বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

বান্দরবান: প্রবল বর্ষণের কারনে বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।   ঘুর্ণিঝড় ‘কোমেন’র প্রভাবে প্রবল বর্ষণের কারনে বান্দরবানের কেরানীরহাট চট্রগ্রাম সড়কের মাঝের পাড়া এলাকায় একটি কালভার্ট দেবে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।   এদিকে বান্দরবানের সাংঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার তিন হাজারো বেশি পরিবার। এছাড়া চকরিয়া লামা সড়কের মিরিজ্ঞা এলাকায় সড়ক ভেঙে যাওয়ায় লামা আলীকদম উপজেলায় যানচলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঘুর্ণিঝড়ের প্রবল বাতাসে বান্দরবানের রুমা, থানছি আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। পাহাড়ের উপরে থাকা ঘরবাড়িগুলো প্রচন্ড বাতাসে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা পরিষদের সদস্য জুয়েল বম জানান, ‘রুমা উপজেলার কেউক্রাডং পাহাড়ের বগালেক পাড়া, বাসলাং পাড়া, আর্থা পাড়া, মুলপি পাড়াসহ ১০টির বেশি পাড়ার বসতঘর প্রচন্ড বাতাসে ভেঙে গেছে। উঁচু পাহাড় চুড়ায় বসতি থাকায় ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।” নাই্ক্ষ্যংছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবু শাফায়েত জানান, “কক্সবাজার সংলগ্ন ঘুনধুম তুমব্রু, সোনাইছড়ি এলাকায় ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ছয়টি আশ্রয় কেন্দ্রে লোকজনদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের খুটি উপড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে এসব এলাকায়।” এদিকে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে বান্দরবান শহরের ইসলাম পুর, বাসস্টেশন, মেম্বার পাড়া, আর্মিপাড়া, নিউ গুলশান এলাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে বান্দরবান শহরে আবারো বন্যাকবলিত হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বন্যার্তরা ঘরে উঠতে না উঠতেই আবারো ঘরবাড়ি তলিয়ে পানিতে। বন্যার্তরা আশ্রয় নিয়েছে শহরের স্কুলগুলোতে। শহরে পাঁচটি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পাহাড় ধস ও মাটি চাপায় সড়ক বিধ্বস্থ হয়ে যাওয়ায় গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বান্দরবানের রুমা থানছি উপজেলায় সড়ক যোগযোগ বন্ধ রয়েছে। বিস্তারিত»

১১১টি ছিটমহলে উড়বে বাংলাদেশের পতাকা

ঢাকা : দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে অন্য দেশের মূল ভূ-খণ্ডের ভেতরে ছিটমহলে অবরুদ্ধ জীবন কাটানো প্রায় ৫২ হাজার বাসিন্দার শুক্রবার আনুষ্ঠানিক মুক্তির রাত। এ মুক্তি যেমন বাংলাদেশের ভেতর শুক্রবার রাত থেকে বিলুপ্ত হতে যাওয়া ভারতীয় ছিটমহলে, ঠিক তেমনি ভারতের ভেতরে বাংলাদেশের ছিটমহলেও।   দুই দেশেরই ছিটমহলগুলোর বাসিন্দারা প্রত্যাশা অনুযায়ী নাগরিকত্ব এবং যে যেখানে বসবাস করছে, সেখানেই থাকার সুযোগ পাচ্ছে। শুক্রবার মধ্যরাতেই দুই দেশের মধ্যে অপদখলীয় ভূমি বিনিময়ও কার্যকর হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের সরকার এ বিষয়ে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করবে। আগামীকাল শনিবার থেকে ভারতের ছিটমহলে বাংলাদেশের পতাকা ও বাংলাদেশের ছিটমহলে ভারতের পতাকা উড়বে।  বাংলাদেশের মূল ভূ-খণ্ডের ভেতরে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহলে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে বাংলাদেশের সীমানায় চলে আসবে। যার আয়তন ১৭১৬০.৬৩ একর। অন্যদিকে ভারতের মূল ভূ-খণ্ডের ভেতরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল হয়ে যাচ্ছে ভারতের। এগুলোর আয়তন ৭১১০.০২ একর। বিস্তারিত»

বৃটেনে বানের পানির মতো মানুষ ঢোকার চেষ্টা বেড়েই চলেছে

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ, লন্ডন থেকে: গত তিন চারদিন ক্যালাইসে অবৈধ অভিবাসীদের  ইউরোট্যানেল দিয়ে জোর করে ব্রিটেনে প্রবেশের চেষ্ঠা ক্রমেই বানের পানির মতো বেড়ে চলেছে। ক্রমাগত ফ্রান্স থেকে ফেরি, চ্যানেল ক্রস করে লোকজন আসছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা রক্ষীরা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে এদের রুখতে ও আটকাতে। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার রাতে ২০০০ হাজারের অধিক লোক এক সাথে ধাক্কা দিয়ে ট্যানেল ভেঙ্গে প্রবেশের চেষ্ঠা করে। এর পরের দিনই প্রায় ১৫০০ জনের মতো অবৈধ অভিবাসী প্রবেশের প্রচেষ্টা চালায়। সুদানের একজন অভিবাসী দৌড় দিয়ে ট্যানেল ক্রস করে প্রবেশের সময় ট্র্যাকের সাথে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন। স্থানীয় ইমিগ্রেশনসহ নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট লোকজন উস্মা প্রকাশ করেছেন, যা সংবাদপত্রে ইতোমধ্যেই এসেছে। বৃটেনের হোম সেক্রেটারি থেরেসা মে ইমার্জেন্সি কোবরা মিটিং করেছেন। অবস্থা দেখে ব্রিটেনের বিরোধী দল ইউকিপ এর নাইজেল ফারাজ সেখানে আর্মি পাঠানোর জন্য আহবান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ভিয়েতনাম সফরে থাকা অবস্থায় গতকাল ভোরের দিকে অবৈধ অভিবাসীদের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ডেভিড ক্যামেরন স্পষ্টতই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সমুদ্রের স্রোতের মতো এক ঝাঁক মানুষ নিশ্চিত সুন্দর জীবন, চাকরি, ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি  ও স্বচ্ছল জীবনের আশায় ব্রিটেনে প্রবেশ করার জন্য মরিয়া। ব্রিটেন এই সব অবৈধদের জন্য এখন আর নিরাপদ স্বর্গ নয়। ক্যামেরন আরো বলেন, ক্যালাইস নিরাপত্তা নিয়ে যদিও উদ্বিগ্ন নই, কেননা ব্রিটেন ও ফ্রান্স এখন যৌথভাবে কাজ করছে। তারপরেও অবৈধ অভিবাসী এক ঝাঁক লোক এখন ব্রিটেনে প্রবেশের এই চেষ্টা কিছুতেই সফল হবে না।   ডেভিড ক্যামেরনের এই এক ঝাঁক (সোয়ার্ম পিপল- অন্য অবজেক্টিভ এনিমেল বাইটিং এর সাথে ব্যবহৃত) নিয়ে শুরু হয়েছে ব্রিটেনে তীব্র বিতর্ক। লেবার দলের নেতৃত্ব প্রার্থী অ্যান্ডি বার্ণহাম টুইটের মাধ্যমে ক্যামেরনের এই বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন- Andy Burnham ✔@andyburnhammp Cameron calling Calais migrants a "swarm" is nothing short of disgraceful. Confirms there's no dog-whistle these Bullingdon Boys won't blow. 9:12 AM - 30 Jul 2015 অপর দিকে সাবেক শ্যাডো হোম সেক্রেটারি  অ্যান উইডকম্ব ফারাজের বক্তব্যের সমর্থনে বলেছেন, আর্মি পাঠানো সমর্থন করি, তবে বর্ডারের ঐ অংশের নিরাপত্তার দায়িত্ব ফ্রান্সের উপর বর্তায়। এদিকে লরি ড্রাইভারদের সংগঠন আরএইচএ ক্যালাইস-এর পথে লরি চালানো ড্রাইভারদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে উদ্বিগ্ন বলে বিবৃতি দিয়েছে।   বিস্তারিত»

ফের পালিয়ে শিফা খালেদের ঘরে

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে:প্রেমিক খালেদকে অপহরণে  ফাঁসিয়ে পিতার জিম্মায় চলে গিয়েছিল সিলেটের প্রবাসীবধূ ফারজানা আক্তার শিফা। পিতার শিখিয়ে দেয়া বুলি আওড়িয়ে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিল, প্রেমিক খালেদ তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অপহরণ করেছিল। কিন্তু এই শিফা একমাস ১০ দিনের মাথায় সব কিছু মিথ্যা প্রমাণ করে এবার পিতার ঘর ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছে প্রেমিক খালেদের বাড়িতে। সঙ্গে নিয়ে গেছে তার কোলের সন্তান সাফিকেও। পালিয়ে আসার পর শিফাকে বরণ করে নিয়েছে খালেদের পরিবার। খালেদের সঙ্গে শিফার প্রেম, অভিসার, বিয়ে ও পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর ফের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে এলাকায়। সিলেটের মোগলাবাজার এলাকার কান্দেবপুর গ্রামের সৌদিপ্রবাসী মজিরউদ্দিন তালুকদারের সঙ্গে গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষণাবন্দ গ্রামের আবদুল মান্নানের মেয়ে ফারজানা আক্তার শিফার বিয়ে হয় ১১ বছর আগে। বিয়ের পর মজির ও শিফার সংসারে দুটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। স্বামী প্রবাসে থাকায় প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিক সিএনজি চালক একই এলাকার কান্দিয়ারচর গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে খালেদের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আর এই প্রেম একপর্যায়ে রূপ নেয় অভিসারে। স্বামীর অবর্তমানে ফারজানা আক্তার শিফা প্রেমিক খালেদের সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করে। আর এই প্রেমের পরিণতি হিসেবে গত ৯ই জুন ফারজানা আক্তার শিফা তার চার বছরের শিশু সন্তান সাফিকে নিয়ে প্রেমিক খালেদের সঙ্গে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার দিনই শিফা সিলেটের আদালতের অ্যাডভোকেট আনসার খানের কাছে এফিডেভিট করে পূর্বের স্বামী সৌদি প্রবাসী মজিরউদ্দিন তালুকদারকে তালাক প্রদান করে। একই সঙ্গে ওই দিন শিফা আরেকটি এফিডেভিট করে প্রেমিক খালেদকে বিয়ের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করে। এরপর শিফা প্রেমিক খালেদের সঙ্গে পালিয়ে যায় গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায়। পালিয়ে যাওয়ার পর ১৫ই জুন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী অফিসে গিয়ে কাবিনের মাধ্যমে বিয়ে সম্পাদন করে। ওদিকে, শিফা পালিয়ে যাওয়ার পর তার পিতা আবদুল মান্নান সিলেটের মোগলাবাজার থানায় অপহরণ মামলা করেন। ওই মামলায় তিনি দাবি করেন, খালেদ তার মেয়েকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে গেছে। মামলা  করার পর সিলেটের মোগলাবাজার থানার এসআই স্বপন কান্তি দাশসহ শিফার পিতা আবদুল মান্নান ১৭ই জুন রাতে গাজীপুর কোনাবাড়ির কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশের গলির ভাড়াটে ঘর থেকে শিফাকে উদ্ধার করেন। এ সময় পুলিশ শিফার প্রেমিক খালেদকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের দিন শিফা বারবার পুলিশকে জানিয়েছে, ‘খালেদ তার প্রেমিক ছিল। এখন স্বামী। পূর্বের স্বামী মজিরউদ্দিন তালুকদারকে ডিভোর্স দিয়ে সে পছন্দের মানুষ খালেদকে বিয়ে করেছে।’ এ সময় পিতার সঙ্গেও তর্কে লিপ্ত হয় শিফা। পরে পুলিশ তাদের সিলেটে নিয়ে আসে। এবং ডাক্তারী পরীক্ষার পর ২১শে জুন শিফাকে আদালতে হাজির করে। আর ১৮ই জুন অপহরণ মামলায় প্রেমিক খালেদকে আদালতের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়া হয় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে। শিফা আদালতে উপস্থিত হয়ে খালেদের বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রদান করে। শিফা জানায়, ‘নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে খালেদ তাকে অপহরণ করেছে।’ আদালতে দেয়া শিফার জবানবন্দি গ্রহণে তার মতামতের ভিত্তিতেই পিতা আবদুল মান্নানের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয় শিফাকে। এরপর আবদুল মান্নান সিলেটের মোগলাবাজার থানা পুলিশের কাছ থেকে মুচলেকার মাধ্যমে দুটি পুত্র সন্তান মাহি ও সাফিকে নিয়ে যান। এরপর থেকে শিফা তার পিতার বাড়িতেই বসবাস করছিলেন। সৌদি প্রবাসী মজিরউদ্দিন তালুকদারের স্বজনা জানিয়েছেন, এতবড় অঘটনের পরও দুটি সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে পূর্বের স্বামী মজিরউদ্দিন সব কিছু ভুলে যেতে বসেছিলেন। শিফাকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য মানবিকতাকে প্রাধান্য দিয়ে দুটি পরিবার এক হওয়ার চেষ্টায় ছিল। সৌদিতে থাকা মজিরউদ্দিনও ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত করছিলেন। এ অবস্থায় গত মঙ্গলবার সকালে ফারজানা আক্তার শিফা ফের পিতা আবদুল মান্নানের হেফাজত থেকে পালিয়েছে। সকাল ১১টার দিকে চার বছরের শিশুপুত্র সাফিকে নিয়ে খালেদের বাড়িতে উঠে শিফা। আর খালেদের পরিবারও শিফাকে বরণ করে নেয়। এদিকে, শিফার প্রেমিক খালেদের গ্রাম থেকে দুই কিলোমিটার দূরে শিফার প্রবাসী স্বামী মজিরউদ্দিন তালুকদারের বাড়ি। শিফা পালিয়ে খালেদের বাড়িতে এসেছে এমন খবর রটে গেছে এলাকায়। কেউ কেউ গিয়ে শিফাকে বাড়িতে দেখেও এসেছেন। কথাও বলেছেন শিফার সঙ্গে। শিফার পিতা আবদুল মান্নান গতকাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘শিফা গত মঙ্গলবার শিশুপুত্র সাফিকে নিয়ে পালিয়েছে। আর পালিয়ে সে খালেদের বাড়িতে গেছে। পরে খবর নিয়ে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন শিফা খালেদের বাড়িতে আছে।’ তিনি বলেন, ‘শিফাকে অনেক বুঝালাম। বুঝলো না। এবারও সে ভুল করলো।’ তিনি বলেন, ‘শিফা পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি থানায় কোন জিডি করেননি।’ কেন করেন নি প্রশ্ন করা হলে বলেন, ‘করেই বা কি লাভ। শিফা তো আর বুঝে না।’ এদিকে, এক মাস ১০ দিন ধরে শিফা অপহরণ মামলায় কারাগারে রয়েছেন প্রেমিক সিএনজি চালক খালেদ। ইতিমধ্যে খালেদের জামিনের জন্য সিলেটের কোর্টে দুই দফা আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু জামিন হয়নি। এ কারণে এখন শিফা আদালতে এসে প্রেমিক খালেদের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। খালেদের মামা আবদুর রব গতকাল মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ‘শিফা পালিয়ে এলে যদি খালেদের মঙ্গল হয় তাহলে শিফা পালিয়েছে ধরে নেন। আমরা এখন খালেদের জামিন নিয়ে ভাবছি। কারণ, সে বিনা দোষে কারান্তরীণ রয়েছে।’ ওদিকে, শিফা অপহরণ  মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিলেটের মোগলাবাজার থানার এসআই স্বপন কান্তি দাশ গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ‘শিফা পালিয়ে খালেদের বাড়িতে এসেছে-এ খবর তিনি পেয়েছেন। তবে, তিনি খালেদের বাড়িতে যাননি। তিনি বলেন, শিফা আদালতে বলেছে- তাকে অপহরণ করা হয়েছে। এখন সে প্রেমিক খালেদের বাড়িতে চলে আসায় মামলায় নতুন মোড় নেবে। তদন্তের মাধ্যমে সব কিছুর খোলাসা হবে বলে জানান তিনি। ফেঁসে যেতে পারেন আবদুল মান্নান: শিফার প্রেম, ডিভোর্স, বিয়ে, পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ফেঁসে যেতে পারেন শিফার পিতা আবদুল মান্নান। এর কারণ শিফার স্বামী মজিরউদ্দিন তালুকদার শিফাকে বিয়ের পর থেকে সৌদি আরবে রয়েছেন। সৌদি থেকে তার কষ্টার্জিত সকল উপার্জন পাঠানো হয় শিফার কাছেই। আর ওই টাকা শিফা ও তার পিতা লুটেপুটে খেয়েছেন এমন অভিযোগ করেছেন প্রবাসী মজিরের পরিবারের সদস্যরা। তারা জানান, শিফা পালিয়ে যাওয়ার পর তারা সাফিকে নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। মাহি ও সাফির পিতা হচ্ছেন সৌদি প্রবাসী মজিরউদ্দিন তালুকদার। শিফা আদালত থেকে পিতার জিম্মায় যাওয়ার পর সিলেটের মোগলাবাজার থানা থেকে মুচলেকার মাধ্যমে নিজ জিম্মায় মাহি ও সাফিকে নিয়েছিলেন নানা আবদুল মান্নান। এখন শিফা ছোট ছেলে সাফিকে নিয়ে পালিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, ‘শিফা কোথায় আসে সেটি তাদের দেখার বিষয় নয়। তারা দুটি সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে পুলিশের কাছে আবদার জানাবেন।’ বিস্তারিত»

মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব গোলযোগের মধ্যে বাংলাদেশ

সিলেটের আলাপ ডেস্ক:বাংলাদেশ সরকারের প্রতি মানবাধিকার রক্ষায় তৎপরতা বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা ও জঙ্গি উত্থান প্রতিরোধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস আহ্বান জানিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক হাউজ অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স সাব কমিটির সদস্য, রিপাবলিকান দলের কংগ্রেসওমেন তুলসি গাব্বার্ড কংগ্রেসে বুধবার উত্থাপিত এক প্রস্তাবে এ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ গোলযোগের মধ্যে রয়েছে। গত বছর ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনের পর থেকেই এ দেশের স্থিতিশীলতা নিয়ে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উদ্বেগ। দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে তুলসি গাব্বার্ড এ প্রস্তাব তোলার পর বক্তব্য রাখেন এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক সাব কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান দলের কংগ্রেসম্যান ম্যাট স্যামন ও একই দলের কংগ্রেসম্যান বব ডোল্ড। বব ডোল্ট বলেন, কোন দেশ তার নাগরিকদের, বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষায় ব্যর্থ হলে তা বরদাশত করা হবে না। বিশ্বের মানবিক মূল্যবোধের বৃহৎ শক্তি হিসেবে সেসব দেশের কাছে যুক্তরাষ্ট্র একসুরে এই বার্তা পাঠাতে বাধ্য। তুলসি গাব্বার্ড ওই প্রস্তাবে বাংলাদেশে ঝুঁকিতে থাকা সব সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের প্রতি। তুলসি গাব্বার্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রেস রিলিজ ও টুইটারে এ কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে হিন্দু সম্প্রদায়ের একমাত্র সদস্য এই তুলসি গাব্বার্ড। তিনি কংগ্রেসে প্রস্তাব উত্থাপন করে বলেন, আমি বিশেষ করে ধর্মীয় স্বাধীনতা, বিশেষ করে হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়ে উদ্বিগ্ন। সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্তরা প্রায়ই থেকে যাচ্ছে শাস্তির বাইরে। এসব সংখ্যালঘুদের ওপর যারা সহিংসতা উসকে দিচ্ছে ও সংঘটিত করছে তাদেরকে থামাতে বাংলাদেশ সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করতে হবে। এই প্রস্তাবে সংখ্যালঘু সহ সব নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষার জন্য বাংলাদশে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাস শক্তিশালী করতে ও কট্টরপন্থি গ্রুপগুলোকে প্রতিহত করতে হবে সরকারকে। কংগ্রেসম্যান ম্যাট স্যামন বলেন, আমরা আশা করি মানবিক মূল্যবোধ, মুক্তমত ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তার প্রতি সম্মান দেখাবে বাংলাদেশ। সব নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে। এক্ষেত্রে কারও রাজনৈতিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। বিস্তারিত»

ছবি ঘর

স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে উপকূলের জনজীবন

বাগেরহাট প্রতিনিধি : ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’আশঙ্কা কাটিয়ে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে উপকূলের জনজীবন। বিপদ সংকেত তুলে নিয়েছে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।   আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি ক্রমশ দুর্বল হয়ে একটি স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এজন্য সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৭ ও ৫ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।   মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) গোলাম মোক্তাদির জানান, ৫ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারির পর বন্দরে আবারো কাজ শুরুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বন্দরে অবস্থান করা জাহাজগুলোতে কাজ শুরুর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে এখনো বৃষ্টিপাতের কারণে মংলা বন্দরে অবস্থানরত জাহাজের হ্যাচ খুলতে না পারায় পণ্য ওঠা-নামা (খালাস) বন্ধ রয়েছে।   এদিকে বিপদ সংকেত নামিয়ে সতর্কতা সংকেত জারির খবরে বাগেরহাটসহ উপকূলের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। শরণখোলাসহ কয়েটি এলাকার কাঁচা ঘর-বাড়িতে বসবাস করা যে সব অধিবাসী নিরাপদ আশ্রয়ে ছিলো তারা সকলে ঘরে ফিরতে শুরু করেছে।   বাগেরহাটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতুল মন্ডল জানান, সিডর ও আইলা বিধ্বস্ত উপকূলীয় এই জনপদের মানুষের মাঝে এখন স্বস্তি ফিরে এসেছে। আশ্রয় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্বজনদের বাড়িতে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়া মানুষজন নিজ বাড়িতে ফিরে গেছে। উপজেলার বলেশ্বরসহ নদীগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানির উচ্চতা এক থেকে দুই ফিট বেড়েছে।   সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. কামাল উদ্দিন জানান, সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে আশ্রয় নেওয়া জেলেরা এখনও সেখানে অবস্থান করছে।   আবহাওয়া বার্তায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার এবং সমুদ্রগামী জাহাজসমূহকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

বিস্তারিত»
ফিলিস্তিনি শিশুকে পুড়িয়ে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে এক শিশুকে।   ইসরায়েলের দখল করা পশ্চিম তীরের ডুমায় দুটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় উগ্রপন্থি ইহুদিরা। এতে শিশুটি নিহত হয়েছে এবং তার পরিবারের সদস্যরা আহত হয়েছে।   স্থানীয়দের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, আগুনে পুড়ে আহত হয়েছে শিশুটির বাবা ও তার চার বছর বয়সি ভাই।   ইসরায়েলি পুলিশ রয়টার্সকে জানিয়েছে, উগ্রপন্থি ইহুদিরা এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে।   গ্রামের দুটি বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে হামলকারীরা। ওই বাড়ির দেয়ালে লেখা হয়েছে, ‘প্রতিশোধ’ এবং ‘যিশু দীর্ঘজীবী হোক’।

বিস্তারিত»
বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

বান্দরবান: প্রবল বর্ষণের কারনে বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।   ঘুর্ণিঝড় ‘কোমেন’র প্রভাবে প্রবল বর্ষণের কারনে বান্দরবানের কেরানীরহাট চট্রগ্রাম সড়কের মাঝের পাড়া এলাকায় একটি কালভার্ট দেবে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।   এদিকে বান্দরবানের সাংঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার তিন হাজারো বেশি পরিবার। এছাড়া চকরিয়া লামা সড়কের মিরিজ্ঞা এলাকায় সড়ক ভেঙে যাওয়ায় লামা আলীকদম উপজেলায় যানচলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঘুর্ণিঝড়ের প্রবল বাতাসে বান্দরবানের রুমা, থানছি আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। পাহাড়ের উপরে থাকা ঘরবাড়িগুলো প্রচন্ড বাতাসে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা পরিষদের সদস্য জুয়েল বম জানান, ‘রুমা উপজেলার কেউক্রাডং পাহাড়ের বগালেক পাড়া, বাসলাং পাড়া, আর্থা পাড়া, মুলপি পাড়াসহ ১০টির বেশি পাড়ার বসতঘর প্রচন্ড বাতাসে ভেঙে গেছে। উঁচু পাহাড় চুড়ায় বসতি থাকায় ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।” নাই্ক্ষ্যংছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবু শাফায়েত জানান, “কক্সবাজার সংলগ্ন ঘুনধুম তুমব্রু, সোনাইছড়ি এলাকায় ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ছয়টি আশ্রয় কেন্দ্রে লোকজনদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের খুটি উপড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে এসব এলাকায়।” এদিকে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে বান্দরবান শহরের ইসলাম পুর, বাসস্টেশন, মেম্বার পাড়া, আর্মিপাড়া, নিউ গুলশান এলাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে বান্দরবান শহরে আবারো বন্যাকবলিত হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বন্যার্তরা ঘরে উঠতে না উঠতেই আবারো ঘরবাড়ি তলিয়ে পানিতে। বন্যার্তরা আশ্রয় নিয়েছে শহরের স্কুলগুলোতে। শহরে পাঁচটি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পাহাড় ধস ও মাটি চাপায় সড়ক বিধ্বস্থ হয়ে যাওয়ায় গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বান্দরবানের রুমা থানছি উপজেলায় সড়ক যোগযোগ বন্ধ রয়েছে।

বিস্তারিত»
বৃষ্টিতে দ্বিতীয় দিনের খেলা পরিত্যক্ত

ঢাকা: প্রথম সেশনের সময়টাই অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির ধারা কখনও কমছে, কখনও বাড়ছে। অব্যাহত বৃষ্টির কারণে বেলা ১২টার পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা। মাঠের কভারই তোলা হয়নি। বৃষ্টি মাঝে মাঝে থামলেও মাঠ পরিচর্যার কাজে নামার সুযোগ হয়নি। বৃষ্টির দাপট অব্যাহত রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় কোমেন র্দুবল হয়ে নি¤œচাপে পরিণত হয়েছে। যার প্রভাবে সকাল থেকেই ঢাকায় বৃষ্টি হচ্ছে। তীব্রতা উঠা-নামা করলেও বৃষ্টি বন্ধ হচ্ছে না। সঙ্গে তীব্র বাতাসও রয়েছে। এমন বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাঠমুখী হয়নি কোনো দলই।   এর আগে প্রথম দিন শেষে ৮ উইকেটে ২৪৬ রান তুলেছে টস জিতে শুরুতে ব্যাট করা বাংলাদেশ। দলের পক্ষে মুশফিক ৬৫, মাহমুদউল্লাহ ৩৫, মুমিনুল ৪০, সাকিব ৩৫ ইমরুল ৩০ রান করেন। ১৩ রানে অপরাজিত রয়েছেন নাসির হোসেন। টেস্ট ইতিহাসের ১৩তম ও দ্বিতীয় প্রোটিয়া বোলার হিসেবে ৪০০’শ উইকেট নিয়েছেন ডেল স্টেইন। ম্যাচের পঞ্চম ওভারে তামিম ইকবাল স্টেইনের ৪০০তম শিকার হন।

বিস্তারিত»
উত্তরায় সহকর্মীদের গণধর্ষণের শিকার তরুণী

ঢাকা: রাজধানীর উত্তরায় এক তরুণীকে গণধর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উত্তরার রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স থেকে বাসায় ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। তরুণীর বয়স ১৭। তার বাড়ি বরিশালে। ঢাকায় উত্তরায় বোনের বাসায় থাকতো। ওই তরুণী ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ‘স্বপ্ন’র একজন বিক্রয় প্রতিনিধি।   ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তরুণীর ভগ্নিপতি জানান, “ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ‘স্বপ্ন’তে আরিফ (২৫) নামে এক যুবক চাকরি করতো। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বাসায় ফেরার সময় আরিফসহ আরও দুইজন কৌশলে পাশের নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে ওই তরুণীকে গণধর্ষণ করেন। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে ছেড়ে দিলে তিনি তার উত্তরার চাচাতো ভাইয়ের বাসায় চলে যান। পরে স্বজনদের বিষয়টি জানালে স্বজনরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাম্প ইনচার্জ মোজাম্মেল হক তরুণীকে নিয়ে আসার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বিস্তারিত»
১১১টি ছিটমহলে উড়বে বাংলাদেশের পতাকা

ঢাকা : দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে অন্য দেশের মূল ভূ-খণ্ডের ভেতরে ছিটমহলে অবরুদ্ধ জীবন কাটানো প্রায় ৫২ হাজার বাসিন্দার শুক্রবার আনুষ্ঠানিক মুক্তির রাত। এ মুক্তি যেমন বাংলাদেশের ভেতর শুক্রবার রাত থেকে বিলুপ্ত হতে যাওয়া ভারতীয় ছিটমহলে, ঠিক তেমনি ভারতের ভেতরে বাংলাদেশের ছিটমহলেও।   দুই দেশেরই ছিটমহলগুলোর বাসিন্দারা প্রত্যাশা অনুযায়ী নাগরিকত্ব এবং যে যেখানে বসবাস করছে, সেখানেই থাকার সুযোগ পাচ্ছে। শুক্রবার মধ্যরাতেই দুই দেশের মধ্যে অপদখলীয় ভূমি বিনিময়ও কার্যকর হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের সরকার এ বিষয়ে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করবে। আগামীকাল শনিবার থেকে ভারতের ছিটমহলে বাংলাদেশের পতাকা ও বাংলাদেশের ছিটমহলে ভারতের পতাকা উড়বে।  বাংলাদেশের মূল ভূ-খণ্ডের ভেতরে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহলে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে বাংলাদেশের সীমানায় চলে আসবে। যার আয়তন ১৭১৬০.৬৩ একর। অন্যদিকে ভারতের মূল ভূ-খণ্ডের ভেতরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল হয়ে যাচ্ছে ভারতের। এগুলোর আয়তন ৭১১০.০২ একর।

বিস্তারিত»
এমপি জেবুন্নেছার ঘুষ কেলেঙ্কারি ফাঁস!

বরিশাল: কলেজে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে অর্ধকোটি টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) জেবুন্নেছা আফরোজের বিরুদ্ধে। নেতৃত্ব নিয়ে বিভক্ত আওয়ামী লীগের একাংশ এই ঘুষ কেলেঙ্কারি নিয়ে মাঠে নামায় তা বরিশালে ‘টক অব দ্য টাউনে’ পরিণত হয়েছে। বরিশাল সিটি কলেজের শূন্যপদে সাতজন শিক্ষক নিয়োগে প্রার্থী প্রতি মোটা অংকের অর্থ নিয়ে চূড়ন্ত তালিকা তৈরি করায় যোগ্যপ্রার্থীরা ওই অনিয়মের জন্য এমপি জেবুন্নেছাকেই দোষারোপ করছেন। তবে বুধবার এই এমপিসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে বরিশাল আদালতে মামলা দায়েরের পরই বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। পাশাপাশি বিভক্ত আওয়ামী লীগের একাংশ সুযোগ বুঝে এ ইস্যুতে মাঠে নেমে পড়ায় চরম বিব্রত অবস্থায় পড়েছেন এমপি জেবুন্নেছা। যদিও এই অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেছেন, ‘নিয়োগ তো এখনও চূড়ন্ত হয়নি।’ আলোচিত ওই মামলার বাদীরা হলেন- সমাজ কর্ম বিষয় নিয়োগ প্রার্থী বরিশাল নগরীর নাজিরের পুল এলাকার গৌরঙ্গ চন্দ্র কর্মকারের ছেলে জীবেশ কর্মকর জুয়েল, কৃষি বিজ্ঞান বিষয়ক প্রার্থী কাউনিয়া সোবাহান মিয়া, পোল এলাকার আবদুস সাত্তার হাওলাদারের মেয়ে মোসা. শেফালি আক্তার, ইংরেজি বিভাগের প্রার্থী মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রহমত উল্যার ছেলে মো. নেয়ামত উল্যাহ এবং রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের প্রার্থী ভোলার সদর উপজেলার মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. জামাল মাস্টার। এদিকে, জেবুন্নেছার অনুসারীরা জানান, পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে উঠলে এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ গত বুধবারই বরিশাল ছেড়ে ঢাকায় চলে যান। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোড এলাকার সিটি কলেজে শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের পরই ক্ষমতাসীন মহলের দুটি অংশ তাদের পছন্দের প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করে নিয়োগ কমিটির ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়। সদর আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ পদাধিকার বলে সংশ্লিষ্ট কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদে থাকায় তার বিরোধীরা প্রভাব বিস্তার করেও অগ্রসর হতে পারেনি। শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকের প্রতিনিধি হিসেবে বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের অধ্যক্ষ ওই নিয়োগ কমিটির সভাপতি মনোনীত হওয়ার বদৌলতে অপরাপর সদস্যদের সবাইকে এমপির অনুগত শিক্ষকদের তালিকায় রাখা হয়। পরীক্ষার স্থান হিসেবেও বিএম কলেজকে নির্ধারণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিএম কলেজের অধ্যক্ষ একেএম ফজলুল হক অত্যন্ত নির্ঝঞ্ঝাট লোক হলেও এমপি জেবুন্নেছার অনুগত। গত ২৭ জুলাই পরীক্ষার আগেই তাদের চূড়ন্ত প্রার্থীদের সঙ্গে দেন-দরবার অনুযায়ী কারো কাছ থেকে সাত লাখ এমনকি ১০ লাখ টাকা করে নেয়া হয়। খোঁজ-খবর নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে, নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে অগ্রভাগে থাকা কেউই বর্তমান চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাননি। এই অনিয়মের গোটা প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে বিএম কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাইউম হোসেনের বিরুদ্ধে। নিয়ম না থাকলেও নিয়োগ পরীক্ষাকালীন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি নিয়োগ কমিটির রুমেই অবস্থান করেন। এমনকি পরীক্ষার শুরু থেকে শেষ অবাধি আলোচিত এই শিক্ষকই পরীক্ষার্থীদের লিখিত থেকে মৌখিক পরীক্ষাও মনিটরিং করেন। পাশাপাশি নিয়োগ কমিটির সদস্যদের পারিশ্রমিকের টাকাও তিনি নিজ হাতে বণ্টন করেন। বিষয়টি স্বীকার করলেও কোন ক্ষমতাবলে নিয়োগ কমিটির রুমে অবস্থান করছেন বা ভূমিকা রাখছেন তার সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি কাইউম হোসেন। তবে শিক্ষক পরিষদের ওই নেতা দাবি করেন, এমপি জেবুন্নেছার অনুরোধেই তিনি সেখানে অবস্থান করেন। তবে একাধিক শিক্ষক ও নিয়োগ কমিটির বেশ কয়েকজন অভিযোগ করেন, প্রফেসর কাইউম অনেকটা ক্ষমতার বলে সেখানে অবস্থান নেয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি। একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলামেইলকে জানান, এই কাইউম হোসেন বেশ কয়েকজন প্রার্থীকে এমপির রেফারেন্সে চাকরির নিশ্চয়তায় টাকা সংগ্রহ করার তাগিদ দিয়ে রেখেছিলেন। এ কারণে প্রার্থীরাও ছিলেন প্রস্তুত। তবে গত মঙ্গলবার রাতে ফাঁস হয়ে যায় নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি। এরপরেই সম্ভব্য নিয়োগ বঞ্চিতরা সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন ও বিভিন্ন মহলে বিষয়টি অভিযোগ আকারে উপস্থাপন করে। এ খবরে জেবুন্নেছা আফরোজের প্রতিদ্বন্দ্বি সাবেক চিফ হুইফ এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ছেলে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ প্রকাশ্যে না এসে অনেকটা অন্তরালে থেকে বঞ্চিত প্রার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেন। অভিযোগ ওঠে, দলের ভেতরে দ্রুত ঘুষ কেলেঙ্কারির খবর ছড়িয়ে দিয়ে এমপি জেবুন্নেছাকে এক প্রকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছেন ওই যুবলীগ নেতা। পাশাপাশি সংক্ষুব্ধ ৪ প্রার্থী বরিশাল আদালতে জেবু্ন্নেছা আফরোজসহ নিয়োগ কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৩ জনকে বিবাদী করে নিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। এ মামলার অগ্রভাগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক এবং বিমএ কলেজ অধ্যক্ষও রয়েছেন। কিন্তু এমপি জেবুন্নেছার বিরুদ্ধে মোট ৫৮ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি আলোচনায় বেশ প্রাধান্য পাচ্ছে। জানতে চাইলে নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে এমপি জেবু্ন্নেছা আফরোজ মুঠোফোনে বলেন, এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। তাছাড়া নিয়োগ তো চূড়ান্ত হয়নি।’ এমপিকে দেয়ার কথা বলে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রার্থী পটুয়াখালীর বাসিন্দা তহিদুল ইসলামকে ১০ লাখ টাকায় তার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে আর এ ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করেছেন প্রফেসর কাইউম- এমন অভিযোগ তিনি হেসে উড়িয়ে দেন। তবে কলেজের নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, গোপন পরিকল্পনার আলোকে বৃহস্পতিবার নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা ছিল। সে তালিকা প্রকাশের অনুমোদন দিয়েছিলেন এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ। তবে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠায় তা স্থগিত করা হয়েছে বলে সূত্রটি ধারণা করছে। এদিকে, নিয়োগ কমিটির প্রধান বিএম কলেজের অধ্যক্ষ একেএম ফজলুল হক অনিয়ম বা অর্থ কেলেঙ্কারির বিষয়টি স্বীকার না করলেও আকার ইঙ্গিতে বুঝিয়েছেন তিনি পরিস্থিতির শিকার।

বিস্তারিত»
নারায়ণগঞ্জের সাত খুন: নজরুল পরিবারের বিরুদ্ধে ‘আসামি’ ইয়াছিনের মামলা

নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার আসামির তালিকা থেকে বাদ পড়েছিলো নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের শ্বশুর, শ্যালক, ভাই ও ভাগ্নেসহ আরো কয়েকজন। এবার তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াছিন মিয়া। গত বছরের ২৭ এপ্রিল নজরুলসহ সাতজন অপহৃত হওয়ার পর তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি যে মামলা করেছিলেন, তাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়াকে আসামি করা হয়েছিল। নজরুলের স্ত্রীর এজাহার থেকে তৎকালীন কাউন্সিলর নূর হোসেনকে রেখে ইয়াছিনসহ অন্য পাঁচজনকে বাদ দিয়ে তিন মাস আগে পুলিশ অভিযোগপত্র দেয়। তবে তার বিরুদ্ধে সেলিনার আদালতের দ্বারস্ত হওয়ার মধ্যে তার স্বজনদের ইয়াছিন মিয়ার মামলার আসামি করা হলো। পুলিশের অভিযোগপত্রের পর জনসম্মুখে আসা ইয়াছিন মিয়া গত ২৮ জুলাই নারায়ণগঞ্জের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা দুটি করেন। বৃহস্পতিবার খবরটি জানাজানি হয়। দুই মামলায়ই বাদী ইয়াছিন মিয়া নিজেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উল্লেখ করেছেন, যদিও সাত খুনের ঘটনা জানাজানির পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। দুটি মামলায়ই নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম, ভাই আবদুস সালাম, দুই শ্যালক সাইদুল ও মামুন, ভাগ্নে রনি ও শহীদুল ইসলামের স্বজন রফিকুল ইসলাম মিন্টুকে আসামি করা হয়েছে। একটি মামলায় তিনি অভিযোগ করেছেন, ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল বিকেল ৫টায় আসামিরা তার অংশীদারিত্বে পরিচালিত মেসার্স শামস ফিলিং স্টেশনে গিয়ে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তারা ফিলিং স্টেশনের ক্যাশ বাক্স ও লোহার সিন্দুক ভেঙে নগদ ২০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন এবং পাঁচ লরি অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেলে আগুন ধরিয়ে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট করেন, যার আনুমানিক মূল্য ৫০ লাখ টাকা। অন্য মামলায় ইয়াছিনের অভিযোগ, ২০১৪ সালের ১ মে রাত ৮টায় আসামিরা তার মিজমিজি পশ্চিমপাড়ার বাসায় হামলা চালিয়ে ১৫ লাখ টাকার স্বর্ণলঙ্কার এবং নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা চুরি করে নেয়ার পাশাপাশি দরজা-জানালা আসবাবপত্র ভাঙচুর করে দুটি কক্ষে আগুন লাগিয়ে দেয়। নজরুল অপহরণের পর জনতা নুর হোসেনের পাশাপাশি ইয়াছিন মিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছিল।   ইয়াছিনের দ্বিতীয় মামলায় নজরুলের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে তার সমর্থক হিসেবে পরিচিত কবির হোসেন, বাবুল মিয়া, মো. আলী ও রফিকুল ইসলাম মিন্টুকে আসামি করা হয়েছে। আদালত নালিশি মামলা দুটি গ্রহণ করে অভিযোগ তদন্ত করে আগামী ৩০ অগাস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে বলে ইয়াছিনের আইনজীবী মহসিন আলী জানিয়েছেন। মামলায় ইয়াছিন মিয়া বলেছেন গত ৮ জুলাই সাত খুনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়ে এলাকায় ফিরেছেন তিনি।   ইয়াছিন মিয়ার মামলার প্রতিক্রিয়ায় স্বামীর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর বিউটি বলেন, “ইয়াছিনের সহযোগিতা পেয়েই নুর হোসেন সাতজনকে অপহরণ, খুন ও লাশ গুমের দুঃসাহস দেখিয়েছে। “সাত খুনের পর নূর হোসেন ও ইয়াছিনের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ নানা অপকর্মের শিকার বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাদের যাত্রা প্যান্ডেল, জুয়া-মাদকের আস্তানায় হামলা চালিয়েছে, যা বিভিন্ন গণমাধ্যম সরাসরি সম্প্রচার করেছে।” সম্প্রতি ইয়াছিন এলাকায় ফিরে আসার পর থেকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেন নজরুলের স্ত্রী। “হাজার হাজার মানুষ সেদিন ইয়াছিন, নুর হোসেনদের অপকর্মের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামলেও এক বছর পরে আসামি করা হয়েছে শুধু আমাদের পরিবারের সদস্যদের। মিথ্যা অভিযোগে হয়রানিমূলক মামলা করে ইয়াছিন আবারো প্রমাণ করলেন নূর হোসেনের সঙ্গে তিনিও সাত খুনে জড়িত।” ইয়াছিন ছাড়াও পুলিশের অভিযোগপত্রে অব্যাহতি পাওয়া আমিনুল ইসলাম রাজু ও ইকবাল হোসেন এলাকায় ফিরে এসে তাদের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিউটি। “অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সাত খুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, প্রতিবাদকারীরাই এখন মিথ্যা অভিযোগে বিভিন্ন মামলায় আসামি হচ্ছেন।” উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে ছয়জনের লাশ পাওয়া যায়। পরদিন ভেসে উঠে অন্যজনের লাশও। এই হত্যাকা-ে র‌্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় ওঠে। পরে তদন্তেও র‌্যাব কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে। এছাড়া র‌্যাব-১১ এর তৎকালীন অধিনায়ক তারেক সাইদ মোহাম্মদ, আরিফ হোসেন, এসএম রানাসহ মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামি করেছে পুলিশ।

বিস্তারিত»
রাজধানীতে মসজিদের খাদেমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা

ঢাকা : রাজধানীর ধানমন্ডিতে দুলাল গাজী(৫০) নামে একজনকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি ঈদগাহ মসজিদের খাদেম বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তার গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায়। ধানমন্ডি মডেল থানার ওসি নূরে আজম মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চারতলা মসজিদের দ্বিতীয়তলায় ইমামের রেস্টরুম থেকে খাদেমের লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। ওই কক্ষের দরজাটি ভাঙার আালামত পেয়েছি। একইসঙ্গে কক্ষের ভেতরে যে আলমারি বা বাক্স ছিল সেগুলো খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। চুরিকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ড  হতে পারে। তবে তদন্ত না করে এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তিনি আরো জানান, ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলাও করা হবে।

বিস্তারিত»
উপকূল অতিক্রম করছে ঘূর্ণিঝড় 'কোমেন'

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় কোমেন দুর্বল হয়ে সন্দ্বীপের কাছ দিয়ে ধীরে ধীরে চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করছে। আগামী তিন থেকে চার ঘন্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করবে। ঘূর্ণিঝড়টি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে বলে জানাচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সঙ্কেত বহাল রয়েছে। মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরেও বহাল রয়েছে ৫ নম্বর বিপদ সঙ্কেত। এর আগে ঘুর্ণিঝড় কোমেন দুর্বল হয়ে চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। রাত নয়টার দিকে উত্তর দিকে সরে গিয়ে কিছুটা দুর্বল হয়ে সন্দ্বীপের কাছ দিকে চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করা শুরু করে। ঘূর্ণিঝড়টি যত সরছে ততই ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে। রাডারে ধরা পড়া চিত্র (আবহাওয়া বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে নেয়া চিত্র) ইতিমধ্যেই ঘুর্ণিঝড়ের কবল থেকে রক্ষার জন্য বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চল থেকে প্রায় বিশ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের কর্মকর্তারা জানান, ঘুর্ণিঝড়টি যথেষ্ট দুর্বল হয়ে পড়েছে। এটি এখন চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করছে। এর প্রভাবে পুরো উপকুল জুড়ে এর প্রভাবে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। সেন্টমার্টিন এবং পটুয়াখালী থেকে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুজনেই গাড়ী চাপা পড়ে মারা গেছে বলে জানা গেছে। উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চল তিন থেকে চার ফুট কিংবা তারও বেশি জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার এবং সমুদ্রগামী জাহাজসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। জলোচ্ছ্বাস ও পাহাড় ধসের আশঙ্কায় কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।বিবিসি

বিস্তারিত»
কোমেনের আঘাতে নিহত ৫

ডেস্ক রিপোর্ট : ঘূর্ণিঝড় কোমেনের অগ্রভাগ বুধবার মধ্যরাতের পর সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ উপকূলে আঘাত হেনে উত্তর-পূর্বদিকে এগিয়ে আসছে। এতে টেকনাফ সদর উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রাম ও সেন্টমার্টিন দ্বীপের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ঝড়ে সেন্টমার্টিনে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে সেন্টমার্টিনে গাছের নিচে চাপা পড়ে এক ব্যক্তি মারা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর আগে বুধবার মহেশখালীতে শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর এবং মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ঘূর্ণিঝড়টি বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টার দিকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিম, কক্সবাজার থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিম, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্ব ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে অবস্থান করছে। দুপুরের দিকে এটি চট্টগ্রাম উপকূল পার হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। এটি দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। উপকূলের বেশির ভাগ এলাকায় ঝড়ো বাতাস বয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি চলছে। জোয়ারের পানি বেড়েছে। ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে প্রচ- ঝড়ো হাওয়ায় দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ও কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতের ঝড়ো হাওয়ায় সেন্টমার্টিন ও টেকনাফে গাছপালা উপড়ে ও বসতবাড়ির ছাউনি উড়ে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপে বসতবাড়ির গাছ উপড়ে মোহাম্মদ ইসলাম নামের পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ভোর ছয়টার দিকে তিনি মারা যান। সেন্টমার্টিনে অন্তত ২০ জন মানুষ বিভিন্নভাবে আহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে কক্সবাজার শহরসহ জেলা উপকূলীয় এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝড়ো হাওয়ার তীব্রতা বেড়েছে। ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে কক্সবাজার শহর ও আশপাশের এলাকায় পরিবেশ গুমোট আকার ধারণ করেছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। বৃষ্টিপাত বন্ধ আছে। বাতাসও বন্ধ। তবে মাঝে মাঝে দমকা আকারে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও এই এলাকায় সারারাত বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেন্টমার্টিনে ইতিহাসের সবচেয়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দাবি করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, দ্বীপের ৯০ শতাংশ ঘরবাড়ি ও গাছপালা ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘর থেকে বের হওয়ারও সুযোগ মিলছে না। জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন দ্বীপবাসী। তার দাবি, দ্বীপের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভভ নয়। সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) হারুনুর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, তারাও ক্যাম্প থেকে বের হওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। আপাতত কিছুই করা যাচ্ছে না। বাতাস থামলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে লোকজনকে নিরাপদে অবস্থান করার জন্য ইতোপূর্বেই নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া, চৌধুরীপাড়া, নাই টংপাড়া, দক্ষিণ জালিয়াপাড়া, ইসলামাবাদ, ফলিয়াবাদসহ ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমেদ। তিনি বলেন, মানুষজনকে বুধবার রাত থেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পানি স্বাভাবিকের চেয়ে তিন ফুট পর্যন্ত বেড়েছে। টেকনাফ থানার ওসি মো. আতাউর রহমান খন্দকার বলেন, ঝড়ো বাতাসে সেন্টমার্টিন দ্বীপে শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে ও নারকেল গাছ ভেঙে পড়েছে। সেন্টমার্টিনে ভোরে গাছের নিচে চাপা পড়ে মো. ইসলাম (৫০) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন বলেও জানান তিনি। ঘূর্ণিঝড় কোমেন ঘিরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন বুধবার রাতে বিশেষ প্রস্তুতি সভা করেছে। সভা শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ড. অনুপম সাহা সাংবাদিকদের বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেই দুর্যোগকালীন আশ্রয় কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, বুধবার বিকেল থেকেই উপকূলীয় এলাকার মানুষদের নিরাপদস্থানে সরে আসতে মাইকিং করা হচ্ছে। রাতে অধিকাংশ উপকূলীয় মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে এসেছেন। অন্যদিকে টানা বর্ষণ ও সাগরের জোয়ারের পানিতে কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় ও নিচু এলাকায় এক সপ্তাহ ধরে পানির নিচে রয়েছে। এখনো সেই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাননি লাখ লাখ মানুষ। কক্সবাজারের উপকূলীয় মহেশখালী দ্বীপে নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বুধবার এই উপজেলায় নিহত হয়েছে শিশুসহ চারজন। আহত হয়েছে শতাধিক। উত্তাল সমুদ্র সোনাদিয়া থেকে কাঁকড়া আহরণ করে ফেরার পথে ট্রলারডুবির ঘটনায় দুই জেলে নিহত হন। এ সময় পানিতে ডুবে আহত হন আরো সাতজন। নিহতরা হলেন- তাজিয়াকাটা কুতুবজোমের জাফর আলমের ছেলে গিয়াস উদ্দিন কালু (৩০) ও বড় মহেশখালীর মগরিয়াকাটা এলাকার ইয়ার মোহাম্মদের ছেলে মোহাম্মদ একরাম (২১)। বড় মহেশখালীর পাহাড়তলী এলাকায় জনৈক দিনমজুর সৈয়দ নুরের কাঁচাবাড়ি ধসে দেয়াল চাপায় তার পাঁচ বছরের শিশুকন্যা হুমায়রা বেগমের মৃত্যু হয়। এছাড়া সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে বাঁকখালী মোহনায় ট্রলার থেকে পড়ে গিয়ে নিহত হয়েছেন উপজেলার কালামার ছড়ার আব্দুল করিমের ছেলে জেলে আব্দুল করিম (৩০)। মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল নাসের বলেন, ঘূর্ণিঝড় কোমেনের সতর্কতার পর উপজেলায় ১২৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’-এ গাছ উপড়ে পড়ে জেলার গলাচিপায় মো. নুরুল ইসলাম ফকির (৫২) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যাণ কলস গ্রামে গাছের নিচে চাপা পড়েন নুরুল ইসলাম। এরপর দুপুর ১২টার দিকে তাকে উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার আগেই তিনি মারা যান। গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব আলম নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে ভোরের দিকে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে মো. ইসলাম (৫০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আরটিএনএন

বিস্তারিত»
তালেবানদের নতুন নেতা আখতার মনসুর

নিউজ ডেস্ক : আফগানিস্তানের তালেবান নেতা মোল্লা মোহাম্মদ ওমরের মৃত্যুর পর নতুন নেতা হিসেবে আখতার মোহাম্মদ মনসুরকে নির্বাচন করেছে। নেতা নির্বাচনের জন্য অনুষ্ঠিত শুরা বৈঠকে উপস্থিত থেকে বৃহস্পতিবার তালেবানের দুই শীর্ষ নেতা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গত বুধবার তালেবানের শীর্ষ নেতা মোল্লা ওমর মারা যাওয়ার খবর প্রকাশের একদিন পর এ তথ্য প্রকাশ হলো। বুধবার আফগান গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রগুলো মোল্লা ওমরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে। ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে করাচির এক হাসপাতালে মোল্লা ওমরের মৃত্যু হয় বলে জানায় আফগান কর্তৃপক্ষ। এর আগেও বেশ কয়েকবার মোল্লা ওমরের মত্যুর সংবাদ প্রচারিত হলেও বরাবরই তা প্রত্যাখ্যান করে আসছিলো তালেবান। গতকালও তালেবানরা দাবি করে,  মোল্লা ওমরের মারা যাওয়ার খবর তালেবানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রেরই ধারাবাহিকতা। তবে বৃহস্পতিবার এই নতুন নেতা নির্বাচনের খবরে আফগান সরকারের দাবিরই সত্যতা প্রমাণিত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তালেবানদের দুই শীর্ষ নেতা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, নতুন নেতা নির্বাচনের বিষয়ে বুধবার রাতে শুরা সদস্যদের বৈঠক হয়েছে। পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটার নিকটবর্তী অজ্ঞাত স্থানে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে মোল্লা মনসুরকে তালেবানের নতুন আমির নির্বাচন করা হয়। আখতার এক সময় তালেবানের উপ প্রধান ছিলেন। ওই দুই নেতা আরো জানান, ‘এ ব্যাপারে শিগগিরই শুরার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়া হবে।’ সূত্র: রয়টার্স

বিস্তারিত»
বৃটেনে বানের পানির মতো মানুষ ঢোকার চেষ্টা বেড়েই চলেছে

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ, লন্ডন থেকে: গত তিন চারদিন ক্যালাইসে অবৈধ অভিবাসীদের  ইউরোট্যানেল দিয়ে জোর করে ব্রিটেনে প্রবেশের চেষ্ঠা ক্রমেই বানের পানির মতো বেড়ে চলেছে। ক্রমাগত ফ্রান্স থেকে ফেরি, চ্যানেল ক্রস করে লোকজন আসছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা রক্ষীরা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে এদের রুখতে ও আটকাতে। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার রাতে ২০০০ হাজারের অধিক লোক এক সাথে ধাক্কা দিয়ে ট্যানেল ভেঙ্গে প্রবেশের চেষ্ঠা করে। এর পরের দিনই প্রায় ১৫০০ জনের মতো অবৈধ অভিবাসী প্রবেশের প্রচেষ্টা চালায়। সুদানের একজন অভিবাসী দৌড় দিয়ে ট্যানেল ক্রস করে প্রবেশের সময় ট্র্যাকের সাথে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন। স্থানীয় ইমিগ্রেশনসহ নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট লোকজন উস্মা প্রকাশ করেছেন, যা সংবাদপত্রে ইতোমধ্যেই এসেছে। বৃটেনের হোম সেক্রেটারি থেরেসা মে ইমার্জেন্সি কোবরা মিটিং করেছেন। অবস্থা দেখে ব্রিটেনের বিরোধী দল ইউকিপ এর নাইজেল ফারাজ সেখানে আর্মি পাঠানোর জন্য আহবান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ভিয়েতনাম সফরে থাকা অবস্থায় গতকাল ভোরের দিকে অবৈধ অভিবাসীদের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ডেভিড ক্যামেরন স্পষ্টতই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সমুদ্রের স্রোতের মতো এক ঝাঁক মানুষ নিশ্চিত সুন্দর জীবন, চাকরি, ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি  ও স্বচ্ছল জীবনের আশায় ব্রিটেনে প্রবেশ করার জন্য মরিয়া। ব্রিটেন এই সব অবৈধদের জন্য এখন আর নিরাপদ স্বর্গ নয়। ক্যামেরন আরো বলেন, ক্যালাইস নিরাপত্তা নিয়ে যদিও উদ্বিগ্ন নই, কেননা ব্রিটেন ও ফ্রান্স এখন যৌথভাবে কাজ করছে। তারপরেও অবৈধ অভিবাসী এক ঝাঁক লোক এখন ব্রিটেনে প্রবেশের এই চেষ্টা কিছুতেই সফল হবে না।   ডেভিড ক্যামেরনের এই এক ঝাঁক (সোয়ার্ম পিপল- অন্য অবজেক্টিভ এনিমেল বাইটিং এর সাথে ব্যবহৃত) নিয়ে শুরু হয়েছে ব্রিটেনে তীব্র বিতর্ক। লেবার দলের নেতৃত্ব প্রার্থী অ্যান্ডি বার্ণহাম টুইটের মাধ্যমে ক্যামেরনের এই বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন- Andy Burnham ✔@andyburnhammp Cameron calling Calais migrants a "swarm" is nothing short of disgraceful. Confirms there's no dog-whistle these Bullingdon Boys won't blow. 9:12 AM - 30 Jul 2015 অপর দিকে সাবেক শ্যাডো হোম সেক্রেটারি  অ্যান উইডকম্ব ফারাজের বক্তব্যের সমর্থনে বলেছেন, আর্মি পাঠানো সমর্থন করি, তবে বর্ডারের ঐ অংশের নিরাপত্তার দায়িত্ব ফ্রান্সের উপর বর্তায়। এদিকে লরি ড্রাইভারদের সংগঠন আরএইচএ ক্যালাইস-এর পথে লরি চালানো ড্রাইভারদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে উদ্বিগ্ন বলে বিবৃতি দিয়েছে।  

বিস্তারিত»
প্রথমবারের মত নাটোরে মহিলা লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নাটোর প্রতিনিধি:নাটোরে মহিলা লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিতপ্রথমবারের মত নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা ও পৌর যুব মহিলা লীগের যৌথ আয়োজনে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক প্রভাষক নাছরিন আক্তার রুমার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত সংগঠনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপি। প্রধান বক্তা কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে মহিলাদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। অন্যদের মধ্যে নাটোর জেলা যুব মহিলা লীগ সভাপতি আঞ্জুমান আরা পপি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ আলী, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বিপ্লব বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনে উপজেলা যুব মহিলা লীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি প্রভাষক নাছরিন সুলতানা রুমা ও সাধারণ সম্পাদক রাবেয়া পারভিন নুপুর এবং পৌর যুব মহিলা লীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি কাউছার জাহান লিপি ও সাধারণ সম্পাদক কাজলী আক্তার আখি ছাড়াও ইউনিয়ন পর্যায়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়।

বিস্তারিত»
শ্রীপুরে আ.লীগের পুরাতন কমিটিকে পুনরায় ঘোষণা

শ্রীপুর (গাজীপুর) : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষ্যে শ্রীপুর পৌর মুক্ত মঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এক যুগ পর পূর্বের কমিটিকে পুনরায় নয়া কমিটি হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে এ ত্রি-বার্ষিকী সম্মেলনে। বৃহস্প্রতিবার সকালে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন উদ্বোধন করেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী ও গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এড. মো. সামসুল আলম প্রধানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট রহমত আলী এমপি, প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের  সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন।   আলোচনা সভার দ্বিতীয় পর্বে, পুনরায় আলহাজ্ব এডভোকেট শামসুল আলম প্রধানকে সভাপতি ও মোস্তাফিজুর রহমান বুলবুলকে সাধারণ সম্পাদক করে শ্রীপুর উপজেলা  আওয়ামী লীগের নয়া কমিটি গঠন করা হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল জলীল (বি.এ), সাবেক শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সহ-সম্পাদক উপ কমিটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও উপজেলা যুব সমাজের আলহাজ্ব এড. জামীল হাসান দুর্জয়, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন সবুজ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন মেহেদী, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট হারিছ উদ্দিন আহমেদ, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম ম-ল বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক শেখ নজরুল ইসলাম, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগ এর বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আমীর হামজা, উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশিষ্ট নেতা জাহাঙ্গীর আলম খোকন প্রমুখ।

বিস্তারিত»
বিশ্বের অদ্ভুত যত ভোজনশালা

অনলাইন ডেস্ক:বিশ্বের অদ্ভুত যত ভোজনশালাঘরের খাবারের একঘেঁয়েমি কাটানোর জন্য পরিবারের সবাই বাইরের  রেস্টুরেন্টে যায়, কিন্তু সেখানেও দরকার বৈচিত্র্য। কিন্তু বৈচিত্র্যের প্লট বদলে যখন অদ্ভুত আর্কিটেক্ট হয়ে যায় তখন কেমন হয়! সেসব রেস্টুরেন্ট নিয়ে এ আয়োজন। গুহা রেস্টুরেন্ট : অদ্ভুত রেস্টুরেন্টের মাঝে গুহা রেস্টুরেন্টের ধারণাটি আফ্রিকায় বেশ জনপ্রিয় । আফ্রিকার দক্ষিণ ‘মোম্বাসার ডায়ানি’ সমুদ্র সৈকতে এই রেস্টুরেন্টটি অবস্থিত। পাঁচ লক্ষাধিক বছর আগেকার একটি গুহায় এই রেস্টুরেন্টটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বিস্ময়কর তথ্য হলো প্রাকৃতিকভাবে সম্পূর্ণ গুহাটি হরেক রঙের প্রবাল ও চুনাপাথরের দ্বারা মোম্বাসা ডায়ানি সমুদ্র সৈকতে লক্ষাধিক বছর টিকে রয়েছে। পরবর্তীতে অবশ্য সাগরের ঢেউয়ের আঘাতে এর আকার-আকৃতি অনেকটা পরিবর্তিত হয়েছে। তবে এখানে অদ্ভুত গুহা রেস্টুরেন্টটি নির্মাণ করতে, ব্যবহার উপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট ভূমির মালিক জর্জ বারবোরোরও কিছু ভূমিকা রয়েছে। গুহা রেস্টুরেন্টের খাবারের তালিকা আগে থেকে ঠিক করা থাকে না! এই বিশেষত্বের কারণ আপনি যা খেতে চাইবেন সেটার তালিকা বরং আপনাকেই দিয়ে রাখতে হবে রেস্টুরেন্টের কর্তৃপক্ষকে। এই আজব রেস্টুরেন্টটির পরিবেশ এতটাই গুমোট যে, এখানে গরম খাবারের পরিবর্তে ঠাণ্ডা খাবারের জনপ্রিয়তাই বেশি। তবে গুহা রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে আসার সময় আপনাকে ধরিয়ে দেয়া হবে আপনার খাদ্যের বিল পেপার, যেটা দেখে আপনার মাথা ঘুরে যেতে পারে। কারণ অদ্ভুত এই রেস্টুরেন্টের খাবারের মূল্যও অদ্ভুত এবং বেশিই বটে। কেননা এর পরিচালনা খরচ একটু বেশিই বৈকি বিধায় এই ব্যাপারটি নিয়ে অনেক পর্যটকই অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। রেস্টুরেন্টটির আরেকটি দিক উল্লেখ না করলেই নয়। যারাই এখানে আসেন তাদের আগে থেকেই দেয়া হয় বিশেষ প্রশিক্ষণ। এই প্রশিক্ষণ নাকি নিরাপত্তার জন্য! প্রশিক্ষণে টিকতে না পারলে মিলবে না এখানে ডিনারের অনুমতি। অদ্ভুত এই গুহা রেস্টুরেন্টে অনেকেই খেতে আসেন এই অদ্ভুত অনুভূতির জন্য। মনে হবে যেন ফিরে গেছেন সেই প্রাচীন আমলে। গুহার ভেতরের গুমোট পরিবেশের সঙ্গে ক্যান্ডেল ডিনারের জন্য এরই মধ্যে বেশ বিখ্যাত হয়েছে এই গুহা রেস্টুরেন্ট। লবণের তৈরি রেস্টুরেন্ট : ভোজনের পাশাপাশি নান্দনিকতা আনতে ইরানে তৈরি হয়েছে অদ্ভুত এক ফাস্টফুড রেস্টুরেন্ট। যার সবকিছু তৈরি লবণ দিয়ে। মনোমুগ্ধকর এই স্থাপনাটির রয়েছে পরিবেশবান্ধব গুণাগুণ। তরুণ প্রজšে§র মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই রেস্টুরেন্টটি। লবণ দিয়ে তৈরি গুহার নাম দেয়া হয়েছে ‘নামাক’। আসলে এটি একটি রেস্টুরেন্ট। যার পুরো অবয়ব তৈরি হয়েছে লবণ দিয়ে। চেয়ার টেবিল থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক প্রায় সবকিছুতেই লবণের আধিক্য। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের সিরাজ শহরে এই অদ্ভুত রেস্টুরেন্ট এরই মধ্যে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। স্থপতি আলিরেজা ইমতিয়াজ বলেন, ‘আমরা আসলে পরিবেশবান্ধব কিছু তৈরি করতে চেয়েছিলাম। প্রথমে নানা প্রকারের লবণ নিয়ে কাজ করেছিলাম। পরে এই এলাকারই একটি হৃদে এমন লবণের সন্ধান পাই, যা আর্দ্রতাও ধরে রাখছে এবং ভঙ্গুর নয়।’ পরিবেশবান্ধব এই রেস্টুরেন্টের সবকিছুতেই রয়েছে স্পষ্ট পারস্যের ছাপ। টয়লেট সামগ্রী দিয়ে রেস্টুরেন্ট : জীবনে অনেক ধরনের রেস্টুরেন্ট দেখেছেন কিন্তু টয়লেট সামগ্রী দিয়ে তৈরি রেস্টুরেন্ট দেখেছেন কি? হ্যাঁ, টয়লেট সামগ্রী দিয়ে তৈরি রেস্টুরেন্ট! তাইওয়ানের ‘মডার্ন টয়লেট’ নামের একটি রেস্টুরেন্ট তার সমস্ত আসবাবপত্র থেকে শুরু করে খাবারের মেন্যুতে টয়লেট সামগ্রীর কথা মাথায় রেখে কাজ করছে। রেস্টুরেন্টের ঘটি-বাটি থেকে শুরু করে চেয়ার টেবিল সবকিছু টয়লেট সামগ্রীর মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। অদ্ভুত এ রেস্টুরেন্টটিতে খাবার পরিবেশনের জন্য আপনাকে কমোড আকৃতির বাটি পর্যন্ত সরবরাহ করা হবে। এ ছাড়া এর ভেতরকার সব চেয়ারগুলোও কমোডর আদলে বানানো হয়েছে। বিচিত্র এ রেস্টুরেন্টটিতে যেসব খাবার দেয়া হয় সেগুলোর বেশিরভাগই রং ও আকৃতিতে অনেকটাই মানুষের স্তূপীকৃত মলের মতো দেখতে। দেখতে যেমনই হোক, অদ্ভুত এ রেস্টুরেন্টে বসে খাবারগুলোর স্বাদ উপভোগের জন্য প্রতিদিন ভোজন রসিকদের ভিড় লেগেই থাকে! আর সে কারণেই ‘মডার্ন টয়লেট’ রেস্টুরেন্টের শাখা এখন তাইওয়ান থেকে হংকংয়েও বিস্তার লাভ করেছে। বানর যখন ওয়েটার : রেস্টুরেন্টে গেছেন খাবার খেতে। সেখানে গিয়ে দেখলেন সেখানকার ওয়েটার এক বানর। সে পরিবেশন করছে খাবার! এমন ঘটনা ঘটেছে জাপানের একটি রেস্টুরেন্টে। তারা মানুষের পরিবর্তে বানরকে নিজেদের রেস্টুরেন্টের ওয়েটার হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে। তবে রেস্টুরেন্টে আগত গ্রাহকরা যেন ভড়কে না যান সে জন্য বানরগুলোর মুখে মানুষের মুখের আদলে মুখোশ পরানো হয়। অদ্ভুত কিন্তু সত্য! জাপানের টোকিওর উত্তরে উতসোনোমিয়ার মিওকিহোনচোর কায়াবুকিতে এই রেস্টুরেন্টটি অবস্থিত। যে কোনো গ্রাহক এ রেস্টুরেন্টে এসে খাবার টেবিলে বসলেই চমকে যাবেন। কারণ কিছুক্ষণ পরেই খাবারের অর্ডার নিতে আসবে দুটি বানর, যাদের একটির নাম ইয়াত চ্যান, অন্যটির নাম ফুকু চ্যান। এর মাঝে ইয়াত চ্যানের বয়স ১৬ বছর ও সে ফুকুর চেয়ে বড়। ইয়াত নামের বানরটি বেশ দ্রুত গতিতে রেস্টুরেন্টে আসা অতিথিদের দেয়া পানীয়ের অর্ডার সংগ্রহ করে। আর ফুকু চ্যানের কাজ হচ্ছে খাবারের আগে গ্রাহকদের গরম তোয়ালে সরবরাহ করা ও হাত ধোয়ার সময় তাদের সহযোগিতা করা। এটা জাপানি রীতি। আর বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বানর দুটিকে কাজ করার অনুমতিপত্রও প্রদান করেছেন। আর রেস্টুরেন্টে আসা মানুষ এ বানর দুটিকে খুব পছন্দ করেন। টিপ হিসেবে এদের দেয়া হয় সয়াবিন। রেস্টুরেন্টের একজন নিয়মিত গ্রাহক তাকাইয়োশি সোয়েনো বলেন, ‘অনেক বাজে মানুষের চেয়ে এই বানরগুলোই ভালো এবং তারা ওয়েটার হিসেবেও দক্ষ।’ বানর দুটির মালিক কাওরু ওত্সুকা। তিনি নিজের বাড়িতে বানর দুটি পুষতেন। কাওরু দেখলেন ইয়াত চ্যান নামের বানরটি রেস্টুরেন্টের বিভিন্ন কাজ খুব মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করছে ও কিছু কিছু কাজ নিজেই করছে। তখন কাওরু বুঝলেন বানরটি আসলেই রেস্টুরেন্টে কাজ করতে সক্ষম। একদিন কাওরু ইয়াত চ্যানকে একটি তোয়ালে দিয়ে দেখলেন সে সেটা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারে কি-না। বলাই বাহুল্য, ইয়াত চ্যান সে কাজটি বেশ ভালোভাবেই সম্পন্ন করে। অনেক গ্রাহকের কাছেই এই বানর দুটি একদম শিশুদের মতোই, তারা এদের পছন্দ করে। ৬২ বছর বয়স্ক শিওচি ইয়ানো বলেন, ‘মানুষের চেয়ে এই বানর দুটি ভালো। আমার ছেলে আমার কথা শোনে না, কিন্তু এ বানরগুলো শোনে। শুধু তাই নয়, রেস্টুরেন্টে আসা গ্রাহকরা যে পানীয়ের অর্ডারই দেন, ইয়াত চ্যান সেটা ঠিকভাবে মনে রাখতে পারে ও সে অনুযায়ী সেটা যার যার টেবিলে পৌঁছে দেয়।’ জাপানের প্রাণী অধিকার সংরক্ষণ আইনের অধীনে এই বানরগুলোকে দিনে মাত্র দুই ঘণ্টা কাজ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু কাওরু এরই মধ্যে আরো বানর ওয়েটার নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছেন ও তিনটি বানরকে এ কাজের জন্য তৈরি করে তুলছেন।

বিস্তারিত»
জিয়ার আদর্শে নেই বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছোট ভাই আহমেদ কামালের খোঁজ রাখে না কেউ। রাজধানীর ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালের ৪০২ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের এই ছোট ভাই। জিয়াউর রহমানের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে একমাত্র তিনিই বেঁচে আছেন। ৬৮ বছর বয়সী আহমেদ কামাল উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশনসহ নানা রোগে আক্রান্ত। অভিমানী কামাল সাধারণত গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলেন না। অবশ্য গতকাল বিকালে দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশ প্রতিদিনের এই প্রতিবেদকের সঙ্গে অল্পবিস্তর কথা হয় তার। তখনই কথার ঝাঁপি খুলে দেন তিনি। স্বল্পভাষী আহমেদ কামাল অনেকটা আক্ষেপের সঙ্গেই বলেন, ‘বিএনপি আজ জিয়ার আদর্শে নেই। এই প্রজন্মের তরুণদেরই শহীদ জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হবে। জিয়ার আদর্শ আজ বেঁচে থাকলে দেশে ঘুষ, দুর্নীতি কিংবা দুঃশাসন থাকত না। জিয়ার আদর্শ থেকে বিচ্যুত বিএনপি। তরুণরাই এখন ভরসা।’ ক্ষমতাসীন সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশ আজ দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ চলছে না। আইনের শাসন ও গণতন্ত্রে ফিরে যেতে হলে জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।’ ২৫ জুলাই আহমেদ কামালকে ইব্রাহীম কার্ডিয়াকের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। এর আগে অসুস্থ বোধ করলে তিনি মনোয়ারা হাসপাতালে ২৩ জুলাই ভর্তি হন। তিনি এখন ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। গতকাল তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। এখন শারীরিকভাবে অনেকটাই সুস্থবোধ করছেন বলে জানান তিনি। দু-এক দিনের মধ্যেই তার বাসায় ফেরার চিন্তাভাবনাও রয়েছে। এ প্রসঙ্গে আহমেদ কামাল বলেন, ‘এখন আমি কিছুটা সুস্থবোধ করছি। দেশবাসীর দোয়া চাই। সুস্থ হলে আমি দেশের সেবায় নিজেকে সমর্পণ করব।’ অকৃতদার আহমেদ কামাল রাজধানীর বাসাবো থানাসংলগ্ন একটি বাসায় একাকী জীবনযাপন করেন। ব্যাচেলর জীবনকেই স্বাচ্ছন্দ্যময় মনে করেন তিনি। ওই বাসার ঠিকানাও কাউকে দিতে চান না। চাকরিজীবনে সৎ ও দেশপ্রেমিক ছিলেন আহমেদ কামাল। বাসাবোয় তার ভাতিজা শরিফুল ইসলাম ডন ও তার বন্ধু মনজুরুল ইসলাম নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন। গতকালও হাসপাতালে দেখা যায় তাদের। তারা আহমেদ কামালের চিকিৎসাসহ সব কিছুরই তদারকি করছেন। এ ছাড়া সাবেক হুইপ শহীদুল হক জামাল গতকালও আহমেদ কামালকে দেখতে হাসপাতালে যান। অসুস্থ কামালের পাশে দীর্ঘ সময় বসে তার চিকিৎসার খোঁজখবরও নেন। এ প্রসঙ্গে মনজুরুল ইসলাম বলেন, গতকাল পর্যন্ত আহমেদ কামালের চিকিৎসা বাবদ ইব্রাহীম কার্ডিয়াকে ৭৯ হাজার টাকা বকেয়া পড়েছে। এ ছাড়া মনোয়ারা হাসপাতালে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মতো বকেয়া পড়ে আছে। এখন পর্যন্ত এসব টাকার কোনো সুরাহা হয়নি। ব্যক্তিগতভাবে বিএনপি নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান ও অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন দেখে আসেন আহমেদ কামালকে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামও বারডেমে ভর্তি। একসঙ্গে ২৭ জুলাই অসুস্থ হয়ে বারডেমের বিপরীত পাশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি হন স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিএনপির এ দুই নেতাকে দেখতে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কেউ কেউ আহমেদ কামালের খোঁজখবরও নেন বলে জানা গেছে। আহমেদ কামাল বলেন, ‘দেশে সুস্থ রাজনীতির জন্য তরুণ নেতৃত্বকে এগিয়ে আসতেই হবে। দেশের উন্নয়নে তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। বর্তমানে যেভাবে দেশ চলছে তাও মঙ্গলজনক নয়। এভাবেও একটি দেশ চলতে পারে না।’ নিজের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান আহমেদ কামাল। সংশ্লিষ্টরা জানান, এখন আর জিয়া পরিবারের কেউ আহমেদ কামালের খোঁজখবর নেন না। আগে মাঝেমধ্যে তারেক রহমান খোঁজখবর রাখলেও লন্ডনে যাওয়ার পর আর যোগাযোগ নেই আহমেদ কামালের সঙ্গে। আৎদীয়স্বজনদের সঙ্গেও নেই তার কোনো যোগাযোগ। বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাক্সক্ষীরাই এখন আহমেদ কামালের ভরসা। জিয়াউর রহমানের ছোট ভাই সর্বশেষ বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ডিরেক্টর ছিলেন। সেখান থেকে অবসরে যাওয়ার পর ঢাকায় একাকী জীবন বেছে নেন। অবশ্য অনেকটা অভিমানেই জিয়া পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন না তিনি। জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকেও তার খোঁজখবর নেওয়া হয় না বলে তার দেখভালের দায়িত্বে থাকা একজন অভিযোগ করেন। এতে অবশ্য আহমেদ কামালের কোনো ক্ষোভ নেই বলে জানান তিনি। বিএনপির নেতারাও জিয়াউর রহমানের ভাইয়ের খোঁজখবর রাখেন না। অসুখে-বিসুখে কেউ তার পাশে দাঁড়ান না। কোথায় আছেন, কীভাবে আছেন- জানতে চাইলে অনেক নেতাই বলেন, জানি না। গত মার্চের শেষের দিকে জিয়াউর রহমানের সেজ ভাই খলিলুর রহমান বাবুল (৭১) ওয়াশিংটনের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বাবুলকে ওয়াশিংটনেই দাফন করা হয়।

বিস্তারিত»
শেখ হাসিনার সঙ্গে ছবি জুড়ে দুঃসাহসিক প্রতারণা

ডেস্ক রিপোর্ড : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ছবি জুড়ে দিয়ে নকল ছবি তৈরি করে প্রতারণা করা এক ব্যক্তি আটক হয়েছেন। তিনি আব্দুল মতিন, নিজেকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পিএ (ব্যক্তিগত সহকারী) পরিচয় দিতেন। এই প্রতারককে আটক করেছে র‌্যাব-১১।   বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই দুপুরে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরআফজাল এলাকার নূর নবীর বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। সে ওই উপজেলার টুমচর গ্রামের আবদুর রউফের ছেলে।   বিকেলে র‌্যাবের এএসপি মো. আলেপ উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রতারক আবদুল মতিন নিজেকে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পিএস পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল।   প্রতারক আবদুল মতিন নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস সেক্রেটারি এম কে শামীম চৌধুরী ও পিএস-১ সাজ্জাদুল ইসলাম পরিচয় দিয়ে সমাজের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রতারণা করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিত।   তিনি আরও জানান, এলাকায় প্রতারক আবদুল মতিন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে অনুদান প্রদান, গরীব ছাত্রদের সাহায্য, চাকরিসহ বিভিন্ন প্রতিশ্র“তি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিত। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রী ও এমপিদের সঙ্গে বিভিন্ন আঙ্গিকে নিজের ছবি এডিটিং করে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতারণা করত।   তার বাড়িতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একটি জাল ছবিও ঝোলানো ছিল। ছবিটি প্রতারণার আলামত হিসেবে নিয়েছে র‌্যাব।   তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান তিনি।

বিস্তারিত»
বিএনপি তার অবস্থান থেকে সরে গেলে রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটবে'

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে যে আলোচনা হচ্ছে তার মূলভিত্তি হচ্ছে-সকল দলের অংশগ্রহণভিত্তিক একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। এখানে বিএনপির ছাড় দেয়ার যে প্রশ্নটি উঠছে তার অর্থ আসলে কি? বিএনপি যদি এটা মনে করে তারা সব দলের অংশগ্রহণভিত্তিক নির্বাচন চায় না তাহলে তাদের আন্দোলন, এত মামলা, কারাগারে যাওয়া, গ্রেফতার হওয়া এবং হাজার নেতাকর্মীর ঘরছাড়া হওয়ার তো কোনো প্রয়োজন ছিল না। তারা সরকারের সাথে যেকোনোভাবেই নির্বাচনে যেতে পারত। এসব কথা বলেছেন দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার সহকারী সম্পাদক আবদুল আউয়াল ঠাকুর।   বিশিষ্ট এ রাজনৈতিক ভাষ্যকার বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের সাথে ছাড় দেয়া হয়েছে এমন কোনো মন্তব্য চেয়ারপারসন বেগম খালেদা করেননি। নানা কথা এসম্পর্কে এসেছে তবে সব দলের অংশগ্রহণেরভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথাটি বড় করে এসেছে। বিএনপি তার অবস্থান পরিবর্তন করলে অবশ্যই রাজনৈতিকভাবে সেকথা তারা বলবে এবং দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবে। আর যদি বিএনপি তার অবস্থান থেকে সরে যায় তাহলে রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটবে।

বিস্তারিত»
দলকে ঢেলে সাজানোই এখন বিএনপির প্রধান কাজ

ডেস্ক নিউজ:মধ্যবর্তী নির্বাচন বিএনপির দাবী নয়, দলকে ঢেলে সাজানোই এখন বিএনপির প্রধান কাজ। আর সে লক্ষ্যকে সামনে রেখেই দলের চেয়ারপার্সন ও শীর্ষ নেতারা কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমান সরকার জনরোষ থেকে বাঁচতে এবং তাদের বৈধতার জন্য একটি আগাম বা মধ্যবর্তী নির্বাচনের চিন্তা করছে বলে বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোটের একাধিক নেতা মন্তব্য করেছেন। বিএনপি ও জোটের নেতারা বলেন, কিছু চিহ্নিত গণমাধ্যমকর্মী এবং বুদ্ধিজীবী দিয়ে সরকার অত্যন্ত সুকৌশলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের বিষয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। এটা সরকারের নতুন ফাঁদ বলেও নেতারা মন্তব্য করেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এ বিষয়ে বলেন, এ সরকার নিজেদের বৈধতার জন্যই আগাম বা মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে চাচ্ছে। ‘স্বঘোষিত’ এ সরকারের দেশ-বিদেশে কোথাও গ্রহণযোগ্যতা নেই। তাই জনরোষ থেকে বাঁচতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরকার নির্ধারিত মেয়াদের আগেই একটি নির্বাচন দেবে। সে নির্বাচনেও বিএনপিকে বাইরে রাখতে পারে ক্ষমতাসীনরা। এ জন্যই চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ সিনিয়র নেতাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ এনে দায়ের মামলায় সাজা দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। আবার দলের কাউকে ভাগিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করছে। কিন্তু এটা করে বিএনপি ভাঙতে পারবে না। কারণ বিএনপি একটি আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সারা দেশে এ দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী সমর্থক রয়েছে। বিএনপি থেকে সিনিয়র দু’চারজন নেতা চলে গেলেও কোনো ক্ষতি হবে না। যিনি যাবেন, তিনিই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, হারিয়ে যাবেন। অতীত ইতিহাস তাই বলে। গয়েশ্বর বলেন, এ সরকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে আসেনি। ক্ষমতা দখল করেছে। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে। তাই এ সরকার ভবিষ্যতে কখনোই গণতান্ত্রিক পথে হাঁটবে না। এর বিপরীতে তারা ক্ষমতায় থাকার জন্য যত ধরনের শক্তি প্রয়োগের দরকার তাই করবে। বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তারা ব্যবহার করবে। সরকারের দমন নিপিড়নের কারণে সংগঠনকে ঢেলে সাজানো সহজ হবে না। তবু দলকে শক্তিশালী করার লক্ষে প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে কাজ করতে হবে। গোঁজামিল দিয়ে সংগঠন গোছানো যাবে না। কিংবা ঢাকায় বসে পকেট কমিটি করলেও চলবে না। আগামী দিনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৃণমূলের ত্যাগী নেতাদের মাধ্যমে কমিটি করতে হবে। পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় ত্যাগী নেতাদের সামনে নিয়ে আসাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এটা অনেক কঠিন কাজ। এটাই আমাদের করতেই হবে। গয়েশ্বর রায় বলেন, গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনা আমাদের সহ্য করতে হবে। আবার সাবধানও থাকতে হবে। গণমাধ্যমের কথা ধরে নেতাদের মধ্যে সন্দেহ-অবিশ্বাস গড়ে তোলা যাবে না। অনেক বুদ্ধিজীবীও বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে এ সব ব্যপারে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নিজেদের মধ্যে সন্দেহ-অবিশ্বাস সৃষ্টি করতেই সরকার এসব করবে। সরকার তো বসেই আছে বিরোধী দলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য। তবে আমাদের সেই ফাঁদে পা দিলে চলবে না।বিএনপি চেয়ারপার্সন এক উপদেষ্টা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকার নিজে বাঁচতেই মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা নির্দিষ্ট কিছু গণমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবীর মাধ্যমে প্রচার করছে। যারা এসব বলছে তার সরকারের পক্ষেই প্রচার চালাচ্ছে। বিএনপি বা ২০ দলীয় জোটের বক্তব্য তা নয়। নির্বাচন বিষয়ে ২০ দলীয় জোট নেতা বিএনপি চেয়ারপার্সন ইতিপূর্বে সংবাদ সম্মেলন করে ৭ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। ক’দিন আগে তিনি এক বক্তব্যেও নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, তত্ত্বাবধায়কে আপত্তি থাকলে ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ’ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। এখানে তিনি নির্দলীয় শব্দটি ব্যবহার করে নিরপেক্ষ সরকারের বিষয়টিও জাস্টিফাই করেছেন। আর তার এ বক্তব্যও তিনি এর আগে প্রস্তাবিত সাত দফার আলোকে দিয়েছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিএনপি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই যাবে এমন এটি সঠিক নয়। যারা এমন বক্তব্য দিচ্ছেন বা বলছেন তারা বিএনপির চেয়ারপার্সনেরও প্রশ্নের মুখে পড়েছেন। আমার সামনেই চেয়ারপার্সন যখন এ বক্তব্যে পক্ষে যুক্তি শুনতে চাইলেন তখন তারা এর স্বপক্ষে কোন যুক্তি তুলে ধরতে পারেননি।ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও ২০ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের বিষয়টি সরকার সত্যিকার অর্থে অনুধাবন করলে দেশের রাজনীতির জন্য সেটি হবে শুভ বিষয়। আর তা অনুধাবনে ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক সংকট আরো ঘনিভূত হবে। দেশের বর্তমান বিদ্যমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানই একমাত্র পথ।বিএনপির মুখপাত্র ও দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি মধ্যবর্তী নির্বাচন না, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দাবি করে আসছে। কারণ ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের নামে যে প্রহসন হয়েছে, তা জনগণ মেনে নেয়নি। তাই দেশে নতুন (ফ্রেস) নির্বাচন হতে হবে। তিনি বলেন, একটি ভাল নির্বাচন হলে পরে যে সরকার গঠন হয়, তারা যদি কোনো সমস্যায় পড়ে বা জনগণ তাদের উপর থেকে সমর্থন সরিয়ে নেয়, তখন সেই সরকার মধ্যবর্তী নির্বাচন দেয়। বর্তমান সরকারতো কোনো ভোটের মাধ্যমেই ক্ষমতায় আসেনি। জনগণ তাদের ভোটও দেয়নি। তাই তাদের অবশ্যই নতুন একটি নির্বাচন দিতে হবে। নির্বাচনের প্রস্ততি সম্পর্কে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আগে নির্বাচনের সম্ভাবনা আসুক। এখনওতো এসব কল্পনা। নির্বাচন যখন আসবে তখন দেখা যাবে আমরা প্রস্তুত কিনা।

বিস্তারিত»
যৌতুকের জন্য স্বামীর খাওয়ানো এসিডে খাদ্যনালি পুড়লো দীপার

কিশোরগঞ্জ:দীপা রানি পণ্ডিত (২২)। মা-বাবার একমাত্র মেয়ে। ৮ মাস আগে রতন নামে এক যুবকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। সুখেই কাটছিল তাদের সংসার। কিন্তু, বিয়ের ছয় মাস যেতে না যেতে তাদের সংসারে অশান্তি দেখা দেয়। রতন দীপার পরিবারের কাছে অতিরিক্ত ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে বসে। দীপার পরিবার নিম্নবিত্ত। বিয়ের সময় অনেক কষ্ট করে যৌতুকের টাকা দিয়েছিল। আবার দাবিকৃত যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে তারা। ক্ষিপ্ত হয় রতন। রতন দীপার হাত বেঁধে ফেলে। বোতলে থাকা এসিড দীপাকে জোর করে খাইয়ে দেয়। বুকের মধ্যে এসিড ঢেলে দেয়। এতে পুড়ে যায় খাদ্যনালী। পুড়ে যায় মুখের ডানপাশ। ঝলসে গেছে বুক। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। খাদ্যনালী পুড়ে যাওয়ায় জীবন শঙ্কায় ভুগছেন তিনি। গত রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর আদমপুরের শ্বশুরবাড়িতে দীপাকে মারধরের পর রতন একটি বোতলে থাকা এসিড তাকে খাইয়ে দেয়। এ সময় দীপা চিৎকার ও কান্নাকাটি করলে পাষণ্ড স্বামীর কোন দয়ামায়া হয়নি। বরং এসিড খাইয়ে তারা হাত বেঁধে মেঝের ওপর ফেলে রাখে। তখন অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকে দীপা। দীপা বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওই হাসপাতালের ২ নম্বর ভবনের ৮০১ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ওই ওয়ার্ডের ৫৩ নম্বর বেডে ভর্তি আছেন দীপা। অচেতন হয়ে শুয়ে আছেন তিনি। কখনও কখনও চোখ মেলে তাকাচ্ছেন, আবার চোখ বন্ধ করছেন। এসিড খাদ্যনালীতে যাওয়ার পর  থেকে তার প্রচণ্ড কাশি হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে তিনি কিছুই খেতে পারছেন না। দীপার বামপাশের একটি খালি বেডে তার মাসিমা বেবী পণ্ডিত ও ভাই অপু পণ্ডিত বসে আছেন। দীপার এমন বিপদের ঘনঘটায় তারা নির্বাক। আহতের ফুফুমা বেবী পণ্ডিতের চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে জল। দীপার ভাই অপু পণ্ডিত কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার সদর থানার ছত্রসী এলাকায়। তারা এক ভাই এক বোন। দীপা বড়। গত ৮ মাস আগে রতন নামে এক যুবকের সঙ্গে দীপার বিয়ে হয়। রতন নরসিংদী বাসস্ট্যান্ডের পাশে একটি টেক্সটাইল কারখানায় চাকরি করতো। বিয়ের সময় যৌতুক বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, ২ ভরি স্বর্ণ ও প্রায় ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র দেয়া হয়। গত দুই মাস ধরে রতনের আচার ব্যবহারে পরিবর্তন ঘটে। কারণে অকারণে দীপাকে মারধর করা হতো। মুখ বুজে সহ্য করতো দীপা। রতনের নির্যাতনের জন্য দীপা আর শ্বশুর বাড়িতে যেতে চাচ্ছিল না। পরে পারিবারিক সমাধানের মাধ্যমে আবার দীপা শ্বশুর বাড়িতে যায়। অপু পণ্ডিত আরও জানান, প্রায় ১০ দিন আগে রতন দীপাকে বলে  তাকে আরও ৩ লাখ টাকা যৌতুক দেয়ার জন্য। কিন্তু দীপা ওই টাকার কথা বলতে রাজি হননি। রোববার দুপুরে শ্বশুরবাড়িতে রতন বোতলে থাকা এসিড দীপাকে জোর করে খাইয়ে দেয়। এ সময় দীপা চিৎকার চেঁচামেচি করলে রতন ও তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মধ্যে কোন মায়া জাগেনি। এরপর দীপা অচেতন হয়ে পড়ে যায়। পরে দীপার শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি বাড়ির লোকজন আমাদের মোবাইলে খবর দেয়। আমরা দীপাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানকার চিকিৎসকররা দীপাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। দীপা সুস্থ হলে পরে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। দীপার ফুফু বেবী রানি পণ্ডিত জানান, ঘটনার ৫ দিন হয়ে গেলো। কিন্তু, দীপা কিছুই খেতে পারছে না। পানি পযর্ন্ত পান করলে তার পেটে জ্বালাপোড়া শুরু হচ্ছে। অসহ্য যন্ত্রণার মধ্যে আছে দীপা। এজন্য তাকে শুধু স্যালাইন দেয় হচ্ছে। প্রচণ্ড কাশি হচ্ছে তার। গত পাঁচদিন ধরে কোন খাবার না খাওয়ায় দীপা দিন দিন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। দীপা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শরিফুজ্জামানের  অধীনে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, তার খাদ্যনালী পুড়ে গেছে। তার এক্সরে করা হয়েছে। পুড়ে যাওয়া খাদ্যনালীতে যেন কোন ইনফেকশন না হয় এজন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বিস্তারিত»
প্রহসন নয় কার্যকর চাই, বিশাল মানববন্ধন

মুহাম্মদ চেরাগ আলী, গোলাপগঞ্জ(সিলেট) থেকে: গোলাপগঞ্জের কুশিয়ারা তীরবর্তী অঞ্চল আয়োজিন সিলেটে সামিউল আলম রাজন হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধনের বক্তারা বলেছেন। এটি একটি জঘন্যতম কাজ। এ নির্মমতা সকল পাষন্ডকেও হার মানায়। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে ঠিকই, জানি এদের সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসি হবে, এর পরও মানুষ তা মেনে নিতে নারাজ। এদেশের তথা বিশ্বের জনগণ চায় এদেরকে নির্যাতন করে ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন করেছে। সাথে সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যদের একই সাজা বাস্তবায়িত করার জোর দাবি জানানো হয়। বক্তারা আরো বলেন, জনগণ বিপদগ্রস্থ হলে পুলিশের সাহায্য নেয়, তারা জানে পুলিশ জনগণের বন্ধু কিন্তু এই কুলাঙ্গার পুলিশ সদস্যরা দেশের সমস্ত পুলিশের ভাবমুর্তি নষ্ঠ করায় তাদের শাস্তি পাওয়া উচিৎ। রাজন হত্যার বিচারের যেন প্রহসন না ঘটে বলে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। গতকাল সামিউল আলম রাজন হত্যার প্রতিবাদে গোলাপগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর উপর চন্দরপুর-সুনামপুর সেতুর উপর বিশাল মানববন্ধন করে কুশিয়ারা তীরবর্তী অঞ্চলের জনগণ। বুধবারীবাজার ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম আছকিরের সভাপতিত্বে, তরুণ সমাজকর্মী জাকির হোসেন বুলবুলের পরিচালনায় ও মোল্লা আবুবকরের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সুচনা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন, আমুড়া ইউপি চেয়ারম্যান আছদ্দর আলী জালালী, ডাঃ আব্দুল মুতলিব, বিশিষ্ট সমাজ কর্মী ও আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল মুকিত, আওয়ামীলীগ নেতা নিজাম উদ্দিন, তরুণ সমাজকর্মী ও শিক্ষক জাকির হোসেন বুলবুল, নাছির উদ্দিন নিপু, ছাত্র নেতা মিজানুর রহমান মিজান, জয়রুল ইসলাম, হাজি হারুন মিয়া প্রমুখ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আয়োজক কমিটির আহবায়ক আজ্জাদ আলী লাল, যুগ্ম আহবায়ক মস্তাব  উদ্দিন কামাল, বাগিরঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি বজলুর রশীদ বাইছ, বুধবারীবাজার ই্উপি সচিব ফয়জুল ইসলাম, ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন, ইউপি সদস্য সাব্বির আহমদ, বুধবারীবাজার ইউনিয়নের সাবেক বিএনপির সভাপতি মাহবুবুল আলম ছানা, ছাত্র নেতা আব্দুল হাকিম প্রমুখ। পরিশেষে নিহত রাজনের মাগফেরাত কামনা করে এক দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মুল্লা আবুবকর।

বিস্তারিত»
ফের পালিয়ে শিফা খালেদের ঘরে

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে:প্রেমিক খালেদকে অপহরণে  ফাঁসিয়ে পিতার জিম্মায় চলে গিয়েছিল সিলেটের প্রবাসীবধূ ফারজানা আক্তার শিফা। পিতার শিখিয়ে দেয়া বুলি আওড়িয়ে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিল, প্রেমিক খালেদ তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অপহরণ করেছিল। কিন্তু এই শিফা একমাস ১০ দিনের মাথায় সব কিছু মিথ্যা প্রমাণ করে এবার পিতার ঘর ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছে প্রেমিক খালেদের বাড়িতে। সঙ্গে নিয়ে গেছে তার কোলের সন্তান সাফিকেও। পালিয়ে আসার পর শিফাকে বরণ করে নিয়েছে খালেদের পরিবার। খালেদের সঙ্গে শিফার প্রেম, অভিসার, বিয়ে ও পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর ফের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে এলাকায়। সিলেটের মোগলাবাজার এলাকার কান্দেবপুর গ্রামের সৌদিপ্রবাসী মজিরউদ্দিন তালুকদারের সঙ্গে গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষণাবন্দ গ্রামের আবদুল মান্নানের মেয়ে ফারজানা আক্তার শিফার বিয়ে হয় ১১ বছর আগে। বিয়ের পর মজির ও শিফার সংসারে দুটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। স্বামী প্রবাসে থাকায় প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিক সিএনজি চালক একই এলাকার কান্দিয়ারচর গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে খালেদের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আর এই প্রেম একপর্যায়ে রূপ নেয় অভিসারে। স্বামীর অবর্তমানে ফারজানা আক্তার শিফা প্রেমিক খালেদের সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করে। আর এই প্রেমের পরিণতি হিসেবে গত ৯ই জুন ফারজানা আক্তার শিফা তার চার বছরের শিশু সন্তান সাফিকে নিয়ে প্রেমিক খালেদের সঙ্গে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার দিনই শিফা সিলেটের আদালতের অ্যাডভোকেট আনসার খানের কাছে এফিডেভিট করে পূর্বের স্বামী সৌদি প্রবাসী মজিরউদ্দিন তালুকদারকে তালাক প্রদান করে। একই সঙ্গে ওই দিন শিফা আরেকটি এফিডেভিট করে প্রেমিক খালেদকে বিয়ের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করে। এরপর শিফা প্রেমিক খালেদের সঙ্গে পালিয়ে যায় গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায়। পালিয়ে যাওয়ার পর ১৫ই জুন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী অফিসে গিয়ে কাবিনের মাধ্যমে বিয়ে সম্পাদন করে। ওদিকে, শিফা পালিয়ে যাওয়ার পর তার পিতা আবদুল মান্নান সিলেটের মোগলাবাজার থানায় অপহরণ মামলা করেন। ওই মামলায় তিনি দাবি করেন, খালেদ তার মেয়েকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে গেছে। মামলা  করার পর সিলেটের মোগলাবাজার থানার এসআই স্বপন কান্তি দাশসহ শিফার পিতা আবদুল মান্নান ১৭ই জুন রাতে গাজীপুর কোনাবাড়ির কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশের গলির ভাড়াটে ঘর থেকে শিফাকে উদ্ধার করেন। এ সময় পুলিশ শিফার প্রেমিক খালেদকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের দিন শিফা বারবার পুলিশকে জানিয়েছে, ‘খালেদ তার প্রেমিক ছিল। এখন স্বামী। পূর্বের স্বামী মজিরউদ্দিন তালুকদারকে ডিভোর্স দিয়ে সে পছন্দের মানুষ খালেদকে বিয়ে করেছে।’ এ সময় পিতার সঙ্গেও তর্কে লিপ্ত হয় শিফা। পরে পুলিশ তাদের সিলেটে নিয়ে আসে। এবং ডাক্তারী পরীক্ষার পর ২১শে জুন শিফাকে আদালতে হাজির করে। আর ১৮ই জুন অপহরণ মামলায় প্রেমিক খালেদকে আদালতের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়া হয় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে। শিফা আদালতে উপস্থিত হয়ে খালেদের বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রদান করে। শিফা জানায়, ‘নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে খালেদ তাকে অপহরণ করেছে।’ আদালতে দেয়া শিফার জবানবন্দি গ্রহণে তার মতামতের ভিত্তিতেই পিতা আবদুল মান্নানের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয় শিফাকে। এরপর আবদুল মান্নান সিলেটের মোগলাবাজার থানা পুলিশের কাছ থেকে মুচলেকার মাধ্যমে দুটি পুত্র সন্তান মাহি ও সাফিকে নিয়ে যান। এরপর থেকে শিফা তার পিতার বাড়িতেই বসবাস করছিলেন। সৌদি প্রবাসী মজিরউদ্দিন তালুকদারের স্বজনা জানিয়েছেন, এতবড় অঘটনের পরও দুটি সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে পূর্বের স্বামী মজিরউদ্দিন সব কিছু ভুলে যেতে বসেছিলেন। শিফাকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য মানবিকতাকে প্রাধান্য দিয়ে দুটি পরিবার এক হওয়ার চেষ্টায় ছিল। সৌদিতে থাকা মজিরউদ্দিনও ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত করছিলেন। এ অবস্থায় গত মঙ্গলবার সকালে ফারজানা আক্তার শিফা ফের পিতা আবদুল মান্নানের হেফাজত থেকে পালিয়েছে। সকাল ১১টার দিকে চার বছরের শিশুপুত্র সাফিকে নিয়ে খালেদের বাড়িতে উঠে শিফা। আর খালেদের পরিবারও শিফাকে বরণ করে নেয়। এদিকে, শিফার প্রেমিক খালেদের গ্রাম থেকে দুই কিলোমিটার দূরে শিফার প্রবাসী স্বামী মজিরউদ্দিন তালুকদারের বাড়ি। শিফা পালিয়ে খালেদের বাড়িতে এসেছে এমন খবর রটে গেছে এলাকায়। কেউ কেউ গিয়ে শিফাকে বাড়িতে দেখেও এসেছেন। কথাও বলেছেন শিফার সঙ্গে। শিফার পিতা আবদুল মান্নান গতকাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘শিফা গত মঙ্গলবার শিশুপুত্র সাফিকে নিয়ে পালিয়েছে। আর পালিয়ে সে খালেদের বাড়িতে গেছে। পরে খবর নিয়ে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন শিফা খালেদের বাড়িতে আছে।’ তিনি বলেন, ‘শিফাকে অনেক বুঝালাম। বুঝলো না। এবারও সে ভুল করলো।’ তিনি বলেন, ‘শিফা পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি থানায় কোন জিডি করেননি।’ কেন করেন নি প্রশ্ন করা হলে বলেন, ‘করেই বা কি লাভ। শিফা তো আর বুঝে না।’ এদিকে, এক মাস ১০ দিন ধরে শিফা অপহরণ মামলায় কারাগারে রয়েছেন প্রেমিক সিএনজি চালক খালেদ। ইতিমধ্যে খালেদের জামিনের জন্য সিলেটের কোর্টে দুই দফা আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু জামিন হয়নি। এ কারণে এখন শিফা আদালতে এসে প্রেমিক খালেদের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। খালেদের মামা আবদুর রব গতকাল মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ‘শিফা পালিয়ে এলে যদি খালেদের মঙ্গল হয় তাহলে শিফা পালিয়েছে ধরে নেন। আমরা এখন খালেদের জামিন নিয়ে ভাবছি। কারণ, সে বিনা দোষে কারান্তরীণ রয়েছে।’ ওদিকে, শিফা অপহরণ  মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিলেটের মোগলাবাজার থানার এসআই স্বপন কান্তি দাশ গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ‘শিফা পালিয়ে খালেদের বাড়িতে এসেছে-এ খবর তিনি পেয়েছেন। তবে, তিনি খালেদের বাড়িতে যাননি। তিনি বলেন, শিফা আদালতে বলেছে- তাকে অপহরণ করা হয়েছে। এখন সে প্রেমিক খালেদের বাড়িতে চলে আসায় মামলায় নতুন মোড় নেবে। তদন্তের মাধ্যমে সব কিছুর খোলাসা হবে বলে জানান তিনি। ফেঁসে যেতে পারেন আবদুল মান্নান: শিফার প্রেম, ডিভোর্স, বিয়ে, পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ফেঁসে যেতে পারেন শিফার পিতা আবদুল মান্নান। এর কারণ শিফার স্বামী মজিরউদ্দিন তালুকদার শিফাকে বিয়ের পর থেকে সৌদি আরবে রয়েছেন। সৌদি থেকে তার কষ্টার্জিত সকল উপার্জন পাঠানো হয় শিফার কাছেই। আর ওই টাকা শিফা ও তার পিতা লুটেপুটে খেয়েছেন এমন অভিযোগ করেছেন প্রবাসী মজিরের পরিবারের সদস্যরা। তারা জানান, শিফা পালিয়ে যাওয়ার পর তারা সাফিকে নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। মাহি ও সাফির পিতা হচ্ছেন সৌদি প্রবাসী মজিরউদ্দিন তালুকদার। শিফা আদালত থেকে পিতার জিম্মায় যাওয়ার পর সিলেটের মোগলাবাজার থানা থেকে মুচলেকার মাধ্যমে নিজ জিম্মায় মাহি ও সাফিকে নিয়েছিলেন নানা আবদুল মান্নান। এখন শিফা ছোট ছেলে সাফিকে নিয়ে পালিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, ‘শিফা কোথায় আসে সেটি তাদের দেখার বিষয় নয়। তারা দুটি সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে পুলিশের কাছে আবদার জানাবেন।’

বিস্তারিত»
মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব গোলযোগের মধ্যে বাংলাদেশ

সিলেটের আলাপ ডেস্ক:বাংলাদেশ সরকারের প্রতি মানবাধিকার রক্ষায় তৎপরতা বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা ও জঙ্গি উত্থান প্রতিরোধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস আহ্বান জানিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক হাউজ অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স সাব কমিটির সদস্য, রিপাবলিকান দলের কংগ্রেসওমেন তুলসি গাব্বার্ড কংগ্রেসে বুধবার উত্থাপিত এক প্রস্তাবে এ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ গোলযোগের মধ্যে রয়েছে। গত বছর ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনের পর থেকেই এ দেশের স্থিতিশীলতা নিয়ে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উদ্বেগ। দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে তুলসি গাব্বার্ড এ প্রস্তাব তোলার পর বক্তব্য রাখেন এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক সাব কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান দলের কংগ্রেসম্যান ম্যাট স্যামন ও একই দলের কংগ্রেসম্যান বব ডোল্ড। বব ডোল্ট বলেন, কোন দেশ তার নাগরিকদের, বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষায় ব্যর্থ হলে তা বরদাশত করা হবে না। বিশ্বের মানবিক মূল্যবোধের বৃহৎ শক্তি হিসেবে সেসব দেশের কাছে যুক্তরাষ্ট্র একসুরে এই বার্তা পাঠাতে বাধ্য। তুলসি গাব্বার্ড ওই প্রস্তাবে বাংলাদেশে ঝুঁকিতে থাকা সব সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের প্রতি। তুলসি গাব্বার্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রেস রিলিজ ও টুইটারে এ কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে হিন্দু সম্প্রদায়ের একমাত্র সদস্য এই তুলসি গাব্বার্ড। তিনি কংগ্রেসে প্রস্তাব উত্থাপন করে বলেন, আমি বিশেষ করে ধর্মীয় স্বাধীনতা, বিশেষ করে হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়ে উদ্বিগ্ন। সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্তরা প্রায়ই থেকে যাচ্ছে শাস্তির বাইরে। এসব সংখ্যালঘুদের ওপর যারা সহিংসতা উসকে দিচ্ছে ও সংঘটিত করছে তাদেরকে থামাতে বাংলাদেশ সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করতে হবে। এই প্রস্তাবে সংখ্যালঘু সহ সব নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষার জন্য বাংলাদশে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাস শক্তিশালী করতে ও কট্টরপন্থি গ্রুপগুলোকে প্রতিহত করতে হবে সরকারকে। কংগ্রেসম্যান ম্যাট স্যামন বলেন, আমরা আশা করি মানবিক মূল্যবোধ, মুক্তমত ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তার প্রতি সম্মান দেখাবে বাংলাদেশ। সব নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে। এক্ষেত্রে কারও রাজনৈতিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।

বিস্তারিত»

সাক্ষাৎকার

সাক্ষাৎকার ‘ছাত্ররাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল অতীত ফেরাতে চেষ্টা করবো

ফররুখ মাহমুদ:ছাত্রসমাজের অধিকার রক্ষায় কাজ করার প্রত্যয়ের কথা জানিয়েছেন ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন। তিনি বলেছেন, ছাত্রসমাজের কল্যাণ ও অধিকার রক্ষাই অতীতে ছাত্ররাজনীতির প্রধান ব্রত ছিল। ক্ষেত্রবিশেষে এর ব্যত্যয় হলেও ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব ছাত্র রাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল অতীত ফিরে আনার আপ্রাণ চেষ্টা করবে। তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষাই একটি জাতির এগিয়ে যাওয়ার বড় শক্তি। শিক্ষার উৎকর্ষ সাধন ও জ্ঞানমুখী ছাত্ররাজনীতির প্রতি ছাত্রসমাজকে প্রলুব্ধ করাই হবে নতুন নেতৃত্বের বড় চ্যালেঞ্জ। মানবজমিনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এমন প্রত্যয়ের কথা জানিয়েছেন জাকির হোসাইন। জাকির হোসাইনের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের গোয়ালবাড়ী গ্রামে। ছাত্রলীগের ২৮তম কেন্দ্রীয় সম্মেলনে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে সর্বোচ্চ ২৬৭৫ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। বাবা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ আবদুল জলিল ও মা আমেনা বেগমের ৫ ছেলে ও ৪ মেয়ের মধ্যে জাকির অষ্টম। স্থানীয় গোয়ালবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া শেষ করে হাজী ইমজাদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭ম শ্রেণী পাস করেন তিনি। পরে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে ভর্তি হন রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে। উচ্চ মাধ্যমিকেও জিপিএ-৫ পেয়ে দেশসেরা বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ২০০৭-২০০৮ সেশনে ভর্তি হন। সেখান থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল করছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে ছাত্রলীগের ভূমিকা কি হবে- জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে বই-খাতা তুলে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, নিয়মিত ছাত্ররাই ছাত্ররাজনীতি করবে। তারই ধারাবাহিকতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ছাত্রলীগ অতীতের মতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে জানান তিনি। বলেন, গত এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দেশব্যাপী ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি পালন করেছিলেন। তখনও ছাত্রলীগ পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়েছিল এবং শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করেছিল। এই সরকারের আমলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা উল্লেখ করলে তিনি বলেন, ছাত্রলীগ নামধারী কিছু অনুপ্রবেশকারী এসব ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। ছাত্রলীগ থেকে এসব অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে বেড়ে ওঠা এই ছাত্রনেতা বলেন, মাধ্যমিকে থাকাবস্থায়ই ছাত্রলীগের মাধ্যমেই ছাত্ররাজনীতিতে নাম লেখাই। ৯ম শ্রেণীতে থাকা অবস্থায় তৎকালীন থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক সেলিম উদ্দিনের কাছে সদস্য ফরম পূরণ করি। সেখান থেকেই শুরু। কলেজে রাজনীতি নিষিদ্ধের কারণে সক্রিয় হতে না পারলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রেখেই বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেই। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় ১/১১ সরকারের দুঃশাসন থেকে মুক্তির জন্য আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ ঘোষিত সকল কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূত অংশগ্রহণ করি। সেই সময় আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তি, তৎকালীন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের মুক্তির আন্দোলন এবং ৯ম সংসদ নির্বাচনে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলাম। সর্বশেষ ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাঈদ খোকনের পক্ষে প্রচারণা চালানোর জন্য কয়েকটি ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করি। ২০০৯ সালে ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী থাকাবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল কমিটিতে সদস্য পদ পাই। যা ছিল আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক। সেসময় হল কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বর্তমান কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ। পরবর্তীকালে ২০১২ সালে সদ্য বিদায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক হই। পারিবারিকভাবে রাজনীতিতে আসার প্রেরণা পান বলে জানান সিলেট অঞ্চল থেকে উঠে আসা এই ছাত্রনেতা। বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিতে ছাত্রলীগের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়, সে অবস্থা থেকে ছাত্রলীগকে বের করে আনতে হলে তার ভূমিকা কি হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্রলীগ দেশের সর্ববৃহৎ ছাত্রসংগঠন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া এই সংগঠন কোন চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিতে বিশ্বাস করে না। তাই এ সংগঠনে কোন চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজের স্থান হতে পারে না। এরকম কারও বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পেলে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এসময় তিনি ছাত্রলীগসহ প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ পড়ার অনুরোধ করেন।  একটি ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) এর নির্বাচনের বিষয়ে ছাত্রলীগ সম্পাদক জাকির হোসাইন বলেন, ছাত্রলীগ সবসময় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং ছাত্রদের ন্যায্য অধিকারের কথা বলে। তাই আমরাও ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে অবিলম্বে ডাকসু নির্বাচন চাই। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান জাকির হোসাইনের দুই চাচাও ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। বড় চাচা হাজী উস্তার আলী ও ছোট চাচা আবদুল কাইয়ুম। বড় চাচার স্ত্রীর ভাইয়ের ছেলে শাহবুদ্দিন লেমন গোঁয়ালবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান। ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন জাকির। এরপর দেশব্যাপী হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবলীলা, বিএনপির ডাকা টানা অবরোধ-হরতালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

বিস্তারিত»

বিশেষ কলাম

গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের অনুপস্থিতির কারণেই…

হায়দার আকবর খান রনো: ঊনবিংশ শতাব্দীতে বৃটিশ রাজত্বের প্রথম যুগে আমাদের সমাজ জীবনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সূচিত হয়েছিল। অবশ্যই তা ছিল পরাধীনতার ফসল, বৃটিশ রাজত্বের কুফল। যদিও বাঙালি হিন্দু মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের একাংশের মধ্যে নবজাগরণ দেখা দিয়েছিল, যাকে অনেক সময় রেনেসাঁ বলে আখ্যায়িত করা হয়, তবু তা বিশাল জনগোষ্ঠীর সমাজ জীবনকে খুব একটা প্রভাবিত করতে পারেনি। অন্যদিকে, ইংরেজদের আনুকূল্যে গড়ে ওঠা মুৎসুদ্দি ও সামন্তশ্রেণী কলকাতাকেন্দ্রিক যে কুৎসিত বাবু কালচার তৈরি করেছিল তা সমাজ জীবনকে কলুষিত করেছিল দলীয়ভাবে। এই তথাকথিত বাবু কালচারকে নিন্দা ও ব্যঙ্গ করে মহাকবি মাইকেল লিখেছিলেন, ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো’ ও ‘একেই বলে সভ্যতা’। বাবু কালচারের মধ্যেই বেড়ে ওঠা কালীপ্রসন্ন সিংহ বাবু কালচারকেই নিন্দা করে লিখেছিলেন, ‘হুতুম প্যাঁচার নকশা’। ইতিহাসের এই প্রসঙ্গটি টানলাম এই কারণে যে, বর্তমানে রাজনৈতিক গণতন্ত্রহীনতার পরিবেশ রাষ্ট্রীয় আনুকূল্যে গড়ে ওঠা ধনিকগোষ্ঠীও একইভাবে এক কুৎসিত কালচার তৈরি করছে যা - সমাজকে কলুষিত করছে দারুনভাবে, ভেঙ্গে পড়ছে স্বাভাবিক সামাজিক বন্ধন ও মূল্যবোধ। টাকার গরম, ক্ষমতার দাপট, আইনের শাসনের অনুপস্থিতি, সামান্যতম ন্যায় বিচারের সুযোগ না থাকা - এই সবই যে সামাজিক দৃশ্যপট তৈরি করেছে তা ইতোপূর্বে কখনই ছিল না। ক্ষমতার কাছাকাছি যারা আছে এবং অতিকায় ধনী যারা, তারা পরস্পরের সাথে গভীরভাবে সংশ্লিষ্ট। অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি ক্ষমতা এবং বিত্তের অধিকারী। এখানে বিত্ত-বৈভব তৈরি হয়েছে ক্ষমতাকে ব্যবহার করে এবং প্রধানত লুটপাটতন্ত্রের মাধ্যমে। এরা উৎপাদনশীল বুর্জোয়া নয়। বুর্জোয়া কালচারও তারা শেখেনি। যা শিখেছে বা নতুন করে আয়ত্ব করেছে তা হলো ক্ষমতার দাপট দেখানো এবং প্রদর্শনবাদীতা। মানবতা, সহনশীলতা, ভদ্র-আচরণ ইত্যাদি তাদের চরিত্রে পুরোপুরি অনুপস্থিত। সাম্প্রতিক সময়ের দুটি উদাহরণ আমি উল্লেখ করতে চাই। গত ১৩ এপ্রিল রাত পৌনে দুটোর সময় দামি গাড়ি প্রাডোতে করে দুই বন্ধুসহ নিউ ইস্কাটন রোড দিয়ে যাচ্ছিলেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ নেত্রীর পুত্র বখতিয়ার। তার গাড়িটি যানজটে পড়ে। তাতে বিরক্ত হয়ে তিনি নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। এতে নিহত হন রিকশাচালক আবদুল হাকিম ও জনকণ্ঠের সিএনজি অটো রিকশাচালক ইয়াকুব আলী। অভিযুক্ত হত্যাকারী হয়তো মদ্যপ ছিলেন। কিন্তু মাতালেরও কিছুটা হুশ-জ্ঞান থাকে। সংসদ সদস্য’র পুত্র যদি ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থান না করতেন, যদি তিনি সাধারণ পরিবারের সন্তান হতেন, তাহলে যতোই মদ্যপান করুন, নিজের বিরক্তি প্রকাশের জন্য রাস্তায় গুলি করে নিরীহ মানুষকে হত্যা করতেন না। সংসদ সদস্য’র পুত্র বলেই এক ধরনের মনোভাব ও ধারণা তার মধ্যে কাজ করছিল - ‘ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা যা খুশি করতে পারে, কোনো শাস্তি হয় না’। এই প্রসঙ্গে আবার সেই পরাধীন যুগে ফিরে যাই, যখন শাসক ইংরেজদের যা খুশি, এমনকি মানুষ হত্যা পর্যন্ত করার অধিকার ছিল। রবীন্দ্রনাথের ‘মেঘ ও রৌদ্র’ গল্পে একটা ঘটনার উল্লেখ আছে। এক ইংরেজ ম্যানেজার স্টিমারে করে যাচ্ছিলেন। একই নদী পথে পাল তুলে যাচ্ছিল এক নৌকা। স্টিমারের ডেকে বসে শাসক জাতির লোক ইংরেজ ম্যানেজার কৌতূহল বসেই নৌকার পালকে লক্ষ্য করে গুড়ি ছোড়ে, তাতে নৌকা ডুবে যায়, সম্ভবত প্রাণহানিও ঘটেছিল। রবীন্দ্রনাথ লিখছেন, ‘ইংরেজ নন্দনের মনের ভাব আমরা বাঙালি হইয়া ঠিক বুঝিতে পারি না’। বোধ হয় একই ধরনের তুলনা চলে। আজকে যারা শাসকবর্গ তাদের ও তাদের পরিবার এবং গোষ্ঠীবর্গের মনোভাব আমরা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারি না। রবীন্দ্রনাথ ইংরেজ সাহেবের মনোভাবের কথা অনুমান করে লিখেছেন, ‘…হয়তো একটা স্ফীত বিস্তীর্ণ পদার্থ বন্দুকের গুলির দ্বারা চক্ষের পলকে বিদীর্ণ করিবার একটা হিংস্র প্রলোভন আছে, হয়তো এই গর্বিত নৌকার বস্ত্রখণ্ডের মধ্যে গুটিকয়েক ফুটা করিয়া নিমেষের মধ্যে ইহার নৌকালীলা সমাপ্ত করিয়া দিবার মধ্যে একটা প্রবল পৈশাচিক হাস্যরস আছে…। কিন্তু ইহা নিশ্চয়, ইংরেজের মনের ভিতরে একটুখানি বিশ্বাস ছিল যে, এই রসিকতাটুকু করার দরুন সে কোনোরূপ শাস্তির দায়িক নহে - এবং ধারণা ছিল, যাহাদের নৌকা গেল এবং সম্ভবত প্রাণসংশয়,তাহারা মানুষের মধ্যেই গণ্য হইতে পারে না’। গল্পে দেখা যায়, এই ঘটনা নিয়ে মামলা হয়েছিল। ইংরেজ ম্যানেজার গুলির কথা স্বীকার করেছিল। কিন্তু ইংরেজ জজ তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছিল। সেদিনের ঘটনায়ও কি ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী ও সংসদ সদস্য’র পুত্রের মনের মধ্যেও একই ধরনের ‘একটা হিংস্র প্রলোভন’ ও ‘পৈশাচিক হাস্যরসের’ অনুভূতি কাজ করেছিল? সেও কি নিশ্চিত জানতো যে, যারা ‘মানুষের মধ্যেই গণ্য হইতে পারে না’ এমন কিছু পথচারী, রিকশা বা অটোরিকশা চালক মারা গেলে তেমন শাস্তি পেতে হবে না। শাসকবর্গের লোকজনের তাদের উদ্ধত সন্তানদের মধ্যে এমন মনোভাব তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কারণ অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, শাসক দলের লোক পুলিশের সামনে পিস্তল হাতে ঘুরে বেড়ায়, প্রয়োজনে বা বিনা প্রয়োজনে ব্যবহার করলে শাস্তি হয় না। এই যে পৈশাচিক আনন্দ, এই যে টাকা ও ক্ষমতার গরিমা, কয়েক কোটি টাকার গাড়ি, বেপরোয়া আচরণ সমাজে যে বিশ্রি, কুৎসিত, অমার্জিত রুচি ও সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে তা বহুলাংশে ঊনবিংশ শতাব্দীর বাবু কালচারের সাথে তুলনীয়। এই কালচারের আরেকটা দিক হলো প্রদর্শনবাদিতা। ঈদের কয়েকদিন আগে ময়মনসিংহের এক ধনাঢ্য ব্যক্তি যাকাতের কাপড় দেবেন বলে ঘোষণা করেছিল। সেই যাকাতের লুঙ্গি, শাড়ি নিতে গিয়ে ২৭ জন নারী ও শিশু পায়ে চাপা পড়ে মারা গেছেন (মধ্যম আয়ের দেশ বটে!) ইসলামী বিধান মতে, যাকাতের দান অনেকটা ট্যাক্সেও মতো এবং তা দিতে হবে গোপনে। এখানে নাম জাহির করার প্রবণতা অপরাধ। আমরা আরও দেখেছি, আরেক ঈদ কোরবানীর গরু কেনার নোংরা প্রতিযোগিতা অতি ধনাঢ্য ব্যক্তিদের মধ্যে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় যে অতি দ্রুত লুমপেন গোছের এক ধনিক শ্রেণীর বিকাশ ঘটেছে, তারা সমাজের অধিপতি শ্রেণীতে পরিণত হয়েছে। তাদের কালচার সংক্রামিত হচ্ছে সমাজের মধ্যে। ফলে সমাজে যে স্বাভাবিক মানবিকতা বিরাজ করছিল, তা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যাচ্ছে। একেবারে নিঃশেষ হয়েছে, তা বলবো না। রানা প্লাজা মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সময় আমরা দুটো দিক পাশাপাশি লক্ষ্য করতে পারি। একদিকে ক্ষমতাসীন দল ও উৎকট ধনিক গোষ্ঠীর নৃশংস বর্বরতা এবং তারই পাশাপাশি ও তারই বিপরীতে জনগণের সহজাত ও স্বতঃস্ফূর্ত মানবতাবোধ। বিল্ডিং-এ ফাটল ধরেছে, ধসে পড়তে পারে, এই আশঙ্কার মধ্যেও পুলিশ দিয়ে জোর করে সরকারি দলের নেতা ও গার্মেন্টস মালিক শ্রমিকদের ঠেলে দিয়েছিল মৃত্যুর মুখে (কারণ ওরা তো মানুষ নয়, মালিকের সম্পদ উৎপাদনের যন্ত্র বিশেষ)। এটা হল নব্য ধনিক শ্রেণীর এবং উদ্ধত নিষ্ঠুর শাসক শ্রেণীর বৈশিষ্ট। অপরদিকে উদ্ধার কার্যে ছুটে আসতে দেখেছি শত শত মানুষকে। তারা এসেছিলেন মানবিক বোধ থেকে, প্রাণের তাগিদে। সরকার বিরোধী দলকে দমন করার জন্য নিজস্ব ক্যাডারদের হাতে তুলে দিয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র। যারা ভোটকেন্দ্রও দখল করে, তারা একই সাথে টেন্ডারবাজি করে, জমি সম্পদ দখল করে, বলপূর্বক নারী ভোগ করে। এমনকি খুন করলেও কিছু হয় না। এক কথায় দেশে আইনের শাসন নেই। এর প্রতিফলন সমাজের মধ্যেও দেখতে পাই। যে পুলিশ বা র‌্যাবকে বিচার বহির্ভূত হত্যার কাজে লাগানো হয় তারা এক পর্যায়ে আপেক্ষিক স্বাধীনতা ভোগ করে এবং র‌্যাব সদস্যদের কোন কোন দুর্বৃত্ত যে টাকার বদলে ভাড়াটিয়া খুনির ভূমিকা পালন করে, তা তো নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলায় জানা গেল। অভিজ্ঞতা বলে যে, যে কোনো ধরনের বড় অপরাধ করলেও পার পাওয়া যায়, যদি ক্ষমতাসীনদের কাছের লোক হওয়া যায় অথবা পুলিশের জন্য বড় অংকের অর্থ খরচ করা যায়। এমন ধারণা সমাজের মধ্যে বদ্ধমূল হয়ে যাওয়ার কারণে সম্প্রতি খুন, নির্যাতন,ধর্ষণ ইত্যাদি ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাও বাসস্ট্যান্ডে ১৪ বছরের কিশোর সামিউল আলম রাজনকে যেভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে, তার বীভৎসতা, নিমর্মতা, বর্বরতা কোন বিশেষ একক ঘটনা নয়। রাজনের মতো আরও অনেকের আর্তনাদ হয়তো আমাদের কান পর্যন্ত পৌছায় না। এখানে বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় যে, নির্যাতনকারীরা নির্যাতন করার মধ্যে এক ধরনের পৈশাচিক আনন্দ অনুভব করেছে। শুধু তাই নয়, তারা আবার নির্যাতনের দৃশ্য ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে যে ধরনের মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়, তার মধ্যে দুটো দিক আছে। এক, সংসদ সদস্য’র পুত্রের গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা অথবা রবীন্দ্রনাথের গল্পের মতো ইংরেজ সাহেবের খেয়ালের বশে গুলি করার মতোই নির্যাতন করা যেন একটা আনন্দের বিষয়। এই যে উদ্ধত ও বিকৃত মনোভাব তা শাসকগোষ্ঠীর সৃষ্ট কালচারেরই অংশ। যা শাসকবর্গের কাছ থেকে নিচের দিকেও গড়িয়ে পড়ছে,সংক্রামিত হচ্ছে। দুই, হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীরা জানে যে, টাকা থাকলে কোন অপরাধের সাজা হবে না। বস্তুত রাজন হত্যার প্রধান আসামী দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে পুলিশের সহায়তায় এবং এমন অভিযোগ ওঠার পরে তদন্ত কমিটির রিপোর্টে এর সত্যতা মেলে। আর দু’জন এস আইকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে। তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের সম্মুখীন করা যাবে কিনা বলা যায় না। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের প্রধান আসামীকে কলকাতা থেকে এখনো আনা যায়নি। রাজন হত্যা একমাত্র দৃষ্টান্ত নয়। মাত্র কয়েকদিন আগের আরেকটি ঘটনা। পাষণ্ড স্বামী তার স্ত্রী সুখী আকতারের চোখ তুলে নিয়েছে। এই রকম বর্বর, পাশবিক ঘটনা প্রায়ই ঘটছে এবং তার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এই যে সামাজিক অধঃপতন, তার সাথে রাজনৈতিক গণতন্ত্রহীনতা এবং আইনের শাসনের অনুপস্থিতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অধ্যাপক তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘সমাজে নিষ্ঠুরতা বেড়ে গেছে। দেশে সুশাসন না থাকলে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া না হলে এ ধরনের অপরাধ ক্রমাগত বাড়তে থাকবে’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘দেশে কি আইনের শাসন আছে? মানুষ যখন দেখবে অপরাধ করে পার পাওয়া যায় না, তখন অপরাধ প্রবণতা কমবে। কিন্তু দেশে সে পরিস্থিতি নেই’। বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেছেন, ‘সমাজে একটা ধারণা হয়ে গেছে যে, ক্ষমতার জন্য, অর্থের জন্য যা মন চায় তা-ই করা যায়। আইন নীতির তোয়াক্কা না করার সংস্কৃতি বিরাজ করছে সর্বত্র’। তাহলে সমাধান কি? সমাধান হলো গণতন্ত্র ও আইনের শাসন। রাজনৈতিক গণতন্ত্রের নির্বাসন হয়েছে বলেই সামাজিক ক্ষেত্রে মূল্যবোধ ও চিরাচরিত সামাজিক কাঠামো ভেঙ্গে পড়েছে। শাসকশ্রেণীর স্বৈরতান্ত্রিক নীতি, বেপরোয়া লুটপাটতন্ত্র এবং টাকার দেমাগও ক্ষমতার দাপট এই বর্বরতার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক অপরাধ প্রবণতা ও কলুষিত নোংরা কালচারকে রাজনৈতিক স্বৈরতন্ত্র, মাস্তানতন্ত্র ও অর্থনৈতিক লুটপাটতন্ত্রেরই সম্প্রসারিত অংশ হিসাবে দেখতে হবে।।

বিস্তারিত»

এক্সক্লুসিভ

এমন মানুষ যদি এদেশে জন্মাতেন!

ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান: ‍‘শিলং যাচ্ছি... আইআইএম- এ 'লিভেবল প্ল্যানেট আর্থ' শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিতে।’ শিলংয়ে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্টের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার আগে একটি ট্যুইটে এমন কথা লিখেন, সেই ট্যুইটই জীবনে শেষ ট্যুইট।  ফেরা হলো না আর।  'যাচ্ছি' বলে গেলেন, আর ফিরলেন না! শিলংয়েই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন 'ভারতের মিসাইল ম্যান' এপিজে আব্দুল কালাম।   গেল সোমবার শিলংয়ে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্টের এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। শিলং হাসপাতালের চিকিৎসকরা বহু চেষ্টার পরও তাকে বাঁচাতে পারেননি।  আমাদের সবাইকে ছেড়ে এক অজানার দেশে চলে গেলেন এই মানুষটি।   পৃথিবী নামক এই গ্রহে ৭০০ কোটিরও বেশি মানুষ বসবাস করে।  প্রতিদিনই তো হাজার হাজার মানুষ চলে যাচ্ছে সেই অজানার দেশে, কে কার খবর রাখে।  হয়তো স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতজনদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে বিদায় নিচ্ছেন অনেকে।    কিন্তু এই মানুষটির জন্য আজ কাঁদছি আমরা, কাঁদছে ভারতবাসি, কাঁদছে গোটা বিশ্ব। সত্যিই বিশ্ববাসী আজ অনুভব করছে আব্দুল কালামের শূন্যতা। কেন কাঁদছে বিশ্ববাসী এই মানুষটির জন্য সেটাই আজ আমাদের ভাবনার বিষয়। ফলে তার জীবন থেকে আমাদের যা জানা দরকার।   এক. আব্দুল কালামের ইন্তেকালে ৭ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ভারত।  আজ মঙ্গলবার একদিনের জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।  অবশ্য কাজ পাগল এই সজ্জন ব্যক্তিত্ব এক সময় বক্তৃতা করতে গিয়ে বলেছিলেন, আমার ইন্তেকালের পর যেন রাষ্ট্রীয় শোক পালনের জন্য কোন ছুটি ঘোষণা করা না হয়, বরং তার বিপরীতে যেন একদিন অতিরিক্ত কাজ করা হয়।   দুই. নিজে মুসলিম হয়েও ভারতের মত একটি কট্টর হিন্দুবাদ সাম্প্রদায়িক দেশে নিজের অসাম্প্রদায়িকতা চেতনা আর উচ্চ মানবতাবোধের মাধ্যমে শুধু ভারতবাসিকেই নয় গোটা বিশ্ববাসীকেই জয় করেন তিনি।   তিন. স্বপ্নের ফেরিওয়ালা- তিনি ছিলেন বিশ্ববাসীর নতুন স্বপ্ন জাগানোর মানুষ। ‘ঘুমিয়ে যে স্বপ্ন মানুষ দেখে তা স্বপ্ন নয়। স্বপ্ন সেটাই, যা তোমাকে ঘুমোতে দেবে না।’- এই হলেন ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও খ্যাতিমান পরমাণু বিজ্ঞানী আবুল পাকির জয়নাল আবেদিন আবদুল কালাম।বিজ্ঞানী, লেখক, রাষ্ট্রপতি— অনেক বিশেষণেই পরিচিত আবদুল কালাম। তবে ভারতসহ বিশ্বের লাখ লাখ তরুণের কাছে তিনি আপাদমস্তক একজন স্বপ্নবাজ মানুষ, স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। যিনি স্বপ্ন দেখতে এবং দেখাতে পছন্দ করতেন।   স্বপ্ন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত লেগে থাকতেন। এক স্বপ্ন সফল হলে ঝাঁপিয়ে পরতেন নতুন স্বপ্ন নিয়ে। স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হয়েই সোমবার রাতে ৮৪ বছর বয়সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। ‘আমি সম্ভাবনা নিয়ে জন্মেছি। আমি জন্মেছি মঙ্গল আর বিশ্বাস নিয়ে। আমি এসেছি স্বপ্ন নিয়ে। মহৎ লক্ষ্য নিয়েই আমার জন্ম। হামাগুড়ির জীবন আমার জন্য নয়, কারণ আমি ডানা নিয়ে এসেছি। আমি উড়ব, উড়ব, আমি উড়বই’- পারস্যের কবি জালাল উদ্দিন রুমির এই কবিতায় আবদুল কালামের জীবনে মোড় ঘুরিয়ে দেয়।   সেটিকেই ব্রতী মেনে উড়েছেন, করেছেন মানবের কল্যাণ। অবাক করার মত হলেও সত্য, স্বপ্নবাজ এই মানুষটি বিগত দুই দশকে বিশ্বের এক কোটি ৮০ লাখ তরুণের সঙ্গে মিশেছেন। তাদের মতের সঙ্গে নিজের মতের সংমিশ্রন ঘটিয়েছেন।   চার. ১৯৩১ সালের ১৫ অক্টোবর দক্ষিণ ভারতের রাজ্য তামিলনাড়ুর অত্যন্ত দরিদ্র এক মৎস্যজীবী পরিবারে তাঁর জন্ম। কিন্তু যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাধা অতিক্রম করে আব্দুল কালাম ভারতে বিজ্ঞানচর্চার শীর্ষে ও সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আরোহণ করেছিলেন তা রূপকথাকেও হার মানায়। তিনি সব সীমাবদ্ধতাকে পদদলিত করে স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করেছেন।   পাঁচ. সহজ সরল অনাড়ম্বর জীবনযাপন- ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অবিবাহিত। আর খুব সহজ সরল অনাড়ম্বর জীবনযাপনের জন্যও আজীবন পরিচিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অবসরের পর থেকে আবদুল কালাম সারা দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা-বিষয়ক ও প্রেরণামূলক বক্তৃতা দিয়ে বেড়াতেন, বহু জনপ্রিয় বইও লিখেছেন তিনি।   ছয়. ‘জীবনের লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে যেতে যেতে বারবার সমস্যা আসবে, সংকট পথ আটকাবে। কিন্তু হৃদয়ে রাখতে হবে একটি সংকল্প- আমি সংকটজয়ী হব, সব সমস্যা পেছনে ফেলে ছিনিয়ে নেব সাফল্য।’- নিজের এই বিশ্বাসে অটল থেকে সফল পরমাণু বিজ্ঞানী হয়েছেন আবদুল কালাম।   সাত. তিনি বিশ্বাস করতেন, সব স্বপ্ন অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত মহৎ যত বই আছে, সব পড়ে জ্ঞান অর্জন চালিয়ে যেতে হবে। যে হৃদয় দিয়ে কাজ করে না, শূন্যতা ছাড়া সে জীবনে কিছুই অর্জন করতে পারে না।   আট. আপাদমস্তক রাজনীতিবিহীন আবদুল কালাম ছাত্ররাজনীতি নিয়ে ভাবতেন। এ বিষয়ে তার স্পষ্ট উচ্চারণ, ‘যেখানে হৃদয় হবে ন্যায়-পরায়ণ, চরিত্রে থাকবে সৌন্দর্য, সেই রাজনীতিই আমরা চাই।’ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নোংরা রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ‘চাকরিপ্রার্থী’ না করে ‘চাকরিদাতা’ তৈরি করারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।   তার জীবনের স্মরণীয় কয়েকটি ঘটনা- * বাবার অভাবের সংসার। নুন আনতে পানতা ফুরায় অবস্থা। এজন্য কলেজে পড়ার সময় আবদুল কালাম বড় ভাইয়ের মুদি দোকানে বসে তেল, নুন, পিঁয়াজ, চাল, ডাল বিক্রি করতেন। কোনো কাজকেই তিনি জীবনে ছোট মনে করতেন না। আমিষে খরচ বেশি ভেবে নিরামিষ খেতেন। আজীবন তিনি নিরামিষ ভোজিই থেকে গেছেন।   *. দক্ষিণ ভারতের শ্রেষ্ঠ কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ভর্তির সুযোগ পান আবদুল কালাম। কিন্তু বাঁধ সাধে অর্থ। বোন জোহরা পাশে দাঁড়িয়ে নিজের সোনার বালা ও চেন বন্ধক রেখে প্রায় এক হাজার রুপীর ব্যবস্থা করে দেন।   * খাবারের জন্য আট বছর বয়সে সংবাদপত্র বিক্রি করতেন আবদুল কালাম। প্রতিদিন মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতেন পত্রিকা। তার থেকে প্রাপ্ত আয়ে নিজের অন্ন এবং সংসারে সহযোগিতা করতেন।ছোটকালে বোট চালিয়ে বাবাকে সহায়তা করতেন। সর্বোপরি, তিনি সাধনা আর উচ্চ মানবাবিকতার দ্বারা বিশ্বকে জয় করেছেন। এতে যেমনটি তিনি নিজেকে গড়েছেন একজন আদর্শবান মানুষ হিসেবে তেমনি বিশ্ববাসীকে দিয়ে গেছেন অনেক কিছুই। ফলে আজ কাঁদছে ভারতবাসী, কাঁদছি আমরা এবং কাঁদছে বিশ্ববাসী। তাই আফসোস! সত্যিই আমাদের দেশে এমন মানুষ যদি জন্ম নিতেন! লেখক : গবেষক ও কলাম লেখ। ই-মেইল: sarderanis@gmail.com

বিস্তারিত»

মতামত

একজন সালাহউদ্দিন কাদের ও  বিএনপির বিস্ময় এবং মৃত্যুদন্ডের ভবিষ্যত

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ: বিএনপি হতাশ, বেদনাহত এবং বিস্মিত। কেন? উত্তর হলো তাদের একজন সর্বোচ্চ পরিষদ স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যকে হাসিনা ওয়াজেদের অবৈধ সরকারের ক্যারিশমায় বিচারিক হত্যার পর্ব চূড়ান্ত করা হয়েছে।  তাই বিএনপি বিস্মিত। কিন্তু তারা ক্ষুব্ধ নয়। কেন নয়? তারা নিজেরাও তা জানে না। জানে কি? ভেবে দেখুন। বিএনপির এই অথর্ব ও অক্ষম অবস্থান ভবিষ্যতে যে আরো বিএনপির জায়ান্ট ও বাঘা নেতাদের মৃত্যুদন্ড দেয়ার পথকে প্রশস্ত করবে না তার গ্যারান্টি কে দেবে? সামনে কি বিএনপির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতাকে মৃত্যুদন্ড দেয়ার মত মামলা হাসিনা গংদের হাতে নেই? তখন আল্লাহ না করুন এমন কিছু একই ভাবে হলে নেতা কর্মীরা কি একইভাবে জবাব দেবেন? ভোরের সূর্য দেখেই কিন্তু দিনের হালচাল বোঝা যায়। বিএনপির ভেতরে মেধাহীন চাটুকারদের কারণে বিএনপির সমালোচনাকে বিএনপির প্রতি শত্রুতা হিসেবে ধরা হচ্ছে। যে কারণে জাতীয়তাবাদের পক্ষের লেখক সাংবাদিকরা রয়েছেন নিশ্চুপ। আর এতে বিএনপি ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে তার নিজের ভুলগুলো। যে ভুলগুলোর উপর জমা হচ্ছে প্রতিনিয়ত ভুলের পাহাড়। তারপরেও লির্লজ্জভাবেই আজকের লেখাটি লিখলাম। মৃত্যুদন্ড পাওয়া বিএনপির নেতা একসময়ের মন্ত্রী, তাকে বাংলাদেশের অন্যতম তুখোড় পার্লামেন্টারিয়ান বলা হয়; সেই সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পিতা ছিলেন অখন্ড পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পীকার এমনকি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতিও। তার পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর নাম শোনেন নাই বা জানেন না এমন ব্যক্তি অন্তত রাজনীতির লোক নয়।  চট্টগ্রামের উন্নয়নে ফজলুল কাদের চৌধুরীর অবদান যারা অস্বীকার করে তারা কোন মানুষের পর্যায়ের প্রাণী নয়। মরহুম শেখ মুজিবর রহমানের উন্নয়নে ও পরিবার চালানোয় তাঁর অবধান অনেকেই জানেন না। সেই ফজলুল কাদের চৌধুরীর সন্তান যিনি আপন যোগ্যতায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুসলমানদের জন্য গড়ে নিয়েছিলেন একটি নিজের একটি আসন, সেই সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী আজ শুনলেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের নিকৃস্টতম রায় ''মৃত্যুদন্ড বহাল'' আর বিস্মিত হয়ে বেদনায় আহত হয়ে হতাশা জানালো বিএনপি। কিন্তু বিএনপি কেন বিস্মিত হলো তা আমার বোধগম্য হলো না। একসময় নিজের নেতা কর্মীদের ধরে ধরে লাগাতার ক্রসফায়ারে হত্যা করা বিএনপি আজ হাসিনা গং কর্তৃক সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীদের মারার চূড়ান্ত আয়োজন করছে দেখে ক্ষুব্ধ না হওয়াই স্বাভাবিক বলে যদি কেউ কেউ মনে করে সেটি কি অস্বাভাবিক হবে ? নাকি রাজনীতিতে কেউ যাতে স্বমহিমায় গড়ে উঠতে না পারে হাসিনার মত তেমনি একই সামন্তরাল চিন্তাকে ধারণ শুরু করেছে বিএনপি নেতৃত্ব? অনেকদিন লিখি না। ভেবেছিলাম দেশের অর্থনীতি ও হাসিনা গংদের দম্ভের উৎস নিয়ে লিখবো। কিন্তু সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রতি তার দোল বিএনপির আচরণ দেখে আমি নিজেই বিস্মিত হয়ে গেলাম; কিন্তু আশ্চর্য হই নাই ; যেমন আশ্চর্য হয় নাই লাখ লাখ বিএনপির নেতা কর্মীরা। এই একটি আচরনই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় কেন বিএনপির জন্য আন্দোলনে নেতারা দুরে সরে ছিল? সবাই কি নিজেকে বাচাতে দুরে ছিল? নাকি আসলেই ভেতরে ভিন্ন কিছু রয়েছে? বিএনপির নেতা কর্মী হলে  আপনিই বুকে হাত রেখে বলুন বিএনপির জন্য আপনি কি নিজের জীবন বাজি রাখবেন? স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগে একসময় বিএনপির জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতো যে নেতা কর্মীরা তারা আজ জীবন বাজী রাখতে চায় না কেন? বিএনপি নেতৃত্ব কি কখনো তা অনুধাবনের চেষ্টা করেছেন? নাকি নেতৃত্বের চারপাশে পরগাছা, দাগ খতিয়ান বিহীন প্রানীদের চাটুকারিতায় বিমুগ্ধ হয়ে খোয়াবে মশগুল হয়ে আছেন? একবারও কি নেতারা হিসেব করেছেন জেনারেল জিয়াউর রহমানের বিএনপি আর আজকের বিএনপির পার্থক্য কোথায়? কেন আপনারা জিয়ার কাজগুলোকে এগিয়ে নেয়া তো দুরের কথা ধরেও রাখতেই পারেন নি? কেন মেধাবী মানুষের পরিবর্তে চাটুকার আর মেধাহীন লোকজনে ভরে যাচ্ছে চারপাশ? হটিয়ে দেয়া হচ্ছে তাদের যাদের অবদানে গড়ে উঠেছিল জাতীয়তাবাদী প্ল্যাটফর্ম যারা ধরে রেখেছে এই পর্যন্ত জিয়ার আদর্শকে। তাহলে এরা করা যারা জিয়ার দলকে জিয়ার আদর্শ ও কর্মসূচির বাইরে নিয়ে যাচ্ছে? বিএনপির ভবিষ্যত বিএনপিই নির্ধারণ করবে তাদের কর্মের ভেতর দিয়ে। প্রত্যেক ক্রিয়ার একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এ থেকে কারুর নিস্তার নেই। তা আল্লাহকে বাদ দিয়ে দিল্লিকে প্রভু মানলেও নিস্তার পাওয়া যাবে না। সাকা চৌধুরীর পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর অর্থায়নে ও পৃষ্ঠপোষকতায় আওয়ামী জাতির পিতা শেখ মুজিবর রহমান গড়ে উঠেছিলেন। মুসলিম লীগের নেতাদের মধ্যে রেষারেষির ফাঁকে শেখ মুজিব ফজলুল কাদের চৌধুরীর টাইম ভিড়ে যান সেদিন। শেখ মুজিবর রহমান সেদিন মুসলিম লীগই করতেন কংগ্রেস নয়। গোপালগঞ্জের বিখ্যাত নেতা পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী এবং আজকে যেটি বাংলাদেশ ব্যাংক সেটির সেই আমলের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ওয়াহিদুজ্জামান ঠান্ডা মিয়ার সাথে রাজনৈতিক ঠান্ডা লড়াইয়ে ঘি ঢালতেন শেখ মুজিবর রহমান। আর সেই ফাঁকে আনুকুল্য নিতেন ধনাঢ্য ফজলুল কাদের চৌধুরীর। রাজনীতি করার অম পরিবার চালানোর টাকা পয়সা এবং পশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থানকালীন সময়ে ফজলুল যাদের চৌধুরীর বাসায়ই থাকতেন শেখ মুজিবর রহমান। এগুলো আজকেও যারা পুরনো রাজনীতিক বা সাংবাদিক জীবিত আছেন তাদের অজানা নয়। সেই ফজলুল কাদের চৌধুরীর অর্থানুকুল্যে যে মুজিব পরিবার বেড়ে উঠেছে সেই পরিবারের সরাসরি বেনিফিসিয়ারী সন্তান মিসেস হাসিনা ওয়াজেদ; তার হাতেই আজ ফজলুল কাদের চৌধুরীর সন্তান সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী সংহার হচ্ছেন আর বিএনপি তা হতাশ হয়ে দেখছে। আফসোস। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে অনেকেই মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পশ্চিম পাকিস্তানে দেখেছেন। এর চাক্ষুস স্বাক্ষী বর্তমানে হাইকোর্টের বিচারপতি শামিম হাসনাইন, যিনি স্বাক্ষী দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু হাসিনার বানানো আদালত আর প্রসিকিউশনের কারণে তা ব্যর্থ হয়।  এরপর হিয়ারসে (শোনা কথা) এভিডেন্সের উপর ভিত্তি করে ভারতের নীল নকশা মোতাবেক সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে এই হত্যা প্রক্রিয়া হলো বাংলাদেশকে মুসলিম জাতিসত্বার অস্তিত্বকে ধংস করে দেয়ার অংশ; এটি ওপেন সিক্রেট। কিন্তু বিএনপির এই প্রতিক্রিয়ায় প্রশ্ন জাগে বর্তমান বিএনপিও কি ভারতের এই নীল্ নকশা বাস্তবায়নকে মৌন সম্মতি দিয়েছে? যদি না দেয় তবে তার প্রকাশ কোথায়? সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী যদি অপরাধীই হবেন তবে বিএনপির সংবিধান মোতাবেক একজন সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীকে যেভাবে বহিস্কার করার কথা তা করা হয়নি কেন? এর পাশাপাশি প্রশ্ন জাগে জেনারেল জিয়াউর রহমান যাদের নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে জাতীয়তাবাদ এগিয়ে নিয়েছিলেন সেই অবস্থান কি ভুল ছিল? জিয়াউর রহমান সেই মানুষগুলোকে (যেমন শাহ আজিজুর রহমান, আব্দুর রহমান বিশ্বাসসহ অনেকেই) নিয়ে যে দল গড়েছিলেন তা কি তাঁর ভুল পদক্ষেপ ছিল? যদি ভুল হয় তবে সেই ব্যাখ্যাও বর্তমান বিএনপিকে দিতে হবে। আর পরিস্কার করতে হবে বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান। যেনতেনভাবে বা ভারতের আনুকুল্য নিয়ে ক্ষমতায় গেলেই জেনারেল জিয়ার আদর্শ বা কর্মকে জিইয়ে রাখা যে যাবে না এটা হলপ করে যে কেউ বলে দিতে পারে। আর বাংলাদেশীদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা হাসিনা গংদের মতই সম্ভব হবে না। বর্তমানের নেতা কর্মী ও আগামীর নেতা কর্মীরারা বিএনপিকে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশপ্রেমিক মুসলমানদের প্রতিনিধিত্বশীল রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও  জেনারেল জিয়াউর রহমানের নিরলস পরিশ্রমের ফসল হিসেবে একইভাবে জনগনের সমর্থনে এগিয়ে নিয়ে যাবে কিনা তা আজ প্রশ্নবোধক হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইলিয়াস আলীর বিষয়ে বিএনপির অবস্থানের ব্যাখ্যা পরিস্কার হওয়া এবং বিএনপির দেয়া নিজ নেতা কর্মীদের ক্রসফায়ারগুলোর জবাবের মধ্যেই এর উত্তর নিহিত। সেই গল্পটি সংক্ষিপ্ত করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি ''একে একে নাৎসীরা সবাইকে মারলো আমি কোন প্রতিবাদ করি নাই। কিন্তু যখন তারা আমাকে মারতে আসলো তখন প্রতিবাদ করার আর কেউ নেই।'' বিএনপির নেতারা এটি অনুধাবন করলে তাদের লাভতো হবেই জাতিরও উপকার হবে অনেকখানি।

বিস্তারিত»

বিনোদন

কানাডায় ববিতার অন্যরকম জন্মদিন

বিনোদন ডেস্ক:সত্তরের দশকের জনপ্রিয় নায়িকা ববিতার জন্মদিন আজ। কিন্তু এবারের জন্মদিনটি তার কাছে অন্যরকম। কারণ একমাত্র পুত্র অনিক ইসলামের সঙ্গে কানাডায় জন্মদিন উদযাপন করছেন ববিতা। চিত্রনায়িকা ববিতার একমাত্র পুত্র অনিক ইসলাম কানাডার ওয়াটার লু বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে মাস্টার্স করছেন। তাই যখনই সুযোগ পান পুত্রের সঙ্গে সময় কাটাতে কানাডায় পাড়ি জমান তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় গেল মাসের শুরুর দিকে কানাডায় চলে যান ববিতা। সন্তানের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির পর, এবার জন্মদিনও উদযাপন করছেন তিনি। এদিকে ববিতার জন্মদিন উপলক্ষে কানাডায় একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে ববিতার নিকটজনরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, চিত্রনায়িকা ববিতার পুরো নাম ফরিদা আক্তার পপি। ১৯৫৩ সালে বাগেরহাট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা নিজামুদ্দীন আতাউর একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন এবং মা বি. জে. আরা ছিলেন একজন চিকিৎসক। বাবার চাকরি সূত্রে তার শৈশব এবং কৈশোরের প্রথমার্ধ কেটেছে যশোর শহরের সার্কিট হাউজের সামনে রাবেয়া মঞ্জিলে। চলচ্চিত্রাঙ্গনে প্রবেশের পর সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রশংসিত হন ববিতা। তিনি ২৫০টির অধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। পরপর তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও লাভ করেছেন। তবে গেল বছর আনুষ্ঠানকি ভাবে অভিনয়কে বিদায় জানান ববিতা।

বিস্তারিত»

স্বাস্থ্য ও রুপচর্চা

চালের কুড়ার তেলে অনেক গুণ

খাবারের স্বাদ বাড়াতে প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ বিভিন্ন রকমের ভোজ্য তেল ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু খাবারে অতিমাত্রায় ভোজ্যতেলের ব্যবহার রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। উচ্চ রক্তচাপ, হৃদপিণ্ডের ক্ষতি ও লিভারে সংক্রমণ ঘটানোর মূলেও ভূমিকা থাকে ভোজ্যতেলের। এসব তেলে ভালো ও মন্দ দুই ধরনেরই প্রভাব থাকে। সেজন্য নিজেদের সুস্থতা ধরে রাখতে খাবারে তেলের ব্যবহার কিছুটা কমানো সম্ভব, কিন্তু একেবারেই ব্যবহার বাদ দেয়া যায় কি? আর তাই ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের প্রভাব থেকেই যায়। এই ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে খাবার তেল হওয়া চাই ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল মুক্ত ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। চালের কুড়ার তেল এমনই একটি ভোজ্যতেল। খাবারের স্বাদ ঠিক রাখতে নিশ্চিন্তে এই তেল ব্যবহার করা যায়। চালের কুড়ার তেলে রয়েছে আরও অনেক উপকারী গুণ। নিচে তুলে ধরা হল। * শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করতে সক্ষম চালের কুড়ার তেল খুবই কার্যকর। * হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা বাড়ানো ও হৃদরোগ প্রতিরোধে এর কার্যকারিতার জন্য চালের কুড়ার তেলকে হার্ট ওয়েল হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। * এতে আছে প্রাকৃতিক গুন সম্পন্ন ভিটামিন-ই। এ ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট দেহের ফ্রি র‌্যাডিকেল দ্বারা ক্ষতি প্রতিরোধ করে এবং ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে। * চালের কুড়ার তেল বা রাইস ব্রান অয়েল প্রাকৃতিক ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ এবং শতভাগ কোলেস্টেরলমুক্ত। * এই তেলে ভিটামিন এ, ডি, ই ও ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড আছে। আমাদের দেহের হাড়, দাঁত ও চোখের জন্য খুবই উপকারী। * এই তেল রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। * চালের কুড়ার তেল রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক করে। রক্তচাপ কমাতে ও ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই তেলের জুড়ি নেই। * এতে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান আছে যা চর্মরোগ প্রতিরোধ করে এবং চর্মের মসৃণতা ও উজ্জ্বলতা বাড়ায়। * মনোপোজে যাওয়া নারীদের স্বাস্থ্য রক্ষায় এই তেল দারুণ ভূমিকা পালন করে। মনোপোজ পরবর্তী নারীদের নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার হাত থেকে বাঁচায়।

বিস্তারিত»

সম্পাদকীয়

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আশু করণীয়

সাজ্জাদ হোসেন রিজু:সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত একটি বিষয়। প্রতিদিন গণমাধ্যমে আমরা দেখতে পাচ্ছি সড়ক দুর্ঘনার অসংখ্য বীভৎস ছবি, দেখতে পাই স্বজন হারানো ব্যক্তিদের আহাজারি। ১৯ জুলাই সিরাজগঞ্জের সড়ক দুর্ঘটনায় আমরা হারিয়েছি ১৫ জন নিরীহ যাত্রী। ঈদের ছুটির সময়ে এরকম মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো পরিবারের জন্য সান্ত্বত্মনার বাণী আমাদের জানা নেই। কিন্তু কেন এই সড়ক দুর্ঘটনা? কেন অহরহ এই অকাল অপমৃত্যু? যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, বিআরটিএসহ যোগাযোগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কি সদুত্তর দিতে পারবেন? সড়কপথ একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু সেই সড়কপথ যদি হয়ে ওঠে যাত্রীদের জন্য মরণফাঁদ তাহলে তা কখনই জাতির জন্য মঙ্গল কিছু বয়ে আনবে না। আসলে, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দায়িত্ব যাদের, তারা সুদূরপ্রসারী চিন্তা-ভাবনা নিয়ে কাজ করেন না। তাছাড়া দুর্নীতি আর অনিয়ম তো রয়েছেই। বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কয়েকটি কারণ খুঁজতে গেলে যেগুলো পাওয়া যাবে তা হলো_ সরু রাস্তা ও রাস্তায় ডিভাইডার না থাকা : দেশের অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে আন্তঃজেলা মহাসড়কগুলোতে যেখানে যানবাহন খুব দ্রুতবেগে চলাচল করে। এসব সড়কে দ্বিমুখী (মুখোমুখি) যানবাহন চলাচল করলেও সড়কগুলো প্রশস্ত নয় এবং কোনো ডিভাইডার নেই। যার ফলে যানবাহনগুলো যখন পাশাপাশি চলে আসে তখন তাদের মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব না থাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। আর নিরাপদ দূরত্ব রাখতে হলে রাস্তা ছেড়ে যানবাহন নিচে নেমে আসে। ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। পুরনো ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন : ২৫ বছরের পুরনো যানবাহনগুলো ঢাকা শহর থেকে সরিয়ে নেয়ার একটি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল বছরখানেক আগে। কিন্তু তার বাস্তবায়ন আমরা দেখিনি। ঢাকার বাইরে অসংখ্য পুরাতন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলছে যেগুলো দুর্ঘটনা ঘটানো অন্যতম কারণ। উন্নতমানের ও টেকসহ সড়কের অভাব : আমাদের দেশের রাস্তা-ঘাটগুলোর বেলায় দেখা যায়, জোড়াতালি দিয়ে ওগুলো তৈরি করা হয়। তৈরির ছয়মাসের মধ্যেই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এমন অনেক রাস্তার নজির আছে এ দেশে। যে কোনো ধরনের সড়ক নির্মাণে আমাদের যত্নবান হতে হবে। সেটি যেন যুগোপযোগী, টেকসই ও সবার ব্যবহার উপযোগী ও পর্যাপ্ত প্রশস্ত হয় তার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম কখনই যেন গ্রহণযোগ্য না হয়। অদক্ষ চালক : অধিকাংশ দুর্ঘটনার জন্য অদক্ষ চালক দায়ী। এসব চালকের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। আবার এটাও সত্য যে, বিপুলসংখ্যক চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার মতো অবকাঠামো সরকারের এখনো নেই। সেটি সরকারেরই ব্যর্থতা। স্বাধীনতার ৪০ বছর পরে এসেও একটি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এমন বিশৃঙ্খল অবস্থা মেনে নেয়া অসম্ভব। ড্রাইভিং পেশার উৎকর্ষহীনতা : আমাদের দেশে ড্রাইভিংকে এখনো নিম্নমানের পেশা হিসেবে দেখা হয়। বাস ও ট্রাক ড্রাইভাররা দিনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৬-১৮ ঘণ্টাই পরিশ্রম করেন। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এভাবে পথঘাটে থাকতে থাকতে তাদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়। তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। যার ফলে তারা তাদের পেশায় মনোনিবেশ করতে পারে না। এটিও দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ। সনাতনী ট্রাফিক সিগনাল ব্যবস্থা : বাংলাদেশের ট্রাফিক ব্যবস্থা এখনো সনাতন পদ্ধতিতেই পড়ে আছে। ট্রাফিক সিগনালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন প্রয়োজন। গতি পরিমাপক, ওজন পরিমাপক, জিপিএস প্রযুক্তি ইত্যাদির অন্তর্ভুক্তি এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতার অভাব : সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে পাঠ্যবইতে সড়ক নিরাপত্তা ও আইন সম্পর্কিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিকল্প যানবাহনের (রেল, লঞ্চ ইত্যাদি) সুবিধা পর্যাপ্ত না থাকা : আমাদের দেশে অনেক জেলা ও উপজেলাই এখনো রেল যোগাযোগের বাইরে রয়েছে। সড়কপথের বিকল্প হিসেবে রেলপথ ও জলপথের প্রচলন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। কারণ একটি নির্দিষ্ট পথে যখন যাত্রীসংখ্যা বেশি হবে তখন স্বভাবতই বিড়ম্বনা বাড়বে। রেল যোগাযোগ সবার কাছে পেঁৗছে দিতে পারলে সড়কপথের ওপর থেকে চাপ কমবে। যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের অভাব : বিদ্যমান ট্রাফিক আইন সংশোধন ও তার যথাযথ প্রয়োগ একান্ত প্রয়োজন। রাস্তাঘাটে যেসব অবৈধ চালক, ফিটনেসহীন গাড়ি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আটক করে তার অধিকাংশই অর্থের বিনিময়ে বৈধ হয়ে যায় বা মামলা কাগজ-কলমেই থাকে। আমার মনে হয়, উপরোক্ত ব্যবস্থাগুলো স্বল্পমেয়াদে ও দীর্ঘমেয়াদে বিভক্ত করে এখনই কাজ শুরু করা গেলে সড়ক নিরাপত্তায় একটি ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে। আর এজন্য সরকারকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা আর এত অকালমৃত্যু দেখতে চাই না। আমরা চাই নিরাপদ সড়ক, ঝুঁকিমুক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা।

বিস্তারিত»

লাইফস্টাইল

ব্রণ মুক্ত থাকতে…

ব্রণের সমস্যায় আমরা সবাই কমবেশি ভুগে থাকি। সাধারণত ত্বকের তৈলগ্রন্থি বা ওয়েল গ্ল্যান্ড ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে সংক্রমিত হলে ব্রণের সমস্যা হয়। ত্বকের উজ্জ্বলতা আর সৌন্দর্য নষ্ট করতে ব্রণ অনেকাংশেই দায়ি। তবে খুব সহজেই ব্রণের সমস্যা দূর করা যায়। শুনে অবাক হচ্ছেন? জেনে নিন ঘরোয়া উপায়ে ব্রণের দাগ দূর করার কিছু উপায়- * সমপরিমাণ কাঁচা হলুদ ও চন্দন কাঠের গুঁড়া একসঙ্গে নিয়ে পরিমাণমতো পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। এরপর পেস্টটি আক্রান্ত জায়গায় লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। এবার ঠাণ্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে নিলেই হল। * জয়ফল, মধু ও দুধ সমপরিমাণে নিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। রাতে ঘুমানোর আগে মুখে লাগিয়ে রাখতে হবে। সকালে উঠে মুখ ধুয়ে নিন। মাত্র ক’দিনেই পাবেন কাঙ্ক্ষিত ফল। * রাতে ঘুমানোর আগে ডিমের সাদা অংশ ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখতে পারেন। * ব্রণ দূর করতে তুলসি পাতার রস খুব উপকারী। আক্রান্ত স্থানে লাগানোর পর শুকিয়ে এলে হালকা গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। * আপেল এবং মধু ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। মিশ্রণটি ব্যবহার করতে পারেন সপ্তাহে ৫ থেকে ৬ বার। এক সপ্তাহ পরে পরিবর্তনটা নিজেই বুঝতে পারবেন।

বিস্তারিত»

শোক-সংবাদ

বিশ্বনাথের বাহাড়া দুবাগ গ্রামের প্রবীন মুরব্বি হাজী গয়াছ সাহেবের ইন্তেকাল

আব্দুল হামিদ খান সুমেদ:-বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বাহাড়া দুবাগ গ্রামের প্রবীন মুরব্বি,যুক্তরাজ্য প্রবাসী কয়েছ মিয়া ও যুক্তরাজ্য যুবদল নেতা নেছার আহমদ এর বড় চাচা জনাব হাজী গয়াছ মিয়া সাহেব(৯০)আজ বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩ঘটিকায় উনার নিজ বাড়ীতে ইন্তেকাল করেন.(ইন্নালিল্লাহী ওয়াইন্না ইলাহী রাজিউন),মৃত্যুকালে উনি চার ছেলে ও দুই মেয়ে সহ অসংখ্য আত্তীয় সজন রেখে যান.এদিকে মরহুমের জানাজার নামাজ আজ রাত ৯ ঘটিকার সময় বাহাড়া দুবাগ জামে মসজিদে অনুষ্টিত হবে.যুক্তরাজ্য প্রবাসী কয়েছ মিয়ার পিতা ও যুবনেতা নেছার আহমদের চাচার ইন্তেকালে দৌলতপুর ইউনিয়ন এডুকেশন এন্ড ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করে উনার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানান.

বিস্তারিত»

সাম্প্রতিক খবর সর্বাধিক পঠিত

জরিপ

Loading...

Archive