
মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক,ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি ৪ আগষ্ট ঃ শিক্ষা দেয়ার মহান ব্রত নিয়ে যারা শুরু করা ভালুকা এ্যাপোলা ইন্সটিটিউশন অব কম্পিউটার ফলাফলের দিক দিয়ে সুচনা লগ্ন থেকেই সফলতার মুখ দেখে আসলেও জোটেনি অবকাঠামোগত রাস্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা।আর এ নিয়ে কোন ক্ষোভও নেই প্রতিষ্ঠানে কর্তব্যরত শিক্ষক/শিক্ষার্থীদের মধ্যে।নেই চাওয়া পাওয়ার হিসেব নিকেশও।লক্ষ্য কেবল একটাই শিক্ষার্থীদের ফলাফলের গুনগত মান বৃদ্ধি করা।আর এ ভাবেই নিরবে নিভৃতে চলছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম।শুরু থেকে ১১টি ফলাফলের মধ্যে বোর্ডে ১ম স্থান অধিকারের গৌরবও রয়েছে তাদের প্রাপ্তিেেত ।
প্রকাশ,১৯৯৬ সালে ৩ ও ৬ মাস মেয়াদী কম্পিউটার প্রশিক্ষন কোর্স চালুর মাধ্যমে (বছরে) মাত্র ৪০জন শিক্ষার্থী দিয়ে অভিষেক ঘটে এ প্রতিষ্ঠানটির।শুরু থেকেই সেবার মনোভাব নিয়ে চালু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকৃষ্ঠ করে ফেলে অনেকটা যাদু’র মতোই।ছাত্র/ছাত্রীদের বিচরন ও এলাকায় উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ প্রশিক্ষনের লক্ষ্য নিয়ে গড়ে উঠা এ প্রতিষ্ঠানটিকে কলেজে রুপান্তরিত হওয়ার আবহ তৈরী করে দেয়।এ অনুপ্রেরনাকে পুঁজি করে ২০০০/২০০১ শিক্ষা বর্ষে বাংলাদেশ কারিগরী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২৫জন শিক্ষার্থী নিয়ে কম্পিউটার অপারেশন শাখা চালুর মধ্য দিয়ে শুরু হয় কলেজটির পথচলা।শুরু থেকেই শিক্ষার গুনগত মান বৃদ্ধির স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা এ প্রতিষ্টানটিকে একদিনের জন্যও পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।১ম বছরের ফলাফলেই ৬জনের প্রথম বিভাগ প্রাপ্তি ও পাশের হার ৭০%হওয়ায় এলাকাবাসীর দৃষ্টি কাড়ে সংশ্লিষ্ঠরা।শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন বিনোদন মুলক কার্যক্রম প্রতিষ্ঠানের দিকে ছাত্র/ছাত্রী আকৃষ্ঠে আরো সহায়ক হয়।কয়েক বছর এভাবে চললেও চাহিদার সাথে তার মিলাতে গিয়ে ২০০৬ সালে চালু করা হয় হিসাব রক্ষন শাখা।প্রতি শাখায় ২৫জনের ব্যাচের নির্দেশনা থাকলেও শিক্ষার্থীদের চাহিদার কারনে ৩০জনের ব্যাচ নিয়েই তাদের শুরু থেকে চলতে হচ্ছে।কার্যক্রম পরিচালনার চলমান পরিক্রমায় ভালুকা এ্যাপোলো ইন্সটিটিউট অব কম্পিউটার বর্তমানে ব্যাংকিং ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন শাখা বৃদ্ধি করায় মোট ৪টি শাখায় বিস্তৃতি লাভ করেছে।প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ১১টি পাবলিক পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছে এ প্রতিষ্ঠান।তার মধ্যে ৮টি ফলাফলেই শতভাগ সাফল্য অর্জিত করে প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করেছে শিক্ষার্থীরা।কৃত্রিম হাসি দিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর গিলতে হয়নি একবারও।বাকাশিবো’র ফলাফল তালিকায় প্রাতিষ্ঠানিক লড়াইয়ে ২০০৭ সালে ১ম স্থান,২০০৯সালে ২য় স্থান,২০০৬ সালে ৪র্থ স্থান লাভ করে এ্যাপোলো।২০১১সালের ফলাফলে বোর্ডের রেংকিং টপ-২০’তে ১৯ তম স্থান অধিকারী হয় এটি।সম্প্রতি প্রকাশিত ২০১২ সালের ফলাফলেও এর ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়েছে।মোট ৫৩জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪জন জিপিএ-৫ বা (অ+) সহ শতভাগ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।শিক্ষা সফর,বাস্তব প্রশিক্ষন,সামাজিক বনায়ন,পরিবেশ সচেতনতা সহ সামাজিক বিভিন্ন প্রশংসনীয় কর্মকান্ডে সম্পৃক্ততা রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।ভালকে উৎসাহ ও মন্দকে বর্জনের মানষিকতায় গড়ে তোলা শিক্ষার্থীদের বিশাল সু-শৃংখল টিমটির কার্যক্রম অনেকটা পারিবারিক বলয়ের মধ্যে।শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা ও শিক্ষকদের নিবির পর্যবেক্ষন থাকায় কার্যক্রমে ব্যাত্যয় ঘটছেনা।
ফলাফলের প্রাপ্তিতে অহংকার করার পর্যায়ে থাকা এ প্রতিষ্ঠানটি সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে কতোটুকু তা সহজেই যে কাউকে কৌতুহলী করে তোলতে পারে।প্রতিটি সরকার বাজেটে শিক্ষাকেই অগ্রাধিকার ও সর্বোচ্চ বরাদ্ধ দিয়ে আসলেও এ প্রতিষ্ঠানের ভাগ্যে তার ছিঁেট ফুটোও জোটেনি।সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রনালয়,জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সহযোগীতায় সামর্থবান সকলের নিকট বার বার লিখিত কিংবা মৌখিক সকলভাবেই প্রচেষ্ঠা চালিয়েও দায়িত্বশীলদের দৃষ্টি কাঁড়তে সক্ষম হননি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ঠরা।প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে আসার সুবাদে অনেককেই প্রতিশ্রুতি দিতে হলেও পরে আর বেশী দিন মনে রাখতে পারেননি তাঁরা।উপজেলা সদরের
প্রান কেন্দ্রে শহীদ নাজিমউদ্দিন রোডে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসা প্রতিষ্ঠানটি পৌর এলাকার ৪নং ওয়ার্ডে নিজস্ব জায়গা থাকলেও আর্থিক অসঙ্গতির কারনে নিজ পায়ে দাঁড়াতে পারছেনা।তেমনি উপজেলার বান্দিয়ায় ছাত্রবাসের জন্য নির্ধারিত স্থানটিও একই কারনে অবহেলিত হয়ে আছে।ফলাফলের প্রাপ্তিতে সমৃদ্ধ এ প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই যেমন ছাত্র অন্বেষনে বের হতে হয়নি তেমনি বর্তমানে ভর্তি পরীক্ষা নিয়েও শিক্ষার্থীর ভিড় কমাতে পারছেনা।ফলাফলের উৎকর্ষতা এ দিক দিয়ে জৌলুস এনে দিলেও অবকাঠামোগত ভাবে রয়েছে বিশাল শুন্যতায়।প্রয়োজনীয় কক্ষ ও মাঠ না থাকায় ’সাধ থাকলেও সাধ্যের অভাবে’ শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে বিভিন্ন ইনডোর ও আউটডোর খেলাধুলা এবং বিনোদন মুলক কার্যক্রম থেকে।সব সমস্যার সমাধান ঘটতে পারতো কলেজের নির্ধারিত স্থানটিতে স্থানান্তরিত হতে পারলে।সার্বিক বিষয় নিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ এ.আর.এম শামছুর রহমানের দৃষ্ঠি আকর্ষন করা হলে তিনি এ প্রতিনিধেকে জানান,সহযোগীতা পেতে প্রয়োজনীয় সকল প্রচেষ্ঠাই করা হয়েছে কিন্তু আশাব্যাঞ্জক সাড়া মেলেনি।প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা যে সময়টুকু পায় তা শিক্ষার্থীদের পিছনে এবং শিক্ষার কাজেই ব্যায় করে থাকে।বাড়তি লবিং করার সময় এমনিতেও নেই আর এ দিকে ঝুঁকে থেকে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব পড়–ক সেটা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ঠরাও চায়না।তবে শিক্ষার্থীদের চাহিদা মোতাবেক প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন রয়েছে এবং কোন একদিন হয়তো সেটিও পুরন হতে পারে বলে আশাবাদী তিনি।
উল্লেখ্য,প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা শামসুদ্দিন আহম্মদ ও জমিদাতা মোহাব্বত আলী খান এবং ডাঃ মাকসুদা বেগম।পদাধিকার বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সভাপতির দায়িত্ব পালন করে থাকেন।শিক্ষার ব্রত নিয়ে এলাকার প্রতিষ্ঠান বিমুখ ছাত্র/ছাত্রীদের পড়ালেখায় নিয়মিত করে এলাকাবাসীর প্রশংসা পাওয়া প্রতিষ্ঠানটি সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার বন্ধাত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে উন্নয়নের হাতকে সম্প্রসারন করতে সংশ্লিষ্ঠ কর্তাব্যাক্তিদের ঘুম ভাঙবে এ প্রত্যশা অভিভাবক সহ সকল সচেতন মহলের।
Add Your Comment
- ৩৪তম বিসিএসের আসন বিন্যাস সম্পন্ন
- বাকৃবিতে ভেটেরিনারী কারিকুলাম শীর্ষক ওয়ার্কসপের উদ্বোধন
- রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চায়
- সিলেট বিভাগের ৪০টি কলেজে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু
- আশরাফুল গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে
- হরতালের কারণে মঙ্গলবারের এইচএসসি পরীক্ষা শনিবার
- বাকৃবি ছাত্রলীগের নতুন কমিটি বাবু সভাপতি সাইফুল সম্পাদক
- শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের সূর্যমণি
- ভালুকার ধলিয়া স্কুলের ভবন ঝুঁকিপুর্ন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ,ক্লাশে যেতে অনিহা
- এসএসসি’র ফলাফল,উচ্ছাস আর উল্লাসে মেতে উঠে ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

