
বিশেষ প্রতিনিধি,১৩ আগস্ট:কেবলমাত্র জিপিএর ভিত্তিতে মেডিকেলে ভর্তির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে, মেডিকেলে ভর্তির এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা।
আজ বিকালে জনস্বার্থে রিট আবেদনটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ড. ইউনুস আলী আকন্দ।
রিটে সরকার, শিক্ষা সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে (ডিজি) বিবাদী করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিটের শুনানিতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইউনুস আলী আকন্দ।
আজ সকালে শিক্ষার্থীরা ফার্মগেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বেলা ১১টার দিকে সার্ক ফোয়ারার সামনে জড়ো হন। এ সময় তাঁদের হাতে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড ছিল।
সকাল ১০টার দিকে শহীদ মিনারের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরের দিকে একই দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন আরো কিছু শিক্ষার্থী ।
পরীক্ষা পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবিতে তারা বিকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেবেন। এছাড়া মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শহীদ মিনারে আবারো অবস্থান ধর্মঘটে বসবেন বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীরা সরকারের এ সিদ্ধান্তকে প্রহসনমূলক আখ্যায়িত করেছে। গত বছর যারা ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে চান্স পান নি অথচ এবার পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী ফেরদৌসী আরা বলেন, “অন্তত সাত হাজার শিক্ষার্থীর এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ৫ করে রয়েছে। তাদের মধ্য থেকেই ভর্তির জন্য বাছাই করা হবে। যাদের জিপিএ একটু কম, তারা তাহলে কী করবে? ভর্তি পরীক্ষার সময় কাছাকাছি চলে এসেছে। তাই এখন তো আর বুয়েট বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আলাদা করে প্রস্তুতি নেওয়া যাবে না।”
ফেরদৌসী বলেন, “আমাদের মেধা যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়ার জন্য ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হোক।”
গতকাল রোববার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ভর্তি-প্রক্রিয়া নীতিমালা প্রণয়ন-সম্পর্কিত সভায় সরকার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফলের ভিত্তিতে এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে আবেদনের জন্য ওই দুই পরীক্ষা মিলিয়ে কমপক্ষে জিপিএ-৮ থাকতে হবে। জিপিএ-৭ পাওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকারি কলেজগুলোতে এমবিবিএস কোর্সে আসনসংখ্যা দুই হাজার ৮১২টি ও বিডিএস কোর্সে ৫৭৮টি। বেসরকারি কলেজগুলোতে এই সংখ্যা যথাক্রমে চার হাজার ২৭৫টি ও ৮৫০টি।
এদিকে ভর্তি পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গতকাল বিকেল থেকেই প্রচারণা শুরু করেছে কোচিং সেন্টারগুলো। তারা ছাত্রছাত্রীদের কাছে মুঠোফোনে খুদেবার্তা পাঠায় এবং বিভিন্নভাবে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার কথা বলে।
এবার আটটি সাধারণ বোর্ডে মোট সাত লাখ ৪২ হাজার ৪৪৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন পাঁচ লাখ ৬৭ হাজার ৯৪০ জন। আট বোর্ডে বিজ্ঞান শাখায় পাসের হার ৭৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ, মানবিকে ৭০ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষায় পাসের হার ৮৪ দশমিক ১৭ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫১ হাজার ৪৬৯ জন শিক্ষার্থী।
ঢাকা বোর্ডের অধীন বিদেশের পাঁচটি কেন্দ্রে ১৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৬৯ জন। পাসের হার ৯৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩২ জন।
Add Your Comment
- ৭ বিভাগে বিসিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত : প্রশ্ন ফাঁসের গুজব
- উদয়নে অর্ধশতাধিক ছাত্রীর স্কুল ড্রেসের জামার ফুলহাতার অর্ধেকটা কেটে দিয়েছেন মন্ত্রীর স্ত্রী
- সরকারি হলো ৮ কলেজ
- চবি ছাত্র নিহতের জের : অবরোধ, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত
- ৩৪তম বিসিএসের আসন বিন্যাস সম্পন্ন
- বাকৃবিতে ভেটেরিনারী কারিকুলাম শীর্ষক ওয়ার্কসপের উদ্বোধন
- রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চায়
- সিলেট বিভাগের ৪০টি কলেজে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু
- আশরাফুল গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে
- হরতালের কারণে মঙ্গলবারের এইচএসসি পরীক্ষা শনিবার

