আবুল বাশার শেখ: ভোরের শিশির ভেজা ঘাসের উপর হাটতে হাটতে অনেকটা পথ অতিক্রম করে ক্লান্তির আবেশ জড়িয়ে ধরলে নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারলনা ত্রিশ পেরুনো পরেশ। আধো ভেজা ঘাসের উপর দপ করে বসে পড়ল। ভাবতে লাগল পেছনে ফেলে আসা জীবনের কথা। পরশ পাথরের মতো নিজেকে সমাজে বিলিয়ে দিতে গিয়ে হারিয়ে গেছে ভালবাসার সবচেয়ে কাছের মানুষটি। কি দোষ ছিল তার তাও সে ভালভাবে জানতে পারেনি। দুঃখটা ওখানেই। স্কুল-কলেজ জীবনে সবাই তাকে কবি বলে ডাকতো কেননা কথার ফাঁকে ফাঁকে বেরিয়ে আসতো কতনা মনোমুগ্ধকর ছড়া-কবিতা। বন্ধুরা তাই হেয়ালী করেই কবি ডাকতে শুরু করলো। ফুল, পশু, পাখি, বৃক্ষ, সমাজ, গ্রাম, দেশ, মাটি ও মানুষকে নিয়ে হাজারো ছড়া-কবিতা তার লেখা হয় স্কুল-কলেজ লাইফে। এই কলেজ লাইফেই ঘটে তার জীবনের বড় বিপত্তি। তার কবিতায় ছেলে বন্ধুরা যেমন মুগ্ধ ছিল সে সাথে মেয়ে বন্ধুরাও কিন্তু কম ছিলনা। মেয়ে বন্ধুর মধ্যে কানিজ ছিল তার সবচেয়ে কাছের কবিতা পাগল ভক্ত। যদি কোন কবিতা লেখার পড় তাকে দেখানো না হতো তবে আর রক্ষে নেই, সারা দিন কোন কথা বলবে না আর প্রথম ক্লাসের পর দ্বিতীয় ক্লাস করবে না এরপর আবার গুমড়ো মুখে তৃতীয় ক্লাস করবে। এটা যেন নিয়মিত রুটিন হয়ে গেছে। আর তাই মাঝে মাঝে মজা করার জন্য পরেশ নিজে থেকে এ কাজটা করে থাকতো। একবার কলেজের সব বন্ধুরা মিলে ১৪ ফেব্র“য়ারী বিশ্ব ভালবাসা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিল। তৈরি করল ভালবাসা দিবসের কর্মসূচী। কর্মসূচির মধ্যে ছিল ‘মুক্ত মতে ভালবাসার প্রকাশ’ প্রধান একটি আলোচ্য বিষয়। সেদিন ভোরের সূর্যটা নতুন আভা ছড়িয়ে ফুলে ফুলে ঢেলে দিল ভালবাসার পরশ আর ফুলগুলো ভালবাসায় সিক্ত হয়ে বাহারী রূপের সৌরভ সবার মাঝে ভাগ করে দিতে লাগল। পরেশ ছন্দ কবিতায় ভালবাসার আবেশ জড়িয়ে প্রকাশ করল স্বপ্নচারী ভালবাসার গল্প। মানু
আমার দেশের ফলের গান
নাজমুল ইসলাম মকবুল
আমার দেশের মাটি এতোই খাটি সোনার চাইতে দাম
এই মাটিতে ফসল ফলে কাঠাল আম আর জাম।।
কমলা তাল আনারস কলা রসে ভরা লিচু
আমড়া ডালিম নারকেল পেয়ারা আরও অনেক কিছু
বরই তরমুজ বাঙ্গি চিনার আতা গোলাপ জাম।।
জলপাই পেপে কামরাঙ্গা গাব নাশপাতি কৎবেল
ডেউয়া ডেফল লটকন মাটাং আঙ্গুর ও আপেল
টেকাটুকি আনার জামরুল মন কাউ পানিজাম।।
লুকলুকি কেউন জাম্বুরা পাম আমলকি আর চেরী
শালুক হিংরাই ভেট লেওইর ডাব হরতকী স্ট্রবেরী
জানতে হবে চিনতে হবে এসব ফলের নাম।।
সুলায়মান আল মাহমুদ: বাংলাদেশ পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম উদার গণতান্ত্রিক দেশ। কিছুদিন পূর্বেও বিশ্বের কাছে এই পরিচয়ে গর্ববোধ করতেন বিশ্বের দেশ-বিদেশে অবস্থানরত কোটি কোটি বাংলাদেশী কিন্তু বাঙ্গালী নয়। দুঃখজনক হলেও সত্য যে দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পরিক্রমায় অর্জিত বাংলাদেশের প্রশংসনীয় গণতন্ত্র আজ ধ্বংসের পথে। এর একটাই কারণ বর্তমান ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর ক্ষমতায় টিকে থাকর স্বপ্ন। পৃথিবীর ইতিহাসে কোন সরকারের আমলেই সাড়ে ৪ বছরে এতো গণহত্যার ঘটনা ঘটেনি। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর পরই পিলখানা ট্রাজেডী বা বিডিআর বিদ্রোহী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ৬৮ জন চৌকষ সেনা কর্মকর্তা হত্যার মাধ্যমে গণহত্যার পরিক্ষামূলক পদ্ধতি প্রয়োগ শুরু করে। সময়ের ধারাবাহিকতায় জাতিকে পর্যায়ক্রমে মীরসরাইয়ের সড়ক দুর্ঘটনার নামে অর্ধশতাধিক স্কুলছাত্রের নৃশংস মৃত্যু, আশুলিয়া তাজরিন ফ্যাশনে দেড় শতাধিক নিরীহ শ্রমিক হত্যা, আল্লামা সাঈদীর রায় পরবর্তী আন্দোলনে দেশব্যাপী দেড় শতাধিক মুসল্লীকে হত্যা, সাভারে রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে ১২ শতাধিক নিরীহ শ্রমিক এবং সর্বশেষ ৫ ও ৬ মের শাপলা চত্বরে গভীর রাতে ঘুমন্ত নিরীহ হেফাজতে ইসলমের উপর গণহত্যার নৃশংসতা বিশ্বের বুকে আমাদের মাথা নিচু করে দিয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চ্যানেলগুলোতে প্রধানমন্ত্রীকে মিথ্যাবাদী বলার দৃশ্য বর্তমান সরকারের মুখোশ উন্মোচন করেছে। যখন এই লেখাটি লিখছি তখন সারাদেশে ১ মাসের জন্য সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। সুতরাং বাকশালী শাসনের দ্বারপ্রান্তে আমা
গদির জ্বালা বড়ই জ্বালা বাড়ে পানি ঢালিলে
নিজের উপায় করে ভাইরে ক্ষমতা পেলে।।
মায়াকান্না দেখায় ভাইরে নির্বাচনের আগে
হাতে পায়ে গলায় ধরে ভোট ভিক্ষা মাগে
এসব কিছু ভুলে যায় ভাই চেয়ারে বসিলে।।
ভোটের আগে বলতে থাকে মধুর মধুর কথা
বস্টন মে ১লা, ২০১৩
ডি-ডে যোদ্ধাদের ওমাহা বীচে “রিট্রিট” বা পলায়ন করতে চাইলেও পেছনে যাবার কোন পথ ছিল না আমেরিকান সৈন্যদের। শুধু ছিল মৃত্যু, সামনে জার্মানদের মেশিনগানের গুলি, আর পেছনে অতলান্ত সাগর জল; ডুবে মরা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না তাদেঁর।এই সেই ওমাহা বীচ! মানুষ কেন যে যুদ্ধে লড়তে যায়? এই এক প্রশ্নটাকে অনেকাবার জানতে চেয়েছি, অনেক উত্তর বের করতে চেয়েছি। আমেরিকা আসবার কিছুদিন পর এক বৃদ্ধ নরমান্ডি যোদ্ধার সাথে আমার দেখা হয়েছিল। বেচেঁ যাওয়া সৈন্য, নাতি-পুতি নিয়ে বেড়াতে আসা। তারপর সেই ভয়াবহ নরমান্ডি যুদ্ধের যত কথা, যত অজানা তথ্য, বেঁচে যাবার সৌভাগ্য। আমিও সবে মাত্র ডি-ডে পড়লাম “বস্টন হেরাল্ডে”। তখনো পাবলিক লাইব্রেরি যাওয়া আসা তেমন হয়নি। আজ নামটাও মনে নেই, লিখেও রেখেছিলাম। ছবি নেবার কোন উপায় ছিল না তখন। আজ কত না কাজে আসতো, আমার লেখায় একটা প্রাণ পেয়ে যেতো। প্যারিসের একটু উত্তরে আমরা দীপকের বাসায় উঠেছি, দীপক আমার অনুজ। কোথায় এলাম দীপকবাবু ? কেমন চেনা না মনে হয়, এখানে তো অনেক হেটেঁছি মনে হয়।
ঢাকা: সরকারি অনুদানে ছবি নির্মাণের জন্য একটি শিশুতোষ চলচ্চিত্রসহ সাতটি গল্পের নাম চূড়ান্ত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। চূড়ান্ত নির্বাচিত গল্পগুলো হলো ‘কাগজের ফুল’, ‘কাঁটা’, ‘খাঁচা’, ‘যৈবতী কইন্যার মন’, ‘রেইনকোট’, ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্প’ ও ‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’। জানা গেছে, ৮০টি গল্পের মধ্য থেকে বাছাই করে সাতটি গল্প চূড়ান্ত করা হয়েছে । প্রতিটি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য ৩৫ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। পাশাপাশি থাকবে এফডিসির কারিগরি সহযোগিতা। অনুদান পাওয়া গল্পগুলোর মধ্যে প্রয়াত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের ‘কাগজের ফুল’ গল্প নিয়ে ছবি বানাবেন তাঁর স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ। চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করবেন তিনিই। প্রয়াত নাট্যকার সেলিম আল দীনের নাটক ‘যৈবতী কইন্যার মন’ অবলম্বনে ছবি নির্মাণ করবেন চলচ্চিত্রকার নারগিস আক্তার। আক্তারুজ্জামান ইলিয়াসের গল্প ‘রেইনকোট’-এর চিত্রনাট্য তৈরি করবেন জাহিদুর রহিম অঞ্জন।তিনি ছবিটি পরিচালনাও করবেন। হাসান আজিজুল হকের গল্প অবলম্বনে খান সরফুদ্দিন মোহাম্মদ আকরামের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত হবে ‘খাঁচা’। শহীদুল জহিরের গল্প ‘কাঁটা’ অবলম্বনে ছবি নির্মাণ করবেন টোকন ঠাকুর। আনিসুল হকের ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্প’ অবলম্বনে শাহ আলম কিরণের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত হবে ‘একাত্তরের মা জননী’। একমাত্র শিশুতোষ ছবি ‘একাত্তরের

দেশটা লুটিয়া খাইলোগো রাক্ষসের দলে
দেশটা রসাতলে নিলোগো রাক্ষসের দলে
তলাবিহীণ ঝুড়ি করলো ভাসে নয়ন জলেগো রাক্ষসের দলে।।
ভোটের আগে জনগনের হাতে পায়ে ধরে
বাড়ী গিয়ে সালাম কালাম কতো কিছু করে
এটা দেবো সেটা দেবো কতো কিছু বলেগো রাক্ষসের দলে।।

আজকের লেখা লবণ বেগমকে নিয়ে। লবণ বেগমকে নিয়ে লেখার একটা প্রেক্ষাপট আছে। সেটা হল, লবণ বেগম এমন এক মায়ের মেয়ে, যে মাকে ‘আজাদ প্রোডাক্টস অ্যাওয়ার্ড-রত্নগর্ভা মা’ হিসেবে অভিষিক্ত করে আজকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। এই মায়ের সন্তানরা প্রশাসন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, আইন-শৃংখলা বাহিনী, শিক্ষকতা ইত্যাদি পেশার সঙ্গে যুক্ত। রত্নগর্ভা মায়ের ছেলেমেয়েরা সুশিক্ষিত, মেধাবী ও প্রতিশ্র“তিশীল এতে কোন সন্দেহ নেই। লবণ বেগম পড়াশোনা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সমাজকল্যাণে মাস্টার্স। তবেঃএই ‘তবে’র অংকটা সামনে রেখে আমার চোখ ঝাপসা হয়ে উঠল। ঝাপসা চোখে যে ছবিটা আমি আঁকার চেষ্টা করছি তা লবণ বেগমের। ছবিটা স্পষ্ট হওয়ার পর মনে হল, লবণ বেগম যদি আমার আউলা-ঝাউলা জীবনের সঙ্গে গাঁটছড়া না বেঁধে অন্য কারও সঙ্গে তার জীবন শুরু করত, তাহলে সেই জীবনের রূপ-রস-গন্ধ নিশ্চয়ই অন্যরকম হতো!

তুমি সুন্দর সুন্দরতম
আগামীর কল্লোল!
নৌকার কান্ডারী;
জননেত্রীর স্নেহভাজন
আপোষহীন সংগ্রামী
তুমি মোদের প্রেরণা।

তুমি হয়ে গেছ বাংলাদেশ
আবদুস সামাদ রাজু
এত কষ্ট এত নির্যাতন
তবু ধৈর্য!
জীবন তোমার মৃত্যুর প্রিয়া
ঘরে তুলে নিবে যে কোন সময়,
মিলনের সেই টানে
নির্ভার, তুমি থোড়াই কেয়ার

