আন্দোলন চাঙা করতে নতুন কৌশল!

ঢাকা:টানা দুই মাস আন্দোলন টেনে নিয়ে যাওয়ার পর যখন দেশব্যাপী এর প্রভাব কমতে শুরু করেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে নেতা-কর্মীদের চাঙা করতে তাদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।   সশরীরে তাদের কাছে না যেতে পারলেও দীর্ঘ আন্দোলনের সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত নেতা-কর্মী ও তাদের পরিবার-পরিজনের পাশে দাঁড়াতে দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা, বিশেষ করে যারা প্রাক্তন সাংসদ, তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এই নির্দেশনার কোনো ব্যত্যয় ঘটলে ভবিষ্যতে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   দলের বেশ কয়েকটি সূত্র বলছে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের চলমান আন্দোলনের দীর্ঘসূত্রতার কারণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এর যে ব্যাপকতা ছিল, তা কমতে শুরু করেছে। তাই চলমান আন্দোলনে হরতাল-অবরোধের সঙ্গে নতুন নতুন কর্মসূচি যোগ করার চিন্তা-ভাবনা করছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে হরতাল-অবরোধের সঙ্গে গত সপ্তাহে বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে আজ রোববার গণমিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে দলের মুখপাত্র সালাহ উদ্দিন আহমদ। মূলত এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নেতা-কর্মীদের মাঠে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ঢাকার বিভিন্ন স্পটে কেন্দ্রীয় নেতাদেরও রাজপথে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   জানা যায়, আগামী সপ্তাহ থেকে রাজধানীতে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি জোরদারের লক্ষ্যে নতুন কৌশল নির্ধারণ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। বিশেষ করে খালেদা জিয়া গ্রেফতার হলেই ঢাকার রাজপথে নামবেন তারা। কেন্দ্রীয় এসব নেতাদের উপস্থিতিতে হরতালের পক্ষে রাজধানীর নির্ধারিত কিছু স্পটে মিছিল করার চিন্তা-ভাবনাও চলছে। ঢাকা মহানগর বিএনপির ৫৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ থানা-ওয়ার্ডের নেতাদের মাঠে থাকার জন্য খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনাও রয়েছে। এ ছাড়া থানা পর্যায়ে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গসংগঠনগুলো পৃথক স্পট নির্ধারণ করে মিছিল-সমাবেশ করার উদ্যোগ নিচ্ছে।   দলের গুলশান কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের চলমান আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী গুম, হত্যা, নির্যাতন ও গ্রেফতার হয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের পরিবার। অনেকে কারাগারে থেকে আইনি সহায়তা পাচ্ছেন না। আর্থিকভাবেও অসহায় হয়ে পড়েছেন অনেকে। এই অবস্থায় দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মাঠপর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এসব নেতা-কর্মীর পাশে থাকতে। একই সঙ্গে সারা দেশে দলের যেসব আইনজীবী আছেন, তাদের আইনি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির প্রধান। একই সঙ্গে ক্ষতগ্রস্ত নেতা-কর্মীদের পরিবার কী অবস্থায় আছে, সে ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে তাদের তালিকা প্রস্তুত করতে নির্দেশ দিয়েছেন খালেদা জিয়া।   সূত্র বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্দেশের কোনো ব্যত্যয় ঘটলে ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী ও তাদের পরিবার-পরিজনের সঙ্গে এই ধরনের ঘটনা ঘটলে তা তাৎক্ষণিকভাবে দলীয় নেতৃবৃন্দ, দফতরের নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী ফোরামের নেতৃবৃন্দ এবং বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যারা অবস্থান করছেন, তাদের অবহিত করার জন্য নির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী তৃণমূল থেকে ব্যাপকভাবে গুলশান কার্যালয়ে ফোন আসছে। এগুলো লিপিবদ্ধ করে রাখা হচ্ছে। আর কার্যালয়ে অবস্থান করা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, উপদেষ্টা এম এ কাইয়ুম ক্ষতিগ্রস্ত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের নির্দেশ দিচ্ছেন। কখনো কখনো বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজেই ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলছেন।   জানতে চাইলে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, কেন্দ্র থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ে যেসব নেতা-কর্মী গ্রেফতার ও কারাবরণ করেছেন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় দলীয় আইনজীবীদের এ বিষয়ে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   ‘অজ্ঞাত আসামির’ নামে মামলা দিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে- অভিযোগ করে খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘আন্দোলনের এই দুই মাসে প্রায় ২০ হাজারের মতো নেতা-কর্মীকে আসামি, ১০ হাজারেরও বেশি নেতা-কর্মীকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি দিয়ে পুলিশ হয়রানি করলে আমাদের কিছু করার থাকে না।’ তবে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান বিএনপির এই নেতা। বিস্তারিত»

হত্যা মামলা : খালেদার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ১৬ এপ্রিল

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশব্যাপী হরতাল-অবরোধে সহিংসতায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৪২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য ১৬ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত।   রোববার এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। নির্ধারিত দিনে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকা মহানগর হাকিম(সিএমএম) আসাদুজ্জামান নূর পরবর্তী এ দিন ধার্য করে আদেশ দেন।   এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শমসের মবিন চৌধুরী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদ।   জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার গুলশান কার্যালয়ে ৫ জানুয়ারি বিকেল ৫টায় সারা দেশে অবরোধ পালনের ঘোষণা দেন এবং এর পর দফায় দফায় হরতালের আহ্বান করেন। এ কর্মসূচির ঘোষণার পর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৪২ মারা গেছেন এবং সরকারের কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এ সব ঘটনায় গত ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুর রহমানের আদালতে জননেত্রী পরিষদের সভাপতি মামলাটি দায়ের করেন। এরপর আদালত গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের  নির্দেশ দেন। বিস্তারিত»

ঢাবিতে অভিজিতের মরদেহ

ঢাকা: ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ​ রায়ের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে নেয়া হয়েছে। এর আগে তার মরদেহ বাংলাদেশ প্রকৌশলল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেয়া হয়। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘মেডিকেলের মর্গ থেকে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিজিৎ রায়ের মরদেহ বুয়েটে নেয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেয়া হয়েছে।’ বৃহস্পতিবার রাত সোয়া নয়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে সন্ত্রাসীরা অভিজিৎ​ রায় ও তার স্ত্রী নাফিজা আহমেদকে কুপিয়ে জখম করে। আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অভিজিৎ​। বিস্তারিত»

সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার:সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে বর্তমান সরকার কাজ করছে। সরকারের এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।   রোববার বেলা ১১টায় কক্সবাজারের রামুতে নব গঠিত দশম পদাতিক ডিভিশনের পতাকা উত্তোলন শেষে দরবার হলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।   দেশের সর্ব দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে রামুতে এক হাজার ৭৮৮ একর জমিতে সেনাবাহিনীর একটি নতুন পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর নামকরণ করা হয়েছে দশম পদাতিক ডিভিশন। গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে এর কাজ শুরু হয়।   আজ সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে রামু সেনানিবাস ও নবগঠিত দশম পদাতিক ডিভিশনের পতাকা উত্তোলন করেন। এর আগে ১০টা ২০ মিনিটে রামু সেনানিবাসে নির্মিত হ্যালিপ্যাডে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী রামুর সেনানিবাসে পৌঁছালে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূইয়া, দশম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং মেজর জেনারেল আতাউর হালিম সরওয়ার হাসান তাকে স্বাগত জানান।   বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের উদ্দেশ্যে কক্সবাজারের রামু ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবর্গ, নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল এম.ফরিদ হাবিব, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল মো. এনামুল বারি, সংসদ সদস্যবর্গ, কূটনৈতিকগণ এবং উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।   বিস্তারিত»

এল আগুন ঝরানো মার্চ

ঢাকা:এল আগুন ঝরানো মার্চ। আমাদের স্বাধীনতার মাস। একাত্তরের মার্চ ছিল মুক্তিকামী জনতার আন্দোলনে উত্তাল। বাংলা ছিল অগ্নিগর্ভ। ঢাকা জুড়েই স্লোগান আর স্লোগান। ‘জাগো জাগো, বাঙালী জাগো’, ‘পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা’, ‘তোমার নেতা আমার নেতা, শেখ মুজিব শেখ মুজিব’, ‘তুমি কে আমি কে, বাঙালী বাঙালী’, ‘তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ’, ‘বীর বাঙালী অস্ত্র ধরো-সোনার বাংলা মুক্ত করো’, ‘পিন্ডি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা’, ‘পাঞ্জাব না বাংলা, বাংলা-বাংলা’, ‘ভুট্টোর মুখে লাথি মারো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’ এমন হাজারো স্লোগানে ঢাকাসহ উত্তাল সারাদেশ। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা হলেও চূড়ান্ত আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ১ মার্চ। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এদিন বেতার ভাষণে ৩ মার্চের গণপরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন।   সংখ্যাগরিষ্ঠ আওয়ামী লীগ দলীয়প্রধান বঙ্গবন্ধু মুজিবের সঙ্গে কোনরূপ আলোচনা ব্যতিরেকে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া কর্তৃক একতরফাভাবে ঘোষিত এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলার মানুষ ক্ষোভে-বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ঢাকা যেন আগ্নেয়গিরির মতো জ্বলে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ থেকে ছাত্ররা বের হয়ে আসে। ঘর থেকে জনতা ছুটে আসে রাজপথে, পল্টন ময়দান যেন জনসমুদ্র। হোটেল পূর্বাণীর চারদিকে জনস্রোত। ঢাকা শহরে স্লোগান আর সেøাগান।   এ সময় ঢাকা স্টেডিয়ামে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম) পাকিস্তান বনাম বিশ্ব একাদশের ক্রিকেট খেলা চলছিল। ইয়াহিয়া খানের ওই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দর্শক খেলা ছেড়ে বেরিয়ে আসে। ততক্ষণে হাজারো মানুষ পল্টন-গুলিস্তানে বিক্ষোভ শুরু করে দিয়েছে। সেই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ নেয়।   সেদিন মতিঝিল-দিলকুশা এলাকার পূর্বাণী হোটেলে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। ক্ষুব্ধ ছাত্ররা সেখানে গিয়ে প্রথমবারের মতো স্লোগান দেয়, বীর বাঙালী অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর।   ছাত্ররা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে কর্মসূচী ঘোষণার দাবি জানায়। বিক্ষোভ-স্লোগানে উত্তাল ঢাকাসহ সারাদেশ। আর কোন আলোচনা নয়, পাক হানাদারদের সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলার দাবি ক্রমশ বেগবান হতে থাকে।   উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বাইরে চলছিল বিক্ষুব্ধ বাঙালীর কঠোর কর্মসূচী দাবিতে মুহুর্মুহু স্লোগান।   বৈঠক শেষে বঙ্গবন্ধু ২ ও ৩ মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানে সর্বাত্মক হরতালের ডাক দেন এবং ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসভার ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধু স্বভাবসুলভ দৃঢ়তা নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিনা চ্যালেঞ্জে আমি কোন কিছুই ছাড়ব না। ছয় দফার প্রশ্নে আপোস করব না। দুই থেকে পাঁচ তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ২টা পর্যন্ত হরতাল চলবে। সাতই মার্চ রেসকোর্স ময়দান থেকে পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।’   সাত মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষণে ঘোষণা দেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’   ঐ ভাষণেই বঙ্গবন্ধু যার হাতে যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকতে বলেন। শত্রুর মোকাবিলা করার দৃপ্ত আহ্বানও ভেসে আসে তাঁর বজ্রকণ্ঠে।   এ ভাষণেই বাঙালি পাকিস্তানের শোষণ, নির্যাতন আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছিল। দেশের কৃষক-শ্রমিক, পেশাজীবী, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সেদিন এই একটি কণ্ঠের আহ্বানে আবিষ্ট হয়ে মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।   স্বাধীনতার আহ্বানে দেশবাসী এক হয়। এরই মধ্যে নানা কূটকৌশল ও ষড়যন্ত্র চালাতে থাকে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। তারা নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করতে থাকে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে।   এভাবেই আসে ২৫ মার্চ। কালরাত্রি। পাক হানাদার বাহিনীর ভারি অস্ত্র, কামান নিয়ে ‘অপারেশন সার্চলাইট’র নামে এ দেশের ছাত্র-জনতাসহ নিরীহ বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে নির্মম হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। রাতেই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেফতার হওয়ার আগে ২৬ মার্চ প্রত্যুষে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। সেই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে গর্জে ওঠে গোটা জাতি।   যার হাতে যা আছে তাই নিয়ে তারা শত্রুর মোকাবিলা করার জন্য ঘর হতে বেরিয়ে যায়। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, অগ্নিঝরা দিন। শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। এই পথ ধরে বাংলার দামাল ছেলেরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ছিনিয়ে আনেন একটি স্বাধীন দেশ -আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। বিস্তারিত»

ছবি ঘর

আন্দোলন চাঙা করতে নতুন কৌশল!

ঢাকা:টানা দুই মাস আন্দোলন টেনে নিয়ে যাওয়ার পর যখন দেশব্যাপী এর প্রভাব কমতে শুরু করেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে নেতা-কর্মীদের চাঙা করতে তাদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।   সশরীরে তাদের কাছে না যেতে পারলেও দীর্ঘ আন্দোলনের সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত নেতা-কর্মী ও তাদের পরিবার-পরিজনের পাশে দাঁড়াতে দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা, বিশেষ করে যারা প্রাক্তন সাংসদ, তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এই নির্দেশনার কোনো ব্যত্যয় ঘটলে ভবিষ্যতে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   দলের বেশ কয়েকটি সূত্র বলছে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের চলমান আন্দোলনের দীর্ঘসূত্রতার কারণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এর যে ব্যাপকতা ছিল, তা কমতে শুরু করেছে। তাই চলমান আন্দোলনে হরতাল-অবরোধের সঙ্গে নতুন নতুন কর্মসূচি যোগ করার চিন্তা-ভাবনা করছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে হরতাল-অবরোধের সঙ্গে গত সপ্তাহে বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে আজ রোববার গণমিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে দলের মুখপাত্র সালাহ উদ্দিন আহমদ। মূলত এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নেতা-কর্মীদের মাঠে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ঢাকার বিভিন্ন স্পটে কেন্দ্রীয় নেতাদেরও রাজপথে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   জানা যায়, আগামী সপ্তাহ থেকে রাজধানীতে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি জোরদারের লক্ষ্যে নতুন কৌশল নির্ধারণ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। বিশেষ করে খালেদা জিয়া গ্রেফতার হলেই ঢাকার রাজপথে নামবেন তারা। কেন্দ্রীয় এসব নেতাদের উপস্থিতিতে হরতালের পক্ষে রাজধানীর নির্ধারিত কিছু স্পটে মিছিল করার চিন্তা-ভাবনাও চলছে। ঢাকা মহানগর বিএনপির ৫৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ থানা-ওয়ার্ডের নেতাদের মাঠে থাকার জন্য খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনাও রয়েছে। এ ছাড়া থানা পর্যায়ে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গসংগঠনগুলো পৃথক স্পট নির্ধারণ করে মিছিল-সমাবেশ করার উদ্যোগ নিচ্ছে।   দলের গুলশান কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের চলমান আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী গুম, হত্যা, নির্যাতন ও গ্রেফতার হয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের পরিবার। অনেকে কারাগারে থেকে আইনি সহায়তা পাচ্ছেন না। আর্থিকভাবেও অসহায় হয়ে পড়েছেন অনেকে। এই অবস্থায় দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মাঠপর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এসব নেতা-কর্মীর পাশে থাকতে। একই সঙ্গে সারা দেশে দলের যেসব আইনজীবী আছেন, তাদের আইনি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির প্রধান। একই সঙ্গে ক্ষতগ্রস্ত নেতা-কর্মীদের পরিবার কী অবস্থায় আছে, সে ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে তাদের তালিকা প্রস্তুত করতে নির্দেশ দিয়েছেন খালেদা জিয়া।   সূত্র বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্দেশের কোনো ব্যত্যয় ঘটলে ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী ও তাদের পরিবার-পরিজনের সঙ্গে এই ধরনের ঘটনা ঘটলে তা তাৎক্ষণিকভাবে দলীয় নেতৃবৃন্দ, দফতরের নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী ফোরামের নেতৃবৃন্দ এবং বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যারা অবস্থান করছেন, তাদের অবহিত করার জন্য নির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী তৃণমূল থেকে ব্যাপকভাবে গুলশান কার্যালয়ে ফোন আসছে। এগুলো লিপিবদ্ধ করে রাখা হচ্ছে। আর কার্যালয়ে অবস্থান করা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, উপদেষ্টা এম এ কাইয়ুম ক্ষতিগ্রস্ত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের নির্দেশ দিচ্ছেন। কখনো কখনো বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজেই ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলছেন।   জানতে চাইলে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, কেন্দ্র থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ে যেসব নেতা-কর্মী গ্রেফতার ও কারাবরণ করেছেন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় দলীয় আইনজীবীদের এ বিষয়ে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   ‘অজ্ঞাত আসামির’ নামে মামলা দিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে- অভিযোগ করে খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘আন্দোলনের এই দুই মাসে প্রায় ২০ হাজারের মতো নেতা-কর্মীকে আসামি, ১০ হাজারেরও বেশি নেতা-কর্মীকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি দিয়ে পুলিশ হয়রানি করলে আমাদের কিছু করার থাকে না।’ তবে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান বিএনপির এই নেতা।

বিস্তারিত»
স্তব্ধ রাশিয়া: বিক্ষোভ-র‌্যালি রূপ নিয়েছে শোক-র‌্যালিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:পুরো রাশিয়া স্তব্ধ হয়ে আছে এ মুহূর্তে। প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা বরিস নেমৎসভের অকস্মাৎ মৃত্যু সবাইকে বিমূঢ় করেছে। শনিবার হাজার হাজার মানুষ মোমবাতি ও ফুল নিয়ে রাজধানী মস্কোয় উপস্থিত হন। যে স্থানটিতে নেমৎসভকে গুলি করা হয় সেখানে মোম প্রজ্জ্বলন এবং পুষ্পার্পণ করেন। নেমৎসভ আজ রোববার পুতিনের ‘যুদ্ধপন্থী’ রাষ্ট্রনীতিবিরোধী এক বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন। এখন তা শোকর‌্যালিতে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি পুতিন এ ‘ঘৃণ্য’ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তি দেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তারপরও নিন্দা এড়াতে পারছেন না। নেমৎসভের সমর্থকেরা পুতিনকে এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যনায়ক হিসেবে বর্ণনা করছেন। বরিস নেমৎসভ দিনকয়েক আগে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি এও বলেছিলেন, মানুষ যেন তার অনুপস্থিতিতেও রোববারের বিক্ষোভ নিষ্ঠাসহকারে পালন করে। তার আশঙ্কা সত্যিতে পরিণত হয়েছে। গ্রেট মস্কোভরেতস্কি সেতুর পর যে স্থানে নেমৎসভকে গুলি করা হয়েছে, সেখানে রাত নাগাদ ফুলের স্তুপ প্রায় এক মিটার উচ্চতা ছুঁয়েছিল। আগতদের হাতে প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমিই নেমৎসভ।’ এ বাক্যটি জানুয়ারি মাসের শুরুতে প্যারিসের শার্লি এবদো-হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনপ্রিয়তা পাওয়া ‘আমিই শার্লিকে’ অনুকরণ করে রচিত। নেমাৎসভের অনুসারীদের একজন আলেক্সান্দর বদিয়েভ, বলেন, ‘এটা পরিষ্কারভাবে পুতিনের নির্দেশে হয়েছে। এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।’ তার মৃত্যুর পর মস্কোয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের অংশগ্রহণে একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। তারা হত্যাকারীর একাধিক উদ্দেশ্যের আভাস পেয়েছেন। বলা হচ্ছে, নেমৎসভের ইউক্রেনযুদ্ধ-বিরোধী অবস্থান, তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবন, বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক ইসলামি চরপন্থা, রাশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলার উদ্দেশ্য- প্রভৃতি বিষয় সামনে চলে এসেছে। সরকারপন্থী সূত্রগুলো বলছে, নেমৎসভ পুতিনবিরোধী শক্তির চক্রান্তের শিকার হয়েছেন। ঐ শক্তি রাশিয়ায় অরাজকতা চলছে- এমন দেখাতে চায়। নেমৎমসভের মৃত্যু সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি পেত্রো পোরোশেঙ্কো। তিনি বলেছেন, ‘বরিসের কাছে প্রমাণ ছিল যে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে যুদ্ধে রাশিয়ার সেনাবাহিনী জড়িত। কেউ হয়ত সেই প্রমাণাদি নিয়ে ভীত ছিল। তাই হত্যা করেছে।’ মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা এ হত্যাকাণ্ডকে ‘নৃশংস’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, রুশ প্রশাসনের উচিৎ এর ত্বরিৎ, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ একটি তদন্তকার্য পরিচালনা করা। রাশিয়ার প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টি অব রাশিয়ার প্রধান, সাবেক বিজ্ঞানী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী বরিস নেমৎসভ (৫৫) ২৮ ফেব্রুয়ারি- শুক্রবার রাতে তার বান্ধবী আনা দুরিৎস্কায়ার সঙ্গে রাতের খাবার শেষে ক্রেমলিন ও রেড স্কয়ারের মধ্যবর্তী গ্রেট মস্কোভরেতস্কি সেতুপায়ে হেঁটে পেরোনোর সময় একটি সাদা সিডান গাড়ি তার পথ রোধ করে। ভেতর থেকে তাকে লক্ষ্য করে পিস্তল দিয়ে পরপর চারটি গুলি করা হয়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন নেমৎসভ। স্থানীয় সময় তখন রাত ১১:৪০।

বিস্তারিত»
ঘটনাস্থলে নেয়া হচ্ছে অভিজিতের মরদেহ

ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে অভিজিৎ রায়ের মরদেহে শ্রদ্ধা জানানো শেষে তাকে হত্যার ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রোববার সকাল ১০ টা ৪০ মিনিটে তার মরদেহ অপরাজেয় বাংলায় আনা হয়। এসময় শত শত মানুষ, ছাত্র,শিক্ষক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের  নেতাকর্মীরা তার মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। জানা গেছে, ঘটনাস্থলে শ্রদ্ধা জানানো শেষে মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হবে। সেখানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। অভিজিতের মৃত্যুর পরদিন তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তার মরদেহ চিকিৎসা ও গবেষণার জন্য ঢামেকে দান করা হবে।

বিস্তারিত»
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ধুঁকছে পাকিস্তান

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচ হেরে এই মুহূর্তে টালমাটাল অবস্থা পাকিস্তানের। ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই টুর্নামেন্টে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হয়েছে মিসবাহ-উল-হকের দল।   রোববার ‘গ্যাবা’ নামে পরিচিত ব্রিসবেন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক মিসবাহ।   তবে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়কের সিদ্ধান্তের সঠিক জবাব দিতে পারেননি দুই ওপেনার নাসির জামশেদ ও আহমেদ শেহজাদ। স্কোরবোর্ডে ৪ রান জমা করতেই বিদায় নিয়েছেন দুজন।   দলীয় ১ রানে ব্যক্তিগত ১ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন জামশেদ। টেন্ডাই চাতারার বলে সিকান্দার রাজার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।   এরপর দলীয় ৪ রানে ওই চাতারার বলেই ব্রেন্ডন টেলরের হাতে ক্যাচ তুলে দেন শেহজাদ। ১১ বল মোকাবিলা করেও রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি।   এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৪ ওভার শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ২ উইকেটে ২৬ রান। হ্যারিস সোহেল ১৩ ও মিসবাহ ৭ রানে অপরাজিত আছেন।   এই ম্যাচে বাদ পড়েছেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান ইউনুস খান। তার বদলে দলে এসেছেন পেসার রাহাত আলী।   বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের কাছে কখনোই হারেনি পাকিস্তান। দুই দলের ৫ দেখায় পাকিস্তান ৪টিতে জিতেছে। অপর ম্যাচটির ফল হয়নি।

বিস্তারিত»
হত্যা মামলা : খালেদার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ১৬ এপ্রিল

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশব্যাপী হরতাল-অবরোধে সহিংসতায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৪২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য ১৬ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত।   রোববার এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। নির্ধারিত দিনে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকা মহানগর হাকিম(সিএমএম) আসাদুজ্জামান নূর পরবর্তী এ দিন ধার্য করে আদেশ দেন।   এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শমসের মবিন চৌধুরী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদ।   জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার গুলশান কার্যালয়ে ৫ জানুয়ারি বিকেল ৫টায় সারা দেশে অবরোধ পালনের ঘোষণা দেন এবং এর পর দফায় দফায় হরতালের আহ্বান করেন। এ কর্মসূচির ঘোষণার পর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৪২ মারা গেছেন এবং সরকারের কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এ সব ঘটনায় গত ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুর রহমানের আদালতে জননেত্রী পরিষদের সভাপতি মামলাটি দায়ের করেন। এরপর আদালত গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের  নির্দেশ দেন।

বিস্তারিত»
ফুলবাড়িয়া ও রায়েরবাগে ৩ বাসে আগুন-ভাঙচুর

ঢাকা: বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের লাগাতার অবরোধের ৫৫তম ও ৭২ ঘণ্টা হরতালের প্রথম দিন সকালে রাজধানীর ফুলবাড়িয়া ও রায়েরবাগে তিনটি গাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়া ভাঙচুর করা হয়েছে কয়েকটি যানবাহন। রোববার সকাল নয়টার দিকে ফুলবাড়িয়া ও রায়েরবাগে এ অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফুলবাড়িয়া টার্মিনালে পার্ক করে রাখা ঢাকা-দোহার ও ঢাকা মাওয়া রুটে চলাচলকারী দু’টি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। তবে পুলিশ বা আইন-প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর খবর পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভায় দমকলকর্মীরা। কিছুক্ষণ পর রায়েরবাগের পুনম সিনেমা হলের সামনে বিআরটিসির একটি যাত্রীবাহী বাসে হামলা করে যাত্রীদের নামিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এরপর পেট্রল বোমা দিয়ে বাসটিতে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌছার আগেই বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।   এ ছাড়া সেখানে রাস্তার উল্টো মোড়ে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে ঢাকা-নারয়ণগঞ্জ রুটে চলাচলরত বন্ধন পরিবহনের যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে বাসটিতে ব্যাপক ভাংচুর চালায় একদল দুর্বৃত্ত। খবর পেয়ে আইনশৃখলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই তারা পালিয়ে যায়। তবে এসব ঘটনায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

বিস্তারিত»
মায়ান্তি ও স্টুয়ার্ট ভারতীয় ক্রিকেটের অন্য এক প্রেমকাহিনী

ক্রীড়া ডেস্ক:এখনও কাপ-যুদ্ধে প্রথম এগারোয় না থাকলে কী হবে, স্বামী যে কোনোদিন চলে আসতে পারেন প্রথম এগারোয়৷ আর স্ত্রী এই মুহূর্তে টিভির সৌজন্যে ভারতে সবচেয়ে পরিচিত মুখ৷ স্টার স্পোর্টস খুললেই তো তাকে দেখছে গোটা ভারত! স্টুয়ার্ট বিনি ও মায়ান্তি ল্যাঙ্গার৷ একজনের এখনও কাপ অভিষেক হয়নি আর অন্যজন, ২০১১ বিশ্বকাপে ছিলেন, কিন্ত্ত ২০১৫ বিশ্বকাপে সুপারহিট৷ যিনি ২০০৩ বিশ্বকাপের মন্দিরা বেদীর মতো স্প্যাগেটি টপ দিয়ে বাজিমাত করছেন না, তার বদলে তার ইউএসপি কিশোরীর চাপল্য আর অতিরিক্ত জ্ঞান জাহির না করার প্রবণতা৷ সময় করাই ছিল, ওয়াকায় ঠিক সময়মতো সাক্ষাৎকারের জন্য হাজির মায়ান্তি৷ 'অ্যাঙ্করিংটা এখন আমার কেরিয়ার, নিজের একশো শতাংশ এখানে দিচ্ছি আর প্রতিদিনই শিখছি,' বলছিলেন মায়ান্তি৷   বোর্ডের নীতি অনুযায়ী বিশ্বকাপের সময় ভারতীয় ক্রিকেটাররা স্ত্রী বা বান্ধবীদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না৷ যে কারণে আনুশকা শর্মা নেই অস্ট্রেলিয়ায়৷ আর মায়ান্তি প্রতিদিনের শো নিয়ে এত ব্যস্ত যে তার সময়ই নেই৷ 'স্টুয়ার্ট পেশাদার ক্রিকেটার, আমিও একজন পেশাদার৷ এর আগে বিশ্বকাপে ২০১১ সালে কাজ করেছি, কিন্তু ২০১৫ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া কাজ করার অভিজ্ঞতাটাই অন্যরকম৷ ও ওর কাজ করছে, আমি আমার৷ অন্য কিছু নিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ভাবার সময়ই নেই৷ প্রতিদিনের শো নিয়ে ভাবতেই তো সময় কেটে যায়,' বলছেন মায়ান্তি৷ দু'জনের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনায় অহেতুক আগ্রহী নন কেউই, কিন্তু বেঙ্গালুরুর ক্রিকেটমহলে উঁকি মারলেই শোনা যায় স্টুয়ার্ট-মায়ান্তির প্রেমকাহিনি৷ ২০১২ সালে বিয়ে, কিন্তু বিয়ের পরেই বদলে যায় স্টুয়ার্টের ভাগ্য৷ বাংলাদেশ সফরে গিয়ে চার রানে ছয় উইকেট, ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট বাঁচানো ইনিংস৷ বেঙ্গালুরুতে বলা হয়, স্ত্রী ভাগ্যেই বদলে গিয়েছে স্টুয়র্টের ভাগ্য৷ রজার বিনির ছেলের বিশ্বকাপ টিমে থাকা নিয়েও কম পানিঘোলা হয়নি৷ কিন্তু অলরাউন্ডার হিসেবে পারফরম্যান্সের বিচারে তিনিই এখন দেশের এক নম্বর৷ নিউ জিল্যান্ডে দুটো গ্রুপ লিগের ম্যাচে বা নক আউটে তাকে লাগতেই পারে ভারতের৷ মায়ান্তি অবশ্য সেসব নিয়ে ভাবিত নন৷ অকপটে বলছেন, 'ভারত বিশ্বকাপ জিতবে কি না বা স্টুয়ার্ট খেলবে কি না, সেটা নিয়ে আমি ভাবি না৷ স্টার স্পোর্টসের টিমে আমি একজন সদস্য মাত্র৷ ক্রিকেট ভারতের জনপ্রিয়তম খেলা, আমাদের দেশ বিশ্বকাপে খেলে৷ আমার কাজ হলো, কভারেজটা যাতে সবার ভালো লাগে৷ সেটা করতে পারলেই আমি মনে করব কাজটা ঠিকঠাক করতে পেরেছি৷ তা হলেই আমরা কাপ জিতব৷' কিন্তু আপনি তো ফুটবল-ক্রিকেট দুটোতেই স্বচ্ছন্দ৷ আইএসএল করে উঠেই বিশ্বকাপ ক্রিকেট৷ অসুবিধা হয়নি? এবার হাসছেন মায়ান্তি, 'সোজা তো নয়ই৷ কিন্তু আমার পক্ষে খুব কঠিন হয়নি, কারণ যখন ছোট ছিলাম, তখন থেকেই সব খেলা ভালোবাসতাম৷ ফুটবল বা ক্রিকেট বলে বাছবিচার করিনি৷ সব খেলাই আমার দেখতে ভালো লাগে৷ ব্যাডমিন্টন, টেবল টেনিস, হকি, সব৷ অলিম্পিকে অ্যাঙ্করিং করতে হলেও আমি কিন্তু পারব৷ কারণ আমি যেকোনো খেলা খুব তাড়াতাড়ি ধরে নিতে পারি৷' স্পেন যখন ফুটবল বিশ্বকাপ জিতেছিল, ফাইনালের পরে মাঠেই দৌড়ে গিয়ে প্রেমিক ও অধিনায়ক কাসিয়াসকে চুমু খেয়েছিলেন স্প্যানিশ টিভির অ্যাঙ্কর সারা কার্বোনেরো৷ তেমন কিছু কি ভারত বিশ্বকাপ জিতলে হতে পারে না? হাসিতে ফেটে পড়লেন মায়ান্তি, যিনি নিজেকে মোটেই 'ফিমেল অ্যাঙ্কর' বলতে চান না, তার বদলে পছন্দের শব্দ স্পোর্টস প্রেজেন্টার৷ 'এটা বাড়াবাড়ি হয়ে গেল না? আমি ফুটবল খুব ভালোবাসি৷ ওই ঘটনাটা জানি৷ ওটার সঙ্গে আমাদের কোনো তুলনা হয় না৷ তা ছাড়া এখন তো নক আউটই শুরু হয়নি!' একটাও রি-টেক হয় না, ম্যাচের আগে প্রতিটা শো-ই লাইভ৷ প্রত্যেক দিন সকালে নিজের মতো করে তৈরি হন মায়ান্তি৷ কী ভাবে? উত্তরটা শুনুন, 'বিশ্বকাপে ভারত-ইউএই ম্যাচে অ্যাঙ্করিং করছি মানে সেটাই সব নয়৷ অকল্যান্ড ম্যাচে কী হচ্ছে, জানতে হবে, সেটাও শো-তে বলতে হবে৷ মুখস্ত করে এখানে জেতা যায় না৷ কাজটা ভালোবাসতে হবে৷' যে মেয়ে খেলাকে এত ভালোবাসে, তাকে কে হারাবে? অসম্ভব!- ওয়েবসাইট।

বিস্তারিত»
কাল ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব

ঢাকা: এক দিনের শুভেচ্ছা সফরে সোমবার ঢাকায় আসছেন ভারতের নয়া পররাষ্ট্র সচিব সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর। তার এ সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের বিষয়টি চুড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক উন্নয়ন ছাড়াও আগামীতে দুইদেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।   পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের একটি সূত্র ভারতের নতুন পররাষ্ট্র সচিবের সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্করের ঢাকা সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   পররাষ্ট্র সচিব হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্করের  প্রথম বিদেশ সফর। পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সূত্রটি জানায়, জয়শঙ্করের এটি  শুভেচ্ছা সফর। এটি কোনো দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক নয়। এই সফরে দুইদেশের মধ্যে কোনো চুক্তি বা সমাঝোতা স্মরাক স্বাক্ষর হওয়ার সুযোগ নেই। তবে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।’ সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর শুভেচ্ছা সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

বিস্তারিত»
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার দুর্দান্ত জয়

ক্রীড়া ডেস্ক :বিশ্বকাপের ২২তম ম্যাচে ইংল্যান্ডের দেওয়া ৩১০ রানের বড় লক্ষ্যে তাড়া করেও ৯ উইকেটে জিতেছে শ্রীলঙ্কা। জোড়া সেঞ্চুরিতে লঙ্কানদের দুর্দান্ত জয় এনে দেন লাহিরু থিরিমান্নে ও কুমার সাঙ্গাকারা।   রোববার নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে টস জিতে ব্যাট করে জো রুটের সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ৩০৯ রানের বড় স্কোর গড়ে ইংল্যান্ড। জবাবে ৯ উইকেট ও ১৬ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা।   বড় লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দলকে দারুণ সূচনা এনে দেন দিলশান ও থিরিমান্নে। ওপেনিং জুটিতে ১৯ ওভারে ১০০ রান যোগ করেন এই দুজন। ৪৪ রান করে মঈন আলীর বলে ইয়ান মরগানের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন  দিলশান। তার ৫৫ বলের ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ২টি ছক্কার মার।   এরপর সাঙ্গাকারার সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে দারুণ এক জয় এনে দেন থিরিমান্নে। ১৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি করা থিরিমান্নে। তার ১৩৪ বলের ইনিংসে ছিল ১৩টি চার ও ২টি ছক্কার মার। ৮৬ বলে ১১৭ রান করে অপরাজিত থাকেন সাঙ্গাকারা। ইনিংসে ১১টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান তিনি।   এর আগে জো রুটের সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ৩০৯ রানের বড় স্কোর গড়ে ইংল্যান্ড। দলের পক্ষে রুট করেন সর্বোচ্চ ১২১ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৯ রান আসে ইয়ান বেলের ব্যাট থেকে। শ্রীলঙ্কার ৬ বোলার একটি করে উইকেট ভাগ করে নেন।   টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৬২ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন মঈন আলী ও ইয়ান বেল। সুরাঙ্গা লাকমালের বলে বিদায় নেওয়ার আগে ১৫ রান করেন আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি পাওয়া মঈন। তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ভাল করতে পারেননি গ্যারি ব্যাল্যান্স। দলীয় ৭১ রানে তিনি ফেরেন ব্যক্তিগত ৬ রান করে। ব্যাল্যান্সকে ফিরতি ক্যাচে পরিণত করেন তিলকারত্নে দিলশান।   তৃতীয় উইকেটে জো রুটের সঙ্গে ৩০ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন বেল। মাত্র ১ রানের জন্য ফিফটি মিস করেন তিনি। লাকমালের বলে বোল্ড হয়ে বিদায় নেন বেল।   এরপর চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক ইয়ান মরগানের সঙ্গে ৬০ রানের বড় জুটি গড়েন রুট। মরগান ২৭ রান করে বিদায় নিলেও এক প্রান্ত আগলে রাখেন রুট। সেই সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে জেমস টেলরের সঙ্গে ৯৮ রানের আরেকটি বিশাল জুটি গড়েন তিনি। ২৫ রান করে লাসিথ মালিঙ্গার বলে দিলশানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন টেলর।   ইনিংসের ৪৪তম ওভারে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের বলে চার মেরে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি পূরণ করেন রুট। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে কনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরির গৌরব অর্জন করেন তিনি। দলীয় ২৬৫ রানে রঙ্গনা হেরাথের বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন রুট। ১০৮ বলে ১৪ চার ও ২ ছক্কায় ১২১ রান করেন তিনি।   অার শেষ দিকে জশ বাটলারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে স্কোর ৩০০ রানের কোটা পার করে ইংল্যান্ড। ১৯ বলে ৩৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন বাটলার। ৬ চার ও ১ ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংস। এ ছাড়া ৮ বলে ৯ রান করে অপরাজিত থাকেন ক্রিস ওয়াকস।

বিস্তারিত»
রাজধানীতে বিএনপি-জামায়াতের ১১ কর্মী আটক

ঢাকা: রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ১১ কর্মীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখা থেকে রোববার সকাল আটটায় মোবাইল ফোনে পাঠানো এক খুদে বার্তায় এ তথ্য  জানানো হয়।   পুলিশ জানায়, শনিবার ভোর ছয়টা থেকে রোববার ভোর ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে বিএনপির সাতজন ও জামায়াত-শিবিরের চারজন কর্মী রয়েছেন।

বিস্তারিত»
ইয়াবাসহ সাবেক আইজিপির ছেলে আটক

ঢাকা: রাজধানীর বনানী থানা এলাকা থেকে শনিবার রাতে ইয়াবাসহ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক আশরাফুল হুদার ছেলে শামসুল হুদাকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে মো. জুয়েল (২৬) নামের এক যুবককেও আটক করা হয়। বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ভূঁইয়া মাহবুব হাসান আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।   বনানী থানার পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে শনিবার রাতে বনানীর ১৪ নম্বর সড়কের ৯০ নম্বর বাসার সামনে থেকে ৩৮টি ইয়াবাসহ ওই দুইজনকে আটক করা হয়।

বিস্তারিত»
‘নিখোঁজ নওহাটা পৌর মেয়র গফুরকে হত্যা করা হয়েছে’

রাজশাহী: রাজশাহী নওহাটা পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল গফুরকে হত্যা করা হয়েছে। কথিত চিকিৎসক জান্নাতুন সালমা মিম রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। রোববার এ বিষয়ে আদালতে মিমের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে পবা থানা পুলিশ।   মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পবা থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ রোববার গভীর রাতে জানান, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মিম স্বীকার করেছে মেয়র আব্দুল গফুরকে হত্যা করা করেছে। তবে কোথায়, কখন ও কিভাবে মেয়র আব্দুল গফুরকে হত্যা করা হয়েছে এ বিষয়ে ওসি তদন্ত কিছুই জানাননি। ওসি তদন্ত জানান, রোববার মিমের জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আদালতে নেয়া হবে। সেখানেই বিষয়টি পরিষ্কার জানা যাবে। তবে পুলিশের একটি সুত্র জানিয়েছে, মেয়র আব্দুল গফুরকে ৬ জানুয়ারির দিকে ঢাকায় হত্যা করা হয় ও গোপন করতে লাশ মাটিতে পুতে ফেলা হয়।   পবা থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, আটক মিম ও তার দুই বোনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছিলো। তাদেরকে রিমান্ডে আনার চেষ্টা ছিলো অনেক আগে থেকেই। তবে অবরোধ ও হরতালের কারণে আদালত বন্ধ থাকায় মিমসহ তিন বোনকে রিমান্ডে আনা সম্ভব হচ্ছিলো না। অবশেষে বৃহস্পতিবার থেকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে আদালত তিন বোন কথিত ডা. জান্নাতুল সালমা মীম, জান্নাতুন নাইম ও জান্নাতুন ফেরদৌসকে দুই দিনের রিমান্ডের অনুমতি দেয়। এরআগে ১৯ জানুয়ারি মেয়রের বর্তমান স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা পারুল বাদি হয়ে পবা থানায় অপহরণের মামলা করেন। উল্লেখ্য, নওহাটা পৌরসভা ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর মেয়র ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। চলতি বছরের জানুয়ারির ২ তারিখ পর্যন্ত পরিবার ও নিকট আত্মীয়দের সঙ্গে মোবাইলের মাধ্যমে মেয়রের যোগাযোগ হয়। এরপর থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন মোবাইলে ম্যাসেজ আসতে থাকে। কিন্তু পরক্ষনেই মেয়রের মোবাইলে ফোন করলে তা বন্ধ থাকে। এতে সন্দেহ দেখা দেয়। শেষে একজনের মোবাইলে ম্যাসেজে বলা হয়, এখন আমাকে হারালে। মাঝখানে মেয়রের ছেলের মোবাইলে দু’টি নাম্বারে ২৫ হাজার টাকা করে ৫০ হাজার টাকা বিকাশ চায়। এতে অপহরণের সন্দেহের তীর আরো বেগবান হয়। এদিকে মামলার পরেই কথিত ডা. জান্নাতুন সালমা মীমকে ঢাকা থেকে আটক করা হয়। পরে ঘটনা সন্দেহে ৩১ জানুয়ারি মীমের দু’বোন জান্নাতুন নাইম ও জান্নাতুন ফেরদৌসকে নওগাঁ ও ঢাকা আটক করে আদালতে পাঠানো হয়।

বিস্তারিত»
ঢাবিতে অভিজিতের মরদেহ

ঢাকা: ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ​ রায়ের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে নেয়া হয়েছে। এর আগে তার মরদেহ বাংলাদেশ প্রকৌশলল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেয়া হয়। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘মেডিকেলের মর্গ থেকে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিজিৎ রায়ের মরদেহ বুয়েটে নেয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেয়া হয়েছে।’ বৃহস্পতিবার রাত সোয়া নয়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে সন্ত্রাসীরা অভিজিৎ​ রায় ও তার স্ত্রী নাফিজা আহমেদকে কুপিয়ে জখম করে। আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অভিজিৎ​।

বিস্তারিত»
 জয়পুরহাটে বাসে আগুন ও হাত বোমা, আহত ১

জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে রোববার ভোর সাড়ে ৬টায় বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়ানো দুটি বাসে পেট্রোল দিয়ে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে রতন (১৯) নামের এক বাস হেলপার আহত হয়েছে।   এলাকাবাসী ও থানা সূত্রে জানা গেছে, আক্কেলপুর বাসস্ট্যান্ডে ওই সময় ৮/১০ জনের এক দল দুর্বৃত্ত প্রথমে বাস ভাঙচুর করতে লাগে। পরে শ্রমিকরা বাধা দিলে হাত বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে  এবং পেট্রোল ঢেলে দুটি বাসে আগুন দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এই সময় বাসের এক হেলপার আহত হয়।   আহত বাস হেলপার বগুড়া জেলার দুপচাচিয়া উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের আজগর আলীর ছেলে। তাকে আক্কেলপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   আক্কেলপুর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বিস্তারিত»
অভিজিৎ হত্যায় উল্লাসকারীদেরও শনাক্ত করা হচ্ছে

ঢাকা: অমর একুশে গ্রন্থমেলা চত্বরে স্থাপিত ৪০টি সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে খোঁজা হচ্ছে ব্লগার-লেখক ড. অভিজিৎ রায়ের ঘাতকদের। একই সঙ্গে তার মৃত্যুর পর উল্লাস প্রকাশ করে যারা বিভিন্ন ব্লগ ও ফেসবুকে মন্তব্য করছে তাদের পরিচয়ও শনাক্তে কাজ করছে সংশ্লিষ্টরা। পুলিশের রমনা বিভাগের সহকারী কমিশনার শিবলী নোমান বলেন, বইমেলা কেন্দ্রিক ৪০টি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। তবে যেখানে অভিজিৎ রায় খুন হয়েছে, সেখানে কোনো সিসি ক্যামেরা ছিল না। যেহেতু খুনিরা আগে থেকেই তাকে অনুসরণ করছিল, তাই ওই সময়ের বইমেলা কেন্দ্রিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত চলছে। র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ জানান, বাংলাদেশে আসার পর ফেসবুক ও ব্লগে অভিজিৎ একুশে বইমেলায় তার প্রকাশিত বই সম্পর্কে তথ্য দিয়েছিলেন। বই প্রকাশকে কেন্দ্র করে দেশে এসেছিলেন, এটিও তিনি সেখানে উল্লেখ করেছেন। ফেসবুক ও ব্লগের এসব তথ্য ঘাতকরা আগে থেকে ফলো করছিল। এর পাশাপাশি তার মোবাইল ফোনে কোনো সন্দেহজনক কল আছে কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে। অভিজিৎ হত্যার ঘটনার পর মৌলবাদী বিভিন্ন মতাদর্শের ব্লগে উল্লাস প্রকাশ করেছে এবং তাকে ধর্মবিদ্বেষী প্রমাণের সপক্ষে নানা তথ্য দিয়েছে। ওইসব ব্লগে উল্লাস প্রকাশকারীদের সঙ্গে হত্যার কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা র‌্যাব খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা। ইতোমধ্যে অন্তত ৪টি ব্লগ ব্যবহারকারীদের র‌্যাব শনাক্ত করেছে যারা অভিজিৎ হত্যার পর উল্লাস প্রকাশ করেছে। ব্লগার আহমেদ রাজীব হত্যার নেপথ্যে প্রধান পরিকল্পক রানাকে খুঁজছে ডিবি ও র‌্যাব। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিজিতের খুনিদের গ্রেপ্তার করতে তদন্তে আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই। পুলিশের একাধিক টিম ঢাকা ও ঢাকার বাইরে কাজ করছে। জঙ্গিরাই এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা পাওয়া গেছে। অনেকগুলো বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে।

বিস্তারিত»
সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার:সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে বর্তমান সরকার কাজ করছে। সরকারের এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।   রোববার বেলা ১১টায় কক্সবাজারের রামুতে নব গঠিত দশম পদাতিক ডিভিশনের পতাকা উত্তোলন শেষে দরবার হলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।   দেশের সর্ব দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে রামুতে এক হাজার ৭৮৮ একর জমিতে সেনাবাহিনীর একটি নতুন পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর নামকরণ করা হয়েছে দশম পদাতিক ডিভিশন। গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে এর কাজ শুরু হয়।   আজ সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে রামু সেনানিবাস ও নবগঠিত দশম পদাতিক ডিভিশনের পতাকা উত্তোলন করেন। এর আগে ১০টা ২০ মিনিটে রামু সেনানিবাসে নির্মিত হ্যালিপ্যাডে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী রামুর সেনানিবাসে পৌঁছালে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূইয়া, দশম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং মেজর জেনারেল আতাউর হালিম সরওয়ার হাসান তাকে স্বাগত জানান।   বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের উদ্দেশ্যে কক্সবাজারের রামু ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবর্গ, নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল এম.ফরিদ হাবিব, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল মো. এনামুল বারি, সংসদ সদস্যবর্গ, কূটনৈতিকগণ এবং উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।  

বিস্তারিত»
নাটোরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

নাটোর: নাটোর সদর উপজেলায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।   রোববার সকালে উপজেলার একডালা বাবুর পুকুরপাড় এলাকায় নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহত মনছুর রহমান (৫৫) জেলার বাগতিপাড়া উপজেলার করমদশি গ্রামের প্রয়াত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি নাটোর সদর হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় ছিলেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রোববার সকালে মনছুর হাসপাতাল থেকে মোটরসাইকেলে করমদশি গ্রামে নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে একডালা বাবুর পুকুরপাড় এলাকায় রাজশাহীগামী হিমেল পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। পরে স্থানীয়রা আশঙ্কজনক অবস্থায় মনছুরকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আবুল কালাম আজাদ জানান, মনছুর শনিবার রাতে হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। দায়িত্ব পালন শেষে সকালে তিনি মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন।   নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।

বিস্তারিত»
শ্রীলংকাকে ৩১০ রানের টার্গেট দিল ইংল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক:শ্রীলংকাকে ৩১০ রানের টার্গেট দিল ইংল্যান্ড। টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ইংল্যান্ড ৫০ ওভারে ছয় উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ৩০৯ রান।   ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ১২১ রান (১০৮ বলে) করেন রুট। তার এই ইনংসটি ছিল ১৪টি চার ২ টি ছয়ে সাজানো।   দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মঈন আলী আর বেলের ব্যাটে ভালো সূচনা করে এবারের বিশ্বকাপে বেকায়দায় থাকা দলটি। দশম ওভারে ম্যাথুসের বলে ধরা পড়েন মঈন আলী ১৫ (২৬)। এর আগে উদ্বোধনী জুটিতে দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬৩। অন্য উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে করেন ৪৯ রান (৫৪)।   অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে লাসিথ মালিঙ্গা, লাকমাল, ম্যাথুস, দিলশান, হেরাথ ও পেরেরা একটি করে উইকেট নেন।   ওয়েলিংটনের এই মাঠেই এক সপ্তাহ আগে মোটে ১২৩ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিলো ইংল্যান্ডের ইনিংস।   এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত একেবারেই যাচ্ছেতাই অবস্থা ইংল্যান্ড দলের। এখন পর্যন্ত খেলা তিনটি ম্যাচের দুটোতেই হেরেছে দলটি। মোটে দুই পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের একেবারে তলানির দিকে অবস্থান করছে তারা। পয়েন্ট টেবিলে ইংল্যান্ডের অবস্থান এমনকি আফগানিস্তানেরও নিচে। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে আজকের ম্যাচে জয় তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিস্তারিত»
রাজশাহীতে দুই বাসে পেট্রোল বোমা, বিএনপি কর্মী গুলিবিদ্ধ

রাজশাহী : রাজশাহীতে কাউন্টারের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হানিফ পরিবহণের দুটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা মেরেছে দুর্বৃত্তরা। এতে বাস দুটি পুড়ে যায়। রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর শিরোইলে অবস্থিত হানিফ কাউন্টারের পাশে এই ঘটনা ঘটে।   ঘটনার সময় পুলিশের গুলিতে আহতাবস্থায় আটক হয়েছে রিংকু নামের স্থানীয় এক বিএনপি কর্মী। পরে রিংকুর কাছ থেকে দুটি পেট্রোল বোমা, কয়েকটি লোহার রড ও একটি চাকু উদ্ধার করেছে পুলিশ। রিংকুর বাম পায়ের হাটুর নিচে গুলিবিদ্ধ হয়েছে।   রিংকু নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তরিকুল ইসলাম পল্টুর ভাতিজা।  তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় ভর্তি করা হয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে ওই এলাকা থেকে আটক করা হয় সন্দেহভাজন আরো দুইজনকে। তবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হানিফ কাউন্টারের পাশে দাঁড়ানো অবস্থায় ছিল দুটি বাস। বাস দুটি লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ছুড়ে দুর্বৃত্তরা। তবে বাসে যাত্রী না থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।   রাজশাহী সদর দমকল বাহিনীর সিনিয়র স্টেশন অফিসার শরিফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।   এ ঘটনায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।   হানিফের রাজশাহী কাউন্টারের ম্যানেজার মঞ্জুর রহমান খোকন জানান, হরতাল-অবরোধের সময় ওই স্থানে বাস রাখা হয়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পর পর দুটি পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণের পর গাড়িগুলো পুড়তে দেখা যায়। এ সময় দুইজনকে ধাওয়া দিলে একজন পালিয়ে যায় ও একজনকে আটক করা হয়।   বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, আটক রিংকুসহ কয়েকজন এই ঘটনা ঘটায়। ওই সময় পুলিশ ধাওয়া দিলে পুলিশের ওপরে চড়াও হয় তারা। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালালে রিংকুর বাম হাটুর নিচে গুলি লাগে। পরে তাকে আহতাবস্থায় রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিস্তারিত»
এল আগুন ঝরানো মার্চ

ঢাকা:এল আগুন ঝরানো মার্চ। আমাদের স্বাধীনতার মাস। একাত্তরের মার্চ ছিল মুক্তিকামী জনতার আন্দোলনে উত্তাল। বাংলা ছিল অগ্নিগর্ভ। ঢাকা জুড়েই স্লোগান আর স্লোগান। ‘জাগো জাগো, বাঙালী জাগো’, ‘পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা’, ‘তোমার নেতা আমার নেতা, শেখ মুজিব শেখ মুজিব’, ‘তুমি কে আমি কে, বাঙালী বাঙালী’, ‘তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ’, ‘বীর বাঙালী অস্ত্র ধরো-সোনার বাংলা মুক্ত করো’, ‘পিন্ডি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা’, ‘পাঞ্জাব না বাংলা, বাংলা-বাংলা’, ‘ভুট্টোর মুখে লাথি মারো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’ এমন হাজারো স্লোগানে ঢাকাসহ উত্তাল সারাদেশ। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা হলেও চূড়ান্ত আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ১ মার্চ। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এদিন বেতার ভাষণে ৩ মার্চের গণপরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন।   সংখ্যাগরিষ্ঠ আওয়ামী লীগ দলীয়প্রধান বঙ্গবন্ধু মুজিবের সঙ্গে কোনরূপ আলোচনা ব্যতিরেকে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া কর্তৃক একতরফাভাবে ঘোষিত এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলার মানুষ ক্ষোভে-বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ঢাকা যেন আগ্নেয়গিরির মতো জ্বলে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ থেকে ছাত্ররা বের হয়ে আসে। ঘর থেকে জনতা ছুটে আসে রাজপথে, পল্টন ময়দান যেন জনসমুদ্র। হোটেল পূর্বাণীর চারদিকে জনস্রোত। ঢাকা শহরে স্লোগান আর সেøাগান।   এ সময় ঢাকা স্টেডিয়ামে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম) পাকিস্তান বনাম বিশ্ব একাদশের ক্রিকেট খেলা চলছিল। ইয়াহিয়া খানের ওই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দর্শক খেলা ছেড়ে বেরিয়ে আসে। ততক্ষণে হাজারো মানুষ পল্টন-গুলিস্তানে বিক্ষোভ শুরু করে দিয়েছে। সেই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ নেয়।   সেদিন মতিঝিল-দিলকুশা এলাকার পূর্বাণী হোটেলে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। ক্ষুব্ধ ছাত্ররা সেখানে গিয়ে প্রথমবারের মতো স্লোগান দেয়, বীর বাঙালী অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর।   ছাত্ররা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে কর্মসূচী ঘোষণার দাবি জানায়। বিক্ষোভ-স্লোগানে উত্তাল ঢাকাসহ সারাদেশ। আর কোন আলোচনা নয়, পাক হানাদারদের সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলার দাবি ক্রমশ বেগবান হতে থাকে।   উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বাইরে চলছিল বিক্ষুব্ধ বাঙালীর কঠোর কর্মসূচী দাবিতে মুহুর্মুহু স্লোগান।   বৈঠক শেষে বঙ্গবন্ধু ২ ও ৩ মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানে সর্বাত্মক হরতালের ডাক দেন এবং ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসভার ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধু স্বভাবসুলভ দৃঢ়তা নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিনা চ্যালেঞ্জে আমি কোন কিছুই ছাড়ব না। ছয় দফার প্রশ্নে আপোস করব না। দুই থেকে পাঁচ তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ২টা পর্যন্ত হরতাল চলবে। সাতই মার্চ রেসকোর্স ময়দান থেকে পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।’   সাত মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষণে ঘোষণা দেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’   ঐ ভাষণেই বঙ্গবন্ধু যার হাতে যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকতে বলেন। শত্রুর মোকাবিলা করার দৃপ্ত আহ্বানও ভেসে আসে তাঁর বজ্রকণ্ঠে।   এ ভাষণেই বাঙালি পাকিস্তানের শোষণ, নির্যাতন আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছিল। দেশের কৃষক-শ্রমিক, পেশাজীবী, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সেদিন এই একটি কণ্ঠের আহ্বানে আবিষ্ট হয়ে মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।   স্বাধীনতার আহ্বানে দেশবাসী এক হয়। এরই মধ্যে নানা কূটকৌশল ও ষড়যন্ত্র চালাতে থাকে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। তারা নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করতে থাকে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে।   এভাবেই আসে ২৫ মার্চ। কালরাত্রি। পাক হানাদার বাহিনীর ভারি অস্ত্র, কামান নিয়ে ‘অপারেশন সার্চলাইট’র নামে এ দেশের ছাত্র-জনতাসহ নিরীহ বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে নির্মম হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। রাতেই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেফতার হওয়ার আগে ২৬ মার্চ প্রত্যুষে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। সেই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে গর্জে ওঠে গোটা জাতি।   যার হাতে যা আছে তাই নিয়ে তারা শত্রুর মোকাবিলা করার জন্য ঘর হতে বেরিয়ে যায়। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, অগ্নিঝরা দিন। শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। এই পথ ধরে বাংলার দামাল ছেলেরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ছিনিয়ে আনেন একটি স্বাধীন দেশ -আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ।

বিস্তারিত»
নিউক্যাসল সিটি সেন্টারে ইসলাম বিরোধী শোভাযাত্রা, ব্যাপক সংঘর্ষ, গ্যালোওয়ের নেতৃত্বে পাল্টা শোভাযাত্রা

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ- লন্ডন থেকে:আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ইংল্যান্ডের একেবারের নর্থ ইষ্ট সিটি নিউক্যাসল শহরের কেন্দ্রস্থলে জার্মান নাজী সংগঠন প্যাগিডার নেতৃত্বে ৪০০ শতাধিক লোক মার্চ করে আসেন। তাদের বক্তব্য ও প্রতিবাদের ভাষা হলো মুসলমানেরা ব্রিটেন দখল করে নিবে, ইসলাম ও মুসলিমদের এখনি রুখে দিতে হবে, ব্রিটেন থেকে বের করে দিতে হবে। ইসলামের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে তারা নর্থ ইষ্টের নিউক্যাসল সিটিতে মার্চ করে, ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী ফ্যাস্টুন, প্ল্যাকার্ড বহন করে। তারা মারমুখী হয়ে উঠেন, ইসলাম বিরোধী নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি ছিলো। নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্যেও প্যাগিডার সদস্যরা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করতে থাকেন। অতিরিক্ত মদ্যপান করে তারা সিটির শান্তি প্রক্রিয়া বিঘ্নিত করেন।শোভাযাত্রা থেকে তাদের উচ্ছৃঙ্খল  আচরণ আর সিটির পরিবেশ ও শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অপরাধে শোভাযাত্রা থেকে পুলিশ পাঁচ ব্যক্তিকে আটক করে ভ্যানে তুলে নিয়ে যান। আটকের সময় পুলিশের সাথে তাদের ব্যাপক ধস্তা ধস্তি হয়।   এদিকে ইসলাম বিরোধী র‍্যালী ও মুসলমানদের সিটি থেকে বের করে দেয়ার হুমকির প্রতিবাদের নিউক্যাসল ইউনাইটসের ব্যানারের নর্থ ইষ্টের ২০০০ হাজারের উপর বিভিন্ন শ্রেণী পেশা ও বিভিন্ন  সংস্থা ও সংঘের  লোকজন রেসপেক্ট এমপি জর্জ গ্যালোওয়ের নেতৃত্বে পাল্টা শোভাযাত্রা বের করেন। নিউক্যাসল সিটির বিভিন্ন ধর্মীয় ও বর্ণের ও গোত্রের লোকজন গ্যালোওয়ের  নেতৃত্বে সিটির শান্ত শৃঙ্খলা রক্ষায় শান্তি বিরোধীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নিজেদের ঐক্য ও ব্রিটেনের সকল কমিউনিটির হারমোনির প্রমাণ দিলেন।   পুলিশ উভয় র‍্যালির ঠিক মধ্যখানে সারি বদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পড়লে রেসপেক্ট এমপির নেতৃত্বে শান্তি প্রক্রিয়ার সপক্ষের শোভাযাত্রা শৃঙ্খলার সাথে দাঁড়িয়ে নিজেদের ঐক্য ও সংহতি প্রকাশ করেন।   বিপরীত দিকে ইসলাম বিরোধী র‍্যালির লোকজন ক্ষোভে, বিক্ষোভে ফেটে পড়েন, নানা উস্কানি ও বর্ণবাদ উস্কে দেয়ার শ্লোগান দিতে থাকেন।   জর্জ গ্যালোওয়ে সমাবেশে তার বক্তব্যে বলেন, আমি জার্মানদের ভালোবাসি। ব্র্যাডফোর্ড থেকে আমি জার্মান কার চালিয়ে নিউক্যাসল এসেছি। কিন্তু ব্রিটেনের শান্ত শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে, বর্ণবাদ উস্কে দেয়, নাজী-হিটলারীজমকে আমি ঘৃণা করি। আমরা প্যাগিডার এই জার্মানির হিটলার নাজিজম বর্ণবাদ এখানে আমদানি হতে দিতে পারিনা।   ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী প্যাগিডার মিছিল থেকে ৩৭ বছর, ৪৩, ৫৪ বছর বয়সী তিনজনকে পুলিশ এরেস্ট করেছে, ১৭ ও ২০ বছর বয়সী দুইজনকে পুলিশ শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ডিটেইন্ড রেখেছে।   জার্মানি ও ইউরোপের ইসলাম বিরোধী প্যাগিডার বক্তব্য মুসলমানেরা ব্রিটেন দখল করে নিবে, তাই তাদের সাথে ফাইট করতে হবে, রুখে দেয়ার জন্য।   গতমাসে জার্মানির ড্রিসডেনে ইসলামোফোবিয়া ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ২৫০০০ হাজার লোকের সমাবেশ করেছিলো এই প্যাগিডা। কিন্তু টেরোরিষ্ট আক্রমণের অজুহাতে এর পর থেকে বেশ কয়েকটি সমাবেশ বাতিল করা হয়েছিলো। এর পর তারা ঘোষণা দিয়েছিলো আজকে নিউক্যাসল সিটিতে তারা মার্চ করে মুসলমানদের বের করে দিবে সিটি থেকে।   salim932@googlemail.com 28th February 2015, London. 

বিস্তারিত»
স্বৈরাচার সরকার কর্তৃক জেল, খুন ও গুমের বিরোদ্ধে  মিশিগান ছাত্রদলের প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত

মিশিগান,যুক্তরাষ্ট্র:– তত্বাবদায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্টার লক্ষে মিশিগান বিএনপির কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।   গত ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০১৫ইং রোজ রবিবার,স্থানীয় কাবাব হাউসে মিশিগান ছাত্রদলের সভাপতি-নাহিদুল আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক-ফয়েজ আহমদ  লিংকনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিশিগান বিএনপির সভাপতি দেওয়ান আকমল  চৌধুরী এই কথা বলেন।ইতি মধ্যে মিশিগান-১৪ ড্রিষ্টিকের কংগ্রেস-ওমেন ব্র্যান্ডা লরেন্সের কাছে বিএনপির পক্ষ থেকে একটি স্বারকলিপি প্রদান করা হইয়াছে এবং আর ও সেনেটার কংগ্রেস-ম্যানদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।   সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন-উপদেষ্টা-ফখরুল ইসলাম লয়েছ, সাধারণ সম্পাদক-সেলিম আহমদ ,সাবেক ছাত্রনেতা-আলী ওয়াসিমুজ্জামান চৌধুরী রনি ও যুব-দলের সদস্য সচিব- মঞ্জুরুল করিম তুহিন।   ফখরুল ইসলাম লয়েছ বলেন,দেশে যে সংকট চলছে তার জন্য শেখ হাসিনার দায়ী। অবৈধ শেখ হাসিনার ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই।   সেলিম আহমদ বলেন,দেশকে পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করে বাকশালীরা ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে চায়। জনগণ তাহা হতে দিবে না।   আলী ওয়াসিমুজ্জামান চৌধুরী রনি বলেন,সরকার গুম,খুন,গ্রেফতার ও নির্যাতনের মাধ্যমে দেশকে ত্রাসের রাজত্বে পরিণত করেছে। তিনি অতিসত্বর সিলেটের মেয়র- আরিফুল হক চৌধুরী,সিলেট মহানগর বিএনপির আহবায়ক-ডাঃ সাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী,সিলেট জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি-আহমদ চৌধুরী ফয়েজ ও সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি-মাহফুজুল করিম জেহিনের নিঃশর্ত মুক্তি কামনা করেন।   মঞ্জুরুল করিম তুহিন তাহার বক্তব্যে সারা দেশে অগণিত নেতা কর্মীদের নির্বিচারে হত্যা, গ্রেফতার,জেল জুলুম ও নির্যাতনের বিরোদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে সরকারের পতন তরান্বিত করার আহব্বান জানান।   অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখছেন-নূরুল হক, গোলাম নূর চৌধুরী,মইনুল ইসলাম,বাহার আহমদ ,আব্দুল ওয়াদুদ নাছিম,মোহাম্মদ সামি হক ও মোঃ ফরহাদ আহমদ  প্রমুখ।   সমাপনী ভাষনে মিশিগান ছাত্রদলের সভাপতি এই অবৈধ সরকারের প্রতি চ্যেলেজ্ঞ ছুরে বলেন, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি ছাড়া আসলে শুধু ছাত্রদলের সাথেই ৭ দিনই ঠিকে থাকতে পারবে না।   অনুষ্ঠানে শুরুতেই পবিত্র কোরান থেকে তেলায়াত করেন,মিশিগান বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক-জনাব হাফেজ আফজল  আহমদ  চৌধুরী।    

বিস্তারিত»
ফের উদ্বেগ ইইউ’র

কূটনৈতিক রিপোর্টার:রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ফের উদ্বেগ জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। চলমান সহিংসতা বন্ধ এবং জনগনের মৌলিক গনতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার তাগিদও পূণর্ব্যক্ত করেছে ইউরোপের ২৮রাষ্ট্রের ওই জোট। ঢাকাস্থ ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে ২০০১ সালের করা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাব-গ্রুপ বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে গত ২৬ ও ২৭শে ফেব্রুয়ারি বৈঠক করে। ২৬ তারিখের বৈঠকে সুশাসন, মানবাধিকার ও অভিবাসন এবং ২৭ তারিখের বৈঠকে বানিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ-ইইউ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানবাধিকার একটি অন্যতম ভিত্তি উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি সহিংসতায় শিকার হওয়া সাধারণ যথাযথ বিচারের প্রাপ্য। অপরাধী যারাই হোক, তাদেরকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। বৈঠকে আইনের শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে কমিয়ে আনতে পারে। বৈঠকে ইইউ সাব-গ্রুপ গণতন্ত্র, সুশাসন এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি শক্তিশালী করতে সহযোগিতার কথা জানান। বিশেষ করে বিচারিক কাজে এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদ- বাস্তবায়নের কথা বলেছে। এছাড়া আইনের শাসন, বিচার বহির্ভুত হত্যার জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, গনমাধ্যমের স্বাধীনতা, সমাবেশ করতে দেয়া ও নাগরিক সমাজের স্বাধীনতা, শ্রম অধিকার, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং সংখ্যালঘুর অধিকার, পাবর্ত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন, নারী ও শিশু অধিকার নিশ্চিত, রোহিঙ্গা ইস্যু, মৃত্যুদ- এবং অভিবাসনের মত অভিন্ন স্বার্থ জড়িত বিষয়গুলোতে বরাবরের মত উদ্বেগ জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এছাড়া মানবাধিকার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি। বাংলাদেশ জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য রাষ্ট্র। ফলে মানবাধিকার উন্নয়ন এবং রক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আরো গভীরভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইইউ মানবাধিকার ইস্যুতে আরো আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এছাড়া বাণিজ্য বিষয়ক সাব-গ্রুপ বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউ গত তিন বছরের বাণিজ্যের বিষয়গুলো তুলে ধরেছে। বৈঠকে ‘ইইউ বিজসেন কাউন্সিল বাংলাদেশে’র করা প্রস্তাবগুলো তুলে ধরা হয়েছে। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নতি। পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়নে ইইউ আরো সহযোগিতা করার ঘোষণা দিয়েছে।  এ সময়ে নতুন করে ৬৯ কোটি ইউরো ডলার অনুদান দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ অনুদান গনতান্ত্রিক সুশাসন, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

বিস্তারিত»
লর্ড অ্যাভাবুরির বিবৃতি- পুলিশ খুনিদের পালিয়ে যেতে দিয়েছে

সিলেটের আলাপ ডেস্ক:বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিন লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়ের খুন প্রত্যক্ষ করেছে বাংলাদেশের পুলিশ এবং তারা খুনিদের পালিয়ে যেতে দিয়েছে। এ ঘটনা বাংলাদেশের চলমান সহিংসতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ও বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে অবশ্যই একত্রে বসতে হবে। তাদেরকে গণতন্ত্রের পথে ফিরে যেতে হবে। একত্রে সন্ত্রাসের মোকাবিলা করতে হবে। এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছেন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লর্ড অ্যাভাবুরি। অভিজিৎ রায় হত্যার পর সারা বিশ্ব যখন সোচ্চার তখন গতকাল লর্ড অ্যাভাবুরি কঠিন ভাষায় তার বিবৃতি দেন। এতে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিন ব্লগার ধর্মনিরপেক্ষ অভিজিৎ রায়কে প্রচ- নিরাপত্তা বেষ্টিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় গ্রন্থ মেলার কাছে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এর ভয়াবহতা গ্রাস করেছে সারা বিশ্বকে। পুলিশ খুন প্রত্যক্ষ করেছে এবং খুনিদের পালিয়ে যেতে দিয়েছে। নতুন নির্বাচনের দাবিতে বাংলাদেশে চলছে অবরোধ ও বিক্ষোভ। এতে কমপক্ষে ১০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। তাই আওয়ামী লীগ সরকার ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলকে অবশ্যই একত্রে বসতে হবে এবং গণতন্ত্রে ফিরে যেতে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার পথ বের করতে হবে।

বিস্তারিত»

সাক্ষাৎকার

দু'পক্ষই ছাড় দিলে সমাধান হতে পারে; গায়ের জোরে দেশ চালানো যাবে না

অধ্যাপক আমেনা মহসীন:বিএনপি সরকারের ওপর প্রেসার ক্রিয়েট করার জন্য জাতিসংঘকে আনার চেষ্টা করছে। তবে জাতিসংঘ সহিংসতা কমাতে বিএনপির ওপরও জোর দেবে এবং সংলাপ ও আলোপ আলোচনার ব্যাপারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ওপরও জোর দেবে। তবে এর মাধ্যমে বর্তমান সংকটের সমাধান হবে এমনটি আমি মনে করি না।   এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ভাষ্যকার ড. আমেনা মহসীন।   তিনি রেডিও তেহরানের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতির পরিণতিতে আমি যদি দীর্ঘমেয়াদে দেখতে পাচ্ছি আমাদের রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে। দেশে বিরাজনীতিকরণ চলছে।   আমেন মহসীন বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি এমন একটা জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে মনে হয় পুরো দেশটাকে ভাগ করে ফেলা হয়েছে। এটা কিন্তু বেশ ভয়াবহ একটা বিষয়।   বিশিষ্ট এই রাজনৈতিক ভাষ্যকার বলেন, জাতিসংঘের মধ্যস্থতায়  যদি কোনো সমাধান না হয় তাহলে এর পরিণতি হবে খুবই ভয়াবহ। এখনই আমরা যে জায়গায় অবস্থান করছি সেটা দেশের জন্য কোনো স্বাভাবিক জীবন না। পুরো দেশ অবরুদ্ধ হয়ে আছে।   তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সমস্যাটি রাজনৈতিক। আর তারই উপসর্গ হিসেবে আমরা আইন শৃঙ্খলার অবনতি দেখছি। আর যেহেতু এটা রাজনৈতিক সমস্যা সেকারণে রাজনৈতিকভাবে এটার মোকাবেলা করতে হবে। আর যদি বর্তমানের মতো করে দেশ শাসন করতে চায় তাহলে গুপ্তহত্যা, সন্ত্রাস এগুলো দিন দিন আরো বাড়বে এবং সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। সিলেটের আলাপের পাঠকের জন্য অধ্যাপক আমেনা মহসীনের পুরো সাক্ষাৎকারটি উপস্থাপন করা হলো। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন গাজী আবদুর রশীদ।     প্রশ্ন:বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব দেয়া হয়েছে যার নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা। কিন্তু আওয়ামী লীগ এরইমধ্যে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বুধবার সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করে বলেছেন ‘খুনীদের’ সঙ্গে আলোচনা নয়। নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সংলাপের প্রস্তাব দেয়া এবং তা নাকচ করার ঘটনাকে আপনি কিভাবে দেখবেন?     অধ্যাপক আমেনা মহসীন: দেখুন এ বিষয়ে বিশ্লেষণ করতে হলে কতগুলো জিনিষকে আমাদের মাথায় রাখতে হবে। সংলাপের জন্য যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে সে ব্যাপারে যে বিষয়টি ভাববার সেটি হচ্ছে যাদেরকে সংলাপের জন্য আহবান জানানো হয়েছে সে পক্ষের মধ্যে কতটুকু শ্রদ্ধার জায়গা আছে, কতটুকু আস্থা আছে এবং তারা কতটুকু ছাড় দিতে রাজি আছে।   সরকার যে সংলাপের আহবানকে প্রত্যাখ্যান করল তাতে কিন্তু আমি মোটেও আবাক হই নি। বরং আমি অবাক হতাম যদি তারা এটা মেনে নিত।   আমরা যদি গত ১ বছর দেশের দিকে দৃষ্টি দেই তাহলে অবশ্যই দেখব দেশে উন্নয়ন হয়েছে। তবে একই সময় আমরা দেখেছি বিএনপিসহ বিরোধী মতকে খুব কমই স্পেস দেয়া হয়েছে। শুধু বিরোধী দল না একচেটিয়াভাবে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে যখনই দেখেছি ডিসেনডিং ভয়েসেস এসেছে তখনই অনেক ধরণের বাধা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতি এমন একটা জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে মনে হয় পুরো দেশটাকে ভাগ করে ফেলা হয়েছে। বিভক্ত করা হয়েছে এভাবে যে কারা স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে এবং কারা এর বিপক্ষে। তবে এটা কিন্তু বেশ ভয়াবহ একটা বিষয়। কারণ জামায়াতকে নিয়ে একধরণের পলিটিক্স করতে পারা যায়। তবে সেই জামায়াতকে কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার এখনও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেনি। তবে এসব বিষয় নিয়ে রাজনীতি করাটা কিন্তু আগুন নিয়ে খেলা।   নাগরিক সমাজের প্রস্তাব প্রত্যাখানের কারণ হিসেবে তারা দেখালো- নাগরিক সমাজ দেশের চলমান সহিংসতাকে নিন্দা জানায়নি।   কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে নাগরিক সমাজ যে প্রস্তাবটা এনেছে সেটা সহিংসতার বিরুদ্ধে। অর্থাৎ সহিংসতা আছে বলেই তারা প্রস্তাব এনেছে। তবে যদি তর্কের খাতিরে আমি মেনেও নেই যে এখানে নাগরিক সমাজের একটা দুর্বল জায়গা ছিল, সহিসংতাকে কনজাম করার প্রয়োজন ছিলো।  But Having said that এটাও মাথায় রাখতে হবে যে সহিংসতাকে বিএনপি তা তাদের জোট 'ওন'  করছে না। বিশেষ করে বিএনপি তো 'ওন' করছেই না। বরং বিএনপি বলছে এসব সহিংসতা রাষ্ট্র করছে। সেক্ষেত্রে নাগরিক সমাজ কাকে ব্লেম করবে। তারা কি বিএনপিকে ব্লেম করবে। যদি সেটা করা হয় তাহলে একটা পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হবে।   ফলে নাগরিক সমাজ কিন্তু বর্তমান সহিংসতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছে।   আর আমার মনে হয় সরকার যেহেতু তাদের অবস্থানে অনড় থাকতে চায় আর সে কারণেই তারা নাগরিক সমাজের প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছে।     প্রশ্ন:এদিকে, চলমান সংকট সমাধানে বিএনপি জাতিসংঘের সহায়তা চেয়েছে। তাদের এই আহ্বানকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন আর জাতিসংঘের সহায়তায় কি সমস্যার সমাধান হবে?   অধ্যাপক আমেনা মহসীন: দেখুন আসলে জাতিংসঘকে  দিয়ে বিএনপি একটা প্রেসার ক্রিয়েট করতে চায় সরকারের বিরুদ্ধে এবং জাতিংসঘ হয়তো একটা প্রেসার ক্রিয়েট করতে পারে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে। তবে আমি মনে করি এখানে কিন্তু অনেকগুলো ফ্যাক্টর বিএনপির বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে। অন্যতম যে বিষয়টি সেটি হচ্ছে জাতিসংঘ বা পশ্চিমা বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।   দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে গ্লোবালাইজ পৃথিবীতে আমরা উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছি। সেখানে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপির পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানোর চান্সেস কম আছে। তবে তারা মানবাধিকারের ব্যাপারগুলো সামনে নিয়ে আসতে পারে। তবে সবমিলেয়ে বলতে গেলে আমার মনে হয় জাতিসংঘ বিএনপির ওপরও জোর দেবে যে সহিংসতা কমাতে হবে এবং সংলাপ ও আলোপ আলোচনার ব্যাপারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ওপরও জোর দেবে। তবে এর মাধ্যমে বর্তমান সংকটের সমাধান হবে এমনটি আমি মনে করি না। এটার সমাধান ভেতর থেকে আসতে হবে।   জাতিসংঘের কি ধরণের ক্ষমতা আছে সেটা তো আমাদেরকে দেখতে হবে। আর বিএনপির কাছে অস্ত্রগুলো খুব কমই আছে। তারা যখন ভেতর থেকে পারছে না তখন তারা তো চাইবেই এটাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তারা সেরকম একটা উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু আমি মনে করি না ,বিএনপিও মনে করে না যে জাতিংসঘ এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে এবং তার মাধ্যমে সমাধান হবে।   প্রশ্ন:প্রসঙ্গক্রমে জানতে চাইব, যদি জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় কোনো সমাধান না হয় তাহলে তার পরিণতি কি হবে?   অধ্যাপক আমেনা মহসীন: জাতিসংঘের মধ্যস্থতায়  যদি কোনো সমাধান না হয় তাহলে এর পরিণতি হবে খুবই ভয়াবহ। এখনই আমরা যে জায়গায় অবস্থান করছি সেটা দেশের জন্য কোনো স্বাভাবিক জীবন না। পুরো দেশ অবরুদ্ধ হয়ে আছে, গোটা দেশ পুড়েছে ফলে এর পরিণতি তো খুবই খারাপ। পরিণতির ব্যাপারে কয়েকটি সিনারিও বলতে পারি।   সবাই বলে তৃতীয় শক্তি আসতে পারে। আবার তৃতীয় শক্তি হিসেবে মনে করা হয় ক্যান্টনমেন্ট। তবে আমার মনে হয় না বাংলাদেশে আবার ক্যান্টনমেন্ট হস্তক্ষেপ করবে। সেটা হওয়া উচিতও না আমাদের কাম্যও না। আমরা আবার এটাও দেখি যে সরকার বিভিন্ন রকমের সুযোগ সুবিধা দিয়ে মিলিটারিকে সন্তুষ্ট রেখেছে। তারপর সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ ইন্টারেস্ট রয়েছে সেটা হচ্ছে তারা জাতিসংঘে যায়। আর যদি আর্মি এখানে চলে আসে তাহলে তারা আর জাতিসংঘের শান্তি মিশনে যেতে পারবে না।   আবার আমরা গত কয়েকদিন ধরে দেখছি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলছে বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী বললেন জনগণ চাইলে  বিএনপিকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে। এখন যদি বিএনপিকে নিষিদ্ধ করে দেয়া হয় তাহলে তার ফল কি হবে! তাতে কি বর্তমান সমস্যার সমাধান হবে! তাতে কখনই সমস্যার সমাধান হবে না।   আমরা জানি ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা কি ছিল, তারপরও তাদেরকেই সরকার নিষিদ্ধ করে নি। আর যদি সরকার এসব করে তাহলে সন্ত্রাস দিন দিন আরো  বাড়বে।   বর্তমান অবস্থা নিয়ে আমি বারবার একটা কথা বলছি সেটা হচ্ছে বাংলাদেশের বর্তমান সমস্যাটি রাজনৈতিক।  আর তারই উপসর্গ হিসেবে আমরা আইন শৃঙ্খলার অবনতি দেখছি। আর যেহেতু এটা রাজনৈতিক সমস্যা সেকারণে রাজনৈতিকভাবে এটার মোকাবেলা করতে হবে। আর যদি বর্তমানের মতো করে দেশ শাসন করতে চায় তাহলে গুপ্তহত্যা, সন্ত্রাস এগুলো দিন দিন আরো বাড়বে এবং সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।   প্রশ্ন: বাংলাদেশের চলমান আন্দোলনে ব্যাপকমাত্রায় সহিংসতা হচ্ছে এবং মানুষ মারা যাচ্ছে অনেক। এর আগে কোনো আন্দোলনে এত বেশি মানুষ হতাহত হয় নি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ক্রসফায়ার। এসব হত্যকাণ্ড বন্ধের উপায় কি বলে আপনি মনে করেন?   অধ্যাপক আমেনা মহসীন: এসব হত্যাকাণ্ড বন্ধের উপায়টাতো আসলে খুবই সহজ। এখানে দুপক্ষকেই ছাড় দিতে হবে। খালেদা জিয়াকে এবং বিএনপিকে বুঝতে হবে দেশকে অবরুদ্ধ রেখে তারা জনগণের কাছে যেতে পারবে না, এখানে জনসম্পৃক্ততা থাকবে না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগকেও মাথায় রাখতে হবে তারা গায়ের জোরে দেশ শাসন করতে পারবে না। এখানে যেমন একদিকে বিএনপির বিপক্ষে জনমত চলে যাচ্ছে একইভাবে আওয়ামী লীগের বিপক্ষেও তো যাচ্ছে। তারা নির্বাচনমুখী দল তাদেরকে এসব বিষয়  মাথায় রাখতে হবে। আমরা এ ধরণের দলগুলোকে কিভাবে সমর্থন জানাবো। যেসব রাজনৈতিক দলের জনগণের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই। একটা দল ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চাইছে। আরেকটা দল নির্বাচন নির্বাচন করছে। নির্বাচন তো হবেই। আমার মনে হয় নাগরিক সমাজের বিভিন্ন পক্ষ থেকে এ দাবি তুলতে হবে যে আমরা নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন চাই। এখানে সবকিছুকে সার্বিকভাবে ঢেলে সাজাতে হবে। আমরা জনগণ আমাদের মেনুফেস্ট তাদেরকে দেব। আমি দু'দলের উদ্দেশেই একথা বলছি।   প্রশ্ন: আজকের আন্দোলনের যে কারণ তা নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষে দুই রকমের মত রয়েছে। তবে দুপক্ষই বলছে তাদের দাবি সঠিক। আপনার দৃষ্টিতে আসলে কার অবস্থান সঠিক? একইসঙ্গে জানতে চাইব, চলমান এই আন্দোলনের পরিণতি কি হতে পারে?     অধ্যাপক আমেনা মহসীন: দেখুন আপনার এ প্রশ্নের কোনো হ্যাঁ বা না উত্তর নেই। আমার বিশ্লেষণ হচ্ছে, দুপক্ষই তারা যে অবস্থান নিয়েছে তাতে যথেস্ট যুক্তি আছে।   যদি বলা হয় কেয়ারটেকার সরকার বাতিলের বিরুদ্ধে বিএনপি বর্তমানের এই আন্দোলন করছে। বিএনপির এই অবস্থান ঠিক। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বিতর্কিত করেছে বিএনপি এ বিষয়টিও আমাদের মাথায় রাখতে হবে। আর এর পেছনে একটা প্রেক্ষাপট রয়েছে। ইয়াজউদ্দিনের সময় আমরা দেখেছি প্রধান বিচারপতির বয়স বাড়ানো হলো অথচ সেটার কোনো প্রয়োজন ছিল না। আমার মনে হয় বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দুপক্ষই দায়ী। তবে পরস্পরের প্রতি ব্লেম গেম দিয়ে কোনো লাভ নেই। কোনটা সঠিক কোনটা বেঠিক সেটা বলেও লাভ নেই। কারণ দুপক্ষের মধ্যে সঠিকও আছে বেঠিকও আছে।   তবে এই মুহূর্তে নির্বাচন হলেই তো আর সব সংকটের সমাধান হচ্ছে না। নির্বাচনের আগে ফর্মুলা বের করতে হবে কিভাবে আমরা নির্বাচন করব। আর নির্বাচনের পরে আমরা কি ধরণের সংবিধান চাই।   আর বর্তমানে যা হচ্ছে সেটাকে আন্দোলন বলব না অন্য কি বলব সেটাও আমি জানি না। এটাকে আমি আন্দোলন বলছি না, আমি বলছি এটা রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি। এটাকে কিভাবে মুভমেন্ট বলা যাবে সেটা একটা প্রশ্ন। কারণ যেখানে এত মানুষ পুড়ে মারা যাচ্ছে। তাছাড়া আন্দোলনে বিভিন্ন রূপরেখা থাকে। এখানে তো সেগুলো নেই। বিএনপি ক্লেম করতে পারে যে তারা একটা রাজনৈতিক আন্দোলন করছে এবং তারা কিছু কর্মসূচি দিয়েছে। রাজনৈতিক আন্দোলন হলে সেখানে আমরা ভেঙে ভেঙে দেখতে চাই আরো কি কি দাবি তাদের রয়েছে। সরকার পতনের একটা দাবি নিয়ে তো কেউ আন্দোলন হতে পারে না।    স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যখন আন্দোলন হয়েছিল সেটা ছিল আদর্শের দ্বন্দ্ব। তবে বর্তমানের দুটি বড় দলের মধ্যে আমি তেমন কোনো আদর্শিক দ্বন্দ্ব দেখতে পাই না।   বর্তমান পরিস্থিতির পরিণতিকে আমি যদি দীর্ঘমেয়াদে দেখতে চাই তাহলে দেখব- আমাদের রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে। দেশে বিরাজনীতিকরণ চলছে। একটা বিষয় লক্ষ্য করেন ভারতে আম আদমি পার্টি ক্ষমতায় এলো। অথচ আমাদের দেশে একটা তৃতীয় ফোর্স আসছে না! কারণ জনগণ রাজনীতিকে পছন্দ করে না। বাংলাদেশে বর্তমানে যে ধরণের রাজনীতি চলছে তাকে মানুষ পছন্দ করছে না। বর্তমান যুব সমাজ এই রাজনীতি চাচ্ছে না। ফলে আমরা আদর্শ বিবর্জিত একটি দেশে পরিণত হতে যাচ্ছি।   দেশে যেসব অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটছে তা আমাদের গা সওয়া হয়ে যাচ্ছে। আমরা এগুলো মেনে নিয়েই চলছি। ফলে আমরা আদর্শ বিবর্জিত জাতিতে পরিণত হতে যাচ্ছি। আর এর দায় বাংলাদেশের বড় দুটি দলকেই নিতে হবে। আর সবচেয়ে ভয়াবহ যে বিষয়টি সেটা হচ্ছে এখানে উগ্রবাদী এবং মৌলবাদী শক্তি ভীষণভাবে শক্তিশালী হয়ে  যাচ্ছে। আর সেটাকে না বিএনপি সামাল দিতে পারবে না আওয়ামী লীগ সামাল দিতে পারবে।  

বিস্তারিত»

বিশেষ কলাম

সংকট পেরুবো কিভাবে?

ফরহাদ মজহার :অন্ধ হয়ে রাজনৈতিক বিভাজন ও বিভক্তি রেখা যেভাবে আমরা পরস্পরের বিরুদ্ধে টেনে দিচ্ছি এবং ভিন্ন চিন্তাকে দুষমন গণ্য করে তাকে নির্মূল ও কতল করবার জন্য পরস্পরের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ছি, তার পরিণতি সহিংস ও আত্মঘাতী হতে বাধ্য। বাংলাদেশের জন্য সেটা ইতোমধ্যেই মারাত্মক হয়ে উঠেছে। শুনতে অনেকের ভাল নাও লাগতে পারে- এই বিভাজন ও বিভক্তি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশকে বিলয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে। অবশ্য বিশ্বে আমরা এখন টিকে আছি শুধু সস্তা দাসের দেশ হিসাবে। সেটা এক দিকে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের জীবনের বিনিময়ে; তাদের পুড়িয়ে কিম্বা জ্যান্ত কবর দিয়ে আমরা জিডিপি বৃদ্ধির বড়াই করি। আর অন্য দিকে আনন্দের সঙ্গে নিজের দেশের নাগরিকদের নিজেরা দাস বানিয়ে অন্য দেশে চালান করে দিয়ে তাদের রেমিটেন্সের ওপর উচ্চবিত্ত ও ধনীদের একটি গণবিচ্ছিন্ন শ্রেণিকে টিকিয়ে রাখাই আমাদের প্রধান জাতীয় কর্তব্য হয়ে উঠেছে। গত দেড় দশক ধরে আমি বিভাজন, বিভক্তি ও নির্মূলের রাজনীতির বিপদের কথাগুলোই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বলবার চেষ্টা করেছি। কোথাও জাতীয় ঐক্যের কোন ক্ষেত্র তৈয়ার করা যায় কি না সেটাই আমি সন্ধান করেছি। আমি বিশেষভাবে জোর দিয়েছি দুটো ক্ষেত্রে। এক. মুক্তিযুদ্ধ; কারণ, একাত্তর হচ্ছে সেই সন্ধিবিন্দু, যাকে বাদ দিলে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসাবে আমাদের কোন অস্তিত্ব আর থাকে না। দুই. ইসলাম প্রশ্ন। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্ন বাদ দিয়ে যেমন বাংলাদেশের কথা ভাবা যায় না, ঠিক তেমনি ইসলাম প্রশ্ন বাদ দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মানসিক ও সাংস্কৃতিক ভূগোলের কোন কূলকিনারা পাওয়া যাবে না। একে উপো করার অর্থ বাংলা ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বাইরে ইসলামকে একটি প্রতিপ শক্তি হিসাবে দাঁড়াতে বাধ্য করা, যার ফল বিভক্তি ও বিভাজনের মধ্যেই নিরন্তর খাবি খেতে থাকবে। আমি সফল হয়েছি দাবি করি না। কারণ, এখন টের পাচ্ছি আমরা সেই স্তরে পৌঁছে গিয়েছি যার পরে রয়েছে বড় ও বিশাল একটি খাদ বা গহ্বর। এই গহ্বরে বাংলাদেশের পড়ে যাবার সমূহ সম্ভাবনা। আমার এখনকার লেখালেখির উদ্দেশ্য একটাই- এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার শেষ চেষ্টাটা চালিয়ে যাওয়া। লেখালেখির মধ্য দিয়ে সেই ধরনের মানুষগুলোর কাছে প্রাণপণ পৌঁছানোর চেষ্টা করা, যারা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণকে একটি রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসাবে জানপ্রাণ রক্ষা করবার চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে। ঐক্য ও সন্ধির ক্ষেত্রগুলো দ্রুত চিহ্নিত করতে পারে এবং চূড়ান্ত পতনের আগে বাস্তবোচিত পদপে গ্রহণ করতে পারে। বাংলাদেশের বর্তমান বিভাজন ও বিভক্তির মধ্যে এই কাজ রীতিমতো জীবন বাজি রেখে করবার মতোই কাজ। কারণ, বিভাজনের দুই তরফ থেকেই হামলার সম্ভাবনা প্রচুর। কিন্তু কাউকে না কাউকে তো কোন একটা জায়গা থেকে কাজটি করতেই হবে। দুই বাংলাদেশের জন্মের গোড়ায় রয়েছে বিভাজন ও বিভক্তির রক্তাক্ত চিহ্ন। তবে গত দুই দশকের মধ্যে বাংলাদেশের রূপান্তর বীভৎস রূপ নিয়েছে। এটা ঠিক যে এই রূপান্তরের সঙ্গে বিশ্বব্যবস্থার অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরের সম্পর্ক আছে। একে অনেক সময় নিউ-লিবারেলিজম বলা হয়। এই ধারণাটি দিয়ে বিশ্বব্যবস্থার রূপান্তরের ঠিক কোন দিকটির ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয় সে বিষয়ে বাংলাদেশে আমরা যথেষ্ট আলোচনা করি নি। ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অবস্থা কিভাবে বিশ্বব্যবস্থার নৈর্ব্যক্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও বদ্ধমূল চিন্তাচেতনার আধিপত্যের কারণে ঘটেছে সে সম্পর্কে সমাজে কোন তর্কবিতর্ক বা স্পষ্ট ধারণা গড়ে ওঠে নি। এই ধরনের প্রভাব বা আধিপত্যের প্রসঙ্গ এলে আমরা একে ষড়যন্ত্র আকারেই গণ্য করি। এ কথা ভেবে আমরা হা-হুতাশ করি যে বাংলাদেশ একটি দুর্বল দেশ। গরিবের বউ সকলের ভাবী। আমাদের নিয়ে আঞ্চলিক আর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা খুবই ভালো, এতো নির্দোষ যে ভাজা মাছ উল্টিয়ে খেতে জানি না। বিদেশিদের ষড়যন্ত্রের কারণেই বাংলাদেশের এই দুর্দশা। নইলে আমরা ব্লাহ ব্লাহ ব্লাহ... ইত্যাদি। আসলে এই ব্লাহ ব্লাহ ঠিক না। বাংলাদেশ যদি কিছু আসলেই করতে চায় সেটা বাংলাদেশকেই করতে হবে, বাইরের কেউই সেটা করে দেবে না। ওপরের মনস্তত্ত্বের উল্টা পিঠ হচ্ছে বাংলাদেশের বর্তমান সংকট থেকে মুক্তির জন্য আমাদের কোন চেষ্টা নাই। আমরা ভাবছি ওয়াশিংটন কি করল, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কি করছে? যুক্তরাজ্যের কি অবস্থা? তারা কেন শেখ হাসিনাকে চাপ দিয়ে একটি নির্বাচন করিয়ে দিচ্ছে না আমাদের। এই যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে, তা বন্ধ করবার জন্য কোন হিউমেনিটারিয়ান ইন্টারভেনশন হচ্ছে না কেন? ইন্টারেস্টিং দিক হোল নিজেদের দুর্দশার জন্য আমরা বিদেশিদের দোষ দেই। আবার সেই দুর্দশা থেকে মুক্তির জন্য আমরা আবার বিদেশিদের হস্তপেই কামনা করি। নিজেদের ভাগ্য নিজেরা নির্ণয় করবার জন্য যে আত্মমর্যাদা বোধ ও হিম্মত দরকার সেটা আমরা অনেক আগেই সম্ভবত হারিয়েছি। তাহলে আমাদের দুটো কর্তব্য রয়েছে। এক. বিভাজন ও বিভক্তির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটা ঐক্যের রাজনীতি গড়ে তুলবার চেষ্টা করা; দুই. নিজেদের হীনম্মন্যতা কাটিয়ে উঠে নিজেদের আত্মমর্যাদা উপলব্ধি ও নিজেদের হিম্মতে নতুন ধরনের রাজনীতির সম্ভাবনা তৈরি করা। আমি কোন তৃতীয় ধারার রাজনীতির কথা বলছি না। সমাজের দ্বন্দ্বসংঘাত নিজের অন্তর্গত প্রক্রিয়ার কারণেই দুটো প্রধান রাজনৈতিক ধারা হিসাবে হাজির হয়। বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিও দুটি ধারায় বিভক্ত। এই দুই অধিপতি ধারাকে মেনে ও তাদের পরিমণ্ডলে থেকে মাঝখানে কোন তৃতীয় ধারা গড়ে তোলা যায় বলে আমি মনে করি না। যা গড়ে উঠবে তা বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের বদ্ধমূল ধ্যানধারণাকে ভেঙ্গে নিজেই জাতীয় হয়ে উঠবে। অর্থাৎ জনগণের মধ্যে নতুন চিন্তা এবং দেশ ও রাষ্ট্রকে গড়ে তুলবার নতুন পরিকল্পনা ও ছক কিঞ্চিত দানা বেঁধে উঠতে থাকলেই তা রাজনীতির প্রধান জাতীয় ধারা হিসাবে দানা বাঁধতে শুরু করবে। তাকে ঠেকানোর শক্তি কারুরই থাকবে না। এর আগে আমি আমার একটি লেখায় বলেছি, যারা আমার এই পর্যালোচনা মানতে রাজি নন, তারা তৃতীয় ধারা বা তৃতীয় শক্তি বলতে মূলত রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকাই বুঝিয়ে থাকেন। তাদের বাসনা রাজনীতির প্রধান দুই পক্ষ ছেড়ে সেনাবাহিনী তাদের সমর্থন করুক, তারা ক্ষমতায় যাক। রাজনীতির কঠিন ও বিপদসংকুল পথকে সংক্ষেপে করবার জন্যই তারা এভাবে ভাবেন। এটা ভুল পথ ও বিপজ্জনক। রাজনীতিতে বল প্রয়োগের ভূমিকা আছে। সমাজের শক্তিশালী শ্রেণিগুলো তাদের প্রতিপ শ্রেণি ও শক্তিকে দমন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ, আইন আদালত ও সশস্ত্র বল প্রয়োগের প্রতিষ্ঠান সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এই তত্ত্ব নতুন কিছু নয়। রাষ্ট্র শ্রেণি শোষণের হাতিয়ার- লেনিনের এই বাক্য শুধু বামপন্থীদের মুখস্থ তা নয়, ধনী শ্রেণিও মনে করে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমর্থন থাকে বলেই তারা রাষ্ট্রমতায় থাকতে পারে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই মৌলিক তত্ত্ব মেনেই শোষক যেমন শোষণব্যবস্থাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে, একইভাবে সমাজের বৈপ্লবিক রূপান্তরের পথও ভিন্ন কিছু হয় না। লেনিন সহজেই বুঝেছিলেন বিপ্লবী গণ-অভ্যুত্থানের রাজনীতির কাজ সশস্ত্রতার বন্দনা গাওয়া নয়, কিম্বা সেনাবাহিনীর সমর্থনে মতায় যাওয়া নয়। মজলুম সব সময়ই তার হাতের কাছে যা আছে তাই দিয়ে জালিমের বিরুদ্ধে লড়ে। মজলুমের লড়াই হাতে ইট বা লাঠি থাকলেও তা সব সময়ই সশস্ত্র। এর সঙ্গে সৈনিকের কাঁধে ঝোলানো বন্দুকের সঙ্গে গুণগত ফারাক থাকলেও চরিত্রগত পার্থক্য নাই। কিন্তু লাঠি আর বন্দুক তো এক নয়। সেনাবাহিনী সমাজ ও জনগণেরই অংশ, তারা আকাশ থেকে প্যারাসুট দিয়ে নেমে আসে নি। সমাজ ও রাষ্ট্রের দুঃখ-কষ্টে তারাও আন্দোলিত হয়। অতএব বিপ্লবী রাজনীতির প্রধান কাজ হচ্ছে বন্দুকের নল উল্টা দিকে ফিরিয়ে দেওয়া। শোষক এই নল তাক করে রাখে জনগণের দিকে, হত্যা করে সাধারণ মানুষকে। তাহলে সেই রাজনৈতিক সচেতনতা ও উপলব্ধি জনগণের মধ্যে সঞ্চারিত করা দরকার, যাতে সেই নল শোষকের পাহারাদার না হয়ে জনগণের মুক্তির হাতিয়ার হয়ে ওঠে এবং নিমেষে গণশক্তির রূপ পরিগ্রহণ করে। শুধু ক্ষমতার হাত বদল নয়, সেই শক্তিকেই গড়ে তোলা দরকার, যাতে বন্দুকের সেই নল- এত দিন যা শোষককে রা করেছে, তা জনগণকে রক্ষা করবার জন্য শোষকের বিরুদ্ধেই উল্টে যায়। ষড়যন্ত্র নয়, রাজনীতি ও গণসচেতনতাই এখানে প্রধান কাজ। ইতিহাসের যে কোন বৈপ্লবিক রূপান্তরের সারকথা হচ্ছে, সৈনিক ও জনগণের বৈপ্লবিক মৈত্রী। এই মৈত্রীই যুগে যুগে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশেও সাতই নভেম্বর খানিক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসাবে দেখা দিয়ে হারিয়ে গিয়েছে। আমরা এই মৈত্রীর রাজনীতির সুফল পরিপূর্ণভাবে ভোগ করতে পারি নি। কারণ, সৈনিক আবার শোষকের পাহারাদারিতে নিয়োজিত হতে বাধ্য হয়েছে। ফলে শোষক শ্রেণির রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান চেষ্টা থাকে বলপ্রয়োগের প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোকে যে কোন মূল্যে নিজেদের হুকুম তামিল করবার অবস্থায় রাখা। সেখানে গড়বড় হয়ে গেলে ক্ষমতা চলে যাওয়া মুহূর্তের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু এ ধরনের পরিবর্তনে সমাজ, রাজনীতি বা সংস্কৃতির মৌলিক কোন পরিবর্তন ঘটায় না। সমাজের কাঠামোতে বা চিন্তাচেতনায় পরিবর্তন ঘটাতে পারে না বলে ক্ষমতার হাত বদল সমাজের দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাতকে আরো দীর্ঘস্থায়ী করে মাত্র। তা যদি সমাধানের অতীত অবস্থায় চলে যায় তা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে। সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কেন ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, সেই বাস্তব সত্য আমাদের মনে রাখা দরকার। ঠিক যে তার বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। কিন্তু গণ-আন্দোলনের বিজয় হয়েছে বলে তিনি মতা ছেড়েছেন, সেটা সত্যি নয়। তিনি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, কারণ, প্রতিষ্ঠান হিসাবে সেনাবাহিনী তার পেছনে থাকতে আর রাজি ছিল না। রাজনৈতিক মতার পেছনে বলপ্রয়োগের হিম্মত না থাকলে সেটা মুহূর্তে ভেঙ্গে পড়ে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ট্রাজেডি তার ভাল উদাহরণ। দীর্ঘকাল সেনাশাসন একটি দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না, এই বিবেচনাটুকু সৈনিক ও সেনাপতি সকলের মধ্যে কাজ করেছে। তবে রাজনীতির এই বাস্তব সত্যকে আমরা কিশে মার্কা কথাবার্তা বা নীতিকথার ভাঁড়ামি দিয়ে আড়াল করতে পারি না। এটা সত্যি যে, সেনাবাহিনী এক-এগারোর ঘটনাবলির জন্য চরমভাবে নিন্দিত হলেও বিএনপির ক্ষমতাচ্যুতি এবং বর্তমান অবস্থাকে আমরা একই ভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি। জাতীয় পর্যায়ের দুটি প্রধান দলের ক্ষমতায় থাকা না থাকা একান্তই সেনাবাহিনীর সমর্থন দেওয়া না দেওয়ার ওপর এখন নির্ভর করছে। এর জন্য বিশাল রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হবার প্রয়োজন নাই। কাণ্ডজ্ঞানই যথেষ্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট যতোই তীব্র হচ্ছে সেনাবাহিনীর প্রশ্ন ততোটাই স্পর্শকাতর বিষয়ে পরিণত হচ্ছে। শেখ হাসিনা খামাখাই ‘উত্তরপাড়া’ নিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে কটাক্ষ করেছেন। পরিস্থিতিই তাকে এই ধরনের মন্তব্য করতে বাধ্য করেছে। তিনি খেয়াল করেন নি, তার তাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য খুবই স্পর্শকাতর হয়েছে, কারণ, তা সেনাবাহিনীর মর্যাদাকেও হেয় করেছে। তিন গুম-খুন, আইনবহির্ভূত হত্যাসহ নাগরিক ও মানবিক অধিকার লঙ্ঘন ও রাষ্ট্রের ভেঙ্গে পড়ার লক্ষণগুলো আমাদের ভাঙ্গনের বাহ্যিক বা দৃশ্যমান দিক। ভেতরের দিক হচ্ছে প্রগতি, আধুনিকতা, গণতন্ত্র ইত্যাদি সম্পর্কে আমাদের নানান মনগড়া অনুমান ও ধারণা। আধুনিক হওয়া বলতে আমরা পাশ্চাত্যের অর্জন ও তার বাছবিচারের মধ্য দিয়ে গ্রহণ-বর্জন বুঝি না। পাশ্চাত্যের নির্বিচার গ্রহণ করাই বুঝি। যে কারণে আধুনিকতা ও প্রগতিশীলতার নামে ইসলামবিদ্বেষ বা ইসলামোফোবিয়াই আমরা চর্চা করি। প্রগতির নামে যা রেসিজম বা বর্ণবাদ ছাড়া কিছুই না। এ কালে ইসলামসহ ধর্মের কোন পর্যালোচনা বা গঠনমূলক ভূমিকা থাকতে পারে আমরা তা মনে করি না। আমি সব সময়ই এই রাজনীতির বিরোধিতা করে এসেছি। এর জন্য কাউকে ইসলামি মোজাদ্দিদ হবার প্রয়োজন পড়ে না। এই কাণ্ডজ্ঞানই যথেষ্ট যে ‘রাজনীতি’ বা রাজনীতির পরিসর বলতে বোঝায় অন্যের বা অপরের কণ্ঠস্বরকে অন্তর্ভুক্ত করা, অপরের কথা শোনা এবং তার সঙ্গে কথোপকথনে নিযুক্ত হওয়া। যারা রাজনীতির পরিসর থেকে ভিন্ন চিন্তা ও তার নিজের আদর্শের বিরোধী মানুষগুলোর কণ্ঠস্বর নীরব করে দেয়, তারা রাজনীতির জন্য বিপদ ডেকে আনে এবং সমাজকে এমন এক বিভাজন ও বিভক্তির দিকে ঠেলে দেয়, যা ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক গৃহযুদ্ধের রূপ পরিগ্রহণ করে। বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে পাশ্চাত্যে খবর হচ্ছে। তার জন্য প্রগতি ও আধুনিকতার নামে নির্মূলের রাজনীতিই দায়ী। ইসলাম প্রশ্ন মীমাংসার কাজ সহজ বা সরল বলে আমি মনে করি না। কিন্তু রাজনৈতিক পরিসর থেকে জনগণের বিশাল একটি অংশকে বাদ দেবার ধারণাটাই অবাস্তব ও বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের বড় একটি কারণ। রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের জন্য লড়াইয়ে জয়ী হওয়া এক কথা আর জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায় ধারণ করতে সম একটি রাষ্ট্র গঠন করার ঐতিহাসিক কর্তব্য আলাদা। কিন্তু এই ফারাক আমরা অনুধাবন করতে পারি না। জনগণের অভিপ্রায় ধারণ করা গঠনতন্ত্র বা কনস্টিটিউশন ছাড়া কোন গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র গঠন করা যায় না। অথচ এখনও আমরা বলি বাংলাদেশের সংবিধান জনগণ নয়, এর প্রণেতা ডক্টর কামাল হোসেন। একই মুখে বলি সংবিধান হচ্ছে- ‘জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তি’। সংবিধানে শেষের কথাটাই লিখা আছে, কামাল হোসেন সংবিধান লিখেছেন সে কথা লেখা নাই। সংবিধানে কারো নাম লেখা থাকে না। সংবিধান প্রণেতা হিসাবে ডক্টর কামাল হোসেন নিজের নাম এভাবে উচ্চারিত হওয়া এনজয় করেন কি না জানি না, কিন্তু টেলিভিশনে তাকে যখন এভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, তিনি কখনো প্রতিবাদ করেন নি। সংবিধান প্রণেতা হিসাবে ডক্টর কামাল হোসেনের অবদান থাকতেই পারে। কিন্তু তার লেখনীতে ‘জনগণের পরম অভিপ্রায়’ ব্যক্ত হয়েছিল সেটা ঠিক না। ফলে গোড়ার প্রশ্ন আজও থেকে গিয়েছে যে আমরা স্বাধীনতার ঘোষণা অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ করেছি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে, এই রকম একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। তাহলে বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র সংবিধানে কোন যুক্তিতে যুক্ত করা হয়েছিল? মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাইরে দলীয় কর্মসূচি সংবিধানে যুক্ত হোল কেন? আইনের দিক থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা গাঠনিক বা ফাউন্ডেশনাল হলেও পরবর্তীতে সংবিধান প্রণয়নের সময় তাকে অস্বীকার করা হোল কেন? এই পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা একটি ঐক্যের ক্ষেত্র চিহ্নিত করবার জন্য বলতে পারি স্বাধীনতার ঘোষণা এমন একটি ঐতিহাসিক দলিল, যাকে আশ্রয় করে আমরা বিভাজন ও বিভক্তির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার একটা শেষ চেষ্টা করতে পারি। যদি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফ কায়েম করা যায় এমন একটি রাষ্ট্র গঠনের কর্তব্য সংখ্যাগরিষ্ঠের মধ্যে সঞ্চারিত করা যায়, তাহলে জাতীয় রাজনীতির প্রধান দুই ধারাকে অক্ষুণ্ন রেখে মাঝখানে আমাদের কোন দুর্বল তৃতীয় ধারা তৈয়ারির বেগার খাটতে হবে না। নতুন বাংলাদেশ গঠনের কর্তব্য পালনের অভিপ্রায়ই রাজনীতির পরম অভিব্যক্তি হিসাবে হাজির হবে। এটাই রাজনীতির প্রধান ধারা হতে বাধ্য। সামরিক কিম্বা বেসামরিক, সৈনিক কিম্বা নাগরিক সকলের মনের ইচ্ছার কথা যদি আমরা জাতীয় ইচ্ছায় রূপ দিতে পারি তাহলে কারো সমর্থন স্কাইপে বা ভাইবারে কাউকে চাইতে হবে না। জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের গুণে তারা আপনাতেই অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। ইতিহাস তো তাই বলে। এই ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতাকে আমরা কাজে লাগাতে পারি। জনগণের ইচ্ছা বা অভিপ্রায়ই নিজের শক্তি ও গতির কারণে সকলকে ভাসিয়ে নিতে সম। এই বিশ্বাসটুকুই আমাদের এখন সবচেয়ে বেশি দরকার। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ১৪ ফাল্গুন ১৪২১। শ্যামলী।

বিস্তারিত»

এক্সক্লুসিভ

গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী কি মৃত্যুর আগে অশ্বের শেষ খুরাঘাত? - শামসুল আলম

দেশের চরম ক্রান্তিকালে যে মামলায় এবং যে বিতর্কিত প্রকৃয়ায় বেগম খালেদা জিয়ার নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করে দেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠির মধ্যে উৎকন্ঠা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে, তা নিতান্তই দুঃখজনক, নিন্দনীয়। সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে কেবল দেশের মানুষই উদ্বিগ্ন নয়, জাতিসংঘের মহাসচিব বানকি মুন পর্যন্ত গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চলমান সংকটের সূত্রপাত হয় দু’হাজার চৌদ্দ সালের পাঁচই জানুয়ারীর একতরফা নির্বাচন, যখন দেশের সকল বিরোধী দলের বয়কটের মুখে ভোটারবিহীন একটি নামকাওয়াস্তে নির্বাচন অনুষ্ঠান করে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ। এতে কেবল ফলাফল জালিয়াতিই নয়, বরং কোনোপ্রকার নির্বাচন ছাড়াই ঘোষিত ফলাফলে অর্ধেকেরও বেশী আসনের (১৫৩ আসন) এমপি নিয়ে ১২ জানুয়ারী সরকার গঠন করে। তখন থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশে রাজনৈতিক অশান্তি। একতরফা এ নির্বাচন নিয়ে সারা বিশ্ব থেকে আপত্তি ওঠে, এবং সকলপক্ষকে নিয়ে সহসাই নতুন আরেকটি নির্বাচনের পরামর্শ দেয়া হয়, যার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য: এক) জাতিসংঘ মহাসচিব ৫ জানুয়ারীর পরে এক বিবৃতিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে কার্যকর সংলাপে বসার আহবান জানান, যাতে বাংলাদেশে অংশগ্রহনমূলক রাজনৈতিক প্রকৃয়ায় জনগনের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটে “address the expectations of the people of Bangladesh for an inclusive political process.” দুই) অষ্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী অতি দ্রুততার সাথে একটি নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপুর্ন স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহবান জানান (a new, fully contested and transparent election as soon as possible). তিন) বৃটিশ পার্লামেন্ট বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে এক বিতর্ক শেষে ফরেন অফিস মিনিস্টার ডেভিড লিজিংটন “বাংলাদেশে পূনরায় একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিবার্চন” দাবী করে সরকারকে দ্রুত পদেক্ষপ নিতে আহবান জানান। চার) কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন বেয়ার্ড এক বিবৃতিতে সত্যিকার অংশগ্রহনমূলক সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করেন। পাঁচ) কমনওয়েলথ মহাসচিব কমলেশ শর্মা আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে বাংলাদেশশে খুব দ্রুততার সাথে একটি গ্রহনযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে আহবান জানান যাতে জনগনের মতামতের প্রতিফলন ঘটে। (to a more inclusive and peaceful political process in which the will of the people can be fully expressed). ছয়) ফ্রান্স সরকার বাংলাদেশের সকল পক্ষগুলিকে অর্থাৎ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলিকে আলোচনার ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালি করার আহবান জানান। সাত) জার্মান সরকার ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনটিকে ভোটারদের দূর্বল প্রতিনিধিত্ব হিসাবে উল্লেখ করে সকল পক্ষকে অংশগ্রহনমূলক শান্তিপূর্ন ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য কাজ করতে আহবান জানায়। (to work together to bring about inclusive, peaceful and credible democratic elections). আট) নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বাংলাদেশে গ্রহনযোগ্য নির্বাচন দিতে এবং বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের গ্রেফতার বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক বিশ্বের চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানায়। নয়) ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের প্রতিক্রিয়ায় বলে, বাংলাদেশের জনগনকে তাদের প্রতিনিধি বাছাইয়ের সুযোগ দেয়া হয়নি। সকল পক্ষকে একটি সত্যিকারের সংলাপের ভিত্তিতে সকলের নিকট গ্রহনযোগ্য পদ্ধতিতে একটি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হবে, যা হবে সকলের অংশগ্রহনমূলক, এবং জনগনের স্বার্থ সংরক্ষন করে। (to hold transparent, inclusive and credible elections, putting the interests of the people of Bangladesh first). দশ) অন্যদিকে, ২০১৪ সালের জুন মাসের মধ্যে নতুন একটি ইনক্লুসিভ নির্বাচনের জন্য সরকারের নিকট দাবী করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বার বার চাপ প্রয়োগ করে বলা হয় দ্রুততার সাথে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হবে, যা হবে বাধাহীন, স্বচ্ছ, শান্তিপুর্ন এবং জনগনের মতামতের প্রতিফলন ঘটে। (to find a way to hold as soon as possible elections that are free, fair, peaceful, and credible, reflecting the will of the Bangladeshi people). নানাবিধ আন্তর্জাতিক চাপের মুখে শেখ হাসিনার সরকার জাতিসংঘ, ঢাকাস্থ কূটনীতিক ও রাজনৈতিক দলগুলোকে কথা দেয়- এটা নিয়ম রক্ষার নির্বাচন, সবাইকে নিয়ে খুব দ্রুতই একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান করা হবে। কিন্তু ক্ষমতায় বসার পরেই তাদের লোভে পেয়ে বসে- পুরো পাঁচ বছর মেয়াদেই ক্ষমতায় থাকতে চান। নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবীতে দেশের সর্ববৃহদ রাজনৈতিক দল বিএনপি ও তার জোট এবং বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্র ও জাতিসংঘ থেকে বারংবার অনুরোধ এবং কখনো কখনো চাপ আসতে থাকে। সরকার সেদিক ভ্রুক্ষেপ না করে দমন পীড়নের পথে চলতে থাকে। এক বছর অপেক্ষা করার পরে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারী নতুন নির্বাচনের দাবীতে বিএনপি-জোট আন্দোলন সমাবেশের ঘোষনা দিলে সরকার বলপ্রয়োগ করে সভা-সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড স্তব্ধ করে দেয়। শুরু হয় অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ কর্মসূচি, এবং মাঝে মাঝে হরতাল। বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্থ হয় সাধারন মানুষ। অন্যদিকে চলমান রাজনৈতিক আন্দোলনকে জঙ্গীবাদ ও মৌলবাদ হিসাবে আন্তর্জাতিক মহলে চিত্রিত করার সরকারী অপচেষ্টা হালে পানি পায়নি। বরং বিশ্বের বেশীরভাগ রাষ্ট্র, এমনকি জাতিসংঘ ইতোমধ্যেই স্বীকৃতি দিয়েছে যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পূনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক আন্দোলন চলছে। এতে কিছু সহিংসতা হলেও ডঃ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মত অনেক বিশেষজ্ঞরা অকপটে স্বীকার করেছেন, সরকার বল প্রয়োগ করে রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও মত প্রকাশের অধিকার স্তব্ধ করায় বাধ্য হয়েই শুরু হয়েছে সহিংস রাজনীতি। পৃথিবীর যে কোনো সভ্য দেশেও এমন দমন পীড়ন হলেও তাই হতো। বাংলাদেশে অনেক সরকার আসছে আর গেছে, অতীতে বহু রাজনৈতিক আন্দোলন ও সহিংসতাও হয়েছে। কিন্তু বিগত সরকারের কর্মকান্ডে সবসময়েই এর একটা ছন্দ ছিলো, এবারেই দেখা যাচ্ছে সবকিছু চলছে উল্টাপাল্টা। দমন পীড়নের মাত্রাটা ব্যক্তিগত নোংরামি থেকে পুলিশ দিয়ে খাবার বন্ধ করে দেয়ার মত পর্যায়ে নেমেছে। সর্বশেষে যুক্ত হলো খালেদা জিয়ার নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী। এ প্রসঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে ১৬ বছরের কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, তিনি এ ধরনের চড়াই উৎরাই ও শ্বাপদসংকুল পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন বহুবার। ১৯৯৬-২০০১ সময়কালে আওয়ামী লীগের শাসনামলে মাঝে মাঝেই শোনা যেত, খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠাবে আজ, বা হাউজ এরেষ্ট করবে। এসব ক্ষেত্রে তিনি বরাবরই ছিলেন স্থির ও অবিচল। এবারেও তার ব্যতিক্রম হবে না। এ কথা অনস্বীকার্য, ৫ জানুয়ারী থেকে চলমান আন্দোলনে বিএনপি ও ২০ দলকে মাঠে নামিয়েছে বর্তমান সরকার। সরকার ভেবেছিল অপ্রস্তুত অবস্থায় বিরোধী দলকে মাঠে নামিয়ে হত্যা, গুম, মারপিট, ও জেলে পাঠিয়ে আজীবন ক্ষমতায় থাকার পথ তৈরী করা যাবে। কিন্তু তাদের সে ধারনা ভুল প্রমান করে আন্দোলনের তীব্রতা দিনদিন বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধকরনে শেখ হাসিনার হঠকারিতাই দেশের বর্তমান অচলাবস্খার জন্য দায়ী। গত ৫২ দিন ধরে দেশে চলছে অবরোধ--জনগনের কষ্টের শেষ নেই। সরকারী হিসাবেই ৪০% গার্মেন্টস অর্ডার বাতিল হয়েছে, ব্যবসা বানিজ্যের ক্ষতি হয়েছে ১ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকার। কিন্তু এতেও সরকারের টনক নড়ার লক্ষন দৃশ্যমান নয়, বরং চলছে মিথ্যাচার ও উপর্যুপরি হুমকি ধামকি। যদিও সরকারের কোনো ম্যান্ডেট নাই, গণভিত্তিহীন সরকার টিকে আছে কেবল খুন গুম ও ধরপাকড়ের দ্বারা বিরোধী দলের দমনের মধ্য দিয়ে। জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, কানাডা, চীনের মত প্রভাবশালী শক্তিগুলো আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে রাজনৈতিক সংকট নিরসনের জন্য সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছে বার বার। জাতিসংঘ মহাসচিব তাঁর সহকারী মহাসচিব তারানকোকে দায়িত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশের সংকট সমাধানে কাজ করার জন্য। এসব উদ্যোগ, উৎকন্ঠা, অনুরোধকে সরকার কেবল উপেক্ষাই করছে না, বরং তার বিপরীতে প্রতিনিয়ত আইনশৃংখলা বাহিনীর কন্ঠে শোনা যায়, ‘মেরে ফেলো’, ‘হাত কেটে দাও’, ‘পুতে ফেলো’ ইত্যাদি শব্দ। আগের কথা বাদ দিলেও গত দেড় মাসে বিরোধী দলের বহু নেতাকর্মী নিখোঁজ হয়েছে, যত্রতত্র মিলছে নিহতদের লাশ, আটক হয়েছে হাজার হাজার। এ এক নারকীয় অবস্থা। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর পরে গতরাতে সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ ও বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। সরকারের প্ররোচনায় এ গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করায় নতুন করে সংঘাত শুরু হবে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বের প্রভাবশালী মিডিয়া। রয়টার্স বলেছে, খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে, আরও উসকে দিতে পারে সরকারবিরোধী আন্দোলন। বার্তা সংস্থা এপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, মনে হচ্ছে এ অচলাবস্থা অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল লিখেছে, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটিতে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারীর এ পদক্ষেপে খালেদা জিয়ার সমর্থক আর সরকারপন্থীদের মধ্যকার বিরাজমান উত্তেজনা আরও উত্তাল করে তুলতে পারে। আর জাতিসংঘের বক্তব্যে উঠে এসেছে, গ্রেফতারী পরোয়ানা নিয়ে মহাসচিবের গভীর উদ্বেগের কথা। মুখপাত্রের প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের চলমান ঘটনা প্রবাহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে জাতিসংঘ, শান্তিপূর্ন উপায়ে বর্তমান সংকট নিরসনে সকল পক্ষকে  উদ্যোগী হতে মহাসচিব বারংবার তাগিদ দিয়ে আসছেন। আগামী কালই ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশের সংকট নিয়ে গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে যাচ্ছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকট সমাধান ও গণতন্ত্রের পথে চলার আহবান জানিয়েছেন। নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত জানিয়েছেন ঢাকায় মার্কির রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। এতকিছু সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার তাদের দমন পীড়নের পথেই চলছে, সংকট নিরসনের কোনো চেষ্টাই করছে না। দেশে চলমান রাজনৈতিক সংঘাত ও বহির্বিশ্বের চাপ সরকারের মেয়াদ দ্রুত সমাপনীর দিকে নিয়ে যাচ্ছে, এমন ধারনা বিশেষজ্ঞদের। চরম রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের সরকারী উদ্যোগে রাজনৈতিক সংকট ও সংঘাতেকে আরো জটিল করে তুলবে, যার শেষ হতে পারে অস্বাভাবিক পরিণতির দিকে, যা কারো কাম্য নয়। সরকারের সর্বশেষ প্রয়াসটিকে অনেকেই মনে করছেন মৃত্যুর আগে অশ্বের খুরের শেষ আঘাত হিসাবে।  

বিস্তারিত»

মতামত

দুই বাংলা কেন এক হলো না

মেহেদী হাসান পলাশ : ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তিনদিনের ঢাকা সফর নিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোতে এমন ব্যাপক প্রচার লক্ষ্য করা গেছে যে, মনে হয়েছে, মমতার এই সফরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সকল জট খুলে যাবে। অবশ্য শুধু গণমাধ্যম নয়, সরকারের তরফ থেকেও একজন সরকারপ্রধানের মতো মর্যাদা ও প্রটোকল নিশ্চিত করা হয় তার জন্য। তবু বাংলাদেশের প্রত্যাশা ও দাবির ব্যাপারে শুকনো মৌখিক আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই দেননি মমতা। অবশ্য পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, জঙ্গী, জামায়াত সম্পর্কের ইস্যুতে বিপাকে পড়া মমতা অস্বস্তি কাটাতেই বাংলাদেশ সফর করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ভোজ সভায় ৫ পদের ইলিশ ব্যাঞ্জন দেখে মমতা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে টিপ্পনী কেটে নাকি বলেন, এখানে ইলিশ পাচ্ছি অনেক, কিন্তু কোলকাতায় তো ইলিশ যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীও তার সপ্রতিভ উত্তরে বলেন, তিস্তায় পানি আসছে না। পানি না এলে ইলিশ তো উড়ে যেতে পারে না। পানি এলে ইলিশ যাবে। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের জবাবও দিয়েছেন মমতা, ইলিশ তো পদ্মার মাছ। তিস্তার পানিতে ইলিশ থাকে এমন কথা তো শুনিনি। মমতার এই সফরে সঙ্গীর তালিকায় বিনোদন জগতের লোকদের আধিক্য ছিল। এর মাধ্যমে বোঝা গিয়েছিল, অস্বস্তি কাটানোর পাশাপাশি বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের বাজার দখলও মমতার কূটনীতির অংশ ছিল। এফডিসিতে টালিউডি অভিনেতা ও কলাকুশলীদের বৈঠকে সে বিষয়টি তারা প্রকাশ্যেই বলেছেন। যদিও পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশী টিভি চ্যানেল প্রদর্শনের অনুমতি দেয়ার ব্যাপারে কার্যকর কোনো আলোচনা করেননি তারা। মমতার এই সফরকালে রাজধানীর একটি হোটেলে দুই দেশের সাংস্কৃতিক জগতের লোকদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাস। এ অনুষ্ঠানের নাম দেয়া হয় ‘বৈঠকী বাংলা’। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত গাইবার জন্য অনুরোধ করা হয় কোলকাতার শিল্পী ইন্দ্রনীল সেনগুপ্তকে। আনন্দবাজার পত্রিকার রিপোর্টে জানা যায়, ইন্দ্রনীল বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত মাঝের অন্তরা থেকে গাইতে শুরু করেন। ফলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশী শিল্পীরা এর প্রতিবাদ শুরু করলে মমতা তাকে থামতে বলে প্রতিবাদের কারণ জানতে চান। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর মমতা নিজেই স্টেজে উঠে দুই বাংলার খ্যাতনামা শিল্পীদের মঞ্চে ডাকেন এবং সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে কোলকাতার বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ বলেন, ‘আমার একটা ছোট্ট কথা বলার ছিল। ৬৭-৬৮ বছর আগে এপার বাংলা, ওপার বাংলা হয়ে গিয়েছিল। তারপর অনেক কা- ঘটে গেছে। এখন থেকে এপার বাংলা, ওপার বাংলা না বললেই বোধ হয় ভালো।’ অনুষ্ঠানে টালিউডের হালের সুপারহিট নায়ক দেব আরো এককাঠি এগিয়ে বলেন, ‘আমাদের ভাষাটা (বাংলা) পৃথিবীতে পঞ্চম স্থানে। আমি জানি, আমরা কেউ এটা আমাদের জন্য করছি না। আমাদের জীবনটা খুব ভালো কেটেছে বা কেটেও যাবে। কিন্তু সমাজে আমরা যে স্থানটাতে আছি, এটা আমাদের দায়িত্ব, এই ভাষাটাকে নিয়ে আমাদের কিছু বলা উচিত। সেই কারণে হয়তো আমরা এখানে এসেছি। আমাদের স্বপ্ন এক, আমাদের ইচ্ছেটাও। সবকিছুই যখন এক, তাহলে আমরা দুই সরকারকে বলি যে প্লিজ, এপার বাংলা, ওপার বাংলাকে এক বাংলা করে দাও।’ শুধু দেব নয়, স্বাধীনতার পর থেকেই কোলকাতার বুদ্ধিজীবী, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পীরা বাংলাদেশে এসেই ‘আমি বাংলার গান গাই’ বলে গদগদ চিত্তে বলে থাকেন, এই কাঁটাতার, সীমান্ত তুলে দাও, দুই বাংলা এক করো, ইত্যাদি। কিন্তু দুই বাংলাকে কীভাবে এক করা হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা বা ব্যাখ্য কেউই দেন না। দুই বাংলা এক বলতে যদি বাংলাদেশ সীমান্ত মুছে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাথে মিশে যাওয়া বোঝায় তাতে দুই বাংলা কখনো এক হয় না বরং বাংলাদেশ এক মহাভারতের সাগরতীরে লীন হয়ে যায়। কিন্তু যদি সত্যিকার অর্থেই অখ- সার্বভৌম বাংলা যা শরৎবসু, সোহরাওয়ার্দীসহ মুসলিম লীগের নেতারা চেয়েছিলেন তা বোঝায়, তাহলে আজ পশ্চিমবঙ্গকে প্রথমে ভারত থেকে আলাদা বা স্বাধীন হতে হবে। তারপর আসবে এক হওয়ার কথা। দেবরা কি সেই বাংলার কথা বলছেন? সেই বাংলা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষই চেয়ে এসেছে সেই চল্লিশের দশক থেকে। তবে সেই বাংলা বাস্তবায়নের আগে আজকের নায়ক দেবকে জানতে হবে বাংলা কেন ভাগ হয়েছিল। ইতিহাসে বাংলা বহুবার ভাগ হয়েছে। তবে অখ- বাংলার যে রূপটি চল্লিশের দশকে শরৎবসু, সোহরাওয়ার্দী প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন তার প্রকৃত রূপটি ইতিহাসে প্রথম পরিদৃষ্ট হয় সুবা বাংলা হিসেবে। সিরাজ-উদ-দৌলার কাছ থেকে ক্ষমতা নেয়ার দেড়শ’ বছর পর ইংরেজরা প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে বঙ্গভঙ্গ পরিকল্পনা গ্রহণ করে। কিন্তু এর তীব্র বিরোধিতা করেন কলকাতাকেন্দ্রিক উচ্চবর্ণের হিন্দু বুদ্ধিজীবী, জমিদার ও সুবিধাভোগী সম্প্রদায়। ড. আম্বেদকরের ভাষায়, ‘বাঙালি হিন্দুদের বাংলা বিভাগের বিরোধিতা করার প্রধান কারণ ছিল, পূর্ববঙ্গের বাঙালি মুসলমানরা যাতে যোগ্য স্থান না পেতে পারে’। (ড. আম্বেদকর : পাকিস্তান অর পার্টিশন অব ইন্ডিয়া পৃষ্ঠা-১১০)। বঙ্গভঙ্গ পরিকল্পনায় পশ্চিমবঙ্গে জমিদার ও পেশাজীবীরা তাদের জমিদারী, ক্লায়েন্ট ও বাজার রক্ষায় উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। ফলে উচ্চবর্ণের হিন্দু সমাজ বঙ্গভঙ্গ রোধ করতে উঠে পড়ে লাগে। গড়ে তোলে তীব্র আন্দোলন। কিন্তু মুসলমানরা সেই আন্দোলনে শরীক হয়নি। কারণ “বাংলার হিন্দু সমাজ প্রচার করতে থাকে যে, বঙ্গভঙ্গ অর্থ হচ্ছে বঙ্গমাতার অঙ্গচ্ছেদ এবং ফলে দেবী কালীর প্রতি অপমান। হিন্দু ধর্মে কালী মাতৃভূমির প্রতীক। তাই বঙ্গভঙ্গবিরোধীরা ‘বন্দেমাতরমকে’ তাদের জাতীয় সেøাগান ও জাতীয় সঙ্গীতে রূপ দেয়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাস থেকে এ সঙ্গীত নেয়া হয়েছে। ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসটি রচিত হয়েছে ১৭৭০-এর দশকের বাংলার মুসলিম শাসনের বিরুদ্ধে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের উপাখ্যানকে কেন্দ্র করে। স্বভাবতই ‘বন্দেমাতরম’ সঙ্গীতটি মুসলিমবিরোধী। মিছিলে ও সভা-সমিতিতে এ সঙ্গীতের ব্যাপক ব্যবহার মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত হানে এবং পরিণতিতে বাংলার হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার সূচনা করে। (আইএইচ কোরেশী : দি কজ অভ দ্য ওয়ার অভ ইন্ডিপেনডেন্স, পৃ-১৭০; আরো দেখুন, ভারতের মুসলমান ও স্বাধীনতা আন্দোলন, মুহম্মদ ইনাম উল হক, পৃ-১৩৯)। এসময় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হয়ে পড়েন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক সরল চট্টোপাধ্যায় ‘ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ক্রমবিকাশ’ গ্রন্থে লিখেছেন : “বাংলাবিভাগ পরিকল্পনা প্রকাশিত হবার পর অসংখ্য সভা-সমিতি সারা বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়। ১৯০৩-এর ডিসেম্বর থেকে ১৯০৩-জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ সভা-সমিতি অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়। ১৯০৫ পর্যন্ত ছোট-বড় এবং অতিবিশাল প্রায় ২ হাজার বঙ্গভঙ্গবিরোধী সভায় নরমপন্থী নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন। ১৯০৫-এর অক্টোবরে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হবে বলে সরকার ঘোষণা করে। রবীন্দ্রনাথের আহ্বানে এই দিন ‘রাখী বন্ধন দিবস’ রূপে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। বঙ্গভঙ্গ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবছর ১৬ অক্টোবর ‘রাখী বন্ধন উৎসব’ পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। রবীন্দ্রনাথের নেতৃত্বে এই দিন শোভাযাত্রা শুরু হয় এবং পথের দু’ধারে সবার হাতে রাখী পরিয়ে দেয়া হয়। রাখী বন্ধন উৎসব বাংলাবিভাগবিরোধী রাজনৈতিক উৎসবে পরিণত হয়।” শুধু তাই নয়, এই উৎসব উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ লেখেন তার বিখ্যাত গান- ‘বাংলার মাটি বাংলার জল বাংলার হাওয়া বাংলার ফল... বাঙালীর প্রাণ বাঙালীর মন বাঙালী ঘরে যতো ভাইবোন এক হউক, এক হউক, এক হউক হে ভগবান’। রবীন্দ্রনাথ এসময় দেশমাতাকে ‘কালীমাতার’ মধ্যে মিলিয়ে রচনা করেন অসংখ্য সঙ্গীত যা বঙ্গভঙ্গবিরোধীদের আন্দোলনে প্রেরণা যোগায়। বঙ্গভঙ্গ রদ করতে কোলকাতার হিন্দু সম্প্রদায় গড়ে তোলে অনুশীলন সমিতি ও যুগান্তর দলের মতো সন্ত্রাসী সংগঠন। এ সংগঠনের নেতৃত্বে সারাদেশে প্রতিষ্ঠা করা হয় অসংখ্য ভবানী মন্দির। ভবানী মন্দিরে বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের কর্মীরা দেবী ভবানী বা কালীর সামনে উপবেশন করে মাথায় গীতা ও তরবারী রেখে বুকচিরে রক্ত দেবী কালীর পায়ে নৈবেদ্য দিয়ে মন্ত্র জপের মাধ্যমে শপথ নিয়ে সদস্য হতেন। এরকমই একজন কর্মী ছিলেন ক্ষুদিরাম। ‘১৯০৩ সালে কিশোর ক্ষুদিরাম শপথ নিয়ে দীক্ষা গ্রহণ করলেন মেদেনীপুরে সত্যেনবসুরই নির্দেশনায়। ১৪ বছরের বালক ক্ষুদিরাম কি জানি কোন দুঃখে কিম্বা মনের আবেগে বা দুর্বার আকর্ষণে দিক্ষীত হলেন গুপ্ত সমিতিতে। (মুহাম্মদ সানাউল্লাাহ আখুঞ্জী : ক্ষুদ দিয়ে কেনা ক্ষুদিরাম, উপমা ডাইজেস্ট, ডিসেম্বর ১৯৯১)। ১৯০৮ সালের ৩০ এপ্রিল ক্ষুদিরাম ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যা করতে গিয়ে তার পরিবর্তে ব্যারিস্টার মি. কেনেডির স্ত্রী মিসেস কেনেডি ও তার কন্যার উপর বোমা হামলা করে হত্যা করেন। পরের দিন তিনি ধরা পড়েন। ১১ আগস্ট মুজাফ্ফরপুর জেলে তার ফাঁসি হয়। এরপর ক্ষুদিরামকে স্বাধীনতা যুদ্ধের অগ্নিসেনানী রূপে চিত্রিত করতে লেখা হয় অসংখ্য গান ও কবিতা। সেসব গানেরই একটির দু’ লাইন এমন- ‘বড় লাটকে মারতে গিয়ে মারলাম ইংল্যান্ডবাসী’। ক্ষুদিরাম টার্গেট করেছিলেন কোলকাতার সামান্য ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে। কোথায় বড়লাট লর্ড কার্জন আর কোথায় সামান্য ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড! কোলকাতার হিন্দুদের এই মুসলিমবিরোধী অবস্থানের কারণে বাঙালি মুসলমানরা কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আলাদা রাজনৈতিক ফোরামের কথা চিন্তা করে। বিমলানন্দ শাসমলের মতে, ‘বাংলা ও ভারতের প্রবল হিন্দু জনমতের কাছে বঙ্গ ব্যবচ্ছেদ পরিত্যক্ত হওয়ায় মুসলমানদের মনে যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছিল তারই ফলে মুসলিম লীগের জন্ম হয়’। (স্বাধীনতার ফাঁকি, বিমলানন্দ শাসমল, পৃষ্ঠা-৬৫)। অবশেষে সন্ত্রাসী আক্রমণের মুখে বাধ্য হয়ে ১৯১১ সালে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়। কোলকাতার উচ্চবর্ণের হিন্দুদের বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন অখ- স্বাধীন ভারতের সম্ভাবনাও নস্যাৎ করে ভারতবর্ষের বুকে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে দুইটি রাষ্ট্র সৃষ্টির বীজ বপন করেছিল। অথচ যারা ১৯০৫ সালে অখ- বাংলার জন্য সংগ্রাম করেছিল সত্যিকার অখ- বাংলার সম্ভাবনা যখন সৃষ্টি হলো ১৯৪৭ সালে, তখন তারা এর প্রবল বিরোধিতা করে বসলো। বিমলানন্দ শাসমলের ভাষায়, ‘১৯৪৭ সালে মুসলমানরাই চাইল অবিভক্ত বাংলা আর হিন্দুরা চাইলো বাংলা বিভাগ। ১৯০৫ সালে কার্জন যা চেয়েছিলেন ১৯৪৭ সালে হিন্দুরা স্বেচ্ছায় সে প্রস্তাবকে কার্যকরী করলো।’ (ভারত কী করে ভাগ হলো, বিমলানন্দ শাসমল, ভূমিকা দ্রষ্টব্য)। “অখন্ড বাংলার পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে নিখিল বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইন সভার পূর্ব নির্ধারিত বিশেষ অধিবেশন বসলো ১৯৪৭ সালের ২০ জুন। পূর্ব ঘোষণা ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকার সদস্যগণ আলাদাভাবে অধিবেশনে মিলিত হলেন। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকার সদস্যদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের স্পিকার নুরুল আমিন। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের ১৯৬ জন মুসলিম লীগ দলীয় সদস্য বাংলা ভাগের বিপক্ষে ভোট দিয়ে অখ- সার্বভৌম বাংলার পক্ষে তাদের সমর্থন প্রকাশ করলেন। পক্ষান্তরে কংগ্রেস দলীয় ৩৪ জন সদস্য বাংলাভাগের পক্ষে ভোট দিয়ে অখ- স্বাধীন বাংলার বিপক্ষে অবস্থান নিলেন। আর তফসিলী ফেডারেশনের ৫ জন সদস্য বাংলাকে ভাগ করার বিপক্ষে ভোট দিয়ে অখন্ড বাংলাকে সমর্থন করলেন। হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাগুলোর চিত্র ছিল ভিন্ন। কংগ্রেস এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নেতৃত্বাধীন হিন্দু মহাসভা ও জ্যোতিবসুর নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টির মোট ৫৮ জন সদস্য বাংলাভাগের পক্ষে ভোট দিলেন। বাংলা ভাগের বিপক্ষে অর্থাৎ অখ- স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলা রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে ভোট দিলেন ২১ জন সদস্য।” (বঙ্গভঙ্গ থেকে বাংলাদেশ, মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, পৃষ্ঠা-২৮৮) শরৎবসু, সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাসিমসহ বাংলার হিন্দু-মুসলিম নেতাদের প্রবল দাবির মুখে যখন অখ- স্বাধীন বাংলার দাবি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছিল তখনই কোলকাতার বুকে সংগঠিত হয় ভয়াবহ দাঙ্গা। ‘হিন্দু পক্ষে এটা ছিল বাংলা ভাগের জন্য লড়াইয়ের একটা অংশ বিশেষ। এর সংগঠকদের মধ্যে ছিল মহাসভা ও কংগ্রেসের সদস্য বিশেষ করে পুরোনো সন্ত্রাসী কংগ্রেস নেতা যারা কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেয়নি’। (বেঙ্গল ডিভাইড, জয়া চ্যাটার্জি, অনুবাদ আবু জাফর, পৃষ্ঠা-২৭১)। সেই সময়কার ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘মুসলমানরা মোটেই এ দাঙ্গার জন্য প্রস্তুত ছিল না, এ কথা আমি বলতে পারি।’ “ছাত্র পেশাজীবী ব্যবসায়ী এবং দোকানদার ও পাড়ার ভাড়াটে গু-া মার্কা ছেলেদের অভাবিত ঐক্যের ফলে হিন্দু জনতার রক্তক্ষয়ী বিজয় হয় কোলকাতার রাস্তায়, ১৯৪৬ সালে। এটাই বাংলা বিভাগ এবং একটা পৃথক হিন্দু আবাসভূমি গঠনের জন্য হিন্দু আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করেছে। কিন্তু হিন্দুদের এই জঘন্য কাজকে কখনোই স্বীকার করা হয়নি। হিন্দু সংবাদপত্র এই আক্রমণের জন্য দোষারোপ করে সোহরাওয়ার্দী সরকার ও মুসলিম লীগকে; আর এই হত্যাযজ্ঞকে গণ্য করা হয় ভবিষ্যতে ‘মুসলমান শাসনের’ অধীন বাঙালি হিন্দুদের ভাগ্যর ভয়াবহ অশুভ লক্ষণ হিসাবে।” (বেঙ্গলডিভাইড, জয়া চ্যাটার্জি- পৃষ্ঠা-২৭৭)। তবু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী অখ- বাংলার দাবি ও চেষ্টা থেকে সরে আসেননি। ১৯৪৭ সালের ২৭ এপ্রিল সোহরাওয়ার্দী দিল্লীতে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, খন্ডিত পশ্চিম বাংলা পশ্চিম ভারতের কলোনি হবে। “২৩ এপ্রিল জিন্নাহ ও মাউন্টব্যাটেনের মধ্যে পাঞ্জাব ও বাংলাভাগের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলো। মাউন্টব্যাটেন স্বীকার করলেন যে, বাংলায় ভাগ বন্ধ হতে পারে... একটি শর্তে যে, বাংলা পাকিস্তান বা ভারতে যোগ দেবে না। সে কথার উত্তরে জিন্নাহ মাউন্ট ব্যাটেনকে বলেছিলেন যে, তিনি স্বাধীন অবিভক্ত বাংলাকে স্বাগতম জানাবেন। কারণ কোলকাতা না পেলে বাংলাদেশের বাকি অংশ নিয়ে কী লাভ হবে?... ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি লর্ড মাউন্টব্যাটেনের সহযোগিতায় বাংলাভাগের যে ষড়যন্ত্র করেছিলেন তা প্রতিহত করার জন্য মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ সোহরাওয়ার্দীকে পূর্ণ দায়িত্ব দেন।’ (পূর্ব বাংলার সমাজ ও রাজনীতি : কামরুুদ্দীন আহমদ, পৃষ্ঠা-৮৯)। ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন পাকিস্তানের একনিষ্ঠ সমর্থক। অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে তিনি পাকিস্তান নিয়ে তার গভীর আবেগের কথা ব্যক্ত করেছেন। ‘পাকিস্তান না আনতে পারলে লেখাপড়া শিখে কী করবো? আমাদের অনেকের মধ্যে এই মনোভাবের সৃষ্টি হয়েছিল।’ (পৃষ্ঠা-৩২)। তিনি আরো লিখেছেন, ‘অখ- ভারতে যে মুসলমানদের অস্তিত্ব থাকবে না এটা আমি মন প্রাণ দিয়ে বিশ্বাস করতাম।’ (পৃষ্ঠা-৩৬)। পাকিস্তানের প্রতি গভীর আবেগ সত্ত্বেও শেখ মুজিবুর রহমান অখ- বাংলার প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ করেছেন এভাবে, “এই সময় শহীদ সাহেব, হাসিম সাহেব মুসলিম লীগের তরফ থেকে এবং শরৎবসু ও কিরণশঙ্কর রায় কংগ্রেসের তরফ থেকে এক আলোচনা সভা করেন। তাদের আলোচনায় এই সিদ্ধান্ত হয় যে, বাংলাদেশ ভাগ না করে অন্য কোনো পন্থা অবলম্বন করা যায় কিনা? শহীদ সাহেব দিল্লীতে জিন্নাহর সাথে সাক্ষাৎ করে এবং তারা অনুমতি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। বাংলাদেশে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের নেতারা একটা ফর্মুলা ঠিক করেন। বেঙ্গল মুসলিম লীগ ওয়ার্কিং কমিটি এ ফর্মুলা সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করে। যতদূর আমার মনে আছে তাতে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ একটা স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হবে। জনসাধারণের ভোটে একটা গণপরিষদ হবে। সেই গণপরিষদ ঠিক করবে বাংলাদেশ হিন্দুস্তানে না পাকিস্তানে যোগদান করবে, নাকি স্বাধীন থাকবে। এই ফর্মুলা নিয়ে সোহরাওয়ার্দী ও শরৎবসু দিল্লীতে জিন্নাহ ও গান্ধীর সাথে দেখা করতে যান। শরৎবসু নিজে লিখে গেছেন যে, জিন্নাহ তাকে বলেছিলেন, মুসলিম লীগের কোনো আপত্তি নাই, যদি কংগ্রেস রাজি হয়। ব্রিটিশ সরকার বলে দিয়েছে, কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ একমত না হলে তারা নতুন কোনো ফর্মুলা মানতে পারবেন না। শরৎবাবু কংগ্রেস নেতাদের সাথে দেখা করতে যেয়ে অপমানিত হয়ে ফিরে এসেছিলেন। কারণ সরদার বল্লভ ভাই প্যাটল তাকে বলেছিলেন, ‘শরৎবাবু পাগলামী ছাড়েন, কলকাতা আমাদের চাই। মাহাত্মা গান্ধী ও পন্ডিত নেহেরু কিছুই না বলে তাকে সরদার প্যাটলের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। আর মিস্টার প্যাটল তাকে খুব কঠিন কথা বলে বিদায় দিয়েছিলেন। কলকাতা ফিরে এসে শরৎবসু খবরের কাগজে বিবৃতির মাধ্যমে এ কথা বলেছিলেন এবং জিন্নাহ যে রাজি হয়েছিলেন এ কথাও স্বীকার করেছিলেন’।” (অসমাপ্ত আত্মজীবনী পৃষ্ঠা-৭৪)। এরপর ‘শরৎবসুকে ১৯৪৭ সালের ৮ জুন লিখিত এক চিঠিতে গান্ধী জানিয়ে দেন যে, তিনি বাংলাদেশ পরিকল্পনার বিষয় নিয়ে নেহেরু ও প্যাটেলের সাথে আলোচনা করেছেন এবং এই উদ্যোগের প্রতি তাদের সম্মতি নেই। গান্ধী তার এই চিঠিতে শরৎবসুকে অখন্ড স্বাধীন বাংলার গঠনের পরিকল্পনা ত্যাগ করার জন্য বাংলা ভাগের বিরোধিতা হতে বিরত থাকার জন্য পরামর্শ দেন।’ (বঙ্গভঙ্গ থেকে বাংলাদেশ, মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, পৃষ্ঠা-২৮২-২৮৩)। দেব বাবুরা নিশ্চয় উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বুঝতে পারছেন, খন্ডিত বাংলা কাদের ভুলের ফসল? তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময়ও এদেশ থেকে যাওয়া অনেক শরণার্থী ও মুক্তিযোদ্ধা কোলকাতায় অখন্ড বাংলার আলোচনা করেছেন। কিন্তু পশ্চিম বাংলা থেকে কোনো সাড়া আসেনি। একটি বৃহৎ বা অখন্ড বাংলার স্বপ্ন বাংলাদেশের। মমতার সফরসঙ্গী দেব তার আবেগ থেকে অখন্ড বাংলার কথা বলেছেন। এর জবাবে বাংলাদেশের খ্যাতিমান নাট্য নির্মাতা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী তার ভেরিফাইড ফেসবুক প্রোফাইলে দেবকে অভিনন্দন জানিয়ে স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘দুই বার্লিন এক হতে পারলে দুই বাংলা নয় কেনো? আশা করছি কোলকাতা ফিরে তারা বাংলাদেশের সাথে যোগ দেয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করবে। আমরা আপনাদের পাশে থাকবো। ঐ দিকে মমতা ব্যানার্জির সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে বেশ উৎসাহ দেখা গিয়েছে। বাংলাদেশে এসে আমাদের পিঠ চাপড়ে, বাংলা আমার মা জাতীয় কথা বলাকে যারা সন্দেহের চোখে দেখছেন তাদেরকে ভুল প্রমাণ করার জন্য কোলকাতা ফিরে উদ্যোগ নেয়ার জন্য মমতা আপাকে আহ্বান জানাই। আশা করি, বাংলাদেশের প্রতি এই প্রেম কোলকাতায় ফিরেও অব্যাহত রাখবেন।’ Email: palash74@gmail.com

বিস্তারিত»

বিনোদন

সোয়াইন ফ্লু-তে আক্রান্ত সোনম

বিনোদন ডেস্ক : শনিবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলিউড সুন্দরী সোনম কাপুর। জানা গেছে, সোনমের রক্তে সোয়াইন ফ্লু-র ভাইরাস ধরা পড়েছে। আপাতত গুজরাটের রাজকোটের স্টার্লিং হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২৯ বছর বয়সী এই নায়িকা।   আপকামিং প্রেম রতন ধন পায়ো সিনেমার শুটিংয়ের জন্য গুজরাটে এসেছিলেন সোনম। মুম্বাই থেকে থেকে গুজরাট রওনা হওয়ার সময়েই প্রবল জ্বর ও গলা ব্যথায় আক্রান্ত ছিলেন সোনম। শুটিংয়ের মধ্যে তা আরও বাড়লে, হাসপাতালে ভর্তি হোন তিনি।   রাজকোট জেলার কালেক্টর মনীষা চন্দ্র বলেন, সম্ভবত মুম্বাইয়ে তার ফিজিকাল ট্রেনারের থেকেই সোয়াইন ফ্লু-র জীবাণু সোনমের শরীরে সংক্রামিত হয়েছে। এখানে আসার পর থেকেই সোয়াইন ফ্লুর লক্ষণ দেখা যায় তার মধ্যে।সোনমের চিকিত্সা করছেন যে চিকিত্সক, সেই ডা. চিরাগ মাতরাভাদিয়া জানান, সোনমকে পৃথক কেবিনে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। তার মা সুনীতা রাজকোটে এসেছেন। তিনি সোনমকে মুম্বাইয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।   প্রসঙ্গত, গত মাসেও সোনম শ্বাসকষ্টের সংক্রমণের সমস্যা নিয়ে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

বিস্তারিত»

স্বাস্থ্য ও রুপচর্চা

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ৩ ফ্রুট জুস

ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করা সবচেয়ে দরকারি। ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে ফ্রুট জুস বেশ ভালো ভূমিকা রাখে। ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের উপস্থিতিতে ফলের জুস ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের একটি চমৎকার মাধ্যম হতে পারে। আজ জেনে নিন এমন তিনটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণকারী ফলের জুস সম্পর্কে। আঙুরের জুস আঙুরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, থায়ামাইন ও ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। তাছাড়া আঙুর অনেক বেশি ক্রোমিয়াম সমৃদ্ধ একটি ফল। চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হয় ক্রোমিয়াম ইনসুলিন এর উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আঙুরের ক্রোমিয়াম শরীরে হরমোনের মাত্রা ঠিক রেখে এবং গ্লুকোজ স্বাভাবিক রাখে। তাই যারা ডায়বেটিস সমস্যায় আক্রান্ত তারা আঙুরের জুস পান করতে পারেন নির্দ্বিধায়। কমলার জুস কমলার জুস ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী খাদ্য উপাদান। একজন ডায়াবেটিস রোগী দিনের শুরু করতে পারেন পুষ্টিকর কমলার জুস দিয়ে। কমলাতে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণকারী ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি-১, ফলিক অ্যাসিড ও পটাসিয়াম প্রচুর পরিমাণে থাকে। আপেলের জুস ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আপেল জুস খুবই স্বাস্থ্যকর একটি পানীয়। আপেলে কমলার তুলনায় অল্প মাত্রায় ভিটামিন বি, সি ও পটাসিয়াম রয়েছে থাকলেও এই ফলের ফাইবার কন্টেন্ট  রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। আপেলের জুস পান করার সময় আলাদা চিনি না দিয়ে পান করাটা সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর।

বিস্তারিত»

সম্পাদকীয়

দেশে অস্বাভাবিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বেড়েই চলছে

দেশে অস্বাভাবিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বেড়েই চলছে। কথিত বন্দুকযুদ্ধ, ক্রসফায়ার, গাড়িচাপা ও গুম করে মানুষ হত্যা যেন এক ভয়ঙ্কর নিয়মে পরিণত হয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড চলছেই।  গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার একরাতে সারাদেশে ৬টি গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকার মিরপুরে চারজন আর ঝিনাইদহে ২ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। পত্রিকার রিপোর্টে জানা গেছে, রাজনৈতিক সৃষ্ট সহিংসতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে গত ৫১ দিনে অন্তত ১০৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আর গত ৫১ দিনে পুলিশের কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’, ক্রসফায়ার, গাড়িচাপা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন ৬৭ জন। তাদের কি অপরাধ ছিলো তা দেশের জনগণ বা বিচার বিভাগ জানতে পারেনি। অপরদিকে পেট্রোল বোমা ও অগ্নিসংযোগে নিহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। আর আহত হয়েছেন শত শত মানুষ, যার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই কোনো সংস্থার কাছে। এসব হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদ হচ্ছে। বিশেষ করে দেশে বিরোধী দল ও দেশ-বিদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড গুলোর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এসব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে কেবল পেট্রোল বোমা ও অগ্নিসংযোগের কারণে যারা হতাহত হচ্ছে তাদের প্রতি বিশেষ খেয়াল দেয়া হচ্ছে। তবে এটা সরকারের ভালো দিক ও যথাযথ কাজ। কিন্তু আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড গুলোর ব্যাপারে সরকারের নিরবতা সবাইকে হতবাক করছে। ক্রসফায়ার ও কথিত বন্দুকযুদ্ধে যারা হতাহত হচ্ছেন তারাও বাংলাদেশের নাগরিক। এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য সরকারকেই জবাবদিহি করতে হবে। পেট্রোল বোমা ও অগ্নিসংযোগে হতাহতদের প্রতি সরকারের সহমর্মিতা ও তাদের সহযোগিতা করার উদ্যোগ অবশ্যই ভালো দিক। এটা করা সরকারের দায়িত্বও বটে। অপরদিকে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে যারা হতাহত হচ্ছেন তাদের ব্যাপারে সরকারের নিরবতা সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে। সরকার কি চায় দেশে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যাকাণ্ড চলুক। আমরা মনে করি দেশে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যাকাণ্ড চলুক তা সরকার চায় না। কিন্তু তারপরও দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চলছেই। আমরা মনে করি সরকার সব ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধের ব্যাপারেই সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আমরা দেশে কোনো নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি দেখতে চাই না। দেশের সকল হত্যাকাণ্ড তা পেট্রোল বোমা ও অগ্নিসংযোগে নিহতের যেমন, তেমনি বিচারবহির্ভূতভাবে কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যাকাণ্ড কোনোটাই আমরা চাই না। সরকারের কাছে আমাদের পরামর্শ সকল হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে যথাযথ তদন্ত করা উচিত। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় তদন্ত হতে পারে। কারা এবং কিভাবে এসব হত্যাকাণ্ড হচ্ছে তা তদন্ত করে বের করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে বন্ধ করতে হবে। আর এ মূল দায়িত্ব হচ্ছে সরকার ও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের। দেশের এসব অস্বাভাবিক হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে আইনের শাসন থাকবে। তাই যে কোনো অপরাধীকে আইনের শাসনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। বিচারবহির্ভূতভাবে কোনো হত্যাকাণ্ড একটি সভ্য সমাজে চলতে পারে না। আমরা চাই সরকার দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়ে দেশে সবধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করবে।  

বিস্তারিত»

বিজ্ঞপ্তি

ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা

আনুগত্যের উজ্জ্বল মহিমায় ভাস্বর ঈদ উল আজহা।ঈদুল আজহার উদ্দেশ্য স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকা।কুরবানীর সঠিক তাৎপর্যকে উপলব্ধি করে যদি ধর্মপ্রাণ মানুষ কুরবানী দেয়, তাহলে ঈদ-উল-আজহার প্রকৃত উদ্দেশ্য সার্থক হবে। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে গাঢ় হয় পরস্পরের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা, ভালবাসা এবং শ্রদ্ধাবোধ। আল্লাহ্‌তায়ালা ধনী-গরীব সবার মাঝেই ঈদের আনন্দ সমান-ভাবে বন্টনের যে শিক্ষা দিয়েছেন তা সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমে এর তাৎপর্যকে তুলে ধরতে হবে। এই পবিত্র দিনে সিলেটের আলাপ ডট কমের সুপ্রিয় পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের  প্রতি আহবান, ত্যাগের মহিমায় উজ্জল ঈদুল আজহার দিনে আনন্দ উৎসবে ভরে উঠুক সকলের মনপ্রাণ। সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে, গরীব দুঃখীদের পাশে দাঁড়াই।। পবিত্র ঈদ-উল-আযহা  সবার জন্য বয়ে আনুক অনাবিল সুখ ও প্রশান্তি।                                                    সিলেটের আলাপ ডটকমের পক্ষে  সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ডাঃ আব্দুল আজিজ  সম্পাদক তোফায়েল আহমদ খান সায়েক  

বিস্তারিত»

শোক-সংবাদ

সাংবাদিক শাহীনের মাতার ইন্তেকাল

সিলেট: সিলেটভিউ২৪ডটকম’র স্টাফ ফটোগ্রাফার ও মাই টিভির ক্যামেরাপার্সন শাহীন আহমদের মাতা আনোয়ারা বেগম (৬৫) ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন। বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় তিনি সিলেট নগরীর আখালিয়া উজ্জীবন-৩৪ নিজ বাসায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, ২ ছেলে ও ৩ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। শুক্রবার বাদ জুমআ আখালিয়া নতুন বাজার জামে মসজিদে জানাজা শেষে হাওলাদারপাড়া পঞ্চায়েত গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হবে।

বিস্তারিত»

সাম্প্রতিক খবর সর্বাধিক পঠিত

জরিপ

Loading...

Archive