অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিবৃতি সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে

ঢাকা: বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির পক্ষ থেকে অবিলম্বে বাংলাদেশে গুম, নিপীড়ন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা প্রদান করা বন্ধ করার আহবান জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার অ্যামনেস্টির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আহবান জানানো হয়। সরকারের সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু মানবাধিকার রক্ষায় নতুন এ সরকারের কোন শক্তিশালী পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। তার থেকে বড় কথা হচ্ছে, কর্তৃপক্ষ দেশে আরো কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে যাচ্ছে, বিশেষত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ হচ্ছে, যা এখনো প্রক্রিয়াধীন। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানবাধিকার লংঘনের বিষয়ের কথা বলে আসছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, গুম, নিপীড়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ, বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ড, সংখ্যালঘুদের উপর সহিংসতা, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, পার্বত্য চট্টগ্রামবাসীদের নিরাপত্তা ও মৃত্যুদন্ড। বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষার আহবান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে সব ধরনের মানবাধিকার লংঘন বন্ধে অ্যামনেস্টি তার আহবান জানাচ্ছে। বিশেষ করে তিনটি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে, যা ২০১৪ সালে এসেও চলমান রয়েছে। সেগুলো হল- গুম, নিপীড়ন ও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা। বিস্তারিত»

আসছে কোরবানি, প্রস্তুত হচ্ছে মানবদেহের ভয়ঙ্কর বিষ

ঢাকা: ঘনিয়ে আসতে শুরু করেছে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব কোরবানি ঈদ। আর পবিত্র এ ধর্মীয় উৎসবকে সামনে রেখে প্রস্তুত হচ্ছে মানবদেহের জন্য ভয়ঙ্কর বিষ গো-মাংস। অধিক মুনাফার লোভে অসাধু ব্যবসায়ীরা কোরবানির পশু মোটা তাজাকরণের নেশায় প্রজন্মকে ঠেলে দিচ্ছেন মারাত্মক ঝুঁিকতে। সূত্র মতে, আসন্ন কোরবানিকে সামনে রেখে দেশের এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা মেতে উঠেছেন হরমোন ইনজেকশন স্টেরয়েড, ডেঙামেথাসন, ডেকাসন, বেটামেথাসন ও পেরিঅ্যাকটিন মতো মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ওষুধ বিক্রিতে। অসাধু ব্যবসায়ী ও অনেক কৃষকও অধিক লাভের আশায় গরু মোটাতাজা করতে ব্যবহার করতে এসব মরণব্যাধি বিষ ব্যবহার করছেন। এসব ওষুধ খাওয়ালে এক থেকে দেড় মাসের মাথায় গরু মোটাতাজা, নাদুস-নুদুস হয়ে যায়।  বিষাক্ত রাসায়নিকের হাই-ডোজ প্রয়োগে মোটা তাজা করা এসব গরুর মাংস খেলে লিভার, কিডনি, হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্তসহ মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গরুর জন্য এসব ওষুধ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলেও তা মানছে বাংলাদেশি অসাধু ব্যবসায়ীরা। সবকিছু দেখেও যেন কিছুই করার নেই সংশ্লিষ্টদের। প্রাণিসম্পদ বিভাগের ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গামেথাথন জাতীয় ওষুধ পশু বা মানুষকে খাওয়ালে এক সপ্তাহের মধ্যে মোটাতাজা হবে। তবে এই মোটাতাজা বেশি দিন স্থায়ী হয় না, বড়জোর দুই থেকে তিন মাস। আর এই ডেঙ্গামেথাথন গরুকে খাওয়ালে আর সেই গরুর মাংস মানুষ খেলে লিভার, কিডনি, ক্যান্সার, হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্তসহ ভয়ঙ্কর সব রোগ হতে পারে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোরবানি ঈদ এলেই দেশের বাইরের ব্যবসায়ী ও কিছুসংখ্যক কৃষক প্রতি বছর গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া বেশ জোরেশোরে শুরু করে। বেশি দাম পাওয়ার আশায় বৈধ পথে গরু মোটাতাজাকরণ না করে এ ভিন্ন পথ বেছে নিচ্ছে। এক্ষেত্রে হাতুড়ে চিকিৎসক ও বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি তাদের প্ররোচণা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরুকে নিয়মমাফিক স্বীকৃত ফর্মুলা অনুসারে খাদ্য দিয়ে মোটাতাজা করলে তার মাংস ক্ষতির কারণ হয় না। কিন্তু এসব ওষুধ দিয়ে মোটা করা গরুর মাংস ক্ষতিকর। স্টেরয়েড মূলত হাঁপানির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এ জাতীয় ওষুধ, যেমন ডেঙামেথাসন বা ডেকাসন, বেটামেথাসন ও পেরিঅ্যাকটিন অতিরিক্ত মাত্রায় দিলে গরুর কিডনি ও যকৃতের কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ায় শরীর থেকে পানি বের হতে পারে না। এ কারণে শোষিত হয়ে পানি সরাসরি গরুর মাংসে চলে যায়। ফলে গরুকে মোটা দেখায়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানায়, গরু মোটাতাজাকরণ একটি নিয়মিত ও প্রচলিত পদ্ধতি রয়েছে। এটি একটি স্বল্পমেয়াদী লাভজনক পদ্ধতি। প্রাকৃতিক এ পদ্ধতি যুগ যুগ ধরে প্রচলিত। কিন্তু বেশি মুনাফার লোভে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী মানবদেহ মারাত্মক ঝুঁকির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কিছু পশু চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত মোটাতাজা করতে ক্যাটাফস, বার্গাফ্যাট, বায়োমিঙ্গ খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে। রাসায়নিকভাবে মোটাতাজা করা গরুর মাংস খেলে মানবদেহে সরাসরি ক্ষতিকর স্টেরয়েডের প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে। এ মাংস গ্রহণের ফলে দুর্বল লিভার ও কিডনি রোগীর সংকটাপন্ন অবস্থা  তৈরি হয়। একাধিক গরু ব্যবসায়ী জানান, ভারত ও পাকিস্তানের এসব ওষুধ খাওয়ালে অনেক শুকনো গরু পনের দিনেই মোটা হয়ে যায়। বিশ হাজার টাকার গরু অন্তত ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা বিক্রি করা যায়। জানা যায়,  এ ওষুধ ভারত ও পাকিস্তান থেকে অবৈধভাবে আসে বিভিন্ন ওষুধের দোকানসহ গো-খাদ্য বিক্রেতাদের দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে। পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, রংপুর, দিনাজপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, শেরপুর, জামালপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যশোর, বেনাপোল, ময়মনসিংহ ও ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোতে ক্ষতিকর নানা ওষুধ ও রাসায়নিক সেবনের মাধ্যমে এখন গরু মোটাতাজা চলছে। গরু ব্যবসায়ী বাবুল বেপারী জানান, প্রতি বছরই ব্যবসায়ীরা গরু মোটা তাজা করার ওষুধ খাওয়ান। অনেক সময় স্থানীয় পশু চিকিৎসকরা এসব ওষুধ সরবরাহ করে থাকেন। আবার কখনো বাজার থেকে এনে খাওয়ানো হয়।  প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. ইকবাল কবীর বলেন, গরুগুলোর দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এগুলো প্রাকৃতিকভাবে নয়, কৃত্রিমভাবে মোটা করে বাজারে তোলা হয়েছে। ক্রেতাদের এ ব্যাপারে সতর্ক হবার বিকল্প নেই। বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক ডা. মাহবুব আলী খান বলেন, আমাদের দেশে সাধারণত বিক্রয়যোগ্য গবাদিপশু মোটাতাজাকরণ কাজে স্টেরয়েড আইটেমের ডেঙামেথাসন গ্রুপের বিভিন্ন ইনজেকশন প্রয়োগ হয়ে থাকে। এছাড়া ইউরিয়া খাওয়ানো হয়। স্টেরয়েড আগুনের তাপেও নষ্ট হয় না। এতে করে এসব গরুর মাংস মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। বিস্তারিত»

কারামুক্তি দিবসের অনুষ্ঠানে অভিযোগ বিএনপির জিয়ার হত্যাকারীরাই তারেক রহমানকে হত্যা করতে চেয়েছিল

ঢাকা: যেই চক্রটি ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিল, তারাই ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টি করে তারেক রহমানকে নির্যাতন করে হত্যা করতে চেয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যেই চক্র বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করতে ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিল- তারা চায় না তারেক রহমান দেশের  হাল না ধরুক। তাই তারাই ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টির মাধ্যমে তারেক রহমানকে নির্যাতন করে হত্যা করতে চেয়েছিল। মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৭ম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলে। সভাটির আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। মির্জা আলমগীর বলেন, আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌত্ব রক্ষার জন্য আন্দোলন করছি। তাই যারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশে মেধাবী রাজনীতি দেখতে চান তাদেরকে বলব- আপনারা তারেক রহমানের দিকে ফিরে তাকান। সম্প্রতি তারেক রহমানের লন্ডনে দেয়া বক্তব্যের পর সরকারি দলের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারেক রহমানকে কেন এত ভয়? তিনি কথা বললেই আপনাদের গায়ে জ্বালা ধরে কেন? তারেক রহমান তথ্য উপাত্ত দিয়ে কথা বলেন। বর্তমান সরকারকে ‘দানব’ আখ্যা দিয়ে এদের বিদায় করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান মির্জা আলমগীর। ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শিক্ষা সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আবুল খায়ের ভুঁইয়া, স্বেচ্ছাসেবা বিষয়ক সম্পাদক হাবিব উন নবী খান সোহেল, সহ-স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য কামরুজ্জামান রতন, সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হাবিব উর রহমান হাবিব, ছাত্র সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সাবেক ছাত্রদল সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল, সহ-ছাত্র সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু প্রমুখ। বিস্তারিত»

‘বাংলাদেশের মাটিকে উগ্রবাদের চারণভূমি হতে দেয়া হবে না’

ঢাকা: সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “আমরা অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি সন্ত্রাসবাদ বিস্তারের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা। বাংলাদেশের মাটিকে যাতে কোনো বিদেশি উগ্রবাদের চারণভূমি হতে না পারে, সেজন্য আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছি।” ‘বহুমাত্রিক সন্ত্রাস’ মোকাবেলায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার সকালে রেডিসন হোটেলে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা প্রধানদের সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আমেরিকার প্যাসিফিক কমান্ড এবং বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের যৌথ উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘দ্য ফিউচার: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপরচুনিটিস ফর সিকিউরিটি কো-অপারেশন’। শেখ হাসিনা বলেন, “বিশ্ব আজ যে বহুমাত্রিক সন্ত্রাসী হুমকির সম্মুখীন, তা কোনো দেশের পক্ষে এককভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। এদের মোকাবিলার জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে একে অন্যের সঙ্গে সহযোগিতা ও সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি আশা করি, এই সম্মেলনের মাধ্যমে আপনাদের পরস্পরের মধ্যে বিদ্যমান দেয়ালগুলো ভেঙে যাবে। আপনাদের মধ্যে দূরত্ব কমে যাবে এবং বোঝাপড়া বৃদ্ধি পাবে।” শেখ হাসিনা বলেন, “বিশ্ব বর্তমানে একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দেশে দেশে উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীর উত্থান ঘটছে। এসব জঙ্গি গোষ্ঠী সাধারণ মানুষের জানমালের পাশাপাশি বিশ্বশান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ। বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীর মোকাবিলা আজ শান্তিকামী দেশগুলোর জন্য একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ।” সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কোনো হুমকিই আমাকে সন্ত্রাস এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নেয়া অবস্থান থেকে সরাতে পারবে না। ২০০৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আমার বক্তৃতায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার যে প্রতিজ্ঞা আমি করেছিলাম তাতে আমি আমৃত্যু অবিচল থাকবো।” ২০০৯ সালে জঙ্গি দমন ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত ১৭ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় কমিটি গঠন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নিষিদ্ধ ঘোষিত সব সন্ত্রাসী দলকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা গোয়েন্দা কাজের অন্যতম উদ্দেশ্য- উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “মনে রাখবেন, সন্ত্রাসীরা তাদের টিকে থাকার জন্য সর্বদাই উদ্ভাবনী শক্তিতে খুবই তৎপর। যখনই তাদের কোনো একটা কর্মকৌশল উদ্ঘাটিত হয়, সঙ্গে সঙ্গে তারা নতুন কৌশলের উদ্ভাবন ঘটায়। কাজেই আপনাদের মিশন সত্যিই চ্যালেঞ্জিং।” এই সম্মেলন শেষে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগযোগ্য নতুন নতুন কর্মকৌশল উদ্ভাবিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী। বিস্তারিত»

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম আহ্বানকারী জিয়াউর রহমানের কল্যাণে শেখ হাসিনা ও আ'লীগ রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছে- লন্ডনে তারেক রহমান

“অসভ্যতাকে মেনে নেয়া যায়না” সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ-লন্ডন থেকে:আওয়ামীলীগের নেতা শেখ মুজিব ১৯৭৪ সালে সকল রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে নিজেই একটি মাত্র দল বাকশাল সৃষ্টি করেন। বাকশালই ছিলো শেখ মুজিবের একমাত্র দর্শন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।সে হিসেবে আওয়ামীলীগ নামক দলের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যায় ১৯৭৪ সালে।জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে পলিটিক্যাল এক্টের অধীনে আওয়ামীলীগকে নতুন জন্ম দান করেন এবং জিয়াউর রহমানের কল্যাণে শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগ আজকে রাজনীতি করার সুযোগ লাভ করেছেন।বর্তমান সরকারের ও মন্ত্রীদের বক্তৃতা, বিবৃতিকে অসভ্যতা মেনে নেয়া যায়না বলে আমাকে কথা বলতে হয়। ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হত্যার বিষয় শেখ হাসিনা জানতেন বলেই তখনকার সরকারকে না জানিয়ে মুক্তাঙ্গন থেকে তড়িঘড়ি করে আওয়ামীলীগ অফিসের সামনে সভা এবং ট্র্যাকের মধ্যে প্রটেক্টেড গাড়ীতে মঞ্চ বানিয়ে সমাবেশ- এই সব রহস্যে ঘেরা সকল প্রশ্নের জবাব জাতিকে দিতে হবে। ২১ শে আগস্টের হত্যা মামলার আই,ও অফিসার আবুল কাহার আকন্দকে কেন পুনরায় ২০০৮ সালে চাকুরীতে বহাল করে এই মামলায় নিয়ে আসা হয়েছে- আদালতকেও সেই রহস্যের জবাব জাতিকে জানানোর অনুরোধ করেন। এই কথাগুলো আজ যুক্তরাজ্য বিএনপির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।   বিএনপির ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস। সভা পরিচালনা করেন সেক্রেটারি জেনারেল কয়সর এম আহমেদ।   সভায় তারেক রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছাত্র জীবনের চিন্তা ভাবনা থেকে শুরু করে সৈনিক জিয়া, মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান সহ জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য জীবনের নানা দিক বিভিন্ন  তথ্য, উপাত্ত, দলিল ও জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধ থেকে সভার শুরুতে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তারেক বলেন, আমি এখানে ইতিহাস বলতে আসিনি, ইতিহাস রচনা করবেন ইতিহাস বিদেরা। আমি এসেছি যা সত্য তথ্য, সেটা আপনাদের সামনে, বিশেষকরে আমার তরুণদের জানাতে এসেছি।   অনুষ্ঠানে তারেক রহমান ১৯৭২ সালে দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত জিয়াউর রহমানের লেখা একটি জাতির জন্ম নিবন্ধের অংশ বিশেষ পড়ে শুনান।   জিয়াউর রহমান তলাবিহিন ঝুড়ির দেশটাকে স্বনির্ভর বাংলাদেশের রূপান্তর করেছিলেন।   তারেক রহমান বলেন, ২৫শে মার্চ শেখ মুজিব যখন পাকিস্তানীদের কাছে সারেন্ডার করে কারাগারে বন্দী হন, তখন জিয়াউর রহমানের ডাকে বাঙালি জাতি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।   এ সময় তিনি এন্থনি ম্যাসকারানাসে এ লিগেসি অব গ্রন্থ থেকেও পড়ে শুনান।   তারেক রহমান বলেন, জিয়াউর রহমান সামরিক আইন জারি করেননি, সামরিক আইন জারি করে আওয়ামীলীগের নেতা মোশতাক। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নেননি। তিনি ১লা নভেম্বর থেকে ৭ই নভেম্বরের ঘটনাবলি ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করে বলেন, জিয়াউর রহমান আওয়ামীলীগেরই সরকারের উত্তরসূরি বিচারপতি সায়েমকে রাষ্ট্রপতি পদে এবং তিনি তখন ডেপুটি চীফ ছিলেন। পরে বিচারপতি সায়েম জিয়াউর রহমানকে চীফ অফ আর্মি স্টাফ করেন।   তারেক রহমান বলেন, জিয়াউর রহমান সামরিক আইন তুলে নেন। এমনকি পলিটিক্যাল এক্টের অধীনে আওয়ামীলীগের আমলে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোকে পুনরায় রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন।   তারেক রহমান বলেন, ০১) জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ০২) মুক্তিযুদ্ধের প্রথম আহ্বানকারী ০৩) স্বাধীনতার ঘোষক ০৪) বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ০৫) প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ০৬) সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা প্রদানকারী।আওয়ামীলীগ এই সত্যগুলো গোপন করে মিথ্যা ইতিহাস রচনা করে বলেই আমাকে এই সব তথ্য আপনাদের সামনে প্রমাণসহ নিয়ে আসতে হয়। আওয়ামীলীগের কাজ হলো মিথ্যা ইতিহাস রচনা করা, একাজে তারা পারদর্শী। আমার কোন প্রশ্নের ও তথ্যের জবাব তাদের কাছে নেই বলেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।আওয়ামীলীগের মন্ত্রী, এমপি নেতাদের বক্তব্যকে অসভ্যতার সাথে তুলনা করে তারেক রহমান বলেন, অসভ্যতা মেনে নেয়া যায়না।   আওয়ামীলীগের মন্ত্রী এমপিদের বক্তব্যের জবাবে তারেক রহমান বলেন, হযরত আলী রাদিয়াল্লু বলেছিলেন, যুক্তিবৃত্তি শূন্য মানুষ অশ্লীল কথা বলে। মুহুর্মুহহু শ্লোগান আর করতালিতে তারেক রহমান বলেন, আওয়ামীলীগ জোটের নেতাদের বক্তব্যের জবাবে হযরত আলী রাদিয়াল্লু আনহুর এই বক্তব্যেই আমি থাকতে চাই।   মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নাম উল্লেখ না করে তারেক রহমান বলেন, অবৈধ শেখ হাসিনার অবৈধ মন্ত্রী- যিনি একটি পত্রিকারও সম্পাদক, একটি দলের মহাসচিব, বিগত সময়ে ১৫ আগস্ট সমকাল পত্রিকায় উনি লিখেছিলেন, ...একটি হলের নির্বাচনে জয়ী হয়ে উনি যখন হল থেকে বের হয়ে যাচ্ছিলেন, তখন পেছন থেকে আওয়াজ শুনেছিলেন ছাত্রলীগের সাথে প্রতিপক্ষের মারামারিতে ছাত্রলীগ মার খাচ্ছে। তখন ঐ অবৈধ মন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরে যান মরহুম আব্দুর রাজ্জাককে সাথে নিয়ে। বঙ্গবন্ধু তখন স্যান্ডেল লুঙ্গি পড়া অবস্থায় তাদের সাথে দেখা করতে নীচে নেমে আসেন। ঐ মন্ত্রী আরো লিখেছেন, তখন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ছাত্রলীগের ছেলেরা মার খেয়েছে, এই কথা বলার জন্য এসেছিস। ফিরে আসার সময় লুঙ্গির নীচ থেকে কি একটা যেন দিলেন আর বললেন ঐ কি একটা সাথে রাখিস নিজের নিরাপত্তার জন্য। তারেক রহমান ঐ স্মৃতিচারণের কপি দেখিয়ে বলেন, এটা ঐ অবৈধ মন্ত্রীর লেখা, আমার নয়। আওয়ামীলীগের কাজ হলো ঐ কি একটা কিছু দিয়ে কি যেন করা। যার ফল দেশে গুম, হত্যা, শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস ঐ কি একটা দিয়ে। তারেক রহমান বলেন, যে দলের নেতা কর্মীদের কি একটা দেয়, সে দলের নেতা কেমন ছিলো তার বিচারের ভার জাতির কাছেই দিলাম।   তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৯শে আগস্ট তখনকার ইউপিপি, যার নেতৃত্বে কাজি জাফর আহমেদ, রাশেদ খান মেননরা ছিলেন। শেখ মুজিবের মৃত্যুর পরে তারা একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন। সেই বিবৃতিতে ইউপিপি বলেছিলো- ...ঘৃণ্য ও গণধিকৃত মুজিব শাসনের অবসান হয়েছে।তার মৃত্যু কারো মনে সামান্যতমও সমবেদনা জানাতে পারেনি।সেই বিবৃতির মেনন আজকের মহাজোটের মন্ত্রী মেনন- আপনারা বিচার করুন তাদের কথা ও কাজ কখন কি হয়।এসময় তিনি আবার বলেন এদের সম্পর্কে কিছু না বলে আমি হযরত আলীর উক্তিতেই থাকতে চাই।   তারেক রহমান বলেন, ২০০৯ সালে আমাদের সময় হাসানুল হক ইনু সম্পর্কে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছিলো।সেই রিপোর্টে লিখেছিলো অভ্যুত্থানের পর শাহবাগের বেতার ভবনে হাসানুল হক ইনু, কর্নেল আবু তাহেরকে নিয়ে এসে অভ্যুত্থানের নেতাদের সাথে দেখা করেন। অভ্যুত্থানের আরো এক নেতা রশীদ নারায়নগঞ্জে কর্নেল তাহেরের সাথে গিয়ে দেখা করে বেতারে আসার কথা বলেছিলেন।তারা বেতারে আসেন, মোশতাকের সাথেও কথা বলেন। পুরো রিপোর্টি তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে পড়ে শুনান এবং তার কপিও প্রদর্শন করেন।আর আজকে হাসানুল হক ইনু শেখ মুজিব বন্ধনায় দিনরাত পার করে দিতেছে- তেল বাজিই এখন তাদের কাজ। এদের সম্পর্কে আমি কিছু না বলে ঐ হযরত আলীর উদ্ধৃতিতেই থাকতে চাই।       তারেক রহমান বলেন, অবৈধ আওয়ামীলীগ সরকার বাংলাদেশের জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমদের বই কোর্টের মাধ্যমে সেন্সর করেছে। তারা যখন দেখে তাদের লুকোচুরি সব ফাঁস হয়ে যায়, তখন তারা হয় অবৈধ পন্থায়, জোর করে অথবা কোর্টের মাধ্যমে হলেও সেন্সর করে। একইভাবে আওয়ামীলীগ তাদেরই পন্থী বাংলাদেশের বয়োবৃদ্ধ লেখক সাংবাদিক এ বি এম মুসা হক কথা বলায় বড় কষ্ট আর অবহেলায় মৃত্যু বরণ করেছেন বলে উল্লেখ করেন।   ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকারের সময় সংগঠিত এই ঘটনায় আওয়ামীলীগ যখন জনসভার জন্য মুক্তাঙ্গনে আয়োজনের কথা বলে তখন সরকার তার দায়িত্ব হিসেবে মুক্তাঙ্গনে আওয়ামীলীগের জনসভার নিরাপত্তার যাবতীয় ব্যবস্থা করে। মুক্তাঙ্গনের দুই দিকেই সরকারী অফিস- নিরাপত্তা বলয় থাকায় স্বাভাবিকভাবেই সরকারের অনুমতি ছাড়া অন্যকারো এই স্থান দিয়ে ঢুকার প্রশ্নই আসেনা- সেটা যে কেউই অনুমান করতে পারছেন। আওয়ামীলীগ হঠাত করে সরকারকে কিছুই না জানিয়ে এবং কোন সুযোগ না দিয়ে জনসভার স্থান আওয়ামীলীগের অফিসের সামনে নিয়ে যায়। আওয়ামীলীগ অফিস যেখানে সেখানে পাকিস্তান আলম থেকেই এবং আশেপাশের সব বিল্ডিং দোকান আওয়ামীলীগের কারো না কারো।এই তড়িঘড়ি করে জনসভার স্থান পরিবর্তন প্রমাণ করে শেখ হাসিনা আগে থেকেই জানতেন এখানে কিছু একটা হবে যাতে দেশে বিদেশে বিএনপি সরকারকে বেকায়দায় ফেলে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা যায়।তারেক রহমান আরো বলেন, শেখ হাসিনা আইভি রহমানকে বার বার নীচ থেকে ট্রাকের মধ্যে চলে আসার জন্য কেন বলছিলো, আর যে ট্রাকের উপর শেখ হাসিনা মঞ্চ বানিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলো, সেখানে পুরো ট্রাকের চতুর্দিকে ঢাকা ছিলো প্রটেকশনের জন্যে যাতে বোমা জাতীয় কিছু ফাটলে শেখ হাসিনা প্রটেক্টেড থাকে এবং হিউম্যান শিল্ডসতো আছেই। এই দুই রহস্য গ্রেনেড হামলার সাথে শেখ হাসিনাকেই জবাব দিতে হবে।   এ সময় তারেক রহমান আরো বলেন, গ্রেনেড হামলার আই,ও আবুল কাহার আকন্দ সরকারি পদে থেকে নির্বাচনের নমিনেশন নেন এবং দাঁড়ান যা একজন সরকারি কর্মকর্তা নিজ পদে থেকে করতে পারেন না। সরকার আবুল কাহার আকন্দকে স্বাভাবিকভাবেই চাকরীচ্যুত করে। শেখ হাসিনার সরকার এই আকন্দকে ক্ষমতায় এসে আবার চাকরীতে বহাল এবং গ্রেনেড হামলা মামলার আইও নিয়োগ করে। এখন আদালতকে আগে জাতিকে জানাতে হবে এই সব রহস্যের কারণ এবং একজন সরকারি কর্মকর্তা নিজ পদে থেকে নির্বাচন করে চাকরীচ্যুত হওয়ার পরে আবার এই মামলার প্রধান নিয়োগ এই সব রহস্যের ভেদ জাতিকে জানাতে হবে।   এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন হওয়ার পরে আওয়ামীলীগের সেই লোক যখন বললো আমি আপাকে খুন হওয়ার ৫মিনিটের মধ্যেই জানিয়েছি, অথচ আপা জানার পরেও এব্যাপারে এতো বড় লোমহর্ষক ঘটনা ঘটছে তার ব্যবস্থা না নিয়ে পরবর্তীতে সংসদে দাঁড়িয়ে সেই লোকের ও পরিবারের প্রটেকশনের কথা বলেন। এই হলো আওয়ামীলীগের কাজ।   একই সময়ে তারেক রহমান তখনকার জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কাদের সিদ্দিকী সাহেব বলেছিলেন তড়িঘড়ি করে জনসভার স্থান মুক্তাঙ্গন থেকে কেন সরিয়ে আওয়ামীলীগ অফিসে নেয়া হলো- সেটা দেখা দরকার। তারেক রহমান বলেন, কাদের সিদ্দিকী ভিন্ন একটি দলের নেতা এরকম বক্তব্য জাতীয় সংসদে দিয়েছিলেন, সংসদের রেকর্ডেও এই বক্তব্য আছে।   জিয়াউর রহমানের সুনাম নষ্ট করার জন্যে চক্রান্ত করে আওয়ামীলীগ গ্রেনেড হামলা মামলা বিএনপিকে জড়াচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।   রাত নয়টার কিছু পরে সুরু করা বক্তব্যে রাত ১০টার ৩০ পরে এসে শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে এই অবৈধ সরকারকে হটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বক্তব্য শেষ করেন।   এর আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় মানবাধিকার সম্পাদক নাসির উদ্দিন অসীম বলেন, ২৫শে মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান সারেন্ডার করে কারাগারে চলে যান, পরীক্ষা হলেতো সফলতা ব্যর্থতা আসবে। শহীদ জিয়া যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন, পরীক্ষার ময়দানে সফল।   অসীম বলেন, শেখ হাসিনা যখন সন্তান জন্ম দান করেন তখন পাকিস্তানের সামরিক হাসপাতালে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন।   সভার শুরুর আগে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা শামীম।তার পর জাসাসের শিল্পীদের সমন্বয়ে জাতীয় সঙ্গীত এবং প্রথম বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ গানটি সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করা হয়।   অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতা ও আইনজীবী ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহিদুর রহমান মুহিব, সাবেক সহকারি এটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আ জ ম মোর্শেদ আলম, এম লুতফুর রহমান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী পরিষদের মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক  ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ডঃ আব্দুল লতিফ মাসুদ, এম এ মালেক, ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম, সাদেক আহমদ, তাজুল ইসলাম, ডঃ মুজিবুর রহমান সহ আরো অনেকেই।   অনুষ্ঠান শেষে ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন নেতা কর্মীদের নিয়ে তারেক রহমান।   অনুষ্ঠানের মধ্যখানে তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনের তৈরি জিয়াউর রহমানের উপর একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।   Salim932@googlemail.com 02nd Sept. 2014, London.         বিস্তারিত»

ছবি ঘর

  • holo gram baby
  • political picture
সন্তানের জন্ম দিলেন দুঃসাহসী সেই নারী

সিলেটের আলাপ ডেস্ক:অনাগত সন্তানের নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করতে আটমাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় খরস্রোতা নদী সাঁতরে পার হয়ে জুলাইয়ে একবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছিলেন তিনি। এবার শিরোনাম হলেন প্রতীক্ষিত সেই সেই সন্তানের জন্ম দিয়ে। ভারতের কর্নাটক রাজ্যের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলবাসী ২২ বছর বয়সী নারী ইল্লেভা গাড্ডি শনিবার একটি স্বাস্থ্যবান পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। চার কেজি ওজনের এই সন্তানটির জন্ম হয়েছে রাজ্যের রাইছুর জেলার একটি বেসরকারী হাসপাতালে। হাসপাতালের বিছানা থেকে তিনি বলেছেন, “আমি আমার সন্তানকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম, আমার চেষ্টা বৃথা যায়নি বলে আমি খুব আনন্দিত।” ভারতের কর্নাটক রাজ্যের উত্তরাঞ্চলীয় ইয়াদগির জেলার কৃষ্ণা নদীর প্রত্যন্ত চরগ্রাম নীলাকান্তনারায়ণাগাড্ডির সাধারণ নারী ইল্লেভা কর্নাটক রাজ্য সরকারকে বিশেষ বৈঠকে বসতে বাধ্য করেছেন। কারণ অনাগত সন্তাদের নিরাপদ জন্ম নিশ্চিত করতে বাবা, ভাই ও আত্মীয়দের সহায়তায় অসুস্থ শরীর নিয়ে খরস্রোতা নদীর ৬শ’ মিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি। প্রবল বৃষ্টিপাতে নদীর পাড়ে ইল্লেভাদের গ্রামটি ডুবতে বসেছিল। খরস্রোতা, উন্মত্ত নদীতে নৌকাচলা অসম্ভব হওয়ায় গ্রামটি মূলভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। গর্ভবতী উদ্বিগ্ন ইল্লেভা বুঝতে পারলেন অনাগত সন্তানকে বাঁচাতে হলে তাকে নিজ গ্রাম ছাড়তে হবে। অনাগত সন্তানের কথা ভেবে দুঃসাহসিক এক সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি- সাঁতরে নদী পার হবেন। তার সিদ্ধান্তে সাড়া দিয়ে পরিবারে পুরুষরা এগিয়ে এল। পাতিল, লাউয়ের খোল ইত্যাদি ভেসে থাকার পক্ষে উপযুক্ত জিনিস ব্যবহার করে দুঃসাহসী পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করলেন তারা। ইল্লেভার আগে-পিছে তাকে ভাসিয়ে রাখার চেষ্টায় তারারও পাড়ি দিলেন সেই নদী। ৩১ জুলাইয়ের ওই ঘটনার পর ৩০ অগাস্ট, শনিবার ইল্লেভার সুস্থ্য সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে তাদের সবার প্রচেষ্টাই স্বার্থক হল।  

বিস্তারিত»
‘আসুন বিএনপিকে রক্ষা করি’ শীর্ষক একটি লিফলেট নিয়ে হুলস্থূল চলছে বিএনপিতে

ডেস্ক নিউজ:‘আসুন বিএনপিকে রক্ষা করি’ শীর্ষক একটি লিফলেট নিয়ে হুলস্থূল চলছে বিএনপিতে। ‘তৃণমূল নেতৃবৃন্দ’র নামে গত দুই সপ্তাহ ধরে ছড়ানো হচ্ছে এ লিফলেট। বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়, নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সভা-সমাবেশ চলাকালে এ লিফলেট ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছে কয়েকবার। সোমবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর বিএনপি আয়োজিত দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান চলাকালেও কয়েকজনকে ভিড়ের মধ্যে লিফলেট ছুড়ে দিয়ে সরে যেতে দেখা গেছে। লিফলেটটি ছুড়ে মারার সময় দুইজনকে ধরে গণপিটুনি দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে সেখানে। লিফলেটটি পড়ে দেখা গেছে, তার বিষয়বস্তু ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনে অনিয়ম। লিফলেটের শীর্ষভাবে রয়েছে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেলের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক নানা তথ্য। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরের বাইরের নেতা হিসেবে নগর কমিটিতে তার অযোগ্যতা প্রমাণই লিফলেটের মূল লক্ষ্য। লিফলেটের প্রধান দাবি মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব পদ থেকে সোহেলের অপসারণ ও অভিযুক্তদের প্রভাবমুক্ত হয়ে অঙ্গদলগুলোর পুনর্গঠন। সোহেলকে দিয়ে শুরু হলেও লিফলেটে আক্রমণের তীর ছোড়া হয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহউদ্দিন আহমেদ, আবদুল কাইয়ুম, দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, হাওয়া ভবনের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বকুল, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব, মহিলা দলের সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু ও ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলের বিরুদ্ধে। হাবিব-উন নবী সোহেল ও রফিকুল ইসলাম বকুলের বিরুদ্ধেই করা হয়েছে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ। লিফলেটে ঢাকা মহানগর, ছাত্রদল, যুবদল, মহিলা দলের চলতি কমিটি গঠন ও কর্মসূচি প্রণয়নে প্রভাব সৃষ্টি এবং আন্দোলনে ব্যর্থতার জন্য উল্লিখিত নেতাদের দায়ী করা হয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক গুম দিবসের মানববন্ধন শেষে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লিফলেটের বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেন কয়েকজন সিনিয়র নেতা। মানববন্ধন শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার কক্ষে গেলে সেখানে জড়ো হন অভিযুক্তদের অনেকেই। এ সময় সেখানে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান ও কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী, শিরিন সুলতানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল, মীর সরফত আলী সপু, সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। মির্জা আলমগীরের কাছে এ লিফলেট বিতরণকারী গ্রুপের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান নেতারা। শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, সরকারের এজেন্টরাই এ লিফলেট বিতরণ করছে। চিহ্নিত করে এসব এজেন্টের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এ সময় মির্জা আলমগীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপির মিটিংয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে লিফলেট বিতরণের কথা চিন্তা করা যায়? এটা ভাল লক্ষণ নয়। এটা দল ভাঙার ষড়যন্ত্রের অংশ। যে কোন মূল্যে দলের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে।  

বিস্তারিত»
সালাউদ্দিন কাদের চট্টগ্রাম কারাগারে

চট্টগ্রাম: বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে এসে পৌঁছেন।   এর আগে তাকে নিয়ে পুলিশের একটি প্রিজন ভ্যান গাজীপুরের কাসিমপুর কারাগার থেকে সকাল ১১টায় রওনা দিয়েছিল বলে কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।   চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড থানার দায়ের করা হরতালের সময় গাড়ি ভাঙচুরের মামলার হাজিরা দিতে তাকে আনা হয়েছে।   বুধবার তাকে চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে তোলা হবে। মামলাটির অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।   এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারগারের ডেপুটি জেলার মো. সেলিম উদ্দিন রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে রাত ৯টায়  চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বুঝে পেয়েছে। তাকে প্রাথমিকভাবে এখন আমদানি ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে।   উল্লেখ্য,একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে গত বছরের ১ অক্টোবর মৃত্যুদন্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। তিনি চট্টগ্রামের রাউজান এলাকার বাসিন্দা।

বিস্তারিত»
বিএনপির ছয় নেতা বহিষ্কার

ঢাকা:দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে দল থেকে ছয় নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। তবে দলীয় সূত্র বলছে, মূলত ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এলডিপি) খুশি করতেই নিজ দলের ছয় নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার বিএনপির দফতরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত বিএনপির ছয় নেতা হলেন- কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি খোরশেদ আলম, চান্দিনা পৌর বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ৭নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি শহীদুল ইসলাম, চান্দিনা পৌরসভা যুবদল সাধারণ সম্পাদক হাজী নুরুল ইসলাম, চান্দিনা পৌর যুবদল সহসভাপতি কামাল হোসেন এবং চান্দিনা পৌর বিএনপির ৫নং ওয়ার্ড সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন বাবুল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মূলত এলডিপিকে খুশি রাখতেই বিএনপি নিজ দলের ছয় নেতাকে বহিষ্কার করেছে। কুমিল্লার চান্দিনা এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদের নির্বাচনী এলাকা। এখান থেকে তিনি চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ২৭ আগস্ট স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশ ড. রেদোয়ানের গাড়িতে হামলা চালায়। এ ঘটনায় চান্দিনা থানায় রেদোয়ানের বিরুদ্ধে মামলাও করেন স্থানীয় বিএনপির এক নেতা। এ ঘটনার বিএনপির ওপর খেপে যায় এলডিপি। এক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে জোটের মঙ্গলবারের মানববন্ধনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকারও সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে তারা অবস্থান থেকে সরে আসেন। ওই ঘটনার সূত্র ধরে মঙ্গলবার ছয় জনকে বহিষ্কার করল বিএনপি।  

বিস্তারিত»
বাসস পরিস্থিতি স্বাভাবিক

ঢাকা: স্বাভাবিক হয়েছে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস)  পরিস্থিতি।  অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হয়েছেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক  মনোজ কান্তি রায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর কর্মচারী ও নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন বাসস-এর প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। বাসসের  প্রধান প্রতিবেদক মধুসূদন মন্ডল নতুন বার্তা ডটকমকে জানান, সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাসস-এর প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বাসস কার্যালয়ে এসেছেন। কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সাড়ে আটটা পর্যন্ত তিনি অফিসে ছিলেন। কর্মীদের সঙ্গে তার আলোচনার পর আন্দোলন বন্ধ করেছেন কর্মীরা। এখন প্রতিষ্ঠানের কাজ স্বাভাবিকভাবে চলছে। অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত অন্যরা হলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) ইউনিট প্রধান এনামুল হক বাবুল, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইজে) ট্রেজারার ও বাসসের সিনিয়র রিপোর্টার খায়রুজ্জামান কামাল, বিশেষ সংবাদদাতা আলী সানোয়ার, সিনিয়র সাব এডিটর মজিবুর রহমান জিতু ও কে এম শহীদুল হক।

বিস্তারিত»
খালেদা জিয়া আদালতে যাবেন কাল

স্টাফ রিপোর্টার:জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে আলিয়া মাদরাসা মাঠের অস্থায়ী আদালতে যাবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বুধবার ওই দুই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। এদিন খালেদা জিয়াকে সশরীরে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারিক আদালত। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শাইরুল কবির খান মানবজমিন  অনলাইনকে জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ১১টায় আলিয়া মাদরাসা আদালতে হাজির হবেন খালেদা জিয়া। মামলা দু’টি বিচারাধীন ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ বাসুদেব রায়ের আদালতে। ঢাকা মহানগরের বকশীবাজার এলাকার সরকারি আলিয়া মাদরাসা ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন মাঠে নির্মিত অস্থায়ী আদালত ভবনে এ বিচার চলছে। গত ২৭শে জুলাই আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের বিচারক বাসুদেব রায় সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে ৩রা সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন। একইসঙ্গে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হতে মৌখিক নির্দেশ দেন আদালত।

বিস্তারিত»
হিমাচলে নিষিদ্ধ হলো পশুবলি, কোরবানি

ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় হিমাচল প্রদেশ রাজ্যের হাইকোর্ট কোনও ধর্মীয় কারণে পশুবলি দেওয়ার প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই বিষয়ে একটি জনস্বার্থ মামলার রায় দিতে গিয়ে আদালত বলেছে, ওই পার্বত্য রাজ্যে কোনও ধর্মীয় স্থানে বা ধর্মীয় উৎসবের সময় পশুবলি দেওয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং প্রশাসনকেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে হবে। মূল মামলাটি যারা করেছিলেন, সেই আবেদনকারীরা বলছেন শুধু হিন্দুরা নন, মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষ এই রায়ের আওতায় পড়বেন। হিমালয়ের কোলে পার্বত্য রাজ্য হিমাচল প্রদেশ। গোটা রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য মন্দির। এই সব মন্দিরে বছরভর নানা উৎসব-পার্বণে পশুবলি দেওয়ার রীতি খুবই পুরনো। তবে এই প্রথার বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে অনেকেই সরব হচ্ছেন। পশুবলি নিষিদ্ধ করার দাবিতে ২০১০ সাল থেকে হিমাচল হাইকোর্টে অন্তত তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলাগুলি একত্র করে আদালতের ডিভিশন বেঞ্চে তার দীর্ঘ শুনানির পর হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রায় দিয়েছে, রাজ্যের যে কোনও ধর্মীয় স্থানে বা তার আশেপাশের এলাকায় পশুবলি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। ভারতের বহু জায়গাতেই পশুবলির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়। জনস্বার্থ মামলাটিতে মূল আবেদনকারী ও স্থপতি সোনালি পুরেওয়াল বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, পশুবলির মতো নিষ্ঠুর ও বর্বর প্রথার অবসান ঘটানোই উচিত। যেমন ভারতে আরও বহু নিষ্ঠুর প্রথা আইন করে বন্ধ করতে হয়েছে। ''ঈশ্বরকে যদি সন্তুষ্ট করতেই হয় তাহলে ফুল বা মিষ্টি দিয়েও তা করা যায়, পশুর রক্তই নিবেদন করতে হবে এমন তো কোনও কথা নেই। হয়তো শত শত বছর আগে এই প্রথার প্রাসঙ্গিকতা ছিল ...আজ আমাদের আরও মানবিক হয়ে ওঠার সময় হয়েছে।'' হাইকোর্ট শুধু পশুবলি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেই ক্ষান্ত হয়নি, ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি রাজীব শর্মা রাজ্যের সব ডেপুটি কমিশনার, প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার ও সব থানার স্টেশন হাউস অফিসারদেরও নির্দেশ দিয়েছেন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে কি না, সে দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে। ব্যাপক হারে পশুবলির ফলে বিভিন্ন মন্দিরের পরিবেশ কীভাবে কলুষিত হয়ে উঠেছে, মৃত পশুদের মুন্ডু ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে – এই জাতীয় বিভিন্ন ছবি যখন আদালতে পেশ করা হয়, তখন তারাও বিচলিত বোধ করেছেন বলে বিচারপতিরা স্বীকার করেছেন। তবে এই রায়ের পর এক শ্রেণীর মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে যে আঘাত লাগতে পারে সে কথা আবেদনকারীরাও মানছেন। সোনালি পুরেওয়াল বলেন, ''দেখুন যে কোনও নতুন আইনেই ধর্মীয় ভাবাবেগ আহত হতে পারে। কিন্তু তাতে আঘাত করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমরা শুধু বলছি যদি ধর্মীয় কারণেই এটা করা হয়ে থাকে, তাহলে যে কোনও ধর্মের যেটা মূল বিষয় – সেই শান্তি আর মানবিকতাকেই তো এখানে হত্যা করা হচ্ছে। এরকম বর্বরোচিত একটা কাজ করে আপনি আপনার ধর্মের কোনও উপকারে আসছেন না।'' তিনি আরও জানিয়েছেন, আদালতের এই রায় শুধু হিন্দুদের জন্য নয় – মুসলিমসহ যে কোনও ধর্মাবলম্বীদের জন্যই প্রযোজ্য হবে। হিমাচল প্রদেশে অবশ্য জনসংখ্যার মাত্র ১.৫% মুসলিম। তার পরও আগামী মাসে মুসলমানদের গুরুত্ত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব কোরবানির ঈদের সময় এই রায়ের কী প্রভাব পড়ে, সেটা দেখার বিষয় হবে। হিমাচল প্রদেশের রাজ্য সরকার অবশ্য এখনও এই রায়ের ব্যাপারে তাদের কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।বিবিসি

বিস্তারিত»
লিডিং সৌদি একাডেমিক রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বডি ও রওজা মোবারক সরিয়ে দেয়ার সুপারিশ করেছেন

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ:ইসলামের ইতিহাসে এবং সারা বিশ্বের মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রধান কেন্দ্রস্থল মসজিদে হারাম শরীফের পর পরই যে মসজিদ ও রওজা মোবারক অত্যন্ত পবিত্র ও তীর্থ স্থান হিসেবে খ্যাত, এমনকি পবিত্র কোরআন শরীফে সূরা বাক্কারায় আয়াতের মাধ্যমে স্বয়ং আল্লাহ পাক যেখানে ঘোষণা করেছেন, তোমারা যদি অধিক পাপ করে থাকো, তাহলে তোমাদের গুনাহ মাফের জন্য রসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা(দরজায়) যাও, সেখানে গিয়ে গুনাহ মাফি চাও- সেই মসজিদে নববীতে বাবুস সালাম ও জান্নাতুল বাক্কীর মধ্যবর্তী স্থানের মধ্যে যেখানে মহানবী শায়িত আছেন, সেই স্থান থেকে মহানবীর রওজা সরিয়ে(এমনকি বডি)জান্নাতুল বাক্কীর মধ্যে নিয়ে স্থাপনের সুপারিশ করেছেন সৌদি আরবের সৌদি আরবের রিয়াদ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ এক্সপার্ট ডঃ আলী বিন আব্দুল আজিজ আল শাবাল আল ইমাম মোহাম্মদ ইবনে সৌদ। তার এই সুপারিশমালা বর্তমানে মদিনা শরীফে এবং মসজিদে হারাম শরীফ এবং দুই পবিত্র মসজিদের প্রধান রক্ষণাবেক্ষণকারী বাদশার অফিসে পৌঁছানো হয়েছে বলে ব্রিটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে।   সুপারিশে বলা হয়েছে, রসুলুল্লাহর রওজা মোবারক বর্তমান স্থান থেকে সরিয়ে নিয়ে পাশের স্থান জান্নাতুল বাক্কি তে নিয়ে যাওয়া, একই সাথে মসজিদে নববীর সমুজ গুম্বজ যা নবীজীর রওজার উপরে স্থাপিত সেটাও ভেঙ্গে ফেলার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।   এই একাডেমিক আরো সুপারিশ করেছেন, নবীজীর রওজা মোবারকের সাথে নবীজীর পরিবার পরিজনের যে ঘর ও স্থান রয়েছে, যা রওজা মোবারকের ভিতরে পরিবেষ্টিত অবস্থায় আছে, তাও ভেঙ্গে ফেলার জন্য সুপারিশ করেছেন।   নবীজীর রওজা মোবারকের সাথে ডানপাশে রয়েছে ইসলামের প্রধান খলিফা হযরত আবু বকর ও দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর রওজা, এবং নবীজীর রওজার ডানপাশের লোহার গালির ভিতরে হযরত ইসা আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য কবরের যে স্থান সংরক্ষিত রয়েছে, সেই সব স্থান ভাঙ্গা কিংবা সরিয়ে নেয়ার জন্য সুপারিশে কিছুই উল্লেখ নেই, ইন্ডিপেনডেন্ট এসবের কোন কিছুই উল্লেখ করেনি। একাডেমিকের রিপোর্টে শুধু নবীজীর রওজা সরানোর, সবুজ গুম্বজ ভেঙ্গে ফেলার, নবীজীর বডি জান্নাতুল বাক্কীতে সরিয়ে  নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।   ইন্ডিপেনডেন্টের কাছে ইসলামিক হ্যারিটেজ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর ডঃ আলাওয়ি এই সুপারিশের সত্যতা স্বীকার বলেছেন, এই সুপারিশমালা এখন মসজিদে নববীতে জমা দেয়া হয়েছে।   উল্লেখ্য পবিত্র মক্কা শরীফ তাওয়াফের পর পরই সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে সৌদি আরবের এই মদীনা শরীফের নবীজীর রওজা মোবারক জেয়ারতের জন্য অত্যন্ত পবিত্র এক স্থান।   এখানে যেমন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শায়িত, একইভাবে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবার পরিজন ও সাহাবীগণ শায়িত। মা ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে শুরু করে আম্মাজান আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহাও এই মসজিদে নববী ঘিরে এবং জান্নাতুল বাক্কী ঘিরে রয়েছেন। এমনকি নবীজীর রওজা মোবারকের স্থান সংলগ্ন স্থানে এবং মসজিদে নববীর মিম্বর সংলগ্ন স্থানের বিশেষ এক স্থান রয়েছে যেখানে রওজাতুল জান্নাহ( রিয়াদুল জান্না) বলা হয়, অর্থাৎ জান্নাতের বাগান, যেখানে দোয়া কবুল হয়ে থাকে।   এমতাবস্থায় নবীজীর রওজা মোবারক ও নবীজীর পবিত্র দেহ স্থানান্তর করা হলে, নবীজীর কবরস্থান ঘিরে ঘর সমূহ ধ্বংস সাধন করা হলে, রওজা মোবারকের উপরে সবুজ গুম্বজ ধ্বংস করা হলে মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক বিদ্রোহ ও আগুন নিয়ে খেলার সামিল মনে হবে। মা ফাতেমা তুজ জোহরার জান্নাতুল বাক্কীকে ঘিরে যে সুপারিশ করা হয়েছে, এবং শিয়া সম্প্রদায়ের অজুহাত তুলা হচ্ছে, কিন্তু সুন্নি, শিয়া, ওয়াহাবি, আজকের ইরাক, ইরান, সকল সম্প্রদায়ের ও মাযহাবের কাছে নবীজীর রওজা মোবারকের গুরুত্বে এক ও অনন্য।   একাডেমিক তার সুপারিশে ইরাকের সুন্নি বিদ্রোহী ও শিয়াদের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, নবীজীর রওজা মোবারকের ঘর সমূহে এবং সবুজ গুম্বজকে ঘিরে শিয়া ও সুন্নি বিদ্রোহীরা পূজা করে থাকে যা ইসলামে শিরক বলে বিবেচ্য। সেজন্যে নবীজীর রওজা মোবারকের এই সব স্থাপনা সমূহ ধ্বংস করার সুপারিশের পাশাপাশি সবুজ গুম্বজও ধ্বংসের সুপারিশ করেছেন।   তবে ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তারা নিশ্চিত নয়,ডঃ মোহাম্মদ ইবনে সৌদের এই সুপারিশের পর সৌদি আরবের রাজপরিবারের বা বাদশা যিনি দুই পবিত্র মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত তাদের কোন বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।   অবশ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ডঃ সৌদের সুপারিশের অজুহাতে বর্তমানে পবিত্র মক্কা শরীফের মসজিদে আল হারাম ঘিরে সৌদি সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনার এবং পুরনো ভবন সমূহ ভেঙ্গে নতুন নতুন স্থাপনা, হোটেল, এপার্টম্যান্ট নির্মাণের যুক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, একই সাথে এর সাথে পবিত্র মক্কা শরীফের প্রধান ইমাম ডঃ আল সুদাইসের সম্মতিতে সৌদি বাদশাহর পরিকল্পনাকে হিন্টস হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   কিন্তু ইন্ডিপেনডেন্ট ও সুপারিশে একথা বলা হয়নি পবিত্র মক্কা শরীফের ও মসজিদে আল হারামের এক্সটেনশনের ক্ষেত্রে পবিত্র বায়তুল্লাহ শরীফ ও আল্লাহর ঘরের সামান্যতম ক্ষতি সাধন করা হয়নি। যারা সেখানে গিয়েছেন তারা একমত হবেন।   মসজিদে নববীর এক্সটেনশন ইতিমধ্যে সৌদি সরকার ওয়াশিংটন ভিত্তিক গালফ ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে সম্পন্ন করেছে।   অবশ্য ডঃ আলাওয়ী বলেছেন, ১৯৭০ সালে জান্নাতুল বাক্কি থেকে নবীজীর সকল পরিবার এবং বাবাকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে, আর ১৯২৪ সালে সকল মৃতদেহের সেখান থেকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সুতরাং উপাসনা ও দোয়াকারীরা জানেননা জান্নাতুল বাক্কিতে কে কে শায়িত আছেন, এই না জানা থেকে সেখানে কেউ দোয়া করেননা।   কিন্তু বাসব সত্য হলো যারা গিয়েছেন তারা দেখেছেন বাবুস সালাম দিয়ে ঢুকে সালাম দিয়ে জান্নাতুল বাক্কী দিয়ে বের হয়ে সেখানে কোন পুণ্যার্থীকে দোয়া করার জন্য মুহূর্তের জন্যও কর্তৃপক্ষ দাড়াতে দেননা।যদি অনেকে পুলিশের তর্জনী উপেক্ষা করে তাড়াহুড়ো করে দোয়া করে থাকেন।   ডঃ আলাওয়ী বলেন, নবীজীর রওজা মোবারকের প্রায় অনেক কিছুই ধ্বংস সাধন করা হয়েছে। ইরাক ইরান ইস্যুতে বিশ্বের নজর এখন সেদিকে। শিয়া সুন্নী সকলের কাছেই এই রওজা পবিত্র স্থান। জান্নাতুল বাক্কী শিয়াদের কাছে বিশেষ করে ফাতেমা তুজ জোহরা সেখানে।   তিনি বলেন আমি অবশ্যই একথা বলতে পারি এই সংবাদে সকল মুসলিম শিয়া সুন্নী সবাই উদ্বেগ এবং বিচলিত হবেন এমনকি এনিয়ে মুসলমানদের মধ্যে অনেক শঙ্কা ও বিদ্রোহ দেখা দিবে। সকলে বিক্ষোভে ফেটে পড়বেন।   নবীজীর একটি হাদীস বোখারি শরীফে উদ্ধৃত রয়েছে আর তাহলো, নবীজীর রওজা মোবারক জেয়ারতে পর যে ইন্নাল্লাহু ওয়ামালা ইকাতাহু ইয়াসুল্লুনা আল্লান্নাবিঈয়ি, ঈয়া আঈয়ূহাল লাজিনা আমানু সাল্লা আলাইহি ওয়াসাল্লিমু তাসলিমা- এই আয়াত পড়ে ৭৫বার নবীজীর উপর নবীজীর নামের সাথে দুরুদ শরীফ পড়ে যে জায়েজ দোয়াই করা হয় নবীজীর রওজা মোবারকের পবিত্র স্থানে দাঁড়িয়ে বসে, সে দোয়াই কবুল করা হয় আল্লাহর দরবারে।   এমতাবস্থায় সৌদি বাদশা ও পবিত্র দুই মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণের পবিত্র দায়িত্বে নিয়োজিত – কোন অবস্থাতেই নবীজীর বডি স্থানান্তরিত এবং নবীজীর কবর ঘিরে স্থান ও ঘরসসূহ ধ্বংস করার কাজে হাত দিবেন- সাচ্চা মুসলমান মাত্রই তা বিশ্বাস করেন না।   তারপরেও শঙ্কা ও ভয়ের যে কথা, আর তাহলো যেহেতু এই নিয়ে সুপারিশমালা উপস্থাপন হয়ে গেছে, নিশ্চয়ই এ নিয়ে আলোচনা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।কোন ক্লু না থাকলে হুট করে একজন একাডেমিক স্কলার তাও সৌদি আরবের, তার সুপারিশমালা কর্তৃপক্ষের কাছে কেনইবা প্রদান করবেন। কেননা, একাডেমিক কোন আলোচনা বা লেখা হলে, সেটা কেবল পত্রিকায় বা জার্নালে থাকতো, কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেজেন্ট করা হতোনা। এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে গ্র্যান্ড দুই মস্কের রক্ষণাবেক্ষণের কর্তৃপক্ষের হাতে সেই সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়ে গেছে। আর এখানেই শঙ্কা।এমন কথাই বলছেন একজন ইসলামিক স্কলার। তার মতে, এ নিয়ে আরো ব্যাপক উন্মুক্ত কনসাল্টেশন- সারা বিশ্বের আলেম উলামাহ, ফিক্কাহ শাস্রবিদদের মতামত নেয়া উচিত। এতোবড় বিশাল এক আবেগ তাড়িত সিদ্ধান্ত এককভাবে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ নিলে সেটা মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক বিভক্তি ছড়িয়ে পড়বে।যা রুখার সাধ্য কারো নেই। কেননা রসূলুল্লাহ মুসলমানের কলিজার টুকরা- সুতরাং নবীজীর রওজা মোবারক স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত যেন তেন কোন ভাবে নেয়া ঠিক হবেনা। এখনো সারা বিশ্বে বড় বড় আলেম উলামা ও স্কলার রয়েছেন। সকলের মতামত অবশ্যই জরুরী। এখানে অন্যান্য অনেক আনুষঙ্গিক বিষয় জড়িত।(ইন্ডিপেনডেন্ট অবলম্বনে)      Salim932@googlemail.com

বিস্তারিত»
পাঁচ সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলের সুপারিশ

ঢাকা: পাঁচ সচিবের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলের সুপারিশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানী দল। তারা অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলেছে, ওই পাঁচ সচিব মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়েই মুক্তিযোদ্ধা্ সনদ নিয়েছেন। মঙ্গলবার বিকালে কমিশনে এ-সংক্রান্ত  প্রতিবেদন দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক মো. জুলফিকার আলী। প্রতিবেদনে যাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলের সুপারিশ  করা হয়েছে তারা হলেন- স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ-সচিব নিয়াজউদ্দিন মিঞা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (ওএসডি)  কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকী, একই মন্ত্রণালয়  থেকে ওএসডি হওয়া যুগ্ম সচিব আবুল কাসেম তালুকদার, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সচিব এ কে এম আমির  হোসেন ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের চেয়ারম্যান মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান। দুদকের একটি সূত্র জানায়, ওই পাঁচ সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়, সংস্থাপন মন্ত্রণালয় ও পিএসসিকে  নোটিশ পাঠাবে দুদক।

বিস্তারিত»
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিবৃতি সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে

ঢাকা: বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির পক্ষ থেকে অবিলম্বে বাংলাদেশে গুম, নিপীড়ন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা প্রদান করা বন্ধ করার আহবান জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার অ্যামনেস্টির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আহবান জানানো হয়। সরকারের সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু মানবাধিকার রক্ষায় নতুন এ সরকারের কোন শক্তিশালী পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। তার থেকে বড় কথা হচ্ছে, কর্তৃপক্ষ দেশে আরো কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে যাচ্ছে, বিশেষত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ হচ্ছে, যা এখনো প্রক্রিয়াধীন। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানবাধিকার লংঘনের বিষয়ের কথা বলে আসছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, গুম, নিপীড়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ, বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ড, সংখ্যালঘুদের উপর সহিংসতা, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, পার্বত্য চট্টগ্রামবাসীদের নিরাপত্তা ও মৃত্যুদন্ড। বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষার আহবান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে সব ধরনের মানবাধিকার লংঘন বন্ধে অ্যামনেস্টি তার আহবান জানাচ্ছে। বিশেষ করে তিনটি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে, যা ২০১৪ সালে এসেও চলমান রয়েছে। সেগুলো হল- গুম, নিপীড়ন ও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা।

বিস্তারিত»
সৌদিতে বাংলাদেশি নিহত

ঢাকা:সৌদি আরবের জেদ্দায় একটি জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরিত হয়ে এক বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। রবিবার এ দুর্ঘটনা ঘটে।- খবর আরবনিউজের। ওয়ার্কশপে কাজ করার সময় একটি ওয়েল্ডিং মেশিন থেকে স্ফুলিঙ্গ ছুটে গিয়ে ওই জ্বালানি ট্যাংকারে পড়লে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মক্কা সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র কর্নেল সাঈদ সারহান জানান, বিস্ফোরণটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে এর আগুন আট মিটার দূরে পাশের অপর একটি ওয়ার্কশপের ছাদেও পৌঁছে যায়। ওই শ্রমিক জ্বালানি ট্যাংকারটির সংস্কার কাজ করার সময় এ বিস্ফোরণ ঘটেছে বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় আরও এক শ্রমিক আহত হয়েছেন। তবে ওই শ্রমিক কোন দেশের নাগরিক তা জানায়নি আরবনিউজ। সাঈদ আরও জানান, বিস্ফোরণে নিহত শ্রমিকের শরীর ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যায়। ওয়ার্কশপটির ছাদ থেকেও তার শরীরের কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

বিস্তারিত»
আবেগঘন পরিবেশে ছড়াকার চন্দনকে স্মরণ করলেন বন্ধু-স্বজন

ঢাকা: ওবায়েদুল গনি চন্দন খুব অল্প দিনেই ছড়া সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় বিশিষ্টজনদের নজরে এসেছিলেন। প্রথম জীবনে নিজের আবেগকে লেখনীর মধ্য দিয়ে প্রকাশ করলেও এক সময় সাধারণ মানুষের অনুভূতি নিয়ে লিখতে শুরু করে দেন তিনি। এরপর থেকে আর পিছু তাকাতে হয়নি চন্দনের। কিন্তু এ সুদীপ্ত গতিময় ধারা খুব বেশি দীর্ঘায়িত হয়নি। এ জন্যই বুঝি এ লেখককে অল্প দিনেই অনেকের মনে জায়গা করে দিয়েছেন মহান সৃষ্টিকর্তা। শরতের প্রথম দিনেই সবাইকে কাঁদিয়ে অসময়ে ওপারে চলে গেলেন এ প্রতিভাবান লেখক। আর সেজন্যই ওবায়দুল গনি চন্দনকে স্মরণ করার জন্য মঙ্গলবার  বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে তার সহকর্মী, বন্ধু ও স্বজনরা একত্রিত  হয়েছেন। অনুষ্ঠানে ওবায়দুল গনি চন্দনের লেখা ছড়াসমূহ আবৃত্তি করা হয়। আবেগঘন পরিবেশে এ স্মরণ সভায় উপস্থিত হয়েছেন- দেশের বরেণ্য লেখক, ছড়াকার ও সাংবাদিক। তাদের অন্যতম হলেন- কবি আসাদ চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, বৈশাখী টেলিভিশনের সিইও মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ছড়াকার আবু সালেহ, উন্মদ সম্পাদক আহসান হাবিব ও জাস্ট নিউজ সম্পাদক মুশফিকুল ফজল আনসারী, রোমেন রায়হান, ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন ছড়াকার আনজিল লিটন। অনুষ্ঠানের শুরুতে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন ওবায়েদুল গনি চন্দনের বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্খীরা। তাইতো এক মিনিটের জন্য নিরবতা পালন শেষে অনেকের চোখেই ছলছল করেছিল রংহীন অশ্রুফোঁটা। অনুষ্ঠানের শুরুতে সবাইকে চন্দনের রুহের মাগফেরাত কামনা করে অনুষ্ঠান শুরু করেন আনন্দ আলোর সম্পাদক রেজানুর রহমান। মাইক্রোফোনের সামনে বেশিক্ষণ নিজের আবেগকে ধরে রাখতে না পেরে দ্রুত মাইক্রোফোন তুলে দেন জাস্ট নিউজ সম্পাদক এবং ওবায়দুল গনি চন্দনের বন্ধুবর মুশফিকুল ফজল আনসারীকে। মুশফিকুল ফজল আনসারী চন্দনের রুহের মাগফেরাত কামনা করে তার বক্তৃতায় বলেন, চন্দনের এ চলে যাওয়া মেনে নেয়া অনেক কষ্টের, অনেক যন্ত্রণার। তবুও মেনে নিতে হয়- এটাই পৃথিবীর অমোঘ বিধান। এ সময় চন্দনের সঙ্গে তার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, আজকে আমাদের মাঝে চন্দন নেই। কিন্তু চন্দনের চমৎকার স্মৃতি রয়েছে। আমার এখনো মনে পড়ে, ১৭-১৮ বছর আগে আমার সঙ্গে চন্দনের পরিচয় হয়। আমরা একসঙ্গে কাজ করতাম। অনেক বেশি বন্ধুভাবাপন্ন ছিল চন্দন। সবসময় আমাদের মধ্যে নানা বিষয়ে আলোচনা হতো। সময় গড়াতে গড়াতে এক সময় আমাদের মধ্যে এমন সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিল- যা আসলেই ভুলে থাকার মতো নয়। বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহ বলেন, চন্দনের মারা যাবার কথা শুনে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি। এ তরুণ লেখক এত অল্প সময়ে চলে যাবে- এটা কোনভাবেই মেনে নিতে পারিনি। এ সময় তাকে কেঁদে ফেলতেও দেখা গেছে। কান্নাজড়িত কন্ঠে এ ছড়াকার বলেন, চন্দন আমাদের সম্পদ। সে যা দিয়েছে তা চিরদিন বেঁচে থাকবে। এ সময় চন্দনের লেখা ছড়ার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আমি যখন চন্দনের ছড়া পড়তাম, মনে হতো- এটা বুঝি আমার লেখা ছড়া। তার লেখা অসাধারণ এবং অতুলনীয়। বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘ছন্দে ছন্দে’ অনুষ্ঠানের প্রযোজক মনোজ সেন গুপ্ত বলেন, চন্দন নামটির প্রতি আমার একটা দুর্বলতা আছে। যা আমাকে ওর প্রতি সবসময় আবেগঘন করে রাখত।

বিস্তারিত»
আসছে কোরবানি, প্রস্তুত হচ্ছে মানবদেহের ভয়ঙ্কর বিষ

ঢাকা: ঘনিয়ে আসতে শুরু করেছে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব কোরবানি ঈদ। আর পবিত্র এ ধর্মীয় উৎসবকে সামনে রেখে প্রস্তুত হচ্ছে মানবদেহের জন্য ভয়ঙ্কর বিষ গো-মাংস। অধিক মুনাফার লোভে অসাধু ব্যবসায়ীরা কোরবানির পশু মোটা তাজাকরণের নেশায় প্রজন্মকে ঠেলে দিচ্ছেন মারাত্মক ঝুঁিকতে। সূত্র মতে, আসন্ন কোরবানিকে সামনে রেখে দেশের এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা মেতে উঠেছেন হরমোন ইনজেকশন স্টেরয়েড, ডেঙামেথাসন, ডেকাসন, বেটামেথাসন ও পেরিঅ্যাকটিন মতো মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ওষুধ বিক্রিতে। অসাধু ব্যবসায়ী ও অনেক কৃষকও অধিক লাভের আশায় গরু মোটাতাজা করতে ব্যবহার করতে এসব মরণব্যাধি বিষ ব্যবহার করছেন। এসব ওষুধ খাওয়ালে এক থেকে দেড় মাসের মাথায় গরু মোটাতাজা, নাদুস-নুদুস হয়ে যায়।  বিষাক্ত রাসায়নিকের হাই-ডোজ প্রয়োগে মোটা তাজা করা এসব গরুর মাংস খেলে লিভার, কিডনি, হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্তসহ মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গরুর জন্য এসব ওষুধ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলেও তা মানছে বাংলাদেশি অসাধু ব্যবসায়ীরা। সবকিছু দেখেও যেন কিছুই করার নেই সংশ্লিষ্টদের। প্রাণিসম্পদ বিভাগের ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গামেথাথন জাতীয় ওষুধ পশু বা মানুষকে খাওয়ালে এক সপ্তাহের মধ্যে মোটাতাজা হবে। তবে এই মোটাতাজা বেশি দিন স্থায়ী হয় না, বড়জোর দুই থেকে তিন মাস। আর এই ডেঙ্গামেথাথন গরুকে খাওয়ালে আর সেই গরুর মাংস মানুষ খেলে লিভার, কিডনি, ক্যান্সার, হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্তসহ ভয়ঙ্কর সব রোগ হতে পারে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোরবানি ঈদ এলেই দেশের বাইরের ব্যবসায়ী ও কিছুসংখ্যক কৃষক প্রতি বছর গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া বেশ জোরেশোরে শুরু করে। বেশি দাম পাওয়ার আশায় বৈধ পথে গরু মোটাতাজাকরণ না করে এ ভিন্ন পথ বেছে নিচ্ছে। এক্ষেত্রে হাতুড়ে চিকিৎসক ও বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি তাদের প্ররোচণা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরুকে নিয়মমাফিক স্বীকৃত ফর্মুলা অনুসারে খাদ্য দিয়ে মোটাতাজা করলে তার মাংস ক্ষতির কারণ হয় না। কিন্তু এসব ওষুধ দিয়ে মোটা করা গরুর মাংস ক্ষতিকর। স্টেরয়েড মূলত হাঁপানির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এ জাতীয় ওষুধ, যেমন ডেঙামেথাসন বা ডেকাসন, বেটামেথাসন ও পেরিঅ্যাকটিন অতিরিক্ত মাত্রায় দিলে গরুর কিডনি ও যকৃতের কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ায় শরীর থেকে পানি বের হতে পারে না। এ কারণে শোষিত হয়ে পানি সরাসরি গরুর মাংসে চলে যায়। ফলে গরুকে মোটা দেখায়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানায়, গরু মোটাতাজাকরণ একটি নিয়মিত ও প্রচলিত পদ্ধতি রয়েছে। এটি একটি স্বল্পমেয়াদী লাভজনক পদ্ধতি। প্রাকৃতিক এ পদ্ধতি যুগ যুগ ধরে প্রচলিত। কিন্তু বেশি মুনাফার লোভে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী মানবদেহ মারাত্মক ঝুঁকির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কিছু পশু চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত মোটাতাজা করতে ক্যাটাফস, বার্গাফ্যাট, বায়োমিঙ্গ খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে। রাসায়নিকভাবে মোটাতাজা করা গরুর মাংস খেলে মানবদেহে সরাসরি ক্ষতিকর স্টেরয়েডের প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে। এ মাংস গ্রহণের ফলে দুর্বল লিভার ও কিডনি রোগীর সংকটাপন্ন অবস্থা  তৈরি হয়। একাধিক গরু ব্যবসায়ী জানান, ভারত ও পাকিস্তানের এসব ওষুধ খাওয়ালে অনেক শুকনো গরু পনের দিনেই মোটা হয়ে যায়। বিশ হাজার টাকার গরু অন্তত ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা বিক্রি করা যায়। জানা যায়,  এ ওষুধ ভারত ও পাকিস্তান থেকে অবৈধভাবে আসে বিভিন্ন ওষুধের দোকানসহ গো-খাদ্য বিক্রেতাদের দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে। পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, রংপুর, দিনাজপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, শেরপুর, জামালপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যশোর, বেনাপোল, ময়মনসিংহ ও ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোতে ক্ষতিকর নানা ওষুধ ও রাসায়নিক সেবনের মাধ্যমে এখন গরু মোটাতাজা চলছে। গরু ব্যবসায়ী বাবুল বেপারী জানান, প্রতি বছরই ব্যবসায়ীরা গরু মোটা তাজা করার ওষুধ খাওয়ান। অনেক সময় স্থানীয় পশু চিকিৎসকরা এসব ওষুধ সরবরাহ করে থাকেন। আবার কখনো বাজার থেকে এনে খাওয়ানো হয়।  প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. ইকবাল কবীর বলেন, গরুগুলোর দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এগুলো প্রাকৃতিকভাবে নয়, কৃত্রিমভাবে মোটা করে বাজারে তোলা হয়েছে। ক্রেতাদের এ ব্যাপারে সতর্ক হবার বিকল্প নেই। বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক ডা. মাহবুব আলী খান বলেন, আমাদের দেশে সাধারণত বিক্রয়যোগ্য গবাদিপশু মোটাতাজাকরণ কাজে স্টেরয়েড আইটেমের ডেঙামেথাসন গ্রুপের বিভিন্ন ইনজেকশন প্রয়োগ হয়ে থাকে। এছাড়া ইউরিয়া খাওয়ানো হয়। স্টেরয়েড আগুনের তাপেও নষ্ট হয় না। এতে করে এসব গরুর মাংস মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।

বিস্তারিত»
১০০ বছরেও বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা হবে না: নাসিম

ঢাকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ১০০ বছরেও বিএনপির মতো একটি খুনি দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সমঝোতা হবে না। যারা শেখ হাসিনার মা-বাবা ও ছোট্ট ভাইকে হত্যা করেছে, তাদের সঙ্গে কীভাবে সমঝোতা করা যায় আপনারাই বলেন। মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) প্রাঙ্গণে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। নাসিম বলেন, ২০১৯ সালের আগে কোনো নির্বাচন হবে না। পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতিতে উল্লসিত না হওয়ার জন্যও বিএনপিকে পরামর্শ দেন তিনি। গুম-খুন নিয়ে বিএনপির নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে নাসিম বলেন, আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখুন। কোনো হত্যকান্ডের বিচার আপনারা করেননি। শেখ হাসিনা সব বিচার করেছেন। বিচার করতে শেখ হাসিনা নিজ দলের নেতা-কর্মীদেরও ছাড় দেননি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, তিনি মন্ত্রী থাকা অবস্থায় যেসব চিকিৎসককে গ্রামে পদায়ন করা হয়েছে, তাদের দুই বছরের আগে কোনোভাবেই সরানো হবে না। আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএসএমএমইউর উপাচার্য প্রাণ গোপাল দত্ত, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব এম ইকবাল আর্সলান প্রমুখ। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসএমএমইউর সার্জারি অনুষদের ডিন কনক কান্তি বড়ুয়া।

বিস্তারিত»
কারামুক্তি দিবসের অনুষ্ঠানে অভিযোগ বিএনপির জিয়ার হত্যাকারীরাই তারেক রহমানকে হত্যা করতে চেয়েছিল

ঢাকা: যেই চক্রটি ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিল, তারাই ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টি করে তারেক রহমানকে নির্যাতন করে হত্যা করতে চেয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যেই চক্র বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করতে ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিল- তারা চায় না তারেক রহমান দেশের  হাল না ধরুক। তাই তারাই ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টির মাধ্যমে তারেক রহমানকে নির্যাতন করে হত্যা করতে চেয়েছিল। মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৭ম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলে। সভাটির আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। মির্জা আলমগীর বলেন, আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌত্ব রক্ষার জন্য আন্দোলন করছি। তাই যারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশে মেধাবী রাজনীতি দেখতে চান তাদেরকে বলব- আপনারা তারেক রহমানের দিকে ফিরে তাকান। সম্প্রতি তারেক রহমানের লন্ডনে দেয়া বক্তব্যের পর সরকারি দলের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারেক রহমানকে কেন এত ভয়? তিনি কথা বললেই আপনাদের গায়ে জ্বালা ধরে কেন? তারেক রহমান তথ্য উপাত্ত দিয়ে কথা বলেন। বর্তমান সরকারকে ‘দানব’ আখ্যা দিয়ে এদের বিদায় করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান মির্জা আলমগীর। ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শিক্ষা সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আবুল খায়ের ভুঁইয়া, স্বেচ্ছাসেবা বিষয়ক সম্পাদক হাবিব উন নবী খান সোহেল, সহ-স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য কামরুজ্জামান রতন, সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হাবিব উর রহমান হাবিব, ছাত্র সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সাবেক ছাত্রদল সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল, সহ-ছাত্র সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু প্রমুখ।

বিস্তারিত»
তারা কাঁদলেন, স্বজনদের ফেরত চাইলেন

ঢাকা: কারো ছেলে, কারো ভাই। আবার কারো বাবা। কারো খোঁজ নেই দুই বছর। অনেকে নিখোঁজ হয়েছে বছর হতে চলছে। অথচ এখনো আশায় বুক বেঁধে আছেন স্বজনরা। তাই হারানো মানিককে খুঁজে পেতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চাইলেন গত কয়েক বছরে রাজধানী থেকে গুম হওয়া মানুষের স্বজনরা। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের আয়োজনে মানববন্ধনে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গুম হওয়া মানুষের স্বজনরা সহযোগিতা চান। বক্তব্য দিতে গিয়ে  অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ২০ দলের ঢাকা মহানগরের আয়োজনে মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর। এতে বিএনপি ও জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। এসময় গুম হওয়া মানুষের ১১জন স্বজনও বক্তব্য দেন। ঢাকা মহানগরের ৭৯ নং ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতা খালিদ হোসেন সোহেলের স্ত্রী শারমিন সুলতানা বলেন, “আমরা স্বামী রাজনীতি করতেন। তিনি সন্ত্রাসী ছিলেন না। আমরা অনেক সন্ত্রাসীকে প্রকাশ্যে ঘুরতে দেখি, অথচ আমার স্বামীকে খুঁজে পাওয়া যায় না।” প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ বিষয়ে নজর দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি তার স্বামীকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানান। ২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন সোহেল। পরিবারের দুঃখ দুর্দশার কথা তুলে ধরে গুম হওয়া ছাত্রদলের আরেক নেতা সম্রাটের বোন কানিজ ফাতিমা বলেন, “আমার পরিবারে ভাই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ। বাবা অসুস্থ হয়ে এখন শয্যাশয়ী। অনেক কষ্টে আমরা দিনযাপন করছি।” তিনি প্রশ্ন রাখেন, অন্যায় করলে বিচারের ব্যবস্থা আছে। তাহলে গুম করা কেন? বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর ছেলে অর্নব কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “২৮ মাস হতে চললেও এখতো বাবাকে খুঁজে পাইনি। একদিন-দুইদিন বলে বলে সরকার আশা জাগালেও এখনো বাবাকে পাইনি।” তিনি স্বাধীন দেশে গুমের রাজনীতি না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী থেকে গাড়ি চালকসসহ নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলী। বহু অপেক্ষার পর এখনো নিখোঁজ ছেলেকে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিমানবন্দর থানা ছাত্রদল নেতা নিজাম উদ্দিন মুন্নার বাবা শামসুদ্দিন। তিনি বলেন, “আমার ছেলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। বিএনপি করাই তার অপরাধ ছিল।” নিখোঁজের তিনদিন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট থানা জিডি নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মুন্নার বাবা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুতি জানিয়ে বলেন, “ছেলের সন্ধান দিতে না পারলেও যেন কবরটা দেখার সুযোগ দেয়া হয়। যাতে জিয়ারত করতে পারি।” এসময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। বংশাল থানা ছাত্রদল নেতা জহিরুল ইসলামের মা হোসনে আরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “১০ মাস ধরে আমার ছেলে  নিখোঁজ। আমরা আর কিছু চাই না, সন্তান ফেরত চাই।” ৩৮ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন মারুফা ইসলাম ভাইয়ের সন্ধান পেতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “হয় ভাইকে ফেরত দিন, না হয় উদ্ধার করেন দিন।” এছাড়া বংশাল থানা ছাত্রদলের আরেক নেতা সোহেলের বাবা শামসুর রহমান, পল্লবী থানার তরিকুল ইসলামের নূরুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বিস্তারিত»
আরো গুম-খুন হবে লিস্ট হচ্ছে : মির্জা আব্বাস

ঢাকা: বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত গুম-খুন হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস বলেছেন, দেশে প্রতিনিয়ত গুম-খুন হচ্ছে। এটা বন্ধ করতে হবে। মঙ্গলবার দুপুরে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ২০ দলীয় জোট আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আব্বাস বলেন, শুনেছি আবার নতুন করে নাকি নেতাকর্মীদের লিস্ট হচ্ছে। দেশে আরো গুম-হত্যা হবে, এখন সেই প্রক্রিয়া চলছে। তাই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মানববন্ধন কর্মসূচি সফল করায় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরো জোরদার করা হবে। আজকের মতো ভবিষ্যতেও সবাইকে সেইসব কর্মসূচি সফল করতে হবে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক তাসনীম আলম বলেন, সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই। তারা জনগণের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে অবৈধ ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে। তিনি বলেন, যাদের হাতে রাষ্ট্রের জনগনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আজকে তাদের হাতেই যদি জনগণ এভাবে অনিরাপদ থাকে তাহলে আমরা কোথায় যাবো। এ সময় তিনি সরকারকে অবিলম্বে গুম-খুন বন্ধের আহ্বান জানান। এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচির শুরুতেই গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা বক্তব্য রাখেন। তবে সকাল থেকেই বিএনপি ও ২০ দলের নেতাকর্মীরা পল্টন এলাকায় জড়ো হন। মানববন্ধনটি রাজধানীর নয়াপল্টনের নাইটেঙ্গেল মোড় থেকে পূর্বে মতিঝিল এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। খ- খ- মিছিল নিয়ে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, লে. জে. মাহবুবুর রহমান, আব্দুল মঈন খান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, সালাহউদ্দিন আহমেদ, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, জয়নুল আবদিন ফারুক, খায়রুল কবির খোকনসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া ২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সেলিম উদ্দিন চৌধুরী, খেলাফত মজলিশের আমিন আব্দুল লতিফ নেজামী, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ইব্রাহীম, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা চেয়ারম্যান শফিউল আলম প্রধান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৩০ আগস্ট এ কর্মসূচি পালনের কথা থাকলেও পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে পারেনি ২০ দলীয় জোট। ওইদিন রাজধানীতে আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠান থাকায় বিএনপিকে কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। অনুমতি না পাওয়ায় ওইদিন পূর্বনির্ধারিত মানববন্ধন কর্মসূচি স্থগিত করে ২০ দলীয় জোট। একইদিন কর্মসূচি পালনে তারিখ পরিবর্তন করে ২ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়।

বিস্তারিত»
সংসদে অভিসংশন হলে বিচারকরা স্বাধীনতা হারাবেন: অধিকার

ঢাকা: সংসদের হাতে বিচারপতিদের অভিসংশনের ক্ষমতা দেয়ার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’। বিচারপতিদের অভিসংশনের ক্ষমতা সংসদের হাতে চলে গেলে বিচারকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেছে মানবাধিকার সংস্থাটি। আগস্ট মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর প্রকাশিত রিপোর্টে অধিকার জানায়, আগস্ট মাসে অন্তত সাতজন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে চারজন পুলিশ ও দুই জন র‌্যাবের হাতে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছে। এছাড়া একই সময়ে একজন সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকাকালে নির্যাতনের ফলে মারা যান বলে রিপোর্টে বলা হয়। তাছাড়া একই মাসে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) অন্তত ছয়জন বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয় বলে রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়। এর মধ্যে তারা দুইজনকে গুলি করে এবং দুইজনকে নির্যাতন করে হত্যা করে। এছাড়া বিএসএফ ধাওয়া করে নদীতে ফেলে একজনকে হত্যা করে। অপর একজনকে বিএসএফ অপহরণের পরদিন তার মৃতদেহ নদীতে ভেসে ওঠে। ৫ জানুয়ারি’র বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ সর্ম্পকে জনমনে সংশয় রয়েছে দাবি করে রিপোর্টে এই সংসদে বর্তমান সরকারের একচ্ছত্র প্রাধান্য থাকায় বিচারপতিদের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তাদের স্বাধীনতা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয় রিপোর্টে। রিপোর্টে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে দাবি করে বলা হয়, জুলাই মাসে এ ধরনের সহিংসতায় ৬ জন নিহত এবং ৪৯৭ জন আহত হয়। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে দুজন নিহত হয় বলে দাবি করা হয। রিপোর্টে ৫ জানুয়ারি’র নির্বাচনের আগে ও পরে দেশে অনেক গুমের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ  করে এ ধরনের ঘটনা এখনো অব্যাহতভাবে ঘটছে বলে উল্লেখ করা হয়।

বিস্তারিত»
গুম-খুনের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হতে হবে: ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশে গুম-খুনের রাজত্ব চলছে মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন আর হত্যা, গুম-খুন দেখার সময় নেই। সময় এসেছে গুম-খুনের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হতে হবে। মঙ্গলবার দুপুরে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ২০ দলীয় জোট আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে ভিন্নমতকে স্তব্ধ করে দিতে চায়। বিরোধী নেতার্মীদের দমন করতে তারা অত্যাচার নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু আজকের এই মানববন্ধনই প্রমাণ করে সাধারণ মানুষ কখনোই এই অত্যাচার নির্যাতন মেনে নেয়নি। তারা গুম-খুনের প্রতিবাদ করছে। তিনি বলেন, জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এই অবৈধ সরকারকে হটানো হবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন দিতে এই সরকারকে বাধ্য করা হবে। এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১ টা ২০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচির শুরুতেই গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা বক্তব্য রাখেন। তবে সকাল থেকেই বিএনপি ও ২০ দলের নেতামর্কীরা পল্টন এলাকায় জড়ো হন। মানববন্ধনটি রাজধানীর নয়াপল্টনের নাইটেঙ্গেল মোড় থেকে পূর্বে মতিঝিল এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। খন্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, লে. জে. মাহাবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, সালাহউদ্দিন আহমেদ, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, জয়নুল আবদিন ফারুক, খায়রুল কবির খোকনসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। এ ছাড়া ২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক তাসনীম আলম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সেলিম উদ্দিন চৌধুরী, খেলাফত মজলিশের আমিন আব্দুল লতিফ নেজামী, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ইব্রাহীম, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা চেয়ারম্যনা শফিউল আলম প্রধান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৩০ আগস্ট এ কর্মসূচি পালনের কথা থাকলেও পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে পারেনি ২০ দলীয় জোট। ওই দিন রাজধানীতে আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠান থাকায় বিএনপিকে কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। অনুমতি না পাওয়ায় ওইদিন পূর্বনির্ধারিত মানববন্ধন কর্মসূচি স্থগিত করে ২০ দলীয় জোট। একইদিন কর্মসূচি পালনে তারিখ পরিবর্তন করে ২ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়।

বিস্তারিত»
‘বাংলাদেশের মাটিকে উগ্রবাদের চারণভূমি হতে দেয়া হবে না’

ঢাকা: সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “আমরা অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি সন্ত্রাসবাদ বিস্তারের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা। বাংলাদেশের মাটিকে যাতে কোনো বিদেশি উগ্রবাদের চারণভূমি হতে না পারে, সেজন্য আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছি।” ‘বহুমাত্রিক সন্ত্রাস’ মোকাবেলায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার সকালে রেডিসন হোটেলে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা প্রধানদের সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আমেরিকার প্যাসিফিক কমান্ড এবং বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের যৌথ উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘দ্য ফিউচার: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপরচুনিটিস ফর সিকিউরিটি কো-অপারেশন’। শেখ হাসিনা বলেন, “বিশ্ব আজ যে বহুমাত্রিক সন্ত্রাসী হুমকির সম্মুখীন, তা কোনো দেশের পক্ষে এককভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। এদের মোকাবিলার জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে একে অন্যের সঙ্গে সহযোগিতা ও সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি আশা করি, এই সম্মেলনের মাধ্যমে আপনাদের পরস্পরের মধ্যে বিদ্যমান দেয়ালগুলো ভেঙে যাবে। আপনাদের মধ্যে দূরত্ব কমে যাবে এবং বোঝাপড়া বৃদ্ধি পাবে।” শেখ হাসিনা বলেন, “বিশ্ব বর্তমানে একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দেশে দেশে উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীর উত্থান ঘটছে। এসব জঙ্গি গোষ্ঠী সাধারণ মানুষের জানমালের পাশাপাশি বিশ্বশান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ। বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীর মোকাবিলা আজ শান্তিকামী দেশগুলোর জন্য একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ।” সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কোনো হুমকিই আমাকে সন্ত্রাস এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নেয়া অবস্থান থেকে সরাতে পারবে না। ২০০৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আমার বক্তৃতায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার যে প্রতিজ্ঞা আমি করেছিলাম তাতে আমি আমৃত্যু অবিচল থাকবো।” ২০০৯ সালে জঙ্গি দমন ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত ১৭ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় কমিটি গঠন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নিষিদ্ধ ঘোষিত সব সন্ত্রাসী দলকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা গোয়েন্দা কাজের অন্যতম উদ্দেশ্য- উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “মনে রাখবেন, সন্ত্রাসীরা তাদের টিকে থাকার জন্য সর্বদাই উদ্ভাবনী শক্তিতে খুবই তৎপর। যখনই তাদের কোনো একটা কর্মকৌশল উদ্ঘাটিত হয়, সঙ্গে সঙ্গে তারা নতুন কৌশলের উদ্ভাবন ঘটায়। কাজেই আপনাদের মিশন সত্যিই চ্যালেঞ্জিং।” এই সম্মেলন শেষে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগযোগ্য নতুন নতুন কর্মকৌশল উদ্ভাবিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী।

বিস্তারিত»
সাতছড়ি উদ্যানে ফের বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে এলএমজি, এসমজি ও এসএলআরসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে র‌্যাব। মঙ্গলবার ভোর থেকে অভিযান চালিয়ে এ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। র‌্যাবের অভিযান এখনো চলছে বলে জানা গেছে। র‌্যাব-৯ এর কমান্ডিং অফিসার মোসাব্বের রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে দুপুর ১২টায় শ্রীমঙ্গল র‌্যাব-৯ ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলন করা হবে বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২ জুন এই এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে র‌্যাব।

বিস্তারিত»
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম আহ্বানকারী জিয়াউর রহমানের কল্যাণে শেখ হাসিনা ও আ'লীগ রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছে- লন্ডনে তারেক রহমান

“অসভ্যতাকে মেনে নেয়া যায়না” সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ-লন্ডন থেকে:আওয়ামীলীগের নেতা শেখ মুজিব ১৯৭৪ সালে সকল রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে নিজেই একটি মাত্র দল বাকশাল সৃষ্টি করেন। বাকশালই ছিলো শেখ মুজিবের একমাত্র দর্শন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।সে হিসেবে আওয়ামীলীগ নামক দলের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যায় ১৯৭৪ সালে।জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে পলিটিক্যাল এক্টের অধীনে আওয়ামীলীগকে নতুন জন্ম দান করেন এবং জিয়াউর রহমানের কল্যাণে শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগ আজকে রাজনীতি করার সুযোগ লাভ করেছেন।বর্তমান সরকারের ও মন্ত্রীদের বক্তৃতা, বিবৃতিকে অসভ্যতা মেনে নেয়া যায়না বলে আমাকে কথা বলতে হয়। ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হত্যার বিষয় শেখ হাসিনা জানতেন বলেই তখনকার সরকারকে না জানিয়ে মুক্তাঙ্গন থেকে তড়িঘড়ি করে আওয়ামীলীগ অফিসের সামনে সভা এবং ট্র্যাকের মধ্যে প্রটেক্টেড গাড়ীতে মঞ্চ বানিয়ে সমাবেশ- এই সব রহস্যে ঘেরা সকল প্রশ্নের জবাব জাতিকে দিতে হবে। ২১ শে আগস্টের হত্যা মামলার আই,ও অফিসার আবুল কাহার আকন্দকে কেন পুনরায় ২০০৮ সালে চাকুরীতে বহাল করে এই মামলায় নিয়ে আসা হয়েছে- আদালতকেও সেই রহস্যের জবাব জাতিকে জানানোর অনুরোধ করেন। এই কথাগুলো আজ যুক্তরাজ্য বিএনপির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।   বিএনপির ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস। সভা পরিচালনা করেন সেক্রেটারি জেনারেল কয়সর এম আহমেদ।   সভায় তারেক রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছাত্র জীবনের চিন্তা ভাবনা থেকে শুরু করে সৈনিক জিয়া, মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান সহ জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য জীবনের নানা দিক বিভিন্ন  তথ্য, উপাত্ত, দলিল ও জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধ থেকে সভার শুরুতে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তারেক বলেন, আমি এখানে ইতিহাস বলতে আসিনি, ইতিহাস রচনা করবেন ইতিহাস বিদেরা। আমি এসেছি যা সত্য তথ্য, সেটা আপনাদের সামনে, বিশেষকরে আমার তরুণদের জানাতে এসেছি।   অনুষ্ঠানে তারেক রহমান ১৯৭২ সালে দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত জিয়াউর রহমানের লেখা একটি জাতির জন্ম নিবন্ধের অংশ বিশেষ পড়ে শুনান।   জিয়াউর রহমান তলাবিহিন ঝুড়ির দেশটাকে স্বনির্ভর বাংলাদেশের রূপান্তর করেছিলেন।   তারেক রহমান বলেন, ২৫শে মার্চ শেখ মুজিব যখন পাকিস্তানীদের কাছে সারেন্ডার করে কারাগারে বন্দী হন, তখন জিয়াউর রহমানের ডাকে বাঙালি জাতি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।   এ সময় তিনি এন্থনি ম্যাসকারানাসে এ লিগেসি অব গ্রন্থ থেকেও পড়ে শুনান।   তারেক রহমান বলেন, জিয়াউর রহমান সামরিক আইন জারি করেননি, সামরিক আইন জারি করে আওয়ামীলীগের নেতা মোশতাক। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নেননি। তিনি ১লা নভেম্বর থেকে ৭ই নভেম্বরের ঘটনাবলি ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করে বলেন, জিয়াউর রহমান আওয়ামীলীগেরই সরকারের উত্তরসূরি বিচারপতি সায়েমকে রাষ্ট্রপতি পদে এবং তিনি তখন ডেপুটি চীফ ছিলেন। পরে বিচারপতি সায়েম জিয়াউর রহমানকে চীফ অফ আর্মি স্টাফ করেন।   তারেক রহমান বলেন, জিয়াউর রহমান সামরিক আইন তুলে নেন। এমনকি পলিটিক্যাল এক্টের অধীনে আওয়ামীলীগের আমলে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোকে পুনরায় রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন।   তারেক রহমান বলেন, ০১) জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ০২) মুক্তিযুদ্ধের প্রথম আহ্বানকারী ০৩) স্বাধীনতার ঘোষক ০৪) বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ০৫) প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ০৬) সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা প্রদানকারী।আওয়ামীলীগ এই সত্যগুলো গোপন করে মিথ্যা ইতিহাস রচনা করে বলেই আমাকে এই সব তথ্য আপনাদের সামনে প্রমাণসহ নিয়ে আসতে হয়। আওয়ামীলীগের কাজ হলো মিথ্যা ইতিহাস রচনা করা, একাজে তারা পারদর্শী। আমার কোন প্রশ্নের ও তথ্যের জবাব তাদের কাছে নেই বলেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।আওয়ামীলীগের মন্ত্রী, এমপি নেতাদের বক্তব্যকে অসভ্যতার সাথে তুলনা করে তারেক রহমান বলেন, অসভ্যতা মেনে নেয়া যায়না।   আওয়ামীলীগের মন্ত্রী এমপিদের বক্তব্যের জবাবে তারেক রহমান বলেন, হযরত আলী রাদিয়াল্লু বলেছিলেন, যুক্তিবৃত্তি শূন্য মানুষ অশ্লীল কথা বলে। মুহুর্মুহহু শ্লোগান আর করতালিতে তারেক রহমান বলেন, আওয়ামীলীগ জোটের নেতাদের বক্তব্যের জবাবে হযরত আলী রাদিয়াল্লু আনহুর এই বক্তব্যেই আমি থাকতে চাই।   মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নাম উল্লেখ না করে তারেক রহমান বলেন, অবৈধ শেখ হাসিনার অবৈধ মন্ত্রী- যিনি একটি পত্রিকারও সম্পাদক, একটি দলের মহাসচিব, বিগত সময়ে ১৫ আগস্ট সমকাল পত্রিকায় উনি লিখেছিলেন, ...একটি হলের নির্বাচনে জয়ী হয়ে উনি যখন হল থেকে বের হয়ে যাচ্ছিলেন, তখন পেছন থেকে আওয়াজ শুনেছিলেন ছাত্রলীগের সাথে প্রতিপক্ষের মারামারিতে ছাত্রলীগ মার খাচ্ছে। তখন ঐ অবৈধ মন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরে যান মরহুম আব্দুর রাজ্জাককে সাথে নিয়ে। বঙ্গবন্ধু তখন স্যান্ডেল লুঙ্গি পড়া অবস্থায় তাদের সাথে দেখা করতে নীচে নেমে আসেন। ঐ মন্ত্রী আরো লিখেছেন, তখন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ছাত্রলীগের ছেলেরা মার খেয়েছে, এই কথা বলার জন্য এসেছিস। ফিরে আসার সময় লুঙ্গির নীচ থেকে কি একটা যেন দিলেন আর বললেন ঐ কি একটা সাথে রাখিস নিজের নিরাপত্তার জন্য। তারেক রহমান ঐ স্মৃতিচারণের কপি দেখিয়ে বলেন, এটা ঐ অবৈধ মন্ত্রীর লেখা, আমার নয়। আওয়ামীলীগের কাজ হলো ঐ কি একটা কিছু দিয়ে কি যেন করা। যার ফল দেশে গুম, হত্যা, শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস ঐ কি একটা দিয়ে। তারেক রহমান বলেন, যে দলের নেতা কর্মীদের কি একটা দেয়, সে দলের নেতা কেমন ছিলো তার বিচারের ভার জাতির কাছেই দিলাম।   তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৯শে আগস্ট তখনকার ইউপিপি, যার নেতৃত্বে কাজি জাফর আহমেদ, রাশেদ খান মেননরা ছিলেন। শেখ মুজিবের মৃত্যুর পরে তারা একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন। সেই বিবৃতিতে ইউপিপি বলেছিলো- ...ঘৃণ্য ও গণধিকৃত মুজিব শাসনের অবসান হয়েছে।তার মৃত্যু কারো মনে সামান্যতমও সমবেদনা জানাতে পারেনি।সেই বিবৃতির মেনন আজকের মহাজোটের মন্ত্রী মেনন- আপনারা বিচার করুন তাদের কথা ও কাজ কখন কি হয়।এসময় তিনি আবার বলেন এদের সম্পর্কে কিছু না বলে আমি হযরত আলীর উক্তিতেই থাকতে চাই।   তারেক রহমান বলেন, ২০০৯ সালে আমাদের সময় হাসানুল হক ইনু সম্পর্কে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছিলো।সেই রিপোর্টে লিখেছিলো অভ্যুত্থানের পর শাহবাগের বেতার ভবনে হাসানুল হক ইনু, কর্নেল আবু তাহেরকে নিয়ে এসে অভ্যুত্থানের নেতাদের সাথে দেখা করেন। অভ্যুত্থানের আরো এক নেতা রশীদ নারায়নগঞ্জে কর্নেল তাহেরের সাথে গিয়ে দেখা করে বেতারে আসার কথা বলেছিলেন।তারা বেতারে আসেন, মোশতাকের সাথেও কথা বলেন। পুরো রিপোর্টি তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে পড়ে শুনান এবং তার কপিও প্রদর্শন করেন।আর আজকে হাসানুল হক ইনু শেখ মুজিব বন্ধনায় দিনরাত পার করে দিতেছে- তেল বাজিই এখন তাদের কাজ। এদের সম্পর্কে আমি কিছু না বলে ঐ হযরত আলীর উদ্ধৃতিতেই থাকতে চাই।       তারেক রহমান বলেন, অবৈধ আওয়ামীলীগ সরকার বাংলাদেশের জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমদের বই কোর্টের মাধ্যমে সেন্সর করেছে। তারা যখন দেখে তাদের লুকোচুরি সব ফাঁস হয়ে যায়, তখন তারা হয় অবৈধ পন্থায়, জোর করে অথবা কোর্টের মাধ্যমে হলেও সেন্সর করে। একইভাবে আওয়ামীলীগ তাদেরই পন্থী বাংলাদেশের বয়োবৃদ্ধ লেখক সাংবাদিক এ বি এম মুসা হক কথা বলায় বড় কষ্ট আর অবহেলায় মৃত্যু বরণ করেছেন বলে উল্লেখ করেন।   ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকারের সময় সংগঠিত এই ঘটনায় আওয়ামীলীগ যখন জনসভার জন্য মুক্তাঙ্গনে আয়োজনের কথা বলে তখন সরকার তার দায়িত্ব হিসেবে মুক্তাঙ্গনে আওয়ামীলীগের জনসভার নিরাপত্তার যাবতীয় ব্যবস্থা করে। মুক্তাঙ্গনের দুই দিকেই সরকারী অফিস- নিরাপত্তা বলয় থাকায় স্বাভাবিকভাবেই সরকারের অনুমতি ছাড়া অন্যকারো এই স্থান দিয়ে ঢুকার প্রশ্নই আসেনা- সেটা যে কেউই অনুমান করতে পারছেন। আওয়ামীলীগ হঠাত করে সরকারকে কিছুই না জানিয়ে এবং কোন সুযোগ না দিয়ে জনসভার স্থান আওয়ামীলীগের অফিসের সামনে নিয়ে যায়। আওয়ামীলীগ অফিস যেখানে সেখানে পাকিস্তান আলম থেকেই এবং আশেপাশের সব বিল্ডিং দোকান আওয়ামীলীগের কারো না কারো।এই তড়িঘড়ি করে জনসভার স্থান পরিবর্তন প্রমাণ করে শেখ হাসিনা আগে থেকেই জানতেন এখানে কিছু একটা হবে যাতে দেশে বিদেশে বিএনপি সরকারকে বেকায়দায় ফেলে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা যায়।তারেক রহমান আরো বলেন, শেখ হাসিনা আইভি রহমানকে বার বার নীচ থেকে ট্রাকের মধ্যে চলে আসার জন্য কেন বলছিলো, আর যে ট্রাকের উপর শেখ হাসিনা মঞ্চ বানিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলো, সেখানে পুরো ট্রাকের চতুর্দিকে ঢাকা ছিলো প্রটেকশনের জন্যে যাতে বোমা জাতীয় কিছু ফাটলে শেখ হাসিনা প্রটেক্টেড থাকে এবং হিউম্যান শিল্ডসতো আছেই। এই দুই রহস্য গ্রেনেড হামলার সাথে শেখ হাসিনাকেই জবাব দিতে হবে।   এ সময় তারেক রহমান আরো বলেন, গ্রেনেড হামলার আই,ও আবুল কাহার আকন্দ সরকারি পদে থেকে নির্বাচনের নমিনেশন নেন এবং দাঁড়ান যা একজন সরকারি কর্মকর্তা নিজ পদে থেকে করতে পারেন না। সরকার আবুল কাহার আকন্দকে স্বাভাবিকভাবেই চাকরীচ্যুত করে। শেখ হাসিনার সরকার এই আকন্দকে ক্ষমতায় এসে আবার চাকরীতে বহাল এবং গ্রেনেড হামলা মামলার আইও নিয়োগ করে। এখন আদালতকে আগে জাতিকে জানাতে হবে এই সব রহস্যের কারণ এবং একজন সরকারি কর্মকর্তা নিজ পদে থেকে নির্বাচন করে চাকরীচ্যুত হওয়ার পরে আবার এই মামলার প্রধান নিয়োগ এই সব রহস্যের ভেদ জাতিকে জানাতে হবে।   এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন হওয়ার পরে আওয়ামীলীগের সেই লোক যখন বললো আমি আপাকে খুন হওয়ার ৫মিনিটের মধ্যেই জানিয়েছি, অথচ আপা জানার পরেও এব্যাপারে এতো বড় লোমহর্ষক ঘটনা ঘটছে তার ব্যবস্থা না নিয়ে পরবর্তীতে সংসদে দাঁড়িয়ে সেই লোকের ও পরিবারের প্রটেকশনের কথা বলেন। এই হলো আওয়ামীলীগের কাজ।   একই সময়ে তারেক রহমান তখনকার জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কাদের সিদ্দিকী সাহেব বলেছিলেন তড়িঘড়ি করে জনসভার স্থান মুক্তাঙ্গন থেকে কেন সরিয়ে আওয়ামীলীগ অফিসে নেয়া হলো- সেটা দেখা দরকার। তারেক রহমান বলেন, কাদের সিদ্দিকী ভিন্ন একটি দলের নেতা এরকম বক্তব্য জাতীয় সংসদে দিয়েছিলেন, সংসদের রেকর্ডেও এই বক্তব্য আছে।   জিয়াউর রহমানের সুনাম নষ্ট করার জন্যে চক্রান্ত করে আওয়ামীলীগ গ্রেনেড হামলা মামলা বিএনপিকে জড়াচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।   রাত নয়টার কিছু পরে সুরু করা বক্তব্যে রাত ১০টার ৩০ পরে এসে শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে এই অবৈধ সরকারকে হটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বক্তব্য শেষ করেন।   এর আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় মানবাধিকার সম্পাদক নাসির উদ্দিন অসীম বলেন, ২৫শে মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান সারেন্ডার করে কারাগারে চলে যান, পরীক্ষা হলেতো সফলতা ব্যর্থতা আসবে। শহীদ জিয়া যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন, পরীক্ষার ময়দানে সফল।   অসীম বলেন, শেখ হাসিনা যখন সন্তান জন্ম দান করেন তখন পাকিস্তানের সামরিক হাসপাতালে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন।   সভার শুরুর আগে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা শামীম।তার পর জাসাসের শিল্পীদের সমন্বয়ে জাতীয় সঙ্গীত এবং প্রথম বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ গানটি সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করা হয়।   অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতা ও আইনজীবী ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহিদুর রহমান মুহিব, সাবেক সহকারি এটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আ জ ম মোর্শেদ আলম, এম লুতফুর রহমান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী পরিষদের মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক  ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ডঃ আব্দুল লতিফ মাসুদ, এম এ মালেক, ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম, সাদেক আহমদ, তাজুল ইসলাম, ডঃ মুজিবুর রহমান সহ আরো অনেকেই।   অনুষ্ঠান শেষে ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন নেতা কর্মীদের নিয়ে তারেক রহমান।   অনুষ্ঠানের মধ্যখানে তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনের তৈরি জিয়াউর রহমানের উপর একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।   Salim932@googlemail.com 02nd Sept. 2014, London.        

বিস্তারিত»
আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী ফারুক হত্যায় এমপি রানা ও ছাত্রলীগ নেতা বাপ্পা জড়িত

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা:টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। দীর্ঘ প্রায় ২০ মাস পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকোণ্ডের রহস্য উদঘাটিত হলো। তদন্তের একপর্যায়ে গ্রেফতার হওয়া আনিসুল ইসলাম রাজা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দেন। হত্যাকাণ্ডে টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী একটি পরিবারের দুই সন্তানসহ অন্তত সাতজন জড়িত মর্মে রাজা তার জবানবন্দীতে উল্লেখ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এই দু’জনের একজন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ও অপরজন তার কনিষ্ঠ সহোদর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা। টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন ত্যাগী নেতা ফারুক আহমেদ। এটাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। গত ১১ আগস্ট রাজাকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করে। তিন দফায় ১৫ দিন রিমান্ডের পর গত ২৭ আগস্ট তিনি আদালতে জবানবন্দী দেন। তার জবানবন্দীর মধ্য দিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোহাম্মদ আলী নামে আরেকজনকে পুলিশ ২৪ আগস্ট গ্রেফতার করে। ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মোহাম্মদ আলী শহরের দণি কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা। আনিসুল ইসলাম রাজাও একই এলাকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদত হোসেনের কাছে দেয়া জবানবন্দীতে রাজা জানিয়েছেন, সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ঘটনার দিন রাতে রাজাকে দায়িত্ব দেন ফারুক আহমেদকে আওয়ামী লীগ অফিস থেকে কলেজপাড়া এলাকায় তার গ্লোবাল ট্রেনিং সেন্টারে ডেকে নেয়ার জন্য। আওয়ামী লীগ অফিসে যাওয়ার সময় পথেই রাজার সাথে ফারুক আহমেদের দেখা হয়। রাজা তখন নিজের রিকশা ছেড়ে দিয়ে ফারুক আহমেদের রিকশায় ওঠেন এবং তাকে গ্লোবাল ট্রেনিং সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হওয়া নিয়ে উপস্থিত প্রভাবশালীদের সাথে ফারুক আহমেদের কথা হয়। তাদের একজন ফারুক আহমেদকে জানান, সাধারণ সম্পাদক পদে মেয়র প্রার্থী হবেন। সানিয়াত খান বাপ্পা ফারুক আহমেদকে এ পদে প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। ফারুক আহমেদ এ বিষয়ে রাজি হননি। কথাবার্তার একপর্যায়ে ফারুক আহমেদ ওই ট্রেনিং সেন্টারের অফিসক থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে পেছন থেকে তাকে গুলি করা হয়। পরে অন্যরা ফারুক আহমেদের মুখ চেপে ধরেন। তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর প্রভাবশালী নেতার নির্দেশে সেখানে রক্ত মুছে ফেলা হয়। পরে একটি অটোরিকশায় লাশ বসিয়ে রাজাসহ দু’জন দুই পাশে বসেন এবং ফারুক আহমেদের বাসার কাছে তাকে ফেলে রেখে আসেন। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সালেহ মোহাম্মদ তানভীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তদন্তের স্বার্থে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।  

বিস্তারিত»
ট্রান্সফরমারে ওভারলোড সংযোগ দেয়া সম্ভব নয়

মুহাম্মদ চেরাগ আলী, গোলাপগঞ্জ(সিলেট) থেকে : ট্রান্সফরমার ওভার লোড, তাই সংযোগ দেয়া সম্ভব নয়। এমন বক্তব্য গোলাপগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের। কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে মনের মত বাড়ি নির্মাণ করার পরও বিদ্যুতের কারনে অনেক প্রবাসী বসবাস করতে পারছেন না নিজের ঘরে। এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। দেশের প্রবাসী অধ্যূষিত, অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ গোলাপগঞ্জের মানুষ কোন ভাবেই বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ঐসব অজুহাত মেনে নিতে পারছে না। বিষয়টি দিন দিন জটিল আকার ধারন করে ভোগান্তির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে জনসাধারণকে। এ মুহুর্তে ট্রান্সফরমার ওভার লোডের কারনে আড়াই হাজার নতুন সংযোগের আবেদন পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে পড়ে আছে। গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় পল্লীবিদ্যুতের প্রায় ৪৫হাজার গ্রাহক রয়েছেন। প্রতিদিনই গ্রাহকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রাহকের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও পর্যাপ্ত পরিমাণের লোকবল না থাকার কারণে পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের যথাযথ ভাবে সেবা দিতে পারছে না। সেই একযুগ পুর্বে যে লোকবল নিয়ে পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যক্রম শুরু করেছিল, সেই লোকবলের সংখ্যা এখনও রয়েছে। মাঝপথে জনতার আন্দোলনে বেশ ক’টি যানবাহন পুড়িয়ে ফেলা হলে সে গুলোও পুর্ণ হয়নি। ফলে যানবাহন সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ বিভাগ অনেক সময় যথাযথ ভাবে তাদের কাজ সম্পন্ন করতে পারছে না। সাম্প্রতিককালে গ্রাহক ভোগান্তির সব চেয়ে বড় কারণ হচ্ছে ট্রান্সফরমার ওভারলোড। গোলাপগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের হিসাব মতে পুরো উপজেলায় ২৫শ’ ট্রান্সফরমার রয়েছে। তার মধ্যে অর্ধেকই হচ্ছে ওভার লোডের তালিকাভূক্ত। ট্রান্সফরমার ওভার লোড এ সমস্যার কারণে ঐ ট্রান্সফরমারের আওতায় কোন নতুন সংযোগ দেয়া হচ্ছে না। যান্ত্রিক কারণে ওভারলোড ট্রান্সফরমার থেকে সংযোগ দেয়া হলে যে কোন সময় তা বিকল হয়ে যেতে পারে। প্রতিটি ট্রান্সফরমারের গ্রাহকদের তালিকা গোলাপগঞ্জ পল্লীবিদ্যুতের জোনাল অফিসের কম্পিউটারে সংরক্ষণ থাকায় সহজেই কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়টি আবেদনকারীদের জানিয়ে দিতে পারেন। বর্তমানে ট্রান্সফরমার ওভারলোডের কারণে আড়াই হাজার গ্রাহকের নতুন আবেদন পড়ে আছে। ট্রান্সফরমার আপগ্রেড করা না হলে সংযোগের বিষয়ে পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এক চুলও অগ্রসর হওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিচ্ছেন। এতে বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। বিশেষ করে অনেক প্রবাসী কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিলাস বহুল বাড়ি-ঘর নির্মাণের পরও বিদ্যুতের কারণে তাতে বসবাস করতে পারছেন না। এছাড়া ট্রান্সফরমার নষ্ট হলে নিজের খরছেই তা মেরামত করতে হয়। চুরি হলেতো উপায় নেই, নিজেই সমুদয় মূল্য পরিশোধ করে নতুন ট্রান্সফরমার আবার লাগাতে হয়। বিশেষ করে ট্রান্সফরমার ওভারলোড সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করায় প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার ভূক্তভোগী গ্রাহকরা গোলাপগঞ্জ কদমতলী জোনাল অফিসে ধর্না দেখা যায়। ১০কেভিএ ট্রান্সফরমার আপগ্রেড করে ১৫কেভিএ পরিণত করতে চাইলে গ্রাহককে ২০হাজার টাকা দিতে হয়। এ ভাবে ধারণ ক্ষমতা বেশী করতে হলে টাকার পরিমাণও বাড়তে থাকে। যার ফলে এ সমস্যাটি দিন দিন কেবল বৃদ্ধিই পাচ্ছে। তবে গোলাপগঞ্জে অতীতের তুলনায় এখন লোডশেডিং অনেক কমেছে। প্রতিদিন ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে ১২ থেকে ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। ওভারলোড সমস্যাটি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেই দ্রুত নিরসন করার জন্য গোলাপগঞ্জবাসী জোরালো দাবী জানিয়ে আসছে। এক্ষেত্রে গ্রাহকদের যুক্তি হচ্ছে নতুন সংযোগ বাড়লে কর্তৃপক্ষ বিল পাবে। যেহেতু বিল বাড়ছে, সেহেতু ট্রান্সফরমার ওভারলোড অজুহাত দেখিয়ে নতুন সংযোগ বন্ধ রাখার বিষয়টি ঠিক হবে না। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগেই ওভারলোড সমস্যাটি নিরসন করা এখন সর্বমহলের প্রধান দাবীতে পরিণত হয়েছে।  

বিস্তারিত»

সাক্ষাৎকার

অভিশংসন আইনের উদ্দেশ্য বিচারব্যবস্থায় প্রভাব খাটানো: আব্দুর রউফ

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকলেও তা প্রভাবমুক্ত হবে কি না তা নির্ভর করবে সংসদ সদস্যদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও কোয়ালিটির ওপর। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফ  একথা বলেছেন।   বাংলাদেশের বেশিরভাগ সংসদ সদস্য জনগণের ভোটের মাধ্যমে সংসদে আসেনি, তাছাড়া তাদের বেশিরভাগই ব্যবসায়ী এবং সংসদীয় রীতি-নীতি ও আইন সম্পর্কে তাদের জ্ঞান সম্যক নয়। ফলে তাদের হাতে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা  দেয়ার আইন করায় জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।   একান্ত সাক্ষাৎকারে সাবেক বিচারপতি আব্দুর রউফ আরো বলেন, নানা বিবেচনায় একথা বলাটা খুবই স্বাভাবিক যে, সরেকারের একদলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে দেয়া হচ্ছে।   সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন গাজী আবদুর রশীদ   পুরো সাক্ষাৎকারটি শুনতে নিচের প্লেয়ারে ক্লিক করুন   প্রশ্ন : জাতীয় সংসদকে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করা হয়েছে। বিচারপতিদের অপসারণের ব্যবস্থা তো ছিলই। কিন্তু এখন তা কেন সংসদের হাতে নেয়া জরুরি মনে করছে সরকার?   বিচারপতি আব্দুর রউফ: দেখুন বিচারপতিদের অপসারণের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তা কেন সংসদের হাতে নতুন করে নিয়ে যাচ্ছে সরকার এর উত্তর সরকারই ভালো দিতে  পারবে। তবে বিশ্বের বিভন্ন দেশে বিচারপতিদের অপসারণের বিধান সংসদের হাতে রয়েছে। তবে এই অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে দিলে তার  ভালো মন্দ বিচার ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলবে। আর এ বিষয়টি নির্ভর করবে সংসদে যারা আছেন তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং কোয়ালিটির ওপর। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ বিষয়টা অনেকটা অনিশ্চিত কারণ এদেশের বর্তমান সংসদে যারা আছেন তারা ভোটের মাধ্যমে আসে নি। বিনা ভোটেই তারা সংসদ সদস্য হয়েছে। পরিসংখ্যনগতভাবে দেখা যায় সংসদ সদস্যদের বেশিরভাগই ব্যবসায়ী। তাছাড়া ভিন্ন ভিন্ন পেশার লোকেরা এখানে এসেছেন যাদের সংসদ এবং সংসদীয় আইন ও রীতিনীতি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান আছে বলে সাধারণ মানুষ মনে করে না। তো এমন সময় হঠাৎ করে মানুষের কাছে এ বিষয়টি আসাতে মানুষ সন্দিহান মন নিয়ে বিষয়টিকে দেখছে।   তাছাড়া এ বিষয়টি নতুন করে তোলার ফলে সাধারণ মানুষ মনে করছে বিচার ব্যবস্থার ওপর রাজনীতিবিদদের প্রভাব খাটানোর একটা চিন্তা এর মধ্যে রয়েছে। ফলে পরিবর্তনের আগে যারা সরকারে থাকেন তাদের উচিত আরো বেশি করে চিন্তা-ভাবনা করা।   প্রশ্ন : প্রস্তাবিত এ সংশোধনী স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করছেন অনেক আইনজ্ঞ। এর কারণ কি?   বিচারপতি আব্দুর রউফ: দেখুন এর কারণ খুবই স্পষ্ট। কারণ এরইমধ্যে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কে বেশ দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। আর এ দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ার কারণ হচ্ছে  যে প্রক্রিয়ায় সরকার গঠনের কথা ছিল সে প্রক্রিয়ায় সরকার গঠিত হয় নি। অর্থাৎ সুষ্ঠু নির্বাচন এবং ভোটের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন, তারা হবেন জনপ্রতিনিধি। অথচ বর্তমান সংসদে যারা আছেন তাদের বেশির ভাগই ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হননি। তারপরও তারা স্থানীয় মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। সংবিধানের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে যেভাবে সংসদ গঠিত হওয়ার কথা সেভাবে হয়নি। আর সেজন্য স্বাভাবিক কারণে মানুষের মনে সন্দেহ রয়েছে। তারওপর এই বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের ওপর দেয়ায় মানুষের মধ্যে আরও বেশি সন্দেহ দেখা দিয়েছে।     প্রশ্ন :  অনেকে বলছেন,  সংসদের হাতে এই ক্ষমতা গেলে সুপ্রিম কোর্টের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ আসবে এবং তাতে মানুষ ন্যায়বিচার পাবে না, আইন বহির্ভুত কার্যক্রম বাড়বে। এতে গণতন্ত্রের ভীত আরো দুর্বল হবে। এ অভিযোগ বা দাবিগুলো কতটা বাস্তবসম্মত?   বিচারপতি আব্দুর রউফ: বাংলাদেশে এইমুহুর্তে যেধরণের সরকার ক্ষমতায় রয়েছে তারাসহ আমাদের প্রতিবেশী দেশের সরকার পদ্ধতিতেও বিচার বিভাগের ওপর  রাজনীতিবিদদের একটা প্রভাব থেকেই যায়। আমি এ ব্যাপারে একটা উদাহরণ দিতে চাই। ভারতের  সুপ্রিম কোর্ট ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচনকে বাতিলের যে রায় দিয়েছিল ট্রাইবুনাল সেটাকে বহাল করে আনফিটেড করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে দেখা গেল ততকালীন প্রধান বিচারপতি শিকরির অবসরের পর ৫ জনকে টপকে এন এম রায়কে চীফ জাস্টিস করা হলো। এরফলে যাদেরকে টপকে শিকরিকে প্রধান বিচারপতি করা হলো তারা ইস্তফা দিলেন। এ থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের সংবিধানে নিশ্চিত করণের খুব একটা সুযোগ নেই যে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে বিচারকদের নিয়োগ করা হবে। একটা প্রভাব সেখানে থেকেই যায়; আমাদের দেশেও সেটা রয়েছে। আমাদের দেশে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর মতামতের বিষয়টি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি তার নিজস্ব রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার মতামত দেবেন সেটাই স্বাভাবিক। তারপর সেটা যাবে প্রেসিডেন্টের কাছে এবং তিনি এরপর প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন। কাজেই কোনো দেশেই এ বিষয়টি প্রভাবমুক্ত নয়। এমনকি আমেরিকাতেও দেখা যায় কংগ্রেস নির্বাচন নিয়ে বা নিয়োগ নিয়ে তাদের প্রভাবকে কাজে লাগায়। সুতরাং প্রভাবমুক্ত বিচারক নিয়োগের ঘটনা ঘটে না। প্রভাবমুক্তভাবে বিচারক নিয়োগ হওয়া উচিত। যদি বিচার ব্যবস্থাকে উন্নত না করা যায় এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের যদি আস্থা ফেরানো না যায় তাহলে এর ভবিষ্যত ভালো হবে না। এ কারণে নানা সংঘাতের দিকে যাবে দেশ তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সুতরাং এটাকে আরো উন্নত করার জন্য সবাইকে সমানভাবে চিন্তা করা দরকার।   প্রশ্ন : তবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ সম্পর্কে বলেছেন, বিচার বিভাগের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার জন্যই এটি করা হয়েছে। এ পদক্ষেপে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে না। আইনমন্ত্রীর বক্তব্যকে আপনি কিভাবে দেখবেন?   বিচারপতি আব্দুর রউফ: দেখুন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক কিন্তু রাজনীতির বাইরের কেউ নন। তিনিও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর একটি অঙ্গ। কাজেই তাদের দলের পক্ষ থেকে যেটা করতে চান তিনিও সেভাবেই কথা বলবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে আমাদের কথাটা সেটা নয়; আমাদের কথা হচ্ছে সর্বাঙ্গীণভাবে দেশ, সময়, জনগণের মনোভাব ও চিন্তা-চেতনা এবং ভূ-রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ সব কিছুকে বিবেচনায় এনে দেশকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গড়ে তোলার প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু কথা বলে বা এটা ওটা বলে অবিশ্বাসের দিকটিকে আরো দৃঢ়ভাবে তৈরি করা কারও জন্য মঙ্গলজনক হবে না।   প্রশ্ন : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একদলীয় বাকশাল কায়েমের জন্যই বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনছে। এ অভিযোগকে কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন আপনি?   বিচারপতি আব্দুর রউফ: দেখুন আমাদের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী যেটা ছিল অর্থাৎ একদলীয় শাসন কায়েম করা। বর্তমানে দেশে এবং সরকারের মধ্যে যা চলছে তা নিয়ে চিন্তা করলে দেখা যাবে প্রশাসন রাজনীতি মুক্ত না। সেখানে বিস্তর রাজনীতির প্রভাব রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য যে সব সংস্থা যেমন বিচারবিভাগ ও অর্থবিভাগেও রাজনীতির প্রভাব রয়েছে। এতসব রায় দেয়ার পরও বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা বা সুপ্রীম কোর্টের জন্য আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করার যেকথা ছিল তার কোনোটাই সরকার করছে না। কাজেই বিভিন্ন বিষয়ের আলোকে চিন্তা করে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বক্তব্য আসাটা খুবই স্বাভাবিক যে সরেকারের একদলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে দেয়া হচ্ছে। সুতরাং সরকারের দায়িত্ব সাধারণ মানুষের মন থেকে এসব চিন্তা দূরীভূত করা। আর সেজন্য সরকারকে অনেক বেশি চিন্তাভাবনা করে সবার মত নিয়ে কাজটি করলে ভালো হয়। অন্যথায় অবিশ্বাস এবং সংকট থেকেই যাবে।

বিস্তারিত»

বিশেষ কলাম

২১ আগস্ট নিয়ে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ, কোনটা সত্য ! অলিউল্লাহ নোমান

গত ২১ আগস্ট ভোটার ও প্রার্থী বিহীন নির্বাচনে গঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৪ সালের এই দিনে গ্রেনেড হামলার ঘটনা নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন। এর আগেও তিনি বিভিন্ন মেঠো বক্তৃতায় এ বিষয়ে নানা অভিযোগ করেছেন। আওয়ামী রীতি অনুযায়ী তাঁর করুণা প্রত্যাশী বিভিন্ন নেতা-নেত্রীদের মুখে হরদম এর প্রতিধ্বনিও শোনা যায়।   শেখ হাসিনার বক্তব্যের পরদিনই বহুল প্রচারিত ইন্ডিয়াপন্থি একটি পত্রিকায় একজন লেখক এমন এক কলাম লিখেছেন, যা পড়ে মনে হতেই পারে যে, এটি সংশ্লিষ্ট মামলার চুড়ান্ত রায়-পূর্ব আদালতী ব্যাখ্যা-বিবরণ! বর্তমানে আমি এমন একটি দেশে বাস করছি যেখানে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বক্তব্য তো দূরের কথা, কেউ একটা শব্দও করেন না। এর কারন হচ্ছে বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। এখানে আইন এবং বিচার নিজস্ব গতিতে চলে। বিচার ও তদন্ত নিয়ে এখানে কারো কোন প্রশ্ন থাকে না। কিন্তু আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে তদন্ত চলাকালীন এবং বিচারাধীন বিষয় নিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে আসীন ব্যক্তিরাও নানা মন্তব্য করেন। কাউকে অভিযুক্ত করে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সর্বোচ্চ পদ থেকে যখন বক্তব্য দেয়া হয়, আবার এই বক্তব্যের সমর্থনে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দিয়ে পত্রিকায় কলাম লেখা হয় তখন হতবাক হই। তবে এই বক্তব্য এবং লেখা আমাকেও অনুপ্রাণীত করে। তাই আর না লিখে পারলাম না। ভাবলাম অন্তত আমার পাঠকরা সত্যটা জানুক। জোর জবরদস্তি আর প্রহসন যাই বলা হোক না কেন যে কোন উপায়ে রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধানের চেয়ারে বসে কাউকে অভিযুক্ত করে বক্তব্য রাখার মানেই হলো বিচারকে প্রভাবিত করা। বিচারকদের প্রতি রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধানের ইচ্ছার বিষয়টি জানিয়ে দেয়া। নির্বাহী প্রধানের ইচ্ছা বাস্তবায়ন না হলে কি হয় সেটা বাংলাদেশের মানুষ অন্তত জানেন। আর নির্বাহী প্রধানের প্রতি আইন-আদালতের আনুগত্যের কথা না-ই বা লিখলাম। কারন হাল আমলে বাংলাদেশের আইনের ব্যখ্যা আসে নির্বাহী প্রধানের ইচ্ছার প্রতিফলন হিসাবে। যেমনটা আমরা দেখতে পেয়েছি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে ত্রয়োদশ সংশোধীনর রায়ে। কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির চরিত্র হননকারী কোন মন্তব্য বা অভিযোগ করলে, নৈতিক-প্রশাসনিক এমনকি আইনগতভাবেও দ্বিতীয় ব্যক্তির জবাব দেয়ার অধিকার জন্মায়। আর তা প্রমাণ করতে যেয়ে যদি এমন তথ্যাদি তিনি উপস্থাপন করতে পারেন, যা থেকে দৃঢ়ভাবেই প্রতীয়মান হয় যে, যিনি মন্তব্যটি করেছেন মূলত: তিনিই অসচ্চরিত্রের এবং তা ঢাকতেই তিনি এমন প্রমাণহীন মন্তব্য করছেন। সেটার জবাব দেয়া কোন বিবেচনাতেই অন্যায় বা বেআইনী নয়। বরং সেটি না করা হলে সমাজে অসত্যটিই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।   ২১ আগষ্ট ঘটনা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা এতদিন বলে এসেছেন, ‘ঘটনার সাথে বিএনপি জড়িত’। এবার বলেছেন, ‘ঘটনার সাথে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান’ জড়িত। এই প্রসঙ্গে তিনি জিয়াউর রহমানের পুরো পরিবারকে খুনি হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। এর জবাব দেবেন বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। রাজনৈতিক জবাব দেয়ার দায়িত্ব সাংবাদিক হিসাবে আমার নয়। সাংবাদিক হিসাবে আমি কিছু সত্য উপস্থাপন করতে চাই।   শেখ হাসিনার জনসভায় ঘটনাটি সংঘটিত হয়, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। যা কারো কাম্য হতে পারে না। তখন বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জোট রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। কাজেই এবিষয়ে তদন্ত এবং দোষীদের খুজে বের করে শাস্তি দেয়ার দায়িত্ব ছিল সেই সরকারের। বিএনপি’র নেতৃত্বে পরিচালিত সরকারের মেয়াদ শেষে জোর করে ক্ষমতা নেয় মঈন উদ্দিন, মাসুদ উদ্দিন, আমিন উদ্দিন গং। ২০০৭ সালে যে সরকার ক্ষমতা দখল করে, তারা বিএনপি’র অস্তিত্ব বিলীন করে দেবার জন্য সম্ভাব্য সব কার্যক্রম গ্রহন করেছিল। বিএনপিকে তখন ব্যস্ত থাকতে হয়েছে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে। সেই জরুরী আইনের সরকারও একটি তদন্ত করেছে ২১ আগস্টের ঘটনা নিয়ে। সংক্ষেপে বলা যায় বিএনপি’র অস্থিত্ব বিলীন করে দিতে যারা তৎপর ছিলেন তাদের তদন্তেও ঘটনার সাথে তারেক রহমানের কোন সম্পৃক্ততা বের করতে পারেনি। জরুরী আইনের সরকারের ধারাবাহিকতায় ২০০৯ -এ ‘ভোটের মাধ্যমে’ ক্ষমতায় আসে আওয়ামী-বাম জোট। জরুরী আইনের সরকারের তদন্তের আলোকে ততদিনে মামলাটির বিচার শুরু হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ নতুন করে মামলায় আইন কর্মকর্তাসহ বিচারক সবই নিয়োগ দেয়। বিচার চলছে। ৬৪ জনের সাক্ষী গ্রহন শেষ হয়ে গেছে। আওয়ামী আমলে ৯ মাসে ৬৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহনের পর হঠাৎ করেই সামনে নিয়ে আসা হয় পূন: তদন্তের বিষয়। এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত নিয়ে একটু পরে আসছি।   ‘দেশের ভবিষ্যত উন্নয়ন ভাবনা’র উপর বক্তৃতা কালে গত ২৪ আগষ্ট সর্বপ্রথম প্রতিপক্ষকে একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসার মাধ্যমে এ বিষয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। এর আগে ২১ আগস্টের ঘটনা নিয়ে তারেক রহমানের মূখে তেমন কোন মন্তব্য শোনা যায়নি। ২৪ আগস্ট বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সেমিনারে তারেক রহমান বলেছেন ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশটি যে স্থানে অনুষ্ঠানের জন্য অনুমতি নেয়া হয়েছিল, নিরাপত্তা বাহিনী যথারীতি যেই স্থানটিকে ঘিরে সম্ভাব্য সকল নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। কি কারনে সেই নিরাপত্তা বাহিনীকে কোন কিছু অবহিত না করে আকস্মিক সমাবেশস্থল পরিবর্তন করে অন্যত্র ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সমাবেশটি স্থানান্তর করেছিলেন শেখ হাসিনা! এটিই ছিল তাঁর প্রশ্ন। আইনের পরিভাষায় এর মাধ্যমে দু’টি বেআইনী কর্ম ঐ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা শুরুর পূর্বেই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। একটিÑ অনুমতিবিহীন স্থানে সমাবেশ অনুষ্ঠান, অন্যটিÑ নিরাপত্তা বাহিনীকে মিসগাইড করা। আর একটি মন্তব্য করেছেন তারেক রহমান। প্রয়াত: মিসেস আইভি রহমানকে ট্রাক-মঞ্চে আরোহণ করা সম্পর্কিত। এর স্বপক্ষে পত্রিকা প্রকাশনা, প্রশাসনিক ও লিগ্যাল ইত্যাদি আরও অনেক তথ্য প্রমাণ আছে, যা হয়ত তিনি সময়াভাবে উপস্থাপন করতে পারেন নি বা কোর্ট-কনসার্ন বিবেচনায় তা করেননি।   পৃথিবীতে অনেক বড় বড় অপরাধ সংঘটন হয়েছে, যা বিশ্বসেরা গোয়েন্দারাও সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে তা কারও বিরুদ্ধে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়নি। এমন ঘটনা অসংখ্য। বিশেষ করে সেই ঘটনাটি যদি সংঘটিত হয়ে থেকে থাকে জাতীয়-আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অপরাধ বিশেষজ্ঞদের দ্বারা। আর একটি ক্ষেত্রেও প্রমাণ করা খুবই দূরূহ হয়, যদি তা সংঘটিত হয় কোন বুদ্ধিমান ও সুচতুর কৌশলী ভূমিকায় নিজের উপরই সৃজন করা কিছুর মধ্যে দিয়ে।   এই উভয় ক্ষেত্রেই অপরাধ উদঘাটনকারীরা কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে অভিযুক্ত প্রমাণিত করতে পারেন না। তবে, সেই ঘটনার বেনিফিশিয়ারি, ক্ষতিগ্রস্থতা, পারিপার্শিকতা ইত্যাদি বিবেচনায় এনে একটা ধারণা দিয়ে থাকেন যে, ঘটনাটি কেন, কিভাবে বা কার দ্বারা সংঘটিত হতে পারে।   ২১ আগস্ট ঘটনার মাত্র আড়াই বছর আগে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আরোহণকারী, দেশে-বিদেশে সমান জনপ্রিয় একটি সরকার, তার অর্ধেক মেয়াদ বাকী থাকতেই এমন একটা পরিস্থিতি উদ্ভব কেন ঘটাবেন, এমন ঘটনা থেকে সরকার কতটুকু লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেই প্রশ্নটাও সামনে আসতে পারে। তা যে কোন সচেতন মানুষ মাত্রেই উপলব্ধি করতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস। উপরন্তু, রাষ্ট্রীয় শক্তি যদি রাষ্ট্রে বসবাসকারী কোন ব্যক্তিকে হত্যা করতেই চায়, তার জন্য যে বহুবিধ প্রক্রিয়া আছে, তা ইতোমধ্যে বর্তমান সরকার গত ৬ বছরে প্রমাণ করেছে। ঘটনার পর আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং জাতিসংঘের অধীনে বিচার ইত্যাদি নানা বিষয়ে তখন দাবী করেছেন শেখ হাসিনা। দেশের প্রচলিত আইনবিরুদ্ধ যে দাবীগুলি শেখ হাসিনা ঐ সময় দেশী-বিদেশী প্রতিনিধিদের কাছে উপস্থাপন করেছেন, তা গণমাধ্যমে পকাশিত হয়েছে। ২০০৯ সালে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্টতা নিয়ে ক্ষমতায় আসা সেই ব্যাক্তি অনেক আইন তৈরি করেছেন। কিন্তু ২১ আগস্টের ঘটনায় তাঁর দাবী অনুযায়ী আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং জাতিসংঘের অধীনে বিচার সম্পর্কিত কোন আইন পাশ করেননি।  সেই মোতাবেক তদন্ত বা বিচারের ব্যবস্থাও করেননি। বরং বাংলাদেশ পুলিশে শত শত অভিজ্ঞ তদন্তকারী কর্মকর্তা থাকা সত্বেও দীর্ঘদিন পূর্বে অবসরে যাওয়া এএসপি আব্দুল কাহার আকন্দ, যিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদি) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হন এবং তার মনোনয়ন প্রায় চুড়ান্ত করা হয় বলেও আওয়ামী সমর্থিত একটি পত্রিকায় খবর বের হয়েছিল। তাঁকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে এই মামলার বিচার শুরুর ৯ মাস পর তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। অত:পর সকল নিয়ম-রীতি ভেঙ্গে কিছুদিনের ব্যবধানেই পরপর দু’টি প্রমোশন দিয়ে তাঁকে এসপি পদে পদোন্নতিও দেয়া হয়। তিনিই করেন এই মামলার কথিত তদন্ত। সেই তদন্তে তিনি যা যা উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছেন, তারই উপর ভিত্তি করেই রচিত হয়েছে এতদবিষয়ক সকল ধরনের গল্প-কাহিনী, আওয়ামী পত্রিকা গুলোতে প্রকাশনা ইত্যাদি সব কিছুই। আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না যে, ‘অমুক-তমুক’ দায়ী বা ওরা-তারা এটা করেছেন। কিন্তু তাই হচ্ছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দায়ী করে রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে বিচারকে প্রভাবিত করছেন। মূফতী হান্নান প্রসঙ্গÑ    মুফতী হান্নান তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে কার বিরুদ্ধে কি বলেছেন, কি পরিস্থিতি করে তাকে দিয়ে তা বলানো হয়েছে, এর সবিস্তার বর্ণনা তিনি দিয়েছেন বিচারিক আদালতে। এগুলো পুরোটা লিখতে গেলে লেখাটি দীর্ঘ হয়ে পাঠকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটতে পারে, তাই খুবই সংক্ষেপ করলাম। তবে সম্মানিত সাধারণ পাঠকের বোধগম্যতার জন্য উল্লেখ করছিÑ পুলিশ বা ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে কোন ব্যক্তি যাই বলুক না কেন, ঐ ব্যক্তির প্রদত্ত সেই বিবৃতিটিই চুড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়, যা তিনি বিচারিক আদালতে বিচারকের সামনে প্রদান করে থাকেন।   বিভিন্ন সময়ে পত্রিকা প্রকাশিত সংবাদ এবং এতদবিষয়ক দাপ্তরিক কাগজপত্রসমূহ পর্যালোচনায় দেখা যায়, মূফতী হান্নান গ্রেফতার হওয়ার পর বিভিন্ন মামলায় তাকে সর্বমোট ১৯৭ দিন পুলিশ রিমান্ডে রাখা হয়। এরপর ১ নভেম্বর’২০০৭ জরূরী আইনের সরকারের শাসনামলে ম্যাজিষ্ট্রেট সুলতান মাহমুদের সামনে বিএনপি নেতা জনাব আব্দুস সালাম পিন্টুর বিরুদ্ধে তাকে দিয়ে জবানবন্দি করানো হয়। সেই জবানবন্দিতে তারেক রহমানের কোন অস্তিত্বই ছিল না।   এরপর এই মামলার বিচারকাজ শুরু হলে গত ১০ জুলাই’২০০৮ তারিখে বিচারিক আদালত, ২য় অতি: মহানগর দায়রা আদালতে হান্নান তার দেয়া সেই জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন জানায়। তাকে দিয়ে জোড়পূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের লক্ষ্যে তার উপর যে লোমহর্ষক ও পৈশাচিক নির্যাতনের বর্ণনা তিনি সেই আবেদনে উল্লেখ করেন, তা শুনে যে কোন মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে যেতে পারেন। মুফতি হান্নানকে দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে এবিষয়ে ৩ বার জবানবন্দি নেয়া হয়। একই ব্যক্তিকে দিয়ে সুবিধামত সময়ে নির্যাতনের মাধ্যমে একেক জনের নাম বলানো হয়েছে। আগেই উল্লেখ করেছি পরবর্তিতে তিনি নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে আদালতকে জানিয়েছেন এবং জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আবদুল কাহহার আকন্দ মুফতি হান্নানকে দিয়ে তৃতীয় জবানবন্দিটি নেন। এই জবানবন্দিতে উঠে আসে তারেক রহমানের নাম। যথারীতি সেটাও তিনি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন বিচারিক আদালতে। কোন পরিস্থিতিতে কিভাবে আবদুল কাহহার আকন্দ জবানবন্দিটি নিয়েছেন সেটারও বিস্তারিত তিনি জানয়েছেন বিচারিক আদালতকে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে নির্যাতনের মাধ্যমে ৩ বার ৩ রকমের জবানবন্দি দিয়েছেন। কোনটাকে সত্য হিসাবে নির্ধারণ করা হবে! দাবার গুটি মুফতি হান্নানের কোন বক্তব্যটিকে কোন ক্রাইটেরিয়ায় গ্রহন করবেন আদালত সেটা বিচার্য্য বিষয়। তবে শেষ কথা হচ্ছে-আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার আগের দাবী, যেই দাবীটি তখন তিনি হরদম করেছেন সেটা ছিল আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং বিচার। তাঁর এই দাবী প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনি যদি আবদুল কাহহার আকন্দকে বিচার চলাকালীন হঠাৎ তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ না দিয়ে আন্তর্জাতিক কোন সংস্থাকে দিতেন সেটাই হতো সার্বজন গ্রহনযোগ্য। কিন্তু কোন কারনে তিনি নিজের দাবী থেকে সরে এলেন! আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী একজনকে অবসর থেকে ফিরিয়ে এনে এই বিচারের তদন্তের দায়িত্ব কেন দিলেন, তাও আবার ৯ মাস বিচার চলার পর। আবদুল কাহহার আকন্দকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে তারেক রহমানকে জড়িত করার সেই রহস্য জানার অধিকারও মানুষের আছে। লেখক: দৈনিক আমার দেশ-এর বিশেষ প্রতিনিধি, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত    

বিস্তারিত»

এক্সক্লুসিভ

বিএনপি জিয়ার এক অনন্য সৃষ্টি

আজ থেকে ৩৬ বছর আগে এক অনিবার্য বাস্তবতায় সেনাবাহিনী থেকে রাজনীতিতে আসা জিয়াউর রহমান মহান আল্লাহর প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে মূল নীতিমালা করে এবং ১৯ দফা কর্মসূচিকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। সেই থেকে বিএনপি জনপ্রিয় ও গণমানুষের একটি রাজনৈতিক দল। নেতাকর্মী-সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের শ্রম, মেধা, ঘাম আর ভালোবাসায় দলটি আজ পূর্ণতা লাভ করেছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিএনপি এ উপমহাদেশের রাজনীতিতেও আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটি রাজনৈতিক দল। কেননা, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিএনপির নেতৃত্বে পাঁচবার সরকার গঠিত হয়েছে। উপমহাদেশের অনেক বড় বড় অর্জন বিএনপির হাত ধরেই হয়েছে। ‘সার্ক’ তার একটি দৃষ্টান্ত; ‘সার্ক’ এখন উপমহাদেশের মানুষের আশা-ভরসার প্রতীক। তাছাড়া বিএনপি বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে, সব রাজনৈতিক দলকে রাজনীতি করার অধিকার দিয়েছে; সেই সুযোগে বাংলাদেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগও রাজনীতি করার অধিকার পেয়েছে। বিএনপি বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দিয়েছে। বন্ধ সংবাদপত্রসমূহ খুলে দিয়েছে। বিএনপির হাত ধরেই বাংলাদেশের গণমাধ্যম বিকশিত হয়েছে। বিএনপি বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। পক্ষপাতহীন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। কার্যত আধুনিক বিশ্বে রাজনৈতিক দল বা সংগঠন ব্যতীত রাজনীতি করার কথা কল্পনাই করা যায় না-সেটি খুব ভালোভাবেই অনুধাবন করেছিলেন সৈনিক জিয়া। মূলত নেতৃত্বই রাজনৈতিক দলের চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। আধুনিক বাংলাদেশের ইতিহাসে বিএনপি এক অসাধারণ ভূমিকা পালনকারী রাজনৈতিক দল ও এক অনন্য নেতৃত্ব। সময় যেমন বিএনপিকে সহায়তা করেছে ঠিক তেমনি সময়কেও বিএনপি দেশের কাজে লাগিয়েছে। আমাদের জাতীয় ইতিহাসের কিছু ক্রান্তি সময় বিএনপিকে পার করতে হয়েছে এবং বিএনপি সেটি করেছেও সফলতার সাথে। যুগোপযোগী অর্থনৈতিক নীতি ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ, রাজনীতিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধের স্বীকৃতি, ভূখ-কেন্দ্রিক জাতীয় পরিচয় ও জাতীয়তাবাদের দর্শন সমুন্নতকরণের মাধ্যমে বিএনপি রাজনীতিতে একটি বলয় বা প্লাটফর্ম সৃষ্টিতে সক্ষম হয়, যা আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে আনে গুণগত পরিবর্তন। এ কারণে বিএনপিকে বলা যায় একটি ভিশনারি রাজনৈতিক দল। বিএনপির রাজনীতির মূল স্পিরিট  ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’। নৃতাত্ত্বিক ও আদর্শিক চেতনা মিশ্র স্বতন্ত্র রূপ ও পরিচয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে জিয়া প্রবর্তন করেন ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’। এটি বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ইতিহাসবোধ, অনুভূতি ও বিশ্বাসকে নাড়া দিয়েছে এবং প্রতিনিয়ত দিচ্ছে। তাই বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের’ পক্ষে অটল-অবিচল রয়েছে। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ একটি মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দর্শন। এটি ধর্মান্ধও নয়, আবার ধর্মহীনও নয়। সব ধর্ম, ভাষা ও জাতি-গোষ্ঠীর মানুষের স্বীকৃতি রয়েছে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে। যার জন্য খুব স্বল্পসময়ে বিএনপি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ফলে সব ভেদাভেদ ভুলে সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধ হয় এবং দেশ গড়ার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় সত্যিকারের উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি। ক্ষেতে-খামারে ও কল-কারখানায় বৃদ্ধি পায় উৎপাদন। খাদ্য সঙ্কটের দেশ পরিণত হয় খাদ্য রফতানির দেশে। তলাবিহীন ঝুড়ির দেশের বদনাম ঘুছিয়ে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ পরিণত হয় সম্ভাবনাময় ও উন্নয়নশীল এক দেশে। ঠিক এ জায়গাটিতেই সেনাবাহিনী থেকে রাজনীতিতে আসা জিয়াউর রহমানের স্বার্থকতা। এজন্যই তিনি খুব স্বল্পসময়ে রাজনীতিতে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং তার দলকেও নিয়ে যান জনপ্রিয়তার সর্বোচ্চ শিখরে। বাংলাদেশকে নিয়ে জিয়ার সুস্পষ্ট ভিশন ও পরিকল্পনা ছিল। এ লক্ষ্যে তিনটি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন তিনি। আর এ তিনটি খাত হলো কৃষি, জনশক্তি ও তৈরি পোশাক শিল্প। জনশক্তি কাজ লাগাতে ও শিল্প বিকাশে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার উদ্যোগ নেন জিয়া। তার রাষ্ট্রনায়কোচিত পররাষ্ট্রনীতি এবং পরিকল্পনা ও ভিশন অনুযায়ী, অর্থনীতির উৎস বলে খ্যাত মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ-আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের দ্বার উন্মুক্ত হয়। শুরু হয় মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি প্রেরণ ও ইউরোপ-আমেরিকায় তৈরি পোশাক রফতানি। এর ধারাবাহিকতায় আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃদপি- হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প ও জনশক্তি রফতানি। এ দুটি খাতের কারণেই বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পাচ্ছে। ইউরোপ-আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত না করলে, এটি সম্ভব হতো না। কেননা বাংলাদেশের রফতানির আয়ের ৯০ শতাংশই আসে আমেরিকা ও ইউরোপ থেকে। সত্তরের দশকের শেষের দিকে ইউরোপ-আমেরিকা জাপান, কোরিয়া ও হংকং থেকে গার্মেন্টস পণ্য আমদানি কমিয়ে দেয় এবং কোটা বেঁধে দেয়। ওই সময় এ দেশগুলো ছিল গার্মেন্টের সূতিকাগার। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কোটা বেঁধে দেয়ার ফলে অন্য দেশেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়। এ সুযোগ কাজে লাগান জিয়া। ১৯৭৭ সাল থেকে বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের প্রভূত বিস্তার ঘটতে থাকে। এ তৈরি পোশাক শিল্প এখন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সর্ববৃহৎ খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও ভিশন ছাড়া একটি শিল্প খাত উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে উঠতে পারে না, একজন স্বপ্ন দেখেছিলেন বলেই এটি সম্ভব হয়েছে; আর এ স্বপ্নদ্রষ্টা জিয়াউর রহমান এবং তার  দল বিএনপি। ১৯৭৮ সালে সৌদি আরবে জনশক্তি রফতানির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব শ্রমবাজারে প্রবেশ করে। এর পর একে একে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ এবং ইউরোপ-আমেরিকায় বাংলাদেশের জনশক্তির বাজার সম্প্রসারণ হতে থাকে। বর্তমানে এ খাতটি বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃৎপি-। প্রায় এক কোটির মতো বাংলাদেশী পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কর্মরত। এখানেও একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও ভিশন কাজ করেছে। ভিশন ছাড়া কোনোভাবেই এটি এতদূর যেতে পারত না। এখানেও বিএনপির কৃতিত্ব ষোলআনা। বিএনপি ক্ষমতায় না থাকলে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। বন্ধ হয়ে যায় মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক প্রেরণ। বর্তমানেও তাই হচ্ছে। বাংলাদেশের শ্রমবাজার আজ সঙ্কুচিত। মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক প্রেরণ প্রায় বন্ধ। আর তাতেই অনুভূত হয় বিএনপির ভিশনারী রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা। স্বনির্ভর দেশ গড়তে এবং মানুষের জীবনে অর্থনৈতিক মুক্তি আনতে জিয়া ঘোষণা করেন ১৯ দফা কর্মসূচি। এটি বিএনপির রাজনীতির অন্যতম স্তম্ভ। জিয়া বিএনপির মাধ্যমে এই কর্মসূচিকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন মাঠে-ঘাটে ও পথে-প্রান্তরে। আমাদের কৃষিভিত্তিক সভ্যতা ও অর্থনীতির নিজস্ব স্বকীয়রূপ ফুটে উঠেছিল জিয়ার ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে। তিনি গ্রামের পর গ্রাম, মাইলের পর মাইল হেঁটেছেন। নিজের হাতে কোদাল তুলে নিয়েছেন, খনন করেছেন খাল; তার দুই হাতের ছোঁয়ায় ফসলে ফসলে মাঠ ভরপুর হয়ে উঠেছিল, ঘটেছিল কৃষি বিপ্লব। তলাবিহীন ঝুঁড়ির উপাধি পাওয়া দেশ পরিণত হয়েছিল ফুল-ফল ও ফসলে ভরপুর এক দেশে, মানুষ পরিণত হয়েছিল কর্মমুখী মানুষে; গ্রামে-গ্রামে সৃষ্টি হয়েছিল সামাজিক নেতৃত্ব। স্বনির্ভর গ্রাম ও স্বনির্ভর দেশ গড়তে জিয়ার ১৯ দফা কর্মসূচি বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে অনিবার্য দিকনির্দেশনা হয়ে আছে এবং থাকবে। জিয়াউর রহমান বিএনপির জন্য রেখে গেছেন এক স্বর্ণোজ্জল ইতিহাস। তার আদর্শ, সততা, কর্মোদ্যোগ ও চিন্তা-চেতনা মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে আমাদের জাতীয় জীবনে। জাতিকে বড় করার সব গুণ জিয়ার মধ্যে ছিল। তিনি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন বড় কিছু করতে। তার চিন্তা ছিল সুদূরপ্রসারী। জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতির গতিপথ পরিবর্তন করেন। জিয়ার কর্মতৎপরতাই গ্রামে-গ্রামে, পাড়ায়-পাড়ায় গড়ে ওঠে সমষ্টিগত শক্তি, সামাজিক শক্তি ও সামাজিক নেতৃত্ব। ফলে বিচ্ছিন্ন, দ্বিধা-বিভক্ত ও শক্তিহীন মানুষ সমষ্টিগত শক্তিতে পরিণত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন যার যার কাজে। শক্তিশালী ও সৎ সামাজিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমেই একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত ও নেতৃত্বশূন্য বাংলাদেশকে অল্পসময়েই কাঠামোগত রাষ্ট্রে পরিণত করেন জিয়া, যার সুফল আজ ভোগ করছে সমগ্র জাতি। আজ বাংলাদেশ প্রায় আট হাজার কোটি টাকার অস্ত্র কিনছে রাশিয়া থেকে, যে রাশিয়া বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা রাখার ক্ষমতা রাখে না। আসলে বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি সেই সত্তরের দশকেই ফিরে গেছে। এখান থেকে তলাবিহীন ঝুঁড়ির খেতাব পাওয়া ছাড়া, বাংলাদেশ আর কিছু পাবে বলে মনে হয় না। জিয়া সুস্পষ্ট দর্শনের ভিত্তিতে একটি প্রজন্মকে জাগিয়ে তুলেছিলেন। তাই তাদের বিভ্রান্ত করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু আজকের প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব হয়েছে। ব্যাপক ও পরিকল্পিত অপপ্রচার চালিয়ে আজকের প্রজন্মের মাঝে বিএনপির প্রতি নেতিবাচক ধারণার জন্ম দেয়া হয়েছে। নতুন প্রজন্মকে এ থেকে বের করে আনতে হবে, লেখালেখির মাধ্যমে তাদের মাঝে জিয়ার রাজনৈতিক ও আদর্শিক দিক বেশি করে তুলে ধরতে হবে। ঘনায়মান অন্ধকার পেরিয়ে সুন্দর ও নান্দনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে জিয়ার কর্ম স্পৃহা অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়। জিয়ার আদর্শ ও দিক-দর্শন বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতে-কলমে শিক্ষা দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, বিএনপি শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি রাজনৈতিক শিক্ষালয়ও, রাষ্ট্রকে জানতে হলে, চিনতে হলে এবং ভালোবাসতে হলে; বিএনপির রাজনীতির গভীরে যেতে হবে। শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জিয়া এই দলের জন্ম দেননি, এর আলোকে জাতি গঠন, ত্যাগী, কর্মঠ ও দক্ষ মানুষ তৈরি এবং মানুষকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করাও বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য। পৃথিবীতে এক সময় শিল্পে যারা এগিয়ে ছিল, তারাই আজ বিশ্ব শাসন করছে; বর্তমানে তথ্য-প্রযুক্তিতে যারা এগিয়ে থাকবে, আগামীতে তারাই বিশ্ব শাসন করবে। তথ্য-প্রযুক্তিতে যারা পিছিয়ে থাকবে, তাদের কোথাও কোনো শ্রেষ্ঠত্ব থাকবে না। রাজনীতি ও অর্থনীতির মূল স্রোত থেকে তারা অবধারিত ছিটকে পড়বে। কাজেই বিএনপিকে গণমাধ্যমে প্রাধান্য বিস্তার করতে হবে। দক্ষ সংগঠকদের গণমাধ্যমে কাজ করার সুযোগ করে দিতে হবে। এর জন্য বিএনপির প্রেস উইংকে করতে হবে যুগোপযোগী ও শক্তিশালী। দেশ গড়তে সফল হলেও নিজ দলের প্রতি বিএনপি থেকেছে বরাবরই উদাসীন। বিএনপিকে একটি প্রফেশনাল রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তোলার যথেষ্ট সময় ও সুযোগ পেয়েও বিএনপি তা কাজে লাগাতে সমর্থ হয়নি। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সংগ্রামী ইমেজ সাংগঠনিকভাবে কাজে লাগিয়ে বিএনপিকে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তোলা যেত। ওই সময়ের রাজপথে নেতৃত্ব দেয়া লড়াকু সৈনিকদের সুযোগ পেয়েও বিএনপি কাজে লাগাতে পারেনি। এসব সংগঠকদের অনেকেই রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। বিএনপি পারত তাদের দল ও দেশের কাজে লাগাতে, একজন যোগ্য ও জনপ্রিয় রাজনীতিক ও সংগঠক হিসেবে গড়ে তুলতে, একজন পত্রিকার সম্পাদক, নিউজ এডিটর, রিপোর্টার, লেখক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিসেবী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও ব্যবসায়ী হিসেবে গড়ে তুলতে। কিন্তু বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেও কি সেটি করতে পেরেছে? বিএনপি পেরেছে কিছু মন্ত্রী-এমপি ও সুবিধাবাদী লোক বানাতে-যারা বিএনপির জন্য তেমন কিছুই করেননি এবং করার ক্ষমতাও রাখেন না। তাই বিএনপিকে মনে হয় আজ অসহায়, রাষ্ট্রের কোথাও বিএনপির কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই; যতটা আছে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের। কাজেই বিএনপি অনেককেই অনেক কিছু দিয়েছে কিন্তু বিএনপিকে কে কি দিল- সে প্রশ্ন আজ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। নেতিবাচক রাজনীতির পেছনে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো যে টাকা খরচ করে, সে টাকা দিয়ে প্রশিক্ষণ ও গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। যাতে দলীয় নেতাকর্মীরা লেখালেখি, গবেষণা ও সৃজনশীল কাজের ওপর প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। ফলে রাজনৈতিক দলে কাক্সিক্ষত লেখক, গবেষক ও সৃজনশীল মানুষ তৈরি হবে। এ মানুষদের রিসার্চ করা তথ্যের ভিত্তিতে রাজনৈতিক কর্মকৌশল তৈরি করলে তা দলের জন্য যেমন ভালো ফল বয়ে আনবে, তেমনি দেশের জন্যও ভালো হবে। এই রাজনৈতিক দলের জনপ্রিয়তাও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। রাজনৈতিক দলের কর্মী হওয়ার জন্য রয়েছে যুক্তি ও ভিত্তি। আর এ যুক্তি ও ভিত্তিটা হলো অপরাপর বিরোধী রাজনৈতিক দলের দর্শনকে যথাযথভাবে যুক্তি ও কর্মসূচিসহ মোকাবেলা করে, স্বীয় জীবনবোধের আলোকে সমাজ ও জাতিকে গড়ে তোলা। তাতে মানুষের মধ্যে একটি সুষ্ঠু-সুন্দর চেতনাবোধ তৈরি হয়, তৈরি হয় যুগোপযোগী চিন্তা-চেতনা। দলের প্রত্যেকটি কর্মীকেই তার মতো করে গড়ে তুলতে সদা-সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন জিয়া। এটি জিয়ার একটি সুদূরপ্রসারী স্বপ্নও ছিল। জিয়ার এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই তার এবং তার রেখে যাওয়া দলের প্রতি যথাযথ সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা সম্ভব। বিএনপি জিয়ার এক অনন্য সৃষ্টি। তার প্রচেষ্টার ফলেই সকল বিঘেœর প্রাচীরকে চূর্ণ করে বিএনপি পৌঁছে গেছে সাফল্যের শীর্ষতম বিন্দুতে। বিএনপি ও জিয়া পরিণত হয়েছিলেন এক ও অভিন্ন সত্তায়। জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে উৎকৃষ্ঠ সৃষ্টিশীলতার সংমিশ্রণ জিয়ার প্রধানতম কৃতিত্ব। ইতিহাস জিয়া ও বিএনপিকে যেভাবে কাছে টেনে নিয়েছে, ব্যক্তির অস্তিত্ব অতিক্রমী জিয়াও তেমনিভাবে সৃষ্টি করেছেন ইতিহাস। দারিদ্র্য, রাজনৈতিক সঙ্কট, আর্থ-সামাজিক ঝড় পেরিয়ে জিয়া যে জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছেন সেটা বিশ্বজয়ের চেয়ে কম রোমাঞ্চকর নয়। অনৈক্য ও বিভাজনের কঠিন বৃত্ত থেকে তিনি রাজনীতি ও অর্থনীতিকে বের করে এনে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই অঙ্কন করেছেন নিজের সাফল্য চিহ্ন। দর্শন চিন্তা, সাংগঠনিক চিন্তা, রাজনৈতিক চিন্তা, কৃষি, শিল্প, সাহিত্য-সাংস্কৃতির মাধ্যমে তিনি জানিয়ে গেছেন তার বহুমাত্রিক দ্যুতিময় প্রতিভা ও কৃতিত্বের জগৎ সম্পর্কে। তাই জিয়ার জন্ম দেয়া বিএনপি স্থান করে নিয়েছে ইতিহাসের সোনালি পাতায়।

বিস্তারিত»

মতামত

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নির্বাচন ও প্রবাসে গৃহাকুলতা

দেলোয়ার জাহিদ:মা ও মাতৃভুমির জন্য প্রবাস থেকে কার না মন কাঁদে। দেশ থেকে কেউ কেউ বিদেশে আমাদের অভিজ্ঞতা ও অনুভুতির কথা জানতে চান. তারা হয়তো প্রবাসের জীবনকে অনেক সুখকর বলে মনে করেন। সৎভাবে এর জবাব দেয়া খুবই কঠিন, অন্ততঃ তাদের জন্যে, যাদের দেশে কিছু না কিছু জনসম্পৃত্ততা ছিলো বা এখনো আছে! স্মরণবেদনা তাদের কুড়ে কুড়ে খায়। মানসপটে অতীত-আর্তি ভেসে উঠে ক্ষণে ক্ষণে, হারানো দিনকে ফিরে পাবার আকাঙ্খা ও স্মৃতিবেদনায় ভরে উঠে মন।    মন ছুটে যায় কুমিল্লায়। ক’জন সাংবাদিক সুহৃদকে নিয়ে ইতিমধ্যে গঠিত হয়েছে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নির্বাচন কমিশন। কুমিল্লা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এড জহিরুল ইসলাম, সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি আলহাজ শাহ মোহাম্মেদ আলমগীর ও বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক বদরুল হুদা জেনুকে নিয়ে। কুমিল্লায় তাদের নতুন করে পরিচিত করে দেবার কোন প্রয়োজন নেই। সংশ্লিষ্ট সকলে সতর্ক অপেক্ষায় কুমিল্লা প্রেসক্লাবের অর্থবহ ভাল একটি নির্বাচনের। কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নির্বাচনকে ঘিরে রংবেরং এর ফেইসবুক পোষ্টিং, প্রার্থীদের ভোটের জন্য আকুতি, আবেদন, নিবেদন,.. সব কিছুতেই যেন একটা পরিবর্তনের ছোয়া। সে পরিবর্তন কিছু আনন্দ বেদনার মাঝে আত্মগ্লানি ও এনে দেয় মনে, যে উচ্চতায় ছিলো কুমিল্লা প্রেসক্লাব তাকে আরো উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে পারিনি, স্বার্থহীন কোন নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে পারিনি, আগামী প্রজন্মের জন্য সাংবাদিকতায় কোন আলোকবর্তিকা রেখে যেতে পারিনি। সীমাবদ্ধতার এ সীমাগুলো ডিঙ্গাতে ভরসার কোন ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে পারিনি, এমন সব ভাবনায় প্রবাসে যখন নিজের মন খুবই ভারাক্রান্ত, তখনই তথ্যপ্রযুক্তির সুবাদে এ প্রজন্মের ক’জন অনুজ বা সন্তানতুল্য সাংবাদিকের সাথে হয় সংযোগ, ওরা শুনালো কিছু আশার বাণী। আমাদের অসমাপ্ত কাজগুলোকে এগিয়ে নিতে চায় ওরা...জানতে চায় কোথা থেকে হয়েছিলো শুরু...যেতে হবে কোথায়…কতদূর!  সময় কাটানোর বিবেচনায় কুমিল্লা প্রেসক্লাবকে আমার সেকেন্ড হোম না বলে ফাষ্ট হোম বললেই হয়তো সুবিচার করা হতো। কুমিল্লা’র সাংবাদিকতা, সংগঠন ও খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে কেটেছে কত না সুখ-সময়। ১৯৮৫ সালের ১৬ই অক্টোবর ৩টি আগ্রহী সাংবাদিক সংগঠনের এক যৌথ সন্মেলনে কুমিল্লা প্রেসক্লাবকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, গণতন্ত্রায়ন ও পর্যায়ক্রমে সরকারী নিবন্ধন গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় । ১৯৮৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সব ক'টি নির্বাচনে আমি সভাপতি, অধ্যাপক আবদুস সামাদ কুমিল্লা প্রেসক্লাব এর সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন বলে মনে পড়ে। কুমিল্লা প্রেসক্লাবকে নিবিড়ভাবে গড়ে তুলতে আমার সাথে সক্রিয় ও অক্লান্তভাবে কাজ করেছিলেন গোলাম মাহফুজ, নজরুল ইসলাম বাবুল, আবদুল আজিজ মাসুদ, খায়রুল আহসান মানিক, সৈয়দ নূরুর রহমান, মরহুম বদিউল আমিন দুলাল, ফিরোজ মিয়া, আবুল কাশেম, আমিনুল হক, আলী আকবর মাসুম, শামীম আহসান, কুদরত-ই-খোদা, ওমর ফারুকী তাপস, রমিজ খান, শহীদউল্লাহ, জসিমউদ্দিন প্রমুখ। বিভিন্ন উপজেলা থেকে এসে কুমিল্লার সাংবাদিকতাকে অর্থবহ ও সমৃদ্ধ করেছেন অনেকে. তাদের উৎসাহিত ও সংগঠিত করতে প্রতিটি উপজেলায় প্রেসক্লাব গঠন করা হয়েছিলো। প্রচেষ্টা ছিলো জেলা সদরের কুমিল্লা প্রেসক্লাবকে একটি প্রতিনিধিত্বশীল প্রেসক্লাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। প্রচেষ্টা ছিলো তরুন মেধাবী যুবকদের এ পেশায় আকৃষ্ট করা। কুমিল্লা প্রেসক্লাব ছিলো একটি সমন্বিত পরিবার। সকলে সকলের সুখে দুঃখে জড়িয়ে ছিলো। পূণর্গঠনকালীন সময়ে ছিলো না উল্লেখযোগ্য তেমন কোন অর্থকরি, বা সম্পদ। সবচেয়ে বড় সম্পদ ছিলো একতা, পারষ্পরিক বিশ্বাস এবং শ্রদ্ধাবোধ এর শক্ত একটি ভিত্তির উপরই গড়ে উঠেছিলো কুমিল্লা প্রেসক্লাব। কুমিল্লা প্রেসক্লাবকে নৈপথ্যে পৃষ্টপোষকতা করেছিলেন দৈনিক রূপসী বাংলার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক  মরহুম অধ্যাপক আবদুল ওহাব এবং কোন এক পর্যায়ে এ প্রক্রিয়ায় শামিল হন মরহুম গোলাম মোস্তাফা চৌধুরী সহ অন্যান্যরা। কুমিল্লা’র সাংবাদিকতায় আরো যারা ছিলেন অগ্রজ ছিলেন তারা হলেন মরহুম ফজলে রাব্বী, মরহুম আফতাবুর রহমান ও কাজী মমতাজ উদ্দিন, আর তৎসময়ে তরুনদের মধ্যে অধ্যাপক আলী হোসেন, প্রদীপ সিংহ রায়, রেজাউল করিম শামীম, অশোক বড়ুয়া ও আবুল হাসানাত বাবুল সহ আরো ক’জন।     কিভাবে যে সময় গড়িয়ে যায়, মনে হয় এ যেন সেদিনের  কথা। কুমিল্লা প্রেসক্লাবের পুনর্গঠন'র হয়ে গেছে ২৮ বছরের ও অধিক। স্মৃতিকাতর মন আজো প্রবাসে খুজে ফিরে কত না স্মৃতি। কুমিল্লা’র সাংবাদিকতা, সংগঠন ও এর ব্যাপ্তি এবং বিকাশের রয়েছে এক সুদীর্ঘ ইতিহাস। যা শুধু কুমিল্লা’র নয় দেশের সাংবাদিকতার ক্ষেত্র ও নেতৃত্বকে অনেকভাবেই সমৃদ্ধ, এবং বিকশিত করেছে। কাজ এর দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করে কাউকে বিব্রত করার কোন অভিপ্রায় নেই। তবে অন্ততঃ কটি সচিত্র নজির আগামী নেতৃত্ব বাছাইয়ে সুবিধার্থে তুলে ধরবো। যদি এর থেকে কোন অনুপ্রেরণা পাওয়ার থাকে তা হলে অবশ্যই এ লেখার স্বার্থকতা খুজে পাবো। সাংবাদিকতা পেশা কোন ব্যবসা, চাটুকারিতা বা ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার নয়, এ পেশা আমাদের রাজনৈতিকভাবে বিভাজিত হবার ও নয়, এ পেশার নিজস্ব কিছু ষ্পিরিট রয়েছে যারা একে ধারন করতে পারেন না তাদের জন্য এ পেশা নয়। কুমিল্লার অধিকাংশ সাংবাদিক মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা, তাদের সবার জীবনেই কম-বেশী অভাব, অনটন, দুঃখ, বেদনা ও দারিদ্রের ছোয়া রয়েছে এবং তা থাকাটাই স্বাভাবিক।  কুমিল্লা প্রেসক্লাবের ছত্রছায়ায়  গড়ে উঠা সাংবাদিক পরিবারের অভিবাবক হিসেবে সৎ, সাহসী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রয়োজন এবং সে প্রয়োজনকে সামনে রেখেই কুমিল্লা প্রেসক্লাবের আসন্ন এ নির্বাচন। কাজেই এর গুরুত্ব সময়ের প্রেক্ষাপটে খুবই তাৎপর্য্যপূর্ণ। কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে খুব শীঘ্র পরিবর্তন আসছে, আসছে আগামী দিনে... নবীন-প্রবীনের মিলন মেলা হবে এ প্রতিষ্ঠান। ঢাকা, চট্রগ্রামের পরই  কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নাম উঠে আসতো আলোচনায়। কার্যক্রম ও পেশাদারীত্বের উল্লেখযোগ্য একটি কেন্দ্র ছিলো কুমিল্লা প্রেসক্লাব। তখন সোসাইটিস রেজিষ্ট্রশান এ্যাক্টের অধীনে নিবনন্ধন করে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের শুধু আইনী ভিত্তিই তৈরী করা হয়নি বরং সারাদেশের প্রেসক্লাবগুলোকে সংগঠিত হতে ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। ঢাকা, চট্রগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, নোয়াখালী, ময়মনসিং, জামালপুর, রাঙ্গামাটি, গাইবান্ধা জেলা সদর সহ অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে ও সাংবাদিকদের ডাকে ছুটে গিয়েছি। ঘরে অর্থাৎ কুমিল্লা প্রেসক্লাবের পূনর্গঠনের প্রচেষ্টাটি ছিলো নানা কারনে বেশ দূরহ । তবে তরুনদের সাথে নিয়ে সে দূর্গম পথ ও পাড়ি দিতে পেরেছি। অনেক বাধা ও প্রতিকুলতা অতিক্রম করে পূনর্গঠিত করেছি কুমিল্লা প্রেসক্লাবকে। আজো কুমিল্লা প্রেসক্লাব সে ভিত্তির উপরই দাড়িয়ে। তাই সফলতার কৃতিত্বগুলো উৎসর্গ বা নিবেদন করবো সে তরুনদের যাদের নিয়ে কাজ করেছি। তাদের অবদানগুলো কোন বিলবোর্ডে নয় বরং প্রতিটি সাংবাদিকের হৃদয়ে যেন গেথে থাকে এটাই আগামী নেতৃত্বের কাছে প্রত্যাশা করবো। প্রত্যাশা করবো, যাদের সাহসী পদক্ষেপে কুমিল্লা প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পেয়েছে তাদের নাম, পরিচতি রেজিষ্ট্রশান কর্তৃপক্ষ থেকে এনে তা ক্লাব সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত করা হোক। মরহুম অধ্যাপক আবদুল ওহাব, মরহুম গোলাম মোস্তাফা চৌধুরী, মরহুম ফজলে রাব্বী, মরহুম আফতাবুর রহমান, মরহুম মোহাম্মদ উল্লাহ  কে  প্রেসক্লাবের জীর্ণ ফটো ফ্রেমে বন্দী করার পরিহাস বন্ধ করে প্রতিবছরই তাদের জন্ম, মৃত্য বার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হউক। তাদের নামে স্মারক বক্তৃতামালার আয়োজন করা হোক। সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়নে ভিন্নমুখী প্রতিভাগুলো থেকে এ প্র্রজন্মের সাংবাদিকদের অনেক কিছুই শেখার আছে। আর স্নেহাস্পদ সাংবাদিক মরহুম বদিউল আমিন দুলাল ও মরহুম নওশাদ কবিরের স্মৃতিকে ও তুলে ধরা দরকার। জীবনে বেশ কয়বারই মৃত্যুর দোয়ার থেকে ফিরে এসেছি...১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত স্পেনের একটি প্রাচীনসংবাদপত্র (ডেয়ারীও দে পন্তেভেদরা) তাদের ম্যাগাজিনে একটি সাক্ষাৎকার দেয়ার অনুরোধ জানালো। সে ২০০০ সালের কথা মাসাধিককাল হাসপাতালে থেকে সবে মুক্ত হয়েছি তারপর ও কথা বলতে রাজি হলাম। আমাকে নিয়ে প্রায় ৭০-৮০টি ছবি তোলার পর এক যায়গায় এসে ফটোগ্রাফার ধমকে দাড়ালো, বললো পেয়েছি...দেয়ালে লেখা লিভারেতাদ মানে লিবার্টি...সেখানের ছবিটিই তাদের প্রচ্ছদে স্থান পেলো। ওরা মানুষের জন্য কাজ করার ‘আমি আমার গর্বকে হারিয়ে ফেলেছি’ শিরনামে আমার সাক্ষাতকারটি ছাপালো । সেখানে ও প্রেসক্লাব প্রসঙ্গ এসেছে বেশ কয়বার [প্রচ্ছদ ও সাক্ষাতকারটি সংযুক্ত]   ক্লাব, প্রচলিত ধারনায় একটি সাধারণ স্বার্থ বা উদ্দেশ্য দ্বারা গঠিত দুই বা অধিক মানুষের একটি সমিতি. একটি পরিসেবা ক্লাব, যেমনঃ স্বেচ্ছাসেবী বা দাতব্য কার্যকলাপের জন্য; শখ ও ক্রীড়া, সামাজিক কার্যক্রম, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কার্যক্রম এবং বিনোদন ইত্যাদি. সে অর্থে কুমিল্লা প্রেসক্লাব হওয়ার কথা এর যেকোন একটি বা এর অধিক লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যম। তৎসময়ে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের কার্য পরিধি নিয়েও  মহল বিশেষ কিছু প্রশ্ন তুলে ছিলো। কারন অধিকাংশ সময়ই কুমিল্লা'র সংবাদ জাতীয় সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে নিতো। কুমিল্লা প্রেসক্লাবের পুনর্গঠন পরবর্তী ক'টি কার্যক্রম  ছবি সমেত উদারন হিসাবে এখানে তুলে ধরা হলো। যদি তা বর্তমান প্রজন্মের সাংবাদিকদের কোনভাবে অনুপ্র্রেরণার খোড়াক যোগায়, তবেই উপস্থাপনে এর সার্থকতা। কুমিল্লা প্রেসক্লাবের অতীত কার্যক্রমে জেলার প্রতিটি উপজেলায় এর শেকর গ্রথিত ছিলো, জেলার প্রতিটি পেশাজিবী ও শ্রমজীবি মানুষের মিলনষ্থল ছিলো কুমিল্লা প্রেসক্লাব। অব্যবস্থাপনা ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে, কুমিল্লার সাংবাদিকেরা ছিলো সদা সোচ্চার। মানবাধিকার লংঘনের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সেবাদানের এক অনন্য নজীর ও স্থাপন করেছিলো কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সংগঠিত তরুন সাংবাদিকেরা; এর কটি দৃষ্টান্ত হতে পারে ভবিষ্যতের জন্য অনুকরনীয় - যেমনঃ  নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগন্জ উপজেলাধীন চরাঞ্চলগুলোতে জলোচ্ছাসের পর ত্রান বিতরন ও চরাঞ্চলের মানুষের হৃদয়স্পর্শী  কতগুলো প্রতিবেদন প্রকাশ, দাউদকান্দি’র চরাঞ্চলে লাঠিয়ালদের আক্রমনে মিশে যাওয়া এক বিরান জনপদের কথা,  কুমিল্লা বিমানবন্দর এলাকার তৎকালে ১১ গ্রাম বাচাও আন্দোলন, হালিমা সুতাকলের শ্রমিকদের আন্দোলন, লাকসাম ও সদর দক্ষিন উপজেলার মাছের বাড়া অপসারন আন্দোলন নিস্পতিতে সক্রিয় ভুমিকা পালন, কৃষকদের আন্দোলনে সহায়তা -ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলার কৃষিঋণ কারচুপির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, কুয়েত প্রত্যাগত শ্রমিকদের পাওনা আদায়ে সহায়তা, মানবাধিকার বিষয়ক ষ্টোরী নিয়মিতভাবে প্রকাশ এবং কয়েকটি খুন ও বিচার ব্যবস্থায় চিহ্নিত দূর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষুরধার লিখনী, এমন অনেক কিছুই।   কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাথে কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে সেসময় সাংবাদিকদের সহায়তা করেছে। বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্ব করতো পেশাগত যেকোন সমস্যায়। বাধা, বিপত্তি, নিপীড়ন, নিগ্রহ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে একসময় রুখে দাড়িয়েছে তারা। কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব ঐক্যের বন্ধনে বেধে ছিলো সবাইকে। কুমিল্লায় এখন দেশের প্রায় সবগুলো গণমাধ্যমেরই ষ্টাফ রিপোর্টার বা জেলা প্রতিনিধি রয়েছে। কুমিল্লার সাংবাদিকতায় এসেছে নবীনের জোয়ার। একশ্রেনীর শিক্ষিত, মার্জিত ও মেধাবী তরুণের সন্মিলন ঘটেছে এ পেশায়। তাদের রয়েছে যে কোন দল ও রাজনৈতিক মতাদর্শের উদ্ধে উঠে কাজ করার প্রচেষ্টা। সাংবাদিকতার বিকাশে গঠনমূলক ভূমিকা রেখে আসছে নবীনেরা। কুমিল্লা প্রেসক্লাবের মতো একটি প্রতিষ্ঠান এ প্রয়োজন মেটাতে পারে তাদের প্রশিক্ষিত করার মাধ্যমে। এতে গণতান্ত্রিক ও নির্লোভ নেতৃত্ব সৃষ্টি হবে । মত ও পথের ভিন্নতা সত্বেও নীতি, নৈতিকতা, পেশাদারীত্বকে সন্মান প্রর্দশন করে বর্তমান প্রজন্মের সাংবাদিকদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সিটিজেন জার্নালিজমের পাদপীঠ কুমিল্লা প্রেসক্লাবে দলমতের উর্দ্ধে উঠে কাজ করতে হবে। গণতান্ত্রিক অংশীদারিত্ব সৃষ্টটি করতে হবে এবং আগামী নির্বাচনে আবেগ তাড়িত না হয়ে সৎ ও গতিশীীল নেতৃত্বকে বেছে নিতে হবে। নবীন-প্রবীনের নেতৃত্বের সমন্বয়ে গড়ে উঠবে আগামী দিনের কুমিল্লা প্রেসক্লাব। মনে বলে ছুটে চলে যাই প্রেসক্লাবে...যার বেদনাবিধুর স্মৃতিগুলো  আজো ঘুরে ফিরে মনে। লেখকঃ  দেলোয়ার জাহিদ, সভাপতি, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব আলবার্টা, কুমিল্লা প্রেসক্লাব ও কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি। ফোনঃ ১ (৭৮০) ২০০-৩৫৯২।  

বিস্তারিত»

বিনোদন

আইটেম গানে পরীমনি

ঢাকা: এবার আইটেম গানে নেচে দর্শক মাতাবেন পরীমনি। ‘ডার্লিং ডার্লিং লাগছে চার্মিং’ শিরোনামে গানটিতে পরীমনি নতুন রুপে দেখা যাবে তাকে। ‘ভালবাসা সীমাহীন’ নামে এ ছবিটি পরিচালনা করছেন শাহ আলম মণ্ডল পরীমনি জানান, প্রথমবারের মত আইটেম গানে নাচব, কিন্তু আমার পায়ের নখ উল্টানো। গতকাল (রবিবার) শুটিং এ শট দিতে গিয়ে নখে ব্যাথা পেয়েছি। তারপরও প্রথবারের মত আইটেম গানে নাচার সুযোগ মিস করতে চাই না। সুদীপ কুমার দীপের কথায় গানটির সুর ও সঙ্গীতায়োজন করেছেন আলী আকরাম শুভ। কণ্ঠ দিয়েছেন রমা। এই গানটির শুটিং এর মাধ্যমে ছবিটির সকল প্রকার শুটিং শেষ হবে। ছবিটি কোরবানির ঈদের পর মুক্তি পাবে।

বিস্তারিত»

স্বাস্থ্য ও রুপচর্চা

ঘরোয়া উপায় ব্রণ দুর করুন

পরিচ্ছন্ন একটি মুখ আমরা সবাই চাই। কিন্তু চাওয়া আর পাওয়া সব সময় এক হয় না। মাঝে মাঝে এর ব্যত্তয় ঘটে। যা আমাদের পক্ষে মেনে নেয়া কষ্টের ব্যপার বটে। সাধারণত টিনেজরাই ব্রণের সমস্যায় বেশি ভোগে। গবেষণায় দেখা গেছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্রণ বংশগত। একে অনেকেই ঢ়রসঢ়ষব, ুরঃ বা ংঢ়ড়ঃ বলে থাকে। বাজারে ব্রণ দূর করার জন্য নানারকম ঔষধ পাওয়া যায়। সেগুলো ব্যবহার করার আগে আসুন কিছু ঘরোয়া অনুসরন করি। ১. কাঁচা হলুদ এবং চন্দনকাঠের গুঁড়ো ব্রণের জন্য খুবই কার্যকর দুটো উপাদান। সমপরিমাণ বাটা কাঁচা হলুদ এবং চন্দন কাঠের গুঁড়ো একত্রে নিয়ে এতে পরিমাণ মত পানি মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করতে হবে। এরপর মিশ্রণটি মুখে লাগান। কিছুক্ষন পর শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। এই মিশ্রণটি শুধুমাত্র ব্রণদূর করার কাজ করে না বরং ব্রণের দাগ দূর করতেও সাহায্য করে। ২. আপেল এবং মধুর মিশ্রণ ব্রণের দাগ দূর করার সবচেয়ে জনপ্রিয় ঘরোয়া পদ্ধতি। প্রথমে আপেলের পেষ্ট তৈরি করে তাতে ৪-৬ ফোঁটা মধু মিশাতে হবে। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষন অপেক্ষা করুন। এরপর মুখ ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি ত্বকের টানটান ভাব বজায় রাখে এবং কমপ্লেকশন হালকা করে। সপ্তাহে ৫-৬ বার এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। আপনি কয়েকদিনের মধ্যে পরিবর্তনটা অনুভব করতে পারবেন। ৩. ব্রণের জন্য তুলসি পাতাররস খুব উপকারী। কারণ তুলসি পাতায় আছে আয়ূরবেদিক গুণ। শুধুমাত্র তুলসি পাতার রস ব্রণআক্রান্ত অংশে লাগিয়ে রেখে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এরপর কুসুম গরমপানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। ৪. প্রথমে চন্দন কাঠের গুড়োঁরসাথে গোলাপ জল মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করুন। এরপর এতে ২-৩ ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। গোলাপজল অনেকের ত্বকের সাথে এডজাষ্ট হয় না। তারা সেইক্ষেত্রে গোলাপ জলের পরিবর্তে মধু ব্যবহার করতে পারেন।এই পেষ্ট আপনার ব্রণের দাগ দূর করতে সাহায্য করবে।সপ্তাহে ৩-৪দিন ব্যবহার করতে পারলে ভাল ফল পাওয়া যাবে। ৫. এছাড়া রাতে শোয়ার আগেডিমের সাদা অংশ ব্রণ আক্রান্ত জায়গায় মেসেজ করে সারারাত রাখতে পারেন। এটি আপনারত্বকের খসখসে ভাব দূর করে।সবচেয়ে ভাল হয় যদি এর সাথে লেবুর রস যোগ করা যায়।আপনিএটি সারারাতও রাখতে পারেন আবার আধ ঘন্টা পরও ধুয়ে ফেলতে পারেন। ৬. প্রতিদিন রাতের খাবারের পর যেকোন ধরনের মৌসুমি ফল খান। এটি আপনার ত্বককে সতেজ রাখবে।যতটা সম্ভব তেলযুক্ত বা ফাষ্ট ফুড জাতীয় খাবার পরিহার করুন। ৭. সবসময় বাহির থেকে আসামাত্র মুখ ফেসওয়াস দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া হালকা গরম পানির স্টীম নিতে পারেন।এতেকরে ত্বকে জমে থাকা ধুলোবালি পরিষ্কার হয়ে যাবে। ৮. প্রতিদিন ৯-১০ গ্লাস পানি খান। যারা বহুদিন যাবত ব্রণসমস্যায় ভুগছেন,কোন কিছুতেই কাজ হচ্ছে না, তারা আর দেরি না করে কোন অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।  

বিস্তারিত»

সম্পাদকীয়

সেতুবন্ধন

বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির (বিএনপি) নেতা এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিজেপি নেতৃত্বকে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধিদল পাঠাইবার আমন্ত্রণ জানাইয়াছেন। আসন্ন দুর্গোত্‌সবের সময়কেই এই আমন্ত্রিত সফরের জন্য বাছিয়া লওয়া হইয়াছে। আপাতদৃষ্টিতে খালেদার এই আমন্ত্রণ আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত মনে হইতে পারে। কিন্তু ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ তাঁহার বাংলাদেশ সফরকালে বিরোধী নেত্রী খালেদার সহিত সাক্ষাত্‌ করেন। সম্ভবত তাহারই প্রতিদানস্বরূপ এই আমন্ত্রণ। দুর্গাপূজার লগ্নটিকে সফরের জন্য বাছিয়া দিবার কারণ, ইহা বাংলাদেশের হিন্দুদের বৃহত্তম উত্‌সব। বেগম জিয়া সম্ভবত বিজেপি নেতৃত্বকে দেখাইতে চাহেন, তাঁহাকে যতটা ভারত-বিরোধী বলিয়া গণ্য ও প্রচার করা হয়, তিনি তাহা নহেন। ভারতের সহিত সুসম্পর্কের মূলে দুই দেশের রাজনৈতিক দল ও জনসাধারণের মধ্যে পারস্পরিক বিনিময়ও ফলপ্রসূ হইতে পারে বলিয়া তাঁহার ধারণা। বেগম জিয়ার এই আমন্ত্রণ কূটনৈতিক ভাবে কুশলী চাল হইলেও দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্কের বনিয়াদ সুদৃঢ় করিতে ইহা সহায়ক হইতে পারে। সাধারণত দেখা যায়, ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী ও সচিবরা বাংলাদেশ সফরে গেলে সেখানকার শাসক দলের সঙ্গেই যাবতীয় আলাপ-আলোচনা চালান। বাংলাদেশের রাজনীতি কিন্তু কার্যত দ্বিদলীয়। শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগ এবং খালেদা জিয়ার বিএনপি-র মধ্যেই ক্ষমতার মেরু ঘোরাফেরা করিয়া থাকে। তাই বিরোধী দল ক্ষমতাসীন নয় বলিয়া তাহার নেতৃত্বকে উপেক্ষা করা ভ্রান্ত কূটনীতি। বেগম জিয়ার শাসনকালও অবশ্য এ জন্য কতকাংশে দায়ী। ভারতের সহিত সুসম্পর্ক রচনায় অতীতে যে তাঁহার প্রচেষ্টার অভাব থাকিয়াছে, তাহাতে সংশয় নাই। রাজধানী ঢাকাকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত করিয়া এবং ওই জঙ্গিদের ‘স্বাধীনতা-সংগ্রামী’ আখ্যা দিয়া প্রধানমন্ত্রী খালেদার সরকার স্বভাবতই নয়াদিল্লির বিরাগভাজন হয়। তুলনায় শেখ হাসিনা ওয়াজেদের আওয়ামি লিগ সরকার অনেক বেশি ভারতবন্ধুর ভূমিকা পালন করিয়াছে। কিন্তু ভারত জানে, যেমন জানেন বেগম জিয়াও যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে পুনরায় বিএনপি ক্ষমতাসীন হইতে পারে এবং সেই দল ও তাহার সর্বময় কর্ত্রীর সহিত সুসম্পর্ক বজায় রাখা আবশ্যক। একই কারণে খালেদাও বিজেপির সহিত সুসম্পর্ক গড়িতে চাহেন। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তাঁহার নির্বাচনী প্রচারের সময় দুইটি বিষয় উল্লেখ করিয়াছিলেন। এক বাংলাদেশ হইতে অনুপ্রবেশকারীদের ভারতে স্থান নাই, যদিও শরণার্থীরা স্বাগত। দুই, শরণার্থী তাহারাই, যাহারা দুর্গা-মাইয়ের পূজা করে, অর্থাত্‌ বাংলাদেশ হইতে বিতাড়িত হিন্দুরা। বাংলাদেশি হিন্দুদের সেই সবচেয়ে বড় উত্‌সব দুর্গা-মাইয়ের পূজার সময়েই খালেদা বিজেপির প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানাইয়াছেন। সেই সঙ্গে জানাইতে ভুলেন নাই যে, তাঁহার প্রধানমন্ত্রিত্বের কালে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতনের ঘটনা অনেক হ্রাস পায় এবং ফলত ভারতে তাহাদের শরণার্থী হওয়ার ঘটনাও কমিয়া আসে। বেগম জিয়া যে বিজেপির নরেন্দ্র মোদীকে আশ্বস্ত করিতে চাহেন, তাহা স্পষ্ট। তিনি ভবিষ্যতের নিরিখে বৃহত্তম প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সহিত মৈত্রীর সেতুবন্ধনে আগ্রহী। সুলক্ষণ।  

বিস্তারিত»

বিজ্ঞপ্তি

বিজ্ঞাপন দিন ও আমাদের সহযোগী হোন

আমাদের উদ্যোগ ও কাজকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আপনার প্রতিষ্ঠান অথবা ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন দিয়ে আপনিও হতে পারেন আমাদের পথ চলার একান্ত সহযোগী। আমরা বিশ্বাস করি, মুনাফামুখী একটি প্রতিষ্ঠান চালানোর ক্ষেত্রে লাভ আছে। তবে ‘সিলেটের আলাপ’ অনলাইন পত্রিকা গড়ে তোলার পিছনে যে সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য আছে, তা মোটেও লাভের পেছনে ছোটা না।দেশ-বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটিকে যথাসম্ভব সর্বোচ্চ বস্তুনিষ্ঠতার সাথে তথ্য সহায়তা দিয়ে ‘সিলেটের আলাপ’কে সমুন্নত রাখাই আমাদের লক্ষ্য। বর্তমানে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ হাজারেরও বেশী পাঠক অনলাইনে পত্রিকাটি পড়ে থাকেন। আর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী প্রতিমাসে এ সাইটে গড়ে ২ লাখেরও বেশী হিট পড়ছে। এক্ষেত্রে আবার সিংহভাগ পাঠকই প্রবাসী। এই প্রত্যাশার চাপকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি নিজস্ব স্বকীয়তা প্রকাশের জন্য শিগগিরই  ‘সিলেটের আলাপ’ পত্রিকার ইংরেজী সংস্করণ ও ব্লগ চালুসহ পত্রিকাটিকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিয়ে আপনিও আমাদের পথচলার সঙ্গী হবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এক্ষেত্রে চাইলে আপনি আপনার ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপনও দিতে পারেন। যোগাযোগ: +৪৪৭৫৩৬৫৭৪৪৪১ +৪৪৭৫৭৮০৬২০৫৭

বিস্তারিত»

শোক-সংবাদ

এরশাদের ছোট ভাই সাবেক এমপি লালুর ইন্তেকাল

রংপুর: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছোট ভাই সাবেক এমপি বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ মোজাম্মেল হক লালু ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন। সোমবার রাত সোয়া ১০টায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে রংপুর মহানগরীজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরহুমের একমাত্র ছেলে সাবেক এমপি হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করে নতুন বার্তা ডটকমকে জানান, সোমবার রাত সোয়া ১০টার দিকে তার স্ট্রোক হয়। সিটি করপোরেশনের অ্যাম্বুলেন্সে করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ইমার্জেন্সি চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শাহরিয়ার জানান, মৃত্যুকালে তার বাবার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।  তিনি মৃত্যুকালে এক ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে যান। সজ্জন নির্মোহ রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক লালু কুড়িগ্রামের উলিপুর-চিলমারী আসনের সাবেক এমপি ছিলেন। এছাড়াও কর্মজীবনে তিনি ছিলেন জনতা ব্যাংকের ডিজিএম। ক্ষমতার অনেক কাছে থেকেও তিনি কখনই ক্ষমতার ন্যূনতম অপব্যবহার করেননি বলে তার খ্যাতি আছে। তার কাছে সবাই ছিলেন পরম আপন। তিনি ছিলেন জাতীয় পার্টির রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়কারী। তার মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীর ঐতিহাসিক স্কাই ভিউ ভবনে এলাকাবাসী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের ঢল নামে। সবাই তাকে একনজর দেখে শোকে বিহবল হয়ে পড়েন। অনেকেই তার স্মৃতি চারণ করতে কেঁদে ফেলেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, এলজিআরইডি প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি. রংপুর সিটি মেয়র সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু, সাবেক এমপি দাবানল সম্পাদক খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুল, জাতীয় পার্টির মহানগর সেক্রেটারি সালাহ উদ্দিন কাদেরী, জেলা সেক্রেটারি আবুল মাসুদ চৌধুরী নান্টু, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মমতাজ উদ্দিন, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট রেজাউল হক, জেলা বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা, সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেন, সেক্রেটারি সামসুজ্জামান সামু, মহানগর জামায়াত আমির অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, জেলা আমির এটিএম আজম খান  গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

বিস্তারিত»

সাম্প্রতিক খবর সর্বাধিক পঠিত

জরিপ

Loading...

Archive