সরকার কখনোই গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়নি : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা : গণমাধ্যমকে সরকার কখনোই নিয়ন্ত্রণ করতে চায়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সম্মানে আঘাত করে কেউ কিছু বললে কারো সহ্য হলেও আমার তা সহ্য হয় না। তিনি বলেন, আমরা চাই দেশের সংবাদমাধ্যম আরও শক্তিশালী হোক। নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না। কোনো কিছু করতে গেলে নীতিমালা প্রয়োজন। দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলো নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে এমন প্রত্যাশাও করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় প্রেসক্লাবকে আন্তর্জাতিক মানের প্রেসক্লাব করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, এ জন্য যত রকম সহযোগিতা প্রয়োজন তিনি তা দেবেন। সাংবাদিকদের আবাসন সুবিধা এবং কল্যাণ ট্রাস্টে অর্থ বাড়ানোর দাবির প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা বলেন, আমার কাছে দাবি করার প্রয়োজন হয় না। কল্যাণ ট্রাস্টের চিন্তা করতে হয়নি, আমি নিজস্ব চিন্তা থেকেই করে দিয়েছি। আওয়ামী লীগ সব সময় সাংবাদিকদের কথা চিন্তা করে, আর সাংবাদিকরা বেশি করে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে। অবশ্য সমালোচনা ভালো এটা আমাদের দৃষ্টিকে প্রসারিত করে। এ সময় দেশের উন্নয়নে তার সরকারের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীনতার উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করাই এ সরকারের লক্ষ্য। মূল লক্ষ্য বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করা। আমরা দারিদ্র্য কমিয়ে ২২ দশমিক ৭ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। শেখ হাসিনা বলেন, ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে আমরা চলতে চাই না। দেশে মানুষ হত্যার রাজনীতি যারা করতে চায়, তাদের আর এসব করতে দেয়া যাবে না। মানুষ পুড়িয়ে কেউ কোনো দিনই ক্ষমতায় আসতে পারবে না। ইফতারের বেশ খানিকক্ষণ আগেই তিনি সেখানে উপস্থিত হন এবং সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে কথা হয় প্রধানমন্ত্রীর। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিরোধীদলীয় নেতারা, কূটনীতিক, সংসদ সদস্য, সাংবাদিক নেতারাসহ ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   বিস্তারিত»

জনরোষে আওয়ামী নেতারা পালাবার পথ খুঁজে পাবে না

ঢাকা: জনরোষে আওয়ামী নেতারা পালাবার পথ খুঁজে পাবে না বলে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, কোথায় যাবেন? পালানোর জন্য জায়গা ঠিক করে রাখুন। জনগণ আজ জেগে উঠেছে, যখন দড়ি ধরে টান দেবে সরকার তখন খান খান হয়ে যাবে। সাবধান হওয়ার এখনই সময়। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটির রাজদর্শন হলে এলডিপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এলডিপির মহাসচিব ড.রেদোয়ান আহমেদ। খালেদা জিয়া বিকেল ৬টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটির রাজদর্শন হলে এসে পৌঁছান। খালেদা জিয়া বলেন, দুর্নীতি ও অপশাসনের জন্য সরকারের পরিণতি হবে হীরক রাজার মতো। জনগণ দড়ি ধরে টান দেয়ার জন্য রেডি হয়ে আছে। আল্লাহও জালেম, অত্যাচারী ও অবৈধ সরকারকে পরীক্ষা করছে। তারা কত খারাপ কাজ করতে পারে, কত দুর্নীতি করতে পারে। যেদিন দড়ি ধরে টান দিবে সেদিন কিন্তু খান খান হয়ে যাবে। খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেন, সরকার ২০ দলের পেছনে লেগে আছে। তাদের দলের লোকজন অপকর্ম করছে, কিন্তু তাদের কিছু হয় না। অথচ বিএনপি ও ২০ দলের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তাদের জামিন দেয়া হয় না। সম্প্রতি সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর জামিন প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, মহানবী (সা.) ও হজ নিয়ে কটূক্তিকারীকে সরকার জামিনে মুক্ত করে দিয়েছে। জনরোষের ভয়ে তিনি এখন পালিয়ে আছে। সরকারের এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অতি উৎসাহী সদস্যেরও একই অবস্থা হবে। সরকারি দলের লোকজন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতি উৎসাহী সদস্যদের পালানোর জায়গা ঠিক করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, কোথায় যাবেন? পালানোর জন্য জায়গা ঠিক করে রাখুন। জনগণ আজ জেগে উঠেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সরকারি দলের লোক প্রকাশ্যে খুন করলেও তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। পচা গম আমদানি করে সাধারণ মানুষদের তা আটা বানিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে। আপনারা যে অপকর্ম করেছিলেন সেদিন বুঝবেন যেদিন আপনাদের বিচার হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজ উদ্দীন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ ,ড. মামুন আহমেদ, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, কাজী সিরাজ। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসূফ, সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রুহুল আলম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, নাজিম উদ্দিন আলম, যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) শাহজাহান মিলন, সহ-শিল্প বিষয়ক সম্পাদক জহুরুল হক শাহজাদা মিয়া, মেজর (অব.) হানিফ, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা। এছাড়া ২০ দলের মধ্যে, কল্যান পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মাদ ইবরাহিম বীর প্রতিক, মহাসচিব এম এম আমিনূর রহমান,সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, জামায়াতের কর্ম পরিষদের সদস্য আব্দুল হালিম, প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ নেজামী, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ, এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোতুর্জা, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসা, বিজেপীর মহাসচিব সালাহ উদ্দিন মতিন প্রকাশ, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। বিস্তারিত»

২০ দলীয় জোট শক্তিশালী করার তোড়জোড়

ঢাকা : সরকার বিরোধীজোটে ভাঙন নয়, বরং দ্রুত শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে ২০ দলীয় জোটকে। জোটের অভ্যন্তরে যাতে কোনো ধরনের ‘ভুল বোঝাবুঝি’ এবং শরিকদের মধ্যে ‘সমন্বয়হীনতা’ না থাকে সে উদ্যোগ ইতিপূর্বেই নেয়া হয়েছে। ২০ দলের শীর্ষ নেতারা জোটকে শক্তিশালী করতে ইতিমধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশেষ করে ঢাকায় যাতে আন্দোলন-সংগ্রামসহ সব ধরনের কর্মসূচি সফল করা যায় সে লক্ষ্যে জোটকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য ২০ দলীয় জোটের ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক কমিটিও গঠন করা হবে। জোটে থাকা প্রত্যেক দলের ঢাকা মহানগর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে এ কমিটি করা হবে জানিয়েছেন বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা। তিনি জানান, ১৯৯৬-০১ টার্মের শেষের দিকে চারটি দল জোটবদ্ধ হয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলে। আওয়ামী লীগ পরবর্তী মেয়াদে ক্ষমতায় আসলে চার দলীয় জোট সম্প্রসারিত হয়ে ১৮ দল এবং পরে ২০ দলে রূপ নেয়। কিন্তু সম্প্রসারিত হওয়ার পর এখনো ঢাকায় এ জোটের কোনো আনুষ্ঠানিক সমন্বয় কমিটি গঠিত হয়নি। আগামী দিনে জোটের কর্মসূচি সফল করতে শুধু ঢাকায় নয়, দেশের সব মহানগর ও জেলাগুলোতে ২০ দলের সমন্বয় কমিটি গঠিত হবে। পর্যায়ক্রমে সব উপজেলাও বিরোধীজোটের সমন্বয় কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হবে। ২০ দলীয় জোটনেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শরিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। সূত্র জানিয়েছে, তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার বিরোধী জোটকে আরও শক্তিশালী করতে খালেদা জিয়া জোটের বাইরে থাকা অন্যসব রাজনৈতিক দলের খোঁজ-খবর রাখছেন। এসব দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন ইস্যুতে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে একমত পোষণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলেও তাঁকে জানিয়েছেন। এদের মধ্যে বেশ কিছু বামপন্থী দলও রয়েছে। এছাড়া জোটে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এখন নিজেই সমন্বয় করছেন। যদিও জোটের শরিকদের সঙ্গে সমন্বয় রাখতে বিএনপির শীর্ষ কয়েকজন নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে ২০ দলের আলোচিত শরিক জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য শরিকদের ডাকা ইফতার মাহফিলে অংশ নিচ্ছেন খালেদা জিয়া। ২০ দলীয় জোটের একটি শরিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খুবই হিসেব করে পা ফেলছেন। তিনি অতীতের সব সময়ের চাইতে এখন খুবই সতর্ক। এবার অযথা বাতি জ্বালাবেন না  তিনি। জানুয়ারি থেকে টানা তিন মাসের আন্দোলন ও ৩ সিটি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জোটে ভাঙন ও সমন্বয়হীনতা নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবর আর বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন বলে দাবি করেন ২০ দলীয় জোটের এ শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, ২০ দলের বয়স কম হলেও ৪ দলীয় জোটের বয়স যথেষ্ট হয়েছে। এ দলগুলো পরীক্ষিত। এরা একে অপরকে দীর্ঘদিন ধরে জানে। বিশেষ বিশেষ সময়ে জোটে ভাঙন সৃষ্টির জন্যে আওয়াজ তোলা হলেও তাতে কান দেন না শীর্ষ নেতারা। বিশেষ করে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ করে বলেন, জোটনেতা ভাঙন চান না, চান জোট আরও শক্তিশালী হোক। তিনি বলেন, ইফতার মাহফিল কেন্দ্রিক জোট শরিকদের মধ্যে খালেদা জিয়া একটি বিশেষ যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। রমজান ও ঈদ পরবর্তী সময়ে করণীয় নিয়ে শরিকদের সঙ্গে কথাও বলছেন তিনি ইতিমধ্যে। বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচনের বিষয়টি মাথায় রেখেই এগুচ্ছে তার দল। হঠাৎ করে বা সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে কোনো নির্বাচনের আয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে এতে অংশ নেয়ার বিষয়টিও মাথায় রয়েছে ২০ দলের। সেক্ষেত্রে কে কোথায় কি দায়িত্ব পালন করবেন এবং কাকে কোথায় নিযুক্ত করা হবে তাও ঠিক করে রাখা হচ্ছে। তবে সম্ভাব্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই ২০ দলকে আরও শক্তিশালী করার কাজ শেষ করবে তারা। কারণ, সমন্বিত জোটই আগামীতে ভোটের জন্য কাজ করবে।   বিস্তারিত»

জনগণের আস্থা অর্জনে সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানসম্পন্ন নাগরিক সেবা প্রদানের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার নিজ কার্যালয়ে বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা চুক্তি স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের স্বার্থ নয়, দেশ ও জনগণের কথা আগে ভাবতে হবে। নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলেই দেশ সামনে এগিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন কর্মকান্ড আরো গতিশীল করতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এই চুক্তির বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিষ্ঠ লক্ষ্য অর্জনে কাজের গতিশীলতা আসবে। স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে এই চুক্তি সহায়ক ভূমিকা হিসেবে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করে তিনি। প্রথম বছরের সাফল্যের পর দ্বিতীয় বছরের মতো আবারো এই চুক্তি সম্পাদন করা হলো। বিস্তারিত»

ব্যাংক জালিয়াতদের ধরতে নিজের দল থেকেই বাধা আসছে: অর্থমন্ত্রী

ঢাকা :নিজেদের লোকের সমর্থনের কারণে সোনালী ও বেসিক ব্যাংকে আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় জড়িত সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, ‘জড়িতদের বেশ কয়েকজনকে জেলে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। কিন্তু যে গতিতে যাওয়া উচিত, সেই গতিতে যেতে পারছি না।’ সোনালী ব্যাংকের হল-মার্ক কেলেঙ্কারির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সোনালী ব্যাংকের মামলায় একজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালককে (ডিএমডি) জেলে নেওয়া হয়েছে। তিনি জেলেই মারা গেছেন। আরেক ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জেলে নেওয়া হয়েছে। আরেকজনকে কোনোভাবেই জেলে নেওয়া যাচ্ছে না। এঁরা সবাই বিভিন্ন জালিয়াতির মামলার আসামি। কিন্তু তাঁরা আমাদের লোকজনের সমর্থনে রয়েছেন। এটি নিয়ে আমি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।’ জাতীয় সংসদে গতকাল মঙ্গলবার ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট পাসের আগে ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম নিয়ে কয়েকজন সাংসদ প্রশ্ন তোলেন। সেসব প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী নিজের অপারগতা ও ক্ষোভের কথা জানান। এ সময় মন্ত্রী এও বলেন, এখন পর্যন্ত যাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এ রকম পদক্ষেপ এর আগে বাংলাদেশে কেউ নেয়নি, সাহসও করেনি। বেসিক ব্যাংক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। তারা একটি অনুসন্ধান চালিয়ে রিপোর্ট ঠিক করছেন। রিপোর্টটি হাতে পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এরই মধ্যে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে বেসিক ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুষ্ট লোক দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে। সোনালী ও বেসিক ব্যাংকের কেলেঙ্কারির কারণে ব্যাংক খাতে কিছুটা আস্থার সংকট হয়েছে বলেও স্বীকার করেন অর্থমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই ব্যাংকের কাজকর্মে আস্থা ও বিশ্বাস প্রয়োজন। যখনই সেটা ঘাটতি হয়, তখনই মনে প্রশ্ন জাগে। আমাদের কিছু কিছু ঘাটতি হয়েছে সোনালী ও বেসিক ব্যাংক। সে জন্য কিছু কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।’   বিস্তারিত»

ছবি ঘর

উল্টোপথে ঢাবি : প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও শিক্ষার্থীরা পেল না এক টুকরো খেজুর

ঢাবি : প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়(ঢাবি) অগ্রসর হচ্ছে উল্টোপথে। অনিয়মই যেন হয়ে উঠছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম। প্রতিবছর ঢাবির প্রতিষ্ঠাবাষির্কী উপলক্ষে হলগুলোতে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হলেও এবছর ৯৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে খাবার পরিবেশন করা হয়নি। ছাত্রদের কপালে জুটেনি এক টুকরো খেজুর পর্যন্ত। মেয়েদের হলে ইফতারি সরবরাহ করা হলেও তার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়ে নানান নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগে গলা বাড়িয়ে খাবার পরিবেশনের কথা বললেও বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে দেখা গেছে তার উল্টোটা। মানসম্মত খাবার তো দূরের কথা রমজান উপলক্ষে এবছর শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতার পর্যন্ত বরাদ্দ করেনি কর্তৃপক্ষ। বরাদ্দ হয়নি এক টুকরো খেজুর। এ নিয়ে বিভিন্ন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন উঠেছিল এবছর প্রতিষ্ঠাবার্র্ষিকিতে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে না। সেজন্য গত ২৭জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট বার্ষিক অধিবেশনে সাদা দলের প্রভাবশালী শিক্ষক অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে কেন খাবার পরিবেশন করা হবে না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। কিন্তু সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের অন্যতম শিক্ষক ও সিনেট সদস্য অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীন তার কথার পাল্টা জবাব দিয়ে বলেছিলেন, এবছরও প্রতিটা হলে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের খাবার পরিবেশন করা হবে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল বাজেটে দিবসগুলোর ব্যায় মাথায় রেখেই বাজেট ঘোষণা করা হয়ে থাকে। সাধারণত প্রতিবছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দুপুর বেলা হল থেকে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়। কিন্তু গত বছর দিবসটিতে রোজা থাকায় ইফতারি সহকারে রাতের জন্য বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের ধারণা ছিল-গত বছরের মত এবারও ইফতারসহ রাতের জন্য বিশেষ খাবার দেয়া হবে। কিন্তু ছাত্রদের কোনো হলেই দিবসটিতে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়নি। মেয়েদের ৫টি হলে ইফতার দেয়া হলেও রোকেয়া হলে দেয়া ইফতারের মান ও মেন্যু নিয়ে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রীরা। হল সূত্রে জানা যায়, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী খাবার গ্রহণের জন্য মেয়েরা হল অফিস থেকে আগেভাগেই টোকেন সংগ্রহ করেন। সন্ধ্যায় ইফতার সংগ্রহ করতে গেলে রাতের খাবার না দিয়ে ছাত্রীদেরকে শুধু ইফতার পরিবেশন করা হয়। ক্যান্টিনে নি¤œ মানের খাবার পরিবেশন করায় সাধারণত মেয়েদের হলগুলোতে ছাত্রীদের বড় একটি অংশ নিজেরাই রান্না করে। ছাত্রীরা ভেবেছিল হল থেকেই রাতের খাবার পরিবেশন করা হবে। তাই তারা রান্নার প্রস্তুতি নেয়নি। এতে করে তারা মহাবিপাকে পড়তে হয় তাদের। পরে ক্ষুব্ধ ছাত্রীরা হলের হাউজ টিউটরদের বাসার সামনে ইফতার রেখে চলে যায়। এসময় ছাত্রীদেরকে হল গেইটে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশেষ খাবারের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ শিক্ষকগণ আত্মসাৎ করেছেন। একারণেই এবছর বিশেষ খাবার দেয়া হয়নি। এছাড়া কয়েকটি হল দিবসটি উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মাঝে টি-শার্ট দিলেও বাদ পড়েছে অধিকাংশ হল। মাথার একটি ক্যাপ অথবা হলের নাম সম্বলিত একটি ফিতা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছে হল কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভের বিষয়ে জানতে রোকেয়া হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীনকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেন নি। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

বিস্তারিত»
ক্রিকেটারদের নিয়ে ব্যঙ্গ গ্রাফিক্স ক্ষেপে পাগল হয়ে গেছে ভারতীয় মিডিয়া

ভয়াবহ ক্ষেপে গেছে ভারতীয় মিডিয়া।বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ওয়ান-ডে সিরিজে ভারতের পরাজয়কে নিয়ে ব্যঙ্গ করে তৈরি একটি গ্রাফিক্স ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও ক্রিকেট-মহলে হুলুস্থূল ফেলে দিয়েছে। ভারতীয় মিডিয়া বাংলাদেশ নিয়ে যা-তা লেখালেখি শুরু করেছে। কলকাতার এই সময় দৈনিকটি গতকাল ও আজ দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। অন্যভাবে আক্রমণ করছে পত্রিকাটি।   ‘দুনিয়া বলছে, 'ঢাকা'তে জাস্ট থাকা যায় না’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই সময় রীতিমতো বিষোদগার করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে, “বলতে পারেন, বিশ্ব-দুনিয়ার সবচেয়ে 'খাজা' শহর কোনটি? খাজা, মানে আমরা বলতে চাইছি, 'বাসযোগ্য' নয়, এমন শহরের শীর্ষে কে রয়েছে? বলতে বা শুনতে খারাপ লাগলেও, সেই শহরের অবস্থান আমাদের প্রতিবেশী দেশেই। হ্যাঁ, সেই দেশ, যার নাগরিকরা প্রতিবেশীকে অসম্মানে সুখ পান। শিষ্ঠাচারের সঙ্গে রসবোধের ফারাকটুকু বোঝেন না। খেলার হারজিৎ নিয়ে রসিকতা করতে গিয়ে, খেলোয়াড়দের মাথা মুড়িয়ে অসম্মানে, তৃপ্ত হন। দেশটি যে বাংলাদেশ, না বললেও চলে। এই দেশের রাজধানী শহর ঢাকাই বিশ্ব-দুনিয়ার সবচেয়ে অবাসযোগ্য শহর। যারা ঢাকা শহরকে এই তকমা দিয়েছে, তারা কেউ কিন্তু ভারতের নয়। ফলে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে পালটা অভিযোগ তোলা যাবে না। সম্প্রতি 'ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিট গ্লোবাল' 'বাসযোগ্যতা'র ওপর একটি গবেষণা চালায়। অপরাধ, হুমকি, হাসপাতাল, স্কুল, যানবাহন এসব কিছুই বিবেচনায় রাখা হয়। মোট নম্বর ১০০ ধরে, তার ওপর এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। তাতেই দেখা গিয়েছে, সবচেয়ে কম নম্বর পেয়ে, অবাসযোগ্য শহরের শীর্ষে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। পেয়েছে ৩৮.৭ শতাংশ নম্বর। দুইয়ে রয়েছে পোর্ট মোরসবি, পাপুয়া নিউ গিনির শহর, প্রাপ্ত নম্বর ৩৮.৯ শতাংশ। তিনে রয়েছে নাইজেরিয়ার শহর লাগোস, পেয়েছে ৩৯ শতাংশ নম্বর। অবাসযোগ্য হিসেবে মোট ১০টি শহরের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। আর এক প্রতিবেশী পাকিস্তানের করাচি রয়েছে তালিকায় ৬ নম্বরে। প্রাপ্তমান ৪০ শতাংশ। ৩৯.৪ শতাংশ নম্বর নিয়ে চারে রয়েছে জিম্বাবুয়ের হারারে। পাঁচে আলজেরিয়ার শহর আলজিয়ার্স(৪০.৯), সাতে লিবিয়ার শহর ত্রিপোলি (৪২.৮), আটে ক্যামেরুনের দৌয়ালা (৪৩.৩), নয়ে ইরানের শহর তেহরান আর দশে রয়েছে আবিদজান, আইভরি ডি ইভয়ার এক শহর, পেয়েছে ৪৫.৯ শতাংশ নম্বর।”   নয়া দিল্লি থেকে বিবিসির সংবাদদাতা শুভজ্যোতি ঘোষ লিখেছেন, “বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ওয়ান-ডে সিরিজে ভারতের পরাজয়কে নিয়ে ব্যঙ্গ করে তৈরি একটি গ্রাফিক্স ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও ক্রিকেট-মহলে হুলুস্থূল ফেলে দিয়েছে। ঢাকার দৈনিক প্রথম আলোর একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত ওই গ্রাফিক্সের নিন্দায় সরব হয়েছে ভারতের প্রায় সব প্রথম সারির চ্যানেল ও খবরের কাগজ। কেউ বলছেন ব্যঙ্গচিত্রটি শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং এটি ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতি চূড়ান্ত অসম্মান। দুই দেশের ক্রিকেট রেষারেষিকে ঘিরে বিজ্ঞাপনী যুদ্ধ অবশ্য চলছে সেই বিশ্বকাপের সময় থেকেই, কিন্তু তা এত তাড়াতাড়ি এতটা তলানিতে এসে ঠেকবে তা প্রায় অভাবনীয় ছিল। গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে বিশ্বকাপের সময় মওকা মওকা সিরিজের বিজ্ঞাপনগুলোকে ঘিরেই ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছিল। স্টার স্পোর্টসের বানানো মওকা মওকা-র জবাবে বাংলাদেশেও তৈরি হয়েছিলো অনেক পাল্টা ভিডিও। এরপর জুনে ভারতের বাংলাদেশ সফরের সময় বাংলাদেশকে ক্রিকেটের বাচ্চা বলে কটাক্ষ কিংবা তার পাল্টা হিসাবে মোটা বাঁশের ডান্ডা দিয়ে ‘ব্যাম্বু ইজ অন’ সিরিজের বিজ্ঞাপন নিয়েও পানিঘোলা কম হয়নি। কিন্তু সম্প্রতি প্রথম আলো-র সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞাপন রুচি ও শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে বলেই ভারতীয় অনেক সংবাদমাধ্যমের রায়। যে গ্রাফিক্স নিয়ে এই তোলপাড়, সেটিতে দেখা যাচ্ছে বোলার মুস্তাফিজ কাটারে ঘায়েল ভারতীয় ক্রিকেটাররা আর্ধেক মাথা কামিয়ে বিষণ্ণ মুখে দাঁড়িয়ে আছেন আর তাদের হাতে পোস্টার ‘আমরা ব্যবহার করেছি, আপনারাও করুন’। মুস্তাফিজের যে স্লোয়ার ডেলিভারি বা কাটারে ধয়াশায়ী হয়েছিলেন ভিরাট কোহলি বা এম এস ধোনি-রা সেটাকেই দ্বৈত অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে। কিন্তু ভারতের নানা চ্যানেলে ক্রিকেট পন্ডিতরা মন্তব্য করেছেন, বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের কাছে হারার রাগ থেকেই বাংলাদেশ এমন অবমাননাকর গ্রাফিক্স তৈরি করেছে। তবে ক্রিকেট-ভাষ্যকার গৌতম ভট্টাচার্যর মতে, এখানে যদি রুচিহীনতা থেকেও থাকে তাহলে তার শেকড় আসলে অনেক গভীরে। তিনি বিবিসিকে বলছিলেন, ‘শুধু ক্রিকেটকে এখানে দায়ী করা ঠিক হবে না। ফরাক্কা বা তিস্তার পানি থেকে শুরু করে কূটনীতির অনেক বিষয়েই বাংলাদেশে একটা ধারণা আছে যে ভারত তাদের সঙ্গে বড় দাদার মতো আচরণ করে থাকে। এখন ক্রিকেটটাই সে দেশের সবচেয়ে বড় ইউনিফায়িং স্পোর্ট, তাই ক্রিকেটকে কেন্দ্র করেই সেই মনোভাবের প্রতিফলন বেরিয়ে এসেছে।’ যে দৈনিকে এই বিতর্কিত গ্রাফিক্সটি প্রকাশিত হয়, সেই প্রথম আলো অবশ্য মনে করছে তাদের ব্যঙ্গ সাময়িকী বস-আলোতে প্রকাশিত এই গ্রাফিক্সের রসিকতার দিকটি বা হালকা দিকটি দেখতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ব্যর্থ হচ্ছে। প্রথম আলোর ক্রীড়া সম্পাদক উৎপল শুভ্র বলছেন, ‘আমার মনে হয় ভারতে অনেকেই এটার ভুল ব্যাখ্যা করছেন। এই ব্যঙ্গ-সাময়িকীতে আমরা দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে দেশের ক্রিকেটার – প্রায় সবাইকে নিয়েই হাসিঠাট্টা করে থাকি, এখানেও স্রেফ রসিকতাও করাই হয়েছে।’ তার এই বক্তব্যের সঙ্গে আবার অনেকটাই একমত ভারতের অ্যাডভার্টাইজিং জগতের দিকপাল প্রহ্লাদ কক্কর। অ্যাড-গুরু কক্করের স্বীকার করতে দ্বিধা নেই এই গ্রাফিক্সটা বেশ মজার এবং তাতে সৃষ্টিশীলতারও ছাপ আছে। তার যুক্তি, ‘এটা যদি ভারতীয় ক্রিকেটারদের বদলে অন্য কাউকে নিয়ে, ধরা যাক অস্ট্রেলিয়ানদের নিয়ে বানানো হত তাহলে কিন্তু ভারতের এটা উপভোগ করায় কোনো অসুবিধা থাকত না। কিংবা পাকিস্তানিদের নিয়ে বানানো হলে ভারতীয়রা তো বোধহয় আরও বেশি খুশি হতো!’ তবে ভারতে জাতীয় ক্রিকেটাররা যে প্রায় ডেমি-গড বা দেবতার মতো সম্মান পান, সেখানে তাদের নিয়ে হাসাহাসি করাটাও বোধহয় অপরাধের পর্যায়ে পড়ে – এবং প্রথম আলোর গ্রাফিক্সটিকে ভারত এখন সেই অপরাধেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে।

বিস্তারিত»
বিশ্বমানের প্রেস ক্লাব গড়তে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা: আধুনিক ও বিশ্বমানের প্রেস ক্লাব গড়তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেছেন, “আপনারা জাতীয় প্রেস ক্লাবকে দৃষ্টিনন্দন, আধুনিক ও বিশ্ব মানের করে গড়ে তুলুন। আমাদের পক্ষ থেকে যা যা সহযোগিতা করা দরকার, তা করা হবে।” বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।   দেশের সংবাদমাধ্যমকে আরো শক্তিশালী দেখতে চান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এর জন্য আনলাইন গণমাধ্যমগুলোর জন্য নীতিমালা প্রয়োজন। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে আমরা সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না। কোনো কিছু করতে গেলে নীতিমালা প্রয়োজন। শৃঙ্খলার জন্যই নীতিমালা। আমি চাই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে দেশের সব সংবাদমাধ্যম।” জঙ্গিবাদ, মাদক, সন্ত্রাস, চোরাচালানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। সাংবাদিকদরে জন্য আবাসন সুবিধা এবং কল্যাণ ট্রাস্টে অর্থ বাড়ানোর দাবির জবাবে  প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার কাছে দাবি করার প্রয়োজন হয় না। কল্যাণ ট্রাস্টের চিন্তা করতে হয়নি, আমি নিজস্ব চিন্তা থেকেই করে দিয়েছি। আওয়ামী লীগ সব সময় সাংবাদিকদের কথা চিন্তা করে, আর সাংবাদিকরা বেশি করে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে। অবশ্য সমালোচনা ভালো। এটা আমাদের দৃষ্টিকে প্রসারিত করে। এ সময় দেশের উন্নয়নে সরকারের ভূমিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতার উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করাই এ সরকারের লক্ষ্য। মূল লক্ষ্য বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করা। আমরা যখনই ক্ষমতায় এসেছি, তখনই আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি করা হয়েছে। আমরা দারিদ্র্য কমিয়ে ২২ দশমিক ৭ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। অতি দারিদ্র্য মানুষের হার ৭ দশমিক ৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছি।” বিকেল ৬ টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে  উপস্থিত হন এবং সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।  ইফতারের আগে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি এহসানুল হক।   ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন বিএফইউজের (একাংশ) সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল। অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএফইউজের মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, ডিইউজের (একাংশ) সভাপতি আলতাফ মাহমুদ ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সফিকুর রহমান বক্তব্য দেন। আরো উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান ও সমকাল সম্পাদক গোলাম সারোয়ার। এ ছাড়া বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।

বিস্তারিত»
দেশের সম্মানে আঘাত করে কিছু বললে সহ্য হয় না: শেখ হাসিনা

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের সম্মানে আঘাত করে কেউ কিছু বললে আমার সহ্য হয় না। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় জঙ্গিবাদ, মাদক, সন্ত্রাস, চোরাচালানের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে আমরা চলতে চাই না। বাংলাদেশের সম্মানে আঘাত করে কেউ কিছু বললে আমার সহ্য হয় না। শেখ হাসিনা বলেন, দেশে মানুষ হত্যার রাজনীতি যারা করতে চায়, তাদের আর এসব করতে দেয়া যাবে না। মানুষ পুড়িয়ে কেউ কোনো দিনই ক্ষমতায় আসতে পারবে না। আধুনিক ও বিশ্বমানের প্রেসক্লাব গড়তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, আপনারা জাতীয় প্রেসক্লাবকে দৃষ্টি নন্দন, আধুনিক ও বিশ্ব মানের করে গড়ে তুলুন। আমাদের পক্ষ থেকে যা যা সহযোগিতা করা দরকার তা করা হবে। ভবিষ্যতে নবম ওয়েজ বোর্ড করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই দেশের সংবাদমাধ্যম আরও শক্তিশালী হোক। এর জন্য অনলাইন গণমাধ্যমগুলোর জন্য নীতিমালা প্রয়োজন। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে আমরা সংবাদ মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না। আবাসন সুবিধা এবং কল্যাণ ট্রাস্টে অর্থ বাড়ানোর বিষয়ে সাংবাদিকদের দাবির জবাবে তিনি বলেন, আমার কাছে দাবি করার প্রয়োজন হয় না। কল্যাণ ট্রাস্টের চিন্তা করতে হয়নি, আমি নিজস্ব চিন্তা থেকেই করে দিয়েছি। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় সাংবাদিকদের কথা চিন্তা করে, আর সাংবাদিকরা বেশি করে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে। অবশ্য সমালোচনা ভালো এটা আমাদের দৃষ্টিকে প্রসারিত করে। বিকাল ৬ টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এসে উপস্থিত হন এবং সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে কথা হয় প্রধানমন্ত্রীর। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি এহসানুল হক। বিএফইউজে সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের সভাপতিত্বে ইফতার পূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, বিএফইউজে-এর মহাসচিব আব্দুল জলির ভূঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলতাফ মাহমুদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ। জাতীয় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী।

বিস্তারিত»
৮ জুলাই ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির ইফতার

ঢাকা: ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির ইফতার ও দোয়া মাহফিল আগামী ৮ জুলাই বুধবার ইউনিটি প্রাঙ্গনে হবে। ২৭ জুন সকালে ইউনিটির কার্যকরী কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। ইউনিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক মিলন, কোষাধ্যক্ষ এম এ জাফর, দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান, প্রচার সম্পাদক ওমর ফারুক, ক্রীড়া সম্পাদক এসএম ইউসুফ আলী, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আরিফুল আমিন রিজভী, সদস্য শুকদেব নাথ তপন, আলী হায়দার মানিক, এনামুল হক ও মাঈন উদ্দিন।   সভায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলালকে আহবায়ক করে ইফতার উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিস্তারিত»
ঢাকার পত্রিকার ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে ভারতে হুলস্থুল

ঢাকা: বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ওয়ানডে সিরিজে ভারতের পরাজয় নিয়ে ব্যঙ্গ করে তৈরি একটি গ্রাফিক্স ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও ক্রিকেট-মহলে হুলস্থুল ফেলে দিয়েছে। ঢাকার দৈনিক প্রথম আলোর একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত ওই গ্রাফিক্সের নিন্দায় সরব হয়েছে ভারতের প্রায় সব প্রথম সারির চ্যানেল ও খবরের কাগজ। কেউ বলছে, ব্যঙ্গচিত্রটি শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং এটি ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতি চূড়ান্ত অসম্মান।   দুই দেশের ক্রিকেট রেষারেষিকে ঘিরে বিজ্ঞাপনী যুদ্ধ অবশ্য চলছে সেই বিশ্বকাপের সময় থেকেই। কিন্তু তা এত তাড়াতাড়ি এতটা তলানিতে এসে ঠেকবে, তা প্রায় অভাবনীয় ছিল। গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে বিশ্বকাপের সময় ‘মওকা মওকা’ সিরিজের বিজ্ঞাপনগুলো ঘিরেই ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছিল। স্টার স্পোর্টসের বানানো মওকা মওকা-র জবাবে বাংলাদেশেও তৈরি হয়েছিলো অনেক পাল্টা ভিডিও। এরপর জুনে ভারতের বাংলাদেশ সফরের সময় বাংলাদেশকে ‘ক্রিকেটের বাচ্চা’ বলে কটাক্ষ কিংবা তার পাল্টা হিসেবে মোটা বাঁশের ডান্ডা দিয়ে ‘ব্যাম্বু ইজ অন’ সিরিজের বিজ্ঞাপন নিয়েও জলঘোলা কম হয়নি। কিন্তু সম্প্রতি প্রথম আলোর সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞাপন রুচি ও শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করে ভারতীয় অনেক সংবাদমাধ্যম। যে গ্রাফিক্স নিয়ে এই তোলপাড়, সেটিতে দেখা যাচ্ছে বোলার মুস্তাফিজ কাটারে ঘায়েল ভারতীয় ক্রিকেটাররা অর্ধেক মাথা কামিয়ে বিষণ্ণ মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের হাতে পোস্টার ‘আমরা ব্যবহার করেছি, আপনারাও করুন’। মুস্তাফিজের যে স্লোয়ার ডেলিভারি বা কাটারে ধয়াশায়ী হয়েছিলেন বিরাট কোহলি বা এম এস ধোনিরা, সেটাকেই দ্বৈত অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে। কিন্তু ভারতের নানা চ্যানেলে ক্রিকেট পন্ডিতরা মন্তব্য করেছেন, বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের কাছে হারার রাগ থেকেই বাংলাদেশ এমন গ্রাফিক্স তৈরি করেছে। তবে ক্রিকেট-ভাষ্যকার গৌতম ভট্টাচার্যর মতে, এখানে যদি রুচিহীনতা থেকেও থাকে, তাহলে তার শেকড় আসলে অনেক গভীরে। তিনি বিবিসিকে বলছিলেন, “শুধু ক্রিকেটকে এখানে দায়ী করা ঠিক হবে না। ফারাক্কা বা তিস্তার জল থেকে শুরু করে কূটনীতির অনেক বিষয়েই বাংলাদেশে একটা ধারণা আছে যে ভারত তাদের সঙ্গে বড় দাদার মতো আচরণ করে থাকে। এখন ক্রিকেটটাই সে দেশের সবচেয়ে বড় ইউনিফায়িং স্পোর্ট, তাই ক্রিকেটকে কেন্দ্র করেই সেই মনোভাবের প্রতিফলন বেরিয়ে এসেছে।” যে দৈনিকে এই গ্রাফিক্সটি প্রকাশিত হয়, সেই প্রথম আলো অবশ্য মনে করছে তাদের ব্যঙ্গ সাময়িকী রস-আলোতে প্রকাশিত এই গ্রাফিক্সের রসিকতার দিকটি বা হালকা দিকটি দেখতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ব্যর্থ হচ্ছে। প্রথম আলোর ক্রীড়া সম্পাদক উৎপল শুভ্র বলছেন, “আমার মনে হয় ভারতে অনেকেই এটার ভুল ব্যাখ্যা করছেন। এই ব্যঙ্গ-সাময়িকীতে আমরা দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে দেশের ক্রিকেটার – প্রায় সবাইকে নিয়েই হাসিঠাট্টা করে থাকি। এখানেও স্রেফ রসিকতাও করাই হয়েছে।” তার এই বক্তব্যের সঙ্গে আবার অনেকটাই একমত ভারতের অ্যাডভার্টাইজিং জগতের দিকপাল প্রহ্লাদ কক্কর। অ্যাড-গুরু কক্করের স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, এই গ্রাফিক্সটা বেশ মজার এবং তাতে সৃষ্টিশীলতারও ছাপ আছে। কক্করের যুক্তি, “এটা যদি ভারতীয় ক্রিকেটারদের বদলে অন্য কাউকে নিয়ে, ধরা যাক অস্ট্রেলিয়ানদের নিয়ে বানানো হতো, তাহলে কিন্তু ভারতের এটা উপভোগ করায় কোনো অসুবিধা থাকত না। কিংবা পাকিস্তানিদের নিয়ে বানানো হলে ভারতীয়রা তো বোধহয় আরো বেশি খুশি হতো!” তবে ভারতে জাতীয় ক্রিকেটাররা যে প্রায় ডেমি-গড বা দেবতার মতো সম্মান পান, সেখানে তাদের নিয়ে হাসাহাসি করাটাও বোধহয় অপরাধের পর্যায়ে পড়ে – এবং প্রথম আলোর গ্রাফিক্সটিকে ভারত এখন সেই অপরাধেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে।- বিবিসি।

বিস্তারিত»
ঘুষ তহবিল: বরিশাল পুলিশের ডিসিসহ বরখাস্ত ১১

ঢাকা: দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় বরিশালে পদোন্নতির জন্য ‘ঘুষের তহবিল’ সংগ্রহে অধঃস্তনদের প্রলুব্ধ করার অভিযোগে একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাকে বুধবার সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় মঙ্গলবার আরও ১০ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করে বাহিনীর সদর দপ্তর। স্থানীয় বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার দু'শতাধিক সদস্য দীর্ঘদিন ধরেই পদোন্নতির অপেক্ষায় ছিলেন। এদের অনেকের কাছ থেকেই বিভিন্ন পরিমাণ অর্থ নিয়ে ‘ঘুষের জন্য একটি তহবিল’ গঠন করেন পুলিশেরই একদল সদস্য।   পুলিশ সদর দপ্তর বলছে পদোন্নতির জন্য ঘুষের টাকা সংগ্রহে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার বা ডিসি জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে। সে কারণে বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (এআইজি) নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, "তিনি নিন্মপদস্থ পুলিশ কর্মচারীদের একত্রিত করে তাদের কাছ থেকে কিছু টাকা উত্তোলন করেছেন তাদের প্রমোশনের জন্য কোন জায়গায় ঘুষ দেয়ার জন্য। এ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বিভাগীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।" গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা: এআইজি নজরুল বলেন, গোয়েন্দাদের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে পুলিশ নিজেই এ ব্যবস্থা নিয়েছে। বরিশালের পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন জিল্লুর রহমানের সহায়তায় আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য অন্তত ৭৭ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন পদোন্নতি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে। ওই টাকার একটি অংশ তিনজন পুলিশ সদস্যের নামে খোলা একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা হয়। বাকী টাকা কোনো একজনের ব্যক্তিগত হিসেবে রাখা হয়। বরিশালের পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী জানিয়েছেন, এ ঘটনার সঙ্গে  জড়িত থাকার অভিযোগে বরিশালে কনস্টেবল থেকে এসআই পদমর্যাদার আরও ১০ জনকে ইতোমধ্যেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা শুরু হবে। রিপোর্টটি আজ ও কালের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সূত্র: বিবিসি।

বিস্তারিত»
ইসলামী ঐক্যজোট আহুত শুক্রবারের বিক্ষোভ সফল করুন

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা মোঃ আবদুল লতিফ নেজামী ও মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, তাগুতি অপশক্তি ঘিরে ধরেছে চতুর্দিকে। নাস্তিক্যবাদীদের জন্য দেশ আজ অভয়ারণ্য। ইসলাম, মুসলমান নির্যাতিত, নিপীড়িত। সব দিকে মানুষের হাহাকার। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। বাঁচতে হলে লড়াই করে বাঁচতে হবে। সিংহের মত বাঁচতে হবে। বিড়ালের মত মর্যাদাহীন বেঁচে থাকার চেয়ে শহীদ হওয়াই উত্তম। আইওজে চেয়ারম্যান, মহাসচিব বিবৃতিতে আরো বলেন, চারদিকে নাস্তিক্যবাদী অন্ধকার অপশক্তির কবলে দেশ। ইসলামশূন্য দেশ গড়ার জন্যে ষড়যন্ত্রের পর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। দেশের মানুষের প্রাণের দাবী ধর্ম অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-ের বিধান রেখে সংসদে আইন করার উদ্যোগ এখনো নেয়া হয়নি। পক্ষান্তরে মুরতাদ ধর্মবিদ্বেষী শয়তানী অপশক্তির প্রেতাত্মা লতিফকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। এই অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারলে ইসলাম ও মুসলমানের হেফাজত, দেশের স্বাধীনতা রক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে। এই অবস্থায় ঘরে বসে থাকলে, নীরবে চোখের পানি ফেলে লাভ হবে না। ১৫ রমজান শুক্রবার রাস্তায় নেমে আসুন, শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল আন্দোলন গড়ে তুলুন।                                   আগামীকাল ইসলামী ঐক্যজোটের ইফতার মাহফিল   আগামীকাল ১৪ রমজান, ২ জুলাই বৃহস্পতিবার হোটেল পুর্বানীতে দু'আ ও ইফতার মাহফিল । এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সভাপতিত্ব করবেন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী। আপনি আমন্ত্রিত।    

বিস্তারিত»
সুনামগঞ্জে বালি-পাথর মহালের চাঁদাবাজদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন

সুনামগঞ্জ জেলার ধোপাজান ও যাদুকাটা নদীর তীর কেটে ড্রেজার ও বোমামেশিন দিয়ে বালি-পাথর উত্তোলন বন্ধ করে নদীপথের চিহ্নিত চাঁদাবাজদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী জনসাধারণ। গতকাল বুধবার দুপুরে পৌরশহরের আলফাত উদ্দিন স্কয়ারের সামনে জেলা পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা জসিম উদ্দিন দিলীপ, গোলাম হোসেন অভি, সুজনের নির্বাহী পরিচালক নির্মল ভট্রাচার্য্য, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান আমির হোসেন রেজা, গৌরারং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফুল মিয়া, পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক একেএম আবু নাছার, আবুল আসাদ, সদস্য আব্দুল কাদির, আলী আকবর, রফিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, সাজুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন প্রমুখ। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ২ বছর যাবৎ ড্রেজার ও বোমা মেশিনের সাহায্যে বালি এবং পাথর উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে উভয় তীরের কয়েক হাজার বসতবাড়ি, মসজিদ,মন্দির,বিদ্যালয় ও হাজার হাজার একর ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নষ্ঠ হচ্ছে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য। এলাকার জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মদদে অসাধু ব্যক্তিরা ড্রেজার ও বোমা মেশিনের সাহায্যে প্রতিদিন বালি-পাথর উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। এবং সরকারকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করে চাঁদাবাজরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সিন্ডিকেডের মাধ্যমে বালি-পাথর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিন আদায় করছে লক্ষ লক্ষ টাকার চাঁদা। এচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব, বিজিবি ও উপজেলা প্রশাসনকে পত্র দ্বারা অফিসিয়েল আদেশ দেয়ার পরও এখন পর্যন্ত চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।  

বিস্তারিত»
বিরামপুরে ওয়ার্ল্ড ভিশনে সাড়ে তিন হাজার আম চারা বিতরন

মোরশেদ মানিক, উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি :ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ বিরামপুর এডিপি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও দরিদ্রদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটানোর মাধ্যমে  শিশুর পুষ্টি বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ৩ হাজার ৪শ’ ৫৫ টি হাঁড়িভাঙ্গা আমের চারা বিতরণ করেছে। ১ জুলাই বুধবার দুপুরে সংস্থার প্রফেসর পাড়াস্থ সার্ভিস সেন্টারে এ উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষন দেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব  মো: পারভেজ কবির। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ বিরামপুর এডিপি ম্যানেজার লিটন মন্ডলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ হাছানুজ্জামান ও ডেভেলপ দ্যা ভিলেজ (ডিভি)’র নির্বাহী পরিচালক এ্যাডভোকেট মোরশেদ মানিক।ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ বিরামপুর এডিপির অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্প ম্যানেজার জেমস তপন মন্ডলের সঞ্চালনায় সমাবেশে সংস্থাটির কৃষি কর্মকর্তা রতন কুমার ভৌমিক বিষয় ভিত্তিক বক্তব্য দেন। প্রধান অতিথি আলহাজ্ব  মো: পারভেজ কবির ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কর্মকার্ন্ডের ভুয়শী প্রংশসা করেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সভাপতির ভাষনে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ বিরামপুর এডিপি ম্যানেজার লিটন মন্ডল বলেন, গাছের একটি আমও ওয়ার্ল্ড ভিশনের কাউকে দিতে হবেনা, শিশুদের দিলেই খুশি আর উদ্বৃত্ত গুলো বিক্রী করে প্রতিটি পরিবার থেকে দারিদ্রতা দূর হলেই ওয়ার্ল্ড ভিশন পরিপূর্ণ তৃপ্তি লাভ করবে। বিশেষ অতিথি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ হাছানুজ্জামান চারা রোপনের কলা কৌশল বর্ননা করেন। বিশেষ অতিথি ডেভেলপ দ্যা ভিলেজ (ডিভি)’র নির্বাহী পরিচালক এ্যাডভোকেট মোরশেদ মানিক আমের চারা রক্ষার পাশাপাশি শিশু সুরক্ষায় মাদক ও বাল্য বিয়ে বন্ধে সকলকে সহযোগিতা করার অনুরোধের প্রেক্ষিতে উপস্থিত সকলেই দু’হাত তুলে বাল্য বিয়ে ও মাদক বন্ধে অংশ নেয়ার ঘোষনা দেন। সমাবেশে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ বিরামপুর এডিপির আওতাভুক্ত পৌরসভা সহ পলিপ্রয়াগপুর, খানপুর ও জোতবানী  ইউনিয়নের ২৯৩ পরিবাবের মাঝে ৩ হাজার ৪শ’ ৫৫ টি হাঁড়িভাঙ্গা আমের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

বিস্তারিত»
রমজান আমাদের সবাইকে  ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টির শিক্ষা দেয়  এসএমপি কমিশনার কামরুল আহসান

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কামরুল আহসান বলেছেন, রমজান আমাদেরকে ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টির শিক্ষা দেয়। সবাইকে রমজান থেকে একে অপরের প্রতি হক আদায়ের প্রশিক্ষন নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, রমজান মাসে সবাইকে সংযমের সহিত ব্যবসা বাণিজ্য  সহ সবকিছু পরিচালনা করতে হবে। তিনি চাদপুর কল্যাণ সমিতির এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এই ইফতার মাহফিল সিলেটস্থ চাদপুরের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে মজবুদ করবে। পূর্বের ন্যায় তিনি চাঁদপুর সমিতিকে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি গতকাল সিলেটস্থ চাঁদপুর কল্যাণ সমিতি আয়োজিত ইফতার মাহফিল পূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। সমিতির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে ও ইফতার মাহফিলের কনভেনর মোঃ মহসিন ভূইয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিল পূর্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সমিতির উপদেষ্ঠা ও সিলেট জোনের কর কমিশনার মোঃ মাহমুদুর রহমান, লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, অধ্যাপক এস এম সাইফুল ইসলাম, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আবুল হাসেম চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শাহ এমরান প্রমুখ। শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ মোঃ আব্দুল আহাদ। পরে প্রধান অতিথি চাঁদপুর কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তহবিল সংগ্রহের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় কয়েক জন সদস্য তহবিলে নগদ অর্থ প্রদান করেন ।  

বিস্তারিত»
সরকার কখনোই গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়নি : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা : গণমাধ্যমকে সরকার কখনোই নিয়ন্ত্রণ করতে চায়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সম্মানে আঘাত করে কেউ কিছু বললে কারো সহ্য হলেও আমার তা সহ্য হয় না। তিনি বলেন, আমরা চাই দেশের সংবাদমাধ্যম আরও শক্তিশালী হোক। নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না। কোনো কিছু করতে গেলে নীতিমালা প্রয়োজন। দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলো নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে এমন প্রত্যাশাও করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় প্রেসক্লাবকে আন্তর্জাতিক মানের প্রেসক্লাব করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, এ জন্য যত রকম সহযোগিতা প্রয়োজন তিনি তা দেবেন। সাংবাদিকদের আবাসন সুবিধা এবং কল্যাণ ট্রাস্টে অর্থ বাড়ানোর দাবির প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা বলেন, আমার কাছে দাবি করার প্রয়োজন হয় না। কল্যাণ ট্রাস্টের চিন্তা করতে হয়নি, আমি নিজস্ব চিন্তা থেকেই করে দিয়েছি। আওয়ামী লীগ সব সময় সাংবাদিকদের কথা চিন্তা করে, আর সাংবাদিকরা বেশি করে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে। অবশ্য সমালোচনা ভালো এটা আমাদের দৃষ্টিকে প্রসারিত করে। এ সময় দেশের উন্নয়নে তার সরকারের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীনতার উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করাই এ সরকারের লক্ষ্য। মূল লক্ষ্য বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করা। আমরা দারিদ্র্য কমিয়ে ২২ দশমিক ৭ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। শেখ হাসিনা বলেন, ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে আমরা চলতে চাই না। দেশে মানুষ হত্যার রাজনীতি যারা করতে চায়, তাদের আর এসব করতে দেয়া যাবে না। মানুষ পুড়িয়ে কেউ কোনো দিনই ক্ষমতায় আসতে পারবে না। ইফতারের বেশ খানিকক্ষণ আগেই তিনি সেখানে উপস্থিত হন এবং সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে কথা হয় প্রধানমন্ত্রীর। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিরোধীদলীয় নেতারা, কূটনীতিক, সংসদ সদস্য, সাংবাদিক নেতারাসহ ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  

বিস্তারিত»
জনরোষে আওয়ামী নেতারা পালাবার পথ খুঁজে পাবে না

ঢাকা: জনরোষে আওয়ামী নেতারা পালাবার পথ খুঁজে পাবে না বলে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, কোথায় যাবেন? পালানোর জন্য জায়গা ঠিক করে রাখুন। জনগণ আজ জেগে উঠেছে, যখন দড়ি ধরে টান দেবে সরকার তখন খান খান হয়ে যাবে। সাবধান হওয়ার এখনই সময়। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটির রাজদর্শন হলে এলডিপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এলডিপির মহাসচিব ড.রেদোয়ান আহমেদ। খালেদা জিয়া বিকেল ৬টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটির রাজদর্শন হলে এসে পৌঁছান। খালেদা জিয়া বলেন, দুর্নীতি ও অপশাসনের জন্য সরকারের পরিণতি হবে হীরক রাজার মতো। জনগণ দড়ি ধরে টান দেয়ার জন্য রেডি হয়ে আছে। আল্লাহও জালেম, অত্যাচারী ও অবৈধ সরকারকে পরীক্ষা করছে। তারা কত খারাপ কাজ করতে পারে, কত দুর্নীতি করতে পারে। যেদিন দড়ি ধরে টান দিবে সেদিন কিন্তু খান খান হয়ে যাবে। খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেন, সরকার ২০ দলের পেছনে লেগে আছে। তাদের দলের লোকজন অপকর্ম করছে, কিন্তু তাদের কিছু হয় না। অথচ বিএনপি ও ২০ দলের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তাদের জামিন দেয়া হয় না। সম্প্রতি সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর জামিন প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, মহানবী (সা.) ও হজ নিয়ে কটূক্তিকারীকে সরকার জামিনে মুক্ত করে দিয়েছে। জনরোষের ভয়ে তিনি এখন পালিয়ে আছে। সরকারের এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অতি উৎসাহী সদস্যেরও একই অবস্থা হবে। সরকারি দলের লোকজন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতি উৎসাহী সদস্যদের পালানোর জায়গা ঠিক করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, কোথায় যাবেন? পালানোর জন্য জায়গা ঠিক করে রাখুন। জনগণ আজ জেগে উঠেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সরকারি দলের লোক প্রকাশ্যে খুন করলেও তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। পচা গম আমদানি করে সাধারণ মানুষদের তা আটা বানিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে। আপনারা যে অপকর্ম করেছিলেন সেদিন বুঝবেন যেদিন আপনাদের বিচার হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজ উদ্দীন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ ,ড. মামুন আহমেদ, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, কাজী সিরাজ। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসূফ, সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রুহুল আলম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, নাজিম উদ্দিন আলম, যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) শাহজাহান মিলন, সহ-শিল্প বিষয়ক সম্পাদক জহুরুল হক শাহজাদা মিয়া, মেজর (অব.) হানিফ, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা। এছাড়া ২০ দলের মধ্যে, কল্যান পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মাদ ইবরাহিম বীর প্রতিক, মহাসচিব এম এম আমিনূর রহমান,সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, জামায়াতের কর্ম পরিষদের সদস্য আব্দুল হালিম, প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ নেজামী, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ, এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোতুর্জা, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসা, বিজেপীর মহাসচিব সালাহ উদ্দিন মতিন প্রকাশ, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

বিস্তারিত»
ইসলামী ঐক্যজোটের ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি খালেদা জিয়া

ঢাকা : ইসলামী ঐক্যজোটের ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আগামীকাল বৃহস্পতিবার হোটেল পুর্বানীতে ইসলামী ঐক্যজোটের আয়োজনে দু'আ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এতে সভাপতিত্ব করবেন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী।

বিস্তারিত»
২০ দলীয় জোট শক্তিশালী করার তোড়জোড়

ঢাকা : সরকার বিরোধীজোটে ভাঙন নয়, বরং দ্রুত শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে ২০ দলীয় জোটকে। জোটের অভ্যন্তরে যাতে কোনো ধরনের ‘ভুল বোঝাবুঝি’ এবং শরিকদের মধ্যে ‘সমন্বয়হীনতা’ না থাকে সে উদ্যোগ ইতিপূর্বেই নেয়া হয়েছে। ২০ দলের শীর্ষ নেতারা জোটকে শক্তিশালী করতে ইতিমধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশেষ করে ঢাকায় যাতে আন্দোলন-সংগ্রামসহ সব ধরনের কর্মসূচি সফল করা যায় সে লক্ষ্যে জোটকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য ২০ দলীয় জোটের ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক কমিটিও গঠন করা হবে। জোটে থাকা প্রত্যেক দলের ঢাকা মহানগর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে এ কমিটি করা হবে জানিয়েছেন বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা। তিনি জানান, ১৯৯৬-০১ টার্মের শেষের দিকে চারটি দল জোটবদ্ধ হয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলে। আওয়ামী লীগ পরবর্তী মেয়াদে ক্ষমতায় আসলে চার দলীয় জোট সম্প্রসারিত হয়ে ১৮ দল এবং পরে ২০ দলে রূপ নেয়। কিন্তু সম্প্রসারিত হওয়ার পর এখনো ঢাকায় এ জোটের কোনো আনুষ্ঠানিক সমন্বয় কমিটি গঠিত হয়নি। আগামী দিনে জোটের কর্মসূচি সফল করতে শুধু ঢাকায় নয়, দেশের সব মহানগর ও জেলাগুলোতে ২০ দলের সমন্বয় কমিটি গঠিত হবে। পর্যায়ক্রমে সব উপজেলাও বিরোধীজোটের সমন্বয় কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হবে। ২০ দলীয় জোটনেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শরিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। সূত্র জানিয়েছে, তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার বিরোধী জোটকে আরও শক্তিশালী করতে খালেদা জিয়া জোটের বাইরে থাকা অন্যসব রাজনৈতিক দলের খোঁজ-খবর রাখছেন। এসব দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন ইস্যুতে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে একমত পোষণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলেও তাঁকে জানিয়েছেন। এদের মধ্যে বেশ কিছু বামপন্থী দলও রয়েছে। এছাড়া জোটে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এখন নিজেই সমন্বয় করছেন। যদিও জোটের শরিকদের সঙ্গে সমন্বয় রাখতে বিএনপির শীর্ষ কয়েকজন নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে ২০ দলের আলোচিত শরিক জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য শরিকদের ডাকা ইফতার মাহফিলে অংশ নিচ্ছেন খালেদা জিয়া। ২০ দলীয় জোটের একটি শরিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খুবই হিসেব করে পা ফেলছেন। তিনি অতীতের সব সময়ের চাইতে এখন খুবই সতর্ক। এবার অযথা বাতি জ্বালাবেন না  তিনি। জানুয়ারি থেকে টানা তিন মাসের আন্দোলন ও ৩ সিটি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জোটে ভাঙন ও সমন্বয়হীনতা নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবর আর বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন বলে দাবি করেন ২০ দলীয় জোটের এ শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, ২০ দলের বয়স কম হলেও ৪ দলীয় জোটের বয়স যথেষ্ট হয়েছে। এ দলগুলো পরীক্ষিত। এরা একে অপরকে দীর্ঘদিন ধরে জানে। বিশেষ বিশেষ সময়ে জোটে ভাঙন সৃষ্টির জন্যে আওয়াজ তোলা হলেও তাতে কান দেন না শীর্ষ নেতারা। বিশেষ করে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ করে বলেন, জোটনেতা ভাঙন চান না, চান জোট আরও শক্তিশালী হোক। তিনি বলেন, ইফতার মাহফিল কেন্দ্রিক জোট শরিকদের মধ্যে খালেদা জিয়া একটি বিশেষ যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। রমজান ও ঈদ পরবর্তী সময়ে করণীয় নিয়ে শরিকদের সঙ্গে কথাও বলছেন তিনি ইতিমধ্যে। বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচনের বিষয়টি মাথায় রেখেই এগুচ্ছে তার দল। হঠাৎ করে বা সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে কোনো নির্বাচনের আয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে এতে অংশ নেয়ার বিষয়টিও মাথায় রয়েছে ২০ দলের। সেক্ষেত্রে কে কোথায় কি দায়িত্ব পালন করবেন এবং কাকে কোথায় নিযুক্ত করা হবে তাও ঠিক করে রাখা হচ্ছে। তবে সম্ভাব্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই ২০ দলকে আরও শক্তিশালী করার কাজ শেষ করবে তারা। কারণ, সমন্বিত জোটই আগামীতে ভোটের জন্য কাজ করবে।  

বিস্তারিত»
ব্রীজের পাটা ভেঙ্গে ৩ গ্রামের যোগাযোগ বিঘিœত রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ব্রীজের পাটা নির্মাণ!

আসিফ মানিক, ঝালকাঠি: ঝালকাঠির রাজাপুরে দক্ষিন আদাখোলা মৃধা বাড়িরর সামনের আয়রন ব্রীজ সংস্কারে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে পাটা তৈরি করে ব্রীজে স্থাপন করেছে বলে স্থানীয় ২নং ওয়ার্ডের মেম্বর মোঃ হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে গেলে স্থানীয় রফিকুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান ও কালামসহ একাধিক লোকজন অভিযোগ করে জানান, বড়ইয়া ইউনিয়নের আরুয়া, আদাখোলা ও ভাতকাঠি গ্রামের শত শত লোকজন দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই আয়রন ব্রীজ দিয়ে ঝুকিপুর্র্ণ অবস্থায় চলাচল করছে। পরবর্তীতে ব্রীজটি সংস্কারের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় স্থানীয় মেম্বর মোঃ হাসানকে। কিন্তু সে ওই স্থানে বসে পাটা তৈরি না করে নিজের বাড়িতে বসে ১০/১২ টি পাটার প্রত্যেকটির দুই কিনারায় চিকন একটি রড দিয়ে ভিতরে বাঁেশর কঞ্চি ও বিভিন্ন গাছের ডাল দিয়ে তৈরি করে নৌকা যোগে নিয়ে স্থাপন করেছে। কিন্তু তা কয়েকদিনের মধ্যেই আড়াআড়িভাবে ভেঙ্গে যায় এবং বাঁশে কঞ্চি ও ও লাঠি টুকরো বেরিয়ে যায়। বর্তমানে পাটা ভেঙ্গে যাওয়ায় ব্রীজের প্রায় অর্ধেক অংশে পাটা নেই। এতে করে স্কুল, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ ৩ গ্রামের জনজনের যাতায়াতে বিঘœ ঘটছে। এ বিষয়ে মেম্বর মোঃ হাসান পাটা তৈরিতে বাঁেশর কঞ্চি ও লাঠি ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বরাদ্দ অনুযায়ী পাটা তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয়রা প্রতিপক্ষরা পাটা ভেঙ্গে হয়রানি করছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোঃ সাদিকুর রহমান জানান, সরেজমিনে গিয়ে সত্যতা পেয়েছি। জরিমানা স্বরুপ মেম্বর হাসানকেই নিজের টাকা দিয়ে পুনরায় সঠিকভাবে পাটাগুলো স্থাপন করতে নির্দেশ নেয়া হয়েছে।  

বিস্তারিত»
ঝালকাঠিতে হত্যা মামলায় চার জনের মৃত্যু দন্ড  তিন জনের যাবজ্জীবন

আসিফ মানিক, ঝালকাঠি: পিরোজপুর জেলার ভিটাবাড়িয়া গ্রামের বাদল সরদার হত্যা মামলায় গতকাল বুধবার ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালত  চারজনকে মৃত্যুদ- ও তিন জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন। ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ এস.এম. সোলায়মান আসামীদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষনা করেন। অপরাধ প্রমানিত না হওয়ায় আদালত অপর ছয়জনকে খালাশ প্রদান করেন। আসামী পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের আদেশে মামলাটি বিচারের জন্য ২০০৩ সালে পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসে। ১৯৯৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার ভিটাবাড়িয়া গ্রামের জালাল সরদারের পুত্র বাদল সরদারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর নিহতের পিতা জালাল সরদার বাদী হয়ে ভান্ডারিয়া থানায় ১৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে। পুলিশ ১৩ জনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করে। হত্যা ঘটনার ১৭ বছর পর এ মামলার রায় হল। যাদের মৃত্যুদ- দেওয়া হয়েছে তারা হলেন ভান্ডারিয়া উপজেলার উত্তর ভিটাবাড়িয়া গ্রামের শহীদ শিকদার, দুলাল শিকদার, বাদল শিকদার ও নিজাম সিকদার (পলাতক)। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন একই গ্রামের হারুন শিকদার, ছালাম সরদার ও মিনু সিকদার। আসামী পক্ষের আইনজীবী আব্দুর রশিদ সিকদার বলেন আমরা ঝালকাঠির আদালত থেকে ন্যায় বিচার পাইনি। বাদল সরদার হত্যা ঘটনার সময় দুইজন আসামী খুলনা কারাগারে ছিল। যাদের মধ্যে বাদল সিকদারকে মৃত্যুদ- এবং কামাল সিকদারকে খালাশ দেওয়া হয়েছে।  

বিস্তারিত»
পশ্চিম লন্ডন বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের আলোচনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

এম এ কাইয়ুম :পশ্চিম লন্ডন বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের উদ্দোগে রমজানের পবিত্রতা ও আমাদের করনীয় শীর্ষক আলোচনা সভা , ইফতার ও দোয়ামাহফিল মঙ্গলবার ৩০ জুন সাউথ হ্যারোর কারী মহল রেষ্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুছ।সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক শহীদুল হক চৌধুরী লিটনের পরিচালনায় সভার শুরুতেই পবিত্র তেলাওয়াত করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি দবির মিয়া।এতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি,জেনারেল অটো এর পরিচালক সেলিম চৌধুরী,সাবেক সভাপতি শেখ মোহাম্মদ ইয়াওর,টে্রজারার আবু তাহের আফজল, বিবিসিএর সেক্রেটারী জেনারেল শাহনূর খান সহ আরো অনেক ।সভায় পবিত্র রমজানের ত্যাগ ও সংযমকে কাজে একটি হিংসা ও বিভেদমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে আহবান জানানো। সভায় কমিউনিটিতে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববন্ধন অব্যাহত রাখতে সকলক ভূমিকা রাখার আহবান জানানো হয়।সভা শেষ পযর্ায়ে কমিউনিটি ও বিশ্বের সকল মুসলমানদের শান্তি সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত করা হয়।সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি নেতা আব্দুল মালিক,আব্দল তাহিদ, সাইফুল আলম সুফিয়ান,মোহাম্মদ ইশতিহাক, শামীম আহমদ চৌধুরী প্রমূখ।

বিস্তারিত»
লন্ডন মহানগর যুবদলের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সেহেরি মাহফিল

লন্ডন:লন্ডন মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল খয়ের এর সভাপতিত্ব ও যুগ্ম আহ্বায়ক সাহেদ আহমদের পরিচালনা স্বাগত বক্তব্য রাখেন লন্ডন মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কিবরিয়া ইসলাম। কোরআন তেলাওয়াত করেন মহানগর যুবদল নেতা আলী হুসেন। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা সাইস্তা চৌধুরী কুদ্দুস প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য যুবদলের আহ্বায়ক দেওয়ান মোকাদ্দেম চৌধুরী নিয়াজ বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব কে এম আবু তাহের চৌধুরী, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুল হামিদ চৌধুরী, সাবেক সহ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, তাজুল ইসলাম, সিলেট শহর যুবদলের সাবেক সভাপতি এমদাদ হুসেন টিপু, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সহ সাধারন সম্পাদক হেলাল নাসিমুজ্জামান, ফেরদৌস আলম, করিম উদ্দিন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সেলিম, জাভেদ আহমেদ, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা মিসবাহুজ্জামান সুহেল, রায়হান উদ্দিন দুলাল, সালেহ আহমেদ জিলান, এম এ কাইয়ুম, আহমেদ চৌধুরী মনি, আবুল কালাম সেতু, মাহবুব খান। যুক্তরাজ্য যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রহিম উদ্দিন, সাব্বির আহমেদ ময়না, দেওয়ান আব্দুল বাসিত, সোয়ালেহীন করিম চৌধুরী, সুরমান খান, রাজিব আহমেদ, জসিম উদ্দিন জিলহাদ, আব্দুল মুনিম, মোস্তাক আহমেদ, জামিল আহমেদ, সৈয়দ লায়েক মোস্তফা, শাহ কামাল তারেক, আসাব আলী, সাদেক আহমেদ, সাব্বির সুমন, যুবদল নেতা জাভেদ কাদির, জাকির খান, ইষ্ট লন্ডন যুবদলের আহ্বায়ক নাসিম আহমেদ, সেন্ট্রাল লন্ডন যুবদলের আহ্বায়ক জাভেদ আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোফাজ্জল করিম শ্যামল, লন্ডন সিটি যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুজাহিদ আলী সুমন। লন্ডন মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন, ফলিক উদ্দিন, সালিক আহমেদ, জামাল খালেদ, তাহেন রাজু, সদস্য আব্দুল হেকিম জিলু, আব্দুল মালিক, বদরুল হক, জাকির আহমেদ সুমন, সেলু আহমেদ, রুবেল আহমেদ, মামুন আহমেদ, নুরুল হক, আব্বাস আলী সালিক, ঝিনুক তালুকদার, আহমেদ হুসেন, আলতাফ হুসেন, আমিনুল ইসলাম, জামাল আহমেদ, মোহাম্মদ সুহেল, শিব্বির আহমেদ, কাওসার আহমেদ, আব্দুল বাসার, মাসুম আহমেদ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তরুন দলের রাজীব আহমেদ, সরফুদ্দিন সরফু, আমিনুল ইসলাম, আবু নাসির শেখ, সিদ্দিকুর রহমান, মুরাদ আহমেদ, সাহাবুদ্দিন সাবু, মনোয়ার হুসেন, বাদল আরমান।

বিস্তারিত»
নারায়ণগঞ্জে আঞ্চলিক  পার্সপোর্ট অফিসের ৬  দালালকে কারাদন্ড

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের জালকুঁড়িতে অবস্থিত আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গ্রাহক সেজে সাত দালালকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছয়জনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুঁড়ি এলাকায় বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। সাজা প্রাপ্তরা হলো, আজিম আহম্মেদ (২৮), মাসুম বিল্লাহ (২২), বাহারউদ্দিন (২১), নাহিদ (১৯), নাঈম (২২), ও মিজানুর রহমান (২৫)। এ ছাড়া ইব্রাহিম (২৬) নামের এক ব্যক্তিকে ৪শ টাকা জরিমানা করা হয়। ফতল্লা রাজম্ব সার্কেলের এসিল্যান্ড ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ জাকির হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এ রায় দেন। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মন্ডল জানান, নারায়ণগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে গ্রাহকরা দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছয়জনকে এক মাস করে কারাদন্ড প্রদান করেন।  

বিস্তারিত»
গাজীপুরের কালীগঞ্জে আ'লীগের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

রেজাউল সরকার(আঁধার), গাজীপুর  প্রতিনিধি : জেলার গাজীপুরের কালীগঞ্জে আ'লীগের আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে । আজ  বুধবার বিকেলে কালীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন আ'লীগ কার্ষালয় মাঠে এক আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে । এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা আ'লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি কামাল দেওয়ান । উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি রফিকুল ইসলাম সিজু এর সভাপতিত্বে ও আ'লীগ শ্রমবিষয়ক সম্পাদক খন্দকার নুরুল আমিন এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন-উপজেলা আ'লীগ যুগ্ন সম্পাদক এবিএম তারিকুল ইসলাম, ক্রিয়া বিষয়ক সম্পাদক মাইনুল ইসলাম, পৌর আ'লীগ সভাপতি ও প্যানেল মেয়র, আহামদুল কবির, যুবলীগ সভাপতি বাদল হোসেন, মমিন মিয়া, আসাদ মিয়া প্রমূখ ।

বিস্তারিত»
হারাম শরিফে বিনামূল্যে ওয়াইফাই

রিয়াদ: পবিত্র দুই মসজিদের জন্য গৃহীত তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার প্রকল্পের অংশ হিসাবে এই বিনা মুল্যে ওয়াইফাই সেবা চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য-প্রযুক্তি সেন্টারের পরিচালক বানদার আল খুজাইম। তিনি বলেন, “বিনা মুল্যের এই ওয়াইফাই সেবা হারাম শরিফের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ইবাদত করতে আসা মুসলমানদের মধ্যে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করবে।”   মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানায়, জনপ্রিয় এই ওয়্যারলেস প্রযুক্তির মাধ্যমে হারাম শরীফে নিয়োজিত কর্মী এবং ইবাদতকারীদের মধ্যে হেদায়েত ও সচেতনতামূলক বার্তা পাঠানোসহ বেতার নেটওয়ার্কিং এর কাজ করবে। খুজাইম বলেন, “তাওয়াফকারীরা ব্লুটুথ সার্ভিসের মাধ্যমে তাদের চক্র (চক্কর) গণনা করতে পারবেন। কত চক্র হয়েছে এবং আর কত চক্র হলে তার তাওয়াফ শেষ হবে ব্লুটুথের মাধ্যমে জানা যাবে। মক্কার উম্মু আল কোরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় এই ব্লুটুথ সেবাটি চালু করা হচ্ছে।” এই সেবার মাধ্যমে দুই মসজিদে ইতিকাফ করতে আগ্রহীরা অনলাইনে মোট ছয়টি ভাষায় রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। ভাষাগুলো হলো- আরবি, ইংলিশ, ফরাসি, উর্দু, ফার্সি এবং তুর্কি। এই অনলাইন সেবার মাধ্যমে কিসওয়া (কাবার গিলাফ) বানানোর কারখানা পরিদর্শনের জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে জানান খুজাইম।

বিস্তারিত»
মিশরে সেনানিবাসে আইএসের হামলা, নিহত ৩৮

ইসলামিক স্টেটের সাথে সংশ্লিষ্ট যোদ্ধারা মিশরের সায়ানাই উপদ্বীপের শেখ জুয়াইদ নামক একটি শহরে সেনাবাহিনীর ওপর অতর্কিতে একের পর এক হামলা চালিয়েছে। সৈন্য হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।   মিশরীয় সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলছেন, এই সংখ্যা দশ জন। কিন্তু তার আগে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি সেনা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায় নিহত সৈন্যের সংখ্যা ৩৮ এবং আহত হয়েছে আরও ৫৪ জন। এছাড়া জঙ্গিরা বেশ কজন সৈন্যকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। সায়ানাই প্রভিন্স নামে আইএস এর সাথে সংশ্লিষ্ট একটি জঙ্গি গোষ্ঠী ইন্টারনেটে এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ১৫টি সামরিক স্থাপনায় তারা হামলা চালায়। সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ৩৯ জন জঙ্গিকে তারা হত্যা করেছে এবং তিনটি সাঁজোয়া পিক-আপ ট্রাক সহ বেশ কিছু ভারি অস্ত্র ধ্বংস করে দিয়েছে। সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, আজ (বুধবার) ভোরের দিকে অন্তত ৭০ জন জঙ্গি এক যোগে মর্টারের গোলা ছুড়তে ছাড়তে আল জুয়াইদ শহরের নিরাপত্তা চৌকিগুলোতে হামলা চালায়। এসময় তারা একটি গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। দুটো নিরাপত্তা চৌকি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লড়াই চলছিল এবং শহরের প্রধান পুলিশ স্টেশনটি জঙ্গিরা ঘেরাও করে ছিল। দু বছর আগে মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড সমর্থিত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মোরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে সায়ানাইতে জঙ্গি হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ৬০০ জন নিহত হয়েছে।– বিবিসি

বিস্তারিত»
রাষ্ট্রদূত ড. এ. কে আব্দুল মোমেন জাতিসংঘের এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুফের চেয়ারম্যান নির্বাচিত

হাকিকুল ইসলাম খোকন:নিউইয়র্ক, ৩০ জুন ২০১৫: জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিশনের মান্যবর স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ. কে আব্দুল মোমেন জাতিসংঘের এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।     জাতিসংঘের এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের ৫৫টি রাষ্ট্রের মধ্যে নিরঙ্কুশ সমর্থনে তিনি এ পদে অধিষ্ঠিত হলেন। উল্লেখ্য পূর্বেও তিনি এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করেছিলেন।     এখানে উল্লেখ্য জাতিসংঘের কাজের সুবিধার্থে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ৫টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। গ্রুপগুলো হলো আফ্রিকান, এশিয়া-প্যাসিফিক, ল্যাটিন আমেরিকান, ইস্টার্ন ও ওয়েস্টার্ন ইউরোপ। ওয়েস্টার্ন ইউরোপ গ্রুপের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন ইত্যাদি দেশ অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।     এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুফের রাষ্ট্র সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এবং এ গ্রুপের রাষ্ট্রগুলোর জনসংখ্যা, আয়োতন ও নীতি নির্ধারনে বৈষম্যও বেশি। এর ফলে এ গ্রুপের ব্যবস্থাপনাও যথেষ্ট সতর্কতার সাথে করতে হয়।  

বিস্তারিত»

সাক্ষাৎকার

‘সুশাসন প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান এখন অত্যন্ত নিকৃষ্ট’

ড. আকবর আলি খান। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা। অধ্যাপনা করছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে। চলমান রাজনীতি নিয়ে সম্প্রতি মুখোমুখি হন সাপ্তাহিক-এর। কথা হয় অর্থনীতি, উন্নয়ন প্রসঙ্গেও। গণতন্ত্রের পথকে রুদ্ধ করে কোনো উন্নয়ন টেকসই হবে না বলে মত দেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি সিলেটের alap ডটকমের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো- প্রশ্ন  : এর আগে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, একতরফা নির্বাচনে বিপদ অনিবার্য হয়ে উঠবে। সরকার দেড় বছর পার করছে। এখন কী বলবেন? ড. আকবর আলি খান : একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যেসব উপাদান দরকার তার অনেক কিছুই এখন বাংলাদেশে অনুপস্থিত। সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে বটে, কিন্তু গণতন্ত্রের পথ অনেকটাই রুদ্ধ। এখন যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা যেকোনো সময় আরও ঘোলাটে হতে পারে। সবার মধ্যেই চরম অস্বস্তি কাজ করছে। একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার জন্য এই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। একটি রাষ্ট্র যখন গণতান্ত্রিক ধারায় প্রবেশ করে তখন সবার মধ্যেই স্বস্তি কাজ করে। বাংলাদেশে এখন তা নেই। প্রশ্ন  : গণতন্ত্রের প্রশ্নে বারবার ঠেকতে হচ্ছে। তার মানে রাজনৈতিক দলগুলোই গণতান্ত্রিক হয়ে উঠতে পারেনি? ড. আকবর আলি খান : রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেই মূল সমস্যা। দলগুলোর অভ্যন্তরে কোনো গণতান্ত্রিক চর্চা নেই। এ কারণে রাজনৈতিক দলগুলো তৃণমূল দ্বারা পরিচালিত হয় না। ক্ষমতার পালাবদলে রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্র শাসন করলেও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় পরিচালিত হয়নি। নিজ দলের মধ্যে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা না থাকার কারণে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে এসেও স্বৈর মনোভাব শাসনকার্য পরিচালনা করে। গণতন্ত্রের চর্চা হয় দলের মধ্যে। আপনি লক্ষ করুন, মূল ধারার কোন দলটি গণতান্ত্রিক মতামতকে মূল্যায়ন করে? সবই ওপর থেকে চাপিয়ে দেয়ার নীতি গ্রহণ করা হয়। কোনো জবাবদিহিতা নেই, তৃণমূলের কোনো মূল্যায়ন নেই। প্রশ্ন  : যদি রাজনৈতিক দলগুলোর চরিত্র এমনই হয়, তাহলে ক্ষমতার পালাবদলে নির্বাচনেরই বা কী প্রয়োজন থাকতে পারে? ড. আকবর আলি খান : অন্য দলে গণতান্ত্রিক চর্চা নেই বলে আপনি সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনকে অস্বীকার করতে পারেন না। অন্য দল ক্ষমতায় এলে আরও খারাপ অবস্থা বিরাজ করবে, এই অজুহাতে নির্বাচন বন্ধ বা একতরফা হতে পারে না। গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠার অন্যতম উপাদান হচ্ছে নির্বাচন। সুষ্ঠু নির্বাচন না থাকলে গণতন্ত্রের অবশিষ্ট অংশটুকুও থাকে না। প্রশ্ন : আজকের এই অবস্থার জন্য প্রধানমন্ত্রীর অধিক ক্ষমতা কতটুকু দায়ী বলে মনে করেন? ড. আকবর আলি খান : আমি বহুবার বলেছি, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানো না হলে গণতন্ত্র সত্যিকার রূপ পাবে না। মূল সমস্যা এখানেই। আমি এখনও বলছি, আজকের এই অবস্থার জন্য প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতাই দায়ী। বাংলাদেশে প্রধামন্ত্রীর যে ক্ষমতা, তা পৃথিবীর কোথাও নেই। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর যে ক্ষমতা রয়েছে, সেখানে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নেই। এটি একটি রাষ্ট্রের জন্য শুভকর হতে পারে না। প্রশ্ন  : প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানোর উপায় কী হতে পারে? ড. আকবর আলি খান : প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে সংবিধান পরিবর্তন করা। তবে শুধু প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা নয়, আমাদের সংবিধানে অনেকগুলো দুর্বলতা রয়ে গেছে, যা গণতন্ত্রের জন্য বাধা। প্রশ্ন  : যেমন? ড. আকবর আলি খান : সংবিধানের অন্যতম ত্রুটি হচ্ছে নির্বাচন পদ্ধতি। চলমান নির্বাচন পদ্ধতিতে মাত্র একটি ভোট বেশি পেলেই সংসদে চলে আসার সুযোগ পান। এ কারণে জোর করে হোক আর জালিয়াতির মাধ্যমেই হোক, এক ভোট হলেও ক্ষমতাসীনরা বেশি পাওয়ার চেষ্টা করে। এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা বলে আমি মনে করি। প্রশ্ন  : সমাধান কী হতে পারে? ড. আকবর আলি খান : প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে প্রার্থীদের মূল্যায়ন করলে এই সংকট নিরসন হবে। এতে ভোট জালিয়াতি অনেকটাই কমবে। কারণ জালিয়াতির মাধ্যমে এক ভোট বেশি পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু লাখ লাখ ভোট জালিয়াতি করতে অনেক বেগ পোহাতে হবে। দ্বিতীয়ত, এক ভোট বেশি পেয়েই বিজয়ীরা মনে করে রাষ্ট্র পরিচালনার একমাত্র দায়িত্ব তাদেরই। যা খুশি তারা তাই করতে পারে। অন্যদিকে জনগণ হচ্ছে একদিনের রাজা। ভোটের দিনই শুধু তারা নিজেদের রাষ্ট্রের মালিক ভাবার সুযোগ পান। প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে মূল্যায়ন করলে প্রতিটি ভোটেরই মূল্যায়ন হবে। প্রশ্ন  : এটি করতে পারলেই কি সমাধান? ড. আকবর আলি খান : সংকট উত্তরণের এটি একটিমাত্র উপাদান। আমি মনে করি, যেকোনো সমস্যা সমাধানে জনগণের মতামত নেয়া জরুরি। আর এর জন্য গণভোট চালু করতে হবে। গণভোটের কথা আমরা অনেক আগে থেকেই বলে আসছি। প্রশ্ন  : গণভোট নিয়েও তো প্রশ্ন আছে? ড. আকবর আলি খান : সমস্যা হচ্ছে আইনগত। গণভোটের জন্য আইন করতে হবে। জনস্বার্থে আইনের পরিবর্তন সময়ের দাবি। প্রশ্ন : স্থানীয় সরকার জনগণের ভোটেই নির্বাচিত। এই সরকারও কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছে। ভোটের মূল্যই তো কমে যাচ্ছে? ড. আকবর আলি খান : স্থানীয় সরকার নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা। সমস্যা এখানেই। দেশে এক পর্যায়ের সরকার কাজ করছে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে একাধিক শাসনব্যবস্থা চালু করা দরকার। অন্তত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে সত্যিকার অর্থে একটি পরিপূর্ণ সরকারের রূপ দেয়া দরকার। জাতীয় সরকারের আজ্ঞাবাহী থেকে এই সরকার ব্যবস্থার কোনো উন্নয়ন হতে পারে না। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধামন্ত্রীর ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস জরুরি। এ নিয়ে চিন্তাভাবনা করার সময় এসেছে। দেশের চলমান রাজনীতির পরিবর্তনের জন্য সংবিধানের কাঠামোর দিকে নজর দিতে হবে। প্রশ্ন : বলতে চাইছেন, সংবিধানেই গলদ রয়ে গেছে? ড. আকবর আলি খান : কোনো সংবিধানই ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। ত্রুটি থাকবেই। কিন্তু বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতায় সংবিধানের উল্লেখযোগ্য ত্রুটিসমূহ দূর করতেই হবে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনার জন্য সংবিধান সংশোধন করতে হবে। গণতন্ত্রের স্বার্থে, উন্নয়নের স্বার্থে জনগণের ক্ষমতায়নে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রশ্ন  : সরকার তো অন্য বার্তা দিতে চাইছে। গণতন্ত্রের চেয়ে উন্নয়নকেই অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে, অন্তত সরকারের কারও কারও কথায় তা-ই প্রমাণ করে? ড. আকবর আলি খান : এ বিষয়ে আমার বক্তব্য স্পষ্ট। বাংলাদেশের সংবিধান যে চারটি প্রধান নীতির ওপর দাঁড়িয়ে, সেখানে কোথাও এমন কোনো শর্ত নেই যে গণতন্ত্রের চেয়ে উন্নয়ন বড়। নিঃশর্ত গণতন্ত্র হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যই শুধু গণতন্ত্র নয়, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই মূলত গণতন্ত্র। সুতরাং অথনৈতিক উন্নয়ন হোক বা না হোক গণতন্ত্র থাকতেই হবে। প্রশ্ন  : কিন্তু সরকার কিছু দেশের উদাহরণ সামনে এনে উন্নয়নকেই বড় করে দেখানোর চেষ্টা করছে? ড. আকবর আলি খান : মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরে সুশাসনের কোনো অভাব ছিল না। গণতন্ত্র সেখানে বাধাগ্রস্ত ছিল বটে, কিন্তু সুশাসন দিয়েই উন্নয়ন করেছে। আর সুশাসন প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান এখন অত্যন্ত নিকৃষ্ট। বিশ্বব্যাংকসহ যে কয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা আছে তাদের সূচকে বাংলাদেশের সুশাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সরকারের কর্মকান্ডে  সুশাসন প্রতিষ্ঠার এমন কোনো ইঙ্গিত নেই যাতে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের উদাহরণ প্রাসঙ্গিক হয়। যদিও আমি কখনই ওই ধরনের শাসন ব্যবস্থাকে গ্রহণযোগ্য মনে করি না, যাতে উন্নয়ন প্রশ্নে গণতন্ত্রকে খাটো করে দেখা হয়। এমনকি অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও যে শাসন ব্যবস্থা দরকার, তারও কোনো উপাদান আছে বলে মনে করি না। বাংলাদেশের সুশাসনের যে মান, তা পৃথিবীর মধ্যে অত্যন্ত নিম্নমানের। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যে দেশগুলো উন্নয়ন করেছে সেখানে সুশাসনের মান অনেক উপরে। ফলে আমি মনে করি না যে, সরকারের এই নীতি অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বেশি দিন টিকিয়ে রাখতে পারবে। প্রশ্ন  : এর সামাজিক প্রভাব কী হতে পারে? ড. আকবর আলি খান : এমন শাসন ব্যবস্থায় সমাজের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা খবরের কাগজে চোখ রাখলেই বোঝা যায়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললেই আপনি বুঝতে পারবেন, তারা কেমন অস্বস্তিতে আছে। আপনি বিশ্বসংস্থাগুলোর জরিপ বা সূচক লক্ষ করুন, দেখবেন সুশাসন প্রশ্নে বাংলাদেশের মতো নিকৃষ্ট দেশ আর হয় না। প্রশ্ন : এর পরেও তো মানুষ এগিয়ে যাচ্ছে? ড. আকবর আলি খান : মানুষ তো বসে থাকবে না। সরকার না চাইলেও মানুষ উন্নয়নের পথে হাঁটবে। এ কারণে উন্নয়নের জন্য সরকার নয়, জনগণের অবদানই মুখ্য। অর্থনৈতিক উন্নয়ন যখন নিম্ন পর্যায়ে থাকবে, তখন সুশাসনের অভাবেও মানুষ উন্নয়ন করতে থাকবে। কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়ন মধ্য পর্যায়ে চলে এলেই সুশাসন জরুরি হয়ে পড়ে। তখন সুশাসন না থাকলে উন্নয়নের প্রাসাদ যেকোনো সময়ে ভেঙে পড়েবে। প্রশ্ন : তার মানে আমরা উন্নয়নের প্রাসাদ ভাঙার দিকেইৃ ড. আকবর আলি খান : এখনও সময় আছে ঘুরে দাঁড়াবার। এরপরও সময় লাগবে। এখন থেকে সুশাসনের জন্য উদ্যোগ নিলে ফলাফল আসবে দশ-পনের বছর পর। এ কারণেই আমরা উদ্বিগ্ন যে, গণতন্ত্রই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নয়, উন্নয়নের জন্য যে উদ্যোগ নেয়া দরকার, তা নেয়া হচ্ছে না। প্রশ্ন  : সরকার তো উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়ার কথা বলছে। উন্নয়ন প্রশ্নেই বিশাল আকারের বাজেট ঘোষণা হচ্ছে। ড. আকবর আলি খান : বাজেটের আকার দেখার আগে এর ঘাটতি দেখা দরকার এবং এই ঘাটতি কোথা থেকে কীভাবে পূরণ করা হবে। এবারের বাজেটে যে রাজস্ব আয় নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জিত হবে বলে মনে করি না। একইভাবে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলেও মনে হয় না। আমাদের দেশে ঘোষিত বাজেটের কোনো গুরুত্ব আছে বলে মনে হয় না। বাজেট সংসদে ঘোষণা হয় মাত্র। কিন্তু পরে কাটছাঁট করে সম্পূরক বাজেট করা হয় এবং এটিই সত্যিকার বাজেট। প্রশ্ন  : বাজেট সাধারণ মানুষের জীবনে কী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন? ড. আকবর আলি খান : বাজেটে সাধারণ মানুষের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি সাংসদরাও বাজেটে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেন না। বাজেট ঘোষণার দুই এক সপ্তাহ আগে তাদের জানানো হয়। স্থায়ী কমিটিতে এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয় না। নির্বাহী বিভাগ বাজেট নিয়ে যে সিদ্ধান্ত দেয় শেষ পর্যন্ত তা-ই বহাল থাকে। সুতরাং বাজেট জনগণের ওপর যে ধরনের ভূমিকা রাখার কথা, তা রাখতে পারে না। বাংলাদেশ সৃষ্টির শুরু থেকেই এই ধারা চলে আসছে। প্রশ্ন : তার মানে সরকারের উন্নয়নে সাধারণের আস্থা নেই। আর এ কারণেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় সাগর পাড়ি দিয়ে অন্য দেশে যেতে চাইছে? ড. আকবর আলি খান : উন্নয়ন নিয়ে সতর্ক থাকা দরকার। যে ধরনের উন্নয়নের কথা সরকার বলছে, তাতে জনগণ সুফল পায় না। সরকার দারিদ্র্যসীমার কথা বলছে, ২৫ শতাংশের নিচে। স্বাধীনতার পর দারিদ্রসীমা ছিল ৭০ শতাংশের ওপরে। প্রশ্ন হচ্ছে সরকার কোন হিসেবে এই সমীক্ষা প্রকাশ করছে? এটি হচ্ছে জাতীয় হিসাব। বিশ্বব্যাংকের হিসাব এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে। একইভাবে বাংলাদেশে পুষ্টিহীনতার যে হার, তা আফ্রিকার অনেক দেশে থেকে বেশি। যারা দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠেছেন, তা সামান্য। একটু হেরফের হলেই তারা দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে আসবেন। বাংলাদেশের এখনকার উন্নয়ন ‘৭০ সালের উন্নয়ন থেকে অনেক উপরে বটে। কিন্তু আজকের পৃথিবী থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে। বাংলাদেশে ধনী আরও ধনী হচ্ছে এবং গরিব আরও গরিব হচ্ছে। প্রশ্ন  : এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় আপনার পরামর্শ কী? ড. আকবর আলি খান : এর জন্য সময় লাগবে। কালকেই এর সমাধান দেয়া সম্ভব নয়। যারা রাষ্ট্র, সমাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাদের কাছেই এর সমাধানের পথ রয়েছে। প্রশ্ন : বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে নরেন্দ্র মোদির সফর, অনেকে এমনটিই মনে করছেন। আপনি কীভাবে দেখছেন? ড. আকবর আলি খান : বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক নানা কারণেই জটিল। নরেন্দ্র মোদির সফরের অনেক বিষয় আলোচনাই হয়নি। আর যে বিষয়গুলো আলোচনা হয়েছে, তার বাস্তবায়ন নিয়েও নানা সংশয় রয়েছে। নরেন্দ্র মোদির সফরের বিশেষ দিক হচ্ছে, তিনি ছিটমহল সমস্যার সমাধান করে এসেছিলেন। ছিটমহলের ক্ষেত্রে ভারত যে সদিচ্ছা দেখিয়েছে, তা যদি আমরা কাঁটাতার, পানি এবং বাণিজ্য সমস্যার সমাধানে দেখতে পাই তাহলে বুঝতে পারব যে বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিয়েই ভারত সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চাইছে। সরকার নানা আশার কথা বলছে, কিন্তু সময়ই বলে দেবে কোন দিকে যাচ্ছে। প্রশ্ন  : তিস্তা নিয়েও সরকার আশার কথা বলেছিল। ড. আকবর আলি খান : তিস্তা চুক্তি যেভাবে করা হয়েছে, তা যদি বাস্তবায়ন হয়ও তাতে বাংলাদেশের সামান্য লাভ হবে বলে মনে করি। বাংলাদেশের নদী বাঁচিয়ে রাখতে ভারতের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় আসা উচিত বলে মনে করি। কারণ দু’দেশের স্বার্থেই আন্তঃদেশীয় নদী প্রসঙ্গে কথা বলতে হবে। আপাতত সে আশা রাখা অবান্তর। প্রশ্ন  : বলা যায়, সম্পর্ক উন্নয়নের এই আনুষ্ঠানিকতা অনেকটাই লোক দেখানো? ড. আকবর আলি খান : ভারত আপনাকে কাঁটাতার দিয়ে আলাদা করেছে। এখন তারা যে কথাই বলুক, আগে কাঁটাতারের বিষয়টি সামনে আসবে। যতদিন পর্যন্ত দু’দেশের মানুষ কাছাকাছি আসতে না পারবে ততদিন এই সম্পর্ক উন্নয়ন তেমন কোনো কাজে আসবে না।

বিস্তারিত»

বিশেষ কলাম

সমলিঙ্গের বিয়ের বৈধতা এবং আমাদের তৃতীয় লিঙ্গ

ফারজানা হুসাইন : গতমাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা দরখাস্ত ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে দুটো প্রশ্ন এবং তার সম্ভাব্য উত্তর আমার নজর কেড়েছে। ‘জেন্ডার’ বা ‘লিঙ্গ’ এবং ‘জেন্ডার ওরিয়েন্টেশনের’ প্রশ্নে সম্ভাব্য সব অপশনের সঙ্গে একটা চমৎকার অপশন ছিল। যেখানে লেখা ‘আই ডু নট ওয়ান্ট টু ডিসক্লোজ মাই জেন্ডার অর জেন্ডার ওরিয়েন্টেশন’ যার অর্থ হলো- আমি আমার লিঙ্গ প্রকাশ করতে চাই না । এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হিসেবে আমার সবসময়ের পছন্দ হলো- ‘আমার জেন্ডার আর জেন্ডার ওরিয়েন্টেশন আমি প্রকাশ করতে চাই না।’ আমি অত্যন্ত নির্ভেজালভাবে এই উত্তর দিতে পারি। এমন উত্তরের জন্য কেউ আমার দিকে বাঁকা চোখে তাকায় না, আমি কখনও বৈষম্যের শিকার হই না। এমনকি কেউ কখনও এ রকম উত্তরের কারণও জানতে চায়নি আমার কাছে। আজ নিজ থেকেই বলি, আমার মতে, জেন্ডার আর সেক্সচুয়ালিটি বা জেন্ডার ওরিয়েন্টেশনের বিষয়গুলো প্রতিটি মানুষের জন্য স্বতন্ত্র, আর সে কথা সবার কাছে প্রকাশ করা বা না করা ব্যক্তির একান্তই ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা অনিচ্ছার বিষয়। আমি মনে করি আমি একজন মানুষ, এ আমার একমাত্র পরিচয়। অন্য কোনও কিছু দিয়ে আমাকে বিচার করা যায় না, শ্রেণিবিন্যাস করা যায় না। আমার আচরণ বা বিশ্বাসের তথ্য প্রকাশ করা বা না করার এই অবাধ স্বাধীনতা আমি ভোগ করি কারণ যে দেশে আমি থাকি, সেই দেশটির নাম ইংল্যান্ড। বহু আগে থেকেই দেশটি সবাইকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে। ২০০৪ সাল থেকেই এখানে ‘সিভিল পার্টনারশিপ’ বৈধ করা হয়েছে। আর ২০১৪ সালের মার্চ মাস থেকে সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধতা পেয়েছে এখানে (নদার্ন আয়ারল্যান্ড ছাড়া)। সমলিঙ্গের মানুষের সমান অধিকারের বিষয়ে সব সময় জোরালো ভূমিকা রেখেছে ইউরোপের দেশগুলো। গত শুক্রবার (২৬ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায় দেয়। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চাশটি রাজ্যে সমলিঙ্গের বিয়ের বৈধতা ঘোষণা করা হয়েছে। আর এই রায়ের সমর্থনে সমকামীদের সংগঠন এলজিবিটি ( লেসবিয়ান, গে, বাই সেক্সচুয়াল, ট্রান্সজেন্ডার) এর প্রতিনিধিত্বকারী রঙধনু রঙে রাঙানো হয়েছে হোয়াইট হাউজ। রঙধনু রঙে রঙিন ফেসবুকের অসংখ্য প্রোফাইল ছবিও। তাই বলে প্রোফাইলের মালিকেরা সকলেই যে সমকামী বা সমপ্রেমী তা কিন্তু নয়। এর পক্ষের মানুষ হিসেবে সবার বৈষম্যহীনভাবে বাঁচার প্রতিশ্র“তিকে সমথর্ন করা হয়েছে। গতকাল চোখে পড়া একটা নিউজ সবার সঙ্গে শেয়ার করি। ঢাকার একটি বৌদ্ধবিহার থেকে রমজানে গরীব রোজাদারদের ইফতার সরবরাহ করা হয়। বহু বছর ধরেই তারা এ কাজটি করে আসছে। মানুষে-মানুষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর সম্প্রীতির এই কাজে বৌদ্ধধর্মাবলম্বী ভিক্ষুরা যেমন তাদের নিজ ধর্ম হারাচ্ছে না, তেমনি তাদের কাছ থেকে ইফতার খেয়ে কোনও ধর্মভীরু মুসলমানেরও জাত চলে যাচ্ছে না। মানবাধিকার আইন বলে, যদি তুমি বিশ্বাস করো ভিন্ন বর্ণ, জাত, ভাষা, ধর্ম ও লিঙ্গের মানুষকে সমান সম্মান আর অধিকার দেওয়া উচিত, তাহলে ভিন্ন সেক্সচুয়ালিটি বা লিঙ্গ অভিযোজনকে কেন নয়? কেমন করে শুধু এক প্রকার মানবাধিকারকে সমর্থন করা যায়, যেখানে লিঙ্গ অভিযোজনের ভিন্নতার কারণে অন্যের অধিকার খবর হয়? গত কয়েকদিনে, আমাদের দেশের অনেক ফেসবুক ইউজারের প্রোফাইল ছবি রঙধনুতে রাঙানো দেখা যাচ্ছে। কোথায় কোন মার্কিন মুল্লুকে কি এক আইন হলো, তার সঙ্গে আমাদের হুজুগে বাঙালির কী সম্পর্ক? আরে ভাই, আদার ব্যাপারি হয়ে জাহাজের খবর নিয়ে কী লাভ? এ ধরনের প্রশ্নের জবাবে প্রসঙ্গের বাইরে সহজ একটা পাল্টা- প্রশ্ন করি, বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় বাংলাদেশের শহর-গ্রামের বাড়ির ছাদে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি বা নেদারল্যান্ডসের বর্ণিল পতাকা যে পতপত করে ওড়ে, তাতেই বা লাভ কী? আমরা কখনও ফুটবল বিশ্বকাপে তো খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারিনি। তবু কেন সবার চেয়ে বড় ভিনদেশি পতাকা বানানোর প্রতিযোগিতা, কেন মাঝরাতে জেগে থেকে টেলিভিশনে খেলা দেখা? কারণ একটাই, আমরা সমর্থক। আমাদের দেশের অনেক ফেসবুক ইউজারের প্রোফাইল ছবি রঙধনুতে রাঙানো দেখা যাচ্ছে। কোথায় কোন মার্কিন মুল্লুকে কি এক আইন হলো, তার সঙ্গে আমাদের হুজুগে বাঙালির কী সম্পর্ক? আরে ভাই, আদার ব্যাপারি হয়ে জাহাজের খবর নিয়ে কী লাভ? ঠিক তেমনি নিজের ফেসবুকের ছবিতে রঙধনু রঙের ছোঁয়ায় আমরা মানুষের অধিকারকে সমর্থন জানাই। সমকামীদের বিয়ের অধিকারে সমর্থন করা মানে নিজে সমকামী হয়ে যাওয়া নয়। নারী অধিকার নিয়ে কোনও পুরুষ কথা বললেই সে নারী হয়ে যায় না। সাদা, কালো, বাদামী, হলুদ, জলপাই যে কোনও চামড়ার মানুষের অধিকার রক্ষার কথা সমর্থন করলেই কেউ সেই চামড়ার মানুষ হয়ে যায় না। তবে, একটা চমৎকার ব্যাপার হয়। ধর্ম, বর্ণ, জাত, লিঙ্গ ভিন্নতার কারণে কেউ যেন বৈষম্যের শিকার না হয়, এ রকম কিছু নিয়ে যে মানুষটা কথা বলে; সে আদতে একজন মানুষ হয়ে ওঠে। মানুষ হতে গেলে কিছুই প্রয়োজন নেই; শুধু প্রয়োজন বিবেক আর মানবিকতা। সমকামিতা বিকৃত মানসিকতা বা অসুস্থতা নাকি জেনেটিক ব্যাপার সেই দ্বন্দ্বে যাবো না। কিন্তু আজকের দিনে অ্যালান টুরিং এর কথা একবার না বললেই নয়। সময়টা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পর। বৃটেনে তখন সমকামিতাকে অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হতো। ১৯৫২ সালে সমকামিতার অভিযোগে অভিযুক্ত হন বৃটিশ গণিতবিদ ও ক্রিপ্টোগ্রাফার অ্যালান টুরিং। তাকে সমকামিতার রোগমুক্ত করতে মানব শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এস্ট্রোজেন ইঞ্জেকশন নেওয়ার শাস্তি দেওয়া হয়। ইঞ্জেকশনের সেই ভয়াবহ যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে টুরিং দু’বছর পর আত্মহত্যা করেন। টুরিং এর মৃত্যুর অধর্শতক পর, ২০০৯ সালে বৃটিশ সরকার দাফতরিকভাবে ক্ষমা প্রাথর্না করেন। আর ২০১৩ সালে রানী এলিজাবেথ তাকে মরণোত্তর ক্ষমা প্রদান করেন। এই গল্পটি কেন বললাম? কারণ আমাদের মতো সমাজের চোখে সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের কোনও ধারণাই নেই, কেবল কিছুটা ব্যতিক্রম হওয়ার কারণে কত নিষ্ঠুর আচরণের বলি হতে হয় মানুষকে। ২. নভেম্বর, ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার নারী-পুরুষের পাশাপাশি তৃতীয় একটি লিঙ্গকে আইনগত স্বীকৃতি দেয়, যারা আমাদের সমাজে পরিচিত হিজড়া নামে। পুরো পৃথিবীতে বহু সেক্সচুয়ালিটির মানুষ, ভিন্ন ভিন্ন ট্রান্সজেন্ডার আছে। কিন্তু আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের হিজড়া বলতে আমরা বুঝি সেই সব মানুষকে যাদের পুরুষ জননেন্দ্রিয় আছে কিন্তু তাদের আচরণ, কর্মকা- ও পোশাক নারীসুলভ। অর্থাৎ যাদের পুরুষ শরীরের অভ্যন্তরে একজন নারী বাস করে। তবে একই ব্যক্তির শরীরে পুরুষ ও নারী উভয় জননেন্দ্রিয় যেমন থাকতে পারে, সংখ্যায় লঘু হলেও নারী শরীরে পুরুষের অস্তিত্ব ও অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। হিজড়া মানেই যে রঙচঙয়ে বেঢপ পোশাক পরা কেউ- নেচে, গেয়ে, জোরজবরদস্তি করে রাস্তায় অন্যান্যদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা চাওয়া জনগোষ্ঠী, তা কিন্তু নয়। ফেসবুকের মাধ্যমে একজন হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে চিনি, যে কিনা তার পরিবারকে পর্যন্ত সাহস করে বলতে পারছে না তার জেন্ডার আইডেনটিটি। তার পরিবার ছেলেটির ভিন্ন আচরণে বিরক্ত, কিছুটা উদ্বিগ্ন। ধর্মীয় পরিবারটি স্রষ্টাকে ডাকছে যেন তাদের ছেলেটি ভালো হয়ে যায়। অথচ হিজড়া হওয়া কোনও অসুস্থতা নয়, কোনও দোষের কিছু নয়। এই ছেলেটি সমাজ-সংসারের চোখে একজন পুরুষ, কারণ তার পুরুষ জননেন্দ্রিয় আছে। বাইরে যদিও সে পুরুষের পোশাক পরে, কিন্তু ভিতরে সে অনুভব করে তার নারীত্ব। ছেলেটি কখনও পছন্দের অন্য একটি ছেলেকে বলতে পারেনি তার ভালোবাসার কথা। খুব সরল কিন্তু অবিচল প্রশ্ন তার, সরকার স্বীকৃতি দেওয়ার পরও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আমি সবাইকে বলতে পারি না যে আমি ছেলে নই, পুরুষ শরীরে আটকে পড়া একজন নারী; আমি হিজড়া। এই যখন পারিপার্শ্বিক অবস্থা, তখন কেমন করে আশা করি আমারও একটা সংসার হবে, পরিবার হবে কোনও একদিন। কেউ কী সাহস করে, ভালোবেসে আমাকে বিয়ে করবে কখনও? লেখাপড়া বা চাকুরির সুযোগই তো কারো একমাত্র কাম্য হতে পারে না। বিয়ের অধিকার, পরিবার গঠনের অধিকার, সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার- এগুলোও তো আর সবার মতো আমি চাইতেই পারি। এখনই সময় সব লিঙ্গের মানুষের সম অধিকার নিশ্চিত করা। এই দেড়শ বছরের পুরনো আইনকে নতুন করে সাজানো। লক্ষ্য করুন আমি আমেরিকার মতো বাংলাদেশেও সমকামীদের বিয়ের বৈধতা চাইছি না, আমি শুধু তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের বিয়ের আর পারিবারিক জীবনযাপনের অধিকার চাইছি। কী উত্তর দেব আমি, কী উত্তর দেব সমাজের চোখে সুস্থ স্বাভাবিক আমরা? আমাদের মতোই মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া হিজড়ারা পরিবার থেকে বিতাড়িত হয়ে সাধারণত আশ্রয় নেয় অন্য আরও হিজড়াদের সঙ্গে। ওরা দলবদ্ধ হয় কোনও গুরুর অধীনে। কিশোরবেলা থেকে বেঁচে থাকার প্রতিদিনকার সংগ্রামে অনেকেই জড়িয়ে পড়ে অপরাধমূলক কমর্কা- আর পতিতাবৃত্তিতে। সরকারি আইন অনুযায়ী, নারী পুরুষের পাশাপাশি হিজড়ারাও নাগরিক হিসাবে সংবিধানে বর্ণিত সব অধিকারের যৌক্তিক আর আইনানুগ দাবিদার। কিন্তু আমরা কখনও কি চিন্তা করেছি , হিজড়ারা কি পরিবার গড়ে তুলতে পারবে কখনও? বিয়ে বা সঙ্গীর সাথে বসবাসের অধিকার যদি একজন নারী বা পুরুষের থাকে, তাহলে একজন হিজড়ার কেন থাকবে না? এ সম্পর্কে আমাদের আইন কি বলে একটু জেনে নেই? বাংলাদেশ সংবিধানের ২৮(১)অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা লিঙ্গের ভিত্তিতে রাষ্ট্র কোনও নাগরিকের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করবে না। অন্যদিকে, ১৮৬০ সালের পেনাল কোড এর ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী দুজন ব্যক্তির সম্মতি থাকা সত্ত্বেও হোমোসেক্সচুয়াল বিহেভিয়ার বা সমলিঙ্গের ব্যক্তিদ্বয়ের মধ্যে যৌনাচারণকে প্রকৃতির নিয়ম বিরুদ্ধতার কারণে অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়। এই অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি ১০ বছরের কারাদ-ে দ-িত হবে। এই আইন অনুসারে হিজড়াদের কেউ অন্য কারও সঙ্গে যৌনাচারণ করলে তা সমকামিতা স্বরূপ প্রকৃতির নিয়মবিরুদ্ধ যৌনাচারণ বলে অভিহিত হতে পারে এবং সে শাস্তির সম্মুখীন হতে পারে। এই আইনটি আসলে সংবিধানে প্রদত্ত নাগরিকের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার, রাইট টু ইকুয়ালিটি বা সমতার অধিকার এবং লিঙ্গ ভিন্নতার ভিত্তিতে বৈষম্যহীন আচরণের পরিপন্থী। এখনই সময় সব লিঙ্গের মানুষের সম অধিকার নিশ্চিত করা। এই দেড়শ বছরের পুরনো আইনকে নতুন করে সাজানো। লক্ষ্য করুন আমি আমেরিকার মতো বাংলাদেশেও সমকামীদের বিয়ের বৈধতা চাইছি না, আমি শুধু তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের বিয়ের আর পারিবারিক জীবনযাপনের অধিকার চাইছি। ইউনিভার্সেল ডিকলারেশন অব হিউম্যান রাইটসের ২০ তম আটির্কেল মানুষ হিসাবে আমার নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করেছে। আর সেই মানবাধিকারের জোরে একই সনদের ১৬তম আর্টিকেলে ঘোষিত ইকুয়াল রাইট টু ম্যারেজ অ্যান্ড ফ্যামিলি লাইফ হিজড়াদের জন্যও প্রযোজ্য হোক এইমত প্রকাশ করছি। সব লিঙ্গের মানুষের জন্য বিয়ে ও পরিবার গঠনের সম-অধিকার নিশ্চিত করে আইন তৈরিতে বাংলাদেশ সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে জোরালো মত প্রকাশ করছি। কারণ, সকলের সমান অধিকারই মানবাধিকার। আমিও মানুষ, তুমিও মানুষ তফাৎ শুধু শিরদাঁড়ায়। লেখক: আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক

বিস্তারিত»

এক্সক্লুসিভ

মোদি-বিরোধী মঞ্চের কাণ্ডারী হবেন কে?

জয়ন্ত ঘোষাল:১৯৭৭-এর ১৮ জানুয়ারি জেল থেকে ছাড়া পেয়েই মোরারজি দেশাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে পিলু মোদিকে বলেছিলেন, ‘‘এক হওয়ার পাপ থেকে আমরা বেঁচে গেলাম।’’ মার্চের নির্বাচনের কথা সে দিনই ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু বিরোধী দলগুলির এককাট্টা হওয়া তখন প্রশ্নের বাইরে। ৮১ বছর বয়সেও মোরারজি দেশাই দৃঢ়তার প্রতিমূর্তি। কিন্তু জেল থেকে বেরনোর পর অনেক বেশি নিঃসঙ্গ শূন্যতার মধ্যে। আঘাতে-সংঘাতে তার দল টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে। আজ এত বছর পর বিজেপি-র বিরুদ্ধে যখন লালুপ্রসাদ যাদব, নীতীশ কুমার, বামদল একত্রিত হয়ে বিহার নির্বাচনে মোর্চা বানাতে চলেছেন তখন এই জনতা পরিবারের পুরনো অভিজ্ঞতাগুলিও মনে পড়ছে, মনে পড়বে ভারতের মানুষের। ’৭৭ শুধু নয়, ’৮৯ সালে, এমনকী, তারপর দেবগৌড়া এবং সেন্ট্রিস্ট দলগুলির পরিস্থিতি দেখেছি। কখনও এই দলগুলি কংগ্রেস বিরোধিতা করেছে। ’৭৭ সালে, ’৮৯ সালে যেমন জনসংঘ এবং বিজেপি-কে নিয়ে তারা কংগ্রেস বিরোধিতা করেছে, তেমনই আবার চরণ সিংহ, চন্দ্রশেখর, দেবগৌড়া, গুজরাল কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে বিজেপি-কে ভারতীয় রাজনীতিতে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছে। ভারতের রাজনীতি কোয়ালিশন যুগে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে বেশ কয়েক দশক ধরেই। কিন্তু এবার ২০১৪-র নির্বাচনে যে ভাবে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, তাতে এ প্রশ্ন স্বাভাবিক ভাবে উত্থাপিত হচ্ছে যে এই প্রাচীন জনতা পরিবারের ঐক্যবদ্ধতা কি ভারতের রাজনীতিতে আবার পরিলক্ষিত হবে? শুধু বিহার নির্বাচন নয়, দিল্লির রাজনীতিতেও কি এই জনতা পরিবার আবার বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের প্রতিনিধিত্বের কোলাজ তৈরি করে এক অখণ্ড জাতীয় রাজনীতির পথে এগোতে পারবে?   আসলে বিজেপি এবং কংগ্রেস, যত দিন যাচ্ছে, ভারতীয় রাজনীতিতে এই দুই প্রধান প্রতিপক্ষ ক্রমশ এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারাও ক্ষমতার রাজনীতির জন্য সব রকমের আপোসে আজ অভ্যস্ত। প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সেই একই রকমের অশ্রদ্ধা। রাজনৈতিক নেতাদের একই রকমের জীবনযাপনের ধারা। ক্ষমতার বুড়ি ছোঁয়ার জন্য জকির মতো প্রাণপণ দৌড়। সেই সনাতন কূট চক্রান্ত। মতলব হাসিলের চেষ্টা। সংবিধান ও গণতন্ত্রের প্রতি অনুরূপ অসহিষ্ণুতা। একজন একনায়ককে সরিয়ে আর একজন একনায়ক হন। এক বিদূষকের বদলে অন্য বিদূষক আসেন। মোরারজি দেশাই সরকার যখন গঠন হয়েছিল, তখন সাংবাদিক জনার্দন ঠাকুর লিখেছিলেন, ‘সঞ্জয় গান্ধীর জায়গায় এসেছিলেন কান্তি দেশাই। বংশীলালের বদলে এসেছিলেন দেবীলাল।’ কাজেই জামা বদলায়, রাজা বদলায় না। জনতা সরকার আসার পরেও শাসনের অবস্থা ছিল হতাশাব্যঞ্জক। বরং সেই সময় জয়প্রকাশ নারায়ণের মতো দলহীন গণতন্ত্রে এক ভাবুক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আজ কিন্তু সে রকম কোনো চরিত্র নেই। জয়প্রকাশ বলেছিলেন, হয় ওরা এক দল হয়ে নির্বাচন লড়বে, তা না হলে আমি ওদের সঙ্গে নেই। বিরোধী দলের ধর্মপিতা ছিলেন তিনি। তার হুমকিতে কাজ হয়েছিল। চরণ সিংহ, মোরারজি দেশাই থেকে বাজপেয়ী, আদবানি- সব এক মঞ্চে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। আজ মুলায়ম-লালু-নীতীশকে নিয়ে মোদি বিরোধী মঞ্চের কাণ্ডারী কে হবেন? তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেক সময় দেশের ঘটনাপ্রবাহের অভিমুখ তৈরি করে দেয়। সিপিএমের প্রতি তীব্র বিদ্বেষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে। মনমোহন সিংহের সরকারের প্রতি তীব্র অসন্তোষ নরেন্দ্র মোদির সাফল্যের পথ প্রশস্ত করেছে। ইন্দিরা গান্ধীর ‘বিশাল নাসিকা’কে বিরোধীরা অনেকখানি বিকৃত করতে সফল হয়েছিল। একাত্তরের সুনাম, গরিবি হঠাও স্লোগান অন্তঃসারশূন্য হয়ে গিয়েছিল। এবার নরেন্দ্র মোদি আগামী চার বছর কী ভাবে এগোবেন, কী করবেন, তিনি গণতন্ত্রের পথে হাঁটবেন না কি তার নেতৃত্বেও আসবে একনায়কতন্ত্র- সেটা দেখার। তিনি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ দেবেন না কি দুর্নীতির সঙ্গে আপস করবেন, এই বিষয়গুলি আগামী বছরগুলিতে খুব বড় বিচার্য হয়ে উঠবে। যখন জনতা সরকার এসেছিল, তখনও সবাই ভেবেছিল কংগ্রেসের জমানার দুর্নীতি বিদায় হলো। চন্দ্রশেখরের মতো তরুণ তুর্কী নেতা জনতা আমলে কী ভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে পরিচিত ব্যবসায়িকদের পৃষ্ঠপোষক হয়ে ওঠেন, সে সব ইতিহাস লিপিবদ্ধ আছে। জনার্দন ঠাকুরের ‘জনতা অ্যান্ড কোং’ বইতে সাধারণ মানুষের কাছেও ক্রমশ এই সব নেতাদের অন্ধকার জগৎ প্রকাশ্যে আসে। প্রশ্ন হচ্ছে, বিহার নির্বাচনে জাতপাতের সমীকরণ এবং বিজেপি বিরোধিতার তাস ব্যবহার করে নবগঠিত জনতা পরিবার সাফল্য পাবে কি না? আর পরবর্তী প্রশ্ন, বিহারের নির্বাচনের সাফল্য হোক বা না হোক, জাতীয় স্তরে মোদি বিরোধী এক নতুন মঞ্চ গঠনে এই জনতা পরিবার কর্মক্ষম হবে কি না? জয়ন্ত ঘোষাল: নয়া দিল্লি ব্যুরো চিফ, আনন্দবাজার পত্রিকা

বিস্তারিত»

মতামত

পদ্মা নদীর অন্তর্ধান : তিস্তা কি অপেক্ষায়?

হায়দার আকবর খান রনো: 2দুই বছর আগে খ্যাতনামা চিত্র নির্মাতা সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড নির্মিত একটি অসাধারণ পূর্ণ দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ঢাকায় প্রদর্শিত হয়েছিল। চলচ্চিত্রটির নাম ‘অন্তর্ধান’। নির্মাতা ও চিত্র পরিচালক সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড নিঃসন্দেহে প্রতিভাবান, যিনি নিম্নবর্গের শোষিত, বঞ্চিত মানুষের জীবন কথা সিনেমার পর্দায় তুলে ধরার জন্যই বিশেষভাবে পরিচিত। বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত এই পরিচালক ইতোপূর্বে গঙ্গা যাত্রা ছবিটির জন্য শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা ও পরিচালক হিসাবে জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন। এবারের অন্তর্ধান ছবিটিও কলকাতায় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (নভেম্বর ২০১৩ সাল), দিল্লীতে জাগ্রান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে (আগস্ট ২০১৩) এবং সিঙ্গাপুরে দর্পণ চলচ্চিত্র উৎসবে (সেপ্টেম্বর ২০১৪) প্রদর্শিত হলে বহু দর্শকের মনে প্রবল দাগ কেটেছিল। ‘অন্তর্ধান’ মানে যা কিছু একদা ছিল কিন্তু এখন আর নেই - হারিয়ে গেছে। চলচ্চিত্র নির্মাতা একটি করুণ কাহিনীর মধ্যদিয়ে দেখাচ্ছেন, কিভাবে একটা নদীও হারিয়ে যায়। অন্তর্ধান! সাথে সাথে হারিয়ে যায় সেই নদীর পারের গরিব শ্রমজীবী মানুষের জীবনে যে সামান্য সুখ স্বাচ্ছন্দ্য ছিল, সেটাও। পরিচালক ডায়মন্ড বিশাল প্রমত্তা পদ্মা নদীর হারিয়ে যাওয়ার কথাই বলেছেন। হ্যা, সেই বিশাল নদীর বিশালত্ব আর নেই। উন্মুক্ত জলতরঙ্গের জায়গায় এখন শুধুই ধুধু বালি। পদ্মা নিয়ে কতো কাহিনী, গল্প, উপন্যাস, কবিতা। মানিক বন্দোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ‘পদ্মা নদীর মাঝি’। কিছুদিন পরে তা বোধহয় অবাস্তব কাহিনী বলে মনে হবে। প্রমথ নাথ বিশীর একটা উপন্যাস আছে - নাম ‘পদ্মা’। বর্ষাকালের প্রলয়ংকরী সেই পদ্মার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রলয়ের সহদরা, কাল নাগিনী’। তবে শুধু প্রমত্ত পদ্মার ধ্বংসাত্মক চিত্রই পুরো চিত্র নয়। পদ্মার জলে তীরের ভূমি হয়ে ওঠে শস্য শ্যামলা। নদীতে মাছ আসে। তা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে মানিক বন্দোপাধ্যায়ের কুবের মাঝির মতো কয়েক লাখ মৎস্যজীবী। গোটা অববাহিকা জুড়ে মানুষের জীবন গড়ে উঠেছে, জীবিকা নিশ্চিত হয়েছে পদ্মা নদীকে কেন্দ্র করে। হায় পদ্মা! সেই পদ্মা আর নেই। এক ফারাক্কা বাধ পদ্মার পানি আগেই সরিয়ে নিয়েছে অন্যত্র। ফারাক্কা বাধ নির্মাণের প্রতিবাদ জানিয়ে মজলুম মানুষের নেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ১৯৭৬ সালে ঐতিহাসিক লং মার্চ করেছিলেন। দূরদর্শী নেতা তখনি দেশবাসীকে সচেতন করেছিলেন নদীর পানি প্রবাহ সম্পর্কে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন তুলেছিলেন। মওলানা ভাসানী তখনি যা আশঙ্কা করেছিলেন, তাই-ই দেখতে পেলাম। এখনো পাচ্ছি। ‘অন্তর্ধান’ চলচ্চিত্রে সেই করুণ চিত্রই ফুটে উঠেছে। এটি একটি জীবন কাহিনী। পদ্মার পানি শুকিয়ে যাওয়াতে পদ্মা পারের মানুষের জীবনে নেমে এসেছে দারুন অভাব, দারিদ্র। বড় অসহায় বোধ করে সেই মানুষগুলো। নৌকা চলে না। নদীতে পানি নেই। মাছও নেই। কূল ছাপিয়ে সামান্য বন্যা পাশের জমিকে করতো উর্বরা। তাও এখন নেই। নদীর দেশ, সবুজের দেশটা কি মরুভূমিতে পরিণত হবে? এই করুণ দৃশ্য চোখের সামনে তুলে ধরেছে অসাধারণ এই চলচ্চিত্রটি। মূল কাহিনীর পাশে একটা ছোট্ট কাহিনীও আছে। অনেকটা রূপক আকারে। নদী নামে একটি বালিকা এবং আকাশ নামে এক বালকের বালু চরে খেলা, মান অভিমান। বিস্তীর্ণ বালু চরে একটু খানি পানির রেখা দেখা যায়। বালি খুড়ে ছোট্ট একটা জলাশয় বানিয়েছে খেলার ছলে দুই খেলার সাথী। হঠাৎ করে কোথা থেকে একটা মাছ লাফিয়ে উঠলো। নদী নামের মেয়েটি মাছটিকে যতœ করে আশ্রয় দিল তাদের বানানো জলাশয়ে। (প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখযোগ্য যে, নদীর চরিত্রে অভিনয় করেছে যে বালিকা, ওয়াহিদা সাব্রিনা ২০১৪ সালে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে এই অভিনয়ের জন্য)। বালক আকাশ একটু ধনী পরিবারের ছেলে। আর বালিকা নদী একেবারেই গরিব ঘরের মেয়ে। দুজনের মধ্যে যে ছেলেমানুষী দ্বন্দ্ব আমরা দেখি সিনেমায় তা যেন একটা প্রতীকী ব্যাপার। নদীর পানি নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়টি কৌশলে তুলে আনা হয়েছে রূপকের সাহায্যে। তবে ভালো কথা এই যে, কলকাতায় ও দিল্লীতে এই ছবি প্রদর্শিত হলে ভারতীয় দর্শকরা কোন বিরূপ মনোভাব দেখাননি। বরং দর্শক ও সাংবাদিকদের মনে দাগ কেটেছিল। Statesman পত্রিকায় এই ছবির উপরে উল্লেখিত প্রসঙ্গ নিয়েও মন্তব্য করেছে। The decade old debate between India and Bangladesh over sharing of river water has come alive on the silver screen on Bangladeshi film. খেলার সাথী দুই বালক-বালিকা নদী ও আকাশের ছোট্ট কাহিনী সম্পর্কে পত্রিকাটির মন্তব্য ‘While playing on the river bed , they start fighting over a dyke built to regulate water flow into two small puddles. Their quarrels , although childish, are allegoricial enough to remind viewers about the old controversy surrounding the Farraka barrage project. The puddles act as motif in the film.’ Times of India এই ছবিটি সম্পর্কে যে প্রতিবেদন ছাপিয়েছিল তার হেডলাইনে লেখা ছিল Bangla film on woes scores a hit. দিল্লী থেকে প্রকাশিত প্রবাসের চিঠিতে সম্পাদকীয়তে ফারাক্কা বাধ নির্মাণের সমালোচনা আছে সরাসরি। বলা হয়েছে, ‘ব্রহ্মপুত্র নদের উপর বিরাট বাধ বানাচ্ছে চীন। ফলে ভারতে ব্রহ্মপুত্রের মতো নদ শুকিয়ে যাবার আশংকা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে ভারত’। পত্রিকাটি এই প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশের আপত্তির যৌক্তিকতা তুলে ধরেছে। ভারতীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিত্র পরিচালক ডায়মন্ড বলেছেন, ‘এ শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়। ভারতের সমস্যা, বিশ্বের অন্য দেশেরও। এ ছবি তাই সব দেশের, বিশেষত নদীর নিম্ন অববাহিকায় থাকা দেশগুলোর সমস্যা। সেখানে নদী গ্রাস করার মতো স্বার্থান্বেষীরাও রয়েছে। আগামী দিনের সংকটকে কেউ ভাবছে না। তাদের ভাবাতেই এই ছবি’। মওলানা ভাসানীর ফারাক্কা মার্চ অথবা ডায়মন্ডের অন্তর্ধান ছবি অথবা বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি করার মধ্যে কোনো অন্ধ ভারত বিরোধীতা নেই। ডায়মন্ডও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পদ্মার স্বাভাবিক প্রবাহ দাবি করেছেন। এই দাবি এখন আর শুধুই মানবিক দাবি নয়, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে অধিকারও। ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যে নদী কনভেনশন গৃহীত হয়েছিল তার ধারা বলে (বিশেষ করে ৭.১ ও ৭.২ ধারা) ভাটির দেশের সাথে সমঝোতা না করে উজান দেশ নদীর পানি অন্যত্র সরাতে পারবে না। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভোটাভুটির সময় (১৯৯৭ সালের ২১ মে) ভারত ও পাকিস্তান বিরত ছিল। চীন, তুরস্ক ও বুরুন্ডি বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল। তবে এটি আইনে পরিণত হতে হলে পরবর্তীতে ৩৬টি দেশের স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল। বাংলাদেশ এই কনভেনশনের পক্ষে ভোট দিলেও এতো বছরেও সেই স্বাক্ষরটি করেনি। ইতোপূর্বে ৩৫টি দেশের স্বাক্ষর পাওয়া গিয়েছিল। বাকি ছিল একটি মাত্র দেশের স্বাক্ষর। বাংলাদেশ দিলেই এটি আইনে পরিণত হতো। কিন্তু এতো বছরেও কেন বাংলাদেশ স্বাক্ষর দেয়নি? এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলের সরকারই এসেছে ও গেছে। কেন কেউ তারা স্বাক্ষর করেনি? ভারত অসন্তুষ্ট হবে, এই মনে করে কি? তাই যদি হয়, তবে দেশপ্রেম কাকে বলবো? যাহোক, গত বছর ভিয়েতনাম স্বাক্ষর করেছে। এটি এখন আন্তর্জাতিক আইন। তাই তিস্তা বা অন্য কোন নদীর পানি বন্টনের প্রশ্ন এলে অবশ্যই বাংলাদেশের সাথে সমঝোতা করতে হবে। কিন্তু ভারত কোন রকম আলাপ-আলোচনা ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে জলপাইগুড়ি জেলার গজলডোবায় বাধ দিয়ে তিস্তার পানি সরিয়ে নিচ্ছে। ১৯৭৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রবেশ মুখে আমরা পেতাম ৬৭১০ কিউসেক পানি। এই বছর গত মার্চ মাসে আমরা পেয়েছি মাত্র ২৩২ কিউসেক। ২০১২, ২০১৩, ২০১৪ সালে একই পয়েন্টে মার্চ মাসে পেয়েছি যথাক্রমে ৩৫০৬, ২৯৫০ ও ৫৫০ কিউসেক পানি। অর্থাৎ ক্রমাগত পানির প্রবাহ হ্রাস পাচ্ছে। পদ্মার মতো তিস্তাও কি দ্বিতীয় অন্তর্ধান হতে চলেছে। উত্তরবঙ্গের বিশাল অঞ্চল জুড়ে এর ভয়াবহ ক্ষতিকর প্রভাব দেখা দিচ্ছে, আরও দেবে। তিস্তার পানি দ্বারা অন্যান্য যে সকল নদী পুষ্ট হতো সেগুলোও শুকিয়ে যাচ্ছে। গোটা উত্তরবঙ্গ জুড়ে সেচের কাজ দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মাছ থাকবে না। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে আসায় মরুকরণ প্রকিয়া দেখা দেয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। ভারত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে একতরফাভাবে তিস্তার বা অন্য কোন নদীর পানি সরাতে পারে না। আমাদের সরকারকেও বলিষ্ঠ ভূমিকা নিতে হবে। আন্তর্জাতিক আইনের সহায়তা নিতে হবে। অবশ্যই ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমেই পানি সমস্যার সমাধান করতে হবে। কিন্তু ন্যায়সঙ্গত অধিকার ছাড় দিয়ে নয়, আত্মসম্পর্ণ করেও নয়। ভারতের ক্যারিজমেটিক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঢাকা সফরকালে বলেছেন, ‘বাতাস, পাখী, নদীর কোন সীমানা নেই। নদীর প্রবাহ আমাদের বিরোধের কারণ না হয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার কারণ হয়ে উঠুক’। কী কাব্যিক ভাষায় তিনি এতো চমৎকার বলতে পেরেছেন। তার কথাই সত্য হোক। নদী হয়ে উঠুক দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক। পদ্মার মতো আরেকটি নদীর অন্তর্ধান আমরা দেখতে চাই না।।

বিস্তারিত»

বিনোদন

শাহিদ মীরার বিয়ের কার্ডের প্রথম ছবি

বলিউডের অন্দরে সাজসাজ রব৷ সাত পাকে বাঁধা পড়তে চলেছেন ড্যাশিং শাহিদ কাপুর৷ আগামী সাত জুলাই সিঙ্গেল থেকে মিঙ্গেল হতে চলেছেন শাহিদ৷ পাত্রী অব্যশই দিল্লির বাসিন্দা মীরা রাজপুত৷ জানা গিয়েছে, শাহিদের বিয়েতে তেমন কোনও জাঁকজমক থাকছে না৷ কেবল কাছের কিছু বন্ধু ও  পরিবারের সদস্যরাই থাকছেন শাহিদের বিয়েতে৷ যদিও দিল্লিতে বিয়ে সারার পর মুম্বইতে গ্রান্ড রিসেপশন হবে শাহিদ মীরার৷ সেদিন বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে বলিউডের তারকারাও উপস্থিত থাকবেন৷ একঝলকে দেখে নিন শাহিদ মীরার বিয়ের কার্ডের প্রথম ঝলক  

বিস্তারিত»

স্বাস্থ্য ও রুপচর্চা

ইফতারিতে থাকুক লেবুর শরবত

গরমের দিনে প্রাণ জুড়াতে টক-মিষ্টি স্বাদের একগ্লাস লেবুর শরবতের তুলনা নেই। এমন দিনে রোজা শেষে ইফতারিতে তৃপ্তির সঙ্গে তৃষ্ণা মিটাতেও লেবুর শরবত অতুলনীয়। অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল, অ্যান্টিভাইরাল এবং ইমিউন বুস্টিং ক্ষমতা অতিরিক্ত ওজন কমাতে, হজম শক্তি বাড়াতে এবং মুহূর্তে তরতাজা করতে লেবুর শরবত খুবই কার্যকরী। তাই জেনে নেয়া যাক, আপনার ইফতারিতে লেবুর শরবত কেন জায়গা করে নেবে তার উত্তর। লেবু মানুষের শরীরের অপ্রত্যাশিত উপাদান বের করে দেয়। লেবুর শরবতে থাকা সালিভা ও হাইড্রোক্লরিক এসিডের মিশ্রণ হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এটা লিভারে বাইল উৎপাদন করতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। এই বাইল হজম শক্তি বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী উপাদান। লেবুতে থাকা প্রচুর পরিমাণ খনিজ ও ভিটামিন শরীরের ক্ষতিকারক টক্সিন নষ্ট করে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। এমনকি বদহজমের বিভিন্ন উপসর্গ যেমন হার্টবার্ন, বেলচিং ও ব্লটিং থেকে শরীরকে নিরাপদ রাখে। লেবুতে থাকে ভিটামিন সি এবং লৌহ যা ঠাণ্ডাজ্বর জাতীয় রোগের বিরুদ্ধে ভীষণ কার্যকর। এতে আরও আছে পটাসিয়াম যা মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুকে সক্রিয় রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এতে থাকা অ্যাসকারবিক এসিড প্রদাহ দূর করে এবং অ্যাজমা বা এজাতীয় শ্বাসকষ্টের সমস্যা কমায়। এছাড়াও কফ কমাতে সাহায্য করে লেবু। খাবার থেকে শক্তি শোষণের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় লেবু। আর এর গন্ধে আপনার মন ফুরফুরে হয়ে উঠবে নিমিষে। রোজা রাখার ক্লান্তি ও বিষণ্ণতা দূরীকরণেও এটি অসামান্য। লেবুতে থাকা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের কুঞ্চন এবং দাগ দূর করে। ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতেও এটি কার্যকরী। লেবুর শরবত বমিভাব দূর করে আপনার খাবার রুচিকে বাড়িয়ে তোলে। সারাদিন রোজা রাখার কারণে অনেকের নিঃশ্বাসে দূর্গন্ধ বা দাঁতে ব্যথার সৃষ্টি হয়। লেবুর শরবত নিশ্বাসে আনে সতেজতা। এছাড়া গরম পানির সঙ্গে লেবুর শরবত পানে দাঁতের ব্যথা এবং জিঞ্জিভাইটিসের উপশম হয়। রোজার সময় সবচেয়ে বেশি কষ্ট পানি তৃষ্ণায়। পানির এই অভাব পূরণে লেবুর শরবত খুবই উপকারী। প্রতিদিন একগ্লাস লেবুর শরবত পানে আপনি থাকবেন একদম তরতাজা। লেবুতে প্রচুর পরিমাণে পেক্টিন থাকে। আঁশজাতীয় এই পদার্থ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রনে রাখে। আপনার রোজা রাখাকে আরও সহজ করে দিতে লেবুর শরবত দারুণ উপকারী।

বিস্তারিত»

সম্পাদকীয়

ডিজিটাল ভর্তি প্রক্রিয়া বিড়ম্বনা এন্যানালগের চেয়ে ও বেশি

কলেজে ভর্তির সনাতনী পদ্ধতি ছেড়ে অনলাইন পদ্ধতি চালু করার পেছনে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটা প্রয়াস ছিল বটে, তবে তা যে এত দুর্ভোগের কারণ ঘটাবে, তা আগে বোঝা যায়নি। দুর্ভোগ মানে কী, চরম ভোগান্তি! এক কথায় বলা যায়, এই পদ্ধতির জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে ও হচ্ছে অসংখ্য শিক্ষার্থী। ভোগান্তিটা শুরু হয় ভর্তি প্রক্রিয়াটি চাপিয়ে দেয়ার পর থেকেই। কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই হুট করে অনলাইন পদ্ধতি প্রবর্তন করায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রক্রিয়াটি সবিস্তার বুঝে উঠতে পারছিলেন না। শিক্ষার্থীরা আবেদন তো করল, এরপর কী হল? দেখা দিল কারিগরি ত্রুটি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনা। শুরু হল আবেদনকারীদের অপেক্ষার পালা। টানা কয়েকদিন অপেক্ষার পর রোববার মধ্যরাতে যখন ফল প্রকাশ করা হল, তখন অনেকের মাথায় হাত। কমপ্লেইনের পর কমপ্লেইন। একজন গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে, অথচ সে কোথাও টেকেনি! কলেজ পরিদর্শকদের কাছে জমা হল অভিযোগপত্রের স্তূপ। অন্যদিকে যারা যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে, তারা পড়ল আরেক সমস্যায়। অনলাইনে ভর্তি ফরম ডাউনলোড করতে বিড়ম্বনা, সার্ভারের ধীরগতি, আরও কত কী! সংকটের এখানেই শেষ নয়। সিদ্ধান্ত হয়েছে চার ধাপে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং প্রথম ধাপের পর যেসব ছাত্রছাত্রী ভর্তি হবে, তাদের গুনতে হবে জরিমানা। অথচ বিলম্বটা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা সরকার। তারা ফল প্রকাশে বিলম্ব ঘটিয়েছে; কিন্তু তার দায় নিতে হবে শিক্ষার্থী তথা অভিভাবককে! ওদিকে আবার পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ক্লাস কার্যক্রম শুরু হবে ১ জুলাই, অথচ প্রথম ধাপের ভর্তি প্রক্রিয়াটি শেষ হবে ২ জুলাই। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক ছাত্রছাত্রী ক্লাস কার্যক্রমের শুরুটা ধরতে পারবে না! আমরা বুঝে উঠতে পারি না, ১৫ লাখ ছাত্রছাত্রীর ভর্তির মতো একটি বিশাল কর্মযজ্ঞের ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কেন এতটা বিশৃংখলা ঘটিয়েছে। সম্পূর্ণ নতুন এবং প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রক্রিয়া এত হেলাফেলার হতে পারে, ভাবা যায় না। আমরা বলব, নতুন এ পদ্ধতির অব্যবস্থাপনার কারণে একজন ছাত্র বা ছাত্রীও যদি কোনোভাবে বঞ্চিত হয়ে থাকে, তাহলে পদ্ধতিটি ব্যর্থ হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা যত সহজে মুখে বলা যায়, বাস্তবে কাজটা ততো সহজ নয়। তথ্য মন্ত্রণালয়ের উচিত ছিল, পদ্ধতিটির কথা অনেক আগেই জানিয়ে দেয়া এবং এতদসংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে যথেষ্ট প্রচারণা চালানো। প্রক্রিয়াগত ত্র“টির কারণে যে ফল প্রকাশে বিলম্ব ঘটেছে, তাকে সাধারণ ব্যর্থতা বা ভুল বলে পার পাওয়া যাবে না। সবচেয়ে বড় কথা, নতুন এ পদ্ধতির কারিগরি বা অন্য কোনো ত্র“টির কারণে যারা বঞ্চিত হয়েছে, তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

বিস্তারিত»

লাইফস্টাইল

অন্দরে দেখা মিলবে এদের সবার

বিবাহিত দম্পতি, সিঙ্গল যুবতী, সেক্স অ্যাডিক্ট থেকে শুরু করে অধ্যাপক, ফিল্মসটার-সেক্স পার্টির অন্দরে দেখা মিলবে এদের সবার। কিন্তু কেন একদল অচেনা মানুষের সঙ্গে শয্যা বিনিময় করতে দ্বিধা করেন না সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা? এর জন্য আপনাকে একটি হ্যাপেনিং সেক্স পার্টির অন্দরে উঁকি মারতে হবে। এখন বিষয় হল, সেক্স পার্টির অন্দরে যাদের আনাগোণা, তাঁরা কিন্তু বেশিরভাগই ভিআইপি। ‘প্লেরুম’-এ একবার ঢুকে গেলে এরা ভুলে যান সমাজ এদের ‘আইডলাইজ’ করে। লাইফস্টাইল ডট কমের এক এক্সক্লুসিভ ডকুমেন্টারিতে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। নাম “পশ অর্গিস: সেক্স পার্টি সিক্রেটস।” কেন এরকম সেক্স পার্টিতে যান যুবক-যুবতীরা? হাই সেক্স ড্রাইভের চালিত হন যাঁরা-তাদের বিছানায় মনোগ্যামি পোষায় না। এক একটি নিশিযাপনের জন্য তাদের আলাদা আলাদা পার্টনার লাগে। লাইফস্টাইল ডট কম-কে ক্রিশ্চিয়ানা(নাম পরিবর্তিত) নামে এক টিনএজার জানিয়েছেন, “রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে ভাবি, কী করলাম জীবনে, কিস্যু না। তাই এমন কিছু করতে ইচ্ছে হয়, যা আমার একঘেয়ে লাইফকে একটি উত্তেজনাময় করে তুলবে। তাই আমি এরকম সেক্স পার্টিতে যাই। কারা অর্গানাইজ করেন এরকম পার্টি? এই পার্টিগুলি অর্গানাইজ করতে রীতিমত গ্যাঁট ও কলজের জোর থাকা চাই। কারণ, সেক্স পার্টিতে কোনও হেলাফেলার ব্যক্তিরা যান না। তারউপর উপযুক্ত ভেন্যু, কার পার্কিং, বিলাসিতা, নেশার সামগ্রী, জন্মনিরোধক-সবমিলিয়ে অঢেল খরচ। দম্পতি পিছু এই পার্টির এন্ট্রি ফি ২০০ পাউন্ড, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২০ হাজার টাকা। ইংলিশ কাউন্টিতে এরকম পার্টি অর্গানাইজ করেন জন ব্লু। তিনি একজন ইভেন্ট অর্গানাইজার। তিনি বলছেন, “অনেক মেম্বারের আবার বাড়তি ভিআইপি ডিমান্ড থাকে। যেমন, একটি ভিআইপি স্যুট, দামি শ্যাম্পেন, ফুড বার। তাঁরা বিলাসিতার জন্য খরচ করতে কার্পন্য করেন না। এধরনের পার্টির আবেদন কতটা? ২৫ বছরের স্যান্ডি বলছে, আমি কাউকে পাইনা যাকে আমার গার্লফ্রেন্ড বলে সমাজে পরিচিত করাতে পারি। কিন্তু আমিও সেক্সুয়ালি অ্যাক্টিভ থাকতে চাই। তাই আমি এধরনের পার্টিতে যাই।   পিয়োর প্লেজার পার্টি-র অর্গানাইজার লুইসা বলছে, একজন মানুষের সঙ্গে গোটা একটা জীবন কাটানোর কথা ভাবতেই পারে না আজকালকার ছেলেমেয়েরা। তারাই আমাদের মূল টার্গেট। আজকালকার ছেলে ও মেয়ে-উভয়েই একাধিক জনের সঙ্গে ডেটে যায়। তাদের কথা মাথায় রেখেই এই পার্টি। থিমস সব সেক্স পার্টির থিম এক হয় না। কোথাও থিম হয় রেট্রো, কোথাও আবার মিস্ট্রি। কোথাও পুল পার্টি থিমেই চলে অর্গি। ‘অ্যান্টিক’ থিমের এরকমই এক পার্টি থেকে ফিরে শার্লট ও ফ্র্যাঙ্ক বলেন, “এক জায়গায় ওপেন ফ্লোরে একসঙ্গে ১০ জন দম্পতি মিলিত হচ্ছেন দেখতেও নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। নিরাপত্তা ও প্রাইভেসি এই ধরনের পার্টি অর্গানাইজড হয় এলিট ক্লাসের লোকেদের জন্য। তাই নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ফাঁকফোকর রাখা হয় না। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়, মোবাইল-ক্যামেরার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকে এই পার্টিতে। মদ্যপ হয়ে চিৎকার চেঁচামেচি করা যায় না এখানে। স্যান্ডি বলছেন, সকলের সামনে মিলত হওয়াটা একটা শো-এর মতো। আপনি কাউকে অসম্মান করতে পারবেন না।

বিস্তারিত»

শোক-সংবাদ

রূপগঞ্জে বিএনপি নেতা ও  সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান ভুঁইয়া  আর নেই

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও মাঝিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আলহাজ্ব শাহজাহান ভুঁইয়া হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে .... রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। তিনি স্ত্রী ২ ছেলে, ৩ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শাহজাহান ভুঁইয়া ভাই আইনুল হক জানান, দীর্ঘদিন ধরে হার্টের সমস্যায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহজাহান ভুঁইয়া ইন্তেকাল করেন। ২১ জুন রবিবার বিকেলে তাঁর লাশ ঢাকায় পৌঁছবে। বিএনপি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাহজাহান ভুঁইয়ার মৃত্যুতে যুবদলের কেন্দ্রিয় নেতা মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু, সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতিক, জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, সাপ্তাহিক আমাদের রূপগঞ্জ পত্রিকার সম্পাদক মো. হানিফ মোল্লা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

বিস্তারিত»

সাম্প্রতিক খবর সর্বাধিক পঠিত

জরিপ

Loading...

Archive