আত্মীয়তার বন্ধনে রাজনীতি-৯

কাফি কামাল:পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্রজাতিসত্তার তিনটি রাজপরিবার হচ্ছে বান্দরবানের বোমাং, রাঙ্গামাটির চাকমা ও খাগড়াছড়ির মং রাজপরিবার। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিতে এখনও রয়েছে তাদের প্রভাব। পাকিস্তান আমল ও স্বাধীন বাংলাদেশের বেশির ভাগ সরকারে ছিল এসব রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব। এক্ষেত্রে এগিয়ে চাকমা ও বোমাং রাজপরিবার। বান্দরবানের বোমাং রাজপরিবারের ১৫তম রাজা হলেন অংশু প্রু চৌধুরী। তিনি জিয়াউর রহমান সরকারের খাদ্য ও সাত্তার সরকারের সময় দুই দফায় একাধিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। রাজপরিবারের ১৪তম রাজা মং শৈ প্রু চৌধুরী ছিলেন এরশাদ সরকারের এমপি। রাজপরিবারের ১৩তম রাজা ক্য জ সাইন বোমাগ্রীর পুত্রবধূ (রাজবধূ) হলেন বিএনপি সরকারের সাবেক এমপি ম্যামাচিং। আবার অংশু প্রু চৌধুরীর ছেলে বিএনপি সরকারের সাবেক এমপি সাচিং প্রু জেরি হলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির সভাপতি। সাচিং প্রু ও মামাচিং দুইজন সম্পর্কে মামি-ভাগনে। এ ছাড়া খাগড়াছড়ির মংরাজার জামাতা হলেন বান্দরবানের প্রয়াত বোমাং রাজা অংশু প্রু চৌধুরীর তৃতীয় ছেলে। রাঙ্গামাটির চাকমা রাজা ও ফখরুদ্দীন সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের বাবা রাজা মেজর ত্রিদিব রায় ছিলেন পাকিস্তানের পক্ষে। পরে তিনি পাকিস্তানে চলে গেলে ১৯৭৭ সালে ১৮ বছর বয়সে ৫১তম চাকমা রাজা হিসেবে অভিশেষ ঘটে তার ছেলে ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের। তার দাদি রাজমাতা বিনিতা রায় জিয়াউর রহমান সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। দেবাশীষ রায়ের সৎ মায়ের সঙ্গে পরে বিয়ে হয় ফরিদপুরের বিখ্যাত কবির পরিবারের সন্তান ফিরোজ কবিরের। চাকমা রাজপরিবারের আরেক সন্তান দেবাশীষের চাচা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক কেকে রায় প্রগতিশীল রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। রাঙ্গামাটির সুবিমল দেওয়ান ছিলেন জিয়াউর রহমান সরকারের উপদেষ্টা। তার ছেলে অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি। দীপেন দেওয়ানের চাচি হলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মনি স্বপন দেওয়ানের ফুফু। দীপেন দেওয়ানের বোন জামাই হলেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। আবার বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য খাগড়াছড়ির সমীরন দেওয়ানের ফুফাতো বোনের জামাই হলেন রাঙ্গামাটি বিএনপির সভাপতি দীপেন দেওয়ান। রাঙ্গামাটির কামিনী মোহন দেওয়ান ছিলেন পাকিস্তান আমলের এমএলএ। তার ছেলে বিনয় কুমার দেওয়ান ছিলেন এরশাদ সরকারের প্রতিমন্ত্রী। এরশাদ সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন বিনয় কুমারের ভাতিজা গৌতম দেওয়ান। আবার বিনয় কুমার দেওয়ান ও দীপেন দেওয়ান হলেন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। পার্বত্য জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু সরকারে (জেএসএস) দলীয় এমপি ছিলেন মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (এমএন লারমা)। তিনি পরবর্তী সময়ে শান্তিবাহিনী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার ছোট ভাই হলেন চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)। সন্তু লারমার শ্যালক হলেন আদিবাসী যান্ত্রিক সমিতির সভাপতি বিভাষ দেওয়ান। রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া ভূঁইয়া পরিবারের সদস্য মুসলিম কটন মিলের মালিক গুলবক্স ভূঁইয়ার ছেলে সুলতান উদ্দিন ভূঁইয়া ছিলেন জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি। তার বড় ভাই মজিবুর রহমান ভূঁইয়া রূপগঞ্জ উপজেলার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান। মজিবুর ভূঁইয়ার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বর্তমানে যুবদলের কেন্দ্রীয় অর্থ বিষয়ক সম্পাদক। দিপুর খালু হলেন চাঁদপুরের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি এসএ সুলতান টিটু। আর গুলবক্স ভূঁইয়ার ভাতিজি জামাই হলেন ২০ দলীয় জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক। রংপুরের ভরসা পরিবারের সন্তান জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জিয়া সরকারের এমপি রহিমউদ্দিন ভরসার ছোট ভাই হলেন জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সাবেক এমপি করিমউদ্দিন ভরসা। দুই ভাই আবার সম্পর্কে বেয়াইও বটে। রহিম ভরসার ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন করিম ভরসা। আবার রহিম ভরসার বেয়াই হলেন ফরিদপুর জেলা বিএনপি সভাপতি জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া। রহিম ভরসার ছেলে এমদাদুল হক ভরসা জেলা বিএনপি সভাপতি ও স্ত্রী শিরিন ভরসা জেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা। করিম ভরসার ছেলে শামসুল ইসলাম জাতীয় পার্টির নেতা। রংপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেন হলেন এরশাদ সরকারের সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক চৌধুরীর বেয়াই। আনিসুলের ভাতিজার কাছে ভাতিজি বিয়ে দিয়েছেন মোজাফফর। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর মামা হলেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি (জাফর)  মহাসচিব ও এরশাদ সরকারের সাবেক পূর্তমন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের ভাগনে হলেন ভোলা সদর পৌরসভার মেয়র মনিরুজ্জামান। তার আরেক ভাগনে হলেন লালমোহনের পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম। আবার তোফায়েলের ভাতিজা আলী আজম মুকুল হলেন দৌলতখান আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি। সিলেটের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি ইমরান আহমেদের শাশুড়ি হলেন বঙ্গবন্ধু সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বদরুন্নেসা আহমেদ। বঙ্গবন্ধুর প্রেস সচিব আমিনুল হক বাদশা হলেন ইমরান আহমেদের মামা শ্বশুর। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার প্রয়াত খালেদ মোশাররফের মেয়ে হলেন আওয়ামী লীগ সরকারের সংরক্ষিত মহিলা এমপি মাহজাবীন খালেদ। খালেদ মোশাররফের ছোট ভাই রাশেদ মোশাররফ ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমি প্রতিমন্ত্রী। তাদের নিকটাত্মীয় হলেন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এইচএন আশিকুর রহমান এমপি। তার ছেলে রাশেক রহমান আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। ঝালকাঠি জেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তমের বেয়াই হলেন চট্টগ্রামের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি সরোয়ার জামাল নিজাম। নিজামের ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন শাহজাহান ওমর। আর নিজামের ভাই হলেন সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল সরোয়ার জাহান নিজাম। পাকিস্তান আমলে মুসলিম লীগের এমএলএ বগুড়ার গোলাম রব্বানীর ছেলে বগুড়া-৫ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। তার চাচা ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক এবং বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠজন সাংবাদিক আসাফুদ্দৌলা। জিএম সিরাজের চাচাতো বোন আসাফা মওলা গোপালগঞ্জের শেখ পরিবারের পুত্রবধূ। জিয়া সরকারের এমপি বগুড়ার সিরাজুল হক তালুকদারের ছেলে হলেন বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। লালুর শ্বশুর হলেন বগুড়া আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আকবর চৌধুরী। তার ভায়রা শহিদুল ইসলাম দুদু আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে কাহালু-নন্দীগ্রাম আসনে প্রার্থী ছিলেন। বগুড়ার বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার ছোট ভাই মঞ্জুরুল আলম মোহন জেলা যুবলীগের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকও। আরেক ভাই মাহবুব উল আলম টোকন জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম-১ আসনের জাতীয় পার্টির এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ও একই আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম রানা সম্পর্কে দূর সম্পর্কীয় মামা-ভাগনে। খুলনার জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি গাফফার বিশ্বাসের ভাগনি জামাই হলেন আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত এএসএম রব। রবের ছেলে আলাউদ্দিন মিঠু বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। কক্সবাজারের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীর তালুই হলেন উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কবি আদিল চৌধুরী। চৌধুরী পরিবারের ছোট ছেলে সরওয়ার জাহান চৌধুরীর চাচা শ্বশুর হলেন আদিল চৌধুরী। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা ড. এসএ মালেকের বেয়াই হলেন জাতীয়তাবাদী ঘরানার বুদ্ধিজীবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী তালুকদার মনিরুজ্জামান। বিস্তারিত»

দ্রোহ ও প্রেমের কবির জন্মদিন

ঢাকা: দ্রোহ-প্রেম, সাম্য-মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন সোমবার। আমাদের জাতীয় কবির ১১৬তম জন্মবার্ষিকীর দিনটি নানা আয়োজনে উদযাপিত হবে। এ বছর জন্মবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান হবে কুমিল্লায়। কুমিল্লার টাউন হল চত্বরে বিকাল চারটায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উদযাপনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘কুমিল্লায় নজরুল’।   বাংলা ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে কাজী ফকির আহমেদ ও জাহেদা খাতুনের ঘরে জন্ম নেন কাজী নজরুল ইসলাম। বেশ কটি সন্তানের মৃত্যুর পর জন্ম নেয়া নজরুলের নাম বাবা-মা রাখেন ‘দুখু মিয়া’। নজরুলের প্রেম, বিয়েবিচ্ছেদ, গ্রেফতার, সমাবেশ এবং কাব্য ও সংস্কৃতিচর্চাসহ বহু ঘটনার সাক্ষী কুমিল্লা শহর। এই কুমিল্লা জেলার দৌলতপুরে সৈয়দা খাতুন নামে এক কিশোরীকে তিনি ভালোবেসেছিলেন। নাম রেখেছিলেন ‘নার্গিস’। ১৯২১ সালে নির্ধারিত বিয়ের দিনেই তাদের বিয়ে ভেঙে যায়। পরে নার্গিসকে নিয়ে তিনি লেখে্ন- ‘যারে হাত দিয়ে মালা দিতে পার নাই/কেন মনে রাখো তারে’।  কুমিল্লা শহরে এখনো কবির অনেক স্মৃতি।  নজরুলের স্ত্রী প্রমীলার বাড়িও এখানে। জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ জাতির উদ্দেশে পৃথক বাণী দিয়েছেন। কুমিল্লায় ঐতিহ্যবাহী টাউন হল মাঠে জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকীর তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া  হয়েছে। বিকাল চারটায় টাউন হল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সকাল ৬টা ৩০মিনিটে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে নজরুল ইনস্টিটিউট আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। এ ছাড়া ঢাকাসহ জাতীয় কবির স্মৃতি বিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও চট্টগ্রামে স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় তার ১১৬তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হবে। বাংলা কবিতায় নজরুলের আর্বিভাব একেবারেই ধূমকেতুর মতো। হঠাৎ করে একদিন তিনি বাংলা সাহিত্যে আবির্ভূত হয়ে সমস্ত আকাশকে কীভাবে রাঙিয়ে গেলেন অথবা উজ্জ্বল করে দিলেন, তা নিয়ে এখনো গবেষণা হতে পারে। কোন সঞ্জীবনী মন্ত্রে তিনি উচ্চকণ্ঠে বলতে পারে্ন- ‘বল বীর, বল উন্নত মম শির’ অথবা মহা-বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত/ আমি সেই দিন হব শান্ত/ যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না,/ অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না-’। বিদ্রোহী কবি যেমন ছিলেন নির্ভীক, তেমনি ছিলেন রোমান্টিক।  রোমান্টিকতার আতিশয্য ও অভিমানে ভরা তার অনেক গান বাঙালির হৃদয়রাজ্যে বিচরণ করছে। বিশিষ্টজনদের মতে রবীন্দ্রনাথ-পরবর্তী নজরুলের গান অনেকটাই ভিন্ন ধরনের নির্মাণ। অধিকাংশ গান সুরপ্রধান। বৈচিত্রপূর্ণ সুরের লহরী কাব্যকথাকে তরঙ্গায়িত করে এগিয়ে নিয়ে যায়। সুরের বিন্যাসের উপরে কথা ঢলে পড়ে। তার গানে বহু গায়ক সুর-স্বাধীনতা ভোগ করেন। নজরুল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, নজরুল ইতিহাস ও সময়সচেতন মানুষ ছিলেন, যার প্রভাব তার লেখায় স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, তুরস্কে কামাল পাশার নেতৃত্বে প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা, রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব আর ভারতবর্ষে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের তরঙ্গকে নজরুল তার সাহিত্যে বিপুলভাবে ধারণ করেছেন। বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও নজরুল ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিণী সৃষ্টি করে বাংলা সংগীত জগৎকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। তার কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ লেখক। তার লেখনি জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তার কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তার গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস। বিস্তারিত»

গারো তরুণীর সম্ভমহানি রাস্তাঘাটে মা-বোনদের নিরাপত্তা নেই: বিএনপি

ঢাকা: রাজধানীতে মাইক্রোবাসে গারো তরুণীর সম্ভমহানির ঘটনার তিন দিনেও জড়িতরা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিএনপি। রোববার বিকালে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘এখন রাস্তাঘাটে মা-বোনদের চলাচলের নিরাপত্তা নেই। পয়েলা বৈশাখে নারী সম্ভমহানির জঘন্য ঘটনার ক্ষত না শুকাতেই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির গারো সম্প্রদায়ের এক তরুণীর সম্ভমহানির ঘটনা আমাদের স্তম্ভিত করেছে। এই ঘটনা দেশের জন্য লজ্জার।’’   রিপন বলেন, ‘‘ঘটনার এতোদিন পরও মানুষ নামের ওইসব জানোয়ারদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনতে না পারায় ‘কালচার অব ইমপিউনিটি’ আরো প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে।’’ গারো উপজাতির এক তরুণীর সম্ভমহানির ঘটনায় সরকারের ভুমিকার সমালোচনা আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘‘আমরা আশা করেছিলাম, সরকার এই ঘটনার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, তাদের (সরকার) কোনো নড়াচড়া নেই।’’ বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় এক গারো তরুণীকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে দেড় ঘণ্টা ধরে চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণ করেছে পাঁচ যুবক। এরপরদিন শুক্রবার ভাটারা থানায় মামলা করেছে ধর্ষণের শিকার মেয়েটির পরিবার।   বর্ষবরণের উৎসবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারীদের যৌন নিপীড়নের ঘটনায় কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলনের মধ্যেই ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটল।      ২১ বছর বয়সী ওই তরুণী যমুনা ফিউচার পার্কের একটি পোশাকের দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন। বড় বোনের সঙ্গে উত্তরায় থাকেন খালার বাসায়। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়ায়। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কাযার্লয়ে এই সংবাদ ব্রিফিং হয়। জবাবদিহি সরকার নেই, সংসদ নেই বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নিবার্চনে যে সংসদ গঠিত হয়েছে, তারা জনগনের কথা বলে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবণতি, নারীর সম্ভমহানির অসংখ্য ঘটনা, দ্রব্যমূল্যের উধ্বর্গতি, ধান-চাল-গম সরকারিভাবে সংগ্রহের নীতি মার খাওয়ায় শাসকদলীয় মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপটে দেশের কৃষকরা আজ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।’’ তিনি বলেন, ‘‘এমনি পরিস্থিতিতে সরকার নির্বিকার ভুমিকা পালন করে চলেছে। দেশে আজ কোনো জবাবিহিতি কোনো সরকার নেই্। সংসদে গৃহপালিত একটি বিরোধী দল আছে। তারা সরকারের প্রশংসা করে বাহাবা পায়।’’ জনগণের সঙ্গে থাকার দলের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘‘এমন পরিস্থিতিতে একটি উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আমরা সরকারের সকল খারাপ নীতি ও পদক্ষেপের সমালোচনা করছি, প্রতিবাদ জানাচ্ছি, জানাব। সাংবিধানিক সীমার মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে আমরা এসব কাজ করব।’’ রিপন বলেন, ‘‘কেবল তাই নয়, জনগণ ও দেশের স্বার্থে সকল ইস্যুতে আমরা বরাবরের মতো ইতিবাচক ভুমিকা পালন করব। নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরব। আমরা বার বার বলেছি, ঘৃণা ও সহিংসতা গণতন্ত্রের পথ নয়। আমরা জনগনের পক্ষে জনস্বার্থ সকল ইস্যুতে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা অব্যাহত রাখবো।’’ সরকারের প্রতি আহবান রেখে দলের মুখপাত্র রিপন বলেন, ‘‘ আমরা প্রত্যাশা করি, সরকার বিরোধী মতকে সহ্য করে বিরোধী দলের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অধিকারগুলো চর্চার জন্য পথকে সংকুচিত করার নীতি থেকে সরে আসবেন।’’ তিনি বলেন, ‘‘সরকার অতিদ্রুত দেশে একটি অবাধ নিরপেক্ষ নিবার্চন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বিএনপিসহ সকল দলের সাথে অর্থবহ সংলাপের আন্তরিক সূচনার সূত্রপাত ঘটাবেন। তা না করে তারা যদি দিবাস্বপ্ন দেখে থাকেন ২০১৯ সালেও ভোটারবিহীন একটি নিবার্চন করবে। তাদের বলব, বিনা ভোটে নিবার্চন হয় না, বিদেশীদের কাছে সরকারের কোনো ভাবমূর্তি থাকে না।’’ ধান-চাল-গম সংগ্রহের সরকারের ‘একগুঁয়েমি’ নীতির কারণে কৃষকরার সর্বশান্ত হচ্ছে অভিযোগ করে অবিলম্বে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরকার ঘোষিত মূল্যে ধান-চাল-গম সংগ্রহের দাবিও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘‘সরকারকে বলব, দ্রুত কৃষকদের বাঁচানোর পদক্ষেপ নিন। নইলে আগামীতে কৃষকরা ফসল উৎপাদনের নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বে। দেশ খাদ্য আমদানি নির্ভর হয়ে পড়বে। আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।’’ সমুদ্রবক্ষে হাজার হাজার বাংলাদেশীদের উদ্ধারে সরকারের ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনাও করেন তিনি। সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতা আফজাল এইচ খান, শাহজাদা মিয়া, আবদুস সালাম আজাদ, হাবিবুর রহমান হাবিব, মুস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আসাদুল করীম শাহিন, হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আখতার, সেলিম রেজা হাবিব, আকম মোজাম্মেল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বিস্তারিত»

আগামী ৬ জুন বাংলাদেশ সফরে আসছেন মোদি

ঢাকা : বাংলাদেশ সফরে আগামী ৬ জুন আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি একদিনের সফরের জন্য এ দেশে আসবেন বলে জানা গেছে। তার এ সফর তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থন আদায়ে নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শনিবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে উদ্ধৃত করে দ্য হিন্দুস্তান টাইমস এ কথা জানিয়েছে। রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি সম্ভবত পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেন। কেননা ভারতের প্রধানমন্ত্রী পেট্রাপোল-বেনাপোল স্থল শুল্কবন্দর পরিদর্শনে আগ্রহী। এ স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে ৫০ শতাংশ বাণিজ্য সম্পন্ন হয়। নয়াদিল্লির পররাষ্ট্র সচিবালয় সাউথ ব্লকের এক কর্মকর্তা বলেন, নরেন্দ্র মোদি যে কোনো মূল্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চান। ইসলামী জঙ্গি বা রোহিঙ্গা ইস্যু যেন এ সীমান্তের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়। এ লক্ষ্যে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক, বাণিজ্য ও যোগাযোগ আরো জোরদার করতে আগ্রহী বলে। চট্টগ্রাম বন্দরকে আরো ব্যাপকভাবে ব্যবহারের বিষয়েও ভারতের আগ্রহ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের লক্ষ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ তৎপর রয়েছেন বলে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন প্রস্তাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি রয়েছে দুই দেশের মধ্যে ৪৬ শতাংশ হারে তিস্তার পানি বণ্টন ফর্মুলা। এদিকে নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গতকাল বলেছেন, এখন দুই দেশের উচিত দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান করা। এর মধ্যে রয়েছে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি এবং উভয় দেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারণ চূড়ান্ত করা। সার্বিকভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন ঢাকা সফরে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সব ক্ষেত্রে উন্নীত করার লক্ষ্যে ব্যাপক সমঝোতা হতে চলেছে। ঘোষণা হতে পারে নতুন ঋণ সাহায্য। ভারতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে নেপাল ও ভুটানে পণ্য রফতানির সুযোগ দেওয়ার ইস্যু নিয়েও আলোচনা হবে। গতকাল এখানে ভারত-বাংলাদেশ ষষ্ঠ পর্যায়ের ট্র্যাক-টু আলোচনার দ্বিতীয় দিনে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর এমনই এক রূপরেখা তুলে ধরেন। এ আলোচনাচক্রে উপস্থিত ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরণ রিজুজু ঘোষণা করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির ঢাকা সফরের সময় ভিসা সরলীকরণ ও সীমান্ত বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। দিল্লির হ্যাবিটেট সেন্টারের আলোচনায় যোগ দিতে গতকাল সকালেই মিয়ানমারের নেপিদো থেকে পররাষ্ট্র সচিব আসেন। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এসবসহ তিস্তা ও ফেনী নদীর পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও আলোচনা চলছে। শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সফর সম্পর্কে নয়াদিল্লির অপর এক সরকারি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি ৫ জুন সন্ধ্যায় ঢাকা পৌঁছবেন। ৭ জুন ফিরে আসবেন। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ভারত প্রতিবেশীদের মধ্যে বাংলাদেশকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেয়। সমৃদ্ধিশালী ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ ভারতের কাম্য। দক্ষিণ এশিয়ায় যোগাযোগ বৃদ্ধির কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ। সম্পর্কের মূল ভিত্তি নিরাপত্তা ও সীমান্ত সহযোগিতাসহ আর্থিক ও বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং দুই দেশের জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি। তিনি বলেন, যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রধান মাধ্যম হবে রেল-সড়ক-বন্দর-উপকূলীয় নৌপরিবহন। ১৯৭২ সাল থেকে দুই দেশের মধ্যে নৌ প্রটোকল রয়েছে। আটটি নদীপথে বর্তমানে পণ্য পরিবহন হয়। এবার আমরা উপকূলীয় নৌপরিবহন চুক্তি করতে চেয়েছি। যাতে পণ্য পরিবহন সহজ হয় এবং সড়কের ওপর চাপ কমে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে বাণিজ্যিক ঘাটতি রয়েছে তা কমানোর জন্য তিনি কয়েকটি প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত পণ্য রফতানির যে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাতে ভারতের উত্তর-পূর্বের বাজারে সে দেশের পণ্য প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সড়কপথে বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য মোট ৫০টি স্থল শুল্কবন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। তার মধ্যে ৩টি পর্যায়ে আধুনিক উন্নতমানের চেকপোস্ট তৈরি করা হচ্ছে। পেট্রাপোল, উত্তরবঙ্গে হিলি ও মেঘালয়ে উন্নতমানের চেকপোস্ট তৈরি হবে। মেঘলায় ও ত্রিপুরায় ৭টি বর্ডার হাট তৈরি হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অতিরিক্তি পাঁচশ' মেগাওয়াট এবং পালাটানা থেকে একশ' মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এ ছাড়া ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যে নির্মীয়মাণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বাংলাদেশ হয়ে ভারতের উত্তরে বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইন নির্মিত হবে। এ গ্রিড থেকে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংগ্রহ করতে পারবে। জানা গেছে, বাংলাদেশে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহের জন্য শিলিগুড়ি থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত পাইপলাইন বসানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা হবে প্রধানমন্ত্রীর সফরে। বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল সড়ক যোগাযোগের লক্ষ্যে ফুলবাড়ী-বাংলাবান্ধায় উন্নত স্থলবন্দর চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত।   বিস্তারিত»

নজরুল অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন : খালেদা জিয়া

ঢাকা: কাজী নজরুলের ইসলামের কবিতা ও গান মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রেরণা যুগিয়ে ছিলো বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। রোববার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে এ কথা বলেন। খালেদা জিয়া বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক অবিসাংবাদিত প্রাণপুরুষ। তিনিই উপমহাদেশের স্বাধীনতার প্রথম বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর। তাঁর কবিতা ও গান আমাদের মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। দেশের স্বাধীনতা ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য উপনিবেশিক শাসক গোষ্ঠীর অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে কারাগারে নির্যাতন সহ্য করতেও দ্বিধা করেননি তিনি। তিনি বলেন, শত জুলুম, অন্যায়-অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে ক্ষুরধার লেখনি দিয়ে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন কাজী নজরুল। নিজেও অত্যাচার সয়েছেন ঔপনিবেশিক শাসক গোষ্ঠীর। পারিবারিক সীমাহীন দুঃখ কষ্টের মধ্যে থেকেও নির্বাক হওয়া পর্যন্ত সাহিত্য-চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তিনি ছিলেন বিস্ময়কর বহুমূখী প্রতিভার অধিকারী, তাঁর ক্ষুরধার লেখনির মধ্যে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সমাজ বদলের মন্ত্রণা সুষ্পষ্ট। বেগম জিয়া বলেন, নজরুলের কবিতা ও গানে মানবতা ও সাম্যের বাণী উচ্চারিত হয়েছে। তিনি ছিলেন একাধারে শ্রমিক, সৈনিক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী নির্ভিক কণ্ঠস্বর এবং একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক যোদ্ধা। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আমাদেরকে চিরদিন স্বদেশ প্রেমে অনুপ্রাণিত করবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। বাণীতে তিনি “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে  তাঁর প্রতি  গভীর শ্রদ্ধা জানান।   বিস্তারিত»

ছবি ঘর

যাত্রাবাড়ীতে মধ্যরাতে পুলিশের গুলিতে যুবক নিহত

ঢাকা: রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবনী শংকর কর জানান, এক পথচারীকে দুই ছিনতাইকারী ধরলে তিনি চিৎকার করেন। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ছিনতাইকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল ছোড়ে। পুলিশ আত্মরক্ষার স্বার্থে গুলি করলে সোহেল ওরফে নাটাই সোহেল (২৫) এবং রাজীব (২২) নামে ওই দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হন। এরপর দু’জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে সোহেল মারা যান। রাজীবের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি অবিস্ফোরিত ককটেল পাওয়া গেছে বলেও জানান ওসি।

বিস্তারিত»
আবারো রাজধানী চষে বেড়াবেন খালেদা জিয়া

ডেস্ক নিউজ:আবারো রাজধানী চষে বেড়াবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তবে এবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৪ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে গরিব-দুঃখীদের মাঝে খাবার বিতরণ করতেই তিনি রাজধানী চষে বেড়াবেন । বিএনপির দফতরের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানায়, ৩০ মে মাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৪ তম শাহাদাত বার্ষিকীর দিনে জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে মোহাম্মদপুর টাউন হলের সামনে থেকে গরিব-দুঃখীদের মাঝে খাবার বিতরণ শুরু করবেন বেগম খালেদা জিয়া। এভাবে বেগম খালেদা জিয়া ২-৩ দিন রাজধানীর ৫০-৫৫টি স্পটে খাবার বিতরণ করবেন। প্রসঙ্গত, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গত ১৮ এপ্রিল দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় নেমে ভালোভাবেই প্রচারণা শেষ করে বাসায় ফিরেন তিনি। কিন্তু ১৯ এপ্রিল গাড়ি বহর নিয়ে উত্তরায় গেলে সেখানে স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা তার গাড়ি বহর লক্ষ্য করে ধাওয়া করে। যদিও সেদিন সরাসরি কোনো হামলা করেনি। তবে ২০ এপ্রিল কারওয়ান বাজারে সরাসরি তার গাড়ি বহরে হামলা করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। পরে ক্রমান্বয়ে ফকিরাপুল ও বাংলামোটর মোড়ে অতর্কিত হামলা করে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতা-কর্মীরা। এতে খালেদা জিয়ার ব্যবহৃত গাড়িসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তারক্ষী  সদস্যদের কয়েকজন গুরুতর আহত হয়।

বিস্তারিত»
নারী লাঞ্ছনাসহ সব অপরাধের মাত্রা বেড়ে চলেছে :ইসলামী ঐক্যজোট

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা মোঃ আবদুল লতিফ নেজামী, মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ আজ এক বিবৃতিতে বলেছেন, চলন্ত মাইক্রোবাসে একজন তরুণীকে গণধর্ষণের বিকট ও বীভৎস ঘটনায় আমরা  প্রচ-ভাবে ক্ষুব্ধ, বিচলিত।  মানুষরুপী হিংস্র পশু  দুর্বৃত্তরা যে কতটা  ভয়ঙ্কর হতে পারে এই বীভৎস ঘটনা এবং পহেলা বৈশাখে ঢাকার রাজপথে তা প্রমাণিত হয়েছে। আইওজে শীর্ষ নেতৃদ্বয় বলেন, রাজধানী ঢাকায়  দুর্বৃত্তদের এমন একটি ঘৃণ্য ঘটনাসহ অসংখ্য মানবতাবিরোধী জঘন্য ঘটনা ঘটছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিস্পৃহতা ও নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে। তাঁরা বলেন, ঈমানী দুর্বলতা, মানবতা বোধ, নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও চেতনা হারিয়ে যাচ্ছে বলেই , নারী লাঞ্ছনাসহ সব অপরাধের মাত্রা বেড়ে চলেছে। প্রচলিত ইসলাম বিরোধী  ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দেশে যে বিপুল সংখ্যক নৈতিকতাহীন, মানবতাহীন,দায়িত্বহীন ও মেরুদন্ডহীন  মূর্খ, কাপুরুষ উৎপাদিত হচ্ছে ; এ হলো তার জ্বলন্ত প্রমাণ। আমরা দাবী করছি , দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। রাষ্ট্র ইনসাফ , সত্য,  সততা এবং মজলুমের পক্ষে দাঁড়াক।

বিস্তারিত»
কৌশল নির্ধারণে আরো সময় নিতে চান খালেদা জিয়া -তারেক রহমান

নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী : নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগাম নির্বাচন ইস্যুতে বিএনপির আগামী দিনের আন্দোলনে সাফল্য আনার জন্য এখনো কোনো কৌশল চূড়ান্ত করতে পারছে না। ২০১৩ ও ২০১৫ এর আন্দোলনে সাফল্য না আসায় তারা নতুন ও কার্যকর কৌশল বের করতে চাইছেন। নানা কৌশল নিয়ে পর্যালোচনা চলছে কিন্তু ঠিক কোন কৌশলটি কাজে লাগবে সেই হিসাব  এখনো মিলছে না। ফলে কৌশল নির্ধারণের জন্য সময় নিতে চাইছেন খালেদা জিয়া ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, তাদের হিসাব ছিল জানুয়ারি থেকে মার্চ এই ৩ মাস, প্রয়োজন হলে আরো এক মাস বেশি সময় ধরে আন্দোলন করে তারা সরকারকে সংলাপে বসা ও সমঝোতায় আনতে সক্ষম হবেন। সরকারের ওপর বিদেশি চাপ বাড়বে। জনগণও তাদের সমর্থন দেবে, তাদের পাশে দাঁড়াবে। বিদেশিদের চাপ ও জনগণের চাপ এই দুই চাপেই সরকার প্রথমে অনড় থাকলেও পরে সমঝোতা করবে। এজন্য তারা মার্চের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত নিশ্চিত ছিল যে, তাদের সাফল্য আসছে। সরকারের ভেতরে তারা টেনশন তৈরি করতে পেরেছিল। সরকার ক্ষমতা ছাড়বে না এটা তারা জানতো তবে তারা একটি আগাম নির্বাচনের জন্য আলোচনায় বসবে। এই কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন আন্দোলনের সাফল্য না আসা পর্যন্ত অফিসেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন। সূত্র জানায়, বিএনপি সিটি নির্বাচনে জয়ী হয়ে তারা যে চমক ও জনসমর্থন তাদের প্রতি রয়েছে বলে দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক মহলর কাছে দেখাতে চেয়েছিল সেটাও সফল হয়নি। কেবল একটি সাফল্য এসেছে যে এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। বিএনপি নির্বাচন নিয়ে যে কারচুপির অভিযোগ করছিল সেটাই সঠিক। এই স্বস্তি নিয়ে এখন বিএনপি আবারো সামনের দিকে এগোতে চাইছে। এই জন্য আগামী দিনের আন্দোলন শুরু করার জন্য নতুন করে হিসাব কষছে। ঠিক কোন কৌশল অবলম্বন করতে হবে। কোনটি করলে কি লাভ হবে। এরই মধ্যে তারা একাধিক কৌশলও বের করেছেন। কিন্তু এই ব্যাপারে এখনো তারেক রহমান ও খালেদা জিয়া নেতাদের কোনো দিকনির্দেশনা দেননি। পাশাপাশি জোটের নেতাদের সঙ্গেও কোনো আলোচনা করেননি। তারা উপযুক্ত ও কার্যকর ফর্মুলা চূড়ান্ত করতে পারলে সেটা নিয়ে আলোচনা করবেন খালেদা জিয়া। বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা ছাড়াও জোটের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এখন তিনি জোটের কিছু নেতার সঙ্গে আলোচনা করাচ্ছেন। তবে সেটাও চূড়ান্ত কোনো পরিকল্পনা নয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমাদের আন্দোলন চলছিল। এটা আগামীতেও চলবে। আন্দোলনের কৌশলটি ঠিক কি হবে এবং কবে নাগাদ আবার কর্মসূচি আসতে পারে সেটা নিয়ে ম্যাডাম সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। কবে নাগাদ এই আলোচনা হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটাতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকার আমাদের নেতাকর্মীদের মাঠেই নামতে দেয়নি। এখনো নামতে দিচ্ছে না। মিথ্যা মামলা করা ছাড়াও নানাভাবে হয়রানি করছে। তারা অনেকেই মাঠে নেই। এই জন্য ভয় ও আতঙ্ক কাজ করছে। সেটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। সেটা কাটানো সম্ভব হবে বলেও আশা করেন তিনি। এছাড়াও দলের সাংগঠনিক কিছু কাজও শুরু করেছেন ম্যাডাম। সে কাজগুলো করে দলকে আরো সুসংগঠিত করেই আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি শুরু হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান বলেন, আমরা আন্দোলনে ছিলাম, আছি। আমাদের দাবি নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগাম নির্বাচন। সেই নির্বাচনের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। এক সময় সরকারকে আমাদের সঙ্গে সমঝোতায় আসতেই হবে। সেটা না হলে তাদের ক্ষমতা ছাড়তে হবে। আমরা চাই সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমাদের দাবি বিবেচনা করে সংলাপের আহ্বান করবে ও আগাম নির্বাচনের ব্যাপারে আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্ত নেবে। আমরাতো সমঝোতা করতেই চাই। কিন্তু সেটা সরকার না করলে হবে না।

বিস্তারিত»
গাছের সঙ্গে বিয়ে

আমি নিশ্চিত এমন অনেকেই আছেন যারা গাছকে বিয়ে করার কথা জীবনেও শোনেননি। আর যারা শোনেননি তাদের জন্যই আজকের এই আয়োজন। বাংলামেইল ইতোমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠি এবং তাদের সংস্কৃতি নিয়ে ধারাবাহিক নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। কিন্তু শুধু আদিবাসীদের নিয়ে নিবন্ধ প্রকাশে সংস্কৃতির বিশাল অংশ অচেনা রয়ে যায়। তাই পাঠককে আদিবাসীদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানানোর জন্য নতুন এই আয়োজন আদিবাসীদের সংস্কৃতি চর্চা ও বর্তমান অবস্থা। আজকের নিবন্ধে আমরা ভারতের উল্লেখযোগ্য আদিবাসী গোষ্ঠিগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘গোন্দ’ গোষ্ঠির একটি সম্প্রদায়ের বিয়ে সংক্রান্ত একটি রীতি নিয়ে আলোচনা করবো। আদিবাসী গোষ্ঠিটির নাম মুরিয়া। অন্ধ্রপ্রদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ গোন্দ গোষ্ঠির অর্ন্তভূক্ত এই সম্প্রদায়। এই সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে একটা সময় কুমারী মেয়েদের ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে সমর্পন করা হতো। প্রাচীনকালে কুমারী মেয়েদের উৎসর্গ করার বিষয়টি বেশ প্রচলিত এবং জনপ্রিয় ছিল। তৎকালীন সময়ে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে উৎসর্গকৃত মেয়েদের মন্দিরে সারাজীবন থাকতে হতো এবং সেখানেই মন্দিরের পূজারীরের সেবা করতে হতো। যে কারণে স্থানীয়রা তখন ওই মেয়েদের সেবাদাসী হিসেবেও ডাকতো। কিন্তু সময়ের ফেরে এই সেবাদাসী মেয়েদেরই যৌনতার খোরাক হিসেবে ব্যবহার করতো মন্দিরের পূজারীরা। শুধু তাই নয়, গ্রাম প্রধান ও রাজাদেরও যৌন চাহিদা মেটাতে হতো ওই মেয়েদের। তবে অনেকদিন হয়েছে এখন আর প্রকাশ্যে এসব হয় না। ভারতের বেশ কিছু অঞ্চলে গণমাধ্যমের কল্যাণে এখনও এরকম ঘটনার কথা জানা যায়। কিন্তু এর সংখ্যা খুবই কম হওয়ায় একে উদাহরণ হিসেবে আনা যায় না। কিন্তু অন্ধ্রপ্রদেশের এই মুরিয়ারা প্রাচীন রীতির আদলে দীর্ঘদিন ধরেই এক রীতি পালন করে আসছে। এই রীতি অনুযায়ী একজন যুবতী নারীকে গাছের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয় এবং ওই গাছটিকে ঈশ্বর হিসেবে ধরা হয়। তেলেঙ্গানা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের অনেক স্থানেই এই রীতি আমরা দেখতে পাবো। তবে ঘটনার অন্য একটা দিক হলো, গাছকে বিয়ে না করে অন্য কোনো পুরুষকে বিয়ে করতে পারে না এই সম্প্রদায়ের নারীরা। মুরিয়াদের বেশিরভাগ গ্রামেই এরকম কয়েকটি গাছ পাওয়া যাবে যেগুলোকে খুব যত্নের সঙ্গে দেখভাল করে গ্রামবাসীরা। ওই গাছগুলোকে গ্রামবাসীরা সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে গণ্য করে। সচরাচর যে গাছ ফল দানে সক্ষম নয় সেই গাছকেই দেবতা হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু কোনো কারণে যদি ওই গাছে দীর্ঘদিন পরেও ফল আসে তাহলে সেই গাছের সঙ্গে আর কোনো মেয়ের বিয়ে দেয়া হয় না। তাদের বিশ্বাস মোতাবেক, তখন ওই গাছের সঙ্গে নক্ষত্রের যোগাযোগ আছে, তাই গৃহস্থের মঙ্গল-অমঙ্গল সবকিছুই নির্ভর করে ওই গাছের উপর। শুধু যে প্রাচীন ভারতীয় সমাজে এই রীতি ছিল তা নয়। আফ্রিকা এবং ইউরোপের বেশকিছু অঞ্চলেও এই রীতি প্রচলিত ছিল। এই রীতি বিশ্বাস অনুযায়ী কোনো মানুষই গাছ কাটার অধিকার রাখে না। যদি কোনো ব্যক্তি গাছ কাটে তাহলে তাকে সামাজিক বিধান অনুযায়ী শাস্তি পেতে হয়। অন্ধ্রপ্রদেশে এমনও শোনা যায় যে, অস্ত্রধারী গাছ চোরাচালানিদের বিরুদ্ধে খালি হাতে রুখে দাড়িয়েছে মুরিয়া সম্প্রদায়ের মানুষেরা। নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়েও তারা গাছকে রক্ষা করতে চায়। কারণ গাছ তাদের কাছে ঈশ্বর সমান।

বিস্তারিত»
গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ী ইউনিয়ন নির্বাচনে বিএনপি একক প্রার্থী দিয়েছে

মুহাম্মদ চেরাগ আলী, গোলাপগঞ্জ(সিলেট) থেকেঃ গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে বিএনপি শেষ পর্যন্ত একক প্রার্থী দিয়েছে।গতকাল রোববার গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন আহমদ রিপনকে সমর্থন জানিয়ে তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি লক্ষণাবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান নছিরুল হক শাহিন, সাধারণ সম্পাদক জিলাল উদ্দিন, সিনিয়র বিএনপি নেতা সৈয়দ হাসান মাহমুদ বাবু, মাহবুবুর রহমান ফয়সল, জামাল উদ্দিন, আতাউর রহমান আতা, নজরুল ইসলাম, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আবুল হোসেন, বিএনপি নেতা নূর উদ্দিন আহমদ, তোফায়েল আহমদ, যুবদল নেতা জয়নাল আবেদীন, জেলা ছাত্রদল নেতা সেলিম আহমদ সেলু, কামরান আহমদ, উপজেলা ছাত্রদল নেতা শাহানুর আহমদ, ফয়েজ আহমদ, আব্দুল আজিজ মুন্না, পৌর বিএনপি নেতা আজমল হোসেন, পৌর শ্রমিকদলের শওকত উদ্দিন প্রমুখ। এসময় বিএনপি নেতৃবৃন্দ মামুন আহমদ রিপনকে একক বিএনপি প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করে তাকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান।  

বিস্তারিত»
বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে

মনির হায়দার, নিউ ইয়র্ক থেকে: আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগরখ্যাত বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনও আধুনিক সুশাসনের দেখা পায়নি। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে চলছে মোড়লি শাসন। তিনি বলেন, এই পদ্ধতিতে দেশ চালাতে গিয়ে আমরা ব্রিটিশদের দিয়ে যাওয়া সুশাসনের ব্যবস্থাগুলোও ধ্বংস করে দিয়েছি। আর তাই বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে খারাপ সময়টা পার করছে। নীতি-নৈতিকতা বা মূল্যবোধ বলে আর কিছু অবশিষ্ট থাকছে না। জাতীয় জীবনে আমাদের অবস্থা এখন ‘মাৎসন্নাই’-এর মতো। বড় মাছ ছোট মাছগুলোকে খেয়ে ফেলছে। স্থানীয় সময় গত শনিবার রাতে নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বইমেলা ও বাংলা উৎসবের অনুষ্ঠান মঞ্চে দেয়া বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ’ বিষয়ক এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের কন্যা শারমিন আহমেদ, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, সাংবাদিক গোলাম মোর্তজা প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রবাসী সাংবাদিক নিনি ওয়াহেদ। বক্তৃতার সময় বারবার চিরকুট দিয়ে আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদকে বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করতে তাগিদ দেয়ায় তিনি প্রচণ্ড বিরক্তি প্রকাশ করেন। অন্য বক্তাদের বক্তব্যের সূত্রে তিনি বাংলাদেশে সুশাসন প্রসঙ্গে বলেন, আমরা আসলে কখনই সুশাসনের সঙ্গে পরিচিত হতে পারিনি। স্বাধীনতার আগে আমদের সমাজব্যবস্থা ছিল মূলত মোড়লি পদ্ধতি নির্ভর। স্বাধীনতার পর আমরা সেই মোড়লি ব্যবস্থাটাকেই জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং আজও সেই ধারায় চলছে। সে কারণে সুশাসন ব্যাপারটা আমরা কখনও বোঝারই সুযোগ পাইনি। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই আমরা রয়েছি স্বৈরশাসনের মধ্যে। কখনও সামরিক স্বৈরশাসন। কখনও  বেসামরিক স্বৈরশাসন।  ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত আমরা ছিলাম আনুষ্ঠানিক স্বৈরশাসনের মধ্যে।  সেটার একটা সুবিধা ছিল যে, সমাজের খুব বেশি মানুষ প্রকাশ্যে সেই শাসনকে সমর্থন করত না।  সে ধরনের শাসকদের সমর্থন করার ক্ষেত্রে সবার মধ্যে একটা সংকোচ কাজ করতো। তাই তারা সব সময় পতনের আতঙ্কে থাকত।  কিন্তু ৯০ সালের পর থেকে আমরা যে নির্বাচিত স্বৈরশাসনের মধ্যে প্রবেশ করেছি এটা আরও ভয়াবহ। কারণ, এই স্বৈরশাসকদের সমর্থনে কথা বলার জন্য লাখ লাখ মানুষ দাঁড়িয়ে গেছে। এ কারণে নির্বাচিত স্বৈরশাসকরা অনেক বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে।  বাকি জনগোষ্ঠী তাদের কাছে হয়ে পড়ছে মারাত্মক অসহায়।  

বিস্তারিত»
নির্বাচনে অযোগ্য হচ্ছেন খালেদা জিয়া-তারেক রহমান সহ দুইশ নেতা!

নিউজ ডেস্ক : ২০১৯ সালে অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দুই শতাধিক সাবেক সংসদ সদস্য নির্বাচনে অযোগ্য হচ্ছেন। এদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এরই মধ্যে জোরদার করা হয়েছে। নাশকতাসহ মানুষ পুড়িয়ে হত্যার দায়ে বিএনপি ও জামায়াতের এক একজন নেতার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযোগপত্র দিয়ে মামলা শেষ করার তাগিদও দেয়া হয়েছে পুলিশকে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে নাশকতার অভিযোগে এক হাজার ৭৭৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৭৪টি মামলার চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। ঢাকা মহানগরে এখনও ২৯৫টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরে ১০৭টি, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় ৩৫৬টি, রাজশাহী রেঞ্জে ২১০টি, ঢাকা রেঞ্জে ২০৩টি, বরিশাল রেঞ্জে ৭৪টি, সিলেট রেঞ্জে ৬৩টি, রংপুর রেঞ্জে ৬৯টি, খুলনা রেঞ্জে ৭৬টি, রেলওয়ে থানায় ৩৩টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। এসব মামলায় বিএনপি ও জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় থেকে স্থানীয় অধিকাংশ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৩ সালের নাশকতার ৫৪০টি ও ২০১৪ সালের ১৭১টি মামলা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে যা দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন জেলার এসপি ও মেট্রোপলিটন ডিসিদের কাছে মামলা দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়ে এরই মধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জে চিঠি পৌঁছেছে গত ২৪ এপ্রিল। একইভাবে মামলার তদন্ত কার্যক্রম তদারক করতে ওসিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ে এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয় এবং এতে বিশেষ করে নাশকতার মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেয়া হয়েছে। গত ৬ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তরের অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক অপরাধ সভায় মামলার তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন আইজিপি এ কেএম শহীদুল হক। সম্প্রতি সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকের পর অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ প্রসঙ্গে বলেন, যারা পেট্রলবোমা এবং গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে তাদের বিচার হবেই। কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। নাশকতায় যেসব মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি তা দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।শিগগিরই অনেক মামলার তদন্ত শেষ হবে। এতে কোন দলের নেতার নাম পড়ল তা দেখার বিষয় নয়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আসলে বিএনপির নেতারা যে অপরাধ করেছেন এর সাজা তাদের পেতেই হবে। তা থেকে কোনো রক্ষা নেই। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অযোগ্য করতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপির নেতারা অপরাধ করলে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে বিচার হবে। তবে কাকে যোগ্য বা অযোগ্যে এবং কার কী সাজা হবে তা আদালত নির্ধারণ করবে। এটাতো আমরা বলে দিতে পারি না। তিনি আরো বলেন, বিএনপি যে পরিমাণ অপরাধ ও দেশের ক্ষতি করেছে এতে তাদের ক্ষমা করা যায় না। আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতারা অযোগ্য হচ্ছেন এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির লে. জে. (অব.) মাহাবুবুর রহমান বলেন, আসলে বর্তমান সরকার তো জনগণের ভোটের সরকার নয়। তাই তারা যখন যেটা চাইবেন তখন সেটাই করতে পারেন। বিএনপির চেয়ারপারসনসহ শীর্ষ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তারা মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এখন সরকার বলছে এ অপরাধে তাদের (বিএনপির) বিচার করা হবে। আসলে কে ঘটনা ঘটালো তা সারাদেশের জনগণ জানে। আমার মনে হয় সরকার জনগণের রায়কে ভয় পেয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরো বলেন, সরকার আগামীতে যতই নতুন নতুন সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপির কর্মী ও জনগণ এর প্রতিবাদে জেগে উঠবে। বিএনপির ওপর জনগণের আস্থা আছে। সরকার মিথ্যার ওপর বসবাস করছে। এসব মিথ্যার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জনগণ খুব শিগগির গড়ে তুলবে।

বিস্তারিত»
বগুড়ায় জামাই মেলা

বগুড়া জেলা প্রতিনিধি: গ্রীষ্মের মধুফলে ভরে উঠতে শুরু করেছে বগুড়ার বাজার। নতুন দেশীয় ফলকে ঘিরে ঐতিহ্যবাহী গ্রাম বাংলার বিভিন্ন প্রান্তরে বসেছে মেলা। আবার কোথাও বসছে জামাই মেলা। চলছে জামাই বরণ আয়োজন। নতুন ধানের নতুন আমেজ পড়েছে পল্লীতে। সেই আমেজ ছেয়ে পড়েছে বগুড়ার বিভিন্ন উপেজেলায়। জানা যায়, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কেল্লাপুশী মেলা ও নন্দীগ্রাম উপজেলার সগনীগাছা মেলা কে ঘিরে নন্দীগ্রাম উপজেলায় শুরু হয়েছে ‘জামাই মেলা’। আনুষ্ঠানিকভাবে রোববার থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এলাকায় জামাইদের পদচারনায় শনিবার থেকেই জমে উঠেছে জামাই মেলা। জামাই মেলায় জামাইদের সমাদর করতে নন্দীগ্রাম উপজেলার শ্বশুররা এখন ব্যস্ত। মেয়ে ও মেয়ে জামাইকে দাওয়াত করার কাজও শেষ করেছে। এই মেলাগুলোকে ঘিরে গোটা উপজেলায় উৎসবের আমেজ পড়ে গেছে। নন্দীগ্রাম উপজেলা সদরের জাহাঙ্গীর আলম জানান, মেলা উপলক্ষে জামাই-মেয়েসহ নিকট আত্মীয় স্বজনদের ধুমধাম করে খাওয়ানো হয়। জামাই মেলায় জামাই এর নতুন পোষাক থেকে শুরু করে যাবতীয় ফল খাওয়ানো হয়। আর জামাইদের এ সমাদরকে ঘিরে প্রাচীনকাল থেকেই মেলাগুলো শুর হয়ে আসছে। মেলায় থাকে চিরায়িত লাঠি খেলা, পাতা খেলা, চালুন খেলাসহ বিনোদন মূলক নানা আয়োজন। এসবের পাশাপাশি রয়েছে শিশুদের জন্য নাগরদোলা ও চরকি। মেলা উপলক্ষে প্রতিটি গ্রামে চলছে গৃহিণীর ঘর সাজানো ও ধোয়া-মোছার কাজ। যেখানে মেলা হবে তার আশপাশের গ্রামগুলোতে একদিন আগেই দাওয়াত করে আনা হয় জামাই, মেয়ে ও নিকট আত্মীয়দের। তাদের খাওয়ানো হয় জ্যৈষ্ঠের বিভিন্ন ফল-ফলাদি। বগুড়ার শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী কেল্লাপোশী মেলা রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে। তিথি অনুযায়ী প্রতি বছর জ্যেষ্ঠের দ্বিতীয় রবিবার থেকে উপজেলা সদরের অদূরে কেল্লাপোশী নামকস্থানে ৪৫৯বছরের প্রাচীণ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এ মেলার আয়োজন করা হয়। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এই মেলার সার্বিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, যাকে ‘জামাইবরণ’ মেলাও বলা হয়ে থাকে। আর মেলাটিকে ঘিরে গ্রামে গ্রামে চলে রকমারি আয়োজন। মেলার অন্তত সপ্তাহখানেক আগ থেকেই গ্রামের লোকজন নানা ধরনের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। নতুন পুরণো বলে কথা নেই। মেলা উপলক্ষ্যে সবাই নিজ নিজ আত্মীয়স্বজনকে দাওয়াত করে বাড়িতে আনেন। বিশেষ করে নতুন জামাই-বউকে নিয়ে সবাই ভিন্ন আনন্দে মেতে ওঠেন। শ্বশুর বাড়ির পক্ষ থেকে জামাই বাবুকে মোটা অঙ্কের সেলামীও দেওয়া হয়। সেই সেলামী আর নিজের গচ্ছিত টাকা দিয়ে জামাই বাবুরা মেলা থেকে শুশুড় বাড়ির পরিবারের জন্য কেনাকাটা করেন। শেরপুর, নন্দীগ্রাম, ধুনট, কাহালু, শিবগঞ্জ, দুপচাঁচিয়া উপজেলাও আজ রোববার থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শনিবারে মনিবার থেকে উপজেলাগুলোতে জমে উঠেছে জামাই মেলা।

বিস্তারিত»
আত্মীয়তার বন্ধনে রাজনীতি-৯

কাফি কামাল:পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্রজাতিসত্তার তিনটি রাজপরিবার হচ্ছে বান্দরবানের বোমাং, রাঙ্গামাটির চাকমা ও খাগড়াছড়ির মং রাজপরিবার। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিতে এখনও রয়েছে তাদের প্রভাব। পাকিস্তান আমল ও স্বাধীন বাংলাদেশের বেশির ভাগ সরকারে ছিল এসব রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব। এক্ষেত্রে এগিয়ে চাকমা ও বোমাং রাজপরিবার। বান্দরবানের বোমাং রাজপরিবারের ১৫তম রাজা হলেন অংশু প্রু চৌধুরী। তিনি জিয়াউর রহমান সরকারের খাদ্য ও সাত্তার সরকারের সময় দুই দফায় একাধিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। রাজপরিবারের ১৪তম রাজা মং শৈ প্রু চৌধুরী ছিলেন এরশাদ সরকারের এমপি। রাজপরিবারের ১৩তম রাজা ক্য জ সাইন বোমাগ্রীর পুত্রবধূ (রাজবধূ) হলেন বিএনপি সরকারের সাবেক এমপি ম্যামাচিং। আবার অংশু প্রু চৌধুরীর ছেলে বিএনপি সরকারের সাবেক এমপি সাচিং প্রু জেরি হলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির সভাপতি। সাচিং প্রু ও মামাচিং দুইজন সম্পর্কে মামি-ভাগনে। এ ছাড়া খাগড়াছড়ির মংরাজার জামাতা হলেন বান্দরবানের প্রয়াত বোমাং রাজা অংশু প্রু চৌধুরীর তৃতীয় ছেলে। রাঙ্গামাটির চাকমা রাজা ও ফখরুদ্দীন সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের বাবা রাজা মেজর ত্রিদিব রায় ছিলেন পাকিস্তানের পক্ষে। পরে তিনি পাকিস্তানে চলে গেলে ১৯৭৭ সালে ১৮ বছর বয়সে ৫১তম চাকমা রাজা হিসেবে অভিশেষ ঘটে তার ছেলে ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের। তার দাদি রাজমাতা বিনিতা রায় জিয়াউর রহমান সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। দেবাশীষ রায়ের সৎ মায়ের সঙ্গে পরে বিয়ে হয় ফরিদপুরের বিখ্যাত কবির পরিবারের সন্তান ফিরোজ কবিরের। চাকমা রাজপরিবারের আরেক সন্তান দেবাশীষের চাচা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক কেকে রায় প্রগতিশীল রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। রাঙ্গামাটির সুবিমল দেওয়ান ছিলেন জিয়াউর রহমান সরকারের উপদেষ্টা। তার ছেলে অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি। দীপেন দেওয়ানের চাচি হলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মনি স্বপন দেওয়ানের ফুফু। দীপেন দেওয়ানের বোন জামাই হলেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। আবার বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য খাগড়াছড়ির সমীরন দেওয়ানের ফুফাতো বোনের জামাই হলেন রাঙ্গামাটি বিএনপির সভাপতি দীপেন দেওয়ান। রাঙ্গামাটির কামিনী মোহন দেওয়ান ছিলেন পাকিস্তান আমলের এমএলএ। তার ছেলে বিনয় কুমার দেওয়ান ছিলেন এরশাদ সরকারের প্রতিমন্ত্রী। এরশাদ সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন বিনয় কুমারের ভাতিজা গৌতম দেওয়ান। আবার বিনয় কুমার দেওয়ান ও দীপেন দেওয়ান হলেন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। পার্বত্য জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু সরকারে (জেএসএস) দলীয় এমপি ছিলেন মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (এমএন লারমা)। তিনি পরবর্তী সময়ে শান্তিবাহিনী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার ছোট ভাই হলেন চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)। সন্তু লারমার শ্যালক হলেন আদিবাসী যান্ত্রিক সমিতির সভাপতি বিভাষ দেওয়ান। রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া ভূঁইয়া পরিবারের সদস্য মুসলিম কটন মিলের মালিক গুলবক্স ভূঁইয়ার ছেলে সুলতান উদ্দিন ভূঁইয়া ছিলেন জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি। তার বড় ভাই মজিবুর রহমান ভূঁইয়া রূপগঞ্জ উপজেলার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান। মজিবুর ভূঁইয়ার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বর্তমানে যুবদলের কেন্দ্রীয় অর্থ বিষয়ক সম্পাদক। দিপুর খালু হলেন চাঁদপুরের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি এসএ সুলতান টিটু। আর গুলবক্স ভূঁইয়ার ভাতিজি জামাই হলেন ২০ দলীয় জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক। রংপুরের ভরসা পরিবারের সন্তান জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জিয়া সরকারের এমপি রহিমউদ্দিন ভরসার ছোট ভাই হলেন জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সাবেক এমপি করিমউদ্দিন ভরসা। দুই ভাই আবার সম্পর্কে বেয়াইও বটে। রহিম ভরসার ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন করিম ভরসা। আবার রহিম ভরসার বেয়াই হলেন ফরিদপুর জেলা বিএনপি সভাপতি জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া। রহিম ভরসার ছেলে এমদাদুল হক ভরসা জেলা বিএনপি সভাপতি ও স্ত্রী শিরিন ভরসা জেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা। করিম ভরসার ছেলে শামসুল ইসলাম জাতীয় পার্টির নেতা। রংপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেন হলেন এরশাদ সরকারের সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক চৌধুরীর বেয়াই। আনিসুলের ভাতিজার কাছে ভাতিজি বিয়ে দিয়েছেন মোজাফফর। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর মামা হলেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি (জাফর)  মহাসচিব ও এরশাদ সরকারের সাবেক পূর্তমন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের ভাগনে হলেন ভোলা সদর পৌরসভার মেয়র মনিরুজ্জামান। তার আরেক ভাগনে হলেন লালমোহনের পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম। আবার তোফায়েলের ভাতিজা আলী আজম মুকুল হলেন দৌলতখান আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি। সিলেটের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি ইমরান আহমেদের শাশুড়ি হলেন বঙ্গবন্ধু সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বদরুন্নেসা আহমেদ। বঙ্গবন্ধুর প্রেস সচিব আমিনুল হক বাদশা হলেন ইমরান আহমেদের মামা শ্বশুর। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার প্রয়াত খালেদ মোশাররফের মেয়ে হলেন আওয়ামী লীগ সরকারের সংরক্ষিত মহিলা এমপি মাহজাবীন খালেদ। খালেদ মোশাররফের ছোট ভাই রাশেদ মোশাররফ ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমি প্রতিমন্ত্রী। তাদের নিকটাত্মীয় হলেন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এইচএন আশিকুর রহমান এমপি। তার ছেলে রাশেক রহমান আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। ঝালকাঠি জেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তমের বেয়াই হলেন চট্টগ্রামের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি সরোয়ার জামাল নিজাম। নিজামের ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন শাহজাহান ওমর। আর নিজামের ভাই হলেন সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল সরোয়ার জাহান নিজাম। পাকিস্তান আমলে মুসলিম লীগের এমএলএ বগুড়ার গোলাম রব্বানীর ছেলে বগুড়া-৫ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। তার চাচা ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক এবং বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠজন সাংবাদিক আসাফুদ্দৌলা। জিএম সিরাজের চাচাতো বোন আসাফা মওলা গোপালগঞ্জের শেখ পরিবারের পুত্রবধূ। জিয়া সরকারের এমপি বগুড়ার সিরাজুল হক তালুকদারের ছেলে হলেন বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। লালুর শ্বশুর হলেন বগুড়া আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আকবর চৌধুরী। তার ভায়রা শহিদুল ইসলাম দুদু আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে কাহালু-নন্দীগ্রাম আসনে প্রার্থী ছিলেন। বগুড়ার বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার ছোট ভাই মঞ্জুরুল আলম মোহন জেলা যুবলীগের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকও। আরেক ভাই মাহবুব উল আলম টোকন জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম-১ আসনের জাতীয় পার্টির এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ও একই আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম রানা সম্পর্কে দূর সম্পর্কীয় মামা-ভাগনে। খুলনার জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি গাফফার বিশ্বাসের ভাগনি জামাই হলেন আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত এএসএম রব। রবের ছেলে আলাউদ্দিন মিঠু বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। কক্সবাজারের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীর তালুই হলেন উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কবি আদিল চৌধুরী। চৌধুরী পরিবারের ছোট ছেলে সরওয়ার জাহান চৌধুরীর চাচা শ্বশুর হলেন আদিল চৌধুরী। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা ড. এসএ মালেকের বেয়াই হলেন জাতীয়তাবাদী ঘরানার বুদ্ধিজীবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী তালুকদার মনিরুজ্জামান।

বিস্তারিত»
নিউইয়র্কে তিন দিনব্যাপী বইমেলা শুরু

হাকিকুল ইসলাম খোকন: নিউইয়র্ক থেকে :মঙ্গল শোভাযাত্রা এবং প্রদীপ প্রজ্জ্বালনের মধ্য দিয়ে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী আšতর্জাতিক বাংলা উৎসব ও বইমেলা। কবি-লেখক, শিল্পী ও সাহিত্যিকসহ প্রবাসীদের অংশগ্রহণে পর্দা উঠে বইমেলার ২৪তম এই আসর।জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রিট ডাইভারসিটি প্লাজায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ছয়টায় মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এবারের বইমেলা। এরপর জ্যাকসন হাইটস পিএস ৬৯ স্কুল মিলনায়তনে প্রদীপ প্রজ্জ্বালন ও ফিতা কেটে আšতর্জাতিক বাংলা উৎসব ও বইমেলার ২৪তম আসর উদ্বোধন করেন অধ্যাপক আবু সাঈদ এবং নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার। উপস্থিত ছিলেন তাজউদ্দিনকন্যা শারমিন আহমেদ, গায়ক সৈয়দ আবদুল হাদি, নিউইয়র্কে নিযুক্ত বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিসহ বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা অসংখ্যা কবি, লেখক, শিল্পী-সাহিত্যিক এবং প্রকাশকরা। উদ্বোধনের পরই মঞ্চে ২৪টি মঙ্গল প্রদীপ জ্বেলে বইমেলা ও আšতর্জাতিক বাংলা উৎসবের উদ্বাধনী অনুষ্ঠানের সূচনা করেন অধ্যাপক আব্দুলাহ আবু সায়ীদ, বইমেলার আহ্বায়ক ও ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার, বিশিষ্ট নাট্যকার রামেন্দু মজুমদার, বিশ্বভারতীর পরিচালক রাম কুমার মুখোপাধ্যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নববিক্রম কিমোর ত্রিপুরা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিজ্ঞানী ও নিউজার্সির প্লেইন্সবরোর কাউন্সলম্যান ড. নূরন নবী, নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেল  শামীম আহসান, প্রকাশক আমিনুল ইসলাম, আহমেদ মাজহার, হুমায়ুন কবীর ঢালি, সাংবাদিক আহমেদ মুসা, বিশিষ্ট ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন, বীরু প্রকাশ পাল, হাসান ফেরদৌস, জার্মান প্রবাসী লেখিকা নাজমুন নেসা পিয়ারি, বিশিষ্ট লেখিকা শারমিন আহমেদ, সম্মুদাস গুপ্ত, নজরুল ইসলাম, সাংবাদিক মনজুর আহমদ, লেখক ফেরদৌস সাজেদীন প্রমুখ। আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক পর্ব শুরু হয় সঙ্গীত পরিষদের উদ্বোধনী সঙ্গীত এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি শিল্পীদের নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে। জজ হ্যারিসনের সঙ্গীত দিয়েই নতুন প্রজন্মের শিল্পী দ্বিতীয় ফেরদৌস, দীপাঞ্জলি ভৌমিক, বাসমা, শ্রুতিকনা দাসের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় কনসার্ট ফর বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে যশোর রোড কবিতা আবৃত্তি করে ও সৌরভ সরকার। আরো সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশ থেকে আগত শিল্পী মেহরুন আহমেদ, মারিয়া ও স্থানীয় শিল্পী পার্থ সারথি মুখোপাধ্যায়। এর আগে উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন কাবেরী দাশের পরিচালনায় নিউইয়র্কের সঙ্গীত পরিষদের শিল্পীরা।ঞ্চঞ্চ পুরো অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা। যৌথ উপস্থাপনায় ছিলেন ডানা ইসলাম, ক্লারা রোজারিও, সাবিনা হাই উর্বি, মিহির চৌধুরী। মঞ্চ ব্যবস্থাপনা, অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন নিনি ওয়াহেদ ও সেমন্তী ওয়াহেদ। তিন দিনব্যাপী এই মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলবে। শেষ হবে ২৪ মে।বাংলাদেশ রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো-ইপিবির সহযোগিতায় মেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে প্রাণ।মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ মেলায় আরও সম্পৃক্ত রয়েছে বাংলাদেশের সাউথইস্ট ও এবি ব্যাংক এবং গ্রীণ ডেল্টা হাউজিং।

বিস্তারিত»
ওরা বেঁচে না থাকলে শাস্তি দেবেন কাকে?

নারায়নগঞ্জ : পাচার হওয়া মানুষদেরও শাস্তি দিতে চান দেন। কিন্তু ওরা বেঁচে না থাকলে শাস্তি দেবেন কাকে? প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এ প্রশ্ন রেখে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বলেছেন, আগে তাদের জীবন রক্ষা করুন, তারপর যে শাস্তি দিতে চান দেন। নিজ দেশের মানুষের বিপদে কোনও সরকার এতটা ভাবলেশহীন, নির্বিকার থাকতে পারে তা কল্পনাও করা যায় না। শান্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচির ১১৭ তম দিনে রোববার নারায়ণগঞ্জ শহীদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সংহতি প্রকাশ করতে আসা বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি এসব কথা বলেন। কাদের সিদ্দিকী বলেন, জীবন মরণ সমস্যা নিয়ে একটি স্বাধীন দেশের মানব সন্তান সমুদ্রে ভাসছে। অথচ আমাদের সরকার সমুদ্রে ভাসমানদের রোহিঙ্গা বলে লজ্জাজনকভাবে দায় এড়াবার চেষ্টা করছে। উপার্জনের আশায় ঘরবাড়ি আপনজন ছেড়ে এভাবে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিতে পারে, তা এ দৃশ্য না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন হত। ভাসমান মানব সন্তান দেশে ঠাঁই দিতে রাজি না হয়েও মানবতার অহংকার করে কেমন কীভাবে? অবস্থানকালে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, কেন্দ্রীয় নেতা ফরিদ আহমেদ, মাহবুবুর রহমান পারভেজ, ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক রিফাতুল ইসলাম দীপ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটির সমন্বয়ক আল আমীন আলী, ছাত্রনেতা শাহীনূর আলম, এসএম সাব্বির, রাসেল আহমেদ ডালিম, সাইফুল ইসলাম, শাকিল আহমেদসহ নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তার সঙ্গে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণ এবং বিএনপি চেয়ারপারসনকে অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম ২৮ জানুয়ারি থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত মতিঝিলের ফুটপাতে অবস্থান করার পর সারাদেশে এই কর্মসূচি শুরু করেছেন। গত ১৫ অক্টোবর তিনি টঙ্গী থেকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় আসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করার পর দুই দিন মুন্সীগঞ্জ সদর ও লৌহজং উপজেলায় অবস্থান কর্মসূচী পালন করে শনিবার নারায়ণগঞ্জের শহীদনগরে আসেন।

বিস্তারিত»
দ্রোহ ও প্রেমের কবির জন্মদিন

ঢাকা: দ্রোহ-প্রেম, সাম্য-মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন সোমবার। আমাদের জাতীয় কবির ১১৬তম জন্মবার্ষিকীর দিনটি নানা আয়োজনে উদযাপিত হবে। এ বছর জন্মবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান হবে কুমিল্লায়। কুমিল্লার টাউন হল চত্বরে বিকাল চারটায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উদযাপনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘কুমিল্লায় নজরুল’।   বাংলা ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে কাজী ফকির আহমেদ ও জাহেদা খাতুনের ঘরে জন্ম নেন কাজী নজরুল ইসলাম। বেশ কটি সন্তানের মৃত্যুর পর জন্ম নেয়া নজরুলের নাম বাবা-মা রাখেন ‘দুখু মিয়া’। নজরুলের প্রেম, বিয়েবিচ্ছেদ, গ্রেফতার, সমাবেশ এবং কাব্য ও সংস্কৃতিচর্চাসহ বহু ঘটনার সাক্ষী কুমিল্লা শহর। এই কুমিল্লা জেলার দৌলতপুরে সৈয়দা খাতুন নামে এক কিশোরীকে তিনি ভালোবেসেছিলেন। নাম রেখেছিলেন ‘নার্গিস’। ১৯২১ সালে নির্ধারিত বিয়ের দিনেই তাদের বিয়ে ভেঙে যায়। পরে নার্গিসকে নিয়ে তিনি লেখে্ন- ‘যারে হাত দিয়ে মালা দিতে পার নাই/কেন মনে রাখো তারে’।  কুমিল্লা শহরে এখনো কবির অনেক স্মৃতি।  নজরুলের স্ত্রী প্রমীলার বাড়িও এখানে। জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ জাতির উদ্দেশে পৃথক বাণী দিয়েছেন। কুমিল্লায় ঐতিহ্যবাহী টাউন হল মাঠে জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকীর তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া  হয়েছে। বিকাল চারটায় টাউন হল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সকাল ৬টা ৩০মিনিটে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে নজরুল ইনস্টিটিউট আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। এ ছাড়া ঢাকাসহ জাতীয় কবির স্মৃতি বিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও চট্টগ্রামে স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় তার ১১৬তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হবে। বাংলা কবিতায় নজরুলের আর্বিভাব একেবারেই ধূমকেতুর মতো। হঠাৎ করে একদিন তিনি বাংলা সাহিত্যে আবির্ভূত হয়ে সমস্ত আকাশকে কীভাবে রাঙিয়ে গেলেন অথবা উজ্জ্বল করে দিলেন, তা নিয়ে এখনো গবেষণা হতে পারে। কোন সঞ্জীবনী মন্ত্রে তিনি উচ্চকণ্ঠে বলতে পারে্ন- ‘বল বীর, বল উন্নত মম শির’ অথবা মহা-বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত/ আমি সেই দিন হব শান্ত/ যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না,/ অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না-’। বিদ্রোহী কবি যেমন ছিলেন নির্ভীক, তেমনি ছিলেন রোমান্টিক।  রোমান্টিকতার আতিশয্য ও অভিমানে ভরা তার অনেক গান বাঙালির হৃদয়রাজ্যে বিচরণ করছে। বিশিষ্টজনদের মতে রবীন্দ্রনাথ-পরবর্তী নজরুলের গান অনেকটাই ভিন্ন ধরনের নির্মাণ। অধিকাংশ গান সুরপ্রধান। বৈচিত্রপূর্ণ সুরের লহরী কাব্যকথাকে তরঙ্গায়িত করে এগিয়ে নিয়ে যায়। সুরের বিন্যাসের উপরে কথা ঢলে পড়ে। তার গানে বহু গায়ক সুর-স্বাধীনতা ভোগ করেন। নজরুল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, নজরুল ইতিহাস ও সময়সচেতন মানুষ ছিলেন, যার প্রভাব তার লেখায় স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, তুরস্কে কামাল পাশার নেতৃত্বে প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা, রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব আর ভারতবর্ষে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের তরঙ্গকে নজরুল তার সাহিত্যে বিপুলভাবে ধারণ করেছেন। বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও নজরুল ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিণী সৃষ্টি করে বাংলা সংগীত জগৎকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। তার কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ লেখক। তার লেখনি জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তার কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তার গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস।

বিস্তারিত»
বাংলাদেশ-চীন সমঝোতা স্মারক সই

ঢাকা: বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ছয়টি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। রোববার বিকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী লিউ ইয়ানদংয়ের  উপস্থিতিতে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। শিক্ষাবিষয়ক সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান, আর চীনের পক্ষে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ইউয়ান গুইরেন।     আর রেডিও, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র সমঝোতায় সই করেন বাংলাদেশের তথ্যসচিব মুর্তজা আহমেদ এবং চীনের প্রেস, পাবলিকেশন, রেডিও ও ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। শিক্ষা বিষয়ক আরেকটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও বেইজিং ফরেন স্টাডি ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট পেং লং। এ ছাড়া বেসরকারি সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি ও বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির সঙ্গে সমঝোতা সই করেছে চীনের হুয়ান টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটি। কন্টেইনার ইন্সপেকশন অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় এক্সচেঞ্জ অব নোটস শীর্ষক একটি সমঝোতায় স্বাক্ষর করে দুই দেশ।   এর আগে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী লিউ ইয়ানদং তিন দিনের সফরে রোববার বিকাল পাঁচটায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।  সেখানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী তাকে স্বাগত জানান। এরপর চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান। সূত্র:টিভি।

বিস্তারিত»
রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত

রাজশাহী: আগামীকাল সোমবার সকাল ৬টা থেকে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি ও বগুড়া মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল লতিফ একথা বলেছেন। তিনি জানান, শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে সোমবার বিকাল ৩টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে সোমবার বিকাল পর্যন্ত পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হলে শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। অন্যথায় সোমবার বিকাল থেকে আবারো পরিবহন শ্রমিকদের কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানান আব্দুল লতিফ। উল্লেখ্য, রাজধানীর তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মহাখালীতে শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের বাস ভাঙচুর ও চালক-হেলপারকে মারপিট, মধুখালিতে সোহাগ পরিবহনে ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ চালক ও হেলপারকে আটক করে নির্যাতন করার প্রতিবাদসহ শ্রমিকদের নিরিাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে পরিবহন শ্রমিকরা কর্মবিরতির ডাক দেয়। শনিবার বিকালে বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সভাপতি ও বগুড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল লতিফ মন্ডল এই কর্মবিরতি পালনের মাধ্যমে পরিবহন ধর্মঘট কর্মসূচি ঘোষণা দেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি ও বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল লতিফ মন্ডল, সহ-সভাপতি জহুরল ইসলাম সওদাগর, আব্দুল মান্নান আকন্দ, দেলোয়ার হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আলাল উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন রানা, মো. লেবু মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল গফুর প্রামানিক, মিঠু মিয়া মন্ডল, শফিকুল ইসলাম শফিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ২৫ জন শ্রমিক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

বিস্তারিত»
যুক্তরাজ্য বিএনপির নবগঠিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল

নবগঠিত যুক্তরাজ্য বিএনপির কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে সিলেট বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শাখা। আজ রবিবার বিকালে নগরির বন্দরবাজার লিডিং ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রদল নেতা দেলোয়ার হোসেন আপন এর নেতৃত্বে নবগঠিত যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জনাব সায়েস্তা চৌধুরী কুদদুছ, সভাপতি জনাব এম. এ মালেক ও তৃণমূল থেকে উঠে আসা 90 এর সৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সাবেক তুখোড় ছাত্র নেতা , যুক্তরাজ্য বিএনপির সর্বকালের সফল সাধারণ সম্পাদক জনাব কয়ছর এম আহমেদ কে শুভেচ্ছা জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সিলেট শাখা। এসময় উপস্থিত ছিলেন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা আদনান হোসেন শিমুল, তানিন মাসুদ শিমুল, মামুন হোসাইন, আলেক হোসাইন, রুবেল আহমদ, সৈয়দ আব্দুর রহমান তামিম, বেলাল আহমদ খান, সাইদুর রহমান, বাবলা দেব বিমল, ফয়জুল করিম ফয়জুল, সুমন আহমদ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাসুম আহমদ, অংকিত শুভ, হেলাল আহমদ, সানি আহমদ, আক্তার আহমদ, ফয়েজ আহমদ, কাসেম আহমদ, রুকসান আহমদ, পারভেজ আহমদ নান্টু, নজরুল আহমদ, হোসেন আহমদ, সৈয়দ শামীম, ফরিদ আহমদ, জহির আহমদ, ফাহিম আহমেদ, আনহার আহমেদ, রনি আহমেদ, শাহ শফি আলম, রাসেল আহমদ, রাব্বি আহমদ, রিপন আহমদ, সুহেল আহমদ, নাহিদ আহমদ, মাসুদুর রহমান সাব্বির প্রমুখ।

বিস্তারিত»
নিরাপত্তা পেলে সোমবার আদালতে যাবেন খালেদা

ঢাকা: পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পেলে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় হাজিরা দিতে সোমবার আদালতে যাবেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। রোববার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মাহবুব এ কথা জানান।   বিএনপির চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। নিরাপত্তাজনিত কোনো সমস্যা না হলে তিনি অবশ্যই আদালতে হাজিরা দিতে যাবেন। ” জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি মামলায় সোমবার দিন ধার্যি রয়েছে। রাজধানীর বকশিবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে এই দুই মামলার বিচারকাজ চলছে। এই দুই মামলায় একাধিকবার ধার্যল তারিখে আদালতে হাজির না হওয়ায় ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ৫ এপ্রিল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাকে জামিন দেন।

বিস্তারিত»
ছাতকে বিজিবির অভিযানে ২শ’ ৮০বোতল ভারতীয় মদ আটক

ছাতক প্রতিনিধিঃ ছাতকে বিজিবি জোয়ানদের অভিযানে ২শ’৮০ বোতল ভারতীয় মদ আটক করা হয়েছে। শনিবার রাতে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নোয়াকোট সীমান্ত এলাকা থেকে এসব মদ আটক করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি নোয়াকোট ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার মুন্সি লাভলুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে নোয়াকোট সীমান্ত এলাকা থেকে ২শ’ ৮০বোতল ভারতীয় অফিসার্স চয়েজ মদ আটক করা হয়। বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্তের ওপার থেকে চোরাচালানীরা মদ নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে বিজিবি’র অবস্থান টের পেয়ে সীমান্ত এলাকায় মদ ফেলে পালিয়ে যায়। আটককৃত মদের বাজার মূল্য ৪লক্ষাধিক টাকা বলে বিজিবি সূত্র জানায়।  মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরে আটককৃত মদ জমা দেয়া হবে বলে বিজিবির নায়েক সুবেদার মুন্সি লাভলুর রহমান জানিয়েছেন।

বিস্তারিত»
চট্টগ্রাম-হাটহাজারী মহাসড়কের শেরে বাংলা(রঃ) পার্শ্বে ব্রিজটি ঝুকিপুর্ণ : বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা

মোহাম্মদ হোসেন,হাটহাজারী,চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়কের পৌরসভাস্থল শেরে বাংলা (রঃ) মাজার সংলগ্ন ব্রিজটি ঝুকিপুর্ণ জীবন বাজি রেখে যানবাহন চলাচল করতে হয়। দীর্ঘ দিন ধরে ব্রিজটি ঝুকিপুর্ণ দেখা দিলেও এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেই সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের। চট্টগ্রামের সাথে উত্তর চট্টগ্রামের পার্বত্য চট্টগ্রামসহ ২২টি সড়ক ও মহাসড়কের যাতায়াতের এক মাত্র মাধ্যম চট্টগ্রাম-হাটহাজারী মহাসড়ক। অচিরেই ব্রিজটি নতুন ভাবে সংস্কার করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আশংকা দেখা দিয়েছে।  দ্রুত ব্রিজটি সংস্কারের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্থক্ষেপ কামনা করেন উত্তর চট্টগ্রামের জনসাধারণ।

বিস্তারিত»
অসুস্থ সাবেক এমপি আব্দুল মজিদকে সঙ্গ দিলেন নাছির চৌধুরী

একে কুদরত পাশা, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: ছাতক-দোয়াবাজার আসনের সাবেক এমপি অসুস্থ এ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদকে সঙ্গ দিলেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী। রবিবার সন্ধ্যায় তিনি এ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদের উকিলপাড়াস্থ বাসভবনে যান। এসময় দু’নেতা এক সাথে কিছু সময় কাঠান। এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। নাছির চৌধুরী তার স্বাস্থ্যেও খোজ খবর নেন এবং রোগ মুক্তি কামনা করেন। এসময় নাছির চৌধুরীর সাথে ছিলেন দিরাই উপজেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক একে কুদরত পাশা, দিরাই পৌর বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মকসদ মিয়া।

বিস্তারিত»
লাঙ্গলবন্দ তীর্থ স্থান  উন্নয়নে ৩৫০ কোটি  টাকার প্রস্তাবনা

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : সনাতন ধর্মালম্বীদের তীর্থ স্থান নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলাধীন লাঙ্গলবন্দকে পুর্ণাঙ্গ তীর্থ স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। রবিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসক মো: আনিছুর রহমান মিঞার সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভায় এর প্রস্তাবনা করা হয়। লাঙ্গলবন্দের ৩ কি:মি: এলাকার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নিকট ৩৫০ কোটি টাকার প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব একেএম সেলিম ওসমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: গাউছুল আজম, (রাজস্ব) ছিদ্দিকুর রহমান, লাঙ্গলবন্দ স্নান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক পরিতোষ কান্তি সাহা, সদস্য সচিব বাসুদেব চক্রবর্তী, জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি শংকর সাহা, মহানগর পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি শিপন সরকার, বাংলাদেশ ইয়ার্ণ মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহা, রিপন ভাওয়াল প্রমূখ। লাঙ্গলবন্দের উন্নয়নে জেলা প্রশাসক সকলের কাছে প্রস্তাবনা করেন, লাঙ্গলবন্দে আসা সকল অতিথিদের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উত্তর পাশে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। লাঙ্গলবন্দে যাওয়ার জন্য দক্ষিন পাশে আরো একটি নতুন সড়ক নির্মান, ঘাটের পাশে বিদেশী অতিথিদের জন্য থাকার সু-ব্যবস্থা, অন্নপূর্ণা মন্দিরের পাশে মরহুম নাসিম ওসমান ঘাট ও যাত্রী ছাউনী স্থাপন এবং রাজঘাট থেকে বেইলী ব্রীজ পর্যন্ত জায়গা নিয়ে ৫শ’ ফুটের একটি ঘাট নির্মানসহ আরো অন্যান্য সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে।লাঙ্গলবন্দ তীর্থ স্থান উন্নয়নে ৩৫০ কোটি টাকার প্রস্তাবনা তার এসকল প্রস্তাবনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত সকলেই সম্মতি প্রকাশ করেন। সেখানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, লাঙ্গলবন্দে বর্তমানে অনেকেই নতুন মন্দির তৈরী করে চাঁদাবাজি শুরু করেছে। সেই সকল চাঁদাবাজদের উচ্ছেদ এবং মন্দির গুলো সাময়িক ভাবে উচ্ছেদের দাবী জানান। আর সেখানে অবৈধ ভাবে অবস্থিত ৯১টি দোকান উন্নয়ন কাজের পূর্বে উচ্ছেদ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। লাঙ্গলবন্দ তীর্থ স্থান উন্নয়নে ৩৫০ কোটি টাকার প্রস্তাবনা তাদের এসকল দাবীর প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বলেন, সোমবার লাঙ্গলবন্দ ও পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্যরা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করবেন। পরে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে উন্নয়ন কাজ শুরুর দিন জানানো হবে। যেসকল মন্দির দিয়ে চাঁদাবাজি করা হয়, যারা চাঁদাবাজি করেন তাদের সহ লাঙ্গলবন্দের আশপাশের বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করা হবে।

বিস্তারিত»
সজিব ওয়াজেদ জয় ও মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী  এমপি সম্পর্কে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন

জাহাঙ্গীর আলম মুসিক: দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালাবাজার স্কুল ও কলেজের উদ্যোগে ২৪মে সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কে অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল কর্তৃক বিরূপ মন্তব্য ও সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী সম্পর্কে কটুক্তির প্রতিবাদে এক মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়। মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- কলেজের অধ্যক্ষ আইউবের রহমান, গভর্নিং বডির সদস্য ওয়ারিছ আলী, আশিক আলী, জহির আলী, শিক্ষক আব্দুল মালিক, বেলাল উদ্দিন, মতিউর রহমান, গীতা বৌদ্ধ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল আলম, প্রবীন মুরুব্বী আব্দুল ওহাব খোকা খান, ব্যবসায়ী রাজ্জাক হোসেন, শাহ ছমির উদ্দিন, বুলবুল আহমদ, এডভোকেট মুহিদ হোসেন, আফতাব আলী, আব্দুর বারি, আলম রেজা, ইসহাক আলী, কামাল আহমদ চৌধুরী, ওমর চন্দ্র নাথ, জামাল আহমদ, নিজাম উদ্দিন, জয়ন্ত গোস্বামী, সুবেল আহমদ, মাহবুব আহমদ, মাজেদ আহমদ, সুবেলুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।

বিস্তারিত»
এবার কি লক্ষ্য পূরণ হবে?

আবারো বসছে জলবায়ু সম্মেলন৷ এবারের স্থান প্যারিস৷ দেখার বিষয় এবারের সম্মেলনে কার্বন গ্যাস নিঃসরণ কমাতে বিশ্ব নেতারা কোন চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেন কিনা৷ নভেম্বরের শেষে প্যারিসে শুরু হবে জলবায়ু সম্মেলন৷ জলবায়ু পরিবর্তন রোধে পদক্ষেপ নিতে বেশ দেরি করে ফেলছেন বিশ্ব নেতারা৷ তাই এবার চাপ থাকবে এ বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়টি নিয়ে৷ বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমানোর ব্যাপারে তারা যাতে একমত হতে পারেন সে চেষ্টাই করা হবে৷ মার্চে বিশ্বে প্রতি মাসে গড়ে কার্বন নিঃসরণ হয়েছে প্রতি মিলিয়নে...৷ বিশ্বের ইতিহাসে এটাই সর্বোচ্চ৷ এর আগে এমনটা দেখা যায়নি৷ কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর ফলে যে কার্বন নিঃসরণ হয় সেটা বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে৷ জুনে জার্মানির বৈঠক জার্মানির বন শহরে জাতিসংঘের ক্লাইমেট সেক্রেটারিয়েট ইউএনএফসিসিসি প্যারিস বৈঠকে কোন কোন বিষয় গুরুত্ব পাবে তা নিয়ে কাজ করছে৷ সরকারের প্রতিনিধিদের সাথে এ বিষয় নিয়ে তারা আলোচনায় বসবেন জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে৷ অন্যদিকে, চলতি সপ্তাহে বার্লিনে পিটার্সবার্গ ক্লাইমেট ডায়ালগের উদ্বোধনী আলোচকের ভূমিকায় ছিলেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে প্যারিসে শুরু হয়েছে প্যারিস আলোচনার আর দুইশ দিন' উদযাপন৷ এখানে বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন৷ ডি-কার্বোনাইজেশন: দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য এক যৌথ বিবৃতি ম্যার্কেল ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া ওলঁদ বলেছেন, জাতিসংঘের অন্যান্য সদস্য দেশগুলো কার্বন নিঃসরণ কমানোর ব্যাপারে একমত হবে৷ এর অর্থ হলো এই দেশগুলো তেল, গ্যাস ও কয়লা পোড়ানো থেকে পিছু হঠবে৷ তিনি কোল লেভি-র প্রতি সমর্থন জানান৷ বলেন, এটি জার্মানির সফট-কোল-বার্নিং চুল্লি৷ তবে তিনি এও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন রোধে লক্ষ্য পূরণে লেভি মেকানিজম অন্যতম পন্থা হতে পারে৷ ওয়ার্ল্ড রিসোর্স ইনস্টিটিউটের ক্লাইমেট পোগ্রামের গ্লোবাল ডিরেক্টর জেনিফার মর্গান ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘বিশ্বের বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানই এই লক্ষ্য পূরণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন৷'' তিনি এও বলেন, ‘‘দেশগুলোর প্রতিনিধিদের অঙ্গীকার এবং করণীয়-এই দুটো বিষয়ের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে৷ প্যারিসে এই ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করা হবে৷'' ইতিবাচক পদক্ষেপ চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম৷ ২০২৫ সাল থেকে তারা কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কাজ করবে৷ গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশগুলোর মধ্যে ভারত সবচেয়ে এগিয়ে আছে৷ সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পর ধনী দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন৷ বিকল্প নেই ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রী লোরঁ ফাবিউস প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনের সভাপতিত্ব করবেন৷ তিনি বলেছেন, ‘‘বার্লিনের পিটার্সবার্গ আলোচনায় অনেক দেশই ডি-কার্বোনাইজেশনের ব্যাপারে একমত হয়েছে৷ প্যারিস সম্মেলনে মূল বিষয় হবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমানোর বিষয়টিতে সবচেয়ে জোর দেয়া হবে৷''- ডিডব্লিউ।  

বিস্তারিত»
মানব পাচার অভিবাসন খাতে দুর্নীতি দায়ী: টিআইবি

ঢাকা: অবৈধ পথে মানব পাচারের ঘটনায় হাজার হাজার বাংলাদেশীর জীবন বিপন্ন হওয়ার সংবাদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, এ দুরবস্থার জন্য অভিবাসন খাতে সুশাসনের ঘাটতি, যোগসাজশের দুর্নীতি ও আইন প্রয়োগের দুর্বলতা দায়ী। রোববার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ কথা বলেন।   বিবৃতিতে অভিবাসীদের এই দুর্দশার জন্য দায়ী চক্রকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, “সম্প্রতি দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে সমুদ্রে মানব পাচারের ওপর ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে এটি সুস্পষ্ট যে, অভিবাসন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সুশাসনের ঘাটতি, আইন প্রয়োগে দুর্বলতা, পাচারকারীদের পাশাপাশি একশ্রেণীর ক্ষমতাবান ব্যক্তি, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যোগসাজশের দুর্নীতির ফলে অভিবাসনে ইচ্ছুক বাংলাদেশের নাগরিকরা এরূপ নির্মম মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে।” ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কর্মসংস্থান প্রত্যাশী সরল, দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে প্রতারিত করে জীবনের ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেয়ার এসব ঘটনায় আরো একবার প্রতীয়মান হলো যে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিশ্চিতে ব্যর্থতা শুধু আর্থ-সামাজিক ক্ষতিই করে না, বরং মানুষের জীবন বিপন্ন করে; দুর্নীতি নিরপরাধ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে।” বিবৃতিতে টিআইবির ২০১২ সালের জাতীয় খানা জরিপের অভিবাসন খাতের তথ্য তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়, ১৪টি সেবা খাতের মধ্যে শ্রম অভিবাসন খাতে দুর্নীতির শিকার হওয়ার মাত্রা ছিল সর্বাধিক। উক্ত জরিপ অনুযায়ী শ্রম অভিবাসন খাতে নিয়মবহির্ভূত অর্থ দেয়ার হার ছিল ৭৭% এবং নিয়মবহির্ভূত অর্থের গড় পরিমাণ ছিল প্রায় দুই লাখ টাকা। বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়, প্রতিবেদনের তথ্য ও সুপারিশমালা ব্যাপকভাবে আলোচিত হলেও  সংশ্লিষ্ট মহল দুর্নীতি প্রতিরোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।   ড. জামান বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিজিবি সতর্ক ও দায়িত্বশীল হলে এত বড় মানবিক বিপর্যয় এড়ানো যেত। তিনি বলেন, অবৈধ পাচারকারী অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃতদের ক্রসফায়ারের শিকার হওয়া সমস্যার সমাধান হওয়া দূরে থাকুক, বাস্তবে প্রকৃত অপরাধী, বিশেষ করে ক্ষমতাধর কুচক্রী মহলকে সুরক্ষা প্রদানের সমতুল্য কি না এমন প্রশ্ন উত্থাপন হওয়াই যৌক্তিক। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে  না পারলে সমস্যার মূলোৎপাটন অসম্ভব।   বর্তমানে সাগরে ভাসমান সব বাংলাদেশীকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে উচ্চপর্যায়ের একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ড. ইফতেখার। তিনি মনে করেন, জাতিসংঘ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইন সরকারের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মানব পাচারের শিকার বাংলাদেশী নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে  কূটনৈতিক দক্ষতা ও কার্যকরতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট খাতে বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

বিস্তারিত»

সাক্ষাৎকার

আমরা সরকারের নানাধরণের অপকৌশল এবং যড়যন্ত্র থেকে এবার একটু বেশিমাত্রায় সতর্ক

বিএনপির রাজপথের আন্দোলনে সরকার সব সময় সাবোটাজ করেছে। সরকার তাদের এজেন্টদের দিয়ে মানুষের জীবনহানি ঘটিয়ে দায় চাপিয়েছে বিএনপির ওপর। ফলে খুবই ভেবেচিন্তে আমরা ভবিষ্যৎ আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ করব।   একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির সহেযোগী সংগঠন যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।   বিশিষ্ট এই রাজনীতিক বলেন, দেখুন আন্দোলন আমরা করবোই। তবে আন্দোলন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মাত্রিক হতে পারে। সেটা নির্ভর করছে আমাদের অভ্যন্তরিণ কৌশলের ওপর। আমরা সরকারের নানাধরণের অপকৌশল এবং যড়যন্ত্র থেকে এবার একটু বেশিমাত্রায় সতর্ক।   পুরো সাক্ষাৎকারটি উপস্থাপন করা হলো। আর সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন গাজী আবদুর রশীদ।   প্রশ্ন: সিটি নির্বাচনে কারচুপি ও চরম অনিয়মের অভিযোগ এনে বিএনপি ভোট বর্জনের ঘোষণা দিলেও হরতাল-অবরোধ কিংবা বড় কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে নি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসছে- কেন তারা এমন অবস্থান নিয়েছে? এ মুহূর্তে বিএনপির রাজনৈতিক ও আন্দোলনের কৌশলটা কি?   মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: দেখুন অতীতে এবং বর্তমানে বিএনপি যখনই রাজপথে আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়েছে তখনই সরকার তারমধ্যে সাবোটাজ করেছে। আন্দোলনের মধ্যে সরকার তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে মানুষের জীবনহানি এবং ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়ে তার দায়ভার বিএনপি এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের ওপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। আপনারা জানেন যে সারা পৃথিবীর গণমাধ্যমের সঙ্গে যারা জড়িত এবং সচেতনার কাজে লিপ্ত রয়েছেন তারা খুব স্পষ্ট করে বলেছেন যে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের কোনো স্বাধীনতা নেই।   আর গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ ক'রে এই অপকর্মের দায় বিএনপির ওপর চাপানোর সবরকম প্রক্রিয়া তারা করেছে। আর সে কারণে রাজপথের আন্দোলনের ব্যাপারে আমরা খুব সতর্ক। আমরা সাবধানতা অবলম্বন করছি এই কারণে যে সরকার যেভাবে স্বৈরাচারি মনোভাব নিয়ে সবকিছুকে  নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছে তাতে আবার যেকোনো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি একইভাবে সরকার তাদের এজেন্টদের দ্বারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আমাদের ওপর দায় চাপানো হবে। ফলে খুবই ভেবেচিন্তে আমাদের ভবিষ্যত কর্মসূচি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।   প্রশ্ন: সিটি নির্বাচনে অনিয়মের ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে মার্কিন সরকারের একটা বাগযুদ্ধ দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে উস্কানি দেয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছেন। বিষয়টি কতদূর গড়াতে পারে বলে মনে হয়?   মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: দেখুন আসলে এ বিষয়ে কি গড়াবে! কারণ হচ্ছে কেউ যদি খুব বেশি মাত্রায় উত্তেজিত হয়ে যায় কিম্বা বর্তমানে সারা বিশ্ব যে গ্লোবাল ভিলেজ; সেই গ্লোবাল ভিলেজের বাইরে কেউ যদি মনে করেন যে তিনি একাই সবকিছু, আর কারো কোনো প্রয়োজন নেই আসলে সেটা তার নিজস্ব বোধবুদ্ধি বা বিবেচনার ব্যাপার।   এরআগেও আপনারা জানেন এলজিআরডিমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ সাহেব নিশা দেশাই বিসওয়ালকে দুই আনার মন্ত্রী বলেছিলেন। তাছাড়া তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন তার কাজের মেয়র নামও মর্জিনা। তো এ ধরণের অশ্লীল, অপ্রয়োজনীয় এবং নিন্দনীয় কথাবার্তা তারা এর আগে বলেছেন।আর এক্ষেত্রে যাদের সম্মান আছে তারা চুপ করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র এখন সারা বিশ্বে সবচেয়ে বড় মাতব্বর। সে মাতব্বর যখন চুপ করে থাকে তখন বুঝতে হবে যে যিনি বলেছেন তিনি লজ্জা না পেলেও তারা হয়ত লজ্জা পেয়েছে। এ ব্যাপারে এর বাইরে আর কি বলার আছে বলুন।   প্রশ্ন: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গাড়িতে পেট্রোল বোমা হামলা ও যাত্রী হত্যা মামলায় চার্জশিট দেয়া হয়েছে। বিষয়টি কিভাবে দেখছেন? এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে কি বিএনপি আবার আন্দোলনে ফিরতে পারে?   মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল:  দেখুন আন্দোলন আমরা করবোই। তবে আন্দোলন কর্মসূচির প্রকারভদে থাকতে পারে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মাত্রিক হতে পারে । সেটা নির্ভর করছে আমাদের অভ্যন্তরিণ কৌশলের ওপর। আমি যেকথা আমার আলোচনার শুরুতেই আপনাকে বলেছি যে সরকারের নানাধরণের অপকৌশল এবং যড়যন্ত্র থেকে আমরা এবার একটু বেশিমাত্রায় সতর্ক। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে  যে মামলা দেয়া হয়েছে এ বিষয়টি মায়ের কোলে অবুঝ শিশুটিও যদি বুঝতে পারত তাহলে সেও একটা বিদ্রুপের হাসি দিত। বেগম খালেদা জিয়া গাড়িতে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যার নির্দেশনা দিয়েছেন! মানুষের রুচি কত খারাপ হলে এবং জঘন্য মনোবৃত্তি থাকলে এ ধরণের মামলা দেয়া যায় তার আরেকটি নিকৃষ্ট উদাহরণ এই সরকারের পক্ষ থেকে রাখা হয়েছে। পরশু দিন প্রধানমন্ত্রী কথা বলেছেন তার একদিন পরই চার্জশিট দেয়া হয়েছে। তাছাড়া একটি ঘটনার ওপর দুটি মামলায় চার্জশিট দেয়া হয়েছে।      প্রশ্ন: বহু প্রতীক্ষিত ভারত-বাংলাদেশ স্থল সীমান্ত বিল পাস হলো ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায়। নিঃসন্দেহে এটা বাংলাদেশের বর্তমানে সরকারের জন্য একটা বড় সাফল্যা। বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন আপনি?   মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: দেখুন স্থলসীমান্ত চুক্তির বিষয়টিকে আমরা খুবই আশাবাদী হিসেবে দেখতে চাই।বহু যুগধরে দুদেশের কষ্টক্লিষ্ট বহুমানের মুক্তির পথ হিসেবেই দেখতে চাই।   কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে এর আগে ভারতের বহু কর্মকাণ্ডের যে উদাহরণ রয়েছে তাতে মানুষের আশা অনেক সময় আশঙ্কায় পরিণত হয়। কারণ ফারাক্কা বাঁধের কথা আমরা জানি যে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ৪০ দিনের জন্য চালু করা হয়েছিল। তারপর ৪৩ বছর যাবত সেই পরীক্ষামূলকভাবেই তা চলছে এখনও। তারপর আপনারা সীমান্তের বিষয়টি লক্ষ্য করুন-বর্তমান শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বারবার ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সীমান্তে মেথাল উইপেন ব্যবহার করবে, কোনো ফায়ার উইপেন ব্যবহার করবে না। কিন্তু আমরা দেখছি প্রতিদিন গড়ে ১ জন করে বাংলাদেশি সীমান্তে খুন হচ্ছে বিএসএফের গুলিতে।   আমি দু একটা ছোটোখাটো উদাহরণ আপনাকে দিলাম ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্কের এবং তাদের  কথা রাখার ব্যাপারে। তো আসলে এসবের মধ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে তারা আসলে বড়ভাই সুলভ সম্পর্কটাই রাখতে চায়। সমতার ভিত্তিতে যে একটা প্রতিবেশীসুলভ আচরণ সে ব্যাপারে অনেক সময় পদক্ষেপ নেয়া হলেও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিপরীত চিত্রই আমরা সবসময় দেখতে পাই। আগেও দেখেছি বর্তমানেও সেই একই চিত্র। আর সেই জায়গাটাই আমাদের আশঙ্কা।   স্থল সীমান্ত চুক্তি হওয়ায় আমি ব্যক্তিগতভাবে খুশি এবং বাংলাদেশের সব মানুষই নিঃসন্দেহে খুশি।   প্রশ্ন: স্থলসীমান্ত চুক্তির পর কি আপনার মনে হয় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে যেসব সমস্যা ছিল তা সমাধান হয়ে যাবে? বিশেষ করে বাংলাদেশ তার ভূমি ফেরত পাবে এবং সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে...।    মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: জ্বি স্থল সীমান্তচুক্তির পর বাংলাদেশ ভারত সীমান্তের সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে সে ব্যাপারে আমি সন্দিহান। অতীত অভিজ্ঞতাই আমাদেরকে   সন্দিহান করে। নিকট অতীত এবং দূর অতীতের সব অভিজ্ঞতা থেকে এটা প্রমাণিত। আর সে কারণেই আমি সন্দিহান। তবে যদি ভারতের বর্তমান মোদি সরকার নতুন করে কিছু দেখাতে পারে, প্রাথমিকভাবে আমরা যদি দুচারটে উদাহরণ দেখি তাহলে হয়তো এই সন্দেহ দূর হয়ে যাবে এবং আমরা তখন আশায় বুক বাঁধব।  

বিস্তারিত»

বিশেষ কলাম

প্রসঙ্গ সালাহউদ্দিন : নিখোঁজ হওয়াদের ঠিকানা ভারত কেন

আবদুল আউয়াল ঠাকুর:ভালো খবর। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব, সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে জীবত পাওয়া গেছে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন বাংলাদেশ থেকে- পাওয়া গেল ভারতে। কোনো পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়া কপর্দকহীন অবস্থায় তিনি পৌঁছে গেলেন ভারতে। বাস্তবতা হলো, তিনি কিভাবে সেখানে পৌঁছেছেন তা যেমন তিনি বলতে পারছেন না, তেমনি দেশের কোনো কর্তৃপক্ষ বা ভারতীয় কর্তৃপক্ষও বলছে না। ব্যাপারটি যদি কেবল তার ক্ষেত্রেই হতো তাহলে না হয় এক কথা ছিল, কিন্তু গত কিছুদিনে এ ধরনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে যা জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিবেচনায় গভীরভাবে ভাববার বিষয়। ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর মধ্যে সালাহউদ্দিনের ঘটনার সামান্য ব্যতিক্রম হচ্ছে, এ নিয়ে ভারতীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। অবশ্যই দেখবার রয়েছে, এক দেশের মানুষ অন্য দেশে এভাবে কেমন করে পৌঁছে যাচ্ছে। উলফার সভাপতি রাজখোয়াকে ধরা হয়েছিল ঢাকায়। তাকে পাওয়া গেল ভারতের আদালতে। তিনি সেখানে দেয়া জবানবন্দিতেই এ কথা স্বীকার করেছেন। কোনো বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাকে হস্তান্তর করা হয়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে হারিয়ে গিয়েছিলেন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী সুখরঞ্জন বালী। তাকেও পাওয়া গিয়েছিল ভারতে। তার জবানবন্দিভিত্তিক যে প্রতিবেদন প্রকাশিত তাতে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন তার ভারতে আসা নিয়ে। তার ভাষায়, তিনি হঠাৎ করেই আবিষ্কার করলেন যে তিনি ভারতে। বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে সবাই যখন খুঁজছে তখন তাকে ভারতীয় পুলিশ গ্রেফতার করে সেখানকার একটি প্রমোদ কেন্দ্র থেকে। তিনি কীভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন এ বিষয়টি না আমাদের সীমান্তরক্ষী, না ভারতীয় সীমান্তরক্ষী কিছু বলতে  পেরেছে। বাস্তবতা হলো, এ তিনি আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হন্যে হয়ে খোঁজার সময়ই ভারতে পৌঁছেছিলেন। উল্লেখিত প্রতিটি ঘটনার প্রকৃতি আলাদা হলেও মিল হচ্ছে সীমান্ত অতিক্রমণে। সাধারণভাবে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের অবস্থা এ রকম যে, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে বারবার বৈঠক করেও সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা যায়নি। ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা বাংলাদেশীদের দেখামাত্র গুলি করে। নাবালক শিশুরা নো ম্যানস ল্যান্ডে গেলেও নির্বিচার হত্যার শিকার হয়। এর কোনো বিচার পাওয়া যাচ্ছে না। সেরকম বাস্তবতায় আলোচিত ব্যক্তিরা কীভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছেন এবং এ ব্যাপারে ভারতীয়রা কিছু বলছে না বা জানে না  কেন,সেটা সত্যিই বিস্ময়কর। সীমান্ত অতিক্রমণের বিষয়টি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখলে বলতে হবে, ’৭০-এর নির্বাচনের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তীব্র উত্তেজনাকর রূপ ধারণ করেছিল তার এক পর্যায়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে সাহায্যের অঙ্গীকার করেছিল। তার বাস্তবায়ন দেখা গেল ২৫ মার্চের ক্র্যাকডাউনের পর। দলে দলে লোক যখন সীমান্ত অতিক্রম করছিল তখন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বাধা প্রদানের পরিবর্তে স্বাগত জানিয়েছিল। এবারে যে কটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, তার প্রতিটির প্রকৃতি আলাদা হলেও সীমান্ত অতিক্রমণের যে বিষয়টি এখানে রয়েছে সেক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে, ঘটনাগুলোর সময়ে সীমান্তপ্রহরা সরিয়ে নেয়া বা না দেখার নির্দেশ কি ভারতীয়দের পক্ষ থেকে নাকি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে? যে বা যারাই এর সাথে যুক্ত থাকুক না কেন এখানে সম্পর্কের বিষয়কে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। সীমান্তে সাধারণ বাংলাদেশীদের রক্ষা করা যাচ্ছে না, ফেলানী হত্যার বিচার পাওয়া যাচ্ছে না অথচ বিনা বাধায় সীমান্ত অতিক্রমণের ঘটনা ঘটছে বা ঘটতে পারছে, এর রহস্য কোথায়? প্রসঙ্গ আরো রয়েছে। বহুল আলোচিত গুম প্রক্রিয়া থেকে যারা বেঁচে এসেছেন বা রয়েছেন তাদের যে কটি কেসের যতটুকু বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে তার প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি বিশেষ সময় ও দূরত্বের প্রসঙ্গ রয়েছে। বেশ কিছুদিন আগে একজন পরিবহন শ্রমিকনেতা হঠাৎ করে হাওয়া হয়ে গেলে পরিবহন শ্রমিকরা যে যেখানে ছিল সেখানেই দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহৃত হলে এ নেতাকে রাজধানীর একটি থানায় পাওয়া গিয়েছিল। তার ফিরে আসার বিবরণী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ঠিক কোথায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তা তিনি বলতে পারেননা। তার ধারণা, সীমান্তের কাছাকাছি কোথাও হবে। সেখানে তার মতো আরো অনেকে রয়েছে বলেও তার মনে হয়েছে। দীর্ঘপথ পরিক্রমণে একের পর এক গাড়ি বদল করে অবশেষে তাকে রাজধানীতে প্রবেশের পর চোখ খুলে দেয়া হয়। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক সাবেক ছাত্র নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার গ্রেফতারের পরবর্তী ২১ ঘণ্টা তিনি কোথায় ছিলেন, তার কোনো বিবরণ পাওয়া যায়নি। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ ৬১ দিন কোথায় ছিলেন তারও কোনো বিবরণ পাওয়া যায়নি। সীমান্ত অতিক্রমণের ঘটনা এবং মুক্তিপ্রাপ্ত পরিবহন শ্রমিকের বক্তব্যের সাথে সালাহউদ্দিনের ঘটনার মিল থেকে অনুমান অসম্ভব নয় যে, হতে পারে তিনিও হয়তো সীমান্তের কাছাকাছি কোথাও ছিলেন। তাহলে কি এমন কোনো ক্যাম্প কোথাও রয়েছে যা হারিয়ে যাওয়াদের ঠিকানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। হলে এটা নিয়ন্ত্রণ করে কারা? সম্প্রতি থাইল্যান্ডের গহীন জঙ্গলে আবিষ্কৃত হয়েছে অনেক বাংলাদেশীর লাশ। তারাও একরকম হারিয়ে যাওয়া মানুষ। উন্নত জীবনের খোঁজে বা যে কোনো কারণেই হোক তারা যে ঘর থেকে বেরিয়েছিল তা অনেকেরই জানা ছিল না। যখন তাদের খোঁজ পাওয়া গেল তখন তাদের কেউ সমুদ্রে ভাসমান, কেউ মৃত্যুর অপেক্ষায় অথবা মানবেতর বাস্তবতায় রয়েছে। হারিয়ে যাওয়াদের নিয়ে গোটা দেশে যে উদ্বিগ্নতা তা নিরসনে কার্যত কেউই কাজ করছে না বরং হারিয়ে যাওয়ার অনুকূলেই ভূমিকা রাখছে। কিন্তু কেন?রাজখোয়ার ভারত প্রত্যাবর্তনের সাথে এক ধরনের আপস আলোচনা রয়েছে। মনে করা হয় উলফার যারা আপস করেছে সে অংশে তিনিও রয়েছেন। সুতরাং তার আনঅফিশিয়ালি দেশে অর্থাৎ ভারত ফিরে যাওয়াকে হয়তো দুদেশের বিশেষ সম্পর্কের দৃষ্টি মেনে নিলেও নেয়া যেতে পারে। সুখরঞ্জন বালীতো ভারতীয় নাগরিক নন। তিনি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ছিলেন। তার ‘অপরাধ’ তিনি শেখানো বুলি বলতে অস্বীকার করেন। এর সাথে কোথায় কার সম্পর্ক বোঝা দায়। কেনই বা ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিনা প্রশ্নে তাকে গ্রহণ করল, তারও কোনো বিবরণ কোথাও নেই। সাধারণভাবে আপসে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে অবৈধ অভিবাসীদের এক ধরনের কৌশলের কথা প্রবীণদের কাছ থেকে শুনেছিলাম। প্রবীণ সাংবাদিক মরহুম গিয়াস কামাল চৌধুরী একবার মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে সেখানকার কারাগারে থাকা বাংলাদেশীদের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, আসলে এ লোকগুলো এক ধরনের সুবিধা গ্রহণ করছে। ওইসব দেশের কারাগারগুলো অমানবিক আচরণ করে না বিধায় যারা অবৈধ হয়েছে বা ঐদেশে থাকতে চাচ্ছে না তার, অনেকটা স্বেচ্ছায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা দেয় যাতে বিনা খরচায় দেশে ফিরতে পারে। এরকম বাস্তবতা নাকি পাশ্চাত্যের অনেক দেশেও অনেকে গ্রহণ করে থাকে। রাজখোয়ার ব্যাপার যদি আপসের কোনো সূত্রে হয়ে থাকে তবে সে আলোচনা ভিন্ন। যে সব হারিয়ে যাওয়া বাংলাদেশীকে ভারতে পাওয়া গেছে তাদের ব্যাপার হালকা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। সালাহউদ্দিন কোথায় সে সম্পর্কে বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য দেয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই তাকে ভারতে পাওয়া গেল। এ প্রসঙ্গ নিয়ে সামাজিক গণমাধ্যমে নানা আলোচনা রয়েছে। সেদিকে চোখ না দিয়ে বাস্তবতার দিকে চোখ ফেরালে দেখা যায়, বাংলাদেশে গুম-হত্যা-অপহরণের সাথে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বরাবরই তাদের অভিযোগ পুনরুল্লেখ করে আসছে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলায় র‌্যাবের দায়িত্বশীলদের সম্পৃক্ততা এবং নূর হোসেনের পালিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে যেসব মৌলিক প্রশ্নের জন্ম হয়েছে এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্তোষজনক জবাব মেলেনি। এই বাস্তবতাতেই যুক্ত হলো সালাহউদ্দিন ইস্যু। হারিয়ে যাওয়াদের সাথে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে যেসব মৌলিক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে তার সমাধানেই এটা জানা জরুরি হয়ে পড়েছে, হারিয়ে যাওয়া বাংলাদেশীদের ঠিকানা ভারত কেন হচ্ছে?বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ হাওয়া হয়ে গিয়েছিলেন এক বিশেষ রাজনৈতিক বাস্তবতায়। সব দলের অংশগ্রহণভিত্তিক নির্বাচনের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য সরকার গঠনের দাবিতে বিএনপি তথা ২০ দল অনেকদিন থেকে আন্দোলন পরিচালনা করে আসছে। অগ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখকে ২০ দল কালো দিবস হিসেবে বিবেচনা করে এ দিবসে রাজধানী ঢাকায় একটি জনসভা করতে চাইলে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল তাতে অনুমতি প্রদান না করলে টানা ৯২ দিন বিরোধী দলের আন্দোলন পরিচালিত হয়। একের পর এক বিএনপির নেতা গ্রেফতার হলে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণার দায়িত্ব পড়ে সালাহউদ্দিনের ওপর। যেহেতু সরকারের ভাষায় ওই আন্দোলন রাজনৈতিক নয় বলে বিবেচিত ছিল তাই যিনি বা যারা অন্দোলনের ঘোষণা দিচ্ছিলেন তাকে বা তাদেরই খোঁজা হচ্ছিল। সে বাস্তবতাতেই সালাহউদ্দিন আহমেদ উত্তরা থেকে হাওয়া হয়ে যান। ঘটনার পরপরই তার স্ত্রী দাবি করেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে তুলে নিয়ে গেছে। শুরু থেকেই সংশ্লিষ্টরা এ দাবি অস্বীকার করে আসছে। সরকার সমর্থক কোনো কোনো মিডিয়া খানিকটা রঙ চড়িয়ে এক ধরনের রমরমা কাহিনীও লিখে ফেলেছে। বোঝা যায়, এসব কাহিনীর সরবরাহকারী কারা। সালাহউদ্দিন আহমেদের যেসব সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে তাতে তিনি বলেছেন, তাকে অপহরণ করার পর যেখানে তাকে রাখা হয়েছিল সেখানে একটি ফ্যান ছাড়া আর কিছুই ছিল না। রমরমা গল্পের সেই নায়িকা কোথায়? এটা নতুন কিছু নয়। কেউ গ্রেফতার হলে বা অনুপস্থিত থাকলে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই নানা প্রসঙ্গের অবতারণা করা হয়। মূল প্রসঙ্গ হচ্ছে, ছিলেন উত্তরায় পাওয়া গেল ভারতে। ছিলেন সরকারের সংশ্লিষ্ট বাহিনীর নজরদারিতে অথচ তারা বলছেন তারা কিছুই জানেন না। তাহলে কারা তাকে সরিয়ে নিয়ে গেল, এ কথা জানার সঙ্গত অধিকার জনগণের রয়েছে। শুধু সালাহউদ্দিন প্রসঙ্গ নয়। এ পর্যন্ত ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন। বিরোধী রাজনীতিকদের এই নিখোঁজ হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে অলাদা করে দেখার কোনো উপায় নেই। এই এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্য যদি একদলীয়করণ হয়ে থাকে তাহলে একে কেবল আইন-শৃঙ্খলাজনিত মনে না করে ভিন্ন আঙ্গিকেও দেখার অবকাশ রয়েছে। সম্প্রতি সরকারি দলের অনেকে সীমিত গণতন্ত্রের কথা বলছেন। সেই সাথে আন্তর্জাতিকভাবে নন্দিত কিছু নেতার নামও তারা উচ্চারণ করছেন। এ থেকে তারা যাই বোঝাতে চান না কেন, রাজনৈতিক বাস্তবতা হলো, এ ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশে এখন কোনো জাতীয় ঐক্য নেই। একবার জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ’৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়। দ্বিতীয়বার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ৭৫ সালের ৭ নভেম্বর। মুক্তিযুদ্ধের জাতীয় ঐক্য স্বাধীনতা পরবর্তী সরকার কোনো কাজে লাগাতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের ঐক্যের সূত্র ধরে তিন দলীয় জোট একদলে পরিণত হয়ে হয়েছিল বাকশাল। বহুদলীয় গণতন্ত্রকে কফিনবন্দি করা হয়েছিল। ৭ নভেম্বর যে ঐক্যের সূত্র ধরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন তার ভিত্তিতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। এর সুফল এখনও জাতি ভোগ করছে। জাতীয় ঐক্যের সূত্র ধরে জাতীয় পুনর্গঠনের প্রভাব দেখা বা জানার জন্য বহু দূরে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। পার্শ্ববর্তী ভারত থেকেই শিক্ষা নেয়া যায়। ’৪৭ পরবর্তী ভারত গণতন্ত্রে নয় বরং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল। সময়ের পরিক্রমায় এখন তারা তা তুলে দিয়ে সারা বিশ্বের সাথে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে চেষ্টা করছে। বিশ্ব প্রতিযোগিতায় নেমেছে। বাংলাদেশের বাস্তবতা হলো সরকার পরিবর্তনের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। শুধু জাতীয় নয়, স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন নিয়েও বিতর্কের কোনো কমতি নেই। সে বিবেচনায় ভারত ’৪৭ পরবর্তী ৫ বছরের মধ্যেই একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় প্রবেশ করে এবং তা এখন পর্যন্ত ধরে রেখেছে। ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভারতের জন্য যাই হোক, বাংলদেশের ব্যাপারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এক ও অভিন্ন নয়। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ভারতের সাবেক কংগ্রেস সরকার বাংলাদেশের গত অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে অনেকটাই প্রত্যক্ষ সমর্থন দিয়েছে। সরকার টিকিয়ে রাখতে সবকিছু করেছে। বাংলাদেশের সাথে স্থল সীমানা চুক্তি সম্পাদনের আগে বিজেপির যে ঘরোয়া বৈঠক হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার বিবেচনায় স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। ক্ষমতাসীন বিজেপির এই আলোচনার নানামাত্রিক ব্যাখ্যা হতে পারে। সবকিছু বাদ দিলেও এ কথা বলা যায়, ভারতের নিরাপত্তার বিষয়কে যদি বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ককে মিলিয়ে দেখতে হয় তাহলে একে আলাদা বা বিচ্ছিন্ন করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বরং এটি প্রতিটি বিষয়ের সাথে আন্তঃসম্পর্কিত। পানির ন্যায্য হিস্যা প্রাপ্তিসহ প্রতিবেশীর মধ্যকার সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সমতার ভিত্তিতে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক থাকতে হবে পরস্পারিক আস্থাভিত্তিক। ভারতের পশ্চাৎভূমি বানাবার বা কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রবণতা সুসম্পর্ক টিকিয়ে রাখার পদ্ধতি হতে পারে না। সরকার যে নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রের কথা বলছে তার অর্থ যদি হয় কেবল বিশেষ কারো স্বার্থরক্ষা তাহলে অবশ্যই তাতে জনগণের কোনো কল্যাণ নিহিত নেই। ওই ব্যবস্থা স্থায়ীকরণের জন্যই যদি বাংলাদেশে গুম-হত্যা অব্যাহত থেকে থাকে তাহলে তার দায় কোনো না কোনোভাবে ভারতের ওপরও পড়তে পারে। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের সূত্র ধরে যে জাতীয় তদন্তের কথা বিভিন্ন মহলে উঠেছে তাকে হালকা ভাবে না নিয়ে গোটা বিষয়কেই তদন্ত ও বিবেচনার আওতায় আনা জরুরি। awalthakur@gmail.com

বিস্তারিত»

এক্সক্লুসিভ

শ্রদ্ধাঞ্জলি : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়া!!

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট, স্বাধীন বাংলার রূপকার, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুধু একটি নাম নয়, তিনি একটি ইতিহাসও বটে। সেদিন বিভক্ত বাঙালী জাতি তার ডাকে এক কাতারে শামিল হয়ে দেশ গড়ার কাজে অংশ নিয়েছিল। তার কাছে ছিলনা কোন ভেদাভেদ। সকলের মাঝে সাম্যের রাজনৈতিক চিন্তাধারা প্রতিষ্টার জনক শহীদ জিয়া। এ কারণে তিনি মরেও অমর হয়ে আছেন। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক। তার ঘটনাবহুল কর্মময় জীবন বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন অলঙ্কৃত করে আছে। নানা কারণে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ে স্থান করে নিয়েছেন। তার সততা, নিষ্ঠা, গভীর দেশপ্রেম, পরিশ্রমপ্রিয়তা, নেতৃত্বের দৃঢ়তা প্রভৃতি গুণাবলি এ দেশের গণমানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করেছিল। তিনি ছিলেন একজন পেশাদার সৈনিক; তা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের কাছে তার যে গ্রহণযোগ্যতা ছিল অন্য কোনো রাষ্ট্রনায়কের ভাগ্যে তা জোটেনি। মাত্র ছয় বছর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন জিয়াউর রহমান। কিন্তু সাধারণ মানুষ তার ওপর ছিল প্রচণ্ড আস্থাশীল। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তার ওপর মানুষের এই আস্থায় কোনো চিড় ধরেনি। রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি সফল হয়েছিলেন। আবারও ফিরে এসেছে আমাদের জাতীয় জীবনের অত্যন্ত ব্যদনাদায়ক ও রক্তাক্তক্ষণ ৩০ মে। ১৯৮১ সালের জাতির এই শোকার্ত দিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মীরজাফর ও ঘাতকের নিষ্ঠুরছোবল এদেশের কোটি কোটি মানুষের আধুনিক স্বাধীন বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ স্থপতি মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে আমাদের কাছ থেকে চিরতরে কেড়ে নিয়ে যায়। স্বাধীন বাংলাদেশে জন্মের এই শ্রেষ্ঠ কাণ্ডারীর ৩৪ তম মৃত্যু বার্ষিকীর আজকের এই শোকার্ত দিবেসে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি এই মহান নেতাকে এবং তাঁর আত্মর মাগফেরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহর তা’আলা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন, আমিন। বাংলাদেশ নামক এই রাষ্ট্রটির সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার সাথে সুদীর্ঘ চার দশক ধরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ও তাঁদের উত্তরাধীকার নতুন প্রজন্মের সাহসী ঠিকানা তারেক রহমান প্রতিটি নামই এক একটি শব্দের শাব্দিক প্রতিচ্ছবি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান এই তিনটি নামের বিশেষায়িত রূপক আজকের বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষ এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। মেজর জিয়া থেকে রাষ্ট্রপতি , এই সময়ের তিনি নিজে একটি পরাধীন দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিলেন, স্বশস্ত্র যুদ্ধ করলেন, তাঁর ডাকে দেশের সর্বস্তরের মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেন। জেনারেল জিয়াউর রহমান সময়ের কঠিন বাস্তবতায় দেশের ক্ষমতা নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। তিনি নিজ থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করেননি। মূলতঃ রাজনৈতিক নেতৃত্বের শূণ্যতায় দেশের তৎকালীন আপামর জনসাধারণ তাঁকে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেছিলেন। রাজনীতি, সুসংহত গণতন্ত্র এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন তিনটিই একটি রাষ্ট্রের কাঠামোকে সুদৃঢ় করে। রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার মধ্য দিয়ে জনগণের মৌল মানবিক অধিকারগুলো সুনিশ্চিত হয়। সেই উপলব্দি থেকে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন দেশে আবার উদার রাজনৈতিক চর্চা ও সুসংহত গণতন্ত্রায়নের উদ্যোগ নেন। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মূলমন্ত্রে জাতিকে সুগঠিত করেন। প্রতিষ্ঠা করেন, মাটি ও মানুষের উন্নয়ন ও সুসংহত রাজনৈতিক দল বিএনপি। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মূলতন্ত্রে সমগ্র জাতিকে সুগঠিত করেন। বাংলাদেশের দুর্বল অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেন। দেশে আত্মনির্ভরশীল স্বাধীন অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। রাজনীতিকে স্থিতিশীল করেন। বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে সম্মানজনক আসনে অধিষ্ঠিত করেন। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। তাঁরই প্রচেষ্ঠায় বাংলাদেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আসন লাভ করতে সক্ষম হয়। স্বাধীনতার অতন্ত্র প্রহরী, গণতন্ত্রের সাধক অকৃত্রিম দেশ প্রেমিক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আজও দেশের ১৮ কোটি মানুষের অন্তরে বিশিষ্ট আসন লাভ করে আছেন। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে অর্জিত স্বাধীনতাকে সুসংগত এবং সুদৃঢ় করার জন্য ১৯৭৯ সালে সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিজে সামরিক বাহিনীর সদস্য হয়েও সামরিক বাহিনীর নিকট হতে জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস’ এটাই ছিল তাঁর রাজনৈতিক মূলমন্ত্র। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন হলো বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়।’ তৎকালীন সময়ে বাঙ্গালী জাতির দুর্বিসহ ক্রান্তিকালে জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়ের্ছিলেন।-দেশমাতৃকার স্বাধীনতা কায়েমের জন্য জীবনবাজি রেখে প্রকাশ্য স্বাধীনতার ঘোষণা করতে হবে। যুদ্ধকালীন সময়ে কথিত রাজনীতিবিদরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের ৭ কোটি জনগণেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ভয়াল থাবার মুখে ফেলে ভারতে আত্মগোপনে আশ্রীত হয় ঠিক সেই সময়ের রাজনৈতিক নেতৃৃত্বশূন্যতার গভীর সংকটে দেশ–তখনি মেজর জিয়া ধূমকেতুর মতো আবির্ভুত হয়ে নিজের জীবনের মৃত্যু ঝুঁকি জেনেও চট্টগ্রমের কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্রে যান। সেখানে তিনি নিজে স্বাধীনতা ঘোষণার এক বিৃবতি তৈরি করেন এবং রেডিওতে পাঠ করেন ………… প্রিয় দেশবাসী- “আমি মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রভিশনাল প্রেসিডেন্ট ও লিবারেশন আমি চিফ হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি এবং যুদ্ধে অংশ গ্রহণের জন্য আবেদন জানাচ্ছি। বাংলাদেশ এখন স্বাধীন। আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে নেমেিেছ। আপনারা যে যা পারেন সামর্থ অনুযায়ী অস্ত্র নিয়ে বেরিয়ে পড়–ন। আমাদেরকে যুদ্ধ করতে হবে এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে দেশ ছাড়া করতে হবে। গ্রেটবৃটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, সোবিয়েট ইউনিয়ন, চীনসহ বিশ্বের স্বাধীনতা প্রিয় দেশের উদ্দেশ্যে আমাদের আহ্বান আমাদের ন্যায় যুদ্ধের সমর্থন দিন এবং স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেন। …….. ইনশাআল্লাহ বিজয় আমাদের অবধারতি।” (সূত্র-অলি আহাদ জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫-৭৫, পৃষ্ঠা-৪০৯) এটাই ঐতিহাসিকভাবে স্বাধীনতার প্রথম প্রকাশ্য ঘোষণা। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের শিল্পপতি তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী এ.কে. খানের বিশেষ ভূমিকা পরবর্তীতে জিয়ার উক্ত মৌলিক ঘোষণায় শেখ মুজিবের পক্ষে কথাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সংযোজন করে প্রচার করা হয়েছিল। জাতির মহাসদ্ধিক্ষণে এই ঐতিহাসিক কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ ও সাহসী দায়িত্ব পালনের জন্য শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের ইতিহাসে চির স্মরণীয় হয়ে আছেন রাষ্ট্রপতি জিয়া। এছাড়াও নয় মাসব্যাপী আমাদের স্বশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের তিনি ছিলেন একজন মহান সংগঠক ও বীরযোদ্ধা। তাইতো তাঁকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ খেতাব ‘বীর উত্তম’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তিনিই স্বাধীনতার ঘোষক। মরহুম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের যেখানে ‘ইতি’ র্সেখানেই মেজর জিয়ার ‘শুরু’। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতারের পরমুহুর্তে মেজর জিয়ার দুঃসাহসিক আত্মপ্রকাশ। মেজর জিয়াই মরহুম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করে শেখ মুজিবকে ইতিহাসের মহানায়ক হওয়ার ক্ষেত্র টেকসই করে সম্প্রসারিত করেছেন। শুধু তাই নয়, বর্তমানের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জিয়াউর রহমানই পাশের দেশ-ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে এসে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। জিয়ার অবদানেই শেখ হাসিনা আজ আওয়ামী রাজনৈতিক দলের সভানেত্রী এবং বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। আজকাল স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক নিরর্থক এবং নিতান্তই কূট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের হাতিয়ার মাত্র। মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা আছে বিশ্বজুড়ে। জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সিপাহশালার। তিনি ছিলেন, এগার হাজার প্রতিরোধকারী সেনার কমান্ডার। সেটাই তাজউদ্দিন বেতার ভাষণে বলে গেছেন ১০ এপ্রিল ১৯৭১ “The government of the people re-public of Bangladesh, first announced through Major Ziaur Rahman to set up a full pledged operational base from which it is administering the liberated areas” ভারতে সরকারী ওয়েব সাইটে বলা আছে “While the where abouts of Mujib remained unknown, Major Ziaur Rahman announced the formation of the provisional government of Bangladesh over radio Chittagong. আর মার্কিন ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের বিবৃতি On march 27 the clandestine radio announced the formation of a revolutionary army and provisional government under the leadership of Major Ziaur Rahman”. মেজর জিয়া শুধু একজন মুক্তি যোদ্ধাই নয়, তিনি একাধারে স্বাধীনতার ঘোষক, একজন সমর পরিচালক, একজন বিশ্বনেতা এবং সর্বোপরি একজন জননন্দিত রাষ্ট্রপতি । এই নশ্বর বিশ্ব যতদিন টিকের্ থাকবে, ততদিনই জিয়ার নাম স্বর্ণোজ্জ্বল হয়ে বাংলাদেশ তো বটেই সারা বিশ্বজুড়েই কোন না কোনভাবই আলোচনায় থাকবে। আজ তাঁর ৩৩তম মৃত্যু বার্ষিকীতে মহান স্বাধীনতার ঘোষক রণাঙ্গণের বীর মুক্তিযোদ্ধা বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। জাতির বর্তমান দুর্বিসহ ক্রান্তিকালে মেজর জিয়ার মতো একজন কালজয়ী বহুদলীয় গণতন্ত্রের কান্ডারীর নিরন্তর প্রয়োজন। লেখক: রাজনৈতিক, মিডিয়া কর্মী।

বিস্তারিত»

মতামত

সংখ্যাটি ছিল কত (?), ওরা যেন মানুষ না

পি.আর.প্ল্যাসিড:এক সময় যখন বেশ আড্ডায় মেতে থাকতাম দেশে কিংবা প্রবাসে, তখন শোনতাম অনেকে অনেক ধরণের বিষয় নিয়ে কথা বলতেন সেই আড্ডায়। আমি কখনো ভালো বক্তা ছিলাম না। শ্রোতা হিসেবে নিজেকে নিজে সেরা না বললেও একজন নীরব শ্রোতা হিসেবে ভালো বলতে পারি নিজেকে নিজে। স্কুল জীবনে আমার বাবাকে একটি কথা সবসময় বলতে শুনেছি, ” এলেমে হেলেম বাড়ে, বুদ্ধি বাড়ে মেলে”। আড্ডায় অংশ নিলে বিভিন্ন পরিবারের বিভিন্ন ধরনের ছেলেদের নানান কথা শুনলে বুদ্ধি অনেক বাড়ে, এই কথাটিই বোঝাতে চাইতেন বাবা। তাই তখন সুযোগ পেলেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আড্ডায় গেলেও বিভিন্ন জনের বিভিন্ন ধরনের কথা শুনেছি মন দিয়ে। যা এখনবিভিন্ন লেখায়ব্যবহার করতে পারছি। একবার আমাদের বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান লেখক ইমদাদুল হক মিলন এবং আমার প্রিয় এক ব্যক্তি, মনিরুল হক (বই প্রকাশক) জাপানের রাস্তায় গাড়িতে বসে নানা বিষয় নিয়ে কথা বলছিলেন। আমি বলতে গেলে কোন কথাই বলছিলাম না সেদিন। তখন আমাদেরই একজন আমাকে নীরব থাকতে দেখে বলেই ফেললেন, আমরা এত কথা বলছি, অথচ প্ল্যাসিড ভাই কোন কথাই বলছেন না, কারণ কি? তখন মিলন ভাই বলেছিলেন, ”যারা জানে বেশি তারা বলে কম”। আমি তখন এই উত্তরটিই দিয়েছিলাম, ”আমি বেশি জানি না, সবার কথা মনযোগ সহকারে শুনে আরো বেশি জানার জন্য চুপ করে থাকি। সবসময় চেষ্টা করি আড্ডা বা যে কোন আসরে গিয়ে শ্রোতা হিসেবে থাকার জন্য। সবাই যদি বক্তা হন, তাহলে শুনবেন কে?” লেখার শুরুতে ভূমিকা দিলাম এজন্য যে, কোন এক আসরে শোনা একটি জোকস মনে পড়ল তা লেখার শুরুতে ব্যবহার করার জন্য। (কল্পিত) আরিচাঘাটে এক বাস দুর্ঘটনায় অনেক লোক মারা গেছে। সাংবাদিক এসে সেখানে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন লেখার কাজে ব্যস্ত। আশে পাশের লোকদের কাছে সাংবাদিক জানতে চাইলেন, ভাই, এই দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তো আপনারা, আচ্ছা বলেন তো এখানে মোট কতজন প্রাণ হারিয়েছেন? এলাকাবাসীদের (প্রত্যক্ষদর্শী) একজন জানালেন, দুই জন পুলিশ আর নয়জন যাত্রী  মারা গেছেন। পুলিশও কিন্তু সেই বাসেই ছিলেন। তারপরেও তাদের যাত্রী বা মানুষ না বলে ভিন্ন পরিচয়ে তাদের গণনার মধ্যে পরিচয় করিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আমি বেশ কিছুদিন ধরে লেখার কথা ভাবছিলাম সিলেটে অনন্ত বিজয় দাসকে হত্যার পর থেকে। এর আগে অবশ্য সময়ের অভাবে লেখা হয়নি যেমন সত্যি, তার চেয়ে বেশি সত্যি লেখার বিষয়টি নিয়ে লেখার আগে আরো বেশি খোঁজ খবর নেবার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তুআমাদের সময় ডট কম-এ  একটি ছোট সংবাদ পড়ার পর আর না লিখে পারলাম না। কারণ লেখালেখি যেহেতু করি সুতরাং একটি সারিতে আমাকে দাঁড়াতে যে হবেই, মনে করে। আমাদের সময় ডট কম-এ দেখলাম বাংলাদেশে তিনজন প্রতিষ্ঠিত মুক্তমনা মানুষের মৃতু্যু (হত্যা)-কে কেন্দ্র করে বিশ্বখ্যাত ১৫০ জন লেখকের স্বাক্ষর সংবলিত প্রতিবাদের সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। বিশ্বখ্যাত বা নন্দিত লেখকগণ বাংলাদেশের মুক্তমনাদের হত্যা করায় উদ্যেগ প্রকাশ করে খোলা চিঠি দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে। মুক্তচিন্তার মানুষদের হত্যার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য নিরাপত্তা প্রদানের মাধ্যমে দেশকে মেধা শূন্য না করারও আবেদন জানিয়েছেন তারা। বিষয়টি আমার দৃষ্টি কেড়েছে, তাই না লিখে পারলাম না। সংবাদটি পড়ার পর দেশের খ্যাতিমান লেখক ড. জাফর ইকবালের একটি লেখার কথাও মনে পড়ল। সম্প্রতি সিলেটে খুন হওয়া বিজ্ঞান মনষ্ক লেখক অনন্ত বিজয় দাসকে নিয়ে লেখাটি লিখেছেন তিনি। লেখাটিতে জাফর ইকবাল স্যার ব্লগারের সুন্দর অর্থবহ একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। একসময় আমিও নিয়মিত ডায়েরী লিখেছি, স্যারের ভাষায় যাকে ব্লগ বলা যায়।তার লেখায়তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রকৃত অর্থে দেশে-বিদেশে সব মিলিয়ে লক্ষ কোটি ব্লগার রয়েছে। স্যারের ভাষায় তাদের দলে তাহলে আমিও পড়ি। আমাদের দেশে ব্লগ লিখেন এমন তো অনেক লোকই আছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো ধর্ম নিয়ে কোন কিছু যুক্তি দিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেন কিংবা অন্যের লেখার মতভেদ প্রকাশ করার চেষ্টা করেন যুক্তি তর্ক দিয়ে। তাদের সুচিন্তিত লেখার মধ্য দিয়ে। এতে অন্যায়ের কিছু দেখি না, যদি সেই লেখা কারো মনে কষ্টের কারণ না হয়। আসলে মানুষের মন যে খুবই নরম, তুলতুলে। কখন কে যে, কি কারণে, কিভাবে কষ্ট পায়, আর কিসে খুশী হয়, সেটা আসলে কেউই আগাম বুঝতে বা বলতে পারে না। আর এই না বোঝার কারণেই ঘটে যত সমস্যা। আমি পৃথিবী বাসী একজন মানুষকেও হত্যা করার পক্ষে না। অন্যায়ভাবে যদি কেউ কোন মানুষ হত্যা করে, তাহলে সংঘবদ্ধভাবে সেই হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে দোষী ব্যক্তিকে ধরে তার বিচার করার পক্ষে আমি। মানুষ হিসাবে সত্যি বলতে সেটাই সবার বেলাতে হওয়া উচিৎ। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকেই প্রয়োজনে কি অপ্রয়োজনে অন্যায় ভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাদের জন্য আমরা বিশ্বের কোন সচেতন লেখক বা সাংবাদিকের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কোন ধরনের বিবৃতি দিতে দেখিনি। হঠাৎ করে কেন সালমান রুশদীর মতন ব্যক্তিরা ১৫০ জন এক হয়ে মাত্র তিনজন ব্যক্তির জন্য বিবৃতি দিলেন আমাদের সরকারকে উদ্দেশ্য করে, তাদের দেশের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকাতে, তা আমার বোধগম্য হয়নি। বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষ ইসলাম ধর্ম বিশ্বাসী হলেও এটি একটি উল্লেখ যোগ্য অসাম্প্রদায়িক দেশ বটে। এখানে বিভিন্ন ধর্মের লোকদের সহাবস্থান অবশ্যই উদাহরণ দেবার মত এবং প্রশংসনীয়। দেশে মাঝে মধ্যে অবর্ণর্নীয় যে সব ঘটনা ঘটছে, এসব যেন না ঘটে সেই কামনা করছি। তবে আমার বিশ্বাস দেশের সরকার যথেষ্ট সচেতন এই ব্যাপারে এবং কার্যকর ভূমিকাও রাখছেন বিভিন্ন সময় সন্ত্রাস দমনের মাধ্যমে। দেশের জনসাধারণ সরকারের সব ভালো কাজেই সহযোগিতার হাত প্রসার করাতে এখনো বড় কোন দুর্ঘটনা দেশের অভ্যন্তরে ঘটেনি । আমাদের যে কোন মূল্যে এই সুন্দর অবস্থা টিকিয়ে রাখা উচিৎ। এই জন্য বিদেশিদের কোন প্রকার নাক গলানো ঠিক হবে না বলে মনে করি। বিদেশি এই লেখকদের মনে হয় কেউ এমন বিবৃতি দেবার জন্য উৎসাহিত করেছেন, তারা যেন সংঘবদ্ধ হয়ে (কথিত) ব্লগারদের বাঁচানোর জন্যপ্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি লিখে পত্রিকার মাধ্যমে আবেদন জানান। এই কাজটি করার ফলে যা হতে পারে তা হচ্ছে, যা ছিল আমাদের (দেশে) ঘরের ভিতর তা এখন (বিদেশে) বাহিরেও ছড়াবে। জানাজানি হবে। সুতরাং আমাদের সমস্যা আমাদেরকেই সমাধান করতে হবে। অন্য কেউ বলার আগেই সচেতন হওয়া মঙ্গলজনক। (লেখাটি লিখে শেষ করা পর্যন্ত বিদেশী খ্যাতিমান লেককদের সেই বিবৃতিতে স্বাক্ষলকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫০ থেকে ১৯৭ জনে।) বিষয়টি খুব ভালো লেগেছে এই জন্য যে, তারা আমাদের দেশ মেধাশূন্য হয়ে যেতে পারে বলে যে আশঙ্কা করেছেন এবং এটাকে প্রতিহত করতে অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু কথা হচ্ছে বাংলাদেশে মানুষ মরছে প্রতিদিন, মারছেও মানুষ প্রতিদিন। এ ব্যাপারে আগে দেশের ভিতর জনমত সৃষ্টি করা দরকার এসব বন্ধ করতে। যদি করতেই হয়। দেখবেন মানুষ মারা বন্ধ হলে একসময়ব্লগারদেরও প্রাণ বাঁচবে। তখন দেশ হবে মেধাশূন্য হবার আশংকা মুক্ত। যেখানে আমরা মানুষ মারা বন্ধ করতে পারি না সেখানে অন্য বিষয় চিন্তা করি কিভাবে? আমরা অনেকেই লেখালেখি করি। তার মানে আমরা সবাই ব্লগার (জাফর ইকবাল স্যারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী।)। কিন্তু সবাই যে একটি নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে লিখে তা কিন্তু না। তাহলে কতিপয় লোকের উপরই কেবল কেন মৃত্যুর হুমকি আসে। কেনই বা বহির্বিশ্বের লোকেরা এ নিয়ে চিন্তিত হবেন? আমাদের দেশের পুলিশ বিভাগ যথেষ্ট অভিজ্ঞ। তারা শুধু বিএনপি আর নারীর শরীরেই বুটের লাথি মারতে পারে না। তাদের সুনাম আছে অনেক বড় বড় ডাকাতির ক্লু আর খুনের ক্লু বের করতে পারার জন্য। বাংলাদেশ পুলিশের প্রশংসা যে আছে তা অনেক আগেই শুনেছি। তাহলে কেন আমাদের দেশের এই কয়েকটি খুনের ক্লু বের করতে পারে না বর্তমান আইন শৃংখলা বাহিনী। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া খুনের আসামীদের ধরার ইচ্ছা করলে অবশ্যই ধরে বিচারের অধীনে এনে পুলিশ বিভাগ পারে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে। যথাযত শাস্তি প্রদান করার দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে পারলে পরবর্তীতে জঘণ্য এই ঘুনের মতন ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি না ঘটার সম্ভাবনা থাকে বেশি। তবে হ্যাঁ, এই কথাও সত্যি যে, দেশে এখন বিচার বহির্ভূত অনেক হত্যাই হচ্ছে। কে করছে আর কাদের করছে এটা আলোচ্য বিষয় হওয়া ঠিক নয়। তার আগে এসব হত্যাকান্ড বন্ধ করার প্রক্রিয়া খুঁজে বের করে এর সমাধান অচিরেই করতে হবে। ব্লগার আর যুক্তিবাদী কিংবা মুক্তচিন্তার লোক আমরা যাই বলি, এর সংখ্যা তিনজন বা চারজন যাই হোক, সেটাকে আমরা কোন সংখ্যায় না ফেলে যে কোন মানুষকে হত্যার প্রতিবাদের ভাষা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। তবেই আমাদের দেশ মেধাশূন্য হবার কথা ভিন দেশি কাউকেআর না ভাবলেও চলবে। ============================ লেখক পি.আর.প্ল্যাসিড ঃ জাপান প্রবাসী লেখক সাংবাদিক।    

বিস্তারিত»

বিনোদন

ক্যাটফাইটের দিন শেষ, সময় গার্লপাওয়ারের

  মুম্বই: ‘ক্যাটফাইট’-এর দিন আর নেই। এখন একে অপরের কাজে জেলাস নন বলি কুইনরা বরং ভালো কাজের প্রশংসায় ভরিয়ে সহ অভিনেত্রীদের।তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় আর দেরি সেই সুদিনের। যখন হিরোদের পাশাপাশি বলিউড শাসন করবেন হিরোইনরা। ট্যুইটারে এমনই বার্তা দিলেন দেশীগার্ল প্রিয়াঙ্কা ও অনুষ্কা শর্মা। মার্কিনিদের ড্রয়িংরুমে ইতিমধ্যে প্রবেশ করতে চলেছেন প্রিয়াঙ্কা। তার আগে বলিউডে মুক্তি পেতে চলেছে “দিল ধরকনে দো”। এই ছবিতে পিগি চপসের সঙ্গে রয়েছেন অনুষ্কাও। সম্প্রতি সহ অভিনেত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বলিউডে নায়িকাদের জয়জয়কার করলেন প্রিয়াঙ্কা। তাঁর সমস্ত অনুরাগীদের ‘এন এইচ-টেন’ ছবিটি দেখতে আনুরোধ করে, ব্লগে লিখেছেন, “দের আসে দুরুস্ত আয়ে। একজন অভিনেত্রী, প্রযোজক সর্বোপরি এক মেয়ে হয়ে আমি অনুষ্কার নিয়ে গর্বিত”। এর সঙ্গে রেশ টেনে বলিউডে নারী ক্ষমতায়নের কথা বলেন প্রিয়াঙ্কা, “এইভাবেই নারী সাফল্যের পতাকা আমারা ওড়াবো”। প্রিয়াঙ্কার ট্যুইটে সায় দিয়েছেন অনুষ্কাও। একধাপ এগিয়ে নায়িকা বলেন, “ ভালো কাজের কোন সময় হয়, যখন থেকে হয় সেটাই শুভ সময়”। তবে রুচি বদলেছে মানুষের। জোয়ার চলছে এখন নারীকেন্দ্রিক ছবি। আর বক্সঅফিসে এইসব ছবি এখন বেশ হিটও। সেই সঙ্গে জাতীয় স্তরেও পাচ্ছে স্বীকৃতি।সব মিলিয়ে এখন বলি কন্যাদের রমরমা বাজার।

বিস্তারিত»

স্বাস্থ্য ও রুপচর্চা

ঝিঙ্গার ওষুধি গুন

সব সবজিতে ভেষজ গুণ রয়েছে। ব্যবহারবিধি জানা থাকলে সবজি মাত্রই ভেষজ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ঝিঙ্গা আর ধুন্দুলের (চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় পরুল) ব্যতিক্রম নয়। অন্য দিকে ঝিঙ্গা আর ধুন্দুলের ভেষজ গুণের কথা বলতে গেলেই যকৃৎ ও প্লীহার (কলজে আর পিলে) কথা এসে যায়। বৈদিক শাস্ত্রমতে এ দু’টি মানুষের শরীরে যেন দু’টি দৈব্য। এরা যেন দুই ভাই, কাজ করে এরা একযোগে, একজন বিগড়ালে আরেকজনও বিগড়ে যায়; নয়তো বসে যায়। আবার এরা বিগড়ালে ঝিঙ্গা আর ধুন্দুল এদেরকে শাসন ও শায়েস্তা করতে পারে। ঝিঙ্গা ও ধুন্দুলের অপর নাম যথাক্রমে ধারা কোষিতক ও কোষিতক। মহাভারতের অনুসারে ভগবতীর নিজের কোষ হতে তৈরি এ দুই কোষিতকই একই গুণসম্পন্ন; তাই ব্যবহারবিধিও একই, এ জন্য পরবর্তীকালে এদের ব্যবহারবিধি একই সাথে দেয়া হলো।   আয়ুর্বেদ মতে ঝিঙ্গা শীতল, মধুর, পিত্তনাশক, ুধাবর্ধক; তবে বাত, কফ ও বায়ু সৃষ্টি করে। এটি শ্বাসের কষ্ট অর্থাৎ হাঁপানি, জ্বর, কাশি ও কৃমিরোগ উপশম করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূরে করে ও পেট পরিষ্কার করে। এটি দেরিতে হজম হয় বলে রোগীদের পক্ষে খাওয়া অনুচিত। ধুন্দুল স্নিগ্ধ, বলকারক, রুচিবর্ধক, বায়ুনাশক, রক্তপিত্ত (নাক ও মুখ দিয়ে রক্তপড়া) ও বাতপিত্ত কমায়, ুধাবর্ধক, কৃমিনাশক ও কফ নিবারক। নিচে ঝিঙ্গা ও ধুন্দুলের ব্যবহারবিধি দেয়া হলো। শোথের মূত্রকৃচ্ছ্রতা : হৃদরোগ, যকৃৎগত রোগ বা অন্যান্য কারণে শোথ হয়; তাতে প্রস্রাবের কৃচ্ছ্রতাও হয়। সে সময় কাঁচা ঝিঙ্গা ও এর পাতার রস অথবা যেকোনো একটার রস নিয়ে একটু গরম করে রাখতে হবে। সে রস থেকে দুই চা চামচ করে ২ ঘণ্টা পর পর তিন-চারবার আধা কাপ পানির সাথে মিশিয়ে পান করতে হবে। তবে শুধু পাতার রস হলে দুইবার খাবে ও ঝিঙ্গা ফলের রস চারবার দেয়া যাবে। ক’দিন এভাবে খেলে ধীরে ধীরে শোথ ও মূত্রকৃচ্ছ্রতা, সে সাথে মূত্রস্বল্পতার উপশম হবে। বমির ভাব : চাপা অম্বল, গা প্রায় সময় বমি বমি করে, সে ক্ষেত্রে ঝিঙ্গার পাকা বীজ তিন-চারটা নিয়ে বেঁটে এক কাপ পানি গুলে খেতে হয়। তাতে পেটে বায়ু থাকলে তাও কমে যাবে। বমির ইচ্ছাটাও থাকবে না; তবে বীজ তেতো হলে বমি হয় বলে দুর্বল, বৃদ্ধ, শিশু ও গর্ভবতী মহিলাকে খাওয়ানো যাবে না। পাথুরী : ঝিঙ্গা লতার শিকড় (আকশী) গরুর দুধে বা ঠাণ্ডা পানিতে মেড়ে পর পর তিন দিন খেলে পাথুরী দূর হয়। মাথার যন্ত্রণা (শ্লেষ্মাজনিত) : কাঁচা ঝিঙ্গার রস দুই-তিন ফোঁটা নাকে টেনে নিলে এবং সে সাথে দুই চা চামচ রস একটু গরম করে সাত-আট চা চামচ পানিতে মিশিয়ে পান করলে শ্লেষ্মা বেরিয়ে গিয়ে যন্ত্রণা কমে যাবে। এ ছাড়া ঝিঙ্গা শুকিয়ে গুঁড়া করে নস্যি নিলে মাথাব্যথা সারে।   অর্শের রক্ত পড়া : এ রোগকে রক্তার্শও বলা হয়। এতে রক্ত পড়ে, যন্ত্রণাও আছে। এ ক্ষেত্রে কচিও নয়, আবার পাকাও নয় (আধা পাকা) এ রকম ঝিঙ্গা কুচি কুচি করে কেটে রোদে শুকিয়ে গুঁড়া করে নিতে হয় এবং কাপড় বা চালনিতে চেলে সে গুঁড়া এক গ্রাম মাত্রায় নিয়ে আধা কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে দুইবার করে খেতে হয়। কুষ্ঠরোগ : আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে কুষ্ঠ কথার অর্থ ব্যাপক। এতে দাদকেও ক্ষুদ্র কুষ্ঠ বলা হয়েছে। যদি দেখা যায়, কিছুতেই কিছু হচ্ছে না বা চিকিৎসাও সম্ভব হচ্ছে না, তখন ঝিঙ্গা পাতার রস এক-দেড় চা চামচ প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে একটু পানি মিশিয়ে খেতে হয়। কুষ্ঠের রূপ নিলে সে ঘায়ে পাতার রস লাগাতে হবে। এভাবে দুই মাস খেলে কিছুটা পরিত্রাণ মিলবে। চোখে পিঁচুটি বা জুড়ে যেতে থাকা : এটা শ্লেষ্মাধিকারজনিত কারণে অথবা ঠাণ্ডা লেগে যায়। এ সময় ঝিঙ্গার কচি পাতার রস প্রথমে গরম করে তারপর ঠাণ্ডা করে এক-দুই ফোঁটা করে দিতে হয়। ঝিঙ্গার বদলে ধুন্দুলও ব্যবহার করা যাবে। শোথোদর : ধুন্দুলের পাতার রস বড় চামচে দুই চামচ পান করলে ও পাতা বেঁটে পেটের ফোলা অংশের ওপর লাগালে এ রোগ সারে। নালী ঘা : তেতো ঝিঙ্গার রস নালী ঘায়ে লাগালে ঘা শুকিয়ে যায়।

বিস্তারিত»

সম্পাদকীয়

নিরাপত্তাহীনতায় নারী

বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রশ্রয় পাওয়ায় হত্যা, গুম, লুণ্ঠন, ধর্ষণের ঘটনার শিকার নির্যাতিত মানুষ ক্রমাগত মানবাধিকার হারাচ্ছে। সমাজে অপরাধ ও অপরাধীর দৌরাত্ম্য বাড়ছে। অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে বহু বিচিত্র উপায়ে। সমাজে বিশেষ করে বেড়েছে নারী নির্যাতনের ঘটনা। বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তদের হাতে লাঞ্ছিত হন উৎসব পালনে আসা তরুণীরা। সেই দুর্বৃত্তদের ধরে বিচারের সম্মুখীন তো করা হয়ইনি, উপরন্তু ওই ঘটনার প্রতিবাদে সংগঠিত মিছিলে হামলা চালিয়ে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আরেক দফা নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছে। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ড উৎসাহিত করেছে নারী নির্যাতক দুর্বৃত্তদের, তাতে সন্দেহ নেই। ফলে তারাও থেমে নেই- একের পর এক ঘটিয়ে চলেছে নানা ধরনের নারী নির্যাতন। নারী নির্যাতনের বিচিত্র সব উপায়-পদ্ধতি বের করছে এ দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাতে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার সময় কর্মজীবী এক গারো তরুণীকে মাইক্রোবাসে তুলে চোখ-মুখ বেঁধে ধর্ষণ করেছে একদল দুর্বৃত্ত। তরুণীটিকে তারা হত্যার ভয় দেখিয়ে চলন্ত গাড়িতে এই দুষ্কর্ম সম্পন্ন করে তার বাসার সন্নিকটের রাস্তায় ফেলে দিয়ে যায়। যাওয়ার আগে বলে যায়, এ বিষয়ে থানা-পুলিশ, মামলা করলে পরিণতি ভালো হবে না। দেশে গণধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে। এর আগে সাভার ও মিরপুরে বাসে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। অতি সম্পতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে একজন আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে। অর্থাৎ অপরাধ দমন করার দায়িত্ব যাদের ওপর ন্যস্ত, তারাও অবতীর্ণ হচ্ছে ধর্ষণ তথা অপরাধকর্মে। একটি বেসরকারি সংস্থার প্রতিবেদনে জানা যায়, যৌন হয়রানির ঘটনায় গত চার বছরে ৯৯ নারী আত্মহত্যা করেছে। এ হচ্ছে সংবাদপত্রে প্রকাশিত ঘটনার ওপর ভিত্তি করে রচিত প্রতিবেদন। নারীর ওপর যৌন হয়রানির ঘটনা প্রকৃতপক্ষে এর চেয়ে অনেকগুণ বেশি। কেননা আরেকটি জরিপ প্রতিবেদন জানাচ্ছে, নিগ্রহের ঘটনায় সহায়তা পেতে পুলিশের ওপর আস্থাশীল নন ৯৫ শতাংশ নারী। একটি সমাজের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী। সেই নারী সমাজের প্রায় সম্পূর্ণ অংশেরই আস্থা নেই দেশের আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর, এটি শুভ লক্ষণ নয়। নারীদের এ আস্থাহীনতার সঙ্গে পুরুষদের আস্থাহীনতা যোগ করলে বাস্তবে এক ভয়াবহ চিত্র পাওয়া যাবে। ইয়াসমিন-শবমেহেরদের মৃত্যুতে একসময় উত্তাল হয়েছিল সারা দেশ। তাতে ধর্ষণকারী দুর্বৃত্তদের তৎপরতা সাময়িকভাবে কমেছিল; কিন্তু এখন আবার দেখা যাচ্ছে তাদের দোর্দণ্ড প্রতাপ। নারী সর্বত্র এখনও সবচেয়ে বিপন্ন সত্তা। কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষাঙ্গনে, পথে এবং আপন ঘরে সে নির্যাতিত। এটা সমাজের সার্বিক অসুস্থতার চিত্র। অসুস্থ সমাজ এগোয় না। এগোতে চাইলে সবার আগে সর্বত্র নিশ্চিত করতে হবে নারীর নিরাপত্তা। কর্মস্থলে, শিক্ষাঙ্গনে, ঘরে-বাইরে নারী নির্যাতক দুর্বৃত্তদের ধরে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।

বিস্তারিত»

লাইফস্টাইল

পর্নোগ্রাফি কমাবে সহবাসের ইচ্ছা

কথায় বলে অতি সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট৷ পর্নোগ্রাফি আর সহবাসের ক্ষেত্রেও এই সমীকরণটা এক্কেবারে মিলে যায়৷যদি আপনি ভেবে থাকেন ইন্টারনেটে নিয়মিত পর্নোগ্রাফি দেখলে বা অ্যাডাল্ট লেখা পড়লে সহবাসের সময় আপনার পারফরম্যান্সের উন্নতি হবে, তাহলে আপনার ভাবনা আজই বদলান৷ গবেষকদের মতে, প্রতিদিন যদি আপনি একই কাজ করেন তাহলে বাস্তবে মানে সহবাসের সময় আপনার রোমাঞ্চটাই শেষ হয়ে যায়৷সহবাসের আনন্দ উপভোগ করার জন্য আমাদের মস্তিষ্কের অন্যতম নিউরো ট্রান্সমিটার ডোপামিন দায়ী৷কিন্তু প্রতিদিন পর্নোগ্রাফি দেখলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে ব্যাপারটার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে৷ আর মনও সেখানে খুঁজে পায় না নতুন কোনও রোমাঞ্চ৷শুধু তত্ত্বকথাই নয়৷ বাস্তবেও গবেষকরা অনেকের সঙ্গেই কথা বলেছেন , যারা কৈশোর থেকে নিয়মিত এইসব সাইট দেখতেন৷ তাদের সোজাসাপটা স্বীকারোক্তি, প্রথম প্রথম পর্নোগ্রাফি দেখে খুব উত্তেজিত লাগলেও, পরে ওই নকল জিনিসগুলো বহুবার দেখতে দেখতে নতুন কোনও কিছু খুঁজে পেতাম না৷আর বিয়ের পর সহবাসের সময় জোর করে মনে এরকম কোনও অনুভূতি বা রোমাঞ্চ আনাটা ছিল বেশ কষ্টসাধ্য৷ আসলে ইন্টারনেটে সেক্স নিয়ে যেসব মিথ থাকে, বা ভিডিয়ো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা আসল হয় না৷ ফলে বাস্তবে সেগুলো দেখে যখন লোকজন নকল করতে যায়, তখন তারা পারে না৷ ফলে নিজের আর নিজের পারফর্ম্যান্সের উপর থেকেই অনেক সময় উঠে যায় বিশ্বাস৷এমনকী অবসাদ এতটাই বেড়ে যেতে পারে যে ক্ষেত্রবিশেষে ওষুধ খাওয়া বা কাউন্সেলিং করানোরও প্রয়োজন পড়তে পারে৷

বিস্তারিত»

শোক-সংবাদ

প্রবীণ সাংবাদিক হাসান উজ্জামান খান আর নেই-এনডিপি’র শোক

জাতীয় প্রেস ক্লাবের আজীবন ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, প্রবীণ সাংবাদিক হাসান উজ্জামান খান আর নেই। আজ দুপুর পৌনে দুইটায় তিনি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ইন্তিকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের মরচুয়ারিতে গতকাল সোমবার তার লাশ রাখা হয়। শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মরহুমের লাশ আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বাদ জোহর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আনা হবে। প্রেস ক্লাবে জানাযা শেষে তাকে মীরপুর বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে দাফন করা হবে। হাসান উজ্জামান খানের ইন্তিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটি গভীরভাবে শোকাভিভূত। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ এক শোক বিবৃতিতে হাসান উজ্জামান খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানান। ক্লাব নেতারা বলেন, হাসান উজ্জামান খান ছিলেন সাংবাদিকতা জগতের এক অনন্য প্রতিষ্ঠান। তার নিষ্ঠা, সাধনা, আদর্শ ও পেশার প্রতি অঙ্গীকার তরুণ সাংবাদিকদের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। বিশেষ করে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠায় তার অগ্রণী ভূমিকা বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতে ইতিহাস হয়ে আছে। প্রেস ক্লাব পরিচালনায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার মৃত্যু শুধু সাংবাদিকতার ক্ষেত্র নয়, জাতীয় জীবনেও অপূরণীয় ক্ষতি। নির্ভীকতা, দেশপ্রেম ও প্রজ্ঞা তাকে অসামান্য উচ্চতায় স্থাপন করেছে। আমরা তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। প্রবীণ সাংবাদিক হাসান উজ্জামান খানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি। এনডিপি’র চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা এক যৌথ শোকবার্তায় মজিবুর রহমান মঞ্জুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। জীবন বৃত্তান্ত বরেণ্য সাংবাদিক হাসান উজ্জামান খান ১৯২৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার কেরানীগঞ্জে কলাতিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করলেও তার পিতৃভিটা মানিকগঞ্জ জেলার মূলজান গ্রামে। ১৯৪৫ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায় তিনি সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন। এরপর তিনি স্বাধীনতা, পাকিস্তান অবজার্ভার, বাসস, বঙ্গবার্তা, নিউ নেশন, বাংলাদেশ টুডে, ফিনানসিয়াল এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় কাজ করেন। তার প্রায় ৬০ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের বেশির ভাগ সময় তিনি কাজ করেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসস-এ। তিনি বাসস-এর প্রধান বার্তা সম্পাদক, ম্যানেজিং এডিটর ও উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ম্যানিলায় সাংবাদিকতার ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন। তিনি প্রেস ইনস্টিটিউটের রিসোর্স পার্সন হিসেবে কাজ করেন। জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম সদস্য ছাড়াও তিনি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদকে ভূষিত হন। সাংবাদিকতা ছাড়াও বাংলাদেশ ও তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে তিনি বিজ্ঞানবিষয়ক লেখালেখির পথিকৃৎও ছিলেন। পাকিস্তান আমলে তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় রাজনৈতিক কলামও লিখেছেন। তার সম্পাদিত বই হচ্ছেÑ এগ্রিকালচার ইন বাংলাদেশ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

বিস্তারিত»

সাম্প্রতিক খবর সর্বাধিক পঠিত

জরিপ

Loading...

Archive