মঙ্গলবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০; ২১ মে ২০১৩;
সর্বশেষ খবর: এভারেস্ট জয়ের পর বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু       যুক্তরাষ্ট্রে টর্নেডোর তাণ্ডবে ২০ শিশুসহ নিহত ৯১       ৩ সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত       আইনি জটিলতায় ফের আটকে গেলো ডিসিসি নির্বাচন       বিএনপিকে দোয়া মাহফিলও করতে দেয়নি পুলিশ      
নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে ঈদের পরপরই ঘোষণা ছাত্রদলের নতুন কমিটি হবে
নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে ঈদের পরপরই ঘোষণা ছাত্রদলের নতুন কমিটি হবে

বিশেষ প্রতিনিধি,১৯ আগস্ট:ভাইদের পিছনে দৌড়িয়ে লাভ নাই, কমিটি দেব আমি। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার এমন ঘোষণার পর ছাত্রদলের ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। শেষ পর্যন্ত ঈদের পরপরই ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। ওমরা পালন শেষে দেশে ফিরে তিনি সর্ব প্রথম ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করতে পারেন বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। সিনিয়র-জুনিয়র সমন্বয়েই নতুন কমিটি করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। যদিও ঈদ একেবারেই সামনে তারপরও নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয় সংগঠনের নেতাকর্মীদের পদভারে মুখরিত রয়েছে। ভাইদের পেছনে না দৌড়িয়ে নিজেদের যোগ্যতা খালেদা জিয়ার কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন এসব ছাত্রনেতারা। তারা নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশায় গা ঝাড়া দিয়ে নতুন উদ্যমে মাঠে নেমে পড়েছেন। নিজ নিজ সমর্থকদের নিয়ে চালাচ্ছেন ব্যাপক মহড়া। রমজান মাস হওয়ায় ইফতারকে মহড়ার একমাত্র মাধ্যম ধরে নিয়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালাচ্ছেন ছাত্রদলের এইসব নেতারা। প্রতিদিন চলছে ইফতারের আড়ালে গ্রুপ ভারি করার প্রাণান্তকর চেষ্টা।দলীয় কার্যালয় ও আশপাশ ছাড়াও প্রতিদিন ইফতারের পরে রাজধানীর অন্তত ৭ থেকে ৮টি স্পটে চলে ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশী নেতা ও সমর্থকদের মহড়া চলছে এখন। ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম নয়ন তার সমর্থকদের নিয়ে প্রতিদিন মোতালেব প্লাজার সামনে মহড়া দিয়ে দেখা যাচ্ছে। নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদপ্রার্থী নয়ন বলেন, ভাইতন্ত্র কাজে আসবে না চেয়ারপারসনের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। বিগত সময়ে ভাইতন্ত্রের কারণে সংগঠনটির আজ এই নাজুক অবস্থা। যারা ত্যাগী, যোগ্য এবং দলের প্রতি আনুগত্য আছে তাদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আর সেটা হলে সবার জন্যই ভাল। সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলের সমর্থক বলে পরিচিত আকরামুল হাসান মিন্টু তাদের সমর্থকদের নিয়ে শাহবাগের সড়ক দ্বীপে প্রতি সন্ধ্যার পর আড্ডা দিচ্ছেন মধ্যরাত অব্দি। এছাড়াও সমানতালে চলছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার ও বগে প্রচার-প্রচারণা। কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী করতোয়াকে বলেন, ঈদের পরপরই ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার সার্বিক প্রস্তুতি চলছে। ম্যাডাম ওমরাহ শেষে দেশে ফিরেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত বৈঠক করবেন। কমিটিতে কারা স্থান পাবে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিনিয়র ও জুনিয়রদের দিয়ে কমিটি করা হতে পারে, তবে এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ম্যাডাম তার আস্থাভাজন কিছু লোক দিয়ে পদপ্রত্যাশীদের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই একটি ভালো কমিটি দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। গত জুলাই মাসে বেগম খালেদা জিয়া ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে টানা চার দিন বৈঠক করেছেন। যারা সংগঠনের জন্য কাজ করছেন তাদের ব্যাপারে ম্যাডাম অবগত আছেন। এ্যানি আরো বলেন, আমরা আশা করছি- ত্যাগী ও দলের প্রতি কমিটমেন্ট আছে এমন নেতাদের দিয়েই ছাত্রদলের একটি মজবুত কমিটি গঠন করা হবে। তিনি উদাহরন দিয়ে বলেন, সভাপতি প্রবীণ/পুরানো হলে সাধারণ সম্পাদক হবে নবীণ অথবা সভাপতি ও সেক্রেটারী সিনিয়র হলে যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক হবে জুনিয়রদের মধ্যে থেকে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সামনে আন্দোলন আসছে,- তাই ছাত্র দলকে সুসংগঠিত করতে ত্যাগী নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। আমরা আশা করছি, ঈদের পরপরই দলীয় চেয়ারপারসন ছাত্র দলের নতুন কমিটি ঘোষনা করবেন।
সূত্র মতে, ২০০৯ সালের ১ জুলাই সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সভাপতি ও আমিরুল ইসলাম আলীমকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটির মেয়াদ ছিল ছয় মাস। কিন্তু তিন বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি বিএনপি। যে ক'টি গ্রুপ মাঠে সক্রিয় রয়েছে তাদের সবাইকে সমন্বয় করে কমিটি করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। কমিটি ঘোষণার পরপর যাতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা না দেয় সে ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে। ছাত্রদলের যেসব নেতা নতুন কমিটিতে বাদ পড়বেন তাদের যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এমনকি বিএনপির নির্বাহী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত (কো-আপ্ট) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা।
সূত্র জানায়, নতুন কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দৌড়ে যারা তদবির লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, হাবিবুর রশিদ হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, আনোয়ারুল হক রয়েল, আসাদুজ্জামান পলাশ, আহসানউদ্দিন খান শিপন, মশিউর রহমান মিশু, শহীদুলাহ ইমরান, মনিরুল ইসলাম সোহাগ, মহানগর নেতা কামাল আনোয়ার আহমেদ অন্যতম।
এছাড়া রয়েছে ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ঢাবির সাবেক সভাপতি হাসান মামুন, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। জুনিয়রদের মধ্যে নতুন কমিটিতে জায়গা পেতে যারা এগিয়ে আছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন_ ঢাবির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ওবায়দুল হক নাসির, ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু, সাদিউল কবির নীরব, মাসুদ পারভেজ, মামুন বিল্লাহ প্রমুখ।
সূত্র মতে, কেন্দ্রের সঙ্গে চার সুপার ইউনিট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটিও ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে। আকরামুল হাসান মিন্টু, সাদিউল কবির নীরব, মাসুদ পারভেজ, মহিদুল ইসলাম হিরু, এজমল হোসেন পাইলট, মাহফুজুর রহমান মাহফুজ, আসাদুজ্জামান আসাদ, মনিরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন নেতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। তবে ঢাবি কমিটি অনেকটাই নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় কমিটির ওপর।


 

সিলেটের আলাপ.কম/আ/আ/ (লেখাটি পড়া হয়েছে ১১৪ বার)
Share to Facebook Share to Twitter
CommentAdd Your Comment