি, যাতে কেউ সেই চেইন অব কমান্ড লঙ্ঘন না করে তারেক রহমানের উপদেষ্টা কিংবা তারেক রহমানের কাছের লোক বা তারেকগ্রুপ অথবা সেলফি কোন প্রচারণার দ্বারা নিজেদের ফায়দা উঠাতে ও সাধারণ দলীয় কর্মী কিংবা নেতা বা সরকারী প্রশাসনে কোন দ্বিতীয় লবি সৃষ্টি করতে না পারেন। কেননা উপদেষ্টা নিয়োগ এখানেই শেষ নয়, আরো অনেকেই নিয়োগ পাবেন। সেজন্যে পুরো কেবিনেটকে একটি মাত্র চেইন অব কমান্ডের অধীনে নিয়ে আসতে হবে এবং প্রত্যেকের কাজের জবাবদিহি রুটিন মাফিক সেই সেক্রেটারিয়েটকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতায় নিয়ে আসতে হবে। একই সাথে তারেক রহমানের পরিচিতি ব্যবহার করে দলীয় সিদ্ধান্তের ও সেক্রেটারিয়েটের অনুমতি ব্যতিরেকে কোন বক্তব্য দেয়া যাবেনা। তবেই হয়তো আমরা সেই মিনি কেবিনেট থেকে ফায়দা পেতে পারি।   ৫ তারিখের ভোটার বিহিন নির্বাচনের বার্ষিকীতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের নেতৃত্বে জিয়াউর রহমানের ব্যক্তি ইমেজের আদলে নতুন করে দেশ ব্যাপী অহিংস এক আন্দোলন যাতে ছড়িয়ে দেয়া যায়- আমাদেরকে সে চেষ্টা করতে হবে। ৫ তারিখ সারা দেশে যেমন, তেমনি রাজধানীর নির্দিষ্ট পয়েন্টে দুই ঘন্টার মানব বন্ধন, কালো পতাকা আর সারা দেশের জনগণকে দল মত নির্বিশেষে কালো ব্যাজ ধারণের কর্মসূচী জিয়া ব্রিগেডের নেত্রী হয়ে ঘোষণা করুন। একবার দুই ঘন্টার অহিংস মানব বন্ধন হলে পরে ধীরে চার ঘন্টা, ছয় ঘন্টা, বারো ঘন্টা এভাবে আন্দোলনের অহিংস মাত্রা  একটি পয়েন্ট থেকে বহু পয়েন্টে পৌঁছে গেলে এক কেন্দ্রিক মানব বন্ধন একটি শহর, শহর তলী, রাজধানী আস্তে আস্তে পৌঁছে যাবে- সে অহিংস আন্দোলন তখন গণ-আন্দোলনে রূপ লাভ করবে। আর এই রূপ পরিগ্রহ দেখে আজকের ভীতু ও আপোষকামী নেতৃত্ব ও কোন্দলবাজ দলীয় নেতা কর্মীরা তখন জনতার সাহসের উপর ভর করে জিয়া ব্রিগেডের সামনে ভ্যানগার্ডের ন্যায় দাঁড়িয়ে যাবে অটোম্যাটিক সন্দেহ নাই।   গত ৫ তারিখে গুলশানের বাড়ির সম্মুখের রাস্তায় দুটো বালির বস্তার ট্র্যাকের সামনে এক লাখ লোক দাঁড়িয়ে( এক হাজার হলেই হতো) গেলে সব বাঁধ মানুষের ভানের টানে ভেসে যেতো- বাংলাদেশের ইতিহাস আজ অন্যভাবে লেখা হতো। সেজন্যে বিএনপি নেত্রী এবং তারেক রহমানকে এখন আন্দোলনের সহজ, ইফেক্টিভ, অহিংস এবং সাধারণ জনগণ নির্ভর আন্দোলন কৌশলের কথা ভাবতে হবে এবং সেটা যত শীগ্র সম্ভব তাই করতে হবে। সেটা দ্রুত করা সম্ভব- যেহেতু প্রতিটি পাড়া মহল্লায় দল সক্রিয় আছে। ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪-লন্ডন ।

বিস্তারিত»

মতামত

অনিচ্ছায় লেখা চেনা অচেনা মুখোশধারীদের নিয়ে

হেফাজুল করিম রকিব:যদি কেউ সত্য বন্ধ করার জন্য মুখ বন্ধ করে দেয় তাহলে সত্যটা হাতের মাধ্যমে বেরিয়ে আসে অনিচ্ছায়। তবে হাতও যখন অজানা কারনে থেমে যায় তখন আর কি করা ? সব নীতিবাক্য তো মুখের ভেতরে এবং পত্রিকা ও বইয়ের পাতায় ! বাংলাদেশের একটি নাটকের গান যখন শুনি তখন মনে হয় জীবনটা এরকম - বাহির বলে দূরে থাকুক, ভিতর বলে আসুক-না, ভিতর বলে দূরে থাকুক, বাহির বলে আসুক-না। আমাদের মানুষগুলোর অবস্থাও এখন সেই রকম। সম্প্রতি লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে আমারও এই গানের অবস্থার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনটা ছিল বাংলাদেশের দুই তিনটা দলের হয়ে টকশোর মাধ্যমে ইসলামকে পুঁজি করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া এক বুদ্ধিজীবির পক্ষে। সেখানেই সেই বুদ্ধিজীবির পক্ষে জাতীয়তাবাদীতে বিশ্বাসী দল ও ইসলাম নামে আরেকটি দলের নেতাও কর্মীদের। সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে যখন প্রশ্নত্তোর পর্ব শুরু হলো তখন দেখলাম সাংবাদিকরা প্রশ্ন না করে কেউ বা সেক্যুলার ভিত্তিতে দেশ গড়ার সরকার দলের আবার কেউ বা জাতীয়তাবাদীতে বিশ্বাসী দল ও ইসলামের নামে একটি দলের হয়ে মুখোমুখি হওয়ার উপক্রম সাংবাদিকদের। লন্ডনে ইতিহাস চর্চা এখন অনেক সহজ । অস্কফোর্ড ও ক্যামব্রীজ তো  আছে তাই মনে যা চাই তা বলে দেবো । দরকার হলে অস্কফোর্ড ও ক্যামব্রীজের কাল্পনিক উদাহারণ দেব । সাথে সাথে নতুন নতুন গালি শেখাবো । অতএব ইতিহাস শিখতে হলে লন্ডনে আসতে হবে । লন্ডন এখন  দুই দলের রাজনৈতিক ইতিহাস চর্চার তীর্থ স্থান । তারা যা ইতিহাস শিখাবে তা সত্যি বলে মেনে নিতে হবে ।  না হলে হয়ে যাবেন রাজাকার । যখন অনেক কষ্টে হাতটাকে বুঝিয়ে সুজিয়ে লিখতে বসি পাশে ছিল আমার বন্ধু। কিছুক্ষন লেখার চেষ্ঠার মাঝখানে হঠাৎ পাশে বসা বন্ধু ইকবাল ফেরদৌস বললো তোমাকে একটা বাস্তব গল্প শোনাবো। আমি বললাম এই মুহুর্তে। সেই বলল হে এখনই শুনতে হবে। কি আর করা শুনতে হলো। তার এই বাস্তব গল্পটাও এখানে শেয়ার করলাম। দুইদেশের রাজা ছিল একজন। রাজা যেদেশটা থাকতো সেখানে সবচেয়ে বেশি মানুষ ধনী আর অন্যদেশটা থাকতো গরিবরা । ধনীরা সব সময় গরীবদের চুষে কিভাবে মেরে শ্মশান বানানো যায় সেই চিন্তায় ছিল। এক সময় গরীবদের পিঠ দেয়ালের সাথে লেগে গিয়ে তাদের আর যাওয়ার জাযগা থাকে না ,তখন তারা প্রতিবাদী হয়ে উঠলো । ধীরে ধীরে তাদের প্রতিবাদ বাড়তে থাকতে বিভিন্ন জনের নেতৃত্বে। শেষ পর্যন্ত সেটার দায়িত্ব নেই এক সাহসী মানুষ। তবে দিনদিন সেই দুইদেশের দায়িত্বে থাকা রাজাটা সহ তার ধনী প্রজারা গরীবদেরকে উপর আরো বেশি করে অত্যাচার শুরু করলো । গরিবরা সেই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুললো। পরে সেই প্রতিরোধ যুদ্ধে পরিনত হলো। সেই যুদ্ধে গরীবদের সাহসী নেতা বন্দি হয় কিন্তু তখন গরীবদের সেই প্রতিরোধে সর্বাত্বক ভাবে অংশগ্রহন করার জন্য গরীবদের পক্ষে একজন কাগজ পরে শুনান বলা হয়। সেই যুদ্ধে অনেকে প্রাণ দিলেন। অবশেষে গরীবরা যুদ্ধ জয়ী হয়। তখন থেকেই গরীবরা স্বপ্ন দেখে তারা স্বপ্নের একটা দেশ গড়ে তুলবে। কিন্তু তা কি এত সহজে হয় । যুদ্ধের পর নানা ঘটনার কালক্রমে ক্ষমতার পালা সেই সাহসী মানুষটাও ক্ষমতা পায় কিন্তু তার সময়ও মানুষকে পোহাতে নানা সমস্যা । তার পর ক্ষমতায় আসে কাগজ পরা সেই মানুষটা । তার সময়ও গরীবদের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায় । তাহলে কেন স্বপ্ন দেখে । গরীবদের প্রশ্ন তখন যুদ্ধে তো  কে ঘোষনা দিয়েছিল আর কে ঘোষনা দে নাই তার উপর ভিত্তি করে যুদ্ধ অংশ গ্রহন করেনি গরীবরা। তাহলে কেন আজকে কেউ তার বাবাকে বিক্রি করে আর কেউ একদিনে কাগজ পড়া ঘোষক কে বিক্রি করে আবার কেউ ইসলামকে বিক্রি করে আবার কেউ অন্যদেশের দালালী করে সেই স্বপ্নকে ধ্বংস করে দিচ্ছে ।তাহলে মানুষ কি মানুষ হবে না সেই লাইন বলতে বলতে বন্ধুর গল্প সমাপ্তি ঘটে । সেই গল্প শুনতে শুনতে মনে পড়ে গেল সাগর রুনি হত্যাকান্ডের কথা। যে হত্যাকান্ডের ঘটনাটা ৪৮ ঘন্টার মধ্যে উদঘাটন করার কথা থাকলেও কিন্তু বাস্তবে দুই বছর পার করলো তবুও শেষ হয়নি এর বিচার। আর এ বিচার এক ঘন্টার প্যাকেজের নাটক থেকে মেগা সিরিয়াল নাটকে পরিণত হতে হয়েছে, আর আলোচিত এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতরা রয়ে গেছে অন্ধকারে । চলবে মনে হয় আরো অনেক দূর । পরে সেই সরকার ক্ষমতা থেকে চলে গেলে অন্যরা এসেও করবে আবার নতুন নাটকের সিরিয়াল । ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিলে সাভারের রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনায় মুহূর্তেই মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে শোক এবং উৎকণ্ঠা। ধ্বংস্তুপ থেকে আহত-নিহত মানুষে বের করে আনার পুরো প্রক্রিয়াটা চলেছে দিনের পর দিন আর তার মাঝে দিয়ে সাধারণ মানুষ সবাই সেদিন উপলব্ধি করেছি নিদারুণ সেই বিভীষিকাময় মুহুর্ত । সেই দৃশ্যগুলো কি মানুষ ভুলতে পেরেছে ? কিন্তু সেই ঘটনার বিচার এখনও শেষ করতে পেরেছে ? তাহলে এরকম একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিচারও কি কাদঁতে থাকবে । সাগররুনির ও রানা প্লাজার কথা ভাবতে ভাবতেই আমার বন্ধু ইকবাল ফেরদৌস বললো সেই আরেকটি গল্প বলবে । আমি বললাম বন্ধু আজকে না সেই কিন্তু নাছোড়বান্দা, অবশেষে শুনতে হলো আর তা ও লেখায় তুলে ধরলাম । তার বাবা লন্ডনের একটা সংগঠনের সদস্য হতে চেষ্ঠা করেছিল কিন্তু তাকে সদস্যপদ দেয়া হয়নি সে বছর। কারন উনার যোগ্যতা ছিল না সদস্য হবার তাই । পরের বছর তাকে সদস্য করা হলো উনি তো মহাখুশি। কিন্তু উনি দেখলেন ঐ সংগঠনে যাদের সদস্য পদ পাওয়ার কথা না, সবাই এখন সদস্য। সংগঠনের বর্তমান কমিটি তাদের মনের মতো করে যাচাই বাচাই ছাড়াই অযোগ্যদের সদস্য করলেন। আর যোগ্যদের কি হলো সেটাতো বলার অপেক্ষা রাখে না। ওনি তাতে খুব অপমানবোধ করলেন। তারপর সিন্ধান্ত নিলেন উনি এবার সংগঠনের নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবেন । তাই প্রস্তুতি নেয়া শুরু করলেন, তবে সেখানেও বাদ সাজলো নমিনেশন ফি। সংগঠনটি সৎ ও গরীব মানুষদের হলেও যারা ক্ষমতায় আছেন তারা নিজেদের আবারও ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার জন্য সভাপতির নমিনেশন ফি করা হয়েছে ৮৫ হাজার টাকা । অথচ ঐ গরিব মানুষদের বেতন মাসে ৫০০০ হাজারের টাকার উপরে না। তাতে তার বাবা আরো বেশি অপমান বোধ করলেন। বাবা বললেন যে সংগঠন মানুষকে সঠিক পথে ফেরাবে সেই সংগঠনের যদি এই অবস্থা হয় , তাহলে জাতি তো বিবেক হারা হয়ে যাবে। সেই দুঃখে তার বাবা সেই সংগঠনের পদকে অভিশাপ মনে করে সরে দাড়ালেন । আরেক সংগঠনে গেলেন দেখলেন তারাও নানা স্বপ্ন দেখালেও বাস্তবে ঘোরার মতো দাড়িয়ে ঘুমায়। অথচ তার বাবার মানুষের জন্য কাজ করার অনেক ইচ্ছা থাকলেও লোভী ও স্বার্থবাজিদের কারণে মানুষরা মানুষের জন্য এগিয়ে আসাটা হচ্ছে না। আর কখন যে হবে সেই প্রত্যাশায় তাকিয়ে থাকবে সুর্যের দিকে মানুষ ! এই গল্পটা শুনতে শুনতে আর লেখা হলো না। কলম থেমে গেল - চিন্তা করলাম আরেকদিন লিখব । কয়দিন লিখতে বসেও লিখতে পারেনি তবে না লিখতে পারার কষ্ট আমাকে তাড়া করছে । কারন লিখতে বসলে চেনা অচেনা মুখোশধারীরা চোখের সামনে চলে আসে।   লেখাটা কোন না ভাবে কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে অথবা কোন ব্যক্তির পক্ষে বা বিপক্ষে চলে যাচ্ছে। অনেক সময় নানা জায়গায় যাদের সাথে সকালে বিকালে দেখা হয় তাদের বিপক্ষেও চলে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে নিজের আপন মানুষগুলোও বাদ যাচ্ছে না। অনেক সময় বাস্তব কথাটা লিখতে গিয়ে মনে হয় আমাকে হয়ত ভাবছে আমি আওয়ামীলীগ বা বিএনপি কে সমর্থন করি বা অন্য কোন দলকে সমর্থন করি । কিন্তু মানুুুুুষের মধ্যে ভ্রান্ত রাজনৈতিক মতবাদে বর্তমান সময়ে যে বিভক্তি শুরু হয়েছে তা পরিবার থেকে শুরু করে সমাজসহ রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে এখন আঘাত করেছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্থান থেকে শুরু করে প্রসাশন, প্রেস ক্লাবসহ এরকম কোন জায়গা মনে হয় এখন বাকী নাই যেখানে দলীয়করনের ছোয়া লাগেনি । হেফাজুল করিম রকিব সাংবাদিক, লন্ডন ।  

বিস্তারিত»

বিনোদন

সম্ভাবনাময় নতুন মুখ চিত্র নায়িকা তানহা মৌমাছি

সম্ভাবনাময় নতুন মুখ চিত্র নায়িকা তানহা মৌমাছি সম্ভাবনাময় নতুন মুখ  চিত্র নায়িকা তানহা মৌমাছি। কোন সিনেমা এখনও মুক্তি না পেলেও তার হাতে রয়েছে বেশ কয়েকটি ছবি। জাকির হোসেন রাজু ডিপজলের সাথে জুটি করেছেন তানহাকে। চিত্র নায়িকা তানহা মৌমাছিকে নিয়ে রয়েল খানের পরিচালনায় নির্মিত হচ্ছে ‘নো মোর লাভ’। ইতিমধ্যেই এর শুটিং শেষ হয়েছে।চলছে সম্পাদনার কাজ। সুমিতের সাথে তানহার জুটি ও অভিনয়ের পারদর্শিতা ইতিমধ্যেই ফিল্ম পাড়ায় প্রশংসা কুড়িয়েছে। এটা তার দ্বিতীয় ছবি। মুক্তির প্রতীক্ষায় রয়েছে জয়পুরহাটের মেয়ে  তানহার প্রথম ছবি ‘বৌ বানাব তোকে’ । এই ছবিতে তিনি জুটি বেধেছেন চিত্র নায়ক শুভ’র সাথে। কাজ চলছে এ সময়ের বুদ্ধিদীপ্ত তারকা পরিচালক জাকির হোসেন রাজুর ‘অনেক দামে কেনা। এই ছবিতে তিনি এ সময়ের বাণিজ্যিক সফল অভিনেতা ডিপজলের নায়িকা হিসেবে কাজ করছেন। এটা তার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের জন্য নতুন বাক তৈরি করতে পারে বলে চলচ্চিত্র বোদ্ধারা মনে করছেন। তানহাকে নিয়ে যেতে পারে সাফল্যের উচ্চাসনে। জানতে চাইলে তানহা মৌমাছি বলেন , চলচ্চিত্রে নতুন হলেও আমি গল্পের ব্যাপারে খুব চুজি। আমার সব সময়ের চেষ্টা নতুন কিছু করা। আমি ভাগ্যবান এই কারণে যে এখন পর্যন্ত আমি যত গুলো চরিত্র পেয়েছি সব গুলোই আমার স্বপ্ন চরিত্রের সাথে মিল রয়েছে। আমার পথ চলায় প্রবীণ ও চলচ্চিত্রের মানুষদের সহযোগিতা সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছে। ’

বিস্তারিত»

স্বাস্থ্য ও রুপচর্চা

রসুনে সারবে শীতকালীন অসুখ

সময়টা এখন পুরোপুরি শীতের দখলে। প্রকৃতির হাওয়া বদলে আমাদের পড়তে হচ্ছে নানা ধরণের সমস্যায়। ছোট বড় সবারই জ্বর-সর্দি-কাশিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ছে অনেক বেশি। অথচ অতিপ্রাকৃত রসুন খেয়েই থাকতে পারেন ঝামেলামুক্ত। আসুন জেনে নেয়া যাক, সর্দি কাশি এড়াতে রসুনের উপযুক্ত ব্যবহার। সর্দি কাশি বা জ্বর হলে তা দ্রুত কমাতে রসুন খাওয়ার কোন বিকল্প নেই। রসুনের অ্যান্টিসেপটিক গুণাবলী এসব অসুখের সঙ্গে দারুণভাবে লড়াই করতে সক্ষম। শরীর থেকে দূষিত টক্সিক উপাদান অপসারন করতে এবং ঝটপট জ্বর কমাতে রসুনের জুড়ি মেলা দায়। তাই রান্নায় অবশ্যই একটু বেশি বেশি রসুন ব্যবহার করতে হবে। এছাড়াও তরকারির মধ্যে আস্ত রসুন ব্যবহার করতে পারেন। মজার স্বাদে রসুনের চপ করেও খেতে পারেন। মুখরোচক চপ খেতেও যেমন সহজ, তেমনি রোগ সারাতেও উপকারী। সর্দি সারাতে রসুনের তেলও ব্যবহার করতে পারেন। বাসায় তৈরি করতে চাইলে সাধারণ সয়াবিন বা অলিভ অয়েলে কয়েক টুকরো রসুন দিয়ে ভাজতে পারেন। এবার নামিয়ে আনলেই হলো রসুনের তেল, অথবা দোকান থেকেও কিনতে পারেন। এই তেল খাবারে, স্যুপে, রান্নায় ব্যবহার করুন। হালকা গরম করে ছোট বাচ্চাদের বুকে মালিশ করে দিতে পারেন। শীতের অসুখ দ্রুত পালাবে। এছাড়াও রসুনে থাকা ভিটামিন ‘সি’র কথা বিশেষভাবে বলতে হয়। কেননা এই ভিটামিন স্কার্ভি রোগের প্রতিরোধক ও প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে তা রক্তনালি নমনীয় রাখে। হৃদজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভীষণ কার্যকর এ ভেষজ। ডাক্তারি পরীক্ষায় প্রমাণিত, রসুন উচ্চ রক্তচাপও কমিয়ে দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি মিলিলিটার শুক্রাণুতে ২০ মিলিয়নের কম স্পার্ম থাকলে যেকোনো পুরুষ অনুর্বর হতে পারেন। এক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক মসলা রসুন স্পার্ম তৈরিতে খুবই কার্যকর।

বিস্তারিত»

সম্পাদকীয়

বিজয় দিবসের অঙ্গীকার হোক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ

মঙ্গলবার ১৬ ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস। জাতির পরম গৌরবের এই দিনে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। নয় মাসের যুদ্ধ শেষে রক্তস্নাত সূর্যোদয়ের মধ্য দিয়ে  অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের। অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের ফসল আমাদের স্বাধীনতা। বিজয়ের এই দিনে আত্ম-উৎসর্গকারী সূর্যসন্তানদের প্রতি রইল আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা। অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাসহ যারা নানাভাবে এই মুক্তিসংগ্রামে অংশ নিয়ে দেশকে শত্রুমুক্ত করেছেন, তাদের প্রতি রইল অভিনন্দন। পাকিস্তানি হানাদারদের নির্যাতনে সম্ভ্রম হারানো মা-বোনদের জানাই সালাম। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শুরু হওয়া বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম হঠাৎ কোনো বিপ্লব ছিল না। স্বাধীনতা আর গণতন্ত্রের জন্য ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামে যুগের পর যুগ অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা, দুঃখ-কষ্ট সইতে হয়েছে এই জাতিকে। বাঙালির বহুদিনের লালিত স্বপ্ন ও সংগ্রামের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম ঋদ্ধ ছিল একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার চেতনায়। কিন্তু ৪৩ বছর আগে যে স্বপ্ন বুকে নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল,  সে স্বপ্নের কতটা পূরণ হয়েছে, আজ সে হিসাব মেলাতে গেলে হতাশাই ভর করে মনে। রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতায় আজ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভূলুণ্ঠিত হওয়ার পথে। বাংলাদেশের আজকের হা-হুতুশ্মি শহীদদের আত্মাকে নিশ্চিতভাবেই দুঃখ দিচ্ছে। তাই রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত মূল্যবোধ রক্ষায় আমাদের হতে হবে যত্নবান। সন্দেহ নেই, রাজনৈতিক নেতাদের প্রজ্ঞা আর নেতৃত্বের ফসল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধেও রাজনৈতিক নেতাদের বিরাট ভূমিকা স্মরণীয়। কিন্তু সেই প্রজ্ঞা-দূরদর্শিতা আজকের বাংলাদেশের রাজনীতিতে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। নীতি-আদর্শহীনতা আর অগণতান্ত্রিক মনোভাব আজ বাংলাদেশের রাজনীতির চালিকাশক্তি। জনগণের দুর্দশার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই কলুষিত রাজনীতি। সন্ত্রাস, দুর্নীতি, কলুষময় রাজনীতি আর কুশাসনের বেড়াজালে হাঁসফাঁস জননী জন্মভূমি।  বিরুদ্ধমতের জন্য চোখ রাঙিয়ে ঝুলছে শৃঙ্খল। ক্ষমতার রাজনীতির লিপ্সায় অন্ধ আমাদের গণতন্ত্রের ধ্বজাধারীরা। তারা অবিরত হেয়জ্ঞান করছে দেশের মানুষকে। মুক্তিযুদ্ধের শহীদেরা এমন বাংলাদেশ চাননি। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যে শান্তি তাদের জন্য এনেছিল, এসব কারণে নিশ্চয়ই শহীদদের আত্মারা কষ্ট পাচ্ছে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সরকারের আচরণকে গণতান্ত্রিক বলতে আমাদের দ্বিধা হয়। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজনৈতিক হানাহানি আর অসহিষ্ণুতা পরিহারের জন্য আমরা সব পক্ষকে আহ্বান জানাই। আমরা আরো আশা করি, বিজয়ের এই মাসেই সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সচেষ্ট হবে।

বিস্তারিত»

বিজ্ঞপ্তি

ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা

আনুগত্যের উজ্জ্বল মহিমায় ভাস্বর ঈদ উল আজহা।ঈদুল আজহার উদ্দেশ্য স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকা।কুরবানীর সঠিক তাৎপর্যকে উপলব্ধি করে যদি ধর্মপ্রাণ মানুষ কুরবানী দেয়, তাহলে ঈদ-উল-আজহার প্রকৃত উদ্দেশ্য সার্থক হবে। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে গাঢ় হয় পরস্পরের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা, ভালবাসা এবং শ্রদ্ধাবোধ। আল্লাহ্‌তায়ালা ধনী-গরীব সবার মাঝেই ঈদের আনন্দ সমান-ভাবে বন্টনের যে শিক্ষা দিয়েছেন তা সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমে এর তাৎপর্যকে তুলে ধরতে হবে। এই পবিত্র দিনে সিলেটের আলাপ ডট কমের সুপ্রিয় পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের  প্রতি আহবান, ত্যাগের মহিমায় উজ্জল ঈদুল আজহার দিনে আনন্দ উৎসবে ভরে উঠুক সকলের মনপ্রাণ। সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে, গরীব দুঃখীদের পাশে দাঁড়াই।। পবিত্র ঈদ-উল-আযহা  সবার জন্য বয়ে আনুক অনাবিল সুখ ও প্রশান্তি।                                                    সিলেটের আলাপ ডটকমের পক্ষে  সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ডাঃ আব্দুল আজিজ  সম্পাদক তোফায়েল আহমদ খান সায়েক  

বিস্তারিত»

শোক-সংবাদ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর ও মুক্তিযোদ্ধা  জে কে এম এ আজিজ আর নেই!

আতিকুর রহমান: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ঝিনাইদহের সাবেক গভর্ণর ও সাবেক সংসদ সদস্য জে কে এম এ আজিজ আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ঝিনাইদহ জেলা শহরের হামদহে নিজ বাস ভবনে বার্ধক্য জনিত কারনে ইন্তেকাল করেছেন । (ইন্না..রাজেউন)। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর ।জে কে এম এ আজিজ ১৯২৮ সালের জানুয়ারি মাসে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার শালকুপা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্র জীবনেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন তিনি। ১৯৫০ সালে কুষ্টিয়া সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করার পর তিনি কুষ্টিয়া আওয়ামী ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।সে সময় দুই দফা গ্রেফতার হন এবং কারাভোগ করেন তিনি । ১৯৬৫ সালে তিনি (সাংগঠনিক জেলা) ঝিনাইদহ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তিনি ঝিনাইদহ-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন ঝিনাইদহ মহাকুমার সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক ছিলেন। ১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ১৯৭৫ সালে ঝিনাইদহের গভর্ণর হন।৩ ছেলে ও ৩ মেয়ে তার । বেশ কিছুদিন আগে ঝিনাইদহের স্থানীয় ও জাতীয় অনলাইনে জীবন সহাহ্নে প্রধান মন্ত্রীর সহচার্যে চিকিৎসা হতে চান জে কে এম এ আজিজ শিরোনামে নিউজ প্রকাশিত হয়। তার মৃত্যুতে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শোক প্রকাশ করেছেন।

বিস্তারিত»

সাম্প্রতিক খবর সর্বাধিক পঠিত

জরিপ

Loading...

Archive