জঙ্গিবাদ রোখার লড়াইতে পোর্টসমাথের বাংলাদেশিরা

লন্ডন: পোর্টসমাথের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম দু বছর ধরে উত্তর খুঁজেছেন কেন তার ছেলে মেহেদি হাসান কাউকে কিছু না বলে সিরিয়ায় যুদ্ধ করতে চলে গেল। নুরুল ইসলাম। এখনও উত্তর খুঁজছেন কেন তার ছেলে মেহেদি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে সিরিয়ায় যুদ্ধ করতে গিয়ে প্রাণ হারালো তার চার ছেলেমেয়ের মধ্যে দ্বিতীয় এই ছেলেটি ছিল সবচেয়ে মেধাবী। সে কারণে, হাজারো কষ্ট হলেও অনেক খরচের বেসরকারি স্কুলে পাঠিয়েছিলেন ছেলেকে। স্কুল পাশ করে সাস্ক্সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার এক মাসের মধ্যে কাউকে কিছু না বলে শহরের আরও পাঁচটি তরুণের সাথে ইসলামিক স্টেটের হয়ে যুদ্ধ করতে দিতে সিরিয়ায় চলে যায়। 'সে ধার্মিক ছিল। আমি জানতাম সে দাওয়ার (ধর্মের) কাজ করছে। ভেবেছিলাম ভালো কাজই তো করছে। অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ছিল...কখনো মনে কোনো সন্দেহ হয়নি সে এরকম কাজ করতে পারে।' মেহেদিকে ফিরিয়ে আনতে নুরুল ইসলাম এবং স্ত্রী তুরস্কের আকসাকালি সীমান্তে ১৯ দিন ছিলেন। ছেলের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগও করতে পেরেছিলেন। 'সে চলে আসতে রাজিও হয়েছিল। সীমান্ত থেকে দু-তিন মিনিটের দূরত্বের তাকে তারা ধরে ফেলে নিয়ে নিয়ে যায়।' পরে নুরুল ইসলাম খবর পান গত বছর অক্টোবরের ২৪ বা ২৫ তারিখে সিরিয়ার কোবানি শহরে আইএসের হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে মেহেদি মারা যায়। সিরিয়ার তেল আবিয়াদ শহরে তার দাফন হয়েছে। ছেলের কথা বলতে গিয়ে বার বার তার গলা ধরে আসছিল। 'আমি এবং আমার স্ত্রী আমার চার ছেলেমেয়েকে মানুষ করার জন্য, তাকে শিক্ষিত করার জন্য সবরকম চেষ্টা করেছি। তারপরও যদি এই কাণ্ড হয়, তাহলে আমি তাকে নিয়তি ছাড়া আর কি বলবো।' ইমেজ সঙ্কটে পোর্টসমাথের বাংলাদেশিরা পোর্টসমাথ থেকে ছজন মুসলিম তরুণ সিরিয়ায় চলে গেছে, এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকুলে সমুদ্র তীরের ছিমছাম সমৃদ্ধ এই শহরটি পুরো বৃটেনের নজরে পড়ে যায়। ২০১৩ সালের অক্টোবরের কথা। কিছুদিন পর যখন অস্ত্র হাতে তাদের ছবি-ভিডিও জেহাদি ওয়েবসাইটগুলোতে দেখা যেতে থাকে এবং জানা যায় যে এরা সবাই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত, জঙ্গিবাদের সাথে জড়িয়ে যায় পোর্টসমাথের বাংলাদেশি কম্যুনিটির নাম। গত দু বছর ধরে ওই ছজনের মধ্যে একে একে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন স্বজনরা। সর্বশেষ মৃত্যুর খবর এসেছে জুলাইতে ইফতেখার জামানের। একজন শুধু বেঁচে ফিরে আসতে পেরেছেন। তবে মাসুদুর চৌধুরী নামে ওই যুবক এখন সন্ত্রাস আইনে বৃটেনের কারাগারে। পোর্টসমাথ এবং আশপাশের এলাকায় হাজার সাতেক বাংলাদেশির বসবাস। দুদিন ধরে শহরের অন্তত দু ডজন লোকের সাথে কথা বলেছি যারা কোনও না কোনোভাবে এই ছজন তরুণকে প্রত্যক্ষভাবে চিনতেন। অনেকে প্রতিবেশী বা বন্ধু পুত্র হিসেবে চোখের সামনে বড় হতে দেখেছেন। সবারই কম বেশি একই কথা – হ্যাঁ ছেলেগুলো ধার্মিক ছিল, মসজিদে যেত, কিন্তু এভাবে জঙ্গিবাদে দীক্ষা হবে তা তারা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি। আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে সিরিয়ায় ইয়াহিয়া চৌধুরী প্রথম বাংলাদেশি যিনি পোর্টসমাথ নগর সরকারে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। এই ছজন তরুণকে এবং তাদের পরিবারগুলোকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন। মসজিদে প্রায় প্রতিদিনই তাদের সাথে দেখা হতো। মাঝে মাঝে কথাও হতো। নগর ভবনে তার অফিসে বসে কথা বলার সময় কাউন্সিলর চৌধুরী বার বার বলছিলেন, ওদের সিরিয়ার চলে যাওয়ার কথা তিনি কিছুদিন বিশ্বাসই করতে পারেননি। 'আমি শুধু ভাবছিলাম কিভাবে এটা সম্ভব।' মাসুদুর চৌধুরী নামে যে যুবকটি এখন কারাগারে সে ছাত্রজীবনে মি চৌধুরীর একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করতো। ‘খুবই আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ছিল ছেলেটির, আমাকে একদিন বলেছিল, আইনজীবী হতে চায় সে। অথচ এখন সে জেলে।' কাউন্সিলর চৌধুরীর দৃঢ় বিশ্বাস ইন্টারনেটের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে দীক্ষা হয়েছিল তার। তবে পোর্টসমাথে বাংলাদেশিদের মধ্যে অনেকেরই বিশ্বাস বাইরে থেকে ধর্ম প্রচারের কথা বলে আসা কিছু লোক এই ছয় তরুণকে সিরিয়ায় যেতে উদ্বুদ্ধ করেছে। স্পষ্ট করে না বললেও নুরুল ইসলামেরও ধারণা, কেউ না কেউ তার ছেলের মাথা নষ্ট করেছিল। 'কিছু মানুষ ইসলামের কথা বলে অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের বিপথগামী করছে। মসজিদে কেউ যদি দাওয়ার কথা বলে আসে, আলোচনার জন্য তাদের জায়গা দেওয়া হয়, কিন্তু তারা যে ব্যতিক্রমধর্মী কিছু করবে তা তো কেউ জানেনা।' বিতর্কিত মসজিদ ওই ছটি তরুণ চলে যাওয়ার পর সন্দেহের নজর পড়ে পোর্টসমাথ জামে মসজিদের ওপর। কারণ ওই ছেলেগুলো এখানেই প্রায়ই নামাজ পড়তে আসতো। গত বছর বহুবার বৃটেনের কট্টর অভিবাসন বিরোধী সংগঠন ইংলিশ ডিফেন্স লীগ বা ইডিএল মসজিদের বাইরে বিক্ষোভ করেছে। মসজিদটি শহরের বাংলাদেশিরাই চালান। নামাজ পড়তে যারা আসেন তাদের সিংহভাগই বাংলাদেশি। এক আসরের নামাজের পর মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি সালিকুর রহমান আত্মপক্ষ সমর্থন করে বললেন মসজিদের পক্ষে প্রতিটি মানুষের ওপর নজর রাখা অসম্ভব। 'যে ছেলেগুলো চলে গেছে তারা এদেশের নাগরিক, এখানে জন্ম, যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে তার দায় এদেশের পুলিশের, তারা মুসলমান ছিল বলে সব দায় মসজিদের, এটা ভুল ধারণা।' মসজিদের ইমাম জানালেন, প্রতি শুক্রবারের জুমার নামাজের পর খুৎবায় তিনি জিহাদের প্রকৃত অর্থ বোঝানোর চেষ্টা করছেন, ভিন্নধর্মীদের সাথে আচরণ নিয়ে ইসলামের শিক্ষা ব্যাখ্যা করছেন। 'অনেকে ভাবেন মসজিদ সবকিছু করতে পারে, সেটা ঠিক নয়, ধর্মের বিষয়ে আমার প্রশিক্ষণ আছে, কিন্তু নজরদারি করার প্রশিক্ষণ তো আমার নেই।' কেন জঙ্গিবাদে টান? প্রধানত যে বয়সের ছেলেমেয়েদের নিয়ে উদ্বেগ তারা বৃটিশ মুসলিম তরুণদের মধ্যে জঙ্গিবাদের প্রভাব নিয়ে কি ভাবছে? ১৭ বছরের ইমাদ চৌধুরী পোর্টসমাথের সেন্ট জনস কলেজে এ লেভেল করছে। তার শহরের যে পাঁচ তরুণ সিরিয়াতে গিয়ে মারা গেছে, তাদের একজনকে সে বেশ ভালই চিনতো, অন্য তিনজন তার মুখ চেনা ছিল। কেন তার বয়সী তরুণরা এভাবে জঙ্গিবাদে দীক্ষিত হচ্ছে ? রিদওয়ানের উত্তর ছিল, অতিরিক্ত ধার্মিক ছেলেগুলো তেমন বাইরে যায়না, কারো সাথে মেশেনা। বাইরের মানুষ যা করে, সেটাকে তারা ঘেন্না করে, ইসলামবিরোধী মনে করে। 'এভাবেই হয়তো আস্তে আস্তে তাদের মন বিষিয়ে যায়।' কি করা যায় তাদের নিয়ে ? রিদওয়ানের ধারণা মুসলিম কিশোর-তরুণদের সমাজে অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। যে কোনও ইস্যু নিয়ে তারা যাতে খোলামেলা আলোচনা করতে পারে, তার পথ তৈরি করতে হবে। সন্তান রক্ষার লড়াই বাস্তবে কতটুকু সত্যি সেটা জানা কঠিন হলেও বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক মানুষের ধারনা বিশেষ করে কম বয়সী মুসলিম কিশোর তরুণদের ওপর, শহরের মসজিদগুলোর ওপর গত দু বছর ধরে পুলিশ কড়া নজরদারি করছে। শান্তিপূর্ণ জনগোষ্ঠী হিসাবে তাদের যে সুনাম এখানে ছিল সেটা যে কিছুটা হলেও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে তা কম-বেশি সবাইই স্বীকার করলেন। পোর্টসমাথ জামে মসজিদ ভবনেই মানি ট্রান্সফার ব্যবসার অফিস রয়েছে ফয়জুর রহমানের। বললেন, ওই ছয় তরুণের চলে যাওয়ার পর বেশ কিছু দিন মিডিয়ায় ক্রমাগত প্রচার, মসজিদের সামনে ইডিএলের বিক্ষোভ নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি আশঙ্কায় কেটেছে তাদের। 'আর যাতে এই রকম খবর শুনতে না হয় তার আমরা এখন অনেক সতর্ক, নিজের ছেলে-মেয়েদের ওপর আগের চেয়ে নজর রাখার চেষ্টা করছি'। পোর্টসমাথে মুসলিম কিশোর তরুণদের মধ্যে জঙ্গিবাদের প্রভাব বন্ধে স্থানীয় সিটি কাউন্সিল প্রিভেন্ট নামে একটি কর্মসূচি নিয়েছে। তিনশর মত স্কুল-কলেজ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা জঙ্গি মানসিকতার উপসর্গগুলো বুঝতে পারেন এবং সে মত পুলিশকে এবং পরিবারকে জানাতে পারেন। তবে সমাজ, পুলিশ এবং সংবাদমাধ্যমের সন্দিহান দৃষ্টিতে পড়ে যাওয়া পোর্টসমাথের বাংলাদেশি বাবা-মারা কর্তৃপক্ষের ওপর ভরসা করছেন না। ইসলামি জঙ্গিবাদ থেকে সন্তানদের আগলে রাখার দায়িত্ব গত দুবছরে তারাই হাতে তুলে নিয়েছেন।– বিবিসি বিস্তারিত»

সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থার দিকে হাঁটছে: খালেদা জিয়া

ঢাকা: বিনা ভোটের বর্তমান সরকার তাদের অনৈতিক ক্ষমতা সংহত করতে বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচারের স্টিমরোলার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। শুক্রবার বিকেলে দলের মুখপাত্র ড.আসাদুজ্জামান রিপনের স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে খালেদা জিয়া এ অভিযোগ করেন। বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক ও জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি মোজাহার আলী প্রধানকে আবারো আটক করায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে খালেদা জিয়া এই বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে খালেদা জিয়া  বলেন, সরকার সারাদেশে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর যে অত্যাচারের স্টিমরোলার চালাচ্ছে, তা বর্ণনাতীত। সরকার দেশের আইন-কানুন ও বিচারিক রায়কে পর্যন্ত অশ্রদ্ধা করছে। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনেক রাজনৈতিক বন্দিকে সময়মত মুক্তি দিচ্ছে না। এরপরেও কেউ জামিন নিয়ে মুক্তিলাভ করার পরপরই কারাফটক থেকে নিত্য-নতুন সাজানো মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারকরা হচ্ছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরনের তৎপরতা দেশের আইনের শাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্‌গুলি প্রদর্শন ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড থেকে সরকারকে সরে আসার আহবান জানাচ্ছি। সরকারের এ ধরনের আচরণ মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার হরণের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন ও দল পুনর্গঠনে যখন আমরা এগুচ্ছি, সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আটক করছে। পুরনো মিথ্যা মামলায় চার্জশিট দিচ্ছে। এসবের মূল লক্ষ্য হলো- বিরোধী দলকে কোনোভাবেই সাংগঠনিক কাজ করতে না দেয়া। খালেদা জিয়া বলেন, আমরা এই বিনা ভোটের সরকারকে বলতে চাই- তারা এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যদিয়ে মূলত এক ধরনের একদলীয় শাসনব্যবস্থার দিকে হাঁটছে। পৃথিবী থেকে যখন কর্তৃত্ত্‌ববাদী শাসনের অবসান ঘটছে, একনায়কতান্ত্রিক স্বৈরশাসনের বিলোপ ঘটছে, তখন শেখ হাসিনার সরকার বিরোধী দলকে নির্মূল করার দিবাস্বপ্নে বিভোর। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, আমরা হুঁশিয়ার করে দিতে চাই- গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করে দীর্ঘ সময় দেশ শাসন করা যাবে না। আশা করি সরকারের বোধোদয় ঘটবে। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সরকার এখন ভয়াবহ ইমেজ সংকটে নিপতিত। এতে করে ফ্যাসিবাদী আচরণ তাদের ক্রমেই আরো জনবিচ্ছিন্ন করে তুলছে। সরকার এ সত্য অনুধাবন করতে সক্ষম হলে দ্রুত সবদলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন। এতেই তাদের মঙ্গল হবে। তিনি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য সরকারকে হিংসা-বিদ্বেষের পথ ছেড়ে আসার আহ্‌বান জানান। তাহলে এক সাথে কাজ করবেন বলেও প্রতিশ্‌রুতি দেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। খালেদা জিয়া বলেন, জনগণের রায়ের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা-আস্থা আছে। আপনাদের ভয় কিসে? আমি আশঙ্কিত- হিংসাশ্রয়ী রাজনীতি দেশের মৃতপ্রায় গণতন্ত্রকে কফিনে পুরে ফেলবে একদিন। সরকার যেন সেই কাজটি করতেই বেশি তৎপর হয়ে উঠেছে। তিনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে স্মরণ করিয়ে বলেন, আমরা এসবের জন্য দেশ স্বাধীন করিনি। কারণ এখন যে নীতিতে সরকার দেশ চালাচ্ছে, তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে বেঈমানি ছাড়া কিছুই নয়।   বিস্তারিত»

অস্ট্রিয়ায় লরি থেকে উদ্ধার ৭০ অভিবাসীর লাশ

ভিয়েনা: অস্ট্রিয়ার একটি মোটরওয়ে’তে পরিত্যক্ত একটি লরি থেকে অন্তত ৭০ জন অবৈধ অভিবাসীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির সরকার শুক্রবার বলেছে, এর আগে লরিটিতে ২০ থেকে ৫০ জনের লাশ আছে বলে ধারণা করা হলেও উদ্ধার কাজ শুরু করার পর এর সংখ্যা বেড়ে যায়।   অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আলেক্সান্ডার ম্যারাকোভিত্স পরিত্যক্ত লরি থেকে ৭০টিরও বেশি লাশ উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করেছেন। স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরির সীমান্তবর্তী একটি মোটরওয়েতে বৃহস্পতিবার লরিটিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখার পর পুলিশ সেটিতে তল্লাশি চালায়।   ইউরোপীয় দেশগুলোতে অভিবাসী হিসেবে আশ্রয়প্রার্থী অন্তত ৩০ ব্যক্তি ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা যাওয়ার পর ইউরোপের একটি দেশে হতভাগ্য এসব মানুষের মৃতদেহ পাওয়া গেল।   পুলিশ বলেছে, লরিটি স্লোভাকিয়ার একটি পোলট্রি কোম্পানির মালিকানাধীন এবং এতে হাঙ্গেরির নাম্বার প্লেট রয়েছে। অস্ট্রিয়া সফররত জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এ ‘ভয়ানক’ খবর শুনে তিনি ভীষণ ‘মর্মাহত’ হয়েছেন। ইউরোপীয় দেশগুলো অভিমুখী অভিবাসীদের স্রোত ঠেকানোর উপায় নিয়ে বলকান দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার লক্ষ্যে মার্কেল বর্তমানে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অবস্থান করছেন।   আদম ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে প্রতি বছর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে ছোট ছোট নৌকায় করে ইউরোপ অভিমুখে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেন অসংখ্য মানুষ। এ ধরনের নৌকা ডুবে চলতি বছর এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২,৩০০ নারী, পুরুষ ও শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। লিবিয়ার কোস্ট গার্ড বৃহস্পতিবার বলেছে, ২০০ অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছে। ডুবন্ত নৌকাটির বেশ কিছু লোককে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।- সংবাদসংস্থা বিস্তারিত»

কাজী জাফরের সঙ্গে সরকার অন্যায় করেছে

ঢাকা: রাষ্ট্রীয় মযার্দা ছাড়াই সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  শুক্রবার সকাল ১১টায় জানাজার আগে কাজী জাফরের ভাই কাজী মামুন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার পরও কাজী জাফরকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো মযার্দা দেয়া হলো না। এটা তার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আ স ম হান্নান শাহ সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে কাজী জাফরের অবদান অসামান্য। তিনি দেশের স্বার্থে বিভিন্ন ধরনের আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। উনার রাষ্ট্রীয় মযার্দা প্রাপ্য ছিল। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আ স ম হান্নান শাহ, বিএনপি নেতা আহমেদ আজম খান, জাতীয় পার্টির (একাংশ) মহাসচিব মোস্তাফা জালাল হায়দার, সিপিবি নেতা আকবর হায়দার আলী খান রনো, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এডিপির নেতা  মহাসচিব গোলাম মুর্তাজাসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী। তবে আওয়ামী লীগ ও সরকারের পক্ষে কেউ উপস্থিত ছিল না। এর আগে সকাল ৮টায় টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে টিনশেড মসজিদে কাজী জাফরের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকায় আজ আরোও ২টি জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাদ জুমআ একটি হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। বিকেলে আরেকটি হবে গুলশান আজাদ মসজিদে।  বিস্তারিত»

গ্যাস-বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করুন

ঢাকা: গ্যাস-বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান (অব.) মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।   শুক্রবার সকালে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কারামুক্ত নেতাদের নিয়ে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে দোয়া মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।  মেজর হাফিজ বলেন, ‘বাংলাদেশে জবাদিহিহীনতার সংস্কৃতির ফলে দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এর প্রভাব পড়বে কৃষক সমাজ ও নিম্নআয়ের মানুষদের ওপর। তাই গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্ধিতমূল্য  সরকারকে প্রত্যাহার করে নেয়া উচিত।’  তিনি বলেন, ‘বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বিনা ভোটে ক্ষমতা দখল করে আছে। যার ফলে দেশে গণতন্ত্রহীনতার সংস্কৃতি চালু হয়েছে। আমরা কেউ সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা করতে পারছি না।’  গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আগামী দিনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।  বিএনপির সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব এসময় উপস্থিত ছিলেন।  আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমার পরও সরকার বৃহস্পতিবার গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে।  বিদ্যুতের দাম গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং গ্যাসের দাম গড়ে ২৬ দশমিক ২৯ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এ মূল্যবৃদ্ধি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। বর্ধিত মূল্য অনুসারে দুই চুলার গ্যাসের মূল্য হবে ৬৫০ টাকা এবং এক চুলায় হবে ৬০০ টাকা। যা আগে ছিল যথাক্রমে ৪৫০ ও ৪০০ টাকা। সঙ্কুচিত প্রাকৃতিক গ্যাসে (সিএনজি) প্রতি ইউনিটে (ঘনমিটার) দাম বেড়েছে ৫ টাকা। সে হিসাবে, প্রতি ইউনিট আগে ছিল ৩০ টাকা এখন হবে ৩৫ টাকা। বিস্তারিত»

ছবি ঘর

শ্রীনন্দ খুনের লোমহর্ষক বর্ণনা ঘাতকের

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে: ‘মোগলাবাজারের রেলওয়ে স্টেশনের কাছে নিয়েই সিএনজি ড্রাইভার শ্রীনন্দের হাত-পা বেঁধে ফেলি। এরপর ৫ জন মিলে তাকে মারধর করি। প্রচণ্ড  মারধরে সে এক সময় নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এরপর লাশ সিএনজিতে তুলে নিয়ে যাই হাওরের কাছে। পরে নৌকায় তুলে লাশ মধ্য হাওরে নিয়ে ভাসিয়ে দিই। সিএনজি অটোরিকশা ছিনতাই করতে তাকে খুন করি।’ -সিলেটের আদিবাসি যুবক ও সিএনজি চালক শ্রীনন্দ পাত্রকে খুনের নির্মম বর্ণনা এভাবেই দিয়েছে ঘাতক তাজনীন আহমদ রুবেল। গতকাল বিকালে সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাহেদুল করিমের আদালতে সে এই খুনের দায় স্বীকার করে  জবানবন্দি দিয়েছে। এর আগে পুলিশ মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে রুবেলকে গ্রেপ্তার করে। সে গ্রেপ্তারের পরপই এই ঘটনা পুরো খোলাসা হয়। এবং তার তথ্য মতেই পুলিশ বৃহস্পতিবার গোলাপগঞ্জ ও মোগলাবাজারের মধ্যবর্তী দামরিয়া হাওরে ৬ ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে শ্রীনন্দের লাশ উদ্ধার করে। ঘাতক তাজনীন আহমদ রুবেলের জবানবন্দির সূত্র ধরে পুলিশ জানায়, সিলেট শহরতলির খাদিমপাড়া ইউনিয়নের দলইরপাড়ার আদিবাসি যুবক শ্রীনন্দ পাত্র পেশায় সিএনজি অটোরিকশা চালক। সিলেট শহরতলি ও আশপাশ এলাকায় শ্রীনন্দ সিএনজি অটোরিকশা চালায়। ঘটনা গত ১৯ তারিখের। ওই দিন সকালে সিএনজি নিয়ে দলইরপাড়া এলাকায় অবস্থান করছিলেন শ্রীনন্দ। এ সময় তাজনীন আহমদ রুবেল সহ ৫ যুবক সিএনজি অটোরিকশাটি ভাড়া নেয়। রুবেলের বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে। তার কয়েক সহপাঠী মিলে শ্রীনন্দকে সিএনজিসহ ভাড়া নেয়। এরপর গোটা দিনই তারা বিভিন্ন স্থানে শ্রীনন্দকে নিয়ে যায়। সন্ধ্যার পরপরই তারা তাকে নিয়ে যায় সিলেট শহরতলির মোগলাবাজার এলাকায়। সেখানে তারা শ্রীনন্দকে রেখে সময় ক্ষেপণ করে। এরপর রাত ১০টার দিতে তারা যায় মোগলাবাজার রেলওয়ে স্টেশনের কাছে। সেখানে তারা প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করে। এ সময় ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টা হয়ে হয়ে যায়। এমন সময় রুবেলসহ তার সহপাঠীরা এসে সিএনজি অটোরিকশা চালক শ্রীনন্দের হাত-পা বেঁধে ফেলে। এবং রেলওয়ে স্টেশনের কাছাকাছি এক নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তারা মুখ বেঁধে তাকে বেধড়ক মারধোর করতে থাকে। ৫ জন মিলে এক সঙ্গে মারধোর করায় এক সময় নিস্তেজ হয়ে পড়ে শ্রীনন্দ। তার দেহও নিথর হয়ে যায়। এরপর হাত-পা বাঁধা অবস্থায়ই শ্রীনন্দকে তারা সিএনজিতে তুলে দমরিয়া হাওরের কাছের একটি স্থানে নিয়ে যায় রুবেলসহ অন্যরা। সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা ও মোগলাবাজার থানার মধ্যবর্তী স্থানে ওই হাওরের অবস্থান। বন্যা হওয়ার কারণে গোটা হাওর এখন পানিতে তলিয়ে গেছে। এরপর একটি নৌকা করে তারা শ্রীনন্দকে নিয়ে হাওরের মাঝামাঝি এলাকায় চলে যায়। এবং সেখানেই হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শ্রীনন্দের দেহ ফেলে দেয়। লাশ ফেলে দেওয়ার পর ঘাতকরা নৌকা নিয়ে ফের তীরে আসে। এরপর সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। এদিকে, শ্রীনন্দ বাড়ি না ফেরায় তার পরিবারের লোকজন স্থানীয় ভাবে তার অনুসন্ধান করেন। কিন্তু কোথাও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি শ্রীনন্দের মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। সিএনজিসহ নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তারা ২১শে আগস্ট সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহপরান থানা পুলিশকে অবগত করেন। শাহপরান থানা পুলিশ প্রথমে জিডিমূলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। এই ঘটনার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অনুসন্ধান শুরু করে। এরপর ২২শে আগস্ট পুলিশ সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা থেকে ছিনতাই হওয়া সিএনজিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত তিনজন প্রথমে সিএনজি কোথায় পেয়েছে সে ব্যাপারে মুখ খুলেনি। পরে পুলিশ তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, তাজনীন আহমদ রুবেল তাদেরকে সিএনজিটি দিয়েছে। এবং তারা সিএনজিটি বিক্রি করতে ফেঞ্চুগঞ্জে যায়। তার জবানবন্দি থেকে পুলিশ তাজনীন আহমদ রুবেলের বসন্তপুর গ্রামে অভিযান চালালেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিং শুরু করে। মোবাইলের ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ নিশ্চিত হয় মৌলভীবাজার জেলায় কুলাউড়ায় রয়েছে সে। এরপর পুলিশ গত বুধবার সকালে অভিযান চালিয়ে রুবেলকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর রুবেল পুরো ঘটনা অস্বীকার করে। তবে রাতভর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে শ্রীনন্দকে খুন করা হয়েছে। আর লাশ ফেলে দেওয়া হয়েছে দমরিয়া হাওরে। তার দেয়া তথ্য মতে পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে দমরিয়া হাওরে অভিযান চালায়। কিন্তু বড় হাওর হওয়ার কারণে লাশ স্রোতে কোথায় গেছে সেটি নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া হাওরে প্রচুর কচুরিপানা ছিল। এই অবস্থায় পুলিশ টানা ৬ ঘণ্টা হাওরে তল্লাশি চালিয়ে শ্রীনন্দের লাশ খুঁজে পায়। এরপর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ ঘাতক রুবেলকে ফের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। বৃহস্পতিবার রাতের জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল সিএনজিসহ শ্রীনন্দকে ছিনতাই, খুন, সিএনজি বিক্রির প্রচেষ্টা সব বিষয় খুলে বলে। পুলিশ গতকাল শুক্রবার বিকাল ৩টায় ঘাতক রুবেলকে সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাহেদুল করিমের আদালতে হাজির করে। বিকাল ৪টা থেকে আদালতে তার জবানবন্দি শুরু হয়। কোর্ট পুলিশ জানিয়েছে, আদালতে রুবেল অপহরণ ও খুনের ঘটনার বিবরণ দিয়েছে। সিএনজি ছিনতাই করতে তারা ৫জন মিলে চালক শ্রীনন্দকে খুনের কথাও সে স্বীকার করে। নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, ছয় ভাই-বোনের মধ্যে শ্রীনন্দ পাত্র ছিলেন তৃতীয়। নিজের কেনা অটোরিকশাটি এক বছর ধরে চালিয়ে পরিবারের জন্য আয়-রোজগার করছিলেন তিনি। নিখোঁজের দিন রাত ৯টায় সর্বশেষ পরিবারের সঙ্গে  মোবাইল ফোনে কথা হয় তার। ওই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, বিছনাকান্দিতে আছেন। এরপর পর থেকে তার মুঠোফোন বন্ধ হয়ে যায়। সিলেটের শাহপরান থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন গতকাল জানিয়েছেন, জিডির তদন্তে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার পর এ ব্যাপারে অপহরণ মামলা করা হয়। এরপর গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। রুবেল গ্রেপ্তারের পর ঘটনাটি খোলাসা হয় এবং লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হলো। তিনি বলেন, আদালতে জবানবন্দির পর রুবেলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। রিমান্ডে থাকা অপর তিনজনকে ইতিমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিস্তারিত»
ক্ষমতা উপভোগে ব্যস্ত আওয়ামী লীগ নেতারা

সরকারে অনেকটা বিলীন হয়ে পড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দৃশ্যমান কোনো দলীয় কর্মসূচি বা সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই। দায়িত্বশীল নেতারা দলীয় কার্যালয়েও যান না। দিবসকেন্দ্রিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে দলটির সাংগঠনিক তৎপরতা। সে সুযোগে অতি আওয়ামী লীগারদের সংখ্যা বেড়ে গেছে। ফলে মন্ত্রী-সাংসদদের ছত্রছাত্রায় হাইব্রিড, সুবিধাবাদী বা নব্য আওয়ামী লীগ বনে যাওয়া নেতারা এখন সামনের সারিতে। কিন্তু এসব নেতা সাংগঠনিক কর্মসূচি বাদ দিয়ে সরকারি কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের বিত্তশালী করার কাজে ব্যস্ত। তাঁদের দাপটে মূলধারার নেতাকর্মীরা ক্ষমতার বলয় থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। যার দরুন বিভিন্ন স্থানে দলের চেইন অব কমান্ড অনেকটাই ভেঙে পড়ার উপক্রম। তথ্যমতে, দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসায় অনেকটা নিষ্ক্রিয় দলীয় কার্যক্রম। কোণঠাসা বিরোধী শিবিরের কোনো তৎপরতা না থাকায় আওয়ামী লীগ নেতারা ক্ষমতা উপভোগে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, অধিকাংশ নেতা ব্যবসা-বাণিজ্য, তদবিরবাণিজ্য এবং টেন্ডারবাজিতে ব্যস্ত থাকায় সরকার ও দলের কর্মকা- অনেকটাই একাকার। এছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ে দলীয় কোন্দলে নিষ্ক্রিয় দলীয় কার্যক্রম। প্রায় প্রতিটি সংসদীয় আসনে সংসদ সদস্যের সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীর ব্যাপক দূরত্ব। প্রতিটি এলাকায়ই বিরোধী দল নয়, স্থানীয় সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধেই ভুরি ভুরি অভিযোগ দলীয় নেতাদের। অধিকাংশ এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে দলীয় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরোধ চলেই আসছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশ থাকার পরও এ বিরোধ নিরসন হয়নি। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। যার ফলে কেউ কেউ ঈর্ষান্বিত হয়ে সমালোচনা করতে পারেন। তবে আমাদের দলের ভেতরে কোনো কোন্দল নেই। এদিকে রাজধানীকেন্দ্রিক এক শ্রেণির নব্য আওয়ামী লীগারের তৎপরতা বেশ লক্ষণীয়। এরা ভূঁইফোঁড় সংগঠনের ব্যানারে দিবসকেন্দ্রিক গোলটেবিল, আলোচনা সভা আয়োজন করে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। মূলত তারা এসব করে থাকে তদবিরের কাজগুলো করার জন্য। এরা নিজেদের ত্যাগী আওয়ামী লীগ কর্মী বা পদবঞ্চিত দাবি করলেও অনেকেই বিগত অন্যান্য সরকারের আমলেও একই কাজ করেছে। শুধু সরকারের সঙ্গে ব্যানার পরিবর্তন হয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই বললেই চলে। শীর্ষ পদধারীরা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে সময় দিতে পারছেন না। রয়েছে এদের মধ্যে চরম গ্র“পিং। এ সুযোগে বাকি নেতারা ব্যস্ত ভোগ-বিলাসে। মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, তেজগাঁও থানার সভাপতি আসাদুজ্জামান খান কামাল মন্ত্রিসভায় রয়েছেন। এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. সেলিম, গুলশান থানার সভাপতি মো. টিপু মুন্সী, মিরপুর থানার সভাপতি কামাল আহমেদ মজুমদার, পল্লবী থানার সভাপতি মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা, শ্যামপুর থানার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদ খোকন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা সরকারের কাজে বেশি ব্যস্ত থাকায় দলীয় কার্যক্রমে তেমন সময় দিতে পারছেন না। বাকি নেতাকর্মীরাও নিজেদের ভাগ্য বদলাতে মন্ত্রী, মেয়র, সংসদ সদস্যদের বাসা বা অফিসে ভিড় জমান। যার বদৌলতে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে। ঢাকার পার্শ্ববর্তী শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নেই দীর্ঘ এ যুগেরও অধিককাল। সর্বশেষ ২০০৩ সালে জাজিরা উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দ্বারাই ঢিলেঢালাভাবে চলছে কার্যক্রম। দুই ধারায় বিভক্ত জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। বাকিরাও বিভিন্ন শাখা-উপশাখায় যুক্ত হয়ে ব্যস্ত টেন্ডারবাণিজ্যে। বেশিরভাগ সময়ই দলীয় কার্যালয় তালাবদ্ধ থাকে। তবে কোনো কর্মসূচি থাকলে কার্যালয় খোলা হয়। দায়সারাভাবে তারা ওই কর্মসূচিও পালন করে। ফলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা বিভ্রান্ত হয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে অর্থ আত্মসাতের দায়ে দুদকের মামলায় কারাগারে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুর রব মুন্সি। একই চিত্র চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল মহানগরীসহ প্রায় জেলা ও উপজেলাগুলোয়। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দায়িত্বে গেলে আর দলের খবর নেওয়ার সময় থাকে না। ব্যস্ত হয়ে পড়েন আখের গোছাতে। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। দলীয় কর্মীরাও নিষ্ক্রিয়তায় পড়ে টেন্ডারবাজি নিয়ে বিবাদে জড়াচ্ছেন। এসব রোধ করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন বলে এড়িয়ে যান।

বিস্তারিত»
জয় নিখোঁজের দ্বিতীয় দিন পার

মুহাম্মদ চেরাগ আলী, গোলাপগঞ্জ(সিলেট) থেকে: যে শিশুটির অপুরণীয় আব্দার ছিল প্রতিনিয়ত পিতা মাতার কাছে। যার মুখের দিকে তাকিয়ে সংসারের অনেক অনাকাংখিত সমস্যার অবসান হত। আজ দু’দিন হয় সবই আছে শুধু সে নেই। তার শুণ্যতায় সারাটি সংসার যেন নিঃপ্রান হয়ে গেছে। গোলাপগঞ্জ উপজেলার বুধবারীবাজার ইউনিয়নের কালিজুরী গ্রামের নানু মিয়ার ছেলে লিছান আহমদ জয় (৮)গত ২৭ আগষ্ট বিকেল ৫ টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরে আসেনি। সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজা খোঁজির পর আজোবদি তার খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের সবাই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পারিবারিক সুত্র জানায় গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় লিছান আহমদ জয় তার বড় ভাইয়ের জন্য ফ্লাক্সে করে চা নিয়ে মাঠে যায়। বড় ভাই চায়ের ফ্লাক্স রেখে তাকে বিদায় দিলে সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। এদিকে জয়ের মা বড় ছেলের কাছে তাকে পাঠিয়ে নিশ্চিন্তে ছিলেন, ভাবছিলেন হয়তো জয় তার বড় ছেলের কাছে রয়েছে, সে সময় তিনি আর কোন খোঁজ নেন নি। সন্ধা সাড়ে ৭টায় বড় ছেলে বাড়ি ফিরে এলে জয়ের কথা জিজ্ঞাস করে জানতে পারেন জয় তখনই চলে আসছে, শুরু হয় খোঁজা খোঁজি। কিন্তু কোথাও তাকে পাওয়া যায়নি। অনেকের ধারণা অত্র এলাকায় বন্যা দেখা দেয়ায় জয় হয়তো পানিতে ডুবে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে, তবে এ সময় পানিতে ডুবলে কারো না কারো চোখে পড়তো বলে অনেকের মন্তব্য। জয় অপহরণ হবে তাও কেউ মেনে নিতে পারছেন না। তবে তার অবস্থান কোথায়? এমন গোলক ধাঁধাঁয় পড়ে সবাই এখনো জয়ের খোঁজে। এদিকে জয়কে হারিয়ে তার পিতা মাতা সয্যাশায়ী। জয়ের মামা রুবেল আহমদ জানান যদি কোন সুহৃদ ব্যক্তি জয়ের কোন সন্ধান পান তবে 01789369795/ 01715141540 নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডাইরীও করা হয়েছে।

বিস্তারিত»
জানুয়ারি থেকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ১০,০০০ টাকা

ঢাকা: আগামী জানুয়ারি থেকে মুক্তিযোদ্ধারা ১০ হাজার টাকা ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক। শুক্রবার বিকেলে নবাবগঞ্জে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আলোচনা সভায় খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি-জামায়াত বিগত সময়ে আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচারের মতো এদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে।

বিস্তারিত»
শুধু এমআরপিতে মিলবে ভারতীয় ভিসা

কূটনৈতিক রিপোর্টার: হাতে লেখা পাসপোর্টের দিন শেষ হয়ে আসছে। আগামী ৩১শে আগস্ট ভারতীয় ভিসা আবেদনে এটি একেবারেই অকার্যকর হয়ে যাবে। ১লা সেপ্টেম্বর থেকে দেশটির ভিসার আবেদনে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সাধারণ বিমান চলন সংগঠনের নীতিমালা অনুযায়ী আগামী ১লা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সাল থেকে কোন হাতে লেখা পাসপোর্ট ইন্ডিয়ান ভিসা আবেদনের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে না। তাই সমগ্র বাংলাদেশ, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া পরিচালিত ‘ইন্ডিয়ান ভিসা আবেদন কেন্দ্রে’ শুধু মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট গ্রহণ করা হবে। রাতে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও মানবজমিনকে বলেন, এমনিতেই হাতে লেখা পাসপোর্টধারীদের আবেদন কমে এসেছিল। ১লা সেপ্টেম্বর থেকে তা একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে।  

বিস্তারিত»
বিয়ের দিন স্কুলগামী মেয়েটিকে মলিন হয়ে থাকতে হলো

সিলেটের আলাপ ডেস্ক:দিনটি হতে পারতো নাওশিন আকতারের জীবনের সবচেয়ে সুখের দিন। কিন্তু ১৫ বছরের নাওশিনকে দেখাচ্ছিল বিধ্বস্ত। এ কিশোরী নিজের জন্মদিনের উৎসব বা অন্য কোনো অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল না। তাকে জোর করে ৩২ বছর বয়সী এক যুুবকের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হচ্ছিল। বৃটিশ পত্রিকা ডেইলি মেইলের একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাওশিন আকতারের বিয়ের এ চিত্র। তাতে বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকার পাশে মানিকগঞ্জের মেয়ে নাওশিন। বিয়ের দিন স্কুলগামী মেয়েটিকে মলিন হয়ে থাকতে হলো। এমনকি একপর্যায়ে ভীত হয়ে ওঠে সে। দুঃখের বিষয় হলো, বাংলাদেশে নওশিন একা নয়। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি হারে বাল্যবিবাহ হওয়া দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এ মাসের শুরুর দিকে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সে প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ২৯ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয় ১৫ বছর বয়সেরও আগে! শতকরা ৬৫ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয় ১৮ বছরেরও আগে। বাল্যবিবাহ একটি মেয়ের ওপর ভীষণ নেতিবাচক ও বিপজ্জনক প্রভাব ফেলতে পারে। ‘গার্লস নট ব্রাইডস’ নামে একটি সংগঠনের গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ কিশোরী বধূকেই বিয়ের পর পড়াশোনা থামিয়ে দিতে হয়। যেসব মেয়ে ১৫-২০ বছর বয়সে গর্ভবতী হয়, তাদের শিশু জন্মদানের সময় মৃত্যুর ঝুঁকি ২০ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সী গর্ভবতী নারীদের চেয়ে দ্বিগুণ। অপরদিকে ১৫ বছরের কম বয়সী মেয়েদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি ৫ গুণ বেশি। অপরদিকে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যকার বয়সের অত্যধিক ব্যবধান ঘরোয়া সহিংসতা ও যৌন নির্যাতনের অন্যতম কারণ। বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও দরিদ্রতা বাল্যবিবাহের অন্যতম প্রধান কারণ। অল্প বয়সে মেয়ে বিয়ে দেয়া হলে তার দরিদ্র পিতামাতাকে অনেক বেশি যৌতুক দিতে হয় না। এছাড়া অর্থনৈতিকভাবেও নারীদের আয় পুরুষদের আয়ের চেয়ে অনেক কম। পিতা-মাতা এ-ও বিশ্বাস করেন, বিয়ে দেয়া হলে যৌন নির্যাতন ও হয়রানি থেকে মেয়েকে রক্ষা করা যাবে। ২ সপ্তাহ আগে, এক বাংলাদেশী বিবাহিত নারী ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হন। শ্বশুরপক্ষকে তার পিতা যৌতুক দিতে না পারায়, তাকে এসিড গিলতে বাধ্য করা হয়। রিপা রানী পণ্ডিত নামের ওই নারীর মুখ এখন স্থায়ীভাবে বিকৃত হয়ে গেছে। এছাড়া শারীরিক বিভিন্ন ক্ষত তো রয়েছেই। অভিযোগ রয়েছে, তার ওপর প্রায় ৮ মাস ধরে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছিল। রিপার পরিবারের দাবি, তাকে প্রথম শ্বশুর আক্রমণ করে। কেননা, রতন পণ্ডিতের (স্বামী) বিয়ে হওয়ার আগে দু’ পরিবারের মধ্যে যৌতুক লেনদেনের ব্যাপারে কথা হয়। সে অনুযায়ী বিয়ের পর যৌতুক দিতে না পারায় নিষ্ঠুর নির্যাতন সহ্য করতে হয় রিপাকে। গত বছরের ডিসেম্বরে বিয়ে হওয়ার পর থেকে ২৩ বছর বয়সী রিপাকে প্রতিনিয়ত নির্যাতন করা হতো। ২০০০ সালের পর থেকে বাংলাদেশে ৩ হাজার এসিড আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশের এসিড সার্ভাইভার্স ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠনের মতে, প্রায় সব এসিড আক্রমণের শিকার হয়েছে নারী বা মেয়েরা। ভুক্তভোগী অনেকের বয়স ১৮ বছরেরও কম। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ ধরনের সহিংসতার পেছনের কারণ থাকে, যৌতুক, প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান অথবা জমি নিয়ে বিরোধের মতো ঘটনা।

বিস্তারিত»
জঙ্গিবাদ রোখার লড়াইতে পোর্টসমাথের বাংলাদেশিরা

লন্ডন: পোর্টসমাথের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম দু বছর ধরে উত্তর খুঁজেছেন কেন তার ছেলে মেহেদি হাসান কাউকে কিছু না বলে সিরিয়ায় যুদ্ধ করতে চলে গেল। নুরুল ইসলাম। এখনও উত্তর খুঁজছেন কেন তার ছেলে মেহেদি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে সিরিয়ায় যুদ্ধ করতে গিয়ে প্রাণ হারালো তার চার ছেলেমেয়ের মধ্যে দ্বিতীয় এই ছেলেটি ছিল সবচেয়ে মেধাবী। সে কারণে, হাজারো কষ্ট হলেও অনেক খরচের বেসরকারি স্কুলে পাঠিয়েছিলেন ছেলেকে। স্কুল পাশ করে সাস্ক্সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার এক মাসের মধ্যে কাউকে কিছু না বলে শহরের আরও পাঁচটি তরুণের সাথে ইসলামিক স্টেটের হয়ে যুদ্ধ করতে দিতে সিরিয়ায় চলে যায়। 'সে ধার্মিক ছিল। আমি জানতাম সে দাওয়ার (ধর্মের) কাজ করছে। ভেবেছিলাম ভালো কাজই তো করছে। অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ছিল...কখনো মনে কোনো সন্দেহ হয়নি সে এরকম কাজ করতে পারে।' মেহেদিকে ফিরিয়ে আনতে নুরুল ইসলাম এবং স্ত্রী তুরস্কের আকসাকালি সীমান্তে ১৯ দিন ছিলেন। ছেলের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগও করতে পেরেছিলেন। 'সে চলে আসতে রাজিও হয়েছিল। সীমান্ত থেকে দু-তিন মিনিটের দূরত্বের তাকে তারা ধরে ফেলে নিয়ে নিয়ে যায়।' পরে নুরুল ইসলাম খবর পান গত বছর অক্টোবরের ২৪ বা ২৫ তারিখে সিরিয়ার কোবানি শহরে আইএসের হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে মেহেদি মারা যায়। সিরিয়ার তেল আবিয়াদ শহরে তার দাফন হয়েছে। ছেলের কথা বলতে গিয়ে বার বার তার গলা ধরে আসছিল। 'আমি এবং আমার স্ত্রী আমার চার ছেলেমেয়েকে মানুষ করার জন্য, তাকে শিক্ষিত করার জন্য সবরকম চেষ্টা করেছি। তারপরও যদি এই কাণ্ড হয়, তাহলে আমি তাকে নিয়তি ছাড়া আর কি বলবো।' ইমেজ সঙ্কটে পোর্টসমাথের বাংলাদেশিরা পোর্টসমাথ থেকে ছজন মুসলিম তরুণ সিরিয়ায় চলে গেছে, এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকুলে সমুদ্র তীরের ছিমছাম সমৃদ্ধ এই শহরটি পুরো বৃটেনের নজরে পড়ে যায়। ২০১৩ সালের অক্টোবরের কথা। কিছুদিন পর যখন অস্ত্র হাতে তাদের ছবি-ভিডিও জেহাদি ওয়েবসাইটগুলোতে দেখা যেতে থাকে এবং জানা যায় যে এরা সবাই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত, জঙ্গিবাদের সাথে জড়িয়ে যায় পোর্টসমাথের বাংলাদেশি কম্যুনিটির নাম। গত দু বছর ধরে ওই ছজনের মধ্যে একে একে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন স্বজনরা। সর্বশেষ মৃত্যুর খবর এসেছে জুলাইতে ইফতেখার জামানের। একজন শুধু বেঁচে ফিরে আসতে পেরেছেন। তবে মাসুদুর চৌধুরী নামে ওই যুবক এখন সন্ত্রাস আইনে বৃটেনের কারাগারে। পোর্টসমাথ এবং আশপাশের এলাকায় হাজার সাতেক বাংলাদেশির বসবাস। দুদিন ধরে শহরের অন্তত দু ডজন লোকের সাথে কথা বলেছি যারা কোনও না কোনোভাবে এই ছজন তরুণকে প্রত্যক্ষভাবে চিনতেন। অনেকে প্রতিবেশী বা বন্ধু পুত্র হিসেবে চোখের সামনে বড় হতে দেখেছেন। সবারই কম বেশি একই কথা – হ্যাঁ ছেলেগুলো ধার্মিক ছিল, মসজিদে যেত, কিন্তু এভাবে জঙ্গিবাদে দীক্ষা হবে তা তারা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি। আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে সিরিয়ায় ইয়াহিয়া চৌধুরী প্রথম বাংলাদেশি যিনি পোর্টসমাথ নগর সরকারে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। এই ছজন তরুণকে এবং তাদের পরিবারগুলোকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন। মসজিদে প্রায় প্রতিদিনই তাদের সাথে দেখা হতো। মাঝে মাঝে কথাও হতো। নগর ভবনে তার অফিসে বসে কথা বলার সময় কাউন্সিলর চৌধুরী বার বার বলছিলেন, ওদের সিরিয়ার চলে যাওয়ার কথা তিনি কিছুদিন বিশ্বাসই করতে পারেননি। 'আমি শুধু ভাবছিলাম কিভাবে এটা সম্ভব।' মাসুদুর চৌধুরী নামে যে যুবকটি এখন কারাগারে সে ছাত্রজীবনে মি চৌধুরীর একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করতো। ‘খুবই আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ছিল ছেলেটির, আমাকে একদিন বলেছিল, আইনজীবী হতে চায় সে। অথচ এখন সে জেলে।' কাউন্সিলর চৌধুরীর দৃঢ় বিশ্বাস ইন্টারনেটের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে দীক্ষা হয়েছিল তার। তবে পোর্টসমাথে বাংলাদেশিদের মধ্যে অনেকেরই বিশ্বাস বাইরে থেকে ধর্ম প্রচারের কথা বলে আসা কিছু লোক এই ছয় তরুণকে সিরিয়ায় যেতে উদ্বুদ্ধ করেছে। স্পষ্ট করে না বললেও নুরুল ইসলামেরও ধারণা, কেউ না কেউ তার ছেলের মাথা নষ্ট করেছিল। 'কিছু মানুষ ইসলামের কথা বলে অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের বিপথগামী করছে। মসজিদে কেউ যদি দাওয়ার কথা বলে আসে, আলোচনার জন্য তাদের জায়গা দেওয়া হয়, কিন্তু তারা যে ব্যতিক্রমধর্মী কিছু করবে তা তো কেউ জানেনা।' বিতর্কিত মসজিদ ওই ছটি তরুণ চলে যাওয়ার পর সন্দেহের নজর পড়ে পোর্টসমাথ জামে মসজিদের ওপর। কারণ ওই ছেলেগুলো এখানেই প্রায়ই নামাজ পড়তে আসতো। গত বছর বহুবার বৃটেনের কট্টর অভিবাসন বিরোধী সংগঠন ইংলিশ ডিফেন্স লীগ বা ইডিএল মসজিদের বাইরে বিক্ষোভ করেছে। মসজিদটি শহরের বাংলাদেশিরাই চালান। নামাজ পড়তে যারা আসেন তাদের সিংহভাগই বাংলাদেশি। এক আসরের নামাজের পর মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি সালিকুর রহমান আত্মপক্ষ সমর্থন করে বললেন মসজিদের পক্ষে প্রতিটি মানুষের ওপর নজর রাখা অসম্ভব। 'যে ছেলেগুলো চলে গেছে তারা এদেশের নাগরিক, এখানে জন্ম, যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে তার দায় এদেশের পুলিশের, তারা মুসলমান ছিল বলে সব দায় মসজিদের, এটা ভুল ধারণা।' মসজিদের ইমাম জানালেন, প্রতি শুক্রবারের জুমার নামাজের পর খুৎবায় তিনি জিহাদের প্রকৃত অর্থ বোঝানোর চেষ্টা করছেন, ভিন্নধর্মীদের সাথে আচরণ নিয়ে ইসলামের শিক্ষা ব্যাখ্যা করছেন। 'অনেকে ভাবেন মসজিদ সবকিছু করতে পারে, সেটা ঠিক নয়, ধর্মের বিষয়ে আমার প্রশিক্ষণ আছে, কিন্তু নজরদারি করার প্রশিক্ষণ তো আমার নেই।' কেন জঙ্গিবাদে টান? প্রধানত যে বয়সের ছেলেমেয়েদের নিয়ে উদ্বেগ তারা বৃটিশ মুসলিম তরুণদের মধ্যে জঙ্গিবাদের প্রভাব নিয়ে কি ভাবছে? ১৭ বছরের ইমাদ চৌধুরী পোর্টসমাথের সেন্ট জনস কলেজে এ লেভেল করছে। তার শহরের যে পাঁচ তরুণ সিরিয়াতে গিয়ে মারা গেছে, তাদের একজনকে সে বেশ ভালই চিনতো, অন্য তিনজন তার মুখ চেনা ছিল। কেন তার বয়সী তরুণরা এভাবে জঙ্গিবাদে দীক্ষিত হচ্ছে ? রিদওয়ানের উত্তর ছিল, অতিরিক্ত ধার্মিক ছেলেগুলো তেমন বাইরে যায়না, কারো সাথে মেশেনা। বাইরের মানুষ যা করে, সেটাকে তারা ঘেন্না করে, ইসলামবিরোধী মনে করে। 'এভাবেই হয়তো আস্তে আস্তে তাদের মন বিষিয়ে যায়।' কি করা যায় তাদের নিয়ে ? রিদওয়ানের ধারণা মুসলিম কিশোর-তরুণদের সমাজে অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। যে কোনও ইস্যু নিয়ে তারা যাতে খোলামেলা আলোচনা করতে পারে, তার পথ তৈরি করতে হবে। সন্তান রক্ষার লড়াই বাস্তবে কতটুকু সত্যি সেটা জানা কঠিন হলেও বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক মানুষের ধারনা বিশেষ করে কম বয়সী মুসলিম কিশোর তরুণদের ওপর, শহরের মসজিদগুলোর ওপর গত দু বছর ধরে পুলিশ কড়া নজরদারি করছে। শান্তিপূর্ণ জনগোষ্ঠী হিসাবে তাদের যে সুনাম এখানে ছিল সেটা যে কিছুটা হলেও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে তা কম-বেশি সবাইই স্বীকার করলেন। পোর্টসমাথ জামে মসজিদ ভবনেই মানি ট্রান্সফার ব্যবসার অফিস রয়েছে ফয়জুর রহমানের। বললেন, ওই ছয় তরুণের চলে যাওয়ার পর বেশ কিছু দিন মিডিয়ায় ক্রমাগত প্রচার, মসজিদের সামনে ইডিএলের বিক্ষোভ নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি আশঙ্কায় কেটেছে তাদের। 'আর যাতে এই রকম খবর শুনতে না হয় তার আমরা এখন অনেক সতর্ক, নিজের ছেলে-মেয়েদের ওপর আগের চেয়ে নজর রাখার চেষ্টা করছি'। পোর্টসমাথে মুসলিম কিশোর তরুণদের মধ্যে জঙ্গিবাদের প্রভাব বন্ধে স্থানীয় সিটি কাউন্সিল প্রিভেন্ট নামে একটি কর্মসূচি নিয়েছে। তিনশর মত স্কুল-কলেজ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা জঙ্গি মানসিকতার উপসর্গগুলো বুঝতে পারেন এবং সে মত পুলিশকে এবং পরিবারকে জানাতে পারেন। তবে সমাজ, পুলিশ এবং সংবাদমাধ্যমের সন্দিহান দৃষ্টিতে পড়ে যাওয়া পোর্টসমাথের বাংলাদেশি বাবা-মারা কর্তৃপক্ষের ওপর ভরসা করছেন না। ইসলামি জঙ্গিবাদ থেকে সন্তানদের আগলে রাখার দায়িত্ব গত দুবছরে তারাই হাতে তুলে নিয়েছেন।– বিবিসি

বিস্তারিত»
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলের নাম পরিবর্তনের দাবি

ঢাকা: আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ৫৬ হাজার বর্গমাইলে কোনো খুনির নামে স্থাপনা থাকতে পারে না। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান শত শত মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসারকে হত্যা করেছেন। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে খুনিদের বিচার বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। স্বাধীনতা বিরোধী শাহ আজিজুর রহমানকে এ দেশের প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিলেন। তাই মুক্তবুদ্ধি চর্চার তীর্থস্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খুনি জিয়াউর রহমানের নামে হল থাকতে পারে না। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রলীগকে দৃঢ় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান ছাত্রলীগের সাবেক এ নেতা। শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল শাখা ছাত্রলীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   খালিদ বলেন, “সম্প্রতি খুনি-যুদ্ধাপরাধীদের নামে খুলনায় একটি সড়ক ও কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হল থাকায় তা পরিবর্তনের জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। তেমনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো খুনির নামে হল থাকতে পারেনা।” এসময় তিনি বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনে বঙ্গমাতার অসামান্য অবদানের নানা দিক তুলে ধরেন। হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি খাদিজাতুল কোবরার সভাপতিত্বে হলের প্রাধ্যক্ষ্য ড. সাবিতা রেজওয়ানা রহমান, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, আওয়ামী লীগের উপ কমিটির সহ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স বক্তব্য রাখেন।

বিস্তারিত»
আওয়ামী লীগের অনেকেই শেখ হাসিনাকে দুর্বল করতে চান’

স্টাফ রিপোর্টার:ষড়যন্ত্রকারীদের একটি অংশ আওয়ামী লীগের নাম নিয়ে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ। তিনি আরও বলেছেন, আওয়ামী লীগে এমন অনেক নেতা আছেন যারা শেখ হাসিনাকে দুর্বল করতে চান। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ভিআইপি লাউঞ্জে জাতীয় শোক দিবসের এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। আ স ম ফিরোজ বলেন,  স্বাধীনতা বিরোধী চক্র নানা অজুহাতে নানা লেবাসে দলের মধ্যে ঢোকার চেষ্টা করছে। এরা শুধু আওয়ামী লীগের নয়, এরা দেশ  ও মানুষের শত্রু। শেখ হাসিনা এদেরকে সাহসিকতার সঙ্গে দমন করে দেশকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করেছেন। আগামীতে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। তিনি বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতা চাননি সেই কুচক্রী মহল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেছে। এর মূল নায়ক ছিলেন জিয়াউর রহমান। জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাসায় বসেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। চিফ হুইপ আরও বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা ২১শে আগস্ট শেখ হাসিনাকেও হত্যার চেষ্টা করেছে। আর এর মূল নায়ক ছিলেন তারেক জিয়া।  সভায় সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংহতি পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ শেখ আবদুল হালিম। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মোহিত উল আলমসহ অন্যরা।

বিস্তারিত»
আরকান আর্মির আস্তানা ঘেরাও

বান্দরবান: মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ ‘আরাকান লিবারেশন পার্টি (এএলপি) আরকান আর্মির সন্ত্রাসীদের ধরতে থানছিতে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার সকালে সীমান্তে যৌথবাহিনীর চিরুনি অভিযানের মুখে আরকান আর্মির সদস্যরা পিছু হটে। পরে একটি দল বড়মধক ক্যাম্প থেকে ৪/৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ঙারেসাক্ষ্যং নামক স্থানে আরকান আর্মিদের একটি আস্তানার সন্ধান পায়। বিকেল থেকে ওই আস্তানাটি ঘিরে রেখেছে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা।  বিজিবির সূত্রমতে, সাঙ্গু রিজার্ভসহ সম্ভাব্য এলাকাগুলোতে যৌথবাহিনীর সদস্যরা চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে অভিযান পরিচালনা করতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে যৌথবাহিনীর সদস্যদের।  এর আগে বৃহস্পতিবার থানছির বড়মদক বিজিবি ক্যাম্পে হামলার ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। এসময় বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কোনো অবস্থাতেই যেন দেশের মাটি ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যৌথবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। একই সময়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সর্তকতার সঙ্গে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়ার পর সীমান্ত এলাকায় বিপুল সংখ্যক সৈন্য মোতায়েন করে শক্তি বৃদ্ধি করে সেনাবাহিনী। এদিকে গত বুধবার আরাকান আর্মির সঙ্গে বিজিবির বন্দুকযুদ্ধের পর থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত বড় মদক এলাকায় দোকানপাট বন্ধ দেখা গেছে। ভয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছে না স্থানীয় বাসিন্দারা।    বুধবার বিকেলে বান্দরবান, বলিপাড়া, রুমা ও আলীকদম জোন থেকে দুটি হেলিকপ্টারে আসা সেনা ও বিজিবি সদস্যরা বড়মদক এলাকায় অবস্থান নেয়। বিকেলে পুরো এলাকায় তারা সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। তবে বর্ষার বৃষ্টি আর রাতের অন্ধকারে গহীন অরণ্যে অভিযান কিছুটা ব্যাহত হয়। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নতুন করে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়। উল্লেখ্য, ২৬ আগস্ট মিয়ানমারের আরাকান আর্মির সদস্যরা গুলি চালিয়ে বিজিবির দুই সদস্যকে আহত করে। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে বিজিবি ও আরাকান আর্মির মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ চলে। এক পর্যায়ে পিছু হটে সন্ত্রাসীরা। পরে আহত নায়েক জাকির হোসেন ও সিপাহী আব্দুল গনিকে বড় মদক ক্যাম্পে চিকিৎসা দেয়া হয়। এর মধ্যে জাকিরকে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়।

বিস্তারিত»
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ছাত্রলীগ কর্মীসহ আটক ৩

জয়পুরহাট : জয়পুরহাটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করে উত্তর লিখে মোবাইল ফোনে সরবরাহ  ও পরীক্ষা কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে দুই ছাত্রলীগ কর্মীসহ ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে ছাত্রলীগ কর্মী আব্দুল হান্নানকে  ৬ মাসের কারাদ- দিয়েছে  ভ্রাম্যমান আদালত। অপর দুজনের বিরুদ্ধে জয়পুরহাট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে জয়পুরহাট সরকারি কলেজ কেন্দ্রে নিয়োগ পরীক্ষাকালে এ ঘটনা ঘটে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আটক  কবীর হোসেন (২৪) ঢাকার  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের মাষ্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ও আবু কাহার (২৩) জয়পুরহাট সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র। অন্য দিকে এ পরীক্ষা চলাকালে জয়পুরহাট সরকারি কলেজ কেন্দ্রে অবৈধ ভাবে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে দন্ডপ্রাপ্ত আব্দুল হান্নানও (২৪) জয়পুরহাট সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাষ্টার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র। এদের মধ্যে আবু কাহার  ও আব্দুল হান্নান ছাত্রলীগ কর্মী জানিয়েছে পুলিশ । জয়পুরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি ) আনোয়ার হোসেন জানান, আজ  বিকালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে শহরের প্রফেসর পাড়ার জনৈক ওয়াহেদ আলীর বাসায় অভিযান চালিয়ে উত্তর লিখে মোবাইল ফোনে সরবরাহ করার সময় পরীক্ষার কেন্দ থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র সহ ওই দুই যুবককে পুলিশ আটক করে । এ ছাড়া পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রে মোবাইল ফোন না নিয়ে যেতে পরীক্ষার্থীদের অনুরোধ করা সত্ত্বেও কয়েক জন উচ্ছৃঙ্খল বহিরাগত যুবক পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে অবৈধ ভাবে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করায় আব্দুল হান্নান (দন্ডপ্রাপ্ত) কে আটক করা হয়। আটকের পর বিকেলে এদের মধ্যে আব্দুল হান্নানকে  ৬ মাসের কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। রাতে অপর দুজনের বিরুদ্ধে জয়পুরহাট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।  

বিস্তারিত»
উন্নত জীবনের সন্ধানে মরিয়া মানুষের ট্রানজিট লিবিয়া

ঢাকা: উন্নত জীবনের আশায় অনেক দেশের মানুষ ইউরোপে যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় পেতে ইউরোপ যেতে তাদের ট্রানজিট দেশ লিবিয়া। লিবিয়ার আর্থিক আর নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি সেখানে বসবাসকারী বাংলাদেশী পরিবারগুলোকে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েও সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যেতে উৎসাহী করে তুলেছে। বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত সায়েদুল ইসলামের এক প্রতিবেদনে এমনই তথ্য উঠে এসেছে।   শুক্রবার ভোরে লিবীয় উপকূলের কাছে কয়েক শ অভিবাসন-প্রত্যাশী নিয়ে যে দুটি নৌকা ডুবেছে, তাতে বাংলাদেশী ৪টি পরিবারের মোট ৩১ জন সদস্য ছিলেন। তারা সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাদের মধ্যে দুটি শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তিউনিসিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশের লিবিয়া দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা । দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মোজাম্মেল হক বলছেন, এই পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ায় বসবাস করছিলেন, কিন্তু সেখানকার আর্থিক আর নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় তারা ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।   দূতাবাসের হিসাবে, লিবিয়ায় এখন কুড়ি হাজারের বেশি বাংলাদেশী রয়েছে। কিন্তু লিবিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। এ ছাড়া ডলারের বিপরীতে দিনারের বিনিময় হার কমে যাওয়ায় তাদের আয়ও অনেক কমেছে। এসব কারণে লিবিয়ায় থাকা অনেক বাংলাদেশী পরিবারই ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছে। সমুদ্রে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও, তাদের বারবার সতর্ক করার পরও তারা এভাবে সমুদ্র পাড়ি দেয়। মোজাম্মেল হক  বলেন, এই পরিবারগুলোয় লিবিয়ায় তাদের সব সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তাই তাদের সঙ্গে এমনকি যোগাযোগের কোনো ফোনও নেই।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, এর বাইরে একটি পাচারকারী চক্র বাংলাদেশ থেকেও পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশীদের লিবিয়া হয়ে ইউরোপে পাঠানোর চেষ্টা করে। প্রতিমাসে এভাবে পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশীকে জাল ভিসা ও কাগজপত্র তৈরি করে চট্টগ্রাম থেকে বিমানে করে, মধ্যপ্রাচ্য হয়ে, লিবিয়া নিয়ে আসা হয়েছে। পরে এখান থেকে তাদের ট্রলারে তুলে দেয়া হয়। কয়েক মাস আগে এই বিষয়টি উল্লেখ করে বাংলাদেশের লিবিয়া দূতাবাস ঢাকায় কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির নাম উল্লেখ করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য একটি প্রতিবেদনও পাঠিয়েছে। ফলে গত দুই মাস ধরে এই প্রবণতা কিছুটা কমেছে বলে দূতাবাস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আফ্রিকা ও এশিয়ার আরো অনেক দেশের মানুষ এভাবে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাদের ট্রানজিট রুট হিসেবে লিবিয়াকে ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক সময় নৌকায় তুলে সেটি মাঝসমুদ্রে ডুবিয়ে দেয়ারও ব্যবস্থা করে এই পাচারকারীরা। এরপর তারা উদ্ধারকারীদের খবর দেয়, যেন তাদের উদ্ধার করে আশ্রয় দেয়া হয়। কিন্তু মাঝপথে মারা পড়ে অনেক মানুষ। আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিশেষজ্ঞ সি আর আবরারের মতে, অভিবাসনের মরিয়া প্রবণতাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে এই পাচার চক্র। আবরার বলেন, বৈধ পথে বিদেশে কাজের জন্য যাওয়ার সুযোগ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বন্ধ বা সীমিত হয়ে গেছে। কিন্তু মানুষের ভালো কাজের আকাঙ্ক্ষা তো আর কমেনি। তাই বিভিন্ন অবৈধ পথে মানুষ মরিয়া হয়ে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আর এরই সুযোগ নিচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক চক্র। তারা জলপথে, আকাশপথে এই মানুষদের লোভ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আর এরাও ভাবছে, অন্যদের যা-ই হোক, আমার কিছু হবে না। তাই তারাও ঝুঁকি নিচ্ছে। আবরার বলেন, এর সঙ্গে দেশগুলোর একটি মহল জড়িত রয়েছে বলে ধারণা করা যায়। নাহলে এভাবে বিমানে করে, সরকারি নজরদারি এড়িয়ে তাদের অন্য দেশে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো না। এটি বন্ধে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগও দরকার বলে তিনি মনে করেন। জাতিসংঘের হিসাবে, লিবিয়ার উপকূল থেকে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টায় এ বছরই দুই হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানালেন, প্রতিদিনই লিবিয়া থেকে বিভিন্ন দেশের অনেক নৌকায় করে মানুষ ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে হতাহতের ঘটনা না ঘটলে সেটি আর আলোচনায় আসে না।- বিবিসি।

বিস্তারিত»
ফরমালিন মুক্ত ফল খেতে বাড়ীর আঙ্গিনায় ফলদ বৃক্ষের চারা রোপনের বিকল্প নেই  মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি

সিলেট-৩ আসনের এমপি, প্যানেল স্পীকার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী বলেছেন ফরমালিন মুক্ত ফল খেতে হলে আমাদেরকে বাড়ীর আঙ্গিনায় ফলদ বৃক্ষের চারা রোপন করতে হবে। শুধু দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করলে চলবে না, সুস্থ্য থাকার জন্য ফলজ বৃক্ষের বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্প চালু করেছেন, এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিটি বাড়ীতে পুকুরে মাছ চাষ, বেশি বেশি করে ফলজ গাছ রোপণ করা, হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগল পালন করার মাধ্যমে নিজে স্বাভলম্বি হওয়ার পাশাপশি দেশ উপকৃত হবে। তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়তে কৃষকদের অনাবাধি জমি চাষের আওতায় আনার আহবান জানান। এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী গতকাল দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ৩দিনব্যাপী ফলদ বৃক্ষমেলা ও চারা বিতরণী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্রাবস্তী রায় এর সভাপতিত্বে ও উপজেলা সমাবায় কর্মকর্তা চন্দন দত্তের পরিচালনা আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপ-পরিচালক খায়রুল বাশার, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ মোঃ ইমাদ উদ্দিন নাসিরী, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সাইফুল আলম, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা আলহাজ্ব ময়নুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব চুনু মিয়া, যুগ্ম সম্পাদক রাজ্জাক হোসেন, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শায়েস্তা মিয়া, মোগলাবাজার থানার ওসি শফিকুল ইসলাম, লতিফা শফি চৌধুরী মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আমিরুল আলম খান। উপজেলা কৃষি অফিসার আবাহন মজুমদ এর স্বাগত ব্যক্তব্যের মাধ্যমে সূচিত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দাউদপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম আলম, সিলাম ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মকবুল হোসেন মাখন, জেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি দুদু মিয়া, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কুটি মিয়া, আওয়ামীলীগ নেতা শাহ ছমির উদ্দিন, কামাল উদ্দিন রাসেল, আব্দুস সালাম মর্তু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফাজ উদ্দিন, তাহসিন আহমদ দীপু, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক নুরুল ইসলাম, মোগলাবাজার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শানর মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মহি উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক সেলিম আহমদ, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতার হাজী আব্দুল মতিন, মুহিত হোসেন, আহমদ হোসেন খোকন, আতিকুর রহমান প্রমুখ। পরে এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিনামূল্যে ১৫টি করে নারিকেলের চারা বিতরণ করেন। এর আগে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালী শেষে প্রধান অতিথি মেলার স্টল পরিদর্শন করেন।  

বিস্তারিত»
‘বিএনপি বিরোধী কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করিনি, নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি নেই

লন্ডন: যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক করিম উদ্দিন বলেছেন, যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তার অতীতেও কোনো আপত্তি ছিলো না, এখনোও নেই। অতি সম্প্রতি কিছু ভুল বুঝাবুঝির কারণে নবগঠিত কমিটি থেকে তাকে দেয়া অব্যাহিত আদেশ প্রত্যাহারের জন্য সভাপতি-সম্পাদকের কাছে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য বিএনপি বিরোধী কোনো সভা বা সংবাদ সম্মেলনে তিনি কখনো অংশগ্রহণ করেননি বা এসবের কোন কিছুতেই তার কোন সম্পক্তৃতা নেই। সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিবৃতিতে করিম বলেন, তিনি বিএনপির আদর্শের সৈনিক। দলীয় স্বার্থ ও শৃঙ্খলা বিরোধী কোনো কিছুতে জড়িত হয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার মানসিকতা তার নেই। দলে পদ পাওয়া বড় কথা নয়, কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে না থেকেও দলের স্বার্থে কাজ করা যায়। দীর্ঘ ১৫ বছর বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত উল্লেখ করে বিবৃতিতে করিম উদ্দিন আরও বলেন, তিনি বাংলাদেশের আপামর মানুষের মহান নেতা, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শের একজন একনিষ্ঠ সৈনিক। যুক্তরাজ্য বিএনপির গত কমিটিতে তিনি সহসাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারপারসন দেশনায়ক তারেক রহমানের উপর অবিচল আস্থা রেখে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদের নেতৃত্বে তিনি যুক্তরাজ্যে শেখ হাসিনা বিরোধী প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। বর্তমান কমিটির সভাপতি এম এ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে অতীতের মতো অংশগ্রহণের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে করিম উদ্দিন বলেন, দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে যুক্তরাজ্য বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সকল নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধভাবে প্রবাস থেকে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতন ত্বরান্বিত করতে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

বিস্তারিত»
২০১৮ সালের মধ্যে ছাতক-দোয়ারার প্রতিটি গ্রাম বিদ্যূতের আওতায় আনা হবে -মুহিবুর রহমান মানিক এমপি

ছাতক প্রতিনিধি:পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক এমপি বলেছেন, ছাতক-দোয়রার ২২টি ইউনিয়নে বিদ্যূতায়নের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। পর্যাক্রমে প্রতিটি গ্রামের মানুষই বিদ্যূত সুবিধা ভোগ করতে পারবে। আগামী ২০১৮ সালের মধ্যে ছাতক-দোয়ারার প্রতিটি গ্রাম বিদ্যূতের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাতক-দোয়ারায় অভূতপূর্ন উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে আমেরতল  বাজার সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে উত্তর খুরমা, দক্ষিন খুরমা ও চরমহল্লা ইউনিয়নের ১৯গ্রামে বিদ্যূতায়ন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।  ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদের সভাপতিত্বে ও যুবলীগ নেতা এড. জমির উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল, সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যূৎ সমিতির জিএম সুহেল পারভেজ, ডিজিএম আশরাফুল আলম খান, পল্লী বিদ্যূৎ বোর্ডের সভাপতি আক্তার হোসেন, পরিচালক সিরাজুল হক, উপজেলা আ.লীগের আহবায়ক লুৎফুর রহমান সরকুম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছানাউর রহমান ছানা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আমিন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাদাত লাহিন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান চৌধুরী খোকন, ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সুন্দর আলী, আওলাদ হোসেন মাষ্টার, আব্দুল ওয়াহিদ। বক্তব্য রাখেন, আ.লীগ নেতা আফজাল হোসেন, কাজী আনোয়ার মিয়া আনু, আফতাব উদ্দিন, আবুল হোসেন, নুরুল ইসলাম, কাচাঁ মিয়া, আবুল হাসনাত, সালেহ আহমদ, মাফিজ আলী, আরব আলী, আব্দুল হান্নান, আব্দুস ছালাম, আব্দুল গফুর, আজিজুর রহমান, আসমত আলী, আব্দুর রহমান, হাজী রজব আলী, ইলিয়াছ মিয়া, তেরা মিয়া মেম্বার, জলাল আহমদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা এড.শাহাব উদ্দিন, উপজেলা বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি কেডিএস এনামূল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল কবির লাকি, শ্রমিকলীগ নেতা আব্দুল কদ্দুছ, ওলামালীগ নেতা মখসুস আহমদ, যুবলীগ নেতা বিমান ঘোষ, কবির আহমদ, আমতর আলী, আব্দুস শহিদ, ফজলু মিয়া, সাইফ উদ্দিন, কাউসার আহমদ, সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ নেতা এম রশীদ আহমদ, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা ইসতিয়াক আহমদ তানভির, আজিজুর রহমান, শিপলু আহমদ প্রমুখ। সভার শুরুতে কোরআন তেলওয়াত করেন মাও. কামরুজ্জামান।

বিস্তারিত»
৯০ দশকের রাজপথ কাঁপানো হকার্স লীগ নেতা এখন ভিক্ষুক

দিনাজপুর: দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশনের রাস্তায় শুয়ে ভিক্ষা করছেন নব্বই দশকের রাজপথ কাঁপানো নেতা উপজেলা হকার্স লীগের সভাপতি হাশেম আলী (৬৫)। রোগ যন্ত্রণায় আক্রান্ত হাশেম আলীকে রেলওয়ে স্টেশনের ১নং প্লাটফরমে  দেখা গেছে। হাশেম আলী পার্বতীপুর উপজেলা হকার্স লীগের সভাপতি। ১৯৯০ সালে এরশাদ বিরোধী গণআন্দোলনে রাজপথের সৈনিক ছিলেন হাশেম আলী। জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন।  

বিস্তারিত»
ছাতকে ইউপি চেয়ারম্যান আবুলের মুক্তির দাবীতে ইউনিয়নবাসীর প্রতিবাদ সভা

ছাতক প্রতিনিধি:ছাতকের নোয়ারাই ইউপি চেয়ারম্যান আফজাল আবেদীন আবুলের নিঃশর্ত মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে ইউনিয়নবাসীর এক প্রতিবাদ সভা গতকাল শুক্রবার বিকেলে চৌমুনা বাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউপি সদস্য  সামছুর রহমানের সভাপতিত্বে ও যুবলীগ নেতা আব্দুস সত্তারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন,   সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাজী জোয়াদ আলী তালুকদার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি বাবুল রায়, ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক আওলাদ হোসেন মাষ্টার, হাজী তেরা মিয়া, পৌর আ’লীগ নেতা ছাব্বির আহমদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম আহবায়ক শামীম তালুকদার, প্যানেল চেয়ারম্যান আনোয়ার খান মখন, ইউপি সদস্য শফিকুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা আজব আলী, আঙ্গুর মিয়া। বক্তব্য রাখেন, সিরাজ মিয়া, মাও. আলী আহমদ, শুকুর আলী, জামাল মিয়া, আব্দুল মজিদ, সুরুজ আলী, ইসলাম উদ্দিন, ছিদ্দিকুর রহমান, রুস্তুম আলী, আরব আলী, আব্দুল হামিদ, রইছ আলী, জামাল আহমদ, আব্দুল কদ্দুছ, আঙ্গুর মিয়া, সায়েক মিয়া প্রমুখ। সভায় বক্তারা ইউপি চেয়ারম্যান আফজাল আবেদীন আবুলের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করে বলেন, অন্যতায় ইউনিয়বাসীকে নিয়ে কঠোর কর্মসুচী ঘোষনা করা হবে।

বিস্তারিত»
জামালপুর পৌর মেয়র বরখাস্ত

জামালপুর: জামালপুর পৌরসভার মেয়র ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ ওয়ারেছ আলী মামুনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আনোয়ার হোসেন শুক্রবার দুপুরে সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।   তবে মেয়র শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন জানান, এ ব্যাপারে এখনো কোনো চিঠি পাননি তিনি। চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি জামালপুর শহরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে শহরে বিলবোর্ড ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জামালপুর সদর থানায় ও দ্রুত বিচার আদালতে পৌর মেয়রসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়। দুটি মামলায় মেয়র বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের সহকারী সচিব এ কে এম আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত বরখাস্ত আদেশের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, “ওই দুটি মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তার অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হওয়ায় স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯ এর ৩১(১) ধারার বিধান অনুযায়ী মেয়রকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।” প্রজ্ঞাপনে আদেশপ্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে এক নম্বর প্যানেল মেয়রের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য বলা হয়েছে।

বিস্তারিত»
ভালুকায় যুবলীগ নেতা সৈকতের নেতৃত্বে শোক র‌্যালী

মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক,বিশেষ প্রতিনিধি,ময়মনসিংহ থেকে ঃউপজেলা যুবলীগ নেতা শাহাদাৎ হোসেন সৈকতের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বুধবার বিকেলে এক বিশাল শোক র‌্যালী বের করা হয়।র‌্যালীটি ভালুকা মেজরভিটা মোড় থেকে শুরু হয়ে সদরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিন শেষে বাসস্ট্যান্ড স্মৃতিসৌধ চত্বরে উপজেলা যুবলীগ আয়োজিত সমাবেশে এসে যোগদান করে।সমাবেশে উপজেলা যুবলীগ আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম পিন্টুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন অনুপম শাহজাহান জয়,ভালুকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা,সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজিমউদ্দিন আহম্মেদ ধনু,ভালুকা পৌর মেয়র ডাঃমেজবাহ উদ্দিন কাইয়ুম,জেলা যুবলীগ সাধারন সম্পাদক এমএ কুদ্দুছ,উপজেলা যুবলীগ যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজুল হক পারুল,রওনাক শিহাব রব্বানী সহ স্থানীয় আ’লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।এ ছাড়াও পৌরসদর ও বিভিন্ন ইউনিয়ন শাখা যুবলীগের উদ্যোগে শোক র‌্যালী বের করা হয়।র‌্যালী গুলো উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে সমাবেশে এসে যোগদান করে।সমাবেশের আগে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসুচী পালন করা হয়।      

বিস্তারিত»
গ্যাস এবং বিদ্যুতের গণবিরোধী সিদ্ধান্তের  প্রতিবাদে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলুন: সিপিবি-বাসদ

আবু জাফর: গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার বিকাল ৫টায় দুযোর্গপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে আম্বরখানাস্থ বাসদ কার্যালয়ের সম্মুখ থেকে মিছিল শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সম্মুখে সমাবেশে মিলিত হয়। বাসদ সিলেট জেলার সমন্বয়ক আবু জাফরের সভাপতিত্ব ও বাসদ নেতা প্রণব জ্যোতি পালের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমন, বাসদ নেতা জুবায়ের আহমদ চৌধুরী সুমন, সিপিবি নেতা ডাঃ বিরেন্দ্র চন্দ, শ্রমিক ফ্রন্ট নেতা মামুন বেপারি, অরুন চন্দ, সুজিত কুমার দাস, ছাত্রফ্রন্ট মহানগর সভাপতি পাপ্পু চন্দ, বদরুল ইসলাম, বদরুল আমিন, আশিক মোস্তফা প্রমুখ।  সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশব্যাপী প্রতিদিন যখন শিশু হত্যা, নারী নির্যাতন, মুক্তমনা লেখকদের হত্যা, ক্রসফায়ারে মানুষ হত্যার মত ঘটনা ঘটছে। মানুষের জীবনে যখন আতংক বিরাজ করছে, তখনি সরকার গ্যাস, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে। এতে মানুষের জীবন আরো বিভীষিকাময় হয়ে উঠবে। বিশ্বব্যাংক- আইএমএফ’র পরামর্শে লুটপাটের উদ্দেশ্যে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত। প্রহসনের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন হয়ে সরকার একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে। বক্তারা গ্যাস এবং বিদ্যুতের গণবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

বিস্তারিত»
অপরাধ দমনে পুলিশকে সহায়তা দেবে জাপান

ঢাকা: সন্ত্রাস, সাইবার অপরাধ ও ট্রান্সন্যাশনাল অপরাধ দমনে পুলিশকে জাপান সহায়তা দেবে বলে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত জাপানী রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানাবে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও কারিগরি জ্ঞান বিনিময়ের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। রাজধানীর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হকের সঙ্গে বৃহস্পতিবার এক সৌজন্য সাক্ষাতকালে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত জাপানী রাষ্ট্রদূত এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বিস্তারিত»
বোনের উত্যক্তকারীর ছুরিকাঘাতে ছোট ভাই নিহত

খুলনা: খুলনার ডুমুরিয়ায় বড় বোনের (২১) উত্যক্তকারীর ছুরিকাঘাতে ফয়সাল মল্লিক (১৪) নামের এক কিশোর নিহত হয়েছে। সে উলাপাড়া মৌখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ছিল। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর উপজেলার ভাণ্ডারপাড়া ইউনিয়নের উলাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরো চারজন আহত হয়েছেন। পরে এলাকাবাসী আটক করে ওই যুবককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। তার নাম মিজানুর রহমান (২৩)। ফয়সালের লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মেয়েটি স্থানীয় কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে। কলেজে আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই ওই মেয়েকে মিজান উত্ত্যক্ত করত বলে পরিবারের অভিযোগ। আহত ব্যক্তিরা হলেন ফয়সালের বাবা রশিদ মল্লিক (৪৫), মামা মোফাজ্জেল সরদার (২২), মহাসিন সরদার (২৫) ও চাচাতো ভাই ইমরান মল্লিক (২২)। তাঁদের ডুমুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে ভর্তি করা হয়েছে। ইমরান মল্লিক বলেন, স্কুলে আসা-যাওয়ার সময়, এমনকি বাড়িতে এসেও তাদের বোনকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত মিজান। অনেকবার সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতে দরজা খোলা রেখে পড়াশোনা করার সময় মিজানুর ঘরে ঢুকে লুকিয়ে ছিল। ওই সময় ফয়সাল তাকে দেখে চিৎকার দেয়। এর পর মিজান তাকে ছুরিকাঘাত করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় বাড়ির লোকজন মিজানকে আটক করে। কিন্তু এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে সে পালিয়ে যায়। এতে চারজন আহত হন। পরে এলাকাবাসী এক কিলোমিটার ধাওয়া করে তাকে আটক করে। ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম মসিউর রহমান জানান, আটকের পর এলাকাবাসী মিজানকে থানায় সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিস্তারিত»
গাইবান্ধায় করতোয়া নদীর বাঁধ ভেঙ্গে  যাওয়া বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নে করতোয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ টোংরাদহ বাঁধ পয়েন্টে উজান থেকে নেমে আশা পাহাড়ি ঢলে পানির তোড়ে বাঁধটি ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ দিকে শুক্রবার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী বাজারে তেকানী, কিশোরগাড়ী, কাশিয়াবাড়ী, বড় শিমুলতলা, জাফরসহ অন্যান্য গ্রামের বন্যা কবলিত ৩’শ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে মোট ৩ মেঃটন চাল বিতরন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) কোহিনুর আকতার বানু শিফন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ফাউজুল কবির, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা ইদ্রিশ আলী, কিশোরগাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম রিন্টু ছাড়াও ইউপি সদস্য/সদস্যাবৃন্দ। উল্লেখ্য উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের জাইতর বালা, টেংরা ও বড়শিমুলতলা (সুলতানপুর ঘাট) এলাকায় করতোয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি রয়েছে চরম হুমকির মুখে। যে কোন সময় ভেঙ্গে গিয়ে আরো অনেক গ্রাম প্লাবিত হতে পারে।

বিস্তারিত»
মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ক্রিকেট খেললেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ঢাকা : মাহমুদউল্লাহর ঘূর্ণি সামলাতে একটু বেগই পেতে হলো। একবার, দুবার, দানে দানে তিন দান! মারলেন উড়িয়ে। হাওয়ায় ভেসে বল চলে গেল...। বল কোথায় গেল সেটি না জেনে ব্যাটসম্যানের নামটা আগে শুনুন্তমার্সিয়া বার্নিকাট, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। যে হাতে সই হয় গুরুত্বপূর্ণ সব ফাইলপত্র, সে হাতেই উঠল ক্রিকেট ব্যাট! ব্যাট ছেড়ে বল হাতেও দেখা গেল তাঁকে। স্পিনে কাবু করতে চাইলেন ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহকে। রাষ্ট্রদূত পরিচয় ছাপিয়ে ক্ষণিকের জন্য হয়ে গেলেন পুরোদস্তুর ক্রিকেটার! এমন দৃশ্যের অবতরণা শুক্রবার সকালে বিসিবি একাডেমি মাঠে। উন্নয়ন সংস্থা ইমেগো ডিজিটাল, ফিজিক্যালি-চ্যালেঞ্জড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (পিডিএফ) ও মার্কিন দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের নিয়ে আয়োজন করা হয় ছয় ওভারের এক প্রীতি ম্যাচ। সে ম্যাচ উদ্বোধন করতে গিয়েই ক্রিকেটার হিসেবে আবির্ভাব বার্নিকাটের। ম্যাচ শেষে কথা বললেন প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিয়ে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত আহ্‌বান জানালেন, সব পেশায় প্রতিবন্ধীদের সমান সুযোগ দেওয়ার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিসিবির বোর্ড পরিচালক আহমদ সাজ্জাদুল আলম ববি ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আবদুর নূর তুষার। ছিলেন বিসিবির মিডিয়া এবং কমিউনিকেশন কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস ও বিবিসি প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী।

বিস্তারিত»

সাক্ষাৎকার

চলছে বিচারহীনতা-সুলতানা কামাল, আদিলুর বললেন-আইনের শাসন নেই

দেশে দায়মুক্তির সংস্কৃতির কারণে শিশু নির্যাতন হত্যাসহ অপরাধ বেড়ে গেছে। অপরাধীরা যে কোনো অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে। আইনের শাসন নেই। এমন মন্তব্য করেছেন মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমান।   প্রায় একই ধরণের মন্তব্য করলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, সমাজে এখন এমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যে অপরাধীরা অপরাধ করে মনে করছে যে সরকার তাদেরকে কিছুই করতে পারবে না। সমাজে চলছে বিচারহীনতার সংস্কৃতি। কোনো জবাবদিহীতা নেই। সমাজে আইনের শাসনের প্রতি মানুষের সাংঘাতিক রকমের অনাস্থা চলে এসেছে। আর সেজন্যই সমাজে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।   রেডিও তেহরানের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে দুই বিশিষ্ট সমাজকর্মী এসব মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন গাজী আবদুর রশীদ।সিলেটের আলাপ ডট কমের পাঠকদের জন্য পুরো সাক্ষাৎকারটি উপস্থাপন করা হলো।   প্রশ্ন : বাংলাদেশে সম্প্রতি শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে কয়েকটি শিশু হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হঠাৎ কেন শিশু হত্যার ঘটনা বেড়ে গেল?   অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমান: দেখুন, এটা অত্যন্ত মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। দেশের মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকছে না। আর এরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার কারণ হচ্ছে আসলে দায়মুক্তির সংস্কৃতি। অপরাধীরা যে কোনো অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে। তাদের কোনো শাস্তি হচ্ছে না বিভিন্ন কারণে। অপরাধীদের হয়তো শক্তিশালী কারো সাথে যোগাযোগ আছে অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বহীনতা রয়েছে। কখনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যোগসাজশের খবর দেখতে পাই। দেশে বর্তমানে দায়মুক্তির সংস্কৃতি চলছে এবং আইনের শাসনের অভাব রয়েছে। আমরা আইনের শাসন দেখতে পাচ্ছি না। আমরা দেখছি যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিরোধী দলের নেতাকর্মী এবং মানবাধিকার কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চালাতে ব্যস্ত। যারা সত্যিকারের অপরাধী তাদেরকে দমন করার চেয়ে তারা বিরোধী মতের লোক এবং মানবাধিকার কর্মীদের দমনে ব্যস্ত। আর এ কারণে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া মারাত্মকভাবে সামাজিক অবক্ষয়ের সৃষ্টি হয়েছে। আর এই সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে একটা সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা দরকার। সেটাও বিভিন্ন দমন-পীড়ন এবং বাধা বিপত্তির কারণে গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না।   প্রশ্ন : কয়েকটি শিশু হত্যার ঘটনা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়-শিশুশ্রমজনিত কারণ এর পেছনে রয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে- দেশ যখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে এবং শিশুশ্রম যখন আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ তখন কেন এই শিশুশ্রম এখনো দেশে বিদ্যমান? আদিলুর রহমান: খুব ভালো একটি প্রশ্ন করেছেন। আসলে বলা হচ্ছে যে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। আসলে এটি একটি গড় হিসেবের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের একটা বিরাট জনগোষ্ঠী কিন্তু অতি দরিদ্র। অন্যাদিকে খুব স্বল্পসংখ্যক মানুষ ব্যাপক ধনী। আর এ কারণে সামাজিক বৈষম্য কিন্তু দিনে দিনে আরো তীব্র হচ্ছে। ফলে অতি দরিদ্র শ্রেণির লোকেরা তাদের সন্তানদের স্কুলে না পাঠিয়ে কাজের জন্যা পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন তিন বেলা খাবারের জন্য। তাছাড়া আপনারা জানেন অনেকে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। আপনারা জানেন সম্প্রতি বহু বাংলাদেশিকে সাগরে পাওয়া গেছে। এরকম একটা পরিস্থিতির মধ্যে দেশ চলছে। আর গড়ে বলা হচ্ছে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশে শ্রেণি বৈষম্য মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।   প্রশ্ন : সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে কিন্তু মানবতাবোধ প্রশ্নবিদ্ধ। আপনি কী মনে করেন দেশে মানবতবোধ আসলেই খানিকটা লোপ পেয়েছে? আদিলুর রহমান: আমি মনে করি যে মানুষের মধ্যে তখনই মানবতাবোধ জেগে ওঠে, প্রতিরোধের শক্তি জেগে ওঠে যখন দেশে তার সহায়ক পরিস্থিতি থাকে। দেশে যারা অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলতেন, যারা দায়মুক্তির বিরুদ্ধে কথা বলতেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন রকম অপরাধের সাথে যোগসাজশের ব্যাপারে কথা বলতেন তারাই যখন আক্রমণের শিকারে পরিণত হন, তারা নিজেরাই যখন বিভিন্ন সময় চাপের মধ্যে পড়েন তখন কিন্তু মানবতাবোধ জাগিয়ে তোলার কাজটা আর করা সম্ভব হয় না। আর বিভিন্ন ধরণের চাপের মুখে থাকার কারণে সাধারণ মানুষও সংগঠিত হয়ে অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার শক্তি প্রকাশ করার সুযোগ পায় না। প্রশ্ন : শিশু নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে সরকারের ভূমিকাকে আপনি কীভাবে দেখছেন? এগুলো বন্ধে সরকারের ভূমিকাই বা কী হওয়া উচিত?   অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমান: সরকার বলছেন তারা ভূমিকা পালন করছেন। আর আমরা অপেক্ষায় আছি সরকারের যথাযথ ভূমিকা দেখার জন্য।   প্রশ্ন : আচ্ছা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল আপনি এ বিষয়ে কি বলবেন?   সুলতানা কামাল: দেখুন এই সমস্যা দেখার মূল দায়িত্ব সরকারের। এ ধরণের ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য একটা পরিবেশগত আবহ তৈরি করা দরকার আইনের শাসনের মাধ্যমে। আর যদি সেরকম ঘটনা ঘটে যায়; আমি বলতে চাইছি কোনো সমাজই অপরাধমুক্ত নয়। তো যদি অপরাধ সংঘটিত হয় তাহলে তার যেন আইনের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। সরকার যদি এরকম পদক্ষেপ নেয় তাহলে অপরাধীরা বুঝতে পারবে যে অপরাধ করে তারা পার পাবে না। কিন্তু সমাজে এখন এমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যে অপরাধীরা অপরাধ করে মনে করছে যে সরকার তাদেরকে কিছুই করতে পারবে না। বর্তমানে বিচারালয়কে চরমভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সংস্কৃতি চলছে এবং এর পুরোপুরি সুযোগ নিচ্ছে তারা।   প্রশ্ন : আচ্ছা এর আগে কিন্তু শিশু নির্যাতন এবং হত্যার ঘটনা এত বেশি ছিল না। সাম্প্রতিক সময়ে এত বেশি বেড়ে যাওয়ার কারণ কি?   অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল: এর আসলে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। মোটামুটিভাবে আমাদের পর্যালোচনায় যে বিষয়টি আসে সেটি হচ্ছে সমাজে আইনের শাসনের প্রতি মানুষের সাংঘাতিক রকমের অনাস্থা এসেছে। দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার, দরিদ্র মানুষের ওপর ধনীদের অত্যাচার, শিশুদের ওপর বয়স্কদের অত্যাচার এসবই একই সুতোঁয় গাঁথা। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে অপরাধীরা অপরাধ করে পার পেয়ে যায়। তাদের কোনো জবাবদিহীতা বা বিচারের মুখোমুখি হতে হয় না। যে যার ব্যক্তিগত স্বার্থ, দলগত স্বার্থ ও সাম্প্রদায়িক স্বার্থে সবকিছুই করছে। সমাজে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি চলছে তার কারণেই এসব হচ্ছে। যদি এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করা না যায়, যদি মানুষের জবাবদিহীতার জায়গা তৈরি না হয়, যদি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না যায় তাহলে নানা দিকে নানাভাবে অপরাধ আমরা দেখতে পাব। বর্তমানে নারী নির্যাতন, সাম্প্রদায়িক হামলা এবং শিশু হত্যার হার মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। আর অত্যাচারের চিত্রও পাল্টে গেছে। একটি শিশুকে তিন বা চারজন মিলে আঘাত করছে এ ধরণের ঘটনা কিন্তু আগে কখনও আমরা দেখিনি। আর এগুলোর কোনো সামাজিক প্রতিরোধও আমরা দেখছি না।   প্রশ্ন : শিশুশ্রম, শিশু নির্যাতন ও শিশুহত্যা বন্ধের বিষয়ে দেশের সরকারি মানবাধিকার সংস্থার ভূমিকা কতটা সন্তোষজনক?   আদিলুর রহমান: শিশুশ্রম, শিশু নির্যাতন ও শিশুহত্যা বন্ধের বিষয়ে সরকার এবং তারা বলতে পারবেন। তবে আমরা তাদের কর্মকাণ্ডকে মানবাধিকার রক্ষার ব্যাপারে সহায়ক হিসেবে দেখতে পাই না। আর আমাদের ভূমিকার কথা বলছেন; আমরাতো বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা। আমরা নিজেরাই নিপীড়নের শিকার। আমাদের মানবাধিকার কর্মীরা প্রতিনিয়ত নজরদারির মধ্যে আছে। এরকম একটা অবস্থায় আমাদের পক্ষে কাজ করা তো কঠিন।  

বিস্তারিত»

বিশেষ কলাম

একটি সামাজিক বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ

ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান: বর্তমানে আমাদের দেশে রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই হাজারো সমস্যা। এমন কোন সেক্টর নেই যেখানে কেউ বলতে পারবে সমস্যা নেই। আর এসব সমস্যায় প্রতিনিয়ত হাবুডুবু খাচ্ছে নাগরিক জীবন। রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতায় সমস্যাগুলো এখন এতটাই প্রকট আকার ধারণ করেছে যে, নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত করছে, এমন কী  স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার গ্যারান্টি নেই। ফলে জোর দিয়েই বলা যায়, নাগরিকজীবনের এসব সমস্যা সমাধানে আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা অনেকটাই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এমন কী তাদের ভুমিকা সম্পর্কেও জনমনে এক ধরনের ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হয়েছে।   এমতাবস্থায় বাংলাদেশের সমাজের এই সমস্যাগুলোকে জয় করার জন্য নতুন কৌশল নির্ধারনের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন থেকেই অনুভুত হচ্ছে। পাশাপাশি দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের যৌথভাবে উদ্যোগ গ্রহণে এক ধরনের দায়বদ্ধতাও অনুভুত হচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় নেতৃত্ব ও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে সেটা তেমন একটা জোরালোভাবে অগ্রসর হতে পারছে না।   এদিকে সমস্যায় যখন জনগণই আক্রান্ত হয়েছে তখন সমাধানও তাদেরকেই বের করতে হবে এমন কথা দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষক মহলের কাছ থেকে বারবার উচ্চারিত হয়ে আসছে। আর বাস্তবতার নিরিখেই সব চাইতে সম্ভাব্য এবং যুক্তিগ্রাহ্য সমাধান হচ্ছে- একটি সামাজিক পরিবর্তন বা সামাজিক বিপ্লব।   আমরা যদি গেল কিছুদিন থেকে সামাজিক পরিস্থিতি আর পিপলস্ সেন্টিমেন্টের দিকে একটু খেয়াল করি তবে দেখতে পাবো যে একটা বিষয় ক্রমেই পরিষ্কার হয়ে উঠছে, তা হলো- সামাজিক সচেতনতা আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। সামাজিক সমস্যা এবং অপরাধ প্রবণতা যেভাবে বাড়ছে, সেই সাথে প্রতিবাদের মাত্রাও বাড়ছে। আগের মতো আর মানুষ নীরবে সব কিছু সহ্য করছে না। ক্রমেই প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠছে।এটা একটা শুভ লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে।    এরই অংশ হিসেবে আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমাদের সমাজে নানা রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যেও দলমত নির্বিশেষে বেশ কিছু ইস্যুতে সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ জনগণ সামাজিকভাবে প্রতিবাদ করছে। কখনও কখনও তা বিক্ষোভে রূপ নিচ্ছে। এক্ষেত্রে বিশেষ করে উল্লেখ করা যেতে পারে- নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌনহয়রানি, বিচারবর্হিভুত হত্যা তথা ক্রসফায়ার কিংবা বন্দুকযুদ্ধ, দুর্নীতি, সড়ক দুর্ঘটনা, সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি ক্ষেত্রে মানুষ ক্রমেই প্রতিবাদমুখর হচ্ছে।   এক্ষেত্রে শুধু সাধারণ জনগণই নয়, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, ছাত্র-শিক্ষক, নারী -শিশু, যুব-কিশোর, আইনজীবী, সাংবাদিক এমন কী কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের রাজনীতিবিদরাও একই সূরে কথা বলতে শুরু করেছেন। প্রতিবাদটা যেমন হচ্ছে প্রকাশ্যে, তেমনি ভার্চুয়াল জগতেও হচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অন্যায়-অবিচার, সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদমুখ হয়ে উঠেছে তরুণ ও যুবসমাজ।      অন্যদিকে বলা যায়, গেল ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা আন্দোলনের ব্যর্থতা আর ২৮ এপ্রিল তিন সিটির বিতর্কিত নির্বাচনের পর বিরোধী জোটের আন্দোলন-সংগ্রাম অনেকটাই থমকে গেছে। বিরোধী জোট গেল কয়েক মাসে হরতাল-ধর্মঘটের মতো কোনো আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়নি। এছাড়া দেশে বর্তমানে বড় ধরনের জুটঝামেলাও নেই। এতে দেশের রাজনীতি এখন পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে। ফলে সহসাই কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। ফলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নিস্ক্রিয়তায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অনেকটা ভালো থাকার কথা ছিল। কিন্তু সেটা না হয়ে বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা অনেকটাই বেড়েছে। সরকার যাই বলুক না কেন, প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি যে ক্রমেই জটিল হচ্ছে এতে কোনো সন্দেহ নেই ।   সরকারের মধ্যে এই অস্থিরতার পেছনে ক্রসফায়ারে শাসক দলের কর্মী নিহতের ঘটনায় সরকারি দলের এমপি নেতাদের কঠোর বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, ৭৫ এর ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট তৈরির অভিযোগে সরকারের শরিক জাসদকে আওয়ামী লীগ নেতাদের একের পর এক আক্রমণ, পাল্টা বিবৃতি, সাংবাদিক প্রবীর শিকদার গ্রেপ্তার ও রিমান্ড ঘিরে, আইসিটি অ্যাক্ট ধারা ৫৭ নিয়ে সমালোচনার ঝড়- সব মিলিয়ে যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে তাতে সার্বিকভাবে আলামত খুব একটা ভাল নয়। এসব ইস্যুতে প্রায় সবাই একই বাক্যে কথা বলতে শুরু করেছেন।   মাঠে বিরোধী জোটের রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলেও একের পর এক হত্যাকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও আইনশৃঙ্খলার অবনতির জন্য শাসক দল আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে চিহ্নিত করে তথ্য দিয়েছে। এদিকে ক্রসফায়ারে সরকারি দলের কর্মী নিহতের ঘটনায় আওয়ামী লীগ উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবং ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বিচারবর্হিভুত হত্যা বিষয়ে প্রকাশ্যে ভিন্নমত পোষণ করে বক্তব্য দিয়েছেন । হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত ৬ আগস্ট ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, সম্প্রতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন অরুণ চন্দ্র গুহ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ফরিদপুরে তার পৈতৃক বাড়ির অদূরে ২ দশমিক ৯৫ একর জমি কেনেন। কিন্তু তিনি উপযুক্ত মূল্য দেননি। জোর করেই জমিটি কেনেন মন্ত্রী। রানা দাশগুপ্তের এ অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রসফায়ারে দলীয় কর্মীর মৃত্যু সরকারি দলের নেতাকর্মীদের মাঝে অস্থিরতা তৈরি করে।   এছাড়া জাতীয় শোকদিবসে কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটিয়েছে শাসকদলের লোকজন । অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট তৈরির বিষয়ে জাসদকে অভিযুক্ত করে আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাহবুবুল আলম হানিফ ও ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি এম তাজুল ইসলামের  বক্তব্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এতে জাসদ ও আ্ওয়ামী লীগের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্থি তৈরি হয়েছে। বিএনপিও ৭৫ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে তৎকালীন জাসদ ও গণবাহিনীর নেতা তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছে। জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনুও  কড়াভাষায় এর জবাব দিয়েছেন।   ফলে বলা যায়- বেশ কিছু ইস্যুতে প্রায় সবমহল একই সূরে কথা বলছে এবং প্রতিবাদ করছে। এমন কী কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারী ও বিরোধী নেতারা একই ধরনের কথা বলছেন। সবমিলেই দেশে একটা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা না থাকলেও সামাজিকভাবে যেভাবে জনগণ প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠছে একথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তাতে অনেকেই বলছেন, এটা একটা বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় একটা সামাজিক পরিবর্তন পূর্বাভাস, আবার অনেকে সামাজিক বিপ্লবের পদধ্বনি হিসেবে মনে করছেন।   যে যাই বলুক না কেন, বিষয়টা একেবারেই উড়িয়ে দেয়ার মতো নয়। আমরা যদি নিকট অতীতে মিশর, তিউসিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের দিকে তাকাই সেখানে কিন্তু এভাবেই মানুষ সামাজিক ইস্যুতে একত্রিত হয়েছিল। পরবর্তীতে তা রাজনীতিকেও ধাক্কা দেয়।   এখন আমরা দেখি- যে সামাজিক  পরিবর্তন বা বিপ্লবের কথা বলা হচ্ছে সেটা আসলে কী এবং আমাদের দেশে সে ধরনের কোনো পরিবর্তন সম্ভব কী না।   প্রথমেই আসি সামজিক বিপ্লব বলতে কি বোঝায়? আমরা জানি, বিপ্লব অর্থ আমুল পরিবর্তন; যে জিনিসটি যেভাবে যে অবস্থায় ছিল, সে জিনিসটিকে সে অবস্থায় না রেখে, সে অবস্থায় থাকতে না দিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নতর ভাবে ও ভিন্নতর অবস্থায় গড়ে তোলা। আর ‘সামাজিক বিপ্লব’ বলতে বোঝায়, মানুষের সমাজবদ্ধতাকে সম্পূর্ণরূপে পাল্টে দেয়া। যে চিন্তা-বিশ্বাস ও আদর্শের ওপর একটি সমাজ চলে আসছে, তাকে সম্পূর্ণ পরিহার করে ভিন্নতর চিন্তা-বিশ্বাস ও আদর্শের ভিত্তিতে সমাজটিকে গড়ে তোলা। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান সমূহ যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং যে সামষ্টিক ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ তাকে সম্পূর্ণ ভিন্নতরভাবে গঠন ও পরিচালন এবং ভিন্নতর ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ করা।   বস্তুত সমাজ বলতে মানুষের সামষ্টিক জীবন বোঝায়। মানুষের জন্য সমাজ ও সামষ্টিক জীবন অপরিহার্য। এইজন্য সমাজতত্ত্ববিদগণ মানুষকে সামাজিক জীব বলে অভিহিত করে আসছেন চিরকাল ধরেই। একটি আদর্শের ভিত্তিতে গড়ে উঠা পরিবারসমহের সমন্বয়েই গঠিত হয় একটি পূর্ণাঙ্গ সমাজ। এই পূর্ণাঙ্গতা সে লাভ করে তার জন্য অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান সমূহের মাধ্যমে। অর্থাৎ সমাজকে সুষ্ঠুরূপে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করা এবং ক্রমশ বিকাশের দিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য একান্তই অপরিহার্য হচ্ছে রাষ্ট্র ও প্রশাসনিক সরকার ।   এই রাষ্ট্রকেই সমাজের লোকদের জীবন-মান-সম্মান-সম্ভ্রম ও ধন-মালের নিশ্চয়তা বিধান করতে হয়। পারস্পরিক বিবাদ-বিসম্বাদের সুষ্ঠু মীমাংসা ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধানের জন্য প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত একটি নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা গঠন করতে হয়। জনগণের বৈষয়িক জীবনের সুষ্ঠুতার জন্য এমন একটি অর্থ ব্যবস্থা চালু করতে হয়, যদ্দারা প্রতিটি নাগরিক অথনৈতিক নিরাপত্তা লাভ করবে এবং জীবিকা উপার্জনের জন্য চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালাতে পারবে সকল প্রবঞ্চনা ও শোষণ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থেকে। সমাজের লোকদের প্রতিভা স্ফূরণ ও বিকাশ সাধনের জন্য ভদ্র, শিষ্ট, মানবিক জীবন যাপনের যোগ্য বানানোর জন্য এবং ভবিষ্যত বংশধরদের উন্নতমানে গড়ে তোলার জন্য একটি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ও চালু রাখতে হয়। এ সবই একটি সমাজের পূর্ণত্বের জন্য অপরিহার্য শাখা-প্রশাখা।   আর এক্ষেত্রে রাষ্ট্র তথা রাজনীতিবিদরা যথাযথ ভুমিকা পালনে ব্যর্থ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাজে জনমনে এক ধরনের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আর সেই ক্ষোভ থেকেই সমাজে এক ধরনের পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এক সময় তা বিপ্লবে রূপ নিয়ে থাকে। যা পরবর্তীতে রাজনীতিতেও পরিবর্তন নিয়ে আসে।    তবে আপাতত বাংলাদেশে সে ধরনের কোনো সামাজিক বিপ্লব কিংবা সামাজিক সংস্কারের কোনো সম্ভাবনা আমি দেখছি না। কেননা, সামাজিক বিপ্লব কিংবা সামাজিক সংস্কারের জন্য যে ধরনের আদর্শভিত্তিক চিন্তাবিদ নেতৃত্ব কিংবা সমাজ সংস্কারক থাকা প্রয়োজন সেটা এখানে অনুপস্থিত। যেমনটি বর্ণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে অত্যাচারিত নিপিড়ীত আর অধিকার বঞ্চিত মানুষদের জন্যে আমেরিকায় নাগরিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অহিংস আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন বিখ্যাত আফ্রিকান-আমেরিকান মানবাধিকার কর্মী মার্টিন লুথার কিং এবং ফরাসী বিপ্লবে জ্যাঁ জ্যাক রুশো সাম্য মৈত্রি ও স্বাধীনতার স্লোগানে সামাজিক বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন তার পরবর্তীতে একটি রাজনৈতিক বিপ্লবে রূপ নিয়েছিল। তার অন্যতম স্লোগান ছিল ‘সাম্য ছাড়া স্বাধীনতা মূল্যহীন"। রুশো ও ভলতেয়ারের সাম্য ও স্বাধীনতার বাণী জনগণকে যেমনটি প্রবলভাবে আলোড়িত করে তুলেছিল তা এখানে অনুপস্থিত। ফলে সহজেই বলা যায় আমাদের বাংলাদেশে আপাতত কোনো বিপ্লব সংঘটিত হবার কোনো ধরনের সম্ভাবনা নেই। তবে নাগরিকদের মধ্যে যে সচেতনতার সৃষ্টি হয়েছে তাতে এক ধরনের সামাজিক পরিবর্তন আসতে পারে।তবে সেটার জন্যও জনগণকে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হবে। প্রতিবাদ-প্রতিরোধ আরো জোরালো হতে হবে। দেশের সাধারণ জনগণও মনে করে একটা পরিবর্তন আসা উচিত। তবে সেটা একেবারে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না যে, এখানে সামাজিক পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে সামাজিক বিপ্লব হবে না। কেননা, বৈষম্যের বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় স্বত:স্ফুর্ত প্রতিবাদ থেকেই জনক্ষোভ বিপ্লবে রূপ নেয়। তবে সেটা সময় বলে দিবে।    প্রসঙ্গত, আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত আমাদের প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়া ও মালেয়শিয়ার সমাজ ব্যবস্থার দিকে তাকিয়ে। ৫০’ দশকের পর কোরিয়া ছিল পৃথিবীর গরীব দেশ সমুহের মধ্যে অন্যতম। সে সময়ে কোরিয়ার শিশুরা যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করতে না পারায় অপুষ্টিতে ভোগতো। দারিদ্রতা তাদেরকে ঘিরে ধরেছিল জীবনের প্রায় সকল ক্ষেত্রেই। কিন্তু আজ তারা অনেক উন্নত। নিজস্ব কৌশল নির্ধারন করার পর শুধু পরিশ্রম আর দেশপ্রেম দিয়েই তারা সমাজ ব্যবস্থাকে বদলে দিয়েছে। আর আমাদের দেশে আমরা সবাই নিজেদেরকে দেশপ্রেমিক মনে করি। কিন্তু সত্যি কি আমরা দেশপ্রেমিক?   অন্যদের দিকে তাকিয়ে আজ আমাদের লজ্জা পাওয়া ছাড়া আর তেমন কোন উপায় থাকে না। আমাদের অবস্থা কোথায় থাকা উচিৎ ছিলো আর আমরা কোথায় আছি? কিংবা আজ তারা কোথায় পৌছে গেছে, আর আমরা কোথায় পরে আছি। নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা তো দূরের কথা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সামান্যতম এখানে নেই। প্রতিটি পদে পদে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নেই, অপুষ্টিতে এখানো আমাদের শিশুরা, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য, বিচারবর্হিভুত হত্যা, রাষ্ট্রীয় নির্যাতনে নাগরিক অধিকার আজ ভুলুণ্ঠিত হচ্ছে। এ সকল সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য দরকার সংগ্রাম। সম্মিলিত ধারাবাহিক আন্দালন-সংগ্রাম আর পরিশ্রমের মাধ্যমেই সমাজের ভেতরকার এ সমস্যাগুলোকে জয় করা সম্ভব। জাতীয় জীবনে সমৃদ্ধির জন্য যা যা দরকার তা হল একটি সুন্দর সমাজ ও দেশ গড়ার প্রত্যাশাকে জাগ্রত রাখা। বাংলাদেশের বর্তমানে যে সংকটের কথা বলা হচ্ছে তা প্রতিবেশী যেকোন দেশের তুলনায় নগণ্য। কিন্তু এসব সমস্যা সমাধান হচ্ছে না একমাত্র আমাদের রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতার কারণেই। আমরা ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য জীবন দিয়েছি। ১৯৭১ বুকের তাজা রক্ত দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়েছি। তবে কেনো আমরা আজ সোনার বাংলাদেশ গড়তে পারবো না? অবশ্যই পারবো, আমরাই পারবো, আমাদেরকে  এটা পারতেই হবে।   তাই বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে সকল শ্রেণীপেশার মানুষদের কাছে আহবান জানাতে চাই,  আসুন আমরা ব্যক্তি স্বার্থকে পরিহার করে দেশের প্রয়োজনে নিজেদের মেধাযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি । আর আমাদের বসে থাকার সময় নেই। একটি নতুন, উন্নত বাংলাদেশ আমাদেরকেই গড়তেই হবে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। এজন্য দরকার সমন্বিত উদ্যোগ। আসুন ‘ওদের’ রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে আমরা নিজেরা বদলে যাই ও দেশকে বদলে দেই। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলি। তবেই সম্ভব সবার বসবাস উপযোগী একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা। লেখক: গবেষক ও কলামলেখক । ই-মেইল:sarderanis@gmail.com

বিস্তারিত»

এক্সক্লুসিভ

বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতেগড়া বিএনপি

বাংলাদেশের একটি অন্যতম রাজনৈতিক দল। ইংরেজি Bangladesh Nationalist Party এর সংক্ষিপ্ত রূপ হলো BNP। বাংলাতে এই দলটি ইংরেজি সংক্ষিপ্ত নামানুসারে 'বিএনপি' এবং এই নামেই সর্বাধিক পরিচিত। দলটির পূর্ণাঙ্গ বাংলা নাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। এই দলটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। বিএনপি প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই আগষ্টে একটি সামরিক অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ  মুজিবর রহমান নিহত হন। এরপর ধারাবাহিক সামরিক অভ্যুত্থান এবং পাল্টা-অভ্যুত্থান সংগঠিত হতে থাকে। এই বৎসরের ৭ই নভেম্বর এই ধারাবাহিক অভ্যুত্থানের অবসান হয় এবং জিয়াউর রহমান ক্ষমতা লাভ করেন। সামরিক শাসনের অধীনে তিনি দেশের সর্বময় ক্ষমতার অধিকার লাভ করেন। ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন। ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত সায়েমের কাছ থেকে ২১শে এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসাবে জিয়াউর রহমান শপথ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সময়ে, পূর্ববর্তী 'বাকশাল'-ই প্রথা বিলোপ করে, দেশে আবার গণতন্ত্রায়ণের উদ্যোগ নেন এবং তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালুর সিদ্ধান্ত নেন। প্রাথমিকভাবে জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দের ৩রা জুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দেন এবং জয়লাভ করেন। ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি তাঁর সামরিক সরকারের উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে প্রধান করে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠা করেন। ছয়টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই নির্বাচনে তিনি ৭৬.৬৭% ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং রাষ্ট্রপতির পদে নিয়োজিত থাকেন। ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন তিনি নিজে এবং তিনি এই দলের প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। আর অধ্যাপক এ. কিউ. এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এই দলের প্রথম মহাসচিব ছিলেন। ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৮শে আগস্ট পূর্বগঠিত জাগদলের বর্ধিত সভায় ওই দলটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং জাগদলের সকল সদস্যদের বিএনপির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিএনপি-র অগ্রযাত্রা ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই নভেম্বর থেকে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন এবং সামরিক শাসনের ক্রম-শৈথিল্য অনুসরণে ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকেন। ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে সামরিক আইনের অধীনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বিএনপি ৩০০টি আসনের ভিতরে ২০৭টি আসন লাভ করে। এই বৎসরের ১লা এপ্রিলে প্রথম সংসদ অধিবেশন বসে। এরপর সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর বিধি অনুসারে, ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দের ৯ এপ্রিল দেশ থেকে সামরিক আইন প্রত্যহার করা হয়। এর মধ্য দিয়ে বিএনপি পূর্ণাঙ্গরূপে বেসামরিক রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দের ৩০শে মে-তে সংঘটিত একটি সামরিক অভ্যুত্থানে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জিয়াউর রহমান নিহত হন। এরপর তাঁকে ঢাকার শেরে-বাংলা নগরে সমাহিত করা হয়। এরপর তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার রাষ্ট্রপতি হন। পরে ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে রাষ্ট্রপতি সাত্তারকে সরিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রপতি হন। পরবর্তী প্রায় এক যুগ বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থাকে। গণ-আন্দোলনের মুখে, ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দের ৬ ডিসেম্বর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পদত্যাগে বাধ্য হন। পরে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে এবং সমর্থনে তিন দফা রূপরেখা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তারিখে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব দেন। এ নির্বাচনে বিএনপি (১৪২টি) সর্বাধিক আসনে জয়লাভ করে। তারা জামায়তে ইসলামীর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে। বিনএপি সরকার পাঁচ বছর দেশ শাসনের পর ক্ষমতা হস্তান্তর ছাড়াই ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে। এ নির্বাচন আওয়ামী লীগ বয়কট করায় একই বছর ১২ জুন অনুষ্ঠিত হয় সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত বিএনপি আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। এ আন্দোলন তেমন সফল না হলেও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে নির্বাচিত হয়। ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বিএনপি চারটি দল নিয়ে একটি ঐক্যজোট গঠন করে। এই ঐক্যজোটের দলগুলো ছিল— বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি এবং ইসলামী ঐক্য)। এই নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্ব দেন খালেদা জিয়া। এই নির্বাচনে চারদলীয় ঐক্যজোট ২১০টি আসন লাভ করে। সরকারের বৈধ মেয়াদ ২০০৬ সালের ৬ অক্টোবর শেষ হওয়ার পর, ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে দেশে শুরু হয় ব্যাপক রাজনৈতিক সংঘাত। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি সারাদেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন। আর এ সময় থেকে  প্রায় দুই বছর দেশ পরিচালনা করেন ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এ সরকারের তত্ত্বাবধানে ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রহসন ও গোপন আতাতের মাধ্যমে ফখর উদ্দিনের অধীনে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩০ আসন নিয়ে জয়লাভ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এ নির্বাচনে মাত্র ২৯টি আসন পায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং ২৭টি আসনে জয়লাভ করে জাতীয় পার্টি। ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে সাবেক সংসদীয় হুইপ ও জেষ্ঠ্য নেতা খন্দকার দেলোয়ার হোসেন দলের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ম পালন করে আসছিলেন। ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের মার্চে তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার পর জেষ্ঠ্য যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের মহাসচিবের ভার দেয়া হয়। মির্জা ফখরুল বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ম পালন করছেন। ২০১২ সালের ১৮ই এপ্রিল বিএনপি আরও রাজনৈতিক দলের সাথে হয়ে ১৮ দলীয় জোট গঠন করে। এই জোটে রয়েছে - জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, খেলাফত মজলিশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), কল্যাণ পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি), বাংলাদেশ ন্যাপ, মুসলিম লীগ, ইসলামিক পার্টি, ন্যাপ ভাসানী, ডেমোক্রেটিক লীগ (ডিএল) ও পিপলস লীগ।পরে আরো ২ টি রাজনৈতিক জোটের সাথে শরিক হলে বর্তমানে ২০ দলীয় জোট। বিএনপির রাজনীতির মূল চারটি নীতি এই দলের প্রধান নীতি হিসাবে গ্রহণ করা হয়, চারটি বিষয়কে গ্রহণ করা হয়। এগুলো হলো     ১. সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌র উপর বিশ্বাস,     ২. জাতীয়তাবাদ,     ৩. গণতন্ত্র,     ৪. সমাজতন্ত্র (অর্থনৈতিক ও সমাজিক ন্যায়বিচারের অর্থে)। বিএনপি'র ঘোষণাপত্রে এ দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিস্তৃতভাবে বর্ণিত হয়েছে। নিচে এর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো (বিএনপির ওয়েব পৃষ্ঠা) (ক) বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ-ভিত্তিক ইস্পাতকঠিন গণঐক্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা ও গণতন্ত্র সুরক্ষিত ও সুসংহত করা। (খ) ঐক্যবদ্ধ এবং পুনরুজ্জীবিত জাতিকে অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভরতার মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, নয়া-উপনিবেশবাদ, আধিপত্যবাদ ও বহিরাক্রমণ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করা। (গ) উৎপাদনের রাজনীতি, মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং জনগণের গণতন্ত্রের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক মানবমুখী অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জন। (ঘ) জাতীয়তাবাদী ঐক্যের ভিত্তিতে গ্রামে-গঞ্জে জনগণকে সচেতন ও সুসংগঠিত করা এবং সার্বিক উন্নয়নমুখী পরিকল্পনা ও প্রকল্প রচনা ও বাস্-বায়নের ক্ষমতা ও দক্ষতা জনগণের হাতে পৌঁছে দেওয়া। (ঙ) এমন এক সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করা যেখানে গণতন্ত্রের শিকড় সমাজের মৌলিক স্তরে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মনে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত হয়। (চ) এমন একটি সুস্পষ্ট ও স্থিতিশীল সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার নিশ্চিতি দেওয়া যার মাধ্যমে জনগণ নিজেরাই তাঁদের মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি আনতে পারবেন। (ছ) বহুদলীয় রাজনীতির ভিত্তিতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একটি সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের মাধ্যমে স্থিতিশীল গণতন্ত্র কায়েম করা এবং সুষম জাতীয় উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি আনয়ন। (জ) গণতান্ত্রিক জীবন ধারা ও গণতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থার রক্ষাকবচ হিসাবে গণনির্বাচিত জাতীয় সংসদের ভিত্তি দৃঢ়ভাবে স্থাপন করা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করা। (ঝ) রাজনৈতিক গোপন সংগঠনের তৎপরতা এবং কোন সশস্ত্র ক্যাডার, দল বা এজন্সী গঠনে অস্বীকৃতি জানানো ও তার বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করা। (ঞ) জাতীয় জীবনে মানবমুখী সামাজিক মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবন এবং সৃজনশীল উৎপাদনমুখী জীবনবোধ ফিরিয়ে আনা। (ট) বাস্তবধর্মী কার্যকরী উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতীয় জীবনে ন্যায়বিচার-ভিত্তিক সুষম অর্থনীতির প্রতিষ্ঠা, যাতে করে সকল বাংলাদেশী নাগরিক অন্ন, বস্ত্র, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও শিক্ষার ন্যূনতম মানবিক চাহিদা পূরণের সুযোগ পায়। (ঠ) সার্বিক পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচীকে অগ্রাধিকার দান করা ও সক্রিয় গণচেষ্টার মাধ্যমে গ্রাম বাংলার সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা। (ড) নারী সমাজ ও যুব সম্প্রদায়সহ সকল জনসম্পদের সুষ্ঠু ও বাস্-বভিত্তিক সদ্ব্যবহার করা। (ঢ)বাস্তবধর্মী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সুসামঞ্জস্যপূর্ণ শ্রম ব্যবস্থাপনা সম্পর্ক স্থাপন এবং সুষ্ঠু শ্রমনীতির মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রে সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করা। (ণ) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও বাংলাদেশের ক্রীড়া সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও প্রসার সাধন। (ত) বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশী জনগণের ধর্ম ইসলাম এবং অন্যান্য ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ দান করে বাংলাদেশের জনগণের যুগপ্রাচীন মানবিক মূল্যবোধ সংরক্ষণ করা, বিষে করে অনগ্রসর সম্প্রদায়ের জন্য শিক্ষা সম্প্রসারণ ও বৃহত্তর জাতীয় তাদের অধিকতর সুবিধা ও অংশগ্রহণের সুযোগের যথাযথ ব্যবস্থা করা। (থ) পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে জোট নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে আন্-র্জাতিক বন্ধুত্ব, প্রীতি ও সমতা রক্ষা করা। সার্বভৌমত্ব ও সমতার ভিত্তিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে, তৃতীয় বিশ্বের মিত্র রাষ্ট্রসমূহের সাথে এবং ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে প্রীতি ও সখ্যতার সম্পর্ক সুসংহত এবং সুদৃঢ় করা। নিচে দলের প্রথম আহ্বায়ক কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেয়া হলো : আহ্বায়ক : জিয়াউর রহমান। সদস্য : ১. বিচারপতি আবদুস সাত্তার ২. মশিউর রহমান যাদু মিয়া ৩. মোহাম্মদ উল্লাহ ৪. শাহ আজিজুর রহমান ৫. ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল হালিম চৌধুরী ৬. রসরাজ মন্ডল ৭. আবদুল মোনেম খান ৮. জামাল উদ্দিন আহমেদ ৯. ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ১০. মির্জা গোলাম হাফিজ ১১. ক্যাপ্টেন (অব.) নুরুল হক ১২. এম. সাইফুর রহমান ১৩. ওবায়দুর রহমান ১৪. মওদুদ আহমদ ১৫. শামসুল হুদা চৌধুরী ১৬. এ জেড এম এনায়েতউল্লাহ খান ১৭. এসএ বারী এটি ১৮. ড. আমিনা রহমান ১৯. আবদুর রহমান ২০. ডা. এম এ মতিন ২১. আবদুল আলিম ২২. ব্যারিস্টার আবুল হাসনাত ২৩. আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ২৪. নুর মোহাম্মদ খান ২৫. আবদুল করিম ২৬. শামসুল বারী ২৭. মুজিবুর রহমান ২৮. ডা. ফরিদুল হুদা ২৯. শেখ আলী আশরাফ ৩০. আবদুর রহমান বিশ্বাস ৩১. ব্যারিস্টার আবদুল হক ৩২. ইমরান আলী সরকার ৩৩. দেওয়ান সিরাজুল হক ৩৪. এমদাদুর রহমান ৩৫. এডভোকেট আফসার উদ্দিন ৩৬. কবীর চৌধুরী ৩৭. ড. এম আর খান ৩৮. ক্যাপ্টেন (অব.) সুজাত আলী ৩৯. তুষার কান্তি বারবি ৪০. সুনীল গুপ্ত ৪১. রেজাউল বারী ডিনা ৪২. আনিসুর রহমান ৪৩. আবুল কাশেম ৪৪. মনসুর আলী সরকার ৪৫. আবদুল হামিদ চৌধুরী ৪৬. মনসুর আলী ৪৭. শামসুল হক ৪৮. খন্দকার আবদুল হামিদ ৪৯. জুলমত আলী খান ৫০. এডভোকেট নাজমুল হুদা ৫১. মাহবুব আহমেদ ৫২. আবু সাঈদ খান ৫৩. মোহাম্মদ ইসমাইল ৫৪. সিরাজুল হক মন্টু ৫৫. শাহ বদরুল হক ৫৬. আবদুর রউফ ৫৭. মোরাদুজ্জামান ৫৮. জহিরুদ্দিন খান ৫৯. সুলতান আহমেদ চৌধুরী ৬০. শামসুল হুদা ৬১. সালেহ আহমেদ চৌধুরী ৬২. আফসার আহমেদ সিদ্দিকী ৬৩. তরিকুল ইসলাম ৬৪. আনোয়ারুল হক চৌধুরী ৬৫. মাইনুদ্দিন আহমেদ ৬৬. এমএ সাত্তার ৬৭. হাজী জালাল ৬৮. আহমদ আলী মন্ডল ৬৯. শাহেদ আলী ৭০. আবদুল ওয়াদুদ ৭১. শাহ আবদুল হালিম ৭২. ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমিরুদ্দিন সরকার ৭৩. আতাউদ্দিন খান ৭৪. আবদুর রাজ্জাক চৌধুরী ৭৫. আহমদ আলী। জিয়াউর রহমান ১৯ দফা কর্মসূচি দেশের আর্থ-সামাজিক মুক্তির লক্ষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯ দফা কর্মসূচি প্রনয়ন করেছিলেন। ১. সর্বতোভাবে দেশের স্বাধীনতা,অখন্ডতা এবং সার্বোভৌমত্ব রক্ষা করা। ২. শাসন তন্ত্রের চারটি মূলনীতি অর্থ্যাৎ সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি সর্বাত্নক বিশ্বাস ও আস্থা,গনতন্ত্র,জাতীয়তাবাদ,সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার সমাজতন্ত্র জাতীয় জীবনে সর্বাত্নক প্রতীফলন। ৩. সর্ব উপায়ে নিজেদেরকে একটি আত্ননির্ভরশীল জাতি হিসাবে গঠন করা। ৪. প্রশাসনের সর্বস্তরে,উন্নয়ন কার্যক্রমে ও আইন শৃংঙ্খলা রক্ষার ব্যাপারে জনগনের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা। ৫. সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এর ভিত্তিতে কৃষি উন্নয়ন এর মাধ্যমে গ্রামীন তথা জাতীয় অর্থনীতিকে জোরদার করা। ৬. দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন করা এবং কেউ যেন ক্ষুধার্থ না থাকে তা নিশ্চিত করা। ৭. দেশে কাপড় এর উৎপাদন বাড়িয়ে সকলের জন্য অন্তত মোটা কাপড় নিশ্চিত করা। ৮. কোন নাগরিক যেন গৃহহীন না থাকে তার যথাসম্ভব ব্যবস্থা করা। ৯. দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা। ১০. .সকল দেশ বাসীর জন্য নূন্যতম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। ১১. সমাজে নারীর যথাযোগ্য মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা এবং যুবসমাজ কে সুসংহত করে জাতি গঠনে উদ্বুদ্ধ করা। ১২. দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেসরকারী খাতে প্রয়োজনীয় উৎসাহ দান। ১৩. শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি সাধন এবং উৎপাদন বৃদ্ধির সার্থে সুস্থ শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক গড়ে তোলা। ১৪. সরকারী চাকুরীজীবিদের মধ্যে জনসেবা ও দেশ গঠনের মনোবৃত্তি উৎসাহিত করা এবং তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন করা। ১৫. জনসংখ্যা বিস্ফোরন রোধ করা। ১৬. সকল বিদেশী রাষ্ট্রের সাথে সমতার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা এবং মুসলিম দেশ গুলোর সাথে সম্পর্ক জোড়দার করা। ১৭. প্রশাসন এবং উন্নয়ন ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরন এবং স্থানীয় সরকার কে শক্তিশালী করা। ১৮. দূর্নীতিমুক্ত,ন্যায়নীতি ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা। ১৯. ধর্ম,গোত্র ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অধিকার পূর্ন সংরক্ষন করা এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় করা।  

বিস্তারিত»

মতামত

যে তৈল নারীকে বানায় পুরুষ

মিনার রশিদ:বিশ্ব বাজারে তেলের দাম এখন সর্বনিম্নে অবস্থান করছে । অথচ তার কোন এডভানটেইজ বা সুবিধা এদেশের মানুষের কপালে জুটছে না। তবে তৈল মর্দনের এক ঐতিহাসিক ও অপূর্ব প্রয়োগ এদেশের জনগণ উপভোগ করেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেছেন, " বাংলাদেশে একটাই পুরুষ আছে। তিনি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতি সপ্তাহের মন্ত্রিপরিষদের সভায় বসেই তা বুঝতে পারি । " তিনি বলেন, " মন্ত্রী পরিষদের সভায় বসলে মনে হয় বাকি আমরা সবাই অন্যকিছু।" কী মনে করে তিনি এই কথাটি বললেন এবং কেন তাদের নিজেদেরকে 'অন্যকিছু ' মনে হয় তা স্পষ্ট মালুম হচ্ছে না। এটা এমন এক মারাত্মক তেল যা একজন নারীকেও 'পুরুষ' বানিয়ে ফেলতে পারে । আর পুরুষদেরকে বানায় 'অন্যকিছু' । এই 'অন্যকিছুর'ও কিন্তু কিছু নাম আছে। তৈল মর্দনে ব্যস্ত মন্ত্রী মহোদয়ের বোধহয় বিষয়টি খেয়ালে আসে নি। এই মন্ত্রী মহোদয় কয়েকদিন আগে প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন । কাজেই এটি প্রি-প্রমোশন নয়, বলা যায় পোষ্ট প্রমোশন তৈল মর্দন। সবকিছু দেখে মনের গহীন থেকে একটা চিৎকারই ভেসে আসে , এই কিছিমের মন্ত্রীদের লইয়া ( যারা পুরুষ নয়, অন্যকিছু) আমরা কতদূর অগ্রসর হইতে পারিব ? তবে তার এই তৈল মর্দনটি একটু অন্যভাবে মনের মধ্যে ধাক্কা দিয়েছে। এটি কর্ণকূহরে প্রবেশের পর কিছু না লিখেও যেন মনে শান্তি পাচ্ছিলাম না। একটা প্রশ্ন মনের মধ্যে বার বার উদয় হচ্ছে, মন্ত্রী কাম স্থপতি মহোদয় নির্ভেজাল খাটি কথাটিই কি বলে ফেলেছেন ? ডজন কয়েক মহাপুরুষ সহ দেশের তাবদ পুরুষকূল কি সত্যিকার অর্থেই নপুংশক হয়ে পড়েছে ? বছর কয়েক আগে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত একটু ভিন্ন সুরে বলেছিলেন, বাঘে ধরলে ছাড়ে, হাছিনা ধরলে ছাড়ে না।এই কথাটি বলেছিলেন দেশের অন্যতম শক্তিসালী পুরুষ (?) ডঃ ইউনূসকে লক্ষ করে। এই ধরনের সাব্বাশ দিতে দিতে তাকে (বেগম জিয়ার কথামত) লেডি হিটলার বানিয়ে ফেলা হয়েছে। দেশ থেকে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুরাপুরি উধাও হয়ে গিয়েছে। এই কাজে সহযোগিতা করছে পৌরুষত্ববিহীন এক শ্রেণীর পলিটিশিয়ান ও মগজবিহীন এক শ্রেণীর তথাকথিত বুদ্ধিজীবীর দল। একজন ব্যক্তি মানুষের ব্যক্তিগত ক্ষমতা লিপ্সার কাছে বলি হচ্ছে আমাদের সকল সুখ ও সম্ভাবনা। ১৯৭১,১৫ই আগষ্ট ও ২১শে আগষ্ট সহ সব কিছুই ব্যবহৃত হচ্ছে বাকশালের জালানি (কাঠখড়ি) হিসাবে। কারণ এগুলি জালিয়েই আজ বাকশাল নামক আপদটি জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে। জানি না, এই হতভাগা জাতিকে উদ্ধার করার জন্যে সেই পুরুষটি কখন অাসবে কিংবা দেশের তাবদ পুরুষকূল তাদের হারানো পৌরুষত্ব আবার কখন ফিরে পাবে এমন একটি মহৌষধ কি আবারো বানানো যায় না?

বিস্তারিত»

বিনোদন

বলিউডি সুন্দরীদের  স্নান-যাত্রা

সাগর জলে সিনান করি সজল এলোচুলে বসিয়াছিলে উপল উপকূলে৷ শিথিল পীতবাস মাটির পরে কুটিল রেখা লুটিল চারিপাশ নিরাবরণ বক্ষে তব নিরাভরণ দেহে চিকন সোনা-লিখন ঊষা আঁকিয়া দিল স্নেহে’ … এ ‘সাগরিকা’র ছবি তো  কবিকল্পনার৷ কল্পনার নন্দনকানন থেকে সে ছবি কখনও সখনও নোমো এসেছে ছায়াছবিতেও৷ মূলত হিন্দি সিনেমাই সাহসী হয়ে পর্দায় স্নান দৃশ্য দেখাতে পেরেছে৷  সেই ১৯৭০ এই রাজ কাপুর সাবের নায়িকা পদ্মিনী য়খন বৃষ্টিতে ভিজলেন, কিংবা কিশোর ঋষি কাপুর যখন সিমি গারোয়ালের পোশাক পরিবর্তন দেখে ফেলল অাচমকাই, বয়সন্ধির চৌকাঠ সেদিনই পেরিয়ে গিয়েছিল হিন্দি সিনেমা৷  তারপর বারবার ফিরে ফিরে এসেছে স্নানদৃশ্য৷ ‘দ্য রিডার’-এর কেট উইনস্লেট কিংবা ‘ম্যালিন’র মনিকা বেলুচিদের অনেক আগেই  জিনাত আমন থেকে রেখা, টাবু কিংবা ফিলহাল সময়ে করিনা কাপুররা দেখিয়ে দিয়েছেন জলেও  কেমন আগুন জ্বলে৷ 1. ১৯৭৮ সালে রাজ কাপুর পরিচালিত ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’ ছবিটি বিশেষ ভাবে আলোচিত হয়েছিল সে সময়ে৷ ছবিতে নায়িকা ভূমিকায় থাকা জিনাত আমনের স্নানের দৃশ্যের বলিউডে এক সাহসী পদক্ষেপ বলে ধরা হত৷ ছবিতে জিনাতের বিপরীতে নায়ক ছিলেন শশী কাপূর৷ ১৯৮৩-র ‘পুকার’ ছবিতে জিনাতই জানাবেন সমুন্দর মে নাহাকে কীভাবে আরও নমকিন হয়ে ওঠা যায়৷ 2.১৯৮১ সালে রবীন্দ্র ধর্মরাজ পরিচালিত ‘চক্র’ সিনেমায় স্মিতা পাতিলের রাস্তার কলে স্নানের দৃশ্য তোলপাড় করেছিল৷ এই ছবিতে অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ এবং কুলভূষণ খুরবান্দা৷ 3. শূদ্রকের মৃচ্ছকটিক নাটক অবলম্বনে ১৯৮৪ সালে শশী কাপুরের প্রয়োজনায় এবং গিরিশ কারনাডের পরিচালনায় ‘উৎসব’ ছবিটি মু্ক্তি পায়৷ ছবিতে রেখা ও শেখর সুমনের স্নানের দৃশ্য সে সময় অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল৷ 4. ১৯৮৫ সালে রাজ কাপুরের‘ রাম তেরি গঙ্গা ময়লি’ ছবিতে ভেজা সাদা কাপড়ে মন্দাকিনী ঝরণার জলে স্নানের দৃশ্য সিনেমা হলমুখী করে দিয়েছিল সেসময়ের দর্শকদের৷ বক্স অফিসে বড় সাফল্য পেয়েছিল এই ছবি৷ মন্দাকিনীর বিপরীতে এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন রাজ কাপুরের ছেলে রাজীব কাপুর৷     ১৯৮৫ এর আর এক ছবি ‘সাগর’-এ ডিম্পল কাপাডিয়া টাওয়েল ছুঁড়ে ফেলে  ব্ল্যাক সুইম সুইটে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন জলে৷ পর্দায় শুধু ঋষি কাপুর সাক্ষী থাকলেও, সিনেপ্রেমী সাক্ষী ছিলেন সেই সাহসী ডিম্পলের৷ 5.১৯৯৫ সালে সতীশ কৌশিক পরিচালিত রোমান্টিক ছবি ‘প্রেম’ মুক্তি পেয়েছিল৷ ছবিতে টাব্বু স্নানের দৃশ্য সে সময় আলোচনা বিষয় হয়েছিল৷ 6.২০০২ সালে বলিউডে মু্ক্তি পেয়েছিল আরিয়া বব্বর ও অমৃতা রাও অভিনীত আব কি বারস৷ সেই ছবিতে পাওয়া গিয়েছিল অমৃতার স্নানের এক বিরল দৃশ্য৷ 7.সম্রাট অশোকের জীবন অবলম্বনে বলিউডে ২০০১ সালে তৈরি হয়েছিল ছবি অশোক৷ ছবিতে নায়ক নায়িকা ছিলেন শাহরুখ খান এবং কারিনা কাপুর৷ ছবিতে তাদের দুজনকেই একসঙ্গে স্নানের দৃশ্য দেখা গিয়েছে৷ 8. ২০০৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল রোমান্টিক ছবি ‘বরসাত’ যেখানে ববি দেওয়লের বিপরীতে ছিলেন দুই নায়িকা প্রিয়াংকা চোপড়া এবং বিপাশা বসু৷ সেই ছবিতে বর্ষায় ভিজে স্নান করার দৃশ্য দেখা গিয়েছিল প্রিয়াংকা চোপড়া এবং বিপাশা বসু দুই নায়িকাকেই৷ 9.২০০৯ সালে ‘দিল বলে হাড়িপ্পা’ ছবিতে রানি মুখোপাধ্যায় এক বিরল চরিত্রে অভিনয় করেন৷ সে সেময় ছবিতে তাঁর স্নানের দৃশ্য নিয়ে কম আলোচনা হয়নি৷ 10. দক্ষিণী অভিনেত্রী সিল্ক স্মিতার জীবন অবলম্বনে ২০১১ সালে ডার্টি পিকচার নামে ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল৷ ওই অভিনেত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেন বিদ্যা বালান৷ ছবিতে ও লা লা ও লা লা গানে বিদ্যা বালানকে দেখা গিয়েছে স্নানের দৃশ্যে৷ 11. ২০১৫ সালে মু্ক্তি পেয়েছে ববি খান পরিচালিত সানি লিওন অভিনীত ছবি এক পহেলি লীলা৷ যে ছবিতে অনেক দর্শকের হার্টথ্রব লাস্যময়ী সানি লিওনের ১০০ লিটার দুধ স্নানের দৃশ্যই ছিল ছবির মূল আকর্ষণ

বিস্তারিত»

স্বাস্থ্য ও রুপচর্চা

বিনা পয়সার যে খাবারটি আজীবন যৌবন ধরে রাখে, নতুন চুল গজায়

সমস্যা সমাধান ও রোগ নিরাময়ের জন্য আমরা কত কিনা করি। চিকিৎসা করতে গিয়ে বেশ ক্ষতি ডেকে আনি নিজেদের জন্যই। কষ্ট লাঘবে তখন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়টা মাথায় থাকে না। বিশেষ করে টাইফয়েড জ্বর, ডায়রিয়া, কলেরার মতো পেটের রোগে অ্যান্টিবায়োটিকও চলে আকছার। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত ওই সব ওষুধগুলির দামও অনেক সময় নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে হয়ে যায়। অথচ আমাদের হাতের কাছেই কিছু ভেষজ গাছ রয়েছে, যেগুলি অত্যন্ত অল্প দামে বা একটু খুঁজলে বিনামূল্যেও পাওয়া যায়, আমরা জানি না। অনেক সময় জেনেও, বিশ্বাস হয় না। তেমনই একটি ভেষজ উদ্ভিদ হল থানকুনি। থানকুনি আমাদের অতিপরিচিত পাতা। পুকুরপাড় বা জলাশয়ে হামেশাই দেখা মেলে। কথায় বলে, পেট ভালো থাকলে মনও ফুরফুরে থাকে। চিকিত্‍সকরাই বলছেন, থানকুনি পাতার এমন ভেষজ গুণ রয়েছে, মিয়মিত খেতে পারলে, পেটের অসুখে কোনও দিনও ভুগতে হবে না। শরীর-স্বাস্থ্য তো সতেজ থাকেই, ছোট থেকে খাওয়াতে পারলে বুদ্ধিরও বিকাশ হয়। দেখে নেওয়া যাক, যৌবন ধরে রাখতে ও সুস্থ থাকতে থানকুনি পাতার ভেষজ গুণগুলি। ১. পেটের রোগ নির্মূল করতে থানকুনির বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলে যে কোনও পেটের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। একই সঙ্গে পেট নিয়ে কোনও দিনও সমস্যায় ভুগতে হয় না। ২. শুধু পেটই নয়, আলসার, এগজিমা, হাঁপানি-সহ নানা চর্মরোগ সেরে যায় থানকুনি পাতা খেলে। ত্বকেও জেল্লা বাড়ে। ৩. থানকুনি পাতায় থাকে Bacoside A ও B। Bacoside B মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সাহায্য করে ও রক্ত চলাচল বাড়ায়। থানকুনি পাতা নিয়মিত খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। ৪. থানকুনি স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। ৫. মৃতকোষের ফলে চামড়ায় অনেক সময়ই শুষ্ক ছাল ওঠে। রুক্ষ হয়ে যায়। থানকুনি পাতার রস মৃতকোষগুলিকে পুনর্গঠন করে ত্বক মসৃণ করে দেয়। ৬. পুরনো ক্ষত কোনও ওষুধেই না সারলে, থানকুনি পাতা সিদ্ধ করে তার জল লাগালে সেরে যায়। সদ্য ক্ষতে থানকুনি পাতা বেটে লাগালে, ক্ষত নিরাময় হয়ে যায়। ৭. থানকুনি পাতা চুল পড়া আটকে দেয়। এমনকি নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে। ৮. বয়স বাড়লেও, যৌবন ধরে রেখে দেয় থানকুনি পাতার রস। প্রতিদিন একগ্লাস দুধে ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে খেলে, চেহারায় লাবণ্য চলে আসে। আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়। ৯. দাঁতের রোগ সারাতেও থানকুনির জুড়ি মেলা ভার। মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে বা দাঁতে ব্যথা করলে একটা বড় বাটিতে থানকুনি পাতা সিদ্ধ করে, তারপর ছেঁকে নিয়ে সেই জল দিয়ে কুলকুচি করলে উপকার পাওয়া যায় চটজলদি। ইন্ডিয়া টাইমস

বিস্তারিত»

সম্পাদকীয়

র‌্যাবের বিরুদ্ধে মামলা ও সরকারি মহলে উদ্বেগ

সরকারি দলের অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় সরকারি মহলে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজধানীর হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগ সভাপতি আরজু মিয়াকে হত্যার অভিযোগে র‌্যাবের তিন সদস্য ও তাদের এক সোর্সের বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা করেছে নিহত আরজুর ভাই মাসুদ। মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, হত্যার উদ্দেশ্যে হাজারীবাগ পার্কের সামনে থেকে আরজুকে অপহরণ করে নিয়ে যান র‌্যাব-২-এর সদস্যরা। এসময়ে কোন ধরনের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। থানায় গিয়ে আরজুর খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। সাধারণ ডায়রিও গ্রহণ করেনি। আরজুর ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, সংশ্লিষ্ট আসনের এমপি ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। আরজুর মিলাদ মাহফিলে তিনি বলেছেন, তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে আমাদের নেতা ও কর্মীদের হত্যা আমরা বরদাস্ত করব না। দায়িদের আবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরো বলেছেন, বন্দুকযুদ্ধ নয়, আরজুকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আরজুর কোন অপরাধ থাকলে তার জন্য আইন ছিল, বিচার হতো। কিন্তু এরকম একটা ছেলে, যার কোন খারাপ রেকর্ড নেই, কোন মামলার জিডি পর্যন্ত নেই সেই ছেলেটাকে ধরে নিয়ে সকালবেলা মেরে দিল। তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- আইনপরিপন্থী।গুম, খুন, ক্রসফায়ার পুরনো বিষয়। এবারের আলোচনা এসেছে নতুন আঙ্গিকে। গত কিছুদিনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সরকারি দলের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুনোখুনির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। এক ধরনের নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে মাগুরায় মায়ের পেটে শিশু গুলিবিদ্ধ হবার ঘটনা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। রাজধানীতে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাতে ছাত্রলীগ নেতার সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ উঠে আসে। এই পরিস্থিতিতে গত কয়েক দিনে অন্তত ৪ জন ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। বাস্তবতা হচ্ছে, গত কয়েক বছরে এ ধরনের অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। এর শিকার হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের বহু নেতা-কর্মী কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের তথ্য অনুযায়ী এবছর প্রথম ৬ মাসে মোট ১০৪ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছে ৭৯ জন। অধিকারের তথ্য মতে, এ সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ৩৮ জনকে গুম করা হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব মতে, উল্লেখিত সময়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর হেফাজতে ও ক্রসফায়ারে মৃত্যু হয়েছে ১০১ জনের। বলার অপেক্ষা রাখে না, এ তালিকা এখন দিন দিনই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। প্রতিটি ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তরফে কোন না কোনভাবে এধরনের হত্যাকা-কে সমর্থন করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায়ও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এনিয়ে বিবিসির সাথে আলোচনাতে বিশেষজ্ঞরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, মামলা হলেই তার বিচার হবে সেটা খুব সহজে বলা যায় না। কারণ, এ ধরনের উদাহরণ খুব বেশি নেই। তারা লিমনসহ অনেকের কথাই বলেছেন। তারা মনে করেন, ঘটনার তদন্তে এতটা সময় অতিবাহিত হয় যাতে আবেদনকারিরা একপর্যায়ে ধৈর্য্যচ্যুত হয়ে পড়ে। সরকারি দলের অথবা সরকারি দলের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ক্রসফায়ারের পর যারা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তারা কিন্তু বিরোধী দলের উপর সংঘটিত অনুরূপ ঘটনায় মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন। তখন বিরোধী মহল থেকে যা বলা হয়েছে এখন সরকারের দায়িত্বশীলরাও তাই বলছেন। তারা বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের বিরোধিতা করে বলছেন অপরাধী হলে আইনের হাতে সোপর্দ করা যেত। তাদের উদ্বেগকে খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই। ক্রসফায়ারের পরও ঘটনা নিয়ন্ত্রণে এসেছে তা বোধহয় বলা যাবে না। অনুরূপ ঘটনা গত সোমবারের পত্র-পত্রিকাতেও প্রকাশিত হয়েছে। বলা বাহুল্য, ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- মূল সমস্যার সমাধানে কোন ভূমিকা রাখবে না, রাখতে পারে না।আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অনেকটা শূন্যের কোঠায় নেমেছে। বন্দুক বা ক্ষমতা থাকলেই তার অপব্যবহার করতে হবে এ প্রবণতা সঙ্গত বা কাক্সিক্ষত নয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয়করণের ফলে যে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে এ বাহিনীকে মুক্ত করা অপরিহার্য। নাগরিকদের জীবনেরই যদি কোন নিরাপত্তা না থাকে তাহলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়ে, প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক। আমরা আশা করি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তার আইনানুগ দায়িত্ব যথাযথ ও নিরপেক্ষভাবে পালন করবে।

বিস্তারিত»

লাইফস্টাইল

স্বামী-স্ত্রীয়ের বয়সের ফারাক মাপুন এই ফর্মুলায়

নয়াদিল্লি: শিরোনাম পড়ে চমকে যাবেন না। এই প্রথম বাংলায় এমন একটি প্রতিবেদন লেখা হচ্ছে। স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বয়সের পার্থক্য ক’বছরের হওয়া উচিত? এ নিয়ে নানা মুনির নানা মত। কিন্তু এই প্রথম আমরা আপনাকে একটি ছোট্ট অঙ্ক কষে নিতে বলব। যার মাধ্যমে আপনি নিজেই বাড়িতে বসে বুঝে নিতে পারবেন, আপনার বয়স কত হলে কোন বয়সের পাত্রী আপনাকে বেছে নিতে হবে। তবে বলে নেওয়া ভাল, এটাই যে ধ্রুব সত্য এ কথা বলছি না কিন্তু। জনপ্রিয় একটি বিয়ে সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। সেই মোতাবেক বাঙালি পাঠকদের জন্য রইল এই প্রতিবেদন- বিয়ে একটি ছেলে বা মেয়ের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় । সারাটা জীবন যাঁকে সঙ্গে নিয়ে থাকবেন। জীবনের সুখ দুঃখের আনন্দের সঙ্গী হয়ে থাকবেন । আপনার বয়স দেখে জেনে নিন আপনার বউয়ের বয়স কত হওয়া উচিৎ! কী করতে হবে আপনাকে? আপনার বয়সকে দুই দিয়ে ভাগ করুন। তারপর তার সঙ্গে সাত যোগ করুন। ব্যাস! তাহলেই জেনে যাবেন কোন বয়সের মেয়ে আপনার পাত্রী হওয়ার যোগ্য। ধরুন, ছেলের বয়স ২৪। তাহলে ২৪ কে ২ দিয়ে ভাগ করুন। দাঁড়াবে ১২। এবার তার সঙ্গে ৭ যোগ করলেই পেয়ে যাবেন আপনার পাত্রীর বয়স। (২৪/ ২ = ১২ +৭ = ১৯ তাহলে আমার বউয়ের বয়স হওয়া উচিত= ১৯) আপনার বয়স ৩১ হলে? ২ দিয়ে ভাগ করে সংখ্যাটি থেকে দশমিক বাদ দিন। অর্থাৎ ৩১/২= ১৫.৫। এক্ষেত্রে ফলাফলকে ১৫ বা ১৬ ধরে করুন। (১৬+৭=২৩) আর দেরি কেন, বাড়িতে বসে কষে ফেলুন সহজ এই অঙ্ক।

বিস্তারিত»

শোক-সংবাদ

কাজী জাফর আহমদ আর নেই

ঢাকা: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির একাংশের সভাপতি কাজী জাফর আহমদ আর নেই। (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাহি রাজিউন।)  বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৭টায় তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি মারা যান।  কাজী জাফরের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান রনি এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করছেন।   বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।  চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান খালেদা জিয়ার শোক প্রকাশের কথা জানিয়েছেন।  গত ১৩ মে খুলনা সফরের সময় বাথরুমে পা পিছলে পড়ে গিয়ে কোমরে আঘাত পান কাজী জাফর। পরে তাকে দ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ২৬ মে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কেবিন থেকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কক্ষে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। এর আগেও গত ১৫ মে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। পরে দেশের বাইরেও তিনি চিকিৎসা করান।  ১৯৬৯ -এর গণ অভ্যুত্থানে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বিভিন্ন আন্দোলনে শ্রমিকদের সংগঠিত করার ব্যাপারে তার ব্যাপক ভূমিকা ছিল। তিনি টঙ্গী অঞ্চলের একজন প্রভাবশালী শ্রমিক নেতা ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন কাজী জাফর। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ভাসানী ন্যাপের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের একজন ছিলেন তিনি।  জিয়াউর রহমানের আমলে ইউনাইটেড পিপল্‌স পার্টি নামক রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং জাতীয়াতাবাদী ফ্রন্টে যোগদান করেন।  পরে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী হন।  তিনি কুমিল্লা -১২ ( চৌদ্দগ্রাম) নির্বাচনী এলাকা থেকে বেশ কয়েকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বিস্তারিত»

সাম্প্রতিক খবর সর্বাধিক পঠিত

জরিপ

Loading...

Archive