
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘটে যাওয়া ঘটনার পর থেকে হেফাজত নিয়ে চলছে বিভিন্ন মহলে নানা গুঞ্জন। কোনো মহলের ধারণা হেফাজতের দিনক্ষণ শেষ, আবার অনেকে মনে করছেন হেফাজত এখন বিধ্বস্ত। তবে হেফাজতে ইসলাম এখন দাঁড়ানোর চেষ্টায় রত। আগের অবস্থানে ফেরার জন্য তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতারা অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।তাছাড়া সংগঠনের কার্যক্রমকে কীভাবে বেগবান করা যায় তা নিয়ে বেশ তত্পর হয়ে উঠেছে নেতাকর্মীরা। হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি, নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন ও পুলিশি হামলা-মামলাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একান্তে কথা হয় হেফাজতের আমির

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। অর্থনীতিবিদ। নির্বাহী চেয়ারম্যান, পাওয়ার এন্ড পার্টিসিপেশন রিসার্স সেন্টার (পিপিআরসি)। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা। সমসাময়িক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়াবলি নিয়ে সাপ্তাহিক মুখোমুখি হয় তার। বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে তুলে ধরেন তার অভিমত। আমাদের সময় ডট কমের পাঠকদের জন্য সেই সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো -প্রশ্ন: এই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কিভাবে মূল্যায়ন দেখছেন?ড. হোসেন জিল্লুর রহমান : বর্তমান পরিস্থিতির দুটো দিক দেখছি। প্রথমত, এই মুহূর্তের কিছু অনিশ্চয়তা আছে। দ্বিতীয়ত, গত দুই দশকে যে মডেলে বাংলাদেশের নির্বাচনী গণতন্ত্র এবং অর্থনীতি এগিয়েছে সেই মডেলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ অনেক বেশি জন্মে গেছে। ফলে শুধু নির্বাচন প্রক্রিয়ারই নয়, পুরো ব্যবস্থাটাই একটা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। একইভাবে অর্থনীতিতেও দেখবেন গত দুই দশকের পথচলার পথে বেশকিছু সঙ্কট তৈরি হয়েছে।

মাওলানা জাফরুল্লাহ খান মাওলানা জাফরুল্লাহ খান
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের অবস্থান কর্মসূচিতে মধ্যরাতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বহু মানুষ হতাহত হয়েছে। তবে, নিহতের সংখ্যা কেউ সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি বরং এ নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি দেশের দু’টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। মূলত এসব ঘটনা-ই একসূত্রে গাঁথা। এ প্রেক্ষাপটে হেফাজতে ইসলামের আগামী কর্মসূচি কি হবে –তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এসব ইস্যু নিয়ে আমরা কথা বলেছি হেফাজতে ইসলামের নেতা ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খানের সঙ্গে।

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ২ মে ডাকা হরতাল স্থগিত করেছেন জোটপ্রধান বেগম খালেদা জিয়া। এতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের প্রতি তিনি যে উদারতা দেখিয়েছেন তা অভিনন্দনযোগ্য। এটি আমাদের সবার জন্য আজ অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। শুধু তা-ই নয়, এর মাধ্যমে বিরোধীদলীয় নেতা প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানকে যথাযথ সম্মানও দেখিয়েছেন। তার এই মহানুভবতার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিরোধী দলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন তার অনুরোধে সাড়া দেয়ায় এবং হরতাল প্রত্যাহার করায়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ গত মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছেন। এতে আমরা সাধারণ জনগণ বেশ খুশি। জাতি আজ দেশের এই ক্রান্তিকালে তা-ই আশা করে উভয় দল থেকে।

চট্টগ্রাম থেকে: ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচিতে বাধা এলে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছে সামপ্রতিক সময়ের আলোচিত সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। কেবল তাই নয়, কোন ধরনের নমনীয়তা ছাড়াই মাঠে লাগাতার অবরোধ, হরতালসহ নানা কঠোর কর্মসূচিও দেয়ার বিষয় চূড়ান্ত করেছে তারা। গতকাল এক সাক্ষাৎকারে এমনই কথা বলেছেন হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী। এই সময় দুপুরে হাটহাজারী মাদরাসায় ৫ই মে ঢাকা ঘেরাও নিয়ে দলটির শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন তিনিসাক্ষাৎকারে আহমদ শফী ১৩ দফা দাবির বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। এই বিষয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। জানান, তারা সুবিধাবাদী আচরণ করছেন। একদিকে নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তির কোন ব্যবস্থা না করে তাদের বাহবা দিচ্ছেন। অন্যদিকে আবার দেশের আলেম সমাজকে হাতে রেখে এক ধরনের সান্ত্বনার বাণী শোনাচ্ছেন। আহমদ শফী এই সময় আহলে সুন্নাতেরও সমালোচনা করেন। এই সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কে কার পক্ষ হয়ে কাজ করছে তা সবাই জানে।’

আজকের লেখাটি আমি লিখছি একটি বিশেষ দায়ভার থেকে। দায়ভারের প্রেক্ষাপট-টি প্রথমেই একটু বলে নেয়া যাক। আমার পিএইচডি থিসিস জমা দিয়েই চলে আসি বাংলাদেশে। অতঃপর প্রায় আট মাস নির্বাহী পরিচালক হিসেবে যুক্ত ছিলাম পারিবারিক এক তৈরি পোশাক কারখানায়। তৈরি পোশাক শিল্পের সম্ভাবনা ও সমস্যা সম্পর্কিত বেশকিছু বিষয় খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করার সুযোগ হয়েছিল আমার। আমার স্বল্প অভিজ্ঞতা থেকে শুধু এটুকু বলব যে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সদিচ্ছা, আন্তরিকতা ও চেষ্টা থাকলে পোশাক শ্রমিকদের পূর্ণ-নিরাপত্তা এবং জীবনযাপনে একটা সন্তোষজনক মান নিশ্চিত করেই এই শিল্পকে অনেক দূরে এগিয়ে নেয়া সম্ভব। কিছু কিছু তৈরি পোশাক কারখানা এভাবে এগিয়েও যাচ্ছে দিন দিন।যাই হোক, পরিবার-পরিজন নিয়ে আমি আজ যে জীবনযাপন করছি, এর পেছনে আজো এক ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে এই তৈরি পোশাক শিল্প তথা এ শিল্পে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের। সুতরাং সেই দায়ভার থেকে এই ক্রান্তিলগ্নে আজ কিছু লেখা।

‘সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো নিয়ে কিছু বিকল্প উপাদান টেবিলে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। আমরা সংসদীয় সরকার কাঠামোর সার্বিক দিক বিবেচনা করেই প্রস্তাবনা তৈরি করেছি। নির্বাচন নিয়ে সরকারের বর্তমান ভাবনা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির উভয়রই ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দিকগুলো আমাদের প্রস্তাবনায় গুরুত্ব পেয়েছে। সবদিক আমলে নিয়েই আমরা এই প্রস্তাব রেখেছি।’ বলছিলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালকড. ইফতেখারুজ্জামান। নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে টিআইবি যে প্রস্তাব দিয়েছে সেই বিষয় নিয়ে মুখোমুখি হন সাপ্তাহিক-এর। দীর্ঘ আলোচনায় উঠে আসে দেশের সংঘাতম পরিস্থিতি এবং দুর্নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো। আমাদের সময় ডট কমের পাঠকদের জন্য সেই সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো -

বাংলাদেশে এখন কোনো ব্যক্তিকে আটকের পরই নেয়া হচ্ছে রিমান্ডে। সুস্থ মানুষ ধরে পুলিশি রিমান্ডের নেয়ার পর বের করা হচ্ছে অসুস্থ করে। এ কারণে রিমান্ড নিয়ে বাংলাদেশে উঠেছে নানা বিতর্ক। আইনের দৃষ্টিতে রিমান্ড কতটা সঠিক তা নিয়েও নানা প্রশ্ন আছ। এরকম পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কথা বলেছি সাবেক পানিসম্পদ সচিব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জনাব আসাফউদ্দৌলার সঙ্গে।
পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাতকারটি এখানে উপস্থাপন করা হল:
প্রশ্ন:জনাব আসাফউদ্দৌলা! আজকাল পুলিশ কোনো ব্যক্তিকে আটকের পর প্রথম যে কাজটি করছে তা হলো- আদালতে রিমান্ডের আবেদন করছে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আদালতও তা মঞ্জুর করে দিচ্ছে; এ ক্ষেত্রে দু’সপ্তাহ/তিন সপ্তাহ পর্যন্ত রিমান্ড দেয়া হচ্ছে। আইনের দৃষ্টিতে এটা কতটা সঠিক?

রিমান্ড নিয়ে বাংলাদেশে নানা আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। আইনের দৃষ্টিতে রিমান্ড কতোটা সঠিক এবং মানবিক দৃষ্টিতে কতোটা বাঞ্ছনীয়, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সিআরপিসিতে রিমান্ডের ধারাটি থাকা উচিত কিনা, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রিমান্ড মানা হচ্ছে কিনা-এসব নানা বিষয়ে আমরা কথা বলেছি সাবেক পানিসম্পদ সচিব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জনাব আসাফউদ্দৌলার সঙ্গে।
পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাতকারটি এখানে উপস্থাপন করা হল :

বাংলাদেশের দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের পর ১৩ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। তো মাহমুদুর রহমানের গ্রেফতার, তাকে রিমান্ডে নেয়া এবং পরবর্তীতে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি কী হতে পারে এসব বিষয়ে আমরা কথা বলেছি দেশের বর্ষীয়ান আইনজীবী, সাবেক এটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক- উল হকের সঙ্গে।
পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাতকারটি উপস্থাপন করা হল-

