
ঢাকা :বিশেষ প্রতিনিধি,২০ আগস্ট: দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে বিভেদ ও গ্রুপিংয়ের কারণে সাংগঠনিকভাবে দলটি নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে।
বিশেষ করে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। এ কারণে এখন পর্যন্ত সরকার বিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে পারছে না দলটি। এদিকে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে নতুন করে বিরোধ এবং বিভেদ সৃষ্টি হওয়ায় দলীয় কর্মকাণ্ডে নতুন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
এবার যে দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে তারা হলেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। বেশ কিছুদিন থেকেই এই দুই নেতার মধ্যে শীতল সম্পর্ক বিরাজ করছিল। ইদানীং এই দুই নেতাকে একসাথে দেখাও যাচ্ছে না।
১৫ আগস্ট বেগম জিয়ার জন্মদিনে গুলশান কার্যালয়ে কেক কাটা অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার মওদুদসহ স্থায়ী কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও মির্জা ফখরুল আসেননি।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে- ব্যারিস্টার মওদুদ থাকবেন জেনেই তিনি সেখানে যাননি। বিষয়টি চেয়ারারসন বেগম খালেদা জিয়াকেও জানানো হয়েছে। সূত্রটি আরো জানিয়েছে, সবকিছু জেনে চেয়ারপারসন ব্যারিস্টার মওদুদের ওপর নাখোশ হন।
বেশকিছু দিন ধরেই দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের দেওয়া বক্তব্যে দল বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছে। এ নিয়ে তাকে বেশ কয়েকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। উল্টো দলের কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই সম্প্রতি জাতীয় প্রেসকাবে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে মওদুদ বলেন- বিএনপি নির্দলীয় নিরপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা প্রণয়ন নিয়ে আলোচনা শুরু করবে।
মওদুদের এই বক্তব্য দলের সিদ্ধান্ত নয় বলে তাৎক্ষণিক বিবৃতি দেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নয়া পল্টনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন নির্দলীয় নিরপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা প্রণয়ন সম্পর্কিত বক্তব্য ব্যারিস্টার মওদুদের ব্যক্তিগত অভিমত।
ফখরুলের এ বক্তব্যের পরে মওদুদ ও ফখরুলের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। এদিকে বেগম জিয়া সৌদি সফরে যাওয়ার আগে দলের নির্দেশনার বাইরে কোন বক্তব্য না দেয়ার জন্য শীর্ষ নেতাদের নিদের্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু মওদুদ একাধিক অনুষ্ঠানে দলের সিদ্ধান্ত নেই এমন বক্তব্য হরহামেশা দিয়ে আসছেন।
এ নিয়ে স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা মওদুদকে সর্তকও করেন। কিন্তু তিনি তা শোনেননি। বিএনপির সর্বশেষ স্থায়ী কমিটির সভায় চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে ব্যারিস্টার মওদুদ একটি বিষয় নিয়ে তর্কেও লিপ্ত হন।
এছাড়া মওদুদের বিরুদ্ধে দলের মহাসচিবকে ‘ড্যাম কেয়ার’ করার অভিযোগ থাকার পাশাপাশি দলের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টির একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
Add Your Comment
- সবার কাছে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতেই নির্বাচন হবে: দীপু মনি
- তারেকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি ১৪ দলের
- পুলিশের উপর ভর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার দিবাস্বপ্নে বিভোর:ইসলামী ঐক্যজোট
- ভালুকায় জিয়ার শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে বিএনপির প্রস্তুতি সভা
- সংলাপের আয়োজন করতে সরকারের প্রতি বিএনপির আহ্বান
- মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টিতে আবারো ভাঙনের সুর শোনা যাচ্ছে
- উপদেষ্টা পদে থেকেও নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছে তাদের কোনো উপদেশ শোনা হবে না
- ধরা খেয়েছেন মওদুদ: সুরঞ্জিত
- আমরা হেফাজতকে সাহায্য করিনি, আপ্যায়ন করেছি: হান্নান শাহ
- শনিবার চট্টগ্রাম লেবার পার্টির প্রতিনিধি সম্মেলন

